পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৭৯-[১] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) - আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং তখন থেকে কিয়ামত অবধি যা কিছু ঘটবে তার সকল কিছুই বর্ণনা করেন। তাঁর সেই ভাষণটি যারা স্মরণে রাখতে পারে তারা স্মরণে রেখেছে, আর যারা ভুলে যাওয়ার তার ভুলে গিয়েছে। নিশ্চয় আমার বন্ধুগণ (সাহাবায়ি কিরামগণ)ও সে বিষয়ে অবগত আছেন। অবশ্য যখন কোন ঘটনা সামনে আসে, যার কথা আমি ভুলে গিয়েছি, তখন তাঁর [রাসূল (সা.) -এর] সেই দিনের ভাষণটি আমার স্মরণে পড়ে। যেমন- উপস্থিত হলে তাকে দেখামাত্রই চেনা যায়- এই তো সেই অমুক লোক। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

عَن حُذَيْفَة قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَقَامًا مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مقَامه إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلَّا حَدَّثَ بِهِ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابِي هَؤُلَاءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّيْءُ قَدْ نَسِيتُهُ فَأَرَاهُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عرفه. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6604) ومسلم (23 / 2891)، (7263) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن حذيفة قال: قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقاما ما ترك شيىا يكون في مقامه الى قيام الساعة الا حدث به حفظه من حفظه ونسيه من نسيه قد علمه اصحابي هولاء وانه ليكون منه الشيء قد نسيته فاراه فاذكره كما يذكر الرجل وجه الرجل اذا غاب عنه ثم اذا راه عرفه. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6604) ومسلم (23 / 2891)، (7263) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) আবূ ইদরীস আল খাওলানী-এর সূত্রে হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর শপথ! আমার ও কিয়ামতের মধ্যবর্তী সময়ে যা কিছু সংঘটিত হবে, তা নিশ্চয় আমি অবগত আছি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর পরবর্তী উম্মাতকে সতর্ক করার জন্যই এসব বিষয় বর্ণনা করেছেন। (ফাতহুল বারী, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮০-[২] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাঃ)] বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, মানুষের হৃদয়ে ফিতনাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করে, যেমন- আঁশ একটির পর আরেকটি বিছানো হয়ে থাকে এবং যেই হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তা প্রবেশ করে তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে জায়গা দেয় না। তাতে একটি সাদা দাগ পড়ে। ফলে মানুষের অন্তরসমূহ পৃথক পৃথক দু’ভাগে আলাদা হয়ে যায়। একপ্রকার অন্তর হয় মর্মর পাথরের মতো শ্বেত, যাকে আসমান ও জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত (কিয়ামত পর্যন্ত) কোন ফিতনাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না।
অপরদিকে দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হয় কয়লার মতো কালো। যেমন- উপুড় হওয়া পাত্রের মতো, যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো জানার এবং মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখে না, ফলে শুধুমাত্র তাই গ্রহণ করে যা তার প্রবৃত্তির চাহিদা হয়। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: تُعْرَضُ الْفِتَنُ عَلَى الْقُلُوبِ كَالْحَصِيرِ عُودًا عُودًا فَأَيُّ قَلْبٍ أُشْرِبَهَا نَكَتَتْ فِيهِ نُكْتَةً سَوْدَاءَ وَأَيُّ قَلْبٍ أَنْكَرَهَا نُكِتَتْ فيهِ نُكْتَةٌ بَيْضَاءُ حَتَّى يَصِيرَ عَلَى قَلْبَيْنِ: أَبْيَضُ بِمثل الصَّفَا فَلَا تَضُرُّهُ فِتْنَةٌ مَا دَامَتِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ وَالْآخَرُ أَسْوَدُ مِرْبَادًّا كَالْكُوزِ مُجْخِيًّا لَا يَعْرِفُ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُ مُنْكَرًا إِلَّا مَا أشْرب من هَوَاهُ رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (231 / 144)، (369) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: تعرض الفتن على القلوب كالحصير عودا عودا فاي قلب اشربها نكتت فيه نكتة سوداء واي قلب انكرها نكتت فيه نكتة بيضاء حتى يصير على قلبين: ابيض بمثل الصفا فلا تضره فتنة ما دامت السماوات والارض والاخر اسود مربادا كالكوز مجخيا لا يعرف معروفا ولا ينكر منكرا الا ما اشرب من هواه رواه مسلم رواہ مسلم (231 / 144)، (369) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেছেন : কিয়ামাতের পূর্বে এর আলামাতসমূহ পরপর ধারাবাহিকভাবে সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ পাবে। কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যেমনভাবে মাদুরের পাতাগুলো সুন্দরভাবে পরস্পর সাজিয়ে বসানো হয়। তেমনিভাবেই মানুষের হৃদয়ে কিয়ামতপূর্ব ফিতনাগুলো উদয় হবে এবং এসবের দ্বারা তারা প্রভাবিত হবে। কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন : কিয়ামতের পূর্বে ফিতনার আবির্ভাবের কারণে মানুষ দুই দলে বিভক্ত হবে। একদল হবে সাদা মনের, আরেক দল হবে কালো মনের অধিকারী। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮১-[৩] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাঃ)] বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে দু’টি হাদীস বর্ণনা করেন। যার একটি আমি সংঘটিত হতে দেখেছি। আর অপরটির প্রতীক্ষায় আছি।
১. তিনি (সা.) আমাদেরকে বলেছেন যে, আমানত মানুষের অন্তরসমূহের অন্তস্থলে (আল্লাহর নিকট হতে) অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তারা কুরআন হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তারপর সুন্নাহ হতে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
২. আমানত কিরূপে উঠে যাবে- এ কথাটিও তিনি (সা.) আমাদেরকে বলেছেন। এমন সময় মানুষ নিদ্রা যাবে, এমতাবস্থায় তার অন্তর হতে আমানত তুলে নেয়া হবে। তখন শুধুমাত্র কালো দাগের মতো একটি সাধারণ চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর মানুষ আবার নিদ্রা যাবে, তখন আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে। এতে এমন ফোসকা সদৃশ চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে, যেমন জ্বলন্ত অগ্নিশিখা, তাকে তুমি নিজের পায়ের উপর রেখে রোমন্থন করলে তথায় ফুলে উঠে। তুমি অবশ্য স্ফীতি দেখতে পাবে, কিন্তু তার ভিতরে কিছুই নেই। আর লোকজন ভোরে উঠে স্বভাবত ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত হবে, কিন্তু কাউকেও আমানত রক্ষাকারী পাবে না। তখন বলা হবে, অমুক সম্প্রদায়ে একজন বিশ্বস্ত ও আমানতদার লোক রয়েছে। আবার কোন ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে যে, সে কতই জ্ঞানী! সে কতই চালাক ও চতুর! এবং সে কতই সচেতন ও দৃঢ় প্রত্যয়ী! অথচ তার অন্তরে রাই পরিমাণও ঈমান নেই। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْهُ قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَيْنِ رَأَيْتُ أَحَدَهُمَا وَأَنَا أَنْتَظِرُ الْآخَرَ: حَدَّثَنَا: «إِنَّ الْأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِي جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ عَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ» . وَحَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِهَا قَالَ: يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الْأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ أَثَرُهَا مِثْلُ أَثَرِ الْوَكْتِ ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ قتقبض فَيَبْقَى أَثَرُهَا مِثْلَ أَثَرِ الْمَجْلِ كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيهِ شَيْءٌ وَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ وَلَا يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِّي الْأَمَانَةَ فَيُقَالُ: إِنَّ فِي بَنِي فُلَانٍ رَجُلًا أَمِينًا وَيُقَالُ لِلرَّجُلِ: مَا أَعْقَلَهُ وَمَا أَظْرَفَهُ وَمَا أَجْلَدُهُ وَمَا فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6497) و مسلم (230 / 143)، (367) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثين رايت احدهما وانا انتظر الاخر: حدثنا: «ان الامانة نزلت في جذر قلوب الرجال ثم علموا من القران ثم علموا من السنة» . وحدثنا عن رفعها قال: ينام الرجل النومة فتقبض الامانة من قلبه اثرها مثل اثر الوكت ثم ينام النومة قتقبض فيبقى اثرها مثل اثر المجل كجمر دحرجته على رجلك فنفط فتراه منتبرا وليس فيه شيء ويصبح الناس يتبايعون ولا يكاد احد يودي الامانة فيقال: ان في بني فلان رجلا امينا ويقال للرجل: ما اعقله وما اظرفه وما اجلده وما في قلبه مثقال حبة من خردل من ايمان . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6497) و مسلم (230 / 143)، (367) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, “যার আমানতদারিতা নেই, তার ঈমান নেই। তাহরীর গ্রন্থকার সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, কিয়ামতের পূর্বে ধীরে ধীরে মানুষের অন্তর হতে আমানতদারিতার অনুভূতি হ্রাস পাবে। আমানতদারিতার প্রথমাংশ বিদূরিত হলে হৃদয়ে খিয়ানতের কালো দাগ পড়ে যায়। এমনিভাবে আস্তে আস্তে আমানতদারিতা নষ্ট হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, আমানত রক্ষা করা পরিপূর্ণ ঈমানের নিদর্শন। আমানতদারিতা হ্রাস পেলে ঈমানের ঘাটতি হয়। কিয়ামতের পূর্বে আমানতদারিতা প্রচণ্ডভাবে কমে যাবে যে, আমানতদার লোক বিরল হবে। তখন বলা হবে অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছেন। ইমাম আবূল হাসান আল ওয়াহিদী (রহিমাহুল্লাহ) (إنَّاعَرَضْنَا الْأَمَانَةَ....) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: আমানত হচ্ছে সেসব ফরয কাজসমূহ যা আল্লাহর বান্দাদের জন্য প্রতিপালন আবশ্যক করেছেন। হাদীসের শেষাংশের সারকথা হচ্ছে, শেষ যামানায় মানুষেরা অন্যান্য ব্যক্তির চতুরতা, বুদ্ধি ও শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসায় অধিক ব্যাপৃত হবে। অপরদিকে জ্ঞানী ও ‘আমলদার কারো প্রশংসা করবে না।

হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন : দীন পুরোটাই হচ্ছে আমানত। আবূল আলিয়া (রহিমাহুল্লাহ)এর মতে আল্লাহ তা'আলার আদেশকৃত ও নিষেধাজ্ঞার বিষয়সমূহ আমানত।

মুকাতিল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আনুগত্যই হচ্ছে আমানত। ইমাম ওয়াহিদী (রহিমাহুল্লাহ)-র মতে, অধিকাংশ তাফসীরকারকের মত এটাই। আনুগত্য ও আল্লাহর ফরযকৃত বিষয়সমূহ যা আদায় করলে সাওয়াব অর্জন হয় এবং নষ্ট করলে শাস্তি পেতে হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

তাহরীর গ্রন্থকারের মতে, আলোচ্য হাদীসের সারমর্ম হচ্ছে- কিয়ামতের পূর্বে মানুষের হৃদয় হতে ধীরে ধীরে আমানতের অনুভূতি দূর হয়ে যাবে এবং আমানতদার লোকের সংখ্যা হবে বিরল। অতঃপর তা একেবারে বিলীন হয়ে যাবে। এমনিভাবে আমানতদার ব্যক্তির সংখ্যা হবে খুবই নগণ্য। আমানতের বিষয়টি হৃদয়ের গহীনে অবস্থিত, তা গোপন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

মুহাদ্দিসীন কিরামের মতে, আমানত কোন ব্যক্তির হৃদয়ের জ্যোতিস্বরূপ। বিপর্যয়ের যুগে ধীরে ধীরে এই আলো মানুষের হৃদয় হতে মুছে গিয়ে পরিশেষে সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাবে। তবে কতিপয় মুষ্টিমেয় ঈমানদার মুমিন ব্যক্তি আমানতদার থাকবেন এবং তারা হবেন সংখ্যায় খুবই কম। দিন দিন আমানতদার ব্যক্তি কমে গিয়ে আমানতদার ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে।

মুসনাদে আহমাদ ও সহীহ ইবনু হিব্বানে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত সংকলিত হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : “যার আমানতদারিতা নেই তার দীন নেই।” ইমাম আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) তদীয় সহীহ আল জামি' গ্রন্থে হাদীসটি সহীহ বলেছেন। উক্ত হাদীসে এসেছে- “যার আমানতদারিতা নেই তার ঈমান নেই এবং যার প্রতিশ্রুতি নেই তার দীন নেই।” (তুহফাতুল আহওয়াযী)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮২-[8] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাঃ)] বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করত। আর আমি ক্ষতিকর বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করতাম এই ভয়ে যেন আমি তাতে লিপ্ত না হই। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এক সময় মূর্খতা ও অকল্যাণের মাঝে নিমজ্জিত ছিলাম অতঃপর আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (দীন-ইসলাম) দান করেন। তবে কি এ কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ আসবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, আসবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম সেই অকল্যাণের পরে কি আবার কল্যাণ আসবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা আসবে, তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেই ধোঁয়া কি ধরনের? তিনি (সা.) বললেন, লোকেরা আমার সুন্নত বর্জন করে অন্য তরীকাহ্ গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে লোকদেরকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন তুমি তাদের মধ্যে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আগমন করবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যাঁ, জাহান্নামের পাশে দাঁড়িয়ে কতক আহ্বানকারী লোকেদেরকে সেই দিকে ডাকবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে তাদের পরিচয় অবহিত করুন। তিনি (সা.) বললেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ হবে এবং আমাদের ভাষায় কথা বলবে। আমি বললাম, আমি সে অবস্থায় উপনীত হলে তখন আমাকে কি কি অদেশ দেন? তিনি (সা.) বললেন, তখন তুমি মুসলিমদের দল ও মুসলিমদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, সে সময় যদি কোন মুসলিম জামা’আত ও মুসলিম ইমাম না থাকে (তখন আমাকে কি করেতে হবে)? তিনি (সা.) বললেন, তখন তুমি সেই সমস্ত বিচ্ছিন্ন দলকে বর্জন করবে, যদিও তোমাকে গাছের শিকড়ের আশ্রয় নিতে হয় এবং তুমি এই নির্জন অবস্থায় থাকবে যতক্ষণ না তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয় (অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত বাতিল থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে, এতে যে কোন দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারে তোমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে)। (বুখারী ও মুসলিম)

সহীহ মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার (ওফাতের) পরে এমন কতিপয় ইমাম ও বাদশাহর আগমন ঘটবে যারা আমার নির্দেশিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাত ও তরীকানুযায়ী আমল করবে না। আবার তাদের মধ্যেও এমন কিছু লোকের আগমন ঘটবে যারা শরীরে গঠনে এবং চেহারা আকৃতিতে মানুষই হবে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ হবে শয়তানের মতো। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! যদি আমি সেই অবস্থায় পতিত হই তখন আমার কর্তব্য কি হবে? তিনি (সা.) বললেন, তোমার আমির (শাসক) যা বলে তা মানবে এবং তার অনুসরণ করবে, যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার ধন-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়, তবুও তার নির্দেশ মেনে চলবে এবং তার আনুগত্য করবে।

الفصل الاول

وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ مَخَافَةَ أَنْ يُدْرِكَنِي قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَشَرٍّ فَجَاءَنَا اللَّهُ بِهَذَا الْخَيْرِ فَهَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قُلْتُ: وَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الشَّرِّ مِنْ خَيْرٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ وَفِيهِ دَخَنٌ» . قُلْتُ: وَمَا دَخَنُهُ؟ قَالَ: «قَوْمٌ يَسْتَنُّونَ بِغَيْرِ سُنَّتِي وَيَهْدُونَ بِغَيْرِ هَدْيِي تَعْرِفُ مِنْهُمْ وَتُنْكِرُ» . قُلْتُ: فَهَلْ بَعْدَ ذَلِكَ الْخَيْرِ مِنْ شَرٍّ؟ قَالَ: «نَعَمْ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا» . قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا. قَالَ: «هُمْ مِنْ جِلْدَتِنَا وَيَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا» . قُلْتُ: فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ؟ قَالَ: «تَلْزَمُ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ» . قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلَا إِمَامٌ؟ قَالَ: «فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ عَلَى ذَلِكَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: قَالَ: «يَكُونُ بَعْدِي أَئِمَّةٌ لَا يَهْتَدُونَ بِهُدَايَ وَلَا يَسْتَنُّونَ بِسُنَتِي وَسَيَقُومُ فِيهِمْ رِجَالٌ قُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الشَّيَاطِينِ فِي جُثْمَانِ إِنْسٍ» . قَالَ حُذَيْفَةُ: قُلْتُ: كَيْفَ أَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ؟ قَالَ: تَسْمَعُ وَتُطِيعُ الْأَمِيرَ وَإِنْ ضَرَبَ ظهرك وَأخذ مَالك فاسمع وأطع

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3606) و مسلم (52 ، 51 / 1847)، (4784 و 4785) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: كان الناس يسالون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت اساله عن الشر مخافة ان يدركني قال: قلت: يا رسول الله انا كنا في جاهلية وشر فجاءنا الله بهذا الخير فهل بعد هذا الخير من شر؟ قال: «نعم» قلت: وهل بعد ذلك الشر من خير؟ قال: «نعم وفيه دخن» . قلت: وما دخنه؟ قال: «قوم يستنون بغير سنتي ويهدون بغير هديي تعرف منهم وتنكر» . قلت: فهل بعد ذلك الخير من شر؟ قال: «نعم دعاة على ابواب جهنم من اجابهم اليها قذفوه فيها» . قلت: يا رسول الله صفهم لنا. قال: «هم من جلدتنا ويتكلمون بالسنتنا» . قلت: فما تامرني ان ادركني ذلك؟ قال: «تلزم جماعة المسلمين وامامهم» . قلت: فان لم يكن لهم جماعة ولا امام؟ قال: «فاعتزل تلك الفرق كلها ولو ان تعض باصل شجرة حتى يدركك الموت وانت على ذلك» . متفق عليه. وفي رواية لمسلم: قال: «يكون بعدي اىمة لا يهتدون بهداي ولا يستنون بسنتي وسيقوم فيهم رجال قلوبهم قلوب الشياطين في جثمان انس» . قال حذيفة: قلت: كيف اصنع يا رسول الله ان ادركت ذلك؟ قال: تسمع وتطيع الامير وان ضرب ظهرك واخذ مالك فاسمع واطع متفق علیہ ، رواہ البخاری (3606) و مسلم (52 ، 51 / 1847)، (4784 و 4785) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, আলোচ্য হাদীসে অকল্যাণ/অনিষ্ট দ্বারা ফিতনাহ্ উদ্দেশ্য। তাছাড়া এ দ্বারা গোমরাহী ও বিদ'আতের প্রসার বুঝানো হয়েছে।
উক্ত হাদীসে আইয়্যামে জাহিলিয়্যাত দ্বারা তাওহীদ ও নুবুওয়্যাত সম্পর্কে অজ্ঞতাকে উদ্দিষ্ট করা হয়েছে। আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতের পর নবী (সা.) -এর আগমনের বরকতে আল্লাহ তা'আলা অশেষ কল্যাণ প্রদান করেছেন এবং কুফর ও ভ্রষ্টতার ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছেন। অতঃপর আবার অকল্যাণ সংঘটিত হবে এবং তারপর আবারো কল্যাণ আসবে, তবে তার সাথে আঁধারও থাকবে। এ সময় লোকজন দীনের সাথে সুন্নতের পরিপন্থী বিষয়সমূহ দীন হিসেবে পালন করবে এবং নবী  (সা.)-এর তরীকা ছেড়ে ভিন্ন তরীকা গ্রহণ করবে।
কারো মতে, আলোচ্য হাদীসে প্রথম ফিতনাহ্ দ্বারা উসমান (রাঃ)-এর হত্যা ও তৎপরবর্তী ফিতনাকে বুঝানো হয়েছে। এরপরের কল্যাণ দ্বারা খলীফাহ্ ‘উমার ইবনু আবদুল আযীয-এর খিলাফতকাল উদ্দেশ্য। অতঃপর এমন কিছু রাজা বাদশা আসবে যারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভালো-মন্দ উভয় প্রকার কাজ করবে। কারো মতে, উসমান (রাঃ) হত্যার পরবর্তী ফিতনার পর হাসান (রাঃ) ও মু'আবিয়াহ্ (রাঃ) -এর মধ্যকার সন্ধি চুক্তিকে কল্যাণ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে।

শেষ যামানায় এমন কিছু দা'ঈ বা ‘আলিমের আবির্ভাব হবে যারা মানুষকে ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, সন্দেহ সংশয় দ্বারা মানুষকে হিদায়াত থেকে বিরত রাখবে। সুন্নত ব্যতিরেকে বিদআতের দিকে এবং সংযম ব্যতীত পার্থিব আকাক্ষার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে।
এ কারণেই নবী (সা.) এ সকল দা'ঈ বা আহ্বায়কের ডাকে সাড়া দেয়াকে গোমরাহীতে প্রবেশ ও জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কোন কোন বিদ্বান, এ সকল ভ্রষ্ট দা'ঈ দ্বারা খারিজী ও রাফিজী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের নেতৃপর্যায়ের লোকেদেরকে বুঝিয়েছেন, যারা আখিরী যামানায় মানুষের নিকট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, নেতৃত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা করবে যদিও তাদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি বিদ্যমান থাকবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮৩-[৫] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা ভালো ’আমলের দিকে দ্রুত অগবর্তী হও ঘুটঘুটে তিমির রাত্রির অংশ সদৃশ ফিতনার পতিত হওয়ার পূর্বেই যখন কোন লোক ভোরে উঠবে ঈমানদার হয়ে আর সন্ধ্যা করবে কুফরী অবস্থায় এবং সন্ধ্যা করবে মু’মিন অবস্থায় আর প্রভাতে উঠবে কাফির হয়ে। সে ইহকালীন সামান্য সম্পদের বিনিময়ে নিজের দীন ও ঈমানকে বিক্রয় করে দেবে। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: «بَادرُوا بِالْأَعْمَالِ فِتناً كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا يَبِيعُ دِينَهُ بِعرْض من الدُّنْيَا» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (186 / 118)، (313) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بادروا بالاعمال فتنا كقطع الليل المظلم يصبح الرجل مومنا ويمسي كافرا ويمسي مومنا ويصبح كافرا يبيع دينه بعرض من الدنيا» . رواه مسلم رواہ مسلم (186 / 118)، (313) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে ফিতনার ব্যাপকতা প্রকাশের পূর্বে সৎ কাজের প্রতিযোগিতা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফিতনাহ্ বলতে মুসলিমদের মাঝে দীন ও দুনিয়াবী বিষয়কে কেন্দ্র করে হত্যা, লুটতরাজ সংঘর্ষ ও পারস্পরিক মতবিরোধ চরম পর্যায়ে পৌছবে। এতে সাধারণ মুসলিমগণ সঠিকভাবে নিরাপদে ‘ইবাদত-বন্দেগী পালন করতে সক্ষম হবে না। ফিতনার ভয়াবহতা এতটাই ব্যাপক হবে যে, একদিনের মাঝেই মানুষ সকাল-সন্ধ্যায় ঈমানহারা হয়ে যাবে। সেই সময়ের ফিতনাকে আঁধার রাতের সাথে তুলনা করে এর রহস্যময় অস্পষ্টতাকে বুঝানো হয়েছে। এর কারণ উদঘাটন ও পরিত্রাণের উপায় বের করাও কঠিন হয়ে যাবে।
ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, শেষ যামানার ফিতনাগুলো হবে কঠিন, বিভৎস, জটিল ও অস্পষ্ট। অল্প সময়ের ব্যবধানে মানুষের ব্যাপক পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ মানুষের কথা, কাজ ও অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। যেমন অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, আমানতের খিয়ানত করা, সৎ-অসৎ কাজ, সুন্নাত-বিদ্আত এবং ঈমান ও কুফর। অতএব, এসব ফিতনাহ্ হতে দূরে অবস্থান করা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংশ্রব বর্জন করাই সর্বোত্তম। এসব ফিতনাহ্ হতে দূরে থাকার জন্য নবী (সা.) কিছু পদ্ধতি জানিয়ে দিয়েছেন। তন্মধ্যে প্রধান হলো, ধারালো অস্ত্র ভোঁতা করে দেয়া। এসব ফিতনায় কেউ যদি কোনভাবে আক্রান্ত হয়, তবে সেক্ষেত্রে আদম (আঃ)-এর পুত্রদ্বয়ের মাঝে শ্রেষ্ঠ হাবিলের ভূমিকা পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে কারণেই “ইবাদত ও সৎকর্ম সম্পাদনে প্রতিযোগিতার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।

ইমাম ইবনু মাজাহ ও ইমাম তবারানী (রহিমাহুল্লাহ) আবূ উমামাহ হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন যে, শীঘ্রই এমন ফিতনাহ্ আপতিত হবে যে, সকালে মানুষ মু'মিন থাকবে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। তবে আল্লাহ যাকে জ্ঞানের মাধ্যমে পরিত্রাণ দিবেন সে ব্যতীত। (শারহু ইবনে মাজাহ ২/১৩০৫)
ইমাম তিরমিযী ও ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) তদীয় গ্রন্থদ্বয়ে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তোমরা সাতটি বিষয়ের অপেক্ষার পূর্বে সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর, সেগুলো হলো : বিস্মৃতকারী দারিদ্রতা, সীমালঘনকারী সচ্ছলতা, ধ্বংসাত্মক ব্যাধি, হঠাৎ মৃত্যু অথবা দাজ্জালের আগমন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮৪-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শীঘ্রই এমন ফিতনাহ দেখা দেবে, যখন বসা লোক দাঁড়িয়ে থাকা লোক অপেক্ষা উত্তম হবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী অপেক্ষা উত্তম হবে। দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম এবং চলমান ব্যক্তি দৌড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। এমনকি যে ব্যক্তি উক্ত ফিতনার দিকে চক্ষু তুলে দেখবে, ফিতনাহ তাকে নিজের দিকে টেনে নিবে। অতএব যে ব্যক্তি তা হতে মুক্ত স্থান অথবা আশ্রয়স্থল পাবে, তা দ্বারা তারা নিজেকে রক্ষা করা উচিত। (বুখারী ও মুসলিম)

আর সহীহ মুসলিম-এর এক রিওয়ায়াতে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন এক ফিতনাহ্ আগমন করবে তখন নিদ্রিত ব্যক্তি জাগ্রত ব্যক্তি হতে শ্রেয় হবে। আর জাগ্রত ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তি হতে শ্রেয় হবে এবং দাঁড়ানো ব্যক্তি দ্রুতগামী দৌড়ানো ব্যক্তির অপেক্ষা শ্রেয় হবে। অতএব যে ব্যক্তি তা হতে নিরাপদ স্থান অথবা আশ্রয়স্থল পায়, সে যেন অবশ্যই ঐ আশ্রয়স্থলে অবস্থান নেয়।

লাল মার্ক করা অংশের অনুবাদ সঠিক না হবার কারনে তা সংশোধন করা হল। - হাদিসবিডি এডমিন

الفصل الاول

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتَكُونُ فِتَنٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ من الْمَاشِي والماشي فِيهِ خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفْهُ فَمن وجد ملْجأ أَو معَاذًا فليَعُذْ بِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: قَالَ: «تَكُونُ فِتْنَةٌ النَّائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْيَقْظَانِ واليقظانُ خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَمن وجد ملْجأ أومعاذا فليستعذ بِهِ»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3601) و مسلم (12 ۔ 10 / 2886)، (7247) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ستكون فتن القاعد فيها خير من القاىم والقاىم فيها خير من الماشي والماشي فيه خير من الساعي من تشرف لها تستشرفه فمن وجد ملجا او معاذا فليعذ به» . متفق عليه. وفي رواية لمسلم: قال: «تكون فتنة الناىم فيها خير من اليقظان واليقظان خير من القاىم والقاىم فيها خير من الساعي فمن وجد ملجا اومعاذا فليستعذ به» متفق علیہ ، رواہ البخاری (3601) و مسلم (12 ۔ 10 / 2886)، (7247) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসীনে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, শেষ যুগে ফিতনাগুলো হবে অসংখ্য ও ধারাবাহিকভাবে আগত। ইমাম ইবনুত্ তীন (রহিমাহুল্লাহ) দাউদী হতে বর্ণনা করেন, উক্ত হাদীসে উল্লেখিত ফিতনাগুলোয় যারা সরাসরি আক্রান্ত হবে তাদের পরস্পরের অবস্থা হবে অপেক্ষাকৃত গুরুতর। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে যারা এসব ফিতনায় সরাসরি অংশ নিবে। কেননা, তাদের মাধ্যমে ফিতনার প্রসার ঘটবে ও অন্যরা এতে আক্রান্ত হবে। এদের মধ্যে যারা এসব ফিতনায় সবচেয়ে কম আক্রান্ত হবে তারাই হবে ভালো মানুষ। অতএব শেষ যামানার ফিতনাহ্ ও বিশৃঙ্খলা থেকে যত বেশি দূরে থাকা সম্ভব ততই ঈমানদারদের জন্য লাভজনক ও কল্যাণকর। (তুহফাতুল আহওয়াযী)

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, হাদীসের মূল ভাষ্য হচ্ছে, ফিতনার যুগে কোনভাবেই হানাহানিতে যোগ দেয়া যাবে না। উলামায়ে কিরাম ফিতনার যুগে হানাহানিতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন। কতিপয় সাহাবায়ি কিরামের মতে, ফিতনাহ বা বিশৃঙ্খলার সময় পারস্পরিক যুদ্ধে জড়ানো যাবে না। এমনকি কেউ যদি ঘরে প্রবেশ করেও কাউকে হত্যা করতে চায়। এমতাবস্থায় নিজেকে রক্ষার জন্য হলেও হানাহানিতে যুক্ত হওয়া যাবে না। আবূ বাকরাহ্ (রাঃ) এই অভিমত দিয়েছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার, ইমরান ইবনু হুসায়ন ও অন্যান্য সাহাবায়ে কিরামের মতে, নিজেকে রক্ষা ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশে হানাহানিতে যুক্ত হওয়া যাবে না।
অধিকাংশ সাহাবায়ি কিরাম ও তাবিঈ এবং মুসলিম উলামায়ি কিরামের মতে, সূরাহ্ আল হুজুরাতের ৯ নং আয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমালঙ্নকারী ও বিদ্রোহীদের দমনে ফিতনার যুগে হকপন্থীদের সাহায্য করা ও তাদের পক্ষাবলম্বন করা ওয়াজিব। যেমন, আল্লাহ বলেন : “যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করো।” এ মতটিই সহীহ। (তুহফাতুল আহওয়াযী)

ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) তদীয় জামি আস্ সগীরে খালিদ ইবনু ‘আরাফাহ্ হতে বর্ণনা করেন যে, শীঘ্রই অনেক ফিতনাহ্, দলাদলি ও মতবিরোধ দেখা দিবে, তুমি যদি পার, তবে নিহত হবে হত্যাকারী নয়। (জামি আস্ সগীর ২/২৮৮, হা. ৪৬৭৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮৫-[৭] আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - বলেছেন : অচিরেই বিভিন্ন ধরনের ফিতনাহ্ দেখা দেবে। জেনে রাখ, এটার পর নানান ধরনের ফিতনাহ্ এসে পড়বে, সে সময় বসা অবস্থায় থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির তুলনায় হবে উত্তম এবং চলমান ব্যক্তি উক্ত ফিতনার দিকে দ্রুতগামী ব্যক্তির তুলনায় হবে উত্তম। জেনে রেখ! যখন সেই ফিতনাহ সংঘটিত হবে তখন যার কাছে উট বকরি আছে সে যেন তা নিয়ে থাকে। আর যার ভূসম্পত্তি আছে, সে যেন উক্ত জমি-ভূমি নিয়েই থাকে। এ সময় জনৈক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি কারো উট, বকরি ও ভূসম্পত্তি না থাকে (তখন কি করবে)? তিনি (সা.) বললেন, তখন সে যেন নিজের তলোয়ারের প্রতি দৃষ্টি দেয় এবং তার ধার-পার্শ্ব দিয়ে পাথরে আঘাত করে তা ভেঙ্গে ফেলে, অতঃপর সম্ভব হলে উক্ত ফিতনার স্থান থেকে পালিয়ে বাঁচবে। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি তোমার আদেশসমূহ পৌছিয়ে দিয়েছি? এ কথাটি তিনি (সা.) তিনবার বললেন। এ সময় ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! যদি কোন লোক বলপূর্বক আমাকে নিয়ে দুই দলের কোন এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়, অতঃপর কোন লোক তলোয়ারের আঘাতে আমাকে হত্যা করে অথবা তীর এসে আমায় বিধে এবং তাতে আমার মৃত্যু ঘটে, তখন (আমার পরিণাম সম্পর্কে আপনার কি মতামত? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, সে তার নিজের এবং তোমার গুনাহ বহন করবে এবং জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ أَلَا ثُمَّ تَكُونُ فِتنٌ أَلا ثمَّ تكونُ فتنةٌ القاعدُ خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا أَلَا فَإِذَا وَقَعَتْ فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبل فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ وَمَنْ كَانَ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بغنمه وَمن كَانَت لَهُ أرضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ» فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلَا غَنَمٌ وَلَا أَرْضٌ؟ قَالَ: «يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ثُمَّ لِيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ؟» ثَلَاثًا فَقَالَ: رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى ينْطَلق بِي إِلَى أحدالصفين فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي؟ قَالَ: «يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّار» رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (13 / 2887)، (7250) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي بكرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انها ستكون فتن الا ثم تكون فتن الا ثم تكون فتنة القاعد خير من الماشي فيها والماشي فيها خير من الساعي اليها الا فاذا وقعت فمن كان له ابل فليلحق بابله ومن كان له غنم فليلحق بغنمه ومن كانت له ارض فليلحق بارضه» فقال رجل: يا رسول الله ارايت من لم يكن له ابل ولا غنم ولا ارض؟ قال: «يعمد الى سيفه فيدق على حده بحجر ثم لينج ان استطاع النجاء اللهم هل بلغت؟» ثلاثا فقال: رجل: يا رسول الله ارايت ان اكرهت حتى ينطلق بي الى احدالصفين فضربني رجل بسيفه او يجيء سهم فيقتلني؟ قال: «يبوء باثمه واثمك ويكون من اصحاب النار» رواه مسلم رواہ مسلم (13 / 2887)، (7250) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে ফিতনার যুগে করণীয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রিয় নবী (সা.) -এর নির্দেশনা হলো সম্ভব হলে উট/ছাগলের পালসহ পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে নিজেকে রক্ষায় সেখানেই তা প্রতিপালনে আত্মনিয়োগ করবে। এমনিভাবে যার কৃষি জমি আছে, সে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করবে। যার পক্ষে এসব উপায় অবলম্বন সম্ভব নয়, সে নিজের ধারালো ও সক্রিয় অস্ত্রগুলো ভোতা ও নিষ্ক্রিয় করে নিশ্চুপ থাকবে। কোন পক্ষাবলম্বন না করে সাধ্যমত নিজের ঈমান ও আমল রক্ষায় ব্যস্ত থাকবে এবং ফিতনার সংস্পর্শ হতে নিজেকে গুটিয়ে রাখবে। অর্থাৎ তৃতীয় স্বতন্ত্র পক্ষ হিসেবে নিজেকে যাবতীয় সমস্যা মুক্ত রাখবে। আর এটিই হচ্ছে বাস্তব প্রেক্ষাপটের আলোকে সর্বোত্তম পন্থা অবলম্বন। কেননা এমতাবস্থায় মুসলিমদের কোন একটি গ্রুপে যোগ দিয়ে পারস্পরিক যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বকে উসকে দেয়া এবং ফিতনার প্রসার ঘটাতে সহযোগিতা করা কোনভাবেই জায়িয নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
অত্র হাদীস এবং পূর্বোক্ত হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, কোনভাবেই ফিতনার যুগে কোন ধরনের হানাহানিতে অংশ নেয়া যাবে না। (শারহুন নববী)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বাকরা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮৬-[৮] আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন একটি সময় অতি নিকটবর্তী, যখন মুসলিমদের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ হবে বকরি, যা নিয়ে পর্বতশৃঙ্গে ও বারিপাতের স্থানসমূহের আশ্রয় গ্রহণ করবে। অর্থাৎ ফিতনাহ্ হতে বাঁচার উদ্দেশে সে স্বীয় দীন নিয়ে পলায়ন করবে। (বুখারী)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خيرَ مالِ المسلمِ غنمٌ يتبع بهَا شغف الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (19) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يوشك ان يكون خير مال المسلم غنم يتبع بها شغف الجبال ومواقع القطر يفر بدينه من الفتن» . رواه البخاري رواہ البخاری (19) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে ফিতনার যুগে একজন মু'মিনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ আখ্যা দেয়া হয়েছে ছাগল। যা নিয়ে সে পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে নির্জন জীবনযাপন করবে এবং এটিই তাঁর জন্য নিজের ঈমান রক্ষার সর্বোত্তম অবলম্বন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮৭-[৯] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) - মদীনার একটি গৃহের উপর আরোহণ করে (লোকেদেরকে) বললেন, আমি যা অবলোকন করছি তোমরাও কি তা অবলোকন করছ? তারা বললেন, জ্বী, না। তিনি বললেন, আমি অবলোকন করছি যে, তোমাদের গৃহের ফাঁকে ফাঁকে বৃষ্টির মতো ফিতনাহ্ পতিত হচ্ছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: أَشْرَفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى؟ قَالُوا: لَا. قَالَ: «فَإِنِّي لأرى الْفِتَن خلال بُيُوتكُمْ كوقع الْمَطَر» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (1878) و مسلم (9 / 2885)، (7245) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن اسامة بن زيد قال: اشرف النبي صلى الله عليه وسلم على اطم من اطام المدينة فقال: هل ترون ما ارى؟ قالوا: لا. قال: «فاني لارى الفتن خلال بيوتكم كوقع المطر» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (1878) و مسلم (9 / 2885)، (7245) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : উপর্যুক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসীনে কিরাম বলেছেন: উম্মতকে সম্ভাব্য ফিতনাহ্ সম্পর্কে অবহিত ও সতর্ক করার জন্য নবী (সা.) -কে ফিতনার আলামতসমূহ দেখানো হয়েছে। নবী (সা.) - ফিতনার বর্ণনা যেভাবে দিয়েছেন তার আলোকে বলা যায় যে, শেষ যামানার ফিতনাসমূহ ব্যাপকভাবে সকলকেই গ্রাস করবে। নির্দিষ্টভাবে কোন একক সম্প্রদায় বা গোত্র এতে আক্রান্ত হবে না। মুহাদ্দিসগণের মতে, সাহাবায়ি কিরামের যুগে সংঘটিত বিভিন্ন যুদ্ধ-বিগ্রহ যেমন- উষ্ট্রের যুদ্ধ, সিফফীন ও ‘উসমান (রাঃ)-এর হত্যা এবং হুসায়ন (রাঃ) -কে হত্যার বিষয়ও এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে। (শারহুন নাবাবী হা, ২৮৮৫, সহীহুল বুখারী ১৮৭৮, ২৪৬৭, ৩৫৯৭, ৭০৬০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮৮-[১০] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কুরায়েশের কতক যুবকের হাতেই আমার উম্মতের ধ্বংস নিহীত। (বুখারী)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلَكَةُ أُمَّتِي عَلَى يَدَي غِلْمةٍ مِنْ قُرْيشٍ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3605) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هلكة امتي على يدي غلمة من قريش» . رواه البخاري رواہ البخاری (3605) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে উম্মতের ধ্বংস দ্বারা সাহাবায়ি কিরামের জামা'আতকে বুঝানো হয়েছে। হাদীসে (غِلْمةٍ) দ্বারা কিছু সংখ্যক যুবক উদ্দেশ্য- প্রথমত উসমান (রাঃ)-এর বিরোধী পক্ষ, দ্বিতীয়ত ‘আলী ও হুসায়ন (রাঃ) -এর বিরোধী পক্ষ উদ্দেশ্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, আল জামি' আস্ সগীর ২য় খণ্ড, পৃ. ৫৬৯, হা. ৯৫৯৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৮৯-[১১] উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ [রাঃ]) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সময় সংকীর্ণ হয়ে যাবে, বিদ্যা উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনা-ফাসাদ বৃদ্ধি পাবে, কার্পণ্যতা দেখা দেবে এবং ’হারজ’-এর আধিক্য হবে। লোকেরা প্রশ্ন করল, “হারজ’ কী? তিনি বললেন, হত্যা। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ وَيُقْبَضُ الْعِلَمُ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ وَيُلْقَى الشُّحُّ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ» قَالُوا: وَمَا الْهَرْجُ؟ قَالَ: «الْقَتْلُ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (85) و مسلم (11 / 2672)، (6788 ، 6792) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يتقارب الزمان ويقبض العلم وتظهر الفتن ويلقى الشح ويكثر الهرج» قالوا: وما الهرج؟ قال: «القتل» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (85) و مسلم (11 / 2672)، (6788 ، 6792) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসের বিষয়সমূহ সম্পর্কে ইমাম তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, সময় নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ : দুনিয়ার শেষ সময় নিকটবর্তী হবে এবং আখিরাতও নিকটবর্তী হবে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য কিয়ামত নিকটবর্তী হবে। কারো কারো মতে, সময়ের ব্যবধান কমে যাবে, সে যুগের মানুষের আয়ু হ্রাস পাবে ও সীমালঙ্ঘনের আধিক্যের কারণে সময়ের বারাকাত হ্রাস পাবে। উলামায়ে কিরামকে উঠিয়ে নেয়া হবে, ফিতনার আধিক্য হবে, কৃপণতা বৃদ্ধি পাবে। ('আওনুল মা'বুদ হা, ৪২৪৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৯০-[১২] উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ [রাঃ]) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! সেই পর্যন্ত দুনিয়ার পরিসমাপ্তি ঘটবে না, যে পর্যন্ত না মানুষের ওপর এমন একদিন আসবে, যেদিন হত্যকারী বলতে পারবে না কেন সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানতে পারবে না কেন সে নিহত হয়েছে। প্রশ্ন করা হলো, এটা কিরূপে হবে? তিনি (সা.) বললেন, ফিতনার কারণে। যাতে হত্যাকারী ও নিহত উভয়ই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَأْتِي يَوْمٌ لَا يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ؟ وَلَا الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ؟ فَقِيلَ: كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ؟ قَالَ: «الْهَرْجُ الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (56 / 2908)، (7304) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: والذي نفسي بيده لا تذهب الدنيا حتى ياتي يوم لا يدري القاتل فيم قتل؟ ولا المقتول فيم قتل؟ فقيل: كيف يكون ذلك؟ قال: «الهرج القاتل والمقتول في النار» . رواه مسلم رواہ مسلم (56 / 2908)، (7304) ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৯১-[১৩] মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফিতনার সময় ইবাদতে ব্যস্ত থাকার প্রতিদান আমার দিকে হিজরত করে আসার সমপরিমাণ। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَيَّ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (130 / 2948)، (7400) ۔
(صَحِيح)

وعن معقل بن يسار قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «العبادة في الهرج كهجرة الي» . رواه مسلم رواہ مسلم (130 / 2948)، (7400) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে ফিতনার যুগে দীনের উপর অটল থেকে ‘ইবাদত-বন্দেগী করাকে মক্কা বিজয়ের পূর্বে হিজরতের তুল্য গণ্য করা হয়েছে।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে ফিতনার যুগে ইবাদতের অধিক ফযীলতের কারণ, এ সময় অধিকাংশ মানুষ ‘ইবাদত হতে গাফেল ও বিমুখ থাকে। কতিপয় লোকই কেবল এ সময় ইবাদতে মশগুল থাকবে। (শারহুন নববী ২৯৪৮, তিরমিযী ২২০১, ইবনু মাজাহ ৩৯৮৫, মুসনাদে আহমাদ ৫/২৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫৩৯২-[১৪] যুবায়র ইবনু ’আদী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ-এর নির্যাতনের অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেন, ধৈর্যধারণ কর যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ কর। কেননা আগামীতে তোমাদের ওপর যে সময় আসবে, তা অতীতের তুলনায় আরো খারাপ হবে। আমি এ কথাগুলো তোমাদের নবী (সা.) থেকে শুনেছি। (বুখারী)

الفصل الاول

وَعَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ قَالَ: أَتَيْنَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَلْقَى مِنَ الْحَجَّاجِ. فَقَالَ: «اصْبِرُوا فَإِنَّهُ لَا يَأْتِي عَلَيْكُمْ زمَان إِلَّا الَّذِي بعده أشرمنه حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ» . سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (7068) ۔
(صَحِيح)

وعن الزبير بن عدي قال: اتينا انس بن مالك فشكونا اليه ما نلقى من الحجاج. فقال: «اصبروا فانه لا ياتي عليكم زمان الا الذي بعده اشرمنه حتى تلقوا ربكم» . سمعته من نبيكم صلى الله عليه وسلم. رواه البخاري رواہ البخاری (7068) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে নবী (সা.) -এর ওফাতের পর হতে দাজ্জালের আবির্ভাব পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রত্যেক যুগেই তার পূর্ববর্তী যুগ হতে খারাপ হবে। তবে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর যুগে ব্যতিক্রম।
ইমাম ত্ববারানী (রহিমাহুল্লাহ) তদীয় সুনানে উত্তম সনদে মাওকুফ সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন, যে বছরই অতিক্রান্ত হবে তার পরবর্তী বছর হবে মন্দ।
বিশুদ্ধ আরেকটি সনদে রয়েছে, গতকাল ছিল আজকের চেয়ে উত্তম, আজ আগামীকালের চেয়ে উত্তম, এমনিভাবে কিয়ামত পর্যন্ত সংগঠিত হতে থাকবে। (সহীহ সহীহুল বুখারী হা, ৭০৬৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৩৯৩-[১৫] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি বলতে পারি না যে, আমার বন্ধুগণ (সাহাবায়ি কিরামগণ) কি আসলেই ভুলে গিয়েছেন? নাকি না ভুলেও ভুলার ভান করে আছেন? আল্লাহর শপথ করে বলছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) এমন কোন ফিতনাকারীর আলোচনা অবশিষ্ট রাখেননি, যা কিয়ামত পর্যন্ত আবির্ভূত হবে এবং তার সাথে উক্ত ফিতনাহ সৃষ্টিকারীদের সংখ্যা তিনশত বা তারও অধিক পর্যন্ত পৌছবে। বরং তিনি ঐ ব্যক্তির নাম, তার পিতার নাম এবং তার বংশ পরিচয়ও আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: وَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَصْحَابِي أَمْ تَنَاسَوْا؟ وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلَاثَمِائَةٍ فَصَاعِدًا إِلَّا قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ واسمِ قبيلتِه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4243) ۔
(ضَعِيف)

عن حذيفة قال: والله ما ادري انسي اصحابي ام تناسوا؟ والله ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم من قاىد فتنة الى ان تنقضي الدنيا يبلغ من معه ثلاثماىة فصاعدا الا قد سماه لنا باسمه واسم ابيه واسم قبيلته. رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4243) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে রাসূল (সা.) তাঁর ওফাত পরবর্তী সময় হতে দুনিয়ার ধ্বংস হওয়া অবধি তিন শতাধিক মন্দ নেতা ও বিদআতী দা'ঈদের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা সাহাবীদের জানিয়ে দিয়েছিলেন। যারা মানুষকে বিদ'আতের দিকে আহ্বান করবে ও যুদ্ধ-বিগ্রহের ইন্ধন যোগাবে এবং এতে নেতৃত্ব দিবে। তাদের নাম, পিতা ও গোত্রের নাম এবং অনুসারী সংখ্যাসহ উল্লেখ করেছেন। এটি নবী (সা.) -এর একটি মু'জিযাহূস্বরূপ। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৩৯৪-[১৬] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টকারী নেতাদের খুব বেশি আশঙ্কা করছি। আর আমার উম্মতের ওপর যখন একবার তলোয়ার চালু হবে, তখন আর কিয়ামত অবধি তাদের হতে উঠবে না। (আবূ দাউদ ও তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ وَإِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي لَمْ يُرْفَعْ عَنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد والترمذيُّ

صحیح ، رواہ ابوداؤد (4252) و الترمذی (2229 وقال : صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انما اخاف على امتي الاىمة المضلين واذا وضع السيف في امتي لم يرفع عنهم الى يوم القيامة» . رواه ابو داود والترمذي صحیح ، رواہ ابوداؤد (4252) و الترمذی (2229 وقال : صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : উপর্যুক্ত হাদীস পথভ্রষ্টকারী নেতা দ্বারা পাপাচার ও সীমালঙ্নকারী উদ্দেশ্য। হাদীসের শেষাংশ আহলে হক দ্বারা জ্ঞানে ও ‘আমলে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত জামা'আতকে বুঝানো হয়েছে। যারা সর্বদাই বাতিলের উপর বিজয়ী থাকবে।
(সহীহ মুসলিম ১৯২০, আবূ দাউদ ৪২৫২, ইবনু মাজাহ (ভূমিকা) ৩৯৫২, তিরমিযী ২১৭৬, ২২২০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাওবান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৩৯৫-[১৭] সাফীনাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [রাসূল (সা.) এ বলেছেন] খিলাফত ত্রিশ বছর অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর তা রাজতন্ত্রে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। বর্ণনাকারী সাফীনাহ (রাঃ) বলেন, তা এরূপে বর্ণনা করে নাও- আবূ বা সিদ্দীক (রাঃ)-এর খিলাফতকাল দু বছর, ’উমার (রাঃ)-এর খিলাফতকাল দশ বছর, উসমান (রাঃ)-এর বারো বছর এবং ’আলী (রাঃ)-এর ছয় বছর। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن سفينة قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْخِلَافَةُ ثَلَاثُونَ سَنَةً ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا» . ثُمَّ يَقُولُ سَفِينَةُ: أَمْسِكْ: خِلَافَةَ أَبِي بَكْرٍ سَنَتَيْنِ وَخِلَافَةَ عُمَرَ عَشْرَةً وَعُثْمَانَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ وَعَلِيٍّ سِتَّةً. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 220 ۔ 221 ح 22264) و الترمذی (2226 وقال : حسن) و ابوداؤد (4646) ۔
(حسن)

وعن سفينة قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «الخلافة ثلاثون سنة ثم تكون ملكا» . ثم يقول سفينة: امسك: خلافة ابي بكر سنتين وخلافة عمر عشرة وعثمان اثنتي عشرة وعلي ستة. رواه احمد والترمذي وابو داود اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 220 ۔ 221 ح 22264) و الترمذی (2226 وقال : حسن) و ابوداؤد (4646) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা : উপর্যুক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও নুবুওয়্যাতের পর খিলাফত কতদিন স্থায়ী হবে তার একটি মেয়াদ উল্লেখ করেছেন। তৎপরবর্তী সময়ে মুসলিম বিশ্বে রাষ্ট্র ব্যবস্থার ধরণ কিরূপ হবে তা প্রিয়নবী (সা.) উপস্থাপন করেছেন।
খিলাফাতে রাশিদার মেয়াদকাল ছিল ৩০ বছর। আবূ বাকর (রাঃ) ২ বছর ৩ মাস ১০ দিন, ‘উমার (রাঃ)- ১০ বছর ৬ মাস ৮ দিন, ‘উসমান (রাঃ) ১১ বছর ১১ মাস ৯ দিন, ‘আলী (রাঃ) ৪ বছর ৯ মাস ৭ দিন, হাসান (রাঃ) ৭ মাস।
মুসনাদে আহমাদে সাফীনাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে, আমার উম্মতের খিলাফতকাল হবে ৩০ বছর। অতঃপর রাজা-বাদশাহদের রাজত্ব কায়িম হবে। ইমাম বায়হাক্বী তদীয় ‘আল মাদখাল’ গ্রন্থে সাফীনাহ্ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত আছে- প্রথম রাজত্ব ছিল মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর অধীন। শারহুস্ সুন্নাহ গ্রন্থে রয়েছে, যারা খিলাফাতে রাশিদার আদলে সুন্নাতে রাসূল (সা.) -কে আঁকড়ে ধরে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন তারাই খলীফাহ্। পক্ষান্তরে যারা খিলাফাতে রাশিদার পরিপন্থী কাজ করেছেন তারা নিজেদেরকে খলীফাহ্ দাবী করলেও সেই দাবী যথার্থ নয়। বরং তারা রাজা হিসেবে গণ্য হবেন।
ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তদীয় ‘তারীখ’ গ্রন্থে এবং ইমাম হাকিম তার মুসতাদরাক গ্রন্থে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, খিলাফত হবে মদীনায় এবং রাজতন্ত্র হবে শাম দেশে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ সাফীনাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৩৯৬-[১৮] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! এখন আমরা যে ভালো যুগে (ইসলামে) অবস্থান করছি, এর পরে কি কোন খারাপ যুগ আসবে যেমন। এটার (ইসলামের) পূর্বে (জাহিলিয়্যাত) ছিল? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, আসবে। আমি প্রশ্ন করলাম, তা হতে বেঁচে থাকার উপায় কি? তিনি (সা.) বললেন, তলোয়ার (বাতিলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে অস্ত্র ধারণ করতে হবে)।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা সেই তলোয়ারী যুগের পরে কি মুসলিমের অস্তিত্ব থাকবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, থাকবে। তবে তখন প্রতিষ্ঠিত হবে রাজতন্ত্র। তার উৎপত্তি হবে মানুষের ঘৃণার উপর এবং সন্ধি-চুক্তি হবে ধোঁকার উপর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কি হবে? তিনি (সা.) বললেন, অতঃপর গোমরাহীর দিকে আহ্বানকারী লোকের আগমন ঘটবে। তখন যদি আল্লাহর এই জমিনে কোন শাসক থাকে এবং সে তোমার পৃষ্ঠে অন্যায়ভাবে চাবুক মারে এবং (জোরপূর্বক) তোমার মাল-সম্পদ ছিনিয়েও নেয়, তবুও তুমি তার আনুগত্য কর।
যদি কোন শাসক না থাকে তবে তোমার মৃত্যু যেন এই অবস্থায় হয় যে, তুমি (সকল সম্পর্ক ত্যাগ করে) কোন গাছের গোড়ায় আশ্রয় গ্রহণকারী হবে। (নির্জনে থাকবে) আমি প্রশ্ন করলাম, তারপর কি হবে? তিনি বললেন, অতঃপর দাজ্জালের আগমন ঘটবে। তার সঙ্গে থাকবে নদী ও আগুন। যে ব্যক্তি উক্ত অগ্নিকুণ্ডে পড়বে, (আল্লাহর নিকট) তার প্রতিদান সাব্যস্ত হয়ে যাবে এবং তার পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তার নহরে প্রবেশ করবে তার পাপ অবধারিত হয়ে যাবে এবং তার (নেক ’আমলের) প্রতিদান বাতিল হয়ে যাবে। হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কি হবে? তিনি (সা.) বললেন, ঘোড়ার বাচ্চা লাভ করা হবে, কিন্তু তা আরোহণের উপযুক্ত হওয়ার পূর্বেই কিয়ামত কায়িম হয়ে যাবে। অপর এক বর্ণনায় আছে, সেই ফিতনার সন্ধি চুক্তি হবে ধোঁকার উপর এবং জামা’আতবন্দি হবে ঘৃণার উপর। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! প্রতারণার চুক্তির অর্থ কী? তিনি (সা.) বলেলেন, লোকজনের অন্তর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না। আমি প্রশ্ন করলাম, সেই ভালোর পরেও কি কোন খারাপ আসবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, এরপরে এসে পড়বে অন্ধ ও বধির ফিতনাহ্ (তখন আর তা হতে বের হওয়ার কোন পথও থাকবে না)। সে সময় এক দল লোক জাহান্নামের দাঁড়িয়ে ফিতনার দিকে আহ্বানকারী হবে। হে হুযায়ফাহ! সেই সময় এ সকল আহ্বানকারীর কারো অনুসরণ করা। অপেক্ষা যদি তুমি গাছের শিকড় অবলম্বন করে মৃত্যুবরণ কর, তা হবে তোমার পক্ষে উত্তম। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَكُونُ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ كَمَا كَانَ قَبْلَهُ شَرٌّ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قُلْتُ: فَمَا الْعِصْمَةُ؟ قَالَ: «السَّيْفُ» قُلْتُ: وَهَلْ بَعْدَ السَّيْفِ بَقِيَّةٌ؟ قَالَ: «نعمْ تكونُ إِمارةٌ على أَقْذَاءٍ وَهُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ» . قُلْتُ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ يَنْشَأُ دُعَاةُ الضَّلَالِ فَإِنْ كَانَ لِلَّهِ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةٌ جَلَدَ ظَهْرَكَ وَأَخَذَ مَالَكَ فَأَطِعْهُ وَإِلَّا فَمُتْ وَأَنْتَ عَاضٌّ عَلَى جَذْلِ شَجَرَةٍ» . قُلْتُ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ بَعْدَ ذَلِكَ مَعَهُ نَهْرٌ وَنَارٌ فَمَنْ وَقَعَ فِي نَارِهِ وَجَبَ أَجْرُهُ وَحُطَّ وِزْرُهُ وَمَنْ وَقَعَ فِي نَهْرِهِ وَجَبَ وِزْرُهُ وحظ أَجْرُهُ» . قَالَ: قُلْتُ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «ثُمَّ يُنْتَجُ الْمُهْرُ فَلَا يُرْكَبُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ» وَفِي رِوَايَة: «هُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ وَجَمَاعَةٌ عَلَى أَقْذَاءٍ» . قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْهُدْنَةُ عَلَى الدَّخَنِ مَا هِيَ؟ قَالَ: «لَا ترجع قُلُوب أَقوام كَمَا كَانَتْ عَلَيْهِ» . قُلْتُ: بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ؟ قَالَ: «فِتْنَةٌ عَمْيَاءُ صَمَّاءُ عَلَيْهَا دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ النَّارِ فَإِنْ مُتَّ يَا حُذَيْفَةُ وَأَنْتَ عَاضٌّ عَلَى جَذْلٍ خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تتبع أحدا مِنْهُم» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

صحیح ، رواہ ابوداؤد (4244 ، صحیح ، 4247 ، حسن) ۔
(صَحِيح)

وعن حذيفة قال: قلت: يا رسول الله ايكون بعد هذا الخير شر كما كان قبله شر؟ قال: «نعم» قلت: فما العصمة؟ قال: «السيف» قلت: وهل بعد السيف بقية؟ قال: «نعم تكون امارة على اقذاء وهدنة على دخن» . قلت: ثم ماذا؟ قال: «ثم ينشا دعاة الضلال فان كان لله في الارض خليفة جلد ظهرك واخذ مالك فاطعه والا فمت وانت عاض على جذل شجرة» . قلت: ثم ماذا؟ قال: «ثم يخرج الدجال بعد ذلك معه نهر ونار فمن وقع في ناره وجب اجره وحط وزره ومن وقع في نهره وجب وزره وحظ اجره» . قال: قلت: ثم ماذا؟ قال: «ثم ينتج المهر فلا يركب حتى تقوم الساعة» وفي رواية: «هدنة على دخن وجماعة على اقذاء» . قلت: يا رسول الله الهدنة على الدخن ما هي؟ قال: «لا ترجع قلوب اقوام كما كانت عليه» . قلت: بعد هذا الخير شر؟ قال: «فتنة عمياء صماء عليها دعاة على ابواب النار فان مت يا حذيفة وانت عاض على جذل خير لك من ان تتبع احدا منهم» . رواه ابو داود صحیح ، رواہ ابوداؤد (4244 ، صحیح ، 4247 ، حسن) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে এই উম্মাতের শেষ যামানায় যেসব ফিতনার আবির্ভাব হবে তার ধরণ উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীসে বলা হয়েছে, ফিতনাহ হবে অন্ধ ও বধির। ফিতনাকে অন্ধ বলা হয়েছে এজন্য যে, এ সময়ে বিরাজমান মানুষজন সত্যপথ দেখতে ব্যর্থ হবে বা হক খুঁজে পেতে সক্ষম হবে না এবং সত্য কথা ও উপদেশ শুনবে না বা তা শুনতে অক্ষম হবে। তবে হাদীসের প্রথমাংশে যে তলোয়ারের কথা বলা হয়েছে, সেটিকে কতিপয় সাহাবায়ি কিরাম রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওফাতের পর আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর যুগে মুরতাদদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণের ইঙ্গিত রয়েছে। যা সূরা আল হুজুরাতের ৯ নং আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

ইমাম কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে এ সময় মানুষেরা ফিতনাহ থেকে বাঁচার কোন পথ পাবে না।  সত্য কথা ও উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষেরা উপলব্ধি ও অনুধাবন শক্তি হারিয়ে ফেলবে। সে সময় কতক আহ্বানকারী/একদল দা'ঈর উদ্ভব হবে যারা মানুষকে জাহান্নামের দিকে দৃঢ়ভাবে আহ্বান করবে। অবস্থা এমন হবে যে, তারা যেন জাহান্নামের দরজায় দাঁড়িয়ে মানুষকে তাতে প্রবেশের আহ্বান জানাবে। সে সময়ে রাসূল (সা.) -এর নির্দেশনা হলো, এ সময় প্রয়োজনে গাছের গুড়ি আঁকড়ে থাকতে হবে। তবুও সেসব দা'ঈ/আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেয়া যাবে না এবং ফিতনায় জড়ানো যাবে না।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৩৯৭-[১৯] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পিছনে একটি গাধার উপরে আরোহী ছিলাম। যখন আমরা মদীনার গ্রামাঞ্চল অতিক্রম করে বাহিরে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, হে আবূ যার! তখন তোমার কি অবস্থা হবে যখন মদীনায় এমন দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে যে, ক্ষুধার তাড়নায় তুমি নিজ বিছানা হতে উঠে মসজিদ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না, এমনকি ক্ষুধা তোমাকে পেরেশানী করে ফেলবে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। তিনি (সা.) বললেন, হে আবূ যার! তখন তুমি আত্মসংযম করবে (হারাম কিংবা সন্দেহযুক্ত মাল ভক্ষণ করো না)। তিনি (সা.) পুনরায় বললেন, হে আবূ যর! তখন তোমার অবস্থা কিরূপ হবে যখন মদীনায় এমন মহামারি দেখা দেবে যে, একটি ঘর একটি গোলামের মূল্যের সমপরিমাণে পৌছবে, এমনকি একটি কবরের স্থান একটি গোলামের বিনিময়ে বিক্রয় হবে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি (সা.) বললেন, হে আবূ যার! তখন তোমার অবস্থা কি হবে যখন মদীনায় এমন এক হত্যাযজ্ঞের সূচনা হবে যার রক্ত ’আজারু যায়ত নামক স্থানকে ডুবিয়ে ফেলবে। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি (সা.) বললেন, তখন তুমি তার কাছেই চলে যাবে যার সাথে তুমি সম্পর্কিত (নিজের পরিবার অথবা নিজ ইমামের নিকট)। আমি বললাম, তবে কি আমি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হব? তিনি (সা.) বললেন, যদি তুমি এরূপ কর তাহলে তুমিও সে দলের সাথে শামিল হয়ে যাবে। আমি বললাম, তাহলে আমি কি করব? হে আল্লাহর রসল। তখন তিনি (সা.) বললেন, যদি তুমি তলোয়ারের চাকচিক্যকে ভয় কর (তলোয়ারের সম্মুখে ভয় পাও), তাহলে পরিহিত কাপড়ের একাংশ স্বীয় মুখের উপরে স্থাপন করবে, যাতে সে তোমার ও নিজের পাপ বহন করে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن أبي ذَر قَالَ: كُنْتُ رَدِيفًا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا علىحمار فَلَمَّا جَاوَزْنَا بُيُوتَ الْمَدِينَةِ قَالَ: «كَيْفَ بِكَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ جُوعٌ تَقُومُ عَنْ فِرَاشِكَ وَلَا تَبْلُغُ مَسْجِدَكَ حَتَّى يُجْهِدَكَ الْجُوعُ؟» قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «تَعَفَّفْ يَا أَبَا ذَرٍّ» . قَالَ: «كَيْفَ بِكَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ مَوْتٌ يَبْلُغُ الْبَيْتَ الْعَبْدُ حَتَّى إِنَّهُ يُبَاعُ الْقَبْرُ بِالْعَبْدِ؟» . قَالَ: قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «تَصْبِرُ يَا أَبَا ذَرٍّ» . قَالَ: «كَيْفَ بِكَ يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ قَتْلٌ تَغْمُرُ الدِّمَاءُ أَحْجَارَ الزَّيْتِ؟» قَالَ: قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «تَأْتِي مَنْ أَنْتَ مِنْهُ» . قَالَ: قُلْتُ: وَأَلْبَسُ السِّلَاحَ؟ قَالَ: «شَارَكْتَ الْقَوْمَ إِذًا» . قُلْتُ: فَكَيْفَ أَصْنَعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِنْ خَشِيتَ أَنْ يَبْهَرَكَ شُعَاعُ السَّيْفِ فَأَلْقِ نَاحِيَةَ ثَوْبِكَ عَلَى وَجْهِكَ لِيَبُوءَ بإِثمك وإِثمه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

حسن ، رواہ ابوداؤد (4261) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي ذر قال: كنت رديفا خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما علىحمار فلما جاوزنا بيوت المدينة قال: «كيف بك يا ابا ذر اذا كان بالمدينة جوع تقوم عن فراشك ولا تبلغ مسجدك حتى يجهدك الجوع؟» قال: قلت: الله ورسوله اعلم. قال: «تعفف يا ابا ذر» . قال: «كيف بك يا ابا ذر اذا كان بالمدينة موت يبلغ البيت العبد حتى انه يباع القبر بالعبد؟» . قال: قلت الله ورسوله اعلم. قال: «تصبر يا ابا ذر» . قال: «كيف بك يا ابا ذر اذا كان بالمدينة قتل تغمر الدماء احجار الزيت؟» قال: قلت: الله ورسوله اعلم. قال: «تاتي من انت منه» . قال: قلت: والبس السلاح؟ قال: «شاركت القوم اذا» . قلت: فكيف اصنع يا رسول الله؟ قال: «ان خشيت ان يبهرك شعاع السيف فالق ناحية ثوبك على وجهك ليبوء باثمك واثمه» . رواه ابو داود حسن ، رواہ ابوداؤد (4261) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে প্রিয় নবী (সা.) আবূ যার (রাঃ)-কে চরম ফিতনার সময় নিজেকে শংকামুক্ত রাখার জন্য হানাহানিতে লিপ্ত হতে কঠোরভাবে বারণ করেছেন। এমনকি কেউ যদি কাউকে তলোয়ার দিয়ে হত্যা করতে উদ্যত হয় তাকে প্রতিরোধ করতেও নিষেধ করেছেন। এমতাবস্থায় নিহত হলেও যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যাবে না। এ সময় কেউ যদি কোন মু'মিনকে হত্যা করতে উদ্যত হয় প্রতিরোধ করা যাবে না। নিহত হলে আদম আলাইহিস সালাম-এর পুত্র হাবিলের মতো নিজেকে মৃত্যুর জন্য সমর্পণ করতে হবে।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে তলোয়ার বা ধারালো অস্ত্র ভোঁতা করার মর্ম হচ্ছে বিশৃঙ্খলা ও হানাহানিতে শরীক হওয়ার পথরুদ্ধ করতে হবে। সে সময় মৃত্যুকে বরণ করার মাধ্যমে ধৈর্যধারণ করতে হবে। কেননা, বিশৃঙ্খলার মুহূর্তে আন্দোলনে শরীক হওয়ার চাইতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করাই উত্তম। আন্দোলনে শরীক হলে ফিতনাহ্ আরো বৃদ্ধি পাবে। (ইবনু মাজাহ হা. ৩৯৫৭, আবূ দাউদ হা. ৪৩৩৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৩৯৮-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, (হে ’আবদুল্লাহ!) তখন তোমার কিরূপ হবে? যখন তুমি নিকৃষ্ট ও ইতর লোকদের মধ্যে যাবে, তাদের অস্বীকার ও আমানতের মাঝে ভেজাল এসে যাবে এবং পরস্পরে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়বে। তাদের অবস্থা হবে এরূপ এবং (এ কথা বলে) উভয় হাতের অঙ্গুলিসমূহকে পরস্পরের মধ্যে ঢুকালেন। ’আবদুল্লাহ আল বললেন, তখন আমার কর্তব্য কি হবে, আপনিই আমাকে নির্দেশ করুন। তখন তিনি (সা.) বললেন, যে কাজটি তুমি সত্য ও ভালো বলে জানো, কেবলমাত্র তাই করবে এবং যা অসত্য ও খারাপ বলে জানো তা দূরে সরিয়ে রাখবে। অপর এক বর্ণনায় আছে, নিজ ঘরে বসে থাকো, নিজের মুখ ও জবানকে নিজ আয়ত্তে রাখো আর যা ভালো মনে কর, শুধু তাই কর এবং খারাপকে বর্জন কর। শুধুমাত্র নিজের ব্যাপারে সচেতন থাকো এবং সর্বসাধারণ মানুষ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা পরিহার কর। (ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেন, হাদীসটি সহীহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَيْفَ بِكَ إِذَا أُبْقِيتَ فِي حُثَالَةٍ مِنَ النَّاسِ مَرَجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ؟ وَاخْتَلَفُوا فَكَانُوا هَكَذَا؟» وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ. قَالَ: فَبِمَ تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: «عَلَيْكَ بِمَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِخَاصَّةِ نَفْسِكَ وَإِيَّاكَ وَعَوَامِّهِمْ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «الْزَمْ بَيْتَكَ وَأَمْلِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ وَخُذْ مَا تَعْرِفُ وَدَعْ مَا تُنْكِرُ وَعَلَيْكَ بِأَمْرِ خَاصَّةِ نَفْسِكَ ودع أَمر الْعَامَّة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (لم اجدہ) و ابوداؤد (4342 ۔ 4343) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كيف بك اذا ابقيت في حثالة من الناس مرجت عهودهم واماناتهم؟ واختلفوا فكانوا هكذا؟» وشبك بين اصابعه. قال: فبم تامرني؟ قال: «عليك بما تعرف ودع ما تنكر وعليك بخاصة نفسك واياك وعوامهم» . وفي رواية: «الزم بيتك واملك عليك لسانك وخذ ما تعرف ودع ما تنكر وعليك بامر خاصة نفسك ودع امر العامة» . رواه الترمذي وصححه اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (لم اجدہ) و ابوداؤد (4342 ۔ 4343) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফিতনার যুগে মানুষকে চেনা কঠিন হয়ে যাবে। কেননা, প্রতিনিয়ত মানুষের চিন্তা-চেতনা, ‘আমাল-আখলাক, কাজকর্ম ও চলাফেরা পরিবর্তিত হবে। সে কারণেই মু'মিনদেরকে সতর্কতার সাথে জীবনযাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (ইবনু মাজাহ হা. ৩৯৫৭, আবূ দাউদ হা. ৪৩৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনুল আস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৩৯৯-[২১] আবূ মূসা (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: কিয়ামত আসার আগে ঘোর অন্ধকার রাত্রির একাংশের মতো ফিতনাহ্ সংঘটিত হতে থাকবে তাতে কোন ব্যক্তি সকালে মু’মিন এবং বিকালে কাফির এবং বিকালে মু’মিন এবং সকালে কাফিরে পরিণত হতে থাকবে। তাতে বসা ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির তুলনায় উত্তম হবে। আর চলমান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তি অপেক্ষা উত্তম হবে। তখন তোমরা তোমাদের ধনুকগুলো ভেঙ্গে ফেলবে এবং তার রশিগুলো কেটে দিবে। আর তোমাদের তলোয়ার পাথরে ঘষে তার ধার নষ্ট করে দেবে। এ সময় যদি কেউ আগ্রাসী হয়ে তোমাদের কাউকে আক্রমণ করে, তখন সে যেন আদাম (আঃ)-এর দুই ছেলের মধ্যে উত্তম ছেলের নীতি অনুসরণ করে। (আবূ দাউদ)

আবূ দাউদ-এর অপর এক বর্ণনায়, (خَيْرٌ مِّنَ السَّاعِىْ) “দ্রুতগামী অপেক্ষা উত্তম” পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে। অতঃপর সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমাদেরকে সে সময় কী করতে নির্দেশ দেন? তিনি (সা.) বললেন, সেই সময় তোমরা আপন ঘরের চট হয়ে যাও। (বিছানা যেমন ঘরে পড়ে থাকে, তেমন তোমরাও ঘরে বসে থাকবে, অর্থাৎ ফিতনায় জড়িত হবে না)।
আর তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফিতনার সময় তোমরা নিজেদের ধনুক ভেঙ্গে ফেল এবং তার রশি কেটে ফেল। গৃহের ভিতরে আবদ্ধ থাক এবং আদাম (আঃ)-এর পুত্র (হাবিল)-এর নীতি অনুসরণ কর। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসটি সহীহ গরীব।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِد خير من الْقَائِم والماشي خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَكَسِّرُوا فِيهَا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا فِيهَا أَوْتَارَكُمْ وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ فَإِنْ دُخِلَ عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَيْ آدَمَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد. وَفِي رِوَايَة لَهُ (ضَعِيف) : «ذَكَرَ إِلَى قَوْلِهِ» خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي ثُمَّ قَالُوا: فَمَا تَأْمُرُنَا؟ قَالَ: كُونُوا أَحْلَاسَ بُيُوتِكُمْ . وَفِي رِوَايَةِ التِّرْمِذِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْفِتْنَةِ: «كَسِّرُوا فِيهَا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا فِيهَا أَوْتَارَكُمْ وَالْزَمُوا فِيهَا أَجْوَافَ بُيُوتِكُمْ وَكُونُوا كَابْنِ آدَمَ» . وَقَالَ: هَذَا حديثٌ صحيحٌ غريبٌ

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4259 ، 4262) و الترمذی (2204) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي موسى عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال: «ان بين يدي الساعة فتنا كقطع الليل المظلم يصبح الرجل مومنا ويمسي كافرا ويمسي مومنا ويصبح كافرا القاعد خير من القاىم والماشي خير من الساعي فكسروا فيها قسيكم وقطعوا فيها اوتاركم واضربوا سيوفكم بالحجارة فان دخل على احد منكم فليكن كخير ابني ادم» . رواه ابو داود. وفي رواية له (ضعيف) : «ذكر الى قوله» خير من الساعي ثم قالوا: فما تامرنا؟ قال: كونوا احلاس بيوتكم . وفي رواية الترمذي: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في الفتنة: «كسروا فيها قسيكم وقطعوا فيها اوتاركم والزموا فيها اجواف بيوتكم وكونوا كابن ادم» . وقال: هذا حديث صحيح غريب اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4259 ، 4262) و الترمذی (2204) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : কিয়ামাতের পূর্বে আবির্ভূত আলামাতসমূহের অন্যতম হলো মানুষের ব্যক্তিগত অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হবে। প্রভাতে কেউ মুসলিম থাকলে সন্ধ্যায় সে নানা কারণে কাফির হয়ে যাবে। সে কারণে নিজের ইসলাম ও ঈমান সুরক্ষায় সাধারণ মানুষের সংস্পর্শ হতে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সে সময়ের বিশাল পরিস্থিতি হতে মুক্ত থাকতে নিজস্ব ধারালো অস্ত্রপাতি ভোঁতা করে দিতে হবে। যেন মারামারি হানাহানিতে লিপ্ত হওয়ার কোন সুযোগ না থাকে। (ইবনু মাজাহ হা. ৩৯৬১, আবূ দাউদ হা. ৪২৫৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০০-[২২] উম্মু মালিক আল বাহিযিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) ফিতনার আলোচনা করলেন এবং তা খুবই কাছে বলেও বর্ণনা করলেন। তখন আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! সেই সময় উত্তম ব্যক্তি কে? তিনি (সা.) বললেন, যে ব্যক্তি নিজের গবাদি পশুর মধ্যে থেকে তার অধিকার (যাকাত ইত্যাদি) আদায় করবে এবং নিজ পারোয়ারদিগারের ’ইবাদতে ব্যস্ত থাকবে। আর যে ব্যক্তি নিজের ঘোড়ার উপর আরোহণ করে শত্রুদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করবে এবং শত্রুরা তাকে ভয় দেখাবে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن أم مَالك البهزية قَالَتْ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِتْنَةً فَقَرَّبَهَا. قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ خَيْرُ النَّاسِ فِيهَا؟ قَالَ: «رَجُلٌ فِي مَاشِيَتِهِ يُؤَدِّي حَقَّهَا وَيَعْبُدُ رَبَّهُ وَرَجُلٌ أَخَذَ برأسٍ فرأسه يخيف الْعَدو ويخوفونه» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2177 وقال : غریب) * الرجل مجھول او ھو لیث بن ابی سلیم ضعیف مشھور و روی الحاکم (4 / 446 ح 8380) عن ابن عباس قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ و سلم : ((خیر الناس فی الفتن رجل آخذ بعنان فرسہ)) او قال : ((برسن فرسہ خلف اعداء اللہ یخیفھم و یخیفونہ او رجل معتزل فی بادیتہ یؤدی حق اللہ تعالیٰ الذی علیہ۔)) و سندہ حسن

وعن ام مالك البهزية قالت: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم فتنة فقربها. قلت: يا رسول الله من خير الناس فيها؟ قال: «رجل في ماشيته يودي حقها ويعبد ربه ورجل اخذ براس فراسه يخيف العدو ويخوفونه» . رواه الترمذي سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2177 وقال : غریب) * الرجل مجھول او ھو لیث بن ابی سلیم ضعیف مشھور و روی الحاکم (4 / 446 ح 8380) عن ابن عباس قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ و سلم : ((خیر الناس فی الفتن رجل آخذ بعنان فرسہ)) او قال : ((برسن فرسہ خلف اعداء اللہ یخیفھم و یخیفونہ او رجل معتزل فی بادیتہ یؤدی حق اللہ تعالی الذی علیہ۔)) و سندہ حسن

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ফিতনার যুগে উত্তম মানুষের গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। যারা নিজেকে ফিতনাহমুক্ত রাখতে চান তাদের কর্তব্য হচ্ছে নিজের পশুপাল নিয়ে নির্জনে অবস্থান ও আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকা। সেই সাথে কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করা ও মুসলিমদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। (তুহফাতুল আহওয়াযী হা, ২১৭৭, মুসনাদে আহমাদ হা. ৬/৪১৯, তবারানী কাবীর হা. ২৫/১৫০, সহীহ আল জামি হা. ৩২৯২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০১-[২৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ ফিতনাহ দেখা দেবে, যা গোটা আরবভূমিকে গ্রাস করে ফেলবে। তাতে যারা নিহত হবে তারা জাহান্নামী। উক্ত হট্টগোলের সময় মুখের ভাষা হবে তলোয়ারের আঘাত অপেক্ষা অধিক ক্ষতিকর। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَتَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلَاهَا فِي النَّارِ اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2178 وقال : غریب) و ابن ماجہ (3967) [و ابوداؤد (4256)] * زیاد : مجھول الاحال و لیث بن ابی سلیم : ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ستكون فتنة تستنظف العرب قتلاها في النار اللسان فيها اشد من وقع السيف» . رواه الترمذي وابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2178 وقال : غریب) و ابن ماجہ (3967) [و ابوداؤد (4256)] * زیاد : مجھول الاحال و لیث بن ابی سلیم : ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, কেননা যে কাজের কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করা আবশ্যক হয়ে যায় সে কাজগুলোতে তারা সরাসরি লিপ্ত ছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী : “নিশ্চয় পুন্যবানগণ থাকবে নি'আমাতপূর্ণ জান্নাতে এবং পাপিষ্ঠরা থাকবে জাহান্নামে।” (সূরাহ্ ইনফিত্বা-র ৮২ : ১৩-১৪)
আল ক্বাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : হাদীসে উল্লেখিত ফিতনায় নিহতদের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিশ্চয় তারা জাহান্নামের অধিবাসী, কেননা উক্ত যুদ্ধে তারা দীনকে সমুন্নত কিংবা অত্যাচারীদের প্রতিহত করা বা অত্যাচারিতদের সাহায্য করার উদ্দেশে করেনি বরং তারা সম্পদ ও নেতৃত্ব পাওয়ার লোভে সে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, বিধায় তারা জাহান্নামী। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৯ পৃষ্ঠা, হা, ২১৭৮)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০২-[২৪] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে বোবা, বধির অন্ধ ফিতনাহ্ দেখা দেবে। যে ব্যক্তি তার দিকে দৃষ্টি দিবে উক্ত ফিতনাও তার দিকে দৃষ্টি দিবে, তাতে কথাবার্তায় অংশগ্রহণ করা তলোয়ারের আঘাতের মতো ক্ষতিকর হবে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «سَتَكُونُ فِتْنَةٌ صَمَّاءُ بكماء عمياءُ مَنْ أَشْرَفَ لَهَا اسْتَشْرَفَتْ لَهُ وَإِشْرَافُ اللِّسَانِ فِيهَا كوقوع السَّيْف» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4264) * عبد الرحمن بن البیلمانی : ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ستكون فتنة صماء بكماء عمياء من اشرف لها استشرفت له واشراف اللسان فيها كوقوع السيف» . رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4264) * عبد الرحمن بن البیلمانی : ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে নবী (সা.) -এর বাণী : “অচিরেই বোবা, বধির ও অন্ধের ফিতনার আত্মপ্রকাশ ঘটবে”। এর অর্থ হলো : তারা সত্য-মিথ্যার কোন পার্থক্য করবে না, তারা দীনের কোন নসীহত শুনবে না এবং তারা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে না। বরং যে সত্যের স্বপক্ষে কথা বলবে তাকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়া হবে এবং ফিতনাহ্ বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেয়া হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০৩-[২৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা নবী (সা.) -এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি (সা.) নানাবিধ ফিতনাহ্ সম্পর্কে আলোচনা করলেন, এমনকি ’ফিতনায়ে আহলাস’-এরও উল্লেখ করলেন। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ’ফিতনায়ে আহলাস’ কি? তিনি (সা.) বললেন, তাতে পলায়নপর হবে (পরস্পরের মধ্যে শত্রুতার দরুন একে অন্য থেকে পলায়ন করবে) এবং ছিনতাই হবে। অতঃপর দেখা দেবে ’ফিতনাতুস্ সারা’ (ধনের প্রাচুর্যের বিলাসিতায় লিপ্ত হয়ে হওয়ার ফিতনাহ্), উক্ত ফিতনার ধোঁয়া আমার পরিবারস্থ এক ব্যক্তির পায়ের নিচ হতে উৎপত্তি লাভ করবে। সে আমার বংশের লোক বলে দাবি করবে, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে আমার আপনজনদের মধ্যে হবে না। মূলত পরহেজগার লোকই হলেন আমার বন্ধু। অতঃপর লোকেরা এমন ব্যক্তির ওপর ক্ষমতা হস্তান্তরে একমত হবে, যে পাঁজরের হাড়ের উপর নিতম্বের মতো হবে (অনভিজ্ঞ ও অযোগ্য ব্যক্তিই হবে তাদের অধিনায়ক)। তারপর শুরু হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনাহ্ তা কাউকেও ছাড়বে না, বরং প্রত্যেক ব্যক্তিকে এক একটি চপেটাঘাত লাগাবেই (অর্থাৎ ফিতনার শিকার হয়ে পড়বে)। আর যখন বলা হবে ফিতনার পরিসমাপ্তি ঘটেছে, তখন তা এত প্রসারিত হবে যে, মানুষ ভোরে ঈমানদার হয়ে উঠবে, কিন্তু সন্ধ্যায় সে কাফির হয়ে যাবে। পরিশেষে সকল মানুষ দুটি তাবুতে (দলে) বিভক্ত হয়ে যাবে। এক দল হবে ঈমানের, এখানে মুনাফিকী থাকবে না। আর অপর দল হবে মুনাফিক্বীর, যার মধ্যে ঈমান থাকবে না। যখন অবস্থা এ সীমায় পৌছবে, তখন তোমরা দাজ্জালের আগমনের প্রতীক্ষা কর, সে ঐ দিনই অথবা পরের দিন আবির্ভূত হবে। (আবূ দাউদ)।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ: كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الْأَحْلَاسِ فَقَالَ قَائِلٌ: وَمَا فِتْنَةُ الْأَحْلَاسِ. قَالَ: هِيَ هَرَبٌ وَحَرَبٌ ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَيْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي وَلَيْسَ مِنِّي إِنَّمَا أَوْلِيَائِي الْمُتَّقُونَ ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كورك على ضلع ثمَّ فتْنَة الدهماء لَا تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا لَطْمَتْهُ لَطْمَةً فَإِذَا قِيلَ: انْقَضَتْ تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ: فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لَا نِفَاقَ فِيهِ وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لَا إِيمَانَ فِيهِ. فَإِذَا كَانَ ذَلِكَ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ مِنْ يَوْمِهِ أَوْ من غده . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4242) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمر قال: كنا قعودا عند النبي صلى الله عليه وسلم فذكر الفتن فاكثر في ذكرها حتى ذكر فتنة الاحلاس فقال قاىل: وما فتنة الاحلاس. قال: هي هرب وحرب ثم فتنة السراء دخنها من تحت قدمي رجل من اهل بيتي يزعم انه مني وليس مني انما اولياىي المتقون ثم يصطلح الناس على رجل كورك على ضلع ثم فتنة الدهماء لا تدع احدا من هذه الامة الا لطمته لطمة فاذا قيل: انقضت تمادت يصبح الرجل فيها مومنا ويمسي كافرا حتى يصير الناس الى فسطاطين: فسطاط ايمان لا نفاق فيه وفسطاط نفاق لا ايمان فيه. فاذا كان ذلك فانتظروا الدجال من يومه او من غده . رواه ابو داود اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4242) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : হাদীসে উল্লেখিত বাক্য (وَلَيْسَ مِنِّىْ) সে আমার আপনজনদের কেউ নয়। অর্থাৎ সে আমার বাধ্যগত নয় অথবা আমলের ক্ষেত্রে সে আমার পরিবারভুক্ত বা আমার দলভুক্ত নয়। কেননা সে যদি আমার অনুগত হত তবে ফিতনায় পতিত হত না। যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী: “নিশ্চয় সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। সে অবশ্যই অসৎকর্মপরায়ণ।” (সূরা হূদ ১১ : ৪৬)
অথবা সে আমার প্রকৃত বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এ অর্থের সমর্থনে বাণী: “নিশ্চয় মুক্তাক্বীগণ আমার বন্ধুবর্গ।” ('আওনুল মা'বূদ ৭ম খণ্ড, ৩০৯ পৃ, হা, ৪২৩৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০৪-[২৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: দুর্ভাগ্য ’আরবদের জন্য যে, এক বিরাট ফিতনাহ্ তাদের কাছাকাছি। সে লোকই সাফল্যমণ্ডিত হবে, যে (তা হতে) নিজের হাতকে গুটিয়ে রাখবে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4249) * الاعمش مدلس و عنعن و للحدیث شواھد معنویۃ عند الحاکم (4 / 439) وغیرہ ، غیر قولہ :’’ افلح من کف یدہ ‘‘

وعن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ويل للعرب من شر قد اقترب افلح من كف يده» . رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4249) * الاعمش مدلس و عنعن و للحدیث شواھد معنویۃ عند الحاکم (4 / 439) وغیرہ ، غیر قولہ :’’ افلح من کف یدہ ‘‘

ব্যাখ্যা : ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: নবী (সা.) -এর দ্বারা উসমান (রাঃ)-এর শাসনামলে মুসলিমদের মাঝে সংঘটিত মতপার্থক্য বা দলাদলি উদ্দেশ্য করেছেন। অথবা ‘আলী (রাঃ) এবং মু'আবিরাহ (রাঃ)-এর মাঝে সংঘটিত দ্বন্দ্বকে বুঝিয়েছেন।
আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: নবী (সা.) এটা দ্বারা ইয়াযীদ ও হুসায়ন (রাঃ)-এর মাঝের দ্বন্দ্বকে বুঝিয়েছেন এবং এটাই সর্বাধিক নিকটবর্তী অর্থ। কেননা ‘আরব ও অনারবদের সকলের মাঝে সে সময় সংঘটিত ফিতনাহ্ বা বিপর্যয় খুবই স্পষ্ট। আর সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যারা উক্ত যুদ্ধ থেকে দূরে থেকেছে তারাই সফলতা লাভ করেছে।
('আওনুল মা'বূদ ৭ম খণ্ড, ৩১৫ পৃ., হা. ৪২৪৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০৫-[২৭] মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাকে ফিতনাহ্ হতে পৃথক রাখা হয়েছে, সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাকে ফিতনাহ্ হতে পৃথক রাখা হয়েছে, সৌভাগ্যবান ঐ ব্যক্তি যাকে ফিতনাহ্ হতে পৃথক রাখা হয়েছে এবং সেই ব্যক্তিও সৌভাগ্যবান যে তাতে উপনীত হয়ে ধৈর্যধারণ করেছে। তার জন্য মুবারকবাদ। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن الْمِقْدَاد بن الْأسود قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ وَلَمَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ فَوَاهًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4263) ۔
(صَحِيح)

وعن المقداد بن الاسود قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان السعيد لمن جنب الفتن ان السعيد لمن جنب الفتن ان السعيد لمن جنب الفتن ولمن ابتلي فصبر فواها» . رواه ابو داود اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4263) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : সে সময় কেউ হক কথা শ্রবণ করবে না, হকের স্বপক্ষে কেউ কথা বলবে না এবং হক থেকে বাতিলকে আলাদা করে কেউ প্রকাশও করবে না। আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এর অর্থ হলো, তারা সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করবে না। তারা কোন নসীহত শ্রবণ করবে না। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদান করবে না। বরং যারা হক প্রতিষ্ঠার লক্ষে হকের পক্ষে কথা বলবে তাদেরকে নানাবিধ কষ্ট দেয়াসহ বিভিন্ন ফিতনা-ফাসাদে নিপতিত করা হবে।
(আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৩৩১ পৃ., হা, ৪২৫৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০৬-[২৮] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্যে যখন একবার তলোয়ার চালিত হবে, তখন তা আর কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ করা হবে না। আর কিয়ামত সেই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত না আমার উম্মতের কোন কোন সম্প্রদায় মুশরিকদের সাথে মিলিত হবে এবং যেই পর্যন্ত না আমার উম্মতের কোন গোত্র মূর্তিপূজা করবে। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতের মাঝে ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর আগমন ঘটবে এবং তারা প্রত্যেকেই আল্লাহর নবী হওয়ার দাবি করবে। অথচ সত্য কথা হলো, আমিই শেষ নবী, আমার পরে আর কোন নবী নেই। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, আমার উম্মতের একটি দল সত্যের উপর অনড় থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা কিয়ামত আসা পর্যন্ত তাদের কোনই ক্ষতিসাধন করতে পারবে না। (আবূ দাউদ ও তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي لَمْ يُرْفَعْ عَنْهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى تَعْبُدَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الْأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ ثَلَاثُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيُّ اللَّهِ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيين لَا نَبِيَّ بِعْدِي وَلَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

صحیح ، رواہ ابوداؤد (4252) ۔
(صَحِيح)

وعن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا وضع السيف في امتي لم يرفع عنها الى يوم القيامة ولا تقوم الساعة حتى تلحق قباىل من امتي بالمشركين وحتى تعبد قباىل من امتي الاوثان وانه سيكون في امتي كذابون ثلاثون كلهم يزعم انه نبي الله وانا خاتم النبيين لا نبي بعدي ولا تزال طاىفة من امتي على الحق ظاهرين لا يضرهم من خالفهم حتى ياتي امر الله» . رواه ابو داود صحیح ، رواہ ابوداؤد (4252) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : এখানে উদ্দেশ্য হলো তরবারি কিংবা অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র; যেমন- বর্শা, তীর ও কামান ইত্যাদি দ্বারা যুদ্ধ সংঘটিত হবে। এখানে ‘আস্ সায়ফ' বা তরবারি কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে তরবারির ব্যবহার তৎকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি হত। আর এ যুদ্ধ কিয়ামত পর্যন্ত চলমান থাকবে, কোন শহরে তরবারি বা যুদ্ধ সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও অন্য কোন শহর বা অঞ্চলে তার প্রয়োজনীয়তা থাকবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৬২ পৃ., হা. ২২০২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাওবান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০৭-[২৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) নবী (সা.)- হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: ইসলামের চাকা পঁয়ত্রিশ অথবা ছত্রিশ অথবা সাইত্রিশ বছর সঠিকভাবে ঘুরতে থাকবে। এটার পরে যদি লোকজন ধ্বংসের মুখোমুখী হয়, তবে তারা পূর্ববর্তী লোকেদের পথে চলার কারণেই ধ্বংস হবে। অতঃপর দীনের নেযাম যদি আবার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা তাদের মধ্যে সত্তর বছর পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, সেই সত্তর বছর কি উল্লিখিত (পঁয়ত্রিশ) বছরের পরে আসবে, নাকি আগের সেই বছরগুলোসহ? তিনি (সা.) বললেন, আগের বছরগুলোসহ। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «تَدُورُ رَحَى الْإِسْلَامِ لِخَمْسٍ وَثَلَاثِينَ أَوْ سِتٍّ وَثَلَاثِينَ أَوْ سَبْعٍ وَثَلَاثِينَ فَإِنْ يَهْلِكُوا فَسَبِيلُ مَنْ هَلَكَ وَإِنْ يَقُمْ لَهُمْ دِينُهُمْ يَقُمْ لَهُمْ سَبْعِينَ عَامًا» . قُلْتُ: أَمِمَّا بَقِيَ أَوْ مِمَّا مَضَى؟ قَالَ: «مِمَّا مضى» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4254) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «تدور رحى الاسلام لخمس وثلاثين او ست وثلاثين او سبع وثلاثين فان يهلكوا فسبيل من هلك وان يقم لهم دينهم يقم لهم سبعين عاما» . قلت: امما بقي او مما مضى؟ قال: «مما مضى» . رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4254) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে উল্লেখিত বাক্য (فَسَبِيلُ مَنْ هَلَكَ) অর্থাৎ দীনের মধ্যে সংশয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করার কারণে তাদের পথ ধ্বংসের মধ্যে নিমজ্জিত হবে। যেমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীগণ দীনের মধ্যে সংশয়, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করার কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। অন্যদিকে দীনের মধ্যে কোন ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশয় প্রবেশ না করিয়ে যদি দীনের উপর অবিচল থাকে তবে তাদের অবিচল থাকাটা ৭০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে। আল্লামাহ্ খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এখানে দীন দ্বারা বাদশাহী উদ্দেশ্য হতে পারে। তিনি বলেন : এর দ্বারা উমাইয়্যাহ্ বাদশাহী যুগ এবং তা ‘আব্বাসীয়দের হাতে স্থানান্তরিত হওয়া পর্যন্ত উদ্দেশ্য হতে পারে। আর খুরাসানে ‘আব্বাসীয় রাজত্বের আত্মপ্রকাশ হওয়া পর্যন্ত স্বীকৃত উমাইয়্যাহ্ রাজত্বকাল বা বাদশাহী ছিল।
আল্লামাহ্ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর [খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) এর] কথা উল্লেখ করার পর বলেন: আল্লাহ তা'আলা আবূ সুলায়মান তথা খত্নাবী (রহিমাহুল্লাহ)-কে “দয়া করুন”। তিনি এটা তাঁর গবেষণা অনুযায়ী বলেছেন, তবে এটা অবশ্যই জানা উচিত যে, নবী (সা.) সমগ্র উম্মত ব্যতীত শুধু উমাইয়্যাহ বাদশাহীকে উদ্দেশ্য করে কোন কথা বলেননি। বরং সমগ্র উম্মতকে দীনী বিধি-বিধান, হুকুম-আহকামের উপর অবিচল থাকার কথা বুঝিয়েছেন। যার সূচনা হয়েছিল হিজরীর প্রথম পর্যায় থেকে। আর তিনি তাদেরকে এ মর্মে খবর দিয়েছেন যে, নিশ্চয় তারা দীনের উপর অবিচল থাকবে ৩৫, ৩৬, কিংবা ৩৭ বছর। অতঃপর তারা ঐক্যের লাঠি ভেঙ্গে ফেলবে এবং তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে। এহেন অবস্থায় যদি তারা ধ্বংস হয় তাহলে তাদের পথটা তাদের পূর্ববর্তী ইয়াহূদ-নাসারাদের পথের ন্যায় হবে। আর যদি তারা ঐক্য ও আনুগত্যের উপর এবং সত্যের সাহায্যের উপর অটুট থাকে তবে এটা তাদের ৭০ বছর পর্যন্ত পূর্ণ থাকবে (আল্লাহ তা'আলাই অধিক জানেন)। ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৩৭৮ পৃ., হা, ৪২৪৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০৮-[৩০] আবূ ওয়াক্বিদ আল লায়সী (রাঃ) হতে বর্ণিত। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) হুনায়নের যুদ্ধে বের হলেন, তখন তিনি মুশরিকদের এমন এক গাছের নিকট দিয়ে গমন করলেন, যাতে তারা নিজেদের অস্ত্রসমূহ ঝুলিয়ে রাখত। উক্ত গাছটিকে ’যাতু আনওয়াত’ বলা হত। এটা দেখে কোন কোন নতুন মুসলিমরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! ঐ সমস্ত মুশরিকদের মতো আমাদের জন্যও একটি ’যাতু আনওয়াত’ ধার্য করে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) (বিস্ময় প্রকাশে) বললেন, ’সুবহা-নাল্ল-হ মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায়ও তাকে বলেছিল, “...(হে। মুসা!) আমাদের জন্য এরূপ উপাস্য নির্ধারণ করে দিন যেরূপ ঐ কাফির সম্প্রদায়ের উপাস্য রয়েছে...”(সূরাহ আল আ’রাফ ৭: ১৩৮)। তোমরাও তো সেরূপ কথা বললে, সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয় তোমরা ঐ সকল লোকদের পথ অনুকরণ করে চলবে, যারা তোমাদের আগে অতীত হয়ে গেছে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

عَن أبي واقدٍ اللَّيْثِيّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا خَرَجَ إِلَى غَزْوَةِ حُنَيْنٍ مَرَّ بِشَجَرَةٍ لِلْمُشْرِكِينَ كَانُوا يُعَلِّقُونَ عَلَيْهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالُ لَهَا: ذَاتُ أَنْوَاطٍ. فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ هَذَا كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى (اجْعَل لنا إِلَهًا كَمَا لَهُم آلهةٌ) وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَرْكَبُنَّ سُنَنَ مَنْ كَانَ قبلكُمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2180 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)

عن ابي واقد الليثي: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما خرج الى غزوة حنين مر بشجرة للمشركين كانوا يعلقون عليها اسلحتهم يقال لها: ذات انواط. فقالوا: يا رسول الله اجعل لنا ذات انواط كما لهم ذات انواط فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «سبحان الله هذا كما قال قوم موسى (اجعل لنا الها كما لهم الهة) والذي نفسي بيده لتركبن سنن من كان قبلكم» . رواه الترمذي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2180 وقال : حسن صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : উম্মতে মুহাম্মাদী তাদের পূর্ববর্তীদের তথা ইয়াহূদ-নাসারাদের পথ-পদ্ধতি ও কর্মপন্থার অনুকরণ করবে। আলোচ্য হাদীসের সমর্থনে ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেছেন: অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি তথা ইয়াহূদ-নাসারাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে প্রতি বিঘতে বিঘতে ও প্রতি হাতে হাতে, এমনকি যদি তারা গুইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে তবে তোমরাও সেখানে প্রবেশ করবে। এছাড়া যদি তাদের কেউ রাস্তায় কোন মহিলার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয় তবে অবশ্যই তোমরাও সেটা করবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫৪০৯-[৩১] ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহ.) বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের প্রথম ফিতনাহ্ হলো ’উসমান (রাঃ)-এর হত্যা। এরপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবীও অবশিষ্ট ছিলেন না। দ্বিতীয় ফিতনাহ্ হলো ’হাররা’র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অতঃপর হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী একজন সাহাবীও অবশিষ্ট রইলেন না। আর তৃতীয় ফিতনাহ্ সংঘটিত হওয়ার পর তা কখনো শেষ হয়নি, যতদিন মানুষের মধ্যে জ্ঞান ও সৎ গুণাবলি বিদ্যমান ছিল। (তখন সাহাবী ও তাবি’ঈদের কেউই অবশিষ্ট থাকেননি)। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن ابْن الْمسيب قَالَ: وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ الْأُولَى - يَعْنِي مَقْتَلَ عُثْمَانَ - فَلَمْ يَبْقَ مِنْ أَصْحَابٍ بَدْرٍ أَحَدٌ ثُمَّ وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ الثَّانِيَةُ - يَعْنِي الْحَرَّةَ - فَلَمْ يَبْقَ مِنْ أَصْحَابِ الْحُدَيْبِيَةِ أَحَدٌ ثُمَّ وَقَعَتِ الْفِتْنَةُ الثَّالِثَةُ فَلَمْ تَرْتَفِعْ وَبِالنَّاسِ طَبَاخٌ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (4024) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن المسيب قال: وقعت الفتنة الاولى - يعني مقتل عثمان - فلم يبق من اصحاب بدر احد ثم وقعت الفتنة الثانية - يعني الحرة - فلم يبق من اصحاب الحديبية احد ثم وقعت الفتنة الثالثة فلم ترتفع وبالناس طباخ. رواه البخاري رواہ البخاری (4024) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ‘উসমান (রাঃ)-এর হত্যাটাই হলো প্রথম ফিতনাহ্ বা প্রথম বিপর্যয়। অতঃপর তার পরবর্তীতে বদরী কোন সাহাবী অবশিষ্ট ছিলেন না। অর্থাৎ তারা সকলেই ‘উসমান (রাঃ) -এর হত্যার ফিতনাহ্ ও আল হাররাতে সংঘটিত ফিতনার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তাদের মধ্যে সা'দ ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ) সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করেছেন এবং হাররায় সংঘটিত ফিতনার প্রায় দু' বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। (ফাতহুল বারী ৭ম খণ্ড, ৩৪২ পৃ., হা. ৪০২৪)

নিহায়াহ গ্রন্থে রয়েছে যে, হাররাহ্ হলো কালো পাথর বিশিষ্ট মদীনার একটি উচ্চভূমি। এখানে ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়াহ-এর সময়কালে প্রসিদ্ধ একটি ঘটনা সংঘটিত হয়। যখন তার সৈন্যবাহিনী মদীনা দখল করে নিয়েছিল এবং শামবাসীরা তাদেরকে মদীনার অধিবাসী সাহাবী ও তাবিঈনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বৈধতা দিয়েছিল এবং ৬৩ হিজরীর যিলহজ্জ মাসে মুসলিম ইবনু ‘উবাহ আল মুরিয়্যাহ্ তাদের ওপর আমীর নিযুক্ত হন। (মিক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত দুটি বৃহৎ দল পরস্পরে মারাত্মক যুদ্ধে লিপ্ত না হবে। এ উভয় দলের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হবে, অথচ তাদের মূল দাবি হবে এক অভিন্ন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আগমন না ঘটবে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেকে আল্লাহর নবী বলে দাবি করবে। আর যতক্ষণ পর্যন্ত (দীনী) বিদ্যা উঠিয়ে নেয়া হবে। ভূমিকম্পের সংখ্যা বা পরিমাণ বেড়ে যাবে। সময়ের (পরিধি) নিকটবর্তী হয়ে আসবে। ফিতনার সূচনা ঘটবে। খুন-খারাবি বেড়ে যাবে। আর এমনকি তোমাদের মধ্যে ধন-সম্পদের এমন প্রাচুর্য দেখা দেবে যে, সম্পদশালী লোক ও ধন-সম্পদের মালিক চিন্তিত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে এজন্য যে, কে তার সাদাকা গ্রহণ করবে? এমনকি যার কাছেই তা পেশ করা হবে বলে উঠবে, আমার এই সম্পদের কোন প্রয়োজন নেই।
আর যতক্ষণ না লোকজন সুউচ্চ দালান নির্মাণকার্যে একে অপরের প্রতিযোগিতা করবে। যতক্ষণ না এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির কবরের কাছ দিয়ে গমনকালে বলবে, হায়! আমি যদি এ স্থানে থাকতাম। আর যতক্ষণ না পশ্চিমদিক হতে সূর্য উদিত হবে। অতঃপর সূর্য যখন (পশ্চিমদিক হতে) উদিত হবে, তখন লোকেরা তা দেখার পর সকলেই ঈমান আনবে। কিন্তু সে সময় এমন হবে যে, তখনকার ঈমান কোন লোকের কাজে আসবে না। সে ব্যক্তি ইতোপূর্বে ঈমান গ্রহণ করেনি কিংবা ঈমানদার অবস্থায় কোন ভালো কাজ করেনি। আর কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, দু’ ব্যক্তি (ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশে) একে অন্যের সম্মুখে কাপড় খুলবে, কিন্তু সে কাপড় ক্রয়-বিক্রয় করার কিংবা গুটিয়ে নেয়ারও সুযোগ পাবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে এমতাবস্থায় যে, এক ব্যক্তি তার উষ্ট্রী দোহন করে দুগ্ধ নিয়ে আসবে, কিন্তু তা পান করারও সময় পাবে না। আর কিয়ামত অবশ্যই এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যে, এক ব্যক্তি তার চৌবাচ্চা ঠিকঠাক বা নির্মাণ করতে থাকবে, কিন্তু তাতে সে পানি পান করার সময় পাবে না। আর কিয়ামত এমন পরিস্থিতি ও পরিবেশে অবশ্যই সংঘটিত হবে যে, এক ব্যক্তি খাদ্যের লোকমা বা গ্রাস তার মুখ পর্যন্ত উত্তোলন করবে, কিন্তু সে তা খাওয়ার সুযোগ পাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قا ل: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ تَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ دَعَوَاهُمَا وَاحِدَةٌ وَحَتَّى يبْعَث دجالون كذابون قريب مِنْ ثَلَاثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ وَحَتَّى يُقْبَضَ الْعِلْمُ وَتَكْثُرَ الزَّلَازِلُ وَيَتَقَارَبَ الزَّمَانُ وَيظْهر الْفِتَنُ وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ وَهُوَ الْقَتْلُ وَحَتَّى يَكْثُرَ فِيكُمُ الْمَالُ فَيَفِيضَ حَتَّى يُهِمَّ رَبَّ الْمَالِ مَنْ يَقْبَلُ صَدَقَتَهُ وَحَتَّى يَعْرِضَهُ فَيَقُولُ الَّذِي يعرضه عَلَيْهِ: لَا أَرَبَ لِي بِهِ وَحَتَّى يَتَطَاوَلَ النَّاسُ فِي الْبُنْيَانِ وَحَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ: يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ وَحَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنُوا أَجْمَعُونَ فَذَلِكَ حِينَ (لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا) وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ نَشَرَ الرَّجُلَانِ ثَوْبَهُمَا بَيْنَهُمَا فَلَا يَتَبَايَعَانِهِ وَلَا يَطْوِيَانِهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدِ انْصَرَفَ الرَّجُلُ بِلَبَنِ لِقْحَتِهِ فَلَا يَطْعَمُهُ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَهُوَ يُلِيطُ حَوْضَهُ فَلَا يَسْقِي فِيهِ وَلَتَقُومَنَّ السَّاعَةُ وَقَدْ رَفَعَ أُكْلَتَهُ إِلَى فِيهِ فَلَا يطْعمهَا . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7121) و مسلم (248 / 157)، (396 و 2340 و 7256 و 7302) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قا ل: لا تقوم الساعة حتى تقتتل فىتان عظيمتان تكون بينهما مقتلة عظيمة دعواهما واحدة وحتى يبعث دجالون كذابون قريب من ثلاثين كلهم يزعم انه رسول الله وحتى يقبض العلم وتكثر الزلازل ويتقارب الزمان ويظهر الفتن ويكثر الهرج وهو القتل وحتى يكثر فيكم المال فيفيض حتى يهم رب المال من يقبل صدقته وحتى يعرضه فيقول الذي يعرضه عليه: لا ارب لي به وحتى يتطاول الناس في البنيان وحتى يمر الرجل بقبر الرجل فيقول: يا ليتني مكانه وحتى تطلع الشمس من مغربها فاذا طلعت وراها الناس امنوا اجمعون فذلك حين (لا ينفع نفسا ايمانها لم تكن امنت من قبل او كسبت في ايمانها خيرا) ولتقومن الساعة وقد نشر الرجلان ثوبهما بينهما فلا يتبايعانه ولا يطويانه ولتقومن الساعة وقد انصرف الرجل بلبن لقحته فلا يطعمه ولتقومن الساعة وهو يليط حوضه فلا يسقي فيه ولتقومن الساعة وقد رفع اكلته الى فيه فلا يطعمها . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7121) و مسلم (248 / 157)، (396 و 2340 و 7256 و 7302) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) বিশুদ্ধ সনদে যায়দ ইবনু ওয়াহ্ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা কেমন আছ! তোমাদের দীনের অনুসারীরাই তো পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তারা তখন বলেন, আপনি আমাদেরকে এ ব্যাপারে কি আদেশ প্রদান করছেন? অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা তাদের দিকে লক্ষ্য কর যারা ‘আলী (রাঃ)-এর খিলাফতের দিকে আহ্বান করছে। অতঃপর উক্ত দলের আনুগত্য গ্রহণ কর, কারণ ওটা হকের উপর রয়েছে।

ইয়াহইয়া ইবনু সুলায়মান আল জু'ফী (রহিমাহুল্লাহ) যিনি ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর একজন উস্তায ছিলেন, তিনি তার প্রণীত কিতাব “কিতাবুস সিফফীন” নামক গ্রন্থে গ্রহণযোগ্য সনদে আবূ মুসলিম আল খওলানী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন। নিশ্চয় তিনি (আবূ মুসলিম আল খওলানী (রহিমাহুল্লাহ)] মু'আবিয়াহ (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি তো খিলাফতের বিষয়ে ‘আলী (রাঃ)-এর সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন, আপনি কি তার সমকক্ষ? তিনি বললেন : না, আমি এটা অবশ্যই জানি যে, নিশ্চয় তিনি আমার চেয়ে অনেক শ্ৰেষ্ঠ ও খিলাফতের সর্বাধিক হকদার। কিন্তু তোমরা কি এটা জান না যে, নিশ্চয় ‘উসমান (রাঃ) নির্যাতিত অবস্থায় অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন হয়েছেন? অথচ আমি তাঁর চাচাত ভাই, আমি তার রক্তের বিনিময় চাই। তোমরা ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে যাও এবং তাকে বল তিনি যেন ‘উসমান (রাঃ) -এর হত্যাকারীকে আমাদের হাতে তুলে দেন। অতঃপর তারা আমীরুল মু'মিনীন ‘আলী (রাঃ)-এর কাছে এ বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি [আলী (রাঃ)] বললেন, সে খিলাফতের বায়'আতে প্রবেশ করেছে এবং তাদের বিচারের দায়িত্ব আমার। অতঃপর ‘আলী (রাঃ) ‘ইরাক থেকে সৈন্যবাহিনী নিয়ে সিফফীনে অবতরণ করেন অন্যদিকে মুআবিয়াহ (রাঃ) সৈন্যবাহিনী নিয়ে সিফফীনে অবতরণ করলেন। আর এটা সংঘটিত হয়েছিল ৩০ হিজরীর যিলহজ্জ মাসে।
মুসনাদে আহমাদে হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন, আমরা সিফফীনে থাকা অবস্থায় ‘আমর (রাঃ) মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-কে বললেন, আপনি একটি মুসহাফ (কুরআন) আলী (রাঃ) এর কাছে পাঠিয়ে দিন এবং তাকে আল্লাহর কিতাবের ফায়সালার দিকে আহ্বান করুন, কেননা তিনি 'আলী (রাঃ)] আপনার এ প্রস্তাব কোনক্রমেই অস্বীকার করতে পারবেন না।

অতঃপর এক লোক মুসহাব নিয়ে এসে বলল: আমাদের ও আপনাদের মাঝে বিবাদ নিরসন করবে আল্লাহর কিতাব। অর্থাৎ কিতাবুল্লাহর ফায়সালা আমরা উভয়পক্ষ মেনে নেব। আল্লাহ তা'আলার বাণী : “আপনি কি তাদেরকে দেখেননি যাদেরকে কিতাবের অংশবিশেষ প্রদান করা হয়েছিল? তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের দিকে আহ্বান করা হয়েছিল যাতে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়, তারপর তাদের একদল ফিরে যায় বিমুখ হয়ে।” (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩: ৩)
অতঃপর ‘আলী (রাঃ) বলেন, “হ্যাঁ, আমি এ ব্যাপারে সর্বাধিক অগ্রগামী। অতঃপর ‘আলী (রাঃ)-এর পক্ষ অবলম্বনকারী একদল যারা পরবর্তীতে খাওয়ারিজ হয়েছিল তারা বলল, হে আমীরুল মু'মিনীন! এ সম্প্রদায়ের ব্যাপারে আপনি কি ভাবছেন, আমরা কি তরবারি নিয়ে তাদের সঙ্গে ততক্ষণ যুদ্ধ করব না যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে ফায়সালা এসে যায়? অতঃপর সাহল ইবনু হুনায়দ (রাঃ) বললেন, হে লোকসকল! তোমরা সংযত হও অবশ্যই আমরা তো হুদায়বিয়ার দিন দেখেছি। অতঃপর তিনি মুশরিকদের সাথে করা নবী (সাঃ) -এর সন্ধিচুক্তির ঘটনা বর্ণনা করলেন।

আলোচ্য হাদীসে নবী (সা.) প্রায় ৩০ জন মিথ্যা নবীর আবির্ভাবের কথাও বলেছেন।
ইবনু যুবায়র কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, নিশ্চয় কিয়ামতের পূর্বক্ষণে ৩০ জন মিথ্যুক নবীর আবির্ভাব ঘটবে, তন্মধ্যে একজন সান’আর অধিবাসী আল আসওয়াদ আল আনাসী এবং ইয়ামামার অধিবাসী মুসায়লামাহ্। আহমাদ-এর শব্দে রয়েছে, আবূ ইয়া'লা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামতের পূর্বক্ষণে ৩০ জন মিথ্যুকের আগমন ঘটবে। আমি বললাম, (আবূ ইয়া'লা) তাদের আলামত কি? তিনি বললেন, তারা এমন কিছু পদ্ধতি নিয়ে আসবে তোমরা ইতোপূর্বে কখনও ছিলে না। যখন তোমরা তাদেরকে দেখবে অবশ্যই তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে। (ফাতহুল বারী ১৩/১০০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১১-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা পশমের জুতা পরিধানকারী এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং যতক্ষণ না তোমরা তুর্কীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা ছোট চক্ষু, লাল চেহারা, চ্যাপ্টা নাকবিশিষ্ট, তাদের মুখমগুল হবে পরতে পরতে ভাঁজ করা চামড়ার ঢালের মতো। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعْرُ وَحَتَّى تُقَاتِلُوا التُّرْكَ صِغَارَ الْأَعْيُنِ حُمْرَ الْوُجُوهِ ذُلْفَ الْأُنُوفِ كأنَّ وجوهَهُم المجَانُّ المُطْرَقة» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2928) و مسلم (62، 66 / 2912)، (7310 و 7311 و 7312 و 7313 و 7314) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا قوما نعالهم الشعر وحتى تقاتلوا الترك صغار الاعين حمر الوجوه ذلف الانوف كان وجوههم المجان المطرقة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2928) و مسلم (62، 66 / 2912)، (7310 و 7311 و 7312 و 7313 و 7314) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : এ সব কিছু নবী (সা.) -এর মু'জিযাহ, ঐ সকল তুর্কীদের সাথে যুদ্ধের সময় নবী (সা.)-এর বর্ণনাকৃত সমস্ত গুণাবলি তাদের মাঝে পাওয়া গেছে, যেমন: তাদের ছোট ছোট চোখ, চেহারা লাল বর্ণ, চ্যাপ্টা নাক, গোলাকার মুখমণ্ডল যেন তাদের মুখমণ্ডল পেটানো চ্যাপ্টা ঢালের ন্যায়, তারা লোমের তৈরি জুতা পরবে। আমাদের যামানায় নবী (সা.)-এর দেয়া তাদের ব্যাপারে সমস্ত গুণাবলি মুসলিমগণ পেয়েছেন। মুসলিমগণ তাদের সাথে একাধিকবার যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের (তুর্কীদের) যুদ্ধ এখনও চলমান রয়েছে। আল্লাহ তাআলার কাছে মুসলিমদের জন্য উত্তম প্রতিদান কামনা করছি। (শারহুন নাবাবী ১৮/৩৯৬ পৃ., হা. ২৯১২)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১২-[৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে পর্যন্ত তোমরা আজমী ’খূয ও কিরমান’ জাতির সাথে যুদ্ধ করবে না, সে পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের চেহারা হবে লাল বর্ণের, চ্যাপ্টা নাক, ছোট চক্ষুবিশষ্ট এবং মুখমণ্ডল হবে পরতে পরতে ভাঁজ চামড়ার ঢালের মতো। আর তাদের জুতা হবে পশমের। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا خُوزًا وَكِرْمَانَ مِنَ الْأَعَاجِمِ حُمْرَ الْوُجُوهِ فُطْسَ الْأُنُوفِ صِغَارَ الْأَعْيُنِ وُجُوهُهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ نِعَالُهُمُ الشّعْر» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3590) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تقاتلوا خوزا وكرمان من الاعاجم حمر الوجوه فطس الانوف صغار الاعين وجوههم المجان المطرقة نعالهم الشعر» . رواه البخاري رواہ البخاری (3590) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : এখানে ‘খূয' এবং ‘কিরমান’- এ দু'টি নগরী তুর্কীর অন্তর্ভুক্ত নয়। খূয' হলো ‘ইরাকের অনারব একটি অঞ্চল। কারো মতে খূয' হলো অনারবদের একটা শ্রেণিমাত্র। আর কিরমান হলো অনারবদের একটি প্রসিদ্ধ নগরী যা খুরাসান ও ভারত সাগরের মাঝামাঝিতে অবস্থিত। (ফাতহুল বারী ৬/৪০১ পৃ., হা. ৩৫৯০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৩-[৪] অপর এক বর্ণনাতে ’আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, তাদের চেহারা হবে চওড়া।

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَفِي راوية لَهُ وَعَن عَمْرو بن تغلب: «عراض الْوُجُوه»

رواہ البخاری (2927) ۔
(صَحِيح)

وفي راوية له وعن عمرو بن تغلب: «عراض الوجوه» رواہ البخاری (2927) ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৪-[৫] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মুসলিমগণ ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তখন মুসলিমগণ তাদেরকে হত্যা করবে। এমনকি ইয়াহূদী পাথর এবং গাছের আড়ালে লুকিয়ে আত্মগোপন করবে, তখন সেই পাথর ও বৃক্ষ বলবে, হে মুসলিম! ওহে আল্লাহর বান্দা! এই যে ইয়াহুদী আমার পিছনে রয়েছে। অতএব এদিকে আসো এবং তাকে হত্যা কর। তবে শুধু ’গারকদ’ নামক বৃক্ষ ডেকে বলবে, না, কেননা তা ইয়াহুদীদের গাছ। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يختبئ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ فَيَقُولُ الْحَجَرُ وَالشَّجَرُ: يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ إِلَّا الْغَرْقَدَ فَإِنَّهُ من شجر الْيَهُود . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (82 / 2922)، (7339) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تقوم الساعة حتى يقاتل المسلمون اليهود فيقتلهم المسلمون حتى يختبى اليهودي من وراء الحجر والشجر فيقول الحجر والشجر: يا مسلم يا عبد الله هذا يهودي خلفي فتعال فاقتله الا الغرقد فانه من شجر اليهود . رواه مسلم رواہ مسلم (82 / 2922)، (7339) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : গারকদ হলো এক ধরনের সুপরিচিত কাঁটাদার বৃক্ষ যা বায়তুল মাকদিস অঞ্চলে উৎপাদন হয়ে থাকে। আর এখানেই দাজ্জাল ও ইয়াহূদীরা নিহত হবে। (শারূহুন নাবাবী ১৮/৩৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৫-[৬] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ’কাহতান’ গোত্র হতে এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে, সে লোকেদেরকে লাঠি দ্বারা হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسَ بعصاه» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3517) ومسلم (60 / 2910)، (7308) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى يخرج رجل من قحطان يسوق الناس بعصاه» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3517) ومسلم (60 / 2910)، (7308) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : নু'আয়ম ইবনু হাম্মাদ আরতাত ইবনু মুনযির (রহিমাহুল্লাহ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয় কাহত্বানী ইমাম মাহদী (আঃ) -এর পরে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ইমাম মাহদী (আঃ) -এর অনুসারী হবে। আরতাত ইবনু মুনযির-এর অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, নিশ্চয় কাহত্বানী লোকটি ২০ বছর যাবৎ রাজত্ব করবে। তবে এটা কঠিন মনে হয় যে, ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সময়কালে কাহত্বানী লোকটাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪০৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৬-[৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জাহজাহ নামক এক লোক মানুষের শাসক না হওয়া পর্যন্ত রাত্র-দিনের আবর্তন শেষ হবে না (কিয়ামত হবে)। অপর এক বর্ণনায় আছে, যে যাবৎ গোলাম বংশ হতে ’জাহজাহ’ নামক এক ব্যক্তি শাসক না হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَذْهَبُ الْأَيَّامُ وَاللَّيَالِي حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: الْجَهْجَاهُ . وَفِي رِوَايَةٍ: حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ مِنَ الْمَوَالِي يُقَالُ لَهُ: الجَهجاه . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (61 / 2911)، (7309) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تذهب الايام والليالي حتى يملك رجل يقال له: الجهجاه . وفي رواية: حتى يملك رجل من الموالي يقال له: الجهجاه . رواه مسلم رواہ مسلم (61 / 2911)، (7309) ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৭-[৮] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [রাসূল (সা.) বলেছেন] নিশ্চয় মুসলিমদের এক দল ’কিসরার’ (পারস্যের) সম্রাট বংশের গোপন সম্পদ জয় করবে যা একটি শ্বেত প্রাসাদে রক্ষিত রয়েছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَتَفْتَحَنَّ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ كَنْزَ آلِ كِسْرَى الَّذِي فِي الْأَبْيَض» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (78 / 2919)، (7331) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر بن سمرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لتفتحن عصابة من المسلمين كنز ال كسرى الذي في الابيض» . رواه مسلم رواہ مسلم (78 / 2919)، (7331) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-সহ সকল ‘উলামাগণ বলেছেন যে, এর অর্থ হলো : ‘ইরাকে কিসরা বলতে কিছু থাকবে না এবং সিরিয়াতে কায়সার রাজত্বও থাকবে না যেমনটা নবী (সা.) -এর যামানায় ছিল। নবী (সা.) আমাদেরকে কিসরা ও কায়সার টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। অতএব নবী (সা.) যা বলেছেন, তাই বাস্তবায়িত হবে। অতএব মুসলিমগণ সে দুটি নগরীতে বিজয় লাভ করবে এবং মুসলিমদের জন্য তা আবাসস্থল হবে। আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা”। আর মুসলিমগণ কিসরা ও কায়সারের সমস্ত সম্পদগুলো আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় ব্যয় করবে। যেমনটা নবী (সা.) বলেছেন। (শারহুন নাবাবী ১৮ খণ্ড, ৪১০ পৃ., হা. ২৯১৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৮-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (পারস্য সম্রাট) কিসরা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কেউই কিসরা হবে না। আর শীঘ্রই (রোম সম্রাট) কায়সার ধ্বংস হবে, অতঃপর আর কেউই কায়সার হবে না। এটাও অবশ্যম্ভাবী যে, তাদের রক্ষিত ধন-সম্পদ বিজিত হয়ে আল্লাহর রাস্তায় বণ্টিত হবে। আর তিনি (সা.) যুদ্ধকে প্রতারণা বলে অভিহিত করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلَكَ كِسْرَى فَلَا يَكُونُ كِسْرَى بَعْدَهُ وَقَيْصَرُ لِيَهْلِكَنَّ ثُمَّ لَا يَكُونُ قَيْصَرُ بَعْدَهُ وَلَتُقْسَمَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ» وَسَمَّى «الْحَرْبُ خُدْعَةٌ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3027 ۔ 3028) و مسلم (76 / 2918)، (7327) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هلك كسرى فلا يكون كسرى بعده وقيصر ليهلكن ثم لا يكون قيصر بعده ولتقسمن كنوزهما في سبيل الله» وسمى «الحرب خدعة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3027 ۔ 3028) و مسلم (76 / 2918)، (7327) ۔ (متفق عليه)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪১৯-[১০] নাফি’ ইবনু ’উতবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা ’আরব উপদ্বীপে যুদ্ধ অভিযান চালাবে এবং আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে তাতে বিজয়ী করবেন। অতঃপর পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে জয়যুক্ত করবেন। তারপর রূমকদের (রোমানদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, এটাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে জয়যুক্ত করবেন। অবশেষে তোমরা দাজ্জালের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, তাতেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الدَّجَّال فيفتحه الله» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (38 / 2900)، (7284) ۔
(صَحِيح)

وعن نافع بن عتبة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تغزون جزيرة العرب فيفتحها الله ثم فارس فيفتحها الله ثم تغزون الروم فيفتحها الله ثم تغزون الدجال فيفتحه الله» . رواه مسلم رواہ مسلم (38 / 2900)، (7284) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : এখানে সাহাবীগণকে সম্বোধন করা হলেও এর দ্বারা সমগ্র জাতি উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা মুসলিমদের বিজয় দান করবেন এবং মুসলিম মিল্লাতের সাহায্যার্থে বণী ইসরাঈলদের ওপর আল্লাহর পক্ষ হতে ধ্বংস পতিত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২০-[১১] ’আওফ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় আমি নবী (সা.) -এর খিদমতে আসলাম। এ সময় তিনি (সা.) একটি চামড়ার তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। তখন তিনি (সা.) বললেন কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শনকে তুমি গণনা করে রাখ।

১. আমার মৃত্যু।
২. অতঃপর বায়তুল মাক্বদিস বিজয়।
৩. ব্যাপক মহামারি যা তোমাদেরকে বকরির মড়কের মতো আক্রমণ করবে।
৪. ৫. ধনসম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, কোন ব্যক্তিকে একশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) প্রদান করলেও সে (নগণ্য মনে করে) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে।
৬. অতঃপর রূমকদের (রোমানদের) সাথে তোমাদের একটি সন্ধিচুক্তি হবে, পরে তারা উক্ত চুক্তি ভঙ্গ করে তোমাদের বিরুদ্ধে আশিটি পতাকার নীচে অবস্থান নিয়ে বারো হাজার করে সৈন্য থাকবে। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَن عَوْف بن مَالك قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ تَبُوكَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ فَقَالَ: اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ: مَوْتِي ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ مُوتَانٌ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الْغَنَمِ ثُمَّ اسْتِفَاضَةُ الْمَالِ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِائَةَ دِينَارٍ فَيَظَلُّ سَاخِطًا ثُمَّ فِتْنَةٌ لَا يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ الْعَرَبِ إِلَّا دَخَلَتْهُ ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الْأَصْفَرِ فَيَغْدِرُونَ فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةً تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3176) ۔
(صَحِيح)

وعن عوف بن مالك قال: اتيت النبي صلى الله عليه وسلم في غزوة تبوك وهو في قبة من ادم فقال: اعدد ستا بين يدي الساعة: موتي ثم فتح بيت المقدس ثم موتان ياخذ فيكم كقعاص الغنم ثم استفاضة المال حتى يعطى الرجل ماىة دينار فيظل ساخطا ثم فتنة لا يبقى بيت من العرب الا دخلته ثم هدنة تكون بينكم وبين بني الاصفر فيغدرون فياتونكم تحت ثمانين غاية تحت كل غاية اثنا عشر الفا . رواه البخاري رواہ البخاری (3176) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আবূ দাউদে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে এবং উক্ত বর্ণনার শুরুতে রয়েছে যে, অচিরেই তোমরা রূমকদের (রোমানদের) সাথে সন্ধি চুক্তি করবে, অতঃপর তোমরা এবং তারা মিলিত হয়ে শত্রুর সাথে যুদ্ধ করবে, তাদেরকে তোমরা সাহায্যও করবে। অতঃপর তোমরা এক ভূখণ্ডে অবতরণ করবে। অতঃপর কুশধারী একজন লোক ক্রুশ উত্তোলন করে বলবে, ক্রুশের বিজয় হয়েছে (খ্রিষ্টানদের বিজয় হয়েছে)।
অতঃপর একজন মুসলিম তার প্রতিবাদে দাঁড়িয়ে যাবে তখন রূমকরা (খ্রিষ্টানরা) বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং মালহামার যুদ্ধের জন্য একত্রিত হতে থাকবে। ইবনু মাজাহর অপর বর্ণনায় মু'আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে, মালহামার বড় যুদ্ধ, কুসতুনিয়ার বিজয় এবং দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ সাত মাসের মাঝেই সংঘটিত হবে। তবে ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, মালহামার যুদ্ধ ও মদীনাহ বিজয়ের মাঝের ব্যবধান থাকবে মাত্র ৬ বছর এবং সপ্তম বছরেই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪১৭ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২১-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না রূমকগণ (রোমানগন) (মুসলিমদের বিরুদ্ধে) আ’মাক অথবা দাবিক নামক স্থানে অবতরণ করবে এবং মদীনার তৎকালীন উত্তম লোকদের একটি সেনাদল তাদের মোকাবিলায় বের হবে। যুদ্ধের জন্য যখন মুসলিমগণ সারিবদ্ধ হবে, তখন রূমকগণ বলবে, তোমাদের যারা আমাদের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের কিছু সংখ্যক লোকজনকে বন্দি করে নিয়ে এসেছ। তাদের সাথে আমরা যুদ্ধ করব। মুসলিমগণ বলবেন, আল্লাহর শপথ! এটা কখনো হতে পারে না। আমরা আমাদের সেই সকল মুসলিম ভাইদেরকে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য ছেড়ে দিতে পারি না। এরপর মুসলিমগণ রূমক কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে, কিন্তু মুসলিমদের এক-তৃতীয়াংশ রূমকদের মোকাবিলা থেকে পলায়ন করবে। আল্লাহ তা’আলা এই পলায়নকারীদের তাওবাহ্ কখনো গ্রহণ করবেন না। আর এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে, তারা আল্লাহ তা’আলার নিকট উত্তম শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। আর এক-তৃতীয়াংশ রূমকদের ওপর বিজয়ী হবে, আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে কখনো ফিতনায় ফেলবেন না। অবশেষে তারাই কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। অতঃপর যখন তারা গনীমতের মাল-সম্পদ ভাগ করণে ব্যস্ত হবে এবং তাদের তরবারিসমূহ যায়তুন গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখবে, ঠিক এ সময় হঠাৎ শয়তান এ ঘোষণা দেবে যে, তোমাদের অনুপস্থিতিতে মাসীহে দাজ্জাল তোমাদের বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে। এতদশ্রবণে মদীনার সেই সেনাদল সেদিকে বের হয়ে পড়বে। অথচ সেই ঘোষণাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যখন মুসলিমগণ কনস্টান্টিনোপল ছেড়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করবে তখনই দাজ্জালের আগমন ঘটবে। এ সময় মুসলিমগণ দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুতি নিতে থাকবে এবং সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবে, তৎক্ষণাৎ সালাতের উদ্দেশে (মুয়াযযিন কর্তৃক) ইকামত দেয়া হবে এবং এ মূহুর্তে ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) আকাশ থেকে (দামিশকের জামে মসজিদের মিনারায়) অবতরণ করবেন এবং মুসলিমদের ইমামতি করে সলাত আদায় করাবেন। অতঃপর যখন আল্লাহর শত্রু (দাজ্জাল) তাঁকে দেখতে পাবে, তখন সে এমনিভাবে গলে যেতে থাকবে যেমনিভাবে লবণ পানিতে গলে যায়। আর যদি ঈসা (আঃ) তাকে এমনিতেই ছেড়ে দিতেন, তবুও সে এমনিতেই গলে ধ্বংস হয়ে যেত, কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাকে ’ঈসা (আঃ) যে বর্শা দিয়ে তাকে হত্যা করবেন, রক্তমাখা সে বর্শাটি তিনি লোকেদের সকলকেই দেখাবেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالْأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الْأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ: خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ: لَا وَاللَّهِ لَا نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لَا يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لَا يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قسطنطينية فَبينا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ: إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جاؤوا الشامَ خرجَ فَبينا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلَاة فَينزل عِيسَى بن مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لَانْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فيريهم دَمه فِي حربته . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (34 / 2897)، (7278) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تقوم الساعة حتى ينزل الروم بالاعماق او بدابق فيخرج اليهم جيش من المدينة من خيار اهل الارض يومىذ فاذا تصافوا قالت الروم: خلوا بيننا وبين الذين سبوا منا نقاتلهم فيقول المسلمون: لا والله لا نخلي بينكم وبين اخواننا فيقاتلونهم فينهزم ثلث لا يتوب الله عليهم ابدا ويقتل ثلثهم افضل الشهداء عند الله ويفتتح الثلث لا يفتنون ابدا فيفتتحون قسطنطينية فبينا هم يقتسمون الغناىم قد علقوا سيوفهم بالزيتون اذ صاح فيهم الشيطان: ان المسيح قد خلفكم في اهليكم فيخرجون وذلك باطل فاذا جاووا الشام خرج فبينا هم يعدون للقتال يسوون الصفوف اذ اقيمت الصلاة فينزل عيسى بن مريم فامهم فاذا راه عدو الله ذاب كما يذوب الملح في الماء فلو تركه لانذاب حتى يهلك ولكن يقتله الله بيده فيريهم دمه في حربته . رواه مسلم رواہ مسلم (34 / 2897)، (7278) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আ'মাক এবং দাবিক এ দু'টি সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীর কাছাকাছি প্রসিদ্ধ স্থানের নাম। আর কুসতুনতুনিয়্যাহ্ হলো রোমের প্রসিদ্ধ বড় শহরগুলোর মধ্য হতে একটি বড় শহর। (শারুহুন্ নাবাবী ১৮ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২২-২২৩)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২২-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত মীরাস ভাগ করা হবে না এবং গনীমতের মালেও লোকেরা খুশি হবে না। অতঃপর ইবনু মাস’উদ (রাঃ) (এটার ব্যাখ্যায়) বলেছেন, শত্রু অর্থাৎ রূমক (রোমান) নাসারাগণ সিরিয়ার মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক বিরাট সেনাদলের সমাবেশ করবে। আর মুসলিমগণও রূমকদের মোকাবিলায় এক বিরাট বাহিনী একত্রিত করবে। অতঃপর মুসলিমগণ নিজেদের একটি দলকে নির্বাচন করে শত্রুর মোকাবিলায় মৃত্যু অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেবে, পূর্ণ বিজয় লাভ না করে যারা প্রত্যাবর্তন করবে না। তারপর উভয়পক্ষ যুদ্ধ করতে থাকবে রাত্রের আঁধার নেমে বাধা সৃষ্টি না করা পর্যন্ত। অতঃপর উভয়পক্ষের প্রত্যেকেই আপন আপন শিবিরে ফিরে আসবে। কেউই কারো ওপর বিজয়ী হবে না। অবশ্য উভয় সেনাদলের অগ্রবর্তী সৈন্যরা সকলেই নিহত হয়ে যাবে। অতঃপর (দ্বিতীয় দিন) মুসলিমগণ নিজেদের একটি দলকে নির্বাচন করে মৃত্যু অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য পাঠাবে, যারা বিজয়ী হওয়া ছাড়া ফিরে আসবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে, তারপর উভয়পক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। অবশেষে রাত্র তাদের মধ্যে আড়াল হয়ে যাবে এবং উভয় দলই বিজয় ছাড়া ফিরে আসবে। এদের অগ্রবর্তী দলও নিহত হয়ে যাবে। এরপর তৃতীয় দিনও মুসলিমগণ একদল সৈন্য পাঠাবে এবং বিজয়ী হওয়া ব্যতীত ফিরে আসবে না বলে প্রতিজ্ঞা করবে। অতঃপর সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয়পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। পরিশেষে উভয়পক্ষই বিজয়ী হওয়া ছাড়া ফিরে আসবে। এদের অগ্রবর্তী দলটিও বিলীন হয়ে যাবে। অতঃপর চতুর্থ দিন মুসলিমদের অবশিষ্ট সকলেই একত্রে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহ তা’আলা কাফিরদেরকে পরাজিত করে মুসলিমদেরকে তাদের ওপর বিজয় দান করবেন।
এ যুদ্ধে মুসলিমগণ এমন লড়াই করবে যে, ইতোপূর্বে এরূপ ঘোরতম যুদ্ধ আর কখনো দেখা যায়নি। এমনকি যদি কোন উড়ন্ত পাখি লড়াইয়ের ময়দানের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে তা সেনাদলকে পিছনে ফেলতে সক্ষম হবে না, বরং তা মরে পড়ে যাবে (পঁচা লাশের দুর্গন্ধের কারণে অথবা যুদ্ধেক্ষেত্র অতিক্রম করতে অক্ষম হওয়ার কারণে) কোন পিতা বা পরিবারের একশত সন্তান থাকলে যুদ্ধ শেষে গুণে দেখবে, তাদের মধ্যে মাত্র একটি লোক বেঁচে আছে। এমতাবস্থায় কিভাবে গনীমাতের সম্পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি আনন্দিত হতে পারে? আর কারই বা মীরাস বণ্টিত হবে? মুসলিমগণ এ অবস্থায় থাকতেই সহসা এটা অপেক্ষা আরো একটি বিরাট যুদ্ধের সংবাদ শুনতে পাবে। তারা এ ঘোষণা শুনতে পাবে যে, তাদের অনুপস্থিতিতে দাজ্জাল (সদলবলে) তাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে পৌছে গেছে। এ সংবাদ শ্রবণমাত্রই তাদের হাতে যা কিছু ছিল তা সেখানে ফেলে দিয়েই দাজ্জালের উদ্দেশে ছুটে চলবে এবং শত্রুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য দশজন অশ্বারোহীকে অগ্রগামী হিসেবে পাঠাবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বলেছেন, যে দশজন অশ্বারোহীকে অগ্রগামী হিসেবে পাঠানো হবে নিশ্চিতভাবে আমি তাদের ও তাদের বাপ-দাদাদের নাম-ধাম এবং তাদের অশ্বগুলোর বর্ণ কিরূপ হবে তা অবগত আছি। তারা হবে সর্বাপেক্ষা উত্তম অশ্বারোহী। অথবা বলেছেন, তৎকালীন ভূপৃষ্ঠের উত্তম আরোহীদের অন্যতম। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: إِنَّ الساعةَ لَا تقومُ حَتَّى لَا يُقْسَمَ ميراثٌ وَلَا يُفْرَحَ بِغَنِيمَةٍ. ثُمَّ قَالَ: عَدُوٌّ يَجْمَعُونَ لِأَهْلِ الشَّامِ وَيَجْمَعُ لَهُمْ أَهْلُ الْإِسْلَامِ (يَعْنِي الرّوم) فيتشرَّطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجِزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء كل غير غَالب وتفنى الشرطة ثمَّ يَتَشَرَّطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غالبة فيقتتلون حت يَحْجِزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غير غَالب وتفنى الشرطة ثمَّ يشْتَرط الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فيقتتلون حَتَّى يُمْسُوا فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الرَّابِعِ نَهَد إِليهم بقيةُ أهلِ الإِسلام فيجعلُ الله الدَبَرةَ عَلَيْهِم فيقتلون مَقْتَلَةً لَمْ يُرَ مِثْلُهَا حَتَّى إِنَّ الطَّائِرَ ليمر يجنابتهم فَلَا يُخَلِّفُهُمْ حَتَّى يَخِرَّ مَيِّتًا فَيَتَعَادَّ بَنُو الْأَبِ كَانُوا مِائَةً فَلَا يَجِدُونَهُ بَقِيَ مِنْهُمْ إِلَّا الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَبِأَيِّ غَنِيمَةٍ يُفْرَحُ أَوْ أيّ مِيرَاث يقسم؟ فَبينا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا بِبَأْسٍ هُوَ أَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمُ الصَّرِيخُ: أَنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَلَفَهُمْ فِي ذَرَارِيِّهِمْ فَيَرْفُضُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَيُقْبِلُونَ فَيَبْعَثُونَ عَشْرَ فَوَارِسَ طَلِيعَةً . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ أَوْ مِنْ خَيْرِ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْض يَوْمئِذٍ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (37 / 2899)، (7281) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن مسعود قال: ان الساعة لا تقوم حتى لا يقسم ميراث ولا يفرح بغنيمة. ثم قال: عدو يجمعون لاهل الشام ويجمع لهم اهل الاسلام (يعني الروم) فيتشرط المسلمون شرطة للموت لا ترجع الا غالبة فيقتتلون حتى يحجز بينهم الليل فيفيء هولاء وهولاء كل غير غالب وتفنى الشرطة ثم يتشرط المسلمون شرطة للموت لا ترجع الا غالبة فيقتتلون حت يحجز بينهم الليل فيفيء هولاء وهولاء كل غير غالب وتفنى الشرطة ثم يشترط المسلمون شرطة للموت لا ترجع الا غالبة فيقتتلون حتى يمسوا فيفيء هولاء وهولاء كل غير غالب وتفنى الشرطة فاذا كان يوم الرابع نهد اليهم بقية اهل الاسلام فيجعل الله الدبرة عليهم فيقتلون مقتلة لم ير مثلها حتى ان الطاىر ليمر يجنابتهم فلا يخلفهم حتى يخر ميتا فيتعاد بنو الاب كانوا ماىة فلا يجدونه بقي منهم الا الرجل الواحد فباي غنيمة يفرح او اي ميراث يقسم؟ فبينا هم كذلك اذ سمعوا بباس هو اكبر من ذلك فجاءهم الصريخ: ان الدجال قد خلفهم في ذراريهم فيرفضون ما في ايديهم ويقبلون فيبعثون عشر فوارس طليعة . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اني لاعرف اسماءهم واسماء اباىهم والوان خيولهم هم خير فوارس او من خير فوارس على ظهر الارض يومىذ» . رواه مسلم رواہ مسلم (37 / 2899)، (7281) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : হয়তো সম্পদ কমে যাওয়া, ফকীর বেড়ে যাওয়া এবং মীরাস বণ্টন সংঘটিত হওয়ার কারণে কোন উত্তরাধিকারী না পাওয়া অথবা ঋণের পরিমাণ অধিক থাকায় উত্তরাধিকারীদের মাঝে মীরাস বণ্টন হবে না। অথবা এটাও হতে পারে যে, সম্পদশালীরা অন্যায়ে লিপ্ত হওয়ার কারণে তাদের সম্পদ বায়তুল মালে জমা হবে, ফলে তাদের সন্তান-সন্ততির জন্য কোন সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৩-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নবী (সা.) বলেছেন: তোমরা কি এমন একটি শহরের নাম শুনেছ, যার একদিকে খোলা ময়দান এবং অপরদিকে সাগর রয়েছে? তারা বললেন, হ্যা শুনেছি, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! তিনি (সা.) বললেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ইসহাক (আঃ)-এর বংশধরের সত্তর হাজার লোক উক্ত শহরে যুদ্ধ করবে। তারা যখন তথায় আসবে তখন তারা এর আশেপাশে অবস্থান করবে, কিন্তু অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করবে না এবং কোন বর্শা তীরও নিক্ষেপ করবে না। বরং তার শুধুমাত্র ’লা- ইলা-হা ইল্লা-হু ওয়াল্লহু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করবে। শহরের এক পার্শ্বের প্রাচীর এতেই ভেঙ্গে পড়বে। বর্ণনাকারী সাওর ইবনু ইয়াযীদ বলেন, আমার ধারণা, রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] বলেছেন। (প্রথম ধ্বনিতে) সাগর পার্শ্বের দেয়ালটি ভেঙ্গে পড়বে। অতঃপর তারা দ্বিতীয়বার ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়াল্লা-হু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করবে। এবার অপর দিকের প্রাচীরটি (যা ময়দানের দিকে ছিল) ভেঙ্গে পড়বে। তারপর যখন তৃতীয়বার তারা লা- ইলা-হা ইল্লাল্লহু ওয়াল্লহু আকবার’ বলে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করবে, তখন শহরের প্রবেশ দ্বারটি বিস্তৃত হয়ে যাবে এবং তারা এতে প্রবেশ করবে, আর গনীমাত সংগ্রহ করতে থাকবে। তারা যখন এ গনীমাতের সম্পদ বণ্টনে ব্যস্ত হবে, তখন হঠাৎ ঘোষণা শুনতে পাবে। যে, দাজ্জালের আবির্ভাব হয়েছে। তখন তারা সেই সমস্ত ধন-সম্পদ ফেলে দাজ্জালের মোকাবিলায় ফিরে আসবে। (মুসলিম)।

الفصل الاول (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «هَلْ سَمِعْتُمْ بِمَدِينَةٍ جَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَرِّ وَجَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَحْرِ؟» قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَغْزُوَهَا سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ بني إِسحاق فَإِذا جاؤوها نَزَلُوا فَلَمْ يُقَاتِلُوا بِسِلَاحٍ وَلَمْ يَرْمُوا بِسَهْمٍ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَيَسْقُطُ أحدُ جانبيها. - قالَ ثورُ بنُ يزِيد الرَّاوِي: لَا أَعْلَمُهُ إِلَّا قَالَ -: الَّذِي فِي الْبَحْر يَقُولُونَ الثَّانِيَةَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَيَسْقُطُ جَانِبُهَا الْآخَرُ ثُمَّ يَقُولُونَ الثَّالِثَةَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ فَيُفَرَّجُ لَهُم فيدخلونها فيغنمون فَبينا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْمَغَانِمَ إِذْ جَاءَهُمُ الصَّرِيخُ فَقَالَ: إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَرَجَ فَيَتْرُكُونَ كُلَّ شَيْءٍ ويرجعون . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (78 / 2920)، (7333) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «هل سمعتم بمدينة جانب منها في البر وجانب منها في البحر؟» قالوا: نعم يا رسول الله قال: لا تقوم الساعة حتى يغزوها سبعون الفا من بني اسحاق فاذا جاووها نزلوا فلم يقاتلوا بسلاح ولم يرموا بسهم قال: لا اله الا الله والله اكبر فيسقط احد جانبيها. - قال ثور بن يزيد الراوي: لا اعلمه الا قال -: الذي في البحر يقولون الثانية: لا اله الا الله والله اكبر فيسقط جانبها الاخر ثم يقولون الثالثة: لا اله الا الله والله اكبر فيفرج لهم فيدخلونها فيغنمون فبينا هم يقتسمون المغانم اذ جاءهم الصريخ فقال: ان الدجال قد خرج فيتركون كل شيء ويرجعون . رواه مسلم رواہ مسلم (78 / 2920)، (7333) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : নবী (সা.) -এর কথা: এমন একটি শহরের কথা তোমরা শুনেছ যার কিছু অংশ স্থলভাগ ও কিছু অংশ হবে পানিতে। যেখানে ৭০ হাজার বানূ ইসহাক্ব তথা ইসহাক-এর বংশধরেরা যুদ্ধ করবে। আল কাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: জামিউল উসূলেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন: কোন কোন ‘উলামাগণ বলেন যে, প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ মত হলো বানী ইসমাঈল-এর বংশধর। আর আলোচ্য হাদীসটি এটারই প্রমাণ বহন করে। কেননা এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘আরব। অর্থাৎ ‘আরবরা উল্লেখিত শহরে যুদ্ধ করবে। আর এ শহর বলতে কুসতুনতুনিয়্যাহ্-কেই বুঝানো হয়েছে। (শারহুন নাবাবী ১৮/৩৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৪-[১৫] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: বায়তুল মাকদিসের পার্থিব উন্নতি মদীনাহ্ ধ্বংস হওয়ার কারণ হবে। আর মদীনার ধ্বংস বিভিন্ন ফিতনাহ্ ও মহাযুদ্ধের সূচনা করবে এবং মহাযুদ্ধ কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পূর্ব সংকেত হবে, আর কনস্টান্টিনোপলের বিজয় হবে দাজ্জালের আবির্ভাবের পূর্ব সংকেত। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عُمْرَانُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ خَرَابُ يَثْرِبَ وَخَرَابُ يَثْرِبَ خُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ وَخُرُوجُ الْمَلْحَمَةِ فَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ وَفَتْحُ قُسْطَنْطِينِيَّةَ خُرُوجُ الدَّجَّال» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

حسن ، رواہ ابوداؤد (4294) ۔
(حسن)

عن معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عمران بيت المقدس خراب يثرب وخراب يثرب خروج الملحمة وخروج الملحمة فتح قسطنطينية وفتح قسطنطينية خروج الدجال» . رواه ابو داود حسن ، رواہ ابوداؤد (4294) ۔ (حسن)

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৫-[১৬] উক্ত রাবী [মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মহাযুদ্ধ, কনস্টান্টিনোপল বিজয় এবং দাজ্জালের আবির্ভাব সাত মাসের মধ্যে সংঘটিত হবে। (তিরমিযী ও আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «الملحمة الْعُظْمَى وَفتح القسطنطينة وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ فِي سَبْعَةِ أَشْهُرٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2238 وقال : حسن) و ابوداؤد (4295) [و ابن ماجہ (4092)] * ابوبکر بن ابی مریم : ضعیف وکان قد سرق بیتہ فاختلط و شیخہ مجھول و یزید بن قطیب مجھول الحال ۔
(ضَعِيفٌ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الملحمة العظمى وفتح القسطنطينة وخروج الدجال في سبعة اشهر» . رواه الترمذي وابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2238 وقال : حسن) و ابوداؤد (4295) [و ابن ماجہ (4092)] * ابوبکر بن ابی مریم : ضعیف وکان قد سرق بیتہ فاختلط و شیخہ مجھول و یزید بن قطیب مجھول الحال ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৬-[১৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু বুসর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: বিশ্বযুদ্ধ ও মদীনার (শহরটির) বিজয়ের মধ্যে ছয় বছরের ব্যবধান হবে এবং সপ্তম বছরে দাজ্জালের আগমন ঘটবে। [ইমাম আবূ দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি অধিক সহীহ]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَن عبد الله بن بُسر أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بَيْنَ الْمَلْحَمَةِ وَفَتْحِ الْمَدِينَةِ سِتُّ سِنِينَ وَيَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي السَّابِعَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ: هَذَا أصح

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4296) [و ابن ماجہ (4093)] * ابن ابی بلال لم یوثقہ غیر ابن حبان ۔
(ضَعِيف)

وعن عبد الله بن بسر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «بين الملحمة وفتح المدينة ست سنين ويخرج الدجال في السابعة» . رواه ابو داود وقال: هذا اصح اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4296) [و ابن ماجہ (4093)] * ابن ابی بلال لم یوثقہ غیر ابن حبان ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৭-[১৮] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অদূর ভবিষ্যতে মুসলিমগণ মদীনায় ঘেরাও হবে এবং তাদের দূর প্রান্তসীমা হবে সালাহ পর্যন্ত। আর ’সালাহ’ হলো খায়বারের নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: يُوشِكُ الْمُسْلِمُونَ أَنْ يُحَاصَرُوا إِلَى الْمَدِينَةِ حَتَّى يَكُونَ أَبْعَدَ مَسَالِحِهِمْ سَلَاحٌ وَسَلَاحٌ: قَرِيبٌ مِنْ خَيْبَرَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

حسن ، رواہ ابوداؤد (4250) [و الحاکم (4 / 511 ح 8560) و صححہ علی شرط مسلم و وافقہ الذھبی و سندہ حسن] ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عمر قال: يوشك المسلمون ان يحاصروا الى المدينة حتى يكون ابعد مسالحهم سلاح وسلاح: قريب من خيبر. رواه ابو داود حسن ، رواہ ابوداؤد (4250) [و الحاکم (4 / 511 ح 8560) و صححہ علی شرط مسلم و وافقہ الذھبی و سندہ حسن] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসে মদীনাহ্ বলতে মদীনাতুন্ নবী (সা.) উদ্দেশ্য। শত্রু কর্তৃক মুসলিমগণ সেখানে বন্দি হয়ে পড়বে অথবা মুসলিমগণ কাফিরদের থেকে পালিয়ে যাবে এবং মদীনাহ্ ও সালাহ-এর মধ্যবর্তী স্থানে একত্রিত হবে। অথবা কিছুসংখ্যক মুসলিম মদীনার দুর্গে প্রবেশ করবে এবং কিছুসংখ্যক মুসলিম মদীনার চতুর্দিকে পাহারা বসাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৮-[১৯] যূ-মিখবার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, অদর ভবিষ্যতে তোমরা রূমকদের (রোমানদের) সাথে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদন করবে। অতঃপর তোমরা ও তারা একসঙ্গে অপর একটি শত্রুদলের মোকাবিলা করবে। তাতে (আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে) তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে, তোমরা গনীমতও লাভ করবে এবং নিরাপদে থাকবে। তারপর তোমরা (উভয় দল) ফিরে আসবে, অবশেষে তোমরা টিলাযুক্ত একটি প্রশস্ত ও সুজলা-সুফলা স্থানে অবতরণ করবে। সেখানে খ্রিষ্টানদের এক ব্যক্তি একটি ক্রুশ উঁচু করে বলবে, ক্রুশের বরকতে আমরা বিজয় লাভ করছি। এটা শুনে মুসলিমদের এক ব্যক্তি ক্ষুদ্ধ হয়ে ক্রুশটি ভেঙ্গে ফেলবে। ফলে রূমক খ্রিষ্টানরা চুক্তি ভঙ্গ করে ফেলবে এবং ভীষণ যুদ্ধের জন্য বিরাট সেনাবাহিনী একত্রিত করবে। কোন কোন বর্ণনাকারী অতিরিক্ত বলেছেন, তখন মুসলিমগণ সাথে সাথে আপন অস্ত্রসমূহ ধারণ করবে এবং যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা এ দলকে শাহাদাতের দ্বারা সম্মানিত করবেন। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَن ذِي مِخبَرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: سَتُصَالِحُونَ الرُّومَ صُلْحًا آمِنًا فَتَغْزُونَ أَنْتُمْ وَهُمْ عَدُوًّا مِنْ وَرَائِكُمْ فَتُنْصَرُونَ وَتَغْنَمُونَ وَتَسْلَمُونَ ثُمَّ تَرْجِعُونَ حَتَّى تَنْزِلُوا بِمَرْجٍ ذِي تُلُولٍ فَيَرْفَعُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ النَّصْرَانِيَّةِ الصَّلِيبَ فَيَقُولُ: غَلَبَ الصَّلِيبُ فَيَغْضَبُ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَيَدُقُّهُ فَعِنْدَ ذَلِكَ تَغْدِرُ الرُّومُ وَتَجْمَعُ لِلْمَلْحَمَةِ وَزَادَ بَعْضُهُمْ: «فَيَثُورُ الْمُسْلِمُونَ إِلَى أَسْلِحَتِهِمْ فَيَقْتَتِلُونَ فيكرم الله تِلْكَ الْعِصَابَة بِالشَّهَادَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4292 ۔ 4239) ۔
(صَحِيح)

وعن ذي مخبر قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ستصالحون الروم صلحا امنا فتغزون انتم وهم عدوا من وراىكم فتنصرون وتغنمون وتسلمون ثم ترجعون حتى تنزلوا بمرج ذي تلول فيرفع رجل من اهل النصرانية الصليب فيقول: غلب الصليب فيغضب رجل من المسلمين فيدقه فعند ذلك تغدر الروم وتجمع للملحمة وزاد بعضهم: «فيثور المسلمون الى اسلحتهم فيقتتلون فيكرم الله تلك العصابة بالشهادة» . رواه ابو داود اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4292 ۔ 4239) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : هدنة (হুদনাহ্) হলো, মুসলিমগণ ও রোমানদের মাঝে সম্পাদিত যুদ্ধ বিরতির একটি চুক্তি। যেমন নবী (সা.) বলেছেন: তোমাদের ও রোমানদের মাঝে একটি যুদ্ধ বিরতির চুক্তি সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করবে। ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৪৩৪ পৃ., হা, ৪২৮৫)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ যূ-মিখবার (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪২৯-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: তোমরা হাবশীদের এড়িয়ে চল যে পর্যন্ত তারা তোমাদের ওপর আক্রমণ না করে। কেননা (এমন এক সময় আসবে) ক্ষুদ্র পা-বিশিষ্ট এক হাবশী ব্যক্তিই কা’বার নিচের লুক্কায়িত সম্পদ বের করবে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اتْرُكُوا الْحَبَشَةَ مَا تَرَكُوكُمْ فَإِنَّهُ لَا يَسْتَخْرِجُ كَنْزَ الْكَعْبَةِ إِلَّا ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4309)

وعن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اتركوا الحبشة ما تركوكم فانه لا يستخرج كنز الكعبة الا ذو السويقتين من الحبشة» . رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4309)

ব্যাখ্যা : কাবায় প্রোথিত ধন-ভাণ্ডার একজন হাবশী দাস উদ্ধার করবে যার উপাধি হলো, যুস সুওয়াইকতায়ন (দু' পায়ের ক্ষুদ্র গোড়ালি বিশিষ্ট)। অর্থাৎ তার পায়ের গোড়ালি হবে অতি সুরু বা ক্ষুদ্র। যদিও হাবশীদের পায়ের গোড়ালি স্বভাবত ক্ষুদ্র কিন্তু ক্ষুদ্রাকারের গোড়ালি হওয়ায় সে অন্যদের থেকে আলাদা ধরনের হবে।
‘আল্লামাহ্ সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : যুস্ সুওয়াইকতায়ন নামক হাবশী দাস ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সময়কালে ইয়াজুজ-মাজুজ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর আত্মপ্রকাশ করবে। ঈসা আলায়হিস সালাম তাকে দমন করার জন্য ৭০০-৮০০ সৈন্য পাঠাবেন, যখন মুসলিম সৈন্যবাহিনী সেদিকে গমন করবে তখন আল্লাহ তা'আলা সুগন্ধযুক্ত শান্তির বাতাস প্রেরণ করবেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি মু'মিনের আত্মা কবয করবেন। (আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক জ্ঞাত) ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৩৭৮ পৃ., হা, ৪৩০১)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪৩০-[২১] নবী (সা.)-এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, হাবশীদেরকে ততক্ষণ পর্যন্ত ছেড়ে রাখ, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তোমাদের ওপর আক্রমণ না করে। আর (অনুরূপভাবে) তুর্কীদেরকেও ছেড়ে রাখ, যে পর্যন্ত না তারা তোমাদের ওপর আক্রমণ করে। (আবূ দাউদ ও নাসায়ী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «دَعُوا الْحَبَشَةَ مَا وَدَعُوكُمْ وَاتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ

حسن ، رواہ ابوداؤد (4302) و النسائی (6 / 44 ح 3178 مطولاً) ۔
(صَحِيح)

وعن رجل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال: «دعوا الحبشة ما ودعوكم واتركوا الترك ما تركوكم» . رواه ابو داود والنساىي حسن ، رواہ ابوداؤد (4302) و النساىی (6 / 44 ح 3178 مطولا) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : হাবশীদের সাথে যুদ্ধ পরিত্যাগ করার কারণ হলো, তাদের অসুবিধা অনেক কঠিন এবং তাদের ভূখণ্ডটি ঠাণ্ডা প্রধান অঞ্চল আর ‘আরব বাহিনী গরম প্রধান অঞ্চলের অধিবাসী বিধায় হাবশায় প্রবেশ করার বিষয়টি তাদের ওপর চাপানো হয়নি। কিন্তু যখন তারা জোরপূর্বক মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে তখন কারো জন্য যুদ্ধ পরিত্যাগ করা বৈধ নয়। কেননা উক্ত অবস্থায় জিহাদ ফরযে আইন এবং প্রথম অবস্থায় তা ফরযে কিফায়াহ্। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪৩১-[২২] বুরয়দাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) এক হাদীসে বলেছেন, ছোট চক্ষুবিশিষ্ট একদল তুর্কী তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে (তারা তিনবার আক্রমণ করবে) তোমরা তিনবারই তাদেরকে ধাওয়া করবে। পরিশেষে তোমরা তাদেরকে আরব উপদ্বীপে নিয়ে পৌছিয়ে দেবে। অতএব প্রথম ধাওয়ায় যারা পলায়ন করবে, শুধু তারাই রক্ষা পাবে। আর দ্বিতীয়বারে কিছু সংখ্যক রক্ষা পাবে এবং কিছু সংখ্যক ধ্বংস হবে। আর তৃতীয়বারে (কেউই রক্ষা পাবে না, বরং) তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে। অথবা রাসূল (সা.) যে রকম বলেছেন। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَدِيثٍ: «يُقَاتِلُكُمْ قَوْمٌ صِغَارُ الْأَعْيُنِ» يَعْنِي التّرْك. قَالَ: «تسوقونهم ثَلَاث مَرَّات حَتَّى تلحقوهم بِجَزِيرَة الْعَرَب فَأَما السِّيَاقَةِ الْأُولَى فَيَنْجُو مَنْ هَرَبَ مِنْهُمْ وَأَمَّا الثَّانِيَة فينجو بعض وَيهْلك بعض وَأما الثَّالِثَةِ فَيُصْطَلَمُونَ» أَوْ كَمَا قَالَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4305) * بشیر بن المھاجر و ثقہ الجمھور ۔
(ضَعِيف)

وعن بريدة عن النبي صلى الله عليه وسلم في حديث: «يقاتلكم قوم صغار الاعين» يعني الترك. قال: «تسوقونهم ثلاث مرات حتى تلحقوهم بجزيرة العرب فاما السياقة الاولى فينجو من هرب منهم واما الثانية فينجو بعض ويهلك بعض واما الثالثة فيصطلمون» او كما قال. رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4305) * بشیر بن المھاجر و ثقہ الجمھور ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীস প্রমাণ করে যে, উম্মতে মুহাম্মাদীর মধ্য হতে যে সকল মুসলিম তুর্কীদের তিনবার তাড়া করে নিয়ে যাবে। এমনকি তারা তাদেরকে জাজিরাতুল আরবে বা ‘আরব উপদ্বীপে নিয়ে যাবে এবং সেখানে তাদের মুখোমুখী হবে। প্রথম ধাওয়াতে যারা পালিয়ে যাবে তারা মুক্তি পাবে। দ্বিতীয় ধাওয়াতে কিছুসংখ্যক পালিয়ে যাবে এবং কিছু সংখ্যক মুসলিমদের হাতে নিহত হবে। আর তৃতীয় ধাওয়াতে তাদের মূলোৎপাটন হবে।
মুসনাদে আহমাদের অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, তুর্কীদের আত্মপ্রকাশ ঘটা ও তাদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ করা এবং তাদের হত্যা করা এসব সংঘটিত হবে নবী (সা.) -এর দেয়া ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তারা (তুর্কীরা) সে সময় বের হবে। আল্লাহ ছাড়া তাদের সংখ্যা কেউ নির্ধারণ করতে পারবে না। এমনকি তারাই ইয়াজুজ-মা'জুজরূপে আত্মপ্রকাশ করবে (আল্লাহ তা'আলাই অধিক জানেন)। ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৪৩৯ পৃ., হা. ৪২৯৭)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪৩২-[২৩] আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এক সময় আমার উম্মতের কতিপয় লোক একটি নিম্নভূমিতে অবতরণ করবে, উক্ত স্থানটিকে তারা বাসরাহ্’ নামে অভিহিত করবে এবং স্থানটি হবে ’দাজলাহ্’ নামক একটি নদীর কাছে। নদীর উপরে একটি সেতু হবে। উক্ত স্থানটিতে অধিবাসীদের সংখ্যা হবে অত্যধিক। অবশেষে তা মুসলিমদের শহরসমূহের মাঝে অন্যতম একটি শহরে পরিগণিত হবে। অতঃপর শেষ যামানায় চওড়া মুখমণ্ডল ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চক্ষুবিশিষ্ট ’কনতূরার বংশধরগণ উক্ত শহরবাসীদের বিরুদ্ধে (লড়াই করার জন্য) আসবে এবং তারা উক্ত নদীর পাড়ে এসে আস্তানা গাড়বে। (তাদেরকে দেখে) শহরবাসী তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একভাগ গবাদি পশুর পিছনে মাঠে-ময়দানে আশ্রয় নেবে (অর্থাৎ শত্রুর মোকাবিলা এড়িয়ে পশুপালন ও ক্ষেত-খামারের কাজে আত্মনিয়োগ করবে)। ফলে তারা সকলেই ধ্বংস হবে। আর একভাগ ’কনতূরার আওলাদের নিকট (আত্মসমর্পণ করে) নিরাপত্তা চাইবে, তারাও ধ্বংস হবে। আর অবশিষ্ট একভাগ নিজেদের সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনকে পশ্চাতে রেখে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে। তারা প্রত্যেকেই শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَن أبي بكرَة أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَنْزِلُ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِي بِغَائِطٍ يُسَمُّونَهُ الْبَصْرَةَ عِنْدَ نَهْرٍ يُقَالُ لَهُ: دِجْلَةُ يَكُونُ عَلَيْهِ جِسْرٌ يَكْثُرُ أَهْلُهَا وَيَكُونُ مِنْ أَمْصَارِ الْمُسْلِمِينَ وَإِذَا كَانَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ جَاءَ بَنُو قَنْطُورَاءَ عِرَاضُ الْوُجُوهِ صِغَارُ الْأَعْيُنِ حَتَّى يَنْزِلُوا عَلَى شَطِّ النَّهْرِ فَيَتَفَرَّقُ أَهْلُهَا ثَلَاثَ فِرَقٍ فِرْقَةٌ يَأْخُذُونَ فِي أَذْنَابِ الْبَقَرِ وَالْبَرِّيَّةِ وَهَلَكُوا وَفِرْقَةٌ يَأْخُذُونَ لِأَنْفُسِهِمْ وَهَلَكُوا وَفِرْقَةٌ يَجْعَلُونَ ذَرَارِيَّهُمْ خَلْفَ ظُهُورِهِمْ وَيُقَاتِلُونَهُمْ وَهُمُ الشُّهَدَاءُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4306) ۔
(إِسْنَاده جيد)

وعن ابي بكرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ينزل اناس من امتي بغاىط يسمونه البصرة عند نهر يقال له: دجلة يكون عليه جسر يكثر اهلها ويكون من امصار المسلمين واذا كان في اخر الزمان جاء بنو قنطوراء عراض الوجوه صغار الاعين حتى ينزلوا على شط النهر فيتفرق اهلها ثلاث فرق فرقة ياخذون في اذناب البقر والبرية وهلكوا وفرقة ياخذون لانفسهم وهلكوا وفرقة يجعلون ذراريهم خلف ظهورهم ويقاتلونهم وهم الشهداء . رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4306) ۔ (اسناده جيد)

ব্যাখ্যা: আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটা নবী (সা.) -এর মু'জিযাগুলার একটি মু'জিযাহ্, তিনি যেমনটা বলেছেন ঠিক তেমনি ঘটনা ৬৫৬ হিজরীর সফর মাসে সংঘটিত হয়েছিল। (আল্লাহ অধিক জ্ঞাত) ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৪৪২ পৃ., হা. ৪২৯৮)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বাকরা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪৩৩-[২৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আনাস! লোকেরা ক্রমান্বয়ে শহর-নগড় গড়ে তুলবে। তন্মধ্যে বাসরাহ্’ নামেও একটি শহর গড়ে তুলবে। যদি তুমি কখনো উক্ত শহরের কাছ দিয়ে অতিক্রম কর কিংবা শহরে প্রবেশ কর, তবে তার লবণাক্ত জমি, ঘাস বা তৃণলতা ও তার খেজুর বৃক্ষের এবং তার বাজার ও আমিরদের দ্বার থেকে দূরে থাকবে এবং সেই শহরের ভিতরে অবস্থান না করে বাইরে কাছাকাছি স্থানে অবস্থান করবে। কেননা সে স্থান এমন সময় ধসে যাবে, তথায় পাথর বর্ষিত হবে এবং ভীষণ ভূকম্পন সংঘটিত হবে। সেখানে এমন এক সম্প্রদায় বসবাস করবে, যারা সহীহ সালামতে মানুষরূপে রাত্রি যাপন করবে, আর সকাল করবে বানর ও শূকরের আকৃতিতে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا أَنَسُ إِنَّ النَّاسَ يمصِّرون أمصاراً فَإِن مِصْرًا مِنْهَا يُقَالُ لَهُ: الْبَصْرَةُ فَإِنْ أَنْتَ مَرَرْتَ بِهَا أَوْ دَخَلْتَهَا فَإِيَّاكَ وَسِبَاخَهَا وَكَلَأَهَا ونخيلها وَسُوقَهَا وَبَابَ أُمَرَائِهَا وَعَلَيْكَ بِضَوَاحِيهَا فَإِنَّهُ يَكُونُ بهَا خَسْفٌ وقذفٌ ورجْفٌ وقومٌ يبيتُونَ ويصبحون قردة وَخَنَازِير رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4307) * الراوی شک فی اتصالہ فالسند معلل

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يا انس ان الناس يمصرون امصارا فان مصرا منها يقال له: البصرة فان انت مررت بها او دخلتها فاياك وسباخها وكلاها ونخيلها وسوقها وباب امراىها وعليك بضواحيها فانه يكون بها خسف وقذف ورجف وقوم يبيتون ويصبحون قردة وخنازير رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4307) * الراوی شک فی اتصالہ فالسند معلل

ব্যাখ্যা: এখানে (سباخ) শব্দটি (مسبخة) এর বহুবচন যার অর্থ জলাভূমি, লবণাক্ত ভূমি। এখানে এটা একটি লবণাক্ত জায়গার নাম। 'আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটা এমন ভূখণ্ড যার উপরাংশটা লবণক্ষেত্র এবং যেখানে বিরল কিছু গাছ ছাড়া তেমন কিছুই উৎপন্ন হয় না। আর (كَلَأَ) শব্দের অর্থ হলো ঘাস বা তৃণলতা। ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৪৪৫ পৃ., হা, ৪২৯৯)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪৩৪-[২৪] সালিহ ইবনু দিরহাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা কিছু লোক (বাসরাহ্ হতে) হজ্জের জন্য রওয়ানা হলাম। হঠাৎ এক লোকের [আবূ হুরায়রাহ্ –(রাঃ)] সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাদের প্রশ্ন করলেন, তোমাদের পার্শ্বে ’উবুল্লাহ্’ নামে কোন একটি জনপদ আছে কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে আমার জন্য কে এই দায়িত্বটি গ্রহণ করবে যে, উক্ত শহরের ’আশশার’ নামক মসজিদে আমার পক্ষ থেকে দুই অথবা চার রাক্আত নফল সালাত আদায় করবে এবং (সালাতের নিয়্যাতে অথবা শেষে) বলবে, এটার প্রতিদান আবূ হুরায়রাহর জন্য!’ আমি আমার বন্ধু আবুল কাসিম (সা.) -কে বলতে শুনেছি! আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন ’আশশার মসজিদ’ থেকে কতিপয় শহীদকে উঠাবেন। বদরের শহীদদের সাথে তারা ব্যতীত আর কেউই উত্থিত হবে না। (আবু দাউদ)

বর্ণনাকারী বলেন, ’উবুল্লাহ’র উক্ত মসজিদখানি ইউফ্রেটিস (ফুরাত) নদীর নিকটবর্তী কোন এক স্থানে অবস্থিত। অচিরেই আমরা ইনশা-আল্লা-হ ইয়ামান ও সিরিয়ার বর্ণনাস্থলে আবু দারদা মারফত বর্ণিত হাদীস (إِنَّ فُسْطَاطَ الْمُسْلِمِينَ) “নিশ্চয় মুসলিমদের শিবির....." বর্ণনা করব।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَن صَالح بن دِرْهَم يَقُولُ: انْطَلَقْنَا حَاجِّينَ فَإِذَا رَجُلٌ فَقَالَ لَنَا: إِلَى جَنْبِكُمْ قَرْيَةٌ يُقَالُ لَهَا: الْأُبُلَّةُ؟ قُلْنَا: نَعَمْ. قَالَ: مَنْ يَضْمَنُ لِي مِنْكُمْ أَنْ يُصَلِّيَ لِي فِي مَسْجِدِ الْعَشَّارِ رَكْعَتَيْنِ أَوْ أَرْبَعًا وَيَقُولُ هَذِهِ لِأَبِي هُرَيْرَةَ؟ سَمِعْتُ خَلِيلِي أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْعَثُ مِنْ مَسْجِدِ الْعَشَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُهَدَاءَ لَا يَقُومُ مَعَ شُهَدَاءِ بَدْرٍ غَيْرُهُمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ. وَقَالَ: هَذَا الْمَسْجِدُ مِمَّا يَلِي النَّهْرَ وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ أَبِي الدَّرْدَاءِ: «إِنَّ فُسْطَاطَ الْمُسْلِمِينَ» فِي بَابِ: «ذِكْرِ الْيَمَنِ وَالشَّامِ» . إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4308) * فیہ ابراھیم بن صالح ضعفہ الدارقطنی و الجمھور ۔ 0 حدیث ابی الدرداء تقدم (6272) ۔
(ضَعِيف)

وعن صالح بن درهم يقول: انطلقنا حاجين فاذا رجل فقال لنا: الى جنبكم قرية يقال لها: الابلة؟ قلنا: نعم. قال: من يضمن لي منكم ان يصلي لي في مسجد العشار ركعتين او اربعا ويقول هذه لابي هريرة؟ سمعت خليلي ابا القاسم صلى الله عليه وسلم يقول: «ان الله عز وجل يبعث من مسجد العشار يوم القيامة شهداء لا يقوم مع شهداء بدر غيرهم» . رواه ابو داود. وقال: هذا المسجد مما يلي النهر وسنذكر حديث ابي الدرداء: «ان فسطاط المسلمين» في باب: «ذكر اليمن والشام» . ان شاء الله تعالى اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4308) * فیہ ابراھیم بن صالح ضعفہ الدارقطنی و الجمھور ۔ 0 حدیث ابی الدرداء تقدم (6272) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: ইবনুল আনবারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এখানে (خليلى) (খলীলী) এর অর্থ পরিপূর্ণ প্রেমিক। প্রকৃত ভালোবাসার মাধ্যমে পূর্ণ প্রেমিক হওয়া, যে ভালোবাসার কোন কমতি ও ত্রুটি নেই।
আল ওয়াহিদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ কথাটি উত্তম ও পছন্দনীয়, কেননা আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর বন্ধু ও ইবরাহীম আল্লাহ তা'আলার খলীল বা বন্ধু। আর মসজিদ আল ‘আশশারে আল্লাহ তা'আলা শহীদদের একত্রিত করবেন। এটা মূলত কবর থেকে উত্থান ঘটানো উদ্দেশ্য। অথবা তাদেরকে শহীদী মর্যাদা প্রদান করা হবে। তবে এই উম্মাত তথা নবী (সা.)-এর উম্মতের শহীদ নাকি পূর্ববর্তী জাতির শহীদ এটা জানা যায় না। (আল্লাহ অধিক জ্ঞাত) (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪৩৫-[২৫] শাক্বীক (রহিমাহুল্লাহ) হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন আমরা ’উমার (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ফিতনাহ্ সম্পর্কীয় বাণী স্মরণ আছে কি? হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আমার স্মরণ আছে তিনি (সা.) যেভাবে বলেছেন। উমার (রাঃ) বললেন, তা পেশ কর। এ ব্যাপারে তুমি সৎসাহসী। আচ্ছা বল দেখি, তিনি (সা.) ফিতনাহ্ সম্পর্কে কেমন বলেছেন? আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, মানুষ ফিতনায় পড়বে তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, তার নিজের সন্তান-সন্ততি ও পাড়া-প্রতিবেশীর ব্যাপারে। তার সালাত-সিয়াম, সদাক্বাহ্ এবং ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ তা মিটিয়ে দেবে।
“উমার প্রশ্ন বললেন, আমি ঐ ফিতনাহ্ সম্পর্কে জানতে চাইনি, বরং যে ফিতনাহ্ সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্থিত হবে এবং তোলপাড় করে ফেলবে, সেই ফিতনাহ্ সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। হুযায়ফাহ (রা.) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মু’মিনীন! উক্ত ফিতনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক? তা ও আপনার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা সেই দরজাটি কি ভেঙ্গে দেয়া হবে, না খোলা হবে? হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, খোলা হবে না, বরং ভেঙ্গে দেয়া হবে। তখন ’উমার প্রশ্ন বললেন, তাহলে সাধারণত এটাই প্রকাশ পায় যে, তা আর কখনো বন্ধ করা হবে না।
রাবী বলেন, তখন আমরা হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম- আচ্ছা! ’উমার (রাঃ) কি জানতেন দরজাটি কি? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি এমন নিশ্চিতভাবে জানতেন যেমন আগামীকালের পূর্বে রাত্রির আগমন সুনিশ্চিত। আমি তাকে (“উমারকে) এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছি, যা কোন গোলকধাধা নয়। রাবী বলেন, আমরা তো এ ব্যাপারে হুযায়ফাহ্ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে ভয় পাচ্ছিলাম তাই মাসরূক-কে বললে তিনি হুযায়ফাহ্-কে প্রশ্ন। করলেন, দরজাটি কি? উত্তরে তিনি বললেন, দরজাটি হলেন, ’উমার’ নিজেই। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

عَن شَقِيق عَن حُذَيْفَة قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ فَقَالَ: أَيُّكُمْ يَحْفَظُ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْفِتْنَةِ؟ فَقُلْتُ: أَنَا أَحْفَظُ كَمَا قَالَ: قَالَ: هَاتِ إِنَّكَ لِجَرِيءٌ وَكَيْفَ؟ قَالَ: قُلْتُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ «فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَنَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ يُكَفِّرُهَا الصِّيَامُ وَالصَّلَاةُ وَالصَّدَقَةُ وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ» فَقَالَ عُمَرُ: لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ إِنَّمَا أُرِيدُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْر. قَالَ: مَا لَكَ وَلَهَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا. قَالَ: فَيُكْسَرُ الْبَابُ أويفتح؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا بَلْ يُكْسَرُ. قَالَ: ذَاكَ أَحْرَى أَنْ لَا يُغْلَقَ أَبَدًا. قَالَ: فَقُلْنَا لحذيفةَ: هَل كَانَ عمر يعلم مَنِ البابُ؟ قَالَ: نَعَمْ كَمَا يَعْلَمُ أَنَّ دُونَ غَدٍ لَيْلَةٌ إِنِّي حَدَّثْتُهُ حَدِيثًا لَيْسَ بِالْأَغَالِيطِ قَالَ: فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ مَنِ الْبَابُ؟ فَقُلْنَا لِمَسْرُوقٍ: سَلْهُ. فَسَأَلَهُ فَقَالَ: عُمَرُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7096) و مسلم (26 / 144)، (7268) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن شقيق عن حذيفة قال: كنا عند عمر فقال: ايكم يحفظ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في الفتنة؟ فقلت: انا احفظ كما قال: قال: هات انك لجريء وكيف؟ قال: قلت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول «فتنة الرجل في اهله وماله ونفسه وولده وجاره يكفرها الصيام والصلاة والصدقة والامر بالمعروف والنهي عن المنكر» فقال عمر: ليس هذا اريد انما اريد التي تموج كموج البحر. قال: ما لك ولها يا امير المومنين؟ ان بينك وبينها بابا مغلقا. قال: فيكسر الباب اويفتح؟ قال: قلت: لا بل يكسر. قال: ذاك احرى ان لا يغلق ابدا. قال: فقلنا لحذيفة: هل كان عمر يعلم من الباب؟ قال: نعم كما يعلم ان دون غد ليلة اني حدثته حديثا ليس بالاغاليط قال: فهبنا ان نسال حذيفة من الباب؟ فقلنا لمسروق: سله. فساله فقال: عمر. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7096) و مسلم (26 / 144)، (7268) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: আয যায়ন ইবনু আল মুনীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: পরিবারের ফিতনাহ্ হলো তাদের কারো প্রতি ভালোবাসার দুর্বলতাবশত ঝুকে যাওয়া অথবা সম্পদ কিংবা একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের ঘর বণ্টনের ক্ষেত্রে কারো দিকে ঝুকে যাওয়া বা কাউকে অগ্রাধিকার দেয়া এমনকি সন্তানদের ব্যাপারেও এমনটি করা এবং তাদের আবশ্যকীয় হক আদায়ের ব্যাপারে একপেশে নীতি গ্রহণ করা। আর সম্পদের ফিতনাহ্ হলো 'ইবাদত ছেড়ে শুধু সম্পদ নিয়েই ব্যস্ত থাকা অথবা আল্লাহ তা'আলার হক পরিত্যাগ করে সম্পদের মাঝেই নিজেকে ব্যস্ত রাখা। সন্তানের ফিতনাহ্ হলো স্বভাবতই এক সন্তানের ওপর অন্য সন্তানকে সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া। প্রতিবেশীর ফিতনাহ্ হলো তাদের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ ও অহংকারে লিপ্ত হওয়া।
এখানে অন্য সকল ‘ইবাদত ছাড়া শুধুমাত্র সালাতের সাথে উল্লেখিত ‘ইবাদতগুলোকে এ ফিতনার কাফফারাহ্ হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমে সালাতের গুরুত্ব ও মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেননা অন্যান্য ইবাদতে কুফরী থেকে সংশোধনের উপায় নেই। ('আওনুল মা'বুদ ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪৪৭ পৃ., হা. ২২৫৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - যুদ্ধবিগ্রহ সম্পৰ্কীয়

৫৪৩৬-[২৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের নিকটবর্তী সময় কনস্টান্টিনোপল (মুসলিমদের হাতে) বিজয় হবে। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْمَلَاحِمِ)

وَعَن أنسٍ قَالَ: فَتْحُ القسطنطينة مَعَ قِيَامِ السَّاعَةِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ. وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2239) * وقال : محمود (بن غیلان) فیہ :’’ ھذا حدیث غریب ، و القسطنطینیۃ ھی مدینۃ الروم تفتح عند خروج الدجال ، و القسطنطینیۃ قد فتحت فی زمان بعض اصحاب النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم ‘‘ ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: فتح القسطنطينة مع قيام الساعة. رواه الترمذي. وقال: هذا حديث غريب اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2239) * وقال : محمود (بن غیلان) فیہ :’’ ھذا حدیث غریب ، و القسطنطینیۃ ھی مدینۃ الروم تفتح عند خروج الدجال ، و القسطنطینیۃ قد فتحت فی زمان بعض اصحاب النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم ‘‘ ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কাছাকাছি সময়ে কুসতুনত্বায়নিয়্যাহ্ বা কনস্টান্টিনোপল-এর বিজয় হবে। অবশ্য এ বিষয়ের পর্যালোচনা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৩৭-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের আলামত সমূহের মধ্যে রয়েছে- বিদ্যা উঠে যাবে, মূর্খতা বেড়ে যাবে, ব্যভিচার (যিনা) বেড়ে যাবে, মদ্যপান বৃদ্ধি পাবে, পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে এবং নারীর সংখ্যা বেশি হবে এমনকি একজন পুরুষ পঞ্চাশজন নারীর তত্ত্বাবধায়ক হবে এবং মূর্খতা প্রকাশ পাবে। (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَكْثُرَ الْجَهْلُ وَيَكْثُرَ الزِّنا ويكثُرَ شُربُ الخمرِ ويقِلَّ الرِّجالُ وتكثُرَ النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً الْقَيِّمُ الْوَاحِدُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «يَقِلُّ الْعِلْمُ وَيَظْهَرُ الْجَهْلُ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (80) و مسلم (9 / 2671 و الروایۃ الثانیۃ : 8 / 2671)، (6785 و 6786) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن انس قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان من اشراط الساعة ان يرفع العلم ويكثر الجهل ويكثر الزنا ويكثر شرب الخمر ويقل الرجال وتكثر النساء حتى يكون لخمسين امراة القيم الواحد» . وفي رواية: «يقل العلم ويظهر الجهل» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (80) و مسلم (9 / 2671 و الروایۃ الثانیۃ : 8 / 2671)، (6785 و 6786) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: এখানে ‘ইলম উঠে যাওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘ইলমের বাহকের মৃত্যুবরণ করা। বুখারীর অপর বর্ণনায় রয়েছে যে, বিদ্যা কমে যাবে। এ ব্যাপারে হাফিয ‘আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বিদ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম সংঘটিত হবে, এরপর বিদ্বানের মৃত্যুবরণের মাধ্যমে বিদ্যা উঠে যাবে (আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত)। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪৫৬ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৩৮-[২] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের আগে বহু মিথ্যাবাদীর আগমন ঘটবে। অতএব তোমরা তাদের হতে সতর্ক থাক। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ كَذَّابِينَ فَاحْذَرُوهُمْ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (10 / 1822)، (4711) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر بن سمرة قال: سمعت رسول النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «ان بين يدي الساعة كذابين فاحذروهم» . رواه مسلم رواہ مسلم (10 / 1822)، (4711) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আল মুজাহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উল্লেখিত হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অজ্ঞতা বেড়ে যাওয়া, জ্ঞান কমে যাওয়া এবং হাদীস জালকারীদের আগমন ঘটা, আর সেগুলোকে রাসূলের নামে চালিয়ে দেয়া। এছাড়া এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, মিথ্যা নবী দাবিদারের আত্মপ্রকাশ ঘটবে যেমন নবী (সা.) -এর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে হয়েছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৩৯-[৩] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (সা.) লোকেদের সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন এসে প্রশ্ন করল, কিয়ামত কখন হবে? উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, আমানত যখন নষ্ট করা হবে তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা কর। লোকটি প্রশ্ন করল, তা কিভাবে নষ্ট করা হবে? তিনি (সা.) বললেন, কাজের দায়িত্ব যখন অনুপযুক্ত লোককে দেয়া হবে তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা কর। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَن أبي هريرةَ قَالَ: بَيْنَمَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ» . قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا؟ قَالَ: «إِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (59) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: بينما كان النبي صلى الله عليه وسلم يحدث اذ جاء اعرابي فقال: متى الساعة؟ قال: «اذا ضيعت الامانة فانتظر الساعة» . قال: كيف اضاعتها؟ قال: «اذا وسد الامر الى غير اهله فانتظر الساعة» . رواه البخاري رواہ البخاری (59) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (إِذَا وُسِّدَ) অর্থাৎ এটা মূলত বালিশ কিংবা গদি অর্থে ব্যবহৃত হয়। তখনকার আমীরগণ যখন বসতেন তখন গদির উপর বসতেন। আলোচ্য হাদীসে ক্ষমতার মসনদ বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যখন ক্ষমতার মসনদ বা সিংহাসনটি অযোগ্যদের জন্য নির্ধারিত হবে তখনই কিয়ামতের সময় ঘনিয়ে আসবে। (ফাতহুল বারী ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৫৮, হা. ৫৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪০-[8] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না ধন-সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং (পানির মতো) তা প্রবাহিত হতে থাকবে। এমনকি লোকেরা নিজেদের সম্পদের যাকাত বের করবে বটে, কিন্তু তা গ্রহণ করার মতো কোন লোক পাবে না। তিনি (সা.) আরো বলেছেন, কিয়ামতের আগে ’আরব ভূমি সুজলা সুফলা উদ্যান ও প্রবাহিত নদ-নদীতে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। (মুসলিম)

সহীহ মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছে, মদীনার জনবসতি তথা দালান-কোঠা ’ইহাব’ অথবা (বলেছেন,) ইয়াহাব’ নামক জায়গা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْمَالُ وَيَفِيضَ حَتَّى يُخْرِجَ الرَّجُلُ زَكَاةَ مَالِهِ فَلَا يَجِدُ أَحَدًا يَقْبَلُهَا مِنْهُ وَحَتَّى تَعُودَ أَرْضُ الْعَرَبِ مُرُوجًا وَأَنْهَارًا» رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَة: قَالَ: «تبلغ المساكن إهَاب أَو يهاب»

رواہ مسلم (60 / 157 و الروایۃ الثانیۃ 43 / 2903)، (2339 و 7290) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى يكثر المال ويفيض حتى يخرج الرجل زكاة ماله فلا يجد احدا يقبلها منه وحتى تعود ارض العرب مروجا وانهارا» رواه مسلم. وفي رواية: قال: «تبلغ المساكن اهاب او يهاب» رواہ مسلم (60 / 157 و الروایۃ الثانیۃ 43 / 2903)، (2339 و 7290) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: এটা এমনও হতে পারে যেমনটা ‘উমার ইবনু আবদুল আযীয-এর যামানায় ঘটেছিল। অতএব এটা কিয়ামতের আলামত নয়।
‘আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন: যদি তুমি দীর্ঘ হায়াত লাভ কর তবে অবশ্যই দেখতে পাবে যে, মানুষ দু হাত ভর্তি করে স্বর্ণ নিয়ে এটা দান করার জন্য দান গ্রহীতাকে অনুসন্ধান করবে।
যায়দ ইবনুল খত্ত্বাব-এর বর্ণনায় উত্তম সনদে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি বলেন, ‘উমার ইবনু আবদুল ‘আযীয-এর সময়কালে মানুষ এমন অবস্থায় উন্নীত হয়েছিল যে, লোকজন আমাদের কাছে অনেক সম্পদ নিয়ে এসে বলত, এগুলো সব গরীবদেরকে দান করে দিন। কিন্তু লোকজন গরীব লোক না পাওয়ার কারণে সম্পদগুলো ফিরিয়ে নিয়ে যেতেন। উমার ইবনু 'আবদুল আযীয (রহ.) লোকজনকে ধনী করে দিয়েছিলেন। (ফাতহুল বারী ১৩শ খণ্ড, ৪৫৯ পৃ., হা. ৭১২০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪১-[৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শেষ যুগে এমন এক খলীফাহ (ইমাম) হবেন যিনি ধন-সম্পদ বণ্টন করবেন আর তা গণনাও করবেন না।

অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন এক খলীফাহ হবেন যিনি মুষ্টি ভরে ধন-সম্পদ বিতরণ করবেন এবং গুণে গুণে দান করবেন না। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ خَلِيفَةٌ يُقَسِّمُ الْمَالَ وَلَا يَعُدُّهُ» . وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ: «يَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي خَلِيفَةٌ يَحْثِي الْمَالَ حَثْيًا وَلَا يَعُدُّهُ عَدًّا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (69 / 2914 و الروایۃ الثانیۃ 61 / 2913)، (7318 و 7317) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يكون في اخر الزمان خليفة يقسم المال ولا يعده» . وفي رواية: قال: «يكون في اخر امتي خليفة يحثي المال حثيا ولا يعده عدا» . رواه مسلم رواہ مسلم (69 / 2914 و الروایۃ الثانیۃ 61 / 2913)، (7318 و 7317) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত খলীফাহ্ ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত উদার ও দানশীল হওয়ার পাশাপাশি, দিকবিদিক বিভিন্ন অঞ্চল বিজয় করার মাধ্যমে প্রচুর গনীমতপ্রাপ্ত হবেন বিধায় বেহিসাব দান করতে থাকবেন। (শারহুন নাবাবী ১ম খণ্ড, ৪৬১ পৃ., হা. ২৯২৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪২-[৬] আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে ফুরাত (ইউফ্রেটিস) নদী উন্মুক্ত হয়ে যাবে (শুকিয়ে যাবে এবং তার তলদেশ হতে স্বর্ণের খনি বের হবে। তখন সেখানে যে কেউ উপস্থিত হয়, সে যেন তা হতে গ্রহণ না করে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ كَنْزٍ مِنْ ذَهَبٍ فَمَنْ حَضَرَ فَلَا يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7119) و مسلم (30 / 2894)، (7274) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يوشك الفرات ان يحسر عن كنز من ذهب فمن حضر فلا ياخذ منه شيىا» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7119) و مسلم (30 / 2894)، (7274) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসের সমর্থনে সহীহ মুসলিমে অন্যভাবে আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) -এর সূত্রে বর্ণিত রয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন, জমিন তার বক্ষস্থিত সোনা-রূপা স্তম্ভের ন্যায় কলিজার টুকরাসহ বমি করে দিবে। অতঃপর হত্যাকারী এসে বলবে, আমি এর জন্যই খুন করেছিলাম। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী এসে বলবে, এর জন্যই তো আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলাম এবং তাদের হক নষ্ট করেছিলাম। চোর এসে বলবে, এসবের জন্যই তো আমার হাত কাটা হয়েছে। অতঃপর সকলেই ছেড়ে দিবে এবং কেউই এর থেকে কিছুই নিবে না। ইবনু মাজাহতে সাওবান (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রয়েছে যে, তোমাদের মূল্যবান খনিজ সম্পদের নিকটে তিনজনকে হত্যা করা হবে। যারা প্রত্যেকেই খলীফার সন্তান। এ হাদীসটি ইমাম মাহদী আলায়হিস সালাম-এর ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হবে ইমাম মাহদী আলায়হিস সালাম-এর আত্মপ্রকাশের কাছাকাছি সময়ে এবং এটা ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর আগমন ও আগুন বের হওয়ার পূর্বে সংঘটিত হবে। (ফাতহুল বারী ১৩শ খণ্ড, ৪৬২-৬৩ পৃ., হা. ৭১১৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪৩-[৭] উক্ত রাবী [আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ফুরাত নদী তার তলদেশে রক্ষিত স্বর্ণের পাহাড় উন্মুক্ত না করা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। উক্ত সম্পদ নিয়ে মানুষের মধ্যে মারাত্মক খুনাখুনি হবে। সে ফিতনায় শতকরা নিরানব্বই জন লোক নিহত হবে এবং তাদের প্রত্যেকেই বলবে, হয়তো আমি বেঁচে যাব (একাই সম্পদ ভোগ করব)। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مَنْ كُلِّ مِائَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ: لَعَلِّي أَكُونُ أَنَا الَّذِي أنجُو . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (29 / 2894)، (7272) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا تقوم الساعة حتى يحسر الفرات عن جبل من ذهب يقتتل الناس عليه فيقتل من كل ماىة تسعة وتسعون ويقول كل رجل منهم: لعلي اكون انا الذي انجو . رواه مسلم رواہ مسلم (29 / 2894)، (7272) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অর্থাৎ বিরাট মহামূল্যবান সোনার পাহাড় সমপরিমাণ সম্পদ। হতে পারে এটা পূর্বে উল্লেখিত সম্পদ হতে ভিন্ন এবং পাহাড়টাই সোনার খনি হিসেবে আবিষ্কৃত হবে। এখানে তাদের প্রত্যেকেরই দাবি হলো আমি মুক্তি পাব, অর্থাৎ তারা সকলেই সম্পদ পাওয়ার আশায় যুদ্ধ করবে এবং অবশিষ্টরা সম্পদ হস্তগত করার আশায় যুদ্ধ করতে থাকবে। তবে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্টতর আশা যা আমলগুলো বিনষ্ট করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৮ম খণ্ড, ৭৯ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪৪-[৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (এমন এক সময় আসবে যে,) জমিন তার কলিজার টুকরা বের করবে যা স্বর্ণ ও রৌপ্যের থামের মতো হবে। উক্ত সম্পদের নিকট কোন হত্যাকারী এসে (ঘৃণার সাথে) বলবে, হায়রে! ধন-সম্পদের জন্যই আমি (অন্যায়ভাবে) হত্যা করেছিলাম? অতঃপর আত্মীয়তা ছিন্নকারী এসে বলবে, এই সম্পদের জন্যই কি আমি আপন আত্মীয়স্বজনদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলাম? তারপর চোর এসে বলবে, এই সম্পদের জন্যই কি আমার হাত কাটা হয়েছে? অতঃপর তারা সকলেই উক্ত ধন-সম্পদ ছেড়ে চলে যাবে, কেউই তা হতে কিছুই গ্রহণ করবে না। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَقِيءُ الْأَرْضُ أَفْلَاذَ كَبِدِهَا أَمْثَالَ الْأُسْطُوَانَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ فَيَجِيءُ الْقَاتِلُ فَيَقُولُ: فِي هَذَا قَتَلْتُ وَيَجِيءُ الْقَاطِعُ فَيَقُولُ: فِي هَذَا قَطَعْتُ رَحِمِي. وَيَجِيءُ السَّارِقُ فَيَقُولُ: فِي هَذَا قُطِعت يَدي ثمَّ يَد عونه فَلَا يَأْخُذُونَ من شَيْئا . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (62 / 1013)، (2341) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تقيء الارض افلاذ كبدها امثال الاسطوانة من الذهب والفضة فيجيء القاتل فيقول: في هذا قتلت ويجيء القاطع فيقول: في هذا قطعت رحمي. ويجيء السارق فيقول: في هذا قطعت يدي ثم يد عونه فلا ياخذون من شيىا . رواه مسلم رواہ مسلم (62 / 1013)، (2341) ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪৫-[৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! দুনিয়া সে সময় পর্যন্ত শেষ হবে না যে পর্যন্ত না কোন লোক কবরের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করার সময় উক্ত কবরের উপরে গড়াগড়ি দিতে থাকবে এবং আকাঙ্ক্ষা ও অনুতাপের সাথে বলবে, হায়রে, কতই না ভালো হত, এ কবরবাসীর স্থানে যদি আমিই এ কবরের অধিবাসী হতাম? তার এ আকাঙ্ক্ষা দীনের প্রতি আগ্রহ প্রকাশার্থে হবে না; বরং দুনিয়ার বিপদ ও মুসীবতের তাড়নায় অধৈর্য হয়ে প্রকাশ করবে। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ عَلَى الْقَبْرِ فَيَتَمَرَّغُ عَلَيْهِ ويقولُ: يَا لَيْتَني مَكَانَ صَاحِبِ هَذَا الْقَبْرِ وَلَيْسَ بِهِ الدِّينُ إِلَّا الْبلَاء . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (54 / 157)، (7302) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: والذي نفسي بيده لا تذهب الدنيا حتى يمر الرجل على القبر فيتمرغ عليه ويقول: يا ليتني مكان صاحب هذا القبر وليس به الدين الا البلاء . رواه مسلم رواہ مسلم (54 / 157)، (7302) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনটি বিষয় যখন আত্মপ্রকাশ করবে তখন পূর্ব হতে যারা ঈমান আনয়ন করেনি এবং ঈমান সে অনুযায়ী সৎকাজ করেনি তাদের ঈমান কোন কাজে আসবে না। উক্ত তিনটি বিষয় হলো: ১. পশ্চিমাকাশে সূর্য উদিত হওয়া, ২. দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হওয়া এবং ৩. জমিনে প্রাণীর আত্মপ্রকাশ হওয়া।
কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ হাদীস আহলুস্ সুন্নাহ অনুসারীদের জন্য শী'আ ইসমাঈলিয়্যাহ্ বাতিনিয়্যাহ্ কর্তৃক ব্যাখ্যা ভ্রান্তবিরোধী দলীল। (শারহুন নাবাবী ২য় খণ্ড, ১৬৫ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪৬-[১০] উক্ত রাবী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত হিজায ভূমি থেকে একটি অগ্নি প্রকাশিত না হবে, (যার দরুন) বাসরায় অবস্থানরত উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ تُضِيءُ أعناقَ الإِبلِ ببُصْرى» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7118) و مسلم (42 / 2902)، (7289) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تخرج نار من ارض الحجاز تضيء اعناق الابل ببصرى» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7118) و مسلم (42 / 2902)، (7289) ۔ (متفق عليه)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪৭-[১১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত আসার প্রথম নিদর্শন হলো, এমন এক আগুন বের হবে, তা মানুষদেরকে পূর্বদিক থেকে তাড়িয়ে পশ্চিমদিকে নিয়ে একত্রিত করবে। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَّلُ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ نَارٌ تَحْشُرُ النَّاسَ مِنَ الْمَشْرِقِ إِلَى الْمَغْرِبِ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (3329) ۔
(صَحِيح)

وعن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اول اشراط الساعة نار تحشر الناس من المشرق الى المغرب» . رواه البخاري رواہ البخاری (3329) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাদীসে উল্লেখিত আগুন মদীনার হিজায হতে ৬৫৪ হিজরীর জুমাদিউল আখির মাসের তিন তারিখ বুধবার দিবাগত রাত্রে প্রকাশ হয়েছিল আর এটা চলমান ছিল জুমু’আহ বার ফজর পর্যন্ত, অতঃপর তা শান্ত হয়ে যায়।
আর যে আগুন মানুষদেরকে একত্রিত করবে সেটা এ আগুন নয়। তবে খালিদ ইবনু সিনান আল ‘আব্বাসীর সময়ে এ ধরনের আগুন হিজাযের কোন কোন অঞ্চলে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: উল্লেখিত দু’টি আগুনের একটি কিয়ামতের পূর্বে প্রকাশ পাবে এবং অপরটি কিয়ামতের একেবারে সন্নিকটে প্রকাশ পাবে এবং এর পরপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে (আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত)। (ফাতহুল বারী ১৩শ খণ্ড, ৪৭১-৪৭২ পৃ., হা. ৭১১৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪৮-[১২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যামানা সংকুচিত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। অর্থাৎ একটি বছর হবে একটি মাসের সমান। একটি মাস হবে একটি সপ্তাহের সমান, আর একদিন হবে এক ঘণ্টার পরিমাণ, আর একটি ঘণ্টা হবে অগ্নিশিখা উঠার সময় পরিমাণ। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يتقاربَ الزَّمانُ فتكونُ السَّنةُ كالشهرِ والشَّهرُ كالجمعةِ وتكونُ الجمعةُ كاليومِ وَيَكُونُ الْيَوْمُ كَالسَّاعَةِ وَتَكُونُ السَّاعَةُ كَالضَّرْمَةِ بِالنَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (2332 وقال : غریب) ۔
(صَحِيح)

عن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى يتقارب الزمان فتكون السنة كالشهر والشهر كالجمعة وتكون الجمعة كاليوم ويكون اليوم كالساعة وتكون الساعة كالضرمة بالنار» . رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (2332 وقال : غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামাহ্ তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: উক্ত যামানাতে বরকত কমে যাবে এবং প্রত্যেক স্থান হতে কল্যাণ বিনষ্ট হবে। মানুষদের বিপদাপদের আধিক্যের কারণে প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে আর তারা বড় বড় ফিতনার মোকাবেলায় এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে যে, তাদের দিনরাত কিভাবে কাটবে সেদিকে তাদের কোন খেয়াল থাকবে না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২২৫ পৃ., হা. ২২৩২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৪৯-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু হাওয়ালাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) এ গনীমতের সম্পদ লাভ করার জন্য আমাদেরকে পদাতিক বাহিনী হিসেবে এক অভিযানে পাঠালেন। আমরা এমন অবস্থায় ফিরে আসলাম যে, আমরা গনীমতের কিছুই লাভ করতে পারিনি। তিনি আমাদের চেহারায় ক্লান্তি ও দুর্বলতার ছাপ দেখতে পেয়ে আমাদের মাঝে (বক্তৃতার উদ্দেশে) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ! তাদের দায়িত্ব এভাবে আমার ওপর অর্পণ করো না যে, আমি তাদের পক্ষ হতে তা বহন করতে দুর্বল হয়ে পড়ি। (হে আল্লাহ!) তাদের ওপর এমন কাজের দায়িত্ব অর্পণ করো না যা সমাধা করতে তারা অক্ষম হয়ে পড়ে। (হে আল্লাহ!) তাদেরকে অন্য লোকের ওপরও অর্পণ করো না। কেননা তারা নিজেদের প্রয়োজনকে তাদের প্রয়োজনের উপর গুরুত্ব দেবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি (সা.) আমার মাথার উপর স্বীয় হাত রেখে বললেন, হে ইবনু হাওয়ালাহ্! যখন তুমি দেখবে খিলাফাত (মদীনাহ্ হতে স্থানান্তরিত হয়ে) পবিত্র ভূমিতে (সিরিয়ায়) পৌছে গেছে, তখন তুমি বুঝে নিবে যে, ভূমিকম্প, দুঃখ-দুর্দশা, বড় বড় নিদর্শনসমূহ ও ফিতনা-ফাসাদ খুবই কাছে এসে গেছে এবং আমার এই হাত তোমার মাথা থেকে যত নিকটে, কিয়ামত সেদিন এটা অপেক্ষাও অতি কাছাকাছি হবে। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَن عبدِ الله بنِ حوالةَ قَالَ: بعثَنا رَسُول الله صلى اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنَغْنَمَ عَلَى أَقْدَامِنَا فَرَجَعْنَا فَلَمْ نَغْنَمْ شَيْئًا وَعَرَفَ الْجَهْدَ فِي وجوهِنا فقامَ فِينَا فَقَالَ: «اللَّهُمَّ لَا تَكِلْهُمْ إِلَيَّ فَأَضْعُفَ عَنْهُمْ وَلَا تَكِلْهُمْ إِلَى أَنْفُسِهِمْ فَيَعْجِزُوا عَنْهَا وَلَا تَكِلْهُمْ إِلَى النَّاسِ فَيَسْتَأْثِرُوا عَلَيْهِمْ» ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِي ثُمَّ قَالَ: «يَا ابْنَ حَوَالَةَ إِذَا رَأَيْتَ الْخِلَافَةَ قَدْ نَزَلَتِ الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ فَقَدْ دَنَتِ الزَّلَازِلُ وَالْبَلَابِلُ وَالْأُمُورُ الْعِظَامُ وَالسَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنَ النَّاسِ مِنْ يَدِي هَذِه إِلَى رَأسك» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2535) [و صححہ الحاکم (4 / 425) و وافقہ الذھبی] ۔
(ضَعِيف)

وعن عبد الله بن حوالة قال: بعثنا رسول الله صلى الله صلى الله عليه وسلم لنغنم على اقدامنا فرجعنا فلم نغنم شيىا وعرف الجهد في وجوهنا فقام فينا فقال: «اللهم لا تكلهم الي فاضعف عنهم ولا تكلهم الى انفسهم فيعجزوا عنها ولا تكلهم الى الناس فيستاثروا عليهم» ثم وضع يده على راسي ثم قال: «يا ابن حوالة اذا رايت الخلافة قد نزلت الارض المقدسة فقد دنت الزلازل والبلابل والامور العظام والساعة يومىذ اقرب من الناس من يدي هذه الى راسك» . رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (2535) [و صححہ الحاکم (4 / 425) و وافقہ الذھبی] ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: মদীনাহ্ হতে সিরিয়া পর্যন্ত খিলাফত বিস্তৃতি লাভ করবে যেমনটা বানূ উমাইয়্যার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অতঃপর কিয়ামত প্ৰকম্পের পূর্বক্ষণে (ইসরাফীল-এর প্রথম ফুৎকারে) প্রচণ্ড বেগে ভূমিকম্প হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, “যখন জমিনকে প্রকম্পিত করা হবে”- (সূরাহ্ আহ্ যিলযাল ৯৯: ১)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫০-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন গনীমতের সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদরূপে ব্যবহার করা হবে, আমানতকে গনীমতের সম্পদ মনে করা হবে যাকাতকে জরিমানা ধারণ করা হবে, দীন ছাড়া অন্য উদ্দেশ্য বিদ্যা হাসিল করা হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে এবং মায়ের নাফরমানী করবে আর বন্ধুকে খুব কাছে স্থান দেবে এবং আপন পিতাকে দুরে সরিয়ে রাখবে, মসজিদসমূহে উচ্চ আওয়াজ করা হবে, ফাসিক লোকই গোত্রের সরদার হবে, জাতির নিকৃষ্টতম লোক তাদের নেতা হবে, ক্ষতির আশঙ্কায় মানুষের সম্মান করা হবে, গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রাদি ব্যাপকভাবে প্রকাশ লাভ করবে, মদ্যপান বেড়ে যাবে এবং এ উম্মাতের পরবর্তীকালের লোকেরা পূর্ববর্তী লোকেদের প্রতি অভিসম্পাত করতে থাকবে। সেই সময় তোমরা অপেক্ষা কর, রক্তবর্ণের ঝড়ের, ভূকম্পনের ভূমি ধসের, রূপ বিকৃতির, পাথর বর্ষণের এবং সুতা ছেড়ে পুঁতির দানা যেভাবে পড়তে থাকে অনুরূপ একটির পর একটি নিদর্শনসমূহের। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا اتُّخِذَ الْفَيْءُ دِوَلًا وَالْأَمَانَةُ مَغْنَمًا وَالزَّكَاةُ مَغْرَمًا وَتُعُلِّمَ لِغَيْرِ الدِّينِ وَأَطَاعَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَعَقَّ أُمَّهُ وَأَدْنَى صَدِيقَهُ وَأَقْصَى أَبَاهُ وَظَهَرَتِ الْأَصْوَاتُ فِي الْمَسَاجِدِ وَسَادَ الْقَبِيلَةَ فَاسِقُهُمْ وَكَانَ زَعِيمُ الْقَوْمِ أَرْذَلَهُمْ وَأُكْرِمَ الرَّجُلُ مَخَافَةَ شَرِّهِ وَظَهَرَتِ الْقَيْنَاتُ وَالْمَعَازِفُ وشُربتِ الخمورُ وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا فَارْتَقِبُوا عِنْدَ ذَلِكَ رِيحًا حَمْرَاءَ وَزَلْزَلَةً وَخَسْفًا وَمَسْخًا وَقَذْفًا وَآيَاتٍ تَتَابَعُ كَنِظَامٍ قُطِعَ سِلْكُهُ فَتَتَابَعَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2211 وقال : غریب) * فیہ رمیح : مجھول کما فی التقریب و الکاشف (1 / 243) وغیرھما ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا اتخذ الفيء دولا والامانة مغنما والزكاة مغرما وتعلم لغير الدين واطاع الرجل امراته وعق امه وادنى صديقه واقصى اباه وظهرت الاصوات في المساجد وساد القبيلة فاسقهم وكان زعيم القوم ارذلهم واكرم الرجل مخافة شره وظهرت القينات والمعازف وشربت الخمور ولعن اخر هذه الامة اولها فارتقبوا عند ذلك ريحا حمراء وزلزلة وخسفا ومسخا وقذفا وايات تتابع كنظام قطع سلكه فتتابع» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2211 وقال : غریب) * فیہ رمیح : مجھول کما فی التقریب و الکاشف (1 / 243) وغیرھما ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (ظَهَرَتِ الْأَصْواتُ)  মসজিদে লোকজন উচ্চ আওয়াজ করে কথা বলবে। বিশেষভাবে ব্যবসায়িক লেনদেন, অনর্থক কথা ও হাসি-তামাসা; এসবই মসজিদে চলতে থাকবে। মুল্লা ‘আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এসব বর্তমান যামানায় অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থাৎ আমাদের কতিপয় হানাফী উলামাগণ বলেন: মসজিদে যিক্‌র-আযকারও উচ্চ আওয়াজ করা হারাম। (তুহফাতুল আহওয়ায়ী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৭৬ পৃ., হা, ২২১০)

 (وَلَعَنَ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَوَّلَهَا) এখানে এ ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, নিশ্চয় এ আলামতটি এ জাতির বৈশিষ্ট্য যা পূর্ববর্তী জাতির মাঝে ছিল না। আর এটাই হলো কিয়ামতের আলামত। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এ জাতি পূর্ববর্তীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে ও তাদেরকে খারাপভাবে স্মরণ করবে। তাদের কোন সৎ ‘আমলের অনুসরণ না করা এটাই যেন তাদেরকে অভিশাপ দেয়া। বিশ্ববাসীর কাছে এ বিষয়টি গোপন নেই যে, আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তীদের ব্যাপারে বলেছেন: “পূর্ববর্তী মুহাজির ও আনসারগণ এবং যারা তাদের একনিষ্ঠ অনুসারী, আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট ও তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট”- (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯: ১০০) আমরা তাদের শানে কি বলব? আল্লাহ তা'আলা এটাও শিক্ষা দিয়েছেন, তা হলো: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ও আমাদের ভাইগণ যারা ঈমান আনয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগামী হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন”- (সূরা আল হাশর ৫৯: ১০)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫১-[১৫] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মাত যখন পনেরোটি কাজে লিপ্ত হবে (যা পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে), তখন তাদের ওপর বিভিন্ন প্রকারের বিপদবিপর্যয় অবতীর্ণ হবে। তিনি (সা.) উক্ত পনেরোটি কাজ কী কী তা গণনা করে বলেছেন, তন্মধ্যে ’দীন ব্যতীত অন্য উদ্দেশে বিদ্যার্জন করা হবে, এ বাক্যটির উল্লেখ নেই এবং তাতে বলেছেন বন্ধুর সাথে ভালো আচরণ করবে এবং পিতার সাথে কষ্টদায়ক আচরণ করবে, মদ পান করা হবে এবং রেশমি পোশাক পরিধান করা হবে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا فَعَلَتْ أُمَّتِي خَمْسَ عَشْرَةَ خَصْلَةً حَلَّ بِهَا الْبَلَاءُ» وَعَدَّ هَذِهِ الْخِصَالَ وَلَمْ يَذْكُرْ «تُعُلِّمَ لِغَيْرِ الدِّينِ» قَالَ: «وَبَرَّ صَدِيقَهُ وَجَفَا أَبَاهُ» وَقَالَ: «وَشُرِبَ الْخَمْرُ وَلُبِسَ الْحَرِيرُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2210) * فیہ فرج بن فضالۃ : ضعیف ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا فعلت امتي خمس عشرة خصلة حل بها البلاء» وعد هذه الخصال ولم يذكر «تعلم لغير الدين» قال: «وبر صديقه وجفا اباه» وقال: «وشرب الخمر ولبس الحرير» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2210) * فیہ فرج بن فضالۃ : ضعیف ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫২-[১৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দুনিয়া নিঃশেষ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমার বংশের এক ব্যক্তি সারা আরব ভূখণ্ডের মালিক না হবে। তার নাম হবে আমার নামে। (তিরমিযী ও আবু দাউদ)

আবু দাউদ-এর অপর এক বর্ণনায় আছে- তিনি (সা.) বলেছেন: যদি দুনিয়া শেষ হতে মাত্র একদিন বাকি থাকে, আল্লাহ তা’আলা ঐ দিনকে খুবই দীর্ঘায়িত করবেন এবং পরিশেষে সে দিনের মধ্যে আমার বংশের অথবা বলেছেন, আমার আহলে বায়তের এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। তার নাম হবে আমার নামে এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামে। তিনি ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা জমিনকে তেমনিভাবে পরিপূর্ণ করে দেবেন যেমনিভাবে তৎপূর্বে যুলম ও অত্যাচারে তা ভরপুর ছিল।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمْلِكَ الْعَرَبَ رَجُلٌ مِنْ أهلِ بَيْتِي يُواطِىءُ اسمُه اسْمِي» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: «لَوْ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا يَوْمٌ لَطَوَّلَ اللَّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ حَتَّى يَبْعَثَ اللَّهُ فِيهِ رَجُلًا مِنِّي - أَوْ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي - يُوَاطِئُ اسْمُهُ اسْمِيَ وَاسْمُ أَبِيهِ اسْمَ أَبِي يَمْلَأُ الْأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وجورا»

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2230) و ابوداؤد (4282) ۔
(حسن)

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تذهب الدنيا حتى يملك العرب رجل من اهل بيتي يواطىء اسمه اسمي» رواه الترمذي وابو داود. وفي رواية له: «لو لم يبق من الدنيا الا يوم لطول الله ذلك اليوم حتى يبعث الله فيه رجلا مني - او من اهل بيتي - يواطى اسمه اسمي واسم ابيه اسم ابي يملا الارض قسطا وعدلا كما ملىت ظلما وجورا» اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2230) و ابوداؤد (4282) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা: তিনি (ইমাম মাহদী), যার প্রকৃত নাম হবে মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ। এখানে শী'আদের দাবিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখান করা হয়েছে। তাদের দাবি হলো: প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদী বর্তমান রয়েছেন এবং আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তিনি মুহাম্মাদ ইবনু হাসান আল আসকারী। (আস্তাগফিরুল্লাহ)
(حَتَّى يَمْلِكَ الْعَرَبَ) ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম ‘আরব ভূখণ্ডের শাসক হবেন। 'ফাতহুল ওয়াদূদ' নামক গ্রন্থে রয়েছে যে, এখানে আরবদের নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এই কারণে যে, কেননা তারাই জাতি হিসেবে মূল ও সম্মানিত।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এখানে অনারবদের কথা উল্লেখ না থাকলেও তারা এ বাক্যের অন্তর্ভুক্ত হবেন। কারণ যখন তিনি আরবের শাসনকর্তা হবেন তখন সকল মুসলিমের কালিমাহ্ একই হবে এবং তারা সকলেই একটি হাতের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হবেন। ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৩৪৬ পৃ., হা, ৪২৭৬)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫৩-[১৭] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [রসূল (সা.) বলেছেন] মাহদী আমার বংশের তথা ফাতিমার বংশ হতে জন্মলাভ করবেন। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «الْمَهْدِيُّ مِنْ عِتْرَتِي مِنْ أَوْلَادِ فَاطِمَة» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4284) ۔
(صَحِيح)

وعن ام سلمة قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «المهدي من عترتي من اولاد فاطمة» . رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4284) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আল খত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল ইতরাহ হলো কোন লোকের ঔরসজাত সন্তান। তবে কখনও এটা নিকটাত্মীয় অর্থে এর ব্যবহার হয়। যেমন আবূ বাকর (রাঃ) বলেন: আমরা নবী (সা.) -এর নিকট আত্মীয়। হাফিয ইমাদুদ্দীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: একাধিক হাদীস এ কথা প্রমাণ করে যে, ‘আব্বাসীয় রাজত্বকালের পর ইমাম মাহদী আলায়হিস সালাম-এর আগমন ঘটবে এবং তিনি আহলে বায়তের অন্তর্গত ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) -এর সন্তান হাসান (রাঃ) -এর বংশ হতে জন্মগ্রহণ করবেন। আস্ সানাদী (রহিমাহুল্লাহ) ইবনু মাজাহর টীকায় উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দারাকুত্বনীতে যে হাদীসটি এককভাবে ‘উসমান ইবনু 'আফফান (রাঃ) হতে মারফু'ভাবে বর্ণিত রয়েছে। “ইমাম মাহদী আলায়হিস সালাম রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চাচা আব্বাস (রাঃ)-এর বংশধর থেকে আসবেন”। এটা সনদগতভাবে গরীব।
দারাকুত্বনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: বনী হাশিম-এর কৃতদাস মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। মান্নাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এ হাদীসের সনদে অতি মিথ্যাবাদী রাবী রয়েছে (আল্লাহই সর্বজ্ঞাত)। (আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, পৃ. ৩৪৮, হা. ৪২৭৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫৪-[১৮] আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মাহদী হবেন আমার বংশের উজ্জ্বল চেহারা, উঁচু নাকবিশিষ্ট। ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা তিনি জমিনকে এমনভাবে পরিপূর্ণ করে দেবেন যেমনিভাবে তার আগে তা যুলম ও অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল। আর তিনি সাত বছর ক্ষমতার মালিক থাকবেন। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمَهْدِيُّ مِنِّي أجلى الْجَبْهَة وأقنى الْأَنْفِ يَمْلَأُ الْأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا يَمْلِكُ سَبْعَ سِنِينَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4285) * قتادۃ مدلس ، عنعن و للحدیث شواھد ضعیفۃ

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «المهدي مني اجلى الجبهة واقنى الانف يملا الارض قسطا وعدلا كما ملىت ظلما وجورا يملك سبع سنين» . رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4285) * قتادۃ مدلس ، عنعن و للحدیث شواھد ضعیفۃ

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫৫-[১৯] উক্ত রাবী [আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)] নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। ইমাম মাহদীর ঘটনা প্রসঙ্গে (রসূল সা.) বলেছেন, জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলবে, হে মাহদী! আমাকে কিছু দান করুন! আমাকে কিছু দান করুন। তিনি (সা.) বলেছেন: তখন তিনি তাকে নিজের হাতের অঞ্জলি ভরে তার কাপড়ের মধ্যে এই পরিমাণ সম্পদ প্রদান করবেন, যতটুকু সে বহন করে নিয়ে যেতে পারে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قِصَّةِ الْمَهْدِيِّ قَالَ: فَيَجِيءُ إِلَيْهِ الرَّجُلُ فَيَقُولُ: يَا مَهْدِيُّ أَعْطِنِي أَعْطِنِي. قَالَ: فَيَحْثِي لَهُ فِي ثَوْبِهِ مَا اسْتَطَاعَ أَنْ يَحْمِلَهُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2232 وقال : حسن) [و ابن ماجہ (4083)] * فیہ زید العمی

وعنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في قصة المهدي قال: فيجيء اليه الرجل فيقول: يا مهدي اعطني اعطني. قال: فيحثي له في ثوبه ما استطاع ان يحمله . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2232 وقال : حسن) [و ابن ماجہ (4083)] * فیہ زید العمی

ব্যাখ্যা: ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম ভিক্ষুকের বহনযোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ দান করবেন। ভিক্ষুক লোকটি যত মাল বহন করতে সক্ষম তত সম্পদ তাকে দান করবেন। কারণ সে সময় প্রচুর রাষ্ট্রীয় সম্পদ, গনীমত ও বিভিন্ন এলাকার বিজিত অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত সম্পদ থাকবে। এছাড়া তিনি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে দানশীল। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১০৬ পৃ., হা. ২২৩২)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫৬-[২০] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: (শেষ যামানায়) একজন খলীফার মৃত্যুর সময় লোকেদের মধ্যে দ্বিতীয় খলীফাহ নিয়োগের ব্যাপারে মতবিরোধ দেখা দেবে। তখন মদীনাহ্ থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে মক্কার দিকে ছুটে পলায়ন করবে। এ সময় মক্কাবাসীরা তার নিকট এসে তাকে বলপূর্বক ঘর হতে বের করে আনবে। কিন্তু সে তা পছন্দ করবে না। অতঃপর হাজারে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে লোকেরা তার কাছে বায়’আত গ্রহণ করবে। এরপর সিরিয়া থেকে একটি সৈন্যবাহিনী তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু মক্কাহ্ ও মদীনার মাঝামাঝি ’বায়দা’ নামক স্থানে তাদেরকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে। অতঃপর যখন চতুর্দিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়বে এবং লোকেরা বাস্তবে এ অবস্থা দেখতে পাবে, তখন সিরিয়ার ’আবদালগণ এবং ’ইরাকের এক বিরাট দল তার নিকট আসবে এবং তার হাতে বায়’আত করবে। অতঃপর কুরায়শের এক লোক যার একদল সৈন্য পাঠাবে, ইমামের সেনাবাহিনী তাদের ওপর জয় লাভ করবে। এটাই ’ফিতনায়ে কালব’। ইমাম মানুষের মধ্যে তাদের পয়গাম্বর (মুহাম্মাদ সা.)-এর সুন্নাত মোতাবেক কাজকর্ম পরিচালনা করবেন এবং পৃথিবীতে ইসলাম পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি সাত বছর এ অবস্থায় অবস্থান করবেন। অতঃপর ইন্তিকালের পর মুসলিমগণ তার জানাযাহ্ আদায় করবেন। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَكُونُ اخْتِلَافٌ عِنْدَ مَوْتِ خَلِيفَةٍ فَيَخْرُجُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ هَارِبًا إِلى مكةَ فيأتيه الناسُ من أهل مَكَّة فيخرجوه وَهُوَ كَارِه فيبايعونه بَين الرُّكْن وَالْمقَام يبْعَث إِلَيْهِ بَعْثٌ مِنَ الشَّامِ فَيُخْسَفُ بِهِمْ بِالْبَيْدَاءِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَإِذَا رَأَى النَّاسُ ذَلِكَ أَتَاهُ أَبْدَالُ الشَّامِ وَعَصَائِبُ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَيُبَايِعُونَهُ ثُمَّ يَنْشَأُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ أَخْوَالُهُ كَلْبٌ فَيَبْعَثُ إِلَيْهِمْ بَعْثًا فَيَظْهَرُونَ عَلَيْهِمْ وَذَلِكَ بَعَثُ كلب وَيعْمل النَّاسِ بِسُنَّةِ نَبِيِّهِمْ وَيُلْقِي الْإِسْلَامُ بِجِرَانِهِ فِي الْأَرْضِ فَيَلْبَثُ سَبْعَ سِنِينَ ثُمَّ يُتَوَفَّى وَيُصَلِّي عَلَيْهِ الْمُسلمُونَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4286) * قتادۃ مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)

وعن ام سلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يكون اختلاف عند موت خليفة فيخرج رجل من اهل المدينة هاربا الى مكة فياتيه الناس من اهل مكة فيخرجوه وهو كاره فيبايعونه بين الركن والمقام يبعث اليه بعث من الشام فيخسف بهم بالبيداء بين مكة والمدينة فاذا راى الناس ذلك اتاه ابدال الشام وعصاىب اهل العراق فيبايعونه ثم ينشا رجل من قريش اخواله كلب فيبعث اليهم بعثا فيظهرون عليهم وذلك بعث كلب ويعمل الناس بسنة نبيهم ويلقي الاسلام بجرانه في الارض فيلبث سبع سنين ثم يتوفى ويصلي عليه المسلمون» . رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4286) * قتادۃ مدلس و عنعن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: ‘আলী (রাঃ) হতে হাসান সনদে বর্ণিত রয়েছে যে, সিরিয়া থেকে ইমাম মাহদীর আনুগত্য স্বীকার করবেন একদল আল্লাহভীরু ব্যক্তিবর্গ যারা সংখ্যায় চল্লিশজন হবেন। যখন তাদের মধ্য হতে কেউ মারা যাবে আল্লাহ তা'আলা তার স্থলে অন্যজনকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। আর তাদেরকে শত্রুদের ওপর সাহায্য করবেন। এ হাদীসটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। আল আযীযী ও মান্নাবী (রহিমাহুল্লাহ) হাসান সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মান্নাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাকিম-এর বর্ণনায় কিছু বর্ধিত রয়েছে যে, সে সকল লোকজন (উল্লেখিত ৪০ জন) সালাত, সিয়াম কিংবা তাসবীহ পাঠের কারণে অন্যদের থেকে অগ্রগামী হয়নি। বরং তারা উত্তম চরিত্র সততা, বিশুদ্ধ নিয়্যাত, প্রশান্ত হৃদয়ের হওয়ার জন্য তারা অন্যদের থেকে অগ্রগামী হয়েছে। তারাই আল্লাহর দল। ('আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, ৩৫১ পৃ., হা, ৪২৮০)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু সালামাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫৭-[২১] আবু সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - একদিন বিপদ-আপদের কথা আলোচনা করলেন, যা এ উম্মাতের শেষ সময় এসে পৌছবে। এমনকি কোন ব্যক্তি তা হতে আশ্রয়স্থল খুঁজে পাবে না। এ সময় আল্লাহ তা’আলা আমার বংশ ও আমার পরিবার হতে এক ব্যক্তিকে দুনিয়াতে পাঠাবেন। তিনি ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা জমিনকে এমনিভাবে পরিপূর্ণ করে দেবেন। যেমনিভাবে তা ইতোপূর্বে যুলম-অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল। তার কার্যকলাপে আসমান ও জমিনের অধিবাসী সকলেই সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। আকাশ তার এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট রাখবে না; বরং সম্পূর্ণই বের করে দেবে। (প্রাচুর্য ও সচ্ছলতা দেখে) জীবিত লোকেরা মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে। লোকেরা এই অবস্থায় সাত অথবা নয় বছর জীবনযাপন করবে। (হাকিম তাঁর ’মুসতাদরাক’-এ বলেন, হাদীসটি সহীহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَلَاءً يُصِيبُ هَذِهِ الْأُمَّةَ حَتَّى لَا يَجِدَ الرَّجُلُ مَلْجَأً يَلْجَأُ إِلَيْهِ مِنَ الظُّلْمِ فَيَبْعَثُ اللَّهُ رَجُلًا مِنْ عِتْرَتِي وَأَهْلِ بَيْتِي فَيَمْلَأُ بِهِ الْأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلًا كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا يَرْضَى عَنْهُ سَاكِنُ السَّمَاءِ وَسَاكِنُ الْأَرْضِ لَا تَدَعُ السَّمَاءُ مِنْ قَطْرِهَا شَيْئًا إِلَّا صَبَّتْهُ مِدْرَارًا وَلَا تَدَعُ الْأَرْضُ مِنْ نَبَاتِهَا شَيْئًا إِلَّا أَخْرَجَتْهُ حَتَّى يَتَمَنَّى الْأَحْيَاءُ الْأَمْوَاتَ يَعِيشُ فِي ذَلِكَ سبعَ سِنِين أَو ثمانَ سِنِين أَو تسع سِنِين» . رَوَاهُ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الحاکم (4 / 465 و صححہ فقال الذھبی : سندہ مظلم) * عمر بن عبید اللہ العدوی : لم اجد من وثقہ غیر الحاکم و فی السند علۃ أخری

وعن ابي سعيد قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بلاء يصيب هذه الامة حتى لا يجد الرجل ملجا يلجا اليه من الظلم فيبعث الله رجلا من عترتي واهل بيتي فيملا به الارض قسطا وعدلا كما ملىت ظلما وجورا يرضى عنه ساكن السماء وساكن الارض لا تدع السماء من قطرها شيىا الا صبته مدرارا ولا تدع الارض من نباتها شيىا الا اخرجته حتى يتمنى الاحياء الاموات يعيش في ذلك سبع سنين او ثمان سنين او تسع سنين» . رواه اسنادہ ضعیف ، رواہ الحاکم (4 / 465 و صححہ فقال الذھبی : سندہ مظلم) * عمر بن عبید اللہ العدوی : لم اجد من وثقہ غیر الحاکم و فی السند علۃ أخری

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫৮-[২২] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (শেষ যামানায়) নহরের ঐ প্রান্ত (তথা বুখারা ও সমরকন্দ প্রভৃতি স্থান) থেকে এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে, যিনি ’হারিসে হাররাস’ নামে পরিচিত হবেন (হাররাস অর্থ কৃষক বা চাষি)। তার সেনাবহিনীর সম্মুখভাগে ’মানসূর’ নামে এক ব্যক্তি থাকবেন। তিনি মুহাম্মাদ (সা.) -এর পরিবার-পরিজনকে (ইমাম মাহদীকে) এমনভাবে আশ্রয় দান করবেন যেমনভাবে কুরায়শগণ আশ্রয় দিয়েছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে। তখন সমস্ত ঈমানদারের ওপর তাকে (হারিস অথবা মানসূরকে) সাহায্য করা কিংবা তিনি (সা.) বলেছেন, তার ডাকে সাড়া দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَخْرُجُ رَجُلٌ مِنْ وَرَاءِ النَّهْرِ يُقَالُ لَهُ: الْحَارِثُ حَرَّاثٌ عَلَى مُقَدِّمَتِهِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: مَنْصُورٌ يُوَطِّنُ أَوْ يُمَكِّنُ لِآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا مَكَّنَتْ قُرَيْشٌ لِرَسُولِ اللَّهِ وَجَبَ عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ نَصْرُهُ - أَوْ قَالَ: إِجَابَتُهُ - . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (2 / 4290) * فیہ ابو الحسن الکوفی و ھلال بن عمرو : مجھولان ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يخرج رجل من وراء النهر يقال له: الحارث حراث على مقدمته رجل يقال له: منصور يوطن او يمكن لال محمد كما مكنت قريش لرسول الله وجب على كل مومن نصره - او قال: اجابته - . رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (2 / 4290) * فیہ ابو الحسن الکوفی و ھلال بن عمرو : مجھولان ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: যদিও কুরায়শগণ নবী (সা.) -কে প্রথমে মক্কাহ থেকে বের করে দিয়েছিল। কিন্তু তাদের সন্তান-সন্ততিরা পরবর্তীতে ইসালাম গ্রহণ করেছিল এবং নবী (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণকে তাঁর জীবদ্দশায় কিংবা তাঁর মৃত্যুর পর তারা আশ্রয় প্রদান করেছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৫৯-[২৩] আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ। সেই সময় পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না যে পর্যন্ত না পশু মানুষের সাথে কথা বলবে এবং যে পর্যন্ত না কারো চাবুক তার সাথে কথা বলবে এবং তার জুতার ফিতা তার সাথে কথা বলবে। আর তাকে তার উরু (রান) জানিয়ে দেবে যে, তার স্ত্রী তার অনুপস্থিতিতে কি (কুকর্ম) করেছে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُكَلِّمَ السِّبَاعُ الْإِنْسَ وَحَتَّى تُكَلِّمَ الرَّجُلَ عَذَبَةُ سَوْطِهِ وَشِرَاكُ نَعْلِهِ وَيُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (2281 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده لا تقوم الساعة حتى تكلم السباع الانس وحتى تكلم الرجل عذبة سوطه وشراك نعله ويخبره فخذه بما احدث اهله بعده» . رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (2281 وقال : حسن صحیح غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: জংলী হিংস্র প্রাণী যেমন: সিংহ অথবা হিংস্র পাখি যেমন বাজপাখি এদের কেউ মানবজাতির সঙ্গে মিশতে বাধা দিতে পারবে না। মানুষ ঈমানদার কিংবা কাফির যেই হোক না কেন এ প্রাণীগূলো সবার সাথেই কথা বলবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২১৮১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৬০-[২৪] আবু কতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিদর্শনসমূহ দুইশত বছর পর হতে প্রকাশ পেতে থাকবে। (ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)


عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْآيَاتُ بَعْدَ الْمِائَتَيْنِ . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4057) * عون : ضعیف وقال الذھبی :’’ احسبہ موضوعًا و عون ضعفوہ ‘‘ ۔
(ضَعِيف)

عن ابي قتادة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الايات بعد الماىتين . رواه ابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4057) * عون : ضعیف وقال الذھبی :’’ احسبہ موضوعا و عون ضعفوہ ‘‘ ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৬১-[২৫] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বলেছেন: যখন তুমি খোরাসানের দিক থেকে কালো পতাকাবাহী সৈন্য আসতে দেখবে, তখন তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে। কেননা তার মাঝে আল্লাহর খলীফাহ্ মাহদী থাকবেন। (আহমাদ ও বায়হাক্বী’র “দালায়িলুন্ নুবুওয়্যাহ্”)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّايَاتِ السُّودَ قَدْ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ خُرَاسَانَ فَأْتُوهَا فَإِنَّ فِيهَا خَلِيفَةَ اللَّهِ الْمَهْدِيَّ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «دَلَائِل النبوَّة»

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 277 ح 22746) و البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 516) * فیہ علی بن زید بن جدعان ضعیف ، و علۃ أخری وقال ثوبان رضی اللہ عنہ :’’ اذا رایتم الرایات السود خرجت من قبل خراسان فآتوھا فان فیھا خلیفۃ اللہ المھدی ‘‘ رواہ الحاکم (4 / 502 ح 8531) و صححہ علی شرط الشیخین و سندہ حسن لذاتہ و رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 516) ۔
(ضَعِيف)

وعن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا رايتم الرايات السود قد جاءت من قبل خراسان فاتوها فان فيها خليفة الله المهدي» . رواه احمد والبيهقي في «دلاىل النبوة» اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 277 ح 22746) و البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 516) * فیہ علی بن زید بن جدعان ضعیف ، و علۃ أخری وقال ثوبان رضی اللہ عنہ :’’ اذا رایتم الرایات السود خرجت من قبل خراسان فآتوھا فان فیھا خلیفۃ اللہ المھدی ‘‘ رواہ الحاکم (4 / 502 ح 8531) و صححہ علی شرط الشیخین و سندہ حسن لذاتہ و رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 516) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: তাদের কেউ ফেরাতে পারবে না কারণ তাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন ইমাম মাহদী আলায়হিস সালাম, ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে সাওবান ও হতে মারফু সনদে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তোমরা খোরাসান হতে আগত কালো পতাকাবাহীদের দেখবে তখন তোমরা উক্ত পতাকাবাহী দলের অনুসারী হবে। কেননা উক্ত পতাকাবাহীদের মাঝেই থাকবেন ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৫৭ পৃ., হা. ২২৬৯)


হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
বর্ণনাকারীঃ সাওবান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৬২-[২৬] আবু ইসহাক (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’আলী (রাঃ) স্বীয় পুত্র হাসান (রাঃ)-এর প্রতি তাকিয়ে বললেন, নিশ্চয় আমার এই পুত্র একজন নেতা। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে নেতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অদূর ভবিষ্যতে তার ঔরসে এমন এক লোকের আগমন ঘটবে, যার নাম হবে তোমাদের নবীর নামানুসারে। তিনি হবেন তাঁর (নবীর) চরিত্রের সদৃশ, কিন্তু চেহারা ও দৈহিক গঠনে তাঁর সদৃশ হবে না। অতঃপর আলী (রাঃ) উক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করে বলেছেন, তিনি ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা সারা ভূপৃষ্ঠকে পরিপূর্ণ করে দেবেন। [আবূ দাউদ, তবে ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর রিওয়ায়াত সংশ্লিষ্ট বিস্তারিত ঘটনাটি বর্ণনা করেননি]

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَن أبي إِسحاق قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ وَنَظَرَ إِلَى ابْنِهِ الْحَسَنِ قَالَ: إِنَّ ابْنِي هَذَا سَيِّدٌ كَمَا سَمَّاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَيَخْرُجُ مِنْ صُلْبِهِ رَجُلٌ يُسَمَّى بِاسْمِ نَبِيِّكُمْ يُشْبِهُهُ فِي الْخَلْقِ - ثُمَّ ذَكَرَ قِصَّةَ - يَمْلَأُ الْأَرْضَ عَدْلًا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَلَمْ يَذْكُرِ الْقِصَّةَ

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (1 / 4290) * ابوداود لم یدرک ھارون بن المغیرۃ فالسند منقطع و ابو اسحاق مدلس و عنعن ولم یسمعہ من علی رضی اللہ عنہ ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي اسحاق قال: قال علي ونظر الى ابنه الحسن قال: ان ابني هذا سيد كما سماه رسول الله صلى الله عليه وسلم وسيخرج من صلبه رجل يسمى باسم نبيكم يشبهه في الخلق - ثم ذكر قصة - يملا الارض عدلا. رواه ابو داود ولم يذكر القصة اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (1 / 4290) * ابوداود لم یدرک ھارون بن المغیرۃ فالسند منقطع و ابو اسحاق مدلس و عنعن ولم یسمعہ من علی رضی اللہ عنہ ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ইসহাক (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের আলামত

৫৪৬৩-[২৭] জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে বছর ’উমার (রাঃ) ইন্তিকাল করেন, সে বছর তিনি (হিজায এলাকায়) টিড্ডি (পঙ্গপাল) দেখতে পাননি, তিনি এতে বিশেষভাবে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি ইয়ামান, ইরাক এবং সিরিয়ার দিকে আরোহী পাঠিয়ে জানতে চাইলেন, সে সকল এলাকায় কেউ কোন টিড্ডি দেখেছে কিনা? পরে ইয়ামানের দিকে প্রেরিত আরোহী এক মুষ্টি টিড্ডি এনে তাঁর সামনে ছড়িয়ে দিল। তা দেখে ’উমার (রাঃ) ’আল-হু আকবার ধ্বনি উচ্চারণ করলেন।
আর তিনি (’উমার রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ এক হাজার সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে ছয়শত সমুদ্রে এবং চারশত স্থলে। আর এ উভয়বিধ প্রাণীর মাঝে সর্বপ্রথম ধ্বংস হবে টিড্ডিসমূহ। যখন টিড্ডি ধ্বংস হয়ে যাবে তারপর উভয় জায়গার প্রাণীসমূহ একটির পর একটি এমনভাবে ধ্বংস হতে থাকবে যেমন, সুতা ছেড়া দানা একটির পর আরেকটি পড়তে থাকে। (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب أَشْرَاط السَّاعَة)

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: فُقِدَ الْجَرَادُ فِي سَنَةٍ مِنْ سِنِي عُمَرَ الَّتِي تُوُفِّيَ فِيهَا فَاهْتَمَّ بِذَلِكَ هَمًّا شَدِيدًا فَبَعَثَ إِلَى الْيمن رَاكِبًا وراكبا إِلَى الْعرق وَرَاكِبًا إِلَى الشَّامِ يَسْأَلُ عَنِ الْجَرَادِ هَلْ أُرِيَ مِنْهُ شَيْئًا فَأَتَاهُ الرَّاكِبُ الَّذِي مِنْ قبل الْيمن بقبضة فنثرهابين يَدَيْهِ فَلَمَّا رَآهَا عُمَرُ كَبَّرَ وَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ أَلْفَ أُمَّةٍ سِتُّمِائَةٍ مِنْهَا فِي الْبَحْرِ وَأَرْبَعُمِائَةٍ فِي الْبَرِّ فَإِنَّ أَوَّلَ هَلَاكِ هَذِهِ الْأُمَّةِ الْجَرَادُ فَإِذَا هَلَكَ الْجَرَادُ تَتَابَعَتِ الْأُمَمُ كَنِظَامِ السِّلْكِ «. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي» شُعَبِ الْإِيمَانِ

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10132 ۔ 10133 ، نسخۃ محققۃ : 9659 ۔ 9660) * فیہ عیسی بن شبیب وھو محمد بن عیسی الھلالی العبدی : ضعیف جدًا ضعفہ الجمھور و الراوی عنہ شیخ وھو عبید بن واقد القیسی : ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر بن عبد الله قال: فقد الجراد في سنة من سني عمر التي توفي فيها فاهتم بذلك هما شديدا فبعث الى اليمن راكبا وراكبا الى العرق وراكبا الى الشام يسال عن الجراد هل اري منه شيىا فاتاه الراكب الذي من قبل اليمن بقبضة فنثرهابين يديه فلما راها عمر كبر وقال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ان الله عز وجل خلق الف امة ستماىة منها في البحر واربعماىة في البر فان اول هلاك هذه الامة الجراد فاذا هلك الجراد تتابعت الامم كنظام السلك «. رواه البيهقي في» شعب الايمان اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10132 ۔ 10133 ، نسخۃ محققۃ : 9659 ۔ 9660) * فیہ عیسی بن شبیب وھو محمد بن عیسی الھلالی العبدی : ضعیف جدا ضعفہ الجمھور و الراوی عنہ شیخ وھو عبید بن واقد القیسی : ضعیف ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৬৪-[১] হুযায়ফাহ্ ইবনু আসীদ আল গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা পরস্পরে কথাবার্তা বলছিলাম, এমন সময় নবী (সা.) - আমাদের কাছে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি সম্পর্কে আলোচনা করছ? তারা বললেন, আমরা কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছি। সে সময় তিনি (সা.) বললেন, তোমরা দশটি নিদর্শন না দেখা পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না। আর তা হলো- ১. ধোয়া, ২. দাজ্জাল, ৩. চতুষ্পদ জন্তু, ৪. পশ্চিমাকাশ হতে সূর্য উদিত হওয়া, ৫. ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস-এর (আকাশ হতে) অবতরণ, ৬. ইয়াজুজ ও মাজুজ আগমন, ৭,৮,৯, তিনটি ভূমিধস, পূর্বাঞ্চলে, পশ্চিমাঞ্চলে এবং আরব উপদ্বীপে; ১০. সর্বশেষে ইয়ামান হতে এমন এক অগ্নি বের হবে যা মানুষদেরকে তাড়িয়ে একটি সমবেত হওয়ার স্থান (সিরিয়ার) দিকে নিয়ে যাবে। অপর এক বর্ণনায় আছে, ’আদান (এডেন)-এর অভ্যন্তর থেকে আগুন বের হবে, যা মানুষদেরকে সমবেত হওয়ার স্থানের দিকে তাড়িয়ে নেবে এবং অন্য এক রিওয়ায়াতে দশম লক্ষণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এমন এক বাতাস প্রবাহিত হবে যা মানুষদেরকে (কাফিরদেরকে) সাগরে নিক্ষেপ করবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

عَن حذيفةَ بن أسيد الْغِفَارِيّ قَالَ: اطَّلَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ. فَقَالَ: «مَا تَذْكُرُونَ؟» . قَالُوا: نَذْكُرُ السَّاعَةَ. قَالَ: إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْا قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلَاثَةَ خُسُوفٍ: خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ . وَفِي رِوَايَةٍ: «نَارٌ تَخْرُجُ مِنْ قَعْرِ عَدَنَ تَسُوقُ النَّاسَ إِلَى الْمَحْشَرِ» . وَفِي رِوَايَةٍ فِي الْعَاشِرَةِ «وَرِيحٌ تُلْقِي النَّاسَ فِي الْبَحْر» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (39 / 2901 ، 40 / 2901)، (7285 و 7286) ۔
(صَحِيح)

عن حذيفة بن اسيد الغفاري قال: اطلع النبي صلى الله عليه وسلم علينا ونحن نتذاكر. فقال: «ما تذكرون؟» . قالوا: نذكر الساعة. قال: انها لن تقوم حتى تروا قبلها عشر ايات فذكر الدخان والدجال والدابة وطلوع الشمس من مغربها ونزول عيسى بن مريم وياجوج وماجوج وثلاثة خسوف: خسف بالمشرق وخسف بالمغرب وخسف بجزيرة العرب واخر ذلك نار تخرج من اليمن تطرد الناس الى محشرهم . وفي رواية: «نار تخرج من قعر عدن تسوق الناس الى المحشر» . وفي رواية في العاشرة «وريح تلقي الناس في البحر» . رواه مسلم رواہ مسلم (39 / 2901 ، 40 / 2901)، (7285 و 7286) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْا قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ) “তা ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ তোমরা দশটি নিদর্শন না দেখবে।”
(فَذَكَرَ الدُّخَانَ) অতঃপর তিনি (সা.) ধোঁয়ার কথা বললেন। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, পবিত্র কুরআনে সূরা দুখানে এর বর্ণনা হয়েছে- “যখন আকাশ ধোয়ার ছেয়ে যাবে”- (সূরাহ আদ দুখা-ন ৪:১০)। আর এটা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যুগে প্রকাশ পেয়েছিল।
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন- ধোঁয়া বলতে সেই অবস্থাকে বুঝানো হয়েছে যা দ্বারা কুরায়শরা আক্রান্ত হয়েছিল। কুরায়শরা দুর্ভিক্ষের কারণে তাদের মাঝে ও আকাশের মাঝে বাতাসকে ধোঁয়ার মতো দেখতে পেয়েছিল। ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর মতকে অনেকেই সমর্থন করেছেন। কিন্তু হুযায়ফাহ (রাঃ), বলেন- এটা হবে বাস্তব ধোঁয়া। কেননা নবী (সাঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এটা পূর্ব থেকে পশ্চিম দিগন্ত ছেয়ে যাবে এবং ৪০ দিন অবস্থান করবে। মু'মিনগণ এর দ্বারা সর্দিতে আক্রান্ত হবে আর কাফিরগণ মাতাল হয়ে যাবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই ধোয়া এখনো প্রকাশ পায়নি, কিয়ামতের পূর্বের প্রকাশ পাবে। অথবা উভয় সাহাবীর মতের সমন্বয়ে বলা যেতে পারে। এখানে দু' ধরনের ধোয়ার সম্ভাবনাই রয়েছে। (শারহুন নাবাবী ১৮/২৯০১)

(دَّابَّةَ) (দাব্বাহ্) বা জন্তু বলতে যা বুঝায় তা হলো পবিত্র কুরআনের ভাষায় (اَخۡرَجۡنَا لَهُمۡ دَآبَّۃً مِّنَ الۡاَرۡضِ تُکَلِّمُهُمۡ) “যখন প্রতিশ্রুত (কিয়ামত) সমাগত হবে, তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি জীব নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে।” (সূরা আন্ নামল ২৭: ৮২)
মুফাসসিরগণ বলেন, এটা হবে বিরাট এক জীব যা সাফা পাহাড়ের ফাটল থেকে বের হবে। ইবনুল মালিক বলেন, দাব্বা বা বড় জন্তুটি তিনবার প্রকাশ পাবে- ইমাম মাহদীর সময়ে, এরপর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সময়ে, অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে উদয়ের পর।

(وَنُزُولَ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَاسَّلَمُ) এবং ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ। এখানে ইমাম মাহদীর কথা বলা হয়নি। মূলত ঈসা আলাইহিস সালাম ইমাম মাহদীর একই সময় অবতীর্ণ হবেন। ইমাম ত্ববারানী আওস ইবনু আওস থেকে মারফু সূত্রে উল্লেখ করেন, ‘ঈসা আলাইহিস সালাম দামিশকের একটি সাদা মিনারায় অবতরণ করবেন। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু মারইয়াম সিরিয়ার ‘লুদ' নামক স্থানে প্রবেশ করে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। এরপর ইয়াজুজ ও মাজুজ বের হবে। হাদীসে ধারাবাহিকভাবে নিদর্শনগুলো উল্লেখ না করে সাধারণভাবে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত প্রথম নিদর্শন হবে ধোয়া, এরপর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ, এরপর ইয়াজুজ মাজুজ, অতঃপর দাব্বাহ্ বা ভূমি থেকে একটি বিরাট জন্তুর আত্মপ্রকাশ, সর্বশেষে সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হওয়া। কেননা ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর সময়ে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করবে। যদি দাজ্জাল ও ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর পূর্বে সূর্য পশ্চিমাকাশে উদিত হয় তাহলে তো ঈমান কবুলই হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

(وَثَلَاثَةَ خُسُوفٍ) এবং তিনটি ভূমিধস হবে। একটি প্রাচ্যে, একটি প্রাশ্চাত্যে এবং একটি আরব উপদ্বীপে।
(وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ) এবং সর্বশেষ নিদর্শন হবে ইয়ামান দেশ থেকে আগুন বের হবে। আর মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। বুখারীর বর্ণনায় এসেছে, হিজায থেকে দুটি আগুন বের হবে। দুদিক থেকে মানুষকে এক জায়গায় একত্রিত করবে। অথবা আগুনের সূচনা হবে ইয়ামানে
এবং শেষ হবে হিজাযে গিয়ে। অপর এক বর্ণনায়, দশম নিদর্শন আগুনের পরিবর্তে বাতাস বলা হয়েছে। অর্থাৎ- অগ্নি মিশ্রিত প্রচণ্ড বাতাস কাফিরদেরকে সাগরে নিয়ে ফেলবে। আর তা হবে কাফির ও পাপীদের একত্রিত হওয়ার স্থান। আর তখন সাগর আগুনে পরিণত হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, (وَ اِذَا الۡبِحَارُ سُجِّرَتۡ) “যখন সমুদ্রগুলোকে প্রজ্বলিত করে উত্তাল করা হবে।” (সূরা আত্ তাকভীর ৮১: ৬)।
এর বিপরীত হবে মু'মিনদের আগুন। মূলত আগুন মু'মিনদের ভীতির কারণ হবে এবং চাবুকের ন্যায় তাদেরকে তাড়িয়ে হাশরের দিকে তাড়িয়ে নিবে। আল্লাহই এ ব্যাপারে অধিক জানেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৬৫-[২] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ছয়টি লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার পূর্বে ভালো ’আমল অর্জনে তৎপর হও। ১. ধোঁয়া, ২. দাজ্জাল, ৩. দাব্বাতুল আরয (মৃত্তিকাগর্ভ হতে বহির্ভূত জন্তু), ৪, পশ্চিমাকাশ হতে সূর্য উদিত হওয়া, ৫. সর্বগ্রাসী ফিতনাহ্ ও ৬. তোমাদের ব্যক্তিবিশেষের ওপর আরোপিত ফিতনাহ্। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ سِتًّا. الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَدَابَّةَ الْأَرْضِ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَأَمْرَ الْعَامَّةِ وَخُوَيْصَّةَ أَحَدِكُمْ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (129 / 2947)، (7397) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بادروا بالاعمال ستا. الدخان والدجال ودابة الارض وطلوع الشمس من مغربها وامر العامة وخويصة احدكم» . رواه مسلم رواہ مسلم (129 / 2947)، (7397) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ سِتًّا) অর্থাৎ কিয়ামতের ছয়টি আলামত প্রকাশ হওয়ার পূর্বে দ্রুত নেক ‘আমলগুলো সম্পাদন কর। কেননা এগুলো প্রকাশ পেলে তোমরা ব্যস্ত হয়ে পড়বে, ফলে আমল করা কঠিন হয়ে যাবে। অথবা এরপর ‘আমল করলেও কোন মূল্যায়ন হবে না ও তা কবুল হবে না।

(وَأَمْرَ الْعَامَّةِ) তথা তোমাদের নিকট নেতৃত্বের ফিতনাহ্ আসার পূর্বেই যা তোমাদেরকে নেক ‘আমল করা থেকে ব্যস্ত রাখবে।
(وَخُوَيْصَّةَ أَحَدِكُمْ) তোমাদের কারো নিকট মৃত্যুর মতো ঘটনা এসে পড়বে পূর্বেই যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট। অথবা মানুষের, যা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট। অথবা মানুষের জানমাল এবং এতদসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মানুষকে নেক আমল করা থেকে ব্যস্ত রাখে। শব্দটি তাসগীর বা ছোট করে উপস্থাপন করার কারণ হলো এটি এর পরবর্তী পুনঃরুত্থান, হাশর, হিসাব ইত্যাদির তুলনায় ছোট।

‘আল্লামাহ্ ক্বাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদেরকে এই নিদর্শনগুলো প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই নেক ‘আমল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, কেননা যখন এগুলো প্রকাশ পাবে তখন তাদেরকে অস্থির করে তুলবে। এবং কর্ম-বিমুখ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ ৩/৪০৫৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৬৬-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের নিদর্শনসমূহরে মাঝে প্রথম প্রকাশ পাবে এ দু’টি, একটি পশ্চিমাকাল হতে সূর্য উদিত হওয়া এবং অপরটি চাশতের সময় মানুষের সামনে ’দাব্বাতুল আরয’ বের হওয়া। এ দুটির মধ্যে যেটা প্রথমে প্রকাশ পাবে, অপরটি তার পরপরই খুবই নিকটবর্তী সময়ে আবির্ভূত হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٌو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ أَوَّلَ الْآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَخُرُوجُ الدَّابَّةِ عَلَى النَّاسِ ضُحًى وَأَيُّهُمَا مَا كَانَتْ قَبْلَ صَاحِبَتِهَا فَالْأُخْرَى على أَثَرهَا قَرِيبا» رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (118 / 2941)، (7383) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان اول الايات خروجا طلوع الشمس من مغربها وخروج الدابة على الناس ضحى وايهما ما كانت قبل صاحبتها فالاخرى على اثرها قريبا» رواه مسلم رواہ مسلم (118 / 2941)، (7383) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (إِنَّ أَوَّلَ الْآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا) “কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন হলো: সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া। আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) এ হাদীসের মর্মার্থ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যদি বলা হয় সূর্য-পশ্চিম দিগন্তে উদিত হওয়া প্রথম নিদর্শন নয় বরং এর পূর্বে ধোয়া ও দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। তাহলে এর উত্তর হলো, হয়তো এটি কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার একটি নিদর্শন। অথবা এ নিদর্শন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অস্তিত্বকে সাব্যস্তকারী একটি নিদর্শন। প্রথম পর্যায়ে প্রকাশ পাবে ধোঁয়া এবং দাজ্জালের আবির্ভাব আর দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকাশ পাবে সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত হওয়া। ভূমিকম্প আগুন বের হয়ে মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া। এ হাদীসে প্রথম নিদর্শন হিসেবে সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদয়ের কথা বলা হয়েছে তা মূলত দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম হিসেবে। কেননা বায়হাক্বীর বর্ণনার এসেছে, প্রথমে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, এরপর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ হবে, এরপর ইয়াজুজ মাজুজ ও দাব্বাতুল আরয। এর পরবর্তীতে সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত হবে। যদি এটাই প্রথম নিদর্শন হয় তাহলে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণের পর কাফিরদের ঈমান আনাতে কোন কাজ হবে না। কেননা সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত হলে তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে আর আমলও কবুল হবে না, যারা ইতোপূর্বে ঈমান আনেনি।

(وَخُرُوجُ الدَّابَّةِ) এবং ভূগর্ভ থেকে বিরাট একটি জন্তু মানুষের নিকট পূর্বাহ্নে বের হওয়া।
ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে (واو) অব্যয়টি সাধারণভাবে একত্রিত করার জন্য এসেছে। ধারাবাহিকতা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়নি। (واو) বর্ণটি (او) অথবা বুঝাবে। হাদীসে বর্ণিত (أَيُّهُمَا) দুটির যে কোন একটি প্রকাশ পেলে অপরটি তার পরেই প্রকাশ পাবে। কথার দ্বারা তাই প্রমাণিত হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৬৭-[৪] আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তিনটি নিদর্শন যখন প্রকাশ পাবে তখন আর কারো ঈমান ও আমল তার কোন কাজে আসবে না, যদি তার পূর্বে ঈমান এনে না থাকে অথবা ঈমানের সাথে আমল সঞ্চয় না করে থাকে। আর তা হলো পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্য উদিত হওয়া, দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ’দাব্বাতুল আরয বের হওয়া। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ثَلَاثٌ إِذَا خَرَجْنَ (لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا) طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الْأَرْضِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (249 / 158)، (398) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ثلاث اذا خرجن (لا ينفع نفسا ايمانها لم تكن امنت من قبل او كسبت في ايمانها خيرا) طلوع الشمس من مغربها والدجال ودابة الارض» . رواه مسلم رواہ مسلم (249 / 158)، (398) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: ثَلَاثٌ إِذَا خَرَجْنَ (لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ) তিনটি নিদর্শন প্রকাশ পেলে যারা ইতোপূর্বে ঈমান আনেনি অথবা ঈমান অনুযায়ী আমল করেনি, তাদের ‘আমল কোনই কাজে আসবে না। নিদর্শন তিনটি হলো: সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত হওয়া দাজ্জাল এবং দাব্বাতুল আরয বা ভূগর্ভ থেকে বেরিয়া আসা বিরাট প্রাণী।
এ হাদীসে সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত হওয়ার কথা আগে বলা হয়েছে যদিও তা অন্যান্য নিদর্শনের পরে আসার কথা। কেননা তাওবাহ্ কবুল না হওয়ার ব্যাপারটি এর সাথে সংশ্লিষ্ট। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

(لَا يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا) এর ব্যাখ্যায় ‘আওনুল মা'বুদ গ্রন্থে বলা হয়েছে, মু'তাযিলাগণ এই আয়াত দ্বারা দলীল গ্রহণ করে থাকেন যে, ঈমানের সাথে আমলের কোন সম্পর্ক নেই। এমনকি আমল করলেও তার দ্বারা উপকৃত হবে না। এর জবাব হচ্ছে, ব্যক্তি তার ‘আমল দ্বারা অবশ্যই উপকৃত হবে। কিন্তু যদি কোন কাফির কিয়ামতের উক্ত লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর ঈমান আনে অথবা কোন ফাসিক বা পাপী ব্যক্তি অন্যায় কাজ থেকে তাওবাহ করে, নেক আমল করতে থাকে তাহলে এই ‘আমল কোনই কাজে আসবে না।
‘আল্লামাহ্ শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'ফাতহুল ক্বদীর’ গ্রন্থে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সত্য উন্মোচনের জন্য তা পাঠকের পড়া উচিত। ('আওনুল মা'বুদ ৭/৪৩৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৬৮-[৫] আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কি জানো, তা কোথায় যাচ্ছে? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই সর্বাধিক অবগত। তিনি (সা.) বললেন, তা আল্লাহর আরশের নিচে গিয়ে সাজদায় রত হয় এবং (পূর্বাকাশে উদিত হওয়ার) অনুমতি প্রার্থনা করবে অথচ তাকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাকে বলা হবে, তুমি যেদিক থেকে এসেছ সেদিকেই ফিরে যাও। অতঃপর তা পশ্চিমাকাশ হতে উদিত হবে। এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে আল্লাহ তা’আলার এ বাণী দ্বারা-(وَ الشَّمۡسُ تَجۡرِیۡ لِمُسۡتَقَرٍّ لَّهَا)“সূর্য তার গন্তব্যস্থলের দিকে চলে যায়”- (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬: ৩৮)। ’ তিনি বলেন, গন্তব্যস্থল হলো ’আরশের নীচ। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ غربت الشَّمْس: «أَيْن تذْهب؟» . قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَسْتَأْذِنُ فَيُؤْذَنُ لَهَا وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا وَتَسْتَأْذِنُ فَلَا يُؤْذَنُ لَهَا وَيُقَالُ لَهَا: ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى (والشمسُ تجْرِي لمستقرّ لَهَا) قَالَ: «مستقرها تَحت الْعَرْش» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3199) و مسلم (251 ، 250 / 159)، (401 و 402 و 399) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن ابي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين غربت الشمس: «اين تذهب؟» . قلت: الله ورسوله اعلم. قال: فانها تذهب حتى تسجد تحت العرش فتستاذن فيوذن لها ويوشك ان تسجد ولا يقبل منها وتستاذن فلا يوذن لها ويقال لها: ارجعي من حيث جىت فتطلع من مغربها فذلك قوله تعالى (والشمس تجري لمستقر لها) قال: «مستقرها تحت العرش» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3199) و مسلم (251 ، 250 / 159)، (401 و 402 و 399) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ) সূর্যাস্তের সময় ‘আরশের নীচে যায় এবং পুনরায় উদিত হওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে। ইবনু বাত্তল বলেন, সূর্যের অনুমতি প্রার্থনার অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলা তাতে জীবন দান করেন এবং সে কথা বলে। আর আল্লাহ তা'আলা জড় ও মৃত প্রাণীকে কথা বলাতে সক্ষম। আবার কেউ কেউ বলেন, সূর্যের দিকে অনুমতি প্রার্থনা করার বিষয়টি রূপক অর্থে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সূর্য নয় বরং তার জন্য ধার্যকৃত মালাক (ফেরেশতা) অনুমতি প্রার্থনা করে। আল্লামাহ্ কুসতুলানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সূর্য তার অভ্যাস অনুযায়ী পূর্বদিক থেকে উদিত হওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করে। ফলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী পূর্বদিক থেকে প্রকাশ পায়। আল্লামা হাফিয বলেন, হাদীসে ‘আরশের নিচে কথার অর্থ হলো, যখন তা আরশের ঠিক নিচে চলে আসে। আর এটা আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর বিরোধী নয়।
(وَجَدَهَا تَغۡرُبُ فِیۡ عَیۡنٍ حَمِئَۃٍ) “তখন তিনি সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন।”(সূরা আল কাহফ ১৮: ৮৬) এর মর্ম হচ্ছে সূর্যাস্তের সময় দৃষ্টির শেষ সীমা অতিক্রম করা। আর ‘আর আরশের নীচে সাজদাহ্ তখনই হয় যখন তা অস্ত যায়।

[فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى (والشمسُ تجْرِي لمستقرّ لَهَا)] অচিরেই এমন একদিন আসবে যখন সূর্য সাজদা করবে কিন্তু তা গৃহীত হবে না এবং পুনরায় উদিত হওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। আর তাকে বলা হবে, তুমি যেখান থেকে এসেছিলে সেখানে ফিরে যাও। অতঃপর পশ্চিমদিক থেকে উদিত হবে। আর এ অর্থেই আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ الشَّمۡسُ تَجۡرِیۡ لِمُسۡتَقَرٍّ لَّهَا)“সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে।” (সূরাহ্ ইয়াসীন ৩৬: ৩৮)
হাফিয বলেন, এ হাদীসটি তাদের মতামতকে খণ্ডন করে যারা ধারণা করে যে, (مُسْتَقَرُّهَا) এর মর্ম হলো সূর্যের উচ্চতা যেখানে গিয়ে শেষ হয়। আর যার কারণে বছরের দিনটি সবচেয়ে বড় হয়। অথবা দুনিয়া ধ্বংসের নির্দেশ আসার আগ পর্যন্ত। হাফিয বলেন, হাদীসের বাহ্যিক উদ্দেশ্য হলো, প্রতিদিনে ও রাতে সাজদার সময় স্থির থাকা। আর যাকে (جرعى) বা চলমান বলে।
‘আল্লামাহ্ খত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সম্ভবত এর অর্থ হচ্ছে, তা ‘আরশের নীচে এমনভাবে স্থির থাকে যা আমাদের জ্ঞান পরিবেষ্টন করতে পারে না। তিনি কতিপয় মুফাসসির থেকে আরো বর্ণনা করে বলেন, এর অর্থ হচ্ছে সূর্য তার জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আবর্তমান অর্থাৎ পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আগ পর্যন্ত।
আবার কেউ কেউ বলেন, আবর্তন অর্থ হচ্ছে সূর্য যত দূর পর্যন্ত উপরে উঠে গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় দিনে। এরপর নীচে নামতে থাকে শীতের সর্বনিম্ন ছোট দিন আসা পর্যন্ত। যা বছরের সবচেয়ে ছোট দিন হিসেবে গণ্য হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২১৮৬)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৬৯-[৬] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি থেকে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত দাজ্জালের ফিতনাহ্ অপেক্ষা কোন ফিতনাহ বৃহত্তর নয়। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَمْرٌ أكبر من الدَّجَّال» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (127 ، 126 / 2946)، (7395 و 7396) ۔
(صَحِيح)

وعن عمران بن حصين قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما بين خلق ادم الى قيام الساعة امر اكبر من الدجال» . رواه مسلم رواہ مسلم (127 ، 126 / 2946)، (7395 و 7396) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَمْرٌ أكبر من الدَّجَّال) আদম (আঃ) সৃষ্টির পর থেকে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে বড় আর কোন ফিতনাহ্ এবং বড় কষ্টদায়ক কোন কিছু নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭০-[৭] ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলার পরিচিতি তোমাদের নিকট নিশ্চয় গোপন নয়। নিশ্চয় আল্লাহ কানা নন, কিন্তু দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে। তার এই চোখটি হবে ফোলা আঙ্গুরের মতো। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَن عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَخْفَى عَلَيْكُمْ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّ عَيْنَهُ عنبة طافية» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7407) و مسلم (100 / 169)، (7361) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله لا يخفى عليكم ان الله تعالى ليس باعور وان المسيح الدجال اعور عين اليمنى كان عينه عنبة طافية» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7407) و مسلم (100 / 169)، (7361) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى) দাজ্জালের ডান চক্ষু ত্রুটিযুক্ত, যেন তা একটি আঙ্গুরের দানার মতো উপরের দিকে উঠানো রয়েছে। অথবা চোখের জ্যোতি হারিয়ে গেছে। এ হাদীসে (أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى) বলা হয়েছে। আবার অন্য বর্ণনায় (أَعْوَرَ الْعَيْنِ الْيُسْرَى) বলা হয়েছে। ইমাম মুসলিম উভয় বর্ণনাকে তার সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মূলকথা হলো দাজ্জালের উভয় চক্ষু ত্রুটিযুক্ত। একচোখের জ্যোতি নেই আর অন্য চোখের ত্রুটি রয়েছে। এটা কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ)-এর সর্বশেষ কথা। (শারহুন নাবাবী ২/২৭৩)

ইবনু মাজাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, দাজ্জালের বাম চক্ষু ত্রুটিযুক্ত, তার মাথার চুল কোকড়ানো। তার কাছে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তার জাহান্নাম মূলত জান্নাত আর জান্নাতটি জাহান্নাম। ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ফতহুল বারী গ্রন্থে এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন: এই ভিন্নতা দর্শক ও প্রদর্শনকারীর ভিন্নতার আলোকে হবে। হয়তো দাজ্জাল একজন জাদুকর হিসেবে কোন কিছুকে বিপরীত আকৃতিতে পেশ করে দেখাবে। নতুবা আল্লাহ তা'আলা দাজ্জালের নিয়ন্ত্রিত জান্নাতের ভিতরে জাহান্নাম এবং জাহান্নামের ভিতরে জান্নাত লুকিয়ে রাখবেন। এটিই অগ্রাধিকার যোগ্য। অথবা জান্নাত দ্বারা নি'আমাত ও রহমতকে রূপকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে আর জাহান্নাম দ্বারা কষ্ট ও পরীক্ষাকে বুঝানো হয়েছে। যে তার আনুগত্য করবে সে তাকে জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করবে। প্রকৃতপক্ষে পরকালে এটা তাকে জাহান্নামে ধাবিত করবে। এমনিভাবে এর বিপরীতটা হবে বিপরীত। অথবা এটাও সম্ভাবনা রয়েছে যে, দাজ্জালের ফিতনায় পড়ে দর্শক অস্থির হয়ে আগুনকে জান্নাত মনে করবে অথবা এর বিপরীত। (ইবনু মাজাহ ৩/৪০৭১)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭১-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন কোন নবী গত হননি যিনি তাঁর উম্মাতকে কানা মিথ্যাবাদী (দাজ্জাল) সম্পর্কে সতর্ক করেননি। তোমরা জেনে রাখ! সে (দাজ্জাল) নিশ্চয় কানা হবে। আর তোমরা এটাও নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, তোমাদের প্রভু (আল্লাহ) কানা নন। তার (দাজ্জালের) চক্ষুদ্বয়ের মধ্যস্থলে লিখে থাকবে (ك ف ر) (অর্থাৎ কাফির)। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الْأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلَا إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ: ك ف ر . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7131) و مسلم (101 / 2933)، (7363) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما من نبي الا انذر امته الاعور الكذاب الا انه اعور وان ربكم ليس باعور مكتوب بين عينيه: ك ف ر . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7131) و مسلم (101 / 2933)، (7363) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الْأَعْوَرَ الْكَذَّابَ) প্রত্যেক নবীই তার উম্মাতকে মিথ্যাবাদী জ্যোতিহীন চোখ বিশিষ্ট (দাজ্জাল) সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারী গ্রন্থে উল্লেখ করেন (لَمْ يَكُنْ نَبِيٌ بِعْد نُوح إلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ قَوْمه الدَّجَّال) “নূহ আলায়হিস সালাম-এর পর এমন কোন নবী আসেননি যারা তার জাতিকে দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেননি। অর্থাৎ সবাই দাজ্জাল সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করেছেন।” মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে, (لَقَدْ أَنْجَرَهُ نُوح أُمَّته وَالنَّبِيُّونَ مِنْ بَعْده) নূহ আলায়হিস সালাম তার জাতিকে (দাজ্জাল) থেকে সতর্ক করেছেন এবং তার পরবর্তী সকল নবীই।
অতএব এখানে প্রশ্ন হতে পারে, নূহ আলাইহিস সালাম কিভাবে তার জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করেছেন অথচ একাধিক হাদীস থেকে জানা যায় যে, সে কতিপয় নিদর্শনের পরে আবির্ভূত হবে এবং ঈসা আলায়হিস চতুর্থ আসমান থেকে অবতরণ করে তাকে হত্যা করবে এবং শারী'আতে মুহাম্মাদীয়া অনুযায়ী দেশ শাসন করবেন। এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে: নূহ আলাইহিস সালাম এবং তার পরবর্তী নবীগণের নিকট দাজ্জালের আবির্ভাবের সময় জানা ছিল না তথাপি তারা তাদের জাতিকে তার ফিতনাহ থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক করেছেন, এর প্রমাণ হচ্ছে রসূল -এর বাণী যা একাধিক সনদে বর্ণিত হয়েছে: (إِنْ يَخْرُج وَأأنَافِيكُمْ فَأَنَا حَخِيجه) “যদি আমি তোমাদের নিকট বর্তমান থাকা অবস্থায় সে প্রকাশ পায় তাহলে আমি তাকে পরাজিত করব।" এ হাদীস থেকে জানা যায় তার এ কথাটি ছিল তখনকার জন্য প্রযোজ্য যখন দাজ্জালের আগমনের সময় এবং তার নিদর্শন তার নিকট অস্পষ্ট ছিল। ফলে সম্ভাবনা ছিল যে, সে তার জীবদ্দশাতেই আসতে পারে। পরবর্তীতে তিনি তার আগমনের সময় সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছেন তাই তিনি এ ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন। এভাবে সমস্ত হাদীসের মাঝে সমন্বয় হয়ে গেল। ('আওনুল মা'বুদ ৭/৪৩০৮)।

(أَلَا إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ) “সাবধান, নিশ্চয় সে ত্রুটিপূর্ণ চক্ষুবিশিষ্ট আর তোমাদের প্রতিপালক ত্রুটিপূর্ণ চক্ষুবিশিষ্ট নন।”
দাজ্জালের মধ্যে অনেকগুলো নিদর্শন থাকা সত্ত্বেও শুধু এটিকে উল্লেখ করেই ক্ষ্যান্ত হয়েছে এর কারণ হলো এ বৈশিষ্ট্যটি জ্ঞানী এবং সাধারণ মানুষ সকলেই অনুভব করতে পারে। এমনকি যারা যুক্তি প্রমাণ বুঝে তারাও। যদি সে সৃষ্টিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ইলাহ দাবী করে তাহলে বুঝতে হবে নিশ্চয় সে মিথ্যাবাদী। ('আওনুল মা'বূদ ৭/৪৩০৮)
মিরকাতুল মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন, (وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ) তথা তোমাদের রব সত্তাগত ও গুণগত দিক থেকে ত্রুটিমুক্ত। নবী (সা.) এই কথাকে সাধারণ মানুষের বিবেক অনুযায়ী বোধগম্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যেহেতু তিনি বলেছেন-(كَلِّمِ النَّاسَ  عَلَى قَدْرِ عُقُولِهِمْ) অর্থাৎ তুমি মানুষের সাথে কথা বল তার বিবেক অনুপাতে। পবিত্র কুরআনে ও এ নীতি অবলম্বন করা হয়েছে,
(اِنَّ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ عِبَادٌ اَمۡثَالُکُمۡ فَادۡعُوۡهُمۡ فَلۡیَسۡتَجِیۡبُوۡا لَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۱۹۴﴾ اَلَهُمۡ اَرۡجُلٌ یَّمۡشُوۡنَ بِهَاۤ ۫ اَمۡ لَهُمۡ اَیۡدٍ یَّبۡطِشُوۡنَ بِهَاۤ ۫ اَمۡ لَهُمۡ اَعۡیُنٌ یُّبۡصِرُوۡنَ بِهَاۤ ۫ اَمۡ لَهُمۡ اٰذَانٌ یَّسۡمَعُوۡنَ بِهَا ؕ قُلِ ادۡعُوۡا شُرَکَآءَکُمۡ ثُمَّ کِیۡدُوۡنِ فَلَا تُنۡظِرُوۡنِ ﴿۱۹۵﴾) “আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাক তারা তোমাদের মতোই বান্দা। (ঠিক আছে) তাদেরকে ডাকতে থাক, তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক।
তাদের কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলাফেরা করে? তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে তারা ধরে? তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? তাদের কি কান আছে যা দিয়ে তারা শোনে? বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করছ তাদেরকে আহ্বান কর, আর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।" (সূরা আল আ'রাফ ৭: ১৯৪-১৯৫)
এ এই আয়াতদ্বয় দ্বারা আল্লাহ বুঝতে চেয়েছেন কাফিরদের মূর্তিগুলো খুবই অসহায়; তাদের হাত, পা, চোখ, কান কিছুই নেই। অতএব কি করে এগুলো মা'বুদ হওয়ার যোগ্যতা রাখে? এর অর্থ এই নয় যে, যদি তাদের এই অঙ্গগুলো থাকত, তাহলে তারা মা'বুদ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করত। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৪৫৭১)

(مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ: ك ف ر) তার দুই চোখের মাঝে তথা কপালে লেখা থাকবে কাফির। এ থেকে বুঝা যায় যে, সে মানুষকে কুফরীর দিকে ডাকবে, হিদায়াতের দিকে নয়। অতএব পরিহার করা উচিত। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য একটি বিরাট নি'আমাত যে, তিনি তার দু’ চোখের মাঝে কাফির কথাটি লিখে দিয়েছেন।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দাজ্জাল একজন মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটা স্পষ্ট দলীল, যা দেখে প্রত্যেকে চিনে নিতে পারবে। শুধু দেহের বর্ণনা দিয়েই শেষ করা হয়নি, কেননা অনেক বিবেক তা দেখেও বুঝতে পারবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৪৫৭১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭২-[৯] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে একটি কথা বলব না? সে কথাটি অতীতের কোন নবীই তার সম্প্রদায়কে বলেননি। আর তা হলো, নিশ্চয় সে (দাজ্জাল) হবে কানা। সে জান্নাত ও জাহান্নামের সাদৃশ্য সাথে নিয়ে আসবে। তখন সে যা বলবে জান্নাত, প্রকৃতপক্ষে তা হবে জাহান্নাম। তার সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে সাবধান করছি যেমন নূহ আলাইহিস তাঁর সম্প্রদায়কে তার সম্পর্কে সাবধান করেছিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِلَّا أحدثكُم حَدِيثا عَن الدَّجَّال ماحدث بِهِ نبيٌّ قومَه؟ : إِنَّه أعوَرُ وإِنَّه يَجِيءُ مَعَهُ بِمِثْلِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَالَّتِي يَقُولُ: إِنَّهَا الْجَنَّةُ هِيَ النَّارُ وَإِنِّي أُنْذِرُكُمْ كَمَا أنذر بِهِ نوح قومه . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3338) و مسلم (109 / 2936)، (7372) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الا احدثكم حديثا عن الدجال ماحدث به نبي قومه؟ : انه اعور وانه يجيء معه بمثل الجنة والنار فالتي يقول: انها الجنة هي النار واني انذركم كما انذر به نوح قومه . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3338) و مسلم (109 / 2936)، (7372) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (إِنَّه أعوَرُ وإِنَّه يَجِيءُ مَعَهُ بِمِثْلِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ) সে তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম সদৃশ জিনিস নিয়ে মানুষের নিকট আগমন করবে। যা আল্লাহ তা'আলা মু'মিন ব্যক্তির জন্য আসল অবস্থায় রূপান্তর করে দেখাবেন। সে যেটাকে জান্নাত বলবে বস্তুত সেটাই হবে জাহান্নামের আগুন। আর যেটাকে আগুন বলবে সেটা হবে জান্নাত”। হাদীসের ভাষ্যকার বলেন, যে তার জান্নাতে প্রবেশ করবে সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে। কেননা সে তাকে বিশ্বাস করেছে। অনুরূপভাবে যে তার আনুগত্য করবে না সে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবে, মূলত সেই জান্নাতের অধিকারী হবে, কেননা সে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এই সমস্ত হাদীস দাজ্জাল অস্তিত্বের সত্যতার জন্য হকপন্থী মতবাদীদের দলীল। সে এমন এক ব্যক্তি, যার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করবেন। আর আল্লাহ তাআলা তাকে আল্লাহর জন্য নির্ধারিত ক্ষমতাবলীর অধিকারী করবেন। যেমন- মৃত্যুকে জীবিত করা, দুনিয়ার প্রাচুর্যতার ধনভাণ্ডার তার হাতে ন্যাস্ত থাকবে, আকাশকে হুকুম করা মাত্রই বৃষ্টি বর্ষিত হবে এবং তরু তাজাও শস্যে ভরে উঠবে। আর আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে তাকে হত্যা করতে অপারগ করবেন। শুধুমাত্র ‘ঈসা আলায়হিস সালাম তাকে হত্যা করবেন এবং সঠিক দীন প্রতিষ্ঠা করবেন। তার গঠন অনেক বড় যা জ্ঞানীদের বিবেককে হয়রান করে তুলে। সে এত দ্রুত পুরা দুনিয়া প্রদক্ষিণ করবে যে, তার কৃতকর্মে দুর্বল ঈমানের অধিকারীগণ চিন্তা-ভাবনার সুযোগ না পেয়ে তাকে বিশ্বাস করে ফেলবে। এজন্য সকল নবীই তাদের কওমকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন। আর সঠিক বুঝের অধিকারীগণ তার ধোকায় পতিত হবে না ও তাকে বিশ্বাস করবে না।

(وَإِنِّي أُنْذِرُكُمْ كَمَا أنذر بِهِ نوح قومه) আর আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি যেমনভাবে নূহ আলায়হিস সালাম তার সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিলেন। যদি প্রশ্ন করা হয় নবী (সা.) উক্ত হাদীসে নূহ আলায়হিস সালাম-কে নির্দিষ্ট করে কেন উল্লেখ করলেন? তাহলে এর উত্তর হলো, যেহেতু নূহ আলায়হিস সালাম প্রসিদ্ধ নবীদের মধ্যে একজন অগ্রগামী নবী যার কথা আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে এভাবে উল্লেখ করেছেন (شَرَعَ لَکُمۡ مِّنَ الدِّیۡنِ مَا وَصّٰی بِهٖ نُوۡحًا) “তিনি তোমাদের জন্য দীনের ক্ষেত্রে সে পথই নির্ধারিত করেছেন যার আদেশ দিয়েছিলেন নুহ আলাইহিস সালাম-কে”- (সূরা আশ শূরা- ৪২: ১৩)।
উক্ত আয়াতে নূহ আলায়হিস সালাম-কে প্রথমে উল্লেখ করার কারণ হলো, তিনি সকল বিজ্ঞ রসূলগণের মধ্যে আগমনের দিক থেকে প্রথম ছিলেন। অন্যথায় মর্যাদার দিক থেকে নবী (সা.) হলেন সর্বাগ্রে। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন (وَ اِذۡ اَخَذۡنَا مِنَ النَّبِیّٖنَ مِیۡثَاقَهُمۡ وَ مِنۡکَ وَ مِنۡ نُّوۡحٍ وَّ اِبۡرٰهِیۡمَ وَ مُوۡسٰی وَ عِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ) “আমি পয়গম্বরগণের কাছ থেকে, তোমার কাছ থেকে এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম তনয় ‘ঈসার কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম”- (সূরা আল আহযাব ৩৩: ৭)। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৪৫৭২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭৩-[১০] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল নিজের সাথে পানি ও আগুন নিয়ে বের হবে। মানুষ দৃশ্যত যা পানি ধারণা করবে, মূলত তা হবে জ্বলন্ত আগুন। আর মানুষ যা আগুন ধারণা করবে, বাস্তবে তা হবে ঠাণ্ডা মিষ্টি পানি। অতএব তোমাদের যে কেউ সেই দাজ্জালের যুগ পাবে, সে যেন যা আগুন দেখতে পায় তাতে প্রবেশ করে। কেননা তা হবে সুস্বাদু মিষ্ট পানি। (বুখারী ও মুসলিম)

সহীহ মুসলিমে এতে আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, দাজ্জাল হবে মুদিত চক্ষুবিশিষ্ট। তার চক্ষুর উপর নখ পরিমাণ মোটা চামড়া থাকবে, চক্ষুদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে লেখা থাকবে কাফির। প্রত্যেক শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মুমিন তা পড়তে পারবে।

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ حُذَيْفَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ وَإِنَّ مَعَهُ مَاءً وَنَارًا فَأَمَّا الَّذِي يَرَاهُ النَّاسُ مَاءً فَنَارٌ تَحْرِقُ وَأَمَّا الَّذِي يَرَاهُ النَّاسُ نَارًا فَمَاءٌ بَارِدٌ عَذْبٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَلْيَقَعْ فِي الَّذِي يَرَاهُ نَارًا فَإِنَّهُ مَاءٌ عَذْبٌ طَيِّبٌ» . مُتَّفق عَلَيْهِ. وَزَاد مُسلم: «إِن الدجالَ ممسوحُ العينِ عَلَيْهَا ظفرةٌ غليظةٌ مَكْتُوب بَين عَيْنَيْهِ كَافِر يَقْرَؤُهُ كل مُؤمن كاتبٌ وَغير كَاتب»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7131) و مسلم (102 ۔ 105 / 2934)، (7367 و 7368) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن حذيفة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ان الدجال يخرج وان معه ماء ونارا فاما الذي يراه الناس ماء فنار تحرق واما الذي يراه الناس نارا فماء بارد عذب فمن ادرك ذلك منكم فليقع في الذي يراه نارا فانه ماء عذب طيب» . متفق عليه. وزاد مسلم: «ان الدجال ممسوح العين عليها ظفرة غليظة مكتوب بين عينيه كافر يقروه كل مومن كاتب وغير كاتب» متفق علیہ ، رواہ البخاری (7131) و مسلم (102 ۔ 105 / 2934)، (7367 و 7368) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (إِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ وَإِنَّ مَعَهُ مَاءً وَنَارً)“দাজ্জাল বের হবে এবং তার সাথে থাকবে পানি এবং আগুন।” (مَاءً) পানি বলতে বুঝানো হয়েছে পানি থেকে উৎপন্ন নি'আমাত সামগ্রী।
পূর্বের হাদীসে বাহ্যিকভাবে যাকে জান্নাত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যারা তার অনুসরণ করবে তারা তাই চাবে। আর (نَارًا) আগুন বলতে বুঝানো হয়েছে, যা মূলত শাস্তি ও কষ্টের কারণ হবে এবং এর দ্বারা সে তার অবাধ্যদেরকে ভয় দেখাবে।
(فَأَمَّا الَّذِي يَرَاهُ النَّاسُ مَاءً فَنَارٌ تَحْرِقُ وَأَمَّا الَّذِي يَرَاهُ النَّاسُ نَارًا فَمَاءٌ بَارِدٌ عَذْبٌ) অর্থাৎ মানুষ যাকে পানি হিসেবে দেখবে তা হবে দগ্ধকারী আগুন আর যাকে আগুন হিসেবে দেখবে মূলত সেটাই হবে সুপেয় পানি। এর অর্থ হলো আল্লাহ তা'আলা দাজ্জালের আগুনকে সুপেয় ঠাণ্ডা পানিতে রূপান্তরিত করবেন তাদের জন্য যারা তাকে অবিশ্বাস ও ঘৃণা প্রকাশ করবে। যেভাবে আল্লাহ তা'আলা ইবরাহীমের জন্য নমরূদের আগুনকে শীতল ও আরামদায়ক করে দিয়েছিলেন। আর দাজ্জালের সত্যতার প্রমাণের জন্য যা দিয়েছেন তা দগ্ধকারী আগুনে পরিণত করবেন। মূলকথা হলো, সে ফিতনাহ প্রসার করার জন্য যা কিছুই প্রকাশ করবে তা বাস্তব নয় বরং তা ধারণা ও ধাধা, যেমনটি যাদুকররা করে থাকে। আর আল্লাহ সেগুলোকে বাস্তব আগুন ও পানিতে পরিণত করতে সক্ষম। যেহেতু তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
অতএব তোমাদের মধ্যে যারা দাজ্জাল ও তার কার্যাবলী দেখবে তারা যেন তার আগুনকেই গ্রহণ করে এবং তাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত করে। তার আগুনকে কোন পরোয়া না করে, কেননা তার আগুন মূলত সুপেয় পানি হবে অথবা আল্লাহ তা পানিতে রূপান্তরিত করে দিবেন।
সহীহ মুসলিম-এর বর্ণনায় আছে, (الدَّجَّالُ مَمْسُو حُ الْعَيْنِ) অর্থাৎ দাজ্জালের একচক্ষু কপালের ন্যায় সমান থাকবে, তাতে চোখের কোন চিহ্ন থাকবে না। তার উপর মোটা মাংসখণ্ড বা চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকবে। আর তার দুই চোখের মাঝে (كَافِرٌ) লেখা থাকবে। যা প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তি পড়তে পারবে। সে শিক্ষিত হোক বা না হোক। সহীহ মুসলিমে মু'মিন এর পরিবর্তে মুসলিম কথা উল্লেখ আছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৫৪৭৩, ফাতহুল বারী ১৩/৭১৩০)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭৪-[১১] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জালের বাম চোখ কানা, মাথার কেশ অত্যধিক। তার সঙ্গে থাকবে তার জান্নাত ও জাহান্নাম। বাস্তবে তার জাহান্নাম হবে জান্নাত এবং জান্নাত হবে জাহান্নাম। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدَّجَّالُ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُسْرَى جُفَالُ الشَّعَرِ مَعَهُ جَنَّتُهُ وَنَارُهُ فَنَارُهُ جِنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نارٌ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (104 / 2934)، (7366) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الدجال اعور العين اليسرى جفال الشعر معه جنته وناره فناره جنة وجنته نار» . رواه مسلم رواہ مسلم (104 / 2934)، (7366) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لدَّجَّالُ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُسْرَى) দাজ্জালের বাম চক্ষু ত্রুটিযুক্ত। অন্য বর্ণনায় আছে, (أَعُوَرُالْعَيْنِ الْيُمْنَى) তার ডান চক্ষু ত্রুটিপূর্ণ। আবার বলা হয়েছে, (مَمْسُو حُ إِحْدَى عَيْنَيْهِ)  তার দুটি চোখের একটি কপালের ন্যায় সমান থাকবে। এ সমস্ত বর্ণনার সমন্বয়ে বলা যায়, মূলত তার একচোখ নেই আর অপর চোখ ত্রুটিপূর্ণ। তাই বলা যায়, তার উভয় চোখই ত্রুটিপূর্ণ। অথবা বলা যায়, তার চোখের ত্রুটি বিভিন্ন লোকের নিকট বিভিন্নভাবে প্রকাশ পাবে। কোন কোন লোক দেখবে তার বাম চক্ষু ত্রুটিপূর্ণ, আবার কোন লোক দেখবে তার ডান চক্ষু ত্রুটিপূর্ণ যা দ্বারা প্রমাণিত হবে সে ত্রুটিপূর্ণ এবং তার দাবীতে একজন মিথ্যাবাদী ব্যক্তি। ভাষ্যকার বলেন, এখানে সম্ভাবনা রয়েছে বর্ণনাকারী হয়তো ভুলে গেছেন। যার কারণে বর্ণনার ভিন্নতা হয়েছে।
(جُفَالُ الشَّعَرِ) তার মাথায় ঘন চুল থাকবে। আর তার কাছে জান্নাত ও জাহান্নামের আগুন থাকবে। তার আগুন হবে মূলত জান্নাত আর জান্নাত হবে আগুন। (মিকাতুল মাফাতীহ ৫৪৭৪, শারহুন নাবাবী ১৮/২৯৩৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭৫-[১২] নাওয়াস ইবনু সাম’আন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) দাজ্জালের আলোচনাকালে বললেন, যদি তার আগমন ঘটে আর আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকি, তখন তোমাদের মধ্যে আমিই তার সাথে দলীল-প্রমাণে বিজয়ী হব। আর আমি যদি বিদ্যমান না থাকি এবং তার আগমন ঘটে, তখন তোমাদের প্রত্যেক লোকই সরাসরি দলীল-প্রমাণে তার মোকাবিলা করবে। তখন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার পরিবর্তে আল্লাহ তা’আলাই হবেন সাহায্যকারী। সে হবে, একজন জোয়ান, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ফোলা চক্ষুবিশিষ্ট। আমি তাকে (ইয়াহূদী) আবদুল উযযা ইবনু কত্বান-এর সাথে তুলনা করতে পারি। অতএব যে কেউ তাকে পাবে, সে যেন তার সামনে সূরাহ্ আল কাহফ-এর শুরুর আয়াতগুলো পাঠ করে।

অপর এক বর্ণনা আছে যে, সে যেন তার সামনে সূরা কাহফ-এর প্রথমাংশ হতে পাঠ করে। কেননা এ আয়াতগুলো তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনাহ্ হতে নিরাপদে রাখবে। সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে বের হবে এবং চলার পথে ডানে ও বামে (’র অঞ্চলসমূহ) ক্ষতিকর ফাসাদ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা (ঈমান ও আক্বীদায়) দীনের উপর দৃঢ় থাকবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে কতদিন জমিনে অবস্থান করবে? তিনি (সা.) বললেন, চল্লিশ দিন। তবে তখনকার একদিন হবে এক বছরের সমান এবং একদিন হবে এক মাসের সমান আর একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান। আর অন্যান্য দিনগুলো হবে তোমাদের স্বাভাবিক দিনগুলোর মতো। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আচ্ছা বলুন তো, সেই একদিন, যা এক বছরের সমান হবে। আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! জমিনে তার চলার গতি কি পরিমাণ দ্রুত হবে? তিনি (সা.) বললেন, সে মেঘের মতো, যার পিছনে প্রবল বাতাস রয়েছে। অতঃপর সে কোন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদেরকে (তার অনুসরণে) আহ্বান করবে। অতএব লোকেরা তার প্রতি ঈমান আনবে। তখন সে আকাশকে নির্দেশ করবে, ফলে জমিন (ঘাস ফসলাদি) উৎপাদন করবে। লোকেদের গবাদিপশু সন্ধ্যায় যখন ফিরবে, তখন উচ্চ কুঁজবিশিষ্ট এবং দুধে ওলান ভর্তি (অবস্থায়) কোমর টেনে ফিরবে। অতঃপর সে (দাজ্জাল) অপরদিকে আহ্বান করবে, কিন্তু তারা তার দাবি অস্বীকার করবে। তখন সে তাদের নিকট থেকে ফিরে আসবে। অতএব সে কওমের লোকেরা মহাদুর্ভিক্ষে নিপতিত হবে। ফলে তাদের হাতে ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। অতঃপর সে (দাজ্জাল) একটি অনাবাদ পতিত জায়গা অতিক্রম করবে এবং তাকে লক্ষ্য করে বলবে, তোমার ভিতরে যে সমস্ত রয়েছে তা বের করে দাও। অতঃপর উক্ত ধন-সম্পদ এমনিভাবে তাদের পেছনে ছুটতে থাকবে, যেমনিভাবে মৌমাছির দল তাদের সরদার মৌমাছির পিছনে ছুটে চলে।

অতঃপর দাজ্জাল যৌবনে পূর্ণাঙ্গ এক যুবককে তার প্রতি আহ্বান করবে, (কিন্তু তার প্রতি অস্বীকারের দরুন) দাজ্জাল তাকে তরবারির আঘাতে দ্বি-খণ্ডিত করে ফেলবে এবং উভয় খণ্ডকে এত দূরে দূরে নিক্ষেপ করবে যে, একটি নিক্ষিপ্ত তীরের দূরত্ব পরিমাণ তাদের মধ্যে ব্যবধান হবে। অতঃপর সে উভয় খণ্ডকে নিজের কাছে ডাকবে, ফলে ঐ যুবক জীবিত হয়ে তার সামনে উপস্থিত হবে, তখন তার মুখমণ্ডল হাস্যোজ্জল হয়ে উঠবে। যখন সে এ সকল কাণ্ডে লিপ্ত, ঠিক এমনি সময়ে আল্লাহ তা’আলা হঠাৎ ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) কে (আকাশ হতে) পাঠাবেন এবং তিনি দামিশকের পূর্ব প্রান্তের শ্বেত মিনারা হতে হলুদ রঙের দু’টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দুজন মালাকের (ফেরেশতার) পাখায় হাত রেখে অবতরণ করবেন।
তিনি যখন মাথা নিচু করবেন তখন ফোটা ফোটা ঘর্ম ঝরবে, আর যখন মাথা উঁচু করবেন তখন তা স্বচ্ছ মুক্তার মতো ঝরতে থাকবে। যে কোন কাফির তার শ্বাস-বায়ু তাঁর দৃষ্টির প্রান্তসীমা পর্যন্ত পৌছে যাবে। এ অবস্থায় তিনি দাজ্জালকে অনুসন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তিনি তাকে (বায়তুল মাক্বদিসের) ’লুদ্দ’ নামক দরজার কাছে পেয়ে তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর এমন একটি সম্প্রদায় ’ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালের ফিতনাহ হতে নিরাপদে রেখেছিলেন। তখন তিনি তাদের মুখমণ্ডলে হাত ফিরাবেন এবং জান্নাতে তাদের জন্য কি পরিমাণ সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে সে সুসংবাদও প্রদান করবেন। এদিকে তিনি এ সমস্ত কাজে লিপ্ত থাকতেই আল্লাহ তা’আলা ’ঈসা আলায়হিস সালাম-এর নিকট এ সংবাদ পাঠাবেন যে, আমি আমার এমন কিছু সংখ্যক বান্দা সৃষ্টি করে রেখেছি, যাদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা কারো নেই। অতএব তুমি আমার বান্দাদেরকে ’তুর’ পর্বতে নিয়ে সংরক্ষণ (একত্রিত) কর। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ইয়াজুজ ও মাজুজকে পাঠাবেন। তারা প্রত্যেক উঁচু জায়গা থেকে নিচে জমিনে নেমে দ্রুত বিচরণ করতে থাকবে এবং তাদের প্রথম দল ’ত্ববারিয়্যাহ’ নদী (সিরিয়ার একটি নদী) অতিক্রম করবে এবং তারা এটার সবটুকু পানি পান করে ফেলবে। ফলে তাদের সর্বশেষ দল সে স্থান অতিক্রম করার সময় বলবে, হয়তো কোন সময় এখানে পানি ছিল। অতঃপর তার সামনে অগ্রসর হয়ে ’খমার’ নামক পাহাড় পর্যন্ত পৌছবে। এটা বায়তুল মাক্বদিসের নিকটে অবস্থিত পাহাড়। এখানে পৌঁছে তারা বলবে, জামিনে যারা বসবাস করত, ইতোমধ্যে আমরা নিশ্চিত সকলকে হত্যা করে ফেলেছি! এই বলে তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে।
আর আল্লাহ তা’আলা তাদের তীরগুলোকে রুক্তমাখা অবস্থায় তাদের দিকে ফিরিয়ে দেবেন। এ সময়। আল্লাহর নবী (ঈসা আলায়হিস সালাম) ও তার সঙ্গীগণকে তূর পর্বতে মারাত্মক দুরাবস্থায় অবরোধ করা হবে। অর্থাৎ তারা ভীষণ খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হবেন। এমনকি তাদের কারো জন্য একটি গরুর মাথা এ যুগের একশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) অপেক্ষা বেশি মূল্যবান হবে। এই চরম অবস্থায় আল্লাহ নবী ’ঈসা আলায়হিস্ সালাম এবং তার সঙ্গীগণ আল্লাহর দিকে রুজু হবেন (এবং ইয়াজুজ ও মাজুজ-এর ধ্বংসের জন্য দু’আ করবেন) অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাদের ঘাড়ের উপর বিষাক্ত কীটের ’আযাব অবতীর্ণ করবেন। (এটা উট, বকরির নাকের মধ্যে জন্মে) ফলে তারা মুহূর্তের মধ্যে সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহর নবী ’ঈসা (আঃ) ও তার সঙ্গীগণ পর্বত থেকে নিচে জমিনে অবতরণ করবেন। কিন্তু ইয়াজুজ ও মাজুজ-এর মরদেহের চর্বি ও দুর্গন্ধ হতে মুক্ত, এমন একবিঘত জমিনও খালি পাবেন না। তখন আল্লাহ তা’আলার কাছে ফরিয়াদ করবেন

অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বখতী উটের ঘাড়ের মতো লম্বা লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট পাখির ঝাঁক পাঠাবেন। পাখির দল তাদের মরদেহসমূহকে তুলে নেবে এবং যেখানে আল্লাহ ইচ্ছা সেখানে নিয়ে নিক্ষেপ করবে। অবশ্য অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে, তাদেরকে ’নহবল’ নামক স্থানে নিয়ে ফেলে দিবে এবং মুসলিমগণ তাদের ধনুক, তীর এবং তীর রাখার কোষসমূহ সাত বছর পর্যন্ত লাকড়িস্বরূপ জ্বালাতে থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ব্যাপক বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। যার কারণে জনবসতির কোন একটি অংশ, চাই তা মাটির ঘর হোক কিংবা পশমের হোক বাদ থাকবে না, ধৌত করে পরিষ্কার করে দিবে। অবশেষে তা আয়নার মতো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। তারপর জমিনকে বলা হবে, তোমার ফল-ফলাদি বের করে দাও এবং তোমার কল্যাণ ও বরকত ফিরিয়ে আনো। ফলে সে সময় এক দল লোক একটি ডালিম পরিতৃপ্ত হয়ে খাবে এবং তার খোসা দ্বারা লোকেরা ছায়া লাভ করবে। আর দুগ্ধের মধ্যে বরকত দান করা হবে। এমনকি একটি উষ্ট্রীর দুধ একদল লোকের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি গাভীর দুধ এক সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি বকরির দুধ একটি পরিবারের লোকের জন্য যথেষ্ট হবে। ঠিক এমনি সময়ে হঠাৎ একদিন আল্লাহ তা’আলা একটি সিগ্ধ বাতাস প্রবাহিত করবেন। তা তাদের বগল স্পর্শ করবে এবং উক্ত বায়ু প্রতিটি মু’মিন মুসলিমের আত্মা কবয করবে, অতঃপর কেবলমাত্র পাপী ও মন্দ লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে, আর তারা গাধার মতো পরস্পর দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত হয়ে পড়বে, তখন তাদের ওপরেই কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। (মুসলিম; তবে রিওয়ায়াতের দ্বিতীয়াংশ অর্থাৎ (تَطْرَ بِاْلنَّهْبَلِ) হতে (سَبْعَ سِبِيْن) পর্যন্ত তিরমিযী বর্ণনা করেছেন)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَن النوَّاس بن سمْعَان قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: «إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِيَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ» . وَفِي رِوَايَةٍ «فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ بِفَوَاتِحِ سُورَةِ الْكَهْفِ فَإِنَّهَا جوارُكم من فتنته إِنَّه خَارج خلة بِي الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالًا يَا عِبَادَ اللَّهِ فَاثْبُتُوا» . قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْثُهُ فِي الْأَرْضِ؟ قَالَ: «أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ» . قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلَاةُ يَوْمٍ. قَالَ: «لَا اقْدُرُوا لَهُ قَدَرَه» . قُلْنَا: يَا رسولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الْأَرْضِ؟ قَالَ: كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي عَلَى الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالْأَرْضَ فَتُنْبِتُ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًى وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْله فَيَنْصَرِف عَنْهُم فيصبحون مملحين لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَيْءٌ مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَيَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا: أَخْرِجِي كُنُوزَكِ فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلًا مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ بْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْد المنارة الْبَيْضَاء شرقيّ دمشق بَين مهروذتين وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأسه قطر وَإِذا رَفعه تحدرمنه مثل جُمان كَاللُّؤْلُؤِ فَلَا يحل لكافرٍ يَجِدَ مِنْ رِيحِ نَفَسِهِ إِلَّا مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَاب لُدٍّ فيقتُلُه ثمَّ يَأْتِي عِيسَى إِلى قَوْمٌ قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَى عِيسَى: أَنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي لَا يَدَانِ لِأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عِبَادِيَ إِلَى الطُّورِ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ (وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ) فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةَ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا ويمر آخِرهم وَيَقُول: لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ ثُمَّ يَسِيرُونَ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى جَبَلِ الْخَمَرِ وَهُوَ جَبَلُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَيَقُولُونَ لَقَدْ قَتَلْنَا مَنْ فِي الْأَرْضِ هَلُمَّ فَلْنَقْتُلْ مَنْ فِي السَّمَاءِ فَيَرْمُونَ بِنُشَّابِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ نُشَّابَهُمْ مَخْضُوبَةً دَمًا وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهِ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لِأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لِأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الْأَرْضِ فَلَا يَجِدُونَ فِي الْأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلَّا مَلَأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ «. وَفِي رِوَايَةٍ» تَطْرَحُهُمْ بِالنَّهْبَلِ وَيَسْتَوْقِدُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ قِسِيِّهِمْ وَنُشَّابِهِمْ وَجِعَابِهِمْ سَبْعَ سِنِينَ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لَا يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الْأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ: أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى إِنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الْإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخْذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مؤمنٍ وكلِّ مسلمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ إِلَّا الرِّوَايَةَ الثَّانِيَةَ وَهِيَ قَوْلُهُ: تَطْرَحُهُمْ بِالنَّهْبَلِ إِلَى قَوْلِهِ: سبع سِنِين . رَوَاهَا التِّرْمِذِيّ

رواہ مسلم (111 ، 110 / 2937)، (7373 و 7374) و الترمذی (2240 وقال : غریب حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن النواس بن سمعان قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال فقال: «ان يخرج وانا فيكم فانا حجيجه دونكم وان يخرج ولست فيكم فامرو حجيج نفسه والله خليفتي على كل مسلم انه شاب قطط عينه طافية كاني اشبهه بعبد العزى بن قطن فمن ادركه منكم فليقرا عليه فواتح سورة الكهف» . وفي رواية «فليقرا عليه بفواتح سورة الكهف فانها جواركم من فتنته انه خارج خلة بي الشام والعراق فعاث يمينا وعاث شمالا يا عباد الله فاثبتوا» . قلنا: يا رسول الله وما لبثه في الارض؟ قال: «اربعون يوما يوم كسنة ويوم كشهر ويوم كجمعة وساىر ايامه كايامكم» . قلنا: يا رسول الله فذلك اليوم الذي كسنة اتكفينا فيه صلاة يوم. قال: «لا اقدروا له قدره» . قلنا: يا رسول الله وما اسراعه في الارض؟ قال: كالغيث استدبرته الريح فياتي على القوم فيدعوهم فيومنون به فيامر السماء فتمطر والارض فتنبت فتروح عليهم سارحتهم اطول ما كانت ذرى واسبغه ضروعا وامده خواصر ثم ياتي القوم فيدعوهم فيردون عليه قوله فينصرف عنهم فيصبحون مملحين ليس بايديهم شيء من اموالهم ويمر بالخربة فيقول لها: اخرجي كنوزك فتتبعه كنوزها كيعاسيب النحل ثم يدعو رجلا ممتلىا شبابا فيضربه بالسيف فيقطعه جزلتين رمية الغرض ثم يدعوه فيقبل ويتهلل وجهه يضحك فبينما هو كذلك اذ بعث الله المسيح بن مريم فينزل عند المنارة البيضاء شرقي دمشق بين مهروذتين واضعا كفيه على اجنحة ملكين اذا طاطا راسه قطر واذا رفعه تحدرمنه مثل جمان كاللولو فلا يحل لكافر يجد من ريح نفسه الا مات ونفسه ينتهي حيث ينتهي طرفه فيطلبه حتى يدركه بباب لد فيقتله ثم ياتي عيسى الى قوم قد عصمهم الله منه فيمسح عن وجوههم ويحدثهم بدرجاتهم في الجنة فبينما هو كذلك اذ اوحى الله الى عيسى: اني قد اخرجت عبادا لي لا يدان لاحد بقتالهم فحرز عبادي الى الطور ويبعث الله ياجوج وماجوج (وهم من كل حدب ينسلون) فيمر اواىلهم على بحيرة طبرية فيشربون ما فيها ويمر اخرهم ويقول: لقد كان بهذه مرة ماء ثم يسيرون حتى ينتهوا الى جبل الخمر وهو جبل بيت المقدس فيقولون لقد قتلنا من في الارض هلم فلنقتل من في السماء فيرمون بنشابهم الى السماء فيرد الله عليهم نشابهم مخضوبة دما ويحصر نبي الله واصحابه حتى يكون راس الثور لاحدهم خيرا من ماىة دينار لاحدكم اليوم فيرغب نبي الله عيسى واصحابه فيرسل الله عليهم النغف في رقابهم فيصبحون فرسى كموت نفس واحدة ثم يهبط نبي الله عيسى واصحابه الى الارض فلا يجدون في الارض موضع شبر الا ملاه زهمهم ونتنهم فيرغب نبي الله عيسى واصحابه الى الله فيرسل الله طيرا كاعناق البخت فتحملهم فتطرحهم حيث شاء الله «. وفي رواية» تطرحهم بالنهبل ويستوقد المسلمون من قسيهم ونشابهم وجعابهم سبع سنين ثم يرسل الله مطرا لا يكن منه بيت مدر ولا وبر فيغسل الارض حتى يتركها كالزلفة ثم يقال للارض: انبتي ثمرتك وردي بركتك فيومىذ تاكل العصابة من الرمانة ويستظلون بقحفها ويبارك في الرسل حتى ان اللقحة من الابل لتكفي الفىام من الناس واللقحة من البقر لتكفي القبيلة من الناس واللقحة من الغنم لتكفي الفخذ من الناس فبينا هم كذلك اذ بعث الله ريحا طيبة فتاخذهم تحت اباطهم فتقبض روح كل مومن وكل مسلم ويبقى شرار الناس يتهارجون فيها تهارج الحمر فعليهم تقوم الساعة رواه مسلم الا الرواية الثانية وهي قوله: تطرحهم بالنهبل الى قوله: سبع سنين . رواها الترمذي رواہ مسلم (111 ، 110 / 2937)، (7373 و 7374) و الترمذی (2240 وقال : غریب حسن صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدَّجَّالَ) রাসূলুল্লাহ (সা.) দাজ্জালের কথা আলোচনা করলেন অর্থাৎ তার আবির্ভাব তার সমস্ত কর্মকাণ্ড এবং তার মাধ্যমে মানুষকে পরীক্ষায় ফেলার ব্যাপারে আলোচনা করলেন।
(إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ) যদি সে বের হয় আর আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকি তাহলে আমি দলীল প্রমাণের মাধ্যমে তাকে প্রতিহত করব।
(دُونَكُمْ) তোমাদের সম্মুখে থাকব এবং তোমাদের পক্ষ থেকে প্রতিহত করব। আমি তোমাদের নেতৃত্ব দিব ও তোমাদের সামনে থাকব। এখানে শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, নবী (সা.) দাজ্জালের সাথে বিজিত হওয়ার জন্য তার উম্মতের মধ্যে কোন ব্যক্তির সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
(وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ) আর যদি সে বের হয় এবং আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান না থাকি তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তি তার সাথে দলীল প্রমাণের সাহায্যে ঝগড়া ও বিতর্ক করে তাকে পরাজিত করবে। আল্লামাহ্ মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ আর অনিষ্ট থেকে নিজেকে দলীল প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিহত করবে। এটা সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে যদি সে দলীল শুনে। অন্যথা এর অর্থ হবে প্রত্যেকেই নিজের ওপর থেকে তার অনিষ্টকে প্রতিহত করবে তাকে মিথ্যাবাদী প্রমাণিত করে এবং তার দেয়া ‘আযাবকে গ্রহণ করার মাধ্যমে।

(وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ) অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা প্রত্যেক মুসলিমের অভিভাবক এবং তার হিফাযাতকারী। তিনি তাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন ও তার অনিষ্টকে প্রতিহত করবেন। এটা একটি স্পষ্ট দলীল যে, আল্লাহর মুমিন বান্দা সর্বদা বিজয় লাভ করবে যদিও তার সাথে কোন নবী অথবা ইমাম না থাকে। এর মাধ্যমে শী'আদের ইমাম আগমনের ধারণাকে খণ্ডন করা হয়েছে।

(فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ) যদি তোমাদের মধ্যে কেউ তাকে পেয়ে যায় তাহলে সে যেন সূরাহ্ আল কাহফ-এর শুরু থেকে কিছু অংশ পাঠ করে তাহলে তা তোমাদেরকে তার ফিতনা থেকে হিফাযত করবে। আবূ দাউদ ও সহীহ মুসলিমে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রথম থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জাল থেকে নিরাপদে থাকবে। তবে নাসায়ীতে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি সূরাহ্ আল কাহফ-এর শেষ দশ আয়াত পাঠ করবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদে থাকবে। তিরমিযীর এক বর্ণনায় আছে, যে সূরাহ আল কাহফ-এর শুরু থেকে তিনটি আয়াত পাঠ করবে সে দাজ্জালের ফিনাহ থেকে বেঁচে থাকবে। অতএব হাদীসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা যায় এভাবে:
১) যে দশটি আয়ত পাঠ করল, সে তিনটির ‘আমলও করে ফেলল।
২) অথবা দশটি আয়াতের হাদীস মুখস্থের ক্ষেত্রে এবং তিনটির হাদীস পাঠ করার ক্ষেত্রে। অতএব যে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে এবং তিনটি পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে বাঁচবে।
৩) অথবা যারা দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তারা দাজ্জালের সাক্ষাৎ হলে তার ফিতনাহ্ থেকে বাঁচবে আর যারা তিনটি আয়াত পাঠ করবে তারা তার ফিতনাহ থেকে বাঁচবে যদিও তার সাক্ষাৎ না হয়।
৪) অথবা মুখস্থ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, না দেখে পাঠ করা আর বাঁচার অর্থ হলো দাজ্জালের ফিতনাহ থেকে রক্ষা পাওয়া।

(لْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْثُهُ فِي الْأَرْضِ؟) আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল ! সে পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করবে? তিনি (সা.) বললেন, ৪০ দিন যার ১ দিন হবে ১ বছরের মতো দীর্ঘ অথবা চিন্তাভাবনার ব্যাপকতার জন্য ১ দিন ১ বছর মনে হবে এবং ১ দিন মাসের মতো এবং ১ দিন জুমু'আর মতো এবং অন্যান্য দিনগুলো তোমাদের দিনের মতোই হবে। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর মর্ম হচ্ছে প্রথম দিনটি মুমিনদের চিন্তার ব্যাপকতা ও কঠিন বিপদাপদের জন্য এক বছর মনে হবে। দ্বিতীয় দিনটি তার চক্রান্ত ও সমস্যাগুলো আগের তুলনায় সহজ হওয়ায় মাসের মতো মনে হবে এবং তৃতীয় দিনটি জুমু'আর দিনের মতো দীর্ঘ মনে হওয়ার কারণ হলো সত্য দিন দিন প্রকাশিত হবে এবং মিথ্যার প্রভাব কমতে থাকবে।

আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যে দিনটি বছরের মতো দীর্ঘ হবে তাতে কি শুধু একদিনের সালাতই আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি (সা.) বললেন, না, বরং তোমরা এর সময় নির্ধারণ করে নাও। ‘আল্লামাহ্ ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) কতিপয় ভাষ্যকার থেকে এর মর্ম বর্ণনা করে বলেন, যে দিনটি বছরের সমান দীর্ঘ হবে সে দিনটিকে প্রতিদিনের সময় অনুযায়ী ভাগ করে সালাত আদায় করবে। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসের মর্ম হচ্ছে প্রতিদিন সূর্য উদয়ের পর যুহর পর্যন্ত যতটুকু সময় হয় সেই পরিমাণ সময় অতিক্রম করলে যুহরের সালাত আদায় করবে। এরপর যতটুকু সময় অতিক্রম করলে আসরের সময় হয় ততটুকু সময় পরে ‘আসরের সালাত আদায় করবে। এরপর মাগরিব ‘ইশা ফজর এভাবে ঐ দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ভাগ করে সালাত আদায় করবে। তাহলেই ১ বছর সমপরিমাণ দীর্ঘ দিনের সকল ফরয সালাতসমূহ যথাসময়ে আদায় হয়ে যাবে। এমনিভাবে দ্বিতীয় যে দিনটি মাসের মত হবে এবং তৃতীয় যে দিনটি জুমু'আর মতো হবে তা প্রথম দিনটির মতো সময়ানুযায়ী সালাত আদায় করবে।

(فَيَنْزِلُ عِنْد المنارة الْبَيْضَاء شرقيّ دمشق) অতঃপর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম দামিশকের পূর্বদিকে সাদা মিনার থেকে নেমে আসবেন। আল্লামাহ সুয়ুত্বী ইবনু মাজার বর্ণনার টীকায় বলেন, আল্লামাহ ইবনু কাসীর ভিন্ন সূত্রে বলেন যে, তিনি ‘ঈসা আলায়হিস সালাম বায়তুল মাক্বদিস মাসজিদে অবতরণ করবেন। উভয় বর্ণনায় সমন্বয় হচ্ছে, বায়তুল মাক্বদিস দামিস্ক শহরের অন্তর্গত, অতএব এটাই সঠিক মত। অতঃপর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম বাবে লুদ্দ নামক স্থানে দাজ্জালকে ধরে হত্যা করে ফেলবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, আওনুল মা'বূদ ৭ম খণ্ড, হা, ৪৩১৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭৬-[১৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এমন সময় দাজ্জালের আগমন ঘটবে যখন একজন মর্দে মুসলিম তার সামনে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হবে। তখন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক অর্থাৎ দাজ্জালের বাহিনীর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে। তারা প্রশ্ন করবে, তুমি কোথায় যেতে ইচ্ছা করছ? সে বলবে, ঐ ব্যক্তির নিকট যেতে চাই যে বের হয়েছে। তিনি (সা.) বলেন, তখন তারা লোকটিকে বলবে, তুমি কি আমাদের রবের (দাজ্জালের) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করনি? সে বলবে, আমাদের প্রকৃত রব তো অজানা নন। তখন তারা বলবে, এ লোকটিকে হত্যা করে ফেল। তখন তারা পরস্পর বলবে, তোমাদের রব (দাজ্জালের) কি এই বলে নিষেধ করেনি যে, তার সামনে উপস্থিত না করা ছাড়া যেন কাউকে তোমরা হত্যা না কর? তখন তারা লোকটিকে দাজ্জালের কাছে নিয়ে আসবে। যখন সে মর্দে মুমিন দাজ্জালকে দেখবে, তখনই সে লোকেদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবে, হে লোকসকল! এই তো সেই দাজ্জাল, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বলেছিলেন। তিনি (সা.) বলেন, এ কথা শুনে দাজ্জাল ঐ লোকটিকে মারাত্মক সাজা দেয়ার নির্দেশ করে বলবে, এটাকে শক্ত করে ধর এবং তার মাথায় জোরে আঘাত কর। তখন লোকটিকে এমনভাবে প্রহার করা হবে যে, তার পিঠ ও পেট চ্যাপ্টা হয়ে যাবে। তিনি (সা.) বলেন, তখন দাজ্জাল বলবে, তুমি কি এখনো আমার প্রতি ঈমান আনবে না? উত্তরে লোকটি বলবে, ’তুমিই তো মিথ্যুক মাসীহ! এবার দাজ্জাল লোটিকে করাত দ্বারা কর্তনের নির্দেশ দিবে। তখন সে মর্দে মু’মিনের মাথা হতে কর্তিত হবে, এমনকি তার পদদ্বয় পর্যন্ত দ্বিখণ্ডিত করা হবে। অতঃপর দাজ্জাল সে খণ্ডিত দুই টুকরার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাবে তারপর সে উক্ত খণ্ডকে লক্ষ্য করে বলবে, “তুমি দাঁড়িয়ে যাও’। এবার লোকটি জীবিত হয়ে সোজাভাবে দাঁড়িয়ে যাবে। অতঃপর দাজ্জাল তাকে বলবে, এখন কি তুমি আমার প্রতি ঈমান আনবে? উত্তরে সেই মর্দে মুমিন বলবে, এখন তো আমার বিশ্বাসের দৃঢ়তাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর সে মর্দে মু’মিন লোকেদেরকে আহ্বান করে বলবে, হে লোক সকল! তোমরা জেনে রাখ! এ দাজ্জাল এ যাবৎ আমার সাথে যা কিছু করেছে, আমার পরে আর কোন মানুষের সাথে তা করতে সক্ষম হবে না। তিনি (সা.) বলেন, এবার দাজ্জাল তাকে আবার যবাহ করতে উদ্যত হবে। কিন্তু লোকটির গর্দান ও বুকের মধ্যবর্তী স্থান তামায় পরিণত করে দেয়া হবে, ফলে সে তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। তিনি (সা.) বলেন, এবার দাজ্জাল তার হাত পা বেঁধে ফেলবে এবং তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবে। উপস্থিত লোকেরা ধারণা করবে, দাজ্জাল তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তাকে জান্নাতের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ মর্দে মু’মিনই হবে রাব্বুল আলামীনের কাছে সবচেয়ে বড় শহীদ ব্যক্তি। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَتَوَّجُهُ قِبَلَهُ رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَيَلْقَاهُ الْمَسَالِحُ مَسَالِحُ الدَّجَّالِ. فَيَقُولُونَ لَهُ: أَيْنَ تَعْمِدُ؟ فَيَقُولُ: أَعْمِدُ إِلَى هَذَا الَّذِي خَرَجَ. قَالَ: فَيَقُولُونَ لَهُ: أَو مَا تبَارك وَتَعَالَى ؤمن بِرَبِّنَا؟ فَيَقُولُ: مَا بِرَبِّنَا خَفَاءٌ. فَيَقُولُونَ: اقْتُلُوهُ. فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: أَلَيْسَ قَدْ نَهَاكُمْ رَبُّكُمْ أَنْ تَقْتُلُوا أَحَدًا دُونَهُ . قَالَ: فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى الدَّجَّالِ فَإِذَا رَآهُ الْمُؤْمِنُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَذَا الدَّجَّالُ الَّذِي ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . قَالَ: فَيَأْمُرُ الدَّجَّال بِهِ فَيُشَبَّحُ. فَيَقُولُ: خُذُوهُ وَشُجُّوهُ فَيُوسَعُ ظَهْرُهُ وَبَطْنُهُ ضَرْبًا . قَالَ: فَيَقُول: أَوَ مَا تُؤْمِنُ بِي؟ قَالَ: فَيَقُولُ: أَنْتَ الْمَسِيحُ الْكَذَّابُ . قَالَ: «فيؤْمر بِهِ فَيْؤشَرُ بالمنشارِ مِنْ مَفْرِقِهِ حَتَى يُفَرَّقَ بَيْنَ رِجْلَيْهِ» . قَالَ: ثُمَّ يَمْشِي الدَّجَّالُ بَيْنَ الْقِطْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ: أتؤمنُ بِي؟ فَيَقُول: مَا ازْدَدْتُ إِلَّا بَصِيرَةً . قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَا يَفْعَلُ بَعْدِي بِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ . قَالَ: «فَيَأْخُذُهُ الدَّجَّالُ لِيَذْبَحَهُ فَيُجْعَلُ مَا بَيْنَ رَقَبَتِهِ إِلَى تَرْقُوَتِهِ نُحَاسًا فَلَا يَسْتَطِيع إِليه سَبِيلا» قَالَ: «فَيَأْخذهُ بِيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَيَقْذِفُ بِهِ فَيَحْسِبُ النَّاسُ أَنَّمَا قَذَفَهُ إِلَى النَّارِ وَإِنَّمَا أُلْقِيَ فِي الْجَنَّةُ» فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا أَعْظَمُ النَّاسِ شَهَادَةً عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (113 / 2938)، (7377) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يخرج الدجال فيتوجه قبله رجل من المومنين فيلقاه المسالح مسالح الدجال. فيقولون له: اين تعمد؟ فيقول: اعمد الى هذا الذي خرج. قال: فيقولون له: او ما تبارك وتعالى ومن بربنا؟ فيقول: ما بربنا خفاء. فيقولون: اقتلوه. فيقول بعضهم لبعض: اليس قد نهاكم ربكم ان تقتلوا احدا دونه . قال: فينطلقون به الى الدجال فاذا راه المومن قال: يا ايها الناس هذا الدجال الذي ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال: فيامر الدجال به فيشبح. فيقول: خذوه وشجوه فيوسع ظهره وبطنه ضربا . قال: فيقول: او ما تومن بي؟ قال: فيقول: انت المسيح الكذاب . قال: «فيومر به فيوشر بالمنشار من مفرقه حتى يفرق بين رجليه» . قال: ثم يمشي الدجال بين القطعتين ثم يقول له: اتومن بي؟ فيقول: ما ازددت الا بصيرة . قال: ثم يقول: يا ايها الناس انه لا يفعل بعدي باحد من الناس . قال: «فياخذه الدجال ليذبحه فيجعل ما بين رقبته الى ترقوته نحاسا فلا يستطيع اليه سبيلا» قال: «فياخذه بيديه ورجليه فيقذف به فيحسب الناس انما قذفه الى النار وانما القي في الجنة» فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هذا اعظم الناس شهادة عند رب العالمين» . رواه مسلم رواہ مسلم (113 / 2938)، (7377) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَيَلْقَاهُ الْمَسَالِحُ) অতঃপর তার সাথে সাক্ষাৎ করবে একদল অস্ত্রধারী যুবক যারা সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত। তারা হবে দাজ্জালের সৈনিক।
(مَا بِرَبِّنَا خَفَاءٌ) অর্থাৎ সে তোমাদের ও আমাদের কারো সত্যিকার রব নয়। অথবা হে মু'মিন। সম্প্রদায়! সে তোমাদের রব্ নয়। এখানে অব্যয়টি না-বোধক অর্থাৎ তিনি ব্যতীত আমাদের নিকট আমাদের রবের কোন এমন গুণাবলি গোপন নেই, যেন আমরা তাকে বাদ দিয়ে তার নিকট যাব ও তার ওপর নির্ভর করব। সে রব না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো সে মাখলুক। আর কোন মাখলুকের মধ্যে রুবুবিয়্যাহ্ অথবা উলুহিয়্যার গুণ থাকতে পারে না। তাছাড়া সে হচ্ছে ত্রুটিযুক্ত এক চোখ অন্ধ আর আমাদের রবের কোন ত্রুটি নেই।
(فَيَأْخذهُ بِيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَيَقْذِفُ بِهِ فَيَحْسِبُ النَّاسُ) অতঃপর দাজ্জাল তার উভয় হাত এবং পা ধরে ছুঁড়ে ফেলে দিবে তখন মানুষেরা ধারণা করবে তাকে জাহান্নামে ফেলে দিয়েছে। মূলত তাকে জান্নাতে ফেলা হবে। ভাষ্যকার বলেন, হয়তো তাকে দুনিয়ার কোন উদ্যানে ফেলা হবে। অথবা তাকে দাজ্জালের নিকট সংরক্ষিত জাহান্নামেই ফেলা হবে কিন্তু আল্লাহ সেটাকে জান্নাতে রূপান্তর করে দিবেন। যেমনভাবে অতীতে ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-এর জন্য আগুনকে শীতল ও নিরাপদ শান্তিদায়ক করে দিয়েছিলেন। যেটাই ধরা হোক না কেন, উল্লেখিত প্রথমবার ছাড়া তার হাতে আর মৃত্যু সংঘটিত হবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ হা. ৫৪৭৬, শারহুন নাবাবী ১৮/২৯৩৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭৭-[১৪] উম্মু শারীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: লোকেরা দাজ্জালের (ফিতনাহ থেকে পলায়ন করবে, এমনকি পাহাড়-পর্বতসমূহে গিয়ে আশ্রয় নেবে। উম্মু শারীক (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন ’আরব (মুজাহিদীনগণ) কোথায় থাকবেন? তিনি (সা.) বললেন, সংখ্যায় তারা খুবই কম হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَن أمّ شريكٍ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيَفِرَّنَّ النَّاسُ مِنَ الدَّجَّالِ حَتَّى يَلْحَقُوا بِالْجِبَالِ» قَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «هُمْ قَلِيلٌ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (125 / 2945)، (7393) ۔
(صَحِيح)

وعن ام شريك قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليفرن الناس من الدجال حتى يلحقوا بالجبال» قالت ام شريك: قلت: يا رسول الله فاين العرب يومىذ؟ قال: «هم قليل» . رواه مسلم رواہ مسلم (125 / 2945)، (7393) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَيَفِرَّنَّ النَّاسُ مِنَ الدَّجَّالِ) মানুষেরা তথা মু'মিনগণ দাজ্জালের ভয়ে পালিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করবে। বর্ণনাকারী উম্মু শারীক (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তখন আল্লাহর পথে জিহাদকারী ‘আরবগণ কোথায় থাকবে? নবী (সা.) উত্তরে বললেন, তখন ‘আরবগণ সংখ্যায় খুব কম থাকবে আর তারা তার সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ হা. ৫৪৭৭, শারহু নাবাবী হা. ২৯৪৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মু শারীক (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭৮-[১৫] আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: ইস্ফাহানের সত্তর হাজার ইয়াহূদী দাজ্জালের অনুসরণ করবে। তাদের মাথা থাকবে চাদরে ঢাকা। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَنَسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِنْ يَهُودِ أصفَهانَ سبعونَ ألفا عَلَيْهِم طيالسة» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (124 / 2944)، (7392) ۔
(صَحِيح)

وعن انس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يتبع الدجال من يهود اصفهان سبعون الفا عليهم طيالسة» . رواه مسلم رواہ مسلم (124 / 2944)، (7392) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِنْ يَهُودِ أصفَهانَ) ইস্ফাহান নগরীর ৭০ হাজার লোক দাজ্জালের অনুসরণ করবে যাদের পোশাক হবে তায়লাস নামক বিশেষ কাপড়ের। অন্য বর্ণনাতে তাদের সংখ্যা হবে নব্বই হাজার। কিন্তু প্রথমোক্ত বর্ণনাই সঠিক। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৮শ খণ্ড, হা. ২৯৪৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৭৯-[১৬] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ’দাজ্জাল অবশ্যই আগমন করবে। কিন্তু তার প্রতি মদীনায় গিরিপথে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। অবশ্য সে মদীনার পার্শ্ববর্তী একটি লবণাক্ত বালুকাময় এলাকায় অবতরণ করবে। তখন তার কাছে একজন পুণ্যবান ব্যক্তি। অথবা (বলেছেন) পুণ্যবান লোকেদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলবেন, ’আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই সেই দাজ্জাল যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তখন দাজ্জাল (উপস্থিত লোকেদেরকে) বলবে, দেখ! যদি আমি এ লোকটিকে হত্যা করে আবার তাকে জীবিত করি, তবে কি তোমরা আমার ব্যাপারে (আল্লাহ হওয়া সম্পর্কে) সন্দেহ পোষণ করবে? লোকেরা বলবে, না। তখন সে তাকে হত্যা করবে, অতঃপর তাকে আবার জীবিত করবে। তখন সেই লোকটি বলবে, আল্লাহর শপথ! আমি তোমার সম্পর্কে এখন পূর্বের চেয়েও বেশি সন্দেহমুক্ত। আবার দাজ্জাল তাকে হত্যা করতে চাইবে, কিন্তু তাকে লোকটির উপর সেই ক্ষমতা দেয়া হবে না। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَأْتِي الدَّجَّالُ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ الْمَدِينَةِ فَيَنْزِلُ بَعْضَ السِّبَاخِ الَّتِي تَلِي الْمَدِينَةَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ رَجُلٌ وَهُوَ خَيْرُ النَّاسِ أَوْ مِنْ خِيَارِ النَّاسِ فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ الَّذِي حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَهُ فَيَقُولُ الدَّجَّالُ: أَرَأَيْتُمْ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ هَلْ تَشُكُّونَ فِي الْأَمْرِ؟ فَيَقُولُونَ: لَا فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يُحْيِيهِ فَيَقُولُ: وَاللَّهِ مَا كُنْتُ فِيكَ أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي الْيَوْمَ فَيُرِيدُ الدَّجَّالُ أَنْ يَقْتُلَهُ فَلَا يُسَلَّطُ عَلَيْهِ . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (1882) و مسلم (112 / 2938)، (7375) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ياتي الدجال وهو محرم عليه ان يدخل نقاب المدينة فينزل بعض السباخ التي تلي المدينة فيخرج اليه رجل وهو خير الناس او من خيار الناس فيقول: اشهد انك الدجال الذي حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثه فيقول الدجال: ارايتم ان قتلت هذا ثم احييته هل تشكون في الامر؟ فيقولون: لا فيقتله ثم يحييه فيقول: والله ما كنت فيك اشد بصيرة مني اليوم فيريد الدجال ان يقتله فلا يسلط عليه . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (1882) و مسلم (112 / 2938)، (7375) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (يَأْتِي الدَّجَّالُ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْهِ) দাজ্জাল মদীনার দিকে আগমন করবে। কিন্তু তার জন্য মদীনায় প্রবেশ করা হারাম করা হয়েছে। ফলে সে মদীনার নিকটবর্তী সিরিয়া পথে মরুভূমিতে অবতরণ করবে যেখানে লবণাক্ততার কারণে কোন ধরনের ঘাস জন্মাবে না। অতঃপর তার দিকে একজন মহান ব্যক্তি এগিয়ে যাবে। সম্ভবত তিনি খিযির (আঃ)। তাকে দেখামাত্রই বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় তুমি দাজ্জাল। যে ব্যাপারে নবী (সা.) আমাদেরকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তখন দাজ্জাল তার পাশের লোকজনকে লক্ষ্য করে বলবে, যদি আমি মেরে পুনরায় জীবিত করি তাহলে কি তোমরা আমার ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ প্রকাশ করবে তথা আমি যে ইলাহ সে ব্যাপারে? তারা বলবে, না, আমরা সন্দেহ করব না।
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দাজ্জালের কথা যদি আমি তাকে হত্যা করে পুনরায় জীবিত করি তাহলে তোমরা কি আমার ব্যাপারে সন্দেহ করবে? তারা উত্তর দিবে, না। এখানেই সমস্যা রয়েছে। কেননা দাজ্জাল যা প্রকাশ করবে তাতে তার প্রভুত্বের প্রমাণ করবে না। যেহেতু তার সৃষ্টিগত ত্রুটি রয়েছে। সে হবে এক চোখ বিশিষ্ট কানা। আর আমাদের প্রভু ত্রুটিমুক্ত। এটাই প্রমাণ করে যে, সে একজন মিথ্যাবাদী। সে মিথ্যুক হওয়ার আরেকটি প্রমাণ হলো তার কপালে ‘কাফির' লিখা থাকবে। তাহলে এর উত্তর কয়েকভাবে দেয়া যেতে পারে:
১) সম্ভবত তারা তার ভয়েই স্বীকারোক্ত করবে তার প্রতি বিশ্বাসী হয়ে নয়।
২) এটাও সম্ভাবনা রাখে যে, তারা মূলত সত্যই বলেছিল, আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদিতায় কোন সন্দেহ করি না, কেননা যদি কেউ তার মিথ্যাবাদী ও কাফির হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করবে সেও কাফির হয়ে যাবে। অতএব তারা তার ভয়ে বিষয়টি একটি পেঁচিয়ে বলেছিল, আমরা তোমার ব্যাপারে কোনই সন্দেহ করি না।
৩) এটাও সম্ভাবনা রাখে যে, যারা বলেছিল, আমরা তোমরা ব্যাপারে সন্দেহ করি না তারা ছিল ইয়াহূদী ও অন্যান্য হতভাগা কাফির।

(فَيَقُولُ: وَاللَّهِ مَا كُنْتُ فِيكَ أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي الْيَوْمَ) অতঃপর ঐ মুসলিম ব্যক্তি বলবে, আল্লাহর কসম, আজ তুমি মিথ্যাবাদী হওয়ার ধারণা আমার মধ্যে আরো বেড়ে গেল। এরপর তিনি লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলবে, হে লোক সকল! এ লোকই হচ্ছে মাসীহ দাজ্জাল তোমরা তাকে বিশ্বাস করবে না। যে তার আনুগত্য করবে সে জাহান্নামী হবে আর যে তাকে অমান্য করবে সে জান্নাতে যাবে।
ইবনুত তীন দাউদী থেকে বর্ণনা করে বলেন, এ কথা বলার সাথে সাথে দাজ্জাল মাটিতে মিশে যাবে যেমন লবণ পানিতে মিশে যায়।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা'বূদ ৭ম খণ্ড, হা, ৭১৩২; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২২৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮০-[১৭] আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সাঃ) বলেছেন: মাসীহে দাজ্জাল পূর্বদিক থেকে আগমন করে মদীনাহ্ মুনাওয়ারায় প্রবেশ করতে চাইবে। এমনকি সে উহুদ পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পৌছে যাবে। অতঃপর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তার চেহারা (গতি) সিরিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দেবেন এবং সেখানেই সে (ঈসা আলায়হিস সালাম-এর হাতে) ধ্বংস হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَأْتِي الْمَسِيحُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ هِمَّتُهُ الْمَدِينَةُ حَتَّى يَنْزِلَ دُبُرَ أُحُدٍ ثُمَّ تَصْرِفُ الْمَلَائِكَةُ وَجْهَهُ قِبَلَ الشامِ وهنالك يهلِكُ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (لم اجدہ) و مسلم (486 / 1380)، (3351) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ياتي المسيح من قبل المشرق همته المدينة حتى ينزل دبر احد ثم تصرف الملاىكة وجهه قبل الشام وهنالك يهلك» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (لم اجدہ) و مسلم (486 / 1380)، (3351) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (يَأْتِي الْمَسِيحُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ) তথা দাজ্জাল পূর্বদিকে তথা সিরিয়ার দিক থেকে মদীনাহ অভিমুখে আসতে থাকবে। যখন উহুদ পাহাড়ের পিছন দিকে অবস্থান নিবে তখন মালাক (ফেরেশতা) তার মুখকে সিরিয়ার দিকে ফিরিয়ে দিবে। সামনের দিকে আর অগ্রসর হতে পারবে না। এটাই প্রমাণ করে যে, সে রব হওয়ার অক্ষম। কেননা সে অপারগ হয়ে পিছনের দিকে ফিরে যাবে। মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। মক্কায় তো পারবেই না। আর সে সিরিয়াতে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর হাতে নিহত হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২২৪৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮১-[১৮] আবূ বকরাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: দাজ্জালের কোন ধরনের ভয়ভীতি মদীনার অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে না। (সে সময়) মদীনার সাতটি প্রবেশদ্বার থাকবে এবং প্রত্যেক দ্বারে দু’ দু’জন মালাক (ফেরেশতা) (পাহারা দেয়ার জন্য) নিয়োজিত থাকবেন। (বুখারী)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ رُعْبُ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ لَهَا يَوْمَئِذٍ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ عَلَى كُلِّ بَابٍ مَلَكَانِ» رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (1879) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي بكرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يدخل المدينة رعب المسيح الدجال لها يومىذ سبعة ابواب على كل باب ملكان» رواه البخاري رواہ البخاری (1879) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ رُعْبُ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ) মদীনায় দাজ্জালের ভীতি প্রবেশ করতে পারবে না। কেননা মদীনার চতুর্দিকে সাতটি দুর্গ থাকবে। প্রতিটি ফটকের দুর্গের দরজায় দু’জন করে মালাক থাকবে এবং সেখান দিয়ে দাজ্জালের প্রবেশকে প্রতিহত করবে। আবূ নু'আয়ম ফিতান অধ্যায়ে নবী (সা.) এ থেকে বর্ণনা করেন, দাজ্জাল মদীনার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বিশাল এক সৃষ্টিকে দেখে তাকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? তিনি বলবেন, আমি জিবরীল,  আল্লাহ তা'আলা আমাকে পাঠিয়েছেন তার রসূলের মদীনার সম্মানকে রক্ষা করার জন্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বাকরা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮২-[১৯] ফাত্বিমাহ্ বিনতু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে সালাতের জন্য ঘোষণা দিতে শুনতে পেলাম। সালাত শেষ করে তিনি (সা.) মিম্বারে উপবিষ্ট হলেন এবং মুচকি হেসে বললেন, প্রত্যেক লোক নিজ নিজ সালাতের স্থানে বসে থাক। অতঃপর বললেন, তোমরা কি জান, আমি তোমাদেরকে কেন একত্রিত করেছি? সাহাবীগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে কিছু দেয়ার জন্য বা কোন ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য সমবেত করিনি; তোমাদেরকে একত্রিত করেছি বরং তামীম আদ্ দারী-এর বর্ণিত একটি ঘটনা শুনানোর জন্যই। তামীম আদ দারী ছিলেন একজন খ্রিস্টান, তিনি (আমার নিকট) এসে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি আমাকে এমন একটি ঘটনা শুনিয়েছেন, এটা ঐ কথারই সাথে মিল রাখে যা আমি তোমাদেরকে মাসীহে দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছিলাম। তিনি বলেছেন, একবার তিনি ’লাম ও জুযাম’ গোত্রের ত্রিশজন লোকের সঙ্গে একটি সামুদ্রিক নৌকায় সফরে বের হয়েছিলেন। সাগরের ঢেউ তাদেরকে দীর্ঘ একমাস পর্যন্ত এদিক সেদিক ঘুরাতে ঘুরাতে পরিশেষে একদিন সূর্যাস্তের সময় একটি দ্বীপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তারা এমন একটি জানোয়ার দেখতে পেলেন যার সমস্ত দেহ বড় বড় পশমে ঢাকা। অধিক পশমের কারণে তার অগ্র-পশ্চাৎ কিছুই নির্ণয় করা যায়নি। তখন তারা তাকে লক্ষ্য করে বললেন, তোর অকল্যাণ হোক! তুই কে? সে বলল, আমি ’জাসসাসাহ্ (অর্থাৎ গুপ্ত সংবাদ অন্বেষণকারিণী)। তোমাদের তথ্যাদি শুনার ও জানার প্রত্যাশী।

তামীম আদ দারী বলেন, উক্ত জন্তুর কাছে লোকটির কথা শুনে তার প্রতি আমাদের অন্তরে ভয় সঞ্চার হলো যে, তা জিন হতে পারে। তখন আমরা দ্রুত সেখানে গেলাম এবং গির্জায় প্রবেশ করে সেখানে এমন একটি প্রকাণ্ড দেহবিশিষ্ট মানুষ দেখতে পেলাম যা ইতোপূর্বে আমরা আর কখনো দেখতে পাইনি। সে ছিল খুব মজবুত করে বাঁধা অবস্থায়, তার হাত ঘাড়ের সাথে এবং হাঁটুদ্বয় নিচের উভয় গিটের সাথে লৌহশিকল দিয়ে একত্রে বাঁধা ছিল। আমরা তাকে বললাম, তোর অকল্যাণ হোক! তুই কে? সে বলল, নিশ্চয় তোমরা আমার সম্পর্কে জানতে পারবে, তবে তোমরা আগে আমাকে বল দেখি তোমরা কে? তারা বললেন, আমরা ’আরবের লোক। আমরা সমুদ্রে একটি নৌকায় আরোহী ছিলাম দীর্ঘ একমাস সাগরের তরঙ্গ আমাদেরকে এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে এখানে এনে পৌঁছিয়েছে। অতঃপর আমরা এ দ্বীপে প্রবেশ করার পর সারা দেহ ঘন লোমে আবৃত এমন একটি জন্তুর সাথে আমাদের দেখা হলো। সে বলল, আমি ’জাসসাসাহ্।
সে আমাদেরকে এ গির্জায় আসতে বলায় আমরা দ্রুত তোমার কাছে এসে উপস্থিত হয়েছি।

সে বলল, আচ্ছা তোমরা আমাকে বল দেখি! বায়সান এলাকার খেজুর বাগানে ফল আসে কি? (বায়সান হিজাযের একটি জায়গার নাম) আমরা বললাম, হ্যা, আসে। সে বলল, সেই বাগানের গাছে অদূর ভবিষ্যতে ফল ধরবে না। অতঃপর সে বলল, আচ্ছা বল দেখি! ’তবারিয়্যাহ্’-এর নদীতে কি পানি আছে? আমরা বললাম, হ্যা, তাতে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। সে বলল, অচিরেই তার পানি শুকিয়ে যাবে। এবার সে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বল দেখি! ’যোগার’ ঝরনার পানি আছে কি? আর তথাকার অধিবাসীগণ কি উক্ত ঝরনার পানি দ্বারা তাদের ক্ষেত-খামারে চাষাবাদ করে। অতঃপর সে প্রশ্ন করল, আচ্ছা বল দেখি! উম্মিদের নবীর সংবাদ কী? আমরা বললাম, তিনি মক্কাহ থেকে হিজরত করে বর্তমান ইয়াসরিব (মদীনায় অবস্থান করছেন। সে প্রশ্ন করল, বল দেখি! ’আরবরা কি তার সাথে লড়াই করেছিল? আমরা বললাম, হ্যা, করেছে। সে প্রশ্ন করল, তিনি (সে নবী) তাদের সাথে কি আচরণ করেছেন? এর উত্তরে আমরা বললাম যে, তার আশেপাশের ’আরবদের ওপরে তিনি জয়ী হয়েছেন এবং তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেছে। এতদশ্রবণে সে বলল, তোমরা জেনে রাখ! তার আনুগত্য করাই তাদের পক্ষে কল্যাণজনক হয়েছে।

আচ্ছা এখন আমি আমার অবস্থা বর্ণনা করছি আমি মাসীহে দাজ্জাল, অদূর ভবিষ্যতে আমাকে বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হবে। আমি বের হয়ে জমিনে বিচরণ করব। মক্কাহ্-মদীনাহ্ ছাড়া এমন কোন জনপদ বাকি থাকবে না, চল্লিশ দিনের মধ্যে যেখানে আমি প্রবেশ করব না। সেই দু স্থানে প্রবেশ করা আমার ওপরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যখনই আমি তার একটিতে প্রবেশ করতে চাইব, তখন নাঙ্গা তরবারি হাতে মালাক (ফেরেশতা) এসে আমাকে প্রবেশ করা হতে বাধা প্রদান করবে। মূলত তার প্রত্যেক প্রবেশ পথে মালাক পাহারারত রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এ পর্যন্ত বর্ণনা করে রাসূলুল্লাহ (সা.) - নিজ লাঠি দ্বারা মিম্বারে টোকা দিয়ে বললেন, এটা ত্বায়বাহ্, এটা ত্বায়বাহ্, এটা ত্বায়বাহ্ (মদীনাহ্)। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, বল দেখি! এর আগে আমি কি তোমাদেরকে এ হাদীস বর্ণনা করিনি? লোকেরা বলল, জী হ্যা। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, দাজ্জাল সিরিয়ার কোন এক দরিয়ায় অথবা ইয়ামানের কোন এক দরিয়ায় আছে। পরে বললেন, না, বরং সে পূর্বদিক হতে আগমন করবে। এ বলে তিনি (সা.) হাত দ্বারা পূর্বদিকে ইঙ্গিত করলেন। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَن فَاطِمَة بنت قيس قَالَتْ: سَمِعْتُ مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ: «لِيَلْزَمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مُصَلَّاهُ» . ثُمَّ قَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ لِمَ جَمَعْتُكُمْ؟» . قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: إِنِّي وَاللَّهِ مَا جَمَعْتُكُمْ لِرَغْبَةٍ وَلَا لِرَهْبَةٍ وَلَكِنْ جَمَعْتُكُمْ لِأَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلًا نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ وَحَدَّثَنِي حَدِيثًا وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ بِهِ عَنِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ حَدَّثَنِي أَنَّهُ رَكِبَ فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ مَعَ ثَلَاثِينَ رَجُلًا مِنْ لَخْمٍ وَجُذَامَ فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا فِي الْبَحْر فأرفؤُوا إِلَى جَزِيرَةٍ حِينَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ فَجَلَسُوا فِي أقرب سفينة فَدَخَلُوا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْهُمْ دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لَا يَدْرُونَ مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ قَالُوا: وَيْلَكِ مَا أَنْتِ؟ قَالَتْ: أَنَا الْجَسَّاسَةُ قَالُوا: وَمَا الْجَسَّاسَةُ؟ قَالَتْ: أَيُّهَا الْقَوْمُ انْطَلِقُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالْأَشْوَاقِ قَالَ: لَمَّا سَمَّتْ لَنَا رَجُلًا فَرِقْنَا مِنْهَا أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً قَالَ: فَانْطَلَقْنَا سِرَاعًا حَتَّى دَخَلْنَا الدَّيْرَ فَإِذَا فِيهِ أعظمُ إِنسان مَا رَأَيْنَاهُ قطُّ خَلْقاً وأشَدُّهُ وَثَاقاً مجموعةٌ يَده إِلَى عُنُقِهِ مَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى كَعْبَيْهِ بِالْحَدِيدِ. قُلْنَا: وَيْلَكَ مَا أَنْتَ؟ قَالَ: قَدْ قَدَرْتُمْ عَلَى خَبَرِي فَأَخْبِرُونِي مَا أَنْتُمْ؟ قَالُوا: نَحن أُناس من العربِ ركبنَا فِي سفينةٍ بحريّة فلعِبَ بِنَا الْبَحْر شهرا فَدَخَلْنَا الجزيرة فَلَقِيَتْنَا دَابَّةٌ أَهْلَبُ فَقَالَتْ: أَنَا الْجَسَّاسَةُ اعْمِدُوا إِلَى هَذَا فِي الدَّيْرِ فَأَقْبَلْنَا إِلَيْكَ سِرَاعًا وَفَزِعْنَا مِنْهَا وَلَمْ نَأْمَنْ أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً فَقَالَ: أَخْبِرُونِي عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ قُلْنَا: عَنْ أَيِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ؟ قَالَ: أَسْأَلُكُمْ عَنْ نَخْلِهَا هَلْ تُثْمِرُ؟ قُلْنَا: نَعَمْ. قَالَ: أَمَا إِنَّهَا تُوشِكُ أَنْ لَا تُثْمِرَ. قَالَ: أَخْبِرُونِي عَنْ بُحَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ قُلْنَا: عَنْ أَيِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ؟ قَالَ: هَلْ فِيهَا مَاءٌ؟ قُلْنَا هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ. قَالَ: أَمَا إِنَّ مَاءَهَا يُوشِكُ أَنْ يَذْهَبَ. قَالَ: أَخْبِرُونِي عَنْ عَيْنِ زُغَرَ. قَالُوا: وَعَنْ أَيِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ؟ قَالَ: هَلْ فِي الْعَيْنِ مَاءٌ؟ وَهَلْ يَزْرَعُ أَهْلُهَا بِمَاءِ الْعَيْنِ؟ قُلْنَا لَهُ: نعم هِيَ كَثِيرَة المَاء وَأَهله يَزْرَعُونَ مِنْ مَائِهَا. قَالَ: أَخْبِرُونِي عَنْ نَبِيِّ الْأُمِّيِّينَ مَا فَعَلَ؟ قُلْنَا: قَدْ خَرَجَ مِنْ مَكَّةَ وَنَزَلَ يَثْرِبَ. قَالَ: أَقَاتَلَهُ الْعَرَبُ؟ قُلْنَا: نَعَمْ. قَالَ: كَيْفَ صَنَعَ بِهِمْ؟ فَأَخْبَرْنَاهُ أَنَّهُ قَدْ ظَهَرَ عَلَى مَنْ يَلِيهِ مِنَ الْعَرَبِ وأطاعوهُ. قَالَ لَهُم: قد كانَ ذلكَ؟ قُلْنَا: نعم. قَالَ: أَمَا إِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ لَهُمْ أَنْ يُطِيعُوهُ وَإِنِّي مُخْبِرُكُمْ عَنِّي: إِنِّي أَنَا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ وَإِنِّي يُوشِكُ أَنْ يُؤْذَنَ لِي فِي الْخُرُوجِ فَأَخْرُجَ فَأَسِيرَ فِي الْأَرْضِ فَلَا أَدَعُ قَرْيَةً إِلَّا هَبَطْتُهَا فِي أَرْبَعِينَ لَيْلَةً غَيْرَ مَكَّةَ وَطَيْبَةَ هُمَا مُحَرَّمَتَانِ عَلَيَّ كِلْتَاهُمَا كُلَّمَا أَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَ وَاحِدَةً أَوْ وَاحِدًا مِنْهُمَا استقبلَني ملَكٌ بيدهِ السيفُ صَلْتًا يَصُدُّنِي عَنْهَا وَإِنَّ عَلَى كُلِّ نَقْبٍ مِنْهَا مَلَائِكَةً يَحْرُسُونَهَا. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَطَعَنَ بِمِخْصَرَتِهِ فِي الْمِنْبَرِ -: «هَذِه طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ» يَعْنِي الْمَدِينَةَ «أَلَا هَلْ كُنْتُ حَدَّثْتُكُمْ؟» فَقَالَ النَّاسُ: نَعَمْ فَإِنَّهُ أَعْجَبَنِي حَدِيثُ تَمِيمٍ أَنَّهُ وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْهُ وَعَنِ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ. أَلَا إِنه فِي بَحر الشَّأمِ أَو بحرِ اليمنِ لَا بل من قبل الْمشرق ماهو من قبل الْمشرق ماهو من قبل الْمشرق ماهو وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الْمشرق. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (119 / 2942)، (7386) ۔
(صَحِيح)

وعن فاطمة بنت قيس قالت: سمعت منادي رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما قضى صلاته جلس على المنبر وهو يضحك فقال: «ليلزم كل انسان مصلاه» . ثم قال: «هل تدرون لم جمعتكم؟» . قالوا: الله ورسوله اعلم. قال: اني والله ما جمعتكم لرغبة ولا لرهبة ولكن جمعتكم لان تميما الداري كان رجلا نصرانيا فجاء فبايع واسلم وحدثني حديثا وافق الذي كنت احدثكم به عن المسيح الدجال حدثني انه ركب في سفينة بحرية مع ثلاثين رجلا من لخم وجذام فلعب بهم الموج شهرا في البحر فارفووا الى جزيرة حين تغرب الشمس فجلسوا في اقرب سفينة فدخلوا الجزيرة فلقيتهم دابة اهلب كثير الشعر لا يدرون ما قبله من دبره من كثرة الشعر قالوا: ويلك ما انت؟ قالت: انا الجساسة قالوا: وما الجساسة؟ قالت: ايها القوم انطلقوا الى هذا الرجل في الدير فانه الى خبركم بالاشواق قال: لما سمت لنا رجلا فرقنا منها ان تكون شيطانة قال: فانطلقنا سراعا حتى دخلنا الدير فاذا فيه اعظم انسان ما رايناه قط خلقا واشده وثاقا مجموعة يده الى عنقه ما بين ركبتيه الى كعبيه بالحديد. قلنا: ويلك ما انت؟ قال: قد قدرتم على خبري فاخبروني ما انتم؟ قالوا: نحن اناس من العرب ركبنا في سفينة بحرية فلعب بنا البحر شهرا فدخلنا الجزيرة فلقيتنا دابة اهلب فقالت: انا الجساسة اعمدوا الى هذا في الدير فاقبلنا اليك سراعا وفزعنا منها ولم نامن ان تكون شيطانة فقال: اخبروني عن نخل بيسان قلنا: عن اي شانها تستخبر؟ قال: اسالكم عن نخلها هل تثمر؟ قلنا: نعم. قال: اما انها توشك ان لا تثمر. قال: اخبروني عن بحيرة الطبرية قلنا: عن اي شانها تستخبر؟ قال: هل فيها ماء؟ قلنا هي كثيرة الماء. قال: اما ان ماءها يوشك ان يذهب. قال: اخبروني عن عين زغر. قالوا: وعن اي شانها تستخبر؟ قال: هل في العين ماء؟ وهل يزرع اهلها بماء العين؟ قلنا له: نعم هي كثيرة الماء واهله يزرعون من ماىها. قال: اخبروني عن نبي الاميين ما فعل؟ قلنا: قد خرج من مكة ونزل يثرب. قال: اقاتله العرب؟ قلنا: نعم. قال: كيف صنع بهم؟ فاخبرناه انه قد ظهر على من يليه من العرب واطاعوه. قال لهم: قد كان ذلك؟ قلنا: نعم. قال: اما ان ذلك خير لهم ان يطيعوه واني مخبركم عني: اني انا المسيح الدجال واني يوشك ان يوذن لي في الخروج فاخرج فاسير في الارض فلا ادع قرية الا هبطتها في اربعين ليلة غير مكة وطيبة هما محرمتان علي كلتاهما كلما اردت ان ادخل واحدة او واحدا منهما استقبلني ملك بيده السيف صلتا يصدني عنها وان على كل نقب منها ملاىكة يحرسونها. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم - وطعن بمخصرته في المنبر -: «هذه طيبة هذه طيبة هذه طيبة» يعني المدينة «الا هل كنت حدثتكم؟» فقال الناس: نعم فانه اعجبني حديث تميم انه وافق الذي كنت احدثكم عنه وعن المدينة ومكة. الا انه في بحر الشام او بحر اليمن لا بل من قبل المشرق ماهو من قبل المشرق ماهو من قبل المشرق ماهو واوما بيده الى المشرق. رواه مسلم رواہ مسلم (119 / 2942)، (7386) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ) তিনি (সা.) মিম্বার তথা কাষ্ঠ দ্বারা নির্মিত আসনের উপর বসলেন। তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, (صعد المنبر) তিনি (সা.) মিম্বারে চড়লেন। এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে উপদেশ দাতার মিম্বারে বসে উপদেশ দেয়া জায়িয। কিন্তু জুমু'আর সালাতে অবশ্যই দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিতে হবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২২৫৩)।

(لِأَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلًا نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ) কেননা তামিম আদ্ দারী একজন খ্রিষ্টান লোক ছিলেন, সে এসে আমার কাছে মুসলিম হয়েছে এবং আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন আর তা অনুকল হয়েছে সেই হাদীসের যা আমি তোমাদেরকে মাসিহে দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণনা করেছিলাম। এটা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সেই হাদীসের বাস্তব নমুনা যা তিনি বলেছেন, (رُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلِى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ) ‘অনেক জ্ঞানবহনকারী জ্ঞান-শিক্ষা দাতার চেয়ে বেশি জানেন। এখান থেকে জানা যায় যে, বড়রা ছোটদের থেকে হাদীস বর্ণনা করতে পারেন। যেহেতু নবী (সা.) বলেছেন, (كَلِمَةُ الْحِكْمَةُ ضَالَّةُ الْمُؤْمِنِ فَحَيْثُ وَجَدَهَا فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا) “প্রজ্ঞাময় কথা মু'মিনের হারানোর সম্পদ, সে যেখানেই তা পাবে অধিক হকদার হবে’- (তিরমিযী হা, ২৬৮৭ [হাদিসটি য’ঈফ-হাদিসবিডি এডমিন])।

আর ‘আলী (রাঃ) বলেন, (انْظُرْإِلَى مَاقَالَ، وَلَاتَنْظُرْ إِلَى مَنْ قَالَ) ‘কি বলেছে তা দেখ, কে বলেছে তার দিকে দেখো না।' (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(أَنَا الْجَسَّاسَةُ) আমি একজন গুপ্তচর। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাকে (جَسَّاسَ) বা গোয়েন্দা নামকরণ কারণ হলো সে দাজ্জাল সম্পর্কে সংবাদ অনুসন্ধান করত। আর ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আস থেকে বর্ণিত হয়েছে সে ছিল পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত দাব্বাতুল আরয। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২২৫৩)
 
‘আওনুল মা'বুদ গ্রন্থে (جَسَّاسَ) বা গোয়েন্দা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সে একজন লম্বা চুলবিশিষ্ট মহিলা। তাহলে উভয় বর্ণনার মাঝে সমন্বয় হতে পারে এভাবে, হয়তো দাজ্জালের গোয়েন্দা ছিল দু’জন। একজন দাব্বাতুল আরয আর অপরজন মহিলা। অথবা সম্ভবত গোয়েন্দাটি ছিল একজন শয়তান। সে কখনো দাব্বার আকৃতি ধারণ করত আবার কখনো মহিলার আকৃতি ধারণ করত। আর শয়তান তো বিভিন্ন রূপধারণ করার ক্ষমতা রাখেই। ('আওনুল মা'বূদ ৭ম খণ্ড, হা, ৪৩১৭)

(قُلْنَا: وَيْلَكَ مَا أَنْتَ؟) আমরা বললাম, তোমার ধ্বংস হোক তুমি কে? এখানে সাহাবীগণ আশ্চর্য হয়ে (مَنْ) এর স্থলে (مَا) বলে ফেলেছেন। যেহেতু সে একজন ব্যক্তি ছিল তাই তার পরিচয় ও তার অবস্থা জানার জন্যই তারা তাকে সম্মোধন করে প্রশ্ন করেছিল। আরবী ভাষায় কখনো (مَا) অব্যয়টি (مَنْ) অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন পবিত্র কুরআনে এসেছে, (وَ السَّمَآءِ وَ مَا بَنٰهَا) “শপথ আসমানের আর সেটা যিনি বানিয়েছেন তাঁর”(সূরা আশ শামস্ ৯১: ৫)। আর আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সম্ভবত তারা তাদের ধারণা বহির্ভূত আশ্চর্যজনক প্রাণীকে দেখে তার অবস্থা জানার জন্য (مَنْ أَنْتَ) এর স্থলে (مَا أَنْتَ) বলে ফেলেছে।

(فَأَخْبِرُونِي مَا أَنْتُمْ؟) তোমরা আমাকে বল, তোমরা কে? এখানে দাজ্জাল ও তাদের মতো করেই প্রতি উত্তর করল। কেননা সেও অনুমান করতে পারেনি এই স্থানে মানুষ কোথা থেকে এলো। তাই তাদের পরিচয় জানতে জিজ্ঞেস করল, (أَخْبِرُونِي مَا أَنْتُمْ؟) বল তোমরা কে? আর তোমাদেরকে আমি যেসব প্রশ্ন করব তার উত্তর দাও। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।

 (أَلَا إِنه فِي بَحر الشَّأمِ أَو بحرِ اليمنِ) “সাবধান! নিশ্চয় সে (দাজ্জাল) সিরিয়ার পার্শ্বের সাগরে অথবা ইয়ামানের সাগরের পার্শ্বে অবস্থান করছে।” তিনি (তামীম আদ দারী-এর কথা অনুযায়ী) স্পষ্ট করে তার অবস্থান বর্ণনা করেননি। এতে কোন কল্যাণ থাকতে পারে। যেহেতু ‘আরবগণ সে সময় এই দুই সাগরেই গমন করত। মূলত সাগর একটাই যা আরব উপদ্বীপের পাশ দিয়ে দীর্ঘভাবে প্রবাহিত হয়েছে। এরপর তিনি উক্ত মত দুটিকে বাতিল করে সঠিক মতামত পেশ করে হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলেন যে, সে পূর্বদিক থেকে আবির্ভূত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮৩-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বললেন, আমি আজ রাত্রে (স্বপ্নে) দেখেছি যে, আমি কা’বার কাছে উপস্থিত। সেখানে আমি গৌরবর্ণের এক লোককে দেখতে পেলাম। যিনি তোমার দেখা গৌরবর্ণের সর্বাপেক্ষা সুন্দর লোকদের অন্যতম। তার দীর্ঘ চুল ছিল, যা তোমার দেখা সর্বাপেক্ষা সুন্দর বাবরি চুলের অন্যতম ছিল। যেগুলোকে সে আঁচড়িয়ে গোছগাছ করে রেখেছিল উক্ত চুল থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরে পড়ছিল। তিনি দুই ব্যক্তির কাঁধের উপর ভর করে কা’বা ঘরের তাওয়াফ করছিলেন। আমি প্রশ্ন করলাম, এ লোকটি কে? উত্তরে (ফেরেশতাগণ) বললেন, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। অতঃপর আমি আরেক লোককে দেখলাম, যার কেশ ছিল সম্পূর্ণ কোঁকড়ানো, জটবাঁধা। আর তার ডান চোখ ছিল কানা, দেখতে যেন চক্ষুটি ফোলা আঙ্গুরের মতো। লোকেদের মধ্যে (ইয়াহূদী) ইবনু কতান-এর সাথে যার বাহুলাংশে সাদৃশ্য বা মিল রয়েছে। সেও দুই লোকের কাঁধে ভর করে কা’বা ঘর ত্বাওয়াফ করছে। আমি প্রশ্ন করলাম, এ লোকটি কে? উত্তরে তারা বললেন, এটা মাসীহে দাজ্জাল। (বুখারী ও মুসলিম)

অপর এক বর্ণনাতে তিনি দাজ্জালের বর্ণনায় বলেছেন, সে লাল বর্ণের, মোটা দেহ, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চক্ষু কানা, মানুষের মাঝে ইবনু কতানই তার কাছাকাছি সাদৃশ্য। আর আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস (لَا تَقُومُ السَّاعَةُ) “মহাযুদ্ধ অধ্যায়"-এ বর্ণিত হয়েছে। আর ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর হাদীস (قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاس) শীঘ্রই (بْن الصياد) -এর ঘটনায় বর্ণনা করব- ইনশা-আল্ল-হ!

الفصل الاول (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: رَأَيْتُنِي اللَّيْلَةَ عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَرَأَيْتُ رَجُلًا آدَمَ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنْ أُدْمِ الرِّجَالِ لَهُ لِمَّةٌ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنَ اللِّمَمِ قد رجَّلَها فَهِيَ تقطر مَاء متكأ عَلَى عَوَاتِقِ رَجُلَيْنِ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَسَأَلْتُ: مَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: هَذَا الْمَسِيح بن مَرْيَمَ قَالَ: ثُمَّ إِذَا أَنَا بَرْجُلٍ جَعْدٍ قَطَطٍ أَعْوَرِ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ كَأَشْبَهِ مَنْ رَأَيْتُ مِنَ النَّاسِ بِابْنِ قَطَنٍ وَاضِعًا يَدَيْهِ عَلَى مَنْكِبَيْ رَجُلَيْنِ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَسَأَلْتُ مَنْ هَذَا؟ فَقَالُوا: هَذَا الْمَسِيحُ الدَّجَّالُ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ فِي الدَّجَّالِ: «رَجُلٌ أَحْمَرُ جَسِيمٌ جَعْدُ الرَّأْسِ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا ابْنُ قَطَنٍ» وَذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي هُرَيْرَةَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا» فِي «بَابِ الْمَلَاحِمِ» وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاس فِي «بَاب قصَّة ابْن الصياد» إِن شَاءَ الله تَعَالَى

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3440 و الروایۃ الثانیۃ : 2441) و مسلم (274 ، 273 / 169، (425) و الروایۃ الثانیۃ : 277 / 171)، (426) 0 حدیث ابن عمر : قام رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم فی الناس یاتی (5494) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عبد الله بن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: رايتني الليلة عند الكعبة فرايت رجلا ادم كاحسن ما انت راء من ادم الرجال له لمة كاحسن ما انت راء من اللمم قد رجلها فهي تقطر ماء متكا على عواتق رجلين يطوف بالبيت فسالت: من هذا؟ فقالوا: هذا المسيح بن مريم قال: ثم اذا انا برجل جعد قطط اعور العين اليمنى كان عينه عنبة طافية كاشبه من رايت من الناس بابن قطن واضعا يديه على منكبي رجلين يطوف بالبيت فسالت من هذا؟ فقالوا: هذا المسيح الدجال . متفق عليه. وفي رواية: قال في الدجال: «رجل احمر جسيم جعد الراس اعور عين اليمنى اقرب الناس به شبها ابن قطن» وذكر حديث ابي هريرة: «لا تقوم الساعة حتى تطلع الشمس من مغربها» في «باب الملاحم» وسنذكر حديث ابن عمر: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الناس في «باب قصة ابن الصياد» ان شاء الله تعالى متفق علیہ ، رواہ البخاری (3440 و الروایۃ الثانیۃ : 2441) و مسلم (274 ، 273 / 169، (425) و الروایۃ الثانیۃ : 277 / 171)، (426) 0 حدیث ابن عمر : قام رسول اللہ صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم فی الناس یاتی (5494) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (رَأَيْتُنِي اللَّيْلَةَ عِنْدَ الْكَعْبَةِ) আমি গতরাতে আমাকে কা'বা ঘরের পার্শ্বে দেখেছি। নবীদের স্বপ্ন সত্য। তাদের স্বপ্নে দেখা বাস্তবে দেখার মতই, আমি বাদামী রঙের সুন্দর গঠনের একজন মানুষকে দেখেছি, যার চুলগুলো কানের লতি অতিক্রম করেছে। তার চুল ছিল পরিপাটি ও ঝলমলে, মনে হয় যেন পানি ঝরে পড়ছে। দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে কা'বা ঘরের ত্বাওয়াফ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইনি কে? তাওয়াফকারীগণ অথবা ফেরেশতাগণ উত্তর দিল, তিনি হচ্ছেন মারইয়াম আলায়হিস সালাম-এর পুত্র ঈসা মাসীহ।
নবী (সা.) বলেন, এরপর আমি ঘন কোকড়ানো চুলবিশিষ্ট ডান চোখ ত্রুটিযুক্ত, আলোহীন, আঙ্গুরের মত ফোলা উপরে উঠানো লোককে দেখলাম যে, ইবনু কতান নামক ইয়াহুদীর মতো সাদৃশ্য রাখে। সে দু’জন লোকের কাঁধে হাত রেখে বায়তুল্লাহর ত্বাওয়াফ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সে কে? মালাক (ফেরেশতা) অথবা তাওরাফকারীগণ উত্তর দিলেন, সে হচ্ছে মাসীহুদ দাজ্জাল।
‘আল্লামাহ্ তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দাজ্জালকে মাসীহ বলার কারণ হলো সে কল্যাণ থেকে বঞ্চিত তাই। আর ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-কে মাসীহ বলা হয় যেহেতু তার হাতের স্পর্শে কুষ্ঠরোগী ভালো হয়ে যেত অথবা তিনি তার মায়ের পেট থেকে তেল মালিশের মাধ্যমে বেরিয়ে আসেন তাই। দাজ্জালকে মাসীহ বলার আরেকটি কারণ হলো তার একচোখ মুছে ফেলা হয়েছিল সে কিছুই দেখতে পেত না অথবা সে অল্প কিছুদিনের মধ্যে পুরো দুনিয়া প্রদক্ষিণ করার ক্ষমতা রাখবে। শুধু মক্কাহ্ ও মদীনাহ্ ছাড়া সেজন্য। আর দাজ্জালকে মাসীহু দাজ্জাল নামকরণের মাধ্যমে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম থেকে আলাদা করা হয়েছে। মূলত মাসীহ হলেন ‘ঈসা আলায়হিস্ সালাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮৪-[২১] ফাতিমাহ বিনতু কায়স (রাঃ) তামীম আদ্ দারী-এর ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, তামীম আদ দারী বলেছেন, সেই দ্বীপে প্রবেশ করলে আমি সেখানে এমন একটি নারীর সাক্ষাৎ পেলাম যার মাথার কেশ এত লম্বা যে, তা জমিনে হিচড়িয়ে চলে। তামীম প্রশ্ন করলেন, তুমি কে? সে বলল, আমি ’জাসসাসাহ্ (গোপন তথ্য অন্বেষণকারিণী)। অতঃপর সে বলল , তুমি এ প্রাসাদের দিকে যাও। অতএব আমি সেখানে আসলাম। সেখানে লম্বা লম্বা চুলবিশিষ্ট এমন এক ব্যক্তিকে দেখলাম যে দৃঢ়ভাবে লোহার শিকলে বাঁধা, আসমান জমিনের মাঝখানে লাফালাফি করছে। আমি প্রশ্ন করলাম, তুই কে? সে বলল, আমি দাজ্জাল। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فِي حَدِيثِ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ: قَالَتْ: قَالَ: فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ تَجُرُّ شَعَرَهَا قَالَ: مَا أَنْتِ؟ قَالَتْ: أَنَا الْجَسَّاسَةُ اذْهَبْ إِلَى ذَلِكَ الْقَصْرِ فَأَتَيْتُهُ فَإِذَا رَجُلٌ يَجُرُّ شَعَرَهُ مُسَلْسَلٌ فِي الْأَغْلَالِ يَنْزُو فِيمَا بَيْنُ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ. فَقُلْتُ: مَنْ أَنْتَ؟ قَالَ: أَنا الدَّجَّال . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

حسن ، رواہ ابوداؤد (4325) ۔
(صَحِيح)

عن فاطمة بنت قيس في حديث تميم الداري: قالت: قال: فاذا انا بامراة تجر شعرها قال: ما انت؟ قالت: انا الجساسة اذهب الى ذلك القصر فاتيته فاذا رجل يجر شعره مسلسل في الاغلال ينزو فيما بين السماء والارض. فقلت: من انت؟ قال: انا الدجال . رواه ابو داود حسن ، رواہ ابوداؤد (4325) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَإِذَا أَنَا بِامْرَأَةٍ) তামীম আদ দারী-এর বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, আমি একজন মহিলার পাশ দিয়ে গেলাম। এখানে মহিলাটি ছিল দাজ্জালের গুপ্তচর। অন্য হাদীসে দাব্বাতুল আরয বলা হয়েছে। সম্ভবত উক্ত মহিলাকেই দাব্বা বলা হয়েছে। কেননা দাব্বা বলতে ‘আরবীতে প্রত্যেকই প্রাণীকে বুঝায় যারা জমিনে চলাচল করে। যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী, (مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ رِزۡقُهَا) “পৃথিবীতে চলমান প্রতিটি প্রাণীর রিকের দায়িত্ব আল্লাহর”- (সূরা হুদ ১১: ৬)। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, হা. ৪৩২০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮৫-[২২] ’উবাদাহ্ ইবনুস সামিত (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমি তোমাদের কাছে দাজ্জালের কথা বারংবার আলোচনা করেছি, তবুও এই আশঙ্কা করছি যে, তোমরা তার প্রকৃত অবস্থা বুঝতে নাও পার। (জেনে রাখ) মাসীহে দাজ্জাল হবে খাটো, পায়ের নলা লম্বা লম্বা চুল খুব কোঁকড়ানো, এক চোখ কানা, অপর চোখ সমান। অর্থাৎ একেবারে ভিতরেও ডুবে থাকেনি এবং বাইরেও উঠে থাকেনি। এরপরও যদি তোমরা সন্দেহে পড়ে যাও, তাহলে এ কথা স্মরণ রাখ যে, তোমাদের প্রভু কানা নন। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنِّي حَدَّثْتُكُمْ عَنِ الدَّجَّالِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ لَا تَعْقِلُوا. إِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ قَصِيرٌ أَفْحَجُ جَعْدٌ أَعْوَرُ مَطْمُوسُ الْعَيْنِ لَيْسَتْ بِنَاتِئَةٍ وَلَا حَجْرَاءَ فَإِنْ أُلْبِسَ عَلَيْكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

حسن ، رواہ ابوداؤد (4320) ۔
(صَحِيح)

وعن عبادة بن الصامت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اني حدثتكم عن الدجال حتى خشيت ان لا تعقلوا. ان المسيح الدجال قصير افحج جعد اعور مطموس العين ليست بناتىة ولا حجراء فان البس عليكم فاعلموا ان ربكم ليس باعور» رواه ابو داود حسن ، رواہ ابوداؤد (4320) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (إِنِّي حَدَّثْتُكُمْ عَنِ الدَّجَّالِ) উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) বলেন, আমি দাজ্জাল সম্পর্কে তোমাদেরকে যত বিবরণ দিয়েছি যাতে আমার ভয় হচ্ছে যে, তোমরা তার সম্পর্কে ভুলেই যাবে, কিছুই বুঝতে পারবে না। এজন্যই তোমরা ভালোভাবে বুঝে নাও।
(فَإِنْ أُلْبِسَ عَلَيْكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ) যদি তোমাদের দাজ্জাল সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করা হয় প্রভু অর্থাৎ দাজ্জাল তোমাদেরকে অলৌকিক কিছু প্রদর্শন করে নিজেকে ইলাহ বলে দাবী করে আর তোমরা তা বুঝতে অক্ষম হও তাহলে জেনে রেখো তোমাদের প্রভু কিন্তু ত্রুটিমুক্ত। দাজ্জাল হবে ত্রুটিপূর্ণ। তার একচক্ষু আলোহীন হবে আরেক চক্ষু আঙ্গুরের মতো ফুলা হবে, উপরের দিকে উঠানো থাকবে। এটিই প্রমাণ করবে সে একজন মিথ্যাবাদী। ইলাহ হওয়ার উপযুক্ত নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ; 'আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, হা. ৪৩২০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮৬-[২৩] আবূ উবায়দাহ্ ইবনুল জাররাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) - কে বলতে শুনেছি। (রাসূল [সা.] বলেছেন) নূহ আলাইহিস সালাম-এর পরে এমন কোন নবী আগমন করেননি, যিনি স্বীয় জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করেননি। আমিও তদ্রূপ তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করছি। তারপর তিনি (সা.) আমাদেরকে তার বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বললেন, হয়তো তোমাদের কেউ, যে আমাকে দেখেছে অথবা যে আমার কথা শুনেছে, সে দাজ্জালকে পেতে পারে। তারা প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। তখন আমাদের অন্তরসমূহের অবস্থা কিরূপ হবে? বললেন, বর্তমানে যেরূপ আছে। অর্থাৎ আজ যেমন তখনো তেমন বা এটা অপেক্ষা শ্রেয়। (তিরমিযী ও আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَن أَي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ بَعْدَ نُوحٍ إِلَّا قَدْ أَنْذَرَ الدجالَ قومَه وإِني أُنذركموه» فرصفه لَنَا قَالَ: «لَعَلَّهُ سَيُدْرِكُهُ بَعْضُ مَنْ رَآنِي أَوْ سَمِعَ كَلَامِي» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ قُلُوبُنَا يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «مِثْلُهَا» يَعْنِي الْيَوْمَ «أوخير» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

حسن ، رواہ الترمذی (2234 وقال : غریب) و ابوداؤد (4756)

وعن اي عبيدة بن الجراح قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «انه لم يكن نبي بعد نوح الا قد انذر الدجال قومه واني انذركموه» فرصفه لنا قال: «لعله سيدركه بعض من راني او سمع كلامي» . قالوا: يا رسول الله فكيف قلوبنا يومىذ؟ قال: «مثلها» يعني اليوم «اوخير» . رواه الترمذي وابو داود حسن ، رواہ الترمذی (2234 وقال : غریب) و ابوداؤد (4756)

ব্যাখ্যা: (إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ بَعْدَ نُوحٍ إِلَّا قَدْ أَنْذَرَ الدجالَ) নূহ আলায়হিস সালাম-এর পর প্রত্যেক নবীই তাদের সম্প্রদায়কে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। নূহ আলায়হিস সালাম ও তার জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন কিন্তু তার পরবর্তীগণ আরো বেশি করে সতর্ক করেছেন। অত্র হাদীসে নূহ আলায়হিস সালাম-এর পর বলতে নূহ আলায়হিস সালাম কে বাদ দিয়ে নয় বরং তিনি সহ বুঝানো হয়েছে।
(لَعَلَّهُ سَيُدْرِكُهُ بَعْضُ مَنْ رَآنِي) যারা আমাকে দেখেছে তারা হয়তো অচিরেই দাজ্জালের দেখা পেতে পারে। অর্থাৎ তার আগমন অতি নিকটে। আর যারা আমার কথা শুনেছে তারাও অথবা যারা আমার হাদীস শুনেছে তথা যাদের কাছে আমার হাদীস পৌছেছে, তারাও দাজ্জালের দেখা পেতে পারে যদিও কিছু দিন দেরি হয়। হাদীসে উল্লেখিত (أو) অব্যয়টি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সন্দেহমূলক নয় বরং ধরণ উল্লেখ উদ্দেশ্য। তথা যারা আমাকে দেখেছে আমার কথা শুনেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
সকল নবী 'আলায়হিস সালাম দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং তার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে এমনকি সলাতের মধ্যেও। তথাপি কুরআনুল কারীমে স্পষ্ট তার সম্পর্কে কোন স্পষ্ট বর্ণনা নেই, এর মধ্যে কি হিকমাত নিহিত রয়েছে? এর উত্তর কয়েকভাবে দেয়া যেতে পারে।
এক: আল্লাহ তা'আলার এই বাণীর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে: (... یَوۡمَ یَاۡتِیۡ بَعۡضُ اٰیٰتِ رَبِّکَ لَا یَنۡفَعُ نَفۡسًا اِیۡمَانُهَا لَمۡ تَکُنۡ اٰمَنَتۡ مِنۡ قَبۡلُ اَوۡ کَسَبَتۡ فِیۡۤ اِیۡمَانِهَا خَیۡرًا...)
“যেদিন তোমার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন প্রকাশ পাবে সেদিন ঐসব ব্যক্তির ঈমান কোনই কাজে আসবে না যারা ইতোপূর্বে ঈমান আনয়ন করেনি এবং ঈমান অনুযায়ী সৎকাজ করেনি?”
(সূরা আল আ'আম ৬: ১৫৮)
ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সুনান গ্রন্থে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনটি আলামত যখন প্রকাশ পাবে তখন ঐ সব ব্যক্তির ঈমান কোনই কাজে আসবে না যারা ইতোপূর্বে ঈমান আনেনি। দাজ্জালের আগমন, দাব্বাতুল আরয এবং সূর্য পশ্চিমদিক থেকে উদিত হওয়া।

দুই: পবিত্র কুরআনে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম -এর অবতীর্ণ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ اِنۡ مِّنۡ اَهۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِهٖ قَبۡلَ مَوۡتِهٖ) “আহলে কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণি রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম -এর ওপর তাদের মৃত্যুর পূর্বেই।” (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৫৯)
সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, “ঈসা আলায়হিস সালাম দাজ্জালকে হত্যা করবেন। আল্লাহ তা'আলা একজনের উল্লেখ দ্বারা তার বিপরীতটা উল্লেখ না করাকে যথেষ্ট মনে করেছেন।

তিন: আল্লাহ তা'আলা তাকে হীন ও তুচ্ছ ভেবে তার নাম কুরআনে উল্লেখ না করে তার পরবর্তী ইয়াজুজ মাজুজ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। যা পরোক্ষভাবে উল্লেখ হয়ে যায়। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২২৩৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮৭-[২৪] ’আমর ইবনু হুরায়স (রহিমাহুল্লাহ) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল পূর্বাঞ্চলের খুরাসান এলাকা থেকে বের হবে, এমন এক গোত্র তার আনুগত্য গ্রহণ করবে যাদের চেহারা হবে ঢালের মতো চ্যাপ্টা। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصّديق قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الدَّجَّالُ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضٍ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا: خُرَاسَانُ يَتْبَعُهُ أَقْوَامٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ المجانّ المطرقة . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

حسن ، رواہ الترمذی (2237 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح)

وعن عمرو بن حريث عن ابي بكر الصديق قال: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الدجال يخرج من ارض بالمشرق يقال لها: خراسان يتبعه اقوام كان وجوههم المجان المطرقة . رواه الترمذي حسن ، رواہ الترمذی (2237 وقال : حسن غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (الدَّجَّالُ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضٍ بِالْمَشْرِقِ) দাজ্জাল পূর্বদিক থেকে যাকে সিরিয়া বলা হয় সেই দেশে আত্মপ্রকাশ করবে। আর যারা তাকে অনুসরণ করবে তাদের মুখের আকৃতি হবে ঢালের মতো প্রশস্ত মুখবিশিষ্ট। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২২৩৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮৮-[২৫] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি দাজ্জালের আগমনের সংবাদ শুনে, সে যেন তার নিকট থেকে দূরে সরে থাকে। আল্লাহর শপথ! কোন ব্যক্তি নিজেকে মুমিন ধারণা করে তার কাছে যাবে, কিন্তু তার তেলেসমাতি কর্মকাণ্ডের ধোঁকায় পড়ে সে তার অনুকরণ করে ফেলবে। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَمِعَ بالدجال فلينأ مِنْهُ فو الله إِنَّ الرَّجُلَ لَيَأْتِيهِ وَهُوَ يَحْسِبُ أَنَّهُ مُؤْمِنٌ فَيَتَّبِعُهُ مِمَّا يَبْعَثُ بِهِ مِنَ الشُّبُهَاتِ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4319) ۔
(صَحِيح)

وعن عمران بن حصين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سمع بالدجال فلينا منه فو الله ان الرجل لياتيه وهو يحسب انه مومن فيتبعه مما يبعث به من الشبهات» رواه ابو داود اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4319) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (مَنْ سَمِعَ بالدجال فلينأ مِنْهُ) যে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের কথা শুনবে, সে যেন তার থেকে দূরে থাকে এবং তার থেকে দূরে থাকাই সৌভাগ্যবান হবে। কেননা সে তার অলৌকিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্বাস করে তার অনুসরণ করে ফেলতে পারে, যা তাকে কাফির বানিয়ে দিবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, হা, ৪৩১১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৮৯-[২৬] আসমা বিনতু ইয়াযীদ ইবনুস সাকান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল চল্লিশ বছর জমিনে থাকবে। এর বছর হবে মাসের মতো, মাস হবে সপ্তাহের মতো এবং সপ্তাহ হবে এক দিনের মতো। আর দিন হবে খেজুরের একটি শুকনা ডাল আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হওয়ার সময়ের মতো। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَن أَسمَاء بنت يزِيد بن السَّكن قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَمْكُثُ الدَّجَّالُ فِي الْأَرْضِ أَرْبَعِينَ سَنَةً السَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَالشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَالْجُمُعَةُ كَالْيَوْمِ وَالْيَوْمُ كَاضْطِرَامِ السَّعَفَةِ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ»

اسنادہ حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (15 / 62 ح 4264) [و احمد (6 / 454 ح 28123 ، 6 / 459 ح 28152)] ۔
(صَحِيح)

وعن اسماء بنت يزيد بن السكن قالت: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «يمكث الدجال في الارض اربعين سنة السنة كالشهر والشهر كالجمعة والجمعة كاليوم واليوم كاضطرام السعفة في النار» . رواه في «شرح السنة» اسنادہ حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (15 / 62 ح 4264) [و احمد (6 / 454 ح 28123 ، 6 / 459 ح 28152)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (يَمْكُثُ الدَّجَّالُ فِي الْأَرْضِ أَرْبَعِينَ سَنَةً) দাজ্জাল পৃথিবীতে ৪০ বছর অবস্থান করবে। ইতোপূর্বে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, দাজ্জাল ৪০ দিন অবস্থান করবে। অতএব উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয় হবে অবস্থা ও পরিমাণে তারতম্যের মাধ্যমে যেমনটি অত্র হাদীসে ইঙ্গিত বহন করছে। একটি বছর একটি মাসের মতো দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। মাস একটি জুমু'আর মতো তথা সপ্তাহের মত মনে হবে। আর সপ্তাহ দিনের মতো মনে হবে। আর দিন এত দ্রুত শেষ হবে যেমন একটি খেজুর গাছের ডাল আগুনে পুড়তে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় মনে হবে, তথা একটি দিন একটি ঘণ্টার ন্যায় দ্রুত শেষ হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৯০-[২৭] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক দাজ্জালের আনুগত্য স্বীকার করবে, তাদের মাথায় থাকবে সবুজ বর্ণের নিকাব। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا عَلَيْهِمُ السِّيجَانُ» . رَوَاهُ فِي شرح السّنة

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (15 / 62 ح 4265) * فیہ ابو ھارون العبدی متروک متھم و حدیث مسلم (2944)، (7392) یخالفہ ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يتبع الدجال من امتي سبعون الفا عليهم السيجان» . رواه في شرح السنة اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (15 / 62 ح 4265) * فیہ ابو ھارون العبدی متروک متھم و حدیث مسلم (2944)، (7392) یخالفہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِنْ أُمَّتِي) আমার উম্মতের একটি দল (তারা হবে ইস্ফাহানের ইয়াহূদী মতাবলম্বী) তাদের সংখ্যা হবে ৭০ হাজার যাদের মাথায় সবুজ রং অংকিত মুকুট থাকবে। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ৭০ হাজার লোক সকলেই যদি সম্পদশালী হন তাহলে দরিদ্রের অবস্থা কি হতে পারে? মিরক্বাতুল মাফাতীহ গ্রন্থকার বলেন, দরিদ্ররা আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকবে তাদের অনুসরণ করবে না। তবে যারা সম্পদের লোভী হবে তারা অনুসরণ করবে। যেমনটি ধনীরা আরো সম্পদশালী হওয়ার জন্য তার অনুসরণ করবে। যদিও অনুসৃত ব্যক্তি, বাতিলপন্থী হয়ে থাকে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৯১-[২৮] আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার গৃহে ছিলেন এবং দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বললেন, দাজ্জালের আগমনের পূর্বের তিন বছর এরূপ হবে যে, এটার প্রথম বছর আসমান তার এক-তৃতীয়াংশ বর্ষণ এবং জমিন তার এক-তৃতীয়াংশ ফলন বন্ধ রাখবে। দ্বিতীয় বছর আসমান তার দুই-তৃতীয়াংশ বর্ষণ তার জমিন তার দুই-তৃতীয়াংশ ফলন বন্ধ রাখবে। আর শেষ তৃতীয় বছর আসমান তার সমস্ত বর্ষণ এবং জমিন তার সমুদয় ফলন বন্ধ রাখবে, ফলে ক্ষুরবিশিষ্ট প্রাণী (যেমন- গরু, ছাগল প্রভৃতি) এবং শিকারী দাঁতবিশিষ্ট জন্তু (যেমন- হিংস্র জানোয়ার) নিঃশেষ হয়ে যাবে। দাজ্জালের সর্বাধিক মারাত্মক ফিতনাহ এটা হবে যে, সে কোন বেদুঈনের কাছে এসে বলবে, বল তো, যদি আমি তোমার মৃত উটগুলো জীবিত করে দেই, তাহলে তুমি কি বিশ্বাস করবে যে, আমি তোমাদের প্রভু? সে বলবে, হ্যাঁ, তখন শয়তান তার উটের আকৃতিতে উত্তম স্তন এবং মোটাতাজা কুঁজবিশিষ্ট অবস্থায় সামনে উপস্থিত হবে। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর দাজ্জাল এমন এক ব্যক্তির কাছে আসবে যার ভাই এবং পিতা মারা গেছে। তাকে বলবে, তুমি বল তো, যদি আমি তোমার পিতা ও ভাইদের জীবিত করে দেই তবে কি তুমি আমাকে তোমার প্রভু বলে বিশ্বাস করবে না? সে বলবে, হ্যা, নিশ্চয় বিশ্বাস করব। তখন শায়তান তার পিতা ও ভাইয়ের হুবহু আকৃতি ধারণ করে আসবে। আসমা (রাঃ) বলেন, এ পর্যন্ত আলোচনা করে তিনি (সা.) স্বীয় কোন প্রয়োজনে বাইরে গেলেন, এবং পরে ফিরে আসলেন।

এদিকে দাজ্জালের এ সমস্ত তাণ্ডবের কথা শুনে উপস্থিত লোকেরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পতিত হলো। আসমা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন দরজায় উভয় বাজুতে হাত রেখে বললেন, হে আসমা’! কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনায় আপনি তো আমাদের কলিজা বের করে ফেলেছেন। তখন তিনি বললেন, (দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই) সে যদি বের হয় আর আমি জীবিত থাকি, আমিই তখন দলীল-প্রমাণের দ্বারা তাকে প্রতিহত করব। আর যদি আমি জীবিত না থাকি তখন প্রত্যেক মুমিনের সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহই হবে আমার স্থলাভিষিক্ত। আসমা (রাঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ, আমাদের অবস্থা হলো আমরা আটার খামির তৈরি করি এবং রুটি তৈরি করে অবসর হতে না হতেই পুনরায় ক্ষুধায় অস্থির হয়ে পড়ি। অতএব সেই দুর্ভিক্ষের সময় মুমিনের অবস্থা কেমন হবে? জবাবে তিনি (সা.) বললেন, সেই বস্তুই তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য যথেষ্ট হবে যা আকাশবাসীদের জন্য যথেষ্ট হয়ে থাকে। আর তা হলো তাসবীহ ও তাক্বদীস (অর্থাৎ আল্লাহর যিকর ও পবিত্রতা বর্ণনা করা)। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَن أسماءَ بنتِ يزيدَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِي فَذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: إِنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ ثَلَاث سِنِين سنة تمسلك السَّمَاءُ فِيهَا ثُلُثَ قَطْرِهَا وَالْأَرْضُ ثُلُثَ نَبَاتِهَا. وَالثَّانِيَةُ تُمْسِكُ السَّمَاءُ ثُلُثَيْ قَطْرِهَا وَالْأَرْضُ ثُلُثَيْ نَبَاتِهَا. وَالثَّالِثَةُ تُمْسِكُ السَّمَاءُ قَطْرَهَا كُلَّهُ وَالْأَرْضُ نَبَاتَهَا كُلَّهُ. فَلَا يَبْقَى ذَاتُ ظِلْفٍ وَلَا ذَاتُ ضِرْسٍ مِنَ الْبَهَائِمِ إِلَّا هَلَكَ وَإِنَّ مِنْ أَشَدِّ فِتْنَتِهِ أَنَّهُ يَأْتِي الْأَعْرَابِيَّ فَيَقُولُ: أَرَأَيْتَ إِنْ أَحْيَيْتُ لَكَ إِبِلَكَ أَلَسْتَ تَعْلَمُ أَنِّي رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ بَلَى فَيُمَثِّلُ لَهُ الشَّيْطَانَ نَحْوَ إِبِلِهِ كَأَحْسَنِ مَا يَكُونُ ضُرُوعًا وَأَعْظَمِهِ أَسْنِمَةً . قَالَ: وَيَأْتِي الرَّجُلَ قَدْ مَاتَ أَخُوهُ وَمَاتَ أَبُوهُ فَيَقُولُ: أَرَأَيْتَ إِنْ أَحْيَيْتُ لَكَ أَبَاكَ وَأَخَاكَ أَلَسْتَ تَعْلَمُ أَنِّي رَبُّكَ؟ فَيَقُولُ: بَلَى فَيُمَثِّلُ لَهُ الشَّيَاطِينَ نَحْوَ أَبِيهِ وَنَحْوَ أَخِيهِ . قَالَتْ: ثُمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ رَجَعَ وَالْقَوْمُ فِي اهْتِمَامٍ وَغَمٍّ مِمَّا حَدَّثَهُمْ. قَالَتْ: فَأَخَذَ بِلَحْمَتَيِ الْبَابِ فَقَالَ: «مَهْيَمْ أَسْمَاءُ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ خَلَعْتَ أَفْئِدَتَنَا بِذِكْرِ الدَّجَّالِ. قَالَ: «إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا حَيٌّ فَأَنَا حَجِيجُهُ وَإِلَّا فإِنَّ رَبِّي خليفتي علىكل مُؤْمِنٍ» فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ إِنَّا لَنَعْجِنُ عَجِينَنَا فَمَا نَخْبِزُهُ حَتَّى نَجُوعَ فَكَيْفَ بِالْمُؤْمِنِينَ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «يُجْزِئُهُمْ مَا يُجْزِئُ أَهْلَ السماءِ من التسبيحِ والتقديسِ» . رَوَاهُ أَحْمد

حسن ، رواہ احمد (6 / 453 ۔ 454 ح 28120) [و الطبرانی (24 / 158 ح 405 و سندہ حسن ۔ 161)] * انظر النھایۃ فی الفتن و الملاحم (ح 263 بتحقیقی) لمزید التحقیق ۔ * قلت : قتادۃ لم ینفرد بہ ، بل تابعہ ثابت و حجاج بن الاسود و عبد العزیز بن صھیب بہ ، فالحدیث حسن ۔
(ضَعِيف)

وعن اسماء بنت يزيد قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في بيتي فذكر الدجال فقال: ان بين يديه ثلاث سنين سنة تمسلك السماء فيها ثلث قطرها والارض ثلث نباتها. والثانية تمسك السماء ثلثي قطرها والارض ثلثي نباتها. والثالثة تمسك السماء قطرها كله والارض نباتها كله. فلا يبقى ذات ظلف ولا ذات ضرس من البهاىم الا هلك وان من اشد فتنته انه ياتي الاعرابي فيقول: ارايت ان احييت لك ابلك الست تعلم اني ربك؟ فيقول بلى فيمثل له الشيطان نحو ابله كاحسن ما يكون ضروعا واعظمه اسنمة . قال: وياتي الرجل قد مات اخوه ومات ابوه فيقول: ارايت ان احييت لك اباك واخاك الست تعلم اني ربك؟ فيقول: بلى فيمثل له الشياطين نحو ابيه ونحو اخيه . قالت: ثم خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم لحاجته ثم رجع والقوم في اهتمام وغم مما حدثهم. قالت: فاخذ بلحمتي الباب فقال: «مهيم اسماء؟» قلت: يا رسول الله لقد خلعت افىدتنا بذكر الدجال. قال: «ان يخرج وانا حي فانا حجيجه والا فان ربي خليفتي علىكل مومن» فقلت: يا رسول الله والله انا لنعجن عجيننا فما نخبزه حتى نجوع فكيف بالمومنين يومىذ؟ قال: «يجزىهم ما يجزى اهل السماء من التسبيح والتقديس» . رواه احمد حسن ، رواہ احمد (6 / 453 ۔ 454 ح 28120) [و الطبرانی (24 / 158 ح 405 و سندہ حسن ۔ 161)] * انظر النھایۃ فی الفتن و الملاحم (ح 263 بتحقیقی) لمزید التحقیق ۔ * قلت : قتادۃ لم ینفرد بہ ، بل تابعہ ثابت و حجاج بن الاسود و عبد العزیز بن صھیب بہ ، فالحدیث حسن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (إِنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ ثَلَاث سِنِين) দাজ্জালের সামনে অথবা তার আগমনের সময়কে তিন ভাগে ভাগ করা হবে। আর বিভিন্নভাবে বরকত চলে যাবে। প্রথম বছরে আকাশ আল্লাহর হুকুমে এক-তৃতীয়াংশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং জমিন দুই-তৃতীয়াংশ ফসল ফলাবে। আর তৃতীয়বর্ষে আকাশ এক ফোটা পানিও বর্ষণ করবে না এবং জমি কোন ফসল জন্মাবে না, তখন দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। আর দেশের ধনভাণ্ডার ও সম্পদ দাজ্জালের অধীনে থাকবে এবং সর্বপ্রকার নি'আমাত ও ফল-ফসল তার আয়ত্বে থাকবে। সকল পশু পাখি অনাহারে মারা যাবে। তখন তার ফিতনাহ্ প্রকট আকার ধারণ করবে এবং মানুষের ঈমান নষ্ট করবে।
(إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا حَيٌّ فَأَنَا حَجِيجُهُ) (রাসূল সা. বলেন) যদি আমার জীবদ্দশায় দাজ্জাল আবির্ভূত হয় তাহলে আমি সাহসিকতার সাথে দলীল প্রমাণের মাধ্যমে তাকে পরাজিত করব। আর আমি যদি না থাকি তাহলে আমার প্রতিপালক আমার পক্ষ থেকে প্রতিটি মু'মিনকে সাহায্য করবেন। যেহেতু তিনি তার দীনের একমাত্র সংরক্ষক এবং তার নবী কে সাহায্যকারী এবং যারা তার প্রতি ঈমান আনবে তাদের অভিভাবক। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যক্তি নিজে নিজেই প্রতিরোধ করবে। অর্থাৎ নিজের ওপর আপতিত ফিতনাকে ঈমানের দৃঢ়তা ও দলীল প্রমাণের সাহায্যে প্রতিরোধ করবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ইবনু মাজাহ ৩য় খণ্ড, হা, ৪০৭৭).


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৯২-[২৯] মুগীরাহ্ ইবনু শুবাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জাল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর কাছে আমার চেয়ে বেশি প্রশ্ন আর কেউ করেননি। তিনি আমাকে এটাও বলেছেন, সে তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আমি বললাম, লোকেরা যেহেতু বলাবলি করে যে, তার (দাজ্জালের) সাথে রুটির পাহাড় এবং পানির ঝরনা থাকবে। তখন তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহর নিকট তা তো খুবই সহজ (অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা দাজ্জালকে লাঞ্ছিত করবেন)। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ: مَا سَأَلَ أَحَدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَن الدجالِ أكثرَ مِمَّا سَأَلْتُهُ وَإِنَّهُ قَالَ لِي: «مَا يَضُرُّكَ؟» قُلْتُ: إِنَّهُمْ يَقُولُونَ: إِنَّ مَعَهُ جَبَلَ خُبْزٍ وَنَهَرَ مَاءٍ. قَالَ: هُوَ أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ من ذَلِك . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7122) و مسلم (115 / 2939)، (7378) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن المغيرة بن شعبة قال: ما سال احد رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الدجال اكثر مما سالته وانه قال لي: «ما يضرك؟» قلت: انهم يقولون: ان معه جبل خبز ونهر ماء. قال: هو اهون على الله من ذلك . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7122) و مسلم (115 / 2939)، (7378) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (وَإِنَّهُ قَالَ لِي: «مَا يَضُرُّكَ؟») নবী (সা.) আমাকে তোমার জন্য তার অনিষ্ট থেকে রক্ষাকারী হিসেবে যথেষ্ট। আমি বললাম, লোকেরা অথবা ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানরা বলছে তার নিকট পাহাড় পরিমাণ সম্পদ থাকবে এবং পানির সমুদ্র থাকবে। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে, সে সময়ে পানির সংকট দেখা দিবে এবং ফিতনাহ্-ফাসাদে পৃথিবী ভরে যাবে ও ভূ-পৃষ্ঠের বরকত উঠে যাবে।
(قَالَ: هُوَ أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ من ذَلِك) তিনি (সা.) বলেন, আল্লাহর তা'আলার নিকট এ সমস্ত খুবই সহজ। তিনি তাকে উক্ত ক্ষমতা প্রদান করবেন ঈমান পরীক্ষা করার জন্য। মু'মিন বান্দা তা দেখে মনে করবে এটা তার জন্য পরীক্ষা, তাই সে ঈমানের উপর দৃঢ় থাকবে কিন্তু কাফিররা পদস্খলিত হবে। অথবা উক্ত বাক্যাংশের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর তা'আলার জন্য এটি খুবই নগণ্য ব্যাপার যে, তিনি তার সত্যতার পক্ষে কিছু নিদর্শন প্রদান করবেন, যা দেখে বাহ্যিকভাবে মানুষ ধোঁকা খাবে। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলা তার মাঝে প্রকাশ্য এমন আলামত দিয়ে দিবেন যা তার মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। তার কপালে কাফির’ লেখা থাকবে। যে পড়াশুনা জানে না, সেও পড়তে পারবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১৩তম খণ্ড, হা. ৭১২২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা

৫৪৯৩-[৩০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল একটি ধবধবে সাদা বর্ণের গাধায় আরোহী হয়ে বের হবে। তার দু কানের মধ্যবর্তী স্থানটি সত্তর (দূরত্ব) পরিমাণ চওড়া হবে। (বায়হাক্বী’র “কিতাবুল বা’সি ওয়ান্ নুশূর”)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ الْعَلَامَاتِ بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ وَذِكْرِ الدَّجَّالِ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَخْرُجُ الدَّجَّالُ عَلَى حِمَارٍ أَقْمَرَ مَا بَيْنَ أُذُنَيْهِ سَبْعُونَ بَاعًا» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُورِ»

لم اجدہ ، رواہ البیھقی فی البعث و النشور (لم اجدہ) * و روی البخاری فی التاریخ الکبیر (1 / 199) عن اسماعیل عن اخیہ عن سلیمان عن محمد بن عقبۃ بن ابی عتاب المدینی عن ابیہ عن ابی ھریرۃ عن النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم بہ و سندہ ضعیف ، محمد بن عقبۃ و ابوہ لم یوثقھما غری ابن حبان فیما اعلم ، و روی ابن ابی شیبۃ (15 / 161 ۔ 162 ح 37525) عن وکیع عن فطر عن ابی الطفیل عن رجل من اصحاب النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم قال :’’ یخرج الدجال علی حمار رجس ، رجس علی رجس ‘‘ و سندہ حسن ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يخرج الدجال على حمار اقمر ما بين اذنيه سبعون باعا» . رواه البيهقي في «كتاب البعث والنشور» لم اجدہ ، رواہ البیھقی فی البعث و النشور (لم اجدہ) * و روی البخاری فی التاریخ الکبیر (1 / 199) عن اسماعیل عن اخیہ عن سلیمان عن محمد بن عقبۃ بن ابی عتاب المدینی عن ابیہ عن ابی ھریرۃ عن النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم بہ و سندہ ضعیف ، محمد بن عقبۃ و ابوہ لم یوثقھما غری ابن حبان فیما اعلم ، و روی ابن ابی شیبۃ (15 / 161 ۔ 162 ح 37525) عن وکیع عن فطر عن ابی الطفیل عن رجل من اصحاب النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم قال :’’ یخرج الدجال علی حمار رجس ، رجس علی رجس ‘‘ و سندہ حسن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (حِمَارٍ أَقْمَرَ) শুভ্র গাধা তথা দাজ্জাল উজ্জ্বল চেহেরা বিশিষ্ট ধবধবে সাদা গাধার পিঠে আরোহণ করে আবির্ভূত হবে। গাধাটির দুই কানের মধ্যের দূরত্ব হবে ৭০ গজ। (মিরক্কাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৪৯৪-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন (আমার পিতা) উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) একদল সাহাবীসহ সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে ইবনু সাইয়্যাদ-এর কাছে গমন করলেন। তারা সকলে ইবনু সাইয়্যাদ-কে বানী মাগালাহ্-এর টিলার পাদদেশে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলাধুলা করতে দেখতে পান। সে সময় ইবনু সাইয়্যাদ প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছার কাছাকাছি বয়সী ছিল। কিন্তু সে নবী (সা.) -এর আগমন অনুভব করতে পারেনি। পরিশেষে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তার পিঠে হাত মেরে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য প্রদান কর যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তখন সে রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দিকে তাকিয়ে বলল, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ রাসূল (সা.) -কে লক্ষ্য করে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, আমি (ইবনু সাইয়্যাদ) আল্লাহর রাসূল? তখন নবী (সা.) তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। এরপর তিনি (সা.) ইবনু সাইয়্যাদ-কে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি দেখতে পাও? সে বলল, আমার কাছে সত্যবাদী (ফেরেশতা) ও মিথ্যাবাদী (শয়তান) উভয়েই আগমন করে থাকে।
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমার নিকট প্রকৃত ব্যাপার হজবরল হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি (আমার অন্তরে) একটি বিষয় তোমার নিকট গোপন করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, সে সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) (یَوۡمَ تَاۡتِی السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِیۡنٍ) অপেক্ষা কর সেদিনের যেদিন আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হবে যা সুস্পষ্ট (দেখা যাবে)”- (সূরাহ আদ দুখান ৪৪: ১০) তা থেকে গোপন রাখলেন।
ইবনু সাইয়্যাদ বলল, লুক্কায়িত কথা হলো, ’দুখ’ (ধোঁয়া)। তিনি (সা.) বললেন, তুমি দূর হও। কখনো তুমি নিজের সীমার বাইরে যেতে পারবে না। (অর্থাৎ ওয়াহী সম্পর্কে তোমার কোন ধারণাই নেই) এ সময় ’উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। সেই যদি (দাজ্জাল) হয়, তাহলে তুমি তাকে কাবু করতে সক্ষম হবে না।

আর যদি সে না হয়, তাহলে তাকে হত্যা করায় কোন লাভ নেই। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, এরপর একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও উবাই ইবনু কা’ব আল আনসারী (রাঃ) সেই খেজুর উদ্যানের দিকে রওয়ানা হলেন, যেখানে ইবনু সাইয়্যাদ ছিল। তিনি খেজুর গাছের আড়ালে গোপনে অগ্রসর হলেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল ইবনু সাইয়্যাদ তাকে দেখার আগেই তিনি তার কিছু কথা শুনে নেবেন। তখন ইবনু সাইয়্যাদ একটি চাদর জড়িয়ে তার বিছানায় শোয়া ছিল এবং গুনগুন শব্দ করছিল। তখন সাইয়্যাদ-এর মা দেখতে পেল, নবী (সা.) খেজুর গাছের ডালের আড়ালে রয়েছেন। অতএব সে ইবনু সাইয়্যাদকে ডাক দিল, হে সফ! আর এটা ইবনু সাইয়্যাদ এর নাম, এই যে মুহাম্মাদ! তৎক্ষণাৎ ইবনু সাইয়্যাদ চুপ হয়ে গেল।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যদি তার মা তাকে ঐভাবে থাকতে দিত, তাহলে সমস্ত কিছু স্পষ্ট হয়ে যেত। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ও জনগণের মাঝে (ভাষণ দিতে) দাঁড়ালেন। আল্লাহ তা’আলার যথোপযুক্ত প্রশংসা করে দাজ্জালের বিষয় উল্লেখ করে বললেন, আমি অবশ্যই তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে বিশেষভাবে সাবধান করে দিচ্ছি। মূলত এমন কোন নবী অতীত হননি যিনি তাঁর জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করেন নাই। কিন্তু আমি তার সম্পর্কে এমন একটি কথা বলতে চাই, যা অন্য কোন নবী স্বীয় জাতিকে বলেননি। তোমরা জেনে রাখ, সে (দাজ্জাল) কানা, আর তোমরা এটাও জেনে রাখ যে, আল্লাহ তা’আলা কানা নন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بن الْخطاب انْطَلَقَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَهْطٍ مِنْ أَصْحَابِهِ قِبَلَ ابْنِ الصياد حَتَّى وجدوهُ يلعبُ مَعَ الصّبيانِ فِي أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادٍ يَوْمَئِذٍ الْحُلُمَ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثمَّ قَالَ: «أتشهدُ أَنِّي رسولُ الله؟» فَقَالَ: أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الْأُمِّيِّينَ. ثُمَّ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ: أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟ فَرَصَّهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: «آمَنت بِاللَّه وبرسلِه» ثمَّ قَالَ لِابْنِ صيَّاد: «مَاذَا تَرَى؟» قَالَ: يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خُلِّطَ عَلَيْكَ الْأَمْرُ» . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي خَبَّأْتُ لَكَ خَبِيئًا» وَخَبَّأَ لَه: (يومَ تَأتي السَّماءُ بدُخانٍ مُبينٍ) فَقَالَ: هُوَ الدُّخُّ. فَقَالَ: «اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ» . قَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْذَنُ لي فِي أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنْ يَكُنْ هُوَ لَا تُسَلَّطْ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ هُوَ فَلَا خير لَك فِي قَتْلِهِ» . قَالَ ابْنُ عُمَرَ: انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبِي بْنُ كَعْبٍ الْأَنْصَارِيُّ يَؤُمَّانِ النَّخْلَ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ وَهُوَ يَخْتِلُ أنْ يسمعَ مِنِ ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ وَابْنُ صَيَّادٍ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشِهِ فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا زَمْزَمَةٌ فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ. فَقَالَتْ: أَيْ صَافُ - وَهُوَ اسْمُهُ - هَذَا مُحَمَّدٌ. فَتَنَاهَى ابْنُ صَيَّادٍ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ» . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسَ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: «إِنِّي أُنْذِرُكُمُوهُ وَمَا مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ قَوْمَهُ لَقَدْ أَنْذَرَ نُوحٌ قَوْمَهُ وَلَكِنِّي سَأَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلًا لَمْ يَقُلْهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ تَعْلَمُونَ أَنَّهُ أَعْوَرُ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (1354 ۔ 1355) و مسلم (95 / 2930)، (7354) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن عبد الله بن عمر ان عمر بن الخطاب انطلق مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في رهط من اصحابه قبل ابن الصياد حتى وجدوه يلعب مع الصبيان في اطم بني مغالة وقد قارب ابن صياد يومىذ الحلم فلم يشعر حتى ضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم ظهره بيده ثم قال: «اتشهد اني رسول الله؟» فقال: اشهد انك رسول الاميين. ثم قال ابن صياد: اتشهد اني رسول الله؟ فرصه النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال: «امنت بالله وبرسله» ثم قال لابن صياد: «ماذا ترى؟» قال: ياتيني صادق وكاذب. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خلط عليك الامر» . قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اني خبات لك خبيىا» وخبا له: (يوم تاتي السماء بدخان مبين) فقال: هو الدخ. فقال: «اخسا فلن تعدو قدرك» . قال عمر: يا رسول الله اتاذن لي في ان اضرب عنقه؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان يكن هو لا تسلط عليه وان لم يكن هو فلا خير لك في قتله» . قال ابن عمر: انطلق بعد ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم وابي بن كعب الانصاري يومان النخل التي فيها ابن صياد فطفق رسول الله صلى الله عليه وسلم يتقي بجذوع النخل وهو يختل ان يسمع من ابن صياد شيىا قبل ان يراه وابن صياد مضطجع على فراشه في قطيفة له فيها زمزمة فرات ام ابن صياد النبي صلى الله عليه وسلم وهو يتقي بجذوع النخل. فقالت: اي صاف - وهو اسمه - هذا محمد. فتناهى ابن صياد. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو تركته بين» . قال عبد الله بن عمر: قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الناس فاثنى على الله بما هو اهله ثم ذكر الدجال فقال: «اني انذركموه وما من نبي الا وقد انذر قومه لقد انذر نوح قومه ولكني ساقول لكم فيه قولا لم يقله نبي لقومه تعلمون انه اعور وان الله ليس باعور» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (1354 ۔ 1355) و مسلم (95 / 2930)، (7354) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (انْطَلَقَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَهْطٍ) উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) সাহাবীদের একটি ছোট দলসহ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে ইবনু সাইয়্যাদ-এর উদ্দেশে বের হলেন। তারা তাকে মুগালাবাহ্ গোত্রের ছেলেদের সাথে খেলা রত অবস্থায় পেলেন। সে সময় ইবনু সাইয়্যাদ ছিল অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালেগ হওয়ার উপক্রম। নবী (সা.)
তার অজান্তেই পিছন দিক থেকে তার পিঠের উপর হাত রেখে বললেন, তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর সে হতচকিত হয়ে অথবা রাগান্বিত হয়ে তার দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নিরক্ষর ‘আরবদের নবী।
কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সে ‘আরবদের কথা বলেছে, কারণ সে সময় অধিকাংশ ‘আরব লেখাপড়া জানত না। ইবনু সাইয়্যাদ তার কথায় যদিও একদিকে সত্যবাদী কিন্তু অপরদিকে শুধু ‘আরবের প্রতি রিসালাতকে সম্পৃক্ত করে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়। কেননা তিনি 'আরব ও অনরাব সকলের জন্য প্রেরিত নবী। তার এ কথা ইয়াহুদীদের কথার মতই। এটা শয়তান কর্তৃক তাকে শিখানো কথা অথবা সে ইয়াহূদীদের কাছে শুনে এ কথা বলেছে।

(ثُمَّ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ: أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟) অতঃপর ইবনু সাইয়্যাদ বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল। সে এ কথা দ্বারা নুবুওয়্যাত দাবী করছে অথবা শাব্দিক অর্থে রাসূল বলেছে। তথা সে আল্লাহর পক্ষ থেকে ফিতনাহ্ ও পরীক্ষার জন্য প্রেরিত হয়েছে।
(فَرَصَّهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ: «آمَنت بِاللَّه وبرسلِه») নবী (সা.): ইবনু সাইয়্যাদ-এর কথার উত্তর দিলেন এভাবে, আমি আল্লাহ ও তার রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ কথার ভাবার্থ হচ্ছে, আমি আল্লাহ ও তার রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস করি অতএব চিন্তা করে দেখ তুমি কি সেই দলের কিনা?

রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এই উত্তরে বাহ্যিকভাবে সংশয় দেখা দিচ্ছে বাস্তবেই সে রাসূল কিনা? তবে তার ফিতনার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। সঠিক কথা হচ্ছে, নবী (সা.) বলেছেন, আমি আল্লাহ ও তার রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস রাখি এবং বিশ্বাস করি, তুমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত নও। যদি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে তাহলে অবশ্যই তোমার প্রতি ঈমান আনতাম। নবী (সা.) -এর এই বক্তব্য সে সময়ের জন্য প্রযোজ্য যখন তিনি জানতেন না যে, তিনিই শেষ নবী, তারপর আর কোন নবী আসবে না।

নবী (সা.) -এর উপস্থিতিতে সে নবী দাবী করা সত্ত্বেও নবী (সা.) তাকে হত্যা করেননি। কারণ সে ছিল শিশু আর ইসলামে শিশু হত্যা নিষেধ অথবা সে সময় ইয়াহুদীদের সাথে মুসলিমদের শান্তি চুক্তি ছিল আর ইবনু সাইয়্যাদ তাদের মিত্র গোষ্ঠীর লোক ছিল। তার উক্ত কথার কারণে জিম্মা থেকে সে বেরিয়ে যায়নি। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সে স্পষ্ট করে নুবুওয়্যাতের দাবী করেনি যেমন তার কথা, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি নবী? এটা ছিল প্রশ্নমূলক কথা, স্পষ্ট দাবীমূলক কথা নয়।
(إِنِّي خَبَّأْتُ لَكَ خَبِيئًا) আমি তোমার পরীক্ষার জন্য একটি কথা মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) -এর প্রকৃত অবস্থা সাহাবীদের নিকট প্রকাশ করার জন্য তাকে পরীক্ষা করলেন, সে সময় একটা যাদুকর শয়তান এসে তার মুখ দ্বারা কথা বলায়। নবী (সা.) যে কথা মনে লুকিয়ে রেখেছিলেন তা হলো পবিত্র কুরআনের আয়াত, (فَارۡتَقِبۡ یَوۡمَ تَاۡتِی السَّمَآءُ بِدُخَانٍ مُّبِیۡنٍ) “অতএব আপনি সেই দিনের অপেক্ষা কারণ যখন আকাশ ধুঁয়ায় ছেয়ে যাবে”- (সূরাহ আদ দুখান ৪৪: ১০)।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু সাইয়্যাদ নবী (সা.) -এর মনের কথার মধ্য থেকে শুধু একটি শব্দ বলতে সক্ষম হয়েছে আর তা হল (الدُّخٌّ ধোঁয়া) সে সম্পূর্ণ আয়াত বলতে সক্ষম হয়নি যেহেতু শয়তান এতটুকুই আসমান থেকে সংগ্রহ করে তার নিকট এসে বলেছে।

(لَا تُسَلَّطْ عَلَيْهِ) উমার (রাঃ) তাকে হত্যা করতে চাইলে নবী (সা.) বলেন, সে যদি সত্যিই তার দাবীতে সত্য হয় অর্থাৎ দাজ্জাল হয় তাহলে তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। কেননা তাকে হত্যা করার জন্য ‘ঈসা আলায়হিস সালাম আগমন করবেন ও হত্যা করবেন। আর যদি তা না হয় তাহলে তাকে হত্যা করার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। ইতোপূর্বে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইবনু মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) এর উক্ত কথা দ্বারা ইঙ্গিত করছেন সম্ভবত সে দাজ্জাল কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
ইমাম বায়হাকী তাঁর “আল বা'সা আন্ নুসূর” কিতাবে উল্লেখ করেন, ইবনু সাইয়্যাদ-এর ব্যাপারে ‘আলিমদের বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। কেউ বলেন, সে দাজ্জাল; আবার কেউ বলেন, সে দাজ্জাল নয় অন্য কেউ। তাদের দলীল হলো, সহীহ হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে এই উম্মতের মধ্যে দাজ্জালের সাথে অধিক সাদৃশ্য হবে ‘আবদুল উযযা ইবনু কুতুন ইয়াহুদীর সাথে। অতএব ইবনু সাইয়্যাদ দাজ্জাল নয়। তামীম আদ দারীর হাদীসে দাজ্জালের যে ফিতনার কথা বলা হয়েছে তার সাথে ইবনু সাইয়্যাদ-এর আলোচনা এক জিনিস নয়। কিন্তু ইবনু উমার (রাঃ) এবং জাবির (রাঃ) শপথ করে বলেন, ইবনু সাইয়্যাদই মূলত দাজ্জাল, এতে কোন সন্দেহ নেই।
ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় বলেন, ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনাটি মূলত সন্দেহভাজন এবং সমস্যামূলক। তাই তাকে কেউ দাজ্জাল বলে আখ্যায়িত করেছেন, আবার কেউ বলেন সে অন্য কেউ। আর এজন্যই নবী (সা.) তার বাণীতে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার মধ্যে দাজ্জালের কিছু গুণাবলি রয়েছে। অতএব সে দাজ্জাল হতে পারে আবার নাও হতে পারে।
(تَعْلَمُونَ أَنَّهُ أَعْوَرُ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ) তোমরা নিশ্চিত করে জেনে রাখ, তোমাদের রব্ অন্ধ নন, ত্রুটিযুক্ত নন। কিন্তু সে অন্ধ জ্যোতিহীন চোখবিশিষ্ট। যা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, সে ইলাহ হওয়ার উপযুক্ত নয়।

‘আল্লামাহ্ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, পূর্ববর্তী সকল নবীই দাজ্জাল সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করে গেছেন কিন্তু সে যে অন্ধ বা আলোকহীন চোখবিশিষ্ট হবে, এ কথা কেউ হয়তো জানতেন না বা কেউ এ কথা স্পষ্ট করে বলে যাননি যে, সে হবে অন্ধ, আলোহীন, ত্রুটিযুক্ত চোখবিশিষ্ট। অথবা বলা যেতে পারে, নবী (সা.) -এর এই খবর প্রদান করার মাধ্যমে তার কারামত ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে। আর এ কথাও জানা যায় যে, সর্বসাধারণ এমনকি তাদের জ্ঞানীরাও এ ব্যাপারে বুঝতে সক্ষম হবে যে, দাজ্জাল মিথ্যাবাদী। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ৩০৫৫; শারহুন্ নাবাবী ১৮শ খণ্ড, হা. ২৯৩০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৪৯৫-[২] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আবূ বকর ও ’উমার (রাঃ) -এর সাথে মদীনার কোন এক রাস্তায় ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাক্ষাৎ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ বললেন, তুমি কি এটা সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমি আল্লাহ প্রতি, তাঁর ফেরেশতগণের প্রতি, তাঁর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর পাঠানো সমস্ত রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি। অতঃপর রাসূল (সা.) তাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি দেখতে পাও? সে বলল, আমি পানির উপরে একখানা সিংহাসন দেখতে পাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি সাগরের উপর ইবলীসের সিংহাসন দেখ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তুমি আর কি দেখতে পাও? সে বলল, দু’জন সত্যবাদী এবং একজন মিথ্যাবাদী অথবা বলল, দু’জন মিথ্যাবাদী এবং একজন সত্যবাদীকে দেখতে পাই। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও বললেন, বিষয়টি তার উপর হজবরল হয়ে পড়েছে। অতএব তোমরা তাকে পরিত্যাগ কর। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: لَقِيَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ - يَعْنِي ابْنَ صَيَّادٍ - فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ؟» فَقَالَ هُوَ: أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولَ اللَّهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ مَاذَا تَرَى؟» قَالَ: أَرَى عَرْشًا عَلَى الْمَاءُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَرَى عَرْشَ إِبْلِيسَ عَلَى الْبَحْرِ وَمَا تَرَى؟» قَالَ: أَرَى صَادِقَيْنِ وَكَاذِبًا أَوْ كَاذِبَيْنِ وَصَادِقًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لُبِسَ عَلَيْهِ فَدَعُوهُ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (87 / 2925)، (7346) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد الخدري قال: لقيه رسول الله صلى الله عليه وسلم وابو بكر وعمر - يعني ابن صياد - في بعض طرق المدينة فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اتشهد اني رسول الله؟» فقال هو: اتشهد اني رسول الله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «امنت بالله وملاىكته وكتبه ورسله ماذا ترى؟» قال: ارى عرشا على الماء. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ترى عرش ابليس على البحر وما ترى؟» قال: ارى صادقين وكاذبا او كاذبين وصادقا. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لبس عليه فدعوه» . رواه مسلم رواہ مسلم (87 / 2925)، (7346) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَقَالَ هُوَ: أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولَ اللَّهِ؟) ইবনু সাইয়্যাদ রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে লক্ষ্য করে উল্টা প্রশ্ন করল: আপনি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? তখন নবী (সা.) বললেন, আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি আল্লাহর রাসূলগণের প্রতি। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে এভাবে উত্তর দেয়ার কারণ কি তা আমরা পূর্ববর্তী হাদীসে আলোচনা করে এসেছি।
(مَاذَا تَرَى؟) নবী (সা.) এ তাকে পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ? সে বলল, পানির উপর একটি ‘আরশ। নবী (সা.) তার জবাবে বললেন, তুমি সাগরের উপর ইবলীসের ‘আরশ দেখতে পাও। এছাড়া আর কি দেখতে পাও? সে বলল, আমি দু’জন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদী অথবা দু'জন মিথ্যাবাদী ও একজন সত্যবাদী দেখতে পাই। অর্থাৎ আমার কাছে দু'জন ব্যক্তি এসে সত্য সংবাদ দেয় আর একজন মিথ্যা সংবাদ দেয়। ইবনু সাইয়্যাদ-এর এ কথার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সে মূলত মিথ্যুক। কেননা আল্লাহর পক্ষ থেকে যাকে সাহায্য করা হয় সে সন্দেহমূলকভাবে কথা বলবে না।

(لُبِسَ عَلَيْهِ فَدَعُوهُ) অর্থাৎ তার নিকট বিষয়টি জ্যোতিষীর কারণে উলোটপালট হয়ে গেছে, অতএব তাকে পরিহার কর, তার কোন কথায় বিশ্বাস করা যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৮দশ খণ্ড, হা. ২৯২৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৪৯৬-[৩] উক্ত রাবী [আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)] হতে বর্ণিত। ইবনু সাইয়্যাদ নবী (সা.) কে জান্নাতের মাটি সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি (সা.) বললেন, তা ময়দার মতো সাদা এবং নির্ভেজাল কস্তরির মতো (সুগন্ধি) হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْهُ أَنَّ ابْنَ صَيَّادٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ تُرْبَةِ الْجَنَّةِ. فَقَالَ: «در مَكَّة يبضاء ومسك خَالص» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (93 / 2928)، (7352) ۔
(صَحِيح)

وعنه ان ابن صياد سال النبي صلى الله عليه وسلم عن تربة الجنة. فقال: «در مكة يبضاء ومسك خالص» . رواه مسلم رواہ مسلم (93 / 2928)، (7352) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (در مَكَّة يبضاء ومسك خَالص) জান্নাতের মাটি হবে পরিষ্কার সাদা আটার মতো, আর তাতে মিস্ক জাতীয় সুগন্ধি পাওয়া যাবে।
কামূস গ্রন্থে বলা হয়েছে, (دَرْمَكَّتٌ) হচ্ছে (دَقِيقُ الْحُوَّارَى، وَالتُّرَابُ النَّاعِمُ) তথা সাদা আটা এবং মসৃণ মাটি।
নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, (الدَّرْمَكَةُ) হচ্ছে সাদা আটা। জান্নাতের মাটিকে তার সাথে তুলনা করার উদ্দেশ্য হলো তা হবে সাদা ও মসৃণ এবং মিসকের সাথে তুলনা করার কারণ হলো তা হবে সুগন্ধিযুক্ত। আর প্রত্যেক সাদা খাবারকে (حُوَّارَى) বলা হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৮দশ খণ্ড, হা. ২৯২৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৪৯৭-[৪] নাফি (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন মদীনার কোন এক পথে ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে ইবনু উমার (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ হলো। তখন ইবনু উমার (রাঃ) তাকে এমন একটি কথা বললেন, যাতে সে খুবই রাগান্বিত হলো। এমনকি রাগে সে এমনভাবে ফুলে উঠল যেন গলি (পথ) ভরে গেল। অতঃপর ইবনু উমার (রাঃ) তাঁর বোন হাফসার নিকট গেলেন এবং হাফসার কাছে সেই খবর আগেই পৌছেছিল। তখন হাফসাহ (রাঃ) তাঁকে বললেন, আল্লাহ তা’আলা তোমার প্রতি দয়া করুন। তুমি ইবনু সাইয়্যাদ থেকে কি (জানতে) চেয়েছিলেন? তুমি জান না যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (দাজ্জাল) কোন এক বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অত্যধিক ক্রোধান্বিত অবস্থায় বের হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْ نَافِعٍ قَالَ: لَقِيَ ابْنُ عُمَرَ ابْنَ صَيَّادٍ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ قَوْلًا أَغْضَبَهُ فَانْتَفَخَ حَتَّى مَلَأَ السِّكَّةَ. فَدَخَلَ ابْنُ عُمَرَ عَلَى حَفْصَةَ وَقَدْ بَلَغَهَا فَقَالَتْ لَهُ: رَحِمَكَ اللَّهُ مَا أَرَدْتَ مِنِ ابْنِ صياد؟ أما علمت أَن رَسُول اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا يَخْرُجُ مِنْ غضبةٍ يغضبها» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (98 / 2932)، (7359) ۔
(صَحِيح)

وعن نافع قال: لقي ابن عمر ابن صياد في بعض طرق المدينة فقال له قولا اغضبه فانتفخ حتى ملا السكة. فدخل ابن عمر على حفصة وقد بلغها فقالت له: رحمك الله ما اردت من ابن صياد؟ اما علمت ان رسول الله عليه وسلم قال: «انما يخرج من غضبة يغضبها» . رواه مسلم رواہ مسلم (98 / 2932)، (7359) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَانْتَفَخَ) রাগে ফুলে উঠল, (السِّكَّةَ) গলি বা পথ। (إِنَّمَا يَخْرُجُ مِنْ غضبةٍ يغضبها) অর্থাৎ দাজ্জাল হঠাৎ করে রেগে যাবে এবং আত্মপ্রকাশ করবে আর নুবুওয়্যাত দাবী করবে ও ফিতনাহ্ বিস্তার করবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ নাফি‘ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৪৯৮-[৫] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে মক্কার পথে যাত্রী হলাম। সে আমাকে বলল, আমি লোকের পক্ষে থেকে আশ্চর্যজনক ধারণার সম্মুখীন হয়েছি। লোকেরা বলে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তানাদি হবে না? অথচ আমার সন্তানাদি আছে। এ কথাটি তিনি কি বলেননি যে, সে কাফির? অথচ আমি একজন মুসলিম। তিনি কি এ কথাটি বলেননি যে, সে মক্কাহ্ ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না? অথচ আমি মদীনাহ থেকে এসেছি এবং মক্কায় যাচ্ছি। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, অতঃপর সে আমাকে শেষ কথাটি বলল যে, আল্লাহর শপথ! জেনে রাখুন, আমি তার (দাজ্জালের) জন্ম সময়, জন্মস্থান এবং বর্তমানে সে কোথায় থাকে নিশ্চিতভাবে জানি এবং আমি তার বাপ মাকেও চিনি। রাবী [আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)] বলেন, তার এই শেষ কথাটি আমাকে সন্দেহে ফেলে দিল। তখন আমি বললাম, তোর সারাদিন অকল্যাণ হোক, তখন (সফর সঙ্গীদের) কেউ বলল, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে যে, তুমিই সেই (ব্যক্তি)? সে বলল, যদি দাজ্জালের পদবি (গুণাবলি) আমাকে প্রদান করা হয়, তাহলে তাকে অপছন্দ করব না। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: صَحِبْتُ ابْنَ صياد إِلَى مَكَّة فَقَالَ: مَا لَقِيتُ مِنَ النَّاسِ؟ يَزْعُمُونَ أَنِّي الدَّجَّالُ أَلَسْتَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّهُ لَا يُولَدُ لَهُ» . وَقَدْ وُلِدَ لِي أَلَيْسَ قَدْ قَالَ: «هُوَ كَافِرٌ» . وَأَنا مُسلم أَو لَيْسَ قَدْ قَالَ: «لَا يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ وَلَا مَكَّةَ» ؟ وَقَدْ أَقْبَلْتُ مِنَ الْمَدِينَةِ وَأَنَا أُرِيدُ مَكَّةَ. ثُمَّ قَالَ لِي فِي آخِرِ قَوْلِهِ: أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ مَوْلِدَهُ وَمَكَانَهُ وَأَيْنَ هُوَ وَأَعْرِفُ أَبَاهُ وَأُمَّهُ قَالَ: فَلَبَسَنِي قَالَ: قُلْتُ لَهُ: تَبًّا لَكَ سَائِرَ الْيَوْمِ. قَالَ: وَقِيلَ لَهُ: أَيَسُرُّكَ أَنَّكَ ذَاكَ الرَّجُلُ؟ قَالَ: فَقَالَ: لَوْ عُرِضَ عَلَيَّ مَا كَرِهْتُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (91 ۔ 89 / 2927)، (7349) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد الخدري قال: صحبت ابن صياد الى مكة فقال: ما لقيت من الناس؟ يزعمون اني الدجال الست سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «انه لا يولد له» . وقد ولد لي اليس قد قال: «هو كافر» . وانا مسلم او ليس قد قال: «لا يدخل المدينة ولا مكة» ؟ وقد اقبلت من المدينة وانا اريد مكة. ثم قال لي في اخر قوله: اما والله اني لاعلم مولده ومكانه واين هو واعرف اباه وامه قال: فلبسني قال: قلت له: تبا لك ساىر اليوم. قال: وقيل له: ايسرك انك ذاك الرجل؟ قال: فقال: لو عرض علي ما كرهت. رواه مسلم رواہ مسلم (91 ۔ 89 / 2927)، (7349) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (مَا لَقِيتُ مِنَ النَّاسِ؟ يَزْعُمُونَ أَنِّي الدَّجَّالُ) ইবনু সাইয়্যাদ আশ্চর্য হয়ে বলে, আমি মানুষের কথা থেকে সবচেয়ে বেশি অবাক হই যখন তারা আমার ব্যাপারে বলে যে, আমি দাজ্জাল অথচ নবী (সা.) দাজ্জালের ব্যাপারে বলেছেন, তার কোন সন্তান হবে না, আমার তো সন্তান আছে, সে হবে কাফির আর আমি মুসলিম, সে মক্কাহ্ ও মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না কিন্তু আমি তো মদীনাহ্ থেকে আসলাম আবার মক্কার উদ্দেশে রওয়ানা করেছি।

(أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ مَوْلِدَهُ وَمَكَانَهُ وَأَيْنَ هُوَ) সাবধান! আল্লাহর কসম! আমি দাজ্জালের জন্মগ্রহণের সময়কাল, জন্মস্থান এবং বর্তমানে সে কোথায় আছে সব জানি এবং তার মা-বাবা কে তাও জানি।
(فَلَبَسَنِي) হাদীসের বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলো।

ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ কথা শুনে তার ব্যাপারে আমার মধ্যে সন্দেহ তৈরি হল। যেহেতু সে প্রথমে দাবী করল আমি একজন মুসলিম আবার পরক্ষণই গায়িব সম্পর্কে দাবী করল যে, আমি অধিক জানি। আর যে গায়িবের দাবীদার সে কাফির। অতএব তার মুসলিম ও কাফির হওয়া না হওয়া নিয়ে আমি সন্দিহান হলাম।

ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সে দাজ্জালের জন্ম ও অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছে দাবী করল কিন্তু স্পষ্ট করে না বলেই রেখে দিল যা আমাকে সন্দিহান করে তুলল। অথবা তার এ সমস্ত কথা, আমার সন্তান আছে, মক্কাহ্ ও মদীনায় প্রবেশ এবং মানুষ আমাকে দাজ্জাল মনে করে, আমাকে সন্দেহে ফেলে দিল।

(أَيَسُرُّكَ أَنَّكَ ذَاكَ الرَّجُلُ؟) আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, যদি তোমাকেই সেই ব্যক্তি তথা দাজ্জাল বলা হয় তাহলে কি খুশি হবে? তখন ইবনু সাইয়্যাদ বলল, যদি দাজ্জালের ঐ সমস্ত গুণাবলি যার দ্বারা সে মানুষকে ধোঁকা দিবে, পথভ্রষ্ট করবে, আমাকে তা দেয়া হয় তাহলে আমিও অপছন্দ করব না। মোট কথা হচ্ছে, দাজ্জালের গুণাবলিতে খুশি হওয়া দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হচ্ছে যে, সে মূলত কাফির। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৪৯৯-[৬] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, দেখলাম তার চোখ ফোলা। আমি প্রশ্ন করলাম, কখন থেকে তোমার চক্ষুর এ অবস্থা, যা আমি দেখছি? সে বলল, আমি জানি না। তখন আমি বললাম, তুমি জান না অথচ তা তোমার মাথায় রয়েছে? তখন সে বলল, যদি আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করেন, তবে তিনি তোমার লাঠির মধ্যেও দৃষ্টিশক্তি সৃষ্টি করতে ক্ষমতা রাখেন। ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তার নাকের ছিদ্র থেকে গাধার আওয়াজের চেয়েও বিকট আওয়াজ শুনতে পাই। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَقِيتُهُ وَقَدْ نَفَرَتْ عَيْنُهُ فَقُلْتُ: مَتَى فَعَلَتْ عَيْنُكَ مَا أَرَى؟ قَالَ: لَا أَدْرِي. قُلْتُ: لَا تَدْرِي وَهِيَ فِي رَأْسِكَ؟ قَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ خَلَقَهَا فِي عَصَاكَ. قَالَ: فَنَخَرَ كأشد نخير حمَار سَمِعت. رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (99 / 2932)، (7360) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: لقيته وقد نفرت عينه فقلت: متى فعلت عينك ما ارى؟ قال: لا ادري. قلت: لا تدري وهي في راسك؟ قال: ان شاء الله خلقها في عصاك. قال: فنخر كاشد نخير حمار سمعت. رواه مسلم رواہ مسلم (99 / 2932)، (7360) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَقَدْ نَفَرَتْ عَيْنُهُ) তার চোখ ফুলে উঠেছে। যেন দুই চোখের মাঝে মাংস ফুলে উঠে চামড়া ঝুলে পড়েছে। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তার চক্ষু ফুলে উঠেছে, উঁচু হয়ে উঠেছে।
(قُلْتُ: مَتَى فَعَلَتْ عَيْنُكَ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা'আলা কখন তোমার চক্ষুকে এমন করেছেন? আমি তা ফুলা দেখছি। এতে যেন ইবনু সাইয়্যাদ পরীক্ষায় পড়ে গেল, সেকি তাতে একমত পোষণ করবে, না ভিন্নমত পোষণ করবে। তাই সে উত্তর দিল, আমি জানি না।
(قُلْتُ: لَا تَدْرِي وَهِيَ فِي رَأْسِكَ؟) আমি [ইবনু উমার (রাঃ)] বললাম, তুমি জান না, অথচ এটা তোমার মাথায়ই রয়েছে? স্বাভাবিকভাবেই অসম্ভব বলে মনে হওয়ার কথা কিন্তু বাস্তবেই এটা সম্ভব। সৃষ্টিগতভাবে তার চোখে কোন কিছু ঘটতে পারে যা সে জানে না। কেননা যখন তাক্বদীরের বিষয় চলে আসে চক্ষু তখন অন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের দোষ ধরা থেকে অন্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু পরের দোষ ঠিকই ধরতে পারে। অন্যের চোখের ময়লা দেখতে পায় কিন্তু নিজের চোখের কাষ্ঠখণ্ডও দেখতে পায় না।

(قَالَ: إِنْ شَاءَ اللَّهُ خَلَقَهَا فِي عَصَاكَ) ইবনু সাইয়্যাদ উত্তর দিল আল্লাহ তা'আলা কিছু সৃষ্টি করতে চাইলে তোমার অতি নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও তুমি জানতে পারবে না।
কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু উমার (রাঃ)-এর কথা, তা তোমার মাথায়ই রয়েছে অথচ তুমি তা জান না? এ কথার প্রেক্ষিতে ইবনু সাইয়্যাদ বলে, আল্লাহ কিছু সৃষ্টি করতে চাইলে অতি নিকটতম হওয়া সত্ত্বেও তুমি তা জানতে পারবে না। সে এ কথা দ্বারা বুঝাতে চাচ্ছে, হয়তো চোখে এমন কিছু ঘটে যেতে পারে যার অনুভূতি তার মধ্যে থাকে না। মানুষের জীবনে এমন কিছু ঘটে যায় যা নিয়ে সে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়ে যে, অন্য কিছুর অনুভূতি উপলব্ধি করতেই পারে না।
মিরক্বাত লেখক বলেন, এ রকম দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে, যেমন- কেউ যদি অধিক আনন্দে থাকে বা দুশ্চিন্তায় থাকে সে ক্ষুধার যন্ত্রণা অনুভব করতে পারে না।

(فَنَخَرَ كأشد نخير حمَار) সে নাক দিয়ে এমন বিকট আওয়াজ করছে, যেমন- গাধা আওয়াজ করে থাকে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, (اِنَّ اَنۡکَرَ الۡاَصۡوَاتِ لَصَوۡتُ الۡحَمِیۡرِ) “নিশ্চয় সবচেয়ে নিকৃষ্ট আওয়াজ হচ্ছে গাধার আওয়াজ”- (সূরা লুকমান ৩১: ১৯)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১৮তম খণ্ড, হা. ২৯৩২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৫০০-[৭] মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে দেখেছি, তিনি আল্লাহর শপথ করে বলতেন যে, ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল। তখন আমি বললাম, আপনি আল্লাহর শপথ করে বলছেন? জবাবে তিনি বললেন, আমি ’উমার (রাঃ) কে এ সম্পর্কে নবী (সা.) -এর সামনে কসম করে বলতে শুনেছি, অথচ নবী (সা.) তাতে কোন আপত্তি করেননি। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ: رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ أَنَّ ابْنَ الصَّيَّادِ الدَّجَّالُ. قُلْتُ: تَحْلِفُ بِاللَّهِ؟ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يُنْكِرْهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7355) و مسلم (94 / 2929)، (7353) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن محمد بن المنكدر قال: رايت جابر بن عبد الله يحلف بالله ان ابن الصياد الدجال. قلت: تحلف بالله؟ قال: اني سمعت عمر يحلف على ذلك عند النبي صلى الله عليه وسلم فلم ينكره النبي صلى الله عليه وسلم. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7355) و مسلم (94 / 2929)، (7353) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ أَنَّ ابْنَ الصَّيَّادِ الدَّجَّالُ) জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল্লাহর নামে শপথ করে বলেন, নিশ্চয় ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল। তাকে বলা হলো, তুমি কসম করে বলছ যে, ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল অথচ তার ব্যাপারটি সন্দেহভাজন। শুধুমাত্র ধারণা করে এ কথা বলা হয়। তখন তিনি উত্তর দিলেন, ‘উমার (রাঃ) স্বয়ং রাসূল (সা.) -এর উপস্থিতিতে কসম করে বলেছেন, নিশ্চয় সেই দাজ্জাল, কিন্তু নবী (সা.) তাকে বাধা দেননি। যদি সে দাজ্জাল নাই হত তাহলে রাসূল (সা.) অবশ্যই তা অপছন্দ করতেন বা বাধা দিতেন। যেহেতু তিনি চুপ ছিলেন তাই কসম করা বৈধ হয়েছে।

অথবা বলা যায়, ‘উমার (রাঃ) দাজ্জাল দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন ইবনু সাইয়্যাদ ঐ সমস্ত দাজ্জালের একজন যারা নুবুওয়্যাত দাবী করবে অথবা মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করবে। প্রকৃতপক্ষে সে আসল দাজ্জাল নয়। যেহেতু রাসূল (সা.) নিজেই তার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না যা তার উক্তি থেকে প্রমাণিত হয়। তিনি তাকে বলেছিলেন, যদি সে দাজ্জাল হয় তাহলে তুমি তার হত্যাকারী নও, তাকে হত্যা করবে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম। আর যদি সে না হয় তাহলে তাকে হত্যার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। এখানে ‘উমার (রাঃ) রাসূল -এর নিরবতার উপর প্রবল ধারণা করে কসম করেছেন এবং এটা তার জন্য বৈধ হয়েছে। [আল্লাহ সর্বাধিক ভালো জানেন।]

মিরকাত গ্রন্থকার বলেন, নবী (সা.) ‘উমার (রাঃ)-কে বাধা দেননি কারণ তিনি ঐ সমস্ত দাজ্জালদের একজন যাদের ব্যাপারে তিনি মানুষকে সতর্ক করেছিলেন এই বলে, (يَخْرُجُ فِي أُمَّتِي دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبًا مِنْ ثَلاَثِينَ) “আমার এই উম্মতের মধ্যে ৩০ জনের মতো মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। আর ইবনু সাইয়্যাদ ঐ সমস্ত দলের একজন থেকে বাদ নয়। কেননা সে নবী (সা.) -এর উপস্থিতিকেই নুবুওয়্যাত দাবী করেছিল, তাই ‘উমার (রাঃ)-এর কসম করা সত্য বহির্ভূত হয়নি অথবা তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন তার মধ্যে দাজ্জালের কিছু গুণাবলি রয়েছে। আল্লাহই এ ব্যাপারে ভালো জানেন।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১৩দশ খণ্ড, হা. ৭৩৫৫; ‘আওনুল মাবুদ ৭ম খণ্ড, হা. ৪৩২৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৫০১-[৮] নাফি (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) বলতেন, ইবনু সাইয়্যাদ যে মাসীহে দাজ্জাল, তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই। (আবূ দাউদ ও বায়হাক্বী’র “কিতাবুল বাসি ওয়ান্ নুযূর)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

عَنْ نَافِعٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ: وَاللَّهِ مَا أَشُكُّ أَنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ ابْنُ صيَّادٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «كِتَابِ الْبَعْثِ والنشور»

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4330) و البیھقی فی البعث و النشور (لم اجدہ) ۔
(صَحِيح)

عن نافع قال: كان ابن عمر يقول: والله ما اشك ان المسيح الدجال ابن صياد. رواه ابو داود والبيهقي في «كتاب البعث والنشور» اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (4330) و البیھقی فی البعث و النشور (لم اجدہ) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (وَاللَّهِ مَا أَشُكُّ) ইবনু উমার (রাঃ) কসম করে বলেন যে, আল্লাহর শপথ, নিশ্চয় ইবনু সাইয়্যাদই হচ্ছে মাসীহু দাজ্জাল। এতে কোন সন্দেহ নেই। এই হচ্ছে সেই যার ব্যাপারে নবী (সা.) সতর্ক করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ নাফি‘ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৫০২-[৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাররাহ্ যুদ্ধের দিন থেকে আমরা ইবনু সাইয়্যাদ-কে আর খুঁজে পাইনি। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَدْ فَقَدْنَا ابْنَ صَيَّادٍ يَوْمَ الْحَرَّةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4332) * الاعمش مدلس و عنعن

وعن جابر رضي الله عنه قال: قد فقدنا ابن صياد يوم الحرة. رواه ابو داود اسنادہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4332) * الاعمش مدلس و عنعن

ব্যাখ্যা: (قَدْ فَقَدْنَا ابْنَ صَيَّادٍ يَوْمَ الْحَرَّةِ) জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা হাররার দিন তথা ইয়াযীদ ইবনু মু'আবিয়াহ্ যেদিন মদীনাবাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেন, সেদিন ইবনু সাইয়্যাদ-কে খুঁজে পাইনি। বলা হয়, এটা তাদের বর্ণনার বিপরীত, যারা বলেছিল ইবনু সাইয়্যাদ মদীনায় মারা গেছে। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মূলত এটা (তাকে না পাওয়া) উক্ত বর্ণনার বিপরীত বুঝায় না। তাকে না পাওয়ার কারণ হলো, সে মদীনাতেই মারা গেছে, অন্য কোথাও অথবা সে মদীনায় মারা যায়নি, তবে আত্মপ্রকাশের আগ পর্যন্ত কোথাও বেঁচে আছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৫০৩-[১০] আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জালের বাপ মা ত্রিশ বছর পর্যন্ত নিঃসন্তান থাকবে। অতঃপর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, যে হবে কানা, লম্বা লম্বা দাঁতবিশিষ্ট ও অকেজো। তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যাবে কিন্তু তার অন্তর ঘুমাবে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তার পিতামাতার অবস্থা বললেন, তার পিতা হবে পাতলা দেহবিশিষ্ট, ছিপছিপে লম্বা, তার নাক হবে পাখির ঠোটের মতো সরু। আর তার মাতা হবে মোটা দেহবিশিষ্ট, হাত দুইখানা লম্বা লম্বা। আবূ বকরাহ্ (রাঃ) বলেন, মদীনার ইয়াহূদীদের ঘরে (এ জাতীয়) একটি সন্তান জন্ম হওয়ার কথা আমরা শুনতে পেলাম। তখন আমি ও যুবায়র ইবনুল আওয়াম (তাকে দেখতে) গেলাম এবং তার পিতামাতার কাছে পৌছে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের উভয়ের ব্যাপারে যেরূপ বর্ণনা করেছিলেন, তারা হুবহু সেরূপই। অতঃপর আমরা তাদেরকে প্রশ্ন করলাম, তোমাদের কোন সন্তান আছে কি? তারা বলল, ত্রিশ বছর পর্যন্ত আমরা নিঃসন্তান ছিলাম, অতঃপর আমাদের এমন একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, যে কানা, বড় বড় দাঁতবিশিষ্ট ও অপদার্থ। তার চোখ ঘুমায় কিন্তু তার অন্তর ঘুমায় না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা তাদের নিকট থেকে বের হয়ে দেখি যে, সে সন্তান একখানা চাদর মুড়া দিয়ে রৌদ্রের মধ্যে শুয়ে আছে এবং তা হতে গুনগুন শব্দ শুনা যাচ্ছে। তখন সে মাথা থেকে চাদর সরিয়ে বলল, তোমরা দু’জনে কি কথা বলেছ? আমরা প্রশ্ন করলাম, আমরা যা বলেছি তুমি তা শুনেছ? সে বলল, হ্যা শুনেছি। আমার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা যায়, কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «يمْكث أَبُو الدَّجَّالِ ثَلَاثِينَ عَامًا لَا يُولَدُ لَهُمَا وَلَدٌ ثُمَّ يُولَدُ لَهُمَا غُلَامٌ أَعْوَرُ أَضْرَسُ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ» . ثُمَّ نَعَتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَوَيْهِ فَقَالَ: «أَبُوهُ طُوَالٌ ضَرْبُ اللَّحْمِ كَأَنَّ أَنْفَهُ مِنْقَارٌ وَأُمُّهُ امْرَأَةٌ فِرْضَاخِيَّةٌ طَوِيلَةُ الْيَدَيْنِ» . فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ: فَسَمِعْنَا بِمَوْلُودٍ فِي الْيَهُود. فَذَهَبْتُ أَنَا وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبَوَيْهِ فَإِذَا نَعْتُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمَا فَقُلْنَا هَلْ لَكُمَا وَلَدٌ؟ فَقَالَا: مَكَثْنَا ثَلَاثِينَ عَامًا لَا يُولَدُ لَنَا وَلَدٌ ثُمَّ وُلِدَ لَنَا غُلَامٌ أَعْوَرُ أَضْرَسُ وَأَقَلُّهُ مَنْفَعَةً تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلَا يَنَامُ قَلْبُهُ قَالَ فَخَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِمَا فَإِذَا هُوَ مجندل فِي الشَّمْسِ فِي قَطِيفَةٍ وَلَهُ هَمْهَمَةٌ فَكَشَفَ عَن رَأسه فَقَالَ: مَا قلتما: وَهَلْ سَمِعْتَ مَا قُلْنَا؟ قَالَ: نَعَمْ تَنَامُ عَيْنَايَ وَلَا ينَام قلبِي رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2248 وقال : حسن غریب) * فیہ علی بن زید بن جدعان : ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي بكرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يمكث ابو الدجال ثلاثين عاما لا يولد لهما ولد ثم يولد لهما غلام اعور اضرس واقله منفعة تنام عيناه ولا ينام قلبه» . ثم نعت لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ابويه فقال: «ابوه طوال ضرب اللحم كان انفه منقار وامه امراة فرضاخية طويلة اليدين» . فقال ابو بكرة: فسمعنا بمولود في اليهود. فذهبت انا والزبير بن العوام حتى دخلنا على ابويه فاذا نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم فيهما فقلنا هل لكما ولد؟ فقالا: مكثنا ثلاثين عاما لا يولد لنا ولد ثم ولد لنا غلام اعور اضرس واقله منفعة تنام عيناه ولا ينام قلبه قال فخرجنا من عندهما فاذا هو مجندل في الشمس في قطيفة وله همهمة فكشف عن راسه فقال: ما قلتما: وهل سمعت ما قلنا؟ قال: نعم تنام عيناي ولا ينام قلبي رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2248 وقال : حسن غریب) * فیہ علی بن زید بن جدعان : ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (يمْكث أَبُو الدَّجَّالِ ثَلَاثِينَ عَامًا) দাজ্জালের পিতা-মাতা ত্রিশ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, তাদের কোন সন্তান জন্মাবে না। দাজ্জাল বলতে স্বয়ং দাজ্জাল হতে পারে, অথবা উক্ত ৩০ জন দাজ্জালের যে কোন একজন হতে পারে। যার বিবরণ ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
(ثُمَّ يُولَدُ لَهُمَا غُلَامٌ) এরপর তার একজন পুত্র সন্তান হবে। সে হবে অন্ধ তথা জ্যোতিহীন চোখ বিশিষ্ট, বড় বড় মাড়ির দাঁতবিশিষ্ট, তার দ্বারা খুব কম উপকার পাওয়া যাবে। তার চক্ষু ঘুমাবে ঠিকই কিন্তু অন্তর জাগ্রত থাকবে। আল্লামাহ্ ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ সে ঘুমালেও তার কাছে শয়তানী
ওয়াসওয়াসার ধারাবাহিকতা জারি থাকবে, ফলে তার কুচক্রি চিন্তা-ভাবনা বন্ধ হবে না। যেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) - উম্মাতের চিন্তায় বিভোর থাকায় ঘুমালেও তার মন জাগ্রত থাকত।

(ثُمَّ نَعَتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَوَيْهِ) অতঃপর নবী (সা.) তার পিতা-মাতার বিবরণ আমাদেরকে পেশ করলেন। তার পিতা হবে দীর্ঘকায় শরীরে হালকা মাংসবিশিষ্ট তার নাক হবে পাখির ঠোটের ন্যায় দীর্ঘ। আর তার মা হবে মোটাসোটা অথবা দীর্ঘদেহের অধিকারী বড় বড় স্তন বিশিষ্ট এবং লম্বা লম্বা হাতবিশিষ্ট তথা দেহের তুলনায় হাত দীর্ঘ হবে।
(مُنْجَدِلٌ فِى الشَّمْسِ) সে সূর্যের আলোতে মাটিতে শায়িত অবস্থায় ছিল। আল্লামাহ তীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ সে মাটিতে শুয়েছিল। যেমনভাবে হাদীসে এই শব্দটি প্রয়োগ হয়েছে। নবী (সা.) বলেন, (إِنّيِ عِنْدَاللَّهِ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَخَاتَمُ النَّنِيِّينَ،وَإِنَّ اَدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ)
অর্থাৎ আমি আল্লাহর কিতাবে শেষ নবী হিসেবে তখনো লিখিত ছিলাম যখন আদম আলায়হিস সালাম মাটিতে মিশে ছিল। (মুসনাদে আহমাদ হা, ১৭১৬৩: সহীহ লিগয়রিহী)
(وَلَهُ هَمْهَمَةٌ) আর তার ভিতর থেকে অস্পষ্ট কথার আওয়াজ বের হচ্ছিল। হামহামাহ্ বলা হয় ঘোড়ার দ্রুত চলার সময় আওয়াজের ন্যায় বুকের ভিতর কোন শব্দের প্রতিধ্বনি হওয়াকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২২৪৮)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বাকরা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবনু সাইয়্যাদ-এর ঘটনা

৫৫০৪-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক সময় মদীনার জনৈকা মহিলা এমন একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিল, যার এক চোখ মোছানো, মাঢ়ির দাঁতগুলো মুখের বাহির পর্যন্ত লম্বা, তাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) এই আশঙ্কা করেছিলেন যে, হয়তো সে-ই দাজ্জাল। অতঃপর একদিন তিনি (সা.) তাকে দেখলেন, সে একখানা চাদর জড়িয়ে শুয়ে গুনগুন করছে, তখন তার মা তাকে ডেকে বলল, হে ’আবদুল্লাহ! এই যে আবূল কাসিম। তখন সে চাদরের ভিতর হতে বের হলো, এ সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) (বিরক্তির সুরে) বললেন, এ মহিলাটির কি হলো আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, যদি সে তাকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দিত, তাহলে প্রকৃত অবস্থা উদঘাটিত হয়ে যেত। অতঃপর বর্ণনাকারী জাবির ইবনু উমার (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের মতো বর্ণনা করেন। তখন ’উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তাকে হত্যা করে ফেলি।

রাসূলুল্লাহ (সা.)  বললেন, যদি সে প্রকৃত দাজ্জালই হয়, তবে তুমি তার হত্যাকারী নও, বরং তার হত্যাকারী হলেন ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)। আর যদি সে প্রকৃত দাজ্জালই না হয়, তাহলে এমন এক লোককে হত্যা করা তোমার অধিকার নেই, যে নিরাপত্তা চুক্তির আওতার রয়েছে। বর্ণনাকারী জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)  তখন থেকে এই আশঙ্কা করতেন যে, হয়তো সে (ইবনু সাইয়্যাদ)-ই প্রকৃত দাজ্জাল। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب قصَّة ابْن الصياد)

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنَ الْيَهُودِ بِالْمَدِينَةِ وَلَدَتْ غُلَامًا مَمْسُوحَةٌ عَيْنُهُ طَالِعَةٌ نَابُهُ فَأَشْفَقَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن يَكُونَ الدَّجَّالَ فَوَجَدَهُ تَحْتَ قَطِيفَةٍ يُهَمْهِمُ. فَآذَنَتْهُ أُمُّهُ فَقَالَتْ: يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا أَبُو الْقَاسِمِ فَخَرَجَ مِنَ الْقَطِيفَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا لَهَا قَاتَلَهَا اللَّهُ؟ لَوْ تَرَكَتْهُ لَبَيَّنَ فَذَكَرَ مِثْلَ مَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ائْذَنْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْتُلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِن يكن هُوَ فَلَيْسَتْ صَاحِبَهُ إِنَّمَا صَاحِبُهُ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ وَإِلَّا يكن هُوَ فَلَيْسَ لَك أتقتل رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْعَهْدِ» . فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُشْفِقًا أَنَّهُ هُوَ الدَّجَّال. رَوَاهُ فِي شرح السّنة وَهَذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلِ الثَّالِثِ

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (5 / 78 ح 4274) [و احمد (3 / 368 ح 15018)] * فیہ ابو الزبیر مدلس و عنعن

وعن جابر ان امراة من اليهود بالمدينة ولدت غلاما ممسوحة عينه طالعة نابه فاشفق رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يكون الدجال فوجده تحت قطيفة يهمهم. فاذنته امه فقالت: يا عبد الله هذا ابو القاسم فخرج من القطيفة فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما لها قاتلها الله؟ لو تركته لبين فذكر مثل معنى حديث ابن عمر فقال عمر بن الخطاب اىذن لي يا رسول الله فاقتله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان يكن هو فليست صاحبه انما صاحبه عيسى بن مريم والا يكن هو فليس لك اتقتل رجلا من اهل العهد» . فلم يزل رسول الله صلى الله عليه وسلم مشفقا انه هو الدجال. رواه في شرح السنة وهذا الباب خال عن الفصل الثالث اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (5 / 78 ح 4274) [و احمد (3 / 368 ح 15018)] * فیہ ابو الزبیر مدلس و عنعن

ব্যাখ্যা: (فَأَشْفَقَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم) রাসূলুল্লাহ (সা.) তার উম্মতের জন্য ভীত-সন্ত্রস্ত হলেন এ কারণে যে, হয়তো সে দাজ্জাল হতে পারে। (যেহেতু দাজ্জালের গুণাবলির সাথে ইবনু সাইয়্যাদ-এর গুণাবলির মিল পাওয়া গেছে)
(فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُشْفِقًا أَنَّهُ هُوَ الدَّجَّال) রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তার উম্মতের ব্যাপারে সর্বদা ভীত থাকতেন এ কারণে যে, হয়তো ইবনু সাইয়্যাদই দাজ্জাল হতে পারে। কতিপয় গবেষক এর কারণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ইবনু সাইয়্যাদ-এর কতিপয় গুণাবলি দাজ্জালের সাথে মিল ও অমিল থাকায় নবী (সা.) তার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন এবং ধারণা করেছিল সে দাজ্জাল হতে পারে। এটা নবী (সা.) -এর দাজ্জাল সম্পর্কে নিশ্চিত সংবাদ জানার পূর্বের ঘটনা। যখন তিনি তামীম আদ দারী-এর ঘটনার মাধ্যমে সকলকে দাজ্জালের ফিতনাহ্ সম্পর্কে অবগত করলেন তখন তার উক্ত ধারণা দূরীভূত হয় যে, ইবনু সাইয়্যাদ প্রকৃত দাজ্জাল নয়। আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) -এর বর্ণনা একে আরো শক্তিশালী করে যে, তিনি ইবনু সাইয়্যাদ-এর সাথে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা সঙ্গী হয়েছিলেন।
মূলত দাজ্জালের পিতা-মাতার গুণাবলির সাথে ইবনু সাইয়্যাদ-এর পিতামাতার গুণাবলি মিলে যাওয়ার মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয় না যে, নিশ্চিতভাবে উভয়েই এক ব্যক্তি। এমনিভাবে ‘উমার (রাঃ) ও তার পূর্বের কসম খাওয়া এবং রাসূল (সা.) তার প্রতিবাদ না করার দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে, সেই দাজ্জাল। কেননা এটা ছিল তার বাস্তব ঘটনা অবগত হওয়ার পূর্বের অবস্থা। তাই তিনি সে সময় উম্মতের জন্য ভীত ছিলেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ -‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ

৫৫০৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - বলেছেন: সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই ইবনু মারইয়াম ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন। তিনি (খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতীক) শূলী ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযইয়াহ্ প্রথা রহিত করবেন (অর্থাৎ ইসালাম গ্রহণ ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করা হবে না) এবং মাল-সম্পদের এত প্রাচুর্য হবে যে, কেউই তা কবুল করবে না। সেই সময় একটি সিজদাহ্ দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তা অপেক্ষা অধিক উত্তম হবে। অতঃপর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, যদি তোমরা চাও (তবে প্রমাণ হিসেবে) এ আয়াতটি পাঠ কর- (وَ اِنۡ مِّنۡ اَهۡلِ الۡکِتٰبِ اِلَّا لَیُؤۡمِنَنَّ بِهٖ قَبۡلَ مَوۡتِهٖ) “তাঁর [ঈসা (আঃ) এর] ওফাতের পূর্বে প্রতিটি আহলে কিতাব তার উপরে ঈমান আনবে"- (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ১৫৯)। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب نزُول عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَام)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ليوشكَنَّ أَن ينزلَ فِيكُم ابنُ مَرْيَم حكَمَاً عَدْلًا فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَفِيضُ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ حَتَّى تكون السَّجْدَة الْوَاحِدَة خيرامن الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا» . ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ: فاقرؤا إِن شئْتم [وإِنْ من أهل الْكتاب إِلاّ ليُؤْمِنن بِهِ قبل مَوته] الْآيَة. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2222) و مسلم (242 / 155)، (389 و 390) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده ليوشكن ان ينزل فيكم ابن مريم حكما عدلا فيكسر الصليب ويقتل الخنزير ويضع الجزية ويفيض المال حتى لا يقبله احد حتى تكون السجدة الواحدة خيرامن الدنيا وما فيها» . ثم يقول ابو هريرة: فاقروا ان شىتم [وان من اهل الكتاب الا ليومنن به قبل موته] الاية. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2222) و مسلم (242 / 155)، (389 و 390) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ) অতঃপর তিনি খ্রিষ্টানদের ক্রশ চিহ্ন ভেঙ্গে ফেলবেন। শারহুস্ সুন্নাহ ও অন্যান্য গ্রন্থে এর অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে, তিনি খ্রিষ্টীয় মতবাদকে ধ্বংস করে দীনে হানীফের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন।
(وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ) এবং তিনি শুকর মেরে ফেলবেন। অর্থাৎ তিনি শুকর লালন পালন ও তা খাওয়া হারাম ঘোষণা করবেন এবং হত্যার নির্দেশ দিবেন।
শারহুস্ সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে, এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মূলত শুকর সম্পূর্ণভাবে অপবিত্র। যেহেতু ‘ঈসা আলায়হিস সালাম ইসালামী শারী'আহ মোতাবেক শুকরকে মেরে ফেলতে বলবেন আর শারী'আতে উপকারী বস্তু ধ্বংস করা বৈধ নয়। আর এটাও প্রমাণিত হয় যে, শুকর সম্পূর্ণভাবে হারাম হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনের সাথে কখনো তা বৈধ হতে পারে।
(وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ) আর তিনি আহলে কিতাবের উপর থেকে জিযইয়াহ্ বা কর প্রথা উঠিয়ে দিবেন এবং তাদেরকে ইসালামে দীক্ষিত করবেন। মূলত সত্য দীন ছাড়া আর কেউ তাদের থেকে তা গ্রহণ করবে না। অথবা তিনি তাদের ওপর থেকে জিযইয়াহ্ বা কর উঠিয়ে দিবেন এ কারণে যে, তখন তা গ্রহণ করার মত কোন লোক থাকবে না। সম্পদের প্রাচুর্যতার কারণে সম্পদের প্রতি কারো লোভ থাকবে না। এর প্রমাণ হচ্ছে। হাদীসের পরবর্তী বাক্য (وَيَفِيضُ الْمَالُ حَتَّى لَا يَقْبَلَهُ أَحَدٌ) অর্থাৎ সম্পদ এত অধিক হবে যে, তা কেউ গ্রহণ করবে না।

(حَتَّى تكون السَّجْدَة الْوَاحِدَة خيرامن الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا) এমনকি একটি সিজদাহ্ দেয়া দুনিয়া ও তার যাবতীয় বস্তুর চেয়ে উত্তম হবে। কেননা তাতে ‘ইবাদতের মাধ্যমে প্রশান্তি অর্জন নিহিত রয়েছে। এখানে সিজদাহ্ বলতে পরিপূর্ণ সালাতকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যেহেতু সালাতের মধ্যে সিজদাহও অন্তর্ভুক্ত। ‘আল্লামাহ্ তূরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বাস্তবেই একটি সিজদার মূল্যায়ন এমনটি হবে। যেহেতু মানুষেরা আল্লাহর আদেশ পালনে অনুরাগী হবে এবং দুনিয়া থেকে বিরাগী হবে। তাই তাদের কাছে একটি সিজদাহ্ দুনিয়া ও তার যাবতীয় বস্তু হতে উত্তম হবে।।

অতঃপর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, তোমরা চাইলে পবিত্র কুরআনের এই আয়াত পড়ে দেখ, আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই তার মৃত্যুর পূর্বে 'ঈসা আলায়হিস সালাম-এর প্রতি ঈমান আনবে।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, ‘ঈসা আলায়হিস সালাম শেষ যামানায় এই দুনিয়ায় আগমন করবেন, যা রাসূলের বাণীর সত্যায়নকারী সাব্যস্ত করে। অর্থাৎ আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই “ঈসা আলায়হিস সালাম-এর মৃত্যুর পূর্বেই তার প্রতি ঈমান আনবে। তখন শুধু ইসলাম ধর্মই অবশিষ্ট থাকবে অন্য কোন ধর্ম থাকবে না। অথবা আয়াতের অর্থ এরূপও হতে পারে আহলে কিতাবের প্রত্যেকেই প্রাণ হরণের পূর্বেই মুহাম্মাদ (সা.) -এর প্রতি ঈমান আনবে। কিন্তু তখন তার ঈমান কোনই কাজে আসবে না। অথবা প্রত্যেক আহলে কিতাবই মৃত্যুর পূর্বে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে কিন্তু তা কোনই কাজে আসবে না। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর মতই অধিক গ্রহণযোগ্য।  (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ৩৪৪৮; শারহুন নাবাবী ২য় খণ্ড, হা. ২৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ -‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ

৫৫০৬-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় ইবনু মারইয়াম সত্যপরায়ণ শাসকরূপে অবতরণ করবেন। তিনি শূলী ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযইয়াহ্ প্রথা রহিত করে দেবেন। লোকেরা জোয়ান জোয়ান তাজা-তাগড়া উষ্ট্ৰীসমূহ ছেড়ে দেবে, অথচ কেউই তার প্রতি গুরুত্ব দিবে না। মানুষের অন্তর হতে কার্পণ্য, হিংসা ও বিদ্বেষ সমূলে দূর হয়ে যাবে এবং ঈসা আলায়হিস সালাম মানুষদেরকে সম্পদ প্রদানের জন্য ডাকবেন, কিন্তু (প্রয়োজন না থাকায়) কেউই তা গ্রহণ করবে না। (মুসলিম)
বুখারী ও মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছে- তিনি (সা.) বলেছেন, তখন তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? যখন ইবনু মারইয়াম তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে ইমাম হবেন। (অর্থাৎ ’ঈসা আলায়হিস সালাম হবেন শাসক, আর সালাতের ইমামতি করবেন মাহদী)

الفصل الاول (بَاب نزُول عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَام)

وَعنهُ قا ل: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَيَنْزِلَنَّ ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا عَادِلًا فَلَيَكْسِرَنَّ الصَّلِيبَ وَلَيَقْتُلَنَّ الْخِنْزِيرَ وَلَيَضَعَنَّ الْجِزْيَةَ وَلَيَتْرُكَنَّ الْقِلَاصَ فَلَا يسْعَى عَلَيْهَا ولتذهبن الشحناء وَالتَّحَاسُدُ وَلَيَدْعُوَنَّ إِلَى الْمَالِ فَلَا يَقْبَلُهُ أَحَدٌ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُمَا قَالَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُم»

رواہ مسلم (243 / 155)، (391) و الروایۃ الثانیۃ ، رواھا البخاری (3449) و مسلم (244 / 155)، (392) ۔
(صَحِيح)

وعنه قا ل: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والله لينزلن ابن مريم حكما عادلا فليكسرن الصليب وليقتلن الخنزير وليضعن الجزية وليتركن القلاص فلا يسعى عليها ولتذهبن الشحناء والتحاسد وليدعون الى المال فلا يقبله احد» . رواه مسلم. وفي رواية لهما قال: «كيف انتم اذا نزل ابن مريم فيكم وامامكم منكم» رواہ مسلم (243 / 155)، (391) و الروایۃ الثانیۃ ، رواھا البخاری (3449) و مسلم (244 / 155)، (392) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَيَتْرُكَنَّ الْقِلَاصَ) যুবতী উটনীকে ছেড়ে দিবেন অর্থাৎ তার মাধ্যমে কোন কাজ করা হবে না। যেহেতু এ ধরনের উটনী আরো অধিক থাকবে অথবা এর অর্থ হচ্ছে উটের যাকাত গ্রহণ করা ও আদায় করার জন্য কাউকে নির্দেশ দিবেন না। যেহেতু গ্রহণ করার মতো কেউ থাকবে না। অথবা উট দেখাশুনার জন্য সেগুলোর সাথে কোন রাখাল থাকবে না। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ এটাও হতে পারে, এর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে, মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদ সংগ্রহের জন্য ভ্রমণ করা ছেড়ে দিবে, যেহেতু তারা অভাবমুক্ত হবে।

(ولتذهبن الشحناء) তাদের মধ্যে থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত হবে। ফলে কোন শত্রুতা থাকবে না। কেননা দুনিয়ার প্রতি লোভ-লালসার কারণেই এগুলো হয়ে থাকে, যেহেতু অন্তরে দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা থাকবে না, তাই হিংসা-বিদ্বেষ বিতাড়িত হবে।

(كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا نَزَلَ ابْنُ مَرْيَمَ فِيكُمْ وَإِمَامُكُمْ مِنْكُم) তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? যখন ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম তোমাদের নিকট অবতীর্ণ হবেন, অথচ তোমাদের মাঝে ইমাম (মাহদী) বিদ্যমান থাকবেন।
অত্র হাদীসাংশে (إِمَامُكُمْ مِنْكُم) বলতে বুঝাচ্ছে, তোমাদের মধ্য থেকেই হবেন না ‘ঈসা আলায়হিস সালাম। কেননা তিনি খলীফাহ্ বা প্রতিনিধি হিসেবে আসবেন। অথবা, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে, ‘ঈসা আলায়হিস সালাম নবী (সা.) -এর উম্মত হিসেবে আবির্ভূত হবেন না, বরং তার উম্মতের সমর্থনকারী হিসেবে ও সহযোগী হিসেবে আসবেন।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (إِمَامُكُمْ) শব্দে (كُمْ) সর্বনাম দ্বারা ঈসা আলায়হিস সালাম-কে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ‘ঈসা আলায়হিস সালাম তোমাদের ধর্মের অনুসারী হয়ে সালাতের ইমামতি করবেন। অথবা এটাও হতে পারে যে, তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের ইমামের মাধ্যমে সম্মানিত হবে। এমতাবস্থায় তোমাদের মাঝে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম অবতরণ করবেন তখন তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? তখন ‘ঈসা আলায়হিস সালাম তোমাদের দীনের সম্মানে তোমাদের ইমামের পিছনে সালাতের ইকতিদা করবেন। এর প্রমাণ হচ্ছে পরবর্তী আগত হাদীস। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।

আবূ যার আল হারাবী বলেন, যাওবাকী (রহিমাহুল্লাহ) কতিপয় পূর্বসুরী ‘আলিম থেকে বর্ণনা করেন, (إِمَامُكُمْ مِنْكُم) এর অর্থ হচ্ছে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম কুরআন দ্বারা ফায়সালা করবেন ইঞ্জীল দিয়ে নয়।
ইবনু তীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (إِمَامُكُمْ مِنْكُم) এর অর্থ হচ্ছে, শারী'আতে মুহাম্মাদী কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে এবং প্রত্যেক যুগে কতিপয় বিচক্ষণ ‘আলিম থাকবে। এর দ্বারা এটা বুঝায় না যে, “ঈসা আলায়হিস সালাম অবতীর্ণ হলে তিনি ইমাম হবেন। যদি ধরে নেয়া হয় যে, তিনি ইমাম হবেন, তাহলে এর অর্থ হলো তিনি তোমাদের জামা'আতের একজন হবেন।
‘আল্লামাহ্ ইবনু জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যদি ‘ঈসা আলায়হিস সালাম এসে ইমামতি করেন তাহলে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হতে পারে, তিনি কি নতুন কোন ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে আসবেন, নাকি প্রতিনিধি হিসেবে আসবেন? তাই তিনি মুক্তাদী হিসেবে মসজিদে সালাত আদায় করবেন। যাতে নবী (সা.) -এর বাণী- (لَانَبِيَّ بَعْدِي) আমার পরে আর কোন নবী আসবেন না- এ কথার প্রতি কোন সন্দেহের দাগ না লাগে।
কিয়ামতের পূর্বে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম আগমন করে ইমামের পিছনে ইক্তিদা করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর জমিনে কোন সময় নেতৃত্বশূন্য থাকবে না। আল্লাহই সর্বাধিক ভালো জানেন। (ফাতহুল বারী ৫ম খণ্ড, হা, ৩৪৪৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ -‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ

৫৫০৭-[৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মতের একদল লোক সত্যের উপর দৃঢ় থেকে (বাতিলের বিরুদ্ধে বিজয়ীরূপে কিয়ামত পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকবে। তিনি (সা.) বলেন, অতঃপর ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। সে সময়ের লোকেদের আমীর বা নেতা (ইমাম মাহদী) তাকে বলবেন, আপনি এদিকে আসুন এবং লোকদেরকে সালাত আদায় করিয়ে দিন। তিনি বলবেন না; বরং তোমরা একে অপরের ইমাম। আল্লাহ তা’আলা এ উম্মাতকে মর্যাদা দান করেছেন। (মুসলিম)।

الفصل الاول (بَاب نزُول عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَام)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ ظَاهِرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَة» . قا ل: فَينزل عِيسَى بن مَرْيَمَ فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ: تَعَالَ صَلِّ لَنَا فَيَقُولُ: لَا إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ تَكْرِمَةَ الله هَذِه الْأمة . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَهَذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلِ الثَّانِي

رواہ مسلم (247 / 156)، (395) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تزال طاىفة من امتي يقاتلون على الحق ظاهرين الى يوم القيامة» . قا ل: فينزل عيسى بن مريم فيقول اميرهم: تعال صل لنا فيقول: لا ان بعضكم على بعض امراء تكرمة الله هذه الامة . رواه مسلم وهذا الباب خال عن الفصل الثاني رواہ مسلم (247 / 156)، (395) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ) সঠিক পন্থা অবলম্বন করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। অথবা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য চেষ্টা সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
(ظَاهِرِينَ) শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করবে। যেহেতু আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, (فَاِنَّ حِزۡبَ اللّٰهِ هُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ) “সাবধান, নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয় লাভ করবে।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫: ৫৬)

(فَينزل عِيسَى بن مَرْيَمَ فَيَقُولُ أَمِيرُهُمْ: تَعَالَ صَلِّ لَنَا) ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম কিয়ামতের পূর্বে অবতরণ করবেন। তখন তাদের (মুসলিমদের) আমীর বলবেন, আসুন, সালাতের ইমামতি করুন। কেননা, ইমামের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হচ্ছেন যিনি সবচেয়ে উত্তম। আর আপনি হলেন নবী, আপনিই উপযুক্ত। তখন তিনি বলবেন, না আমি ইমাম হব না, কেননা এর দ্বারা মানুষ ধারণা করবে তোমাদের ধর্ম রহিত হয়ে গেছে। অথবা, তিনি ইমামতি করবে না, যেহেতু তোমাদের ইমামের জন্য ইকামত দেয়া হয়েছে। তাই তিনিই ইমামের জন্যে উত্তম ব্যক্তি। প্রথম মতটিই সঠিক। হাদীসের পরবর্তী বাক্যে এ কথার সমর্থন পাওয়া যায়:
(إِنَّ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ أُمَرَاءُ تَكْرِمَةَ الله هَذِه الْأمة) নিশ্চয় তোমাদের কতকের ওপর কতককে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণার্থে আমীর নিযুক্ত করা হয়েছে। আর আমার ওপর দায়িত্ব হলো ঐ আমীরকে সহায়তা করা।
(تَكْرِمَةَ الله هَذِه الْأمة) এই উম্মতে মুহাম্মাদীকে আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত করার জন্য।
কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ কথার অর্থ হলো, আল্লাহর বিধান হলো মুসলিমদের ইমাম হবেন তাদেরই একজন এবং তাদের আমীর হবেন তাদের অপরজন তাদের সম্মানের জন্য ও তাদের মর্যাদাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২২২৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ -‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর অবতরণ

৫৫০৮-[৪] আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম জমিনে অবতরণ করবেন, এরপর তিনি বিবাহ করবেন এবং তার সন্তানাদিও জন্মিবে এবং তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর অবস্থান করবেন। অতঃপর তিনি ইন্তিকাল করবেন। তাকে আমার সাথে আমার কবরের সাথে দাফন করা হবে। কিয়ামতের দিন আমি ও ঈসা ইবনু মারইয়াম একই কবরস্থান থেকে আবূ বকর ও ’উমর (রাঃ)-এর মধ্যখান হতে উত্থিত হব। (ইবনু জাওযী তাঁর “আল ওয়াফা” গ্রন্থে)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب نزُول عِيسَى عَلَيْهِ السَّلَام)

عَن عبد الله بن عَمْرو قا ل: قا ل رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَنْزِلُ عِيسَى بن مَرْيَمَ إِلَى الْأَرْضِ فَيَتَزَوَّجُ وَيُولَدُ لَهُ وَيَمْكُثُ خَمْسًا وَأَرْبَعِينَ سَنَةً ثُمَّ يَمُوتُ فَيُدْفَنُ مَعِي فِي قَبْرِي فأقوم أَنا وَعِيسَى بن مَرْيَمَ فِي قَبْرٍ وَاحِدٍ بَيْنَ أَبَى بَكْرٍ وَعُمَرَ» . رَوَاهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كِتَابِ الْوَفَاءِ

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن الجوزی فی کتاب الوفاء (2 / 714) [و العلل المتناھیۃ (2 / 433 ح 1529)] * فیہ عبد الرحمن بن زیاد بن انعم الافریقی ضعیف و فی السند الیہ نظر ۔
(ضَعِيف)

عن عبد الله بن عمرو قا ل: قا ل رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ينزل عيسى بن مريم الى الارض فيتزوج ويولد له ويمكث خمسا واربعين سنة ثم يموت فيدفن معي في قبري فاقوم انا وعيسى بن مريم في قبر واحد بين ابى بكر وعمر» . رواه ابن الجوزي في كتاب الوفاء اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن الجوزی فی کتاب الوفاء (2 / 714) [و العلل المتناھیۃ (2 / 433 ح 1529)] * فیہ عبد الرحمن بن زیاد بن انعم الافریقی ضعیف و فی السند الیہ نظر ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (يَمْكُثُ خَمْسًا وَأَرْبَعِينَ سَنَةً ثُمَّ يَمُوتُ) ঈসা আলায়হিস সালাম দুনিয়ায় আগমন করে বিয়ে করবেন ও তার সন্তান হবে এবং ৪৫ বছর অবস্থান করবেন, অতঃপর মৃত্যুবরণ করবেন।
এ হাদীস বাহ্যিকভাবে তাদের মতের বিপক্ষে যাচ্ছে। যারা বলেন, 'ঈসা আলায়হিস সালাম-কে ৩৩ (তেত্রিশ) বছর বয়সে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি দুনিয়ায় এসে সাত বছর অবস্থান করবেন। ফলে তার মোট বয়স হবে ৪০ বছর। তার সাত বছর অবস্থান সম্পর্কে সহীহ মুসলিমে হাদীস রয়েছে।
অতএব উভয় বর্ণনার সমন্বয় হচ্ছে সহীহ হাদীসে বর্ণিত রিওয়ায়াতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে অথবা ৫ বছরকে পূর্ণসংখ্যা না হওয়ার কারণে গণনায় ধরা হয়নি।
(ثُمَّ يَمُوتُ فَيُدْفَنُ مَعِي فِي قَبْرِي) অতঃপর তিনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তাকে আমার কবরস্থানে দাফন করা হবে। হাদীসে আমার কবরে দাফন করা হবে বলা হয়েছে। এর মর্ম হচ্ছে, তাকে রাসূল (সা.) -এর পার্শ্বে দাফন করা হবে। যেন তাদের দু'জনের কবর একটাই। কিয়ামতের দিন আমি ও ‘ঈসা আলায়হিস সালাম একই কবরস্থান থেকে উঠব আর আমাদের দুই পাশে দু’জন সাহাবী আবূ বাকর ও ‘উমার (রাঃ) থাকবেন। আবূ বাকর (রাঃ) থাকবে ডানে আর ‘উমার (রাঃ) থাকবে বামে। আবূ দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর গৃহে একটি কবর খালি আছে।
মিরাত ভাষ্যকার বলেন, আর উক্ত জায়গাটি হবে ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর কবরস্থান। রাসূল (সা.) ও আবূ বাকর-এর মাঝে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।

 কিয়ামতকে (السَّاعَةِ) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেহেতু তা হঠাৎ সংঘটিত হবে। আর তা মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হবে যদিও তা দীর্ঘসময় ধরে হওয়া সম্ভব। আল্লামাহ্ তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (السَّاعَةِ) দ্বারা সময়ের একটি অংশকে বুঝায় এবং কিয়ামত অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (সা.) -এর সুন্নাতে শব্দটি তিনটি প্রকারে বিভক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথমত (الْكُبْرَى) কিয়ামতে কুবরা বলতে সমস্ত মানুষকে হিসাবের জন্য পুনরুত্থান করাকে বুঝানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত (الْوُسْطَى) বা মধ্যম কিয়ামত বলতে শিঙ্গা ফুৎকারের মাধ্যমে মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে এবং (الصُّغرَى) বা ছোট কিয়ামত বলতে মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে।
তাই কিয়ামত বলতে উক্ত তিন প্রকারকে বুঝানো হয়েছে অথবা শুধু মৃত্যুকে বুঝানো হয়েছে। আল্লাহর সর্বাধিক ভালো জানেন।



৫৫০৯-[১] শু’বাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) কতাদাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি ও কিয়ামত এ দুটি অঙ্গুলির মতো প্রেরিত হয়েছি। শু’বাহ্ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি কতাদাহ্-কে বলতে শুনেছি, তিনি এ হাদীসটি ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন, যেমন মধ্যমা ও তর্জনী (শাহাদাত) অঙ্গুলির মাঝে একটি অন্যটি হতে কিছু বর্ধিত। অতঃপর শু’বাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমি বলতে পারি না, এ ব্যাখ্যাটি কি কতাদাহ (রহিমাহুল্লাহ) আনাস (রাঃ) হতে শুনে বলেছেন, নাকি কতাদাহ্ নিজেই বলেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابُ قُرْبِ السَّاعَةِ وَأَنَّ مَنْ مَاتَ فَقَدْ قَامَت قِيَامَته)

عَن شعبةَ عَن قَتَادَة عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ» . قَالَ شُعْبَةُ: وَسَمِعْتُ قَتَادَةَ يَقُولُ فِي قَصَصِهِ كفصل إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَلَا أَدْرِي أَذَكَرَهُ عَنْ أنس أَو قَالَه قَتَادَة؟ مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6504) و مسلم (133 / 2951)، (7404) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن شعبة عن قتادة عن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بعثت انا والساعة كهاتين» . قال شعبة: وسمعت قتادة يقول في قصصه كفصل احداهما على الاخرى فلا ادري اذكره عن انس او قاله قتادة؟ متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6504) و مسلم (133 / 2951)، (7404) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ) আমি প্রেরিত হয়েছি এবং কিয়ামত হাতের দুই আঙ্গুলের ন্যায় কাছাকাছি সময়ে। কাযী ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার দুনিয়ার আগমন এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ব্যবধান খুবই কাছাকাছি। যেমন হাতের দুই আঙ্গুলের মধ্যে দূরত্বের ব্যবধান। অর্থাৎ শাহাদাত অঙ্গুলি ও মধ্যমা অঙ্গুলির মধ্যে যতটুকু ব্যবধান ততটুকু।
অথবা এর মর্ম হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর আবির্ভাব এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার দাবী করার মাঝে কোন ব্যবধান নেই। যেমন হাতের দুই আঙ্গুলের মঝে কোন কিছুর ব্যবধান নেই।
মিরক্বাত ভাষ্যকার আরেকটি মতামত দিয়েছেন, আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর শারী'আত কিয়ামতের সাথে সংলগ্ন। কিয়ামতের পূর্বে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন শারী'আত দ্বারা পৃথক করা


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।

৫৫১০-[২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) -কে বলতে শুনেছি। [নবী (সা.) বলেছেন] মৃত্যুর একমাস পূর্বে বলেন, তোমরা আমাকে প্রশ্ন করছ কিয়ামত কখন হবে? অথচ তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি। বর্তমানে এই ভূপৃষ্ঠে যে ব্যক্তিই বেঁচে আছে, একশত বছর অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তাদের কেউই জীবিত থাকবে না। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابُ قُرْبِ السَّاعَةِ وَأَنَّ مَنْ مَاتَ فَقَدْ قَامَت قِيَامَته)

وَعَن جَابر قا ل: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِشَهْرٍ: «تَسْأَلُونِي عَنِ السَّاعَةِ؟ وَإِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَأُقْسِمُ بِاللَّهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ يَأْتِي عَلَيْهَا مِائَةُ سَنَةٍ وَهِيَ حَيَّةٌ يَوْمَئِذٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (218 / 2538)، (6481) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قا ل: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول قبل ان يموت بشهر: «تسالوني عن الساعة؟ وانما علمها عند الله واقسم بالله ما على الارض من نفس منفوسة ياتي عليها ماىة سنة وهي حية يومىذ» . رواه مسلم رواہ مسلم (218 / 2538)، (6481) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (أُقْسِمُ بِاللَّهِ) আল্লাহর শপথ করে বলছি, তোমরা আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছ? এর জ্ঞান তো একমাত্র আল্লাহর নিকট রয়েছে। আর আমি যা জানি তা হচ্ছে কিয়ামতে সুগরা। এরপর তিনি বলেন, (مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ) অর্থাৎ যারা পৃথিবীতে এখন বসবাস করছে একশত বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের একটি প্রাণীও জীবিত থাকবে না। এর মাধ্যমে নবী (সা.) তার সাহাবীদের উদ্দেশ্য করেছেন। অর্থাৎ সাহাবীদের কেউ বেঁচে থাকবে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশের উপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছেন। যদিও কয়েকজন সাহাবী জীবিত ছিলেন। যেমন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এবং সালমান (রাঃ)। সবচেয়ে সঠিক কথা হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এই হাদীস বর্ণনার পর থেকে ১০০ বছর পর কোন সাহাবী আর বেঁচে থাকবে না। বাস্তবেও তাই হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।

৫৫১১-[৩] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আজ যারা ভূপৃষ্ঠে বেঁচে আছে, একশত বছর অতিবাহিত হতেই তাদের কেউ জীবিত থাকবে না। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابُ قُرْبِ السَّاعَةِ وَأَنَّ مَنْ مَاتَ فَقَدْ قَامَت قِيَامَته)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَأْتِي مِائَةُ سَنَةٍ وَعَلَى الْأَرْضِ نَفْسٌ مَنْفُوسَةٌ الْيَوْمَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (219 / 2539)، (6485) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا ياتي ماىة سنة وعلى الارض نفس منفوسة اليوم» . رواه مسلم رواہ مسلم (219 / 2539)، (6485) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (نَفْسٌ مَنْفُوسَةٌ الْيَوْمَ) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সময়কাল থেকে পরবর্তী একশত বছর পর, পৃথিবীতে কোন সাহাবী অবশিষ্ট থাকবে না। এর অর্থ এটা নয় যে, কোন মানুষই বেঁচে থাকবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ৬৫৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।

৫৫১২-[৪] ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অনেক বেদুঈন লোকই নবী (সা.) -এর নিকট এসে প্রশ্ন করত, কিয়ামত কখন হবে? তখন তিনি (সা.) তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বলতেন, এই বালকটি যদি জীবিত থাকে, তবে বৃদ্ধ হওয়ার আগেই তোমাদের ওপর কিয়ামত ঘটে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَابُ قُرْبِ السَّاعَةِ وَأَنَّ مَنْ مَاتَ فَقَدْ قَامَت قِيَامَته)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رِجَالٌ مِنَ الْأَعْرَابِ يَأْتُونَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَسْأَلُونَهُ عَنِ السَّاعَةِ فَكَانَ يَنْظُرُ إِلَى أصغرِهم فَيَقُول: «إِنْ يَعِشْ هَذَا لَا يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ حَتَّى تَقُومَ عَلَيْكُمْ سَاعَتُكُمْ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6511) و مسلم (136 / 2952)، (7409) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عاىشة قالت: كان رجال من الاعراب ياتون النبي صلى الله عليه وسلم فيسالونه عن الساعة فكان ينظر الى اصغرهم فيقول: «ان يعش هذا لا يدركه الهرم حتى تقوم عليكم ساعتكم» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6511) و مسلم (136 / 2952)، (7409) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (يَسْأَلُونَهُ عَنِ السَّاعَةِ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোকজন এসে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত। একদিন নবী (সা.) তাদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন, এই ব্যক্তি যদি বেঁচে থাকে, তার বার্ধক্যকাল পৌছার আগেই তোমাদের ওপর কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। তথা কিয়ামত সুগরা বা ছোট কিয়ামত হবে। এর অর্থ হচ্ছে রাসূল (সা.) -এর এই বক্তব্যের ১০০ বছর উপস্থিত সকলের মৃত্যু হবে অথবা অধিকাংশের মৃত্যু হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১১শ খণ্ড, হা, ৬৫১১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।

৫৫১৩-[৫] মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমি কিয়ামতের (সময়ের) শুরুতেই প্রেরিত হয়েছি। অবশ্য আমি তা হতে এতটুকু পরিমাণ আগে আগমন করছি, যে পরিমাণ এ অঙ্গুলি ঐ অঙ্গুলি হতে বেড়ে রয়েছে। এ কথা বলে তিনি স্বীয় তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলির প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابُ قُرْبِ السَّاعَةِ وَأَنَّ مَنْ مَاتَ فَقَدْ قَامَت قِيَامَته)

عَن الْمُسْتَوْرد بن شَدَّاد عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بُعِثْتُ فِي نَفَسِ السَّاعَةِ فَسَبَقْتُهَا كَمَا سَبَقَتْ هذِه هذِه» وأشارَ بأصبعيهِ السبَّابةِ وَالْوُسْطَى. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2213 وقال : غریب) * مجالد ضعیف و عبیدۃ بن الاسود مدلس و عنعن و روی احمد (5 / 348) بلفظ :’’ بعث انا و الساعۃ جمیعًا ، ان کادت لتسبقنی ‘‘ و سندہ حسن ۔
(ضَعِيف)

عن المستورد بن شداد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بعثت في نفس الساعة فسبقتها كما سبقت هذه هذه» واشار باصبعيه السبابة والوسطى. رواه الترمذي سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2213 وقال : غریب) * مجالد ضعیف و عبیدۃ بن الاسود مدلس و عنعن و روی احمد (5 / 348) بلفظ :’’ بعث انا و الساعۃ جمیعا ، ان کادت لتسبقنی ‘‘ و سندہ حسن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (بُعِثْتُ فِي نَفَسِ السَّاعَةِ) অর্থাৎ কিয়ামতের আত্মপ্রকাশের অতি নিকটতম সময়ে আমি আবির্ভূত হয়েছি। তথা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার প্রথম লক্ষণ হলো নবী (সা.) -এর নুবুওয়্যাত লাভের মাধ্যমে দুনিয়ার আগমন করা। এটা আল্লামাহ্ তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য। আর মিরাতের ভাষ্যও তাই।
(فَسَبَقْتُهَا) আমি কিয়ামতের অগ্রগামী হয়েছি যেমনভাবে তর্জনী মধ্যমা আঙ্গুলের অগ্রগামী হয়েছে। অর্থাৎ তর্জনী যেমন মধ্যমা আঙ্গুলের পাশে মিলে রয়েছে এবং বৃদ্ধা আঙ্গুল থেকে একটু দূরত্বে রয়েছে তেমনি আমি ও কিয়ামত পাশাপাশি এসেছি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২২১৩)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।

৫৫১৪-[৬] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমি আশাবাদী যে, আমার উম্মাত তাদের প্রভুর কাছে এত অসহায় নয় যে, তিনি তাদেরকে অর্ধ দিনেরও অবকাশ দেবেন না। সা’দ (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো, সেই অর্থ দিনের পরিমাণ কত? উত্তরে তিনি বললেন, পাঁচশত বছর। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَابُ قُرْبِ السَّاعَةِ وَأَنَّ مَنْ مَاتَ فَقَدْ قَامَت قِيَامَته)

وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا تَعْجِزَ أُمَّتِي عِنْدَ رَبِّهَا أَنْ يُؤَخِّرَهُمْ نِصْفَ يَوْمٍ» . قِيلَ لِسَعْدٍ: وَكَمْ نِصْفُ يَوْمٍ؟ قَالَ: خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

سندہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4360) * السند منقطع ، شریح بن عبید لم یدرک سعدًا رضی اللہ عنہ ۔ (انظر التھذیب الکمال 3 / 380 تحقیق بشار عواد) ولہ شاھد ضعیف منقطع عند احمد (1 / 170 ح 1464) و حدیث ابی داود (4349 و سندہ صحیح) یغنی عن

وعن سعد بن ابي وقاص عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اني لارجو ان لا تعجز امتي عند ربها ان يوخرهم نصف يوم» . قيل لسعد: وكم نصف يوم؟ قال: خمسماىة سنة. رواه ابو داود سندہ ضعیف ، رواہ ابوداؤد (4360) * السند منقطع ، شریح بن عبید لم یدرک سعدا رضی اللہ عنہ ۔ (انظر التھذیب الکمال 3 / 380 تحقیق بشار عواد) ولہ شاھد ضعیف منقطع عند احمد (1 / 170 ح 1464) و حدیث ابی داود (4349 و سندہ صحیح) یغنی عن

ব্যাখ্যা: (إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ لَا تَعْجِزَ أُمَّتِي عِنْدَ رَبِّهَا أَنْ يُؤَخِّرَهُمْ نِصْفَ يَوْمٍ) আমি আশা করি আমার সম্পদশালী উম্মতেরা হিসাবের জন্য ধৈর্যধারণ করতে অক্ষম হবে না, তাদের প্রভুর নিকট। আমার সম্পদশালী উম্মতগণ দরিদ্র উম্মাতের সাথে জান্নাতে মিলিত হতে অর্ধ দিবস তথা কিয়ামতের অর্ধ দিবস পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবে। হাদীসের বর্ণনাকারী সা'দ ইবনু আবূ ওয়াককাস-কে জিজ্ঞেস করা হলো, অর্ধ দিবস সময় কতটুকু? তিনি উত্তর দিলেন ৫০০ বছর। বর্ণনাকারী অর্ধ দিবসের পরিমাণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের এই আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করেছেন, (وَ اِنَّ یَوۡمًا عِنۡدَ رَبِّکَ کَاَلۡفِ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ) “নিশ্চয় তোমার প্রভুর নিকট একদিনের পরিমাণ হলো তোমাদের পার্থিব গণনায় এক হাজার বছর সমপরিমাণ”- (সূরাহ আল হাজ্জ ২২: ৪৭)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা'বুদ ৭ম খণ্ড, হা, ৪৩৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল তখন হতেই তার কিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেল।

৫৫১৫-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: এ দুনিয়ার স্থায়িত্বের উপমা হলো একটি কাপড়ের ন্যায় যা একপ্রান্ত হতে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত ছিড়ে গেছে সামান্য কিছু অংশ ছাড়া, আর ওই অবশিষ্টাংশটুকুও অচিরেই ছিড়ে যাবে। (বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ ( بَابُ قُرْبِ السَّاعَةِ وَأَنَّ مَنْ مَاتَ فَقَدْ قَامَت قِيَامَته)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ هَذِهِ الدُّنْيَا مَثَلُ ثَوْبٍ شُقَّ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ فَبَقِيَ مُتَعَلِّقًا بِخَيْطٍ فِي آخِرِهِ فَيُوشِكُ ذَلِكَ الْخَيْطُ أَنْ يَنْقَطِعَ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10240 ، نسخۃ محققۃ : 9759) * فیہ یحیی بن سعید العطار وھو ضعیف و شیخہ ابو سعید خلف بن حبیب : لم اعرفہ و للحدیث شاھد ضعیف جدًا عند ابی نعیم فی الحلیۃ (8 / 131) تنبیہ : طبع فی شعب الایمان (نسخۃ دار الکتب العلمیۃ) :’’ یحیی بن سعید القطان ‘‘ وھو خطاء و الصواب ’’ یحیی بن سعید العطار ‘‘ کما فی النسخۃ المحققۃ و انظر قصر الامل لابن ابی الدنیا (2 / 13 / 1) و السلسلۃ الضعیفۃ (1970) ۔
(ضَعِيف)

عن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مثل هذه الدنيا مثل ثوب شق من اوله الى اخره فبقي متعلقا بخيط في اخره فيوشك ذلك الخيط ان ينقطع» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10240 ، نسخۃ محققۃ : 9759) * فیہ یحیی بن سعید العطار وھو ضعیف و شیخہ ابو سعید خلف بن حبیب : لم اعرفہ و للحدیث شاھد ضعیف جدا عند ابی نعیم فی الحلیۃ (8 / 131) تنبیہ : طبع فی شعب الایمان (نسخۃ دار الکتب العلمیۃ) :’’ یحیی بن سعید القطان ‘‘ وھو خطاء و الصواب ’’ یحیی بن سعید العطار ‘‘ کما فی النسخۃ المحققۃ و انظر قصر الامل لابن ابی الدنیا (2 / 13 / 1) و السلسلۃ الضعیفۃ (1970) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (مَثَلُ هَذِهِ الدُّنْيَا مَثَلُ ثَوْبٍ شُقَّ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ) এই দুনিয়ার উদাহরণ একটি কাপড়ের ন্যায় যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কেটে দুই টুকরা করা হয়েছে। শুধু একটি সুতার সাথে ঝুলে আছে। অচিরেই ঐ সুতাও ছিড়ে যাবে। অর্থাৎ দুনিয়ার জীবন খুবই কম সময়ের জন্য। যা দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। এরপরই আসবে আখিরাতের জীবন যা হবে চিরস্থায়ী। তথায় কেউ সৌভাগ্যবান হবে আবার কেউ হবে হতভাগা। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৬-[১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামত তখনই সংঘটিত হবে, যখন জমিনের মধ্যে ’আল্লাহ’ ’আল্লাহ’ বলার মতো কেউ থাকবে না। অপর এক বর্ণনায় আছে- এমন কোন লোকের ওপরে কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যে ’আল্লাহ’ ’আল্লাহ’ বলেছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ: اللَّهُ اللَّهُ . وَفِي رِوَايَةٍ: لَا تَقُومُ السَّاعَةُ عَلَى أَحَدٍ يَقُولُ: اللَّهُ الله . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (234 / 148)، (375) ۔
(صَحِيح)

عن انس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا تقوم الساعة حتى لا يقال في الارض: الله الله . وفي رواية: لا تقوم الساعة على احد يقول: الله الله . رواه مسلم رواہ مسلم (234 / 148)، (375) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لَا يُقَالَ فِي الْأَرْضِ: اللَّهُ اللَّهُ) পৃথিবীতে আল্লাহর যিকর বলা মানুষ থাকা অবস্থায় কিয়ামত সংঘটিত হবে না।
হাদীসে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ' শব্দ দুটি তাগিদ বুঝানোর জন্য দ্বিত্ত করে আনা হয়েছে। অথবা শব্দটি দু’বার আনার মাধ্যমে অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকর বুঝানো হয়েছে। অথবা এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট অথবা তিনিই আমার মা'বুদ।
ভাষ্যকার বলেন, (اللَّهُ) শব্দটিতে পেশ দিয়ে পড়লে অর্থ হবে আল্লাহই ‘ইবাদতের যোগ্য একমাত্র মা'বুদ, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নন। আর যদি যবর দিয়ে পড়া হয় তখন অর্থ হবে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার ইবাদাত কর। অতএব এই মতে হাদীসের অর্থ দাঁড়ায় ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পৃথিবীতে মুসলিম অবশিষ্ট থাকবে এবং মানুষকে আল্লাহ থেকে সতর্ক করবে। অথবা, যখন আল্লাহর যিকর করার কেউ থাকবে না তখন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার হিকমত বাকী থাকবে না। অতএব এটা সুস্পষ্ট যে, পৃথিবী অবশিষ্ট রয়েছে সৎকর্মপরায়ণ ‘আলিম ও নেক বান্দা ও মুমিনদের বদৌলতে। অপর এক বর্ণনা মতে, আল্লাহ বলা কারো ওপর কিয়ামত সংঘটিত হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ২য় খণ্ড, হা. ২৩৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৭-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু মা’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিকৃষ্ট মানুষের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ الْخَلْقِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (131 / 2949)، (7402) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة الا على شرار الخلق» . رواه مسلم رواہ مسلم (131 / 2949)، (7402) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ الْخَلْقِ) কিয়ামত শুধুমাত্র সৃষ্টির দুষ্ট প্রকৃতির তথা অবাধ্য কাফিরদের ওপর সংঘটিত হবে। অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে ইয়ামান থেকে এক প্রকার হাওয়া এসে মুমিনদের মৃত্যু হবে। শুধু অবাধ্য পাপী বান্দারা অবশিষ্ট থাকবে। আর তখনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
যদি বলা হয় এই হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হাদীস, “আমার উম্মতের একটি দল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে” এর সাথে সাংঘর্ষিক। তাহলে এর উত্তরে বলব, উক্ত হাদীসটি ব্যাপক অর্থে যুগের চাহিদা অনুপাতে প্রযোজ্য। আর এই অধ্যায়ের হাদীসটি বিশেষ করে কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তের জন্য খাস। অতএব কোন বৈপরীত্য নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ইবনু মাজাহ্ ৩য় খণ্ড, হা, ৪০৩৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৮-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ’যুল খলাসাহ্’ মূর্তির নিকট দাওস গোত্রের মহিলাদের নিতম্ব দোলায়িত না হবে। দাওস গোত্রের একটি মূর্তি ছিল, জাহিলী যুগে তারা এটার উপাসনা করত। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ» . وَذُو الْخَلَصَةِ: طَاغِيَةُ دَوْسٍ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (7116) و مسلم (51 / 2906)، (7298) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى تضطرب اليات نساء دوس حول ذي الخلصة» . وذو الخلصة: طاغية دوس التي كانوا يعبدون في الجاهلية. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (7116) و مسلم (51 / 2906)، (7298) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ) অর্থাৎ ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রের মহিলারা তাদের নিতম্ব যুল খলাসাহ্ মূর্তির নিকট হেলিয়ে দুলিয়ে পূজা করবে। হাদীসে বর্ণিত (تَضْطَرِبَ) অর্থ (تَتَحَرَّكَ) হেলে দুলে চলা, নিতম্বের মাংসের এক অংশ অপর অংশের সাথে ঘর্ষণ লাগা.
(أَلَيَاتُ) নিতম্বের উপর ফুলে থাকা মাংস খণ্ড। কেউ কেউ বলেন, পিঠের নিম্নাংশ ও রানের উপরের অংশে জমে থাকা মাংস, যার উপর ভর করে বসা হয়।
(أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ) অর্থ দ্বারা দাওস মহিলারা মুরতাদ হয়ে মূর্তির চতুর্দিকে ত্বওয়াফ করবে।
(ذِي الْخَلَصَةِ) দাওসের প্রধান মূর্তি যাকে জাহিলী যুগে মুশরিকরা পূজা করত।
অথবা (ذِي الْخَلَصَةِ) হলো ইয়ামান দেশের নির্মিত কা'বাহ্ ঘর, রাসূল (সা.) জারির ইবনু 'আবদুল্লাহকে প্রেরণ করে তা ধ্বংস করেন।
হাদীসের মমার্থ হচ্ছে: তারা মূর্তিপূজার মাধ্যমে জাহিলী যুগের দিকে ফিরে যাবে। যেভাবে দাওস গোত্রের মহিলারা যুল খলাসাহ্ মূর্তির চতুর্দিকে নিতম্ব হেলিয়ে দুলিয়ে নৃত্য প্রদর্শন করে পূজা করত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১৩শ খণ্ড, হা. ৭১১৬; শারহুন নাবাবী ১৮শ খণ্ড, হা. ২৯০৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫১৯-[8] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, লাত ও ’উয্যা এ মূর্তিদ্বয়ের উপাসনা করা পর্যন্ত দিন ও রাত্র শেষ হবে না (অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বে আবার লাত ও ’উয্যা মূর্তির পূজা করা হবে)। আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ধারণা ছিল, যখন আল্লাহ তা’আলা
 (هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ) “তিনি তাঁর রাসূল কে হিদায়াত আর সঠিক দীনসহ পাঠিয়েছেন যাবতীয় দীনের উপর একে বিজয়ী করার জন্য যদিও মুশরিকগণ অপছন্দ করে”- (সূরাহ আত্ তাওবাহু ৯: ৩৩); আয়াতটি নাযিল করেছেন, তখন মূর্তিপূজার দিন শেষ হয়ে গেছে।
উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, যতদিন আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করবেন, ততদিন এ অবস্থায় থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা একটি সুগন্ধময় বাতাস প্রেরণ করত, তাতে ঐ সকল লোকেদের মৃত্যু ঘটবে যাদের অন্তরে সরিষা পরিমাণও ঈমান থাকবে। অতঃপর কেবলমাত্র ঐ সমস্ত লোকই অবশিষ্ট থাকবে যাদের মধ্যে সামান্য পরিমাণও ঈমান থাকবে না। তখন তারা তাদের বাপ-দাদার ধর্মের দিকে ফিরে যাবে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى يُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى» . فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لَأَظُنُّ حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ: (هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ) أَنَّ ذَلِكَ تَامًّا. قَالَ: «إِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتُوُفِّيَ كُلُّ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَيَبْقَى مَنْ لَا خَيْرَ فِيهِ فَيَرْجِعُونَ إِلَى دِين آبَائِهِم» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (52 / 2907)، (7299) ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يذهب الليل والنهار حتى يعبد اللات والعزى» . فقلت: يا رسول الله ان كنت لاظن حين انزل الله: (هو الذي ارسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون) ان ذلك تاما. قال: «انه سيكون من ذلك ما شاء الله ثم يبعث الله ريحا طيبة فتوفي كل من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من ايمان فيبقى من لا خير فيه فيرجعون الى دين اباىهم» . رواه مسلم رواہ مسلم (52 / 2907)، (7299) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (لَا يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى يُعْبَدَ اللَّاتُ وَالْعُزَّى) রাত ও দিন অতিবাহিত হবে না তথা কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না লাত এবং উযযার ইবাদাত করা হবে। লাত হলো সাকিফ গোত্রের মূর্তি এবং উযযা হলো গাত্বফান গোত্রের মূর্তি।
(أَنَّ ذَلِكَ تَامًّا) আমি ধারণা করেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কে প্রেরণের মাধ্যমে মূর্তির ‘ইবাদাত চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। কিয়ামত পর্যন্ত আর তা ফিরে আসবে না।

(إِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا) রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কিয়ামতের পূর্বে আল্লাহ যতদিন চান, এরপর মূর্তিপূজা আবার ফিরে আসবে। আর তখন আল্লাহ তা'আলা সুঘ্রাণযুক্ত এক প্রকার বায়ু প্রেরণ করবেন, ফলে যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে তারা সবাই মৃত্যুবরণ করবে। শুধু তারাই অবশিষ্ট থাকবে যাদের মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, যারা পূর্বপুরুষের ধর্মে ফিরে যাবে ও শিরকে লিপ্ত হবে। আর তাদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

(لَا خَيْرَ فِيهِ) যার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই অর্থাৎ ইসলাম থাকবে না, ঈমান থাকবে না, কুরআন থাকবে না, হজ্জ থাকবে না, ইসলামের অপর কোন রুকনও থাকবে না, ভালো ভালো ‘আলিমও থাকবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৫৫২০-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দাজ্জাল বের হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি জানি না তিনি (সা.) চল্লিশ দিন অথবা মাস অথবা বছর এটার কোনটি বলেছেন? অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ’ঈসা ইবনু মারইয়াম আলায়হিস সালাম-কে পাঠাবেন। দেখতে তিনি উরওয়া ইবনু মাস’ঊদ-এর মতো। তিনি দাজ্জালের খোঁজ করবেন এবং তিনি তাকে হত্যা করবেন। তিনি (ঈসা আলায়হিস সালাম) সাত বছর এ জমিনে অবস্থান করবেন, সেই যুগে দু’জন লোকের মধ্যেও শত্রুতা থাকবে না। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা সিরিয়ার দিক থেকে একটি ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত করবেন, উক্ত বায়ু ভূপৃষ্ঠে এমন একজন লোককেও জীবিত রাখবে না, যার অন্তরে অণু-কণা পরিমাণ পুণ্য বা ঈমান থাকবে। যদি সে সময় তোমাদের কেউ পাহাড়ের ভিতরেও আত্মগোপন করে, উক্ত বাতাস সেখানে প্রবেশ করেও তার রূহ কবয করবে।

তিনি (সা.) বলেছেন, অতঃপর কেবলমাত্র নিকৃষ্ট ফাসিক ও খারাপ লোকগুলোই অবশিষ্ট থাকবে। তারা নিষ্ঠুর পাখিদের মতো দ্রুতগামী এবং খুন-খারাবিতে হিংস্র জন্তুর ন্যায় নিষ্ঠুর হবে। ভালো-মন্দ তারতম্য করার কোন যোগ্যতা তাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে না। তখন শয়তান একটি আকৃতি ধারণ করে তাদের কাছে এসে বলবে, তোমাদের ডাকে কী সাড়া দিব না? তখন লোকেরা বলবে, আচ্ছা তুমিই বল আমাদের কি করা উচিত। অতঃপর শয়তান তাদেরকে মূর্তিপূজায় আদেশ করবে। এ অবস্থায় তারা অতি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ও ভোগ-বিলাসে জীবনযাপন করতে থাকবে। অতঃপর শিঙ্গায় ফুক দেয়া হবে এবং যে লোকই উক্ত আওয়াজ শুনবে, সে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এদিক-সেদিক মাথা ঘুরাতে থাকবে।

তিনি (সা.) বললেন, সর্বপ্রথম উক্ত আওয়াজ সেই লোকই শুনতে পাবে, যে তার উটের জন্য পানির হাওয মেরামত কার্যে রত। সে তখন ভীত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে এবং তার সাথে সাথে অন্যান্য লোকও মারা যাবে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা কুয়াশার মতো খুব হালকা ধরনের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তাতে ঐ সকল দেহগুলো সজীব হয়ে উঠবে, যেগুলো কবরের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে রয়েছিল। অতঃপর দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন সমস্ত লোক উঠে দাঁড়াবে। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হবে, হে লোকসকল! তোমরা দ্রুত তোমাদের প্রভুর দিকে ছুটে আসো। (ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে) ঐখানে তাদেরকে থামিয়ে রাখ, তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে। অতঃপর মালায়িকা- (ফেরেশতাদেরকে) বলা হবে, ঐ সকল লোকদেরকে বের কর যারা জাহান্নামের উপযোগী হয়েছে। তখন মালায়িকাহ্ বলবেন, কতজন থেকে কতজন বের করব? বলা হয়, প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শত নিরানব্বইজনকে জাহান্নামের জন্য বের কর। এ পর্যন্ত বলার পর তিনি (সা.) বললেন, এটা সেদিন যেদিন সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে- (يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا) ’সেদিন শিশুদেরকে বৃদ্ধ করে ফেলবে।’ (অর্থাৎ সেদিনের বিভীষিকায় শিশুও বৃদ্ধ হয়ে যাবে)
(يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ) ’সেদিন বিরাট সংকটময় অবস্থায় প্রকাশ পাবে।’ (মুসলিম)

মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ) পূর্বে তাওবার’ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

الفصل الاول (بَابُ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا عَلَى شِرَارِ النَّاس)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ» لَا أَدْرِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ عَامًا «فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ فَيَطْلُبُهُ فَيُهْلِكُهُ ثُمَّ يَمْكُثُ فِي النَّاسِ سَبْعَ سِنِينَ لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةٌ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّامِ فَلَا يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ فِي كَبِدِ جَبَلٍ لَدَخَلَتْهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ» قَالَ: فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ وَأَحْلَامِ السِّبَاعِ لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ فَيَقُولُ أَلَا تَسْتَجِيبُونَ؟ فَيَقُولُونَ: فَمَا تَأْمُرُنَا؟ فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ وَهُمْ فِي ذَلِكَ دَارٌّ رِزْقُهُمْ حَسَنٌ عَيْشُهُمْ ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَلَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلَّا أَصْغَى لِيتًا وَرَفَعَ لِيتًا قَالَ: وَأَوَّلُ مَنْ يَسْمَعُهُ رَجُلٌ يَلُوطُ حَوْضَ إِبِلِهِ فَيَصْعَقُ وَيَصْعَقُ النَّاسُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا كَأَنَّهُ الطَّلُّ فَيَنْبُتُ مِنْهُ أَجْسَادُ النَّاسِ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَيُّهَا الناسُ هَلُمَّ إِلى ربِّكم وقفوهُم إِنَّهم مسؤولونَ. فَيُقَالُ: أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ. فَيُقَالُ: مِنْ كَمْ؟ كَمْ؟ فَيُقَالُ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ: «فَذَلِكَ يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا وَذَلِكَ يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَذُكِرَ حَدِيثُ مُعَاوِيَةَ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ» فِي «بَاب التَّوْبَة»

رواہ مسلم (116 / 2940)، (7381) 0 حدیث معاویۃ : لا تنقطع الھجرۃ ، تقدم (2346) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يخرج الدجال فيمكث اربعين» لا ادري اربعين يوما او شهرا او عاما «فيبعث الله عيسى ابن مريم كانه عروة بن مسعود فيطلبه فيهلكه ثم يمكث في الناس سبع سنين ليس بين اثنين عداوة ثم يرسل الله ريحا باردة من قبل الشام فلا يبقى على وجه الارض احد في قلبه مثقال ذرة من خير او ايمان الا قبضته حتى لو ان احدكم دخل في كبد جبل لدخلته عليه حتى تقبضه» قال: فيبقى شرار الناس في خفة الطير واحلام السباع لا يعرفون معروفا ولا ينكرون منكرا فيتمثل لهم الشيطان فيقول الا تستجيبون؟ فيقولون: فما تامرنا؟ فيامرهم بعبادة الاوثان وهم في ذلك دار رزقهم حسن عيشهم ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه احد الا اصغى ليتا ورفع ليتا قال: واول من يسمعه رجل يلوط حوض ابله فيصعق ويصعق الناس ثم يرسل الله مطرا كانه الطل فينبت منه اجساد الناس ثم ينفخ فيه اخرى فاذا هم قيام ينظرون ثم يقال: يا ايها الناس هلم الى ربكم وقفوهم انهم مسوولون. فيقال: اخرجوا بعث النار. فيقال: من كم؟ كم؟ فيقال: من كل الف تسعماىة وتسعة وتسعين قال: «فذلك يوم يجعل الولدان شيبا وذلك يوم يكشف عن ساق» . رواه مسلم وذكر حديث معاوية: «لا تنقطع الهجرة» في «باب التوبة» رواہ مسلم (116 / 2940)، (7381) 0 حدیث معاویۃ : لا تنقطع الھجرۃ ، تقدم (2346) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ) দাজ্জাল বের হয়ে ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সা.) এর কোন ব্যাখ্যা দেননি। হয়তো ৪০ দিন হবে না হয় মাস আর তা না হলে বছর হতে পারে। এই তিনটির কোন একটি নবী (সা.) উদ্দেশ্য করেছেন।

(فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ) অতঃপর নিকৃষ্ট মানুষেরাই বেঁচে থাকবে দোদুল্যমান অবস্থায়। ‘আল্লামাহ্ ক্বাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (خِفَّةِ الطَّيْرِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সামান্য সন্দেহ হলেই দোদুল্যমান ও উৎকণ্ঠায় থাকবে। মন্দ বা খারাপ লোকদের তুলনা দিতে গিয়ে এই উদাহরণ দেয়ার কারণ হলো তারা তাদের মধ্যে প্রশান্তি ও স্থিরতায় থাকবে না। তারা পাখির মতো বিচরণ করতে থাকবে সংশয়ে, পাপাচার ও বিপর্যয় সৃষ্টিতে।
(وَأَحْلَامِ السِّبَاعِ) তারা পশুর ন্যায় জ্ঞানশূন্য থাকবে। তাদের মধ্যে কোন ধৈর্য পরিলক্ষিত হবে না। সর্বদা রাগান্বিত থাকবে এবং দয়ামায়া কম থাকবে।
(لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا) তারা কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ কিছুই বুঝবে না। ফলে তাদের কর্মে উলটপালট দেখা দিবে।
(فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ) অতঃপর শয়তান মানুষের আকৃতিতে উপস্থিত হয়ে তাদের মধ্যে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকবে। এজন্যই আল্লাহ তা'আলা শয়তান মানুষের কথা পবিত্র কুরআনে বলেছেন এভাবে,
(وَ کَذٰلِکَ جَعَلۡنَا لِکُلِّ نَبِیٍّ عَدُوًّا شَیٰطِیۡنَ الۡاِنۡسِ وَ الۡجِنِّ) “এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর নিকট মানুষ এবং জিন্ শয়তানকে শত্রু হিসেবে পাঠিয়েছি।” (সূরা আল আ'আম ৬: ১১২)
(فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ) অতঃপর শয়তান তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায় হিসেবে মূর্তিপূজার প্রতি আদেশ করে বলবে, আল্লাহর কাছে আমল পৌছাতে হলে এই মূর্তিগুলোয় ওয়াসীলাহ্ গ্রহণ করতে হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে বলেন, (مَا نَعۡبُدُهُمۡ اِلَّا لِیُقَرِّبُوۡنَاۤ اِلَی اللّٰهِ زُلۡفٰی) “আমরা তো তাদের ইবাদাত করি এজন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য পৌছিয়ে দিবে।” (সূরা আয যুমার ৩৯: ৩)
তারা আরো বলে, (وَ یَقُوۡلُوۡنَ هٰۤؤُلَآءِ شُفَعَآؤُنَا عِنۡدَ اللّٰهِ) “এরা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশকারী।” (সূরা ইউনুস ১০: ১৮)
(فَيُقَالُ: أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ) অতঃপর মালায়িকারকে (ফেরেশতাদেরকে) উদ্দেশ্য করে বলা হবে, সমস্ত মানুষের মধ্য থেকে জাহান্নামীদেরকে আলাদা করে ফেল। তখন সম্বোধিত মালাক জিজ্ঞেস করবে কত জন?
(فَيُقَالُ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ) তখন বলা হবে প্রতি হাজারে নয় শত নিরানব্বই জনকে আলাদা করে ফেল। যারা তাদের কৃতকর্মের দ্বারা জাহান্নামকে আবশ্যক করে নিয়েছে।
সম্ভবত এরা হবে কাফির যারা বিনা হিসাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং সেথায় চিরদিন অবস্থান করবে। অথবা, যারা অপরাধের কারণে জাহান্নামী হবে এবং শাস্তির পরিমাণ অনুযায়ী তথায় অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলাই এ ব্যাপারে অধিক অবগত।
(فَذَلِكَ يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا) সেই সময়টি এতই ভয়ানক হবে যে, শিশু বাচ্চারা ঐ অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হবে। (يَوْمَ) শব্দটি যবরযুক্ত পড়তে হবে। যেহেতু পবিত্র কুরআনে এভাবেই ব্যবহার হয়েছে।
(يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا) এমনিভাবে পরবর্তী (يَوْمَ) শব্দার্থও যবরযুক্ত পড়তে হবে। এটাও পবিত্র কুরআনের অনুরূপ (وۡمَ یُکۡشَفُ عَنۡ سَاقٍ) “যেদিন (কিয়ামতে) পায়ের গোছা (হাঁটুর নিম্নভাগ) উন্মোচিত হবে...”- (সূরাহ্ আল কলাম ৬৮: ৪২)।
অর্থাৎ ভয়াবহ অবস্থা আরবীতে বলা হয়: (كَشَفَتِ الْحَرْبُ عَنِ السَّاقِ) যখন যুদ্ধ কঠিন অবস্থা ধারণ করে। মূলত শব্দটির ব্যবহার এসেছে একটি বিশেষ প্রসঙ্গে, তা হলো যখন উটের পেটের ভিতর বাচ্চা মারা যায় তখন তার ধ্বংসকারী ব্যক্তি তার হাতকে জরায়ুতে প্রবেশ করিয়ে তার পা ধরে টেনে বের করে আনে। অতঃপর প্রত্যেক জটিল ও মারাত্মক বিষয়ের ক্ষেত্রে (ساق) শব্দটিকে প্রয়োগ করা হয়।
‘আল্লামাহ খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মাশায়েখগণের নিকট এটি বহুল প্রচলিত যে, প্রত্যেক ঐ ব্যাপারে শব্দটিকে প্রয়োগ করা যেখানে বিষয়টি জটিল কিন্তু এর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা সম্ভবপর নয়। আর যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তারা বলেছেন, ব্যাপারটি হলো দুনিয়ার প্রস্থান এবং কিয়ামতের আগমন একটি বিভীষিকাময় অবস্থা। যখন এটা স্পষ্ট হবে এবং তার অস্পষ্টতা দূর হয়ে যাবে তখন বিষয়টিকে বলা হবে (كَشَفَ عَنْ سَاقِهِ) যদিও সংবাদের ক্ষেত্রে কোন (ساق) বা পায়ের সম্পর্ক নেই।

(وَذُكِرَ حَدِيثُ مُعَاوِيَةَ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ») মু'আবিয়াহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, হিজরত ততদিন বন্ধ হবে না যতদিন তাওবার দরজা বন্ধ হবে না। আর তাওবাহ্ ততদিন পর্যন্ত বন্ধ হবে না যতদিন পর্যন্ত সূর্য পশ্চিম দিগন্তে উদিত না হবে। হাদীসে উল্লেখিত হিজরতের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, গুনাহকে পরিত্যাগ করে কল্যাণের পথে ফিরে আসা অথবা বিদআতী গৃহ পরিত্যাগ করে সুন্নাতের গৃহে পদার্পণ করা অথবা খারাপ রাষ্ট্র থেকে কল্যাণের রাষ্ট্রে চলে আসা। (মিরকাতুল মাফাতীহ শারহুন নাবাবী ১৮তম খণ্ড, হা, ২৯৪০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৭: ফিতনাহ (كتاب الْفِتَن)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১৪২ পর্যন্ত, সর্বমোট ১৪২ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে