পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
إِيْمَانِ (ঈমান)-এর শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা, সত্যায়ন করা ইত্যাদি। এর শার’ঈ অর্থ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। হানাফীদের মতেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীনের অত্যাবশ্যকীয় বিস্তারিত এবং সংক্ষিপ্ত যে বিধানাবলী নিয়ে এসেছেন সেগুলোর ক্ষেত্রে কোন দলীল না থাকলেও চূড়ান্তভাবে তাকে সত্যায়ন করা। ঈমানটি তাদের নিকট যৌগিক কোন বিষয় নয় বরং এটি(بَسِيْطٌ) বাসীত্ব (একক) যা পরিমাণের দৃষ্টিকোণ থেকে কম-বেশি গ্রহণ করে না। (অর্থাৎ- ঈমান কোন সৎকাজের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় না এবং পাপ কাজের মাধ্যমে হ্রাস পায় না)। মুরজিয়াহ্ সম্প্রদায়ের মতেঃ ঈমান হলো শুধুমাত্র বিশ্বাস স্থাপন করা। জিহ্বার স্বীকৃতি ঈমানের কোন রুকনও না, শর্তও না। ফলে হানাফীদের মতো তারাও ’আমলকে ঈমানের প্রকৃত অর্থের বহির্ভূত গণ্য করেছে এবং ঈমানের আংশিকতাকে অস্বীকার করেছে। তবে হানাফীরা এর (’আমলের) প্রতি গুরুত্বারোপ, এর প্রতি উদ্বুদ্ধ এবং ঈমান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটিকে একটি কারণ হিসেবে গণ্য করলেও মুরজিয়ারা এটিকে সমূলে ধ্বংস করে বলেছে ’আমলের কোন প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র বিশ্বাস স্থাপন করলেই পরিত্রাণ মিলবে তাতে যে যত অপরাধই করুক না কেন। কাররামিয়্যাহ্ সম্প্রদায়ের মতেঃ ঈমান হলো শুধুমাত্র উচ্চারণ করা। ফলে তাদের নিকট নাজাতের জন্য মৌখিক স্বীকৃতিই যথেষ্ট, চাই সত্যায়ন পাওয়া যাক বা না যাক।
ইমাম মালিক, শাফি’ঈ, আহমাদসহ জমহূর ’উলামাগণের মতেঃ ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস করা, জিহবায় উচ্চারণ করা এবং রুকনসমূহের প্রতি ’আমল করা। তাদের নিকট ঈমান একটি যৌগিক বিষয় যা কমে এবং বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে কুরআন সুন্নাহর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। এটিই হলো সর্বাধিক সঠিক অভিমত। মু’তাযিলাহ্ এবং খারিজীগণের নিকট ঈমানের সংজ্ঞা জমহূরের মতই তবে উভয়ের মাঝে পার্থক্য হলো ঈমানের সকল অংশকে জমহূর সমান হিসেবে গণ্য করেননি। ফলে তাদের নিকট ’আমলসমূহ যেমন সালাতের ওয়াজিব বিষয়গুলো তার রুকনের মতো নয়।
অতএব ’আমল না থাকলে কোন ব্যক্তি ঈমানের গণ্ডী থেকে বের না হয়ে তার মধ্যেই থাকবে এবং ’আমল পরিত্যাগকারী অনুরূপ কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে জড়িত ব্যক্তি ফাসিক্ব-মু’মিন থাকবে সে কাফির হয়ে যাবে না। পক্ষান্তরে কারো মাঝে যদি শুধু তাসদীক না পাওয়া যায় তাহলে সে মুনাফিক্ব আর ইক্বরার বা স্বীকৃতি না পাওয়া গেলে কাফির। কিন্তু যদি শুধুমাত্র ’আমলগত ত্রুটি থাকে তাহলে সে ফাসিক্ব যে জাহান্নামে চিরদিন অবস্থান করা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর খারিজী এবং মু’তাজিলীরা যৌগিক ঈমানের সকল অংশকে সমান হিসেবে গণ্য করে এভাবে যে, ঈমানের কিছু অংশ বাদ পড়লে সমস্তটাই বাদ বলে পরিগণিত হবে। আর ’আমলটি তাদের নিকট ঈমানের একটি রুকন যেমনটি সালাতের বিভিন্ন রুকন রয়েছে। তাই ’আমল পরিত্যাগকারী তাদের নিকট ঈমান বহির্ভূত লোক। খারিজীদের মতে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি অনুরূপ ’আমল পরিত্যাগকারী ব্যক্তি কাফির যে জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে। আর মু’তাজিলাদের মতে সে মু’মিনও নয় কাফিরও নয় বরং তাকে ফাসিক্ব বলা হবে যে চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
২-[১] ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি আমাদের নিকট আত্মপ্রকাশ করলেন। ধবধবে সাদা তাঁর পোশাক। চুল তাঁর কুচকুচে কালো। না ছিল তাঁর মধ্যে সফর করে আসার কোন চিহ্ন, আর না আমাদের কেউ তাকে চিনতে পেরেছেন। তিনি এসেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর সাথে তাঁর হাঁটু মিলিয়ে দিলেন। তাঁর দু’হাত তাঁর দুই উরুর উপর রেখে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে কিছু বলুন, অর্থাৎ- ইসলাম কি? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’ইসলাম হচ্ছে- তুমি সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত আর কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ/হজ্জ) করবে যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে।’’ আগন্তুক বললেন, আপনি ঠিকই বলেছেন।’’ আমরা আশ্চর্যান্বিত হলাম একদিকে তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (অজ্ঞের ন্যায়) প্রশ্ন করলেন, আবার অপরদিকে রসূলের বক্তব্যকে (বিজ্ঞের ন্যায়) সঠিক বলে সমর্থনও করলেন।
এরপর তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ’’আমাকে ঈমান সম্পর্কে কিছু বলুন।’’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তর দিলেন, ঈমান হচ্ছেঃ আল্লাহ তা’আলা, তাঁর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ), তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসূলগণ এবং পরকালকে সত্য বলে বিশ্বাস করা। এছাড়া তাক্বদীরের উপর, অর্থাৎ- জীবন ও জগতে কল্যাণ-অকল্যাণ যা কিছু ঘটছে, সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হচ্ছে- এ কথার উপর বিশ্বাস করা। উত্তর শুনে আগন্তুক বললেন, ’’আপনি ঠিকই বলেছেন’’।
অতঃপর তিনি আবার বললেন, ’’আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন।’’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ইহসান হচ্ছে, ’’তুমি এমনভাবে আল্লাহর ’ইবাদাত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছো। আর তুমি যদি তাকে না-ও দেখো, তিনি তোমাকে অবশ্যই দেখছেন’’।
আগন্তুক এবার বললেন, ’’আমাকে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কে বলুন।’’ উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক কিছু জানেন না।’’ আগন্তুক বললেন, ’’তবে কিয়ামতের (কিয়ামতের) নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বলুন।’’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’কিয়ামতের (কিয়ামতের) নিদর্শন হলো, দাসী তাঁর আপন মুনীবকে প্রসব করবে, তুমি আরো দেখতে পাবে- নগ্নপায়ী বিবস্ত্র হতদরিদ্র মেষ চালকেরা বড় বড় দালান-কোঠা নিয়ে গর্ব ও অহংকার করবে।’’ ’উমার (রাঃ) বললেন, অতঃপর আগন্তুক চলে গেলে আমি কিছুক্ষণ সেখানেই অবস্থান করলাম। পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, হে ’উমার! প্রশ্নকারী আগন্তুককে চিনতে পেরেছো?’’ আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, ’’ইনি হচ্ছেন জিবরীল (আঃ)। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দীন শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন’’। (মুসলিম)[1]
الفصل الاول
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم فأسند رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخْذَيْهِ وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الْإِسْلَامِ قَالَ: الْإِسْلَامُ: أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا . قَالَ: صَدَقْتَ. فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِيمَانِ. قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» . قَالَ صَدَقْتَ. قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الْإِحْسَانِ. قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» . قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ. قَالَ: «مَا المسؤول عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ» . قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا. قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ» . قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا ثُمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ» ؟ قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيل أَتَاكُم يعلمكم دينكُمْ» . رَوَاهُ مُسلم
এ হাদীসের ব্যাখ্যায় দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ এখানে فَخِذَيْهِ (ফাখিযায়হি) দ্বারা জিবরীল (আঃ) এর নিজের উরুদ্বয় উদ্দেশ্য। তবে সঠিক মত হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উরুদ্বয়, জিবরীল (আঃ) এর নয় যা ‘আল্লামা হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এ হাদীসের বর্ণনা প্রসঙ্গ ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ), আবূ যার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত ইমাম নাসায়ীর সহীহ সানাদ বিশিষ্ট বর্ণনা তথা حَتّى وَضَعَ يَدَه عَلى رُكْبَتى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ থেকে সুস্পষ্টভাবে এটিই বুঝা যায়।
رَبَّةٌ (রব্বাতুন) অর্থ মুনীব। মুসলিম-এর বর্ণনায় أمَارَاتٌ বহুবচন শব্দের জায়গায় أَمَارَةٌ একবচন শব্দ রয়েছে।
أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا -এর অর্থ দাসী তার মুনীবের সন্তান জন্ম দিবে এবং পরবর্তীতে সে সন্তানটিই তার মুনীবের স্থলাভিষিক্ত হবে। আবার কেউ কেউ অন্য অর্থও বলেছেন।
Chapter - Section 1
‘Umar b. al-Khattab said:
One day when we were with God's messenger, a man with very white clothing and very black hair came up to us. No mark of travel was visible on him, and none of us recognised him. Sitting down beside the Prophet, leaning his knees against his, and placing his hands on his thighs, he said, “Tell me, Muhammad, about Islam." He replied, “Islam means that you should testify that there is no god but God and that Muhammad is God’s messenger, that you should observe the prayer, pay the zakat, fast during Ramadan, and make the pilgrimage to the House if you have the means to go." He said, “You have spoken the truth." We were surprised at his questioning him and then declaring that he spoke the truth. He said, “Now tell me about faith.” He replied, “It means that you should believe in God, His angels, His books, His apostles, and the last day, and that you should believe in the decreeing both of good and evil." Remarking that he had spoken the truth, he then said, “Now tell me about doing good." He replied, “It means that you should worship God as though you saw Him, for He sees you though you do not see Him." He said, “Now tell me about the Hour." He replied, “The one who is asked about it is no better informed than the one who is asking." He said, “Then tell me about its signs." He replied, “That a maid-servant should beget her mistress, and that you should see barefooted, naked, poor men and shepherds exalting themselves in buildings." [‘Umar] said: He then went away, and after I had waited for a long time [the Prophet] said to me, “Do you know who the questioner was, ‘Umar?" I replied, “God and His messenger know best." He said, “He was Gabriel who came to you to teach you your religion."
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা : আগন্তুক লোকটির আগমন ঘটেছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের শেষের দিকে। হাদীসটি ইমাম মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ। এ হাদীস বর্ণনার কারণ মুসলিমে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা আমার নিকট জিজ্ঞেস কর। কিন্তু তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করতে ভীত হলো। অতঃপর এক ব্যক্তি এসে তাঁর দুই হাঁটুর নিকট বসে পড়ল। ‘‘একজন লোক আমাদের নিকট উদয় হল’’ অর্থাৎ- একজন লোক আমাদের নিকট প্রকাশ পেলেন যিনি ছিলেন ভাবগাম্ভির্যে পরিপূর্ণ এবং মর্যাদার উচ্চাসনে। যেমন আমাদের নিকট সূর্যের উদয় ঘটে। এতে এটা সাব্যস্ত হয় যে, মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) যে কোন মানুষের রূপ ধারণ করতে সক্ষম, যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন ‘‘অতঃপর সে মারইয়াম (আঃ)-এর নিকট একজন সুঠাম দেহের মানবের আকৃতিতে প্রকাশ পেল।’’
আর জিবরীল (আঃ) দিহ্ইয়া ক্বলবী ও অন্য কোন মানুষের রূপ ধরতেন। লোকটি এসে অনুমতি চাইলেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে ঝুঁকে পড়লেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাঁটুর নিকট স্বীয় হাঁটু পেতে বসলেন। কেননা হাঁটু পেতে বসা নম্রতা ও শিষ্টাচারের বহিঃপ্রকাশ এবং হাঁটুর সাথে হাঁটু মিলিয়ে বসা পূর্ণ মনোযোগ সৃষ্টির উৎকৃষ্ট উপায় এবং এবং সহানুভূতি লাভের পূর্ণাঙ্গ পন্থা। এ আচরণ দ্বারা জিবরীল (আঃ) স্বীয় পরিচয় গোপনের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য পন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করেন। যাতে এ ধারণা মজবুত হয় যে, তিনি অশিক্ষিত বেদুঈন। এজন্য তিনি মানুষের ঘাড় টপকিয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী হন। এজন্যই সাহাবীগণ তার আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেন। ক্বদ্র (কদর) বলতে তাই বুঝায়, আল্লাহ যা নির্ধারণ করছেন ও ফায়সালা করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তা‘আলা কোন জিনিস সৃষ্টির পূর্বেই তার পরিমাণ ও যামানা সম্পর্কে অবহিত আছেন। অতঃপর তিনি স্বীয় অবগতি অনুযায়ী তা সৃষ্টি করেছেন। অতএব সকল নতুন বস্তু তার জ্ঞান, পরিমাণ ও তার ইচ্ছানুযায়ী সংগঠিত হয় যা অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত।
‘‘আমাকে ইহসান সম্পর্কে অবহিত করুন’’ এর অর্থ আমাকে ‘ইবাদাতের ইহসান সম্পর্কে সংবাদ দিন। আর তা হলো সুন্দরভাবে, নিষ্ঠার সাথে, ভীতিপূর্ণ মনোযোগ সহকারে সম্পাদন করা এবং তা মা‘বূদের তত্ত্বাবধানে আছে এমন অনুভূতি জাগরুক রাখা।
হাফিয ইবনু হাজার বলেন, এর জবাবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি অবস্থার ইঙ্গিত করেছেন। তন্মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের অবস্থা এই যে, তার নিকট মহান প্রভুর উপস্থিতি প্রাধান্য পাওয়া যেন ‘ইবাদাতকারী স্বচক্ষে তাকে অবলোকন করছে। আর দ্বিতীয় অবস্থা এই যে, ‘ইবাদাতকারী অনুভব করবে যে, মহান সত্তা তার বিষয়ে অবহিত আছেন। তাকে দেখছেন, তার সকল কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। এ দু’টি অবস্থার ফলাফল মহান আল্লাহর পরিচিতি ও তাঁর ভয় অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করে।
ইমাম নাবাবী বলেনঃ এর অর্থ এই যে, মহান সত্তা তোমাকে সর্বদাই দেখছেন, অতএব সুন্দরভাবে তার ‘ইবাদাত সম্পন্ন কর যদিও তুমি তাকে দেখতে না পাও। তাহলে হাদীসের অর্থ এই যে, যদিও তুমি তাকে দেখতে না পাও তবুও তুমি সুন্দরভাবে তার ‘ইবাদাত অব্যাহত রাখো, কেননা তিনি তোমাকে দেখছেন।
‘আয়নী বলেন, ইহসান হলো আল্লাহ তা‘আলার জন্য তোমার ‘ইবাদাত এমন অবস্থায় সম্পন্ন হবে যে রকম সম্পন্ন হত তাকে দেখার অবস্থায়।
মোট কথা এই যে, ইহসান হলো ‘ইবাদাতের অবস্থায় বিনয় ও নম্র থাকা যেমনটি তাকে দেখার অবস্থায় হতো। এতে কোন সন্দেহ নেই যে ‘ইবাদাতের অবস্থায় যদি ‘ইবাদাতকারী আল্লাহকে দেখতে পেতো তাহলে তার সাধ্যানুযায়ী বিনয় ও নম্রতার কিছুই পরিত্যাগ করতো না। আর এ অবস্থার সৃষ্টি এজন্যই হতো যে, তিনি তার সকল অবস্থা তত্ত্বাবধান করছেন ও সবকিছু দেখছেন। আর এ অবস্থা তখনো বিদ্যমান যখন বান্দা তাকে দেখতে না পায়। এজন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি তাঁকে না দেখতে পেলেও তিনি তোমাকে দেখছেন। আর এটাই তোমার বিনয়ী নম্র হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
‘দাসী তার মুনীবকে প্রসব করবে’ এর অর্থ হলো কন্যা তার মায়ের সাথে এমন অসদাচরণ করবে যেমন মুনীব তার দাসীর সাথে করে থাকে। যেহেতু অবাধ্যতা মহিলাদের মধ্যে অতিমাত্রায় দেখা দিবে, তাই কন্যা ও দাসীর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘‘বকরীর রাখালেরা অট্টালিকায় অহংকার করবে’’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিম্নশ্রেণীর লোকেরা নেতায় পরিণত হবে, তাদের মাল বৃদ্ধি পাবে। ফলে তারা বড় বড় দালান নির্মাণ ও তার সৌন্দর্যের অহংকারে লিপ্ত হবে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৩-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতেও সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনে হাদীসটি বর্ণিত রয়েছে। তা হচ্ছে- যখন নগ্নপায়ী বিবস্ত্র এবং মূক ও বধিরগণকে, অর্থাৎ- অযোগ্য লোকেদেরকে দেশের রাজা বা শাসক হতে দেখবে। সে পাঁচটি বিষয় কিয়ামতের (কিয়ামতের) আলামাতের অন্তর্গত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তারপর তিনি প্রমাণ হিসেবে কুরআনের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ اِنَّ اللهَ عِنْدَه’ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَঅর্থাৎ- ’’আল্লাহ ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) সম্পর্কে ভালো জানেন কবে তা সংঘটিত হবে? কিভাবে হবে? বৃষ্টি তিনিই বর্ষিয়ে থাকেন’’- (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১: ৩৪)। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَرَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَة مَعَ اخْتِلَافٍ وَفِيهِ: وَإِذَا رَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الصُّمَّ الْبُكْمَ مُلُوكَ الْأَرْضِ فِي خَمْسٍ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ. ثُمَّ قَرَأَ: (إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ)
Chapter - Section 1
Abu Huraira transmitted it with a difference containing the following:
When you see the barefooted, the naked, the deaf, the dumb as kings of the earth, as -well as five things which no one but God knows. Then he recited, ‘‘God has knowledge of the Hour, and He sends down the rain…”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা : বর্ণিত দুই হাদীসে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) আলামত সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সারাংশ হলো নেতৃত্ব চলে যাবে অযোগ্য লোকেদের হাতে। যখন পাদুকাহীন উলঙ্গ বকরীর রাখালেরা নেতা হবে যারা প্রকৃতপক্ষে মূর্খ ও অসভ্য এবং তারাই সম্পদের অধিকারী হবে, বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করতে থাকবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তারা দীন ও দুনিয়ার সকল নিয়ম-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে ফেলবে। তারা লোকদের প্রাপ্য আদায় করবে না বরং যে সম্পদের উপর তাদের দখল থাকবে তা নিজেরাই কুক্ষিগত করে ফেলবে। সেই সাথে তারা মূর্খ ও অসভ্য হওয়ায় মানুষের ধর্মকেও বিনষ্ট করবে। কেননা তাদের কোন যোগ্যতাই থাকবে না মানুষের ধর্ম ও ধর্মীয় জ্ঞানকে সংশোধন করার। বরং তাদের একমাত্র ধ্যান জ্ঞান থাকবে সম্পদ সংগ্রহ ও তা বৃদ্ধি করার। কোন বিষয়ে তারা কোন পরোওয়াই করবে না।
হাদীসে ও আয়াতে যে ‘ইলম বা জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য পূর্ণজ্ঞান। ‘তাঁর নিকটই অদৃশ্য জ্ঞানের চাবীকাঠি’- এ কথা দ্বারা এ দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। জ্যোতিষ বা ওলীদের নিকট যে জ্ঞান বা ‘ইলম আছে তা’ খন্ড ‘ইলম মাত্র। পূর্ণ ‘ইলমের অধিকারী একমাত্র মহান আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন। নাবীগণ যা কিছু আমাদের জানিয়েছেন তা’ এই ‘ইলমের অন্তর্গত।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৪-[৩] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পাঁচটি স্তম্ভের উপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করা, যাকাত আদায় করা, হাজ্জ (হজ/হজ্জ) পালন করা এবং রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ
Chapter - Section 1
Ibn ‘Umar reported God's messenger as saying, “Islam is based on five things:
the testimony that there is no god but God and that Muhammad is His servant and messenger, the observance of the prayer, the payment of zakat, the Pilgrimage, and the fast during Ramadan.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা : এ হাদীসে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভকে এমন দালানের বা তাঁবুর সাথে তুলনা করা হয়েছে যা পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের স্তম্ভগুলোর কেন্দ্রবিন্দু হলো শাহাদাহ্ তথা আল্লাহর একত্ববাদ ও তার রসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়া। যেমনটি তাঁবুর পাঁচটি খুঁটির মধ্যে তার মধ্যস্থলের খুঁটিটি অন্যান্য খুঁটির কেন্দ্রবিন্দু। ঈমানের অন্যান্য শাখা প্রশাখা তাঁবুর পেরেকের ন্যায় যা তাকে পূর্ণতা দান করে। যদি তাঁবুর পেরেকগুলোর কোন একটি নাও থাকে তাহলে তাঁবুর মধ্যে অসম্পূর্ণতা থাকবে যদিও তা দন্ডায়মান থাকবে। তবে পাঁচটি খুঁটির একটিও না থাকে তবে তাঁবু আর দন্ডায়মান থাকবে না। অনুরূপভাবে ইসলামের সবগুলো স্তম্ভ হারিয়ে গেলে ইসলাম থাকবে না। তেমনি আল্লাহর একত্ববাদ ও রসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য বাদ দিলে ইসলাম বিদূরীত হয়ে যাবে।
তবে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। কিছুসংখ্যক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিদ্বানের মতে সালাত পরিত্যাগ করা কুফরী। তারা একাধিক হাদীস দ্বারা এর প্রমাণ পেশ করেছেন যা সালাত পরিত্যাগকারীকে কাফির বলে প্রমাণ করে। মুহাম্মাদ বিন নাসর বলেনঃ অধিকাংশ হাদীস বিশারদের অভিমতও তাই। আর তাদের একদলের মতে, যে ব্যক্তি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের কোন একটি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করে সে কাফির হয়ে যাবে।
ইমাম নাবাবী বলেনঃ শাহাদাতায়নের মাধ্যমেই বাহ্যিকভাবে কোন লোক ইসলামের গণ্ডীরমধ্যে আছে বলে সাব্যস্ত হয়। এই শাহাদাতায়নের সাথে সালাত ও অন্যান্য স্তম্ভকে তার দিকে নিসবাত করা হয়েছে এজন্য যে, তা ইসলামের সর্বাপেক্ষা বাহ্যিক আলামত। তা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তার ইসলাম পূর্ণতা লাভ করে। কোন ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করলে সে ইসলামের বন্ধন খুলে ফেলেছে বলে অনুভূত হয়। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ভিত্তি ও তার উপর প্রতিষ্ঠিত বস্তু এক নয়। তাহলে এর জবাব হলো সবগুলো স্তম্ভের সমন্বয়েই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। এর কোন একটি বাদে সবগুলো পাওয়া সম্ভব নয়। অথবা বলা যায় যে, ইসলাম অর্থ সাধারণভাবে আত্মসমপর্ণের নাম, বিশেষ কোন আত্মসমর্পণের নাম নয়। যাতে এটা আবশ্যক হয় যে, ভিত্তি ও তার উপর প্রতিষ্ঠিত বস্তু একই। অর্থাৎ- সাধারণ আত্মসমর্পণ সঠিক হওয়া নির্ভর করে ঐ সমস্ত কাজ সম্পাদনের উপর যা করণীয় আবশ্যক।
হাদীসে শুধুমাত্র পাঁচটি জিনিসের উল্লেখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে এজন্য যে, ‘ইবাদাত হয়তো শুধুমাত্র কথার দ্বারা পালন হয় যেমন শাহাদাতায়ন। অথবা পরিত্যাগ করার মাধ্যমে পালন হয় যেমন সওম অথবা কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে পালন হয়। তা হয়ত শারীরিক কর্ম যেমন- সালাত, অথবা আর্থিক কর্ম যেমন যাকাত অথবা শারীরিক ও আর্থিক উভয়টিই যেমন হাজ্জ (হজ/হজ্জ)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৫-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোন ইলাহ (উপাস্য) নেই’’- এ ঘোষণা দেয়া। সাধারণ শাখা হলো, কষ্টদায়ক কোন বস্ত্তকে পথ থেকে অপসারিত করা। আর লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْإِيمَانُ بضع وَسَبْعُونَ شُعْبَة فأفضلها: قَول لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَدْنَاهَا: إِمَاطَةُ الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَالْحَيَاءُ شُعْبَة مِنَ الإِيمَانِ
Chapter - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “Faith has over seventy branches, the most excellent of which is the declaration that there is no god but God, and the humblest of which is the removal of what is injurious from the road. And modesty is a branch of faith.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা : কোন বস্তুর অংশকে ‘আরাবীতে بِضْعٌ বলা হয়। তিন হতে নয় পর্যন্ত সংখ্যাকে بِضْعٌ বলা হয়। কেননা এ সংখ্যাগুলো মূল সংখ্যার অংশ বিশেষ। যদিও এর দ্বারা অনির্দিষ্ট সংখ্যাকে বুঝানো হয় তবুও তা তিন থেকে নয় সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। شُعْبَةٌ শব্দটি شُعَبٌ এর একবচন যার অর্থ গাছের শাখা। হাদীসের উদ্দেশ্য হলো ঈমানের মধ্যে অনেক স্বভাব বা কার্যাবলী বিদ্যমান। এটি সর্বজনবিদিত যে, শাখা, পাতা ও ফল গাছের অংশ। গাছ বিদ্যমান থাকলে তার শাখা, পাতা ও ফল থাকতেও পারে, নাও পারে। অনুরূপ মূল ঈমান বিদ্যমান থাকলেও ‘আমল থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে। অতএব ঈমানের সাথে ‘আমলের সম্পর্ক হলো গাছের সাথে শাখা, পাতা ও ফলের সম্পর্কের ন্যায়।
الْأَذى ঐ বস্তুকে বলা হয় পথের মধ্যে পড়ে থাকা যে বস্তু কষ্ট দেয়। যেমন কাঁটা, পাথর ও অপবিত্র বস্তু। হাদীসের মধ্যে এ কথার ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈমানের স্তরের মধ্যে মর্যাদার ভিন্নতা রয়েছে।
শাব্দিক অর্থে হায়া বা লজ্জা মানুষের এমন পরিবর্তন বা নীচতাকে বুঝায় যা ভয়ের কারণে উদ্রেক হয়। যার দরুন তাকে তিরস্কার করা হয়। কোন কারণে কোন কিছু ছেড়ে দেয়াকেও হায়া বা লজ্জা বলা হয়ে থাকে। মূলত এ ছেড়ে দেয়াটা লাজুকতার আবশ্যকীয় বিষয়।
শারী‘আতের পরিভাষায় এমন স্বভাবকে হায়া বা লজ্জা বলা হয় যা মানুষকে কোন খারাপ কাজ হতে দূরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে এবং প্রাপকের প্রাপ্য দানে কোন প্রকার অলসতা থেকে বিরত রাখে। এজন্যেই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ‘‘লজ্জার পুরাটাই কল্যাণকর’’।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৬-[৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ পূর্ণাঙ্গ মুসলিম সে ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ হতে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির হলো সে ব্যক্তি, যে সকল কাজ পরিত্যাগ করেছে যেসব কাজ করতে আল্লাহ বারণ করেছেন। হাদীসের শব্দগুলো সহীহুল বুখারীর। আর মুসলিম এ শব্দে বর্ণনা করেছেনঃ জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করলো, মুসলিমদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, যার জিহ্বা ও হাত (’র অনিষ্ট) হতে অন্য মুসলিমগণ নিরাপদে থাকে।[1]
الفصل الاول
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ» هَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ وَلِمُسْلِمٍ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْمُسْلِمِينَ خَيْرٌ؟ قَالَ: مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ من لِسَانه وَيَده
Chapter - Section 1
‘Abdallah b. ‘Amr reported God's messenger as saying, “The Muslim is he from whose tongue and hand the Muslims are safe, and the Emigrant is he who abandons what God has prohibited.” This is Bukhari’s wording. Muslim has:
A man asked the Prophet, “Which of the Muslims is best?” He replied, “He from whose tongue and hand the Muslims are safe.”.
ব্যাখ্যা: ইমাম খাত্ত্বাবী বলেন, হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহর হক ও মুসলিমদের হক আদায় করার স্বভাব একত্র করতে পেরেছে সেই উত্তম মুসলিম। এটাও উদ্দেশ্য হতে পারে যে, এর দ্বারা মুসলিমের এমন নিদর্শন বুঝা যায় যা ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর সেই নিদর্শন হলো মুসলিমের হাত ও জিহবার অনিষ্ট হতে নিরাপদ থাকা। যেমনটি মুনাফিক্বের নিদর্শন উল্লেখ করা হয়েছে। হাদীসের মধ্যে ‘মুসলিমকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা’ কথাটি আধিক্য বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমও এর আওতাভুক্ত। কেননা কোন মুসলিম ভাইকে কষ্ট দেয়া হতে বিরত থেকে তাকে সংরক্ষণ করার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অমুসলিমও যে এ নির্দেশের আওতাভুক্ত তার সত্যতা পাওয়া যায় ইবনু হিব্বান-এর বর্ণনা থেকে। তাতে আছে ‘‘যার থেকে লোকেরা নিরাপদে থাকলো’’।
হাদীসে বিশেষভাবে হাত ও জিহবার উল্লেখ এজন্য করা হয়েছে যে, অধিকাংশ কষ্ট এ দু’টো অঙ্গ দ্বারাই হয়ে থাকে। অথবা এর দ্বারা উদাহরণ দেয়া উদ্দেশ্য। এজন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান ইবনু সাবিতকে বলতেনঃ মুশরিকদের দোষ বর্ণনা কর। কেননা তা তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করার চাইতেও কষ্টদায়ক। আর তা এ জন্য যে এর দ্বারা জীবিত ও মৃত সবাইকে লক্ষবস্তুতে পরিণত করা যায়।
হাদীসের দ্বারা উদ্দেশ পরিপূর্ণ মুসলিম অথবা উত্তম মুসলিম। যার কষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদে থাকে সে উত্তম মুসলিম এবং পরিপূর্ণ মুসলিম। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, ইসলামে কিছু কিছু কাজ অন্যান্য কাজ হতে উত্তম। এটাও সাব্যস্ত হয় যে, ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধি পায়। এ হাদীস মুরজিয়াহ্ সম্প্রদায়ের ‘আক্বীদার খণ্ডন হয়। কেননা তাদের মতে ঈমান ও ইসলামের মধ্যে হ্রাস বৃদ্ধি নেই।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৭-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ (প্রকৃত) মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান-সন্ততি এবং অন্যান্য সকল মানুষ হতে প্রিয়তম হই। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»
Chapter - Section 1
Anas reported God’s messenger as saying, “None of you believes till I am dearer to him than his father, his child, and all mankind.”
(Bukhari and Muslim).
ব্যাখ্যা: হাদীসে স্বীয় সত্তার কথা উল্লেখ করা হয়নি এজন্য যে, তা وَالنَّاسِ أَجْمَعِيْنَ এর মধ্যে নিহিত রয়েছে। অথবা পিতা ও সন্তান উল্লেখ করার পর স্বীয় সত্তার উল্লেখ করা প্রয়োজন হয়নি এজন্য যে, পিতা ও সন্তান নিজ সত্তার চেয়েও ব্যক্তির নিকট মর্যাদাবান। ইমাম খাত্ত্বাবী বলেনঃ হাদীসে মুহাব্বাত বা ভালোবাসা দ্বারা অভ্যাসগত ভালোবাসা বুঝানো হয়নি। বরং তা দ্বারা ইখতিয়ারী (ইচ্ছাকৃত) ভালোবাসা বুঝানো হয়েছে। কেননা মানুষের পরিবার ও সম্পদের প্রতি ভালোবাসা প্রকৃতিগত ভালোবাসা যা থেকে পরিত্রাণ মানুষের সাধ্যাতীত। তা পরিবর্তন করার কোন পথ নেই। অতএব হাদীসের মর্ম হলো, কোন ব্যক্তি তার ঈমানের দাবীতে সঠিক বলে প্রমাণিত হবে না যতক্ষণ না সে স্বীয় সত্তাকে আমার আনুগত্যের উদ্দেশে উৎসর্গ করবে এবং আমার সন্তুষ্টিকে স্বীয় প্রবৃত্তির উপর প্রাধান্য দিবে।
হাদীসের শিক্ষাঃ
১। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
২। এ ভালোবাসা অর্জনে মানুষের মধ্যে শ্রেণী বিন্যাস রয়েছে। অর্থাৎ- রসূলের প্রতি ভালোবাসা অর্জনে সকলে একই স্তরের নয়।
৩। রসূলের প্রতি ভালোবাসার কারণে ঈমান বৃদ্ধি পায়। আর তাঁর প্রতি ভালোবাসা কমে গেলে ঈমানও কমে যায়।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৮-[৭] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোকের মধ্যে তিনটি গুণের সমাবেশ ঘটে, সে ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছে। (১) তার মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ভালোবাসা দুনিয়ার সকল কিছু হতে অধিক প্রিয়। (২) যে লোক কোন মানুষকে কেবলমাত্র আল্লাহর উদ্দেশেই ভালোবাসে। (৩) যে লোক কুফরী হতে নাজাতপ্রাপ্ত হয়ে ঈমান ও ইসলামের আলো গ্রহণ করার পর পুনরায় কুফরীতে ফিরে যাওয়াকে এত অপছন্দ করে যেমন আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ: مَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَمَنْ أَحَبَّ عَبْدًا لَا يُحِبُّهُ إِلَّا لِلَّهِ وَمَنْ يَكْرَهُ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ أَنْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ مِنْهُ كَمَا يكره أَن يلقى فِي النَّار
Chapter - Section 1
Anas reported God’s messenger as saying, “There are three qualities for which anyone who is characterised by them will experience the sweetness of faith:
he to whom God and His messenger are dearer than all else; he who loves a human being for God’s sake alone; and he who has as great an abhorrence of returning to unbelief after God has rescued him from it as he has of being cast into hell.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায় আনুগত্যের মাধ্যমে। অর্থাৎ- তা’ হচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টির উদ্দেশে কষ্ট সহ্য করা এবং একে দুনিয়াবী উন্নতি ও অগ্রগতির উপর প্রাধান্য দেয়া। তা এজন্য যে, মানুষ যখন এ বিষয়ে চিন্তা করে যে, শারী‘আত প্রণেতা দুনিয়াবী কল্যাণ অথবা পরকালীন মুক্তির উদ্দেশ্য ব্যতীত কোন আদেশ দেন না বা নিষেধ জারি করেন না। তখন তার প্রবৃত্তি তার অনুগামী হয়। ফলে সে শারী‘আত প্রণেতার আদেশ পালনে স্বাদ অনুভব করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কষ্ট সহ্য করতে সক্ষম হয়।
হাদীসে বর্ণিত তিনটি বিষয় পূর্ণ ঈমানের পরিচায়ক। যা দ্বারা সে এমন স্বাদ অনুভব করে, যে স্বাদ যা দুনিয়ার সকল স্বাদের উপর বিজয়ী। ইমাম বায়যাবী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে বর্ণিত তিনটি বস্তু পূর্ণ ঈমানের পরিচায়ক এজন্য যে, কোন লোক যখন আল্লাহতে প্রকৃত নি‘আমাত প্রদানকারী বলে বিশ্বাস করে, তখনই সে মনে করে যে, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ব্যতীত কোন দাতাও নেই এবং তা প্রতিহতকারীও কেউ নেই। নি‘আমাত অর্জনে তিনি ব্যতীত যা কিছু আছে তা উপকরণ মাত্র। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রবের উদ্দেশ্য বর্ণনাকারী। ফলে সে পরিপূর্ণভাবে তার অভিমুখী হয়। তাই সে সেটাই ভালোবাসে যা তিনি ভালোবাসেন। আর তাঁর জন্যই অন্যকে ভালোবাসে। এ হাদীসটি ذَاقَ طَعْمَ الْإِيْمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلًا এই হাদীসের অর্থই বহন করে। কেননা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রসূল কে ভালোবাসার কারণে কুফরীর দিকে ফিরে যাওয়া অপছন্দ করা তার পক্ষেই সম্ভব যার অন্তরের ঈমান দৃঢ় ও মজবুত। যার জন্য তার অন্তর প্রশস্ত হয় এবং যা তার মজ্জাগত সেই ব্যক্তিই এর স্বাদ পায়। আর আল্লাহর জন্য ভালোবাসা আল্লাহকে ভালোবাসারই ফল।
বান্দা তার রবকে ভালোবাসতে পারে কেবল তার রবের বিরোধিতা পরিত্যাগ ও তাঁর আনুগত্য করার মাধ্যমে। অনুরূপভাবে তাঁর রসূলের ভালোবাসাও তার বিরোধিতা পরিত্যাগ করে তার আনুগত্যের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। এই হাদীসে এ ইঙ্গিতও রয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল উভয়ের ভালোবাসা ব্যতীত যে কোন একজনের ভালোবাসা অনর্থক।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৯-[৮] ’আব্বাস ইবনু ’আবদুল মুত্ত্বালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক আল্লাহকে প্রতিপালক, ইসলামকে দীন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট, সে-ই ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। (মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَن الْعَبَّاس بن عبد الْمطلب قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَاقَ طَعْمَ الْإِيمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
Chapter - Section 1
Al-‘Abbas b. ‘Abd al-Muttalib reported God’s messenger as saying, “He who is well-pleased with God as Lord, with Islam as religion, and with Muhammad as messenger will experience the savour of faith,”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: সাহিবুত্ তাহরীর (তাহরীর গ্রন্থের লেখক) বলেনঃ হাদীসের অর্থ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট কোন কিছু চায় না, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন পন্থায় প্রচেষ্টা চালায় না এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনীত শারী‘আত ব্যতীত অন্য পথে চলে না- সেই প্রকৃত ঈমানের স্বাদ পেয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই। তার অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেছে এবং সে এর স্বাদ পেয়েছে। ক্বাযী ‘ইয়ায বলেনঃ তার ঈমান সঠিক। এর মাধ্যমে তার অন্তর প্রশান্তি লাভ করেছে এবং তা তার গভীরে প্রোথিত হয়েছে। কোন ব্যক্তি যখন কোন বিষয়ের প্রতি সন্তুষ্ট ও রাযী থাকে তখন তা তার জন্য সহজ হয়ে যায়। অনুরূপভাবে মু’মিনের অন্তরে যখন ঈমান প্রবেশ করে তখন তার পক্ষে আল্লাহর আনুগত্য করা সহজ হয় এবং এতে সে স্বাদ পায়।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১০-[৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে প্রতিপালকের হাতে মুহাম্মাদের জীবন তাঁর কসম! এ উম্মাতের যে কেউই চাই ইয়াহূদী হোক বা খ্রীষ্টান, আমার রিসালাত ও নুবূওয়্যাত মেনে না নিবে ও আমার প্রেরিত শারী’আতের উপর ঈমান না এনেই মৃত্যুবরণ করবে, সে নিশ্চয়ই জাহান্নামী। (মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا يسمع بِي أحدق مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يَهُودِيٌّ وَلَا نَصْرَانِيٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَّا كَانَ من أَصْحَاب النَّار» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, "By Him in whose hand Muhammad’s soul is, anyone of this people, Jew or Christian, who hears of me and then dies without believing in my message, will be among those who go to hell.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে উদ্দেশ্য হলো, তাঁর সময়ের লোক হোক অথবা তাঁর পরবর্তী সময়ের হোক, ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত যাদের নিকটই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দা‘ওয়াত পৌঁছবে সে যে ধর্মাবলম্বী হোক না কেন তাদের কর্তব্য মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহবানে সাড়া দেয়া এবং তার আনীত বিধানের আনুগত্য করা। যাদের প্রতি আল্লাহর নাযিলকৃত গ্রন্থ বিদ্যমান সেই ইয়াহূদী ও নাসারা যখন এ অবস্থা তখন যাদের প্রতি কোন আসমানী গ্রন্থ নাযিল হয়নি সাড়া দেয়ার প্রয়োজনতো আরো বেশী উপযোগী। তবে ইয়াহূদী ও নাসারাদের উল্লেখ এজন্য করা হয়েছে যে, তাদের কুফরী করাটা অধিক দোষণীয়। কেননা তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এরূপ জানে যেরূপ তাদের সন্তান সম্পর্কে জানে। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ ‘‘তারা তাঁর বিষয়ে তাওরাতে ও ইনজীলে লিখিত বক্তব্য দেখতে পায়।’’ (সূরাহ্ আল আ‘রাফ ৭ঃ ১৫৭)
মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেনঃ হাদীসের অর্থ হচ্ছে ‘‘যে ব্যক্তি আমার নুবূওয়্যাতের কথা শুনার পরও আমার প্রতি ঈমান আনবে না, সে যেই হোক না কেন সে জাহান্নামী’’।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের মাধ্যমে অন্য সকল ধর্মই রহিত হয়ে গেছে।
(২) যার নিকট ইসলামের দা‘ওয়াত পৌঁছেনি তার আপত্তি গ্রহণযোগ্য।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১১-[১০] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন লোকের জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। প্রথমত যে আহলি কিতাব নিজের নবীর প্রতি ঈমান এনেছে আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিও ঈমান এনেছে। দ্বিতীয়ত যে ক্রীতদাস যথানিয়মে আল্লাহর হক আদায় করেছে পুনরায় নিজের মুনীবের হকও আদায় করেছে। তৃতীয়ত যার তত্ত্বাবধানে ক্রীতদাসী ছিল, সে তার সঙ্গে সহবাস করেছে, তাকে উত্তমরূপে আদব-কায়দাও শিক্ষা দিয়েছে, অতঃপর তাকে মুক্ত করে দিয়ে স্বীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছে, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثَلَاثَةٌ لَهُمْ أَجْرَانِ: رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمَنَ بِنَبِيِّهِ وَآمَنَ بِمُحَمَّدٍ وَالْعَبْدُ الْمَمْلُوكُ إِذَا أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ وَرَجُلٌ كَانَتْ عِنْدَهُ أَمَةٌ يَطَؤُهَا فَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمِهَا ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ
Chapter - Section 1
Abu Musa al-Ash‘ari reported God’s messenger as saying, "Three types will have a double reward:
one of the people of the Book who believes in his prophet and believes in Muhammad; a slave when he fulfils what is due to God and what is due to his patrons; and a man who has a slavegirl with whom he has intercourse, who gives her a good training in manners and a good education, then sets her free and marries her—he will have a double reward.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: তিন শ্রেণীর প্রত্যেক লোকের জন্যই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। আহলি কিতাব নারী আহলি কিতাব পুরুষদের মতই। যেহেতু হুকুমের ক্ষেত্রে নারীগণ পুরুষের অন্তর্গত। তবে বিশেষ প্রমাণের ক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। নাসায়ীতে আবূ উমামাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে ‘‘মক্কা বিজয়ের দিন আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহনের পাশেই ছিলাম। তিনি তখন উত্তম ও সুন্দর কথা বললেন। তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে এ কথাও ছিল ‘‘দুই আহলি কিতাবের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার আর তার জন্য তা-ই প্রযোজ্য যা আমাদের জন্য প্রযোজ্য। আর মুশরিকদের মধ্য থেকে যে ইসলাম গ্রহণ করবে তার জন্য তার পুরস্কার রয়েছে। তার জন্যও তাই প্রযোজ্য আমাদের জন্য যা প্রযোজ্য।’’
আহলি কিতাবগণ দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে, কারণ তারা তাদের নাবীর প্রতি ঈমান আনার পর আবার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিও ঈমান এনেছে। (الْعَبْدُ الْمَمْلُوْكُ) দ্বারা উদ্দেশ্য দাস দাসী। عَبْدُ কে مَمْلُوْكُ দ্বারা এজন্য বিশেষায়িত করা হয়েছে যে, সকল মানুষই আল্লাহর দাস। তাদের থেকে পৃথক করার জন্য مَمْلُوْكُ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহর হক দ্বারা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সওম ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে। আর মুনীবের হক দ্বারা তাদের বৈধ খেদমত উদ্দেশ্য।
দাসী আযাদ করে বিয়ে করলে মুনীব দ্বিগুণ পুরস্কার পাবে কারণ আযাদ করা একটি ‘ইবাদাত এবং বিয়ে করা আরেকটি ‘ইবাদাত।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১২-[১১] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর পক্ষ হতে আমাকে হুকুম দেয়া হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা এ কথা স্বীকার করে সাক্ষ্য না দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত রসূল এবং সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করবে ও যাকাত আদায় করবে- ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার। যখন তারা এরূপ কাজ করবে আমার পক্ষ হতে তাদের জান ও মাল নিরাপদ থাকবে। কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী কেউ যদি কোন দণ্ড পাওয়ার উপযোগী কোন অপরাধ করে, তবে সে দণ্ড তার ওপর কার্যকর হবে। তারপর তার অদৃশ্য বিষয়ের (অন্তর সম্পর্কে) হিসাব ও বিচার আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত। (বুখারী, মুসলিম)[1]
তবে সহীহ মুসলিমে ’’কিন্তু ইসলামের বিধান অনুযায়ী’’ বাক্যটি উল্লেখ করেননি।
الفصل الاول
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلَّا بِحَق الْإِسْلَام وحسابهم على الله. إِلَّا أَنَّ مُسْلِمًا لَمْ يَذْكُرْ» إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَام
Chapter - Section 1
Ibn ‘Umar reported God’s messenger as saying, "I am commanded to fight with men till they testify that there is no god but God and that Muhammad is God's messenger, observe the prayer and pay the zakat. When they do that they will keep their lives and their property safe from me, except for what is due to Islam; and their reckoning will be at God’s hands.”
(Bukhari and Muslim, but Muslim did not mention, "except for what is due to Islam”.)
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে যুদ্ধ পরিচালনার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়ার পর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কায়িম করবে ও যাকাত আদায় করবে তার রক্ত পবিত্র। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না।
আর রিসালাতের সাক্ষ্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আনীত সকল বিষয়ের সত্যতার সাক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করে। তা সত্ত্বেও সালাত ও যাকাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ এ দু’টির গুরুত্ব অন্যগুলোর তুলনায় বেশী। এ দু’টি শারীরিক ও আর্থিক ‘ইবাদাতের মূল।
এ হাদীস দ্বারা এ মতের পক্ষে দলীল পেশ করা হয়ে থাকে যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করবে তাকে শাস্তি স্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে। অনুরূপভাবে এ মতেরও দলীল পেশ করা হয় যে, সালাত পরিত্যাগকারী কাফির বিধায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে।
وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ অংশে এ কথার প্রমাণ মেলে যে, যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে। আর এ কারণেই আবূ বাকর সিদ্দীক্ব (রাঃ) যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। আর সাহাবীগণ এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেন।
হাদীসের মর্ম হলো হাদীসে বর্ণিত কাজগুলো যারা করবে তাদের জান ও মাল নিরাপদ। ইসলামের কোন হক অথবা জরিমানা ব্যতীত তাদের রক্ত প্রবাহ করা এবং সম্পদ নেয়া অবৈধ। ‘‘তাদের হিসাব আল্লাহর নিকট’’ অর্থাৎ- তাদের বাহ্যিক কাজের উপর নির্ভর করেই মু‘আমলাহ্ (আচরণ) করতে হবে। আভ্যন্তরীণ বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করা হবে।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) ঈমান ‘আমলের মুখাপেক্ষী
(২) ‘আমল ঈমানের অংশ
(৩) হাদীসটি আল্লাহ তা‘আলার বাণী ‘‘তারা যদি তাওবাহ্ করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে তবে তাদের রাস্তা ছেড়ে দাও’’ এর অনুকূল।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৩-[১২] আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ন্যায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, আমাদের কা’বাকে ক্বিবলা (কিবলা/কেবলাহ) হিসেবে গ্রহণ করে, আমাদের যাবাহকৃত পশুর মাংস (গোসত/গোস্ত) খায়, সে এমন মুসলিম যার জন্য (জান-মাল, ইজ্জাত-সম্ভ্রম রক্ষায়) আল্লাহ ও রসূলের ওয়া’দা রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করো না। (বুখারী)[1]
الفصل الاول
وَعَن أنس أَنَّهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ صَلَّى صَلَاتَنَا وَاسْتَقْبَلَ قِبْلَتَنَا وَأَكَلَ ذَبِيحَتَنَا فَذَلِكَ الْمُسْلِمُ الَّذِي لَهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ رَسُولِهِ فَلَا تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي ذمَّته» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
Chapter - Section 1
Anas reported God’s messenger as saying, "If anyone observes our form of prayer, faces our qibla, and eats what we kill, that one is a Muslim who has protection from God and His messenger; so do not betray God’s protection.”
Bukhari transmitted it.
ব্যাখ্যা : সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) তার দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব যিনি তাওহীদ ও নুবূওয়্যাতে বিশ্বাসী। আর যিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নুবূওয়্যাত স্বীকার করেন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা সবই তিনি বিশ্বাস করেন। প্রত্যেক ব্যক্তিই ক্বিবলাহ্ (কিবলাহ/কিবলা) সম্পর্কে অবহিত যদিও সে তার সালাত সম্পর্কে হয়ত পূর্ণ অবহিত নয়। আর আমাদের সালাতের ‘আমল অন্যদের সালাতেও পাওয়া যায়, যেমনঃ ক্বিরাআত (কিরআত) ও ক্বিয়াম (কিয়াম)। কিন্তু আমাদের (মুসলিমদের) ক্বিবলাহ্ (কিবলাহ/কিবলা) শুধু আমাদের জন্যই খাস।
এ হাদীসে ইসলামের মাত্র তিনটি রুকন (সালাত, ক্বিবলাহ্ ও যাবীহাহ্) উল্লেখ করার কারণ এই যে, এগুলো অতি প্রকাশ্য যা দ্রুত অবহিত হওয়া যায়। কোন ব্যক্তির সাথে প্রথম দিবসের সাক্ষাতেই তার সালাত ও খাবার সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। এতেই বুঝা যায় যে, সে কোন ধর্মে বিশ্বাসী। যে ব্যক্তি তার মধ্যে ইসলামের নিদর্শনের প্রকাশ ঘটায় এবং মুসলিমদের বিষয়গুলো তার মধ্যে প্রতিষ্ঠা করে সে আল্লাহর নিরাপত্তার আওতায় চলে আসে। মুসলিমের যা কিছু হারাম তারও তা হারাম। ফলে সে আল্লাহর যিম্মাদারীর অন্তর্ভুক্ত। অতএব তোমরা আল্লাহর যিম্মাদারীকে বিনষ্ট করবে না।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) লোকজনের বাহ্যিক বিষয়ই ধর্তব্য, আভ্যন্তরীণ বিষয় ধর্তব্য নয়। অতএব যে ব্যক্তি ধর্মীয় নিদর্শনের প্রকাশ ঘটাবে তার প্রতি সে ধর্মের বিধিবিধান কার্যকরী হবে।
(২) ‘আমল ব্যতীত শুধু ঈমান যথেষ্ট নয় যেমনটি মুরজিয়াহ্ সম্প্রদায় মনে করে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৪-[১৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক (বেদুঈন) লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটি কাজের সন্ধান দিন যা করলে আমি সহজে জান্নাতে পৌঁছতে পারি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর ’ইবাদাত করতে থাকবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করবে, ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রমাযানের সিয়াম পালন করবে- এ কথা শুনে লোকটি বলল, আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে! আমি এর থেকে বেশিও করবো না, কমও করবো না। সে লোক যখন চলে গেল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কেউ যদি জান্নাতী কোন লোককে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এ লোককে দেখে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أَتَى أَعْرَابِيٌّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ. قَالَ: «تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلَاةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّي الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ» . قَالَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ. فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجنَّة فَلْينْظر إِلَى هَذَا»
Chapter - Section 1
Abu Huraira reported that an Arab came to the Prophet and said, "Guide me to a deed by doing which I shall enter paradise.” He said, “Worship God and associate nothing with Him, observe the prescribed prayer, pay the obligatory zakat, and fast during Ramadan.” He replied, "By Him in whose hand my soul is, I shall not add anything to this, or fall short of it.” Then when he turned away the Prophet said, "If anyone wishes to look at a man who will be among the people of paradise, let him look at this man.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: হাদীসে আরকানে ইসলামের মাত্র তিনটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এ বিষয়গুলো অন্যগুলোর তুলনায় অধিক প্রকাশ্য। আর বাকী রুকনগুলোও এর সাথেই সম্পৃক্ত।
প্রথমে আল্লাহর ‘ইবাদাতের উল্লেখের পর শির্ক-এর বিষয় এজন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাফিররাও আল্লাহর ‘ইবাদাত করে কিন্তু পাশাপাশি মূর্তির পূজাও করে এবং মনে করে যে, এ মূর্তিগুলো আল্লাহর অংশীদার। তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকার করেছেন।
এ হাদীস ও সামনের ত্বলহাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে প্রশ্নকারীকে নফল ‘ইবাদাতের কথা জানানো হয়নি। বরং ত্বলহার হাদীসে নফল পরিত্যাগ করার শপথকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কেননা এ ঘটনায় বর্ণিত লোকজন ইসলামে নবদীক্ষিত ছিল। তাই তাদের জন্য আবশ্যক কাজগুলোই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। যাতে তা তাদের জন্য ভারী না হয়ে যায়।
হাদীসের শিক্ষা: ঈমানের জন্য ‘আমল আবশ্যক।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৫-[১৪] সুফ্ইয়ান ইবনু ’আবদুল্লাহ আস্ সাক্বাফী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে ইসলামের এমন একটি চূড়ান্ত কথা বলে দিন, যে সম্পর্কে ’আপনার পরে’; অপর এক বর্ণনায় আছে, ’আপনি ছাড়া’ আমাকে আর কারো কাছে জিজ্ঞেস করতে না হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি’- তুমি এ কথা বল এবং এ ঘোষণায় দৃঢ় থাক। (মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَن سُفْيَان بن عبد الله الثَّقَفِيّ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قُلْ لِي فِي الْإِسْلَامِ قَوْلًا لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا بَعْدَكَ وَفِي رِوَايَةٍ: غَيْرَكَ قَالَ: قُلْ: آمَنْتُ بِاللَّه ثمَّ اسْتَقِم. رَوَاهُ مُسلم
Chapter - Section 1
Sufyan b. ‘Abdallah ath-Thaqafi reported that he said, "Messenger of God, say something about Islam concerning which I shall need to ask no one after you are gone.” (A version has "anyone else”.) He said, "Say, ‘I believe in God’, then keep to the straight path.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের বর্ণনাকারী সুফ্ইয়ান ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য শিক্ষা দিতে বললেন যাতে ইসলামের সকল বিষয়কে সম্পৃক্ত করে। পরবর্তীতে অন্য কারো নিকট জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন না হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে তাকে বললেন, তুমি বলোঃ ‘‘আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম’’। অর্থাৎ- আল্লাহর কথা অন্তরে স্মরণ করে, তা উচ্চারণ ও সে অনুযায়ী কর্মের মাধ্যমে তোমার ঈমানকে নবায়ন করে নাও। এর দ্বারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণাঙ্গ তাওহীদ উদ্দেশ নিয়েছেন যার ধারক জাহান্নামের জন্য হারাম।
‘‘অতঃপর এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাক’’ اسْتَقِامَةٌ অর্থ সরল পথে চলা। আর তা হচ্ছে মজবুত দীন। যার মধ্যে ডান ও বামের কোন বক্রতা নেই। আর তা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল কাজে আনুগত্য প্রকাশ এবং সকল প্রকার নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকা শামিল করে।
এ হাদীসটি আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ ‘‘যারা বলে আল্লাহ আমাদের রব, অতঃপর তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে’’ এর সমার্থক।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) আদিষ্ট কাজের আনুগত্য করা ওয়াজিব।
(২) গুনাহের কাজ হতে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য।
(৩) এ হাদীসটি মুরজিয়াদের ‘আক্বীদাহ্ প্রত্যাখ্যান করে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৬-[১৫] ত্বলহাহ্ ইবনু ’উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন নাজদবাসী লোক এলোমেলো কেশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো। আমরা তার ফিসফিস শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু বেশ দূরে থাকার কারণে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। এমনকি সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুব নিকটে এসে পৌঁছল। সে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো (ইসলাম কি?)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা। তখন সে লোকটি বলল, এছাড়া কি আর কোন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আমার ওপর ফরয? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। তবে তুমি নফল সালাত আদায় করতে পারো। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমাযান মাসের সিয়াম পালন করবে। সে ব্যক্তি বলল, এছাড়া কি আর কোন সিয়াম আমার ওপর ফরয? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। তবে ইচ্ছামাফিক (নফল) সিয়াম পালন করতে পারো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতের কথা বর্ণনা করলেন। পুনরায় সে লোকটি বলল, এছাড়া কি আর কোন সদাক্বাহ্ (সাদাকা) আমার ওপর ফরয? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। কিন্তু স্বেচ্ছায় দান করার অবকাশ রয়েছে। অতঃপর লোকটি এ কথা বলতে বলতে চলে গেল- আল্লাহর কসম, এর উপর আমি কিছু বেশিও করবো না এবং কমও করবো না। (এটা শুনে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, লোকটি যদি তার কথায় সত্য বলে থাকে, তাহলে (জাহান্নাম হতে) সাফল্য লাভ করল। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرُ الرَّأْسِ نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِهِ وَلَا نَفَقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الْإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ» . فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُنَّ؟ فَقَالَ: لَا إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَصِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ . قَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهُ؟ قَالَ: «لَا إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ» . قَالَ: وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الزَّكَاةَ فَقَالَ: هَلْ عَلَيَّ غَيْرُهَا؟ فَقَالَ: لَا إِلَّا أَنْ تَطَّوَّعَ. قَالَ: فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ: وَاللَّهِ لَا أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلَا أَنْقُصُ مِنْهُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْلح الرجل إِن صدق»
Chapter - Section 1
Talha b. ‘Ubaidallah said:
A man of the people of Najd with dishevelled hair came to God’s messenger. We could hear the sound of his voice, but could not understand what he was saying till he came near God’s messenger and we realised that he was asking about Islam. God’s messenger said, “Five times of prayer each day and night.” He asked, “Must I observe any more than them?” He replied, “No, unless you do it voluntarily.” God's messenger said, “And fasting during the month of Ramadan.” He asked, “Must I observe anything else?” He replied, “No, unless you do it voluntarily.” Talha said that God's messenger mentioned the zakat to him, and he asked, “Must I pay anything else?” He replied, “No, unless you do it voluntarily.” He said that the man turned away saying, “I swear by God that I shall not add anything to this or fall short of it.” So God’s messenger said, “The man will prosper if he is speaking the truth.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: (نَسْمَعُ دَوِيَّ صَوْتِه وَلَا نَفْقَهٗ مَا يَقُوْلُ) এর অর্থ হচ্ছে বাতাসে তার আওয়াজের শব্দের গুঞ্জরণ শুনা যাচ্ছিল কিন্তু তা থেকে কিছু বুঝা যাচ্ছিল না। যেমন মৌমাছি বা মাছির গুঞ্জরণ শুনা যায়। সে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিল অর্থাৎ- ইসলামের বিধানাবলী এবং ফরযসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা। এটি জানা যায় ইমাম বুখারীর কিতাবুস্ সিয়ামে ত্বলহাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের শেষাংশ থেকে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের বিধানাবলী সম্পর্কে অবহিত করলেন।
(اِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ) অর্থাৎ- তোমার মুসতাহাব এই যে, তুমি নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে। হাদীসের এ অংশ দ্বারা এ দলীল গ্রহণ করা হয় যে নফল ‘ইবাদাত শুরু করে ফেললে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব নয়। পূর্ণ করা মুসতাহাব, অতএব তা ছেড়ে দেয়া বৈধ। ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিক অথবা ওজরের কারণে ছেড়ে দিক তা পূর্ণ করা ওয়াজিব নয়। তিরমিযীতে উম্মু হানী থেকে বর্ণিত হাদীসে বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। তাতে আছে ‘‘নফল সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি নিজ সত্তার ওপর নিজেই আমীর বা পরিচালক। সে ইচ্ছা করলে সিয়াম পালন করতে পারে আর ইচ্ছা করলে তা ভঙ্গ করতেও পারে।’’ অনুরূপভাবে নাসায়ীতে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে মারফূ‘ হাদীসেও এ বক্তব্যের সমর্থন মিলে। তাতে আছে ‘‘নফল সওম পালনকারীর উদাহরণ ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে স্বীয় মাল থেকে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করে। ইচ্ছা করলে সে সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করতে এবং ইচ্ছা করলে তা পরিত্যাগ করতে পারে।’’
নাসায়ীতে বর্ণিত হাদীস ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো নফল সিয়ামের নিয়্যাত করতেন পরে আবার তা ভেঙ্গে ফেলতেন। বুখারীতে বর্ণিত হাদীস ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুওয়াইবিয়াহ্ বিনতু হারিস (রাঃ)-কে জুমু‘আর দিনে সিয়াম শুরু করার পর ভাঙ্গতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে তাকে তা ক্বাযা করার নির্দেশ দেননি।
বায়হাক্বীতে আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করলাম। অতঃপর যখন তা দস্তরখানে রাখা হলো তখন এক ব্যক্তি বললোঃ আমি সায়িম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার ভাই তোমাকে দা‘ওয়াত দিয়েছে, তোমার জন্য কষ্ট করেছে। তুমি সিয়াম ভেঙ্গে ফেল ইচ্ছা হলে তুমি তদস্থলে আরেকটি সিয়াম পালন করবে। এ হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, নফল ‘ইবাদাত শুরু করলে তা পূর্ণ করা জরুরী নয়। সিয়ামের ক্ষেত্রে তা সরাসরি দলীল দ্বারা প্রমাণিত।
‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নকারীকে যাকাতের কথাও উল্লেখ করলেন’’ এ বাক্যটি বর্ণনাকারীর নিজের। মনে হয় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশ্নকারীর উত্তরে যাকাত সম্পর্কে কি শব্দ প্রয়োগ করে উত্তর দিয়েছিলেন বর্ণনাকারী তা ভুলে গেছেন অথবা তার সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তিনি স্বীয় ভাষায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদটি অবহিত করেছেন। এতে বুঝা যায়, হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বর্ণিত শব্দ সংরক্ষণ করাও জরুরী।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) মুক্তি লাভের জন্য ইসলামের ফরয ও ওয়াজিবগুলোর প্রতি ‘আমল করা আবশ্যক।
(২) এতে মুরজিয়াদের ‘আক্বীদাহ্- নাজাত তথা মুক্তির জন্য বিশ্বাসই যথেষ্ট ‘আমলের প্রয়োজন নেই- প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৭-[১৬] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আবদুল ক্বায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এরা কোন্ গোত্রের লোক (বা কোন্ প্রতিনিধি দল)? লোকেরা জবাব দিল, এরা রবী’আহ্ গোত্রের লোক। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, গোত্র বা প্রতিনিধি দলকে মুবারকবাদ! অপমান ও অনুতাপবিহীন অবস্থায় আগত প্রতিনিধি দলকে মুবারকবাদ! প্রতিনিধি দল আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ও আমাদের মধ্যে কাফির যুদ্ধবাজ মুযার বংশ অন্তরায়স্বরূপ থাকায় হারাম মাস ব্যতীত অন্য মাসে আপনার নিকট আসতে পারি না। তাই আপনি হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী এমন কিছু পরিষ্কার নির্দেশ দিন যা আমরা মেনে চলব এবং যাদেরকে দেশে রেখে এসেছি তাদেরকে গিয়ে বলতে পারব। যা দ্বারা আমরা (সহজে) জান্নাতে যেতে পারি। এর সাথে তারা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) পানীয় বস্তু (পান পাত্র) সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলেন।
প্রত্যুত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে চারটি কাজের আদেশ দিলেন আর চারটি কাজ হতে নিষেধ করলেন। (প্রথমে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ করলেন এবং বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অর্থ কি, তা কি তোমরা জান? তারা জবাবে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল ই অধিক ভালো জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন,
(১) আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল - এ সাক্ষ্য দেয়া।
(২) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করা।
(৩) যাকাত আদায় করা। এবং (৪) রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা। এরপর (চারটি কাজ ছাড়াও) গনীমাতের (জিহাদলব্ধ মালের) ’খুমুস’ এক-পঞ্চমাংশ দেয়ার হুকুম দিলেন।
অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারটি (মদের) পানপাত্র ব্যবহার নিষেধ করলেন। এগুলো হলোঃ হানতাম (নিকেল করা সবুজ পাত্র), দুব্বা (কদুর খোল দ্বারা প্রস্তুতকৃত পাত্রবিশেষ), নাকীর (গাছের বা কাঠের পাত্রবিশেষ), মুযাফফাত (তৈলাক্ত পাত্রবিশেষ, এ জাতীয় পাত্রে তৎকালীন সময়ে মদ ব্যবহার করা হত)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, এ সকল কথা ভালোভাবে স্মরণ রাখবে। যাদের দেশে ছেড়ে এসেছো তাদেরকেও বলবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمَّا أَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنِ الْقَوْمُ؟ أَوْ: مَنِ الْوَفْدُ؟ قَالُوا: رَبِيعَةُ. قَالَ: مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ: بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى . قَالُوا: يَا رَسُول الله إِنَّا لَا نستطيع أَن نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فصل نخبر بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا وَنَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ وَسَأَلُوهُ عَنِ الْأَشْرِبَةِ. فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ الْمَغْنَمِ الْخُمُسَ»
وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنِ الْحَنْتَمِ وَالدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ وَقَالَ: «احْفَظُوهُنَّ وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ» وَلَفظه للْبُخَارِيّ
نَدَامى (নাদা-মা-) শব্দটি نَدْمَانُ (নাদ্মা-ন) শব্দের বহুবচন যা نَادِمٌ (না-দিম) ইস্মে ফায়িলের অর্থে তথা অনুতপ্ত, অনুশোচিত, লজ্জিত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ- তারা আমাদের নিকট আসায় ক্ষতিগ্রস্থ, লজ্জিত হয়নি।
এ হাদীসে দৃশ্যত কিছু জটিলতা বা সমস্যা রয়েছে। (যদিও মূলত কোন সমস্যা নেই) তা হলো : গণনায় পাঁচটি বিষয় আদেশের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অথচ শুরুতে চারটির কথা বলা হয়েছে। এ সমস্যার সমাধান হলো বাগ্মীদের একটি রীতি যে, যখন কোন বাক্যকে কোন বিশেষ উদ্দেশে স্থাপন করা বা নিয়ে আসা হয় তখন তারা তার বর্ণনা প্রসঙ্গকে এমন করে দেন যেন তা পেশকৃত বিষয়। অতএব, এখানে শাহাদাতায়নের উল্লেখটা উদ্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, কেননা রসূলের নিকট আগমনকারী কওমটি শাহাদাত স্বীকৃতিদানকারী মু’মিন ছিল যা তাদের উক্তি (اَللهُ وَرَسُوْلُهٗ اَعْلَمُ) থেকে প্রতীয়মান হয়। এছাড়াও বুখারীর একটি বর্ণনা তথা (اَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ بِأَرْبِعٍ أَقِيْمُوْا الصَّلَاةَ، وَأَتُوْا الذَّكَاةَ وَصُوْمُوْا رَمَضَانَ وَأَعْطُوْا خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ.....) -টিও তা প্রমাণ করে। আর বুখারীর এ বর্ণনার মাধ্যমে উল্লেখিত সন্দেহটির বা সমস্যাটির সমাধান হয়ে যায়। (মিরকাত)
حَنْتَمٌ (হান্তাম) অর্থ সবুজ কলম যা মাটি এবং চামড়া দ্বারা তৈরি করা হয়।
اَلدُّبَّاءُ (আদ্ দুব্বা-উ) অর্থ লাউ দ্বারা তৈরিকৃত পাত্র।
اَلنَّقِيْرُ (আন্ নাক্বীর) অর্থ গাছের দ-মূল কুঁড়ে প্রস্ত্ততকৃত পাত্র যাতে নাবীয প্রস্ত্তত করা হয়।
اَلْمُزَفَّتُ (আল্ মুযাফ্ফাত) অর্থ আলকাতরার প্রলেপ দ্বারা প্রস্ত্ততকৃত পাত্র।
Chapter - Section 1
Ibn ‘Abbas said that when the deputation of ‘Abd Qais came to the Prophet, God's messenger asked, “Who are the people?” or, “Who are the deputation?” They replied, “Rabi‘a”, and he said, “Welcome to the people (or deputation), neither ashamed nor regretful.” They said, “Messenger of God, we are able to come to you only in the sacred month, for this tribe of the infidels of Mudar is between us and you; so give us a decisive command which we may tell to those at home and by [obeying] which we may enter paradise;” and they asked him about drinks. He commanded them to observe four things and he forbade them four things. He commanded them to put their faith in God alone saying, “Do you know what faith in God alone is?” They replied, “God and His messenger know best.” He said, “It includes the testimony that there is no god but God and that Muhammad is God’s messenger, the observance of the prayer, the payment of zakat, the fast of Ramadan, and your giving a fifth of the booty.” And he forbade them four things:
glazed jars, gourds, hollowed stumps of palm trees, and receptacles smeared with pitch, saying, “Observe them and tell your people at home about them.”
(Bukhari and Muslim, but the wording is Bukhari’s).
ব্যাখ্যা : ‘আবদুল ক্বায়স-এর গোত্র থেকে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দু’বার দু’টি প্রতিনিধি দল এসেছিল। ১ম দলটি এসেছিল ৫ম হিজরী সালে অথবা তার কিছু আগে বা পরে। এ দলের সদস্য ছিল ১৩ জন। তাদের মধ্যে আল্ আশাজ্ আল আসরীও ছিলেন। ২য় দলটি এসেছিল মক্কা বিজয়ের পরে। যে সালটি ‘প্রতিনিধি দলের বৎসর’ নামে খ্যাত সেই সালে। এ দলে সদস্য ছিল ৪০ জন। তাদের মধ্যে আল্ জারূদ আল্ ‘আবদীও ছিলেন। তারা এসে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন করে বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে ও আপনার মাঝে কাফির মুযার গোত্রের অবস্থান, তাই আমরা হারাম মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে পারি না। এতে বুঝা যায়, তারা রসূলের নিকট আসার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল।
এ হাদীসটি ঐ হাদীসের বিপরীত নয় যাতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমল তোমাদের কাউকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না’’। কেননা এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ব্যতীত শুধুমাত্র ‘আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না। এ কথা দ্বারা তাদের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যারা মনে করে ‘আমলই সবকিছু এবং আল্লাহর রহমাত বলতে কিছু নেই। অথচ ‘আমল করতে পারাটাই আল্লাহর রহমাত যা ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ অসম্ভব।
তাঁরা তাঁকে পানীয় সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করে। অর্থাৎ- বিভিন্ন পান পাত্রের মধ্যে কোন ধরনের পান পাত্রের পানীয় বৈধ? আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ প্রদান করেন। এ হাদীসে দু’টি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ঃ
(১) আদেশ করা হয়েছে একটির, বাকীগুলো এর ব্যাখ্যা, তা হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তোমরা জান কি, এক আল্লাহর প্রতি ঈমান কাকে বলে? তাহলে এখানে একটি বিষয়ের উল্লেখ করা হলো, তা হলো ঈমান। অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ দিব। তাহলে আর তিনটি কোথায়?
(২) আরকান পাঁচটি উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম বলেছেন তা চারটি।
প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো ঈমান মূলত একটি হলেও তার শাখা অনুপাতে তা চারটি বলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ- চারটি বস্ত্তর সমন্বয়ের নামই ঈমান।
২য় প্রশ্নের উত্তর এই যে, কথা সাহিত্যিকদের সাধারণ নিয়ম এই যে, তারা যখন কোন বিষয় কথা বলে তখন তার মূল বক্তব্যকেই এর মধ্যে গণ্য করা হয়। তা ব্যতীত আর যা কিছু তা ধর্তব্যের মধ্যে আসে না। এখানে শাহাদাতায়নের উল্লেখ মূল উদ্দেশ্য নয়। কেননা প্রশ্নকারী সম্প্রদায় শাহাদাতায়নের প্রতি আগে থেকেই বিশ্বাসী ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে এমন চারটি বস্ত্তর নির্দেশ দেন যা তাদের জানা ছিল না যে, এগুলো ঈমানের মৌলিক বিষয়। এ কথার সমর্থন মিলে সহীহুল বুখারী ২য় খণ্ডের ৬১২ পৃষ্ঠায় আদব পর্বে বর্ণিত হাদীসে। তাতে উল্লেখ আছে ‘‘আর চারটি বিষয় হলো তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করবে এবং গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ বায়তুল মালে জমা দিবে।’’
এ হাদীসে উল্লিখিত পাত্রসমূহে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাবিয তৈরি করতে নিষেধ করার কারণ এই যে, এই পাত্রসমূহের নাবীযে দ্রুত মাদকতা আসে। ফলে কেউ এ পাত্রে নাবিয তৈরি করার ফলে তার অজান্তেই সে মাদক পান করে ফেলতে পারে। পরবর্তীতে সকল প্রকার পাত্রেই নাবিয তৈরি করার অনুমতি প্রদান সাব্যস্ত আছে। তবে মাদক অবশ্যই বর্জনীয়।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৮-[১৭] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘিরে একদল সাহাবা (সাহাবা) বসেছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তাদেরকে উদ্দেশ করে বললেন, আমার হাতে এ কথার বায়’আত গ্রহণ কর যে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার (যিনা) করবে না, নিজেদের সন্তানাদি (অভাবের দরুন) হত্যা করবে না। কারো প্রতি (যিনার) মিথ্যা অপবাদ দিবে না। শারী’আতসম্মত কোন বিষয়ে অবাধ্য হবে না। তোমাদের মধ্যে যারা এ সকল অঙ্গীকার পূর্ণ করতে পারবে, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে পুরস্কার রয়েছে। অপরদিকে যে লোক (শির্ক ব্যতীত) অন্য কোন অপরাধ করবে এবং এজন্য দুনিয়ায় শাস্তি পেয়ে যাবে, তাহলে এ শাস্তি তার গুনাহ মাফ হবার কাফফারাহ্ হয়ে যাবে। আর যদি কোন গুনাহের কাজ করে, অথচ আল্লাহ তা ঢেকে রাখেন (বা ধরা না পড়ে), এজন্য দুনিয়ায় এর কোন বিচার না হয়ে থাকে, তাহলে এ কাজ আল্লাহর মর্যীর উপর নির্ভর করবে। তিনি ইচ্ছা করলে আখিরাতে তাকে ক্ষমা করে দিবেন অথবা শাস্তিও দিতে পারেন। বর্ণনাকারী (’উবাদাহ্) বলেন, আমরা এ সকল শর্তানুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বায়’আত করলাম। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: بَايَعُونِي عَلَى أَنْ لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ وَلَا تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ وَلَا تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ بِهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ إِلَى اللَّهِ: إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِك
Chapter - Section 1
‘Ubada b. as-Samit reported that God's messenger said when a number of his Companions were around him, “Swear allegiance to me on the basis that you will not associate anything with God, or steal, or commit fornication, or kill your children, or produce slander which you yourselves have falsely fabricated, or be disobedient concerning what is good. If any of you fulfils his promise, God will undertake his reward but if anyone perpetrates any of these things and is punished for it in this world, it will be an atonement for him. If, however, anyone perpetrates any of those things and God conceals it regarding him, the matter lies in God’s hands; if He wishes He will forgive him, and if He wishes He will punish him.” So we swore allegiance to him on that basis.
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: ইসলামের উপর অটল থাকার অঙ্গীকার লেনদেনের চুক্তি (বায়‘আত) নামে অভিহিত। এর কারণ এই যে, এখানে ক্রয় বিক্রয়ের মতই শর্ত বিদ্যমান। কেননা আনুগত্য করে এর বিনিময়ে সাওয়াব অর্জন, ক্রয় বিক্রয়ের মালের বিনিময়ে মাল অর্জনের চুক্তির মতই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে মু’মিনদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন।’’ (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ঃ ১১১)
অন্যায়ভাবে সকল হত্যাই হারাম। তা’ সত্ত্বেও এ হাদীসে বিশেষভাবে সন্তান হত্যা নিষেধ করা হয়েছে। এজন্য যে, এটা হত্যা ছাড়াও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার শামিল। তাই একে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আর এজন্য যে, সন্তান হত্যা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক ছিল। তখন জীবিত কন্যা সন্তান প্রোথিত করা হত। আর দরিদ্রতার ভয়ে পুত্র সন্তান হত্যা করা হত।
তোমরা তোমাদের হাত ও পায়ের মাঝে অপবাদ রচনা করবে না। এতে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, কোন মহিলা যিনার ফলে সন্তানকে যেন মিথ্যাপ্রাপ্ত তার স্বামীর সন্তান বলে দাবী না করে। পরবর্তীতে পুরুষদের বায়‘আতের ক্ষেত্রে এ শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে। তখন এর অর্থ হচ্ছে তুমি নিজ থেকে কোন অপবাদ রচনা করবে না।
মা‘রূফ কাজে আমার অবাধ্য হবে না- যে কাজ আল্লাহর আনুগত্য ও মানবের প্রতি কল্যাণরূপে পরিচিত এবং যে কাজ করতে শারী‘আত আহবান জানিয়েছে এমন সকল কাজকেই মা‘রূফ বলে। এ কথার দ্বারা সতর্ক করা হয়েছে যে, আল্লাহর বিরোধিতা হয় না শুধুমাত্র এমন কাজেই আনুগত্য করা কর্তব্য।
প্রশ্ন উঠতে পারে, এ হাদীসে তো শুধু নিষিদ্ধ কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আদিষ্ট কাজ উল্লেখ করা হয়নি কেন?
এর জবাবে বলা যায় যে, আদিষ্ট বিষয় একেবারে পরিত্যাগ করা হয়নি বরং তা সংক্ষিপ্তাকারে আমার অবাধ্য হবে না- এ বাক্যের মাধ্যমে বলে দেয়া হয়েছে।
‘‘কোন ব্যক্তি উল্লিখিত বিষয়গুলোতে যদি কোন অপরাধ করে আর আল্লাহ তা গোপন রাখেন তবে তার শাস্তি প্রদান বা ক্ষমা করা আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত। আল্লাহ তাকে শাস্তি দিতে পারেন আবার ক্ষমাও করতে পারেন।’’ এর দ্বারা বুঝা যায় কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহের দ্বারা কেউ কাফির হয়ে যায় না। কেননা কাফিরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।
হাদীসের শিক্ষাঃ পৃথিবীতে কোন ব্যক্তি অপরাধ করার পর তার ওপর শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করলে এটা তার গুনাহের কাফফারাহ্ হয়ে যাবে। ‘আলী (রাঃ) থেকে আহমাদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও হাকিমে বর্ণিত হাদীস থেকেও এ কথার সমর্থন পাওয়া যায়।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
১৯-[১৮] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর কিংবা কুরবানীর ঈদের দিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে গেলেন এবং নারীদের নিকট পৌঁছলেন। অতঃপর তাদের উদ্দেশে বললেন, ’’হে নারী সমাজ! তোমরা দান-সদাক্বাহ্ (সাদাকা) কর। কেননা আমাকে অবগত করানো হয়েছে যে, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী সমাজেরই হবে।’’ (এ কথা শুনে) তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! এর কারণ কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’তোমরা অধিক মাত্রায় অভিসম্পাত করে থাক এবং নিজ স্বামীদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে থাক। বুদ্ধি ও দীনদারীতে দুর্বল হবার পরও বিচক্ষণ ও সচেতন পুরুষদের বেওকুফ বানিয়ে দেবার জন্য তোমাদের চেয়ে অধিক পারঙ্গম আমি আর কাউকে দেখিনি।’’
(এ কথা শুনে) নারীরা আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে আমাদের কী দুর্বলতা রয়েছে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’একজন নারীর সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়?’’ তারা বলল, জি হাঁ! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’এটাই হলো নারীদের বুদ্ধিমত্তার দুর্বলতা। আর নারীরা মাসিক ঋতু অবস্থায় সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে ও সিয়াম পালন করতে পারে না। এটা কি সত্য নয়?’’ তারা উত্তরে বলেন, হাঁ তা-ই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ’’এটাই হলো তাদের দীনের দুর্বলতা।’’ (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَضْحًى أَوْ فِطْرٍ إِلَى الْمُصَلَّى فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ فَقُلْنَ وَبِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَذْهَبَ لِلُبِّ الرجل الحازم من إحداكن قُلْنَ وَمَا نُقْصَانُ دِينِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَلَيْسَ شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ مِثْلَ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ قُلْنَ بَلَى قَالَ فَذَلِكَ مِنْ نُقْصَان عقلهَا أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تَصِلِّ وَلَمْ تَصُمْ قُلْنَ بَلَى قَالَ فَذَلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا
Chapter - Section 1
Abu Sa'id al-Khudri said that when God’s messenger went out to the place of prayer on the day of sacrifice, or on the day when the fast was broken, he came upon some women and said, "Give alms, you women folk, for I have been shown that you will be the majority of the inhabitants of hell.” They asked, “For what reason, messenger of God?” He replied, “You are greatly given to abuse, and you are ungrateful to your husbands. Among women who are deficient in intelligence and religion I have not seen anyone more able to remove the understanding of a prudent man than one of you.” They asked, “What is the deficiency of our religion and our intelligence, messenger of God?” He replied, “Is not the testimony of a woman equivalent to half the testimony of a man?” They said, “Yes.” Remarking that that pertained to the deficiency of her intelligence, he asked, “Is it not the case that when she menstruates she neither prays nor fasts?” When they replied, “Yes,” he said, “That pertains to the deficiency of her religion.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: আল্লাহর রসূলের বাণী, ‘‘আমাকে জাহান্নামের অধিবাসী অধিকাংশ মহিলাকে দেখানো হয়েছে’’। এই দেখার ঘটনা হয়ত মি‘রাজ রজনীতে অথবা সূর্যগ্রহনের সালাতে সংঘটিত হয়েছে, যেমনটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস হতে জানা যায়।
এ হাদীসটি ঐ সমস্ত হাদীসের বিরোধী নয় যাতে বলা হয়েছে, ‘‘জান্নাতে প্রত্যেক পুরুষকে দুনিয়ার মধ্যকার দুজন নারীকে তার স্ত্রী হিসেবে দেয়া হবে।’’ যাতে প্রমাণিত হয় জান্নাতেই নারীদের সংখ্যা বেশী জাহান্নামে নয়। কেননা হতে পারে যে, এই আধিক্য জাহান্নাম হতে গুণাহগারদের বের করার পূর্বে তাতে নারীদের সংখ্যাই বেশী থাকবে। অথবা এমন হতে পারে যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন জাহান্নাম দেখানো হয় তখন তাতে নারীদের সংখ্যাই ছিল বেশী।
হাদীসে বর্ণিত الْعَشِيْرَ অর্থ স্বামী। তারা তাদের স্বামীদের সাথে কুফরী করে। তাদের স্বামীর অনুগ্রহ ও সদাচরণকে তারা অস্বীকার করে এবং তাদের জন্য যা করে তা খাটো করে দেখে।
হাদীসে বর্ণিত ‘‘মহিলাদের হায়য চলাকালীন সময়ে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ও রোযা ছেড়ে দেয়া তাদের ধর্মের মধ্যে ঘাটতি রয়েছে বলায় কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে এটা ধর্মের ঘাটতি হলো কি করে? এর জবাবে বলা যেতে পারে যে, দীন, ঈমান ও ইসলাম একই বস্তু। কেননা আনুগত্যকে দীন ও ঈমান বলা হয়। এ থেকে সাব্যস্ত হয় যে, যার ‘ইবাদাত বেশী হয় তার দীন ও ঈমান বৃদ্ধি পায় বা পূর্ণ হয়। পক্ষান্তরে যার ‘ইবাদাত কম হয় তার দীন ও ঈমানে ঘাটতি হয়। হাদীসে তাদের এই ঘাটতিকে দোষের বলা হয়নি। বরং এর দ্বারা তাদের সতর্ক করা হয়েছে, তাদের শাস্তির কারণ বলা হয়েছে তা তাদের কুফরী করাকে তাদের এই ঘাটতিকে নয়।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) অনুগ্রহ অস্বীকার করা হারাম।
(২) লা‘নাত দেয়া, গালি-গালাজ করা হারাম।
(৩) আল্লাহর সাথে কুফরী ছাড়াও অন্য কোন কাজকে কুফরী বলা বৈধ। তবে এ কুফরী আল্লাহর সাথে কুফরী করার সমতুল্য নয়।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২০-[১৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, আদম সন্তান আমাকে মিথ্যাবাদী বানাচ্ছে, অথচ এটা তাদের জন্য অনুচিত। সে আমায় মন্দ বলছে অথচ এটাও তাদের পক্ষে সমীচীন নয়। আমাকে মিথ্যা বলার অর্থ হল- তারা বলে, এমনভাবে আল্লাহ আমাকে (আখিরাতে) অবশ্যই সৃষ্টি করতে পারবেন না ঠিক যেভাবে আল্লাহ আমাকে প্রথম (এ দুনিয়ায়) সৃষ্টি করেছেন। অথচ আমার পক্ষে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা প্রথমবার সৃষ্টি করার তুলনায় অধিকতর সহজ নয় কি? আর আমার ব্যাপারে মন্দ বলার অর্থ হলো, তারা বলে, আল্লাহ নিজের পুত্র বানিয়েছেন, অথচ আমি একক ও অমুখাপেক্ষী। আমি কাউকে জন্ম দেইনি, আমাকেও কেউ জন্ম দেইনি, আর কেউ আমার সমকক্ষও নয়।[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُ كَذبَنِي ابْن آدم وَلم يكن لَهُ ذَلِك وَشَتَمَنِي وَلم يكن لَهُ ذَلِك أما تَكْذِيبه إيَّايَ أَن يَقُول إِنِّي لن أُعِيدهُ كَمَا بَدأته وَأما شَتمه إيَّايَ أَن يَقُول اتخذ الله ولدا وَأَنا الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ وَلَمْ يكن لي كُفؤًا أحد (لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفؤًا أحد)
كُفؤًا وكفيئا وكفاء وَاحِد
Chapter - Section 1
Abu Huraira reported that God’s messenger declared that God said, “The son of Adam has accused me of falsehood, which he had no right to do; and he has reviled me, which he had no right to do. His accusation of falsehood is in his saying, ‘He will not bring me back to life as He created me’, whereas the original act of creation is no easier for me than to bring him back to life. His reviling of me is in his saying, ‘God has taken a son’, whereas I am the One, to whom men repair, who has not begotten and has not been begotten, and to whom no one is equal.”
Bukhari transmitted it.
ব্যাখ্যা: এ জাতীয় হাদীসকে হাদীসে কুদসী বলা হয়। হাদীসে কুদসী ও কুরআনের মধ্যে পার্থক্য এই যে, হাদীসে কুদসীতে নাবীগণ ইলহাম, স্বপ্ন অথবা মালায়িকাহ্’র (ফেরেশতাগণের) ভাষার মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ অবগত হন। অতঃপর ভাষায় তার মর্ম তার উম্মাতদেরকে অবহিত করেন।
সরাসরি আল্লাহর যে বাণী নিয়ে জিবরীল (আঃ) স্বয়ং অবতীর্ণ হন এবং তা আল্লাহর ভাষায়ই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছিয়ে দেন। কুরআন মুতাওয়াতির, হাদীসে কুদসী তা নয়- হাদীসে এ কথার ইঙ্গিত রয়েছে। পুনরুত্থান বাস্তব এবং তা সম্ভব। কেননা সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও আকৃতির উপর শরীরের গঠন নির্ভরশীল তার অস্তিত্ব যদি অসম্ভব হত তাহলে শরীরের অস্তিত্ব পাওয়া যেত না অথচ শরীরের অস্তিত্ব বিদ্যমান। প্রথমবার যার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব হয়েছে দ্বিতীয়বার তার পক্ষে তা অসম্ভব নয়।
‘‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’’ এটা তার জন্য গালি এজন্য যে, এতে তার ত্রুটি ব্যক্ত হয়েছে। কেননা সাধারণত সন্তানের জন্ম হয় তার মা থেকে। মা সন্তান গর্ভে ধারণ করে, এরপর প্রসব করে। এর জন্য আগে বিয়ের প্রয়োজন হয়। আর আল্লাহ তা‘আলা এসব কিছু থেকে পবিত্র।
‘‘আমার সমকক্ষ কেউ নেই’’ এর দ্বারা সকল প্রকার সমকক্ষতাকে অস্বীকার করা হয়েছে। পিতা না হওয়া স্ত্রী না থাকা এর অন্তর্ভুক্ত।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২১-[২০] আর ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর অপর বর্ণনায় আছে, ’’আর তার আমাকে মন্দ বলার’’ অর্থ হলো এ কথা বলা যে, আল্লাহর সন্তান আছে, অথচ আমি স্ত্রী ও পুত্র হতে পবিত্র। (বুখারী)[1]
الفصل الاول
وَفِي رِوَايَة عَن ابْنِ عَبَّاسٍ: وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: لِي وَلَدٌ وَسُبْحَانِي أَنْ أَتَّخِذَ صَاحِبَةً أَوْ وَلَدًا
Chapter - Section 1
A version from Ibn ‘Abbas has:
“His reviling of me is his statement that I have a son. Far be it from me that I should have a consort or a son.”
Bukhari transmitted it.
ব্যাখ্যা : (বলা হয়ে থাকে) আমার সন্তান আছে অথচ আমার সত্তাকে আমি পবিত্র রেখেছি সন্তান ও স্ত্রী গ্রহণ করা থেকে। এ হাদীসের সাথে কিতাবুল ঈমানের সম্পর্ক এই যে, হাশর বা পুনরুত্থান অস্বীকার করা এবং আল্লাহর সন্তান আছে দাবী করা হাদীসে জিবরীলে বর্ণিত ঈমানের বিপরীত। তাই হাদীসটি এ পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২২-[২১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেন, আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তারা যুগ বা কালকে গালি দেয়, অথচ আমিই দাহর অর্থাৎ- যুগ বা কাল। আমার হাতেই (কালের পরিবর্তনের) ক্ষমতা। দিন-রাত্রির পরিবর্তন আমিই করে থাকি। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ بِيَدِيَ الْأَمْرُ أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ
Chapter - Section 1
Abu Huraira reported that God’s messenger declared that God said, “The son of Adam injures me by abusing time, whereas I am time. Authority is in my hand. I vary night and day.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: ‘আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়’ এর অর্থ হচ্ছে সে আমার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করে যা আমি অপছন্দ করি। আর সে আমার দিকে এমন বস্তুর সম্পর্ক স্থাপন করে যা আমার মর্যাদার পরিপন্থী। এ থেকে উদ্দেশ্য হলো যার দ্বারা এরূপ কাজ সংঘটিত হবে সে আল্লাহর বিরাগ ও অসন্তোষের শিকার হবে। আর আল্লাহ ও তার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা অপছন্দ করে এবং যার প্রতি তারা সন্তুষ্ট নন এমন কাজ করা।
‘‘যামানাকে গালি দেয়’’ এর মর্ম হলো, যখন কারো মৃত্যু ঘটে অথবা কারো ধ্বংস হয় বা সম্পদ বিনষ্ট হয়, তখন যামানাকে বলে ‘‘যামানা ধ্বংস হোক’’ জাহিলী যুগের লোকেরা কোন বিপদ মুসীবাতে পতিত হলে এরূপ বলতো। তাদের মধ্যে কেউ তো এমন ছিল যে, তারা আল্লাহ-কে বিশ্বাস করত না, তারা দিবা-রাত্রির পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই বুঝতো না। তাদের বিশ্বাস ছিল প্রতি ৩৬ হাজার বছর পরে সকল কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটে।
আবার কেউ এমন ছিল যে, তারা স্রষ্টাকে স্বীকার করতো, তবে তারা কোন অপছন্দনীয় বিষয়কে আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করাকে অপছন্দ করতো। ফলে অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে তা যামানা ও যুগের সাথে সম্পৃক্ত করত। এভাবেই তারা যামানাকে গালি দিতো এবং দোষারোপ করত। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা‘আলাই হলেন যামানার সৃষ্টিকারী, এর পরিবর্তনকারী। যামানার মধ্যে কোন কল্যাণ ও অকল্যাণের সৃষ্টি করেন মহান আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্টি। অতএব কোন আদম সন্তান যখন সেই যামানাকে গালি দেয় তখন প্রকৃতপক্ষে সে গালি তার ওপরই বর্তায় যিনি এর সৃষ্টিকর্তা। যার সমর্থন পাওয়া যায় মুসনাদ আহমাদে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত সহীহ হাদীসে। এতে বলা হয়েছে ‘‘তোমরা যামানাকে গালি দিবে না’’ কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন ‘‘আমিই যামানা। দিবা রাত্রি আমারই (সৃষ্টি)। আমিই তা নতুন করে নিয়ে আসি আবার তা পুরাতন করে দিই। এক বাদশাহ্ পরে আরেক বাদশাহ্ আবির্ভাব ঘটাই।’’
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৩-[২২] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কষ্টদায়ক কোন বিষয় শুনেও সবর করার ক্ষমতা আল্লাহর চেয়ে অধিক আর কারো নেই। মানুষেরা তাঁর সন্তান আছে বলে দাবি করে। (এরপরও তিনি মানুষের ওপর কোন প্রতিশোধ গ্রহণ না করে), বরং তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং তাদেরকে জীবিকা দান করে থাকেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَحَدٌ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللَّهِ يَدْعُونَ لَهُ الْوَلَدَ ثُمَّ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ»
Chapter - Section 1
Abu Musa reported God's messenger as saying, “No one is more patient over injury which he hears than God. Men attribute a son to Him, yet He preserves them and provides for them.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: ‘আল্লাহ অধিক ধৈর্যশীল’ এর মর্ম হলো শাস্তিযোগ্য ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি না দিয়ে তা বিলম্বিত করা। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ এর অর্থ হলো আল্লাহ সেই সত্তা যিনি অপরাধীদেরকে দ্রুত শাস্তি দেন না। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে যে, আল্লাহ তো কষ্ট পাওয়া হতে মুক্ত। কেননা কষ্ট পাওয়া একটি ত্রুটি, আল্লাহ তো সকল প্রকার ত্রুটি থেকে মুক্ত। এর জওয়াব এই যে, এ কষ্ট তার রসূল ও তার সৎ বান্দাগণের প্রতি যুক্ত হয়। যেমনিভাবে আল্লাহর সন্তান সাব্যস্ত করার অর্থ সৎ বান্দাদের কষ্ট দেয়া, কেননা তাতে তাদের এ দাবী প্রত্যাখ্যান করা হয় যে, আল্লাহর সন্তান ও স্ত্রী নেই। তাই এ কষ্টকে আল্লাহর সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে যাতে তাদের দাবীর প্রত্যাখ্যান সুস্পষ্ট নয়।
আল্লাহর রসূলদের প্রতি মিথ্যারোপকারীদের তিনি বিভিন্ন বালা মুসীবাত হতে রক্ষা করে তাদের সুস্থ রাখেন। তাদের নিরাপত্তা দান করেন ও বিভিন্ন প্রকার সম্পদ দিয়ে লালন পালন করেন। তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেন না। অতএব তিনি অতি ধৈর্যশীল। কেননা তিনি তা বাধ্য হয়ে করেন না। বরং শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এ বিলম্ব তার দয়া ও অনুগ্রহ।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) কষ্ট সহ্য করে ধৈর্য ধারণ করা প্রশংসনীয়।
(২) প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ না নেয়া একটি মহৎ গুণ।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৪-[২৩] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ভ্রমণে গাধার উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে আরোহণ করলাম। আমার আর তাঁর মধ্যে হাওদার পেছন দিকের হেলানো কাঠ ছাড়া আর কোন ব্যবধান ছিল না। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে মু’আয! বান্দাদের ওপর আল্লাহর কি হক এবং আল্লাহর ওপর বান্দার কি হক, তুমি কি তা জান? আমি বললাম, আল্লাহ ও আল্লাহর রসূলই এ ব্যাপারে অধিক অবগত। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো, তারা আল্লাহর ’ইবাদাত করবে, তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করেনি, আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না- এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আমি কি এ সুসংবাদ মানুষদেরকে জানিয়ে দিব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, লোকদেরকে এ সুংসংবাদ দিও না। কারণ তাহলে তারা এর উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَن معَاذ رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم على حمَار يُقَال لَهُ عفير فَقَالَ يَا معَاذ هَل تَدْرِي حَقُّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ وَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ؟ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَحَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لَا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا أُبَشِّرُ بِهِ النَّاسَ قَالَ لَا تُبَشِّرُهُمْ فَيَتَّكِلُوا
Chapter - Section 1
Mu'adh said:
I was riding behind the Prophet on an ass with nothing between him and me but the rear part of the saddle, when he said, “Do you know, Mu'adh, what God has a right to expect from His servants, and what His servants have a right to expect from God?” I replied, “God and His messenger know best.” He said, “What God has a right to expect from His servants is that they should worship Him, not associating anything with him; and what the servants have a right to expect from God is that He should not punish one who does not associate anything with Him.” I said, “Messenger of God, shall I not give this good news to the people?” He replied, “Do not tell them, and have them trusting in it alone.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: হক বাতিলের বিপরীত। কেননা সত্য স্থায়ী বাতিল অস্থায়ী। হক শব্দটি আবশ্যক, জরুরী, উপযুক্ত। বান্দার হক অর্থ বান্দার জন্য যা উপযুক্ত ও যোগ্য। ‘আল্লাহর প্রতি বান্দার হক’ এর অর্থ আল্লাহ কর্তৃক তার বান্দার প্রতি পুরস্কার দেয়ার ওয়া‘দা। হাদীসে বর্ণিত ‘ইবাদাতের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরে বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে আদিষ্ট কাজ সম্পাদন করা ও অবাধ্যতা হতে বিরত থাকা। যার অবস্থা এরূপ হবে তাকে কোন শাস্তি দেয়া হবে না। বরং সে বিনা শাস্তিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
নির্ভর করা অর্থাৎ- আদিষ্ট কাজ করা নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকা ছাড়াও ফাযীলাতপূর্ণ যে সমস্ত সুন্নাত ও নফল রয়েছে তা পরিত্যাগ করা। তা এজন্য যে, মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই উপকার অর্জনের চাইতে ক্ষতি প্রতিরোধ করতে বেশী আগ্রহী। অতএব সে যখন জানতে পারবে যে, মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরে বিশ্বাস স্থাপনের সাথে ফরয ‘আমল করা এবং নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকাই মুক্তি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট, তখন সে এতেই তৃপ্ত থাকবে এবং সুন্নাত ও নফল কাজ করতে অলসতা করবে। সে উচ্চ মর্যাদা পাওয়ার জন্য কোন চেষ্টাই করবে না। সন্দেহ নেই যে, শুধু ফরয ও ওয়াজিব সম্পাদন করা এবং সুন্নাত ও নফল পালন থেকে বিরত থাকা উঁচু মর্যাদা অর্জন হতে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। এজন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয (রাঃ)-কে এ সংবাদ প্রদান করতে বারণ করলেন যাতে তারা উঁচু মর্যাদা অর্জনে সচেষ্ট হয়। মু‘আয (রাঃ)-কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস বর্ণনা করতে বারণ করা সত্ত্বেও মৃত্যুর পূর্বে তিনি এ হাদীস বর্ণনা করেছেন ‘ইলম গোপন করার গুনাহ থেকে বাঁচার উদ্দেশে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৫-[২৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনের উপর বসা ছিলেন এবং তাঁর পেছনে মু’আয (রাঃ) আরোহণ করেছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে মু’আয! তিনি (মু’আয) বললেন, আমি উপস্থিত আছি, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, হে মু’আয! তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি। তৃতীয়বার আবার তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে মু’আয! তিনি বললেন, আমি উপস্থিত আছি। এভাবে মু’আযকে তিনবার ডাকলেন এবং (মু’আয) তিনবারই তাঁর উত্তর দিলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর যে বান্দা খাঁটি মনে এ ঘোষণা দিবে, ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল’’, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।
তখন মু’আয (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সুসংবাদটি কি আমি লোকেদেরকে জানিয়ে দিব? তারা যাতে এ খোশখবরী শুনলে খুশী হয়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না, তাহলে তারা এর উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। [আনাস (রাঃ) বলেন] মু’আয (রাঃ) শুধুমাত্র হাদীস গোপন করার অপরাধে অপরাধী হওয়ার ভয়েই মৃত্যুকালে এ হাদীসটি প্রকাশ করে গিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمُعَاذٌ رديفه على الرحل قَالَ: «يَا معَاذ بن جبل قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ قَالَ يَا مُعَاذُ قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْديك ثَلَاثًا قَالَ مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ إِلَّا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا أُخْبِرُ بِهِ النَّاس فيستبشروا قَالَ إِذا يتكلوا وَأخْبر بِهَا مُعَاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ تَأَثُّمًا»
تَأَثُّمًا (তাআস্সুমান) অর্থ পাপে জড়িত হওয়ার ভয় করা। অর্থাৎ- মু‘আয (রাঃ) ‘ইল্ম গোপন করার পাপ থেকে বাঁচার জন্য মৃত্যুর সময় হাদীসটি বলে দিলেন। কারণ এ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে (مَنْ كَتَمَ عِلْمًا ألْجِمَ بِلِجَامٍ مِنْ نَّارٍ) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি ‘ইল্ম গোপন করবে তাকে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন আগুনের লাগাম পরানো হবে।
Chapter - Section 1
Anas reported that, when Mu'adh was riding behind the Prophet on the saddle, he said, “Mu'adh”, to which he replied, “At your service and at your pleasure, messenger of God.” He said, “Mu'adh”, to which he replied, “At your service and at your pleasure, messenger of God.” He said, “Mu'adh”, to which he replied, “At your service and at your pleasure, messenger of God,” three times altogether. He said, “If anyone testifies sincerely from his heart that there is no god but God and that Muhammad is God’s messenger, God will declare him immune from hell.” He asked, “Messenger of God, shall I not then inform people of it, so that they may be of good cheer?” He replied, “Then they would trust in it alone.” Mu'adh told about it at the time of his death, to avoid sinning.
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, যারা আল্লাহর একত্ববাদ ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের প্রতি সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করবে- তারা সকলেই জাহান্নামে প্রবেশ হতে বেঁচে যাবে অর্থাৎ- কালিমায়ে শাহাদাতের প্রতি বিশ্বাসী কোন ব্যক্তিই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। এ হাদীসটি ঐ স্পষ্ট বিশুদ্ধ হাদীসের বিরোধী যা দ্বারা প্রমাণিত যে, একত্ববাদে বিশ্বাসী একদল গুনাহগার জাহান্নামে প্রবেশ করবে, অতঃপর সুপারিশের মাধ্যমে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।
এর জবাব এই যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে জানিয়েছেন যে, ঈমানের জন্য সৎ ‘আমল জরুরী। আর গুনাহের কাজ আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে আবশ্যক করে দেয়- এ কথাটি তাদেরকে বার বার বলার প্রয়োজনবোধ করেননি এজন্য যে, এটি তাদের জানা বিষয়। তা সত্ত্বেও এ হাদীসে ঈমানের শাখাগুলোর মধ্য হতে শাহাদাতায়নকে বিশেষভাবে এজন্য উল্লেখ করেছেন যে, এ দু’টি ঈমানের প্রকৃত ও মূল ভিত্তি। যার উপর স্থায়ী জীবনের ফলাফল নির্ভরশীল। মোট কথা এই যে, জাহান্নামের জন্য হারাম হওয়া অর্জিত হয় শাহাদাতায়ন ও আনুষঙ্গিক কর্মের ভিত্তিতে। তবে তার মধ্য থেকে শুধু ঐ বিষয়টিকে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যা অতি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো কালিমাহ্। তা গাছের ঐ মূলের ন্যায় যা ব্যতীত গাছের জীবন অকল্পনীয়।
মু‘আয (রাঃ) তার মৃত্যুকালে ‘ইলম গোপন করার গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য হাদীসটি বর্ণনা করেন।
এখানে প্রশ্ন হতে পারে, হাদীস গোপন করা যদি গুনাহ হয় তাহলে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিষেধের বিরোধিতা করা কি গুনাহ নয়?
জবাব এই যে, নিশ্চয় তিনি অবহিত হতে পেরেছিলেন, এ নিষেধাজ্ঞা কোন মাসলাহাত তথা উপকারের জন্য ছিল। তা অবশ্যই হারাম ছিল না যাতে তিনি এ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে গুনাহে পতিত হবেন। তা সত্ত্বেও যে কারণে তিনি তা অবহিত করেছিলেন, তা এই যে কুরআন মাজীদে প্রচার করার আদেশ বিদ্যমান।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৬-[২৫] আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে পৌঁছলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি সাদা কাপড় পরিহিত অবস্থায় ঘুমিয়েছিলেন। আমি ফেরত চলে এলাম। অতঃপর পুনরায় তাঁর নিকট গেলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জেগে ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমাকে দেখে) বললেন, যে ব্যক্তি (অন্তরের সাথে) ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ বলবে আর এ বিশ্বাসের উপর তার মৃত্যু হবে, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, সে চুরি ও ব্যভিচার (এর মতো বড় গুনাহ) করে থাকে তবুও? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ সে চুরি ও ব্যভিচার করলেও। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, চুরি ও ব্যভিচার করার পরও? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, চুরি ও ব্যভিচারের ন্যায় গুনাহ করলেও। আবূ যার-এর নাক ধূলায় মলিন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন, যখনই আবূ যার (রাঃ) এ হাদীসটি বর্ণনা করতেন (গৌরবের সাথে) এ শেষ বাক্যটি ’আবূ যার-এর নাক ধূলায় মলিন হলেও’ অবশ্যই বর্ণনা করতেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ ثَوْبٌ أَبْيَضُ وَهُوَ نَائِمٌ ثُمَّ أَتَيْتُهُ وَقَدِ اسْتَيْقَظَ فَقَالَ: «مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ وَكَانَ أَبُو ذَرٍّ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا قَالَ وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي ذَر»
Chapter - Section 1
Abu Dharr said:
I came to the Prophet and found him asleep under a white sheet. When I came back to him after he had awakened he said, “If anyone says there is no god but God and dies in that belief, he will enter paradise.” I asked, “Even if he commits fornication and even if he steals?” He replied, “Even if he commits fornication and even if he steals.” I asked, “Even if he commits fornication and even if he steals?” He replied, “Even if he commits fornication and even if he steals.” I asked, “Even if he commits fornication and even if he steals?” He replied, “Even if he commits fornication and even if he steals, in spite of Abu Dharr.” When Abu Dharr told this he said, “Even if Abu Dharr’s pride is humbled.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা : হাদীস থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, কোন ব্যক্তি ঈমানের উপর মৃত্যুবরণ করলে সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে এ কথা ঠিক যদি সে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ না করে। অথবা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ করলেও তার উপর অটল থেকে মারা না যায়। তবে সে প্রথমেই অর্থাৎ- কোন প্রকার শাস্তি ভোগ না করেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যদি সে কোন কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ করে এবং তার উপর অটল থেকেই মারা যায় তবে সে আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। তাকে যদি আল্লাহ ক্ষমা করেন তবে সে শাস্তি ভোগ না করেই জান্নাতে যাবে। আর আল্লাহ যদি ক্ষমা না করেন তবে পাপানুসারে সে শাস্তি ভোগ করবে। অতঃপর তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে স্থায়ীভাবে জান্নাতে দেয়া হবে।
‘‘যদিও সে যিনা করে ও চুরি করে’’ এ থেকে বুঝা যায় যে, যদি কোন মু’মিন সকল ধরনের কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ করে আর তাকে ক্ষমা করা হয় তাহলে শাস্তি ভোগ না করেই সে জান্নাতে যাবে। আর ক্ষমা করা না হলে শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে যাবে। হাদীসে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহের দু’টি প্রকার উল্লেখ করা হয়েছে। এ কথা বুঝানোর জন্য যে, গুনাহ দুই প্রকারঃ আল্লাহর হক যেমন যিনা করা, আর বান্দার হক যেমন অন্যায়ভাবে তাদের মাল আত্মসাৎ করা।
হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ দ্বারা ঈমান দূরীভূত হয় না। কেননা যে ব্যক্তি মু’মিন নয় সে কক্ষনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।
(২) কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ তার অন্যান্য পুণ্যকর্মের সাওয়াব বিনষ্ট করে না।
(৩) কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহকারী স্থায়ীভাবে জাহান্নামী হবে না। শাস্তি ভোগ করার পর সে জান্নাতে যাবে।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৭-[২৬] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক (অন্তরের সাথে) এ ঘোষণা দিবে, ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তাঁর কোন শরীক নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁরই রসূল এবং মারইয়াম (আঃ)-এর ছেলেও [’ঈসা (আঃ)] আল্লাহর বান্দা ও তাঁরই রসূল, তাঁর বান্দীর সন্তান ও আল্লাহর কালিমাহ্- যা তিনি মারইয়াম (আঃ)-এর প্রতি প্রেরণ করেছিলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ’রূহ’, আর জান্নাত-জাহান্নাম সত্য- তার ’আমল যা-ই হোক না কেন আল্লাহ তা’আলা তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الاول
وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنَّ عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَابْنُ أَمَتِهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ وَالْجَنَّةُ وَالنَّارُ حَقٌّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ عَلَى مَا كَانَ من الْعَمَل»
Chapter - Section 1
‘Ubada b. as-Samit reported God’s messenger as saying, “If anyone testifies that there is no god but God alone, who has no partner, that Muhammad is His servant and messenger, that Jesus is God’s servant and messenger, the son of His handmaid, His word which he cast into Mary and a spirit from Him, and that paradise and hell are real, God will cause him to enter paradise no matter what he has done.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: ‘‘ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা’’ এ কথা দ্বারা ইয়াহূদী-নাসারাদের ত্রিত্ববাদের দিকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তাদের এ বিশ্বাস মূলত শির্ক।
‘ঈসা (আঃ) তাঁরই রসূল- এ কথা দ্বারা ইয়াহূদীদের ‘ঈসা (আঃ)-এর রিসালাত (রিসালাত) অস্বীকার করাকে এবং তাঁর মা মারইয়াম (আঃ)-এর প্রতি অপবাদ আরোপ করাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
‘ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর কালিমাহ্ এজন্য বলা হয় যে, তিনি তাঁকে ‘হও’ শব্দ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
‘‘তিনি তাঁর রূহ’’ এ কথার মধ্যে এ ইঙ্গিত রয়েছে যে, ‘ঈসা (আঃ) তাঁর নৈকট্য অর্জনকারী এবং তাঁর প্রিয় ব্যক্তি। আর তিনি তাঁর সৃষ্টিও বটে।
‘‘তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এতে তার ‘আমল যাই হোক’’ এর মর্ম হলো যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, সে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার পরও জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বিস্তারিত ব্যাখ্যা আবূ যার (রাঃ)-এর হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
২৮-[২৭] ’আমর ইবনুল ’আস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দিকে আপনার হাত প্রসারিত করে দিন আমি আপনার কাছে ইসলাম গ্রহণের বায়’আত করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত প্রসারিত করে দিলেন, কিন্তু আমি আমার হাত টেনে নিলাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (অবাক হয়ে) বললেন, তোমার কি হলো হে ’আমর! আমি বললাম, আমার কিছু শর্ত আছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কি শর্ত? আমি বললাম, আমি চাই আমার (পূর্বের কৃত) গুনাহ যেন মাফ করে দেয়া হয়। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’আমর! তুমি কি জানো না ’ইসলাম গ্রহণ’ পূর্বেকার সকল গুনাহ বিনাশ করে দেয়। হিজরত সে সকল গুনাহ মাফ করে দেয় যা হিজরতের পূর্বে করা হয়েছে। এমনিভাবে হাজ্জ (হজ / হজ্জ)ও তার পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়? (বুখারী, মুসলিম)[1]
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে দু’টি হাদীস, প্রথমটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ আমি শরীককারীদের শির্ক হতে মুক্ত। ..... দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ’অহংকার আমার চাদর ইন-শা-আল্লাহ তা’আলা রিয়ার অনুচ্ছেদে শীঘ্রই তা বর্ণনা করব।
الفصل الاول
وَعَن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ: «أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقلت ابْسُطْ يَمِينك فلأبايعك فَبسط يَمِينه قَالَ فَقَبَضْتُ يَدِي فَقَالَ مَا لَكَ يَا عَمْرُو قلت أردْت أَن أشْتَرط قَالَ تَشْتَرِطُ مَاذَا قُلْتُ أَنْ يُغْفَرَ لِي قَالَ أما علمت أَنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا وَأَنَّ الْحَجَّ يهدم مَا كَانَ قبله» ؟
وَالْحَدِيثَانِ الْمَرْوِيَّانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: «أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ» . والاخر: «الْكِبْرِيَاء رِدَائي» سَنَذْكُرُهُمَا فِي بَابِ الرِّيَاءِ وَالْكِبْرِ إِنْ شَاءَ الله تَعَالَى
Chapter - Section 1
'Amr b. al-‘As said:
I came to the Prophet and said, “Stretch out your right hand and let me swear allegiance to you.” He stretched out his right hand, but I clenched my hand and he said, “What is the matter with you, ‘Amr?” I replied, “I want to make a condition.” He asked, “What condition do you make?” I replied, “That I should receive forgiveness.” He said, “Do you not know, 'Amr, that Islam demolishes what preceded it, that the Hijra demolishes what preceded it, and the Pilgrimage demolishes what preceded it?”
Muslim transmitted it. We shall mention the two traditions transmitted from Abu Huraira, (1) He declared that God said, “I am the one who is most able to dispense with partnership”; (2) “Pride is my cloak”, in the chapters on Hypocrisy and Pride, if God most high will.
ব্যাখ্যা: কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করার ফলে তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। চাই তা আল্লাহর হক হোক অথবা বান্দার ওপর যুলম হোক। তা সগীরাহ্ গুনাহ হোক অথবা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ হোক। তবে হিজরত এবং হাজ্জ (হজ/হজ্জ)- এ দু’টি কাজ সম্পাদনের ফলে আল্লাহ ও বান্দার মাঝে যে হক আছে তা মাফ হয় কিন্তু বান্দার হক মাফ হয় না। এর উপর ইজমা, অর্থাৎ- সকল উম্মাতের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত আছে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
২৯-[২৮] মু’আয (রাঃ) ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটা ’আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে (সহজে) জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তুমি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করলে, কিন্তু যার পক্ষে আল্লাহ এটা সহজ করে দেন, তার পক্ষে এটা খুবই সহজ। তা হচ্ছে, আল্লাহর ’ইবাদাত করবে, কাউকে তাঁর সাথে শরীক করবে না। নিয়মিত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করবে, যাকাত দিবে, রমাযানের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ (হজ/হজ্জ) করবে। তারপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে মু’আয! আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহ বলে দিব না? (জেনে রেখ) সিয়াম (কুপ্রবৃত্তির মুকাবিলায়) ঢালস্বরূপ। দান-সদাক্বাহ্ (সাদাকা) গুনাহকে নির্মূল করে দেয় যেমনিভাবে পানি আগুনকে ঠাণ্ডা করে দেয়। মানুষের মধ্য-রাত্রির (তাহাজ্জুদের) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) (আদায়ের মাধ্যমে গুনাহ শেষ হয়ে যায়)। অতঃপর (তার প্রমাণে কুরআনের এ আয়াত) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করলেনঃ ’’সৎ মু’মিনদের পাঁজর বিছানা থেকে আলাদা থাকে (অর্থাৎ- তারা শয্যা ত্যাগ করে ’ইবাদাতে রত থাকে) আর নিজেদের পরওয়ারদিগারকে আশা-নিরাশার স্বরে ডাকতে থাকে। যে সম্পদ আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে আল্লাহর পথে খরচ করে। কোন মানুষই জানে না, এ সৎ মু’মিনদের চোখ ঠাণ্ডা করার জন্য কি জিনিস লুক্বায়িত রাখা হয়েছে। এটা হলো তাদের কৃত সৎ ’আমলের পুরস্কার’’- (সূরাহ্ আস্ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) ৩২: ১৬-১৭)।
অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি কি তোমাকে বলে দিব না, (দীনের) কাজের খুঁটি স্তম্ভ কি এবং তার উচ্চশিখরই বা কি? আমি বললাম, হাঁ, বলে দিন, হে আল্লাহর রসূল! তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দীনের (সমস্ত কাজের) আসল হচ্ছে ইসলাম (অর্থাৎ- কালিমাহ্)। আর তার স্তম্ভ হলো সালাত (সালাত/নামায/নামাজ), আর উচ্চশিখর হচ্ছে জিহাদ। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে এ সকলের মূল বলে দিব না? আমি উত্তর দিলাম, হে আল্লাহর নবী! অবশ্যই তা বলে দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জিহবা ধরে বললেন, এটাকে সংযত রাখ। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা মুখ দ্বারা যা বলি, এ সম্পর্কেও কি (পরকালে) আমাদের জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সর্বনাশ, কি বললে হে মু’আয! (জেনে রেখ কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন) মানুষকে মুখ অথবা নাকের উপর উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তার কারণ মুখ থেকে বেরিয়ে আসা অসংযত কথা।[1]
الفصل الثانى
عَن معَاذ بن جبل قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سفر فَأَصْبَحت يَوْمًا قَرِيبا مِنْهُ وَنحن نسير فَقلت يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدنِي عَن النَّار قَالَ لقد سَأَلتنِي عَن عَظِيمٍ وَإِنَّهُ لِيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ تَعْبُدُ اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْت ثُمَّ قَالَ أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةُ كَمَا يُطْفِئُ المَاء النَّار وَصَلَاة الرجل من جَوف اللَّيْل قَالَ ثمَّ تَلا (تَتَجَافَى جنُوبهم عَن الْمضَاجِع)
حَتَّى بَلَغَ (يَعْمَلُونَ)
ثُمَّ قَالَ أَلَا أَدُلُّكَ بِرَأْس الْأَمر كُله وَعَمُودِهِ وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ ثُمَّ قَالَ أَلَا أُخْبِرُكَ بِمِلَاكِ ذَلِكَ كُلِّهِ قُلْتُ بَلَى يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ فَقَالَ كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نتكلم بِهِ فَقَالَ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلَّا حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَه
(১) اَمْرٌ (‘আমর) শব্দটি তাখরীজের কোন গ্রহণযোগ্য উৎস গ্রন্থে নেই। (২) جُنَّةٌ (জুন্নাহ্) শব্দের অর্থ জাহান্নাম থেকে রক্ষার ঢাল। (৩) মুদ্রণে এরূপ হয়েছে যা মূলত লেখন বিকৃতি। সঠিক ইবারত হলোঃ (اَلَا أُخْبِرُكَ عَلى بِرَأسِ الْاَمْرِ)। আবার কোন কোন বর্ণনায় (أَدُلُّكَ عَلى رَأسِ الْأَمْرِ) রয়েছে।
Chapter - Section 2
Mu‘adh b. Jabal reported:
I said, “Inform me, messenger of God, of an act which will cause me to enter paradise and remove me far from hell.” He replied, “You have asked a serious question, but it is easy for the one whom God helps to answer it. Worship God, associate nothing with Him, observe the prayer, pay the zakat, fast during Ramadan, and make the Pilgrimage to the House.” He said, “Shall I not guide you to the gateways of what is good? Fasting is a protection, and almsgiving extinguishes sin as water extinguishes fire, and a man's prayer in the middle of the night [has the same effect].” Then he recited, “Withdrawing themselves from their couches ... they have been doing.” 1 Then he said, “Shall I not guide you to the head and support of the matter and the top of its hump?” I replied, “Yes, messenger of God.” He said, “The head of the matter is Islam, its support is prayer, and the top of its hump is jihad.” Then he said, “Shall I not inform you of the controlling of all that?” I replied, “Yes, Prophet of God.” So he took hold of his tongue and said, “Restrain this.” I asked, “Prophet of God, shall we really be punished for what we talk about?” He replied, “I am surprised at you, 2 Mu'adh! Will anything but the harvests of their tongues overthrow men in hell on their faces (or, on their nostrils)?”
Ahmad, Tirmidhi and Ibn Majah transmitted it.
1 Quran, xxxii, 16f.
2 Literally, may your mother be bereft of you.
ব্যাখ্যা: সওম, সদাক্বাহ্ (সাদাকা) এবং রাতের সালাতকে কল্যাণের দরজা বলা হয়েছে। এজন্য যে, সওম নাফসের জন্য কষ্টদায়ক। অনুরূপভাবে মাল থেকে সদাকাহ্ বের করা এবং রাতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা- এসব কাজ নাফসের জন্য কষ্টদায়ক। অতএব যে ব্যক্তি এ কষ্টদায়ক কাজের অভ্যাস গড়ে তুলবে তার জন্য সকল কল্যাণের কাজই সহজসাধ্য হয়ে যায়।
(رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ) এখানে ‘ইসলাম’ দ্বারা উদ্দেশ্য কালিমাহ্ শাহাদাত। যেমনটি ইমাম আহমাদ মু‘আয (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন ‘‘এ বিষয়ের মূল হলো এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁরই বান্দা ও রসূল।’’ ‘ইসলাম’ দ্বারা উদ্দেশ্য কালিমাহ্ শাহাদাত, আর الْأَمْرِ দ্বারা উদ্দেশ্য দীনী বিষয়। অর্থাৎ- কোন ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত কালিমাহ্ শাহাদাতকে স্বীকার না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার দীনের কোন ভিত্তি পাওয়া যাবে না। যখন সে এর সাক্ষ্য দিবে তখন তার মধ্যে দীনের মূল ভিত্তি পাওয়া যাবে। তবে এর দ্বারা দীনের খুঁটি বা স্তম্ভ পাওয়া যাবে না। অতঃপর যখন সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে এবং তা অব্যাহত রাখবে তখন তার দীন মজবুত হবে। কিন্তু তার পূর্ণতা ও মর্যাদা অর্জিত হবে না। এরপর যখন জিহাদ করবে তখন তার দীনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।
‘‘তাদের জিহবা দ্বারা অর্জিত ফসল’’। মানুষ যে সকল কথাবার্তা বলে তাকে ফসলের সাথে তুলনা করা হয়েছে যা কাঁচি দ্বারা কাটা হয়। কাঁচি যেমন কোন পার্থক্য না করে কাঁচা-পাকা, ভালো-মন্দ সব কর্তন করে তেমনই কোন কোন মানুষের জিহবা ভালো-মন্দ পার্থক্য না করেই সকল ধরনের কথা বলে। অতএব হাদীসের অর্থ হলো মানুষকে তার জিহবা দ্বারা অর্জিত ফসলই তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। হতে পারে তা কুফরী, শির্ক, আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে কোন কথা বলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, যাদু করা, অপবাদ দেয়া, গালি দেয়া, মিথ্যা বলা, গীবত করা, চোগলখোরী করা ইত্যাদি এ সবই জিহ্বার ফসল।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩০-[২৯] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে কাউকে ভালোবাসে, আর আল্লাহর ওয়াস্তে কারও সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে এবং আল্লাহর ওয়াস্তেই দান-খয়রাত করে, আবার আল্লাহর ওয়াস্তেই দান-খয়রাত থেকে বিরত থাকে। সে ঈমান পূর্ণ করেছে। (আবূ দাঊদ)[1]
الفصل الثانى
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتكْمل الْإِيمَان» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter - Section 2
Abu Umama reported that God’s messenger said, “If anyone loves for God’s sake, hates for God’s sake, gives for God’s sake and withholds for God's sake, he will have perfected faith.”
Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: আবূ দাঊদ-এর এ বর্ণনাটি সহীহ। তবে হাদীসটি শাওহার ইবনু হাওশাব সূত্রে মু‘আয (রাঃ) হতেও বর্ণিত যা ইমাম আহমাদ ৫ম খণ্ডের ২৪৫ পৃঃ বর্ণনা করেছেন। এ শাওহার সমালোচিত রাবী। ইমাম আহমাদ হাদীসটি ৫ম খণ্ডে ২৩৭ পৃঃ ‘উরওয়াহ্ ইবনু নাযর ও মায়মূন ইবনু আবী শাবীব (রহঃ) সূত্রে মু‘আয (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। এ ‘উরওয়াহ্ ও মায়মূন মু‘আয (রাঃ) থেকে কোন হাদীস শুনেননি। এ হাদীসের আরো অনেক সূত্র রয়েছে সবই দুর্বল।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩১-[৩০] তিরমিযী এ হাদীসটি শব্দের কিছু আগ-পিছ করে মু’আয ইবনু আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন এবং এতে বর্ণিত হয়েছে, ’সে তার ঈমান পরিপূর্ণ করে নিয়েছে’।[1]
الفصل الثانى
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ مَعَ تَقْدِيمٍ وَتَأْخِير وَفِيه: «فقد اسْتكْمل إيمَانه»
Chapter - Section 2
Tirmidhi transmitted it from Mu'adh b. Anas with a transposition of phrases, including “he will have perfected his faith.”
ব্যাখ্যা: (فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الْإِيْمَاَن) এ অংশটুকু তিরমিযীতে মু‘আয ইবনু আনাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে বিদ্যমান। তবে ইমাম তিরমিযী ঐ অংশটুকু মুনকার বলে মন্তব্য করেছেন। এটাও বলা যেতে পারে যে, ইমাম তিরমিযী মুনকার দ্বারা গরীব উদ্দেশ্য করেছেন। কেননা এ অংশটুকু তার থেকে তার ছেলে সাহল বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে এটি গরীব। আর মুনকার শব্দটি দুই অর্থে আসে।
(১) দুর্বল রাবী কর্তৃক শক্তিশালী রাবীর বিপরীত বর্ণনা।
(২) যা শুধুমাত্র একজন দুর্বল রাবী বর্ণনা করেছেন। যদিও তা শক্তিশালী রাবীর বিপরীত নয়। আর এখানে মু‘আয (রাঃ) থেকে বর্ণনাকারী একমাত্র তার ছেলে সাহল। যাকে ইবনু মা‘ঈন য‘ঈফ বলেছেন। আর আবূ হাতিম আর্ রাযী বলেছেন, তার বর্ণনা দলীলযোগ্য নয়।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩২-[৩১] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’আমলের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হলো আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসা, আর আল্লাহর জন্যই কারো সাথে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণ করা। (আবূ দাঊদ)[1]
الفصل الثانى
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ الْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter - Section 2
Abu Dharr reported God’s messenger as saying, “The most excellent action is love for God’s sake and hatred for God’s sake.”
Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: আল্লাহর জন্য ভালোবাসা তাঁর ওয়ালী ও নৈকট্যপ্রাপ্ত লোকেদেরকে ভালোবাসা আবশ্যক করে দেয়। আর তাঁদেরকে ভালোবাসার জন্য শর্ত হলো তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা এবং তাদের আনুগত্য করা। এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, লোকেদের জন্য শত্রু থাকা জরুরী যাদের সাথে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বিদ্বেষ পোষণ করবে। পক্ষান্তরে তার এমন কিছু বন্ধু থাকবে যাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসবে। এর বিশদ বর্ণনা হচ্ছে যে, যখন তুমি কোন লোককে আল্লাহর আনুগত্য করা ও তাকে ভালোবাসার কারণে ভালোবাসবে তখন যে যদি আল্লাহর অবাধ্যতা করে তাহলে অবশ্যই তুমি তার সাথে বিদ্বেষ পোষণ করবে। এজন্য যে, সে আল্লাহর অবাধ্য পাপী এবং আল্লাহর নিকট অপ্রিয়। অতএব সে ব্যক্তি কোন কারণে কাউকে ভালোবাসলে এর বিপরীত কারণের জন্য অবশ্যই বিদ্বেষ রাখবে। আর ভালোবাসা ও বিদ্বেষ পোষণ করার স্বাভাবিক নিয়ম এটাই।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৩-[৩২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেই ব্যক্তি মুসলিম যার হাত ও মুখ হতে অপর মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর (প্রকৃত ও পরিপূর্ণ) মু’মিন সে ব্যক্তি যার থেকে মানুষ নিজের জীবন ও সম্পদকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে মনে করে। (তিরমিযী ও নাসায়ী)[1]
الفصل الثانى
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ
Chapter - Section 2
Abu Huraira reported that God’s messenger said, “The Muslim is he from whose tongue and hand the Muslims are safe; and the believer is he whom men trust with their lives and their property.”
'Tirmidhi and Nasa’i transmitted it.
ব্যাখ্যা: পূর্ণাঙ্গ মু’মিন সেই যার মধ্যে আমানাতদারী, ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যবাদিতা প্রকাশ পায়। যার ফলে তার ব্যাপারে মানুষের এ আশংকা থাকে না যে, সে তাদের মাল বিনষ্ট করবে। রক্তপাত ঘটাবে বা তাদের স্ত্রীদের প্রতি হাত বাড়াবে। এ গুণ অর্জন ছাড়া ঈমানের মধ্যে পরিপূর্ণতা আসে না। এ গুণ অর্জন না করে কেউ পূর্ণ মু’মিনও হতে পারে না। তবে এর দ্বারা এটা উদ্দেশ্য নয় যে, এ গুণ অর্জিত হলেই সে পূর্ণ মু’মিন হয়ে যাবে যদিও সে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করে বা অনুরূপ কোন ফরয ‘ইবাদাত পালন করা থেকে বিরত থাকে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৪-[৩৩] ইমাম বায়হাক্বী তাঁর শু’আবুল ঈমান গ্রন্থে ফাযালাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তাতে এ শুব্দগুলো বেশি রয়েছেঃ ’’আর প্রকৃত মুজাহিদ হলো সে, যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নাফসের সাথে জিহাদ করে এবং (প্রকৃত) মুহাজির সে ব্যক্তি, যে সকল অপরাধ ও গুনাহ বর্জন করে।’’[1]
الفصل الثانى
وَزَادَ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» . بِرِوَايَةِ فَضَالَةَ: «وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ وَالْمُهَاجِر من هجر الْخَطَايَا والذنُوب»
Chapter - Section 2
Baihaqi added in Shu'ab al-iman by the transmission of Fadala, “And the mujahid is he who strives with himself regarding obedience to God, and the muhajir is he who abandons transgressions and sins.
ব্যাখ্যা: সে ব্যক্তি প্রকৃত মুজাহিদ নয়, সে শুধুমাত্র কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। বরং প্রকৃত মুজাহিদ সেই যে স্বীয় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং স্বীয় প্রবৃত্তিকে আল্লাহর আনুগত্য করতে বাধ্য করে। কেননা মানুষের প্রবৃত্তির শত্রুতা কাফিরদের শত্রুতার চেয়েও ভয়ংকর। কারণ কাফেরতো তার থেকে অনেক দূরে। যার পক্ষে সর্বদা তার সাথে মিলিত হওয়া সম্ভব নয়। তবে কখনো কখনো তার কাছে এসে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু স্বীয় প্রবৃত্তি সর্বদাই তার সাথে থাকে এবং প্রবৃত্তি তাকে কল্যাণ অর্জন ও আল্লাহর আনুগত্য করতে পদে পদে বাধার সৃষ্টি করে। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যে শত্রু সর্বদা তার পিছে লেগে থাকে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ সে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার চাইতে যে তার থেকে অনেক দূরে।
হিজরত করার প্রকৃত রহস্য এই যে, মু’মিনের পক্ষে যাতে কোন বাধা ব্যতিরেকেই আনুগত্য করা সম্ভব হয়। আর এমন সব খারাপ লোকেদের সাহচর্য থেকে দূরে থাকা যায় যাদের সাথে অবস্থান করলে খারাপ চরিত্র ও কুকাজে জড়িয়ে পড়তে হয়। অতএব প্রকৃত হিজরত হলো এ খারাপ চরিত্র ও খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকা। আর প্রকৃত মুহাজির সেই, যে এসব থেকে দূরে থাকে।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৫-[৩৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ খুৎবা খুব কমই দিয়েছেন যাতে এ কথা বলেননি যে, যার আমানাতদারী নেই তার ঈমানও নেই এবং যার ওয়া’দা-অঙ্গীকারের মূল্য নেই তার দীনও নেই। (বায়হাক্বী-এর শু’আবুল ঈমান)[1]
الفصل الثانى
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَلَّمَا خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا قَالَ: «لَا إِيمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ
আমি (আলবানী) বলছিঃ اَلسُّنَنُ الْكُبْرى (আসসুনানুল কুবরা)-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ২৮৮ নং পৃষ্ঠায় লেখক হাদীসটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর লেখকের হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ)-এর দিকে সন্বোধন করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকাটা ধারণা দেয় যে, হাদীসটি বায়হাক্বীর চেয়ে প্রসিদ্ধ এবং উঁচু স্তরের কেউ বর্ণনা করেনি। তবে বিষয়টি মোটেও এরূপ নয়। কারণ ইমাম আহমাদ (রহঃ) হাদীসটি তাঁর মুসনাদের ৩য় খণ্ডের ১৩৫, ১৫৪, ২৫১ নং পৃষ্ঠায় এবং اَلسُّنَّةٌ (আস্ সুন্নাহ) গ্রন্থের ৯৭ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। উপরন্তু ‘আল্লামা যিয়া তার রচিত فِى الْأَحَادِيْثِ الْمُخْتَارِ (ফিল আহা-দীসিল মুখতা-র) নামক গ্রন্থে আনাস (রাঃ) হতে উভয় সূত্রেই ২/২৩৪ পৃঃ রিওয়ায়াত করেছেন। আর এ হাদীসটি ভালো তার একটি সানাদ হাসান স্তরের এবং তার অনেক শাহিদ বর্ণনাও রয়েছে।
Chapter - Section 2
Anas said:
God’s messenger seldom addressed us without saying, “He who is not trustworthy has no faith, and he who does not keep his covenant has no religion."
Baihaqi transmitted it in Shu'ab al-lman.
ব্যাখ্যা: তার মধ্যে ঈমান নেই যার মধ্যে আমানাতদারী নেই। কেননা প্রকৃত মু’মিনতো সেই যাকে লোকেরা স্বীয় জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে। অতএব যে ব্যক্তি খিয়ানত করে ও যুলম করে সে প্রকৃত মু’মিন নয়। ঈমানের পূর্ণতাকে বুঝানো হয়েছে। আমানাতদারী বিলুপ্ত হলে ঈমানের পূর্ণতা বিলুপ্ত হয়ে যায়। কেননা খারাপ চরিত্র তাকে মানুষের সম্পদ, সম্মান ও রক্ত হালাল করার দিকে ধাবিত করে। আর এ অন্যায় আচরণগুলো ঈমানকে ত্রুটিযুক্ত করে। ফলে তার মধ্যে স্বল্প ঈমানই অবশিষ্ট থাকে। এমনকি কখনো কখনো এ খারাপ কাজগুলো কুফরীতেও লিপ্ত করে।
‘‘যে অঙ্গীকার রক্ষা করে না তার ধর্ম নেই’’ অর্থাৎ- যার সাথে কারো কোন ওয়া‘দা বা চুক্তি হয়, অতঃপর শারী‘আত কর্তৃক অনুমোদিত কোন কারণ ছাড়াই তা’ ভঙ্গ করে, তার ধর্মও অসম্পূর্ণ। এখানে প্রশ্ন উত্থাপন হতে পারে যে, ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, দীন, ঈমান ও ইসলাম সমার্থবোধক। এ হাদীসে তা পৃথক করা হয়েছে কেন? কেনইবা তার প্রতিটিকে একটি নির্দিষ্ট অর্থের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে? এর জওয়াব এই যে, যদিও তার শব্দাবলী ভিন্ন কিন্তু তার অর্থ একই। কেননা আমানত ও অঙ্গীকার মূলত আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ও বান্দার হক আদায় করার মধ্যে নিহিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন এ কথা বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করার পর তা পূর্ণ করে না, আল্লাহর পক্ষ হতে আমানাত গ্রহণ করার পর তা’ আদায় করে না তার মধ্যে দীন ও ঈমান নেই। আর এ ওয়া‘দা ‘ও আমানাত হলো আল্লাহ কর্তৃক আদেশ ও নিষেধ পালনের বাধ্যবাধকতা।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৬-[৩৫] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দিয়েছে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল, আল্লাহ (তাঁর অনুগ্রহে) তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন। (মুসলিম)[1]
الفصل الثالث
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَرَّمَ الله عَلَيْهِ النَّار»
Chapter - Section 3
‘Ubada b. as-Samit said:
I heard God's messenger say, “If anyone testifies that there is no god but God and that Muhammad is God's messenger, God will keep him from going to hell."
Muslim transmitted it.
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭-[৩৬] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (খাঁটি মনে) এ বিশ্বাস নিয়ে মারা যাবে যে, ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’’ সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (মুসলিম)[1]
الفصل الثالث
وَعَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter - Section 3
‘Uthman b. ‘Affan reported God's messenger as saying, “Whoever dies knowing that there is no god but God will enter paradise."
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (وَهُوَ يَعْلَمُ) হাদীসের এ অংশ দ্বারা মুরজিয়াদের বিশ্বাস, মুখে কালিমাহ্ শাহাদাত উচ্চারণকারী জান্নাতে যাবে যদিও অন্তরে সে তা বিশ্বাস না করে- প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত রয়েছে। কেননা অন্য বর্ণনায় রয়েছে غير شاك فيهما এর প্রতি কোন প্রকার সন্দেহ রাখে না। অতএব বুঝা গেল, সন্দেহযুক্ত সাক্ষ্য জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
আরো দলীল দেয়া হয় যে, মুখে শাহাদাতায়নের উচ্চারণ ছাড়া শুধুমাত্র অন্তরে মা‘রিফাত অর্জনই যথেষ্ট। যেহেতু হাদীসে শুধু ‘ইলম এর উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে আল জামা‘আতের অভিমত হলো মা‘রিফাত অর্জন শাহাদাতায়নের সাথে জড়িত। একটি অন্যটি ব্যতীত কাউকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দিতে পারে না, তবে যে ব্যক্তি শাহাদাতায়ন মুখে উচ্চারণ করতে অক্ষম বা উচ্চারণ করার সময় পায়নি মৃত্যু এসে যাওয়ার কারণে তার কথা ভিন্ন।
এ হাদীসে ভিন্নমত পোষণকারীর কোন দলীল নেই। কারণ এ হাদীসের ব্যাখ্যা অন্য হাদীসে এসেছে, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই’’ এবং ‘‘যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত আর কোন মা‘বূদ নেই এবং আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল’’। এ রকম আরো অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে শব্দের পার্থক্যসহ কিন্তু অর্থের মধ্যে রয়েছে সামঞ্জস্য।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৮-[৩৭] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দু’টি বিষয় দু’টি জিনিসকে (জান্নাত ও জাহান্নামকে) অনিবার্য করে দেয়। এক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এ দু’টি বিষয় কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে মৃত্যুবরণ করেছে সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আর যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করেছে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম)[1]
الفصل الثالث
وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثِنْتَانِ مُوجِبَتَانِ. قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْمُوجِبَتَانِ؟ قَالَ: (مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ وَمَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئا دخل الْجنَّة)
(رَوَاهُ مُسلم)
Chapter - Section 3
Jabir reported that God's messenger said, “Two things have results." On being asked by a man what these two things were, he replied, “He who dies a polytheist will enter hell, and he who dies worshipping God alone will enter paradise."
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: ভালো এবং মন্দ উভয়কে مُوْجِبَةٌ (আবশ্যককারী) বলা হয়। আল জামা‘আতের নিকট وجوب এর অর্থ পুরস্কারের ওয়া‘দা এবং শাস্তির অঙ্গীকার। হাদীসে বর্ণিত مُوْجِبَةٌ এর অর্থ কারণ। কেননা প্রকৃত مُوْجِبٌ হলেন মহান আল্লাহ। অতএব শির্ক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা জাহান্নামে প্রবেশের কারণ। আর তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে মৃত্যুবরণ করা জান্নাতে প্রবেশের কারণ।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৯-[৩৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা কয়েকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঘিরে বসা ছিলাম। আমাদের সাথে আবূ বকর ও ’উমার (রাঃ)-ও ছিলেন। হঠাৎ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্য হতে উঠে চলে গেলেন এবং এত বিলম্ব করলেন যাতে আমরা শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। না জানি আমাদের হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আবার কোন বিপদে পড়লেন কিনা। এতে আমরা ঘাবড়িয়ে গেলাম এবং উঠে বের হয়ে পড়লাম। অবশ্য সকলের মধ্যে আমিই প্রথম ভীত হয়ে পড়েছিলাম। তাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্ধানে আমি সকলের আগে বের হলাম। এমনকি খুঁজতে খুঁজতে আমি বানী নাজ্জার গোত্রের জনৈক আনসারীর প্রাচীরবেষ্টিত বাগানের নিকট পৌঁছলাম। ভিতরে প্রবেশ করার জন্য তার চারদিকে দরজা খুঁজতে লাগলাম।
হঠাৎ দেখি, বাইরের একটি কূপ হতে একটি ছোট নালা এসে বাগানের মধ্যে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, আমি জড়োসড়ো হয়ে তাতে প্রবেশ করলাম এবং ধীরে ধীরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যেয়ে পৌঁছলাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমাকে তাঁর সামনে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে) বললেন, আবূ হুরায়রাহ্ নাকি! আমি বললাম, হাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কি ব্যাপার? (তুমি এখানে?) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদের মধ্যে বসা ছিলেন, হঠাৎ উঠে চলে আসলেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে আপনাকে ফিরে আসতে না দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম। (আল্লাহ না করুন) আমাদের হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আপনি কোনরূপ বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা। এজন্য আমরা সকলেই ব্যতিব্যাস্ত হয়ে পড়ি এবং সকলের মধ্যে আমিই প্রথম ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। অতঃপর (আপনাকে খোঁজ করতে করতে) এ বাগানের দিকে আসি এবং শিয়ালের ন্যায় খুব সরু হয়ে বাগানে প্রবেশ করি। আর অন্যান্যরাও (আপনার জন্য) আমার পেছনে আসছে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতাদ্বয় আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! আমার জুতা দু’টি সাথে নিয়ে যাও! (তুমি আমার কাছে এসেছিলে লোকেরা যেন বুঝতে পারে তার নিদর্শনস্বরূপ) আর বাগানের বাইরে যাদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে তাদের মধ্যে যারা সত্য দৃঢ় মনে ’আক্বীদার সাথে এ ঘোষণা দিবে, ’’আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’’, তাদেরকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে দাও।
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ নিদর্শন নিয়ে বাইরে আসলে) প্রথমেই ’উমার (রাঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! এ জুতা দু’টি কার? আমি বললাম, এ জুতা দু’টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ জুতা দু’টি আমার কাছে দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি সত্য দৃঢ় মনে ’আক্বীদার সাথে এ সাক্ষ্য দিবে যে, ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’’, আমি যেন তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেই। এ কথা শুনা মাত্রই ’উমার (রাঃ) আমার বুকের উপর এমন ঘুষি মারলেন যে, আমি চিৎ হয়ে পড়ে গেলাম। অতঃপর ’উমার (রাঃ) আমাকে বললেন, ফিরে যাও, হে আবূ হুরায়রাহ্! তাই আমি কাঁদতে কাঁদতে রসূলের কাছে ফিরে এলাম।
(আমার মনে ’উমারের ভয় ছিল) পিছন ফিরে দেখি ’উমার (রাঃ) আমার সাথে এসে পৌঁছেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কাঁদতে দেখে) জিজ্ঞেস করলেন, হে ’উমার! এমন করলে কেন? ’উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। আপনি আপনার জুতা দু’টি দিয়ে আবূ হুরায়রাহকে পাঠিয়েছেন এ বলে, যে ব্যক্তি অন্তরের স্থির বিশ্বাসের সাথে এ সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তাকে যেন সে জান্নাতের সুসংবাদ দেয়? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাঁ। ’উমার (রাঃ) বললেন, (হে আল্লাহর রসূল! অনুগ্রহ করে) এরূপ বলবেন না। আমার আশঙ্কা হয় (এ কথা শুনে) পরবর্তী লোকেরা এর উপর নির্ভর করে বসবে (’আমল’ করা ছেড়ে দিবে)। সুতরাং তাদেরকে যথাযথভাবে ’আমল করতে দিন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঠিক আছে! তাদেরকে ’আমল করতে দাও। (মুসলিম)[1]
الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا قُعُودًا حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعنا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا فِي نَفَرٍ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ بَيْنَ أَظْهُرِنَا فَأَبْطَأَ عَلَيْنَا وَخَشِيَنَا أَنْ يُقْتَطَعَ دُونَنَا وَفَزِعْنَا فَقُمْنَا فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ فَزِعَ فَخَرَجْتُ أَبْتَغِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَيْتُ حَائِطًا لِلْأَنْصَارِ لِبَنِي النَّجَّارِ فَدُرْتُ بِهِ هَلْ أَجِدُ لَهُ بَابًا فَلَمْ أَجِدْ فَإِذَا رَبِيعٌ يَدْخُلُ فِي جَوْفِ حَائِطٍ مِنْ بِئْرٍ خَارِجَةٍ وَالرَّبِيعُ الْجَدْوَلُ فاحتفزت كَمَا يحتفز الثَّعْلَب فَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا شَأْنُكَ قُلْتُ كُنْتَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا فَقُمْتَ فَأَبْطَأْتَ عَلَيْنَا فَخَشِينَا أَنْ تُقْتَطَعَ دُونَنَا فَفَزِعْنَا فَكُنْتُ أَوَّلَ مَنْ فَزِعَ فَأَتَيْتُ هَذَا الْحَائِطَ فَاحْتَفَزْتُ كَمَا يَحْتَفِزُ الثَّعْلَبُ وَهَؤُلَاء النَّاس ورائي فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَة وَأَعْطَانِي نَعْلَيْه قَالَ اذْهَبْ بنعلي هَاتين فَمن لقِيت من وَرَاء هَذَا الْحَائِط يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ فَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ فَكَانَ أَوَّلُ مَنْ لَقِيتُ عُمَرَ فَقَالَ مَا هَاتَانِ النَّعْلَانِ يَا أَبَا هُرَيْرَة فَقلت هَاتَانِ نَعْلَا رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَنِي بِهِمَا مَنْ لَقِيتُ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ بَشرته بِالْجنَّةِ فَضرب عمر بِيَدِهِ بَيْنَ ثَدْيَيَّ فَخَرَرْتُ لِاسْتِي فَقَالَ ارْجِعْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ فَرَجَعْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فأجهشت بكاء وركبني عمر فَإِذا هُوَ على أثري فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَك يَا أَبَا هُرَيْرَة قلت لقِيت عمر فَأَخْبَرته بِالَّذِي بعثتني بِهِ فَضرب بَين ثديي فَخَرَرْت لاستي قَالَ ارْجع فَقَالَ لَهُ رَسُول الله يَا عُمَرُ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا فَعَلْتَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَبَعَثْتَ أَبَا هُرَيْرَةَ بِنَعْلَيْكَ مَنْ لَقِيَ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُسْتَيْقِنًا بِهَا قَلْبُهُ بَشَّرَهُ بِالْجَنَّةِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَلَا تَفْعَلْ فَإِنِّي أَخْشَى أَنْ يَتَّكِلَ النَّاسُ عَلَيْهَا فخلهم يعْملُونَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فخلهم . رَوَاهُ مُسلم
Chapter - Section 3
Abu Huraira said:
We were seated around God's messenger, Abu Bakr, ‘Umar and some others being with us, when God's messenger got up and left us. He delayed for some time, which made us fear that he might be attacked by some enemy when we were not with him; so being alarmed we got up. I was the first to be alarmed. I therefore went out to look for God's messenger and came to a garden belonging to the B. an-Najjar, a section of the Ansar, I went round it looking for a gate, but failed to find one. Seeing a rabi’ (i.e. a streamlet) flowing into the garden from a well outside, I drew myself together and went in to where God's messenger was. He said, “Is it Abu Huraira?" I replied, “Yes, messenger of God." He said, “What do you want?" I replied, “You were among us, but got up and went away and delayed for a time, so fearing that you might be attacked by some enemy when we were not with you, we became alarmed. I was the first to be alarmed, so when I came to this garden I drew myself together as a fox does; and these people are following me." Addressing me by name he gave me his sandals and said, “Take away these sandals of mine, and when you meet anyone outside this garden who testifies that there is no god but God, being assured of it in his heart, gladden him by announcing that he will go to paradise." Now the first one I met was ‘Umar. He asked, “What are these sandals, Abu Huraira?” and I replied, “These are God’s messenger’s sandals with which he has sent me to gladden anyone I met who testified that there is no god but God, being assured of it in his heart, with the announcement that he would go to paradise.” Thereupon ‘Umar struck me on the breast and I fell down on my seat.” He then said, “Go back, Abu Huraira”; so I went back to God’s messenger, and I was ready to weep. ‘Umar followed me closely, and there he was behind me. God’s messenger said, “What is the matter with you, Abu Huraira?” I replied, “I met ‘Umar and conveyed to him your message, whereupon he gave me a blow on the breast which made me fall down on my seat and ordered me to go back.” God’s messenger said, “What induced you, ‘Umar, to do what you did?” He replied, “Messenger of God, for whom I would give my father and mother as ransom, did you send Abu Huraira with your sandals to gladden anyone he met who testified that there is no god but God, being assured of it in his heart, with the announcement that he would go to paradise?” He said, “Yes.” ‘Umar said, “You must not do it, for I am afraid that people will trust in it alone; let them go on doing [good] works.” God’s messenger said, “Well let them.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা : রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে তার জুতা দু’টো এজন্য দিয়েছিলেন যাতে তার কাছে এ আলামত বিদ্যমান থাকে যে, তিনি সবে মাত্র রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাক্ষাৎ করে এসেছেন এবং দেয়া সংবাদ সাহাবীগণ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে। যদিও তার দেয়া সংবাদ তাদের নিকট আলামত ছাড়াও গ্রহণযোগ্য ছিল।
‘‘তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও’’ যার মধ্যে এ গুণ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ- যে এ সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মা‘বূদ নেই এবং এর প্রতি অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এতে সত্যের পতাকাবাহীদের এ কথার প্রমাণ পাওয়া যে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও শুধু তাওহীদের প্রতি বিশ্বাসই নাজাতের জন্য যথেষ্ট নয়। অনুরূপ বিশ্বাস ব্যতীত মৌখিক সাক্ষ্যও যথেষ্ট নয়। বরং এ দু’টির সমন্বয় একান্ত জরুরী।
‘উমার (রাঃ) কর্তৃক আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে ধাক্কা মেরে তাকে কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং তার উদ্দেশ্য ছিল তিনি যে কথা বলছেন তা থেকে তাকে বিরত রাখা। উমার (রাঃ)-এর এ আচরণ এবং স্বয়ং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার উদ্দেশে ছিল না। কেননা যে নির্দেশ দিয়ে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-কে প্রেরণ করা হয়েছিল তাতে উম্মাতের মনের প্রশান্তি এবং তাদের সুসংবাদ ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না। অতএব ‘উমার (রাঃ) মনে করলেন এ সংবাদ তাদের থেকে গোপন রাখাই অধিক কল্যাণকর, যাতে তারা এর উপর নির্ভর করে বসে না থাকে। অতঃপর তিনি যখন বিষয়টি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করলেন তখন তিনি তার অভিমত সঠিক বলে আখ্যায়িত করলেন। কেননা সাধারণ লোকেদের যখন কোন সুসংবাদ প্রদান করা হয়, তখন তারা তার উপর ভরসা করে বসে থাকে। আর বিশেষ লোকেদেরকে যখন সুসংবাদ দেয়া হয়, তখন তারা আরো বেশী করে কাজে মনোযোগী হয়।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪০-[৩৯] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতের চাবি হচ্ছে ’’আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’’ বলে (অন্তরের সাথে) সাক্ষ্য দেয়া। (আহমাদ)[1]
الفصل الثالث
عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: «قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَفَاتِيحُ الْجَنَّةِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَه إِلَّا الله» . رَوَاهُ أَحْمد
Chapter - Section 3
Mu'adh b. Jabal reported that God’s messenger said to him, “The keys of paradise are the testimony that there is no god but God.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত শাহাদাহ্ মূলত শাহাদাহ্’র জাত বা প্রকৃত উদ্দেশ্য। অর্থাৎ- প্রত্যেকের নিজ শাহাদাহ্ তার জান্নাতে প্রবেশের চাবী। আর শাহাদাহ্ মুতাবিক কার্যাবলী সম্পাদকরা মর্যাদা বৃদ্ধির উপকরণ। অথবা বলা যায় যে, শাহাদাহ্ যেহেতু জান্নাতের দরজাসমূহের চাবী, তাই তা যেন অনেকগুলো চাবীই। সেহেতু হাদীসে مَفَاتِيْحُ শব্দটি বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪১-[৪০] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যখন ইন্তিকাল হলো, (তাঁর ইন্তিকালে শোকাহত হয়ে) তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কতক লোক অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি সাহাবীগণের কারো কারো মনে নানারূপ সন্দেহ-সংশয় দেখা দেয়। (তাঁর ইন্তিকালের পর এ দীন টিকে থাকবে কি?) ’উসমান (রাঃ) বলেন, আমিও তাদের অন্যতম ছিলাম। এমতাবস্থায় আমি বসেছিলাম আর ’উমার (রাঃ) আমার পাশ দিয়ে চলে গেলেন এবং আমাকে সালামও দিলেন, অথচ আমি তা টেরও পেলাম না। ’উমার (রাঃ) গিয়ে আমার বিরুদ্ধে আবূ বকরের কাছে অভিযোগ পেশ করলেন। অতঃপর তাঁরা দু’জন আমার নিকট আসলেন এবং উভয়ে আমাকে সালাম করলেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, তোমার ভাই ’উমার (রাঃ)-এর সালামের জবাব কেন দিলে না? আমি বললাম, আমি তো এরূপ করিনি। ’উমার (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয় তুমি এরূপ করেছো। ’উসমান (রাঃ) বললেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম, আমি মোটেই বুঝতে পারিনি আপনি কখন এখান দিয়ে গেছেন ও আমাকে সালাম করেছেন। (কথোপকথন শুনে) আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ’উসমান (রাঃ) সত্যই বলেছেন। নিশ্চয়ই আপনাকে কোন দুশ্চিন্তাই হয়তো বিরত রেখেছিল।
তখন আমি বললাম, জ্বি, হতে পারে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সে (ব্যাপারটা) কি? আমি বললাম, আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূলকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন অথচ আমরা তাঁকে একটি বিষয় (মনের অযথা খটকা) হতে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে পারিনি। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, (চিন্তার কোন বিষয় নয়) আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। (এটা শুনে) আমি আবূ বকরের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললাম, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনিই এ রকম কাজের যোগ্য ব্যক্তি। তারপর আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! এ বিষয়টি হতে মুক্তির উপায় কি? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন, যে লোক সে কালিমাহ্ গ্রহণ করলো, যা আমি আমার চাচা (আবূ ত্বালিব)-কে বলেছিলাম এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তার জন্য এটাই হলো মুক্তির মাধ্যম। (আহমাদ)[1]
الفصل الثالث
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: إِنَّ رِجَالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَزِنُوا عَلَيْهِ حَتَّى كَادَ بَعْضُهُمْ يُوَسْوِسُ قَالَ عُثْمَان وَكنت مِنْهُم فَبينا أَنا جَالس فِي ظلّ أَطَم من الْآطَام مر عَليّ عمر رَضِي الله عَنهُ فَسلم عَليّ فَلم أشعر أَنه مر وَلَا سلم فَانْطَلق عمر حَتَّى دخل على أبي بكر رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ لَهُ مَا يُعْجِبك أَنِّي مَرَرْت على عُثْمَان فَسلمت عَلَيْهِ فَلم يرد عَليّ السَّلَام وَأَقْبل هُوَ وَأَبُو بكر فِي وِلَايَةَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَتَّى سلما عَليّ جَمِيعًا ثمَّ قَالَ أَبُو بكر جَاءَنِي أَخُوك عمر فَذكر أَنه مر عَلَيْك فَسلم فَلم ترد عَلَيْهِ السَّلَام فَمَا الَّذِي حملك على ذَلِك قَالَ قُلْتُ مَا فَعَلْتُ فَقَالَ عُمَرُ بَلَى وَاللَّهِ لقد فعلت وَلكنهَا عبيتكم يَا بني أُميَّة قَالَ قُلْتُ وَاللَّهِ مَا شَعَرْتُ أَنَّكَ مَرَرْتَ وَلَا سَلَّمْتَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ صَدَقَ عُثْمَانُ وَقد شَغَلَكَ عَنْ ذَلِكَ أَمْرٌ فَقُلْتُ أَجْلَ قَالَ مَا هُوَ فَقَالَ عُثْمَان رَضِي الله عَنهُ توفى الله عز وَجل نَبِيَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ عَنْ نَجَاةِ هَذَا الْأَمْرِ قَالَ أَبُو بكر قد سَأَلته عَن ذَلِك قَالَ فَقُمْت إِلَيْهِ فَقلت لَهُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَنْتَ أَحَقُّ بِهَا قَالَ أَبُو بَكْرٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا نَجَاةُ هَذَا الْأَمْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَبِلَ مِنِّي الْكَلِمَةَ الَّتِي عَرَضْتُ عَلَى عَمِّي فَرَدَّهَا فَهِيَ لَهُ نجاة. رَوَاهُ أَحْمد
অর্থাৎ- তাদের কেউ কেউ সন্দেহে বা কুমন্ত্রণায় পড়ে গেল যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করায় এ দীন শেষ হয়ে যাবে এবং ইসলামী শারী‘আতের উজ্জ্বল প্রদীপ নির্বাপিত হবে- (মিরকাত)। সাহাবী ‘উসমান (রাঃ)-এর উক্তি عَنْ نَجَاةِ هَذَ الْاَمْرِ -এর দ্বারা দু’টি বিষয় উদ্দেশ্য হতে পারে। ১ম মতঃ মু’মিনদের বর্তমান অবস্থা, অর্থাৎ- তারা কিভাবে জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পাবে যা ইসলাম ধর্মের সাথে নির্দিষ্ট। ২য় মতঃ সকল মানুষের বর্তমান অবস্থা, অর্থাৎ- তারা যে শায়ত্বনের (শয়তানের) ধোঁকা, দুনিয়ার ভালোবাসা এবং কুপ্রবৃত্তির দিকে ধাবমান অবস্থার মধ্যে রয়েছে তা থেকে পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে- (মিরকাত)।
Chapter - Section 3
‘Uthman said that when the Prophet died some of his companions were so grieved that they almost began to harbour doubts. Remarking that he was one of them, ‘Uthman said:
While I was sitting ‘Umar passed me and gave me a salutation, but I did not notice it. ‘Umar complained to Abu Bakr, and the two of them came forward and gave me a salutation; then Abu Bakr asked, “What induced you to refrain from returning the salutation of your brother ‘Umar?” I replied, “I did no such thing.” ‘Umar retorted, “Yes, I swear by God, you did.” I said, “I swear by God that I did not notice you passing me or giving me a salutation.” Abu Bakr then said, “‘Uthman is speaking the truth. Something must have distracted you.” On my replying that it had, he asked me what it was, and I said, “God has taken His Prophet before we asked him wherein this affair provides salvation.” Abu Bakr said that he had asked him about that, so I rose and went to him and said to him, “You for whom I would give my father and mother as ransom are most worthy of it.” Abu Bakr then told me that he had asked, “Messenger of God, wherein does this affair provide salvation?” to which God’s messenger replied, “If anyone accepts from me the confession which I proposed to my paternal uncle* and he rejected, it will be salvation for him.”
Ahmad transmitted it.
* Abu Talib, the uncle who gave protection in Makkah, but did not accept his religion.
ব্যাখ্যা: الوسوسة (ওয়াস্ওয়াসাহ্) বলা হয় মনের কথাকে। আর তা অবশ্যই সংঘটিত বিষয়। মানুষের ‘আকলে যখন কোন ত্রুটি দেখা দেয় এবং এতে সে আবোল-তাবোল কথা বলে এটাকেও الوسوسة বলা হয়। মানুষের মনে যে অন্যায় কথার উদয় হয় অথবা এমন বিষয়ের উদয় হয় যার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই তাও الوسوسة। চিন্তার আধিক্যের কারণে। আমিও তাদের একজন ছিলাম যাদের মধ্যে الوسوسة সৃষ্টি হয়েছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ বিষয় হতে মুক্তির উপায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার আগেই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দিলেন। এ কথা দ্বারা তিনি শায়ত্বনের (শয়তানের) الوسوسة হতে মুক্তির উপায়ের বিষয়টি বুঝিয়েছেন।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪২-[৪১] মিক্বদাদ [ইবনু আস্ওয়াদ] (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, এ জমিনের উপর এমন কোন মাটির অথবা পশমের ঘর (তাঁবু) বাকী থাকবে না, যে ঘরে আল্লাহ রব্বুল ’আলামীন ইসলামের বাণী পৌঁছিয়ে দিবেন না। সম্মানীর ঘরে সম্মানের সাথে আর লাঞ্ছিতের ঘরে লাঞ্ছনার সাথে তা পৌঁছাবেন। আল্লাহ তা’আলা যাদেরকে সম্মানিত করবেন তাদেরকে স্বেচ্ছায় ইসলাম কবূলের উপযুক্ত করে মর্যাদাবান ও গৌরবময় করে দিবেন। পক্ষান্তরে যারা ইসলাম গ্রহণ করবে না, তাদের আল্লাহ তা’আলা লাঞ্ছিত করবেন এবং তারা এ কালিমার প্রতি অনুগত হবার জন্য বাধ্য হবে। আমি (মিক্বদাদ) বললাম, তখন তো সমগ্র বিশ্বে আল্লাহরই দীন (প্রতিষ্ঠিত) হয়ে যাবে। (অর্থাৎ- সকল দীনের উপরই ইসলাম বিজয়ী হবে)। (আহমাদ)[1]
الفصل الثالث
عَن الْمِقْدَاد بن الْأسود قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَقُولُ لَا يَبْقَى عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ كلمة الاسلام بعز عَزِيز أَو ذل ذليل إِمَّا يعزهم الله عز وَجل فَيَجْعَلُهُمْ مِنْ أَهْلِهَا أَوْ يُذِلُّهُمْ فَيَدِينُونَ لَهَا
رَوَاهُ أَحْمد
ইমাম আহমাদ (রহঃ) হাদীসটি সহীহ সানাদে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি অন্যরাও বর্ণনা করেছেন যাদের নাম আমি (আলবানী) আমার লিখিত গ্রন্থ تَحْذِيْرُ السَّاجِدِ مِنْ اِتِّخَاذِ الْقُبُوْرِ الْمَسَاجِدَ এ উল্লেখ করেছি। ইমাম বুখারী এ হাদীসটি মু‘আল্লিক্ব (সানাদবিহীন) সূত্রে তথা সানাদ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।
Chapter - Section 3
Miqdad reported that he heard God’s messenger say, “There will not remain on the face of the earth a mud-brick house or a camel’s hair tent which God will not cause the confession of Islam to enter bringing both mighty honour and abject abasement. God will either honour the occupants and put them among its adherents, or will humiliate them and they will be subject to it.” Miqdad said, “God will then receive complete obedience.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি ঘরে ইসলামের কালিমাহ্ প্রবেশ করাবেন। হয়ত ঘরের মালিক ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ না নিয়ে এ কালিমাহ্ গ্রহণ করে সম্মানিত হবেন অথবা প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিয়ে বন্দি হয়ে দাসত্ব বরণ করে লাঞ্ছিত হবে। অতঃপর ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এর আনুগত্য করবে। অথবা জিয্ইয়াহ্ প্রদানের মাধ্যমে তার বশ্যতা স্বীকার করবে। মিক্বদাদ বলেনঃ আমি বললাম তাহলে দীন একমাত্র আল্লাহর হয়ে যাবে। অর্থাৎ- বিষয় যদি এ রকমই হয় তাহলে তো আল্লাহর দীনেরই বিজয় ঘটবে। বলা হয়ে থাকে যে, এটা তখন ঘটবে যখন ‘ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। অতঃপর তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন। পৃথিবীতে তখন কাফিরদের কোন আস্তানা থাকবে না। বরং সবাই ইসলামের পতাকা তলে সমবেত হবে। হয়তবা তারা স্বেচ্ছায় আগ্রহভরে গ্রহণ করবে। নতুবা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে করবে। তখন শুধুমাত্র আল্লাহর বিধান জারী থাকবে। এর সমর্থনে মুসনাদ আহমাদে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার (‘ঈসা (আঃ) এর) যুগে সকল ধর্ম বিলীন হয়ে যাবে। একমাত্র ইসলাম ধর্ম টিকে থাকবে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪৩-[৪২] ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ’’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’’ (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই)- এ বাক্য কি জান্নাতের চাবি নয়? তিনি (ওয়াহব) বললেন, নিশ্চয় (এটা চাবি)! কিন্তু প্রত্যেক চাবির মধ্যেই দাঁত থাকে। তুমি যদি দাঁতওয়ালা চাবি নিয়ে যাও তবেই তো তোমার জন্য (জান্নাতের দরজা) খুলে দেয়া হবে, অন্যথায় তা তোমার জন্য খোলা হবে না। (ইমাম বুখারী তাঁর ’তারজামাতুল বাব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন)[1]
الفصل الثالث
عَن وهب بن مُنَبّه قِيلَ لَهُ: أَلَيْسَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لَيْسَ مِفْتَاحٌ إِلَّا لَهُ أَسْنَانٌ فَإِنْ جِئْتَ بِمِفْتَاحٍ لَهُ أَسْنَانٌ فَتَحَ لَكَ وَإِلَّا لَمْ يَفْتَحْ لَكَ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي تَرْجَمَة بَاب
Chapter - Section 3
Wahb b. Munabbih, on being asked whether ‘There is no god but God’ was not the key of paradise, said, “Yes, but every key has wards. If you bring a key with wards the door will be opened for you, otherwise I it will not.”
Bukhari transmitted it in a chapter heading.
ব্যাখ্যা: ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ জান্নাতের চাবী’’ তবে কেউ যেন এ ধোঁকায় পতিত না হয় যে, শুধুমাত্র এ কালিমাহ্ পাঠ করলেই তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে। আর কোন ‘আমল ছাড়াই প্রথম শ্রেণীর জান্নাতীদের সাথে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। প্রত্যেক চাবীরই দাঁত থাকে যা দ্বারা দরজা খোলা যায়? অতএব তুমি যদি এমন চাবী নিয়ে আসতে পারো যাতে দাঁত আছে তাহলেই দরজা খুলবে। আর দাঁত দ্বারা উদ্দেশ্য এমন সৎ ‘আমল যার সাথে কোন অসৎ ‘আমল মিশ্রিত থাকবে না। এ হাদীসে সৎ ‘আমলকে চাবীর দাঁতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর যদি দন্তহীন চাবী নিয়ে আসো তাহলে তোমার জন্য দরজা খোলা হবে না। ফলে তুমি প্রথম শ্রেণীর লোকেদের সাথে জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না। আর এটা অধিকাংশের বেলায় প্রযোজ্য। আর সঠিক কথা হলো কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে জড়িত ব্যক্তি আল্লাহর ইচ্ছাধীন। এটাই আল্ জামা‘আত-এর অভিমত।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪৪-[৪৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ উত্তমভাবে (সত্য ও খালিস মনে) মুসলিম হয়, তখন তার জন্য প্রত্যেক সৎ কাজের সাওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত লেখা হয়। আর তার অসৎ কাজ- যা সে করে থাকে, তার অনুরূপই (মাত্র এক গুণই গুনাহ) ’আমলনামায় লেখা হয়, যে পর্যন্ত না সে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعشر أَمْثَالهَا إِلَى سبع مائَة ضعف وكل سَيِّئَة يعملها تكْتب لَهُ بِمِثْلِهَا
Chapter - Section 3
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “When one of you makes a good profession of Islam, every good deed he does will be recorded for him ten to seven hundredfold, and every evil deed he does will be recorded as it is till he meets God.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: বিশ্বাস ও নিষ্ঠার মাধ্যমে যার ইসলাম সুন্দর হয়, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল দিক থেকেই সে ইসলামের অনুসারী হয়। ‘আমলের সময় আল্লাহ তার নিকটেই আছে এরূপ মনে করে এবং তিনি তাকে দেখছেন এমনটি ভাবে তাহলে তার প্রতিটি ভালো ‘আমলের সাওয়াব দশ থেকে সাতশ’ গুণ লেখা হয়। যদিও বক্তব্যটি উপস্থিত লোকেদের উদ্দেশে দেয়া হয়েছে তথাপি এর হুকুম সর্বব্যাপী। কেননা একজনের প্রতি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোন হুকুম বা আদেশ সকলের জন্য প্রযোজ্য। আর এতে নারী পুরুষ, স্বাধীন ও দাস সবাই সমান।
ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে إِلى শব্দটি শেষ সীমা বুঝাবার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ- সৎ ‘আমলের প্রতিদান কমপক্ষে দশগুণ থেকে সর্বোচ্চ সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। আর তা কাজ, ব্যক্তি ও অবস্থাভেদে কম-বেশী হবে। এ বৃদ্ধিকরণ সাতশত অতিক্রম করবে না। তবে এ অভিমত নিম্নবর্ণিত আল্লাহর বাণী দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ‘‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে আরো বাড়িয়ে দিবেন’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ঃ ২৬১)।
হাফিয বলেনঃ এ বর্ণনাটির দু’টি অর্থ হতে পারে- (১) এ বৃদ্ধিকরণ সাতশ’ পর্যন্ত হতে পারে। ইমাম বায়যাবী এমনটিই বলেছেন। (২) এ বৃদ্ধিকরণ সাতশ’ বা তারও বেশী হতে পারে। এর সমর্থনে সহীহুল বুখারীতে ‘কিতাবুর্ রিক্বাক্ব’-এ (নাসীহাত পর্বে) ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীস রয়েছে। তাতে আছে ‘‘আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকী থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বা আরো অনেক বেশী লেখেন’’। অতএব সাতশত গুণ থেকে উদ্দেশ্য আধিক্য। সংখ্যা উদ্দেশ্য নয়, যারা ঈমানের হ্রাস বা বৃদ্ধিকে অস্বীকার করে এ হাদীসটি তাদের অভিমত প্রত্যাখ্যান করে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪৫-[৪৪] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! ঈমান কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যখন তোমাকে নেক (সৎ) কাজ আনন্দ দিবে ও খারাপ (অসৎ) কাজ পীড়া দিবে, তখন তুমি মু’মিন। আবার সে লোকটি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! খারাপ (অসৎ) কাজ কি? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যখন কোন কাজ করতে তোমার মনে দ্বিধা ও সন্দেহের উদ্রেক করে (তখন মনে করবে এটা গুনাহের কাজ), তখন তা ছেড়ে দিবে। (আহমাদ)[1]
الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا الْإِيمَانُ قَالَ إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ وَسَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْإِثْمُ قَالَ إِذَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ شَيْءٌ فَدَعْهُ» . رَوَاهُ أَحْمد
Chapter - Section 3
Abu Umama reported that a man asked God’s messenger what faith was, to which he replied, “When your good deed pleases you and your evil deed grieves you, you are a believer.” He then asked what sin was and received the reply, “When you have a besetting sin, give it up.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যাঃ ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ যখন তোমার দ্বারা আনুগত্যের কাজ সম্পাদিত হবে আর এতে তুমি আনন্দিত হবে এ কথা বিশ্বাস করে যে, এ কারণে তুমি পুরস্কৃত হবে। আর তোমার দ্বারা যদি কোন গুনাহের কাজ হয়ে যায় তবে তুমি চিন্তিত হও এটাই আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসের আলামত।
গুনাহের কাজ কি? এ ব্যাপারে যখন কোন স্পষ্ট দলীল ও বিশুদ্ধ প্রমাণাদি থাকার ফলে কোন বিষয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় ও মনে খটকা লাগে এবং এর বিধান সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া যায়, ফলে মনে প্রশান্তি আসে না বরং মনে এমন ভাবের সৃষ্টি হয় যে, মন তা করতে সায় দেয় না তবে তা পরিত্যাগ করা উচিত। এটা তাদের বেলায় প্রযোজ্য যাদের অন্তঃকরণ পরিষ্কার, হৃদয় পবিত্র। আর সাধারণ লোক যাদের হৃদয় গুনাহের অন্ধকারে নিমজ্জিত তাদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। কেননা কোন কোন ক্ষেত্রে ভালো কাজকেই গুনাহের কাজ মনে করতে পারে আবার গুনাহের কাজকেও সাওয়াবের কাজ মনে করে বসতে পারে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪৬-[৪৫] ’আমর ইবনু ’আবাসাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! এ দীনে (ইসলামের দা’ওয়াতের ব্যাপারে একেবারে প্রথমদিকে) আপনার সাথে আর কারা ছিলেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আযাদ ব্যক্তি (আবূ বকর) ও একজন গোলাম (বিলাল)। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস বললাম, ইসলাম (তার নিদর্শন) কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মার্জিত কথাবার্তা বলা ও (অভুক্তকে) আহার করানো। অতঃপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঈমান (তার পরিচয়) কী? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (গুনাহের কাজ হতে) ধৈর্য ধরা ও দান করা। তিনি (’আমর) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ ইসলাম উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যার হাত ও জিহ্বার অনিষ্ট হতে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। (’আমর বলেন) আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ ঈমান (ঈমানের কোন্ শাখা) উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সৎস্বভাব। (’আমর বলেন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, সালাতে কোন্ জিনিস উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, দীর্ঘ সময় নিয়ে ক্বিয়াম (কিয়াম) করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ হিজরত উত্তম। উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মহান আল্লাহ যা অপছন্দ করে তুমি এমন কাজ ছেড়ে দিবে। আমি বললাম, কোন্ জিহাদ উত্তম? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যার ঘোড়ার হাত-পা কর্তিত এবং নিজের রক্ত নির্গত হয়েছে (অর্থাৎ- সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যার ঘোড়া যুদ্ধে মারা যায় এবং সেও শহীদ হয়)। আমি বললাম, সর্বোত্তম কোন্ সময়? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেন, শেষ রাতের মধ্যভাগ। (আহমাদ)[1]
الفصل الثالث
عَن عَمْرو بن عبسة قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُول الله من تبعك عَلَى هَذَا الْأَمْرِ قَالَ حُرٌّ وَعَبْدٌ قُلْتُ مَا الْإِسْلَامُ قَالَ طِيبُ الْكَلَامِ وَإِطْعَامُ الطَّعَامِ قُلْتُ مَا الْإِيمَانُ قَالَ الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ قَالَ قُلْتُ أَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ قَالَ قُلْتُ أَيُّ الْإِيمَانِ أَفْضَلُ قَالَ خُلُقٌ حَسَنٌ قَالَ قُلْتُ أَيُّ الصَّلَاةِ أَفْضَلُ قَالَ طُولُ الْقُنُوتِ قَالَ قُلْتُ أَيُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْ تَهْجُرَ مَا كره رَبك عز وَجل قَالَ قلت فَأَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِيقَ دَمُهُ قَالَ قُلْتُ أَيُّ السَّاعَاتِ أَفْضَلُ قَالَ جَوف اللَّيْل الآخر. . . رَوَاهُ أَحْمد
এখানে قُنُوْطٌ (কুনূত্ব) দ্বারা ক্বিয়াম (কিয়াম), ক্বিরাআত (কিরআত) অথবা বিনয় নম্রতা তিনটিই উদ্দেশ্য হতে পারে। جَوْفُ الْلَيْلِ (জাওফুল লায়ল) অর্থ মধ্যরাত্রি। ইমাম আহমাদ (রহঃ) হাদীসটি তার মুসনাদের ৫/২৩২ নং পৃষ্ঠায় সহীহ সানাদে বর্ণনা করেছেন।
Chapter - Section 3
‘Amr b. ‘Abasa said:
I came to God's messenger and asked, “Who is associated with you in this matter, messenger of God?” He replied, “Both freeman and slave.” I asked what Islam was and he said, I “Pleasant speech and the provision of food.” I asked what faith was and he said, “Endurance and benevolence.” I asked what aspect of Islam was most excellent, and he replied that it was to be seen in him from whose tongue and hand the Muslims were safe. I asked what aspect of faith was most excellent, and he replied that it was a good disposition. I asked what feature of prayer was most excellent, and he replied that it consisted in standing for a long time in [silent] humility. I asked him what aspect of emigration (hijra) was most excellent, and he replied, “Abandoning (an tahjura) what your Lord abhors.” I asked what aspect of jihad was most excellent, and he replied that it was when a man’s steed was wounded and his blood was shed. I asked him which hour was most excellent, and he replied that it was towards the end of the darkest part of the night.
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: উত্তম কথা বলা ও খাদ্য খাওয়ানো- এ দু’টি বিষয়ের মধ্যে উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং দয়া প্রদর্শনের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। যদি তা মিষ্টি কথার মাধ্যমেও হয়। ইমাম ত্বীবী বলেনঃ এ হাদীসে ঈমানকে ধৈর্য ও দানশীলতা দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কেননা ধৈর্য নিষিদ্ধ কাজ পরিত্যাগ করার আর দানশীলতা আদিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের প্রমাণ বহন করে। যেমনটি হাসান বসরী (রহঃ) ব্যাখ্যা করেছেন। এ দু’টি অভ্যাসের সাথে উত্তম চরিত্রকে সংযোজন করা হয়েছে। এর ভিত্তি হলো ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বাণী ‘‘রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র ছিল আল-কুরআন’’ অর্থাৎ- তিনি তা পালন করেন আল্লাহ তাঁকে যে আদেশ প্রদান করেছেন, আর তা থেকে বিরত থাকেন আল্লাহ যা করতে নিষেধ করেছেন। কোন্ ইসলাম উত্তম, অর্থাৎ- কোন্ শ্রেণীর মুসলিম অধিক সাওয়াবের অধিকারী।
خُلُقٌ এমন ক্ষমতা বা যোগ্যতাকে বলা হয় যার কারণে কোন ব্যক্তির দ্বারা সহজেই কোন কাজ সম্পাদন হয়। কোন্ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) উত্তম? এর জওয়াবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘দীর্ঘ কুনূত’’, অর্থাৎ- দীর্ঘ ক্বিয়াম (কিয়াম) অথবা ক্বিরাআত (কিরআত) বা নম্রতা। তবে প্রথম অর্থটিই অধিক প্রকাশমান।
কোন্ হিজরত উত্তম? এ প্রশ্নের কারণ এই যে, হিজরত অনেক প্রকারের রয়েছে। উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি তা পরিত্যাগ করবে যা তোমার রব অপছন্দ করেন। এ প্রকারের হিজরত উত্তম এজন্য যে তা ব্যাপক।
কোন্ প্রকারের জিহাদ বা কোন্ ধরনের মুজাহিদ উত্তম? এর জওয়াবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জিহাদে যার ঘোড়া নিহত হয়েছে এবং তার নিজের রক্ত প্রবাহিত হয়েছে সেই উত্তম মুজাহিদ। এ মুজাহিদ এজন্য উত্তম যে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সম্পদও ব্যয় করেছেন এবং নিজেও শাহীদ হয়েছেন।
(جَوْفُ اللَّيْلِ الْاۤخِرُ) দ্বারা উদ্দেশ্য রাতের ২য় ভাগের মধ্যাংশ। আর তা হলো রাতের ছয় ভাগের কম সময়। আর রাতের এ অংশেই আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) ‘আমর ইবনু ‘আবাসাহ্ (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, ‘‘শেষ রাতের মধ্যভাগে মহান রব বান্দার অতি নিকটবর্তী হন। যারা এ সময়ে আল্লাহর স্মরণে মত্ত থাকে তুমি সক্ষম হলে তাদের অন্তর্ভুক্ত হও’’।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪৭-[৪৬] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে, (দৈনিক) পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে এবং রমাযানের সিয়াম পালন করে তাঁর কাছে পৌঁছাবে, তাকে মাফ করে দেয়া হবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি এ সুসংবাদ তাদেরকে জানিয়ে দিব না? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (না) তাদেরকে ’আমল করতে দাও। (আহমাদ)[1]
الفصل الثالث
وَعَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئا يُصَلِّي الْخَمْسَ وَيَصُومُ رَمَضَانَ غُفِرَ لَهُ قُلْتُ أَفَلَا أُبَشِّرُهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ دَعْهُمْ يَعْمَلُوا» . رَوَاهُ أَحْمد
Chapter - Section 3
Mu‘adh b. Jabal said that he heard God’s messenger say, “He who meets his Lord having associated nothing with Him, observed the five times of prayer, and fasted during Ramadan will be forgiven.” Mu'adh asked whether he should not give them the good news, but was told to let them go on doing [good] works.
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে যাকাত ও হাজ্জের (হজ্জের/হজের) কথা উল্লেখ করা হয়নি কারণ তা ধনীদের জন্য খাস। আর বিশেষভাবে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ও সিয়াম উল্লেখ করা হয়েছে এজন্য যে, তা উত্তম প্রসিদ্ধ ও ব্যাপক। তাকে ক্ষমা করা হবে, অর্থাৎ- তার সগীরাহ্ গুনাহ্ ক্ষমা করা হবে। আর কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহসমূহের মধ্যে যেগুলো আল্লাহর হক সেগুলো তার ইচ্ছাধীন। আর যেগুলো বান্দার হক সেগুলোর ব্যাপারে সম্ভব যে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় অনুগ্রহ দ্বারা তাদেরকে সন্তুষ্ট করে দিবেন।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৪৮-[৪৭] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, উত্তম ঈমান সম্পর্কে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, কাউকে তুমি ভালোবাসলে আল্লাহর ওয়াস্তেই ভালোবাসবে। অপরদিকে শত্রুতা করলে তাও আল্লাহর ওয়াস্তেই করবে এবং নিজের জিহ্বাকে (খালিস মনে) আল্লাহর যিকরে মশগুল রাখবে। তিনি (মু’আয) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এছাড়া আমি আর কি করব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অপরের জন্য সে-ই জিনিস পছন্দ কর যা নিজের জন্য পছন্দ কর। আর অপরের জন্যও তা অপছন্দ করবে যা নিজের জন্য অপছন্দ করে থাকো (অর্থাৎ- সকলেরই কল্যাণ কামনা করবে)। (আহমাদ)[1]
الفصل الثالث
وَعَن معَاذ أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَفْضَلِ الْإِيمَانِ قَالَ: «أَنْ تُحِبَّ لِلَّهِ وَتُبْغِضَ لِلَّهِ وَتُعْمِلَ لِسَانَكَ فِي ذِكْرِ اللَّهِ قَالَ وماذا يَا رَسُول الله قَالَ وَأَن تحب للنَّاس مَا تحب لنَفسك وَتَكْرَهُ لَهُمْ مَا تَكْرَهُ لِنَفْسِكَ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ
Chapter - Section 3
Mu‘adh b. Jabal said that he asked the Prophet what was the most excellent aspect of faith, and received the reply, “That you should love for God’s sake, hate for God’s sake, and employ your tongue in making mention of God.” “What more, messenger of God?” he asked and was told, “That you should like other people to have what you like yourself, and dislike that they should have what you dislike yourself.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: ‘‘তুমি মানুষের জন্য তাই পছন্দ করবে যা তুমি নিজের জন্য পছন্দ কর’’। অর্থাৎ- ইহকালীন ও পরকালীন বৈধ বিষয়সমূহ এবং আনুগত্যমূলক কাজসমূহ লোকেদের জন্য তদ্রূপ পছন্দ করবে যেমন তা তুমি নিজের জন্য পছন্দ কর। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তুমি তাদের জন্য তা অর্জন হওয়া পছন্দ কর যা তুমি নিজের জন্য অর্জন হওয়া পছন্দ কর। বিষয়গুলো চাই ইন্দ্রিয়গত হোক বা না হোক। এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটা নয় যে, তোমার নিকট যা আছে তা তার কাছে চলে যাওয়া তুমি পছন্দ করবে। অথবা হুবহু ঐ বস্তু তাদের নিকট থাকবে। কেননা একই বস্তু দুই স্থানে থাকা সম্ভব নয়। আর এ প্রকারের ভালোবাসা বা পছন্দ সাধারণ লোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর বিশেষ লোকেদের ঈমান তখন পূর্ণ হবে যখন সে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য পছন্দ করবে যে, সে তার চেয়েও উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন হোক। এজন্য ফুযায়ল ইবনু ‘ইয়ায ‘উয়াইনাকে বলেছিলেন, তুমি মানুষের জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ কল্যাণকামী হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি এটা পছন্দ করবে যে, প্রত্যেক মুসলিম তোমার চেয়ে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হোক। আর এটা হিংসা বিদ্বেষ ও প্রতারণা পরিত্যাগ ব্যতীত অর্জন সম্ভব নয়।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
জমহূরসহ পূর্বপরের সকল ’আলিমের মতে পাপসমূহ দু’ভাগে বিভক্ত কতগুলো বড় পাপ আর কতগুলো ছোট পাপ। এ বিষয়ে সূরা আন্ নিসা’র ৩১ নং এবং সূরাহ্ আন্ নাজ্ম-এর ৩২ নং আয়াতসহ কুরআন সুন্নাহর অসংখ্য প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। তবে কাবীরার সংজ্ঞার ক্ষেত্রে জমহূরের মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়েছে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর ভাষ্য মতে- ’’কাবীরাহ্ (কবিরা) ঐসব পাপ যেগুলোর ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নাম, গযব, অভিশাপ অথবা ’আযাবের কথা বলেছেন’’। কারো কারো মতে, কাবীরাহ্ (কবিরা) ঐসব পাপ যাতে জড়িত হলে দুনিয়ায় হাদ্দ বা শাস্তি অবধারিত হয়েছে এবং আখিরাতে জাহান্নামের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে অগ্রাধিকারযোগ্য অভিমত হলোঃ কাবীরাহ্ (কবিরা) ঐসব পাপ যেগুলোকে বড় বলা হয়েছে বা যা সম্পাদনে আখিরাতে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে বা যেগুলোর ক্ষেত্রে গযব, অভিশাপের কথা বলা হয়েছে বা হাদ্দ অবধারিত হয় বা যার সম্পাদনকারীকে ফাসিক্ব বলে অভিহিত করা হয়েছে।
জেনে রাখা ভালো যে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের অধিকাংশ ’আলিমের মতে গুনাহ দুই ভাগে বিভক্ত। কাবীরাহ্ (কবিরা) ও সগীরাহ্। এ বিষয়ে কুরআনে ও হাদীসে প্রমাণাদি স্পষ্ট।
আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ ’’তোমরা যদি নিষিদ্ধকৃত কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ পরিহার কর তাহলে আমি তোমাদের ছোট গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিব।’’ (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ৩১)
আল্লাহ তা’আলা আরো বলেনঃ ’’যারা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ থেকে এবং অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে সগীরাহ্ গুনাহ্ ব্যতিরেকে।’’ (সূরাহ্ আন্ নাজম ৫৩: ৩২)
সহীহ হাদীসগুলো থেকে প্রমাণিত যে, এমন কিছু গুনাহ রয়েছে যা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) রমাযানের সিয়াম, হাজ্জ (হজ/হজ্জ), ’উমরাহ্ ও ’আরাফাহ্ দিবসের সিয়াম, ’আশূরার সিয়াম এবং সৎকার্য দ্বারা মাফ হয়ে যায়। আবার এমন কিছু গুনাহ্ রয়েছে যা উপরোক্ত কার্যাবলী দ্বারা মাফ হয়ে যায় না। যেমন সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে ’’যতক্ষণ সে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ্ না করে।’’
যে সকল গুনাহের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে তা কাবীরাহ্ (কবিরা) বা মহাপাপ। অথবা ঐ গুনাহের ফলে পরকালে শাস্তির ওয়া’দা অথবা আল্লাহর অসন্তুষ্টি লা’নাত কিংবা অপরাধের ইহকালীন শাস্তি বা তা কঠোরভাবে অস্বীকার করা হয়েছে বা তা সম্পাদনকারীকে ফাসিক্ব বলে ভূষিত করা হয়েছে ওগুলো কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ্।
৪৯-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কাছে সর্বাধিক বড় গুনাহ কোনটা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সেই আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা। অতঃপর পুনরায় সে জিজ্ঞেস করলো, তারপর কোনটা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার সন্তান তোমার সাথে খাবে- এ ভয়ে তাকে হত্যা করা। পুনরায় প্রশ্ন করলো, তারপর কোনটা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা। তিনি [ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ)] বলেছেন, এর সমর্থনে আল্লাহ তা’আলা (কুরআনে) অবতীর্ণ করলেনঃ ’’তারাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে মা’বূদ হিসেবে গণ্য করে না, আল্লাহ যাদের হত্যা করা হারাম করে দিয়েছেন, আইনের বিধান ছাড়া তাদের (অন্যায়ভাবে) হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে এগুলো করে সে শাস্তির সাক্ষাৎ লাভ করবে।’’- (সূরাহ্ আল ফুরক্বান ২৫: ৬৮)। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الذَّنْبِ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ قَالَ أَنْ تَدْعُوَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثمَّ أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ خَشْيَةَ أَنْ يَطْعَمَ مَعَكَ قَالَ ثمَّ أَي قَالَ ثمَّ أَن تُزَانِي بحليلة جَارك فَأنْزل الله عز وَجل تَصْدِيقَهَا (وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يزنون وَمن يفعل ذَلِك يلق أثاما)
الْآيَة
ইমাম হাকিম (রহঃ)-এর পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি تُزَانِىَ আকারে রয়েছে। তবে মূললিপিতে تُزَانِىَ-এর পরিবর্তে تَزْنِىَ রয়েছে।
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
‘Abdallah b. Mas'ud said that a man asked God’s messenger, what was the greatest sin in God’s sight, to which he replied, “That you should treat anything as equal to God when He has created you." “What next?’’ he asked, to which he replied, “That you should kill your child for fear that he may eat along with you.”. ‘‘What next?" he asked, to which he replied, “That you should commit adultery with your neighbour’s wife." God has revealed words which verify this :
“Those who do not invoke another god along with God, or kill one whom God has declared inviolate without a just cause, or commit fornication..." *
(Bukhari and Muslim.)
* Quran, 25:68
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের মধ্যে এ ইঙ্গিত রয়েছে যে, একক আল্লাহর সাথে পৃথিবীর কোন কিছুকে শরীক করা সব চাইতে কদর্য বা খারাপ কাজ। শির্কের পরে কোন কাজ অধিক অপরাধমূলক? এ প্রশ্নের জবাবে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ স্বীয় আদরের সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করা যে, সে তোমার সাথে খাবার খাবে। হত্যা করাটাই একটা অপরাধ। এ হত্যা কাজের সাথে যখন স্বীয় সন্তান হত্যার বিষয় যুক্ত হয় তখন তা আরো কদর্য বা বেশী অপরাধ বলে সাব্যস্ত হয়। এ হাদীসটি ঐ আয়াতের সমার্থক যেখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘দরিদ্র হবার ভয়ে তোমরা স্বীয় সন্তানদের হত্যা করো না’’- (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭ঃ ৩১)।
‘‘তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা’’ এ বাক্যাংশের ব্যাখ্যায় ইমাম নাবাবী বলেন, تزاني শব্দের মর্মার্থ হলো ‘‘তার সম্মতিক্রমে তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া’’। এতে ব্যভিচারের সাথে আরো দু’টি অপরাধযুক্ত আছে। সে ঐ মহিলাকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে বিগড়িয়ে দিয়েছে এবং তার অন্তরকে ব্যভিচারীর প্রতি আকৃষ্ট করেছে। এ কাজ দু’টি আরো কদর্য। আর এ কাজটি তার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে করা যা আরো অধিক কদর্য। আরো মহা অপরাধ। কেননা প্রতিবেশী তার নিকট থেকে আশা করে যে, সে তার পক্ষ হয়ে প্রতিবেশীর ও তার স্ত্রীর জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকবে। তার দ্বারা নিরাপত্তা লাভ করবে। আর তাকে তো এ আদেশই দেয়া হয়েছে যে, সে প্রতিবেশীকে সম্মান করবে। তার প্রতি দয়াপ্রদর্শন করবে। সে যখন এ সবের পরিবর্তে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে, তার স্ত্রীকে তার বিরুদ্ধে বিগড়িয়ে দেয়- তখন তা কদর্যের শেষ সীমানায় পৌঁছে যায়।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫০-[২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাউকে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকেও হত্যা করা, মিথ্যা শপথ করা বড় গুনাহ। (বুখারী)[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْكَبَائِرُ الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النَّفْسِ وَالْيَمِين الْغمُوس» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
‘Abdallah b. ‘Amr reported God’s messenger as saying, “The major sins are associating other objects of worship with God, disobedience to parents, murder, and deliberate perjury (al-yamin al-ghamus)."
Bukhari transmitted it.
ব্যাখ্যা: আল্লাহর সাথে অংশী স্থাপন করার মর্মার্থ হলো আল্লাহ ব্যতিরেকে অন্য কাউকে ইলাহ গ্রহণ করা। এর দ্বারা উদ্দেশ হলো কুফরী করা। বিশেষভাবে শির্কের উল্লেখ করার কারণ হলো এর অস্তিত্বের প্রাধান্য বিশেষ করে তৎকালীন ‘আরব দেশসমূহে। অতএব কুফরীর অন্যান্য প্রকার সম্পর্কে সতর্ক করার উদ্দেশে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়ার মর্মার্থ হলো তাদের আদেশ অমান্য করা এবং তাদের সেবা না করা। এ থেকে উদ্দেশ্য হলো সন্তান কর্তৃক এমন কথা ও কাজ সম্পাদিত হওয়া যার কারণে পিতা-মাতা কষ্ট পায়। তবে শির্ক ও আল্লাহর অবাধ্যতার ব্যাপারটি স্বতন্ত্র। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা শপথ করাও কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। মিথ্যা শপথ বলতে অতীতে ঘটে যাওয়া কোন বিষয় সম্পর্কে স্বেচ্ছায় মিথ্যা শপথ করাকে বুঝানো হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, সে যা করেনি সে সম্পর্কে এমন বলা যে, আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই তা করেছি। আর যা করেছে সে সম্পর্কে বলা যে, আল্লাহর শপথ আমি এটি করিনি। এ ধরনের শপথকে غُمُوْسً বলার কারণ এই যে, এ ধরনের শপথ শপথকারীকে জাহান্নামে প্রবেশ করায়।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫১-[৩] আর আনাস (রাঃ) এর বর্ণনায় ’মিথ্যা শপথ’-এর পরিবর্তে ’’মিথ্যা সাক্ষ্য’’ দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَفِي رِوَايَةِ أَنَسٍ: «وَشَهَادَةُ الزُّورِ» بَدَلُ: «الْيَمِينُ الْغمُوس»
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
Anas’s version has “false witness” (shahadat al-zur) instead of ‘‘deliberate perjury."
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: মিথ্যা সাক্ষ্যকে زور নামকরণের কারণ এই যে, এই সাক্ষ্য দ্বারা সত্য থেকে বাতিলের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়া হয়। হাফিয ইবনু হাজার বলেন, زور এর সংজ্ঞা হলো কোন বস্তুকে তার বিপরীত গুণ দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা। কথাকেও زُوْرِ বলা হয়ে থাকে যা মিথ্যা ও না-হক বা বাতিলকে শামিল করে। যখন زُّوْرِ শব্দটিকে সাক্ষ্যের সাথে সম্বন্ধ করা হয় তখন তা শক্ত মিথ্যা সাক্ষ্যকেই বুঝায়।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫২-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (হে লোক সকল!) সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় হতে তোমরা দূরে থাকবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এ সাতটি বিষয় কী? জবাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (১) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা। (২) যাদু করা। (৩) শারী’আতের অনুমতি ব্যতীত কাউকে (অন্যায়ভাবে) হত্যা করা। (৪) সুদ খাওয়া। (৫) (অন্যায়ভাবে) ইয়াতীমের মাল খাওয়া। (৬) জিহাদের মাঠ থেকে পালিয়ে আসা। (৭) নির্দোষ ও সতী-সাধ্বী মুসলিম মহিলার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَأَكْلُ الرِّبَا وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ الْغَافِلَاتِ»
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “Avoid the seven noxious things." When his hearers asked, “What are they, messenger of God?" he replied, “Associating anything with God, magic, killing one whom God has declared inviolate without a just cause, devouring usury, consuming the property of an orphan, turning back when the army advances, and slandering chaste women who are believers but indiscreet."
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা : মানাবী (রহঃ) বলেন, সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ্ হলো শির্ক, অতঃপর অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা।
(سِحْرٌ) সিহর (যাদু) বলা হয় এমন বিষয়কে যা সাধারণ নিয়মের বহির্ভূত। তা সংঘটিত হয় দুষ্ট লোকেদের দ্বারা। জমহূর (অধিকাংশ) ‘আলিমদের মতানুযায়ী যাদুর বাস্তবতা রয়েছে এবং তার প্রভাবও বিদ্যমান। যা মানুষের মেজাজ বিগড়িয়ে দেয়। ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, যাদু হারাম। তন্মধ্যে কিছু আছে কুফরী আর কিছু এমন যা কুফরী নয় তবে কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ্। যদি যাদুর মধ্যে এমন কথা ও কাজ থাকে যা কুফরীর পর্যায়ের তাহলে এমন যাদু কুফরী নচেৎ তা কুফরী নয়। সর্বাবস্থায় যাদু শিখা এবং তা শিক্ষা দেয়া হারাম।
যে কোন পন্থায় সুদগ্রহণ করা এবং অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা তখনই কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ্ বলে গণ্য হবে যখন শত্রুর সংখ্যা মুসলিমের দ্বিগুণের অধিক না হবে। মুসলিম সতীসাধ্বী নারীদের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ। কাফির নারীদের প্রতি এরূপ অপবাদ দেয়া কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ নয়।
গাফিলাত বলতে সে সমস্ত নারীকে বুঝায়, যারা অশ্লীল কাজ কর্ম হতে মুক্ত। তবে যারা অশ্লীল কর্ম থেকে মুক্ত নয়, এরূপ নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করা হারাম নয় যদি তাদের অশ্লীলতা প্রকাশমান হয়।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫৩-[৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যিনাকারী যখন যিনা করে তখন আর সে ঈমানদার থাকে না। চোর যখন চুরি করে তখন সে ঈমানদার থাকে না। মদ্যপ যখন মদ পান করে তখন তার আর ঈমান থাকে না। যখন ডাকাত এভাবে ডাকাতি করে যে, যখন চোখ তোলে তাকিয়ে থাকে তখন তার ঈমান থাকে না। এভাবে কেউ যখন গনীমাতের মালে খিয়ানাত করে, তখন তার ঈমান থাকে না। অতএব সাবধান! (এসব গুনাহ হতে দূরে থাকবে)। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يشرب الْخمر حِين يشْربهَا وَهُوَ مُؤمن وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا ينتهب نهبة ذَات شرف يرفع النَّاس إِلَيْهِ أَبْصَارهم فِيهَا حِينَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَا يَغُلُّ أَحَدُكُمْ حِين يغل وَهُوَ مُؤمن فإياكم إيَّاكُمْ»
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “When one commits fornication he is not a believer, when one steals he is not a believer, when one drinks wine he is not a believer, when one takes plunder on account of which men raise their eyes at him he is not a believer, and when one of you defrauds he is not a believer; so beware, beware!"
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: হাদীসের প্রকাশমান অর্থ দ্বারা বুঝা যায় যে, কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি মু’মিন নয় যেমনটি খারিজী এবং মু‘তাযিলাগণ বলে থাকে। তবে জামা‘আত তাদের বিপরীত মত পোষণ করেন এবং এ হাদীসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন। এ হাদীস এবং কুরআন ও অন্যান্য হাদীসের মধ্যে সমন্বয় করার উদ্দেশে, যে দলীলগুলো প্রমাণ বহন করে যে, শির্ক ব্যতীত অন্য কোন কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ্’র দরুন কাউকে কাফির বলা যায় না। বরং এমন ব্যক্তি মু’মিন, তবে তাদের ঈমান অসম্পূর্ণ। যদি তারা তাওবাহ্ করে তবে শাস্তি থেকে রেহাই পাবে। আর যদি তাওবাহ্ ব্যতীত কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহে লিপ্ত থেকেই মারা যায় তাহলে তারা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের ক্ষমাও করতে পারেন আবার শাস্তিও দিতে পারেন।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫৪-[৬] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় এটাও আছে, হত্যাকারী যখন অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, সে সময়ও তার ঈমান থাকে না। ’ইকরিমাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কিরূপে ঈমান তার থেকে বের করে নেয়া হবে? তিনি বললেন, এভাবে (এ কথা বলে) তিনি তার হাতের অঙ্গুলিসমূহ পরস্পরের ফাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে, পরে তা পৃথক করে নিলেন। অতঃপর সে যদি তওবা্ করে, তাহলে পুনরায় ঈমান তার মধ্যে এভাবে ফিরে আসবে- এ কথা বলে পুনরায় তিনি দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের ফাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। আর আবূ ’আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, সে মু’মিন থাকে না। অর্থাৎ- সে প্রকৃত বা পূর্ণ মু’মিন থাকে না কিংবা তার ঈমানের নূর থাকে না। এটা বুখারীর বর্ণনার হুবহু শব্দাবলী।[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَفِي رِوَايَة ابْن عَبَّاس: «وَلَا يَقْتُلُ حِينَ يَقْتُلُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ» . قَالَ عِكْرِمَةُ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: كَيْفَ يُنْزَعُ الْإِيمَانُ مِنْهُ؟ قَالَ: هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ أَخْرَجَهَا فَإِنْ تَابَ عَادَ إِلَيْهِ هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: لَا يَكُونُ هَذَا مُؤْمِنًا تَامًّا وَلَا يَكُونُ لَهُ نُورُ الْإِيمَان. هَذَا لفظ البُخَارِيّ
اَبُوْ عَبْدُ اللهِ [আবূ ‘আবদুল্লাহ] এটি ইমাম বুখারীর উপনাম।
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
The version of Ibn ‘Abbas contains “When one commits murder he is not a believer.” ‘Ikrima said that he asked Ibn 'Abbas how faith could be snatched away from him, and he replied “Thus (interlacing his fingers and then separating them), but if he repents, it will return to him thus,” and he interlaced his fingers. Aba ‘Abdallah said that such a one is not a perfect believer and does not possess the light of faith. This is Bukhari's wording.
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের সারসংক্ষেপ এই যে, অন্তরে বিশ্বাস করা মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান এবং বিশ্বাস ও স্বীকৃতি অনুপাতে কাজ করার নাম ঈমান। আর এ নূর অর্থ ঈমানের পূর্ণতা আর তা হলো সৎকাজ সম্পাদন করা এবং নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকা। অতএব কোন ব্যক্তি যদি আদিষ্ট কাজে ত্রুটি করে অথবা ব্যভিচার, মদপান ও চুরির মতো গুনাহের কাজে জড়িয়ে পরে তখন তার নূর চলে যায় তার ঈমানের পূর্ণতা দূর হয়ে যায়। ফলে এমন ব্যক্তি পাপ-পঙ্কিলতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫৫-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিক্বের নিদর্শন তিনটি- (১) যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে; (২) যখন ওয়া’দা করে, তা ভঙ্গ করে এবং (৩) যখন তার নিকট কোন আমানাত রাখা হয়, তার খিয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) করে। ইমাম মুসলিমের বর্ণনায় আরো আছে, চাই সে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করুক ও সিয়াম পালন করুক এবং দাবী করে সে মুসলিম।[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ( «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ» . زَادَ مُسْلِمٌ: «وَإِنْ صَامَ وَصَلَّى وَزَعَمَ أَنَّهُ مُسْلِمٌ» . ثُمَّ اتَّفَقَا: «إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤتمن خَان»
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
Abu Huraira reported God's messenger as saying, “There are three signs of a hypocrite.” Muslim added, “Even if he fasts, prays, and asserts that he is a Muslim.” Thereafter both Bukhari and Muslim said, “When he speaks he lies, when he makes a promise he breaks it, and when he is trusted he betrays his trust.”
ব্যাখ্যা: নিফাক্বের শাব্দিক অর্থ হলো আভ্যন্তরীণ বিষয় বাহ্যিক বিষয়ের বিপরীত হওয়া। এ বৈপরীত্য যদি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে হয় তবে তা নিফাকুল কুফর। একে বড় নিফাক্ব বা মুনাফিক্বী বলা হয়। আর এ নিফাক্ব যদি বিশ্বাসের ক্ষেত্রে না হয় তবে তা নিফাকুল ‘আমল। আর তা কোন কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রেও হতে পারে। আবার কাজ না করার ক্ষেত্রেও হতে পারে। আর এ ধরনের নিফাক্বকে ছোট মুনাফিক্বী বলা হয়। আর তা হলো বাহ্যিকভাবে কোন কাজ সুন্দরভাবে সম্পাদন করা, কিন্তু দীনের আভ্যন্তরীণ বিষয়কে সংরক্ষণ না করা। যদিও এ ধরনের লোকেরা মুসলিমদের ন্যায় সালাত (সালাত/নামায/নামাজ), সওম ও অন্যান্য ‘ইবাদাতমূলক কাজ সম্পাদন করে তবুও তারা মুনাফিক্ব। এ হাদীসে বিশেষভাবে তিনটি অভ্যাসকে মুনাফিক্বের নিদর্শনরূপে উল্লেখ করার কারণ এই যে, এ তিনটি অভ্যাস নিফাক্বের ভিত্তি। কেননা মিথ্যা হলো বাস্তবের বিপরীত সংবাদ দেয়া।
আর আমানাতের হক হলো তা তার মালিকের নিকট ফেরত দেয়া। আর আমানাত হলো খিয়ানাতের বিপরীত। আর ওয়া‘দা ভঙ্গ করা অর্থ ওয়া‘দার বিপরীত কাজ করা। আর এ বৈপরীত্যই নিফাক্বের মূল। যার মধ্যে এগুলোর সমাবেশ ঘটবে এবং তা অভ্যাসে পরিণত করে নিবে এবং তা অব্যাহত রাখবে, ফলে তার ব্যক্তি সত্তার মধ্যে এগুলো দৃঢ় হয়ে যাবে। যার অবস্থা এমন হয়ে যাবে যে তার মধ্যে সত্য প্রবেশের কোন রাস্তা থাকবে না এবং আমানাতের উপযোগী থাকবে না। যার অবস্থা এরূপ হবে তাকে মুনাফিক্বরূপে নামকরণ করাই বেশী উপযোগী। আর মু’মিনের মধ্যে এ রকম কোন অভ্যাস পাওয়া গেলেও তা ক্ষণিকের জন্য। যদিও সে কিছু সময় এ কাজে লিপ্ত থাকে পরক্ষণেই তা আবার ত্যাগ করে। কোন একটি অভ্যাস তার মধ্যে পাওয়া গেলে অন্যটি অনুপস্থিত থাকে। এসবগুলো একত্রে এবং স্থায়ীভাবে কেবলমাত্র মুনাফিক্বের মধ্যেই পাওয়া সম্ভব।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫৬-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খাঁটি মুনাফিক্ব এবং যার মধ্যে তার একটি দেখা যাবে তার মধ্যে মুনাফিক্বের একটি স্বভাব থাকবে, যে পর্যন্ত না সে তা পরিহার করবে- (১) যখন তার নিকট কোন আমানত রাখা হয় সে তা খিয়ানত করে, (২) যখন কথা বলে, মিথ্যা বলে, (৩) যখন ওয়াদা করে, ভঙ্গ করে এবং (৪) যখন কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ করে, তখন সে অশ্লীলভাষী হয়। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذا خَاصم فجر»
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
‘Abdallah b. ‘Amr reported God's messenger as saying, “Four characteristics constitute anyone who possesses them a sheer hypocrite, and anyone who possesses one of them possesses a characteristic of hypocrisy till he abandons it:
when he is trusted he betrays his trust, when he talks he lies, when he makes a covenant he acts treacherously, and when he quarrels he deviates from the truth.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বর্ণিত চারটি অভ্যাস যার মধ্যে আছে সে খাঁটি মুনাফিক্ব। অর্থাৎ- এ চারটি অভ্যাসের ব্যাপারে সে খাঁটি মুনাফিক্ব। অন্যান্য বিষয়ে নয়। অথবা এর দ্বারা মুনাফিক্বদের সাথে এরূপ ব্যক্তির সাদৃশ্য আধিক্য বুঝানো হয়েছে অথবা যার মধ্যে এ অভ্যাসগুলো স্থায়ীভাবে গেড়ে বসেছে সে খাঁটি মুনাফিক্ব। প্রশ্ন হতে পারে যে পূর্বের হাদীসে মুনাফিক্বের আলামত ৩টি অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এ হাদীসে কিভাবে চারটি অভ্যাসের কথা বলা হলো? এর জওয়াব এই যে মুসলিমের বর্ণনাটি যেভাবে এসেছে তা দ্বারা সীমাবদ্ধতা বুঝায় না। তাতে হাদীসের শব্দ এরূপ مِنْ عَلَامَةِ الْمُنَافِقٍ ثَلَاثٌ মুনাফিক্বের নিদর্শনের মধ্যে তিনটি নিদর্শন। এতে বুঝা যায় যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সময় কিছু নিদর্শনের কথা আলোচনা করেছেন। আবার অন্য সময় অন্য কিছু নিদর্শনের কথা আলোচনা করেছেন। অথবা বলা যায় যে, নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করার অর্থ এ নয় যে, এর সংখ্যা এর চাইতে বেশী হবে না।
পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫৭-[৯] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুনাফিক্বের দৃষ্টান্ত সে বকরীর ন্যায়, যে দুই ছাগপালের মধ্যে থেকে (নরের খোঁজে) একবার এ পালে ঝুঁকে আর একবার ঐ পালের দিকে দৌড়ায়। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مثل الْمُنَافِق كَمثل الشَّاة الْعَائِرَةِ بَيْنَ الْغُنْمَيْنِ تَعِيرُ إِلَى هَذِهِ مَرَّةً وَإِلَى هَذِه مرّة» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1
Ibn ‘Umar reported God's messenger as saying, “The hypocrite is like a ewe which goes to and fro between two flocks, turning at one time to the one and at another time to the other.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (الْعَائِرَةِ) এমন ছাগলকে বলা হয় যে পাঁঠা চায় ফলে তা দু’টি পালের মাঝে দৌড়াদৌড়ি করে। কোন একটি দলের সাথে স্থায়ীভাবে থাকে না। তদ্রূপ মুনাফিক্ব বাহ্যিকরূপে মু’মিনের সঙ্গী অথচ তার অন্তর মুশরিকের সাথে। সে এমনটি করে তার প্রবৃত্তির তাড়নায় ও অসৎ উদ্দেশে এবং তার প্রবৃত্তি যা চায় তার দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে। ফলে সে দুই পাল ছাগলের মাঝে যাতায়াতকারী ছাগলের মতই।
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫৮-[১০] সফ্ওয়ান ইবনু ’আস্সাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ইয়াহূদী তার সঙ্গীকে বলল, এসো, আমাকে এ নবী লোকটির নিকট নিয়ে চল। সঙ্গী বলল, তাঁকে ’নবী’ বলবে না, কারণ সে যদি তা শুনে তাহলে সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাবে। অতঃপর তারা উভয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো এবং তাঁকে (মূসার) নয়টি স্পষ্ট হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (১) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, (২) চুরি করবে না, (৩) ব্যভিচার করবে না, (৪) [শারী’আতের অনুমতি ব্যতিরেকে) কাউকে হত্যা করবে না যা আল্লাহ হারাম করেছেন, (৫) (মিথ্যে অপবাদ দিয়ে) কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করবার জন্য আদালতের নিকট নিয়ে যাবে না, (৬) যাদু করবে না, (৭) সুদ খাবে না, (৮) কোন সতী-সাধ্বীর ওপর ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ দিবে না এবং (৯) জিহাদকালে ময়দান থেকে পিঠ ফিরিয়ে পলায়নের উদ্দেশে আসবে না। আর হে ইয়াহূদীরা! তোমাদের জন্য শনিবারের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুমের সীমালঙ্ঘন করো না।
বর্ণনাকারী (সফ্ওয়ান) বলেন, তারা উভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই হাতে-পায়ে চুম্বন করলো এবং বললঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সত্যিই আপনি আল্লাহর নবী! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার অনুসরণের পথে তোমাদের বাধা কী? তারা বলল, (সত্যি কথা হল) দাঊদ (আঃ) আল্লাহর নিকট দু’আ করেছিলেন যে, নবী সবসময় যেন তার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। সুতরাং আমাদের ভয় হয়, যদি আমরা আপনার অনুসারী হই তাহলে ইয়াহূদীরা আমাদেরকে হত্যা করবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও নাসায়ী)[1]
باب الكبائر وعلامات النفاق - الفصل الثاني
عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ قَالَ: قَالَ يَهُودِيٌّ لصَاحبه اذْهَبْ بِنَا إِلَى هَذَا النَّبِي فَقَالَ صَاحِبُهُ لَا تَقُلْ نَبِيٌّ إِنَّهُ لَوْ سَمِعَكَ كَانَ لَهُ أَرْبَعَة أَعْيُنٍ فَأَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَاهُ عَنْ تِسْعِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ فَقَالَ لَهُم: «لَا تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا تَسْرِقُوا وَلَا تَزْنُوا وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا تَمْشُوا بِبَرِيءٍ إِلَى ذِي سُلْطَانٍ لِيَقْتُلَهُ وَلَا تَسْحَرُوا وَلَا تَأْكُلُوا الرِّبَا وَلَا تَقْذِفُوا مُحصنَة وَلَا توَلّوا الْفِرَار يَوْمَ الزَّحْفِ وَعَلَيْكُمْ خَاصَّةً الْيَهُودَ أَنْ لَا تَعْتَدوا فِي السبت» . قَالَ فقبلوا يَده وَرجله فَقَالَا نَشْهَدُ أَنَّكَ نَبِيٌّ قَالَ فَمَا يَمْنَعُكُمْ أَنْ تتبعوني قَالُوا إِن دَاوُد دَعَا ربه أَن لَا يزَال فِي ذُرِّيَّتِهِ نَبِيٌّ وَإِنَّا نَخَافُ إِنْ تَبِعْنَاكَ أَنْ تَقْتُلَنَا الْيَهُودُ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ
اَلزَّحَفُ (আয্ যাহাফু) অর্থ বিধর্মীদের সাথে যুদ্ধ বা কাফিরদের সাথে যুদ্ধ। اَلْيَهُوْدُ শব্দের পূর্বে اَعْنِىْ ক্রিয়া গোপন রয়েছে। হাদীসটি ইমাম নাসায়ী (রহঃ) ২/১৭২ নং পৃষ্ঠায় ‘‘রক্ত হারাম হওয়া সম্পর্কিত’’ অধ্যায়ে, ইমাম তিরমিযী (রহঃ) ‘‘অনুমতি প্রার্থনা’’ এবং ‘‘তাফসীর’’ অধ্যায় এবং ইমাম আহমাদ (রহঃ) ৪/২৪০ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। তবে ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ)-এর দিকে হাদীসটি নিসবাতকরণে বিবেচনার অবকাশ রয়েছে। কেননা নাবুলসী হাদীসটি তার اَلزَّخَائِرُ (আয্ যাখা-য়ির) নামক গ্রন্থের ১/২৭০ নং পৃষ্ঠায় ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ)-এর দিকে নিসবাত করেননি।
হাদীসটির সানাদে দুর্বলতা রয়েছে। অর্থাৎ- হাদীসটি দুর্বল।
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 2
Safwan b. ‘Assal told how, when a Jew said to his friend, “Let us go to this prophet,” his friend said to him, “Don’t say ‘prophet’, for if he heard you he would be greatly pleased.” * They went to God’s messenger and asked him about nine clear signs. God’s messenger said, “Do not associate anything with God. do not steal, do not commit fornication, do not kill anyone whom God has declared inviolate without a just cause, do not bring an innocent person before a ruler in order that he may put him to death, do not use magic, do not devour usury, do not slander a chaste woman, do not turn in flight on the day the army marches, and, a matter which affects you Jews particularly, do not break the Sabbath.” He said that thereupon they kissed/his hands and feet saying, “We testify that you are a prophet.” He asked “What prevents you from following me?” to which they replied, “David prayed to his Lord that prophets might never cease to arise from his offspring, and we are afraid that if we follow you the Jews will kill us.”
Tirmidhi, Aba Dawud and Nasa’i transmitted it.
* Lit. “he would have four eyes.”
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে এক ইয়াহূদী তার সঙ্গীকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নাবী শব্দ প্রয়োগ করতে বাধা প্রদান করে এবং বলে, সে যদি এ শব্দ শুনতে পায় তাহলে খুশীতে সে দৃষ্টি মেলে ধরবে ফলে উজ্জ্বলতা আরো বেড়ে যাবে। কেননা আনন্দ মানুষের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে। আর চিন্তা তাতে বিঘ্ন ঘটায়। তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পরীক্ষা স্বরূপ নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন সম্পর্কে প্রশ্ন করে। এ নয়টি নিদর্শন দ্বারা হয়ত নয়টি মু‘জিযা উদ্দেশ্য। যেমন মহান আল্লাহ তা‘আলার বাণীতে বিদ্যমান ‘‘তোমার হাত তোমার জামার বক্ষদেশে প্রবেশ করাও, ফলে তা কোন অকল্যাণ ব্যতিরেকেই ফর্সা হয়ে বেরিয়ে আসবে।’’ এটি নয়টি মু‘জিযার একটি, অবশিষ্টগুলো হলোঃ লাঠি, তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত, দুর্ভিক্ষ ও ফসলের ঘাটতি। অথবা সাধারণ নির্দেশাবলী যা সকল উম্মাতের জন্য প্রযোজ্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী, ‘‘আমি মূসা (আঃ)-কে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন প্রদান করেছি’’ এমনটি হলে হাদীসে উল্লিখিত বিষয়গুলো তাদের প্রশ্নোত্তর।
বিশেষ করে হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! তোমরা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না। অর্থাৎ- শনিবারের মর্যাদার ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে ঐ দিনে মাছ শিকার করো না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি নাবী। কেননা একজন লেখাপড়া না জানা ব্যক্তির পক্ষে এ ধরনের জ্ঞান মু‘জিযা। আর তা নুবূওয়্যাতের সাক্ষী। তবে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ‘আরব জাতির নাবী। কারণ দাঊদ (আঃ) দু‘আ করেছিলেন তার সন্তানদের মধ্যেই যেন নুবূওয়্যাতের ধারা অব্যাহত থাকে। তিনি নাবী হওয়ার কারণে তাঁর দু‘আ গ্রহণীয়, কেননা আল্লাহ তা‘আলা নাবীদের দু‘আ অগ্রাহ্য করেন না। বিষয়টি যদি তাই হয়, তাহলে তার সন্তানদের মধ্যে নুবূওয়্যাতের ধারা অব্যাহত থাকবে। আর ইয়াহূদী সম্প্রদায় সে নাবীর অনুসরণ করবে। হতে পারে যে তারা বিজয়ী হবে এবং তারা শক্তিশালী হবে। আর যদি এমনটি হয় আর আমরা তাদের ধর্ম পরিত্যাগ করে আপনার অনুসরণ করি তাহলে তারা আমাদেরকে হত্যা করবে। তাদের এ দাবী মিথ্যা এবং দাঊদ (আঃ)-এর প্রতি অপবাদ। কেননা তিনি এমন দু‘আ করেননি। আর কোন ব্যক্তির পক্ষে দাঊদ (আঃ) সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করা বৈধ নয়। কেননা দাঊদ (আঃ) যাবূরে পাঠ করেছেন যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বশেষ নাবী করে প্রেরণ করা হবে। তার মাধ্যমে নুবূওয়্যাতের ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে যাবে এবং সকল বিধান বাতিল হয়ে যাবে। অতএব একজন নাবীর পক্ষে কিভাবে সম্ভব হবে যে, আল্লাহ তাঁকে যা অবহিত করেছেন তার বিপরীত দু‘আ করা?
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৫৯-[১১] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বিষয় ঈমানের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ। (১) যে ব্যক্তি ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ’ স্বীকার করে নেয়, তার প্রতি আক্রমণ করা হতে বিরত থাকা; কোন গুনাহের দরুন তাকে কাফির বলে মনে করবে না এবং কোন ’আমলের কারণে তাকে ইসলাম হতে খারিজ মনে করবে না (যে পর্যন্ত না তার দ্বারা সুস্পষ্ট কোন কুফরী কাজ করা হয়)। (২) যেদিন হতে আল্লাহ আমাকে নবী করে পাঠিয়েছেন, সেদিন থেকে এ উম্মাতের শেষ দিকের লোকেরা দাজ্জালের সাথে জিহাদ করা পর্যন্ত (ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অবধি) চলতে থাকবে। কোন অত্যাচারী শাসকের অবিচার অথবা কোন সুবিচারী বাদশার ইনসাফ এ জিহাদকে বাতিল করতে পারবে না এবং (৩) তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস। (আবূ দাঊদ)[1]
باب الكبائر وعلامات النفاق - الفصل الثاني
وَعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «ثَلَاث من أَصْلِ الْإِيمَانِ الْكَفُّ عَمَّنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَلَا نكفره بذنب وَلَا نخرجهُ من الْإِسْلَام بِعَمَل وَالْجِهَادُ مَاضٍ مُنْذُ بَعَثَنِي اللَّهُ إِلَى أَنْ يُقَاتل آخر أمتِي الدَّجَّالَ لَا يُبْطِلُهُ جَوْرُ جَائِرٍ وَلَا عَدْلُ عَادل وَالْإِيمَان بالأقدار» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 2
Anas reported God’s messenger as saying, “Three matters pertain to the root of faith:
no molestation of one who says there is no god but God, neither declaring him an infidel because of a sin, nor excommunicating him from Islam because of an action; jihad continues from the time God sent me till the last of this people fights with the dajjal, being annulled neither by the tyranny of a tyrannical ruler nor the justice of a just one; and belief in God’s decrees.”
Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: তিনটি অভ্যাস ঈমানের মূলঃ
(১) যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করে যে, ‘‘আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল’’ তার জান-মালের ক্ষতি করা হতে বিরত থাকা। কোন গুনাহের কারণে তাকে কাফের না বলা যেমনটি মু‘তাযিলাগণ বলে থাকে।
(২) এ বিশ্বাস রাখা যে, ‘ঈসা (আঃ) কর্তৃক দাজ্জাল নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত জিহাদ অব্যাহত থাকবে। দাজ্জাল নিহত হওয়ার পর আর জিহাদ অবশিষ্ট থাকবে না। কেননা ইয়া’জূজ ও মা’জূজ-এর বিরুদ্ধে জিহাদ করার শক্তি। আর তাদের ধ্বংসের পর ‘ঈসা (আঃ) জীবিত থাকা পর্যন্ত এমন কোন কাফির থাকবে না যে, যাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ওয়াজিব হবে। আর ‘ঈসা (আঃ) -এর পর যে সকল মুসলিম কাফির হয়ে যাবে তাদের বিরুদ্ধে এজন্য জিহাদ ওয়াজিব থাকবে না যে, তখন একটি বায়ু দ্বারা সকল মুসলিম মৃত্যুবরণ করবে। আর ঐ যামানা আসার পূর্বে কোন যালিমের যুলম বা ন্যায় বিচারকের ন্যায়বিচার জিহাদ বিলুপ্ত করবে না। এ হাদীসে ঐ সমস্ত মুনাফিক্বদের কথার জওয়াব রয়েছে যারা মনে করে ইসলামী রাষ্ট্র অল্প সময়ের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৬০-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন বান্দা ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তখন তার থেকে (অন্তর থেকে) ঈমান বেরিয়ে যায় এবং তা তার মাথার উপর ছায়ার ন্যায় অবস্থিত থাকে। অতঃপর যখন সে এ অসৎকাজ থেকে বিরত হয় তখন ঈমান তার নিকট প্রত্যাবর্তন করে। (তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]
باب الكبائر وعلامات النفاق - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا زَنَى الْعَبْدُ خَرَجَ مِنْهُ الْإِيمَانُ فَكَانَ فَوْقَ رَأْسِهِ كَالظُّلَّةِ فَإِذا خرج من ذَلِك الْعَمَل عَاد إِلَيْهِ الايمان» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 2
Abu Huraira reported that God's messenger said, “When a servant of God commits fornication faith departs from him and there is something like an awning over his head; but when he quits that action faith returns to him.”
Tirmidhi and Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: মু’মিন বান্দা যখন যিনার কাজে লিপ্ত হয় তখন তার থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়। তার অন্তর থেকে ঈমানের শাখাসমূহের বড় শাখাটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তা হলো আল্লাহর প্রতি লজ্জাবোধ। অথবা তার অবস্থা এমন হয় যে, যেন তার থেকে ঈমান চলে গেছে। এ ধরনের লোক ঈমান বিরোধী কাজ সত্ত্বেও সে ঈমানের ছায়াতেই থাকে। তার থেকে ঈমানের হুকুম দূর হয় না এবং ঈমান বিষয়টি তার থেকে উঠে যায় না। কারণ যখন সে ঐ কাজ থেকে বেরিয়ে আসে, তখন অনুতপ্ত হয় এবং এর ফলে ঈমানের নূর ও পূর্ণ ঈমান আবার ফিরে আসে।
পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৬১-[১৩] মু’আয (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দশটি বিষয়ে ওয়াসিয়্যাত বা উপদেশ দিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ (১) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। (২) পিতা-মাতার অবাধ্য হবে না, যদি মাতা-পিতা তোমাকে তোমার পরিবার-পরিজন বা ধন সম্পদ ছেড়ে দেয়ার হুকুমও দেয়। (৩) ইচ্ছাকৃতভাবে কখনও কোন ফরয সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ছেড়ে দিও না। কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফারয্ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তা’আলা তার থেকে দায়িত্ব উঠিয়ে নেন। (৪) মদ পান হতে বিরত থাকবে। কেননা তা সকল অশ্লীলতার মূল। (৫) সাবধান! আল্লাহর নাফরমানী ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাক, কেননা নাফরমানী দ্বারা আল্লাহর ক্রোধ অবধারিত হয়ে যায়। (৬) জিহাদ হতে কখনো পালিয়ে যাবে না, যদিও সকল লোক মারা যায়। (৭) যখন মানুষের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে আর তুমি সেখানেই রয়েছ, তখন সেখানে তুমি অবস্থান করবে (পলায়নপর হবে না)। (৮) শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করবে (কার্পণ্য করে তাদের কষ্ট দিবে না)। (৯) পরিবারের লোকেদেরকে আদাব-কায়দা শিক্ষার জন্য কক্ষনও শাসন হতে বিরত থাকবে না এবং (১০) আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করতে থাকবে। (আহমাদ)[1]
باب الكبائر وعلامات النفاق - الفصل الثالث
عَنْ مُعَاذٍ قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشْرِ كَلِمَاتٍ قَالَ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُتِلْتَ وَحُرِّقْتُ وَلَا تَعُقَّنَّ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَمَرَاكَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ وَلَا تَتْرُكَنَّ صَلَاةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَإِنَّ مَنْ تَرَكَ صَلَاةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَلَا تَشْرَبَنَّ خَمْرًا فَإِنَّهُ رَأَسَ كُلِّ فَاحِشَةٍ وَإِيَّاكَ وَالْمَعْصِيَةَ فَإِنَّ بالمعصية حل سخط الله عز وَجل وَإِيَّاكَ وَالْفِرَارَ مِنَ الزَّحْفِ وَإِنْ هَلَكَ النَّاسُ وَإِذا أصَاب النَّاس موتان وَأَنت فيهم فَاثْبتْ وَأنْفق عَلَى عِيَالِكَ مِنْ طَوْلِكَ وَلَا تَرْفَعْ عَنْهُمْ عَصَاكَ أَدَبًا وَأَخِفْهُمْ فِي اللَّهِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 3
Mu'adh said:
God’s messenger recommended ten things to me saying, “Do not associate anything with God, even if you are killed and burnt on that account; do not be disobedient to your parents, even if they command you to quit your family and your property; do not deliberately neglect to observe a prescribed prayer, for he who deliberately neglects to observe a prescribed prayer will have God’s protection removed from him; do not drink wine, for it is the beginning of every abomination; avoid acts of disobedience, for on their account God’s wrath descends; beware of running away from the line of battle, even if the people perish: when people are smitten by death when you are among them, stay where you are ; spend on your children out of your means; do not refrain from using the rod in training them; and cause them to fear God.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: মু‘আয (রাঃ) বলেন, আমার বন্ধু আমাকে দশটি বিষয়ে আদেশ প্রদান করেছেন। তা’ নিম্নরূপঃ
(১) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না তা অন্তর দিয়েই হোক অথবা যবানের দ্বারাই হোক। যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় অথবা আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয় এরূপ পরিস্থিতিতেও শির্ক করা হতে বিরত থাকবে।
(২) তোমার মাতা-পিতার অবাধ্য হবে না। অর্থাৎ- বিরুদ্ধাচরণ করবে না যদিও তারা তোমাকে আদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে। এমনকি স্ত্রী ত্বলাক্ব দিতে বলে কিংবা মাল দান করে দিতে বলে।
(৩) স্বেচ্ছায় সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পরিত্যাগ করবে না। এ থেকে বুঝা যায়, কেউ যদি ভুলে যাওয়ার কারণে অথবা বাধ্য হয়ে সালাত পরিত্যাগ করে তাহলে তাহলে ভিন্ন কথা।
(৪) মদপান করবে না। কেননা তা সকল অশ্লীল কাজের মূল। যেহেতু অশ্লীল কাজে বাধাদানকারী হলো ‘আকল। আর মদপান ‘আকল দূরীভূত করে। ফলে মানুষ যে কোন অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়। আর এজন্যই মদকে সকল অপকর্মের মূল বলা হয়।
তোমার পরিবারের লোকেদের ওপর থেকে আদাবের লাঠি উঠিয়ে নিবে না।
আল্লাহর ব্যাপারে তাদেরকে ভয় দেখাবে। অর্থাৎ- আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘনের ব্যাপারে তাদেরকে সতর্ক করবে।
পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন
৬২-[১৪] হুযায়ফাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিফাক্বের হুকুম রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগেই ছিল। বর্তমানে হয় তা কুফরী, না হয় ঈমান। (বুখারী)[1]
باب الكبائر وعلامات النفاق - الفصل الثالث
وَعَن حُذَيْفَة قَالَ: إِنَّمَا كَانَ النِّفَاق عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَّا الْيَوْمَ فَإِنَّمَا هُوَ الْكفْر بعد الايمان. رَوَاهُ البُخَارِيّ
Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 3
Hudhaifa said, “Hypocrisy existed only in the time of God’s messenger, whereas to-day there are only unbelief and faith.”
Bukhari transmitted it.
ব্যাখ্যা: মুনাফিক্বীর হুকুম আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানাতেই ছিল। মু’মিন কর্তৃক মুনাফিক্বদের দোষ ঢেকে রাখতেন বলেই তাদের বিরুদ্ধবাদীরা তাদের মুসলিম বলে জানতো। ফলে বিরুদ্ধবাদীরা তাদের সাথে কঠোর আচরণ করা থেকে বিরত থাকতো। ফলে কাফিররা মুসলিমদের আধিক্যের কারণে তাদের সমীহ করত। এতে বিপরীতে কাফিরদের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইনতিকালের পর সে অবস্থা এখন আর নেই। অর্থাৎ- যে মাসলাহাতের কারণে মুনাফিক্বদের দোষ গোপন রাখা হত তা বর্তমানে অনুপস্থিত। তাই আমরা যদি কারো কুফরী গোপন রেখে বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করা সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হতে পারি তাহলে তার প্রতি আমরা কাফিরের বিধান প্রয়োগ করবো।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
وَسْوَسَةٌ (ওয়াস্ওয়াসাহ্) বলা হয় অস্পষ্ট বা গুপ্ত আওয়াজকে। কারো কারো মতে অন্তরে যেসব চিন্তার উদয় ঘটে তা-ই ওয়াস্ওয়াসাহ্, যদি সেগুলো পাপ এবং নিকৃষ্ট কাজের দিকে আহবান করে। আর যদি আল্লাহর আনুগত্যমূলক বা সন্তোষজনক চরিত্রের দিকে আহবান করে তাহলে তাকে ইলহাম বলা হয়। তবে وَسْوَسَةٌ হলো দ্বিধাযুক্ত একটি বিষয় যা কারো কাছে স্থির হয় না।
৬৩-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের অন্তরে যে ওয়াস্ওয়াসাহ্ বা খটকার উদয় হয়, আল্লাহ তা’আলা তা মাফ করে দিবেন, যতক্ষণ না তারা তা কার্যে রূপায়ণ করে অথবা তা মুখে প্রকাশ করে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا وَسْوَسَتْ بِهِ صُدُورُهَا مَا لم تعْمل بِهِ أَو تَتَكَلَّم»
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “God forgives my people the evil promptings which arise within them so long as they do not act upon them or speak about them.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: (تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِىْ) ‘‘আমার কারণে আমার উম্মাতকে ক্ষমা করেছেন’’ এক বর্ণনাতে এমনটি উল্লেখ রয়েছে। এতে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, উম্মাতে মুহাম্মাদীর মর্যাদার কারণ নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং। অতএব আল্লাহর অপার দয়া আমাদের ওপর রয়েছে যার কোন শেষ নেই। এতে এ ইঙ্গিতও রয়েছে এ বৈশিষ্ট্য শুধু এ উম্মাতেরই।
ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ ওয়াস্ওয়াসাহ্ দু’ ধরনের- (১) জরুরী, (২) ইখতিয়ারী। জরুরী বলা হয় এমন ওয়াস্ওয়াসাকে যা মানুষের হৃদয়ে তার সূচনা হয় আর মানুষ তা রোধ করতে সক্ষম নয়। এ ধরনের ওয়াস্ওয়াসাহ্ সকল উম্মাতের জন্যই ক্ষমার্হ।
ইখতিয়ারী হলো এমন ওয়াস্ওয়াসাহ্ যা হৃদয়ে অব্যাহতভাবে চলতে থাকে এবং লোকে তা কার্যে পরিণত করতে চায় এবং মনে মনে এ বিষয়ে সাধ ও অনুভব করে। যেমন মনের মধ্যে কোন মহিলার প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা এবং ঐ ভালোবাসা বাস্তবে রূপ দিতে চায়। এ ধরনের ওয়াস্ওয়াসাহ্ শুধু এ উম্মাতের জন্যই আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন আমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মাতের মর্যাদার কারণে।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৬৪-[২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতক সাহাবা (সাহাবা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মধ্যে কেউ তার মনে কোন কোন সময় এমন কিছু কথা (সংশয়) অনুভব করে যা মুখে ব্যক্ত করাও আমাদের মধ্যে কেউ তা গুরুতর অপরাধ মনে করে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি তা এমন গুরুতর বলে মনে কর? সাহাবীগণ বললেন, হাঁ! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এটাই হলো স্বচ্ছ ঈমান। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: جَاءَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلُوهُ: إِنَّا نَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا مَا يَتَعَاظَمُ أَحَدُنَا أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ. قَالَ: «أَو قد وجدتموه» قَالُوا: نعم. قَالَ: «ذَاك صَرِيح الْإِيمَان» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Abu Huraira said that some of the companions of God’s messenger came to the Prophet to consult him saying, “We have thoughts which none of us dare to talk about.” He said, “Have you experienced that?” and when they replied that they had, he said, “That is clear faith.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (مَا يَتَعَاظَمُ أَحَدُنَا أَنْ يَتَكَـلَّمَ بِه) আমাদের কেউ সে বিষয়ে কথা বলাটাও বড় অপরাধ মনে করে। যেমন আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? তিনি কেমন? তিনি কোন্ বস্তু? আমরা জানি যে, এমন কোন বিষয় তাঁর জন্য প্রযোজ্য নয়। আমরা এও জানি যে, তিনি সকল বস্তুর স্রষ্টা, তিনি সৃষ্ট নন। এমন বিষয়ের উদয় হলে এর বিধান কি? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাদের হৃদয়ে কি এমনটি অনুভব কর? অর্থাৎ- তোমরা জান ও বুঝ যে, এরূপ কথা উদয় হওয়া গুরুতর অপরাধমূলক? আর এরূপ অনুভব করাটাই প্রকৃত ঈমান। কেননা এটাকে বড় অপরাধ মনে করা ও তাকে ভয় করা কেবলমাত্র তার থেকেই পাওয়া সম্ভব যার ঈমান পরিপূর্ণ।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৬৫-[৩] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শায়ত্বন (শয়তান) তোমাদের মধ্যে কারো কারো নিকটে আসে এবং (বিভিন্ন ব্যাপারে) প্রশ্ন করে, এটা কে সৃষ্টি করেছে? ঐটা কে সৃষ্টি করেছে? এমনকি অবশেষে এটাও বলে বসে যে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? শায়ত্বন (শয়তান) যখন এ পর্যায়ে পৌঁছে, তখন তার উচিত আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা যাতে সে এ ধারণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ: مَنْ خلق كَذَا؟ مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ؟ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Abu Huraira also reported God’s messenger as saying, “The devil comes to one of you saying, ‘Who created this? Who created that?’ even saying, ‘Who created your Lord?’ "When he gets that length the man should seek refuge in God and stop thinking about it.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: (إِذَا بَلَغَهٗ) অর্থাৎ- যখন তোমাদের কারো হৃদয়ে এমন কথা জাগবে যে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছে? (فَلْيَسْتَعِذْ بِاللهِ) তখন সে যেন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে, অর্থাৎ- মুখে সে (أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْم) উচ্চারণ করবে। তার হৃদয়ে এমন খারাপ কথার উদ্ভব ঘটিয়েছে যার চাইতে আর কোন খারাপ কথা নেই। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘‘আর যদি উদ্বুদ্ধ করে তোমাকে শায়ত্বনের (শয়তানের) ধোঁকা তাহলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। অবশ্যই তিনি সব কিছু শুনেন সব কিছু জানেন’’- (সূরাহ্ আল আ‘রাফ ৭: ১৯৯)।
(وَلْيَنْتَهِ) আর সে যেন তা থেকে বিরত থাকে। অর্থাৎ- সে যেন অন্য চিন্তা ও কাজে ব্যাস্ত হয় এবং ঐ অবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর এরূপ কার্য দ্বারাই তার ওয়াস্ওয়াসাহ্ বিদূরিত হবে।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৬৬-[৪] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সব সময় মানুষ (বিভিন্ন ব্যাপারে) পরস্পর কথোপকথন করতে থাকে। পরিশেষে এ পর্যায়ে এসে পৌঁছে যে, এসব মাখলূক্ব তো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে সৃষ্টি করেছে কে? তাই যে ব্যক্তির মনে এ জাতীয় খটকা, সংশয়, সন্দেহের উদয় হয় সে যেন বলে উঠে, আমি আল্লাহর প্রতি ও আল্লাহর রসূলের প্রতি ঈমান এনেছি। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَزَالُ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ حَتَّى يُقَالَ هَذَا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلْيَقُلْ: آمَنت بِاللَّه وَرُسُله
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “People will continue to ask one another questions till someone says this, ‘God created all things, but who created God?’ Whoever comes across anything of that nature should say, ‘I believe in God and in His messengers.’ ”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যাঃ (فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذلِكَ شَيْئًا) যে ব্যক্তি তার হৃদয়ে এমন কিছু পাবে। অর্থাৎ- যে ব্যক্তির মনে এ ধরনের প্রশ্ন জাগবে যে, আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? তখন যেন সে বলে (اۤمَنْتُ بِاللهِ وَرَسُوْلِه) আমি বিশ্বাস স্থাপন করেছি আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলগণের প্রতি। অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় গুণাবলী ও তার একত্ববাদ সম্পর্কে যা বলেছেন আমি তাই বিশ্বাস করি। আর তাঁর রসূলগণ যা বলেন তাই সত্য ও সঠিক। এর পরে ভ্রান্তি ব্যতীত আর কিছু নেই।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৬৭-[৫] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার একটি জিন্ (শায়ত্বন (শয়তান)) ও একজন মালাক (ফেরেশতা) সঙ্গী হিসেবে নিযুক্ত করে দেয়া হয়নি। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাথেও কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার সাথেও, তবে আল্লাহ তা’আলা আমাকে জিন্ শায়ত্বনের (শয়তানের) ব্যাপারে সাহায্য করেছেন। ফলে সে আমার অনুগত হয়েছে। ফলে সে কক্ষনও আমাকে কল্যাণকর কাজ ব্যতীত কোন পরামর্শ দেয় না। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ. قَالُوا: وَإِيَّاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَإِيَّايَ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمَ فَلَا يَأْمُرُنِي إِلَّا بِخَيْرٍ . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Ibn Mas'ud reported God's messenger as saying, “There is none of you who does not have his partner from among the jinn and his partner from among the angels put in charge of him.” The hearers asked, “Does this also apply to you, messenger of God?” He replied, “It applies to me too, but God has helped me against him and he has accepted Islam, so he commands me to do only what is good.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: আপনার সাথেও কি জিন্ সঙ্গী আছে? এর জবাবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হ্যাঁ, আমার সঙ্গেও আছে। তবে তার কুমন্ত্রণা থেকে আমি নিরাপদ। সমগ্র উম্মাত এ বিষয়ে একমত যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরীর, মন ও জিহ্বা শায়ত্বনের (শয়তানের) প্রভাব থেকে মুক্ত। এ হাদীসে শায়ত্বনের (শয়তানের) ফিতনাহ্ (ফিতনা) থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তাই বিষয়টি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে অবহিত করেছেন যাতে আমরা তার কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৬৮-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের মধ্যে শায়ত্বন (শয়তান) (তার) শিরা-উপশিরায় রক্তের মধ্যে বিচরণ করে থাকে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الانسان مجْرى الدَّم»
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Anas reported God’s messenger as saying, “The devil flows in a man like his blood.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: শায়ত্বন (শয়তান) মানুষের ধমনীতে চলাফেরা করে। অর্থাৎ- মানুষকে পরিপূর্ণ পথভ্রষ্ট করতে সম্ভাব্য সব ক্ষমতা শায়ত্বন (শয়তান)কে দেয়া হয়েছে। সে মানুষের ব্যাপারে এমন আচরণ করতে পারে যে, এর চেয়ে অধিক করার মতো আর কিছু বাকী নেই। শায়ত্বন (শয়তান) মানুষ থেকে পৃথক হয় না। সর্বদাই তার পিছে লেগে আছে। যেমন রক্ত মানুষের শরীর থেকে পৃথক হয় না। তাই মানুষকে শায়ত্বনের (শয়তানের) প্রবঞ্চনা থেকে রক্ষা পাওয়ার পূর্ণ প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতে হবে।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৬৯-[৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আদম সন্তানের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জন্মলগ্নে শায়ত্বন (শয়তান) তাকে স্পর্শ করেনি। আর এ কারণেই সন্তান জন্মকালে চিৎকার দিয়ে উঠে। শুধুমাত্র মারইয়াম (আঃ) ও তাঁর পুত্র [’ঈসা (আঃ) ] এর ব্যতিক্রম (তাদের শায়ত্বন (শয়তান) স্পর্শ করতে পারেনি)। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ بَنِي آدَمَ مَوْلُودٌ إِلَّا يَمَسُّهُ الشَّيْطَانُ حِينَ يُولَدُ فَيَسْتَهِلُّ صَارِخًا مِنْ مَسِّ الشَّيْطَانِ غَيْرَ مَرْيَمَ وَابْنِهَا»
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “Except Mary and her son, no human being is born without the devil touching him, so that he raises his voice crying out because of the devil's touch”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত المس শব্দের অর্থ আঘাত বা খোঁচা। বুখারীতে বর্ণিত আছে (كُلُّ بَنِيْ ادَمُ يَطْعَنُ الشَّيْطَانُ فِيْ جَنَبِه بِإِصْبَعَيْهِ حِيْنَ يُوْلَدُ غَيْرَ عِيْسَى بْنُ مَرْيَمَ) সকল আদম সন্তানের জন্মের সময় শায়ত্বন (শয়তান) আঙ্গুল দ্বারা ভূমিষ্ঠ শিশুর পার্শ্বদেশে আঘাত করে। ‘ঈসা (আঃ) ইবনু মারইয়াম (আঃ) -এর ব্যতিক্রম। ইমাম কুরতুবী বলেনঃ এ আঘাত আদম সন্তানের ওপর তার প্রথম আক্রমণ। আল্লাহ তা‘আলা ‘ঈসা (আঃ) ও তাঁর মাকে ‘ঈসা (আঃ)-এর নানীর দু‘আর বারাকাতে তাদের উভয়কে এ আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছেন।
তবে ‘ঈসা (আঃ) ও তাঁর মা এ থেকে রক্ষা পাওয়া দ্বারা এটা বুঝায় না যে, তাঁরা আমাদের নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে বেশী মর্যাদাবান ছিলেন। কেননা নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন কিছু ফাযীলাত ও মু‘জিযা রয়েছে যা অন্য কোন নাবীর নেই।
ইমাম নবাবী বলেন, হাদীসের প্রকাশ্য অর্থ দ্বারা বুঝা যায় যে, বর্ণিত মর্যাদা শুধুমাত্র ‘ঈসা (আঃ) ও তার মায়ের বৈশিষ্ট্য। তবে ক্বাযী ‘ইয়ায ইঙ্গিত করেছেন যে, সকল নাবীগণই এই মর্যাদার অধিকারী। কেননা নাবীগণ সকলেই শায়ত্বনের (শয়তানের) প্রভাব থেকে মুক্ত। তবে মারইয়াম (আঃ)-এর মা হান্নাহ্-এর দু‘আর কারণে শুধুমাত্র এ দু’জনের নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য নাবীগণও এতে শামিল আছেন।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭০-[৮] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জন্মের সময় শিশু এজন্য চিৎকার করে যে, শায়ত্বন (শয়তান) তাকে খোঁচা মারে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صِيَاحُ الْمَوْلُودِ حِينَ يَقَعُ نَزْغَةٌ من الشَّيْطَان»
Chapter: Evil Promptings - Section 1
He (Abu Huraira) also reported God's messenger as saying, "The cry of an infant at the moment of birth is due to a prick from the devil.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: সন্তান ভূমিষ্ঠের সময় শায়ত্বন (শয়তান) তাকে আঘাত করে এ উদ্দেশে যে, সে ভূমিষ্ঠ সন্তানকে কষ্ট দেবে এবং যে ইসলামী ফিতরাতের উপর সে জন্মগ্রহণ করেছে তা বিনষ্ট করে দিবে।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭১-[৯] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইবলীস (শায়ত্বন (শয়তান)) সমুদ্রের পানির উপর তার সিংহাসন স্থাপন করে। অতঃপর মানুষের মধ্যে ফিতনাহ্ (ফিতনা)-ফাসাদ সৃষ্টি করার জন্য সেখান থেকে তার বাহিনী চারদিকে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে সে শায়ত্বন (শয়তান)ই তার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত যে শায়ত্বন (শয়তান) মানুষকে সবচেয়ে বেশী ফিতনায় নিপতিত করতে পারে। তাদের মধ্যে একজন ফিরে এসে বলে, আমি এরূপ এরূপ ফিতনাহ্ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছি। তখন সে (ইবলীস) প্রত্যুত্তরে বলে, তুমি কিছুই করনি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, অতঃপর এদের অপর একজন এসে বলে, আমি মানব সন্তানকে ছেড়ে দেইনি, এমনকি দম্পতির মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ করে দিয়েছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, শায়ত্বন (শয়তান) এ কথা শুনে তাকে নিকটে বসায় আর বলে, তুমিই উত্তম কাজ করেছো। বর্ণনাকারী আ’মাশ বলেন, আমার মনে হয় জাবির (রাঃ) এটাও বলেছেন যে, ’’অতঃপর ইবলীস তার সাথে আলিঙ্গন করে’’। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى المَاء ثمَّ يبْعَث سراياه فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ فَعَلَتُ كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ مَا صَنَعْتَ شَيْئًا قَالَ ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ مَا تَرَكَتُهُ حَتَّى فَرَّقَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ قَالَ فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُولُ نَعَمْ أَنْتَ قَالَ الْأَعْمَشُ أرَاهُ قَالَ «فيلتزمه» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Evil Promptings - Section 1
Jabir reported God’s messenger as saying, "Iblis sets his throne on the water, then sends forth his detachments to tempt mankind, the one who is nearest him in station being the one who can cause the severest temptation. One of them comes and says, ‘I have done such and such,’ but he replies, ‘You have done nothing.’ Then one of them comes and says; ‘I did not leave him till I separated him from his wife.’ He then brings him near to himself saying, ‘What a fine fellow you are!' ” A'mash said he thought he said, "Then he embraces him.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُولُ نِعْمَ أَنْتَ) শায়ত্বন (শয়তান) তাকে নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে, তুমি খুব ভালো। অর্থাৎ- শায়ত্বন (শয়তান) তার কৃতকার্যে সন্তুষ্ট হয়ে তার প্রশংসা করে এবং স্বীয় ইচ্ছা পূরণ করার কারণে তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।
فَيَلْتَزِمُهٗ অর্থাৎ- শায়ত্বন (শয়তান) তার সাথে কুলাকুলি করে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার কারণে যা তার নিকট অধিক পছন্দনীয় কাজ- তাকে আপন করে নেয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারলে পারিবারিক বন্ধন বিলুপ্ত হবে। একসময় উভয়ে অনৈতিক সম্পর্কেও জড়িত হতে পারে এবং এর দ্বারা সমাজে ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা দেখা দেবে। শায়ত্বন (শয়তান) এটাই চায়।
হাদীসের শিক্ষাঃ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে এমন আচার-আচরণ থেকে বিরত থাকা। কেননা এতে ব্যভিচার সংঘটিত হওয়া ও বংশীয় সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭২-[১০] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শায়ত্বন (শয়তান) এ বিষয়ে নিরাশ হয়ে গেছে যে, জাযীরাতুল ’আরাব-এর মুসল্লীরা তার ’ইবাদাত করবে, তবে সে তাদের পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছেদ-বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির ব্যাপারে নিরাশ হয়নি। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْوَسْوَسَةِ
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِن الشَّيْطَان قد أيس أَنْ يَعْبُدَهُ الْمُصَلُّونَ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَلَكِنَّ فِي التحريش بَينهم» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Evil Promptings - Section 1
He [Jabir] also reported God’s messenger as saying, "The devil has despaired of being worshipped by those who engage in prayer in Arabia, but he has hopes of setting them against one another.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: মুসল্লীগণ শায়ত্বনের (শয়তানের) ‘ইবাদাত করবে- এ থেকে সে নিরাশ হয়ে গেছে। অর্থাৎ- শায়ত্বন (শয়তান) এ থেকে নিরাশ হয়ে গেছে যে, ইসলাম পরিবর্তন হয়ে দীনের ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যাবে। কিংবা শির্কের প্রকাশ ঘটে তা অব্যাহত থাকবে এবং সর্বশেষ নাবী আগমনের পূর্বে মানুষ যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ফিরে যাবে।
(وَلَكِنْ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ) অর্থাৎ- এ থেকে নিরাশ হয়নি যে, ‘আরব উপদ্বীপের বাসিন্দাগণ একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপে যাবে এবং তাদের মাঝে ফিৎনার উদ্ভব ঘটবে। বরং এ কাজ সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে সে আশাবাদী। আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিষয়ে অবহিত করেছেন তা সংঘটিত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭৩-[১১] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে এসে বলল, (হে আল্লাহর নবী!) আমি মনে এমন কুধারণা পাই যা মুখে প্রকাশ অপেক্ষা আগুনে জ্বলে কয়লা হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে, আল্লাহ (তোমার) এ বিষয়কে কল্পনার সীমা পর্যন্তই রেখে দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ)[1]
باب الوسوسة - الفصل الأول
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنِّي أُحَدِّثُ نَفْسِي بِالشَّيْءِ لَأَنْ أَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ. قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ أَمْرَهُ إِلَى الْوَسْوَسَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter: Evil Promptings - Section 2
Ibn ‘Abbas told how a man came to the Prophet and said, "I have thoughts of such a nature that I would rather be reduced to charcoal than speak about them.” He replied, ‘‘Praise be to God who has reduced [the devil]* to no more than evil prompting!”
Abu Dawud transmitted it.
* Or [his thoughts].
ব্যাখ্যা: আমার মনে এমন খারাপ বিষয় জাগে যে বিষয়ে কথা বলার চাইতে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়াটা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আমার কয়লা হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় কারণ ঐ উদিত বিষয়টি আল্লাহর সত্তা সম্পর্কিত। যা আল্লাহর জন্য উপযুক্ত নয় এমনকি দুই শায়ত্বন (শয়তান) অন্তরে অনুপ্রবিষ্ট করায় চেষ্টা করে।
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭৪-[১২] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সকল মানুষের ওপরই শায়ত্বনের (শয়তানের) একটি ছোঁয়া রয়েছে এবং একইভাবে মালায়িকাহ্’রও (ফেরেশতাগণেরও) একটি ছোঁয়া আছে। শায়ত্বনের (শয়তানের) ছোঁয়া হলো, সে মানুষকে মন্দ কাজের দিকে উস্কে দেয়, আর সত্যকে মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। অপরদিকে মালায়িকার ছোঁয়া হলো, তারা মানুষকে কল্যাণের দিকে উৎসাহিত করে, আর সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। সুতরাং যে লোক মালায়িকার উৎসাহ-উদ্দীপনার অবস্থা নিজের মধ্যে দেখতে পায়, তখন তার মনে করতে হবে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হচ্ছে, আর এ কারণে সে যেন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থা, অর্থাৎ- শায়ত্বনের (শয়তানের) ওয়াস্ওয়াসাহ্ পায় সে যেন অভিশপ্ত শায়ত্বন (শয়তান) থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায়। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সমর্থনে (কুরআনের আয়াতটি) পাঠ করলেন (অনুবাদঃ) ’’শায়ত্বন (শয়তান) তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখিয়ে থাকে এবং অশ্লীলতার আদেশ করে থাকে’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ২৬৮)। (তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব)[1]
باب الوسوسة - الفصل الأول
وَعَن بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ لِلشَّيْطَانَ لَمَّةً بِابْنِ آدَمَ وَلِلْمَلَكِ لَمَّةً فَأَمَّا لَمَّةُ الشَّيْطَانَ فَإِيعَادٌ بِالشَّرِّ وَتَكْذِيبٌ بِالْحَقِّ وَأَمَّا لَمَّةُ الْمَلَكِ فَإِيعَادٌ بِالْخَيْرِ وَتَصْدِيقٌ بِالْحَقِّ فَمَنْ وَجَدَ ذَلِكَ فَلْيَعْلَمْ أَنَّهُ من الله فليحمد اللَّهَ وَمَنْ وَجَدَ الْأُخْرَى فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ثُمَّ قَرَأَ (الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ ويأمركم بالفحشاء)
الْآيَة)
أخرجه التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيث حسن غَرِيب
Chapter: Evil Promptings - Section 2
Ibn Mas'ud reported God’s messenger as saying, "The devil draws near to man, and so does the angel. The devil’s approach consists of promise of what is evil, and denial of what is true, whereas the angel’s approach consists of promise of what is good and confirmation of what is true. When anyone experiences the latter, let him know that it comes from God and let him praise God; but if he experiences the other, let him seek refuge in God from the accursed devil.” Then he recited, "The devil promises you poverty and urges you to iniquity.” *
Tirmidhi transmitted it, and said this is a gharib tradition.
* Quran. 2:268.
ব্যাখ্যা: (لَمَّةُ الشَّيْطَانِ) অর্থাৎ- শায়ত্বনের (শয়তানের) মাধ্যমে অন্তরে যে সব দুষ্কর্মের চিন্তা হয়। (لَمَّةُ الْمَلَكِ) মনের মধ্যে যে সমস্ত ভালো কাজের চিন্তা জাগে।
যার অন্তরে ভালো কাজের চিন্তা জাগবে সে যেন মনে করে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়া ও বড় একটি নি‘আমাত যা তার নিকট পৌঁছেছে ও তার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব সে যেন অবহিত হয় যে, এটা তার অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। অতএব যে ব্যক্তি এই নি‘আমাত পাবে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এই হিদায়াত ও কল্যাণের পথের কারণে।
আর শায়ত্বনের (শয়তানের) ওয়াস্ওয়াসাহ্ হলে বিতাড়িত শায়ত্বন (শয়তান) থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে হবে। কারণ শায়ত্বনও আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে। তিনি শায়ত্বনকে কিছু মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ দিয়েছেন মাত্র।
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭৫-[১৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষেরা তো (প্রথম সৃষ্টি জগত ইত্যাদি সম্পর্কে) পরস্পরের প্রতি প্রশ্ন করতে থাকবে, এমনকি সর্বশেষে এ প্রশ্নও করবে, সমস্ত মাখলূক্বাতকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যখন তারা এ প্রশ্ন উত্থাপন করে তখন তোমরা বলবেঃ আল্লাহ এক, তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি আর কেউ তাকে জন্ম দেননি। তাঁর সমকক্ষও কেউ নেই। অতঃপর (শায়ত্বনের (শয়তানের) উদ্দেশে) তিনবার নিজের বাম দিকে থু থু ফেলবে এবং বিতাড়িত শায়ত্বন (শয়তান) হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাবে।[1]
(মিশকাতের লেখক বলেন) ’উমার ইবনু আহ্ওয়াস-এর হাদীস ’খুত্ববাতু ইয়াওমিন্ নাহর’ অধ্যায়ে বর্ণনা করবো ইন-শা-আল্লাহু তা’আলা।
باب الوسوسة - الفصل الأول
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: لَا يَزَالُ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ حَتَّى يُقَالَ: هَذَا خَلَقَ اللَّهُ الْخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَإِذَا قَالُوا ذَلِك فَقولُوا الله أحد الله الصَّمد لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كفوا أحد ثمَّ ليتفل عَن يسَاره ثَلَاثًا وليستعذ من الشَّيْطَان . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter: Evil Promptings - Section 2
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, "Men will continue to question one another till this is propounded:
God created all things, but who created God? When they propound that, say, ‘God is one. God is He to whom men repair. He has not begotten and He has not been begotten, and no one is equal to Him.” Then one should spit three times on his left side and seek refuge in God from the accursed devil.”
Abu Dawud transmitted it. We shall mention the tradition of ‘Amr b. al-Ahwas in the chapter on the sermon on the day of sacrifice, if God will.
ব্যাখ্যা: হাদীসে শায়ত্বনের (শয়তানের) ওয়াসওয়াসাহ্ হতে পরিত্রাণের উপায় বলা হয়েছে। শায়ত্বনের (শয়তানের) ওয়াসওয়াসাহ্ অন্তরের বামপাশে উদয় হয়। তাই বামদিকে তিনবার থুথু ফেলতে বলা হয়েছে শায়ত্বনকে লজ্জিত ও দূরীভূত করার জন্য। কেননা থুথু অপ্রিয় বস্তু যা সবাই ঘৃণা করে।
হাদীসের শিক্ষাঃ মনে শায়ত্বনের (শয়তানের) ওয়াস্ওয়াসাহ্ উদয় হলে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া ও বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করা সুন্নাত।
পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭৬-[১৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ পরস্পরে সর্বদা প্রশ্ন করতে থাকবে, এমনকি একসময় এ প্রশ্নও করবে যে, যখন প্রত্যেক জিনিসকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তবে মহান আল্লাহ রববুল ’আলামীনকে সৃষ্টি করলো কে? বুখারী[1]
আর মুসলিম-এর বর্ণনায় আছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ আপনার উম্মাতেরা প্রশ্ন করতে থাকবে, এটা কী? আর এটা কিভাবে হল?। পরিশেষে এ ধরনের প্রশ্নও করে বসবে যে, যদি সমস্ত মাখলূক্বকে আল্লাহ সৃষ্টি করেন, তবে মহান আল্লাহ তা’আলাকে সৃষ্টি করেছেন কে?[2]
عَن أنس بن مَالك يَقُولَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَنْ يَبْرَحَ النَّاسُ يَتَسَاءَلُونَ حَتَّى يَقُولُوا هَذَا الله خَالق كل شَيْء فَمن خلق الله» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ. وَلِمُسْلِمٍ: قَالَ: قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجل: إِن أمتك لَا يزالون يَقُولُونَ: مَا كَذَا؟ مَا كَذَا؟ حَتَّى يَقُولُوا: هَذَا اللَّهُ خَلَقَ الْخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ عَزَّ وَجل؟
[2] সহীহ : মুসলিম ১৩৬, সহীহ আল জামি‘ ৫২১৯, সহীহ আল জামি‘ ৪৩১৯।
Anas reported God’s messenger as saying, “Men will continue to question one another till they propound this:
‘God created everything, but who created God?’ ”
Bukhari transmitted it.
Muslim’s version is: He declared that God said, “Your people will continue to ask, ‘What is this?’ and ‘what is that?’ till they propound this: God created all things, but who created God?”
ব্যাখ্যা: অবিনশ্বরকে নশ্বরের সাথে তুলনা করার ফলে এ প্রশ্ন জাগে যে, আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? নশ্বরের জন্য স্রষ্টার প্রয়োজন হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাদের অন্তরে এ প্রশ্নের উদয় হয়। মহান আল্লাহ নশ্বর নন, তাই তাঁর কোন স্রষ্টা নেই। হাদীসে এ ইঙ্গিত রয়েছে অধিক প্রশ্ন নিন্দনীয়। কেননা তা হারামের দিকে ধাবিত করে। আর এটা সীমাহীন অজ্ঞতার কারণেই ঘটে থাকে।
এ হাদীসে কুদসীর উদ্দেশ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে বিষয়ে অবহিত করা যা তাঁর উম্মাতের মাঝে ঘটবে। যাতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭৭-[১৫] ’উসমান ইবনু আবুল ’আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! শায়ত্বন (শয়তান) আমার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ও ক্বিরাআতের মধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং সে আমার মনে সন্দেহ-সংশয় তৈরি করে দেয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐটা একটা শায়ত্বন (শয়তান) যাকে ’খিনযাব’ বলা হয়। যখন তোমার (মনে) তার উপস্থিতি অনুভব করবে, তখন তা হতে তুমি আল্লাহ তা’আলার নিকট আশ্রয় চাইবে এবং বামদিকে তিনবার থু থু ফেলবে। [’উসমান (রাঃ) বলেন] আমি [রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ অনুযায়ী] এরূপ করলে আল্লাহ তা’আলা আমার নিকট হতে শায়ত্বন (শয়তান) দূর করে দেন।[1]
عَن عُثْمَان بن أبي الْعَاصِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ حَالَ بيني وَبَين صَلَاتي وقراءتي يُلَبِّسُهَا عَلَيَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهُ خِنْزِبٌ فَإِذَا أَحْسَسْتَهُ فَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْهُ وَاتْفُلْ عَلَى يسارك ثَلَاثًا قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَهُ اللَّهُ عَنِّي» . رَوَاهُ مَسْلِمٌ
‘Uthman b. Abul-'As said he told God’s messenger that the devil interfered with his prayer and his recitation of the Qur’an, causing confusion in his mind, and God’s messenger replied, “That is a devil called Khinzab; so when you feel his presence seek refuge from him in God and spit three times on your left side.” ‘Uthman did so and God caused him to depart from him.
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (يُلَبِّسُهَا عَلَـيَّ) অর্থাৎ- সালাতে গোলমাল বাধিয়ে দেয় এবং ক্বিরাআত (কিরআত) এবং সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) উভয়ের মধ্যেই সন্দেহে ফেলে দেয়।
(ذَاكَ شَيْطَانٌ يُقَالُ لَهٗ خِنْزَبٌ)-এ গোলমাল সৃষ্টিকারী একজন বিশেষ শায়ত্বনের (শয়তানের) নাম খিনযাব।
হাদীসের শিক্ষাঃ এ হাদীস থেকে সাব্যস্ত হয় যে, সালাতরত অবস্থায় প্রয়োজনে থুথু ফেলা যায় এতে সালাত বিনষ্ট হয় না।
পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা
৭৮-[১৬] ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, সালাতে আমি নানা ধরনের (ভুলের) সন্দেহের মধ্যে পড়ি। এটা আমার খুব বেশি হয়। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, (এটা শয়তানের কাজ, এ রকম ধারণার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করো না) তুমি তোমার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পূর্ণ করতে থাকবে। কেননা সে (শয়তান) তোমার কাছ থেকে দূর হবে না- যে পর্যন্ত না তুমি তোমার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পূর্ণ কর এবং মনে কর যে, আমি আমার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) পূর্ণ করতে পারিনি। (মালিক)[1]
وَعَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَهُ فَقَالَ: «إِنِّي أهم فِي صَلَاتي فيكثر ذَلِك عَليّ فَقَالَ الْقَاسِم بن مُحَمَّد امْضِ فِي صَلَاتك فَإِنَّهُ لن يذهب عَنْكَ حَتَّى تَنْصَرِفَ وَأَنْتَ تَقُولُ مَا أَتْمَمْتُ صَلَاتي» . رَوَاهُ مَالك
Al-Qasim b. Muhammad said that a man told him he was greatly distressed by wandering thoughts while he was engaged in prayer. He told him to persevere with his prayer, explaining that he would not be free from that till he said when he finished his prayer, “I have not performed my prayer perfectly.”
Malik transmitted it.
ব্যাখ্যা: (أَهِمُ فِي صَلَاتِي ... تَنْصَرِفَ) অর্থাৎ- তুমি তোমার সালাতে অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাও। কেননা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় না করা পর্যন্ত এ শায়ত্বনী ওয়াস্ওয়াসাহ্ দূর হবে না। শায়ত্বনী ওয়াসওয়াসাহ্ দূর করার জন্য এটি একটি বিরাট মূলনীতি। অর্থাৎ- শায়ত্বনের (শয়তানের) ওয়াস্ওয়াসার দিকে ভ্রূক্ষেপ না করে যে কোন ‘ইবাদাত অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।
তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন। পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা’আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।
৭৯-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে মাখলূক্বের তাক্বদীর লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেন, (তখন) আল্লাহর ’আরশ (সিংহাসন) পানির উপর ছিল। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَتَبَ اللَّهُ مقادير الْخَلَائق قبل أَن يخلق السَّمَوَات وَالْأَرْضَ بِخَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ» قَالَ: «وَكَانَ عَرْشُهُ على المَاء» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
‘Abdallah b. 'Amr reported God’s messenger as saying, “God recorded the fates of all creatures 50,000 years before creating the heavens and the earth, and His throne was upon the water.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (كَانَ عَرْشُهٗ عَلَى الْمَاءِ) অর্থাৎ- আকাশ ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ তা‘আলার ‘আর্শ (আরশ) পানির উপরে ছিল। এ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, পানি ও আরশ এ দু’টি বিশ্ব সৃষ্টির সূচনা। যেহেতু এ দু’টিকে আসমান ও জমিন সৃষ্টির আগেই সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে এমনটা প্রতীয়মান হতে পারে যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির কোন কিছুই পানির আগে সৃষ্টি করেননি।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮০-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেকটি জিনিসই আল্লাহর ক্বদর (কদর) (তাক্বদীর/ভাগ্য) অনুযায়ী রয়েছে, এমনকি নির্বুদ্ধিতা ও বিচক্ষণতাও। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُّ شَيْءٍ بِقَدَرٍ حَتَّى الْعَجز والكيس» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Ibn ‘Umar reported God’s messenger as saying, “Everything is decreed, even backwardness and shrewdness.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (حَتّى الْعَجْزِ وَالْكَيْسِ) অর্থাৎ- বুদ্ধিমত্তা ও অপারগতা- এ দু’টিও আল্লাহর তাক্বদীর অনুযায়ী হয়ে থাকে। অর্থাৎ- বান্দার উপার্জন ও কাজকর্মের বিষয়ে তা’ শুরুর ব্যাপারে ইচ্ছা বা অবগতি থাকলেও তা আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তাদের দ্বারা সম্পাদন হয় না। সবকিছুই স্রষ্টার নির্ধারণ বা তাক্বদীর অনুযায়ীই হয়। এমনকি বুদ্ধিমত্তা যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি তার অভিষ্ঠ লক্ষে পৌঁছে অথবা অপারগতা যার কারণে তার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে বিলম্ব ঘটে বা পৌঁছতে পারে না- এটিও আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮১-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ (আলমে আরওয়াহ্ বা রুহ জগতে) আদম ও মূসা (আঃ) পরস্পর তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হলেন। এ তর্কে আদম (আঃ) মূসার উপর জয়ী হলেন। মূসা (আঃ) বললেন, আপনি তো সে আদম, যাঁকে আল্লাহ (বিনা পিতা-মাতায়) তাঁর নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনার মধ্যে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। মালায়িকার দ্বারা আপনাকে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করিয়েছেন এবং আপনাকে তাঁর চিরস্থায়ী জান্নাতে স্থান করে দিয়েছিলেন। অতঃপর আপনি আপনার স্বীয় ত্রুটির কারণে মানবজাতিকে জমিনে নামিয়ে দিয়েছেন। আদম (আঃ) (প্রত্যুত্তরে) বললেন, তুমি তো সে মূসা যাঁকে আল্লাহ তা’আলা নুবূওয়্যাতের পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। তোমাকে তাওরাত দান করেছেন, যাতে সমস্ত বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। অধিকন্তু তিনি তোমাকে গোপন কথা দ্বারাও নৈকট্য দান করেছেন। আল্লাহ আমার সৃষ্টির কত বছর পূর্বে তাওরাত লিখে রেখেছিলেন তুমি কি জান? মূসা (আঃ) বললেন, চল্লিশ বছর পূর্বে। তখন আদম (আঃ) বললেন, তুমি কি তাওরাতে (এ শব্দগুলো লিখিত) পাওনি যে, ’’আদম তাঁর প্রতিপালকের নাফরমানী করেছে এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে?’’ (সূরাহ্ ত্ব-হা- ২০: ১২১)। মূসা (আঃ) (উত্তর) দিলেন, হাঁ, পেয়েছি। তখন আদম (আঃ) বললেন, তারপর তুমি আমাকে আমার ’আমলের জন্য তিরস্কার করছ কেন, যা আমার সৃষ্টিরও চল্লিশ বছর পূর্বে আল্লাহ আমার জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুতরাং আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর ওপর জয়ী হলেন। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «احْتَجَّ آدَمُ وَمُوسَى عَلَيْهِمَا السَّلَام عِنْدَ رَبِّهِمَا فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى قَالَ مُوسَى أَنْتَ آدَمُ الَّذِي خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ وَأَسْجَدَ لَكَ مَلَائِكَتَهُ وَأَسْكَنَكَ فِي جَنَّتِهِ ثُمَّ أَهَبَطْتَ النَّاسَ بِخَطِيئَتِكَ إِلَى الأَرْض فَقَالَ آدَمُ أَنْتَ مُوسَى الَّذِي اصْطَفَاكَ اللَّهُ بِرِسَالَتِهِ وَبِكَلَامِهِ وَأَعْطَاكَ الْأَلْوَاحَ فِيهَا تِبْيَانُ كُلِّ شَيْءٍ وَقَرَّبَكَ نَجِيًّا فَبِكَمْ وَجَدَتِ اللَّهِ كَتَبَ التَّوْرَاةَ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ قَالَ مُوسَى بِأَرْبَعِينَ عَامًا قَالَ آدَمُ فَهَلْ وَجَدْتَ فِيهَا (وَعَصَى آدَمُ ربه فغوى)
قَالَ نَعَمْ قَالَ أَفَتَلُومُنِي عَلَى أَنْ عَمِلْتُ عَمَلًا كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيَّ أَنْ أَعْمَلَهُ قَبْلَ أَنْ يَخْلُقَنِي بِأَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى» . رَوَاهُ مُسلم
হাদীসটি ইমাম বুখারী (রহঃ) ও তার সহীহুল বুখারীর পাঁচটি স্থানে কিছুটা সংক্ষিপ্ততা সহকারে বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত এজন্যই লেখক হাদীসটিকে ইমাম মুসলিম (রহঃ)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বা সম্পৃক্ত করেছেন। যদিও সতর্কীকরণসহ সম্পৃক্ত করাই উত্তম।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Abu Huraira reported that God’s messenger told of Adam and Moses holding a disputation in their Lord’s presence and of Adam getting the better of Moses in argument. Moses said, “You are Adam whom God created with His hand, into whom He breathed of His spirit, to whom He made the angels do obeisance, and whom He caused to dwell in His garden; then because of your sin you caused mankind to come down to the earth.” Adam replied, “And you are Moses whom God chose to deliver His messages and to address, to whom He gave the tablets on which everything was explained, and whom He brought near as a confidant. How long before I was created did you find that God has written the Torah?”* Moses said, “Forty years.” Adam asked, “Did you find in it, ‘And Adam disobeyed his Lord and erred’?”** On being told that he did, he said, “Do you then blame me for doing a deed which God had decreed that I should do forty years before He created me?” God’s messenger said, “So Adam got the better of Moses in argument.”
Muslim transmitted it.
* At-Taurat, a general name for the first five books of the Old Testament.
** These words are in Quran, xx, 121.
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা‘আলা আমার অস্তিত্বের আগেই ফায়সালা করে রেখেছেন যে, তা অবশ্যই ঘটবে। অতএব এটা কি সম্ভব যে আল্লাহর সিদ্ধান্তে যা আছে আমার দ্বারা তার বিপরীত কিছু ঘটবে? অতএব তুমি কিভাবে আল্লাহ তা‘আলার পূর্ব জ্ঞান সম্পর্কে গাফিল থেকে অর্জনকে উল্লেখ কর যা মূলত উপকরণ আর আসল বস্তুকে ভুলে যাও যা হলো তাক্বদীর? অথচ তুমি তো সে সব নির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহর রহস্য সম্পর্কে অবহিত। তাছাড়া তাক্বদীরকে দলীল হিসেবে পেশ করা দু’ভাবে হতে পারে।
(১) গুনাহের কাজে দুঃসাহস দেখানো এবং নিজের প্রতি কোন দোষোরোপকে প্রতিহত করা এবং গুনাহের কাজে কাউকে উৎসাহ প্রদান। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটি বেহায়াপনা এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রতি অপরাধীর নির্লজ্জতার প্রমাণ। যা যুক্তিগত ও শারী‘আতগত কোন দিক থেকেই বৈধ নয়।
(২) মনকে সান্ত্বনা দেয়া এবং গুনাহের কারণে মনে যে অশান্তি ও অস্থিরতা দেখা দেয় তা প্রতিহত করাই তাক্বদীর সম্পর্কিত বিষয়ের শিক্ষা এটা শারী‘আতের দৃষ্টি এবং যৌক্তিক দৃষ্টিতে কোন খারাপ বিষয় নয়। অতএব এ ধরনের দলীল দেয়া যেতে পারে। আর আদম (আঃ) কর্তৃক তাক্বদীরকে দলীল হিসেবে উপস্থাপন করা এই প্রকারের ছিল।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮২-[৪] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকেরই জন্ম হয় এভাবে যে, তার মায়ের পেটে (প্রথমে তার মূল উপাদান) শুক্ররূপে চল্লিশ দিন পর্যন্ত থাকে। অতঃপর তা চল্লিশ দিন পর্যন্ত লাল জমাট রক্তপিন্ডরূপ ধারণ করে। তারপর পরবর্তী চল্লিশ দিনে মাংসপিন্ডর রূপ ধারণ করে। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা একজন মালাককে চারটি বিষয় লিখে দেয়ার জন্য পাঠন। সে মালাক লিখেন তার- (১) ’আমল [সে কি কি ’আমল করবে], (২) তার মৃত্যু, (৩) তার রিয্ক্ব (রিজিক/রিযিক) ও (৪) তার নেককার বা দুর্ভাগা হওয়ার বিষয় আল্লাহর হুকুমে তার তাক্বদীরে লিখে দেন, তারপর তন্মধ্যে রূহ্ প্রবেশ করান। অতঃপর সে সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত প্রকৃত আর কোন ইলাহ নেই! তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতবাসীদের ’আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত দূরত্ব থাকে, এমন সময় তার প্রতি তাক্বদীরের লিখা তার সামনে আসে। আর তখন সে জাহান্নামীদের কাজ করতে থাকে এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে। তোমাদের কোন ব্যক্তি জাহান্নামীদের মতো ’আমল করতে শুরু করে, এমনকি তার ও জাহান্নামের মধ্যে এক হাত দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে। এমন সময় তার প্রতি সে লেখা (তাক্বদীর) সামনে আসে, তখন সে জান্নাতীদের কাজ করতে শুরু করে, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
عَن عبد الله بن مَسْعُود قَالَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِق المصدوق: «إِن أحدكُم يجمع خلقه فِي بطن أمه أَرْبَعِينَ يَوْمًا ثمَّ يكون فِي ذَلِك علقَة مثل ذَلِك ثمَّ يكون فِي ذَلِك مُضْغَة مثل ذَلِك ثمَّ يُرْسل الْملك فينفخ فِيهِ الرّوح وَيُؤمر بِأَرْبَع كَلِمَات بكتب رزقه وأجله وَعَمله وشقي أَو سعيد فوالذي لَا إِلَه غَيره إِن أحدكُم لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ فَيَدْخُلُهَا وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى مَا يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا إِلَّا ذِرَاعٌ فَيَسْبِقُ عَلَيْهِ الْكِتَابُ فَيَعْمَلُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيَدْخُلُهَا»
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Ibn Mas'ud said that God’s messenger who spoke the truth and whose word was believed told them the following:
The constituents of one of you are collected for forty days in his mother’s womb in the form of a drop, then they become a piece of congealed blood for a similar period, then they become a lump of flesh for a similar period. Then God sends to him an angel with four words who records his deeds, the period of his life, his provision, and whether he will be miserable or blessed: thereafter He breathes the spirit into him. By Him other than whom there is no god, one of you will do the deeds of those who go to paradise so that there will be only a cubit between him and it, then what is decreed will overcome him so that he will do the deeds of those who go to hell and will enter it; and one of you will do the deeds of those who go to hell so that there will be only a cubit between him and it, then what is decreed will overcome him so that he will do the deeds of those who go to paradise and will enter it.
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা‘আলা চোখের পলকে মানুষ সৃষ্টি করতে সক্ষম। তা’ সত্ত্বেও এই রূপান্তরের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ সৃষ্টিতে অনেক উপকার ও উপদেশ বিদ্যমান। তন্মধ্যে-
(১) যদি চোখের পলকে মাতৃগর্ভে একজন শিশু সৃষ্টি করতেন তাহলে তা মায়ের জন্য কষ্টকর হত অনভ্যস্ততার কারণে। হয়তবা মায়ের মনে আশঙ্কা দেখা দিত যে, তিনি রুগ্ন। ফলে আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে মানব ভ্রূণকে কিছুদিন মায়ের পেটে নুত্বফাহ্ (বীর্য) অবস্থায় রেখেছেন, অতঃপর ‘আলাকায় (রক্তপিন্ড-) রূপান্তর করেছেন। এভাবে ক্রমান্বয়ে ভ্রূণকে পরিপূর্ণ করেছেন যাতে মা অভ্যস্ত হয়ে উঠে।
(২) আল্লাহর ক্ষমতা ও তার নি‘আমাত প্রকাশ করা যাতে বান্দা তাঁর ‘ইবাদাত করে ও তাঁরই শুকরিয়া আদায় করে।
(৩) মানবজাতিকে এ বিষয়ে সতর্ক করা যে, মহান আল্লাহ পুনরুত্থানে পরিপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। কেননা যে আল্লাহ পানি থেকে রক্ত, অতঃপর মাংস সৃষ্টি করেছেন, তাতে রূহ দিয়েছেন, তিনি তাকে পুনরুত্থান করতে ও তাতে আবার রূহ দিতেও পরিপূর্ণভাবে সক্ষম।
(৪) বান্দাকে কোন কাজে তাড়াহুড়া না করে ধিরস্থিরতার সাথে করতে শিক্ষা দেয়া। মানবজাতি কোন কাজে ধিরস্থিরতা অবলম্বন করলে এটা তার জন্য আরো বেশী উপযোগী হবে।
(৫) মানবকে সতর্ক করা এবং এটা বুঝানো যে আসলে তারা কি? অতএব তারা যেন শারীরিক শক্তি ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের শক্তিমত্তার কারণে ধোঁকায় পতিত না হয়। তারা যেন মনে করে এসব কিছুই আল্লাহর দান। বরং এটা তাদের প্রতি অনুগ্রহ।
হাদীসের শিক্ষাঃ
১। তাক্বদীর সুস্পষ্টভাবেই সাব্যস্ত আছে।
২। তাওবাহ্ গুনাহকে মুছে ফেলে।
৩। যার মৃত্যু যেভাবে হয় তার জন্য তাই সাব্যস্ত থাকে। যে ভালো কাজের উপর মৃত্যুবরণ করে তার জন্য ভালো এবং যার মৃত্যু খারাপ কাজের উপর তার জন্য খারাপই সাব্যস্ত।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮৩-[৫] সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা জাহান্নামীদের আ’মাল করতে থাকবে, অথচ সে জান্নাতী। এভাবে কেউ জান্নাতীদের আ’মাল করবে অথচ সে জাহান্নামী। কেননা মানুষের আ’মাল নির্ভর করে ’খাওয়া-তীম’ বা সর্বশেষ আ’মালের উপর। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَن سهل بن سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْعَبْدَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ وَإِنَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ الْجنَّة وَإنَّهُ من أهل النَّار وَإِنَّمَا الْعمَّال بالخواتيم»
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Sahl b. Sa’d reported God’s messenger as saying, “One man does the deeds of those who go to hell but is one of those who go to paradise, and another does the deeds of those who go to paradise but is one of those who go to hell, for judgment is given according to one’s final actions.”
(Bukhari and Muslim).
ব্যাখ্যা: (إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِيمِ) সর্বশেষ আ‘মালই ধর্তব্য। অর্থাৎ- পূর্বেকার আ‘মাল ধর্তব্য নয়, শেষ আ‘মালই ধর্তব্য।
অত্র হাদীসের শিক্ষাঃ
(১) আনুগত্যের উপর অটল থাকা এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকে সময়ের হিফাজত করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কেননা যে কোন সময়ের আ‘মালই তার সর্বশেষ আ‘মাল হতে পারে।
(২) অনুরূপভাবে ভালো কাজ করতে পেরে আনন্দিত হওয়া ও অহংকার করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। কেননা সে অবহিত নয় যে, পরবর্তীতে তার কি ঘটবে।
এ হাদীস তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট দলীল যারা বলেন যে, মানুষ তার নিজ বিষয় নিজেই নির্ধারণ করতে সক্ষম তা ভালো হোক আর মন্দ হোক।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮৪-[৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন আনসারীর শিশু সন্তানের জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডাকা হলো। আমি (’আয়িশাহ্) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এ বাচ্চার কি সৌভাগ্য, সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখীদের মধ্যে একটি চড়ুই। সে তো কোন গুনাহ করেনি বা গুনাহ করার বয়সও পায়নি। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এছাড়া অন্য কিছু কি হতে পারে না হে ’আয়িশাহ! আল্লাহ তা’আলা একদল লোককে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করে রেখেছেন, যখন তারা তাদের পিতার মেরুদন্ডে ছিল। এভাবে জাহান্নামের জন্যও একদল লোক সৃষ্টি করে রেখেছেন অথচ তখন তারা তাদের পিতার মেরুদন্ডে ছিল। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
عَن عَائِشَة أم الْمُؤمنِينَ قَالَتْ: «دُعِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى جِنَازَةِ صَبِيٍّ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ طُوبَى لِهَذَا عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ لَمْ يَعْمَلِ السُّوءُ وَلَمْ يُدْرِكْهُ قَالَ أَوَ غَيْرُ ذَلِكِ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ لِلْجَنَّةِ أَهْلًا خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ آبَائِهِمْ وَخَلَقَ لِلنَّارِ أَهْلًا خَلَقَهُمْ لَهَا وهم فِي أصلاب آبَائِهِم» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
‘A’isha said:
God’s messenger was invited to the funeral of a boy who belonged to the Ansar and I said, “Messenger of God, this one is blessed; he is one of the young ones* in paradise, for he has done no evil, being too young for that.” He replied, “It may be otherwise, ‘A’isha, for God has created some to go to paradise, doing so when they were still in their fathers’ loins; and He has created others for hell, doing so when they were still in their fathers’ loins.”
Muslim transmitted it.
* Lit. small birds or sparrows.
ব্যাখ্যা: (أَوَ غَيْرَ ذلِكَ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মন্তব্য করেছেন তিনি এ কথা অবহিত হওয়ার পূর্বে যে, মুসলিমদের শিশুরা জান্নাতবাসী হবে। কেননা মুসলিম ‘আলিমদের মধ্য হতে যাদের বক্তব্যকে সঠিক বলে গণ্য করা হয় তারা সবাই একমত যে, মুসলিমদের মধ্যে যারা শিশু অবস্থায় মারা যাবে তারা সবাই জান্নাতবাসী। যা কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে এ মন্তব্য করতে নিষেধ করার কারণ ছিল যে, তার (‘আয়িশার) নিকট কোন নিশ্চিত প্রমাণ ছিল না যার কারণে তিনি এ মন্তব্য করতে পারেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮৫-[৭] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার অবস্থান জান্নাতে কিংবা জাহান্নামে লিখে রাখেননি। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে আমরা কি আমাদের তাক্বদীরের লেখার উপর নির্ভর করে আ’মাল ছেড়ে দিব না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (না, বরং) আ’মাল করে যেতে থাক। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ তার জন্য সহজ করে দেয়া হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান তাকে আল্লাহ সৌভাগ্যের কাজ করার জন্য সহজ ব্যবস্থা করে দিবেন। আর সে ব্যক্তি দুর্ভাগা হবে যার জন্য দুর্ভাগ্যের কাজ সহজ করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (কুরআনের এ আয়াতটি) পাঠ করলেনঃ ’’যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (সময় ও অর্থ) ব্যয় করেছে, আল্লাহকে ভয় করেছে, হক কথাকে (দীনকে) সমর্থন জানিয়েছে’’- (সূরাহ্ আল্ লায়ল ৫-৬ নং আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا فِي جَنَازَة فِي بَقِيع الْغَرْقَد فَأَتَانَا النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقعدَ وقعدنا حوله وَمَعَهُ مخصرة فَنَكس فَجعل ينكت بمخصرته ثمَّ قَالَ مَا مِنْكُم من أحد مَا من نفس منفوسة إِلَّا كتب مَكَانهَا من الْجنَّة وَالنَّار وَإِلَّا قد كتب شقية أَو سعيدة فَقَالَ رجل يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا نَتَّكِلُ عَلَى كِتَابِنَا وَنَدع الْعَمَل فَمن كَانَ منا من أهل السَّعَادَة فسيصير إِلَى عمل أهل السَّعَادَة وَأما من كَانَ منا من أهل الشقاوة فسيصير إِلَى عمل أهل الشقاوة قَالَ أما أهل السَّعَادَة فييسرون لعمل السَّعَادَة وَأما أهل الشقاوة فييسرون لِعَمَلِ الشَّقَاوَةِ ثُمَّ قَرَأَ (فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصدق بِالْحُسْنَى)
الْآيَة
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
‘Ali reported God’s messenger as saying, “The place which everyone of you will occupy in hell or in paradise has been recorded.” When his hearers asked him whether they should not trust simply in what had been recorded for them and abandon doing good deeds, he replied, “Go on doing them, for everyone is helped to do that for which he was created. Those who are among the number of the blessed will be helped to do appropriate deeds, and those who are among the number of the miserable will be helped to do appropriate deeds.” Then he recited, “As for him who gives, shows piety, and considers what is best to be true, We will help him to prosperity.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: (أَفَلَا نَتَّكِلُ عَلى كِتَابِنَا) এই বাক্য দ্বারা বুঝা যায় যে, আমাদের জন্য তাক্বদীরে যা নির্ধারিত রয়েছে তার উপরই নির্ভর করবো কি-না এবং আ‘মাল বর্জন করবো কি-না, অর্থাৎ- আ‘মালের প্রচেষ্টা ত্যাগ করবো কি-না। কারণ, যখন আমাদের জান্নাতী বা জাহান্নামী হওয়াটা পূর্ব নির্ধারিত তখন ‘আমলের প্রতিযোগিতা করেই বা কি লাভ? কেননা আল্লাহর ফায়সালা তো কখনও পরিবর্তিত হওয়ার নয় এবং তার নির্ধারিত বিষয় কখনও রদ হওয়ার নয়।
জেনে রাখা উচিত যে, যাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য জান্নাতের আ‘মালটাই অধিক সহজ হবে। আর এই সহজতাই তার জান্নাতী হওয়ার আলামত। পক্ষান্তরে যার জন্য জান্নাতী আ‘মালটা সহজ নয়। সে জান্নাতী নয় বরং জাহান্নামের অধিবাসী।
নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সকল কর্ম পরিচালনা করেন এবং তা একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্তও করে।
যার জন্য জান্নাত নির্ধারিত তার জন্য জান্নাতী আ‘মালটাও তো নির্ধারিত এবং সেই কৃতকর্মই তাঁর জন্য উপযোগী হবে এবং সে কর্মের উপরই তাকে উৎসাহ এবং ধমকের মাধ্যমে উজ্জ্বীবিত করা হয়। আর যার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাঁর জন্য মন্দটাই নির্ধারিত। এমনকি সে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং তার মাওলার আদেশ বর্জন করে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮৬-[৮] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ তা’আলা আদম সন্তানের জন্য তার ব্যভিচারের অংশ লিখে রেখেছেন, সে তা নিশ্চয়ই করবে। চোখের ব্যভিচার হলো দেখা, জিহবার ব্যভিচার কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। আর মন চায় ও আকাঙ্ক্ষা করে এবং গুপ্তাঙ্গ তাকে সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
কিন্তু সহীহ মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় আছে, আদম সন্তানের জন্য তাক্বদীরে যিনার অংশ যতটুকু নির্ধারণ করা হয়েছে, সে ততটুকু অবশ্যই পাবে। দুই চোখের যিনা তাকানো, কানের যিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের যিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের যিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশে) স্পর্শ করা আর পায়ের যিনা ব্যভিচারের উদ্দেশে অগ্রসর হওয়া এবং মনের যিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। আর গুপ্তাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যায় প্রতিপন্ন করে।[2]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ فَزِنَا الْعَيْنِ النَّظَرُ وَزِنَا اللِّسَانِ الْمَنْطِقُ وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي وَالْفَرْجُ يصدق ذَلِك كُله ويكذبه»
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: «كُتِبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكٌ ذَلِكَ لَا محَالة فالعينان زِنَاهُمَا النَّظَرُ وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ»
[2] সহীহ : মুসলিম ২৬৫৭।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Abu Huraira reported God's messenger as saying, “God has decreed for man his portion of fornication which he will inevitably commit. The fornication of the eye consists in looking, and of the tongue in speech. The soul wishes and desires, and the private parts accord with that or reject it.”
(Bukhari and Muslim.)
In a version by Muslim he said, “Man’s share of fornication which he will inevitably commit is decreed for him. The fornication of the eyes consists in looking, of the ears in hearing, of the tongue in speech, of the hand in violence, and of the foot in walking. The heart lusts and wishes, and the private parts accord with that or reject it.”
ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা তুরবিশতী (রহঃ) বলেছেন, আদম সন্তানের ওপর এটাই সাব্যস্ত যে, তার জন্য প্রয়োজন সৃষ্টি করা হয়েছে আর সে প্রয়োজনীয়তার দ্বারা সে স্বাদ গ্রহণ করে। তাকে শক্তি দান করা হয়েছে যার দ্বারা সে উক্ত কর্ম সম্পাদনের (যিনার) ক্ষমতা রাখে। আর চক্ষুদ্বয় এর বিষয় হলো যে, এই চক্ষুদ্বয়ের দৃষ্টিপাতের সক্ষমতা দ্বারা দেখার স্বাদ গ্রহণ করা যায়। ‘আল্লামা ত্বীবী বলেন যে, كَتَبَ উদ্দেশ্য হলো, তাতে যৌন চাহিদা এবং নারীদের প্রতি পুরুষের দুর্বলতা বা ঝুঁকে পড়া প্রমাণিত হয় এবং চক্ষু, কর্ণ, অন্তর এবং লজ্জাস্থান দ্বারা যিনার স্বাদ গ্রহণ করা যায়।
(وَالنَّفْسُ تَمَنّى وَتَشْتَهِي) অন্তর আকাঙ্ক্ষা ও খাওয়াহিশাত বা যৌন চাহিদার জন্ম দেয়। অর্থাৎ- অন্তরের যিনা হলো- আকাঙ্ক্ষা করা। (وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذلِكَ) যৌনাঙ্গ সহবাসের মাধ্যমে দৃষ্টিপাত ও খাহেশাতের বাস্তব প্রতিফলন ঘটায়। আর (يُكَذِّبُهٗ) এর অর্থ হলো, প্রতিপালকের ভয়ে উক্ত কর্ম থেকে বিরত থাকে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮৭-[৯] ’ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিত। মুযায়নাহ্ গোত্রের দুই লোক রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি মনে করেন, মানুষ এখন (দুনিয়াতে) যা আ’মাল (ভাল-মন্দ) করছে এবং ’আমল করার চেষ্টায় রত আছে, তা আগেই তাদের জন্য তাক্বদীরে লিখে রাখা হয়েছিল? নাকি পরে যখন তাদের নিকট তাদের নবী শারী’আহ্ (দলীল-প্রমাণ) নিয়ে এসেছেন এবং তাদের নিকট তার দলীল-প্রমাণ প্রকটিত হয়েছে, তখন তারা তা করছে? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ না, বরং পূর্বেই তাদের জন্য তাক্বদীরে এসব নির্দিষ্ট করা হয়েছে ও ঠিক হয়ে রয়েছে। এ কথার সমর্থনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদঃ) ’’প্রাণের কসম (মানুষের)! এবং যিনি তাকে সুন্দরভাবে গঠন করেছেন এবং তাকে (পূর্বেই) ভালো ও মন্দের জ্ঞান দিয়েছেন’’- (সূরাহ্ আল লায়ল ৯২: ৭-৮)। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَن عمرَان بن حضين: إِن رجلَيْنِ من مزينة أَتَيَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَا يَعْمَلُ النَّاسُ الْيَوْمَ وَيَكْدَحُونَ فِيهِ أَشِيءٌ قُضِيَ عَلَيْهِمْ وَمَضَى فيهم من قدر قد سَبَقَ أَوْ فِيمَا يَسْتَقْبِلُونَ بِهِ مِمَّا أَتَاهُمْ بِهِ نَبِيُّهُمْ وَثَبَتَتِ الْحُجَّةُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ لَا بَلْ شَيْءٌ قُضِيَ عَلَيْهِمْ وَمَضَى فِيهِمْ وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ (وَنَفْسٍ وَمَا سواهَا فألهمها فجورها وتقواها)
رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
‘Imran b, Husain told of two men of Muzaina who said, “Messenger of God, tell us whether what men do to-day and strive over is something which has been destined for them and has previously been decreed for them, or whether it is something their prophet has brought them with which they are encountered and which has become binding upon them.” He replied, “No, it is something which has been destined for them and previously decreed for them.” The verification of that is found in God’s Book which says, “By a soul and Him who formed it and implanted in it its wickedness and its piety.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (أَشَيْءٌ قُضِيَ عَلَيْهِمْ) অর্থাৎ- আপনি আমাদের অবহিত করুন মানবজাতি ভালো-মন্দ যে কাজ করে তা-কি তাদের জন্য যেভাবে ফায়সালা করা হয়েছে সে অনুযায়ী করে? আর তা তাদের জন্য নির্ধারিত সময়ে তা সংঘটিত হয়? নাকি তা তাদের জন্য ফায়সালাকৃত নয়? বরং সকল কাজই সংঘটিত হয় ভবিষ্যতে যা সে সম্পাদন করতে চায় সে চাহিদা অনুযায়ী তাক্বদীর অনুযায়ী না হয়ে?
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যা কিছু ঘটে তা পূর্ব নির্ধারিত তাক্বদীর অনুযায়ীই ঘটে থাকে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮৮-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন যুবক মানুষ। তাই আমি আমার সম্পর্কে ব্যভিচারের জড়িয়ে পড়ার আশংকা করছি। অথচ কোন নারীকে বিবাহ করার (আর্থিক) সঙ্গতিও আমার নেই। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) যেন খাসী হবার অনুমতিই প্রার্থনা করছিলেন। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে তিনি প্রত্যুত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন। আমি আবারও অনুরূপ প্রশ্ন করলাম। এবারও তিনি নীরব থাকলেন। সুতরাং আমি ঐরূপ প্রশ্ন করলাম, এবারও তিনি নীরব থাকলেন। আমি চতুর্থবার সেরূপ প্রশ্ন করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ্! তোমার জন্য যা ঘটবার আছে তা আগে থেকেই তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত হওয়ার মাধ্যমে কলম শুকিয়ে গেছে। এখন তুমি এটা জেনে খাসীও হতে পারো বা এমন ইচ্ছা পরিত্যাগও করতে পারো। (বুখারী)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ شَابٌّ وَأَنَا أَخَافُ عَلَى نَفْسِي الْعَنَتَ وَلَا أَجِدُ مَا أَتَزَوَّجُ بِهِ النِّسَاءَ كأَنَّهُ يَسْتَأْذِنُهُ فِي الِاخْتِصَاءِ قَالَ: فَسَكَتَ عَنِّي ثُمَّ قُلْتُ مِثْلَ ذَلِكَ فَسَكَتَ عَنِّي ثُمَّ قُلْتُ مِثْلَ ذَلِكَ فَسَكَتَ عَنِّي ثُمَّ قُلْتُ مِثْلَ ذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا أَنْتَ لَاقٍ فَاخْتَصِ على ذَلِك أَو ذَر» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Abu Huraira said:
I told God’s messenger that I, being a young man, was afraid of committing fornication, and I had no means to enable me to marry a wife. (It was as though he was asking permission to have himself made a eunuch.) He gave me no reply, so I repeated what I had said, but he gave me no reply. I repeated it again, but he gave me no reply. I repeated it once more and the Prophet said, “Abu Huraira, the pen has written all it has to write* about your destiny, so have yourself made a eunuch on that account, or leave things as they are.”
Bukhari transmitted it.
* Lit. “the pen dried up”.
ব্যাখ্যা: (جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا أَنْتَ لَاقٍ) অর্থাৎ- তোমার যা কিছু ঘটবে তা লিখে অবসর হওয়ার পর ক্বলাম (কলম) শুকিয়ে গেছে। তুমি তোমার জীবনে যা কিছুর সম্মুখীন হবে তা তোমার জন্য নির্ধারিত। তোমার জন্য ফায়সালা করা রয়েছে। কোন কারণে তোমার নির্ধারিত বিষয়ে পরিবর্তন ঘটবে না। অতএব নির্ধারিত পরিবর্তন ঘটানোর উদ্দেশে কোন প্রকার হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়।
(فَاخْتَصِ عَلى ذلِكَ أَوْ ذَرْ) অর্থাৎ- তুমি তা কর বা না কর তোমার ব্যাপারে নির্ধারিত তাক্বদীর বাস্তবায়ন হবেই।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৮৯-[১১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সমস্ত অন্তর আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের দুই আঙ্গুলের মধ্যে একটি অন্তরের ন্যায় অবস্থিত। তিনি নিজের আঙ্গুলগুলোর দ্বারা তা যেভাবে ইচ্ছা ঘুরিয়ে থাকেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে তোমার ’ইবাদাত ও আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দাও।’’ (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَقُول إِنَّ قُلُوبَ بَنِي آدَمَ كُلِّهَا بَيْنَ أُصْبُعَيْنِ من أَصَابِع الرَّحْمَن كقلب وَاحِد يصرفهُ حَيْثُ يَشَاءُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الله مُصَرِّفَ الْقُلُوبِ صَرِّفْ قُلُوبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
‘Abdallah b. ‘Amr reported God’s messenger as saying, “The hearts of all men are between two of the Compassionate’s fingers as if they were one heart which He turns about as He wills.” Then God’s messenger said, “O God, who turnest the hearts, turn our hearts to Thy obedience!”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمنِ) এটি আল্লাহর সিফাত অর্থাৎ- গুণবাচক হাদীস। এতে যা বর্ণিত হয়েছে কোন প্রকার ব্যাখ্যা ছাড়াই আমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব। এর অর্থ জানার চেষ্টা করবো না। এ বিষয়ে ঈমান আনা ওয়াজিব এবং তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকাও ওয়াজিব। যে তা মেনে নিবে সেই সঠিক পথপ্রাপ্ত। যে তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে প্রবেশ করবে সে পথভ্রষ্ট।
হাদীসের অর্থ, বান্দার অন্তর পরিবর্তন করা আল্লাহর নিকট অতি সহজ। তিনি তাঁর বান্দাদের অন্তর বা যে কোন বিষয়ে তাঁর ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। এ কাজে তাঁর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। আর তিনি যা করতে চান তা তাঁর হাত ছাড়া হয় না।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯০-[১২] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক সন্তানই ইসলামী ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে থাকে। অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইয়াহুদী, নাসারা অথবা অগ্নিপূজক বানিয়ে ফেলে। যেরূপে চতুষ্পদ জন্তু পূর্ণাঙ্গ জন্তুই জন্ম দিয়ে থাকে, এতে তোমরা কোন বাচ্চার কানকাটা দেখতে পাও কি? এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিলাওয়াত করলেনঃ
فِطْرَةَ اللهِ الَّتِيْ فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيْلَ لِخَلْقِ اللهِ ذلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّمُ
’’আল্লাহর ফিতরাত, যার উপর তিনি মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টি রহস্যে কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল প্রতিষ্ঠিত দীন।’’ (সূরাহ্ আর্ রূম ৩০: ৩০)। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ كَانَ يحدث قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلَّا يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ثُمَّ يَقُول أَبُو هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ (فطْرَة الله الَّتِي فطر النَّاس عَلَيْهَا)
الْآيَة»
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “Everyone is born a Muslim, but his parents make him a Jew, a Christian, or a Magian; just as a beast is born whole. Do you find some among them [born] maimed?” Then he was saying, “God’s pattern on which He formed mankind. There is no alteration of God’s creation. That is the true religion.” *
(Bukhari and Muslim.)
* Quran, 30:30. It is not quite clear whether these words were recited by the Prophet or by Abu Huraira.
ব্যাখ্যা: (الْفِطْرَةِ) শব্দের অনেক প্রকার ব্যাখ্যা রয়েছে তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলাম। ইমাম বুখারী এ বক্তব্যকেই দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছেন এবং অনেক পূর্বসুরীই এটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অন্য বর্ণনাতে الْفِطْرَةِ এর পরিবর্তে الملة শব্দটিও এ বক্তব্যকে সমর্থন করে। (فِطْرَةَ اللهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا) এ আয়াতের উল্লেখ। প্রকৃত ব্যাপার বুঝানোর জন্য হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে। দুনিয়ার হুকুমের ক্ষেত্রে প্রকৃতিগত ঈমান বা ইসলামের বিষয়টি ধর্তব্য নয়। দুনিয়াতে ধর্তব্য বিষয় হলো স্বেচ্ছায় ঈমান আনা।
(فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِه) প্রমাণ করে যে, দুনিয়ার হুকুমে সে কাফির যদিও তার মধ্যে স্বভাবগত ঈমান বিদ্যমান। কিংবা এখানে ফিত্বরাতের অর্থ হলো আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টাকে চিনবার যে যোগ্যতা দিয়েছেন সেই অবস্থার নামই ফিত্বরাত। সদ্যভূমিষ্ঠ সন্তানকে যদি তার ফিতরাতের উপর ছেড়ে দেয়া হত এবং তার পিতা-মাতা বা অন্য কোন দিক থেকে প্রভাবিত করা না হত তাহলে সে সত্য দীনকেই আঁকড়িয়ে থাকতো। তা বাদ দিয়ে অন্য দিকে যেত না এবং এ দীন ব্যতীত অন্য কোন দীন গ্রহণ করত না।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯১-[১৩] আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি বিষয়সহ আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ (১) আল্লাহ তা’আলা কক্ষনো ঘুমান না। (২) ঘুমানো তাঁর পক্ষে সাজেও না। (৩) তিনি দাঁড়িপাল্লা উঁচু-নিচু করেন [সৃষ্টির রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) ও আ’মাল প্রভৃতি নির্ধারিত করে থাকেন]। (৪) রাতের ’আমল দিনের ’আমলের পূর্বে, আর দিনের ’আমল রাতের ’আমলের পূর্বেই তার নিকটে পৌঁছানো হয় এবং (৫) তাঁর [এবং সৃষ্টিজগতের মধ্যে] পর্দা হচ্ছে নূর [জ্যোতি]। যদি তিনি এ পর্দা সরিয়ে দিতেন, তবে তাঁর চেহারার নূর সৃষ্টিজগতের দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত সব কিছুকেই জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিত। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَن أبي مُوسَى قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِخَمْسِ كَلِمَاتٍ فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ عز وَجل لَا يَنَامُ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَنَامَ يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهُ يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ عَمَلِ النَّهَارِ وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ عَمَلِ اللَّيْل حجابه النُّور» . رَوَاهُ مُسلم
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Abu'Musa said :
God’s messenger stood up among us and made five statements, saying, “God does not sleep, as it is unfitting that He should do so; He lowers the scale and raises it up; the deeds done by night are taken up to Him before the day’s deeds are done; the deeds done by day before the night’s deeds are done; His veil is light, if He were to remove it His majesty would burn up all His creation which was reached by His glance.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُه) অর্থ মীযান বা দাঁড়িপাল্লাকে قِسْطٌ নামকরণ করা হয়েছে। এজন্য যে, তা দ্বারা বণ্টন বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ন্যায় আচরণ সংঘটিত হয়। এ অর্থ আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (يَرْفَعُ الْمِيْزَانَ وَيَرْفَعُه) এর সমর্থন করে। এও বলা হয় যে, قِسْطٌ দ্বারা রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) উদ্দেশ্য। কেননা তা প্রত্যেক মাখলূক্বের জন্য নির্ধারিত। নীচু করা অর্থ তা কমিয়ে দেয়া। আর উঁচু করা অর্থ বাড়িয়ে দেয়া। তিনি কখনো রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) সংকোচন করে তা নীচু করে দেন। আবার কখনো তা প্রশস্ত করে পাল্লা উঁচু করে দেন।
(حِجَابُهُ النُّوْرُ) হিজাবের প্রকৃত অর্থ পর্দা যা দর্শনার্থী এবং প্রদর্শিত বস্তুর মাঝখানে বাধার সৃষ্টি করে। এখানে উদ্দেশ্য হলো সে প্রতিবন্ধক যা সৃষ্টিকে তাঁর দর্শন হতে বিরত রাখে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯২-[১৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার হাত সদাসর্বদা পূর্ণ। অবিরাম মুষলধারে বর্ষণকারীর মতো দান কখনও তা কমাতে পারে না। তোমরা কি দেখছো না, তিনি যখন থেকে এ আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে কতই না দান করে আসছেন। অথচ তাঁর হাতে যা ছিল তার থেকে কিছুই কমায়নি। তাঁর ’আর্শ (আরশ) (প্রথমে) পানির উপর ছিল। তাঁর হাতেই রয়েছে দাঁড়িপাল্লা। তিনি এ দাঁড়িপাল্লাকে উঁচু বা নিচু করে থাকেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
সহীহ মুসলিম-এর অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহর দক্ষিণ (ডান) হাত সদা পরিপূর্ণ। আর ইবনু নুমায়র (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ, দিন-রাতের মধ্যে সর্বদা দানকারী কোন কিছুই এতে কমাতে পারে না।
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَدُ اللَّهِ مَلْأَى لَا تَغِيضُهَا نَفَقَةٌ سَحَّاءُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْفَقَ مُذْ خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ؟ فَإِنَّهُ لَمْ يَغِضْ مَا فِي يَدِهِ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ وَبِيَدِهِ الْمِيزَانُ يَخْفِضُ وَيرْفَع» وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ: «يَمِينُ اللَّهِ مَلْأَى قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ مَلْآنُ سَحَّاءُ لَا يُغِيضُهَا شَيْءٌ اللَّيْل والنهار»
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “God’s hand is full, undiminished by any expenditure, bountiful night and day. Have you seen what He has expended since He created the heaven and the earth, for what His hand holds has not decreased? His throne was upon the water, and in His hand the scale which He lowers and raises.”
(Bukhari and Muslim.)
A version by Muslim says, “God’s right hand is full.” Ibn Numair said, “Full and pouring out blessings night and day, being decreased by nothing.”
ব্যাখ্যা: (يَدُ اللهِ مَلْأَى) আল্লাহর হাত পরিপূর্ণ। অর্থাৎ- ধন ও প্রাচুর্যে তিনি পরিপূর্ণ। তাঁর নিকট এত রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) রয়েছে যার কোন শেষ নেই। এ দ্বারা আল্লাহর নি‘আমাতের আধিক্যের ও প্রাচুর্যের এবং তাঁর দানের বিশালতা ও সার্বজনিনতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. প্রথম অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯৩-[১৫] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাফির-মুশরিকদের শিশু-সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল (মৃত্যুর পর তাদের স্থান কোথায় জান্নাতে, না জাহান্নামে)? জবাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, তারা (জীবিত থাকলে) কি ’আমল করত। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِيْمَانِ بِالْقَدْرِ
وَعَنْهُ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَرَّارِيِّ الْمُشْرِكِينَ قَالَ: «اللَّهُ أعلم بِمَا كَانُوا عاملين»
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 1
He [Abu Huraira] also reported that when God’s messenger was questioned about the offspring of polytheists he said, “God knows best about what they were doing.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: (اللّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوْا عَامِلِيْنَ) অর্থাৎ- তারা জীবিত থাকলে কি করতো তা আল্লাহই ভালো জানেন। অতএব তাদের সম্পর্কে কোন মন্তব্য করবে না। এ হাদীস মুশরিকদের সন্তান সম্পর্কে মন্তব্য করা হতে বিরত থাকার সুস্পষ্ট নির্দেশ। যারা বলেন, মুশরিকদের সন্তানদের বিষয় আল্লাহর ইচ্ছাধীন; এ হাদীস তাদের পক্ষে দলীল।
বিরত থাকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আবার মতভেদ রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাপারটা আমাদের অজানা অথবা এ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা। আবার কেউ বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো সকলের ব্যাপারে একই মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা। অতএব তাদের কেউ মুক্তি পাবে আবার কেউ ধ্বংস হবে।
আমার (মুবারকপূরী) দৃষ্টিতে সঠিক হলো মুশরিকদের সকল নাবালেগ সন্তানই জান্নাতে যাবে। এর স্বপক্ষে যে সকল প্রমাণাদি রয়েছে তন্মধ্যে প্রণিধানযোগ্য প্রমাণ বা দলীল ইমাম আহমাদ কর্তৃক খনসা বিনতু মু‘আবিয়াহ্ ইবনু মারইয়াম সূত্রে তার ফুফু হতে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, ‘‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! কারা জান্নাতে যাবে? তিনি বললেন, নাবীগণ জান্নাতে যাবে, শাহীদগণ জান্নাতে যাবে আর সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুগণও জান্নাতে যাবে।’’
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯৪-[১৬] ’উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কী লিখব? আল্লাহ বললেন, ক্বদর (কদর) (তাক্বদীর) সম্পর্কে লিখ। সুতরাং কলম- যা ছিল ও ভবিষ্যতে যা হবে, সবকিছুই লিখে ফেলল। (তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি সানাদ হিসেবে গরীব)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَن عبَادَة بن الصَّامِت قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول «إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمُ فَقَالَ اكْتُبْ فَقَالَ مَا أَكْتُبُ قَالَ اكْتُبِ الْقَدَرَ مَا كَانَ وَمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى الْأَبَدِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِسْنَادًا
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
‘Ubada b. as-Samit reported God’s messenger as saying, “The first thing God created was the pen. He told it to write and when it asked Him what it should write He told it to write what was decreed, so it wrote what had taken place and what would take place to all eternity.”
Tirmidhi transmitted it, saying that this is a tradition whose isnad is gharib.
ব্যাখ্যা: (أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللّهُ الْقَلَمُ) ‘আল্ আযহার’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ- ‘আর্শ (আরশ), পানি ও বায়ু সৃষ্টির পরে প্রথম কলম সৃষ্টি করেছেন। কেননা সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘আকাশ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহ তা‘আরা মাখলূক্বের তাক্বদীর নির্ধারণ করেছেন।’’ তখন আল্লাহর ‘আর্শ (আরশ) ছিল পানির উপরে।
বায়হাক্বীতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর ‘আর্শ (আরশ) পানির উপরে ছিল। তাহলে পানি কিসের উপর ছিল? তিনি বললেনঃ (পানি) বায়ুর পিঠে ছিল। হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীর ১৩ খণ্ডের ১৮৬ পৃষ্ঠায় মারফূ‘ সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, ‘‘আর্শ (আরশ) সৃষ্টির পূর্বে পানি সৃষ্টি করা হয়েছে’’। হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
তবে মুসনাদে আহমাদ ও তিরমিযীতে ‘উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) থেকে সহীহ সানাদে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হাদীস। আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে কলম সৃষ্টি করলেন। অতঃপর বললেন, তুমি লিখ। অতঃপর কলম ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত যা ঘটবে তা লিখলো।
এ হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হাদীসের মধ্যে সমন্বয় এই যে, পানি ও ‘আর্শ (আরশ) ব্যতীত যা সৃষ্টি করা হয়েছে তন্মধ্যে কলম প্রথম সৃষ্টি। ‘আর্শ (আরশ) ও কলম এ দু’টির মধ্যে কোন বস্ত্ত আগে সৃষ্টি করা হয়েছে- এ সম্পর্কেও মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ ‘আলিমের মতে ‘আর্শ (আরশ) আগে সৃষ্টি করা হয়েছে। ইবনু জারীর ও তার অনুসারীদের মতে কলম আগে সৃষ্টি করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯৫-[১৭] মুসলিম ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে কুরআনের এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলোঃ ’’(হে মুহাম্মাদ!) আপনার রব যখন আদম সন্তানদের পিঠ থেকে তাদের সব সন্তানদেরকে বের করলেন’’ (সূরাহ্ আল আ’রাফ ৭: ১৭২) (...আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। ’উমার (রাঃ) বললেন, আমি শুনেছি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয় এবং তিনি জবাবে বলেন, আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর আপন ডান হাত তাঁর পিঠ বুলালেন। আর সেখান থেকে তাঁর (ভবিষ্যতের) একদল সন্তান বের করলেন। অতঃপর বললেন, এসবকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি, তারা জান্নাতীদের কাজই করবে। আবার আদমের পিঠে হাত বুলালেন এবং সেখান থেকে (অপর) একদল সন্তান বের করলেন এবং বললেন, এদেরকে আমি জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জাহান্নামীদেরই ’আমল করবে। একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে ’আমলের আর আবশ্যকতা কি? উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন আল্লাহ কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জান্নাতীদের কাজই করিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত সে জান্নাতীদের কাজ করেই মৃত্যুবরণ করে এবং আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। এভাবে আল্লাহ তাঁর কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জাহান্নামীদের কাজই করিয়ে নেন। পরিশেষে সে জাহান্নামীদের কাজ করেই মৃত্যুবরণ করে, আর এ কারণে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করেন। (মালিক, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَن مُسلم بن يسَار قَالَ سُئِلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ (وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورهمْ)
قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يسْأَل عَنْهَا فَقَالَ: «خلق آدم ثمَّ مسح ظَهره بِيَمِينِهِ فأاستخرج مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقَتُ هَؤُلَاءِ لِلْجَنَّةِ وَبِعَمَلِ أهل الْجنَّة يعْملُونَ ثمَّ مسح ظَهره فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ ذُرِّيَّةً فَقَالَ خَلَقَتُ هَؤُلَاءِ لِلنَّارِ وبعمل أهل النَّار يعْملُونَ فَقَالَ رجل يَا رَسُول الله فَفِيمَ الْعَمَل يَا رَسُول الله قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ إِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلْجَنَّةِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أهْلِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ من أَعمال أهل الْجنَّة فيدخله الله الْجَنَّةَ وَإِذَا خَلَقَ الْعَبْدَ لِلنَّارِ اسْتَعْمَلَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ حَتَّى يَمُوتَ عَلَى عَمَلٍ مِنْ أَعمال أهل النَّار فيدخله الله النَّار» . رَوَاهُ مَالك وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Muslim b. Yasar said that when ‘Umar b. al-Khattab was questioned about the verse, “When your Lord took their offspring from the backs of the children of Adam...” 1 he replied that he had heard God’s messenger say when he was questioned about it, “God created Adam, then passed His right hand over his back and brought forth from it his offspring, saying, ‘I have created these for paradise and they will do the deeds of those who go to paradise.’ He then passed his hand over his back and brought forth from it his offspring, saying, ‘I have created these for hell and they will do the deeds of those who go to hell’.” A man asked, “What is the good of doing anything, messenger of God?” to which God’s messenger replied, “When God creates a man for paradise He employs him in doing the deeds of those who will go to paradise, so that his final action before death is one of the deeds of those who go to paradise, for which He will bring him into paradise. But when He creates a man for hell He employs him in doing the deeds of those who will go to hell, so that his final action before death is one of the deeds of those who go to hell, for which He will bring him into hell.”
Malik, Tirmidhi and Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: উল্লিখিত হাদীসটি আবূ দাঊদ এবং তিরমিযী থেকে সংকলিত, যেখানে সুস্পষ্ট যে, শুধু ‘আমলের দ্বারা জান্নাত বা জাহান্নামে কেউ যাবে না বরং আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারিত বিষয় ‘তাক্বদীর’ এখানে বিশেষভাবে কার্যকর। অতএব, যার তাক্বদীরে যা লিখা আছে সে তারই হকদার হবে।
আয়াত ও হাদীসের বাহ্যিক মতবিরোধের সুষ্ঠু সমাধানঃ
আয়াতে কারীমাতে উল্লেখ আছেঃ
وَاِذْ اَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِىْ ادَمَ مِن ظُهُوْرِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلى اَنفُسِهِمْ ألَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوْا بَلى شَهِدْنَا اَن تَقُوْلُوْا يَوْمَ الْقِيَامَةِ اِنَّا كُنَّا عَنْ هذَا غَافِلِيْنَ
আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানদের পিঠ থেকে তাদের সন্তানদেরকে বের করলেন। অপরপক্ষে হাদীসে উল্লেখ আছে, সন্তানদেরকে আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-এর পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করেছেন। এর সমাধানে মুহাদ্দিস দেহলবী (রহঃ) তার হুজ্জাতুল্লাহ আল্ বালিগাহ্ কিতাবে বলেন, আয়াতে কারীমা হাদীসের বিপরীত নয়। কেননা আদম (আঃ) থেকে তার সন্তানদের বের করা হয়েছে আর তার সন্তানদের থেকে তাদের সন্তানদের বের করেছেন, এভাবে ধারাবাহিকভাবে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত চলবে। অতএব আয়াতে ঘটনার কিছু অংশবিশেষ বর্ণনা করা হয়েছে এবং হাদীস তার বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছে।
আদম (আঃ)-এর পিঠের উপর দিয়ে হাত অতিক্রম করলো, (এই হাত অতিক্রমের) কোন প্রকার ব্যাখ্যা বা ধরণ বর্ণনা করা ছাড়াই এই অর্থ গ্রহণ করতে হবে।
কেউ মন্তব্য করেছেন, আল্লাহ তা‘আলা তার পিঠকে ফেড়েছিলেন। অতঃপর তাদেরকে সেখান থেকে তিনি বের করেছেন। তবে সবচেয়ে নিকটতম অর্থটি হচ্ছে, তিনি তাদেরকে তার পিঠের লোমের গোড়া থেকে বের করেছেন। কারণ প্রত্যেক লোমের নীচে সূক্ষ্ম ছিদ্র বিদ্যমান, যার নাম হলো سم বা ছিদ্র, যেমনঃ سَمُّ الْخِيَاطِ সুঁচের ছিদ্র। আর এটাও সম্ভব যে, সন্তান এই ছিদ্র থেকে বের হয়েছে যেমনভাবে এখান থেকে ঘাম বের হয়।
অতএব এই মুহূর্তে আয়াত এবং হাদীসকে একই সাথে নিয়ে কথা বলা আবশ্যক এভাবে যে, কিছু সন্তান কিছু সন্তানের পিঠ থেকে বের হয়েছে। আদম (আঃ)-এর পিঠ থেকে আয়াত এবং হাদীসের মধ্যকার মতবিরোধ সমাধানকল্পে এমনটাই বলতে হবে।
অত্র হাদীসটি তাক্বদীরের উপর প্রমাণবাহী এভাবে যে, আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করার পূর্বেই এগুলো তাঁরা চিরন্তন জ্ঞানের মাধ্যমে নির্ধারণ করে রেখেছেন। আর সৃষ্টি করার পরে এই সৃষ্টিজীবের ভবিষ্যৎ কি হবে তা তাঁর আগেই জানা আছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯৬-[১৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই হাতে দু’টি কিতাব নিয়ে বের হলেন এবং (সাহাবীগণের উদ্দেশে) বললেন, তোমরা কি জান এ কিতাব দু’টি কি? আমরা বললাম, না, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু আপনি যদি আমাদের অবহিত করতেন। তিনি তাঁর ডান হাতের কিতাবের প্রতি ইশারা করে বললেন, আমার ডান হাতে কিতাবটি হচ্ছে আল্লাহ রববুল ’আলামীনের পক্ষ থেকে একটি কিতাব। এতে সকল জান্নাতীদের নাম, তাদের পিতাদের নাম ও বংশ-পরম্পরার নাম রয়েছে এবং এদের সর্বশেষ ব্যক্তির নামের পর সর্বমোট যোগ করা হয়েছে। অতঃপর এতে আর কক্ষনো (কোন নাম) বৃদ্ধিও হবে না কমতিও করা হবে না। তারপর তিনি তাঁর বাম হাতের কিতাবের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এটাও আল্লাহ রববুল ’আলামীনের পক্ষ হতে একটি কিতাব। এ কিতাবে জাহান্নামীদের নাম আছে, তাদের বাপ-দাদাদের নাম আছে এবং তাদের বংশ-পরম্পরার নামও রয়েছে। অতঃপর তাদের সর্বশেষ ব্যক্তির নাম লিখে মোট যোগ করা হয়েছে। তাই এতে (আর কোন নাম কখনো) বৃদ্ধিও করা যাবে না কমানোও যাবে না।
তাঁর এ বর্ণনা শুনার পর সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! এসব ব্যাপার যদি আগে থেকে চূড়ান্ত হয়েই থাকে (অর্থাৎ- জান্নাত ও জাহান্নামের বিষয়টি তাক্বদীরের উপর নির্ভর করে লিপিবদ্ধ হয়েছে) তবে ’আমল করার প্রয়োজন কী? উত্তরে তিনি বললেন, হক পথে থেকে দৃঢ়ভাবে ’আমল করতে থাক এবং আল্লাহর নৈকট্যার্জনের চেষ্টা কর। কেননা জান্নাতবাসীদের শেষ ’আমল (জান্নাত প্রাপ্তির ন্যায়) জান্নাতীদেরই কাজ হবে। (পূর্বে) দুনিয়ার জীবনে সে যা-ই করুক। আর জাহান্নামবাসীদের পরিসমাপ্তি জাহান্নামে যাবার ন্যায় ’আমলের দ্বারা শেষ হবে। তার (জীবনের) ’আমল যা-ই হোক। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই হাতে ইশারা করে কিতাব দু’টিকে পেছনের দিকে ফেলে দিয়ে বললেন, তোমাদের রব বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ব থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে রেখেছেন। একদল জান্নাতে যাবে আর অপর একদল জাহান্নামে যাবে- (সূরাহ্ আশ্ শূরা ৪২: ৭)। (তিরমিযী)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي يَده كِتَابَانِ فَقَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا هَذَانِ الكتابان فَقُلْنَا لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا أَنْ تُخْبِرَنَا فَقَالَ لِلَّذِي فِي يَدِهِ الْيُمْنَى هَذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ فِيهِ أَسْمَاءُ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَسْمَاء آبَائِهِم وقبائلهم ثمَّ أجمل على آخِرهم فَلَا يُزَادُ فِيهِمْ وَلَا يُنْقَصُ مِنْهُمْ أَبَدًا ثُمَّ قَالَ لِلَّذِي فِي شِمَالِهِ هَذَا كِتَابٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ فِيهِ أَسْمَاءُ أَهْلِ النَّارِ وَأَسْمَاء آبَائِهِم وقبائلهم ثمَّ أجمل على آخِرهم فَلَا يُزَادُ فِيهِمْ وَلَا يُنْقَصُ مِنْهُمْ أَبَدًا فَقَالَ أَصْحَابُهُ فَفِيمَ الْعَمَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَ أَمْرٌ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ فَقَالَ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا فَإِنَّ صَاحِبَ الْجَنَّةِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ عَمِلَ أَيَّ عَمَلٍ وَإِنَّ صَاحِبَ النَّارِ يُخْتَمُ لَهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ وَإِنْ عَمِلَ أَيَّ عَمَلٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيْهِ فَنَبَذَهُمَا ثُمَّ قَالَ فَرَغَ رَبُّكُمْ مِنَ الْعِبَادِ فريق فِي الْجنَّة وفريق فِي السعير» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيح
ইমাম তিরমিযী ২/২১ নং পৃঃ হাদীসটির হুকুম সম্পর্কে বলেছেন : هذَا حَدِيْثٌ حَسَنْ غَرِيْبٌ صَحِيْحٌ।
আলবানী (রহ) বলেন : হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রহঃ) ও তার মুসনাদের ২/১৬৬ নং পৃঃ বর্ণনা করেছেন যার সানাদ সহীহ। আর শায়খ শান্ক্বীত্বী (রহঃ) তার ‘যাদুল মুসলিম’ নামক গ্রন্থের ১/৭ নং পৃঃ ভুলবশত হাদীসটিকে বুখারী ও মুসলিম (রহঃ)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত বা সম্পৃক্ত করেছেন।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
‘Abdallah b. ‘Amr said:
God’s messenger came out with two books in his hands and asked, “Do you know what these two books are?” We replied, “No, messenger of God, unless you tell us.” Of the one in his right hand he said, “This is a book from the Lord of the universe containing the names of those who will go to paradise, as well as the names of their fathers and their tribes. It is completed to the last man, so there will never be any increase or diminution in their numbers.” Of the one in his left hand he then said, “This is a book from the Lord of the universe containing the names of those who will go to hell, as well as the names of their fathers and their tribes. It is completed to the last man, so there will never be any increase or diminution in their numbers.” His Companions asked, “What then, messenger of God, is the good of doing anything if the matter is already decided?” He replied, “Follow a right course and keep as near to it as you can, for the last act of one who is to go to paradise will be an act appropriate for those who go to paradise no matter what he may have done; but the last act of one who is to go to hell will be an act appropriate for those who go to hell no matter what he may have done.” God’s messenger then made a gesture with his hands throwing the books away and said, “Your Lord has decided everything about mankind; a section will be in paradise and a section in the blaze.”
Tirmidhi transmitted it.
ব্যাখ্যা: তাক্বদীরের ভালো-মন্দের উপর ‘ঈমান’’ রাখতে হবে যা ঈমানের ৬টি রুকনের অন্যতম।
ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) কিময়িয়াতে সা‘দাত কিতাবে বলেছেন, বিশেষ ব্যক্তিদেরকে সাধারণদের থেকে পৃথক করা হয় দু’টি জিনিসের মাধ্যমে। (১) যে সমস্ত বিষয় সাধারণ মানুষ অর্জনের মাধ্যমে সাধন করে থাকে ঐ সমস্ত বিষয় বিশেষ ব্যক্তিরা অর্জন ছাড়াই আল্লাহর পক্ষ থেকে জানতে পারেন। আর এর নাম ‘ইলমে লাদুনী’। যেমনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَعَلَّمْنهٗ مِنْ لَّدُنَّا عِلْمًا
‘‘আর আমরা তাকে ‘ইলমে লাদুনী শিক্ষা দিয়েছিলাম।’’ (সূরাহ্ আল কাহফ ১৮ঃ ৬৫)
(২) সাধারণ জনগণ যা স্বপ্নে দেখেন বিশেষ ব্যক্তিরা তা জাগ্রত অবস্থায় দেখতে পান।
ইসলামী ব্যক্তিবর্গ বলেন, অত্র হাদীসের উপর যে ব্যক্তি যথাযথ বিশ্বাস করবে না নবুওয়াতের হাকীকাতের উপর তার ঈমান থাকবে না।
একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃ
প্রশ্নটি হচ্ছে, হাদীস মতে যদি বিষয়টি এমনই হয় যে, কিতাবে যা লেখা আছে সে অনুপাতেই ফায়সালা হবে, কিতাবে যার নাম জান্নাতী হিসেবে লেখা আছে সে জান্নাতী আর যার জাহান্নামী লেখা আছে সে জাহান্নামী, তাহলে ‘আমল করার প্রয়োজনীয়তা কোথায়?
উক্ত প্রশ্নের উত্তরে ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, ‘‘বান্দাদের তাক্বদীরকে দলীল বানিয়ে ‘আমল থেকে দূরে থাকার কোন সুযোগ নেই। তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে ‘ইবাদাতের জন্য, অতএব তারা ‘আমল করবে।’’
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের কিতাব দু’টি নিক্ষেপ করলেন হেয় প্রতিপন্ন করে নয় বরং তাদেরকে আল্লাহর দিকে নিক্ষেপ করেছেন, এই নিক্ষেপ প্রমাণ করে যে, সেখানে আসলেই কিতাব ছিল আর যদি দৃষ্টান্তমূলক হয় তাহলে অর্থ হবে দু’হাত নিক্ষেপ করলেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯৭-[১৯] আবূ খুযামাহ্ (রহঃ) সূত্রে তার পিতা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা (রোগমুক্তির জন্য) যেসব তন্ত্রমন্ত্র পাঠ করি বা ঔষধ ব্যবহার করে থাকি কিংবা আমরা আত্মরক্ষা করতে যে কোন উপায়ে চেষ্টা করি- এ সকল কি তাক্বদীরকে কিছু পরিবর্তন করতে পারে? তিনি বললেন, এ সকল কাজও আল্লাহর (পূর্বে নির্ধারিত) তাক্বদীরের অন্তর্ভুক্ত। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَن أبي خزامة عَن أَبِيه قَالَ سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رُقًى نَسْتَرْقِيهَا وَدَوَاءً نَتَدَاوَى بِهِ وَتُقَاةً نَتَّقِيهَا هَلْ تَرُدُّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ شَيْئًا قَالَ: «هِيَ مِنْ قَدَرِ الله» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তাঁর জামি‘ আত্ তিরমিযীর ২/৭ নং পৃষ্ঠায় এ হাদীসের হুকুম সম্পর্কে বলেছেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ এ হাদীসের একজন রাবী ‘‘আবূ খুযামাহ্’’ সম্পর্কে ইমাম ইবনু ‘আবদুল বার (রহঃ) বলেনঃ তিনি একজন তাবি‘ঈ কিন্তু তার হাদীস مُضْطَرِبٌ (মুযত্বরিব) তথা যা হাদীস দুর্বল হওযার একটি অন্যতম কারণ। শায়খ আলবানী (রহঃ) হাদীসটি য‘ঈফ আত্ তিরমিযীতে দুর্বল বলেছেন।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Abu Khizama said that his father asked God’s messenger, “Tell me whether spells we invoke, medicine we apply and caution we practise can avert anything God has decreed.” He replied, “They are a part of God’s decree ’
Ahmad, Tirmidhi and Ibn Majah transmitted it.
ব্যাখ্যা: মোট কথা হলো আল্লাহ তা‘আলা ঘটনা এবং ঘটনার কারণ উভয়টিই সৃষ্টি করেছেন এবং কারণসমূহকে সংগঠিত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত করেছেন। সুতরাং কারণসমূহের বিদ্যমানতায় কোন বিষয় সংগঠিত হওয়াও তাক্বদীরের অন্তর্ভুক্ত।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯৮-[২০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা তাক্বদীর সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত ছিলাম। এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে উপস্থিত হন। তিনি এটা দেখে এত রাগ করলেন যে, রাগে তাঁর চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল, মনে হচ্ছিল যেন তাঁর চেহারা মুবারকে আনারের (ডালিমের) রস নিংড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের কি (তর্কে লিপ্ত হওয়া জন্য) নির্দেশ দেয়া হয়েছে অথবা এজন্য কি রসূল বানিয়ে তোমাদের নিকট আমাকে পাঠানো হয়েছে? (জেনে রাখ!) তোমাদের পূর্বে অনেক লোকেরা বিতর্কে লিপ্ত হয়ে তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখনই তারা এ বিষয় নিয়ে বাক-বিতণ্ডা করেছে। আমি তোমাদেরকে কসম করে বলছি, আবারও কসম করে বলছি- সাবধান! এ বিষয় নিয়ে তোমরা কক্ষনো তর্কে জড়িয়ে যেয়ো না। (তিরমিযী)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نَتَنَازَعُ فِي الْقَدَرِ فَغَضِبَ حَتَّى احْمَرَّ وَجْهُهُ حَتَّى كَأَنَّمَا فُقِئَ فِي وجنتيه الرُّمَّانِ فَقَالَ أَبِهَذَا: «أُمِرْتُمْ أَمْ بِهَذَا أُرْسِلْتُ إِلَيْكُمْ إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلُكُمْ حِينَ تنازعوا فِي هَذَا الْأَمر عزمت عَلَيْكُم أَلا تتنازعوا فِيهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ من حَدِيث صَالح المري وَله غرائب يتفرد بهَا لَا يُتَابع عَلَيْهَا قلت: لَكِن يشْهد لَهُ الَّذِي بعده
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তাঁর জামি‘ আত্ তিরমিযীর ২/১৯ নং পৃঃ এ হাদীসের মান সম্পর্কে বলেছেনঃ حَدِيْثٌ غَرِيْبٌ، لَا نَعْرِفُهٗ اِلَّا مِنْ هذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيْثِ صَالِحٍ الْمَرْيِ (হাদীসটি গরীব যা আমরা সালিহ আল মার্য়ি ব্যতীত অন্য কারো সানাদে পাইনি। আর সালিহ আল মার্য়ি-এর অনেকগুলো এক সানাদ বিশিষ্ট বর্ণনা রয়েছে যেগুলোর কোন সমর্থনযোগ্য বর্ণনা নেই।) শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ কিন্তু এ হাদীসের অনেক শাহিদে বর্ণনা রয়েছে যার কারণে হাদীসটি হাসান স্তরের।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Abu Huraira said:
God’s messenger came out to us when we were arguing about God’s decree. He was angry and his face became so red that it looked as if pomegranate seeds had been burst open on his cheeks. He then said, “Is this what you were commanded to do, or was it for this purpose that I was sent to you? Your predecessors perished only when they argued about this matter. I adjure you, I adjure you, not to argue about it.”
Tirmidhi transmitted it, and Ibn Majah transmitted something similar from ‘Amr b. Shu'aib from his father from his grandfather.
ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাগান্বিত হওয়ার কারণ ছিল এই যে, তাক্বদীর হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার গোপন বিষয়সমূহের অন্যতম। আর আল্লাহ তা‘আলার গোপন বিষয় অন্বেষণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, পাশাপাশি যারা তাক্বদীরের বিষয়ে আলোচনা করবে তারা ক্বদারিয়াহ্ বা জাবারিয়্যাহ্ বনে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাছাড়া বান্দারা শারী‘আত প্রণেতার সকল আদেশ পালন করতে আদিষ্ট, এ ব্যাপারে যে সমস্ত জিনিসের গোপন রহস্য সম্পর্কে চিন্তা করা বৈধ নয় তার গোপন রহস্য বের করা ব্যতীত রেখেই।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
৯৯-[২১] ইবনু মাজাহ্ও এ অর্থের একটি হাদীস ’আমর ইবনু শু’আয়ব (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তার পিতা, তার পিতা তার দাদার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وروى ابْن مَاجَه فِي الْقدر نَحْوَهُ عَنْ عَمْرٍو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Ibn Majah transmitted something similar from ‘Amr b. Shu'aib from his father from his grandfather.
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০০-[২২] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ’’আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-কে এক মুঠো মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা তিনি সমগ্র ভূপৃষ্ঠ হতে নিয়েছিলেন। তাই আদম সন্তানগণ (বিভিন্ন মাটির রং অনুযায়ী বিভিন্ন আকৃতিতে) কেউ লাল বর্ণের, কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ মধ্যবর্তী বর্ণের হয়েছে। এরূপে কেউ কোমল মেজাজের, কেউ কঠোর হয়, কেউ সৎ ও কেউ অসৎ প্রকৃতির হয়ে থাকে। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ آدَمَ مِنْ قَبْضَةٍ قَبَضَهَا مِنْ جَمِيعِ الْأَرْضِ فَجَاءَ بَنُو آدَمَ عَلَى قَدْرِ الْأَرْضِ مِنْهُمُ الْأَحْمَرُ وَالْأَبْيَضُ وَالْأَسْوَدُ وَبَيْنَ ذَلِكَ وَالسَّهْلُ وَالْحَزْنُ وَالْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীসটির স্তর বা মান সম্পর্কে বলেছেন ‘হাসান সহীহ’। যেমনটি শায়খ আবুল ফারাজ আস্ সাক্বাফী (রাঃ) তার ‘‘আল ফাওয়া-য়িদ’’ গ্রন্থের ১/৯৭ নং পৃঃ হাদীসটি বর্ণনা করে সহীহ বলেছেন। আর মুসনাদে আহমাদের ৪/৪০৬ নং পৃঃ হাদীসটি রয়েছে। অতএব হাদীসটি সহীহ।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Abu Musa reported that he heard God’s messenger say, “God created Adam from a handful which he took from the whole of the earth; so the children of Adam are in accordance with the earth, some red, some white, some black, some a mixture, also smooth and rough, bad and good.”
Ahmad, Tirmidhi and Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: বানী আদম আল্লাহ তা‘আলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাদের কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কালো বর্ণের হওয়ার কারণ হলো আদম (আঃ)-কে যে একমুষ্টি মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটির অনুপাতেই তাদের এমন বিভিন্নতা।
‘আল্লামা ত্বীবী বলেন, উক্ত হাদীসে ৪টি গুণ যা মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান এবং মাটিও তাই। তবে পরের ৪টি ব্যাখ্যার দাবীদার, কেননা এগুলো (اَلسَّهْلُ) সহজ-সরল, (اَلْحَرْنُ) বিষণ্ণ হওয়া, (اَلْخَبِيْثُ) মন্দ, (اَلطَّيِّبُ) ভালো, আভ্যন্তরীণ চরিত্র।
(اَلسَّهْلُ) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে নরম হওয়া বা ভদ্র হওয়া। (اَلْحُزْنُ) দ্বারা উদ্দেশ্য নির্বুদ্ধিতা, বোকামি; (اَلطَّيِّبُ) দ্বারা উর্বর জমিন, অর্থাৎ- মু’মিন ব্যক্তি যার প্রতিটি ক্ষেত্রেই কল্যাণকর এবং (اَلْخَبِيْثُ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি বা লবণাক্তভূমি, অর্থাৎ- কাফির যার পুরোটাই অকল্যাণকর।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০১-[২৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টজীবকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি তাদের প্রতি স্বীয় নূর (জ্যোতি) নিক্ষেপ করেন। সুতরাং যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেছে, সে সৎপথপ্রাপ্ত হয়েছে। আর যার কাছে তাঁর এ নূর পৌঁছেনি, সে বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। তাই আমি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলিঃ আল্লাহর জ্ঞান ও ইচ্ছা অনুযায়ী যা হওয়ার তা-ই হয়ে কলম শুকিয়ে গেছে। (আহমাদ, তিরমিযী)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٌو قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ خَلْقَهُ فِي ظُلْمَةٍ فَأَلْقَى عَلَيْهِمْ مِنْ نُورِهِ فَمَنْ أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ النُّورِ اهْتَدَى وَمَنْ أَخْطَأَهُ ضَلَّ فَلذَلِك أَقُول: جف الْقلب على علم الله . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
‘Abdallah b. ‘Amr reported that he heard God’s messenger say, “God created His creatures in darkness and cast some of His light upon them. Those on whom some of that light falls will have guidance, but those who are missed by it will go astray. On that account I say that the pen has no more to write about God’s knowledge.”
Ahmad and Tirmidhi transmitted it.
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে তাক্বদীরের আলোচনা করা হয়েছে।
(خَلَقَه) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধুমাত্র মানুষ, জিন্ বা মালাক (ফেরেশতা) নয়। কেননা তাদেরকে কেবল নূর থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে।
লুম্‘আত-এর লেখক বলেন, এখানে (خَلَقَه) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জন্মের সময়, আর নিক্ষেপণের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হিদায়াতের তাওফীক্ব প্রদান এবং শারী‘আতের বিধি-বিধান প্রকাশ হওয়ার সময়। এক কথায় অত্র হাদীসে প্রমাণ রয়েছে যে, যাকে নূর দেয়া হয়েছে সে ব্যতীত সৃষ্টি করার মুহূর্তে মানুষই অন্ধকারে ছিল।
তবে এ ক্ষেত্রে ফিত্বরাতের যে হাদীস আছে তার সাথে এ হাদীসের বিষয়টি একটু সাংঘার্ষিক মনে হয় যে ফিত্রাতের হাদীস প্রমাণ করছে যে, মানুষ জন্মের সময় প্রত্যেকেই ফিতরাতের আলোর উপর থাকে আর এ হাদীসে বলা হলো আলো না দেয়ার আগ পর্যন্ত সবাই অন্ধকারেই থাকে।
যার নিকট আলোর কিছু অংশ পৌঁছাল। কোন কোন বিদ্বান বলেছেন, نور দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো ঈমানের আলো। আর কেউ কেউ বলেছেন, نور দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর নিদর্শন থেকে তাকে চিনবার মতো মানবিকতা। অতএব আল্লাহ তা‘আলা যাকে হিদায়াত দান করবেন সে আল্লাহ তা‘আলার এসব নিদর্শন দেখে আল্লাহর অস্তিত্ব বুঝতে পারে আর আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা করেন না সে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তার নিদর্শন খুঁজে পায় না। এটাই আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্রে বলেছেন,
اَوَ مَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَه نُوْرًا
‘‘যে ছিল মৃত্যু তাকে আমি জীবিত করলাম এবং তাকে আলো (হিদায়াতের আলো) দান করি।’’ (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৬ঃ ১২২)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন,
اَفَمَن شَرَحَ اللّهُ صَدْرَه لِلْاِسْلَامِ فَهُوَ عَلى نُوْرٍ مِّنْ رَّبِّه
‘‘আল্লাহ তা‘আলা যার সীনাকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করেছেন সে তার রবের আলোর উপর আছে।’’ (সূরাহ্ আয্ যুমার ৩৯ঃ ২২)
অতএব, বুঝা গেল হিদায়াত এবং ভ্রষ্টতা সবই আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০২-[২৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সময়ই এ দু’আ করতেনঃ ’’হে অন্তর পরিবর্তনকারী আল্লাহ! আমার হৃদয়কে তোমার দীনের উপর দৃঢ় রাখ’’। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমরা আপনার ওপর এবং আপনি যে দীন নিয়ে এসেছেন, তার ওপর ঈমান এনেছি। এরপরও কি আপনি আমাদের সম্পর্কে আশংকা করেন? জবাবে তিনি বললেন, কেননা ’ক্বল্ব, আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মধ্যে রয়েছে (অর্থাৎ- তাঁর নিয়ন্ত্রণ ও অধিকারে রয়েছে)। তিনি যেভাবে চান সেভাবে (অন্তরকে) ঘুরিয়ে থাকেন। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ: «يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ» فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ آمَنَّا بِكَ وَبِمَا جِئْتَ بِهِ فَهَلْ تَخَافُ عَلَيْنَا؟ قَالَ: «نَعَمْ إِنَّ الْقُلُوبَ بَيْنَ أُصْبُعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ اللَّهِ يُقَلِّبُهَا كَيْفَ يَشَاءُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Anas reported that God’s messenger often said, “O Thou who turnest the hearts about, establish my heart in Thy religion.” Anas said, “Prophet of God, do you fear for us who believe in you and in your message?” He replied, “Yes. The hearts are between two of God’s fingers and He turns them about as He wills.”
Tirmidhi and Ibn Majah transmitted it.
ব্যাখ্যা: (يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلى دِينِكَ) ‘‘হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তর তুমি তোমার দীনের উপর অবিচল রেখো।’’ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দু‘আ বেশী বেশী করতেন। প্রশ্ন হচ্ছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর আল্লাহর দীন থেকে পরিবর্তন হয়ে অন্য কোন দিকে চলে যাওয়ার আশংকা কখনোই ছিল না। তাকে আল্লাহ হিফাযাত করেছেন, তারপরও এ দু‘আ করার উদ্দেশ্য কি? উত্তরঃ উদ্দেশ্য হলো, তার উম্মাতকে শিক্ষা দেয়া।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০৩-[২৫] আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহর হাতে (মানুষের) ’ক্বলব’ (কলব) বা মন, যেমন কোন তৃণশূন্য মাঠে একটি পালক, যাকে বাতাসের গতি বুকে-পিঠে (এদিক-সেদিক) ঘুরিয়ে থাকে।[1] (আহমাদ)
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلُ الْقَلْبِ كَرِيشَةٍ بِأَرْضِ فَلَاةٍ يُقَلِّبُهَا الرِّيَاحُ ظَهْرًا لِبَطْنٍ» . رَوَاهُ أَحْمد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Abu Musa reported that God’s messenger said, “The heart is like a feather in desert country which the winds keep turning over and over.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: (يُقَلِّبُهَا الرِّيَاحُ ظَهْرًا لِّبَطْنٍ) ‘‘যাকে বাতাসের গতি এদিক-সেদিক ঘুরিয়ে থাকে।’’ অর্থাৎ- তৃণহীন মাঠে পরে থাকা পালককে বাতাসের গতি যেমন এদিক-সেদিক উলট-পালট করে ফেলে, এতে কোন কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। মানুষের অন্তর তদ্রূপ আল্লাহ তা‘আলার হাতের মুঠোতে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে উলট-পালট করে থাকেন। তাইতো তা কোন সময় কল্যাণকামী হয় আবার মুহূর্তেই তা অকল্যাণকামী হয়ে যায়।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০৪-[২৬] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন বান্দা মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এ চারটি বিষয়ের উপর ঈমান না আনেঃ (১) সে সাক্ষী দিবে আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই, (২) নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর রসূল, আল্লাহ আমাকে দীনে হক সহকারে পাঠিয়েছেন, (৩) মৃত্যু ও মৃত্যুর পরে হাশ্রের (হাশরের) মাঠে পুনরুত্থান দিবসে বিশ্বাস রাখবে এবং (৪) তাক্বদীরের উপর বিশ্বাস রাখবে। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ عَلِيٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يُؤْمِنُ عَبْدٌ حَتَّى يُؤْمِنَ بِأَرْبَعٍ: يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ بَعَثَنِي بِالْحَقِّ وَيُؤْمِنُ بِالْمَوْتِ وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَيُؤْمِنُ بِالْقَدَرِ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَه
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
‘Ali reported that God’s messenger said, “A man is not a believer till he believes in four things :
he must testify that there is no god but God and that I am God’s messenger whom He sent with the truth ; he must believe in death and in the resurrection after death; and he must believe in the divine decree."
Tirmidhi and Ibn Majah transmitted it.
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত চারটি বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে কোন ব্যক্তি মু’মিন হতে পারবে না। এ থেকে জানা যায় যে, তাক্বদীর অস্বীকারকারীগণ মু’মিন নয়। তারা কাফির যদিও তারা আল্লাহর একত্ববাদে এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বিশ্বাসী।
(يُؤْمِنُ بِالْمَوْتِ) ‘‘মৃত্যুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।’’ অর্থাৎ- এ বিশ্বাস রাখে যে, এ দুনিয়া স্থায়ী নয় তা ধ্বংস হয়ে যাবে অথবা এ বিশ্বাস রাখে আল্লাহর নির্দেশে মৃত্যু ঘটে প্রকৃতিবাদীদের মতো মনে করে না যে, শরীর বিনষ্ট হয়ে যাবার কারণে মৃত্যু ঘটে।
(يُؤْمِنُ بِالْقَدَرِ) ‘‘তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।’’ অর্থাৎ- এ বিশ্বাস রাখে যে, সারাবিশ্বে যা ঘটে তা আল্লাহর ফায়সালা অনুযায়ী ঘটে। এতে এ প্রমাণ পাওয়া যায় যে, তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ঈমানের একটি রুকন, এ বিশ্বাস ব্যতীত ঈমানের অস্তিত্ব নেই।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০৫-[২৭] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে দু’ রকমের লোক রয়েছে, তাদের জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই। তারা হলোঃ (১) মুর্জিয়াহ্ ও (২) ক্বদারিয়্যাহ্। (তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِنْفَانِ مِنْ أُمَّتِي لَيْسَ لَهُمَا فِي الْإِسْلَامِ نَصِيبٌ: الْمُرْجِئَةُ وَالْقَدَرِيَّةُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Ibn ‘Abbas reported that God’s messenger said, “There are two classes among my people who have no portion in Islam, the Murji’a and the Qadariya."
Tirmidhi transmitted it and said this is a gharib tradition.
ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা শাহরাস্তানী বলেন, إلْارْجَاءُ-এর দু’টি অর্থ হতে পারে। ১. বিলম্ব করা। যেমনঃ ‘আরবরা বলে থাকে, অবকাশ দাও। ২. আশা দেয়া। এই দুই অর্থই উক্ত হাদীসে উল্লিখিত মুরজিয়াহ্ দলের ওপর নেয়া যেতে পারে। কেননা তারা ‘আমলকে নিয়্যাত থেকে বিলম্বিত করে এবং তারা এ কথা বলে যে, ঈমানের পরে যতই পাপ হোক না কেন তাতে কোন ক্ষতি হবে না। যেমনিভাবে কুফরীর অবস্থায় কোন ভালো কাজ কোনই উপকারে আসবে না।
তিনি আরো বলেন, মুর্জিয়াহ্ চার শ্রেণীরঃ ১. খাওয়ারিজের মুরজিয়াহ্ দল ২. ক্বদারিয়্যাদের মুরজিয়াহ্ দল ৩. জাবরিয়াদের মুরজিয়াহ্ দল ৪. মূল মুরজিয়াহ্ দল।
অতঃপর তিনি মূল মুরজিয়াদের আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে, যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে জানতে চায় সে যেন ‘‘আল মিলাল ওয়া আন্ নিহাল’’ কিতাব দেখেন। আর অত্র হাদীসে মুরজিয়াহ্ দ্বারা জাবরিয়াই উদ্দেশ্য।
‘আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেছেন, এ তাক্বদীরের বিষয়ের হাদীসগুলো সহীহ, হাসান, য‘ঈফ সবগুলোই প্রমাণ করছে কোন তর্ক ছাড়াই তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনতে হবে, যা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। অতএব, তাক্বদীরকে অস্বীকার করা বা মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা কুফরী গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। (আল্লাহই ভালো জানেন)
(والقَدَرية) দু’টোতেই যবর দিয়ে অথবা দালে সাকিন দিয়ে পড়া যায়। যারা বলে থাকে বান্দা নিজেই তার কর্মসমূহের স্রষ্টা এক্ষেত্রে তাক্বদীরের কোন প্রাধান্য নেই। এই নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে যারা তাক্বদীরকে স্বীকার করে না তারা এই কারণে যে, তারা তাক্বদীর সম্পর্কে কথা বলে এবং তাক্বদীর অস্বীকার করার দলীল উপস্থাপন করে। তাদের বাড়াবাড়ির কারণেই এ নামে প্রসিদ্ধ হতে তারাই বেশী হকদার।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০৬-[২৮] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, ’আমার উম্মাতের মধ্যেও ’খাসফ’ (জমিন ধ্বসিয়ে বা অদৃশ্য করে দেয়া) এবং ’মাসখ’ (চেহারা বা আকার পরিবর্তন করে দেয়ার) মত শাস্তি হবে। তবে এ শাস্তি তাক্বদীরের প্রতি অবিশ্বাসকারীদের মধ্যেই হবে। আবূ দাঊদ, ইমাম তিরমিযীও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «يَكُونُ فِي أُمَّتِي خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَذَلِكَ فِي الْمُكَذِّبِينَ بِالْقَدَرِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وروى التِّرْمِذِيّ نَحوه
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Ibn ‘Umar said:
I heard God’s messenger say, “Some of my people will be swallowed up and some will be metamorphosed. That will come about among those who declare God’s decree to be false."
Abu Dawud transmitted it and Tirmidhi transmitted something similar.
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০৭-[২৯] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ক্বদারিয়্যাগণ হচ্ছে এ উম্মাতের মাজূসী (অগ্নিপূজক)। অতঃপর তারা যদি অসুস্থ হয়, তাদেরকে দেখতে যাবে না, আর যদি মারা যায়, তবে তাদের জানাযায় উপস্থিত হয়ো না। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْقَدَرِيَّةُ مَجُوسُ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِنْ مَرِضُوا فَلَا تَعُودُوهُمْ وَإِنْ مَاتُوا فَلَا تشهدوهم» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Ibn ‘Umar reported God’s messenger as saying, “The Qadariya are the Magians of this people. If they are ill, do not visit them, and if they die, do not attend their funerals."
Ahmad and Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি ‘‘ক্বদারিয়্যারাই এ উম্মাতের মাজূসী’’-এর ব্যাখ্যাঃ
‘‘এ উম্মাত’’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দা‘ওয়াত কবূলকারী উম্মাত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বদারিয়্যাহ্-কে ‘অগ্নিপূজক’ বলার কারণ হচ্ছে (তাদের কথা হচ্ছে) বান্দা তার নিজের কাজের স্রষ্টা নিজেই। তাদের কাজ আল্লাহ তা‘আলার তাক্বদীরে এবং তার ইচ্ছায় হয় না। এ কথাটি অগ্নিপূজকদের কথার সদৃশ, কেননা তারা বলে পৃথিবীর প্রভু হচ্ছেন দু’জন।
১. কল্যাণের স্রষ্টা যার নাম ইয়াযদান তথা আল্লাহ তা‘আলা।
২. অকল্যাণের স্রষ্টা যার নাম আহারমান, অর্থাৎ- শায়ত্বন (শয়তান)।
আরো বলা হয়ে থাকে, অগ্নিপূজকরা বলে থাকে ভালো কাজ হচ্ছে نور তথা আলোর কৃতি, আর খারাপ কাজ হচ্ছে ظلمة তথা অন্ধকারের কৃতি। অতএব তারা দ্বৈতবাদীতে পরিণত হলো এমনিভাবে ক্বদারিয়্যারা তারা বলে ভালো আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আর খারাপ আসে অন্যের পক্ষ থেকে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০৮-[৩০] ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ক্বদারিয়্যাদের সাথে উঠা-বসা করো না এবং তাদেরকে হাকিম বা বিচারক নিযুক্ত করো না। (আবূ দাঊদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُجَالِسُوا أَهْلَ الْقَدَرِ وَلَا تفاتحوهم» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
‘Ibn Umar reported God’s messenger as saying, “Do not sit with those who believe in freewill and do not address them before they address you."
Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে বুঝা গেল ক্বদারিয়্যাদের কাছে বসা যাবে না এবং তাদের কাছে বিচারের মুক্বদ্দামাহ্ নিয়ে যাওয়া যাবে না।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১০৯-[৩১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ছয় রকম মানুষের প্রতি আমি লা’নাত (অভিশাপ) করি এবং আল্লাহ তা’আলাও তাদের প্রতি অভিশপ্ত করেছেন। আর প্রত্যেক নবীর দু’আই কবূল হয়ে থাকে। (১) যারা আল্লাহর কিতাবের মধ্যে সংযোজন; (২) যে ব্যক্তি তাক্বদীরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে; (৩) যে ব্যক্তি এ উদ্দেশে জোর-জবরে ক্ষমতা দখল করে, আল্লাহ যাদেরকে অপমানিত লাঞ্ছিত করেছেন (কাফির-মুশরিক-ফাসিক্ব) তাদের যেন সে মর্যাদা দান করতে পারে এবং আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন (মু’মিন দীনদার) তাদের যেন অপমানিত ও লাঞ্ছিত করতে পারে; (৪) যে ব্যক্তি আল্লাহর হারামে (মক্কায়) এমন সীমালঙ্ঘন করে, যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন; (৫) যে ব্যক্তি আমার আহলে বায়ত-এর (অসম্মান করা এবং তাদের কষ্ট দেয়া) আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল মনে করে এবং (৬) যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (নিয়ম-কানুন) পরিত্যাগ করে। (ইমাম বায়হাক্বী’র ’’মাদখাল’’ গ্রন্থে ও রযীন তাঁর স্বীয় গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: `` سِتَّةٌ لَعَنْتُهُمْ وَلَعَنَهُمُ اللَّهُ وَكُلُّ نَبِيٍّ يُجَابُ: الزَّائِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَالْمُكَذِّبُ بِقَدَرِ اللَّهِ وَالْمُتَسَلِّطُ بِالْجَبَرُوتِ لِيُعِزَّ مَنْ أَذَلَّهُ اللَّهُ وَيُذِلَّ مَنْ أَعَزَّهُ اللَّهُ وَالْمُسْتَحِلُّ لِحَرَمِ اللَّهِ وَالْمُسْتَحِلُّ مِنْ عِتْرَتِي مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَالتَّارِكُ لِسُنَّتِي ``. رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل ورزين فِي كِتَابه
লেখকের শেষের কথা ধারণা দেয় যে, হাদীসটি ইমাম বায়হাক্বী ও রযীন-এর চেয়ে প্রসিদ্ধ, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন কেউ রিওয়ায়াত করেননি। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। কারণ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী জামি‘ আত্ তিরমিযীর ২/২২, ২৩ পৃঃ ক্বদ্র (কদর) অধ্যায়ে, ইমাম ত্ববারানী তার ‘‘আল মু‘জামুল কাবীর’’ গ্রন্থের ১/২৯১ পৃঃ এবং ইমাম হাকিম ১/৩৬ পৃঃ বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাকিম (রহঃ) একে দোষমুক্ত সহীহ হাদীস হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আর ইমাম যাহাবী তার এ মতকে সমর্থন করেছেন। তবে ইমাম তিরমিযী এর মুরসাল হওয়াকে অধিক সঠিক বলেছেন।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
‘A’isha reported that God’s messenger said, “There are six whom I have cursed, whom I pray that God may curse, and every prophet’s prayer is answered:
He who makes additions to God’s Book, he who declares God’s decree to be false, he who rules proudly to exalt him whom God has humbled and humble him whom God has exalted, he who profanes God’s sacred area, he who considers he may do to my family what God has declared forbidden, and he who abandons my sunna.”
Baihaqi transmitted it in the introduction and Razin in his book.
ব্যাখ্যা: অবজ্ঞাবশত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে সে কাফির হয়ে যাবে এবং সে অভিশপ্ত। আর অবজ্ঞা করে নয় বরং অলসতাবশত যদি কেউ তা করে তাহলে সে পাপী হবে কাঠিন্য অর্থে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১০-[৩২] মাত্বার ইবনু ’উকামিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর কোন বান্দার নির্ধারিত কোন জায়গায় মৃত্যুর ফায়সালা করেন, তখন সে জায়গায় তার যাওয়ার জন্য একটি প্রয়োজনও তৈরি করে দেন। (আহমাদ ও তিরমিযী)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَن مطر بن عكام قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قَضَى اللَّهُ لِعَبْدٍ أَنْ يَمُوتَ بِأَرْضٍ جَعَلَ لَهُ إِلَيْهَا حَاجَةً» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيّ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Matar b. ‘Ukamis reported God’s messenger as saying, “When God decrees that someone should die in a certain land, He gives him a reason for going there."
Ahmad and Tirmidhi transmitted it.
ব্যাখ্যা: (جَعَلَ لَه إِلَيْهَا حَاجَةً) ‘‘আল্লাহ তা‘আলা সে জায়গায় তার যাওয়ার জন্য কোন প্রয়োজন তৈরি করে দেন।’’ অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা যেখানে যার মৃত্যু ঘটাবেন সে যদি ঐ এলাকার বাসিন্দা না হন তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ঐ জায়গায় নেয়ার জন্য তার কোন প্রয়োজন তৈরি করেন। সে ঐ প্রয়োজন পূরণ করার জন্য সেখানে যান। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা সেখানেই তার মৃত্যু ঘটান। এতে কুরআনে বর্ণিত এ কথার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে- وَمَا تَدْرِىْ نَفْسٌ بِأَيِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ ‘‘কোন আত্মাই জানে না সে কোথায় মৃত্যুবরণ করবে’’- (সূরাহ্ লুক্বমান ৩১ঃ ৩৪)। উক্ত হাদীসে দলীল পাওয়া যায় তাক্বদীরের।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১১-[৩৩] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! মু’মিনদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের (জান্নাত-জাহান্নাম সংক্রান্ত ব্যাপারে) কী হুকুম? তিনি উত্তরে বললেন, তারা বাপ-দাদার অনুসারী হবে। আমি বললাম, কোন (নেক) ’আমল ছাড়াই? তিনি বললেন, আল্লাহ অনেক ভালো জানেন, তারা জীবিত থাকলে কী ’আমল করতো। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা মুশরিকদের (নাবালেগ) বাচ্চাদের কী হুকুম? তিনি বললেন, তারাও তাদের বাপ-দাদার অনুসারী হবে। (অবাক দৃষ্টিতে) আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন (বদ) ’আমল ছাড়াই? উত্তরে তিনি বললেন, সে বাচ্চাগুলো বেঁচে থাকলে কী ’আমল করত, আল্লাহ খুব ভালো জানেন। (আবূ দাঊদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَرَارِيُّ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: «مِنْ آبَائِهِمْ» . فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِلَا عَمَلٍ؟ قَالَ: «اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ» . قُلْتُ فذاراري الْمُشْرِكِينَ؟ قَالَ: «مِنْ آبَائِهِمْ» . قُلْتُ: بِلَا عَمَلٍ؟ قَالَ: «اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا عَامِلِينَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
‘A’isha said:
I asked, “Messenger of God, what happens to the offspring of believers?’’ He replied, “They are joined to their parents." I asked, “Although they have done nothing, messenger of God” lie replied, “God knows best what they were doing.” I asked, “What happens to the offspring of polytheists?” He replied, “They are joined to their parents.” I asked, “Although they have done nothing?” He replied, “God knows best what they were doing.”
Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা তুরবিশতী (রহঃ) বলেছেন, তারা তাদেরই অন্তর্গত হবে তারা জান্নাতী হলে জান্নাতী আর জাহান্নামী হলে জাহান্নামী হবে। কেননা, ইসলামী শারী‘আতে পিতা-মাতা যদি ইসলামের উপর তার বিধান দিয়ে থাকে এবং আদেশ দেয় তাদের (এই সমস্ত শিশুর) জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন। অনুরূপভাবে মুশরিকদের সন্তানদের দাস বানিয়ে রাখতে এবং মুসলিম ও মুশরিকের মাঝে উত্তরাধিকার বাতিল করে। অতএব, হাদীসের বাহ্যিক অর্থে তারা তাদের পিতামাতার সাথেই মিলিত হবে।
(قُلْتُ بِلَا عَمَلٍ) হাদীসের এ অংশটুকু ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে বের হয়েছে যা তিনি স্বভাবতই আশ্চার্যান্বিত হয়ে বলেছেন।
(قَالَ اللّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا) অর্থাৎ- ‘যদি তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়’ এ অংশটুকু ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর আশ্চর্যান্বিত হয়ে করা প্রশ্নের প্রতি উত্তর পাশাপাশি তা তাক্বদীরের প্রতি ইঙ্গিতবাহী, এজন্যই অত্র হাদীসটিকে তাক্বদীরের অধ্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে।
ইমাম তুরবিশতী (রহঃ) বলেন, তারা দুনিয়াতে তাদের পিতামাতার অনুগামী, তবে আখিরাতের বিষয় আল্লাহর ওপর ন্যাস্ত, তিনিই ভালো জানেন তাদের কি হবে?
ক্বাযী ‘ইয়াযও এমনটাই মতামত পোষণ করেছেন যে, সাওয়াব এবং শাস্তি কোনটাই ‘আমলের কারণে হবে না। কেননা যদি ‘আমলের কারণেই জান্নাত জাহান্নাম বা শাস্তি সাওয়াব হতো তাহলে মুশরিক সন্তানেরা জাহান্নামী আর মুসলিমদের সন্তানেরা জান্নাতী হওয়ার কথা নয়। বরং আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার শাস্তি এগুলো সব তাক্বদীরের বিষয়। অতএব, এ বিষয়ে আবশ্যক হচ্ছে বিষয়টিকে স্থগিত রাখা এবং তা আল্লাহর দিকে ন্যাস্ত করে দেয়া, এটা হচ্ছে পরকালের ক্ষেত্রে। আর দুনিয়াতে ভালো কাজ জান্নাতী হওয়ার আর খারাপ কাজ জাহান্নামী হওয়ার দলীল বহন করে।
‘আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেন, আমি বলবো, মুসলিমের সন্তান জান্নাতী সকলের ঐকমত্যে হবে, মুশরিকের সন্তানের ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে কিন্তু সবচেয়ে সঠিক এবং বিশ্লেষণমূলক মত হচ্ছে তারাও জান্নাতী। আর অত্র হাদীস সহ অন্যান্য এমন যত হাদীস আছে এগুলোকে তা‘বীল করতে হবে অথবা এগুলোর অর্থ এমন হবে যে, আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেছিলেন, তারা যে জান্নাতী এ খবর জানার আগেই। আল্লাহই ভালো জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১২-[৩৪] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয় এবং যে মেয়েকে কবর দেয়া হয়, উভয়ই জাহান্নামী। (আবূ দাঊদ ও তিরমিযী)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الوائدة والموؤدة فِي النَّار . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2
Ibn Mas'ud reported God’s messenger as saying, “The one who buries her daughter alive and the one who is buried alive go to hell.”
Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: الْوَائِدَةُ অর্থাৎ- যারা জীবন্ত সন্তান দাফন করে। আর কেউ কেউ বলেছেন, ধাত্রী বা সন্তান প্রসবে সহায়তাকারিণী। মহিলাকে বিশেষ উল্লেখ করার কারণ হলো জীবন্ত সন্তান কবর দেয়ার কাজটি তাদের মাধ্যমে বেশী হয়।
‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী আল্ ক্বারী হানাফী (রহঃ) বলেন, এটা ছিল দারিদ্র্যতার ভয়ে জাহিলী যুগে কিছু আরব গোত্রের ঘৃণ্যতর ভয়ানক স্বভাব।
ক্বাযী ‘ইয়ায (রহঃ) বলেছেন, সন্তানকে জীবন্ত গোরস্থকারী তার কৃতকর্মের জন্য জাহান্নামী হবে। আর গোরস্থ সন্তানটি কুফরীর জন্য তার পিতা-মাতার অনুগামী হবে।
অথবা গোরস্থানের ব্যাপারে এমনটা বলা যোতে পারে যে, সে প্রাপ্তবয়স্কা কাফির ছিল অথবা অপ্রাপ্তবয়স্কই, তবে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার ওয়াহী অথবা বিশেষ জ্ঞানের মাধ্যমেই তার সম্পর্কে জাহান্নামী হওয়ার মন্তব্য করেছেন। অতএব, এ মুহূর্তে الْوَائِدَةُ শব্দের আলিফ লামটি ইসতিগরাকী (তথা সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন) না হয়ে আহদ (তথা বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) হওয়া যুক্তিযুক্ত।
অতএব ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত অত্র হাদীসের মাধ্যমে এ কথা বলা যাবে না যে, মুশরিকদের সকল সন্তানই জাহান্নামী। কেননা এটা এক বিশেষ ঘটনা ছিল, অতএব সেটিকে সকল গোরস্থ সন্তানদের ওপর ব্যাপক অর্থে ধরা যাবে না। যদিও নিয়মানুপাতে শব্দের ব্যাপক অর্থের উপরই ‘আমল করতে হয়, তথাপি দু’ শ্রেণীর হাদীসের সমন্বয় সাধনের নিমেত্তেই এই প্রয়াস।
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১৩-[৩৫] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ’আয্যা ওয়াজাল্লা পাঁচটি বিষয়ে তাঁর সৃষ্টজীবের জন্য চূড়ান্তভাবে (তাক্বদীরে) লিখে দিয়ে নির্ধারিত করে রেখেছেনঃ (১) তার আয়ুষ্কাল (জীবনকাল), (২) তার ’আমল (কর্ম), (৩) তার অবস্থান বা মৃত্যুস্থান, (৪) তার চলাফেরা (গতিবিধি) এবং (৫) এবং তার রিয্ক্ব (রিজিক/রিযিক) (জীবিকা)। (আহমাদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
عَن أبي الدرداد قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَرَغَ إِلَى كُلِّ عَبْدٍ مِنْ خَلْقِهِ مِنْ خَمْسٍ: مِنْ أَجَلِهِ وَعَمَلِهِ وَمَضْجَعِهِ وَأَثَرِهِ وَرِزْقِهِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Abud Darda' reported God’s messenger as saying, “God has preordained five things for every man He has created:
his period of life, his action, his lying down, his moving about, and his provision.”
Ahmad transmitted it.
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১৪-[৩৬] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তাক্বদীর বিষয়ে আলোচনা করবে, কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। অপরদিকে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে কোন আলোচনা করবে না, তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে না। (ইবনু মাজাহ্)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ تَكَلَّمَ فِي شَيْءٍ مِنَ الْقَدَرِ سُئِلَ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يَتَكَلَّمْ فِيهِ لم يسْأَل عَنهُ» . رَوَاهُ ابْن مَاجَه
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
‘A’isha said that she heard God’s messenger say, “He who discusses any aspect of God’s decree will be questioned about it on the day of resurrection, but he who does not discuss it will not be questioned about it.”
Ibn Majah transmitted it.
ব্যাখ্যা: (مَنْ تَكَـلَّمَ فِيْ شَيْءٍ مِنْ الْقَدَرِ) এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এখানে فِيْ شَيْءٍ বলা হয়েছে فِيْ الْقَدَرِ বলা হয়নি। এর কারণ হলো, যাতে করে স্বল্পের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞার প্রতি জোর দেয়া যায়। অর্থাৎ- যে কেউ তাক্বদীরের একটি ক্ষুদ্র বিষয়েও আলোচনা করবে এর জন্য তাকে ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) দিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। অতএব যদি কেউ বেশী করে তাহলে তো কোন কথাই নেই।
(يُسْأَلْ عَنْهُ) ধমকের সাথে বলা হয়েছে অথবা এখানে সাধারণভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে এটাও বলা যায়।
‘আল্লামা আলী ক্বারী (রহঃ) বলেন, অন্যান্য যাবতীয় কথা এবং কাজের মতো তাক্বদীরের বিষয়ে কথা বললেও তাকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে এবং এজন্য তাকে উপযুক্ত বিনিময় দেয়া হবে।
(لَمْ يُسْأَلْ عَنْهُ) ‘তাকে জিজ্ঞেস করা হবে না’ এর অর্থ হলো তাকে এ কথা বলা হবে না তুমি তাক্বদীরের বিষয়ে কেন কথা বললে না? অতএব এ বিষয়ে কথা বলার চেয়ে না বলাই তার জন্য উত্তম হলো।
অতএব কোন ব্যক্তি তাক্বদীরের প্রতি যখন ঈমান রাখলো আর সে বিষয়ে বেশী বেশী আলোচনা না করলো তার ওপরে এই অভিযোগ আসবে না যে, সে কেন তাক্বদীরের বিষয়ে ব্যুৎপত্তি তথা গভীর জ্ঞান লাভ করেনি কেননা এ বিষয়ে সে আদিষ্ট নয়। এজন্যই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ ব্যাপারেই কি তোমরা আদিষ্ট হয়েছ? এবং তিনি আরো বলেছেন, ‘‘যখন তাক্বদীরের আলোচনা করা হয় তখন তোমরা তা থেকে বিরত থাকো।’’
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১৫-[৩৭] ইবনু আদ্ দায়লামী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছে আমি তাকে বললাম, তাক্বদীর সম্পর্কে আমার মনে একটি সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। তাই আপনি আমাকে কিছু হাদীস শুনান যাতে আল্লাহর মেহেরবানীতে আমার মন থেকে (তাক্বদীর সম্পর্কে) এসব সন্দেহ-সংশয় দূরীভূত হয়। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা যদি সমস্ত আকাশবাসী ও দুনিয়াবাসীকে শাস্তি দিতে ইচ্ছা করেন, তবে তা দিতে পারেন। এতে আল্লাহ যালিম বলে সাব্যস্ত হবেন না। পক্ষান্তরে তিনি যদি তাঁর সৃষ্টজীবের সকলের প্রতিই রহমত করেন, তবে তাঁর এ রহমত তাদের জন্য সকল ’আমল হতে উত্তম হবে। সুতরাং তুমি যদি উহুদ পাহাড়সম স্বর্ণও আল্লাহর পথে দান কর, তোমার থেকে তিনি তা গ্রহণ করবেন না, যে পর্যন্ত তুমি তাক্বদীরে বিশ্বাস না করবে এবং যা তোমার ভাগ্যে ঘটেছে তা তোমার কাছ থেকে কক্ষনো দূরে চলে যাবে না- এ কথাও তুমি বিশ্বাস না করবে, আর যা এড়িয়ে গেছে তা কক্ষনো তোমার নিকট আর আসবে না- এ বিশ্বাস স্থাপন করা ব্যতীত যদি তোমার মৃত্যু হয় তবে অবশ্যই তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
ইবনু আদ্ দায়লামী বলেন, উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ)-এর এ বর্ণনা শুনে আমি সাহাবী ’আবদুল্লাহ ইবন মাস্’ঊদ (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও আমাকে এ কথাই প্রত্যুত্তর করলেন। তিনি বলেন, তারপর হুযায়ফাহ্ ইবনু ইয়ামান (রাঃ)-এর নিকট যেয়েও জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও আমাকে একই প্রত্যুত্তর করলেন। এরপর যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর কাছে আসলাম। তিনি স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম করেই আমাকে একই ধরনের কথা বললেন। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَنِ ابْنِ الدَّيْلَمِيِّ قَالَ: أَتَيْتُ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ فَقُلْتُ لَهُ: قَدْ وَقَعَ فِي نَفْسِي شَيْء من الْقدر فَحَدثني بِشَيْء لَعَلَّ الله أَن يذهبه من قلبِي قَالَ لَو أَن الله عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وأَهْلَ أَرْضِهِ عَذَّبَهُمْ وَهُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ وَلَوْ رَحِمَهُمْ كَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ وَلَوْ أَنْفَقْتَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْكَ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ وَتَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ وَأَنَّ مَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ وَلَوْ مُتَّ عَلَى غَيْرِ هَذَا لَدَخَلْتَ النَّارَ قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ فَقَالَ مثل ذَلِك قَالَ ثُمَّ أَتَيْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَحَدَّثَنِي عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ. رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Ibn ad-Dailami said:
I went to Ubayy b. Ka‘b and said to him, “I am confused about the divine decree, so tell me something by means of which God may remove the confusion from my mind.” He replied, “Were God to punish everyone in the heavens and the earth He would do so without being unjust to them, and were He to show mercy to them His mercy would be much better than their actions merited. Were you to spend in support of God’s cause an amount of gold equivalent to Uhud, God would not accept it from you till you believed in the divine decree and knew that what has come to you could not miss you and that what has missed you could not come to you. Were you to die believing anything else you would enter hell.” He said: I then went to ‘Abdallah b. Mas'ud and he said something to the same effect. I next went to Hudhaifa b. al-Yaman and he said something to the same effect. I next went to Zaid b. Thabit and he told me something from the Prophet to the same effect.
Ahmad, Abu Dawud and Ibn Majah transmitted it.
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১৬-[৩৮] নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, অমুক লোক আপনাকে সালাম দিয়েছে। উত্তরে ইবনু ’উমার (রাঃ) বললেন, আমি শুনেছি, সে নাকি দীনের মধ্যে নতুন মত তৈরি করেছে (অর্থাৎ- তাক্বদীরের প্রতি অবিশ্বাস করছে)। যদি প্রকৃতপক্ষে সে দীনের মধ্যে নতুন কিছু তৈরি করে থাকে, তাহলে আমার পক্ষ হতে তাকে কোন সালাম পৌঁছাবে না। কেননা আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমার উম্মাতের অথবা এ উম্মাতের মধ্যে জমিনে ধ্বসে যাওয়া, চেহারা বিকৃত রূপ ধারণ করা, শিলা পাথর বর্ষণের মতো আল্লাহর কঠিন ’আযাব পতিত হবে, তাদের ওপর যারা তাক্বদীরের প্রতি অস্বীকারকারী হবে। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ্; ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
عَن نَافِع أَن ابْن عمر جَاءَهُ رجل فَقَالَ إِنَّ فُلَانًا يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلَامَ فَقَالَ لَهُ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّهُ قَدْ أَحْدَثَ فَإِنْ كَانَ قَدْ أَحْدَثَ فَلَا تُقْرِئْهُ مِنِّي السَّلَامَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول يكون فِي هَذِه الْأمة أَو فِي أمتِي الشَّك مِنْهُ خَسْفٌ أَوْ مَسْخٌ أَوْ قَذْفٌ فِي أَهْلِ الْقَدَرِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Nafi' told how a man came to Ibn ‘Umar with a message that so and so sent him a greeting. He replied that he had heard he had introduced an innovation and that if that were so, he was not to convey his greeting to him, for he had heard God’s messenger say, “Among my people,” or “among this people the believers in freewill will be swallowed up and metamorphosed or pelted.”
Tirmidhi, Abu Dawud, and Ibn Majah transmitted it, and Tirmidhi said this is a hasan sahih gharib tradition.
ব্যাখ্যা: (بَلَغَنِيْ أَنَّهٗ قَدْ أَحْدَثَ) অর্থাৎ- আমার কাছে পৌঁছেছে যে, সে বিদ্‘আত চালু করেছে তাক্বদীরের বিষয়ে।
(فَلَا تُقْرِئْهُ مِنِّي السَّلَامَ) ‘আল্লামা ত্বীবী বলেন, এটা সালাম না গ্রহণ করার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মুল্লা ‘আলী কারী (রহঃ) বলেন, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রকাশমান কথা হচ্ছে, আমার পক্ষে থেকে তার সালামের উত্তর পাঠিও না কারণ সে তার বিদ্‘আতের কারণে সালামের উত্তর পাবার অনুপযুক্ত হয়ে গেছে যদিও সে এখন পর্যন্ত কাফির হয়ে যায়নি।
হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, আমার পক্ষ থেকে তার কাছে সালাম পাঠাইও না। কেননা, নিশ্চয় আমরা আদিষ্ট হয়েছি বিদ্‘আতীদেরকে বর্জন করতে। এর প্রেক্ষিতে ‘উলামায়ি কিরাম বলে থাকেন, ফাসিক্বী, বিদ্‘আতীর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব নয়। এটা সুন্নাতও নয়।
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১৭-[৩৯] ’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট খদীজাহ্ (রাঃ)তাঁর (পূর্ব-স্বামীর) দু’টি সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, যারা জাহিলিয়্যাতের যুগে মারা গেছে (তারা কোথায় জান্নাতী, না জাহান্নামী)। উত্তরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা উভয়ে জাহান্নামী। ’আলী (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যখন সন্তানদের জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা দেন তখন) খাদীজাহ্ (রাঃ)-এর চেহারায় বিষণ্ণ ও অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করে বললেন, তুমি যদি তাদের অবস্থান বা অবস্থা দেখতে, তবে তুমি নিশ্চয়ই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে। অতঃপর খাদীজাহ্ (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনার ঔরসে আমার যেসব সন্তান জন্মগ্রহণ করে মারা গেছে (ক্বাসিম ও ’আবদুল্লাহ (রাঃ), তাদের কী হবে)? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা জান্নাতে অবস্থান করছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মু’মিনগণ ও তাদের সন্তান-সন্ততিরা জান্নাতে এবং মুশরিক ও তাদের সন্তানাদিরা জাহান্নামে যাবে। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কুরআনের) আয়াত করলেন (অনুবাদঃ) ’’যারা ঈমান এনেছে আর তাদের সন্তানরা যারা তাদের অনুসরণ করেছে, [আমি তাদের সন্তানদেরকে (জান্নাতে) ওদের সাথে রাখবো]’’- (সূরাহ্ আত্ তূর ৫২: ২১)। (আহমাদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَأَلت خَدِيجَة النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ وَلَدَيْنِ مَاتَا لَهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هُمَا فِي النَّارِ قَالَ فَلَمَّا رأى الْكَرَاهِيَة فِي وَجْهِهَا قَالَ لَوْ رَأَيْتِ مَكَانَهُمَا لَأَبْغَضْتِهِمَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَلَدِي مِنْكَ قَالَ فِي الْجنَّة قَالَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْمُؤْمِنِينَ وَأَوْلَادَهُمْ فِي الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمُشْرِكِينَ وَأَوْلَادَهُمْ فِي النَّارِ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذرياتهم)
হাদীসটির বর্ণনার নিসবাত আহমাদের দিকে ভুলবশত করা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে হাদীসটি আহমাদের ছেলে ‘আবদুল্লাহ তাঁর ‘‘যাওয়ায়িদুল মুসনাদ’’ গ্রন্থের ১/১৩৪-৩৫ নং এ বর্ণনা করেছেন হায়সামী হাদীসটি তাঁর ‘‘মাজ্মা‘উয্ যাওয়া-য়িদ’’ গ্রন্থের ৭/২১৭ নং পৃঃ ‘আবদুল্লাহর দিকে নিসবাত করেছে বলেছেন, এর সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু ‘উসমান নামক একজন অপরিচিত রাবী রয়েছে, তবে অবশিষ্ট রাবীগণ নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বস্ত। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম যাহাবী মুহাম্মাদ ইবনু ‘উসমান (রাঃ) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি অপরিচিত তার মুনকার হাদীস রয়েছে। ইমাম ‘আবদী তাকে (মুহাম্মাদ ইবনু ‘উসমান) দুর্বল রাবীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
‘Ali said that Khadija asked the Prophet about two children of hers who had died in the pre-Islamic period and God’s messenger replied, “They are in hell.” Then when he saw her look of disapproval he said, “If you saw their position you would hate them.” She asked, “Messenger of God, what about my son whom I had from you?” He replied, “He is in paradise.” Then God’s messenger said, “The believers and their children are in paradise and the polytheists and their children are in hell.” Then God’s messenger recited, “Those who believe and whose offspring have followed them.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: (سَأَلَتْ خَدِيْجَةُ) তিনি হচ্ছেন খদীজাহ্ বিনতু খুওয়াইলিদ বিন আসাদ বিন ‘আবদুল ‘উযযা বিন কুসাই আল্ কুরাশিয়াহ্ (রাঃ)। তিনি আবূ হালাহ বিন যুবায়র-এর স্ত্রী ছিলেন। অতঃপর তাকে ‘আতীক্ব বিন ‘আয়িয বিবাহ করে, অতঃপর তাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ করেন সে সময় তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর আর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ২৫ বছর। এটাই ছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম বিবাহ এবং তিনি বেঁচে থাকতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কাউকে বিবাহ করেননি। তিনিই হলেন সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারিণী। আর কেউ কেউ বলেছেন, মহিলাদের মধ্যে প্রথম ঈমান আনয়নকারিণী। নুবূওয়্যাতের পূর্বে তাকে ত্বাহিরাহ্ নামে ডাকা হতো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সব সন্তানই তাঁর গর্ভের একমাত্র ইবরাহীম ছাড়া। কেননা তিনি হলেন মারিয়াতুল কিবতিয়া (রাঃ)-এর গর্ভে। হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১৮-[৪০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যখন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর পিঠের উপর হাত বুলালেন। এতে তাঁর পিঠ হতে তাঁর সমস্ত সন্তান জীবন্ত বেরিয়ে পড়ল যা ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) অবধি তিনি সৃষ্টি করবেন। তন্মধ্যে প্রত্যেকের দুই চোখের মধ্যস্থলে নূরের চমক ছিল। অতঃপর সকলকে আদম (আঃ)-এর সামনে পেশ করলেন। (এদেরকে দেখে) আদম (আঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে রব! এরা কারা? (প্রত্যুত্তরে) রব বললেন, এরা সব তোমার সন্তান। এমন সময় আদম (আঃ) তাঁদের একজনকে দেখলেন, তাকে তার খুব ভালো লাগলো। তাঁরও দুই চোখের মধ্যস্থলে নূরের চমক ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে রব! এ ব্যক্তি কে? তিনি বলেন, (তোমার সন্তান) দাঊদ (আঃ)। তিনি [আদম (আঃ)] বললেন, হে প্রভু! তাঁর বয়স কত নির্ধারণ করেছেন? তিনি বললেন, ষাট বছর। তিনি [আদম (আঃ)] বলেন, হে প্রভু! (অনুগ্রহ করে) আমার বয়স থেকে তাঁকে চল্লিশ বছর দান করুন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম (আঃ)-এর বয়স ফুরিয়ে গেলে এবং ঐ চল্লিশ বছর বাকী থাকতে মালাকুল মাওত এসে তাঁর কাছে উপস্থিত হলেন। আদম (আঃ) তাঁকে বললেন, এখনো তো আমার বয়স চল্লিশ বছর বাকী আছে। মালাকুল মাওত বললেন, আপনি কি আপনার বয়সের চল্লিশ বছর আপনার সন্তান দাঊদ (আঃ)-কে দান করেননি? আদম (আঃ) তা অস্বীকার করলেন। তাই তাঁর সন্তানরাও অস্বীকার করেন। অতঃপর আদম (আঃ) (তার ওয়া’দা) ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে ফেললেন। তাই তাঁর সন্তানরাও ভুলে যায়। আদম (আঃ)-এর ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছিল, আর এ কারণেই এই ত্রুটি-বিচ্যুতি সন্তানদের দ্বারাও হয়ে থাকে। (তিরমিযী)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ آدم مسح ظَهره فَسقط من ظَهْرِهِ كُلُّ نَسَمَةٍ هُوَ خَالِقُهَا مِنْ ذُرِّيَّتِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَجَعَلَ بَيْنَ عَيْنَيْ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى آدَمَ فَقَالَ أَيْ رَبِّ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَؤُلَاءِ ذُرِّيَّتُكَ فَرَأَى رَجُلًا مِنْهُمْ فَأَعْجَبَهُ وَبِيصُ مَا بَين عَيْنَيْهِ فَقَالَ أَي رب من هَذَا فَقَالَ هَذَا رجل من آخر الْأُمَم من ذريتك يُقَال لَهُ دَاوُدُ فَقَالَ رَبِّ كَمْ جَعَلْتَ عُمُرَهُ قَالَ سِتِّينَ سنة قَالَ أَي رب زده من عمري أَرْبَعِينَ سنة فَلَمَّا قضي عمر آدم جَاءَهُ ملك الْمَوْت فَقَالَ أَوَلَمْ يَبْقَ مِنْ عُمُرِي أَرْبَعُونَ سَنَةً قَالَ أولم تعطها ابْنك دَاوُد قَالَ فَجحد آدم فَجحدت ذُريَّته وَنسي آدم فنسيت ذُريَّته وخطئ آدم فخطئت ذُريَّته» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
আলবানী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসের সানাদটি হাসান/হাসান স্তরের। ইমাম হাকিম হাদীসটিকে তাঁর ‘‘মুসনাদে হাকিম’’ এর ২/৫৮৫-৮৬ নং এ সহীহ বলেছেন।
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “When God created Adam He wiped his back and every soul of his offspring He was to create up to the day of resurrection fell from his back. He put on the forehead of everyone of them a flash of light, then presented them to Adam who asked, ‘My Lord, who are these?’ He replied, ‘Your offspring.' On seeing one of them and being charmed by the flash on his forehead he asked, ‘My Lord, who is this?’ He replied, ‘David.’ He asked, ‘My Lord, how long a term of life hast Thou appointed him?” He replied, ‘Sixty years.’ He said, ‘My Lord, give him an extra forty years out of my term of life.’” God’s messenger said, “When Adam’s period of life all but forty years had come to an end the angel of death came to him. Adam said, ‘Are there not forty years of my life remaining?’ He replied, ‘Did you not give them to your son David?' Adam denied it and his offspring denied; Adam forgot and ate of the tree and his offspring forgot; and Adam sinned and his offspring sinned.”
Tirmidhi transmitted it.
ব্যাখ্যা: (وَجَعَلَ بَيْنَ عَيْنَيْ كُلِّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ وَبِيصًا مِنْ نُورٍ) ‘‘প্রত্যেকের দু’ চোখের মাঝে নূরের চমক ছিল।’’ এতে জানা যায় যে, বারযাখে প্রত্যেক আদম সন্তান মানব আকৃতিতেই ছিল যদিও তাদের আকৃতি ছিল ছোট পিপিলিকাতুল্য।
(زِدْهُ مِنْ عُمْرِي أَرْبَعِينَ سَنَةً) ‘‘আমার বয়স থেকে তাঁকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দিন।’’ অর্থাৎ- আপনি আমাকে যে বয়স দান করেছেন সে বয়স থেকে আমার বয়স চল্লিশ বছর কমিয়ে ঐ বয়স তাকে দিয়ে দিন।
(فَجَحَدَ اۤدَمُ) ‘‘আদম (আঃ) অস্বীকার করলো।’’ অর্থাৎ- মালাকুল মাওত যখন তার প্রাণ সংহার করার জন্যে এলেন তখন তার বয়স আরো চল্লিশ বছর বাকী রয়েছে বলে দাবী করলো এবং তিনি যে তার বয়স থেকে চল্লিশ বছর তার সন্তান দাঊদ (আঃ)-কে দান করেছেন তা অস্বীকার করলো এজন্য যে, তিনি যে তার বয়স থেকে চল্লিশ বছর দান করে দিয়েছেন মালাকুল মাওত উপস্থিত হওয়ার সময় তা তার স্মরণ ছিল না। কেননা ঐ দান ছিল আলমে বারযাখে, আর প্রাণ সংহারের ঘটনা ছিল ইহজগতে।
(فَجَحَدَتْ ذُرِّيَّتُه) ‘‘পরে তার সন্তানেরাও অস্বীকার করেছে’’। কেননা সন্তান পিতারই অংশ। তাই পিতার মধ্যে যে গুণাবলী থাকে ঐ গুণাবলী সন্তানের মধ্যেও থাকে। তাই আদম যেমন ভুলে গিয়ে অস্বীকার করেছিল তেমনি তার সন্তানেরাও ভুলে গিয়ে অস্বীকার করে বসে।
অত্র হাদীসে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আদম সন্তান সৃষ্টিগতভাবেই ভুলে যাওয়া, ভুল করা, অস্বীকার করার মাধ্যমেই সৃজিত হয়েছে। তবে আল্লাহ যাকে হিফাযাত করেছেন সে বাদে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১১৯-[৪১] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সৃষ্টির প্রাক্কালে আল্লাহ তা’আলা যখন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করলেন তখন তাঁর ডান কাঁধের উপর তাঁর হাত মারলেন। এতে ক্ষুদ্র পিঁপড়ার দলের ন্যায় সুন্দর ঝকঝকে একদল আদম সন্তান বেরিয়ে আসলো। তিনি আবার তাঁর বাম কাঁধের উপর হাত মারলেন এবং কয়লার ন্যায় কালো অপর একদল আদম সন্তান বেরিয়ে আসলো। তারপর আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-এর ডান দিকের সন্তানদের ইঙ্গিত করে বললেন, এ দল জান্নাতী। এতে আমি কারো পরোয়া করি না। অতঃপর আবার তিনি বাম দিকের আদম সন্তানদের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এ দল জাহান্নামী। এ সম্পর্কেও আমি কারো কোন পরোয়া করি না। (আহমাদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «خَلَقَ اللَّهُ آدَمَ حِينَ خَلَقَهُ فَضَرَبَ كَتِفَهُ الْيُمْنَى فَأَخْرَجَ ذُرِّيَّةً بَيْضَاءَ كَأَنَّهُمُ الذَّرُّ وَضَرَبَ كَتِفَهُ الْيُسْرَى فَأَخْرَجَ ذُرِّيَّةً سَوْدَاءَ كَأَنَّهُمُ الْحُمَمُ فَقَالَ لِلَّذِي فِي يَمِينِهِ إِلَى الْجَنَّةِ وَلَا أُبَالِي وَقَالَ للَّذي فِي كَفه الْيُسْرَى إِلَى النَّارِ وَلَا أُبَالِي» . رَوَاهُ أَحْمَدُ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Abud Darda' reported God’s messenger as saying, “God created Adam when He created him and struck his right shoulder and brought forth his offspring white like small ants. And he struck his left shoulder and brought forth his offspring black as though they were charcoal. Then He said to the party on his right side, ‘To paradise, and I do not care’ and He said to the party in his left shoulder, ‘To hell, and I do not care’.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: (كَأَنَّهُمْ الذَّرّ) ذر হচ্ছে ছোট পিপিলিকা। (كَأَنَّهُمْ الْحُمَمُ) حُمَمٌ কয়লা।
(قَالَ لِلَّذِي فِي يَمِينِه) ডান দিক থেকে যে, মু’মিনের সন্তানদের বের করলেন তাদেরকে বললেন।
হাদীসখানা তাক্বদীরের প্রতি ঈমানের প্রমাণবাহী। কারণ, এগুলো হলো আল্লাহ তা‘আলার আগাম ‘ইলমের প্রতিফলন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১২০-[৪২] আবূ নাযরাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে আবূ ’আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে তাঁর সঙ্গী-সাথীগণ (মৃত্যুশয্যায়) দেখতে আসলেন। তিনি তখন ক্রন্দনরত অবস্থায় ছিলেন। তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কান্নাকাটি করছেন কেন? আপনাকে কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা বলেননি যে, তোমার গোঁফ খাটো করবে। আর সব সময় এভাবে গোঁফকে খাটো রাখবে, যে পর্যন্ত আমার সাথে (জান্নাতে) দেখা না হবে। তিনি বললেন, হাঁ। তবে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথাও বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ তা’আলা স্বীয় ডান হাতে এক মুঠি (লোক) নিয়ে বলেছেন, এরা এর (জান্নাতের) জন্য এবং অপর (এক বাম) হাতের তালুতে এক মুঠি (লোক) নিয়ে বললেন, এরা এর (জাহান্নামের) জন্য। আর এ ব্যাপারে আমি কারো কোন পরোয়া করি না। এ কথা বলে তিনি [’আবদুল্লাহ (রাঃ)] বললেন, আমি জানি না, কোন হাতের মুঠির মধ্যে আমি আছি। (আহমাদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَن أبي نَضرة أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَالُ لَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ دَخَلَ عَلَيْهِ أَصْحَابُهُ يَعُودُونَهُ وَهُوَ يَبْكِي فَقَالُوا لَهُ مَا يُبْكِيكَ أَلَمْ يَقُلْ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذْ مِنْ شَارِبِكَ ثُمَّ أَقِرَّهُ حَتَّى تَلْقَانِي قَالَ بَلَى وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَبَضَ بِيَمِينِهِ قَبْضَةً وَأُخْرَى بِالْيَدِ الْأُخْرَى وَقَالَ هَذِهِ لِهَذِهِ وَهَذِه لهَذِهِ وَلَا أُبَالِي فَلَا أَدْرِي فِي أَيِّ الْقَبْضَتَيْنِ أَنَا» . رَوَاهُ أَحْمَدُ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Abu Nadra told how a companion of the Prophet called Abu ‘Abdallah was visited by his friends who found him weeping. They asked him what made him weep, and whether God’s messenger had not told him to clip some of his moustache and keep it like that till he met him. He replied, “Yes, but I heard God’s messenger say that God took a handful in His right hand and another in His left saying, ‘This is for this, and that is for that, and I do not care;’ and I do not know in which of the two handfuls I am.”
Ahmad transmitted it.
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১২১-[৪৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ’আরাফার মাঠের সন্নিকটে না’মান নামে এক জায়গায় আদম (আঃ)-এর মেরুদণ্ড হতে তাঁর সন্তানদের বের করে শপথ গ্রহণ করিয়েছিলেন। তিনি আদম (আঃ)-এর মেরুদণ্ড হতে তাঁর প্রত্যেক সন্তানকে বের করেছিলেন। এ সকলকে পিঁপড়ার মতো আদম (আঃ)-এর সামনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের সম্মুখপানে কথা বলেছিলেন- ’’আমি কি তোমাদের ’প্রভু’ নই? আদম সন্তানরা উত্তর দিয়েছিল, হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি আমাদের ’প্রতিপালক’। এতে আমরা সাক্ষী থাকলাম যাতে তোমরা কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন এ কথা বলতে না পারো, আমরা জানতাম না কিংবা তোমরা এ কথাও বলতে না পারো, আমাদের পিতৃ-পুরুষগণ আমাদের পূর্বে মুশরিক হয়ে গিয়েছিল। আর আমরা তাদের পরবর্তী বংশধর। তুমি কি বাতিলধর্মীরা (পিতৃ-পুরুষগণ) যা করেছে সে ’আমলের কারণে আমাদেরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে দিবে’’- (সূরাহ্ আ’রাফ ১৭২-১৭৩)। (আহমাদ)[1]
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَخذ الله الْمِيثَاق من ظهر آدم بنعمان يَعْنِي عَرَفَة فَأخْرج من صلبه كل ذُرِّيَّة ذَرَاهَا فَنَثَرَهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَالذَّرِّ ثُمَّ كَلَّمَهُمْ قِبَلًا قَالَ: (أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غافلين أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ المبطلون)
رَوَاهُ أَحْمد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Ibn ‘Abbas reported the Prophet as saying:
God made the covenant from Adam’s back in Na‘man, i.e. ‘Arafa, and brought forth from his loins all his offspring whom He created and scattered before Him like small ants. He then spoke to them face to face saying, “Am I not your Lord?’ They replied, “Yes, we testify this.” [It was] lest you should say on the day of resurrection, “We were neglectful of this,” or should say, “Our fathers were polytheists before us and we were an offspring after them. Wilt Thou destroy us for what the workers of vanity did?” *
Ahmad transmitted it.
* Quran, 7:172-173
ব্যাখ্যা: (فَنَثَرَهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَالذَّرِّ) ‘‘অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-এর সন্তানদেরকে তাঁর সামনে পিপিলিকার মতো ছড়িয়ে দিলেন।’’ অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-এর পিঠ থেকে তার সন্তানদেরকে বের করলেন পিপিলিকার মতো ছোট আকারে এবং তাদেরকে আদম (আঃ)-এর সামনে উপস্থাপন করলেন।
(ثُمَّ كَلَّمَهُمْ قُبُلًا) ‘‘অতঃপর তাদের সাথে কথা বলেছিলেন সামনাসামনি’’। অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা সরাসরি তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে কথা বলেছিলেন। এ কথার বিনিময় পর্দার অন্তরাল থেকে ছিল না এবং মালাকের (ফেরেশতার) মাধ্যমেও ছিল না।
(أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ؟) ‘‘আমি কি তোমাদের প্রভু নই?’’
(قَالُوا بَلى) ‘‘তারা বললঃ হ্যাঁ।’’ অর্থাৎ- হ্যাঁ, আপনিই আমাদের প্রভু, আপনি ব্যতীত অন্য কেউ আমাদের প্রভু নন।
প্রকৃতপক্ষে অর্থ হলো, নিজের তাওহীদের স্বীকৃতি দেয়ার পরেও এর মাধ্যমে তারা যেন যুক্তি স্থাপন না করতে পারে, এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা ঐ স্বীকারোক্তি নিয়েছিলেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১২২-[৪৪] উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) হতে মহামহিম আল্লাহর বাণী বর্ণিত। তিনি এ আয়াতের ’’তোমাদের রব যখন বানী আদমের মেরুদণ্ড থেকে তাদের সন্তানদের বের করলেন’’- (সূরাহ্ আ’রাফ ৭: ১৭২-১৭৩) এর তাফসীরে বলেন, আল্লাহ তা’আলা আদম সন্তানদের একত্রিত করলেন। তাদেরকে বিভিন্ন রকম করে গড়ার মনস্থ করলেন, এরপর তাদের আকার-আকৃতি দান করলেন। তারপর কথা বলার শক্তি দিলেন। এবার তারা কথা বলতে লাগলো। অতঃপর তাদের কাছ থেকে ওয়া’দা-অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন এবং তাদের নিজের সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন, ’আমি কি তোমাদের রব নই’? আদম সন্তানগণ বলল, হ্যাঁ, (নিশ্চয়ই আপনি আমাদের রব)।
তারপর আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমি তোমাদের এ কথার উপর সাত আসমান ও সাত জমিনকে তোমাদের সম্মুখে সাক্ষী করছি এবং তোমাদের পিতা আদমকেও সাক্ষী বানাচ্ছি। তোমরা যেন কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন এ কথা বলার সুযোগ না পাও যে, আমরা তো এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। তাই এখন তোমরা ভালো করে জেনে নাও, আমি ছাড়া তোমাদের কোন মা’বূদ নেই এবং আমি ছাড়া তোমাদের কোন প্রতিপালকও নেই। সুতরাং (সাবধান) আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। আমি শীঘ্রই তোমাদের কাছে আমার রসূলগণকে প্রেরণ করবো, যারা তোমাদেরকে আমার ওয়া’দা-অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দিবেন। অতঃপর তোমাদের ওপর আমি আমার কিতাবসমূহ নাযিল করবো।
তখন এ কথা শুনে আদম সন্তান বলল, আমরা এ কথার সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তুমি আমাদের রব ও আমাদের ইলাহ। তুমি ছাড়া আমাদের কোন রব নেই এবং তুমি ছাড়া আমাদের কোন ইলাহ নেই। বস্তুত আদম সন্তানদের সকলে এ কথা স্বীকার করে নিল। আদম (আঃ)-কে তাদের ওপর উঠিয়ে ধরা হলো। তিনি সকলকে প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি দেখলেন, তাঁর সন্তানদের মধ্যে ধনী-দরিদ্রও আছে, সুন্দর-অসুন্দরও আছে। (এটা দেখে) তিনি বললেন, হে রব! তুমি তোমার বান্দাদের সকলকে যদি এক সমান করে বানাতে? আল্লাহ তা’আলা বললেন, আমি চাই আমার বান্দারা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতার মধ্যে থাকুক।
এরপর আদম (আঃ) নবীদেরকে দেখলেন, তারা সকলেই যেন চেরাগের ন্যায়- তাদের ওপর আলো ঝলমল করছিল। তাদের কাছ থেকে বিশেষ করে নুবূওয়্যাতের ও রিসালাতের দায়িত্ব পালনের বিশেষ শপথও নেয়া হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলছেন (অনুবাদঃ) ’’আমি নবীদের নিকট হতে যখন তাদের ওয়া’দা অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম এবং আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, নূহ (আঃ), ইবরাহীম (আঃ), মূসা (আঃ), ’ঈসা (আঃ) ইবনু মারইয়াম (আঃ) হতেও (অঙ্গীকার ও ওয়া’দা) নেয়া হয়েছে’’- (সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩: ৭)। তিনি [উবাই (রাঃ)] বলেন, এ রূহদের মধ্যে ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) এর রূহ্ (আত্মা)-ও ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এ রূহকেই মারইয়াম (আঃ) এর প্রতি প্রেরণ করেছেন। উবাই বলেছেন, এ রূহ মারইয়াম (আঃ)-এর মুখ দিয়ে (তাঁর পেটে) প্রবেশ করেছে।[1] (আহমাদ)
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
عَن أبي بن كَعْب فِي قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ (وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورهمْ ذرياتهم وأشهدهم على أنفسهم)
الْآيَة قَالَ جمعهم فجعلهم أرواحا ثُمَّ صَوَّرَهُمْ فَاسْتَنْطَقَهُمْ فَتَكَلَّمُوا ثُمَّ أَخَذَ عَلَيْهِمُ الْعَهْدَ وَالْمِيثَاقَ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالَ فَإِنِّي أشهد عَلَيْكُم السَّمَوَات السَّبْعَ وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ وَأُشْهِدُ عَلَيْكُمْ أَبَاكُمْ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَام أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَمْ نَعْلَمْ بِهَذَا اعْلَمُوا أَنَّهُ لَا إِلَهَ غَيْرِي وَلَا رَبَّ غَيْرِي فَلَا تُشْرِكُوا بِي شَيْئا وَإِنِّي سَأُرْسِلُ إِلَيْكُمْ رُسُلِي يُذَكِّرُونَكُمْ عَهْدِي وَمِيثَاقِي وَأُنْزِلُ عَلَيْكُمْ كُتُبِي قَالُوا شَهِدْنَا بِأَنَّكَ رَبُّنَا وَإِلَهُنَا لَا رب لَنَا غَيْرُكَ فَأَقَرُّوا بِذَلِكَ وَرُفِعَ عَلَيْهِمْ آدَمُ يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ فَرَأَى الْغَنِيَّ وَالْفَقِيرَ وَحَسَنَ الصُّورَةِ وَدُونَ ذَلِكَ فَقَالَ رَبِّ لَوْلَا سَوَّيْتَ بَيْنَ عِبَادِكَ قَالَ إِنِّي أَحْبَبْتُ أَنْ أَشْكُرَ وَرَأَى الْأَنْبِيَاءَ فِيهِمْ مِثْلَ السُّرُجِ عَلَيْهِمُ النُّورُ خُصُّوا بِمِيثَاقٍ آخَرَ فِي الرِّسَالَةِ وَالنُّبُوَّةِ وَهُوَ قَوْلُهُ تَعَالَى (وَإِذ أَخذنَا من النَّبِيين ميثاقهم)
إِلَى قَوْله (عِيسَى ابْن مَرْيَم)
كَانَ فِي تِلْكَ الْأَرْوَاحِ فَأَرْسَلَهُ إِلَى مَرْيَمَ فَحُدِّثَ عَنْ أُبَيٍّ أَنَّهُ دَخَلَ مِنْ فِيهَا. رَوَاهُ أَحْمد
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
On God’s words, “When your Lord took from the children of Adam from their backs their offspring,” * Ubayy b. Ka‘b said:
He gathered them and put them in pairs. Thereafter He fashioned them and endowed them with speech, and they spoke. He then made an agreement and covenant with them, calling them to witness regarding themselves, [saying] “Am I not your Lord?” They replied, “Yes.” He said, “I call the seven heavens and the seven earths to witness regarding you, and I call your father Adam to witness regarding you, lest you should say on the day of resurrection, ‘We did not know of this.’ Know that there is no god other than me and no lord other than me, and do not associate anything with me. I shall send to you my messengers to call to your remembrance my agreement and my covenant, and I shall send down my books to you. They replied, “We testify that Thou art our Lord and our God; we have no other lord and no other god but Thee.” So they confirmed that. Adam was raised above them and looked at them, and seeing the rich and the poor, the beautiful and those not so beautiful, he asked, “My Lord, why didst Thou not make Thy servants equal?” He replied, “I wanted to be thanked.” He also saw among them the prophets like lamps with light in them. They had another -special covenant concerning their mission and prophetic office, viz. His words, “And when we took from the prophets their covenant... Jesus son-of Mary.” ** He was among those spirits and He sent him to Mary. Ubayy is quoted as saying that he entered by her mouth.
Ahmad transmitted it.
* ibid.
** Quran, 33:7.
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১২৩-[৪৫] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসেছিলাম এবং দুনিয়াতে যা কিছু সংঘটিত হচ্ছে- এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা যখন শুনবে যে, কোন পাহাড় তার নিজের জায়গা থেকে সরে গেছে তাতে তোমরা বিশ্বাস করতে পারো। কিন্তু যখন শুনবে যে, কোন মানুষের (সৃষ্টিগত) স্বভাব-চরিত্রের পরিবর্তন ঘটেছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে না। কেননা মানুষ সেদিকেই প্রত্যাবর্তন করবে যার উপর তার সৃষ্টি হয়েছে।[1] (আহমাদ)
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَتَذَاكَرُ مَا يَكُونُ إِذْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
إِذَا سَمِعْتُمْ بِجَبَلٍ زَالَ عَن مَكَانَهُ فصدقوا وَإِذَا سَمِعْتُمْ بِرَجُلٍ تَغَيَّرَ عَنْ خُلُقِهِ فَلَا تصدقوا بِهِ وَإنَّهُ يَصِيرُ إِلَى مَا جُبِلَ عَلَيْهِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Abud Darda’ said:
While we were with God’s messenger discussing what would come to pass God’s messenger said, “When you hear that a mountain has moved from its place believe it; but when you hear that a man's nature has changed do not believe it, for he will remain true to his inborn disposition.”
Ahmad transmitted it.
ব্যাখ্যা: হাদীসের মর্মার্থ হলো কাজগুলো তার ভাগ্যে যা লিখা আছে তাই হবে। বুদ্ধিমত্তা হতে পারে, অপারগতা হতে পারে। অতএব তোমরা যখন শুনতে পাবে যে, কোন বুদ্ধিমান বোকা অথবা কোন বোকা বুদ্ধিমান হয়েছে তা সত্যায়ন করবে না। পাহাড় একস্থান থেকে অপরস্থানে সরে যাওয়া সম্ভব, তবে মানুষের চরিত্র যেটা তাক্বদীরে লিপিবদ্ধ তা পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।
‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী (রহঃ) বলেন, হাদীস মতে প্রকৃত চরিত্র পরিবর্তন হওয়া অসম্ভব। তবে গুণগতভাবে পরিবর্তন আসা সম্ভব বরং এটা করতে বান্দা আদিষ্ট, এটাকে আত্মসংশোধনী বা পরিমার্জন বলা হয়। এমনটাই আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
قَدْ اَفْلَحَ مَنْ تَزَكّى
‘‘যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করলো সে সফল হলো।’’ (সূরাহ্ আল আ‘লা- ৮৭ঃ ১৪)
পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান
১২৪-[৪৬] উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যে বিষ মিশানো ছাগলের মাংস (গোসত/গোস্ত) খেয়েছিলেন, তার বিষক্রিয়ার কারণে প্রতি বছরই আপনি এত কষ্ট অনুভব করছেন। তিনি বললেন, প্রতি বছরই আমার যে যন্ত্রণা বা অসুখ হয়, এটা আমার (নির্ধারিত) তাক্বদীরে লিপিবদ্ধ হয়েছিল, অথচ তখন আদম (আঃ) ভূগর্ভেই ছিলেন।[1] (ইবনু মাজাহ্)
باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث
وَعَن أم سَلمَة يَا رَسُول الله لَا يزَال يصيبك كُلِّ عَامٍ وَجَعٌ مِنَ الشَّاةِ الْمَسْمُومَةِ الَّتِي أَكَلْتَ قَالَ: «مَا أَصَابَنِي شَيْءٌ مِنْهَا إِلَّا وَهُوَ مَكْتُوبٌ عَلَيَّ وَآدَمُ فِي طِينَتِهِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3
Umm Salama said, “Messenger of God, you continue to be afflicted annually with pain from the poisoned sheep you ate.” He replied, “I am afflicted by nothing due to it which was not decreed for me while Adam was still a lump of clay.”
Ibn Majah transmitted it.
পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
এখানে কবর দ্বারা উদ্দেশ হচ্ছে ’’আলামুল বারযাখ’’। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ اِلى يَوْمِ يُبْعَثُوْنَ
অর্থাৎ- ’’পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তারা বারযাখে থাকবে।’’ (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩: ১০০)
আর বারযাখ হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝের এক পৃথিবী। এখানে কবর দ্বারা মৃত্যু বরণকারী লাশকে দাফন করার গর্ত উদ্দেশ্য নয়। কেননা, অনেক মৃত ব্যক্তি আছে। যেমন, পানিতে ডুবে যে মৃত্যুবরণ করেছে অথবা আগুনে পুড়ে অথবা প্রাণী তাকে খেয়ে ফেলেছে এগুলোকে দাফন করা হয় না অথচ এদেরকেও শাস্তি দেয়া হয় এবং নি’আমাতও দান করা হয়।
এখানেإثبات عذاب القبر বলে শুধুমাত্র শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে দু’টি কারণে। এক- গুরুত্বারোপ করা। দুই- শাস্তি যাদেরকে দেয়া হবে সেই কাফির বেঈমানদের সংখ্যা বেশী।
১২৫-[১] বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন মুসলিমকে যখন কবরে জিজ্ঞেস করা হয় তখন সে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বূদ নেই এবং নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল। ’’যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে অটল ও অবিচল রাখেন’’- (সূরাহ্ ইবরাহীম ১৪: ২৭)। আল্লাহর এ বাণীর অর্থ হলো এটাই।
অপর এক বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’’ইউসাব্বিতুল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানূ বিল ক্বওলিস্ সা-বিতি’’- এ আয়াত কবরের ’আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে মৃতকে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব মহান আল্লাহ তা’আলা। আর আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।[1] (বুখারী, মুসলিম)
بَابُ اِثْبَاتِ عَذَابِ الْقَبْرِ
عَن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمُسْلِمُ إِذَا سُئِلَ فِي الْقَبْرِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَذَلِكَ قَوْلُهُ (يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَة)
وَفِي رِوَايَةٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِت)
نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ يُقَالُ لَهُ: مَنْ رَبك؟ فَيَقُول: رَبِّي الله ونبيي مُحَمَّد
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 1
Al-Bara’ b. ‘Azib reported the Prophet as saying, “When a Muslim is questioned in the grave he testifies that there is no god but God and that Muhammad is God’s messenger.” That is verified by God’s words, “God establishes those who believe with the word that stands firm in this world and the next.” * In a version the Prophet said:
“God establishes those who believe with the word which stands firm” was revealed concerning the punishment in the grave. One will be asked who his Lord is and will reply that his Lord is God and his prophet is Muhammad.
(Bukhari and Muslim.)
* Quran, 14:27.
ব্যাখ্যা: (قَالَ الْمُسْلِمُ) কোন বর্ণনায় الْمُؤْمِنُ এর উল্লেখ পাওয়া যায় এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য جنس তথা জাতি। তা পুরুষ মহিলা উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করবে। অথবা এমন হতে পারে যে, মহিলার হুকুম বুঝা যাবে পুরুষের অনুসারিণী হওয়ার দিক দিয়ে। এখানে কবরের কথা উল্লেখ করে নির্দিষ্ট করার কারণ হচ্ছে সাধারণত কবরেই প্রশ্ন করা হয়ে থাকে।
অথবা এটা প্রত্যেক ব্যক্তির থাকার স্থানের নামও কবর হতে পারে, এখানে যার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে সে বিষয়গুলো অনুল্লেখিত আছে, সেগুলো হলো তার রব তার নাবী এবং তার ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে যেমনটা অন্য হাদীসে প্রমাণ পাওয়া যায়।
পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১২৬-[২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দাকে যখন কবরে রেখে তার সঙ্গীগণ (আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব) সেখান থেকে চলে আসে, আর তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়। তার নিকট (কবরে) দু’জন মালাক (ফেরেশতা) পৌঁছেন এবং তাকে বসিয়ে প্রশ্ন করেন, তুমি দুনিয়াতে এই ব্যক্তির (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) ব্যাপারে কী জান? এ প্রশ্নের উত্তরে মু’মিন বান্দা বলে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিঃসন্দেহে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। তখন তাকে বলা হয়, ঐ দেখে নাও, তোমার ঠিকানা জাহান্নাম কিরূপ (জঘন্য) ছিল। তারপর আল্লাহ তা’আলা তোমার সে ঠিকানা (জাহান্নামকে) জান্নাতের সাথে পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তখন সে বান্দা দু’টি ঠিকানা (জান্নাত-জাহান্নাম) একই সঙ্গে থাকবে। কিন্তু মুনাফিক্ব ও কাফিরকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, দুনিয়াতে এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে তুমি কী ধারণা পোষণ করতে? তখন সে উত্তর দেয়, আমি বলতে পারি না (প্রকৃত সত্য কী ছিল)। মানুষ যা বলতো আমিও তাই বলতাম। তখন তাঁকে বলা হয়, তুমি বিবেক-বুদ্ধি দিয়েও বুঝতে চেষ্টা করনি এবং (আল্লাহর কুরআন) পড়েও জানতে চেষ্টা করনি। এ কথা বলে তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে কঠিনভাবে মারতে থাকে, এতে সে তখন উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে। এ চীৎকারের শব্দ (পৃথিবীর) জিন আর মানুষ ছাড়া নিকটস্থ সকলেই শুনতে পায়। (মুত্তাফাকুন ’আলায়হি, শব্দসমূহ বুখারীর)[1]
بَابُ اِثْبَاتِ عَذَابِ الْقَبْرِ
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنه حَدثهمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجنَّة فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا قَالَ قَتَادَة وَذكر لنا أَنه يفسح لَهُ فِي قَبره ثمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيث أنس قَالَ وَأَمَّا الْمُنَافِقُ وَالْكَافِرُ فَيُقَالُ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ وَيُضْرَبُ بِمَطَارِقَ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثقلَيْن» وَلَفظه للْبُخَارِيّ
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 1
Anas reported God’s messenger as saying, “When a man is placed in his grave and his friends leave him, he hears the beat of their sandals. Then two angels come to him and, having made him sit up, they say, ‘What was your opinion of this man, of Muhammad?’ The believer replies, ‘I testify that he is God’s servant and messenger.’ He is then told to look at his abode in hell for which God has substituted for him an abode in paradise, and he sees them both. The hypocrite and infidel are asked, ‘What was your opinion of this man?’ and reply, ‘I do not know; I held the opinion others held.’ They will retort, ‘You neither knew nor did you follow [the believers].’ He will then be given a blow with iron hammers and will utter a shout which will be heard by all who are near him, with the exception of men and jinn.”
(Bukhari and Muslim. The wording is Bukhari’s.)
পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১২৭-[৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, (কবরে) তাকে সকাল-সন্ধ্যায় তার (ভবিষ্যৎ) অবস্থান দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তার অবস্থান জান্নাত আর যদি জাহান্নামী হয় তবে তার অবস্থান জাহান্নাম দেখানো হয়। আর তাকে বলা হয়, এটাই তোমার প্রকৃত অবস্থান। অতঃপর কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা’আলা তোমাকে উঠিয়ে সেখানে প্রেরণ করবেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ اِثْبَاتِ عَذَابِ الْقَبْرِ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ فَيُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثك الله يَوْم الْقِيَامَة»
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 1
‘Abdallah b. ‘Umar reported God’s messenger as saying, “When one of you dies, his abode among the inhabitants of paradise will be shown him morning and evening if he is to be one of them; but if he is to be one of the inhabitants of hell, his abode among them will be shown him. He will be told that this is his abode to which God will finally raise him on the day of resurrection.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: তার নিকট তার রূহ ফিরিয়ে দেয়া হয় যাতে করে তার সাথে কথা বলা যায় এবং সে অনুধাবন করতে পারে।
প্রশ্ন হলো, প্রতিনিয়তই কি তার নিকট তার রূহ ফিরিয়ে দেয়া হয়, নাকি একবারই দেয়া হয়।
‘একবারই দেয়া হয়’ এ মতটিই বেশী গ্রহণযোগ্য, আনাস (রাঃ)-এর হাদীসের কারণে এবং অপরাপর কিছু হাদীছ রয়েছে যা তাই প্রমাণ করে।
সকাল-সন্ধ্যা দিনের দুই প্রান্তে অথবা উদ্দেশ্য সার্বক্ষণিকের জন্যও হতে পারে। রূহের সামনে তার আসল ঠিকানা পেশ করা এবং মু’মিনকে নি‘আমাত এবং কাফিরকে শাস্তি প্রদান করার মাধ্যমে প্রমাণ হয় কবরের শাস্তি সাব্যস্ত এবং শরীরের মতো রূহ শেষ হয়ে যায় না। কেননা কোন জিনিস পেশ করা জীবিত ছাড়া অসম্ভব। তাহলে বুঝা গেল রূহ শেষ হয় না।
পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১২৮-[৪] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ইয়াহুদী নারী তাঁর কাছে এলো। সে কবরের ’আযাব প্রসঙ্গে কথা উঠাল এবং বলল, হে ’আয়িশাহ্! আল্লাহ তা’আলা তোমাকে কবরের ’আযাব থেকে মুক্তি দিন। অতঃপর ’আয়িশাহ্ (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কবরের ’আযাবের সত্যতা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হাঁ, কবরের ’আযাব সত্য। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি কক্ষনো এমন দেখিনি যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছেন অথচ কবরের ’আযাব হতে আল্লাহর নিকট মুক্তির দু’আ করেননি। (বুখারী, মুসলিম)[1]
بَابُ اِثْبَاتِ عَذَابِ الْقَبْرِ
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ يَهُودِيَّةً دَخَلَتْ عَلَيْهَا فَذَكَرَتْ عَذَابَ الْقَبْرِ فَقَالَتْ لَهَا أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَقَالَ: «نَعَمْ عَذَابُ الْقَبْر قَالَت عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بعد صلى صَلَاة إِلَّا تعوذ من عَذَاب الْقَبْر»
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 1
‘A’isha told of a Jewess who visited her and mentioned the punishment in the grave adding, “May God preserve you from the punishment of the grave!” ‘A’isha asked God’s messenger about the subject and he said, “Yes, the punishment in the grave is real.” ‘A’isha said, “After that I never saw God’s messenger observing a prayer without seeking God’s protection from the punishment in the grave.”
(Bukhari and Muslim.)
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইয়াহূদীরাও কবরের শাস্তিকে স্বীকার করে এবং তা সত্য বলে মানে।
উল্লেখিত রিওয়ায়াতগুলোর সমাধান হলো নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে ইয়াহূদীকে সমর্থন করেন তার কাছে ওয়াহী অবতীর্ণ হওয়ার আগে। তারপরে তিনি ওয়াহী অবতীর্ণ হলে জানিয়ে দেন এবং সকলকে কবরের ‘আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনার আদেশ দেন। (আল্লাহ ভালো জানেন)
পরিচ্ছেদঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১২৯-[৫] যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বানী নাজ্জার গোত্রের একটি বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম। হঠাৎ খচ্চরটি লাফিয়ে উঠল এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রায় মাটিতে ফেলে দেবার উপক্রম করল। দেখা গেল, সামনে পাঁচ-ছয়টি কবর রয়েছে। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ কবরবাসীদের কে চেনে? এক ব্যক্তি বললো, আমি! তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন, এরা কবে মারা গেছে? সে বললো, শির্কের যুগে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ উম্মাত তথা কবরবাসীরা তাদের কবরে পরীক্ষায় পড়েছে (শাস্তির কবলে পড়েছে)। তোমরা মানুষকে ভয়ে কবর দেয়া ছেড়ে দিবে (এ আশংকা না থাকলে) আমি আল্লাহর কাছে দু’আ করতাম, তিনি যেন তোমাদেরকেও কবরের ’আযাব শুনান, যে কবরের ’আযাব আমি শুনতে পাচ্ছি।
অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা সকলে জাহান্নামের ’আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। সকলে একত্রে বললেন, আমরা জাহান্নামের ’আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা কবরের ’আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। তারা সকলে একত্রে বললেন, আমরা কবরের ’আযাব হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা সকলে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিতনাহ্ (ফিতনা) হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। তখন সকলে একত্রে বললেন, আমরা সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিতনাহ্ (ফিতনা) হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমরা দাজ্জালের সকল ফিতনাহ্ (ফিতনা) হতে আশ্রয় চাও। সকলে বললেন, আমরা দাজ্জালের ফিতনাহ্ (ফিতনা) হতেও আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। (মুসলিম)[1]
بَابُ اِثْبَاتِ عَذَابِ الْقَبْرِ
عَن زيد بن ثَابت قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَائِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ وَنَحْنُ مَعَهُ إِذْ حَادَتْ بِهِ فَكَادَتْ تُلْقِيهِ وَإِذَا أَقْبُرُ سِتَّةٍ أَو خَمْسَة أَو أَرْبَعَة قَالَ كَذَا كَانَ يَقُول الْجريرِي فَقَالَ: «من يعرف أَصْحَاب هَذِه الأقبر فَقَالَ رجل أَنا قَالَ فَمَتَى مَاتَ هَؤُلَاءِ قَالَ مَاتُوا فِي الْإِشْرَاك فَقَالَ إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَاب النَّار فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّه من عَذَاب الْقَبْر قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 1
Zaid b. Thabit said:
While we were accompanying God’s messenger who was riding a she-mule in a garden belonging to the B. an-Najjar, the animal shied and almost unseated him. It happened that there were five or six graves there, so he asked if anyone knew who were buried in them. A man replied that he did, and on being asked when they died said it was in the period when the people were polytheists. The Prophet then said, “These people are being afflicted in their graves, and were it not that you would cease to bury, I would ask God to let you hear the punishment in the grave which I am hearing.” Then he turned facing us and said, “Seek refuge in God from the punishment of the fire.” They said, “We seek refuge in God from the punishment of the fire.” He said, “Seek refuge in God from the punishment in the grave.” They said, “We seek refuge in God from the punishment in the grave.” He said, “Seek refuge in God from trials both open and secret.” They said, “We seek refuge in God from trials both open and secret.” He said, “Seek refuge in God from the trial of ad-Dajjal!” They said, “We seek refuge in God from the trial of ad-Dajjal.”
Muslim transmitted it.
ব্যাখ্যা: (حَادَتْ) ঝুঁকে গেল এবং ভেঙ্গে যেতে চাইল কবরবাসীদের শাস্তির আওয়াজ শুনে। চতুস্পদ জন্তু যে কবরের ‘আযাব শুনতে পায় তা সহীহ ভিত্তিতে প্রমাণিত। যেমন, আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত ইমাম আহমাদের হাদীসঃ মানব-দানব বাদে সকলেই কবরের শাস্তি শুনতে পায়।
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩০-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মৃতকে যখন কবরে শায়িত করা হয় তখন তার নিকট নীল চোখবিশিষ্ট দু’জন কালো মালাক (ফেরেশতা) এসে উপস্থিত হন। তাদের একজনকে মুনকার, অপর একজনকে নাকীর বলা হয়। তারা মৃতকে (রসূলের প্রতি ইঙ্গিত করে) জিজ্ঞেস করে, এ ব্যক্তির ব্যাপারে দুনিয়াতে তুমি কি ধারণা পোষণ করতে? সে বলবে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। তখন মালাক দু’জন বলবেন, আমরা আগেই জানতাম তুমি এ উত্তরই দিবে। অতঃপর তার কবরকে দৈর্ঘ্যে-প্রস্থে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেয়া হয় এবং সেখানে তার জন্য আলোর ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। তারপর তাকে বলা হয়, ঘুমিয়ে থাক। তখন কবরবাসী বলবে, (না,) আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই এবং তাদের এ সুসংবাদ দিতে চাই। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) বলবেন, তুমি এখানে বাসর ঘরের বরের ন্যায় ঘুমাতে থাক, যাকে তার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ব্যতীত আর কেউ ঘুম ভাঙ্গাতে পারে না। অতঃপর সে কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন না আসা পর্যন্ত এভাবে ঘুমিয়ে থাকে। যদি মৃত ব্যক্তি মুনাফিক্ব হয় তাহলে সে বলবে, লোকেদেরকে তাঁর সম্পর্কে যা বলতে শুনতাম আমিও তাই বলতাম, কিন্তু আমি জানি না। তখন মালায়িকাহ্ বলেন, আমরা পূর্বেই জানতে পেরেছিলাম যে, তুমি এ কথাই বলবে। অতঃপর জমিনকে বলা হবে, তার উপর চেপে যাও। সুতরাং জমিন তার উপর এমনভাবে চেপে যাবে, যাতে তার এক দিকের হাড় অপর দিকে চলে যাবে। কবরে সে এভাবে ’আযাব ভোগ করতে থাকবে, যে পর্যন্ত (ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে) আল্লাহ তা’আলা তাকে কবর থেকে না উঠাবেন। (তিরমিযী)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثاني
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا قُبِرَ الْمَيِّتُ أَتَاهُ مَلَكَانِ أَسْوَدَانِ أَزْرَقَانِ يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا الْمُنْكَرُ وَالْآخَرُ النَّكِيرُ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرجل فَيَقُول مَا كَانَ يَقُول هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولَانِ قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ هَذَا ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِينَ ثُمَّ يُنَوَّرُ لَهُ فِيهِ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ نَمْ فَيَقُولُ أَرْجِعُ إِلَى أَهْلِي فَأُخْبِرُهُمْ فَيَقُولَانِ نَمْ كَنَوْمَةِ الْعَرُوسِ الَّذِي لَا يُوقِظُهُ إِلَّا أَحَبُّ أَهْلِهِ إِلَيْهِ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ وَإِنْ كَانَ مُنَافِقًا قَالَ سَمِعت النَّاس يَقُولُونَ فَقُلْتُ مِثْلَهُ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ ذَلِكَ فَيُقَالُ لِلْأَرْضِ الْتَئِمِي عَلَيْهِ فتلتئم عَلَيْهِ فتختلف فِيهَا أَضْلَاعُهُ فَلَا يَزَالُ فِيهَا مُعَذَّبًا حَتَّى يَبْعَثَهُ الله من مضجعه ذَلِك» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 2
Abu Huraira reported God’s messenger as saying, “When the dead is buried two black and blue angels, one called al-Munkar and the other an-Nakir, come to him and ask him what opinion he held about this man. If he is a believer he replies, ‘He is the servant and messenger of God. I testify that there is no god but God and that Muhammad is His servant and apostle.’ They say that they knew he would say so. A space of 4900 square cubits is then made for him in his grave, it is illuminated for him, and he is told to sleep. He will then express a desire to return to his family to tell them, but will be told to sleep like one newly married who is wakened only by the member of his family who is dearest to him, until God resurrects him from that resting-place of his. But if he is a hypocrite he will say, ‘I heard men expressing a belief and I held the same, but I really do not know.’ They will tell him they knew he would say so; then the earth will be told to press in upon him and it will do so. His ribs will be pressed together and he will remain there suffering punishment till God resurrects him from that resting-place of his.”
Tirmidhi transmitted it.
ব্যাখ্যা: (إِذَا اُقْبِرَ الْمَيِّتُ) ‘যখন মৃতকে কবর দেয়া হয়’ এটা বলা হয়েছে স্বাভাবিক নিয়মের উপর খেয়াল করে। নচেৎ মৃত ব্যক্তি বলতে তো সব মৃত ব্যক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়। অথচ সব মৃত্যুকে কবর দেয়া হয় না। এখানে কবর বলতে বারযাখী জীবনে পদার্পণ করা, চাই সে মাটিতে হোক কিংবা মাছের পেটে হোক অথবা আগুনেই পুড়ে যাক।
(الْمُنْكَرُ وَالْاۤخَرُ النَّكِيرُ) ‘‘মুনকার তাকে বলা হয় যে কাউকে চিনে না। আর নাকীর তাকে বলা হয় যাকে কেউ চিনে না। এ মালাক (ফেরেশতা) দু’জনের নাম মুনকার ও নাকীর এজন্য রাখা হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তি তাদের কাউকেই চিনে না। তাদের ‘‘আকৃতির’’ মতো আকৃতি কখনো দেখেনি। কিছু কিছু ‘আলিমগণ বলেন যে, গুনাহগারদের প্রশ্নকারী মালাকের নাম মুনকার ও নাকীর। আর নেক্কার বান্দাদের প্রশ্নকারী মালায়িকাহ্’র নাম মুবাশ্বির ও বাশীর।
(فَيَقُوْلَانِ قَدْ كُنَّا نَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ هذَا) অর্থাৎ- মালায়িকাহ্’র কথাঃ ‘‘আমরা আগেই জানতাম যে, তুমি এ উত্তরই দিবে’’। প্রশ্ন হলো তারা কিভাবে জানতে পারলো যে, মৃত ব্যক্তি এই উত্তর দিবে? উত্তর হলো, আল্লাহ তা‘আলার জানানোর মাধ্যমে অথবা তার কপালে যে সৌভাগ্যের চিহ্ন আছে তা অবলোকন করে। যেমন ইমাম ইবনু হিব্বান (রহঃ) হাদীস নিয়ে এসেছেন ‘‘মু’মিন হলে তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) তার মাথার নিকট তার যাকাত তার ডানে, তার সওম তার বামে অবস্থান করে।’’
(يُفسَحُ لَهٗ فِيْ قَبْرِه سَبْعُونَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِينَ) ‘‘তার কবরকে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সত্তর গজ প্রশস্ত করে দেয়া হবে’’। বলা হয়ে থাকে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যে, মৃতের কবর অনেক প্রশস্ত করে দেয়া হবে। যেমন- কোন কোন বর্ণনায় এসেছে- مد بصره‘‘তার চোখের দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হবে।’’ এও হতে পারে যে, এ প্রশস্ততা ‘আমলকারীর ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হবে।
(سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ قَوْلًا فَقُلْتُ مِثْلَهٗ لَا أَدْرِى) ‘‘লোকেদেরকে তাঁর সম্পর্কে যা বলতে শুনতাম আমিও তাই বলতাম, কিন্তু আমি জানি না।’’ অর্থাৎ- লোকেদেরকে আমি বলতে শুনতাম যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন নাবী তাই আমিও বলতাম যে, তিনি নাবী। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি জানতাম না যে, তিনি নাবী কি-না।
(فَيُقَالُ لِلْأَرْضِ الْتَئِمِي عَلَيْهِ) ‘‘জমিনকে বলা হবে, তার উপর চেপে যাও।’’ অর্থাৎ- তুমি তার ওপর একত্রিত হয়ে সংকীর্ণ হয়ে যাও।
فَتَخْتَلِفُ أَضْلَاعُهٗ ‘‘তার এক দিকের হাড় অপর দিকে চলে যাবে।’’ অর্থাৎ- জমিন তার উপর এমনভাবে চাপ প্রয়োগ করবে যে, পাঁজরের হাড়গুলো যেভাবে ছিল সেভাবে আর থাকবে না। বরং চাপের আধিক্যের কারণে পাঁজরের এক পাশের হাড় অন্যপাশের পাঁজরের হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করবে। আর এ চেপে যাওয়াটা বাস্তবেই ঘটবে তা কোন ধারণা বা কল্পনা নয়।
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩১-[৭] বারা ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কবরে মৃত ব্যক্তির (মু’মিনের) নিকট দু’জন মালাক (ফেরেশতা) আসেন। অতঃপর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) তাকে বসিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ’’তোমার রব কে?’’ সে উত্তরে বলে, ’’আমার রব হলেন আল্লাহ।’’ তারপর মালায়িকাহ্ জিজ্ঞেস করেন, ’’তোমার দীন কী?’’ সে ব্যক্তি উত্তর দেয়, ’’আমার দীন হলো ইসলাম।’’ আবার মালায়িকাহ্ জিজ্ঞেস করেন, ’’তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে যে ব্যক্তি প্রেরিত হয়েছিল, তিনি কে?’’ সে বলে, ’’তিনি হলেন আল্লাহর রসূল (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।’’ তারপর মালায়িকাহ্ তাকে জিজ্ঞেস করেন, ’’এ কথা তোমাকে কে বলেছে?’’ সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি এবং তার উপর ঈমান এনেছি ও তাঁকে সমর্থন করেছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, এটাই হলো আল্লাহ তা’আলার এ বাণীর ব্যাখ্যাঃ ’’আল্লাহ তা’আলা সেসব লোকেদেরকে (দীনের উপর) প্রতিষ্ঠিত রাখেন যারা প্রতিষ্ঠিত কথার (কালিমায়ে শাহাদাতের) উপর ঈমান আনে... আয়াতের শেষ পর্যন্ত- (সূরাহ্ ইবরাহীম ১৪: ২৭)।
অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আকাশমণ্ডলী থেকে একজন আহবানকারী ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। সুতরাং তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও। অতএব তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দেয়া হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ফলে তার দিকে জান্নাতের বাতাস ও সুগন্ধি দোলা দিতে থাকবে এবং দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তার কবরকে প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাফিরদের মৃত্যু প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ’’তারপর তার রূহকে তার শরীরে ফিরিয়ে আনা হয় এবং তাকে দু’জন মালাক এসে তাকে উঠিয়ে বসান এবং বসিয়ে জিজ্ঞেস করেন, ’’তোমার রব কে?। তখন সে উত্তরে বলে, ’’হায়! হায়!! আমি তো কিছুই জানি না।’’ তারপর তারা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, ’’তোমার দীন কী?’’ সে বলে, হায়! হায়!! তাও তো আমার জানা নেই। তারপর তারা জিজ্ঞেস করেন, ’’এ ব্যক্তি কে যাকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল?’’ সে বলে, ’’হায়! হায়!! এটাও তো জানি না।’’ তারপর আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলেন, এ ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে। সুতরাং তার জন্য আগুনের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে আগুনের পোশাক পরিয়ে দাও। আর জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দাও। সে অনুযায়ী তার জন্য দরজা খুলে দেয়া হয়।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তার কবরকে তার জন্য সঙ্কুচিত করে দেয়া হয়, যাতে তার একদিকের হাড় অপরদিকের হাড়ের মধ্যে প্রবেশ করে। এরপর একজন অন্ধ ও বধির মালাক নিযুক্ত করে দেয়া হয়, যার সাথে লোহার এক হাতুড়ি থাকে। সে হাতুড়ি দিয়ে যদি পাহাড়ের উপর আঘাত করা হয় তাহলে সে পাহাড় গুঁড়া গুঁড়া হয়ে মাটি হয়ে যাবে। সে অন্ধ মালাক এ হাতুড়ি দিয়ে সজোরে তাকে আঘাত করতে থাকে। (তার বিকট চীৎকারের শব্দ) পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত জিন্ ও মানুষ ছাড়া সকল মাখলূক্বই শুনতে পাবে। এর সাথে সাথে সে মাটিতে মিশে যাবে। অতঃপর পুনরায় তার মধ্যে রূহ্ ফেরত দেয়া হবে (এভাবে অনবরত চলতে থাকবে)। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثاني
عَن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ ديني الْإِسْلَام فَيَقُولَانِ لَهُ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ قَالَ فَيَقُول هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَقُولَانِ وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ قَرَأْتُ كِتَابَ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ زَاد فِي حَدِيث جرير فَذَلِك قَول الله عز وَجل (يثبت الله الَّذين آمنُوا بالْقَوْل الثَّابِت)
الْآيَة ثمَّ اتفقَا قَالَ فينادي مُنَاد من السَّمَاء أَن قد صدق عَبدِي فأفرشوه مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ وألبسوه من الْجنَّة قَالَ فيأتيه من روحها وطيبها قَالَ وَيفتح لَهُ فِيهَا مد بَصَره قَالَ وَإِن الْكَافِر فَذكر مَوته قَالَ وتعاد رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ لَهُ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيَقُولَانِ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هَاهْ هَاهْ لَا أَدْرِي فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنَّ كَذَبَ فَأَفْرِشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى النَّارِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا قَالَ وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ ثمَّ يقيض لَهُ أعمى أبكم مَعَهُ مِرْزَبَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جبل لصار تُرَابا قَالَ فَيَضْرِبُهُ بِهَا ضَرْبَةً يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمغْرب إِلَّا الثقلَيْن فَيصير تُرَابا قَالَ ثمَّ تُعَاد فِيهِ الرّوح» . رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 2
Al-Bara’ b. ‘Azib reported God’s messenger as saying, “Two angels will come to him, make him sit up, and ask him who his Lord is, to which he will reply that his Lord is God. They will ask him what his religion is, and he will reply that his religion is Islam. They will ask him about this man who was sent on a mission among his people, and he will reply that he is God’s messenger. They will ask him what made him aware of this, and he will reply that he read God’s Book, believed in it, and considered it true, which is verified by God’s words, ‘God establishes those who believe with the word that stands firm*...’ Then a crier will call from heaven, ‘My servant has spoken the truth, so spread a bed for him from paradise, clothe him from paradise, and open a door for him into paradise.’ A door will then be opened for him towards paradise, some of its air and perfume will come to him, and a space will be made for him in it as far as the eye can see.” He also mentioned the death of the infidel, saying, “His spirit will be restored to his body, two angels will come, make him sit up and ask him who his Lord is, to which he will reply, ‘Alas, alas, I do not know.’ They will ask him what his religion is, and he will reply, ‘Alas, alas, I do not know.’ They will ask him about this man who was sent on a mission among his people, and he will reply, ‘Alas, alas, I do not know.' Then a crier will call from heaven, ‘He has lied, so spread a bed for him from hell, clothe him from hell, and open a door for him into hell.' Then some of its heat and pestilential wind will come to him, and his grave will become restricted so that his ribs will be pressed together. One who is blind and dumb will then be placed in charge of him, having a sledgehammer such that if a mountain were struck with it it would become dust. He will give him a blow with it and he will utter a shout which will be heard by everything between the east and the west except by men and jinn, and he will become dust. Then his spirit will be restored to him."
Ahmad and Abu Dawud transmitted it.
* Quran, 14:27.
ব্যাখ্যা: মালাক মু’মিন ব্যক্তির নিকট আসবে। প্রশ্ন করবে, এই ব্যক্তির পরিচয় কি, তিনি কি রসূল? অথবা এ ব্যাপারে তোমার বিশ্বাস কি? তুমি যে আল্লাহর একত্ব, ইসলাম এবং রিসালাতের খবর দিলে এটা তুমি কিভাবে জেনেছ?
صَدَّقْتُ তিনি যা বলেছেন তা সত্যায়ন করেছি এবং কুরআনে যা পড়েছি তাও সত্যায়ন করেছি। অতএব কুরআনে পেয়েছি যে, আমি সহ সমগ্র সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা এক অদ্বিতীয়, আর তিনি হলেন আল্লাহ। আর আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় জীবন বিধান কেবল ইসলাম। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারই প্রেরিত নাবী।
মু’মিন ব্যক্তি এই যথাযথ উত্তর দিতে পারাই আল্লাহ তা‘আলার (সূরাহ্ ইবরাহীম ১৪ঃ ২৭) আয়াতের বাস্তবতা।
يُثَبِّتُ اللّهُ الَّذِيْنَ امَنُوْا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ
‘‘যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহ শাশ্বত বাণীর অবলম্বনে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন।’’
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩২-[৮] ’উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি যখন কোন কবরের নিকট দাঁড়াতেন, কেঁদে দিতেন, (আল্লাহর ভয়ে চোখের পানিতে) তার দাড়ি ভিজে যেত। একদা তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ হলে, আপনি কাঁদেন না। আর আপনি এ জায়গায় (কবরস্থানে) দাঁড়িয়ে কাঁদছেন? তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আখিরাতের মঞ্জীলসমূহের মধ্যে কবর হলো প্রথম মঞ্জীল। কেউ যদি এ মঞ্জীলে মুক্তি পেয়ে যায়, তাহলে পরের মঞ্জীলসমূহ অতিক্রম করা তার জন্য সহজসাধ্য হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি এ মঞ্জীলে মুক্তি লাভ করতে পারলো না, তার জন্য পরবর্তী মঞ্জীলসমূহ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি [’উসমান (রাঃ)] বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাও বলেছেন, কবর থেকে বেশি কঠিন কোন ভয়ঙ্কর জায়গা আমি কক্ষনো দেখিনি। (তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثاني
وَعَن عُثْمَان رَضِي الله عَنهُ أَنه إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا رَأَيْت منْظرًا قطّ إِلَّا الْقَبْر أَفْظَعُ مِنْهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ. وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هَذَا حَدِيث غَرِيب
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 2
‘Uthman told that when he stood over a grave he would weep so sorely that the tears moistened his beard. Someone said to him, “You remember paradise and hell, without weeping, yet you are weeping over this." He replied that God’s messenger said, “The grave is the first stage of the next world ; if one escapes from it what follows is easier than it, but if one does not escape from it what follows is more severe than it." He further quoted God’s messenger as saying, “I have never seen a sight as horrible as the grave."
Tirmidhi and Ibn Majah transmitted it, and Tirmidhi said this is a gharib tradition.
ব্যাখ্যা : একটি প্রশ্ন এবং তার উত্তরঃ
প্রশ্নঃ ‘উসমান (রাঃ) তো জান্নাতের সানাদপ্রাপ্তদের একজন। এ সত্ত্বেও তিনি কবরের কাছে গিয়ে কান্নাকাটির কারণ কি?
এর উত্তর কয়েকটি হতে পারেঃ
১. জান্নাতের ঘোষণা হলেই কবরের ‘আযাব থেকে মুক্তি হয়ে গেল বিষয়টি এমন নয়।
২. হতে পারে পরিস্থিতি কঠিন হওয়ায় তিনি যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত এটা ভুলে গিয়েছিলেন।
৩. হতে পারে তিনি কবরের চাপ থেকে ভয় পেয়েছেন। যেমন সা‘দ (রাঃ)-এর হাদীসে এটাই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, এই পাপ থেকে নাবীগণ ব্যতীত কেউই রেহাই পাবে না। মুল্লা ‘আলী কারী (রহঃ) এমনটাই বলেছেন।
৪। আল্লাহর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও কবরের ‘আযাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন অথচ তিনি ছিলেন নাবী! আর যে যত আল্লাহর বেশী প্রিয় সে তত বেশী আল্লাহকে এবং আল্লাহর শাস্তিকে ভয় পেতেন। ‘উসমান (রাঃ)-এর ব্যাপারটি এমনি।
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩৩-[৯] উক্ত রাবী [’উসমান (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইয়্যিতের দাফন সম্পন্ন করে অবসর গ্রহণকালে কবরের নিকট দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বলতেন, তোমাদের ভাইয়ের জন্য (আল্লাহ তা’আলার নিকট) ক্ষমা প্রার্থনা কর ও দু’আ কর, যেন তাকে এখন (মালায়িকার প্রশ্নোত্তরে) ঈমানের উপর সুদৃঢ় থাকার শক্তি-সামর্থ্য দেন। কেননা এখনই তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। (আবূ দাঊদ)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثاني
وَعَن عُثْمَان رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ فَقَالَ: «اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ ثُمَّ سَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 2
He [Uthman] also said that when the Prophet finished the burial of the dead he stood over it and said, “Ask forgiveness for your brother, then ask that he may be strengthened, for he is now being questioned."
Abu Dawud transmitted it.
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি, দাফন শেষে মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করা এবং তার অবিচলতার জন্য আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করা শার‘ঈ নিয়ম বিদ্‘আত নয়। আর জীবিত ব্যক্তির দু‘আ মৃত ব্যক্তিদের উপকার দেয়।
পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩৪-[১০] আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কাফিরদের জন্য তাদের কবরে নিরানব্বইটি সাপ নির্ধারণ করা হয়। এ সাপগুলো তাকে ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত কামড়াতে ও দংশন করতে থাকবে। যদি তার কোন একটি সাপ জমিনে নিঃশ্বাস ফেলে, তবে এ জমিনে আর কোন ঘাস-তৃণলতা জন্মাবে না। (দারিমী) তিরমিযীও এ ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি নিরানব্বইটির স্থানে সত্তরের উল্লেখ করেছেন।[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثاني
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «يُسَلط عَلَى الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ تِنِّينًا تنهشه وتلدغه حَتَّى تقوم السَّاعَة وَلَو أَنَّ تِنِّينًا مِنْهَا نَفَخَ فِي الْأَرْضِ مَا أَنْبَتَتْ خَضِرًا» . رَوَاهُ الدَّارِمِيُّ وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ نَحْوَهُ وَقَالَ: «سَبْعُونَ بدل تِسْعَة وَتسْعُونَ»
تِنِّيْنٌ (তিন্নীন) অত্যধিক বিষধর বড় সাঁপ। ইমাম দারিমী হাদীসটি কিতাবুর রিক্বাকে বর্ণনা করেছেন। আর তার সানাদটি দুর্বল। কারণ তাতে দাররাজ আবুস্ সাম্হ নামক একজন মুনকার রাবী রয়েছে। ইমাম আহমাদ (রহঃ) দারিমী-এর সাথেই মুসনাদে আহমাদের ৩/৩৮ নং এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযী (রহঃ) আবূ যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত অন্য সূত্রে হাদীসটি আত্ তিরমিযীর ২/৭৫ নং এ বর্ণনা করেছেন। তবে সে সানাদেও দু’জন দুর্বল রাবী রয়েছে।
Chapter: Confirmation of the Punishment in the Grave - Section 2
Abu Sa'id reported God’s messenger as saying, “Ninety-nine dragons will be given power over an infidel in his grave, and will bite and sting him till the last hour comes. If one of those dragons were to breathe over the earth, it would bring forth no green thing."
Darimi transmitted it, and Tirmidhi transmitted something similar, but he said seventy instead of ninety-nine.
ব্যাখ্যা: এখানে সংখ্যাটি নির্দিষ্ট আর তা হলো ৯৯। যা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
تِنِّيْنًا অত্যধিক বিষধর সাপ। এদের বিষের তীব্রতা এত অধিক যে, যদি এগুলোর থেকে কোন একটি সাপের শ্বাস-প্রশ্বাস জমিনে পৌঁছে তাহলে জমিন তার উর্বরতা হারিয়ে ফেলবে। তাতে কোন সবুজ ফসলাদি ফলাবে না।
কোন বর্ণনায় ৯৯ আর কোন বর্ণনায় ৭০। এ দুই বর্ণনার সামাধান এভাবে দেয়া হয়েছে যে, ৯৯ হলো অনুসৃত কাফির আর ৭০ হলো অনুসরণকারী কাফিরগণের জন্য প্রযোজ্য।
পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩৫-[১১] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ) যখন ইন্তিকাল করেন, তখন আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর জানাযায় হাযির হলাম। জানাযার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে তাকে যখন কবরে রাখা হলো ও মাটি সমান করে দেয়া হলো, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে (দীর্ঘক্ষণ) আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করলেন। আমরাও তাঁর সাথে অনেক সময় তাসবীহ পড়লাম। তারপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবীর বললেন। আমরাও (তাঁর সাথে) তাকবীর বললাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কেন এভাবে তাসবীহ পড়লেন ও তাকবীর বললেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উত্তরে বললেন, এ নেক ব্যক্তির কবর খুব সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল (তাই আমি তাসবীহ ও তাকবীর পড়লাম)। এতে আল্লাহ তা’আলা তার কবরকে প্রশস্ত করে দিলেন। (আহমাদ)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثالث
عَن جَابر بن عبد الله قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ حِينَ توفّي قَالَ فَلَمَّا صَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَوُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَسُوِّيَ عَلَيْهِ سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَبَّحْنَا طَوِيلًا ثُمَّ كَبَّرَ فَكَبَّرْنَا فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ سَبَّحَتْ ثُمَّ كَبَّرْتَ قَالَ: «لقد تضايق على هَذَا العَبْد الصَّالح قَبره حَتَّى فرجه الله عز وَجل عَنهُ» . رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: (إِلى سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ) তার জানাযার দিকে, তিনি হচ্ছেন সা‘দ বিন মু‘আয বিন নুমান আল্ আনসারী আল্ আশহালী, আবূ ‘আমর আওস গোত্রের নেতা মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করেন। দুই আক্বাবার মধ্যবর্তী সময়ে। তার ইসলামের কারণে বানু ‘আবদ আশহাল-এর সকলেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তাকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘সাইয়্যিদুল আনসার’ উপাধি দিয়েছেন। তিনি বাদ্র (বদর) এবং উহুদ যুদ্ধে অংশ নেন। খন্দাকের যুদ্ধে তীরবিদ্ধ হয়ে রক্ত ঝরতে ঝরতে এক মাসের মাথায় হিজরী ৫ সনে যিলক্বদ মাসে শাহাদাত বরণ করেন। তখন তার বয়স হয়েছিল ৩৭ বছর, বাক্বী গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সহীহুল বুখারীতে তার বর্ণিত দু’টি হাদীস রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩৬-[১২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এই [সা’দ ইবনু মু’আয (রাঃ)] সে ব্যক্তি যার মৃত্যুতে ’আর্শ (আরশ)-ও কেঁপেছিল (তার পবিত্র রূহ্ ’আর্শে পৌঁছলে ’আর্শের নিকটতম মালায়িকাহ্ খুশীতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিল) এবং আসমানের দরজা খুলে দিয়েছিল। তার জানাযায় সত্তর হাজার মালাক উপস্থিত হয়েছিলেন। অথচ তার কবর সংকীর্ণ হয়েছিল। (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু’আর বারাকাতে) পরে তা প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল। (নাসায়ী)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثالث
وَعَن ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «هَذَا الَّذِي تَحَرَّكَ لَهُ الْعَرْشُ وَفُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَشَهِدَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ لَقَدْ ضُمَّ ضَمَّةً ثُمَّ فُرِّجَ عَنْهُ» . رَوَاهُ النَّسَائِيّ
ব্যাখ্যা: (هذَا الَّذِيْ) সা‘দ বিন মু‘আয-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটা তা‘যীমের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
(تَحَرَّكَ لَهُ الْعَرْشُ) অন্য বর্ণনায় إهْتَزَّ উল্লেখ আছে। অর্থাৎ- লাফিয়ে উঠেছে এবং তার সম্মানের সুসংবাদ তার রবের নিকটে দিয়েছে। কেননা ‘আর্শ (আরশ) যদিও সেটা জড় পদার্থ কিন্তু আল্লাহ চাইলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। এ হাদীসে সা‘দ বিন মু‘আয (রাঃ)-এর ফাযীলাত বর্ণনা আছে এবং এটাও বর্ণনা করছে যে, কবরের চাপ থেকে কোন মানুষই মুক্তি পাবে না। যেমন- সা‘দ (রাঃ) পাননি, তবে আম্বিয়ায়ে কিরামের কথা ভিন্ন।
ইমাম হাকিম আত্ তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ চাপের কারণ হলো প্রতিটি মানুষই কিছু না কিছু পাপের সাথে জড়িত হয়, এই পাপ মোচনের জন্য এই চাপ দেয়া হয়, তারপর আবার তাকে রহমাত করা হয়। সা‘দ বিন মু‘আয-এর চাপ সম্বন্ধে বলা হয়ে থাকে যে, প্রস্রাবের পরে পবিত্রতার প্রতি অসতর্ক থাকার দরুন তার এই চাপ হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩৭-[১৩] আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে নাসীহাত করার জন্য দাঁড়ালেন এবং কবরের ফিত্নাহ্ (ফিতনা) সম্পর্কে বর্ণনা করলেন। মানুষ কবরে যে ফিতনার সম্মুখীন হয় তা শুনে লোকজন ভয়ে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে শুরু করল। ইমাম বুখারী এ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম নাসায়ীর বর্ণনায় আরো রয়েছেঃ (কবরের ফিতনার কথা শুনে ভয়ে ভীত বিহ্বল হয়ে) মুসলিমরা চীৎকারের কারণে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (মুখ থেকে বের হওয়া) কথাগুলো বুঝতে পারিনি। চীৎকার বন্ধ হবার পর অবস্থা শান্ত হলে আমি আমার নিকটে বসা এক লোককে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তোমায় কল্যাণ দান করুন, শেষের দিকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী বলেছেন? সে ব্যক্তি উত্তরে বলল, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আমার ওপর এ ওয়াহী এসেছে যে, তোমাদেরকে কবরে ফিতনায় ফেলা হবে। আর এ ফিতনাহ্ দাজ্জালের ফিতনার মতো হবে।[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثالث
عَن أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا تَقول قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا فَذكر فتْنَة الْقَبْر الَّتِي يفتتن فِيهَا الْمَرْءُ فَلَمَّا ذَكَرَ ذَلِكَ ضَجَّ الْمُسْلِمُونَ ضَجَّةً. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ هَكَذَا وَزَادَ النَّسَائِيُّ: حَالَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ أَنْ أَفْهَمَ كَلَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا سَكَنَتْ ضَجَّتُهُمْ قُلْتُ لِرَجُلٍ قَرِيبٍ مِنِّي: أَيْ بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ مَاذَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ قَوْلِهِ؟ قَالَ: «قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَرِيبًا من فتْنَة الدَّجَّال»
পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩৮-[১৪] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন (মু’মিন) মৃতকে কবরে দাফন করা হয়, তার নিকট মনে হয় যেন সূর্য ডুবছে। তখন সে হাত দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে উঠে বসে এবং বলে যে, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করে নেই। (সালাতের প্রতি একাগ্রতার কারণে এরূপ বলবে) (ইবনু মাজাহ্)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثالث
وَعَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا أُدْخِلَ الْمَيِّتُ الْقَبْرَ مَثَلَتْ لَهُ الشَّمْسُ عِنْدَ غُرُوبِهَا فَيَجْلِسُ يَمْسَحُ عَيْنَيْهِ وَيَقُولُ: دَعونِي أُصَلِّي . رَوَاهُ ابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, সূর্য ডুবে যাওয়ার ক্ষণে এই অবস্থা শুধুমাত্র মু’মিনেরই হবে। কারণ হাদীসে যদিও বিষয়টি ব্যাপক আছে তথাপি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের ইচ্ছা তো কাফিরের আসতে পারে না বরং সেটা মু’মিনেরই শোভা পায়।
পরিচ্ছেদঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কবরের ‘আযাব
১৩৯-[১৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মৃত যখন কবরের ভিতরে পৌঁছে, তখন (নেক) বান্দা কবরের ভিতর ভয়-ভীতিহীন ও শঙ্কামুক্ত হয়ে উঠে বসে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি কোন্ দীনে ছিলে? তখন সে বলে, আমি দীন ইসলামে ছিলাম। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে? সে বলে, এ ব্যক্তি হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহর রসূল। আল্লাহর নিকট হতে আমাদের কাছে (হিদায়াতের জন্য) স্পষ্ট দলীল নিয়ে এসেছেন এবং আমরাও তাঁকে (পরিপূর্ণ) বিশ্বাস করেছি। পুনরায় তাকে প্রশ্ন করা হয়, তুমি আল্লাহকে কক্ষনো দেখেছ কি? সে উত্তরে বলে, দুনিয়াতে আল্লাহকে দেখা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। অতঃপর জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি ছিদ্রপথ খুলে দেয়া হয়। সে সেদিকে তাকায় এবং দেখে, আগুনের লেলিহান শিখা একে অপরকে দলিত-মথিত করে তোলপাড় করছে। তখন তাকে বলা হয়, দেখ! তোমাকে কি কঠিন বিপদ হতে আল্লাহ হিফাযাত করেছেন। তারপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্রপথ খুলে দেয়া হয়। এখন সে জান্নাতের শোভা সৌন্দর্য ও এর ভোগ-বিলাসের প্রতি তাকায়। তাকে তখন বলা হয়, এটা তোমার (প্রকৃত) স্থান। কেননা তুমি দুনিয়ায় ঈমানের সাথে ছিলে, ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছ। ইন-শা-আল্লাহ, ঈমানের সাথেই তুমি কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন উঠবে।
অপরদিকে বদকার বান্দা তার কবরের মধ্যে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে বসবে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি কোন্ দীনে ছিলে? উত্তরে সে বলবে, আমি তো কিছুই জানি না। পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে? উত্তরে সে বলবে, আমি মানুষদেরকে যা বলতে শুনেছি তা-ই আমি বলেছি। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্রপথ খুলে দেয়া হবে। এ পথ দিয়ে সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও এতে যা (সুখ-শান্তির উপায়-উপকরণ, সাজ-সরঞ্জাম) রয়েছে তা দেখবে। তখন তাকে বলা হবে, এসব জিনিসের প্রতি দৃষ্টি দাও যেসব জিনিস হতে আল্লাহ তোমাকে ফিরিয়ে রেখেছেন। তারপর তার জন্য আর একটি দরজা খুলে দেয়া হবে। আর সে সেদিকে দেখবে আগুনের লেলিহান শিখা একে অপরকে দলিত-মথিত করে তোলপাড় করছে। তাকে তখন বলা হবে, এটা তোমার (প্রকৃত) অবস্থান। তুমি সন্দেহের উপরেই ছিলে, সন্দেহের উপরই তুমি মৃত্যুবরণ করেছ। ইনশা-আল্লা-হ, এ সন্দেহের উপরই ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে তোমাকে উঠানো হবে। (ইবনু মাজাহ্)[1]
باب إثبات عذاب القبر - الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْمَيِّتَ يَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ فَيَجْلِسُ الرَّجُلُ الصَّالح فِي قَبره غير فزع وَلَا مشعوف ثمَّ يُقَال لَهُ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ كُنْتُ فِي الْإِسْلَامِ فَيُقَالُ لَهُ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَصَدَّقْنَاهُ فَيُقَالُ لَهُ هَلْ رَأَيْتَ اللَّهَ فَيَقُولُ مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَرَى اللَّهَ فَيُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةً قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يُحَطِّمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَا وَقَاكَ اللَّهُ ثمَّ يفرج لَهُ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَال لَهُ هَذَا مَقْعَدك وَيُقَال لَهُ عَلَى الْيَقِينِ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مِتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِن شَاءَ الله وَيجْلس الرجل السوء فِي قَبره فَزعًا مشعوفا فَيُقَال لَهُ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي فَيُقَالُ لَهُ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ قولا فقلته فيفرج لَهُ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَا صَرَفَ اللَّهُ عَنْك ثمَّ يفرج لَهُ فُرْجَةً قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يُحَطِّمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ لَهُ هَذَا مَقْعَدُكَ عَلَى الشَّك كنت وَعَلِيهِ مت وَعَلِيهِ تبْعَث إِن شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ
ব্যাখ্যা: (انْظُرْ إِلى مَا وَقَاكَ اللّهُ) ‘‘দেখো! আল্লাহ তোমাকে কি কঠিন বিপদ হতে রক্ষা করেছেন।’’ অর্থাৎ- তুমি ঐ শাস্তির দিকে তাকিয়ে দেখো যে শাস্তি থেকে আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করেছেন স্বীয় কৃপায় তোমাকে কুফরী ও পাপ থেকে বিরত রেখে। যে পাপ মানুষকে ঐ শাস্তির মধ্যে নিক্ষেপ করে তথা শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(فَيَنْظُرُ إِلى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا) ‘‘অতঃপর সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও ভোগ-বিলাসের দিকে তাকায়।’’ অর্থাৎ- মু’মিন ব্যক্তি তখন জান্নাতের দিকে তাকিয়ে জান্নাতের যে নি‘আমাত সেটার মধ্যে যে দালান-কোঠা এবং হূর গেলেমান আছে সব দেখতে পাবে।
(فَيُقَالُ لَه هذَا مَقْعَدُكَ) ‘‘অতঃপর তাকে বলা হবে এটাই তোমার আবাসস্থল।’’ অর্থাৎ- কবর থেকে পুনরুত্থানের পর বান্দাদের হিসাব-নিকাশের পর এ জান্নাতই হবে তোমার আবাসস্থল, এখানেই তুমি অনন্তকাল থাকবে যার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই।
(إِنْ شَآءَ اللهُ تَعَالى) সন্দেহ সৃষ্টির উদ্দেশে বলা হয়নি। বলার কারণ দু’টি হতে পারে।
১. বারাকাতের উদ্দেশে।
২. নিশ্চয়তা বুঝানোর উদ্দেশে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪০-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছে যা এতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رد»
ব্যাখ্যা: যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে নিজের মনগড়া কিছু সংযোজন করবে যার স্বপক্ষে সুস্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোন প্রকার দলীল কুরআন ও সুন্নাহ'য় থাকবে না তা প্রত্যাখ্যাত। অর্থাৎ- ঐ বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা মানুষের জন্য একান্তই আবশ্যক। ঐ বিষয়ে তাকলীদ করা এবং তার অনুসরণ করা কোনক্রমেই জায়িয হবে না। এ হাদীসটি ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মূল এবং সকল প্রকার বিদ্‘আতকে প্রত্যাখ্যান করার সুস্পষ্ট দলীল। ইমাম নাবাবী বলেছেনঃ অশ্লীল ও অপছন্দকর বিষয়কে বর্জন করার ব্যাপারে এ হাদীসটিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করার জন্য হাদীসটির সংরক্ষণ একান্তই প্রয়োজন।
সহীহ মুসলিম-এর বর্ণনায় রয়েছে যে, (مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ) অর্থাৎ- যে ব্যক্তি এমন কাজ করলো যা দীনের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং যাতে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের অনুমোদন নেই, তা দীন বহির্ভূত এবং পরিত্যাজ্য।
হাফিয ইবনু হাজার বলেছেনঃ নিষেধকৃত সকল বিষয় বাতিল বলে গণ্য হওয়া এবং বিষয়টির ফলাফল বাস্তবায়ন না হওয়ার উপর হাদীসটি প্রমাণ করে। কেননা নিষেধকৃত বস্ত্রসমূহ দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই তা প্রত্যাখ্যান একান্তই আবশ্যক।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪১-[২] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অতঃপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দীনে (মনগড়াভাবে) নতুন জিনিস সৃষ্টি করা এবং (এ রকম) সব নতুন সৃষ্টিই গুমরাহী (পথভ্রষ্ট)। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে নব-আবিষ্কৃত বা সংযোজন তথা বিদ্‘আত সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে এমন নতুন সংযোজনের কথা বলা হয়েছে, শারী‘আতে যার কোন ভিত্তি নেই। তবে শারী‘আতে রয়েছে তা বিদ্‘আত নয়। যেমন কুরআনের তাফসীর করা এবং হাদীস লিপিবদ্ধকরণ। ইমাম নাসায়ীর বর্ণনায় রয়েছে, সবচেয়ে সত্য বাণী হলোঃ আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ হলো, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথ। বস্তুসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ হলো নব-আবিষ্কৃত এবং নব-আবিষ্কৃতই হলো বিদ্‘আত, আর সকল বিদ্‘আতই ভ্রষ্ট এবং সকল ভ্রষ্টতাই হলো জাহান্নামী।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪২-[৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার কাছে সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত। (১) যে ব্যক্তি মক্কার হারাম এলাকার মধ্যে নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ করে। (২) যে ব্যক্তি ইসলামে থেকে (ইসলাম-পূর্ব) জাহিলী যুগের নিয়ম-নীতি অনুকরণ করে। (৩) যে ব্যক্তি বিনা অপরাধে শুধু অন্যায়ভাবে (রক্তপাতের উদ্দেশে) কোন লোকের রক্তপাত ঘটায়। (বুখারী)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى الله ثَلَاثَة ملحد فِي الْحرم وميتغ فِي الْإِسْلَام سنة الْجَاهِلِيَّة ومطلب دم امرىء بِغَيْر حق ليهريق دَمه» رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে বলা হয়েছে, তিন প্রকারের ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট-
১. ঐ ব্যক্তি, যে (মক্কায়) হারামের ভিতরে আল্লাহদ্রোহিতা তথা অন্যায় বা অপরাধমূলক কাজ করবে। হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ হাদীসটি দ্বারা বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় যে, হারামের ভিতরে ছোট (সগীরাহ্) গুনাহ্ করা হারামের বাইরে বড় (কাবীরাহ্ (কবিরা)) গুনাহ করার চেয়ে জঘন্য অপরাধ।
২. ঐ ব্যক্তি, যে জাহিলী যুগের বিভিন্ন প্রথা ইসলামে চালু করে যেগুলোকে ইসলাম বর্জন করার নির্দেশ করেছে।
৩. ঐ ব্যক্তি, যে বিনা অপরাধে শুধুমাত্র রক্তপাতের উদ্দেশেই (বিচারকের নিকট) কোন মুসলিমের রক্তের দাবি করে।
হাদীসে এ তিন প্রকারের ব্যক্তিকে খাস করা হয়েছে এজন্য যে, তাদের কৃতকর্মের দ্বারা গুনাহের সঙ্গে আল্লাহদ্রোহিতারা বৃদ্ধি পায়।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪৩-[৪] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’আমার সকল উম্মাত জান্নাতে যাবে, যে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত। জিজ্ঞেস করা হলো, কে অস্বীকার করবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যারা আমার আনুগত্য স্বীকার করেছে তারা জান্নাতে যাবে। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হলো সে-ই (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করলো (অতএব সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে)। (বুখারী)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى. قِيلَ: وَمَنْ أَبَى؟ قَالَ: مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فقد أَبى رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ আমার উম্মাতের সকলেই জান্নাতে যাবে। এখানে উম্মাত দ্বারা ঐ সকল উম্মাত হতে পারে যাদের নিকট রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দা‘ওয়াত পৌঁছেছে অথবা যারা তাঁর দা‘ওয়াত কবূল করেছে। অসম্মতি প্রকাশকারীর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে নাফরমান ব্যক্তি বা পাপী।
অতএব, হাদীসের মূল বক্তব্য হচ্ছে, কিতাব ও সুন্নাহকে ধারণ করার মাধ্যমে যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করবে সেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সিরাতে মুস্তাক্বীম তথা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবে সেই জাহান্নামে যাবে। ইমাম বাগাভী (রহঃ) এ হাদীসটিকে ‘‘কিতাব ও সুন্নাতকে আঁকড়িয়ে ধারণ করা’’ পূর্বক অধ্যায়ে নিয়ে আসা এবং তাতে আনুগত্য শব্দটিকে উল্লেখ করা দ্বারা উপরোক্ত ব্যাখ্যার গুরুত্ব বহন করে। কেননা, আনুগত্যশীল ব্যক্তিই কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়িয়ে ধারণ করে এবং প্রবৃত্তির চাহিদা ও বিদ্‘আতী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪৪-[৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একদল মালাক (ফেরেশতা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। এ সময় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শুয়েছিলেন। মালায়িকাহ্ (ফেরেশতাগণ) পরস্পরে বলাবলি করলেন, তোমাদের সাথী (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে একটি উদাহরণ রয়েছে। তাঁর সামনেই উদাহরণটি বলো। তখন একজন বললেন, তিনি তো ঘুমিয়ে আছেন। আবার একজন বললেন, তাঁর চোখ ঘুমালেও তাঁর মন সর্বদা জাগ্রত। তাঁর উদাহরণ হলো সে ব্যক্তির ন্যায়, যিনি একটি ঘর বানিয়েছেন। অতঃপর মানুষকে আহার করানোর জন্য দস্তরখান বিছালেন, তারপর মানুষকে ডাকবার জন্য আহবায়ক পাঠালেন। যারা আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিল তারা ঘরে প্রবেশ করলো এবং খাবারও খেল। আর যারা আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিল না, তারা ঘরে প্রবেশ করতে পারলো না আর খাবারও পেল না।
এসব কথা শুনে তারা (মালায়িকাহ্) পরস্পর বললেন, এ কথাটার তাৎপর্য বর্ণনা কর যাতে তিনি কথাটা বুঝতে পারেন। এবারও কেউ বললেন, তিনি তো ঘুমিয়ে। আর কেউ বললেন, তাঁর চোখ ঘুমিয়ে থাকলেও অন্তর জেগে আছে। তারা বললেন, ’ঘরটি’ হলো জান্নাত আর আহবায়ক হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘর ও মেহমানদারী প্রস্তুতকারী হলেন আল্লাহ তা’আলা)। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবাধ্য হলো সে আল্লাহর অবাধ্য হলো। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মানুষের মধ্যে (মুসলিম ও কাফিরের) পার্থক্য নির্ধারণকারী মানদন্ড। (বুখারী)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
عَن جَابر بن عبد الله يَقُول جَاءَتْ مَلَائِكَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ نَائِم فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَة وَالْقلب يقظان فَقَالُوا إِنَّ لِصَاحِبِكُمْ هَذَا مَثَلًا فَاضْرِبُوا لَهُ مثلا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ فَقَالُوا مَثَلُهُ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى دَارًا وَجَعَلَ فِيهَا مَأْدُبَةً وَبَعَثَ دَاعِيًا فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِيَ دَخَلَ الدَّارَ وَأَكَلَ مِنَ الْمَأْدُبَةِ وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّاعِيَ لَمْ يَدْخُلِ الدَّارَ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنَ الْمَأْدُبَةِ فَقَالُوا أَوِّلُوهَا لَهُ يفقهها فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَة وَالْقلب يقظان فَقَالُوا فالدار الْجنَّة والداعي مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَمن أطَاع مُحَمَّدًا صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فقد أطَاع الله وَمن عصى مُحَمَّدًا صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فقد عصى الله وَمُحَمّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فرق بَين النَّاس. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চক্ষু নিদ্রিত হলেও তাঁর অন্তর জাগ্রত। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘুমের অবস্থায় চক্ষু বন্ধ থাকলেও তাঁর অন্তর এবং অনুভূতি শক্তি জাগ্রত থাকে।
হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য যে দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে, এর তাৎপর্য হিসেবে বলা হয়েছেঃ ঘরটি হলো জান্নাত। তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে যে, ঘরের মালিক হলেন আল্লাহ, ইসলাম হলো দরজা, ঘরটি হলো জান্নাত এবং আপনি হে মুহাম্মাদ! আহবানকারীর দূত।
ইবনু মাস্‘ঊদ কর্তৃক মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে যে, ঘরটির মালিক হলেন আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন, ঘরটি হলো ইসলাম। খাবার বা যিয়াফত হলো- জান্নাত এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আহবানকারী। সুতরাং যে তাঁর অনুসরণ করবে সে জান্নাতী হবে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন আহবানকারী, সুতরাং যে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে আনুগত্য করলো, সে যেন আল্লাহরই আনুগত্য করলো। কেননা তিনি হচ্ছেন খাবার ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে দূত। অতএব, যে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর দা‘ওয়াত গ্রহণ করলো সে যেন খাবার খেলো, অর্থাৎ- জান্নাতে প্রবেশ করলো।
তিরমিযীর অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হে মুহাম্মাদ! আপনি আল্লাহর রসূল! যে আপনার ডাকে সাড়া দিল সে ইসলামে প্রবেশ করলো এবং যে ইসলামে প্রবেশ করলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করলো আর যে জান্নাতে প্রবেশ করলো সে জান্নাতী খাবার খেলো। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন মু‘মিন ও কাফির এবং সৎ ও অসৎ ব্যক্তির মাঝে পার্থক্যকারী।
হাদীসে মালায়িকাহ্ কর্তৃক দৃষ্টান্তের মাঝে রয়েছে জাগ্রত শ্রোতামণ্ডলীর জন্য গাফলতি ও অজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসার আহবান। আরো রয়েছে অনুপ্রেরণা কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়িয়ে ধরা এবং বিদ্‘আত ও ভ্রষ্টতা থেকে বিমুখতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪৫-[৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ’ইবাদাতের অবস্থা জানার জন্য তাঁর স্ত্রীগণের নিকট এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ’ইবাদাতের খবর শুনে তারা যেন তাঁর ইবাদাতকে কম মনে করলেন এবং পরস্পর আলাপ করলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে আমাদের তুলনা কোথায়, আল্লাহ তা’আলা তাঁর আগের-পরের (গোটা জীবনের) সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। অতঃপর তাদের একজন বললেন, আমি কিন্তু সারা রাত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবো। দ্বিতীয়জন বললেন, আমি দিনে সিয়াম পালন করবো, আর কখনো তা ত্যাগ করবো না। তৃতীয়জন বললেন, আমি নারী থেকে দূরে থাকব, কখনো বিয়ে করবো না। তাদের এ পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পড়লেন এবং বললেন, তোমরা কী এ ধরনের কথাবার্তা বলছিলে? আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি, তোমাদের চেয়ে বেশি পরহেয করি। কিন্তু এরপরও আমি কোন দিন সিয়াম পালন করি আবার কোন দিন সিয়াম পালন করা ছেড়ে দেই। রাতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করি আবার ঘুমিয়েও থাকি। আমি বিয়েও করি। সুতরাং এটাই আমার সুন্নাত (পথ), যে ব্যক্তি আমার পথ থেকে বিমুখ হবে সে আমার (উম্মাতের) মধ্যে গণ্য হবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ جَاءَ ثَلَاثَة رَهْط إِلَى بيُوت أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أخبروا كَأَنَّهُمْ تقالوها فَقَالُوا وَأَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أحدهم أما أَنا فَإِنِّي أُصَلِّي اللَّيْل أبدا وَقَالَ آخر أَنا أَصوم الدَّهْر وَلَا أفطر وَقَالَ آخر أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ: «أَنْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مني»
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত তিনজনের যে প্রতিনিধি আল্লাহর রসূলের স্ত্রীদের নিকট এসেছিলেন, তাঁরা হলেন- ‘আলী, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস এবং ‘উসমান ইবনু মায্‘উন। আবার কেউ বলেছেন, তিনজনের একজন ছিলেনঃ মিক্বদাদ, ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর নন। তাঁরা রসূলের ‘ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, প্রতি দিনে এবং রাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওযীফাহসমূহের পরিমাণ সম্পর্কে জানা যাতে তারা সেভাবে আ‘মাল করতে পারেন। এ সম্পর্কে জানার পর নিজেদের কৃত আ‘মালসমূহকে অত্যন্ত স্বল্প মনে করে তাঁরা যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমর্থন করেননি। কারণ হলো, একজন ভালো মানুষের কর্তব্য হলো, আল্লাহর হক আদায় করার পাশাপাশি মানুষের হকও আদায় করা এবং সার্বিক ব্যাপারে আল্লাহর ওপর ভরসা করা ও তাঁরই নিকট সবকিছু সোপর্দ করা। তাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ হতে বিমুখ হবে সে আমার মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ- আমার সুন্নাহকে অস্বীকারকারী হলে সে দীন থেকে খারিজ হয়ে যাবে। আর যদি অবজ্ঞাবশত অথবা কোন প্রকার কৌশল অবলম্বনের দ্বারা আমার সুন্নাহকে এড়িয়ে যায় তাহলে সে আমার তরীকার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪৬-[৭] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি কাজ করলেন (অর্থাৎ- সফরে সিয়াম ভঙ্গ করলেন), অন্যদেরকেও তা করার জন্য অনুমতি দিলেন। কিন্তু কতক লোক তা থেকে বিরত থাকল (অর্থাৎ- সিয়াম ভাঙ্গল না)। এ সংবাদ শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুত্বাহ্ (খুতবা) দিলেন, হাম্দ-সানা পড়ার পর বললেন, লোকদের কী হল? তারা এমন কাজ হতে বিরত থাকছে যা আমি করছি। আল্লাহর কসম! আমি তাঁকে (আল্লাহকে) তাদের চেয়ে অধিক জানি ও তাদের চেয়ে বেশী ভয় করি। (সুতরাং আমি যে কাজ করতে দ্বিধাবোধ করি না, তারা তা করতে ইতস্তত করবে কেন?) (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا فَرَخَّصَ فِيهِ فَتَنَزَّهَ عَنْهُ قَوْمٌ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَطَبَ فَحَمِدَ اللَّهَ ثُمَّ قَالَ: «مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَتَنَزَّهُونَ عَنِ الشَّيْءِ أَصْنَعُهُ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأعلمهم بِاللَّه وأشدهم لَهُ خشيَة»
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজটি করলেন তা’ অন্যদেরও করার জন্য সম্মতি ছিল। বাহ্যিকভাবে যা বুঝা যায় এবং আনাস (রাঃ)-এর হাদীসে উল্লেখও করা হয়েছে, সেই কাজটি ছিল- রাতে ঘুমানো, রমাযান ছাড়া অন্য মাসে দিনে খাওয়া এবং নারীদেরকে বিবাহ করা। আর এ ব্যাপারে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত মুসলিমের বর্ণনায় আছে যে, কাজটি ছিল- রমাযান মাসে বাদ ফাজ্র (ফজর) জানাবাতের গোসল করা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর কসম তাদের চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে আমি বেশি জানি এবং তাদের অপেক্ষা আমি আল্লাহকে বেশি ভয় করি।
এ হাদীস দ্বারা অনুপ্রেরণা দেয়া হয়েছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করার ব্যাপারে। কারণ কল্যাণ রয়েছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের মধ্যেই। সেই অনুসরণ ‘‘আযীমাহ্’’ অথবা ‘‘রুখসাহ্’’। প্রতিটি কাজেই শারী‘আতের পরিভাষায় ‘‘আযীমাহ্’’ হলো, যে কাজটি শারী‘আতের বিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই রেখে ‘আমল করা। আর ‘‘রুখসাহ্’’ হলো, কোন কারণে শারী‘আতের কোন কাজ স্বাভাবিকের বিকল্প ব্যবস্থায় করা। যেমনঃ সফরে সালাতকে কসর পড়া। সুতরাং যে বিষয়ে ‘‘রুখসাহ্’’-এর আছে সে বিষয়ে রসূলের অনুসরণের উদ্দেশে ‘‘রুখসাহ্’’-এর উপর আ‘মাল করাই হচ্ছে উত্তম। আবার কোন সময় ঐ ‘‘রুখসাহ্’’ ‘আমল করা গুনাহের কারণও হতে পারে। যেমন মোজার উপর মাসাহ্ না করা। কারণ এর দ্বারা সুন্নাতের প্রতি অবহেলা প্রকাশ পায়।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪৭-[৮] রাফি’ ইবনু খদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সময় মদীনায় (হিজরত করে) আসলেন, সে সময় মদীনার লোকেরা খেজুর গাছে তা’বীর করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা এরূপ করছ কেন? মদীনাবাসী উত্তর দিল, আমরা বরাবরই এমনি করে আসছি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, মনে হয় তোমরা এমন না করলেই ভালো হত। তাই মদীনাবাসীরা এ কাজ করা পরিত্যাগ করল। কিন্তু ফসল (এ বছর) কম হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে গেলে তিনি বললেন, ’নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ। তাই আমি যখন তোমাদেরকে দীন সম্পর্কে কোন বিষয়ে নির্দেশ দেই, তখন তোমরা অবশ্যই আমার কথা শুনবে। আর আমি যখন নিজের মতানুসারে দুনিয়ার বিষয় সম্পর্কে তোমাদেরকে কিছু বলব তখন মনে করবে, আমি একজন মানুষ (তাই দুনিয়ার ব্যাপারে আমারও ভুল হতে পারে)। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَن رَافع بن خديج قَالَ: قَدِمَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وهم يأبرون النَّخْلَ فَقَالَ: «مَا تَصْنَعُونَ» قَالُوا كُنَّا نَصْنَعُهُ قَالَ «لَعَلَّكُمْ لَوْ لَمْ تَفْعَلُوا كَانَ خَيْرًا» فَتَرَكُوهُ فنفضت قَالَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ دِينِكُمْ فَخُذُوا بِهِ وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ رَأْي فَإِنَّمَا أَنا بشر» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে লোকেরা খেজুর গাছে তা‘বীর করতো। অর্থাৎ- মাদী গাছের কেশরের সঙ্গে নর গাছের কেশরকে লাগিয়ে দিতো। এতে করে গাছের ফলন অনেক বেশি হতো। আর এ কাজটি তারা জাহিলী যুগের অভ্যাস অনুযায়ী করতো। বিষয়টি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জানা না থাকার কারণে বলেছিলেনঃ এ রকম না করলেই ভালো হতো। ত্বলহাহ্ (রাঃ) কর্তৃক মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমার ধারণা এই যে, এতে কোন উপকার দেবে না। এ কথা শুনে লোকেরা তা‘বীর করা বন্ধ করে দিলো, কিন্তু এতে যখন ফলন কমে গেল তখন বাগানের মালিকেরা এসে ফলন কমের কথা উল্লেখ করলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমিও একজন মানুষ। গায়িবী ব্যাপারে আমার কোন কিছু জানা নেই। আমি যা বলেছি তা শুধু আমার ধারণা থেকে।
সুতরাং আমি যখন কোন বিষয়ে তোমাদেরকে নির্দেশ করবো যা দীনের ব্যাপারে তোমাদের উপকারী হবে তা তোমরা গ্রহণ করবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ ‘‘রসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তাই তোমরা গ্রহণ করো’’- (সূরাহ্ আল হাশর ৫৯ঃ ৭)। আর দুনিয়াবী বিষয়ে যা নির্দেশ করবো তা সঠিক হতেও পারে, নাও হতে পারে। কারণ এ ব্যাপারে আমি ওয়াহী হতে বলি না। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এবং আনাস (রাঃ) কর্তৃক মুসলিমের বর্ণনায় আছে যে, দুনিয়াবী বিষয়ে তোমরাই আমার চেয়ে বেশি জ্ঞান রাখো।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪৮-[৯] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এবং যে ব্যাপারটি দিয়ে আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন তার উদাহরণ হলো, যেমন- এক ব্যক্তি তার জাতির নিকট এসে বললো, হে আমার জাতি! আমি আমার এ দুই চোখে শত্রু বাহিনী দেখে এসেছি। আমি হচ্ছি তোমাদের একজন নাঙ্গা (নিঃস্বার্থ) সাবধানকারী। অতএব তোমরা শীঘ্রই তোমাদের মুক্তির পথ খোঁজ কর (তাহলে মুক্তি পাবে)। এ কথা শুনে জাতির একদল লোক তার কথা (বিশ্বাস করে) মেনে নিল। রাতেই তারা (শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য) ধীরে-সুস্থে চলে গেল এবং তারা মুক্তি পেল। জাতির অপর একদল তাঁকে মিথ্যুক মনে করলো (তাই ভোর পর্যন্ত নিজেদের স্থানেই রয়ে গেল)। ভোরে অতর্কিতে শত্রু সৈন্য এসে তাদের ওপর আপতিত হলো এবং তাদেরকে সমূলে ধ্বংস ও বিনষ্ট করে দিল। এই হলো সে ব্যক্তির উদাহরণ- যে আমার কথা স্বীকার করেছে, আমি যা এনেছি তার অনুসরণ করেছে। আর সে ব্যক্তির উদাহরণ- যে আমার কথা মানেনি ও আমি যে সত্য নিয়ে (দীন ও শারী’আত) তাদের নিকট এনেছি, তাকে তারা মিথ্যা মনে করেছে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا مَثَلِي وَمَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَتَى قَوْمًا فَقَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي رَأَيْتُ الْجَيْشَ بِعَيْنِي وَإِنِّي أَنَا النَّذِيرُ الْعُرْيَانُ فَالنَّجَاءَ النَّجَاءَ فَأَطَاعَهُ طَائِفَةٌ مِنْ قَوْمِهِ فَأَدْلَجُوا فَانْطَلَقُوا عَلَى مَهْلِهِمْ فَنَجَوْا وَكَذَّبَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ فَأَصْبَحُوا مَكَانَهُمْ فَصَبَّحَهُمُ الْجَيْشُ فَأَهْلَكَهُمْ وَاجْتَاحَهُمْ فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ أَطَاعَنِي فَاتَّبَعَ مَا جِئْتُ بِهِ وَمثل من عَصَانِي وَكذب بِمَا جِئْتُ بِهِ مِنَ الْحَقِّ»
ব্যাখ্যা: হাদীসের মধ্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, অচিরেই আসন্ন ‘আযাবের ব্যাপারে তাঁর জাতিকে ভীতি-প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন, এর দৃষ্টান্ত হিসেবে ঐ ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন যে তার কাওমকে সতর্ক করলো শত্রু সম্পর্কে। আর তাঁর উম্মাতের মধ্যে তাঁর আনুগত্যকারী এবং অস্বীকারকারী উদাহরণ দিয়েছেন ঐ ব্যক্তিকে দিয়ে যে তার কাওমকে সতর্ক করলো, অতঃপর তাকে কেউ বিশ্বাস করলো এবং কেউ মিথ্যারোপ করলো।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৪৯-[১০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উদাহরণ হলো সে ব্যক্তির ন্যায় যে আগুন জ্বালাল এবং আগুন যখন তার চারদিক আলোকিত করলো, তখন পতঙ্গসমূহ ও পোকা-মাকড় দলে দলে প্রজ্জ্বলিত আগুনে এসে ঝাঁপ দিয়ে পড়তে লাগলো, আর আগুন প্রজ্জ্বলনকারী সেগুলোকে বাধা দিতে লাগল। কিন্তু তারা বাধা উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়তেই থাকলো। ঠিক তদ্রূপ আমিও (হে মানবজাতি!) তোমাদেরকে পেছন থেকে তোমাদের কোমর ধরে আগুন হতে (বাঁচাবার জন্য) টানছি। আর তোমরা সে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছ। ইমাম বুখারী এরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুসলিমও সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনের সাথে এ পর্যন্ত একই রূপ বর্ণনা করেছেন। তবে শেষের দিকে কিছু বাড়িয়ে এরূপ বলেছেন, অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, এটাই হলো আমার ও তোমাদের উদাহরণ। আমি কোমর ধরে তোমাদেরকে আগুন থেকে (বাঁচানোর জন্য) টানছি ও বলছি, এসো আমার দিকে, আগুন থেকে দূরে থাক; এসো আমার দিকে, আগুন থেকে দূরে থাক। কিন্তু তোমরা আমাকে পরাস্ত করে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ছ। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّمَا مثلي وَمثل النَّاس كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حوله جَعَلَ الْفَرَاشُ وَهَذِهِ الدَّوَابُّ الَّتِي تَقَعُ فِي النَّار يقعن فِيهَا وَجعل يحجزهن ويغلبنه فيقتحمن فِيهَا فَأَنَا آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ وَأَنْتُمْ يقتحمون فِيهَا» . هَذِهِ رِوَايَةُ الْبُخَارِيِّ وَلِمُسْلِمٍ نَحْوَهَا وَقَالَ فِي آخرهَا: فَذَلِكَ مَثَلِي وَمَثَلُكُمْ أَنَا آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ: هَلُمَّ عَنِ النَّارِ هَلُمَّ عَنِ النَّارِ فَتَغْلِبُونِي تَقَحَّمُونَ فِيهَا
ব্যাখ্যা: হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বক্তব্য (হে মানব সকল) আমি তোমাদের কোমর ধরে আগুন থেকে টানছি, এর অর্থ হলো- তিনি মানবমণ্ডলীকে পাপের কাজ থেকে নিষেধ করছেন। যে পাপের কাজ মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়।
‘আল্লামা নাবাবী বলেছেনঃ হাদীসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেল ও কুরআন সুন্নাহর খিলাফকারী লোকেদের পাপ ও প্রবৃত্তির কারণে জাহান্নামে যাওয়া এবং তাদেরকে কথা দ্বারা নিষেধ করা সত্ত্বেও সে কাজে নিপতিত হওয়ার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টাকে তুলনা করেছেন পতঙ্গসমূহের প্রবৃত্তির এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য করার অক্ষমতার কারণে দুনিয়ার আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার সঙ্গে। কারণ এই যে, এরা নিজেদেরকে ধ্বংস করতে বেশ আগ্রহী, আর এটা হয় তাদের অজ্ঞতার কারণে।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ
تِلْكَ حُدُودُ اللّهِ فَلَا تَعْتَدُوْهَا وَمَنْ يَّتَعَدَّ حُدُوْدَ اللّهِ فَأُوْلئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ
‘‘এই হচ্ছে আল্লাহর সীমারেখা, যে আল্লাহর সীমারেখাকে অতিক্রম করবে সে যালিম।’’ (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ঃ ২২৯)
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫০-[১১] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা আমাকে যে হিদায়াত ও ’ইলম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দৃষ্টান্ত হলো জমিনে মুষলধারে বৃষ্টি, যা কোন ভূখণ্ডে পড়েছে। সে ভূখণ্ডের একাংশ উৎকৃষ্ট, যা বৃষ্টিকে চুষে নিয়েছে এবং প্রচুর উদ্ভিদ, গাছ-গাছালি ও ঘাস জন্ম দিয়েছে। আর অপর অংশ ছিল কঠিন ও গভীর, যা পানি (শোষণ না করে) আটকিয়ে রেখেছে। যার দ্বারা মানুষের উপকার সাধন করেছে। লোকেরা তা পান করেছে, অন্যকে পান করিয়েছে এবং তার দ্বারা ক্ষেত-খামারে কৃষি কাজ করেছে। আর কিছু বৃষ্টি ভূমির সমতল ও কঠিন জায়গায় পড়েছে, যা পানি আটকিয়ে রাখেনি বা শোষণ করেনি অথবা গাছপালা জন্মায়নি। এটা হলো সে ব্যক্তির উদাহরণ যে আল্লাহর দীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছে এবং যা দিয়ে আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন এটা তার কল্যাণ সাধন করেছে- সে তা শিক্ষা করেছে ও (মানুষকে) শিক্ষা দিয়েছে। আর সে ব্যক্তির উদাহরণ, যে এর দিকে মাথা তুলেও তাকায়নি এবং আল্লাহর যে হিদায়াত দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা কবূলও করেনি। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَثَلُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ مِنَ الْهُدَى وَالْعلم كَمثل الْغَيْث الْكثير أصَاب أَرضًا فَكَانَ مِنْهَا نقية قَبِلَتِ الْمَاءَ فَأَنْبَتَتِ الْكَلَأَ وَالْعُشْبَ الْكَثِيرَ وَكَانَتْ مِنْهَا أَجَادِبُ أَمْسَكَتِ الْمَاءَ فَنَفَعَ اللَّهُ بِهَا النَّاس فَشَرِبُوا وَسقوا وزرعوا وأصابت مِنْهَا طَائِفَةً أُخْرَى إِنَّمَا هِيَ قِيعَانٌ لَا تُمْسِكُ مَاءً وَلَا تُنْبِتُ كَلَأً فَذَلِكَ مَثَلُ مَنْ فَقُهَ فِي دِينِ اللَّهِ وَنَفَعَهُ مَا بَعَثَنِي اللَّهُ بِهِ فَعَلِمَ وَعَلَّمَ وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يَرْفَعْ بِذَلِكَ رَأْسًا وَلَمْ يَقْبَلْ هُدَى اللَّهِ الَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ»
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তা‘আলা ওয়াহীর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে ‘ইলম দান করেছেন তাকে আকাশ থেকে মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অতঃপর বৃষ্টি বর্ষণের দিক থেকে জমিনকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন। এক প্রকারের জমিন হলো উপকারী, আর অন্য প্রকার যার মাঝে কোন উপকার নেই। অনুরূপভাবে মানুষকে ‘ইলম এর দিক থেকে দু‘ প্রকারে ভাগ করা হয়েছে।
মুজতাহিদ ব্যক্তি হলো উত্তম জমিনের মতো, যে জমিন বৃষ্টির পানি গ্রহণ করতঃ উদ্ভিদ ও ঘাস জন্মায়। আর ‘ইলম-এর সংরক্ষণকারী ও বর্ণনাকারী যে মুজতাহিদের স্তরে পৌঁছেনি, তার উদাহরণ ঐ জমিনের ন্যায় যে পানিকে আটকিয়ে রাখলো, অতঃপর আল্লাহ ঐ পানির দ্বারা মানুষের উপকার সাধন করলেন। অতঃপর অন্যকে পান করালো এবং তা দিয়ে চাষাবাদ করলো।
যে ব্যক্তি অহংকারবশত ‘ইলমের প্রতি দৃষ্টিপাত করলো না, তার দৃষ্টান্ত ঐ জমিনের ন্যায় যে জমিন বৃষ্টির পানি আটকিয়ে রাখতে না পেরে ঘাস এবং উদ্ভিদ কিছুই জন্মায় না এবং কোন উপকারও করে না।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫১-[১২] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন- অর্থাৎ- ’’তিনি তোমার ওপর এ কিতাব নাযিল করেছেন, যার কতক আয়াত মুহকাম’’ হতে ’’আর বোধশক্তি সম্পন্নরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা লাভ করে না’’ পর্যন্ত- (সূরাহ্ আ-লি ’ইমরান ৩: ৭)।
’আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে সময় তুমি দেখবে, মুসলিমের বর্ণনায় আছে, ’যখন তোমরা দেখ যে, লোকেরা কুরআনের ’মুতাশাবিহ’ আয়াতের অনুসরণ করছে (তখন মনে করবে), এরাই সে সকল লোক আল্লাহ তা’আলা (বাঁকা হৃদয়ের লোক বলে) যাদের উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَن عَائِشَة قَالَتْ: تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَات محكمات)
وَقَرَأَ إِلَى: (وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ)
قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَإِذَا رَأَيْتَ وَعِنْدَ مُسْلِمٍ: رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ سَمَّاهُمُ الله فاحذروهم
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত মুহ্কাম এবং মুতাশাবিহ সম্পর্কে হাকিম ইবনু হাজার আল্ আসকালানী বলেছেনঃ কুরআনে বর্ণিত মুহকাম হলো, যার অর্থ সুস্পষ্ট। আর মুতাশাবিহ হলো, যার অর্থ সুস্পষ্ট নয়।
‘আল্লামা নাবাবী বলেছেনঃ এ হাদীস দ্বারা সাধারণ মানুষকে ঐ সকল ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলা-মেশা করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে এবং যারা বিদ্‘আতী আর যারা ফিৎনার উদ্দেশে সমস্যামূলক বিষয়ের অনুসরণ করছে। তবে জানার উদ্দেশে শালীনতা বজায় রেখে কেউ প্রশ্ন করলে তাতে কোন সমস্যা নেই এবং তার উত্তর দেয়াও আবশ্যক।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫২-[১৩] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন দুপুর বেলায় আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে পৌঁছলাম। (’আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন,) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন দু’জন লোকের স্বর শুনলেন। তারা একটি (মুতাশাবিহ) আয়াতের ব্যাপারে তর্কবিতর্ক করছিল (অর্থাৎ- আয়াতের অর্থ নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত ছিল)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে এলেন, তখন তাঁর চেহারায় রাগের ভাব প্রকাশ পাচ্ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তোমাদের আগের লোকেরা আল্লাহর কিতাব নিয়ে মতভেদ করার দরুনই ধ্বংস হয়েছে। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ: هَجَّرْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا قَالَ: فَسَمِعَ أَصْوَاتَ رَجُلَيْنِ اخْتَلَفَا فِي آيَةٍ فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْرَفُ فِي وَجْهِهِ الْغَضَبُ فَقَالَ: «إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ باختلافهم فِي الْكتاب» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: হাদীসের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেছেনঃ যে সকল মতানৈক্য কুফর এবং বিদ্‘আতের দিকে ধাবিত করে, যেমন- ইয়াহূদী এবং নাসারাদের মতানৈক্য, তা থেকে মানুষকে সতর্ক করাই হচ্ছে এই হাদীসের মূল উদ্দেশ্য। যেমনঃ কুরআন নিয়ে মতানৈক্য করা। এর যেখানে ইজতিহাদ চলে না অথবা যা মানুষকে সন্দেহ, ফিতনাহ্, ঝগড়া-বিবাদ এবং হিংসা বিদ্বেষে নিপতিত করে, এমন বিষয় থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে সঠিক বা কোন ভুল বিষয়কে প্রকাশ করা, হক জিনিসকে প্রতিষ্ঠিত এবং অন্যায়কে উৎখাত করার জন্য আপোষে আলোচনা করতে নিষেধ নেই এবং এর প্রতি নির্দেশ রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫৩-[১৪] সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের মধ্যে সে-ই সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধী, যে ব্যক্তি এমন কোন বিষয়ে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) প্রশ্ন করেছে, যা মানুষের জন্য পূর্বে হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্ন করার দরুন হারাম হয়ে গেছে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «أَن أعظم الْمُسلمين فِي لامسلمين جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ شَيْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ على النَّاس فَحرم من أجل مَسْأَلته»
ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা খাত্ত্বাবী এবং তামীমী বলেনঃ এ হাদীসের বিধান ঐ ব্যক্তির ওপর বর্তায়, যে ব্যক্তি অনর্থক বা কষ্ট দেয়ার জন্য প্রয়োজন ব্যতীত কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে। তবে দীনের কোন বিষয়ে কোন রকমের বিপদাপদ আরোপিত হলে তা থেকে অব্যাহতির জন্য প্রশ্ন করলে অপরাধ হবে না। যেমনঃ ‘উমার (রাঃ) এবং অন্যান্য ব্যক্তি মদের বিধান সম্পর্কে প্রশ্ন করার পর মদ হারাম করা হয়েছে, যা পূর্বে হালাল ছিল। আর ঐ সময় মদ হারাম হওয়াই ছিল প্রয়োজনের দাবি। কারণ মদপানের ক্ষতি সকল মুসলিমকে এমনভাবে পেয়ে বসেছিল যে, এর প্রভাবে গোটা সমাজ ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছিল।
এখানে দু’টো বিষয় বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য,
১) যে ব্যক্তি এমন কোন ‘আমল করলো যা অন্যের জন্য ক্ষতিকর হবে, তাহলে ‘আমলকারী গুনাহগার হবে।
২) প্রত্যেক বস্ত্তর মূল হচ্ছে বৈধতা, যতক্ষণ না এর বিপরীতে শারী‘আতে কোন বিধান আসবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫৪-[১৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শেষ যামানায় এমন মিথ্যুক দাজ্জাল লোক হবে, যারা তোমাদের কাছে এমন সব (মনগড়া) হাদীস নিয়ে উপস্থিত হবে যা তোমরা শুনোনি, তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেননি। অতএব সাবধান! তাদের থেকে দূরে থাকবে, যাতে তারা তোমাদেরকে গুমরাহ করতে বা বিপদে ফেলতে না পারে। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لَا يُضِلُّونَكُمْ وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ» . . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে যাদের সম্পর্কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করেছেন, তারা সাধারণ মানুষকে বলবে, আমরা ‘আলিম তোমাদেরকে দীনের পথে আহবান করছি। অথচ তারা হবে সম্পূর্ণ মিথ্যুক। তারা অনেক রকমের মিথ্যার দ্বারা মানুষের সঙ্গে কথা বলেও অগ্রহণযোগ্য বিধান। ভ্রান্ত বিশ্বাসের সূচনা করবে। তাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন যে, তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫৫-[১৬] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলি কিতাবগণ তাওরাত কিতাব হিব্রু ভাষায় পাঠ করতো (এটা ইয়াহুদীদের ভাষা ছিল)। আর মুসলিমদেরকে তা ’আরাবী ভাষায় বুঝাতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাদের ব্যাপারে সাহাবীগণকে) বললেন, তোমরা আহলি কিতাবদেরকে সমর্থনও করো না, আবার মিথ্যা প্রতিপন্নও করো না। সুতরাং তোমরা তাদের বলবে, ’’আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি, আর যা আমাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ১৩৬) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (বুখারী)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ أهل الْكتاب يقرؤون التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ وَيُفَسِّرُونَهَا بِالْعَرَبِيَّةِ لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ وَلَا تُكَذِّبُوهُمْ وَ (قُولُوا آمنا بِاللَّه وَمَا أنزل إِلَيْنَا» الْآيَة. رَوَاهُ البُخَارِيّ
ব্যাখ্যা: আহলি কিতাবদের সংবাদকে সত্য বা মিথ্যা নিরূপণ করতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করার কারণ এই যে, তাদের কর্তৃক পরিবেশিত সংবাদটি যদি সত্য মিথ্যা ব্যাখ্যা দেয়া হয় অথবা মিথ্যা হলে সত্য মনে করা অবশ্যই সমস্যার কারণ বলে গণ্য হবে।
‘আল্লামা বাগাবী বলেছেনঃ সন্দেহজনিত বা অস্পষ্ট কোন বিষয়ের জায়িয অথবা নাজায়িয হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার সিন্ধান্ত না নেয়ার জন্য এ হাদীসটি মূল নীতিমালামূলক। খালাফগণ এ নীতিমালাই অনুসরণ করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫৬-[১৭] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (সত্যতা যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سمع» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: যখন কোন মানুষের স্বাভাবিকভাবে কোন পাপ থাকে না, কিন্ত মানুষের নিকট থেকে যা শুনে এবং যাচাই-বাছাই না করেই তা বলে বেড়ায় ফলে পাপ সংগ্রহ করে। কারণ এই যে, সে অন্যের নিকট থেকে যা শুনে তার সবই সত্য হয় না, মাঝে মিথ্যাও থাকে। তাই যে কোন কথা যাচাই বাছাই না করে শুনামাত্র বর্ণনা না করার জন্য হুঁশিয়ার করা হয়েছে। বিশেষ করে রসূলের হাদীস সম্পর্কে যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হবে যে, এটা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস, ততক্ষণ পর্যন্ত বর্ণনা করবে না।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫৭-[১৮] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পূর্বে আল্লাহ তা’আলা এমন কোন নবীকে তাঁর উম্মাতের মধ্যে পাঠাননি, যাঁর উম্মাতের মধ্যে কোন সাহায্যকারী বা সাহাবীর দল ওই উম্মাতে ছিল না। এ তারা সুন্নাতের পথ অনুসরণ করেছে, তার হুকুম-আহকাম মেনে চলেছে। তারপর এমন লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো, যারা অন্যদেরকে যা বলতো নিজেরা তা করতো না। আর তারা সে সব কাজ করতো যার আদেশ (শারী’আতে) তাদেরকে দেয়া হয়নি। (আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন কতিপয় লোক থাকতে পারে)। তাই যে নিজের হাত দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সে (পূর্ণ) মু’মিন। আর যে মুখের দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মু’মিন। আর যে অন্তর দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে সেও মু’মিন। আর এরপর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا من نَبِي بَعثه الله فِي أمة قبلي إِلَّا كَانَ لَهُ من أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ ثُمَّ إِنَّهَا تَخْلُفُ مِنْ بَعْدِهِمْ خُلُوفٌ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِلِسَانِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِقَلْبِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: সোনালী যুগের পরে এমন লোকের আবির্ভাব ঘটবে যাদের মাঝে কল্যাণের কিছু থাকবে না কিংবা ধার্মিকতা ও দীনদারীর ঘাটতি থাকবে। অতঃপর ঈমানের স্তর সম্পর্কে বলতে গিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবশেষে বলেনঃ যে অন্তর দ্বারা সংগ্রাম করবে সেও মু’মিন। এরপর সরিষাদানা পরিমাণও ঈমান নেই। কারণ হলোঃ যে ব্যক্তি অন্তর দিয়ে সংগ্রাম করবে না, সে মন্দ কাজে সমর্থন করলো। আর মন্দ কাজ সমর্থন করবে যা কুফরীর নামান্তর।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫৮-[১৯] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন লোককে সৎ কাজের দিকে আহবান করবে, তার জন্যও সে পরিমাণ সাওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, অথচ তাদের সাওয়াবের কোন অংশ একটুও কমবে না। অনুরূপ যে ব্যক্তি কাউকে গোমরাহীর দিকে আহবান করে তারও সে পরিমাণ গুনাহ হবে, যতটুকু গুনাহ তার অনুসারীদের জন্য হবে। অথচ এটা অনুসারীদের গুনাহকে একটুও কমাবে না। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم قَالَ: «مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئا» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: বান্দার যে কর্মে পুণ্য বা পাপ হওয়াকে আবশ্যক করে না, কিন্তু আল্লাহর বিধান হলো যে কারণে পুণ্য বা পাপ হয় সে কারণটাকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেয়া। অর্থাৎ- কোন কাজ সরাসরি করলে যেমন পুণ্য বা পাপ হয়ে থাকে, তা’ করার পেছনে যে কারণ থাকে তা দ্বারাও পুণ্য বা পাপ হয়।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৫৯-[২০] উক্ত রাবী [আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইসলাম আগন্তুকের (অপরিচিতের) ন্যায় (স্বল্প সংখ্যক লোকের মাধ্যমে অপরিচিত ও নিঃসঙ্গ অবস্থায়) শুরু হয়েছে এবং তা পরিশেষে ঐ অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে, যেভাবে শুরু হয়েছে। তাই আগন্তুকের (ঈমানদার লোকদের) জন্য সুসংবাদ। (মুসলিম)[1]
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَدَأَ الْإِسْلَامُ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى للغرباء» . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যা: হাদীসে ইসলামকে তুলনা করা হয়েছে একাকী জীবন-যাপনকারী একজন প্রবাসী ব্যক্তির সঙ্গে যার সাথে তার পরিবারের অন্য কেউ থাকে না। অর্থাৎ- ইসলামের সূচনালগ্নে মুসলিমদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। অনুরূপভাবে ইসলামের মাঝে নানা রকমের ত্রুটি বিচ্যুতি ফিতনাহ্-ফাসাদ ও বিদ্‘আদ অনুপ্রবেশের ফলে এবং ঈমানের ঘাটতির কারণে ইসলাম বিলুপ্ত হতে হতে অতি অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে থাকবে। প্রাথমিক অবস্থায় যেমন ছিল তেমনি সবশেষে আবার সেভাবে পবিত্র স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. প্রথম অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬০-[২১] উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইসলাম মদীনার দিকে এভাবে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ (পরিশেষে) তার গর্তে ফিরে আসে। (বুখারী ও মুসলিম)[1]
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস ’’যারূনী মা- ত্বরাকতুকুম’’ কিতাবুল মানাসিকে এবং মু’আবিয়াহ্ এবং জাবির (রাঃ)-এর হাদীস দু’টি ’’লা- ইয়াযা-লু মিন উম্মাতী’’ এবং ’’লা- ইয়াযা-লু ত্ব-য়িফাতুম্ মিন উম্মাতী’’। আমরা শীঘ্রই ’’সাওয়া-বি হা-যিহিল উম্মাতি’’ অধ্যায়ে বর্ণনা করবো ইন-শা-আল্লাহ।
بَابُ الْإِعْتِصَامِ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الْإِيمَانَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا تأرز الحيية إِلَى جحرها»
ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাবার্থ এই যে, শেষ যামানায় যখন প্রকৃত ইসলামপন্থীর সংখ্যা কমে যাবে তখন ঈমানদার ব্যক্তিরা তাদের ঈমান-ইসলামের হিফাযাতের জন্য মদীনার দিকে ফিরে যাবে এবং সর্বশেষ সেখানেই অবস্থান করবে। এখানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমান এবং ঈমানদার ব্যক্তিদের পলায়ন করে মদীনায় গিয়ে আশ্রয় নেয়ার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন সাপের সঙ্গে। যে সাপ মানুষের ভয়ে পলায়ন করে গর্তে গিয়ে আশ্রয় নেয়। যখন দাজ্জাল পৃথিবীতে এটা সেই অবস্থা আসবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬১-[২২] রবী’আহ্ আল জুরাশী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে কতক মালাক দেখানো হলো এবং মালাক তাঁকে বললেন, আপনার চোখ ঘুমিয়ে থাকুক, কান শুনতে থাকুক এবং অন্তর বুঝতে থাকুক। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমার চোখ দু’টি ঘুমালো, আমার কান দু’টি শুনলো এবং আমার অন্তর বুঝলো। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তখন আমাকে (অর্থাৎ- দৃষ্টান্ত স্বরূপ) বলা হলো, যেন একজন মহৎ ব্যক্তি একটি ঘর তৈরি করলেন এবং এতে দা’ওয়াতের ব্যবস্থা করলেন। অতঃপর (লোকেদের আহবানের জন্য) একজন আহবানকারীকে পাঠালেন। অতঃপর যে ব্যক্তি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করতে পারলো এবং খেতেও পারলো। আর গৃহস্বামীও তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। অপরদিকে যে ব্যক্তি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দিলো না, সে ঘরেও ঢুকলো না, খেতেও পারলো না এবং গৃহস্বামীও তার ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। অতঃপর মালায়িকাহ্ (এর ব্যাখ্যারূপে) বললেন, এ দৃষ্টান্তের গৃহস্বামী হলেন আল্লাহ, আহবানকারী হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ঘর হলো ইসলাম এবং খাবারের স্থান হলো জান্নাত। (দারিমী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
عَن ربيعَة الجرشِي يَقُول أُتِي النَّبِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ لَهُ لِتَنَمْ عَيْنُكَ وَلِتَسْمَعْ أُذُنُكَ وَلِيَعْقِلْ قَلْبُكَ قَالَ فَنَامَتْ عَيْنَايَ وَسَمِعَتْ أُذُنَايَ وَعَقَلَ قَلْبِي قَالَ فَقِيلَ لِي سيد بنى دَارا فَصنعَ مَأْدُبَةً وَأَرْسَلَ دَاعِيًا فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِيَ دَخَلَ الدَّارَ وَأَكَلَ مِنَ الْمَأْدُبَةِ وَرَضِيَ عَنْهُ السَّيِّدُ وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّاعِيَ لَمْ يَدْخُلِ الدَّارَ وَلم يطعم مِنَ الْمَأْدُبَةِ وَسَخِطَ عَلَيْهِ السَّيِّدُ قَالَ فَاللَّهُ السَّيِّدُ وَمُحَمَّدٌ الدَّاعِي وَالدَّارُ الْإِسْلَامُ وَالْمَأْدُبَةُ الْجَنَّةُ. رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে ইসলামকে ঘরের সঙ্গে তুলনা করা এবং জান্নাতকে যিয়াফত হিসেবে আখ্যা দেয়ার কারণ এই যে, জান্নাতে যাওয়ার উপকরণ হলো ইসলাম এবং জান্নাতের দিকে আহবান করা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হয় না যতক্ষণ না ইসলামের দিকে আহবান করা হয়। আর জান্নাতের নি‘আমাতরাজি যখন উদ্দেশ্য, তাই জান্নাতকে সরাসরি যিয়াফত বা খাদ্য বলা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬২-[২৩] আবূ রাফি’ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের কাউকেও যেন এরূপ অবস্থায় না দেখি যে, সে তার গদিতে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। আর তার নিকট আমার নির্দেশাবলীর কোন একটি পৌঁছবে, যাতে আমি কোন বিষয় আদেশ করেছি অথবা কোন বিষয় নিষেধ করেছি। তখন সে বলবে, আমি এসব কিছু জানি না, যা কিছু আমি আল্লাহর কিতাবে পাবো তার অনুসরণ করবো। (আহমাদ, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ ও বায়হাক্বী’র ’’দালায়িলুন্ নুবুওয়্যাহ্’’ গ্রন্থে)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَن أبي رَافع وَغَيره رَفعه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ يَأْتِيهِ أَمر مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيّ فِي دَلَائِل النُّبُوَّة. وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حسن صَحِيح
ব্যাখ্যা: হাদীসও যে শারী‘আতের অকাট্য দলীল এটা তার প্রমাণ। সুতরাং হাদীস থেকে বিমুখ ব্যক্তি অবশ্যই কুরআনকেও অমান্যকারী হবে। হাদীসটি নুবূওয়্যাতের দলীল এবং অন্যতম নিদর্শন। এই হাদীসে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে তা ইতোমধ্যে ঘটেও গেছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাবের লোকেদের নিকট যা মোটেও অস্পষ্ট নয়।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬৩-[২৪] মিক্বদাম ইবনু মা’দীকারিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! আমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ জিনিসও। জেনে রেখ, শীঘ্রই এমন এক সময় এসে যাবে, যখন কোন উদরভর্তি বড় লোক তার গদিতে বসে বলবে, তোমরা কেবল এ কুরআনকেই গ্রহণ করবে। এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল জানবে এবং যা এতে হারাম পাবে তাকেই হারাম মনে করবে। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম বলেছেন, তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ। তাই জেনে রেখ! গৃহপালিত গাধা তোমাদের জন্য হালাল নয় এবং শিকারী দাঁতওয়ালা কোন হিংস্র পশুও হালাল নয়। এমতাবস্থায় মুসলিম রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিকের কোন হারানো বস্ত্তও তোমাদের জন্য হালাল নয়, তবে সে যদি সেটির মুখাপেক্ষী না হয় সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা। যখন কোন লোক কোন সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছে, তাদের উচিত ঐ লোকের মেহমানদারি করা। যদি তারা তার মেহমানদারি না করে তবে সে জোরপূর্বক তাদের নিকট থেকে তার মেহমানদারির সম-পরিমাণ জিনিস আদায় করার অধিকার রাখবে (অথচ কুরআনে এ সকল বিষয়ের উল্লেখ নেই)। (আবূ দাঊদ ও দারিমী; তবে ইবনু মাজাহ ’’কামা- হাররামাল্ল-হু’’ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَن الْمِقْدَام بن معدي كرب عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنه قَالَ: «أَلا إِنِّي أُوتيت الْكتاب وَمِثْلَهُ مَعَهُ أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ الله كَمَا حَرَّمَ اللَّهُ أَلَا لَا يَحِلُّ لَكُمُ لحم الْحِمَارُ الْأَهْلِيُّ وَلَا كُلُّ ذِي نَابٍ مِنَ السَّبع وَلَا لُقَطَةُ مُعَاهَدٍ إِلَّا أَنْ يَسْتَغْنِيَ عَنْهَا صَاحِبُهَا وَمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ فَعَلَيْهِمْ أَنْ يُقْرُوهُ فَإِنْ لَمْ يَقْرُوهُ فَلَهُ أَنْ يُعْقِبَهُمْ بِمِثْلِ قِرَاهُ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى الدَّارِمِيُّ نَحْوَهُ وَكَذَا ابْنُ مَاجَهْ إِلَى قَوْلِهِ: «كَمَا حَرَّمَ الله»
ব্যাখ্যা: ইমাম বায়হাক্বী বলেছেন, হাদীসটিতে দু’টো দিক রয়েছে। প্রথমত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহী দেয়া হয়েছে, দ্বিতীয়ত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওয়াহীর মাধ্যমে কিতাব দেয়া হয়েছে, যা তিলাওয়াত করা হয়। অনুরূপভাবে এর বর্ণনা দেয়া হয়েছে, অর্থাৎ- কিতাবে যা আছে তা বর্ণনা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
‘আল্লামা খাত্ত্বাবী বলেনঃ এ হাদীস দ্বারা খারিজী সম্প্রদায়কে সতর্ক করা হয়েছে যারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঐ সকল সুন্নাতের বিরোধিতা করে যেগুলোর উল্লেখ কুরআনে নেই। তারা শুধুমাত্র কুরআনের ব্যহ্যিকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে আর যেগুলো কিতাবের ব্যাখ্যা সম্বলিত সুন্নাত সেগুলোকে বর্জন করে, ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
হাদীসের শেষাংশের ব্যাখ্যা হলো, কোন ব্যক্তি যদি কোন মেহমানের হক যথারীতি আদায় না করে, তাহলে মেজবানের নিকট থেকে প্রয়োজন অনুপাতে কোন কিছু গ্রহণ করা মেহমানের জন্য বৈধ।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬৪-[২৫] ’ইরবায ইবনু সারিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ্ (খুতবা) দিতে উঠে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি নিজের গদিতে ঠেস দিয়ে বসে এ কথা মনে করে যে, আল্লাহ তা’আলা যা কিছু এ কুরআনে হারাম করেছেন তা ব্যতীত তিনি আর কিছুই হারাম করেননি? জেনে রেখ, আল্লাহর কসম! নিঃসন্দেহে আমি নির্দেশ করেছি, আমি উপদেশ দিয়েছি এবং অনেক বিষয় নিষেধও করেছি, আর এর পরিমাণ কুরআনের হুকুমের সমান, বরং এর চেয়ে অধিক হবে। তোমরা মনে রাখবে যে, অনুমতি ব্যতীত আহলি কিতাব যিম্মীদের বাসগৃহে প্রবেশ করা, তাদের নারীদের প্রহার করা এবং তাদের ফসল বা শস্য খাওয়াকেও আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য হালাল করেননি, যদি তারা তাদের ওপর ধার্যকৃত কর আদায় করে দেয় (এসব বিষয় কুরআনে নেই, আমার দ্বারাই আল্লাহ এসব হারাম করেছেন)। (আবূ দাঊদ; কিন্তু তার হাদীসের সানাদে একজন রাবী আশ্’আস্ ইবনু শু’বাহ্ আল মিস্সীসী রয়েছেন, যার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ সমালোচনা করেছেন)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «أيحسب أحدكُم متكأ عَلَى أَرِيكَتِهِ يَظُنُّ أَنَّ اللَّهَ لَمْ يُحَرِّمْ شَيْئًا إِلَّا مَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ أَلَا وَإِنِّي وَاللَّهِ قَدْ أَمَرْتُ وَوَعَظْتُ وَنَهَيْتُ عَنَ أَشْيَاءَ إِنَّهَا لَمِثْلُ الْقُرْآنِ أَوْ أَكْثَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يُحِلَّ لَكُمْ أَنْ تَدْخُلُوا بُيُوتَ أَهْلِ الْكِتَابِ إِلَّا بِإِذْنٍ وَلَا ضَرْبَ نِسَائِهِمْ وَلَا أَكْلَ ثِمَارِهِمْ إِذَا أَعْطَوْكُمُ الَّذِي عَلَيْهِمْ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَفِي إِسْنَادِهِ: أَشْعَثُ بْنُ شُعْبَة المصِّيصِي قد تكلم فِيهِ
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের সার কথা এই যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ তা‘আলা সকল হারাম বস্তুকে কুরআনের ভিতর সীমাবদ্ধ করে দেননি। বরং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক কিছু হারাম করেছেন। তবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হারাম করার বিষয়টি কুরআন থেকেই সংগৃহীত। তাই ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে সকল ফায়সালা বরং তা কুরআন থেকে সংগৃহীত।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬৫-[২৬] উক্ত রাবী [’ইরবায ইবনু সারিয়াহ্] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন। অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে গেলেন। আমাদের উদ্দেশে এমন মর্মস্পর্শী নাসীহাত করলেন যাতে আমাদের চোখ গড়িয়ে পানি বইতে লাগল। অন্তরে ভয় সৃষ্টি হলো মনে হচ্ছিল বুঝি উপদেশ দানকারীর যেন জীবনের এটাই শেষ উপদেশ। এক ব্যক্তি আবেদন করলো, হে আল্লাহর রসূল! আমাদেরকে আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করার, (ইমাম বা নেতার) আদেশ শোনার ও (তাঁর) অনুগত থাকতে উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে হাবশী (কৃষ্ণাঙ্গ) গোলাম হয়। আমার পরে তোমাদের যে ব্যক্তি বেঁচে থাকবে সে অনেক মতভেদ দেখবে। এমতাবস্থায় তোমাদের কর্তব্য হবে আমার সুন্নাতকে ও হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ি রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়িয়ে ধরা এবং এ পথ ও পন্থার উপর দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। সাবধান! দীনের ভেতরে নতুন নতুন কথার (বিদ্’আত) উদ্ভব ঘটানো হতে বেঁচে থাকবে। কেননা প্রত্যেকটা নতুন কথাই [বা কাজ শারী’আতে আবিষ্কার করা যা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণ করেননি তা] বিদ্’আত এবং প্রত্যেকটা বিদ্’আতই ভ্রষ্টতা। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ) কিন্তু এ বর্ণনায় তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের কথা উল্লেখ করেননি।[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْهُ: قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَأَنَّ هَذِهِ مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ فَأَوْصِنَا قَالَ: «أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ كَانَ عبدا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ من يَعش مِنْكُم يرى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ إِلَّا أَنَّهُمَا لَمْ يَذْكُرَا الصَّلَاةَ
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকটি বিষয়ের নির্দেশ নিয়েছেন। তাক্বওয়া অর্জনের নির্দেশ, আর তা এই যে, আল্লাহ কর্তৃক সকল নির্দেশের বাস্তবায়ন এবং সকল নিষেধ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।
অতঃপর নির্দেশ করেছেন, আমীর বা নেতার কথা শুনা এবং আর অনুগত্য করা, যতক্ষণ না সে কোন নাফরমানীর নির্দেশ দিবে। কেননা, আল্লাহর নাফরমানী হবে এমন বিষয়ে কোন সৃষ্টির আনুগত্য নেই। এ বিষয়ে হাকিম-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ যদি হাবশী গোলামকেও তোমাদের আমীর করে দেয়া হয়, তারও আনুগত্য করবে।
এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার পরে যখন তোমরা মতবিরোধ দেখবে, তখন আমার ও খুলাফায়ি রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়িয়ে ধরবে। কারণ এই যে, খুলাফায়ি রাশিদার তরীকা খোদ রসূলেরই তরীকা, তারা সার্বিক অবস্থায় এবং সকল বিষয়ে রসূলের তরীকা অনুযায়ী আ‘মাল করতেন।
মাসাবীহ গ্রন্থের শারাহতে ‘আল্লামা তুরবিশতী বলেছেন, খুলাফায়ি রাশিদাহ্ দ্বারা উদ্দেশ হচ্ছে, প্রথম চার খলীফাহ্। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খিলাফাতের সময়কাল হবে ত্রিশ বছর। আর ত্রিশ বছর শেষ হয় ‘আলী (রাঃ)-এর খিলাফাতের মাধ্যমে। অবশ্য এর দ্বারা অন্যদের খিলাফাতের নিষেধাজ্ঞা বুঝায় না।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬৬-[২৭] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাদেরকে বুঝাবার উদ্দেশে) একটি (সরল) রেখা টানলেন এবং বললেন, এটা আল্লাহর পথ। এরপর তিনি এ রেখার ডানে ও বামে আরো কয়েকটি রেখা টানলেন এবং বললেন, এগুলোও পথ। এসব প্রত্যেক পথের উপর শায়ত্বন (শয়তান) দাঁড়িয়ে থাকে। এরা (মানুষকে) তাদের পথের দিকে আহবান করে। অতঃপর তিনি তাঁর কথার প্রমাণ স্বরূপ কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ ’’নিশ্চয়ই এটাই আমার সহজ সরল পথ। অতএব তোমরা এ পথের অনুসরণ করে চলো .....’’ (সূরাহ্ আল আন্’আম ৬: ১৬৩) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (আহমাদ, নাসায়ী ও দারিমী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطًّا ثُمَّ قَالَ: «هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ ثُمَّ خَطَّ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَقَالَ هَذِهِ سُبُلٌ عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ» ثمَّ قَرَأَ (إِن هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبعُوهُ)
الْآيَة. رَوَاهُ أَحْمد وَالنَّسَائِيّ والدارمي
ব্যাখ্যা: হাদীসের ভাষ্য এই যে, সঠিক পথ ভ্রান্ত-পথের সঙ্গে একত্রিত হওয়া অসম্ভব এবং সঠিক পথের পথিক ও সিরাতে মুসতাক্বীমের উপর অবিচল ব্যক্তিরাই মুক্তিপ্রাপ্ত দল। আর সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিরা মুক্তিপ্রাপ্ত নয়।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬৭-[২৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ তার মনের প্রবৃত্তি আমার আনীত দীন ও শারী’আতের অধীন না হবে- (শারহুস্ সুন্নাহ্)। ইমাম নাবাবী তার ’’আরবা’ঈন’’ গ্রন্থে বলেছেন, এটা একটা সহীহ হাদীস। আমরা কিতাবুল হুজ্জাত-এ হাদীসটি সহীহ সানাদসহ বর্ণনা করেছি।[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ» رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةَ وَقَالَ النَّوَوِيُّ فِي أَرْبَعِينِهِ: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ رَوَيْنَاهُ فِي كتاب الْحجَّة بِإِسْنَاد صَحِيح
ব্যাখ্যা: হাদীসটির ব্যাখ্যা এরূপ হতে পারে যে, একজন ব্যক্তি আমার নিয়ে আসা দীন ও শারী‘আতের পূর্ণ অনুসারী যতক্ষণ না হবে ততক্ষণ সে ঈমানদার হতে পারবে না। অর্থাৎ- মুনাফিক্বদের মতো বাধ্য হয়ে বা তলোয়ারের ভয়ে ঈমান আনলে হবে না। অথবা কোন ব্যক্তি পূর্ণাঙ্গ মু‘মিন হবে না যতক্ষণ না আমার নিয়ে আসা বিষয়াদির অনুসারী হবে। অর্থাৎ- শারী‘আতের বিষয়কে প্রবৃত্তির উপর প্রাধান্য দিতে হবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬৮-[২৯] বিলাল ইবনু হারিস আল মুযানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার কোন একটি সুন্নাতকে যিন্দা করেছে, যে সুন্নাত আমার পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল, তার এত সাওয়াব হবে যত সাওয়াব এ সুন্নাত ’আমলকারীদের হবে, কিন্তু সুন্নাতের উপর ’আমলকারীদের সাওয়াবে কোন অংশ হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর নতুন (বিদ্’আত) পথ সৃষ্টি করবে, যাতে আল্লাহ ও তাঁর রসূল রাযী-খুশী নন, তার জন্য সে সকল লোকের গুনাহ চাপিয়ে দেয়া হবে, যারা তার সাথে ’আমল করবে, অথচ তাদের গুনাহের কোন অংশ হ্রাস করবে না। (তিরমিযী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزَنِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «من أَحْيَا سُنَّةً مِنْ سُنَّتِي قَدْ أُمِيتَتْ بَعْدِي فَإِنَّ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلَ أُجُورِ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَنِ ابْتَدَعَ بِدْعَةً ضَلَالَةً لَا يَرْضَاهَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ عَمِلَ بِهَا لَا يَنْقُصُ من أوزارهم شَيْئا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে সুন্নাহ্ বলা হয়েছে ঐ সকল দীনী বিধানাবলীকে যেগুলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবর্তন করেছেন। ঐগুলোর মধ্যে কিছু ফরয হিসেবে আছে যেমনঃ যাকাতুল ফিতর। আর কিছু আছে যা ফরয নয়। যেমনঃ দু‘ ঈদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ)। এখানে সুন্নাহকে জীবিত করার অর্থ হচ্ছেঃ ঐগুলোর উপর ‘আমল করা এবং মানুষকে ‘আমলের জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেগুলোর ‘আমল ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৬৯-[৩০] এ বর্ণনাটিকে ইবনু মাজাহ (রহঃ) কাসীর ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) থেকে, তিনি তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন।
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭০-[৩১] ’আমর ইবনু ’আওফ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে দীন (ইসলাম) হিজাযের (সউদী ’আরবের) দিকে এমনভাবে ফিরে আসবে যেভাবে সাপ (পরিশেষে) তার গর্তের দিকে ফিরে আসে এবং দীন হিজাযেই আশ্রয় নিবে যেভাবে পার্বত্য মেষ পর্বত-শিখরে আশ্রয় নিয়ে থাকে। দীন নিঃসঙ্গ প্রবাসীর (গরীবীর) ন্যায় যাত্রা শুরু করেছে, আবার তা ফিরে আসবে যেভাবে যাত্রা শুরু করেছিল। অতএব অপরিচিতের জন্য সুসংবাদ রয়েছে, তারা ঐসব লোক যারা আমার পর লোকেদের দ্বারা নষ্ট করা সুন্নাতকে পুনঃ জারী করে। (তিরমিযী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الدِّينَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْحِجَازِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ إِلَى جُحْرِهَا وَلَيَعْقِلَنَّ الدِّينُ مِنَ الْحِجَازِ مِعْقَلَ الْأُرْوِيَّةِ مِنْ رَأْسِ الْجَبَلِ إِنَّ الدِّينَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ وَهُمُ الَّذِينَ يُصْلِحُونَ مَا أَفْسَدَ النَّاسُ مِنْ بَعْدِي من سنتي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
১ম অংশ তথা إِنَّ الدِّينَ ..... إِلَى جُحْرِهَا বুখারী মুসলিমে রয়েছে।
৩য় অংশ তথা إِنَّ الدِّيْنَ بَدَأَ ..... فَطُوْبىْ لِلْغُرَبَاءِ মুসলিমে রয়েছে। আর وَهُمُ الَّذِيْنَ ..... অংশটুকু ইমাম খাত্ত্বাবী ও আহমাদ (রহঃ) এক স্থানে দুর্বল সানাদে বর্ণনা করলেও মুসনাদে আহমাদ-এর অন্যান্য স্থানে তা সহীহ সানাদে প্রমাণিত রয়েছে।
কিন্তু ২য় অংশ তথা وَلَيَعْقِلَنَّ الدِّيْنُ مِنَ الْحِجَازِ সম্পর্কে শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ আমি এ অংশটুকুর কোন শাহিদ বর্ণনা পাইনি।
ব্যাখ্যা : ইতিপূর্বে ১৬০ নং হাদীসে বলা হয়েছে ইসলাম সবশেষে মদীনায় গিয়ে আশ্রয় নিবে। আর এখানে বলা হলো যে, হিজাযে আশ্রয় নিবে। এ দু‘টোর সমন্বয় হচ্ছে প্রথম হিজাযে, অতঃপর মদীনায় আশ্রয় গ্রহণ করবে।
এখানে হাদীসের ভাবার্থ এই যে, শেষ যামানায় যখন ফিতনাহ্ ফাসাদ প্রকাশ পাবে এবং কুফরী ও যুলম-অত্যাচার মুসলিম দেশগুলোতে প্রাধান্য বিস্তার করবে তখন দীন হিজাযে গিয়ে আশ্রয় নিবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭১-[৩২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতের ওপর এমন একটি সময় আসবে যেমন বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল। যেমন এক পায়ের জুতা অপর পায়ের জুতার ঠিক সমান হয়। এমনকি বনী ইসরাঈলের মধ্যে যদি কেউ তার মায়ের সাথে প্রকাশ্যে কুকর্ম করে থাকে, তাহলে আমার উম্মাতের মধ্যেও এমন লোক হবে যারা অনুরূপ কাজ করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ ফিরক্বায় (দলে) বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমার উম্মাত বিভক্ত হবে ৭৩ ফিরক্বায়। এদের মধ্যে একটি ব্যতীত সব দলই জাহান্নামে যাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! জান্নাতী দল কারা? উত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যার ওপর আমি ও আমার সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত আছি, যারা তার উপর থাকবে। (তিরমিযী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنَّ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلَانِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمن هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وأصحابي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে যে বিভক্তির কথা বলা হয়েছে তা সাধারণ বিভক্তি নয় বরং এখানে বলা হয়েছে ঐ বিভক্তির কথা যা দ্বারা বিভিন্ন দলে, গ্রুপে, ফিরকায় এবং জামা‘আতে বিভক্ত হয়ে এক অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পারস্পরিক সম্পর্ক ভালোবাসা এবং সহযোগিতার উপর নেই, বরং এর বিপরীতে একজন থেকে অন্যজন বিচ্ছিন্ন সম্পর্কহীন ও হিংসা বিদ্বেষের উপর রয়েছে এবং একে অপরকে পথভ্রষ্ট, কাফির ও ফাসিক্ব বলে আখ্যা দিচ্ছে। আর এ অবস্থায় উপনীত হওয়ার কারণ হচ্ছে শারী‘আতের বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ও পারস্পরিক বিদ্বেষ পোষণ করা এবং নাবীর সুন্নাত থেকে বের হয়ে যাওয়া।
ই‘তিসাম নামক গ্রন্থে ‘আল্লামা শাত্বিবী বলেছেনঃ হাদীসে বর্ণিত ফিরকাহ্ দ্বারা কেবলমাত্র ‘আক্বীদার মূলনীতিগত ব্যাপারে যারা ফিরকার সৃষ্টি করেছে, যেমনঃ জাবারিয়াহ্, ক্বদারিয়্যাহ্, মুরজিয়াহ্ ও অন্য আরো যাদের কথা বলা হয়েছে শুধু তারাই নয়। বরং কুরআন ও হাদীস প্রমাণ করছে সার্বিক বিষয়ে এবং সাধারণভাবে বিভক্তির উপর যেমন- আল্লাহর বাণীঃ
إِنَّ الَّذِيْنَ فَرَّقُوْا دِيْنَهُمْ وَكَانُوْا شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ
‘‘যারা নিজেদের (পূর্ণ পরিণত) দীনকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করে নিয়েছে আর (আপন আপন অংশ নিয়ে) দলে দলে ভাগ হয়ে গেছে তাদের কোন কাজের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই।’’ (সূরাহ্ আল আন্‘আম ৬ঃ ১৫৯)
এ আয়াতে দীনে বিভক্তির কথা বলা হয়েছে। আর দীন শব্দটি ‘আক্বীদাহ্ ও ‘আক্বীদাগত বিষয় ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ের কথা ও কর্মের অন্তর্ভুক্ত।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭২-[৩৩] আহমাদ ও আবূ দাঊদে মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)হতে (কিছু পার্থক্যের সাথে) বর্ণনা করেন যে, ৭২ দল জাহান্নামে যাবে। আর একটি দল জান্নাতে যাবে। আর সে দলটি হচ্ছে জামা’আত। আর আমার উম্মাতের মধ্যে কয়েকটি দলের উদ্ভব হবে যাদের শরীরে এমন কুপ্রবৃত্তি (বিদ্’আত) ছড়াবে যেমনভাবে জলাতংক রোগ রোগীর সমগ্র শরীরে সঞ্চারণ করে। তার কোন শিরা-উপশিরা বাকি থাকে না, যাতে তা সঞ্চার করে না।[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَفِي رِوَايَةِ أَحْمَدَ وَأَبِي دَاوُدَ عَنْ مُعَاوِيَةَ: «ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَهِيَ الْجَمَاعَةُ وَإِنَّهُ سَيَخْرُجُ فِي أُمَّتِي أَقْوَامٌ تَتَجَارَى بِهِمْ تِلْكَ الْأَهْوَاءُ كَمَا يَتَجَارَى الْكَلْبُ بِصَاحِبِهِ لَا يَبْقَى مِنْهُ عِرْقٌ وَلَا مَفْصِلٌ إِلَّا دخله»
ব্যাখ্যা: হাদীসে প্রবৃত্তি তথা বিদ্‘আতকে জলাতংক রোগের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, অর্থাৎ- জলাতংক রোগ প্রথমত কুকুরের হয়ে থাকে। অতঃপর সেই কুকুর যাকেই কামড় দেয় তাকেই ঐ রোগে আক্রান্ত করে এবং রোগীর শিরা উপশিরায় তা প্রবেশে মৃত্যু ডেকে নিয়ে আসে। অনুরূপ প্রবৃত্তির অনুসারী যখন বিদ্‘আতী কার্যক্রম শুরু করে এবং তা অন্যের নিকট পেশ করে তখন সেই ব্যক্তিও তার এই ছোবলে পড়ে বিদ্‘আতী হয়ে যায়, যার পরিণাম হলো জাহান্নাম।
তাই হাদীসে সতর্কবাণী করা হয়েছে বিদ্‘আতীদের সংস্পর্শে না যাওয়ার জন্য।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭৩-[৩৪] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা আমার গোটা উম্মাতকে; অপর বর্ণনাতে তিনি বলেছেন, উম্মাতে মুহাম্মাদীকে কখনও পথভ্রষ্টতার উপর একত্রিত করবেন না। আল্লাহ তা’আলার হাত (রহমত ও সাহায্য) জামা’আতের উপর রয়েছে। যে ব্যক্তি জামা’আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (অবশেষে) জাহান্নামে যাবে। (তিরমিযী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ لَا يَجْمَعُ أُمَّتِي أَوْ قَالَ: أُمَّةَ مُحَمَّدٍ عَلَى ضَلَالَةٍ وَيَدُ اللَّهِ عَلَى الْجَمَاعَةِ وَمَنْ شَذَّ شَذَّ فِي النَّار . . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: আমার উম্মাত কুফর ছাড়া অন্য কোন ভ্রষ্টতার উপর একত্রিত হবে না। অথবা ইজতিহাদী কোন ভুলের উপর অথবা কুফর এবং গুনাহের কাজের উপর একমত হবে না।
হাদীসে বলা হয়েছে জামা‘আতবদ্ধদের ওপরে রয়েছে আল্লাহর হাত। অর্থাৎ- জামা‘আতবদ্ধ জীবন-যাপনকারীদের ওপর আল্লাহর রহমাত এবং সাহায্য রয়েছে। তারা ভয়-ভীতি ও শংকামুক্ত। তারা ফিরকা বা উপদল হবে না। অন্যদিকে যে জামা‘আত থেকে বিচ্যুত হবে সেই হবে জাহান্নামী।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭৪-[৩৫] উক্ত রাবী [ইবনু ’উমার (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বৃহত্তম দলের অনুসরণ কর। কেননা, যে ব্যক্তি দল থেকে আলাদা হয়ে গেছে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে (পরিশেষে) জাহান্নামে যাবে। (ইবনু মাজাহ হাদীসটি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اتَّبِعُوا السَّوَادَ الْأَعْظَمَ فَإِنَّهُ مَنْ شَذَّ شَذَّ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ من حَدِيث أنس
ব্যাখ্যা: হাদীসে বলা হয়েছে যে, তোমরা সাওয়াতে ‘আযম-এর অনুসরণ করবে। অর্থাৎ- ইমাম বা বাদশার অনুসারী এবং সার্বিক নীতিমালার অনুসারী হিসেবে যে দল বড় তাদের অনুসরণ করবে। অথবা, যারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণের পথে আছে তারাই সাহায্যপ্রাপ্ত, হাক্বের উপর বিদ্যমান এবং আল্লাহর নিকট সম্মানিত দল। তোমরা তাদের অনুসরণ করবে।
‘আযহার’ নামক গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘উলামাদের মধ্যে যে দলটি বড় তাদের অনুসরণ করবে। আর যে ব্যক্তি নেতার আনুগত্যশীল বড় দল থেকে বিচ্যুত হয়ে নেতার আনুগত্যহীন হয়ে গেছে অথবা মুক্তিপ্রাপ্ত সঠিক জামা‘আত থেকে বের হয়ে গেছে সে জাহান্নামী।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭৫-[৩৬] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনঃ হে বৎস! তুমি যদি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোমার অন্তরে কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ না রেখে কাটাতে পারো তাহলে তাই কর। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে বৎস! এটা আমার সুন্নাত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালোবাসে সে আমাকেই ভালোবাসে, আর যে আমাকে ভালোবাসে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। (তিরমিযী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَن أنس قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا بُنَيَّ إِنْ قَدَرْتَ أَنْ تصبح وتمسي لَيْسَ فِي قَلْبِكَ غِشٌّ لِأَحَدٍ فَافْعَلْ» ثُمَّ قَالَ: «يَا بني وَذَلِكَ من سنتي وَمن أَحْيَا سُنَّتِي فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَحَبَّنِي كَانَ مَعِي فِي الْجنَّة» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: সকাল-সন্ধ্যার দ্বারা দিন রাতের সব সময়কেই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ- তুমি সদা-সর্বদা মানুষের সঙ্গে হিংসা-বিদ্বেষ এবং প্রতারণামূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকবে। এরপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন এটাই হচ্ছে আমার সুন্নাত আর যে কেউ আমার সুন্নাতের উপর ‘আমল করে তা জারি রাখবে সে যেন আমাকে ভালোবাসলো। আর যে আমাকে ভালোবাসলো সে আমার সঙ্গে জান্নাতী হবে। কেননা, যে যাকে ভালো বাসবে তার হাশর-নশর তারই সঙ্গে হবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭৬-[৩৭] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার উম্মাতের বিপর্যয়ের সময় আমার সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শাহীদের সাওয়াব রয়েছে। (বায়হাক্বী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّتِي عِنْدَ فَسَادِ أُمَّتِي فَلَهُ أجر مائَة شَهِيد»
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত শব্দ ‘‘ফাসাদে উম্মাতী’’- অর্থ হলো বিদ্‘আত, ভ্রষ্টতা এবং পাপাচারীর কাজ যখন বৃদ্ধি পাবে, তখন আমার সুন্নাতকে যে আঁকড়ে ধরবে তার জন্য একশত উটের সাওয়াব রয়েছে। যেমন দীনকে জীবিত রাখার জন্য কাফিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা, বিশেষ করে বিদ্‘আত ও ভ্রষ্টতার কাজ যখন ‘উলামার মাঝে প্রকাশ পাবে তখন তাদের প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য কাফিরদের বিরুদ্ধাচরণ করার চেয়ে এ ধরনের ‘আলিমদের প্রতিবাদ করলে সাওয়াব দ্বিগুণ হয়ে থাকে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭৭-[৩৮] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, আমরা ইয়াহূদীদের নিকট তাদের অনেক ধর্মীয় কথাবার্তা শুনে থাকি। এসব আমাদের কাছে অনেক ভালো মনে হয়। এসব কথার কিছু কি লিখে রাখার জন্য আমাদেরকে অনুমতি দিবেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ইয়াহুদী ও নাসারাগণ যেভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, তোমরাও কি (তোমাদের দীনের ব্যাপারে) এভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছ? আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কাছে একটি অতি উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ দীন নিয়ে এসেছি। মূসা (আঃ)-ও যদি আজ দুনিয়ায় বেঁচে থাকতেন, আমার অনুসরণ ব্যতীত তাঁর পক্ষেও অন্য কোন উপায় ছিল না। (আহমাদ ও বায়হাক্বী-এর শু’আবুল ঈমান-এ বর্ণনা করেছেন)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَتَاهُ عُمَرُ فَقَالَ إِنَّا نَسْمَعُ أَحَادِيثَ مِنْ يَهُودَ تُعْجِبُنَا أَفْتَرَى أَنْ نَكْتُبَ بَعْضَهَا؟ فَقَالَ: «أَمُتَهَوِّكُونَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى؟ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَلَوْ كَانَ مُوسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلَّا اتِّبَاعِي» . رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ فِي كتاب شعب الايمان
اَلتَّحَوُّكُ (আত্ তাহাব্বুক) হলো না দেখেই কোন বিষয়ে জড়িয়ে পড়া। হাসান বসরী বলেনঃ হতবুদ্ধি, দিশেহারা, অসহায় হওয়া ইত্যাদি।
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মাতকে ইয়াহূদী এবং নাসারাদের মতো দীনের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হতে নিষেধ করেছেন। কারণ তারা আল্লাহর কিতাবকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করে প্রবৃত্তি এবং তাদের ধর্মযাজক ও পুরোহিতদের অনুসরণ করেছে। আর আল্লাহর কিতাবের মাঝে পরিবর্তন করে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে আমি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত, অর্থাৎ- উন্নত ও উত্তম। মূসা (আঃ)-ও যদি জীবিত থাকতেন তাহলে এরই অনুসরণ করতেন। সুতরাং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নুবূওয়্যাত জারি হবার পর মূসা (আঃ)-এর কওমের নিকট থেকে সফলতা লাভের কোন সুযোগই নেই।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭৮-[৩৯] আবূ সা’ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হালাল (রিযক্ব (রিজিক/রিযিক) খাবে, সুন্নাতের উপর ’আমল করবে এবং যার অনিষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদ থাকবে, সে জান্নাতে যাবে। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, হে আল্লাহর রসূল! এ ধরনের লোক তো আজকাল অগণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, (ইন-শা-আল্লাহ) আমার পরবর্তী যুগেও এ ধরনের লোক থাকবে। (তিরমিযী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَكَلَ طَيِّبًا وَعَمِلَ فِي سُنَّةٍ وَأَمِنَ النَّاسُ بَوَائِقَهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِن هَذَا الْيَوْم لكثيرفي النَّاسِ قَالَ: «وَسَيَكُونُ فِي قُرُونٍ بَعْدِي» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা : হাদীসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি হালাল ভক্ষণ করবে এবং বিশুদ্ধভাবে সকল ‘আমল করবে। আল্লাহ নির্দেশ করেছেনঃ كُلُوْا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوْا صَالِحًا অর্থাৎ- ‘‘তোমরা হালাল খাও এবং নেক আ‘মাল কর’’- (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩ঃ ৫১)। আর তার অন্যায়, অবিচার, প্রতারণা ও কষ্ট থেকে অন্যরা যদি নিরাপদে থাকে তাহলে ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে। এখানে জান্নাতে প্রবেশের অর্থ হচ্ছে কোন প্রকার শাস্তি ভোগ ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ। অতঃপর যখন বলা হলো যে, ঐ ধরনের আ‘মাল বর্তমানে অনেকের মধ্যেই আছে। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার পরেও সেটা থাকবে। অর্থাৎ- আমার উম্মাত থেকে কোন সময়েই কল্যাণকর বিষয় বন্ধ হবে না।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৭৯-[৪০] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা এমন যুগে আছ, যে যুগে তোমাদের কেউ তার উপর নির্দেশিত বিষয়ের এক-দশমাংশও ছেড়ে দিলে সে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর এমন এক যুগ আসবে, যখন কেউ যদি তার প্রতি নির্দেশিত বিষয়ের এক-দশমাংশের উপরও ’আমল করে সে পরিত্রাণ পাবে। (তিরমিযী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّكُم فِي زمَان تَرَكَ مِنْكُمْ عُشْرَ مَا أُمِرَ بِهِ هَلَكَ ثُمَّ يَأْتِي زَمَانٌ مَنْ عَمِلَ مِنْهُمْ بِعُشْرِ مَا أَمر بِهِ نجا» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: হাদীসে বর্ণিত সে যামানা হলো ইসলামের স্বর্ণযুগ, যে যুগে মুসলিমদের সার্বিক নিরাপত্তা ছিল। নির্দেশিত বিষয় বলতে সৎ কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজের নিষেধের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কারণ এখানে ফরয বা আবশ্যকীয় বিষয়াদি কম-বেশী করে করার কোন দিক নেই। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তোমরা এই যুগে নির্দেশিত বিষয় থেকে এক-দশমাংশ তরক করলেও ধ্বংস হবে। কারণ, সে যুগটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদ্যমানতায় ও ইসলামের সবচেয়ে সম্মানজনক। সুতরাং সে যুগে নির্দেশিত বিষয় তরক করা অপরাধমূলক, যা গ্রহণযোগ্য ছিল না।
আর শেষ যামানায় এক-দশমাংশ পালন করলেই নাজাত পাবে। কারণ হলোঃ সেই যামানায় যুলম-অত্যাচার ফিৎনা-ফাসাদ বেড়ে যাবে, অন্যদিকে হক ও হাক্বের সাহায্যকারী হ্রাস পাবে। উপরন্তু উপযুক্ত ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে মুসলিম সমাজ সঠিক দিক-নির্দেশনা হতে বঞ্চিত থাকবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮০-[৪১] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হিদায়াত প্রাপ্তির এবং হিদায়াতের উপর ক্বায়িম থাকার পর কোন জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয় না, কিন্তু যখন তারা ধর্মীয় বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন (অর্থঃ) ’’তারা বাক-বিতণ্ডা করার উদ্দেশ্য ছাড়া আপনার নিকট তা উত্থাপন করে না। প্রকৃতপক্ষে তারা হচ্ছে বাক-বিতণ্ডাকারী লোক’’- (সূরাহ্ আয্ যুখরুফ ৪৩: ৫৮)। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ্)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا ضَلَّ قَوْمٌ بَعْدَ هُدًى كَانُوا عَلَيْهِ إِلَّا أُوتُوا الْجَدَلَ» . ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ الْآيَةَ: (مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جدلا بل هم قوم خصمون)
رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: কোন জাতি সঠিক পথপ্রাপ্তির পর সাধারণত গোমরাহ হয় না, মাত্র একটি কারণ ছাড়া, তা হলো বাতিল বা নাহক কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া। কারণ তারা বিবদমান বিষয়কে আল্লাহ ও রসূলের দিকে সোপর্দ না করে একে অপরকে কষ্ট দেয়া এবং পরাস্ত করার জন্যই উঠে পড়ে লাগে এবং তখনই সুপথ হারিয়ে ফেলে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮১-[৪২] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তোমরা নিজেদের নাফসের (আত্মার) উপর ইচ্ছা করে কঠোরতা করো না। কেননা পরবর্তীতে আল্লাহ না আবার তোমাদের ওপর কঠোরতা চাপিয়ে দেন। পূর্বেও একটি জাতি (বনী ইসরাঈল) নিজেদের ওপর কঠোরতা অবলম্বন করেছিল। তাই আল্লাহ তা’আলাও তাদের ওপর কঠোর বিধান চাপিয়ে দিলেন। গির্জায় ও ধর্মশালায় যে লোকগুলো আছে, এরা তাদেরই উত্তরাধিকারী। (কুরআনে উল্লেখ আছে) ’’তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য ’রহ্বানিয়্যাত’ বা বৈরাগ্যবাদ-কে আবিষ্কার করেছিল। আমি তাদের ওপর নির্ধারণ করিনি’’- (সূরাহ্ আল হাদীদ ৫৭: ২৭)। (আবূ দাঊদ)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ: لَا تُشَدِّدُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ فَيُشَدِّدَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَإِنَّ قَوْمًا شَدَّدُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ فَشَدَّدَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَتِلْكَ بَقَايَاهُمْ فِي الصَّوَامِعِ والديار (رَهْبَانِيَّة ابتدعوها مَا كتبناها عَلَيْهِم)
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন কঠিন ‘আমল দ্বারা তোমাদের নিজেদের ওপর কঠিনতা এনো না। যেমনঃ সারা বছর লাগাতার সওম পালন করা, পূর্ণ রাত জাগরণ করা বা বিবাহ-শাদী না করা। আর যদি তা কর তাহলে আল্লাহ তা‘আলা ঐ সব কিছুকে তোমাদের ওপর ফরয করে দিবেন ফলে তোমরা কঠিনতায় পড়ে যাবে। অথবা কঠিন জিনিসকে নিজেদের ওপর চাপিয়ে নেয়ার কারণে দুর্বল হয়ে যাবে। অর্থাৎ- তোমরা সেগুলোকে আদায় করতে সক্ষম হবে না। হাদীসের অর্থ এটাও হতে পারে যে, তোমরা ‘ইবাদাতগুলোকে মানৎ অথবা কসমের মাধ্যমে নিজেদের ওপর কঠিন করে নিও না, তা করলে আল্লাহ তোমাদের ওপর সেগুলোকে আবশ্যকীয় করে দিবেন। ফলে তোমরা যথারীতি পালন করতে পারবে না, বরং বর্জন করবে আর আল্লাহর শাস্তিতে নিপতিত হবে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮২-[৪৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনঃ কুরআন পাঁচটি বিষয়সহ নাযিল হয়েছেঃ (১) হালাল (২) হারাম (৩) মুহ্কাম (৪) মুতাশাবিহ ও (৫) আমসাল (উপদেশপূর্ণ ঘটনা)। সুতরাং তোমরা হালালকে হালাল জানবে, হারামকে হারাম মনে করবে। মুহকামের উপর ’আমল করবে, মুতাশাবিহের সাথে ঈমান পোষণ করবে। আর আমসাল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। এটা মাসাবীহের বাক্য বিন্যাস। কিন্তু বায়হাক্বী শু’আবুল ঈমানে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা হালালের উপর ’আমল কর, হারাম থেকে বেঁচে থাক এবং মুহকামের অনুসরণ কর।[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: نَزَلَ الْقُرْآنُ عَلَى خَمْسَةِ أَوْجُهٍ: حَلَالٍ وَحَرَامٍ وَمُحْكَمٍ وَمُتَشَابِهٍ وَأَمْثَالٍ. فَأَحِلُّوا الْحَلَالَ وَحَرِّمُوا الْحَرَامَ وَاعْمَلُوا بِالْمُحْكَمِ وَآمِنُوا بِالْمُتَشَابِهِ وَاعْتَبِرُوا بِالْأَمْثَالِ . هَذَا لَفْظَ الْمَصَابِيحِ. وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الايمان وَلَفْظُهُ: «فَاعْمَلُوا بِالْحَلَالِ وَاجْتَنِبُوا الْحَرَامَ وَاتَّبِعُوا الْمُحْكَمَ»
ব্যাখ্যা: রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী কুরআন পাঁচ রকমের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আয়াত নিয়ে নাযিল হয়েছে তার মধ্যে ‘‘মুতাশাবিহ’’ যেমন হুরূফে মুকাত্ত্বাআতঃ حم، - الم ইত্যাদি। আরেক প্রকার হলো ‘‘আমসাল’’ অর্থাৎ- পূর্ববর্তী ঘটনাবলী। যেমনঃ ক্বওমে নূহ এবং সালিহ (রাঃ)-এর ঘটনাবলী অথবা ‘‘আমসাল’’ দ্বারা আরো উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক উদাহরণ পেশ করা। যেমনঃ
مَثَلُ الَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّهِ أَوْلِيَآءَ كَمَثَلِ الْعَنْكَبُوْتِ
অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে যে অন্য কিছুকে ওয়ালী বানিয়ে নিয়েছে তার উদাহরণ হলো মাকড়সা।’’ (সূরাহ্ আল ‘আনকাবূত ২৯ঃ ৪১)
কুরআন সাতটি পন্থায় এবং সাত রকমে নাযিল হয়েছেঃ ধমক প্রদানকারী, নির্দেশ প্রদানকারী, হালাল, হারাম, মুহকাম, মুতাশাবিহ ও আমসাল (হিসেবে)। অতএব, হালালকে হালাল জানবে, হারামকে হারাম মনে করবে, যে ব্যাপারে নির্দেশ করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন করবে এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকবে। আমসাল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে, মুহাকামের উপর ‘আমল করবে এবং মুতাশাবিহ এর উপর ঈমান আনবে। আর বলবেঃ আমরা ওর প্রতি ঈমান আনলাম। সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮৩-[৪৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শারী’আতের বিষয় তিন প্রকারঃ (১) এমন বিষয়, যার হিদায়াত সম্পূর্ণ পরিষ্কার। তাই এ নির্দেশ মেনে চল। (২) সে বিষয়, যার ভ্রষ্টতাও স্পষ্ট, সুতরাং তা পরিহার কর এবং (৩) এ বিষয়, যা মতভেদপূর্ণ তা মহান আল্লাহর হাতে ছেড়ে দাও। (আহমাদ)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثاني
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْأَمْرُ ثَلَاثَةٌ: أَمْرٌ بَيِّنٌ رُشْدُهُ فَاتَّبِعْهُ وَأَمْرٌ بَيِّنٌ غَيُّهُ فَاجْتَنِبْهُ وَأَمْرٌ اخْتُلِفَ فِيهِ فَكِلْهُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجل)
رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: তিন প্রকার নিম্নরূপঃ
১. এমন বিষয় যেগুলোর সঠিক হওয়াটা স্পষ্ট, তা হলো ‘ইবাদাতের মৌলিক বিষয়াদি, যেমনঃ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ও যাকাত ফরয হওয়া।
২. ভ্রষ্টতার বিষয়গুলো সুস্পষ্ট, যেমন- মানুষ হত্যা করা, যিনা করা।
৩. এমন বিষয় যেগুলোর বিধান সম্পর্কে আল্লাহ ও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা না করায় মানুষ সেগুলোতে মতবিরোধ করেছে। এ ধরনের বিষয় আল্লাহর নিকট সোপর্দ করতে বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সঠিক জানলে সেগুলোর প্রতি ‘আমল করতে হবে ভ্রান্ত জানলে সেগুলো বর্জন করতে হবে। যেমন কুরআনের মুতাশাবিহ মূলক আয়াত এবং ক্বিয়ামাতের (কিয়ামতের) বিষয়াদি।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮৪-[৪৫] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মেষপালের ক্ষেত্রে নেকড়ে বাঘের ন্যায় শায়ত্বন (শয়তান) মানুষের জন্য নেকড়ে বাঘ। পালের যে মেষটি দল হতে আলাদা হয়ে যায় অথবা যেটি খাবারের সন্ধানে দূরে সরে পড়ে অথবা যেটি অলসতাবশত এক কিনারায় পড়ে থাকে, নেকড়ে সেটিকে শিকার করে নিয়ে যায়। সুতরাং সাবধান! তোমরা কক্ষনও (দল ছেড়ে) গিরিপথে চলে যাবে না, আর জামা’আতবদ্ধ হয়ে (মুসলিম) জনগণের সাথে থাকবে। (আহমাদ)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ الشَّيْطَانَ ذِئْبُ الْإِنْسَانِ كَذِئْبِ الْغَنَمِ يَأْخُذُ الشَّاذَّةَ وَالْقَاصِيَةَ وَالنَّاحِيَةَ وَإِيَاكُمْ وَالشِّعَابَ وَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَالْعَامَّةِ» . رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: শায়ত্বন (শয়তান) মানুষের জন্য নেকড়ে স্বরূপ। জামা‘আত পরিত্যাগ করা, বড় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তাদের সঙ্গ ছেড়ে দেয়া, শায়ত্বনের (শয়তানের) আধিপত্য বিস্তার এবং পথভ্রষ্ট করার সহায়ক। একাকি অবস্থানকারী, দল বিচ্ছিন্ন এবং একপ্রান্তে পড়ে থাকা বকরীকে নেকড়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তাই হাদীসের শেষে জামা‘আতবদ্ধ জীবন-যাপন করা এবং মুসলিমদের দল থেকে বিচ্ছিন্ন না হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮৫-[৪৬] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জামা’আত (দল) হতে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে গেছে, সে ইসলামের রশি (বন্ধন) তার গলা হতে খুলে ফেলেছে। (আহমাদ ও আবূ দাঊদ)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ شبْرًا فقد خلع رقة الْإِسْلَامِ مِنْ عُنُقِهِ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُدَ
(বায়হাক্বী) [তাঁর ‘‘শু‘আবুল ঈমান’’ গ্রন্থে হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন] হাদীসটি মুরসাল হওয়ার কারণে য‘ঈফ বটে। কিন্তু আলবানী (রহঃ) বলেন, এর মারফূ‘ ও মাওসুল তথা অনেক সানাদ থাকার কারণে হাসানের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: এখানে জামা‘আত দ্বারা উদ্দেশ্য সাহাবী, তাবি‘ঈন, তাবি তাবি‘ঈন, সালফে সলিহীন এবং ধারাবাহিকতা বা নীতিভিত্তিক মুসলিমদের জামা‘আত। অর্থাৎ- যে ব্যক্তি সুন্নাতকে বর্জন ও বিদ্‘আতকে ধারণ করে এবং আনুগত্য থেকে বের হয়ে গিয়ে জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সে যেন ইসলামের বন্ধনকে নিজ গলা থেকে খুলে দিল।
‘আল্লামা খাত্ত্বাবী বলেছেনঃ যে কোন জামা‘আতের ইমামের বা নেতার আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাবে অথবা ঐকমত্যের কোন বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যে তখন পথভ্রষ্ট এবং ধ্বংস হয়ে যাবে।
হাদীসটি ইমাম নাসায়ী এভাবে বর্ণনা করেছেনঃ যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন পয়ে পড়ল, সে যেন জাহিলী যুগের মৃত্যুবরণ করল।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮৬-[৪৭] মালিক ইবনু আনাস (রাঃ) (রহঃ) হতে মুরসালরূপে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতক্ষণ তোমরা সে দু’টি জিনিস আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না- আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রসূলের হাদীস। [ইমাম মালিক মুয়াত্ত্বায় বর্ণনা করেছেন।][1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَن مَالك بن أنس مُرْسَلًا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ رَسُولِهِ «. رَوَاهُ فِي الْمُوَطَّأ»
ব্যাখ্যা: কুরআন ও সুন্নাহ হলো সব কিছুর মূল, যা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। এ দু’টোকে ধারণ করা ব্যতীত হিদায়াত এবং নাজাত পাওয়া যাবে না। হক এবং বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এ দু’টো হলো সুস্পষ্ট জ্ঞান এবং অকাট্য দলীল। সুতারাং এ দু’টো মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করা অপরিহার্য। ইমাম হাকিম হাদীসটি এভাবে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের মাঝে দু’টো জিনিস রেখে গেলাম। এ দু’টোকে ধারণ করলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না। সে দু’টো হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।
ইমাম বায়হাক্বী বর্ণনা করেছেন এভাবে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হাজ্জের (হজ্জের/হজের) ভাষণে বলেছেনঃ হে মানব সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তা’ আঁকড়িয়ে ধরে রাখবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নাবীর সুন্নাত।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮৭-[৪৮] গুযায়ফ ইবনু আল হারিস আস্ সুমালী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখনই কোন জাতি একটি বিদ্’আত সৃষ্টি করেছে, তখনই সমপরিমাণ সুন্নাত বিদায় নিয়েছে। সুতরাং একটি সুন্নাতের উপর ’আমল করা (সুন্নাত যত ক্ষুদ্রই হোক), একটি বিদ্’আত সৃষ্টি করা অপেক্ষা উত্তম। (আহমাদ)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَن غُضَيْف بن الْحَارِث الثمالِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (مَا أَحْدَثَ قَوْمٌ بِدْعَةً إِلَّا رُفِعَ مِثْلُهَا مِنَ السُّنَّةِ فَتَمَسُّكٌ بِسُنَّةٍ خَيْرٌ مِنْ إِحْدَاث بِدعَة)
رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: হাদীসে একটা জিনিসের গুরুত্ব আরোপের জন্য আরেকটি বিপরীত জিনিস দ্বারা দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে। কারণ দু’টো জিনিসের মধ্যে এমন একটি সম্পর্ক বিদ্যামান যে, যখন একটার কথা উল্লেখ করা হয় অথবা একটাকে উঠিয়ে নেয়া হয় তখন অন্যটার কথা এমনিতেই চলে আসে। বিদ্‘আত সৃষ্টির দ্বারা সুন্নাহ উঠে যায় এবং বিদ্‘আত সুন্নাহর পরিপন্থী। অতএব সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা করলেই বিদ্‘আত দূরীভূত হবে।
পাপ এবং বিদ্‘আত মানে সুন্নাত পরিপন্থী বিষয়। আর এটা বোধগম্য যে, পাপের কোন বিষয়ের চেয়ে নেকীর বিষয় অনেক উত্তম। সুন্নাতকে ধারণ করায় অনেক কল্যাণ রয়েছে। অন্যদিকে বিদ্‘আতে কল্যাণকর বলতে কিছুই নেই।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮৮-[৪৯] হাসসান (ইবনু ’আতিয়্যাহ্) (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন জাতি যখন দীনের মধ্যে কোন বিদ্’আত সৃষ্টি করে, তখনই আল্লাহ তা’আলা তাদের থেকে সে পরিমাণ সুন্নাত উঠিয়ে নেন। ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) পর্যন্ত এ সুন্নাত আর তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (দারিমী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَنْ حَسَّانَ قَالَ: «مَا ابْتَدَعَ قَوْمٌ بِدْعَةً فِي دِينِهِمْ إِلَّا نَزَعَ اللَّهُ مِنْ سُنَّتِهِمْ مِثْلَهَا ثُمَّ لَا يُعِيدُهَا إِلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَة.» رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: বিদ্‘আত সৃষ্টি করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা সুন্নাতকে উঠিয়ে নেন। তার কারণ এই যে, যখন সুন্নাত তার স্থলে অবিচল ছিল। অতঃপর একে যেখান থেকে উঠিয়ে নেয়া হলে তা’ যথাস্থানে ফিরিয়ে দেয়া আর সম্ভব হয় না। এর দৃষ্টান্ত হলো ঐ বৃক্ষের ন্যায় যার শিকড়গুলো মাটির নীচে চলে গিয়েছিল, অতঃপর গাছটিকে শিকড়সহ উপড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৮৯-[৫০] ইব্রাহীম ইবনু মায়সারাহ্ (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিদ্’আতীকে সম্মান দেখালো, সে নিশ্চয়ই ইসলামের ধ্বংস সাধনে সাহায্য করল। (বায়হাক্বী তাঁর শু’আবুল ঈমান-এ মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَن إِبْرَاهِيم بن ميسرَة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ وَقَّرَ صَاحِبَ بِدْعَةٍ فَقَدْ أَعَانَ عَلَى هَدْمِ الْإِسْلَامِ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الايمان مُرْسلا
ব্যাখ্যা: কোন বিদ্‘আতীকে সম্মান করা ইসলাম ধ্বংস করার শামিল। কারণ একজন বিদ্‘আতী সুন্নাতের বিরোধ, আর কোন বিরোধীকে সাহায্য করা ঐ বস্তুকে ধ্বংস করার ব্যাপারে সহযোগিতা করারই নামান্তর। অতএব, যখন কোন ব্যক্তি বিদ্‘আতীকে সম্মান করবে সে তখন সুন্নাতকে অবমূল্যায়ন করবে। আর সুন্নাতকে অবমূল্যায়ন করলে তা হবে মূলত ইসলামের অবমূল্যায়ন তথা ইসলামের বুনিয়াদকে ধ্বংস করা। বিদ্‘আতীকে সম্মানকারীর অবস্থা যদি এই হয় তাহলে বিদ্‘আতীর অবস্থা কি হতো?
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯০-[৫১] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের শিক্ষা লাভ করলো, অতঃপর এ কিতাবের মধ্যে যা আছে তা অনুসরণ করলো, আল্লাহ তা’আলা এ ব্যক্তিকে পৃথিবীতে পথভ্রষ্টতা হতে বাঁচিয়ে রাখবেন এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) দিবসে তাকে নিকৃষ্ট হিসাবের কষ্ট হতে রক্ষা করবেন। অন্য এক বর্ণনায় আছে- তিনি বলেছেন, যে আল্লাহ তা’আলার কিতাবের অনুসরণ করবে, সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট হবে না এবং আখিরাতেও হতভাগ্য হবে না। অতঃপর এ কথার প্রমাণ স্বরূপ তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ (فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقى) অর্থাৎ- ’’যে ব্যক্তি আমার হিদায়াত গ্রহণ করলো, সে (দুনিয়াতে) পথভ্রষ্ট হবে না এবং (পরকালেও) ভাগ্যাহত হবে না’’- (সূরাহ্ ত্ব-হা- ২০: ১২৩)। (রযীন)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَن ابْن عَبَّاس قَالَ: من تعلم كتاب الله ثمَّ ابتع مَا فِيهِ هَدَاهُ اللَّهُ مِنَ الضَّلَالَةِ فِي الدُّنْيَا وَوَقَاهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ سُوءَ الْحِسَابِ
وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: مَنِ اقْتَدَى بِكِتَابِ اللَّهِ لَا يَضِلُّ فِي الدُّنْيَا وَلَا يَشْقَى فِي الْآخِرَةِ ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: (فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يضل وَلَا يشقى)
رَوَاهُ رزين
ব্যাখ্যা: হাদীসের ব্যাখ্যায় ‘আল্লামা ত্বীবী বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব শিক্ষা করতো তা মেনে চলবে সে সফলকাম থাকবে। সে দুনিয়াতে যেমন গোমরাহী থেকে মুক্ত অনুরূপভাবে আখিরাতেও শাস্তি থেকে নিরাপদে থাকবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব ও রসূলের সুন্নাত জানার পর উভয়ের উপর ‘আমল করবে তার জন্য এটাই উভয় জগতে সফলতার কারণ হবে।
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনায় রয়েছে, যে ব্যক্তি সকল বিষয়ে ও সার্বিক অবস্থায় আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ করে চলবে সে দুনিয়াতে কোন দিনই গোমরাহীতে নিপতিত হবে না। পরকালে তাকে কোন শাস্তিও দেয়া হবে না। অতঃপর এ আয়াতে কারীমা তিলাওয়াত করেনঃ
فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْق
অর্থাৎ- ‘‘যে আমার পথের অনুসরণ করবে যে বিপদগামী হবে না ও দুঃখ কষ্ট পাবে না।’’ (সূরাহ্ ত্ব-হা- ২০ঃ ১২৩)
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯১-[৫২] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। তা হলো একটি সরল সঠিক পথ আছে, এর দু’দিকে দু’টি দেয়াল। এসব দেয়ালে খোলা দরজা রয়েছে এবং সে সব দরজায় পর্দা ঝুলানো রয়েছে। আর রাস্তার মাথায় একজন আহবায়ক, যে (লোকেদেরকে) আহবান করছে, এসো সোজা রাস্তা দিয়ে চলে যাও। ভুল ও বাঁকা পথে যাবে না। আর এ আহবানকারীর একটু আগে আছেন আর একজন আহবানকারী। যখনই কোন বান্দা সে দরজাগুলোর কোন একটি দরজা খুলতে চায়, তখনই সে তাকে ডেকে বলেন, সর্বনাশ! এ দরজা খুলো না। যদি তুমি এটা খুলো তাহলে ভিতরে ঢুকে যাবে (প্রবেশ করলেই পথভ্রষ্ট হবে)। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ব্যাখ্যা করলেনঃ সঠিক সরল পথের অর্থ হচ্ছে ’ইসলাম’ (সে পথ জান্নাতে চলে যায়)। আর খোলা দরজার অর্থ হলো ওই সব জিনিস আল্লাহ তা’আলা যা হারাম করেছেন এবং দরজার মধ্যে ঝুলানো পর্দার অর্থ হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমাসমূহ। রাস্তার মাথায় আহবায়ক হচ্ছে কুরআন। আর তার সামনের আহবায়ক হচ্ছে নাসীহাতকারী মালাক, যা প্রত্যেক মু’মিনের অন্তরে আল্লাহর তরফ থেকে বিদ্যমান। (সহীহুল জামি’ ও আহমাদ)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا وَعَنْ جَنَبَتَيِ الصِّرَاطِ سُورَانِ فِيهِمَا أَبْوَابٌ مُفَتَّحَةٌ وَعَلَى الْأَبْوَابِ سُتُورٌ مُرَخَاةٌ وَعِنْدَ رَأْسِ الصِّرَاطِ دَاعٍ يَقُولُ: اسْتَقِيمُوا عَلَى الصِّرَاطِ وَلَا تَعْوَجُّوا وَفَوْقَ ذَلِكَ دَاعٍ يَدْعُو كُلَّمَا هَمَّ عَبْدٌ أَنْ يَفْتَحَ شَيْئًا مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ قَالَ: وَيْحَكَ لَا تَفْتَحْهُ فَإِنَّكَ إِنْ تَفْتَحْهُ تَلِجْهُ . ثُمَّ فَسَّرَهُ فَأَخْبَرَ: أَنَّ الصِّرَاطَ هُوَ الْإِسْلَامُ وَأَنَّ الْأَبْوَابَ الْمُفَتَّحَةَ مَحَارِمُ اللَّهِ وَأَنَّ السُّتُورَ الْمُرَخَاةَ حُدُودُ اللَّهِ وَأَنَّ الدَّاعِيَ عَلَى رَأْسِ الصِّرَاطِ هُوَ الْقُرْآنُ وَأَنَّ الدَّاعِيَ مِنْ فَوْقِهِ وَاعِظُ اللَّهِ فِي قَلْبِ كُلِّ مُؤمن)
رَوَاهُ رزين وَأحمد
ব্যাখ্যা: হাদীসে যে দরজার কথা বলা হয়েছে তা খুলতে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ- দরজার পর্দা উঠাতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এই যে, পর্দা উঠালেই সে ভিতরে প্রবেশ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবে না। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যায় বললেনঃ সিরাতে মুস্তাক্বীম হলো ইসলাম। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রত্যেকেরই ইসলামের উপর বহাল থাকা এবং ইসলামের সঠিক বিধানাবলী বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ কর্তৃক হারাম করা বস্তুসমূহ দিয়ে বুঝানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার এবং ‘আযাবে ও অপমানজনক স্থানে প্রবেশ করা। এসবের ব্যবস্থাপনা হচ্ছে ঐ হারাম বস্তুসমূহ। আর পর্দা হলো মানুষও হারাম কাজের প্রতিবন্ধকতা। যেমন আল্লাহ বলেছেনঃ অর্থাৎ- ‘‘এ হচ্ছে আল্লাহর সীমারেখা, তোমরা তা অতিক্রম করো না।’’ (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২ঃ ২২৯)
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯২-[৫৩] ইমাম বায়হাক্বী শু’আবুল ঈমানে এ হাদীসটিকে নাও্ওয়াস ইবনু সাম্’আন (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযীও একই সাহাবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্তাকারে।
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَالْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ وَكَذَا التِّرْمِذِيُّ عَنْهُ إِلَّا أَنَّهُ ذَكَرَ أخصر مِنْهُ
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯৩-[৫৪] ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কারো কোন ত্বরীক্বাহ্ (তরিকা) অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের পথ অনুসরণ করে যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। কারণ জীবিত মানুষ (দীনের ব্যাপারে) ফিতনাহ্ হতে মুক্ত নয়। মৃত ব্যক্তিরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ, যারা এ উম্মাতের সর্বোত্তম মানুষ। পরিচ্ছন্ন অন্তঃকরণ হিসেবে ও পরিপূর্ণ জ্ঞানের দিক দিয়ে এবং দূরে ছিলেন কৃত্রিমতার দিক থেকে। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে তাঁর প্রিয় রসূলের সাথী ও দীন ক্বায়িমের জন্য মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং তোমরা তাদের ফাযীলাত ও মর্যাদা বুঝে নাও। তাদের পদাংক অনুসরণ করো এবং যথাসাধ্য তাদের আখলাক্ব ও জীবন পদ্ধতি মজবুত করে আঁকড়ে ধরো। কারণ তাঁরাই (আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশিত) সহজ-সরল পথের পথিক ছিলেন। (রযীন)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: مَنْ كَانَ مُسْتَنًّا فليسن بِمَنْ قَدْ مَاتَ فَإِنَّ الْحَيَّ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ. أُولَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا أَفْضَلَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبَرَّهَا قُلُوبًا وَأَعْمَقَهَا عِلْمًا وَأَقَلَّهَا تَكَلُّفًا اخْتَارَهُمُ اللَّهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وَلِإِقَامَةِ دِينِهِ فَاعْرِفُوا لَهُمْ فَضْلَهُمْ وَاتَّبِعُوهُمْ عَلَى آثَارِهِمْ وَتَمَسَّكُوا بِمَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ أَخْلَاقِهِمْ وَسِيَرِهِمْ فَإِنَّهُمْ كَانُوا عَلَى الْهَدْيِ الْمُسْتَقِيمِ. رَوَاهُ رزين
ব্যাখ্যা: ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ)-এর উক্তি কেউ যদি কারো তরীকাহ্ (তরিকা) অনুসরণ করতে চায় তাহলে যেন ওদের তরীকার অনুসরণ করে যারা ইসলামের কথা, জ্ঞান ও ‘আমলের উপর মৃত্যুবরণ করেছেন।
এখানে কুরআন-সুন্নাহ হতে সঠিক পথ খুঁজে বের করার প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। এতে যদি কেউ সক্ষম না হয় তাহলে সে যেন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের অনুসরণ করে। কেননা, তাঁরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কর্ম, অবস্থা, সমর্থনমূলক সকল বিষয় অনুসরণ করেছেন। তাই ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) সাহাবীগণের যুগের পরবর্তী লোকেদেরকে ওয়াসিয়্যাত করে বলেছেন সাহাবীগণের মতাদর্শ গ্রহণ করতে এবং তাঁদের পথে চলতে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯৪-[৫৫] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাওরাত কিতাবের একটি পান্ডুলিপি এনে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা হলো তাওরাতের একটি পান্ডুলিপি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। এরপর ’উমার (রাঃ) তাওরাত পড়তে আরম্ভ করলেন। (এদিকে রাগে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হতে লাগল। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ’উমার! তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবর্ণ চেহারা মুবারক দেখছো না? ’উমার (রাঃ) রসূলের চেহারার দিকে তাকালেন এবং (চেহারায় ক্রোধান্বিত ভাব লক্ষ্য করে) বললেন, আমি আল্লাহর গযব ও তাঁর রসূলের ক্রোধ হতে পানাহ চাচ্ছি। আমি ’রব’ হিসেবে আল্লাহ তা’আলার ওপর, দীন হিসেবে ইসলামের ওপর এবং নবী হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সন্তুষ্ট আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি (তাওরাতের নবী স্বয়ং) মূসা (আঃ) তোমাদের মধ্যে থাকতেন আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করতে আর আমাকে ত্যাগ করতে, তাহলে তোমরা সঠিক সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে। মূসা (আঃ) যদি এখন জীবিত থাকতেন এবং আমার নুবূওয়্যাতের যুগ পেতেন, তাহলে তিনিও নিশ্চয়ই আমার অনুসরণ করতেন। (দারিমী)[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
عَن جَابِرٍ: (أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنُسْخَةٍ مِنَ التَّوْرَاةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ نُسْخَةٌ مِنَ التَّوْرَاةِ فَسَكَتَ فَجَعَلَ يقْرَأ وَوجه رَسُول الله يَتَغَيَّرُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ثَكِلَتْكَ الثَّوَاكِلُ مَا تَرَى مَا بِوَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ عُمَرُ إِلَى وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَعُوذُ بِاللَّه من غضب الله وَغَضب رَسُوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ بَدَا لَكُمْ مُوسَى فَاتَّبَعْتُمُوهُ وَتَرَكْتُمُونِي لَضَلَلْتُمْ عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ وَلَوْ كَانَ حَيًّا وَأَدْرَكَ نُبُوَّتِي لَاتَّبَعَنِي)
رَوَاهُ الدَّارمِيّ
ব্যাখ্যা: মূসা (আঃ)-এর শারী‘আত এবং তাঁর উম্মাতের সংবাদ সম্পর্কে জানার জন্য ‘উমার (রাঃ) তাওরাত পাঠ করতে আরম্ভ করেন এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকার কারণে তিনি মনে করেছিলেন যে, এতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মতি রয়েছে। অতঃপর যখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারার দিকে তাকিয়ে অসম্মতির ভাব বুঝতে পারলেন তখন আল্লাহ ও তাঁর রসূল-এর প্রতি কৃত ত্রুটি থেকে পানাহ চাইলেন।
মূলত পানাহ চাইতে হয় আল্লাহর ক্রোধ থেকে কিন্তু এখানে ‘উমার (রাঃ) রসূলের ক্রোধ থেকেও পানাহ চাইলেন এজন্য যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগাম্বিত হওয়ার কারণে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হতেন।
হাদীসে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করে অন্যদিকে ধাবিত হতে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯৫-[৫৬] উক্ত রাবী (জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কথা আল্লাহর কথাকে রহিত করতে পারে না, কিন্তু আল্লাহর কথা আমার কথাকে রহিত করে। এছাড়া কুরআনের একাংশ অপরাংশকে রহিত করে।[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَلَامِي لَا يَنْسَخُ كَلَامَ اللَّهِ وَكَلَامُ اللَّهِ يَنْسَخُ كَلَامِي وَكَلَامُ اللَّهِ يَنْسَخُ بعضه بَعْضًا»
ব্যাখ্যা: শারী‘আতের পরিভাষায় ‘নাসখ’ বা মানসূখ’’ বলা হয় পূর্ববর্তী কোন বিধানকে পরবর্তী বিধান কর্তৃক রহিত করাকে। এর পাঁচটি অবস্থা রয়েছেঃ
কুরআনকে কুরআন দ্বারা রহিত করা।
মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা মুতাওয়াতির হাদীসকে এবং খবরে ওয়াহিদ দ্বারা খবরে ওয়াহিদকে রহিত করা।
এই দুই প্রকারের রহিত করার ব্যাপারে কোন মতবিরোধ নেই।
কুরআনের দ্বারা হাদীসের বিধানকে রহিত করা। যেমনঃ বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে সালাত আদা করার বিধান যখন ছিল।
এই প্রকারের রহিত করা অধিক সংখ্যক ইমাম ও ‘আলিমের মতে জায়িয।
মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা কুরআনী বিধানকে রহিত করা।
এ ধরনের রহিত করার ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে। অনেকেই জায়িযের পক্ষে গিয়েছেন। আবার অনেকেই এর বিরুদ্ধে গিয়েছেন তবে যেহেতু ‘আমল রহিতকারী, স্বয়ং আল্লাহ তিনি শুধুমাত্র রসূলের যবানীতে করিয়েছেন, তাই বেশী সংখ্যক লোক জায়িযের পক্ষেই রয়েছেন।
রহিত করণের পাঁচ নম্বর অবস্থান হচ্ছে, কুরআনকে মুতাওয়াতির হাদীসকের খবরে ওয়াহিদ দ্বারা রহিত করা। এ ব্যাপারেও মতবিরোধ রয়েছে এবং অধিক সংখ্যকদের মতে জায়িয নয়।
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯৬-[৫৭] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার কোন হাদীস অপর হাদীসকে রহিত করে, যেমন কুরআনের কোন অংশকে অপর অংশ রহিত করে।[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَادِيثَنَا يَنْسَخُ بَعْضهَا بَعْضًا كنسخ الْقُرْآن»
পরিচ্ছেদঃ ৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - কিতাব ও সুন্নাহকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা
১৯৭-[৫৭] আবূ সা’লাবাহ্ আল খুশানী (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা কিছু জিনিসকে ফরয হিসেবে নির্ধারিত করে দিয়েছেন, সেগুলো ছেড়ে দিবে না। তিনি কিছু জিনিসকে হারাম করে দিয়েছেন সে (হারাম) কাজগুলো করবে না। আর কতকগুলো (জিনিসের) সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেগুলোর সীমালঙ্ঘন করবে না। আর কিছু বিষয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নীরব রয়েছেন, সে সকল বিষয়ে বিতর্ক-বাহাসে লিপ্ত হবে না। উপরের তিনটি হাদীসই দারাকুত্বনী বর্ণনা করেছেন।[1]
باب الاعتصام بالكتاب والسنة - الفصل الثالث
وَعَن أبي ثَعْلَبَة الْخُشَنِي قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ فَرَائِضَ فَلَا تُضَيِّعُوهَا وَحَرَّمَ حُرُمَاتٍ فَلَا تَنْتَهِكُوهَا وَحَدَّ حُدُودًا فَلَا تَعْتَدُوهَا وَسَكَتَ عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ غَيْرِ نِسْيَانٍ فَلَا تَبْحَثُوا عَنْهَا» . رَوَى الْأَحَادِيثَ الثَّلَاثَةَ الدَّارَقُطْنِيُّ
ব্যাখ্যা: আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন কিছু বিধানকে আবশ্যক করে দিয়েছেন। সেগুলোকে পালন না করে অথবা সেগুলোর শর্ত এবং রুকনকে বর্জনের মাধ্যমে তার আবশ্যকীয়তা নষ্ট করো না। অনুরূপ যে সকল পাপের কাজ হারাম করে দিয়েছেন সেগুলোর নিকটেও যাবে না। হালাল ও হারামের মাঝে যে সীমারেখা করে দিয়েছেন তা অতিক্রম করবে না। এখানে সীমা অতিক্রমের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত না থেকে তা করা।
কিছু বিষয়ে হালাল, হারাম এবং ওয়াজিব ইত্যাদির কোন হুকুম লাগাননি। সেগুলোর কোন বিধান খুঁজতে যাবে না। কারণ তা করলে অন্যান্য হালাল ও হারামের সদৃশ মনে করে বিবেকের নিকট যা হালাল ছিল না তা হালাল অথবা যা হারাম ছিল না তা হারাম বলে বিবেচিত হতে পারে। তাই ঐ সকল বিষয়ে কোন প্রকার গবেষণা করা এবং প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।