পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫০৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমি আমার উম্মতের উপর বা লোকেদের উপর কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রতিটি নামাযের সাথে দাঁতন করার আদেশ দিতাম।

عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ - لأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلاَةٍ متفقٌ عَلَيْهِ

عن ابي هريرة ان رسول الله ﷺ قال لولا ان اشق على امتي او على الناس - لامرتهم بالسواك مع كل صلاة متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫০৮) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আমার উম্মতের পক্ষে কষ্টকর না জানলে (প্রত্যেক) ওযুর সাথে দাঁতন করা ফরয করতাম এবং এশার নামায অর্ধেক রাত পর্যন্ত দেরী করে পড়তাম।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِى لَفَرَضْتُ عَلَيْهِمُ السِّوَاكَ مَعَ الْوُضُوءِ وَلأَخَّرْتُ صَلاَةَ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ

عن ابى هريرة قال قال رسول الله ﷺ لولا ان اشق على امتى لفرضت عليهم السواك مع الوضوء ولاخرت صلاة العشاء الى نصف الليل

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫০৯) হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে উঠতেন, তখন তিনি দাঁতন দিয়ে দাঁত মেজে নিতেন।

وَعَن حُذَيْفَةَ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِﷺ إِذَا قَامَ مِن النَّومِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ متفقٌ عَلَيْ

وعن حذيفة قال : كان رسول اللهﷺ اذا قام من النوم يشوص فاه بالسواك متفق علي

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১০) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য দাঁতন ও ওযূর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। অতঃপর আল্লাহর যখন রাতে তাঁকে জাগাবার ইচ্ছা হত, তখন তিনি জেগে উঠতেন। সুতরাং দাঁতন করতেন এবং ওযূ করে নামায পড়তেন।

وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَت : كُنَّا نُعِدُّ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ سِوَاكَهُ وَطَهُورَهُ فَيَبْعَثُهُ اللهُ مَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَيَتَسَوَّكُ وَيَتَوضَّأُ وَيُصَلِّي رواه مسلم

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت : كنا نعد لرسول الله ﷺ سواكه وطهوره فيبعثه الله ما شاء ان يبعثه من الليل فيتسوك ويتوضا ويصلي رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১১) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদেরকে দাঁতন করার জন্য বেশি তাকীদ করেছি।

وَعَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَكْثَرْتُ عَلَيْكُمْ فِي السِّوَاكِ رواه البخاري

وعن انس قال : قال رسول الله ﷺ اكثرت عليكم في السواك رواه البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১২) শুরাইহ ইবনে হানি (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ বাড়িতে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কী কাজ করতেন? তিনি বললেন, ’দাঁতন করতেন।

وَعَن شُرَيحِ بنِ هَانِىءٍ قَالَ : قُلتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ ؟ قَالَتْ : بِالسِّوَاكِ رواه مسلم

وعن شريح بن هانىء قال : قلت لعاىشة رضي الله عنها : باي شيء كان يبدا النبي ﷺ اذا دخل بيته ؟ قالت : بالسواك رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১৩) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন দাঁতনের একটি দিক তাঁর জিভের উপর রাখা ছিল।

وَعَنْ أَبيْ مُوسَى الأَشعَرِي قَالَ : دَخَلتُ عَلَى النَّبيِّ ﷺ وَطَرَفُ السِّوَاكِ عَلَى لِسَانِهِ متفقٌ عَلَيْهِ وهذا لفظ مسلمٍ

وعن ابي موسى الاشعري قال : دخلت على النبي ﷺ وطرف السواك على لسانه متفق عليه وهذا لفظ مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১৪) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাঁতন মুখ পবিত্র রাখার ও প্রভুর সন্তুষ্টি লাভের উপকরণ।

وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ للرَّبِّ رواه النسائي وابنُ خُزَيْمَةَ في صحيحهِ بأسانيدَ صحيحةٍ

وعن عاىشة رضي الله عنها : ان النبي ﷺ قال السواك مطهرة للفم مرضاة للرب رواه النساىي وابن خزيمة في صحيحه باسانيد صحيحة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১৫) আলী (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি দাঁতন আনতে আদেশ দিয়ে বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দা যখন নামায পড়তে দণ্ডায়মান হয় তখন ফিরিশতা তার পিছনে দণ্ডায়মান হয়ে তার ক্বিরাআত শুনতে থাকেন। ফিরিশতা তার নিকটবর্তী হন; পরিশেষে তিনি নিজ মুখ তার (বান্দার) মুখে মিলিয়ে দেন! ফলে তার মুখ হতে কুরআনের যেটুকুই অংশ বের হয় সেটুকু অংশই ফিরিশতার পেটে প্রবেশ করে যায়। সুতরাং কুরআনের জন্য তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র কর।

عَن عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنهُ ُأَنَّهُ أَمَرَ بِالسِّوَاكِ وَقَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا تَسَوَّكَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي قَامَ الْمَلَكُ خَلْفَهُ فَتَسَمَّعَ لِقِرَاءَتِهِ فَيَدْنُو مِنْهُ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا حَتَّى يَضَعَ فَاهُ عَلَى فِيهِ فَمَا يَخْرُجُ مِنْ فِيهِ شَيْءٌ مِنَ الْقُرْآنِ إِلاَّ صَارَ فِي جَوْفِ الْمَلَكِ فَطَهِّرُوا أَفْوَاهَكُمْ لِلْقُرْآنِ

عن علي رضي الله عنه انه امر بالسواك وقال : قال النبي صلى الله عليه وسلم ان العبد اذا تسوك ثم قام يصلي قام الملك خلفه فتسمع لقراءته فيدنو منه او كلمة نحوها حتى يضع فاه على فيه فما يخرج من فيه شيء من القران الا صار في جوف الملك فطهروا افواهكم للقران

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১৬) সামুরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মিসওয়াক করে তোমরা তোমাদের মুখকে পবিত্র কর। কারণ, মুখ হল কুরআনের পথ।

عَن سَمُرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ طَيِّبُوا أَفْوَاهَكُمْ بِالسِّوَاكِ فَإِنَّهَا طُرُقُ الْقُرْآنِ

عن سمرة قال قال رسول الله ﷺ طيبوا افواهكم بالسواك فانها طرق القران

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১৭) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জিবরীল (আঃ) আমাকে (এত বেশী) দাঁতন করতে আদেশ করেছেন যে, তাতে আমি আমার দাঁত ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা করছি।

عَن أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُمِرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ أَدْرَدَ

عن انس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: امرت بالسواك حتى خشيت ان ادرد

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১৮) ওয়াসেলাহ বিন আসক্বা’ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে দাঁতন করতে আদেশ করা হয়েছে, এতে আমার ভয় হয় যে, হয়তো দাঁতন করা আমার উপর ফরয করে দেওয়া হবে।

عَن وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أُمِرْتُ بِالسِّوَاكِ حَتَّى خَشِيتُ أَنْ يُكْتَبَ عَلَيَّْْْْ

عن واثلة بن الاسقع قال قال رسول الله ﷺ امرت بالسواك حتى خشيت ان يكتب علي

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫১৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃতিগত আচরণ (নবীগণের তরীকা) পাঁচটি অথবা পাঁচটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ, (১) খাতনা (লিঙ্গত্বক ছেদন) করা। (২) লজ্জাস্থানের লোম কেটে পরিষ্কার করা। (৩) নখ কাটা। (৪) বগলের লোম ছিঁড়া। (৫) গোঁফ ছেঁটে ফেলা।

وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الفِطْرَةُ خَمْسٌ أَوْ خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ : الخِتَانُ وَالاسْتِحْدَادُ وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ وَنَتْفُ الإِبِطِ وَقَصُّ الشَّارِب متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال الفطرة خمس او خمس من الفطرة : الختان والاستحداد وتقليم الاظفار ونتف الابط وقص الشارب متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫২০) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দশটি কাজ প্রকৃতিগত আচরণ; (১) গোঁফ ছেঁটে ফেলা। (২) দাড়ি বাড়ানো। (৩) দাঁতন করা। (৪) নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা। (৫) নখ কাটা। (৬) আঙ্গুলের জোড়সমূহ ধোয়া। (৭) বগলের লোম তুলে ফেলা। (৮) গুপ্তাঙ্গের লোম পরিষ্কার করা। (৯) পানি দ্বারা ইস্তেঞ্জা (শৌচকর্ম) করা। বর্ণনাকারী বলেন, ১০নং আচরণটি ভুলে গেছি, তবে মনে হয়, তা কুল্লি করা হবে। বর্ণনাকারী অকী’ বলেন, ’ইন্তেকাসুল মা’ মানে পানি দিয়ে ইস্তেঞ্জা করা।

وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَشْرٌ مِنَ الفِطْرَةِ : قَصُّ الشَّارِبِ وَإِعْفَاءُ اللِّحْيَةِ وَالسِّوَاكُ وَاسْتِنْشَاقُ المَاءِ وَقَصُّ الأَظْفَارِ وَغَسْلُ البَرَاجِمِ وَنَتفُ الإِبْطِ وَحَلْقُ العَانَةِ وَانْتِقَاصُ المَاءِ قَالَ الرَّاوِي : وَنَسِيْتُ العَاشِرَةَ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ المَضمَضَةُ قَالَ وَكِيعٌ - وَهُوَ أحَدُ رُواتِهِ - انْتِقَاصُ المَاءِ : يَعَني الاسْتِنْجَاءِ رواه مسلم

وعن عاىشة رضي الله عنها قالت : قال رسول الله ﷺ عشر من الفطرة : قص الشارب واعفاء اللحية والسواك واستنشاق الماء وقص الاظفار وغسل البراجم ونتف الابط وحلق العانة وانتقاص الماء قال الراوي : ونسيت العاشرة الا ان تكون المضمضة قال وكيع - وهو احد رواته - انتقاص الماء : يعني الاستنجاء رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫২১) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা গোঁফ কেটে ফেল এবং দাড়ি লম্বা কর।

وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَعْفُوا اللِّحَى متفقٌ عَلَيْهِ

و عن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي ﷺ قال احفوا الشوارب واعفوا اللحى متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫২২) যায়দ বিন আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি তার মোছ ছাঁটে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।

عَن زَيْدِ بن أَرْقَمَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ لَمْ يَأْخُذْ مِنْ شَارِبِهِ فَلَيْسَ مِنَّا

عن زيد بن ارقم قال : قال رسول الله ﷺ من لم ياخذ من شاربه فليس منا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫২৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা দাড়ি বাড়াও, মোছ ছোট কর, পাকা চুলে (কালো ছাড়া অন্য) খেযাব লাগাও এবং ইয়াহুদ ও নাসারার সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।

عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَعْفُوا اللِّحَى وَخُذُوا الشَّوَارِبَ وَغَيِّرُوا شَيْبَكُمْ وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى

عن ابي هريرة ان رسول الله ﷺ قال اعفوا اللحى وخذوا الشوارب وغيروا شيبكم ولا تشبهوا باليهود والنصارى

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫২৪) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের অন্যথাচরণ কর। তোমরা মোছ ছেঁটে ফেল এবং দাড়ি ছেড়ে দাও।

عَنْ اِبْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا اللِّحَى

عن ابن عمر قال قال رسول الله ﷺ خالفوا المشركين احفوا الشوارب واوفوا اللحى

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫২৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মোছ ছেঁটে ও দাড়ি রেখে অগ্নিপূজকদের বৈপরীত্য কর।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ جُزُّوا الشَّوَارِبَ وَأَرْخُوا اللِّحَى خَالِفُوا الْمَجُوسَ

عن ابى هريرة قال قال رسول الله ﷺ جزوا الشوارب وارخوا اللحى خالفوا المجوس

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ দাঁতন করার মাহাত্ম্য ও প্রকৃতিগত আচরণসমূহ

(৫২৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মোছ ছাঁটা, নখ কাটা, নাভির নিচের লোম চাঁছা এবং বোগলের লোম তুলে ফেলার ব্যাপারে আমাদেরকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে; যাতে আমরা সে সব চল্লিশ দিনের বেশী ছেড়ে না রাখি।

عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ أَنَسٌ وُقِّتَ لَنَا فِى قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً

عن انس بن مالك قال قال انس وقت لنا فى قص الشارب وتقليم الاظفار ونتف الابط وحلق العانة ان لا نترك اكثر من اربعين ليلة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ চুল পাকার মাহাত্ম্য

(৫২৭) কা’ব বিন মুররাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির ইসলামে (জিহাদ, আল্লাহর ভয় প্রভৃতির কারণে) একটি চুল পাকে, সেই ব্যক্তির জন্য ঐ সাদা চুলটি কিয়ামতের দিন জ্যোতি হবে।

عَن كعب بن مرة قال قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الإِسْلاَمِ فِي سَبِيلِ اللهِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ

عن كعب بن مرة قال قال رسول الله ﷺ من شاب شيبة في الاسلام في سبيل الله كانت له نورا يوم القيامة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ চুল পাকার মাহাত্ম্য

(৫২৮) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শুভ্র কেশ মুমিনের নূর (জ্যোতি)। ইসলামে যে ব্যক্তিরই একটি কেশ শুভ্র হবে, সেই ব্যক্তির প্রত্যেক শুভ্র কেশের পরিবর্তে একটি করে নেকী লাভ হবে এবং একটি করে মর্যাদায় সে উন্নীত হবে।

عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عمرو قال قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الشَّيْبُ نُورُ المُؤْمِنِ لاَيَشِيبُ رَجُلٌ شَيْبَةً فِي الإسْلاَمِ إلاَّ كانَتْ لَهُ بِكُلِّ شَيْبَةٍ حَسَنَةٌ وَرُفعَ بِهَا دَرَجَةً

عن عبد الله بن عمرو قال قال رسول الله ﷺ الشيب نور المومن لايشيب رجل شيبة في الاسلام الا كانت له بكل شيبة حسنة ورفع بها درجة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ চুল পাকার মাহাত্ম্য

(৫২৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা শুভ্র কেশ তুলে ফেলো না। কেননা তা কিয়ামতের দিনে নূর (জ্যোতি) হবে। ইসলামে যে ব্যক্তির একটি কেশ শুভ্র হবে, সেই ব্যক্তির প্রত্যেক শুভ্র কেশের পরিবর্তে আল্লাহ তার জন্য একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করবেন, একটি করে গোনাহ ঝরিয়ে দেবেন এবং একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।

عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا تَنْتِفُوا الشَّيْبَ فَإِنَّهُ نُورٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الْإِسْلَامِ كُتِبَ لَهُ بِهَا حَسَنَةٌ وَحُطَّ عَنهُ بِهَا خَطِيئَةٌ وَرُفِعَ له بها درجة"

عن ابي هريرة ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا تنتفوا الشيب فانه نور يوم القيامة ومن شاب شيبة في الاسلام كتب له بها حسنة وحط عنه بها خطيىة ورفع له بها درجة"

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ পবিত্র থাকার নির্দেশ

(৫৩০) আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (রহমতের) ফিরিশতাবর্গ তিন ব্যক্তির নিকটবর্তী হন না; কাফেরের দেহ, খালূক মাখা ব্যক্তি এবং নাপাক ব্যক্তি; যদি উযূ না করে।

عَن عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ ثَلاَثَةٌ لاَ تَقْرَبُهُمُ الْمَلاَئِكَةُ جِيفَةُ الْكَافِرِ وَالْمُتَضَمِّخُ بِالْخَلُوقِ وَالْجُنُبُ إِلاَّ أَنْ يَتَوَضَّأَ

عن عمار بن ياسر ان رسول الله ﷺ قال ثلاثة لا تقربهم الملاىكة جيفة الكافر والمتضمخ بالخلوق والجنب الا ان يتوضا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ পবিত্র থাকার নির্দেশ

(৫৩১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, (রহমতের) ফিরিশতাবর্গ তিন ব্যক্তির নিকটবর্তী হন না; নাপাক ব্যক্তি, নেশাগ্রস্ত (মাতাল) ব্যক্তি এবং খালূক মাখা ব্যক্তি।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْهُمَا قَالَ: «ثَلَاثَةٌ لَا تَقْرَبُهُمُ الْمَلَائِكَةُ: الْجُنُبُ وَالسُّكْرَانِ وَالْمُتَضَمِّخُ بِالْخَلُوقِ

عن ابن عباس عنهما قال: «ثلاثة لا تقربهم الملاىكة: الجنب والسكران والمتضمخ بالخلوق

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ অপবিত্র দেহ অস্পৃশ্য নয়

(৫৩২) একদা আবূ হুরাইরা (রাঃ) এর সাথে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মদীনার এক পথে দেখা হল। সে সময় আবূ হুরাইরা অপবিত্রাবস্থায় ছিলেন। তিনি সরে গিয়ে গোসল করে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথায় গিয়েছিলে আবূ হুরাইরা! তিনি বললেন, আমি অপবিত্র ছিলাম। তাই সেই অবস্থায় আপনার সাথে বসাটাকে অপছন্দ করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুবহানাল্লাহ! মু’মিন অপবিত্র হয় না।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّهُ لَقِيَهُ النَّبِىُّ ﷺ فِى طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ وَهُوَ جُنُبٌ فَانْسَلَّ فَذَهَبَ فَاغْتَسَلَ فَتَفَقَّدَهُ النَّبِىُّ ﷺ فَلَمَّا جَاءَهُ قَالَ أَيْنَ كُنْتَ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ لَقِيتَنِى وَأَنَا جُنُبٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أُجَالِسَكَ حَتَّى أَغْتَسِلَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سُبْحَانَ اللهِ إِنَّ الْمُؤْمِنَ لاَ يَنْجُسُ

عن ابى هريرة انه لقيه النبى ﷺ فى طريق من طرق المدينة وهو جنب فانسل فذهب فاغتسل فتفقده النبى ﷺ فلما جاءه قال اين كنت يا ابا هريرة قال يا رسول الله لقيتنى وانا جنب فكرهت ان اجالسك حتى اغتسل فقال رسول الله ﷺ سبحان الله ان المومن لا ينجس

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ অপবিত্র দেহ অস্পৃশ্য নয়

(৫৩৩) মুআযাহ নামক এক মহিলা আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, কী ব্যাপার যে, ঋতুমতী মহিলা রোযা কাযা করবে অথচ নামায কাযা করবে না? মা আয়েশা (রাঃ) প্রত্যুত্তরে বললেন, তুমি কি (ইরাকের) হারুরার (খাওয়ারেজপন্থী) মহিলা? মহিলাটি বলল, না, আমি তা নই। আমি জিজ্ঞাসা করে (কারণ) জানতে চাই। মা আয়েশা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে থেকে আমাদের মাসিক হত। আমরা (তাঁর পক্ষ থেকে) রোযা কাযা করতে আদিষ্ট হতাম এবং নামায কাযা করতে আদিষ্ট হতাম না।

عَن مُعَاذَةَ قَالَتْ سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَقُلْتُ مَا بَالُ الْحَائِضِ تَقْضِى الصَّوْمَ وَلاَ تَقْضِى الصَّلاَةَ فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ قُلْتُ لَسْتُ بِحَرُورِيَّةٍ وَلَكِنِّى أَسْأَلُ قَالَتْ كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ وَلاَ نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ

عن معاذة قالت سالت عاىشة فقلت ما بال الحاىض تقضى الصوم ولا تقضى الصلاة فقالت احرورية انت قلت لست بحرورية ولكنى اسال قالت كان يصيبنا ذلك فنومر بقضاء الصوم ولا نومر بقضاء الصلاة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৩৪) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’টি অভিসম্পাত আনয়নকারী কর্ম থেকে দূরে থাক। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, দু’টি অভিসম্পাত আনয়নকারী কর্ম কী কী? তিনি (উত্তরে) বললেন, যে ব্যক্তি মানুষের রাস্তায় এবং তাদের ছায়ার স্থলে পায়খানা করে (তার এ দু’টি কাজ অভিসম্পাতের কারণ)।

وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ اِتَّقُوا اللاَّعَنيْنِ قَالُوْا : وَمَا اللاَّعَنانِ ؟ قَالَ الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ فِي ظِلِّهِمْ رواه مسلم

وعن ابي هريرة ان رسول الله ﷺ قال اتقوا اللاعنين قالوا : وما اللاعنان ؟ قال الذي يتخلى في طريق الناس او في ظلهم رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৩৫) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তিনটি অভিশাপ আনয়নকারী কর্ম থেকে বাঁচ; আর তা হল, ঘাটে, মাঝ-রাস্তায় এবং ছায়ায় পায়খানা করা।

عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اتَّقُوا الْمَلاَعَن الثَّلاَثَ الْبَرَازَ فِى الْمَوَارِدِ وَقَارِعَةِ الطَّرِيقِ وَالظِّلِّ

عن معاذ بن جبل قال قال رسول الله ﷺ اتقوا الملاعن الثلاث البراز فى الموارد وقارعة الطريق والظل

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৩৬) হুযাইফা বিন উসাইদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাস্তার ব্যাপারে মুসলিমদেরকে কষ্ট দেয়, সে ব্যক্তির উপরে তাদের অভিশাপ অনিবার্য হয়ে যায়।

عَن حُذَيْفَةَ بن أُسَيْدٍ أَنّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ آذَى الْمُسْلِمِينَ فِي طُرُقِهِمْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ لَعَنتُهُمْ

عن حذيفة بن اسيد ان النبي ﷺ قال من اذى المسلمين في طرقهم وجبت عليه لعنتهم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৩৭) মাকহূল (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের দরজায় পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

عَن مَكْحُول رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ ُ نهى: رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُبَالَ بِأَبْوَابِ الْمَسَاجِدِ

عن مكحول رضي الله عنه نهى: رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يبال بابواب المساجد

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ মাকহূল (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৩৮) আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পায়খানা করার সময়ে তোমরা কিবলাকে সম্মুখ অথবা পশ্চাৎ করে বসো না। বরং পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ অথবা পিঠ করে বসো।

[* এ নির্দেশ তাদের জন্য যাদের ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা) উত্তর বা দক্ষিণ দিকে।]

عَن أَبِى أَيُّوبَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ إِذَا أَتَيْتُمُ الْغَائِطَ فَلاَ تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ وَلاَ تَسْتَدْبِرُوهَا بِبَوْلٍ وَلاَ غَائِطٍ وَلَكِنْ شَرِّقُوا أَوْ غَرِّبُوا

عن ابى ايوب ان النبى ﷺ قال اذا اتيتم الغاىط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها ببول ولا غاىط ولكن شرقوا او غربوا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৩৯) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মলত্যাগ করার সময় কেবলামুখে অথবা কেবলাকে পিছন করে না বসে, তার জন্য এর দরুন একটি নেকী লিপিবদ্ধ করা হয় এবং একটি গোনাহ মোচন করে দেওয়া হয়।

عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ لَمْ يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلَمْ يَسْتَدْبِرْهَا فِي الْغَائِطِ كُتِبَ لَهُ حَسَنَةٌ وَمُحِيَ عَنهُ سَيِّئَةٌ

عن ابي هريرة قال: قال رسول الله ﷺ من لم يستقبل القبلة ولم يستدبرها في الغاىط كتب له حسنة ومحي عنه سيىة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪০) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটো কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বললেন, ঐ দুই কবরবাসীর আযাব হচ্ছে। অবশ্য ওদেরকে কোন বড় ধরনের অপরাধ (বা কোন কঠিন কাজের) জন্য আযাব দেওয়া হচ্ছে না। (তারপর বললেন,) হ্যাঁ, অপরাধ তো বড়ই ছিল। ওদের একজন (লোকের) চুগলী করে বেড়াত। আর অপরজন পেশাবের ছিটা থেকে বাঁচত না।

وعَن ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ مرَّ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا يُعَذَّبَانِ وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبيرٍ بَلَى إِنَّهُ كَبِيرٌ : أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ وَأَمَّا الآخَرُ فَكَانَ لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ متفق عَلَيْهِ وهذا لفظ إحدى روايات البخاري

وعن ابن عباس رضي الله عنهما : ان رسول الله ﷺ مر بقبرين فقال انهما يعذبان وما يعذبان في كبير بلى انه كبير : اما احدهما فكان يمشي بالنميمة واما الاخر فكان لا يستتر من بوله متفق عليه وهذا لفظ احدى روايات البخاري

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪১) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা প্রস্রাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন কর। কারণ, অধিকাংশ কবরের আযাব এই প্রস্রাব (থেকে সাবধান না হওয়ার) ফলেই হয়ে থাকে।

عَن أَنَسٍ , قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تَنَزَّهُوا مِنَ الْبَوْلِ فَإِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنْهُ»

عن انس , قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تنزهوا من البول فان عامة عذاب القبر منه»

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অধিকাংশ কবরের আযাব প্রস্রাবের (ছিটা গায়ে লাগার) কারণে হবে।

عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَكْثَرُ عَذَابِ الْقَبْرِ فِي الْبَوْلِ

عن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال اكثر عذاب القبر في البول

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪৩) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।

عَن جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى أَنْ يُبَالَ فِي المَاءِ الرَّاكِدِ رواه مسلم

عن جابر ان رسول الله ﷺ نهى ان يبال في الماء الراكد رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪৪) যায়দ বিন আরকাম কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই প্রস্রাব-পায়খানার জায়গাসমূহে শয়তান জ্বিন উপস্থিত থাকে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সেখানে আসে, তখন সে যেন ’আঊযু বিল্লাহি মিনাল খবুসি অলখাবাইস’ বলে।

عَن زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوشَ مُحْتَضَرَةٌ فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْخَلاَءَ فَلْيَقُلْ أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ

عن زيد بن ارقم عن رسول الله ﷺ قال ان هذه الحشوش محتضرة فاذا اتى احدكم الخلاء فليقل اعوذ بالله من الخبث والخباىث

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪৫) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’যে ব্যক্তি তোমাদেরকে বলবে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করতেন, তার কথা বিশ্বাস করো না। যেহেতু তিনি বসে বসেই পেশাব করতেন।’ (তিরমিযী ১২, নাসাঈ ২৯, ইবনে মাজাহ ৩০৭)

عَن عَائِشَةَ قَالَتْ: «مَنْ حَدَّثَكُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَبُولُ قَائِمًا فَلَا تُصَدِّقُوهُ مَا كَانَ يَبُولُ إِلَّا قَاعِدًا»

عن عاىشة قالت: «من حدثكم ان النبي صلى الله عليه وسلم كان يبول قاىما فلا تصدقوه ما كان يبول الا قاعدا»

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪৬) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করবে, তখন সে যেন নিজ লিঙ্গ ডান হাত দ্বারা না ধরে এবং ডান হাত দ্বারা ইস্তিনজা (প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার) না করে ...। প্রস্রাব করার সময় তোমাদের কেউ যেন নিজ লিঙ্গ ডান হাত দ্বারা অবশ্যই না ধরে এবং ডান হাত দ্বারা যেন পায়খানা পরিষ্কার না করে...।

عَنْ أَبيْ قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَّسْ فِي الْإِنَاءِ وَإِذَا أَتَى الْخَلَاءَ فَلَا يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلَا يَتَمَسَّحْ بِيَمِينِهِ

عن ابي قتادة قال قال رسول الله ﷺ اذا شرب احدكم فلا يتنفس في الاناء واذا اتى الخلاء فلا يمس ذكره بيمينه ولا يتمسح بيمينه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪৭) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডান হাত তাঁর পবিত্রতা ও খাবারের জন্য ছিল এবং তাঁর বাম হাত ছিল প্রস্রাব-পায়খানা ও ঘৃণিত জিনিসের জন্য।

عَن عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ ﷺ الْيُمْنَى لِطُهُورِهِ وَطَعَامِهِ وَكَانَتْ يَدُهُ الْيُسْرَى لِخَلاَئِهِ وَمَا كَانَ مِنْ أَذًى

عن عاىشة قالت كانت يد رسول الله ﷺ اليمنى لطهوره وطعامه وكانت يده اليسرى لخلاىه وما كان من اذى

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪৮) সালমান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তিনটির কম ঢেলা দ্বারা প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার না করে।

عَن سَلْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ يَسْتَنْجِى أَحَدُكُمْ بِدُونِ ثَلاَثَةِ أَحْجَارٍ

عن سلمان قال قال رسول الله ﷺ لا يستنجى احدكم بدون ثلاثة احجار

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সালমান ফারসী (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৪৯) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন (প্রস্রাব-পায়খানার পর) ঢেলা ব্যবহার করে, তখন সে যেন বেজোড় ঢেলা ব্যবহার করে।

عَن جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ قال قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا اسْتَجْمَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُوتِرْ

عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله ﷺ اذا استجمر احدكم فليوتر

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ প্রস্রাব-পায়খানার আদব সংক্রান্ত

(৫৫০) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা গোবর বা হাড় দ্বারা প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করো না, কারণ তা তোমাদের জ্বিন ভাইদের খাদ্য।

عَن عَبْدِ اللهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لا تَسْتَنْجُوا بِالرَّوْثِ وَلا بِالْعِظَامِ فَإِنَّهُ زَادُ إِخْوَانِكُمْ مِنَ الْجِنِّ

عن عبد الله قال: قال رسول الله ﷺ لا تستنجوا بالروث ولا بالعظام فانه زاد اخوانكم من الجن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ আম গোসলখানা

(৫৫১) উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, হে লোক সকল! অবশ্যই আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন অবশ্যই এমন (ভোজনের) দস্তরখানে না বসে, যাতে মদ্য পরিবেশিত হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন সাধারণ গোসলখানায় বিবস্ত্র হয়ে প্রবেশ না করে। আর যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন সাধারণ গোসলখানায় প্রবেশ না করে।

عَن عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنهُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَقْعُدَنَّ عَلَى مَائِدَةٍ يُدَارُ عَلَيْهَا بِالْخَمْرِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا يَدْخُلْ الْحَمَّامَ إِلَّا بِإِزَارٍ وَمَنْ كَانَتْ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلَا تَدْخُلْ الْحَمَّامَ

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال يا ايها الناس اني سمعت رسول الله ﷺ يقول من كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يقعدن على ماىدة يدار عليها بالخمر ومن كان يومن بالله واليوم الاخر فلا يدخل الحمام الا بازار ومن كانت تومن بالله واليوم الاخر فلا تدخل الحمام

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ আম গোসলখানা

(৫৫২) উম্মে দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি সাধারণ গোসলখানা হতে বের হলাম। ইত্যবসরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনি আমাকে বললেন, কোত্থেকে, হে উম্মে দারদা?! আমি বললাম, গোসলখানা থেকে। তিনি বললেন, সেই সত্তার শপথ; যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! যে কোনও মহিলা তার কোন মায়ের ঘর ছাড়া অন্য স্থানে নিজের কাপড় খোলে, সে তার ও দয়াময় (আল্লাহর) মাঝে প্রত্যেক পর্দা বিদীর্ণ করে ফেলে।

عَن أُمَّ الدَّرْدَاءِ قالت: خَرَجْتُ مِنْ الْحَمَّامِ فَلَقِيَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ يَا أُمَّ الدَّرْدَاءِ قَالَتْ مِنْ الْحَمَّامِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ امْرَأَةٍ تَضَعُ ثِيَابَهَا فِي غَيْرِ بَيْتِ أَحَدٍ مِنْ أُمَّهَاتِهَا إِلَّا وَهِيَ هَاتِكَةٌ كُلَّ سِتْرٍ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الرَّحْمَنِ

عن ام الدرداء قالت: خرجت من الحمام فلقيني رسول الله ﷺ فقال من اين يا ام الدرداء قالت من الحمام فقال والذي نفسي بيده ما من امراة تضع ثيابها في غير بيت احد من امهاتها الا وهي هاتكة كل ستر بينها وبين الرحمن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ উম্মুদ দারদা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ إِلَى قَوْله تَعَالَى: مَا يُريدُ اللهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلكِنْ يُريدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! যখন তোমরা নামাযের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর এবং তোমাদের মাথা মাসাহ কর এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত কর। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তাহলে বিশেষভাবে (গোসল করে) পবিত্র হও। যদি তোমরা পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা হতে আগমন করে, অথবা তোমরা স্ত্রী-সহবাস কর এবং পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর; তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় মাসাহ কর। আল্লাহ তোমাদেরকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (সূরা মায়েদাহ ৬ )


(৫৫৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় ডাকা হবে, যে সময় তাদের ওযূর অঙ্গগুলো চমকাতে থাকবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে তার চমক বাড়াতে চায়, সে যেন তা করে। (অর্থাৎ সে যেন তার ওযূর সীমার অতিরিক্ত অংশও ধুয়ে ফেলে।)

وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ أُمَّتِي يُدْعَوْنَ يَوْمَ القِيَامَةِ غُرّاًً مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الوُضُوءِ فَمَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أنْ يُطِيلَ غُرَّتَهُ فَلْيَفْعَلْ متفقٌ عَلَيْهِ

وعن ابي هريرة قال : سمعت رسول الله ﷺ يقول ان امتي يدعون يوم القيامة غرا محجلين من اثار الوضوء فمن استطاع منكم ان يطيل غرته فليفعل متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৫৪) আবু হাযেম বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ) যখন নামাযের জন্য ওযু করছিলেন, তখন আমি তাঁর পশ্চাতে ছিলাম। দেখলাম, হাতকে লম্বা করে ধুচ্ছিলেন, এমন কি বগল পর্যন্ত হাত ফিরাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে বললাম, হে আবু হুরাইরা! এ আবার কোন ওযু? তিনি বললেন, হে ফররুখের বংশধর! তোমরা এখানে রয়েছ? যদি আমি জানতাম যে, তোমরা এখানে রয়েছ তাহলে এ ওযু করতাম না। আমি আমার বন্ধু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ওযুর পানি যদ্দূর পৌঁছবে তদ্দূর মুমিনের অঙ্গে অলংকার (জ্যোতি) শোভমান হবে।

عَن أَبِى حَازِمٍ قَالَ كُنْتُ خَلْفَ أَبِى هُرَيْرَةَ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ لِلصَّلاَةِ فَكَانَ يَمُدُّ يَدَهُ حَتَّى تَبْلُغَ إِبْطَهُ فَقُلْتُ لَهُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ مَا هَذَا الْوُضُوءُ فَقَالَ يَا بَنِى فَرُّوخَ أَنْتُمْ هَا هُنَا لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكُمْ هَا هُنَا مَا تَوَضَّأْتُ هَذَا الْوُضُوءَ سَمِعْتُ خَلِيلِى ﷺ يَقُولُ تَبْلُغُ الْحِلْيَةُ مِنَ الْمُؤْمِنِ حَيْثُ يَبْلُغُ الْوَضُوءُ

عن ابى حازم قال كنت خلف ابى هريرة وهو يتوضا للصلاة فكان يمد يده حتى تبلغ ابطه فقلت له يا ابا هريرة ما هذا الوضوء فقال يا بنى فروخ انتم ها هنا لو علمت انكم ها هنا ما توضات هذا الوضوء سمعت خليلى ﷺ يقول تبلغ الحلية من المومن حيث يبلغ الوضوء

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৫৫) উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযূ করবে, তার পাপসমূহ তার দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে। এমনকি তার নখগুলোর নিচে থেকেও (পাপ) বেরিয়ে যাবে।

وَعَن عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَن تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُج مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ رواه مسلم

وعن عثمان بن عفان قال : قال رسول الله ﷺ من توضا فاحسن الوضوء خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من تحت اظفاره رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৫৬) উক্ত রাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমার এই ওযূর মত ওযূ করতে দেখলাম। অতঃপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এরূপ ওযূ করবে, তার পূর্বকৃত পাপরাশি মাফ করা হবে এবং তার নামায ও মসজিদের দিকে চলার সওয়াব অতিরিক্ত হবে।

وَعَنْهُ قَالَ : رَأيتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأ هكَذَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَكَانَتْ صَلاَتُهُ وَمَشْيُهُ إِلَى المَسْجدِ نَافِلَةً رواه مسلم

وعنه قال : رايت رسول الله ﷺ توضا مثل وضوىي هذا ثم قال من توضا هكذا غفر له ما تقدم من ذنبه وكانت صلاته ومشيه الى المسجد نافلة رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৫৭) উসমান (রাঃ) বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি যখনই সুন্দরভাবে ওযু করে নামায পড়ে, তখনই তার ঐ ওযুর সময় থেকে দ্বিতীয় নামায পড়া পর্যন্ত মধ্যবর্তীকালীন সময়ের সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

عثمان رضي الله عَنه قَالَ سمعت رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ يقول مَا مِنِ امْرِىءٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يُصَلِّي الصَّلاَةَ إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلاَةِ الأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا

عثمان رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول ما من امرىء يتوضا فيحسن وضوءه ثم يصلي الصلاة الا غفر له ما بينه وبين الصلاة الاخرى حتى يصليها

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৫৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম কিংবা মু’মিন বান্দাহ যখন ওযূ করবে এবং যখন সে নিজ মুখমণ্ডল ধৌত করবে, তখন তার মুখমণ্ডল হতে সেই গোনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যাবে, যে সব গোনাহ তার দু’টি চোখ দিয়ে দেখার ফলে সংঘটিত হয়েছিল। (অনুরূপভাবে) যখন সে নিজ হাত দু’টি ধোবে, তখন তা হতে সে সব পাপ পানির সাথে বা পানির শেষ বিন্দুর সাথে নির্গত হয়ে যাবে, যে সব পাপ তার দুই হাত দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। এবং যখন সে নিজ পা দু’টি ধৌত করবে, তখন তার পা দু’টি হতে সে সমস্ত পাপরাশি পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে বের হয়ে যাবে, যেগুলি তার দু’টি পায়ে চলার ফলে সংঘটিত হয়েছিল। শেষ অবধি সে (ক্ষুদ্র) পাপরাশি হতে পাক-পবিত্র হয়ে বেরিয়ে আসবে।

وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا تَوَضَّأ العَبْدُ المُسْلِمُ أَو المُؤْمِنُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ المَاءِ أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ المَاءِ فَإذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ المَاءِ أَو مَعَ آخِرِ قَطْرِ المَاءِ فَإذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ المَاءِ أَو مَعَ آخِرِ قَطْرِ المَاءِ حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيَّاً مِنَ الذُّنُوبِ رواه مسلم

وعن ابي هريرة ان رسول الله ﷺ قال اذا توضا العبد المسلم او المومن فغسل وجهه خرج من وجهه كل خطيىة نظر اليها بعينيه مع الماء او مع اخر قطر الماء فاذا غسل يديه خرج من يديه كل خطيىة كان بطشتها يداه مع الماء او مع اخر قطر الماء فاذا غسل رجليه خرجت كل خطيىة مشتها رجلاه مع الماء او مع اخر قطر الماء حتى يخرج نقيا من الذنوب رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৫৯) উক্ত রাবী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) কবরস্থানে এসে (কবরবাসীদের সম্বোধন করে) বললেন, হে (পরকালের) ঘরবাসী মু’মিনগণ! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষণ হোক। যদি আল্লাহ চান তো আমরাও তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব। আমার বাসনা যে, যদি আমরা আমাদের ভাইদেরকে দেখতে পেতাম। সাহাবীগণ নিবেদন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেন, তোমরা তো আমার সহচরবৃন্দ। আমার ভাই তারা, যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি।

সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো পর্যন্ত আগমন করেনি, তাদেরকে আপনি কিভাবে চিনতে পারবেন? তিনি বললেন, আচ্ছা বল, যদি খাঁটি কাল রঙের ঘোড়ার দলে, কোন লোকের কপাল ও পা সাদা দাগবিশিষ্ট ঘোড়া থাকে, তাহলে সে তার ঘোড়া চিনতে পারবে না কি? তাঁরা বললেন, অবশ্যই পারবে, হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেন, তারা এই অবস্থায় (হাশরের মাঠে) আগমন করবে যে, ওযূ করার দরুন তাদের হাত-পা চমকাতে থাকবে। আর আমি হওযে কাউসার-এ তাদের অগ্রগামী ব্যবস্থাপক হব। (অর্থাৎ, তাদের আগেই আমি সেখানে পৌঁছে যাব।)

وَعَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَتَى المَقبَرَةَ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَومٍ مُؤْمِنِينَ وَإنَّا إنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ وَدِدْتُ أنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوانَنَا قَالُوْا : أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ أنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانُنَا الَّذِينَ لَمْ يَأتُوا بَعْدُ قَالُوْا : كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأتِ بَعْدُ مِنْ أُمَّتِكَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ فَقَالَ أَرَأيْتَ لَوْ أنَّ رَجُلاً لَهُ خَيلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَيْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلاَ يَعْرِفُ خَيْلَهُ ؟ قَالُوْا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ فإِنَّهُمْ يَأتُونَ غُرّاً مُحَجَّلينَ مِنَ الوُضُوءِ وَأنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الحَوْضِ رواه مسلم

وعنه : ان رسول الله ﷺ اتى المقبرة فقال السلام عليكم دار قوم مومنين وانا ان شاء الله بكم لاحقون وددت انا قد راينا اخواننا قالوا : اولسنا اخوانك يا رسول الله ؟ قال انتم اصحابي واخواننا الذين لم ياتوا بعد قالوا : كيف تعرف من لم يات بعد من امتك يا رسول الله ؟ فقال ارايت لو ان رجلا له خيل غر محجلة بين ظهري خيل دهم بهم الا يعرف خيله ؟ قالوا : بلى يا رسول الله قال فانهم ياتون غرا محجلين من الوضوء وانا فرطهم على الحوض رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬০) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা সমবেত সহচরদের উদ্দেশ্যে) বললেন, তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলব না কি, যার দ্বারা আল্লাহ গোনাহসমূহকে মোচন করে দেবেন এবং (জান্নাতে) তার দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন? তাঁরা বললেন, ’অবশ্যই, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, (তা হচ্ছে) কষ্টকর অবস্থায় পরিপূর্ণরূপে ওযূ করা, অধিক মাত্রায় মসজিদে গমন করা এবং এক ওয়াক্তের নামায আদায় করে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। আর এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ। এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ।

وَعَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَلاَ أَدُّلُكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ ؟ قَالُوْا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِسْبَاغُ الوُضُوءِ عَلَى المَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الخُطَا إِلَى المَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ رواه مسلم

وعنه : ان رسول الله ﷺ قال الا ادلكم على ما يمحو الله به الخطايا ويرفع به الدرجات ؟ قالوا : بلى يا رسول الله قال اسباغ الوضوء على المكاره وكثرة الخطا الى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة فذلكم الرباط فذلكم الرباط رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬১) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার ওযূ নষ্ট হয়ে গেছে, তার পুনরায় ওযূ না করা পর্যন্ত নামায কবুল হবে না।

عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَقْبَلُ اللهُ صَلَاةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ

عن ابي هريرة عن النبي ﷺ قال لا يقبل الله صلاة احدكم اذا احدث حتى يتوضا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬২) সাওবান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (প্রত্যেক বিষয়ে) কর্তব্যনিষ্ঠ রহ; আর তাতে কখনই সক্ষম হবে না। জেনে রেখো, তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল নামায। আর মুমিন ব্যতীত কেউই ওযুর হিফাযত করবে না।

عَن ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اسْتَقِيمُوا وَلَنْ تُحْصُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ خَيرَ أَعْمَالِكُمُ الصَّلاةُ وَلا يُحَافِظُ عَلَى الْوُضُوءِ إِلا مُؤْمِنٌ

عن ثوبان عن النبي ﷺ قال استقيموا ولن تحصوا واعلموا ان خير اعمالكم الصلاة ولا يحافظ على الوضوء الا مومن

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ সাওবান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬৩) আবূ মালিক আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (বাহ্যিক) পবিত্রতা অর্জন করা হল অর্ধেক ঈমান।

وَعَنْ أَبيْ مالك الأشعري قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺالطُّهُورُ شَطْرُ الإيمَانِ رواه مسلم

وعن ابي مالك الاشعري قال: قال رسول الله ﷺالطهور شطر الايمان رواه مسلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে তার উভয় পায়ের গোড়ালী (ভালোরূপে) ধৌত করেনি। এর ফলে তিনি বললেন, (ঐ) গোড়ালীগুলির জন্য জাহান্নামের দুর্ভোগ।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ رَأَى رَجُلاً لَمْ يَغْسِلْ عَقِبَيْهِ فَقَالَ وَيْلٌ لِلأَعْقَابِ مِنَ النَّارِ

عن ابى هريرة ان النبى ﷺ راى رجلا لم يغسل عقبيه فقال ويل للاعقاب من النار

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬৫) উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পরিপূর্ণরূপে ওযূ করে যে ব্যক্তি এই দু’আ বলবে, ’আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ।’ অর্থাৎ, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাস ও প্রেরিত দূত (রসূল)। তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম ৫৭৬, আবু দাঊদ ১৬৯, ইবনে মাজাহ ৪৭০)

ইমাম তিরমিযী (উক্ত দু’আর শেষে) এ শব্দগুলি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, ’আল্লা-হুম্মাজ্আলনী মিনাত্‌তাওয়া-বীনা অজ্আলনী মিনাল মুতাত্বাহহিরীন।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর। (তিরমিযী ৫৫, সহীহ, তামামুল মিন্নাহ)

وَعَن عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ – أَوْ فَيُسْبِغُ – الوُضُوءَ ثُمَّ يَقُوْلُ : أَشهَدُ أَنْ لاَ إلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ إِلاَّ فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ رواه مسلم وزاد الترمذي اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ المُتَطَهِّرِينَ

وعن عمر بن الخطاب عن النبي ﷺ قال ما منكم من احد يتوضا فيبلغ – او فيسبغ – الوضوء ثم يقول : اشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له واشهد ان محمدا عبده ورسوله الا فتحت له ابواب الجنة الثمانية يدخل من ايها شاء رواه مسلم وزاد الترمذي اللهم اجعلني من التوابين واجعلني من المتطهرين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬৬) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল বলেছেন, ’’...আর যে ব্যক্তি ওযুর পর (নিম্নের যিকর) বলে, তার জন্য তা এক শুভ্র পত্রে লিপিবদ্ধ করা হয়। অতঃপর তা সীল করে দেওয়া হয়, যা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নষ্ট করা হয় না।

سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ

’’সুবহানাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরকা অ আতূবু ইলাইক্।’’

অর্থাৎ, তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই একমাত্র সত্য উপাস্য। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন (তওবা) করছি।

عَنْ أَبيْ سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَقَالَ : سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ كُتِبَ فِي رَقٍّ ثَُم طُبِعَ بِطَابَعٍ فَلَمْ يُكْسَرْ إِلَى يَوْمِ ألْقِيَامَةِ

عن ابي سعيد عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من توضا فقال : سبحانك اللهم وبحمدك اشهد ان لا اله الا انت استغفرك واتوب اليك كتب في رق ثم طبع بطابع فلم يكسر الى يوم القيامة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬৭) আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ (রহঃ) নিজ পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একদা প্রভাতকালে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে ডেকে বললেন, হে বিলাল! কী এমন কাজ করে তুমি জান্নাতে আমার আগে চলে গেলে? আমি গত রাত্রে (স্বপ্নে) জান্নাতে প্রবেশ করলে তোমার (জুতার) শব্দ আমার সামনে থেকে শুনতে পেলাম! বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি যখনই আযান দিয়েছি, তখনই দুই রাকআত নামায পড়েছি। আর যখনই আমি অপবিত্র হয়েছি, তখনই আমি সাথে সাথে ওযু করে নিয়েছি। এ শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই কাজের জন্যই। (জান্নাতে আমার আগে আগে তোমার শব্দ শুনলাম।)

عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبيْ هِ قَالَ: أَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَدَعَا بِلَالًافَقَالَ: «يَا بِلَالُ بِمَ سَبَقْتَنِي إِلَى الْجَنَّةِ ؟ إِنِّي دَخَلْتُ الْبَارِحَةَ الْجَنَّةَ فَسَمِعْتُ خَشْخَشَتَكَ أَمَامِي» فَقَالَ بِلَالٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَذْنَبْتُ قَطُّ إِلَّا صَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ وَمَا أَصَابَنِي حَدَثٌ قَطُّ إِلَّا تَوَضَّأْتُ عَندَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بِهَذَا»

عبد الله بن بريدة عن ابي ه قال: اصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فدعا بلالافقال: «يا بلال بم سبقتني الى الجنة ؟ اني دخلت البارحة الجنة فسمعت خشخشتك امامي» فقال بلال: يا رسول الله ما اذنبت قط الا صليت ركعتين وما اصابني حدث قط الا توضات عندها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بهذا»

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬৮) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা ফজরের নামাযের সময় আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালকে বললেন, হে বিলাল! তুমি ইসলামে তোমার নিকট সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক উপকারী যে কাজ করেছ, তা আমাকে বল। কারণ আমি জান্নাতে আমার আগে আগে তোমার (জুতার) শব্দ শুনতে পেলাম! বিলাল বললেন, আমি ইসলামে আমার নিকট সবচেয়ে বেশি আশাব্যঞ্জক উপকারী এ ছাড়া অন্য কাজ করিনি যে, আমি দিবারাত্রে যখনই পরিপূর্ণ পবিত্র হয়েছি, তখনই সেই পবিত্রতা দ্বারা আল্লাহর লিখিত তাকদীর অনুযায়ী নামায পড়েছি।

عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِبِلاَلٍ عَندَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِى بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ عَندَكَ فِى الإِسْلاَمِ مَنْفَعَةً فَإِنِّى سَمِعْتُ اللَّيْلَةَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَىَّ فِى الْجَنَّةِ قَالَ بِلاَلٌ: مَا عَمِلْتُ عَمَلاً فِى الإِسْلاَمِ أَرْجَى عَندِى مَنْفَعَةً مِنْ أَنِّى لاَ أَتَطَهَّرُ طُهُورًا تَامًّا فِى سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كَتَبَ اللهُ لِى أَنْ أُصَلِّىَ

عن ابى هريرة قال قال رسول الله ﷺ لبلال عند صلاة الغداة يا بلال حدثنى بارجى عمل عملته عندك فى الاسلام منفعة فانى سمعت الليلة خشف نعليك بين يدى فى الجنة قال بلال: ما عملت عملا فى الاسلام ارجى عندى منفعة من انى لا اتطهر طهورا تاما فى ساعة من ليل ولا نهار الا صليت بذلك الطهور ما كتب الله لى ان اصلى

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৬৯) উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি যখনই সুন্দরভাবে ওযু করে সবিনয়ে একাগ্রতার সাথে (কায়মনোবাক্যে) দুই রাকআত নামায পড়ে তখনই তার জন্য জান্নাত অবধার্য হয়ে যায়।

عَن عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّى رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ

عن عقبة بن عامر قال قال رسول الله ﷺ ما من مسلم يتوضا فيحسن وضوءه ثم يقوم فيصلى ركعتين مقبل عليهما بقلبه ووجهه الا وجبت له الجنة

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ ওযূর ফযীলত

(৫৭০) যায়দ বিন খালেদ জুহানী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে, কোন ভুল না করে (একাগ্রচিত্তে) দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির পূর্বেকার সমূদয় গোনাহ মাফ হয়ে যায়।

عَن زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِىِّ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يَسْهُو فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

عن زيد بن خالد الجهنى ان النبى ﷺ قال من توضا فاحسن وضوءه ثم صلى ركعتين لا يسهو فيهما غفر له ما تقدم من ذنبه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম

(৫৭১) উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) ও আম্মার বিন ইয়াসের (রাঃ) এর কাহিনী। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন প্রয়োজনে উভয়কে কোথাও পাঠিয়েছিলেন। সফরে উমার ও আম্মার উভয়েই (স্বপ্নদোষ হওয়ার ফলে) অপবিত্র হয়ে যান। (পানি ছিল না কাছে।) আম্মার (রাঃ) নিজ ইজতিহাদে স্থির করলেন যে, পানি যেমন দেহকে পবিত্র করে, তেমনি মাটিও করবে। ফলে তিনি পশুর মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়ার মত গড়াগড়ি দিলেন। কারণ, তিনি সর্ব শরীরে মাটি লাগানো জরুরী মনে করলেন, যেমন সারা শরীরকে পানি দিয়ে ধোয়া ওয়াজেব। সুতরাং তিনি ঐভাবে পবিত্রতা অর্জন করে নামায আদায় করলেন।

পক্ষান্তরে উমার (রাঃ) নামাযই পড়লেন না। অতঃপর যখন তাঁরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন, তখন (ঘটনা জেনে) তিনি তাঁদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন। আম্মার (রাঃ) কে বললেন, তুমি তোমার হাত দ্বারা এইরূপ করলেই যথেষ্ট হত। এই বলে তিনি নিজের উভয় হাতকে মাটিতে একবার মারলেন। অতঃপর (তাতে ফুঁক দিয়ে) উভয় হাত দ্বারা চেহারা মাসাহ করলেন। তারপর বাম হাতের চেটো দ্বারা ডান হাতের এবং ডান হাতের চেটো দ্বারা বাম হাতের চেটো মাসাহ করলেন।

جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أُصِبْ الْمَاءَ فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَفَرٍ أَنَا وَأَنْتَ فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ فَذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا) فَضَرَبَ النَّبِيُّ ﷺ بِكَفَّيْهِ الْأَرْضَ وَنَفَخَ فِيهِمَا ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ

جاء رجل الى عمر بن الخطاب فقال اني اجنبت فلم اصب الماء فقال عمار بن ياسر لعمر بن الخطاب اما تذكر انا كنا في سفر انا وانت فاما انت فلم تصل واما انا فتمعكت فصليت فذكرت للنبي ﷺ فقال النبي ﷺ انما كان يكفيك هكذا) فضرب النبي ﷺ بكفيه الارض ونفخ فيهما ثم مسح بهما وجهه وكفيه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম

(৫৭২) হুযাইফা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সকল মানুষ (উম্মতের) উপর আমাদেরকে ৩টি বিষয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে; আমাদের কাতারকে করা হয়েছে ফিরিশতাবর্গের কাতারের মত, সারা পৃথিবীকে আমাদের জন্য মসজিদ করে দেওয়া হয়েছে এবং পানি না পাওয়া গেলে মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করা হয়েছে।

عَن حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فُضِّلْنَا عَلَى النَّاسِ بِثَلاَثٍ جُعِلَتْ صُفُوفُنَا كَصُفُوفِ الْمَلاَئِكَةِ وَجُعِلَتْ لَنَا الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدًا وَجُعِلَتْ تُرْبَتُهَا لَنَا طَهُورًا إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ

عن حذيفة قال قال رسول الله ﷺ فضلنا على الناس بثلاث جعلت صفوفنا كصفوف الملاىكة وجعلت لنا الارض كلها مسجدا وجعلت تربتها لنا طهورا اذا لم نجد الماء

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম

(৫৭৩) ইমরান বিন হুসাইন (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এক সময় তিনি লোকেদের নিয়ে নামায পড়লেন। যখন তিনি নামায শেষ করলেন, তখন দেখলেন একটি লোক একটু সরে পৃথক দাঁড়িয়ে আছে। সে জামাআতে নামাযও পড়েনি। তিনি তাকে বললেন, কি কারণে তুমি জামাআতে নামায পড়লে না? লোকটি বলল, আমি নাপাকে আছি, আর পানিও নেই। তিনি বললেন, পাক মাটি ব্যবহার কর। তোমার জন্য তাই যথেষ্ট।

عَن عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ الْخُزَاعِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَى رَجُلًا مُعْتَزِلًا لَمْ يُصَلِّ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ يَا فُلَانُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ فِي الْقَوْمِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلَا مَاءَ قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ

عن عمران بن حصين الخزاعي ان رسول الله ﷺ راى رجلا معتزلا لم يصل في القوم فقال يا فلان ما منعك ان تصلي في القوم فقال: يا رسول الله اصابتني جنابة ولا ماء قال عليك بالصعيد فانه يكفيك

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম

(৫৭৪) আবূ যার্র (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দশ বছর যাবৎ পানি না পাওয়া গেলে মুসলিমের ওযুর উপকরণ হল পাক মাটি। পানি পাওয়া গেলে গোসল করে নেওয়া উচিত। আর এটা অবশ্যই উত্তম।

عَنْ أَبيْ ذر قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ الصَّعِيدَ الطَّيِّبَ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ وَإِنْ لَمْ يَجِدْ الْمَاءَ عَشْرَ سِنِينَ وَإِذَا وَجَدَ الْمَاءَ فَلْيُمِسَّهُ بَشَرَتَهُ فَإِنَّ ذَلِكَ هُوَ خَيْرٌ

عن ابي ذر قال قال النبي ﷺ ان الصعيد الطيب وضوء المسلم وان لم يجد الماء عشر سنين واذا وجد الماء فليمسه بشرته فان ذلك هو خير

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম

(৫৭৫) জাবের (রাঃ) বলেন, একদা আমরা কোন সফরে বের হলাম। আমাদের মধ্যে এক ব্যক্তির মাথায় পাথরের আঘাত লেগে ক্ষত হয়েছিল। এরপর তার স্বপ্নদোষও হল। সে সঙ্গীদেরকে জিজ্ঞাসা করল, আমার জন্য কি তায়াম্মুম বৈধ মনে কর? সকলে বলল, তুমি পানি ব্যবহার করতে অক্ষম নও। অতএব তোমার জন্য আমরা তায়াম্মুম বৈধ মনে করি না। তা শুনে লোকটি গোসল করল এবং এর প্রতিক্রিয়ায় সে মারা গেল।

অতঃপর আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এলাম তখন তাঁকে সেই লোকটার ঘটনা খুলে বললাম। তা শুনে তিনি বললেন, ওরা ওকে মেরে ফেলল, আল্লাহ ওদেরকে ধ্বংস করুক! যদি ওরা জানত না, তবে জেনে কেন নেয়নি? অজ্ঞতার ওষুধ তো প্রশ্নই। তার জন্য তায়াম্মুম ও (পটি বেঁধে) মাসাহ যথেষ্ট ছিল।

عَن جَابِرٍ قَالَ خَرَجْنَا فِى سَفَرٍ فَأَصَابَ رَجُلاً مِنَّا حَجَرٌ فَشَجَّهُ فِى رَأْسِهِ ثُمَّ احْتَلَمَ فَسَأَلَ أَصْحَابَهُ فَقَالَ هَلْ تَجِدُونَ لِى رُخْصَةً فِى التَّيَمُّمِ فَقَالُوْا مَا نَجِدُ لَكَ رُخْصَةً وَأَنْتَ تَقْدِرُ عَلَى الْمَاءِ فَاغْتَسَلَ فَمَاتَ فَلَمَّا قَدِمْنَا عَلَى النَّبِىِّ ﷺ أُخْبِرَ بِذَلِكَ فَقَالَ قَتَلُوهُ قَتَلَهُمُ اللهُ أَلاَّ سَأَلُوا إِذْ لَمْ يَعْلَمُوا فَإِنَّمَا شِفَاءُ الْعِىِّ السُّؤَالُ إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيهِ أَنْ يَتَيَمَّمَ وَيَعْصِرَ

عن جابر قال خرجنا فى سفر فاصاب رجلا منا حجر فشجه فى راسه ثم احتلم فسال اصحابه فقال هل تجدون لى رخصة فى التيمم فقالوا ما نجد لك رخصة وانت تقدر على الماء فاغتسل فمات فلما قدمنا على النبى ﷺ اخبر بذلك فقال قتلوه قتلهم الله الا سالوا اذ لم يعلموا فانما شفاء العى السوال انما كان يكفيه ان يتيمم ويعصر

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম

(৫৭৬) আমর বিন আস (রাঃ) বলেন, যাতুস সালাসিল যুদ্ধ-সফরে এক শীতের রাতে আমার স্বপ্নদোষ হল। আমার ভয় হল যে, যদি গোসল করি তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব। তাই আমি তায়াম্মুম করে সঙ্গীদেরকে নিয়ে (ইমাম হয়ে) ফজরের নামায পড়লাম। আমার সঙ্গীরা একথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, হে আমর! তুমি নাপাক অবস্থায় তোমার সঙ্গীদের ইমামতি করেছ? আমি গোসল না করার কারণ তাঁকে বললাম। আরো বললাম যে, আল্লাহ তা’আলার এ বাণীও আমি শুনেছি, তিনি বলেন, তোমরা আত্মহত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি বড় দয়াশীল। (নিসাঃ ২৯) এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং কিছুই বললেন না।

عَن عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ احْتَلَمْتُ فِى لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ فِى غَزْوَةِ ذَاتِ السَّلاَسِلِ فَأَشْفَقْتُ إِنِ اغْتَسَلْتُ أَنْ أَهْلِكَ فَتَيَمَّمْتُ ثُمَّ صَلَّيْتُ بِأَصْحَابِى الصُّبْحَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ يَا عَمْرُو صَلَّيْتَ بِأَصْحَابِكَ وَأَنْتَ جُنُبٌ فَأَخْبَرْتُهُ بِالَّذِى مَنَعَنى مِنَ الاِغْتِسَالِ وَقُلْتُ إِنِّى سَمِعْتُ اللهَ يَقُولُ (وَلاَ تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا) فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَلَمْ يَقُلْ شَيْئًا

عن عمرو بن العاص قال احتلمت فى ليلة باردة فى غزوة ذات السلاسل فاشفقت ان اغتسلت ان اهلك فتيممت ثم صليت باصحابى الصبح فذكروا ذلك للنبى ﷺ فقال يا عمرو صليت باصحابك وانت جنب فاخبرته بالذى منعنى من الاغتسال وقلت انى سمعت الله يقول (ولا تقتلوا انفسكم ان الله كان بكم رحيما) فضحك رسول الله ﷺ ولم يقل شيىا

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আমর ইবনুল আস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা

পরিচ্ছেদঃ তায়াম্মুম

(৫৭৭) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, দুই ব্যক্তি সফরে বের হল। নামাযের সময় হলে তাদের নিকট পানি না থাকার কারণে তায়াম্মুম করে উভয়েই নামায পড়ে নিল। অতঃপর ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বেই তারা পানি পেয়ে গেল। ওদের মধ্যে একজন পানি দ্বারা ওযু করে পুনরায় ঐ নামায ফিরিয়ে পড়ল। কিন্তু অপর জন পড়ল না। তারপর তারা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলে ঘটনা খুলে বলল। তিনি যে নামায ফিরিয়ে পড়েনি তার উদ্দেশ্যে বললেন, তোমার আমল সুন্নাহর অনুসারী হয়েছে এবং তোমার নামাযও যথেষ্ট (শুদ্ধ) হয়ে গেছে। আর যে ওযু করে নামায ফিরিয়ে পড়েছিল, তার উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, তোমার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।

عَن أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ خَرَجَ رَجُلاَنِ فِى سَفَرٍ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ مَعَهُمَا مَاءٌ فَتَيَمَّمَا صَعِيدًا طَيِّبًا فَصَلَّيَا ثُمَّ وَجَدَا الْمَاءَ فِى الْوَقْتِ فَأَعَادَ أَحَدُهُمَا الصَّلاَةَ وَالْوُضُوءَ وَلَمْ يُعِدِ الآخَرُ ثُمَّ أَتَيَا رَسُولَ اللهِ ﷺ فَذَكَرَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لِلَّذِى لَمْ يُعِدْ أَصَبْتَ السُّنَّةَ وَأَجْزَأَتْكَ صَلاَتُكَ وَقَالَ لِلَّذِى تَوَضَّأَ وَأَعَادَ لَكَ الأَجْرُ مَرَّتَيْنِ

عن ابى سعيد الخدرى قال خرج رجلان فى سفر فحضرت الصلاة وليس معهما ماء فتيمما صعيدا طيبا فصليا ثم وجدا الماء فى الوقت فاعاد احدهما الصلاة والوضوء ولم يعد الاخر ثم اتيا رسول الله ﷺ فذكرا ذلك له فقال للذى لم يعد اصبت السنة واجزاتك صلاتك وقال للذى توضا واعاد لك الاجر مرتين

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
হাদীস সম্ভার
৫/ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৭১ পর্যন্ত, সর্বমোট ৭১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে