পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব
(২৫৩৯) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, হে যুবকদল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (বিবাহের অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ ও রতিক্রিয়ার) সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে দস্ত্তরমত সংযত করে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি ঐ সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোযা রাখে। কারণ, তা যৌনেন্দ্রিয় দমনকারী।
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব
(২৫৪০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিবাহ করা আমার সুন্নাত (তরীকা)। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত (তরীকা) অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِى فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِى فَلَيْسَ مِنِّى
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব
(২৫৪১) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা যখন বিবাহ করে তখন সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে নেয়। অতএব তাকে তার অবশিষ্ট অর্ধেক দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা উচিত।
عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ فَقَدْ اِسْتَكْمَلَ نِصْفَ الّدِيْنِ فَلْيَتَّقِ اللهَ فِى النِّصْفِ الْبَاقِى
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব
(২৫৪২) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিবাহ করে, সে তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ করে, অতএব বাকী অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ تَزَوَّجَ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الإِيمَانِ فَلْيَتَّقِ الله في النِّصْفِ الْبَاقِي
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব
(২৫৪৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব; আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী মুজাহিদ, সেই ক্রীতদাস যে নিজেকে স্বাধীন করার জন্য তার প্রভুকে কিস্তিতে নির্দিষ্ট অর্থ দেওয়ার চুক্তি লিখে সেই অর্থ আদায় করার ইচ্ছা করে এবং সেই বিবাহকারী যে বিবাহের মাধ্যমে (অবৈধ যৌনাচার হতে) নিজের চরিত্রের পবিত্রতা কামনা করে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلاَثةٌ حَقٌّ عَلَى الله تَعَالَى عَوْنُهُمْ المُجاهِدُ في سَبِيْلِ الله والمُكاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأَداءَ والنَّاكِحُ الَّذِي يِرِيدُ العَفافَ
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব
(২৫৪৪) ইবনে আব্বাস (রাঃ) সাঈদ বিন জুবাইরকে বলেছিলেন, ’বিবাহ কর। কারণ এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, যার সবার চেয়ে বেশি স্ত্রী।’ অথবা ’এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তির সবার চেয়ে বেশি স্ত্রী ছিল।
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ قَالَ لِيْ ابْنُ عَبَّاسٍ هَلْ تَزَوَّجْتَ قُلْتُ لَا قَالَ فَتَزَوَّجْ فَإِنَّ خَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَكْثَرُهَا نِسَاءً
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের গুরুত্ব
(২৫৪৫) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৌভাগ্যের স্ত্রী সেই; যাকে দেখে স্বামী মুগ্ধ হয়। সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকে। আর দুর্ভাগার স্ত্রী হল সেই; যাকে দেখে স্বামীর মন তিক্ত হয়, যে স্বামীর উপর জিভ লম্বা করে (লানতান করে) এবং সংসার ছেড়ে বাইরে গেলে ঐ স্ত্রী ও তার সম্পদের ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত হতে পারে না।
عَنْ سَعْدِ بْنِ وَقَّاصٍ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ فَمِنَ السَّعَادَةِ الْمَرْأَةُ تَرَاهَا تُعْجِبُكَ وَ تَغِيْبُ فَتَأْمَنُهَا عَلَى نَفْسِهَا وَ مَالِكَ مِنَ الشَّقَاوَةِ اَلْمَرْأَةُ تَرَاهَا فَتَسُوْءُكَ وَ تَحْمِلُ لِسَانَهَا عَلَيْكَ وَ إِنْ غِبْتَ عَنْهَا لَمْ تَأْمَنْهَا عَلَى نَفْسِهَا وَ مَالِكَ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৪৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হল, ’কোন্ স্ত্রী সর্বশ্রেষ্ঠ?’ তিনি বললেন, শ্রেষ্ঠ স্ত্রী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ أَيُّ النِّسَاءِ خَيْرٌ؟ قَالَ الَّتِي تَسُرُّهُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا وَتُطِيعُهُ إِذَا أَمَرَ وَلَا تُخَالِفُهُ فِيمَا يَكْرَهُ فِي نَفْسِهَا وَلَا فِي مَالِهِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৪৭) সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের প্রত্যেককে কৃতজ্ঞ হৃদয়, (আল্লাহর) যিকরকারী জিহ্বা এবং আখেরাতের কাজে সহায়িকা মুমিন স্ত্রী গ্রহণ করা উচিত।
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ النبي ﷺ لِيَتَّخِذْ أَحَدُكُمْ قَلْبًا شَاكِرًا وَلِسَانًا ذَاكِرًا وَزَوْجَةً تُعِينُهُ عَلٰى أَمْرِ الْآخِرَةِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৪৮) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীর অন্যতম বরকত এই যে, তার পয়গাম সহজ হবে, তার মোহর স্বল্প হবে এবং তার গর্ভাশয় সন্তানময় হবে।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ مِنْ يُمْنِ الْمَرْأَةِ تَيْسِيرَ خِطْبَتِهَا وَتَيْسِيرَ صَدَاقِهَا وَتَيْسِيرَ رَحِمِهَا
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৪৯) আবূ উযাইনাহ স্বাদাফী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামীকে বিপদেশোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং সেই সাথে আল্লাহর ভয় রাখে।
عَنْ أَبِى أُذَيْنَةَ الصَّدَفِىِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ خَيْرُ نِسائِكُمُ الوَلُودُ الوَدُودُ المُواسِيةُ المُواتِيَةُ إذا اتَّقَيْنَ الله
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫০) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষের জন্য সুখ ও সৌভাগ্যের বিষয় হল চারটি; সাধ্বী স্ত্রী, প্রশস্ত বাড়ি, সৎ প্রতিবেশী এবং সচল সওয়ারী (গাড়ি)। আর দুখ ও দুর্ভাগ্যের বিষয়ও চারটি; অসৎ প্রতিবেশী, অসতী স্ত্রী, সংকীর্ণ বাড়ি এবং খারাপ সওয়ারী (গাড়ি)।
وَعَن سَعدِ بنِ أَبِـيْ وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعٌ مِنَ اَلسعَادَةِ : الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ وَالْمَسْكَنُ ألوَاسِعُ وَاَلجَارُ الصَّالِحُ وَالْمَرْكَبُ اَلهَنِيءُ وَأَرْبَغ مِنَ اَلشًقَاوَةِ : اَلْجَارُ السُّوءُ وَألْمَرْأَةُ اَلسُّوءُ وَالْمَسْكَنُ اَلضيقُ وَالْمَرْكَبُ السُّوءُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫১) আবূ সাঈদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন ছাড়া কারো সঙ্গী হয়ো না এবং পরহেযগার ব্যক্তি ছাড়া তোমার খাদ্য যেন অন্য কেউ না খেতে পায়।
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لاَ تُصَاحِبْ إِلاَّ مُؤْمِنًا وَلاَ يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلاَّ تَقِىٌّ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহিলার চারটি জিনিস দেখে বিবাহ করা হয়; তার সম্পদ, উচ্চ বংশ, রূপ ও দ্বীন দেখে। তুমি দ্বীনদার মহিলা পেতে সফল হও, তোমার হাত ধূলিধূসরিত হোক।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫৩) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুনিয়া (তার সবকিছু) উপভোগ্য বস্তু। আর দুনিয়ার উপভোগ্য বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বস্তু হল পুণ্যময়ী স্ত্রী।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَخَيْرُ مَتَاعِ الدُّنْيَا الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫৪) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ যাকে পুণ্যময়ী স্ত্রী দান করেছেন, তাকে তার অর্ধেক দ্বীনে সাহায্য করেছেন। সুতরাং বাকী অর্ধেকের ব্যাপারে তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ رَزَقَهُ الله امْرَأَةً صَالِحَةً فَقَدْ أَعَانَهُ عَلٰى شَطْرِ دِينِهِ فَلْيَتَّقِ الله فِي الشَّطْرِ الْبَاقِي
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫৫) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলা যখন তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করে, তার রমযান মাসের রোযা পালন করে, (অবৈধ যৌনাচার থেকে) তার যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে এবং তার স্বামীর কথা ও আদেশমত চলে, তখন তাকে বলা হয়, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি সেই দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ কর।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِذَا صَلَّتِ المَرْأةُ خَمْسَها وَصَامَتْ شَهْرَها وَحَصَّنَتْ فَرْجَها وأطاعَتْ زَوْجَهَا قِيلَ لَها أدْخُلِي الجَنَّة مِنْ أيِّ أبْوابِ الجَنَّةِ شِئْتِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫৬) কা’ব বিন উজরাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের জান্নাতী স্ত্রীদের সম্পর্কে কি তোমাদেরকে জ্ঞাত করব না? যে স্ত্রী অধিক প্রণয়িণী, সন্তানদাত্রী, বার-বার ভুল করে বার-বার স্বামীর নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, (যার স্বামী রাগ করলে অথবা) যে অত্যাচারিতা হলে, সে তার নিকট এসে তার হাতে হাত রেখে বলে, আপনি রাজি (ঠাণ্ডা) না হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাবই না।
عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَلَا أُخْبِرُكمْ بِنِسائِكمْ مِنْ أهْلِ الجَنَّةِ الوَدُودُ الوَلودُ العؤودُ الّتِي إذا ظُلِمَتْ قالَتْ هذِهِ يَدِي في يَدِكَ لا أذُوقُ غَمْضاً حَتّٰـى تَرْضَى
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫৭)মা’ক্বিল বিন য়্যাসার কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অধিক প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী রমণী বিবাহ কর। কারণ, আমি তোমাদেরকে নিয়ে কিয়ামতে অন্যান্য উম্মতের সামনে (সংখ্যাধিক্য নিয়ে) গর্ব করব।
عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ قال قَالَ النبي ﷺ تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّى مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫৮) একাধিক সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুমারী বিবাহ কর। কারণ কুমারীদের মুখ অধিক মিষ্টি, তাদের গর্ভাশয় অধিক সন্তানধারী, তাদের যোনীপথ অধিক উষ্ণ, তারা ছলনায় কম হয় এবং স্বল্পে অধিক সন্তুষ্ট থাকে।
عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهًا وَأَنْتَقُ أَرْحَامًا وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَعْذَبُ أَفْوَاهاً وَأَنْتَقُ أَرْحَاماً وَأَسْخَنُ أَقْبَالاً وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ مِنَ العَمَلِ عَلَيْكُمْ بِالأَبْكَارِ فَإِنَّهُنَّ أَنْتَقُ أَرْحَاماً وَأَعْذَبُ أَفْوَاهاً وَأَقَلُّ خِبّاً وَأَرْضَى بِالْيَسِيرِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৫৯) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নিকট যখন এমন ব্যক্তি (বিবাহের পয়গাম নিয়ে) আসে; যার দ্বীন ও চরিত্রে তোমরা মুগ্ধ তখন তার সাথে (মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিৎনা ও মহাফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যাবে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَتَاكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ خُلُقَهُ وَدِينَهُ فَزَوِّجُوهُ إِلاَّ تَفْعَلُوا تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ عَرِيضٌ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৬০) মুআয জুহানী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে কিছু দান করে, কিছু দেওয়া হতে বিরত থাকে, কাউকে ভালোবাসে অথবা ঘৃণাবাসে এবং তাঁরই সন্তুষ্টিলাভের কথা খেয়াল করে বিবাহ দেয়, তার ঈমান পূর্ণাঙ্গ ঈমান।
عَنْ مُعَاذٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَعْطَى لِلهِ وَمَنَعَ لِلهِ وَأَحَبَّ لِلهِ وَأَبْغَضَ لِلهِ وَأَنْكَحَ لِلهِ فَقَدْ اسْتَكْمَلَ إِيمَانَهُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৬১) আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শুকরকারী হৃদয়, যিকরকারী জিহ্বা এবং পুণ্যময়ী স্ত্রী, যে তোমাকে তোমার দুনিয়া ও দ্বীনের কাজে সহযোগিতা করে, এ সব হল মানুষের সঞ্চিত সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ।
عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَلْبٌ شَاكِرٌ وَلِسَانٌ ذَاكِرٌ وَزَوجَةٌ صَالِحَةٌ تُغْنِيكَ عَلٰى أَمْرِ دُنْيَاكَ وَدِينِكَ خَيْرُ مَا اكْتَنزَ النَّاسُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী নির্বাচন
(২৫৬২) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উট চড়েছে এমন (আরবের) মহিলা, ক্বুরাইশের মহিলা, যে নিজ সন্তানের প্রতি তার শৈশবে সবচেয়ে বড় স্নেহময়ী এবং তার স্বামীর ধন-সম্পদে সবচেয়ে বেশি হিফাযতকারিণী।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نِسَاءُ قُرَيْشٍ خَيْرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الإِبِلَ أَحْنَاهُ عَلٰى طِفْلٍ وَأَرْعَاهُ عَلٰى زَوْجٍ فِى ذَاتِ يَدِهِ
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম
(২৫৬৩) আবূ হুমাইদ অথবা হুমাইদাহ কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ কোন রমণীকে বিবাহ-প্রস্তাব দেয়, তখন যদি প্রস্তাবের জন্যই তাকে দেখে, তবে তা দূষণীয় নয়; যদিও ঐ রমণী তা জানতে না পারে।
عَنْ أَبِـيْ حُمَيْدٍ أَوْ حُمَيْدَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ امْرَأَةً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا إِذَا كَانَ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا لِخِطْبَتِهِ وَإِنْ كَانَتْ لَا تَعْلَمُ
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম
(২৫৬৪) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, ’আমি এক তরুণীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তাকে দেখার জন্য (খেজুর গাছের গোড়ায়) লুকিয়ে থাকতাম। শেষ পর্যন্ত আমি তার সেই সৌন্দর্য দেখলাম, যা আমাকে বিবাহ করতে উৎসাহিত করল। অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করলাম।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ: خَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتّٰـى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِى إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوُّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম
(২৫৬৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যেন কারো (বিবাহের) পয়গামের উপর পয়গাম না দেয়; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে বিবাহ করে নেয় অথবা বর্জন করে দেয় (ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।)
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ وَلَا يَـخْطُبُ الرَّجُلُ عَلٰى خِطْبَةِ أَخِيْهِ حَتّٰـى يَنْكِحَ أَوْ يَتْـرُكَ
পরিচ্ছেদঃ বিবাহের পয়গাম
(২৫৬৬) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু’মিন মু’মিনের ভাই। সুতরাং তার জন্য তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় এবং বিবাহ-প্রস্তাবের উপর বিবাহ প্রস্তাব—তার ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত—হালাল নয়।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ الْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ فَلَا يَـحِلُّ لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يَّبْتَاعَ عَلٰـى بَيْعِ أَخِيْهِ وَلاَ يَـخْطُبَ عَلٰـى خِطْبَةِ أَخِيْهِ حَتّٰـى يَذَرَ
পরিচ্ছেদঃ অভিভাবকের গুরুত্ব
(২৫৬৭) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই )নিজে নিজে( বিবাহ করে, তার বিবাহ বাতিল, বাতিল, বাতিল। আর যদি তার স্বামী তার সাথে সহবাস করে, তাহলে তার লজ্জাস্থান হালাল হিসেবে ব্যবহার করার কারণে তাকে মোহর দিতে হবে। আর যদি তার অভিভাবকত্ব নিয়ে (লোকেরা) কলহ করে তাহলে যার ওলী নেই বাদশাহ হবে তার ওলী।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺأَيُّمَا اِمْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا وَإِنِ اشْتَجَرُوْا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهاَ
পরিচ্ছেদঃ অভিভাবকের গুরুত্ব
(২৫৬৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অকুমারীর পরামর্শ বা জবানী অনুমতি না নিয়ে এবং কুমারীর সম্মতি না নিয়ে তাদের বিবাহ দেওয়া যাবে না। আর কুমারীর সম্মতি হল মৌন থাকা।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِى نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا
পরিচ্ছেদঃ মোহর
(২৫৬৯) উক্ববা বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকল শর্ত তোমাদের জন্য পালন করা জরুরী, তন্মধ্যে সব চাইতে অধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল তাই—যার দ্বারা তোমরা তোমাদের (পরস্পরের) গোপনাঙ্গ হালাল করে থাক।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَحَقَّ الشَّرْطِ أَنْ يُوفَى بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ
পরিচ্ছেদঃ মোহর
(২৫৭০) আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সেই শর্ত, যা আল্লাহর কিতাবে নেই (বা আল্লাহর কিতাব-বিরোধী), তা বাতিল, যদিও সে শর্ত একশ’টি হয়।
عَنْ عَائِشَةَ وابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: كُلُّ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ
পরিচ্ছেদঃ মোহর
(২৫৭১) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচাইতে বড় পাপী সেই ব্যক্তি যে এক মহিলাকে বিবাহ করার পর তার নিকট থেকে তার প্রয়োজন মিটিয়ে নিয়ে তাকে তালাক দেয় এবং তার মোহর আত্মসাৎ করে নেয়। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে একটি লোককে কাজে খাটিয়ে তার মজুরী আত্মসাৎ করে নেয়। আর তৃতীয় সেই ব্যক্তি যে খামোখা প্রাণী হত্যা করে।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللهِ رَجُلٌ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا طَلَّقَهَا وَذَهَبَ بِمَهْرِهَا وَرَجُلٌ اسْتَعْمَلَ رَجُلاً فَذَهَبَ بِأُجْرَتِهِ وَآخَرُ يَقْتُلُ دَابَّةً عَبَثًا
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭২) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাকে আশ্রয় দাও। আর যে আল্লাহর নামে চাইবে, তাকে দান কর। যে তোমাদেরকে নিমন্ত্রণ দেবে, তোমরা তার নিমন্ত্রণ গ্রহণ কর। যে তোমাদের উপকার করবে, তোমরা তার (যথোচিত) প্রতিদান দাও। আর যদি তোমরা তার (যথার্থ) প্রতিদানযোগ্য কিছু না পাও, তাহলে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দু’আ করতে থাক, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের এ ধারণা বদ্ধমূল হবে যে, তোমরা তার (সঠিক) প্রতিদান আদায় ক’রে দিয়েছ।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنِ اسْتَعَاذَ بِاللهِ فَأَعِيذُوهُ وَمَنْ سَأَلَ بِاللهِ فأَعْطُوهُ وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفاً فَكَافِئُوهُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ بِهِ فَادْعُوا لَهُ حَتّٰـى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَد كَافَأْتُمُوهُ
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলতেন, ’সবচেয়ে নিকৃষ্টতম খাবার হল সেই অলীমার খাবার যার জন্য ধনীদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয় এবং বাদ দেওয়া হয় গরীবদেরকে। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করল না সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করল।’ (বুখারী ৫১৭৭, মুসলিম ১৪৩২)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُمْنَعُهَا مَنْ يَأْتِيهَا وَيُدْعَى إِلَيْهَا مَنْ يَأْبَاهَا وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُوْلَهُ
সবচেয়ে নিকৃষ্টতম খাবার হল সেই অলীমার খাবার; যাতে তাদেরকে আসতে নিষেধ করা হয় (বা দাওয়াত দেওয়া হয় না), যারা তা খেতে চায় এবং যার প্রতি তাদেরকে আহবান করা হয়, যারা তা খেতে চায় না। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করে না সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তদীয় রসূলের না ফরমানী করে। (মুসলিম ৩৫৯৮)
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ: شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى لَهَا الْأَغْنِيَاءُ وَيُتْرَكُ الْفُقَرَاءُ وَمَنْ تَرَكَ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللهَ وَرَسُوْلَهُ ﷺ
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলিমের উপর মুসলিমের ৫টি অধিকার রয়েছে; সালামের জবাব দেওয়া, রোগীকে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা দেওয়া, জানাযায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচির পর ’আল-হামদু লিল্লাহ’ বললে তার জবাবে ’য়্যারহামুকাল্লাহ’ বলা।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭৫) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের কাউকে অলীমার দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তা কবুল করে। অতঃপর তার ইচ্ছা হলে খেতে পারে, না হলে না খেতে পারে।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا دُعِىَ أَحَدُكُمْ إِلٰـى طَعَامٍ فَلْيُجِبْ فَإِنْ شَاءَ طَعِمَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনে, (অলীমাভোজে) আপোসে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদ্বয়ের দাওয়াত কবুল করা যাবে না এবং তাদের খাবারও খাওয়া হবে না।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المُتَبَارِيَانِ لاَ يُجَابَانِ وَلاَ يُؤكَلُ طَعَامُهُما
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭৭) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন সেই ভোজ-মজলিসে না বসে যাতে মদ্য পরিবেশিত হয়।
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَمنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلَا يَجْلِسْ عَلٰى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا الْخَمْرُ
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭৮) একদা আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিমন্ত্রণ করলে তিনি তাঁর গৃহে ছবি দেখে ফিরে গেলেন। আলী (রাঃ) বললেন, ’কী কারণে ফিরে এলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার মা-বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক।’ তিনি উত্তরে বললেন, গৃহের এক পর্দায় (প্রাণীর) ছবি রয়েছে। আর ফিরিশতাবর্গ সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যে গৃহে ছবি থাকে।
عَنْ عَلِيٍ أَنَّهُ صَنَعَ طَعَامًا فَدَعَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَجَاءَ فَرَأَى فِي الْبَيْتِ سَتَرَا فِيْهِ تَصَاوِيْرُ فَرَجَعَ قَالَ : فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا رَجَعَكَ بِأَبِيْ أَنْتَ وَأُمِّي ؟ قَالَ : إِنَّ فِي الْبَيْتِ سَتَرَا فِيْهِ تَصَاوِيْرُ وَإِنَّ الْمَلَائِكَةِ لَا تَدْخُلُ بيْتًا فِيْهِ تَصَاوِيْرُ
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৭৯) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য খাবার তৈরী করলাম। তিনি তাঁর অন্যান্য সহচর-সহ আমার বাড়িতে এলেন। অতঃপর যখন খাবার সামনে রাখা হল, তখন দলের মধ্যে একজন বলল, ’আমার রোযা আছে।’ তা শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের ভাই তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়ে খরচ (বা কষ্ট) করেছে। অতঃপর তিনি তার উদ্দেশ্যে বললেন, ’’রোযা ভেঙ্গে দাও। আর চাইলে তার বিনিময়ে অন্য একদিন রোযা রাখ।
عَنْ أَبِيْ سَعِيْدِ الْخُدْرِيْ أَنَّهُ صَنَعْتُ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ طَعَامًا فَدَعَاهُمْ فَلَمَّا دَخَلُوْا وَضَعَ الطُّعَامُ فَقَالَ رَجُلُ مِّنَ الْقَوْمِ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ دَعَاكُمْ أَخُوْكُمْ وَتَكَلَّفَ لَكُمْ ثُمَّ تَقُوْلُ إِنِّي صَائِمٌ أَفْطَرَ ثُمَّ صُمْ يَوْمٌا مَكاَنَهُ إِنْ شِئْتَ رواه البيهقي بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ দাওয়াত গ্রহণ
(২৫৮০) একদা এক আনসারী আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ পাঁচ জনকে দাওয়াত করলে রাস্তায় একটি লোক তাঁর সঙ্গ ধরে। তিনি সেই আনসারী সাহাবীর কাছে পৌঁছে বললেন,
إِنَّكَ دَعَوْتَنَا خَامِسَ خَمْسَةٍ وَهٰذَا رَجُلٌ قَدْ تَبِعَنَا فَإِنْ شِئْتَ أَذِنْتَ لَهُ وَإِنْ شِئْتَ تَرَكْتَهُ، قَالَ بَلْ أَذِنْتُ لَهُ
তুমি আমাকে নিয়ে মোট পাঁচ জনকে দাওয়াত দিয়েছিলে। কিন্তু পথিমধ্যে এই লোকটি আমাদের সঙ্গ ধরে। এখন তুমি ওকে অনুমতি দিলে দিতে পার। নচেৎ বর্জন করলেও করতে পার। আনসারী বললেন, ’বরং ওকে অনুমতি দিচ্ছি।
-
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সেই স্বামীর প্রতি দয়া বর্ষণ করেন, যে রাত্রে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্ত্রীকে জাগায়, আর সেও নামায পড়ে। সে উঠতে অস্বীকার করলে তার মুখে পানির ছিটা মারে। আল্লাহ সেই স্ত্রীর প্রতিও দয়া বর্ষণ করেন, যে রাত্রে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্বামীকে জাগায়, আর সেও নামায পড়ে। সে উঠতে অস্বীকার করলে তার মুখে পানির ছিটা মারে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِى وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِى وَجْهِهِ الْمَاءَ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮২) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়তেন আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়ি শুয়ে থাকতাম। তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন। আমিও বিতর পড়ে নিতাম।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ يُصَلِّي وَأَنَا رَاقِدَةٌ مُعْتَرِضَةٌ عَلٰى فِرَاشِهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَنِي فَأَوْتَرْتُ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮৩) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’একদা এক সফরে আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। এক জায়গায় আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম এবং তাতে আমি তাঁকে হারিয়ে দিলাম। অতঃপর যখন আমি মোটা হয়ে গেলাম, তখন একবার প্রতিযোগিতা করলাম এবং তিনি আমাকে হারিয়ে দিলেন এবং বললেন এটা হল পূর্বের (প্রতিযোগিতার) উত্তর।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِىِّ ﷺ فِى سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلٰى رِجْلَىَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِى فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮৪) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা হাবশীরা বর্শা-বল্লম নিয়ে মসজিদে খেলা করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’’হে হুমাইরা! তুমি কি ওদের খেলা দেখতে চাও?’’ আমি বললাম, ’হ্যাঁ।’ তখন তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন। আমি আমার থুত্নিকে তাঁর কাঁধের উপর রাখলাম এবং আমার চেহারাকে তাঁর গালের সাথে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। (বেশ কিছুক্ষণ দেখার পর) তিনি বললেন, ’’যথেষ্ট হয়েছে, চল এবারে।’’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াতাড়ি করবেন না।’ তাই তিনি আমার জন্য আবারও দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর আবার বললেন, ’’যথেষ্ট হয়েছে, চল এবারে।’’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াতাড়ি করবেন না।’ আমার যে তাদের খেলা দেখার খুব শখ ছিল তা নয়, বরং আমি কেবল তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদেরকে এ কথাটা জানিয়ে দিতে চাইছিলাম যে, আমার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতটা মর্যাদা ছিল এবং তাঁর কাছে আমার কতটা কদর ছিল। (নাসাঈ কুবরা ৮৯৫১, মুসলিম ২১০০-২১০৫)
عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ : دَخَلَ الْحَبَشَةُ الْمَسْجِدَ يَلْعَبُونَ فَقَالَ لِي : يَاحُمَيْرَاءُ اتُحِبَّينَ أَنْ تَنْظُرِي إِلَيْهِمْ ؟ فَقُلْتُ : نَعَمْ فَقَامَ بِالْبَابِ وَجِئْتُهُ فَوَضَعْتُ ذَقَنِي عَلٰى عَاتِقِهِ فَاسْنَدْتُ وَجْهِيَ إِلٰـى خَدِّهِ قَالَتْ : وَمِنْ قَوْلِهِمْ يَوْمَئِذٍ : ابَا الْقَاسِم طيبًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : حَسْبُكِ ؟ فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ لاتَعْجَلْ فَقَامَ لِي ثُمَّ قَالَ : حَسْبُكِ ؟ فَقُلْتُ : لا تَعْجَلْ يَارَسُوْلَ اللهِ قَالَتْ : وَمَابِي حُبُّ النَّظَرِ إِلَيْهِمْ وَلَكِنِّي احْبَبْتُ أَنْ تُبَلَّغَ النِّسَاءُ مَقَامَهُ بِي وَمَكَانِي مِنْهُ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮৫) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) ও জাবের বিন উমাইর আনসারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতি কাজ (খেলা) যাতে আল্লাহর যিকর, (ধর্মীয় উদ্দেশ্য, শারীরিক উপকার) থাকে না, তাই (অসার) ক্রীড়াকৌতুক, চারটি খেলা ছাড়া; তীরন্দাজি, অশ্ব প্রশিক্ষণ, স্বামী-স্ত্রীর প্রেমখেলা এবং সাঁতার শিক্ষা।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ وَجَابِرِ بْنِ عُمَيْرٍ الْأَنْصَارِيَّ، أن رَسُوْلَ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال كُلُّ شَيْءٍ لَيْسَ مِنْ ذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ فَهُوَ لَغْوٌ وَسَهْوٌ إِلَّا أَرْبَعَ خِصَالٍ : مَشْيُ الرَّجُلِ بَيْنَ الْغَرَضَيْنِ، وَتَأْدِيبُ فَرَسَهُ، وَمُلَاعَبَتُهُ أَهْلَهُ، وَتَعْلِيمُ السِّبَاحَةِ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮৬) আবূ যার থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের স্ত্রী-মিলন করাও সাদকাহ।’’ সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন করে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে তবে এতেও কি তার পুণ্য হবে? তিনি বললেন, ’’কী রায় তোমাদের, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে? (নিশ্চয় হবে।) অনুরূপ সে যদি বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে তার পুণ্য হবে।
عَنْ أَبِى ذَرٍّ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ وَفِى بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَيَأْتِى أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ قَالَ أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِى حَرَامٍ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ فَكَذٰلِكَ إِذَا وَضَعَهَا فِى الْحَلاَلِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮৭) আয়েশা (রাঃ) যখন ছোট ছিলেন, তখন কাপড়ের তৈরি পুতুল নিয়ে খেলা করতেন। তার মধ্যে একটি ঘোড়া ছিল, যার দু’টি ডানা ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, ’এটা কী?’ আয়েশা বললেন, ’ঘোড়া।’ তিনি বললেন,
فَرَسٌ لَهُ جَنَاحَانِ قَالَتْ أَمَا سَمِعْتَ أَنَّ لِسُلَيْمَانَ خَيْلاً لَهَا أَجْنِحَةٌ قَالَتْ فَضَحِكَ حَتّٰـى رَأَيْتُ نَوَاجِذَهُ
’ঘোড়ার আবার দু’টি ডানা?’ আয়েশা বললেন, ’আপনি কি শুনেননি, সুলাইমান (নবী)র ডানা-ওয়ালা ঘোড়া ছিল?’ এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং সে হাসিতে তাঁর চোয়ালের দাঁত দেখা গেল।
-
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮৮) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা সাওদা বিনতে যামআ’ আমার সাথে দেখা করতে আমার বাসায় এলো। রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও আমার মাঝখানে বসে গেলেন। তাঁর একটি পা আমার কোলে, আর একটি পা সাওদার কোলে ছিল। আমি তার (সাওদার) জন্য ’খাযীরা’ (গোশ্ত ছোট ছোট করে কেটে তাতে আটা মিশিয়ে রান্না করা খাবার) তৈরী করলাম। অতঃপর তাকে খেতে বললে সে খেতে অস্বীকার করল। আমি বললাম, ’তুমি অবশ্যই খাবে, নচেৎ আমি তোমার মুখে তা লেপে দেব।’ সে অস্বীকার করলে আমি প্লেট থেকে সামান্য পরিমাণ নিয়ে তার মুখে লেপে দিলাম।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোল থেকে স্বীয় পা সরিয়ে নিলেন, যাতে সে আমার কাছ থেকে বদলা নিতে পারে। অতঃপর আমি প্লেট থেকে আরো কিছু নিয়ে আমার মুখে লেপে নিলাম। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসতে লাগলেন। ইত্যবসরে উমার (রাঃ) উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেন, ’হে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার! হে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার!’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, তোমরা উঠে তোমাদের মুখ ধুয়ে নাও, আমার মনে হয় উমার প্রবেশ না করে ছাড়বে না।
عَنْ عَائِشَةَ قالت: زَارَتْنَا سَوْدَةُ يَوْما فَجَلَسَ رَسُوْلُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا احْدَئ رِجْلَيْهِ فِي حِجْرِي وَالاخْرَئ فِي حِجْرِهَا فَعَمِلْتُ لَهَا حَريرَةً او قالت : خزيرَةً فَقُلْتً : كُلِي فَابَتْ فَقُلْتَُ: لَتَاكُلِي اوْ لالْطِخَنَّ وَجْهَكِ فَابَتْ فَاخَذْتُ مِنَ الْقَصْعَةِ شَيْئا فَلَطَخْتُ بِهِ وَجْهَهَا فَرَفَعَ رَسُوْلُ اللهِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِجْلَهُ مِنْ حِجْرِهَا تَسْتَقِيدُ مِنِّىِ فَاخَذَتْ مِنَ الْقَصْعَةِ شَيْئا فلطَخَتْ بِهِ وَجْهِي وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضْحَكُ فَاذَا عُمَرُ يَقُوْلُ : يَاعبد الله بْنَ عُمَرَ يَا عبد الله بْنَ عُمَرَ فَقَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قُومَا فَاغْسِلا وُجُوهَكُمَا فَلا احْسَبُ عُمَرَ الا دَاخِلا
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৮৯) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য) গোসল করতাম, তখন আমাদের উভয়ের মাঝে একটাই পাত্র হত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাড়াতাড়ি করে (সেটা থেকে পানি নিতে) গেলে আমি বলতাম, ছাড়ুন আমি আগে নিই, ছাড়ুন আমি আগে নিই।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مِنْ إِنَاءٍ بَيْنِى وَبَيْنَهُ وَاحِدٍ فَيُبَادِرُنِـىْ حَتّٰـى أَقُولَ دَعْ لِـىْ دَعْ لِـىْ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯০) উরওয়াহ বলেন, আয়েশা (রাঃ)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ঘরে কাজ করতেন?’ তিনি বললেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন; স্বহস্তে কাপড় পরিষ্কার করতেন, দুধ দোহাতেন এবং নিজের খেদমত নিজেই করতেন। অন্যনা্য পুরুষরা যেমন নিজেদের বাড়ীতে কাজ করে, অনুরূপ তিনিও তাঁর কাপড়ে তালি লাগাতেন এবং জুতো সিলাই করতেন।
وَعَنْ عُرْوَةَ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ عَائِشَةَ هَلْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ نَعَمْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَخْصِفُ نَعْلَهُ، وَيَخِيطُ ثَوْبَهُ، وَيَعْمَلُ فِي بَيْتِهِ كَمَا يَعْمَلُ أَحَدُكُمْ فِي بَيْتِهِ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ مُخْتَصَرًا مِنْ رِوَايَةِ الأَسْوَدِ قُلْت لِعَائِشَةَ مَا كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَصْنَعُ إذَا دَخَلَ بَيْتَهُ؟ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ وَلِلتِّرْمِذِيِّ فِي الشَّمَائِلِ كَانَ بَشَرًا مِنْ الْبَشَرِ يُفَلِّي ثَوْبَهُ وَيَحْلِبُ شَاتَهُ وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯১) আসওয়াদ বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে কী করতেন? উত্তরে তিনি বললেন, ’তিনি সাংসারিক কাজ করতেন। অতঃপর নামাযের সময় হলে নামাযের জন্য বের হয়ে যেতেন।
عَنِ الْأَسْوَدِ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ مَا كَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ يَصْنَعُ فِي بَيْتِهِ؟ قَالَتْ: كَانَ يَكُونُ فِي مِهْنَةِ أَهْلِهِ تَعْنِي خِدْمَةَ أَهْلِهِ فَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلَاةُ خَرَجَ إِلٰـى الصَّلَاةِ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯২) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, আমি অবশ্যই জানতে পারি কখন তুমি আমার প্রতি খুশী থাক এবং কখন রাগান্বিতা হও। আমি বললাম, কী করে আপনি তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি খুশী থাক, তখন বল, না, মুহাম্মাদের রবেবর শপথ! আর যখন তুমি আমার প্রতি রেগে থাক, তখন বল, না, ইব্রাহীমের রবেবর শপথ! আমি তখন বললাম, ’হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি আপনার নাম ছাড়া আর কিছুই বাদ দিই না।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ لِى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنِّى لأَعْلَمُ إِذَا كُنْتِ عَنِّى رَاضِيَةً وَإِذَا كُنْتِ عَلَىَّ غَضْبَى قَالَتْ فَقُلْتُ وَمِنْ أَيْنَ تَعْرِفُ ذٰلِكَ قَالَ أَمَّا إِذَا كُنْتِ عَنِّى رَاضِيَةً فَإِنَّكِ تَقُولِينَ لاَ وَرَبِّ مُحَمَّدٍ وَإِذَا كُنْتِ غَضْبَى قُلْتِ لاَ وَرَبِّ إِبْرَاهِيمَ قَالَتْ قُلْتُ أَجَلْ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا أَهْجُرُ إِلاَّ اسْمَكَ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোন খাবারের দোষ বর্ণনা করেননি। (খাবার সামনে এলে) রুচি (বা ইচ্ছা) হলে তিনি খেতেন, তা না হলে বর্জন করতেন।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَا عَابَ النَّبِيُّ ﷺ طَعَامًا قَطُّ إِنْ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ وَإِلَّا تَرَكَهُ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯৪) ফাযালাহ বিন উবাইদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তি সম্পর্কে কোন প্রশ্নই করো না; যে জামাআত ত্যাগ করে ইমামের অবাধ্য হয়ে মারা যায়, যে ক্রীতদাস বা দাসী প্রভু থেকে পলায়ন করে মারা যায়, এবং সেই নারী যার স্বামী অনুপস্থিত থাকলে -তার সাংসারিক সমস্ত প্রয়োজনীয় জিনিস বন্দোবস্ত করে দেওয়া সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতিতে বেপর্দা হয়ে বাইরে যায়।
عَنْ فَضَالَةَ بن عُبَيْدٍ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ، قَالَ ثلَاثَةٌ لَا تَسألُ عَنْهُمْ رَجُلٌ فَارَقَ الْـجَماعَةَ وعَصَى إِمامَهُ وماتَ عَاصِياً وأمَةٌ أوْ عَبْدٌ أبقَ مِنْ سَيّدِهِ فَماتَ وامْرَأةٌ غَابَ عَنْهَا زَوْجهَا وقدْ كَفَاهَا مَؤنَةَ الدُّنْيا فَتَبَرَّجَتْ بَعْدَهُ فَلَا تَسْألْ عَنْهُمْ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯৫) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’আমি মাসিক অবস্থায় কোন কিছু পান করে সে পানপাত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে পান করতেন, যেখানে আমি মুখ লাগিয়ে ছিলাম। অনুরূপ আমি মাসিক অবস্থায় হাড় থেকে গোশ্ত ছিঁড়ে খেতাম। অতঃপর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দিতাম। তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে হাড় থেকে মাংস ছিঁড়ে খেতেন, যেখানে আমি মুখ লাগিয়ে ছিলাম।’
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَشْرَبُ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِىَّ ﷺ فَيَضَعُ فَاهُ عَلٰى مَوْضِعِ فِىَّ فَيَشْرَبُ وَأَتَعَرَّقُ الْعَرْقَ وَأَنَا حَائِضٌ ثُمَّ أُنَاوِلُهُ النَّبِىَّ ﷺ فَيَضَعُ فَاهُ عَلٰى مَوْضِعِ فِىَّ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির দু’জন স্ত্রী আছে, কিন্তু সে তাদের মধ্যে একজনের দিকে ঝুঁকে যায়, এরূপ ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার অর্ধদেহ ধসা অবস্থায় উপস্থিত হবে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلٰـى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ
পরিচ্ছেদঃ দাম্পত্য ও সংসার
(২৫৯৭) জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’ইবলীস পানির উপর তার সিংহাসন রেখে (ফিতনা ও পাপের) অভিযান-সৈন্য পাঠায়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী তার নৈকট্য লাভ করে সে, যে সবচেয়ে বড় ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে। অতঃপর প্রত্যেকে কাজের হিসাব দেয়; বলে, ’আমি এই করেছি।’ সে বলে, ’তুমি কিছুই করনি।’ একজন এসে বলে, ’আমি এক দম্পতির মাঝে ঢুকে পরস্পর কলহ বাধিয়ে পরিশেষে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়েছি।’ তখন শয়তান সিংহাসন ছেড়ে উঠে এসে তাকে আলিঙ্গন ক’রে বলে, ’হ্যাঁ। (তুমিই কাজের মতো কাজ করেছ!)’’ (মুসলিম ৭২৮৪)
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ ثُمَّ يَبْعَثُ سَرَايَاهُ فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً يَجِىءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُوْلُ فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا فَيَقُوْلُ مَا صَنَعْتَ شَيْئًا قَالَ ثُمَّ يَجِىءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُوْلُ مَا تَرَكْتُهُ حَتّٰـى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ - قَالَ - فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُوْلُ نِعْمَ أَنْتَ
পরিচ্ছেদঃ মিলন-রহস্য প্রকাশ
(২৫৯৮) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহিলা যেন কোন মহিলাকে (নগ্ন) আলিঙ্গন করে অতঃপর সে তার স্বামীর নিকট তা বর্ণনা না করে। (যাতে তা শুনে তার স্বামী) যেন ঐ মহিলাকে (মনে) প্রত্যক্ষ দর্শন করে থাকে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ لَا تُبَاشِرُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّهُ يَنْظُرُ إِلَيْهَا
পরিচ্ছেদঃ মিলন-রহস্য প্রকাশ
(২৫৯৯) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মানের দিক থেকে সবচেয়ে জঘন্য মানের ব্যক্তি হল সে, যে স্বামী স্ত্রী-মিলন করে এবং যে স্ত্রী স্বামী-মিলন করে, অতঃপর একে অন্যের মিলন-রহস্য (অপরের নিকট) প্রচার করে।
عَنْ أَبـِيْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِىَّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِى إِلٰـى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِى إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا
পরিচ্ছেদঃ মিলন-রহস্য প্রকাশ
(২৬০০) আসমা বিনতে ইয়াযিদ (রাঃ) বলেন, একদা আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম, আর তাঁর সেখানে অনেক পুরুষ ও মহিলাও বসেছিল। তিনি বললেন, সম্ভবতঃ কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীর সাথে যা করে তা (অপরের কাছে) বলে থাকে এবং সম্ভবতঃ কোন মহিলা নিজ স্বামীর সাথে যা করে তা (অপরের নিকট) বলে থাকে? এ কথা শুনে মজলিসের সবাই কোন উত্তর না দিয়ে চুপ থেকে গেল। আমি বললাম, ’জী হ্যাঁ। আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রসূল! মহিলারা তা বলে থাকে এবং পুরুষরাও তা বলে থাকে।’ অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা এরূপ করো না। যেহেতু এমন ব্যক্তি তো সেই শয়তানের মত, যে কোন নারী-শয়তানকে রাস্তায় পেয়ে সঙ্গম করতে লাগে, আর লোকেরা তার দিকে চেয়ে চেয়ে দেখে।
عَنْ أَسْمَاء بِنْتِ يَزِيدَ أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَالرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ قُعُودٌ عِنْدَهُ فَقَالَ لَعَلَّ رَجُلًا يَقُوْلُ مَا يَفْعَلُ بِأَهْلِهِ وَلَعَلَّ امْرَأَةً تُخْبِرُ بِمَا فَعَلَتْ مَعَ زَوْجِهَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقُلْتُ إِي وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّهُنَّ لَيَقُلْنَ وَإِنَّهُمْ لَيَفْعَلُونَ، قَالَ فَلَا تَفْعَلُوا فَإِنَّمَا ذٰلِكَ مِثْلُ الشَّيْطَانِ لَقِيَ شَيْطَانَةً فِي طَرِيقٍ فَغَشِيَهَا وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
আল্লাহ তাআলা বলেন,
اَلرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَـى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللهُ بَعْضَهُمْ عَلٰى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِـحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللهُ
অর্থাৎ, পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যময়ী নারীরা অনুগতা এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে লোক-চক্ষুর অন্তরালে (স্বামীর ধন ও নিজেদের ইজ্জত) রক্ষাকারিণী; আল্লার হিফাযতে (আদেশ ও তওফীকে) তারা তা হিফাযত করে। (সূরা নিসা ৩৪)
(২৬০১) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিজ বিছানায় ডাকে এবং সে না আসে, অতঃপর সে (স্বামী) তার প্রতি রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তাহলে ফিরিশতাগণ তাকে সকাল অবধি অভিসম্পাত করতে থাকেন।
অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, যখন স্ত্রী নিজ স্বামীর বিছানা ত্যাগ করে (অন্যত্র) রাত্রিযাপন করে, তখন ফিরিশতাবর্গ সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকেন।
আর এক বর্ণনায় আছে যে, ’’সেই আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! কোন স্বামী তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহবান করার পর সে আসতে অস্বীকার করলে যিনি আকাশে আছেন তিনি (আল্লাহ) তার প্রতি অসন্তুষ্ট থাকেন, যে পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়। (বুখারী ৫১৯৩, মুসলিম ১৪৩৬, আবূ দাউদ ২১৪১, নাসাঈ)
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امرَأتَهُ إِلٰـى فرَاشِهِ فَلَمْ تَأتِهِ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا، لَعَنَتْهَا المَلَائِكَةُ حَتّٰـى تُصْبحَ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
وَفي رِوَايَةٍ لَهُمَا إِذَا بَاتَتِ المَرأةُ هَاجِرَةً فِرَاشَ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا المَلَائِكَةُ حَتّٰـى تُصْبحَ
وَفي رِوَايَةٍ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ والَّذِي نَفْسِي بيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأتَهُ إِلٰـى فِرَاشهِ فَتَأبَى عَلَيهِ إلاَّ كَانَ الَّذِي في السَّمَاء سَاخطاً عَلَيْهَا حَتّٰـى يَرْضَى عَنها
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০২) আবূ উমামা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির নামায তাদের মাথা অতিক্রম করে না; পলাতক ক্রীতদাস, যতক্ষণ না সে ফিরে এসেছে, এমন স্ত্রী যার স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রিযাপন করেছে, (যতক্ষণ না সে রাজী হয়েছে), (অথবা যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচরণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত) এবং সেই সম্প্রদায়ের ইমাম, যাকে লোকে অপছন্দ করে।
عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَةٌ لَا تُجَاوِزُ صَلَاتُهُمْ رُؤوسَهُمِ: الْعَبْدُ الآبِقُ، وَالْمَرْأَةُ تَبِيتُ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ، وَإِمَامٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০৩) আবূ আলী ত্বালক ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার প্রয়োজনে আহবান করবে, তখন সে যেন (তৎক্ষণাৎ) তার নিকট যায়। যদিও সে উনানের কাছে (রুটি ইত্যাদি পাকানোর কাজে ব্যস্ত) থাকে।
وَعَنْ أَبِـيْ عَلِيِّ طَلْقِ بنِ عَلِيِّ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا دَعَا الرَّجُلُ زَوْجَتهُ لِـحَاجَتِهِ فَلْتَأتِهِ وَإنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُوْرِ رواه الترمذي والنسائي وَقالَ الترمذي حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০৪) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া কোন নারীর জন্য (নফল) রোযা রাখা বৈধ নয় এবং স্বামীর সম্মতি ব্যতিরেকে তার ঘরে কাউকে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়াও তার জন্য বৈধ নয়। (বুখারী ৫১৯৫, মুসলিম ২৪১৭, শব্দগুলি বুখারীর)
অন্য এক বর্ণনায় আছে
لَا تَصُوْمُ الْمَرْأَةُ يَوْمًا تَطَوُّعًا فِـيْ غَيْرِ رَمَضَانَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ
মহিলা যেন স্বামীর বর্তমানে তার বিনা অনুমতিতে রমযানের রোযা ছাড়া একটি দিনও রোযা না রাখে। (দারেমী ১৭২০, সিলসিলা আহাদীসুস সহীহা ৩৯৫)
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَحِلُّ لِاِمْرَأةٍ أنْ تَصُوْمَ وزَوْجُهَا شَاهدٌ إلاَّ بإذْنِهِ وَلَا تَأذَنَ في بَيْتِهِ إلاَّ بِإذنِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ وهذا لفظ البخاري
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০৫) আমর বিন আহওয়াস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিদায়ী হজ্জের ভাষণে) বলেছেন, তোমাদের স্ত্রীর উপর তোমাদের অধিকার এই যে, (তোমাদের অবর্তমানে) তোমরা যাকে অপছন্দ ও ঘৃণা কর, তাকে তোমাদের শয্যা দলন করতে যেন সুযোগ না দেয় এবং যাকে অপছন্দ কর তাকে তোমাদের গৃহে (প্রবেশের জন্য) যেন অনুমতি না দেয়।
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْأَحْوَصِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَأَمَّا حَقُّكُمْ عَلٰـى نِسَائِكُمْ فَلَا يَطَئَنَّ فِرَاشَكُمْ مَنْ تُكْرَهُوْنَ وَلَا يَأْذَنْ فِيْ بُيُوْتِكُمْ لِـمَنْ تُكْرَهُوْنَ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০৬) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাবারাকা অতাআলা সেই মহিলার প্রতি চেয়েও দেখবেন না, যে তার স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না; অথচ সে তার মুখাপেক্ষিণী। (নাসাঈ কুবরা ৯১৩৫, ত্বাবারানী, বাযযার ২৩৪৯, হাকেম ২৭৭১, বাইহাকী ১৪৪৯৭, সিলসিলাহ সহীহাহ ২৮৯)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ نَبِىَّ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَنْظُرُ اللهُ إِلٰـى امْرَأَةٍ لَا تَشْكُرُ لِزَوْجِهَا وَهِىَ لَا تَسْتَغْنِى عَنْهُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০৭) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মহিলাদেরকে সম্বোধন করে) বললেন, হে মহিলা সকল! তোমরা সাদকাহ-খয়রাত করতে থাক ও অধিকমাত্রায় ইস্তিগফার কর। কারণ আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীরূপে দেখলাম। একজন জ্ঞানী মহিলা নিবেদন করল, ’আমাদের অধিকাংশ জাহান্নামী হওয়ার কারণ কী? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, তোমরা অভিশাপ বেশি কর এবং নিজ স্বামীর অকৃতজ্ঞতা কর। বুদ্ধি ও ধর্মে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিচক্ষণ ব্যক্তির উপর তোমাদের চাইতে আর কাউকে বেশি প্রভাব খাটাতে দেখিনি। মহিলাটি আবার নিবেদন করল, ’বুদ্ধি ও ধর্মের ক্ষেত্রে অপূর্ণতা কী?’ তিনি বললেন, ’’দু’জন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্য সমতুল্য। আর (প্রসবোত্তর খুন ও মাসিক আসার) দিনগুলিতে মহিলা নামায পড়া বন্ধ রাখে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ الاِسْتِغْفَارَ فَإِنِّى رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ وَمَا لَنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ قَالَ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِى لُبٍّ مِنْكُنَّ قَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ قَالَ أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ فَهٰذَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَتَمْكُثُ اللَّيَالِىَ مَا تُصَلِّى وَتُفْطِرُ فِى رَمَضَانَ فَهٰذَا نُقْصَانُ الدِّينِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে জাহান্নাম দেখানো হল। আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসিনী হল মহিলা। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, তা কী জন্য হে আল্লাহর রসূল? বললেন, তাদের কুফরীর জন্য। তাঁরা বললেন, আল্লাহর সাথে কুফরী? তিনি বললেন, (না, তারা স্বামীর কুফরী (অকৃতজ্ঞতা) ও নিমকহারামি করে। তাদের কারো প্রতি যদি সারা জীবন এহসানী কর, অতঃপর সে যদি তোমার নিকট সামান্য ত্রুটি লক্ষ্য করে, তাহলে ব’লে বসে, তোমার নিকট কোন মঙ্গল দেখলাম না আমি!
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ يَكْفُرْنَ قِيلَ أَيَكْفُرْنَ بِاللهِ قَالَ يَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَيَكْفُرْنَ الْإِحْسَانَ لَوْ أَحْسَنْتَ إِلٰـى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬০৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি যদি কাউকে কারো জন্য সিজদাহ করার আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদাহ করে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبيِّ ﷺ قَالَ لَوْ كُنْتُ آمِراً أحَداً أنْ يَسْجُدَ لأحَدٍ لَامَرْتُ المَرأةَ أنْ تَسْجُدَ لزَوجِهَا رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১০) আব্দুল্লাহ বিন আবী আউফা (রাঃ) বলেন, মুআয যখন শাম (দেশ) থেকে ফিরে এলেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সিজদা করলেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’একি মুআয?’’ মুআয বললেন, ’আমি শাম গিয়ে দেখলাম, সে দেশের লোকেরা তাদের যাজক ও পাদ্রীগণকে সিজদা করছে। তাই আমি মনে মনে চাইলাম যে, আমরাও আপনার জন্য সিজদা করব।’ তা শুনে তিনি বললেন ’’খবরদার! তা করো না। কারণ, আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য সিজদা করতে কাউকে আদেশ করতাম, তাহলে মহিলাকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে! মহিলা তার প্রতিপালক (আল্লাহর) হক ততক্ষণ আদায় করতে পারে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বামীর হক (অধিকার) আদায় করেছে। (স্বামীর অধিকার আদায় করলে তবেই আল্লাহর অধিকার আদায় হবে, নচেৎ না।) এমন কি সে যদি (প্রসবের জন্য বা সফরের জন্য) কোন বাহনের জিনের উপর থাকে, আর সেই অবস্থায় স্বামী তার দেহ-মিলন চায় তাহলে স্ত্রীর, ’না’ বলার অধিকার নেই।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِـيْ أَوْفَى قَالَ قَدِمَ مُعَاذٌ الْيَمَنَ أَوْ قَالَ الشَّامَ فَرَأَى النَّصَارَى تَسْجُدُ لِبَطَارِقَتِهَا وَأَسَاقِفَتِهَا فَرَوَّأَ فِي نَفْسِهِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَحَقُّ أَنْ يُعَظَّمَ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ رَأَيْتُ النَّصَارَى تَسْجُدُ لِبَطَارِقَتِهَا وَأَسَاقِفَتِهَا فَرَوَّأْتُ فِي نَفْسِي أَنَّكَ أَحَقُّ أَنْ تُعَظَّمَ فَقَالَ لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِأَحَدٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا وَلَا تُؤَدِّي الْمَرْأَةُ حَقَّ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهَا كُلَّهُ حَتّٰـى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا عَلَيْهَا كُلَّهُ حَتّٰـى لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلٰى ظَهْرِ قَتَبٍ لَأَعْطَتْهُ إِيَّاهُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১১) ক্বাইস বিন সা’দ বলেন, আমি হীরাহ গেলাম। সেখানকার লোকেদেরকে দেখলাম, তারা তাদের সর্দারকে সিজদা করছে। তাই আমি (মনে মনে) বললাম, ’রাসূলুল্লাহ সিজদার বেশি হকদার।’ অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললাম, ’আমি হীরাহ গেলাম। দেখলাম, সেখানকার লোকেরা তাদের সর্দারকে সিজদা করছে। সুতরাং আপনি হে আল্লাহর রসূল! আমাদের সিজদার বেশি হকদার।’ তিনি বললেন, কী রায় তোমার, আমার কবরের পাশ দিয়ে গেলে তুমি কি তা সিজদা করবে? আমি বললাম, ’না।’ তিনি বললেন, ’’তোমরা তা করো না। যদি আমি কাউকে অপরজনকে সিজদা করার আদেশ দিতাম, তাহলে মহিলাদেরকে আদেশ করতাম, তারা যেন তাদের স্বামীকে সিজদা করে। যেহেতু আল্লাহ তাদের উপর (তাদের স্বামীদের বহু) অধিকার রেখেছেন।
عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ أَتَيْتُ الْحِيرَةَ فَرَأَيْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِمَرْزُبَانٍ لَهُمْ فَقُلْتُ رَسُوْلُ اللهِ أَحَقُّ أَنْ يُسْجَدَ لَهُ قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِىَّ ﷺ فَقُلْتُ إِنِّى أَتَيْتُ الْحِيرَةَ فَرَأَيْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِمَرْزُبَانٍ لَهُمْ فَأَنْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَحَقُّ أَنْ نَسْجُدَ لَكَ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ مَرَرْتَ بِقَبْرِى أَكُنْتَ تَسْجُدُ لَهُ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ فَلَا تَفْعَلُوا لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لأَحَدٍ لأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لأَزْوَاجِهِنَّ لِمَا جَعَلَ اللهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১২) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, মদীনার আনসারদের এক লোকের বাড়িতে একটি সেচক উট ছিল। হঠাৎ করে সে তার পিঠে কাউকে চড়তে দিচ্ছিল না। সে বাড়ির লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ’আমাদের একটি উট আছে, তার দ্বারা আমরা পানি তুলে জমি সেচ করি। এখন তাকে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে গেছে। সে আমাদেরকে তার পিঠেও চড়তে দেয় না। ক্ষেতের ফসল ও খেজুর গাছে সেচ দেওয়ার সময় হয়েছে। (কী করা যায়?)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাগণকে বললেন, ’’চলো দেখে আসি।’’ সুতরাং তাঁরা গিয়ে বাগানে প্রবেশ করলেন। উটটি তার এক প্রান্তে ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে অগ্রসর হলেন। লোকেরা বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! ও এখন কুকুরের মতো হয়ে আছে। আমাদের ভয় হচ্ছে, ও আপনাকে আক্রমণ করবে।’ তিনি বললেন, ’’ও আমার কোন ক্ষতি করবে না।’’
সুতরাং উটটি যখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে তাকিয়ে দেখল, তখন তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁর সামনে সিজদায় পতিত হল! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কপালে ধরলে সে সবচেয়ে শান্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি তাকে কাজে প্রবেশ করালেন।
এ ঘটনা দর্শন করে সাহাবাগণ তাঁকে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! এ একটি পশু, যার জ্ঞান-বুদ্ধি নেই, সে আপনাকে সিজদা করছে! আর আমরা তো জ্ঞান-বুদ্ধি রাখি। সুতরাং আমরা আপনাকে সিজদা করার বেশি হকদার।’
তিনি বললেন, ’’কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত নয়। কোন মানুষের জন্য কোন মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত হলে আমি মহিলাকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে। যেহেতু তার উপর স্বামীর বিশাল অধিকার রয়েছে। সেই সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, স্বামীর পা থেকে মাথার সিঁথি পর্যন্ত যদি এমন ঘা থাকে, যাতে রক্ত-পুঁজ ঝরে পড়ছে, অতঃপর তা যদি স্ত্রী চাঁটে, তবুও তার অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ أَهْلُ بَيْتٍ مِنْ الْأَنْصَارِ لَهُمْ جَمَلٌ يَسْنُونَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْجَمَلَ اسْتُصْعِبَ عَلَيْهِمْ فَمَنَعَهُمْ ظَهْرَهُ وَإِنَّ الْأَنْصَارَ جَاءُوا إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالُوا إِنَّهُ كَانَ لَنَا جَمَلٌ نُسْنِي عَلَيْهِ وَإِنَّهُ اسْتُصْعِبَ عَلَيْنَا وَمَنَعَنَا ظَهْرَهُ وَقَدْ عَطِشَ الزَّرْعُ وَالنَّخْلُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِأَصْحَابِهِ قُومُوا فَقَامُوا فَدَخَلَ الْحَائِطَ وَالْجَمَلُ فِي نَاحِيَةٍ فَمَشَى النَّبِيُّ ﷺ نَحْوَهُ فَقَالَتْ الْأَنْصَارُ يَا نَبِيَّ اللهِ إِنَّهُ قَدْ صَارَ مِثْلَ الْكَلْبِ الْكَلِبِ وَإِنَّا نَخَافُ عَلَيْكَ صَوْلَتَهُ فَقَالَ لَيْسَ عَلَيَّ مِنْهُ بَأْسٌ فَلَمَّا نَظَرَ الْجَمَلُ إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَقْبَلَ نَحْوَهُ حَتّٰـى خَرَّ سَاجِدًا بَيْنَ يَدَيْهِ فَأَخَذَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِنَاصِيَتِهِ أَذَلَّ مَا كَانَتْ قَطُّ حَتّٰـى أَدْخَلَهُ فِي الْعَمَلِ فَقَالَ لَهُ أَصْحَابُهُ يَا رَسُوْلَ اللهِ هَذِهِ بَهِيمَةٌ لَا تَعْقِلُ تَسْجُدُ لَكَ وَنَحْنُ نَعْقِلُ فَنَحْنُ أَحَقُّ أَنْ نَسْجُدَ لَكَ فَقَالَ لَا يَصْلُحُ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ وَلَوْ صَلَحَ لِبَشَرٍ أَنْ يَسْجُدَ لِبَشَرٍ لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا مِنْ عِظَمِ حَقِّهِ عَلَيْهَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ كَانَ مِنْ قَدَمِهِ إِلٰـى مَفْرِقِ رَأْسِهِ قُرْحَةً تَنْبَجِسُ بِالْقَيْحِ وَالصَّدِيدِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَتْهُ فَلَحَسَتْهُ مَا أَدَّتْ حَقَّهُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১৩) আবূ সাঈদ (রাঃ) ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার এই মেয়েটি বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। (কী করা যায়।) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ’’তুমি তোমার আববার কথা মেনে নাও। মেয়েটি বলল, আপনি বলুন, স্ত্রীর উপর তার স্বামীর হক কী? তিনি বললেন, স্বামীর এত বড় হক আছে যে, যদি তার নাকের দুই ছিদ্র থেকে রক্ত-পুঁজ বের হয় এবং স্ত্রী তা নিজের জিভ দ্বারা চেঁটে (পরিষ্কার করে), তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না! যদি মানুষের জন্য মানুষকে সিজদা করা সঙ্গত হত, তাহলে আমি স্ত্রীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামী কাছে এলে তাকে সিজদা করে। যেহেতু আল্লাহ স্বামীকে স্ত্রীর উপর এত বড় মর্যাদা দান করেছেন। মেয়েটি বলল, সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন! দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে আমি বিয়েই করব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ওদের অনুমতি ছাড়া ওদের বিবাহ দিয়ো না।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ بِابْنَةٍ لَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: هَذِهِ ابْنَتِي أَبَتْ أَنْ تَزَوَّجَ، فَقَالَ: أَطِيعِي أَبَاكِ كُلُّ ذٰلِكَ تُرَدِّدُ عَلَيْهِ مَقَالَتَهَا، فَقَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَتَزَوَّجُ حَتَّى تُخْبِرَنِي مَا حَقُّ الزَّوْجِ عَلَى زَوْجَتِهِ، فَقَالَ: حَقُّ الزَّوْجِ عَلَى زَوْجَتِهِ لَوْ كَانَتْ بِهِ قُرْحَةٌ، فَلَحَسَتْهَا مَا أَدَّتْ حَقَّهُ، فَقَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا، فَقَالَ: لَا تُنْكِحُوهُنَّ إِلَّا بِإِذْنِهِنَّ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১৪) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলা যদি স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানতো, তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকতো।
عَنْ مُعَاذِ بن جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ تَعْلَمُ الْمَرْأَةُ حَقَّ الزَّوْجِ مَا قَعَدَتْ مَا حَضَرَ غَدَاؤُهُ وَعَشَاؤُهُ حَتّٰـى يَفْرُغَ مِنْهُ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১৫) মুআয বিন জাবাল কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোন মহিলা দুনিয়াতে নিজ স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখনই তার সুনয়না হূর (জান্নাতী) স্ত্রী (অদৃশ্যভাবে) ঐ মহিলার উদ্দেশ্যে বলে, ’আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুন। ওকে কষ্ট দিস্ না। ও তো তোর নিকট সাময়িক মেহমান মাত্র। অচিরেই সে তোকে ছেড়ে আমাদের কাছে এসে যাবে।
وَعَن مُعَاذِ بنِ جَبَلٍ عن النَّبيّ ﷺ قَالَ لَا تُؤْذِي امْرَأةٌ زَوْجَهَا في الدُّنْيَا إلاَّ قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الحُورِ العِينِ لَا تُؤذِيهِ قَاتَلكِ اللهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكِ دَخِيلٌ يُوشِكُ أنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১৬) হুস্বাইন বিন মিহস্বানের এক ফুফু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কোন প্রয়োজনে এলে এবং তা পূরণ হয়ে গেলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি স্বামী আছে? সে বলল, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, তার কাছে তোমার অবস্থান কী? সে বলল, ’যথাসাধ্য আমি তার সেবা করি।’ তিনি বললেন, ’’খেয়াল করো, তার কাছে তোমার অবস্থান কোথায়। যেহেতু সে তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।
عَنِ الْحُصَيْنِ بْنِ مِحْصَنٍ أَنَّ عَمَّةً لَهُ أَتَتْ النَّبِيَّ ﷺ فِي حَاجَةٍ فَفَرَغَتْ مِنْ حَاجَتِهَا فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ أَذَاتُ زَوْجٍ أَنْتِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ كَيْفَ أَنْتِ لَهُ قَالَتْ مَا آلُوهُ إِلَّا مَا عَجَزْتُ عَنْهُ قَالَ فَانْظُرِي أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ فَإِنَّمَا هُوَ جَنَّتُكِ وَنَارُكِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১৭) উম্মে হাবীবাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, তার জন্য তিনদিনের বেশী কোন মৃতের উপর শোকপালন করা বৈধ নয়, কেবল স্বামী ছাড়া। সে ক্ষেত্রে সে ৪ মাস ১০ দিন শোকপালন করবে।
عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ قالت قال النَّبِىَّ ﷺ لَا يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ فَوْقَ ثَلَاثٍ إِلاَّ عَلٰى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
(২৬১৮) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকেই অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। একজন পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামী ও সন্তানের দায়িত্বশীল। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عنهما، عَن النَّبيّ ﷺ قَالَ كُلُّكُم رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ: وَالأمِيرُ رَاعٍ والرَّجُلُ رَاعٍ عَلٰى أهْلِ بَيتِهِ وَالمَرْأةُ رَاعِيةٌ عَلٰى بَيْتِ زَوْجها وَوَلَدهِ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা
(২৬১৯) উসামা বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার গত হওয়ার পরে পুরুষের পক্ষে নারীর চেয়ে অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনা অন্য কিছু ছেড়ে যাচ্ছি না।
عَنْ أُسَامَـةَ بْـنِ زَيْـدٍ رَضِـيَ اللهُ عَـنْـهُمَـا عَـنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا تَرَكْتُ بَـعْـدِي فِـتْـنَـةً أَضَرَّ عَلَـى الرِّجَـالِ مِنْ الـنِّـسَاءِ
পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা
(২৬২০) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুনিয়া হল সুমিষ্ট ও শ্যামল। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে তাতে খলীফা বানিয়েছেন, যাতে তিনি দেখে নেন যে, তোমরা কেমন আমল কর। অতএব তোমরা দুনিয়া ও নারীর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। আর জেনে রেখো যে, বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা যা ছিল, তা ছিল নারীকে কেন্দ্র করে।
عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِى إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِى النِّسَاءِ
পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা
(২৬২১) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খোশবূ ব্যবহার না করে সাদাসিধাভাবে আসে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلَاتٌ
পরিচ্ছেদঃ নারী ফিতনা
(২৬২২) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন কিছুতে কুলক্ষণ থাকে, তাহলে তা আছে নারী, বাড়ি ও ঘোড়া (সওয়ারী বা গাড়ি)তে।
عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ إِنْ كَانَ الشُّؤْمُ فِي شَيْءٍ فَفِي الدَّارِ وَالْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
আল্লাহ তাআলা বলেন, وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوف অর্থাৎ, তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে জীবন যাপন কর। (সূরা নিসা ১৯)
তিনি আরো বলেন,
وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللهَ كَانَ غَفُوراً رَحِيماً
অর্থাৎ, তোমরা যতই সাগ্রহে চেষ্টা কর না কেন, স্ত্রীদের প্রতি সমান ভালোবাসা তোমরা কখনই রাখতে পারবে না। তবে তোমরা কোন এক জনের দিকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকে পড়ো না এবং অপরকে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দিয়ো না। আর যদি তোমরা নিজেদের সংশোধন কর ও সংযমী হও, তবে নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা নিসা ১২৯)
(২৬২৩) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমরা স্ত্রীদের জন্য মঙ্গলকামী হও। কারণ নারীকে পাঁজরের (বাঁকা) হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়ের সবচেয়ে বেশী বাঁকা হল তার উপরের অংশ। যদি তুমি এটাকে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলে তো বাঁকাই থাকবে। তাই তোমরা নারীদের জন্য মঙ্গলকামী হও।’’ (বুখারী ৩৩৩১, মুসলিম ৩৭২০)
বুখারী ও মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’মহিলা পাঁজরের হাড়ের মত। যদি তুমি তাকে সোজা করতে চাও, তবে তুমি তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তুমি তার দ্বারা উপকৃত হতে চাও, তাহলে তার এ বাঁকা অবস্থাতেই হতে হবে।’’ (বুখারী ৫১৮৪, মুসলিম ৩৭১৭)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ’’মহিলাকে পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে কখনই একভাবে তোমার জন্য সোজা থাকবে না। এতএব তুমি যদি তার থেকে উপকৃত হতে চাও, তাহলে তার এ বাঁকা অবস্থাতেই হতে হবে। আর যদি তুমি তা সোজা করতে চাও, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর তাকে ভেঙ্গে ফেলা হল তালাক দেওয়া।’’ (মুসলিম ৩৭১৯)
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اسْتَوْصُوا بالنِّسَاءِ خَيْراً ؛ فَإِنَّ المَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلعٍ وَإنَّ أعْوَجَ مَا في الضِّلَعِ أعْلاهُ فَإنْ ذَهَبتَ تُقيمُهُ كَسَرْتَهُ وَإنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أعْوجَ فَاسْتَوصُوا بالنِّساءِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
وفي رواية في الصحيحين المَرأةُ كالضِّلَعِ إنْ أقَمْتَهَا كَسَرْتَهَا وَإن اسْتَمتَعْتَ بِهَا اسْتَمتَعْتَ وفِيهَا عوَجٌ
وفي رواية لمسلم إنَّ المَرأةَ خُلِقَت مِنْ ضِلَع لَنْ تَسْتَقِيمَ لَكَ عَلٰى طَريقة فإن اسْتَمْتَعْتَ بِهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَفيهَا عوَجٌ وإنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهَا كَسَرْتَها وَكَسْرُهَا طَلَاقُهَا
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬২৪) আব্দুল্লাহ ইবনে যামআহ (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুৎবাহ দিতে শুনলেন। তিনি (খুৎবার মাধ্যমে) (সালেহ নবীর) উঁটনী এবং ঐ ব্যক্তির কথা আলোচনা করলেন, যে ঐ উঁটনীটিকে কেটে ফেলেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তাদের মধ্যকার সর্বাধিক হতভাগ্য ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠল। (সূরা শামস ১২) (অর্থাৎ) উঁটনীটিকে মেরে ফেলার জন্য নিজ বংশের মধ্যে এক দুরন্ত চরিত্রহীন প্রভাবশালী ব্যক্তি তৎপর হয়ে উঠেছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কথা আলোচনা করলেন এবং তাদের ব্যাপারে উপদেশ প্রদান করলেন। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ কেউ তার স্ত্রীকে দাসদের মত প্রহার করে। অতঃপর সম্ভবতঃ দিনের শেষে তার সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়। (এরূপ উচিত নয়।) পুনরায় তিনি তাদেরকে বাতকর্মের ব্যাপারে হাসতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, তোমাদের কেউ এমন কাজে কেন হাসে, যে কাজ সে নিজেও করে?
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ زَمْعَةَ أنَّهُ سَمِعَ النَّبيَّ ﷺ يَخْطُبُ وَذَكَرَ النَّاقَةَ وَالَّذِي عَقَرَهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذ انْبَعَثَ أشْقَاهَا انْبَعَثَ لَهَا رَجُلٌ عَزيزٌ عَارِمٌ مَنيعٌ في رَهْطِهِ ثُمَّ ذَكَرَ النِّسَاءَ فَوعَظَ فِيهنَّ فَقَالَ يَعْمِدُ أحَدُكُمْ فَيَجْلِدُ امْرَأتَهُ جَلْدَ العَبْدِ فَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا مِنْ آخِرِ يَومِهِ ثُمَّ وَعَظَهُمْ في ضَحِكِهمْ مِنَ الضَّرْطَةِ وَقالَ لِمَ يَضْحَكُ أَحَدُكُمْ مِمَّا يَفْعَلُ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬২৫) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ঈমানদার পুরুষ যেন কোন ঈমানদার নারী (স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে। যদি সে তার একটি আচরণে অসন্তুষ্ট হয়, তবে অন্য আচরণে সন্তুষ্ট হবে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَفْرَكْ مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً إنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقاً رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ أَوْ قَالَ غَيْرَهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬২৬) আমর ইবনে আহ্ওয়াস জুশামী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বিদায় হজ্জে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, তিনি সর্বপ্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও স্ত্ততি বর্ণনা করলেন এবং উপদেশ দান ও নসীহত করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, শোনো! তোমরা স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর। কেননা, তারা তোমাদের নিকট কয়েদী। তোমরা তাদের নিকটে এ (শয্যা-সঙ্গিনী হওয়া, নিজের সতীত্ব রক্ষা করা এবং তোমাদের মালের রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি) ছাড়া অন্য কোনও জিনিসের অধিকার রাখ না। হ্যাঁ, সে যদি কোন প্রকাশ্য অশ্লীলতার কাজ করে (তাহলে তোমরা তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার রাখ)। সুতরাং তারা যদি এমন কাজ করে, তবে তাদেরকে বিছানায় আলাদা ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে মার। কিন্তু সে মার যেন যন্ত্রণাদায়ক না হয়। অতঃপর তারা যদি তোমাদের অনুগত হয়ে যায়, তবে তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। মনে রাখ, তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের অধিকার রয়েছে, অনুরূপ তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের অধিকার হল, তারা যেন তোমাদের বিছানায় ঐ সব লোককে আসতে না দেয়, যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর এবং তারা যেন ঐ সব লোককে তোমাদের বাড়ীতে প্রবেশ করার অনুমতি না দেয়, যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর। আর শোনো! তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তাদেরকে ভালোরূপে খেতে-পরতে দেবে। (তিরমিযী ১১৬৩, ৩০৮৭)
وَعَنْ عَمْرِو بنِ الأحوَصِ الجُشَمِي أنَّهُ سَمِعَ النَّبيّ ﷺ في حَجَّةِ الوَدَاعِ يَقُوْلُ بَعْدَ أنْ حَمِدَ الله تَعَالٰـى وَأثْنَى عَلَيهِ وَذَكَّرَ وَوَعظَ ثُمَّ قَالَ ألا وَاسْتَوصُوا بالنِّساءِ خَيْراً فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٍ عِنْدَكُمْ لَيْسَ تَمْلِكُونَ مِنْهُنَّ شَيْئاً غَيْرَ ذلِكَ إلاَّ أنْ يَأتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ فَإنْ فَعَلْنَ فَاهْجُرُوهُنَّ في المَضَاجِع وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرباً غَيْرَ مُبَرِّحٍ فإنْ أطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيهنَّ سَبِيْلًا ؛ ألاَ إنَّ لَكُمْ عَلٰى نِسَائِكُمْ حَقّاً وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقّاً ؛ فَحَقُّكُمْ عَلَيهِنَّ أنْ لا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ وَلَا يَأْذَنَّ في بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ ؛ ألَا وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ في كِسْوَتِهنَّ وَطَعَامِهنَّ رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬২৭)জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কারণ, তাদেরকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ। আল্লাহর বাক্যের সাহায্যে তাদের লজ্জাস্থানকে বৈধ করেছ। তাদের উপর তোমাদের অধিকার হল, তারা এমন কাউকে তোমাদের বিছানা মাড়াতে দেবে না, যাকে তোমরা অপছন্দ কর। এমন করলে তাদেরকে হালকাভাবে প্রহার কর। আর প্রচলিত নিয়মে তাদের খাওয়া-পরার দায়িত্ব তোমাদের উপর।
عن جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اتَّقُوا اللهَ فِى النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ فَإِنْ فَعَلْنَ ذٰلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬২৮) মুআবিয়াহ ইবনে হাইদাহ (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কারো স্ত্রীর অধিকার স্বামীর উপর কতটুকু?’ তিনি বললেন, ’’তুমি খেলে তাকে খাওয়াবে এবং তুমি পরলে তাকে পরাবে। (তার) চেহারায় মারবে না, তাকে ’কুৎসিত হ’ বলবে না এবং তার থেকে পৃথক থাকলে বাড়ীর ভিতরেই থাকবে।’’ (অর্থাৎ অবাধ্য স্ত্রীকে বাধ্য করার জন্য বিছানা পৃথক করতে পারা যাবে, কিন্তু রুম পৃথক করা যাবে না।) (আবূ দাউদ ২১৪৪-২১৪৫)
وَعَن مُعَاوِيَةَ بنِ حَيدَةَ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُوْلَ الله مَا حَقُّ زَوجَةِ أَحَدِنَا عَلَيهِ ؟ قَالَ أنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طعِمْتَ وَتَكْسُوهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ وَلَا تَضْرِبِ الوَجْهَ وَلَا تُقَبِّحْ وَلَا تَهْجُرْ إلاَّ في البَيْتِ حديثٌ حسنٌ رواه أَبُو داود وَقالَ : معنى لَا تُقَبِّحْ أي : لَا تقل : قبحكِ الله
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬২৯) ইয়াস ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর বান্দীদেরকে প্রহার করবে না। পরবর্তীতে উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ’মহিলারা তাদের স্বামীদের উপর বড় দুঃসাহসিনী হয়ে গেছে।’ সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রহার করার অনুমতি দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের নিকট বহু মহিলা এসে নিজ নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আরম্ভ করল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুহাম্মাদের পরিবারের নিকট প্রচুর মহিলাদের সমাগম, যারা তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। (জেনে রাখ, মারকুটে) ঐ (স্বামী)রা তোমাদের মধ্যে ভালো মানুষ নয়।
وَعَنْ إِيَاسِ بنِ عَبدِ اللهِ بنِ أَبِـيْ ذِبَابٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تَضْرِبُوا إمَاء الله فجاء عُمَرُ إِلٰـى رسولِ الله ﷺ فَقَالَ : ذَئِرْنَ النِّسَاءُ عَلٰى أزْوَاجِهِنَّ فَرَخَّصَ في ضَرْبِهِنَّ فَأطَافَ بآلِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ نِسَاءٌ كَثيرٌ يَشْكُونَ أزْواجَهُنَّ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَقَدْ أطَافَ بِآلِ بَيتِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كثيرٌ يَشْكُونَ أزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أولَئكَ بخيَارِكُمْ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬৩০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে কাউকে প্রহার করেননি; না কোন স্ত্রীকে, আর না-ই কোন দাস-দাসীকে। অবশ্য আল্লাহর রাস্তায় তিনি জিহাদ করেছেন। তাঁর প্রতি কেউ অন্যায় করলে কোনদিন তার প্রতিশোধ নেননি। অবশ্য আল্লাহর হারামকৃত কোন জিনিসের লংঘন হলে, তিনি আল্লাহ তাআলার জন্য প্রতিশোধ নিতেন।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا ضَرَبَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ وَلَا امْرَأَةً وَلَا خَادِمًا إِلاَّ أَنْ يُجَاهِدَ فِى سَبِيلِ اللهِ وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَىْءٌ قَطُّ فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ إِلاَّ أَنْ يُنْتَهَكَ شَىْءٌ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ فَيَنْتَقِمَ لِلهِ عَزَّ وَجَلَّ
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬৩১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি নিজ স্ত্রীর নিকট তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ؛ عن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِى
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬৩২) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু’মিনদের মধ্যে সবার চেয়ে পূর্ণ মু’মিন ঐ ব্যক্তি যে চরিত্রে সবার চেয়ে সুন্দর, আর তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যে নিজের স্ত্রীর জন্য সর্বোত্তম।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أكْمَلُ المُؤمِنِينَ إيمَاناً أحْسَنُهُمْ خُلُقاً، وخِيَارُكُمْ خِيَارُكُم لِنِسَائِهِمْ رواه الترمذي وَقالَ حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে সদ্ব্যবহার করার অসিয়ত
(২৬৩৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ! আমি দুই দুর্বল; এতীম ও নারীর অধিকার নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে পাপ হওয়ার কথা ঘোষণা করছি।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّجُ حَقَّ الضَّعِيفَيْنِ الْيَتِيمِ وَالْمَرْأَةِ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَعَلَـى الْمَوْلُوْدِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوْفِ
অর্থাৎ, জনকের কর্তব্য যথাবিধি তাদের ভরণপোষণ করা। (সূরা বাক্বারাহ ২৩৩)
তিনি আরো বলেন,
لِيُنْفِقْ ذُوْ سَعَةٍ مِنْ سَعَتِهِ وَمَنْ قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنْفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللهُ لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا
অর্থাৎ, সামর্থ্যবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ যা দান করেছেন, তা হতে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে সামর্থ্য দিয়েছেন, তার চেয়ে গুরুত্বর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না। (সূরা ত্বালাক্ব ৭)
তিনি অন্যত্র বলেন,
وَمَا أَنْفَقْتُمْ مِّنْ شَيْءٍ فَهُوَ يُـخْلِفُهُ
অর্থাৎ, তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে, তিনি তার বিনিময় দেবেন। (সূরা সাবা’ ৩৯)
(২৬৩৪) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, এক দীনার ক্রীতদাস মুক্ত করার কাজে ব্যয় কর, এক দীনার কোন মিসকীনকে সদকাহ কর এবং এক দীনার তুমি পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় কর। এ সবের মধ্যে ঐ দীনারের বেশী নেকী রয়েছে যেটি তুমি পরিবার-পরিজনের উপর ব্যয় করবে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ دِينَارٌ أنْفَقْتَهُ في سَبيلِ اللهِ وَدِينار أنْفَقْتَهُ في رَقَبَةٍ وَدِينارٌ تَصَدَّقْتَ بِهِ عَلٰى مِسْكِينٍ وَدِينَارٌ أنْفَقْتَهُ عَلٰى أهْلِكَ أعْظَمُهَا أجْراً الَّذِي أنْفَقْتَهُ عَلٰى أهْلِكَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৩৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্বাধীনকৃত গোলাম আবূ আব্দুল্লাহ মতান্তরে আবু আব্দুর রহমান সাওবান ইবনে বুজদুদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (সওয়াবের দিক দিয়ে) সর্বশ্রেষ্ঠ দীনার সেইটি, যে দীনারটি মানুষ নিজ সন্তান-সন্ততির উপর ব্যয় করে, যে দীনারটি আল্লাহর রাস্তায় তার সওয়ারীর উপর ব্যয় করে এবং সেই দীনারটি যেটি আল্লাহর পথে তার সঙ্গীদের পিছনে খরচ করে।
وَعَنْ أَبِـيْ عَبدِ اللهِ وَيُقَالُ لَهُ : أَبُوْ عَبدِ الرَّحمَانِ ثَوبَانَ بنِ بُجْدُد مَوْلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أفْضَلُ دِيْنَارٍ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ : دِينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلٰى عِيَالِهِ وَدينَارٌ يُنْفِقُهُ عَلٰى دَابَّتِهِ في سَبيلِ الله وَدِينارٌ يُنْفِقُهُ عَلٰى أصْحَابهِ في سَبيلِ اللهِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৩৬) উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, একদা আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি যদি (আমার প্রথম স্বামী) আবূ সালামাহর সন্তান-সন্ততির উপর ব্যয় করি, তাতে কি আমি নেকী পাব? আমি তো তাদেরকে এভাবে ছেড়ে দিতে পারছি না, তারা তো আমারই সন্তান।’ তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তাদের উপর ব্যয় করার দরুন নেকী পাবে।
وَعَن أمِّ سَلمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : قُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ هَلْ لِي أَجرٌ فِي بَنِي أَبِـيْ سَلَمَة أنْ أُنْفِقَ عَلَيْهِمْ وَلَسْتُ بِتَارِكَتِهِمْ هكَذَا وَهكَذَا إنَّمَا هُمْ بَنِيّ ؟ فَقَالَ نَعَمْ لَكِ أجْرُ مَا أنْفَقْتِ عَلَيْهِمْ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৩৭) সা’দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর দীর্ঘ হাদীসে বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তুমি যা ব্যয় করবে, তোমাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে। এমনকি তুমি যে গ্রাস তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও বিনিময় তুমি পাবে!
وَعَن سَعدِ بنِ أَبِـيْ وَقَّاصٍ في حَدِيثِهِ الطَّوِيلِ الَّذِي في بَابِ النِّيَةِ : أنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ لَهُ وَإنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللهِ إلاَّ أُجِرْتَ بِهَا حَتّٰـى مَا تَجْعَلُ فِيْ فِيِّ امْرَأَتِك مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৩৮) আবূ মাসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’সওয়াবের আশায় কোন ব্যক্তি যখন তার পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করে, তখন তা সাদকাহ হিসাবে গণ্য হয়।’’ (বুখারী ৫৫,৫৩৫১, মুসলিম ২৩৬৯)
وعَنْ أَبِـيْ مَسْعُـودٍ الْبَدْرِي عَـنِ النَّبيّ ﷺ قَالَ إِذَا أنْـفَـقَ الرَّجُلُ عَلٰـى أَهْلِهِ نَـفَـقَـةً يَـحْتَسِبُهَا فَـهِـيَ لَـهُ صَدَقَـةٌ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৩৯) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এটা যথেষ্ট যে, সে তাদের (অধিকার) নষ্ট করবে (অর্থাৎ, তাদের ভরণপোষণে কার্পণ্য করবে) যাদের জীবিকার জন্য সে দায়িত্বশীল। (আহমাদ, আবূ দাউদ ১৬৯২, হাকেম, বাইহাকী, সহীহুল জামে’ ৪৪৮১)
উক্ত অর্থ সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,) মানুষের পাপী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যার খাদ্যের মালিক, তার খাদ্য সে আটকে রাখে। (মুসলিম ২৩৫৯)
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَفَى بِالمَرْءِ إثْمَاً أنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ حديث صحيح رواه أَبُو داود وغيره
وَرَوَاهُ مُسلِمٌ في صَحِيحِهِ بِمَعنَاهُ قَالَ كَفَى بِالمَرْءِ إثْمَاً أنْ يحْبِسَ عَمَّنْ يَمْلِكُ قُوتَهُ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৪০) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দু’জন ফিরিশতা অবতরণ করেন। তাঁদের একজন বলেন, ’হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের বিনিময় দিন।’ আর অপরজন বলেন, ’হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস দিন।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ قَالَ مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ العِبَادُ فِيهِ إلاَّ مَلَكَانِ يَنْزِلَانِ فَيقُولُ أحَدُهُمَا : اللَّهُمَّ أعْطِ مُنْفقاً خَلَفاً وَيَقُوْلُ الآخَرُ : اللَّهُمَّ أعْطِ مُمْسِكاً تلَفاً مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৪১) হাকীম বিন হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, উপরের (দাতা) হাত নিচের (গ্রহীতা) হাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যাদের ভরণপোষণ তোমার দায়িত্বে আছে তাদেরকে আগে দাও। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থেকে সাদকাহ করা উত্তম। যে ব্যক্তি (হারাম ও ভিক্ষা করা থেকে) পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন এবং যে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে বেঁচে থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবশূন্য ক’রে দেন।
عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنْ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ وَخَيْرُ الصَّدَقَةِ عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللهُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৪২) আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আদম সন্তান! উদ্বৃত্ত মাল (আল্লাহর পথে) খরচ করা তোমার জন্য মঙ্গল এবং তা রুখে রাখা তোমার জন্য অমঙ্গল। আর দরকার মত মালে নিন্দিত হবে না। প্রথমে তাদেরকে দাও, যাদের ভরণপোষণ তোমার দায়িত্বে। আর উপরের হাত নিচের হাত অপেক্ষা উত্তম।
عن أَبِـيْ أُمَامَةَ قال : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ أَنْ تَبْذُلَ الْفَضْلَ خَيْرٌ لَكَ وَأَنْ تُمْسِكَهُ شَرٌّ لَكَ وَلَا تُلَامُ عَلٰى كَفَافٍ وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৪৩) আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে তার দায়িত্বাধীন ব্যক্তি ও বিষয় সম্পর্কে (কিয়ামতে) প্রশ্ন করবেন; ’সে কি তার যথার্থ রক্ষণাবেক্ষণ করেছে, নাকি তার প্রতি অবহেলা করেছে?’ এমন কি গৃহকর্তার নিকট থেকে তার পরিবারের লোকেদের বিষয়েও কৈফিয়ত নেবেন।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِـيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قال إنّ اللهَ تعالى سائِلٌ كلَّ راعٍ عَمّا اسْتَرْعاهُ أحَفِظَ ذلِكَ أمْ ضَيَّعَهُ حَتّى يَسأَلَ الرَّجُلَ عنْ أهْلِ بَيْتِهِ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ
(২৬৪৪) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা (আবূ সুফয়ানের স্ত্রী) মুআবিয়ার মা হিন্দ্ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন যে, ’আবূ সুফয়ান একজন কৃপণ লোক। আমি তার সম্পদ থেকে (তার অজান্তে) যা কিছু নিই, তা ছাড়া সে আমার ও আমার সন্তানকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খরচ দেয় না।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন মোতাবেক খরচ (তার অজান্তে) নিতে পার।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ هِنْدٌ أُمُّ مُعَاوِيَةَ لِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ لَا يُعْطِينِى مِنَ النَّفَقَةِ مَا يَكْفِينِى وَيَكْفِى بَنِىَّ إِلاَّ مَا أَخَذْتُ مِنْ مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمِهِ। فَهَلْ عَلٰى فِى ذٰلِكَ مِنْ جُنَاحٍ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خُذِى مِنْ مَالِهِ بِالْمَعْرُوفِ مَا يَكْفِيكِ وَيَكْفِى بَنِيكِ
পরিচ্ছেদঃ পরের সংসার ভাঙ্গা
(২৬৪৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কারো স্ত্রী অথবা ক্রীতদাসকে তার (স্বামী বা প্রভুর বিরুদ্ধে) প্ররোচিত করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلٰى زَوْجِهَا أَوْ عَبْدًا عَلٰى سَيِّدِهِ
পরিচ্ছেদঃ পরের সংসার ভাঙ্গা
(২৬৪৬) বুরাইদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমানতের কসম খায়। আর যে ব্যক্তি কোন স্ত্রীকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অথবা কোন দাসকে তার প্রভুর বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে, সে ব্যক্তিও আমাদের দলভুক্ত নয়।
عن بُرَيْدَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيْسَ مِنَّا مَنْ حَلَفَ بِالْأَمَانَةِ وَمَنْ خَبَّبَ عَلٰى امْرِئٍ زَوْجَتَهُ أَوْ مَمْلُوكَهُ فَلَيْسَ مِنَّا
পরিচ্ছেদঃ খোলা ও তালাক
(২৬৪৭) সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, ’’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে স্ত্রীলোক অকারণে তার স্বামীর নিকট থেকে তালাক চাইবে সে স্ত্রীলোকের জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম হয়ে যাবে।
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ ﷺ (أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا الطَّلَاقَ مِنْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ খোলা ও তালাক
(২৬৪৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, খোলা তালাক প্রার্থিনী এবং বিবাহ বন্ধন ছিন্নকারিণীরা মুনাফিক মেয়ে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْمُخْتَلِعَاتُ وَالْمُنْتَزِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ
পরিচ্ছেদঃ খোলা ও তালাক
(২৬৪৯) আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’তিন ব্যক্তি দু’আ করে কিন্তু কবুল হয় না; যে তার অসৎ চরিত্রের স্ত্রীকে তালাক দেয় না। যে ঋণ দিয়ে সাক্ষী রাখে না এবং যে নির্বোধকে নিজের অর্থ প্রদান করে; অথচ আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নির্বোধদেরকে তোমাদের অর্থ প্রদান করো না। (নিসাঃ ২)
عَنْ أَبـِىْ مُوسٰـى رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ ثَلاَثَةٌ يَدْعُونَ اللهَ فَلاَ يُسْتَجَابُ لَهُمْ رَجُلٌ كَانَتْ تَحْتَهُ امْرَأَةٌ سَيِّئَةُ الْخُلُقِ فَلَمْ يُطَلِّقْهَا وَرَجُلٌ كَانَ لَهُ عَلٰـى رَجُلٍ مَالٍ فَلَمْ يُشْهِدْ عَلَيْهِ وَرَجُلٌ آتَى سَفِيهًا مَالَهُ وَقَدْ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ وَلاَ تُؤْتُوا السُّفَهَاءَ أَمْوَالَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫০) আবূ উযাইনাহ স্বাদাফী থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী সে, যে প্রেমময়ী, অধিক সন্তানদাত্রী, যে (স্বামীর) সহমত অবলম্বন করে, (স্বামীকে বিপদেশোকে) সান্ত্বনা দেয় এবং সেই সাথে আল্লাহর ভয় রাখে। আর তোমাদের সবচেয়ে খারাপ মেয়ে তারা, যারা বেপর্দা, অহংকারী, তারা কপট নারী, তাদের মধ্যে লাল রঙের ঠোঁট ও পা-বিশিষ্ট কাকের মত (বিরল) সংখ্যক জান্নাত যাবে।
عَنْ أَبِى أُذَيْنَةَ الصَّدَفِىِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ خَيْرُ نِسَائِكُمُ الْوَدُودُ الْوَلُودُ الْمَوَاتِيَةُ الْمُوَاسِيَةُ إِذَا اتَّقَيْنَ اللهَ وَشَرُّ نِسَائِكُمُ الْمُتَبَرِّجَاتُ الْمُتَخَيِّلاَتُ وَهُنَّ الْمُنَافِقَاتُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْهُنَّ إِلاَّ مِثْلُ الْغُرَابِ الأَعْصَمِ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫১) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মেয়ে মানুষ (সবটাই) লজ্জাস্থান (গোপনীয়)। আর সে যখন বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে সুশোভন করে তোলে। (তিরমিযী ১১৭৩, মিশকাত ৩১০৯)
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহিলা হল গোপনীয় জিনিস। বাইরে বের হলে শয়তান তার দিকে গভীর দৃষ্টিতে নির্নিমেষ তাকিয়ে দেখতে থাকে। (ত্বাবারানী, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুযাইমা, সহীহ তারগীব ৩৩৯, ৩৪১, ৩৪২)
عَنْ عَبْداللهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ المَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫২) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার স্ত্রীকে সাধারণ গোসলখানায় প্রবেশ করতে না দেয়।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يُدْخِلْ حَلِيلَتَهُ الْحَمَّامَ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫৩) উম্মে দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি সাধারণ গোসলখানা হতে বের হলাম। ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বললেন, কোত্থেকে, হে উম্মে দারদা?! আমি বললাম, ’গোসলখানা থেকে।’ তিনি বললেন, সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যে কোনও মহিলা তার কোন মায়ের ঘর ছাড়া অন্য স্থানে নিজের কাপড় খোলে, সে তার ও পরম দয়াময় (আল্লাহর) মাঝে প্রত্যেক পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।
عن أُمَّ الدَّرْدَاءِ تَقُولُ خَرَجْتُ مِنْ الْحَمَّامِ فَلَقِيَنِي رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ يَا أُمَّ الدَّرْدَاءِ قَالَتْ مِنْ الْحَمَّامِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ امْرَأَةٍ تَضَعُ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ أَحَدٍ مِنْ أُمَّهَاتِهَا إِلَّا وَهِيَ هَاتِكَةٌ كُلَّ سِتْرٍ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الرَّحْمَنِ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫৪) উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী স্বগৃহ ছাড়া অন্য স্থানে নিজের পর্দা রাখে (কাপড় খোলে) আল্লাহ তার পর্দা ও লজ্জাশীলতাকে বিদীর্ণ করে দেন। (অথবা সে নিজে করে দেয়।)
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَزَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِهَا خَرَقَ اللهُ عَنْهَا سِتْرًا
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫৫) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহিলা নিজের স্বামীগৃহ ছাড়া অন্য গৃহে নিজের কাপড় খোলে, সে আল্লাহ আযযা অজাল্লা ও তার নিজের মাঝে পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَزَعَتْ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ زَوْجِهَا هَتَكَتْ سِتْرَ مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ رَبِّهَا
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫৬) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’কাফেলা আমাদের সামনে বেয়ে পার হত, তখন আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ইহরাম অবস্থায় থাকতাম। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি হত, তখন আমাদের প্রত্যেকে তার চাদরকে মাথার উপর থেকে চেহারায় টেনে নিত। তারপর তারা পার হয়ে গেলে আমরা চেহারা খুলে নিতাম।’
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَـحْنُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ مُـحْرِمَاتٌ فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا إِلٰـى وَجْهِهَا فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫৭) জাবের বিন আব্দুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সেই মহিলাদের নিকট গমন করো না যাদের স্বামীরা বিদেশে আছে। কারণ, শয়তান তোমাদের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ تَلِجُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫৮) আমর বিন আস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিষেধ করেছেন যে, আমরা যেন মহিলাদের নিকট তাদের স্বামীদের বিনা অনুমতিতে গমন না করি।
عَنْ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَانَا أَنْ نَدْخُلَ عَلَى النِّسَاءِ بِغَيْرِ إِذْنِ أَزْوَاجِهِنَّ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৫৯) আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর রমণী যদি সুগন্ধি ব্যবহার করে কোন (পুরুষের) মজলিসের পাশ দিয়ে পার হয়ে যায় তাহলে সে এক বেশ্যা।
عَنْ أبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال كُلُّ عَيْنٍ زَانِيَةٌ وَالْمَرْأةُ إِذَا استَعْطَرَتْ فَمَرَّتْ بِالْمَجْلِسِ فَهِيَ كَذَا وَكَذَا يَعْنِي زَانِيَةً
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, সেই মহিলার গোসল না করা পর্যন্ত কোন নামায কবুল হবে না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أيُّمَا امْرَأة تطَيَّبَتْ ثمَّ خَرَجَتْ إلى المَسجِدِ لمْ تُقْبَلْ لَها صلاةٌ حَتّٰـى تَغْتَسِلَ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬১) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা চাশতের সময় তিনি মসজিদ থেকে বের হলেন। দেখলেন, একটি মহিলা মসজিদ প্রবেশে উদ্যত। তার দেহ বা লেবাস থেকে উৎকৃষ্ট সুগন্ধির সুবাস ছড়াচ্ছিল। আবূ হুরাইরা মহিলাটির উদ্দেশে বললেন, ’আলাইকিস্ সালাম।’ মহিলাটি সালামের উত্তর দিল। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, ’কোথায় যাবে তুমি?’ সে বলল, ’মসজিদে।’ বললেন, ’কি জন্য এমন সুন্দর সুগন্ধি মেখেছ তুমি?’ বলল, ’মসজিদের জন্য।’ বললেন, ’আল্লাহর কসম?’ বলল, ’আল্লাহর কসম।’ পুনরায় বললেন, ’আল্লাহর কসম?’ বলল, ’আল্লাহর কসম।’ তখন তিনি বললেন, ’তবে শোন, আমাকে আমার প্রিয়তম আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, ’’সেই মহিলার কোন নামায কবুল হয় না, যে তার স্বামী ছাড়া অন্য কারোর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে; যতক্ষণ না সে নাপাকীর গোসল করার মত গোসল করে নেয়।’’ অতএব তুমি ফিরে যাও, গোসল করে সুগন্ধি ধুয়ে ফেল। তারপর ফিরে এসে নামায পড়ো।
قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ أَبِى عُبَيْدٍ مِنْ أَشْيَاخِ كُوثَى مَوْلَى أَبِى رُهْمٍ الْغِفَارِىِّ عَنْ جَدِّهِ قَالَ : خَرَجْتُ مَعَ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ مِنَ الْمَسْجِدِ ضُحًى فَلَقِيَتْنَا امْرَأَةٌ بِهَا مِنَ الْعِطْرِ شَىْءٌ لَمْ أَجِدْ بِأَنْفِى مِثْلَهُ قَطُّ فَقَالَ لَهَا أَبُو هُرَيْرَةَ : عَلَيْكِ السَّلاَمُ قَالَتْ : وَعَلَيْكَ قَالَ : فَأَيْنَ تُرِيدِينَ؟ قَالَتِ : الْمَسْجِدَ قَالَ فَلأَىِّ شَىْءٍ تَطَيَّبْتِ بِهٰذَا الطِّيبِ قَالَتْ لِلْمَسْجِدِ قَالَ : اللهِ قَالَتْ : اللهِ قَالَ اللهِ قَالَتْ اللهِ قَالَ فَإِنَّ حِبِّى أَبَا الْقَاسِمِ ﷺ أَخْبَرَنِى أَنَّهُ لاَ تُقْبَلُ لاِمْرَأَةٍ صَلاَةٌ تَطَيَّبَتْ بِطِيبٍ لِغَيْرِ زَوْجِهَا حَتّٰـى تَغْتَسِلَ مِنْهُ غُسْلَهَا مِنَ الْجَنَابَةِ فَاذْهَبِى فَاغْتَسِلِى مِنْهُ ثُمَّ ارْجِعِى فَصَلِّى
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬২) মা’ক্বিল বিন য়্যাসার বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির মাথায় লৌহ সুচ দ্বারা খোঁচা যাওয়া ভালো, তবুও যে নারী তার জন্য অবৈধ তাকে স্পর্শ করা ভালো নয়।
عن مَعْقِلِ بن يَسَارٍ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لأَنْ يُطْعَنَ فِي رَأْسِ رَجُلٍ بِمِخْيَطٍ مِنْ حَدِيدٍ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمَسَّ امْرَأَةً لا تَحِلُّ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী; যাদেরকে আমি দেখিনি। (তারা ভবিষ্যতে আসবে।) প্রথম শ্রেণী (অত্যাচারীর দল) যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক, যদ্দ্বারা তারা লোককে প্রহার করবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সেই নারীদল; যারা কাপড় তো পরিধান করবে, কিন্তু তারা বস্তুতঃ উলঙ্গ থাকবে, যারা পুরুষদের আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, যাদের মস্তক (খোঁপা বাঁধার কারণে) উটের হিলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার গন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلاَتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ لاَ يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلاَ يَجِدْنَ رِيحَهَا وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬৪)আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার শেষ যামানার উম্মতের মধ্যে কিছু এমন লোক হবে যারা ঘরের মত জিন্ (মোটর গাড়ি) তে সওয়ার হয়ে মসজিদের দরজায় দরজায় নামবে। (গাড়ি করে নামায পড়তে আসবে।) আর তাদের মহিলারা হবে অর্ধনগ্না; যাদের মাথা কৃশ উটের কুঁজের মত (খোঁপা) হবে। তোমরা তাদেরকে অভিশাপ করো। কারণ, তারা অভিশপ্তা!
عن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سَيَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي رِجَالٌ يَرْكَبُونَ عَلَى السُّرُوجِ كَأَشْبَاهِ الرِّجَالِ يَنْزِلُونَ عَلٰى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ نِسَاؤُهُمْ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ عَلٰى رُءُوسِهِمْ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْعِجَافِ الْعَنُوهُنَّ فَإِنَّهُنَّ مَلْعُونَاتٌ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোজা পুরুষ এবং পুরুষসুলভ আচরণ-কারিণী নারীর উপর অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, তোমাদের গৃহ হতে ওদেরকে বের করে দাও। তিনি স্বয়ং এক খোজাকে বহিষ্কার করেছেন এবং উমার (রাঃ) এক হিজড়ে নারীকে গৃহ হতে বহিষ্কার করেছেন।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَعَنَ النَّبِيُّ ﷺ الْمُخَنَّثِينَ مِنْ الرِّجَالِ وَالْمُتَرَجِّلَاتِ مِنْ النِّسَاءِ وَقَالَ أَخْرِجُوهُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ قَالَ فَأَخْرَجَ النَّبِيُّ ﷺ فُلَانًا وَأَخْرَجَ عُمَرُ فلُانَةَ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬৬) একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামার ঘরে ছিলেন। ঘরে একজন হিজড়ে ছিল। (তাকে যৌনকামনা-রহিত মনে করা হত, তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের বাড়িতে প্রবেশ করত।) সে উম্মে সালামার ভাই আব্দুল্লাহকে বলল, ’ওহে আব্দুল্লাহ! কাল যদি আল্লাহ তোমাদেরকে তায়েফ জয় করার তাওফীক দেন, তাহলে আমি তোমাকে গাইলানের বেটির কথা বলে দেব, যে সামনে এলে চারটি (ভুঁড়ির ভাঁজ দেখা) যায় এবং পিছন ফিরে গেলে আটটি (ভাঁজ দেখা) যায়!’ এ কথা শোনার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ তো ওখানকার ব্যাপার চেনে! এ যেন তোমাদের ঘরে অবশ্যই প্রবেশ না করে।
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ مُخَنَّثًا كَانَ عِنْدَهَا وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِى الْبَيْتِ فَقَالَ لأَخِى أُمِّ سَلَمَةَ يَا عَبْدَ اللهِ بْنَ أَبِى أُمَيَّةَ إِنْ فَتَحَ اللهُ عَلَيْكُمُ الطَّائِفَ غَدًا فَإِنِّى أَدُلُّكَ عَلٰى بِنْتِ غَيْلاَنَ فَإِنَّهَا تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ قَالَ فَسَمِعَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ لاَ يَدْخُلْ هَؤُلاَءِ عَلَيْكُمْ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬৭) মহান আল্লাহ বলেন, ’হে নবী! তুমি তোমার পত্নীগণকে, কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলে দাও, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের (চেহারার) উপর টেনে নেয়---।’ (সূরা আহযাব ৫৯)
উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, ’উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলে (মদীনার) আনসারদের মহিলারা যখন বের হল, তখন তাদের মাথায় (কালো) চাদর (বা মোটা ওড়না) দেখে মনে হচ্ছিল যেন ওদের মাথায় কালো কাকের ঝাঁক বসে আছে!’
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ (يُدْنِيْنَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيْبِهِنَّ) خَرَجَ نِسَاءُ الأَنْصَارِ كَأَنَّ عَلٰى رُءُوسِهِنَّ الْغِرْبَانُ مِنَ الأَكْسِيَةِ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
আল্লাহ তাআলার আদেশ, মুমিন মেয়েরা যেন তাদের ঘাড় ও বুককে মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে নেয়...। (সূরা নূর ৩১)
(২৬৬৮) আয়েশা (রাঃ) বলেন, পূর্বের মুহাজির মহিলাদের প্রতি আল্লাহ রহম করেন। উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হলে তারা তাদের পরিধেয় কাপড়সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মোটা কাপড়টিকে ফেড়ে মাথার ওড়না বানিয়ে মাথা (ঘাড়-গলা-বুক) ঢেকেছিল।
عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ يَرْحَمُ اللهُ نِسَاءَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلَ لَمَّا أَنْزَلَ اللهُ (وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰى جُيُوبِهِنَّ) شَقَقْنَ أَكْنَفَ أو أَكْثَفَ مُرُوطِهِنَّ فَاخْتَمَرْنَ بِهَا
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৬৯) আবূ উসাইদ আনসারী শুনেছেন, মসজিদের বাইরে রাস্তায় নারী-পুরুষের মিশ্রণ দেখে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের উদ্দেশ্যে বললেন, থামো! তোমাদের জন্য রাস্তার মাঝে চলা বৈধ নয়। তোমরা রাস্তার এক পাশ দিয়ে চল। এ নির্দেশ শুনে মহিলা (রাস্তার পাশে বাড়ির) দেওয়ালের সাথে লেগে পথ চলত। এমনকি দেওয়াল ঘেষে চলার ফলে তার কাপড় দেওয়ালে আটকে যেত!
عَنْ أَبِى أُسَيْدٍ الْأَنْصَارِىِّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ وَهُوَ خَارِجٌ مِنَ الْمَسْجِدِ فَاخْتَلَطَ الرِّجَالُ مَعَ النِّسَاءِ فِى الطَّرِيقِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِلنِّسَاءِ اسْتَأْخِرْنَ فَإِنَّهُ لَيْسَ لَكُنَّ أَنْ تَحْقُقْنَ الطَّرِيقَ عَلَيْكُنَّ بِحَافَاتِ الطَّرِيقِ فَكَانَتِ الْمَرْأَةُ تَلْتَصِقُ بِالْجِدَارِ حَتّٰـى إِنَّ ثَوْبَهَا لَيَتَعَلَّقُ بِالْجِدَارِ مِنْ لُصُوقِهَا بِهِ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৭০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর এক রাত্রে সাওদা নিজের প্রয়োজনে বাইরে গেলেন। তিনি দীর্ঘকায় মহিলা ছিলেন, যে তাঁকে চিনত, তার কাছে (তাঁর পরিচয়) গোপন থাকত না। তখন উমার বিন খাত্ত্বাব তাঁকে দেখলেন এবং বললেন, ’হে সাওদা! আল্লাহর কসম! তোমার পরিচয় আমাদের অজানা নয়। সুতরাং তুমি ভেবে দেখ, তুমি কীভাবে বের হচ্ছ?’ (আয়েশা বলেন,) সুতরাং তিনি ফিরে গেলেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে ছিলেন। তিনি রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। তাঁর হাতে ছিল এক টুকরা (মাংস-ওয়ালা) হাড্ডি। তিনি প্রবেশ ক’রে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার কিছু (জরুরী) প্রয়োজনে বের হয়েছিলাম। কিন্তু উমার আমাকে এই এই কথা বললেন।’ (আয়েশা বলেন,) সুতরাং আল্লাহ তাঁর প্রতি অহী অবতীর্ণ করলেন। অতঃপর অহীর অবস্থা দূরীভূত হল। তখনও হাড্ডি তাঁর হাতেই ধরা অবস্থায় ছিল, রেখে দেননি। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের প্রয়োজনে বের হবে।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ خَرَجَتْ سَوْدَةُ بَعْدَمَا ضُرِبَ الْحِجَابُ لِحَاجَتِهَا وَكَانَتْ امْرَأَةً جَسِيمَةً لَا تَخْفَى عَلٰى مَنْ يَعْرِفُهَا فَرَآهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ يَا سَوْدَةُ أَمَا وَاللهِ مَا تَخْفَيْنَ عَلَيْنَا فَانْظُرِي كَيْفَ تَخْرُجِينَ قَالَتْ فَانْكَفَأَتْ رَاجِعَةً وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِي بَيْتِي وَإِنَّهُ لَيَتَعَشَّى وَفِي يَدِهِ عَرْقٌ فَدَخَلَتْ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّي خَرَجْتُ لِبَعْضِ حَاجَتِي فَقَالَ لِي عُمَرُ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ فَأَوْحَى اللهُ إِلَيْهِ ثُمَّ رُفِعَ عَنْهُ وَإِنَّ الْعَرْقَ فِي يَدِهِ مَا وَضَعَهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَدْ أُذِنَ لَكُنَّ أَنْ تَخْرُجْنَ لِحَاجَتِكُنَّ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৭১) মুগীরা বিন শু’বাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে এক মহিলার কথা উল্লেখ করলাম, যাকে আমি বিবাহের প্রস্তাব দেব। তিনি বললেন, ’যাও, তুমি তাকে দেখে নাও। কারণ তা তোমাদের মাঝে প্রীতি সৃষ্টির বেশি অনুকূল।’ সুতরাং আমি আনসারদের একটি মেয়ের ব্যাপারে তার বাপ-মাকে বিবাহের প্রস্তাব জানালাম এবং (দেখার ব্যাপারে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা জানিয়ে দিলাম। কিন্তু তারা যেন দেখার ব্যাপারটা অপছন্দ করল। মেয়েটি (ভিতর থেকে) এ কথা শুনে বলল, ’যদি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন, তাহলে ঠিক আছে। তা না হলে আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি (আপনি আমাকে দেখতে চাইবেন না)। সুতরাং (অনুমতি হলে) আমি তাকে দেখলাম এবং বিবাহ করলাম।
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَذَكَرْتُ لَهُ امْرَأَةً أَخْطُبُهَا فَقَالَ اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا قَالَ فَأَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ الْأَنْصَارِ فَخَطَبْتُهَا إِلٰـى أَبَوَيْهَا وَأَخْبَرْتُهُمَا بِقَوْلِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَكَأَنَّهُمَا كَرِهَا ذٰلِكَ قَالَ فَسَمِعَتْ ذٰلِكَ الْمَرْأَةُ وَهِيَ فِي خِدْرِهَا فَقَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَمَرَكَ أَنْ تَنْظُرَ فَانْظُرْ وَإِلَّا فَإِنِّي أَنْشُدُكَ كَأَنَّهَا أَعْظَمَتْ ذٰلِكَ عَلَيْهِ قَالَ فَنَظَرْتُ إِلَيْهَا فَتَزَوَّجْتُهَا فَذَكَرَ مِنْ مُوَافَقَتِهَا
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৭২) আয়েশা কর্তৃক বর্ণিত, সালেম (রাঃ) আবূ হুযাইফা (রাঃ) এর (নিষেধ হওয়ার পূর্বে) পোষ্যপুত্র ছিলেন। তিনি নিজ ভাইঝির সাথে তাঁর বিয়েও দিয়েছিলেন। সালেম যখন বড় হলেন, তখন আবূ হুযাইফার স্ত্রী সাহলা বিনতে সুহাইল অনুভব করলেন, সালেমের ব্যাপারে তাঁর স্বামীর মনে ঈর্ষা সৃষ্টি হচ্ছে। যেহেতু তিনি তাঁর নিকট পর্দা করেন না। সুতরাং তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ঘটনা খুলে বললে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ওকে তুমি পাঁচবার তোমার দুধ পান করিয়ে দাও, ও তোমার (দুধবেটা) মাহরাম হয়ে যাবে। সাহলা বললেন, ’ও তো বড় হয়ে গেছে, ওর দাড়ি বেরিয়ে গেছে!’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, আমি জানি ও বড় হয়ে গেছে।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ جَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ إِلٰـى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّى أَرَى فِى وَجْهِ أَبِى حُذَيْفَةَ مِنْ دُخُولِ سَالِمٍ - وَهُوَ حَلِيفُهُ فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ أَرْضِعِيهِ قَالَتْ وَكَيْفَ أُرْضِعُهُ وَهُوَ رَجُلٌ كَبِيرٌ فَتَبَسَّمَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَقَالَ قَدْ عَلِمْتُ أَنَّهُ رَجُلٌ كَبِيرٌ
পরিচ্ছেদঃ পর্দার বিধান
(২৬৭৩) হজ্জের সময় কুরবানীর দিন খাসআম গোত্রের এক সুন্দরী যুবতী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করল, ’আমার আববা (দাদা) খুবই বৃদ্ধ হয়ে গেছে এবং তার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে। কিন্তু সে সওয়ারীতে বসে থাকতে পারবে না। আমি যদি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করি, তাহলে যথেষ্ট হবে কি?’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তোমার আববার পক্ষ থেকে হজ্জ কর। (যথেষ্ট হবে।)
সেই সময় ফায্ল ইবনে আব্বাস তাঁর পিছনে সওয়ারীর উপর বসে ছিলেন। তিনি ঐ যুবতীর দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলেন। তা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখটা হাতে ক’রে ঘুরিয়ে দিলেন। আলী বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার চাচাতো ভাইয়ের মুখটা ফিরিয়ে দিলেন কেন?’ তিনি বললেন, যুবক-যুবতীকে (তাকাতাকি করতে) দেখলাম এবং শয়তান থেকে তাদেরকে নিরাপদ মনে করলাম না।
جَاءَت النبي ﷺ امْرَأَةٌ شَابَّةٌ مِنْ خَثْعَمَ فَقَالَتْ إِنَّ أَبِـيْ شَيْخٌ كَبِيرٌ وَقَدْ أَفْنَدَ وَأَدْرَكَتْهُ فَرِيضَةُ اللهِ فِي الْحَجِّ وَلَا يَسْتَطِيعُ أَدَاءَهَا فَيُجْزِئُ عَنْهُ أَنْ أُؤَدِّيَهَا عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نَعَمْ وَجَعَلَ يَصْرِفُ وَجْهَ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ عَنْهَا قَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّي رَأَيْتُكَ تَصْرِفُ وَجْهَ ابْنِ أَخِيكَ قَالَ إِنِّي رَأَيْتُ غُلَامًا شَابًّا وَجَارِيَةً شَابَّةً فَخَشِيتُ عَلَيْهِمَا الشَّيْطَانَ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَإِذَا سَأَلْتُمُوْهُنَّ مَتَاعًا فَاسْألُوْهُنَّ مِنْ وَّرَاءِ حِجَابٍ
অর্থাৎ, তোমরা তাদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাও। (সূরা আহযাব ৫৩)
(২৬৭৪) উক্ববা ইবনে আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা (বেগানা) নারীদের নিকট (একাকী) যাওয়া থেকে বিরত থাক। (এ কথা শুনে) জনৈক আনসারী নিবেদন করল, ’স্বামীর আত্মীয় সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?’ তিনি বললেন, স্বামীর আত্মীয় তো মৃত্যুসম (বিপজ্জনক)। (বুখারী ৫২৩২, মুসলিম ২১৭২, তিরমিযী ১১৭১)
وَعَنْ عُقبَةَ بنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ : أَفَرَأيْتَ الحَمْوَ ؟ قَالَ الحَمْوُ المَوْتُ متفق عَلَيْهِ
(প্রকাশ থাকে যে, স্বামীর ছোট ভাই কোন মুসলিম মহিলার ‘দেওর’ ‘দেবর’ বা দ্বিতীয় বর হতে পারে না। মহিলার উচিত, তাকে দ্বিতীয় বর বা উপহাসের পাত্র মনে না করে নিজ ছোট ভাই সম গণ্য করা। যেমন ঐ ভাইয়ের উচিত, ভাবীকে ‘ভাবের ই’ মনে না করে নিজ বড় বোন সম গণ্য করা।)
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৭৫) জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলেছেন, তোমরা এমন মহিলাদের নিকট গমন করো না, যাদের স্বামী বর্তমানে উপস্থিত নেই। কারণ শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের রক্ত-শিরায় প্রবাহিত হয়। আমরা বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আর আপনার?’ তিনি বললেন, আমারও। তবে আল্লাহ তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করেছেন, তাই আমি নিরাপদ থাকি।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تَلِجُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ قُلْنَا وَمِنْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ؛ وَمِنِّي وَلَكِنَّ اللهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَم
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৭৬) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোন মহিলার সাথে নির্জনবাস না করে। (বুখারী ৫২৩৩, মুসলিম ৩৩৩৬)
وعَنِ ابنِ عباس رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أنَّ رَسُول اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلاَّ وَمَعَهَا ذُو مَحْرَمٍ متفق عَليْهِ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৭৭) উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী (কোটনা) হয়।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلا لا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إلاَّ كَانَ ثَالِثَهَمَا الشَّيْطَانُ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৭৮) বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকেদের পক্ষে মুজাহিদদের স্ত্রীদের মর্যাদা তাদের নিজেদের মায়ের মর্যাদার মত। স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকেদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদ ব্যক্তির পরিবারের প্রতিনিধিত্ব (দেখা-শুনা) করে, অতঃপর তাদের ব্যাপারে সে তার খেয়ানত করে বসে, তবে কিয়ামতের দিন তাকে মুজাহিদের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং সে তার নেকীসমূহ থেকে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইচ্ছামত নেকী নিয়ে নেবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বললেন, তোমাদের ধারণা কী? (সে কি তখন তার কাছ থেকে নেকী নিতে ছাড়বে?)
وَعَنْ بُرَيدَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺحُرْمَةُ نِسَاءِ المُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِيْنَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ مَا مِنْ رَجُلٍ مِنَ القَاعِدِيْنَ يَخْلُفُ رَجُلاً مِنَ المُجَاهِدِينَ فِي أَهْلِهِ فَيَخُونُهُ فِيهِمْ إِلاَّ وُقِفَ لَهُ يَوْمَ القِيَامَةِ فَيَأْخُذُ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شَاءَ حَتّٰـى يَرْضٰى ثُمَّ التَفَتَ إِلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ مَا ظَنُّكُمْ ؟ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৭৯) বাহয বিন হাকীম তিনি তাঁর পিতা তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, একদা তিনি বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাদের গোপনাঙ্গ কী গোপন করব, আর কী বর্জন করব?’ তিনি বললেন, তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হিফাযত কর। সাহাবী বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে?’ তিনি বললেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়। সাহাবী বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?’ তিনি বললেন, মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাঁকে লজ্জা করা হবে।
عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ عَوْرَاتُنَا مَا نَأْتِى مِنْهَا وَمَا نَذَرُ قَالَ احْفَظْ عَوْرَتَكَ إِلاَّ مِنْ زَوْجَتِكَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِذَا كَانَ الْقَوْمُ بَعْضُهُمْ فِى بَعْضٍ قَالَ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ لاَ يَرَيَنَّهَا أَحَدٌ فَلاَ يَرَيَنَّهَا قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِذَا كَانَ أَحَدُنَا خَالِيًا قَالَ اللهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৮০) আব্দুল্লাহ বিন জা’ফর বিন আবী তালেব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, (পুরুষের) নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত স্থান হল লজ্জাস্থান।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ جَعْفَرَ بْنِ أَبِـيْ طَالِبٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - يَقُول : ’’مَا بَين السُّرَّة إِلٰـى الرّكْبَة عَورَة
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৮১) জারহাদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, হে জারহাদ! তুমি তোমার জাং ঢেকে নাও। কারণ, জাং হল লজ্জাস্থান।
عَنْ جَرْهَدٍ قَالَ قَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا جَرْهَدُ غَطِّ فَخِذَكَ فَإِنَّ الْفَخِذَ عَوْرَةٌ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
(২৬৮২) য়্যা’লা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ আযযা অজাল্ল অতি লজ্জাশীল ও গোপনকারী। তিনি লজ্জাশীলতা ও গোপনীয়তাকে পছন্দ করেন। সুতরাং তোমাদের কেউ গোসল করলে সে যেন পর্দা করে নেয়।
عَنْ يَعْلَى أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَيِـىٌّ سِتِّـيـرٌ يُـحِبُّ الْـحَيَاءَ وَالسَّتْـرَ فَإِذَا اغْتَسَلَ أَحَدُكُمْ فَلْـيَسْتَـتِـرْ
পরিচ্ছেদঃ মেড়া পুরুষ
(২৬৮৩)ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তাদের প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়েও দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষবেশিনী বা পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং দাইয়ূস (মেড়া) পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।)
عن ابن عمر قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يَنْظُرُ اللهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُّ وَالِدَيْهِ وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِّلَةُ الْمُتَشَبِّهَةُ بِالرِّجَالِ وَالدَّيُّوثُ
পরিচ্ছেদঃ শরয়ী কারণ যেমন বিবাহ প্রভৃতি উদ্দেশ্য ছাড়া কোন পুরুষের সামনে কোন নারীর সৌন্দর্য বর্ণনা করা নিষেধ
(২৬৮৪) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহিলা যেন অন্য কোন মহিলাকে (নগ্ন) কোলাকুলি না করে। (কারণ) সে পরে তার স্বামীর কাছে তা এমনভাবে বর্ণনা করবে যে, যেন সে (তা শুনে) ঐ মহিলাকে প্রত্যক্ষভাবে দর্শন করছে। (বুখারী ৫২৪০-৫২৪১)
عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا تُبَاشِرِ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّهُ يَنْظُرُ إلَيْهَا
পরিচ্ছেদঃ সতীনের জ্বালা
(২৬৮৫) আসমা (রাঃ) বলেন, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, ’আমার এক স্বপত্নী আছে। তাই স্বামী আমাকে তার সম্পদ থেকে যা দেয় না, তা নিয়ে যদি পরিতৃপ্তি প্রকাশ করি তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে কি?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যা দেওয়া হয়নি তা নিয়ে পরিতৃপ্তি প্রকাশকারী মিথ্যা দুই বস্ত্র পরিধানকারীর ন্যায়।
عَنْ أَسْمَاءَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلٰـى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَتْ إِنَّ لِـىْ ضَرَّةً فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ أَنْ أَتَشَبَّعَ مِنْ مَالِ زَوْجِىْ بِمَا لَمْ يُعْطِنِى؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الْمُتَشَبِّعُ بِمَا لَمْ يُعْطَ كَلاَبِسِ ثَوْبَـىْ زُوْرٍ
পরিচ্ছেদঃ সতীনের জ্বালা
(২৬৮৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহিলা তার বোনের (সতীনের) তালাক চাইবে না; যাতে সে তার পাত্রে যা আছে তা ঢেলে ফেলে দেয়। (এবং একাই স্বামীপ্রেমের অধিকারিণী হয়।)
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ وَلَا تَسْأَلْ الْمَرْأَةُ طَلَاقَ أُخْتِهَا لِتَسْتَكْفِئَ إِنَاءَهَا
পরিচ্ছেদঃ আত্মমর্যাদা ও ঈর্ষা
(২৬৮৭) মুগীরা বিন শু’বাহ বলেন, একদা সা’দ বিন উবাদাহ বললেন, ’যদি কোন ব্যক্তিকে আমার স্ত্রীর সাথে (ব্যভিচারে লিপ্ত) দেখি, তাহলে তরবারির ধারালো দিকটা দিয়ে তাকে আঘাত করব।’ এ কথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, তোমরা কি সা’দের ঈর্ষায় আশ্চর্যান্বিত হও? নিশ্চয় আমি ওর থেকে বেশি ঈর্ষাবান এবং আল্লাহ আমার থেকেও বেশি ঈর্ষাবান। আল্লাহর ঈর্ষার জন্য তিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য সকল অশ্লীলতা হারাম করেছেন। আল্লাহর চেয়ে বেশি ঈর্ষাবান কেউ নেই।
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ قَالَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ لَوْ رَأَيْتُ رَجُلاً مَعَ امْرَأَتِى لَضَرَبْتُهُ بِالسَّيْفِ غَيْرَ مُصْفِحٍ عَنْهُ فَبَلَغَ ذٰلِكَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَتَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ فَوَاللهِ لأَنَا أَغْيَرُ مِنْهُ وَاللهُ أَغْيَرُ مِنِّى مِنْ أَجْلِ غَيْرَةِ اللهِ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلاَ شَخْصَ أَغْيَرُ مِنَ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ সন্তান প্রতিপালন
(২৬৮৮) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সন্ধ্যা হলে শিশুদেরকে বাইরে ছেড়ো না। কারণ ঐ সময় শয়তানদল ছড়িয়ে পড়ে। রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলে তাদেরকে ছেড়ে দাও। (শয়নকালে) সমস্ত দরজা অর্গলবদ্ধ কর এবং (সেই সাথে) আল্লাহর নামের স্মরণ নাও। কারণ, শয়তান বন্ধ দরজা খোলে না। (বুখারী ৩২৮০, মুসলিম ৫৩৬৮)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, পাত্র আবৃত কর, মশক বেঁধে দাও, দরজা বন্ধ করে দাও, বাতি নিভিয়ে দাও। যেহেতু শয়তান (বিসমিল্লাহ বলে) বাঁধা মশক খোলে না, বন্ধ দরজা খোলে না এবং ঢাকা পাত্রও খোলে না। (মুসলিম ৫৩৬৪)
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ جُنْحُ اللَّيْلِ أَوْ أَمْسَيْتُمْ فَكُفُّوا صِبْيَانَكُمْ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ فَخَلُّوهُمْ وَأَغْلِقُوا الأَبْوَابَ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا
وَفِـيْ رِوَايَةٍ غَطُّوا الْإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ وَأَغْلِقُوا الْبَابَ وَأَطْفِئُوا السِّرَاجَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَحُلُّ سِقَاءً وَلاَ يَفْتَحُ بَابًا وَلاَ يَكْشِفُ إِنَاءً
পরিচ্ছেদঃ সন্তান প্রতিপালন
(২৬৮৯) হাসান কর্তৃক মুরসাল হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা সেই ব্যক্তি, যে তার সন্তান-সন্ততির জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
عَنِ الْـحَسَنِ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أحَبُّ الْعِبَادِ إِلٰـى اللهِ تَعَالٰـى أنْفَعُهُمْ لِعِيَالِهِ (عَبْدُ اللهِ) فِـيْ زَوائِدِ الزُّهْدِ عَنِ الْـحَسَنِ مُرْسَلًا
পরিচ্ছেদঃ সন্তান প্রতিপালন
(২৬৯০) আসওয়াদ বিন খালাফ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সন্তান কার্পণ্য, ভীরুতা, অজ্ঞতা ও দুশ্চিন্তা সৃষ্টিকারী জিনিস।
عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ خَلْفٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِـيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِنّ الْوَلَدَ مَبْخَلَةٌ مَـجْبَنَةٌ مَـجْهَلَةٌ مَـحْزَنَةٌ
পরিচ্ছেদঃ কন্যা প্রতিপালন
(২৬৯১) নবী-পত্নী আয়েশা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট একটি মহিলা তার দুটি কন্যাকে সঙ্গে করে ভিক্ষা করতে (গৃহে) প্রবেশ করল। কিন্তু সে আমার নিকট খেজুর ছাড়া আর কিছু পেল না। আমি খেজুরটি তাকে দিলে সে সেটিকে দুই খণ্ড- ভাগ করে তার দু’টি মেয়েকে খেতে দিল। আর নিজে তা হতে কিছুও খেল না! অতঃপর সে ও তার দুই মেয়ে উঠে বের হয়ে গেল। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলে আমি ঐ কথা তাঁকে জানালাম। ঘটনা শুনে তিনি বললেন, ’’যে ব্যক্তি এই একাধিক কন্যা নিয়ে সঙ্কটাপন্ন হবে, অতঃপর সে তাদের প্রতি যথার্থ সদ্ব্যবহার করবে, সেই ব্যক্তির জন্য ঐ কন্যারা জাহান্নাম থেকে অন্তরাল (পর্দা) স্বরূপ হবে।’’ (বুখারী ১৪১৮, ৫৯৯৫, মুসলিম ৬৮৬২)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মিসকীন মহিলা তার দু’টি কন্যাকে (কোলে) বহন ক’রে আমার কাছে এল। আমি তাকে তিনটি খুরমা দিলাম। অতঃপর সে তার কন্যা দু’টিকে একটি একটি ক’রে খুরমা দিল এবং সে নিজে খাবার জন্য একটি খুরমা মুখণ্ডপর্যন্ত তুলল। কিন্তু তার কন্যা দু’টি সেটিও খেতে চাইল। সুতরাং মহিলাটি যে খেজুরটি নিজে খেতে ইচ্ছা করেছিল সেটিকে দু’ভাগে ভাগ ক’রে তাদের মধ্যে বন্টন ক’রে দিল। (আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন,) তার (এ) অবস্থা আমাকে অভিভূত করল। সুতরাং আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট মহিলাটির ঘটনা বর্ণনা করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার এ কাজের বিনিময়ে জান্নাত ওয়াজিব ক’রে দিয়েছেন অথবা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত ক’রে দিয়েছেন।’’ (মুসলিম ৬৮৬৩)
এক বর্ণনায় আছে, মা আয়েশা ঐ মহিলা ও তার মেয়েদের অভাব ও ক্ষুধা দেখে কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাসায় এলে তিনি তাঁকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। মা আয়েশা উক্ত ঘটনা বর্ণনা করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ হাদীস বর্ণনা করলেন। (মুসনাদ ত্বায়ালিসী ১/২০৪)
عَنْ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِىِّ ﷺ قَالَتْ جَاءَتْنِىْ امْرَأَةٌ وَمَعَهَا ابْنَتَانِ لَهَا فَسَأَلَتْنِى فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِى شَيْئًا غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ فَأَعْطَيْتُهَا إِيَّاهَا فَأَخَذَتْهَا فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا وَلَمْ تَأْكُلْ مِنْهَا شَيْئًا ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ وَابْنَتَاهَا فَدَخَلَ عَلَىَّ النَّبِىُّ ﷺ فَحَدَّثْتُهُ حَدِيثَهَا فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ مَنِ ابْتُلِىَ مِنَ الْبَنَاتِ بِشَىْءٍ فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ কন্যা প্রতিপালন
(২৬৯২)আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি দুটি অথবা তিনটি কন্যা, কিংবা দুটি অথবা তিনটি বোন তাদের মৃত্যু অথবা বিবাহ, অথবা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত, কিংবা ঐ ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত যথার্থ প্রতিপালন করে, সে ব্যক্তি আর আমি (পরকালে) তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলিদ্বয়ের মত পাশাপাশি অবস্থান করব।
عَنْ أَنَسٍ أَوْ غَيْرِهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ عَالَ ابْنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَ بَنَاتٍ أَوْ أُخْتَيْنِ أَوْ ثَلَاثَ أَخَوَاتٍ حَتّٰـى يَمُتْنَ أَوْ يَمُوتَ عَنْهُنَّ كُنْتُ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ وَأَشَارَ بِأُصْبُعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى
পরিচ্ছেদঃ শিশুর নাম
(২৬৯৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট নাম হল শাহানশাহ।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللهِ رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاَكِ
পরিচ্ছেদঃ শিশুর নাম
(২৬৯৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিচারক এক সাহাবীর উপনাম ’আবুল হাকাম’ পরিবর্তন করে বলেছিলেন,
إِنَّ اللهَ هُوَ الْحَكَمُ وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ فَلِمَ تُكْنَى أَبَا الْحَكَمِ
নিশ্চয় আল্লাহই ’হাকাম’ (বিচারক), সকল বিচার-ফায়সালা তাঁরই।
-
পরিচ্ছেদঃ শিশুর নাম
(২৬৯৫) এক জনের নাম বাররাহ (পুণ্যময়ী) রাখা হলে তিনি বলেন,
لاَ تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمُ اللهُ أَعْلَمُ بِأَهْلِ الْبِرِّ مِنْكُمْ سَمُّوهَا زَيْنَبَ
’’তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কারণ আল্লাহই সম্যক জানেন তোমাদের মধ্যে পূণ্যময়ী কে এবং পাপময়ী কে। বরং ওর নাম যয়নাব রাখ।’’ (মুসলিম ৫৭৩৩, আল-আদাবুল মুফরাদ বুখারী, আবূ দাঊদ ৪৯৫৩, সিলসিলাহ সহীহাহ ২১০)
-
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শরয়ী নিষিদ্ধ জিনিষ থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজেব।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا
অর্থাৎ, তুমি তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দাও এবং ওতে অবিচলিত থাক। (সূরা ত্বাহা ১৩২)
তিনি আরো বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর অগ্নি হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিশতাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে। (সূরা তাহরীম ৬)
(২৬৯৬) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, হাসান বিন আলী (রাঃ) সাদকার একটি খুরমা নিয়ে তাঁর মুখে রাখলেন। তা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ছিঃ ছিঃ! ফেলে দাও। তুমি কি জানো না যে, আমরা সাদকাহ খাই না?
অন্য বর্ণনায় আছে, আমাদের জন্য সাদকাহ হালাল নয়।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: أَخَذَ الحَسَنُ بنُ عَلِيٍّ رَضِيَ الله عَنهُمَا تَمْرَةً مِنْ تَمْرِ الصَّدَقَةِ فَجَعَلَهَا في فِيهِ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَخْ كَخْ إرْمِ بِهَا أمَا عَلِمْتَ أنَّا لاَ نَأكُلُ الصَّدَقَةَ ؟ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
وفي رِوَايَةٍ أنَّا لا تَحِلُّ لَنَا الصَّدَقَةُ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শরয়ী নিষিদ্ধ জিনিষ থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজেব।
(২৬৯৭) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সৎ ছেলে আবূ হাফস উমার ইবনে আবী সালামা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল আসাদ কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, ’একদা আমি ছোট হিসাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে ছিলাম। খাবার (সময়) বাসনে আমার হাত ঘুরছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ওহে কিশোর! ’বিসমিল্লাহ’ বলে ডান হাতে আহার কর এবং তোমার কাছ থেকে খাও। তারপর থেকে আমি সব সময় এ পদ্ধতিতেই আহার করে আসছি।’
وَعَن أَبِـيْ حَفصٍ عُمَرَ بنِ أَبِـيْ سَلَمَةَ عَبدِ اللهِ بنِ عَبدِ الأسَدِ رَبِيبِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ : كُنْتُ غُلاَماً فِي حِجرِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَكَانَتْ يَدي تَطِيشُ في الصَّحْفَةِ فَقَالَ لي رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا غُلامُ، سَمِّ الله تَعَالٰـى، وَكُلْ بيَمِينكَ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ فَمَا زَالَتْ تِلْكَ طِعْمَتي بَعْدُ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শরয়ী নিষিদ্ধ জিনিষ থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজেব।
(২৬৯৮) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল। সুতরাং প্রত্যেকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল। সে তার দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল। অতএব সে তার দায়িত্বশীলতার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীগৃহের দায়িত্বশীলা। কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। গোলাম তার মনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল। সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : سَمِعتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتهِ : الإمَامُ رَاعٍ وَمَسْؤولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ والرَّجُلُ رَاعٍ في أهْلِهِ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالمَرْأةُ رَاعِيَةٌ في بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا وَالخَادِمُ رَاعٍ في مَالِ سَيِّدِهِ وَمَسؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শরয়ী নিষিদ্ধ জিনিষ থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজেব।
(২৬৯৯) আমর ইবনে শুআইব (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আম্রের দাদা (আব্দুল্লাহ ইবনে আমর) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে নামাযের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের সন্তান হবে, তখন তাদেরকে নামাযের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।
وَعَن عَمرِو بنِ شُعَيبٍ عَن أبِيهِ عَن جَدِّهِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مُرُوا أوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاةِ وَهُمْ أبْنَاءُ سَبْعِ سِنينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ في المضَاجِعِ حديث حسن رواه أَبُو داود بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শরয়ী নিষিদ্ধ জিনিষ থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজেব।
(২৭০০) আবূ সুরাইয়াহ সাবরাহ ইবনে মা’বাদ জুহানী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শিশুকে সাত বছর বয়সে নামায শিক্ষা দাও এবং দশ বছর বয়সে তার জন্য তাকে মার।
আবূ দাঊদের শব্দেঃ শিশু সাত বছর বয়সে পৌঁছলে তাকে তোমরা নামাযের আদেশ দাও।
وَعَن أَبِـيْ ثُرَيَّةَ سَبْرَةَ بنِ مَعبَدٍ الجُهَنِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلِّمُوا الصَّبِيَّ الصَّلاةَ لِسَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا ابْنَ عَشْرِ سِنِينَ حديث حسن رواه أَبُو داود والترمذي وَقالَ حديث حسن ولفظ أَبِـيْ داود مُرُوا الصَّبِيَّ بِالصَّلاةِ إِذَا بَلَغَ سَبْعَ سِنِينَ
পরিচ্ছেদঃ ঘর কেমন হবে?
(২৭০১) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের গৃহের আঙ্গিনা (সম্মুখভাগকে) পরিচ্ছন্ন রাখ। কারণ, সবচেয়ে নোংরা আঙ্গিনা হল ইয়াহুদীদের আঙ্গিনা। (ত্বাবারানীর আওসাত্ব ৪০৫৭, সহীহুল জামে’ হা/ ৩৯৩৫)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, তোমরা তোমাদের গৃহের আঙ্গিনা (সম্মুখভাগকে) পরিচ্ছন্ন রাখ। কারণ, ইয়াহুদীরা তাদের আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখে না। (ত্বাবারানীর আওসাত্ব, সহীহুল জামে’ হা/ ৩৯৪১)
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِـىْ وَقَّاصٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ طَـهِّـرُوا أفْـنِـيَتَـكُمْ فَإِنَّ الْـيَهُـودَ لَا تُـطَـهِّـرُ أَفْـنِـيَـتَـهَا
وفي رواية طَـيِّـبُـوا سَاحاتِكُمْ فَإِنَّ أَنْـتَـنَ السَّاحَاتِ سَاحَاتُ الْـيَـهُـوْدِ
পরিচ্ছেদঃ ঘর কেমন হবে?
(২৭০২) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সৌভাগ্য ও সুখের বস্তু হল তিনটি এবং দুর্ভাগ্য ও দুঃখের বস্তু হল তিনটি; (তন্মধ্যে প্রথম হল,) সতী ও পূণ্যময়ী স্ত্রী, যাকে দেখলে (তার সুন্দর স্বভাব-চরিত্রের ফলে) তোমার মন তুষ্ট ও হর্ষোৎফুল্ল হয়। তোমার অনুপস্থিতিতে তার ব্যাপারে এবং তোমার সম্পদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পার। (দ্বিতীয় হল,) তেজস্বী ও শান্ত সওয়ারী (দ্রুতগামী গাড়ি), যা তোমাকে সফরের সঙ্গীদের সাথে মিলিত করে। আর (তৃতীয় হল,) প্রশস্ত ও বহু কক্ষবিশিষ্ট গৃহ। এ তিনটি সৌভাগ্যের সম্পদ। পক্ষান্তরে (দুর্ভাগ্যের প্রথম বস্তু হল,) এমন স্ত্রী; যাকে দেখলে তোমার মন তিক্ত হয়। যে তোমার উপর জিব লম্বা করে; এবং তোমার অনুপস্থিতিতে তার এবং তোমার সম্পদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পার না। (দ্বিতীয় হল,) নিস্তেজ সওয়ারী (পশু বা গাড়ি) যদি তাকে চালাবার জন্য প্রহার কর, তাহলে তোমাকে কষ্ট দেয় এবং যদি উপেক্ষা কর, তাহলে সঙ্গীদের সাথে মিলিত করে না। আর (তৃতীয় হল,) সংকীর্ণ ও অল্প কক্ষবিশিষ্ট গৃহ। এ তিনটি দুর্ভাগ্যের আপদ।
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِـىْ وَقَّاصٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ ثَلَاثَةٌ مِنَ السَّعادَةِ وَثَلَاثَةٌ مِنَ الشَّقاءِ فَمِنَ السَّعادَةِ المَرْأةُ الصَّالِحَةُ تَراها فَتُعْجِبُكَ وَتَغِيبُ عَنْها فَتَأْمَنُها على نَفْسِها ومالِكَ والدَّابَةُ تَكُونُ وَطِيئَةً فَتُلْحِقُكَ بأصْحابِكَ والدَّارُ تَكُونُ واسِعَةً كَثِيرةَ المَرافِقِ وَمِنَ الشَّقاءِ المَرأةُ تَراها فَتَسُوءُكَ وَتَحْمِلُ لِسانِها عَلَيْكَ وإِنْ غِبْتَ عنها لم تأمَنها على نَفْسِها ومالِكَ والدَّابَةُ تَكُون قَطُوفاً فإنْ ضَرَبْتَها أتْعَبَتْكَ وإنْ تَرَكْتَها لَم تُلْحِقْكَ بأصْحابِكَ والدَّارُ تَكُونُ ضَيِّقَةً قَلِيلَةَ المَرافِقِ