পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

’কিসাস’ শব্দের অর্থ অনুগামী হওয়া, অনুসরণ করা। কিসাস এ নামকরণ এজন্য হয়েছে যে, নিহতের অভিভাবক প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষেত্রে হত্যাকারীর ন্যায় আচরণ করে থাকে, অর্থাৎ তার কাজের অনুসরণ করে। তাই এ প্রতিশোধকে কিসাস বলা হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


৩৪৪৬-[১] ’আব্দুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে মুসলিম বান্দা সাক্ষ্য দেয় যে, ’’আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত সত্যিকারের কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল’’, তার রক্তপণ তিনটি কারণ ব্যতীত হালাল নয়ঃ (১) প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, (২) বিবাহিত ব্যভিচারীকে [রজম করা], (৩) দীন ইসলাম পরিত্যাগকারী- মুসলিম জামা’আত হতে সম্পর্কচ্ছেদকারীকে হত্যা করা। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ: النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالْمَارِقُ لدينِهِ التَّارِكُ للجماعةِ

عن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يحل دم امرى مسلم يشهد ان لا اله الا الله واني رسول الله الا باحدى ثلاث: النفس بالنفس والثيب الزاني والمارق لدينه التارك للجماعة

ব্যাখ্যা : হাদীসে উল্লেখিত (امْرِئٍ) দ্বারা পুরুষ ও নারী উভয়ই শামিল। অর্থাৎ যে কোনো নারী বা পুরুষ যারা এ কথা সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা‘বূদ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসী সকলের জন্য আল্লাহর রসূল, সে ব্যক্তি মুসলিম বলে গণ্য হবে। কোনো মুসলিম যখন এ সাক্ষীর উপর অটল থাকবে তখন তার রক্ত হালাল নয় অর্থাৎ তাকে হত্যা করা যাবে না।

ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসের প্রকাশমান অর্থ এই যে, যখন কোনো ব্যক্তি উপরে বর্ণিত দু’টি বিষয়ে সাক্ষ্য দিবে তখন তার রক্ত প্রবাহিত করা হারাম বলে গণ্য হবে। উসামাহ্ বর্ণিত হাদীস, তুমি ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বিষয়ে ঠিক করবে, এ অর্থটাই জোরদার করে। তবে সে যদি নিমেণাক্ত তিনটি অন্যায় করে তাহলে তার ওপর শারী‘আতের বিধান আরোপ করতে হবে। ১. সে যদি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে। ২. সে যদি বিবাহিত হওয়ার পরও যিনায় লিপ্ত হয়। ৩. সে যদি দীন ত্যাগ করে অর্থাৎ মুরতাদ হয়ে যায়। এসব অপরাধে লিপ্ত হলে তার জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৮৭৮; শারহে মুসলিম ১১ খন্ড, হাঃ ১৬৭৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৪৭-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু’মিন তার দীনে পরিপূর্ণরূপে নিরাপদে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে অনৈতিক হত্যায় লিপ্ত না হয়। (বুখারী)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَنْ يَزَالَ الْمُؤْمِنُ فِي فُسْحَةٍ مِنْ دِينِهِ مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لن يزال المومن في فسحة من دينه ما لم يصب دما حراما» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যায় ‘আল্লামা ইবনু মালিক (রহঃ) বলেনঃ যখন কোনো মুসলিমের দ্বারা অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যার মতো ঘটনা না ঘটে তখন তার জন্য শারী‘আতের বিধান পালন করা সহজ হয়। সে নেক ‘আমল করতে আগ্রহী থাকে।

ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ তার জন্য আল্লাহর রহমাত আশা করা যায়। আর যখন সে কাউকে হত্যা করে তখন আল্লাহর রহমাত তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। আর সে হতাশাগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং আল্লাহর রহমাত থেকে বঞ্চিত হয়। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- যে ব্যক্তি কোনো মু’মিনকে হত্যার ব্যাপারে সাহায্য করে যদি তা হয় সামান্য একটি কথা তবুও আল্লাহ তা‘আলা তাকে স্বীয় রহমাত থেকে বঞ্চিত করবেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৮৬২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৪৮-[৩] ’আব্দুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম রক্তপাতের (হত্যার) ফায়সালা হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَوَّلُ مَا يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الدِّمَاء»

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اول ما يقضى بين الناس يوم القيامة في الدماء»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মাধ্যমে বুঝা যাচ্ছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সর্বপ্রথম রক্তের হিসাব গ্রহণ করবেন। কেননা বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক ভয়াবহ। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, এ কথার দ্বারা রক্তের মর্যাদার কথা বলা হয়েছে। এ হাদীস (أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ الْعَبْدُ عَلَيْهِ صَلَاتُه) কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে। হাদীসের বিপরীত কোনো হাদীস নয়। কেননা সালাত হলো আল্লাহর হক। আর রক্তের বিষয়টা বান্দার সাথে সম্পৃক্ত।

গ্রন্থাকার (রহঃ) বলেনঃ রক্তের বিষয়টা নিষিদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত আর সালাতের বিষয়টা আদেশের সাথে সম্পৃক্ত। অথবা হিসাবের দিক থেকে প্রথম হবে সালাতের হিসাব আর বান্দার মধ্যকার পরস্পরের মাঝে ফায়সালার ক্ষেত্রে রক্তের ফায়সালা প্রথম হবে। এর সমর্থনে নাসায়ীতে ইমাম মাস্‘ঊদ থেকে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে-

(عن ابن مَسْعُودٍ مَرْفُوْعًا أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ الْعَبْدُ عَلَيْهِ صَلَاتُه وَأَوَّلُ مَا يُقْضٰى بَيْنَ النَّاسِ فِي الدِّمَاءِ)

অর্থাৎ- বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব গ্রহণ করা হবে। বান্দার মাঝে সর্বপ্রথম রক্তের ফায়াসালা করা হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১১শ খন্ড, হাঃ ৬৫৩৩; শারহে মুসলিম ১১ খন্ড, হাঃ ১৬৭৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৪৯-[৪] মিকদাদ ইবনুল আস্ওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি পরস্পরে যুদ্ধে কোনো কাফিরের সম্মুখীন হই, আর তরবারি দ্বারা আঘাত করে সে আমার হাত কেটে ফেলে। তারপর সে আমার নিকট থেকে দূরে সরে কোনো গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে উঠে, আমি আল্লাহর ওয়াস্তে মুসলিম হয়ে গেছি (অর্থাৎ- ইসলাম কবুল করেছি)। অন্য বর্ণনায় আছে, যখন আমি তাকে হত্যা করতে উদ্যত হই, তখন সে বলে উঠে, ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো উপাস্য নেই)। অতএব এ সাক্ষ্য দেয়ার পরও কি আমি তাকে হত্যা করতে পারি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাকে হত্যা করো না। তিনি (মিকদাদ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সে তো আমার হাত কেটে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাকে হত্যা করো না। কেননা তুমি যদি তাকে হত্যা কর, তাহলে সে ঐ অবস্থায় পৌঁছে যাবে, যেখানে তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে ছিলে। আর তুমি সে অবস্থায় পৌঁছে যাবে, যেখানে সে ঐ কালিমা পড়ার পূর্বে ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الْأَسْوَدِ أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلًا مِنَ الْكُفَّارِ فَاقْتَتَلْنَا فَضَرَبَ إِحْدَى يَدَيَّ بِالسَّيْفِ فقطعهما ثُمَّ لَاذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ فَقَالَ: أَسْلَمْتُ لِلَّهِ وَفِي رِوَايَةٍ: فَلَمَّا أَهْوَيْتُ لِأَقْتُلَهُ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَأَقْتُلُهُ بَعْدَ أَنْ قَالَهَا؟ قَالَ: «لَا تَقْتُلْهُ» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَطَعَ إِحْدَى يَدَيَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقْتُلْهُ فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ وَإِنَّكَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ»

وعن المقداد بن الاسود انه قال: يا رسول الله ارايت ان لقيت رجلا من الكفار فاقتتلنا فضرب احدى يدي بالسيف فقطعهما ثم لاذ مني بشجرة فقال: اسلمت لله وفي رواية: فلما اهويت لاقتله قال: لا اله الا الله ااقتله بعد ان قالها؟ قال: «لا تقتله» فقال: يا رسول الله انه قطع احدى يدي فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقتله فان قتلته فانه بمنزلتك قبل ان تقتله وانك بمنزلته قبل ان يقول كلمته التي قال»

ব্যাখ্যা: কালিমাহ্ পড়া তথা ঈমান আনয়ন করার পর কাউকে হত্যা করা হারাম। কালিমাহ্ গ্রহণ করার পূর্বে হত্যা করা যেমন হালাল ছিল ঠিক তেমনি ঈমান আনয়নের কারণে তাকে হত্যা করা হারাম, হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হবে।

‘আল্লামা কাযী ‘ইয়ায (রহঃ) বলেনঃ যখন কোনো কাফির বলে যে, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি বা আমি মুসলিম, তখন তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করতে হবে। তাকে হত্যা করা যাবে না। কোনো মুসলিম যখন কোনো কাফিরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং কাফির কর্তৃক আহত হওয়ার পর যদি কাফির মুসলিম হয়ে যায় তখন প্রথম মুসলিম নতুন মুসলিমকে হত্যা করতে পারবে না যে ইতিপূর্বে কাফির ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৭ম খন্ড, হাঃ ৪০১৯; শারহে মুসলিম ২য় খন্ড, হাঃ ৯৫; ‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৬৪১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মিকদাম (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫০-[৫] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জুহায়নাহ্ নামক গোত্রের লোকেদের বিরুদ্ধে (জিহাদে) পাঠালেন। অতঃপর আমি যখন তাদের এক ব্যক্তির সামনাসামনি তরবারি দ্বারা আঘাত হানতে উদ্যত হলাম, তখন সে বলে উঠল ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’। কিন্তু আমি তাকে তরবারির আঘাতে হত্যা করে ফেললাম। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কি তার ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ সাক্ষ্য দেয়ার পরও তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে তো স্বীয় জীবন রক্ষার্থে এরূপ বলেছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তার অন্তর ভেদ করে দেখলে না কেন? (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أُنَاسٍ مِنْ جُهَيْنَةَ فَأَتَيْتُ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَذَهَبْتُ أَطْعَنُهُ فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ فَطَعَنْتُهُ فَقَتَلْتُهُ فَجِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ: «أقَتلتَه وقدْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ؟» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا فَعَلَ ذَلِكَ تَعَوُّذًا قَالَ: «فهَلاَّ شقَقتَ عَن قلبه؟»

وعن اسامة بن زيد قال: بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اناس من جهينة فاتيت على رجل منهم فذهبت اطعنه فقال: لا اله الا الله فطعنته فقتلته فجىت الى النبي صلى الله عليه وسلم فاخبرته فقال: «اقتلته وقد شهد ان لا اله الا الله؟» قلت: يا رسول الله انما فعل ذلك تعوذا قال: «فهلا شققت عن قلبه؟»

ব্যাখ্যা: কোনো লোক অন্তর হতে প্রকৃতভাবে ঈমান আনয়ন করেছে কিনা- তা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই অবগত আছেন। সুতরাং কোনো ব্যক্তি বাহ্যিক ও মৌখিক কালিমাহ্ পাঠ করলে এবং কালিমাকে স্বীকার করে নিলে সে মুসলিম বলে গণ্য হবে। অতএব মুখে কালিমাহ্ স্বীকারকারী প্রত্যেক মুসলিমের নিকট অপর মুসলিমের রক্ত যেমন হারাম তেমনি যে কেউ তাৎক্ষণিক ঈমান আনলে তার রক্তও অপর মুসলিমের জন্য হারাম বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ কোনো মুসলিম তাকে হত্যা করতে পারবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৮৭২; শারহে মুসলিম ২য় খন্ড, হাঃ ৯৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫১-[৬] জুনদুব ইবনু ’আব্দুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ) হতে অপর এক বর্ণনায় আছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে যখন ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ তোমার বিরুদ্ধে (হত্যার) অভিযোগ করবে, তখন তুমি কি উত্তর দেবে? এ কথাটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একাধিকবার উচ্চারণ করলেন। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَفِي رِوَايَةِ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كَيْفَ تَصْنَعُ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ إِذَا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟» . قَالَهُ مِرَارًا. رَوَاهُ مُسلم

وفي رواية جندب بن عبد الله البجلي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كيف تصنع بلا اله الا الله اذا جاءت يوم القيامة؟» . قاله مرارا. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক (بِلَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ إِذَا جَاءَتْ) এ কথাটি বার বার বলার কারণ হলো- এ কথা দ্বারা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কালিমাহ্ পাঠ করার মর্যাদা ও গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ‘আল্লামা কাযী (রহঃ) বলেনঃ যখন কেউ মুসলিম হয়ে যায় তখন তার অধিকার এই হয় যে, তাকে হত্যা করা যাবে না। বরং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫২-[৭] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোনো মু’আহিদ (মুসলিমদের প্রতিশ্রুতিতে আশ্রিত)-কে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। যদিও তার সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূর হতে পাওয়া যায়। (বুখারী)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أربعينَ خَرِيفًا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قتل معاهدا لم يرح راىحة الجنة وان ريحها توجد من مسيرة اربعين خريفا» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী যিম্মি বা কাফির নিরাপত্তার শর্তে যখন বসবাস করে তখন তার জান-মাল মুসলিমের ন্যায় সংরক্ষিত, তাদেরকে হত্যা করাও জঘন্যতম অপরাধ। ‘আল্লামা কাযী ‘ইয়ায (রহঃ) (مُعَاهِدًا) এর ব্যাখ্যায় বলেন- জিয্ইয়াহ্ (কর) দেয়ার শর্তে মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মের লোকেদের (مُعَاهِدًا) বলা হয়। অথবা মুসলিম কর্তৃক নিরাপত্তার চুক্তিতে অবস্থানকারী। মুসলিমের নিরাপত্তায় থাকা অবস্থায় কোনো কাফিরকে হত্যা করা যাবে না। মুসলিম রাষ্ট্রে মুসলিমের নিরাপত্তায় থাকা কোনো কাফিরকে যদি কেউ হত্যা করে তবে সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। এর দ্বারা এ উদ্দেশ্য নয় যে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কেননা শারী‘আতের বিধান মতে কবীরা গুনাহের শাস্তির পর প্রত্যেক মুসলিম জান্নাতে প্রবেশ করবে একমাত্র কাফির চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫৩-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে ঐরূপভাবে জাহান্নামের মাঝে সর্বদা নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। আর যে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে, সেও সর্বদা ঐরূপভাবে জাহান্নামে স্বীয় হাতে বিষপানরত থাকবে। আর যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐরূপ ধারালো অস্ত্র দ্বারা স্বীয় হাতে নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى فِيهَا خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَحَسَّى سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَتَوَجَّأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جهنَّمَ خَالِدا مخلَّداً فِيهَا أبدا»

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من تردى من جبل فقتل نفسه فهو في نار جهنم يتردى فيها خالدا مخلدا فيها ابدا ومن تحسى سما فقتل نفسه فسمه في يده يتحساه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها ابدا ومن قتل نفسه بحديدة فحديدته في يده يتوجا بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها ابدا»

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির শেষ পরিণতি সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামী হবে। এখন প্রশ্ন হলো যে, আত্মহত্যাকারী কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় যে, যদি আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি আত্মহত্যার সময় ঈমানের সাথে থাকে তবে সে এ পাপের শাস্তি ভোগ করার পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি সে ঈমান ত্যাগ করে মারা যায় তবে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। হাদীসের উক্তি (خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا) এর দ্বারা তাকিদ আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যেন আত্মহত্যার মতো জঘন্য অপরাধ না করে, এ কথা দ্বারা সেদিকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অথবা এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে, আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি শাস্তির উপযোগী হয়ে পড়েছে। অথবা এর দ্বারা দীর্ঘস্থায়ী শাস্তির কথা বুঝানো হয়েছে (‘আল্লামা কাযী ‘ইয়ায-এর অভিমত এটাই)। আত্মহত্যাকারী ব্যক্তি যে মাধ্যমে আত্মহত্যা করবে জাহান্নামে বসে সে নিজের সাথে অনুরূপ ব্যবহার করবে, অর্থাৎ কেউ যদি বিষপানে আত্মহত্যা করে তবে সে জাহান্নামে ও বিষপান করতে থাকবে আবার যে ব্যক্তি নিজেকে কোনো ধারালো ছুরির আঘাতে হত্যা করবে জাহান্নামে বসেও সে নিজেকে ধারালো ছুরি দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। ‘আল্লামা ত্বীবী বলেনঃ আত্মহত্যাকারী যদি এ কাজকে হালাল মনে করে তাহলে সে কাফির হওয়ার কারণে চীর জাহান্নামী হবে, অন্যথায় নয়।

আত্মহত্যাকারী ব্যক্তির জন্য জানাযা সালাত আদায় করা যাবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে বলা যায় যে, প্রত্যেক কালিমাহ্ স্বীকারকারীর ব্যক্তির জানাযা হবে। যদি কালিমাহ্ স্বীকারকারী কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে তার জানাযা হবে। এ মর্মে মারফূ‘ সূত্রে ইবনু ‘উমার থেকে বর্ণিত হাদীস (صَلُّوا خَلْفَ مَنْ قَالَ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَصَلُّوا عَلٰى مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ) অর্থাৎ- তোমরা তার পিছে সালাত আদায় কর, যে لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ স্বীকার করে এবং যে لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ স্বীকার করে তার জানাযা আদায় কর। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫৪-[৯] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (স্বীয় গলায়) ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে, জাহান্নামেও সে অনুরূপভাবে নিজেকে ফাঁসি দিতে থাকবে। আর যে অস্ত্রাঘাতে আত্মহত্যা করে, জাহান্নামেও সে অনুরূপভাবে নিজেকে অস্ত্রাঘাতে আত্মহত্যা করতে থাকবে। (বুখারী)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الَّذِي يَخْنُقُ نَفْسَهُ يَخْنُقُهَا فِي النَّارِ وَالَّذِي يَطْعَنُهَا يَطْعَنُهَا فِي النَّارِ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الذي يخنق نفسه يخنقها في النار والذي يطعنها يطعنها في النار» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা : এ হাদীসে আত্মহত্যা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। দুনিয়াতে বসে আত্মহত্যাকারী যে পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করেছে জাহান্নামেও সে সেই পদ্ধতিতে শাস্তি ভোগ করবে। যে ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামেও নিজ হাতে ফাঁসীর শাস্তি ভোগ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫৫-[১০] জুনদুব ইবনু ’আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের পূর্বকালে জনৈক লোক (হাতে রক্তাক্ত অবস্থায়) আহত হয়েছিল। সে তার ব্যথা সহ্য করতে না পেরে একটি ছুরির আঘাতে স্বীয় হাতটি কেটে ফেলে, তারপরও রক্তক্ষরণ রোধ হলো না। পরিশেষে সে মৃত্যুবরণ করল। আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে অত্যন্ত তাড়াহুড়া করল। অতএব আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جُنْدُبِ بْنِ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ بِهِ جُرْحٌ فجزِعَ فأخذَ سكيّناً فحزَّ بِهَا يَدَهُ فَمَا رَقَأَ الدَّمُ حَتَّى مَاتَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: بَادَرَنِي عَبْدِي بِنَفْسِهِ فَحَرَّمْتُ عَلَيْهِ الْجنَّة

وعن جندب بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كان فيمن كان قبلكم رجل به جرح فجزع فاخذ سكينا فحز بها يده فما رقا الدم حتى مات قال الله تعالى: بادرني عبدي بنفسه فحرمت عليه الجنة

ব্যাখ্যা: আত্মহত্যা করা জঘন্য পাপ। কোনো মুসলিম যদি আত্মহত্যা করে তবে তাকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। যদি সে জায়িয মনে না করে থাকে তবে সে শাস্তি ভোগের পর মুক্তি পাবে, কিন্তু যে ব্যক্তি আত্মহত্যাকে জায়িয ও হালাল মনে করে সে জাহান্নামী হবে। কেননা সে শারী‘আতের একটি হারাম কাজকে হালাল মনে করার দ্বারা কাফির হয়ে গেল। আর কাফির তো জাহান্নামী হবে। কোনো অবস্থাতেই আত্মহত্যা করা যাবে না। জীবনে চলার পথে যতই কষ্ট বা বিপদাপদ নেমে আসুক না কেন সর্বদাই আত্মহত্যা করা হারাম। এ হাদীসে সে দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫৬-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করেন তখন তুফায়ল ইবনু ’আমর আদ্ দাওসী -ও তাঁর সাথে হিজরত করলেন, সাথে তার স্বগোত্রীয় এক লোকও হিজরত করে এসেছিল এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়ল। এতে লোকটি অসুস্থতায় অধৈর্য হয়ে ছুরি নিয়ে স্বীয় হাতের কব্জি কেটে ফেলল। ফলে দ্রুতবেগে রক্তক্ষরণের দরুন সে মৃত্যুবরণ করল। অতঃপর তুফায়ল ইবনু ’আমর তাকে স্বপ্ন দেখলেন যে, তার অবয়ব ও বেশভূষা খুবই সুন্দর; কিন্তু তার হাত দু’টি আবৃত করা। তুফায়ল তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রব্ তোমার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন? উত্তরে সে বলল, আল্লাহ তা’আলা আমাকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হিজরত করার কারণে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তুফায়ল পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আমি তোমার হাত দু’টি আবৃত দেখছি, তার কারণ কি? সে বলল, আল্লাহ তা’আলা আমাকে বলেছেন, তুমি ইচ্ছাকৃতভাবে যা ক্ষতি করেছ, আমি কক্ষনো তা ঠিক করব না। অতঃপর তুফায়ল এতদসম্পর্কে পুরো বিষয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! তার হাত দু’টিকেও ক্ষমা করে দিন। (মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ جَابِرٍ: أَنَّ الطُّفَيْلَ بْنَ عَمْرٍو الدَّوْسِيَّ لَمَّا هَاجَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْمَدِينَةِ هَاجَرَ إِلَيْهِ وَهَاجَرَ مَعَهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ فَمَرِضَ فَجَزِعَ فَأَخَذَ مَشَاقِصَ لَهُ فَقَطَعَ بِهَا بَرَاجِمَهُ فَشَخَبَتْ يَدَاهُ حَتَّى مَاتَ فَرَآهُ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو فِي مَنَامِهِ وَهَيْئَتُهُ حسنةٌ ورآهُ مغطيّاً يدَيْهِ فَقَالَ لَهُ: مَا صنع بِكُل رَبُّكَ؟ فَقَالَ: غَفَرَ لِي بِهِجْرَتِي إِلَى نَبِيِّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: مَا لِي أَرَاكَ مُغَطِّيًا يَدَيْكَ؟ قَالَ: قِيلَ لِي: لَنْ تصلح مِنْكَ مَا أَفْسَدْتَ فَقَصَّهَا الطُّفَيْلُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِر» . رَوَاهُ مُسلم

وعن جابر: ان الطفيل بن عمرو الدوسي لما هاجر النبي صلى الله عليه وسلم الى المدينة هاجر اليه وهاجر معه رجل من قومه فمرض فجزع فاخذ مشاقص له فقطع بها براجمه فشخبت يداه حتى مات فراه الطفيل بن عمرو في منامه وهيىته حسنة وراه مغطيا يديه فقال له: ما صنع بكل ربك؟ فقال: غفر لي بهجرتي الى نبيه صلى الله عليه وسلم فقال: ما لي اراك مغطيا يديك؟ قال: قيل لي: لن تصلح منك ما افسدت فقصها الطفيل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللهم وليديه فاغفر» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে বুঝা যাচ্ছে যে, কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তি নিজের অঙ্গকে নষ্ট বা অকেজো করতে পারবে না। যতই কষ্ট হোক না কেন ধৈর্যধারণ করতে হবে। এ হাদীসের আলোকে আরো বুঝা গেল যে, যদি কেউ তার কোনো অঙ্গকে নষ্ট করে ফেলে তবে আল্লাহ তা‘আলা তার এ অঙ্গকে কখনও ঠিক করে দিবেন না যদিও সে জান্নাতী হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫৭-[১২] আবূ শুরাইহ আল কা’বী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কা বিজয়ের খুৎবাতে) বলেছেন, হে খুযা’আহ্ গোত্র! তোমরা এই হুযায়ল গোত্রের লোকটিকে হত্যা করেছ। আল্লাহর কসম! আমি তার দিয়াত (রক্তপণ) আদায় করবো। অতঃপর যে কেউ কোনো লোককে হত্যা করবে, তখন নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের দু’টির মধ্যে যে কোনো একটি করার অধিকার থাকবে। যদি তারা হত্যাকারী থেকে প্রতিশোধ নিতে চায়, তাহলে কিসাস (প্রতিশোধ) স্বরূপ তাকে হত্যা করবে। আর যদি দিয়াত গ্রহণ করতে চায়, তাও করতে পারবে। (তিরমিযী ও শাফি’ঈ)[1]

আর শারহুস্ সুন্নাহ্-এর কিতাবে ইমাম শাফি’ঈ (রহঃ)-এর সানাদে বর্ণিত আছে। হাদীসটি শুরাইহ আল কা’বী -এর মাধ্যমে বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়নি।

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أبي شُرَيحٍ الكعبيِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثُمَّ أَنْتُمْ يَا خُزَاعَةُ قَدْ قَتَلْتُمْ هَذَا الْقَتِيلَ مِنْ هُذَيْلٍ وَأَنَا وَاللَّهِ عَاقِلُهُ مَنْ قَتَلَ بَعْدَهُ قَتِيلًا فَأَهْلُهُ بَيْنَ خِيرَتَيْنِ: عَن أَحبُّوا قتلوا وَإِن أَحبُّوا أخذا العقلَ . رَوَاهُ الترمذيُّ وَالشَّافِعِيّ. وَفِي شرح السنَّة بإِسنادِه وَصَرَّحَ: بِأَنَّهُ لَيْسَ فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أَبِي شُرَيْح وَقَالَ:

وعن ابي شريح الكعبي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ثم انتم يا خزاعة قد قتلتم هذا القتيل من هذيل وانا والله عاقله من قتل بعده قتيلا فاهله بين خيرتين: عن احبوا قتلوا وان احبوا اخذا العقل . رواه الترمذي والشافعي. وفي شرح السنة باسناده وصرح: بانه ليس في الصحيحين عن ابي شريح وقال:

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ক্বিসাসের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যদি কেউ কাউকে হত্যা করে তাহলে তার ফায়সালা কিভাবে হবে সে সম্পর্কে এ হাদীসে আলোকপাত করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ হত্যাকারীর কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারবে। হত্যার পরিবর্তে হত্যা অথবা নিহত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দিয়াত তথা রক্তপণ দাবী করলে হত্যাকারী তা পরিশোধের মাধ্যমে এ অপরাধ থেকে মুক্তি পাবে। ক্ষতিপূরণের দাবীদার কে কে হবেন? নিহত ব্যক্তির পরিবারের নারী-পুরুষসহ সকল সদস্যবৃন্দ স্বামী-স্ত্রীও এদের অন্তর্ভুক্ত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ শুরায়হ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫৮-[১৩] আর তিনি (শারহুস্ সুন্নাহ্-এর গ্রন্থাকার) বলেন, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে সমঅর্থে বর্ণনা করেছেন।[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَأَخْرَجَاهُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي هُرَيْرَةَ يَعْنِي بِمَعْنَاهُ

واخرجاه من رواية ابي هريرة يعني بمعناه

ব্যাখ্যা : অর্থাৎ শব্দের মধ্যে মিল না থাকলেও অর্থের মধ্যে মিল রয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৫৯-[১৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহূদী একটি মেয়ের মাথা দু’টি পাথরের মাঝে রেখে ছেঁচে দিল। অতঃপর মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করা হলো, কে তোমার সাথে এরূপ করেছে? অমুক, না অমুক? পরিশেষে এক ইয়াহূদীর নাম উল্লেখ করা হলে মেয়েটি মাথা নাড়িরে ইশারায় সম্মতি জানাল। অতঃপর সেই ইয়াহূদীকে উপস্থিত করা হলে সে তার দোষ স্বীকার করল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথাটিও পাথর দ্বারা ছেঁচে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তার মাথাটিও অনুরূপভাবে ছেঁচে দেয়া হলো। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ يَهُودِيًّا رَضَّ رَأْسَ جَارِيَةٍ بَيْنَ حَجَرَيْنِ فَقِيلَ لَهَا: مَنْ فَعَلَ بِكِ هَذَا؟ أَفُلَانٌ؟ حَتَّى سُمِّيَ الْيَهُودِيُّ فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا فَجِيءَ بِالْيَهُودِيِّ فَاعْتَرَفَ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُضَّ رَأْسُهُ بِالْحِجَارَةِ

وعن انس: ان يهوديا رض راس جارية بين حجرين فقيل لها: من فعل بك هذا؟ افلان؟ حتى سمي اليهودي فاومات براسها فجيء باليهودي فاعترف فامر به رسول الله صلى الله عليه وسلم فرض راسه بالحجارة

ব্যাখ্যা: ক্বিসাসের বিধান হলো যে, হত্যাকারী বা আহতকারী যেভাবে নিহত ব্যক্তিকে বা আহত ব্যক্তিকে আঘাত করেছে তাকে সেভাবে আঘাত করতে হবে। আলোচ্য হাদীসে সেদিকে ইঙ্গিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে বর্ণিত বিষয়টির ফায়সালা দিলেন। অর্থাৎ কেউ যদি কারো নাক কেটে ফেলে তবে কিসাস স্বরূপ কর্তনকারীর নাক কেটে ফেলতে হবে। হাদীসে দেখা যাচ্ছে যে, এক বালিকাকে এক ইয়াহূদী পাথর দ্বারা আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দিল আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও একই পদ্ধতিতেই ইয়াহূদীর মাথা ফাটানোর নির্দেশ দিলেন। এতে বুঝা যায়, ক্বিসাসের ক্ষেত্রে অপরাধীকে সেভাবে শাস্তি দিতে হবে যেভাবে সে নিহত ব্যক্তি বা আহত ব্যক্তিকে আঘাত করেছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

এ হাদীসে দিয়াত তথা ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে দৃকপাত হয়েছে। শারী‘আতের বিধান হলো যদি কেউ কাউকে হত্যা করে তবে হত্যাকারীকেও হত্যা করতে হবে। কেউ যদি কাউকে আঘাত করে তবে তাকেও অনুরূপ আঘাত করতে হবে। কেউ যদি কারো অঙ্গ কেটে ফেলে তবে তারও অনুরূপ অঙ্গ কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু যদি নিহত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়াত তথা রক্তপণ/ক্ষতিপূরণ দাবী করে তাও জায়িয, আর উত্তম হলো হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছে তাদের দাবী কৃত ক্ষতিপূরণ সন্তুষ্টির সাথে পরিশোধ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৬০-[১৫] উক্ত রাবী [আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রুবাইয়ি’ (রাঃ); যিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর ফুফু, তিনি এক আনসারী মেয়ের সামনের দাঁত ভেঙ্গে দেয়। অতঃপর মেয়েটির গোত্রের লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ করলে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিসাস (প্রতিশোধ) গ্রহণের আদেশ দিলেন। তখন আনাস ইবনু মালিক -এর চাচা আনাস ইবনুন্ নযর বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এমনটি হতে পারে না। আল্লাহর কসম! রুবাইয়ি’-এর দাঁত ভাঙ্গতে দেয়া হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আনাস! আল্লাহর নির্দেশ হলো কিসাস নেয়া। অতঃপর নিহত ব্যক্তির গোত্রের লোকেরা ক্বিসাসের দাবির পরিবর্তে দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণ করতে সম্মত হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলার এমন কিছু (নেক) বান্দা আছে, যারা আল্লাহর নামে কোনো শপথ করলে আল্লাহ তা’আলা তা পূরণ করে দেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْهُ قَالَ: كَسَرَتِ الرُّبَيِّعُ وَهِيَ عَمَّةُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ثَنِيَّةَ جَارِيَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَ بِالْقِصَاصِ فَقَالَ أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ عَمُّ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ لَا وَاللَّهِ لَا تُكْسَرُ ثَنِيَّتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَنَسُ كِتَابُ اللَّهِ الْقِصَاصُ» فَرَضِيَ الْقَوْمُ وَقَبِلُوا الْأَرْشَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى الله لَأَبَره»

وعنه قال: كسرت الربيع وهي عمة انس بن مالك ثنية جارية من الانصار فاتوا النبي صلى الله عليه وسلم فامر بالقصاص فقال انس بن النضر عم انس بن مالك لا والله لا تكسر ثنيتها يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يا انس كتاب الله القصاص» فرضي القوم وقبلوا الارش فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان من عباد الله من لو اقسم على الله لابره»

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা কাযী ‘ইয়ায (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীস দাঁতের কিসাস বৈধ হওয়ার পক্ষে দলীল। কেউ যদি কারো দাঁত ভেঙ্গে ফেলে তবে তারও দাঁত ভেঙ্গে দিতে হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয় তবে তাও জায়িয। ইমাম নববী (রহঃ) বলেনঃ ক্বিসাসের ক্ষেত্রে ক্ষমা করে দেয়া মুস্তাহাব এবং এর জন্য সুপারিশ করাও মুস্তাহাব। আর কিসাস নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিসাস নেয়া অথবা দিয়াত নেয়া- এ দু’টির যে কোনো একটি বেছে নেয়ার অধিকার বা নিহত ব্যক্তির পরিবারের হত্যাকারী বা আহতকারীর নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৭৯; শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৭৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৩৪৬১-[১৬] আবূ জুহায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি ’আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কুরআনে নেই এমন কিছু কি আপনার নিকট আছে? তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম! যিনি খাদ্য-শস্য অঙ্কুরিত করে প্রাণের সঞ্চার করেছেন। কুরআনে যা আছে তা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু আমাদের কাছে নেই। তবে হ্যাঁ, কিতাব (কুরআন) ও সহীফার (লিখিত হাদীস গ্রন্থের) মধ্যে বুঝার জন্য আল্লাহ তা’আলা মানুষকে যে জ্ঞান দিয়ে থাকেন, তা আমাদের নিকট রয়েছে। আমি বললাম, সহীফার মধ্যে কি লেখা আছে? তিনি বললেন, দিয়াতের (রক্তপণের) বিধান, বন্দীদের মুক্তিপণ এবং এই ফায়সালা যে, কিসাসস্বরূপ কোনো মুসলিমকে কোনো কাফিরের বদলে হত্যার অনুমোদন নেই। (বুখারী)[1]

আর ইবনু মাস্’ঊদ হতে এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে ’’কোনো ব্যক্তিকে জুলুম ও নির্যাতনমূলক হত্যা করা যাবে না’’ যা ’ইলম পর্বে বর্ণিত হয়েছে।

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَن أبي جُحيفةَ قَالَ: سَأَلْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ لَيْسَ فِي الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ: وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ مَا عِنْدَنَا إِلَّا مَا فِي الْقُرْآنِ إِلَّا فَهْمًا يُعْطَى رَجُلٌ فِي كِتَابِهِ وَمَا فِي الصَّحِيفَةِ قُلْتُ: وَمَا فِي الصَّحِيفَةِ؟ قَالَ: الْعَقْلُ وَفِكَاكُ الْأَسِيرِ وَأَنْ لَا يُقْتَلَ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
وَذَكَرَ حَدِيثَ ابْنِ مَسْعُودٍ: «لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا» فِي «كتاب الْعلم»

وعن ابي جحيفة قال: سالت عليا رضي الله عنه هل عندكم شيء ليس في القران؟ فقال: والذي فلق الحبة وبرا النسمة ما عندنا الا ما في القران الا فهما يعطى رجل في كتابه وما في الصحيفة قلت: وما في الصحيفة؟ قال: العقل وفكاك الاسير وان لا يقتل مسلم بكافر. رواه البخاري وذكر حديث ابن مسعود: «لا تقتل نفس ظلما» في «كتاب العلم»

ব্যাখ্যা: এখানে ‘আলী (রাঃ)-এর কথা বিশেষভাবে বলার কারণ হলো যে, শী‘আ সম্প্রদায়ের লোকেরা ‘আলী -কে জ্ঞানের মূল কেন্দ্র হিসেবে মনে করে থাকে। ‘আলী -এর কথার দ্বারা বুঝা যায় যে, প্রথমদিকে শুধু কুরআন লিখে রাখা হত।

এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায়, আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে সব বিষয় তুলে ধরেছেন। ইবনু ‘আব্বাস বলেনঃ সকল জ্ঞান সম্পর্কে কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে তবে কমসংখ্যক লোক তা বুঝতে পারে।

‘আল্লামা কাযী (রহঃ) বলেনঃ শী‘আরা মনে করে যে, ‘ইল্মে ওয়াহী সম্পর্কে ‘আলী সবচেয়ে বেশী অবগত আছেন। আহলে বায়তদের মধ্যে ‘আলী -এর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহীর জ্ঞান বলে গেছেন যা অন্য কাউকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি। কিন্তু ‘আলী শপথ করে তা অস্বীকার করে বললেন কুরআন ব্যতীত তার কাছে অন্য কিছু নেই। এ হাদীসে ক্বিসাসের বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, কোনো মুসলিমকে কিসাস স্বরূপ কোনো কাফিরের বদলে হত্যা করা যাবে না।

ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) এ হাদীসের আলোকে বলেন, কোনো মুসলিমকে কিসাস স্বরূপ কোনো কাফিরের হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না। আর সে কাফিরটা হারবী (অমুসলিম দেশের) হোক বা যিম্মি (মুসলিম দেশের) হোক।

ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেন, হারবী কাফিরের বদলে মুসলিমকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করা যাবে না, কিন্তু যিম্মি কাফিরের বদলে মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না।

‘আল্লামা কাযী (রহঃ) বলেনঃ কাফির সে যিম্মি হোক বা হারবী হোক কোনো অবস্থাতেই তার বদলে কোনো মুসলিমকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করা যাবে- এই কথা হলো ‘উমার, ‘উসমান, ‘আলী, যায়দ ইবনু সাবিত প্রমুখ সাহাবীগণের এবং জুমহূর ‘উলামাগণের। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও তার অনুসারীদের মতে যিম্মি কাফিরের বদলে কিসাস স্বরূপ মুসলিমকে হত্যা করা যাবে। দলীল স্বরূপ তারা বলেন যে, ‘‘এক মুসলিম ব্যক্তি এক যিম্মিকে হত্যা করলে বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করার পর তিনি বলেন, তার যিম্মাদারী রক্ষার ক্ষেত্রে আমি অধিক হকদার’’ হাদীসটি বায়হাক্বী সুনানে (৮/৩০) এবং দারাকুত্বনী (৩/১৩৫) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর রাবীগণ অনির্ভরযোগ্য এবং সানাদ মুন্ক্বতি‘। এ হাদীসে আরো বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে জুলুম নির্যাতন করে হত্যা করা যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৯০৩; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪১২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬২-[১৭] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিমকে হত্যা করার চেয়ে দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহ তা’আলার কাছে অধিকতর সহজ। (তিরমিযী ও নাসায়ী; আর কোনো কোনো মুহাদ্দিস হাদীসটিকে মাওকূফ বলেছেন, আর এটাই সঠিক।)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَزَوَالُ الدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ قَتْلِ رَجُلٍ مُسْلِمٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ ووقفَه بعضُهم وَهُوَ الْأَصَح

عن عبد الله بن عمرو ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لزوال الدنيا اهون على الله من قتل رجل مسلم» . رواه الترمذي والنساىي ووقفه بعضهم وهو الاصح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬৩-[১৮] তবে ইবনু মাজাহ এ হাদীসটি বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ

ورواه ابن ماجه عن البراء بن عازب

ব্যাখ্যা: উপরোল্লিখিত দু’টি হাদীসে প্রত্যেক মুসলিমের সম্মান ও গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। এক মুসলিমকে হত্যার দ্বারা পুরো পৃথিবী ধ্বংসের শামিল হয়। দুনিয়া হলো আখিরাতের ক্ষেত স্বরূপ। এ দুনিয়াতে যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ বলে ডাকার মতো লোক বাকী থাকবে ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত হবে না, তাই আল্লাহর কাছে একজন মুসলিমের সম্মান ও গুরুত্ব অত্যধিক। অতএব যদি কেউ এমন কাউকে হত্যা করে তবে যেন পুরো পৃথিবী ধ্বংস করে দিল। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا

অর্থাৎ- ‘‘যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করে হত্যার বিনিময় ব্যতীত (কিসাস) অথবা জমিনে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশে সে যেন গোটা মানব জাতিকে হত্যা করল।’’ (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ৩২)

সুতরাং কোনো নিরাপরাধ মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা যাবে না, এমনকি অহেতুক কারো ওপর জুলুম নির্যাতনও করা যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৯৫; শারহেন্ নাসায়ী ৩য় খন্ড, হাঃ ৩৯৯৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬৪-[১৯] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি আকাশমন্ডলী ও জমিনের সকল অধিবাসীরা সম্মিলিতভাবে একজন মু’মিনকে হত্যা করে, তাহলে আল্লাহ তা’আলা সকলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (তিরমিযী; তিনি হাদীসটিকে গরীব বলেছেন)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَن أبي سعيدٍ وَأبي هريرةَ عَن رسولِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ أَنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ اشْتَرَكُوا فِي دَمِ مُؤْمِنٍ لَأَكَبَّهُمُ اللَّهُ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

وعن ابي سعيد وابي هريرة عن رسول صلى الله عليه وسلم قال: «لو ان اهل السماء والارض اشتركوا في دم مومن لاكبهم الله في النار» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ لَوْ শব্দটি অতীতকালের জন্য। এ হাদীসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো অন্যায়মূলক হত্যাকে প্রতিহত করা। কেউ যেন কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা না করে সে ব্যাপারে আলোচ্য হাদীসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। সমস্ত দুনিয়াবাসী মিলে যদি কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে তবে আল্লাহ তা‘আলা সমস্ত মানুষকেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৯৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬৫-[২০] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার স্বীয় হাত দিয়ে হত্যাকারীর কপাল ও মাথার কেশগুচ্ছ ধরে এরূপ অবস্থায় উপনীত হবে যে, তার রগসমূহ হতে রক্তক্ষরণ হতে থাকবে এবং সে বলতে থাকবে, হে আমার রব! এই ব্যক্তিই আমাকে হত্যা করেছে। এ কথা বলতে বলতে সে ’আর্শের সন্নিকটবর্তী হয়ে যাবে। (তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَجِيءُ الْمَقْتُولُ بِالْقَاتِلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاصِيَتُهُ وَرَأْسُهُ بِيَدِهِ وَأَوْدَاجُهُ تَشْخُبُ دَمًا يَقُولُ: يَا رَبِّ قَتَلَنِي حَتَّى يُدْنِيَهُ مِنَ العرشِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه

وعن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يجيء المقتول بالقاتل يوم القيامة ناصيته وراسه بيده واوداجه تشخب دما يقول: يا رب قتلني حتى يدنيه من العرش . رواه الترمذي والنساىي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীসের বাণী (يَجِيْءُ الْمَقْتُولُ بِالْقَاتِلِ) এর মধ্যে الباء টি متعدى এর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীসহ উপস্থিত হবে। نَاصِيَة বলা হয় মাথার সামনের অংশকে। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি হত্যাকারীর মাথার সামনের চুল ধরে টেনে হিচড়ে আল্লাহর দরবারে বিচারের জন্য উপস্থিত করবে। এমনকি সে তাকে নিয়ে ‘আরশের নিকটবর্তী হবে। যেন সে এর দ্বারা তার নিহত হওয়ার সাক্ষী অনুসন্ধান করছে এবং সে এর বিনিময়ে মহান আল্লাহর সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়। তখন তার শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে যে রক্ত খুন হওয়ার সময় প্রবাহিত হয়েছিল। সেই আঘাত নিয়ে সে উপস্থিত হবে যে আঘাতে সে নিহত হয়েছে।
(মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৭ম খন্ড, হাঃ ৩০২৯; শারহেন্ নাসায়ী ৩য় খন্ড, হাঃ ৪০১৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬৬-[২১] আবূ উমামাহ্ ইবনু সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উসমান ইবনু ’আফফান(রাঃ) তাঁর অবরোধের দিন উঁচুস্থানে উঠে (বিদ্রোহীদের উদ্দেশে) বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি। তোমরা কি জান না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিমের রক্ত তিনটি কারণের কোনো একটি ব্যতীত হালাল নয়- (১) বিবাহের পর ব্যভিচার করা, (২) ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় কুফরীতে লিপ্ত হওয়া এবং (৩) অনৈতিকভাবে কোনো লোককে হত্যা করা। এ তিনটি কারণের কোনো একটি করলে তাকে হত্যা করা যাবে। আল্লাহর কসম! আমি জাহিলিয়্যাত যুগেও যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হইনি এবং ইসলাম গ্রহণের পরও না। আমি যেদিন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে ইসলামের বায়’আত গ্রহণ করেছি, সেদিন হতে কক্ষনো কুফরীতে লিপ্ত হইনি এবং আমি এমন কোনো লোককে হত্যাও করিনি, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন। তাহলে বল, তোমরা কেন আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছ? (তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ; হাদীসের শব্দবিন্যাস দারিমীর)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَشْرَفَ يَوْمَ الدَّارِ فَقَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِحْدَى ثلاثٍ: زِنىً بَعْدَ إِحْصَانٍ أَوْ كُفْرٌ بَعْدَ إِسْلَامٍ أَوْ قتْلِ نفْسٍ بِغَيْر حق فَقتل بِهِ ؟ فو الله مَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ وَلَا ارْتَدَدْتُ مُنْذُ بَايَعْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا قَتَلْتُ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ فَبِمَ تَقْتُلُونَنِي؟ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَه وللدارمي لفظ الحَدِيث

وعن ابي امامة بن سهل بن حنيف ان عثمان بن عفان رضي الله عنه اشرف يوم الدار فقال: انشدكم بالله اتعلمون ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا يحل دم امرى مسلم الا باحدى ثلاث: زنى بعد احصان او كفر بعد اسلام او قتل نفس بغير حق فقتل به ؟ فو الله ما زنيت في جاهلية ولا اسلام ولا ارتددت منذ بايعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا قتلت النفس التي حرم الله فبم تقتلونني؟ رواه الترمذي والنساىي وابن ماجه وللدارمي لفظ الحديث

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে অবগত হওয়া যায় তিনটি কাজ কারো দ্বারা সংগঠিত হলে তাকে হত্যা করা যাবে। আর তা হলো- ১. বিবাহের পর যিনা বা ব্যভিচারে লিপ্ত হলে ২. ইসলাম গ্রহণ করার পর কুফরী করলে বা মুরতাদ হলে। ৩. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করলে

আলোচ্য হাদীসে (يَوْمَ الدَّارِ) বলে সে দিবসকে বুঝানো হয়েছে, যে দিবসে ‘উসমান বিদ্রোহীদের হাতে নিজ গৃহে অবরুদ্ধ হয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের হাতে শহীদ হন।

এ হাদীস দ্বারা আরো জানা গেল যে, ‘উসমান ইসলাম পূর্বকালেও কোনো প্রকার পাপ কাজে লিপ্ত হননি। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২১৫৮; শারহেন্ নাসায়ী ৩য় খন্ড, হাঃ ৪০৩১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬৭-[২২] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মু’মিন বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত অনৈতিকভাবে কোনো লোক হত্যা না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে নেক কাজে অগ্রগামী থাকে। কিন্তু যখনই সে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করবে, তখনই তার (কল্যাণকর) অগ্রগামী রোধ হয়ে যাবে। (আবূ দাঊদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَزَالُ الْمُؤْمِنُ مُعْنِقًا صَالِحًا مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا فَإِذَا أَصَابَ دَمًا حَرَامًا بَلَّحَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي الدرداء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «لا يزال المومن معنقا صالحا ما لم يصب دما حراما فاذا اصاب دما حراما بلح» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: কাযী ‘ইয়ায (রহঃ) বলেনঃ মু’মিন ব্যক্তি নেক ও সাওয়াবের কাজের প্রতি আগ্রহের সাথে ততদিন পর্যন্ত ধাবিত হয় যতদিন পর্যন্ত সে কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা না করে। যখনই সে কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে তখনই সে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার নেক ‘আমল করার পথ বন্ধ হয়ে যায় আর সে আল্লাহর রহমাত ও সাহায্য হতে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪২৬৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬৮-[২৩] উক্ত রাবী ([আবুদ্ দারদা (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আশা করা যায় যে, আল্লাহ তা’আলা সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে ক্ষমা করবেন না, যে ব্যক্তি মুশরিক অবস্থায় মারা যায়, অথবা স্বেচ্ছায় কোনো মু’মিনকে হত্যা করে। (আবূ দাঊদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْهُ عَنْ
رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَغْفِرَهُ إِلَّا مَنْ مَاتَ مُشْرِكًا أَوْ مَنْ يقتُلُ مُؤمنا مُتَعَمدا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «كل ذنب عسى الله ان يغفره الا من مات مشركا او من يقتل مومنا متعمدا» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে বলা হচ্ছে, দু’ ধরনের গুনাহ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহের ব্যাপারে ক্ষমা আশা করা যায় যে, আল্লাহ তা মাফ করে দিবেন। আর সে দুই ধরনের গুনাহ হলো- আল্লাহর সাথে শরীক করা অবস্থায় মারা যাওয়া এবং কোনো মু’মিন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা।

(يَّقْتُلُ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করল। অর্থাৎ মু’মিন হওয়ার কারণে তাকে হত্যা করল। কিন্তু আল্লাহ যদি তাকে ক্ষমা করে দেন তবে ভিন্ন কথা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪৮, ১১৬) আল্লাহ তাঁর সাথে শরীককারীকে ক্ষমা করবেন না, এতদ্ব্যতীত যাকে ইচ্ছা করবেন তাকে ক্ষমা করে দিবেন। এ হাদীস দ্বারা আরো বুঝা যায় যে, যে ব্যক্তি কোনো মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করবে তাকেও আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। সে চিরকালে জাহান্নামে অবস্থান করবে। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهٗ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا অর্থাৎ- ‘‘যে ব্যক্তি কোনো মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার প্রতিদান হলো জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে-’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৯৩)। ‘আল্লামা মুযহির বলেনঃ যে ব্যক্তি মু’মিনকে হত্যা করা হালাল মনে করে হত্যা করবে সে চির জাহান্নামী। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪২৬৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৬৯-[২৪] আর ইমাম নাসায়ী এ হাদীসটি মু’আবিয়াহ্ হতে বর্ণনা করেছেন।[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ عَن مُعَاوِيَة

ورواه النساىي عن معاوية

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭০-[২৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদে দণ্ডবিধি কার্যকরী করা যাবে না। আর পিতা যদি সন্তানকে হত্যা করে ফেলে, তার কোনো কিসাস নেই। (তিরমিযী ও দারিমী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُقَامُ الْحُدُودُ فِي الْمَسَاجِدِ وَلَا يُقَادُ بِالْوَلَدِ الْوَالِدُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقام الحدود في المساجد ولا يقاد بالولد الوالد» . رواه الترمذي والدارمي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে বুঝা যাচ্ছে যে, মসজিদের ভিতরে শারী‘আতের বিধান (হাদ্দে শার‘ঈ) প্রয়োগ করা যাবে না। কেননা মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে ফরয সালাত আদায় করার জন্য। ফরযের সাথে নফল আদায় ও জ্ঞান শিক্ষার জন্য। (ইবনুল হুমাম)

‘আল্লামা মুযহির (রহঃ) বলেনঃ অত্র হাদীসে মসজিদে পবিত্রতা রক্ষা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ হাদীসের আলোকে একটি মাস্আলায় হানাফী ও শাফি‘ঈরা পরস্পর বিরোধিতা করেছেন, অর্থাৎ- যদি এমন কোনো ব্যক্তি হারামের মধ্যে অবস্থান করে যার কিসাস বৈধ তথা তাকে হত্যা করা জরুরী তবে ক্ষেত্রে কি হুকুম প্রযোজ্য হবে?

এ ক্ষেত্রে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেনঃ তার জন্য সব কিছু সংকীর্ণ করে দিতে হবে যাতে সে হারাম থেকে বের হয় এবং বের হওয়ার পর তাকে হত্যা করতে হবে। আর ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) বলেনঃ তাকে হারামের মধ্যেই হত্যা করা যাবে।

এ হাদীসের অপর অংশে বলা হচ্ছে- সন্তানকে হত্যা করার দায়ে পিতা হতে কিসাস (তথা খুনের বদলে খুন) নেয়া যাবে না। অর্থাৎ সন্তান হত্যার দায়ে পিতার কাছ থেকে দিয়াত তথা রক্তমূল্য আদায় করতে হবে। ইবনুল হুমাম ইখতিলাফুল আয়িম্মাহ্ (ইমামদের মতভেদ) গ্রন্থে বলেনঃ এ ব্যাপারে সকল ‘উলামায়ে কিরাম একমত পোষণ করেছেন যে, যখন কোনো সন্তান পিতা-মাতার থেকে কাউকে হত্যা করে তবে সন্তানকে হত্যা করতে হবে। কিন্তু পিতা যদি সন্তানকে হত্যা করে তবে ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেনঃ এ ক্ষেত্রে পিতাকে হত্যা করা যাবে না। ইমাম আহমাদ এবং ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ)-ও এ মত পোষণ করেন। কিন্তু ইমাম মালিক (রহঃ) বলেনঃ পিতা যদি সন্তানকে যাবাহ করে হত্যা করে তবে পিতা হতে কিসাস নেয়া হবে। আর যদি তরবারি বা অন্য কিছু দ্বারা মারধর করে এবং এতে সন্তান মারা যায় তবে কিসাস নেয়া যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪০১)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭১-[২৬] আবূ রিমসাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাথে এটা কে? আমার পিতা বললেন, আমার ছেলে। এ ব্যাপারে আপনি সাক্ষী থাকুন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, জেনে রাখ! তার অন্যায়ের শাস্তি তোমার ওপর এবং তোমার অন্যায়ের শাস্তি তার ওপর বর্তাবে না। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

আর শারহুস্ সুন্নাহ্-তে হাদীসের প্রথম দিকে কিছু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। তিনি (আবূ রিমসাহ্ ) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তখন আমার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পৃষ্ঠদর্শনে (মোহরে নাবূওয়াত দেখে) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন। আপনার পিঠে যেটি আছে, আমি এর সুচিকিৎসা করে দেই। কেননা আমি একজন চিকিৎসক। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি কেবল একজন সেবক আর আল্লাহ তা’আলা হলেন (প্রকৃত) চিকিৎসক।

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَن أبي رِمْثَةَ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ أبي فقالَ: «مَنْ هَذَا الَّذِي مَعَكَ؟» قَالَ: ابْنِي أَشْهَدُ بِهِ قَالَ: «أَمَا إِنَّهُ لَا يَجْنِي عَلَيْكَ وَلَا تَجْنِي عَلَيْهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَزَادَ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» فِي أَوَّلِهِ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى أَبِي الَّذِي بِظَهْرِ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ: دَعْنِي أُعَالِجُ الَّذِي بِظَهْرِكِ فَإِنِّي طَبِيبٌ. فَقَالَ: «أَنْتَ رفيقٌ واللَّهُ الطبيبُ»

وعن ابي رمثة قال: اتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم مع ابي فقال: «من هذا الذي معك؟» قال: ابني اشهد به قال: «اما انه لا يجني عليك ولا تجني عليه» . رواه ابو داود والنساىي وزاد في «شرح السنة» في اوله قال: دخلت مع ابي على رسول الله صلى الله عليه وسلم فراى ابي الذي بظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: دعني اعالج الذي بظهرك فاني طبيب. فقال: «انت رفيق والله الطبيب»

ব্যাখ্যা: ‘‘সে আমার পুত্র, এ ব্যাপারে আপনি সাক্ষী থাকুন।’’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো- যদি আমি কোনো অপরাধ করি তাহলে আমার বদলে সে, আর যদি সে কোনো অপরাধ করে তাহলে তার বদলে আমি শাস্তি ভোগ করব। আর এ ধরনের নিয়ম জাহিলী যুগের সমাজ ব্যবস্থায় চালু ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী : তোমার অপরাধের শাস্তি তার ওপর এবং তার অপরাধের শাস্তি তোমার ওপর বর্তাবে না। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, একজনের অপরাধের দরুন অপরজনকে জবাবদিহি করতে হবে না।

এ ব্যাপারে ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ এখানে দু’টি ব্যাখ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে- ১. একজনের জন্য অপরজনের ওপর কিসাস বর্তাবে না। ২. একজন অপরজনের পাপের শাস্তি ভোগ করবে না।

এ হাদীসের শেষাংশে বলা হয়েছে যে, সমস্ত রোগ নিরাময়কারী একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ শুধু সেবাযত্ন করতে পারে। প্রকৃত আরোগ্য দানকারী হলেন একমাত্র মহান আল্লাহ। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৮৬; শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৮৪৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ রিমসাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭২-[২৭] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে দাদা হতে, তিনি সুরাকহ্ ইবনু মালিক হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখেছি, তিনি পুত্র থেকে পিতার কিসাস গ্রহণ করতেন, কিন্তু পিতা থেকে পুত্রের কিসাস গ্রহণ করতেন না। (তিরমিযী, তবে তিনি এ হাদীসটিকে য’ঈফ বলেছেন)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ
شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جدِّهِ عَن سُراقةَ بنِ مالكٍ قَالَ: حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقِيدُ الْأَبَ مِنِ ابْنِهِ وَلَا يُقِيدُ الِابْنَ من أَبِيه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ (لم تتمّ دراسته)
وَضَعفه

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده عن سراقة بن مالك قال: حضرت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقيد الاب من ابنه ولا يقيد الابن من ابيه. رواه الترمذي (لم تتم دراسته) وضعفه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তান হত্যার অপরাধে পিতা হতে কিসাস নিতেন না কিন্তু পিতা হত্যার অপরাধে পুত্র হতে কিসাস নিতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৯৯)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭৩-[২৮] হাসান (রহঃ) সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার গোলামকে হত্যা করবে, আমরাও তাকে হত্যা করব। আর যে কেউ তার গোলামের কোনো অঙ্গ কাটবে, আমরাও তার অঙ্গ কেটে দেব। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ, দারিমী)[1]

আর ইমাম নাসায়ী তাঁর অন্য বর্ণনায় এ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, যে কেউ তার গোলামকে খাসী করবে আমরাও তাকে খাসী করে দেব।

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَن الْحسن عَن سَمُرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ وَزَادَ النَّسَائِيُّ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى: «وَمن خصى عَبده خصيناه»

وعن الحسن عن سمرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قتل عبده قتلناه ومن جدع عبده جدعناه» . رواه الترمذي وابو داود وابن ماجه والدارمي وزاد النساىي في رواية اخرى: «ومن خصى عبده خصيناه»

ব্যাখ্যা: এখানে ‘হাসান’ দ্বারা ইমাম হাসান বাসরী (রহঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। আলোচ্য হাদীসে বলা হয়েছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাস হত্যার অপরাধে মুনীবকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ‘আল্লামা খত্ত্বাবী (রহঃ) বলেনঃ এ বাক্যটি ভীতিপ্রদর্শন স্বরূপ বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে গোলামের বদলে তার মুনীবকে হত্যা করা যাবে না। অবশ্য এ কথাটি এজন্যই বলা হয়েছে যেন কোনো মুনীব তার দাসকে হত্যা করার ইচ্ছাও পোষণ না করে। যেমন এক হাদীসে বলা হয়েছে যে, মদ্যপায়ী বার বার মদ্য পান করলে তাকে তিনবার পর্যন্ত চাবুক মারা হবে। কিন্তু চতুর্থবার বা এর বেশী বার পান করলে তাকে হত্যা করতে হবে। অথচ এমন এক মদ্যপায়ীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আনা হলে তিনি তাকে হত্যা করলেন না। কিছুসংখ্যক ‘উলামাহ্ বলেন যে, আল্লাহর বাণী الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ এ আয়াত দ্বারা আলোচ্য হাদীসটি রহিত করা হয়েছে। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেনঃ কোনো আযাদ ব্যক্তিকে তার নিজের গোলাম হত্যার বদলে হত্যা করা যাবে না। তবে ইব্রাহীম নাখ‘ঈ ও সুফ্ইয়ান সাওরী বলেনঃ নিজের গোলামের বদলেও তার মালিকে হত্যা করা যাবে। কেননা আল্লাহর বাণী النَّـفْسَ بِالنَّفْسِ অর্থাৎ জানের বদলে জান হত্যা করতে হবে। এ আয়াতে আযাদ/মুনীব ও দাসের মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য করা হয়নি, অর্থাৎ ‘আম্ভাবে বলা হয়েছে। [আল্লাহই অধিক অবগত] (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫০৬; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪১৪; শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৭৫০)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ হাসান বাসরী (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭৪-[২৯] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় হত্যা করবে, তাকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবক ও ওয়ারিসদের হাতে অর্পণ করা হবে। নিহত ব্যক্তির লোকেরা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করতে পারে অথবা তার থেকে দিয়াত (রক্তপণ) নিতে পারে। আর দিয়াত হলো ত্রিশটি চার বৎসর বয়সী উট, ত্রিশটি পাঁচ বৎসর বয়সী উট এবং চল্লিশটি গর্ভধারণের উপযুক্ত উটনী অর্থাৎ যার পেটে বাচ্চা রয়েছে। আর ওয়ারিসগণ যদি এর চেয়ে কম উট নিয়ে রাজি হয়ে যায়, সেটাও হতে পারে। (তিরমিযী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ قَتَلَ مُتَعَمِّدًا دُفِعَ إِلَى أولياءِ المقتولِ فإِنْ شاؤوا قَتَلوا وإِنْ شَاؤوا أَخَذُوا الدِّيَةَ: وَهِيَ ثَلَاثُونَ حِقَّةً وَثَلَاثُونَ جَذَعَةً وَأَرْبَعُونَ خَلِفَةً وَمَا صَالَحُوا عَلَيْهِ فَهُوَ لَهُمْ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من قتل متعمدا دفع الى اولياء المقتول فان شاووا قتلوا وان شاووا اخذوا الدية: وهي ثلاثون حقة وثلاثون جذعة واربعون خلفة وما صالحوا عليه فهو لهم . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে দিয়াত ও তার পরিমাণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। কেউ যদি কাউকে স্বেচ্ছায় হত্যা করে ফেলে তবে হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কাছে সমর্পণ করতে হবে। অভিভাবকরা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করে ফেলবে অথবা জীবনের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করে তাকে ছেড়েও দিতে পারে। যাকে শারী‘আতে দিয়াত বলা হয়। আর এর পরিমাণ হবে একশত উট। এ একশত উটের মধ্যে

* ত্রিশটি হিক্কাহ্, (হিক্কাহ্ বলা হয় ঐ উটকে যে উট তিন বছর পূর্ণ করে চতুর্থ বছরে পড়েছে)।

* ত্রিশটি জাযাআহ্ (যা চার বছর শেষে পঞ্চম বছরে পড়েছে)।

* চল্লিশটি খলিফাহ্ (যা গর্ভধারণের বয়সে পতিত হয়েছে)।

* অভিভাবক যদি একশত উটের কম নিয়ে হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয় তা হলেও বৈধ হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৮৭)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭৫-[৩০] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত মুসলিমের রক্ত সমপর্যায়ের। যে কোনো একজন মুসলিমও যদি কাউকে (নিরাপত্তার) আশ্রয় দেয়, তবে তা সকলকেই রক্ষা করতে হবে। আর যদি দূরে কোনো বিচ্ছিন্ন সেনাদল গনীমাতের সম্পদ অর্জন করে, তাহলে তৎনিকটবর্তী পুরো দলও এর অংশীদার হবে। আর অমুসলিমদের মুকাবেলায় সমস্ত মুসলিম এক হাতের ন্যায় (অর্থাৎ অভিন্ন শক্তি)। সাবধান! কোনো কাফিরের বদলায় কোনো মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। আর যে ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ আছে, চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত তাকেও হত্যা করা যাবে না। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمُسْلِمُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَيَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ وَيَرُدُّ عَلَيْهِمْ أَقْصَاهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ أَلَا لَا يُقْتَلُ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ وَلَا ذُو عَهْدٍ فِي عَهْدِه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن علي رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «المسلمون تتكافا دماوهم ويسعى بذمتهم ادناهم ويرد عليهم اقصاهم وهم يد على من سواهم الا لا يقتل مسلم بكافر ولا ذو عهد في عهده» . رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বেশ কয়েকটি বিধান সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সমস্ত মুসলিমের প্রাণসমপর্যাযের। ‘শারহুস্ সুন্নাহ্’ কিতাবে এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ক্বিসাসের ক্ষেত্রে সমস্ত মুসলিমের রক্ত সমান। যে কোনো মুসলিমের হত্যার বিনিময়ে শত্রুর যে কাউকে হত্যা করা যাবে, অর্থাৎ সম্মানিত ব্যক্তির বিনিময়ে কম মর্যাদাবানকে, ছোটর বিনিময়ে বড়কে, ‘আলিমের বদলে জাহিলকে, নারীর বদলে পুরুষকে, যদিও নিহত ব্যক্তি সম্মানিত বা ‘আলিম হোক, আর হত্যাকারী অসম্মানিত বা মূর্খ হোক।

যদি কোনো মুসলিম কোনো কাফিরকে নিরাপত্তা দেয় তবে সে নিরাপত্তা সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। অর্থাৎ এ অবস্থায় ঐ কাফিরের রক্ত সমস্ত মুসলিমের জন্য হারাম। শারহুস্ সুন্নাহ্ কিতাবে বলা হয়েছে যে, মুসলিমের মধ্যে যদি কোনো নিম্নস্তরের ব্যক্তিও কোনো কাফিরকে আশ্রয় দেয় বা কোনো মহিলা আশ্রয় দেয় তবে ঐ কাফিরের রক্ত সমস্ত মুসলিমের জন্য হারাম সাব্যস্ত হবে। তাকে হত্যা করা যাবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৯৭; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪১৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭৬-[৩১] আর ইবনু মাজাহও হাদীসটি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه عَن ابْن عَبَّاس

ورواه ابن ماجه عن ابن عباس

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭৭-[৩২] আবূ শুরাইহ আল খুযা’ঈ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয় অথবা আঘাতের কারণে অঙ্গহানি হয়। তখন তার অভিভাবক তিনটির যে কোনো একটি গ্রহণ করতে পারে। তবে যদি সে চতুর্থ কোনটি ইচ্ছা করে তখন তার হাত ধরে ফেল। তিনটি জিনিস হলো- কিসাস, ক্ষমা ও দিয়াত গ্রহণ করা। আর এ তিনটির কোনো একটি গ্রহণ করার পর যদি সে সীমালঙ্ঘন করে, তাহলে তার জন্য জাহান্নাম। সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। (দারিমী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَن أبي شُريحِ الخُزاعيِّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ أُصِيبَ بِدَمٍ أَوْ خَبْلٍ وَالْخَبْلُ: الْجُرْحُ فَهُوَ بِالْخِيَارِ بَيْنَ إِحْدَى ثَلَاثٍ: فَإِنْ أَرَادَ الرَّابِعَةَ فَخُذُوا عَلَى يَدَيْهِ: بَيْنَ أَنْ يَقْتَصَّ أَوْ يَعْفُوَ أَوْ يَأْخُذَ الْعَقْلَ فَإِنْ أَخَذَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ عَدَا بَعْدَ ذَلِكَ فَلَهُ النَّارُ خَالِدًا فِيهَا مُخَلَّدًا أبدا . رَوَاهُ الدَّارمِيّ

وعن ابي شريح الخزاعي قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من اصيب بدم او خبل والخبل: الجرح فهو بالخيار بين احدى ثلاث: فان اراد الرابعة فخذوا على يديه: بين ان يقتص او يعفو او ياخذ العقل فان اخذ من ذلك شيىا ثم عدا بعد ذلك فله النار خالدا فيها مخلدا ابدا . رواه الدارمي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যদি কারো দ্বারা নিহত বা আহত হয় তবে এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের মধ্য থেকে যে কোনো একটিকে নিহত বা আহত ব্যক্তির অভিভাবকদের মেনে নিতে হবে। আর তা হলো- ১. কিসাস তথা হত্যার বদলে হত্যা, আহতের বদলে আহত করা, ২. অথবা হত্যাকারী বা আহতকারীকে ক্ষমা করে দিবে, ৩. অথবা দিয়াত (রক্তমূল্য) গ্রহণ করবে। আর এ তিনটির যে কোনো একটি গ্রহণ করার পর যদি সে সীমালঙ্ঘন করে, অর্থাৎ অন্য কিছু দাবী করে তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং সেখানে সে সর্বদা অবস্থান করবে। তবে হাদীসের অংশ (خَالِدًا فِيهَا مُخَلَّدًا أَبَدًا) এর অর্থ সর্বসময়ের জন্য নয় বরং এর অর্থ হলো (مَكَثَ طَوِيلًا) অর্থাৎ দীর্ঘ সময় জাহান্নামে থাকবে। কেননা কবীরা গুনাহের কারণে কেউ চির জাহান্নামী হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৮৭)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ শুরায়হ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭৮-[৩৩] ত্বাঊস (রহঃ) সূত্রে ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গোলযোগের মধ্যে নিহত হয়। যেমন- পাথর মারামারি অথবা চাবুক ছোঁড়াছুঁড়ি বা লাঠালাঠি দ্বারা গোলমাল হয়েছে- এমতাবস্থায় তাকে অনিচ্ছাকৃত হত্যা বলে ধরা হবে। আর এর দিয়াত (রক্তপণ)-ও ভুলবশত হত্যার দিয়াতের মধ্যেই শামিল হবে। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তখন ঐ হত্যাকারী ক্বিসাসের আওতায় এসে যাবে। আর যে ব্যক্তি কিসাস গ্রহণ করার মাঝে বাধা দেয়, তার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত ও গজব রয়েছে। তার ফরয ও নফল কোনো ’ইবাদাতই গৃহীত হবে না। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَن طَاوُوس
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ فِي عِمِّيَّةٍ فِي رَمْيٍ يَكُونُ بَيْنَهُمْ بِالْحِجَارَةِ أَوْ جَلْدٍ بِالسِّيَاطِ أَوْ ضَرْبٍ بِعَصًا فَهُوَ خَطَأٌ عقله الْخَطَأِ وَمَنْ قَتَلَ عَمْدًا فَهُوَ قَوَدٌ وَمَنْ حَالَ دُونَهُ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَغَضَبُهُ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن طاووس عن ابن عباس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من قتل في عمية في رمي يكون بينهم بالحجارة او جلد بالسياط او ضرب بعصا فهو خطا عقله الخطا ومن قتل عمدا فهو قود ومن حال دونه فعليه لعنة الله وغضبه لا يقبل منه صرف ولا عدل» . رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ভুলবশতঃ হত্যার বিধান সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, قتل خطاء তথা ভুলবশতঃ হত্যা দুই ধরনের হতে পারে। ১. নির্ণয় করতে ভুল করেছে। যেমন দূর হতে কোনো একটি বস্তুকে শিকার মনে করে তীর নিক্ষেপ করেছে অথচ তা একজন মানুষ ছিল এবং সে মারা গেল। ২. সত্যই সে কোনো একটি শিকারকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তা কোনো মানুষের গায়ে বিঁধেছে অথবা সে একটি লক্ষ্যবস্তুকে তীর নিক্ষেপ করেছে এমন সময় হঠাৎ একটি লোক চলার পথে তার সম্মুখে পড়ে মারা গেল। এ দু’ প্রকার হত্যার বেলাতেই দিয়াত ওয়াজিব হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৩০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ তাঊস (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৭৯-[৩৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণ করার পরও (হত্যাকারীকে) হত্যা করল, আমি তাকে ক্ষমা করব না। (আবূ দাঊদ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا أُعْفِي مَنْ قَتَلَ بعدَ أَخذ الديةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا اعفي من قتل بعد اخذ الدية» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, কোনো হত্যাকারীর কাছ থেকে যখন রক্তমূল্য আদায় করা হয় তখন তাকে আর হত্যা করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে যে, (সূরা আল বাকারা ২ : ১৭৮) فَمَنِ اعْتَدٰى بَعْدَ ذٰلِكَ فَلَهٗ عَذَابٌ أَلِيم অর্থাৎ এরপর (রক্তপণ ও ক্ষমার পর) যারা সীমালঙ্ঘন করবে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, অর্থাৎ শেষ দিবসে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। ‘আল্লামা কাযী (রহ) বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, রক্তপণ আদায় করার পর যে হত্যাকারীকে হত্যা করবে আমি তাকে ছেড়ে দিব না। এর অর্থ হলো তার থেকে রক্তমূল্য আদায় না করে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৪৯৮)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৮০-[৩৫] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে কোনো ব্যক্তি শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়, আর আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাকে ক্ষমা করে দেয়, তখন আল্লাহ তা’আলা তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দেন। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يُصَابُ بِشَيْءٍ فِي جَسَدِهِ فَتَصَدَّقَ بِهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً وَحَطَّ عَنْهُ خَطِيئَة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

وعن ابي الدرداء قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما من رجل يصاب بشيء في جسده فتصدق به الا رفعه الله به درجة وحط عنه خطيىة» . رواه الترمذي وابن ماجه

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ক্ষমার গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। কেউ যদি কারো দ্বারা আহত হওয়ার পরও তাকে ক্ষমা করে দেয় তবে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমাকারীর গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে দেন। অর্থাৎ এ ক্ষমার কারণে আল্লাহ খুশী হয়ে তাকে মাফ করে দেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার মর্যাদাকে বৃদ্ধি করে দেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৯৩)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৮১-[৩৬] সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) এক ব্যক্তির হত্যার বদলে (কিসাস স্বরূপ) পাঁচ অথবা সাত ব্যক্তিকে হত্যা করেন। তারা সংগোপনে সম্মিলিতভাবে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল। অতঃপর ’উমার (রাঃ) বললেন, যদি ঐ লোকটিকে সমস্ত সান্’আ-এর অধিবাসী মিলে হত্যা করত, তাহলে আমিও কিসাসস্বরূপ তাদের সকলকে হত্যা করতাম। (মালিক)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخطاب قَتَلَ نَفَرًا خَمْسَةً أَوْ سَبْعَةً بِرَجُلٍ وَاحِدٍ قَتَلُوهُ قَتْلَ غِيلَةٍ وَقَالَ عُمَرُ: لَوْ تَمَالَأَ عَلَيْهِ أَهْلُ صَنْعَاءَ لَقَتَلْتُهُمْ جَمِيعًا. رَوَاهُ مَالِكٌ

عن سعيد بن المسيب: ان عمر بن الخطاب قتل نفرا خمسة او سبعة برجل واحد قتلوه قتل غيلة وقال عمر: لو تمالا عليه اهل صنعاء لقتلتهم جميعا. رواه مالك

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ক্বিসাসের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এ হাদীসের আলোকে এ কথা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, কোনো এলাকার সকলে মিলে যদি একজন ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে সকলের কাছ থেকে কিসাস বা রক্তপণ আদায় করতে হবে। যেমন ‘উমার এক ব্যক্তির হত্যার কারণে সান্‘আ এলাকার বহু লোককে হত্যা করেছেন। ‘উমার (রাঃ)-এর উক্তি (لَوْ تَمَالَأَ عَلَيْهِ أَهْلُ صَنْعَاءَ لَقَتَلْتُهُمْ جَمِيْعًا) এটা ‘আরব জাতির কাছে একটি প্রবাদ হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা অধিক সংখ্যক কোনো কিছুকে বুঝানোর ক্ষেত্রে সান্‘আবাসীর উদাহরণ দিত। কেননা সান্‘আতেই অধিক সংখ্যক লোকের বসবাস ছিল। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহে মুয়াত্ত্বা মালিক ৯ম খন্ড, হাঃ ১৫৩৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৮২-[৩৭] ইমাম বুখারী (রহঃ) এ হাদীসটি ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

وروى البُخَارِيّ عَن ابْن عمر نَحوه

وروى البخاري عن ابن عمر نحوه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৮৩-[৩৮] জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে কতক লোক বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিহত ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে (আল্লাহ তা’আলার নিকট) তার হত্যাকারীকে ধরে নিয়ে এসে বলবে, এ লোকটিকে জিজ্ঞেস করুন, সে কেন আমাকে হত্যা করেছে? তখন সে (হত্যাকারী) বলবে, আমি অমুক লোকের বলে বলীয়ান হয়ে (জিম্মাদারীতে) তাকে হত্যা করেছি। রাবী জুনদুব বলেন, সুতরাং তোমরা এ জাতীয় হত্যাযজ্ঞের সহযোগিতা হতে বেঁচে থাক। (নাসায়ী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن جُنْدبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي فُلَانٌ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَجِيءُ الْمَقْتُولُ بِقَاتِلِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ: سَلْ هَذَا فِيمَ قَتَلَنِي؟ فَيَقُولُ: قَتَلْتُهُ عَلَى مُلْكِ فُلَانٍ . قَالَ جُنْدُبٌ: فاتَّقِها. رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن جندب قال: حدثني فلان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يجيء المقتول بقاتله يوم القيامة فيقول: سل هذا فيم قتلني؟ فيقول: قتلته على ملك فلان . قال جندب: فاتقها. رواه النساىي

ব্যাখ্যা: হত্যাকারীকে কোনো অবস্থাতেই সাহায্য করা যাবে না। কেননা কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করে তাকে হত্যার কারণ জানতে চাইবেন। তখন হত্যাকারী তাকে মদদ দাতাদের নাম উল্লেখ করে দিবে। ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেন- এখানে জুনদুব এমন এক লোককে উপদেশ দিচ্ছিলেন যিনি হত্যার সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহেন্ নাসায়ী ৩য় খন্ড, হাঃ ৪০০৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৮৪-[৩৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সামান্য কথার দ্বারাও কোনো মু’মিনের হত্যার ব্যাপারে সহযোগিতা করল, সে এমন অবস্থায় আল্লাহ তা’আলার সাথে সাক্ষাৎ করবে যে, তার কপালের মধ্যে লেখা থাকবে- অর্থাৎ ’আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ’। (ইবনু মাজাহ)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَعَانَ عَلَى قَتْلِ مُؤْمِنٍ شَطْرَ كَلِمَةٍ لَقِيَ اللَّهَ مَكْتُوبٌ بينَ عينيهِ آيسٌ من رَحْمَة الله» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اعان على قتل مومن شطر كلمة لقي الله مكتوب بين عينيه ايس من رحمة الله» . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা : এ হাদীস থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার ব্যাপারে হত্যাকারীকে কোনো প্রকার সাহায্য করা যাবে না। যদিও সে সাহায্য হোক সামান্য একটি কথা বা ইঙ্গিত। আর যদি কেউ এরূপ সাহায্য করে তবে উক্ত সাহায্যকারী কিয়ামত দিবসে আল্লাহর সামনে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার কপালে লিখা থাকবে (اٰئِسٌ مِنْ رَحْمَةِ اللهِ) অর্থাৎ আল্লাহর রহমাত হতে নিরাশ।

ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন, শাক্বীক (রহঃ) বলেছেনঃ যদি কেউ হত্যাকারীকে উৎসাহিত করার জন্য اقْتُلْ শব্দের اقْ পর্যন্তও উচ্চারণ করে তবুও ইঙ্গিতকারী হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৩৪৮৫-[৪০] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে আটক রাখে, আর আটককৃত ব্যক্তিকে অন্য কেউ হত্যা করে, তাহলে হত্যার দরুন হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে এবং যে আটক রেখেছিল তাকে বন্দী করা হবে। (দারাকুত্বনী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَمْسَكَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ وَقَتَلَهُ الْآخَرُ يُقْتَلُ الَّذِي قتَل ويُحبسُ الَّذِي أمْسَكَ» . رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيّ

وعن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا امسك الرجل الرجل وقتله الاخر يقتل الذي قتل ويحبس الذي امسك» . رواه الدارقطني

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের বক্তব্য হচ্ছে, যে ব্যক্তি হত্যার কাজে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে তার ওপর কিসাস প্রযোজ্য হবে। তবে যে ব্যক্তি বন্দী করবে, তাকেও বন্দী করা হবে। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি আটককারী এ উদ্দেশে আটক করে যে, তাকে হত্যা করা হোক তাহলে উভয়কেই হত্যা করা হবে। আর যদি প্রহার করার উদ্দেশে আটক করে তাহলে শুধুমাত্র হত্যাকারীকেই হত্যা করা হবে। আর আটককারী বন্দী করে রাখা হবে।য় (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৮৬-[১] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এটা আর এটা সমতুল্য, অর্থাৎ কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি। (বুখারী)[1]

بَابُ الدِّيَاتِ

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ» يَعْنِي الخِنصرُ والإبهامَ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «هذه وهذه سواء» يعني الخنصر والابهام. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: দিয়াত আদায়ের ক্ষেত্রে সকল আঙ্গুলই সমান, যেই আঙ্গুলই হোক না কেন বড় ছোট কোনো প্রকার তারতম্য করা যাবে না। শারহুস্ সুন্নাহ্ কিতাবে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক আঙ্গুলের বিনিময়ে দশটি উট দিয়াত হিসেবে আদায় করা ওয়াজিব। হাত ও পায়ের আঙ্গুলের মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৮৯৫; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৪৮; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৯২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৮৭-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী লিহ্ইয়ান গোত্রের জনৈকা মহিলার গর্ভস্থ ভ্রূণ (পেটের বাচ্চা) হত্যার ফায়সালা দিয়েছেন (তথা যে ভ্রূণটি নিহত হয়ে তার পেট থেকে পড়ে গিয়েছিল), একটি গোলাম বা বাঁদী রক্তপণস্বরূপ আদায় করতে হবে। কিন্তু রক্তপণ আদায়ের পূর্বেই মহিলাটি মৃত্যুবরণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা করলেন যে, তার উত্তরাধিকার তার সন্তান এবং স্বামী পাবে এবং রক্তপণ তার অভিভাবকদেরকে আদায় করতে হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الدِّيَاتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنِينِ امْرَأَةٍ مَنْ بَنِي لِحْيَانَ سَقَطَ مَيِّتًا بِغُرَّةِ: عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ ثُمَّ إِنَّ الْمَرْأَةَ الَّتِي قُضِيَ عَلَيْهَا بِالْغُرَّةِ تُوُفِّيَتْ فَقَضَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَنْ مِيرَاثَهَا لبنيها وَزوجهَا الْعقل على عصبتها

وعن ابي هريرة قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في جنين امراة من بني لحيان سقط ميتا بغرة: عبد او امة ثم ان المراة التي قضي عليها بالغرة توفيت فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم بان ميراثها لبنيها وزوجها العقل على عصبتها

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে লিহ্ইয়ান গোত্রের কথা বলা হয়েছে আর সামনের হাদীসে হুযায়ল গোত্রের কথা বলা হয়েছে। মূলতঃ ঘটনা একই। কেননা লিহ্ইয়ান হলো হুযায়ল গোত্রের একটি ছোট অংশ। সুতরাং উভয় হাদীসের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। হাদীসের বাণী (سَقَطَ مَيِّتًا) অর্থাৎ গর্ভপাতটি হয়েছিল মৃতাবস্থায়, তাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি দাস বা একটি দাসী প্রদান করার ফায়সালা দিয়েছেন। আর যদি জীবন্ত অবস্থায় গর্ভপাত হওয়ার পর মারা যায় তবে পূর্ণ দিয়াত দেয়া ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে ছেলে সন্তান হলে একশত উট আর মেয়ে সন্তান হলে পঞ্চাশটি উট ওয়াজিব হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৯০৯; শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৮১; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৬৬; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪১০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৮৮-[৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযায়ল গোত্রের দুই মহিলা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ে একজন অপরজনের ওপর পাথর মেরে আঘাত করে। ফলে একজন তার গর্ভস্থিত ভ্রূণসহ নিহত হয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফায়সালা দিলেন যে, গর্ভস্থিত ভ্রূণের রক্তপণ হলো একজন গোলাম বা বাঁদী। আর নিহত মহিলার রক্তপণ হত্যাকারিণী মহিলার অভিভাবকদেরকে আদায় করতে হবে। আর হত্যাকারিণী মহিলার (মৃত্যুতে) সন্তান এবং উত্তরাধিকারীরা তার মীরাস পাবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الدِّيَاتِ

وَعَنْهُ قَالَ: اقْتَتَلَتِ امْرَأَتَانِ مِنْ هُذَيْلٍ فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى بِحَجَرٍ فَقَتَلَتْهَا وَمَا فِي بَطْنِهَا فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ دِيَةَ جَنِينِهَا غُرَّةٌ: عَبْدٌ أَوْ وَلِيدَةٌ وَقَضَى بِدِيَةِ الْمَرْأَةِ عَلَى عَاقِلَتِهَا وورَّثَها ولدَها وَمن مَعَهم

وعنه قال: اقتتلت امراتان من هذيل فرمت احداهما الاخرى بحجر فقتلتها وما في بطنها فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان دية جنينها غرة: عبد او وليدة وقضى بدية المراة على عاقلتها وورثها ولدها ومن معهم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের ঘটনা আর পূর্বের হাদীসের ঘটনা অনুরূপ। ولد একটি জাতিগত শব্দ। এটা দ্বারা একজন বা বহুজনকেও বুঝায়। এখানে সমস্ত সন্তান উদ্দেশ্য, সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক।

(وَمَنْ مَعَهُمْ) এর দ্বারা অন্যান্য ‘‘যাবিল ফুরুয’’ ওয়ারিসদের কথা বুঝানো হয়েছে। আসাবাগণকে এ কারণে দিয়াত আদায় করতে হয় যে, প্রথমতঃ হত্যাকারী কোনো কাজ করতে তাদের ওপর বেশী ভরসা রাখে। দ্বিতীয়তঃ এ হত্যাকারী যদি কোনো ভালো এবং প্রশংসনীয় কাজ করে, তখনও তারা লাভবান হয় ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকে। সুতরাং দায়-দায়িত্ব বহনেও তারা অংশীদার থাকবে। এটাই যুক্তিসঙ্গত। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৯১০; শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৮১; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৬৬; শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৮৩৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৮৯-[৪] মুগীরাহ্ ইবনু শু’বাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন দুই সতীন পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ে পাথর অথবা তাঁবুর খুঁটি দ্বারা একজন অপরজনকে আঘাত করলে গর্ভধারিণীর গর্ভপাত হয়ে যায়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভস্থিত ভ্রূণের জন্য একটি গোলাম বা বাঁদী দেয়ার ফায়সালা করেন। আর এটা হত্যাকারিণী মহিলার অভিভাবকদের ওপর ওয়াজিব করলেন। (তিরমিযী)[1]

আর মুসলিম-এর বর্ণনায় আছে, মুগীরাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈকা মহিলা তার সতিনকে তাঁবুর খুঁটির আঘাতে মেরেই ফেলল। নিহত মহিলাটি ছিল গর্ভবতী। মুগীরাহ্ বলেন, তাদের একজন ছিল লিহ্ইয়ান গোত্রের রমণী। রাবী বলেন, নিহত মহিলার রক্তপণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যাকারিণীর অভিভাবকদের ওপর ওয়াজিব করলেন আর গর্ভস্থিত ভ্রূণের রক্তপণস্বরূপ একটি গোলাম বা বাঁদী দেয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন।

بَابُ الدِّيَاتِ

وَعَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ: أَنَّ امْرَأَتَيْنِ كَانَتَا ضَرَّتَيْنِ فَرَمَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى بِحَجَرٍ أَوْ عَمُودِ فُسْطَاطٍ فَأَلْقَتْ جَنِينَهَا فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الجَنينِ غُرَّةً: عبْداً أَوْ أَمَةٌ وَجَعَلَهُ عَلَى عَصَبَةِ الْمَرْأَةِ هَذِهِ رِوَايَةُ التِّرْمِذِيِّ وَفِي رِوَايَةِ مُسْلِمٍ: قَالَ: ضَرَبَتِ امْرَأَةٌ ضَرَّتَهَا بِعَمُودِ فُسْطَاطٍ وَهِيَ حُبْلَى فَقَتَلَتْهَا قَالَ: وَإِحْدَاهُمَا لِحْيَانَيَّةٌ قَالَ: فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِيَة الْمَقْتُول عَلَى عَصَبَةِ الْقَاتِلَةِ وَغُرَّةً لِمَا فِي بَطْنِهَا

وعن المغيرة بن شعبة: ان امراتين كانتا ضرتين فرمت احداهما الاخرى بحجر او عمود فسطاط فالقت جنينها فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجنين غرة: عبدا او امة وجعله على عصبة المراة هذه رواية الترمذي وفي رواية مسلم: قال: ضربت امراة ضرتها بعمود فسطاط وهي حبلى فقتلتها قال: واحداهما لحيانية قال: فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم دية المقتول على عصبة القاتلة وغرة لما في بطنها

ব্যাখ্যা: ইমাম নববী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে বর্ণিত হত্যার লাঠিটি ছিল তাঁবুর ছোট খুঁটি। غُرَّةٌ শব্দের অর্থ হলো- দাস-দাসী, যদি কেউ কোনো গর্ভবতীকে হত্যা করে তবে গর্ভবতী ও গর্ভস্থ সন্তানের জন্য আলাদা আলাদাভাবে তার ওপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ গর্ভবতীর জন্য পূর্ণ দিয়াত আদায় করতে হবে, আর গর্ভস্থ সন্তানের জন্য একটি غُرَّةٌ অর্থাৎ দাস বা দাসী দিয়াত হিসেবে প্রদান করতে হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৬৯০৫; শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৮১; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪১১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯০-[৫] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জেনে রাখ, স্বেচ্ছায় হত্যার ন্যায় ভুলবশত হত্যা; যেমন- চাবুক অথবা লাঠির দ্বারা হত্যা করা হয়। তার দিয়াত (রক্তপণ) একশত উট, তন্মধ্যে চল্লিশটি হবে গর্ভবতী। (নাসায়ী, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)[1]

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَلَا إِنَّ دِيَةَ الْخَطَأِ شِبْهِ الْعَمْدِ مَا كَانَ بِالسَّوْطِ وَالْعَصَا مِائَةٌ مِنَ الإِبلِ: مِنْهَا أربعونَ فِي بطونِها أولادُها . رَوَاهُ النسائيُّ وَابْن مَاجَه والدارمي

عن عبد الله بن عمرو ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: الا ان دية الخطا شبه العمد ما كان بالسوط والعصا ماىة من الابل: منها اربعون في بطونها اولادها . رواه النساىي وابن ماجه والدارمي

ব্যাখ্যা: أَلَا শব্দটি সতর্কতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ হাদীস থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, শারী‘আতে অনিচ্ছাকৃত হত্যা বলতে কিছুই নেই। হত্যা তো হত্যাই ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক। সর্বাবস্থায় দিয়াত ওয়াজিব হবে। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, শিব্হিল ‘আম্দ (ইচ্ছাকৃতের মতে) কোনো হত্যা নেই। বরং হত্যা ইচ্ছাকৃত অথবা ভুলবশত, এই দুই প্রকারই হতে পারে। কিন্তু ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেন, ইবনু ‘উমার ও ‘আলী (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস (أَنَّ الْقَتْلَ بِالْمُثَقَّلِ شِبْهُ عَمْدٍ لَا يُوجِبُ الْقِصَاصَ) দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন যে, শিবহে ‘আমদ নামেও এক প্রকার হত্যা আছে যার বদলে কিসাস ওয়াজিব হয় না, বরং দিয়াত ওয়াজিব হয়। সাধারণত চাবুক কিংবা লাঠি দ্বারা আঘাত করলে হত্যা করার উদ্দেশ্য থাকে না। কেননা তার আঘাত হালকাই হয়ে থাকে। এতদসত্ত্বেও যদি মরে যায় তবে বলতে হবে যে, অনিচ্ছাকৃত মারা পড়েছে। সুতরাং এ জাতীয় হত্যাকে বলা হয় শিব্হে ‘আম্দ, কিন্তু যদি ভারী বস্তু দ্বারা আঘাত করা হয় তখন বলতে হবে যে, ইচ্ছা করেই মেরেছে আর এ হত্যাকে বলা বলা হয় কতলে ‘আম্দ, এ ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৮০৫)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯১-[৬] আর আবূ দাঊদ এবং ইবনু মাজাহ এ হাদীসটি ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আমর এবং ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। আর আর শারহুস্ সুন্নাহ্-তে মাসাবীহ এর ভাষ্যে ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।[1]

وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد عَنهُ وَابْن مَاجَه وَعَن ابْن عمر. وَفِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» لَفْظُ «الْمَصَابِيحِ» عَنِ ابْنِ عمر

ورواه ابو داود عنه وابن ماجه وعن ابن عمر. وفي «شرح السنة» لفظ «المصابيح» عن ابن عمر

ব্যাখ্যা : অনিচ্ছাকৃতভাবে চাবুক বা লাঠির আঘাতে মারা গেলে এ ক্ষেত্রে দিয়াত হিসেবে ১০০ উট প্রদান করতে হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯২-[৭] আবূ বকর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ’আমর ইবনু হাযম তাঁর পিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। (তিনি বলেন,) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামান অধিবাসীদের নিকট লিখে পাঠান। (তাতে লেখা ছিল) যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অনৈতিকভাবে কোনো মু’মিনকে হত্যা করে, তা তার হাতের (কর্ম ফলের) প্রাপ্য কিসাস; তবে যদি নিহত ব্যক্তির অভিভাবকগণ অন্য কিছুতে রাজি হয়ে যায়। আর তাতে এটাও লেখা ছিল যে, নারী প্রতিশোধস্বরূপ পুরুষকে হত্যা করা যাবে। তাতে এটাও ছিল যে, প্রাণের রক্তপণ হলো একশত উট। আর যদি কেউ স্বর্ণ দ্বারা রক্তপণ আদায় করতে চায়, তবে একহাজার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) দিতে হবে। আর যদি কারো নাক মূল হতে কেটে ফেলা হয়, তার রক্তপণ হলো একশত উট। সমস্ত দাঁতের বিনিময়ে পরিপূর্ণ রক্তপণ, উভয় ঠোঁটের বিনিময়ে পরিপূর্ণ রক্তপণ, উভয় অণ্ডকোষেরবিনিময়ে পরিপূর্ণ রক্তপণ, লিঙ্গ কাটলেও পরিপূর্ণ রক্তপণ, মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেললে পরিপূর্ণ রক্তপণ, উভয় চোখ ফুড়িয়ে দিলে বা উপড়ে ফেললে পরিপূর্ণ রক্তপণ ওয়াজিব হবে। তবে এক পা কেটে ফেললে অর্ধেক রক্তপণ। আর মস্তকের খুলিতে আঘাত করলে এবং পেটের ভিতরাংশে আঘাত হানলেও এক-তৃতীয়াংশ রক্তপণ দিতে হবে। আর যদি কোনো আঘাতের দরুন হাড্ডি স্থানচ্যুত হয়ে যায়, তাহলে পনেরোটি উট রক্তপণ ওয়াজিব হবে। আর হাত ও পায়ের প্রতিটি আঙ্গুলের রক্তপণ হলো দশটি উট এবং প্রতিটি দাঁতের রক্তপণ পাঁচটি উট ওয়াজিব হবে। (নাসায়ী ও দারিমী)[1]

আর ইমাম মালিক-এর বর্ণনায় আছে, এক চোখের রক্তপণ হলো পঞ্চাশটি উট এবং পায়ের রক্তপণ হলো পঞ্চাশটি উট এবং এক হাতের রক্তপণ হলো পঞ্চাশটি উট। আর এমনভাবে আঘাত করা, যার দরুন হাড্ডি বহিঃপ্রকাশ হয়ে যায়, তার জন্য পাঁচটি উট ওয়াজিব হবে।

وَعَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ إِلَى أَهْلِ الْيَمَنِ وَكَانَ فِي كِتَابِهِ: «أَنَّ مَنِ اعْتَبَطَ مُؤْمِنًا قَتْلًا فَإِنَّهُ قَوَدُ يَدِهِ إِلَّا أَنْ يَرْضَى أَوْلِيَاءُ الْمَقْتُولِ» وَفِيهِ: «أَنَّ الرَّجُلَ يُقْتَلُ بِالْمَرْأَةِ» وَفِيهِ: «فِي النَّفْسِ الدِّيَةُ مِائَةٌ مِنَ الْإِبِلِ وَعَلَى أَهْلِ الذَّهَبِ أَلْفُ دِينَارٍ وَفِي الْأَنْفِ إِذَا أُوعِبَ جَدْعُهُ الدِّيَةُ مِائَةٌ مِنَ الْإِبِلِ وَفِي الْأَسْنَانِ الدِّيَةُ وَفِي الشفتين الدِّيَة وَفِي البيضين الدِّيةُ وَفِي الذَّكرِ الدِّيةُ وَفِي الصُّلبِ الدِّيَةُ وَفِي الْعَيْنَيْنِ الدِّيَةُ وَفِي الرِّجْلِ الْوَاحِدَةِ نِصْفُ الدِّيَةِ وَفِي الْمَأْمُومَةِ ثُلُثُ الدِّيَةِ وَفِي الجائفَةِ ثلث الدِّيَة وَفِي المنقلة خمس عشر مِنَ الْإِبِلِ وَفِي كُلِّ أُصْبُعٍ مِنْ أَصَابِعِ الْيَدِ وَالرِّجْلِ عَشْرٌ مِنَ الْإِبِلِ وَفِي السِّنِّ خَمْسٌ مِنَ الْإِبِلِ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَفِي رِوَايَةِ مَالِكٍ: «وَفِي الْعَيْنِ خَمْسُونَ وَفِي الْيَدِ خَمْسُونَ وَفِي الرِّجْلِ خَمْسُونَ وَفِي الْمُوضِحَةِ خَمْسٌ»

وعن ابي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كتب الى اهل اليمن وكان في كتابه: «ان من اعتبط مومنا قتلا فانه قود يده الا ان يرضى اولياء المقتول» وفيه: «ان الرجل يقتل بالمراة» وفيه: «في النفس الدية ماىة من الابل وعلى اهل الذهب الف دينار وفي الانف اذا اوعب جدعه الدية ماىة من الابل وفي الاسنان الدية وفي الشفتين الدية وفي البيضين الدية وفي الذكر الدية وفي الصلب الدية وفي العينين الدية وفي الرجل الواحدة نصف الدية وفي المامومة ثلث الدية وفي الجاىفة ثلث الدية وفي المنقلة خمس عشر من الابل وفي كل اصبع من اصابع اليد والرجل عشر من الابل وفي السن خمس من الابل» . رواه النساىي والدارمي وفي رواية مالك: «وفي العين خمسون وفي اليد خمسون وفي الرجل خمسون وفي الموضحة خمس»

ব্যাখ্যা: দীর্ঘ এ হাদীসের আলোকে এ কথা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, মানব দেহের যে সকল অঙ্গের সাথে বিশেষ ধরনের উপকার অথবা যার সাথে মানবের সৌন্দর্য জড়িত রয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করলে তার জন্য মর্যাদা অনুযায়ী দিয়াত ওয়াজিব হবে। মূলতঃ মানব দেহ হলো অতি মর্যাদাসম্পন্ন। তাই তার সামান্য অংশও নষ্ট করলে কোনো সময় বলা হয়ে থাকে পুরো দেহটাই নষ্ট করে ফেলেছে। এরই প্রেক্ষিতে ‘উমার এমন একটি আঘাতের জন্য, যার দরুন আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির বোধশক্তি, শ্রবণশক্তি, বাকশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল, ফলে আঘাতকারীর ওপর চারটি দিয়াত ওয়াজিব করেছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৮৬৮; শারহে মুয়াত্ত্বা মালিক ৮ম খন্ড, হাঃ ১৫০১)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯৩-[৮] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কারও আঘাতের কারণে ক্ষত তার শরীরের হাড্ডি প্রকাশ হয়, তার জন্য পাঁচটি উট এবং দাঁত ভাঙ্গার ক্ষেত্রে (প্রত্যেকটি দাঁতের জন্য) পাঁচটি উট আদায় করতে হবে। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী ও দারিমী);[1] আর তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ শুধুমাত্র এ হাদীসের প্রথম অংশটিই বর্ণনা করেছেন)

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَوَاضِحِ خَمْسًا خَمْسًا مِنَ الْإِبِلِ وَفِي الْأَسْنَانِ خَمْسًا خَمْسًا مِنَ الْإِبِلِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ وابنُ مَاجَه الْفَصْل الأول

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في المواضح خمسا خمسا من الابل وفي الاسنان خمسا خمسا من الابل. رواه ابو داود والنساىي والدارمي وروى الترمذي وابن ماجه الفصل الاول

ব্যাখ্যা: الْمَوَاضِحِ শব্দটি موضحة এর বহুবচন। আর موضحة এমন আঘাতকে বলা হয় যে আয়াতের কারণে শরীরের হাড় প্রকাশ পায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক মুযিহাহ্ আঘাতের দিয়াত (রক্তপণ) স্বরূপ পাঁচটি করে উট এবং প্রতিটি দাঁতের জন্য পাঁচটি করে উট দিতে নির্দেশ দিতেন।
(মিরকাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৫৫; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৯০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯৪-[৯] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় হাত ও উভয় পায়ের অঙ্গুলিসমূহের রক্তপণ সমপরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابِعَ الْيَدَيْنِ وَالرِّجْلَيْنِ سَوَاء. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ

وعن ابن عباس قال: جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم اصابع اليدين والرجلين سواء. رواه ابو داود والترمذي

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস থেকে জানা যায় যে, কিসাস গ্রহণের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করতে হবে, তবে আঙ্গুলের কিসাস গ্রহণের বেলায় হাত ও পায়ের আঙ্গুলকে সমপর্যায়ের বিবেচনা করা হয়েছে। কিসাস গ্রহণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহকে একই পর্যায়ের নির্ধারণ করছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৫১; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৯১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯৫-[১০] উক্ত রাবী [ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত অঙ্গুলি (রক্তপণের ক্ষেত্রে) সমপরিমাণ। অনুরূপভাবে সকল দাঁতও সমপরিমাণ এবং সম্মুখের দাঁত ও মাড়ির দাঁতও সমান। এটা ও ওটা (অঙ্গুলি ও দাঁতসমূহ) সমান। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «الأصابعُ سواءٌ والأسنانُ سواءٌ الثَنِيَّةُ وَالضِّرْسُ سَوَاءٌ هَذِهِ وَهَذِهِ سَوَاءٌ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الاصابع سواء والاسنان سواء الثنية والضرس سواء هذه وهذه سواء» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: ثنية শব্দটি الثنايا শব্দের একবচন, এর অর্থ হচ্ছে সামনের দাঁতগুলো, উপরের দিক থেকে দু’টি এবং নিচের দিক থেকে দু’টি।


الضرس শব্দটি একবচন, এর বহুবচন হলো أَضْرَاس। সানায়া দাঁত বাদ দিয়ে বাকী দাঁতগুলোকে أَضْرَاس বলে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

মুনযিরী বলেনঃ ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। হাত অথবা পায়ের আঙ্গুলের দিয়াত সমান। অর্থাৎ প্রতিটি আঙ্গুলের দিয়াত দশটি করে উট। আর ইবনু মাজাহ-এর বর্ণনায় আছে, দাঁত সবগুলোই সমান। অর্থাৎ সকল প্রকার দাঁতের কিসাস সমান। আর তা হলো ৫টি উট। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৪৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯৬-[১১] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বৎসর এক খুৎবা দেন। অতঃপর খুৎবায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, হে লোক সকল! ইসলামে জোট বা চুক্তি নেই। অবশ্য জাহিলিয়্যাত যুগে যে সকল চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, ইসলাম আবির্ভূত হওয়ায় তা আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করে। অমুসলিমদের মুকাবেলায় মুসলিম একটি হাতস্বরূপ। কোনো একজন মুসলিমও যদি কাউকে আশ্রয় দেয়, তবে সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে তা রক্ষা করা অবধারিত। দূরবর্তী সৈন্যদল যদি গনীমাত লাভ করে, সন্নিকটবর্তীগণও তার অধিকারী হবে, অর্থাৎ- যুদ্ধরত সেনারা যা অর্জন করবে, তাদের পশ্চাতে থাকা সেনারাও তার অংশীদার হবে। (জেনে রেখ) কোনো কাফিরের হত্যার বিনিময়ে কোনো মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না। একজন কাফিরের রক্তপণ হলো একজন মুসলিমের রক্তপণের অর্ধেক। পশু-প্রাণীর যাকাত নির্দিষ্ট জায়গায় বসে থেকে আদায় করা গ্রহণযোগ্য নয়। আর যাকাতের ভয়ে পলায়নপর হয়ে পশু নিয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে চলে যাওয়াও জায়িয নেই। জনসাধারণের নিজ আবাসস্থলে গিয়েই যাকাত আদায় করতে হবে। অপর এক বর্ণনায় আছে, আশ্রিত নিরাপত্তাপ্রাপ্তির রক্তপণ হলো একজন স্বাধীন মুসলিমের অর্ধেক। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: خَطَبَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الفتحِ ثمَّ قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَا حِلْفَ فِي الْإِسْلَامِ وَمَا كَانَ مِنْ حِلْفٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّ الْإِسْلَامَ لَا يَزِيدُهُ إِلَّا شِدَّةً الْمُؤْمِنُونَ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ يُجِيرُ عَلَيْهِمْ أَدْنَاهُمْ وَيَرُدُّ عليهِم أقْصاهم يَردُّ سراياهم على قعيدتِهم لَا يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ دِيَةُ الْكَافِرِ نِصْفُ دِيَةِ الْمُسْلِمِ لَا جَلَبَ وَلَا جَنَبَ وَلَا تُؤْخَذُ صَدَقَاتُهُمْ إِلَّا فِي دُورِهِمْ» . وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: «دِيَةُ الْمُعَاهِدِ نِصْفُ دِيَةِ الْحُرِّ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: خطب رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح ثم قال: «ايها الناس انه لا حلف في الاسلام وما كان من حلف في الجاهلية فان الاسلام لا يزيده الا شدة المومنون يد على من سواهم يجير عليهم ادناهم ويرد عليهم اقصاهم يرد سراياهم على قعيدتهم لا يقتل مومن بكافر دية الكافر نصف دية المسلم لا جلب ولا جنب ولا توخذ صدقاتهم الا في دورهم» . وفي رواية قال: «دية المعاهد نصف دية الحر» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত حلف শব্দটির অর্থ হচ্ছে অঙ্গীকার বা চুক্তি।

এখানে যে চুক্তি বা অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে জাহিলী যুগে লোকেরা যেসব চুক্তি করেছে সেগুলো। জাহিলী যুগে লোকেরা যুদ্ধ-বিগ্রহের ক্ষেত্রে একে-অপরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতো যে, তারা ফিতনা-ফ্যাসাদের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করলেন। তবে মু’মিনগণ কল্যাণের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করবে, কারণ তারা সবাই মিলে পরস্পর ভাই ভাই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ ‘‘মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই’’- (সূরা আল হুজুরত ৪৯ : ১০)।
(وَمَا كَانَ مِنْ حِلْفٍ) এ বাক্যটি দ্বারা এই কথাও বুঝানো হয়েছে যে, জাহিলী যুগে যেমন খারাপ কাজের প্রচলন ছিল তেমনি তাদের মধ্যে এ কাজটি বড় প্রচলন ছিল যে, তারা মাযলূমকে সাহায্য করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং এজন্য তারা অঙ্গীকারও করত। এ কাজটিকে ইসলাম আরো জোরদার করেছে।

(وَيَرُدُّ عَلَيْهِمْ أَقْصَاهُمْ يَرُدُّ سَرَايَاهُمْ عَلٰى قَعِيْدَتِهِمْ) এ বাক্য দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে যে সকল মুজাহিদ ময়দানে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে গনীমাতের মাল অর্জন করে, সেই গনীমাত কেবল তারাই ভোগ করবে না। বরং তাদের পেছনে যেসব মুজাহিদ রয়েছে তারাও এর অংশ পাবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯৭-[১২] খিশফ ইবনু মালিক (রহঃ) সূত্রে ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ভুলক্রমে হত্যার রক্তপণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একশত উট নির্ধারণ করেছেন। তন্মধ্যে বিশটি এক বছরপূর্ণ মাদী, বিশটি এক বছরপূর্ণ নর; বিশটি দুই বছরপূর্ণ (বাচ্চা), বিশটি চার বছরের এবং বিশটি গর্ভবতী উট। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[1]

আর সঠিক কথা হলো হাদীসটি মাওকূফ এ কারণে যে, এটি ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ)-এর উক্তি এবং খিশ্ফ একজন অপরিচিত রাবী, অন্য কোনো হাদীসে তার নামোলেস্নখ নেই। আর শারহুস্ সুন্নাহ্-তে বর্ণিত হয়েছে, খায়বারে নিহত লোকের রক্তপণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যাকাতের উট থেকে একশত উট আদায় করেছেন। আর এ যাকাতের উটের মাঝে এক বছরের কোনো উট ছিল না; বরং দুই বছরের নর উট থাকতে পারে।

وَعَنْ خِشْفِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي دِيَةِ الْخَطَأِ عِشْرِينَ بِنْتَ مَخَاضٍ وَعِشْرِينَ ابْنَ مَخَاضٍ ذُكُورٍ وَعِشْرِينَ بِنْتَ لَبُونٍ وَعِشْرِينَ جَذَعَةً وَعِشْرِينَ حِقَّةً . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ مَوْقُوفٌ عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ وَخِشْفٌ مَجْهُولٌ لَا يُعْرَفُ إِلَّا بِهَذَا الْحَدِيثِ وَرُوِيَ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدَى قَتِيلَ خَيْبَرَ بِمِائَةٍ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ وَلَيْسَ فِي أَسْنَانِ إِبِلِ الصَّدَقَةِ ابْنُ مَخَاضٍ إِنَّمَا فِيهَا ابْنُ لبون

وعن خشف بن مالك عن ابن مسعود قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في دية الخطا عشرين بنت مخاض وعشرين ابن مخاض ذكور وعشرين بنت لبون وعشرين جذعة وعشرين حقة . رواه الترمذي وابو داود والنساىي والصحيح انه موقوف على ابن مسعود وخشف مجهول لا يعرف الا بهذا الحديث وروي في شرح السنة ان النبي صلى الله عليه وسلم ودى قتيل خيبر بماىة من ابل الصدقة وليس في اسنان ابل الصدقة ابن مخاض انما فيها ابن لبون

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, ভুলবশতঃ হত্যার দিয়াত হিসেবে ১০০ উট নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই ১০০ উট পাঁচ প্রকারের বিভক্ত:

২০টি বিনতু মাখায (মাদী)

২০টি বিনতু লাবূন (নর)

২০টি ইবনু মাখায (এক বৎসরের নর উট)

২০টি জাযা‘আহ্ (যার বয়স ৪ বৎসর পূর্ণ হয়েছে)

২০টি হিক্কাহ্ (যার বয়স ৩ বৎসর পূর্ণ হয়ে ৪ বৎসরে উপনীত হয়েছে)। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৮৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯৮-[১৩] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে রক্তপণের মূল্য ছিল আটশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) অথবা আট হাজার দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা)। আর তখন আহলি কিতাব তথা ইয়াহূদী-নাসারাদের রক্তপণ ছিল মুসলিমের রক্তপণের অর্ধেক। তিনি (’আমর ইবনু শু’আয়ব-এর দাদা) বলেন, এরূপই চলে আসছিল, যখন ’উমার খলীফাহ্ নিযুক্ত হন, তখন তিনি জনগণের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে বলেন, এখন উটের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। রাবী বলেন, তাই ’উমার (পূর্ব নির্ধারিত) রক্তপণের পরিমাণ (পরিবর্তন করার) স্থির করলেন, স্বর্ণের মালিকের ওপর একহাজার দীনার, রৌপ্যের মালিকের ওপর বারো হাজার দিরহাম, গরুর মালিকের উপর দু’শত গাভী, ছাগলের মালিকের ওপর দুই হাজার বকরী ও কাপড়ের মালিকের উপর দু’শত জোড়া কাপড়। রাবী বলেন, নিরাপত্তাপ্রাপ্ত আশ্রিতদের রক্তপণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যা ছিল ’উমার তা পরিবর্তন না করে তা-ই বহাল রাখলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: كَانَتْ قِيمَةُ الدِّيَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَمَانِمِائَةِ دِينَارٍ أَوْ ثَمَانِيَةَ آلَافِ دِرْهَمٍ وَدِيَةُ أَهْلِ الْكِتَابِ يَوْمَئِذٍ النِّصْفُ مِنْ دِيَةِ الْمُسْلِمِينَ قَالَ: فَكَانَ كَذَلِكَ حَتَّى اسْتُخْلِفَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ عَلَى أَهْلِ الذَّهَبِ أَلْفَ دِينَارٍ وَعَلَى أَهْلِ الْوَرِقِ اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا وَعَلَى أَهْلِ الْبَقَرِ مِائَتَيْ بَقَرَةٍ وَعَلَى أَهْلِ الشَّاءِ أَلْفَيْ شَاةٍ وَعَلَى أَهْلِ الْحُلَلِ مِائَتَيْ حُلَّةٍ قَالَ: وَتَرَكَ دِيَةَ أَهْلِ الذِّمَّةِ لَمْ يَرْفَعْهَا فِيمَا رَفَعَ من الدِّيَة. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: كانت قيمة الدية على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ثمانماىة دينار او ثمانية الاف درهم ودية اهل الكتاب يومىذ النصف من دية المسلمين قال: فكان كذلك حتى استخلف عمر رضي الله عنه على اهل الذهب الف دينار وعلى اهل الورق اثني عشر الفا وعلى اهل البقر ماىتي بقرة وعلى اهل الشاء الفي شاة وعلى اهل الحلل ماىتي حلة قال: وترك دية اهل الذمة لم يرفعها فيما رفع من الدية. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, দিয়াতের মূল্য নির্ধারণের মূল জিনিস হচ্ছে উট। তাই উটের মূল্য কম-বেশি হওয়ার কারণে দিয়াতের মূল্যও কম-বেশি হয়। শামানী বলেন, স্বর্ণের দ্বারা দেয়া দিয়াতের পরিমাণ ১০০০ দীনার আর রৌপ্য হলে তার পরিমাণ হবে ১০,০০০ (দশ হাজার) দিরহাম। আর যদি উট হয় তবে তার সংখ্যা হলো ১০০।

ইমাম শাফি‘ঈ, আহমাদ, মালিক ও ইসহক (রহঃ) বলেনঃ দিয়াতের ক্ষেত্রে রৌপ্য মুদ্রার পরিমাণ হবে ১২,০০০। এ ব্যাপারে সুনানে আর্বা‘আতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত একটি হাদীস রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, বানী ‘আদী গোত্রের একজন লোক নিহত হয়েছিল, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিয়াত নির্ধারণ করেছিলেন ১২ হাজার দিরহাম। (আবূ দাঊদ ৪৫৪৬ ৪/৬৭১, তিরমিযী ১৩৮৮ ৪/৬, নাসায়ী ৪৮০৩ ৮/৪৪, ইবনে মাজাহ ২৬২৯ ২/৮৭৮; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৪৯৯-[১৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্তপণের পরিমাণ বারো হাজার (রৌপ্যমুদ্রা বা দিরহাম) নির্ধারণ করেছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, দারিমী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ جَعَلَ الدِّيَةَ اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَالدَّارِمِيُّ

وعن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم انه جعل الدية اثني عشر الفا. رواه الترمذي وابو داود والنساىي والدارمي

ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে (اثْنَىْ عَشَرَ أَلْفًا) তথা ১২ হাজার বলতে ১২ হাজার দিরহাম বুঝানো হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০০-[১৫] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভুলক্রমে হত্যার রক্তপণ গ্রামবাসীদের ওপর নির্ধারণ করেছেন উটের মূল্যের উপর হিসাব করে চারশত স্বর্ণমুদ্রা অথবা তার সমপরিমাণ মূল্যের রৌপ্যমুদ্রা। অতএব যদি উটের মূল্য বৃদ্ধি পেত তখন রক্তপণের মূল্য বর্ধিত করে দিতেন। আর যদি উটের মূল্য হ্রাস পেত তখন রক্তপণের মূল্য কমিয়ে দিতেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে রক্তপণের মূল্য চারশত স্বর্ণমুদ্রা থেকে আটশত স্বর্ণমুদ্রা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেত। আর আটশত স্বর্ণমুদ্রার সমপরিমাণ রৌপ্যমুদ্রা ছিল আট হাজার দিরহাম। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাভীর মালিকের ওপর দুইশত গাভী আর বকরীর মালিকের ওপর দুই হাজার বকরী (রক্তপণস্বরূপ) নির্ধারণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, রক্তপণের ধন-সম্পদ নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের হক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, মহিলার রক্তপণ তার অভিভাবকগণ ভাগ-বণ্টন অনুপাতে বহন করবে এবং হত্যাকারী কিছুতেই নিহত ব্যক্তির ধন-সম্পদের উত্তরাধিকার হবে না। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَوِّمُ دِيَةَ الْخَطَأِ عَلَى أَهْلِ الْقُرَى أَرْبَعَمِائَةِ دِينَارٍ أَوْ عِدْلَهَا مِنَ الْوَرِقِ وَيُقَوِّمُهَا عَلَى أَثْمَانِ الْإِبِلِ فَإِذَا غَلَتْ رَفَعَ فِي قيمتِها وإِذا هاجَتْ رُخصٌ نَقَصَ مِنْ قِيمَتِهَا وَبَلَغَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا بَيْنَ أَرْبَعِمِائَةِ دِينَارٍ إِلَى ثَمَانِمِائَةِ دِينَارٍ وَعِدْلُهَا مِنَ الْوَرِقِ ثَمَانِيَةُ آلَافِ دِرْهَمٍ قَالَ: وَقَضَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَهْلِ الْبَقَرِ مِائَتَيْ بَقَرَةٍ وَعَلَى أَهْلِ الشَّاءِ أَلْفَيْ شَاةٍ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْعَقْلَ مِيرَاثٌ بَيْنَ وَرَثَةِ الْقَتِيلِ» وَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ عَقْلَ الْمَرْأَةِ بَيْنَ عَصَبَتِهَا وَلَا يَرِثُ القاتلُ شَيْئا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوم دية الخطا على اهل القرى اربعماىة دينار او عدلها من الورق ويقومها على اثمان الابل فاذا غلت رفع في قيمتها واذا هاجت رخص نقص من قيمتها وبلغت على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ما بين اربعماىة دينار الى ثمانماىة دينار وعدلها من الورق ثمانية الاف درهم قال: وقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم على اهل البقر ماىتي بقرة وعلى اهل الشاء الفي شاة وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان العقل ميراث بين ورثة القتيل» وقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان عقل المراة بين عصبتها ولا يرث القاتل شيىا. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, উটের মূল্য বৃদ্ধি পেলে দিয়াতের মূল্যও বৃদ্ধি পেত। যার ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ের দিয়াতের মূল্য চারশ’ দীনার হতে আটশ’ দীনার পর্যন্ত উঠানামা করত। এখানে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে আর তা হলো- কোনো মহিলার অপরাধের কারণে যদি দিয়াত দিতে হয় তবে এর দায়িত্ব বহন করবে তার আবাসাগণ, তারা তাদের নিজ মীরাসের অংশের অনুপাতে তা ভাগ করে নেবে।

এ হাদীসে আরো একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে আর তা হলো দিয়াত নিহত ব্যক্তির মীরাস, তার ওয়ারিসগণ এর অধিকারী হবে। কিন্তু হত্যাকারী যদি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হয় তাহলে সে দিয়াতের ওয়ারিস তথা নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস হতে বঞ্চিত হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০১-[১৬] উক্ত রাবী (’আমর ইবনু শু’আয়ব) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’’শিবহিল ’আমদ’’ তথা ইচ্ছার সদৃশ হত্যার রক্তপণও ইচ্ছাকৃত হত্যার রক্তপণের ন্যায় কঠোরতর হবে। তবে হত্যাকারীকে হত্যা করা যাবে না। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عَقْلُ شِبْهِ الْعَمْدِ مُغَلَّظٌ مِثْلُ عَقْلِ الْعَمْدِ وَلَا يُقْتَلُ صاحبُه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعنه عن ابيه عن جده ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «عقل شبه العمد مغلظ مثل عقل العمد ولا يقتل صاحبه» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে যে বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে তা হলো, ইচ্ছাকৃত হত্যার কারণে যেরূপ দিয়াত বা জরিমানা আসবে, (عَقْلُ شِبْهِ الْعَمْدِ) তথা ইচ্ছাকৃত হত্যা নয় তবে ইচ্ছাকৃত হত্যার অনুরূপ হত্যার ক্ষেত্রেও একই ধরনের দিয়াত বা জরিমানা দিতে হবে। তবে এখানে পার্থক্য হচ্ছে কেউ কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে তার থেকে কিসাস নেয়া হবে, কিন্তু (مِثْلُ عَقْلِ الْعَمْدِ) (ইচ্ছাকৃত হত্যার মতো হত্যা) এর ক্ষেত্রে কিসাস প্রযোজ্য হবে না। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০২-[১৭] উক্ত রাবী (’আমর ইবনু শু’আয়ব) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কারও চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ক্ষত হলে এবং চোখ যথাস্থানে বহাল থাকলে, এজন্য পূর্ণ রক্তপণের এক-তৃতীয়াংশ আদায় করতে হবে। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَنْهُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْعَيْنِ الْقَائِمَةِ السَّادَّةِ لِمَكَانِهَا بِثُلْثِ الدِّيَةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعنه عن ابيه عن جده قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في العين القاىمة السادة لمكانها بثلث الدية. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: (الْعَيْنِ الْقَائِمَةِ) এর দ্বারা ঐ চক্ষুকে বুঝানো হয়েছে যা তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে উপড়ে যায়নি। বরং স্বস্থানে তা বহাল রয়েছে এবং চেহারার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়নি। এক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ প্রযোজ্য হবে। ‘মুখতাসারুত্ ত্বীবী’তে রয়েছে, যদি চোখের সম্পূর্ণ জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায় তবে পূর্ণ দিয়াত বা জরিমানা দিতে হবে। আর যদি একটি চক্ষু নষ্ট হয়ে যায় তবে অর্ধেক দিয়াত দিতে হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০৩-[১৮] মুহাম্মাদ ইবনু ’আমর (রহঃ) আবূ সালামাহ্ (রহঃ) হতে, তিনি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্ট করার দরুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গোলাম বা বাঁদী অথবা একটি ঘোড়া বা খচ্চর রক্তপণের নির্দেশ দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) আরও বলেন, হাদীসটি হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্ এবং খালিদ ওয়াসিত্বী (রহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু ’আমর (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু উভয়ের একজনও ঘোড়া অথবা খচ্চরের কথা বর্ণনা করেননি।

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الجَنينِ بغُرَّةٍ: عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ أَوْ فَرَسٍ أَوْ بَغْلٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ: رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَخَالِدٌ الْوَاسِطِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو وَلَمْ يَذْكُرْ: أَوْ فَرَسٍ أَوْ بغل

وعن محمد بن عمرو عن ابي سلمة عن ابي هريرة قال: قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم في الجنين بغرة: عبد او امة او فرس او بغل. رواه ابو داود وقال: روى هذا الحديث حماد بن سلمة وخالد الواسطي عن محمد بن عمرو ولم يذكر: او فرس او بغل

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটিতে যে বিধান দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, কারো দ্বারা যদি গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে যায় তবে তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হাদীসে এ সম্পর্কে غُرَّةٌ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মূল্যবান ও সুন্দর জিনিস, ‘আরবরা শব্দটিকে এ অর্থেই ব্যবহার করে থাকে। আর এখানে এর দ্বারা ক্রীতদাস অথবা ক্রীতদাসীকে বুঝানো হয়েছে, তবে হাদীসের মধ্যে ঘোড়া ও খচ্চরের কথা বর্ণিত রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী ‘ঈসা ইবনু ইউনুস কর্তৃক ভুলক্রমে বর্ণিত হয়েছে। এ অংশটি সহীহ নয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৫৬৮; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০৪-[১৯] ’আমর ইবনু শু’আয়ব তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে অথচ সে চিকিৎসাশাস্ত্রে সুপরিচিত নয়। তাহলে সে দোষী সাব্যস্ত হবে। (আবূ দাঊদ, নাসায়ী)[1]

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «من تطيب وَلَمْ يُعْلَمْ مِنْهُ طِبٌّ فَهُوَ ضَامِنٌ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من تطيب ولم يعلم منه طب فهو ضامن» . رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে যে বিষয়টি জানা যায় তা হচ্ছে, চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন না করে কারো চিকিৎসা করা জায়িয নয়। কারণ ভুল চিকিৎসা দিলে রোগীর হিতে বিপরীত হতে পারে। এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে। যদি কারো ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে যায় অর্থাৎ ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর ক্ষতি হয় বা মারা যায় তবে যে চিকিৎসা করবে তাকে এর জরিমানা দিতে হবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। তবে এক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু হলে কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। কারণ রোগীর অনুমতিক্রমে সে চিকিৎসা করেছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৭৫; শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৮৪৫; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০৫-[২০] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দরিদ্র গোষ্ঠীর এক বালক ধনী গোষ্ঠীর এক বালকের কান কেটে ফেলে। অতঃপর কান কর্তনকারী বালকটির অভিভাবকগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমরা গরীব ও দুস্থ লোক; তাই তিনি তাদের ওপর কোনো কিছু ধার্য করেননি। (আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن عِمْران بن حُصَينٍ: أَنَّ غُلَامًا لِأُنَاسٍ فُقَرَاءَ قَطَعَ أُذُنَ غُلَامٍ لِأُنَاسٍ أَغْنِيَاءَ فَأَتَى أَهْلُهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالُوا: إِنَّا أُنَاسٌ فُقَرَاءُ فَلَمْ يَجْعَلْ عَلَيْهِمْ شَيْئًا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

وعن عمران بن حصين: ان غلاما لاناس فقراء قطع اذن غلام لاناس اغنياء فاتى اهله النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: انا اناس فقراء فلم يجعل عليهم شيىا. رواه ابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, গরীব পরিবারের একটি ছেলে ধনী পরিবারের একটি ছেলের কান কেটে ফেলে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি কিছুই নির্ধারণ করেননি। এ থেকে বুঝা যায় যে, দিয়াত আদায়ের সামর্থ্য নেই এমন কারো ওপর দিয়াত ওয়াজিব হলে তা বায়তুল মাল থেকে পরিশোধ করা হবে। খত্ত্বাবী বলেনঃ ছেলেটি স্বাধীন ছিল কিন্তু এ ঘটনা ভুলক্রমে ঘটেছিল। ইবনুল মালিক ও অন্যান্য ‘উলামাহ্গণ বলেনঃ এ সম্ভাবনাও আছে যে, ছেলেটি দাস ছিল। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৮৩; শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৭৬৫; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০৬-[২১] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’শিবহিল ’আমদ’ তথা ইচ্ছাকৃত হত্যার সদৃশ হত্যার রক্তপণ তিন প্রকারের উট দ্বারা আদায় করতে হবে। তেত্রিশটি হিক্কাহ্ (যে উট তিন বৎসর পূর্ণ হয়ে চতুর্থ বৎসরে পদার্পণ করেছে), তেত্রিশটি জাযা’আহ্ (যে উট চার বৎসর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বৎসরে পদার্পণ করেছে), চৌত্রিশটি সানিয়্যাহ্ থেকে বাযিল (ষষ্ঠ হতে নবম বৎসর পর্যন্ত বয়সী উট); তবে অবশ্যই এ জাতীয় উটনী গর্ভবতী হতে হবে। অন্য বর্ণনায় আছে, ভুলবশত হত্যার রক্তপণ চার প্রকারের উট দ্বারা আদায় করতে হবে- পঁচিশটি পূর্ণরূপে তিন বৎসরের, পঁচিশটি পূর্ণরূপে চার বৎসরের, পঁচিশটি পূর্ণ দুই বৎসরের আর পঁচিশটি পূর্ণ এক বছরের উটনী হতে হবে। (আবূ দাঊদ)[1]

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: دِيَةُ شِبْهِ الْعَمْدِ أَثْلَاثًا ثَلَاثٌ وَثَلَاثُونَ حِقَّةً وَثَلَاثٌ وَثَلَاثُونَ جَذَعَةً وَأَرْبَعٌ وَثَلَاثُونَ ثَنِيَّةً إِلَى بَازِلِ عَامِهَا كُلُّهَا خَلِفَاتٌ وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ: فِي الْخَطَأ أَربَاعًا: خَمْسَة وَعِشْرُونَ حِقَّةً وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ جَذَعَةً وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ بَنَاتِ لَبُونٍ وَخَمْسٌ وَعِشْرُونَ بَنَاتِ مَخَاضٍ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن علي رضي الله عنه انه قال: دية شبه العمد اثلاثا ثلاث وثلاثون حقة وثلاث وثلاثون جذعة واربع وثلاثون ثنية الى بازل عامها كلها خلفات وفي رواية: قال: في الخطا ارباعا: خمسة وعشرون حقة وخمس وعشرون جذعة وخمس وعشرون بنات لبون وخمس وعشرون بنات مخاض. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এ হাদীসে (قتل شبه عمد) অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত হত্যার সদৃশ হত্যায় দিয়াত দিতে হবে তা বর্ণনা করা হয়েছে। আর তা হলো, ১. তেত্রিশটি হিক্কাহ্ (যে উটের বয়স চতুর্থ বছরে পড়েছে)। ২. চৌত্রিশটি সানিয়্যাহ্ হতে বাযিল পর্যন্ত (অর্থাৎ ৬ষ্ঠ হতে ৯ম বৎসর পর্যন্ত বয়সের উট), তবে এসব উট গর্ভবতী হতে হবে। উক্ত হাদীসে ইচ্ছাকৃত হত্যার সদৃশ ভুল হত্যা এবং ভুলক্রমে হত্যার দিয়াতের পার্থক্য বর্ণনা করা হয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫৪১; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০৭-[২২] মুজাহিদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ’’শিবহিল ’আমদ’’ তথা ইচ্ছাকৃত হত্যার সদৃশ হত্যার রক্তপণ ত্রিশটি তিন বছরের উট, ত্রিশটি চার বছরের উট এবং চল্লিশটি গর্ভবতী উটনী, যেগুলোর বয়স পঞ্চম বছর হতে নবম বছরের মধ্যে রয়েছে- এমন সব উট আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن مُجاهدٍ قَالَ: قَضَى عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فِي شِبْهِ الْعَمْدِ ثَلَاثِينَ حِقَّةً وَثَلَاثِينَ جَذَعَةً وَأَرْبَعِينَ خَلِفَةً مَا بَيْنَ ثَنِيَّةٍ إِلَى بَازِلِ عَامِهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن مجاهد قال: قضى عمر رضي الله عنه في شبه العمد ثلاثين حقة وثلاثين جذعة واربعين خلفة ما بين ثنية الى بازل عامها. رواه ابو داود

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ মুজাহিদ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০৮-[২৩] সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়ের পেটে থাকাবস্থায় গর্ভস্থিত ভ্রূণ হত্যার রক্তপণস্বরূপ একটি গোলাম বা বাঁদী মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর রক্তপণে অভিযুক্ত বলে উঠল, আমি কি কারণে এরূপ রক্তপণ আদায় করব? যে কক্ষনো পান করেনি, কিছু খায়নি, কথাও বলেনি এবং কাঁদেওনি- এ জাতীয় হত্যার অপরাধ তো শাস্তিযোগ্য নয়। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ লোকটি তো গণক গোত্রের একজন। (মালিক ও ইমাম নাসায়ী [রহঃ] হাদীসটি মুরসাল সানাদে)[1]

وَعَن سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى فِي الْجَنِينِ يُقْتَلُ فِي بَطْنِ أُمِّهِ بِغُرَّةِ عَبْدٍ أَوْ وَلِيدَةٍ. فَقَالَ الَّذِي قُضِيَ عليهِ: كيفَ أَغْرَمُ مَنْ لَا شَرِبَ وَلَا أَكَلَ وَلَا نَطَقَ وَلَا اسْتَهَلَّ وَمِثْلُ ذَلِكَ يُطَلُّ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا هَذَا مِنْ إِخْوَانِ الْكُهَّانِ» . رَوَاهُ مالكٌ وَالنَّسَائِيّ مُرْسلا

وعن سعيد بن المسيب: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى في الجنين يقتل في بطن امه بغرة عبد او وليدة. فقال الذي قضي عليه: كيف اغرم من لا شرب ولا اكل ولا نطق ولا استهل ومثل ذلك يطل. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انما هذا من اخوان الكهان» . رواه مالك والنساىي مرسلا

ব্যাখ্যা: গর্ভস্থিত সন্তান হত্যা করলে কী বিধান হবে তা আগেও বর্ণনা করা হয়েছে, এ হাদীসেও সেই কথাই বলা হয়েছে যে, পেটের সন্তান হত্যা করলে একটি দাস বা দাসী দিয়াত দিতে হবে।

এখানে আরো একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফায়সালা শুনার পর যার বিপক্ষে রায় গিয়েছিল সে ছন্দাকারে কিছু কথা বলেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তিরস্কার করে গণকের ভাই বলেছিলেন। এর কারণ এটা ছিল যে, ছন্দাকারে কথা বলেছিল যাতে অন্যায়কে সমর্থন করা হয়েছিল। পক্ষান্তরে ছন্দের মধ্যে যদি ন্যায়কে সমর্থন করা হয় তবে তা বৈধ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও মাঝে মধ্যে ছন্দাকারে কথা বলতেন। যেমন তিনি দু‘আর মধ্যে বলতেন,

اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ، وَمِنْ قَلْبٍ لَا يَخْشَعُ، وَمِنْ نَفْسٍ لَا تَشْبَعُ، وَمِنْ دُعَاءٍ لَا يُسْمَعُ

কিন্তু তিনি লোকটিকে তিরস্কার করেছিলেন এজন্য যে, সে নাবীর ফায়সালাকে মানতে রাজি ছিল না। (শারহেন্ নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪৮৩৫; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - দিয়াত (রক্তপণ)

৩৫০৯-[২৪] আর ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) সা’ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রহঃ) থেকে, তিনি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে উক্ত হাদীসটি মুত্তাসিল সানাদে বর্ণনা করেছেন।[1]

وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ عَنْهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مُتَّصِلا

ورواه ابو داود عنه عن ابي هريرة متصلا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১০-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পশু-প্রাণীর আঘাতের কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। খনিতে ক্ষতিপূরণ নেই এবং কূপে (পড়ে গিয়ে মারা গেলেও) কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْعَجْمَاءُ جَرْحُهَا جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ»

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «العجماء جرحها جبار والمعدن جبار والبىر جبار»

ব্যাখ্যা: الْعَجْمَاءُ শব্দটি اعجم-এর স্ত্রীলিঙ্গ। এর অর্থ চতুস্পদ প্রাণী। নির্বাক হওয়ার কারণে একে عجماء বলে অভিহিত করা হয়। আর যে সমস্ত প্রাণী কথা বলতে পারে না তাকে اعجمى বলা হয়। সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার বলেন- মানুষ ব্যতিরেকে সব প্রাণীই হলো عجماء।

আর جُبَارٌ এর অর্থ নিস্ফল বা অকেজো যার কোনো মূল্য নেই। ইমাম তিরমিযী বলেন, الْعَجْمَاءُ বলা হয় এমন প্রাণীকে যা মালিকের নিকট থেকে ছুটে পালিয়ে যায়। আর جُبَارٌ বলা হয় এমন মূল্যহীন বস্তু যার জরিমানা দিতে হয় না। (ফাতহুল বারী ১২ খন্ড, হাঃ ৬৯১২)

* খত্ত্বাবী বলেনঃ চতুস্পদ জন্তুর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত জিনিসের ক্ষতিপূরণ কারো ওপর বর্তায় না যখন তার সাথে কোনো চালক বা সওয়ারী না থাকে।

* ইমাম নববী বলেনঃ ‘আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, দিবাভাগে চতুস্পদ জন্তুর অপরাধের কারণে কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। তবে যদি তার সাথে কোনো আরোহী বা কোনো নিয়ন্ত্রণকারী থাকে তবে ‘আলিমগণের সর্বসম্মতিক্রমে তার ওপর ক্ষতির দায় বর্তাবে। আর যখন রাত্রিকালে এরূপ কোনো ক্ষতি সাধন করবে তখন তার মালিক ক্ষতির জন্য দায়ী হবে।

ইমাম শাফি‘ঈ ও তাঁর সাথীবর্গ বলেন- যদি মালিক জন্তুকে সংরক্ষণের ব্যাপারে অবহেলা বা শিথিলতা অবলম্বন করে তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় দিতে হবে না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৭৪৫৮১)

সহীহ মুসলিম-এর ভাষ্যকার বলেন- জন্তুর মালিকের অবহেলা ছাড়া যখন প্রাণীটি দিনে বা রাতে কোনো অন্যায় করে বসে অথবা তার সাথে কোনো আরোহী বা নিয়ন্ত্রক না থাকে তাহলে তার ক্ষতির দণ্ড মাফ। তবে যখন তার সাথে চালক থাকে বা আরোহী যে নিয়ন্ত্রণ করে আর জন্তুটি হাত, পা বা মুখ অথবা কোনোভাবে ক্ষতি করে দিলে মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চাই সে মালিক হোক বা ভাড়ায় গ্রহণকারী হোক অথবা ধারকারী হোক, ছিনতাইকারী ও আমানত গ্রহণকারী হোক ও প্রতিনিধি হোক।

(جرح العجماء) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ধ্বংস সাধন করা বা নষ্ট করা। এটা আঘাত করার মাধ্যমে হতে পারে অথবা ক্ষতি করা হতে পারে। এই ক্ষতিটা জানের অথবা মালের হতে পারে। শাফি‘ঈ মতাবলম্বীগণ বলেন- যদি সে ক্ষতিটা إفسادً (তথা ক্ষতিসাধন করা) হিসেবে গণ্য করা হয় তবে সেক্ষেত্রে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। কেননা তার দায়িত্ব হলো সেটাকে বেঁধে রাখা।

ইমাম মালিক-এর মতে জন্তু রাত্রে অপরাধ করলে তার দায় বর্তাবে মালিকের ওপর। (শারহে মুসলিম ১১ খন্ড হাঃ ১৭১০)


بِئْرٌ শব্দটি একবচন, বহুবচন হলো اَبْؤُرٌ ও أَبَارٌ। এখানে بِئْرٌ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রাচীন কোনো প্রাকৃতিক কূপ, যার মালিক অজ্ঞাত থাকে আর তা মরুভূমিতে থাকে। এতে কোনো মানুষ বা প্রাণী পড়ে গেলে এর জন্য কেউ দায়ী হবে না। অনুরূপভাবে যদি কেউ তার অধীনস্ত জায়গায় অথবা মরুপ্রান্তরে কূপ খনন করে আর তাতে মানুষ বা অন্য কিছু পড়ে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে এতে কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। যখন এক্ষেত্রে ক্ষতি সাধন করার বা বিপদের সম্মুখীন করার উদ্দেশ্য না থাকে।
তেমনিভাবে কোনো লোক যদি কাউকে কূপ খননের জন্য মজুর হিসেবে গ্রহণ করে আর তার উপর কূপ ভেঙ্গে পড়ে তাহলে মালিককে এর দায় বহন করতে হবে না। আর যে ব্যক্তি মুসলিমের রাস্তায় অনুরূপভাবে বিনা অনুমতিতে অন্যের জায়গায় কূপ খনন করে এবং তাতে মানুষ ধ্বংস হয়ে যায় তবে এর দায় খননকারীর দিয়াত প্রদানকারীর ওপর ওয়াজিব এবং এর কাফফারা তার মালের মধ্যে রয়েছে। আর যদি মানুষ ব্যতীত অন্য কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে এর দায়পূরণ খননকারীর মাল থেকে আদায় করা ওয়াজিব। (ফাতহুল বারী ১২ খন্ড, হাঃ ৬৯১২)

উপরোক্ত মতের প্রতি সহীহ মুসলিম-এর ভাষ্যকারও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সমর্থন করেন।

(الْمَعْدِنُ جُبَارٌ)-এর অর্থ হলো যদি কেউ তার জায়গায় কোনো খনি খনন করে অথবা প্রান্তরে খনন করে আর কোনো পথিক তাতে পড়ে মারা যায় অথবা সে কোনো মজুর গ্রহণ করে যে খনিতে কাজ করে অতঃপর তার উপর খনি ভেঙ্গে পড়ায় মৃত্যুবরণ করলে মালিককে এর মূল্য দিতে হবে না। যেমন কূপের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ লাগে না। (শারহে মুসলিম ১১ খন্ড, হাঃ ১৭১০)

* ফাতহুল বারীর ভাষ্যকার বলেনঃ সব ধরনের মজুর এই হুকুমের মধ্যে শামিল। যেমন কেউ যদি খেজুর গাছে খেজুর নামানোর জন্য কোনো শ্রমিককে গাছে উঠায়। আর সে গাছ থেকে পড়ে মারা গেলে তার রক্তপণ বৃথা যাবে। অর্থাৎ মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। (ফাতহুল বারী ১২ খন্ড, হাঃ ৬৯১২)
ركاز তথা গুপ্তধন এক-পঞ্চমাংশত যাকাত প্রদান করতে হবে। ركاز বলা হয় دفين الجاهلية (জাহিলী যুগের প্রোথিত সম্পদকে)। ইমাম নববী বলেনঃ উপরোক্ত ব্যাখ্যাটি আমাদের, আহলে হিজাযের ও জুমহূর ‘উলামার মত।

* কিন্তু ইমাম আবূ হানীফাহ্ ও ইরাকের অধিবাসীগণ বলেনঃ معدن ও ركاز সমার্থবোধক শব্দ, সুতরাং গুপ্তধনের বিধান খনির বিধানের মতই। কিন্তু এই মতটি ঠিক নয়। কেননা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসটি তাদের মতকে খন্ডন করেছে। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’টি শব্দকে পৃথক পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন حرف عطف-এর মাধ্যমে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ খন্ড, হাঃ ৪৫৮১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১১-[২] ইয়া’লা ইবনু উমাইয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (তাবূক যুদ্ধে) কষ্ট-ত্যাগ স্বীকারকারী সৈন্যদলের সাথে ছিলাম। আমার সাথে এক চাকর ছিল, সে জনৈক ব্যক্তির সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ার দরুন একজন অপরজনের হাত কামড়ে ধরে। অতঃপর যার হাত কামড়ে ধরেছিল সে তার হাত কামড়ে ধরা মুখ থেকে টেনে বের করতে গিয়ে তার সম্মুখের দু’টি দাঁত ভেঙ্গে যায়। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট অভিযোগ করেন। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দাঁতের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ ধার্য না করে বললেন, তুমি কি চাও যে, সে তার হাত তোমার মুখে রাখবে আর তুমি ষাঁড় উটের মতো কামড়াতে থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ وَكَانَ لِي أَجِيرٌ فقاتلَ إِنساناً فعض أَحدهمَا الْآخَرِ فَانْتَزَعَ الْمَعْضُوضُ يَدَهُ مِنْ فِي الْعَاضِّ فَأَنْدَرَ ثَنِيَّتَهُ فَسَقَطَتْ فَانْطَلَقَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَهْدَرَ ثَنِيَّتَهُ وَقَالَ: «أَيَدَعُ يَدَهُ فِي فِيكَ تَقْضِمُهَا كَالْفَحْلِ»

وعن يعلى بن امية قال: غزوت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم جيش العسرة وكان لي اجير فقاتل انسانا فعض احدهما الاخر فانتزع المعضوض يده من في العاض فاندر ثنيته فسقطت فانطلق الى النبي صلى الله عليه وسلم فاهدر ثنيته وقال: «ايدع يده في فيك تقضمها كالفحل»

ব্যাখ্যা: (جَيْشَ الْعُسْرَةِ) বলতে তাবূক যুদ্ধকে বুঝানো হয়েছে। العسر শব্দটি اليسر-এর বিপরীত। তাবুকের যুদ্ধকে ‘উসরার যুদ্ধ বলা হয়েছে কারণ এই সময় প্রচণ্ড গরম ছিল এবং এই যুদ্ধে পাথেয় ও বাহন সংখ্যা কম ছিল। প্রচণ্ড তাপে, ফল পাকার সময় ও সুন্দর ছায়া পরিত্যাগ করে যুদ্ধের ময়দানে যাওয়া যোদ্ধাদের নিকট খুবই কঠিন ছিল। তাই এই যুদ্ধকে (جَيْشَ الْعُسْرَةِ) বলা হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৬৯ পৃষ্ঠা)

হাদীসে ইয়া‘লা-এর একজন শ্রমিক অন্য একজন মানুষের সাথে তর্ক-বিতর্কে পড়ে দাঁত পড়ে যাওয়ায় ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেলো। তবে সহীহ মুসলিমের রিওয়ায়াতে আছে যে, খোদ ইয়া‘লা একজন মানুষের সাথে তর্কে পড়ে দাঁত পড়ে যাওয়ায় উক্ত ঘটনা ঘটে। এর সমাধানকল্পে সহীহ মুসলিম-এর ভাষ্যকার হাদীসের হাফিযদের মতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- এক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ বিশুদ্ধ মত হলো কামড়ানো ব্যক্তি হলো ইয়া‘লা, ইয়া‘লা-এর শ্রমিক নয়। অথবা এটাও সম্ভাবনা আছে যে, এরূপ ঘটনা দু’টি যার একটি ঘটেছিল খোদ ইয়া‘লা-এর সাথে। দ্বিতীয়টি হলো ইয়া‘লা-এর মজুরের সাথে। (শারহে মুসলিম ১১ খন্ড, হাঃ ১৬৭৩)

হাদীসের গৃহীত বিষয়াদিঃ

১. কেউ কোনো মানুষের হাতে কামড় দিলে মুখের ভিতর থেকে কামড়ে ধরা তার ব্যক্তি হাত টেনে নেয়ায় দাঁত পড়ে যায়, তবে এর কোনো কিসাস নেই বা রক্তমূল্য দিতে হবে না।

২. এই বিধান কোনো প্রাণী বা মানুষ দ্বারা আক্রান্ত সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সে তার জীবন, সম্মান, পবিত্রতা ও মাল রক্ষা করবে। এতে যদি সে আক্রমণকারীকে আঘাত করে অথবা নিহত করে তবে তার ওপর এর দায় বর্তাবে না অর্থাৎ তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। কেননা সে নিজেকে রক্ষা করেছে যা তার ওপর ওয়াজিব। আর আক্রমণকারী হচ্ছে সীমালঙ্ঘনকারী, উপরন্তু এর প্রমাণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখনিঃসৃত বাণী রয়েছেঃ

مَنْ قُتِلَ دُوْنَ نَفْسِه فَهُوَ شَهِيْدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُوْنَ اَهْلِه فَهُوَ شَهِيْد

‘‘যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ আর যে স্বীয় পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ।’’

৩. এ হাদীসের বিধানকে একটি নীতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন ‘আলিমগণ আর তা হলো নিজেকে রক্ষা করা সহজতর পন্থাবলম্বনের মাধ্যমে। (যা হাদীসে বিদ্যমান)
বিদ্বানগণ বলেনঃ উপরোক্ত শর্তারোপ শারী‘আতের সামগ্রিক রীতিসমূহ থেকে গৃহীত। (তায়সীরুল ‘আল্লাম শারহে ‘উমদাতুল আহকাম- ২য় খন্ড, ৩০৮ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১২-[৩] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে লোক তার ধন-সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شهيدٌ»

وعن عبد الله بن عمرو قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من قتل دون ماله فهو شهيد»

ব্যাখ্যাঃ ইমাম নববী বলেনঃ যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো ধন-সম্পদ হরণ করে তার সাথে লড়াই করা বৈধ। এটা জুমহূর ‘উলামার মত। কিন্তু যারা ওয়াজিব বলেছেন তাদের সংখ্যা খুবই কম।

মালিকী মাযহাবের কেউ কেউ বলেছেনঃ অল্প জিনিস নিতে চাইলে তার সাথে লড়াই করা জায়িয নয়।

ইমাম কুরতুবী বলেনঃ এর হুকুম নিয়ে মতভেদের কারণ হলো হত্যার অনুমতি যদি ঘৃণ্য কাজকে পরিবর্তন করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে এক্ষেত্রে অল্প বা বেশি জিনিসের মাঝে কোনো তফাৎ নেই। কিন্তু যদি ক্ষতিসাধনকে প্রতিহত করা উদ্দেশ্য হয় তবে এর অবস্থা বিভিন্ন রকম হয়।

ইবনুল মুনযির শাফি‘ঈ-এর উদ্ধৃতি বর্ণনা করে বলেন- যার ধন-সম্পদ, জান ও সম্মান কেড়ে নেয়া হয় তার স্বাধীনতা রয়েছে। ইচ্ছা করলে সে তাকে আঘাত করতে পারে অথবা ইচ্ছা হলে সাহায্য প্রার্থনা করতে পারে। এতে সে যদি নিবৃত্ত হয় তবে তার সাথে লড়াই করা ঠিক নয়। অন্যথায় তাকে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করবে। তার ওপর কোনো গ্রেফতারী পরওয়ানা, রক্তমূল্য ও কাফফারাহ্ নেই। কিন্তু তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্য তার থাকবে না।

ইবনুল মুনযির আরো বলেনঃ তফসিল ছাড়াই বিদ্বানগণের মত হলো মানুষের দায়িত্ব হলো প্রতিরোধ করা, যখন অন্যায়ভাবে তার জান-মাল, ইজ্জত-আব্রুর ইত্যাদির ক্ষতিসাধন করা হয় ও ইসলাম ধর্মকে সাহায্য করা কিংবা রক্ষা করতে বাধা প্রদান করা হয়। কিন্তু যালিম শাসক এই হুকুম থেকে পৃথক। যেহেতু তার কৃতকর্মের উপর সবর করা অর্থাৎ তার অত্যাচারে ধৈর্যধারণ করা ও তার বিদ্রোহ না করার জন্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ফাতহুল বারী ৫ম খন্ড, হাঃ ২৪৮০)

‘আলক্বামাহ্ বলেনঃ যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষার জন্য আক্রমণকারী মানুষ বা প্রাণীর সাথে যুদ্ধ করে, অতঃপর প্রতিরোধ করতে গিয়ে নিহত হয় তবে সে শহীদ, অর্থাৎ আখিরাতের হুকুমে দুনিয়ার হুকুম নয়। আর আখিরাতে তার জন্য রয়েছে শাহীদের সাওয়াব।

তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীর বা নিকটতম আত্মীয়ের সম্ভ্রমহানী প্রতিরোধ করতে গিয়ে এবং মুরতাদের সাথে দীন রক্ষার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হলো সেও শহীদ বলে গণ্য হবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৮ম খন্ড, হাঃ ৪৭৫৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১৩-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল- হে আল্লাহর রসূল! যদি কোনো লোক এসে আমার ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করতে চায়, তখন আমার কী করণীয়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি তাকে তোমার ধন-সম্পদ থেকে তোমার মাল দিবে না। লোকটি বলল, যদি সে আমার সাথে লড়াই-বিবাদ করতে চায়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তবে তুমিও তা-ই কর। অতঃপর লোকটি বলল, যদি সে আমাকে হত্যা করে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তো তুমি শহীদ। অতঃপর লোকটি বলল, যদি আমি তাকে হত্যা করে ফেলি? তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে সে হবে জাহান্নামী। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ جَاءَ رَجُلٌ يُرِيدُ أَخْذَ مَالِي؟ قَالَ: «فَلَا تُعْطِهِ مَالَكَ» قَالَ: أَرَأَيْتَ إِنْ قَاتَلَنِي؟ قَالَ: «قَاتِلْهُ» قَالَ: أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلَنِي؟ قَالَ: «فَأَنْتَ شَهِيدٌ» . قَالَ: أَرَأَيْتَ إِنْ قَتَلْتُهُ؟ قَالَ: «هُوَ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي هريرة قال: جاء رجل فقال: يا رسول الله ارايت ان جاء رجل يريد اخذ مالي؟ قال: «فلا تعطه مالك» قال: ارايت ان قاتلني؟ قال: «قاتله» قال: ارايت ان قتلني؟ قال: «فانت شهيد» . قال: ارايت ان قتلته؟ قال: «هو في النار» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: شَهِيْدٌ (শহীদ) কাদের বলা হয় বা শহীদ বলার কারণ:

* নযর বিন শুমায়ল বলেনঃ শহীদ অর্থ প্রত্যক্ষধর্মী। আর শহীদ যেহেতু জীবিত থাকে তাই তাকে شَهِيْدٌ বলা হয়। কারণ তাদের রূহ দারুস্ সালাম জান্নাত প্রত্যক্ষ করে। আর অন্যদের রূহ শুধু কিয়ামত দিবসে তা দেখতে পায়।

* ইবনুল আম্বারী বলেনঃ যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা ও ফেরেশতামন্ডলী শাহীদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য প্রদান করেন তাই তাকে শহীদ বলা হয়। তখন شَهِيْدٌ-এর অর্থ হবে مشهود له (যার জন্য সাক্ষ্য দান করা হয়)।

* কেউ কেউ বলেছেনঃ শহীদগণের আত্মা বের হওয়ার সময় তার সাওয়াব ও মর্যাদা দেখতে পায়, তাই তাকে শহীদ বলা হয়।

* কেউ কেউ বলেনঃ রহমাতের মালাক (ফেরেশতা) তাকে অবলোকন করে বা তার আত্মাকে নিয়ে যায়, তাই তার নাম শহীদ।

* আবার কেউ কেউ বলেনঃ যেহেতু তার সর্বশেষে উত্তম কাজের ও ঈমানের সাক্ষ্য প্রদান করা হয়, তাই তাকে শহীদ বলা হয়।

* কোনো একজন মুহাদ্দিস বলেনঃ শাহীদের একজন সাক্ষী থাকে তা তার শাহাদাতের জন্য সাক্ষ্য দান করে। সে সাক্ষী হলো তার রক্ত। কেননা সে যখন পুনরুত্থিত হবে তখন তার ক্ষতস্থান ঝরাতে থাকবে।

* আযহারী ও অন্যরা অপর একটি মত বর্ণনা করেন : তারা বলেন- শহীদগণ কিয়ামতের দিন উম্মাতের জন্য সাক্ষ্য দানকারীদের অন্যতম হওয়ায় তাকে শহীদ বলা হয়। তবে এই কথায় শাহীদের নিজস্ব কোনো স্বকীয়তা প্রমাণ হয় না। (শারহে মুসলিম ২য় খন্ড, হাঃ ২২৫)

শহীদ তিন প্রকার: প্রথমতঃ যুদ্ধের কারণে কাফিরের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত ব্যক্তি। এই শ্রেণীর শহীদ আখিরাতের সাওয়াবে ও দুনিয়ার বিধানে তথা তাকে গোসল না দেয়া ও তার জন্য সালাতুল জানাযা আদায় না করা উভয় ক্ষেত্রে শহীদ হিসেবে গণ্য।

দ্বিতীয়তঃ এই শ্রেণীর শহীদ আখিরাতে শাহাদাতের ফযীলত বা সাওয়াবপ্রাপ্ত হবে। কিন্তু দুনিয়াতে শাহীদের বিধান প্রযোজ্য হবে না। যেমন : পেটের পীড়ায় নিহত ব্যক্তি, মহামারিতে নিহত, দেয়াল চাপা পড়ে নিহত; নিজের সম্পদ হিফাযাত করতে গিয়ে নিহত ব্যক্তি যাদেরকে সহীহ হাদীস শহীদ বলে অভিহিত করেছে। এই শ্রেণীর শহীদকে গোসল দিতে হবে ও জানাযা আদায় করাতে হবে। তবে এই শহীদগণ প্রথম শ্রেণীর শহীদদের সাওয়াব লাভ করবে না।

তৃতীয়তঃ যে ব্যক্তি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে গানীমাতের জন্য কাফিরদের সাথে যুদ্ধে নিহত হয়। এই ধরনের ব্যক্তিকে হাদীসে শহীদ নামে অ্যাখ্যা দিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই শ্রেণীর শাহীদের ও পর দুনিয়াতে শাহাদাতের বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং তাকে গোসল দেয়া হয় না এবং সালাতুল জানাযা আদায় করা হয় না। আর তার জন্য আখিরাতে পূর্ণ সাওয়াব হবে না। আল্লাহ সর্বাধিক জ্ঞাত। (শারহে মুসলিম ২য় খন্ড, হাঃ ২২৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১৪-[৫] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি- কোনো ব্যক্তি যদি অনুমতি ব্যতীত তোমার ঘরে উঁকি মারে যাকে তুমি অনুমতি দাওনি আর তুমি যদি তাকে কোনো কঙ্কর নিক্ষেপ করে তার চক্ষু ফুঁড়ে দাও, এতে তোমার কোনো অপরাধ নেই। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَوِ اطَّلَعَ فِي بَيْتِكَ أحدٌ ولمْ تَأذن لَهُ فخذفته بحصاة ففتأت عَيْنَهُ مَا كَانَ عَلَيْكَ مِنْ جُنَاحٍ»

وعنه انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «لو اطلع في بيتك احد ولم تاذن له فخذفته بحصاة ففتات عينه ما كان عليك من جناح»

ব্যাখ্যা: হাদীসে সাব্যস্ত হলো যে, চক্ষু ফুঁড়লে তার কোনো অপরাধ বা দোষ নেই। অন্য একটি হাদীসে প্রখ্যাত সাহাবী আবূ হুরায়রাহ্ -এর বর্ণনায় রয়েছে,

مِنِ اطَّلَعَ فِي بَيْتِ قَوْمٍ بِغَيْرِ إِذْنِهِمْ فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يَفْقَئُوا عَيْنَه

বাড়ির লোকেদের অনুমতি ছাড়া কারো বাড়িতে উঁকি দিলে এর ফায়সালা হলো তার (উঁকিদাতার) চক্ষুকে ফুড়িয়ে ফেলবে। কিন্তু যারা মনে করেন- جُنَاحٍ-এর অর্থ إثم তথা গুনাহ অর্থাৎ চক্ষু ফুঁড়লে গুনাহ হবে না তবে এর দিয়াত প্রদান করতে হবে। যেহেতু গুনাহ মাফের দ্বারা দিয়াত রহিত হয় না। কেননা দিয়াতের আবশ্যকতা হাদীসের দৃষ্টিভঙ্গির দাবী। তাদের এই মতের জবাব উপরোক্ত হাদীসে বিদ্যমান।
কারণ সমাধানের প্রমাণ কিসাস ও দিয়াত সাব্যস্ত হওয়াকে বাধা দেয়। আরো একটি আবূ হুরায়রাহ্ -এর হাদীসে রয়েছে যা সর্বাধিক স্পষ্ট ও যাকে ইবনু হিব্বান ও বায়হাক্বী সহীহ বলেছেন। প্রত্যেকে বাশীর বিন নাহীক-এর রিওয়ায়াত উল্লেখ করেন। যথা : কোনো ব্যক্তি লোকজনের বাড়িতে তাদের অনুমতি ছাড়াই উঁকি দিলে তারা তার চক্ষুকে বিদ্ধ করে দেয় তাহলে কোনো কিসাস নেই, রক্তমূল্যও নেই।

(الِاسْتِئْذَانُ) ‘অনুমতি প্রার্থনা’ শুধু গায়ের মাহরামের জন্য খাস নয় বরং তা যে দেখা দিবে তাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন যদিও মাতা ও বোন হয়।

সহীহ মুসলিম-এর ভাষ্যকার বলেনঃ অনুমতি প্রার্থনা শারী‘আতের নির্দেশ। যাতে দৃষ্টি নিষিদ্ধ বস্তুর উপরে আপতিত না হয় সেই জন্য শারী‘আত অনুমতি প্রার্থনার প্রবর্তন করেছে। (শারহে মুসলিম ১৪ খন্ড, হাঃ ২১৫৮)

এ হাদীস দ্বারা গোয়েন্দার প্রতি তীর নিক্ষেপের প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। যদি সে হালকা বস্তু দ্বারা সরে না পড়ে তবে এর জন্য ভারি বস্তু ব্যবহার করা জায়িয। এতে সে যদি নিহত হয় বা কোনো অঙ্গের ক্ষতি হয় তবে এর দিয়াত বা কিসাস বাতিল।

সহীহ মুসলিম-এর ভাষ্যকার বলেনঃ এ হাদীসে উঁকিদাতার চোখে হালকা বস্তুর নিক্ষেপণের বৈধতা রয়েছে। তাই যখন মাহরাম মহিলাহীন গৃহে কেউ তাকালে তার প্রতি হালকা বস্তু নিক্ষেপ করায় চক্ষু বিদ্ধ হলে এতে কোনো দিয়াত বা রক্তপণ নেই। (শারহে মুসলিম ১৪ খন্ড, হাঃ ২১৫৭)

মালিকী মাযহাবের অনুসারীগণ ক্বিসাসের বিধান প্রযোজ্য বলে মত ব্যক্ত করেছেন। তারা আরো বলেন যে, চক্ষু অথবা অন্য কোনো অঙ্গ ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা পোষণ করা ঠিক নয়। তারা এর কারণ হিসেবে বলেন যে, অপরাধকে অপরাধ দ্বারা বা পাপকে পাপ দ্বারা জবাব দেয়া ঠিক নয়।

জুমহূর ‘উলামার জবাবে বলেনঃ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুমতি নিশ্চিত হলে সেটা তখন পাপ থাকে না। তবে কাজটা উপরোক্ত কারণ থেকে মুক্ত হলে সেটাকে পাপ বলে গণ্য করা হয়, অথচ তারা আক্রমণকারীকে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করা জায়িয মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

মালিকী মতাবলম্বী হাদীসটির উত্তর প্রদানে বলেন- হাদীস দ্বারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়ার ও ভীতি প্রদর্শন করার ব্যাপারটি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবূ হানীফাও এই মতটির উপর সমর্থন যুগিয়েছেন।
(মিরকাতুল মাফাতীহ)

কিন্তু মালিকী মাযহাব মতাবলম্বী কারণ বর্ণনা করে বলেন, এই মর্মে ইজমা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে কারো লজ্জাস্থানের প্রতি নজর দেয় তাহলে তার চোখকে ফুঁড়ে দেয়া বৈধ নয়। আর যে ব্যক্তি চক্ষুকে ফুঁড়ে উপড়িয়ে ফেলবে তাকে এর দায় গ্রহণ করতে হবে। ইমাম কুরতুবী উক্ত ইজমা প্রমাণিত হবার ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেনঃ নিশ্চয় হাদীসটি সব উকি দিয়ে দর্শনকারীকে শামিল করে। যখন ধারণাবশত উঁকিদাতা এর অন্তর্ভুক্ত তখন অনুসন্ধানী উঁকিদাতা আরো অধিক অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম ইবনু হাজার ‘আস্ক্বালানী বলেনঃ এটা বিতর্কিত বিষয়। কেননা বাড়ির অভ্যন্তরে তাকানো কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করাকে সীমাবদ্ধ করে না। উদাহরণস্বরূপ কারো লজ্জাস্থান বরং তা অন্দরমহলকে উন্মোচন করার শামিল। যাকে বাড়ির মালিক গোপনে রাখতে চায় এবং যার প্রতি কারো নজর দেয়া ঠিক নয়। আর এ কারণে শারী‘আতে গোয়েন্দাগীরিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এ পথকে বন্ধ করার জন্য এর শাস্তির বিধান রয়েছে। আর দাবীকৃত ইজমা যদি ঠিক হতো তবে এই খাস বিধানের অবতারণা শারী‘আতের মধ্যে থাকত না।

সর্বজনবিদিত ব্যাপার হলো : কোনো বিবেকবান লোকের নিকটে অন্য ব্যক্তি কর্তৃক তার স্ত্রীর বা মেয়ের মুখমণ্ডলের প্রতি নজর দেয়া খুব কঠিন। অনুরূপভাবে স্বীয় স্ত্রীর সাথে অপরিচিত ব্যক্তি কর্তৃক নির্জন বাসকে অবলোকন করা বিশেষ অঙ্গকে খোলা রাখা অবস্থার চেয়ে আরো বড় কঠিন ব্যাপার।

ইমাম কুরতুবী, যার প্রতি নজর দেয়া হয় এমন ব্যক্তির জন্য উঁকিদাতাকে প্রতিহত করা বাধ্যতামূলক করেছেন। ইমাম শাফি‘ঈ-এর দৃষ্টিকোণ থেকে এই সূরাতে এটা শারী‘আতসম্মত নয়। পাথর ছোঁড়ার পূর্বে ভীতিপ্রদর্শন শর্ত কিনা- এই ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে। কেউ বলেছেন, ভীতিপ্রদর্শন শর্ত যেমন আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা। তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত হলো ভীতিপ্রদর্শন শর্ত নয়।

সহীহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যাকারও এই মতের প্রতি ধাবিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ভীতিপ্রদর্শনের পরে ছুঁড়ে মারা বৈধ ও অধিক শুদ্ধ।
আড়িপাতা এর অন্তর্ভুক্ত কিনা- এই ব্যাপারে দু’টি মত। অধিক শুদ্ধ মত হলো আড়িপাতা এর শামিল নয়। কেননা গোপন কথা আড়ি পেতে শুনার চেয়ে লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো বেশি মারাত্মক।

কিন্তু যার বাড়িতে স্বামী বা স্ত্রী মাহরাম ব্যক্তি অথবা ধন-সম্পদ আছে সে তা পর্যবেক্ষণ করার ইচ্ছা পোষণ করলে তার প্রতি কিছু ছুঁড়ে মারা নিষেধ। কারণ সেটা অস্পষ্ট বিষয়। কেউ বলেন কোনো তফাৎ নেই। কেউ বলেনঃ যদি গৃহে গোপন কোনো কিছু না থাকে আর তথায় অন্য কেউ অবস্থান করে তবে ভীতিপ্রদর্শন করবে। কারণ এতে সে বিরত হবে। অন্যথায় আঘাত করা জায়িয। আর যদি গৃহে শুধু একজন মালিক বা বাসিন্দা থাকে তবে ভীতিপ্রদর্শনের পূর্বে কিছু ছুঁড়ে মারা বৈধ নয়। কিন্তু হ্যাঁ, যদি সে গোপনাঙ্গ খোলা অবস্থায় থাকে তাহলে জায়িয।

কেউ বলেনঃ সর্বাবস্থায় গৃহের অভ্যন্তরে উঁকি দেয়া ব্যক্তিকে কিছু নিক্ষেপ করা বৈধ। (ফাতহুল বারী ১২ খন্ড, হাঃ ৬৯০২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১৫-[৬] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরজার ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (হাতে) একটি শলাকা ছিল, যা দিয়ে তিনি মাথা চুলকাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি যদি নিশ্চিতভাবে জানতাম যে, তুমি (সংগোপনে) আমার দিকে তাকাচ্ছ, তাহলে আমি এর দ্বারা (শলাকা দিয়ে) তোমার চোখ ফুঁড়ে দিতাম। কেননা অনুমতি নেয়ার বিধান এ চোখের কারণেই দেয়া হয়েছে (যাতে কেউ কিছু দেখতে না পায়)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَن سهل بنِ سعد: أَنَّ رَجُلًا اطَّلَعَ فِي جُحْرٍ فِي بَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِدْرًى يَحُكُّ بِهِ رَأْسَهُ فَقَالَ: «لَوْ أَعْلَمُ أَنَّكَ تنظُرُني لطَعَنْتُ بهِ فِي عَيْنَيْكَ إِنَّمَا جُعِلَ الِاسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ»

وعن سهل بن سعد: ان رجلا اطلع في جحر في باب رسول الله صلى الله عليه وسلم ومع رسول الله صلى الله عليه وسلم مدرى يحك به راسه فقال: «لو اعلم انك تنظرني لطعنت به في عينيك انما جعل الاستىذان من اجل البصر»

ব্যাখ্যা: مِدْرًى মীম বর্ণে যের ও দাল বর্ণে জযম যোগে। এটা একটা লৌহ খন্ড। যার দ্বারা চুল আঁচড়ানো হয়। কেউ বলেন এটি مِشْطٌ তথা চিরুনীর ন্যায়। কেউ বলেন এটি লোহার কতগুলো কাঠির সমষ্টি যা দেখতে চিরুনীর মতো। আবার কেউ বলেনঃ এটি একটি খড়ি বিশেষ যা দ্বারা মহিলাগণ চুলকে পরিপাটি করে থাকেন। এর বহুবচন مَدَارٰى যারা বলেন এটার অর্থ চিরুনী তাদের জন্য এটা দলীল। (শারহে মুসলিম ১৪ খন্ড, হাঃ ২১৫৬)

তুহফাতুল আহওয়াযীতে বলা হয়েছে, مِدْرٰى হচ্ছে খিলালের ন্যায় লোহা অথবা কাঠের খন্ড। আবার কেউ বলেনঃ এটা কাঠের তৈরি যা চিরুনীর দাঁতের ন্যায় ও যাতে একটি ডাটি বা বাহু রয়েছে। এটা সাধারণত মানুষ অধিকাংশ সময় শরীরের যেখানে তার হাত পৌঁছতে পারে না সেখানে এর দ্বারা চুলকায়। আর যার নিকটে চিরুনী না থাকে সে এর দ্বারা জমাট চুলকে পরিপাটি করে।

খত্বীব তাঁর كفاية গ্রন্থে উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাতে রয়েছে مِدْرٰى ও مِشْطٌ এক জিনিস নয়। কারণ তাতে مِدْرٰى ও مِشْطٌ-কে আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন-

قَالَتْ خَمْسٌ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ ﷺ يَدَعُهُنَّ فِي سَفَرٍ وَلَا حَضَرٍ الْمَرْأَةُ وَالْمُكْحُلَةُ وَالْمُشْطُ وَالْمِدْرٰى وَالسِّوَاكُ

অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে হোক কিংবা বড়িতে কখনো মহিলা, শুরমাদানী, চিরুনী, শলাকা কাঠি ও মিসওয়াক ছাড়া থাকতেন না। তবে হাদীসের সানাদে আবূ উসায়ইমাহ্ বিন ইয়া‘লা য‘ঈফ রাবী রয়েছেন।
(তুহফাতুল আহওয়াযী ৭ম খন্ড, হাঃ ২৭০৯)

হাদীসটি চিরুনী ব্যবহার ও চুল আঁচড়ানোর দলীল। ‘আলিমগণ বলেছেনঃ মহিলাদের জন্য চিরুনী করা মুস্তাহাব। তবে পুরুষদের জন্য শর্ত হলো যে, তারা প্রতিদিন অথবা প্রতি দুই দিনে অথবা এরূপ ঘন ঘন চিরুনী করবে না। বরং পূর্বের সিঁথি যখন মুছে যাবে বা মিটে যাবে তখন চিরুনী করবে। (শারহে মুসলিম ১৪ খন্ড, হাঃ ২১৫৬)

ইমাম নববী বলেনঃ الاستأذان অনুমতি প্রার্থনা শারী‘আত কর্তৃক নির্দেশিত হুকুম। এটা প্রবর্তন করার কারণ হলো যাতে দৃষ্টি কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর উপর আপতিত না হয়। তাই কারো জন্য কোনো দরজার আস্থানায় ও সুরঙ্গ ফাঁকে বা ছিদ্রে তা দেয়া বৈধ নয়। যাতে সে অপরিচিত মহিলার ওপর দৃষ্টি আপতিত হওয়ার সম্মুখীন হয়।

হাফিয বলেনঃ প্রত্যেকের জন্য শারী‘আতে অনুমতি প্রার্থনার বিধান রয়েছে এমনকি মাহরাম ব্যক্তির ক্ষেত্রেও। যাতে গোপন বিষয় প্রকাশিত না হয়ে যায়। ইমাম বুখারী তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আদাবুল মুফরাদ’-এ উল্লেখ করেছেন : ইবনু ‘উমার তার কোনো বালেগ সন্তানের নিকট বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করতেন না।

* ‘আলকামাহ্ এর বর্ণনায় রয়েছে : এক ব্যক্তি ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলেনঃ আমি আমার মায়ের নিকটে প্রবেশের সময় অনুমতি প্রার্থনা করব? তিনি বললেন, তুমি তোমার মায়ের সর্বাবস্থা অবলোকন করতে পারবে না। অর্থাৎ উচিত নয়।

* মূসা বিন ত্বলহাহ্-এর বর্ণনায় রয়েছে : তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে মায়ের নিকটে প্রবেশ করতে চাইলাম। পিতা প্রবেশ করলে আমি আববার অনুসরণ করলাম। তখন আমার পিতা আমার বুকে ধাক্কা দিয়ে বললেন- তুমি অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করতে চাও!

* ‘আত্বা-এর রিওয়ায়াতে আছে- তিনি বলেনঃ আমি ইবনু ‘আব্বাস -কে জিজ্ঞেস করলাম, আমার বোনের নিকটেও অনুমতি চাইবো? তিনি বলেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, আমি বললাম সে আমার বাড়িতে থাকে। ইবনু ‘আব্বাস বলেনঃ তুমি কি তাকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে চাও? এসব আসারের সানাদ সহীহ। (তুহফাতুল আহওয়াহী ৭ম খন্ড, হাঃ ২৭০৯)

সহীহ মুসলিম-এর ভাষ্যকার বলেনঃ প্রথমে অনিচ্ছায় কারো নজর যদি কোনো অপরিচিত মানুষের ওপর পড়ে যায় তবে এতে কোনো গুনাহ হবে না। এখানে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়া তার জন্য ওয়াজিব। যদি সে দৃষ্টিকে অবনমিত করে তাহলে এতে কোনো পাপ নেই। আর যদি সে দৃষ্টি অব্যাহত রাখে তবে সে পাপী হবে। কেননা এক্ষেত্রে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজরকে ফিরিয়ে নিতে আদেশ দিয়েছেন। আর কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِم

‘‘মু’মিনদের বল তাদের দৃষ্টি অবনমিত করতে আর তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করতে।’’ (সূরা আন্ নূর ২৪ : ৩০)

কাযী বলেনঃ ‘আলিমগণ বলেছেন অনাকাঙ্খিতভাবে নজর পড়ার হাদীসে রাস্তাতে মহিলাদের মুখমণ্ডল না ঢেকে রাখার দলীল রয়েছে। আসলে ঢেকে রাখা মুস্তাহাব সুন্নাত। শারী‘আত সঠিক কারণ ব্যতীত পুরুষদের দৃষ্টি অবনমিত রাখা ওয়াজিব। আর শারী‘আত সঠিক কারণগুলো হলো:

১. সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে। ২. চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে। ৩. বিবাহ করার উদ্দেশে কাউকে দেখার ক্ষেত্রে। ৪. দাসী কেনার সময়। ৫. বেচা-কেনার লেনদেনের সময়।

আরো এরূপ শারী‘আত কারণে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৈধ নয়। (শারহে মুসলিম ১৪ খন্ড, হাঃ ২১৫৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১৬-[৭] ’আব্দুল্লাহ ইবনু মুগফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তিকে কঙ্কর ছুঁড়তে দেখে তিনি বললেন, এভাবে কঙ্কর ছুঁড়ো না। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে কঙ্কর ছুঁড়তে নিষেধ করে বলেছেন, এভাবে কোনো শিকারকে মারা যায় না এবং কোনো শত্রুকেও আক্রমণ করা যায় না; বরং এটা কখনো দাঁত ভেঙ্গে দেয়া যায় এবং চোখ ফুঁড়ে দেয়া যায়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا يَخْذِفُ فَقَالَ: لَا تَخْذِفْ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الْخَذْفِ وَقَالَ: «إِنَّهُ لَا يُصَادُ بِهِ صَيْدٌ وَلَا يُنْكَأُ بِهِ عَدُوٌّ وَلَكِنَّهَا قَدْ تَكْسِرُ السِّنَّ وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ»

وعن عبد الله بن مغفل انه راى رجلا يخذف فقال: لا تخذف فان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الخذف وقال: «انه لا يصاد به صيد ولا ينكا به عدو ولكنها قد تكسر السن وتفقا العين»

ব্যাখ্যা: خذف অর্থ কংকর ছুঁড়ে মারা অথবা খেজুরের আটি ছোঁড়া। কংকর ছুঁড়ে মারা হতে পারে দুই শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা অথবা বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনির মাধ্যমে। অথবা মধ্যম অঙ্গুলির উপরে ও বৃদ্ধাঙ্গুলির পেটের উপরে রেখে ছুঁড়ে মারা।

কেউ কেউ বলেন, পাথরকে ডান হাতের তর্জনি ও বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাঝে রেখে ডান হাতের তর্জনি দ্বারা ছোড়াকে ‘আরবীতে الخذف বলা হয়।

* মুহাল্লাব বলেনঃ শারী‘আতে পাথর নিক্ষেপ করার মাধ্যমে শিকার করার কোনো নির্দেশ নেই। কেননা এটা শিকারের যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়। বন্দুক দ্বারা শিকার করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহর বাণী: تَنَالُه” أَيْدِيكُمْ وَرِمَاحُكُمْ (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৪) এর মধ্যে বন্দুক পড়ে না। আর ‘আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেন যে, কংকর ছুঁড়ে ও বন্দুক দিয়ে মারা শিকার খাওয়া হালাল নয়। এক্ষেত্রে আসলে শিকারকে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ধারের দ্বারা হত্যা করা হয় না।

হাদীসে বন্দুক দ্বারা শিকার করা নিষেধ রয়েছে। যখন শারী‘আতে এটা নিষিদ্ধ বিষয় তখন কোনো কিছু ছোড়ার মাধ্যমে শিকার করার সুযোগ নেই। উপরন্তু এতে মালিকহীন প্রাণীর ধ্বংস হওয়ার প্রশস্ততা রয়েছে। যা শারী‘আতে নিষিদ্ধ। তবে বন্দুক দ্বারা শিকার করা প্রাণী যাবাহ করা হলে তখন তা হালাল হবে।
ইমাম নববী বন্দুক দ্বারা শিকার করা প্রাণী খাওয়া হালাল মর্মে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, এটা একটি শিকারের উপায় ও পদ্ধতি।

বিস্তারিত তদন্ত হলো- হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে ছুঁড়ে মারার অধিকাংশ ক্ষেত্রই হচ্ছে নিষিদ্ধ। তবে যদি হাদীসে বর্ণিত ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো অবস্থা পরিলক্ষিত হলে তা জায়িয। বিশেষভাবে যদি উদ্দিষ্ট শিকারের প্রতি বন্দুক অথবা অনুরূপ যন্ত্র ছাড়া নিক্ষেপ করা না যায় এবং বেশির ভাগ সময় তাকে হত্যা না করে তখন জায়িয।

এ ব্যাপারে হাদীসের ব্যাখ্যায় একটি চমৎকার মত বিবৃত হয়েছে যে, গ্রামে ও শহরে বন্দুক দ্বারা শিকার করা ঠিক নয়। তবে নির্জন প্রান্তরে মাকরূহ নয়। এতে কোনো মানুষের ক্ষতি হওয়াকে নিষেধের কেন্দ্র হিসেবে ধরেছেন।

সহীহুল বুখারীর বর্ণিত এ হাদীসে সুন্নাহ বিরোধীকে ত্যাগ করা ও তার সাথে কথা বলা বর্জন করার বৈধতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে ব্যক্তিগত কারণে যে তিন দিনের বেশি কথা বলা থেকে বিরত থাকা যাবে না মর্মে যে বিধান বর্ণিত হয়েছে তা এই হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়। (ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৪৭৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১৭-[৮] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তীর সঙ্গে নিয়ে আমাদের মসজিদে এবং বাজারে আসে, তাহলে সে যেন অবশ্যই তীরের ফলক ধরে রাখে। কেননা, এর দ্বারা কোনো মুসলিমের কোনো ক্ষতিসাধন না হয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَرَّ أَحَدُكُمْ فِي مَسْجِدِنَا وَفِي سُوقِنَا وَمَعَهُ نَبْلٌ فَلْيُمْسِكْ عَلَى نِصَالِهَا أَنْ يُصِيبَ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ مِنْهَا بِشَيْءٍ»

وعن ابي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا مر احدكم في مسجدنا وفي سوقنا ومعه نبل فليمسك على نصالها ان يصيب احدا من المسلمين منها بشيء»

ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত বিধান ইসলামের সকল দায়িত্বার্পিত ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। শুধু সাহাবীদের জন্য খাস নয়। আর মসজিদ বলতে শুধু মদীনার মসজিদ নয়। বরং মুসলিমদের সকল মসজিদ উদ্দেশ্য। আর সে কারণ হাদীসের শেষাংশে (أَنْ يُصِيْبَ أَحَدًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ) অর্থাৎ যাতে কোনো কিছুর দ্বারা কোনো মুসলিমের ক্ষতি না হয়। বলা হয়েছে, আলোচিত হাদীসে মুসলিমকে হত্যা করা হারাম এবং হত্যার কঠিন পরিণতির কথা বিবৃত হয়েছে। এমনকি যে কোনো কষ্টদায়ক উপকরণাদির চর্চা করা হারাম মর্মে নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। আর এতে অস্ত্রশস্ত্রকে কোষবদ্ধ করা ও বেঁধে শামলিয়ে রাখার দলীল রয়েছে। যেমন বর্শা বা তরবারির ফলা বা ধারকে কিছু দ্বারা আটকিয়ে রাখা।
(ফাতহুল বারী ১৩ খন্ড, হাঃ ৭০৭৫; ‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৫৮৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১৮-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কেউ যেন তার ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র দ্বারা ইঙ্গিত না করে। কেননা, সে হয়তো জানে না শায়ত্বন তার এই হাতিয়ার দ্বারা তার ওপর আঘাত করিয়ে ক্ষতিসাধন করতে পারে, ফলে সে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষিপ্ত হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُشِيرُ أَحَدُكُمْ عَلَى أَخِيهِ بِالسِّلَاحِ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزِعُ فِي يَدِهِ فَيَقَعُ فِي حُفْرَة من النَّار»

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يشير احدكم على اخيه بالسلاح فانه لا يدري لعل الشيطان ينزع في يده فيقع في حفرة من النار»

ব্যাখ্যা: يَنْزِعُ শব্দের غين যোগে এর অর্থ প্রসঙ্গে খলীল বলেনঃ نزغ الشيطان بين القوم نزعا এর অর্থ হলো حمل بعضهم على بعض بالفساد অর্থাৎ ফাসাদ সৃষ্টির জন্য কাউকে অন্য কারো বিরুদ্ধে প্ররোচনা করা। যেমন বলা হয়েছে, مِنْ بَعْدِ أَنْ نَزَغَ الشَّيْطَان بيني وَبَين أخوتي ‘‘শায়ত্বন আমার ও আমার ভাইয়ের মাঝে প্ররোচনা দেয়ার পর’’।

আর نزع শব্দের عين যোগে এর অর্থ القلع অর্থাৎ খুলে ফেলা বা সরিয়ে দেয়া। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্প্রদায়ের মাঝে উষ্কানি দেয়া। যার কারণে তাদের একজন অন্য একজনের ওপর অস্ত্র উত্তোলন করে। অতঃপর শায়ত্বন তার প্রহারকে বাস্তবায়ন করে।

ইবনুত্ তীন বলেনঃ يَنْزِعُ এর অর্থ হলো «يَقْلَعُه مِنْ يَدِه فَيُصِيبُ بِهِ الْاٰخَرَ» অর্থাৎ শায়ত্বন তার হাত থেকে অস্ত্রকে খুলে সরিয়ে দেয় ফলে তার দ্বারা অন্যজন আক্রান্ত হয় অথবা শায়ত্বন তার হাতকে এই সময় শক্ত করে দেয় যাতে তা লক্ষভ্রষ্ট না হয়।

ইমাম নববী বলেনঃ عين যোগে এর অর্থ হলো শায়ত্বন উক্ত ব্যক্তির হাতের মধ্যে থেকে নিক্ষেপ করে এবং প্রহার বা আঘাতকে নিশ্চিত করে।

আর غين যোগে এর অর্থ হলো الاغراء। তথা উস্কানি দেয়া বা প্ররোচিত করা। অর্থাৎ আঘাতকে ব্যক্তির কাছে সুশোভিত করে তোলা।

(فَيَقَعُ فِىْ حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ) এই বাক্য দ্বারা কোনো ব্যক্তির পাপাচারে নিপতিত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে যা তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করায়।

ইবনু বাত্ত্বল বলেনঃ এর অর্থ তার ওপর শাস্তি কার্যকর হয়। ঐকান্তিক ইচ্ছায় হোক বা রসিকতা করে হোক যাতে ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। এরূপ হাদীসে নিষেধ রয়েছে। (ফাতহুল বারী ১৩শ খন্ড, হাঃ ৭০৭২; শারহে মুসলিম ১৬শ খন্ড, হাঃ ২৬১৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫১৯-[১০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি লৌহবর্ম দ্বারা ইশারা করল, অতঃপর তা হাত হতে ফেলে না দেয়া পর্যন্ত মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) তাকে অভিশাপ দিতে থাকে। যদিও লোকটি তার আপন ভাই হয়। (বুখারী)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَشَارَ إِلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ تَلْعَنُهُ حَتَّى يَضَعَهَا وَإِنْ كَانَ أخاهُ لأبيهِ وَأمه» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اشار الى اخيه بحديدة فان الملاىكة تلعنه حتى يضعها وان كان اخاه لابيه وامه» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: হাদীসে মুসলিমের সম্মান মর্যাদার তাগিদ রয়েছে। আর তাকে ভীতিপ্রদর্শন করা বা ভয় দেখানো অথবা তাকে কষ্ট দেয় এমন কিছু উত্তোলন প্রসঙ্গে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সহোদর ভাইয়ের কথা উল্লেখ করার দ্বারা প্রত্যেকের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞাকে স্পষ্ট করার ব্যাপারে জোরদার করা হয়েছে। চাই তা রসিকতা করে হোক বা তামাশা করে হোক বা না হোক। কেননা মুসলিমকে ভয় দেখানো সর্বাবস্থায় হারাম।
ইমাম ত্বীবী বলেনঃ ভাইকে উল্লেখ করার দ্বারা কৌতুক ও অনিচ্ছায় ইঙ্গিতকে পূর্ণতা দান করা হয়েছে। প্রথমত ভাইকে উল্লেখ করে পরে আপন ভাইয়ের কথায় সীমাবদ্ধ করেছেন। এ বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য যে, কেবল ঠাট্টা-তামাশা অনৈতিক ইচ্ছার দিকে প্ররোচিত করে। তাহলে বুঝা গেলো আপন ভাইয়ের ব্যাপারে যখন এই বিধান তখন অন্য মানুষের ক্ষেত্রে সম্মানিত পাঠকদের সিদ্ধান্ত কি হতে পারে?

কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র উত্তোলন করলে ফেরেশতা অভিসম্পাত করতে থাকেন। [তুহফাতুল আহওয়াযী গ্রন্থকার বর্ণনা করে বলেন, মালায়িকার (ফেরেশতাদের) লা‘নাত করার অর্থ হলো, তাকে রহমাত থেকে বিতাড়িত করার ও দূরে সরানোর বদ্দু‘আ করা।]
অস্ত্র খোলা রাখার ক্ষেত্রে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জোর নিষেধ রয়েছে। যেমন এক বর্ণনায় রয়েছে : نَهٰى رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ أَنْ يُتَعَاطَى السَّيْفُ مَسْلُولًا অর্থাৎ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাপ খোলা তরবারি নিয়ে চর্চা করতে নিষেধ করেছেন। এমনকি তরবারি ডেলিভারি করার সময় কোষবদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

ইবনুল ‘আরাবী বলেনঃ যখন অস্ত্র দ্বারা ইঙ্গিত করলেই অভিসম্পাতের উপযুক্ত হয়। তাহলে তা দ্বারা আঘাত করলে কি হতে পারে? আসলে ঐকান্তিকভাবে হোক বা তামাশা করে হোক ধমক দেয়ার জন্য অস্ত্র দ্বারা ইশারা করলে লা‘নাতপ্রাপ্ত হবে। (ফাতহুল বারী ১৩ খন্ড, হাঃ ৭০৭২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২০-[১১] ইবনু ’উমার ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (বুখারী)[1]

আর ইমাম মুসলিম (রহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, আর যে ব্যক্তি (পণ্য বিক্রয়ে) আমাদের সাথে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ وزادَ مُسلم: «ومنْ غشَّنا فليسَ منَّا»

وعن ابن عمر وابي هريرة رضي الله عنهم عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من حمل علينا السلاح فليس منا» . رواه البخاري وزاد مسلم: «ومن غشنا فليس منا»

ব্যাখ্যা: হাদীসের মর্মার্থ হলো অন্যায়ভাবে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধের জন্য অস্ত্র ধারণ করা তাদেরকে ভয় দেখানোর জন্য অথবা তাদের মাঝে আতংক সৃষ্টি করার জন্য। الحمل শব্দ দ্বারা যুদ্ধের প্রতি পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইবনু দাকীকুল ‘ঈদ বলেছেনঃ হাদীসে উল্লেখিত حمل শব্দ উল্লেখের দ্বারা কয়েকটি অর্থের সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন (১) الحمل [উত্তোলন করা] এটি الوضع [নামিয়ে রাখা] এর বিপরীত। এটা যুদ্ধের ইঙ্গিতবাহক।

(২) যুদ্ধ করার জন্য ইচ্ছা পোষণ করা। যা (عَلَيْنَا) শব্দ উল্লেখ করার মাধ্যমে বুঝা যায়।

(৩) প্রহার করার জন্য তরবারি ধারণ করা। মোটকথা, প্রত্যেক ক্ষেত্রে মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করা হারাম ও কঠোরতার ইঙ্গিত এই হাদীসে বিদ্যমান।

সুনানে নাসায়ীতে বর্ণিত আছেঃ যে ব্যক্তি তরবারি উত্তোলন করলো এবং তা দ্বারা মানুষকে আঘাত করলো, অতঃপর তাকে হত্যা করলে কোনো দিয়াত নেই এবং কোনো কিসাস নেই।

(فَلَيْسَ مِنَّا) এর অর্থ ليس على طريقتنا অথবা ليس متبعًا لطريقتنا অর্থাৎ সে আমাদের রীতির বহির্ভূত। অথবা সে আমাদের পথ-পদ্ধতির অনুসারী নয়। কেননা এক মুসলিমের ওপর অপর মুসলিমের হক হলো তাকে সাহায্য করা অথবা তার পক্ষে যুদ্ধ করা। সে তাকে ভয় দেখানোর জন্য অথবা তাকে হত্যা করার জন্য অথবা তার সাথে যুদ্ধ করার জন্য অস্ত্র ধারণ করতে পারে না।

উপরোক্ত শাস্তি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যে, অত্যাচারীকে হত্যা করে অথবা তার সাথে যুদ্ধ করার জন্য হামলা করে। বরং তা অন্যায়কারী বা অন্যায়ভাবে যুদ্ধ করার সূচনাকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (ফাতহুল বারী ১৩ খন্ড, হাঃ ৭০৭০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২১-[১২] সালামাহ্ ইবনুল আক্ওয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ওপর যে তরবারি উঠাল, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَلَّ علينا السَّيفَ فليسَ منَّا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن سلمة بن الاكوع قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سل علينا السيف فليس منا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীস সম্পর্কে আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মাযহাবের মূলনীতি হলো এই যে, যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিপক্ষে তা‘বিল ছাড়া হালাল মনে না করে অন্যায়ভাবে অস্ত্র উত্তোলন করে বা ধারণ করে সে পাপী তবে কাফির নয়। কিন্তু যদি সে হালাল মনে করে তাহলে সে কাফির।

হাদীসের ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেনঃ উপরোক্ত হাদীসটি যে ব্যক্তি ব্যাখ্যা ছাড়াই অস্ত্রধারণকে হালাল মনে করে সে কাফির এবং সে মুসলিম মিল্লাত থেকে বহির্ভূত মর্মার্থের ইঙ্গিত বাহক।

আবার কেউ বলেন, এই হাদীসের অর্থ হলো যে ব্যক্তি পুরোপুরিভাবে মুসলিম মিল্লাতের নীতি-আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুফ্ইয়ান বিন উয়াইনাহ্ এই ব্যাখ্যাকে অপছন্দ করেছেন। তিনি বলেন, এটা মন্দ ব্যাখ্যা। এসব ব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। যাতে অস্ত্রধারণকারীর অন্তরের মধ্যে বিষয়টি সর্বাধিক কার্যকর হয় এবং ধমকের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পন্থা হয়। (শারহে মুসলিম ২য় খন্ড, হাঃ ১৬১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২২-[১৩] হিশাম ইবনু ’উরওয়াহ্ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। একদিন হিশাম ইবনু হাকীম শাম (সিরিয়া) দেশে অনারব গ্রামের কিছু লোকেদের নিকট দিয়ে যাবার সময় দেখলেন যে, তাদেরকে রোদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে মাথার উপর যায়তূনের তেল ঢালা হচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাদেরকে কি কারণে এরূপ শাস্তি দেয়া হচ্ছে? বলা হলো, রাষ্ট্রীয় কর দিতে অস্বীকৃতির কারণে তাদেরকে এরূপ শাস্তি দেয়া হচ্ছে। হিশাম বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে শুনেছি যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যারা দুনিয়াতে মানুষকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তা’আলা ঐ সমস্ত লোকেদেরকে (আখিরাতে) শাস্তি দিবেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ هشامَ بنَ حكيمٍ مَرَّ بِالشَّامِ عَلَى أُنَاسٍ مِنَ الْأَنْبَاطِ وَقَدْ أُقِيموا فِي الشَّمسِ وصُبَّ على رُؤوسِهِمُ الزَّيْتُ فَقَالَ: مَا هَذَا؟ قِيلَ: يُعَذَّبُونَ فِي الخَراجِ فَقَالَ هِشَامٌ: أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ يُعَذِّبُ الَّذِينَ يُعذبونَ النَّاسَ فِي الدُّنْيَا» . رَوَاهُ مُسلم

وعن هشام بن عروة عن ابيه ان هشام بن حكيم مر بالشام على اناس من الانباط وقد اقيموا في الشمس وصب على رووسهم الزيت فقال: ما هذا؟ قيل: يعذبون في الخراج فقال هشام: اشهد لسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان الله يعذب الذين يعذبون الناس في الدنيا» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের বিধান অন্যায়ভাবে শাস্তি প্রদান করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং ন্যায়সঙ্গতভাবে শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে নয়। যেমন কিসাস নেয়ার ক্ষেত্রে দণ্ড প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে শিক্ষা দেয়া প্রভৃতির ক্ষেত্রে।

ইমাম নববী বলেনঃ (اُنَاسٍ مِنَ الْأَنْبَاطِ) বলতে অনারব কৃষকদেরকে বুঝানো হয়েছে। (শারহে মুসলিম ১৬ খন্ড, হাঃ ২৬১৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২৩-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তুমি যদি দীর্ঘজীবি হও, তাহলে অতি শীঘ্রই ঐ সমস্ত লোকেদেরকে দেখতে পাবে যাদের হাতে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে। তাদের সকাল হবে আল্লাহ তা’আলার ক্রোধের মধ্যে আর বিকাল হবে আল্লাহ তা’আলার কঠিন অসন্তুষ্টির মধ্যে। আর অন্য বর্ণনায় আছে, তাদের বিকাল হবে আল্লাহ তা’আলার অভিশপ্তের মধ্যে। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ إِنْ طَالَتْ بك مُدَّة أَن ترى أَقْوَامًا فِي أَيْدِيهِمْ مِثْلُ أَذْنَابِ الْبَقَرِ يَغْدُونَ فِي غَضَبِ اللَّهِ وَيَرُوحُونَ فِي سَخَطِ اللَّهِ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «وَيَرُوحُونَ فِي لَعْنَةِ اللَّهِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يوشك ان طالت بك مدة ان ترى اقواما في ايديهم مثل اذناب البقر يغدون في غضب الله ويروحون في سخط الله» . وفي رواية: «ويروحون في لعنة الله» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘‘তাদের হাতে গরুর লেজ সদৃশ কিছু থাকা’’ এর অর্থ হলো তাদের হাতে চাবুক থাকবে। এটাকে ‘আরবীতে سياط বা مقرع বলা হয়। যা চামড়া দ্বারা তৈরিকৃত এবং এর মাথায় মধ্যমা অঙ্গুলির ন্যায় প্রশস্ত গিরা থাকবে। এর দ্বারা রাখালদেরকে উলঙ্গ করে হাকিয়ে নিয়ে যেত।
কেউ কেউ বলেনঃ তারা অন্যায়ভাবে লোকেদের হাকিয়ে নিয়ে যাবে আর লোকেরা তাদের সামনে দ্রুত গতিতে ছুটে চলবে। যেমনভাবে লোলুপ কুকুর মানুষকে তাড়িয়ে নিয়ে যায়।

আল্লাহর غَضَبِ এর চেয়ে سَخَطِ বেশি কঠিন ও ভয়ানক غَضَبِ উল্লেখ করার পর سَخَطِ-কে উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য যে, তারা সকাল ও সন্ধ্যায় অন্যায় করার কারণে সর্বদা আল্লাহর ক্রোধের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল।

ইমাম ত্বীবী বলেনঃ يَغْدُوْنَ এবং يَرُوْحُوْنَ এর অর্থ হলো সর্বদা অবিরামভাবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِىِّ অর্থাৎ তারা সদা সর্বদা আল্লাহর ক্ষোভের মধ্যে থাকবে আল্লাহ তাদের ওপর সহিষ্ণু আচরণ করবেন না এবং সন্তুষ্ট হবেন না। (সূরা আল কাহ্ফ ১৮ : ২৮)
আর যদি দু’টি সময়কে বিশেষভাবে ধরে নেয়া যায় অর্থাৎ সকাল-সন্ধ্যাকে তবে এর অর্থ হবে। তারা সকালে লোকেদের কষ্ট দেয় ও ভীতিপ্রদর্শন করে এবং তাদের ওপর দয়াপরবশ হয় না।

আর সন্ধ্যায় তাদেরকে কষ্ট দেয়ার কুচিন্তা করে ফলে আল্লাহ তাদের ওপর খুশি নন। (মিরকাতুল মাফাতীহ, পৃষ্ঠা-৭৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২৪-[১৫] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাহান্নামীদের মধ্যে দু’টি এমন দল হবে যাদেরকে আমি দেখতে পাব না, কিন্তু তাদের একদল লোকের হাতে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে। যা দিয়ে তারা লোকেদেরকে অনৈতিকভাবে মারধর করবে। আর দ্বিতীয় দলটি হবে ঐ সমস্ত মহিলারা, যারা কাপড় পরবে অথচ উলঙ্গের ন্যায় দেখা যাবে এবং তারা সদিচ্ছায় পুরুষদের দিকে আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথার চুলের খোঁপা বুখতী উটের হেলে পড়া কুঁজের ন্যায় হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। যদিও তার সুঘ্রাণ দূর-দূরান্ত হতে পাওয়া যাবে। (মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا: قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلَاتٌ مَائِلَاتٌ رؤوسهم كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَتُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا . رَوَاهُ مُسلم

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: صنفان من اهل النار لم ارهما: قوم معهم سياط كاذناب البقر يضربون بها الناس ونساء كاسيات عاريات مميلات ماىلات رووسهم كاسنمة البخت الماىلة لا يدخلن الجنة ولا يجدن ريحها وان ريحها لتوجد من مسيرة كذا وكذا . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: الكَاسِيَاتٌ ‘‘পরিধানকারিণী’’। এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে। যথা-

(১) আল্লাহর নি‘আমাতকে ভোগকারী ও আল্লাহর নি‘আমাতের শুকরিয়া আদায় থেকে মুক্ত।

(২) বস্ত্র পরিধানকারিণী কিন্তু আনুগত্যের প্রতি যত্নবান, আখিরাতকে অগ্রাধিকার দান এবং সৎ ‘আমলশূন্য।

(৩) তার সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য শরীরের কিছু অংশ খোলা রাখা। একেই বলে বস্ত্রাবৃত ও বস্ত্রহীন।

(৪) পাতলা কাপড় পরিধান করে যাতে কাপড়ের নীচের শরীরের অংশ প্রকাশ পায়।
(مُمِيْلَاتٌ مَائِلَاتٌ) এর অর্থ হলো- আল্লাহর আনুগত্য এবং গুপ্তাঙ্গ ও প্রবৃত্তিকে হিফাযাত করা থেকে বিচ্যুত। আর مميلات-এর অর্থ হলো তারা অন্যদেরকে তাদের কর্মকা- শিক্ষা দেয়।

কেউ বলেন, এর অর্থ হলো গর্বভরে হেলেদুলে চলে এমন ব্যক্তি। مائلات এর অর্থ ঘাড় ঝুকানো মহিলা। কেউ কেউ বলেন- এর অর্থ পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট এবং তাদের প্রকাশিত সৌন্দর্য দ্বারা আকর্ষণকারিণী।


كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ-এর অর্থ তাদের মাথা পেচানো ওড়না ও পাগড়ী প্রভৃতি দ্বারা উন্নত। যেটাকে উন্নত ঘাড় বিশিষ্ট উটের ন্যায় পরিদৃষ্ট হয়।

মারুযী বলেনঃ এর অর্থ, তারা পুরুষদেরকে কামনা করে তাদের থেকে অবনমিত হয় না এবং মাথা নোয়াই না।
(لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ) এর মর্মার্থ হচ্ছে, (১) যে হারামকে জেনে বুঝে হালাল মনে করে সে কাফির এবং জাহান্নামে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। তারা কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

(২) তারা প্রথম থেকেই জান্নাতে প্রবেশ করবে না যেমন সফলকাম ব্যক্তিরা প্রথম থেকেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (শারহে মুসলিম ১৭ খন্ড, হাঃ ২১২৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২৫-[১৬] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো ব্যক্তিকে মারধর করে, তাহলে যেন মুখমণ্ডলে না মারে। কেননা, আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে তার আকৃতিতেই সৃষ্টি করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ مَا يُضْمَنُ مِنَ الْجِنَايَاتِ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قَاتَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ فَإِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ عَلَى صُورَتِهِ»

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا قاتل احدكم فليجتنب الوجه فان الله خلق ادم على صورته»

ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত নিষেধের মধ্যে দণ্ডে প্রহৃত, অথবা শাস্তির জন্য অথবা আদাবের জন্য প্রহৃত ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা এ ব্যাপারে আবূ বাকর ও অন্যান্য রাবীর বর্ণিত আবূ দাঊদ-এর মধ্যে এক যিনাকারিণী মহিলার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে তাতে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজম করার নির্দেশ প্রদান করেন এবং বলেনঃ «ارْمُوا وَاتَّقُوا الْوَجْهَ» তোমরা পাথর ছুঁড়ে মারো তবে মুখমণ্ডলে প্রহার থেকে বিরত থাকো। একজন মহিলা যার মৃত্যু অবধারিত তার ক্ষেত্রে যদি এ রকম নির্দেশ থাকে তবে অন্যদের ক্ষেত্রে আরো বেশি বেঁচে থাকা কর্তব্য।

ইমাম নববী বলেনঃ বিদ্বানগণ বলেন, মুখমণ্ডলে আঘাত করা নিষেধ হওয়ার কারণ হলো, মুখমণ্ডল সূক্ষ্ম জায়গা যাতে সৌন্দর্যসমূহ একিভূত হয়েছে। আর অধিকাংশ অনুভব করার অঙ্গসমূহ সেখানে বিদ্যমান। অতএব, যার মুখমণ্ডলে আঘাত করা হয় তার চেহারা নষ্ট হওয়ার ও বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এতে বিকৃতি ঘটলে তার বাহ্যিক অবয়ব বা সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। বরং তার চেহারায় আঘাত করা হলে অধিকাংশ সময় তা ক্ষতি থেকে নিরাপদ নয়। এর একমাত্র কারণ হলো সৌন্দর্য। তবে এর আরেকটি কারণ সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-

(فَإِنَّ اللّٰهَ خَلَقَ اٰدَمَ عَلٰى صُوْرَتِه) এই বাক্যে صُوْرَتِه শব্দের «ه» যামীর-এর مرجع নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ জনই প্রহৃত ব্যক্তিকে এর مرجع বলে মত প্রকাশ করেন। কেননা এর পূর্বে তার মুখমণ্ডলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারটি উল্লেখ হয়েছে। যদি এটা তা না হয় তবে পূর্বের বাক্যের সাথে এই বাক্যের সম্পর্ক ঠিক থাকছে না।

* কুরতুবী বলেনঃ কেউ কেউ «ه» যামীরকে আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করিয়েছেন একটি দলীলের দিকে খেয়াল করে যেটা হলো-

إِنَّ اللّٰهَ خَلَقَ اٰدَمَ عَلٰى صُورَةِ الرَّحْمٰنِ ‘‘আল্লাহ আদম (আঃ)-কে রহমানের (আল্লাহর) আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।’’

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এর প্রতি ধারণা করে দলীল সাব্যস্ত করেন সে ভুল করেছে।

* হারবুল কিরমানী তাঁর ‘‘কিতাবুস্ সুন্নাহ্’’ গ্রন্থে বলেনঃ আমি ইসহক বিন রহওয়াই-কে বলতে শুনেছি যে, إِنَّ اللّٰهَ خَلَقَ اٰدَمَ عَلٰى صُورَةِ الرَّحْمٰنِ এটা সহীহ।

* ইসহক আল কাওসাজ বলেনঃ আমি আহমাদ (রহঃ)-কে এ হাদীস সম্পর্কে সহীহ বলতে শুনেছি।

* আল মাযিরী বলেনঃ ইবনু কুতায়বাহ্ হাদীসের যাহিরী অর্থ বুঝে ভুল করেছেন।

* ইমাম বুখারী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থে ‘আল আদাবুল মুফরাদ’-এ ও ইমাম আহমাদ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে একটি মারফূ‘ হাদীসে বর্ণনা করেন যেমন-

لَا تَقُولَنَّ قَبَّحَ اللهُ وَجْهَكَ وَوَجْهَ مَنْ أَشْبَهَ وَجْهَكَ فَإِنَّ اللّٰهَ خَلَقَ اٰدَمَ عَلٰى صُورَتِه

অর্থাৎ- ‘‘যখন তোমাদের কেউ যুদ্ধ করবে তখন সে যেন মুখমণ্ডল থেকে বিরত থাকে, কেননা আল্লাহ আদম (আঃ)-কে তার সুরতে সৃষ্টি করেছেন।’’

এ হাদীস স্পষ্ট হলো যে, যামীর কথিত ব্যক্তির দিকে যাবে।

ইবনু আবূ ‘আসিম ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন,

 إِذَا قَاتَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ فَإِنَّ اللّٰهَ خَلَقَ اٰدَمَ عَلٰى صُورَةِ وَجْهِه

ইমাম নববী এই হুকুম বা বিধানকে হস্তক্ষেপ করেননি। এর যাহিরী অর্থ হলো চেহারায় আঘাত করা হারাম। এই মতটিকে سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ সাহাবীর হাদীস আরো শক্তিশালী করে দেয়। তথা أَنَّه رَأَى رَجُلًا لَطَمَ غُلَامَه فَقَالَ أَو مَا عَلِمْتَ أَنَّ الصُّورَةَ مُحْتَرَمَةٌ অর্থাৎ- ‘‘তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে তার গোলামকে চড় মারছে। সে বলল, তুমি কি জান না যে, নিশ্চয় চেহারা সম্মানিত’’ হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন। (ফাতহুল বারী ৫ম খন্ড, হাঃ ২৫৫৯; শারহে মুসলিম ১৫ খন্ড, হাঃ ২৬১২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২৬-[১৭] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অনুমতি ব্যতীত ঘরের পর্দা সরিয়ে অভ্যন্তরে দৃষ্টিপাত করল এবং গৃহকর্তার স্ত্রীকে দেখে ফেলল সে নিজের ওপর শারী’আতের শাস্তি অবধারিত করে ফেলল। কেননা, এভাবে আসা এবং গৃহাভ্যন্তরের দিকে তাকানো তার জন্য জায়িয নেই। আর সে যখন গৃহাভ্যন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করা অবস্থায় তখন যদি ঘরের কোনো পুরুষ এসে তার সামনে উপস্থিত হয়ে তার চক্ষু ফুঁড়ে দেয়, তাহলে আমি আঘাতকারীকে দোষী সাব্যস্ত করব না। আর যে ঘরের দরজায় কোনো পর্দা নেই এবং দরজাও উন্মুক্ত, এমতাবস্থায় যদি কেউ কোনো ঘরের সামনে দিয়ে অতিক্রমকালে দৃষ্টিপাত করে তার কোনো অপরাধ হবে না। কেননা তখন গৃহবাসী অপরাধী হবে। (তিরমিযী; তিনি বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]

عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَشَفَ سِتْرًا فَأَدْخَلَ بَصَرَهُ فِي الْبَيْتِ قَبْلَ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ فَرَأَى عَوْرَةَ أَهْلِهِ فَقَدْ أَتَى حَدًّا لَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَأْتِيَهُ وَلَوْ أَنَّهُ حِينَ أَدْخَلَ بَصَرَهُ فَاسْتَقْبَلَهُ رَجُلٌ فَفَقَأَ عَيْنَهُ مَا عَيَّرْتُ عَلَيْهِ وَإِنْ مَرَّ الرَّجُلُ عَلَى بَابٍ لَا سِتْرَ لَهُ غَيْرِ مُغْلَقٍ فَنَظَرَ فَلَا خَطِيئَةَ عَلَيْهِ إِنَّمَا الْخَطِيئَةُ عَلَى أَهْلِ الْبَيْتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

عن ابي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من كشف سترا فادخل بصره في البيت قبل ان يوذن له فراى عورة اهله فقد اتى حدا لا يحل له ان ياتيه ولو انه حين ادخل بصره فاستقبله رجل ففقا عينه ما عيرت عليه وان مر الرجل على باب لا ستر له غير مغلق فنظر فلا خطيىة عليه انما الخطيىة على اهل البيت» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি বিনা কোনো অনুমতিতে পর্দা বা প্রতিবন্ধককে উঠিয়ে ফেলে অথবা সরিয়ে দেয়া বাড়ির ভিতরের গোপন বিষয় দেখলো, সে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলো। এর কারণ হলো এটা তার জন্য হালাল নয়। যেমন কুরআন মাজীদে বর্ণিত হয়েছে- وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودُ اللّٰهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَه (সূরা আত্ তালাক ৬৫ : ১) আর সে কারণ হাদীসের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, (لَوْ أَنَّه حِينَ أَدْخَلَ بَصَرَه فَاسْتَقْبَلَه رَجُلٌ فَفَقَأَ عَيْنَه مَا عَيَّرْتُ عَلَيْهِ) অর্থাৎ বাড়ির মানুষ তার চোখকে ফুঁড়ে দিলে তার কোনো অপরাধ নেই। তবে যে ব্যক্তির দৃষ্টি এমন দরজায় আপতিত হয় যাতে এমন পর্দা ঝুলানো থাকে না যা দৃষ্টি নিবারণ করে বা তাতে দৃষ্টি নিবারিত হয়। তখন তার কোনো অপরাধ নয়। যদি সে এটা ইচ্ছাকৃত না করে। এক্ষেত্রে অপরাধ হলো বাড়ির লোকজনের। এতে এটাও প্রমাণ হয় যে, বাড়ির লোকজনের ওপর যে কোনো একটি কাজ করা ওয়াজিব। আর তা হলো দরজায় পর্দা ঝুলিয়ে রাখা অথবা দরজা বন্ধ রাখা। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৭ম খন্ড, হাঃ ২৭০৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২৭-[১৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উন্মুক্ত তরবারি হাতে পরস্পরের মধ্যে আদান-প্রদান করতে নিষেধ করেছেন। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُتَعَاطَى السَّيْفُ مَسْلُولًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعن جابر قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يتعاطى السيف مسلولا. رواه الترمذي وابو داود

ব্যাখ্যা: (يُتَعَاطٰى) শব্দটি التعاطى থেকে কর্মবাচ্য মাজহূল-এর সীগাহ। এর অর্থ গ্রহণ করা। কোষমুক্ত তরবারি গ্রহণ করা নিষেধ। অনুরূপভাবে ডেলিভারি বা হস্থান্তর করাও মাকরূহ। কারণ গ্রহণ করতে গিয়ে কখনো ভুল হয়ে যায়। ফলে শরীরের কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অথবা কারো উপর পড়ে গিয়ে সে কষ্টের শিকার হয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৫৭৫; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২১৬৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২৮-[১৯] হাসান বসরী (রহঃ) সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই আঙ্গুল দিয়ে ফিতা চিরতে নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَن الحسنِ
عَنْ سَمُرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُقَدَّ السَّيْرُ بَيْنَ أُصبعَينِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن الحسن عن سمرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى ان يقد السير بين اصبعين. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: يُقَدُّ কর্মবাচ্য মাজহূল-এর সীগাযোগে এর অর্থ লম্বালম্বিভাবে সাধারণভাবে কর্তন করা যেমন চিরে ফেলা। السير বলা হয় চামড়া চিরে ফেলা। দুই আঙ্গুলের দ্বারা চামড়া কর্তন করা ও চিরে দেয়া নিষেধ। যাতে লোহা বা যে কোনো কাটার অস্ত্র তাকে কেটে না দেয়। এই نَهٰى তথা নিষেধাজ্ঞাটা কোষমুক্ত তরবারি গ্রহণ করার নিষেধের সাথে সাদৃশ্য বা মিল রয়েছে। অনুরূপ ব্যাখ্যা ‘ফাতহুল ওয়াদূদ’ গ্রন্থেও রয়েছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৫৮৬)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ হাসান বাসরী (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫২৯-[২০] সা’ঈদ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক তার দীনের কারণে মৃত্যুবরণ করে, সে শহীদ। যে লোক তার প্রাণ রক্ষার্থে মৃত্যুবরণ করে, সে শহীদ। যে লোক তার ধন-সম্পদ হিফাযাত করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে, সে শহীদ। যে লোক তার পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সেও শহীদ। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]

وَعَن سعيدِ بنِ زيدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قُتِلَ دُونَ دِينِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ دَمِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ مَالِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ وَمَنْ قُتِلَ دُونَ أَهْلِهِ فَهُوَ شَهِيدٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ

وعن سعيد بن زيد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من قتل دون دينه فهو شهيد ومن قتل دون دمه فهو شهيد ومن قتل دون ماله فهو شهيد ومن قتل دون اهله فهو شهيد» . رواه الترمذي وابو داود والنساىي

ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি তার মাল রক্ষার জন্য প্রাণী অথবা অন্য কারো সাথে লড়াই করে এবং নিহত হয় সে শহীদ হিসেবে গণ্য হবে। তবে সে আখিরাতের বিধানে শহীদ হবে। অর্থাৎ সে শাহীদের নেকী পাবে। দুনিয়ায় শাহীদের হুকুম প্রযোজ্য হবে না। আর যে ব্যক্তি নিজকে, পরিবার বা নিকটতম আত্মীয়কে অথবা আল্লাহর দীনকে রক্ষা করতে শত্রুকে প্রতিহত করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ হবে। কেননা মু’মিন ব্যক্তি যার ব্যক্তিত্ব, রক্ত, পরিবার এবং সম্পদ হলো সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৮ম খন্ড, হাঃ ৪৭৫৯; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪২১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - যে সব অপরাধের ক্ষতিপূরণ (জরিমানা) নেই

৩৫৩০-[২১] ইবনু ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে- তন্মধ্যে একটি দরজা সে সমস্ত লোকের জন্য যারা আমার উম্মাতের ওপর অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাতের ওপর অন্যায়ভাবে তরবারি উঠিয়েছে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব)[1]

আর আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীসে ’জন্তু-জানোয়ারের আঘাতে মারা গেলে ক্ষতিপূরণ নেই’ প্রসঙ্গে গযব (রাগ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لِجَهَنَّمَ سَبْعَةُ أَبْوَابٍ: بَابٌ مِنْهَا لِمَنْ سَلَّ السَّيْفَ عَلَى أُمَّتِي أَوْ قَالَ: عَلَى أُمَّةِ مُحَمَّدٍ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ: «الرِّجْلُ جُبَارٌ» ذُكِرَ فِي «بَابِ الْغَضَب»
هَذَا الْبَاب خَال من الْفَصْل الثَّالِث

وعن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لجهنم سبعة ابواب: باب منها لمن سل السيف على امتي او قال: على امة محمد . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب وحديث ابي هريرة: «الرجل جبار» ذكر في «باب الغضب» هذا الباب خال من الفصل الثالث

ব্যাখ্যা: السل এর অর্থ কোনো জিনিসকে ছিনিয়ে নেয়া এবং স্বাচ্ছন্দে বের করা।

উম্মাতের বিরুদ্ধে তরবারি কোষমুক্ত করা অর্থাৎ তাদের ওপর আক্রমণ করা।

ইমাম তিরমিযী এ হাদীসকে আল্লাহ তা‘আলার বাণী لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِكُلِّ بَابٍ مِنْهُمْ جُزْءٌ مَقْسُومٌ ‘‘তার সাতটা দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্য তাদের মধ্যে শ্রেণী নির্দিষ্ট আছে’’- (সূরা আল হিজর ১৫ : ৪৪) এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৮ম খন্ড, হাঃ ৩১২৩)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - সম্মিলিত কসম

الْقَسَامَةِ কফ ও মীম বর্ণে যবর যোগে। এটা শপথ যা কোনো এলাকায় নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া গেলে এলাকার অধিবাসীদের কসম করা হয়।

শাফি’ঈদের নিকট খুনী ব্যক্তি অজ্ঞাত থাকলে নিহত ব্যক্তির অভিযোগকারী ওয়ারিসরা নিহতের রক্তমূল্যের জন্য কসম করবে। এর কারণ হলো নিহত ব্যক্তিকে তাদের মহল্লায় পাওয়া অথবা এরূপ কোনো কারণ বা আলামত পাওয়া। তাদের কসমের মূল অংশ হলো-بِاللّٰهِ مَا قَتَلْنَاهُ অথবাلَا عَلِمْنَا لَه قَاتِلً কসমকারীর জন্য শর্ত হলো সে পুরুষ, স্বাধীন ও জ্ঞানসম্পন্ন হবে। ইমাম মালিক বলেনঃ ভুলক্রমে হত্যার ক্ষেত্রে মহিলাও কসামার অন্তর্ভুক্ত। ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে নয়।

আর এর ফায়সালার বিধান হলো কসমের পর দিয়াত ওয়াজিব।

شَرْحِ السُّنَّةِ -এ রয়েছে নিহত ব্যক্তির ওয়ালীগণ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে অথবা কোনো দলের ওপর অভিযোগ করবে আর তাদের নিকট স্পষ্ট যখম বা ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। আর তা হচ্ছে এমন বিষয় প্রাপ্তি যা অভিযোগকারীর সত্যতা প্রবলরূপে অনুমান করা যায়। যেমন তাদের অঞ্চলে নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া অথবা নিহত ব্যক্তি ও তাদের মাঝে শত্রুতা বিদ্যমান থাকা ইত্যাদি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


৩৫৩১-[১] রাফি’ ইবনু খাদীজ এবং সাহল ইবনু হাসমাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, ’আব্দুল্লাহ ইবনু সাহল এবং মুহাইয়িসাহ্ ইবনু মাস্’ঊদ খায়বারে এলেন। তারা খেজুর বাগানে প্রবেশ করে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। অতঃপর (কেউ) ’আব্দুল্লাহ ইবনু সাহল-কে হত্যা করলো। এমতাবস্থায় ’আব্দুর রহমান ইবনু সাহল (’আব্দুল্লাহ-এর ভাই) এবং মাস্’ঊদ-এর দু’পুত্র হুওয়াইয়িসাহ্ এবং মুহাইয়িসাহ্ (রাঃ)(’আব্দুল্লাহ-এর চাচাতো ভাই) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের ভাইয়ের ব্যাপারে অভিযোগ করেন। অতঃপর ’আব্দুর রহমান যখন কথা বলা শুরু করলেন, আর তিনি ছিলেন সকলের ছোট। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বড়কে কথা বলতে দাও (সম্মান কর)। তিনি (ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার উদ্দেশ্য হলো- যিনি বয়সের বড় সেই কথা শুরু করার অগ্রাধিকারযোগ্য। অতএব তারা তাদের ভাইয়ের হত্যার ব্যাপারে আলোচনা করল।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্যে পঞ্চাশজন কসম করলে তোমাদের নিহত ব্যক্তির; অথবা বলেছেন, তোমাদের ভাইয়ের দিয়াত (রক্তপণ) পাওয়ার হকদার হতে পারবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা (কসম) এমন জিনিস যা আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে ইয়াহূদীদের থেকে পঞ্চাশজন কসম করে অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তারা তো কাফির। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে তাদের হত্যার দিয়াত প্রদান করলেন। অপর বর্ণনাতে আছে, তোমরা পঞ্চাশ জন কসম কর তোমাদের নিহত ব্যক্তির অথবা বলেছেন, তোমাদের সঙ্গীর দিয়াতের হকদার হতে পারবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে তাদেরকে দিয়াতস্বরূপ একশত উট আদায় করে দিলেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ الْقَسَامَةِ

عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمة أَنَّهُمَا حَدَّثَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ أَتَيَا خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ فَبَدَأَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَكَانَ أَصْغَر الْقَوْم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كبر الْكبر قَالَ يحيى بن سعد: يَعْنِي لِيَلِيَ الْكَلَامَ الْأَكْبَرُ فَتَكَلَّمُوا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَحِقُّوا قَتِيلَكُمْ أَوْ قَالَ صَاحِبَكُمْ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْكُمْ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْرٌ لَمْ نَرَهُ قَالَ: فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ فِي أَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ فَفَدَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قِبَلِهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: «تَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ قَاتِلَكُمْ أَوْ صَاحِبَكُمْ» فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عِنْده بِمِائَة نَاقَة
وَهَذَا الْبَاب خَال من الْفَصْل الثَّانِي

عن رافع بن خديج وسهل بن ابي حثمة انهما حدثا ان عبد الله بن سهل ومحيصة بن مسعود اتيا خيبر فتفرقا في النخل فقتل عبد الله بن سهل فجاء عبد الرحمن بن سهل وحويصة ومحيصة ابنا مسعود الى النبي صلى الله عليه وسلم فتكلموا في امر صاحبهم فبدا عبد الرحمن وكان اصغر القوم فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: كبر الكبر قال يحيى بن سعد: يعني ليلي الكلام الاكبر فتكلموا فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «استحقوا قتيلكم او قال صاحبكم بايمان خمسين منكم» . قالوا: يا رسول الله امر لم نره قال: فتبرىكم يهود في ايمان خمسين منهم؟ قالوا: يا رسول الله قوم كفار ففداهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من قبله. وفي رواية: «تحلفون خمسين يمينا وتستحقون قاتلكم او صاحبكم» فوداه رسول الله صلى الله عليه وسلم من عنده بماىة ناقة وهذا الباب خال من الفصل الثاني

ব্যাখ্যা: শিষ্টাচারের ইঙ্গিত দেয়ার জন্য রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়কে অগ্রবর্তী করেছেন। এর দ্বারা যেন তিনি যেথায় সমতা হবে সেথায় বড়কে বা বয়সে বড়কে অগ্রবর্তী করার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করতে চেয়েছেন। তবে যদি ছোটদের নিকট এমন জ্ঞান থাকে যা বড়দের নিকট নেই, এই অবস্থায় বড়দের উপস্থিতিতে ছোটদের কথা বলাতে নিষেধ নেই। কারণ ‘উমার এবং আবূ বাকর কোনো এক মাজলিসে থাকার কারণে ‘উমার বিন খত্ত্বাব-এর পুত্র ‘আব্দুল্লাহ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে ইতস্তবোধ করে জবাব দেয়নি। এজন্য ‘উমার পরে আফসোস করেছিলেন তার পুত্র উত্তরে কথা না বলায়। ‘উমার -এর আফসোসের কারণ ছিল বড়দের মাজলিসে পুত্রের কথা না বলা। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৬১৪২, ৬১৪৩)

কেউ কেউ এ হাদীস দ্বারা সাদাকার মালকে বিনামূল্যে উপকার লাভে ব্যবহারের মত পোষণ করেন। যেমন মতানৈক্য বন্ধকরণ এবং বিভেদের সমাধানের জন্য।

আবার কেউ এ হাদীস যাহিরী অর্থে ব্যবহার করেছেন। আর কাযী ‘ইয়ায কোনো বিদ্বানের উদ্ধৃতি দিয়ে যাকাতের মালকে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করার বৈধতা দিয়েছেন। আর এ হাদীস ও অন্যান্য হাদীসকে দলীল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। যাকাত অধ্যায়ে আবূ লাস-এর হাদীসে রয়েছে। তিনি বলেনঃ

قَالَ حَمَلَنَا النَّبِيُّ ﷺ عَلٰى إِبِلٍ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ فِي الْحَجِّ

অর্থাৎ- আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজে/হজ্জের সময় সাদাকার কোনো উটের উপরে বহন করিয়েছিল। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪২২)

الْقَسَامَةِ-এর হাদীসটি শারী‘আত মূলনীতিসমূহের একটি মূলনীতি পদ্ধতি এবং বান্দার কল্যাণের অন্যতম রুকন। কুফা, শাম ও হিজাযের সকল তাবি‘ঈ ও সাহাবীর নিকট এ হুকুমটি গৃহীত। যদিও الْقَسَامَةِ গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ বিদ্যমান।

একদল ‘আলিমের মতে الْقَسَامَةِ বাতিল। এর কোনো বিধান নেই। আর এটা ‘আমলযোগ্য নয়। এই দলের মধ্যে সালিম বিন ‘আব্দুল্লাহ, সুলায়মান বিন ইয়াসার, হাকাম বিন ‘উয়াইনাহ্, কাতাদাহ, আবূ ক্বিলাবাহ্, মুসলিম ইবনু খালিদ, ইবনু ‘উলাইয়্যাহ্ ও বুখারী; এছাড়া অন্যরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

যদি ইচ্ছাকৃত হত্যা করা হয় তবে এক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব কিনা- এই ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

হিজাযের একটি বিরাট অংশ কিসাসকে ওয়াজিব বলেছেন। এটা যুহরী, রবী‘আহ্, মালিক (রহঃ) ও তার সাথীগণ আহমাদ (রহঃ), ইসহক, আবূ সাওর ও দাঊদ-এর অভিমত। আর এটা ইমাম শাফি‘ঈ-এর পুরাতন মত।

‘উমার বিন ‘আব্দুল ‘আযীয ও ‘আব্দুল্লাহ বিন যুবায়র থেকে বর্ণিত, আবূ যিনাদ বলেনঃ আমরা এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সাহাবীগণ বলেন- এই মতের লোক সংখ্যা এক হাজার। এ ব্যাপারে দু’টি মাযহাবের ইখতিলাক রয়েছে। কুফাবাসী ও শাফি‘ঈর সর্বাধিক সহীহ অভিমত হলো কিসাস ওয়াজিব নয়। মূলত দিয়াত ওয়াজিব।

কসামাহ্-এর ক্ষেত্রে কারা কসম করবে এই নিয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম মালিক ও শাফি‘ঈ (রহঃ) এবং জুমহূরের মত হলো নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস পঞ্চাশজনের কসম করা ওয়াজিব। তারা এই সহীহ হাদীসকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর এতে অভিযোগকারীর কসম শুরু করার ব্যাপারটি স্পষ্টরূপে বর্ণিত হয়েছে। এটা অনেক সহীহ সানাদ দ্বারা প্রমাণিত, যা প্রত্যাখ্যাতযোগ্য নয়।

ইমাম মালিক বলেনঃ নব্য ও পুরাতন ইমামগণ অভিযোগকারীগণের কসম শুরু করবে মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

হাদীস বিশারদগণ বলেনঃ যেসব বর্ণনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কসম শুরু করার কথা বর্ণিত হয়েছে তা সংশয়মুক্ত নয়। কেননা অভিযোগকারীর কসম দ্বারা কসামাহ্ শুরু হবে, এমন বর্ণনায় যে زيادة রয়েছে তা বহুল প্রসিদ্ধ সানাদ দ্বারা সহীহ। সুতরাং তার উপর ‘আমল করা ওয়াজিব।

‘আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহ প্রবলরূপে আবির্ভূত না হয় ততক্ষণ শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কিসাস এবং দিয়াত ওয়াজিব নয়।

আবার তারা কসামাহ্ ওয়াজিবকারী গ্রহণযোগ্য সংশয় সম্পর্কে মতভেদ করেছেন এর সাতটি সুরত যা নিম্নে বর্ণিত হলো।

(১) নিহত ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় বলবে دَمِىْ عِنْدَ فُلَانٍ আমার রক্তমূল্য তার নিকটে, যে আমাকে হত্যা করেছে অথবা যে আমাকে প্রহার করেছে। যদিও তার কোনো চিহ্ন না থাকে।

(২) হত্যার পর্যবেক্ষণের স্পষ্ট দলীল ব্যতীত দুর্বল প্রমাণ থাকলে। যেমন শুধু একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রদান। অথবা একদল লোক সাক্ষ্য যারা ন্যায়বান নয়।

(৩) যখন দু’জন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি আঘাতের সাক্ষ্য দেয়, অতঃপর বেঁচে থাকে, অতঃপর এটা থেকে জ্ঞানহীন হওয়ার আগে মারা যায়।

(৪) নিহতের নিকটে অথবা পাশে অথবা তার দিক থেকে আসা সন্দিহান ব্যক্তির প্রস্থান করা অথবা তার সাথে অস্ত্র-শস্ত্র থাকা। অথবা তার সাথে অন্যের রক্ত মাখানো চিহ্ন বিদ্যমান থাকা। আর সেখানে হিংসপ্রাণী বা অন্য কিছু না থাকা যাতে তার ওপর হত্যার সূত্র সংযুক্ত করা যায়।

(৫) দু’টি দলের যুদ্ধ হওয়া, অতঃপর তাদের কারো মাঝে নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া।

(৬) নিহত ব্যক্তিকে মানুষের ভীড়ের মধ্যে পাওয়া।

(৭) কোনো গোত্রের মধ্যে অথবা কোনো সম্প্রদায়ের মহল্লায় বা অঞ্চলে নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া।

(فَتُبْرِئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا) অর্থাৎ তারা তোমাদের অভিযোগ থেকে পঞ্চাশজনের কসমের মাধ্যমে তোমাদের নিকট থেকে দায়মুক্ত হবে। এতে কাফির ও ফাসিক ব্যক্তির কসম শুদ্ধ হওয়ার দলীল রয়েছে। (শারহে মুসলিম ১১তম খন্ড, হাঃ ১৬৬৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সম্মিলিত কসম

৩৫৩২-[২] রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার অঞ্চলে আনসারীদের এক ব্যক্তি হত্যা হয়। অতঃপর তার অভিভাবকগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তৎসম্পর্কে জানালেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন দু’জন সাক্ষী আছে কি যারা তোমাদের সাথীর হত্যাকারী সম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে পারে? তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! সেখানে তো কোনো মুসলিম উপস্থিত ছিল না। আর ইয়াহূদীরা তো এর চেয়ে জঘন্য কাজ করার উদগ্রীব থাকে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাহলে তোমরা তাদের মধ্যে থেকে পঞ্চাশজন ব্যক্তিকে বাছাই করে তাদের নিকট থেকে কসম নাও। কিন্তু তারা ইয়াহূদীদের নিকট থেকে কসম নিতে অসম্মতি জানালেন। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে দিয়াত (রক্তপণ) আদায় করে দিলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ: أَصْبَحَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ مَقْتُولًا بِخَيْبَرَ فَانْطَلَقَ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: «أَلَكُمْ شَاهِدَانِ يَشْهَدَانِ عَلَى قَاتِلِ صَاحِبِكُمْ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ يَكُنْ ثَمَّ أحدٌ من المسلمينَ وإِنما هُوَ يهود وَقد يجترئون عَلَى أَعْظَمَ مِنْ هَذَا قَالَ: «فَاخْتَارُوا مِنْهُمْ خَمْسِينَ فَاسْتَحْلِفُوهُمْ» . فَأَبَوْا فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِهِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن رافع بن خديج قال: اصبح رجل من الانصار مقتولا بخيبر فانطلق اولياوه الى النبي صلى الله عليه وسلم فذكروا ذلك له فقال: «الكم شاهدان يشهدان على قاتل صاحبكم؟» قالوا: يا رسول الله لم يكن ثم احد من المسلمين وانما هو يهود وقد يجترىون على اعظم من هذا قال: «فاختاروا منهم خمسين فاستحلفوهم» . فابوا فوداه رسول الله صلى الله عليه وسلم من عنده. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: এই হাদীসে নিহত ব্যক্তির নাম হলো ‘আব্দুল্লাহ বিন সাহল। (قَدْ يَجْتَرِئُوْنَ عَلٰى اَعْظَمَ مِنْ هٰذَا) তারা অর্থাৎ ইয়াহূদীরা এর চেয়ে দুঃসাহসিক দুষ্কৃতি কখনো ঘটিয়ে থাকে। এর অর্থ হলো বড় বড় অপরাধ করে। যেমন মুনাফিক্বী তথা কপটচারিতা করা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে ধোঁকাবাজি করা, নাবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা অথবা আল্লাহর কালামের বিকৃতি বা অপব্যাখ্যা করা ইত্যাদি।

যারা مُدَّعٰى عَلَيْهِ তথা ‘অভিযুক্তদেরকে দিয়ে কসামাহ্ শুরু করতে হবে’ মর্মে মত পোষণ করেন তাদের দলীল হলো এই হাদীসটি। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৫১৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৩৩-[১] ’ইকরিমাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক নাস্তিককে ’আলী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত করা হলো। তিনি তাদেরকে পুঁড়িয়ে ফেললেন (হত্যা করলেন)। এ সংবাদ যখন ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছল তখন তিনি বললেন, আমি যদি তদস্থলে থাকতাম তাহলে তাদেরকে পোড়াতাম না। কেননা রসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শাস্তি (আগুন) দ্বারা কাউকে শাস্তি দিয়ো না। নিশ্চয় আমি তাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত অনুযায়ী হত্যা করতাম। এ কারণে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে তার দীনকে পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা কর। (বুখারী)[1]

بَابُ قَتْلِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَالسُّعَاةِ بِالْفَسَادِ

عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ: أُتِيَ عَلِيٌّ بِزَنَادِقَةٍ فَأَحْرَقَهُمْ فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ: لَوْ كُنْتُ أَنَا لَمْ أُحْرِقْهُمْ لِنَهْيِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ» وَلَقَتَلْتُهُمْ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

عن عكرمة قال: اتي علي بزنادقة فاحرقهم فبلغ ذلك ابن عباس فقال: لو كنت انا لم احرقهم لنهي رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تعذبوا بعذاب الله» ولقتلتهم لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من بدل دينه فاقتلوه» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা: زَنَادِقَةٌ শব্দটি زيديق এর বহুবচন। আবূ হাতিম আর অন্য কেউ বলেনঃ زنديق শব্দটি ফারসী ও ‘আরবীকৃত, এটা মূলত ছিল زنده كرداي অর্থাৎ কালের স্থায়িত্ব। কেননা তার কর্ম ও জীবন অমর।

কেউ কেউ বলেনঃ সব বিষয়ে সূক্ষ্মদর্শীকে زنديق (যিনদীক) বলা হয়। সা‘লাব বলেন, ‘আরবী ভাষায় زنديق কোনো শব্দ নেই। বরং তারা অধিক ষড়যন্ত্রকারীকে زنديق বলেন।

শাফি‘ঈ ফাকীহদের একটি দল এবং আরো অন্যরা বলেন- যারা ইসলামকে প্রকাশ করে এবং কুফরীকে গোপন রাখে তাকে زنديق বলা হয়।

ইমাম নববী বলেনঃ যে দীনকে গ্রহণ করে না তাকে যিনদীক বলা হয়।

মুহাম্মাদ বিন মা‘ন বলেনঃ যিনদীক হলো দ্বৈতবাদী যারা যুগের স্থায়িত্ব ও একের পর আরেকটি আসার মতবাদে অর্থাৎ পুনর্জন্মে বিশ্বাসী।

শাফি‘ঈদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী যিনদীক হলো মুনাফিক। তবে যিনদীক ও মুনাফিক এক নয়। বরং প্রত্যেক যিনদীক হলো মুনাফিক, কিন্তু প্রত্যেক মুনাফিক যিনদীক নয়। কারণ কিতাব ও সুন্নাহ মোতাবেক মুনাফিক ইসলামকে প্রকাশ করে কিন্তু মূর্তিপূজা ও ইয়াহূদীবাদকে গোপন করে। আর দ্বৈতবাদীরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কেউ ইসলামকে প্রকাশ করতো না।

হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কাউকে পুড়িয়ে হত্যা করা যাবে না। কারণ যে হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যা করতে বলেছিলেন সেই হাদীসে আছে : «إِنَّ النَّارَ لَا يُعَذِّبُ بِهَا إِلَّا اللّٰهُ» ‘‘আল্লাহই আগুন দ্বারা শাস্তি দিবেন।’’

আবূ দাঊদে ইবনু মাস্‘ঊদ-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে : «أَنَّه لَا يَنْبَغِىْ أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلَّا رَبُّ النَّارِ»

অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতিরেকে আর কারো জন্য আগুন দ্বারা শাস্তি দেয়া উচিত নয়।

ইমাম আবূ দাঊদ ও ইমাম দারাকুত্বনী نهى-কে النهى التنزيهى বলে অভিহিত করেছেন। যেমন এ ব্যাপারে ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। হাদীসের রক্ষণাবেক্ষণমূলক মত হলো যখন ইমাম এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করতে চাইবে তখন ইচ্ছা করলে এটা বাস্তবায়ন করতে পারবে। যা অন্যান্য হাদীসে ‘আলী -এর কথায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

হাদীসে মুরতাদকে হত্যা করার প্রমাণ পাওয়া যায়। আর মুরতাদ চাই পুরুষ হোক বা মহিলা হোক সে হত্যার যোগ্য। হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ শুধু পুরুষকে হত্যার সাথে খাস করেছেন। আর মহিলাদেরকে হত্যা করতে নিষেধ মর্মে মত পেশ করেছেন। তারা এর দলীল হিসেবে একটি হাদীসকে উল্লেখ করেন। যেমন তাতে বলা হয়েছে, مَا كَانَتْ هٰذِه لِتُقَاتِلَ অর্থাৎ নিহত মহিলাকে দেখে বললেন, একে হত্যা করতে হতো না। অতঃপর মহিলা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। হানাফীরা আরো বলেন যে, নিশ্চয় «من» হরফে শর্তটি উপরোক্ত হাদীস থাকার কারণে ব্যাপকভাবে মহিলাকে শামিল করে না।

জুমহূর মুহাদ্দিসীন এই نهى (নিষেধাজ্ঞা)-কে প্রাথমিক মহিলা কাফির যারা হত্যার সাথে সম্পৃক্ত নয় এবং যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়েনি তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। আর মহিলা মুরতাদকে হত্যা করার বিষয়ে মু‘আয -এর হাদীসে রয়েছে, যখন তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানে পাঠালেন তাকে বললেনঃ أَيُّمَا امْرَأَةٍ ارْتَدَّتْ عَنِ الْإِسْلَامِ فَادْعُهَا فَإِنْ عَادَتْ وَإِلَّا فَاضْرِبْ عُنُقَهَا অর্থাৎ যে কোনো মহিলা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে তাকে দা‘ওয়াত দাও, এতে যদি সে ফিরে আসে তাহলে আসলো। অন্যথায় তাকে হত্যা করো। হাদীসটির সানাদ হাসান পর্যায়ের। বিবদমান বিষয়ে এ হাদীসের গন্তব্যে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব। আর যিনা, চুরি, মদ্যপান, অপবাদের মতো প্রত্যেক শাস্তির ক্ষেত্রে মহিলা-পুরুষ যুক্ততা উপরোক্ত মহিলা মুরতাদকে হত্যার বিষয়টিকে আরো মজবুত করে দেয়।

আর বলা যায়, নিশ্চয় ইবনু ‘আব্বাস বলেন, মহিলা মুরতাদ হত্যাযোগ্য।

সকল সাহাবা (রাঃ) এবং আবূ বাকর স্বীয় খিলাফাতে মহিলা মুরতাদকে হত্যা করলে কেউ এটাকে মন্দ বলেননি। (ফাতহুল বারী ১২ তম খন্ড, হাঃ ৬৯২২)

আস্ সিনদী (রহঃ) বলেনঃ «مَنْ بَدَّلَ دِينَه» এর ব্যাপকতা পুরুষ-মহিলা উভয়কে শামিল করে। আর যারা যুদ্ধে মহিলা হত্যা নিষেধের কারণে এটাকে শুধু পুরুষের সাথে খাস করেছেন। তাদের এই খাসকরণে দুর্বলতার ইঙ্গিত স্পষ্ট। সুতরাং এ ব্যাপকতা মেনে নেয়া হাদীস পালনের অধিক নিকটতম পথ। আল্লাহই ভালো জানেন। (নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪০৭১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইকরিমা (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৩৪-[২] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়ার অধিকার কারো নেই। (বুখারী)[1]

بَابُ قَتْلِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَالسُّعَاةِ بِالْفَسَادِ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِن النَّارَ لَا يُعَذِّبُ بِهَا إِلَّا اللَّهُ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن عبد الله بن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان النار لا يعذب بها الا الله» . رواه البخاري

ব্যাখ্যা : দগ্ধ করানোর বিষয়ে সালাফীগণ মতভেদ করেছেন। তন্মধ্যে ‘উমার ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কুফরী, যুদ্ধের সময় অথবা ক্বিসাসের ক্ষেত্রে পোড়ানোকে মাকরূহ মনে করেন।

পক্ষান্তরে ‘আলী (রাঃ), খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) ছাড়াও অনেকেই পোড়ানো জায়িয বলেছেন।

আবুল মুযাফফার আল ইসফিরায়লী-এর সিদ্ধান্ত হলো, যাদেরকে ‘আলী পুড়িয়েছিলেন তারা ছিল রাফিযীদের একটা দল। তারা তাদের ‘আক্বীদায় অন্য ইলাহ-এর দাবী করেছিল। এদেরকে সাবাইয়্যাহ্ বলা হয়। এদের নেতা হলো ‘আবদুল্লাহ বিন সাবা।

মুহাল্লাব বলেনঃ এই নিষেধাজ্ঞা হারাম নিষেধাজ্ঞা নয়। বরং এটা বিনয়সূচক নিষেধাজ্ঞা। সাহাবীদের কর্ম পোড়ানোর বৈধতার নির্দেশ করে। খালিদ বিন ওয়ালীদ মুরতাদ মানুষকে পুড়িয়েছিল।

মদীনার অধিকাংশ বিদ্বান দুর্গ ও যানবাহন পোড়ানো জায়িয বলেন। এমন মত পেশ করেন ইমাম নববী ও ইমাম আওযা‘ঈ।

আর ইবনু মুনীর এবং অন্যরা বলেনঃ পোড়ানোর বৈধতার কোনো দলীল নেই। কেননা উরানীনদের ঘটনা ছিল ক্বিসাসের অথবা তা মানসূখ হয়ে গেছে। আর সাহাবীদের বৈধতা আর এক সাহাবীর নিষেধের বিরোধী হয়ে যায়। আর দুর্গ ও যানবাহন পোড়ানোর ঘটনাটি জরুরী প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। আর তা হলো শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করা।

আবার কেউ বলেছেন- ঘটনাস্থলে কোনো মহিলা বা কোনো শিশু ছিল না। তবে হাদীসের বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, নিষেধাজ্ঞা ছিল হারাম, যা পূর্বের আলোচনায় মানসূখ হয়েছে। (ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩০১৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৩৫-[৩] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ শীঘ্রই শেষ যুগে এমন কিছু লোকের উদ্ভব ঘটবে যারা হবে তরুণ যুবক এবং নির্বোধ। তারা সমাজে সর্বোত্তম কথা বলবে কিন্তু তাদের ঈমান তাদের গলধঃকরণ হবে না। তারা দীন হতে এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে যেমন তীর ধনুক ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অতএব তোমরা তাদেরকে যেখানে পাও হত্যা কর। কেননা তাদেরকে যারাই হত্যা করবে কিয়ামত দিবসে তারাই পুরস্কৃত হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ قَتْلِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَالسُّعَاةِ بِالْفَسَادِ

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «سَيَخْرُجُ قَوْمٌ فِي آخِرِ الزَّمَانِ حُدَّاثُ الْأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الْأَحْلَامِ يَقُولُونَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ لَا يُجَاوِزُ إِيمَانُهُمْ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ فَأَيْنَمَا لَقِيتُمُوهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ فَإِنَّ فِي قَتْلِهِمْ أَجْرًا لمن قَتلهمْ يَوْم الْقِيَامَة»

وعن علي رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «سيخرج قوم في اخر الزمان حداث الاسنان سفهاء الاحلام يقولون من خير قول البرية لا يجاوز ايمانهم حناجرهم يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية فاينما لقيتموهم فاقتلوهم فان في قتلهم اجرا لمن قتلهم يوم القيامة»

ব্যাখ্যা: (حُدَّاثُ الْأَسْنَانِ سُفَهَاءُ الْأَحْلَامِ) অর্থাৎ বয়সে ছোট এবং দুর্বলবুদ্ধি সম্পন্ন, তথা খাটো বুদ্ধির অল্পবয়স্ক। নিহায়াহ্ গ্রন্থে আছে যে, অল্পবয়স্ক বলতে পরোক্ষভাবে যুবকদেরকে বুঝানো হয়েছে।

(مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ) এর মমার্থ হলো কোনো বিষয়ের বাহ্যিক দিক। যেমন তাদের কথা (لَا حُكْمَ إِلَّا لِلّٰهِ) অর্থাৎ হুকুমাত একমাত্র আল্লাহর। এর উপমা তাদের ব্যবহৃত আল্লাহর কিতাবের প্রতি আহবান করার ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে। (শারহে মুসলিম ৭ম খন্ড, হাঃ ১০৬৬)

‘আওনুল মা‘বূদে বলা হয়েছে, (مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ) অর্থাৎ সৃষ্টিজগত যে সব কল্যাণকর কথা বলে। আবার কেউ বলেন- এর অর্থ হলো কুরআন। আবার কোনো পাণ্ডুলিপিতে আছে এর অর্থ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এ হাদীসটিতে খারিজীদেরকে এবং অত্যাচারী বাড়াবাড়িকারীদেরকে হত্যা করার নির্দেশ স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়। এটা ‘আলিমদের ইজমা।

* কাযী বলেনঃ ‘আলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, খারিজীরাও এদের ন্যায় বিদ্‘আতী ও বাড়াবাড়িকারী যারা ইমামকে উপেক্ষা করে বের হয়ে যায়, দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ও জামা‘আতের বিরুদ্ধাচরণ করে। তাদেরকে ভীতিপ্রদর্শনের ও কৈফিয়ত তলবের পর হত্যা করা ওয়াজিব। (শারহে মুসলিম ৭ম খন্ড, হাঃ ১০৬৬)

حَنَاجِرَ শব্দটি حَنْجَرَةٌ এর বহুবচন, এর অর্থ হলো হুলকুম বা কণ্ঠনালী। মুযহির বলেনঃ দীন থেকে বের হওয়ার অর্থ হলো ইমামের আনুগত্য থেকে বের হওয়া যা ফরয। নিহায়াতে বলা হয়েছে, এর অর্থ দীনের মধ্যে দাখিল হওয়া ও তা থেকে বের হওয়া। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৩৬-[৪] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে দু’টি দল থাকবে। তন্মধ্যে আরও একটি (তৃতীয়) দল আবির্ভূত হবে। উম্মাতের প্রথম দু’টি দলের মাঝে যে দল হাকের অধিক নিকটবর্তী হবে, সে দল তৃতীয় দলকে হত্যা করবে। (মুসলিম)[1]

بَابُ قَتْلِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَالسُّعَاةِ بِالْفَسَادِ

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَكُونُ أُمَّتِي فِرْقَتَيْنِ فَيَخْرُجُ مِنْ بَيْنِهِمَا مَارِقَةٌ يَلِي قَتْلَهُمْ أولاهم بِالْحَقِّ» . رَوَاهُ مُسلم

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يكون امتي فرقتين فيخرج من بينهما مارقة يلي قتلهم اولاهم بالحق» . رواه مسلم

ব্যাখ্যা: ‘আলী যে একজন ন্যায়পন্থী সঠিক ছিলেন এই হাদীসটি তার স্পষ্ট প্রমাণ। আর অন্য দলটি ছিল মু‘আবিয়াহ্ -এর অনুসারীবৃন্দ। তারা অত্যাচারী বাড়াবাড়িকারী তাবিলকারী ছিল। আর এতে এ কথাও দিবালোকের ন্যায় প্রমাণ হয় যে, নিশ্চয় ‘আলী ও মু‘আবিয়াহ্ উভয়ের দলই মু’মিন। তারা যুদ্ধের কারণে ঈমান থেকে বের হননি এবং পাপও করেননি। এটা আমাদের ও আমাদের অনুরূপদের ‘আকীদা। (শারহে মুসলিম ৭ম খন্ড, হাঃ ১৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৩৭-[৫] জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজে/হজ্জে বলেছেনঃ তোমরা আমার অবর্তমানে কাফিরের দলে প্রত্যাবর্তন করো না যে, পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ قَتْلِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَالسُّعَاةِ بِالْفَسَادِ

وَعَنْ جَرِيرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ: «لَا تَرْجِعُنَّ بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَاب بعض»

وعن جرير قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع: «لا ترجعن بعدي كفارا يضرب بعضكم رقاب بعض»

ব্যাখ্যা: (لَا تَرْجِعُنَّ بَعْدِىْ كُفَّارًا) অর্থাৎ তোমরা আমার পরে কুফরীতে প্রত্যাবর্তন করো না। এর সাতটি অর্থ বলা যায়- ১. এটা অন্যায়ভাবে হালালকারীর ক্ষেত্রে কুফরী। ২. এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নি‘আমাতকে এবং ইসলামী হককে অস্বীকার করা। ৩. সে কুফরীর নিকটবর্তী হয়ে যায় যা কুফরীতে নিয়ে যায় বা পৌঁছে দেয়। ৪. কাফিরদের ন্যায় কার্য সম্পাদন করে। ৫. এর দ্বারা উদ্দেশ্য ঈমানের হাকীকাত তথা মূল বিষয় এর অর্থ হচ্ছে, «لَا تَكْفُرُوا بَلْ دُومُوا مُسْلِمِينَ» তোমরা কুফরী করো না বরং সর্বদা মুসলিম থাকো। ৬. খত্ত্বাবী ও অন্যান্যরা বলেন- كُفَّار দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অস্ত্রের পোশাক পরিধান করা। যেমন যখন কেউ অস্ত্র সজ্জিত হয় তখন তাকে বলা হয়- «تَكَفَّرَ الرَّجُلُ بِسِلَاحِه» আযহারী তাঁর ‘‘তাহযীবুল লুগাহ্’’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, হাতিয়ার বা অস্ত্র পরিধানকারীকে কাফির বলা হয়। ৭. খত্ত্বাবী বলেনঃ এর অর্থ হলো তোমাদের কেউ যেন অন্যকে কাফির না বলে, এতে তারা পরস্পরে একে অন্যের সাথে যুদ্ধ করা হালাল মনে করবে। এসব অর্থের মধ্যে উপযুক্ত অর্থ হলো ৪র্থ মতটি যেটা কাযী ‘ইয়ায-এর পছন্দনীয় মত।

(لَا تَرْجِعُنَّ بَعْدِىْ) এর অর্থ কাযী ‘ইয়ায ও ত্ববারী বলেন- আমার পর বলতে আমার এই স্থান থেকে চলে যাওয়ার পর। অথবা এর অর্থ হবে خلافى তোমাদেরকে যার নির্দেশ দিয়েছি সেটা ব্যতীত অন্য কিছুকে আমার পশ্চাদবর্তী করো না। (শারহে মুসলিম ২য় খন্ড, হাঃ ১১৮)

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় তুহফাতুল আহওযায়ীতে বলা হয়েছে, তোমরা আমার মৃত্যুর পর কর্মকা-- কাফিরদের সাদৃশ্যশীল হয়ো না।

الجمع (আল জাম্‘ই) গ্রন্থে বলা হয়েছে : আমার মৃত্যুর পর তোমরা প্রথমত যুদ্ধকে হালাল মনে করো না এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রেখো না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ২১৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৩৮-[৬] আবূ বকরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’জন মুসলিম যখন পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হয়ে একজন অপরজনের ওপর অস্ত্র ধারণ করে তাহলে তারা উভয়ে জাহান্নামের দাঁরপ্রান্তে উপনীত হবে। অতঃপর যদি একজন অপরজনকে হত্যা করে বসে, তাহলে তারা উভয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

অপর বর্ণনাতে রয়েছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যখন দু’জন মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পর মুখোমুখি হয় তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামী হয়। আমি বললাম, হত্যাকারীর বিষয়টিতো পরিষ্কার; কিন্তু নিহত ব্যক্তি এমন (জাহান্নামী) হলো কেন? অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেননা সেও তার সঙ্গীকে হত্যা করার আকাঙ্ক্ষায় ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ قَتْلِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَالسُّعَاةِ بِالْفَسَادِ

وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ حَمَلَ أَحَدُهُمَا عَلَى أَخِيهِ السِّلَاحَ فَهُمَا فِي جُرُفِ جَهَنَّمَ فَإِذَا قَتَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ دَخَلَاهَا جَمِيعًا» . وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهُ: قَالَ: «إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بسيفهما فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ» قُلْتُ: هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ؟ قَالَ: «إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ»

وعن ابي بكرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا التقى المسلمان حمل احدهما على اخيه السلاح فهما في جرف جهنم فاذا قتل احدهما صاحبه دخلاها جميعا» . وفي رواية عنه: قال: «اذا التقى المسلمان بسيفهما فالقاتل والمقتول في النار» قلت: هذا القاتل فما بال المقتول؟ قال: «انه كان حريصا على قتل صاحبه»

ব্যাখ্যা: আবূ বাকরাহ্ এ হাদীসটি উষ্ট্রের যুদ্ধের সময় আহনাফ বিন কায়সকে লক্ষ্য করে বর্ণনা করেন। এ যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল ‘আলী ও তার সাহাবীদের সাথে উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) ও তার সাহাবীদের। এই যুদ্ধকে উষ্ট্রের যুদ্ধ বলার কারণ হলো সেদিন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) উটের উপর সওয়ার ছিলেন। এজন্য এর নাম হয় উষ্ট্রের যুদ্ধ।

(فِى النَّارِ) এর ব্যাখ্যা ‘আল্লামা ইবনু হাজার ‘আস্ক্বালানী বলেনঃ যদি আল্লাহ তাদের জন্য এ বিষয়টি কার্যকর করে থাকেন তবে উভয়ে এমন কার্য সম্পাদন করে যাতে তারা শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে।

বাকিল্লানী এ হাদীসকে প্রমাণস্বরূপ পেশ করে বলেন যে, যে ব্যক্তি কোনো পাপ কর্মের ইচ্ছা পোষণ করবে আর তা কাজে পরিণত না করলেও গুনাহগার হবে। কিন্তু যারা এর বিরোধিতা করে তারা এই হাদীসের জবাবে বলেন, এটা কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছা পোষণ করে, অতঃপর দৃঢ় সংকল্প করে অথচ করে না, সে গুনাহগার হবে কিনা, মতভেদ রয়েছে।

কুসতুলানীও অনুরূপ মত পোষণ করেন। তিনি বলেনঃ এটা কাজের সাথে জড়িত। আর তা হচ্ছে অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের সম্মুখীন হওয়া এবং যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। ঘাতক ও নিহত ব্যক্তি জাহান্নামে একই স্তরের হওয়া অবশ্যক নয়। সুতরাং ঘাতককে যুদ্ধ করা ও হত্যা করার শাস্তি দেয়া হবে। আর নিহত ব্যক্তিকে শুধু যুদ্ধের জন্য শাস্তি দেয়া হবে। তাই বুঝা গেলো যে, শুধু ইচ্ছা পোষণ করার জন্য শাস্তি দেয়া হয়নি। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪২৬২)

* খত্ত্বাবী বলেনঃ এই শাস্তির বিধান প্রযোজ্য এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে দুনিয়াবী শত্রুতার নিমিত্তে যুদ্ধ করে অথবা রাজত্ব কামনা করে। সুতরাং যে অত্যাচারী অথবা আক্রমণকারীর সাথে যুদ্ধ করে তার ওপর শাস্তি প্রযোজ্য নয়। কেননা এক্ষেত্রে শারী‘আতের নির্দেশ রয়েছে। (ফাতহুল বারী ১২তম খন্ড, হাঃ ৬৮৭৫)

কোনো মুহাদ্দিস বলেনঃ হত্যাকারী ও নিহত উভয়ে জাহান্নামী এক্ষেত্রে কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তাদের যুদ্ধ স্বার্থবাদী হওয়ায় উভয়ে জাহান্নামে দাখিল হওয়ার যোগ্য। কখনো এর জন্য শাস্তি দেয়া হয় কখনো আল্লাহ মাফ করে দেন। এটা আহলে হকদের অভিমত।

সাহাবীগণের মাঝে যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তা এই শাস্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। আহলুস্ সুন্নাহ্ ও আহলুল হকদের ‘আকীদা হলো তাদের প্রতি সুধারণা রাখা। আর তাদের মাঝে ঘটে যাওয়া বিষয়াবলীকে এবং তাদের পরস্পর যুদ্ধের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ থেকে বিরত থাকা। তারা ইজতিহাদ করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু এগুলো তারা পাপের উদ্দেশে বা দুনিয়া লাভের উদ্দেশে করেননি। বরং তাদের প্রত্যেকেই মনে করতো যে, তারা ন্যায়পন্থী সত্যবাদী এবং প্রতিপক্ষরা অন্যায়কারী ও বাড়াবাড়িকারী। এভাবেই তাদের মাঝে আল্লাহর বিধানের প্রতি প্রত্যাবর্তন করতে গিয়ে যুদ্ধ অবধারিত হয়ে যায়। তাদের কেউ ছিলেন সঠিক, আবার কেউ ভুল-ত্রুটির ক্ষেত্রে অপারগ হওয়াই বেঠিক। কেননা এটা হয়েছে ইজতিহাদের কারণে। আর মুজতাহিদ যখন ভুল করে তখন তার গুনাহ হয় না। আহলুস্ সুন্নাহ্-এর মত হলো ‘আলী ঐ যুদ্ধে সঠিক ও ন্যায়পন্থী ছিলেন। আর সমস্যাটা ছিল সংশয়পূর্ণ। এমনকি সাহাবীদের একটি দল এই বিষয়ে দিশেহারা এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা উভয় দল থেকে বিরত ছিলেন এবং যুদ্ধে জড়াননি। আর নিশ্চিতভাবে সঠিকতা বুঝতে পারেননি। অবশেষে তারা তাদেরকে সহযোগিতা থেকে পিছু হটেছিলেন। (শারহে মুসলিম ১৮তম খন্ড, হাঃ ১৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বাকরা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৩৯-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ’উকল সম্প্রদায়ের কিছু লোক উপস্থিত হলো। অতঃপর তারা ইসলাম গ্রহণ করল। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাদের জন্য অনুপযোগী হলো। অতএব তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে সাদাকার উটনীর নিকট গিয়ে তার দুধ ও প্রস্রাব পানের নির্দেশ দিলেন। ফলে তারা নির্দেশ পালনার্থে সুস্থ হয়ে উঠল। কিন্তু তারা সুস্থ হয়ে মুরতাদ হয়ে গেল এবং তারা রাখালদেরকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিল। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ সংবাদ শুনে) তাদের পেছনে লোক পাঠালেন। অতঃপর তাদেরকে ধরে আনা হলে তাদের দু’ হাত ও দু’ পা কেটে ফেললেন এবং তাদের চোখ ফুঁড়ে দিলেন, তারপর তাদের রক্তক্ষরণস্থলে দাগালেন না, যাতে তারা মৃত্যুবরণ করে।

অপর বর্ণনাতে রয়েছে, লোকেরা তাদের চোখে লৌহ শলাকা দিয়ে মুছে দিল। অন্য বর্ণনাতে আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লৌহ শলাকা আনার হুকুম করলেন, যাকে গরম করা হলো এবং তাদের চোখের উপর মুছে দেয়া হলো। অতঃপর তাদেরকে উত্তপ্ত মাটিতে ফেলে রাখলেন। তারা পানি চাইল কিন্তু তাদেরকে পানি পান করানো হয়নি। পরিশেষে তারা এ করুণ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ قَتْلِ أَهْلِ الرِّدَّةِ وَالسُّعَاةِ بِالْفَسَادِ

وَعَن أَنَسٍ قَالَ: قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفَرٌ مِنْ عُكْلٍ فَأَسْلَمُوا فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَأْتُوا إِبِلَ الصَّدَقَةِ فَيَشْرَبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا فَفَعَلُوا فَصَحُّوا فَارْتَدُّوا وَقَتَلُوا رُعَاتَهَا وَاسْتَاقُوا الْإِبِلَ فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمْ فَأُتِيَ بِهِمْ فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ ثُمَّ لَمْ يَحْسِمْهُمْ حَتَّى مَاتُوا . وَفِي رِوَايَةٍ: فَسَمَّرُوا أَعْيُنَهُمْ وَفِي رِوَايَةٍ: أَمَرَ بِمَسَامِيرَ فَأُحْمِيَتْ فَكَحَّلَهُمْ بِهَا وَطَرَحَهُمْ بِالْحَرَّةِ يَسْتَسْقُونَ فَمَا يُسْقَوْنَ حَتَّى مَاتُوا

وعن انس قال: قدم على النبي صلى الله عليه وسلم نفر من عكل فاسلموا فاجتووا المدينة فامرهم ان ياتوا ابل الصدقة فيشربوا من ابوالها والبانها ففعلوا فصحوا فارتدوا وقتلوا رعاتها واستاقوا الابل فبعث في اثارهم فاتي بهم فقطع ايديهم وارجلهم وسمل اعينهم ثم لم يحسمهم حتى ماتوا . وفي رواية: فسمروا اعينهم وفي رواية: امر بمسامير فاحميت فكحلهم بها وطرحهم بالحرة يستسقون فما يسقون حتى ماتوا

ব্যাখ্যা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ‘উক্ল ও ‘উরায়নাহ্ গোত্রের লোকজন আগমন করলো, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করলো। কোনো বর্ণনায় ‘উক্ল এবং ‘উরায়নাহ্ উভয়টি উল্লেখ আছে। আবার কোনো বর্ণনায় শুধু ‘উক্ল আছে এবং কোনো বর্ণনায় শুধু ‘উরায়নাহ্ উল্লেখ আছে। যেই বর্ণনায় ‘উক্ল ও ‘উরায়নাহ্ উভয়টি অছে সেটি সর্বাধিক সঠিক।

আবূ আওয়ানাহ্ ও ত্ববারানী বর্ণনা করেন যে, তাদের চারজন ছিল ‘উরায়নাহ্ গোত্রের এবং তিনজন ছিল ‘উক্ল গোত্রের। তারা মদীনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করে তথাকার বাতাস ও পানিকে পছন্দসই মনে করলো না। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা মদীনার আবহাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর মনে করলো। ফলে রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের পেট ফুলে যায়। (তুহফাতুল আহওয়াযী ১ম খন্ড, হাঃ ৭২)

তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এই অভিযোগ করলে তিনি দুগ্ধবতী সাদাকার উটের কাছে যেতে বললেন। সহীহ মুসলিম ব্যতীত অন্য বর্ণনায় রসূলের উটের কথা উল্লেখ আছে। উভয় বর্ণনাই সহীহ।

কেউ কেউ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দু‘টি সমাধানের পথ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি উট ছিল যাকে এবং সাদাকার উটকে একই দিকে চরানো হতো। তাই এতদুভয়ের প্রত্যেকটিকে অন্যটির উপর বুঝানো হতো।

কেউ কেউ বলেনঃ বরং প্রত্যেকটি উটই সাদাকার উট। এখানে সম্বন্ধটি হচ্ছে অধীনতার সম্বন্ধ। কারণ তা মালিকের অধিনস্থ থাকে।

ইমাম মালিক, আহমাদ এবং সালাফীদের একটি দল গোশ্ত/গোশত ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর মূত্র পবিত্র হওয়ার দলীল হিসেবে এই হাদীসকে পেশ করেন। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফাহ্, শাফি‘ঈ ও আর একটি দল গোশত ভক্ষণযোগ্য হোক না হোক সব প্রাণীর মূত্র অপবিত্র বলে মত পোষণ করেন। তারা এর প্রমাণ স্বরূপ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত «اسْتَنْزِهُوا مِنَ الْبَوْلِ فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنْهُ» হাদীসকে এবং বুখারী ও মুসলিমে ইবনু ‘আব্বাস থেকে বর্ণিত, مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْل ও আবূ ইয়া‘লা থেকে বর্ণিত «إِنَّ اللّٰهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَ أُمَّتِي فِيمَا حُرِّمَ عَلَيْهَا» হাদীসকে পেশ করেন। বর্ণিত উল্লেখিত হাদীসের উত্তরে তুহফাতুল আহওয়াযী-এর লেখক বলেন- হাদীসে الْبَوْل থেকে উদ্দেশ্য হলো মানুষের পেশাব। কেননা সহীহুল বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে- «كَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ بَوْلِه»তিনি শুধু মানুষের পেশাবকে উল্লেখ করেছেন। তাহলে বুঝা গেল, الْبَوْل এর الْ হচ্ছে عهد خارجى। সুতরাং এর «لَا يَسْتَتِرُ مِنَ بَوْل» অর্থ হলো মানুষের পেশাব। সব প্রাণীর পেশাব উদ্দেশ্য নয়। সুতরাং যারা এটাকে ‘আম্ গণ্য করছে এই হাদীসে তাদের কোনো প্রমাণ নেই।

আর আবূ ইয়া‘লা-এর হাদীসের উত্তরে বলেনঃ এ হাদীসটি বেছে নেয়ার স্বাধীনতা বা স্বেচ্ছামূলক অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জরুরী অবস্থার ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং বাধ্যগত অবস্থায় এটা হারাম নয়। যেমন মৃত প্রাণীর গোশত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন- قَدْ فَصَّلَ لَكُمْ مَا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ ‘‘তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছে তা তোমাদের জন্য বিশদভাবে বাতলে দেয়া হয়েছে।’’ (সূরা আল আন্‘আম ৬ : ১১৯)

আরো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- «لَا بَأْسَ بِبَوْلِ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُه» ‘‘গোশ্ত/গোশত ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর মূত্র দোষের কিছু নয়’’ ও জাবির-এর হাদীস «مَا أُكِلَ لَحْمُهُ فَلَا بَأْسَ بِبَوْلِه» ‘‘গোশ্ত/গোশত ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর মূত্র দোষের কিছু নয়’’ তবে ত্ববারানী-এর এই হাদীস দু’টি য‘ঈফ। এছাড়া বকরীর আস্থাবলে সালাত আদায় করার অনুমতি হাদীসে রয়েছে। আর পেশাব যদি পবিত্র না হতো তবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বারা চিকিৎসা নিতে বলতেন না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ১ম খন্ড, হাঃ ৭২)

কাযী ‘ইয়ায আপত্তি করে বলেনঃ মুসলিমরা ঐকমত্য করেছেন যে, যার হত্যা ওয়াজিব সে পানি চাইলে তা নিষেধ করা যাবে না। কারণ এতে শাস্তি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এর উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের সাথীগণ বলেন- যার নিকটে পবিত্রতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পানি থাকে তার জন্য তৃষ্ণার কারণে মৃত্যুর ভয়ে মুরতাদ কে পানি পান করানো এবং তায়াম্মুম করা জায়িয নয়। তবে তিরস্কৃত অথবা চতুষ্পদ প্রাণীকে পানি পান করানো ওয়াজিব।

ইমাম নববী বলেনঃ যদি মুরতাদ পিপাসায় মরে যায় তবুও সে তায়াম্মুম না করে পানি ব্যবহার করবে।

খত্ত্বাবী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে এরূপ আচরণ করেছিলেন এজন্য যে, তিনি এর দ্বারা মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন।

কেউ বলেন, তাদেরকে পিপাসায় কাতর করার রহস্য হলো তারা উটের দুধ পানের নি‘আমাতকে অস্বীকার করেছিল। যা তাদেরকে ক্ষুধামন্দা ও অস্বাস্থ্যকর থেকে রোগ মুক্তি দান করে। এর আর একটি কারণ ছিল যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারকে পিপাসার্ত করেছিল তাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্দু‘আ করেছিলেন। সেই ঘটনা নাসায়ীতে বর্ণিত আছে। সুতরাং সম্ভাবনা আছে যে, তারা যে রাত্রের স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উটের দুধ পাঠানোর নিয়ম চালু করেছিল যেটাকে তারা সেই রাত্রিতে বন্ধ করে দিয়েছিল। যেমন ইবনুল সা‘দ উল্লেখ করেন যা হাফিয ফাতহুল ওয়াদূদে উল্লেখ করেন।

অথবা বলা হয় কিসাস স্বরূপ তাদের সাথে এরূপ আচরণ করা হয়েছিল। কারণ তারা এরূপ আচরণ রাখালদের সাথে করেছিল। অথবা তাদের মারাত্মক অপরাধ করার কারণে তারা ঐ শাস্তির শিকার হয়েছিল যা আবূ কাতাদাহ-এর বক্তব্যের ইঙ্গিতে বুঝা যায়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৫৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪০-[৮] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাদাকা প্রদানে উৎসাহ দিতেন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ করতে নিষেধ করতেন। (আবূ দাঊদ)[1]

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحُثُّنَا عَلَى الصَّدَقَةِ وَيَنْهَانَا عَنِ الْمُثْلَةِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

عن عمران بن حصين قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحثنا على الصدقة وينهانا عن المثلة. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: খত্ত্বাবী বলেনঃ الْمُثْلى তথা অঙ্গচ্ছেদন বা অঙ্গবিকৃতি হলো মৃত্যুর পূর্বে বা পরে নিহত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছেদন করে অথবা আকৃতির বিকৃতি করে শাস্তি প্রদান করা। যেমন নাক কর্তন করা, কান কেটে ফেলা অথবা চোখ উপড়ে ফেলা অথবা এরূপ কোনো অঙ্গহানি করা। এই নিষেধ যখন কাফির মুসলিম নিহত ব্যক্তির অঙ্গ বিকৃতি না করে তখন প্রযোজ্য। আর যদি অঙ্গচ্ছেদন করা হয় তবে কাফিরের অঙ্গচ্ছেদন করা জায়িয। সে কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উরায়নাহ্ গোত্রের লোকেদের হাত ও পা কেটেছিলেন এবং তাদের চোখকে উপড়ে ফেলেছিলেন। কেননা তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাখালদের অনুরূপ শাস্তি দিয়েছিল।
তেমনিভাবে মুসলিমের কেউ যখন নিহত ব্যক্তির অঙ্গ বিকৃতি করে এবং হত্যার পূর্বে শাস্তি দেয় তখন মুসলিমের মাঝে ক্বিসাসের হুকুম জায়িয। কেননা সেও অনুরূপ শাস্তির যোগ্য। আর এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوْا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدٰى عَلَيْكُمْ

‘‘কাজেই যে কেউ তোমাদের প্রতি কঠোর আচরণ করে, তবে তোমরাও তাদের প্রতি কঠোর আচরণ কর যেমনি কঠোরতা সে তোমাদের প্রতি করেছে। (সূরা আল বাকারা ২ : ১৯৪) (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৬৬৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪১-[৯] ইমাম নাসায়ী (রহঃ) হাদীসটি আনাস হতে বর্ণনা করেছেন।[1]

وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ عَن أنس

ورواه النساىي عن انس

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪২-[১০] ’আব্দুর রহমান ইবনু ’আব্দুল্লাহ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইস্তিঞ্জায় গেলেন। আর এ সময় আমরা দু’টি বাচ্চাসহ একটি ’হুম্মারাহ্’ (লাল ঠোঁট বিশিষ্ট ছোট পাখি) দেখতে পেয়ে তার বাচ্চা দু’টি ধরে আনলাম। অতঃপর হুম্মারাহ্ পাখিটি এসে তার দুই ডানা মাটির উপর চাপড়াতে লাগল। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে এরূপ অবস্থাদৃষ্টে জিজ্ঞেস করলেন, এর বাচ্চাগুলো এনে কে ব্যথিত করেছে? তার বাচ্চাগুলো তাকে ফেরত দিয়ে দাও। অতঃপর আমরা পিঁপড়ার একটি বসতি জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এটি কে জ্বালিয়েছে? বললাম, আমরা। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অগ্নির মালিক ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তির অধিকার কারো নেই। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ فَرَأَيْنَا حُمْرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا فَجَاءَتِ الْحُمْرَةُ فَجَعَلَتْ تَفْرُشُ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا؟ رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْهَا» . وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا قَالَ: «مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ؟» فَقُلْنَا: نَحْنُ قَالَ: «إِنَّهُ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلاَّ ربُّ النَّار» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عبد الرحمن بن عبد الله عن ابيه قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فانطلق لحاجته فراينا حمرة معها فرخان فاخذنا فرخيها فجاءت الحمرة فجعلت تفرش فجاء النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «من فجع هذه بولدها؟ ردوا ولدها اليها» . وراى قرية نمل قد حرقناها قال: «من حرق هذه؟» فقلنا: نحن قال: «انه لا ينبغي ان يعذب بالنار الا رب النار» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা : حُمَّرَةٌ ‘হা’ বর্ণে পেশ যোগে ‘মীম’ বর্ণে তাশদীদ অথবা সুকুন যোগে এর অর্থ طائر صغير অর্থাৎ চড়ুয়ের মতো ছোট পাখি।

تَفْرُشُ শব্দের অর্থ পাখা ঝাপটানো পাখিটির দু’টি বাচ্চাকে সাহাবীগণ নিয়ে আসলে বাচ্চাদের মা পাখিটা উভয়ের উপরে পাখা ঝাপটিয়ে উড়তে থাকে। ছায়া দান করতে থাকে।

খত্ত্বাবী বলেনঃ এ হাদীসে ভীমরুল বা বোলতার ঘরকে পোড়ানো মাকরূহ-এর প্রমাণ রয়েছে।

আর পিপড়ার ক্ষেত্রে অজুহাত আরো কম। কারণ পোড়ানো ছাড়া এর ক্ষতি থেকে কখনো রক্ষা পাওয়া যায়। পিপড়া দুই প্রকার : (১) ক্ষতিকারী কষ্টদায়ক পিপড়া। দুর্ব্যবহারকারী পিপড়াকে প্রতিরোধ করা জায়িয। (২) যেই পিপড়াতে কোনো ক্ষতি নেই অর্থাৎ ক্ষতিকর কষ্টদায়ক পিপড়া নয়, এগুলোর পা লম্বা লম্বা হয়। এগুলো হত্যা করা বৈধ নয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৬৭২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪৩-[১১] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী ও আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)হতে বর্ণিত। তারা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতি শীঘ্রই আমার উম্মাতের মধ্যে মতানৈক্য ও দলাদলি সৃষ্টি হবে। তন্মধ্যে একদল এরূপ হবে যে, তারা খুব সদাচরণ করবে কিন্তু তাদের ’আমল খারাপ হবে। তারা কুরআন মাজীদ পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের গলদেশ অতিক্রম করতে পারবে না। অতঃপর তারা দীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়। তারা দীনের দিকে ফিরে আসবে না, যেভাবে নিক্ষিপ্ত তীর ধনুকের দিকে ফিরে আসে না। তারা মানুষ এবং পশু-প্রাণীর মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম। এমতাবস্থায় সুসংবাদ ঐ সকল লোকেদের জন্য যারা তাদেরকে হত্যা করবে (গাজী হবে) এবং তারা যাকে হত্যা করবে (শহীদ হবে)। তারা আল্লাহর কিতাবের দিকে লোকেদেরকে আহবান করবে। অথচ তাদের কোনো কিছুই আমাদের সুন্নাত অনুযায়ী হবে না। অতএব যে ব্যক্তি তাদের সাথে যুদ্ধ করবে সে আল্লাহ তা’আলার সবচেয়ে প্রিয়ভাজন হবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! তাদের পরিচয়-নমুনা কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মাথা মুন্ডানো। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي اخْتِلَافٌ وَفُرْقَةٌ قَوْمٌ يُحسِنونَ القيلَ ويُسيئونَ الفِعلَ يقرؤون الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الدِّينِ مُروقَ السَّهمِ فِي الرَّمِيَّةِ لَا يَرْجِعُونَ حَتَّى يَرْتَدَّ السَّهْمُ عَلَى فُوقِهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ طُوبَى لِمَنْ قَتَلَهُمْ وَقَتَلُوهُ يَدْعُونَ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ وَلَيْسُوا منَّا فِي شيءٍ مَنْ قاتلَهم كَانَ أَوْلَى بِاللَّهِ مِنْهُمْ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا سِيمَاهُمْ؟ قَالَ: «التَّحْلِيقُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي سعيد الخدري وانس بن مالك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: سيكون في امتي اختلاف وفرقة قوم يحسنون القيل ويسيىون الفعل يقروون القران لا يجاوز تراقيهم يمرقون من الدين مروق السهم في الرمية لا يرجعون حتى يرتد السهم على فوقه هم شر الخلق والخليقة طوبى لمن قتلهم وقتلوه يدعون الى كتاب الله وليسوا منا في شيء من قاتلهم كان اولى بالله منهم قالوا: يا رسول الله ما سيماهم؟ قال: «التحليق» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ) এর অর্থ তাদের কুরআন অথবা ক্বিরাআত অর্থাৎ কণ্ঠ ও হরফের মাখরাজ থেকে তাদের ক্বিরাআতের প্রভাব অন্তরে অতিক্রম করবে না। অথবা এর অর্থ হলো তাদের ক্বিরাআত আল্লাহর নিকট উঠবে না এবং আল্লাহ কবুল করবেন না। এরা মানুষের মাঝে এবং জন্তুর মাঝে সর্বনিকৃষ্ট। কেউ বলেনঃ خَلْقِ ও الْخَلِيقَةِ শব্দদ্বয়ের অর্থ অভিন্ন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সমস্ত সৃষ্টজীব। এদেরকে হত্যাকারী এবং এদের হাতে শহীদ হওয়া সৌভাগ্য।

ইমাম নববী বলেনঃ এ হাদীস দ্বারা কেউ দলীল গ্রহণ করেছেন যে, মাথা মুন্ডানো মাকরূহ। কিন্তু এখানে সেই ধরনের কোনো নিদর্শন নেই। বস্তুতঃ এটা তাদের চিহ্ন বিশেষ। আর চিহ্ন কখনো হারাম হয় আবার কখবো মুবাহ হয়। যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ آيَتهمْ رَجُل أَسْوَد إِحْدٰى عَضُدَيْهِ مِثْل ثَدْي الْمَرْأَة ‘‘তাদের নিদর্শন হলো কালো লোক, তার এক বাহু মহিলাদের স্তনের বুটির মতো’’। বুঝা গেলো এটা হারাম নয়।

উপরোক্ত সুনানে আবূ দাঊদে বর্ণিত হয়েছে-

أَنَّ رَسُول اللّٰه ﷺ رَأَى صَبِيًّا قَدْ حُلِقَ بَعْض رَأْسه، وَقَالَ : احْلِقُوهُ كُلَّه، أَوِ اتْرُكُوهُ كُلَّه

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বালককে মাথার কিছু অংশ মুন্ডানো দেখলেন এবং বললেন, তুমি মাথার সম্পূর্ণটা হয় মুড়িয়ে ফেলো অথবা পূর্ণটায় ছেড়ে দাও। এই হাদীসটি মাথা মুন্ডানো বৈধ হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ। এখানে কোনো ব্যাখ্যার দরকার নেই।
বিদ্বানগণ বলেন- মাথা মুন্ডানো সব সময় জায়িয। কিন্তু মাথায় চুল থাকাকালীন তৈল মাখা এবং কেশবিন্যাস করা কষ্টসাধ্য হলে মাথা মুন্ডানো মুস্তাহাব। আর যদি কষ্টকর না হয় তবে মাথা না মুন্ডানো মুস্তাহাব। (‘আওনুল মা‘বূদ ৮ম খন্ড, হাঃ ৪৭৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪৪-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো মুসলিম ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার্ রসূলুল্লা-হ’ (অর্থাৎ- আল্লাহ তা’আলা ছাড়া সত্যি কোনো মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল)- এ কথার সাক্ষ্য দেয়, তাকে তিনটি কাজের যে কোনো একটি কাজ ব্যতীত খুন করা হালাল নয়। ১- বিবাহ করার পর যিনা করলে পাথর নিক্ষেপে তাকে হত্যা করা। ২- যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, তাকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে। ৩- অনৈতিকভাবে কাউকে হত্যা করলে তার বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ إِلَّا بِإِحْدَى ثَلَاثٍ زِنا بعدَ إِحْصانٍ فإِنَّهُ يُرجَمُ ورجلٌ خرَجَ مُحارِباً للَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِنَّهُ يُقْتَلُ أَوْ يُصْلَبُ أَوْ يُنْفَى مِنَ الْأَرْضِ أَوْ يَقْتُلُ نَفْسًا فَيُقْتَلُ بِهَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن عاىشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يحل دم امرى مسلم يشهد ان لا اله الا الله وان محمدا رسول الله الا باحدى ثلاث زنا بعد احصان فانه يرجم ورجل خرج محاربا لله ورسوله فانه يقتل او يصلب او ينفى من الارض او يقتل نفسا فيقتل بها» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: (مُحارِبًا لِلّٰهِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ডাকাত ও রাষ্ট্রদ্রোহী। (يُقْتَلُ) শব্দটিকে কারী শর্তারোপ করেছেন অর্থাৎ «إِنْ قَتَلَ نَفْسًا بِلَا أَخْذ مَال» যদি সে মাল না নিয়ে কাউকে হত্যা করে তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। এর উপর ভিত্তি করে «أو» হরফটি «تفصيل» তথা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার হবে। আর যখন «أو» হরফটি تخير তথা বেছে নেয়ার স্বাধীনতার জন্য ব্যবহার হবে তখন শর্তযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। যেমন এটা ইবনু ‘আব্বাস ও অন্যদের মাযহাব।

ইমাম মালিক বলেনঃ তাকে জীবিতাবস্থায় ক্রুশ বিদ্ধ করতে হবে এবং মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্ধ করতে থাকবে। ইমাম শাফি‘ঈ ও তার অনুসারীবৃন্দ বলেন যে, যদি হত্যা করে ও সম্পদ ছিনিয়ে নেয় তবে তাকে শূলে চড়াতে হবে ও হত্যা করতে হবে যাতে সেটা অন্যদের দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা হয়ে যায়।

আর নির্বাসন দেয়ার ব্যাপারে ইমাম শাফি‘ঈর মত হলো, সে একদেশ থেকে অন্যদেশ সদা পালিয়ে যেতে থাকবে। আবার কেউ বলেন- তার তাওবাহ্ যাহির না হওয়া পর্যন্ত সে নির্বাসনে আটক থাকবে।

কারী বলেনঃ আমাদের বিশুদ্ধ মত হলো যদি সে ভয় দেখানোয় না বেড়ে যায় তবে তাকে আটক রাখতে হবে। যা গৃহীত আল্লাহর বাণী থেকে- إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللهَ وَرَسُولَه

‘‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।’’ (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ৩৩)

আর স্পষ্ট হলো «أَوْ يُنْفٰى مِنْ الْأَرْض» এর পূর্বে «أَوْ تُقْطَع يَده وَرِجْله مِنْ خِلَاف» বলা। যাতে হাদীসটি আয়াতের সামঞ্জস্যের অধিকারী হয়। সম্ভবত এই বিলুপ্তিটা রাবীর ভুলবশতঃ অথবা সংক্ষিপ্তকরণের জন্য ঘটে গেছে। আমরা আলোচনায় যা স্পষ্ট করলাম তা হলো আয়াত ও হাদীসে «أو» হরফটি «تفصيل» (বিশ্লেষণের) জন্য ব্যবহার হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন এটা تخير তথা বেছে নেয়ার স্বাধীনতার জন্য ব্যবহার হয়েছে। আর ইমাম প্রত্যেক ছিনতাইকারীর জন্য চার শাস্তির মাঝে বাছাই করে নিবেন।

ইবনু জারীর বর্ণনা করেন যে, এ মতটি ইবনু ‘আব্বাস, সা‘ঈদ বিন মুসাইয়্যাব, মুজাহিদ, ‘আত্বা, হাসান বাসরী, নাসায়ী ও যহ্হাক (রহঃ)-এর। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৪৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪৫-[১৩] ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ বলেছেন যে, তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রাতে সফরে ছিলেন। (এক রাতে) তাদের মাঝে একজন ঘুমিয়ে পড়ল। অতঃপর ঘুমন্ত লোকটি জেগে দেখে, এক ব্যক্তি একটি রশি হাতে নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এমতাবস্থায় ঘুমন্ত লোকটি ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোনো মুসলিমের পক্ষে জায়িয নয় যে, সে অন্য কোনো মুসলিমকে ভীতি প্রদর্শন করবে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمْ كَانُوا يَسِيرُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَامَ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَانْطَلَقَ بَعْضُهُمْ إِلَى حَبْلٍ مَعَه فَأَخذه فَفَزعَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يُرَوِّعَ مُسْلِمًا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابن ابي ليلى قال: حدثنا اصحاب محمد صلى الله عليه وسلم انهم كانوا يسيرون مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فنام رجل منهم فانطلق بعضهم الى حبل معه فاخذه ففزع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يحل لمسلم ان يروع مسلما» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীসটিকে কোনো লেখক (بَاب الرَّجُل يُرَوِّع الرَّجُل وَمَنْ أَخَذَ الشَّيْء عَلَى الْمِزَاح) অর্থাৎ ‘‘কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শন করা এবং ঠাট্টা-মশকরা করা’’ নামক শিরোনামের অধীনে নিয়ে এসেছেন। আর ইমাম আবূ দাঊদ (باب من يأخذ الشىئ من مزاح) অর্থাৎ ‘‘কোন ব্যক্তির ঠাট্টা-মশকরা করা’’ নামক শিরোনামের অধীনে নিয়ে এসেছেন।

فَزَعَ শব্দের অর্থ অভিধানে রয়েছে, الفرق و الذعر অর্থাৎ ভয় দেখানো। এর বহুবচন الفزاع।

ঠাট্টা-মশকরা করা নিষেধ এজন্য যে, তাতে কোনো উপকার নেই। বরং এটা কখনো সাময়িক সুখ লাভের সাথীর নিকটে রাগ বা ক্রোধের কারণ অথবা কষ্টের কারণে পরিণত হয়।

মুনাবী বলেন- যদি ঠাট্টা বা মশকরাকারী কষ্টদায়ক মশকরা করে তবুও হারাম। (‘আওনুল মা‘বূদ ১৩তম খন্ড, হাঃ ৪৯৯৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪৬-[১৪] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জিয্ইয়ার (করের) মাধ্যমে জমিন কিনে নিল (গ্রহণ করল), সে যেন তার হিজরতকে ফিরিয়ে দিতে চাইল। আর যে কোনো কাফিরের অপমান-অপদস্থের দায়িত্ব স্বীয় ঘাড়ে নিয়ে নিল, সে ইসলামকে তার পিঠের জন্য কর্তৃত্বশীল বানাল। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَخَذَ أَرْضًا بِجِزْيَتِهَا فَقَدِ اسْتَقَالَ هِجْرَتَهُ وَمَنْ نَزَعَ صَغَارَ كَافِرٍ مِنْ عُنُقِهِ فَجَعَلَهُ فِي عُنُقِهِ فَقَدْ وَلّى الإِسلامَ ظهرَه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي الدرداء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «من اخذ ارضا بجزيتها فقد استقال هجرته ومن نزع صغار كافر من عنقه فجعله في عنقه فقد ولى الاسلام ظهره» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীসে جزية বলতে ভূমিকে বুঝানো হয়েছে। কারণ ভূমিকর যুক্ত থাকে করযুক্ত জমিনের সাথে। খত্ত্বাবী বলেনঃ হাদীস প্রমাণ করে যে, যখন মুসলিম করযুক্ত জমিন কোনো কাফিরের নিকট থেকে ক্রয় করে তখন তার ওপর থেকে ভূমিকর বাতিল হয় না।

যুক্তিবাদীদের মতও এটাই। তবে তাদের মতো করযুক্ত জমির উৎপাদিত ফসলে উশর দিতে হবে না। তারা বলে ‘উশ্র ও কর একত্রিত হতে পারে না। সাধারণ সব ‘আলিমের মত হলো জমির উৎপাদিত ফসল পাঁচ ওয়াসাক পরিমাণ হলে ‘উশর ওয়াজিব।

ইমাম শাফি‘ঈ-এর নিকট خراج তথা কর দুই ধরনের- (১) جزية [জিয্ইয়াহ্] তথা কর, (২) ভাড়া। অতএব যখন কোনো ভূখণ্ড সন্ধির মাধ্যমে এই শর্তে বিজয় হয় যে, ভাড়া জমিটা তার মালিকের নিকট থাকবে। তখন এর জন্য যে, কর নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা جزية (জিয্ইয়াহ্) বা কররূপে গণ্য হবে। যা তাদের মাথা পিছু হারে নেয়া হবে। তাদের মধ্যে যে ইসলাম গ্রহণ করবে তার ওপর অর্পিত ভূমিকর বাদ হয়ে যাবে। যেমন প্রত্যেকের জিয্ইয়াহ্ রহিত হয়ে যায়। আর তাকে জমি থেকে উৎপাদিত ফসলের উশর দিতে হবে। আর যদি বিজয় এরূপ হয় যে, জমিগুলো মুসলিমদের জন্য। তারা প্রতি বছর জমির জন্য কিছু প্রদান করবে। আর জমি মুসলিমদের জন্যই থাকবে। এক্ষেত্রে যা কিছু তাদের নিকট থেকে নেয়া হবে তা ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে। চাই সে ইসলাম গ্রহণ করুক বা কাফির হয়ে থাকুক, উভয় সমান। তার ওপর শর্তানুযায়ী বিধান প্রযোজ্য হবে। আর এদের কেউ কোনো জমি বিক্রয় করলে তা বাতিল হবে। কারণ সে এমন বস্তু বিক্রয় করেছে যার সে মালিক নয়।

শায়খ ‘আল্লামা আরদাবীলী তাঁর ‘মাসাবীহ’-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘‘আল আযহার’’ নামক গ্রন্থে বলেন, যিম্মি বা অন্য কারো নিকট থেকে করযুক্ত জমি ক্রয় করার ব্যাপারে এই হাদীসে নিষেধ রয়েছে। কারণ এতে অপমান-লাঞ্ছনা রয়েছে। আর মু’মিন সম্মানিত। মু’মিন অপমানিত-লাঞ্ছিত হয় না। ইসলাম হলো শক্তিশালী ও সম্ভ্রান্ত আর কুফ্র হলো লাঞ্ছিত ও অপদস্ত। যখন মুসলিম লাঞ্ছনাকে বেছে নিবে তখন সে যেন ইসলামী রীতিকে তার পিঠের উপর নেতৃত্ব দান করবে। বিদ্বানগণ বলেন, করযুক্ত জমি বা খেরাজী জমি কয়েক ধরনের- (১) ইমাম কোনো শহরকে বলপূর্বক বিজয় করবে আর তা বিজয়ীদের মাঝে মূল্যের বিনিময়ে প্রদান করবেন এবং মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে দিবেন, তবে এর উপর কর নির্ধারণ করবে না। যেমন ‘উমার ইরাকের আবাদী জমির ক্ষেত্রে করেছিলেন।

(২) ইমাম কোনো শহরকে এই চুক্তিতে বিজয় করবেন যে, তথাকার জমি আমাদের জন্য থাকবে এবং কাফিরেরা কর পরিশোধ করে বসবাস করবে। এই করকে বলা হয় ভাড়া, যা তাদের ইসলাম গ্রহণে বাতিল হবে না।

(৩) ইমাম কোনো শহরকে এই চুক্তিতে বিজয় করেন যে, জমি মালিকের নিকটে থাকবে আর তারা কর দিয়ে বসবাস করবে। এই করকে جزية (জিয্ইয়াহ্) বলা হয়, যা ইসলাম গ্রহণ করলে রহিত হয়ে যায়। ‘আলিমদের মতে এই প্রকারটি হচ্ছে হাদীসের ব্যাখ্যা। হিদায়াহ্ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, সঠিক কথা হলো- নিশ্চয় সাহাবীগণ (রাঃ) খিরাজী জমি ক্রয় করলে তারা জমির কর আদায় করতো। বায়হাক্বী বলেন, ইবনু মাস্‘ঊদ, খাববাব বিন আর্ত, হুসায়ন বিন ‘আলী এবং শুবাইহ প্রমুখ -এর খিরাজী জমি ছিল। ‘উতবাহ্ বিন ফারকাদ আস্ সুলামী একবার ‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব -কে বললেন- আমি আবাদী জমি ক্রয় করেছি। ‘উমার বললেনঃ জমির পূর্বের মালিক যেমন করতো তু্মি তাই করো।

বাহজুল মালিক গোত্রের এক মহিলা ইসলাম গ্রহণ করলে ‘উমার তাকে চিঠি লিখে পাঠিয়ে বললেনঃ যদি সে তার জমি নিতে চায় এবং জমি কর প্রদান করে তবে তোমরা তাকে তার জমিতে ছেড়ে দাও। অন্যথায় মুসলিমদেরকে প্রদান করো।

ইবনু আবী শায়বাতে বর্ণিত আছে, বাহজুল মালিকের অধিবাসীদের জমিদারগণকে ‘উমার বললেন, তাদের জমি তাদেরকে কর দেয়ার শর্তে দিয়ে দাও।

ইবনু আবূ শায়বাহ্, ‘উমার ও ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তারা বলেন- যখন কেউ ইসলাম কবুল করে তার জিয্ইয়াহ্ মাফ করে দিবো কিন্তু তার জমির কর গ্রহণ করবো।

একদা ‘আলী -এর যুগে এক জমিদার ইসলাম গ্রহণ করলে বললেন- যদি তুমি তোমার জমিতে বসবাস করতে চাও তাহলে মাথাপিছু কর রহিত করে দিলাম। আর তোমার জমির কর গ্রহণ করবো। আর যদি তুমি তা ছেড়ে দাও তাহলে আমরা এর অধিক হকদার। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ৩০৮০)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪৭-[১৫] জারীর ইবনু ’আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খস্’আম সম্প্রদায়ের মুকাবিলায় একটি ক্ষুদ্র বাহিনী পাঠালেন। অতঃপর উক্ত সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক লোক আত্মরক্ষার জন্য সাজদারত হলো, কিন্তু দ্রুতবেগে তাদেরকে হত্যা করা হলো। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছল। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত ব্যক্তির উত্তারাধিকারীদেরকে অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) পরিশোধ করার জন্য হুকুম দিয়ে বললেন, যে সকল মুসলিমরা মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে, আমার ওপর তাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। সাহাবীগণ জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রসূল, এরূপ কেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কেননা তাদের উচিত ছিল অনতিদূরে অবস্থান করা, যাতে একে অপরের আগুন পর্যন্ত দৃষ্টিপাত না হয়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَرِيَّةً إِلَى خَثْعَمَ فَاعْتَصَمَ نَاسٌ مِنْهُمْ بِالسُّجُودِ فَأَسْرَعَ فِيهِمُ الْقَتْلَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَ لَهُمْ بِنِصْفِ الْعَقْلِ وَقَالَ: «أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ مُقِيمٍ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ؟ قَالَ: «لَا تَتَرَاءَى نَارَاهُمَا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

وعن جرير بن عبد الله قال: بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم سرية الى خثعم فاعتصم ناس منهم بالسجود فاسرع فيهم القتل فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فامر لهم بنصف العقل وقال: «انا بريء من كل مسلم مقيم بين اظهر المشركين» قالوا: يا رسول الله لم؟ قال: «لا تتراءى ناراهما» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: খত্ত্বাবী বলেনঃ তাদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানতে পারলেন তখন তাদের ওপর অর্ধ দিয়াত দিতে বলেন। এর কারণ ‘‘ফাতহুল ওয়াদূদ’’-এ উল্লেখ আছে যে, এর কারণ হলো তারা নিজেদেরকে কাফিরদের মাঝে রাখার জন্য নিজেরা সহযোগিতা করেছে। এরা যেন এমন লোকের মতো যারা নিজের কর্মের কারণে অথবা অন্যের কারণে ধ্বংস হয়। তাই তাদের অপরাধের অংশ বাদ হয়ে গেছে।

নিহায়াহ্ গ্রন্থে উল্লেখ আছে- মুসলিমদেরকে মুশরিকদের বাসস্থান থেকে দূরে থাকা জরুরী ওয়াজিব।

আর এমন স্থানে অবতরণ না করে যেখানে তাদের গৃহে অগ্নি প্রজ্জ্বলন করলে মুশরিকদের চিহ্ন আরো স্পষ্ট হয়। কিন্তু সে মুসলিমের সাথে রাত্রে অবতরণ করবে। এই হাদীসটির দ্বারা হিজরতের জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে।

تَرَاءَى শব্দটি বাবে تفاعل থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো কেউ কাউকে দেখা। تَرَاءَى-কে نار-এর সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে। এটা ‘আরবদের রূপক কথা। এর অর্থ হচ্ছে মুখোমুখী থাকা। نَارَاهُمَا تَخْتَلِفَانِ অর্থাৎ এটা আহবান করে আল্লাহর দিকে আর এটা আহবান করে শায়ত্বনের দিকে।

খত্ত্বাবী বলেনঃ এর তিন ধরনের অর্থ আছে- ১. কেউ বলেন, এর অর্থ হলো দু’টির বিধান সমান নয়।

২. কেউ বলেন, এর অর্থ আল্লাহ দারুল ইসলাম ও দারুল কুফ্রকে আলাদা করেছেন। সুতরাং কাফিরদের এলাকায় মুসলিমদের বসবাস করা জায়িয নয়।

৩. কেউ বলেন, এর অর্থ হলো মুসলিম যেন মুশরিকের আদর্শ-বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যম--ত না হয়। আর তাদের চরিত্র ও আকার-আকৃতির সাথে মিলে না যায়।

হাফিয শামসুদ্দীন ইবনুল কইয়্যিম (রহ.) বলেনঃ «لَا تَتَرَاءَى نَارَاهُمَا» বাক্যটি সাবলীল যথার্থ বিশুদ্ধ যাতে সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থ নিহিত থাকে। তিনি বলেন, হাদীসের অর্থ আগুন হলো কোনো গোত্রের অবতরণের চিহ্ন স্বরূপ। এটা তাদের দিকে আহবান করে। অতএব মুশরিকদের আগুন শায়ত্বনের পথে এবং জাহান্নামের আগুনের প্রতি আহবান করে। কেননা তা আল্লাহর অবাধ্যতার জন্য জ্বালানো হয়েছে। আর মু’মিনের আগুন আল্লাহর প্রতি, তার আনুগত্যের প্রতি ও দীনের সম্মানের প্রতি। এই যখন অবস্থা তখন দুই আগুন কিভাবে একই হয়।

সুনানে নাসায়ীতে রয়েছে- «لَا يَقْبَلُ اللّٰهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ مُشْرِكٍ بَعْدَمَا أَسْلَمَ عَمَلًا، أَوْ يُفَارِقَ الْمُشْرِكِينَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ» অর্থাৎ ‘‘কোনো মুশরিক ইসলাম গ্রহণ করার পর মুশরিকদের পরিত্যাগ করে মুসলিমের নিকটে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ কোন ‘আমল কবুল করেন না।’’ আবূ দাঊদে সামুরাহ্ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে, যে ব্যক্তি মুশরিকের সাথে মিলেমিশে বসবাস করে সে তাদের মতই। আবূ দাঊদ-এর মারাসীলে উল্লেখ আছে।

মাকহূল (রহঃ) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, তোমরা সন্তানদেরকে শত্রুর পাশে রেখো না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৬৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪৮-[১৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমান কোনো লোককে হত্যার প্রতিবন্ধকরূপে কাজ করে। সুতরাং কোনো মু’মিন যেন কোনো লোককে আকস্মিকভাবে হত্যা না করে বসে। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْإِيمَانُ قَيَّدَ الْفَتْكَ لَا يفتِكُ مُؤمنٌ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الايمان قيد الفتك لا يفتك مومن» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: মাজমা‘ ও নিহায়াহ্ গ্রন্থে লেখক বলেনঃ الْفَتْكَ বলা হয়, কোনো ব্যক্তি তার সাথীর নিকটে আসে, যে অসতর্ক অতঃপর সে তার ওপর আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করে। তিনি সেখানে বলেন, ঈমান মু’মিনকে অসতর্ক করা থেকে বিরত রাখে যেমন বন্ধন স্বাধীনতাকে রহিত করে।

নিহায়াহ্ গ্রন্থাকারে বলেনঃ الْفَتْكَ বলা হয় কোনো লোক তার গর্তে থাকা অসতর্ক বন্ধুর ওপর হামলা করে হত্যা করে। আর বিশ্বাসঘাতকতা তাকে ধোঁকায় ফেলে, অতঃপর গোপন স্থানে হত্যা করে।

‘আওনুল মা‘বূদ গ্রন্থকার বলেনঃ হাদীসের অর্থ হলো নিশ্চয় ঈমান আকস্মিক আক্রমণের শিকার তথা যাকে নিরাপত্তা দেয়ার পর বিশ্বাসঘাতকতাবশতঃ হত্যা করা হয় তাকে রক্ষা করে, যেমন বন্ধন স্বাধীনতাকে বাধা দেয়। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৭৬৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৪৯-[১৭] জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো গোলাম যখন শির্কের দিকে পালিয়ে যায়, তখন তাকে হত্যা করা অপরিহার্য হয়ে যায়। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ جَرِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا أَبَقَ الْعَبْدُ إِلَى الشِّرْكِ فقد حلَّ دَمه» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن جرير عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا ابق العبد الى الشرك فقد حل دمه» . رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: যখন দাস দারুল হার্ব তথা অমুসলিম রাজ্যে পলায়ন করে তখন তাকে হত্যা করলে দিয়াত দিতে হবে না। আর যদি মুরতাদ হয়ে পালিয়ে যায় তবে সে আরো বেশি হত্যার যোগ্য হয়ে যায়।

‘আল্লামা ত্বীবী বলেনঃ এ বিধান যে মুরতাদ নয় তার ক্ষেত্রেও। আর সে দারুল ইসলাম ছেড়ে মুশরিকদের পাশে যাওয়ার কারণে তার রক্তমূল্য বৃথা যাবে।

মুনযিরী বলেনঃ এ ব্যাপারে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে- «أَيّمَا عَبْد أَبَقَ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّة» যে কোনো দাস পলায়ন করে তার ওপর থেকে দায়-দায়িত্ব উঠে যায়। অন্য বর্ণনায় আছে, «إِذَا أَبَقَ الْعَبْد لَمْ تُقْبَل لَه صَلَاة» অর্থাৎ যখন দাস পলায়ন করে তখন তার সালাত কবুল হয় না।

আবূ দাঊদ-এর বর্ণনায় আছে, «إِذَا أَبَقَ مِنْ مَوَالِيه الْعَبْد لَمْ تُقْبَل لَه صَلَاة وَإِنْ مَاتَ مَاتَ كَافِرًا» যখন দাস তার মুনীবের নিকট থেকে পালিয়ে যায় তখন তার সালাত গ্রহণ করা হয় না আর যদি সে মারা যায় তবে সে কাফির অবস্থায় মারা যাবে।

অন্য বর্ণনায় আছে পলায়নকারী দাস তার মালিকের নিকটে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার সালাত কবুল হয় না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৫২)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৫০-[১৮] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ইয়াহূদী রমণী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালমন্দ করত এবং তাঁর দোষ-ত্রুটি সন্ধান করে তাঁকে দোষারোপ করত। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তার গলা চেপে ধরে মেরে ফেলল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হত্যা ক্ষমা করে দিলেন। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ يَهُودِيَّةً كَانَتْ تَشْتِمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَقَعُ فِيهِ فَخَنَقَهَا رَجُلٌ حَتَّى مَاتَتْ فَأَبْطَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَمَهَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

وعن علي رضي الله عنه ان يهودية كانت تشتم النبي صلى الله عليه وسلم وتقع فيه فخنقها رجل حتى ماتت فابطل النبي صلى الله عليه وسلم دمها. رواه ابو داود

ব্যাখ্যা: হাদীসের মধ্যে এ কথা প্রমাণ হয় যে, যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দিবে সে হত্যার যোগ্য।

মুনযির বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি স্পষ্টভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দিবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব মর্মে মতানৈক্য হয়েছে।

খত্ত্বাবী বলেনঃ কোনো মুসলিম রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালি দিলে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব- এ বিষয়ে ভিন্নমত আমি জানি না।

ইবনু বাত্ত্বাল বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালাগালিকারী ব্যক্তির ব্যাপারে ‘আলিমদের মতভেদ রয়েছে।

ইবনুল কইয়িম মালিক থেকে বর্ণনা করেন, সন্ধি বা চুক্তিতে আবদ্ধ যিম্মি, যেমন ইয়াহূদী ব্যক্তি গালি দিলে তাকে হত্যা করতে হবে। কিন্তু সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে নয়। আর মুসলিম হলে তাকে তাওবাহ্ করতে বলা ছাড়াই হত্যা করতে হবে।

ইয়াহূদী এবং অনুরূপদের ব্যাপারে ইবনুল মুনযির, লায়স, শাফি‘ঈ, আহমাদ, ইসহক, আওযা‘ঈ ও মালিক থেকে বর্ণনা করেন, মুসলিম ব্যক্তি গালি দিলে সে মুরতাদ। তাকে তাওবাহ্ করতে বলতে হবে। কুফীদের মতে গালাগালিকারী ব্যক্তি যদি যিম্মী হয় তবে তাকে অপমানিত করতে হবে। আর মুসলিম হলে মুরতাদ হয়ে যাবে। ‘ইয়ায এ ব্যাপারে ভিন্ন মত পোষণ করেন যে, যাদের মাধ্যমে এরূপ আচরণ হয়েছে তাদেরকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি স্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় অথবা বন্ধুত্ব স্থাপনের স্বার্থে ছেড়ে দিয়েছেন?

মালিকী মাযহাবের কেউ বর্ণনা করেন যে, যেই ইয়াহূদীরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘‘আস্সা-মু ‘আলাইকা’’ বলতো তাদের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাদেরকে হত্যা করেননি। আর তারা এর স্বীকৃতি দেয়নি, ফলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় জ্ঞানে তাদের ফায়সালা করেননি। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৪৩৫৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৫১-[১৯] জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জাদুকরের শার্’ঈ শাস্তি হলো তাকে তরবারি দিয়ে হত্যা করা। (তিরমিযী)[1]

وَعَنْ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حَدُّ السَّاحِرِ ضَرْبُهُ بِالسَّيْفِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

وعن جندب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حد الساحر ضربه بالسيف» . رواه الترمذي

ব্যাখ্যা: যারা বলে যাদুকরের দণ্ড হলো, হত্যা তারা এ হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করে।

‘আল্লামা নববী শারহে মুসলিমে বলেনঃ যাদু করা হারাম এটা সর্বসম্মতিক্রমে কবীরা গুনাহ। তিনি বলেন, যাদু কখনো কুফরী পর্যায়ে পৌঁছে আবার আবার কখনো কুফরী হয় না বরং তা বড় গুনাহ। যদি তাতে কুফরী কালাম বা কুফরী কাজ থাকে তাহলে কাফির হবে অন্যথায় কাফির হবে না। আর যাদু শিক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষাদান উভয়ই হারাম। আমাদের মতে যাদুকারীকে হত্যা করা যাবে না। যদি সে তাওবাহ্ করে তবে তার তাওবাহ্ কবুলযোগ্য।

ইমাম মালিক বলেনঃ যাদুর কারণে যাদুকর কাফির। তাকে তাওবাহ্ করতে বলা যাবে না ও তার তাওবাহ্ কবুলযোগ্য নয়। বরং তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।

যিনদীক-এর তাওবাহ্ কবুলকে কেন্দ্র করে এই মাসআলাটি মতভেদপূর্ণ হয়েছে। ইমাম মালিক-এর মতে যাদুকর কাফির। অথচ আমাদের নিকটে কাফির নয়। আমাদের মতে মুনাফিক ও যিনদীক-এর তাওবাহ্ গ্রহণ করা হয়।

কাযী ‘ইয়ায ইমাম মালিক ও আহমাদ বিন হাম্বল-এর নিকট থেকে বর্ণনা করেন যে, সাহাবী ও তাবি‘ঈদের একটি জামা‘আত থেকে বর্ণিত আছে, আমাদের সাথীগণ বলেনঃ যখন যাদুকর তার যাদু দ্বারা কোনো মানুষকে হত্যা করে অথবা সে স্বীকার করে যে, সে তার যাদুতে মারা গেছে অথবা সে অধিকাংশ সময় যাদু দ্বারা হত্যা করে থাকে তখন তার ওপর ক্বিসাসের বিধান প্রযোজ্য। আর যদি যাদুকর মারা যায় কিন্তু সে কখনো হত্যা করে আবার কখনো হত্যা করে না তখন তার ওপর কিসাস প্রযোজ্য নয়। এক্ষেত্রে দিয়াত ও কাফফারা ওয়াজিব। এই দিয়াত বা রক্তমূল্য বর্তাবে তার সম্পদের উপর। নিহতের রক্তমূল্য দানকারীর ওপর নয়। কেননা রক্তমূল্য দানকারী অপরাধীর স্বীকৃত প্রমাণিত কর্মের ক্ষেত্রে উদ্ধুদ্ধ করেনি।

আমাদের সাথীগণ বলেন- প্রমাণের ভিত্তিতে যাদুর দ্বারা হত্যা কল্পনা বা ধারণা করা যাবে না। মূলত যাদুকরের স্বীকৃতির মাধ্যমে এটা ধারণা করা যাবে। আল্লাহ তা‘আলা ভালো জানেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৪৬০)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৫২-[২০] উসামাহ্ ইবনু শরীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক (খলীফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ও) আমার উম্মাতের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে, তাকে হত্যা করে ফেল। (নাসায়ী)[1]

عَن أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا رَجُلٍ خَرَجَ يُفَرِّقُ بَيْنَ أُمَّتِي فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ» . رَوَاهُ النَّسَائِيُّ

عن اسامة بن شريك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ايما رجل خرج يفرق بين امتي فاضربوا عنقه» . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুসলিমদের মাঝে বিভক্তির মূলে পারদর্শিতা প্রদর্শন করে।

ইমাম নববী বলেনঃ এখানে এই নির্দেশ রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইমামের বিরুদ্ধে মুসলিমদের মতের ভিতরে বিভেদ বা অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করবে তাকে হত্যা করা যায়। সুতরাং তাকে প্রথমে নিষেধ করা উচিত। এতে সে বিরত না হলে তাকে হত্যা করতে হবে। তাকে হত্যা ব্যতীত অকল্যাণ বা ক্ষতি প্রতিহত না হলে তাকে হত্যা করলে দিয়াত দিতে হবে না। (শারহুন্ নাসায়ী, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৫৩-[২১] শরীক ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছিলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর নিকট খারিজীদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করব। পরিশেষে এক ঈদের দিন আবূ বারযাহ্ -এর সাথে তাঁর বন্ধুদের উপস্থিতিতে সাক্ষাৎ করলাম। অতঃপর তাঁর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খারিজীদের ব্যাপারে আলোচনা করতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আমার দুই কানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি এবং আমি আমার দুই চোখ দিয়ে দেখেছি। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু ধন-সম্পদ আসলে তিনি তা বিলিয়ে দিলেন। যে তাঁর ডানদিকে ছিল তাকে দিলেন এবং তাঁর বামদিকে ছিল তাকেও দিলেন। কিন্তু যে তার পেছনে ছিল তাকে কিছুই দিলেন না।

পরিশেষে তাঁর পেছনে বসা লোকেদের মধ্য থেকে একজন দাঁড়িয়ে বলল, হে মুহাম্মাদ! বণ্টনের ক্ষেত্রে তুমি ইনসাফ কায়িম করনি। সে ব্যক্তি কালো বর্ণের ও মাথা ছিল মুন্ডানো এবং তার গায়ে ছিল দু’টি সাদা চাদর। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগস্বরে বললেন, আল্লাহর কসম! আমার পরে তোমরা আর কাউকে আমার চেয়ে বেশি ন্যায়বান ও ইনসাফকারী পাবে না। আরো বললেন, শেষ যুগে একটি দল বের হবে, মনে হয় যেন এ ব্যক্তি তাদেরই মধ্য থেকে একজন। তারা কুরআন পড়বে, কিন্তু তা তাদের গলধঃকরণ হবে না। তারা ইসলাম থেকে এরূপে বেরিয়ে যাবে যেভাবে নিক্ষিপ্ত তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়। তাদের পরিচয়-নমুনা হলো- তাদের মাথা মুন্ডিত থাকবে। তারা সর্বাবস্থায় আবির্ভূত হতে থাকবে। পরিশেষে তাদের সর্বশেষ দলটি বের হবে মাসীহে দাজ্জাল-এর সাথে। সুতরাং তোমরা যেখানেই তাদেরকে দেখবে হত্যা করে ফেলবে। কেননা, তারা (জীবের মধ্যে) নিকৃষ্টতম সৃষ্টি এবং সবচেয়ে মন্দাকৃতির লোক। (নাসায়ী)[1]

وَعَنْ شَرِيكِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ: كُنْتُ أَتَمَنَّى أَنْ أَلْقَى رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْأَلُهُ عَنِ الْخَوَارِجِ فَلَقِيْتُ أَبَا بَرْزَةَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقُلْتُ لَهُ: هَلْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ الْخَوَارِجَ؟ قَالَ: نعمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأُذُنَيَّ وَرَأَيْتُهُ بِعَيْنَيَّ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَالٍ فَقَسَمَهُ فَأَعْطَى مَنْ عَنْ يَمِينِهِ وَمَنْ عَنْ شِمَالِهِ وَلَمْ يُعْطِ مَنْ وَرَاءَهُ شَيْئًا. فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ وَرَائِهِ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا عَدَلْتَ فِي الْقِسْمَةِ رَجُلٌ أَسْوَدُ مَطْمُومُ الشَّعْرِ عَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَبْيَضَانِ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَضَبًا شَدِيدًا وَقَالَ: «وَاللَّهِ لَا تَجِدُونَ بَعْدِي رَجُلًا هُوَ أَعْدَلُ مِنِّي» ثُمَّ قَالَ: «يخرُجُ فِي آخرِ الزَّمانِ قومٌ كأنَّ هَذَا مِنْهُم يقرؤون الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنَ الْإِسْلَامِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ سِيمَاهُمُ التَّحْلِيقُ لَا يَزَالُونَ يَخْرُجُونَ حَتَّى يَخْرُجَ آخِرُهُمْ مَعَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ فَإِذَا لَقِيتُمُوهُمْ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ والخليقة» . رَوَاهُ النَّسَائِيّ

وعن شريك بن شهاب قال: كنت اتمنى ان القى رجلا من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم اساله عن الخوارج فلقيت ابا برزة في يوم عيد في نفر من اصحابه فقلت له: هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر الخوارج؟ قال: نعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم باذني ورايته بعيني: اتى رسول الله صلى الله عليه وسلم بمال فقسمه فاعطى من عن يمينه ومن عن شماله ولم يعط من وراءه شيىا. فقام رجل من وراىه فقال: يا محمد ما عدلت في القسمة رجل اسود مطموم الشعر عليه ثوبان ابيضان فغضب رسول الله صلى الله عليه وسلم غضبا شديدا وقال: «والله لا تجدون بعدي رجلا هو اعدل مني» ثم قال: «يخرج في اخر الزمان قوم كان هذا منهم يقروون القران لا يجاوز تراقيهم يمرقون من الاسلام كما يمرق السهم من الرمية سيماهم التحليق لا يزالون يخرجون حتى يخرج اخرهم مع المسيح الدجال فاذا لقيتموهم هم شر الخلق والخليقة» . رواه النساىي

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা সূয়ুতী বলেন, কাযী ‘ইয়ায বলেছেনঃ খারিজীদের নামকরণ يخرج من ضئضئ هذا (সে এই হৈ চৈ এর কারণে বের হয়েছে) এই বাক্য থেকে করা হয়েছে।

আবার কেউ বলেন- দল থেকে বের হওয়ার কারণে তাদের খারিজী বলা হয়। কেউ বলেন- দলের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য বের হওয়ার কারণে খারিজীদের খাওয়ারিজ বলা হয়।

সুয়ূত্বী আরো বলেনঃ যে খারিজীদেরকে কাফির হিসেবে গণ্য করা নিয়ে লোকেদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এই মাসআলাটি ধর্মবিদদদের নিকট অন্যান্য সব মাসআলার চেয়ে খুব জটিল ও কঠিন। কেননা কাফিরকের মুসলিম মিল্লাতে দাখিল করা অথবা মুসলিমকে ইসলামী মিল্লাত থেকে বের করা দীনের মধ্যে খুব বড় বিষয়।

ইমাম নববী বলেনঃ মাথা মুন্ডানো হারাম বলে অ্যাখ্যা দিয়ে কোনো কোনো বিদ্বান এই হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করেছেন। তবে এর কোনো ইঙ্গিত এই হাদীসে নেই। বস্তুত এটা ছিল তাদের আলামত বা লক্ষণ। আর লক্ষণ কখনো হারাম হয় আবার কখনো মুবাহ তথা বৈধ হয়। যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

آيَتهمْ رَجُل أَسْوَد إِحْدٰى عَضُدَيْهِ مِثْل ثَدْي الْمَرْأَة অর্থাৎ তাদের নিদর্শন হলো তারা এমন লোক, যাদের এক বাহু মহিলার স্তনের বুটির মতো কালো। এখান থেকে বুঝা গেলো, এটা আলামত হারাম নয়।

বুখারী ও মুসলিমের শর্তে আবূ দাঊদে বর্ণিত হয়েছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা এক বালককে দেখে অর্ধেক মাথা মুন্ডানো বা নাড়া করা দেখলেন। অতঃপর বললেন- সম্পূর্ণ মাথা মু--য়ে ফেলো অথবা পূর্ণ মাথায় চুল রাখো। এটা মাথা মু-ানের বৈধ হওয়ার স্পষ্ট দলীল। এতে ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। আমাদের সাথীগণ বলেন- প্রত্যেক সময় মাথা মুন্ডানো জায়িয। কিন্তু চুল থাকাকালীন সময় মাথা তৈল মাখানো বা চুল পরিপাটি করতে কষ্ট সাধ্য হলে মুন্ডানো করা মুস্তাহাব। আর যদি তা কঠিন না হয় তবে চুল রাখা মুস্তাহাব।

* সিনদী ও উপরোক্ত ইমাম নববীর মতামতকে উল্লেখ করে বলেন- ‘আল্লামা নববীর মূলনীতির দলীল গ্রহণে কখনো বিতর্ক তোলা হয় যে, তাদের নিকট ছোটরা রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করার যোগ্য যেটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য হারাম। সুতরাং এ ব্যাপারে চিন্তা গবেষণা করা উচিত।

* কুরতুবী বলেনঃ «سِيْمَاهُمْ أَتَّحْلِيْقُ» অর্থাৎ তারা এটাকে দুনিয়া ত্যাগের আলামত বা প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করেছে। যাতে তাদেরকে চেনা যায়। এটা তাদের নিকট অজানা যে, কিসে দুনিয়া ত্যাগ হয় আর কিসে দুনিয়া ত্যাগ হয় না এবং আল্লাহর দীনের মধ্যে কিছু নতুন আবিষ্কার অর্থাৎ বিদ্‘আত।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খুলাফায়ে রাশিদীন ও তাদের অনুসারীগণ ছিলেন এর বিপরীত। (নাসায়ী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ৪১১৪; ‘আওনুল মা‘বূদ হাঃ ৩৬৬৩)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation

পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মুরতাদ এবং গোলযোগ সৃষ্টিকারীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে

৩৫৫৪-[২২] আবূ গালিব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আবূ উমামাহ্ দামেশকের (বর্তমানে সিরিয়ার) মূল ফটকে ঝুলন্ত কিছু মস্তক দেখতে পেলেন। তখন আবূ উমামাহ্ বলেন, এরা (খারিজীরা) হলো জাহান্নামের কুকুর। এই সকল যারা নিহত হয়েছে তারা আকাশমন্ডলীর নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট এবং নিহত লোকেদের যাদের তারা হত্যা করেছে, তারা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন, ’সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে এবং অনেক মুখমণ্ডল কুৎসিত হবে।’ আবূ গালিব (রহঃ) উমামাহ্ (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন? আবূ উমামাহ্ বললেন, একবার দু’বার কিংবা তিনবার নয়, বরং সাতবার শুনেছি; যদি আমি না শুনতাম তাহলে তোমাদের নিকট বর্ণনা করতাম না। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; তবে ইমাম তিরমিযী [রহঃ] হাদীসটিকে ’হাসান’ বলেছেন)[1]

وَعَن أبي غالبٍ رأى أَبُو أُمامةَ رؤوساً مَنْصُوبَةً عَلَى دَرَجِ دِمَشْقَ فَقَالَ أَبُو أُمَامَةَ: «كِلَابُ النَّارِ شَرُّ قَتْلَى تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ خَيْرُ قَتْلَى مَنْ قَتَلُوهُ» ثُمَّ قَرَأَ (يَوْمَ تبيَضُّ وُجوهٌ وتَسوَدُّ وُجوهٌ)
الْآيَةَ قِيلَ لِأَبِي أُمَامَةَ: أَنْتَ سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: لَوْ لَمْ أَسْمَعْهُ إِلَّا مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ أوْ ثَلَاثًا حَتَّى عَدَّ سَبْعًا مَا حَدَّثْتُكُمُوهُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ

وعن ابي غالب راى ابو امامة رووسا منصوبة على درج دمشق فقال ابو امامة: «كلاب النار شر قتلى تحت اديم السماء خير قتلى من قتلوه» ثم قرا (يوم تبيض وجوه وتسود وجوه) الاية قيل لابي امامة: انت سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: لو لم اسمعه الا مرة او مرتين او ثلاثا حتى عد سبعا ما حدثتكموه. رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث حسن

ব্যাখ্যা: الدرج শব্দের অর্থ রাস্তা পথ। এর বহুবচন أدراج। আর الدرجة শব্দের অর্থ সিঁড়ি। এর বহুবচন الدرج। এখানে এটাই উদ্দেশ্য।
আবূ উমামাহ্ দামেশকের মসজিদের সিঁড়িতে নিহত খারিজীদের মাথাকে দেখে বললেন, كِلَابُ النَّارِ (জাহান্নামের কুকুর) অর্থাৎ এসব মাথার মালিকেরা জাহান্নামের কুকুর। মিরকাতুল মাফাতীহ গ্রন্থে উল্লেখ আছে, তাদের মাথাগুলো শূলে চড়ানো ছিল।

ইবনু মাজায় উল্লেখিত হাদীসের শেষাংশে «قَدْ كَانَ هَؤُلَاءِ مُسْلِمِينَ فَصَارُوا كُفَّارًا» উল্লেখ আছে। আবূ উমামাকে বলা হলো, আপনি কিছু বলবেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ বরং এটা আমি রাসুল   থেকে শুনেছি।
মুসনাদে আহমাদে উল্লেখ আছে,

لما أتى برؤوس الْأَزَارِقَةِ فَنُصِبَتْ عَلٰى دَرَجِ دِمَشْقَ جَاءَ أَبُو أُمَامَةَ فَلَمَّا رَآهُمْ دَمَعَتْ عَيْنَاهُ فَقَالَ كِلَابُ النَّارِ

অর্থাৎ যখন আযারিকাদের মাথাকে নিয়ে আসা হলো এবং দামেশকের সিঁড়িতে দাঁড় করিয়ে রাখা হলো। যখন তাদেরকে আবূ উমামাহ্ দেখলো তখন তার চক্ষুদ্বয় অশ্রু ঝরালো। আর তিনবার বললো, এরা জাহান্নামের কুকুর। বলা হলো, আপনার কি ব্যাপার? আপনার চোখদ্বয় কেন অশ্রু ঝরাচ্ছে। উত্তরে তিনি বললেনঃ তাদের ওপর রহমাত যে, তারা মুসলিম ছিল।

(আযারিকা হলো খাওয়ারিজ। نَافِعِ بْنِ الْأَزْرَقِ এর দিকে নিসবাত করে তাদেরকে أَزَارِقَةُ বলা হয়।)
আহমাদ-এর অন্য এক বর্ণনায় আছে, যখন মাথাগুলোকে ইরাকের দিক থেকে নিয়ে এসে মসজিদের দরজায় খাড়া করা হলো। আর আবূ উমামাহ্ এসে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং দুই রাক্‘আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বের হলেন এবং তাদের প্রতি নযর করলেন ও মাথা উঠালেন। অতঃপর বললেনঃ

(شَرُّ قَتْلٰى تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ خَيْرُ قَتْلٰى مَنْ قَتَلُوهُ)

অতঃপর তিনি আয়াত পাঠ করলেন:

يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ فَأَمَّا الَّذِينَ اسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُون

‘‘সেদিন কতক মুখ উজ্জ্বল হবে আর কতক মুখ কালো হবে, যাদের মুখ কালো হবে, তাদেরকে বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পরও কুফরী করেছিলে? কাজেই নিজেদের কুফরীর জন্য শাস্তি ভোগ করতে থাক’’- (সূরা আ-লি ‘ইমরান ৩ : ১০৬)। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৭ম খন্ড, হাঃ ৩০০১)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৬: কিসাস (প্রতিশোধ) (كتاب القصاص) 16. Retaliation
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০৯ পর্যন্ত, সর্বমোট ১০৯ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে