পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৫৫-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : দু’টি নিআমাতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ধোঁকায় পতিত হয়; একটি সুস্থতা অপরটি অবসরতা। (বুখারী)

الفصل الاول

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (6412) ۔
(صَحِيح)

عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: نعمتان مغبون فيهما كثير من الناس: الصحة والفراغ . رواه البخاري رواہ البخاری (6412) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা :  “আল্লামাহ্ ইবনু বাত্তল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : উল্লেখিত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, যখন শরীর সুস্থ থাকে তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা। আর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকারের উপায় হলো আল্লাহর আদেশসমূহ মান্য করা আর তাঁর নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকা। অতএব কেউ যদি এ কাজ করতে অবহেলা করে তবে হাদীসের ভাষায় সেই হলো মাগবুন তথা উদাসীন বা প্রতারিত। 

কেননা দুনিয়া হলো পরকালের জন্য উপার্জনের ক্ষেত্র। তাই দুনিয়াতে কর্ম করলে অর্থাৎ ব্যবসা করলে পরকালে এর লাভ প্রকাশ পাবে। অতএব যে ব্যক্তি তার সুস্থতা ও অবসর সময় আল্লাহর আনুগত্যে কাজে লাগাবে সে হবে ঈর্ষার পাত্র। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকবে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। তীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : নাবী (সা.) মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে ঐ ব্যবসায়ীর সাথে তুলনা করেছেন যার মূলধন রয়েছে সে ব্যবসায়ী তার মূলধন ঠিক রেখে লাভবান হতে চায়। আর মুনাফা অর্জনের পন্থা হলো প্রথমত সে এটা ঠিক করবে যে, সে কার সাথে ব্যবসা করবে। দ্বিতীয়ত সে সত্যবাদিতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করবে, যাতে সে ধোঁকায় পতিত না হয়। অনুরূপভাবে মুকাল্লাফ ব্যক্তির সুস্থতা ও অবসর সময় হলো তার মূলধন, তার উচিত হলো সে সর্বদা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখবে এবং দীনের শত্রু শয়তান ও নাসের অনুসরণ পরিহার করবে যাতে সে ইহকালে ও পরকালে লাভবান হতে পারে। (ফাতহুল বারী ৬৪১২)

‘আল্লামাহ্ ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : মানুষ অধিকাংশ সময়ই সুস্থ থাকে কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে কর্মমুক্ত থাকতে পারে না। আবার কখনো কখনো কর্মব্যবস্ততা থেকে অবসর পায় বটে কিন্তু অনেক সময় অসুস্থও থাকে। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি সুস্থও থাকে এবং কর্মমুক্তও থাকে তাহলে অনেক সময় তাকে অলসতা পেয়ে বসে এবং ‘ইবাদাত-বন্দেগী হতে দূরে থাকে। হাদীসের ভাষায় এই ব্যক্তিই হলো উদাসীন বা প্রতারিত। কারণ সে দুটো নি'আমাতেরই শুকরিয়া করেনি। 

আরো বলা হয়েছে, অধিকাংশ মানুষ এই দুটো নিয়ামতের পরিমাণ ধারণা করতে পারে না। তারা এ দুটো উপস্থিত থাকা অবস্থায় সকাজে সাওয়াব অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। অলসতা আর অবহলোয় এ দুটো হারিয়ে এদের বিপরীত অবস্থা আপতিত হয় তখন নিজেদের ওপরেই তিরস্কার করে। কিন্তু এই তিরস্কার তাদের কোনই কাজে আসে না শুধু কষ্টই বৃদ্ধি করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩০৪) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৫৬-[২] মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর শপথ! আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার উপমা হলো, যেমন- “তোমাদের কেউ মহাসমুদ্রের মধ্যে নিজের একটি অঙ্গুলি ডুবিয়ে দেয় এরপর সে লক্ষ্য করে দেখুক তা কি (পরিমাণ পানি) নিয়ে আসলো”। (মুসলিম)।

الفصل الاول

وَعَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «وَاللَّهِ مَا الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا مِثْلُ مَا يجعلُ أحدُكم إصبعَه فِي اليمِّ فَلْينْظر بِمَ يرجع» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (55 / 2858)، (7197) ۔
(صَحِيح)

وعن المستورد بن شداد قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «والله ما الدنيا في الاخرة الا مثل ما يجعل احدكم اصبعه في اليم فلينظر بم يرجع» . رواه مسلم رواہ مسلم (55 / 2858)، (7197) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : উল্লেখিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার সময় ও পরিধি একেবারে সংক্ষিপ্ত। দুনিয়ার সুখ-শান্তিও ক্ষণস্থায়ী কিন্তু আখিরাতেরটা চিরস্থায়ী, সেই সুখ শান্তি কখনো শেষ হবার নয়। তাই আখিরাতকে রূপকভাবে সমুদ্রের সাথে উপমা করে বিশাল পার্থক্য স্থাপন করা হয়েছে। (শারুহুন্ নাবাবী ১৭শ খণ্ড, হা. ২৮৫৮/৫৫)

অর্থাৎ বিশাল সমুদ্রের অফুরন্ত পানির মধ্যে কেউ যদি তার হাতের আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে তা বের করে নিয়ে আসে তাহলে সে আঙ্গুলের মধ্যে যেমন কিছু দেখতে পাবে না শুধুমাত্র তার আঙ্গুল ভেজা ছাড়া যা সমুদ্রের পানির তুলনায় যেমন কিছুই না, তেমনি পরকালের সীমাহীন সময় যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই তার তুলনায় এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন কিছুই না। অতএব ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সুখের জন্য চিরস্থায়ী জীবনের সুখ বিসর্জন দেয়া কোন বুদ্ধিমত্তার কাজ নয়। (সম্পাদকীয়)। 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৫৭-[৩] জাবির (রা.) হতে বর্ণিত। একদিন রসূলুল্লাহ (সা.) একটি কানকাটা মৃত বকরীর বাচ্চার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে পছন্দ করবে যে, এক দিরহামে বিনিময়ে এটা তার মালিকানাভুক্ত হোক। তাঁরা বললেন, কোন কিছুর বিনিময়ে এটা আমাদের মালিকানাভুক্ত হোক তা আমরা পছন্দ করব না। তখন তিনি বললেন : আল্লাহর শপথ! এটা তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ) এর চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِجَدْيٍ أَسَكَّ مَيِّتٍ. قَالَ: «أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هَذَا لَهُ بِدِرْهَمٍ؟» فَقَالُوا: مَا نحبُّ أَنه لنا بشيءقال: «فَوَاللَّهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذَا عَلَيْكُم» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (2 / 2957)، (7418) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بجدي اسك ميت. قال: «ايكم يحب ان هذا له بدرهم؟» فقالوا: ما نحب انه لنا بشيءقال: «فوالله للدنيا اهون على الله من هذا عليكم» . رواه مسلم رواہ مسلم (2 / 2957)، (7418) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (مَرَّ بِجَدْيٍ أَسَكَّ) ছোট কানওয়ালা ছাগলের বাচ্চা। অন্যান্য রিওয়ায়াতে (السخلة) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। উভয়ের অর্থই ছাগলছানা। (শারুহুন্ নবাবী ১৮শ খণ্ড, ২৯৫৭/২; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২৩২১) |

(مَا نحبُّ أَنه لنا بشيء)অর্থাৎ কোন বস্তুর বিনিময়েই আমরা তা গ্রহণ করব না সে বস্তু যতই সামান্য হোক না কেন। এ থেকে উদ্দেশ্য হলো তা যদি আমাদেরকে বিনামূল্যেও দেয়া হয় তবুও আমরা গ্রহণ করব না। এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দুনিয়া হতে অনুৎসাহিত ও পরকালের প্রতি উৎসাহিত করা। কেননা দুনিয়ার প্রতি মুহাব্বাতই হল সকল অন্যায় অপরাধমূলক, যেমনটি ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) মুরসাল মূত্রে হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তিই ‘ইবাদাতেরও মূল। কেননা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত ব্যক্তি যদিও দীনের কাজে ব্যস্ত থাকে। তথাপি সেখানে অনেক সময়ই তা দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশেই সম্পাদন করে। এতে তার ভালো কাজও বিফল হয়। এর বিপরীতে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত ব্যক্তিও যদি দুনিয়ার বিষয়ে ব্যস্ত থাকে তথাপি সেখানে তার উদ্দেশ্য থাকে পরকালের কল্যাণ লাভ। এজন্যই কোন আল্লাহ প্রেমী বলেছেন : দুনিয়ার প্রতি আসক্ত ব্যক্তিকে কোন পথপ্রদর্শকই পথ দেখাতে সক্ষম নয়। আর দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত কোন ব্যক্তিকে দুনিয়ার সকল পথভ্রষ্টের প্রচেষ্টাও তাকে পথহারা করতে পারে না। (মিক্বাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৫৮-[৪] আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা আর কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدُّنْيَا سِجْنُ المؤمنِ وجنَّةُ الكافرِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (1 / 2956)، (7417) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الدنيا سجن المومن وجنة الكافر» . رواه مسلم رواہ مسلم (1 / 2956)، (7417) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (الدُّنْيَا سِجْنُ المؤمنِ وجنَّةُ الكافرِ)  ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : উল্লেখিত হাদীসে দুনিয়াতে একজন মুমিন হারাম এবং ঘৃণিত সব ধরনের প্রবৃত্তির ভোগে আবদ্ধ থাকে, যা নিষিদ্ধ। মন যা চায় তাই সে করতে পারে না। বরং কষ্টসাধ্য হলেও সব ধরনের ‘ইবাদত-বন্দেগী পালনে বদ্ধপরিকর, সে যখন মারা যায় তখন এই কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পায় এবং তার রবের পক্ষ থেকে প্রস্তুতকৃত প্রতিদান পেয়ে যায়। পক্ষান্তরে একজন কাফির প্রবৃত্তির ভোগ বিলাসে লাগামহীন পদচারণার কারণে দুনিয়ার বুকে অনেক আরাম ও শৌখিনভাবে বসবাস করে। কিন্তু সে যখন মারা যায় তখন চিরস্থায়ী শাস্তি আর অভিসম্পাত তাকে আচ্ছাদিত করে।

‘আল্লামাহ্ মুনাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : সে যেহেতু অবৈধ প্রবৃত্তি ভোগে বাধাপ্রাপ্ত, তাই সে কারাবন্দীর মতো, আর কাফির যেহেতু বাধাহীন, তাই সে মুক্ত ও স্বাধীন।

ফুযায়ল ইবনু ইয়াস (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার ভোগ-বিলাস পরিত্যাগ করল, সে মূলত জেলখানায় আবদ্ধ। ইবনু উমার (রা.) বলেন, মুমিনের প্রাণ যখন তার দেহ থেকে বের হয় তখন তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে জেলখানায় আবদ্ধ ছিল, অতঃপর তাকে জেলখানা হতে ছেড়ে দেয়ার পর সে তথা হতে বের হয়ে জমিনে বিচরণ করে এবং প্রশস্ততা বোধ করে তেমনি মু'মিন ব্যক্তি দুনিয়া ছেড়ে পরপারে গিয়ে প্রশস্ততা বোধ করে। 

 (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৩২৪; শারূহুন্ নবাবী ১৮শ খণ্ড, হা, ২৯৫৬/১; মিক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৫৯-[৫] আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ কোন মুমিনের ভালো কাজকে নষ্ট করেন না, দুনিয়াতেও তার বিনিময় প্রদান করেন এবং আখিরাতেও তার প্রতিদান দেন। আর কাফির আল্লাহর জন্য যেসব ভালো কাজ করে দুনিয়াতে তার বিনিময় ভোগ করে, অবশেষে যখন সে আখিরাতে পৌছবে, তখন তার (আমালনামায়) কোন ভালো কাজ থাকবে না যার প্রতিদান সে পেতে পারে। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مُؤْمِنًا حَسَنَةً يُعْطَى بِهَا فِي الدُّنْيَا وَيُجْزَى بِهَا فِي الْآخِرَةِ وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيُطْعَمُ بِحَسَنَاتِ مَا عَمِلَ بِهَا لِلَّهِ فِي الدُّنْيَا حَتَّى إِذَا أَفْضَى إِلَى الْآخِرَةِ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَة يجزى بهَا» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (56 / 2808)، (7089) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله لا يظلم مومنا حسنة يعطى بها في الدنيا ويجزى بها في الاخرة واما الكافر فيطعم بحسنات ما عمل بها لله في الدنيا حتى اذا افضى الى الاخرة لم يكن له حسنة يجزى بها» . رواه مسلم رواہ مسلم (56 / 2808)، (7089) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مُؤْمِنًا حَسَنَةً) উক্ত হাদীসের সাথে ‘উলামাগণ একমত পোষণ করেছেন যে, একজন কাফির কুফরী নিয়ে মারা গেলে সে যে সমস্ত সৎ ‘আমল করেছিল তার বিনিময়ে আখিরাতে কোন প্রতিদান থাকবে না। বরং দুনিয়াতেই তাকে ঐ সমস্ত সৎ ‘আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। পক্ষান্তরে একজন মু'মিন সৎ ‘আমল করলে দুনিয়াতে এর সুফল তো পাবেই, এমনকি আখিরাতে এর চাইতেও উত্তম প্রতিদান প্রস্তুত রাখা আছে। তাই এ কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা সকলের জন্য অত্যাবশ্যক। 

মূলত হাদীসটি আল্লাহ তা'আলার বাণী : “অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা লোকেদের প্রতি যুলম করেন না ”-এর ব্যাখ্যা। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তার বান্দা মু'মিন হোক অথবা কাফির হোক সকলকেই তার ‘আমলের প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তা কম হোক বা বেশি হোক, ভালো হোক বা মন্দ হোক। হয় তা দুনিয়াতে দেন, অথবা উভয় জগতে দিয়ে থাকেন। আল্লাহ তাঁর মু'মিন বান্দা সৎ আমলের প্রতিদান দুনিয়াতেও দেন; যেমন বিপদ দূর করা, রিযক প্রশস্ত করা, বা অনুরূপ অনেক নি'আমাত প্রদান করা। আবার পরকালেও এর পুরস্কার দিয়ে থাকেন এটা মুমিন বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ, তাদের প্রতি তাঁর মর্যাদা। আর কাফিরগণ যে ভালো কাজ করে থাকে যেমন দরিদ্রকে খাবার দেয়া, ইয়াতীমের প্রতি দয়া করা ও মাযলুমকে সাহায্য করা অর্থাৎ যে সমস্ত আমল বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য ঈমান আনা শর্ত নয় ঐ সমস্ত ‘আমলের প্রতিদান আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। এটা তাদের প্রতি ইনসাফ। অতঃপর মৃত্যুবরণ করার পর তাদের এমন কোন সৎ আমল বাকী থাকে না যে কাজের বিনিময় তাদের দেয়া হবে, তাই তাদের পরকালে কোন প্রতিদান দেয়া হবে না। এটা তাদের প্রতি কোন যুলম নয় বরং এটাই ইনসাফ। মোটকথা মুমিনগণ আল্লাহর আনুগত্য করার কারণে আল্লাহ পরকালে তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন। পক্ষান্তরে কাফিরগণ আল্লাহর আনুগত্য না করার কারণে, আল্লাহ তাদের প্রতি পরকালে কোন প্রকার অনুগ্রহ করবেন না।

(শারহুন নাবাবী ১৭শ খণ্ড, হা. ২৮০৮/৫৬; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬০-[৬] আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জাহান্নামকে কামনা-বাসনা দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে ঢেকে রাখা হয়েছে অপছন্দনীয় জিনিস দ্বারা। (বুখারী ও মুসলিম)

মুসলিম-এর বর্ণনায় (حُجِبَتِ) “ঢেকে রাখা হয়েছে” এর (শব্দের) স্থলে (خُفَّتْ) “ঘিরে রাখা হয়েছে” রয়েছে।

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حُجِبَتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ وَحُجِبَتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. إِلَّا أَنْ عِنْدَ مُسْلِمٍ: «حُفَّتْ» . بَدَلَ «حُجِبَتْ»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6487) و مسلم (1 / 2823) [و رواہ مسلم (1 / 2822)، (7130 و 7131) من حدیث سیدنا انس رضی اللہ عنہ] ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حجبت النار بالشهوات وحجبت الجنة بالمكاره» . متفق عليه. الا ان عند مسلم: «حفت» . بدل «حجبت» متفق علیہ ، رواہ البخاری (6487) و مسلم (1 / 2823) [و رواہ مسلم (1 / 2822)، (7130 و 7131) من حدیث سیدنا انس رضی اللہ عنہ] ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (حُجِبَتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ وَحُجِبَتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ) এখানে (الشَّهَوَاتِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পার্থিব জগতের ঐ সকল বিষয় যা করতে ও বলতে অনেক মজাদার কিন্তু শারী'আত এগুলোকে হারাম হিসেবে গণ্য করেছে। যেমন মদপান করা, যিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। এ কাজগুলো এভাবে ঘটতে পারে ১. নিষিদ্ধ কাজে মন উদগ্রীব থাকা, ২. শারী'আতের আবশ্যকীয় ও বৈধ বিষয় বর্জন করা। জাহান্নামকে এ সকল বিষয়াদি দ্বারাই সাজানো হয়েছে। আর(الْمَكَارِهِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এমন সব ‘আমল যেগুলো শারী'আতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অত্যন্ত কষ্টের সাথে আদায় করে। এজন্যই ইসলামের অধিকাংশ ‘ইবাদাত কষ্টসাধ্য। এগুলোর মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে একজন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। 

মোটকথা হলো কষ্টদায়ক কাজ সম্পাদন না করে জান্নাতে পৌঁছানো যাবে না যাকে মাকারিহ (অপছন্দনীয়) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপ জাহান্নামে সেই যাবে যে ব্যক্তি মনের চাহিদা অনুযায়ী কাজ সম্পাদন করবে। যা করতে আনন্দ লাগবে, মনে কোন কষ্ট মনে হবে না। জান্নাতকে কষ্টদায়ক কাজ দ্বারা ঘিরে রাখা হয়েছে। যে ব্যক্তি এই কষ্টের ঘেরাও অতিক্রম করবে সেই জান্নাতে যাবে। আর জাহান্নামকে আনন্দদায়ক কাজ দ্বারা ঘিরে রাখা হয়েছে। যে ব্যক্তি এ ঘেরাওয়ের মধ্যে আবদ্ধ হবে সেই জাহান্নামে যাবে। যদিও এখানে জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়েছে তথাপি উদ্দেশ্য হলো ঐ সমস্ত কাজ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা করা যে সমস্ত কাজ দ্বারা জাহান্নাম ঘিরে রাখা হয়েছে।

(শারুহুন্ নাবাবী ১৭শ খণ্ড, হা, ২৮২২/১; ফাতহুল বারী ১১শ খণ্ড, হা. ৬৪৮৭; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৫৫৯; মিক্বাতুল মাসাবীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬১-[৭] উক্ত রাবী [আবু হুরায়রাহ (রা.)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : ধ্বংস হোক দীনারের গোলাম, দিরহামের গোলাম, উত্তম পোশাকের গোলাম। যদি তাকে দেয়া হয় তবে সন্তুষ্ট হয়; আর না দেয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। সে ধ্বংস হোক, অধঃপতিত হোক যদি তার পায়ে কাঁটা বিধে তবে তা যেন খুলে দেয়ার মতো কেউ না থাকে। আর ঐ বান্দার জন্য সুসংবাদ, যে ঘোড়ার লাগাম ধরে আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য) প্রস্তুত রয়েছে, যার চুল বিক্ষিপ্ত, দু পা ধূলি-মিশ্রিত। তাকে পাহারার কাজে নিয়োজিত করা হলে সে পাহারারত থাকে। আর তাকে সৈন্যদলের পশ্চাতে নিয়োজিত করলে পশ্চাতে থাকে কারো সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় না। কারো জন্য সুপারিশ করলে তা কবুল করা হয় না (বুখারী)

الفصل الاول

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ تَعِسَ وَانْتَكَسَ وَإِذَا شِيكَ فَلَا انْتُقِشَ. طُوبَى لِعَبْدٍ أَخَذَ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَشْعَثُ رَأْسُهُ مُغْبَرَّةٌ قَدَمَاهُ إِنْ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ وَإِنْ كَانَ فِي السَّاقَة كَانَ فِي السَّاقَة وَإِن اسْتَأْذَنَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ وَإِنْ شَفَعَ لَمْ يشفع» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (2887) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تعس عبد الدينار وعبد الدرهم وعبد الخميصة ان اعطي رضي وان لم يعط سخط تعس وانتكس واذا شيك فلا انتقش. طوبى لعبد اخذ بعنان فرسه في سبيل الله اشعث راسه مغبرة قدماه ان كان في الحراسة كان في الحراسة وان كان في الساقة كان في الساقة وان استاذن لم يوذن له وان شفع لم يشفع» . رواه البخاري رواہ البخاری (2887) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ) উল্লেখিত হাদীসাংশে ‘আল্লামাহ্ খলীল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (التَعِسُ) শব্দের অর্থ হলো এমন হোঁচট খাওয়া যা থেকে আর সুস্থ হওয়া যায় না। বলা হয়েছে, (تَعِسَ) অর্থ অকল্যাণ। আবার কেউ বলেন, ধ্বংস। আবার বলা হয়েছে, উপুড় হয়ে পড়ে যাওয়া। আবার কেউ বলেন, এর অর্থ হলো। সঠিক যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়া। 

সম্পদের লোভে আসক্ত হয়ে দীনের কাজ ছেড়ে দিয়ে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া একটি ঘৃণিত কাজ সে সম্পদ যাই হোক না কেন। কিন্তু হাদীসে দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) ও দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা) বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো এ দুটো এমন বস্তু বা মুদ্রা যা দ্বারা সর্বপ্রকার মনের খায়েশ পূর্ণ করা যায় এবং শয়তানের উদ্দেশ্য এতে সম্পন্ন হয়। অনুরূপভাবে খামীসাহ্ (রেশমী কাপড়)-এর উল্লেখ করার কারণ হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পরিধান করা হয় অহংকার প্রকাশ করা ও সুখ্যাতি অর্জনের জন্য। আর যখন মন সম্পূর্ণভাবে এ কাজের প্রতি ঝুঁকে পরে তখন তা হতে আর ফিরতে পারে না যেন সে তার গোলামে পরিণত হয়েছে। 
 

(إِذَا شِيكَ فَلَا انْتُقِشَ) যখন তার কোন অঙ্গে কাঁটা বিদ্ধ হয় তখন তা আর বের করা যায় না। অর্থাৎ দয়া করা হয় না এবং সে নিজেও ঐ বিপদ থেকে বেরিয়ে আসতে অক্ষম। মূলত হাদীসে এ বাক্যটি দুনিয়া লোভীদের জন্য বদ্‌দু'আ। 
 

(إِنْ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ) এখানে বলা হয়েছে, (كَانَ فِي الْحِرَاسَةِ) এর অর্থ হলো, সে পাহারার সাওয়াব অর্জনে নিযুক্ত থাকে। আবার কারো মতে, এটা অনেক মর্যাদার কাজ এটা বুঝাতে ব্যবহার হয়েছে। তখন অর্থ হবে, যদি সে পাহারার দায়িত্বে নিযুক্ত থাকে তাহলে সে যেন অত্যন্ত মহৎ কাজে নিযুক্ত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এর অর্থ হলো, সে আল্লাহর যিক্‌রে অমনোযোগী। তিনি মর্যাদাকে উদ্দেশ্য করেননি। তাঁর মতে তাকে পাহারায় রাখা হলে সে ঐ কাজেই স্থির থাকে আর যদি সে মিছিলে থাকে তাহলে সে ঐ কাজেই রত থাকে। 

(ফাতহুল বারী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৮৮৭; শারহু ইবনু মাজাহ ৩য় খণ্ড, হা. ৪১৩৫; মিক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬২-[৮] আবু সাঈদ আল খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আমার পর তোমাদের জন্য সবচাইতে বেশি যে ব্যাপারে ভয় করি তা হলো দুনিয়ার চাকচিক্য ও তার সৌন্দর্য, যা তোমাদের ওপর উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রসূল! কল্যাণ কি মন্দ নিয়ে আসতে পারে? তখন তিনি (সা.) কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা ধারণা করলাম, তার ওপর ওয়াহী নাযিল হচ্ছে। অতঃপর তিনি (সা.) ঘাম মুছে বললেন : সে প্রশ্নকারী কোথায়? বর্ণনাকারী বলেন : যেন তিনি (সা.) প্রশ্নকারীর কথাটি প্রশংসার যোগ্য মনে করেছেন। তখন তিনি (সা.) বললেন : কল্যাণ কখনো মন্দ আনে না। (এটার উদাহরণ,) নালার পার্শ্বের উর্বরতা উৎপাদন করে তা মূলত (ভক্ষণকারীকে) ধ্বংস করে না বা ধ্বংসের নিকটবর্তী নিয়ে যায় না; কিন্তু তৃণভোজী জানোয়ার যখন অতিমাত্রায় খায়, অবশেষে যখন কোমরের উভয় পার্শ্ব ফুলে উঠে তখন সূর্যের সামনে রৌদ্রে গিয়ে বসে এবং মলমূত্র ত্যাগ করে। পরে আবার তৃণভূমির দিকে ফিরে গিয়ে তাথেকে ভক্ষণ করে। বস্তুত দুনিয়ার মাল সম্পদ শ্যামল-সবুজ সুস্বাদু বটে। যে তা বৈধভাবে উপার্জন করে এবং বৈধ পথে ব্যয় করে তখন তা তার পক্ষে উত্তম সাহায্যকারী। কিন্তু যে তা অবৈধ পথে উপার্জন করে তখন তার উদাহরণ ঐ জন্তুর ন্যায়, যে খায় কিন্তু পরিতৃপ্ত হয় না এবং দুনিয়াবী মাল-সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا» . فَقَالَ رجلٌ: يَا رَسُول الله أوَ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ يُنَزَّلُ عَلَيْهِ قَالَ: فَمَسَحَ عَنْهُ الرُّحَضَاءَ وَقَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ؟» . وَكَأَنَّهُ حَمِدَهُ فَقَالَ: «إِنَّهُ لَا يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ مَا يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ إِلَّا آكِلَةَ الْخَضِرِ أكلت حَتَّى امتدت خاصرتاها اسْتقْبلت الشَّمْسِ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ عَادَتْ فَأَكَلَتْ. وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ الْمَعُونَةُ هُوَ وَمَنْ أَخَذَهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ كَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ وَيَكُونُ شَهِيدًا عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (1465) و مسلم (123 / 1052)، (2423) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي سعيد الخدري ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ان مما اخاف عليكم من بعدي ما يفتح عليكم من زهرة الدنيا وزينتها» . فقال رجل: يا رسول الله او ياتي الخير بالشر؟ فسكت حتى ظننا انه ينزل عليه قال: فمسح عنه الرحضاء وقال: «اين الساىل؟» . وكانه حمده فقال: «انه لا ياتي الخير بالشر وان مما ينبت الربيع ما يقتل حبطا او يلم الا اكلة الخضر اكلت حتى امتدت خاصرتاها استقبلت الشمس فثلطت وبالت ثم عادت فاكلت. وان هذا المال خضرة حلوة فمن اخذه بحقه ووضعه في حقه فنعم المعونة هو ومن اخذه بغير حقه كان كالذي ياكل ولا يشبع ويكون شهيدا عليه يوم القيامة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (1465) و مسلم (123 / 1052)، (2423) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : সহীহ মুসলিমের শারহ-তে রয়েছে, (إِنَّ مِمَّا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِي مَا يُفْتَحُ عَلَيْكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَزِينَتِهَا

আলোচ্য হাদীসের এই অংশে দুনিয়ার লোভে পড়ে প্রত্যায়িত হওয়া এবং দুনিয়ার ঐশ্বর্য নিয়ে গর্ব করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। এবং এখানে আরেকটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে যে- অধিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝাতে আল্লাহর নামে শপথ করা মুস্তাহাব। 

অর্থাৎ নাবী (সা.) অত্র হাদীসে দুনিয়ার চাকচিক্য সম্পর্কে তাঁর উম্মাতকে সতর্ক করেছেন এবং ক্ষতির বা অকল্যাণের আশঙ্কা করেছেন। তখন রসূলের সামনে উপস্থিত এক ব্যক্তি উল্লেখ করলেন যে, আমরা যে সম্পদ অর্জন করব তাতো বৈধ পথেই অর্জন করব যেমন গনীমাত বা অন্য কিছু। আর এতে তো অকল্যাণের কিছু নেই। অতএব এ কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে? অর্থাৎ লোকটি বুঝাতে চেয়েছেন যে, কল্যাণ তো কল্যাণই তা আবার অকল্যাণ হয় কি করে? তখন নাবী (সা.) বলেছেন, প্রকৃত কল্যাণ তো অকল্যাণ নিয়ে আসে না। তবে তোমরা যে দুনিয়ার চাকচিক্য অর্জন করবে তাতো প্রকৃতপক্ষে কল্যাণ নয় বরং তা ফিতনাহ্ (পরীক্ষার বস্তু)। কেননা তোমরা এই মাল অর্জনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে এবং তোমরা তা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে যা তোমাদেরকে পরকাল বিমুখ করে দিবে। আর এতেই তোমাদের অকল্যাণ হবে। অতঃপর তিনি (সা.) একটি উদাহরণ পেশ করেছেন।

(إِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ) নালার পার্শ্বে যে ঘাস জন্মায় তা ভক্ষণকারী অতিরিক্ত ভক্ষণের ফলে খতিগ্রস্থ হয়। তবে যে পশু প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভক্ষণ না করে বরং প্রয়োজন পরিমাণ মাফিক ভক্ষণ করার পর বিরতি দেয় এবং জাবর কাটে তাহলে তাকে ক্ষতি করতে পারে না। অনুরূপ মাল উপার্জন করা তো ভালো। তবে তা উপার্জন করতে গিয়ে যদি মাল নিয়েই ব্যস্ত থাকে তার ওপর অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন না করে তাহলে ঐ মাল তাকে ধ্বংস করে অথবা তাঁকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি তার প্রয়োজন মিটানোর মতো মাল উপার্জনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে এবং উপার্জন করে তুষ্ট থাকে তাহলে সে সেই পশুর মতো যে পশু প্রয়োজন মত জাবর কাটে তাহলে সে রক্ষা পায়। 

(শারহু নাবাবী ৭ম খণ্ড, হা. ১০৫২/১২৩; মিকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬৩-[৯] ’আম্‌র ইবনু আওফ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের সম্পর্কে দরিদ্রতার ভয় করি না; কিন্তু আমি ভয় করি যে, তোমাদের ওপর দুনিয়াকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে যেমনি প্রশস্ত করে দেয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। আর তোমরা তা লাভ করার জন্য ঐরূপ প্রতিযোগিতা করবে যেরূপ তারা এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করেছিল। ফলে এটা তোমাদেরকে ধ্বংস করবে যেরূপ তাদেরকে ধ্বংস করেছিল। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «فَوَاللَّهِ لَا الْفَقْرُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكِنْ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا وتهلككم كَمَا أهلكتهم» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4015) و مسلم (6 / 2961)، (7425) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عمرو بن عوف قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فوالله لا الفقر اخشى عليكم ولكن اخشى عليكم ان تبسط عليكم الدنيا كما بسطت على من كان قبلكم فتنافسوها كما تنافسوها وتهلككم كما اهلكتهم» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (4015) و مسلم (6 / 2961)، (7425) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (فَوَاللَّهِ لَا الْفَقْرُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ) উল্লেখিত হাদীসাংশের অর্থ হলো, আমি তোমাদের দরিদ্রতাকে ভয় পাই না, কেননা এ দরিদ্রতা অধিকাংশ সময়ই শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনে। কিন্তু আমি যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত সেটি হলো, তোমাদের জন্য দুনিয়ার ভোগ-বিলাস ও তার সরঞ্জামাদি প্রশস্ত হয়ে যাবে, অর্থাৎ বেড়ে যাবে। ফলে তোমরা পরস্পরের প্রতি একে অন্যের সাথে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মতো আচরণ করবে আর বিভিন্ন প্রকারের বালা-মুসীবত দ্বারা ধ্বংস হয়ে যাবে।

(كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ) পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হওয়ার কারণ হলো তারা ফকীরদের ওপর রহম করত না, ধন-সম্পদের ওপর চরম লোভ আর ঝুঁকে থাকার কারণে তারা কপট আর কৃপণ হয়েছিল। 

এখানে (الْفَقْرُ) দারিদ্রতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দীন ও দুনিয়ার প্রয়োজন মিটানোর জন্য যা দরকার তা না থাকা।

(أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ) “তোমাদেরকে প্রাচুর্যতা দান করা হবে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজন মিটানোর জন্য যা না হলেই নয় তার চাইতে বেশি প্রদান করা। যা মানুষকে আল্লাহর ইবাদত হতে বিমুখ করে দেয়। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো তোমরা দুনিয়ার প্রাচুর্যতা অর্জনের জন্য ব্যস্ত থাকবে এবং তা জমা করে রাখার জন্য লোভী হয়ে যাবে, ফলে সম্পদের কারণে অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে। যার অনিবার্য ফল হলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া। (মিক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনু ‘আওফ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬৪-[১০] আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.)-এর পরিবার-পরিজনকে জীবিকা নির্বাহ পরিমাণ রিযক দান করো। অপর এক বর্ণনায় আছে, প্রয়োজন পরিমাণ। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا» وَفِي رِوَايَةٍ «كفافا» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6460) و مسلم (18 / 1055)، (2427) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اللهم اجعل رزق ال محمد قوتا» وفي رواية «كفافا» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6460) و مسلم (18 / 1055)، (2427) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (آلِ مُحَمَّدٍ) “মুহাম্মাদ-এর পরিবার”-এর দ্বারা উদ্দেশ্য তার সন্তানাদি ও স্ত্রীবর্গ এবং মুহাম্মাদ (সা.)-এর অনুসারীগণ ও তার প্রকৃত বন্ধুগণ। 

(قُوتًا) এর শাব্দিক অর্থ হলো খাদ্য যা দ্বারা মানুষ জীবনযাপন করে। এখানে(قُوت) দ্বারা উদ্দেশ্য মানুষের কাছে হাত না পেতে জীবন যাপনের সামগ্রী অর্জন করা যা তার ক্ষুধা নিবারণ করে। 

(اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا) আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যায় ‘আল্লামাহ্ ইবনু বাত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : উল্লেখিত হাদীসে স্বল্প জীবিকার ফাযীলাত পাওয়া যাচ্ছে এবং আখিরাতের অবিনশ্বর ও অফুরন্ত নি'আমাতের আশায় দুনিয়ার মায়া বর্জনের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়েছে। অতএব উম্মতের সবার জন্য বিষয়টি ভেবে দেখা অত্যন্ত জরুরী। 

‘আল্লামাহ্ কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : হাদীসের অর্থ হলো স্বল্প জীবিকা অন্বেষণ করা। কেননা হাদীসে বর্ণিত (القوت) শব্দটি ব্যবহৃত হয় ততটুকু পরিমাণ বুঝাতে যতটুকু পরিমাণে শরীর সুস্থ থাকে এবং প্রয়োজন পূরণ হয়। আর এ অবস্থায় সম্পদের স্বল্পতা আর আধিক্যতার সব রকমের বিপদ আপদ দূর হয়ে যায়। (ফাতহুল বারী ১১শ খণ্ড, হা. ৬৪৬০; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৬১; মিকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬৫-[১১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সে ব্যক্তিই সফলকাম হয়েছে, যে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তাকে প্রয়োজন মাফিক রিযক প্রদান করা হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট রেখেছেন। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا وَقَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (125 / 1054)، (2426) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قد افلح من اسلم ورزق كفافا وقنعه الله بما اتاه» . رواه مسلم رواہ مسلم (125 / 1054)، (2426) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ وَرُزِقَ كَفَافًا) এখানে (كَفَافًا) দ্বারা যথেষ্ট পরিমাণ তথা মাঝামাঝি অবস্থা বুঝানো হয়েছে। খুব বেশিও না, আবার একেবারে কমও না। (শারহুন নাবাবী ৭ম খণ্ড, হা. ১০৫৪/১২৫) 

(قَنَّعَهُ اللَّهُ بِمَا آتَاهُ) আল্লাহ তা'আলা তাকে যা দিয়েছেন তার প্রতি তাকে তুষ্ট করেছেন অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাকে অভাবী বানায়নি আবার অধিক সম্পদের অধিকারী করেনি, অথচ এতেই সে সন্তুষ্ট থাকে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আল্লাহ তা'আলা তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তার প্রতি রাজি-খুশি থাকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬৬-[১২] আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: বান্দা (গর্ব : করে) বলে আমার সম্পদ, আমার সম্পদ; প্রকৃতপক্ষে তার সম্পদ হতে তার (উপকারে আসে) মাত্র তিনটি যা খেয়ে সে শেষ করে দিয়েছে বা পরিধান করে ছিড়ে ফেলেছে অথবা দান করে (পরকালের জন্য) সংরক্ষণ করেছে। এতদ্ভিন্ন যা আছে তা তার কাজে আসবে না এবং সে মানুষের (ওয়ারিসদের) জন্য ছেড়ে চলে যাবে। (মুসলিম)।

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَقُولُ الْعَبْدُ: مَالِي مَالِي. وَإِن مَاله مِنْ مَالِهِ ثَلَاثٌ: مَا أَكَلَ فَأَفْنَى أَوْ لَبِسَ فَأَبْلَى أَوْ أَعْطَى فَاقْتَنَى. وَمَا سِوَى ذَلِك فَهُوَ ذاهبٌ وتاركهُ للنَّاس . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (4 / 2959)، (7422) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يقول العبد: مالي مالي. وان ماله من ماله ثلاث: ما اكل فافنى او لبس فابلى او اعطى فاقتنى. وما سوى ذلك فهو ذاهب وتاركه للناس . رواه مسلم رواہ مسلم (4 / 2959)، (7422) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : উল্লেখিত হাদীসের অর্থ হলো এই মানুষ সম্পদশালী হলে গর্ব করে বলে এটা আমার সম্পদ, আমি অমুক অমুক সম্পদের মালিক, আমার এত এত সম্পদ আছে ইত্যাদি। সে তার এই সম্পদের উপকার তিনভাবে ভোগ করে, ১. যা খায় তা শেষ হয়ে যায়, ২. যা পরিধান করে তা পুরাতন হয়ে যায়, ৩. যা দান করে তা আখিরাতের জন্য সঞ্চিত থাকে, বাকী সম্পদ মানুষের জন্য রেখে সে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়।  কাজেই আমার আমার বলে অহংকার করা আর পুঞ্জিভূত করে রাখা নেহায়েত বোকামী আর অজ্ঞতার পরিচয়। এজন্য সম্পদ হাতে থাকলে বেশি বেশি সদাক্বাহ করে আখিরাতে মুক্তি পাওয়াটাই মুখ্য বিষয়।  (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬৭-[১৩] আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তিনটি জিনিস মৃত লাশের সাথে যায়। দুটি ফিরে আসে এবং একটি তার সাথে থেকে যায়। তার সাথে গমন করে আত্মীয়স্বজন, মাল-সম্পদ এবং তার ’আমল। পরে জাতি-গোষ্ঠী ও মাল-সম্পদ ফিরে আসে এবং থেকে যায় তার ’আমল। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَتْبَعُ الْمَيِّتَ ثَلَاثَةٌ: فَيَرْجِعُ اثْنَانِ وَيَبْقَى مَعَهُ وَاحِدٌ يَتْبَعُهُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَعَمَلُهُ فَيَرْجِعُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَيَبْقَى عمله . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6514) و مسلم (5 / 2960)، (7424) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يتبع الميت ثلاثة: فيرجع اثنان ويبقى معه واحد يتبعه اهله وماله وعمله فيرجع اهله وماله ويبقى عمله . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6514) و مسلم (5 / 2960)، (7424) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (وَيَبْقَى عمله) এ প্রসঙ্গে হাফিয ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : ‘আমল তার সাথে কবরে প্রবেশ করে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৭৯)। 

এ ‘আমলের কারণেই সে সওয়াবের অধিকারী হবে অথবা শাস্তির উপযোগী হবে। হাদীসে রয়েছে, “কবর জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য হতে একটি বাগান অথবা আগুনের গর্তগুলোর মধ্য হতে একটি গর্ত।” 

(يَتْبَعُهُ أَهْلُهُ) এখানে পরিবার বলতে সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত অনেক বন্ধু-বান্ধব আর (مَالُهُ) দ্বারা দাস-দাসী, জন্তু জানোয়ার ও আসবাবপত্র বুঝানো হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬৮-[১৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্উদ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যার কাছে নিজ সম্পদ অপেক্ষা উত্তরাধীকারীদের সম্পদ অধিক প্রিয়? তারা বলল : হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই; বরং ওয়ারিসের সম্পদ অপেক্ষা নিজের সম্পদই অধিক প্রিয়। তিনি (সা.) বললেন : যে (আল্লাহর পথে খরচ করে) যা অগ্রিম পাঠায় তাই তার সম্পদ। আর যা সে পিছনে রেখে যায় তা তার ওয়ারিসের সম্পদ। (বুখারী)।

الفصل الاول

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّكُمْ مَالُ وَارِثِهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِهِ؟» قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مَنَّا أَحَدٌ إِلَّا مَالُهُ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ مَالِ وَارِثِهِ. قَالَ: «فَإِنَّ مَالَهُ مَا قَدَّمَ وَمَالَ وَارِثِهِ مَا أخر» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6442) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ايكم مال وارثه احب اليه من ماله؟» قالوا: يا رسول الله ما منا احد الا ماله احب اليه من مال وارثه. قال: «فان ماله ما قدم ومال وارثه ما اخر» . رواه البخاري رواہ البخاری (6442) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَإِنَّ مَالَهُ مَا قَدَّمَ وَمَالَ وَارِثِهِ مَا أخر) উল্লেখিত হাদীস সম্পর্কে ইবনু বাত্ত্বলসহ আরো অনেকে বলেন, আখিরাতে উপকৃত হওয়ার জন্য সৎ ও উত্তম পন্থায় সম্পদ দান করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কেননা মৃত ব্যক্তি যে সম্পদ রেখে মারা যায় তার মালিক তার উত্তরাধিকারীগণ। অতএব মৃতের পূর্বে মালের মালিক নিজে যদি ঐ মাল দ্বারা আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজ সম্পাদন করে তাহলে এর সাওয়াব সে নিজে পাবে। আর এই মাল উপার্জন ও তা জমা করার জন্য যে কষ্ট সে নিজে করেছে তা দ্বারা উপকৃত হতে পারবে। আর ঐ মাল দ্বারা যদি সে আল্লাহর অবাধ্যমূলক কাজ করে তাহলে তো সে উপকৃত হওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। (ফাতহুল বারী ১১শ খণ্ড, হা. ৬৪৪২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৬৯-[১৫] মুত্বাররিফ তাঁর পিতা (’আবদুল্লাহ ইবনু শিখখীর (রা.)) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : একদিন আমি নাবী (সা.) -এর দরবারে আসলাম, এ সময় তিনি সূরাহ্ (اَلۡهٰکُمُ التَّکَاثُرُ) “ধনের প্রাচুর্য তোমাদেরকে গাফিল করে রেখেছেন”- (সূরাহ্ আত্ তাকা-সুর ১০২ : ১) পাঠ করছিলেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন: আদম সন্তান বলে- “আমার মাল, আমার মাল”। তিনি (সা.) বলেন : হে আদম সন্তান! তুমি যা খেয়ে শেষ করে দিয়েছ অথবা পরিধান করে ছিড়ে ফেলেছ অথবা দান করে সঞ্চয় করেছ এছাড়া কি তোমার কোন সম্পদ আছে? (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَن مُطرّف عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يقْرَأ: (آلهاكم التكاثر) قَالَ: يَقُولُ ابْنُ آدَمَ: مَالِي مَالِي . قَالَ: «وَهَلْ لَكَ يَا ابْنَ آدَمَ إِلَّا مَا أَكَلْتَ فَأَفْنَيْتَ أَوْ لَبِسْتَ فَأَبْلَيْتَ أَوْ تصدَّقت فأمضيت؟ ؟» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (3 / 2958)، (7420) ۔
(صَحِيح)

وعن مطرف عن ابيه قال: اتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهو يقرا: (الهاكم التكاثر) قال: يقول ابن ادم: مالي مالي . قال: «وهل لك يا ابن ادم الا ما اكلت فافنيت او لبست فابليت او تصدقت فامضيت؟ ؟» . رواه مسلم رواہ مسلم (3 / 2958)، (7420) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (هَلْ لَكَ يَا ابْنَ آدَمَ) হে আদম সন্তান! তোমার মাল তো তাই যা তুমি ভক্ষণ করেছ। অর্থাৎ মাল অর্জন করে যা তুমি জমা করে রাখবে তা অন্যে ভোগ করবে। তুমি ভোগ করতে পারবে না। আর যা তুমি ভক্ষণ করেছ তাই ভোগ করেছ। অতএব যা তুমি ভোগ করতে পেরেছ তা তোমার। অনুরূপ যা তুমি পরিধান করেছ এটাও তোমারই। আর যা তুমি দান করেছ তা তুমি আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছো তোমার জন্য তা জমা থাকবে। পরকালে তুমি তা ভোগ করবে, অতএব এতটুকুই তোমার মাল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৭০-[১৬] আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সম্পদের প্রাচুর্যতা ধনাঢ্যতা নয় বরং প্রকৃত ধনাঢ্যতা অন্তরের ধনাঢ্যতা। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفس» مُتَّفق عَلَيْهِ.

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6446) و مسلم (120 / 1051)، (2420) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ليس الغنى عن كثرة العرض ولكن الغنى غنى النفس» متفق عليه. متفق علیہ ، رواہ البخاری (6446) و مسلم (120 / 1051)، (2420) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفس) উল্লেখিত হাদীসে (الْعَرَضُ) শব্দটি যদি ‘হরকত’ যোগে পড়া হয় তবে অর্থ হবে টাকা-পয়সা যাবতীয় সম্পদ। আর ‘সাকীন’ যোগে পড়া হলে অর্থ হবে টাকা-পয়সা ব্যতীত অন্যান্য সকল সম্পদ। 

আবূ ‘উবায়দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,(الْعَرَضُ) হলো সব ধরনের ভোগ্য সামগ্রী। তবে জীবজন্তু জমি জমা আর ঐ সমস্ত বস্তু যেগুলো ওযন বা পরিমাপ করা যায় না এগুলো(الْعَرَضُ) -এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

(إِنَّمَا الْغِنَى غِنَى النَّفس) ইবনু বাত্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : প্রকৃত ধনী অধিক সম্পদ থাকলেই হওয়া যায় না। কারণ অধিকাংশ সম্পদশালী লোক তাদের সম্পদে আত্মতৃপ্ত হতে পারে না। সম্পদের প্রতি চরম মোহ থাকায় আরো বেশি সম্পদশালী হবার জন্য চেষ্টা চালায়। এজন্য সে সম্পদশালী হয়েও ফকীর থেকে যায়। তার স্বভাব ফকীরদের মতো ভিক্ষুক। 

পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা যাই হোক সে যদি প্রশস্ত মনের অধিকারী হয় এবং অল্পেই তার মন থেকে অভাব দূর হয় তবে সেই হবে প্রকৃত ধনী। কারণ সে ভিক্ষুকের মতো মনের মধ্যে আরো বেশি পাওয়ার স্বপ্ন দেখে না। 

ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : মনের প্রাচুর্যতাই হলো প্রশংসনীয় মহান এবং উপকারী ধনী। 

ইবনু হাজার ‘আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মনের ধনাঢ্যতা অর্জন হয় অন্তর তথা কলবের ধনাঢ্যতা থেকে। অর্থাৎ সে সকল বিষয়ে তার রবের মুখাপেক্ষী হবে। আর সে নিশ্চিতভাবে জানবে যে তার রবই তাকে দান করে থাকেন। আর না দিলেও তিনি দেন না। বিধায় তার রবের ফায়সালার উপর সে রাজি খুশি থাকে। তাই নিআমাত পেয়ে সে তার রবের শুকরিয়া আদায় করে। আর বিপদে পতিত হয়ে সে তার রবেরই অভিমুখী হয়। অতএব রবের মুখাপেক্ষিতাই তাকে অন্যের দ্বারস্থ হওয়া থেকে যথেষ্ট করে দেয়।  (মিক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ১১শ খণ্ড, হা, ৬৪৪৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭১-[১৭] আবু হুরায়রাহ্ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : কে এ বাক্যগুলো আমার নিকট হতে গ্রহণ করবে? অতঃপর নিজে সে মতো ’আমল করবে অথবা এমন ব্যক্তিকে শিখিয়ে দেবে যে সে অনুযায়ী আমল করে। আমি বললাম : আমি হে আল্লাহর রাসূল! এরপর তিনি (সা.) আমার হাত ধরে পাঁচটি গণনা করলেন। তিনি (সা.) বললেন : ১. আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হতে বেঁচে থাকো, এতে তুমি হবে মানুষের মাঝে উত্তম ইবাদাতকারী, ২. আল্লাহ তোমার তাকদিরে যা বন্টন করেছেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকবে, এতে তুমি হবে মানুষের মাঝে সর্বাপেক্ষা ধনবান, ৩. তোমার প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে, এতে তুমি হবে পূর্ণ ঈমানদার, ৪. নিজের জন্য যা পছন্দ করো মানুষের জন্যও তা পছন্দ করবে, তখন তুমি হবে পূর্ণ মুসলিম এবং ৫. বেশি হাসবে না; কেননা বেশি হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে। (আহমাদ ও তিরমিযী এবং তিনি বলেছেন : হাদীসটি গরীব)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم: «من أَخذ عَنِّي هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ فَيَعْمَلُ بِهِنَّ أَوْ يُعَلِّمُ مَنْ يَعْمَلُ بِهِنَّ؟» قُلْتُ: أَنَا يَا رَسُولَ الله فَأخذ بيَدي فَعَدَّ خَمْسًا فَقَالَ: «اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ وَارْضَ بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ وَأَحْسِنْ إِلَى جَارِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُسْلِمًا وَلَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكَ تُمِيتُ الْقَلْبَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

سندہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 310 ح 8081) و الترمذی (2305) * ابو طارق مجھول و الحسن البصری مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من اخذ عني هولاء الكلمات فيعمل بهن او يعلم من يعمل بهن؟» قلت: انا يا رسول الله فاخذ بيدي فعد خمسا فقال: «اتق المحارم تكن اعبد الناس وارض بما قسم الله لك تكن اغنى الناس واحسن الى جارك تكن مومنا واحب للناس ما تحب لنفسك تكن مسلما ولا تكثر الضحك فان كثرة الضحك تميت القلب» . رواه احمد والترمذي وقال: هذا حديث غريب سندہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 310 ح 8081) و الترمذی (2305) * ابو طارق مجھول و الحسن البصری مدلس و عنعن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (اتَّقِ الْمَحَارِمَ) অর্থাৎ তোমার ওপর আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাতে জড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সাবধান থাক। 

(وَارْضَ بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ) আল্লাহ তোমাকে যে অংশ দিয়েছে তাতে রাজি থাক, তাহলেই তুমি সবার চাইতে ধনী হতে পারবে। অর্থাৎ আল্লাহ তোমার ভাগ্যে যা রেখেছেন তাতো আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেনই, তাই তুমি এতেই সন্তুষ্ট থাকো তবেই তুমি সর্বাধিক ধনী বলে বিবেচিত হবে। কেননা যে ব্যক্তি তার জন্য নির্ধারিত অংশ পেয়েই সন্তুষ্ট হতে পারে যদিও তা পরিমাণে কম হয় তাহলেই সে অন্যের হাতে যা আছে তার প্রতি লোভ করে না। এতে সে অন্যের মুখাপেক্ষী না হওয়াই ধনী হওয়ার প্রমাণ।

(وَلَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكَ تُمِيتُ الْقَلْبَ) এখানে হাসির সাথে অন্তরের মৃত্যুর সম্পর্ক হলো এই, মৃতের ব্যক্তির অন্তরে যে রকম আল্লাহর যিক্র-আযকার, ভয় বা ইবাদাত-বন্দেগীর কথা স্মরণ থাকে না বা অনুভূতি জন্মায় না, অনুরূপ অধিক হাসির কারণে সীমাহীন আনন্দে মত্ত থাকায় আল্লাহর যিক্র-আযকার, ভয় বা ‘ইবাদতের কথা স্মরণ থাকে না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩০৫, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭২-[১৮] উক্ত রাবী [আবু হুরায়রাহ্ (রা.)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতের জন্য ব্যস্ততা হতে মুক্ত হও। আমি তোমাদের হৃদয়কে অভাব-মুক্তি দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিব এবং তোমার দরিদ্রতার পথ বন্ধ করে দিব। আর যদি তা না করো, তবে আমি তোমার হাতকে (দুনিয়ার) ব্যস্ততায় পূর্ণ করে দেবো এবং তোমার অভাব মিটাব না। (আহমাদ ও ইবনু মাজাহ)।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: ابْنَ آدَمَ تَفْرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسِدَّ فَقْرَكَ وَإِنْ لَا تَفْعَلْ مَلَأْتُ يَدَكَ شُغُلًا وَلَمْ أسُدَّ فقرك . رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (2 / 358 ح 8681) و ابن ماجہ (4107) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان الله يقول: ابن ادم تفرغ لعبادتي املا صدرك غنى واسد فقرك وان لا تفعل ملات يدك شغلا ولم اسد فقرك . رواه احمد وابن ماجه اسنادہ حسن ، رواہ احمد (2 / 358 ح 8681) و ابن ماجہ (4107) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (ابْنَ آدَمَ تَفْرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلَأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسِدَّ فَقْرَكَ) আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি আমার ‘ইবাদতে মশগুল থাক আমি তোমার অন্তরকে ধনাঢ্যতা দিয়ে পূর্ণ করে দিবো এবং তোমার প্রয়োজন মিটিয়ে দিব। 

ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) ইমরান ইবনু হুসায়ন থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হয় আল্লাহ তাঁর সমস্ত প্রয়োজন মিটিয়ে দেন এবং এমন জায়গা হতে রিযকের ব্যবস্থা করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতি মনোযোগী হয় আল্লাহ তা'আলা তাকে দুনিয়ার প্রতি সোপর্দ করেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তার দায়িত্ব তারই নিজ হাতে তুলে দেন, তার কোন দায়িত্ব আল্লাহ গ্রহণ করেন না। (মিক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭৩-[১৯] জাবির (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট এমন এক ব্যক্তির আলোচনা করা হলো, যে আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগীতে খুব চেষ্টা করে (কিন্তু গুনাহ হতে বেঁচে থাকার প্রতি তেমন লক্ষ্য রাখে না) এবং এমন আরেক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো (যে ইবাদত-বন্দেগী কম করে) কিন্তু সে পরহেজগারী অবলম্বন করে (গুনাহ হতে বেঁচে চলে), তখন নাবী (সা.) বলেন, তা (ইবাদত করা এবং ’ইবাদতে সচেষ্ট থাকা) পরহেজগারীর সমতুল্য হতে পারবে না। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: ذُكِرَ رَجُلٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعِبَادَةٍ وَاجْتِهَادٍ وَذُكِرَ آخَرُ بِرِعَّةٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَعْدِلْ بِالرِّعَّةِ» . يَعْنِي الْوَرَعَ. رَوَاهُ الترمذيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2519 وقال : غریب) * محمد بن عبد الرحمن بن نبیہ : مجھول الحال ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر قال: ذكر رجل عند رسول الله صلى الله عليه وسلم بعبادة واجتهاد وذكر اخر برعة فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا تعدل بالرعة» . يعني الورع. رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2519 وقال : غریب) * محمد بن عبد الرحمن بن نبیہ : مجھول الحال ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (لَا تَعْدِلْ بِالرِّعَّةِ) অর্থাৎ ‘ইবাদাতকে পরহেজগারিতা দিয়ে মাপা যায় না। (الرِعَّةِ) মূলত (الورع) ছিল। এর অর্থ হলো, হারাম কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকা। 

হাদীসের মূল অর্থ হলো, একজন লোক অনেক ‘ইবাদত করে কিন্তু হারাম থেকে বেঁচে থাকার পরহেজগারিতা কম। পক্ষান্তরে আরেকজন লোক ‘ইবাদত-বন্দেগী কম করলেও হারাম কার্যকলাপ সম্পর্কে খুবই পরহেজগারী। এ দুই ব্যক্তির মধ্যে কে উত্তম? এটা নাবী (সা.) এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, ‘ইবাদাতকে পরহেজগারিতার সাথে মিলিও না। অর্থাৎ মুত্তাক্বী লোকেদের ‘ইবাদত এমনিতে বেশি হয়। পরিমাণে এবং মর্যাদায় উভয় স্তরে সমান থাকে।

রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, শারী'আতের পরিভাষায় (وَرَعَ) বলা হয় দুনিয়ার সহায়-সম্পদ অর্জনের জন্য তাড়াহুড়া বর্জন করা। অর্থাৎ দুনিয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত না হওয়াকে (وَرَعَ) তথা পরহেজগারিতা বলা হয়। এটা তিন প্রকার- (১) ওয়াজিব : সমস্ত হারাম কাজ হতে বিরত থাকা। এটা সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। (২) মানদূব : সন্দেহজনক জিনিস হতে বিরত থাকা। অর্থাৎ কোন কাজ ইসলামী শারী'আতে জায়িয নাকি হারাম তা অস্পষ্ট হলে সে কাজ হতে বিরত থাকা। এটা তা মধ্যম পর্যায়ের লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (৩) ফযীলত বা মর্যাদাপূর্ণ কাজ : অনেক বৈধ কাজ হতে বিরত থাকা এবং সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয়তার মধ্যে স্বীমাবদ্ধ থাকা। আর এটা নবী, শহীদ, সিদ্দীক ও সালিহীনদের জন্য প্রযোজ্য। (মিক্বাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭৪-[২০] ’আমর ইবনু মায়মূন আল আওদী (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) জনৈক ব্যক্তিকে নাসীহাতস্বরূপ বললেন : পাঁচটি জিনিস আসার পূর্বে পাঁচটি কাজকে বিরাট সম্পদ মনে করো। ১. তোমার বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকে, ২. রোগাগ্রস্ত হওয়ার পূর্বে সুস্বাস্থ্যকে, ৩. দরিদ্রতার পূর্বে অভাবমুক্ত থাকাকে, ৪. ব্যস্ততার পূর্বে অবসর সময়কে এবং ৫. মৃত্যুর পূর্বে হায়াতকে। (তিরমিযী মুরসাল হিসেবে একে বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الْأَوْدِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُهُ: اغْتَنِمْ خَمْسًا قَبْلَ خَمْسٍ: شَبَابَكَ قَبْلَ هَرَمِكَ وَصِحَّتَكَ قَبْلَ سَقَمِكَ وَغِنَاكَ قَبْلَ فَقْرِكَ وَفَرَاغَكَ قَبْلَ شُغْلِكَ وَحَيَاتَكَ قَبْلَ مَوْتِكَ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ مُرْسلا

حسن ، رواہ الترمذی (لم اجدہ) [و البغوی فی شرح السنۃ (14 / 224 ح 2021) و ابن المبارک فی الزھد (2) و النسائی فی الکبری کما فی تحفۃ الاشراف (13 / 328 ح 19179)] * السند مرسل و رواہ الحاکم (4 / 306) موصولاً من حدیث ابن عباس و صححہ علی شرط الشیخین و وافقہ الذھبی و سندہ حسن ۔
(صَحِيح)

وعن عمرو بن ميمون الاودي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لرجل وهو يعظه: اغتنم خمسا قبل خمس: شبابك قبل هرمك وصحتك قبل سقمك وغناك قبل فقرك وفراغك قبل شغلك وحياتك قبل موتك . رواه الترمذي مرسلا حسن ، رواہ الترمذی (لم اجدہ) [و البغوی فی شرح السنۃ (14 / 224 ح 2021) و ابن المبارک فی الزھد (2) و النساىی فی الکبری کما فی تحفۃ الاشراف (13 / 328 ح 19179)] * السند مرسل و رواہ الحاکم (4 / 306) موصولا من حدیث ابن عباس و صححہ علی شرط الشیخین و وافقہ الذھبی و سندہ حسن ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭৫-[২১] আবু হুরায়রাহ্ (রা.) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সা.) বলেছেন: তোমাদের অনেকে কেবল এমন সচ্ছল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে যা পাপাচারে লিপ্ত করবে অথবা এমন দরিদ্রতার যা আল্লাহকে ভুলিয়ে দেবে। অথবা এমন ব্যাধির যা ধ্বংসকারী হবে। অথবা এমন বার্ধক্যের যা বিবেকশূন্য করে ফেলবে অথবা মৃত্যুর যা অতর্কিতে আগমন করবে অথবা দাজ্জালের; আর দাজ্জাল তো সবচাইতে অদৃশ্য বিষয়ের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মন্দ অথবা কিয়ামতের, অথচ কিয়ামত হলো অত্যন্ত কঠিন ও তিতার ন্যায়। (তিরমিযী ও নাসায়ী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا يَنْتَظِرُ أَحَدُكُمْ إِلَّا غِنًى مُطْغِيًا أَوْ فَقْرًا مُنْسِيًا أَوْ مَرَضًا مُفْسِدًا أَوْ هَرَمًا مُفَنِّدًا أَوْ مَوْتًا مُجْهِزًا أَوِ الدَّجَّالَ فَالدَّجَّالُ شَرٌّ غَائِبٌ يُنْتَظَرُ أَوِ السَّاعَةَ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (2306 وقال : غریب حسن) و النسائی (لم اجدہ) * محرز بن ھارون : متروک ضعفہ الجمھور ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما ينتظر احدكم الا غنى مطغيا او فقرا منسيا او مرضا مفسدا او هرما مفندا او موتا مجهزا او الدجال فالدجال شر غاىب ينتظر او الساعة والساعة ادهى وامر» رواه الترمذي والنساىي اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (2306 وقال : غریب حسن) و النساىی (لم اجدہ) * محرز بن ھارون : متروک ضعفہ الجمھور ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (قاَلَباَدِرُواباِلْأَعُمالِسَبْعً) অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকার ফিতনায় জর্জরিত হওয়ার আগেই বেশি বেশি সৎ ‘আমাল করতে হোক। বিশেষ করে উল্লেখিত সাতটি ফিতনাহ্ (বিপদ) দেখা দেয়ার আগেই। কারণ এগুলোর কোন একটি যখন আক্রমণ করে ফেলবে তখন সৎ ‘আমাল করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। 

(مُنْسِ) শব্দটি আরবী ব্যাকরণে(باب الإفعل) অথবা (التفعيل) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এমন দারিদ্রতা যা কোন ব্যক্তিকে অস্থির করে ফেলে। ফলে সে অভাব আর ক্ষুধার তাড়নায় ‘ইবাদত বন্দেগীর কথা ভুলে যায়। 

 (مَوْتًا مُجْهِزًا) দ্রুত আগমনকারী মৃত্যু। অর্থাৎ হঠাৎ মৃত্যু যা অসুস্থতা অথবা বৃদ্ধ হবার কারণে ঘটে । বরং হত্যা, পানিতে ডুবে মৃত্যু অথবা ধ্বংস স্তুপের নীচে পরে মৃত্যু ইত্যাদি যা মানুষের ধারণার বাহিরে রয়েছে। 

(وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ) কিয়ামত অধিক আতঙ্ক, কঠিন ও তিক্তের। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কিয়ামত সম্পর্কে গাফেল এবং সেজন্য কোন প্রকার প্রস্তুতি গ্রহণ না করে অলস জীবন কাটায় কিয়ামত তার জন্য সর্বাধিক আতঙ্ক ও তিক্তের বস্তু। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩০৬, মিরক্বাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭৬-[২২] উক্ত রাবী [আবু হুরায়রাহ্ (রা.)] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সাবধান! নিশ্চয় দুনিয়া অভিশপ্ত, তন্মধ্যে আল্লাহর যিক্র ও আল্লাহ যা কিছু ভালোবাসেন এবং জ্ঞানী ও জ্ঞান অনুসন্ধানকারী ব্যতীত সব কিছুই অভিশপ্ত। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلَا إِنَّ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلا ذكرُ الله وَمَا وَالَاهُ وَعَالِمٌ أَوْ مُتَعَلِّمٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2322 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (4112) ۔
(حسن)

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الا ان الدنيا ملعونة ملعون ما فيها الا ذكر الله وما والاه وعالم او متعلم» . رواه الترمذي وابن ماجه اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2322 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (4112) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ) অর্থাৎ দুনিয়া তার অধিবাসীকে আল্লাহ থেকে বিমুখ করে রাখে বলে তাকে অভিশপ্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। (مَلْعُونٌ مَا فِيهَا) অর্থাৎ যারা আল্লাহর যিক্র থেকে বিমুখ তারাও অভিশপ্ত। 

(وَمَا وَالَاهُ) অর্থাৎ- সৎ কাজ করার জন্য তাকে আল্লাহ ভালোবাসেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ মান্য করে, নিষেধ বর্জন করে এবং তার যিক্রে মত্ত থাকে সে অভিশপ্ত নয়। আল্লামাহ্ মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়ায় আল্লাহ তা'আলা যে সমস্ত কার্যকলাপ পছন্দ করেন সেগুলো উদ্দেশ্য। 

 ‘আল্লামাহ্ মানাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (مَلْعُونَةٌ) শব্দের অর্থ হলো (مروكة) অর্থাৎ বর্জনীয়। তিনি বলেন : দুনিয়াকে অভিশপ্ত বলে আখ্যায়িত করার কারণ হলো, সে মানুষকে আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ করে প্রবৃত্তির অনুসরণে মত্ত রাখে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩২২; মিরক্বাতুল মাফতীহ) 


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭৭-[২৩] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যদি দুনিয়ার মূল্য আল্লাহ তা’আলার কাছে মাছির একটি পাখার সমমূল্য পরিমাণ হত তাহলে তিনি কোন কাফিরকে দুনিয়াতে এক ঢোক পানিও পান করাতেন না। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا شربة» رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

سندہ ضعیف ، رواہ احمد (لم اجدہ) و الترمذی (2320 وقال : صحیح غریب) و ابن ماجہ (4110) * عبدالحمید بن سلیمان ضعیف و للحدیث شاھد ضعیف عند القضاعی فی مسند الشھاب (1439) ۔

وعن سهل بن سعد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو كانت الدنيا تعدل عند الله جناح بعوضة ما سقى كافرا منها شربة» رواه احمد والترمذي وابن ماجه سندہ ضعیف ، رواہ احمد (لم اجدہ) و الترمذی (2320 وقال : صحیح غریب) و ابن ماجہ (4110) * عبدالحمید بن سلیمان ضعیف و للحدیث شاھد ضعیف عند القضاعی فی مسند الشھاب (1439) ۔

ব্যাখ্যা : (لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا شربة) উক্ত হাদীসের সারমর্ম হলো এই যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার নিকট দুনিয়ার মূল্য এবং মর্যাদা অত্যন্ত নগণ্য। সামান্য মাছির ডানা পরিমাণও নয়। অর্থাৎ একশতের ভিতর শূন্যেরও নিচে। এজন্য দুনিয়াতে মুমিন মুশরিক সবাই আহার পায় এবং সমানভাবে বিচরণ করতে পারে। পক্ষান্তরে আল্লাহর কাছে যদি সরিষার দানা পরিমাণ মূল্য থাকত তবে আল্লাহর অনুগ্রহ শুধু মু'মিনরাই ভোগ করত। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২৩২০) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭৮-[২৪] (আবদুল্লাহ) ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : তোমরা বাগ-বাগিচা ও ক্ষেত-খামার (আগ্রহের সাথে) গ্রহণ করো না। ফলে তোমরা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। (তিরমিযী ও বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَتَّخِذُوا الضَّيْعَةَ فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»

حسن ، رواہ الترمذی (2328 وقال : حسن) و البیھقی فی شعب الایمان (10391) ۔
(إِسْنَاده جيد)

وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تتخذوا الضيعة فترغبوا في الدنيا» . رواه الترمذي والبيهقي في «شعب الايمان» حسن ، رواہ الترمذی (2328 وقال : حسن) و البیھقی فی شعب الایمان (10391) ۔ (اسناده جيد)

ব্যাখ্যা : এখানে (الضَّيْعَةَ) শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এর অর্থ হলো চাষাবাদ, ফসলি জমি, বাগান, গ্রামীণ জনপদ ইত্যাদি। 

নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তির (ضَّيْعَةَ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্পদ যা তার জীবিকার কাজ সম্পন্ন করে। যেমন- বিভিন্ন শিল্পকর্ম, ব্যবসায়-বাণিজ্য, চাষাবাদ বা অন্য কিছু। 

আল ক্বামূস গ্রন্থে বলা হয়েছে, (الضَّيْعَةَ) -এর অর্থ ফসলী জমি। 

(فَتَرْغَبُوا فِي الدُّنْيَا) এখানে উদ্দেশ্য হলো, এমন সব কাজকর্মে সব সময় ব্যস্ত না থাকা যেগুলো সঠিক সময় “ইবাদাত-বন্দেগী করতে বা একেবারেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই এমন কাজ বেছে নেয়া উচিত যাতে সময়মত “ইবাদতসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩২৮) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৭৯-[২৫] আবু মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি (যে পরিমাণ) ইহকাল ভালোবাসে সে (সে পরিমাণ) তার পরকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, পক্ষান্তরে যে পরকালকে মুহাব্বাত করে, সে সেই পরিমাণ ইহকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অতএব যা অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে তার উপর তাকে প্রাধান্য দাও যা চিরস্থায়ী থাকবে। (আহমাদ ও বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحَبَّ دُنْيَاهُ أَضَرَّ بِآخِرَتِهِ وَمَنْ أَحَبَّ آخِرَتَهُ أَضَرَّ بِدُنْيَاهُ فَآثِرُوا مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى» . رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (4 / 412 ح 1993) و البیھقی فی شعب الایمان (10337 ، نسخۃ محققۃ : 9854 و فی السنن الکبری 3 / 370) [و الحاکم (3 / 319 ، 4 / 308)] * وقال المنذری :’’ المطلب : لم یسمع من ابی موسی ‘‘ ۔

وعن ابي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من احب دنياه اضر باخرته ومن احب اخرته اضر بدنياه فاثروا ما يبقى على ما يفنى» . رواه احمد والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (4 / 412 ح 1993) و البیھقی فی شعب الایمان (10337 ، نسخۃ محققۃ : 9854 و فی السنن الکبری 3 / 370) [و الحاکم (3 / 319 ، 4 / 308)] * وقال المنذری :’’ المطلب : لم یسمع من ابی موسی ‘‘ ۔

ব্যাখ্যা : (فَآثِرُوا مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى) অবিনশ্বরকে নশ্বরের উপর প্রাধান্য দাও। ইমাম গাযালী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যার সামান্য জ্ঞান ও ঈমান আছে সে ব্যক্তি এটা জানে যে, দুনিয়া অস্থায়ী এবং আখিরাত চিরস্থায়ী। আর এ জানার ফল হলো যে, সে অস্থায়ী বস্তুর প্রতি বিমুখ হবে এবং স্থায়ী বস্তুর প্রতি মনোযোগী হবে। আর অস্থায়ী বস্তুর প্রতি বিমুখতা ও স্থায়ী বস্তুর প্রতি মনোযোগিতার আলামত হলো সে মৃত্যু আসার পূর্বেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দুনিয়া ও পরকাল হলো বাট-খারার দু'টি পাল্লা। একটি ভারী হলে অন্যটি হালকা হবে। অতএব দুনিয়ার পাল্লা ভারী হলে পরকালের পাল্লা হালকা হবে। তাই রাসূলুল্লাহ (সা.) স্থায়ী বস্তুকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন যাতে পরকালের পাল্লা ভারী হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮০-[২৬] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, দীনারের দাসকে ও দিরহামের দাসকে অভিসম্পাত করা হয়েছে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «لُعِنَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَلُعِنَ عَبْدُ الدِّرْهَمِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2375 وقال : حسن غریب) * یونس بن عبید و شیخہ الحسن البصری مدلسان و عنعنا و صح الحدیث بلفظ :’’ تعس عبد الدینار و الدرھم ‘‘ (رواہ البخاری : 886 وغیرہ) ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم: «لعن عبد الدينار ولعن عبد الدرهم» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2375 وقال : حسن غریب) * یونس بن عبید و شیخہ الحسن البصری مدلسان و عنعنا و صح الحدیث بلفظ :’’ تعس عبد الدینار و الدرھم ‘‘ (رواہ البخاری : 886 وغیرہ) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (لُعِنَ عَبْدُ الدِّينَارِ) অর্থাৎ এ ব্যক্তি রহমত ও অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হোক, যে ব্যক্তি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা (অর্থাৎ টাকা পয়সা) পুঞ্জিভূত করতে চরম আগ্রহী এবং অঢেল সম্পদের মালিক হিসেবে বেঁচে থাকার আশায় গুণে গুণে সম্পদ হিফাযাত করে রাখে। এ ধরনের ব্যক্তিরা যেন অর্থ সম্পদের খাদেম ও গোলাম, এজন্য (عَبْدُ) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। 

ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সম্পদ পুঞ্জিভূতকারীকে দীনার ও দিরহামের গোলাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে তার মালিক বলা হয়নি, কারণ সে সম্পদের মুহাব্বাতে এতটাই মোহগ্রস্ত যে, সে তা হতে কক্ষনো মুক্ত হতে পারে না। যেমন গোলাম তার মুনীবমুক্ত হতে পারে না। আর সম্পদের মধ্য হতে দীনার ও দিরহাম উল্লেখ করার কারণ হলো তা দুনিয়ার সম্পদের মূল। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৭৫)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮১-[২৭] কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: দুটি ক্ষুধার্ত বাঘকে মেষ-বকরীর দলের মধ্যে ছেড়ে দিলে ততটুকু ক্ষতিসাধন করে না, যতটুকু কোন ব্যক্তির ধন সম্পদের ভালোবাসা ও মর্যাদার লালসা তার দীনের ক্ষতি করে থাকে। (তিরমিযী ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلَا فِي غَنَمٍ بِأَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الْمَرْءِ عَلَى الْمَالِ والشرف لدينِهِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ والدارمي

حسن ، رواہ الترمذی (2376 وقال : حسن صحیح) و الدارمی (2 / 304 ح 2733) ۔
(صَحِيح)

وعن كعب بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما ذىبان جاىعان ارسلا في غنم بافسد لها من حرص المرء على المال والشرف لدينه» رواه الترمذي والدارمي حسن ، رواہ الترمذی (2376 وقال : حسن صحیح) و الدارمی (2 / 304 ح 2733) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلَا...) উল্লেখিত হাদীসের সারমর্ম হলো এই সম্পদ এবং ঐশ্বর্য পাওয়ার নেশায় মোহগ্রস্ত ব্যক্তির ধর্মীয় কাজে যতটুকু পরিমাণ ক্ষতি হয় কোন বকরীর পালে ক্ষুধার্ত দুটি নেকড়ে ছেড়ে দিলেও ততটুকু পরিমাণ ক্ষতি হয় না। 

কাজেই লোভ করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। আর যদি সেটা সম্পদশালী হওয়া আর অভিজাত্য ও ঐশ্বর্যের ব্যাপারে হয় তাহলে তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 

মাল ক্ষতিকর এজন্য যে, তা মানুষের মধ্যে এক প্রকার ক্ষমতা সৃষ্টি করে যা মানুষকে প্রবৃত্তির অনুসরণের দিকে আহ্বান করে এবং দুনিয়ার নি'আমাতের মধ্যে ডুবে থাকার দিকে আকৃষ্ট করে। ফলে সে ব্যক্তি নি'আমাতের মধ্যে ডুবে থাকা পছন্দ করে। কখনো তা এত বৃদ্ধি পায় যে, সে যদি হালাল উপায়ে তা অর্জন করতে না পারে তাহলে সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে যা তাকে আল্লাহ স্মরণ বিমুখ করে তুলে। অভিজাত্য তথা সুনাম অর্জন ক্ষতিকর এজন্য যে, মানুষ এই সুনাম অর্জনের জন্যই সম্পদ ব্যয় করে যা অতি সূক্ষ্ম শিরক। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৭৬; মিক্বাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮২-[২৮] খব্বাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: মু’মিন ব্যক্তি (জীবনধারণের উদ্দেশে) যা খরচ করে, তাকে তার পুণ্য দেয়া হয়। কিন্তু সে এ মাটির মধ্যে যা ব্যয় করে (তাতে কিছুই দেয়া হয় না)। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن خباب عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أَنْفَقَ مُؤْمِنٌ مِنْ نَفَقَةٍ إِلَّا أُجِرَ فِيهَا إِلَّا نَفَقَتَهُ فِي هَذَا التُّرَابِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

صحیح ، رواہ الترمذی (2483 وقال : صحیح) و ابن ماجہ (4163) ۔
(صَحِيح)

وعن خباب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ما انفق مومن من نفقة الا اجر فيها الا نفقته في هذا التراب» . رواه الترمذي وابن ماجه صحیح ، رواہ الترمذی (2483 وقال : صحیح) و ابن ماجہ (4163) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে বলা হয়েছে যে, পরিবার-পরিজনের পিছনে যে ব্যক্তি যত প্রকার সম্পদ ব্যয় করে তার সেই সকল ব্যয়ের কারণে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু ঘর-বাড়ী নির্মাণের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে ব্যয় করে তথা সুখ্যাতি অর্জনের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘর বাড়ী নির্মাণ করে এজন্য তাকে কোন সাওয়াব দেয়া হবে না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৪৮৩; মিক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৩-[২৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : (কোন ব্যক্তির জীবনধারণের) প্রত্যেকটি খরচ আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় খরচ করার মধ্যে গণ্য- কেবল ঘর-বাড়ি ব্যতীত। কেননা তাতে কোন উপকার নেই। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন : হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «النَّفَقَةُ كُلُّهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا الْبِنَاءَ فَلَا خَيْرَ فِيهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2482) * زافر : صدوق ضعیف الحدیث ضعفہ الجمھور من کثرۃ اوھامہ کما حققتہ فی التعلیق علی تھذیب التھذیب ۔
(ضَعِيف)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «النفقة كلها في سبيل الله الا البناء فلا خير فيه» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2482) * زافر : صدوق ضعیف الحدیث ضعفہ الجمھور من کثرۃ اوھامہ کما حققتہ فی التعلیق علی تھذیب التھذیب ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (إِلَّا الْبِنَاءَ) এখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থাৎ অপচয় করার কারণে কোন সওয়াব নেই। 

(মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৪-[৩০] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বের হলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। এ সময় তিনি একটি উঁচু গম্বুজ দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন : এটা কি? সাথীগণ বললেন : এটা অমুক আনসারী ব্যক্তির। এটা শুনে তিনি (সা.) নীরব রইলেন এবং তা (ঘৃণাভরে) নিজের মনেই রেখে দিলেন। পরিশেষে যখন সেই ঘর ওয়ালা এসে লোকজনের মধ্যে রাসুল (সা.) -কে সালাম করল, তখন তিনি তার দিক হতে চেহারা ঘুরিয়ে নিলেন। এভাবে কয়েকবার করল, এমনকি লোকটি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর অসন্তুষ্টি এবং তার দিক হতে মুখ ফেরানো অনুধাবন করে রসূল (সা.)-এর সাহাবীদের নিকট ব্যাপারটি প্রকাশ করে বলল, আল্লাহর শপথ! আমি রসূলুল্লাহ (সা.) -কে (আমার প্রতি) অসন্তুষ্ট দেখছি। তারা বললেন : রসূল (সা.) এ দিকে বের হয়ে তোমার গম্বুজটি দেখেন (এতে তিনি অসন্তুষ্ট হন)। এ কথা শুনে লোকটি তার গম্বুজের দিকে ফিরে গেল এবং তা ভেঙ্গে চুরমার করে জমিনের সাথে মিশিয়ে দিলো। এরপর আবার একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) এদিকে বের হলেন; কিন্তু গম্বুজটি দেখলেন না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, গম্বুজটির কি হলো? তারা বললেন : তার মালিক আমাদের নিকট এসে আপনার অসন্তুষ্টির কথা বললে আমরা তাকে এর কারণ অবগত করলাম, অতঃপর সে তা ভেঙ্গে ফেলেছে। তখন রসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : সাবধান! একান্ত প্রয়োজনীয় ঘর ব্যতীত অন্য কোন ইমারত তার মালিকের জন্য বিপদ (’আযাবের কারণ হবে)। (আবু দাউদ)

(শাইখ আলবানী (রহ.) প্রথমে এই হাদিসটিকে যঈফ বলেছিলেন, তবে পরবর্তীতে তিনি এটিকে সহিহ বলেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَوْمًا وَنَحْنُ مَعَهُ فَرَأَى قُبَّةً مُشْرِفَةً فَقَالَ: «مَا هَذِهِ؟» قَالَ أَصْحَابُهُ: هَذِهِ لِفُلَانٍ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَسَكَتَ وَحَمَلَهَا فِي نَفْسِهِ حَتَّى إِذَا جَاءَ صَاحِبُهَا فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فِي النَّاسُ فَأَعْرَضَ عَنْهُ صَنَعَ ذَلِكَ مِرَارًا حَتَّى عرفَ الرجلُ الغضبَ فِيهِ والإِعراضَ فَشَكَا ذَلِكَ إِلَى أَصْحَابِهِ وَقَالَ: وَاللَّهِ إِنِّي لَأُنْكِرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالُوا: خَرَجَ فَرَأَى قُبَّتَكَ. فَرَجَعَ الرَّجُلُ إِلَى قُبَّتِهِ فَهَدَمَهَا حَتَّى سَوَّاهَا بِالْأَرْضِ. فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَلَمْ يَرَهَا قَالَ: «مَا فَعَلَتِ الْقُبَّةُ؟» قَالُوا: شَكَا إِلَيْنَا صَاحِبُهَا إِعْرَاضَكَ فَأَخْبَرْنَاهُ فَهَدَمَهَا. فَقَالَ: «أَمَا إِنَّ كَلَّ بِنَاءٍ وَبَالٌ عَلَى صَاحِبِهِ إِلَّا مَا لَا إِلَّا مَا لَا» يَعْنِي مَا لَا بُدَّ مِنْهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (5237) ۔

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يوما ونحن معه فراى قبة مشرفة فقال: «ما هذه؟» قال اصحابه: هذه لفلان رجل من الانصار فسكت وحملها في نفسه حتى اذا جاء صاحبها فسلم عليه في الناس فاعرض عنه صنع ذلك مرارا حتى عرف الرجل الغضب فيه والاعراض فشكا ذلك الى اصحابه وقال: والله اني لانكر رسول الله صلى الله عليه وسلم. قالوا: خرج فراى قبتك. فرجع الرجل الى قبته فهدمها حتى سواها بالارض. فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم فلم يرها قال: «ما فعلت القبة؟» قالوا: شكا الينا صاحبها اعراضك فاخبرناه فهدمها. فقال: «اما ان كل بناء وبال على صاحبه الا ما لا الا ما لا» يعني ما لا بد منه. رواه ابو داود اسنادہ صحیح ، رواہ ابوداؤد (5237) ۔

ব্যাখ্যা : (أَمَا إِنَّ كَلَّ بِنَاءٍ وَبَالٌ عَلَى صَاحِبِهِ) সাবধান সকল ঘরবাড়ী তার মালিকের জন্য কিয়ামত দিবসে শাস্তির কারণ হবে। এ দ্বারা উদ্দেশ্য সেই ঘরবাড়ী যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তৈরি করেছে। উদ্দেশ্য হলো এর দ্বারা অহংকার প্রকাশ করা ও অতিরিক্ত সুখ-সাচ্ছন্দ্যে মেতে থাকা। ঐ ঘর-বাড়ী উদ্দেশ্য নয় যা মানব কল্যাণের জন্য তৈরি করা হয়েছে যেমন মসজিদ, মাদরাসা ও সরাইখানা ইত্যাদি। কেননা এগুলো পরকালের সাওয়াবের উদ্দেশ্যেই বানানো হয়। অনুরূপভাবে মানুষের প্রয়োজনীয় খাবার, পোশাক ও বাসস্থান বানানো এর অন্তর্ভুক্ত নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৫-[৩১] আবু হাশিম ইবনু ’উতবাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে উপদেশস্বরূপ বললেন : সমস্ত ধন-সম্পদের মধ্যে তোমার জন্য একজন খাদিম ও আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহারের জন্য একটি সওয়ারীই যথেষ্ট। (আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ। আর মাসাবীহের কোন কোন গ্রন্থে (عُتْبَة) এর স্থলে (عُتْبَد)। অর্থাৎ- “তা”-এর পরিবর্তে “দাল” আছে, কিন্তু এটা ভুল।)”।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن أبي هَاشم بن عُتبَةَ قَالَ: عَهِدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا يَكْفِيكَ مِنْ جَمْعِ الْمَالِ خَادِمٌ وَمَرْكَبٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ. وَفِي بَعْضِ نسخ «المصابيح» عَن أبي هَاشم بن عتيد بِالدَّال بدل التَّاء وَهُوَ تَصْحِيف

سندہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 290 ح 22863) و الترمذی (2327) و النسائی (8 / 218 ۔ 219 ح 5374) و ابن ماجہ (4103) و ذکرہ البغوی فی مصابیح السنۃ (3 / 423 ۔ 424 ح 4027 و فیہ ’’ عتبۃ ‘‘ بالتاء) * ابو وائل رواہ عن سمرۃ بن سھم وھو رجل مجھول و روی النسائی فی الکبری (5 / 507 ح 9812) بسند حسن عن بریدۃ رضی اللہ عنہ رفعہ : ((یکفی احدکم من الدنیا خادم و مرکب)) وھو یغنی عنہ ۔

وعن ابي هاشم بن عتبة قال: عهد الى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «انما يكفيك من جمع المال خادم ومركب في سبيل الله» . رواه احمد والترمذي والنساىي وابن ماجه. وفي بعض نسخ «المصابيح» عن ابي هاشم بن عتيد بالدال بدل التاء وهو تصحيف سندہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 290 ح 22863) و الترمذی (2327) و النساىی (8 / 218 ۔ 219 ح 5374) و ابن ماجہ (4103) و ذکرہ البغوی فی مصابیح السنۃ (3 / 423 ۔ 424 ح 4027 و فیہ ’’ عتبۃ ‘‘ بالتاء) * ابو واىل رواہ عن سمرۃ بن سھم وھو رجل مجھول و روی النساىی فی الکبری (5 / 507 ح 9812) بسند حسن عن بریدۃ رضی اللہ عنہ رفعہ : ((یکفی احدکم من الدنیا خادم و مرکب)) وھو یغنی عنہ ۔

ব্যাখ্যা : (خَادِمٌ) অর্থাৎ সফরে খাদেমের প্রয়োজন দেখা দেয় বিধায় এখানে ‘খাদেম’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। (فِي سَبِيلِ اللَّهِ) অর্থাৎ- জিহাদ, হজ্জ অথবা জ্ঞান অর্জনসহ সর্বাবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহার হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৬-[৩২] ’উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) বলেছেন: আদম সন্তানের জন্য বসবাসের একখানা ঘর, লজ্জাস্থান ঢাকার একখানা কাপড়, একখণ্ড শুকনা রুটি ও কিছু পানি ব্যতীত আর কিছুই রাখার হাক্ব বা অধিকার নেই। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيْسَ لِابْنِ آدَمَ حَقٌّ فِي سِوَى هَذِهِ الْخِصَالِ: بَيْتٌ يَسْكُنُهُ وَثَوْبٌ يُوَارِي بِهِ عَوْرَتَهُ وجلف الْخبز وَالْمَاء . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2341 وقال : صحیح) ۔
(ضَعِيف)

وعن عثمان بن عفان رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: ليس لابن ادم حق في سوى هذه الخصال: بيت يسكنه وثوب يواري به عورته وجلف الخبز والماء . رواه الترمذي اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2341 وقال : صحیح) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : ‘আল্লামাহ্ কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (الحَقٌّ) শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ প্রয়োজনের কারণে যার প্রতি মুখাপেক্ষী হয় এবং তা দ্বারা জীবিকা নির্বাহ করে। এটাই হলো (المال) শব্দের প্রকৃত উদ্দেশ্য। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৪১; মিরক্বাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৭-[৩৩] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি [রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট] এসে বলল : হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটি কাজের আদেশ দিন যা করলে আল্লাহ আমাকে ভালোবাসবেন এবং মানুষেরাও আমাকে ভালোবাসবে। তিনি বললেন: দুনিয়া বর্জন করো, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন এবং মানুষের নিকট যা আছে তার প্রতি লোভ করো না। তাহলে লোকেরা তোমাকে ভালোবাসবে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا أَنَا عَمِلْتُهُ أَحَبَّنِي اللَّهُ وَأَحَبَّنِي النَّاسُ. قَالَ: «ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبُّكَ اللَّهُ وَازْهَدْ فِيمَا عِنْدَ النَّاسِ يُحِبَّكَ النَّاسُ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه

ضعیف ، رواہ الترمذی (لم اجدہ) و ابن ماجہ (4102) * فیہ خالد بن عمرو القرشی : کذاب قضاع ولہ متابعات مردودۃ و شواھد ضعیفۃ فالسند موضوع و الحدیث ضعیف ۔

وعن سهل بن سعد قال: جاء رجل فقال: يا رسول الله دلني على عمل اذا انا عملته احبني الله واحبني الناس. قال: «ازهد في الدنيا يحبك الله وازهد فيما عند الناس يحبك الناس» رواه الترمذي وابن ماجه ضعیف ، رواہ الترمذی (لم اجدہ) و ابن ماجہ (4102) * فیہ خالد بن عمرو القرشی : کذاب قضاع ولہ متابعات مردودۃ و شواھد ضعیفۃ فالسند موضوع و الحدیث ضعیف ۔

ব্যাখ্যা : (ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبُّكَ اللَّهُ) তুমি দুনিয়া পরিত্যাগ কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। অর্থাৎ দুনিয়ার ঐশ্বর্য অর্জন করার ক্ষমতা থাকতেও জাহান্নামের ভয়ে ও জান্নাতের আশায় ঐশ্বর্য অর্জনের পথ পরিহার করে আল্লাহর পথে জীবন ব্যয় করলেই আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। 

(وَازْهَدْ فِيمَا عِنْدَ النَّاسِ يُحِبَّكَ النَّاسُ) মানুষের নিকট যা আছে তুমি তা পাওয়ার আশা পরিত্যাগ কর তাহলেই মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে। অর্থাৎ তোমার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তুমি যদি মানুষের কাছে হাত না পাতো এবং চাওয়ার মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট না দাও তাহলেই মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৮-[৩৪] (আবদুল্লাহ) ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) একটি চাটাইয়ে ঘুমিয়েছিলেন, তা হতে উঠলে তাঁর দেহে চাটাইয়ের দাগ পড়ে যায়। তখন ইবনু মাসউদ (রাঃ) আরয করলেন: হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি আমাদেরকে আদেশ দিতেন তবে আমরা আপনার জন্য একখানা বিছানা তৈরি করে বিছিয়ে দিতাম। তিনি (সা.) বললেন: দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক? মূলত আমার ও দুনিয়ার উপমা হলো একজন ঐ আরোহীর ন্যায়, যে একটি গাছের নীচে ছায়ায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিলো, অতঃপর বৃক্ষটিকে ছেড়ে চলে যায়। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَامَ عَلَى حَصِيرٍ فَقَامَ وَقَدْ أَثَّرَ فِي جَسَدِهِ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَمَرْتَنَا أَنْ نَبْسُطَ لَكَ وَنَعْمَلَ. فَقَالَ: «مَا لِي وَلِلدُّنْيَا؟ وَمَا أَنَا وَالدُّنْيَا إِلَّا كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه

حسن ، رواہ احمد (1 / 391 ح 3709) و الترمذی (2377 وقال : صحیح) و ابن ماجہ (4109) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن مسعود ان النبي صلى الله عليه وسلم نام على حصير فقام وقد اثر في جسده فقال ابن مسعود: يا رسول الله لو امرتنا ان نبسط لك ونعمل. فقال: «ما لي وللدنيا؟ وما انا والدنيا الا كراكب استظل تحت شجرة ثم راح وتركها» . رواه احمد والترمذي وابن ماجه حسن ، رواہ احمد (1 / 391 ح 3709) و الترمذی (2377 وقال : صحیح) و ابن ماجہ (4109) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (مَا لِي وَلِلدُّنْيَا)  এর অর্থ হলো, দুনিয়ার প্রতি আমার কোনই মুহাব্বাত নেই। কারণ আমি আখিরাতকে অনুসন্ধান করি এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৭৭; মিক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৯-[৩৫] আবু উমামাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমার বন্ধুদের মধ্যে সে মু’মিনই আমার নিকট ঈর্ষার পাত্র, যে ইহকাল ঝামেলামুক্ত, সালাতের ব্যাপারে আন্তরিক, আল্লাহর ’ইবাদত ভালোভাবে আদায় করে এবং গোপনীয় অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যে থাকে। মানুষের কাছে অপরিচিত- তার প্রতি অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করা হয় না, তার রিযক প্রয়োজন পরিমাণ হয় এবং তাতেই সে তুষ্ট থাকে। এ কথাগুলো বলে নবী (সা.) নিজের হাতের অঙ্গুলির মধ্যে চুটকি মেরে বললেন: এ অবস্থায় হঠাৎ একদিন তাকে মৃত্যু গ্রাস করে। তার জন্য ক্রন্দনকারিণীও কম হয় এবং মীরাসের সম্পদও স্বল্প ছেড়ে যায়। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَغْبَطُ أَوْلِيَائِي عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ خَفِيفُ الْحَاذِ ذُو حَظٍّ مِنَ الصَّلَاةِ أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَأَطَاعَهُ فِي السِّرِّ وَكَانَ غَامِضًا فِي النَّاسِ لَا يُشَارُ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ وَكَانَ رِزْقُهُ كَفَافًا فَصَبَرَ عَلَى ذَلِكَ» ثُمَّ نَقَدَ بِيَدِهِ فَقَالَ: «عُجِّلَتْ مَنِيَّتُهُ قَلَّتْ بَوَاكِيهِ قَلَّ تُراثُه» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 252 ح 22520) و الترمذی (2347) [و ابن ماجہ (4117) بسند آخر فیہ صدقۃ بن عبداللہ و ایوب بن سلیمان ضعیفان)] * علی بن یزید : ضعیف جدًا و عبید اللہ بن زحر : ضعیف ، و للحدیث طرق کلھا ضعیفۃ کما حققتہ فی تخریج مسند الحمیدی (911) و النھایۃ (30) ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن ابي امامة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اغبط اولياىي عندي لمومن خفيف الحاذ ذو حظ من الصلاة احسن عبادة ربه واطاعه في السر وكان غامضا في الناس لا يشار اليه بالاصابع وكان رزقه كفافا فصبر على ذلك» ثم نقد بيده فقال: «عجلت منيته قلت بواكيه قل تراثه» . رواه احمد والترمذي وابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 252 ح 22520) و الترمذی (2347) [و ابن ماجہ (4117) بسند آخر فیہ صدقۃ بن عبداللہ و ایوب بن سلیمان ضعیفان)] * علی بن یزید : ضعیف جدا و عبید اللہ بن زحر : ضعیف ، و للحدیث طرق کلھا ضعیفۃ کما حققتہ فی تخریج مسند الحمیدی (911) و النھایۃ (30) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (أَغْبَطُ أَوْلِيَائِي عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ) আমার নিকটে অধিক ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য ও আমার সাহায্যকারী যার প্রতি ঈর্ষা করা যায় এবং যার অবস্থায় কামনা করা যায় সে এমন মু'মিন যার মধ্যে। পরবর্তীতে বর্ণিত গুণাবলি রয়েছে। অর্থাৎ অত্র হাদীসে বর্ণিত গুণাবলিসম্পন্ন মু'মিন ব্যক্তিই আমার নিকট অধিক প্রিয়।। 

(عُجِّلَتْ مَنِيَّتُهُ) তার মৃত্যু দ্রুত সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ হাদীসে বর্ণিত গুণাবলি যার মধ্যে আছে সে তার সুন্দর অবস্থার জন্য নিজেই তাজ্জব বনে যাবে। আর তার মৃত্যু হবে সহজে। দুনিয়ার সাথে তার সম্পর্কের বেরিয়ে যাবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯০-[৩৬] উক্ত রাবী [আবূ উমামাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : আমার রব্ মক্কার বাতহা’ (প্রশস্ত উপত্যকা) আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত করে দেয়ার বিষয় আমার নিকট পেশ করলেন, তখন আমি বললাম : না, হে আমার প্রভু! বরং আমি একদিন পরিতৃপ্ত এবং আরেক দিন ক্ষুধার্ত থাকতে চাই। অতএব আমি যখন অভুক্ত থাকব তখন তোমার কাছে সকাতরে বিনয় প্রকাশ করব এবং তোমাকে স্মরণ করব। আর যখন পরিতৃপ্ত হব তখন তোমার গুণকীর্তন করব এবং তোমার শোকর আদায় করব। (আহমাদ ও তিরমিযী) 

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَرَضَ عَلَيَّ رَبِّي لِيَجْعَلَ لِي يطحاء مَكَّة ذَهَبا فَقلت: لَا يارب وَلَكِنْ أَشْبَعُ يَوْمًا وَأَجُوعُ يَوْمًا فَإِذَا جُعْتُ تَضَرَّعْتُ إِلَيْكَ وَذَكَرْتُكَ وَإِذَا شَبِعَتُ حَمِدْتُكَ وَشَكَرْتُكَ . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ احمد (5 / 254 ح 22543) و الترمذی (2347) * علی بن یزید ضعیف جدًا و عبید اللہ بن زحر ضعیف ، انظر الحدیث السابق (5189) ۔
(ضَعِيف)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: عرض علي ربي ليجعل لي يطحاء مكة ذهبا فقلت: لا يارب ولكن اشبع يوما واجوع يوما فاذا جعت تضرعت اليك وذكرتك واذا شبعت حمدتك وشكرتك . رواه احمد والترمذي اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ احمد (5 / 254 ح 22543) و الترمذی (2347) * علی بن یزید ضعیف جدا و عبید اللہ بن زحر ضعیف ، انظر الحدیث السابق (5189) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (فَإِذَا جُعْتُ تَضَرَّعْتُ إِلَيْكَ وَذَكَرْتُكَ وَإِذَا شَبِعَتُ حَمِدْتُكَ وَشَكَرْتُكَ) উক্ত হাদীসাংশের ব্যাখ্যায় ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) ধৈর্য এবং কৃতজ্ঞতার মাঝে সমন্বয় সাধন করেছেন। কারণ এ দুটি হলো একজন মুমিনের পরিপূর্ণ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯১-[৩৭] ’উবায়দুল্লাহ ইবনু মিহসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে লোক নিজের গৃহে নিরাপদে শারীরিক সুস্থতা সহকারে ভোর করে এবং তার কাছে সে দিনের প্রাণ রক্ষা পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য বিদ্যমান থাকে, তার জন্য যেন দুনিয়ার সমস্ত নি’আমাত একত্রিত করে দেয়া হয়েছে। (তিরমিযী এবং তিনি বলেছেন হাদীসটি গরীব।)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن عبيدِ الله بنِ مِحْصَنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ: «مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا فِي سِرْبِهِ مُعَافًى فِي جَسَدِهِ عِنْدَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2346) ۔
(صَحِيح)

وعن عبيد الله بن محصن قال: قال رسول الله صلى الله عليه: «من اصبح منكم امنا في سربه معافى في جسده عنده قوت يومه فكانما حيزت له الدنيا» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2346) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ آمِنًا) অর্থাৎ-“যে ব্যক্তি তার মনে শত্রুর আক্রমণের কোন ভয় ছাড়াই নিরাপদে সকাল করবে।” (ي سِرْبِهِ) এখানে (سِرْبِه) শব্দের অর্থ হলো অন্তর। কারো মতে, একটি জামা'আত বা দল। অতএব অর্থ হবে নিজ পরিবারের। অনেকে (س) শব্দে যবর দিয়ে পড়েন তখন এর অর্থ হবে চলার পথে। আবার কারো মতে, (س) এবং (راء), দুটোতেই যবর যোগে তখন তার অর্থ হবে বাড়িতে। অতএব যে অর্থেই তা আসুক কেন এখানে অধিক গুরুত্ব বুঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। 

(مُعَافًى) উক্ত শব্দের অর্থ হলো, সহীহ সালামতে ও সুস্থ অবস্থায়।

মোট কথা হলো, যে ব্যক্তি শত্রুর আক্রমণ অথবা পরকালের শাস্তির আশঙ্কামুক্ত হয়ে নিরাপদে ভোরে উপনীত হলো সুস্থ শরীর নিয়ে আর তার নিকট দিন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার সামগ্রী থাকে তাকে যেন দুনিয়ার সকল নি'আমাতে সিক্ত করা হয়েছে। এজন্যই বলা হয়ে থাকে যে, সে তো ঈদের আনন্দ পায়নি যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পরিধান করেছে। বরং প্রকৃত ঈদের আনন্দ সেই পেয়েছে যে ব্যক্তি পরকালের শাস্তি থেকে নিরাপত্তা লাভ করেছে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৪৬; মিরক্বাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯২-[৩৮] মিক্বদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, [রাসূল (সা.) বলেছেন] কোন ব্যক্তি তার পেট অপেক্ষা মন্দ কোন পাত্রকে ভর্তি করেনি। আদম সন্তানের জন্য এ পরিমাণ কয়েক লোকমাই যথেষ্ট যা দ্বারা সে স্বীয় কোমরকে সোজা রাখতে পারে (ও আল্লাহর ইবাদত করতে পারে)। যদি এর বেশি খাওয়া প্রয়োজন মনে করে তবে এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, আরেক তৃতীয়াংশ পানীয় এবং অপর তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن مقدامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثٌ طَعَامٌ وَثُلُثٌ شَرَابٌ وَثُلُثٌ لِنَفَسِهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

صحیح ، رواہ الترمذی (2380 وقال : حسن صحیح) و ابن ماجہ (3349) ۔
(صَحِيح)

وعن مقدام بن معدي كرب قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ما ملا ادمي وعاء شرا من بطن بحسب ابن ادم اكلات يقمن صلبه فان كان لا محالة فثلث طعام وثلث شراب وثلث لنفسه» . رواه الترمذي وابن ماجه صحیح ، رواہ الترمذی (2380 وقال : حسن صحیح) و ابن ماجہ (3349) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, যদি সর্বনিম্ন খাবারে পেট না ভরে এবং তা যদি পূর্ণ করতেই হয় তবে পেটকে পূর্ণ করার জন্য তিন ভাগ করবে। একভাগে খাবার আরেকভাগে পানি এবং অন্যভাগ শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণের জন্য খালি রাখবে। 

এ প্রসঙ্গে ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগীর জন্য শক্তি অর্জনের যথেষ্ট পরিমাণ খাবার গ্রহণ করাই উত্তম। শায়খ আবু হামীদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ক্ষুধার মধ্যে দশটি উপকার রয়েছে যেগুলো অন্য অবস্থায় পাওয়া যায় না। যেমন- অন্তরের পবিত্রতা, বিনয়ী ও নম্র মেজাজ তৈরি হওয়া। আল্লাহর শাস্তির কথা স্মরণ হওয়া ইত্যাদি। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)। 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৩-[৩৯] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তিকে ঢেকুর দিতে শুনে বললেন: তোমার ঢেকুর কম করো। কেননা কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তিই খুব বেশি ক্ষুধার্ত হবে, যে দুনিয়াতে খুব বেশি পরিতৃপ্ত হয়েছে। (শারহুস্ সুন্নাহ্, আর তিরমিযীও অনুরূপ অর্থে বর্ণনা করেছেন।)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ رَجُلًا يَتَجَشَّأُ فَقَالَ: «أَقْصِرْ مِنْ جُشَائِكَ فَإِنَّ أَطْوَلَ النَّاسِ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَطْوَلُهُمْ شِبَعًا فِي الدُّنْيَا» . رَوَاهُ فِي «شرح السّنة» . وروى التِّرْمِذِيّ نَحوه

ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 250 تحت 4049) بلا سند عن یحیی البکاء عن ابن عمر ، و اسندہ الترمذی (2478) وقال :’’ حسن غریب ‘‘ و سندہ ضعیف ۔ * یحیی البکاء ضعیف و للحدیث شواھد ضعیفۃ عند ابن ماجہ (3351) وغیرہ ۔

وعن ابن عمر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم سمع رجلا يتجشا فقال: «اقصر من جشاىك فان اطول الناس جوعا يوم القيامة اطولهم شبعا في الدنيا» . رواه في «شرح السنة» . وروى الترمذي نحوه ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 250 تحت 4049) بلا سند عن یحیی البکاء عن ابن عمر ، و اسندہ الترمذی (2478) وقال :’’ حسن غریب ‘‘ و سندہ ضعیف ۔ * یحیی البکاء ضعیف و للحدیث شواھد ضعیفۃ عند ابن ماجہ (3351) وغیرہ ۔

ব্যাখ্যা : (تَجَثَّأَرَجُلٌ) অর্থাৎ এক ব্যক্তি পেট ভর্তি করে খাবার খেয়ে আল্লাহর নবী (সা.) -এর সামনে তৃপ্তির ঢেকুর ছাড়ে। 

‘আল্লামাহ্ তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : লোকটির নাম হলো, আবূ জুহায়ফাহ্ আস্ সুওয়ায়ী। 

(كُفَّ عنَّا جُشَءَكَ) এখানে অধিক পরিতৃপ্ত হয়ে ভক্ষণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিয়ামত দিবসে তার ক্ষুধার্ত অবস্থা অধিক দীর্ঘ হবে এ কারণে যে, সে ব্যক্তি দুনিয়াতে অধিক পেট পুরে খাবার গ্রহণ করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সা.) -এর এ কথা শ্রবণ করার পর আবূ জুহায়ফাহ্ কখনো পেট পুরে খাবার খায়নি। বরং রাতে খেলে দুপুরে খেতেন না। আর দুপুরে খেলে রাতে খেতেন না। (বায়হাকী) 

ইবনু আবুদ দুন্‌ইয়ার বর্ণনায় আছে, “এরপর ত্রিশ বছর যাবৎ আমি পেট পুরে খাবার গ্রহণ করিনি।”| (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২৪৭৮; মিরকাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৪-[৪০] কা’ব ইবনু ইয়ায (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, [রাসূল (সা.) বলেছেন] প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোন একটি ফিতনাহ্ (পরীক্ষামূলক বিষয়) রয়েছে। আর আমার উম্মতের ফিতনাহ্ হলো সম্পদ। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَن كَعْب بن عِياضٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ فِتْنَةً وَفِتْنَةُ أُمتي المالُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2336 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(صَحِيح)

وعن كعب بن عياض قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان لكل امة فتنة وفتنة امتي المال» . رواه الترمذي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2336 وقال : حسن صحیح غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ফিতনাহ দ্বারা উদ্দেশ্য যা মানুষকে গোমরাহী ও পাপাচারে লিপ্ত করে। আর সম্পদ এজন্য ফিতনাহ্ যে, তা মানুষকে দুনিয়াবী সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহায্য করে, পক্ষান্তরে তা মানুষকে পরকালীন পূর্ণতা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৫-[৪১] আনাস (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে এমন অবস্থায় আনা হবে যেন সে একটি অসহায় বকরীর বাচ্চা। অতঃপর তাকে আল্লাহ তা’আলার সামনে দাঁড় করানো হবে। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে জিজ্ঞেস করবেন, আমি তোমাকে (হায়াত ও স্বাস্থ্য) দান করেছিলাম, (দাস-দাসী, ধন-দৌলতের) মালিক বানিয়েছিলাম এবং আমি তোমাকে (দীনে হকের) নি’আমাত দান করেছিলাম, আমার সে সমস্ত নিয়ামতকে কি কাজে খরচ করেছ? সে বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে জমা করেছি, (ব্যবসা করে) তাতে বাড়িয়েছি এবং (অবশেষে) প্রথমে যা ছিল তদপেক্ষা অধিক পরিমাণে ছেড়ে এসেছি। অতএব আমাকে আবার (দুনিয়াতে) ফিরিয়ে দিন, আমি উক্ত সমুদয় সম্পদ আপনার নিকট নিয়ে আসব। আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেন, যা কিছু তুমি আগে পাঠিয়েছ তা আমাকে দেখাও। উত্তরে সে (পূর্বের ন্যায়) আবার বলবে, হে আমার রব! আমি তা জমা করেছি, তাতে বৃদ্ধি করেছি এবং পূর্বে যা ছিল তা হতে অধিক ছেড়ে এসেছি। অতএব আমাকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠিয়ে দিন। আমি সমুদয় সম্পদ নিয়ে আপনার নিকট আসব। তখন প্রকাশ পাবে যে, সে এমন এক বান্দা, যে পরকালের জন্য কোন নেক আমল প্রেরণ করেনি। অতএব তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন : হাদীসটি যঈফ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يُجَاءُ بِابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ بَذَجٌ فَيُوقَفُ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ فَيَقُولُ لَهُ: أَعْطَيْتُكَ وَخَوَّلْتُكَ وَأَنْعَمْتُ عَلَيْكَ فَمَا صَنَعْتَ؟ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ جَمَعْتُهُ وَثَمَّرْتُهُ وَتَرَكْتُهُ أَكْثَرَ مَا كَانَ فَارْجِعْنِي آتِكَ بِهِ كُلِّهِ. فَيَقُولُ لَهُ: أَرِنِي مَا قَدَّمْتَ. فَيَقُولُ: رَبِّ جَمَعْتُهُ وَثَمَّرْتُهُ وَتَرَكْتُهُ أَكثر ماكان فَارْجِعْنِي آتِكَ بِهِ كُلِّهِ. فَإِذَا عَبْدٌ لَمْ يُقَدِّمْ خَيْرًا فَيُمْضَى بِهِ إِلَى النَّارِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَضَعفه

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2427) * اسماعیل بن مسلم : ضعیف الحدیث و للحدیث شاھد ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يجاء بابن ادم يوم القيامة كانه بذج فيوقف بين يدي الله فيقول له: اعطيتك وخولتك وانعمت عليك فما صنعت؟ فيقول: يا رب جمعته وثمرته وتركته اكثر ما كان فارجعني اتك به كله. فيقول له: ارني ما قدمت. فيقول: رب جمعته وثمرته وتركته اكثر ماكان فارجعني اتك به كله. فاذا عبد لم يقدم خيرا فيمضى به الى النار . رواه الترمذي وضعفه اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2427) * اسماعیل بن مسلم : ضعیف الحدیث و للحدیث شاھد ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (فَيَقُولُ لَهُ) তাকে বলবেন : এখানে (قايل) অর্থাৎ বক্তা মালাক (ফেরেশতা)-ও হতে পারেন অথবা আল্লাহ তা'আলা স্বয়ংও হতে পারেন। 

(أَعْطَيْتُكَ وَخَوَّلْتُكَ) ‘আমি তোমাকে দান করেছি ও নি'আমাতের অধিকারী করেছি', অর্থাৎ আমি তোমাকে জীবন, অনুভূতি শক্তি, সুস্থতা দান করেছি। (خَوَّلْتُكَ) খাওয়ালের মালিক বানিয়েছি। খাদেম, পরিবার-পরিজন, সম্পদ ও প্রতিপত্তি ইত্যাদিকে ‘আরবীতে (خَوَّلْ) বলা হয়। আমি তোমাকে এ সমস্ত জিনিস দান করেছি। (فَمَا صَنَعْتَ) তুমি কি করেছ? অর্থাৎ তোমাকে যে এত এত নিআমাত দান করেছি বিনিময়ে তুমি কি করেছ? 

(فَارْجِعْنِي آتِكَ بِهِ كُلِّهِ) “আমাকে আবার দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিন আমি সবকিছু নিয়ে আসব। 

অর্থাৎ আপনি যদি আমাকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠান তাহলে আমি এসব সম্পদ আপনার পথে দান করে আসব। 

(أَرِنِي مَا قَدَّمْتَ) “তুমি কি প্রেরণ করেছ আমাকে দেখাও” অর্থাৎ পরকালের জন্য কি ভালো কাজ করেছ তা আমাকে দেখাও। 

(فَإِذَا عَبْدٌ لَمْ يُقَدِّمْ خَيْرًا) তখন দেখা যাবে যে, সে এমন এক বান্দা যে কোন ভালো কাজই করেনি। অর্থাৎ তাকে যে নি'আমাত দান করা হয়েছিল তা দ্বারা সে কোন ভালো কাজ সম্পাদন করেনি। তাকে যে আদেশ করা হয়েছিল তা সে পালন করেনি এবং যে ওয়াজ-নসীহত করা হয়েছিল সে নাসীহাতও গ্রহণ করেনি। 

(فَيُمْضَى بِهِ إِلَى النَّا) “অতঃপর তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এ লোকটি সম্পর্কে যা বলা হলো তাতে এটা বুঝা যায়, সে এমন একজন গোলামের ন্যায় যার মালিক তাকে কিছু মূলধন দিয়ে ব্যবসা করতে বলে এবং তা দ্বারা লাভবান হতে বলে এবং এজন্য তাকে কিছু দিক-নির্দেশনা দেয়। কিন্তু সে গোলাম মালিকের দিক-নির্দেশনা অমান্য করে মূলধন নষ্ট করে ফেলে যার ফলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৬-[৪২] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন নি’আমাত সম্পর্কে বান্দাকে সর্বপ্রথম যে প্রশ্ন করা হবে তা হলো; আমি কি তোমার দেহকে সুস্থ করিনি, আমি কি তোমাকে শীতল পানি দিয়ে পরিতৃপ্ত করিনি? (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَوَّلَ مَا يُسْأَلُ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنَ النَّعِيمِ أَنْ يُقَالَ لَهُ: أَلَمْ نُصِحَّ جِسْمَكَ؟ وَنَرْوِكَ من المَاء الْبَارِد؟ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3358) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان اول ما يسال العبد يوم القيامة من النعيم ان يقال له: الم نصح جسمك؟ ونروك من الماء البارد؟ . رواه الترمذي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (3358) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (أَلَمْ نُصِحَّ جِسْمَكَ؟) এখানে শারীরিক সুস্থতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঈমানের পর সবচেয়ে বড় নি'আমাত হলো শারীরিক সুস্থতা। উল্লেখিত হাদীসের অর্থ হলো, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে নি'আমাত সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। আর সুস্থতা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে সবচেয়ে বড় নি'আমাতসমূহের মধ্য হতে অন্যতম। কাজেই সুস্থতাকে সঠিক পথে কাজে লাগাতে হবে।

 

হাদীসে উল্লেখিত (إِنَّ أَوَّلَ مَا يُسْأَلُ الْعَبْدُ) বাক্যে (مَا) শব্দটি (موصولة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ বাক্যটি (أوَّلُشَيْءٍيُحَاسبُ بِهٖ فِي الْآخِرَةِ) অর্থে এসেছে। আর (مِنَ النَّعِيمِ) বাক্যটি (مَا) সর্বনামের বায়ান হিসেবে এসেছে। পরবর্তী বাক্যাংশ (أَنْ يُقَالَ لَهُ) পূর্ববর্তী (إِنَّ) এর (خَبَر) হয়েছে। 

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) অবশ্য (مِنَ النَّعِيمِ) বাক্যাংশকে (يُسْأَلُ) ক্রিয়ার সাথে(متعلق) করেছেন, আর (مَا) শব্দটি (مَصَدَرِيَّةٌ) হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি (أَنْ يُقَالَ) -কে (خَبَرُإنَّ) মনে করেছেন। এতে বাক্যের রূপটা তিনি এভাবে ধরেছেন : 

(أَوَّلُ سُؤَالِ الْعَبْدِهُوَأَنْ يُقَالَ لَهُ) অর্থাৎ বান্দার প্রতি প্রথম প্রশ্ন যেটা সেটা হলো তাকে বলা হবে, আমি কি তোমার শারীরিক সুস্থতা দান করিনি? আর ঠাণ্ডা পানি দ্বারা কি তোমাকে সিক্ত করিনি? ঈমানের পর মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় নি'আমাত হলো তার সুস্থতা। ঠাণ্ডা পানি আল্লাহ তা'আলার এক মহা নি'আমাত। সুস্থদেহ ও শরীর এবং রোগমুক্ত নিরাপদ স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য এটা পরম নিআমাত। এজন্য রসূলুল্লাহ এ দু'আর ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা পানির প্রশংসায় মুবালাগাহ্ বা অতিরঞ্জন করেছেন। যেমন তিনি (সা.) তার দু'আর মধ্যে বলতেন-(نَفْسِيْ وَأَهْلِيْ، وَمِنَ المَاءِ اَلَّلهُمَّ اجْعَلْ حُتَّكَ أَحبَّ إِلَيَّ مِنْ) অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার মুহাব্বাত আমার নিকট এত দৃঢ় ও মজবুত করে দাও আমার জীবনের চেয়ে, আমার পরিবার-পরিজনের চেয়ে এবং ঠাণ্ডা পানির চেয়েও প্রিয়তর হয়। 

ঠাণ্ডা পানি আল্লাহ তা'আলার অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ নিআমাত। রুচিশীল সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের জন্য বিনামূল্যে প্রাপ্ত পর্যাপ্ত পানির মূল্য নিরূপণ করা যায় না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮ম খণ্ড, হা. ৩৩৫৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৭-[৪৩] ইবনু মাসউদ (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন : কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের পদদ্বয় একটু নড়তে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ১. তার বয়স সম্পর্কে, সে তা কী কাজে ব্যয় করেছে? ২. তার যৌবন সম্পর্কে, সে তা কী কাজে ক্ষয় করেছে? ৩. তার ধন-সম্পদ সম্পর্কে, সে তা কোথা হতে অর্জন করেছে? ৪. আর তা কোথায় ব্যয় করেছে? এবং ৫. যে জ্ঞানার্জন করেছিল, সে অনুযায়ী কী ’আমাল করেছে? ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন : হাদীসটি গরীব

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ: عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلَاهُ وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ؟ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2416) ۔ * حسین بن قیس الرحبی متروک و للحدیث شواھد ضعیفۃ ۔

وعن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا تزول قدما ابن ادم يوم القيامة حتى يسال عن خمس: عن عمره فيما افناه وعن شبابه فيما ابلاه وعن ماله من اين اكتسبه وفيما انفقه وماذا عمل فيما علم؟ . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2416) ۔ * حسین بن قیس الرحبی متروک و للحدیث شواھد ضعیفۃ ۔

ব্যাখ্যা : কিয়ামত দিবসে যে পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে তা হলো তার হায়াত বা জীবন, সম্পর্কে অর্থাৎ জীবনের মুদ্দাত বা পরিধি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। এ প্রশ্ন হলো তার এ দীর্ঘ জীবনের সময়টুকু সে কিভাবে কাটিয়েছে? হায়াতের এ সময়টি মূলত বালিগ হওয়ার পর থেকেই ধর্তব্য। কারণ বালিগ হওয়ার পূর্বকাল হিসাব প্রদানের অন্তর্ভুক্ত নয়। 

যৌবন হলো পূর্ণ মানব জীবনের মধ্যকাল এবং শ্রেষ্ঠ সময়। এটা পূর্ণ শক্তি ও সামর্থ্যের সময়, অতএব এ সময়ের ‘ইবাদাতও শক্তিশালী হয়ে থাকে। জীবন সম্পর্কে প্রথম প্রশ্নে ব্যাপকতার পর যৌবন সম্পর্কে বিশেষ প্রশ্ন এ ইঙ্গিত করে যে, যৌবনের উম্মাদনা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন, এ সময় সঠিকভাবে ব্যয় হলে যৌবনের দু’পার্শ্ব অর্থাৎ বাল্য ও বৃদ্ধকাল তেমন লক্ষণীয় নয়। 

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যৌবন সম্পর্কে বিশেষভাবে প্রশ্ন হলো - যৌবনের শক্তি এবং সামর্থ্যের সময়ের শক্তিমান ‘ইবাদাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা। হতে পারে প্রবৃত্তির অদম্য ইচ্ছার বাস্তবায়ন সম্পর্কে প্রশ্ন। সম্পদ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে এজন্য যে, এটা কি সে হালাল পথে উপার্জন করেছে না হারাম পথে, আর কোন পথেই বা তা ব্যয় করেছে? অর্থাৎ এ অর্থ কি সে আল্লাহর ইবাদাত বা পুণ্যময় কাজে ব্যয় করেছে না তার নাফরমানী কাজে ব্যয় করেছে? 

পঞ্চম প্রশ্ন হলো - সে তার ইলম অনুপাতে ‘আমল করেছে কিনা? 

‘আল্লামাহ্ মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে অন্য চারটি প্রশ্নের বাক্যরীতি পরিবর্তন করে। ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে, এর দ্বারা সম্ভবত উদ্দেশিত বিষয়টি স্পষ্ট করা। 

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, বাক্যরীতির এই পরিবর্তন বিষয়টির গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে হয়েছে। কেননা ‘ইলম হলো সকল ‘আমলের প্রাক-প্রতিষ্ঠান কারণ কোন ‘আমালই ‘ইলম নামক ফাউন্ডেশন ছাড়া দাঁড়াতে পারে না। অবশ্য আমলহীন ইলমও মূল্যহীন। 

সম্ভবত এখানে সাধারণ ‘ইলমের কথা বলা হয়েছে, অন্যথায় আল্লাহর জাত ও সিফাত সম্পর্কে জানা হলো ঈমানের মৌলতত্ত্বের ‘ইলম যা দীনের মূলভিত্তি। অতএব তা জানা সকলের জন্য ফরযে আইন।

(মিক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২৪১৬, সহীহ আল জামি হা. ৭২৯৯) 


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৮-[৪৪] আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলেছেন: তুমি লাল বর্ণ বা কালো বর্ণ বিশিষ্ট হলেই উত্তম হবে না; বরং আল্লাহভীতি দ্বারাই তাদের হতে তুমি শ্রেষ্ঠ হবে। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ: «إِنَّكَ لَسْتَ بِخَيْرٍ مِنْ أَحْمَرَ وَلَا أَسْوَدَ إِلَّا أَنْ تفضلَه بتقوى» . رَوَاهُ أَحْمد

سندہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 158 ح 21736) * قال المنذری :’’ رجالہ ثقات الا ان بکر بن عبداللہ المزنی لم یسمع من ابی ذر فالسند منقطع ‘‘ و حدیث احمد (5 / 411 ، مجمع الزوائد 8 / 84 و سندہ صحیح) یغنی عنہ ۔

عن ابي ذر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: «انك لست بخير من احمر ولا اسود الا ان تفضله بتقوى» . رواه احمد سندہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 158 ح 21736) * قال المنذری :’’ رجالہ ثقات الا ان بکر بن عبداللہ المزنی لم یسمع من ابی ذر فالسند منقطع ‘‘ و حدیث احمد (5 / 411 ، مجمع الزواىد 8 / 84 و سندہ صحیح) یغنی عنہ ۔

ব্যাখ্যা : শারীরিকভাবে কোন মানুষ লাল-কালো অন্য কোন বর্ণের হওয়াতে আল্লাহর নিকট তার কোন মর্যাদা বা কল্যাণ নেই। আল্লাহর নিকট কল্যাণ ও মর্যাদার একমাত্র মাপকাঠি হলো তাক্বওয়া। লাল-কালো দুটি রঙের কথা বলা হয়েছে এজন্য যে, অধিকাংশ মানুষ কালো কিংবা লাল বা সাদা হয়ে থাকে। কেউ কেউ বলেছেন, লাল কালো দ্বারা সাইয়্যিদ এবং দাসকে বুঝানো হয়েছে, যেমন বিভিন্ন যুগে কালোরা ফর্সাদের হাতে দাসরূপে ব্যবহৃত হয়েছে। আমেরিকা ও ইউরোপের সাদা লোকেরা আফ্রিকার কালোদের শতাব্দীর পর শতাব্দী দাসরূপে ব্যবহার করেছে। ইসলাম এই প্রভুত্ব ও দাসত্বের মহাপ্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে তাক্বওয়া তথা আল্লাহভীতিকে মর্যাদার মাপকাঠি নির্ণয় করেছে। 

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) অবশ্য এ ব্যাখ্যা গ্রহণ না করে লালকে অনারব এবং কালোকে ‘আরবজাতি বুঝিয়েছেন অর্থাৎ ‘আরবী কিংবা আযমী হওয়ার মধ্যে কোন মর্যাদা ও কল্যাণ নেই বরং তাক্বওয়ার মাধ্যমেই মর্যাদা ও কল্যাণ নিহীত। 

আল্লাহ তা'আলা বলেন, “তবে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে ব্যক্তি স্বীয় ইমারতের ভিত্তি আল্লাহভীতির ওপর স্থাপন করেছে।” এ আয়াতে কারীমার তাৎপর্য হলো- বাহ্যিক আকৃতি এবং চাকচিক্যের ভিত্তিতে কোন মর্যাদা নির্ণয় হয় না বরং তাকওয়ার ভিত্তিতে মানুষের মর্যাদা নির্ণয় হয়। 

যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, “হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদেরকে একজন নারী ও পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি .... নিশ্চয় তোমাদের মধ্য হতে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাক্বওয়াবান।” (সূরাহ্ আল হুজুরাত ৪৯ : ১৩) 

‘আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসের বাক্য (إِلَّا أَنْ تفضلَه) এর "ه" যমীরটি (أحمر) এবং (أسود) উভয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তিত হয়েছে, আর ইস্তিসনাটি ইস্তিসনায়ে মুফাররাগ হয়েছে। এতে প্রকৃত অর্থ দাঁড়িয়েছে, “তুমি তাক্বওয়া ব্যতীত কোন বস্তু দ্বারাই উত্তম হতে পারবে না।” 

দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এভাবে নেয়া যায় যে, “তুমি কোন অস্থাতেই আল্লাহর কাছে উত্তম হতে পারবে যতক্ষণ না তোমাদের দুজনের মধ্য হতে কারো মধ্যে অধিক হারে তাক্বওয়া অর্জিত হবে।” এ তাক্বওয়ার কয়েকটি স্তর রয়েছে, সর্বনিম্ন স্তর হলো শিরকে জলী বা স্পষ্ট শির্ক থেকে আত্মরক্ষা করা। এর মধ্যম স্তর হলো গুনাহ, নিষিদ্ধ খেল-তামাশা এবং শিরকে খফী থেকে আত্মরক্ষা করা। আর তাক্বওয়ার সর্বোচ্চ স্তর হলো সর্বদা আল্লাহর সন্নিধানে হাযির থাকা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুল মিশকাত লিত্ব ত্বীবী ১০ম খণ্ড, ৩২৯৬ পৃষ্ঠা) 


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৯-[৪৫] উক্ত রাবী (আবূ যার [রাঃ]) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে বান্দা দুনিয়ার সম্পদ হতে বিমুখ থাকে আল্লাহ তা’আলা তার হৃদয়ে সূক্ষ্ম জ্ঞান সৃষ্টি করেন এবং আল্লাহ তার জিহ্বা দ্বারা তা প্রকাশ করান। দুনিয়ার দোষ-ত্রুটি, তার রোগ ও প্রতিষেধক তাকে দেখিয়ে দেন এবং তাকে দুনিয়া হতে নিরাপদে বের করে দারুস্ সালামে (জান্নাতে) প্রবেশ করান। (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا زَهِدَ عَبْدُ فِي الدُّنْيَا إِلَّا أَنْبَتَ اللَّهُ الْحِكْمَةَ فِي قَلْبِهِ وَأَنْطَقَ لِسَانَهُ وَبَصَّرَهُ عَيْبَ الدُّنْيَا وَدَاءَهَا وَدَوَاءَهَا وَأَخْرَجَهُ مِنْهَا سَالِمًا إِلَى دَارِ السَّلَامِ» رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10532 ، نسخۃ محققۃ : 10050) * فیہ عمر بن صبح : متروک متھم و بشیر بن زاذان : ضعیف جدًا ۔
(ضَعِيف)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما زهد عبد في الدنيا الا انبت الله الحكمة في قلبه وانطق لسانه وبصره عيب الدنيا وداءها ودواءها واخرجه منها سالما الى دار السلام» رواه البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10532 ، نسخۃ محققۃ : 10050) * فیہ عمر بن صبح : متروک متھم و بشیر بن زاذان : ضعیف جدا ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : প্রয়োজনের অতিরিক্ত দুনিয়ার সহায়-সম্পদ থেকে বিমুখ অনাসক্ত হওয়াই (زهد فىِ الدُّ نْيَا) বা দুনিয়া বিরাগী। একদল রয়েছে যারা বিয়ে-শাদী, সংসার কিছুই করে না, তাদের সন্ন্যাসী বৈরাগী বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, (لارهبنية فى الاسلام) ইসলামে বৈরাগ্যতা নেই। 

ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করে, সংসার জীবনের মধ্যে থেকে দুনিয়ার লোভ-লালসা ত্যাগ করে জীবন নির্বাহের ন্যূনতম বস্তুতে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে হিকমাত বা সূক্ষ্মজ্ঞান সৃষ্টি করে দেন। সেই জ্ঞান দ্বারা তিনি নিজের যথাযথ চলার পথ দেখে থাকেন এবং আল্লাহর মারিফাত অর্জন করে কথা বলে থাকেন, ফলে তার কথা হিকমাতপূর্ণ হয়। অতঃপর সে হয় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। ফলে দুনিয়ার দোষ-ত্রুটি আল্লাহ তা'আলা তাকে দেখিয়ে দেন, আর দুনিয়ার রোগ-ব্যাধি এবং তার প্রতিকারও তাকে অবলোকন করিয়ে দেন। 

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা দ্বিতীয় স্তরের তাক্বওয়ার প্রতি ইশারা, অর্থাৎ দুনিয়া বিরাগীর মাধ্যমে যখন ‘ইলমে ইয়াক্বীন হয় এবং দুনিয়ার ত্রুটিসমূহ তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে যায় আল্লাহ তাআলা তখন তাকে এক দূরদৃষ্টির ওয়ারিস বানিয়ে দেন, ফলে সে তা দ্বারা হার্কে ইয়াক্বীন অর্জন করতে  সক্ষম হয়। 

দুনিয়ার রোগ হলো- দুনিয়াপ্রীতি এবং তা অর্জনের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা ও প্রচেষ্টা। 

আর ইলম ও ‘আমলের উপায় দ্বারা হয় তার প্রতিবিধান ও চিকিৎসা। বিপদে ধৈর্যধারণ, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহ যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাতে তুষ্ট থাকাও দুনিয়াপ্রীতি রোগের প্রতিকার হতে পারে। 

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে দুনিয়ার ফিতনাহ্ ও বালা-মুসীবাত থেকে সম্মানের সাথে পরকালের শুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। হাদীসে (دَارِ السَّلَامِ) শব্দ ব্যবহার করে এদিকে ইশারা করা হয়েছে যে, যিনি দুনিয়াতে (زهد) ইখতিয়ার করবেন না তিনি দুনিয়ার ত্রুটি এবং তার রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন না। ফলে সে প্রথম পর্যায়েই নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, বরং শাস্তি বা ‘আযাব ভোগের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, শাবুহু মিশকাত্ লিত্ব ত্বীবী আল কাশিফু আন হাকায়িকিস্ সুনান ১০ম খণ্ড, ৩২৯৬ পৃ.) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০০-[৪৬] উক্ত রাবী (আবু যার [রাঃ]) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিঃসন্দেহে সে কামিয়াব হয়েছে আল্লাহ তা’আলা যার হৃদয়কে ঈমানের জন্য খালেস করে দিয়েছেন এবং আল্লাহ তা’আলা তার হৃদয়কে (হিংসা ও মুনাফিক্বী হতে) নিবৃত্ত, রসনাকে সত্যভাষী, নাফসকে স্থিতিশীল ও স্বভাবকে সঠিক করেছেন, আর তার কানকে বানিয়েছেন (সত্য কথা) শ্রবণকারী ও চক্ষুকে করেছেন (সত্য প্রমাণাদির প্রতি) দৃষ্টিদানকারী। মূলত হৃদয় যা সংরক্ষণ করে তার জন্য কান হলো চুঙ্গির ন্যায় এবং চক্ষু হলো স্থাপনকারী। আর অবশ্যই ঐ ব্যক্তি কামিয়াব হয়েছে, যে তার হৃদয়কে সংরক্ষক বানায়। (আহমাদ ও বায়হাকী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَخْلَصَ اللَّهُ قلبَه للإِيمان وجعلَ قلبَه سليما ولسانَه صَادِقا وَنَفْسَهُ مُطْمَئِنَّةً وَخَلِيقَتَهُ مُسْتَقِيمَةً وَجَعَلَ أُذُنَهُ مُسْتَمِعَةً وَعَيْنَهُ نَاظِرَةً فَأَمَّا الْأُذُنُ فَقَمِعٌ وَأَمَّا الْعَيْنُ فَمُقِرَّةٌ لِمَا يُوعَى الْقَلْبُ وَقَدْ أَفْلَحَ مَنْ جَعَلَ قَلْبَهُ وَاعِيًا» رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 147 ح 21635) و البیھقی فی شعب الایمان (108 ، نسخۃ محققۃ : 107) * خالد بن معدان عن ابی ذر رضی اللہ عنہ : منقطع ۔
(ضَعِيف)

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «قد افلح من اخلص الله قلبه للايمان وجعل قلبه سليما ولسانه صادقا ونفسه مطمىنة وخليقته مستقيمة وجعل اذنه مستمعة وعينه ناظرة فاما الاذن فقمع واما العين فمقرة لما يوعى القلب وقد افلح من جعل قلبه واعيا» رواه احمد والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 147 ح 21635) و البیھقی فی شعب الایمان (108 ، نسخۃ محققۃ : 107) * خالد بن معدان عن ابی ذر رضی اللہ عنہ : منقطع ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বাণী, “আল্লাহ যার হৃদয়কে ঈমানের জন্য খালেস করে দিয়েছেন”, এর অর্থ হলো তার অন্তরকে ঈমানের জন্য এভাবে খালেস বা নিখাদ করে দেন যে, অন্তরে অন্য কিছুই স্থান পায় না, কেবল আল্লাহ ও তার রাসূলের ভালোবাসা ও আনুগত্যই স্থান পায়। 

“আল্লাহ তার অন্তরকে নিরাপদ বানিয়ে দেন” এর অর্থ হলো অন্তরকে সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ, ঈর্ষা এবং নিন্দনীয় চারিত্রিক গুণাবলি ও দুনিয়াপ্রীতিজনিত কারণে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া থেকে নিরাপদে রাখেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, (یَوۡمَ لَا یَنۡفَعُ مَالٌ وَّ لَا بَنُوۡنَ اِلَّا مَنۡ اَتَی اللّٰهَ بِقَلۡبٍ سَلِیۡمٍ) “সেদিন সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না, তবে যে ক্বলবে সালীম নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে।” 

(সূরাহ্ আশ শুআরা- ২৬: ৮৮-৮৯) আল্লাহ তাআলা তার জিহ্বাকে কথা, ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি ইত্যাদিতে সত্যবাদী বানিয়ে দেন এবং অন্তরকে আল্লাহর যিক্র ও তার মুহাব্বাতে স্থিতিশীল ও প্রশান্ত করে দেন। আল্লাহ তার সৃষ্টিগত স্বভাব ও প্রবৃত্তিকে সীমাহীন বাড়াবাড়ি অথবা সম্পূর্ণ দায়িত্বহীনতার মাঝেও সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আর তার জিহ্বা, কান ও দৃষ্টিশক্তিকে হাক্ব কথা বলা, শ্রবণ করা ও তা সংরক্ষণ করার সক্ষমতা দান করেন। অতঃপর মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরকে এগুলো সংরক্ষণের ক্ষমতা দান করে থাকেন, আর এই ব্যক্তিই প্রকৃত সফলকাম। 

(মিক্বাতুল মাফাতীহ, আস্ সীরাজুম মুনীর শারূহু জামিউস্ সগীর ৩য় খণ্ড, ফায়জুল ক্বদীর ৪র্থ খণ্ড, ৫০৮ পৃ.) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০১-[৪৭] ’উক্বাহ্ ইবনু ’আমির (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: যখন তুমি দেখবে কোন বান্দার গুনাহ ও অবাধ্যতা সত্ত্বেও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাকে  দুনিয়াতে যা সে পছন্দ করে তা দিচ্ছেন দুনিয়ার প্রিয় বস্তু করছেন, তখন বুঝে নাও যে, মূলত এটা অবকাশমাত্র (অর্থাৎ,শাস্তির জন্য অবকাশ)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ আয়াতটি পাঠ কর। “তাদেরকে যে নসীহত করা হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য হাত নি’আমতের দরজা খুলে দিলাম; পরিশেষে তাদেরকে যা দেয়া হল তাতে তারা যখন আনন্দে মেতে উঠল হঠাৎ করে তাদেরকে ধরে বসলাম। তখন (যাবতীয় কল্যাণ থেকে) তারা নিরাশ হয়ে গেল”- (সূরা আন্‌’আম ৬:৪৪)। (আহমাদ)।

লাল মার্ক করা অংশের অনুবাদ সঠিক না হবার কারনে তা সংশোধন করা হল। - হাদিসবিডি এডমিন

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُعْطِي الْعَبْدَ مِنَ الدُّنْيَا عَلَى مَعَاصِيهِ مَا يُحِبُّ فَإِنَّمَا هُوَ اسْتِدْرَاجٌ» ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (فَلَمَّا نسوا ماذكروا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هم مبلسون) رَوَاهُ أَحْمد

حسن ، رواہ احمد (4 / 145 ح 17444) * رشدین بن سعد ابو الحجاج : ضعیف و للحدیث شاھد عند البیھقی (شعب الایمان : 4540 ، نسخۃ محققۃ : 4220) و سندہ حسن ۔
(إِسْنَاده جيد)

وعن عقبة بن عامر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اذا رايت الله عز وجل يعطي العبد من الدنيا على معاصيه ما يحب فانما هو استدراج» ثم تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم: (فلما نسوا ماذكروا به فتحنا عليهم ابواب كل شيء حتى اذا فرحوا بما اوتوا اخذناهم بغتة فاذا هم مبلسون) رواه احمد حسن ، رواہ احمد (4 / 145 ح 17444) * رشدین بن سعد ابو الحجاج : ضعیف و للحدیث شاھد عند البیھقی (شعب الایمان : 4540 ، نسخۃ محققۃ : 4220) و سندہ حسن ۔ (اسناده جيد)

ব্যাখ্যা : আল্লাহর নাফরমান পাপাচারীর পাপাচারিতা সত্ত্বেও তাকে দুনিয়ার প্রিয় নিআমতরাজি প্রদান। তাদের জন্য আনন্দের কিছু নয়, বরং এটা আল্লাহর ধীরস্থিরে ধরার অবকাশ মাত্র। 

আল কামূস আল ওয়াজী অভিধানে রয়েছে,(اسْتِدْرَاجٌ) শব্দের অর্থ আস্তে আস্তে নেয়া, ধীরে ধীরে পাকড়াও করা, ক্রমান্বয়ে আনা। অর্থাৎ কাউকে তার অনাচারে সুযোগ দিয়ে ধীরস্থির মতো পাকড়াও করা। 

রাসূলুল্লাহ তার প্রমাণে নিম্নের আয়াত তিলাওয়াত করলেন, “অতঃপর কিতাবীদের যেসব উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন আমি তাদের জন্য প্রত্যেক নি'আমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। অবশেষে যখন তারা প্রাপ্ত জিনিসে অত্যধিক আনন্দিত হয়ে পড়ল। এমতাবস্থায় আমি তাদের হঠাৎ পাকড়াও করলাম, তখন তারা হতভম্ব হয়ে পড়ল।” (সূরা আল আ'আম ৬:৪৪) 

এ পাকড়াও দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আকস্মিক কোন গযব অথবা মৃত্যু। এ সময় তারা হতভম্ব এবং নিরাশ হয়ে যায়, তাদের করার আর কিছু থাকে না। অবাধ্যচারীদের স্বভাব এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহর নি'আমতসমূহ যখন বেড়ে যায় তখন তাদের অবাধ্যাচারিতাও বেড়ে যায়, এটা তাদের নির্বুদ্ধিতার কারণেই হয়ে থাকে। 

ফুজায়ল ইবনু ‘আইয়্যা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল্লাহ যদি কারো ওপর কোন নি'আমত দান করেন আর সে তার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে এর উপর অটুট থাকে এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তার চেয়ে বড় নি'আমতে ভূষিত করেন। (মিক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০২-[৪৮] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন সুফফার অধিবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক লোক এক দীনার রেখে মৃত্যুবরণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: এটা একটি পোড়া দাগ। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুদিন পর আরেক লোক দু’টি দীনার রেখে মৃত্যুবরণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বললেন: এ যেন দুটি পোড়া দাগ। (আহমাদ ও বায়হাকী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ تُوُفِّيَ وَتَرَكَ دِينَارًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيَّةٌ» قَالَ: ثُمَّ تُوُفِّيَ آخَرُ فَتَرَكَ دِينَارَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيَّتَانِ» رَوَاهُ أَحْمَدُ والبيهقيُّ فِي «شعب الإِيمان»

صحیح ، رواہ احمد (5 / 253 ح 22533) و البیھقی فی شعب الایمان (6963) * و للحدیث شواھد صحیحۃ عند احمد (5 / 253 ، 258) و ابن حبان (الموارد : 2481 سندہ حسن ) وغیرھما وھوبھا صحیح ۔
(صَحِيح)

وعن ابي امامة ان رجلا من اهل الصفة توفي وترك دينارا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كية» قال: ثم توفي اخر فترك دينارين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كيتان» رواه احمد والبيهقي في «شعب الايمان» صحیح ، رواہ احمد (5 / 253 ح 22533) و البیھقی فی شعب الایمان (6963) * و للحدیث شواھد صحیحۃ عند احمد (5 / 253 ، 258) و ابن حبان (الموارد : 2481 سندہ حسن ) وغیرھما وھوبھا صحیح ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আহলে সুফফা হলো কতিপয় গরীব মুহাজির সাহাবী যাদের কোন বাড়ী-ঘর ছিল না। তারা মসজিদে নববীর বারান্দায় থাকত। 

‘আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দু’জন সুফফার অধিবাসীর ওপর এরূপ শাস্তির কারণ বা ইল্লত জানিয়ে দেয়াই এখানে উদ্দেশ্যে কারণ তারা ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ফকীর। কেউ কিছু দিলে খেতেন অন্যথায় উপোস থাকতেন অথচ মৃত্যুর সময় দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) রেখে গেলেন তাহলে তাদের দুনিয়াবিমুখ ও দরিদ্রতার দাবীটি ছিল মিথ্যা। তাই বলে অর্থ সম্পদের অধিকারী হওয়া নিন্দনীয় নয়। সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই সম্পদশালী ছিলেন। যেমন- আবু বাকর, ‘উসমান, আবদুর রহমান ইবনু আওফ, ত্বলহাহ্ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) প্রমুখ, এরা কেউই সম্পদশালী হয়ে ফিতনায় পড়েননি। সম্পদশালী হওয়া যুহদ ফি দুনিয়া’র পরিপন্থী নয়, বরং এটা মুবাহ বা বৈধ। কেউ এটা পরিহার করে চলতে পারলে সেটা হবে তার জন্য উত্তম। আরবীতে (كَيَّةٌ) বিভিন্নভাবে পড়ার রীতি রয়েছে, শব্দের অর্থ আগুনে কোন কিছুকে তাপ দিয়ে তা দ্বারা দাগ বা সেক দেয়া। যেমন আল্লাহ বলেন, 

یَّوۡمَ یُحۡمٰی عَلَیۡهَا فِیۡ نَارِ جَهَنَّمَ فَتُکۡوٰی بِهَا جِبَاهُهُمۡ

“সেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে ঐ (স্বর্ণ-চাদি)-গুলো উত্তপ্ত করা হবে, অতঃপর সেগুলো দিয়ে তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ এবং পৃষ্ঠদেশসমূহে দাগ দেয়া হবে।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩৫) 

কেউ কেউ এভাবেও ব্যাখ্যা করেছেন যে, তারা যেহেতু ফকীরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের লোকেরা সদাক্বাহ্ দিত, তারা তো চরম অভাবী ও ক্ষুধার্ত ছিলেন, তারা প্রকারান্তে সওয়ালকারীর মতই ছিলেন, চাই তা কথায় হোক বা বাস্তব অবস্থার কারণে হোক। অথচ যার কাছে একদিনের খাদ্য রয়েছে তার জন্য সওয়াল করা হারাম। 

অতএব তাদের নিকট দীনার থাকার কারণে অন্যের নিকট চাওয়া হারাম হওয়া সত্ত্বেও পরোক্ষভাবে চাওয়ার জন্য তাদের ঐ মুদ্রা হবে তাদের শরীরের দাগ বা সেক। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৩৯৭, শাহু বুলুগুল মারাম দারস্ নং ২৩১, শামিলাহ্ : ১৪৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৩-[৪৯] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি তাঁর মামা আবু হাশিম ইবনু ’উবার কাছে তার রোগ সেবার জন্য গেলেন। (তাকে দেখে) আবু হাশিম কেঁদে দিলেন। মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন : হে মামা! আপনি কাঁদছেন কেন? রোগ পীড়া আপনাকে ব্যথিত করছে- নাকি দুনিয়ার প্রতি লোভ লালসায় আপনার এ ক্রন্দন? জবাবে আবু হাশিম বললেন : এর একটিও নয়; বরং (এজন্য কাঁদছি যে,) রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট একটি অঙ্গীকার নিয়েছিলেন; কিন্তু আমি তা সংরক্ষণ করতে পারিনি। মু’আবিয়াহ্ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন: সে অঙ্গীকারটি কী ছিল? তিনি বললেন : আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমার মাল জমা করার মধ্যে শুধুমাত্র একজন খাদিম এবং আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য একটি সওয়ারীই যথেষ্ট। আমি দেখছি যে, আমি অনেক মাল-সম্পদ জমা করে ফেলেছি। (আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن مُعَاوِيَة أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى خَالِهِ أَبِي هَاشِمِ بْنِ عتبَة يعودهُ فَبَكَى أَبُو هَاشِمٍ فَقَالَ: مَا يُبْكِيكَ يَا خَالِ؟ أَوَجَعٌ يُشْئِزُكَ أَمْ حِرْصٌ عَلَى الدُّنْيَا؟ قَالَ: كلا ولكنَّ رَسُول الله عهد إِلينا عَهْدًا لَمْ آخُذْ بِهِ. قَالَ: وَمَا ذَلِكَ؟ قَالَ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «إِنَّمَا يَكْفِيكَ مِنْ جَمْعِ الْمَالِ خَادِمٌ وَمَرْكَبٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» . وَإِنِّي أَرَانِي قَدْ جَمَعْتُ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْن مَاجَه

ضعیف ، تقدم طرفہ (5185) و رواہ احمد (3 / 444 ح 15749) و الترمذی (2327 و سندہ ضعیف) و النسائی (8 / 218 ۔ 219 ح 5374) و ابن ماجہ (4103 و سندہ ضعیف) * ابو وائل رواہ عن سمرۃ بن سھم وھو رجل مجھول (انظر ح 5185) ۔

وعن معاوية انه دخل على خاله ابي هاشم بن عتبة يعوده فبكى ابو هاشم فقال: ما يبكيك يا خال؟ اوجع يشىزك ام حرص على الدنيا؟ قال: كلا ولكن رسول الله عهد الينا عهدا لم اخذ به. قال: وما ذلك؟ قال: سمعته يقول: «انما يكفيك من جمع المال خادم ومركب في سبيل الله» . واني اراني قد جمعت. رواه احمد والترمذي والنساىي وابن ماجه ضعیف ، تقدم طرفہ (5185) و رواہ احمد (3 / 444 ح 15749) و الترمذی (2327 و سندہ ضعیف) و النساىی (8 / 218 ۔ 219 ح 5374) و ابن ماجہ (4103 و سندہ ضعیف) * ابو واىل رواہ عن سمرۃ بن سھم وھو رجل مجھول (انظر ح 5185) ۔

ব্যাখ্যা : “আবু হাশি উত্তরে বললেন, কখনো নয়, বরং আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারিনি, তাই কাঁদছি।” এ প্রতিশ্রুতি হয় সাধারণ ওয়াসিয়্যাত ছিল অথবা ছিল খাস বায়'আত। আল্লাহর নবীর সাহাবীদের দুনিয়ার মাল সম্পদের ভালোবাসা আদৌ ছিল না, তাঁরা সামান্য সম্পদের মালিক হলেই মনে করতেন যে আমরা দুনিয়ায় ফেঁসে গেলাম কিনা? এটা ছিল তাঁদের তাকওয়ার সর্বোচ্চ প্রমাণ। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩২৭, পৃ. ২২০; ইবনু মাজাহ ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৬৭, হা. ৪১০৩) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৪-[৫০] উম্মু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আমার স্বামী) আবু দারদা (রাঃ) কে বললাম: আপনার কী হয়েছে, আপনি কেন (কোন পদ ও সম্পদ) অর্জন করছেন না, যেভাবে অমুক অমুক অর্জন করছে? তখন তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, “তোমাদের সম্মুখে একটি কঠিন গিরিপথ রয়েছে, ভারী বোঝা বহনকারী সহজভাবে তা পার হতে পারবে না। তাই আমি উক্ত দুর্গম পথের জন্য হালকা থাকাই পছন্দ করি।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ قَالَتْ: قُلْتُ: لِأَبِي الدَّرْدَاءِ: مَالك لَا تَطْلُبُ كَمَا يَطْلُبُ فُلَانٌ؟ فَقَالَ: أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ أَمَامَكُمْ عَقَبَةً كَؤُودًا لَا يَجُوزُهَا المثقلون» . فَأحب أَن أتخفف لتِلْك الْعقبَة

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10408 ، نسخۃ محققۃ : 9923 ۔ 9924) [و صححہ الحاکم (4 / 573 ۔ 574) و وافقہ الذھبی] * ابو معاویۃ الضریر مدلس و عنعن و صرح بالسماع فی روایۃ محمد بن سلیمان ابن بنت مطر الوراق وھو ضعیف فالسند معلل ۔

وعن ام الدرداء قالت: قلت: لابي الدرداء: مالك لا تطلب كما يطلب فلان؟ فقال: اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان امامكم عقبة كوودا لا يجوزها المثقلون» . فاحب ان اتخفف لتلك العقبة اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10408 ، نسخۃ محققۃ : 9923 ۔ 9924) [و صححہ الحاکم (4 / 573 ۔ 574) و وافقہ الذھبی] * ابو معاویۃ الضریر مدلس و عنعن و صرح بالسماع فی روایۃ محمد بن سلیمان ابن بنت مطر الوراق وھو ضعیف فالسند معلل ۔

ব্যাখ্যা : আবু দারদা (রাঃ) মদীনার নামকরা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের পর ব্যবসা ও ইবাদতের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেন, কিন্তু সমন্বয় করতে না পারায় ব্যবসা ছেড়ে ‘ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন, এমনকি একেবারেই দুনিয়াবিমুখ হয়ে পড়েন। স্ত্রী তাকে বলেন, অমুকে অমুকে অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছে অথচ ব্যবসায় তোমার প্রচুর সুনাম রয়েছে এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) কর্তৃক বর্ণিত পরকালের সংকটময় পথ পরিক্রমার কথা স্মরণ করে দুনিয়ার সম্পদের বোঝা নিয়ে সেই দুর্গম ও সংকটময় পথ পাড়ি দেয়া নিয়ে অত্যন্ত ভীত ছিলেন। তাই ব্যবসার প্রতি তার কোন আগ্রহ নেই বলে জানালেন। 

(عَقَبَةً كَؤُودًا) কামূস অভিধান প্রণেতা (عَقَبَةً) শব্দের অর্থ করতে গিয়ে লিখেছেন:(مَرْتىً صَعْبًا مِنَ الْجبَالَ) পাহাড়ের দুঃসাধ্য আরোহণস্থল যেখানে উঠা খুবই কঠিন। (كَؤُودًا) শব্দের অর্থ দুর্গম এবং দীর্ঘ, অর্থাৎ তোমার গন্তব্য (জান্নাত) তোমা হতে অনেক দূর এবং সে পথ খুব কঠিন ও দুর্গম। 

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন : এর দ্বারা উদ্দেশ্য মৃত্যু, কবর এবং হাশরের নানা অবস্থা ও তার কাঠিন্যতা। আবু দারদা (রাঃ) মৃত্যুর পর ঐ ঘাঁটিগুলো অতিক্রম করতে নিজের গুনাহের এবং জওয়াবদিহিতার বোঝাকে হালকা করে রাখতে চেয়েছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, কাশফুল আর হা. ৩৬৯৬)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৫-[৫১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমাদের কেউ পা না ভিজিয়ে পানিতে চলতে পারে কি? তারা বললেন: না (এটা কখনো সম্ভব নয়) হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি (সা.) বললেন: অনুরূপভাবে দুনিয়াদারের অবস্থাও তাই, সে গুনাহ হতে নিরাপদে থাকতে পারে না। (হাদীস দু’টি ঈমাম বায়হাক্বী “শুআবুল ঈমানে” বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ مِنْ أَحَدٍ يَمْشِي عَلَى الْمَاءِ إِلَّا ابْتَلَّتْ قَدَمَاهُ؟» قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «كَذَلِكَ صَاحِبُ الدُّنْيَا لَا يسلمُ منَ الذُّنُوب» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10457 ، نسخۃ محققۃ : 9973) * خضر بن ابان الھاشمی و ھلال بن محمد العجلی ضعیفان و فی السند علل أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هل من احد يمشي على الماء الا ابتلت قدماه؟» قالوا: لا يا رسول الله قال: «كذلك صاحب الدنيا لا يسلم من الذنوب» . رواهما البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10457 ، نسخۃ محققۃ : 9973) * خضر بن ابان الھاشمی و ھلال بن محمد العجلی ضعیفان و فی السند علل أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : হাদীসের অর্থ স্পষ্ট, পানিতে চললে পা যেমন ভিজবেই তেমনি দুনিয়া হাসিল করতে গেলে পাপে পতিত হবেই। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এখানে মুত্তাকীদের দুনিয়ার মুহাব্বাতে জড়িয়ে পড়া থেকে ভীতিপ্রদর্শন এবং যুহদ ফি দুনিয়াকে জোরদার করার জন্য এ দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও আখিরাতকে দুনিয়ার উপর অগ্রাধিকার দেয়া এবং দারিদ্রতার কষ্টকে ধৈর্যের সাথে বরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কেননা গরীব ফকীরগণ ধনীদের পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় অনুগ্রহে দুনিয়াপ্রীতির পাপ থেকে আমাদের ক্ষমা করুন।  (মিক্বাতুল মাফাতীহ, ফায়জুল ক্বদীর ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৫৪ পৃ.) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৬-[৫২] জুবায়র ইবনু নুফায়র (রহিমাহুল্লাহ) মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার কাছে এ ওয়াহী পাঠানো হয়নি যে, আমি ধন-সম্পদ জমা করি এবং একজন ব্যবসায়ী হই, বরং আমাকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, “তুমি তোমার রবের প্রশংসার সাথে পবিত্রতা ঘোষণা করো এবং সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। আর ’ইয়াক্বীন (মৃত্যু) আসা পর্যন্ত তোমার রবের ’ইবাদাতে আত্মনিয়োগ করো”- (সূরাহ্ আল হিজর ১৫:৯৮-৯৯)। (শারহুস্ সুন্নাহ্; আর আবূ নু’আয়ম তাঁর “হিলইয়াহ্” গ্রন্থে আবু মুসলিম হতে বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَن جُبَير بن نفير رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مُرْسَلًا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أُوحِيَ إِلَيَّ أَنْ أَجْمَعَ الْمَالَ وَأَكُونَ مِنَ التَّاجِرِينَ وَلَكِنْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنْ (سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ. واعبد ربَّك حَتَّى يَأْتِيك الْيَقِين) رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ» وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي «الْحِلْية» عَن أبي مُسلم

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 237 ح 4036) و ابو نعیم فی حلیاۃ الاولیاء (2 / 171 ح 1778) * السند مرسل ۔

وعن جبير بن نفير رضي الله عنه مرسلا قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما اوحي الي ان اجمع المال واكون من التاجرين ولكن اوحي الي ان (سبح بحمد ربك وكن من الساجدين. واعبد ربك حتى ياتيك اليقين) رواه في شرح السنة» وابو نعيم في «الحلية» عن ابي مسلم اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 237 ح 4036) و ابو نعیم فی حلیاۃ الاولیاء (2 / 171 ح 1778) * السند مرسل ۔

ব্যাখ্যা: হাদীসটি মুরসালভাবে বর্ণিত হয়েছে। এটা মুরসালুত্ তাবিঈ। জুবায়র ইবনু নুফায়র আল খাযরামী (রহিমাহুল্লাহ) সিরিয়ার তাবিঈদের মধ্যে একজন সিকাহ রাবী ছিলেন। তিনি সাহাবীর নাম ছেড়ে দিয়ে হাদীস উল্লেখ করেছেন, অতএব হাদীসটি মুরসাল। 

এখানে নবী রসূলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য বিবৃত হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য করা এবং ধন-সম্পদ অর্জন ও সঞ্চয় শারঈতে হারাম বা নিষিদ্ধ নয়। বরং সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য বা কর্ম ক্ষেত্রের মাধ্যমে জীবিকার ব্যবস্থা করার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) -এর জন্য এরূপ কোন নির্দেশনা নেই। অর্থাৎ তাঁকে ব্যবসায়ী হয়ে সম্পদ আহরণের জন্য কোন ওয়াহী দেয়া হয়নি বরং তাঁর কাছে ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, তিনি যেন আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করেন এবং তাঁর প্রশংসা করেন। তার প্রতি আল্লাহর আরো নির্দেশ যে, তুমি সাজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এখানে সলাতের একটি রুকন সাজদার কথা বলে পুরো সলাতকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, অর্থাৎ তুমি সলাত আদায়কারী হয়ে যাও। এই বিশেষ রুকনের উল্লেখ এজন্য যে, সলাতের মধ্যে সাজদাহ্ অনন্য রুকন। কেননা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, সাজদার মধ্যে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয়ে থাকে। অতঃপর ‘ইবাদত’ কিংবা ‘আবদিয়াত’ যাই হোক না কেন আমৃত্যু তা করে যেতে হবে। এখানে (الۡیَقِیۡنُ) দ্বারা (মুফাসিরদের ঐকমত্যে) উদ্দেশ্য মৃত্যু। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, নূরুস্ সারী মিন ফাইযী সহীহিল বুখারী ২য় খণ্ড, ৬৯৭ পৃ.)। 


হাদিসের মানঃ মুরসাল
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৭-[৫৩] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি হতে বেঁচে থাকার জন্য, পরিবারের খরচ নির্বাহের উদ্দেশে এবং প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের লক্ষ্যে হালাল উপায়ে দুনিয়ার বৈধ-সম্পদ অন্বেষণ করে সে আল্লাহ তাআলার সাথে কিয়ামতের দিন এমনভাবে মিলিত হবে যে, তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল থাকবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি বৈধ উপায়ে মাল অর্জন করল বটে; কিন্তু গর্ব অহংকার ও সম্পদের আধিক্য প্রকাশের নিয়্যাতে, সে আল্লাহ তা’আলার সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, তিনি তার ওপর ভীষণভাবে ক্রোধান্বিত হবেন। (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান এবং আবু নুআয়ম তাঁর “হিলইয়াহ্” গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا اسْتِعْفَافًا عَنِ الْمَسْأَلَةِ وَسَعْيًا عَلَى أَهْلِهِ وَتَعَطُّفًا عَلَى جَارِهِ لَقِيَ اللَّهَ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ مِثْلُ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ. وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا مُكَاثِرًا مفاخرا مرائيا لَقِي الله وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» وَأَبُو نُعَيْمٍ فِي «الْحِلْية»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10374 ۔ 10375 ، نسخۃ محققۃ : 9889 ۔ 9890) و ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (8 / 215) [و عبد بن حمید فی المنتخب من السند (1433)] * مکحول لم یسمع من ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ و فی السند الآخر رجل (مجھول) و فی السندین علل أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من طلب الدنيا حلالا استعفافا عن المسالة وسعيا على اهله وتعطفا على جاره لقي الله تعالى يوم القيامة ووجهه مثل القمر ليلة البدر. ومن طلب الدنيا حلالا مكاثرا مفاخرا مراىيا لقي الله وهو عليه غضبان» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» وابو نعيم في «الحلية» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10374 ۔ 10375 ، نسخۃ محققۃ : 9889 ۔ 9890) و ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (8 / 215) [و عبد بن حمید فی المنتخب من السند (1433)] * مکحول لم یسمع من ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ و فی السند الآخر رجل (مجھول) و فی السندین علل أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : হালাল উপার্জন মানে হালাল পথে উপার্জন। আর যে মানুষের কাছে কোন কিছু চাওয়া বা যাঞ্ছা থেকে নিজকে বাঁচিয়ে রাখে। নিহায়াহ্ গ্রন্থে(الاِسْتِعَفَافُ)  শব্দের ব্যাখ্যা করা হয়েছে, (الاِسْتِعَفَافُ طَلَبُ الْعفَافِ) অর্থাৎ, ইস্তিফাফ হলো (طَلَبُ الْعفَافِ) বা পবিত্রতা চাওয়া, সংযমতা অবলম্বন করা।(الْعفَافُ) এর অর্থ হলো (وَهُوَالْكفُّ عِنِ الْحَرَامِ وَالسُّؤَالِ مِنَ النَّاسِ) হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং মানুষের কাছে যাচনা থেকে বিরত থাকা। নিজের পরিবারের খরচ নির্বাহের জন্য খরচের পর অতিরিক্ত অর্থ দ্বারা প্রতিবেশীদের ওপর ইহসান বা দয়া করা প্রকৃত মুমিনের অন্যতম গুণ। 

এসব গুণাবলি অর্জনকারীদের জন্য অতীব সুসংবাদ এই যে, কিয়ামতের দিন তারা এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, অতি খুশি ও আনন্দে তাদের চেহারাগুলো পূর্ণিমা চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। 

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি দুনিয়ার সম্পদ হালাল পথেই অর্জন করল বটে, (অর্থাৎ হারাম পথ অবলম্বন করল না) কিন্তু সে সম্পদের আধিক্যতা নিয়ে অভাবী গরীবদের ওপর গর্ব অহংকার এবং দান-সদাক্বার দ্বারা লোক দেখানোর নিয়্যাত করল এ ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার সাথে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, তিনি তার ওপর ভীষণ রাগান্বিত হবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুল মিশকাতু লিত্ব ত্বীবী, বাহরুল ফাওয়ায়িদ হা. ২৮৪) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৮-[৫৪] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিশ্চয় এ মাল হলো বিরাট ধনভাণ্ডার। সে ধনভাণ্ডারের চাবিও আছে। অতএব সে বান্দার জন্য সুসংবাদ যাকে আল্লাহ তা’আলা কল্যাণের দ্বার খোলা এবং অকল্যাণের দ্বার বন্ধ করার চাবি বানিয়েছেন। আর সে বান্দার জন্য ধ্বংস যাকে আল্লাহ অকল্যাণ বা মন্দের দ্বার খোলা এবং কল্যাণের দ্বার বন্ধ করার চাবি বানিয়েছেন। (ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْخَيْرَ خَزَائِنُ لِتِلْكَ الْخَزَائِنِ مَفَاتِيحُ فَطُوبَى لِعَبْدٍ جَعَلَهُ اللَّهُ مِفْتَاحًا لِلْخَيْرِ مِغْلَاقًا لِلشَّرِّ وَوَيْلٌ لَعَبْدٍ جَعَلَهُ اللَّهُ مِفْتَاحًا لِلشَّرِّ مِغْلَاقًا لِلْخَيْرِ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ ابن ماجہ (238) * عبد الرحمن بن زید بن اسلم ضعیف جدًا ، یروی الموضوعات عن ابیہ ۔

وعن سهل بن سعد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ان هذا الخير خزاىن لتلك الخزاىن مفاتيح فطوبى لعبد جعله الله مفتاحا للخير مغلاقا للشر وويل لعبد جعله الله مفتاحا للشر مغلاقا للخير» . رواه ابن ماجه اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ ابن ماجہ (238) * عبد الرحمن بن زید بن اسلم ضعیف جدا ، یروی الموضوعات عن ابیہ ۔

ব্যাখ্যা : মানুষের সম্পদরাজি আল্লাহর দেয়া ধনভাণ্ডার স্বরূপ। এ ধনভণ্ডার থেকে খরচ করে কল্যাণ কিংবা অকল্যাণ হাসিল করা সেটা মানুষের ইখতিয়ারভুক্ত। আর মানুষকেই এই ধনভাণ্ডারের চাবী বলা হয়েছে অর্থাৎ সে নিজে তা থেকে হয় কল্যাণ বের করবে অথবা অকল্যাণ আনয়ন করবে। যে সম্পদের সদ্ব্যবহার করে তার জন্য কল্যাণ এবং সুসংবাদ, পক্ষান্তরে যে তার যথাযথ হাক্ব আদায় করবে না তার জন্য কল্যাণের দ্বার থাকবে বন্ধ এবং তার জন্য রয়েছে অকল্যাণ অর্থাৎ ধ্বংস। আল্লাহ যাকে কল্যাণের বা নেক কাজের তাওফীক দান করেন সেটা তার পরম অনুগ্রহ। 

‘সম্পদ’ শব্দটি ব্যাপকার্থে ব্যবহৃত হবে, টাকা-পয়সা, জ্ঞান-প্রজ্ঞা, ‘ইবাদাত-বন্দেগীর যোগ্যতা ইত্যাদি সবই এর অন্তর্ভুক্ত। 

রাগিব ইস্পাহানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الْخَيْرَ) হলো ঐ বস্তু (الْخَيْرُ مَا يَرْ غَبُ فِيهِ الْكُلُّ كالْعَقْلِ مَشَلًا وَالْعَدْلِ وَالْفَضْلِ وَالشَّيْءِ النَّافِعِ) প্রত্যেক মানুষ যার প্রতি আগ্রহশীল থাকে, যেমন জ্ঞান, ন্যায়-বিচার, পদমর্যাদা এবং অন্যান্য উপকারী বস্তু। পক্ষান্তরে ‘আরবীতে (الشَّرّ) হলো খায়র-এর বিপরীত। কখনো কখনো কল্যাণ এবং অকল্যাণ একই বস্তুতে অবস্থান করে। সেটা একজনের জন্য কল্যাণ অপরের জন্য অকল্যাণ। যেমন “ইলম, একজনের জন্য হবে জাহান্নামের পর্দা, অন্যের জন্য জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হবে। অনুরূপ কুরআন কারো পক্ষে সুপারিশকারী হবে আবার কারো বিপক্ষে সাক্ষ্য প্রদানকারী। 

(মিরকাতুল মাফাতীহ, তানবীর শারহু জামিউস্ সগীর, আল কাশিফ ১০ খণ্ড, ৩৩০০ পৃ.) 


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০৯-[৫৫] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন কোন ব্যক্তির ধন-সম্পদে বারাকাত দান করা না হয়, তখন সে তাকে পানি ও মাটিতে ব্যয় করে।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا لَمْ يُبَارَكْ لِلْعَبْدِ فِي مَالِهِ جَعَلَهُ فِي المَاء والطين»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10719 ، نسخۃ محققۃ : 10234) * فیہ عبد الاعلی بن ابی المساور (متروک) عن خالد الاحول عن علی الخ و فی السند علۃ أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا لم يبارك للعبد في ماله جعله في الماء والطين» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10719 ، نسخۃ محققۃ : 10234) * فیہ عبد الاعلی بن ابی المساور (متروک) عن خالد الاحول عن علی الخ و فی السند علۃ أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : যখন কোন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সম্পদ ব্যয় করবে না, পরকাল বিনির্মাণে খরচ করবে না এবং ভালো মাল ব্যয় করবে না তখন তার সম্পদ যে পথেই সে খরচ করুক না কেন তা হবে মাটি ও পানিতে ফেলা ধ্বংসের শামিল। 

দুনিয়া হলো মাটি আর পানি, অতএব আল্লাহর অভিপ্রেত পথ পরিহার করে দুনিয়া সর্বস্ব জীবনের জন্য খরচের হিসাব হলো মাটি আর পানিতে ফেলে দেয়া। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, লু'আহ্ আত্ তানকীহ ফী শারূহে মিশকাতিল মাসাবীহ ৮ম খণ্ড, ৪৪০ পৃ.) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১০-[৫৬] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) বলেছেন: তোমরা ঘর-বাড়ি তৈরির মধ্যে হারাম মাল লাগানো হতে বেঁচে থাকো। কেননা তা হলো ধ্বংসের মূল। (হাদীস দুটি ইমাম বায়হাকী তাঁর “শুআবুল ঈমানে” বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اتَّقُوا الْحَرَامَ فِي الْبُنْيَانِ فَإِنَّهُ أَسَاسُ الْخَرَابِ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10722 ، نسخہ محققۃ : 10237) * فیہ معاویۃ بن یحیی الصدفی ضعیف و علل أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عمر ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اتقوا الحرام في البنيان فانه اساس الخراب» . رواهما البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10722 ، نسخہ محققۃ : 10237) * فیہ معاویۃ بن یحیی الصدفی ضعیف و علل أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : বাড়ী ঘর নির্মাণে হারাম থেকে আত্মরক্ষার অর্থ হলো হারাম মাল বা অর্থ দ্বারা বাড়ীঘর নির্মাণ থেকে বেঁচে থাকা। জামি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (اتَّقُوا الْحَرَامَ) অর্থাৎ হারাম পাথর বা ইট দ্বারা বাড়ীঘর নির্মাণ থেকে বেঁচে থাক। কেননা এটা দুনিয়াবী ধ্বংসের মূল ভিত্তি। 

হাদীসের বাণী : (فَإِنَّهُ أَسَاسُ الْخَرَابِ) “নিশ্চয় তা ধ্বংসের মূলভিত্তি”- এ কথার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ মূলত দীন ধ্বংসের কারণ। অতএব হালাল পথে দুনিয়ার গৃহাদি নির্মাণের মাধ্যমে তার দীনের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং হারাম থেকে বাঁচতে হবে। 

(মিক্বাতুল মাফাতীহ; লু'আহ্ আহ্ তানকীহ ৮ম খণ্ড, ৪৪০-৪১ পৃ.) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১১-[৫৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: ইহকাল ঐ ব্যক্তির ঘর, যার (আখিরাতে) ঘর নেই এবং ঐ ব্যক্তিরই সম্পদ, যার (আখিরাতে) কোন সম্পদ নেই। আর ইহকালে সে ব্যক্তিই সঞ্চয় করে যার বুদ্ধি নেই। (আহমাদ ও বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الدُّنْيَا دَارُ مَنْ لَا دَارَ لَهُ وَمَالُ مَنْ لَا مَالَ لَهُ وَلَهَا يَجْمَعُ مَنْ لَا عَقْلَ لَهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (6 / 71 ح 24923) و البیھقی فی شعب الایمان (10638 ، نسخۃ محققۃ : 10154) [و ابن ابی الدنیا فی ذم الدنیا (182) و احمد (6 / 71)] * ابو اسحاق مدلس و عنعن فی السند علۃ أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن عاىشة رضي الله عنها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «الدنيا دار من لا دار له ومال من لا مال له ولها يجمع من لا عقل له» . رواه احمد والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (6 / 71 ح 24923) و البیھقی فی شعب الایمان (10638 ، نسخۃ محققۃ : 10154) [و ابن ابی الدنیا فی ذم الدنیا (182) و احمد (6 / 71)] * ابو اسحاق مدلس و عنعن فی السند علۃ أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দার’ বা ঘর দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয় সুখ ও শান্তিতে অবস্থান বা বসবাস করা তাহলে তো দুনিয়ার ঘর সুখ-শান্তি থেকে মুক্ত, তাকে শান্তির ঘর নাম দেয়া যথাযথ নয়, অতএব দুনিয়া যাদের ঘর (আখিরাতে) তার কোন ঘর নেই। আল্লাহ তা'আলা বলেন : (وَ اِنَّ الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ لَهِیَ الۡحَیَوَانُ ۘ لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ) “নিশ্চয় পরকালের জীবনই সত্যিকারের জীবন যদি তারা জানত। (সূরাহ্ আল আনকাবূত ২৯ : ৬৪)

হাদীসের বাণী : (وَمَالُ مَنْ لَا مَالَ لَهُ) “দুনিয়ার সম্পদ তার জন্যই যার আখিরাতে কোন সম্পদ নেই।” এখানে মাল-সম্পদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কল্যাণকর কাজে ও রাস্তায় খরচ করা। আর যে তার প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণের জন্য তা ক্ষয় করে তার ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য যে, তার দুনিয়ার এই সম্পদ প্রকৃত সম্পদ নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ) “দুনিয়ার জীবন ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়”। (সূরাহ্ আ-লি ইমরান ৩:১৮৫)।

অতএব এই ধোঁকার দুনিয়া লাভের জন্য যারা উঠে পড়ে লাগে তারা নির্বোধ। আর যারা আখিরাতের ঘর সমৃদ্ধ করার জন্য পাথেয় সংগ্রহে লিপ্ত তারা প্রশংসিত। আল্লাহ বলেন :
(وَ تَزَوَّدُوۡا فَاِنَّ خَیۡرَ الزَّادِ التَّقۡوٰی ۫) “তোমরা (হাজ্জের জন্য) পাথেয় সংগ্রহ কর, আর উত্তম পাথেয় হলো তাক্বওয়া।” (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ২: ১৯৭)
সার কথা হলো দুনিয়ার অস্থায়ী ঘরকে প্রকৃত ঘর বলে ধরবে না। বরং তাকে একেবারেই গৌন করে দেখবে। (মিক্বাতুল মাফাতীহ; সিরাজুল মুনীর ৩য় খণ্ড, ১৬২ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১২-[৫৮] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে তার খুত্ববায় বলতে শুনেছি, মদ হলো পাপের সমষ্টি। নারী সম্প্রদায় শয়তানের ফাঁদ। দুনিয়ার মুহাব্বাত সকল গুনাহের মূল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে এটাও বলতে শুনেছি; তোমরা নারীদেরকে পিছনে সরিয়ে রাখো, যেভাবে আল্লাহ তাদেরকে পিছনে রেখেছেন। (রযীন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ: «الْخَمْرُ جِمَاعُ الْإِثْمِ وَالنِّسَاءُ حَبَائِلُ الشَّيْطَانِ وَحُبُّ الدُّنْيَا رَأْسُ كُلِّ خَطِيئَةٍ» قَالَ: وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: «أَخِّرُوا النِّسَاءَ حَيْثُ أَخَّرَهُنَّ اللَّهُ» . رَوَاهُ رزين

لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) * و للحدیث شاھد عند الدارقطنی (4 / 247 ح 4564) وغیرہ من حدیث زید بن خالد بہ و سندہ ضعیف ، فیہ عبداللہ بن مصعب و ابوہ مجھولان ۔ 0 قولہ :’’ أخر و النساء حیث أخرھن اللہ ‘‘ رواہ عبدالرزاق (3 / 194 ح 5115 موقوفًا) عن ابن مسعود رضی اللہ عنہ و سندہ ضعیف و للاثر شاھد ضعیف منقطع عند الطبرانی فی الکبیر (9 / 342 ح 9485) ۔
(لاأصل لَهُ مَرْفُوعا)

وعن حذيفة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في خطبته: «الخمر جماع الاثم والنساء حباىل الشيطان وحب الدنيا راس كل خطيىة» قال: وسمعته يقول: «اخروا النساء حيث اخرهن الله» . رواه رزين لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) * و للحدیث شاھد عند الدارقطنی (4 / 247 ح 4564) وغیرہ من حدیث زید بن خالد بہ و سندہ ضعیف ، فیہ عبداللہ بن مصعب و ابوہ مجھولان ۔ 0 قولہ :’’ أخر و النساء حیث أخرھن اللہ ‘‘ رواہ عبدالرزاق (3 / 194 ح 5115 موقوفا) عن ابن مسعود رضی اللہ عنہ و سندہ ضعیف و للاثر شاھد ضعیف منقطع عند الطبرانی فی الکبیر (9 / 342 ح 9485) ۔ (لااصل له مرفوعا)

ব্যাখ্যা : (خَمْرُ) ‘খমর বা মদ সকল পাপের সমষ্টি, যা সকল পাপকে একত্র করে এবং সকল পাপের বাহন। ত্ববারানীর এক মারফু হাদীসে এসেছে, (لْخَمْرُأُمٌُ الْفَوَاحِشِ وَأَكْبَرُ الْكَبَائِرِ، وَمَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ تَرَكَ الصَّلَاةَوَوَقَعَ عَلَى أُمِّهٖ وَعَمَّتِهٖ وَخَالَتِهٖ) মদ্যপান হলো সকল কুকর্মের জননী এবং বড় ধরনের কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। যে তা পান করে, সালাত বর্জন করে এবং তার মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, ফুপীর সাথে এবং খালার সাথেও। (জামি'উস্ সগীর ২/২৫২ পৃ., হা, ৪১৪১)

বায়হাক্বীর এক বর্ণনায় রয়েছে, “যে মদ্যপান করে সে সালাত বর্জন করে এবং মা, খালা ও ফুপুর ওপর উদগত হয়।” (জামিউস্ সগীর হা, ৪১৪২)
হাদীসের বাণী, “নারী জাতি শয়তানের রশি”, শয়তান নারীদের দ্বারাই তার অশুভ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে থাকে। পৃথিবীর বড় বড় যুদ্ধ-বিগ্রহের মূলে শায়ত্বন এই নারীকে ব্যবহার করেছে। বলা হয়ে থাকে ইবলীস যখন বানী আদাম-এর পিছনে প্রাণন্তকর পরিশ্রম করেও নিরাশ হয়ে যায় তখন নারীদের মাধ্যমে অবতীর্ণ হয় এবং সফলতা লাভ করে।

হাদীসের বাণী : (حب الدُّنْيَا رَأس كل خَطِيئَ) “দুনিয়াপ্রীতি সকল পাপের শিরোমনি।” এ কথার মাফহুম হলো, তার বিপরীতটি বুঝানো অর্থাৎ (تَرْكُ الدُّنْيَا رَأَسُ كُلِّ عِبَادَةٍ)  দুনিয়া বর্জন হলো সকল ‘ইবাদাতের শিরোমণি। বলা হয়ে থাকে যে, ব্যক্তি দুনিয়ার ভালোবাসায় লিপ্ত কোন প্রদর্শকই তাকে হিদায়াতের পথ দেখাতে পারেনি। আর যে দুনিয়া ত্যাগ করতে পেরেছে কোন পথভ্রষ্টকারীই তাকে বিপন্থগামী করতে পারেনি।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : তিনটি বাক্যের প্রত্যেকটি বাক্যই জাওয়ামিউল কালিম-এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা প্রত্যেকটি কথাই এককভাবে পাপ ও লোকসানের ক্ষেত্রে আসল বা মূলভিত্তি।
মহিলাদের পিছনে রাখার অর্থ হলো- আল্লাহ যেমন তাদের আলোচনা, তাদের হুকুম এবং মরতবা পরে এনেছেন অনুরূপ তোমরাও তাদের পরে রাখ। সালাতে তারা পিছনের কাতারে থাকবে, ঈদের খুত্ববায় রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের পরে নাসীহাত করতেন। যুদ্ধের ময়দানে তাদের ফ্রন্টে রাখা হবে না বরং পিছনে থাকবে। (মিক্বাতুল মাফাতীহ; কাশফুল খফায়ি ১ম খণ্ড, ৪৩৪ পৃ.)
পিছনের আরেকটি অর্থ হলো- তাদের পর্দার অন্তরালে রাখা।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১৩-[৫৯] আর বায়হাক্বী তাঁর “শু’আবুল ঈমান” গ্রন্থে হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে শুধু ও (حب الدُّنْيَا رَأس كل خَطِيئَ) “দুনিয়ার মুহাব্বাত প্রত্যেক পাপের মূল বা উৎস”- এ বাক্যটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وروى اليهقي مِنْهُ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» عَنِ الْحَسَنِ مُرْسَلًا: «حب الدُّنْيَا رَأس كل خَطِيئَة»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10501 ، نسخۃ محققۃ : 10019) [و ابن ابی الدنیا فی ذم الدنیا (90)] * راجالہ ثقات و فیہ شک الراوی بین المدلس فالسند ضعیف ، و ضعیف الی الحسن رحمہ اللہ ولو صح فمرسل و المرسل ردہ جمھور المحدثین و تحقیقھم ھو الراجح ۔

وروى اليهقي منه في «شعب الايمان» عن الحسن مرسلا: «حب الدنيا راس كل خطيىة» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10501 ، نسخۃ محققۃ : 10019) [و ابن ابی الدنیا فی ذم الدنیا (90)] * راجالہ ثقات و فیہ شک الراوی بین المدلس فالسند ضعیف ، و ضعیف الی الحسن رحمہ اللہ ولو صح فمرسل و المرسل ردہ جمھور المحدثین و تحقیقھم ھو الراجح ۔

হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
বর্ণনাকারীঃ হাসান বাসরী (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১৪-[৬০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি আমার উম্মতের ওপর দু’ ব্যাপারে খুব বেশি ভয় করি। প্রবৃত্তির কামনা আর দীর্ঘ হায়াতের আকাঙ্ক্ষা। অতঃপর প্রবৃত্তি সত্য থেকে বাধা দেয় আর দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা পরকালকে ভুলিয়ে দেয়। এই যে দুনিয়া! এটা প্রবহমান প্রস্থানকারী এবং ঐ আখিরাত! তা প্রবহমান আগমনকারী। আর এদের প্রত্যেকটির সন্তানাদিও রয়েছে। অতএব যদি তোমার সাধ্য হয়, দুনিয়ার সন্তান না হওয়ার তোমাদের সাধ্যে কুলায় তবে তাই করো। কেননা আজ তোমরা ’আমলের গৃহে রয়েছ, (এখানে কোন হিসাব-কিতাব নেই) আর আগামীকাল তোমরা পরকালের অধিবাসী হবে, আর তথায় কোন ’আমল নেই। (বায়হাকী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وسم: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَتَخَوَّفُ عَلَى أُمَّتِي الْهَوَى وَطُولُ الْأَمَلِ فَأَمَّا الْهَوَى فَيَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ وَأما طول الأمل فيُنسي الْآخِرَةَ وَهَذِهِ الدُّنْيَا مُرْتَحِلَةٌ ذَاهِبَةٌ وَهَذِهِ الْآخِرَةُ مُرْتَحِلَةٌ قَادِمَةٌ وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُونَ فَإِنِ اسْتَطَعْتُم أَن لَا تَكُونُوا بَنِي الدُّنْيَا فَافْعَلُوا فَإِنَّكُمُ الْيَوْمَ فِي دَارِ الْعَمَلِ وَلَا حِسَابَ وَأَنْتُمْ غَدًا فِي دَارِ الْآخِرَةِ وَلَا عَمَلَ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10616 ، نسخۃ محققۃ : 10132) * فیہ علی بن ابی علی اللھبی : منکر الحدیث متروک ۔
(ضَعِيف)

وعن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسم: «ان اخوف ما اتخوف على امتي الهوى وطول الامل فاما الهوى فيصد عن الحق واما طول الامل فينسي الاخرة وهذه الدنيا مرتحلة ذاهبة وهذه الاخرة مرتحلة قادمة ولكل واحدة منهما بنون فان استطعتم ان لا تكونوا بني الدنيا فافعلوا فانكم اليوم في دار العمل ولا حساب وانتم غدا في دار الاخرة ولا عمل» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10616 ، نسخۃ محققۃ : 10132) * فیہ علی بن ابی علی اللھبی : منکر الحدیث متروک ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : নফস্ বা প্রবৃত্তির খাহেশাত অনেকটাই মানুষের প্রকৃতিগত স্বভাব। এটা যখন বিপথে পরিচালিত হয় তখন সেটা হয় নিন্দনীয় এবং আল্লাহর অনভিপ্রেত, দীর্ঘ আশাও মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। এটাও যখন হয় হিদায়াত শূন্য এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস সর্বস্ব তখন সেটাও হয় নিন্দনীয়।
নফস্ বা প্রবৃত্তি মানুষকে সত্যগ্রহণ ও তার আনুগত্য থেকে ফিরিয়ে রাখে। আর দীর্ঘ আশা আল্লাহর স্মরণ ও তার আনুগত্য থেকে দূরে রাখে। যেমন- অনেক মুসলিমকে বাড়ী-ঘর নির্মাণে ব্যস্ত অবস্থায় সালাতে ডাকলে উত্তর দেয় মসজিদে যাওয়ার সময় নেই, ফকীর ভিক্ষা চাইলে বলে ব্যস্ত আছি দেখ না? দুনিয়া এবং আখিরাতের দৃষ্টান্ত হলো চলমান দুটি বাহনের ন্যায়। তবে এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো দুনিয়া তোমার নিকট থেকে তোমার হায়াতকে নিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছে আর আখিরাত তোমার নিকট দ্রুত চলে আসছে। এ দুনিয়ার পোষ্য সন্তান রয়েছে, সে সন্তান হলো মানুষ। অর্থাৎ যে দুনিয়ার পিছনে দৌড়ায়, তা কঠিনভাবে আঁকড়ে ধরে এবং আখিরাত ভুলে যায় সেই দুনিয়ার সন্তান। পক্ষান্তরে যারা প্রকৃত মুমিন তারা হবে আখিরাতমুখী, এদের জন্য দুনিয়া হলো ‘আমলের গৃহমাত্র।
নাবী (সা.)-এর বাণী : (فَإِنِ اسْتَطَعْتُم أَن لَا تَكُونُوا بَنِي الدُّنْيَا فَافْعَلُو) “যদি তোমার সাধ্য হয়, দুনিয়ার সন্তান না হওয়ায় তবে তাই কর।” এ বাক্যে দুনিয়া বর্জনের পরিপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। এবং আখিরাত গ্রহণের অধিকতর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অতএব মু'মিন আখিরাতই কামনা করে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন : “যে পরকালের ক্ষেত্রে পুণ্যফল কামনা করে আমি তাকে তার ক্ষেত্রে উন্নতি দান করি, আর যে দুনিয়ার ক্ষেত্র কামনা করে আমি তাকে দুনিয়ার কিছু অংশ প্রদান করি কিন্তু পরকালে তার জন্য কোনই অংশ নেই।” (সূরা আশ শূরা- ৪২ : ২০)
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বাণী : (فَإِنَّكُمُ الْيَوْمَ فِي دَارِ الْعَمَلِ) “তোমরা আজ ‘আমলের ঘরে রয়েছে।” অর্থাৎ দুনিয়ায় আজ তোমরা এমন অবস্থানে রয়েছে যে, আখিরাতে তোমাদের নিকট এই দিনের ‘মাল তলব করা হবে। অতএব দুনিয়ার দায়িত্ব পালনের জায়গা মৃত্যু আসার আগেই গ্রহণ কর। তোমার অবস্থান দুনিয়ায় এক ঘণ্টা মাত্র, তাই উচিত তাকে আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করা ।

হাদীসের বাণী : “আগামীকাল তোমরা এমন ঘরে যাবে যেখানে কোন ‘আমাল নেই।” আগামীকালের ঘর হলো আখিরাতের ঘর। সেখানে হিসাব দিয়ে সাওয়াব অথবা শাস্তি গ্রহণ করতে হবে। সেখানে কোন ‘আমল করার সুযোগ নেই। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ দৃষ্টান্ত দ্বারা দুনিয়ার তুচ্ছতা এবং দ্রুত ধ্বংস হওয়ার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে আখিরাতের প্রতি তা'যীম ও প্রস্তুতির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা আখিরাতের ঘর চিরস্থায়ী এবং চির সুন্দর। (মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ আন্ হাকায়িকিস্ সুনান ১০ম খণ্ড, ৩৩০২ পৃ., লু'আতুত্ তানকীহ ৮ম খণ্ড, ৪৪২ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১৫-[৬১] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইহকাল পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে চলে যাচ্ছে, আর পরকাল সম্মুখে আসছে। আর এদের প্রত্যেকটির সন্তানাদি রয়েছে। তবে তোমরা পরকালের সন্তান হও, ইহকালের সন্তান হয়ো না। কেননা আজ আমলের সময়, এখানে কোন হিসাব নেই। আর আগামীকাল হিসাব-নিকাশ হবে, সেখানে কোন ’আমল নেই। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: ارْتَحَلَتِ الدُّنْيَا مُدْبِرَةً وَارْتَحَلَتِ الْآخِرَةُ مُقْبِلَةً وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُونَ فَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الْآخِرَةِ وَلَا تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْيَوْمَ عَمَلٌ وَلَا حِسَابَ وَغَدًا حِسَابٌ وَلَا عَمَلَ. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری فی الرقاق (باب : 4 قبل ح 6417) و انظر تغلیق التعلیق (5 / 158 ، 159) ۔
((صَحِيح))

وعن علي رضي الله عنه قال: ارتحلت الدنيا مدبرة وارتحلت الاخرة مقبلة ولكل واحدة منهما بنون فكونوا من ابناء الاخرة ولا تكونوا من ابناء الدنيا فان اليوم عمل ولا حساب وغدا حساب ولا عمل. رواه البخاري رواہ البخاری فی الرقاق (باب : 4 قبل ح 6417) و انظر تغلیق التعلیق (5 / 158 ، 159) ۔ ((صحيح))

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১৬-[৬২] ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নাবী (সা.) ভাষণদানকালে বললেন : সাবধান! দুনিয়া একটি অস্থায়ী জিনিস। তা হতে পুণ্যবান ও পাপী উভয় ভোগ করে। সাবধান! পরকাল একটি সত্যিকার নির্দিষ্ট সময়। সেখানে বিচার করবেন এমন এক বাদশাহ যিনি সর্বময় ক্ষমতার মালিক। সাবধান! সার্বিকভাবে সর্বপ্রকার কল্যাণের স্থান হলো জান্নাত এবং সার্বিকভাবে সর্বপ্রকার মন্দের স্থান হলো জাহান্নাম। অতএব তোমরা আমল করো এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। আর এ কথাটি ভালোভাবে জেনে রাখো, তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্মসহ (আল্লাহর সম্মুখে) উপস্থিত করা হবে। “অতএব যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে সে তার ফল পাবে এবং যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করবে সে তার ফল পাবে”- (সূরাহ্ আহ্ যিলযাল ৯৯ : ৭-৮)। (শাফিঈ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ يَوْمًا فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ: «أَلَا إِنَّ الدُّنْيَا عَرَضٌ حَاضِرٌ يَأْكُلُ مِنْهُ الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ أَلا وَإِن الآحرة أَجَلٌ صَادِقٌ وَيَقْضِي فِيهَا مَلِكٌ قَادِرٌ أَلَا وَإِنَّ الْخَيْرَ كُلَّهُ بِحَذَافِيرِهِ فِي الْجَنَّةِ أَلَا وَإِنَّ الشَّرَّ كُلَّهُ بِحَذَافِيرِهِ فِي النَّارِ أَلَا فَاعْمَلُوا وَأَنْتُمْ مِنَ اللَّهِ عَلَى حَذَرٍ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ مَعْرُوضُونَ عَلَى أَعْمَالِكُمْ فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شرا يره» . للشَّافِعِيّ

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الشافعی فی الام (1 / 202) * فیہ ابراھیم بن محمد بن ابی یحیی : متروک و السند مرسل ۔

وعن عمرو رضي الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم خطب يوما فقال في خطبته: «الا ان الدنيا عرض حاضر ياكل منه البر والفاجر الا وان الاحرة اجل صادق ويقضي فيها ملك قادر الا وان الخير كله بحذافيره في الجنة الا وان الشر كله بحذافيره في النار الا فاعملوا وانتم من الله على حذر واعلموا انكم معروضون على اعمالكم فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره» . للشافعي اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الشافعی فی الام (1 / 202) * فیہ ابراھیم بن محمد بن ابی یحیی : متروک و السند مرسل ۔

ব্যাখ্যা : দুনিয়া হলো অস্থায়ী সম্পদ বিশেষ, যা থেকে নেককার, গুনাহগার, মু'মিন, কাফির সবাই উপকার ভোগ করে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন :
(وَ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ رِزۡقُهَا) “জমিনে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই যার রিযক আল্লাহর যিম্মায় না আছে।” (সূরাহ্ হূদ ১১ : ৬)

হাদীসে উল্লেখিত (الْعَرَضُ) শব্দের অর্থ করতে গিয়ে রাগিব ইস্পাহানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আরায (الْعَرَضُ مَا لَايَكُونُ لَهٗ ثَبَاتٌ) ঐ বস্তু যার স্থায়িত্ব নেই।
আখিরাত একটি সুনির্দিষ্ট সত্য এবং অনিবার্য অনুষ্ঠিতব্য সময়। সেদিন মহা ক্ষমতাধর বাদশাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'আলা নেককার-গুনাহগার, মু'মিন-কাফির প্রভৃতি মানুষের মাঝে পুরস্কার ও শাস্তির ন্যায্য ফায়সালা করবেন।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (الْأَجَلُ) প্রতিশ্রুত সময়ের দৃষ্টান্ত; (الصادق) শব্দ দ্বারা বিশেষণ বর্ণনা করা হয়েছে তা অনুষ্ঠিত হওয়া নিশ্চিত করণার্থে এবং স্থায়িত্বার্থে।
সকল প্রকার কল্যাণ ও কল্যাণের উপাত্ত যা কিছু রয়েছে সবই জান্নাতে বিদ্যমান। আর সকল প্রকার অকল্যাণ এবং অকল্যাণের উপকরণ সবই জাহান্নামে বিদ্যমান। অর্থাৎ জান্নাতে সকল প্রকার সুখ সামগ্রী বিদ্যমান এবং জাহান্নামে দুঃখ-যন্ত্রণার যাবতীয় পথ পন্থা ও উপকরণ বিদ্যমান রয়েছে। এ বাক্য দু'টির পূর্বে আরবী (حَرْفُ التَّنْبِيهَ) তথা সতর্কসূচক অব্যয় (أَلَا) ব্যবহার করা হয়েছে জাহান্নাম ও জান্নাতের সুখ-দুঃখের স্থায়িত্ব বুঝানোর জন্য। অতঃপর প্রত্যেকের সামনে তার ‘আমল পেশ করা হবে তা ক্ষুদ্র বৃহৎ যাই হোক না কেন। এমনকি যারা পরিমাণ ‘আমল হলেও তা প্রত্যক্ষ করবে এবং তার বিনিময়ে জান্নাত-জাহান্নামের কোন একটি নিশ্চিত পাবে।
‘আল্লামাহ্ সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (الزَّرَّةُ) (যাররাহ্) হলো ক্ষুদ্র লাল পিঁপড়া। কেউ কেউ বলেছেন, যারাহ্ হলো যার ওযন নেই, অর্থাৎ কোন ওযন যন্ত্রেই যার ভর ধর্তব্য হয় না। এটা ঘরের জানালা অথবা ছিদ্র দিয়ে সূর্য রশ্মির মধ্যে দৃশ্যমান ধূলিকণা বিশেষ, যা দেখা যায় কিন্তু ওযনে আনা যায় না।
(মিক্বাতুল মাফাতীহ; লুআতুত্ তানকীহ ফী শারহি মিশকাতিল মাসাবীহ ৮ম খণ্ড, ৪৪২ পৃ.)


হাদিসের মানঃ জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১৭-[৬৩] শাদ্দাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, [রসূল (সা.) বলেছেন] হে লোক সকল! দুনিয়া একটি অস্থায়ী সম্পদ। তা হতে পুণ্যবান ও পাপী উভয়ে ভোগ করে থাকে। আর পরকাল একটি সত্য প্রতিশ্রুতি। সেখানে বিচার করবেন ন্যায়পরায়ণ সর্বসময় শক্তির অধিকারী বাদশাহ। তিনি (নিজ ফায়সালায়) সত্যকে বহাল রাখবেন এবং বাতিলকে মুছে ফেলবেন। অতএব তোমরা পরকালের সন্তান হও, ইহকালের সন্তান হয় না। কেননা প্রত্যেক মাতার সন্তান তার অনুগামী হয়ে থাকে।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ شَدَّادٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الدُّنْيَا عَرَضٌ حَاضِرٌ يَأْكُلُ مِنْهَا الْبَرُّ وَالْفَاجِرُ وَإِنَّ الْآخِرَةَ وَعْدٌ صَادِقٌ يَحْكُمُ فِيهَا مَلِكٌ عَادِلٌ قَادِرٌ يُحِقُّ فِيهَا الْحَقَّ وَيُبْطِلُ الْبَاطِلَ كُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الْآخِرَةِ وَلَا تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا فَإِنَّ كل أم يتبعهَا وَلَدهَا»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (1 / 264 ، 265) * فیہ ابو مھدی سعید بن سنان : متروک متھم ۔
(ضَعِيف)

وعن شداد رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «يا ايها الناس ان الدنيا عرض حاضر ياكل منها البر والفاجر وان الاخرة وعد صادق يحكم فيها ملك عادل قادر يحق فيها الحق ويبطل الباطل كونوا من ابناء الاخرة ولا تكونوا من ابناء الدنيا فان كل ام يتبعها ولدها» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (1 / 264 ، 265) * فیہ ابو مھدی سعید بن سنان : متروک متھم ۔ (ضعيف)

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১৮-[৬৪] আবু দারদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সূর্য উদয় হওয়ার সাথেই তার দু’পার্শ্বে দু’জন মালাক (ফেরেশতা) জিন্ ও মানুষ ছাড়া সকল সৃষ্টজীবকে শোনানোর উদ্দেশে ঘোষণা করে, হে মানুষ সকল! তোমরা তোমাদের প্রভুর দিকে আসো। (শুনে রাখো,) যে সম্পদের প্রাচুর্য আল্লাহ ও তাঁর স্মরণ হতে গাফিল করে রাখে, তা অপেক্ষা প্রয়োজনমাফিক স্বল্প সম্পদই উত্তম। (আবূ নু’আয়ম হিলইয়াহ গ্রন্থে হাদীস দু’টি বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ إِلَّا وَبِجَنْبَتَيْهَا مَلَكَانِ يُنَادِيَانِ يُسْمِعَانِ الْخَلَائِقَ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَلُمُّوا إِلَى رَبِّكُمْ مَا قَلَّ وَكَفَى خَيْرٌ مِمَّا كَثُرَ وَأَلْهَى «رَوَاهُمَا أَبُو نُعَيْمٍ فِي» الْحِلْية

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (1 / 226) [و احمد (5 / 197 ح 22064)] * قتادۃ مدلس و عنعن و مع ذلک صححہ ابن حبان (الموارد : 814 ، 2476) و الحاکم (2 / 444 ۔ 445) و وافقہ الذھبی (!) و حدیث البخاری (1442) و مسلم (1010)، (2336) یغنی عنہ ۔

وعن ابي الدرداء رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما طلعت الشمس الا وبجنبتيها ملكان يناديان يسمعان الخلاىق غير الثقلين: يا ايها الناس هلموا الى ربكم ما قل وكفى خير مما كثر والهى «رواهما ابو نعيم في» الحلية اسنادہ ضعیف ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (1 / 226) [و احمد (5 / 197 ح 22064)] * قتادۃ مدلس و عنعن و مع ذلک صححہ ابن حبان (الموارد : 814 ، 2476) و الحاکم (2 / 444 ۔ 445) و وافقہ الذھبی (!) و حدیث البخاری (1442) و مسلم (1010)، (2336) یغنی عنہ ۔

ব্যাখ্যা : (يُسْمِعَانِ الْخَلَائِقَ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ) জিন ইনসান ব্যতীত সকল সৃষ্টিই সে আওয়াজ শুনতে পায়, এ বাক্যটি পূর্বের বাক্য থেকে (بَدَلٌ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অথবা তার (حَالٌ) থেকে (بَيَانٌ بَعْدَ بَيَانٍ) হয়েছে মানুষ এবং জিন্ মুকাল্লাফ হওয়ার কারণে এ অদৃশ্য আওয়াজ শুনতে পায় না।
মালাকের (ফেরেশতার) আহ্বান, (يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَلُمُّوا إِلَى رَبِّكُمْ) “হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে আসো”- এর অর্থ হলো তোমরা তার নির্দেশসমূহ এবং হুকুম পালন কর। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন : (فَفِرُّوۡۤا اِلَی اللّٰهِ)“অতঃপর তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও।” (সূরাহ্ আয যা-রিয়া-ত ৫১:৫০)
মহান আল্লাহ আরো বলেন: (وَ تَبَتَّلۡ اِلَیۡهِ تَبۡتِیۡلًا) “সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার দিকেই রুজু হও।” (সূরাহ্ আল মুযযাম্মিল ৭৩: ০৮) সম্পদ অল্পই ভালো কেননা অধিক সম্পদ মানুষকে আল্লাহ থেকে গাফিল বা বিমুখ করে রাখে। (মিক্বাতুল মাফাতীহ; লুম'আতুত্ তানক্বীহ ৮ম খণ্ড, ৪৪৬ পৃ.; আল কাশিফ লিত্বী ১০ম খণ্ড, ৩৩০৪ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২১৯-[৬৫] আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হাদীসটি নবী (সা.) পর্যন্ত পৌছিয়ে বলেছেন: যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বলেন, (এ ব্যক্তি) পরকালের জন্য অগ্রিম কী পাঠিয়েছে? আর আদম সন্তান (ওয়ারিসগণ) বলে, সে কী রেখে গেছে? (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَبْلُغُ بِهِ قَالَ: إِذَا مَاتَ الْمَيِّتُ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: مَا قَدَّمَ؟ وَقَالَ بَنُو آدَمَ: مَا خَلَّفَ؟ «. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي» شعب الْإِيمَان

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10475 ، نسخۃ محققۃ : 9992) * الاعمش مدلس و عنعن و کذا عبد الرحمن بن محمد المحاربی من المدلسین و فیہ علۃ أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة رضي الله عنه يبلغ به قال: اذا مات الميت قالت الملاىكة: ما قدم؟ وقال بنو ادم: ما خلف؟ «. رواه البيهقي في» شعب الايمان اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10475 ، نسخۃ محققۃ : 9992) * الاعمش مدلس و عنعن و کذا عبد الرحمن بن محمد المحاربی من المدلسین و فیہ علۃ أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : হাদীসের বাণী (إِذَا مَاتَ الْمَيِّتُ) বাক্যটি (مَجَازِ) (রূপকার্থে) বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে জীবিত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে থাকে। কিন্তু যা অনিবার্যভাবেই হতে যাচ্ছে তা তার আগেই সেই নামে প্রকাশ করা কুরআন হাদীসে অনেক ব্যবহার বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন (اِنَّکَ مَیِّتٌ وَّ اِنَّهُمۡ مَّیِّتُوۡنَ) “আপনি মাইয়্যিত তারাও মাইয়্যিত।” (সূরা আয যুমার ৩৯ : ৩০)।
মালাক (ফেরেশতা) বলে সে কী আগে পাঠিয়েছে? অর্থাৎ সে কী কী নেক আমল করে পরকালের জন্য পাঠিয়েছে? পক্ষান্তরে মানুষ মৃত ব্যক্তির বাড়ী এসে বলে সে সহায় সম্পদ কী রেখে গেছে?
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মালায়িকার জিজ্ঞেস হলো ‘আমল সম্পর্কে, যাতে তার জন্য সাওয়াব ও তার প্রতিদান দেয়া যায় অথবা গুনাহের কারণে তার জন্য শাস্তি নির্ধারিত হয়। পক্ষান্তরে ওয়ারিস বা প্রতিবেশীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার সম্পদ, যাতে তারা তাতে ভাগ বসাতে পারে এবং নিজ নিজ অংশ সংগ্রহ করতে পারে। (মিক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ লিত্ব ত্বীবী ১০ম খণ্ড, ৩৩০৫ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২০-[৬৬] মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। লুকমান ’আলায়হিস সালাম নিজ পুত্রকে লক্ষ্য করে বললেন: হে বৎস! মানুষের সাথে যে সমস্ত বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছে, (যথা- মৃত্যুর পরে পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, পুরস্কার বা শাস্তি) তার দীর্ঘসময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর তারা পরকালের দিকে অতি দ্রুত চলে যাচ্ছে। হে বৎস! তুমি যেদিন জন্ম নিয়েছ সেদিন হতে তুমি দুনিয়াকে পিছনে ছেড়ে আসছ এবং ক্রমশ পরকালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর নিশ্চয় যে ঘরের দিকে (পরকালের দিকে) তুমি যাচ্ছ, তা ঐ ঘর অপেক্ষা তোমার অতি নিকটবর্তী, যে ঘর হতে তুমি বের হচ্ছ (দুনিয়া হতে)। (রযীন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ لُقْمَانَ قَالَ لِابْنِهِ: «يَا بُنَيَّ إِنَّ النَّاسَ قَدْ تَطَاوَلَ عَلَيْهِمْ مَا يُوعَدُونَ وَهُمْ إِلَى الْآخِرَةِ سرَاعًا يذهبون وَإنَّك قداستدبرت الدُّنْيَا مُنْذُ كُنْتَ وَاسْتَقْبَلْتَ الْآخِرَةَ وَإِنَّ دَارًا تسيرإليها أقربُ إِليك من دارٍ تخرج مِنْهَا» . رَوَاهُ رزين

لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) ۔
(ضَعِيف)

وعن مالك رضي الله عنه: ان لقمان قال لابنه: «يا بني ان الناس قد تطاول عليهم ما يوعدون وهم الى الاخرة سراعا يذهبون وانك قداستدبرت الدنيا منذ كنت واستقبلت الاخرة وان دارا تسيراليها اقرب اليك من دار تخرج منها» . رواه رزين لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : আরবী ভাষায় ছোট ছেলেকে (يَا بُنَىَّ) বলে ডাকা হয়, এ ডাকে রয়েছে স্নেহবাৎসল্য ও অত্যধিক ভালোবাসা। ইয়াকূব আলায়হিস সালাম তার ছেলেকে বলেছিলেন, (یٰبُنَیَّ لَا تَقۡصُصۡ رُءۡیَاکَ عَلٰۤی اِخۡوَتِکَ) “হে বৎস! তুমি তোমার স্বপ্নের কথা ভাইদের কাছে প্রকাশ করো না...”- (সূরাহ্ ইউসুফ ১২ : ৫)। আল্লাহ তা'আলা এ ভাষাকে আল কুরআনে চয়ন করেছেন, অতএব এটি এখন কুরআনী ভাষা।
আদাম 'আলায়হিস সালাম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত প্রতিটি মানুষের নিকট আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতির মেয়াদ দীর্ঘ হয়ে গেছে। তাদের প্রতি প্রতিশ্রুত বিষয়গুলো হলো পুনরুত্থান, হিসাব, হিসাবান্তে তার বিনিময় (সাওয়াব কিংবা শাস্তি)।
‘আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : যে বিষয়ে তাদের ওয়াদা দেয়া ছিল তা দীর্ঘ হয়ে গেছে। আর তারা আখিরাতের দিকে দ্রুত রওয়ানা হয়েছে কিন্তু তাদের সে অনুভূতি নেই।
হাদীসের বাণী : (وَهُمْ إِلَى الْآخِرَةِ سرَاعًا) বাক্যটির ব্যাখ্যা হলো, “প্রতিশ্রুতির পর মানুষের দীর্ঘসময় অতিবাহিত হয়ে গেছে আর প্রতিশ্রুত সময় নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে, প্রত্যেকেই দ্রুত সেদিকে দৌড়ে চলছে কিন্তু নৌকার আরোহীর মতো ভ্রমণরত কাফেলার সে অনুভূতি নেই।” লুকমান 'আলাইহিস সালাম আরো বলেন, হে প্রিয় বৎস! তুমি এ দুনিয়া ধরার জন্য যে দৌড় দিচ্ছ তাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে পিছনেই ফেলে আসছ। আর ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তুমি এগিয়ে যাচ্ছ আখিরাতের দিকে। তুমি আরো জেনে রেখ, তোমার সামনের ঘর অতি নিকটে আর পিছনের ঘর অনেক দূরে পড়ে গেছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ লিত্ব ত্বীবী ১০ম খণ্ড, ৩৩০৫ পৃষ্ঠা)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২১-[৬৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলা হলো, মানুষের মধ্যে উত্তম কে? তিনি বললেন: প্রত্যেক নিষ্কলুষ অন্তঃকরণ-সত্যভাষী। সাহাবীগণ বললেন, “সুদূকুল লিসান” তো আমরা বুঝি, তবে “মাখমূমুল ক্বলব” কী? তিনি বললেন: সচ্ছ ও পবিত্র অন্তঃকরণ, যা পাপ করেনি, যুলম করেনি ও হিংসা-বিদ্বেষে জড়ায়নি। (ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيْ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «كُلُّ مَخمومُ الْقلب صَدُوق اللِّسَان» . قَالُوا: صدزق اللِّسَانِ نَعْرِفُهُ فَمَا مَخْمُومُ الْقَلْبِ؟ قَالَ: «هُوَ النَّقِيُّ التَّقِيُّ لَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَلَا بَغْيَ وَلَا غِلَّ وَلَا حَسَدَ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ صحیح ، رواہ ابن ماجہ (4216) و البیھقی فی شعب الایمان (6604) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم: اي الناس افضل؟ قال: «كل مخموم القلب صدوق اللسان» . قالوا: صدزق اللسان نعرفه فما مخموم القلب؟ قال: «هو النقي التقي لا اثم عليه ولا بغي ولا غل ولا حسد» . رواه ابن ماجه والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ صحیح ، رواہ ابن ماجہ (4216) و البیھقی فی شعب الایمان (6604) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (مَخْمُومُالْقَلْبِ)  হলো (قَلْبٌ سَلَيمٌ) আল্লাহ বলেন: (اِلَّا مَنۡ اَتَی اللّٰهَ بِقَلۡبٍ سَلِیۡمٍ) “তবে যে নিষ্কলুষ ও পবিত্র ক্বলব নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাযির হবে....।” (সূরা আশ শুআরা- ২৬ : ৮৯)
আল কামূস অভিধান গ্রন্থের ভাষ্য মতে, (مَخْمُومُ) শব্দটি (خَمَمْتَ الْبَيْتَ إِذَاكَنَسْتَهٗ) থেকে এসেছে। এটা তখন বলবে, যখন ঘর ময়লা কুটো থেকে পরিষ্কার করবে। (مَخمومُ الْقلب) এর অর্থ হলো দুশ্চরিত্র থেকে এবং অপবিত্র ‘আক্বীদা-বিশ্বাস ইত্যাদি থেকে কলবকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
(صدق اللِّسَانِ) যবানের সত্যবাদিতা', এটা হলো ঐ গুণ যার দ্বারা মানুষের সত্যবাদীর পরিচয় ঘটে। মুনাফিক এবং লৌকিক ব্যক্তি এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তাদের মুখের কথার সাথে তাদের কার্যের মিল নেই।
(مَخْمُومُالْقَلْبِ) পরিচ্ছন্ন কলবের’ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- তা এমন একটি কলব যা স্বচ্ছ, নির্মল, সংযমী, পবিত্র এবং যুলম ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ইবনু মাজাহ ৩য় খণ্ড, হা, ৪২১৬; লুম্’আহ্ আত্ তানক্বীহ ৪৪৭ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২২-[৬৮] উক্ত রাবী [’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ)] হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : যখন তোমার মাঝে চারটি বস্তু বিদ্যমান থাকে, তখন দুনিয়ার যা কিছুই তোমার ছাড়া হয়ে যায় তোমার কোন ক্ষতি নেই। আমানত রক্ষা, সত্য কথা, উত্তম চরিত্র ও খানাপিনায় সাবধানতা অবলম্বন। (আহমাদ ও বায়হাক্বীর শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَرْبَعٌ إِذَا كُنَّ فِيكَ فَلَا عَلَيْكَ مَا فَاتَكَ مِنَ الدُّنْيَا: حِفْظُ أَمَانَةٍ وَصِدْقُ حَدِيثٍ وَحُسْنُ خَلِيقَةٍ وَعِفَّةٌ فِي طُعْمَةٍ «. رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي» شعب الْإِيمَان

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 177 ح 6652) و البیھقی فی شعب الایمان (4801) [و ابن وھب فی الجامع (546)] * فیہ عبداللہ بن لھیعۃ مدلس و عنعن و فی الحدیث علۃ أخری ، انظر شعب الایمان (5258) و مکارم الاخلاق للخرائطی (31 ، 159 306) وھی مظنۃ الانقطاع بین الحارث بن یزید الحضرمی و بین عبداللہ بن عمرو ابن العاص رضی اللہ عنہ ، و اللہ اعلم و بنحو ھذا الحدیث روی ابن وھب (547) و ابن المبارک فی الزھد (1204) موقوفًا علی عبداللہ بن عمرو رضی اللہ عنہ و سندہ حسن ۔

وعنه ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اربع اذا كن فيك فلا عليك ما فاتك من الدنيا: حفظ امانة وصدق حديث وحسن خليقة وعفة في طعمة «. رواه احمد والبيهقي في» شعب الايمان اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 177 ح 6652) و البیھقی فی شعب الایمان (4801) [و ابن وھب فی الجامع (546)] * فیہ عبداللہ بن لھیعۃ مدلس و عنعن و فی الحدیث علۃ أخری ، انظر شعب الایمان (5258) و مکارم الاخلاق للخراىطی (31 ، 159 306) وھی مظنۃ الانقطاع بین الحارث بن یزید الحضرمی و بین عبداللہ بن عمرو ابن العاص رضی اللہ عنہ ، و اللہ اعلم و بنحو ھذا الحدیث روی ابن وھب (547) و ابن المبارک فی الزھد (1204) موقوفا علی عبداللہ بن عمرو رضی اللہ عنہ و سندہ حسن ۔

ব্যাখ্যা: মানব স্বভাব ও চরিত্রের কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্যের কথা এখানে বলা হয়েছে, যেগুলো কোন মানুষের মধ্যে থাকলে পার্থিব সম্পদ বা অন্য কিছু না থাকলেও কিংবা নষ্ট হয়ে গেলেও কোন ক্ষতি নেই। ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : উল্লেখিত বাক্যে (مَا) হলো মাসদারিয়্যাহ্ এবং এখানে (الْوَقْت) উহ্য রয়েছে। অতএব বাক্যটি হবে এরূপ: (لَابأْسَ عَلَيْهَ وقْتَ فَوْتِ الدُّنْيَاإِنْ حَصَلَتْ لَكَ هٰذِهِ الْخِصالُ) অর্থাৎ যদি এই বৈশিষ্ট্যগুলো তোমার অর্জিত হয় তাহলে দুনিয়ার বস্তুগুলো ছুটে গেলে তোমার কোনই সমস্যা নেই। এই (مَا)-টি না-বাচকও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তখন বাক্যের অর্থ হবে এরূপ: এ বৈশিষ্ট্যগুলো তোমার মধ্যে থাকলে তোমার কোনই সমস্যা হবে না, আর দুনিয়াও তোমার থেকে কখনো ছুটে যাবে না। প্রথম অর্থটা অধিক সামঞ্জস্যশীল।
হাদীসে বর্ণিত চারটি বৈশিষ্ট্যের অন্যতম একটি হলো আমানতের হিফাযত; আর সম্পদ ও ‘আমল দুটিও আমানতের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়টি হলো- সত্য কথা। এটিও ব্যাপকার্থে গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ সকল প্রকারের কথাতেই সত্যবাদী হতে হবে।
তৃতীয়টি হলো- সৎ চরিত্র। সৎ চরিত্রের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মানবীয় গুণ আর কিছু নেই। এটা সৃষ্টিগতভাবেই যারা ভালো সেই এর প্রকৃত হকদার। অনেক খারাপ চরিত্রের মানুষকেই কসরত করে ভালো চরিত্রের অধিকারী হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়, কিন্তু চরিত্রের সঠিক পরীক্ষার সময় তাদের সে মেকী চরিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ে।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হলো খানা-পিনায় পবিত্র ও নিষ্পাপ হওয়া অর্থাৎ হারাম থেকে আত্মরক্ষা করা এবং হালালে পরিতুষ্ট থাকা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৬; আল লুম্'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৪৮ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২৩-[৬৯] মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট এ সংবাদ পৌছেছে যে, লুকমান হাকীম আলায়হিস সালাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আমরা আপনাকে যে মর্যাদায় দেখছি, সে মর্যাদায় আপনি কিভাবে পৌছেছেন? তিনি বললেন: সত্য কথা বলা, আমানাত যথাযথ পরিশোধ করা এবং অর্থহীন কাজ বর্জন করার মাধ্যমে। (মুওয়াত্ত্বা)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّهُ قِيلَ لِلُقْمَانَ الْحَكِيمِ: مَا بَلَغَ بِكَ مَا ترى؟ يَعْنِي الْفَضْلَ قَالَ: صِدْقُ الْحَدِيثِ وَأَدَاءُ الْأَمَانَةِ وَتَرْكُ مَا لَا يَعْنِينِي. رَوَاهُ فِي «الْمُوَطَّأِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ مالک فی الموطا (2 / 990 ح 1926 بدون سند) ۔
(ضَعِيف)

وعن مالك رضي الله عنه قال: بلغني انه قيل للقمان الحكيم: ما بلغ بك ما ترى؟ يعني الفضل قال: صدق الحديث واداء الامانة وترك ما لا يعنيني. رواه في «الموطا» اسنادہ ضعیف ، رواہ مالک فی الموطا (2 / 990 ح 1926 بدون سند) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : হাদীসে উল্লেখিত প্রথম (مَا) টি ইস্তিফাহাম বা প্রশ্নবোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এতে বাক্যটি এভাবে হয় : (أَيُّ شَيْءٍ أَوْصَلَكَ هٰذِهِ الْمَرْتَبَةِ الَّتِي نَرَ اهَا فِياكَ مَنَ الْفَضِياَةِ الزَّائِدَةِعَلٰ غَيْرِكَ) অন্য সকলের ওপর তোমার যে বিশেষ মর্যাদা আমরা তোমার মধ্যে প্রত্যক্ষ করছি কোন জিনিস তোমাকে এই মর্যাদার স্থানে পৌঁছিয়েছে?
উত্তরে তিনি বললেন, (صِدْقُ الْحَدِيثِ) বা সত্যবচন, এ সত্য নিজের কথার ক্ষেত্রে যেমন অন্যের কথা নকল করার ক্ষেত্রেও তেমন। অনুরূপ আমানত আদায় করাটাও। পূর্বের হাদীসের মতোই সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর সকল প্রকার অনর্থক কাজ ও কথা-বার্তা ত্যাগ করা। অর্থাৎ যা উপকার দেয় না তা যে স্তরেই। হোক না কেন লুকমান তা বর্জন করে চলতেন। এসব গুণাবলি তাকে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ মুওয়াত্ত্বা মালিক ৯ম খণ্ড, হা. ১৮০৩; আল লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৪৮ পৃ.; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৬ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২৪-[৭০] আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (কিয়ামত দিবসে) আমালসমূহ উপস্থিত হবে। (সর্বপ্রথম) “সলাত” এসে বলবে : হে আমার প্রভু! আমি সলাত। আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি কল্যাণময়। অতঃপর সাদাকা এসে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি সাদাকা। আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমি কল্যাণময়। অতঃপর সিয়াম এসে বলবে, হে আমার প্রভু! আমি “সিয়াম”। আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমিও কল্যাণময়। অতঃপর অন্যান্য ’আমালসমূহ এরূপ আসবে এবং আল্লাহ। তা’আলাও বলবেন, তুমি কল্যাণময়। তারপর “ইসলাম” এসে বলবে, হে রব! তোমার এক নাম সালাম। আর আমি হলাম “ইসলাম”। আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তুমিও কল্যাণময়। নিশ্চয় আজ আমি তোমার কারণেই পাকড়াও করব এবং তোমার ওয়াসীলায় সাওয়াব দান করব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা তাঁর কিতাবে বলেছেন : (وَ مَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡهُ ۚ وَ هُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ) “এবং যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন অন্বেষণ করে, তার থেকে তা কক্ষনোই গ্রহণ করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে”- (সূরাহ্ আ-লি “ইমরান ৩: ৮৫)।”

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَجِيء الْأَعْمَال فتجيء الصَّلَاة قتقول: يارب أَنَا الصَّلَاةُ. فَيَقُولُ: إِنَّكِ عَلَى خَيْرٍ. فَتَجِيءُ الصَّدَقَة فَتَقول: يارب أَنَا الصَّدَقَةُ. فَيَقُولُ: إِنَّكِ عَلَى خَيْرٍ ثُمَّ يَجِيء الصّيام فَيَقُول: يارب أَنَا الصِّيَامُ. فَيَقُولُ: إِنَّكَ عَلَى خَيْرٍ. ثُمَّ تَجِيءُ الْأَعْمَالُ عَلَى ذَلِكَ. يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: إِنَّكِ عَلَى خَيْرٍ. ثُمَّ يَجِيءُ الْإِسْلَامُ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ أَنْتَ السَّلَامُ وَأَنَا الْإِسْلَامُ. فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: إِنَّكَ عَلَى خَيْرٍ بِكَ الْيَوْمَ آخُذُ وَبِكَ أُعْطِي. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ: (وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَة من الحاسرين)

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 362 ح 8727) * عباد بن راشد صدوق لکنہ وھم فی قولہ :’’ الحسن ثنا ابو ھریرۃ ‘‘ و الصواب ان الحسن لم یسمع من ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تجيء الاعمال فتجيء الصلاة قتقول: يارب انا الصلاة. فيقول: انك على خير. فتجيء الصدقة فتقول: يارب انا الصدقة. فيقول: انك على خير ثم يجيء الصيام فيقول: يارب انا الصيام. فيقول: انك على خير. ثم تجيء الاعمال على ذلك. يقول الله تعالى: انك على خير. ثم يجيء الاسلام فيقول: يا رب انت السلام وانا الاسلام. فيقول الله تعالى: انك على خير بك اليوم اخذ وبك اعطي. قال الله تعالى في كتابه: (ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الاخرة من الحاسرين) اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 362 ح 8727) * عباد بن راشد صدوق لکنہ وھم فی قولہ :’’ الحسن ثنا ابو ھریرۃ ‘‘ و الصواب ان الحسن لم یسمع من ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : মানুষের ‘আমালসমূহ কিয়ামত দিবসে আকৃতি ধারণ করে আল্লাহর সমীপে হাযির হবে। নেক আমল মালিকের পক্ষে যুক্তি-প্রমাণ পেশ করে সুপারিশ করবে। পক্ষান্তরে আমলের বিরুদ্ধাচারী ও আমল বর্জনকারীদের বিরুদ্ধে বিতর্কে লিপ্ত হবে।
সলাত তার কথা বলার ভাষায় বলবে অথবা উপস্থিত তাকে যে বলার শক্তি দেয়া হবে সেই যবানে কথা বলবে। কেউ কেউ বলেছেন, আমলের দেহ বা আকৃতি ধারণের অর্থ হলো তার আসার বা চিহ্ন প্রকাশ হওয়া।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সলাত বলবে- আমার শাফা'আতের অধিকার রয়েছে, কেননা আমি হলাম দীনের স্তম্ভ। এভাবে বিভিন্ন আমাল এসে আল্লাহর সমীপে বান্দার পক্ষে কথা বলবে। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেকটি আ'মালেরই কথার জওয়াব দিবেন। সর্বশেষে ইসলাম এসেও আল্লাহর সাথে কথা বলবে। আল্লাহ তা'আলা তার কথারও উত্তর দিবেন। ইসলাম বলবে- হে আল্লাহ তা'আলা! তুমি সালাম আর আমি ইসলাম। আমাদের উভয়ের মাঝে ইসমে ইস্তিকাক তথা গঠন রূপান্তরের সম্পর্ক ও চিহ্নগত মিল রয়েছে।
অতএব সেই ভিত্তি আমাকে প্রতিষ্ঠাকারীকে দারুস সালাম তথা জান্নাতে প্রবেশের দাবী রাখে।
অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হ্যাঁ, আজ তোমার কারণেই আমি শাস্তির জন্য পাকড়াও করব এবং তোমার কারণেই সম্মানিত করব ও পুরস্কার দেব। এরপর কুরআনের উক্ত আয়াত পাঠ করবেন। আয়াতের মধ্যে ইশারা রয়েছে যারা ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করবে তারা চিরস্থায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না বরং সফলকামী ও মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ প্রাগুক্ত, আল লুম্'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৪৯ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২৫-[৭১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের একটি পর্দা ছিল যাতে পাখির ছবি ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) (একদিন) তা দেখতে পেয়ে বললেন : হে ’আয়িশাহ্! এটাকে পরিবর্তন করে ফেল। কেননা আমি যখনই তা দেখতে পাই, তখনই দুনিয়া (বিলাসী জীবন) আমার স্মরণে এসে যায়।”

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ لَنَا سِتْرٌ فِيهِ تَمَاثِيلُ طَيْرٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا عَائِشَةُ حوِّليه فإِني إِذا رَأَيْته ذكرت الدُّنْيَا

صحیح ، رواہ احمد (6 / 241 ح 26571) [و مسلم (88 / 2107)] ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت: كان لنا ستر فيه تماثيل طير فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا عاىشة حوليه فاني اذا رايته ذكرت الدنيا صحیح ، رواہ احمد (6 / 241 ح 26571) [و مسلم (88 / 2107)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : পাখির ছবিযুক্ত নকশাদার পর্দাটি ছিল বাড়ির গেইট অথবা দরজায় টাঙ্গানোর জন্য। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সরিয়ে ফেলতে বললেন, আর বললেন, যখন এটা দেখি তখন দুনিয়ার কথা স্মরণ হয়। ব্যাখ্যাকারগণ বলেছেন, এই ইল্লাত বা কারণের মধ্যেই দলীল রয়েছে যে, ঐ ছবিগুলো ছিল অতীব ক্ষুদ্রাকৃতির। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর বাড়ীতে এটা ব্যবহার হচ্ছিল ছবি নিষিদ্ধ ঘোষণার অথবা নিষিদ্ধ হিসেবে জানার আগের ঘটনা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন জানতে পারলেন যে, ছবিযুক্ত ঘরে আল্লাহর রহমতের মালাক (ফেরেশতা) প্রবেশ করে না, তখন তিনি এটাকে অপসারণ করতে নির্দেশ প্রদান করলেন। (মিক্বাতুল মাফাতীহ; ইবনু মাজাহ ৩য় খণ্ড, হা, ৪১৭১; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৭ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২৬-[৭২] আবূ আইয়ুব আল আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী (সা.) -এর নিকট এসে বলল, আমাকে সংক্ষেপে কিছু উপদেশ দিন। তখন তিনি (সা.) বললেন : যখন তুমি সলাতে দাঁড়াবে, তখন সে সলাতকে নিজের জীবনের শেষ সলাত মনে করে আদায় করবে। আর এমন কোন কথা বলো না, যার দরুন আগামীকাল (কিয়ামতের দিন) ত্রুটি স্বীকার করতে হবে এবং মানুষের হাতে যা আছে। তা হতে তোমার নৈরাশ্যকে সুদৃঢ় করে নাও।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: جَاءَ رَحل إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: عِظْنِي وَأَوْجِزْ. فَقَالَ: «إِذَا قُمْتَ فِي صَلَاتِكَ فَصَلِّ صَلَاةَ مُوَدِّعٍ وَلَا تَكَلَّمْ بِكَلَامٍ تَعْذِرُ مِنْهُ غَدًا وَأَجْمِعِ الْإِيَاسَ مِمَّا فِي أَيْدِي النَّاس»

ضعیف ، رواہ احمد (5 / 412 ح 23894) [و ابن ماجہ (4171 و سندہ ضعیف)] * عثمان بن جبیر مجھول الحال و للحدیث شواھد ضعیفۃ ۔

وعن ابي ايوب الانصاري رضي الله عنه قال: جاء رحل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: عظني واوجز. فقال: «اذا قمت في صلاتك فصل صلاة مودع ولا تكلم بكلام تعذر منه غدا واجمع الاياس مما في ايدي الناس» ضعیف ، رواہ احمد (5 / 412 ح 23894) [و ابن ماجہ (4171 و سندہ ضعیف)] * عثمان بن جبیر مجھول الحال و للحدیث شواھد ضعیفۃ ۔

ব্যাখ্যা : ‘শেষ সলাত' মনে করার অর্থ হলো, তুমি হয়তো আর বাঁচবে না, এটাই হবে তোমার জীবনের শেষ সলাত। অতএব তুমি অতীব সুন্দর করে তা আদায় করবে। যাতে তোমার শেষ ‘আমাল হয় উত্তম। এতে এটাও নির্দেশ করা হয়েছে যে, দুনিয়ার প্রতি তোমার দীর্ঘ আশা ত্যাগ কর কারণ তোমার মৃত্যু তো অতীব নিকটে। মানুষ যখন কথা বেশি বলে তখন তার ভুলও বেশি হয়ে থাকে। অতএব কথা বলা থেকে বিরত থাকা নিরাপদ। আর যে কথা বলবে তা ভেবে চিন্তে বলা উচিত, কারণ মুখ থেকে কোন কথা বের হয়ে গেলেন আর ফিরিয়ে আনা যায় না। তাই এমন কথা বলবে না যার জন্য আগামীকাল অর্থাৎ কিয়ামতের দিন ত্রুটি স্বীকার করতে হয়। এটা ঐ হাদীসের শিক্ষা যেখানে বলা হয়েছে, “একজন মানুষের প্রকৃত ইসলাম হলো অনর্থক কথা বর্জন করা।”
অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এই লোকটিকে নাসীহাত স্বরূপ বলেন: তুমি লোভ-লিপ্সা বর্জন করে নৈরাশ্যতাকে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা কর। কেউ কেউ অর্থ করেছেন তোমার অন্তরকে নৈরাশ্যতার মধ্যম পন্থা অবলম্বনে ও লোভ বর্জনে অভ্যস্ত কর। অন্যের নিকট যা রয়েছে তার দিকে দৃষ্টিপাত না করে তোমার জন্য নির্ধারিত অংশে পরিতুষ্ট থাকার নীতি অবলম্বন কর।
(মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৭ পৃ. আল লুমু'আহ ৮ম খণ্ড, ৪৫০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২৭-[৭৩] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে (শাসক নিযুক্ত করে) যখন ইয়ামান পাঠালেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে উপদেশ দিতে দিতে তার সঙ্গে বের হলেন। এ সময় মুআয ছিলেন সওয়ারীতে আর রাসূলুল্লাহ (সা.) চলছিলেন পায়ে হেঁটে, সওয়ারী হতে নীচে। (উপদেশাবলী হতে) অবসর হয়ে তিনি (সা.) বললেন : হে মু’আয! সম্ভবত এ বছরের পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না। এমনও হতে পারে তুমি আমার মাসজিদ ও আমার কবরের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করবে। তখন মু’আয (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর বিচ্ছেদ চিন্তায় ভারাক্রান্ত হয়ে কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর তিনি (সাঃ) মদীনার দিকে তাকালেন এবং তাকে সম্মুখে রেখে বললেন : নিশ্চয় ঐ সমস্ত লোকেরাই আমার নিকট অধিক ভালো যারা আল্লাহভীরু, পরহেজগার। তারা যে কেউ হোক এবং যেখানেই থাকুক না কেন? [উপরিউক্ত চারটি হাদীস ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) রিওয়ায়াত করেছেন]

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: لَمَّا بَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْيَمَنِ خَرَجَ مَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُوصِيهِ وَمُعَاذٌ رَاكِبٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي تَحْتَ رَاحِلَتِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ: يَا مُعَاذُ إِنَّكَ عَسَى أَنْ لَا تَلْقَانِي بَعْدَ عَامِي هَذَا وَلَعَلَّكَ أَنْ تَمُرَّ بِمَسْجِدِي هَذَا وَقَبْرِي فَبَكَى مُعَاذٌ جَشَعًا لِفِرَاقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ الْتَفَتَ فَأَقْبَلَ بِوَجْهِهِ نَحْوَ الْمَدِينَةِ فَقَالَ: «إِنَّ أَوْلَى النَّاسِ بِيَ الْمُتَّقُونَ مَنْ كَانُوا وَحَيْثُ كَانُوا» رَوَى الْأَحَادِيث الْأَرْبَعَة أَحْمد

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 235 ح 22402) [و ابن حبان (الاحسان : 1647)] ۔
(صَحِيح)

وعن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: لما بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اليمن خرج معه رسول الله صلى الله عليه وسلم يوصيه ومعاذ راكب ورسول الله صلى الله عليه وسلم يمشي تحت راحلته فلما فرغ قال: يا معاذ انك عسى ان لا تلقاني بعد عامي هذا ولعلك ان تمر بمسجدي هذا وقبري فبكى معاذ جشعا لفراق رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم التفت فاقبل بوجهه نحو المدينة فقال: «ان اولى الناس بي المتقون من كانوا وحيث كانوا» روى الاحاديث الاربعة احمد اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 235 ح 22402) [و ابن حبان (الاحسان : 1647)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ এই মু'আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে কাযী অথবা ওয়ালী বা গভর্নর করে প্রেরণ করেছিলেন। মু'আয (রাঃ) বাহনে ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার নীচেই পায়ে হেঁটে চলছিলেন, এটা আপাতত আদবের খেলাফ মনে হলেও কাজটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নির্দেশক্রমে, মূলত এটা ছিল মু'মিনদের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর কোমলতা ও হৃদ্যতা প্রকাশের অন্যতম একটি নমুনা।
(يَا مُعَاذُ إِنَّكَ عَسَى أَنْ لَا تَلْقَانِي) “হে মুআয! এ বছর পর তুমি আর আমার সাক্ষাৎ পাবে না।” (عَسٰى) শব্দটি প্রিয় বিষয়ের ক্ষেত্রে তথা আকাক্ষা ও প্রত্যাশা এবং অপ্রিয় ও অপছন্দনীয় বস্তুর (الاشفاق) তথা উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা প্রকাশের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। (لَعَلَّ) শব্দটি অনুরূপ আকাঙ্ক্ষা এবং উদ্বেগ উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তবে এটা সাধারণত সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় যা (لَيْتَ)-এর বিপরীত। অর্থাৎ (لَيْتَ)-এর আকাক্ষা অসম্ভবের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যেমন-( لَيْتَ الشَّبَابَ يَعُودُ) যৌবন যদি ফিরে আসত!
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কথা শুনে মু'আয (রাঃ) ধৈর্যহারা হয়ে পড়লেন এবং কাঁদলেন। (جشع) শব্দের অর্থ ভীত হওয়া অধৈর্য হওয়া। নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, (الْجَشَعُ أَجْزَعُ لِفِرَاقِ الْإِلْفِ) অর্থাৎ কোন ভালোবাসার মানুষের বিচ্ছেদ বিরহে অস্থির ও অধৈর্য হয়ে পড়া। যেমন মু'আয (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জন্য হয়েছিলেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মু'আয (রাঃ) থেকে মুখ মদীনার দিকে করলেন। এ মুখ ফিরানোর কারণ সম্ভবত যাতে মুআয-এর কান্না তাকে দেখতে না হয়। কেননা মু'আয-এর কান্না রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর কান্নার কারণ হতে পারে। আর সেখানে এক কঠিন হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। অথচ একদিন না একদিন তাকে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতেই হবে। তাই তিনি (সা.) কার্যতভাবে তাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং কতিপয় ওয়াসিয়্যাতের মাধ্যমে তার কষ্ট ভুলানোর প্রয়াস গ্রহণ করলেন। তিনি (সা.) তাকে বললেন, তুমি তো আমাকে এবং মদীনাহ্ ছেড়ে চলে যাচ্ছ, যখন তুমি আবার ফিরবে মদীনাকে দেখতে পাবে কিন্তু আমাকে দেখতে পাবে না। তিনি (সা.) তাকে মূলত এদিকে ইশারা করেন যে, নাবীগণ এবং মুত্তাকীগণ চিরস্থায়ী ঘরে সমবেত হবেন। সেদিন আমার সবচেয়ে নিকটে থাকবে মুত্তাক্বীগণ, তারা আমার শাফা'আত পেয়েও ধন্য হবে। তারা চাই ‘আরবী হোক, চাই আজমী হোক, সাদা হোক কিংবা কালো হোক, সম্ভ্রান্ত-দরিদ্র যেই হোক কেন। আর তারা মক্কায় থাক কিংবা মদীনায়, ইয়ামান, কূফা, বসরা যেখানেই থাকুক না কেন। অতএব তোমার নিকট থেকে আমার বাহ্যিক এই দূরত্ব বা বিচ্ছেদ কোন ক্ষতির কিছু নেই। আত্মিক নৈকট্যতাই প্রকৃত নৈকট্যতা আর তা তাক্বওয়ার ভিত্তিতেই বিবেচিত হয়ে থাকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রকারান্তে তাকে তাক্বওয়ার উপদেশই প্রদান করছিলেন। এটা পরবর্তী উম্মতের জন্যও ছিল সান্ত্বনার উপদেশ। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মু'আয (রাঃ)-এর প্রতি উপদেশ ছিল এই যে পরবর্তী বছরে তিনি মদীনায় ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে না পেয়ে যেন বিলাপ না করেন। (মিক্বাতুল মাফাতীহ; আল লুম্‌'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৫১ পৃ.; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৮ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২৮-[৭৪] ইবনু মাস্উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ আয়াতটি পাঠ করলেন : (فَمَنۡ یُّرِدِ اللّٰهُ اَنۡ یَّهۡدِیَهٗ یَشۡرَحۡ صَدۡرَهٗ لِلۡاِسۡلَامِ) “আল্লাহ তা’আলা যাকে হিদায়াত দান করার ইচ্ছা করেন, তার হৃদয়কে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন”- (সূরাহ্ আল আ’আম ৬ : ১২৫)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : হিদায়াতের আলো যখন হৃদয়ে প্রবেশ করে তখন তা (ইসলামের বিধানসমূহ গ্রহণ করার জন্য) উন্মুক্ত হয়ে যায়। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! সে অবস্থা জানার কোন চিহ্ন বা নিদর্শন আছে কি যার দ্বারা তাকে চেনা যাবে? তিনি (সা.) বললেন : হ্যা, আছে। প্রতারণার ঘর (দুনিয়া) হতে দূরে সরে থাকা ও চিরস্থায়ী ঘর (আখিরাত)-এর প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং মৃত্যু আসার পূর্বে মৃত্যর জন্য প্রস্তুত থাকা।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ) فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ النُّورَ إِذَا دَخَلَ الصَّدْرَ انْفَسَحَ» . فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لِتِلْكَ مِنْ عِلْمٍ يُعْرَفُ بِهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ التَّجَافِي مِنْ دَارِ الْغُرُورِ وَالْإِنَابَةُ إِلَى دَارِ الْخُلُودِ وَالِاسْتِعْدَادُ لِلْمَوْتِ قبل نُزُوله»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10552 ، نسخۃ محققۃ : 10068) * عدی بن الفضل : متروک ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم: (فمن يرد الله ان يهديه يشرح صدره للاسلام) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان النور اذا دخل الصدر انفسح» . فقيل: يا رسول الله هل لتلك من علم يعرف به؟ قال: «نعم التجافي من دار الغرور والانابة الى دار الخلود والاستعداد للموت قبل نزوله» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10552 ، نسخۃ محققۃ : 10068) * عدی بن الفضل : متروک ۔ (ضعيف)

ব্যখ্যা : (إِنَّ النُّورَ إِذَا دَخَلَ الصَّدْرَ انْفَسَحَ) যখন অন্তরে হিদায়াতের নূর প্রবেশ করে তখন তা প্রশস্ত এ উন্মুক্ত হয়ে যায়। এ বাক্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তার অন্তর এমনভাবে প্রশস্ত হয়ে যায় যে, ইসলামের বিধানাবলী সে অতি সহজে গ্রহণ করে নেয় এবং এগুলো অনুশীলনে এক স্বর্গীয় স্বাদ অনুভব করে।
হিদায়াতের নূরে আলোকিত এবং উন্মুক্ত অন্তরের চিহ্ন হলো :
১. প্রতারণার ঘর থেকে দূরে থাকা। প্রতারণার ঘর হলো দুনিয়া। আল্লাহ বলেন : (فَلَا تَغُرَّنَّکُمُ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا) “অতঃপর দুনিয়ার জীবন তোমাদেরকে যেন ধোঁকায় না ফেলে....।” (সূরা লুকমান ৩১ : ৩৩)
২. চিরস্থায়ী ঘরের দিকে ঝুঁকে পড়া। অর্থাৎ পরিপূর্ণ এবং একান্তভাবে আখিরাতমুখী হওয়া।
৩. আর মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া, এর অর্থ হলো মৃত্যুর পূর্বেই তাওবা-ইস্তিগফার এবং “ইবাদতের প্রতিযোগিতায় সাধ্যমত সময় ব্যয় করা। মৃত্যুর পূর্ব হলো বার্ধক্য, অসুস্থতা ইত্যাদি যে সময় স্বাভাবিক ‘ইবাদাত-বন্দেগী করা সম্ভব হয় না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৮ পৃ.; আল লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৫২ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২২৯-[৭৫], ৫২৩০-[৭৬] আবু হুরায়রাহ্ ও আবূ খল্লাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যখন তোমরা কোন বান্দাকে দেখবে যে, তাকে দুনিয়ার প্রতি অনাকাঙ্খী ও স্বল্পালাপী (এ দুটি গুণ) দান করা হয়েছে, তার সহচার্য লাভ করো। কেননা তাকে সূক্ষ্ম জ্ঞান দেয়া হয়েছে। (উপরের হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বী’র “শুআবুল ঈমানে” রিওয়ায়াত করেছেন)৭৫

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي خَلَّادٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الْعَبْدَ يُعْطِي زُهْدًا فِي الدُّنْيَا وَقِلَّةَ مَنْطِقٍ فَاقْتَرِبُوا مِنْهُ فَإِنَّهُ يلقى الْحِكْمَة» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (4985 ، نسخۃ محققۃ : 4631 من حدیث ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ) * سندہ ضعیف ، فیہ ابن لھیعۃ وھو ضعیف لاختلاطہ و للحدیث طریق آخر عند ابن ماجہ (4101) من حدیث ابی خلاد بہ و سندہ ضعیف و للحدیث طریق موضوع فی حلیۃ الاولیاء (7 / 317) !! ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة وابي خلاد رضي الله عنهما: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اذا رايتم العبد يعطي زهدا في الدنيا وقلة منطق فاقتربوا منه فانه يلقى الحكمة» . رواهما البيهقي في «شعب الايمان» ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (4985 ، نسخۃ محققۃ : 4631 من حدیث ابی ھریرۃ رضی اللہ عنہ) * سندہ ضعیف ، فیہ ابن لھیعۃ وھو ضعیف لاختلاطہ و للحدیث طریق آخر عند ابن ماجہ (4101) من حدیث ابی خلاد بہ و سندہ ضعیف و للحدیث طریق موضوع فی حلیۃ الاولیاء (7 / 317) !! ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (زُهْدً) -এর অর্থ (قِلَّةَ رَغْبَةٍ) তথা দুনিয়ার প্রতি খুব হালকা আশা, দুনিয়াবিমুখ, সংসারত্যাগী ইত্যাদি।
(قِلَّةَ مَنْطِقٍ) হলো কম কথা বলা, অনর্থক এবং প্রবৃত্তির চাহিদামত কথা না বলা। (فَاقْتَرِبُوا مِنْهُ) তার নৈকট্য অর্জন কর, অর্থাৎ তার সংস্বর্গে যাওয়ার চেষ্টা কর এবং তার মাজলিসে বস।
(حِكْمَةٌ) অর্থ জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা। এখানে অর্থ বুঝানো হয়েছে (الْمَوْعِظَةُالْحَسَنَةُ) উত্তম নাসীহাত, কিতাব ও সুন্নাহর ওয়াজ।
মিরক্বাত গ্রন্থকার বলেন, (حِكْمَةٌ) শব্দের অর্থ হলো ‘ইলম ও ‘আমালে ইসলামী শরীআতের উৎকর্ষ সাধন। আল্লাহ বলেন, (مَنۡ یُّؤۡتَ الۡحِکۡمَۃَ فَقَدۡ اُوۡتِیَ خَیۡرً) “যাকে হিকমাহ্ (কুরআন সুন্নাহর ‘ইলম) দান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে।” (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২ : ২৬৯)
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৮ পৃ.; লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৫৩ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

ফাযীলাত বা মর্যাদা দ্বারা উদ্দেশ্য অতিরিক্ত সাওয়াব ও পুরস্কার। ধন-সম্পদের মাধমে অর্জিত মর্যাদার কথা বুঝানো হয়নি। নাবী (সা.)-এর জীবন ’ইবাদতের ক্ষেত্রে ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং বর্ণাঢ্য। কিন্তু জীবনের সুখ-সামগ্রী ও খানাপিনায় তিনি ছিলেন দরিদ্রের মতো।

৫২৩১-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: এমন অনেক লোক আছে- যাদের মাথার চুল এলোমেলো, মানুষের দুয়ার হতে বিতাড়িত। তবে সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে তখন তা পূরণ করেন। (মুসলিম) ।

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رُبَّ أَشْعَثَ مَدْفُوعٍ بِالْأَبْوَابِ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (138 / 2622)، (6682) ۔
(صَحِيح)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رب اشعث مدفوع بالابواب لو اقسم على الله لابره» . رواه مسلم رواہ مسلم (138 / 2622)، (6682) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (أَشْعَثَ) শব্দের অর্থ হলো (مُتَفَرِّقُ شَعْرِرأْسِهٖ) মাথার চুল এলোমেলো, উস্কখুষ্ক হওয়া। কাযী বায়যাভী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, চুল ধুলামণ্ডিত ও অগোছালো হওয়া। (مَدْفُوعٍ بِالْأَبْوَابِ) “মানুষের দরজা থেকে বিতাড়িত”- এ ব্যাখ্যা হলো কারো বাড়ীতে সওয়াল করতে বা চাইতে গেলে লোকেরা তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে অথবা বকা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। একেবারে বিনয় ও হীনতার সাথে কারো দরজায় গেলেও তাকে তুচ্ছই ভাবা হয়। বাড়ীতে একান্ত প্রবেশ করতে দিলেও তাকে চরম তুচ্ছজ্ঞান করে প্রবেশ করানো হয়। অথচ আল্লাহর দরবারে তার মর্যাদা অনেক বেশি। এটা এজন্য যে, আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিকুল তথা লোকচক্ষু থেকে তার অবস্থাকে ঢেকে রাখতে চান, যাতে অন্যের সাথে তার মুহাব্বাত সৃষ্টি হয়ে না যায়।
(وْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ)  অর্থাৎ সে যদি আল্লাহর নামে কসম করে তবে তা পূরণ করে। এ বাক্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়, সে আল্লাহর কোন কর্মে যদি শপথ করে বলে যে, আল্লাহ এ কাজ করেছেন কিংবা করেননি, তা হলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন, তাকে কসম ভঙ্গের কাফারাহ্ দিতে হয় না। অর্থাৎ শপথকে সত্যে পরিণত করেন, এতে বিষয়টি তার কসমের মুআফিক হয়ে যায়। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারূহুন্ নাবাবী ১৬ খণ্ড, ১৫১ পৃ., হা. ২৬২২; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩০৯ পৃ.; লু'আহ্ ৮ম খ, ৪৫৫ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩২-[২] মু’আব ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ (রাঃ) নিজের সম্পর্কে মনে করলেন যে, নিম্নশ্রেণির লোকেদের চেয়ে তার অধিক মর্যাদা রয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (তাঁর এ ধারণাটি বুঝতে পেরে) বললেন : তোমাদের মধ্যকার দুর্বল ব্যক্তিদের ওয়াসীলায় এবং তাদের দু’আয় তোমাদেরকে (শত্রুর মোকাবিলায়) সাহায্য করা হয় এবং রিযক্ব দেয়া হয়। (বুখারী)।

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن مُصعب بن سعدٍ قَالَ: رَأَى سَعْدٌ أَنَّ لَهُ فَضْلًا عَلَى مَنْ دُونَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ تُنْصَرُونَ وَتُرْزَقُونَ إِلَّا بِضُعَفَائِكُمْ؟» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (2896) ۔
(صَحِيح)

وعن مصعب بن سعد قال: راى سعد ان له فضلا على من دونه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هل تنصرون وترزقون الا بضعفاىكم؟» . رواه البخاري رواہ البخاری (2896) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস ছিলেন একজন জালীলুল কদর সাহাবী। সা'দ (রাঃ)-এর এটা ছিল ধারণা বা কল্পনা যে, দরিদ্রদের তুলনায় তিনি হয়তো বেশি মর্যাদার অধিকারী হবেন। কেননা তিনি একাধারে ছিলেন বীরযোদ্ধা এবং দানশীল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার এ ধারণা দূরীকরণের জন্য বললেন, না বরং তোমরা শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ময়দানে ঐ দরিদ্রদের কারণেই সাহায্যপ্রাপ্ত হও এবং গনীমাতের সম্পদ লাভ করে থাক। অতএব তাদের সম্মান করবে, তাদের ওপর অহংকার করবে না। (মিক্বাতুল মাফাতীহ; লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৫৬ পৃ.; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৩-[৩] উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি জান্নাতের দ্বারে দাঁড়াই, দেখলাম; যারা তাতে প্রবেশ করছে তাদের অধিকাংশই গরীব-মিসকীন। আর বিত্তবান-সম্পদশালী লোকেরা আটকা পড়ে আছে। তবে জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অতঃপর আমি জাহান্নামের দ্বারে দাঁড়াই তখন (দেখলাম) তাতে যারা প্রবেশ করছে। তাদের অধিকাংশ নারী সম্প্রদায়। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُمْتُ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَكَانَ عَامَّةُ مَنْ دَخَلَهَا الْمَسَاكِينَ وَأَصْحَابُ الْجَدِّ مَحْبُوسُونَ غَيْرَ أَنَّ أَصْحَابَ النَّارِ قَدْ أُمِرَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ وَقُمْتُ عَلَى بَابِ النَّارِ فَإِذَا عَامَّةُ مَنْ دَخلهَا النِّسَاء» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6547) و مسلم (93 / 2736)، (6937) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن اسامة بن زيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «قمت على باب الجنة فكان عامة من دخلها المساكين واصحاب الجد محبوسون غير ان اصحاب النار قد امر بهم الى النار وقمت على باب النار فاذا عامة من دخلها النساء» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6547) و مسلم (93 / 2736)، (6937) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: জান্নাতের দরজায় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দাঁড়ানো স্বপ্নযোগে হয়েছিল। কেউ বলেছেন, এটা মিরাজের রাত্রিতে হয়েছিল। কেউ আবার কাশফের মাক্বামের কথা উল্লেখ করেছেন।
(أَصْحَابُ الْجَدِّ) হলো (أَرْبَابُ الْغِنَى مِنَ الْمُؤَمِنِينَ الْأَغْنَيَاءِوَالْأُمَرَاءِ) অর্থাৎ, মু'মিন সম্পদশালী ব্যক্তিবর্গ এবং প্রাচুর্যশালী আমীর-উমারাগণ। এরা আটকা পড়ে থাকবে তাদের অঢেল সম্পদের দীর্ঘ হিসাবের প্রতিক্ষায়। আর গরীবেরা সামান্য সম্পদের হিসাব দ্রুত দিয়ে ধনীদের পাঁচশত বছর আগেই জান্নাতে চলে যাবে। ঐ দিকে কাফির মুশরিকদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, মু'মিনদের মধ্যকার জান্নাতী হবে দু'প্রকার। এক প্রকার দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ করবে, অন্যদল আটকা পড়ে থাকবে। অতঃপর দীর্ঘ হিসাব-নিকাশের পর তাদের জান্নাতের ব্যবস্থা হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১১ খণ্ড, ৪৭১ পৃ., হা. ৬৫৪৭; শারহুন্ নাবাবী ১৭ খণ্ড, ১৫ পৃ., হা, ২৭৩৬; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৪-[৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: আমি জান্নাতে তাকিয়ে দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই হলো দরিদ্র। আর জাহান্নামে তাকিয়ে দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী সম্প্রদায়। (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ. وَاطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6546) و مسلم (94 / 2737)، (6938) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اطلعت في الجنة فرايت اكثر اهلها الفقراء. واطلعت في النار فرايت اكثر اهلها النساء» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6546) و مسلم (94 / 2737)، (6938) ۔ (متفق عليه)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৫-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: গরীব মুহাজিরগণ কিয়ামতের দিন ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম)।

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِينَ يَسْبِقُونَ الْأَغْنِيَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى الْجَنَّةِ بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (37 / 2979)، (7463) ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان فقراء المهاجرين يسبقون الاغنياء يوم القيامة الى الجنة باربعين خريفا» . رواه مسلم رواہ مسلم (37 / 2979)، (7463) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : মক্কার মুহাজিরগণ ছিলেন গরীব। তাদের কথা এখানে উল্লেখ করা হলেও এ মর্যাদায় তাদের সাথে অন্যান্য গরীব মুসলিমগণও অন্তর্ভুক্ত হবেন। গরীব মু'মিনগণ ধনীদের চেয়ে চল্লিশ বছর আগে জান্নাতে যাবেন। হাদীসে (أَرْبَعِينَ خَرِيفًا) এর অর্থ করা হয়েছে চল্লিশ বছর। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) নিহায়াহ্ গ্রন্থ থেকে নকল করে বলেন, (الْخَرِيفُ الزَّمَانُ الْمَعْرُوفُ بَيْنَ الصَّيْفِ وَالشِّتَاءِ) খরীফ হলো শীত গ্রীষ্মের মাঝের পরিচিত একটি সময় বা ঋতু, বাংলায় শরৎকাল। এর দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য বছর। কেননা শরৎকাল বছরে একবারই আসে। চল্লিশের এই পরিমাণ দুনিয়ার এই ব্যবহৃত সময় নাকি আখিরাতের সময়ের তা। উল্লেখ নেই। অতএব উভয় সম্ভাবনাই বিদ্যমান। অথবা এটা আধিক্য বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
মোটকথা হলো গরীবেরা ধনীদের চেয়ে চল্লিশ বছর আগেই জান্নাতের আরাম-আয়েশ ভোগ করতে থাকবেন। এটা তাদের দুনিয়ার নি'আমাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রতিদান হিসেবে পাবেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন :
(کُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا هَنِیۡٓـئًۢا بِمَاۤ اَسۡلَفۡتُمۡ فِی الۡاَیَّامِ الۡخَالِیَۃِ) “তোমরা সানন্দে খাও এবং পান কর ঐ সময় কাজের বিনিময়ে যা তোমরা বিগতকালে প্রতিদানের আশায় করেছিলে।” (সূরা আল হাককাহ্ ৬৯ : ২৪)
কিয়ামতের দিন দীর্ঘসময় ক্ষুৎপিপাসায় পড়বে ঐ ব্যক্তি যে দুনিয়াতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে (পেট পুরে খেয়ে) পরিতৃপ্ত অবস্থায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ৮ম খণ্ড, হা, ১১৯২, পৃ. ৮৭; আশ শিফা ১০ম খণ্ড, ৩৩১১ পৃ.; লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৫৮ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৬-[৬] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) - এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তখন তিনি তাঁর নিকটে বসা লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, এই যে লোকটি গেল, তার সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? সে বলল, ইনি তো সম্ভান্ত লোকেদের একজন। আল্লাহর শপথ! ইনি এমন যোগ্যতাসম্পন্ন লোক যে, যদি সে কোন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় তখন তার সাথে বিবাহ দেয়া হবে। আর যদি সে কারো সম্পর্কে সুপারিশ করে তখন তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) (কিছুক্ষণ) নীরব রইলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি অতিক্রম করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) (এ ব্যক্তি সম্পর্কেও তাকে) প্রশ্ন করলেন: এ লোকটি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা? জবাবে সে বলল : হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যক্তি তো দরিদ্র মুসলিমদের একজন। সে তো এরই উপযোগী যে, যদি সে কোন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় তবে তার সাথে বিবাহ দেয়া হবে না। আর যদি সে সুপারিশ করে, তাও গ্রহণ করা হবে না। আর যদি সে কথা বলে তাও শুনা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, (তুমি যার প্রশংসা করেছ) সারা ভূপৃষ্ঠে তার মতো লোকে ভরপুর থাকলেও তাদের তুলনায় এ লোকটি উত্তম (যার তুমি দুর্নাম করেছ)। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ: مَرَّ رَجُلٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِرَجُلٍ عِنْدَهُ جَالِسٍ: «مَا رَأْيُكَ فِي هَذَا؟» فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَشْرَافِ النَّاسِ: هَذَا وَاللَّهِ حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ أَنْ يُنْكَحَ وَإِنْ شَفَعَ أَنْ يُشَفَّعَ. قَالَ: فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ مر على رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا رَأْيُكَ فِي هَذَا؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا رَجُلٌ مِنْ فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ هَذَا حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ أَنْ لَا ينْكح. وإِن شفع أَن لَا يُشفَع. وإِن قَالَ أَنْ لَا يُسْمَعَ لِقَوْلِهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا خَيْرٌ مِنْ مِلْءِ الْأَرْضِ مِثْلَ هَذَا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6447) و مسلم (لم اجدہ) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن سهل بن سعد قال: مر رجل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لرجل عنده جالس: «ما رايك في هذا؟» فقال رجل من اشراف الناس: هذا والله حري ان خطب ان ينكح وان شفع ان يشفع. قال: فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم مر على رجل فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما رايك في هذا؟» فقال: يا رسول الله هذا رجل من فقراء المسلمين هذا حري ان خطب ان لا ينكح. وان شفع ان لا يشفع. وان قال ان لا يسمع لقوله. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هذا خير من ملء الارض مثل هذا» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6447) و مسلم (لم اجدہ) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসে আল্লাহর রসূল (সা.) তুলে ধরেছেন, সমাজে সম্ভ্রান্ত এবং প্রকৃত সম্ভ্রান্ত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা। মানব সমাজে পরিচিত সম্ভ্রান্ত যদি আল্লাহর কাছে সম্ভ্রান্তরূপে বিবেচিত না হয় তাহলে এরূপ গোটা জমিনে ভরপুর সম্ভ্রান্ত লোকের চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রিয় একজন ব্যক্তিই উত্তম। যদিও সমাজের মানুষ তাকে হীন ও তুচ্ছ ভাবে, তার সাথে কেউ আত্মীয় করতে চায় না, তার সুপারিশ কোন মহলে গৃহীত হয় না, কিন্তু সে একাই উত্তম মানুষ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ ৪২২ পৃ.; ফাতহুল বারী ১১শ খণ্ড, হা. ৬৪৪৭; ইবনু মাজাহ ৩য় খণ্ড, হা, ৪১২০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাহল বিন সা'দ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৭-[৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সা.) -এর পরিবারবর্গ লাগাতার দু’দিন যবের রুটি খেয়ে পরিতৃপ্ত হননি এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যু হয়েছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا شَبِعَ آل مُحَمَّد من خبر الشَّعِيرِ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتَّى قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (5416) و مسلم (22 / 2970)، (7445) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن عاىشة قالت: ما شبع ال محمد من خبر الشعير يومين متتابعين حتى قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (5416) و مسلم (22 / 2970)، (7445) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর পরিবার হলো তার পূতপবিত্র স্ত্রীগণ এবং তাদের খাদিমগণ। যব গমের তুলনায় কম মূল্যমানের, যবের রুটিই যেহেতু পাননি তাহলে গমের রুটির তো প্রশ্নই ওঠে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) দু'দিন একাধারে পেট পুরে খেতে পাননি, একদিন পেটপুরে খেলে অন্যদিনে উপোষ থাকতেন। এটা এজন্য যে, আল্লাহ তা'আলা জমিনের ধনভাণ্ডারের চাবি তার কাছে পেশ করেছিলেন এবং মক্কার একটি পাহাড়কে স্বর্ণে পরিণত করে তার নিকট পেশ করেছিলেন কিন্তু তিনি এ কথা বলে দরিদ্রতাকেই গ্রহণ করে নিয়েছেন যে, আমি একদিন ক্ষুধার্ত থেকে সবর করব, আরেকদিন খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করব। কেননা ঈমান দুই অংশে বিভক্ত, এক অংশ সবরের মধ্যে, অন্য অংশ শুকরিয়ার মধ্যে; যেমন আল্লাহ বলেছেন :
(اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ) “নিশ্চয় তাতে উপদেশ রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল এবং কৃতজ্ঞ বান্দাদের জন্য।” (সূরাহ্ ইবরাহীম ১৪ : ৫, লুকমান ৩১ : ৩১, আশ শুআরা- ২৬ : ৩৩)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এ অবস্থা মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এমনকি তিনি মৃত্যুর পূর্বে তার বর্মটি এক ইয়াহূদীর কাছে বন্ধক রেখে সামান্য কয়েক সা' যব ধার গ্রহণ করেছিলেন। অনেকে বলে থাকেন রাসূলুল্লাহ (সা.) শেষ জীবনে ধনী হয়ে গিয়েছিলেন। উপযুক্ত হাদীস দ্বারা তাদের এ দাবী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। হ্যা, তাঁর হাতে অনেক সম্পদ এসেছিল কিন্তু সেগুলো তিনি নিজের জন্য সংরক্ষণ করেননি বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সব খরচ করে দিয়েছেন। অবশ্য তিনি সদা সর্বদা অন্তরের ধনী ছিলেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১১ খণ্ড, হা. ৬৪৫৪; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১১ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৮-[৮] সাঈদ আল মাকবুরী (রহিমাহুল্লাহ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। একদিন তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন যাদের সম্মুখে উপস্থিত করা হয়েছিল ভুনা করা বকরী। তারা খাওয়ার জন্য আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে ডাকলেন; কিন্তু তিনি এ বলে খেতে অস্বীকার করলেন যে, নাবী (সা.) এই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, অথচ তিনি যবের রুটি দ্বারাও পরিতৃপ্ত হতে পারেননি। (বুখারী)

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن سعيد المَقْبُري عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّهُ مَرَّ بِقَوْمٍ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ شَاةٌ مَصْلِيَّةٌ فَدَعَوْهُ فَأَبَى أَنْ يَأْكُلَ وَقَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يَشْبَعْ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (5414) ۔
(صَحِيح)

وعن سعيد المقبري عن ابي هريرة: انه مر بقوم بين ايديهم شاة مصلية فدعوه فابى ان ياكل وقال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم ولم يشبع من خبز الشعير. رواه البخاري رواہ البخاری (5414) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : এ হাদীসের বর্ণনাকারী ‘সা'ঈদ', কোন কোন সংস্করণে “আবু সা’ঈদ” বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এটা ভুল এবং নির্ভরযোগ্য মূলনীতির পরিপন্থী। কিছু গবেষক দ্বারা বিশুদ্ধ সংস্করণে “সা'ঈদ ইবনু আবু সাঈদ আল মাকবুরী” বলে উল্লেখ রয়েছে। আবু সাঈদ-এর আসল নাম কায়সান। তিনি কবরস্থানের কাছে বাস করতেন বলে তাকে মাকবুরী বলা হয়। আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর জীবদ্দশায় খানা-খাদ্যের চিত্র স্মরণ করে মজাদার লোভনীয় ভুনা বকরির গোশত খাওয়ার আহ্বান পেয়েও তা বর্জন করেছেন। এটা ছিল তাঁর নাবী প্রেমের চরম নিদর্শন এবং দুনিয়াবিমুখ জীবনের অন্যতম প্রমাণ।
(মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী হা. ৫৪১৪, আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১১ পৃষ্টা)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৯-[৯] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি নাবী (সা.) -এর কাছে কিছু যবের রুটি ও গন্ধময় পুরাতন চর্বি নিয়ে আসলেন। এদিকে নাবী (সা.) মদীনার এক ইয়াহূদীর কাছে নিজের লৌহবর্মটি গচ্ছিত রেখে পরিবারবর্গের জন্য কিছু যব ঋণ এনেছিলেন। (অধস্তন) বর্ণনাকারী বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে এটাও বলতে শুনেছি যে, মুহাম্মাদ (সা.) -এর পরিবারের কাছে কোন সন্ধ্যাকালেই এক সা’ গম বা এক সা’ কোন খাদ্য দানা (আগামীকালের জন্য) মওজুদ থাকত না। অথচ তার স্ত্রী ছিলেন ৯ জন। (বুখারী)

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ مَشَى إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِخُبْزِ شَعِيرٍ وَإِهَالَةٍ سَنِخَةٍ وَلَقَدْ رَهَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِرْعًا لَهُ بِالْمَدِينَةِ عِنْدَ يَهُودِيٍّ وَأَخَذَ مِنْهُ شَعِيرًا لِأَهْلِهِ وَلَقَدْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «مَا أَمْسَى عِنْدَ آلِ مُحَمَّدٍ صَاعُ بُرٍّ وَلَا صَاعُ حَبٍّ وَإِنَّ عِنْدَهُ لَتِسْعُ نِسْوَةٍ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (2069) ۔
(صَحِيح)

وعن انس انه مشى الى النبي صلى الله عليه وسلم بخبز شعير واهالة سنخة ولقد رهن النبي صلى الله عليه وسلم درعا له بالمدينة عند يهودي واخذ منه شعيرا لاهله ولقد سمعته يقول: «ما امسى عند ال محمد صاع بر ولا صاع حب وان عنده لتسع نسوة» . رواه البخاري رواہ البخاری (2069) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আনাস (রাঃ) প্রায়ই বিভিন্ন খানা খাদ্য রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দরবারে নিয়ে আসতেন। তার মা উম্মু সুলায়ম (রাঃ) মাঝে মধ্যে বাড়িতে খানা তৈরি করেও আনাস-কে পাঠিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বাড়ীতে ডেকে নিয়ে খাওয়াতেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইয়াহূদীর নিকট লৌহবর্ম বন্ধক রেখে পরিবারের জন্য কয়েক সা' যব নিয়েছিলেন। এটা ছিল একেবারে জীবনের শেষ প্রান্তে। আর তা এজন্য যে, যাতে তার অবস্থা মানুষের কাছে গোপন থাকে অথবা সাহাবীগণ লজ্জায় তাকে সাহায্য না করেন। সর্বোপরি হাত পাতা বা চাওয়া থেকে নিজকে পবিত্র রাখা এবং উম্মাতের নিকট তার কাজের বিনিময় নেয়া থেকে পবিত্র থাকাই উদ্দেশ্য। আল্লাহ বলেন, (اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّکُلِّ صَبَّارٍ شَکُوۡرٍ)
“আর আমি তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাচ্ছি , আমার বিনিময় তো বিশ্বপ্রতিপালকের নিকট রয়েছে।” (সূরাহ আশ শুআরা- ২৬ : ১০৯, ১২৭)
রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নয়জন স্ত্রী একত্রে ছিলেন, তাদের দিন-কাল এভাবে অতিবাহিত হত যে, কারো ঘরেই আগামীকালের জন্য এক সা' গম কিংবা অন্য কিছু খাদ্য দানা সঞ্চয় রেখে রাত শুরু হত না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ৪র্থ খণ্ড, হা. ২০৬৯; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১১পৃ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪০-[১০] ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে দেখলাম তিনি একখানা খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর শুয়ে আছেন। তাঁর ও চাটাইয়ের মাঝে কোন বিছানা ছিল না। ফলে চাটাই তাঁর দেহে চিহ্ন বসিয়ে দিয়েছিল। আর তিনি ঠেস দিয়েছিলেন (খেজুর গাছের) আঁশপূর্ণ একটি চামড়ার বালিশের উপর। আমি বললাম : হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন তিনি যেন আপনার উম্মাতকে সচ্ছলতা প্রদান করেন। পারসিক ও রোমীয়গণকে সচ্ছলতা প্রদান করা হয়েছে, অথচ তারা (কাফির) আল্লাহর ইবাদত করে না। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : হে খত্ত্বাব-এর পুত্র! তুমি কি এখনো এ ধারণায় রয়েছ? তারা তো এমন এক সম্প্রদায়, যাদেরকে পার্থিব জীবনে নিআমাতসমূহ আগাম প্রদান করা হয়েছে। অপর এক বর্ণনায় আছে- তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা দুনিয়াপ্রাপ্ত হোক আর আমাদের জন্য থাকুক পরকাল? (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن عمر قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا هُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى رِمَالِ حَصِيرٍ لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ فِرَاشٌ قَدْ أَثَّرَ الرِّمَالُ بِجَنْبِهِ مُتَّكِئًا عَلَى وِسَادَةٍ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ. قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ: ادْعُ اللَّهَ فَلْيُوَسِّعْ عَلَى أُمَّتِكَ فَإِنَّ فَارِسَ وَالرُّومَ قَدْ وُسِّعَ عَلَيْهِمْ وَهُمْ لَا يَعْبُدُونَ اللَّهَ. فَقَالَ: «أَوَ فِي هَذَا أَنْتَ يَا ابْنَ الْخطاب؟ أُولئكَ قوم عجلت لَهُم طيبتاتهم فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا» . وَفِي رِوَايَةٍ: «أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَهُمُ الدُّنْيَا وَلَنَا الْآخِرَةُ؟» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2468) و مسلم (31 ، 30 / 1479)، (3691 و 3692) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن عمر قال: دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم فاذا هو مضطجع على رمال حصير ليس بينه وبينه فراش قد اثر الرمال بجنبه متكىا على وسادة من ادم حشوها ليف. قلت: يا رسول الله: ادع الله فليوسع على امتك فان فارس والروم قد وسع عليهم وهم لا يعبدون الله. فقال: «او في هذا انت يا ابن الخطاب؟ اولىك قوم عجلت لهم طيبتاتهم في الحياة الدنيا» . وفي رواية: «اما ترضى ان تكون لهم الدنيا ولنا الاخرة؟» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2468) و مسلم (31 ، 30 / 1479)، (3691 و 3692) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (رِمَالِ حَصِيرٍ) এর অর্থ খেজুর পাতা দ্বারা বানানো চাটাই। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর রাজকীয় খাটপালঙ্কে শয়নের কথা, কিন্তু তিনি দুনিয়ার এসব বিলাস-ব্যসনের প্রতি মোটেও ভ্রুক্ষেপ করেননি। তিনি সাদাসিধে মাটিতে খেজুর পাতার চাটাইয়ের উপর শুয়ে থাকতেন। এটাও ছিল নিখাদ চাটাইয়ের উপর শোয়া। এই চাটাইয়ের উপর চাদর কিংবা কম্বল কিছুই ছিল না, ফলে চাটাইয়ের দাগ তাঁর দেহে লেগে যেত। বালিশটিও কি নরম বা আরামদায়ক ছিল? মোটেও না; চামড়ার খোলশে খেজুরের ছাল, কোন মত মাথাটা বিছানা থেকে একটু উঁচু করে শোবার ব্যবস্থা।
‘উমার (রাঃ) রোম-পারস্যবাসীর সুখ-সমৃদ্ধির কথা তুলে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে বললেন যে, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উম্মতেরা আল্লাহর ইবাদত করে তারা কেন দরিদ্র থাকবে, আল্লাহ তা'আলা যেন তাদের সম্পদ বাড়িয়ে দেন। আল্লাহর রসূল তার উত্তরে উক্ত কথাগুলো বলেন। অর্থাৎ মু'মিনদের জন্য আখিরাতে চিরস্থায়ী সুখ আর নি'আমাত আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ইবনু মাজাহ হা, ৪১৫৩, আল লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৬১ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪১-[১১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় আমি “সুফফাবাসীদের মধ্য হতে সত্তরজন লোককে দেখেছি যে, তাঁদের কোন একজনের কাছেও একখানা চাদর ছিল না। হয়তো একখানা লুঙ্গি ছিল অথবা একখানা কম্বল যা তারা নিজেদের ঘাড়ের সাথে পেঁচিয়ে রাখত। তা কারো অর্ধ নলা পর্যন্ত, আবার কারো টাখনু পর্যন্ত পৌঁছত। আর তারা তাকে নিজের হাত দ্বারা ধরে রাখত- এ আশঙ্কায় যেন সতর দৃষ্টিগোচর হয়ে না পড়ে। (বুখারী)

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَقَدْ رَأَيْتُ سَبْعِينَ مِنْ أَصْحَابِ الصُّفَّةِ مَا مِنْهُمْ رَجُلٌ عَلَيْهِ رِدَاءٌ إِمَّا إِزَارٌ وَإِمَّا كِسَاءٌ قَدْ رُبِطُوا فِي أَعْنَاقِهِمْ فَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ نِصْفَ السَّاقَيْنِ وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ الْكَعْبَيْنِ فَيَجْمَعُهُ بِيَدِهِ كَرَاهِيَةَ أَن ترى عَوْرَته . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (442) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: لقد رايت سبعين من اصحاب الصفة ما منهم رجل عليه رداء اما ازار واما كساء قد ربطوا في اعناقهم فمنها ما يبلغ نصف الساقين ومنها ما يبلغ الكعبين فيجمعه بيده كراهية ان ترى عورته . رواه البخاري رواہ البخاری (442) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ‘আল্লামাহ্ মুল্লা ‘আলী আল কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আহলে সুফফার মোট অধিবাসী ছিলেন চারশত মুহাজির সাহাবী, তাঁরা মসজিদে কুরআন শিক্ষার জন্য থাকতেন। এখান থেকে প্রয়োজনে বিভিন্ন অভিযানে গমন করতেন। এদের সত্তরজন ছিলেন স্থায়ী সদস্য। রাবী আবু হুরায়রাহ (রাঃ) তাদের জীবনের অবস্থায়ই বর্ণনা করছেন। আল্লাহ তা'আলা তাদের হাক্কের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন : (لِلۡفُقَرَآءِ الَّذِیۡنَ اُحۡصِرُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ضَرۡبًا فِی الۡاَرۡضِ ۫ یَحۡسَبُهُمُ الۡجَاهِلُ اَغۡنِیَآءَ مِنَ التَّعَفُّفِ ۚ تَعۡرِفُهُمۡ بِسِیۡمٰهُمۡ ۚ لَا یَسۡـَٔلُوۡنَ النَّاسَ اِلۡحَافًا ؕ)
“(দান) ঐ অভাবীদের জন্য যারা আল্লাহর পথে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে, তাদের পক্ষে জমিনের কোথাও বিচরণ করা সম্ভব নয়। যাঞ্ছা থেকে বিরত থাকার দরুন অজ্ঞরা তাদের ধনী মনে করে, কিন্তু তোমরা তাদের লক্ষণ দেখে তাদের চিনে নিতে পারবে। তারা ব্যাকুল হয়ে লোকেদের কাছে যাঞ্ছা করে (চেয়ে) বেড়ায় না।” (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২: ২৭৩)

ব্যাখ্যা : তারা জীবন নির্বাহের রসদ হিসেবে সামান্য মজ্জা কিংবা আঁটি সম খাদ্য বস্তুতে তাওয়াক্কুল ও তুষ্ট হয়ে থাকতেন। পরিধেয় বস্ত্রের কথা তো হাদীসেই বর্ণিত হয়েছে। চাদর থাকলে লুঙ্গি নেই লুঙ্গি থাকলে চাদর নেই। যাদের চাদর ছিল তারা তা গলায় বেঁধে শরীর ও নিম্নদেশ আবৃত করে রাখতেন। এই চাদরও অনেকের ছিল সংকীর্ণ, ফলে তা দিয়ে শরীর ও লজ্জাস্থান একত্রে ঢেকে রাখা ছিল দূরহ। তাই অনেকেই স্বাভাবিক চলাফেরা এবং উঠা বসার সময় লজ্জাস্থান প্রকাশ হওয়ার ভয়ে হাত দ্বারা কাপড়ের দু' কিনারা জড়িয়ে রাখতেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ফাতহুল বারী ১ম খণ্ড, হা. ৪৪২; আল লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৬৪ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪২-[১২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ এমন ব্যক্তিকে দেখে যাকে মাল-সম্পদে, স্বাস্থ্য-সামর্থ্যে অধিক দেয়া হয়েছে, তখন সে যেন নিজের চাইতে নিম্নমানের ব্যক্তির দিকে তাকায়। (বুখারী ও মুসলিম)

সহীহ মুসলিম-এর এক বর্ণনায় আছে, তিনি (সা.) বলেছেন: তোমরা নিজেদের অপেক্ষা নিম্ন অবস্থার লোকের প্রতি তাকাও। এমন ব্যক্তির দিকে তাকিয়ো না যে তোমাদের চাইতে উচ্চ পর্যায়ের। তাহলে এ পন্থা অবলম্বনই হবে আল্লাহর নি’আমাতকে অবজ্ঞা না করার এক উপযোগী মাধ্যম।

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ» مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: «انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى من هُوَ قوقكم فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُم»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6490) و مسلم (9 ، 8 / 2963)، (7428) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا نظر احدكم الى من فضل عليه في المال والخلق فلينظر الى من هو اسفل منه» متفق عليه. وفي رواية لمسلم قال: «انظروا الى من هو اسفل منكم ولا تنظروا الى من هو قوقكم فهو اجدر ان لا تزدروا نعمة الله عليكم» متفق علیہ ، رواہ البخاری (6490) و مسلم (9 ، 8 / 2963)، (7428) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : নিজের সম্পদ, শরীর-স্বাস্থ্য সৌন্দর্য এবং পরিবার-পরিজনের চেয়ে অপরের সম্পদ এবং শরীর-স্বাস্থ্য বা সৌন্দর্য বেশি ও ভালো দেখে তার দিকে মোটেও ভ্রুক্ষেপ করবে না। সম্পদশালী হওয়া, সুস্থ ও সুন্দর ইত্যাদি হওয়া- এ সবগুলো আপেক্ষিক বিষয়, অতএব তোমার চেয়ে বেশি যার আছে তার দিকে না। তাকিয়ে তোমার নীচের দিকে তাকাও। দেখবে সে তোমার চেয়ে কত সমস্যায় নিপতিত। তখন তোমার অল্প কষ্ট ভুলে যাবে।
ইবনু জারীর (রহিমাহুল্লাহ) প্রমুখ বলেন, এ হাদীস কল্যাণের প্রকারসমূহ একত্রকারী। কেননা মানুষের স্বভাব হলো সে যখন দেখে কাউকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করা হয়েছে সে তখন নিজের মধ্যে অনুরূপ কল্যাণ কামনা করে। আর নিজের কাছে আল্লাহর দেয়া যে নি'আমাত রয়েছে তাকে সে কম মনে করে থাকে। আর তার নিআমাতের সাথে আরো যুক্ত হয়ে অপরের চেয়ে বেশি কিংবা সমান সমান হোক এটা সে কামনা করে। এটা অধিকাংশ লোকের স্বভাব বা প্রকৃতি। কিন্তু মানুষ যদি তার নীচের দিকে তাকাত তাহলে তার নিজের ওপর আল্লাহর দেয়া নি'আমাতের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ত, ফলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করত, আল্লাহর কাছে নত হয়ে ভালো কাজ করত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শাবৃহু নাবাবী ১৮ খণ্ড, ৭৭ পৃ., হা, ২৯৬৩; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪১৭ পৃ., হা. ২৫১৩; ইবনু মাজাহ ৩য় খণ্ড, ৪৮২ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪৩-[১৩] আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) - বলেছেন: গরীবরা ধনীদের পাঁচশত বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তা হবে কিয়ামাতের অর্ধদিন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَدْخُلُ الْفُقَرَاءُ الْجَنَّةَ قَبْلَ الْأَغْنِيَاءِ بِخَمْسِمِائَةِ عَامٍ نِصْفِ يَوْمٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

حسن ، رواہ الترمذی (2353 وقال : حسن صحیح) [و ابن ماجہ (4122)] سفیان الثوری صرح بسماع عند ابی یعلی (10 / 411 ح 6018 و سندہ حسن) و صححہ ابن حبان (2567) ۔
(صَحِيح)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يدخل الفقراء الجنة قبل الاغنياء بخمسماىة عام نصف يوم» . رواه الترمذي حسن ، رواہ الترمذی (2353 وقال : حسن صحیح) [و ابن ماجہ (4122)] سفیان الثوری صرح بسماع عند ابی یعلی (10 / 411 ح 6018 و سندہ حسن) و صححہ ابن حبان (2567) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ইতিপূর্বে এ হাদীসের কিছু ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে। আখিরাতের একদিন দুনিয়ার এক হাজার বছরের সমান। অর্ধদিন পাঁচশত বছরের সমান। আল্লাহর বাণী : (وَ اِنَّ یَوۡمًا عِنۡدَ رَبِّکَ کَاَلۡفِ سَنَۃٍ مِّمَّا تَعُدُّوۡنَ) “আর তোমার রবের দরবারে (কিয়ামাতের) একদিন তোমাদের হিসাবের এক হাজার বছরের সমতুল্য।” (সূরাহ্ আল হাজ্জ ২২:৪৭) অন্য স্থানে রয়েছে : “একদিন যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।” (সূরাহ আল মা'আরিজ ৭০: ০৪)

এ দুটি আয়াতে কারীমাহ্ আপাত দৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এতে কোন বিরোধ নেই, কেননা এখানে ‘আম (সাধারণ) থেকে খাস (বিশেষ)-এর বর্ণনা পেশ করা হয়েছে। অথবা লম্বা সময় হলো কাফির-মুশরিকদের জন্য এবং কম সময় হলো মু'মিনদের জন্য প্রযোজ্য। যেমন পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে : (فَاِذَا نُقِرَ فِی النَّاقُوۡرِ ۙ﴿۸﴾ فَذٰلِکَ یَوۡمَئِذٍ یَّوۡمٌ عَسِیۡرٌ ۙ﴿۹﴾ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ غَیۡرُ یَسِیۡرٍ ﴿۱۰﴾) “যেদিন শিঙ্গায় ফুক দেয়া হবে, সেদিন হবে কঠিন দিন, কাফিরদের জন্য এটা সহজ নয়।” (সূরা আল মুদ্দাসসির ৭৪ : ৮-১০) সারকথা কিয়ামতের দিবসটি হবে মু'মিনদের জন্য সহজ এবং দ্রুত হিসাবযোগ্য আর কাফিরদের জন্য হবে দীর্ঘমেয়াদী এবং কষ্ট।

আরেকটি প্রশ্ন এই যে, এ হাদীসে পাঁচশত বছরের কথা এসেছে পূর্বের অন্য হাদীসে চল্লিশ বছরের কথা উল্লেখ হয়েছে। এর উত্তরে মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত ধনী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ধনী মুহাজিরীন, অর্থাৎ ধনী মুহাজিরীনদের চেয়ে গরীব মুহাজিরীগণ চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। দ্বিতীয় হাদীসে উল্লেখিত ধনী দ্বারা উদ্দেশ্য মুহাজির ছাড়া অন্যান্য মু'মিন। অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট প্রথমে চল্লিশ বছরের কথা জানানো হয়েছিল, ফলে তিনি তাই বলেছিলেন, পরবর্তী পাঁচশত বছরের কথা জানানো হলে তিনি পাঁচশত বছরের কথাই বলেছেন। অথবা গরীবেরও বিভিন্ন স্তর রয়েছে, সর্বোচ্চ স্তরের গরীবেরা পাঁচশত বছর পূর্বেই জান্নাতে যাবে এবং সর্বনিম্ন স্তরের গরীবেরা ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে যাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৩ পৃ.)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪৪-[১৪] আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) বলেছেন: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মিসকীন অবস্থায় জীবিত রাখো, মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দান করো এবং মিসকীনদের দলে হাশর করো। আয়িশাহ (রাঃ) বললেন: কেন হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সা.) বললেন : তারা ধনীদের চল্লিশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে ’আয়িশাহ্! কোন মিসকীনকে তোমার দুয়ার হতে (খালি হাতে) ফিরিয়ে দিও না। খেজুরের একটি টুকরা হলেও প্রদান করো। হে ’আয়িশাহ্! মিসকীনদেরকে ভালোবাসো এবং তাদেরকে নিজের কাছে জায়গা দিয়ে, ফলে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তোমাকে নিকটে রাখবেন। (তিরমিযী ও বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ» فَقَالَتْ عَائِشَةُ: لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «إِنَّهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَائِهِمْ بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا يَا عَائِشَةُ لَا تَرُدِّي الْمِسْكِينَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ يَا عَائِشَةُ أَحِبِّي الْمَسَاكِينَ وَقَرِّبِيهِمْ فَإِنَّ اللَّهَ يُقَرِّبُكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2352 وقال : غریب) و البیھقی فی شعب الایمان (10507) * الحارث بن النعمان : ضعیف و للحدیث شواھد کلھا ضعیفۃ ۔

وعن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اللهم احيني مسكينا وامتني مسكينا واحشرني في زمرة المساكين» فقالت عاىشة: لم يا رسول الله؟ قال: «انهم يدخلون الجنة قبل اغنياىهم باربعين خريفا يا عاىشة لا تردي المسكين ولو بشق تمرة يا عاىشة احبي المساكين وقربيهم فان الله يقربك يوم القيامة» رواه الترمذي والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2352 وقال : غریب) و البیھقی فی شعب الایمان (10507) * الحارث بن النعمان : ضعیف و للحدیث شواھد کلھا ضعیفۃ ۔

ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দু'আ ছিল, “হে আল্লাহ! আমাকে মিসকীন অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখো”, তিনি ফকীর শব্দ ব্যবহার করেননি, যাতে এ ধারণার উদ্রেক না হয় যে, তিনি হীন ও মুখাপেক্ষী ছিলেন। (الْمِسْكِينُ) শব্দটি (الْمِسْكَنَةُ) শব্দ থেকে উৎপত্তি তার অর্থ হলো (التَّوَاضُعُ عَلٰى وَجْهِ الْمُبَالَغَةِ) অর্থাৎ অধিক মাত্রায় বিনয় প্রকাশ করা।
অথবা শব্দটি (السُّكُونُ وَالسَّكِينَةُ) থেকে উদগত হয়েছে, এর অর্থ হলো (الْوَقَارُوَالِاطْمِءْنَانُ وَالْقَرَارُتَحْتَ أحْكَامِ الْأَقْدَارِرِضًابِقَضَاءِالْجَبَّارِ) মহা প্রতাপশালী আল্লাহর ফায়সালা এবং তাক্বদীরের বিধানাবলীর উপর সন্তুষ্ট থেকে প্রশান্ত ও গাম্ভীর্যপূর্ণ জীবনযাপন।
কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে বিনয়ী বানিয়ে দাও, আমাকে অহংকারী করো না। এখানে উম্মতের জন্য মিসকীনের মর্যাদার শিক্ষা রয়েছে, যাতে মানুষ তাদের সাথে বসে, তাদের ভালোবাসে। আরো রয়েছে মিসকীনদের জন্য সান্ত্বনা ও উঁচু মর্যাদার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা। সাথে সাথে এটাও উদ্দেশ্যে যে, মানুষ যেন তার জীবন নির্বাহের ন্যূনতম উপকরণ ও রসদকেই জীবনের জন্য যথেষ্ট মনে করে। আর সে অঢেল সম্পদ সংগ্রহের পিছনে না পড়ে থাকে। কেননা আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দাদের জন্য অধিক সম্পদ জীবনের জন্য ধ্বংস এবং সম্মানের জন্য অমসৃণ উপকরণ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যু অবধি এই মিসকীনী অবস্থাকে কামনা করেছেন। এমনকি কিয়ামতের দিন এই মিসকীনদের দলেই হাশর বা একত্রিত হওয়ারও আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি (সা.) মুবালাগাহ্ বা অতিরঞ্জন হিসেবে বলেছেন তা কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়। আয়িশাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে মিসকীনী অবস্থার জন্য দু'আর কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি তার কারণ বর্ণনা করেন। অর্থাৎ ধনীরা তাদের উত্তম ইবাদত, উত্তম চরিত্রসহ সকল আমলে মিসকীনদের সমকক্ষ হলেও মিসকীনদের চল্লিশ বছর পর জান্নাতে যাবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে নাসীহত করেন যে, তুমি কখনো কোন মিসকীনকে খালি হাতে বিমুখ করে ফিরিয়ে দিবে না, অর্ধ টুকরো খেজুর হলেও তাকে দিবে এবং অন্তরে তাদের প্রতি মমতা রাখবে। তাদের নিকটে বসবে তাহলে কিয়ামতের দিন তার বিনিময়ে আল্লাহও তোমাকে তার নিকটে স্থান দিবেন।
(মিরকাতুল মাফাতীহ তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খণ্ড, হা. ২৩৫২; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৪ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪৫-[১৫] আর এ হাদীস ইবনু মাজাহ আবু সাঈদ (রাঃ) হতে (فِىْ زمرة الْمَسَاكِين) “মিসকীনদের দলভুক্ত” পর্যন্ত রিওয়ায়াত করেছেন।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وروى ابْنُ مَاجَهْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ إِلَى قَوْلِهِ «زمرة الْمَسَاكِين»

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4126) * یزید بن سنان : ضعیف و ابو المبارک مجھول و للحدیث شواھد ضعیفۃ ولم یصب من صححہ ۔

وروى ابن ماجه عن ابي سعيد الى قوله «زمرة المساكين» اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4126) * یزید بن سنان : ضعیف و ابو المبارک مجھول و للحدیث شواھد ضعیفۃ ولم یصب من صححہ ۔

ব্যাখ্যা : ইবনু মাজাহ্’র বর্ণনায় (فِىْ زمرة الْمَسَاكِين) পর্যন্ত রয়েছে। আল্লামাহ্ মুনযিরী থেকে নকল করে মীরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম হাকিম আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে আরো অতিরিক্ত এ অংশ বর্ণনা করেছেন : “সবচেয়ে দুর্ভাগার দুর্ভাগা হলো যার ওপর দুনিয়ার দারিদ্রতা এবং আখিরাতের ‘আযাব একত্রিত হয়।”
ইমাম হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) একে সনদ সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে যে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, “দারিদ্রতা হলো আমার গর্ব, এর দ্বারা আমি অহংকারবোধ করি।” এটি জাল হাদীস, এর কোন ভিত্তি নেই। “দরিদ্র মানুষকে কুফরীতে পৌছে দেয়”, এ বর্ণনাটি খুবই য'ঈফ, সহীহ ধরে নিলেও এ দরিদ্রতা দ্বারা (قلب) বা অন্তরের দরিদ্রতা উদ্দেশ্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৪ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪৬-[১৬] আবু দারদা (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: “তোমাদের দুর্বলদের মধ্যে আমাকে খোঁজ করো”। কেননা তোমাদের দুর্বলদের ওয়াসীলায় তোমাদেরকে রিযক দান করা হয়, অথবা (বলেছেন) সাহায্য করা হয়। (আবু দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «ابْغُونِي فِي ضُعَفَائِكُمْ فَإِنَّمَا تُرْزَقُونَ - أَوْ تُنْصَرُونَ - بِضُعَفَائِكُمْ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

صحیح ، رواہ ابوداؤد (3594) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي الدرداء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ابغوني في ضعفاىكم فانما ترزقون - او تنصرون - بضعفاىكم» . رواه ابو داود صحیح ، رواہ ابوداؤد (3594) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : তোমরা দুর্বলদের মাঝে আমাকে সন্ধান কর, এর অর্থ তাদের ভালোবাসার মাধ্যমে আমার সন্তুষ্টি সন্ধান কর। (ضُعَفَاء) দ্বারা উদ্দেশ্য ফকীর, মিসকীন; তাদের মাঝে’ মানে, তাদের প্রতি ইহসানের মাধ্যমে।
‘তোমরা দুর্বলদের কারণে সাহায্যপ্রাপ্ত হও', এর অর্থ শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ সাহায্য পেয়ে থাক। কেননা তাদের মধ্যে থাকে আল্লাহর অতীব প্রিয় বান্দা ও ওয়ালী, যাদের আল্লাহর অতীব নিকটে। হাদীসে কুদসীতে রয়েছে- “যে আমার ওয়ালীকে কষ্ট দেয় আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি”। (মিরক্বাতুল মাফাতীহঃ তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খণ্ড, হা. ১৭০২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪৭-[১৭] উমাইয়্যাহ্ ইবনু খালিদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আসীদ (রহিমাহুল্লাহ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) গরীব মুহাজিরদের ওয়াসীলায় বিজয় কামনা করতেন। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أُمَيَّةَ بْنِ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بن أسيد عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّهُ كَانَ يَسْتَفْتِحُ بِصَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ. رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السّنة»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 264 ح 4062) * السند مرسل و سفیان الثوری و ابو اسحاق مدلسان و عنعنا ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن امية بن خالد بن عبد الله بن اسيد عن النبي صلى الله عليه وسلم: انه كان يستفتح بصعاليك المهاجرين. رواه في «شرح السنة» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 264 ح 4062) * السند مرسل و سفیان الثوری و ابو اسحاق مدلسان و عنعنا ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : বর্ণনাকারী উমাইয়্যাহ্ ইবনু খালিদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এ হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সা.) (সা.)-এর সাথে তার সাহচর্য' সাব্যস্ত নয়।” মূলত হাদীসটি মুরসাল। মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন, তবে এটি মুরসালুত তাবিঈ, আর মুরসালু তাবিঈ জামহূরের নিকট দলীলযোগ্য।

(يَسْتَفْتِحُ) “তিনি বিজয় প্রার্থনা করতেন”, অর্থাৎ তিনি কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় প্রার্থনা করতেন (بِصَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ) দুর্বল, রিক্তহস্ত মুহাজিরীন সাহাবীদের মাধ্যমে। তাদের সাথে নিয়ে তিনি (সা.) আল্লাহর দরবারে দু'আ করতেন অথবা তাদের দ্বারা দু'আ করাতেন। ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, এভাবে বলতেন, (اَللّٰهُمَّ انْصُرْنَاعَلَى الْأَعْدَاءِبِحَقٌِ عِبَادِكَ الْفُقَرَاءِالْمُهَاجِرِينَ) ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের শত্রুর বিরুদ্ধে তোমার বান্দা গরীব মুহাজিরদের মাধ্যমে সাহায্য কর।'
এতে গরীবদের সম্মান এবং মর্যাদা প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের দু'আর প্রতিও আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাদের প্রতি এ তাগিদ এজন্য যে, তারা ছিলেন একাধারে ফকীর, গরীব, মাযলুম, মুজাহিদ, মুজতাহিদ। অতএব তাদের দু'আর প্রভাব সর্বসাধারণের দু'আর উপর বেশি আশা করা যায়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ লিত্ ত্বীবী ১০ম খণ্ড, হা. ৩৩১৪, ১৫ পৃ.; মাত্বালিউল আনোয়ার লি ইবরাহীম ইবনু ইউসুফ ৫ম খণ্ড, ১৮৮ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪৮-[১৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা কোন পাপীর ধন-সম্পদ দেখে ঈর্ষায় পতিত হয়ো না। কারণ তুমি জানো না মৃত্যুর পর সে কি অবস্থার মুখোমুখি হবে। নিশ্চয় তার জন্য আল্লাহর কাছে এমন সংহারকারী রয়েছে যার মৃত্যু নেই তথা (জাহান্নামের) আগুন। (শারহুস্ সুন্নাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَغْبِطَنَّ فَاجِرًا بِنِعْمَةٍ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا هُوَ لَاقٍ بَعْدَ مَوْتِهِ إِنَّ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ قَاتِلًا لَا يَمُوتُ» . يَعْنِي النَّارَ. رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السّنة»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 294 ۔ 295 ح 4103) * فیہ جھم بن اوس : لایعرف و عبداللہ بن ابی مریم : لم یوثقہ غیر ابن حبان ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تغبطن فاجرا بنعمة فانك لا تدري ما هو لاق بعد موته ان له عند الله قاتلا لا يموت» . يعني النار. رواه في «شرح السنة» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 294 ۔ 295 ح 4103) * فیہ جھم بن اوس : لایعرف و عبداللہ بن ابی مریم : لم یوثقہ غیر ابن حبان ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (فَاجِرً) শব্দের অর্থ পাপাচারী, লম্পট। এখানে উদ্দেশ্য কাফির ফাসিক, বেদীন। (نِعْمَة) দ্বারা উদ্দেশ্য দীর্ঘ জীবন, অধিক সন্তান-সন্ততি এবং অঢেল সহায় সম্পদ।
(لَاتَغْبِطَنَّ) তোমরা গিবত্বা করবে না; গিবত্বা হলো অপরের সম্পদ দেখে তা নিজের মধ্যে হওয়ার আশা করা। এটা বৈধ, কিন্তু যারা পাপাচারী কাফির তাদের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত নি'আমাতসমূহ দেখে তা পাওয়ার আশা করো না। কেননা তারা এসব নি'আমাতের যথার্থ শুকরিয়া আদায় না করার কারণে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন না করার কারণে মৃত্যুর পর এমন এক কঠিন প্রতিশোধ এবং কষ্ট-ক্লেশ অর্থাৎ জাহান্নামের মধ্যে নিগৃহীত অবস্থায় পতিত হবে যেখান থেকে আর কখনো বের হতে পারবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৫ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৪৯-[১৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:  দুনিয়া হলো মুমিনদের জন্য কয়েদখানা ও দুর্ভিক্ষ (স্থান), আর যখন সে দুনিয়া ত্যাগ করল তখন সে জেলখানা ও দুর্ভিক্ষ উভয়টি মুক্ত হল। (শারহুস্ সুন্নাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَسَنَتُهُ وَإِذَا فَارَقَ الدُّنْيَا فَارَقَ السجنَ والسنةَ» . رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 297 ح 4106) [و احمد (2 / 197 ح 6855) و الحاکم (4 / 315)] * عبداللہ بن جنادۃ المعافری : لم یوثقہ غیر ابن حبان ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «الدنيا سجن المومن وسنته واذا فارق الدنيا فارق السجن والسنة» . رواه في «شرح السنة» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 297 ح 4106) [و احمد (2 / 197 ح 6855) و الحاکم (4 / 315)] * عبداللہ بن جنادۃ المعافری : لم یوثقہ غیر ابن حبان ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : আল্লাহ তা'তালা মু'মিনের জন্য আখিরাতে যে নি'আমাতাজি এবং প্রতিদান তৈরি করে রেখেছেন তার তুলনায় দুনিয়া হলো কয়েদখানা ও দুর্ভিক্ষের স্থান। কয়েদখানায় মানুষ যেমন জীবন বাঁচানোর তাগিদে কোন মতো নগণ্য স্বাদযুক্ত খাদ্য খেয়ে থাকে, দুনিয়াও মু'মিনের জন্য তাই। তাছাড়া জেলখানায় যেমন স্বাধীনভাবে যা ইচ্ছা তা পাওয়া এবং খাওয়া যায় না, মু'মিনের জন্য দুনিয়া ঠিক অনুরূপ। একই মতো দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ যেমন যথেচ্ছা খাদ্য পায় না, মু'মিনের জন্য দুনিয়া ঠিক অনুরূপ। কিন্তু কাফিরদের জন্য দুনিয়া হলো জান্নাত, এজন্যই দুনিয়াকে কাফিরদের জান্নাত বলা হয়ছে। যথেচ্ছা ঘুরে ফিরে যা ইচ্ছা তাই খাওয়ার মত। তাদের হালাল হারামের কোন পরোয়া নেই, বাধা দেয়ারও কেউ নেই। (মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ লিত্ ত্বীবী ১০ম খণ্ড, ৩৩১৫ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫০-[২০] কতাদাহ্ ইবনু নু’মান (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালোবাসে তখন তাকে দুনিয়া হতে এমনভাবে হিফাযাত করেন যেমনিভাবে তোমাদের কেউ আপন (বিশেষ) রোগীকে পানি হতে বাঁচিয়ে রাখে। (আহমাদ ও তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن قَتَادَة بن النُّعْمَان أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذا أحب الله عبداحماه الدُّنْيَا كَمَا يَظَلُّ أَحَدُكُمْ يَحْمِي سَقِيمَهُ الْمَاءَ» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ احمد (لم اجدہ) و الترمذی (2036 وقال : حسن غریب) ۔
(صَحِيح)

وعن قتادة بن النعمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «اذا احب الله عبداحماه الدنيا كما يظل احدكم يحمي سقيمه الماء» . رواه احمد والترمذي صحیح ، رواہ احمد (لم اجدہ) و الترمذی (2036 وقال : حسن غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (حمى) শব্দের অর্থ রক্ষা করা, প্রতিরক্ষা, আশ্রয় দেয়া। হাদীসে উল্লেখিত (حماه الدُّنْيَا) এর অর্থ করতে গিয়ে ‘আল্লামাহ্ মুল্লা আলী আল কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (حَفِظَهٗ مِنْ مَالِ الدُّنْيَاوَمَنْصِبِهٖ وَمَايَضُرُّبِدِينِهٖ فِي الْعُقْبٰى) অর্থাৎ আল্লাহ তাকে দুনিয়ার সম্পদ এবং পদ থেকে হিফাযত করেন;  আর তার দীনের পথে পরকালের জন্য যা ত্রুটিপূর্ণ ও ক্ষতিকর তা থেকে তাকে হিফাযাত করেন। আশরাফ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তাকে দুনিয়া থেকে বাধা দান করেন এবং দুনিয়ার রং তামাশার কলঙ্ক থেকে রক্ষা করেন। যাতে দুনিয়াপ্রীতি রোগে তার হৃদয় আক্রান্ত না হয়।
পানির অপর নাম জীবন, কিন্তু এমন অনেক রোগ রয়েছে যে রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি পানি পানের আবেদন করলেও তাকে পানি দেয়া যায় না। কারণ পানি পান করলেই সে ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলার প্রিয় বান্দাদেরকে দুনিয়ার ধ্বংসশীল সম্পদ থেকে হিফাযাতের দৃষ্টান্ত ঠিক অনুরূপ। আল্লাহ তার কল্যাণ চেয়েই তাকে এ থেকে হিফাযাত করেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খণ্ড, হা. ২০৩৬; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫১-[২১] মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) বলেছেন: আদম সন্তান দুটি জিনিসকে অপছন্দ করে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে অথচ মু’মিনের পক্ষে ফিতনায় পতিত হওয়ার চেয়ে মৃত্যু অনেক উত্তম। আর সে মাল-সম্পদের স্বল্পতাকে অপছন্দ করে অথচ মালের স্বল্পতায় (পরকালে) হিসাবনিকাশ কম হয়। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن مَحْمُود بن لبيد أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: اثْنَتَانِ يَكْرَهُهُمَا ابْنُ آدَمَ: يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَالْمَوْتُ خَيْرٌ لِلْمُؤْمِنِ مِنَ الْفِتْنَةِ وَيَكْرَهُ قِلَّةَ الْمَالِ وَقلة المَال أقل لِلْحسابِ . رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 427 ح 24024) ۔
(صَحِيح)

وعن محمود بن لبيد ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: اثنتان يكرههما ابن ادم: يكره الموت والموت خير للمومن من الفتنة ويكره قلة المال وقلة المال اقل للحساب . رواه احمد اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 427 ح 24024) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : মানুষের অপছন্দের এ দুটি বস্তু হলো তার স্বভাবগত অথচ তা তার জন্য কল্যাণকর। সে অপছন্দের বস্তু দুটি হলো মৃত্যু এবং স্বল্প সম্পদ।
ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মানুষের যে ফিতনাহ্ থেকে মৃত্যুই উত্তম তা হলো শিরকে পতিত হওয়া।
রাগিব ইস্পাহানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: কর্মর্গত ফিতনাহ্ যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং বান্দার পক্ষ থেকে হয় যেমন বিভিন্ন বালা-মুসীবত, হত্যা, শাস্তিসহ নানা অপছন্দনীয় বিষয়।
‘আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মু'মিনের দীনী ফিতনাহ্ হলো মুরতাদ বা ধর্মচ্যুত হওয়া এবং অন্যকে গুনাহের জন্য বাধ্য করা। আবূ নু'আয়ম হিলয়াহ গ্রন্থে আবু আবদুল্লাহ আস সানাবিহী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, দুনিয়া ফিতনার দিকে আহ্বান করছে, আর শয়তান আহ্বান করছে পাপের দিকে অথচ আল্লাহর সাক্ষাৎ এ দুয়ের সাথে অবস্থানের চেয়ে অধিক কল্যাণকর। মানুষের দ্বিতীয় অপছন্দনীয় বস্তুটি হলো স্বল্প সম্পদ। অথচ এটা তার পরকালের হিসাবের ক্ষেত্রে অতীব সহজতর ব্যবস্থা এবং আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার একান্ত পন্থা।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৬ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫২-[২২] ’আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক ব্যক্তি নাবী (সা.) -এর কাছে এসে বলল: (হে আল্লাহর নবী!) আমি আপনাকে মুহাব্বাত করি। তিনি (সা.) বললেন: একবার ভেবে দেখো তুমি কী বলছ! সে আবার বলল: আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে ভালোবাসি। এভাবে সে তিনবার বলল। এবার তিনি বললেন: যদি তুমি তোমার এ কথায় সত্যবাদী হও, তবে দরিদ্রতার বর্ম প্রস্তুত করে রাখো। কেননা যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, দরিদ্রতা তার কাছে বন্যার গতি অপেক্ষা তার দিকে অতি দ্রুত পৌছে। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এ হাদীসটি গরীব।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: إِنِّي أُحِبُّكَ. قَالَ: «انْظُرْ مَا تَقُولُ» . فَقَالَ: وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. قَالَ: «إِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَأَعِدَّ لِلْفَقْرِ تِجْفَافًا لَلْفَقْرُ أسرعُ إِلى من يحبُّني من السَّيْل إِلَى مُنْتَهَاهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2350) * روح بن اسلم ضعیف ضعفہ الجمھور و للحدیث شواھد ضعیفۃ عند البغوی (شرح السنۃ : 4067) وغیرہ ۔
(ضَعِيف)

وعن عبد الله بن مغفل قال: جاء رجل الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: اني احبك. قال: «انظر ما تقول» . فقال: والله اني لاحبك ثلاث مرات. قال: «ان كنت صادقا فاعد للفقر تجفافا للفقر اسرع الى من يحبني من السيل الى منتهاه» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2350) * روح بن اسلم ضعیف ضعفہ الجمھور و للحدیث شواھد ضعیفۃ عند البغوی (شرح السنۃ : 4067) وغیرہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: প্রত্যেক সহাবী রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে ভালোবাসতেন, কিন্তু অত্র হাদীসে বর্ণিত সাহবীর ভালোবাসার দাবী ছিল পরিপূর্ণ এবং প্রভাবপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাকে সে ভালোবাসার দাবীর প্রতি ভালো করে চিন্তা-ভাবনা করে বলার পরামর্শ দেন, কারণ সে যে দাবী করছে এটি এক মহা দাবী এবং বিশাল প্রস্তাব, এর জন্য রয়েছে জীবনের নানা ঝুঁকি।
হাদীসের শব্দ (تِجْفَافًا) এর অর্থ যুদ্ধ বর্ম এবং ঢাল। পাশ্চাত্য ভাষায় (هُوَشَيْءٌيُلْبَسُ عَلَى الْخَيْلِ عِنْدَالْحَرْبِ،كَأَنَّهٗ دِرْعٌ) এটা এমন একটি বস্তু যা যুদ্ধের সময় যুদ্ধের ঘোড়াকে পরিধান করানো হয়, যা বর্ম হিসেবে কাজ করে। কামূস অভিধানবিদ বলেন, ওটা এমন একটি যুদ্ধাস্ত্র যা ঘোড়া এবং মানুষ উভয়েই যুদ্ধকালে পরিধান করে থাকে। অতএব হাদীসের অর্থ আসে এই যে, “তুমি যদি তোমার ভালোবাসার দাবীতে সত্যবাদীই হয়ে থাক তাহলে ক্ষুধা, দারিদ্রতা, বিপদ-মুসীবাত, শূন্যতা ইত্যাদি পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সবরের পোষাক পরে তার মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকবে।”
রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আমাকে যে মুহাব্বাত করে তার নিকট এসব পরীক্ষা এবং কষ্টসমূহ প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত বন্যার পানির মতো তরঙ্গায়িত হবে। কেননা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিপদ মুসীবাত এসেছে নবীদের ওপর, এরপর তুলনামুলক তার নীচের লোকেদের ওপর। এদের মধ্যে শেষ নবীর ওপর বেশি বালা-মুসীবাত আপতিত হয়েছে, তার অনুসারীদের ওপর এরই তুলনামূলক অংশ প্রযোজ্য হবে।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৫০; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৬-১৭ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫৩-[২৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহর রাস্তায় (দীনের প্রচারে) আমাকে যে পরিমাণ ভয় দেখানো হয়েছে, আর কাউকেও সে পরিমাণ ভয় দেখানো হয়নি। আর আল্লাহর রাস্তায় আমাকে (যেভাবে) কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর কাউকেও (এভাবে) কষ্ট দেয়া হয়নি এবং আমার ওপর ত্রিশটি দিবারাত্র এ অবস্থায় অতিবাহিত হয়েছে যে, আমার ও বিলালের জন্য এমন খাদ্যবস্তু ছিল না যা কোন প্রাণী খেতে পারে। শুধু এ পরিমাণ কিছু ছিল যা বিলালের বগল গোপন করে রাখত। (তিরমিযী)

তিনি [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)] হাদীসটির অর্থে বলেছেন যে, যখন নবী (সা.) কাফিরদের অত্যাচারে আত্মরক্ষার উদ্দেশে) মক্কা হতে বের হয়ে চলে গেলেন এবং বিলাল তার সাথে ছিলেন, এটা সে সময়ের ঘটনা। মূলত এ সময় বিলালের সঙ্গে এ পরিমাণ খাদ্যবস্তু ছিল যা তিনি স্বীয় বগলের নীচে দাবিয়ে রাখতেন।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ أُخِفْتُ فِي اللَّهِ وَمَا يُخَافُ أَحَدٌ وَلَقَدْ أُوذِيتُ فِي اللَّهِ وَمَا يُؤْذَى أَحَدٌ وَلَقَدْ أَتَتْ عَلَيَّ ثَلَاثُونَ مِنْ بَيْنِ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ وَمَا لِي وَلِبِلَالٍ طَعَامٌ يَأْكُلُهُ ذُو كَبِدٍ إِلَّا شَيْءٌ يُوَارِيهِ إِبْطُ بِلَالٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ قَالَ: وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ: حِينَ خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَارِبًا مِنْ مَكَّةَ وَمَعَهُ بِلَالٌ إِنَّمَا كَانَ مَعَ بِلَالٍ مِنَ الطَّعَامِ مَا يَحْمِلُ تحتَ إبطه

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2472) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقد اخفت في الله وما يخاف احد ولقد اوذيت في الله وما يوذى احد ولقد اتت علي ثلاثون من بين ليلة ويوم وما لي ولبلال طعام ياكله ذو كبد الا شيء يواريه ابط بلال» . رواه الترمذي قال: ومعنى هذا الحديث: حين خرج النبي صلى الله عليه وسلم هاربا من مكة ومعه بلال انما كان مع بلال من الطعام ما يحمل تحت ابطه اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2472) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : নবী-রসূলগণ সর্বকালেই আল্লাহর রাস্তায় কাফির মুশরিক দ্বারা অত্যাচারিত হয়েছেন। এক্ষেত্রে আমাদের নবী সবচেয়ে বেশি ভীতিপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং কষ্ট পেয়েছেন। ক্ষুধা বা খাদ্যাভাব ছিল জীবনের এক প্রকট সমস্যা। মাসের পর মাস বাড়ীতে রান্নার চুলা জ্বলত না। এমনই এক বিষয় এখানে বিবৃত হয়েছে। তিনি (সা.) বলেছেন, ত্রিশদিন আমাদের ওপর দিয়ে একাধারে অতিবাহিত হয়ে যেত কোন প্রাণীর খাদ্যযোগ্য খাবার আমার এবং বিলাল-এর ভাগ্যে জুটত না; যা জুটত তা ছিল খুবই নগণ্য, এমনকি তা বিলাল-এর বগলের নীচেই লুকিয়ে রাখা যেত। এখানে বিলাল-এর নাম এজন্য বলা হয়েছে যে, এই দুঃসময়ে বিলাল রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথেই ছিলেন।

কখন এ ঘটনা ঘটেছিল তা নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন। ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (وَمَعْنٰى هٰذَا الْحَدِيثِ حِينَ خَرَخَ النَّتِيُّ صلى الله عليه وسلم هَارِبٍامِنْ مكَّةَ) অর্থাৎ এ হাদীসের ঘটনা ঐ সময় ঘটেছিল যখন নবী (সা.) ও কাফির মুশরিকদের অত্যাচারে মক্কা থেকে পলায়ন করেছিলেন। বর্ণিত আছে, তিনি ত্বায়িফের ‘আবদে ইয়ালীলে গমন করেছিলেন যাতে তারা তাকে মক্কার কাফিরদের হাত থেকে রক্ষা করেন এবং আশ্রয় দান করেন; আর তিনিও তার রবের রিসালাতের দাওয়াত পৌছে দিতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা অতীব দুর্ভাগ্যজনক এবং হৃদয় বিদারক, তারা তাদের বখাটে উচ্ছৃঙ্খল বালকদের নবী (সা.) -এর পিছনে লেলিয়ে দিল, তারা তাকে পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত এবং ক্ষত-বিক্ষত করে দিল। এমনকি শরীর থেকে রক্ত ঝরে পায়ের জুতা পর্যন্ত গড়িয়ে পড়ল এবং পা জুতায় আটকে গেল।

‘মাওয়াহিবুল লা দুনিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ আছে- রাসূলুল্লাহ (সা.) ত্বায়িফের উদ্দেশে এ সফরটি ছিল খাদীজার মৃত্যুর তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার কয়েকদিন আগে। এটা নুবুওয়্যাতের দশম বর্ষে ঘটেছিল এবং চাচা আবু ত্বালিব-এর ইন্তিকালের পরের ঘটনা। রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এ সফরে যায়দ ইবনু হারিসাহ্ সফরসঙ্গী ছিলেন। ত্বায়িফে তিনি (সা.) এক মাস অবস্থান করেন এবং সাকীফ গোত্রের সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন। হায়! তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া তো দিলই না বরং তাদের নির্বোধ এবং গোলামদের রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বিরুদ্ধে প্ররোচনা দিয়ে উত্তেজিত করে তুলল। ফলে তারা রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে লাগল।

মূসা ইবনু উকবাহ্ (রাঃ) বলেন, তারা তার পিছন থেকে পাথর মেরে হাঁটুর নীচের মাংসপেশী ক্ষতবিক্ষত করে ফেলল। রক্ত বয়ে বয়ে পায়ের জুতা ভরে গেল, অতঃপর তা জমাট বেঁধে পা দুটি জুতায় আটকে গেল। এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তারা এসে দু বাহু ধরে নবী (সা.) -কে দাঁড় করালে তিনি হাঁটতে লাগলেন, যখনই চলা শুরু করলেন অমনি পাথর নিক্ষেপ! এ দৃশ্য দেখে অন্যেরা অট্টহাসিতে ভেঙ্গে পড়তে লাগল। যায়দ (রা.) তাঁকে প্রাণপণে রক্ষা করতে লাগলেন, এতে তারও মাথায় একাধিক যখম হয়ে গেল।

সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম উম্মুল মু'মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! উহুদ যুদ্ধের দিনের চেয়েও কি কোন কঠিন দিন আপনার সামনে এসেছিল? রাসূলুল্লাহ (সা.) ত্বায়িফের ঘটনা উল্লেখ করে বললেন যে, এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন। এ সময় আল্লাহ তা'আলা জিবরীলসহ পাহাড়ের মালাক (ফেরেশতা) প্রেরণ করেছিলেন, তারা পাহাড় চাপা দিয়ে ত্বায়িফবাসীকে ধ্বংস করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর নবী (সা.) প্রতিশোধ এবং ধ্বংসের অনুমতি প্রদান করেননি। বরং তিনি (সা.) বলেছিলেন: আমি আশা করি তাদের বংশ থেকে এমন মানুষের জন্ম হবে যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার সাথে আর কাউকে শরীক করবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খণ্ড, হা. ২৪৭২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫৪-[২৪] আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট ক্ষুধার অভিযোগ করলাম এবং আমাদের প্রত্যেকের পেটের উপর এক একখানা পাথর বাঁধা জামা তুলে তা দেখলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের কাপড় তুলে স্বীয় পেটের উপর বাঁধা দু’খানা পাথর দেখালেন। (তিরমিযী; আর তিনি বলেছেন: হাদীসটি গরীব)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَبِي طَلْحَةَ قَالَ: شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجُوعَ فَرَفَعْنَا عَنْ بُطُونِنَا عَنْ حَجَرٍ حَجَرٍ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَطْنِهِ عَن حجرين. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: حَدِيث غَرِيب

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2371) * سیار بن حاتم : حسن الحدیث ، وثقہ الجمھور ۔
(صَحِيح)

وعن ابي طلحة قال: شكونا الى رسول الله صلى الله عليه وسلم الجوع فرفعنا عن بطوننا عن حجر حجر فرفع رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بطنه عن حجرين. رواه الترمذي وقال: حديث غريب اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2371) * سیار بن حاتم : حسن الحدیث ، وثقہ الجمھور ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : পেটে পাথর বাঁধার উপকারিতা কি? এর উত্তরে বলা হয়েছে, যাতে শূন্য পাকস্থলিতে হাওয়া ঢুকতে না পারে। অথবা পাথরের কারণে পেট ও মেরুদণ্ড যেন শক্ত হয়ে থাকে এবং বাঁকা হয়ে না পড়ে। কেউ কেউ বলেছেন, পাথর বেঁধেছেন এজন্য যাতে পেট ঢিলে হয়ে না যায় এবং অন্ত্রাবলী ঝুলে না পড়ে, যা নড়া-চড়ার জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে।
হাফিয ইবনু হাজার আল আসক্বালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ক্ষুধার সময় পেটে পাথর বাঁধা ‘আরবদের অথবা মদীনাবাসীদের অভ্যাস ছিল। সহীবুল আযহার পাথর বাঁধার কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন।

১) মদীনায় এক শ্রেণির পাথর ছিল যার নাম ‘মুশাববিআহ’ পরিতৃপ্তি দানকারী, লোকেরা ক্ষুধার্ত হলে এ পাথর বেঁধে পরিতৃপ্তি লাভ করত।
২) আল্লাহ তা'আলা পাথরের মধ্যে একটা শীতলটা দান করেছেন, ঐ শীতলতায় পেটের ক্ষুধা প্রশমিত হয়।
কেউ কেউ বলেছেন, এটা ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন এবং উম্মাতকে শিক্ষা দান।
(মিরক্বাতুল মাফাতীহঃ তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩৭১)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ ত্বলহা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫৫-[২৫] আবূ হুরায়রাহ্ (সা.) হতে বর্ণিত। একবার সাহাবায়ে কিরাম ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে পড়লেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে একটি করে খেজুর দিলেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن أبي هُرَيْرَة أَنَّهُ أَصَابَهُمْ جُوعٌ فَأَعْطَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمْرَةً تَمْرَةً. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2474 وقال : صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة انه اصابهم جوع فاعطاهم رسول الله صلى الله عليه وسلم تمرة تمرة. رواه الترمذي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2474 وقال : صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: আবু হুরায়রাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত ক্ষুধার ঘটনা বাহ্যত আসহাবে সুফফা বা বারান্দাবাসীর, যা ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে। তাদের জন্য (সাহাবীদের পক্ষ থেকে যে দান আসত তাই সবার মধ্যে বণ্টন করা হত। এ বণ্টনে কখনো জনপ্রতি একটিমাত্র খেজুর মিলত আর এর উপরই তাদের দিন নির্বাহ হত। আসহাবে সুফফার সংখ্যা ছিল চারশত বা তার চেয়ে কিছু বেশি। এদের সত্তর জন্য ছিল স্থায়ী সদস্য।
এই একটি খেজুরেই এত বরকত হত যে, সারাদিনের খাদ্যকষ্ট ও ক্লান্তি দূর হয়ে যেত। (এটা ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর হাতের বিশেষ বরকত এবং মু'জিযাহ্। - সম্পাদকীয়)
(মিরকাতুল মাফাতীহ; তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা ২৪৭৪; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৭পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫৬-[২৬] ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: দু’টি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান আছে, আল্লাহ তা’আলা তাকে কৃতজ্ঞ ও ধৈর্যশীল লোকেদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন। (প্রথমত) দীনী ব্যাপারে যে লোক নিজের চাইতে উত্তম ও উচ্চমানের তার প্রতি দৃষ্টি রেখে তার অনুকরণ করে। (দ্বিতীয়ত) দুনিয়াবী ব্যাপারে সে এমন লোকের দিকে দৃষ্টি রাখে, যে তার চাইতে নিম্নস্তরের। অতএব সে আল্লাহর প্রশংসা করে যে আল্লাহ তাকে এ ব্যক্তির ওপর সম্মান দান করেছেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে শোকরগুজার ও ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আর যে লোক দীনদারীর ব্যাপারে এমন লোকের দিকে তাকায়, যে তার অপেক্ষা নিম্নস্তরের আর পার্থিব ব্যাপারে সে এমন লোকের দিকে তাকায়, যে তার অপেক্ষা উচ্চপর্যায়ের এবং সে আক্ষেপ করতে থাকে ঐ সকল বস্তুর জন্য যা তার হাতছাড়া হয়েছে। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ শোকরগুজার ও ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করেন না। (তিরমিযী)
আবু সাঈদ-এর বর্ণিত হাদীস (أَبْشِرُوايَامَعْشَرَصَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ)  ফাযায়িলে কুরআন-এর পরের অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: خَصْلَتَانِ مَنْ كَانَتَا فِيهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شاكراً: مَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَاقْتَدَى بِهِ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا فَضَّلَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ كَتَبَهُ اللَّهُ شَاكِرًا صَابِرًا. وَمَنْ نَظَرَ فِي دِينِهِ إِلَى مَنْ هُوَ دُونَهُ وَنَظَرَ فِي دُنْيَاهُ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَهُ فَأَسِفَ عَلَى مَا فَاتَهُ مِنْهُ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ شَاكِرًا وَلَا صَابِرًا . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَذَكَرَ حَدِيثَ أَبِي سَعِيدٍ: «أَبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ» فِي بَابٍ بَعْدَ فَضَائِلِ الْقُرْآنِ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2512) * مثنی بن الصباح : ضعیف ۔ 0 حدیث ابی سعید تقدم (2198) ۔
(ضَعِيف)

وعن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: خصلتان من كانتا فيه كتبه الله شاكرا: من نظر في دينه الى من هو فوقه فاقتدى به ونظر في دنياه الى من هو دونه فحمد الله على ما فضله الله عليه كتبه الله شاكرا صابرا. ومن نظر في دينه الى من هو دونه ونظر في دنياه الى من هو فوقه فاسف على ما فاته منه لم يكتبه الله شاكرا ولا صابرا . رواه الترمذي وذكر حديث ابي سعيد: «ابشروا يا معشر صعاليك المهاجرين» في باب بعد فضاىل القران اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2512) * مثنی بن الصباح : ضعیف ۔ 0 حدیث ابی سعید تقدم (2198) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : সবর এবং শোকর ঈমানের পূর্ণতার গুণ। অর্থাৎ যে এ দু'টি গুণ অর্জন করে সে পূর্ণ ঈমান লাভ করে। হাদীসে বর্ণিত আছে “ঈমান আধা-আধিভাবে বিভক্ত, অর্ধেক ধৈর্য আর অর্ধেক শোকর। (বায়হাকী’র শুআবুল ঈমান ৭/১২৩ পৃ, হা. ৯৭১৫)

জামি' গ্রন্থে আরো উল্লেখ আছে যার মধ্যে এ দু'টি গুণ নেই আল্লাহ তা'আলা তাকে কৃতজ্ঞ এবং ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করেন না।
ধৈর্য এবং কৃতজ্ঞতা গুণ দু’টি অর্জনের বৈশিষ্ট্য হলো দীনের ক্ষেত্রে উপরের ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করা এবং দুনিয়ার ক্ষেত্রে নিজের চেয়ে নীচের ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করা। অর্থাৎ দীন পালনে তোমার চেয়ে যে বেশি পরহেযগার ও ‘আমলকারী তুমি তার প্রতি লক্ষ্য কর পক্ষান্তরে দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও আরাম-আয়েশের উপকরণের ক্ষেত্রে যে তোমার চেয়ে নীচের অবস্থানে আছে তুমি তার প্রতি লক্ষ্য কর। তুমি যতটুক পেয়েছ তার উপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর, আর তোমার যা নেই তাতে ধৈর্য অবলম্বন কর। এতে আল্লাহ তোমাকে পূর্ণ মুমিন হিসেবে গণ্য করবেন।
যারা দীনের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ আমলে-আখলাকে, পরহেজগারিতায় তার চেয়ে নিম্নমানের লোকেদের সাথে নিজের তুলনা করে নিজেকে তাদের চেয়ে ভালো মনে করে বেশি বেশি ‘আমল থেকে বিমুখ হয়ে থাকে আর দুনিয়ার ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে তার চেয়ে উপরের অর্থাৎ সম্পদশালী লোকেদের সম্পদ ও বিলাস-ব্যসনের প্রতি লক্ষ্য করে এবং নিজের কাছে এরূপ ধন-সম্পদ না থাকায় পরিতাপ করে আল্লাহ তা'আলা তাদের শোকরগুজার এবং ধৈর্যশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন না।

আল্লাহ তা'আলা বলেন : (لِّکَیۡلَا تَاۡسَوۡا عَلٰی مَا فَاتَکُمۡ وَ لَا تَفۡرَحُوۡا بِمَاۤ اٰتٰىکُمۡ ؕ) “এটা এজন্য বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তজ্জন্যে উল্লাসিত হও।” (সূরা আল হাদীদ ৫৭:২৩)।

হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে দুনিয়া না পাওয়ায় যে পরিতাপ করে জাহান্নাম তার এক হাজার বছরের নিকটে হয়ে যায়, পক্ষান্তরে যে, আখিরাতের কোন কিছু হারানোর কারণে পরিতাপ করে সে জান্নাতের এক হাজার বছরের পথ নিকটে হয়ে যায়। (জামিউস্ সগীর ২/৫১৩ পৃ., হা. ৮৪৩২)।
দুনিয়ার সম্পদের প্রতি অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা এবং দীনের কর্মে উদাসীনতা এটা কাফির মুশরিকদের স্বভাব। মুমিনের কর্তব্য হবে অপরের বেশি সম্পদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা বরং অপরের বেশি ঈমান-আমাল দেখে নিজে ঐরূপ ‘আমালকারী হওয়ার চেষ্টা করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহঃ তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৫১২)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫৭-[২৭] আবূ ’আবদুর রহমান আল হুবুলী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, একদিন জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করে, আমরা কি ঐ সমস্ত গরীব মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত নই? (যারা ধনীদের আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে?) তখন ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর প্রশ্ন তাকে বললেন : আচ্ছা! তোমার স্ত্রী আছে কি? যার কাছে তুমি প্রশান্তি লাভ করো? সে বলল : হ্যা, আছে। আবদুল্লাহ আবার জিজ্ঞেস করলেন : আচ্ছা! তোমার থাকার এমন কোন ঘর আছে কি, যেখানে তুমি অবস্থান করো? সে বলল : হ্যা। তখন ’আবদুল্লাহ বললেন : তবে তো তুমি ধনীদের একজন। এবার লোকটি বলল : আমার একজন সেবকও আছে। তখন ’আবদুল্লাহ বললেন : তবে তো তুমি বাদশাহদের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনাকারী (আবু) আবদুর রহমান বলেন : একদিন আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় তিনজন লোক এসে ’আবদুল্লাহ-কে বলল : হে আবু মুহাম্মাদ! আমরা আল্লাহর কসম করে বলছি, আমরা কোন কিছুর সামর্থ্য রাখি না। আমাদের কাছে খরচপাতি নেই, আরোহণের জানোয়ারও নেই এবং অন্য কোন মাল-সামানও নেই (এমতাবস্থায় জিহাদে আমরা কিভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি?) তখন ’আবদুল্লাহ তাদেরকে বললেন : তোমরা কি চাও? যদি তোমরা (আমার নিকট) কিছু পেতে চাও, তবে তোমরা আবার আমার কাছে এসো। (কেননা এখন আমার কাছে দেয়ার মতো কিছু নেই,) তখন আমি তোমাদেরকে তা প্রদান করব যা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করে দেন। আর যদি তোমাদের ইচ্ছা থাকে তবে আমি তোমাদের ব্যাপারে বাদশার নিকট সুপারিশ করব। আর যদি তোমরা চাও তবে ধৈর্যধারণ করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয় দরিদ্র মুহাজিরীন কিয়ামতের দিন সম্পদশালীদের চল্লিশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এতদশ্রবণে তারা বলে উঠল, আমরা ধৈর্যধারণ করব, আমরা আর কিছুই যাঞ্ছা করব না। (মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

عَن أبي عبد الرَّحْمَن الحُبُليِّ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو وَسَأَلَهُ رَجُلٌ قَالَ: أَلَسْنَا مِنْ فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ؟ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ: أَلَكَ امْرَأَةٌ تَأْوِي إِلَيْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: أَلَكَ مَسْكَنٌ تَسْكُنُهُ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: فَأَنْتَ مِنَ الْأَغْنِيَاءِ. قَالَ: فَإِنَّ لِي خَادِمًا. قَالَ: فَأَنْتَ مِنَ الْمُلُوكِ. قَالَ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ: وَجَاءَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَنَا عِنْدَهُ. فَقَالُوا: يَا أَبَا مُحَمَّد إناوالله مَا نَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ لَا نَفَقَةَ وَلَا دَابَّةَ وَلَا مَتَاعَ. فَقَالَ لَهُمْ: مَا شِئْتُمْ إِنْ شِئْتُمْ رَجَعْتُمْ إِلَيْنَا فَأَعْطَيْنَاكُمْ مَا يَسَّرَ اللَّهُ لَكُمْ وَإِنْ شِئْتُمْ ذَكَرْنَا أَمْرَكُمْ لِلسُّلْطَانِ وَإِنْ شِئْتُمْ صَبَرْتُمْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِينَ يَسْبِقُونَ الْأَغْنِيَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى الْجَنَّةِ بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا» . قَالُوا: فَإِنَّا نَصْبِرُ لَا نَسْأَلُ شَيْئا . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (37 / 2979)، (7462 و 7463) ۔
(صَحِيح)

عن ابي عبد الرحمن الحبلي قال: سمعت عبد الله بن عمرو وساله رجل قال: السنا من فقراء المهاجرين؟ فقال له عبد الله: الك امراة تاوي اليها؟ قال: نعم. قال: الك مسكن تسكنه؟ قال: نعم. قال: فانت من الاغنياء. قال: فان لي خادما. قال: فانت من الملوك. قال: عبد الرحمن: وجاء ثلاثة نفر الى عبد الله بن عمرو وانا عنده. فقالوا: يا ابا محمد اناوالله ما نقدر على شيء لا نفقة ولا دابة ولا متاع. فقال لهم: ما شىتم ان شىتم رجعتم الينا فاعطيناكم ما يسر الله لكم وان شىتم ذكرنا امركم للسلطان وان شىتم صبرتم فاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان فقراء المهاجرين يسبقون الاغنياء يوم القيامة الى الجنة باربعين خريفا» . قالوا: فانا نصبر لا نسال شيىا . رواه مسلم رواہ مسلم (37 / 2979)، (7462 و 7463) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : মানুষের আশ্রয়ের জন্য স্ত্রী, বসবাসের জন্য আবাসন জীবনের জন্য যথেষ্ট। যারা গরীব মুহাজির সাহাবী তাদের এ দুয়ের কোনটিই ছিল না। আবার কারো একটি থাকলেও অন্যটি ছিল না। অতএব যে ব্যক্তি এসে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)-এর কাছে দুটো জিনিসই থাকার কথা জানালেন, ফলে তিনি তাকে ধনিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বলে ঘোষণা করলেন। এটা ছিল মুহাজির সহাবীদের জীবনের পরম পাওনা। এর সাথে যদি কারো চাকর বা ক্রীতদাস থাকত তবে তো সে বাদশাহ শ্রেণির, অবশ্য এটা আপেক্ষিক বিষয় ও রূপক কথা, কিন্তু তাদের জীবনে যেন ছিল এটাই বাস্তবতা। বাদশাহ বলার এও অর্থ হতে পারে যে, সে কপর্দকহীন নয় এবং অপরের ওপর কাজের নির্দেশ জারী করতে পারে। আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) সম্ভবত এ বাক্যটি আল্লাহ তা'আলার এ বাণী থেকে গ্রহণ করেছেন : (وَ جَعَلَکُمۡ مُّلُوۡکًا) “আর তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন”- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ ৫ : ২০)। বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরকার ইবনু জারীর (রহিমাহুল্লাহ)

ইবনু আব্বাস প্রমুখাৎ, উক্ত আয়াতের প্রেক্ষিতে বর্ণনা করেছেন: বানী ইসরাঈলের কোন ব্যক্তির যদি ঘর, স্ত্রী এবং খাদেম থাকত তবে তাকে বাদশাহ বলা হত।
হাদীসে (عَنْ عَبْدِالرَّحْمٰنِ) বলে বর্তমানে অধিকাংশ মিশকাতের সংস্করণে যে নাম রয়েছে সেটা ভুল; প্রকৃত বাক্য হবে (عَن أبي عبد الرَّحْمَن) ‘আবূ আবদুর রহমান হতে বর্ণিত সহীহ মুসলিমে এভাবেই বর্ণনা বিদ্যমান রয়েছে।

তিন ব্যক্তির অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা দীনের পথে ছিল, অর্থাৎ তারা বলছিলেন- আমাদের কাছে এমন কোন কিছু নেই যা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করব, এমন কোন সওয়ারী নেই যা দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করব এবং এমন কোন আসবাবপত্র বা সামগ্রী নেই যা আল্লাহর রাস্তায় ব্যবহার করব অথবা তা বিক্রি করে ইসলামের কাজে ব্যয় করব। আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) তখন তিন ব্যক্তিকে ডেকে বললেন, তোমরা যদি এগুলো পাওয়ার আশা কর তাহলে তোমরা অন্য সময় আমার নিকট আসবে, আমি বাদশাহর নিকট বলে অথবা বায়তুল মালের খাদেমকে বলে যতটুকু সম্ভব তোমাদের জন্য মঞ্জুর করব। সেটা দিয়ে তোমরা তোমাদের ইচ্ছা পূরণ করবে। তোমরা ইচ্ছা করলে তোমাদের এই অভাব ও দারিদ্রতার উপর ধৈর্যধারণও করতে পার; কেননা ধৈর্যধারণ হলো সফলতা অর্জনকারীদের সর্বোচ্চ মাকাম এবং সম্পদ না পাওয়ার শ্রেষ্ঠ প্রশান্তি ও আনন্দ। অতঃপর তিনি তাদের রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর হাদীস শুনিয়ে দিলেন যে, গরীব মুহাজিরগণ ধনীদের চেয়ে জান্নাত গমনে চল্লিশ বছরের অগ্রগামী হবেন, এ কথা শুনে তারা সকলেই দুনিয়ার সম্পদ গ্রহণ পরিহার করে আখিরাতে জান্নাতের অগ্রগামীতাকে গ্রহণ করে নিলেন।
(মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহুন্ নাবাবী ১৮ খণ্ড, হা, ২৯৭৯; লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৭৪ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫৮-[২৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি মসজিদে (নববীতে) বসেছিলাম, তখন গরীব মুহাজিরগণও গোল হয়ে একস্থানে বসাছিলেন। এমন সময় হঠাৎ নবী (সা.) প্রবেশ করলেন এবং তাদের নিকট বসে গেলেন। অতঃপর আমিও উঠে তাঁদের কাছে গেলাম। তখন নবী (সা.) তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন: এ সুসংবাদ গরীব মুহাজিরদেরকে পৌছে দেয়া উচিত, যাতে তাদের চেহারা আনন্দে ফুটে উঠে। (আর তা হলো এই,) “তারা ধনবান মুহাজিরদের চল্লিশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, তখন আমি দেখলাম যে, তাঁদের চেহারার বর্ণ উজ্জ্বল হয়ে গেল। ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) বলেন : এমনকি আমার মনে এ আকাঙ্ক্ষা জাগল, হায়! আমি যদি যদি তাঁদের সাথে থাকতাম অথবা তাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا قَاعِدٌ فِي الْمَسْجِدِ وَحَلْقَةٌ مِنْ فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ قُعُودٌ إِذْ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَعَدَ إِلَيْهِمْ فَقُمْتُ إِلَيْهِمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِيُبْشِرْ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ بِمَا يَسُرُّ وُجُوهَهُمْ فَإِنَّهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ الْأَغْنِيَاءِ بِأَرْبَعِينَ عَامًا» قَالَ: فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَلْوَانَهُمْ أَسْفَرَتْ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ مَعَهُمْ أَو مِنْهُم. رَوَاهُ الدَّارمِيّ

صحیح ، رواہ الدارمی (2 / 339 ح 2847) [و النسائی فی السنن الکبری 3 / 443 ح 5876) و سندہ حسن ولہ شاھد عند مسلم فی صححہ (2979)، (7463)] ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو قال: بينما انا قاعد في المسجد وحلقة من فقراء المهاجرين قعود اذ دخل النبي صلى الله عليه وسلم فقعد اليهم فقمت اليهم فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ليبشر فقراء المهاجرين بما يسر وجوههم فانهم يدخلون الجنة قبل الاغنياء باربعين عاما» قال: فلقد رايت الوانهم اسفرت. قال عبد الله بن عمرو: حتى تمنيت ان اكون معهم او منهم. رواه الدارمي صحیح ، رواہ الدارمی (2 / 339 ح 2847) [و النساىی فی السنن الکبری 3 / 443 ح 5876) و سندہ حسن ولہ شاھد عند مسلم فی صححہ (2979)، (7463)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : যে মসজিদে লোকেরা বসেছিলেন সেটি মদীনার কোন একটি মসজিদ, খুব সম্ভব সেটা মসজিদে নববী।
(حَلْقَةٌ) শব্দের লাম বর্ণের উপর যবর, যের এবং সুকূন যোগে পাঠ করা হয়। আল্লামাহ্ মুল্লা আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (حالق) এর বহুবচন ছাড়া লাম বর্ণে হারকাত পাঠ সিদ্ধ নয়।
দ্র. (حَلْقَةٌ) অর্থাৎ- গোলাকার, বৃত্ত মাজলিস, আংটি ইত্যাদি এখানে বৃত্তাকার মাজলিস বা বৈঠক উদ্দেশ্য। সাহাবীগণ অনেক সময়ই আল্লাহর রসূলকে মাঝখানে নিয়ে বৃত্তাকার হয়ে বসতেন, আবার সাহাবীগণ কখনো নিজেরাও বৃত্তাকার হয়ে বসতেন। ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে অধ্যায় রচনা করেছেন, (فَرَأى فُرْجَةًفِي الحَلْقَةِ فِيهَا) যে বৃত্তাকার মাজলিসের অভ্যন্তরে ফাঁকা দেখে সেখানে বসে তিনি এ অধ্যায়ের অনুকূলে আবূ ওয়াক্বিদ আল লায়সী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, সেখানে (الحَلْقَةُ) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। (বুখারী হা. ৬৬, মুসলিম হা. ২১৭৬)

নাবী (সা.) মুহাজির সাহাবীদের মজলিসে যোগ দিলেন, অতঃপর হতদরিদ্র ও রিক্তহস্ত মুহাজির সাহাবীদের জীর্ণ-শীর্ণ পোশাক, বুভুক্ষ মুখ ও চেহারাগুলো দেখে তাদের সান্ত্বনার বাণী শুনালেন। তারা ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (لِيُبَشَّرْ) আমরে মাজহূল বা নির্দেশসূচক কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, কেউ কেউ এটাকে দু'আ অর্থে গ্রহণ করেছেন।
(اسفار) শব্দের অর্থ আলোকিত হওয়া, ফর্সা হওয়া, উজ্জ্বল হওয়া। আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) এর বর্ণনা- “অতঃপর আমি তাদের দেখলাম তাদের চেহারার বর্ণ উজ্জ্বল হয়ে গেছে।” এর অর্থ হলো- রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সুসংবাদ অথবা দু'আ শুনে তারা তাদের অভাব, দারিদ্রতা ও ক্ষুধার কথা ভুলে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে, ফলে তাদের চেহারাগুলোর মলিনতা দূর হয়ে আলোকিত হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ বলেন : (وُجُوۡهٌ یَّوۡمَئِذٍ مُّسۡفِرَۃٌ ﴿ۙ۳۸﴾  ضَاحِکَۃٌ مُّسۡتَبۡشِرَۃٌ ﴿ۚ۳۹﴾) “অনেক মুখমণ্ডল সেদিন হবে উজ্জ্বল, সহাস্য ও প্রফুল্ল।” (সূরাহ্ আল ‘আবাসা ৮০: ৩৮-৩৯)
তাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) দরিদ্র মুহাজির সাহাবীদের মর্যাদার কথা শুনে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেন- ‘আহা! আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম বা তাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!' (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৭৫ পৃ.)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৫৯-[২৯] আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু (নাবী সা.) আমাকে সাতটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। যথা- ১. তিনি (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন গরীব-মিসকান, ভালোবাসার এবং তাদের সহচার্য লাভের, ২. আরো নির্দেশ দিয়েছেন- আমি যেন ঐ ব্যক্তির দিকে তাকাই ’যে আমার চেয়ে নিম্নস্তরের এবং ঐ লোকের দিকে যেন না তাকাই, যে আমার চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের ৩. তিনি আরো নির্দেশ দিয়েছেন- আমি যেন আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভালো আচরণ করি, যদিও তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, ৪. তিনি (সা.) আরো নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন কারো নিকট কোন কিছু না চাই, ৫. তিনি (সা.) আরো নির্দেশ করেছেন- আমি যেন ন্যায় ও সত্য কথা বলি, যদিও তা তিক্ত হয়, ৬. তিনি (সা.) আরো আদেশ দিয়েছেন- আমি যেন আল্লাহর (দীনের) ব্যাপারে কোন নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় না করি এবং ৭. তিনি আমাকে এ নির্দেশও দিয়েছেন- আমি যেন অধিক পরিমাণে (لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ) “লা-হাওলা ওয়ালা ক্যুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ” “আল্লাহর শক্তি-সামর্থ ছাড়া কারো কোন শক্তি-সামর্থ্য নেই” পাঠ করি। কেননা এ কথাগুলো ’আরশের নিচের কোষাগার হতে আগত। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن أبي ذرٍّ قَالَ: أَمَرَنِي خَلِيلِي بِسَبْعٍ: أَمَرَنِي بِحُبِّ الْمَسَاكِينِ وَالدُّنُوِّ مِنْهُمْ وَأَمَرَنِي أَنْ أَنْظُرَ إِلَى مَنْ هُوَ دُونِي وَلَا أَنْظُرَ إِلَى مَنْ هُوَ فَوَقِي وَأَمَرَنِي أَنْ أَصِلَ الرَّحِمَ وَإِنْ أَدْبَرَتْ وَأَمَرَنِي أَنْ لَا أَسْأَلَ أَحَدًا شَيْئًا] وَأَمَرَنِي أَنْ أَقُولَ بِالْحَقِّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا وَأَمَرَنِي أنْ لَا أخافَ فِي اللَّهِ لومة لَا ئم وَأَمَرَنِي أَنْ أَكْثِرْ مِنْ قَوْلِ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ فَإِنَّهُنَّ مِنْ كَنْزٍ تَحت الْعَرْش. رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 159 ح 21745) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي ذر قال: امرني خليلي بسبع: امرني بحب المساكين والدنو منهم وامرني ان انظر الى من هو دوني ولا انظر الى من هو فوقي وامرني ان اصل الرحم وان ادبرت وامرني ان لا اسال احدا شيىا] وامرني ان اقول بالحق وان كان مرا وامرني ان لا اخاف في الله لومة لا ىم وامرني ان اكثر من قول: لا حول ولا قوة الا بالله فانهن من كنز تحت العرش. رواه احمد اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 159 ح 21745) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (خَلِيلٌ) শব্দের অর্থ অন্তরঙ্গ বন্ধু, সুহৃদ, প্রিয়তম, উদ্দেশ্য রাসূলুল্লাহ (সা.)। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর চেয়ে সাহাবীগণের নিকট প্রিয় আর কোন ব্যক্তি ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাদের অনুরূপ ভালোবাসতেন। এজন্য সহাবীগণ কোন কোন সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ওয়াসিয়্যাত, নির্দেশ ইত্যাদি বর্ণনা করতে গিয়ে বলতেন, আমার খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) আমাকে এই নির্দেশ অথবা এই ওয়াসিয়্যাত করেছেন। আর নবী (সা.) -ও বিশেষ কোন ব্যক্তিকে বিশেষভাবে কিছু নির্দেশ বা ওয়াসিয়্যাত করতেন। এমনি একটি ওয়াসিয়্যাতের কথা অত্র হাদীসে বিবৃত হয়েছে। আবু যার (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে সাতটি বিষয়ে ওয়াসিয়্যাত করেন তা হলো :

১) মিসকীনকে ভালোবাসা এবং তাদের নিকটে যাওয়া, অর্থাৎ তাদের অবস্থার প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া এবং মালের সহায়ক হওয়া।

২) নীচের ব্যক্তিদের দিকে লক্ষ্য করা উপরের ব্যক্তিদের দিকে দৃষ্টিপাত না করা, অর্থাৎ বৈষয়িক ব্যাপারে নিজের সম্পদের চেয়ে কম সম্পদের অধিকারীদের প্রতি লক্ষ্য করা।

৩) আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ওয়াসিয়্যাত করেন, যদিও সে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় পশ্চাৎপদে চলে, অর্থাৎ আত্মীয় যদি দূরেও থাকে অথবা অনুপস্থিত থাকে কিংবা সম্পর্ক রক্ষা করতে না চায়, তবুও তার সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করে চলা। এ বিষয়ে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, “তোমরা শুধু সালাম বিনিময় করে হলেও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখ।” ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ হলো যদি তুমি কোন আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকো, তাহলে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা কর, আর যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তার সাথে তোমার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা কর এবং তা জোরদার কর।

৪) অপরের নিকট কোন কিছু চাওয়া থেকে বিরত থাকা। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) এর দু'আ ছিল : “হে আল্লাহ! তুমি আমার চেহারাকে তুমি ছাড়া অন্যকে সাজদাহ্ দেয়া থেকে যেমন সুরক্ষিত রেখেছ তেমনি আমার চেহারাকে অন্যের কাছে কিছু চাওয়া থেকেও পবিত্র রাখ।” ইবরাহীম আলায়হিস সালাম-কে জিবরীল এসে বলেছিলেন, আপনার কোন প্রয়োজন আছে? অর্থাৎ আমার কাছে সাহায্যের প্রয়োজন আছে? উত্তরে বলেন, আছে, তবে আপনার কাছে নয়! জিবরীল 'আলায়হিস তখন বললেন, তাহলে আপনার রবের কাছে সওয়াল করুন। ইবরাহীম আলায়হিস সালাম উত্তরে আবারও বললেন, আমার চাওয়ার বিষয় এবং আমার সার্বিক অবস্থা এমন ব্যাপারে আল্লাহর ‘ইল্মই আমার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহর অনেক বান্দা রয়েছে যারা নিজের বৈষয়িক প্রয়োজনও আল্লাহর কাছে যাঞ্ছা করতে লজ্জাবোধ করেছেন, তারা কিভাবে অন্যের কাছে চাইতে পারেন?

৫) আল্লাহর নাবী (সা.) আবু যার (রাঃ)-কে এ নির্দেশ করেছেন যে, তিনি যেন তিক্ত হলেও সত্য কথা বলেন। অর্থাৎ সর্বদাই হক্ব এবং ন্যায় কথা বলবে যদিও শ্রোতার নিকট তা কঠিন অথবা তিক্ত হয় অথবা বক্তব্যটি যদিও নিজের বিরুদ্ধে যায়।

৬) তিনি (সা.) এ নির্দেশও করেছেন যে, প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে আল্লাহর রাস্তায় কথা বলতে, কাজ করতে অথবা অবস্থান নিতে নিন্দুকের নিন্দার ভয় এবং শত্রুতার ভয় যেন না করা হয়।

৭) আর ‘ইবাদতে আল্লাহর সাহায্য কামনায় এবং বিপদ মুসীবত দূরীকরণে বিশেষ করে মনের দম্ভ অহংকার দূরীকরণে আল্লাহর সাহায্য কামনার ক্ষেত্রে বেশি বেশি এ কালিমা পাঠ করা “লা-হাওলা ওয়ালা ক্যুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ.....”। এ বাক্যটি আল্লাহ তা'আলার ‘আরশে ‘আযীমের তলদেশের ধনভাণ্ডার থেকে উৎসারিত হয়েছে। অর্থাৎ সমস্ত কল্যাণের ভাণ্ডার এবং উৎস হলো দয়াময় রহমানের ‘আরশের নীচে; তার সাহায্য ও শক্তি ছাড়া কেউই সেখানে পৌঁছতে পারবে না।

কোন বর্ণনায় আছে, “লা-হাওলা ওয়ালা ক্যুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”.... জান্নাতের ধন-ভাণ্ডার থেকে উৎসারিত। এতে কোন বিরোধ নেই, কেননা জান্নাতের ছাদের উপরই দয়াময় রহমানের ‘আরশ।
এ বাক্যটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমাম বাযযার ইবনু মাসঊদ (রাঃ)-এর একটি হাদীস উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট বাক্যটি শিখে পাঠ করলাম। তিনি আমাকে বললেন তুমি কি এর তাফসীর জান? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসূলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন, “আল্লাহর নাফরমানী ও পাপ থেকে আল্লাহর হিফাযত ছাড়া কেউ বিরত থাকতে পারে না। আর আল্লাহর আনুগত্য ও নেক কাজে আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কেউ শক্তি দিতে পারে না।”

‘আল্লামাহ্ নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ বাক্যটি (আল্লাহ তাআলার নিকট আত্মসমর্পণ এবং নিজেকে সপে দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৯ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬০-[৩০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) দুনিয়ার মধ্য হতে তিনটি জিনিসকে ভালোবাসতেন- খাদ্য, নারী ও সুগন্ধি। এর মধ্যে দু’টি তো তিনি অর্জন করেছেন, আর একটি লাভ করেননি। লাভ করেছেন নারী ও সুগন্ধি। আর (পর্যাপ্ত পরিমাণ) খাদ্য লাভ করেননি। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْجِبُهُ مِنَ الدُّنْيَا ثَلَاثَةٌ الطَّعَامُ وَالنِّسَاءُ وَالطِّيبُ فَأَصَابَ اثْنَيْنِ وَلَمْ يُصِبْ وَاحِدًا أَصَابَ النِّسَاءَ وَالطِّيبَ وَلَمْ يُصِبِ الطَّعَامَ. رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (6 / 72 ح 24944) * فیہ رجل : مجھول و الحدیث الآتی (5261) یغنی عنہ ۔
(ضَعِيف)

وعن عاىشة قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعجبه من الدنيا ثلاثة الطعام والنساء والطيب فاصاب اثنين ولم يصب واحدا اصاب النساء والطيب ولم يصب الطعام. رواه احمد اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (6 / 72 ح 24944) * فیہ رجل : مجھول و الحدیث الآتی (5261) یغنی عنہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দুনিয়ার পছন্দনীয় তিনটি বস্তু ভোগ্য এবং জৈবিক চাহিদার উদ্দেশে ছিল

১) খাদ্য পছন্দনীয় ছিল দেহের সুস্থতা রক্ষা এবং ‘ইবাদতে শক্তি অর্জনের জন্য। সুখাদ্য সকল মানুষের মৌলিক অধিকারও বটে, অতএব এটাই ছিল তার প্রিয় হওয়ার কারণ।

২) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট নারী পছন্দনীয় হওয়ার কারণ হলো নারী জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। জাহিলী যুগে নারীর মাতৃত্বের অথবা স্ত্রীত্বের কোনই মর্যাদা ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সা.) যথাস্থানে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে নারীকে তার সঠিক আসনে অধিষ্ঠিত করাই এ ভালোবাসার উদ্দেশ্য। অন্যথায় তিনি আরবের সবচেয়ে সুন্দরী কুমারী নারীদের বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বহু সন্তানের জননী বিধবা নারী পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী খাদীজাকে বিবাহ করে যৌবন ও জীবনের বৃহৎ অংশ অতিবাহিত করতেন না। সর্বোপরি হীন ও ঘৃণ্য ইচ্ছার অবলুপ্তি ঘটিয়ে উত্তম ও পবিত্র বস্তুর মাধ্যমে পার্থিব প্রশান্তি লাভ করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

৩) রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর নিকট সুগন্ধি পছন্দনীয় ছিল। কতিপয় চিকিৎসাবিদের মতে এটা হলো মস্তিষ্ক সুস্থতার অন্যতম উপকরণ। উচ্চ মর্যাদা, ভদ্রতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হলো সুগন্ধি ব্যবহার, এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) তা পছন্দ করতেন।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ও খাদ্য ছাড়া অন্য দুটি পেয়েছেন, এর অর্থ তিনি নারীকে তার আসনে পৌছাতে সক্ষম হয়েছেন এবং উচ্চ মর্যাদা ও ভদ্রতার প্রকৃত রূপরেখা তৈরি করে এক পরিচ্ছন্ন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রচুর সম্পদও পেয়েছেন কিন্তু তিনি তা জমিয়ে রাখেননি, বরং আল্লাহর পথে তা ব্যয় করে দিয়েছেন। তাই তাকে দরিদ্র মনে করা হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩১৯-২০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬১-[৩১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সুগন্ধি ও নারীকে আমার কাছে অতি প্রিয় করে দেয়া হয়েছে। আর আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে সালাতের মধ্যে। (আহমাদ ও নাসায়ী)
আর ইবনুল জাওযী (حُبِّبَ إِلىَّ)-এর পরে (مِنَ الدُّنْيَا) -এ শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حُبِّبَ إِلَيَّ الطِّيبُ وَالنِّسَاءُ وَجُعِلَتْ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالنَّسَائِيُّ. وَزَادَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ بَعْدَ قَوْلِهِ: «حُبِّبَ إِليَّ» منَ الدُّنْيَا

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (3 / 199 ح 13088) و النسائی (7 / 61 ح 3391) ۔
(حسن)

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «حبب الي الطيب والنساء وجعلت قرة عيني في الصلاة» . رواه احمد والنساىي. وزاد ابن الجوزي بعد قوله: «حبب الي» من الدنيا اسنادہ حسن ، رواہ احمد (3 / 199 ح 13088) و النساىی (7 / 61 ح 3391) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসে যে তিনটি বস্তুর কথা বলা হয়েছে তার দুটি বিষয় পূর্বের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে এবং তার ব্যাখ্যাও অতিবাহিত হয়েছে। এ হাদীসে বর্ণিত ভিন্ন তৃতীয় বস্তুটি হলো সালাত বা নামায যা চোখের শীতলতা বা প্রশান্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘আল্লামাহ্ মুল্লা আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে (فِعْلِ) বা ক্রিয়াগুলো (فِعْلِ مَجْهُولِ) বা কর্মবাচ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, এজন্য বিষয়টি প্রকৃতি ও স্বভাবগত নয়, বরং এগুলো তাকে বাধ্য করে তার বান্দাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবে প্রিয় করে দেয়া হয়েছে। অবশ্য সলাত এর ব্যতিক্রম, কেননা স্বভাবগতভাবেই রাসূলুল্লাহ (সা.) তা পছন্দ করতেন। যেমন তিনি বিলালকে নির্দেশ করতেন : হে বিলাল! তুমি আমাকে সলাতের মাধ্যমে (অন্য সবকিছু থেকে) প্রশান্তি দাও, অর্থাৎ তুমি সলাতের জন্য আযান দাও। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশেফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬২-[৩২] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁকে ইয়ামান দেশে পাঠালেন তখন তাঁকে বললেন : নিজেকে বিলাসিতা হতে বাঁচিয়ে রেখ। কেননা আল্লাহর খাস বান্দাগণ বিলাসী জীবন-যাপন করেন না। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَ بِهِ إِلَى الْيَمَنِ قَالَ: «إِيَّاكَ وَالتَّنَعُّمَ فَإِنَّ عِبَادَ الله لَيْسُوا بالمتنعمين» . رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 243 ح 22456) [و ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (5 / 155)] * مریح بن مسروق روی عنہ جماعۃ و وثقہ ابن حبان وحدہ و ارسل عن عمر ففی سماعہ من معاذ نظر لانہ توفی قبل عمر رضی اللہ عنھما ۔

وعن معاذ بن جبل ان رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث به الى اليمن قال: «اياك والتنعم فان عباد الله ليسوا بالمتنعمين» . رواه احمد اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 243 ح 22456) [و ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (5 / 155)] * مریح بن مسروق روی عنہ جماعۃ و وثقہ ابن حبان وحدہ و ارسل عن عمر ففی سماعہ من معاذ نظر لانہ توفی قبل عمر رضی اللہ عنھما ۔

ব্যাখ্যা : ইতোপূর্বে একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.)- মু'আয (রাঃ)-কে ইয়ামানে কাযী এবং গভর্নর হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। তার রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বিভিন্ন ওয়াসিয়্যাত-নাসীহত করেন। অত্র হাদীসে এমনি একটি নাসীহাত বিবৃত হয়েছে। এ নাসীহাতে তিনি (সাঃ) তাকে অতিরিক্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রাচুর্যপূর্ণ জীবন থেকে নিজেকে রক্ষার কথা বলেছেন। কেননা অতি ভোজন ও সীমাতিরিক্ত বিলাসিতা মানুষকে শাহওয়াত তথা প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে বাধ্য করে, ফলে সে আল্লাহর “ইবাদত করতে কমই সক্ষম হয়ে থাকে। উপরন্তু সে আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত হয়। এজন্য আল্লাহর খাস এবং প্রিয় বান্দারা মোটেও বিলাসী জীবন পছন্দ করেন না। এমন বিলাসী জীবন হলো কাফির-মুশরিক, জাহিল আল্লাহবিমুখ ব্যক্তিদের জন্য খাস। আল্লাহ তা'আলা বলেন, (ذَرۡهُمۡ یَاۡکُلُوۡا وَ یَتَمَتَّعُوۡا وَ یُلۡهِهِمُ الۡاَمَلُ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۳﴾) “আপনি তাদের ছেড়ে দিন, তারা খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক, আর আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্ত্বর তারা (তাদের পরিণতি) জেনে নিবে।” (সূরাহ্ আল হিজর ১৫ : ০৩)
এ আয়াতের তাফসীরে বলা হয়েছে- পানাহারকে লক্ষ্য ও আসল বৃত্তি সাব্যস্ত করে নেয়া এবং সাংসারিক বিলাস-ব্যসনের দীর্ঘ পরিকল্পনা প্রণয়নে মেতে থাকা কাফিরদের দ্বারাই হতে পারে, যারা পরকাল ও তার হিসাব নিকাশে বিশ্বাস করে না। (তাফসীরে মা'রিফুল কুরআন ৭২৫ পৃ.)

আল্লাহ আরো বলেন, (وَ یَاۡکُلُوۡنَ کَمَا تَاۡکُلُ الۡاَنۡعَامُ وَ النَّارُ مَثۡوًی لَّهُمۡ) “আর যারা কাফির তারা ভোগ বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মতো আহার করে, তাদের বাসস্থান জাহান্নাম”- (সূরাহ্ মুহাম্মাদ ৪৭ : ১২)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬৩-[৩৩] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর তরফ থেকে অল্প রিযকের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, আল্লাহ তার অল্প ’আমলে সন্তুষ্ট হন।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ رَضِيَ مِنَ اللَّهِ بِالْيَسِيرِ مِنَ الرِّزْقِ رَضِيَ الله مِنْهُ بِالْقَلِيلِ من الْعَمَل»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (4585 ، نسخۃ محققۃ : 4265) * اسحاق بن محمد الفروی ضعیف ضعفہ الجمھور و الراوی شک فی سماعہ من ابیہ و السند منقطع ۔
(ضَعِيف)

وعن علي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من رضي من الله باليسير من الرزق رضي الله منه بالقليل من العمل» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (4585 ، نسخۃ محققۃ : 4265) * اسحاق بن محمد الفروی ضعیف ضعفہ الجمھور و الراوی شک فی سماعہ من ابیہ و السند منقطع ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : হাদীসের শব্দ (مَنْ رَضِيَ) অর্থ হলো : (مَنْ قَنَعَ،مِنْهُ بِقَلِيلٍ مِنَ الطَّعَامِ) “যে আল্লাহর দেয়া সামান্য জীবিকা পেয়েই পরিতুষ্ট; এতে সে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ-অনুযোগ করে না, কারো কাছে কিছু চায় না এবং ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার সাথে জীবন নির্বাহ করে থাকে আল্লাহ তা'আলা তার অল্প ‘আমলেই সন্তুষ্ট হন। প্রকৃতপক্ষে বান্দার সন্তুষ্টি প্রথমত আল্লাহর সন্তুষ্টিরই প্রভাব, অতঃপর শেষে আল্লাহর সন্তুষ্টি তার জাতি সন্তুষ্টির চূড়ান্ত রূপ, আর তা হলো তার পুরস্কার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬৪-[৩৪] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে অভুক্ত ও অভাবী ব্যক্তি তার প্রয়োজনের কথা মানুষের নিকট গোপন করে (সবর করে) তখন আল্লাহর জিম্মায় এ ওয়াদা রয়েছে যে, তিনি বৈধভাবে এক বছরের রিযক তাকে পৌঁছে দেবেন। (হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বীর শুআবুল ঈমান বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَاعَ أَوِ احْتَاجَ فَكَتَمَهُ النَّاسُ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَرْزُقَهُ رِزْقَ سَنَةٍ مِنْ حلالٍ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10054 ، نسخۃ محققۃ : 9581) * فیہ ابو عبد الرحمن السلمی ضعیف جدًا ، ولاعمش مدلس و عنعن ان صح السند الیہ و علل أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من جاع او احتاج فكتمه الناس كان حقا على الله عز وجل ان يرزقه رزق سنة من حلال» . رواهما البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10054 ، نسخۃ محققۃ : 9581) * فیہ ابو عبد الرحمن السلمی ضعیف جدا ، ولاعمش مدلس و عنعن ان صح السند الیہ و علل أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : “যে ব্যক্তি অভুক্ত থাকে এটা প্রকৃত এবং বাস্তব ক্ষুধাকেই বুঝানো হয়েছে। অথবা এমন অভাব যে, কোন বস্তু তার ক্ষুধা, কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন মিটানোর মতো নেই, কিন্তু সে তার ক্ষুধা ও অভাবের কথা কারো কাছে প্রকাশ করে না বরং ধৈর্যধারণ করে থাকে এমন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর হক রয়েছে এক বছর পর্যন্ত তাকে হালাল রিযক দান করেন। এখানে ‘হক’ অর্থ পূর্ণ অঙ্গীকার অথবা তার নিকট আবশ্যক সিদ্ধান্ত। ক্ষুধা হলো ঐ ক্ষুধা যাতে ধৈর্য এবং অল্পে তুষ্টি রয়েছে, আর ‘কিতমান’ হলো নিজের অভাব তথা ক্ষুধাকে গোপন রাখা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ মুনকার (সহীহ হাদীসের বিপরীত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬৫-[৩৫] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা তাঁর ঈমানদার, গরীব, পরিবারের বোঝা বহনকারী, অবৈধ উপায় থেকে মুক্ত- এমন বান্দাকে ভালোবাসেন। (ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ عَبْدَهُ الْمُؤْمِنَ الْفَقِيرَ الْمُتَعَفِّفَ أَبَا الْعِيَالِ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4121) * فیہ موسی بن عبیدۃ ضعیف و القاسم بن مھران لم یثبت سماعہ من عمران و فیہ علۃ أخری ولہ شاھد ضعیف جدًا ۔
(ضَعِيف)

وعن عمران بن حصين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله يحب عبده المومن الفقير المتعفف ابا العيال» . رواه ابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4121) * فیہ موسی بن عبیدۃ ضعیف و القاسم بن مھران لم یثبت سماعہ من عمران و فیہ علۃ أخری ولہ شاھد ضعیف جدا ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসের ব্যাখ্যা নিষ্প্রয়োজন। আল্লামাহ্ মুল্লা ‘আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন : (الْمَعْنٰى أَنَّهٗ مَعَ كَوْحِبَ الْعِيَالِ وَفَقِيرَ الْحَالِ وَكَسِيرَ الْبَالِ تَعَفَّفَ عَنِ السُّؤَالِ،فَهُوَ الْمُؤْمِنُ عَلٰى وَجَهِ الْكَمَلِ، فَلِذَاأَحَبَّهٗ ذُوالْجَلَالِ وَالْجَمَالِ) ‘দরিদ্র মুমিন বান্দার” অর্থ হলো দরিদ্রতার সাথে সাথে সে অধিক পোষ্যের অধিকারী, ফকীরী হালাত ও ভগ্ন জীবন, কিন্তু অপরের নিকট কিছু চাওয়া থেকে মুক্ত থাকে, সেই হলো পূর্ণমাত্রায় মু'মিন। এজন্য আল্লাহু যুল জালাল ওয়াল জামাল তাকে ভালোবাসেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬৬-[৩৬] যায়দ ইবনু আসলাম (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ’উমার (রাঃ), পান করার জন্য পানি চাইলেন। তখন তাঁর কাছে এমন পানি আনা হলো যাতে মধু মিশ্রিত ছিল। তখন তিনি বললেন : এটা বড়ই সুস্বাদু বটে। তবে আমি আল্লাহ তা’আলাকে এমন এক সম্প্রদায়ের ওপর দোষারোপ করতে শুনেছি যারা নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা বলেছেন : তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই তোমাদের প্রাপ্ত নি’আমাতের স্বাদ উপভোগ করেছ। অতএব আমি আশঙ্কা করছি (অনুরূপভাবে আমাদেরকেও আগে-ভাগে দুনিয়াতে দ্রুতবেগে আমাদের ভালো কাজের প্রতিদান দেয়া হচ্ছে কিনা? এ বলে তিনি আর তা পান করলেন না। (রযীন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن زيدِ بنِ أسلمَ قَالَ: اسْتَسْقَى يَوْمًا عُمَرُ فَجِيءَ بِمَاءٍ قَدْ شيبَ بعسلٍ فَقَالَ: إِنَّه لطيِّبٌ لكني أَسْمَعُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ نَعَى عَلَى قَوْمٍ شَهَوَاتِهِمْ فَقَالَ (أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا) فَأَخَافُ أَنْ تَكُونَ حَسَنَاتُنَا عُجِّلَتْ لَنَا فَلَمْ يشربْه. رَوَاهُ رزين

لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) ۔
(ضَعِيف)

وعن زيد بن اسلم قال: استسقى يوما عمر فجيء بماء قد شيب بعسل فقال: انه لطيب لكني اسمع الله عز وجل نعى على قوم شهواتهم فقال (اذهبتم طيباتكم في حياتكم الدنيا واستمتعتم بها) فاخاف ان تكون حسناتنا عجلت لنا فلم يشربه. رواه رزين لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : মধুমিশ্রিত পানির ব্যাপারে ‘উমার (রাঃ) বলেন, (الَطَيِّب) ‘উত্তম’ শব্দটি সুন্দর, পবিত্র, সুস্বাদ ইত্যাদি অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এ উত্তম বা সুস্বাদু যে অর্থেই ব্যবহৃত হোক না কেন তা প্রকৃতিগতভাবে, শারই দিক থেকে, উপকারিতা এবং গুণগত মানের দিক থেকেও শ্রেষ্ঠত্বের দাবী রাখে।

‘উমার (রাঃ) -এর কথার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে কিছু শব্দ ও বাক্য উহ্য রয়েছে আর তা হলো : (أنَّهٗ لَطَيِّبٌ أَشَتَهِيهِ لَكِنِّي أعْرِ ضُ عَنّهُ، لأَنِّي سَمِعَتُ اللّٰهَ عَزَّ وَجَلَّ...) (আমি জানি এ মধুমিশ্রিত) পানি বা শরবত অবশ্যই সুস্বাদু এবং পবিত্র, কিন্তু আমি তা বর্জন করেছি এজন্য যে, আল্লাহ এমন এক জাতিকে অপছন্দ করেছেন বা দোষারোপ করেছেন যারা তাদের প্রবৃত্তির চাহিদা চরিতার্থ করার জন্যই নানা প্রকার সুখাদ্য ও পানীয়ের স্বাদ উপভোগ করেছে। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে বলেছেন তোমরা দুনিয়ার জীবনেই তোমাদের স্বাদের বস্তুগুলো উপভোগ করেছ, আখিরাতের সঞ্চয় তোমাদের কিছুই নেই। আল্লাহ বলেন : “যে কেউ ইহকাল কামনা করে, আমি সেসব লোককে যা ইচ্ছা সত্বর দিয়ে দেই। অতঃপর তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি। ওরা তাতে নিন্দিত বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করবে।” (সূরাহ্ ইসরা ১৮ : ১৮)

‘উমার (রাঃ)-এর মধুমিশ্রিত পানি বা শরবত গ্রহণ না করা ছিল স্বীয় প্রবৃত্তির বিরোধিতার জন্য এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬৭-[৩৭] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খায়বার জয় করা পর্যন্ত আমরা খেজুর দ্বারাও পরিতৃপ্ত হইনি। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَن ابنِ عمَرَ قَالَ: مَا شبِعنا من تمر حَتَّى فتحننا خَيْبَرَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (4243) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عمر قال: ما شبعنا من تمر حتى فتحننا خيبر. رواه البخاري رواہ البخاری (4243) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)-এর কথা আমরা খেজুর দ্বারা পরিতৃপ্ত হইনি' এ ‘আমরা' দ্বারা ‘উমার (রাঃ)-এর পরিবারের সদস্যদের বুঝানো হয়েছে।
মুল্লা ‘আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর অর্থ হলো : (نَحْنُ مَعْشَرَالصَّحَابَةِ مَعَهٗ صلَّى اللَّهُ تَعَالٰى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) আমরা সমস্ত সাহাবী এবং আমাদের সাথে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) - নিজেও। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও  তার পরিবার পরিজনও এর অন্তর্ভুক্ত, এটাই বাস্তব। (মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২১ )


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

ভাষা বিজ্ঞানী আল্লামাহ্ জাওহারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الْأَمَلُ) শব্দের অর্থ হলো (الرَّجَاءُ) আশা, আকাঙ্ক্ষা পোষণ করা এবং তা অর্জনে ডুবে থাকা, মৃত্যু ও পরকালের পাথেয় ও প্রস্তুতি থেকে সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত এবং গাফিল থাকা। যেমন আল্লাহর বাণী : (ذَرۡهُمۡ یَاۡکُلُوۡا وَ یَتَمَتَّعُوۡا وَ یُلۡهِهِمُ الۡاَمَلُ فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ) “আপনি ছেড়ে দিন তাদেরকে, খেয়ে নিক এবং ভোগ করে নিক এবং দীর্ঘ আশায় ব্যাপৃত থাকুক। অতি সত্বর তারা জেনে নিবে।” (সূরাহ্ আল হিজর ১৫ : ০৩)
অবশ্য ’ইলম ও আ’মালের জন্য দীর্ঘ আশা, এটা নিন্দনীয় নয়তো বটেই বরং সর্বোসম্মতভাবে প্রশংসনীয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)


৫২৬৮-[১] ’আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নাবী (সা.) একটি চতুর্ভুজ আঁকলেন এবং তার মধ্যে একটি রেখা টানলেন যা চতুর্ভূজ পার হয়ে বাহিরে চলে গেছে। অতঃপর মধ্য রেখাটির উভয় পার্শ্বে অনেকগুলো ছোট ছোট রেখা এঁকে বললেন : (মনে করো, মধ্যের রেখাটি) এটা মানুষ। আর এটা (চতুর্ভূজ) তার বয়সের সীমা, যা তাকে বেষ্টন করে রয়েছে। আর ঐ রেখার বাইরের অংশটি তার আকাঙ্ক্ষা। আর এ সমস্ত ছোট দাগগুলো তার বিপদ-মুসীবাত (যাতে সে আপতিত হতে পারে)। যদি সে একটি বিপদ হতে রক্ষা পায় তবে পরবর্তী বিপদে আক্রান্ত হয়। যদি সেটা হতেও রক্ষা পায় তবে এর পরেরটিতে আক্রান্ত হয়। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

عَن عبد الله قَالَ: خَطَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطًّا مُرَبَّعًا وَخَطَّ خَطًّا فِي الْوَسَطِ خَارِجًا مِنْهُ وَخَطَّ خُطُطًا صِغَارًا إِلَى هَذَا الَّذِي فِي الْوَسَطِ مِنْ جَانِبِهِ الَّذِي فِي الْوَسَطِ وفقال: «هَذَا الْإِنْسَانُ وَهَذَا أَجَلُهُ مُحِيطٌ بِهِ وَهَذَا الَّذِي هُوَ خَارِجُ أَمَلِهِ وَهَذِهِ الْخُطُوطُ الصِّغَارُ الْأَعْرَاضُ فَإِنْ أَخْطَأَهُ هَذَا نَهَسَهُ هَذَا وَإِنْ أخطأه هَذَا نهسه هَذَا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6417) ۔
(صَحِيح)

عن عبد الله قال: خط النبي صلى الله عليه وسلم خطا مربعا وخط خطا في الوسط خارجا منه وخط خططا صغارا الى هذا الذي في الوسط من جانبه الذي في الوسط وفقال: «هذا الانسان وهذا اجله محيط به وهذا الذي هو خارج امله وهذه الخطوط الصغار الاعراض فان اخطاه هذا نهسه هذا وان اخطاه هذا نهسه هذا» . رواه البخاري رواہ البخاری (6417) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যাঃ রাসুলুল্লাহ (সা.) - মাটির উপর কিংবা অন্য কোন কিছুর উপর একটি চতুর্ভুজ অংকন করেছিলেন।
হায়াতের রেখা দ্বারা বেষ্টিত মানুষের উক্ত বেষ্টনী ভেদ করে বের হওয়া অথবা পলায়ন করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। কিন্তু তার আশা ও আকাঙ্ক্ষা এত শক্তিমান ও দুর্বার যে, ঐ দুর্ভেদ্য হায়াত সীমা ভেদ করে অনেক দূরে পৌঁছে গিয়েছে।
এদিকে বিভিন্নমুখী বিপদ মুসীবাতের রেখাগুলো সারিবদ্ধভাবে তার দু’দিকে অবস্থান নিয়েছে, একের পর এক এগুলো তার ওপর আবর্তিত হয়, একটি থেকে রক্ষা পেলে অন্যটি আক্রমণ ও দংশন করে থাকে। সর্বশেষে কোন একটির আক্রমণ আর প্রতিহত করতে পারে না, ফলে সীমাহীন আশা নিয়ে হায়াতের সীমায় গিয়ে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, লু'আতুত্ তানক্বীহ ৮ম খণ্ড, ৪৮৫ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৬৯-[২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নাবী (সা.) কয়েকটি রেখা আঁকলেন। তারপর বললেন : এটা (এ রেখাটি) আকাঙ্ক্ষা। আর এটা তার আয়ু (এর রেখা)। এ অবস্থায় আশা আকাঙ্ক্ষার মধ্যে হঠাৎ কাছাকাছি রেখাটি (মৃত্যু) তার দিকে এগিয়ে আসে। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَطَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطُوطًا فَقَالَ: «هَذَا الْأَمَلُ وَهَذَا أَجَلُهُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ جَاءَهُ الْخَطُّ الأقربُ» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6418) ۔
(صَحِيح)

وعن انس قال: خط النبي صلى الله عليه وسلم خطوطا فقال: «هذا الامل وهذا اجله فبينما هو كذلك اذ جاءه الخط الاقرب» . رواه البخاري رواہ البخاری (6418) ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭০-[৩] উক্ত রাবী (আনাস রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সা.) বলেছেন : আদম সন্তান বৃদ্ধ হয় এবং দুটি জিনিস তার মধ্যে জওয়ান হয়- সম্পদের প্রতি ভালোবাসা এবং দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্ক্ষা। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ وَيَشِبُّ مِنْهُ اثْنَانِ: الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ وَالْحِرْصُ عَلَى الْعُمُرِ . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6421) و مسلم (115 / 1047)، (2412) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: يهرم ابن ادم ويشب منه اثنان: الحرص على المال والحرص على العمر . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6421) و مسلم (115 / 1047)، (2412) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : ‘আরবী (يَهْرَمُ) শব্দটি (بَابُ سَمِعَ) থেকে এসেছে, (الْهَرَمُ) মাসদার থেকে এর অর্থ বৃদ্ধ হওয়া, চুল সাদা হয়ে যাওয়া; এখানে দুর্বল হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(يَشِبُّ) শব্দটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুল্লা আলী ক্বারী বলেন, (يَنْمُو وَيَقْوٰى) অর্থাৎ বাড়ে এবং শক্তিশালী হয়। অর্থাৎ আদম সন্তান বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু তার দু'টি বস্তু বাড়তে থাকে এবং খুব শক্তিশালী হতে থাকে।
ইমাম বায়হাকীর ‘তাজ’ অনুরূপ কামূস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: (أَنَّ الْهَرَمَ كِبَرُلسِّنِّ مِنْ بَابِ عَلِمَ، وَشَبَّ شَبَابًامِنْ بَابِ ضَرَبَ)
(هَرِمَ) শব্দটি অধিক বয়সের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, এটি (بَابُ عَلِمَ) থেকে এসেছে আর (شَبَّ شَبَابٌ) এসেছে (ضَرَبَ) এর অধ্যায় থেকে।
সম্পদের লোভ হলো সম্পদ জমা করা বা পুঞ্জিভূত করা, তা কাউকে না দেয়া। আর দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্ক্ষা হলো মৃত্যুকে দূরে ভাবা এবং হায়াতের সীমানায় কুলাবে না জেনেও দীর্ঘকাল বাঁচার আশায় আ'মাল স্থগিত রাখা কিংবা পরে করব বলে বিলম্বিত করা।
ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (يَشِبُّ) শব্দটি (اسْتِعارَةٌ) বা অলঙ্কার শাস্ত্রের রূপক ব্যবহার, এর অর্থ হলো- বৃদ্ধের অন্তর বা কলব দুনিয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে যুবকের যৌবনকালের শক্তিতে শক্তিমান। (মিরকাতুল মাফাতীহ; লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৭ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭১-[৪] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন : বৃদ্ধ লোকের অন্তর দুটি ব্যাপারে সর্বদা জওয়ান হতে থাকে। দুনিয়ার ক্ষেত্রে ভালোবাসা ও দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يَزَالُ قَلْبُ الْكَبِيرِ شَابًّا فِي اثْنَيْنِ: فِي حُبِّ الدُّنْيَا وَطول الأمل . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6420) و مسلم (114 / 1046)، (2411) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: لا يزال قلب الكبير شابا في اثنين: في حب الدنيا وطول الامل . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6420) و مسلم (114 / 1046)، (2411) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসের ব্যাখ্যা পূর্বের হাদীসের ব্যাখ্যানুরূপ। বৃদ্ধের এই দুনিয়াপ্রীতির দ্বারা মূলত মৃত্যুকে অপছন্দ করা। কেননা বয়স্ক ব্যক্তির মৃত্যু ও পরকালের চিন্তা এবং তার জন্য প্রস্তুত থাকা ছিল আবশ্যক কিন্তু সে তা ভুলে সম্পদ ও দীর্ঘায়ুর আশায় বিভোর। (মিরকাতুল মাফাতীহ; লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৮ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭২-[৫] উক্ত রাবী (আবু হুরায়রাহ্ রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা সে ব্যক্তির আপত্তির অবকাশ রাখেননি যার মৃত্যুকে বিলম্বিত করে ষাট বছরে পৌঁছে দিয়েছেন। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْذَرَ اللَّهُ إِلَى امْرِئٍ أَخَّرَ أَجَلَهُ حَتَّى بَلَّغَهُ سِتِّينَ سَنَةً» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

رواہ البخاری (6419) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اعذر الله الى امرى اخر اجله حتى بلغه ستين سنة» . رواه البخاري رواہ البخاری (6419) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : হাদীসে উল্লেখিত (أعَزَّرَ) শব্দটি (عزر) মূলধাতু থেকে উৎপন্ন অর্থ ওযর বা আপত্তি পেশ করা। এর উপর হামযা অক্ষরটি (سلب مأحز) মাদ্দাহর অর্থ দূরীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তার ওযর বা আপত্তি উঠিয়ে নেন, তার ওযর পেশ করার আর কোন সুযোগ রাখেন না। এর অর্থ হলো মানুষের বয়স যখন ষাট বছরে পৌঁছে যায় তখন সে এক সম্মানের জীবনে পদার্পণ করে; এটা তার জীবনের জন্য অতিরিক্ত পাওনা, এ সময়ে সে অতীতের পাপের জন্য তাওবাহ করবে, ‘ইবাদতে চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করবে। কিন্তু এসবের পরোয়া না করে সে যদি গাফিল হয়েই থাকে তাহলে কিয়ামতের বিচারের কোর্টে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবাহ ও ইবাদাত-বন্দেগী না করার কোন প্রকার আপত্তি গ্রহণ করবেন না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৮ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৩-[৬] ইবনু আব্বাস (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আদম সন্তানকে ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ দুটি উপত্যকাও যদি দেয়া হয়, সে তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করবে। মূলত আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কিছুই পরিপূর্ণ করতে পারবে না, আর যে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবুল করেন। (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى ثَالِثًا وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6436) و مسلم (118 / 1049)، (2418) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لو كان لابن ادم واديان من مال لابتغى ثالثا ولا يملا جوف ابن ادم الا التراب ويتوب الله على من تاب» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6436) و مسلم (118 / 1049)، (2418) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসে ধন-সম্পদের দুটি উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি বর্ণনায় স্বর্ণের দুটি উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। অপর বর্ণনায়, স্বর্ণের দুটি উপত্যকার কথা উল্লেখ রয়েছে। (لَابْتَغَى ثَالِثًا) সে তৃতীয় আরেকটির আকাঙ্ক্ষা করবে’ অর্থাৎ আরেকটি বড় এবং বিশাল উপত্যকা সে কামনা করবে। এভাবে তাকে যদি সেটাও দেয়া যায় তাহলে চতুর্থ বা পঞ্চমটির আকাঙ্ক্ষা সে করবে। আর এভাবে তার আশা ও আকাঙ্ক্ষা চলতে থাকবে। সম্পদ দিয়ে তার চোখও আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ হবে না, হবে একমাত্র মাটি দ্বারা। অর্থাৎ কবরের মাটিই কেবল তার অসীম আকাঙ্ক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটাবে। এতে নাবী (সা.)-এর সতর্ক সংকেত যে বখীলের বুখালতিটা হলো লোভের উত্তরাধিকারী এবং তা মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাবের নিগঢ়ে প্রোথিত। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে বলেছেন যা প্রচলিত প্রবাদ ও হাদীসের চেয়ে অধিক স্পষ্ট। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (قُلۡ لَّوۡ اَنۡتُمۡ تَمۡلِکُوۡنَ خَزَآئِنَ رَحۡمَۃِ رَبِّیۡۤ اِذًا لَّاَمۡسَکۡتُمۡ خَشۡیَۃَ الۡاِنۡفَاقِ ؕ وَ کَانَ الۡاِنۡسَانُ قَتُوۡرًا) “বলুন : যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভাণ্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে খরচের ভয়ে তা অবশ্যই ধরে রাখতে, মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ১০০)

মানুষের সম্পদের লোভ এবং দরিদ্রতাভীতি হলো বুখালতি বা কৃপণতার মূল কারণ। এমনকি নিজের ব্যাপারেও সে কৃপণতা করে থাকে। এর দৃষ্টান্ত ঐ পিপাসিত পাখির চেয়েও অধিক যে সাগরের উপরে পিপাসা নিয়ে উড়ে বেড়ায় কিন্তু সাগরের পানি শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে না খেয়ে মারা যায়।
উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা তাওবাহ করবে আল্লাহ তাদের তাওবাহ্ কবুল করবেন। অর্থাৎ যে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসবে এবং তার রহমত কামনা করবে আল্লাহ তাকে তার রহমতের আশ্রয়ে গ্রহণ করবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৯ পৃ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৪-[৭] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার শরীরের এক অংশ ধরে বললেন : পৃথিবীতে অপরিচিত মুসাফির অথবা পথযাত্রীর মতো জীবন-যাপন করো। আর প্রতিনিয়ত নিজেকে কবরবাসী মনে করো। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَعْضِ جَسَدِي فَقَالَ: «كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سبيلٍ وعُدَّ نفسَكَ فِي أهل الْقُبُور» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6416) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عمر قال: اخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ببعض جسدي فقال: «كن في الدنيا كانك غريب او عابر سبيل وعد نفسك في اهل القبور» . رواه البخاري رواہ البخاری (6416) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ (সা.) ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার-এর শরীরে কোন একটি অংশ ধরে বলছিলেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন। মুল্লা আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, শরীরে বা কাঁধে হাত রাখার হিকমত হলো তাকে নিকটে টেনে নেয়া এবং নিজের দিকে মনোনিবেশ করানো, যাতে তার কথাগুলো ভালোভাবে উপলব্ধি করে নিতে পারে।
অতঃপর তিনি তাকে বললেন, তুমি দুনিয়ায় এভাবে থাকো যেন একজন অপরিচিত ব্যক্তি অথবা পথিক। এটা এজন্য যে, দুনিয়া হলো চলাচলের স্থান এবং (কোন নদী) পার হওয়ার সেতুসদৃশ।

অতএব মু'মিনের উচিত ‘ইবাদত বন্দেগীর মধ্যে নিমগ্ন থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, মাস ও বছরগুলো পাড়ি দিয়ে প্রকৃত দেশ ও আবাসভূমি জান্নাতে পৌছার প্রতি উদ্গ্রীব থাকা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে আরো বলেন, তুমি তোমাকে কবরবাসীদের মধ্যে গণনা কর। অর্থাৎ তুমি তোমাকে কবরের অভিযাত্রী অথবা কবরে বসবাসকারী হিসেবে ধরে নাও। এটা যেন ঐ বাক্যের মতো : (مُو تُوا قَبْلَ أَنْ تَمُو تُوا،وَحَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا) তোমার মরণের আগেই তুমি মরে যাও এবং তোমার হিসাব গ্রহণের পূর্বেই নিজের হিসাব নিজে গ্রহণ কর। (মিরকাতুল মাফাতীহ; লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৯ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৫-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নিকট দিয়ে এমন সময় অতিক্রম করলেন তখন আমি ও আমার মা কাদামাটি দ্বারা (ঘর) মেরামতের কিছু কাজ করছিলাম। তিনি (সা.) জিজ্ঞেস করলেন : হে ’আবদুল্লাহ! এটা কি করছ? বললাম: আমরা একটি অংশ মেরামত করছি। তিনি (সা.) বললেন : মৃত্যু তা অপেক্ষা অধিক দ্রুত আগমনকারী। [আহমাদ ও তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন : হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)

عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: مَرَّ بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا وَأُمِّي نُطَيِّنُ شَيْئًا فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا عَبْدَ اللَّهِ؟» قُلْتُ شَيْءٌ نُصْلِحُهُ. قَالَ: «الْأَمْرُ أَسْرَعُ مِنْ ذَلِكَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

صحیح ، رواہ احمد (2 / 161 ح 6502) و الترمذی (2335) ۔
(صَحِيح)

عن عبد الله بن عمرو قال: مر بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا وامي نطين شيىا فقال: «ما هذا يا عبد الله؟» قلت شيء نصلحه. قال: «الامر اسرع من ذلك» . رواه احمد والترمذي وقال: هذا حديث غريب صحیح ، رواہ احمد (2 / 161 ح 6502) و الترمذی (2335) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) তার বাড়ীর সংস্কার কাজ করছিলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তা দেখে বললেন, বিষয়টি এর চেয়েও দ্রুত। অর্থাৎ তুমি বাড়ীর সংস্কার অথবা বর্ধিতকরণের কাজ করছ, ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য কিংবা শক্তিশালী নির্মাণ কাঠামো তৈরির জন্য অথচ এটা ধ্বংসের আগেই তোমার মৃত্যু হয়ে যাবে। মূলকথা বসবাস উপযোগী বাড়ীঘর পুনঃনির্মাণ বা সংস্কার এত জরুরী নয়। আমাদের দুনিয়ার জীবন তো পথিক মুসাফিরের ন্যায় অথবা কোন গাছের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণকারী সওয়ারীর ন্যায়। তুমি বাড়ী ঘর ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সংস্কার করছ যাতে তোমার মৃত্যুর আগে তা ধ্বংস না হয়। কিন্তু হতে পারে তোমার বাড়ীঘর ধ্বংসের আগেই তোমার অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। অতএব তোমার বাড়ী-ঘর সংস্কারের চেয়ে তোমার আমল সংস্কার করাই উত্তম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৯ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৬-[৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) পেশাব করার পর মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করতেন। আমি বলতাম : হে আল্লাহর রসূল! পানি তো আপনার কাছেই। তিনি (সা.) বলতেন, আমি কিরূপে জানব যে, (মৃত্যু আসার পূর্বে) আমি সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারব কিনা? (শারহুস্ সুন্নাহ্ ও ইবনু জাওযী-এর কিতাবুল ওয়াফা’)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُهَرِيقُ الْمَاءَ فَيَتَيَمَّمُ بِالتُّرَابِ فَأَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمَاءَ مِنْكَ قَرِيبٌ يَقُولُ: «مَا يُدْرِينِي لَعَلِّي لَا أَبْلُغُهُ» . رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» وَابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كتاب «الْوَفَاء»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 232 ح 4031) [و احمد (1 / 288 و ابن المبارک فی الزھد : 292) و الطبرانی فی الکبیر (12 / 238 ح 12987 ، بلون آخر) * ابن لھیعۃ مدلس و عنعن ۔

وعن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يهريق الماء فيتيمم بالتراب فاقول: يا رسول الله ان الماء منك قريب يقول: «ما يدريني لعلي لا ابلغه» . رواه في «شرح السنة» وابن الجوزي في كتاب «الوفاء» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 232 ح 4031) [و احمد (1 / 288 و ابن المبارک فی الزھد : 292) و الطبرانی فی الکبیر (12 / 238 ح 12987 ، بلون آخر) * ابن لھیعۃ مدلس و عنعن ۔

ব্যাখ্যা : হাদীসের বাক্য : (كَنَ يُهْرِيقُ الْمَاءَ) তিনি পানি ঢালতেন, এটা কিনায়া বা পরোক্ষ কথা; এর অর্থ তিনি পেশাব করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) পানি হাতের নাগালে অথবা নিকটতম কোন স্থানে না পেলে সাথে সাথে আপাতত তায়াম্মুম করে নিতেন; যাতে পরবর্তী পানি পাওয়া বা উযূর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পবিত্র অবস্থায় থাকতে পারেন। মূলত তিনি জীবনের প্রতি এতটুকু নিশ্চয়তা মনে করতেন না যে, আগামী সালাত পর্যন্ত বা পানির নিকট পৌছা পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব। (মিরকাতুল মাফাতীহ; লুম্'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৯০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৭-[১০] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) বলেছেন: এ হলো আদম সন্তান আর এটা হলো তার জীবন-সীমা (মৃত্যু)। এটা বলে তিনি (সা.) তার পিছনে হাত রাখলেন। অতঃপর হাত বিস্তৃত করে বললেন: এ স্থানে মানুষের আকাঙ্ক্ষা। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)

عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «هَذَا ابْنُ آدَمَ وَهَذَا أَجَلُهُ» وَوَضَعَ يَدَهُ عِنْدَ قَفَاهُ ثُمَّ بَسَطَ فَقَالَ: «وَثَمَّ أمله» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2334 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)

عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «هذا ابن ادم وهذا اجله» ووضع يده عند قفاه ثم بسط فقال: «وثم امله» . رواه الترمذي اسنادہ صحیح ، رواہ الترمذی (2334 وقال : حسن صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের দেহ অবয়বের দিকে ইশারা করে মানুষের প্রকৃত সত্তাকে বুঝিয়েছেন। আর তার গ্রীবাদেশে হাত রেখে হায়াতের সীমা বুঝিয়েছেন মানুষ এর বাহিরে নয়। আর তিনি হাত প্রসারিত করে তার আকাঙ্ক্ষার পরিধি বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা হায়াতের পরিধি অতিক্রম করে অনেকখানি দূরে চলে গেছে। ঘাড়ের পিছনে হাত রেখে এ কথা বলা যে, এটা তার হায়াত এর অর্থ এই যে, মৃত্যু তার পিছনে অর্থাৎ ঘাড়ের সাথেই লটকানো রয়েছে। আর আকাঙ্ক্ষার দূরত্বের চেয়ে মৃত্যুর দূরত্ব খুবই কম বা নিকটে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৯১ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৮-[১১] আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন নাবী (সা.) নিজের সামনে (মাটিতে) একটি কাঠি গাড়লেন এবং তারই পার্শ্বে আরেকটি গাড়লেন। অতঃপর (তৃতীয়) আরেকটি গাড়লেন তা হতে বহু দূরে। তারপর উপস্থিত লোকেদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো এটা কি? তারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল সর্বাধিক জ্ঞাত। তিনি (সা.) বললেন : (মনে করো) এ প্রথম কাঠিটি হলো মানুষ। আর দ্বিতীয়টি হলো তার মৃত্যু। রাবী (আবু সাঈদ আল খুদরী রাঃ) বলেন, দূরবর্তী তৃতীয় কাঠিটির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি (সা.) বলেছেন : “তা হলো তার লালসা ও আকাঙ্ক্ষা”। এদিকে সে মোহের দরিয়াতে ডুবে থাকে, অপরদিকে তা পূর্ণ না হতে মৃত্যু তাকে পেয়ে বসে। (শারহুস্ সুন্নাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَرَزَ عُودًا بَيْنَ يَدَيْهِ وَآخَرَ إِلَى جَنْبِهِ وَآخَرَ أَبْعَدَ مِنْهُ. فَقَالَ: «أَتُدْرُونَ مَا هَذَا؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «هَذَا الْإِنْسَانُ وَهَذَا الْأَجَلُ» أُرَاهُ قَالَ: «وَهَذَا الْأَمَلُ فَيَتَعَاطَى الْأَمَلَ فَلَحِقَهُ الْأَجَلُ دُونَ الْأَمَلِ» . رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السّنة»

اسنادہ حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 285 ح 4091) [و احمد (3 / 18 ح 11149)] ۔
(صَحِيح)

وعن ابي سعيد الخدري ان النبي صلى الله عليه وسلم غرز عودا بين يديه واخر الى جنبه واخر ابعد منه. فقال: «اتدرون ما هذا؟» قالوا: الله ورسوله اعلم. قال: «هذا الانسان وهذا الاجل» اراه قال: «وهذا الامل فيتعاطى الامل فلحقه الاجل دون الامل» . رواه في «شرح السنة» اسنادہ حسن ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 285 ح 4091) [و احمد (3 / 18 ح 11149)] ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : বর্ণিত এ জাতীয় হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষ তার হায়াত এবং তার আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। চিত্রটির নমুনা নীচে তুলে ধরা হলো :
১ নং রেখা আদম সন্তান (মানুষ)। ২ নং রেখা তার মৃত্যু। ৩ নং রেখা আদাম সন্তানের আশা-আকাঙ্ক্ষা, যা ২ নং মৃত্যুরেখা ছেড়ে অনেক দূর চলে গেছে, অথচ তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ২ নং মৃত্যু রেখা তাকে পেয়ে বসে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৯-[১২] আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সা.) বলেছেন : আমার উম্মাতের বয়সের সীমা ষাট হতে সত্তর বছর পর্যন্ত (তাদের মাঝে খুবকমই আছে যে এ সীমা অতিক্রম করবে)। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন : হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «عُمُرُ أُمَّتِي مِنْ سِتِّينَ سَنَةً إِلَى سَبْعِينَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2331) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «عمر امتي من ستين سنة الى سبعين» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2331) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : উম্মতে মুহাম্মাদীর ষাট থেকে সত্তর বছরের হায়াতের বিষয়টি অধিকাংশের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় অনেকেই নব্বই এমনকি একশত বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। এগুলো ব্যতিক্রম ঘটনা। এ হাদীস থেকে উদ্দেশ্য এটাও হতে পারে যে, উম্মাতের ষাট থেকে সত্তর বছরের হায়াত হলো ‘ইবাদাত বন্দেগীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এটা মধ্যম এবং ভারসাম্যপূর্ণ সময় যাতে উম্মাতের অধিকাংশ মানুষ পৌছতে পারে। আমাদের নবী সায়্যিদুল মুরসালিন মুহাম্মাদ (সা.) এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের প্রথম ও দ্বিতীয় খলীফাহ্ যথাক্রমে আবূ বাকর সিদ্দীক এবং ‘উমার ফারূক (রাঃ) সহ অনেক বড় বড় ইসলামের মহান মনীষী যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম তিরমিযী প্রমুখ এই বয়সেই মৃত্যুবরণ করেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল লু'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৯১ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৮০-[১৩] উক্ত রাবী (আবু হুরায়রাহ্ রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আমার উম্মতের বয়স ষাট হতে সত্তর বছরের মাঝামাঝি এবং এমন লোকের সংখ্যা কম হবে যারা তা পাড়ি দিবে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)
এ প্রসঙ্গে ’আবদুল্লাহ ইবনু শিখীর-এর বর্ণিত হাদীস “রোগীর সেবাযত্ন” অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَعْمَارُ أُمَّتِي مَا بَيْنَ السِتِّينَ إِلَى السَبْعِينَ وَأَقَلُّهُمْ مَنْ يَجُوزُ ذَلِكَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَذُكِرَ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بنِ الشِّخيرِ فِي «بَاب عِيَادَة الْمَرِيض»

حسن ، رواہ الترمذی (3550 وقال : غریب حسن) و ابن ماجہ (4236) 0 حدیث عبداللہ بن الشخیر تقدم (1469) ۔
(حسن)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اعمار امتي ما بين الستين الى السبعين واقلهم من يجوز ذلك» . رواه الترمذي وابن ماجه وذكر حديث عبد الله بن الشخير في «باب عيادة المريض» حسن ، رواہ الترمذی (3550 وقال : غریب حسن) و ابن ماجہ (4236) 0 حدیث عبداللہ بن الشخیر تقدم (1469) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসের ব্যাখ্যা পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। ষাট থেকে সত্তর বছর বয়স হলো এ উম্মাতের ভারসম্পন্ন বা জীবনের উৎকর্ষের নির্দিষ্ট স্তর (STANDARD TIME)। খুব অল্প সংখ্যক মানুষ এটা অতিক্রম করে একশত বা তার ঊর্ধ্বে পৌঁছতে পারে। সাহাবীদের মধ্যে আনাস ইবনু মালিক, আসমা বিনতু আবু বাকর প্রমুখ একশত বছর বা তার চেয়ে সামান্য বেশি বছর বেঁচে ছিলেন।
এছাড়াও ব্যতিক্রম দুই একজন সাহাবী শতবর্ষের ঊর্ধ্বে বেঁচে ছিলেন, যেমন কবি হাসসান ইবনু সাবিত, সালমান ফারসী প্রমুখ সাহাবী (রাঃ)। সালমান ফারসী সম্পর্কে কথিত আছে, তিনি আড়াইশত বছর জীবিত ছিলেন। এমনকি সাড়ে তিনশত বছরের কথাও উল্লেখ আছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৯১ পৃ.)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৮১-[১৪] ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। নাবী (সা.) বলেছেন: এ উম্মতের কল্যাণের সূচনা হলো (আল্লাহর ওপর) ইয়াক্বীন বা বিশ্বাস এবং (দুনিয়া) বিমুখতা অবলম্বন করা। আর অনিষ্টতার মূল হলো কৃপণতা ও লোভ-লালসা। (বায়হাকী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَاب الأمل والحرص)

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَوَّلُ صَلَاحِ هَذِهِ الْأُمَّةِ الْيَقِينُ وَالزُّهْدُ وَأَوَّلُ فَسَادِهَا الْبُخْلُ وَالْأَمَلُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»

سندہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10844 ، نسخۃ محققۃ : 10350) * فیہ ابو عبد الرحمن السلمی ضعیف جدًا و عبداللہ بن لھیعۃ مدلس و عنعن ان صح السند الیہ و للحدیث لون آخر عند احمد (الزھد ص 10 ص 51) و سندہ ضعیف لانقطاعہ ۔

عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اول صلاح هذه الامة اليقين والزهد واول فسادها البخل والامل» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» سندہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10844 ، نسخۃ محققۃ : 10350) * فیہ ابو عبد الرحمن السلمی ضعیف جدا و عبداللہ بن لھیعۃ مدلس و عنعن ان صح السند الیہ و للحدیث لون آخر عند احمد (الزھد ص 10 ص 51) و سندہ ضعیف لانقطاعہ ۔

ব্যাখ্যা : ইয়াক্বীন বা বিশ্বাস হলো এ উম্মাতের প্রথম মানবীয় কল্যাণ, এটা পরকালীন পরিণতি বিষয়ক এবং সংসারত্যাগ বা দুনিয়াবিরাগী বিষয়ক সূচক চিহ্ন। পক্ষান্তরে উম্মতের প্রথম ফাসাদ বা বিপর্যয় সূচক চিহ্ন হলো কৃপণতা এবং দুনিয়ার প্রতি দুর্বার আকাঙ্ক্ষা ও অসীম লোভ লালসা।
হাদীসের শব্দ (الْأَمَلُ) “আকাঙ্ক্ষা’, ‘আশা’ এ শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘আল্লামাহ্ মুল্লা ‘আলী আল কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : (فَالْأَمَلُ إِنَّمَا هُوَ الْغَفْلَةُ عَنْ سُرْعَةِ الْقِيَا مَةِ الصُّغْرٰى وَالْكُبْرٰى) “দুনিয়ার আশা আকাঙ্ক্ষা হলো দ্রুত কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়া থেকে অর্থাৎ তার ছোট-বড় সকল লক্ষণ থেকে অমনোযোগী ও বেপরোয়া হয়ে থাকা।” আর (بُخْيلُ) “কৃপণতার উৎস স্থল হলো (حُبُّ الدُّنْيَا) দুনিয়াপ্রীতি। এর সহায়ক কথা বলেছেন হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ), তিনি বলেছেন: (صَلَاحُ الدِّينِ الْوَرَعُ وَفَسَادُهُ الطَّمَعُ) দীনের কল্যাণ হলো তাক্বওয়া ও আল্লাহভীতি আর তার বিপর্যয় বা ধ্বংস হলো লোভ-লালসা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২৫ পৃ.)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৮২-[১৫] সুফইয়ান আস্ সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন : খসখসে মোটা পোশাক পরিধান করা এবং স্বাদবিহীন খাদ্য খাওয়া পরহেজগারি নয়; বরং প্রকৃত পরহেজগারি হলো দুনিয়ার প্রতি মোহকে খাটো রাখা। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ قَالَ: لَيْسَ الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا بِلُبْسِ الْغَلِيظِ وَالْخَشِنِ وَأَكْلِ الْجَشِبِ إِنَّمَا الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا قِصَرُ الْأَمَلِ. رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 286 بدون سند ولم اجد مسندًا) ۔
(ضَعِيف)

وعن سفيان الثوري قال: ليس الزهد في الدنيا بلبس الغليظ والخشن واكل الجشب انما الزهد في الدنيا قصر الامل. رواه في «شرح السنة» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 286 بدون سند ولم اجد مسندا) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا) হলো দুনিয়াবিরাগী হওয়া, এটা ইসলামের প্রশংসনীয় গুণাবলির একটি অন্যতম গুণ। এটাকে আমরা পরহেজগারি বলতে পারি। এ গুণ আত্মিক বিষয়, এতে লৌকিকতা বা প্রদর্শনীর কিছু নেই। কিছু মানুষ নিজের দরবেশী প্রকাশের জন্য মোটা এবং অমসৃণ কাপড় পরিধান করে থাকে, সুস্বাদু তরকারী বর্জন করে শুকনো মোটা রুটি খেয়ে জীবন নির্বাহ করে থাকে। অত্র হাদীসে তাদের কথাই বলা হয়েছে যে, এটা দুনিয়াবিরাগী বা পরহেজগারি নয়, বরং পরহেজগারি হলো (قِصَرُ الْأَمَلِ) দুনিয়ার মোহকে খাটো রাখা। হাদীসে উল্লেখিত বাক্য : (إِنَّمَا الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا قِصَرُ الْأَمَلِ) “নিশ্চয় দুনিয়াবিরাগী বা পরহেজগারি হলো দুনিয়ার মোহকে খাটো রাখা” এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুল্লা ‘আলী আল ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (أَيِ: اقْتِصَارُالْأَمَلِ وَالِاسْتِعْدَادُلِلْأَ جَلِ بَالْمُسَارَعَةِ إِلَىالتَّوْبَةِ وَالْعِلْمِ وَالْعَماَلِ، وَحَاصِلُهٗ أَنَّ الزُّهُدَ الْحَقِيَّ هُوَ مَا يَكُونُ فِي الْحَالِ الْقَلْبِيِّ مِنْ عُزُوفِ النَّفْسِ عَنِ الدُّنْيَا وَمَيْلِهَا إِلَى الْعُقُبٰى.) অর্থাৎ, দুনিয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মোহকে খাটো করে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হওয়া এবং সে লক্ষে “ইলম, আমল ও তওবার জন্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়া। অতএব সারকথা হলো প্রকৃত দুনিয়াবিরাগী ও পরহেজগারি অন্তরের বিষয় বা অবস্থা যা স্বীয় কলব বা অন্তরকে দুনিয়ার মোহ-মায়া হতে পবিত্র রাখে এবং আখিরাতের দিকে ঝুকিয়ে দেয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ সুফিয়ান সাওরী (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৮৩-[১৬] যায়দ ইবনুল হুসায়ন (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলতে শুনেছি। একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, দুনিয়াতে “যুহদ” বা পরহেজগারি কাকে বলে? উত্তরে তিনি বলেন, হালাল উপার্জন এবং আকাঙ্ক্ষা ছোট করা। (বায়হাকী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَاب الأمل والحرص)

وَعَنْ زَيْدِ بْنِ الْحُسَيْنِ قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا وَسُئِلَ أَيُّ شَيْءٍ الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا؟ قَالَ: طِيبُ الْكَسْبِ وَقِصَرُ الْأَمَلِ. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10779 ، نسخۃ محققۃ : 10293) * زید بن الحسین مجھول : لم اجد من وثقہ ۔
(ضَعِيف)

وعن زيد بن الحسين قال: سمعت مالكا وسىل اي شيء الزهد في الدنيا؟ قال: طيب الكسب وقصر الامل. رواه البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10779 ، نسخۃ محققۃ : 10293) * زید بن الحسین مجھول : لم اجد من وثقہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : পূর্বের হাদীসের ব্যাখ্যায় (الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا) দুনিয়া বিরাগীকে পরহেজগার অর্থে প্রকাশ করা হয়েছে। পরহেজগারির মেরুদণ্ড হলো হালাল রুযী, যার রুযী হালাল নয় সে কষ্মিনকালেও পরহেজগারিতার উপর দাঁড়াতে পারবে না।
অতএব পবিত্র এবং হালাল উপার্জন বা খাদ্য এবং পানীয় তাকে উপকারী ‘ইলম ও নেক আমলের ওয়ারিস বানিয়ে দিবে। আল্লাহ তা'আলা তার রসূলকে বলেছেন, “তোমরা পবিত্র বস্তু খাও এবং নেক আ'মাল কর।” (সূরা আল মু'মিন ৪০: ৫১)।

অতএব এ হাদীসে হালাল রুযীকে (الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا) এর প্রথম উপাদান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো- দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষা বা কামনা-বাসনাকে খাটো করা। এটা মানুষকে দ্রুত মৃত্যু এসে যাওয়ার ভয়ে অধিক আমলে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরকালের পুরস্কার প্রাপ্তিতে আগ্রহান্বিত করে।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রকৃত (الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا) হলো হালাল খাদ্য গ্রহণ, হালাল বস্ত্র পরিধান, স্বল্প রুযীতেই পরিতুষ্ট থাকা এবং দুনিয়ার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে খাটো করে রাখা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২৬ পৃ.)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৮৪-[১] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা পরহেজগার, সম্পদশালী, নির্জনে “ইবাদাতকারী বান্দাকে ভালোবাসেন (মুসলিম)।

ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাদীস, “দু’টি বস্তু ছাড়া অন্য কিছুতেই ঈর্ষা নেই” কুরআনের ফাযীলাত’ অধ্যায়ে উল্লেখিত হয়েছে।

الفصل الاول (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

عَن سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيَّ الْغَنِيَّ الْخَفِيَّ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَذُكِرَ حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ: «لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَيْنِ» فِي «بَاب فَضَائِل الْقُرْآن»

رواہ مسلم (11 / 2965)، (7432) 0 حدیث ابن عمر تقدم 2113) ۔
(صَحِيح)

عن سعد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله يحب العبد التقي الغني الخفي» . رواه مسلم وذكر حديث ابن عمر: «لا حسد الا في اثنين» في «باب فضاىل القران» رواہ مسلم (11 / 2965)، (7432) 0 حدیث ابن عمر تقدم 2113) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيَّ) নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা পরহেজগার বান্দাকে ভালোবাসেন। অর্থাৎ যে, আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয় থেকে দূরে থাকে অথবা যে তার সম্পদকে বিনোদনমূলক কাজে ব্যয় করা থেকে দূরে থাকে। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ব্যক্তি হারাম ও সন্দেহমূলক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকে এবং সাদৃশ্যপূর্ণ ও বৈধ বিষয়সমূহে পরহেজগারিতা অবলম্বন করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।
(الْغَنِيَّ) আল্লামাহ্ নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, সম্পদশালী দ্বারা উদ্দেশ্য অন্তরের অভাবমুক্ততা। আর এ প্রকার ধনীই পছন্দনীয় যেহেতু রসূল (সা.) - বলেন, (وَلٰكِنَّ الْغِنٰى غِنَى النَّفْسِ) এবং কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) সম্পদশালী দ্বারা সম্পদের দিক দিয়ে ধনী হওয়া উদ্দেশ্য করেছেন।
(শারহুন নববী ১৮/১৯৬৫)।

 অতএব সম্পদশালী দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃতজ্ঞতা আদায়কারী সম্পদশালী বান্দা।
(الْخَفِىَّ) ‘খা অক্ষরের নুকতা সহকারে- এর অর্থ দুই ধরনের হতে পারে। এক: যে অলস তার রবের ‘ইবাদাত থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিজের ইচ্ছামত কর্মে ব্যস্ত থাকে। দুই: লুকিয়ে ভালো কাজ করা। তথা যে ব্যক্তি এমনভাবে কোন কাজ বা দান-খয়রাত করে, কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না। যেমন- হাদীসে এসেছে, (حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ) (এমনভাবে দান করে যে, তার বাম হাত জানতে পারে না যা তার ডান হাত খরচ করেছে)। আর হাদীসের মর্ম এটাই অধিক স্পষ্ট।
আর যদি নুকতাবিহীন তথা (حفى) পড়া হয় তখন তার অর্থ হবে অত্যন্ত দয়ালু। অর্থাৎ যে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তার প্রতি ও অন্যান্য গরীব দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে। তবে প্রথমটি হচ্ছে সঠিক।

ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الْخَفِىَّ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নফল ‘ইবাদাতগুলো মানুষের দৃষ্টির আড়ালে সম্পাদন করা যাতে অন্তরে রিয়া বা লৌকিকতা প্রবেশ না করে। অথবা, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে ধন-সম্পদের কারণে মানুষের নিকট অহংকার ও গৌরব প্রকাশ পায় না বরং নিজেকে সর্বদা নমনীয় করে রাখে। অথবা, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাট বাজারে কম গমন করে তথা অপ্রকাশ্য থাকা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৮৫-[২] আবূ বকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল : হে আল্লাহর রসূল! মানুষের মধ্যে উত্তম কে? তিনি (সা.) বললেন : যার জীবন দীর্ঘ হয় এবং আমল ভালো হয়। সে আবার প্রশ্ন করল, মন্দ ব্যক্তি কে? তিনি (সা.) বললেন : যার বয়স দীর্ঘ হয়, কিন্তু আমল মন্দ হয়। (আহমাদ, তিরমিযী ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

عَن أبي بكرةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ خيرٌ؟ قَالَ: «مَن طالَ عمُرُه وحسُنَ عَمَلُهُ» . قَالَ: فَأَيُّ النَّاسِ شَرٌّ؟ قَالَ: «مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَسَاءَ عَمَلُهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ والدارمي

سندہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 40 ح 20686) و الترمذی (2330 وقال : حسن صحیح) و الدارمی (2 / 308 ح 2745 ۔ 2746) * علی بن زید بن جدعان ضعیف و حدیث الترمذی (2329) یغنی عنہ ۔

عن ابي بكرة ان رجلا قال: يا رسول الله اي الناس خير؟ قال: «من طال عمره وحسن عمله» . قال: فاي الناس شر؟ قال: «من طال عمره وساء عمله» . رواه احمد والترمذي والدارمي سندہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 40 ح 20686) و الترمذی (2330 وقال : حسن صحیح) و الدارمی (2 / 308 ح 2745 ۔ 2746) * علی بن زید بن جدعان ضعیف و حدیث الترمذی (2329) یغنی عنہ ۔

ব্যাখ্যা : (أَيُّ النَّاسِ خيرٌ) কোন লোকটি উত্তম তথা কোন প্রকার লোক সর্বোত্তম।
(قَالَ: «مَن طالَ عمُرُه وحسُنَ عَمَلُهُ) এ প্রসঙ্গে আল্লামাহ্ ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আরো দুই প্রকার লোকের বিবরণ অবশিষ্ট রয়েছে যাদের ভালো ও মন্দ কর্মসমূহ উভয়ই সমান সমান। তারা হলো যার বয়স কম তবে ‘আমল অনেক ভালো অথবা ‘আমল খারাপ। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৩৩০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ বাকরা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৮৬-[৩] ’উবায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) দু’ লোকের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন। তাদের একজন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে গেল। অতঃপর দ্বিতীয়জন তার এক সপ্তাহ অথবা এর কাছাকাছি সময়ে (আপন বাড়ি ঘরে) মারা গেল। লোকেরা এ ব্যক্তির জানাযাহ্ আদায় করে অবসর হলে নাবী (সা.) প্রশ্ন করলেন: তোমরা (এ মৃত ব্যক্তির জানাযায়) কি দুআ পাঠ করেছ? তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট এ দু’আ করেছি তিনি যেন তাকে ক্ষমা করে দেন, তার প্রতি দয়া করেন এবং তাকে তার (শহীদ) বন্ধুর সাথে মিলিত করেন। তখন নাবী (সা.) বললেন: এ ব্যক্তির সালাত এবং অন্যান্য ভালো ’আমল কোথায় গেল যা সে তার (শহীদ) ভাইয়ের মৃত্যুর পরে (এক সপ্তাহ জীবিত থাকাকালীন সময়ে) আদায় করেছিল? অথবা তিনি বলেছেন : শহীদ ভাইয়ের সিয়ামের পরে এ ব্যক্তি যে কয়দিন আপন সিয়াম রেখেছিল? বস্তুত (জান্নাতে) তাদের উভয়ের মর্যাদার ব্যবধান আসমান ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বের সমপরিমাণ। (আবু দাউদ
ও নাসায়ী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَن عبيد بن خَالِد أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقُتِلَ أَحَدُهُمَا ثُمَّ مَاتَ الْآخَرُ بَعْدَهُ بِجُمُعَةٍ أَوْ نَحْوِهَا فَصَلَّوْا عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا قُلْتُمْ؟» قَالُوا: دَعَوْنَا اللَّهَ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَيَرْحَمَهُ وَيُلْحِقَهُ بِصَاحِبِهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَيْنَ صَلَاتُهُ بَعْدَ صَلَاتِهِ وَعَمَلُهُ بَعْدَ عَمَلِهِ؟» أَوْ قَالَ: «صِيَامُهُ بَعْدَ صِيَامِهِ لِمَا بَيْنَهُمَا أَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ

حسن ، رواہ ابوداؤد (2524) و النسائی (4 / 74 ح 1987) ۔
(صَحِيح)

وعن عبيد بن خالد ان النبي صلى الله عليه وسلم اخى بين رجلين فقتل احدهما ثم مات الاخر بعده بجمعة او نحوها فصلوا عليه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «ما قلتم؟» قالوا: دعونا الله ان يغفر له ويرحمه ويلحقه بصاحبه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «فاين صلاته بعد صلاته وعمله بعد عمله؟» او قال: «صيامه بعد صيامه لما بينهما ابعد مما بين السماء والارض» . رواه ابو داود والنساىي حسن ، رواہ ابوداؤد (2524) و النساىی (4 / 74 ح 1987) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ) নাবী (সা.) তার সাহাবীদের থেকে দু'জন সাহাবীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন। তারা দুনিয়াতে পরস্পর বন্ধুত্বের জীবনযাপন করছিল। কিন্তু তাদের একজন আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে শহীদ হয়ে গেল। এর কিছু দিন পর (সপ্তাহ, মাস অথবা বছর) দ্বিতীয় বন্ধুও মারা গেল। তার কাফন দাফন শেষে নাবী (সা.) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন। তার সম্পর্কে তোমরা কি বলছ? তারা বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করুন এবং তার পূর্বের বন্ধুর সাথে পরকালে জান্নাত নসীব করুন।

ইবনু মাজার হাদীসে এসেছে, আবূ ত্বলহাহ্ স্বপ্নে দেখলেন ২য় বন্ধু প্রথম বন্ধুর পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করেছে। এতে তিনি আশ্চর্য হন এবং অন্যান্য সাহাবীদেরকে বললে তারাও আশ্চর্য হয়। তখন নাবী (সা.) এ খবর শুনে বলেন, তোমরা তার ব্যাপারে আশ্চর্য হচ্ছে: তার অতিরিক্ত, সালাত, সিয়ামরত সাওয়াবগুলো কোথায় যাবে? তাদের দু'জনের মধ্যে আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক দিয়ে পার্থক্য হচ্ছে আসমান ও জমিনের পার্থক্যের ন্যায়। মিরকাত ভাষ্যকার বলেন, “এর কারণ হলো ২য় বন্ধুও আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত ছিল। তাই তিনি শহীদের মর্যাদা হুকুমগতভাবে পেয়ে গেছেন। সেই সাথে আরো অতিরিক্ত সলাত, সিয়াম ও ‘আমালযুক্ত হয়েছে তা না হলে আল্লাহর রাস্তায় শহীদের চেয়ে অধিক সাওয়াবের কাজ আর নেই।”(মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৮৭-[৪] আবূ কাবশাহ্ আল আনমারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছেন, [রাসূল (স.) বলেছেন] এমন তিনটি বিষয় আছে যার (সত্যতার) উপর আমি শপথ করতে পারি এবং আমি তোমাদের সম্মুখে অপর একটি হাদীস বর্ণনা করব, তাকেও ভালোভাবে স্মরণ রাখবে। আর যে ব্যাপারে আমি শপথ করছি তা হলোঃ-
(ক) দান-খয়রাতের কারণে কোন বান্দার সম্পদে হ্রাস হয় না, (খ) যে নির্যাতিত বান্দা নির্যাতনের শিকার হয়ে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তা’আলা তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, (গ) আর যে বান্দা ভিক্ষার দরজা উন্মুক্ত করে, আল্লাহ তা’আলা তার অভাব ও নিঃস্বতার দরজা খুলে দেন। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন : আমি যে হাদীসটি তোমাদেরকে বলব, তাকে খুব ভালোভাবে সংরক্ষণ করো। তা হলো প্রকৃতপক্ষে পার্থিব জীবন হলো চার শ্রেণির লোকের জন্য।

যথা-
১. এমন বান্দা- আল্লাহ যাকে সম্পদ ও বিদ্যা উভয়টি দান করেছেন, তবে সে তা খরচ করতে আপন প্রভুকে ভয় করে (হারাম পথে ব্যয় করে না); আত্মীয়-স্বজনের সাথে ভালো ব্যবহার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সম্পদের হক মোতাবেক ’আমল করে (খরচ করে)। এ ব্যক্তির মর্যাদা সর্বোত্তম।

২. এমন বান্দা- যাকে আল্লাহ বিদ্যা দান করেছেন, কিন্তু তাকে সম্পদ দান করেননি। তবে সে এ সত্য এবং সঠিক নিয়্যাতে বলে, যদি আমার ধন-সম্পদ থাকত তাহলে আমি অমুকের মতো পুণ্যের পথে খরচ করতাম। এ দু’ ব্যক্তির সাওয়াব একই সমান।

৩. এমন বান্দা- যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু বিদ্যা দান করেননি। তার বিদ্যা না থাকার কারণে সে নিজের সম্পদের ব্যাপারে স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে, এতে সে আল্লাহকে ভয় করে না। আত্মীয়স্বজনদের সাথে আর্থিক সদাচরণ করে না এবং নিজ সম্পদ হক পথে খরচ করে না। এ ব্যক্তি হলো সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট পর্যায়ের।

৪. এমন বান্দা- যার কাছে সম্পদও নেই বিদ্যাও নেই। সে আকাঙ্ক্ষা করে বলে, যদি আমার কাছে সম্পদ থাকত, তাহলে আমি তা অমুক ব্যক্তির মতো খরচ করতাম। এ বান্দাও তার এ মন্দ নিয়্যাতের কারণে গুনাহের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির সমান। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা। করেছেন এবং তিনি বলেছেন : এ হাদীসটি সহীহ]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَن أبي كبشةَ الأنماريِّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «ثَلَاثٌ أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ وَأُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا فَاحْفَظُوهُ فَأَمَّا الَّذِي أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ فَإِنَّهُ مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ وَلَا ظُلِمَ عَبْدٌ مَظْلِمَةً صَبَرَ عَلَيْهَا إِلَّا زَادَهُ اللَّهُ بِهَا عِزًّا وَلَا فَتَحَ عَبْدٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ وَأَمَّا الَّذِي أُحَدِّثُكُمْ فَاحْفَظُوهُ» فَقَالَ: إِنَّمَا الدُّنْيَا لِأَرْبَعَةِ نفرٍ: عبدٌ رزقَه اللَّهُ مَالا وعلماً فهوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَيَصِلُ رَحِمَهُ وَيَعْمَلُ لِلَّهِ فِيهِ بِحَقِّهِ فَهَذَا بِأَفْضَلِ الْمَنَازِلِ. وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالًا فَهُوَ صَادِقُ النيَّةِ وَيَقُول: لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلَانٍ فأجرُهما سواءٌ. وعبدٌ رزَقه اللَّهُ مَالا وَلم يَرْزُقْهُ عِلْمًا فَهُوَ يَتَخَبَّطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَا يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَلَا يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ وَلَا يَعْمَلُ فِيهِ بِحَقٍّ فَهَذَا بأخبثِ المنازلِ وعبدٌ لم يرزُقْه اللَّهُ مَالا وَلَا عِلْمًا فَهُوَ يَقُولُ: لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ فِيهِ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ نِيَّتُهُ وَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيح

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2325) * یونس بن خباب ضعیف رافضی و للحدیث طریق آخر معلول (ضعیف) عند احمد (4 / 230 ح 1802) بمتن آخر ۔

وعن ابي كبشة الانماري انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ثلاث اقسم عليهن واحدثكم حديثا فاحفظوه فاما الذي اقسم عليهن فانه ما نقص مال عبد من صدقة ولا ظلم عبد مظلمة صبر عليها الا زاده الله بها عزا ولا فتح عبد باب مسالة الا فتح الله عليه باب فقر واما الذي احدثكم فاحفظوه» فقال: انما الدنيا لاربعة نفر: عبد رزقه الله مالا وعلما فهو يتقي فيه ربه ويصل رحمه ويعمل لله فيه بحقه فهذا بافضل المنازل. وعبد رزقه الله علما ولم يرزقه مالا فهو صادق النية ويقول: لو ان لي مالا لعملت بعمل فلان فاجرهما سواء. وعبد رزقه الله مالا ولم يرزقه علما فهو يتخبط في ماله بغير علم لا يتقي فيه ربه ولا يصل فيه رحمه ولا يعمل فيه بحق فهذا باخبث المنازل وعبد لم يرزقه الله مالا ولا علما فهو يقول: لو ان لي مالا لعملت فيه بعمل فلان فهو نيته ووزرهما سواء . رواه الترمذي وقال: هذا حديث صحيح سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2325) * یونس بن خباب ضعیف رافضی و للحدیث طریق آخر معلول (ضعیف) عند احمد (4 / 230 ح 1802) بمتن آخر ۔

ব্যাখ্যা : (ثَلَاثٌ أُقْسِمُ عَلَيْهِنَّ وَأُحَدِّثُكُمْ) অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে তিনটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি এবং সেগুলোকে শক্তিশালীর জন্য কসম করছি এবং এ প্রসঙ্গে হাদীস বলছি তোমরা মুখস্থ করে রাখ।
(مَا نَقَصَ مَالُ عَبْدٍ مِنْ صَدَقَةٍ) সদাক্বাহ্ বা দান করাতে বান্দার সম্পদে কোন ঘাটতি হয় না বা বরকত কমে যায় না। বরং দুনিয়া ও আখিরাতে তার বিনিময় তাকে দেয়া হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, (.. وَ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَهُوَ یُخۡلِفُهٗ ۚ  ..) তোমরা যা কিছু দান করে থাক তা তোমাদের পশ্চাতে রয়ে যায়।” (সূরাহ্ সাবা ৩৪ : ৩৯)
(وَلَا ظُلِمَ عَبْدٌ مَظْلِمَةً صَبَرَ عَلَيْهَا إِلَّا زَادَهُ اللَّهُ بِهَا عِزًّا) বান্দাকে কোন ধরনের যুলুম করা হলে সে তার উপর ধৈর্যধারণ করার দরুন আল্লাহ তা'আলা তার বিনিময়ে সম্মান বৃদ্ধি করে দেন। আবার কখনো অত্যাচারী ব্যক্তি ঐ মাযলুম ব্যক্তির লাঞ্ছনার স্বীকার হয়ে থাকে কর্মের যথাযথ প্রতিদান স্বরূপ।
(وَلَا فَتَحَ عَبْدٌ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلَّا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ) বান্দা যদি বিনা প্রয়োজনে সম্পদ বৃদ্ধির লোভে মানুষের নিকট হাত পাতে তাহলে আল্লাহ তা’আলা তার ওপর একের পর এক অভাবের দরজা খুলে দেন। অথবা তার নিকট থেকে নি'আমত তুলে নেন, ফলে সে শাস্তিতে পতিত হয়। তার জ্বলন্ত উদাহরণ ঐ কুকুরের ন্যায় যে মুখে এক খণ্ড হাড় নিয়ে পানির উপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় স্বচ্ছ পানিতে হাড়ের প্রতিচ্ছবি দেখে লোভ করে তা নেয়ার জন্য হা করার সাথে সাথে তার মুখের হাড্ডিটিও পানিতে পড়ে যায়। অতএব লোভ নিন্দনীয় এবং লোভী সর্বদা বঞ্চিত হয়।

(إِنَّمَا الدُّنْيَا لِأَرْبَعَةِ نفرٍ) দুনিয়া চার শ্রেণির লোকের জন্য :
[এক] (عبدٌ رزقَه اللَّهُ مَالا وعلماً) আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে ধন-সম্পদ ও জ্ঞান উভয়টিই দিয়েছেন। আর সে উক্ত জ্ঞানের কারণে তার রবকে ভয় করে চলে এবং সম্পদের যথাযথ হক আদায় করে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে ও আল্লাহর রাস্তায় তার হক অনুযায়ী ব্যয় করে। আর এই প্রকার ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী।।
[দুই] (وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالًا) ঐ ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা যাকে ‘ইলম দান করেছেন, কিন্তু তাকে সম্পদ দান করেননি। তবে সে যদি বিশুদ্ধ নিয়্যাতের অধিকারী হয়ে বলে, আমার যদি সম্পদ থাকত তাহলে আমিও প্রথম শ্রেণির লোকের মতো ‘আমল করতাম- এই দুই শ্রেণির লোকের প্রতিদান আল্লাহ তা'আলার নিকট এক সমান।

[তিন] (وعبدٌ رزَقه اللَّهُ مَالا وَلم يَرْزُقْهُ عِلْمًا) যাকে আল্লাহ তা'আলা সম্পদের মালিক বানিয়েছেন, কিন্তু তাকে শারঈ কোন জ্ঞান দান করেননি। ফলে সে যদি জ্ঞান না থাকার কারণে উক্ত সম্পদে গণ্ডগোল বাধিয়ে ফেলে। কখনো তা যথাযথ ব্যয় না করে জমা করে রেখে দেয় আবার কখনো লোক দেখানোর উদ্দেশে ব্যয় করে থাকে। সে ঐ সম্পদ খরচের ক্ষেত্রে রবের ভয় করে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে না এবং তার হক অনুযায়ী আমলও করে না। আর এ প্রকার লোক সবচেয়ে নিকৃষ্ট।

[চার] (وعبدٌ لم يرزُقْه اللَّهُ مَالا وَلَا عِلْمًا) ঐ বান্দাকে আল্লাহ তা'আলা সম্পদ এবং জ্ঞান কোনটিই দান করেননি। সে এই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে যে, যদি তার নিকট সম্পদ থাকত তাহলে উপরোক্ত ব্যক্তির ন্যায় ‘আমল করত। সে তার নিয়্যাতের কারণে পূর্বের ব্যক্তির ন্যায় সমান গুনাহের অধিকারী। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ ৩/৪২২৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ কাবশাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৮৮-[৫] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী (সা.) বলেছেন : আল্লাহ তা’আলা যখন কোন বান্দার কল্যাণ কামনা করেন তখন তাকে ভালো কাজে নিয়োজিত করেন। প্রশ্ন করা হলো- হে আল্লাহর রসূল! কিরূপে তার দ্বারা ভালো কাজ করান? তিনি (সা.) বললেন : মৃত্যুর আগে তাকে ভালো কাজ করার তাওফীক দান করেন। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ» . فَقِيلَ: وَكَيْفَ يَسْتَعْمِلُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «يُوَفِّقُهُ لِعَمَلٍ صَالِحٍ قَبْلَ الموتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (2142 وقال : صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ان الله تعالى اذا اراد بعبد خيرا استعمله» . فقيل: وكيف يستعمله يا رسول الله؟ قال: «يوفقه لعمل صالح قبل الموت» . رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (2142 وقال : صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِذَا أَرَادَ بِعَبْدٍ خَيْرًا اسْتَعْمَلَهُ) আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দার পরকালীন কল্যাণ কামনা করলে তাকে দিয়ে আনুগত্যমূলক কাজ করিয়ে নেন। সহাবীগণ রসূল (সা.) -কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেন- এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা তাকে মৃত্যুর পূর্বে তাওবাহ্ করার সুযোগ করে দেন এবং সৎকাজ করতে করতে উত্তম ‘আমলের উপর মৃত্যু হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৮৯-[৬] শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তিকে স্বীয় আয়ত্তাধীনে রেখেছেন এবং মৃত্যুর পরের জন্য নেকির পুঁজি সংগ্রহ করেছে, সে ব্যক্তিই প্রকৃত সবল ও বুদ্ধিমান। আর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে আল্লাহর প্রতি ক্ষমার আশা পোষণ করে, মূলত সে-ই অক্ষম (নির্বোধ)। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ. وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2459) و ابن ماجہ (4260) * ابوبکر بن ابی مریم ضعیف مختلط ۔
(ضَعِيف)

وعن شداد بن اوس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : «الكيس من دان نفسه وعمل لما بعد الموت. والعاجز من اتبع نفسه هواها وتمنى على الله» . رواه الترمذي وابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2459) و ابن ماجہ (4260) * ابوبکر بن ابی مریم ضعیف مختلط ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ) বিচক্ষণ সেই ব্যক্তি যে নিজেকে আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত রাখে বা নিজের নফসের হিসাব নিজেই করে থাকে। হাদীসে (الْكَيِّسُ) শব্দের অর্থ হচ্ছে, যে কোন বিষয়ের পরিণতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে।

(مَنْ دَانَ نَفْسَهُ) এর অর্থ হচ্ছে যে নিজের নাফসে আল্লাহর বিধানের অনুগত করে রাখে। কেউ কেউ বলেন, যে নিজের নাফসের হিসাব নেয়। অর্থাৎ যে দুনিয়াতে তার কথা, ‘আমল ও অবস্থা হিসাব করে দেখে। যদি তা ভালো হয় তাহলে আল্লাহর প্রশংসা করে আর যদি মন্দ হয় তাহলে আল্লাহর নিকট তাওবাহ্ করে এবং ছুটে যাওয়া ‘আমলগুলো সম্পাদন করার চেষ্টা করে। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, (حَاسِبُواأَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا) এবং আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,  (…وَ لۡتَنۡظُرۡ نَفۡسٌ مَّا قَدَّمَتۡ لِغَدٍ ...)“...প্রত্যেকেই চিন্তা করে দেখুক, আগামীকালের জন্য সে কী (পুণ্য কাজ) অগ্রিম পাঠিয়েছে...”- (সূরা আল হাশর ৫৯ : ১৮)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।

(وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ) অর্থাৎ মৃত্যু আসার পূর্বেই ভালো কাজগুলো সম্পাদন করে যাতে পরকালে আল্লাহ প্রদত্ত নূর পেতে সক্ষম হয়। অতএব মৃত্যু হচ্ছে দুনিয়ার কাজগুলোর পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যম, তাই পরিণতি ভেবে যে কাজ করে সেই জ্ঞানী।
 (وَالْعَاجِزُ) অক্ষম হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে জ্ঞানকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ এবং কাজের পরিণতি সম্পর্কে অসচেতন বা অবহেলাকারী। মূলত বিচক্ষণ ব্যক্তি হলো শক্তিশালী ঈমানদার আর অক্ষম ব্যক্তি হলো দুর্বল ঈমানের অধিকারী।
(مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا) যে নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসারী বানায় ফলে তাকে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয় না এবং হারাম কাজে জড়িত হওয়াকে বাধা দান করে না।
(وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ) আর আল্লাহর নিকট এই আশা পোষণ করে যে, তিনি যেন তাকে ক্ষমা করে দেন, যদিও সে আল্লাহর আনুগত্য করা থেকে অবহেলা করে ও প্রবৃত্তির দাসত্ব করে, আর সে এ কথা বলে,  (رَبِّي كَرِيمٌ رَحِيمٌ) আমার রব অতি দয়ালু মেহেরবান। অথচ আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেছেন, (..مَا غَرَّکَ بِرَبِّکَ الۡکَرِیۡمِ) “...কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে?” (সূরা আল ইনফিত্বার ৮২: ৬); আর ঘোষণা করেন, (نَبِّیٴۡ عِبَادِیۡۤ اَنِّیۡۤ اَنَا الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ﴿ۙ۴۹﴾ وَ اَنَّ عَذَابِیۡ هُوَ الۡعَذَابُ الۡاَلِیۡمُ ﴿۵۰﴾) “আমার বান্দাদেরকে সংবাদ দাও যে, আমি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু। আর আমার শাস্তি- তা বড়ই ভয়াবহ শাস্তি”- (সূরাহ্ আল হিজর ১৫ : ৪৯-৫০)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৪৫৯)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৯০-[৭] নাবী (সা.) -এর জনৈক সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা এক মজলিসে বসা ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের মধ্যে এ অবস্থায় আগমন করলেন যে, তার মাথায় (সদ্য গোসলের) পানির চিহ্ন ছিল। আমরা বললাম : হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনাকে প্রফুল্ল হৃদয়ের দেখছি। তিনি (সা.) বললেন : হ্যাঁ, ঠিকই। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকজন মাল-সম্পদের আলোচনায় লিপ্ত হল, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : যে ব্যক্তি মহাপরাক্রমশালী আল্লাহকে ভয় করে তার জন্য সম্পদশালী হওয়াতে কোন ত্রুটি নেই। মূলত মুত্তাক্বীদের জন্য সুস্থ হওয়া সম্পদশালী হওয়া অপেক্ষা অনেক উত্তম এবং মানসিক প্রশান্তি আল্লাহ তা’আলার নি’আমাতসমূহের অন্যতম একটি নি’আমাত। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

عَنْ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُنَّا فِي مَجْلِسٍ فَطَلَعَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَى رَأْسِهِ أَثَرُ مَاءٍ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَرَاكَ طَيِّبَ النَّفْسِ. قَالَ: أَجَلْ. قَالَ: ثُمَّ خَاضَ الْقَوْمُ فِي ذِكْرِ الْغِنَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا بَأْسَ بِالْغِنَى لِمَنِ اتَّقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَالصِّحَّةُ لِمَنِ اتَّقَى خَيْرٌ مِنَ الْغِنَى وَطِيبُ النَّفس من النَّعيم» رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 372 ح 23545) [و ابن ماجہ (2141)] ۔

عن رجل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال: كنا في مجلس فطلع علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى راسه اثر ماء فقلنا: يا رسول الله نراك طيب النفس. قال: اجل. قال: ثم خاض القوم في ذكر الغنى فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا باس بالغنى لمن اتقى الله عز وجل والصحة لمن اتقى خير من الغنى وطيب النفس من النعيم» رواه احمد اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 372 ح 23545) [و ابن ماجہ (2141)] ۔

ব্যাখ্যা : (نَرَاكَ طَيِّبَ النَّفْسِ) আপনাকে আনন্দিত দেখছি অর্থাৎ আপনার চেহারায় আনন্দ ও খুশির ঝলক যেন চকচক করে প্রস্ফুটিত হচ্ছে।
(قَالَ: ثُمَّ خَاضَ الْقَوْمُ فِي ذِكْرِ الْغِنَى) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকজন ধন-সম্পদ সম্পর্কে বিভিন্ন খারাপ মন্তব্য ও পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা শুরু করল।
(فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا بَأْسَ بِالْغِنَى لِمَنِ اتَّقَى اللَّهَ) অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “দরিদ্রতাই উত্তম তবে সম্পদশালী হওয়া দোষণীয় নয়, যে তাক্বওয়া অবলম্বন করবে তার জন্য।”
(وَالصِّحَّةُ) তথা দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ব্যক্তির সম্পদশালী হওয়া দোষণীয় নয়, যে তাকওয়া অবলম্বন করবে। অথবা ধন-সম্পদ থেকে বেঁচে থাকার পরও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া দোষণীয় নয়, বরং এটাই উত্তম ঐ ধনী লোকের চেয়ে যে পরকালে হিসাব ও শাস্তির সম্মুখীন হবে।
(وَطِيبُ النَّفس من النَّعيم) স্বচ্ছল ও অসচ্ছল সর্বাবস্থায় ধৈর্যধারণ করে কৃতজ্ঞতায় হাসিখুশি থাকা নি'আমতের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ জান্নাতুন্ নাঈমের অধিকারী হওয়া। যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ لِمَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهٖ جَنَّتٰنِ), “আর যে তার প্রতিপালকের সামনে হাজির হওয়ার ভয় রাখে তার জন্য আছে দুটো বাগান”- (সূরাহ্ আর রহমান ৫৫ : ৪৬)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৯১-[৮] সুফইয়ান আস্ সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, অতীতকালে ধন-সম্পদকে অপছন্দ মনে করা হত। কিন্তু আজকাল ধন-সম্পদ হলো মু’মিন ব্যক্তির ঢাল। যদি এ দীনারসমূহ না থাকত এ সমস্ত রাজা-বাদশাহগণ আমাদেরকে হাত মোছার রুমাল বানিয়ে ফেলত (ঘৃণা ও তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখত)। তিনি আরো বলেন : যার হাতে এ ধন-সম্পদের কিছু পরিমাণ আছে, সে যেন অবশ্যই তার সঠিক ব্যবহার করে। কেননা, বর্তমান সময় যদি কেউ অভাবে পতিত হয়, সে ব্যক্তি সর্বপ্রথম স্বীয় দীনের বিনিময়ে দুনিয়া অর্জন করবে। সুফইয়ান আরো বলেছেন : হালালভাবে অর্জিত মালের মধ্যে অপচয়ের অবকাশ নেই। (শারহুস্ সুন্নাহ্)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ قَالَ كَانَ الْمَالُ فِيمَا مَضَى يُكْرَهُ فَأَمَّا الْيَوْمَ فَهُوَ تُرْسُ الْمُؤْمِنِ وَقَالَ لَوْلَا هَذِهِ الدَّنَانِيرُ لَتَمَنْدَلَ بِنَا هَؤُلَاءِ الْمُلُوكُ وَقَالَ مَنْ كَانَ فِي يَدِهِ مِنْ هَذِهِ شَيْءٌ فَلْيُصْلِحْهُ فَإِنَّهُ زَمَانٌ إِنِ احْتَاجَ كَانَ أَوَّلَ مَنْ يَبْذُلُ دِينَهُ وَقَالَ: الْحَلَالُ لايحتمل السَّرف. رَوَاهُ فِي شرح السّنة

ضعیف مردود ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 291 بعد 4098 بدون سند ولم اجدہ مسندًا ۔ وقولہ من اکن المال الی ترس المومن ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (6 / 381) و سندہ ضعیف جدًا ۔ فیہ داود (رواد) بن الجراح وھو متروک و شطر الثانی رواہ ابو نعیم ایضًا فی الحلیہ (6 / 381) و سندہ ضعیف فیہ جماعۃ لم اجد لھم توثیقًا یعتمد علیہ) ۔
(ضَعِيف)

وعن سفيان الثوري قال كان المال فيما مضى يكره فاما اليوم فهو ترس المومن وقال لولا هذه الدنانير لتمندل بنا هولاء الملوك وقال من كان في يده من هذه شيء فليصلحه فانه زمان ان احتاج كان اول من يبذل دينه وقال: الحلال لايحتمل السرف. رواه في شرح السنة ضعیف مردود ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 291 بعد 4098 بدون سند ولم اجدہ مسندا ۔ وقولہ من اکن المال الی ترس المومن ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (6 / 381) و سندہ ضعیف جدا ۔ فیہ داود (رواد) بن الجراح وھو متروک و شطر الثانی رواہ ابو نعیم ایضا فی الحلیہ (6 / 381) و سندہ ضعیف فیہ جماعۃ لم اجد لھم توثیقا یعتمد علیہ) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (تُرْسُ الْمُؤْمِنِ) তথা (সম্পদ) মুমিনের ঢালস্বরূপ। কারণ বৈধ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তি হারাম ও সন্দেহযুক্ত সম্পদে পতিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আর অত্যাচারী ও যুলুমের সাহচর্য থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। অথবা সর্বসাধারণের নিকট নিজেকে সম্পদের বহিঃপ্রকাশ করা থেকে লুকিয়ে রাখতে পারে।
(لَوْلَا هَذِهِ الدَّنَانِيرُ لَتَمَنْدَلَ بِنَا هَؤُلَاءِ الْمُلُوكُ) যদি আমাদের হাতে কোন টাকা-পয়সা না থাকত তাহলে রাজা-বাদশাহরা আমাদেরকে তাদের পকেটের রুমাল বানাত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমাদেরকে অপদস্থ করত অথবা তাদের মন্দ পরিকল্পনার সত্যায়নকারী হিসেবে ব্যবহার করত। তাই বলা হয়েছে, আল্লাহর নিকট হিসাবের ভয়ে তা পরিত্যাগ করার চেয়ে উত্তম হলো মানুষের নিকট হাত না পাতা। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া উত্তম, তাকে ছাড়া অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে।
(لْحَلَالُ لايحتمل السَّرف) হালাল সম্পদ কম হওয়ার কারণে বেশি করে খরচ করার অবকাশ নেই। ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তার দ্বারা দু ধরনের উদ্দেশ্য হতে পারে :

এক : হালাল কম হওয়ার দরুন অপচয় করার সম্ভাবনা রাখে না।
দুই : হালাল জিনিস বেশি করে খরচ করা উচিত নয়। কেননা পরবর্তীতে অন্যের নিকট হাত পাতার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।
মূলকথা হলো হালাল জিনিস কম হোক বা বেশি হোক প্রয়োজন ব্যতিরেকে অপচয় করা ঠিক নয়। যেমন সুনাম অর্জন বা লোক দেখানো উদ্দেশে বেশি করে খাদ্য দান করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ সুফিয়ান সাওরী (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৯২-[৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী এ ঘোষণা করবেন, ষাট বছর বয়সপ্রাপ্ত লোকেরা কোথায়? এটা বয়সের এমন একটি সীমা, যার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা (কুরআন মাজীদে) বলেছেন : “আমরা কি তোমাদেরকে এমন বয়স দান করিনি যাতে কোন উপদেশ গ্রহণকারী উপদেশ গ্রহণ করতে পারে? অথচ তোমাদের কাছে ভীতি প্রদর্শনকারী এসেছে “এখন তোমরা শাস্তি আস্বাদন করো, তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই”। (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُنَادِي مُنَادٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: أَيْنَ أَبْنَاءُ السِتِّينَ؟ وَهُوَ الْعُمُرُ الَّذِي قَالَ اللَّهُ تَعَالَى [أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تذكَّرَ وجاءكُم النذير] رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10254 ، نسخۃ محققۃ : 9773) * فیہ ابراھیم بن الفضل المخزومی : متروک و ابوبکر بن ابی دارم : کذاب و لکنہ توبع ، انظر المعجم الکبیر للطبرانی (11 / 177 ۔ 178 ح 11415) ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ينادي مناد يوم القيامة: اين ابناء الستين؟ وهو العمر الذي قال الله تعالى [اولم نعمركم ما يتذكر فيه من تذكر وجاءكم النذير] رواه البيهقي في شعب الايمان اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10254 ، نسخۃ محققۃ : 9773) * فیہ ابراھیم بن الفضل المخزومی : متروک و ابوبکر بن ابی دارم : کذاب و لکنہ توبع ، انظر المعجم الکبیر للطبرانی (11 / 177 ۔ 178 ح 11415) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (أَيْنَ أَبْنَاءُ السِتِّينَ؟) ষাট বছর বয়সের অধিকারী ব্যক্তিরা কোথায়? আর এই বয়স সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন : (… اَوَ لَمۡ نُعَمِّرۡکُمۡ مَّا یَتَذَکَّرُ فِیۡهِ مَنۡ تَذَکَّرَ ….)“...তোমাদেরকে এই পরিমাণ বয়স দান করেছি যাতে  তোমাদের মধ্যে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে...।” (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩৭)
(..وَ جَآءَکُمُ النَّذِیۡرُ ..)“...আর তোমাদের কাছে এসেছে সতর্ককারী..."- (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩৭)। এখানে সতর্ককারী বলতে বুঝানো হয়েছে- বার্ধক্যের চুলপাকা অথবা আল কুরআন অথবা রসূল অথবা মৃত্যু অথবা উল্লেখিত সবগুলোই উদ্দেশ্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৯৩-[১০] ’আবদুল্লাহ ইবনু শাদ্দাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ’আহ্ গোত্রীয় তিন ব্যক্তি নাবী (সা.) -এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)  (সাহাবায়ে কেরামদের উদ্দেশে) বললেন : তোমাদের মাঝে কে এদের দায়িত্ব নিতে পারে? ত্বলহাহ্ (রাঃ) বললেন : আমি। (শাদ্দাদ বলেন :) অতএব তারা ত্বলহাহ্-এর কাছে থাকতে লাগল, এরপর এক সময় নাবী (সা.) কোন এক অভিযানে একদল সৈন্য পাঠালেন, তখন তাদের একজন ঐ সেনাদলের সাথে বের হলো এবং যুদ্ধে শহীদ হয়ে গেল। অতঃপর নাবী (সা.) অন্য একটি সেনাদল পাঠালেন। এ দলের সাথেও দ্বিতীয় একজন বের হলো এবং সেও শহীদ হলো। এরপর (একদিন) তৃতীয়জন (স্বাভাবিক অবস্থায়) নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করল। বর্ণনাকারী (ইবনু শাদ্দাদ) বলেন, ত্বলহাহ্ (রাঃ) বললেন : এরপর আমি এক সময় উক্ত তিন ব্যক্তিকে (স্বপ্নযোগে) জান্নাতের মধ্যে দেখতে পেলাম এবং এটাও দেখলাম যে, স্বীয় বিছানায় মৃত ব্যক্তিটি তাদের সামনে রয়েছে এবং দ্বিতীয় অভিযানে শহীদ ব্যক্তিটি রয়েছে তার পিছনে, আর এর পিছনে রয়েছে প্রথম ব্যক্তি। [ত্বলহাহ্ (রাঃ) বলেনঃ]  তাদের এ ক্রমিক মানে আমার মনে একটি সন্দেহ জাগল। অতএব এ কথাটি আমি নাবী (সা.) -এর নিকট উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: কিসে তুমি আশ্চর্যান্বিত হলে? (জেনে রাখো!) যে ঈমানদার ইসলামের মধ্যে থেকে তাসবীহ, তাকবীর ও তাহলীল আদায় করার জন্য অতিরিক্ত বয়সের অবকাশ পেয়েছে এমন মু’মিন অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অন্য কেউ উত্তম নয়। (আহমাদ)।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَن عبدِ الله بنِ شدَّادٍ قَالَ إِنَّ نَفرا من بني عذرةثلاثة أَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْلَمُوا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ يَكْفِينِيهِمْ؟» قَالَ طَلْحَةُ: أَنَا. فَكَانُوا عِنْدَهُ فَبَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْثًا فَخَرَجَ فِيهِ أَحَدُهُمْ فَاسْتُشْهِدَ ثُمَّ بَعَثَ بَعْثًا فَخَرَجَ فِيهِ الْآخَرُ فَاسْتُشْهِدَ ثُمَّ مَاتَ الثَّالِثُ عَلَى فِرَاشِهِ. قَالَ: قَالَ طَلْحَةُ: فَرَأَيْتُ هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةَ فِي الْجَنَّةِ وَرَأَيْتُ الْمَيِّتَ عَلَى فِرَاشِهِ أَمَامَهُمْ وَالَّذِي اسْتُشْهِدَ آخِرًا يَلِيهِ وَأَوَّلَهُمْ يَلِيهِ فَدَخَلَنِي مِنْ ذَلِكَ فَذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ: «وَمَا أَنْكَرْتَ مِنْ ذَلِكَ؟ لَيْسَ أَحَدٌ أَفْضَلَ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ مُؤْمِنٍ يُعَمَّرُ فِي الْإِسْلَام لتسبيحه وتكبيره وتهليله»

سندہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 163 ح 1401) * السند مرسل ولہ طریق آخر عند البزار (954 کشف الاستار) و ابی یعلی (634) و سندہ ضعیف ۔

وعن عبد الله بن شداد قال ان نفرا من بني عذرةثلاثة اتوا النبي صلى الله عليه وسلم فاسلموا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من يكفينيهم؟» قال طلحة: انا. فكانوا عنده فبعث النبي صلى الله عليه وسلم بعثا فخرج فيه احدهم فاستشهد ثم بعث بعثا فخرج فيه الاخر فاستشهد ثم مات الثالث على فراشه. قال: قال طلحة: فرايت هولاء الثلاثة في الجنة ورايت الميت على فراشه امامهم والذي استشهد اخرا يليه واولهم يليه فدخلني من ذلك فذكرت للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: «وما انكرت من ذلك؟ ليس احد افضل عند الله من مومن يعمر في الاسلام لتسبيحه وتكبيره وتهليله» سندہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 163 ح 1401) * السند مرسل ولہ طریق آخر عند البزار (954 کشف الاستار) و ابی یعلی (634) و سندہ ضعیف ۔

ব্যাখ্যা : (فَرَأَيْتُ هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةَ فِي الْجَنَّةِ وَرَأَيْتُ الْمَيِّتَ عَلَى فِرَاشِهِ أَمَامَهُمْ) আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি স্বপ্নে ঐ তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে দেখলাম। আর যে বিনা যুদ্ধে বিছানায় মারা গিয়েছে তাকে দেখলাম সবার সামনে। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, মূলত এ কথা বলা উচিত ছিল : “তাদের দু'জনের সামনে দেখলাম, কিন্তু তা না বলে তাদের সকলের সামনে দেখলাম” দ্বারা এ কথার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, (أَقَلَّ الْجَلَمْع اشْنَانِ)  তথা বহুবচনের সর্বনিম্ন সংখ্যা হচ্ছে দুই।
(فَدَخَلَنِي مِنْ ذَلِكَ) তাদের তিনজনের মধ্যে যিনি পরে মারা গেছেন, তিনি সবার আগে, তারপর ২য় ব্যক্তি, তার পর ১ম ব্যক্তি। এরূপ ধারাবাহিকতা দেখে আমার মনে প্রশ্ন দেখা দিল। তাই এ ব্যাপারটি রাসূল (সা.) -এর নিকট পেশ করি। তিনি আমার কথা শুনে বললেন, তুমি এখানে কোন্ বিষয়টিকে অপছন্দ করছ?
(لَيْسَ أَحَدٌ أَفْضَلَ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ مُؤْمِنٍ يُعَمَّرُ فِي الْإِسْلَام) আল্লাহর নিকট ইসলামের উপর অধিক বয়সপ্রাপ্ত মু'মিনের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। কেননা যে বেশি বয়স পেয়েছে সে তাসবীহ, তাকবীর ও তাহলীলসহ যাবতীয় মৌখিক ও শারীরিক ‘ইবাদাত বেশি পরিমাণে করতে সক্ষম হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৯৪-[১১] মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ’আমীরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি বলেছেন: যে বান্দা জন্মদিন হতে আল্লাহর আনুগত্যে ও বন্দেগীতে নতশির থেকে বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যুবরণ করে, সে কিয়ামতের দিন তার কৃত ’ইবাদত বন্দেগীকে খুবই নগণ্য মনে করবে এবং এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে যদি তাকে পুনরায় দুনিয়াতে ফেরত পাঠানো হয় তবে সে প্রতিদান ও সাওয়াবকে আরো বৃদ্ধি করতে সক্ষম হত। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَمِيرَةَ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ عَبْدًا لَوْ خَرَّ عَلَى وَجْهِهِ مِنْ يَوْمَ وُلِدَ إِلَى أَنْ يَمُوتَ هَرَمًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ لَحَقَّرَهُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ وَلَوَدَّ أَنَّهُ رُدَّ إِلَى الدُّنْيَا كَيْمَا يَزْدَادَ من الْأجر والثَّواب رَوَاهُمَا أَحْمد

اسنادہ صحیح ، رواہ احمد (4 / 185 ح 17800) ۔
(صَحِيح)

وعن محمد بن ابي عميرة وكان من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ان عبدا لو خر على وجهه من يوم ولد الى ان يموت هرما في طاعة الله لحقره في ذلك اليوم ولود انه رد الى الدنيا كيما يزداد من الاجر والثواب رواهما احمد اسنادہ صحیح ، رواہ احمد (4 / 185 ح 17800) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (خَرَّ) পতিত হওয়া, মাথা অবনমিত করা, (هَرَمً) অতিবৃদ্ধ, (حَقَّرَهٗ) তাকে তুচ্ছ মনে করবে। অর্থাৎ সারা জীবনের ‘আমাকে তার নিকট খুবই নগণ্য বলে মনে হবে।
(لَوَدَّ) অবশ্যই কামনা করবে, ভালো মনে করবে। (كَيْمَا يَزْدَادَ) অর্থাৎ যাতে সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘আমলের প্রতিদান আরো বাড়িয়ে নিতে পারে। অধিক মর্যাদার অধিকারী হওয়ার জন্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫২৯৫-[১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্য সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হলো ঐ সমস্ত লোক যারা মন্ত্র-তন্ত্র করায় না, অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে না এবং তারা নিজেদের পরওয়ারদিগারের ওপর ভরসা রাখে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ» مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6472) و مسلم (371 / 218)، (524) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يدخل الجنة من امتي سبعون الفا بغير حساب هم الذين لا يسترقون ولا يتطيرون وعلى ربهم يتوكلون» متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6472) و مسلم (371 / 218)، (524) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (سَبْعُونَ أَلْفًا) ৭০ হাজার। আল্লামাহ্ ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যাই উদ্দেশ্য অথবা আধিক্য উদ্দেশ্য। আল্লামাহ্ মুবারকপূরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রথমটি তথা ৭০ হাজার সংখ্যাই এখানে উদ্দেশ্য। তবে তিরমিযীর বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো ৭০ হাজার এবং প্রতিপালকের দুই হাতের চৌল ভর্তি।
(هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ) তারা ঐ সমস্ত লোক যারা ঝাড়ফুঁক করায় না। না কুরআনের আয়াত দ্বারা, না তার নাম ও গুণাবলির দ্বারা।
(وَلَا يَتَطَيَّرُونَ) তারা পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করে না অথবা পাখি বা কোন প্রাণী বা কোন কথাকে শুভ লক্ষণ মনে করে না বরং কোন বিপদ দেখলে এই দু'আ পাঠ করে: (اَللّٰهُمَّ لَاطَيْرُكَ،وَلَا خَيْرُ إِلَّاخَيْرُكَ،وَلَا إلٰهَ غَيْرُكَ اَللّٰهُمَّ لَا يَأْتِيْ بِالْحَسَنَاتِ إِلَّا أَنْتَ وَلَا يَزْهَبُ بِالسِّئَاتِ إلَّا أَنْتَ)

অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার কল্যাণ ছাড়া আর কারো নিকট কল্যাণের আশা করা যায় না, তোমার ফায়সালাই চূড়ান্ত, তুমি ছাড়া আর কেউ গায়িব জানে না। পাখিরা তো তোমারই সৃষ্টি, তারা ভালো-মন্দের ক্ষমতা রাখে না, তুমি ছাড়া কোন সত্য মা'বুদ নেই।

(وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ) তারা যাবতীয় কর্মকাণ্ডে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। নিহায়াহ্ গ্রন্থকার বলেন, এটা ঐ সমস্ত আওলিয়ার বৈশিষ্ট্য যারা দুনিয়ার সামগ্রীর প্রতি খেয়াল রাখেন না। অতএব এটা নির্দিষ্ট শ্রেণির লোকের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে সর্বসাধারণের জন্য ঝাড়ফুক এবং চিকিৎসা গ্রহণ করার অনুমোদন রয়েছে। তদুপরি যারা বিপদে ধৈর্যধারণ করবে এবং দু'আ ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট তার কষ্ট লাঘব কামনা করবে তারা ঐ সমস্ত খাস বান্দা এবং আওলিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/২৪৩৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫২৯৬-[২] উক্ত রাবী [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বাইরে এসে (আমাদেরকে) বললেন, (পূর্বের নবীগণের) উম্মতদেরকে আমার সম্মুখে পেশ করা হল। (দেখলাম) একজন নবী যাচ্ছেন, তাঁর সাথে রয়েছে মাত্র একজন লোক। আরেকজন নবী, তার সাথে রয়েছে কেবল দুজন লোক। অন্য এক নবীর সাথে রয়েছে একদল লোক। একজন নবী এমনও ছিলেন, যার সাথে কেউ ছিল না।

অতঃপর দেখলাম এক বিরাট দল, যা দিগন্ত জুড়ে রয়েছে। তখন আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম: এ দলটি যদি আমার উম্মত হত। এ সময় বলা হলো, এটা মূসা (আঃ) ও তাঁর জাতি। অতঃপর আমাকে বলা হলো, আপনি ভালো করে দৃষ্টি দিন। তখন আমি দিগন্ত জোড়া একটি বিশাল দল দেখলাম। এ সময় আমাকে আবার বলা হলো, আপনি এদিক-ওদিক দেখুন। তখন আমি বিরাট দল দেখতে পেলাম, যা (এ সকল) দিগন্ত জুড়ে রয়েছে। এবার আমাকে জানানো হলো, এরা আপনার উম্মাত। এদের সামনে সত্তর হাজার লোক রয়েছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা ঐ সমস্ত লোক যারা অশুভ-অমঙ্গল চিহ্ন বা লক্ষণ মানে না, ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্র-তন্ত্রের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না এবং (আগুনে পোড়া লোহার) দাগ লাগায় না। তারা আপন পরওয়ারদিগারের ওপর ভরসা রাখে। তখন ’উককাশাহ ইবনু মিহসান দাড়িয়ে বললেন: (হে আল্লাহর রসূল!) আল্লাহর কাছে দু’আ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন তিনি (সা.) এ বলে দু’আ করলেন: হে আল্লাহ! তাকেও তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করো! এরপর আরেক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে আবেদন করল; আমার জন্যও আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকেও এদের মাঝে গণ্য করেন। তিনি (সা.) বললেন: এ ব্যাপারে ’উক্কাশাহ্ তোমার আগে সুযোগ নিয়ে গেছে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْهُ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ: عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ فَجَعَلَ يَمُرُّ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلَانِ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّهْطُ وَالنَّبِيُّ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفُقَ فَرَجَوْتُ أَنْ يَكُونَ أُمَّتِي فَقِيلَ هَذَا مُوسَى فِي قَوْمِهِ ثُمَّ قِيلَ لِي انْظُرْ فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفُقَ فَقِيلَ لِي انْظُرْ هَكَذَا وَهَكَذَا فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفق فَقيل: هَؤُلَاءِ أُمَّتُكَ وَمَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعُونَ أَلْفًا قُدَّامَهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ هُمُ الَّذِينَ لَا يَتَطَيَّرُونَ ولايسترقون وَلَا يَكْتَوُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ فَقَامَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. قَالَ «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ» . ثُمَّ قَامَ رجل فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (5752) و مسلم (374 / 220)، (527) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعنه قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فقال: عرضت علي الامم فجعل يمر النبي ومعه الرجل والنبي ومعه الرجلان والنبي ومعه الرهط والنبي وليس معه احد فرايت سوادا كثيرا سد الافق فرجوت ان يكون امتي فقيل هذا موسى في قومه ثم قيل لي انظر فرايت سوادا كثيرا سد الافق فقيل لي انظر هكذا وهكذا فرايت سوادا كثيرا سد الافق فقيل: هولاء امتك ومع هولاء سبعون الفا قدامهم يدخلون الجنة بغير حساب هم الذين لا يتطيرون ولايسترقون ولا يكتوون وعلى ربهم يتوكلون فقام عكاشة بن محصن فقال: ادع الله ان يجعلني منهم. قال «اللهم اجعله منهم» . ثم قام رجل فقال: ادع الله ان يجعلني منهم. فقال سبقك بها عكاشة. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (5752) و مسلم (374 / 220)، (527) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (هَؤُلَاءِ أُمَّتُكَ) এরা আপনার উম্মাত। আল্লামাহ্ কিরমানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে (উম্মাত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উম্মাতুল ইজাবা অথবা উম্মাতুল ইত্তিবা। কেননা নবী (সা.) -এর উম্মাত তিন প্রকার। একটি অপরটি থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। (১) উম্মাতুল ইত্তিবা, (২) উম্মাতুল ইজাবা, (৩) উম্মাতুদ দা'ওয়া। প্রথমটি দ্বারা উদ্দেশ্য যারা সৎকার্জ সম্পাদন করে। আর ২য় টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মুসলিম এবং তৃতীয় প্রকার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উক্ত দুই প্রকার ব্যতীত অন্য সকল উম্মাত যাদের প্রতি নবী (সা.) প্রেরিত হয়েছেন।

(وَمَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعُونَ أَلْفًا) এই উম্মাতের সাথে সত্তর হাজার লোক রয়েছে। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হয়তো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আপনার এই উম্মাত ছাড়াও আরো ৭০ হাজার লোক রয়েছে অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আপনার উম্মতের মাঝে ৭০ হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। এর প্রমাণ হলো সহীহুল বুখারীর বর্ণিত হাদীস : (هٰذِه„ أُمَّتُكَ وَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ هَؤُلاَءِ سَبْعُونَ أَلْفًا) “এরা হলো আপনার উম্মাত এদের মধ্য থেকে ৭০ হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে”। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(هُمُ الَّذِينَ لَا يَتَطَيَّرُونَ) তারা অর্থাৎ ৭০ হাজার লোক তারাই, যারা পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করে না বা কুলক্ষণে বিশ্বাস করে না।

(ولايسترقون) “ঝাড়ফুঁক করায় না” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো : কুরআন ও সহীহ হাদীস বহির্ভূত দু'আ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করায় না। যেমন, এমন অজ্ঞাত ঝাড়ফুঁক যা শিরকমুক্ত নয়।

(وَلَا يَكْتَوُونَ) লোহা গরম করে শরীরে দাগ দেয় না। তবে প্রয়োজনে এটা করা যাবে কিন্তু এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আরোগ্য কেবল আল্লাহর ওপর ন্যস্ত শুধু দাগের কোন ক্ষমতা নেই। যেমনটি কোন কোন সাহাবী এ কাজ করেছেন। যেমন আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম সাহাবী সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস।

(وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ) আর তারা তাদের রবের ওপর সর্বদা ভরসা করে। এই বাক্যটি পূর্বে উল্লেখিত তিনটি বিষয় : ঝাড়ফুক না করা, কুলক্ষণে বিশ্বাস না করা এবং শরীরে লোহা গরম করে দাগ লাগানো থেকে বিরত থাকার ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। অথবা, প্রথমে নির্দিষ্ট গুণাবলি উল্লেখ করার পর আরো সাধারণভাবে আলোচনা করা হয়েছে। (ফাতহুল বারী ১১/৬৫৪১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫২৯৭-[৩] সুহায়ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ঈমানদারের ব্যাপারটাই অদ্ভূত। বস্তুত ঈমানদারের প্রতিটি কাজই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটা একমাত্র মু’মিনদেরই বৈশিষ্ট্য। তার সচ্ছলতা অর্জিত হলে সে শোকর করে, এটা তার জন্য কল্যাণকর। তার ওপর কোন বিপদ আসলে সে ধৈর্য ধরে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْ صُهَيْبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم «عجبا لأمر الْمُؤمن كُله خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَلِكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ» رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (64 / 2999)، (7500) ۔
(صَحِيح)

وعن صهيب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «عجبا لامر المومن كله خير وليس ذلك لاحد الا للمومن ان اصابته سراء شكر فكان خيرا له وان اصابته ضراء صبر فكان خيرا له» رواه مسلم رواہ مسلم (64 / 2999)، (7500) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (عجبا لأمر الْمُؤمن) ঈমানদারদের ব্যাপারটাই অদ্ভূত। অর্থাৎ সর্বদা তার জান ও মালের কল্যাণকর অবস্থার জন্য। তার সকল অবস্থায় কল্যাণ রয়েছে আর এটা মু'মিন ছাড়া অন্য কারো জন্য নেই।
(إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ) যদি তার ওপর কোন কল্যাণ আসে তথা নি'আমত ও জীবিকার প্রাচুর্যতা, স্বচ্ছলতা এবং কল্যাণকর কাজের সে যখন তাওফীক পায় তখন সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করে যা তার জন্য কল্যাণকর।
(وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ) আর যদি তার কোন অকল্যাণ হয় তখনও ধৈর্যধারণ করে। দরিদ্রতা অসুস্থতা, দুঃখ, কষ্ট, বিপদাপদ ইত্যাদিতে পতিত হয় তখনও ধৈর্যধারণ করে আর তা তার জন্য কল্যাণকর হয়।

অতএব এ হাদীস থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, এ কথা সর্বদা সঠিক নয়ঃ (أَنَّ الْفَقِيرَ الصابِرَ أَفْضَلُ مِنَ الْغَنِيِّ الشَّا كِرِ) নিশ্চয় ধৈর্যধারণকারী দরিদ্র, কৃতজ্ঞ ধনী ব্যক্তি থেকে উত্তম। বরং এ কথাটি সময়ের ভিন্নতা ও ব্যক্তির অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির অবস্থার উপর ছেড়ে দেয়াই উত্তম। যেহেতু আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ) “আল্লাহই ভালো জানেন, তোমরা জান না”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ২১৬)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫২৯৮-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শক্তিশালী মু’মিন দুর্বল ঈমানদার হতে অধিক উত্তম ও আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তবে প্রত্যেকের মাঝেই কল্যাণ রয়েছে। (কেননা কল্যাণের মূলই হলো ঈমান; আর তা কমবেশি উভয় প্রকারের মুমিনের মধ্যে মওজুদ আছে)। আর (দীনি) যে কাজে তোমার উপকার হবে, তার প্রতি আগ্রহ রাখো এবং আল্লাহ তা’আলার সাহায্য কামনা করো (কিন্তু তা অর্জনে) দুর্বলতা প্রকাশ করো না। যদি তোমার কোন কাজে (চাই তা দীন সম্পর্কীয় হোক বা দুনিয়াবি ব্যাপারে হোক) কিছু ক্ষতি সাধিত হয় তখন তুমি এভাবে বলো না- “যদি আমি কাজটি এভাবে এভাবে করতাম তাহলে আমার এই এই ভালো হত।” বরং বলল, আল্লাহ এটাই ভাগ্যে রেখেছিলেন, আর তিনি যা চান তাই করেন। (لَوْ) তথা “যদি” শব্দটি শয়তানের কাজের পথকে খুলে দেয়। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ واستعن بِاللَّه ولاتعجز وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا وَلَكِنْ قُلْ قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عمل الشَّيْطَان» رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (34 / 2664)، (6774) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «المومن القوي خير واحب الى الله من المومن الضعيف وفي كل خير احرص على ما ينفعك واستعن بالله ولاتعجز وان اصابك شيء فلا تقل لو اني فعلت كان كذا وكذا ولكن قل قدر الله وما شاء فعل فان لو تفتح عمل الشيطان» رواه مسلم رواہ مسلم (34 / 2664)، (6774) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ واستعن بِاللَّه ولاتعجز) তোমার উপকারী বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর আর তা অর্জনে অপারগতা বা অক্ষমতা প্রকাশ করো না।
অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজের প্রতি আগ্রহী হও এবং তার নিকট উত্তম প্রতিদান কামনা কর। সেজন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। আর আনুগত্যমূলক কাজে অপারগতা বা অলসতা প্রকাশ করো না। এমনকি তার সাহায্য কামনার ক্ষেত্রেও না।
(وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا)  যদি তোমার কোন অকল্যাণ হয় তবে এ কথা বলবে না, যদি আমি এটা করতাম তাহলে এমন এমন ফল পেতাম। বরং তাক্বদীরকে মেনে নাও এবং বল, আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কেননা (لَوْ) যদি কথা বলাতে শয়তানের পথ খুলে যায়। আল্লামা কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) এ কথার ব্যাখ্যায় বলেন, কোন কোন ‘আলিম বলেন, এই নিষিদ্ধতা ঐ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যে এই বিশ্বাস রাখে, আমি এই কাজ না করলে এমনটি ঘটতো না। কিন্তু যে ব্যক্তি তাকে আল্লাহর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয় এবং এই বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ যা চেয়েছেন তাই হয়েছে, তার জন্য নিষিদ্ধ নয়। এর দলীল হলো আবূ বা সিদ্দীক (রাঃ)-এর উক্তি : (لَوْأَنَّ أَحَدَهُمْ رَفَعَ رَأْسَهٗ لَرَآنَا) যদি তাদের কেউ মাথা উঠাতো তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে দেখে ফেলত।
কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, তার এই উক্তি দলীল হতে পারে না। কেননা তিনি এর দ্বারা ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। তাক্বদীর ঘটে যাওয়ার পর এ কথা বলেছেন বলে দাবী করা সঠিক নয়। এমনিভাবে বুখারীতে ‘যদি বলা বৈধ প্রসঙ্গে যতগুলো হাদীস রয়েছে। সবগুলোর উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতের সংবাদ দেয়া। তাক্বদীরের ব্যাপারে আপত্তিকর নয় বা তাতে অপছন্দনীয় কিছু নেই। তিনি এর মাধ্যমে এই সংবাদ দিয়েছেন যে, যদি ভবিষ্যতে কোন বাধা না আসে তাহলে অবশ্যই তা করবেন।

কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেন, অত্র হাদীসে ‘যদি' বলার নিষিদ্ধতা বাহ্যিকভাবে অথবা সাধারণভাবে সর্বদাই নিষিদ্ধ। আর তা এই নিষেধাজ্ঞাটি ধমকসূচক, হারাম নয়। এর প্রমাণ হচ্ছে হাদীসের পরবর্তী অংশ (إِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عمل الشَّيْطَان) কেননা যদি বলা শয়তানের পথ খুলে দেয়। অর্থাৎ অন্তরে তাক্বদীরের প্রতি অনিহা সৃষ্টি করে এবং শয়তানের দ্বারা ওয়াসওয়াসা প্রদান করে। (শারুহুন্ নাবাবী ১৬/২৬৬৫, মিরক্বাতুল মাফাতীহ ৫২৯৮)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫২৯৯-[৫] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, [রাসূল (সাঃ) বলেছেন] যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি যথার্থ ভরসা কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে অনুরূপ রিযক দান করবেন, যেরূপ পাখিকে রিযক দিয়ে থাকেন। তারা ভোরে খালি পেটে বের হয় এবং দিনের শেষে ভরা পেটে (বাসায়) ফিরে আসে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

عَن عمر بن الْخطاب قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

حسن ، رواہ الترمذی (2344 وقال : حسن صحیح) و ابن ماجہ (4164) ۔
(صَحِيح)

عن عمر بن الخطاب قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لو انكم تتوكلون على الله حق توكله لرزقكم كما يرزق الطير تغدو خماصا وتروح بطانا . رواه الترمذي وابن ماجه حسن ، رواہ الترمذی (2344 وقال : حسن صحیح) و ابن ماجہ (4164) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (لَوْ أَنَّكُمْ تَتَوَكَّلُونَ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ) যদি তোমরা আল্লাহ তা'আলা ওপর যথাযথ ভরসা করতে এবং এ কথা নিশ্চিতভাবে অবগত হতে যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে এর কর্তা একমাত্র আল্লাহ। আর রিযকদাতা ও রোধকারী তিনিই, এরপর তোমরা উত্তম পদ্ধতিতে তার ওপর ভরসা করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে তাহলে (لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ) তোমরাও রিযকপ্রাপ্ত হতে যেমনটি পাখিকে রিযক দেয়া হয়। সে সকালে খালি পেটে বাসা থেকে বের হয় এবং সন্ধ্যায় পেটপূর্ণ করে আবার বাসায় ফিরে আসে।

ইমাম মুনাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, পাখি সকাল বেলা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেরিয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় পেট ভর্তি করে ফিরে আসে। অতএব উপার্জন করাই রিযকদাতা হতে পারে না বরং রিযকদাতা হলেন একমাত্র আল্লাহ। তিনি এ দ্বারা বুঝিয়েছেন যে, ভরসা করা অর্থ কর্মহীন হয়ে বসে থাকা নয়। বরং যে কোন বৈধ পন্থার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া আবশ্যক। কেননা পাখিরা রিযকপ্রাপ্ত হয় চেষ্টা ও অন্বেষণের মাধ্যমে। আর এজন্যই ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসের মাধ্যমে উপার্জন বন্ধ করে বসে থাকার কথা বলা হয়নি। বরং রিযক অন্বেষণ করার প্রতি দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি (সা.) এর দ্বারা বুঝিয়েছেন, যদি তারা তাদের কর্মস্থলে যাওয়া আসার মাঝে ও চেষ্টা প্রচেষ্টার সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা করত এবং এটা অবগত হত যে, কল্যাণ একমাত্র আল্লাহর হাতে, তবে তারাও পাখির মতো নিরাপদে গনীমাতপ্রাপ্ত হয়ে ফিরত। (তুহফাতুল আহওয়ায়ী ৬/২৩৪৪, মিরক্বাতুল মাফাতীহ ৫২৯৯)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০০-[৬] ইবনু মাস্’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হে লোক সকল! যে ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে আদেশ করেছি তাছাড়া এমন কোন জিনিসই নেই যা তোমাদেরকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। আর যা থেকে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করেছি তাছাড়া এমন কোন জিনিসই নেই যা তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। রূহুল আমীন আরেক বর্ণনায় আছে রূহুল কুদুস (জিবরীল আলাইহিস সালাম) আমার অন্তরে এ কথাটি ঢেলে দিয়েছেন যে, কোন দেহ তার (নির্ধারিত) রিযক পরিপূর্ণভাবে ভোগ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং ধনসম্পদ উপার্জনে উত্তম নীতি অবলম্বন কর। কাঙিক্ষত রিযক পৌছার বিলম্বতা যেন তোমাদেরকে আল্লাহর অবাধ্যতার খোঁজার পথে তা অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ না করে। কেননা আল্লাহর কাছে যা নির্ধারিত রিযক আছে তা আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া অর্জন করা যায় না। (আল্লামা বাগাবী’র “শারহুস্ সুন্নাহ্” এবং বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান বর্ণনা করেছেন। তবে (وَإنَّ رُوحَ اوقُدُسِ) “আর নিশ্চয় রূহুল কুদুস (জিবরীল আলায়হিস সালাম)” এ বাক্যটি বায়হাক্বী বর্ণনা করেননি)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّهَا النَّاسُ لَيْسَ مِنْ شَيْءٍ يُقَرِّبُكُمْ إِلَى الْجَنَّةِ وَيُبَاعِدُكُمْ مِنَ النَّارِ إِلَّا قَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ وَلَيْسَ شَيْءٌ يُقَرِّبُكُمْ مِنَ النَّارِ وَيُبَاعِدُكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلَّا قَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ وَإِنَّ الرُّوحَ الْأَمِينَ - وَفِي روايةٍ: وإِن رُوحَ الْقُدُسِ - نَفَثَ فِي رُوعِي أَنَّ نَفْسًا لَنْ تَمُوتَ حَتَّى تَسْتَكْمِلَ رِزْقَهَا أَلَا فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ وَلَا يَحْمِلَنَّكُمُ اسْتِبْطَاءُ الرِّزْقِ أَنْ تَطْلُبُوهُ بِمَعَاصِي اللَّهِ فَإِنَّهُ لَا يُدْرَكُ مَا عِنْدَ اللَّهِ إِلَّا بِطَاعَتِهِ «. رَوَاهُ فِي» شرح السّنة «وَالْبَيْهَقِيّ فِي» شعب الإِيمان إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ: «وَإِنَّ رُوحَ الْقُدُسِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 303 ۔ 304 ح 4111) و البیھقی فی شعب الایمان (10376 ، نسخۃ محققۃ : 9891) * السند منقطع ، زبید الایامی لم یدرک ابن مسعود و للحدیث شاھدان ضعیفان ۔

وعن ابن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ايها الناس ليس من شيء يقربكم الى الجنة ويباعدكم من النار الا قد امرتكم به وليس شيء يقربكم من النار ويباعدكم من الجنة الا قد نهيتكم عنه وان الروح الامين - وفي رواية: وان روح القدس - نفث في روعي ان نفسا لن تموت حتى تستكمل رزقها الا فاتقوا الله واجملوا في الطلب ولا يحملنكم استبطاء الرزق ان تطلبوه بمعاصي الله فانه لا يدرك ما عند الله الا بطاعته «. رواه في» شرح السنة «والبيهقي في» شعب الايمان الا انه لم يذكر: «وان روح القدس» اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 303 ۔ 304 ح 4111) و البیھقی فی شعب الایمان (10376 ، نسخۃ محققۃ : 9891) * السند منقطع ، زبید الایامی لم یدرک ابن مسعود و للحدیث شاھدان ضعیفان ۔

ব্যাখ্যা: মানুষকে জান্নাতের নিকটবর্তী করা এবং জাহান্নাম থেকে দূরে থাকার যাবতীয় বিষয়ের দিক নির্দেশনা নবী (সা.) করেছেন। এমনিভাবে মানুষকে জাহান্নামের নিকটবর্তী করে ও জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এমন সমস্ত বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, যাবতীয় উপকারী ও প্রতিরোধকারী বিষয়ে জ্ঞান কেবল কুরআন ও হাদীস থেকেই শিখতে হবে। এ দুটি ছাড়া অন্য কোন জ্ঞান চর্চা করা অপকারী কাজে জীবন নষ্ট করা।

(أَنَّ نَفْسًا لَنْ تَمُوتَ حَتَّى تَسْتَكْمِلَ رِزْقَهَا) আল্লাহ তা'আলা এই মর্মে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, সৃষ্টিকুলে কোন প্রাণী তার জন্য নির্ধারিত রিযক পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। যেমন আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, (اَللّٰهُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ ثُمَّ رَزَقَکُمۡ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ) “আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিযক দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন...”- (সূরা আর রূম ৩০ : ৪০)।

(أَلَا فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ) সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং উত্তম পন্থায় জীবিকা অর্জন কর এবং জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করো না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ ﴿۵۶﴾ مَاۤ اُرِیۡدُ مِنۡهُمۡ مِّنۡ رِّزۡقٍ وَّ مَاۤ اُرِیۡدُ اَنۡ یُّطۡعِمُوۡنِ ﴿۵۷﴾ اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الۡقُوَّۃِ الۡمَتِیۡنُ ﴿۵۸﴾)

“আমি জিন্ ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ইবাদাত করবে। আমি তাদের থেকে রিযক চাই না, আর আমি এও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে। আল্লাহই তো রিযকদাতা, মহা শক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত।” (সূরাহ্ আহ্ যা-রিয়া-ত ৫১: ৫৬-৫৮)

(أَلَا فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ) রিযক প্রাপ্তির বিলম্ব যেন তোমাদেরকে অন্যায়ভাবে, অবৈধ ও হারাম পন্থায় জীবিকা অর্জন করতে প্ররোচিত না করে। কেননা আল্লাহর নিকট যে হালাল রিযক ও জান্নাত রয়েছে তা আনুগত্যের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব, অবৈধ পন্থায় নয়।

আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআত এখান থেকে দলীল গ্রহণ করেন যে, হালাল ও হারাম সবই রিযক এবং সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে মুতাযিলাগণ বিরোধিতা করেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০১-[৭] আবূ যার (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (সা.) বলেছেন: কোন বৈধ বস্তুকে হারাম করা এবং ধনসম্পদকে ধ্বংস করার নাম দুনিয়া বর্জন করা নয়, বরং প্রকৃত দুনিয়া বর্জন হলো, আল্লাহ তা’আলার হাতে যা আছে তা অপেক্ষা তোমার হাতে যা আছে তা বেশি নির্ভরযোগ্য মনে না করা এবং যখন তোমার ওপর কোন বিপদ এসে পড়ে তখন সেই বিপদ তোমার ওপর পতিত না হওয়ার পরিবর্তে সাওয়াবের আশায় তা বাকি থাকার প্রতি আগ্রহ বেশি হওয়া। [তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এ হাদীসটি গবীর, বর্ণনাকারী ’আমর ইবনু ওয়াক্বিদ মুনকারুল হাদীস)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا لَيْسَتْ بِتَحْرِيم وَلَا إِضَاعَةِ الْمَالِ وَلَكِنَّ الزَّهَادَةَ فِي الدُّنْيَا أَنْ لَا تَكُونَ بِمَا فِي يَدَيْكَ أَوْثَقَ بِمَا فِي يَد اللَّهِ وَأَنْ تَكُونَ فِي ثَوَابِ الْمُصِيبَةِ إِذَا أَنْتَ أُصِبْتَ بِهَا أَرْغَبَ فِيهَا لَوْ أَنَّهَا أُبْقِيَتْ لَكَ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَعَمْرُو بْنُ وَاقِدٍ الرَّاوِي مُنكر الحَدِيث

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (2340) و ابن ماجہ (4100) * عمرو بن واقد : متروک ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي ذر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الزهادة في الدنيا ليست بتحريم ولا اضاعة المال ولكن الزهادة في الدنيا ان لا تكون بما في يديك اوثق بما في يد الله وان تكون في ثواب المصيبة اذا انت اصبت بها ارغب فيها لو انها ابقيت لك» رواه الترمذي وابن ماجه وقال الترمذي: هذا حديث غريب وعمرو بن واقد الراوي منكر الحديث اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (2340) و ابن ماجہ (4100) * عمرو بن واقد : متروک ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا لَيْسَتْ بِتَحْرِيم..) হালালকে হারামে পরিণত করা এবং সম্পদ ধ্বংস করার নাম দুনিয়াবিমুখতা নয়, যেমনটি কতিপয় অজ্ঞ লোকেরা করে থাকে। এই ধারণাবশত হয়েই সে গোশত, মিষ্টি, ফলমূল খাওয়া এবং সুন্দর কাপড় পরিধান করা ও বিবাহ-শাদি ইত্যাদি বৈধ কাজ পরিত্যাগ করে থাকে। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেন, (یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُحَرِّمُوۡا طَیِّبٰتِ مَاۤ اَحَلَّ اللّٰهُ لَکُمۡ وَ لَا تَعۡتَدُوۡا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا یُحِبُّ الۡمُعۡتَدِیۡنَ ﴿۸۷﴾)
“হে ঈমানদারগণ! পবিত্র বস্তুরাজি যা আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন সেগুলোকে হারাম করে নিও না আর সীমালঙ্ন করো না, অবশ্যই আল্লাহ সীমালঙ্নকারীদের ভালোবাসেন না।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫: ৮৭)
এমনিভাবে রাসূল (সা.) থেকে প্রমাণিত রয়েছে যে, তিনি এ সমস্ত কাজ করেছেন। তার চেয়ে পরিপূর্ণ অবস্থা আর কারো হতে পারে না।
(وَلَا إِضَاعَةِ الْمَالِ) এমনিভাবে দুনিয়াবিমুখতা অর্থ সম্পদ নষ্ট করা নয়। ফলে সম্পদকে নষ্ট করবে এবং যথাস্থানে তা ব্যয় না করে সাগরে ফেলে দিবে অথবা ধনী-দরিদ্র বিচার না করে সকলকে দিয়ে দিবে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে মানুষের নিকট হাত পাতবে।

(وَلَكِنَّ الزَّهَادَةَ فِي الدُّنْيَا أَنْ لَا تَكُونَ بِمَا فِي يَدَيْكَ أَوْثَقَ بِمَا فِي يَد اللَّهِ) বরং সত্যিকার দুনিয়াবিমুখতা হলো তোমার নিকট যে ধন-সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে তার চেয়ে আল্লাহর তা'আলার নিকট যা কিছু রয়েছে তার প্রতি অধিক আকাক্ষিত হওয়া। যেমন ইবনু মাজার হাদীসে রয়েছে : আল্লাহর নিকট তার ধনভাণ্ডারে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য যা কিছু রয়েছে তা তোমার কাছে যা আছে তা থেকে অধিক আকাঙ্ক্ষিত বিষয় হওয়া উচিত। অতএব হাদীসের অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তা'আলা তোমার জন্য রিযকের যে ওয়াদা করেছেন তার ওপর ভরসা থাকা উচিত এবং এ ধারণা রাখা যে, তিনি তোমাকে এমনভাবে রিযক দিবেন যা তুমি কল্পনাও করতে পারনি এবং এমনভাবে দান করবেন যা তুমি কখনো উপার্জন করতে সক্ষম হওনি। এটা তোমার নিকট যে ধন-সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, মান সম্মান ইত্যাদি যা কিছু আছে তার থেকে অধিক শক্তিশালী ও স্থায়ী। কেননা তোমার সম্পদ একদিন শেষ হয়ে যাবে, ধ্বংস হয়ে যাবে কিন্তু আল্লাহর নিকট যা আছে তা চিরস্থায়ী। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, (مَا عِنۡدَکُمۡ یَنۡفَدُ وَ مَا عِنۡدَ اللّٰهِ بَاقٍ ؕ)
“তোমাদের কাছে যা আছে তা শেষ হয়ে যাবে, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তা টিকে থাকবে...” (সূরাহ্ আল নাহল ১৬:৯৬)।
(وَأَنْ تَكُونَ فِي ثَوَابِ الْمُصِيبَةِ إِذَا أَنْتَ أُصِبْتَ بِهَا أَرْغَبَ فِيهَا) আর এমন যেন না হয়, তুমি সাওয়াবের আশায় বিপদে পতিত হওয়াকে অধিক কামনা করবে বিপদ না আশা থেকে। অর্থাৎ এমন মনে করবে না বিপদ আসলেই অধিক সাওয়াব হবে আর বিপদ না আসলে তোমারা সাওয়াব ছুটে যাবে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৩৪০, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০২-[৮] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সওয়ারীর পিছনে বসছিলাম। তখন তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে ছেলে! আল্লাহর বিধানসমূহ যথাযথভাবে মেনে চল আল্লাহ তোমাকে হিফাযতে রাখবেন। আল্লাহর অধিকার আদায় কর, তবে তুমি আল্লাহকে তোমার সম্মুখে পাবে। আর যখন তুমি কারো কাছে কিছু চাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে এবং যখন কারো সাহায্য চাইতে হয় তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রাখ, যদি সমস্ত সৃষ্টিজীব একত্র হয়ে তোমার কোন কল্যাণ করতে চায় তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ব্যতীত তোমার কোন কল্যাণ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে যদি সমস্ত সৃষ্টিজীব সমবেতভাবে তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ব্যতীত তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (তোমাদের ভাগ্যের সব কিছু লেখার পর) কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ শুকিয়ে গেছে। (আহমাদ ও তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كُنْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ: «يَا غُلَامُ احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ وَلَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف» رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (1 / 293 ح 2669) و الترمذی (2516 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عباس قال: كنت خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فقال: «يا غلام احفظ الله يحفظك احفظ الله تجده تجاهك واذا سالت فاسال الله واذا استعنت فاستعن بالله واعلم ان الامة لو اجتمعت على ان ينفعوك بشيء لم ينفعوك الا بشيء قد كتبه الله لك ولو اجتمعوا على ان يضروك بشيء لم يضروك الا بشيء قد كتبه الله عليك رفعت الاقلام وجفت الصحف» رواه احمد والترمذي اسنادہ حسن ، رواہ احمد (1 / 293 ح 2669) و الترمذی (2516 وقال : حسن صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (يَا غُلَامُ) হে বৎস! (غُلَامُ) দ্বারা উদ্দেশ্য ছোট ছেলে, গোলাম বা দাস নয়। অভিধান গ্রন্থে (غُلَامُ) দ্বারা যুবক অর্থ করা হয়েছে অথবা সন্তান জন্মের পর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বয়স। ডাক দেয়ার উদ্দেশ্য হলো যাতে সে প্রস্তুত হয় এবং দিক-নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করে।

(احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ) আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাকে হিফাযত কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতে বিপদাপদ ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং পরকালে সকল প্রকার শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দিবেন।
(احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ) ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তুমি আল্লাহ অধিকারকে সংরক্ষণ কর এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা কর তাহলে তুমি তাকে তোমার সম্মুখে যাবতীয় অকল্যাণ থেকে সংরক্ষণকারী হিসেবে দেখতে পাবে।

(وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ) অর্থাৎ যখন তুমি কোন কিছু চাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন একমাত্র আল্লাহর নিকটেই চাইবে। কেননা দেয়ার মতো যাবতীয় ধনভাণ্ডার তাঁর হাতে রয়েছে। অথবা বান্দার নিকটে নি'আমাত পৌছানো বা না পৌছানো কেবল তার ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। আর তিনিই একমাত্র দাতা ও অভাবমুক্ত সত্তা, যিনি কারো কাছে মুখাপেক্ষী নন। অতএব একমাত্র তারই নি'আমাতের আশা করা উচিত অথবা শাস্তি প্রতিহত কামনা করা উচিত।
(وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ) অর্থাৎ আনুগত্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অন্যান্য বিষয়ে সাহায্য কামনা করার ইচ্ছা করলে কেবল তারই নিকট সাহায্য কামনা করবে ও তারই ওপর ভরসা করবে সকল স্থানে ও সকল অবস্থায়।
(رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف) লাওহে মাহফুযে বান্দার তাক্বদীর সম্পর্কে যা লেখার ও নির্ধারণ করার ছিল তা হয়ে গেছে। এরপর কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে নতুন করে কোন কিছু লেখা থেকে। আর কিয়ামত পর্যন্ত বান্দার তাক্বদীর যা হবে তা লেখা হয়ে পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে। সেখানে নতুন করে আর কিছু সংযোজন করা হবে না অথবা কোন বিধান পরিবর্তন করাও হবে না।
(رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف) হাদীসাংশ দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে যে, তাক্বদীরের ফায়সালা, “আল্লাহর ইলম অনুযায়ী নির্ধারণ হয়ে গেছে তা আর পরিবর্তন পরিবর্ধন হবে না।” (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৫১৬, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০৩-[৯] সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আদম সন্তানের সৌভাগ্য হলো আল্লাহর ফায়সালার উপর খুশি থাকা, আর আদম সন্তানের দুর্ভাগ্য আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা ছেড়ে দেয়া। আর এটাও আদম সন্তানের দুর্ভাগ্য যে, সে আল্লাহর ফায়সালায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। [আহমাদ ও তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْ سَعْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ رِضَاهُ بِمَا قَضَى اللَّهُ لَهُ وَمِنْ شَقَاوَةِ ابْنِ آدَمَ تَرْكُهُ اسْتِخَارَةِ اللَّهِ وَمِنْ شَقَاوَةِ ابْنِ آدَمَ سُخْطُهُ بِمَا قَضَى اللَّهُ لَهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 168 ح 1444) و الترمذی (2151) * محمد بن ابی حمید : ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن سعد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من سعادة ابن ادم رضاه بما قضى الله له ومن شقاوة ابن ادم تركه استخارة الله ومن شقاوة ابن ادم سخطه بما قضى الله له» . رواه احمد والترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (1 / 168 ح 1444) و الترمذی (2151) * محمد بن ابی حمید : ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (مِنْ سَعَادَةِ ابْنِ آدَمَ رِضَاهُ بِمَا قَضَى اللَّهُ لَهُ) আদম সন্তানের সৌভাগ্যের নিদর্শন হচ্ছে সে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করবে, অতঃপর তিনি তার জন্য যা ফায়সালা করেছেন এবং তার ভাগ্যে নির্ধারণ করেছেন তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। এর বিপরীত দুর্ভাগ্য রয়েছে যেমনটি পরবর্তী বাক্যে বলা হয়েছে,
(وَمِنْ شَقَاوَةِ ابْنِ آدَمَ تَرْكُهُ اسْتِخَارَةِ اللَّهِ وَمِنْ شَقَاوَةِ ابْنِ آدَمَ سُخْطُهُ بِمَا قَضَى اللَّهُ لَهُ)  আদম সন্তানের জন্য দুর্ভাগ্য হচ্ছে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা না করা এবং তিনি যা ফায়সালা করেছেন তার জন্য রাগান্বিত হওয়া ও সন্তুষ্ট না থাকা। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : আল্লাহর ফায়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হচ্ছে রাগকে পরিহার করা। আর এটা সৌভাগ্যের নিদর্শন। তিনি দুটি কারণে এটিকে বান্দার সৌভাগ্যের নিদর্শন ধার্য করেছেন-

[এক] যাতে ইবাদতের জন্য সমস্ত সময়কে ব্যয় করতে পারে। কেননা বান্দা যদি আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট না থাকে তাহলে সর্বদা চিন্তিত থাকবে। বিভিন্ন কার্যকলাপে মন ব্যস্ত থাকবে এবং বলবে, কেন এমনটি হলো, এমন হলো না কেন?

[দুই] যাতে তার রাগের কারণে তার ওপর আল্লাহর গযব নাযিল না হয়। বান্দার রাগের বহিঃপ্রকাশ হলো আল্লাহ তা'আলা তার জন্য যা ফায়সালা করেছেন তার বিপরীত উল্লেখ করা। আর যে ব্যাপারে তার কল্যাণ ও অকল্যাণ কোনটাই জানা নেই সে ব্যাপারে তার এমন মন্তব্য করা এটা হলে আরো ভালো হত, উত্তম হত। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫/২১৫১, মিরকাতুল মাফাতীহ ৫৩০৩)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০৪-[১০] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার তিনি নাজদ অভিমুখে এক যুদ্ধ অভিযানে নাবী (সা.) - এর সঙ্গে ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তিনিও তাঁর সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করেন। (এ সময়ে) সাহাবীগণ দ্বিপ্রহরের সময় কাঁটাযুক্ত বৃক্ষরাজিতে ঢাকা একটি উপত্যকায় পৌছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সেখানে অবতরণ করেন। লোকজন ছায়ার জন্য বিভিন্ন গাছের নিচে ছড়িয়ে পড়ল। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বাবলা গাছের নিচে অবতরণ করে তাতে নিজের তরবারিখানা ঝুলিয়ে রাখলেন। এদিকে আমরাও একটু শুয়ে পড়লাম। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে ডাকতে লাগলেন। আমরা গিয়ে দেখলাম তাঁর নিকট এক বেদুঈন উপস্থিত রয়েছে। নাবী (সা.)- বললেন, আমি নিদ্রিত ছিলাম, এ লোকটি সেই সুযোগে আমার ওপরে আমার তরবারিখানাই উত্তোলন করেছিল। আমি জাগ্রত হয়ে দেখলাম, তার হাতে কোষমুক্ত তরবারি রয়েছে এবং সে বলল, বল দেখি, আমার হাত হতে তোমাকে কে রক্ষা করবে? আমি বললাম, আল্লাহ তিনবার। এরপর তিনি (সা.) তাকে কোন শাস্তি দেননি এবং উঠে বসলেন। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

عَن جَابر أَنَّهُ غَزَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قبل نجد فَلَمَّا قَفَلَ مَعَهُ فَأَدْرَكَتْهُمُ الْقَائِلَةُ فِي وَادٍ كَثِيرِ الْعِضَاهِ فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَفَرَّقَ النَّاسُ يَسْتَظِلُّونَ بِالشَّجَرِ فَنَزَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتَ سَمُرَةٍ فَعَلَّقَ بِهَا سَيْفَهُ وَنِمْنَا نَوْمَةً فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُونَا وَإِذَا عِنْدَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: إِنَّ هَذَا اخْتَرَطَ عَلَيَّ سَيْفِي وَأَنَا نَائِمٌ فَاسْتَيْقَظْتُ وَهُوَ فِي يَدِهِ صَلتا. قَالَ: مَا يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ فَقُلْتُ: اللَّهُ ثَلَاثًا وَلَمْ يُعَاقِبْهُ وَجلسَ. مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (2910) و مسلم (311 / 843)، (1949) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن جابر انه غزا مع النبي صلى الله عليه وسلم قبل نجد فلما قفل معه فادركتهم القاىلة في واد كثير العضاه فنزل رسول الله صلى الله عليه وسلم وتفرق الناس يستظلون بالشجر فنزل رسول الله صلى الله عليه وسلم تحت سمرة فعلق بها سيفه ونمنا نومة فاذا رسول الله صلى الله عليه وسلم يدعونا واذا عنده اعرابي فقال: ان هذا اخترط علي سيفي وانا ناىم فاستيقظت وهو في يده صلتا. قال: ما يمنعك مني؟ فقلت: الله ثلاثا ولم يعاقبه وجلس. متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (2910) و مسلم (311 / 843)، (1949) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (قِبَلَ نَجْدٍ) নাজদের দিক থেকে। নাজদ বলা হয় ভূপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থিত জমিনকে।
(قَفَلَ مَعَهُ) অর্থাৎ জাবির (রাঃ) নাবী (সা.) -এর সাথে প্রত্যাবর্তন করলেন।
(فَأَدْرَكَتْهُمُ الْقَائِلَةُ) সাহাবীগণ তথা মুজাহিদগণ দ্বিপ্রহরের সময় তথা কায়লুলার সময়ে উপনীত হলেন।
(فِي وَادٍ كَثِيرِ الْعِضَاهِ) ঘন কাটা বিশিষ্ট একটি উপত্যকায়।
(فَنَزَلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتَ سَمُرَةٍ) অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) অবতরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন অথবা সবাইকে অবতরণের নির্দেশ দিলেন একটি বড় গাছের নিচে।
(فَعَلَّقَ بِهَا سَيْفَهُ) অতঃপর তিনি উক্ত গাছের ডালে তরবারি ঝুলিয়ে রাখলেন
(اخْتَرَطَ عَلَيَّ سَيْفِي) গাছের ডালে লটকানো আমার তলোয়ারটি নিয়ে কোষমুক্ত করল।
(مَا يَمْنَعُكَ مِنِّي؟) তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে?
(فَقُلْتُ: اللَّهُ ثَلَاثًا) অতঃপর আমি উত্তর দিলাম, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই আমাকে রক্ষা করবেন অথবা আল্লাহ তা'আলার হিফাযতের প্রতিশ্রুতির প্রতি লক্ষ্য রেখে বলেছি, আল্লাহ! যেহেতু তিনি ঘোষণা করেছেন,
(وَ اللّٰهُ یَعۡصِمُکَ مِنَ النَّاسِ) “মানুষের অনিষ্ট হতে আল্লাহই তোমাকে রক্ষা করবেন”- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৬৭)। তিনি আল্লাহ শব্দটি তিনবার উচ্চারণ করেছেন। এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বিপদের মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য অথবা আশ্রয় প্রার্থনা করার সময় আল্লাহর নাম তিনবার বলা মুস্তাহাব। (ফাতহুল বারী ২৯১৩, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০৫-[১১] আর আবূ বকর আল ইসমাঈলী তাঁর ’সহীহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যখন বেদুঈন লোকটি তরবারি হাতে নবী (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলল, বল দেখি, আমার হাত হতে কে তোমাকে রক্ষা করবে? তখন তিনি বললেন, আল্লাহ। এতে তার হাত হতে তরবারিটি নীচে পড়ে গেল! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এই তরবারি নিজ হাতে তুলে বললেন, কে তোমাকে আমার হাত হতে রক্ষা করবে? সে বলল, (আশা করি) আপনি উত্তম তরবারি ধারণাকারী হবেন অর্থাৎ ক্ষমা করে দেবেন। তখন নবী (সা.) বললেন, “তুমি এ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই, আর আমি নিশ্চয় আল্লাহর রসূল।” উত্তরে সে বলল, আমি এটা বলব না, তবে আপনার সাথে এ অঙ্গীকার করছি যে, আমি কখনো আপনার সাথে যুদ্ধ করব না এবং ঐ সমস্ত লোকেদের সঙ্গেও থাকব না যারা আপনার সাথে যুদ্ধ করবে। এরপর নবী (সা.) তাকে ছেড়ে দিলেন। সে আপন সঙ্গীদের কাছে এসে বলল, ’আমি মানব জাতির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির নিকট হতে তোমাদের কাছে ফিরে এসেছি।’ এই বর্ধিত অংশটি হুমায়দী তাঁর গ্রন্থে এবং ইমাম নববী ’রিয়াযুস সালিহীন’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَفِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ الْإِسْمَاعِيلِيِّ فِي «صَحِيحِهِ» فَقَالَ: مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟ قَالَ: «اللَّهُ» فَسَقَطَ السيفُ من يَده فَأخذ السَّيْفَ فَقَالَ: «مَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي؟» فَقَالَ: كُنْ خَيْرَ آخِذٍ. فَقَالَ: «تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ» . قَالَ: لَا وَلَكِنِّي أُعَاهِدُكَ عَلَى أَنْ لَا أُقَاتِلَكَ وَلَا أَكُونَ مَعَ قَوْمٍ يُقَاتِلُونَكَ فَخَلَّى سَبِيلَهُ فَأَتَى أَصْحَابَهُ فَقَالَ: جِئْتُكُمْ مِنْ عِنْدِ خَيْرِ النَّاسِ. هَكَذَا فِي «كتاب الْحميدِي» و «الرياض»

اسنادہ صحیح ، ذکرہ النووی فی ریاض الصالحین (78 بتحقیقی) و رواہ البیھقی فی دلائل النبوۃ (3 / 375 ۔ 376 من طریق الاسماعیلی بہ و لعلہ اسلم بعد کما یظھر من کلامہ و من اجلہ ذکر فی الصحابۃ) ۔
(صَحِيح)

وفي رواية ابي بكر الاسماعيلي في «صحيحه» فقال: من يمنعك مني؟ قال: «الله» فسقط السيف من يده فاخذ السيف فقال: «من يمنعك مني؟» فقال: كن خير اخذ. فقال: «تشهد ان لا اله الا الله واني رسول الله» . قال: لا ولكني اعاهدك على ان لا اقاتلك ولا اكون مع قوم يقاتلونك فخلى سبيله فاتى اصحابه فقال: جىتكم من عند خير الناس. هكذا في «كتاب الحميدي» و «الرياض» اسنادہ صحیح ، ذکرہ النووی فی ریاض الصالحین (78 بتحقیقی) و رواہ البیھقی فی دلاىل النبوۃ (3 / 375 ۔ 376 من طریق الاسماعیلی بہ و لعلہ اسلم بعد کما یظھر من کلامہ و من اجلہ ذکر فی الصحابۃ) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (فَقَالَ: كُنْ خَيْرَ آخِذٍ) অতঃপর সে রূপকভাবে ক্ষমার অনুরোধ করে বলল, আপনি তরবারির উত্তম ধারণকারী হোন তথা আমাকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দান করুন।
(فَخَلَّى سَبِيلَهُ) অতঃপর তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন।
(فَأَتَى أَصْحَابَهُ) এরপর সে তার সঙ্গীদের নিকট তথা গোত্রের নিকট চলে এসে বলল, আমি তোমাদের নিকট একজন উত্তম, সম্মানিত ও সহিষ্ণু ব্যক্তির কাছ থেকে ফিরে আসলাম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০৬-[১২] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কুরআনের এমন একটি আয়াত আমি জানি, যদি লোকেরা তার প্রতি আমল করত, তবে তাই তাদের জন্য যথেষ্ট হত। তা হলো, (..وَ مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰهَ یَجۡعَلۡ لَّهٗ مَخۡرَجًا ۙ﴿۲﴾  وَّ یَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ..) “...যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে চলে তিনি তার মুক্তির রাস্তা তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা হতে রিযক দান করেন, যা সে ধারণাও করতে পারে না...”- (সূরাহ্ আত্ব ত্বলাক ৬৫: ২-৩)। (আহমাদ, ইবনু মাজাহ ও দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنِّي لَأَعْلَمُ آيَةً لَو أخَذ النَّاسُ بهَا لكفتهم: (من يتق الله يَجْعَل لَهُ مخرجاويرزقه من حيثُ لَا يحتسبُ) رَوَاهُ أَحْمد وَابْن مَاجَه والدارمي

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 178 ح 21884) و ابن ماجہ (4220) و الدارمی (2 / 303 ح 2728) * اعلہ البوصیری بالانقطاع لان ابا السلیل لم یدرک ابا ذر رضی اللہ عنہ کما فی التھذیب وغیرہ ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي ذر ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اني لاعلم اية لو اخذ الناس بها لكفتهم: (من يتق الله يجعل له مخرجاويرزقه من حيث لا يحتسب) رواه احمد وابن ماجه والدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 178 ح 21884) و ابن ماجہ (4220) و الدارمی (2 / 303 ح 2728) * اعلہ البوصیری بالانقطاع لان ابا السلیل لم یدرک ابا ذر رضی اللہ عنہ کما فی التھذیب وغیرہ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (إِنِّي لَأَعْلَمُ آيَةً لَو أخَذ النَّاسُ بهَا لكفتهم) আমি এমন একটি আয়াত জানি যদি প্রত্যেক ব্যক্তি তার প্রতি ‘আমল করত তাহলে তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। আর তা হচ্ছে : (..وَ مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰهَ یَجۡعَلۡ لَّهٗ مَخۡرَجًا ۙ﴿۲﴾ وَّ یَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ..)
- “যে আল্লাহকে ভয় করে চলবে তিনি তাকে সকল প্রকার বিপদাপদ থেকে উদ্ধার করবেন এবং এমন জায়গা থেকে রিযক প্রদান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না”- (সূরা আত্ব ত্বলাক ৬৫: ২-৩)। অত্র আয়াতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় অকল্যাণ থেকে বান্দাকে রক্ষাকারী হিসেবে যথেষ্ট। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০৭-[১৩] ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে এ আয়াতটি এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন- (إِنِّي أَنَا الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ) অর্থাৎ “আমিই রিযকদাতা, ক্ষমতার আধার”। [তিরমিযী ও আবূ দাউদ; ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন : হাদীসটি হাসান সহীহ

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: أَقْرَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (إِنِّي أَنَا الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ) رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حسن صَحِيح

صحیح ، رواہ ابوداؤد (3993) و الترمذی (2940) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن مسعود قال: اقراني رسول الله صلى الله عليه وسلم: (اني انا الرزاق ذو القوة المتين) رواه ابو داود والترمذي وقال: هذا حديث حسن صحيح صحیح ، رواہ ابوداؤد (3993) و الترمذی (2940) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (أَقْرَأَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে এভাবে পড়তে শিখিয়েছেন : (إِنِّي أَنَا الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ)
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, উক্ত কিরাআতটি রসূল (সা.) থেকে শায বা কম প্রচলিত কিরাআত।
প্রসিদ্ধ কিরাআত হচ্ছে : (اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الۡقُوَّۃِ الۡمَتِیۡنُ ﴿۵۸﴾) “নিশ্চয় আল্লাহই হচ্ছেন রিযকদাতা প্রবল শক্তির অধিকারী”- (সূরাহ্ আয যারিয়াত: ৫১: ৫৮)। অর্থাৎ তিনি সবকিছুর করার ক্ষমতা রাখেন। অতএব তার ওপরই ভরসা করা এবং সকল বিষয় তার ওপর ন্যস্ত করা উচিত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০৮-[১৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যামানায় এমন দুই ভাই ছিল তাদের একজন নবী (সা.) -এর সেবায় আসত এবং অপর ভাই রুযী-রোজগার করত। একদিন এ পেশাদার ভাই নবী (সা.) -এর কাছে ঐ ভাইয়ের সম্পর্কে অভিযোগ করে (যে, সে কাম-কাজ না করে আমার ওপর ভরসায় থাকে, তখন তিনি (সা.) বললেন, হতে পার যে, তোমার সেই ভাইয়ের ওয়াসীলায় তোমাকে রিযক প্রদান করা হচ্ছে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি সহীহ গরীব)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَن أنسٍ قَالَ: كَانَ أَخَوَانِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ أَحَدُهُمَا يَأْتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْآخَرُ يَحْتَرِفُ فَشَكا المحترف أَخَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «لَعَلَّكَ تُرْزَقُ بِهِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث صَحِيح غَرِيب

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2345) ۔
(إِسْنَاده جيد)

وعن انس قال: كان اخوان على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فكان احدهما ياتي النبي صلى الله عليه وسلم والاخر يحترف فشكا المحترف اخاه الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «لعلك ترزق به» رواه الترمذي وقال: هذا حديث صحيح غريب اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2345) ۔ (اسناده جيد)

ব্যাখ্যা : (كَانَ أَحَدُهُمَا يَأْتِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّ) নবী (সা.) -এর যুগে দুই ভাই ছিল। এক ভাই নবী (সা.) -এর নিকট জ্ঞান শিক্ষার জন্য আসত আর অপর ভাই জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ করত। সম্ভবত তারা উভয়েই একসাথে খেতেন।
(فَشَكا المحترف) কর্মজীবি ভাই নবী (সা.) -এর নিকট তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, সে তার ভাইকে সাংসারিক কাজে এবং জীবিকা অর্জনের কাজে সহযোগিতা করে না।
(فَقَالَ: «لَعَلَّكَ تُرْزَقُ بِهِ») অতঃপর নবী (সা.) বললেন, আমার মনে হয় তুমি তার ‘ইলম শিক্ষার বরকতে রিযকপ্রাপ্ত হচ্ছ। শুধু তোমার পেশাগত কাজের জন্য রিযকপ্রাপ্ত হচ্ছ না। অতএব তুমি তার প্রতি তোমার কাজের খোটা দিও না।
এ হাদীস থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, দুনিয়াবী কাজ-কর্ম পরিত্যাগ করে পরকালের পাথেয় হিসেবে “ইলম শিক্ষা ও তার ‘আমল করা বৈধ। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৭/২৯৪০, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০৯-[১৫] ’আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: প্রত্যেক উপত্যকায় মানুষের অন্তরের ঘাঁটি রয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি তার অন্তরকে উক্ত প্রত্যেক ঘাটির দিকে ধাবিত করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে তার যে কোন ঘাঁটিতে ধ্বংস করতে পরোয়া করেন না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনি তার ঘাঁটিসমূহের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। (ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ قَلْبَ ابْنِ آدَمَ بِكُلِّ وَادٍ شُعْبَةٌ فَمَنْ أَتْبَعَ قَلْبَهُ الشُّعَبَ كُلَّهَا لَمْ يُبَالِ اللَّهُ بِأَيِّ وَادٍ أَهْلَكَهُ وَمَنْ تَوَكَّلَ عَلَى اللَّهِ كَفَاهُ الشّعب» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4166) * فیہ صالح بن رزین : مجھول وقال الذھبی :’’ حدیثہ منکر ‘‘ و السند ضعفہ البوصیری من اجل صالح ھذا ۔
(ضَعِيف)

وعن عمرو بن العاص قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان قلب ابن ادم بكل واد شعبة فمن اتبع قلبه الشعب كلها لم يبال الله باي واد اهلكه ومن توكل على الله كفاه الشعب» . رواه ابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4166) * فیہ صالح بن رزین : مجھول وقال الذھبی :’’ حدیثہ منکر ‘‘ و السند ضعفہ البوصیری من اجل صالح ھذا ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ قَلْبَ ابْنِ آدَمَ بِكُلِّ وَادٍ شُعْبَةٌ) আদম সন্তানের অন্তরের এক অংশ প্রত্যেক উপত্যকায় ধাবিত হয়। যেহেতু মানুষের মধ্যে একটি মাত্র অন্তর থাকে আর চিন্তাভাবনার উপত্যকা অনেক, তাই অন্তরের একাংশ ঘোরাফেরা করে সম্পূর্ণ অংশ নয়।
(فَمَنْ أَتْبَعَ قَلْبَهُ الشُّعَبَ كُلَّهَا) অতএব যার অন্তর চিন্তা-ভাবনার সকল শাখার অনুসরণ করে সে যে কোন উপত্যকায় ধ্বংস হলে আল্লাহকে উদ্ধারকারী হিসেবে পাবে না। আর যারা আল্লাহর ওপর সর্বদা ভরসা করে তাদের বিক্ষিপ্ত প্রয়োজনগুলো মেটানোর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। আর এই অর্থেই নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যারা তাদের সমস্ত চিন্তাভাবনাকে দীনের একক চিন্তায় রূপান্তর করে চলে আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনুল আস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩১০-[১৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) বলেছেন: তোমাদের মহাপরাক্রমশালী পরোয়ারদিগার বলেন, যদি আমার বান্দাগণ আমার আনুগত্য করত, তাহলে আমি তাদেরকে রাত্রে বৃষ্টি বর্ষণ করতাম এবং দিনের বেলায় সূর্যের কিরণ ছড়িয়ে দিতাম, আর মেঘের গর্জন, বিদ্যুতের শব্দ তাদেরকে শুনাতাম না। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ رَبُّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ: لَوْ أَنَّ عَبِيدِي أَطَاعُونِي لَأَسْقَيْتُهُمُ الْمَطَرَ بِاللَّيْلِ وَأَطْلَعْتُ عَلَيْهِمُ الشَّمْسَ بِالنَّهَارِ وَلَمْ أُسْمِعْهُمْ صَوْتَ الرَّعدِ . رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 359 ح 8693) [و الحاکم (4 / 256)] * صدقۃ بن موسی الدقیقی السلمی ضعیف ضعفہ المجھور ۔
(ضَعِيف)

عن ابي هريرة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال ربكم عز وجل: لو ان عبيدي اطاعوني لاسقيتهم المطر بالليل واطلعت عليهم الشمس بالنهار ولم اسمعهم صوت الرعد . رواه احمد اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 359 ح 8693) [و الحاکم (4 / 256)] * صدقۃ بن موسی الدقیقی السلمی ضعیف ضعفہ المجھور ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (لَوْ أَنَّ عَبِيدِي أَطَاعُونِي) যদি আমার বান্দারা আমার সকল আদেশ নিষেধের আনুগত্য করত তাহলে রাতে আরামে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের ওপর আমি বৃষ্টি বর্ষণ করতাম। আর দিনের বেলায় তাদের কর্মক্ষেত্রে কর্মরত অবস্থায় সূর্য উদিত করে দিতাম।
আর তাদেরকে রাতে অথবা দিনে কখনো বজ্রের আওয়াজ শুনাতাম না, যাতে তারা ভয় না পায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩১১-[১৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন এক ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের নিকট এসে দেখল তারা ক্ষুধা ও উপবাসে পড়ে আছে, তখন সে (দিশেহারা হয়ে) ময়দানের দিকে বের হয়ে গেল। অতঃপর তার স্ত্রী যখন দেখল তার স্বামী খাদ্যের সন্ধানে বাইরে চলে গেছে। তখন সে আটা পেষার চাক্কির কাছে গেল এবং চাক্কির এক পাট আরেক পাটের উপর রাখল, অতঃপর চুলার কাছে গিয়ে তাতে আগুন জ্বালাল। এরপর দু’আ করল, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের রিযক দান কর। এরপর সে চাক্কির নীচের তাগারীটির (বিরাট পাত্র) প্রতি লক্ষ্য করে দেখল তা ভর্তি হয়ে রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে রুটি তৈরি করার জন্য চুলার কাছে গিয়ে দেখে যে, সেখানে পাত্রটি রুটির দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে আছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর স্বামী ঘরে ফিরে (স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করল, আমার চলে যাওয়ার পর তোমরা কি কারো নিকট হতে কিছু পেয়েছ? স্ত্রী বলল, হ্যাঁ পেয়েছি। আমরা আমাদের রবের নিকট হতে পেয়েছি। অতঃপর সে (লোকটি) চাক্কির নিকট গিয়ে তার পাটটি খুলে রাখল এবং নবী (সা.) -এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করা হলে তিনি বললেন, যদি সে চাক্কির পাটটি না সরাত, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তা ঘুরতে থাকত (এবং তা হতে আটা বের হতে থাকত)। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْهُ قَالَ: دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى أَهْلِهِ فَلَمَّا رَأَى مَا بِهِمْ مِنَ الْحَاجَةِ خَرَجَ إِلَى الْبَرِيَّةِ فَلَمَّا رَأَتِ امْرَأَتُهُ قَامَتْ إِلَى الرَّحَى فَوَضَعَتْهَا وَإِلَى التَّنُّورِ فَسَجَرَتْهُ ثُمَّ قَالَتْ: اللَّهُمَّ ارْزُقْنَا فَنَظَرَتْ فَإِذَا الْجَفْنَةُ قَدِ امْتَلَأَتْ. قَالَ: وَذَهَبَتْ إِلَى التَّنُّورِ فَوَجَدَتْهُ مُمْتَلِئًا. قَالَ: فَرَجَعَ الزَّوْجُ قَالَ: أَصَبْتُمْ بَعْدِي شَيْئًا؟ قَالَتِ امْرَأَتُهُ: نَعَمْ مِنْ رَبِّنَا وَقَامَ إِلَى الرَّحَى فَذُكِرَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أَمَا إِنَّهُ لَوْ لَمْ يَرْفَعْهَا لَمْ تَزَلْ تَدور إِلَى يَوْم الْقِيَامَة» . رَوَاهُ أَحْمد

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 513 ح 10667) [و الطبرانی فی الاوسط (5584)] * ھشام بن حسان مدلس و عنعن عن محمد بن سرین الخ ۔
(ضَعِيف)

وعنه قال: دخل رجل على اهله فلما راى ما بهم من الحاجة خرج الى البرية فلما رات امراته قامت الى الرحى فوضعتها والى التنور فسجرته ثم قالت: اللهم ارزقنا فنظرت فاذا الجفنة قد امتلات. قال: وذهبت الى التنور فوجدته ممتلىا. قال: فرجع الزوج قال: اصبتم بعدي شيىا؟ قالت امراته: نعم من ربنا وقام الى الرحى فذكر ذلك الى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «اما انه لو لم يرفعها لم تزل تدور الى يوم القيامة» . رواه احمد اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (2 / 513 ح 10667) [و الطبرانی فی الاوسط (5584)] * ھشام بن حسان مدلس و عنعن عن محمد بن سرین الخ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى أَهْلِهِ) এক ব্যক্তি তার পরিবার-পরিজনের নিকট প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খোঁজখবর নেয়ার জন্য গৃহে প্রবেশ করল, যখন সে দেখল সবাই ক্ষুধায় দারিদ্রে জর্জরিত তখন সে জমিনে কাজের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ল। যখন তার স্ত্রী দেখল তার স্বামী লজ্জা-শরম ফেলে দিয়ে বাড়ী থেকে বেরিয়ে গেছে তখন সে আটা ভাঙানো জাঁতাকল পরিষ্কার করে এক অংশ আরেক অংশের উপর রাখল এবং চুলায় আগুন জ্বালিয়ে গরম করল। এরপর আল্লাহর দরবারে দু'আ করতে শুরু করল; হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রিযক প্রদান করুন, কেননা আমাদের খাদ্য শেষ হয়ে গেছে। আমরা শুধু আপনার কল্যাণেরই আশা করছি।
(فَنَظَرَتْ فَإِذَا الْجَفْنَةُ قَدِ امْتَلَأَتْ) অতঃপর স্ত্রী পেষণ যন্ত্রের দিকে তাকিয়ে দেখল যে, একটি বড় পাত্র আটায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর সে চুলার কাছে গিয়ে দেখল তা রুটিতে পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

(قَالَ: فَرَجَعَ الزَّوْجُ) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তার স্বামী বাড়িতে ফিরে এসে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কি কিছু খেয়েছ? অথবা খাওয়ার কিছু পেয়েছ? তখন তার স্ত্রী বলল : হ্যা, আমাদের রবের পক্ষ থেকে পেয়েছি। স্বামী আশ্চর্য হয়ে পেষণ যন্ত্রের দিকে গেল এবং তা উঠিয়ে ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগল।
(فَذُكِرَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) অতঃপর নবী (সা.) -এর নিকট গিয়ে তা বর্ণনা করল। নবী (সা.) সব ঘটনা শুনে বললেন, হায়! যদি সে পেষণ যন্ত্রটি না উঠাত তাহলে তা কিয়ামাত পর্যন্ত ঘুরতে থাকত এবং তা হতে আটা বের হতে থাকত।
এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, বান্দা যদি সাধ্যানুযায়ী হালাল কাজে আত্মনিয়োগ করে আল্লাহর দরবারে দুআ করে তাহলে আল্লাহ তার রিকের ব্যবস্থা করে দেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩১২-[১৮] আবুদ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : বান্দার রিযক তাকে এভাবে খুঁজে বেড়ায় যেমন তার মৃত্যুকাল তাকে খোঁজ করে। (আবূ নু’আয়ম তাঁর “হিলইয়াহ” গ্রন্থে)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الرِّزْقَ لَيَطْلُبُ الْعَبْدَ كَمَا يَطْلُبُهُ أَجَلُهُ» . رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي «الْحِلْية»

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (6 / 86) * الولید بن مسلم کان یدلس تدلیس التسویۃ ولم یصرح بالسماع المسلسل و للحدیث شاھدان ضعیفان فی الحلیۃ (7 / 90 ، 246) و الکامل لابن عدی وغیرھما ۔

وعن ابي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الرزق ليطلب العبد كما يطلبه اجله» . رواه ابو نعيم في «الحلية» اسنادہ ضعیف ، رواہ ابو نعیم فی حلیۃ الاولیاء (6 / 86) * الولید بن مسلم کان یدلس تدلیس التسویۃ ولم یصرح بالسماع المسلسل و للحدیث شاھدان ضعیفان فی الحلیۃ (7 / 90 ، 246) و الکامل لابن عدی وغیرھما ۔

ব্যাখ্যা : (إِنَّ الرِّزْقَ لَيَطْلُبُ الْعَبْدَ) বান্দার রিযক তাকে এমনভাবে খুঁজে বেড়ায় যেমনভাবে মৃত্যুকাল তাকে খোঁজ করে। কেননা রিযক ফুরিয়ে গেলেই কেবল মৃত্যুর সময় চলে আসে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, (للّٰهُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ ثُمَّ رَزَقَکُمۡ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡکُمۡ ؕ)
“আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদেরকে রিযক দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর তোমাদেরকে জীবিত করবেন...”- (সূরাহ্ আর রূম ৩০: ৪০)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩১৩-[১৯] ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন এখনও রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দিকে তাকাচ্ছি যখন তিনি কোন একজন এমন নবীর ঘটনা বর্ণনা করছিলেন, যাকে তার আপন কওমের লোকেরা প্রহার করে রক্তাক্ত করেছিল, আর তিনি নিজের চেহারা হতে রক্ত মুচ্ছিলেন, আর বলছিলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার কওমের কৃত অপরাধ ক্ষমা করে দাও। কেননা তারা অজ্ঞ। (বুখারী ও মুসলিম)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحْكِي نَبِيًّا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ ضَرَبَهُ قَوْمُهُ فَأَدْمَوْهُ وَهُوَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ وَيَقُولُ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3477) و مسلم (105 / 1792)، (4646) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن مسعود قال: كاني انظر الى رسول الله صلى الله عليه وسلم يحكي نبيا من الانبياء ضربه قومه فادموه وهو يمسح الدم عن وجهه ويقول: «اللهم اغفر لقومي فانهم لا يعلمون» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3477) و مسلم (105 / 1792)، (4646) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) জাবির (রাঃ) বলেন, আমি যেন নবী (সা.) -কে প্রত্যক্ষভাবে ঘটনা বর্ণনা করতে দেখেছি। তিনি (সা.) পূর্ববর্তী কোন এক নবী প্রসঙ্গে বলেন, সম্প্রদায়ের লোকেরা তার মাথায় এমনভাবে আঘাত করে যে, মাথা ফেটে রক্ত চোখ মুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল আর তিনি মুখ থেকে রক্ত মুচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, হে আল্লাহ! আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা করে দিন অর্থাৎ তাদের এ কাজের জন্য দুনিয়াতেই শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করে দিবেন না। অথবা, না বুঝে কাজ করার জন্য তাদের তাওবার দরজা বন্ধ করে দিবেন না। এ রকম অর্থ করার কারণ হলো কাফিরদের শিরকী ও কুফরী করা সত্ত্বেও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বৈধ নয়।
তার এভাবে দু'আ করার মধ্যে পূর্ণ সহনশীলতা এবং উত্তম চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। যেহেতু সম্প্রদায়ের অপরাধের কারণে তিনি রবের নিকট তাদের কৃতকর্মের জন্য অজ্ঞতাবশত, না জেনে করার ক্ষেত্রে ওর পেশ করেছেন যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে বুঝতে পারেনি।
এর দ্বারা বুঝা যায় যে, অজ্ঞতাবশত কোন অপরাধ করলে তা জেনে বুঝে করার চেয়ে অপরাধ তুলনামূলক কম। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ৬/৩৪৭৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

রিয়া হচ্ছে মূলত মানুষকে দেখানোর উদ্দেশে কোন নেক আমল করা। আর সুম’আহ্ হচ্ছে, মানুষকে শুনানোর জন্য কোন ভালো কাজ বা ভালো কথা বলা। এতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা আসল উদ্দেশ্য থাকে না। কখনো উভয় শব্দকে এই অর্থ বুঝানোর জন্য তাগিদ হিসেবে নিয়ে আসা হয়। এর বিপরীত শব্দ হচ্ছে ইখলাস তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য একনিষ্ঠভাবে কোন কাজ করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


৫৩১৪-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের বাহ্যিক আকৃতি ও সম্পদের প্রতি দৃষ্টি দেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও ’আমলের প্রতি দৃষ্টি দেন। (মুসলিম)

 

الفصل الاول (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا ينظر إِلَى صوركُمْ وَلَا أموالِكم وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

رواہ مسلم (34 /2564)، (6543) ۔
(صَحِيح)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان الله لا ينظر الى صوركم ولا اموالكم ولكن ينظر الى قلوبكم واعمالكم» . رواه مسلم رواہ مسلم (34 /2564)، (6543) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ اللَّهَ لَا ينظر إِلَى صوركُمْ وَلَا أموالِكم) নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সুন্দর বা বিশ্রী চেহারার দিকে বিবেচনার দৃষ্টিতে তাকান না। যেহেতু সুন্দর হওয়া বা না হওয়ার মধ্যে কোন মূল্যায়ন নেই। এমনিভাবে তোমাদের সম্পদের আধিক্য বা স্বল্পতার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না। বরং তিনি লক্ষ্য করেন তোমাদের অন্তরের দিকে সেখানে কি একনিষ্ঠতা, সত্যবাদিতা এবং দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে নাকি। উক্ত ‘আমলের দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে লৌকিকতা বা সুনাম, সুখ্যাতি অর্জন করা এবং সর্বপ্রকার মন্দ স্বভাব।

(وَأَعْمَالِكُمْ) এমনিভাবে তিনি লক্ষ্য করেন তোমাদের ‘আমলের দিকে অর্থাৎ তার যথার্থতা ও খারাপের দিকে এবং এর উপর ভিত্তি করেই তিনি তোমাদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ ৩/৪১৪৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩১৫-[২] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি অংশীস্থাপনকারীদের হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। যে লোক কোন ’আমলে (ইবাদতে) আমার সাথে অন্যকে শরীক করে, আমি তাকেও তার সেই শিরকসহ বর্জন করি। অপর এক বর্ণনায় আছে, তার সাথে। 

الفصل الاول (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ مَنْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ وَفِي رِوَايَةٍ: فَأَنَا مِنْهُ بَرِيءٌ هُوَ لِلَّذِي عَمِلَهُ . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (46 / 2985)، (7475) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال الله تعالى: انا اغنى الشركاء عن الشرك من عمل عملا اشرك فيه معي غيري تركته وشركه وفي رواية: فانا منه بريء هو للذي عمله . رواه مسلم رواہ مسلم (46 / 2985)، (7475) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ) আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি অংশীদারীর অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। অর্থাৎ যে কাজ কেবলমাত্র একনিষ্ঠতার সাথে আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হবে, আমি কেবল ঐ ‘আমলকেই গ্রহণ করব শির্কযুক্ত ‘আমলকে নয়। এর সমর্থন হচ্ছে হাদীসের পরবর্তী বাক্য-
(نْ عَمِلَ عَمَلًا أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ) অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন কাজ করবে এবং তাতে আমার সন্তুষ্টির পাশাপাশি অন্য কোন মাখলুকের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করবে তাহলে আমি তাকে আমার রহমতের দৃষ্টি থেকে পরিত্যাগ করব এবং তা শিরকযুক্ত ‘আমলকে কবুল করা থেকে বর্জন করব। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩১৬-[৩] জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি খ্যাতি অর্জনের জন্য কোন কাজ করে, আল্লাহ তা’আলা তার দোষ-ক্রটিকে লোক সমাজে প্রকাশ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য কোন কাজ করে, আল্লাহ তা’আলাও তার সাথে লোক দেখানোর আচরণ করবেন (প্রকৃত সাওয়াব হতে সে বঞ্চিত থাকবে)। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6499) و مسلم (48 / 2987)، (7477) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن جندب قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من سمع سمع الله به ومن يراىي يراىي الله به» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6499) و مسلم (48 / 2987)، (7477) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ) যে ব্যক্তি মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি অর্জন ও প্রশংসা কুড়ানোর জন্য কোন ‘আমল করবে। আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতে তার প্রসিদ্ধি ঘটাবেন এবং পরকালে সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে তাকে অপমানিত করবেন।
(وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ) আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য দুনিয়াতে কোন ‘আমল করবে আল্লাহ তাআলা তার প্রতিদান এভাবে দিবেন যে, তা মানুষকে দেখিয়েই শেষ, পরকালে এর কোন সাওয়াব পাবে না।
সহীহ মুসলিমে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষের নিকট নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য লোক দেখানো ‘আমল করবে, আল্লাহও তা দেখিয়ে দিবেন তথা তার গোপন রহস্য মানুষের নিকট প্রকাশ করে দিবেন। অথবা, হাদীসের অর্থ হচ্ছে যারা মানুষের দোষ-ক্রটি শুনিয়ে বেড়ায় আল্লাহ ও তার দোষকে প্রকাশ করে দেন। অথবা, এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিদান দেখাবেন কিন্তু তাকে প্রদান করবেন না যাতে এর জন্য তার আক্ষেপ হয়। অথবা, এর অর্থ হচ্ছে, যারা মানুষকে জানানোর জন্য ‘আমল করবে আল্লাহ তা'আলা তা মানুষকে শুনিয়ে দিবেন এটাই তার অংশ হবে, কিন্তু বাস্তবে কোন সাওয়াব নেই। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ১১/৬৪৯৯, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৩৮১)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩১৭-[8] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কি, যে কোন ভালো কাজ করে আর লোকেরা তার সেই কাজের কারণে তার প্রশংসা করে। অপর বর্ণনায় রয়েছে, “এই কাজের কারণে লোকে তাকে পছন্দ করে।” (এতে কি তার সাওয়াব বাতিল হয়ে যাবে?) তিনি বললেন, (এরূপ প্রশংসিত হওয়া) এটা মু’মিনদের নগদ সুসংবাদ। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ يَعْمَلُ الْخَيْرِ وَيَحْمَدُهُ النَّاسُ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: يُحِبُّهُ النَّاسُ عَلَيْهِ قَالَ: «تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (166 / 2642)، (6721) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي ذر قال: قيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم: ارايت الرجل يعمل الخير ويحمده الناس عليه. وفي رواية: يحبه الناس عليه قال: «تلك عاجل بشرى المومن» . رواه مسلم رواہ مسلم (166 / 2642)، (6721) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتَ الرَّجُلَ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করা হলো ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন ভালো কাজ করে কিন্তু মানুষ এর জন্য তার প্রশংসা করে, সে ব্যাপারে আপনার মতামত কি? অপর বর্ণনা মতে, মানুষ তাকে এজন্য ভালোবাসে।
(الَ: «تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ») রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তর দিলেন, মুমিনের জন্য প্রশংসা বা মুহাব্বাত পার্থিব জীবনে নগদ সুসংবাদ। বস্তুত আখিরাতে তার সাওয়াব বাকী থাকবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩১৮-[৫] আবূ সাঈদ ইবনু আবূ ফাযালাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে সমবেত করবেন, যেদিন সম্পর্কে সন্দেহের কোন সুযোগ নেই। সেদিন কোন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দেবে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোন ’আমল করতে অন্য কাউকেও অংশীদার বানিয়েছে, সে যেন আল্লাহ ছাড়া ঐ ব্যক্তির থেকেই তার প্রতিদান অন্বেষণ করে। কেননা আল্লাহ তা’আলা অংশীদার অংশীবাদ হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। (আহমাদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

عَن أبي سعدِ بن أبي فَضَالَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا جَمَعَ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ نَادَى مُنَادٍ: مَنْ كانَ أشركَ فِي عملٍ عملَه للَّهِ أحدا فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ

حسن ، رواہ احمد (3 / 466 ح 15932) [و الترمذی (3154) و ابن ماجہ (4203)] ۔
(حسن)

عن ابي سعد بن ابي فضالة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: اذا جمع الله الناس يوم القيامة ليوم لا ريب فيه نادى مناد: من كان اشرك في عمل عمله لله احدا فليطلب ثوابه من عند غير الله فان الله اغنى الشركاء عن الشرك . رواه احمد حسن ، رواہ احمد (3 / 466 ح 15932) [و الترمذی (3154) و ابن ماجہ (4203)] ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা : (إِذَا جَمَعَ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ..) আল্লাহ তা'আলা যখন সমস্ত মানুষকে প্রতিদান দেয়ার জন্য হাশরের মাঠে জমা করবেন, যেদিনের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে নিযুক্ত একজন মালাক (ফেরেশতা) ঘোষণা করবেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য করণীয় কোন কাজে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করেছে সে যেন গায়রুল্লাহর নিকট থেকে এর সাওয়াব নেয়, কেননা আল্লাহ তা'আলা অংশীদারের অংশীদারিত্ব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। অর্থাৎ তিনি শিরকযুক্ত ‘আমল কবুল করেন না।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩১৯-[৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছেন, যে লোক মানুষের কাছে নিজের ’আমলের কথা শুনায়, আল্লাহ তা’আলা তার মন্দ উদ্দেশ্যে কৃত ’আমলকে মানুষের কানে পৌছিয়ে দেবেন এবং তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন। (বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَن عبد الله بن عَمْرو أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ أَسَامِعَ خَلْقِهِ وَحَقَّرَهُ وَصَغَّرَهُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

صحیح ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6822 ، نسخۃ محققۃ : 6403) [و احمد (2 / 162 ، 212 ، 223)] * قلت : فیہ رجل یقال لہ ابو یزید وھو خیثمۃ بن عبد الرحمن کما فی حلیۃ الاولیاء (4 / 123) و مجمع الزوائد (10 / 222) فالحدیث صحیح و الحمد للہ ۔
(صَحِيح)

وعن عبد الله بن عمرو انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من سمع الناس بعمله سمع الله به اسامع خلقه وحقره وصغره» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» صحیح ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6822 ، نسخۃ محققۃ : 6403) [و احمد (2 / 162 ، 212 ، 223)] * قلت : فیہ رجل یقال لہ ابو یزید وھو خیثمۃ بن عبد الرحمن کما فی حلیۃ الاولیاء (4 / 123) و مجمع الزواىد (10 / 222) فالحدیث صحیح و الحمد للہ ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بِعَمَلِهِ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ) যারা মানুষকে দেখানোর জন্য কোন নেক ‘আমল প্রকাশ্যে করবে আল্লাহ তা'আলা তার উক্ত ‘আমলকে মানুষের নিকট প্রকাশ করে দিবেন এবং পার্থিব জীবনে মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করাবেন। অথবা, আল্লাহ তা'আলা প্রতিদান স্বরূপ তার গোপনীয় দোষ-ক্রটিকে মানুষের নিকট প্রকাশ করে দিবেন এবং তাকে লাঞ্ছিত করবেন, তুচ্ছ করবেন, ছোট করে দিবেন।  (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩১৫৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২০-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: যে লোক (স্বীয় ’আমলে) পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়্যাত রাখে, আল্লাহ তার হৃদয়কে (মানুষ হতে) অমুখাপেক্ষী করে দেন এবং তার অগোছালো কাজ-কর্মগুলো তিনি গুছিয়ে দেন এবং দুনিয়াবী সম্পদ তার কাছে লাঞ্ছিত হয়ে আসে। অপরদিকে যে ব্যক্তি দুনিয়া লাভের নিয়্যাত রাখে, আল্লাহ তা’আলা নিঃস্বতাকে তার চক্ষুর সম্মুখে করে দেন। (অর্থাৎ সে সর্বদা অভাব-অনটনকেই দেখতে পায়), তার কাজকর্ম হজবরল হয়ে যায়। অথচ সে ইহকালীন সম্পদের কেবল ততটুকুই পায় যতটুকু তার জন্য ধার্য রয়েছে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ طَلَبَ الْآخِرَةِ جَعَلَ اللَّهُ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَجَمَعَ لَهُ شَمْلَهُ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ طَلَبَ الدُّنْيَا جَعَلَ اللَّهُ الْفَقْرَ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَشَتَّتَ عَلَيْهِ أَمْرَهُ وَلَا يَأْتِيهِ مِنْهَا إِلاَّ مَا كُتِبَ لَهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَرَوَاهُ أَحْمد

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2465 وقال : حسن غریب) و احمد (5 / 183 ح 21925) و للحدیث الآتی یغنی عنہ) * یزید بن ابان الرقاشی زاھد ضعیف ۔

عن انس ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من كانت نيته طلب الاخرة جعل الله غناه في قلبه وجمع له شمله واتته الدنيا وهي راغمة ومن كانت نيته طلب الدنيا جعل الله الفقر بين عينيه وشتت عليه امره ولا ياتيه منها الا ما كتب له» . رواه الترمذي ورواه احمد سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2465 وقال : حسن غریب) و احمد (5 / 183 ح 21925) و للحدیث الآتی یغنی عنہ) * یزید بن ابان الرقاشی زاھد ضعیف ۔

ব্যাখ্যা : (كَانَتْ نِيَّتُهُ طَلَبَ الْآخِرَةِ) যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইলম শিক্ষা করবে এবং তদানুযায়ী ‘আমল করবে।
(جَعَلَ اللَّهُ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ) আল্লাহ তা'আলা অল্পতেই তার অন্তরে পরিতৃপ্তি দান করবেন, ফলে সে অধিক পাওয়ার জন্য কষ্ট করবে না।
(وَجَمَعَ لَهُ شَمْلَهُ) তার বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে এমনভাবে অর্জন করা সহজ করে দিবেন যা সে কল্পনাই করতে পারবে না।
(وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ) এবং দুনিয়াতে তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত রয়েছে তা না চাইতেই তার কাছে চলে আসবে, এর জন্য অধিক পরিমাণ পরিশ্রমের দরকার হবে না।
(وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ طَلَبَ الدُّنْيَا) আর যার উদ্দেশ্য হবে দুনিয়ার স্বার্থ হাসিল করা। আল্লাহ তা'আলা দরিদ্রতাকে তার চোখের সামনে উপস্থাপন করবেন তথা চোখের সামনে মানুষের প্রতি তার অভাব তৈরি করে দিবেন।

(وَشَتَّتَ عَلَيْهِ أَمْرَهُ) এবং তার সুসজ্জিত বিষয়গুলোকে এলোমেলো করে দিবেন। সে অনেক চেষ্টা করেও অধিক কিছু লাভ করতে পারবে না। কেবল ততটুকুই সে পাবে যা তার ভাগ্যে নির্ধারিত রয়েছে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৪৬৫, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২১-[৮] আর আহমাদ ও দারিমী হাদীসটি ’আবান’-এর মাধ্যমে যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَالدَّارِمِيُّ عَنْ أَبَانٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ

صحیح ، رواہ الدارمی (1 / 75 ح 235) * ابان ھو ابن عثمان و سندہ صحیح ، و انظر سنن ابی داود (3660) و الترمذی (2656) وغیرھما ۔
(صَحِيح)

والدارمي عن ابان عن زيد بن ثابت صحیح ، رواہ الدارمی (1 / 75 ح 235) * ابان ھو ابن عثمان و سندہ صحیح ، و انظر سنن ابی داود (3660) و الترمذی (2656) وغیرھما ۔ (صحيح)

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২২-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি একদিন আমার ঘরে সলাত আদায় করছিলাম, এমন সময় হঠাৎ এক লোক আমার নিকট আসলো। সে আমাকে এ (নেক) অবস্থায় দেখেছেন, এটা আমার মনে আনন্দ জাগল। (আমার খুশি হওয়াটা কি রিয়াকারী?) তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন, হে আবূ হুরায়রাহ্! তোমার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব রয়েছে, একটি হলো গোপনীয়তা, আর দ্বিতীয়টি হলো ’ইবাদত প্রকাশ হয়ে পড়ার। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بَيْنَا أَنَا فِي بَيْتِي فِي مُصَلَّايَ إِذْ دَخَلَ عَلَيَّ رَجُلٌ فَأَعْجَبَنِي الْحَالُ الَّتِي رَآنِي عَلَيْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَحِمَكَ اللَّهُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ لَكَ أَجْرَانِ: أَجْرُ السِّرِّ وَأَجْرُ الْعَلَانِيَةِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2384) [و ابن ماجہ (4226)] * حبیب بن ابی ثابت مدلس و عنعن ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة قال: قلت: يا رسول الله بينا انا في بيتي في مصلاي اذ دخل علي رجل فاعجبني الحال التي راني عليها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: رحمك الله يا ابا هريرة لك اجران: اجر السر واجر العلانية . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2384) [و ابن ماجہ (4226)] * حبیب بن ابی ثابت مدلس و عنعن ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (بَيْنَا أَنَا فِي بَيْتِي فِي مُصَلَّايَ) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, একদিন আমি বাড়ীতে আমার সলাতের চাদরে বসে আছি, এমন সময় আমার কাছে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে আমাকে দেখে ফেলে। আমাকে এ অবস্থায় দেখার কারণে আমি খুবই খুশি হই। আমার এ কাজটি কি রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে? এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?
(فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رَحِمَكَ اللَّهُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ) রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। এতে তোমার দ্বিগুণ সাওয়াব অর্জিত হয়েছে। গোপনে একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করার কারণে এবং প্রকাশ্যে ‘আমল দ্বারা অন্যরা তোমার অনুসরণ করার কারণে অথবা আনুগত্যমূলক কাজ করে তোমার আনন্দ লাভ করা ও তা মানুষের শিক্ষার জন্য প্রকাশ পাওয়ার কারণে। অথবা যে তার ‘আমল দেখেছে সেও উক্ত ‘আমল করবে এবং তাতে তার সমপরিমাণ সাওয়াব অর্জিত হবে এ কারণে। আর এ অর্থেই রসূল (সা.) বলেছেন,
(مَنْ سَنَّ سُنَّةً حَسَنَةً حَسَنَةً كَانَ لَهٗ مِشْلُ أَجْرِ كُلِّ مَنْ يَعْمَلُ بِهَا) অর্থাৎ- “যে ব্যক্তি কোন উত্তম কাজ চালু করবে তার জন্য উক্ত ভালো কাজের প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের সমপরিমাণ প্রতিদান যারা তার প্রতি আমল করবে।” (মুসলিম ৪/২০৫৯, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৩৮৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২৩-[১০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: শেষ যামানায় এমন কিছু সংখ্যক লোকের আগমন ঘটবে যারা দীনের দ্বারা দুনিয়া অর্জন করবে। (দীনদারী প্রকাশ করে মানুষকে ধোকায় ফেলবে) মানুষের দৃষ্টিতে বিনয়ভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যে মেষ-দুম্বার চামড়া পরিধান করবে, তাদের মুখের ভাষা হবে চিনি তুলনা মিষ্টি। পক্ষান্তরে তাদের অন্তর হবে বাঘের মতো (হিংস্র)। আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় লোকদের ব্যাপারে বলেন, এরা কি আমাকে ধোঁকা দিতে চায়, নাকি আমার ওপরে ধৃষ্টতা পোষণ করছে? (জেনে রাখ!) আমি আমার শপথ করে বলছি, আমি তাদের ওপর তাদের মধ্য থেকে এমন বিপদ পাঠাবো যাতে তাদের বিচক্ষণ বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণও দিশেহারা হয়ে পড়বে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ اللِّينِ أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَّرِ وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبُ الذِّئَابِ يَقُولُ اللَّهُ: «أَبِي يَغْتَرُّونَ أَمْ عليَّ يجترؤون؟ فَبِي حَلَفْتُ لَأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تدع الْحَلِيم فيهم حيران» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (2404) * فیہ یحیی بن عبیداللہ متروک و افحش الحاکم فرماہ بالوضع ، قلت : روایۃ المتروک مثل روایۃ الکذاب ، لا یستشھد بہ ولا یعتبر ابدًا ۔
(ضَعِيف)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: يخرج في اخر الزمان رجال يختلون الدنيا بالدين يلبسون للناس جلود الضان من اللين السنتهم احلى من السكر وقلوبهم قلوب الذىاب يقول الله: «ابي يغترون ام علي يجتروون؟ فبي حلفت لابعثن على اولىك منهم فتنة تدع الحليم فيهم حيران» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ الترمذی (2404) * فیہ یحیی بن عبیداللہ متروک و افحش الحاکم فرماہ بالوضع ، قلت : روایۃ المتروک مثل روایۃ الکذاب ، لا یستشھد بہ ولا یعتبر ابدا ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ) পরকালীন ‘আমালের বিনিময়ে দুনিয়া উপার্জন করবে। অর্থাৎ দুনিয়াবাসীকে পরকালীন ‘আমল দেখিয়ে ধোঁকা দিবে।
(يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ اللِّينِ) তারা মানুষকে দুনিয়াবিমুখ পরকাল সন্ধানী হিসেবে বিশ্বাস করানোর জন্য ভেড়ার চামড়া বা পশমী পোশাক পরিধান করবে। তারা মানুষের সাথে নম্রতা কোমলা প্রদর্শন, মিসকীন ভাব ও সংযমী প্রদর্শন করবে। মূলত এর মাধ্যমে তারা মানুষের কাছে তোষামোদ প্রিয় ও বিনয়ী ভাব দেখিয়ে তাদের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করে মুরিদ বানানো এবং তাদের ‘আক্বীদাকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করবে।
(أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَّرِ) তাদের মুখের ভাষা মধুর চিনির চেয়ে মিষ্টি হবে এবং তাদের অন্তর হবে দুনিয়ার মানসম্মান ও সম্পত্তির প্রতি হিংস্র প্রাণীর চেয়েও ভয়ানক। অর্থাৎ তাদের অন্তর দুনিয়ার গৌরব ও সম্পদের লোভে অতি তিক্ত হবে, আর মুত্তাকীদের সাথে শত্রুতা ও ঘৃণা প্রদর্শন করবে এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় পশুসুলভ আচরণ করবে।
(يَقُولُ اللَّهُ: «أَبِي يَغْتَرُّونَ) আল্লাহ তা'আলা বলবেন, আমার সহনশীলতা ও অবকাশের দরুন তারা কি আমার সাথে প্রতারণা করছে? এখানে প্রতারণার অর্থ হলো : আল্লাহকে ভয় না করার দরুন নিজেকে ক্ষতি করা, তাওবাকে উপেক্ষা করা, গুনাহ ও প্রবৃত্তির অনুসরণে লেগে থাকা।
(أَمْ عليَّ يجترؤون؟) নাকি মানুষকে ভালো কাজ প্রদর্শন করে ধোঁকা দিয়ে আমার সাথে দুঃসাহসিকতা দেখাচ্ছে?
(فَبِي حَلَفْتُ) আমার মর্যাদা ও ‘ইযযতের কসম করে বলছি, আমি অবশ্যই উক্ত গুণসম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে একে অপরের ওপর ক্ষমতা দিয়ে ফিতনায় ফেলব।
(تدع الْحَلِيم فيهم حيران) বিচক্ষণ ‘আলিমগণ পর্যন্ত দিশেহারায় পড়ে, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৪০৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২৪-[১১] ইবনু উমার (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: মহান কল্যাণময় আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, আমি এমন কতক মাখলুক সৃষ্টি করেছি যাদের মুখের বাণী চিনি অপেক্ষা সুমিষ্টি। আর তাদের হৃদয় সবর (তেতো ফল) অপেক্ষা তিক্ত। আমি আমার শপথ করে বলছি, আমি তাদের ওপর এমন বিপর্যয় অবতীর্ণ করব যে, তাদের জ্ঞানী-গুণী লোকেরাও দিশেহারা হয়ে পড়বে। তারা কি আমাকে ধোঁকা দিতে চাচ্ছে নাকি আমার সাথে ধৃষ্টতা পোষণ করছে? ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ: لَقَدْ خَلَقْتُ خَلْقًا أَلْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَّرِ وَقُلُوبُهُمْ أَمَرُّ مِنَ الصَّبْرِ فَبِي حَلَفْتُ لَأُتِيحَنَّهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ فِيهِمْ حَيْرَانَ فَبِي يغترّون أم عليَّ يجترؤونَ؟ رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا حديثٌ غَرِيب

اسنادہ ضعیف ۔ رواہ الترمذی (2405) * حمزۃ بن ابی محمد : ضعیف ۔
(ضَعِيف)

وعن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ان الله تبارك وتعالى قال: لقد خلقت خلقا السنتهم احلى من السكر وقلوبهم امر من الصبر فبي حلفت لاتيحنهم فتنة تدع الحليم فيهم حيران فبي يغترون ام علي يجتروون؟ رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادہ ضعیف ۔ رواہ الترمذی (2405) * حمزۃ بن ابی محمد : ضعیف ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ: لَقَدْ خَلَقْتُ خَلْقًا) আল্লাহ তা'আলা বলেন, অবশ্যই আমি এমন একদল মানুষকে সৃষ্টি করেছি যাদের ভাষা চিনির চেয়ে মিষ্টি এবং তাদের অন্তর হকপন্থীদের প্রতি তিক্ত গাছের রসের চেয়ে আরো তিক্ত হবে।
(فَبِي حَلَفْتُ لَأُتِيحَنَّهُمْ فِتْنَةً) আমার ‘ইযযতের কসম করে বলছি তাদের ভিতর এমন ফিতনাহ্ ছড়িয়ে দিব যে, বিচক্ষণ ‘আলিম পর্যন্ত তা নিয়ে পেরেশান থাকবে।
(فَبِي يغترّون أم عليَّ يجترؤونَ؟) তারা কি আমার সাথে প্রতারণা করছে নাকি দুঃসাহসিকতা প্রদর্শন করছে? (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২৫-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: প্রতিটি কাজের মধ্যে একটা স্পৃহা থাকে। আমার প্রতি চেতনায় দুর্বলতাও রয়েছে। অতএব যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার কাজের মধ্যে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে এবং (সীমালঙ্ঘন বা হ্রাস না করে) মধ্যমপন্থার কাছাকাছি থেকে কাজ করে, তবে তোমরা তার সম্পর্কে আকাক্ষিত হতে পার। আর যদি তার প্রতি অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করা হয় তবে তোমরা তাকে হিসেবে ধরো না। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ شِرَّةٌ وَلِكُلِّ شِرَّةٍ فَتْرَةٌ فَإِنْ صَاحِبُهَا سَدَّدَ وَقَارَبَ فَارْجُوهُ وَإِنْ أُشِيرَ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ فَلَا تعدوه» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

حسن ، رواہ الترمذی (2452 وقال : حسن صحیح غریب) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان لكل شيء شرة ولكل شرة فترة فان صاحبها سدد وقارب فارجوه وان اشير اليه بالاصابع فلا تعدوه» . رواه الترمذي حسن ، رواہ الترمذی (2452 وقال : حسن صحیح غریب) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ لِكُلِّ شَيْءٍ شِرَّةٌ) নিশ্চয় প্রত্যেক কাজের প্রতি একটি লোভ, আগ্রহ ও কর্মতৎপরতা রয়েছে।
(وَلِكُلِّ شِرَّةٍ فَتْرَةٌ) আর প্রত্যেক কর্মতৎপরতার পিছনে দুর্বলতা রয়েছে। অর্থাৎ কোন বান্দা যদি “ইবাদত করার প্রতি সাধ্যাতিরিক্ত মনোনিবেশ করে তাহলে এক পর্যায়ে এসে সে দুর্বল হয়ে পড়বে ও তার কাজে শিথিলতা দেখা দিবে।
(إِنْ صَاحِبُهَا سَدَّدَ وَقَارَبَ فَارْجُوهُ) যদি কল্যাণের প্রতি উদ্যোক্তা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে এবং তার কাজকে বন্ধ না করে সাধারণভাবে চালিয়ে যায় তাহলে তার ব্যাপারে সফলতার আশা প্রকাশ কর।

(وَإِنْ أُشِيرَ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ فَلَا تعدوه) আর যদি সে প্রসিদ্ধতা অর্জনের জন্য অতিরিক্ত ‘আমালের প্রতি মনোনিবেশ করে তাহলে তাকে কোন সৎ ও একনিষ্ঠ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত মনে করো না। কেননা সে লোক দেখানোর জন্য তার সমস্ত সময়কে ‘ইবাদতে কাটিয়েছে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৪৫৩, মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২৬-[১৩] আনাস (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: কোন ব্যক্তি খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, দীনদারী বা ইহকালীন উচ্চ সম্মানের ব্যাপারে তার প্রতি অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়। তবে সে এটার আওতায় পড়বে না যাকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন। (বায়হাকী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بِحَسب امريءٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يُشَارَ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ فِي دِينٍ أَوْ دُنْيَا إِلَّا مَنْ عَصَمَهُ اللَّهُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6978 ، نسخۃ محققۃ : 6580) * کلثوم بن محمد بن ابی سدرۃ الحلبی ضعیف علی الراجح و عطاء بن ابی مسلم الخراسانی عن ابی ھریرۃ : مرسل ۔
(ضَعِيف)

وعن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «بحسب امريء من الشر ان يشار اليه بالاصابع في دين او دنيا الا من عصمه الله» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6978 ، نسخۃ محققۃ : 6580) * کلثوم بن محمد بن ابی سدرۃ الحلبی ضعیف علی الراجح و عطاء بن ابی مسلم الخراسانی عن ابی ھریرۃ : مرسل ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (بِحَسب امريءٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يُشَارَ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ) কোন ব্যক্তি মন্দ হওয়ার এতটুকুই যথেষ্ট যে, পার্থিব অথবা পরকালীন দীনদারী কাজের প্রসিদ্ধির জন্য তার দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা হয়। কেননা ব্যক্তি যখন কোন একটি স্বভাবের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করে তখন তার মধ্যে আত্মগৌরবের অহঙ্কার, লৌকিকতা, নেক আমলের প্রশংসা ইত্যাদি লুক্কায়িত মন্দ গুণাবলি থেকে খুব কমই নিরাপদে থাকতে পারে।
(إِلَّا مَنْ عَصَمَهُ اللَّهُ) তবে আল্লাহ তা'আলা যাকে তাকওয়ার স্থানে হিফাযাত করেন সেই কেবল উক্ত মন্দ গুণ থেকে বাঁচতে পারে। আর এজন্যই অনেক সুফী মতবাদ অবলম্বী দীনী ‘ইবাদত গোপন করে প্রবৃত্তির হীন মানসিকতা প্রকাশ করার নীতি অবলম্বন করে থাকে। হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল লোকে তো আপনার দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে থাকে। উত্তরে তিনি বলেন, নবী (সা.) হাদীস দ্বারা তাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যারা দীনের ক্ষেত্রে বিদ্আতী এবং দুনিয়ার ক্ষেত্রে পাপাচারী। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২৭-[১৪] আবূ তামীমাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি সফওয়ান ও তাঁর সঙ্গীদের নিকট উপস্থিত হই, তখন জুনদুব (রাঃ) তাদেরকে কিছু উপদেশ দিলেন। তখন তারা জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বিশেষ কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, যে লোক নিজের ’আমলের কথা লোকদেরকে শুনায়, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন (লোক সম্মুখে) তাকে লাঞ্ছিত করবেন, আর যে ব্যক্তি কষ্টের পথ অবলম্বন করে আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিন কষ্টে পতিত করবেন। তারা বললেন, আপনি আমাদেরকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, সর্বপ্রথম মানুষের যে বস্তু নষ্ট হয় তা হলো তা পেট। অতএব যথাসম্ভব সে যেন শুধু হালাল খায় এবং এর উপরই অটল থাকে। আর যার সামর্থ্য হয় যে, তার ও জান্নাতের মধ্যে এক চুল্লু প্রবাহিত রক্ত আড়াল না করুক, তবে সে যেন তাই করে। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

عَن أبي تَمِيمَة قَالَ: شَهِدْتُ صَفْوَانَ وَأَصْحَابَهُ وَجُنْدَبٌ يُوصِيهِمْ فَقَالُوا: هَلْ سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا؟ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَنْ سَمَّعَ إِنَّ أَوَّلَ مَا يُنْتِنُ مِنَ الْإِنْسَانِ بَطْنُهُ فَمن اسْتَطَاعَ أَن لَا يَأْكُل إِلا طيبا فَلْيَفْعَلْ وَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يَحُولَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجَنَّةِ مِلْءُ كَفٍّ مِنْ دَمٍ أَهَرَاقَهُ فَلْيفْعَل. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (7152) ۔
(صَحِيح)

عن ابي تميمة قال: شهدت صفوان واصحابه وجندب يوصيهم فقالوا: هل سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم شيىا؟ قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من سمع ان اول ما ينتن من الانسان بطنه فمن استطاع ان لا ياكل الا طيبا فليفعل ومن استطاع ان لا يحول بينه وبين الجنة ملء كف من دم اهراقه فليفعل. رواه البخاري رواہ البخاری (7152) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসের আলোচনায় বলা হয়েছে যে, (مَنْ شَاقَّ شَقَّ اللّٰهُ عَلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَا مَةِ) যে ব্যক্তি কঠোরতা আরোপ করবে তথা সে নিজের সাধ্যের বাইরে কষ্ট করে অধিক ‘আমলের চেষ্টা করবে অথবা অন্যকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দিবে আল্লাহ তা'আলাও কিয়ামত দিবসে তার ওপর কঠোরতা আরোপ করবেন।
(قَالُوا: أَوْصِنَا)  সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে উপদেশ দিন। অথবা সনদে উল্লেখিত সফওয়ান এবং তার সঙ্গীগণ জুনদুব (রাঃ)-কে বলেছিলেন, আমাদেরকে আরো উপদেশ দিন।
(فَقَالَ: إِنَّ أَوَّلَ مَا يُنْتِنُ مِنَ الْإِنْسَانِ بَطْنُهُ) অতঃপর তিনি বললেন, দুনিয়াতে সর্বপ্রথম মানুষের শরীরের যে অঙ্গটি নষ্ট হবে বা দুর্গন্ধ ছড়াবে তা হলো মানুষের পেট। কেননা তা নষ্টের স্থান। অথবা, মৃত্যুর পর কবরে সর্বপ্রথম পেট ফেটে দুর্গন্ধ ছড়াবে।
(فَمن اسْتَطَاعَ أَن لَا يَأْكُل إِلا طيبا) যে ব্যক্তি পবিত্র খাদ্যদ্রব্য তথা হালাল খেতে সক্ষম সে যেন তাই করে অর্থাৎ সাধ্যানুযায়ী হালাল খায়। মনের খাহেশ মিটানোর জন্য অবৈধভাবে বেশি উপার্জন না করে বৈধ পন্থায় হালাল খাদ্য কম খাওয়ার চেষ্টা করে।
(وَمَنِ اسْتَطَاعَ أَنْ لَا يَحُولَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجَنَّةِ) আর যে ব্যক্তি প্রথম পর্যায়ে জান্নাতে প্রবেশকারী সফল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রতিবন্ধকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম, সে যেন এক মুঠো রক্ত প্রবাহিত করে জান্নাত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে না দেয়। অর্থাৎ সাধ্যানুযায়ী সামান্য পরিমাণ অবৈধ কাজে জড়িত না হয়। যদি একমুঠো রক্ত প্রবাহিত করার কারণে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে যে বেশি পরিমাণে করবে তার কি অবস্থা হবে? (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ১৩/৭১৫২)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ তামীমাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২৮-[১৫] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মসজিদের দিকে বের হয়ে মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে নবী (সা.)-এর কবরের নিকট দেখে বললেন, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, আমাকে এমন একটি জিনিস কাঁদাচ্ছে যা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি- ’রিয়া’-এর সামান্য পরিমাণও শিরক। আর যে লোক আল্লাহর বন্ধুদের সাথে শত্রুতার মনোভাব রাখে, সে যেন আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো। বস্তুত আল্লাহ তা’আলা পুণ্যবান, আল্লাহভীরু, লোকচক্ষু হতে আত্মগোপনকারীদেরকে পছন্দ করেন। তারা হলো এমন সব ব্যক্তি যারা লোকচক্ষু হতে অনুপস্থিত থাকলে কেউ তাদের খোঁজ নেয় না এবং তাদের সম্মুখে উপস্থিত হলেও কেউ তাদেরকে (মজলিসে) আহ্বান করে না। আর তাদেরকে নিজেদের নিকট বসায় না। (অথচ) তাদের হৃদয় হলো হিদায়াতের মশাল। তারা প্রত্যেক অন্ধকারাচ্ছন্ন জীর্ণশীর্ণ কুটির হতে বের হয়। (ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَن عمر بن الْخطاب أَنَّهُ خَرَجَ يَوْمًا إِلَى مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَاعِدًا عِنْدَ قَبْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَبْكِي فَقَالَ: مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: يُبْكِينِي شَيْءٌ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ يَسِيرَ الرِّيَاءِ شِرْكٌ وَمَنْ عَادَى لِلَّهِ وَلِيًّا فَقَدْ بَارَزَ اللَّهَ بِالْمُحَارَبَةِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْأَبْرَارَ الْأَتْقِيَاءَ الْأَخْفِيَاءَ الَّذِينَ إِذَا غَابُوا لَمْ يُتَفَقَّدُوا وَإِنْ حَضَرُوا لَمْ يُدْعَوْا وَلَمْ يُقَرَّبُوا قُلُوبُهُمْ مَصَابِيحُ الْهُدَى يَخْرُجُونَ مِنْ كُلِّ غَبْرَاءَ مُظْلِمَةٍ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ ابن ماجہ (3989) و البیھقی فی شعب الایمان (6812) ۔
(ضَعِيف)

وعن عمر بن الخطاب انه خرج يوما الى مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجد معاذ بن جبل قاعدا عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم يبكي فقال: ما يبكيك؟ قال: يبكيني شيء سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «ان يسير الرياء شرك ومن عادى لله وليا فقد بارز الله بالمحاربة ان الله يحب الابرار الاتقياء الاخفياء الذين اذا غابوا لم يتفقدوا وان حضروا لم يدعوا ولم يقربوا قلوبهم مصابيح الهدى يخرجون من كل غبراء مظلمة» . رواه ابن ماجه والبيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ ابن ماجہ (3989) و البیھقی فی شعب الایمان (6812) ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (مَا يُبْكِيكَ؟) কিসের কারণে তুমি কাঁদছ? রসূলের সাক্ষাতের আশায় নাকি কোন বিপদে পড়ে কাঁদছ? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এ থেকে শুনা একটি হাদীসের কারণে আমি কাঁদছি যা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি।
(إِنَّ يَسِيرَ الرِّيَاءِ شِرْكٌ) সামান্য পরিমাণ রিয়া হলেই শিরক। আর তা অন্ধকার রাত্রিতে কালো পাথরের উপর কালো পিপিলিকার পদচারণার আওয়াজ থেকেও সূক্ষ্ম। খুব কম শক্তিশালী লোকই তা থেকে দূরে থাকতে পারে। তাহলে দুর্বলের অবস্থা কি হতে পারে? আর এ কারণেই আমি কাঁদছি। অন্য আরেকটি কারণ হলো আল্লাহর ওয়ালীদেরকে কষ্ট দেয়। কেননা তাদের অধিকাংশই অপ্রকাশ্য থাকেন। মানুষ তাদেরকে কথায় ও কাজে কষ্ট দিয়ে থাকে। হাদীসের পরবর্তী অংশ এ কথার প্রমাণ বহন করে।
(مَنْ عَادَى لِلَّهِ وَلِيًّا فَقَدْ بَارَزَ اللَّهَ بِالْمُحَارَبَةِ) যারা কথায় বা কাজে আল্লাহর কোন ওয়ালীকে রাগান্বিত করবে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এ থেকে বুঝা যায় যে, এটা গুরুতর অপরাধ।
(إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْأَبْرَارَ الْأَتْقِيَاءَ) নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা নিজে সৎকাজ সম্পাদনকারী ও আল্লাহর সৃষ্টজীবের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশকারী বান্দাদেরকে ভালোবাসেন। যারা সকল প্রকার শিরক ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকে এবং মানুষের সাথে মেলামেশায় দৃষ্টির অগোচরে থাকে। অধিকাংশ মানুষের চোখের আড়ালে বসবাস করে। তারা এতই অপরিচিত যে, তারা সমাজে অনুপস্থিত থাকলে তাদেরকে খোঁজা হয় না। তারা উপস্থিত থাকলেও তাদেরকে খাওয়ার টেবিলে বসার জন্য দা'ওয়াত দেয়া হয় না এবং তাদেরকে কাছেও ডাকা হয় না।
(قُلُوبُهُمْ مَصَابِيحُ الْهُدَى) তাদের অন্তরগুলো হিদায়াতের আলোকবর্তিকা। তারাই হলো হিদায়াতের প্রতীক। তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করা সকলের উচিত।
(يَخْرُجُونَ مِنْ كُلِّ غَبْرَاءَ مُظْلِمَةٍ) তাদের আবির্ভাব প্রত্যেক অন্ধকারাচ্ছন্ন ধূলামলিন বাসস্থানে। অর্থাৎ তাদের বাসস্থানগুলো খুবই নগণ্য হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপকরণের অভাবে ঘরগুলো ধুলামলিন হবে এবং বাতির অভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ ৩/৩৯৮৯)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩২৯-[১৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কোন বান্দা যখন প্রকাশ্যে সালাত আদায় করে তখন উত্তমভাবে আদায় করে এবং যখন নির্জনে সালাত আদায় করে তখনও অনুরূপ উত্তমভাবেই আদায় করে। এমন বান্দা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন, সে-ই আমার প্রকৃত বান্দা। (ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا صَلَّى فِي الْعَلَانِيَةِ فَأَحْسَنَ وَصَلَّى فِي السِّرِّ فَأَحْسَنَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: هَذَا عَبْدِي حَقًّا . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4200) * بقیۃ مدلس و عنعن وقال ابو حاتم :’’ ھذا حدیث منکر ، یشبہ ان یکون من حدیث عباد بن کثیر ‘‘ ۔
(ضَعِيفٌ)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان العبد اذا صلى في العلانية فاحسن وصلى في السر فاحسن قال الله تعالى: هذا عبدي حقا . رواه ابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4200) * بقیۃ مدلس و عنعن وقال ابو حاتم :’’ ھذا حدیث منکر ، یشبہ ان یکون من حدیث عباد بن کثیر ‘‘ ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا صَلَّى فِي الْعَلَانِيَةِ فَأَحْسَنَ) বান্দা যখন প্রকাশ্যে সালাত আদায় করার সময় সকল প্রকার শর্ত, ওয়াজিবাত, সুন্নাত ও মুস্তাহাব কাজগুলো উত্তমরূপে আদায় করে, এমনিভাবে সমস্ত ‘ইবাদতেই প্রকাশ্যে সুন্দর করে আদায় করে।
আবার মানুষের দৃষ্টির অগোচরে ‘ইবাদত করলেও সুন্দর করে ইবাদত করে, তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, (هَذَا عَبْدِي حَقًّا) আমার এ বান্দা সত্যিই একনিষ্ঠ। তার সমস্ত কার্যকলাপ নিফাক থেকে মুক্ত। সম্ভবত এ কারণেই রাসূলুল্লাহ (সা.) সুন্নাত ও নফল সালাত বাড়ীতে আদায় করতেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩০-[১৭] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: শেষকালে এমন কতক সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে যারা দৃশ্যত হবে বন্ধু, পক্ষান্তেরে গোপনে হবে শত্রু। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তা কিভাবে হবে? তিনি (সা.) বললেন, তাদের কেউ কারো কাছ থেকে স্বার্থের বশীভূত এবং একে অন্যের পক্ষ থেকে ভীত হওয়ার কারণে।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ أَقْوَامٌ إِخْوَانُ الْعَلَانِيَةِ أَعْدَاءُ السَّرِيرَةِ» . فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ. قَالَ: «ذَلِكَ بِرَغْبَةِ بَعْضِهِمْ إِلَى بَعْضٍ وَرَهْبَةِ بَعْضِهِمْ من بعض»

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 235 ح 22405) * فیہ ابوبکر بن ابی مریم الغسانی : ضعیف مختلط ، رواہ عن حبیب بن عبید عن معاذ بہ و حبیب بن عبید الرحبی لم یدرک سیدنا معاذ بن جبل رضی اللہ عنہ فالسند منقطع ۔
(ضَعِيف)

وعن معاذ بن جبل ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يكون في اخر الزمان اقوام اخوان العلانية اعداء السريرة» . فقيل: يا رسول الله وكيف يكون ذلك. قال: «ذلك برغبة بعضهم الى بعض ورهبة بعضهم من بعض» اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 235 ح 22405) * فیہ ابوبکر بن ابی مریم الغسانی : ضعیف مختلط ، رواہ عن حبیب بن عبید عن معاذ بہ و حبیب بن عبید الرحبی لم یدرک سیدنا معاذ بن جبل رضی اللہ عنہ فالسند منقطع ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ أَقْوَامٌ) শেষ যামানায় এমন অনেক দলের আবির্ভাব হবে যারা প্রকাশ্যে ভ্রাতৃত্ব সুলভ আচরণ করবে কিন্তু গোপনে শত্রুতা পোষণ করবে।
(فَقِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ) রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, তার কারণ কি? তিনি (সা.) উত্তরে বললেন, প্রত্যেক দল অপর দলের প্রতি লোভ করার কারণে এবং একদল অপর দলকে ভয় করার কারণে।
মুলত এটা আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা বা আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করার উদ্দেশে নয়। বরং তাদের ভ্রান্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই এমন করবে। কখনো কোন সম্প্রদায়ের প্রতি নিজেদের স্বার্থে ভালোবাসা প্রকাশ করবে আবার কখনো অন্য সম্প্রদায়কে ঘৃণা করবে।
অতএব মানুষের সাথে এমন ভালোবাসা এবং শত্রুতার কোন মূল্য নেই। কেননা এসব নিজেদের প্রসিদ্ধির জন্যই করবে, আল্লাহ ওয়াস্তে নয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩১-[১৮] শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, যে লোক মানুষকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করে, সে শিরক করল। যে দেখানোর নিয়্যাতে সিয়াম রাখল সে শিরক করল, আর যে দেখানোর জন্য দান করল সেও শিরক করল। আর যে দেখানোর জন্য সদা-দান করল সেও শিরক করল। [উপরিউক্ত হাদীস দু’টি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন]

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: «من صَلَّى يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ وَمَنْ صَامَ يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ وَمَنْ تَصَدَّقَ يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ» رَوَاهُمَا أَحْمد

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (4 / 126 ح 17270)

وعن شداد بن اوس قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «من صلى يراىي فقد اشرك ومن صام يراىي فقد اشرك ومن تصدق يراىي فقد اشرك» رواهما احمد اسنادہ حسن ، رواہ احمد (4 / 126 ح 17270)

ব্যাখ্যা : (من صَلَّى يُرَائِي فَقَدْ أَشْرَكَ) যারা মানুষকে দেখানোর জন্য সালাত আদায় করবে, তারা ছোট শিরকে লিপ্ত হবে। এমনিভাবে যারা মানুষকে দেখানোর জন্য সাওম পালন করবে তারাও শিরক করবে। এখান থেকে জানা যাচ্ছে যে, সিয়ামের ক্ষেত্রেও রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও কেউ এটাকে অস্বীকার করে। কেননা সিয়াম নিয়্যাতের উপর নির্ভর করে। আর এখানে রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বলা যায় এক্ষেত্রে রিয়া পাওয়া সম্ভব শারীকানা ভিত্তিতে। যেমন- কেউ সওম পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি খ্যাতি অর্জনের ইচ্ছা প্রকাশ করলে বা অন্য উদ্দেশে জড়িত হলে। এমনিভাবে লোক দেখানো উদ্দেশে দান করলে সেও শিরক করবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩২-[১৯] উক্ত রাবী [শাদ্দাদ ইবনু আওস (রাঃ)] হতে বর্ণিত। একদিন তিনি কাঁদছিলেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হলো, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, ঐ কথাটি আমাকে কাঁদাচ্ছে যা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি। এখন তার স্মৃতি আমাকে কাঁদাচ্ছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে আমি বলতে শুনেছি, আমি আমার উম্মতের ওপর প্রচ্ছন্ন শিরক ও গোপন প্রবৃত্তির আশঙ্কা করছি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার পরে আপনার উম্মাত কি শিরকে জড়াবে? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, জড়াবে। অবশ্য তারা সূর্য, চন্দ্রের উপাসনা করবে না, পাথর এবং মূর্তির পূজা করবে না, কিন্তু নিজেদের ’আমলসমূহ মানুষকে দেখানোর নিয়্যাতে করবে। আর গোপন প্রবৃত্তি হলো- যেমন তাদের কেউ সিয়ামবস্থায় সকাল করল, এরপর তার সম্মুখে প্রবৃত্তির কোন আগ্রহ উপস্থিত হলে সে সিয়াম পরিহার করে দেয়। (আহমাদ ও বায়হাকী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْهُ أَنَّهُ بَكَى فَقِيلَ لَهُ: مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: شَيْءٌ سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فَذَكَرْتُهُ فَأَبْكَانِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «أَتَخوَّفُ على أمتِي الشِّرْكِ وَالشَّهْوَةِ الْخَفِيَّةِ» قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُشْرِكُ أُمَّتُكَ مِنْ بَعْدِكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ أَمَا إِنَّهُمْ لَا يَعْبُدُونَ شَمْسًا وَلَا قَمَرًا وَلَا حَجَرًا وَلَا وَثَنًا وَلَكِنْ يُرَاؤُونَ بِأَعْمَالِهِمْ. وَالشَّهْوَةُ الْخَفِيَّةُ أَنْ يُصْبِحَ أَحَدُهُمْ صَائِمًا فَتَعْرِضَ لَهُ شَهْوَةٌ مِنْ شَهَوَاتِهِ فَيَتْرُكَ صَوْمَهُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6830 ، نسخۃ محققۃ : 6411) [و احمد (4 / 123 ۔ 124)] * فیہ عبد الواحد بن زید البصری ضعیف متروک کما فی الجرح و التعدیل (6 / 20)و للحدیث طریق آخر عند ابن ماجہ (4205) و سندہ ضعیف و للحدیث شواھد ضعیفۃ و الاحادیث الصحیحۃ تخالفہ فی عبادۃ الاوثان ۔
(ضَعِيف)

وعنه انه بكى فقيل له: ما يبكيك؟ قال: شيء سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول فذكرته فابكاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «اتخوف على امتي الشرك والشهوة الخفية» قال: قلت يا رسول الله اتشرك امتك من بعدك؟ قال: «نعم اما انهم لا يعبدون شمسا ولا قمرا ولا حجرا ولا وثنا ولكن يراوون باعمالهم. والشهوة الخفية ان يصبح احدهم صاىما فتعرض له شهوة من شهواته فيترك صومه» . رواه البيهقي في «شعب الايمان» ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6830 ، نسخۃ محققۃ : 6411) [و احمد (4 / 123 ۔ 124)] * فیہ عبد الواحد بن زید البصری ضعیف متروک کما فی الجرح و التعدیل (6 / 20)و للحدیث طریق آخر عند ابن ماجہ (4205) و سندہ ضعیف و للحدیث شواھد ضعیفۃ و الاحادیث الصحیحۃ تخالفہ فی عبادۃ الاوثان ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (أَتَخوَّفُ على أمتِي الشِّرْكِ) আমি আমার উম্মতের ওপর সবচেয়ে বেশি ভয় করছি লুক্কায়িত বা গোপন শিরকের যেমনটি কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, (أَخْوَفُ مَاأَخَافُ عَلٰى أُمَّتِي الْإِشْرَاكُ بِاللّٰهِ) আমি আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভয় করছি তারা আল্লাহর সাথে শিরক করবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

(وَالشَّهْوَةُ الْخَفِيَّةُ) গোপন প্রবৃত্তি। হাদীসের শেষাংশে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, (أَنْ يُصْبِحَ أَحَدُهُمْ صَائِمًا فَتَعْرِضَ لَهُ شَهْوَةٌ مِنْ شَهَوَاتِهِ فَيَتْرُكَ صَوْمَهُ) অর্থাৎ কোন ব্যক্তি সাওমের নিয়্যাত করবে, অতঃপর তার নিকট খাওয়া, স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি কামনা-বাসনা জাগ্রত হলে, ফলে সে সওমকে ভেঙ্গে ফেলবে। আর এর মাধ্যমে সে হারামে লিপ্ত হবে। যেহেতু সে বিনা প্রয়োজনে আল্লাহর আনুগত্য পরিহার করে মনের প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ শরাহ ৩/৪২০৫)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩৩-[২০] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমরা মাসীহ-দাজ্জাল সম্পর্কে একে অপরের মাঝে আলোচনা করছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের কাছে এসে বললেন, সাবধান! আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি ব্যাপারে অবগত করব না যা আমার নিকট তোমাদের জন্য মাসীহ-দাজ্জাল হতেও অধিক ভয়ানক? আমরা বললাম, হ্যা, বলুন, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাঃ) বললেন, তা হলো গোপনীয় শিরক অর্থাৎ কোন ব্যক্তি সালাতে দাঁড়িয়ে এজন্য সালাতকে দীর্ঘায়িত করে যে, তার সালাত কোন ব্যক্তি দর্শন করছে। (ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ؟» فَقُلْنَا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: «الشِّرْكُ الْخَفِيُّ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ فَيُصَلِّيَ فَيَزِيدَ صَلَاتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رجلٍ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

حسن ، رواہ ابن ماجہ (4204) ۔
(حسن)

وعن ابي سعيد الخدري قال: خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن نتذاكر المسيح الدجال فقال: «الا اخبركم بما هو اخوف عليكم عندي من المسيح الدجال؟» فقلنا: بلى يا رسول الله قال: «الشرك الخفي ان يقوم الرجل فيصلي فيزيد صلاته لما يرى من نظر رجل» . رواه ابن ماجه حسن ، رواہ ابن ماجہ (4204) ۔ (حسن)

ব্যাখ্যা : (أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي) আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দিব না বা শিখিয়ে দিব না যা আমার নিকট তথা আমার শারী'আতে তোমাদের জন্য অধিক ভয়ের কারণ হবে দাজ্জালের ফিতনার চাইতেও। কেননা দাজ্জালের প্রকাশের সময় ও তার ফিতনাহ্ নির্ধারিত এবং তোমাদের জন্য তা থেকে হিফাযাত থাকা সম্ভব।
(فَقُلْنَا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ) আমরা বললাম, হ্যা! হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, (الشِّرْكُ الْخَفِيُّ) লুক্কায়িত শিরক। আর তা হলো কোন ব্যক্তি সালাতের কোন রুকন লম্বা করবে অথবা সালাতের ধরণ পরিবর্তন করবে অথবা সংখ্যাকে বাড়িয়ে দিবে এ কারণে যে, লোকে তার সালাত দর্শন করছে। আল্লাহ যে তাকে দেখছে সেটাকে সে মনেই করবে না। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩৪-[২১] মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: আমি তোমাদের জন্য যে ব্যাপারে সর্বাপেক্ষা বেশি আশঙ্কা করছি তা হলো ছোট শিরক। লোকেরা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রসূল! ছোট শিরক কি? তিনি (সা.) বললেন, লোক দেখানো ’আমল। (আহমাদ)

আর ইমাম বায়হাক্কী (রহিমাহুল্লাহ) শুআবূল ঈমানে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, বান্দাদের ’আমালের বিনিময়ের দিন আল্লাহ তা’আলা ঐ সমস্ত লোকেদেরকে বলবেন, যাও তোমরা সেই সমস্ত লোকদের কাছে, যাদেরকে দেখিয়ে দুনিয়াতে ’আমল করেছিলে আর লক্ষ্য করো তাদের নিকট থেকে কোন বিনিময় বা কোন কল্যাণ পাও কি না?

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَن مَحْمُود بن لبيد أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ» قالول: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ؟ قَالَ: «الرِّيَاءُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ. وَزَادَ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» : يَقُولُ اللَّهُ لَهُمْ يَوْمَ يُجَازِي الْعِبَادَ بِأَعْمَالِهِمْ: اذْهَبُوا إِلَى الَّذِينَ كُنْتُمْ تُرَاؤُونَ فِي الدُّنْيَا فَانْظُرُوا هَلْ تَجِدُونَ عِنْدَهُمْ جَزَاءً وَخَيْرًا؟

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 428 ح 24036) و البیھقی فی شعب الایمان (6831 ، نسخۃ محققۃ : 6412) ۔
(صَحِيح)

وعن محمود بن لبيد ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ان اخوف ما اخاف عليكم الشرك الاصغر» قالول: يا رسول الله وما الشرك الاصغر؟ قال: «الرياء» . رواه احمد. وزاد البيهقي في «شعب الايمان» : يقول الله لهم يوم يجازي العباد باعمالهم: اذهبوا الى الذين كنتم تراوون في الدنيا فانظروا هل تجدون عندهم جزاء وخيرا؟ اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 428 ح 24036) و البیھقی فی شعب الایمان (6831 ، نسخۃ محققۃ : 6412) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ) নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি ভয় করছি শিরকে আসগরের। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন : শিরকে আসগর কি? তিনি (সা.) উত্তর দিলেন: রিয়া বা লোক দেখানো ‘আমল। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩৫-[২২] আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যদি কোন ব্যক্তি এমন কঠিন পাথরের অভ্যন্তরে বসে ’আমল করে- যার কোন দরজা বা জানালা নেই, এক সময় তার সেই ’আমল মানুষের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বেই, চাই তা (ভালো বা মন্দ) যে কোন ধরনের ’আমলেই হোক বা কেন?

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ أَنَّ رَجُلًا عَمِلَ عَمَلًا فِي صَخْرَةٍ لَا بَابَ لَهَا وَلَا كَوَّةَ خَرَجَ عَمَلُهُ إِلَى النَّاسِ كَائِنا مَا كَانَ»

اسنادہ حسن ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6940 ، نسخۃ محققۃ : 6541) [و احمد (3 / 28) و الحاکم 4 / 314 ح 7877) و ابن حبان (الاحسان : 5649 / 5678) و ابن وھب صرح بالسماع عندہ] و اصلہ عند ابن ماجہ (4167)

وعن ابي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لو ان رجلا عمل عملا في صخرة لا باب لها ولا كوة خرج عمله الى الناس كاىنا ما كان» اسنادہ حسن ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6940 ، نسخۃ محققۃ : 6541) [و احمد (3 / 28) و الحاکم 4 / 314 ح 7877) و ابن حبان (الاحسان : 5649 / 5678) و ابن وھب صرح بالسماع عندہ] و اصلہ عند ابن ماجہ (4167)

ব্যাখ্যা : (لَوْ أَنَّ رَجُلًا عَمِلَ عَمَلًا فِي صَخْرَةٍ) যদি কোন ব্যক্তি একটি কঠিন পাথরের মাঝে অথবা কোন পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে ‘ইবাদত করে সেখানে কোন দরজা নেই জানালাও নেই।
(خَرَجَ عَمَلُهُ إِلَى النَّاسِ كَائِنا مَا كَانَ) উক্ত ‘আমল মানুষের মাঝে প্রকাশ পাবেই। যে ধরনের ‘আমলই হোক না কেন? কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে, (من كَانَ) অর্থাৎ ‘আমলকারী তা প্রকাশ করতে চাক বা না চাক তা প্রকাশ হবেই। যেহেতু আল্লাহ তা'আলা বলেন,
(وَ اللّٰهُ مُخۡرِجٌ مَّا کُنۡتُمۡ تَکۡتُمُوۡنَ) “তোমরা যা কর আল্লাহ তা'আলা তার প্রকাশকারী”- (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২:৭২)। (ইবনু মাজাহ শরাহ ৪২০৫, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩৬-[২৩] ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তির কোন ভালো বা মন্দ স্বভাব গোপনীয়ভাবে থাকে, আল্লাহ তা’আলা তা কোন চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করে দেন। তা দ্বারা তার পরিচয় উন্মোচিত হয়ে পড়ে।

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَن عُثْمَان بن عَفَّان قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَتْ لَهُ سَرِيرَةٌ صَالِحَةً أَوْ سَيِّئَةً أَظْهَرَ اللَّهُ مِنْهَا رِدَاءً يُعْرَفُ بِهِ»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6942 ، نسخۃ محققۃ : 6543) * فیہ حفص بن سلیمان : متروک ۔
(ضَعِيف)

وعن عثمان بن عفان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من كانت له سريرة صالحة او سيىة اظهر الله منها رداء يعرف به» اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (6942 ، نسخۃ محققۃ : 6543) * فیہ حفص بن سلیمان : متروک ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (مَنْ كَانَتْ لَهُ سَرِيرَةٌ صَالِحَةً) যার মনের ভিতর গোপন অভিপ্রায় লুকায়িত রয়েছে, তা ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক। আল্লাহ তা'আলা উভয়ের মাঝে এমন একটি আলামত প্রকাশ করে দিবেন যার দ্বারা তার পরিচয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩৭-[২৪] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমি (আমার) এ উম্মাতের প্রতি ঐ সকল মুনাফিকদের জন্য শঙ্কিত, যারা একদিকে উপদেশ ও কল্যাণমূলক কথা বলবে, অপরদিকে অন্যায় ও অত্যাচারের বহিঃপ্রকাশ করবে। (উপরিউক্ত হাদীস তিনটি ইমাম বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান উল্লেখ করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَن عمر بن الْخَطَّابِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ كُلَّ مُنَافِقٍ يَتَكَلَّمُ بِالْحِكْمَةِ وَيَعْمَلُ بِالْجَوْرِ» رَوَى الْبَيْهَقِيُّ الْأَحَادِيثَ الثَّلَاثَةَ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

حسن ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (1777 ، نسخۃ محققۃ : 1641) [و احمد (1 / 22 ح 143 و سندہ حسن)]

وعن عمر بن الخطاب عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «انما اخاف على هذه الامة كل منافق يتكلم بالحكمة ويعمل بالجور» روى البيهقي الاحاديث الثلاثة في «شعب الايمان» حسن ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (1777 ، نسخۃ محققۃ : 1641) [و احمد (1 / 22 ح 143 و سندہ حسن)]

ব্যাখ্যা : (إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى هَذِهِ الْأُمَّةِ) আমি এই উম্মাতের ওপর ঐ সকল মুনাফিকদের অনিষ্টতার আশংকা করছি। যারা শারী'আতের কথা বলবে এবং উত্তম উপদেশ দিবে কিন্তু বাস্তবে তারা অন্যায় ও যুলম করবে এবং সরল সঠিক পথ থেকে দূরে থাকবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - লোক দেখানো ও শুনানোর ব্যাপারে বর্ণনা

৫৩৩৮-[২৫] মুহাজির ইবনু হাবীব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি বিদ্বান ব্যক্তির প্রতিটি কথা গ্রহণ করি না, বরং আমি তার নিয়্যাত ও আগ্রহকে কবুল করি। অতএব যদি তার নিয়্যাত ও আগ্রহ আমার আনুগত্যের অনুকূলে হয়, তাহলে তার নিরবতাকে আমি আমার প্রশংসা এবং তার জন্য তাকে স্থিরতা ও ধৈর্যশীলতার অন্তর্ভুক্ত করি, যদিও মুখের বাক্য দ্বারা সে কিছুই উচ্চারণ না করে থাকে। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الرِّيَاء والسمعة)

وَعَن المهاجرِ بنِ حبيبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: إِنِّي لَسْتُ كُلَّ كلامِ الْحَكِيم أتقبَّلُ وَلَكِنِّي أَتَقَبَّلُ هَمَّهُ وَهَوَاهُ فَإِنْ كَانَ هَمُّهُ وَهَوَاهُ فِي طَاعَتِي جَعَلْتُ صَمْتَهُ حَمْدًا لِي وَوَقَارًا وإِنْ لمْ يتكلَّمْ رَوَاهُ الدَّارمِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 79 ح 258) * فیہ صدقۃ بن عبداللہ بن مھاجر بن حبیب : مجھول ، و المھاجر لیس صحابیًا و لعلہ المھاصر بن حبیب کما فی النسخۃ المحققۃ فالسند مع ضعفہ مرسل ۔
(ضَعِيف)

وعن المهاجر بن حبيب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قال الله تعالى: اني لست كل كلام الحكيم اتقبل ولكني اتقبل همه وهواه فان كان همه وهواه في طاعتي جعلت صمته حمدا لي ووقارا وان لم يتكلم رواه الدارمي اسنادہ ضعیف ، رواہ الدارمی (1 / 79 ح 258) * فیہ صدقۃ بن عبداللہ بن مھاجر بن حبیب : مجھول ، و المھاجر لیس صحابیا و لعلہ المھاصر بن حبیب کما فی النسخۃ المحققۃ فالسند مع ضعفہ مرسل ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (الَ اللَّهُ تَعَالَى: إِنِّي لَسْتُ كُلَّ كلامِ الْحَكِيم أتقبَّلُ) আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমি ‘আলিমের প্রত্যেক কথা ও মুখের নড়াচড়ার দিকে তাকাই না বরং তার অবস্থা অন্তরের কল্যাণের দিকে লক্ষ্য করি। আর এ অর্থেই আল্লাহ বলেন,
(وَلَكِنِّي أَتَقَبَّلُ هَمَّهُ وَهَوَاهُ) কিন্তু আমি তার ভালো কাজের নিয়্যাতকে অন্তরে কল্পনা করার সাথে সাথেই গ্রহণ করি। আর যদি গ্রহণ করি নিয়্যাতের সাথেই গ্রহণ করি যদিও তার আগ্রহ তা বিলম্বে বাস্তবায়ন হয়।
(فَإِنْ كَانَ هَمُّهُ وَهَوَاهُ فِي طَاعَتِي) যদি তার নিয়্যাত ও উদ্দিষ্ট ইচ্ছা আমার আনুগত্যমূলক কাজে হয় তাহলে তার চুপ থাকাকেও আমি আমার ওপর প্রশংসা হিসেবে ধরে নেই এবং ধরে নেই প্রশান্তি ও মজবুত ‘ইলম হিসেবে যদিও সে প্রশংসামূলক কথা না বলে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৩৯-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূল কাসিম (মুহাম্মাদ) (সা.) বলেছেন: সেই মহান সত্তার শপথ (নাফরমানদের জন্য আল্লাহর শাস্তি এবং হিসাব-নিকাশের দিনের ভয়াবহতা সম্পর্কে) যদি তোমরা তা জানতে, আমি যা জানি, তাহলে তোমরা কাঁদতে বেশি এবং হাসতে কম। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا وَلَضَحِكْتُمْ قَلِيلا» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6485) ۔
(صَحِيح)

عن ابي هريرة قال: قال ابو القاسم صلى الله عليه وسلم: «والذي نفسي بيده لو تعلمون ما اعلم لبكيتم كثيرا ولضحكتم قليلا» . رواه البخاري رواہ البخاری (6485) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ) পরকালে পাপী বান্দাদের কঠিন জিজ্ঞাসাবাদ এবং শাস্তির কথা যদি তোমরা জানতে যেমনিভাবে আমি জেনেছি তাহলে তোমরা অনেক কান্নাকাটি করতে অথবা আল্লাহর ভয়ে দীর্ঘসময় কাঁদতে। আর শেষ পরিণতি মন্দ হওয়ার আশঙ্কাকে বেশি প্রাধান্য দিতে অধিক আশা ভরসার চাইতে।
(وَلَضَحِكْتُمْ قَلِيلا) এবং খুব কম হাসতে। সম্ভবত হাদীসটি আল্লাহর তা'আলার ঐ বাণীর অনুকূলে হয়েছে যেখানে তিনি বলেন, (فَلۡیَضۡحَکُوۡا قَلِیۡلًا وَّ لۡیَبۡکُوۡا کَثِیۡرً) “তারা যেন কম হাসে এবং বেশি কাঁদে।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৮২)

‘আল্লামাহ্ হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলোচ্য হাদীসে (علم) বা জানার দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তা'আলার মহত্ত্ব সম্পৃক্ত জ্ঞান এবং পাপী বান্দাদের জন্য তাঁর শাস্তি, মৃত্যুর সময়ের কঠিন অবস্থা, মৃত্যু এবং কিয়ামত সম্পর্কের জ্ঞান। অতএব এ স্থানে বেশি করে কান্না এবং কম করে হাসার কারণ সুস্পষ্ট। মূলত উদ্দেশ্য হলো বান্দাকে ভয় দেখানো। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৩১৩, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪০-[২] উম্মুল আলা আনসারিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহর শপথ! আমি জানি না যে, আমার সাথে (পরকালে) কি ব্যবহার করা হবে? আর এটাও জানি না যে, তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে? অথচ আমি হলাম আল্লাহর প্রেরিত দূত। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أُمِّ الْعَلَاءِ الْأَنْصَارِيَّةِ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ لَا أَدْرِي وَاللَّهِ لَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِي وبكم» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (1243) ۔
(صَحِيح)

وعن ام العلاء الانصارية قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «والله لا ادري والله لا ادري وانا رسول الله ما يفعل بي وبكم» . رواه البخاري رواہ البخاری (1243) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, (وَاللَّهِ لَا أَدْرِي وَاللَّهِ لَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِي وبكم) আল্লাহর কসম আমি জানি না, আমার প্রতি পরকালে কি আচরণ করা হবে এবং তোমাদের প্রতিও কি ব্যবহার করা হবে, তা আমি জানি না। আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলোচ্য হাদীসের কয়েকটি দিক রয়েছে।

এক : রাসূলুল্লাহ (সা.) এ কথাটি তখন বলেছিলেন যখন উসমান ইবনু মায'ঊন মারা গেলে তার স্ত্রী তাকে লক্ষ্য করে বলেছিল, (هَنِئًالَكَ الْجَنَّةُ) “তোমার জন্য সুসংবাদ তুমি জান্নাতী।” গায়েবের ব্যাপারে জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও এমন মন্তব্য করা নবী (সা.) তাকে ধমকিস্বরূপ এ হাদীসটি বলেছিলেন।

দুই : রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর এ কথাটি রহিত হয়েছে, আল্লাহ তা'আলার এ বাণীর মাধ্যমে, (یَغۡفِرَ لَکَ اللّٰهُ مَا تَقَدَّمَ مِنۡ ذَنۡۢبِکَ وَ مَا تَاَخَّرَ) “যাতে আল্লাহ তোমার আগের ও পরের যাবতীয় ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করেন (সূরাহ্ আল ফাতহ ৪৮ : ২)।

তিন : রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর না জানার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানার সাথে সম্পৃক্ত। একদম জানেন না তা নয়।

চার : রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর না জানার বিষয়টি পার্থিব বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ তিনি ক্ষুধার্থ হবে নাকি পিপাসার্ত, সুস্থ না অসুস্থ, ধনী নাকি গরীব ইত্যাদি বিষয়ে। তবে পরকালীন ব্যাপারে তার কোন সন্দেহ ছিল না। যেহেতু তিনি এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, পরকালে তিনি (সা.) হবেন সবার চেয়ে সম্মানী, সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং তার সুপারিশ সর্বাগ্রে গ্রহণ করা হবে ইত্যাদি। (ফাতহুল বারী ১২/৭০১৮, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪১-[৩] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (মি’রাজ রাত্রে অথবা স্বপ্নে) আমার সামনে জাহান্নামকে উপস্থাপন করা হয়। তাতে আমি বনী ইসরাঈলের এমন একজন মহিলাকে দেখতে পাই যাকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, তাকে খাদ্যও দেয়নি বা তাকে ছেড়েও দেয়নি যাতে সে জমিনে চলাফেরা করে পোকামাকড় ইত্যাদি খেতে পারত। পরিশেষে বিড়ালটি ক্ষুধায় মরে গেল। আমি আরো ’আম্‌র ইবনু ’আমির আল খুযা’ঈ-কে দেখতে পাই যে, সে জাহান্নামের আগুনে স্বীয় নাড়িভুড়িকে টানছে। এ ব্যক্তিই (দেবতার নামে) ষাঁড় ছাড়ার কু-রীতি সর্বপ্রথম চালু করেছিল। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ فَرَأَيْتُ فِيهَا امْرَأَةً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ تُعَذَّبُ فِي هِرَّةٍ لَهَا رَبَطَتْهَا فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا وَرَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (9 / 904)، (2100) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «عرضت علي النار فرايت فيها امراة من بني اسراىيل تعذب في هرة لها ربطتها فلم تطعمها ولم تدعها تاكل من خشاش الارض حتى ماتت جوعا ورايت عمرو بن عامر الخزاعي يجر قصبه في النار وكان اول من سيب السواىب» . رواه مسلم رواہ مسلم (9 / 904)، (2100) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (عُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ) আমার সামনে জাহান্নাম পেশ করা হলো, আমি দেখলাম সেখানে বনী ইসরাঈলের এক মহিলাকে তার একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু তাকে কোন প্রকার খাবার দেয়নি বা ছেড়েও দেয়নি যাতে সে পোকা-মাকড় শিকার করে খেতে পারে। ফলে বিড়ালটি ক্ষুধার কারণে মারা যায়।
(وَرَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ) এবং আমি আরো দেখতে পেলাম ‘আম্‌র ইবনু ‘আমির আল খুযা’ঈ কে।
‘আল্লামাহ্ তুরিবিশতী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, সে ছিল ঐ ব্যক্তি যে সর্বপ্রথম মক্কায় মূর্তি পূজা চালু করে এবং মূর্তির উদ্দেশে পশু ছেড়ে দেয়ার প্রথাকে চালু করে।
(يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ) সে জাহান্নামে তার নাড়িভুড়ি নিয়ে টেনে বেড়াচ্ছে।
(وَكَانَ أَوَّلَ مَنْ سَيَّبَ السَّوَائِبَ) আর সেই সর্বপ্রথম মূর্তির উদ্দেশে পশু ছেড়ে দেয়ার প্রথা চালু করে। তার ধরণ হচ্ছে: কোন উট যখন অসুস্থ থেকে সুস্থ হয় অথবা কেউ সফর থেকে ফিরে আসে তখন বলে, আমার এ উটনীটি সায়িবা। উটনীকে বাঁধনমুক্ত করে ছেড়ে দিলে তা যথায় ইচ্ছা চড়ে বেড়াবে, খাদ্য খাবে। তার ওপর কোন বোঝা চাপাবে না, কেউ আরোহণ করবে না, তার দুগ্ধকে দহন করবে না। আর এসব কিছু করত মূর্তির নৈকট্য হাসিল করার জন্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, শারহুন নাবাবী ৬/৯০৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪২-[8] যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) এ ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট এসে বললেন, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই। আরবের জন্য মহাবিপদ সেই দুর্যোগের কারণে, যা অতি কাছাকাছি। ইয়াজুজ মাজুজ-এর প্রাচীর আজ এই পরিমাণ খুলে গিয়েছে। এটা বলে তিনি স্বীয় বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার নিকটবর্তী (তর্জনি) অঙ্গুলি গোল করে (ছিদ্রের পরিমাণটি) দেখালেন। তখন যায়নাব (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে ভালো লোক থাকাবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি (সা.) বললেন, হ্যা, যখন পাপাচার বেড়ে যাবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَن زينبَ بنتِ جحشٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دخل يَوْمًا فَزِعًا يَقُولُ: «لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَيلٌ للعربِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ» وَحَلَّقَ بِأُصْبَعَيْهِ: الْإِبْهَامَ وَالَّتِي تَلِيهَا. قَالَتْ زَيْنَبُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَنُهْلَكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ؟ قَالَ: «نَعَمْ إِذا كثُرَ الخَبَثُ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3346) و مسلم (2 / 1880)، (7237) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن زينب بنت جحش ان رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل يوما فزعا يقول: «لا اله الا الله ويل للعرب من شر قد اقترب فتح اليوم من ردم ياجوج وماجوج مثل هذه» وحلق باصبعيه: الابهام والتي تليها. قالت زينب: فقلت: يا رسول الله افنهلك وفينا الصالحون؟ قال: «نعم اذا كثر الخبث» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3346) و مسلم (2 / 1880)، (7237) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (وَيلٌ للعربِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ) আরবদের জন্য দুর্ভোগ। দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়াকে (وَيلٌ) বলা হয়। আরবদেরকে নির্দিষ্ট করে বলার কারণ হলো : সে সময় অধিকাংশ ‘আরবরাই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। ইয়াজুজ মাজুজ বাহিনীর অনিষ্টের কারণে, যারা ‘আরবদের সাথে যুদ্ধ করবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) তার বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তার সংলগ্ন আঙ্গুলকে একত্রিত করে বৃত্ত তৈরি করে দেখিয়ে বললেন, ইয়াজুজ মাজুজ তাদের প্রাচীরের এই পরিমাণ খুলে ফেলেছে। আর প্রাচীর খুলে বাহিরে বের হওয়া কিয়ামতের আলামত। তারা দাজ্জাল বের হওয়ার পরেই এখান থেকে বেরিয়ে পড়বে। মূলত ইয়াজুজ ও মাজুজ আদম 'আলায়হিস সালাম-এর বংশধরের দুটি কাফির সম্প্রদায়।

(قَالَتْ زَيْنَبُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَنُهْلَكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ؟) যায়নাব (রাঃ) বললেন, আমরা কি ধ্বংসপ্রাপ্ত হব অথচ আমাদের মাঝে অনেক নেক বান্দা থাকবে, বলা হয়েছে সৎ বান্দার ওপর নির্ভর করার ভিত্তিতে। রসূল ও উত্তর দিলেন : হ্যাঁ, ভালো রয়েছে। লোকেরাও ধ্বংস হবে যখন অশ্লীলতা বেড়ে যাবে। অশ্লীলতা বলতে পাপাচার, শিরক, কুফরী ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে। আবার কেউ বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যিনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পাওয়া। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২১৮৭)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪৩-[৫] আবূ ’আমির অথবা আবূ মালিক আল আশ’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের মধ্যে কতিপয় সম্প্রদায় জন্মাবে যারা রেশমি কাতান এবং রেশমি কাপড় ব্যবহার করা, মদ্যপান করা এবং গান-বাদ্য করা বৈধ মনে করবে। আর অনেক সম্প্রদায় এমনও হবে যারা পর্বতের পাদদেশে বসবাস করবে। সন্ধ্যায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে বাড়িঘরে প্রস্থান করবে (এমনি সময় তাদের নিকট কোন লোক তার প্রয়োজন নিয়ে আসলে তারা বলবে), আগামীকাল সকালে আমাদের কাছে এসো, কিন্তু রাত্রের আধারেই আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করে দেবেন এবং পর্বতটিকে (তাদের ওপর) ধসিয়ে দেবেন। আর কারো কারো আকৃতিকে বানর ও শূকরে পরিবর্তিত করে দেবেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা বহাল থাকবে। (বুখারী)

মাসাবীহের কোন কোন গ্রন্থে (الْخَزُّ) -এর স্থলে (ح<الْحَرَّ>) ও ر দ্বারা শব্দ গঠিত রয়েছে। কিন্তু তা অশুদ্ধ। বস্তুত এখানে (الْحَزُّ)  অর্থাৎ خ ও ز সংযুক্ত শব্দই হবে। হুমায়দী ও ইবনু আসীর (রহিমাহুল্লাহ) অত্র হাদীসের বর্ণনায় অনুরূপই বলেছেন। আর হুমায়দীর কিতাবে বুখারী থেকে এবং ঐভাবে বুখারীর শরাহ গ্রন্থে ইমাম খত্ত্বাবী হতে হাদীসে বর্ণিত বাক্যটি নীচে উল্লিখিত শব্দে বর্ণিত রয়েছে- (تَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَةٌ لَهُمْ يَأَتِيهِمْ لِحَاجَةٍ) “এমনি সময় তাদের নিকট কোন লোক তার প্রয়োজন নিয়ে আসলে তারা বলবে”।

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أَبِي عَامِرٍ أَوْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْخَزَّ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ وَلَيَنْزِلَنَّ أَقْوَامٌ إِلَى جَنْبِ عَلَمٍ يَرُوحُ عَلَيْهِمْ بِسَارِحَةٍ لَهُمْ يَأْتِيهِمْ رَجُلٌ لِحَاجَةٍ فَيَقُولُونَ: ارْجِعْ إِلَيْنَا غَدًا فَيُبَيِّتُهُمُ اللَّهُ وَيَضَعُ الْعَلَمَ وَيَمْسَخُ آخَرِينَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ «. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. وَفَى بَعْضِ نُسَخِ» الْمَصَابِيحِ : «الْحَرَّ» بِالْحَاءِ وَالرَّاءِ الْمُهْمَلَتَيْنِ وَهُوَ تَصْحِيفٌ وَإِنَّمَا هُوَ بِالْخَاءِ وَالزَّايِ الْمُعْجَمَتَيْنِ نَصَّ عَلَيْهِ الْحُمَيْدِيُّ وَابْنُ الْأَثِيرِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ. وَفَى كِتَابِ «الْحُمَيْدِيِّ» عَنِ الْبُخَارِيِّ وَكَذَا فِي «شَرحه» للخطابي: «تروح سارحة لَهُم يَأْتِيهم لحَاجَة»

رواہ البخاری (5590) و ذکرہ البغوی فی مصابیح السنۃ (3 / 453 ح 4113) و اخطا من ضعفہ ۔
(صَحِيح)

وعن ابي عامر او ابي مالك الاشعري قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ليكونن من امتي اقوام يستحلون الخز والحرير والخمر والمعازف ولينزلن اقوام الى جنب علم يروح عليهم بسارحة لهم ياتيهم رجل لحاجة فيقولون: ارجع الينا غدا فيبيتهم الله ويضع العلم ويمسخ اخرين قردة وخنازير الى يوم القيامة «. رواه البخاري. وفى بعض نسخ» المصابيح : «الحر» بالحاء والراء المهملتين وهو تصحيف وانما هو بالخاء والزاي المعجمتين نص عليه الحميدي وابن الاثير في هذا الحديث. وفى كتاب «الحميدي» عن البخاري وكذا في «شرحه» للخطابي: «تروح سارحة لهم ياتيهم لحاجة» رواہ البخاری (5590) و ذکرہ البغوی فی مصابیح السنۃ (3 / 453 ح 4113) و اخطا من ضعفہ ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْخَزَّ) আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে যার খাস বা এক ধরনের রেশমী কাপড় যা ঘোড়ার পিঠে পিছিয়ে বসা হয়, পাতলা রেশমী কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্র হালাল মনে করবে। হাদীসের ভাবার্থ হচ্ছে কিছু সম্প্রদায় উল্লেখিত হারাম সামগ্রীকে কিছু বানোয়াট মনগড়া দলীলের ভিত্তিতে বৈধ মনে করবে। যেমন তাদের কোন কোন ‘আলিম বলবে : রেশমী কাপড় যদি শরীরের সাথে লেগে থাকে তাহলে হারাম হবে। কিন্তু যদি কাপড়ের উপর দিয়ে পরিধান করে তাহলে কোন অসুবিধা নেই। এটা রসূল (সা.) -এর হাদীসের স্পষ্ট বিরোধী। তিনি (সা.) বলেছেন, (مَنْ لَبِسَ الْحَرِيرَفِي الدُّنْيَا،لَمْا يَلْبَسْهُ فِي الْاٰخِرَةِ) “যারা দুনিয়াতে রেশমী কাপড় পরিধান করবে তারা পরকালে তা পরিধান করতে পরবে না।” (সহীহুল বুখারী)

তারা আরো বলে থাকে, পূর্ব যুগের অনেক বাদশাহ এবং বিচারকগণ রেশমী কাপড় পরতেন। যদি হারামই হত তাহলে পরতেন না ইত্যাদি।

(لَيَنْزِلَنَّ أَقْوَامٌ إِلَى جَنْبِ عَلَمٍ يَرُوحُ عَلَيْهِمْ بِسَارِحَةٍ لَهُمْ) আর কিছু সম্প্রদায় পাহাড়ের পাদদেশে তাদের চতুস্পদ জন্তু নিয়ে বিচরণ করতে থাকবে। আলিমদের কাছে হাদীস-কুরআনের শিক্ষা থেকে দূরে থাকবে। অথবা, তাদের রাখাল সকাল বিকাল চতুষ্পদ প্রাণী নিয়ে আসবে। ওগুলোর দুধ ও গোবর দ্বারা উপকৃত হবে।
(يَأْتِيهِمْ رَجُلٌ لِحَاجَةٍ فَيَقُولُونَ: ارْجِعْ إِلَيْنَا غَدً) তাদের কাছে কোন লোক কোন কিছুর প্রয়োজনে আসলে বলবে, আগামীকালে আমাদের কাছে এসো। অতঃপর রাত্রিতেই আল্লাহ তা'আলা তাদের ওপর শাস্তি বর্ষণ করবেন, ফলে তাদের কিছু অংশের উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে এবং কিছু লোককে বানর ও শুকরে পরিণত করবেন। তারা বিকৃত অবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত থাকবে অথবা তারা এই বিকৃত চেহারা নিয়ে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ১০/৫৫৯০, ‘আওনুল মা'বুদ ৭/৪০৩৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪৪-[৬] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন আল্লাহ তা’আলা কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শাস্তি অবতীর্ণ করেন তখন উক্ত শাস্তি তাদের সকলকে পেয়ে বসে। অতঃপর আখিরাতে তাদেরকে আপন ’আমল অনুযায়ী উঠানো হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِقَوْمٍ عَذَابًا أَصَابَ الْعَذَابُ مَنْ كَانَ فِيهِمْ ثُمَّ بُعِثُوا عَلَى أَعْمَالِهِمْ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری 7108) و مسلم (84 / 2879)، (7234) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا انزل الله بقوم عذابا اصاب العذاب من كان فيهم ثم بعثوا على اعمالهم» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری 7108) و مسلم (84 / 2879)، (7234) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (إِذَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِقَوْمٍ عَذَابًا) আল্লাহ তা'আলা যখন কোন সম্প্রদায়কে তাদের খারাপ কৃতকর্মের জন্য শাস্তি প্রদান করেন, তখন সম্প্রদায়ের ভালো মন্দ সকলের ওপর শাস্তি বর্ষিত হয়। অতঃপর হাশরের মাঠে প্রত্যেকেই তাদের কৃতকর্ম নিয়ে উঠবে। ভালোরা ভালো ‘আমল দিয়ে এবং মন্দরা মন্দ ‘আমল নিয়ে। অতঃপর প্রত্যেকেই তাদের কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করবে। ভালো হলে ভালো আর মন্দ হলে মন্দ পরিণতি ভোগ করবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ফাতহুল বারী ১৩/৭১০৮)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪৫-[৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: প্রত্যেক বান্দাকে কিয়ামতের দিন সেই অবস্থায় উঠানো হবে যে অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করেছে। (মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)


وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا ماتَ عَلَيْهِ» . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (83 / 2878)، (7232) ۔
(صَحِيح)

وعن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يبعث كل عبد على ما مات عليه» . رواه مسلم رواہ مسلم (83 / 2878)، (7232) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا ماتَ عَلَيْهِ) প্রত্যেক বান্দাকে হাশরের মাঠে তার কৃতকর্ম নিয়ে উঠানো হবে। তা ভালো হোক কিংবা মন্দ হোক। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪৬-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: জাহান্নামের মতো ভয়ঙ্কর কোন জিনিস আমি কক্ষনো দেখিনি, পলায়নকারী যা হতে ঘুমিয়ে রয়েছে। আর জান্নাতের মধ্যে আনন্দদায়কও কোন জিনিস দেখিনি, অন্বেষণকারী যা হতে ঘুমিয়ে রয়েছে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ نَامَ هَارِبُهَا وَلَا مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طالبها» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

صحیح ، رواہ الترمذی (1633 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما رايت مثل النار نام هاربها ولا مثل الجنة نام طالبها» . رواه الترمذي صحیح ، رواہ الترمذی (1633 وقال : حسن صحیح) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (مَا رَأَيْتُ مِثْلَ النَّارِ) আগুনের বা জাহান্নামের চেয়ে ভয়ানক কিছু রয়েছে বলে আমার জানা নেই।
(امَ هَارِبُهَا) আগুন কঠিন হওয়া সত্ত্বেও তাকে পলায়নকারী ঘুমিয়ে আছে, উদাসীন রয়েছে অথচ এটা আগুন থেকে পলায়নকারীর বৈশিষ্ট্য নয়। তার উচিত হলো পাপ কাজ দ্রুত পরিহার করে আনুগত্যমূলক কাজে দ্রুত ঝাপিয়ে পড়া।
(وَلَا مِثْلَ الْجَنَّةِ نَامَ طالبها) এবং জান্নাতের মতো নি'আমাতপূর্ণ এবং মেহমানদারীর জায়গা অন্য কোথাও দেখিনি তথাপি এর অন্বেষণকারীরা ঘুমিয়ে আছে। অথচ তাদের উচিত ছিল উদ্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে সকল প্রকার আদেশ নিষেধ পালনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৬০১)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪৭-[৯] আবূ যার (রাঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমি যা দেখতে পাই তোমরা তা দেখতে পাও না। আর আমি যা শুনতে পাই তোমরা তা শুনতে পাও না। (ভারী ওযনে) আসমান কড়মড় করছে, আর এরূপ শব্দ করা তার জন্য মানানসই বটে। সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আসমানের মধ্যে চার অঙ্গুলি জায়গাও এমন নেই যেখানে মালাক (ফেরেশতা)’র ললাট আল্লাহর জন্য সিজদারত নয়। (আখিরাতের বিভীষিকা সম্পর্কে) আমি যা অবগত আছি, যদি তোমরা জানতে পারতে তাহলে তোমরা হাসতে কম এবং কাঁদতে বেশি। আর বিছানায় স্ত্রীদের সাথে উপভোগ বিলাসে লিপ্ত হতে না, বরং আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে দুআ করার জন্য তোমরা পথে প্রান্তরে বেরিয়ে পড়তে চিৎকার করে আল্লাহর আশ্রয় লাভের জন্য জঙ্গলে চলে যেতে। (এতদশ্রবণে) আবূ যার (রাঃ) বলে উঠলেন, হায় রে! যদি আমি (মানুষ না হয়ে) বৃক্ষ হতাম যা কেটে ফেলা হয়। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

লাল মার্ক করা অংশের অনুবাদ সঠিক না হবার কারনে তা সংশোধন করা হল। - হাদিসবিডি এডমিন

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ وَأَسْمَعُ مَا لَا تَسْمَعُونَ أَطَّتِ السَّمَاءُ وَحُقَّ لَهَا أَنْ تَئِطَّ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعَةِ أَصَابِعَ إِلَّا وملَكٌ وَاضع جبهتَه ساجدٌ لِلَّهِ وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا وَمَا تَلَذَّذْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْفُرُشَاتِ وَلَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعُدَاتِ تَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ» . قَالَ أَبُو ذَرٍّ: يَا لَيْتَنِي كُنْتُ شَجَرَةً تعضد. رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

حسن ، رواہ احمد (5 / 173 ح 21848) و الترمذی (2321 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (4190) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي ذر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اني ارى ما لا ترون واسمع ما لا تسمعون اطت السماء وحق لها ان تىط والذي نفسي بيده ما فيها موضع اربعة اصابع الا وملك واضع جبهته ساجد لله والله لو تعلمون ما اعلم لضحكتم قليلا ولبكيتم كثيرا وما تلذذتم بالنساء على الفرشات ولخرجتم الى الصعدات تجارون الى الله» . قال ابو ذر: يا ليتني كنت شجرة تعضد. رواه احمد والترمذي وابن ماجه حسن ، رواہ احمد (5 / 173 ح 21848) و الترمذی (2321 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (4190) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِنِّي أَرَى مَا لَا تَرَوْنَ) আমি যা দেখি তোমরা তা দেখতে পাও না এবং যা শুনি তোমরা তা শুনতে পাও না।
(أَطَّتِ السَّمَاءُ) আকাশ মালায়িকার (ফেরেশতাদের) “ইবাদতে মুখরিত ধ্বনিতে শব্দে পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে এবং তার জন্য এটাই উপযুক্ত। সেখানে চার আঙ্গুল পরিমাণও জায়গা ফাঁকা নেই, সর্বত্র মালাক (ফেরেশতা) সিজদায় অবনত রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাদের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, (وَ مَا مِنَّاۤ اِلَّا لَهٗ مَقَامٌ مَّعۡلُوۡمٌ) “আমাদের প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্ধারিত স্থান রয়েছে।” (সূরাহ্ আস্ সফফাত ৩৭ : ১৬৪)

(اللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا) আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে, বেশি বেশি কাঁদতে। আর বিছানায় স্ত্রীদের সাথে আনন্দ করতে না। তোমরা নির্জন ময়দানে বেরিয়ে পড়তে এবং আল্লাহর জন্য কান্নায় লুটিয়ে পড়তে যাতে করে তোমাদের বিপদাপদ বিদূরিত হয়।

(لَوَ دِدْتُ أني  كُنْتُ شَجَرَةً تعضد) আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমার ইচ্ছা হয়, যদি আমি মানুষ না হয়ে বৃক্ষ হতাম এবং আমাকে কেটে শেষ করা হত, তাহলে আমার কোন হিসাব থাকত না। (মিরকাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৩১২)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪৮-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে লোক ভয় পায় সে ভোররাতেই যাত্রা শুরু করে, আর ভোররাতেই যে লোক যাত্রা শুরু করে, সে গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে পারে। জেনে রাখ, আল্লাহ তা’আলার পণ্য খুবই দামী। জেনে রাখ, আল্লাহ তা’আলার পণ্য হলো জান্নাত। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ خَافَ أَدْلَجَ وَمَنْ أَدْلَجَ بَلَغَ الْمَنْزِلَ. أَلَا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ غَالِيَةٌ أَلَا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ الْجَنَّةُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

ضعیف ، رواہ الترمذی (2450 وقال : حسن غریب) * یزید بن سنان : ضعیف ضعفہ الجمھور و ضعفہ راجح ۔

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من خاف ادلج ومن ادلج بلغ المنزل. الا ان سلعة الله غالية الا ان سلعة الله الجنة» . رواه الترمذي ضعیف ، رواہ الترمذی (2450 وقال : حسن غریب) * یزید بن سنان : ضعیف ضعفہ الجمھور و ضعفہ راجح ۔

ব্যাখ্যা : (مَنْ خَافَ) যারা প্রভাতে শত্ৰুদলের আক্রমণকে ভয় পাবে।
(أَدْلَجَ) তারা প্রথম রাত্রিতে সফর করবে। (وَمَنْ أَدْلَجَ) যারা প্রথম রাত্রিতে সফর করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌছার আশঙ্কা করবে তারা রাত্রিতে বিনিদ্রিত থাকবে।
(بَلَغَ الْمَنْزِلَ) যারা রাত্রিতে বিনিদ্রিত থাকবে তারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছে যাবে।

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) এ উপমাটি দিয়েছেন তাদের জন্য যারা পরকালের উদ্দেশে যাত্রাকারী। কেননা শয়তান তাদের পথে বাধা দিবে। প্রবৃত্তির তাড়না এবং মিথ্যা আশা-আকাঙ্ক্ষা তার সাহায্যকারী হবে। যদি সে তার যাত্রাপথে সজাগ থাকে এবং তার কার্যকলাপে একনিষ্ঠ থাকে, তাহলে সে শয়তানের চক্রান্ত এবং তার সহযোগীর সকল প্রতিবন্ধকতা থেকে নিরাপদে থাকবে।
(أَلَا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ غَالِيَةٌ) সাবধান! আল্লাহ তা'আলার পণ্যসামগ্রী তথা জান্নাতের ভোগ-বিলাসের সামগ্রী অনেক মূল্যবান।
(أَلَا إِنَّ سِلْعَةَ اللَّهِ الْجَنَّةُ) সাবধান! জেন রেখো, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলার মূল্যবান পণ্যসামগ্রী হচ্ছে উন্নতমানের জান্নাত আর এর ক্রয়কারী সামগ্রী হচ্ছে পরকালীন ‘আমল। যার ইঙ্গিত রয়েছে আল্লাহ তা'আলার এ বাণীতে, (لۡمَالُ وَ الۡبَنُوۡنَ زِیۡنَۃُ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَ الۡبٰقِیٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَیۡرٌ عِنۡدَ رَبِّکَ ثَوَابًا وَّ خَیۡرٌ اَمَلًا) “আর স্থায়ী সৎকাজ তোমার রবের নিকট প্রতিদানে উত্তম এবং প্রত্যাশাতেও উত্তম।” (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ : ৪৬)
আর এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে আল্লাহ তা'আলার এই বাণীতে, (نَّ اللّٰهَ اشۡتَرٰی مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اَنۡفُسَهُمۡ وَ اَمۡوَالَهُمۡ بِاَنَّ لَهُمُ الۡجَنَّۃَ) “নিশ্চয় আল্লাহ মু'মিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত”- (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ১১১)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৪৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৪৯-[১১] আনাস (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা বলবেন, জাহান্নাম হতে ঐ ব্যক্তিকে বের করে নাও, যে একনিষ্ঠ অন্তরে একদিন আমাকে স্মরণ করেছে অথবা কোন এক স্থানে আমাকে ভয় করেছে। (তিরমিযী আর বায়হাকী’র “কিতাবিল বাসি ওয়ান্ নুশূর”)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ جَلَّ ذِكْرُهُ: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي يَوْمًا أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ «رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ والْبَيْهَقِيُّ فِي» كِتَابِ الْبَعْث والنشور

حسن ، رواہ الترمذی (2594 وقال : حسن غریب) و البیھقی فی کتاب البعث و النشور (لم اجدہ و رواہ فی شعب الایمان (740) [و الحاکم (1 / 70)]

وعن انس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: يقول الله جل ذكره: اخرجوا من النار من ذكرني يوما او خافني في مقام «رواه الترمذي والبيهقي في» كتاب البعث والنشور حسن ، رواہ الترمذی (2594 وقال : حسن غریب) و البیھقی فی کتاب البعث و النشور (لم اجدہ و رواہ فی شعب الایمان (740) [و الحاکم (1 / 70)]

ব্যাখ্যা : (أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ ذَكَرَنِي) যারা ঈমানের সাথে একনিষ্ঠভাবে আমার যিকর করেছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দাও।
(يَوْمًا) একদিন বা কিছু সময় বা কাল।
(أَوْ خَافَنِي فِي مَقَامٍ) অথবা পাপকাজ সম্পাদন করার ক্ষেত্রে, কোন একস্থানে আমাকে ভয় করেছে, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ اَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهٖ وَ نَهَی النَّفۡسَ عَنِ الۡهَوٰی ﴿ۙ۴۰﴾  فَاِنَّ الۡجَنَّۃَ هِیَ الۡمَاۡوٰی ﴿ؕ۴۱﴾)
“আর যে স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে, নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।” (সূরা আন্ নাযি'আত ৭৯ : ৪০-৪১)

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, নবী (সা.) উক্ত হাদীসে একনিষ্ঠতার সাথে যিকর করার কথা বলেছেন। আর তা হচ্ছে অন্তরের একনিষ্ঠতার সাথে বিশুদ্ধ নিয়্যাতে আল্লাহর একত্ব প্রতিষ্ঠা করা। অন্যথায় সকল কাফিরই মৌখিকভাবে আল্লাহর যিকর করে অন্তর দিয়ে নয়। এ কথার প্রমাণ হলো নবী (সা.) -এর বাণী, (مَنْ قَلَ لَا إِلَهَ إَلَّا اللَّهُ خَالِصًامِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ) “যে ব্যক্তি অন্তরের একনিষ্ঠতার সাথে ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ'-এর স্বীকৃতি প্রদান করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” আর ভয় দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে : অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখা এবং তাকে আনুগত্যের কাজে নিয়োগ করা। নতুবা এটা হবে মনের প্রলাপ বাক্য এবং অস্থিরতা, যাকে ভয় বলা যায় না। আর তা হয়ে থাকে ভয়ঙ্কর কোন কিছু দর্শন করার ফলে। অতঃপর যখন উক্ত কারণ চলে যায় মন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
‘আল্লামাহ্ ফুযায়ল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যখন তোমাকে প্রশ্ন করা হবে: তুমি কি আল্লাহকে ভয় কর? তখন তুমি চুপ থাকবে। কেননা তুমি যদি বল; না, তাহলে কুফরী করবে। আর যদি বল : হ্যা, তাহলে মিথ্যা বলবে। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন ঐ ভয়ের দিকে যা মূলত পাপ কাজ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বিরত রাখে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৪৯৪)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫০-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে একবার (নিম্নবর্ণিত) এ আয়াতটি সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম- (وَالَّذِينَ يُؤْتونَ مَا آتوا وقُلوبُهم وَجِلَةٌ)
“এবং যারা তাদের যা দান করার তা ভীত-সন্ত্রস্ত অন্তরে দান করে”- (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩ : ৬০)। এরা কি তারা- যারা মদ্যপান করে এবং চুরি করে? তিনি বললেন, না, হে সিদ্দীকের কন্যা! বরং তারা এ আশঙ্কায় ভীত থাকে তাদের এ সমস্ত কাজগুলো সম্ভবত কবুল নাও হতে পারে। এরা ঐ সমস্ত লোক যারা অগ্রগামী থাকে কল্যাণময় কাজে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ: (وَالَّذِينَ يُؤْتونَ مَا آتوا وقُلوبُهم وَجِلَةٌ) أَهُمُ الَّذِينَ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ وَيَسْرِقُونَ؟ قَالَ: «لَا يَا بِنْتَ الصِّدِّيقِ وَلَكِنَّهُمُ الَّذِينَ يَصُومُونَ وَيُصَلُّونَ وَيَتَصَدَّقُونَ وَهُمْ يَخَافُونَ أَنْ لَا يُقْبَلَ مِنْهُمْ أُولَئِكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه

حسن ، رواہ الترمذی (2675) و ابن ماجہ (4198) ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة قالت: سالت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذه الاية: (والذين يوتون ما اتوا وقلوبهم وجلة) اهم الذين يشربون الخمر ويسرقون؟ قال: «لا يا بنت الصديق ولكنهم الذين يصومون ويصلون ويتصدقون وهم يخافون ان لا يقبل منهم اولىك الذين يسارعون في الخيرات» . رواه الترمذي وابن ماجه حسن ، رواہ الترمذی (2675) و ابن ماجہ (4198) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (وَالَّذِينَ يُؤْتونَ مَا آتوا) “যারা যাকাত দেয় ও দান-খয়রাত ইত্যাদি কাজে অর্থ ব্যয় করে”
(وقُلوبُهم وَجِلَةٌ) “এবং তাদের অন্তর ভয়ে ভীত হয়ে থাকে” এ কারণে যে, যদি তাদের দান কবুল না হয় অথবা সঠিক পন্থায় ব্যয় না করার কারণে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। আয়াতের বাকী অংশ হচ্ছে, (اَنَّهُمۡ اِلٰی رَبِّهِمۡ رٰجِعُوۡنَ) “তারা তো তাদের রবের কাছেই প্রত্যার্তনকারী।
(ولٰٓئِکَ یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ) “তারা তো কল্যাণকর কাজে সর্বদা দ্রুত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।”
(وَ هُمۡ لَهَا سٰبِقُوۡنَ) “এবং তারা তাতে অগ্রগামী”- (সূরাহ্ আল মু'মিনূন ২৩ : ৬১)। অর্থাৎ তারা সমস্ত মানুষের চাইতে আনুগত্যমূলক কাজে অগ্রগামী। অথবা, সাওয়াবের দিকে অথবা জান্নাতের দিকে।
(أَهُمُ الَّذِينَ يَشْرَبُونَ الْخَمْرَ وَيَسْرِقُونَ؟) আয়িশাহ্ (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, তাদের ভীত হওয়ার কারণ কি? তাহলে তারা কি মদ পান করে এবং চুরি করে? রাসূলুল্লাহ (সা.) ও উত্তর দিলেন, না, হে সিদ্দীক-এর কন্যা! বরং তারা হলো ঐ প্রকৃতির লোক যারা সিয়াম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং দান-খয়রাত করে। কিন্তু তারা ভয় করে যে, তাদের ‘আমলগুলো যদি কবুল না হয়। তারা যে মন্দ কাজ করে না তার প্রমাণ হচ্ছে আয়াতে শেষাংশ : (اُولٰٓئِکَ یُسٰرِعُوۡنَ فِی الۡخَیۡرٰتِ) অর্থাৎ “তারা তো সর্বদা কল্যাণকর কাজে দ্রুত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।” (وَ هُمۡ لَهَا سٰبِقُوۡنَ) “এবং তাতে তারা অগ্রগামী।” আর এটাই হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার বাণী (وَالَّذِينَ يُؤْتونَ مَا آتوا) -এর তাফসীর। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩১৭৫)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫১-[১৩] উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাত্রের দুই-তৃতীয়াংশ যখন অতিবাহিত হয়, তখন নবী (সা.) উঠে (সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে) বললেন, হে লোকসকল! আল্লাহকে স্মরণ কর। আল্লাহকে স্মরণ কর। প্রলয়ঙ্কারী কম্পন আগত। তার পিছনে আসছে আর এক কম্পন (কিয়ামতপূর্ব প্রথম ও দ্বিতীয় শিঙ্গার ফুৎকার) মৃত্যু তার সাথে জড়িত বিষয়সমূহ নিয়ে আগত হবে, মৃত্যু তার সাথে জড়িত (তার পূর্ব-পশ্চাতের বিপদসহ) বিষয়সমূহ নিয়ে আগত হবে। (তিরমিযী)

الفصل الاول (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَهَبَ ثُلُثَا اللَّيْلِ قَامَ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللَّهَ اذْكُرُوا اللَّهَ جَاءَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2457 وقال : حسن) * سفیان الثوری مدلس ولم اجد تصریح سماعہ فی ھذا الحدیث ۔

وعن ابي بن كعب قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم اذا ذهب ثلثا الليل قام فقال: «يا ايها الناس اذكروا الله اذكروا الله جاءت الراجفة تتبعها الرادفة جاء الموت بما فيه جاء الموت بما فيه» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2457 وقال : حسن) * سفیان الثوری مدلس ولم اجد تصریح سماعہ فی ھذا الحدیث ۔

ব্যাখ্যা : (يَا أَيُّهَا النَّاسُ) হে লোক সকল! নবী (সা.) এখানে ‘লোক বলতে’ ঐ সমস্ত সাহাবীদেরকে উদ্দেশ্য করেছেন যারা আল্লাহ তা'আলার যিকর করা ও তাহাজ্জুদ ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকত। এখান থেকে এ কথা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে জেগে উঠে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্।
(جَاءَتِ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ) নিহায়াহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে, (رَاجِفَة) হলো শিঙ্গার প্রথম ফুঁৎকার, যার দরুন সমস্ত প্রাণী মৃত্যুবরণ করবে। আর (رَادِفَة) হলো দ্বিতীয় ফুৎকার, যার ফলে কিয়ামতের দিন সকল প্রাণী জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে। মূলত (رجف) শব্দের অর্থ প্রকম্পিত হওয়া, নড়াচড়া করা। আর পবিত্র কুরআনে এ কথার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছেন, (یَوۡمَ تَرۡجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۙ﴿۶﴾ تَتۡبَعُهَا الرَّادِفَۃُ ؕ﴿۷﴾) “সেদিন ভূকম্পন প্রকম্পিত করবে, তারপর আসবে আরেকটি ভূকম্পন”- (সূরাহ্ আন্ নাযি'আত ৭৯ : ৬-৭)। হাদীসে অতীতকালীন সীগা ব্যবহার করা হয়েছে এ কথা বুঝনোর জন্য যে, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। অতএব (جاءت) (আগত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। অতএব তোমরা এর ভীতিকর বিষয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও।
(جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ) মৃত্যু তার সাথে যা আছে তা নিয়ে এসে গেছে। অর্থাৎ মৃত্যুকালীন সময়ে ও কবরে যে কষ্ট রয়েছে এবং তৎপরবর্তীকালে।
এখানে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, যার মৃত্যু হয়েছে তার উপর কিয়ামত তথা ছোট কিয়ামত ঘটে গেছে যা মূলত বড় কিয়ামতের প্রমাণ বহনকারী। হাদীসে প্রথম (جَاءَ الْمَوْتُ) বলে আমাদের
পূর্বে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে বলা হয়েছে। আর দ্বিতীয়বার (بِمَا فِيهِ جَاءَ الْمَوْتُ) দ্বারা যারা বেঁচে আছে তাদের ক্ষেত্রেও এটা অবশ্যই ঘটবে- এ কথার ইঙ্গিত করা হয়েছে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/২৪৫৭, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫২-[১৪] আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সা.) একদিন সালাতের উদ্দেশে বের হয়ে দেখলেন, লোকেরা যেন হাসছে। তখন তিনি (সা.) বললেন, তোমরা যদি স্বাদ বিনষ্টকারী অর্থাৎ মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে তাহলে তা তোমাদেরকে বিরত রাখত তা হতে যা আমি দেখছি। কাজেই তোমরা সেই স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুকে খুব বেশি স্মরণ কর। প্রতিদিন কবর নিজের ভাষায় এ কথা বলতে থাকে, আমি পরিবার-পরিজনদের হতে দূরবর্তী একটি ঘর। আমি স্বীয় সাথিহীন একাকী ঘর, আমি মাটির ঘর, আমি পোকামাকড়ের ঘর। আর মুমিন বান্দাকে যখন দাফন করা হয়, তখন কবর এই বলে তাকে শুভেচ্ছা জানায়, তোমার আগমন বরকতময় হোক, তুমি আপনজনের কাছেই এসেছ। আমার পৃষ্ঠের উপরে যারা চলাফেরা করছে, তাদের সকলের চাইতে তুমি ছিলে আমার নিকট অধিক প্রিয়। আজ আমাকে তোমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রক ধার্য করা হয়েছে এবং তোমাকে আমার নিকট ন্যস্ত করা হয়েছে। তুমি অচিরেই দেখতে পারবে আমি তোমার সাথে কিরূপ উত্তম আচরণ করি।

অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, তখন তার দৃষ্টির প্রান্তসীমা পর্যন্ত কবর বিস্তৃত হয়ে যাবে এবং তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেয়া হবে! আর যখন পাপী অথবা কাফিরকে দাফন করা হয়, তখন কবর তাকে বলে তোমার আগমন কল্যাণকর নয় এবং তুমি আপনজনের নিকট আসনি। বস্তুত যারা আমার পৃষ্ঠের উপর বিচরণ করছে তাদের সকলের অপেক্ষা তুমিই ছিলে আমার নিকট সর্বাপেক্ষা ঘৃণিত। আজ আমাকেই তোমার ওপর পরিচালক বানানো হয়েছে। আমার নিকট তোমাকে ন্যস্ত করা হয়েছে। শীঘ্রই দেখতে পাবে আমি তোমার সাথে কি ব্যবহার করি। তিনি (সাঃ) বলেন, তখন তার কবর তার উপর চাপ প্রয়োগ করবে, এমনকি তার পাঁজরের হাড় একটি আরেকটির ভিতরে ঢুকে পড়বে।

বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ও নিজের উভয় হাতের অঙ্গুলিগুলো একটিকে আরেকটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে (পাঁজরের হাড় ঢোকার দৃশ্যই ইঙ্গিতে) দেখালেন। তারপর বললেন, সেই নাফরমান কাফিরের জন্য সত্তরটি বিষধর অজগর স্থির করা হবে (তাদের বিষক্রিয়া এত অধিক হবে যে,) যদি তাদের একটি এই পৃথিবীতে একবার ফুক মারে তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তার বিষের ক্রিয়ায় একটি ঘাসও উৎপন্ন হবে না। অবশেষে তাকে হিসাব-নিকাশে উপস্থিত করানো পর্যন্ত উক্ত অজগরসমূহ তাকে দংশন করতে ও ছোবল মারতে থাকবে। বর্ণনাকারী আবূ সাঈদ বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বললেন : কবর মূলত জান্নাতের উদ্যানসমূহের একটি উদ্যান অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের একটি গর্ত। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةٍ فَرَأَى النَّاسَ كَأَنَّهُمْ يَكْتَشِرُونَ قَالَ: أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ أَكْثَرْتُمْ ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَّاتِ لَشَغَلَكُمْ عَمَّا أَرَى الْمَوْتُ فَأَكْثِرُوا ذكر هَادِم اللَّذَّات الْمَوْت فَإِنَّهُ لَا يأتِ على الْقَبْر يومٌ إِلَّا تَكَلَّمَ فَيَقُولُ: أَنَا بَيْتُ الْغُرْبَةِ وَأَنَا بَيْتُ الْوَحْدَةِ وَأَنَا بَيْتُ التُّرَابِ وَأَنَا بَيْتُ الدُّودِ وَإِذَا دُفِنَ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ قَالَ لَهُ الْقَبْرُ: مَرْحَبًا وَأَهْلًا أَمَا إِنْ كُنْتَ لَأَحَبُّ مَنْ يَمْشِي عَلَى ظَهْرِي إِلَيَّ فَإِذْ وُلِّيتُكَ الْيَوْمَ وَصِرْتَ إِلَيَّ فَسَتَرَى صَنِيعِي بِكَ . قَالَ: فَيَتَّسِعُ لَهُ مَدَّ بَصَرِهِ وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ وَإِذَا دُفِنَ الْعَبْدُ الْفَاجِرُ أَوِ الْكَافِرُ قَالَ لَهُ الْقَبْرُ: لَا مَرْحَبًا وَلَا أَهْلًا أَمَا إِنْ كُنْتَ لَأَبْغَضَ مَنْ يَمْشِي عَلَى ظَهْرِي إِلَيَّ فَإِذْ وُلِّيتُكَ الْيَوْمَ وَصِرْتَ إِلَيَّ فَسَتَرَى صَنِيعِي بِكَ قَالَ: «فَيَلْتَئِمُ عَلَيْهِ حَتَّى يَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ» . قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَصَابِعِهِ. فَأَدْخَلَ بَعْضَهَا فِي جَوْفِ بَعْضٍ. قَالَ: «وَيُقَيَّضُ لَهُ سَبْعُونَ تِنِّينًا لَوْ أَنَّ وَاحِدًا مِنْهَا نَفَخَ فِي الْأَرْضِ مَا أَنْبَتَتْ شَيْئًا مَا بَقِيَتِ الدُّنْيَا فَيَنْهَسْنَهُ وَيَخْدِشْنَهُ حَتَّى يُفْضِي بِهِ إِلَى الْحِسَابِ» قَالَ: وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا الْقَبْرُ رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النَّارِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2460) * عبید اللہ بن الولید الوصافی : ضعیف و عطیۃ العوفی ضعیف مدلس و لبعض الحدیث شواھد ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي سعيد قال: خرج النبي صلى الله عليه وسلم لصلاة فراى الناس كانهم يكتشرون قال: اما انكم لو اكثرتم ذكر هادم اللذات لشغلكم عما ارى الموت فاكثروا ذكر هادم اللذات الموت فانه لا يات على القبر يوم الا تكلم فيقول: انا بيت الغربة وانا بيت الوحدة وانا بيت التراب وانا بيت الدود واذا دفن العبد المومن قال له القبر: مرحبا واهلا اما ان كنت لاحب من يمشي على ظهري الي فاذ وليتك اليوم وصرت الي فسترى صنيعي بك . قال: فيتسع له مد بصره ويفتح له باب الى الجنة واذا دفن العبد الفاجر او الكافر قال له القبر: لا مرحبا ولا اهلا اما ان كنت لابغض من يمشي على ظهري الي فاذ وليتك اليوم وصرت الي فسترى صنيعي بك قال: «فيلتىم عليه حتى يختلف اضلاعه» . قال: وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم باصابعه. فادخل بعضها في جوف بعض. قال: «ويقيض له سبعون تنينا لو ان واحدا منها نفخ في الارض ما انبتت شيىا ما بقيت الدنيا فينهسنه ويخدشنه حتى يفضي به الى الحساب» قال: وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انما القبر روضة من رياض الجنة او حفرة من حفر النار» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2460) * عبید اللہ بن الولید الوصافی : ضعیف و عطیۃ العوفی ضعیف مدلس و لبعض الحدیث شواھد ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَلَاةٍ) নবী (সা.) সালাতের উদ্দেশে বের হওয়ার বাহ্যিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সেটা ছিল জানাযার সালাত। কেননা নবী (সা.)-এর ব্যাপারে এটা প্রমাণিত যে, তিনি জানাযাহ্ দেখলে প্রচণ্ড চিন্তিত হয়ে পড়তেন এবং অল্প কথা বলতেন।
(فَرَأَى النَّاسَ كَأَنَّهُمْ يَكْتَشِرُونَ) তিনি প্রত্যক্ষ করলেন যে, লোকেরা হাসাহাসি করছে। (يَكْتَشِرُونَ) শব্দটি (كثر) মূল ধাতু থেকে নেয়া হয়েছে। যার অর্থ হাসার জন্য দাঁত বের করা। সম্ভবত এ শব্দটিতে ‘তা’ হরফটি মুবালাগাহ্ বা আধিক্যের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অতএব এই শব্দ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, তারা অধিক হাসাহাসি ও কথার সমন্বয় করেছিল।
(قَالَ: أَمَا إِنَّكُمْ لَوْ أَكْثَرْتُمْ ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَّاتِ) তিনি (সা.) বললেন, সাবধান! যদি তোমরা দুনিয়ার স্বাদ বিনষ্টকারী মৃত্যুর কথা বেশি করে স্মরণ করতে।
(لَشَغَلَكُمْ عَمَّا أَرَى) তাহলে তা তোমাদেরকে আমি যে অবস্থায় দেখছি তা থেকে বিরত থাকতে। অর্থাৎ তোমরা গাফেলদের মতো হাসাহাসি ও কথাবার্তায় লিপ্ত হতে না।
(إِنَّمَا الْقَبْرُ رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ أَوْ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ النَّارِ) মূলত কবর হচ্ছে, জান্নাতের একটি বাগান নতুবা জাহান্নামের একটি গর্ত।
সুফইয়ান আস্ সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, যারা অধিক মাত্রায় কবরের কথা স্মরণ করে তারাই কবরকে জান্নাতের বাগান হিসেবে পায় আর যারা তা স্মরণ করা থেকে গাফেল থাকে, তারাই কবরকে জাহান্নামের গর্ত হিসেবে পায়।
(তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৪৬০, মিরকাতুল মাফাতীহ, শারূহু ইবনু মাজাহ ৩/৪২৫৮, শারহ সুনান আন্ নাসায়ী ২/১৮২৩)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫৩-[১৫] আবূ জুহায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ি কিরামগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তিনি (সা.) বললেন, সূরা হূদ ও ঐরূপ সূরাগুলোই আমাকে বৃদ্ধ করে ফেলেছে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَن أبي جُحَيْفَة قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ. قَالَ: «شَيَّبَتْنِي سُورَةُ هُودٍ وَأَخَوَاتُهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (فی الشمائل : 42) و الطبرانی فی الکبیر (22 / 123 ح 317) * ابو اسحاق عنعن و انظر الحدیث الآتی (5354) ۔

وعن ابي جحيفة قال: قالوا: يا رسول الله قد شبت. قال: «شيبتني سورة هود واخواتها» . رواه الترمذي سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (فی الشماىل : 42) و الطبرانی فی الکبیر (22 / 123 ح 317) * ابو اسحاق عنعن و انظر الحدیث الآتی (5354) ۔

ব্যাখ্যা : (يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ) হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো বার্ধক্যে পৌঁছে গেছেন অর্থাৎ আপনার তো মাথার চুল পেকে গেছে। তবে ‘আল্লামাহ্ কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, অর্থাৎ বার্ধক্য আসার পূর্বেই আপনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এর দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, আপনার মাথায় অনেক চুল, পেকে গেছে। যেহেতু তিরমিযী গ্রন্থে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, (مَاعَرَدْتُ فِي رأْسِ رَسُلَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلِحْيَتِهِ إِلَّا أَرْبَعَ عَشْرَةَ شَعْرَةً بِيضًا) আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মাথা ও দাড়িতে ১৪টির বেশি পাকা চুল গণনা করে পায়নি।
(قَالَ: «شَيَّبَتْنِي سُورَةُ هُودٍ وَأَخَوَاتُهَا») তিনি (সা.) উত্তর দিলেন। আমাকে সূরাহ্ হূদ এবং তার সমজাতীয় সূরাগুলো দুর্বল করে দিয়েছে। কেননা এ সূরাগুলোতে কিয়ামাতের ভয়ানক অবস্থার বর্ণনা রয়েছে এবং পূর্ববর্তী উম্মতের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে উম্মতের চিন্তায় আমি সময়ের পূর্বে বার্ধক্যে পৌছে। গেছি। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৮/৩২৯৭, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ জুহাইফাহ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫৪-[১৬] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, সূরাহ্ হূদ, ওয়াকি’আহ্, মুরসালাত, ’আম্মা ইয়াতাসা- আলূন ও ইযাশ শামসু কুভভিরাত ইত্যাদি আমাকে বৃদ্ধ করে ফেলেছে। (তিরমিযী)
এ ব্যাপারে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হদীস (...لَايَلِجُ النَّارَ) “যারা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে না” কিতাবুল জিহাদে উল্লেখ হয়েছে।

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ. قَالَ: شَيَّبَتْنِي (هود) و (المرسلات) و (عمَّ يتساءلون) و (إِذا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ) رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَذُكِرَ حَدِيثُ أَبِي هريرةَ: لَا يلج النَّار «فِي» كتاب الْجِهَاد

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3297) * ابو اسحاق عنعن و للحدیث شواھد ضعیفۃ و روی الطبرانی فی الکبیر (17 / 286 ۔ 287 ح 790) بسند حسن عن عقبۃ بن عامر رضی اللہ عنہ ان رجلاً قال : یا رسول اللہ ! شبت ؟ قال : ((شیتنی ھود و اخواتھا)) وھو یغنی عنہ ۔ 0 حدیث ابی ھریرۃ : لا یلج النار ، تقدم (3828) ۔

وعن ابن عباس قال: قال ابو بكر: يا رسول الله قد شبت. قال: شيبتني (هود) و (المرسلات) و (عم يتساءلون) و (اذا الشمس كورت) رواه الترمذي وذكر حديث ابي هريرة: لا يلج النار «في» كتاب الجهاد سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3297) * ابو اسحاق عنعن و للحدیث شواھد ضعیفۃ و روی الطبرانی فی الکبیر (17 / 286 ۔ 287 ح 790) بسند حسن عن عقبۃ بن عامر رضی اللہ عنہ ان رجلا قال : یا رسول اللہ ! شبت ؟ قال : ((شیتنی ھود و اخواتھا)) وھو یغنی عنہ ۔ 0 حدیث ابی ھریرۃ : لا یلج النار ، تقدم (3828) ۔

ব্যাখ্যা : (شَيَّبَتْنِي هود و المرسلات...) আমাকে সূরাহ্ হূদ, ওয়াকি'আহ্, মুরসালাত, ‘আম্মা ও ইযাশ শামসু কুভভিরাত সূরাহ্ বার্ধক্যে উপনীত করেছে। কেননা এই সূরাগুলোতে কিয়ামতের ভয়ানক অবস্থার বর্ণনা করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫৫-[১৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হে লোক সকল!) তোমরা এমন সকল কাজ করে থাক যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুলের চাইতেও চিকন। অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যামানায় আমরা সেগুলোকে ধ্বংসাত্মক মনে করতাম। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

عَن أنسٍ قَالَ: إِنَّكُمْ لَتَعْمَلُونَ أَعْمَالًا هِيَ أَدَقُّ فِي أَعْيُنِكُمْ مِنَ الشَّعْرِ كُنَّا نَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ من الموبقات. يَعْنِي المهلكات. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (6492) ۔
(صَحِيح)

عن انس قال: انكم لتعملون اعمالا هي ادق في اعينكم من الشعر كنا نعدها على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم من الموبقات. يعني المهلكات. رواه البخاري رواہ البخاری (6492) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (هِيَ أَدَقُّ فِي أَعْيُنِكُمْ) তোমরা কোন বড় ধরনের কাজ করার পরও তা তোমাদের দৃষ্টিতে চুলের চাইতেও অতি নগণ্য বা তুচ্ছ কাজ বলে মনে হয়। অর্থাৎ তোমরা কোন ‘আমল করার পর তা তোমাদের নিকট বিরাট সাওয়াবের কাজ বলে মনে কর অথচ তা প্রকৃতপক্ষে তা নয়।
(من الموبقات) বর্ণনাকারী আনাস (রাঃ) তাঁর ব্যাখ্যায় বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর যুগে তাকে (الْمُهْلِكَاتِ) ধ্বংসকারী কাজ হিসেবে গণ্য করতাম। (ফাতহুল বারী ১১/৬৪৯২, মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫৬-[১৮] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: হে ’আয়িশাহ! তুমি ঐ সকল গুনাহ থেকে বেঁচে থাক যেগুলোকে ছোট বলে ধারণা করা হবে। কেননা এ সমস্ত ছোট ছোট গুনাহগুলোর খোঁজ রাখার জন্য আল্লাহ তরফ থেকে (ফেরেশতা) নিয়োজিত রয়েছে। (ইবনু মাজাহ, দারিমী, বায়হাক্বীর শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَا عَائِشَةَ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ والْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

صحیح ، رواہ ابن ماجہ (4242) و الدارمی (2 / 303 ح 2729) و البیھقی فی شعب الایمان (7261) ۔
(صَحِيح)

وعن عاىشة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «يا عاىشة اياك ومحقرات الذنوب فان لها من الله طالبا» . رواه ابن ماجه والدارمي والبيهقي في «شعب الايمان» صحیح ، رواہ ابن ماجہ (4242) و الدارمی (2 / 303 ح 2729) و البیھقی فی شعب الایمان (7261) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ) সগীরা গুনাহকে তুচ্ছ মনে করা থেকে সাবধান হও। সগীরা গুনাহকে নির্দিষ্ট করে বলার কারণ হলো এ প্রকার পাপ সম্পাদনকারী এটা তুচ্ছ ভেবে তাওবাহ্ করা থেকে বিরত থাকে এবং এক্ষেত্রে আল্লাহর ভয়কে উপেক্ষা করে চলে। যদিও এর উপর অটল থাকলে এটা কবীরাহ্ গুনাহে রূপান্তরিত হয় আর সগীরা থাকে না। প্রতিটি সগীরা গুনাহ আল্লাহর বড়ত্ব এবং মহিমার তুলনায় বড়, গুনাহ অল্প হলেও তা অনেক বেশি অন্যায়। এজন্য আল্লাহ তা'আলা কখনো কবীরা গুনাহকে মোচন করেন কিন্তু সগীরা গুনাহের কারণে শাস্তি প্রদান করেন। আর এটা সূরাহ্ আন্ নিসার ৪৮ নং আয়াত দ্বারা প্রমাণিত যেখানে তিনি বলেছেন, (وَ یَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ) অর্থাৎ শিরক থেকে নিচের কবীরা গুনাহকে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন।
(فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا) কেননা সগীরা গুনাহ তুচ্ছকারীকে সর্বদা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবধারিত শাস্তি অন্বেষণ করে। অতএব এ থেকে উদাসীন থাকা উচিত নয়। বরং তা থেকে বেঁচে থাকা উচিত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ ৪/৪২৪৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫৭-[১৯] আবূ বুরদাহ্ ইবনু আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি জানো আমার পিতা তোমার পিতাকে কি বলেছিলেন? তিনি বললেন, না। নিশ্চয় আমার পিতা তোমার পিতাকে বললেন, হে আবূ মূসা! তুমি কি এতে খুশি থাকতে পার যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে আমাদের ইসলাম এবং তাঁর সাথে আমাদের হিজরত এবং তাঁর সাথে আমাদের জিহাদ এবং তার সাথে আমাদের অন্যান্য সকল ’আমল আমাদের জন্য সম্বল হিসেবে গচ্ছিত থাকুক, আর তাঁর ইন্তিকালের পর আমরা যে সমস্ত ’আমল করেছি, এতে যদি আমরা (ভালো-মন্দ) সমানে সমানে বেঁচে যাই, তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। এতদশ্রবণে তোমার পিতা আমার পিতাকে বললেন, না, (এতে আমি খুশি নই) আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পরে জিহাদ করেছি, সালাত আদায় করেছি, সিয়াম রেখেছি, আরো বহু ভালো ’আমল করেছি এবং আমাদের হাতে বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। অতএব তার ব্যাপারেও আমরা (বিনিময়ে) আশা রাখি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, (তোমার পিতার কথা শুনে) তখন আমার পিতা বললেন, কিন্তু আমি সেই মহান সত্তার শপথ করে বলছি, যাঁর হাতে ’উমার-এর প্রাণ! অবশ্য আমি এটাই কামনা করছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে থেকে আমরা যে সকল ভালো ’আমলগুলো করেছিলাম শুধু সেগুলো গচ্ছিত থাকলেই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তার মৃত্যুর পর আমরা যে সমস্ত ’আমল করেছি তাতে (উভয় দিক) সামনে সমান থাকলেই যথেষ্ট। তিনি (আবূ বুরদাহ) বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! আমার পিতা (আবূ মূসা) হতে আপনার পিতা উত্তম ছিলেন। (বুখারী)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: هَلْ تَدْرِي مَا قَالَ أَبِي لِأَبِيكَ؟ قَالَ: قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَإِنَّ أَبِي قَالَ لِأَبِيكَ يَا أَبَا مُوسَى هَلْ يَسُرُّكَ أَنَّ إِسْلَامَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِجْرَتَنَا مَعَهُ وَجِهَادَنَا مَعَهُ وَعَمَلَنَا كُلَّهُ مَعَهُ بَرَدَ لَنَا؟ وَأَنَّ كُلَّ عَمَلٍ عَمِلْنَاهُ بَعْدَهُ نَجَوْنَا مِنْهُ كَفَافًا رَأْسًا بِرَأْسٍ؟ فَقَالَ أَبُوكَ لِأَبِي: لَا وَاللَّهِ قَدْ جَاهَدْنَا بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَلَّيْنَا وَصُمْنَا وَعَمِلْنَا خَيْرًا كَثِيرًا. وَأَسْلَمَ عَلَى أَيْدِينَا بَشَرٌ كَثِيرٌ وَإِنَّا لَنَرْجُو ذَلِكَ. قَالَ أَبِي: وَلَكِنِّي أَنَا وَالَّذِي نَفْسُ عُمَرَ بِيَدِهِ لَوَدِدْتُ أَنَّ ذَلِكَ بَرَدَ لَنَا وَأَنَّ كُلَّ شَيْءٍ عَمِلْنَاهُ بَعْدَهُ نَجَوْنَا مِنْهُ كَفَافًا رَأْسًا بِرَأْسٍ. فَقُلْتُ: إِنَّ أَبَاكَ وَاللَّهِ كَانَ خيرا من أبي. رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (3915) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي بردة بن ابي موسى قال: قال لي عبد الله بن عمر: هل تدري ما قال ابي لابيك؟ قال: قلت: لا. قال: فان ابي قال لابيك يا ابا موسى هل يسرك ان اسلامنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهجرتنا معه وجهادنا معه وعملنا كله معه برد لنا؟ وان كل عمل عملناه بعده نجونا منه كفافا راسا براس؟ فقال ابوك لابي: لا والله قد جاهدنا بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم وصلينا وصمنا وعملنا خيرا كثيرا. واسلم على ايدينا بشر كثير وانا لنرجو ذلك. قال ابي: ولكني انا والذي نفس عمر بيده لوددت ان ذلك برد لنا وان كل شيء عملناه بعده نجونا منه كفافا راسا براس. فقلت: ان اباك والله كان خيرا من ابي. رواه البخاري رواہ البخاری (3915) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (بَرَدَلَنَا) আমাদের জন্য স্থায়ী সাওয়াব যা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর বারাকাতে এবং তাঁর উপস্থিতিতে নষ্ট হয়নি, ঘাটতি হয়নি।
নিহায়াহ্ গ্রন্থে এ ব্যাপারে একটি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, (الصَّوْمُ فِي الشٌتَاءِالْغَنِيمَةُ الْبَا رِدِةُ) শীতকালে সওম রাখা ঠাণ্ডা গনীমত তথা তাতে কোন প্রকার কষ্ট এবং ক্লান্তি নেই। আর প্রতিটি প্রিয় জিনিসই হচ্ছে তাদের নিকট শীতল। অথবা এর অর্থ হলো স্থায়ী ও স্থিতিশীল গনীমত।
(نَجَوْنَا مِنْهُ) অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর মৃত্যুর পর আমরা যত ‘আমল করেছি উক্ত ‘আমল দ্বারা আমরা নাযাত পেয়ে যাই, তাই আমার জন্য যথেষ্ট।
(كَفَافًا) সমানভাবে। (رَأْسًا بِرَأْسٍ) সমান সমান, আমাদের পক্ষেও বিপক্ষেও না। তথা এর কারণে আমরা অধিক সাওয়াবও পাব না আবার শাস্তির সম্মুখীনও হব না। (ফাতহুল বারী ৭/৩৯১৫, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫৮-[২০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার প্রতিপালক আমাকে নয়টি কাজের আদেশ দিয়েছেন-
১. প্রকাশ্যে ও গোপনে যেন আল্লাহকে ভয় করি।
২. রাগ ও সন্তুষ্টি উভয় অবস্থাতে যেন ন্যায় কথা বলি।
৩. অভাব ও ধনাঢ্যতা, উভয় অবস্থায় যেন মধ্যমপন্থা অবলম্বন করি।
৪. যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সাথে যেন আত্মীয়তা ধরে রাখি।
৫. যে আমাকে বঞ্চিত করে আমি যেন তাকে দান করি।
৬. যে আমার প্রতি অবিচার করে, আমি যেন তাকে ক্ষমা করি।
৭. আমি যেন নিরবতায় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকি।
৮. আমার বচন যেন আল্লাহর যিক্‌রে পরিণত হয়।
৯. আমার দৃষ্টি যেন উপদেশমূলক হয় এবং আমি যেন ভালো কাজের আদেশ করি। (রযীন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمَرَنِي رَبِّي بِتِسْعٍ: خَشْيَةِ اللَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ وَكَلِمَةِ الْعَدْلِ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَى وَالْقَصْدِ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَنْ أَصِلَ مَنْ قَطَعَنِي وَأُعْطِي مَنْ حَرَمَنِي وَأَعْفُو عَمَّنْ ظَلَمَنِي وَأَنْ يَكُونَ صَمْتِي فِكْرًا وَنُطْقِي ذِكْرًا وَنَظَرِي عِبْرَةً وَآمُرُ بِالْعُرْفِ «وَقِيلَ» بِالْمَعْرُوفِ رَوَاهُ رزين

لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) ولہ شاھد عند ابن ابی الدنیا فی اصلاح المال (328) عن داودؑ من قولہ و سندہ ضعیف جدًا ۔
(ضَعِيف)

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: امرني ربي بتسع: خشية الله في السر والعلانية وكلمة العدل في الغضب والرضى والقصد في الفقر والغنى وان اصل من قطعني واعطي من حرمني واعفو عمن ظلمني وان يكون صمتي فكرا ونطقي ذكرا ونظري عبرة وامر بالعرف «وقيل» بالمعروف رواه رزين لم اجدہ ، رواہ رزین (لم اجدہ) ولہ شاھد عند ابن ابی الدنیا فی اصلاح المال (328) عن داود من قولہ و سندہ ضعیف جدا ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (أَمَرَنِي رَبِّي بِتِسْعٍ) আমার প্রতিপালক আমাকে নয়টি বিষয়ে তথা ৯টি অভ্যাস সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন।
১) (خَشْيَةِ اللَّهِ فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ وَكَلِمَةِ) প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা।
২) (كَلِمَةِ الْعَدْلِ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَى) রাগ ও আনন্দ উভয় অবস্থায় ইনসাফ বজায় রাখা।
৩) (وَالْقَصْدِ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى) দরিদ্র এবং সচ্ছল উভয় অবস্থায় মধ্যপন্থায় খরচ করা অথবা ধৈর্য এবং কৃতজ্ঞতার মাঝামাঝি অবস্থান করা, বিপদে ভয় না পাওয়া ও সীমালঙ্ঘন না করা।
৪) (وَأَنْ أَصِلَ مَنْ قَطَعَنِي) যারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখব। আর এটাই হচ্ছে অধিক সহনশীলতা ও নম্রতার বহিঃপ্রকাশ।
৫) (وَأُعْطِي مَنْ حَرَمَنِي) যারা আমাকে বঞ্চিত করেছে, আমি তাদেরকে দান করব। এটা পরিপূর্ণ মহানুভবতা ও দয়ার প্রমাণ বহনকারী।
৬) (وَأَعْفُو عَمَّنْ ظَلَمَنِي) যে আমাকে যুলম করেছে তার প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমি যেন তাকে ক্ষমা করে দেই। আর এটাই ধৈর্যের ফল ও মানুষের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রকাশের মাধ্যম।
৭) (وَأَنْ يَكُونَ صَمْتِي فِكْرًا) আমার চুপ থাকাটা যেন আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলি এবং সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করার বহিঃপ্রকাশ হয়।
৮) (وَنُطْقِي ذِكْرً) ‘আমার কথা’ বলতে আল্লাহর তাসবীহ, প্রশংসা, পবিত্রতা, বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা, কুরআন তিলাওয়াত এবং মানুষকে উপদেশ প্রদান করা হয়। আর আমার দৃষ্টি যেন উপদেশমূলক হয়।
৯) (وَآمُرُ بِالْعُرْفِ «وَقِيلَ» بِالْمَعْرُوفِ) এবং সৎকাজ বা প্রচলিত ভালো কাজের আদেশ দেয়া। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না

৫৩৫৯-[২১] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহর (আযাবের) ভয়ে যে মুমিন বান্দার দুই চক্ষু হতে অশ্রু বের হয়, যদিও তা মাছির মাথার পরিমাণ হয়, অতঃপর তার কিছু চেহারার উপর গড়িয়ে পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবৈধ করে দেন। (ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ يَخْرُجُ مِنْ عَيْنَيْهِ دُمُوعٌ وَإِنْ كَانَ مِثْلَ رَأْسِ الذُّبَابِ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ ثُمَّ يُصِيبُ شَيْئًا مِنْ حَرِّ وَجْهِهِ إِلَّا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4197) * حماد بن ابی حمید : ضعیف ، اسمہ محمد (تقدم : 5303) و ھذا الحدیث من اجلہ ضعفہ البوصیری ۔
(ضَعِيف)

وعن عبد الله بن مسعود قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من عبد مومن يخرج من عينيه دموع وان كان مثل راس الذباب من خشية الله ثم يصيب شيىا من حر وجهه الا حرمه الله على النار» . رواه ابن ماجه اسنادہ ضعیف ، رواہ ابن ماجہ (4197) * حماد بن ابی حمید : ضعیف ، اسمہ محمد (تقدم : 5303) و ھذا الحدیث من اجلہ ضعفہ البوصیری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : (دُمُوعٌ) অশ্রুসিক্ত যার সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো তিন ফোটা।
(وَإِنْ كَانَ مِثْلَ رَأْسِ الذُّبَابِ) যদিও ঐ চোখের পানির পরিমাণ মাছির মাথা সমপরিমাণ হয়।
(ثُمَّ يُصِيبُ شَيْئًا مِنْ حَرِّ وَجْهِهِ) অতঃপর ঐ পানি শুধু আল্লাহর ভয়ে মুখের উপর গড়িয়ে পড়ে, তাহলেই আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জাহান্নামকে হারাম করে দেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ ৩/৪১৯৭)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬০-[১] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মানুষ উটের মতো, যাদের একশ’টির মধ্যে সওয়ারীর উপযোগী একটিও পাওয়া কঠিন হয়। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب تغير النَّاس)

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا النَّاسُ كَالْإِبِلِ الْمِائَةِ لَا تَكَادُ تَجِدُ فِيهَا رَاحِلَةً» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6498) و مسلم (232 / 2547)، (6499) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «انما الناس كالابل الماىة لا تكاد تجد فيها راحلة» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (6498) و مسلم (232 / 2547)، (6499) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা: (إِنَّمَا النَّاسُ كَالْإِبِلِ الْمِائَةِ) মানুষের বিভিন্ন অবস্থা ও গুণাবলির দৃষ্টিকোণ থেকে একশত উটের সাথে তুলনা দেয়া যায়। উক্ত একশত উটের মধ্যে খুব কম এমন উট পাওয়া যাবে যারা শক্তিশালী, জোয়ান এবং আরোহণের উপযোগী। ঠিক তেমনি মানুষের মধ্যে খুব কম লোকই পাওয়া যায় যারা বন্ধু হওয়ার উপযোগী ও ভালোবাসা রাখার উপযুক্ত। যারা তাদের বন্ধুকে সহযোগিতা করবে এবং তার জন্য কোমলতা প্রদর্শন করবে।
ইবনু বাত্তল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে উদ্ধৃত মানুষ বলতে ঐ সমস্ত লোকেদের বুঝানো হয়েছে যারা উত্তম যুগ তথা সাহাবা, তাবিঈন ও তাবি' তাবিঈনদের যুগের পরবর্তীতে আসবে। যেহেতু তাদের মধ্যে আমানাতদার কেউ থাকবে না। (ফাতহুল বারী ১১/৬৪৯৮, মিরকাতুল মাফাতীহ, ইবনু মাজাহ ৩/৩৯৯০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬১-[২] আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অভ্যাস এক এক বিঘত ও এক এক হাত পরিমাণে অনুসরণ করে চলবে- এমনকি তারা যদি দব্বের গর্তেও ঢুকে থাকে তাহলে তোমরাও এতে তাদের অনুসরণ করবে। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তারা কি ইয়াহূদ ও খ্রিষ্টানরা! তিনি বললেন, তবে আর কারা? (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول (بَاب تغير النَّاس)

وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَتَتَّبِعُنَّ سُننَ مَنْ قبلكُمْ شبْرًا بشبرٍ وذراعاً بذراعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ تَبِعْتُمُوهُمْ» . قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ» . مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (3456) و مسلم (6 / 2669)، (6781) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

وعن ابي سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لتتبعن سنن من قبلكم شبرا بشبر وذراعا بذراع حتى لو دخلوا جحر ضب تبعتموهم» . قيل: يا رسول الله اليهود والنصارى؟ قال: «فمن» . متفق عليه متفق علیہ ، رواہ البخاری (3456) و مسلم (6 / 2669)، (6781) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (تَتَّبِعُنَّ سُننَ مَنْ قبلكُمْ) তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করবে। এখানে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বলতে ঐ সমস্ত লোকেদের মনোপ্রবৃত্তি ও বিদ্আত উদ্দেশ্য যা তারা তাদের নবীদের পরে নিজের পক্ষ থেকে আবিষ্কার করেছিল এবং দীনের মধ্যে পরিবর্তন এনেছিল ও ধর্মগ্রন্থের মধ্যে বিকৃতি সাধন করেছিল যা ছিল বানী ইসরাঈলের স্বভাব।

(بْرًا بشبرٍ وذراعاً بذراعٍ) এক বিঘত এবং এক হাত এক হাত অর্থাৎ তারা যেমন করবে তোমরাও ঠিক তেমনি করবে।
(حَتَّى لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ) এমনকি তারা যদি গুইসাপের গর্তে প্রবেশ করে, তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে। এখানে গুইসাপের গর্তের সাথে তুলনা দেয়ার কারণ হলো, এই প্রকার গর্ত খুব সংকীর্ণ ও খারাপ ধরনের। তা সত্ত্বেও যদি তারা সেখানে প্রবেশ করে তাহলে তোমরাও তা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও প্রবেশ করবে, তাদের অনুকরণের স্বার্থে। রসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে তারা কি ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়?
(قَالَ: «فَمَنْ») তিনি উত্তরে বললেন, যদি তাদেরকে উদ্দেশ্য না করি তাহলে আর কারা হবে? তোমরা আর কাদের অনুসরণ করবে? (ফাতহুল বারী ৬/৩৪৫৬, শারহুন নাবাবী ১৬/২৬৬৯, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬২-[৩] মিরদাস আল আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ভালো ও সৎ লোকেরা (পর্যায়ক্রমে) একের পর এক চলে যাবে। অতঃপর অবশিষ্টরা যব অথবা খেজুরের নিকৃষ্ট চিটার মতো থেকে যাবে। আল্লাহ তা’আলা তাদের প্রতি কোন গুরুত্ব দিবেন না। (বুখারী)

الفصل الاول (بَاب تغير النَّاس)

وَعَن مرداس الْأَسْلَمِيّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَذْهَبُ الصَّالِحُونَ الْأَوَّلُ فَالْأَوَّلُ وَتَبْقَى حُفَالَةٌ كَحُفَالَةِ الشَّعِيرِ أَوِ التَّمْرِ لَا يُبَالِيهِمُ اللَّهُ بالةً» . رَوَاهُ البُخَارِيّ

رواہ البخاری (4156) ۔
(صَحِيح)

وعن مرداس الاسلمي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يذهب الصالحون الاول فالاول وتبقى حفالة كحفالة الشعير او التمر لا يباليهم الله بالة» . رواه البخاري رواہ البخاری (4156) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা: (يَذْهَبُ الصَّالِحُونَ الْأَوَّلُ) নেককার বান্দারা একের পর এক মৃত্যুবরণ করবে।
(حُفَالَةٌ) নিকৃষ্ট বা নিম্নমানের লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে।
(لَا يُبَالِيهِمُ اللَّهُ بالةً) আল্লাহ তা'আলা তাদের কোন পরোয়াই করবেন না। তাদের মর্যাদাকে বাড়িয়েও দিবেন না এবং তাদের ‘আমলকে ওজনও করবেন না। (ফাতহুল বারী ১১/৬৪৩৪, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মিরদাস আসলামী (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬৩-[৪] ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন আমার উম্মত গর্বের সাথে চলতে লাগবে এবং রাজা-বাদশাহদের সন্তানরা তথা পারস্য ও রূমের রাজ কুমাররা এদের খিদমতে রত থাকবে, তখন আল্লাহ তা’আলা উম্মতের খারাপ লোকেদেরকে ভালো লোকদের ওপর শাসক হিসেবে চাপিয়ে দেবেন। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب تغير النَّاس)

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا مَشَتْ أُمَّتِي الْمُطَيْطَاء وَخَدَمَتْهُمْ أَبْنَاءُ الْمُلُوكِ أَبْنَاءُ فَارِسَ وَالرُّومِ سَلَّطَ اللَّهُ شِرَارَهَا عَلَى خِيَارِهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث غَرِيب

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2261) * موسی بن عبیدۃ ضعیف و روی ابن حبان فی صححہ (الاحسان : 6681 / 6716) ان النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم قال : ((اذا مشت امتی المطیطاء وخد متھم فارس و الروم سلّط بعضھم علی بعض ۔)) و سندہ حسن وھو یغنی عنہ ۔

عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا مشت امتي المطيطاء وخدمتهم ابناء الملوك ابناء فارس والروم سلط الله شرارها على خيارها» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2261) * موسی بن عبیدۃ ضعیف و روی ابن حبان فی صححہ (الاحسان : 6681 / 6716) ان النبی صلی اللہ علیہ و آلہ وسلم قال : ((اذا مشت امتی المطیطاء وخد متھم فارس و الروم سلط بعضھم علی بعض ۔)) و سندہ حسن وھو یغنی عنہ ۔

ব্যাখ্যা: (إِذَا مَشَتْ أُمَّتِي الْمُطَيْطَاء) যখন আমার উম্মাত অহমিকা বেশে দু’হাত দুলিয়ে চলবে।
(وَخَدَمَتْهُمْ أَبْنَاءُ الْمُلُوكِ أَبْنَاءُ فَارِسَ وَالرُّومِ) এবং রোম ও পারস্যের সন্তানরা তাদের খাদেম হবে এবং তাদের আনুগত্য করবে।
(سَلَّطَ اللَّهُ شِرَارَهَا عَلَى خِيَارِهَا) তখন আল্লাহ তা'আলা উত্তমের ওপর নিকৃষ্টদের ক্ষমতা দান করবেন।
মিরকাত ভাষ্যকার বলেন, এ হাদীসটি নবী (সা.) -এর নুবুওয়্যাতের প্রমাণ বহনকারী। কেননা তিনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এমন সংবাদ দিয়েছেন যা পরবর্তীতে বাস্তবে পরিণত হয়েছে। কেননা যখন তারা রোম ও পারস্য দখল করল তখন তারা তাদের ধন-সম্পদ হস্তগত করল এবং তাদের সন্তানদেরকে বন্দী করল, যার ফলশ্রুতিতে তারা ক্ষমতা কেড়ে নিল এবং উসমান (রাঃ)-কে হত্যা করল, অতঃপর বানী উমাইয়্যাগণ বানী হাশিম-এর সাথে যা করার তাই করল। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২২৬১, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬৪-[৫] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সা.) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা নিজেদের খলীফাহ্ বা বাদশাহকে হত্যা না করবে, তলোয়ার দ্বারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত না হবে এবং তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা খারাপ ব্যক্তি তোমাদের দুনিয়ার মালিক (শাসক) না হবে। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب تغير النَّاس)

وَعَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتُلُوا إِمَامَكُمْ وَتَجْتَلِدُوا بأسيافكم ويرَث دنياكم شرارُكم» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2170 وقال : حسن)

وعن حذيفة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقوم الساعة حتى تقتلوا امامكم وتجتلدوا باسيافكم ويرث دنياكم شراركم» . رواه الترمذي اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2170 وقال : حسن)

ব্যাখ্যা: (حَتَّى تَقْتُلُوا إِمَامَكُمْ) যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের খলীফাকে হত্যা করবে।
(وَتَجْتَلِدُوا بأسيافكم) এবং তোমাদের তরবারি দ্বারা পরস্পরের মধ্যে মারামারি করবে।
(ويرَث دنياكم شرارُكم) অযোগ্য এবং যালিমরা অন্যায়ভাবে রাজত্ব ও সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে।
অত্র হাদীসটি এ অধ্যায়ে নিয়ে আসার দ্বারা এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, উক্ত ফিতনাহ্ সংঘটিত হওয়ার কারণ হবে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ ছেড়ে দেয়ার জন্য।
(তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২১৭০, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬৫-[৬] উক্ত রাবী [হুযায়ফাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যতক্ষণ দুনিয়ার ব্যাপারে অধমের সন্তান সৌভাগ্যের অধিকারী বলে গণ্য না হবে ততক্ষণ কিয়ামত সংঘটিত হবে না। (তিরমিযী ও বায়হাক্বী’র “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ্”)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب تغير النَّاس)

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكُونَ أَسْعَدَ النَّاسِ بِالدُّنْيَا لُكَعُ بْنُ لُكَعَ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»

اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2209 وقال : حسن) و البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 392) ۔
(صَحِيح)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تقوم الساعة حتى يكون اسعد الناس بالدنيا لكع بن لكع» . رواه الترمذي والبيهقي في «دلاىل النبوة» اسنادہ حسن ، رواہ الترمذی (2209 وقال : حسن) و البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 392) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (حَتَّى يَكُونَ أَسْعَدَ النَّاسِ) যতক্ষণ না তাদের মধ্যে অধিক সম্পদের মালিক, আরামদায়ক জীবনযাপনের অধিকারী এবং উচ্চ ক্ষমতা ও ক্ষমতা প্রয়োগকারী ব্যক্তি দুনিয়ার মালিক হবে।
(لُكَعُ بْنُ لُكَعَ) নিকৃষ্টের পুত্র নিকৃষ্ট। অথবা এমন ব্যক্তি যার বংশ জানা যাবে না এবং চরিত্রের প্রশংসা করা হবে না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬২২০৯, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬৬-[৭] মুহাম্মাদ ইবনু কা’ব আল কুরাযী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে সে ব্যক্তিই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যিনি ’আলী (রাঃ) হতে শ্রবণ করেছেন, তিনি বলেছেন, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমন সময় মুস্’আব ইবনু উমায়র (রাঃ) এমন অবস্থায় সেখানে এসে উপস্থিত হলেন যে, তাঁর চাদরে চামড়ার তালি লাগানো ছিল। তাঁকে দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) কেঁদে দিলেন। (অতীতে) তিনি কতই না সুখ-সাচ্ছন্দে ছিলেন, অথচ আজ তার এ অবস্থা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ঐ সময় তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? যখন তোমরা সকালে এক জোড়া পরিধান এবং বিকালে আরেক জোড়া পরিধান করে বের হবে। আর তোমাদের সম্মুখে রাখা হবে (পৃথক পৃথক প্রকারের) খানার পেয়ালা এবং তা তুলে নিয়ে রাখা হবে সে স্থলে আরেক পেয়ালা। আর তোমরা ঘরকে এমনভাবে পর্দা দ্বারা আচ্ছাদিত করবে, যেভাবে আচ্ছাদিত করা হয় কা’বা ঘরকে। তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সেদিন আমরা আজকের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় থাকব। কেননা তখন আমাদের খাওয়া-পরার দুশ্চিন্তা থাকবে না। ফলশ্রুতিতে আমরা অধিক সময় আল্লাহর ইবাদতের জন্য অবসর ও সুযোগ পাব। নবী (সা.) বললেন, তোমাদের এ আন্দাজ সঠিক নয়, বরং তোমরা সেদিন অপেক্ষা এখনকার সময়ই ভালো আছ। (তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب تغير النَّاس)

وَعَن مُحَمَّد بن كَعْب الْقرظِيّ قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْ سَمِعَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالب قَالَ: إِنَّا لَجُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ فَاطَّلَعَ عَلَيْنَا مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ مَا عَلَيْهِ إِلَّا بُرْدَةٌ لَهُ مَرْقُوعَةٌ بِفَرْوٍ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكَى لِلَّذِي كَانَ فِيهِ مِنَ النِّعْمَةِ وَالَّذِي هُوَ فِيهِ الْيَوْمَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ بِكُمْ إِذَا غَدَا أَحَدُكُمْ فِي حُلَّةٍ وَرَاحَ فِي حُلَّةٍ؟ وَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ صَحْفَةٌ وَرُفِعَتْ أُخْرَى وَسَتَرْتُمْ بُيُوتَكُمْ كَمَا تُسْتَرُ الْكَعْبَة؟» . فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مِنَّا الْيَوْمَ نَتَفَرَّغُ لِلْعِبَادَةِ وَنُكْفَى الْمُؤْنَةَ. قَالَ: «لَا أَنْتُمُ الْيَوْمَ خَيْرٌ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2476 وقال : حسن غریب) * فیہ ’’ من سمع ‘‘ وھو مجھول ۔

وعن محمد بن كعب القرظي قال: حدثني من سمع علي بن ابي طالب قال: انا لجلوس مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد فاطلع علينا مصعب بن عمير ما عليه الا بردة له مرقوعة بفرو فلما راه رسول الله صلى الله عليه وسلم بكى للذي كان فيه من النعمة والذي هو فيه اليوم ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كيف بكم اذا غدا احدكم في حلة وراح في حلة؟ ووضعت بين يديه صحفة ورفعت اخرى وسترتم بيوتكم كما تستر الكعبة؟» . فقالوا: يا رسول الله نحن يومىذ خير منا اليوم نتفرغ للعبادة ونكفى المونة. قال: «لا انتم اليوم خير منكم يومىذ» . رواه الترمذي اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2476 وقال : حسن غریب) * فیہ ’’ من سمع ‘‘ وھو مجھول ۔

ব্যাখ্যা : (مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ) মুস'আব ইবনু উমায়র (রাঃ) ছিলেন কুরাইশ বংশের। তিনি প্রথমে যারা আবিসিনিয়ার হিজরত করেছিলেন তাদের সাথে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন। অতঃপর মক্কায় ফিরে এসে তাঁর সমস্ত ধন-সম্পদ ছেড়ে মদীনায় রসূল (সা.)-এর নিকট হিজরত করেন। অতঃপর বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। জাহিলী যুগে তিনি অত্যন্ত আরামপ্রদ জীবনযাপন করতেন এবং সৌখিন পোশাক পরিধান করতেন। ইসলাম গ্রহণ করার পর দুনিয়াবিমুখ ছিলেন এবং অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন।

(مَا عَلَيْهِ إِلَّا بُرْدَةٌ) তিনি চামড়ার তালিযুক্ত একটি পোশাক পরিহিত ছিলেন। নবী (সা.) তার বর্তমান অবস্থা দেখে কেঁদে ফেললেন। কেননা তিনি অতি কষ্টে জীবনযাপন করেছেন। অথচ তিনি তার সম্প্রদায়ের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন।
(كَيْفَ بِكُمْ إِذَا غَدَا أَحَدُكُمْ..) তোমাদের অবস্থা কেমন হবে? যখন তোমাদের ধন-সম্পদ বেড়ে যাবে। ফলে তোমাদের প্রত্যেকে সকালে একধরনের পোশাক পরবে আবার বিকালে অন্য পোশাক পরবে। সৌখিন জীবনযাপন করবে আর তার সামনে পেয়ালা ভর্তি এক ধরনের খাবার রাখা হবে এবং সেটা উঠানোর সাথে সাথে আবার আরেক ধরনের খাবার ভর্তি পেয়ালা রাখা হবে। যা মূলত সৌখিন জীবনযাপনকারীরা করে থাকে। আর তোমাদের গৃহকে পর্দা দ্বারা সুসজ্জিত করবে যেমন কা'বাহ্ ঘরকে সাজানো হয়।
(فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ خَيْرٌ مِنَّا الْيَوْمَ) তারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তখন বর্তমানের চেয়ে ভালো জীবনযাপন করব। ইবাদতের জন্য মুক্ত থাকতে পারব। আর আমাদের খাদেমরা জীবিকা উপার্জনের কাজ করবে।
(قَالَ: «لَا أَنْتُمُ الْيَوْمَ خَيْرٌ مِنْكُمْ يَوْمَئِذٍ») নবী (সা.) বললেন, না, তোমরা সেদিনের চেয়ে এখনই ভালো আছ। কেননা ধনী ব্যক্তির চেয়ে সামান্য জীবিকার দরিদ্ররাই উত্তম। যেহেতু ধনীরা দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকে, ‘ইবাদতের জন্য অবসর সময় পায় না। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২৪৭৬, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬৭-[৮] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, তখন তাদের মধ্যে দীন-শারী’আতের উপর দৃঢ়ভাবে ধৈর্যধারণকারীর অবস্থা হবে হাতের মুষ্টিতে অগ্নিশিখা ধারণকারীর মতো। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, সনদ হিসেবে হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب تغير النَّاس)

وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ» رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا

سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2260) * عمر بن شاکر ضعیف و حدیث الترمذی (3058) یغنی عنہ

وعن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ياتي على الناس زمان الصابر فيهم على دينه كالقابض على الجمر» رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادا سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2260) * عمر بن شاکر ضعیف و حدیث الترمذی (3058) یغنی عنہ

ব্যাখ্যা: (يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ فِيهِمْ) মানুষের কাছে এমন এক সময় আসবে, যে সময়ে দুনিয়া পরিত্যাগ করে দীনের কার্যকলাপকে হিফাযত করা ঐ রকম কঠিন কাজ হবে, যে রকম জ্বলন্ত আগুনের টুকরাকে হাতের তালুতে ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, জ্বলন্ত আগুনের কয়লাকে যেমনভাবে হাত পুড়ে যাওয়ার ভয়ে ধরে রাখা সম্ভব নয়, ঠিক তদ্রুপ দীনদার ব্যক্তি সে সময় দীনের উপর অটল থাকতে পারবে না। সে সময় পাপীদের দৌরাত্ম, পাপের ছড়াছড়ি হবে ঈমানের দুর্বলতার কারণে।
মুল্লা আলী ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা ব্যতীত যেমনি আগুনের কয়লা হাতে ধারণ করা কঠিন ঠিক তদ্রুপ ঐ সময়ে অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় না দিলে ঈমানের জ্যোতিকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৬/২২৬০, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬৮-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যখন তোমাদের শাসক হবে তোমাদের ভালো লোকেরা, তোমাদের বিত্তবান ব্যক্তিরা হবে দানশীল এবং তোমাদের যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদিত হবে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে, তখন জমিনের পেট অপেক্ষা তার পিঠ হবে তোমাদের জন্য শ্রেয়। পক্ষান্তরে যখন তোমাদের খারাপ লোকেরা হবে তোমাদের শাসক, বিত্তবান লোকেরা হবে কৃপণ এবং তোমাদের কাজকর্ম অর্পণ করা হবে নারীদের ওপর তখন জমিনের পিঠ অপেক্ষা তার পেট হবে তোমাদের জন্য শ্রেয়। [ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, হাদীসটি গরীব]

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب تغير النَّاس)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ خِيَارَكُمْ وَأَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَاءَكُمْ وَأُمُورُكُمْ شُورَى بَيْنِكُمْ فَظَهْرُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ بَطْنِهَا. وَإِذَا كَانَ أمراؤكم شِرَاركُمْ وأغنياؤكم بخلاؤكم وَأُمُورُكُمْ إِلَى نِسَائِكُمْ فَبَطْنُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ من ظهرهَا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا حديثٌ غَرِيب

اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2266) * صالح بن بشیر المری ضعیف و فیہ علۃ أخری ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اذا كان امراوكم خياركم واغنياوكم سمحاءكم واموركم شورى بينكم فظهر الارض خير لكم من بطنها. واذا كان امراوكم شراركم واغنياوكم بخلاوكم واموركم الى نساىكم فبطن الارض خير لكم من ظهرها» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب اسنادہ ضعیف ، رواہ الترمذی (2266) * صالح بن بشیر المری ضعیف و فیہ علۃ أخری ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা: (إِذَا كَانَ أُمَرَاؤُكُمْ خِيَارَكُمْ) যখন তোমাদের শাসকগণ পরহেজগার হবে।
(وَأَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَاءَكُمْ) এবং তোমাদের ধনবান ব্যক্তিরা দানশীল হবে।
(وَأُمُورُكُمْ شُورَى بَيْنِكُمْ) এবং তোমাদের সকল কর্মকাণ্ড পরস্পরের পরামর্শের মাধ্যমে হবে। যেমনটি আল্লাহ বলেন, (وَ اَمۡرُهُمۡ شُوۡرٰی بَیۡنَهُمۡ) আর তাদের কার্যাবলী তাদের মধ্যে পরস্পরের পরামর্শের ভিত্তিতে হবে। (সূরাহ আশ শূরা ৪২ : ৩৮)।
(فَظَهْرُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ بَطْنِهَا) তখন পৃথিবীর উপরিভাগ তোমাদের জন্য নিম্নভাগের চেয়ে উত্তম হবে। তথা মৃত্যুর চেয়ে তোমাদের বেঁচে থাকা উত্তম হবে।
(وَأُمُورُكُمْ إِلَى نِسَائِكُمْ) আর যদি তোমাদের কর্মকাণ্ড তাদের মতামতের উপর নির্ভর করে। যেহেতু তারা হাদীসের ভাষায় বুদ্ধি ও দীনদারীতে পুরুষের তুলনায় কম। অন্য অর্থে যে সমস্ত পুরুষ মর্যাদা ও সম্পদের মোহে পড়ে নারীদের মতো অবস্থা হবে, দীনের মৌলিক বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞ হবে এবং সম্পদের অপব্যবহারের খারাপ পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞ হবে। আর তাদের হাতে ক্ষমতা চলে আসবে তখন বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই ভালো। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২২৬৬, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৬৯-[১০] সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: অদূর ভবিষ্যতে তোমাদের বিরুদ্ধে (ইসলামবিদ্বেষী) অন্যান্য সম্প্রদায় একে অন্যকে আহ্বান করবে, যেরূপ খাবার পাত্রের প্রতি ভক্ষণকারী অন্যান্যদেরকে ডেকে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, এটা শুনে সাহাবীদের কেউ বললেন, তা কি এজন্য হবে যে, আমরা সেই সময় সংখ্যায় অল্প হব? তিনি (সা.) বললেন, বরং তখন তোমরা সংখ্যায় অনেক বেশি হবে, কিন্তু তোমাদের অবস্থা হবে স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তোমাদের হৃদয়ে ’ওয়াহন’ সৃষ্টি করে দেবেন। তখন কোন একজন প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ’ওয়াহন কি? তিনি (সা.) বললেন, দুনিয়ার ভালোবাসা এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা (বাঁচার লোভ)। (আবূ দাউদ ও বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান গ্রন্থে)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب تغير النَّاس)

وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يُوشِكُ الْأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا» . فَقَالَ قَائِلٌ: وَمِنْ قِلَّةٍ نَحْنُ يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «بَلْ أَنْتُم يَوْمئِذٍ كثير وَلَكِن غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ وَلَيَنْزِعَنَّ اللَّهُ مِنْ صُدُورِ عَدُوِّكُمُ الْمَهَابَةَ مِنْكُمْ وَلَيَقْذِفَنَّ فِي قُلُوبِكُمُ الْوَهْنَ» . قَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْوَهْنُ؟ قَالَ: «حُبُّ الدُّنْيَا وَكَرَاهِيَةُ الْمَوْتِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

حسن ، رواہ ابوداؤد (4297) [و عنہ] و البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 534) ۔
(صَحِيح)

وعن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يوشك الامم ان تداعى عليكم كما تداعى الاكلة الى قصعتها» . فقال قاىل: ومن قلة نحن يومىذ؟ قال: «بل انتم يومىذ كثير ولكن غثاء كغثاء السيل ولينزعن الله من صدور عدوكم المهابة منكم وليقذفن في قلوبكم الوهن» . قال قاىل: يا رسول الله وما الوهن؟ قال: «حب الدنيا وكراهية الموت» . رواه ابو داود والبيهقي في «شعب الايمان» حسن ، رواہ ابوداؤد (4297) [و عنہ] و البیھقی فی دلاىل النبوۃ (6 / 534) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (يُوشِكُ الْأُمَمُ أَنْ تَدَاعَى عَلَيْكُمْ) অচিরেই কাফির ও বাতিল সম্প্রদায় তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তোমাদের শক্তিকে খর্ব করে তোমাদের অধিনস্থ ঘরবাড়ি ও সম্পদ দখল করার জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে আহ্বান করবে।
(كَمَا تَدَاعَى الْأَكَلَةُ إِلَى قَصْعَتِهَا) যেমনিভাবে খাদ্য গ্রহণকারী ব্যক্তিরা একে অপরকে খাদ্যের প্লেটে ডাকে। অর্থাৎ যেমনিভাবে খাদ্যগ্রহণকারী তার প্লেট থেকে বিনা কষ্টে খাদ্য গ্রহণ করে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে তারা তোমাদের অধিনস্থ ধন-সম্পদ বিনা বাধায় গ্রহণ করবে।
(وَلَكِن غُثَاءٌ كَغُثَاءِ السَّيْلِ) বরং তোমরা বন্যার পানিতে ভেসে আসা আবর্জনার মতো অনেক থাকবে, কিন্তু তোমাদের কোন শক্তি ও সাহস থাকবে না। তাই তোমাদেরকে বন্যার আবর্জনা ও খড়কুটার সাথে তুলনা দেয়া হয়েছে। ('আওনুল মা'বুদ ৭/৪২৯০, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাওবান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসা

৫৩৭০-[১১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে সম্প্রদায়ের মধ্যে খিয়ানত বা আত্মসাতের রোগ ঢুকে, আল্লাহ তা’আলা তাদের অন্তরে শত্রুর ভয় ঢেলে দেন। যে সম্প্রদায়ের মধ্যে যিনা ব্যভিচার বিস্তার লাভ করে তাদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। যে সম্প্রদায় মাপে-ওযনে কম দেয়, তাদের রিয়ক উঠিয়ে নেয়া হয়। যে সম্প্রদায় বিচারে ন্যায়নীতি রক্ষা করে না, তাদের মাঝে খুনাখুনি ব্যাপক হয়। আর যে সম্প্রদায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাদের ওপর শত্রুকে চেপে দেয়া হয়। (মালিক)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب تغير النَّاس)

عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: «مَا ظَهَرَ الْغُلُولُ فِي قَوْمٍ إِلَّا أَلْقَى اللَّهُ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ وَلَا فَشَا الزِّنَا فِي قَوْمٍ إِلَّا كَثُرَ فِيهِمُ الْمَوْتُ وَلَا نَقَصَ قَوْمُ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلَّا قَطَعَ عَنْهُمُ الرِّزْقَ وَلَا حَكَمَ قَوْمٌ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الدَّمُ وَلَا خَتَرَ قَوْمٌ بالعهد إِلا سُلِّطَ عَلَيْهِم عدوهم» . رَوَاهُ مَالك

اسنادہ ضعیف ، رواہ مالک (2 / 460 ح 1013) * السند فیہ بلاغ ، ای ھو غیر متصل و حدیث ابن ماجہ (4019 حسن بتحقیقی) :’’ یا معشر المھاجرین خمس اذا ابتلیتم بھن ‘‘ الخ یغنی عنہ

عن ابن عباس قال: «ما ظهر الغلول في قوم الا القى الله في قلوبهم الرعب ولا فشا الزنا في قوم الا كثر فيهم الموت ولا نقص قوم المكيال والميزان الا قطع عنهم الرزق ولا حكم قوم بغير حق الا فشا فيهم الدم ولا ختر قوم بالعهد الا سلط عليهم عدوهم» . رواه مالك اسنادہ ضعیف ، رواہ مالک (2 / 460 ح 1013) * السند فیہ بلاغ ، ای ھو غیر متصل و حدیث ابن ماجہ (4019 حسن بتحقیقی) :’’ یا معشر المھاجرین خمس اذا ابتلیتم بھن ‘‘ الخ یغنی عنہ

ব্যাখ্যা : (وَلَا فَشَا الزِّنَا فِي قَوْمٍ إِلَّا كَثُرَ فِيهِمُ الْمَوْتُ) আর যখন কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে যিনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে তখন তাদের মধ্যে মৃত্যুসংখ্যা বেড়ে যাবে। তথা তারা বিভিন্ন রোগ, মহামারিতে মারা যাবে অথবা অন্তর মরে যাবে অথবা ‘আলিম সম্প্রদায়ের মৃত্যু হবে।
(وَلَا نَقَصَ قَوْمُ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ) এবং যখন কোন সম্প্রদায় মাপে, ওযনে বা সংখ্যায় ধোঁকাবাজি করবে বা প্রতারণা করবে, তখন তাদের হালালভাবে উপার্জিত সম্পদের বরকত নষ্ট হয়ে যাবে।
(وَلَا حَكَمَ قَوْمٌ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا فَشَا فِيهِمُ الدَّمُ) আর যখন কোন সম্প্রদায় অন্যায়ভাবে বা অজ্ঞতাবশত ফায়সালা করবে, তখন তাদের মধ্যে রক্তপাত বা হত্যা বৃদ্ধি পাবে।
(وَلَا خَتَرَ قَوْمٌ بالعهد إِلا سُلِّطَ عَلَيْهِم عدوهم) আর যখন কোন সম্প্রদায় প্রাধান্য বিস্তারের আশায় ওয়াদা ভঙ্গ করবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের ওপর শত্রুদেরকে ক্ষমতা প্রদান করবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ

৫৩৭১-[১] ’ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি’ঈ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর ভাষণে বললেন, জেনে রাখ! আল্লাহ তা’আলা আমাকে আদেশ করেছেন যে, আমি তোমাদেরকে ঐ কথাটি অবহিত করি যা তোমরা জান না। আল্লাহ তা’আলা আজ আমাকে যে সমস্ত বিষয়ে অবগত করেছেন, (আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাকে যে সমস্ত সম্পদ দান করেছি, তা হালাল। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন, আমি আমার বান্দাদেরকে ন্যায় ও সত্যের উপরে সৃজন করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শয়তান এসে তাদেরকে দীন হতে ঘুরিয়ে দেয়, আর আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম শয়তান তাকে তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং শয়তান তাদেরকে এ আদেশ করে যে, তারা যেন আমার সাথে ঐ জিনিসকে শরীক করে নেয় যার সম্পর্কে কোন দলীল বা প্রমাণ অবতীর্ণ করা হয়নি।
আর আল্লাহ জমিনবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিলেন, তখন (তাদের চরম গোমরাহির কারণে) কতিপয় আহলে কিতাব ছাড়া আরবী, আজমী সকলের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ হলেন। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন, আমি তোমাকে [হে মুহাম্মাদ (সা.)] এজন্যই নবী বানিয়ে পাঠিয়েছি যে, তোমাকে পরীক্ষা করব আর তোমার সাথে তোমার উম্মতেরও পরীক্ষা করব আমি তোমার ওপর একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাকে পানিতে ধুতে পারবে না (তা অন্তরে সংরক্ষিত, কাজেই কেউ মেটাতে পারবে না)। তুমি তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় পাঠ করবে। আর আল্লাহ আমাকে এটাও নির্দেশ করেছেন- আমি যেন কুরায়শদেরকে জ্বালিয়ে (ধ্বংস করে) ফেলি আমি বললাম, এতে কুরায়শগণ তো আমার মস্তক পিষে রুটির মতো চ্যাপ্টা করে ফেলবে। (সংখ্যাগরিষ্ঠতার দরুন) তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, তারা তোমাকে যেভাবে (মক্কা হতে) বের করে দিয়েছে, সেভাবে আমিও তাদেরকে (বাড়িঘর হতে) বের করে দেব। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ কর, আমি তোমার যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দেব। তুমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর। আমি শীঘ্রই তোমার খরচের ব্যবস্থা করে দেব। তুমি তাদের (কুরায়শদের) বিরুদ্ধে সেনাদল প্রেরণ করবে, আমি শত্ৰু-শক্তির পাঁচ গুণ বেশি সৈন্য আর তোমার অনুসরণ করে তাদের সঙ্গে নিয়ে ঐ সমস্ত লোকেদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, যারা তোমার নাফরমানি করে। (মুসলিম)

الفصل الاول ( بَاب الْإِنْذَار والتحذير)

عَن عِيَاض بن حمَار الْمُجَاشِعِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ: أَلَا إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا: كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حلالٌ وإِني خلقت عبَادي حنفَاء كلهم وَإنَّهُ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا وَإِنَّ اللَّهَ نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلَّا بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَقَالَ: إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لِأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ وَأَنْزَلَتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ وَإِنَّ الله أَمرنِي أَن أحرقَ قُريْشًا فَقلت: يَا رَبِّ إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي فَيَدَعُوهُ خُبْزَةً قَالَ: اسْتَخْرِجْهُمْ كَمَا أَخْرَجُوكَ وَاغْزُهُمْ نُغْزِكَ وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقُ عَلَيْكَ وَابْعَثْ جَيْشًا نَبْعَثْ خَمْسَةً مِثْلَهُ وَقَاتِلْ بِمن أطاعك من عصاك . رَوَاهُ مُسلم

رواہ مسلم (62 / 2865)، (7207) ۔
(صَحِيح)

عن عياض بن حمار المجاشعي ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ذات يوم في خطبته: الا ان ربي امرني ان اعلمكم ما جهلتم مما علمني يومي هذا: كل مال نحلته عبدا حلال واني خلقت عبادي حنفاء كلهم وانه اتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم وحرمت عليهم ما احللت لهم وامرتهم ان يشركوا بي ما لم انزل به سلطانا وان الله نظر الى اهل الارض فمقتهم عربهم وعجمهم الا بقايا من اهل الكتاب وقال: انما بعثتك لابتليك وابتلي بك وانزلت عليك كتابا لا يغسله الماء تقروه ناىما ويقظان وان الله امرني ان احرق قريشا فقلت: يا رب اذا يثلغوا راسي فيدعوه خبزة قال: استخرجهم كما اخرجوك واغزهم نغزك وانفق فسننفق عليك وابعث جيشا نبعث خمسة مثله وقاتل بمن اطاعك من عصاك . رواه مسلم رواہ مسلم (62 / 2865)، (7207) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حلالٌ) আমি আমার বান্দাদের যে সম্পদ দান করেছি তা সম্পূর্ণ হালাল, তাতে কোন প্রকার হারাম নেই এবং কোন বান্দা নিজের পক্ষ থেকে তাকে হারাম করতে পারবে না।
(وإِني خلقت عبَادي حنفَاء كلهم) আর আমি আমার সকল বান্দাকে বাতিল পরিহার করে সত্য গ্রহণ করার যোগ্য করে সৃষ্টি করেছি। তাই তো নবী (সা.) বলেন, (كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ،) প্রত্যেক আদম সন্তান সঠিক স্বভাব তথা তাওহীদের উপর জন্মগ্রহণ করে। (সহীহ মুসলিম ২৬৫৮)।

(وَإِنَّ اللَّهَ نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ) এবং আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীবাসীর প্রতি লক্ষ্য করেন এবং ‘আরব ও অনারব সকলের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেন, রাগান্বিত হন তাদের মন্দ কাজের তথা শির্ক ও কুফরীর উপর সবাই ঐকমত্য পোষণ করার জন্য। তবে ইয়াহূদী খ্রীষ্টানদের কিছু সংখ্যক লোকের প্রতি নয়, যারা সঠিক ধর্মের উপর তথা ‘ঈসা আলায়হিস সালাম-এর শরীরের উপর অবশিষ্ট ছিল, এমনকি নবী (সা.) -এর প্রতি ঈমানও এনেছিল।

(إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لِأَبْتَلِيَكَ) আমি আপনাকে এজন্য পাঠিয়েছি যাতে আপনাকে পরীক্ষা করতে পারি কিভাবে আপনি আপনার সম্প্রদায়ের কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করেন।
(وَأَبْتَلِيَ بِ) এবং আপনার মাধ্যমে আপনার সম্প্রদায়কে পরীক্ষা করতে পারি তারা আপনার প্রতি ঈমান আনয়ন করে, নাকি কুফরী করে।
(وَأَنْزَلَتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ) এবং আপনার প্রতি এমন এক মহান কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা কখনো পানিতে ধুয়ে শেষ হয়ে যাবে না। বরং আমি উক্ত কিতাবকে মু'মিনদের অন্তরে সংরক্ষণ করে রেখেছি। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন, (اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَ اِنَّا لَهٗ لَحٰفِظُوۡنَ ﴿۹﴾) “নিশ্চয় আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার হিফাযাতকারী।” (সূরাহ আল হিজর ১৫ : ৯)

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা এমন একটি কিতাব যা অন্তরে সুরক্ষিত রয়েছে, কাগজের পৃষ্ঠা ধুয়ে ফেললেও এটা মুছে যাবে না। অথবা, আসমান ও জমিন যতদিন বাকী থাকবে ততদিন এটা মানুষের মাঝে থাকবে। এর বিধান কোনদিন রহিত হবে না এবং এর পঠন কোন দিন বাদ যাবে না। আর এটাকেই রূপকভাবে বলা হয়েছে, এর পৃষ্ঠা পানিতে ধুয়ে মুছে যাবে না।

(تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ) অর্থাৎ ঘুমন্ত ও জাগ্রত সর্বাবস্থায় আপনার মস্তিষ্কে এটা বিদ্যমান থাকবে আপনি কখনো তা থেকে উদাসীন থাকবেন না।
(أَنْفِقْ فَسَنُنْفِقُ عَلَيْكَ) আল্লাহর রাস্তায় সাধ্যানুযায়ী ব্যয় করুন, আমি আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে এর বিনিময় প্রদান করব। আল্লাহ তা'আলা বলেন, (وَ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَهُوَ یُخۡلِفُهٗ ۚ وَ هُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ)“...তোমরা যা খরচ করবে তার বিনিময় ভবিষ্যতে প্রদান করা হবে, তিনি উত্তম রিযকদাতা”- (সূরাহ্ সাবা ৩৪ : ৩৯)। (শারহুন নাবাবী ১৭/২৮৬৫, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ

৫৩৭২-[২] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাযিল হয় (وَ اَنۡذِرۡ عَشِیۡرَتَکَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ) “(হে নবী!) তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও”- (সূরাহ আশ শু’আরা ২৬ : ২১৪); তখন নবী (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠলেন এবং হে বনী ফিহর! হে বনী ’আদী! বলে কুরায়শদের বিভিন্ন গোত্রকে উচ্চৈঃস্বরে আহ্বান করলেন, এতে তারা সকলে জড়ো হয়ে গেল। অতঃপর তিনি (সা.) বললেন, বল তো আমি যদি এখন তোমাদেরকে বলি যে, এ পাহাড়ের উপত্যকায় একটি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী তোমাদের ওপর হঠাৎ আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? সমবেত সকলে বলল, হ্যা, কারণ আমরা আপনাকে সদা সত্যবাদীই পেয়েছি। তখন তিনি (সা.) বললেন, “আমি তোমাদের সম্মুখে একটি কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি।” এ কথা শুনে আবূ লাহাব বলল, সারাটা জীবন তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এজন্যই আমাদেরকে একত্রিত করেছ? এমতাবস্থায় অবতীর্ণ হলো (تَبَّتۡ یَدَاۤ اَبِیۡ لَهَبٍ وَّ تَبَّ ؕ)  “আবূ লাহাব-এর উভয় হাত ধ্বংস হোক এবং তার বিনাশ হোক”- (সূরাহ্ লাহাব ১১১:১)। (বুখারী ও মুসলিম)

অপর এক বর্ণনাতে আছে, নবী (সা.) ডাক দিলেন, হে আবদ মানাফ-এর বংশধর! মূলত আমার তোমাদের দৃষ্টান্ত হলো সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে শত্রুসৈন্যকে দেখে স্বীয় গোত্রকে বাঁচানোর জন্য চলল, অতঃপর আশঙ্কা করল যে, শত্রু তাদের ওপর আগে এসে আক্রমণ করে বসতে পারে। তাই সে উচ্চস্বরে (يَا صَبَاحَاهٗ) “হে সকাল বেলার বিপদ!” বলে সতর্ক করতে লাগল। (বুখারী)

الفصل الاول ( بَاب الْإِنْذَار والتحذير)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ (وَأَنْذِرْ عشيرتك الْأَقْرَبين) صَعِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّفَا فَجَعَلَ يُنَادِي: «يَا بَنِي فِهْرٍ يَا بَنِي عَدِيٍّ» لِبُطُونِ قُرَيْشٍ حَتَّى اجْتَمَعُوا فَقَالَ: «أَرَأَيْتَكُمْ لَوْ أَخْبَرْتُكُمْ أَنَّ خَيْلًا بِالْوَادِي تُرِيدُ أَنْ تُغِيرَ عَلَيْكُمْ أَكُنْتُمْ مُصَدِّقِيَّ؟ » قَالُوا: نَعَمْ مَا جَرَّبْنَا عَلَيْكَ إِلَّا صِدْقًا. قَالَ: «فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٌ شَدِيدٌ» . فَقَالَ أَبُو لَهَبٍ: تَبًّا لَكَ سَائِرَ الْيَوْمَ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا؟ فَنَزَلَتْ: (تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ) مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ نَادَى: «يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ رَأَى الْعَدُوَّ فَانْطَلَقَ يَرْبَأُ أَهْلَهُ فَخَشِيَ أَنْ يسبقوه فَجعل يَهْتِف يَا صَبَاحَاه»

متفق علیہ ، رواہ البخاری (4770) و مسلم (355 / 208 و 353 / 207)، (508 و 506) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

وعن ابن عباس قال: لما نزلت (وانذر عشيرتك الاقربين) صعد النبي صلى الله عليه وسلم الصفا فجعل ينادي: «يا بني فهر يا بني عدي» لبطون قريش حتى اجتمعوا فقال: «ارايتكم لو اخبرتكم ان خيلا بالوادي تريد ان تغير عليكم اكنتم مصدقي؟ » قالوا: نعم ما جربنا عليك الا صدقا. قال: «فاني نذير لكم بين يدي عذاب شديد» . فقال ابو لهب: تبا لك ساىر اليوم الهذا جمعتنا؟ فنزلت: (تبت يدا ابي لهب وتب) متفق عليه. وفي رواية نادى: «يا بني عبد مناف انما مثلي ومثلكم كمثل رجل راى العدو فانطلق يربا اهله فخشي ان يسبقوه فجعل يهتف يا صباحاه» متفق علیہ ، رواہ البخاری (4770) و مسلم (355 / 208 و 353 / 207)، (508 و 506) ۔ (متفق عليه)

ব্যাখ্যা : (أَرَأَ يْتَكُمْ لَوْ أَخْبَرْ تُكُمْ أَنَّ خَيْلًا بِالْوَادِىْ) তোমরা আমাকে সংবাদ দাও বা জানিয়ে দাও এই মর্মে যে, যদি আমি তোমাদেরকে বলি, শত্রুদল তোমাদের উপত্যকার পিছন থেকে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে? অর্থাৎ আমার কথাকে বিশ্বাস করবে? তারা বলল : হ্যাঁ, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করব। আমরা আপনার কাছ থেকে সত্য ছাড়া কোন দিন মিথ্যা কথা শুনিনি। অতএব আপনার কথা সত্য কি মিথ্যা তা পরীক্ষা করে দেখতে চাই না।

(قَالَ: «فَإِنِّي نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٌ شَدِيدٌ») আমি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি নাযিলের পূর্বেই সতর্ক করছি। অতএব তোমরা যদি আমার প্রতি ঈমান আনয়ন না কর, তাহলে অচিরেই তোমাদের ওপর শাস্তি অবতীর্ণ হবে।

(قَالَ أَبُو لَهَبٍ) আবূ লাহাব বলল! সে এ উপনামেই বেশি প্রসিদ্ধ ছিল। তার আসল নাম ‘আবদুল ‘উয্যা ইবনু মুত্ত্বালিব ইবনু হাশিম। নবী (সা.) -এর চাচা আবূ লাহাব উপনাম বা কুনিয়াত হওয়ার দুটি দিক রয়েছে। হয়তো সে অগ্নিশিখার মতো উজ্জ্বল ফর্সা ছিল নতুবা তার উভয় গাল উজ্জ্বল ফর্সা ছিল। আবূ লাহাব নামটি তার পরিণতি বিবেচনায় যথাযথ হয়েছে। যেহেতু পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, (سَیَصۡلٰی نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ)- “অচিরেই সে প্রবেশ করবে লেলিহান শিখাযুক্ত আগুনে”- (সূরাহ্ আল লাহাব ১১১ : ৩)।

(تَبًّا لَكَ سَائِرَ الْيَوْمَ) সারাদিন বা এখন থেকে দিনের বাকী অংশ তোমার জন্য ধ্বংস হোক।
(أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا؟) এ কথার সংবাদ দেয়ার জন্যই কি তুমি আমাদেরকে ডেকে একত্রিত করেছ? অতঃপর তখনই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়, (تَبَّتۡ یَدَاۤ اَبِیۡ لَهَبٍ وَّ تَبَّ) “ধ্বংস হোক আবূ লাহাব-এর হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক যে নিজেও।” অথবা এর অর্থ হচ্ছে সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই ধ্বংস হোক।
অত্র আয়াতে আবূ লাহাব-এর আসল নাম উল্লেখ না করে কুনিয়াত বা উপনাম ব্যবহার করা হয়েছে। হয়তো এ নামে বেশি প্রসিদ্ধি লাভ করার জন্য অথবা তার নাম আবদুল উযযা হওয়ার কারণে অথবা সে জাহান্নামী হওয়ার জন্য উপনাম ব্যবহার করাই বেশি উপযুক্ত হয়েছে। যদিও আসল নামের মধ্যে সৌন্দর্য বেশি থাকে।
(তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩৩৬৩, শারহুন নাবাবী কিতাবুল ঈমান’ ৩/২০৮, ফাতহুল বারী ‘কিতাবুত তাফসীর ৮/৪৭৭০, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ

৫৩৭৩-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাযিল হলো, (وَأَنْذِرْ عشيرتك الْأَقْرَبين)“হে নবী! তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সাবধান করে দাও”- (সূরা আশ শুআরা ২৬ : ২১৪); তখন নবী (সা.) কুরায়শদেরকে আহ্বান করলে তারা সমবেত হলো। তিনি (সা.) সতর্কবাণী শুনালেন। তিনি (সা.) বললেন, হে কা’ব ইবনু লুয়াই-এর বংশধর! হে মুররাহ্ ইবনু কা’ব-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর! হে ’আবদ শামস্-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে আগুন হতে বাঁচাও! হে ’আবদ মানাফ-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে আগুন থেকে মুক্ত কর! হে হাশিম-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর! হে ’আবদুল মুত্ত্বালিব-এর বংশধর! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাও! হে ফাতিমাহ্! তুমি তোমার দেহকে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচাও! কেননা, আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে তোমাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, তা আমি (দুনিয়াতে) ভালো আচরণ দ্বারা সিক্ত করব। (মুসলিম)

বুখারী ও মুসলিম-এর যৌথ বর্ণনায় আছে, নবী (সা.) বললেন: হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমাদের জানকে খরিদ করে নাও (অর্থাৎ- আমার ওপরে ঈমান এনে জাহান্নামের আগুন হতে আত্মরক্ষা কর)। আমি তোমাদের ওপর থেকে আল্লাহর শাস্তি কিছুই দূর করতে পারব না। হে আবদ মানাফ-এর বংশধর! আমি তোমাদের ওপর হতে আল্লাহর শাস্তি কিছুই দূর করতে পারব না। হে রাসূলুল্লাহর ফুফী সফিয়্যাহ! আমি তোমাকে আল্লাহর ’আযাব হতে বাঁচাতে পারব না। হে মুহাম্মাদ-এর মেয়ে ফাতিমাহ! আমার কাছে দুনিয়াবী ধন-সম্পদ হতে যা ইচ্ছা তা চাইতে পার, কিন্তু আমি তোমাকে আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করতে পারব না।

الفصل الاول ( بَاب الْإِنْذَار والتحذير)

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ (وَأَنْذِرْ عشيرتك الْأَقْرَبين) دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُرَيْشًا فَاجْتَمَعُوا فَعَمَّ وَخَصَّ فَقَالَ: «يَا بَنِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ يَا بَنِي مُرَّةَ بْنِ كَعْبٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ من النَّار يَا بني عبد منَاف أَنْقِذُوا أَنفسكُم من النَّار. با بَنِي هَاشِمٍ أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ. يَا بني عبد الْمطلب أَنْقِذُوا أَنفسكُم من النَّار. يَا فَاطِمَةُ أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّ لَكُمْ رَحِمًا سَأَبُلُّهَا بِبَلَالِهَا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفَى الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ قَالَ: «يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا وَيَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا. وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا»

رواہ مسلم (348 / 204)، (501) 0 و حدیث ’’ یا معشر قریش ‘‘ الخ متفق علیہ (البخاری : 2753 و مسلم :351 / 206)، (504) ۔
(صَحِيح)

وعن ابي هريرة قال: لما نزلت (وانذر عشيرتك الاقربين) دعا النبي صلى الله عليه وسلم قريشا فاجتمعوا فعم وخص فقال: «يا بني كعب بن لوي انقذوا انفسكم من النار يا بني مرة بن كعب انقذوا انفسكم من النار. يا بني عبد شمس انقذوا انفسكم من النار يا بني عبد مناف انقذوا انفسكم من النار. با بني هاشم انقذوا انفسكم من النار. يا بني عبد المطلب انقذوا انفسكم من النار. يا فاطمة انقذي نفسك من النار فاني لا املك لكم من الله شيىا غير ان لكم رحما سابلها ببلالها» . رواه مسلم وفى المتفق عليه قال: «يا معشر قريش اشتروا انفسكم لا اغني عنكم من الله شيىا ويا صفية عمة رسول الله لا اغني عنك من الله شيىا. ويا فاطمة بنت محمد سليني ما شىت من مالي لا اغني عنك من الله شيىا» رواہ مسلم (348 / 204)، (501) 0 و حدیث ’’ یا معشر قریش ‘‘ الخ متفق علیہ (البخاری : 2753 و مسلم :351 / 206)، (504) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (أَنْقِذُوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ النَّارِ) তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত কর।
(فَإِنِّي لَا أَمْلِكُ لَكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا) তোমাদের কাউকে ব্যাপকভাবে অথবা নির্দিষ্ট করে আল্লাহর শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারব না, অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা যদি তোমাদেরকে শাস্তি দিতে চান তাহলে আমি তোমাদেরকে তার শাস্তি হতে রক্ষা করতে সক্ষম হব না। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে,
(قُلۡ فَمَنۡ یَّمۡلِکُ لَکُمۡ مِّنَ اللّٰهِ شَیۡئًا اِنۡ اَرَادَ بِکُمۡ ضَرًّا اَوۡ اَرَادَ بِکُمۡ نَفۡعًا) “(তাদেরকে) বল, আল্লাহ তোমাদের কোন ক্ষতি বা কোন কল্যাণ করার ইচ্ছে করলে তার বিপক্ষে তোমাদের জন্য কিছু করার ক্ষমতা কার আছে?..." (সূরাহ্ আল ফাতহ ৪৮:১১)
এমনকি আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন- (قُلۡ لَّاۤ اَمۡلِکُ لِنَفۡسِیۡ نَفۡعًا وَّ لَا ضَرًّا اِلَّا مَا شَآءَ اللّٰهُ)
“বল, আল্লাহ যা ইচ্ছে করেন তাছাড়া আমার নিজের ভালো বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা আমার নেই...।” (সূরা আল আ'রাফ ৭: ১৮৮)।
মূলত এ বিধানটি এককভাবে কাউকে রক্ষা করার জন্য। যদিও নবী (সা.) -এর শাফা'আত মু'মিন বান্দাদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তথাপি তিনি বলেছেন- আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কিছুই করতে পারব না। এটা এ কারণে যে, এর মাধ্যমে তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা, যাতে তারা পরকালীন পাথেয় উপার্জন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আমার ওপর নির্ভর করে বসে না থাকে।

(غَيْرَ أَنَّ لَكُمْ رَحِمًا سَأَبُلُّهَا بِبَلَالِهَا) তবে তোমাদের সাথে আমার যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে তা দয়া, অনুগ্রহ, অন্যায়ের প্রতিবাদ ইত্যাদি ভালো আচরণের মাধ্যমে সর্বদা রক্ষা করে চলব।
(ফাতহুল বারী ‘কিতাবুত তাফসীর ৮/৪৭৭১, শারহুন নাবাবী কিতাবুল ঈমান ৩/৩৪৮, তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/৩১৮৫, মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ

৫৩৭৪-[৪] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার এ উম্মাত আল্লাহর রহমাতপ্রাপ্ত উম্মত, তাদের ওপর পরকালে শাস্তি হবে না। তবে ইহকালে তাদের ’আযাব হলো ফিতনাহ্, ভূমিকম্প ও হত্যাযজ্ঞ। (আবূ দাউদ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الْإِنْذَار والتحذير)

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمَّتِي هَذِهِ أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ لَيْسَ عَلَيْهَا عَذَابٌ فِي الْآخِرَةِ عَذَابُهَا فِي الدُّنْيَا: الْفِتَنُ وَالزَّلَازِلُ وَالْقَتْلُ . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4278) ۔
(صَحِيح)

عن ابي موسى قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: امتي هذه امة مرحومة ليس عليها عذاب في الاخرة عذابها في الدنيا: الفتن والزلازل والقتل . رواه ابو داود اسنادہ حسن ، رواہ ابوداؤد (4278) ۔ (صحيح)

ব্যাখ্যা : (أُمَّتِي هَذِهِ) বর্তমানে বিদ্যমান আমার এই উম্মতেরা অথবা সাধারণভাবে আমার উম্মাত।
(أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ) সকল নবীর উম্মতের চাইতে অতিরিক্ত রহমতপ্রাপ্ত, কেননা আমাদের নবী রহমাতুল্লিল ‘আলামীন তথা সারা বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ।
(لَيْسَ عَلَيْهَا عَذَابٌ فِي الْآخِرَةِ) পরকালে তাদের কঠিন শাস্তি হবে না। তাদের অপরাধগুলো দুনিয়ার মেহনত, রোগ বালাই এবং বিভিন্ন বালা-মুসীবাতের মাধ্যমে প্রতিদান হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ দুনিয়াতের যাদের শাস্তি হয়ে যাবে পরকালে তাদের কাফিরদের মতো শাস্তি হবে না। তাই তো আল্লাহ বলেন, (...مَنۡ یَّعۡمَلۡ سُوۡٓءًا یُّجۡزَ بِهٖ...) “...যে ব্যক্তি কোন কুকর্ম করবে, সে তার বিনিময়প্রাপ্ত হবে...।” (সূরা আন্ নিসা ৪: ১২৩)
উক্ত কথার সমর্থন হিসেবে হাদীসের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, (عَذَابُهَا فِي الدُّنْيَا: الْفِتَنُ وَالزَّلَازِلُ وَالْقَتْلُ)
তাদের শাস্তি হলো তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ, দুনিয়াতে বিগ্রহ, বিপদাপদ ভয়-ভীতি, অন্যায়ভাবে একে অপরকে হত্যা করা। মূলত দুনিয়ার শাস্তি পরকালে শাস্তির চাইতে অনেক হালকা। অথবা হাদীসটি ঐ সমস্ত লোকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের কোন কবীরাহ গুনাহ নেই। অথবা এর মাধ্যমে হয়তো একটি বিশেষ দল তথা সাহাবীদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। যেহেতু তিনি ঘোষণা করেছেন,
(اِنَّ اللّٰهَ لَا یَغۡفِرُ اَنۡ یُّشۡرَکَ بِهٖ وَ یَغۡفِرُ مَا دُوۡنَ ذٰلِکَ لِمَنۡ یَّشَآءُ) “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করবেন না, এটা ছাড়া অন্য সব যাকে ইচ্ছে মাফ করবেন।” (সূরা আন্ নিসা ৪: ৪৮)
‘আল্লামাহ্ মুযহির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসটি মুশকিল তথা সন্দেহপূর্ণ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত। কেননা হাদীসের বক্তব্য হচ্ছে, এই উম্মতের কাউকে শাস্তি প্রদান করা হবে না যদিও তারা কবীরাহ সহ অন্যান্য গুনাহ করে থাকে। অথচ অন্য হাদীসে কবীরাহ্ গুনাহকারীদের জন্য শাস্তির কথা বলা হয়েছে। তবে আমরা যদি হাদীসের ব্যাখ্যা এভাবে করি তাতে সমস্যা দূরীভূত হয়। তা হলো এখানে উম্মত বলতে তাদেরকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা নবী (সা.) -কে যথাযথভাবে অনুসরণ করে এবং আল্লাহ তা'আলার আদেশ-নিষেধকে পুরোপুরি মেনে চলে।
‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসটিতে খাস করে মুহাম্মাদ (সা.) -এর উম্মতের প্রশংসা করা হয়েছে। আর অন্যান্য সকল উম্মতের চাইতে এই উম্মতের প্রতি আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। দুনিয়াতে তারা যদি কোন মুসীবতে পতিত হয় এমনকি দুনিয়াতে যদি তাদের পায়ে কাটা বিধে, পরকালে এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলা তাদের গুনাহ মোচন করে দিবেন, যা অন্যান্য উম্মাতের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে নেই। এর প্রমাণ হলে হাদীসের ভাষ্য (مَرْحُومَةٌ) (অনুগ্রহপ্রাপ্ত)। (আওনুল মা'বুদ ৭/৪২৭২, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ

৫৩৭৫-[৫], ৫৩৭৬-[৬] আবূ উবায়দাহ্ ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: এ দীনের (ইসলামের) শুরু হয়েছে নুবুওয়্যাত ও রহমতের দ্বারা। অতঃপর আসবে খিলাফত ও রহমতের যুগ, তারপর আসবে অত্যাচারী বাদশাহদের যুগ। এরপর আসবে নির্দয়তা উচ্ছৃঙ্খলতা ও দেশে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীর যুগ। তারা রেশমি কাপড় পরিধান করা, অবৈধভাবে নারীদের যৌনাঙ্গ উপভোগ করা এবং মদ্য পান করাকে বৈধ মনে করবে। এতদসত্ত্বেও তাদেরকে রিযক দেয়া হবে এবং (দুনিয়াবী কাজে) তাদেরকে সাহায্য করা হবে। অবশেষে এ পাপের মধ্যে লিপ্ত থেকে কিয়ামতে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। (বায়হাক্বী’র শুআবূল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الْإِنْذَار والتحذير)

وَعَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ هَذَا الْأَمْرَ بَدَأَ نُبُوَّةً وَرَحْمَةً ثُمَّ يَكُونُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً ثُمَّ مُلْكًا عَضُوضًا ثُمَّ كَانَ جَبْرِيَّةً وَعُتُوًّا وَفَسَادًا فِي الْأَرْضِ يَسْتَحِلُّونَ الْحَرِيرَ وَالْفُرُوجَ وَالْخُمُورَ يُرْزَقُونَ عَلَى ذَلِكَ وَيُنْصَرُونَ حَتَّى يَلْقَوُا اللَّهَ» رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (5616 ، نسخۃ محققۃ : 5228) [و ابو یعلی (873)] * لیث بن ابی سلیم : ضعیف ، و للحدیث شواھد ۔
(ضَعِيف)

وعن ابي عبيدة ومعاذ بن جبل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ان هذا الامر بدا نبوة ورحمة ثم يكون خلافة ورحمة ثم ملكا عضوضا ثم كان جبرية وعتوا وفسادا في الارض يستحلون الحرير والفروج والخمور يرزقون على ذلك وينصرون حتى يلقوا الله» رواه البيهقي في «شعب الايمان» اسنادہ ضعیف ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (5616 ، نسخۃ محققۃ : 5228) [و ابو یعلی (873)] * لیث بن ابی سلیم : ضعیف ، و للحدیث شواھد ۔ (ضعيف)

ব্যাখ্যা : نَّ هَذَا الْأَمْرَ بَدَأَ نُبُوَّةً وَرَحْمَةً  মানুষকে দুনিয়া ও আখিরাতে সংশোধনের নিমিত্তে ইসলামের এই সমস্ত বিধি-বিধানের সূচনা হয়েছে রহমাতপ্রাপ্ত নবীর ওপর ওয়াহী অবতীর্ণের মাধ্যমে। উম্মাতে মুহাম্মাদীর ওপর অনুগ্রহস্বরূপ।
(ثُمَّ يَكُونُ خِلَافَةً وَرَحْمَةً) অতঃপর ইসলামের বিধি-বিধান নির্ভর খিলাফতের মাধ্যমে প্রাপ্ত পরিপূর্ণ অনুসরণীয় ক্ষমতার উপর ৩০ বছর পর্যন্ত এই উম্মতের ওপর অনুগ্রহস্বরূপ।
(ثُمَّ مُلْكًا عَضُوضًا) অতঃপর প্রজাদের ওপর যুলুম নির্ভর রাজতন্ত্রের আগমন ঘটবে। যারা অন্যায়ভাবে প্রজাদের উপর যুলম করবে। তবে ‘উমার ইবনু আবদুল আযীয ব্যতীত যাকে ইসলামের পঞ্চম খলীফাহ্ ও দ্বিতীয় ‘উমার বলা হয়।

(ثُمَّ كَانَ جَبْرِيَّةً وَعُتُوًّا وَفَسَادًا فِي الْأَرْضِ) অতঃপর এ বিষয়টি অন্যায়ভাবে জোর দখল করে সংঘটিত হবে। যারা হবে অহংকারী ও পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, আর এ ব্যবস্থাটি দীর্ঘকাল পর্যন্ত চলতেই থাকবে।
প্রথমত, তারা ইমারতের শর্তাবলির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে প্রজাদের ওপর অন্যায়ভাবে যুলম করবে।
দ্বিতীয়ত, প্রজাদের ওপর অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে অন্যায়ের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে।
তৃতীয়ত, তারা জোর করে চাকুরী কুক্ষিগত করবে। হকদার বিবেকবানদেরকে ক্ষমতা বঞ্চিত করবে। আলিম ‘উলামাহ্ ও সৎ লোকেদেরকে উপেক্ষা করে চলবে। আর অধিকাংশ শাসকই কাফির ও বাতিলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিত্যাগ করে বিপর্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে ও ক্ষমতা ধরে বাঁচার জন্য মুসলিমদের সাথে লড়াই করবে। তারা রেশমী কাপড় পরা, মদ, জুয়া ও ব্যভিচারকে বৈধ মনে করবে।

(يُرْزَقُونَ عَلَى ذَلِكَ وَيُنْصَرُونَ) আর তারা এ সমস্ত অবৈধ কাজকে বৈধতা দানের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করবে এবং তারা এই উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য একে অন্যকে সাহায্য করবে এমনভাবে যে, বিবেকানরা তা বুঝতেই পারবে না। আর এভাবেই তারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। তথা কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই চলবে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন
(وَ لَا تَحۡسَبَنَّ اللّٰهَ غَافِلًا عَمَّا یَعۡمَلُ الظّٰلِمُوۡنَ ۬ؕ اِنَّمَا یُؤَخِّرُهُمۡ لِیَوۡمٍ تَشۡخَصُ فِیۡهِ الۡاَبۡصَارُ) “যালিমরা যা করছে সে ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে কক্ষনো উদাসীন মনে করো না। তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত ঢিল দিচ্ছেন যেদিন ভয়ে আতঙ্কে চক্ষু স্থির হয়ে যাবে”- (সূরাহ ইবরাহীম ১৪ : ৪২)। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ

৫৩৭৭-[৭] ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -কে বলতে শুনেছি, সর্বপ্রথম যে জিনিসকে উল্টিয়ে দেয়া হবে- বর্ণনাকারী যায়দ ইবনু ইয়াহইয়া বলেন- অর্থাৎ ইসলামী বিধানসমূহ যেভাবে কোন পাত্রকে উল্টিয়ে দেয়া হয়, তা হবে শরাবের ব্যাপারটি। তখন জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তা কিরূপে হবে? অথচ শরাব যে অবৈধ, তার বিধান তো আল্লাহ তা’আলা সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। তখন তিনি (সা.) বললেন, তারা অন্য নামে তার নামকরণ করে বৈধ সাব্যস্ত করে নেবে। (দারিমী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الْإِنْذَار والتحذير)

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ أَوَّلَ مَا يُكْفَأُ - قَالَ زَيْدُ بْنُ يَحْيَى الرَّاوِيُّ: يَعْنِي الْإِسْلَامَ - كَمَا يُكْفَأُ الْإِنَاءُ يَعْنِي الْخَمْرَ. قِيلَ: فَكَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ بَيَّنَ اللَّهُ فِيهَا مابين؟ قَالَ: «يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا فَيَسْتَحِلُّونَهَا» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ

حسن ، رواہ الدارمی (2 / 114 ح 2106 ، نسخۃ محققۃ : 2145) * و سندہ حسن و رواہ ابی یعلی فی مسندہ (8 / 177 ح 4731) من حدیث فرات بن سلمان عن القاسم بن محمد بہ

وعن عاىشة قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ان اول ما يكفا - قال زيد بن يحيى الراوي: يعني الاسلام - كما يكفا الاناء يعني الخمر. قيل: فكيف يا رسول الله وقد بين الله فيها مابين؟ قال: «يسمونها بغير اسمها فيستحلونها» . رواه الدارمي حسن ، رواہ الدارمی (2 / 114 ح 2106 ، نسخۃ محققۃ : 2145) * و سندہ حسن و رواہ ابی یعلی فی مسندہ (8 / 177 ح 4731) من حدیث فرات بن سلمان عن القاسم بن محمد بہ

ব্যাখ্যা : (إِنَّ أَوَّلَ مَا يُكْفَأُ... كَمَا يُكْفَأُ الْإِنَاءُ) ইসলামের যে বিধিবিধান সর্বপ্রথম পরিবর্তন হয়ে যাবে বা উল্টে যাবে যেভাবে মদের বিধান পরিবর্তন হয়ে যাবে তা হলো মদের ব্যাপারটি।
(قِيلَ: فَكَيْفَ يَا رَسُولَ اللَّهِ) বলা হলো, হে আল্লাহর রসূল! কিভাবে বিধানে হারাম বিষয় হালালে পরিণত হবে অথচ আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে সবকিছু বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন?
(قَالَ: «يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا) তিনি বললেন : মদের নাম পরিবর্তন করে অন্য নামকরণ করবে এবং এভাবে তাকে বৈধ প্রমাণ করবে যদিও তা অন্যায় ও হারাম হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ

৫৩৭৮-[৮] নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হুযায়ফাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন তোমাদের মাঝে নুবুওয়্যাত পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তাকে তুলে নেবেন, তারপর আল্লাহ যতদিন চাইবেন ততদিন নুবুয়্যাতের নিয়মানুযায়ী খিলাফত থাকবে, অতঃপর এমন এক সময় তাও উঠিয়ে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে দংশনকারী বাদশাহী, আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী তা যতদিন থাকার থাকবে, পরে এমন সময় তাকেও উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর চেপে বসবে একনায়কত্ব, অপ্রতিরোধ্য রাজতন্ত্র। আল্লাহর ইচ্ছা যতদিন থাকার থাকবে, পরে তাকেও তুলে নেবেন। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে পুনরায় নুবুওয়্যাতের তরীকায় খিলাফত। এ পর্যন্ত বলার পর রসূল (সা.) নীরব হলেন।
বর্ণনাকারী হাবীব বলেন, যখন ’উমার ইবনু আবদুল আযীয খলীফাহ্ হলেন তখন আমি তাকে এ হাদীসটি লিখিয়ে পাঠালাম এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর ভবিষ্যদ্বাণীটি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলাম। অতঃপর বললাম, দংশনকারী ও একনায়কত্ববাদী রাজতন্ত্রের পর আমি মনে করি আপনিই ঐ আমীরুল মু’মিনীন বা খলীফাহ [যার কথা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলে গেছেন]। এতে তিনি অর্থাৎ ’উমার ইবনু ’আবদুল আযীয আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। (আহমাদ ও বায়হাক্বী’র “দালায়িলুন নুবুওয়্যাহ)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَاب الْإِنْذَار والتحذير)

عَن النُّعْمَان بن بشير عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا اللَّهُ تَعَالَى ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ نُبُوَّةٍ» ثُمَّ سَكَتَ قَالَ حَبِيبٌ: فَلَمَّا قَامَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبْتُ إِلَيْهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ أُذَكِّرُهُ إِيَّاهُ وَقُلْتُ: أَرْجُو أَنْ تَكُونَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بَعْدَ الْمُلْكِ الْعَاضِّ وَالْجَبْرِيَّةِ فَسُرَّ بِهِ وَأَعْجَبَهُ يَعْنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ. رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي «دَلَائِل النُّبُوَّة»

اسنادہ صحیح ، رواہ احمد (4 / 273 ح 18596 ، و البیھقی فی دلائل النبوۃ 6 / 491)

عن النعمان بن بشير عن حذيفة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تكون النبوة فيكم ما شاء الله ان تكون ثم يرفعها الله تعالى ثم تكون خلافة على منهاج النبوة ما شاء الله ان تكون ثم يرفعها الله تعالى ثم تكون ملكا عاضا فتكون ما شاء الله ان تكون ثم يرفعها الله تعالى ثم تكون ملكا جبرية فيكون ما شاء الله ان يكون ثم يرفعها الله تعالى ثم تكون خلافة على منهاج نبوة» ثم سكت قال حبيب: فلما قام عمر بن عبد العزيز كتبت اليه بهذا الحديث اذكره اياه وقلت: ارجو ان تكون امير المومنين بعد الملك العاض والجبرية فسر به واعجبه يعني عمر بن عبد العزيز. رواه احمد والبيهقي في «دلاىل النبوة» اسنادہ صحیح ، رواہ احمد (4 / 273 ح 18596 ، و البیھقی فی دلاىل النبوۃ 6 / 491)

ব্যাখ্যা : (تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ) তোমাদের মধ্যে নুবুওয়্যাতের ধারা যতদিন আল্লাহ চান বাকী থাকবে, এরপর এই ধারা উঠে খিলাফতের ধারা ৩০ বছর পর্যন্ত চালু হবে, এরপর নুবুওয়্যাত খিলাফতের পরিবর্তে রাজতন্ত্র চালু হবে। যারা পরস্পরে হানাহানি করবে যেমন কুকুরের মতো কামড়াকামড়ি করে। এই ধারা আল্লাহ যতদিন চান চলবে। এরপর চালু হবে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র। আল্লাহ যতদিন চান এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এরপর আবার নুবুওয়্যাতের ধারায় খিলাফত পরিচালিত হবে, অথাৎ ইনসাফ ফিরে আসবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২২২ পর্যন্ত, সর্বমোট ২২২ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে