পরিচ্ছেদঃ যাদু-বিদ্যা কঠোরভাবে হারাম, এতীমের মাল ভক্ষণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, অপবাদ দেওয়া সর্বনাশী কর্ম
(২০২৯) আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’সাতটি ধ্বংসকারী কর্ম হতে দূরে থাক।’’ সকলে বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! তা কী কী?’ তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শির্ক করা, যাদু করা, ন্যায় সঙ্গত অধিকার ছাড়া আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন তা হত্যা করা, সূদ খাওয়া, এতীমের মাল ভক্ষণ করা, (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) যুদ্ধের দিন পলায়ন করা এবং সতী উদাসীনা মুমিনা নারীর চরিত্রে মিথ্যা কলঙ্ক দেওয়া।’
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ وَمَا هُنَّ قَالَ الشِّرْكُ بِاللهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِى حَرَّمَ اللهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَأَكْلُ الرِّبَا وَالتَّوَلِّى يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاَتِ الْمُؤْمِنَاتِ
পরিচ্ছেদঃ যাদু-বিদ্যা কঠোরভাবে হারাম, এতীমের মাল ভক্ষণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, অপবাদ দেওয়া সর্বনাশী কর্ম
(২০৩০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার অধিকৃত দাসের উপর ব্যভিচারের মিথ্যা কলঙ্ক দেবে, কিয়ামতের দিন তার উপর ’হদ্দ্’ (দণ্ডবিধি) কায়েম করা হবে। তবে তা যদি সত্য হয়, তবে ভিন্ন কথা।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ ﷺ مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ بِالزِّنَا يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ
পরিচ্ছেদঃ যাদু-বিদ্যা কঠোরভাবে হারাম, এতীমের মাল ভক্ষণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, অপবাদ দেওয়া সর্বনাশী কর্ম
(২০৩১) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আর যে ব্যক্তি কোন মুমিন সম্পর্কে এমন কথা বলে, যা তার মধ্যে নেই, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ জাহান্নামের নর্দমায় বাস করতে দেবেন; যতক্ষণ পর্যন্ত সে যা বলেছে তা হতে বের হয়ে না আসে। (কিন্তু তখন আর সে বের হতে পারবে না।)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَمَنْ قَالَ فِى مُؤْمِنٍ مَا لَيْسَ فِيهِ حُبِسَ فِىْ رَدْغَةِ الْـخَبَالِ حَتّٰـى يَخْرُجَ مِمَّا قَالَ
পরিচ্ছেদঃ যাদু-বিদ্যা কঠোরভাবে হারাম, এতীমের মাল ভক্ষণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, অপবাদ দেওয়া সর্বনাশী কর্ম
(২০৩২) একদিন আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কা’বার প্রতি দৃষ্টিপাত করে বললেন, ’কি মহান তুমি! তোমার মর্যাদা কত মহান! কিন্তু মুমিন তোমার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ।’
نَظَرَ ابْنُ عُمَرَ يَوْمًا إِلَى البَيْتِ أَوْ إِلَى الكَعْبَةِ فَقَالَ: «مَا أَعْظَمَكِ وَأَعْظَمَ حُرْمَتَكِ، وَالمُؤْمِنُ أَعْظَمُ حُرْمَةً عِنْدَ اللَّهِ مِنْكِ
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমকে তুচ্ছজ্ঞান করা হারাম
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ عَسَىٰ أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِنْ نِسَاءٍ عَسَىٰ أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِنْهُنَّ وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! একদল পুরুষ যেন অপর একদল পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হয় তারা উপহাসকারী দল অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং একদল নারী যেন অপর একদল নারীকেও উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হয় তারা উপহাসকারিণী দল অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না; কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। যারা (এ ধরনের আচরণ হতে) নিবৃত্ত না হয়, তারাই সীমালংঘনকারী। (সূরা হুজুরাত ১১) তিনি অন্য জায়গায় বলেন,
وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ
অর্থাৎ, দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে। (সূরা হুমাযাহ১)
(২০৩৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ ভাবে।
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ المُسْلِمَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমকে তুচ্ছজ্ঞান করা হারাম
(২০৩৪) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (এ কথা শুনে) এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ’মানুষ তো পছন্দ করে যে, তার কাপড়-চোপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, (তাহলে সেটাও কি অহংকারের মধ্যে গণ্য হবে?)’ তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য ভালবাসেন। অহংকার হচ্ছে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা ও মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।
وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لاَ يَدْخُلُ الجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ فَقَالَ رَجُلٌ : إِنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أَنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَناً وَنَعْلُهُ حَسَنةً فَقَالَ إِنَّ اللهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الجَمَالَ الكِبْرُ : بَطَرُ الحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমকে তুচ্ছজ্ঞান করা হারাম
(২০৩৫) জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন বলল, ’আল্লাহর কসম! আল্লাহ অমুককে ক্ষমা করবেন না।’ আল্লাহ আযযা অজাল্ল বললেন, ’কে সে আমার উপর কসম খায় এ মর্মে যে, আমি অমুককে ক্ষমা করব না। আমি তাকেই ক্ষমা করলাম এবং তোমার (শপথকারীর) ভার কৃতকর্ম নষ্ট করে দিলাম!
وَعَنْ جُندُبِ بنِ عَبدِ الله قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ رَجُلٌ : وَاللهِ لاَ يَغْفِرُ اللهُ لِفُلاَنٍ، فَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لاَ أَغْفِرَ لِفُلاَنٍ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ বংশগর্ব
(২০৩৬) আবূ মালেক আশআরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’আমার উম্মতের মাঝে চারটি কাজ হল জাহেলিয়াতের প্রথা, যা তারা ত্যাগ করবে না; বংশ নিয়ে গর্ব করা, (কারো) বংশ-সূত্রে খোঁটা দেওয়া, তারা (ও নক্ষত্রের) মাধ্যমে বৃষ্টির আশা করা এবং (মুর্দার জন্য) মাতম করা।
عن أبي مَالِكٍ الأَشْعَرِىَّ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ أَرْبَعٌ فِى أُمَّتِى مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لاَ يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَخْرُ فِى الأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِى الأَنْسَابِ وَالاِسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ
পরিচ্ছেদঃ বংশগর্ব
(২০৩৭) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন লোককে দেখো যে, সে জাহেলিয়াতের বংশ-সম্পর্ক উত্থাপন করছে, তাহলে তোমরা তাকে তার বাপের লিঙ্গ কামড়াতে বলো এবং ইঙ্গিত করো না। (বরং স্পষ্ট বলো)।’
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَتَعَزَّى بِعَزَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَعِضُّوهُ بِهَنِ أبِيهِ وَلَا تُكَنُّوا
পরিচ্ছেদঃ বংশগর্ব
(২০৩৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেরা যেন মৃত বাপ-দাদাদের নিয়ে ফখর করা অবশ্যই ত্যাগ করে। তারা তো জাহান্নামের কয়লা মাত্র। তা ত্যাগ না করলে তারা সেই গোবুরে পোকার চেয়েও নিকৃষ্ট হবে যে নিজ নাক দ্বারা মল ঠেলে নিয়ে যায়। অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের গর্ব ও ফখর দূর করে দিয়েছেন। মানুষ হয়তো মুত্তাকী (সংযমশীল), মুমিন অথবা পাপাচারী বদমায়েশ। সকল মানুষই আদমের সন্তান এবং আদম মাটি হতে সৃষ্ট।
عَن أَبِي عَن أَبِي هُرَيْرَةَ عَن النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَفْتَخِرُونَ بِآبَائِهِمْ الَّذِينَ مَاتُوا إِنَّمَا هُمْ فَحْمُ جَهَنَّمَ أَوْ لَيَكُونُنَّ أَهْوَنَ عَلَى اللَّهِ مِنْ الْجُعَلِ الَّذِي يُدَهْدِهُ الْخِرَاءَ بِأَنْفِهِ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذْهَبَ عَنْكُمْ عُبِّيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَفَخْرَهَا بِالْآبَاءِ إِنَّمَا هُوَ مُؤْمِنٌ تَقِيٌّ وَفَاجِرٌ شَقِيٌّ النَّاسُ كُلُّهُمْ بَنُو آدَمَ وَآدَمُ خُلِقَ مِنْ تُرَابٍ
পরিচ্ছেদঃ বংশগর্ব
(২০৩৯) তাশরীকের দিনসমূহের মধ্যভাগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খুতবা যিনি শুনেছেন, তাঁর থেকে বর্ণনা করে আবূ নাযরাহ বলেন, তিনি বলেছেন, হে লোক সকল! তোমাদের প্রতিপালক এক, তোমাদের পিতা এক। শোনো! আরবীর উপর অনারবীর এবং অনারবীর উপর আরবীর, কৃষ্ণকায়ের উপর শ্বেতকায়ের এবং শ্বেতকায়ের উপর কৃষ্ণকায়ের কোন শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নেই। শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা আছে তো কেবল ’তাক্বওয়া’র ভিত্তিতেই।
عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عن مَنْ سَمِعَ خُطْبَةَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي وَسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَلَا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ، أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلَى عَجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا لِأَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، وَلَا أَسْوَدَ عَلَى أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى
পরিচ্ছেদঃ শারয়ীভাবে প্রমাণিত কারো বংশে খোঁটা দেওয়া হারাম
মহান আল্লাহ বলেছেন,
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا
অর্থাৎ, যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮)
(২০৪০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের মধ্যে দু’টি এমন দোষ রয়েছে, যা আসলে কাফেরদের (আচরণ), বংশে খোঁটা দেওয়া এবং মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করা।
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اثْنَتَان فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ : الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ আত্মহত্যা মহাপাপ
(২০৪১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন পাহাড় হতে নিজেকে ফেলে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে ফেলে অনুরূপ শাস্তিভোগ করবে। যে ব্যক্তি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও সর্বদা চিরকালের জন্য বিষ পান করে যাতনা ভোগ করবে। আর যে ব্যক্তি কোন লৌহখণ্ড (ছুরি ইত্যাদি) দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি জাহান্নামেও ঐ লৌহখণ্ড দ্বারা সর্বদা ও চিরকালের জন্য নিজেকে আঘাত করে যাতনা ভোগ করতে থাকবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَتَرَدَّى فِيهِ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ تَحَسَّى سُمًّا فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِحَدِيدَةٍ فَحَدِيدَتُهُ فِي يَدِهِ يَجَأُ بِهَا فِي بَطْنِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا
পরিচ্ছেদঃ আত্মহত্যা মহাপাপ
(২০৪২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করবে সে ব্যক্তি দোযখেও অনুরূপ ফাঁসি নিয়ে আযাব ভোগ করবে। আর যে ব্যক্তি বর্শা বা ছুরিকাঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তি দোযখেও অনুরূপ বর্শা বা ছুরিকাঘাত দ্বারা (নিজে নিজে) আযাব ভোগ করবে।
وعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ الَّذِي يَخْنُقُ نَفْسَهُ يَخْنُقُهَا فِي النَّارِ وَالَّذِي يَطْعُنُهَا يَطْعُنُهَا فِي النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ আত্মহত্যা মহাপাপ
(২০৪৩) সাবেত বিন যাহহাক (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন মিথ্যা বিষয়ের উপর বিধর্মী হওয়ার কসম করবে (অর্থাৎ বলবে যে, ’এরূপ যদি না হয়, তাহলে আমি মুসলিম নই, ইয়াহুদী’ ইত্যাদি), তাহলে সে যা বলবে তাই (অর্থাৎ বিধর্মী বা ইয়াহুদী ইত্যাদিই) হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি যে জিনিস দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তিকে সেই জিনিস দ্বারাই কিয়ামতের দিন আযাব ভোগ করানো হবে।
وعَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ حَلَفَ بِمِلَّةٍ غَيْرِ الْإِسْلَامِ كَاذِبًا فَهُوَ كَمَا قَالَ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ عُذِّبَ بِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ
পরিচ্ছেদঃ আত্মহত্যা মহাপাপ
(২০৪৪) সাহল বিন সা’দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, এক যুদ্ধে এক ব্যক্তি বড় বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করছিল। সকলে তার প্রশংসা করতে লাগল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’কিন্তু ও জাহান্নামী।’’ কী ব্যাপার! সকলে অবাক হল। এক সাহাবী এর রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তার পিছে-পিছে ঘুরতে লাগলেন। তিনি দেখলেন, লোকটি এক সময় খুবই ক্ষত-বিক্ষত হল। অতঃপর ক্ষতেরর যন্ত্রণা যেন অসহনীয় হলে সে নিজের তরবারিকে খাড়া ক’রে তার ধারালো ডগা নিজের বুকের মাঝে রেখে সওয়ার হয়ে গেল এবং মারা গেল।
সাহাবী এসে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ’আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রসূল।’ তিনি বললেন, ’’কী ব্যাপার?’’ সাহাবী ঘটনা খুলে বললে তিনি বললেন, ’’কোন কোন ব্যক্তি বাহ্যতঃ লোকের দৃষ্টিতে জান্নাতীর কাজ করে, অথচ সে আসলে জাহান্নামী। আর কোন কোন ব্যক্তি বাহ্যতঃ লোকের দৃষ্টিতে জাহান্নামীর কাজ করে, অথচ সে আসলে জান্নাতী।
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ الْتَقَى هُوَ وَالْمُشْرِكُونَ فَاقْتَتَلُوا فَلَمَّا مَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِلَى عَسْكَرِهِ وَمَالَ الْآخَرُونَ إِلَى عَسْكَرِهِمْ وَفِي أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ ﷺ رَجُلٌ لَا يَدَعُ لَهُمْ شَاذَّةً وَلَا فَاذَّةً إِلَّا اتَّبَعَهَا يَضْرِبُهَا بِسَيْفِهِ فَقَالَ مَا أَجْزَأَ مِنَّا الْيَوْمَ أَحَدٌ كَمَا أَجْزَأَ فُلَانٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَمَا إِنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْقَوْمِ أَنَا صَاحِبُهُ قَالَ فَخَرَجَ مَعَهُ كُلَّمَا وَقَفَ وَقَفَ مَعَهُ وَإِذَا أَسْرَعَ أَسْرَعَ مَعَهُ قَالَ فَجُرِحَ الرَّجُلُ جُرْحًا شَدِيدًا فَاسْتَعْجَلَ الْمَوْتَ فَوَضَعَ نَصْلَ سَيْفِهِ بِالْأَرْضِ وَذُبَابَهُ بَيْنَ ثَدْيَيْهِ ثُمَّ تَحَامَلَ عَلَى سَيْفِهِ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَخَرَجَ الرَّجُلُ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللهِ قَالَ وَمَا ذَاكَ قَالَ الرَّجُلُ الَّذِي ذَكَرْتَ آنِفًا أَنَّهُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَأَعْظَمَ النَّاسُ ذٰلِكَ فَقُلْتُ أَنَا لَكُمْ بِهِ فَخَرَجْتُ فِي طَلَبِهِ ثُمَّ جُرِحَ جُرْحًا شَدِيدًا فَاسْتَعْجَلَ الْمَوْتَ فَوَضَعَ نَصْلَ سَيْفِهِ فِي الْأَرْضِ وَذُبَابَهُ بَيْنَ ثَدْيَيْهِ ثُمَّ تَحَامَلَ عَلَيْهِ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عِنْدَ ذٰلِكَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ الْجَنَّةِ فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ فِيمَا يَبْدُو لِلنَّاسِ وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ আত্মহত্যা মহাপাপ
(২০৪৫) দাওস গোত্রের তুফাইল বিন আমর (রাঃ) হিজরত করলে তাঁর গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর সাথে হিজরত করে। মদীনার আবহাওয়া অনুকূল না হওয়ার ফলে সে ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সে অধৈর্য হয়ে তীরের ফলা দিয়ে নিজের হাতের আঙ্গুলের জোড় কেটে ফেলে। এর ফলে তার দুটি হাত হতে সজোরে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে এবং পরিশেষে সে মারা যায়। তুফাইল বিন আমর তাকে স্বপ্নে দেখেন, তার আকার-আকৃতি সুন্দর। কিন্তু দেখলেন, সে তার হাত দুটিকে ঢেকে আছে। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার প্রতিপালক তোমার সাথে কী আচরণ করেছেন? সে বলল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে হিজরত করার কারণে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, তোমার হাত দুটি ঢাকা কেন? সে বলল, আমাকে বলা হয়েছে, তুমি নিজে যা নষ্ট করেছ, তা কখনই ঠিক করব না। তুফাইল আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ঘটনা খুলে বললে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’হে আল্লাহ! আর তার হাত দুটিকেও ক্ষমা ক’রে দাও।
لَمَّا هَاجَرَ النَّبِىُّ ﷺ إِلَى الْمَدِينَةِ هَاجَرَ إِلَيْهِ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو وَهَاجَرَ مَعَهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ فَمَرِضَ فَجَزِعَ فَأَخَذَ مَشَاقِصَ لَهُ فَقَطَعَ بِهَا بَرَاجِمَهُ فَشَخَبَتْ يَدَاهُ حَتّٰـى مَاتَ فَرَآهُ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو فِى مَنَامِهِ فَرَآهُ وَهَيْئَتُهُ حَسَنَةٌ وَرَآهُ مُغَطِّيًا يَدَيْهِ فَقَالَ لَهُ مَا صَنَعَ بِكَ رَبُّكَ فَقَالَ غَفَرَ لِى بِهِجْرَتِى إِلَى نَبِيِّهِ ﷺ فَقَالَ مَا لِى أَرَاكَ مُغَطِّيًا يَدَيْكَ قَالَ قِيلَ لِى لَنْ نُصْلِحَ مِنْكَ مَا أَفْسَدْتَ فَقَصَّهَا الطُّفَيْلُ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ
পরিচ্ছেদঃ অপরের গোপনীয় দোষ সন্ধান করা, অপরের অপছন্দ সত্ত্বেও তার কথা কানাচি পেতে শোনা নিষেধ
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَلاَ تَجَسَّسُوا
অর্থাৎ, তোমরা অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না। (সূরা হুজুরাত ১২)
والَّذِينَ يُؤْذُونَ المُؤْمِنِينَ والْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتاناً وإثْماً مُبِيناً
অর্থাৎ, যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮)
(২০৪৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমরা কুধারণা পোষণ করা থেকে বিরত থাক। কারণ কুধারণা সব চাইতে বড় মিথ্যা কথা। অপরের গোপনীয় দোষ খুঁজে বেড়ায়ো না, অপরের জাসূসী করো না, একে অপরের সাথে (অসৎ কাজে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো না, পরস্পরে হিংসা করো না, পরস্পরে বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও; যেমন তিনি তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন।
এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি যুলুম করবে না, তাকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেবে না এবং তাকে তুচ্ছ ভাববে না। আল্লাহভীতি এখানে রয়েছে। আল্লাহভীতি এখানে রয়েছে। (তিনি নিজ বুকের দিকে ইঙ্গিত করলেন।) কোন মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ ভাবা একটি মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্ভ্রম ও সম্পদ অপর মুসলিমের উপর হারাম। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের দেহ ও আকার-আকৃতি দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল দেখেন।’’
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, অপরের জাসূসী করো না, অপরের গোপনীয় দোষ খুঁজে বেড়ায়ো না, পরস্পরের পণ্যদ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দিয়ো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও।’’
আর এক বর্ণনায় আছে, ’’তোমরা পরস্পর সম্পর্ক-ছেদ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও।’’
অন্য আরো এক বর্ণনায় আছে, ’’তোমরা একে অন্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না এবং অপরের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় করো না।’’ (এ সবগুলি মুসলিম বর্ণনা করেছেন ৬৭০১-৬৭০৫ এবং এর অধিকাংশ বর্ণনা করেছেন বুখারী ৫১৪৩, ৬০৬৪, ৬০৬৬, ৬৭২৪)
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ وَلاَ تَحَسَّسُوا وَلاَ تَجَسَّسُوا وَلاَ تَنَافَسُوا، وَلاَ تَحَاسَدُوا وَلاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَاناً كَمَا أَمَرَكُمْ المُسْلِمُ أَخُو المُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يَخْذُلُهُ وَلاَ يَحْقِرُهُ التَّقْوَى هاهُنَا التَّقْوَى هاهُنَا وَيُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ بِحَسْبِ امْرِىءٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ المُسْلِمَ كُلُّ المُسْلِمِ عَلَى المُسْلِمِ حَرَامٌ : دَمُهُ وَعِرْضُهُ وَمَالُهُ إِنَّ اللهَ لاَ يَنْظُرُ إِلَى أَجْسَادِكُمْ وَلاَ إِلَى صُوَرِكُمْ وَلكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ
وَفِي رواية لاَ تَحَاسَدُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَجَسَّسُوا وَلاَ تَحَسَّسُوا وَلاَ تَنَاجَشُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْواناً
وفي رواية لاَ تَقَاطَعُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَلاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَحَاسَدُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْواناً
وَفِي رِواية وَلاَ تَهَاجَرُوا وَلاَ يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ رواه مسلم بكلّ هذِهِ الروايات، وروى البخاريُّ أَكْثَرَهَا
পরিচ্ছেদঃ অপরের গোপনীয় দোষ সন্ধান করা, অপরের অপছন্দ সত্ত্বেও তার কথা কানাচি পেতে শোনা নিষেধ
(২০৪৭) মুআবিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ’’যদি তুমি মুসলিমদের গুপ্ত দোষগুলি খুঁজে বেড়াও, তাহলে তুমি তাদের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টি ক’রে দেবে অথবা তাদের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করার উপক্রম হবে।’’ (আবূ দাঊদ হা/৪৮৯০, বিশুদ্ধ সানাদ)
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّكَ إِنِ اتَّبَعْتَ عَوْرَاتِ المُسْلِمينَ أَفْسَدْتَهُمْ أَوْ كِدْتَ أَنْ تُفْسِدَهُمْ حديث صحيح رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ অপরের গোপনীয় দোষ সন্ধান করা, অপরের অপছন্দ সত্ত্বেও তার কথা কানাচি পেতে শোনা নিষেধ
(২০৪৮) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁর নিকট একটি লোককে নিয়ে আসা হল এবং তার সম্পর্কে বলা হল যে, ’এ লোকটি অমুক, এর দাড়ি থেকে মদ ঝরছে।’ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বললেন, ’আমাদেরকে জাসূসী করতে (গুপ্ত দোষ খুঁজে বেড়াতে) নিষেধ করা হয়েছে। তবে যদি কোন (প্রমাণ) আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়, তাহলে আমরা তা দিয়ে তাকে পাকড়াও করব।’
وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ أَنَّهُ أُتِيَ بِرَجُلٍ فَقِيلَ لَهُ : هَذَا فُلاَنٌ تَقْطُرُ لِحْيَتُهُ خَمْراً فَقَالَ : إنَّا قَدْ نُهِيْنَا عَنِ التَّجَسُّسِ، وَلَكِنْ إِنْ يَظْهَرْ لَنَا شَيْءٌ، نَأخُذْ بِهِ حديث حسن صحيح رواه أَبُو داود بإسنادٍ عَلَى شَرْطِ البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ অপরের গোপনীয় দোষ সন্ধান করা, অপরের অপছন্দ সত্ত্বেও তার কথা কানাচি পেতে শোনা নিষেধ
(২০৪৯) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান পেতে শুনবে অথচ তারা তা অপছন্দ করে, সে ব্যক্তির উভয় কানে কিয়ামতের দিন গলিত সীসা ঢালা হবে।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ وَمَنْ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ أَوْ يَفِرُّونَ مِنْهُ صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ জুয়া খেলা
(২০৫০) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) এর মতে এক শ্রেণীর খেলা জুয়ারূপে (অর্থের বাজি রেখে) খেললে শূকরের মাংস খাওয়ার মতো পাপ হয় এবং অর্থের বাজি না রেখে জুয়ার মতো না খেললেও তা শূকরের রক্তে হাত ডোবানোর মত পাপ হয়।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: "اللَّاعِبُ بِالْفُصَّيْـنِ قِمَارًا كَآكِلِ لَـحْمِ الْـخِنْـزِيرِ وَاللَّاعِبُ بِهِمَا غَيْرَ قِمَارٍ كَالْغَامِسِ يَدَهُ فِي دَمِ خِنْـزِيْرِ"
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
যারা কাঁকর, যবদানা ইত্যাদি মেরে (ফালনামা খুলে বা হাত চালিয়ে বা হস্তরেখা পড়ে অথবা রাশি গণনা করে) ভাগ্য-ভবিষ্যৎ তথা অজানা ও গায়েবী বিষয়ের খবর বলে, তাদের নিকট এসে ঐ শ্রেণীর কিছু জিজ্ঞাসা করা বৈধ নয়।
(২০৫১)আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গণকদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ’’ওরা অপদার্থ।’’ (অর্থাৎ ওদের কথার কোন মূল্য নেই)। তারা নিবেদন করল, ’হে আল্লাহর রসূল! ওরা তো কখনো কখনো আমাদেরকে কোন জিনিস সম্পর্কে বলে, আর তা সত্য ঘটে যায়।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’এই সত্য কথাটি জ্বিন (ফিরিশতার নিকট থেকে) ছোঁ মেরে নিয়ে তার ভক্তের কানে পৌঁছে দেয়। তারপর সে ঐ (একটি সত্য) কথার সাথে একশ’টি মিথ্যা মিশিয়ে দেয়।’’ (বুখারী ৬২১৩, ৭৫৬১, মুসলিম ৫৯৫৩)
বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছে, যা আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, ’’ফিরিশতাবর্গ আল্লাহর বিধানসমূহ নিয়ে মেঘমালার অভ্যন্তরে অবতরণ করেন এবং সে সব কথাবার্তা আলোচনা করেন, যার সিদ্ধান্ত আসমানে হয়েছে। সুতরাং শয়তান অতি সংগোপনে লুকিয়ে তা শুনে ফেলে এবং ভবিষ্যৎ-বক্তা গণকদের মনে প্রক্ষিপ্ত করে। তারপর তার সাথে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে একশত মিথ্যা মিশ্রণ করে তা প্রচার করে।’’ (বুখারী ৩২১০, ৩২৮৮)
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : سَأَلَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أُنَاسٌ عَنِ الكُهَّانِ، فَقَالَ لَيْسُوا بِشَيءٍ فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهُمْ يُحَدِّثُونَا أَحْيَاناً بِشَيءٍ، فَيَكُونُ حَقّاً ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺتِلْكَ الكَلِمَةُ مِنَ الحَقِّ يَخْطَفُهَا الجِنِّيُّ فَيَقُرُّهَا فِي أُذُنِ وَلِيِّهِ، فَيَخْلِطُونَ مَعَهَا مئَةَ كَذْبَةٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِلبُخَارِيِّ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّها سَمِعَتْ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ إِنَّ المَلائِكَةَ تَنْزِلُ فِي العَنَانِ وَهُوَ السَّحَابُ فَتَذْكُرُ الأَمْرَ قُضِيَ فِي السَّماءِ فَيَسْتَرِقُ الشَّيْطَانُ السَّمْعَ فَيَسْمَعُهُ فَيُوحِيهِ إلَى الكُهَّانِ فَيَكْذِبُونَ مَعَهَا مِئَةَ كَذْبَةٍ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
(২০৫২) স্বাফিয়্যাহ বিনতে আবূ উবাইদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন স্ত্রী (হাফসাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’যে ব্যক্তি গণকের নিকট এসে কোন (গায়বী) বিষয়ে প্রশ্ন করে, তার চল্লিশ দিনের নামায কবুল করা হয় না।’
وَعَنْ صَفِيَّةَ بِنتِ أَبِي عُبَيدٍ عَن بَعضِ أَزوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ وَرَضِيَ اللهُ عَنهَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ أَتَى عَرَّافاً فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاَةٌ أَرْبَعِينَ لَيلَة رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
(২০৫৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন গণক বা জ্যোতিষীর নিকট উপস্থিত হয়ে সে যা বলে তা সত্য মনে (বিশ্বাস) করল, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতীর্ণ (কুরআনের) প্রতি কুফরী করল।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَالْحَسَنِ عَن النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ ﷺ
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
(২০৫৪) আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মাসিকাবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করে অথবা স্ত্রীর পায়খানা-দ্বারে সঙ্গম করে অথবা কোন গণকের নিকট আসে এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করে, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তা থেকে সম্পর্কহীন হয়ে যায়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَتَى حَائِضًا أَوْ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ عَلَى مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَامُ
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
(২০৫৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’যে ব্যক্তি কিছু পরিমাণ জ্যোতিষ-বিদ্যা শিখলো, সে ব্যক্তি আসলে যাদু-বিদ্যার একটি অংশ শিখলো। আর এইভাবে যত বেশী সে জ্যোতিষ-বিদ্যা শিখবে আসলে তত বেশীই সে যাদু-বিদ্যা শিখবে। (আর এ কথা বিদিত যে, যাদু শিক্ষা করা হল ইসলাম ও ঈমান-বিনাশী আমল।)
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنِ اقْتَبَسَ عِلْماً مِنَ النُّجُومِ، اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ رواه أبو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
(২০৫৬) মুআবিয়াহ ইবনে হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি জাহেলী যুগের অত্যন্ত নিকটবর্তী (অর্থাৎ আমি অল্পদিন হল অন্ধযুগ থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছি) এবং বর্তমানে আল্লাহ আমাকে ইসলামে দীক্ষেত করেছেন। আমাদের কিছু লোক গণকদের নিকট (ভাগ্য-ভবিষ্যৎ জানতে) যায়।’ তিনি বললেন, ’’তুমি তাদের কাছে যেও না।’’ আমি বললাম, ’আমাদের কিছু লোক অশুভ লক্ষণ মেনে চলে।’ তিনি বললেন, ’’এ এমন জিনিস, যা তারা নিজেদের অন্তরে অনুভব করে। সুতরাং এ (সব ধারণা) যেন তাদেরকে (বাঞ্ছিত কর্মে) বাধা না দেয়।’’ আমি নিবেদন করলাম, ’আমাদের মধ্যে কিছু লোক দাগ টেনে শুভাশুভ নিরূপণ করে।’ তিনি বললেন, ’’(প্রাচীনযুগে) এক পয়গম্বর দাগ টানতেন। সুতরাং যার দাগ টানার পদ্ধতি উক্ত পয়গম্বরের পদ্ধতি অনুসারে হবে, তা সঠিক বলে বিবেচিত হবে (নচেৎ না)।
وَعَنْ مُعاوِيَةَ بنِ الحَكَمِ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِالجَاهِليَّةِ وَقَدْ جَاءَ اللهُ تَعَالَى بِالإِسْلاَمِ وَإِنَّ مِنَّا رِجَالاً يَأتُونَ الكُهَّانَ؟ قَالَ فَلاَ تَأتِهِمْ قُلْتُ : وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ؟ قَالَ ذٰلِكَ شَيْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ فَلاَ يَصُدُّهُمْ قُلْتُ : وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ؟ قَالَ كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاكَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
(২০৫৭) আবূ মাসঊদ বাদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।(অর্থাৎ, কুকুর বিক্রি করে, নিজের দাসীকে বেশ্যার কাজে এবং দাসকে গণকের কাজে খাটিয়ে অর্থ উপার্জন করতে নিষেধ করেছেন।)
وَعَنْ أَبِي مَسعُودٍ البَدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الكَلْبِ وَمَهْرِ البَغِيِّ وَحُلْوَانِ الكَاهِنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ গণক, জ্যোতিষী ইত্যাদি ভবিষ্যদ্বক্তার নিকট গমন নিষেধ
(২০৫৮) ইমরান বিন হুস্বাইন (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি (কোন বস্তু, ব্যক্তি কর্ম বা কালকে) অশুভ লক্ষণ বলে মানে অথবা যার জন্য অশুভ লক্ষণ দেখা (পরীক্ষা) করা হয়, যে ব্যক্তি (ভাগ্য) গণনা করে অথবা যার জন্য (ভাগ্য) গণনা করা হয়। আর যে ব্যক্তি যাদু করে অথবা যার জন্য (বা আদেশে) যাদু করা হয়।
عَنْ عِمْرَانَ بن حُصَيْنٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَطَيَّرَ وَلا تُطُيِّرَ لَهُ، وَلا تَكَهَّنَ وَلا تُكُهِّنَ لَهُ أَوْ سَحَرَ أَوْ سُحِرَ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ অমুক নক্ষত্রের ফলে বৃষ্টি হল বলা নিষেধ
(২০৫৯) যায়েদ ইবনে খালেদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা হুদাইবিয়াতে রাতে বৃষ্টি হলে আমাদেরকে ফজরের নামায পড়ানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকলের দিকে মুখ ক’রে বসে বললেন, তোমরা জান কি, তোমাদের প্রতিপালক কী বলেন?’’ সকলে বলল, ’আল্লাহ ও তার রসূল ভাল জানেন।’ তিনি বললেন, ’’আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কিছু বান্দা মু’মিন হয়ে ও কিছু কাফের হয়ে প্রভাত করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি বলেছে যে, ’আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ায় আমাদের উপর বৃষ্টি হল’, সে তো আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী (মু’মিন)ও নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী (কাফের)। আর যে ব্যক্তি বলেছে যে, ’অমুক অমুক নক্ষত্রের ফলে আমাদের উপর বৃষ্টি হল’, সে তো আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী (কাফের) এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী (মু’মিন)।
عَنْ زَيدِ بنِ خَالِدٍ قَالَ : صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلاَةَ الصُّبْحِ بِالحُدَيْبِيَّةِ فِي إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ ؟ قَالُوا : اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ قَالَ : أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ : مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ فَذٰلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوءِ كَذَا وَكَذَا فَذٰلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بِالكَوْكَبِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ অমুক নক্ষত্রের ফলে বৃষ্টি হল বলা নিষেধ
(২০৬০) আবূ মালেক আশআরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের মাঝে চারটি কাজ হল জাহেলিয়াতের প্রথা, যা তারা ত্যাগ করবে না; বংশ নিয়ে গর্ব করা, (কারো) বংশ-সূত্রে খোঁটা দেওয়া, তারা (ও নক্ষত্রের) মাধ্যমে বৃষ্টির আশা করা এবং (মুর্দার জন্য) মাতম করা।
عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِىَّ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ أَرْبَعٌ فِى أُمَّتِى مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لاَ يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَخْرُ فِى الأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِى الأَنْسَابِ وَالاِسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬১) আবূ যায়েদ সাবেত ইবনে যাহহাক আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ’বায়আতে রিয্ওয়ান’ (হুদাইবিয়াহ সন্ধির সময়ে কুরাইশের বিরুদ্ধে কৃত প্রতিজ্ঞার) অন্যতম সদস্য ছিলেন; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ব্যতীত ভিন্ন ধর্মের মিথ্যা কসম খেল, তাহলে সে তেমনি হয়ে গেল, যেমন সে বলল। যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করল, কিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। মানুষ যে জিনিসের মালিক নয়, তার মানত পূরণ করা তার পক্ষে জরুরী নয়। আর কোন মু’মিন ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করা, তাকে হত্যা করার সমান।
عَنْ أَبِي زَيدٍ ثَابِتِ بنِ الضَّحَّاك الأَنصَارِيِّ وَهُوَ مِنْ أهلِ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ بِمِلَّةٍ غَيْرِ الإِسْلاَمِ كَاذِباً مُتَعَمِّداً فَهُوَ كَمَا قَالَ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيءٍ، عُذِّبَ بِهِ يَومَ القِيَامَةِ، وَلَيْسَ عَلَى رَجُلٍ نَذْرٌ فِيمَا لاَ يَمْلِكُهُ وَلَعْنُ المُؤْمِنِ كَقَتْلِهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মহাসত্যবাদীর জন্য অভিসম্পাতকারী হওয়া সঙ্গত নয়।
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَنْبَغِي لِصِدِّيقٍ أَنْ يَكُونَ لَعَّاناً رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬৩) আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অভিসম্পাত-কারীরা কিয়ামতের দিনে না সুপারিশকারী হবে, আর না সাক্ষ্যদাতা।
وَعَنْ أَبِي الدَّردَاءِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ يَكُونُ اللَّعَّانُونَ شُفَعَاءَ وَلاَ شُهَدَاءَ يَوْمَ القِيَامَةِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬৪) সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা একে অন্যের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তাঁর গযব এবং জাহান্নামের আগুন দ্বারা অভিসম্পাত করো না।
وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَلاَعَنُوا بِلَعْنَةِ اللهِ وَلاَ بِغَضَبِهِ وَلاَ بِالنَّارِ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬৫) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন কারো মর্মে ব্যথাদানকারী (কুৎসা, অপযশ ইত্যাদি ধরে বা রটিয়ে কারো সম্ভ্রমে খোঁটাদানকারী), অভিসম্পাতকারী, অশ্লীল ও অসভ্য (চোয়াড়) হয় না।
وعَنِ ابْنِ مَسعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْسَ المُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلاَ اللَّعَّانِ وَلاَ الفَاحِشِ وَلاَ البَذِيِّ رَوَاهُ التَّرْمِذِيْ وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬৬) আবূ দারদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’বান্দা যখন কোন কিছুকে অভিশাপ করে তখন সে অভিশাপ আকাশের প্রতি উঠে যায়। কিন্তু তাকে প্রবেশ করতে না দিয়ে আকাশের দরজাসমূহকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে সেখান হতে তা পুনরায় পৃথিবীর দিকে নেমে আসে। কিন্তু তাকে আসতে না দিয়ে পৃথিবীর দরজাসমূহকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতঃপর তা ডাইনে-বামে বিচরণ করতে থাকে। পরিশেষে কোন গতিপথ না পেয়ে অভিশপ্তের দিকে ফিরে আসে। কিন্তু (যাকে অভিশাপ করা হয়েছে সে) অভিশপ্ত (সঙ্গত কারণে) অভিশাপযোগ্য না হলে তা অভিশাপকারী ঐ বান্দার দিকে ফিরে যায়।’’ (অর্থাৎ, নিজের করা অভিশাপ নিজেকেই লেগে বসে!)
وَعَنْ أَبي الدَّردَاءِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ العَبْدَ إِذَا لَعَنَ شَيْئاً صَعَدَتِ اللَّعْنَةُ إِلَى السَّمَاءِ فَتُغْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ دُونَهَا ثُمَّ تَهْبِطُ إِلَى الأَرْضِ فَتُغْلَقُ أَبْوابُهَا دُونَهَا ثُمَّ تَأخُذُ يَمِيناً وَشِمَالاً فَإِذَا لَمْ تَجِدْ مَسَاغاً رَجَعَتْ إِلَى الَّذِي لُعِنَ فَإِنْ كَانَ أَهْلاً لِذلِكَ وَإِلاَّ رَجَعَتْ إِلَى قَائِلِهَا رواه أَبُو داود
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে বাতাসকে অভিশাপ করল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন, ’’হাওয়াকে অভিশাপ করো না। কারণ, হাওয়া তো আদেশপ্রাপ্ত। (আল্লাহর তরফ থেকে যেমন আদেশ হয়, ঠিক তেমনই চলে।) আর যে ব্যক্তি কোন এমন কিছুকে অভিশাপ করে যা তার উপযুক্ত নয়। তাহলে সে ব্যক্তির উপরেই সেই অভিশাপ ফিরে যায়। (অর্থাৎ, নিজের মুখে নিজেকেই যেন সে অভিশাপ করে!)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلاً لَعَنَ الرِّيحَ وَقَالَ مُسْلِمٌ إِنَّ رَجُلاً نَازَعَتْهُ الرِّيحُ رِدَاءَهُ عَلَى عَهْدِ النَّبِىِّ ﷺ فَلَعَنَهَا - فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ لاَ تَلْعَنْهَا فَإِنَّهَا مَأْمُورَةٌ وَإِنَّهُ مَنْ لَعَنَ شَيْئًا لَيْسَ لَهُ بِأَهْلٍ رَجَعَتِ اللَّعْنَةُ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬৮) ইমরান ইবনে হুস্বাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সফরে ছিলেন। আনসারী এক মহিলা এক উটনীর উপর সওয়ার ছিল। সে বিরক্ত হয়ে উটনীটিকে অভিসম্পাত করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে (সঙ্গীদেরকে) বললেন, এ উটনীর উপরে যা কিছু আছে সব নামিয়ে নাও এবং ওকে ছেড়ে দাও। কেননা, ওটি (এখন) অভিশপ্ত। ইমরান বলেন, ’যেন আমি এখনো উঁটনীটিকে দেখছি, উটনীটি লোকদের মধ্যে চলাফেরা করছে, আর কেউ তাকে বাধা দিচ্ছে না।’
وَعَنْ عِمرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : بَيْنَمَا رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَامْرأةٌ مِنَ الأنْصَارِ عَلَى نَاقَةٍ فَضَجِرَتْ فَلَعَنَتْهَا فَسَمِعَ ذٰلِكَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ خُذُوا مَا عَلَيْهَا وَدَعُوْهَا ؛ فَإِنَّهَا مَلْعُونَةٌ قَالَ عِمْرانُ : فَكَأنِّي أَرَاهَا الآنَ تَمْشِي فِي النَّاسِ مَا يَعْرِضُ لَهَا أَحَدٌ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৬৯) আবূ বারযাহ নাযলাহ ইবনে উবাইদ আসলামী বলেন, একবার এক যুবতী মহিলা একটি উটনীর উপর সওয়ার ছিল। আর তার উপর লোকেদের (সহযাত্রীদের) কিছু আসবাব-পত্র ছিল। ইত্যবসরে মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রত্যক্ষ করল। আর লোকেদের জন্য পার্বত্য পথটি সংকীর্ণ বোধ হল। মহিলাটি উটনীকে (দ্রুত গতিতে চলাবার উদ্দেশ্যে) বলল, ’হাঃ! হে আল্লাহ! এর উপর অভিশাপ কর।’ তা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ উটনী যেন আমাদের সাথে না থাকে, যাকে অভিশাপ করা হয়েছে। (মুসলিম ৬৭৭১-৬৭৭২)
وَعَنْ أَبِي بَرْزَةَ نَضْلَةَ بْنِ عُبَيْدٍ الأَسْلَمِيِّ قَالَ : بَيْنَمَا جَارِيَةٌ عَلَى نَاقَةٍ عَلَيْهَا بَعْضُ مَتَاعِ القَوْمِ إِذْ بَصُرَتْ بِالنَّبيِّ ﷺ وَتَضَايَقَ بِهِمُ الجَبَلُ فَقَالَتْ : حَلْ اللَّهُمَّ الْعَنْهَا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ تُصَاحِبْنَا نَاقَةٌ عَلَيْهَا لَعْنَةٌ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৭০) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের নিজেদের উপর, তোমাদের সন্তান-সন্ততির উপর, তোমাদের ভৃত্যদের উপর এবং তোমাদের সম্পদের উপরও বদ্দু’আ করো না। যাতে আল্লাহু তাবারাকা অতাআলার তরফ হতে এমন মুহূর্ত তোমাদের অনুকূল না হয়ে যায়, যে মুহূর্তে কিছু প্রার্থনা করলে তোমাদের জন্য তা মঞ্জুর করা হয়।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَوْلاَدِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى خَدَمِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ لاَ تُوَافِقُوا مِنَ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى سَاعَةَ نَيْلٍ فِيهَا عَطَاءٌ فَيَسْتَجِيبَ لَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৭১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, বলা হল, ’হে আল্লাহর রসূল! মুশরিকদের উপর বদ্দুআ করুন।’ তিনি বললেন, আমি অভিশাপকারীরূপে প্রেরিত হইনি, বরং আমি কেবল রহমত (করুণা)রূপে প্রেরিত হয়েছি।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ ادْعُ عَلَى الْمُشْرِكِينَ، قَالَ إِنِّى لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا وَإِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৭২) আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি তায়েফ থেকে প্রস্থান করলাম। সে সময় আমি নিদারুন বেদনা ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম। ’ক্বারনুষ ষাআলিব’ (বর্তমানে আস-সাইলুল কাবীর; যা রিয়ায ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকেদের মীকাত)-এ এসে পরিপূর্ণ চৈতন্যপ্রাপ্ত হই। মাথা তুলে উপর দিকে তাকিয়ে দেখি, একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়া করে আছে। লক্ষ্য করে দেখি তাতে জিবরীল (আঃ) রয়েছেন। তিনি আমাকে আহবান জানিয়ে বললেন, ’আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে এবং আপনার প্রতি যে দুর্ব্যবহার করেছে আল্লাহ তার সবকিছুই শুনেছেন ও দেখেছেন। এক্ষণে তিনি পর্বত-নিয়ন্ত্রণকারী ফিরিশতাকে আপনার খিদমতে প্রেরণ করেছেন। আপনি ওদের ব্যাপারে তাঁকে যা ইচ্ছা নির্দেশ প্রদান করুন।’
অতঃপর পর্বত-নিয়ন্ত্রণকারী ফিরিশতা আমাকে আহবান জানিয়ে সালাম দিয়ে বললেন, ’হে মুহাম্মাদ! আপনার সম্প্রদায় আপনাকে যা বলেছে নিশ্চয় আল্লাহ তা শুনেছেন। আর আমি পর্বতের ফিরিশতা। আপনার প্রতিপালক আমাকে আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন। আপনি ওদের ব্যাপারে আমাকে যা ইচ্ছা তাই নির্দেশ দিন। যদি আপনি চান যে, আমি মক্কার দুই পাহাড়কে একত্রিত করে ওদেরকে পিষে ধ্বংস করে দিই, তাহলে তাই হবে।’ কিন্তু আমি বললাম, ’’না, বরং আমি এই আশা করি যে, আল্লাহ ঐ জাতির পৃ’দেশ হতে এমন বংশধর সৃষ্টি করবেন; যারা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُوْل الله ﷺ فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِى فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلاَّ بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ فَرَفَعْتُ رَأْسِى فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِى فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ فَنَادَانِى فَقَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الْجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ قَالَ فَنَادَانِى مَلَكُ الْجِبَالِ وَسَلَّمَ عَلَىَّ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ وَأَنَا مَلَكُ الْجِبَالِ وَقَدْ بَعَثَنِى رَبُّكَ إِلَيْكَ لِتَأْمُرَنِى بِأَمْرِكَ فَمَا شِئْتَ إِنْ شِئْتَ أَنْ أُطْبِقَ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللهُ مِنْ أَصْلاَبِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ وَحْدَهُ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
পরিচ্ছেদঃ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা নিষিদ্ধ
(২০৭৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তুফাইল বিন আমর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! দাওস গোত্র অবাধ্য এবং ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। আপনি তাদের উপর বদ্দুআ করুন।’ এ কথার পর লোকেরা ভাবল যে, তিনি এবার তাদের উপর বদ্দুআ করবেন। কিন্তুতিনি দু’আ করে বললেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি দাওস গোত্রকে হেদায়াত কর এবং তাদেরকে (আমার নিকট) আনয়ন কর।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَدِمَ الطُّفَيْلُ وَأَصْحَابُهُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ دَوْسًا قَدْ كَفَرَتْ وَأَبَتْ فَادْعُ اللهَ عَلَيْهَا فَقِيلَ هَلَكَتْ دَوْسٌ فَقَالَ اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَائْتِ بِهِمْ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহকে গালি
অনির্দিষ্টরূপে পাপি’দেরকে অভিসম্পাত করা বৈধ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَلاَ لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
অর্থাৎ, সাবধান! অত্যাচারীদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। (সূরা হূদ ১৮)
অন্যত্র তিনি বলেন,
فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَنْ لَّعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
অর্থাৎ, অতঃপর জনৈক ঘোষণাকারী তাদের নিকট ঘোষণা করবে, অত্যাচারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। (সূরা আ’রাফ ৪৪)
সহীহ হাদীসসমূহে প্রমাণিত যে,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَعنَ اللهُ الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’সেই নারীর উপর আল্লাহর অভিশাপ, যে অপরের মাথায় নকল চুল জুড়ে দেয়। আর সেই নারীর উপরেও, যে অন্য নারীর দ্বারা (নিজ মাথায়) নকল চুল সংযুক্ত করায়।’’ (বুখারী ৫৯৩৩, মুসলিম ৫৬৮৭)
وَأنَّهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ آكِلَ الرِّبَا
তিনি বলেন, ’’আল্লাহ সূদখোরকে অভিশাপ করুন (অথবা করেছেন)।’’ (আহমাদ ৩৮০৯)
وأنَّهُ لَعَنَ المُصَوِّرِينَ
তিনি ছবি নির্মাতাকে অভিশাপ করেছেন। (বুখারী ৫৩৪৭)
وأنَّهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ مَنْ غيَّرَ مَنَارَ الأَرْضِ أيْ حُدُودَهَا
তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি জমি জায়গার সীমা-চিহ্ন পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে অভিশাপ করুন (অথবা করেছেন)। (মুসলিম ৫২৩৯-৫২৪০)
وأنَّهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَيهِ
তিনি বলেন, ’’যে নিজ মাতা-পিতাকে অভিশাপ ও ভৎর্সনা করে তাকেও আল্লাহ অভিসম্পাত করুন (অথবা করেছেন)।’’ (ঐ)
وَلَعَنَ اللهُ من ذَبَحَ لِغَيْرِ اللهِ
’’এবং সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহ অভিশাপ করুন (অথবা করেছেন), যে গায়রুল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু যবেহ করে।’’ (ঐ)
وأنَّهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ البَيْضَةَ
তিনি বলেন, ’’আল্লাহ চোরকে অভিশাপ করুন (অথবা করেছেন), যে চোর ডিম চুরি করে।’’ (বুখারী ৬৭৮৩, মুসলিম ৪৫০৩)
وَأنَّه قَالَ مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثاً أَوْ آوَى مُحْدِثاً فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلاَئِكَة والنَّاسِ أجْمَعينَ
তিনি বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি মদীনায় কোন প্রকার বিদআত (আবিষ্কার) করে অথবা কোন বিদআতী লোককে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতামণ্ডলী এবং সমস্ত মানুষের অভিশাপ।’’ (বুখারী ১৮৭০, মুসলিম ৩৩৮৯)
وأنَّه قَالَ اللَّهُمَّ الْعَنْ رِعْلاً وَذَكْوَانَ، وعُصَيَّةَ : عَصَوُا اللهَ وَرَسُولَهُ وهذِهِ ثَلاَثُ قَبَائِلَ مِنَ العَرَبِ
তিনি এভাবে (বদ্দুআ) ক’রে বলেছেন, ’’হে আল্লাহ! রি’ল, যাকওয়ান ও উসাইয়াহ গোত্রসমূহের উপর অভিশাপ কর। কেননা, তারা আল্লাহ ও তদীয় রসূলের অবাধ্যতা করেছে।’’ (মুসলিম ১৫৯০)
আর এ তিনটিই ছিল আরবের এক একটি গোত্রের নাম।
وَأنَّهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ اليَهُودَ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ
তিনি বলেন, ’’আল্লাহ ইয়াহুদকে অভিসম্পাত করুন (অথবা করেছেন), তারা তাদের পয়গম্বরদের সমাধিসমূহকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে।’’ (বুখারী ১৩৩০, মুসলিম ১২১২)
وَأَنَّهُ لَعَنَ المُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بالنِّسَاءِ وَالمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ
তিনি সেই সকল পুরুষকেও অভিশাপ করেছেন, যারা নারীদের সাদৃশ্য ও আকৃতি গ্রহণ করে। তেমনি সেই সব নারীদেরকেও অভিশাপ করেছেন, যারা পুরুষদের সাদৃশ্য ও আকৃতি অবলম্বন করে থাকে। (ইবনে মাজাহ ১৯০৪)
উক্ত বাণীসমূহ বিশুদ্ধ হাদীসে সন্নিবিষ্ট হয়েছে। তার মধ্যে কিছু হাদীস সহীহ বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। আর কিছু হাদীস তার মধ্যে কোন একটিতে উদ্ধৃত হয়েছে। আমি এখানে তার প্রতি সংক্ষিপ্তভাবে আভাস দিয়েছি মাত্র। উক্ত হাদীসগুলির অধিকাংশই এই গ্রন্থের বিভিন্ন পরিচ্ছেদে উল্লেখ করব ইন শা-আল্লাহ।
(২০৭৪) আবূ মূসা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’কষ্টদায়ী কথা শুনে আল্লাহ আযযা অজাল্ল অপেক্ষা বেশি সহ্যশীল অন্য কেউ নেই। তাঁর সাথে শির্ক করা হয়, তাঁর প্রতি সন্তান আরোপ করা হয়, অতঃপর তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা ও রুযী দান করে থাকেন।
عَنْ أَبِى مُوسَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ أَحَدَ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى يَسْمَعُهُ مِنَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّهُ يُشْرَكُ بِهِ وَيُجْعَلُ لَهُ الْوَلَدُ ثُمَّ هُوَ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহকে গালি
(২০৭৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আদম সন্তান আমাকে মিথ্যাজ্ঞান করে, অথচ এটা তার জন্য বৈধ নয়। সে আমাকে গালি দেয়, অথচ এটাও তার জন্য বৈধ নয়। আমাকে মিথ্যাজ্ঞান করা হল তার এই বলা যে, ’যেমন তিনি আমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তেমন পুনর্বার আমাকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন না।’ অথচ প্রথম সৃষ্টি পুনর্বার ফিরিয়ে আনার তুলনায় সহজ নয়। আর আমাকে গালি দেওয়া হল তার এই বলা যে, ’আল্লাহর সন্তান আছে।’ অথচ আমি একক, স্বয়ং সম্পূর্ণ। জন্ম দিইনি, জন্ম নিইনি এবং আমার সমকক্ষ কেউ নেই।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ اللهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذٰلِكَ وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذٰلِكَ فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ لَنْ يُعِيدَنِي كَمَا بَدَأَنِي وَلَيْسَ أَوَّلُ الْخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَيَّ مِنْ إِعَادَتِهِ وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا وَأَنَا الْأَحَدُ الصَّمَدُ لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفْئًا أَحَدٌ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবাকে গালি
(২০৭৬) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার সাহাবাকে গালি দিয়ো না। যেহেতু যাঁর হাতে আমার জান আছে তাঁর কসম! যদি তোমাদের কেউ উহুদ পর্বতসম স্বর্ণ ব্যয় করে, তবুও তা তাদের কারো মুদ্দ্ (৬২৫ গ্রাম) বরং অর্ধ মুদ্দ্ পরিমাপেও পৌঁছবে না।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِي فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবাকে গালি
(২০৭৭) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবাকে গালি দিয়ো না। যে ব্যক্তি আমার সাহাবাকে গালি দেয়, আল্লাহ তাকে অভিশাপ করেন।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِىْ لَعَنَ اللهُ مَنْ سَبَّ أَصْحَابِىْ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবাকে গালি
(২০৭৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে ব্যক্তি আমার সাহাবাগণকে গালি দেবে, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাবর্গ এবং সমগ্র মানবজাতির অভিশাপ হোক।
এক বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে, ’’আল্লাহ তার নিকট থেকে কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করবেন না।’’
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ سَبَّ أَصْحَابِي فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবাকে গালি
(২০৭৯) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’’আমার ব্যাপারে দুই ব্যক্তি ধ্বংস হবে। প্রথম হল, আমার ভালোবাসায় সীমা অতিক্রমকারী এবং দ্বিতীয় হল, আমার বিদ্বেষে সীমা অতিক্রমকারী।
وَعَنْ عَلِيٍ قَالَ: يَهْلِكُ فِي رَجُلَانِ : مُفْرِطٌ فِي حُبِّيَ وَمُفْرِطٌ فِي بُغْضِي
পরিচ্ছেদঃ পিতামাতাকে গালি
(২০৮০) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’পিতা-মাতাকে গালি দেওয়া অন্যতম মহাপাপ।’’ লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রসূল! নিজ পিতা-মাতাকে কেউ কি গালি দেয়?! তিনি বললেন, হ্যাঁ, কোন ব্যক্তি যখন অপরের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয়, যখন অপরের মাতাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাতাকে গালি দেয়!
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مِنَ الْكَبَائِرِ شَتْمُ الرَّجُلِ وَالِدَيْهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ هَلْ يَشْتِمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ قَالَ نَعَمْ يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ وَيَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
والَّذِينَ يُؤْذُونَ المُؤْمِنِينَ والْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتاناً وإثْماً مُبِيناً
অর্থাৎ, যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮)
(২০৮১) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী (আল্লাহর অবাধ্যাচরণ) এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।
وَعَنِ ابْنِ مَسعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتالُهُ كُفْرٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮২) আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তিনি এ কথা বলতে শুনেছেন যে, যখন কোন মানুষ অন্য মানুষের প্রতি ’ফাসেক’ অথবা ’কাফের’ বলে অপবাদ দেয়, তখনই তা তার উপরেই বর্তায়; যদি তার প্রতিপক্ষ তা না হয়।
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ لاَ يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالفِسْقِ أَوِ الكُفْرِ إِلاَّ ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كذٰلِكَ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮৩) আবূ যার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জানা সত্ত্বেও পরের বাপকে বাপ বলে দাবী করে সে কুফরী করে, যে ব্যক্তি কোন এমন বস্তু কারো নিকট হতে দাবী করে যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয় এবং সে যেন নিজের বাসস্থান দোযখে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে ’ফাসেক’ বলে অথবা ’আল্লাহর দুশমন’ বলে অথচ সে তা নয় তবে সে (বলা গালি) তারই উপর বর্তায়।
عَنْ أَبِى ذَرٍّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قال لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ ادَّعَى لِغَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُهُ إِلاَّ كَفَرَ وَمَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا وَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ عَدُوَّ اللهِ، وَلَيْسَ كَذٰلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮৪) বারা’ বিন আযেব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সূদ (খাওয়ার পাপ হল) ৭২ প্রকার। যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাপ হল মায়ের সাথে ব্যভিচার করার মত! আর সবচেয়ে বড় (পাপের) সূদ হল নিজ (মুসলিম) ভাইয়ের সম্ভ্রম নষ্ট করা।
وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَا :الرِّبَا اثْنانِ وَسَبْعُونَ بَاباً أدْنَاهَا مِثْلُ إِتْيانِ الرَّجُلِ أُمَّهُ وَإِنَّ أَرْبَى الرِّبَا اسْتِطالَةُ الرَّجُلِ فِي عَرْضِ أَخِيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আপোসে গালাগালিতে রত দু’জন ব্যক্তি যে সব কুবাক্য উচ্চারণ করে, সে সব তাদের মধ্যে সূচনাকারীর উপরে বর্তায়; যতক্ষণ না অত্যাচারিত ব্যক্তি (প্রতিশোধ গ্রহণে) সীমা অতিক্রম করে।
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ المُتَسَابَّانِ مَا قَالاَ فَعَلَى البَادِي مِنهُمَا حَتّٰـى يَعْتَدِي المَظْلُومُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮৬) ইয়ায বিন হিমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ’হে আল্লাহর নবী! আমার চাইতে ছোট হয়েও আমার সম্প্রদায়ের কোন লোক যদি আমাকে গালি-গালাজ করে, তাহলে আমি তার প্রতিশোধ নিলে দোষ আছে কি?’ উত্তরে তিনি বললেন, উভয় গালমন্দকারী দুই শয়তান। এরা পরস্পরের উপর মিথ্যা দোষারোপ করে এবং অসত্য বলে।
عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِي يَشْتُمُنِي وَهُوَ دُونِي عَلَيَّ بَأْسٌ أَنْ أَنْتَصِرَ مِنْهُ؟ قَالَ الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদ পান করেছে এমন এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজির করা হল। তিনি আদেশ দিলেন, ’ওকে তোমরা মার।’ আবূ হুরাইরা বলেন, (তাঁর আদেশ অনুযায়ী আমরা তাকে মারতে আরম্ভ করলাম।) আমাদের কেউ তাকে হাত দ্বারা মারতে লাগল, কেউ আপন জুতা দ্বারা, কেউ নিজ কাপড় দ্বারা। অতঃপর যখন সে ফিরে যেতে লাগল, তখন কিছু লোক বলে উঠল, ’আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করুক।’ তা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’এরূপ বলো না এবং ওর বিরুদ্ধে শয়তানকে সহযোগিতা করো না।
وَعَنْ أَبي هُرَيرَةَ قَالَ : أُتِيَ النَّبِيُّ ﷺ بِرَجُلٍ قَدْ شرِبَ قَالَ اِضرِبُوهُ قَالَ أَبُو هُرَيرَةَ : فَمِنَّا الضَّارِبُ بيَدِهِ وَالضَّارِبُ بِنَعْلِهِ وَالضَّارِبُ بِثَوْبِهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ بَعْضُ القَوْمِ : أَخْزَاكَ اللهُ قَالَ لا تَقُولُوا هَذَا لاَ تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَان رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮৮) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ মালিকানাধীন দাসের উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেবে, কিয়ামতের দিন তার উপর হদ্ (দণ্ডবিধি) প্রয়োগ করা হবে। তবে সে যা বলেছে, দাস যদি তাই হয় (তাহলে ভিন্ন কথা।)
وَعَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ بِالزِّنَى يُقَامُ عَلَيْهِ الحَدُّ يَومَ القِيَامَةِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৮৯) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি তোমাকে তোমার সে বিষয় নিয়ে গালি দেয় যা সে জানে, তখন তুমি সেই ব্যক্তিকে সেই বিষয় ধরে গালি দিয়ো না, যা তুমি ওর মধ্যে আছে তা জান। এতে তোমার পূণ্য লাভ হবে এবং ওর উপর হবে পাপের বোঝা।
عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهُ ﷺ إِذَا سَبَّكَ رَجُلٌ بِمَا يَعْلَمُ مِنْكَ فلا تَسُبَّهُ بِما تَعْلَمُ مِنْهُ فَيَكُونَ أجْرُ ذٰلِكَ لَكَ وَوَبالُـهُ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে অন্যায়ভাবে গালি-গালাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
(২০৯০) জাবের বিন সুলাইম হুজাইমী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ...আর যদি কোন ব্যক্তি তোমাকে গালি দেয় এবং যে ত্রুটি তোমার মধ্যে নেই তা নিয়ে তোমাকে লজ্জা দেয়, তাহলে তুমি তাকে সেই ত্রুটি নিয়ে ওকে লজ্জা দিয়ো না, যা ওর মধ্যে আছে। ওকে উপেক্ষা করে চল। ওর পাপ ওর উপর এবং তোমার পুণ্য তোমার জন্য। আর অবশ্যই কাউকে গালি দিয়ো না।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَلِيْمِ الْهَجَيْمِيْ عَنِ النَّبِيِ ﷺ قَالَ: وإنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وعَيَّرَكَ بِأمْرٍ لَيْسَ هُوَ فِيكَ فَلَا تُعَيِّرْهُ بِأمْرٍ هُوَ فِيهِ ودَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْه وأجْرُهُ لَكَ ولا تَسُبَّنَّ أحَداً
পরিচ্ছেদঃ মৃতকে গালি
(২০৯১) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মৃতদেরকে গালি দিয়ো না। যেহেতু তারা নিজেদের কৃতকর্মের পরিণতি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।(অর্থাৎ, তার ফল ভোগ করছে।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَسُبُّوا الأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ মৃতকে গালি
(২০৯২) মুগীরা বিন শু’বাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মৃতদেরকে গালি দিয়ে জীবিতদেরকে কষ্ট দিয়ো না।
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَتُؤْذُوْا الْأَحْيَاءَ
পরিচ্ছেদঃ মৃতকে গালি
(২০৯৩) সাঈদ বিন যায়দ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কাফেরকে গালি দিয়ে মুসলিমকে কষ্ট দিয়ো না।
عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تُؤْذُوا مُسْلِمًا بِشَتْمِ كَافِرٍ
পরিচ্ছেদঃ জ্বরকে গালি দেওয়া মাকরূহ
(২০৯৪) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িবের নিকট প্রবেশ ক’রে বললেন, হে উম্মে সায়েব কিংবা উম্মে মুসাইয়িব! তোমার কি হয়েছে যে, থরথর্ করে কাঁপছ?’’ সে বলল, ’জ্বর হয়েছে; আল্লাহ তাতে বরকত না দেন।’ (এ কথা শুনে) তিনি বললেন, ’’জ্বরকে গালি দিও না। জ্বর তো আদম সন্তানের পাপ মোচন করে; যেমন হাপর (ও ভাটি) লোহার ময়লা দূর করে ফেলে।
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ دَخَلَ عَلَى أُمِّ السَّائِبِ أَو أُمِّ المُسَيِّبِ فَقَالَ مَا لَكِ يَا أُمَّ السَّائِبِ ـ أَوْ يَا أُمَّ المُسَيَّبِ ـ تُزَفْزِفِينَ ؟ قَالَتْ : الحُمَّى لاَ بَارَكَ اللهُ فِيهَا فَقَالَ لاَ تَسُبِّي الحُمَّى فَإِنَّهَا تُذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الكِيْرُ خَبَثَ الحَدِيدِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ঝড়-বাতাসকে গালি দেওয়া নিষেধ ও ঝড়ের সময় দু‘আ
(২০৯৫) আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হাওয়াকে অভিশাপ দিয়ো না। যেহেতু হাওয়া তো আদেশপ্রাপ্ত, (আল্লাহর) আজ্ঞাবহ। আর যে ব্যক্তি কোন নির্দোষ নিরপরাধ বস্তুকে অভিশাপ করে, তার প্রতিই সেই অভিশাপ প্রত্যাবৃত্ত হয়।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ النَّبِىُّ ﷺ لاَ تَلْعَنْ الريحَ فَإِنَّهَا مَأْمُورَةٌ وَإِنَّهُ مَنْ لَعَنَ شَيْئًا لَيْسَ لَهُ بِأَهْلٍ رَجَعَتِ اللَّعْنَةُ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ঝড়-বাতাসকে গালি দেওয়া নিষেধ ও ঝড়ের সময় দু‘আ
(২০৯৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, বায়ু আল্লাহর আশিস, যা রহমত আনে এবং আযাবও আনে। কাজেই তোমরা যখন তা বইতে দেখবে, তখন তাকে গালি দিও না। বরং আল্লাহর নিকট তার ইষ্ট প্রার্থনা কর এবং তার অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা কর।
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ الرِّيحُ مِنْ رَوحِ اللهِ تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ، وَتَأتِي بِالعَذَابِ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهَا فَلاَ تَسُبُّوهَا وَسَلُوا اللهَ خَيْرَهَا وَاسْتَعِيذُوا بِاللهِ مِنْ شَرِّهَا رَوَاهُ أَبُوْ دَاوُدَ بِإِسْنَادٍ حَسَنٍ
পরিচ্ছেদঃ ঝড়-বাতাসকে গালি দেওয়া নিষেধ ও ঝড়ের সময় দু‘আ
(২০৯৭) আবুল মুনযির উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ঝড়কে গালি দিয়ো না। যখন তোমরা অপছন্দনীয় কিছু লক্ষ্য করবে, তখন এই দু’আ পড়বে। ’আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাযিহির রীহি অখাইরি মা ফীহা অখাইরি মা উমিরাত বিহ। অনাঊযু বিকা মিন শাররি হাযিহির রীহি অশাররি মা ফীহা অশাররি মা উমিরাত বিহ।
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এই ঝড়ের কল্যাণ, ওর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যার আদিষ্ট হয়েছে তার কল্যাণ। এবং তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি এই বায়ুর অনিষ্ট হতে ওর মধ্যে নিহিত অনিষ্ট এবং যার আদিষ্ট হয়েছে তার অনিষ্ট হতে।
عَن أَبِي الْمُنْذِرِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَسُبُّوا الرِّيحَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا : اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيحِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَخَيْرِ مَا أُمِرَتْ بِهِ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ رَوَاهُ التِّرْمِذِيْ، وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ صَحَيْحٌ
পরিচ্ছেদঃ ঝড়-বাতাসকে গালি দেওয়া নিষেধ ও ঝড়ের সময় দু‘আ
(২০৯৮)আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঝড়-তুফান চলা কালে আল্লাহর রসূল এই দু’আ করতেন, ’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা অখাইরা মা ফীহা অখাইরা মা উরসিলাত বিহ, অআঊযু বিকা মিন শাররিহা অশাররি মা ফীহা অশাররি মা উরসিলাত বিহ।’
অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি এর কল্যাণ, এর মধ্যে যা আছে তার কল্যাণ এবং যার সাথে এ প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে যা আছে তার অনিষ্ট এবং যার সাথে এ প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট হতে পানাহ চাচ্ছি।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إذَا عَصَفَتِ الرِّيحُ قَالَ اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْألُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا فِيهَا وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ رَوَاهُ مُسْلِمُ
পরিচ্ছেদঃ যুগ-জামানাকে গালি
(২০৯৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যুগকে গালি দিয়ো না। যেহেতু আল্লাহই যুগের বিবর্তনকারী।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لاَ تَسُبُّوا الدَّهْرَ فَإِنَّ اللهَ هُوَ الدَّهْرُ
পরিচ্ছেদঃ যুগ-জামানাকে গালি
(২১০০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ’’আদম-সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়; বলে, ’হায়রে দুর্ভাগা যুগ!’ সুতরাং তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই না বলে, ’হায়রে দুর্ভাগা যুগ!’ কারণ, আমিই তো যুগ (যুগের আবর্তনকারী)। তার রাত ও দিনকে আমিই আবর্তন করে থাকি। অতঃপর আমি যখন চাইব তখন উভয়কে নিশ্চল করে দেব।’’ (মুসলিম ৬০০১)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’আল্লাহ বলেন, আদম-সন্তান আমাকে কষ্ট দিয়ে থাকে; সে কাল-কে গালি দেয়। অথচ আমিই তো কাল (বিবর্তনকারী)। আমিই দিবা-রাত্রিকে আবর্তন করে থাকি।’’ (মুসলিম ৬০০০)
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِينِى ابْنُ آدَمَ يَقُولُ يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ فَلاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ فَإِنِّى أَنَا الدَّهْرُ أُقَلِّبُ لَيْلَهُ وَنَهَارَهُ فَإِذَا شِئْتُ قَبَضْتُهُمَا
وفي رواية قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِينِى ابْنُ آدَمَ يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ
পরিচ্ছেদঃ মোরগকে গালি দেওয়া নিষেধ
(২১০১)যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমরা মোরগকে গালি দিও না। কারণ, সে নামাযের জন্য জাগিয়ে থাকে।
عَنْ زَيدِ بْنِ خَالِدِ الجُهَنِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَسُبُّوا الدِّيْكَ فَإِنَّهُ يُوِقِظُ لِلصَّلاَةِ رواه أبو داود بِإِسْنَادٍ صَحِيْحٍ
পরিচ্ছেদঃ শয়তানকে গালি
(২১০২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শয়তানকে গালি দিয়ো না; বরং ওর অনিষ্ট হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُوْل اللهِ ﷺ لاَ تَسُبُّوا الشَّيْطَانَ وَتَعَوَّذُوا بِالله مِنْ شَرِّهِ
পরিচ্ছেদঃ শয়তানকে গালি
(২১০৩) আবূ মালীহ এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (কোন বিপদকালে) বলো না যে, ’শয়তান ধ্বংস হোক।’ যেহেতু এতে সে স্ফীত হয়ে ঘরের সমান হয় এবং বলে, ’আমি নিজ শক্তিতে ওকে বিপদগ্রস্ত করেছি।’ বরং তুমি বলো, ’বিসমিল্লাহ।’ এ কথা বললে, সে মাছির মত ছোট হয়ে যায়।
عَنْ أَبِى الْمَلِيحِ عَنْ رَجُلٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُ ﷺ لاَ تَقُلْ تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَإِنَّكَ إِذَا قُلْتَ ذٰلِكَ تَعَاظَمَ حَتّٰـى يَكُونَ مِثْلَ الْبَيْتِ وَيَقُولَ بِقُوَّتِى وَلَكِنْ قُلْ بِسْمِ اللهِ فَإِنَّكَ إِذَا قُلْتَ ذٰلِكَ تَصَاغَرَ حَتّٰـى يَكُونَ مِثْلَ الذُّبَابِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে ‘কাফের’ বলে ডাকা হারাম
(২১০৪) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কেউ তার মুসলিম ভাইকে ’কাফের’ বলে, তখন তাদের উভয়ের মধ্যে একজনের উপর তা বর্তায়, যা বলেছে তা যদি সঠিক হয়, তাহলে তো ভাল। নচেৎ (যে বলেছে) তার উপর ঐ কথা ফিরে যায় (অর্থাৎ, সে ’কাফের’ হয়)।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لأَخِيهِ : يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا فَإِنْ كَانَ كَمَا قَالَ وَإلاَّ رَجَعَتْ عَلَيْهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে ‘কাফের’ বলে ডাকা হারাম
(২১০৫) আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, যে কাউকে ’ওরে কাফের’ বলে ডাকে অথবা ’ওরে আল্লাহর দুশমন’ বলে অথচ বাস্তবিক ক্ষেত্রে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।
وَعَنْ أَبي ذَرٍّ أَنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ أَو قَالَ : عَدُوَّ اللهِ وَلَيْسَ كَذٰلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমকে ‘কাফের’ বলে ডাকা হারাম
(২১০৬) আবূ ক্বিলাবাহ (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত, সাবেত বিন যাহহাক তাঁকে খবর দিয়েছেন যে, তিনি (হুদাইবিয়ার) গাছের নিচে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বাইআত করেছেন এবং আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ... যে ব্যক্তি যে অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে, সে ব্যক্তিকে সেই অস্ত্র দ্বারাই কিয়ামতের দিন আযাব ভোগ করানো হবে। যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে অভিসম্পাত করবে, তা হবে তাকে হত্যা করার সমান। যে ব্যক্তি কোন মুমিনকে ’কাফের’ বলে অপবাদ দেবে, তা হবে তাকে হত্যা করার সমান (পাপ)।
عَنْ أَبِيْ قِلَابَةَ أَنَّ ثَابِتَ بْنَ الضَّحَّاكِ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ فِي الدُّنْيَا عُذِّبَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَعَنَ مُؤْمِنًا فَهُوَ كَقَتْلِهِ وَمَنْ قَذَفَ مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَقَتْلِهِ
পরিচ্ছেদঃ অশ্লীল ও অসভ্য ভাষা প্রয়োগ করা নিষেধ
(২১০৭) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু’মিন খোঁটা দানকারী, অভিশাপকারী, নির্লজ্জ ও অশ্লীলভাষী হয় না।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْسَ المُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلاَ اللَّعَّانِ وَلاَ الفَاحِشِ وَلاَ البَذِيِّ رَوَاهُ التَّرْمِذِيْ وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ অশ্লীল ও অসভ্য ভাষা প্রয়োগ করা নিষেধ
(২১০৮) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বস্তুর মধ্যে অশ্লীলতা থাকবে, তা তাকে দূষিত ক’রে ফেলবে, আর যে জিনিসের মধ্যে লজ্জা-শরম থাকবে, তা তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে তুলবে।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا كَانَ الفُحْشُ فِي شَيْءٍ إِلاَّ شَانَهُ وَمَا كَانَ الحَيَاءُ فِي شَيْءٍ إِلاَّ زَانَهُ رَوَاهُ التَّرْمِذِيْ وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ উট বা অন্যান্য পশুর গলায় ঘনটা বাঁধা বা সফরে কুকুর এবং ঘুঙুর সঙ্গে রাখা মাকরূহ
(২১০৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই কাফেলার সঙ্গে (রহমতের) ফিরিশতা থাকেন না, যাতে কুকুর কিংবা ঘুঙুর থাকে।
عَن أَبِيْ هُرَيرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺلاَ تَصْحَبُ المَلاَئِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا كَلْبٌ أَوْ جَرَسٌ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ উট বা অন্যান্য পশুর গলায় ঘনটা বাঁধা বা সফরে কুকুর এবং ঘুঙুর সঙ্গে রাখা মাকরূহ
(২১১০) উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘন্টা বা ঘুঙুর শয়তানের বাঁশি।
وَعَنْه : أنَّ النَّبيَّ ﷺ قَالَ الجَرَسُ مَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ পানাহার, পবিত্রতা অর্জন তথা অন্যান্য ক্ষেত্রে সোনা-রূপার পাত্র ব্যবহার করা হারাম
(২১১১) উম্মে সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে আসলে তার উদরে জাহান্নামের আগুন ঢকঢক্ ক’রে পান করে।’’ (বুখারী ৫৬৩৪, মুসলিম ৫৫০৬)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ’’যে ব্যক্তি রূপা ও সোনার পাত্রে আহার অথবা পান করে (সে আসলে তার উদরে জাহান্নামের আগুন ঢকঢক্ করে পান করে)।’’ (মুসলিম ৫৫০৮)
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ الَّذِيْ يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةِ لِمُسلِمٍ إِنَّ الَّذِي يَأكُلُ أَوْ يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الفِضَّةِ وَالذَّهَبِ
পরিচ্ছেদঃ পানাহার, পবিত্রতা অর্জন তথা অন্যান্য ক্ষেত্রে সোনা-রূপার পাত্র ব্যবহার করা হারাম
(২১১২) হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, মোটা ও পাতলা রেশমের বস্ত্র পরিধান করতে এবং সোনা-রূপার পাত্রে পান করতে। আর তিনি বলেছেন, ’’উল্লিখিত সামগ্রীগুলো দুনিয়াতে ওদের (কাফেরদের) জন্য এবং আখেরাতে তোমাদের (মুসলিমদের) জন্য।’’ (বুখারী ৫৬৩২, মুসলিম ৫৫১৫)
এ গ্রন্থদ্বয়ের অন্য বর্ণনায়, হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ’’তোমরা মোটা ও পাতলা রেশমের কাপড় পরিধান করো না, সোনা-রূপার পাত্রে পান করো না এবং তার থালা-বাসনে আহার করো না।’’ (বুখারী ৫৪২৬, মুসলিম ৫৫২১)
وَعَنْ حُذَيفَةَ قَالَ : إِنَّ النَّبيَّ ﷺ نَهَانَا عَنِ الحَريِرِ وَالدِّيبَاجِ وَالشُّرْبِ فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ وَقَالَ هُنَّ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَهِيَ لَكُمْ فِي الآخِرَةِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ فِي الصَّحِيحَينِ عَنْ حُذيْفَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ لاَ تَلْبَسُوا الحَرِيرَ وَلاَ الدِّيبَاجَ وَلاَ تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ وَلاَ تَأكُلُوا فِي صِحَافِهَا
পরিচ্ছেদঃ পানাহার, পবিত্রতা অর্জন তথা অন্যান্য ক্ষেত্রে সোনা-রূপার পাত্র ব্যবহার করা হারাম
(২১১৩) আনাস ইবনে সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, অগ্নিপূজক সম্প্রদায়ের কিছু লোকের কাছে আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) এর সাথে উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় রূপার পাত্রে ’ফালূযাজ’ (নামক এক প্রকার মিষ্টান্ন) আনা হল। তিনি (আনাস ইবনে মালেক) তা খেলেন না। তাদেরকে বলা হল যে, ওটার পাত্র পাল্টে দাও। সুতরাং তা পাল্টে কাঠের পাত্রে রাখা করাল এবং তা তাঁর নিকট হাজির করা হল। তখন তিনি তা খেলেন।
وَعَنْ أَنَسِ بنِ سِيِرين قَالَ : كُنْتُ مَعَ أَنَسِ بنِ مَالِكٍ عِنْدَ نَفَرٍ مِنَ المَجُوسِ فَجِيءَ بفَالُوذَجٍ عَلَى إِنَاءٍ مِنْ فِضَّةٍ فَلَمْ يَأكُلْهُ فَقِيلَ لَهُ : حَوِّلْهُ فَحَوَّلَهُ عَلَى إِنَاءٍ مِنْ خَلَنْجٍ وَجِيءَ بِهِ فَأَكَلَهُ رَوَاهُ الْبَيْهَقِيْ بِإِسْنَادٍ حسن
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে হাসানো
(২১১৪) বাহয বিন হাকীম বলেন, আমার পিতা তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করে বলেছেন, আমি শুনেছি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুর্ভোগ সেই ব্যক্তির, যে মিথ্যা বলে লোকেদেরকে হাসায়। দুর্ভোগ তার জন্য, দুর্ভোগ তার জন্য।
عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيْمٍ قَالَ حَدَّثَنِى أَبِىْ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ وَيْلٌ لِلَّذِى يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ মানুষ হাসানো নিষেধ
(২১১৫)আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শোনো! তোমাদের কেউ এমন কথা বলে; যার দ্বারা সে লোকেদেরকে হাসাতে চায়, সে ব্যক্তি সম্ভবতঃ আকাশ হতে দূরবর্তী স্থানে নিপতিত হয়। শোনো! তোমাদের মধ্যে কোন মানুষ এমন কথা বলে; যার দ্বারা সে নিজ সঙ্গীদেরকে হাসাতে চায় সম্ভবতঃ তার দরুন আল্লাহ ঐ মানুষের উপর ক্রোধান্বিত হন এবং তাকে জাহান্নামে না দেওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হন না।
وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَلَا هَلْ عَسَى رَجُلٌ مِنْكُمْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِالْكَلِمَةِ يُضْحِكُ بِهَا الْقَوْمَ فَيَسْقُطُ بِهَا أَبْعَدَ مِنَ السَّمَاءِ , أَلَا هَلْ عَسَى رَجُلٌ مِنْكُمْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِالْكَلِمَةِ يُضْحِكُ بِهَا أَصْحَابَهُ فيَسْخَطُ اللهُ بِهَا عَلَيْهِ لَا يَرْضَى عَنْهُ حَتّٰـى يُدْخِلَهُ النَّارَ
পরিচ্ছেদঃ কুকুর পোষার বিধান
(২১১৬)ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি শিকারী অথবা পশুরক্ষক কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পোষে, তার নেকী থেকে প্রত্যেক দিন দুই ক্বীরাত্ব পরিমাণ সওয়াব কমে যায়। (মালেক, বুখারী ৫৪৮০-৫৪৮২, মুসলিম ৪১০৬-৪১১২নং, তিরমিযী, নাসাঈ) অন্য বর্ণনায় আছে, এক ক্বীরাত্ব সওয়াব কমে যায়।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنِ اقْتَنَى كَلْباً إِلاَّ كَلْبَ صَيْدٍ أَوْ مَاشِيَةٍ فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ كُلَّ يَومٍ قِيرَاطَانِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ قِيرَاطٌ
পরিচ্ছেদঃ কুকুর পোষার বিধান
(২১১৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি কুকুর বাঁধে (পালে), তার আমল (নেকী) থেকে প্রত্যহ এক ক্বীরাত্ব পরিমাণ কমে যায়।’’ (বুখারী ২৩২২, মুসলিম ৪১১৩-৪১১৮)
অন্য বর্ণনায় আছে, ’’যে ব্যক্তি এমন কুকুর পোষে, যা শিকারের জন্য নয়, পশু রক্ষার জন্য নয় এবং ক্ষেত পাহারার জন্য নয়, সে ব্যক্তির নেকী থেকে প্রত্যেক দিন দুই ক্বীরাত্ব পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।’’ (এখানে ক্বীরাত ঠিক কত পরিমাণ, তা আল্লাহই জানেন।)
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ أَمْسَكَ كَلْباً، فَإِنَّهُ ينْقُصُ مِنْ عَمَلِهِ كُلَّ يَومٍ قِيرَاطٌ إِلاَّ كَلْبَ حَرْثٍ أَوْ مَاشِيَةٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسلِمٍ مَنِ اقْتَنَى كَلْباً لَيْسَ بِكَلْبِ صَيْدٍ وَلاَ مَاشِيَةٍ وَلاَ أَرْضٍ فَإِنَّهُ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِهِ قِيرَاطَانِ كُلَّ يَوْمٍ
পরিচ্ছেদঃ কুকুর পোষার বিধান
(২১১৮)আবূ তালহা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে গৃহে (রহমতের) ফিরিশতাবর্গ প্রবেশ করেন না, যে গৃহে কুকুর অথবা মূর্তি (বা ছবি) থাকে।
عَنْ أَبِيْ طَلْحَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ صُوْرَةٌ
পরিচ্ছেদঃ কুকুর পোষার বিধান
(২১১৯) একদা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গৃহে একটি কুকুর প্রবেশ করলে জিবরীল প্রবেশ করেননি। কারণ জিজ্ঞাসা করলে জিবরীল বলেছিলেন, إِنَّا لَا نَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلَا كَلْبٌ আমরা সে ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে মূর্তি (বা ছবি) অথবা কুকুর থাকে।
-
পরিচ্ছেদঃ কুকুর পোষার বিধান
(২১২০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর চাঁটলে তার পবিত্রতার বিধান হল, তা প্রথমবার মাটি দিয়ে মেঁজে সাতবার ধৌত কর।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ طُهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أُولاَهُنَّ بِالتُّرَابِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমের দিকে অস্ত্র দ্বারা ইশারা করা হারাম, তা সত্যিসত্যি হোক অথবা ঠাট্টা ছলেই হোক। অনুরূপভাবে নগ্ন তরবারি দেওয়া-নেওয়া করা নিষিদ্ধ
(২১২১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তোমাদের কেউ যেন তার কোন ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র উত্তোলন ক’রে ইশারা না করে। কেননা, সে জানে না হয়তো শয়তান তার হাতে ধাক্কা দিয়ে দেবে, ফলে (মুসলিম হত্যার অপরাধে) সে জাহান্নামের গর্তে নিপতিত হবে।’’ (বুখারী ৭০৭২, মুসলিম ৬৮৩৪)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি বলেন, ’’যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের প্রতি কোন লৌহদণ্ড (লোহার অস্ত্র) দ্বারা ইঙ্গিত করে, সে ব্যক্তিকে ফিরিশতাবর্গ অভিশাপ করেন; যতক্ষণ না সে তা ফেলে দিয়েছে। যদিও সে তার নিজের সহোদর ভাই হোক না কেন।’’ (মুসলিম ৬৮৩২)
(অর্থাৎ, তাকে মারার ইচ্ছা না থাকলেও ইঙ্গিত ক’রে ভয় দেখানো গোনাহর কাজ।)
عَنْ أَبي هُرَيرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يُشِرْ أَحَدُكُمْ إِلَى أَخِيهِ بِالسِّلاَحِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنْزعُ فِي يَدِهِ فَيَقَعُ فِي حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِّمُسلِمٍ قَالَ : قَالَ أبُو القَاسِم ﷺ مَنْ أَشَارَ إِلَى أَخِيهِ بِحَدِيدَةٍ فَإِنَّ المَلاَئِكَةَ تَلْعَنُهُ حَتّٰـى يَنْزعَ وَإِنْ كَانَ أَخَاهُ لأَبِيهِ وَأُمِّهِ
পরিচ্ছেদঃ কোন মুসলিমের দিকে অস্ত্র দ্বারা ইশারা করা হারাম, তা সত্যিসত্যি হোক অথবা ঠাট্টা ছলেই হোক। অনুরূপভাবে নগ্ন তরবারি দেওয়া-নেওয়া করা নিষিদ্ধ
(২১২২) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নগ্ন তরবারি পরস্পর দেওয়া-নেওয়া করতে নিষেধ করেছেন। (কারণ, তাতে হাত-পা কেটে যাবার সম্ভাবনা থাকে)।
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يُتَعَاطَى السَّيْفُ مَسْلُولاً رَوَاهُ أَبُوْ دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيْ، وَقَالَ حَدِيْثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ যা নেই, তার পরিতৃপ্তি প্রকাশ করা বৈধ নয়
(২১২৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা যখন কোন বান্দাকে কোন সম্পদ দান করেন, তখন তিনি তার চিহ্ন ঐ বান্দার উপর দেখা যাক তা পছন্দ করেন। আর তিনি অভাব ও দীনতা প্রকাশ করাকে অপছন্দ করেন। নাছোড়-বান্দা হয়ে ভিক্ষাকারীকে ঘৃণা করেন এবং লজ্জাশীল ও ভিক্ষা করে না এমন পবিত্র মানুষকে তিনি ভালোবাসেন।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى إِذَا أنْعَمْ على عَبْدٍ نِعْمَةً يُحِبُّ أنْ يَرَى أثَرَ النِّعْمَةِ علَيْهِ وَيَكْرَهُ الْبُؤْسَ والتَّباؤُسَ ويُبْغِضُ السَّائِلَ المُلْحِفَ ويحِبُّ الحَيَّ العَفيفَ المُتَعفّفَ
পরিচ্ছেদঃ যা নেই, তার পরিতৃপ্তি প্রকাশ করা বৈধ নয়
(২১২৪) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তিকে কোন উপহার দান করা হয় সে ব্যক্তির উচিত, দেওয়ার মত কিছু পেলে তা দিয়ে তার প্রতিদান (প্রত্যুপহার) দেওয়া। দেওয়ার মত কিছু না পেলে দাতার প্রশংসা করা উচিত। কারণ, যে ব্যক্তি (দাতার) প্রশংসা করে সে তার কৃতজ্ঞতা (বা শুকরিয়া) আদায় করে দেয়, যে ব্যক্তি (উপহার) গোপন করে (প্রতিদান দেয় না বা শোকর আদায় করে না) সে কৃতঘ্নতা (বা নাশুকরী) করে। আর যে ব্যক্তি এমন কিছু প্রকাশ করে যা তাকে দেওয়া হয়নি সে ব্যক্তি দু’টি মিথ্যা লেবাস পরিধানকারীর মত।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِيِّ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَلْيَجْزِهِ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ مَا يَجْزِيهِ فَلْيُثْنِ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ إِذَا أَثْنَى عَلَيْهِ فَقَدْ شَكَرَهُ وَإِنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُ وَمَنْ تَحَلَّى بِمَا لَمْ يُعْطَ فَكَأَنَّمَا لَبِسَ ثَوْبَىْ زُورٍ
পরিচ্ছেদঃ যা নেই, তার পরিতৃপ্তি প্রকাশ করা বৈধ নয়
(২১২৫) আসমা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আমার এক স্বপত্নী আছে। তাই স্বামী আমাকে যা দেয় না, তা নিয়ে যদি পরিতৃপ্তি প্রকাশ করি তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে কি?’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যা দেওয়া হয়নি তা নিয়ে পরিতৃপ্তি প্রকাশকারী মিথ্যা দুই বস্ত্র পরিধানকারীর ন্যায়।
عَنْ أَسْمَاءَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَتْ إِنَّ لِى ضَرَّةً فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ أَنْ أَتَشَبَّعَ مِنْ مَالِ زَوْجِى بِمَا لَمْ يُعْطِنِى فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْمُتَشَبِّعُ بِمَا لَمْ يُعْطَ كَلاَبِسِ ثَوْبَىْ زُورٍ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১২৬)জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা বাম হাতে আহার করো না। কারণ, শয়তান বাম হাত দিয়ে পানাহার করে।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ تَأكُلُوْا بِالشِّمَالِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأكُلُ وَيَشرَبُ بِالشِّمَالِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১২৭) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন বাম হাত দিয়ে অবশ্যই আহার না করে এবং তা দিয়ে অবশ্যই পানও না করে। কেননা, শয়তান বাম হাত দিয়ে পানাহার ক’রে থাকে।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَأكُلَنَّ أَحَدُكُمْ بِشِمَالِهِ وَلاَ يَشْرَبَنَّ بِهَا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِهَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১২৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা দাড়ি ছেড়ে দাও, মোছ ছেঁটে ফেল এবং সাদা চুল-দাড়ি রাঙিয়ে ফেল। আর ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَعْفُوا اللِّحَى وَخُذُوا الشَّوَارِبَ وَغَيِّرُوا شَيْبَكُمْ وَلَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১২৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’ইহুদী-খ্রিস্টানরা (দাড়ি-মাথার চুলে) কলপ লাগায় না। সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো।’’ (অর্থাৎ, তোমরা তা লাগাও।)
উদ্দেশ্য হল, হলুদ অথবা লাল রঙ দিয়ে দাড়ি ও মাথার চুল রঙানো। পক্ষান্তরে কালো কলপ ব্যবহার নিষিদ্ধ। যেমন অন্যত্র সে কথা উল্লেখ করব—ইন শাআল্লাহু তাআলা।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إنَّ اليَهُودَ وَالنَّصَارى لاَ يَصْبِغُونَ فَخَالِفُوهُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩০) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যেভাবে (যত বিষয়ে) তোমাদের সাধ্য, তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরোধিতা কর।
وَعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ الله ﷺخَالِفُوا أَولِيَاءَ الشَّيطَانِ كُلَّمَا استَطَعتُم
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩১) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সেই ব্যক্তি সেই জাতির দলভুক্ত।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩২) আবু ওয়াক্বেদ আল-লাইষী বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমরা হুনাইনের পথে বের হলাম। তখন আমরা কুফরের নিকটবর্তী (সদ্য নও-মুসলিম) ছিলাম। মক্কা-বিজয়ের দিন মুসলিম হয়েছিলাম। (পথে) মুশরিকদের একটি কুল গাছ ছিল; যার নিকটে ওরা ধ্যানমগ্ন হত এবং (বর্কতের আশায়) তাদের অস্ত্র-শস্ত্রকে তাতে ঝুলিয়ে রাখত; যাকে ’যা-তে আনওয়াত্ব’ বলা হত। সুতরাং একদা আমরা এক কুল গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। (তা দেখে) আমরা বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য একটি ’যা-তে আনওয়াত্ব’ ক’রে দিন যেমন ওদের রয়েছে। (তা শুনে) তিনি বললেন, ’আল্লাহু আকবার! এটাই তো পথরাজি! যার হাতে আমার জীবন আছে তাঁর কসম! তোমরা সেই কথাই বললে, যে কথা বানী ইস্রাঈল মূসাকে বলেছিল, ’আমাদের জন্য একটা দেবতা গড়ে দিন, যেমন ওদের অনেক দেবতা রয়েছে!’ মূসা বলেছিলেন, ’তোমরা মূর্খ জাতি।’ অবশ্যই তোমরা একটা একটা ক’রে তোমাদের পূর্ববর্তী (জাতির) পথ অনুসরণ করবে।
عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ أَنَّهُمْ خَرَجُوا عَنْ مَكَّةَ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِلَى حُنَيْنٍ قَالَ وَكَانَ لِلْكُفَّارِ سِدْرَةٌ يَعْكُفُونَ عِنْدَهَا وَيُعَلِّقُونَ بِهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالُ لَهَا ذَاتُ أَنْوَاطٍ قَالَ فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ خَضْرَاءَ عَظِيمَةٍ قَالَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قُلْتُمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ كَمَا قَالَ قَوْمُ مُوسَى اِجْعَلْ لَنَا إِلَهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةً قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ إِنَّهَا لَسُنَنٌ لَتَرْكَبُنَّ سُنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ سُنَّةً سُنَّةً
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩৩) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বলেছেন, অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির পথ অনুসরণ করবে বিঘত-বিঘত এবং হাত-হাত (সম) পরিমাণ। এমনকি তারা যদি গো-সাপের (সান্ডা)র গর্তে প্রবেশ করে, তাহলে তোমরাও তাদের পিছনে পিছনে যাবে। (এবং তাদের কেউ যদি রাস্তার উপর প্রকাশ্যে সঙ্গম করে, তাহলে তোমরাও তা করবে!) সাহাবাগণ বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি ইয়াহুদ ও নাসারার অনুকরণ করার কথা বলছেন?’ তিনি বললেন, তবে আবার কার?
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتّٰـى لَوْ دَخَلُوا فِى جُحْرِ ضَبٍّ لاَتَّبَعْتُمُوهُمْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ آلْيَهُودَ وَالنَّصَارَى قَالَ فَمَنْ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩৪) মুসতাওরিদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পূর্ববর্তী জাতির সকল আচরণ এই উম্মত গ্রহণ করে নেবে।
عَنِ المُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قال لاَ تَتَرُكُ هذِهِ الأُمَّةُ شيْئاً مِنْ سُنَنِ الأَوَّلِينَ حَتّٰـى تَأْتِيَهُ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩৫) সাহাবী হুযাইফাহ বিন আল-ইয়ামান (রাঃ) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূববর্তী জাতির পথের অনুসরণ করবে জুতার পরিমাপের মত (পুরাপুরি খাপে-খাপে), তোমরা পথ ভুল করবে না এবং তারাও তোমাদেরকে (সঙ্গে করতে) ভুল করবে না। এমনকি তারা যদি সুষ্ক অথবা নরম পায়খানা খায় তাহলে তোমরাও তা (তাদের অনুসরণে ’নিউ ফ্যাশন’ মনে করে) খাবে!
-
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩৬) উমার (রাঃ) বলেছেন, তোমরা বিলাসিতা, মুশরিকদের লিবাস ও রেশমবস্ত্র পরা থেকে দূরে থেকো। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেশমবস্ত্র পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।
قاَلَ عُمَرُ وَإِيَّاكُمْ وَالتَّنَعُّمَ وَزِىَّ أَهْلِ الشِّرْكِ وَلَبُوسَ الْحَرِيرِ فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى عَنْ لَبُوسِ الْحَرِيرِ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩৭) আমর বিন শুআইব, তিনি তাঁর পিতা, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত নয়, যে ব্যক্তি আমাদেরকে ছেড়ে অন্য কারো সাদৃশ্য অবলম্বন করে। তোমরা ইহুদীদের সাদৃশ্য অবলম্বন করো না, আর খ্রিস্টানদেরও সাদৃশ্য অবলম্বন করো না। ইয়াহুদীদের সালাম আঙ্গুলের ইশারায় এবং খ্রিস্টানদের সালাম হাতের ইশারায়।
عَنْ عَمْرٍو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جِدِّهِ رَضِيَ اللهَ عَنْهُمْ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلا بِالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيمَ الْيَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بَالأَكُفِّ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩৮) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের প্রতি তাকিয়েও দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষদের বেশধারিণী মহিলা এবং ভেড়া পুরুষ।
عَنْ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَلَاثٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يَنْظُرُ اللهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُّ وَالِدَيْهِ وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِّلَةُ الْمُتَشَبِّهَةُ بِالرِّجَالِ وَالدَّيُّوثُ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৩৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ সিজদাহ করে, তখন যেন উটের বসার মতো না বসে। বরং তার হাঁটু রাখার আগে যেন হাত রাখে।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৪০) আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সোজাভাবে সিজদাহ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ যেন কুকুরের মত দুই প্রকোষ্ঠকে বিছিয়ে না দেয়।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلَا يَبْسُطْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ انْبِسَاطَ الْكَلْبِ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৪১) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি যখন নামায পড়বে, তখন তোমার দুই হাতের প্রকো’কে হিংস্র জন্তুদের মত বিছিয়ে দিও না। দুই চেটোর উপর ভর কর ও পাঁজর থেকে (কনুই দু’টিকে) দূরে রাখ। এরূপ করলে তোমার সঙ্গে তোমার প্রত্যেক অঙ্গ সিজদাহ করবে।
عَنِ بْنَ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا تَبْسُطْ ذِرَاعَيْكَ إِذَا صَلَّيْتَ كَبَسْطِ السَّبُعِ وَادَّعِمْ عَلَى رَاحَتَيْكَ وَجَافِ عَنْ ضَبْعَيْكَ فَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذٰلِكَ سَجَدَ كُلُّ عُضْوٍ مِنْكَ"
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৪২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন যে, আমি যেন মোরগের দানা খাওয়ার মতো ঠকঠক্ করে নামায না পড়ি, কুকুরের (বা বানরের) বসার মতো (পায়ের রলা খাড়া করে) না বসি এবং শিয়ালের মতো (নামাযে) চোরা দৃষ্টিতে (এদিক-ওদিক) না তাকাই।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: وَنَهَانِيْ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَنْ نَقْرَةٍ كَنَقْرَةِ الدِّيكِ وَإِقْعَاءٍ كَإِقْعَاءِ الْكَلْبِ وَالْتِفَاتٍ كَالْتِفَاتِ الثَّعْلَبِ وَإِقْعَاءٍ كَإِقْعَاءِ الْقِرْدِ
পরিচ্ছেদঃ শয়তান, পশু ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
(২১৪৩) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশূরার রোযা রাখলেন এবং সকলকে রাখার আদেশ দিলেন, তখন লোকেরা বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! এ দিনটিকে তো ইয়াহুদ ও নাসারারা তা’যীম করে থাকে।’ তিনি বললেন, তাহলে আমরা আগামী বছরে ৯ তারীখেও রোযা রাখব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু আগামী বছর আসার আগেই আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকাল হয়ে গেল।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: حِيْنَ صَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التَّاسِعَ قَالَ فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتّٰـى تُوُفِّىَ رَسُولُ اللهِ ﷺ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৪৪) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যারা এ জাতীয় (প্রাণীর) মূর্তি বা ছবি তৈরী করে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমার যা বানিয়েছিলে তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা কর।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ يُقَالُ لَهُمْ : أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৪৫) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূক যুদ্ধের) সফর থেকে ফিরে এলেন। আমি আমার কক্ষের তাক বা জানালায় পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙ্গিয়ে ছিলাম; তাতে ছিল (প্রাণীর) অনেকগুলি চিত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওটা দেখলেন, তখন তার চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি বললেন, হে আয়েশা! কিয়ামতের দিন সেসব মানুষের সবচেয়ে বেশি শাস্তি হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ তৈরী করবে।’’ আয়েশা (রাঃ) বলেন, সুতরাং আমরা তা ছিঁড়ে ফেললাম এবং তা দিয়ে একটি বা দু’টি হেলান-বালিশ তৈরী করলাম।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : قَدِمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ سَفَرٍ وَقَدْ سَتَرْتُ سَهْوَةً لِي بِقِرامٍ فِيهِ تَمَاثيلُ فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ تَلَوَّنَ وَجْهُهُ، وَقَالَ يَا عَائِشَةُ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَاباً عِندَ اللهِ يَوْمَ القِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللهِ قَالَتْ : فَقَطَعْنَاهُ فَجَعَلْنَا مِنهُ وِسَادَةً أَوْ وِسَادَتَيْنِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৪৬) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, প্রত্যেক ছবি (বা মূর্তি) নির্মাতা জাহান্নামে যাবে, তার নির্মিত প্রতিটি ছবি বা মূর্তির পরিবর্তে একটি ক’রে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ’যদি তুমি করতেই চাও, তাহলে গাছপালা ও নিষ্প্রাণ বস্তুর ছবি বা মূর্তি তৈরী করতে পার। (বুখারী ২২২৫, ৫৯৬৩, মুসলিম ৫৬৬২)
সাঈদ বিন আবুল হাসান বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বলল, আমি ছবি (বা মূর্তি) নির্মাণ করি অতএব এ বিষয়ে আমাকে ফতোয়া দিন। তিনি বললেন, আমার কাছে এস। লোকটি তাঁর কাছে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, আরো কাছে এস। লোকটি আরো কাছে গেল। অতঃপর তার মাথায় হাত রেখে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে যা কুনেছি তাই তোমাকে জানাব; আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে কুনেছি যে, প্রত্যেক মূর্তি বা ছবি নির্মাতা দোযখে যাবে। সে যে সব মূর্তি বা ছবি বানিয়েছে তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে এমন জীব তৈরী করা হবে যা তাকে জাহান্নামে আযাব দিতে থাকবে। ইবনে আব্বাস বলেন, আর যদি তুমি একান্ত করতেই চাও তবে গাছ ও রূহবিহীন বস্তুর ছবি বানাও। (বুখারী ২২২৫, মুসলিম ৫৬৬২)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ فَيُعَذِّبُهُ فِي جَهَنَّمَ قَالَ ابنُ عَبَّاسٍ : فَإِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً، فَاصْنعِ الشَّجَرَ وَمَا لاَ رُوحَ فِيهِ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৪৭) উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তির দুনিয়াতে কোন (প্রাণীর) চিত্র বানিয়েছে তাকে কিয়ামতের দিনে তাতে রূহ ফুঁকার জন্য বাধ্য করা হবে, অথচ সে রূহ ফুঁকতে পারবে না।
وَعَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلِّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوْحَ يَومَ القِيَامَةِ وَلَيْسَ بِنَافِخٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৪৮) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিনে ছবি বা মূর্তি নির্মাতাদের সর্বাধিক কঠিন শাস্তি হবে।
وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَاباً يَومَ القِيَامَةِ المُصَوِّرُونَ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৪৯) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আযাব হবে সেই ব্যক্তির, যে কোন নবীকে হত্যা করেছে অথবা যাকে কোন নবী হত্যা করেছেন। অথবা সেই বক্তি, যে বিনা ইল্মে মানুষকে ভ্রষ্ট করে। অথবা সেই নির্মাতা, যে মূর্তি নির্মাণ করে।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ قَتَلَ نَبِيًّا، أَوْ قَتَلَهُ نَبِيُّ، أَوْ رَجُلٌ يُضِلُّ النَّاسَ بِغَيْرِ عَلِمٍ، أَوْ مُصَوِّرٌ يُصَوِّرُ التَّمَاثِيلَ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫০) উক্ত সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আযাব হবে সেই ব্যক্তির, যে কোন নবীকে হত্যা করেছে অথবা যাকে কোন নবী হত্যা করেছেন। ভ্রষ্ট (যালেম) রাষ্ট্রনেতা এবং মূর্তিনির্মাতার দলের লোক।
عَنْ عَبْدِ اللهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ قَتَلَهُ نَبِيٌّ أَوْ قَتَلَ نَبِيًّا وَإِمَامُ ضَلَالَةٍ وَمُمَثِّلٌ مِنْ الْمُمَثِّلِينَ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনের এক মূর্তি বের হবে, যার থাকবে দু’টি চোখ; যদ্দ্বারা সে দর্শন করবে, দু’টি কান; যদ্দ্বারা সে শ্রবণ করবে এবং যার জিভও থাকবে; যদ্দ্বারা সে কথাও বলবে। সেদিন সে বলবে, ’তিন প্রকার লোককে শায়েস্তা করার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে; প্রত্যেক উদ্ধত স্বৈরাচারী, প্রত্যেক সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকেও আহ্বান (শিরক) করেছে এবং যারা ছবি বা মূর্তি প্রস্তুত করে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَخْرُجُ عُنُقٌ مِنْ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَأُذُنَانِ يَسْمَعُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ فَيَقُولُ إِنِّي وُكِّلْتُ بِثَلَاثَةٍ بِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ وَبِكُلِّ مَنْ ادَّعَى مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ وَالْمُصَوِّرِينَ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা বলেন, তার চাইতে বড় যালেম কে আছে, যে আমার সৃষ্টির অনুরূপ সৃষ্টি তৈরী করতে চায়? সুতরাং তারা একটি ধূলিকতা বা পিঁপড়ে সৃষ্টি করুক অথবা একটি শস্যদানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি যবদানা সৃষ্টি করুক।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ قَالَ اللهُ تَعَالَى : وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي ؟ فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةً مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫৩) আবূ ত্বালহা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করেন না, যে ঘরে কুকুর থাকে এবং সে ঘরেও নয়, যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে।
وَعَنْ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ تَدْخُلُ المَلاَئِكَةُ بَيْتاً فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ صُورَةٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫৪) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) জিবরীল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসার ওয়াদা দিলেন। কিন্তু তিনি আসতে বিলম্ব করলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত (এ বিলম্ব) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষে অত্যন্ত ভারী বোধ হতে লাগল। অবশেষে তিনি বাইরে বের হয়ে গেলেন। তখন জিবরীল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ করলে জিবরীল বললেন, আমরা সেই ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর কিংবা ছবি থাকে।
وعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : وَعَدَ رَسُولَ اللهِ ﷺ جِبْرِيلُ أَنْ يَأتِيَهُ فَرَاثَ عَلَيْهِ حَتّٰـى اشْتَدَّ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ فَخَرَجَ فَلَقِيَهُ جِبرِيلُ فَشَكَا إِلَيهِ فَقَالَ : إِنَّا لاَ نَدْخُلُ بَيْتاً فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ صُورَةٌ رواهُ البُخاري
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫৫) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জিবরীল (আঃ) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কোন এক সময়ে সাক্ষাৎ করার জন্য ওয়াদা করেন। সুতরাং সে নির্ধারিত সময়টি এসে পৌঁছল; কিন্তু জিবরীল (আঃ) আসলেন না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে একটি লাঠি ছিল। তিনি তা ফেলে দিলেন এবং বললেন, আল্লাহ নিজ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না এবং তাঁর দূতগণও না। তারপর তিনি ফিরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখতে পেলেন যে, তাঁর খাটের নীচে একটি কুকুর ছানা বসে আছে। তখন তিনি বললেন, এ কুকুরটি কখন এখানে ঢুকে পড়েছে?
(আয়েশা (রাঃ) বলেন) আমি বললাম, আল্লাহর কসম! আমি ওর ব্যাপারে জানতেই পারিনি। সুতরাং তিনি আদেশ দিলে ওটাকে বাইরে বের করা হল। তারপর জিবরীল (আঃ)-এর আগমন ঘটল। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অভিযোগ ক’রে) বললেন, আপনি আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন, আর আমি আপনার প্রতীক্ষায় বসেছিলাম, অথচ আপনি আসলেন না? জিবরীল বললেন, আমাকে ঐ কুকুর ছানাটি (ঘরে ঢুকতে) বাধা দিয়েছিল; যেটা আপনার ঘরের মধ্যে ছিল। নিশ্চয় আমরা সে ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর কিংবা কোন ছবি বা মূর্তি থাকে।
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : وَاعَدَ رَسُولَ اللهِ ﷺ جِبرِيلُ، في سَاعَةٍ أَنْ يَأتِيَهُ فَجَاءتْ تِلْكَ السَّاعَةُ وَلَمْ يَأتِهِ قَالَتْ : وَكَانَ بِيَدِهِ عَصاً، فَطَرَحَهَا مِنْ يَدِهِ وَهُوَ يَقُولُ مَا يُخْلِفُ اللهُ وَعْدَهُ وَلاَ رُسُلُهُ ثُمَّ التَفَتَ فَإِذَا جَرْوُ كَلْبٍ تَحْتَ سَرِيرِهِ فَقَالَ مَتَى دَخَلَ هَذَا الكَلْبُ ؟ فَقُلْتُ : وَاللهِ مَا دَرَيْتُ بِهِ فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ فَجَاءَهُ جِبْرِيلُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَعَدْتَنِي، فَجَلَسْتُ لَكَ وَلَمْ تَأَتِنِي فَقَالَ : مَنَعَنِي الكَلْبُ الَّذِي كَانَ فِي بَيْتِكَ إِنَّا لاَ نَدْخُلُ بَيْتاً فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ صُورَةٌ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫৬) আবুল হাইয়াজ হাইয়ান ইবনে হুস্বাইন হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন, তোমাকে সে কাজের জন্য পাঠাব না কি, যে কাজের জন্য আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? (তা হচ্ছে এই যে,) কোন (প্রাণীর) ছবি বা মূর্তি দেখলেই তা নিশ্চিহ্ন ক’রে দেবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে তা সমান ক’রে দেবে।
وَعَنْ أبي الهَيَّاجِ حَيَّانَ بِن حُصَيْنٍ قَالَ : قَالَ لِيْ عَليُّ بنُ أَبِي طَالِبٍ أَلاَ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ ﷺ ؟ أَنْ لاَ تَدَعَ صُورَةً إِلاَّ طَمَسْتَهَا، وَلاَ قَبْراً مُشْرَفاً إِلاَّ سَوَّيْتَهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ
(২১৫৭) আবূ জুহাইফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রক্ত ও কুকুরের মূল্য এবং বেশ্যা (দাসী)র উপার্জন গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। আর সুদখোর, সুদদাতা, চেহারা (নকশা করার জন্য) দাগে বা দাগায় এমন নারী এবং মূর্তি (বা ছবি) নির্মাতাকে অভিসম্পাত করেছেন।
عن أَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الدَّمِ وَثَمَنِ الْكَلْبِ وَكَسْبِ الْأَمَةِ وَلَعَنَ الْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ وَآكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَلَعَنَ الْمُصَوِّرَ
পরিচ্ছেদঃ পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ, সম্পর্ক ছেদন এবং শক্রতা পোষণ করার নিষেধাজ্ঞা
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّمَا المُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ
অর্থাৎ, সকল বিশ্বাসীরা তো পরস্পর ভাই ভাই। (সূরা হুজুরাত-৪৯:৩-১০)
তিনি আরো বলেন,
أَذِلَّةٍ عَلَى المُؤمِنينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الكَافِرينَ
অর্থাৎ, তারা হবে বিশ্বাসীদের প্রতি কোমল ও অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর। (সূরা মায়েদাহ-৫:৫৪)
তিনি অন্যত্র বলেন,
مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ وَالَّذينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ
অর্থাৎ, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল; আর তার সহচরগণ অবিশ্বাসীদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। (সূরা ফাত্হ-৪৮:২৯)
(২১৫৮) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের প্রতি হিংসাপরায়ণ হয়ো না, পরস্পরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের সাথে সম্পর্ক ছেদন করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। আর কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে তিনদিনের বেশি কথাবার্তা বলা ত্যাগ করে।
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لاَ تَبَاغَضُوا وَلاَ تَحَاسَدُوا وَلاَ تَدَابَرُوا وَلاَ تَقَاطَعُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللهِ إِخْوَاناً وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثٍ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ, সম্পর্ক ছেদন এবং শক্রতা পোষণ করার নিষেধাজ্ঞা
(২১৫৯)আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয়। (ঐ দিনে) প্রত্যেক সেই বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থাপন করেনি। কিন্তু সেই ব্যক্তিকে নয়, যার সাথে তার মুসলিম ভাইয়ের শত্রুতা থাকে। (তাদের সম্পর্কে) বলা হয়, এদের দু’জনকে সন্ধি হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও, এদের দু’জনকে সন্ধি হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দাও।
অন্য বর্ণনায় আছে, প্রত্যেক বৃহস্পতি ও সোমবারে আমলসমূহ উপস্থাপন করা হয়। আর অবশিষ্ট হাদীসটি অনুরূপ।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْـجَنَّةِ يَوْمَ الْاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْـخَمْيِسِ فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لاَ يُشْرِكُ بِاللهِ شَيْئاً إِلاَّ رَجُلاً كَانَتْ بَينَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ فَيُقَالُ : أَنْظِرُوا هَذَيْنِ حَتّٰـى يَصْطَلِحَا أَنْظِرُوا هَذَينِ حَتّٰـى يَصْطَلِحَا رواه مسلم
وفي روايةٍ لَهُ تُعْرَضُ الأَعْمَالُ فِي كُلِّ يَوْمِ خَمِيسٍ وَاثْنَيْن وذَكَرَ نَحْوَهُ
পরিচ্ছেদঃ পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ, সম্পর্ক ছেদন এবং শক্রতা পোষণ করার নিষেধাজ্ঞা
(২১৬০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের আপোসে (এক অপরের বিরুদ্ধে) বিদ্বেষ পোষণ করা হতে দূরে থেকো। কারণ, তা হল (দ্বীন) ধ্বংসকারী।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إياكمْ وسُوْءَ ذَاتِ البَيْنِ فإنّها الحالِقَةُ
পরিচ্ছেদঃ তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إنَّمَا الْـمُـؤْمِنُـوْنَ إخْـوَةٌ فَأَصْـلِحُوا بَـيْـنَ أخَوَيْكُمْ
অর্থাৎ, সকল বিশ্বাসীরা তো পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা দুই ভাই-এর মধ্যে সন্ধি স্থাপন কর। (সূরা হুজুরাত-৪৯:১০) তিনি আরো বলেছেন,
وَلاَ تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْـمِ وَالْـعُـدْوَانِ
অর্থাৎ, পাপ ও সীমালংঘনের কাজে তোমরা একে অন্যের সাহায্য করো না। (সূরা মায়েদাহ ২)
(২১৬১) আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখে। যখন তারা পরস্পর সাক্ষাৎ করে, তখন এ এ দিকে মুখ ফিরায় এবং ও ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তাদের দু’জনের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই হবে, যে সাক্ষাৎকালে প্রথমে সালাম পেশ করবে।
وَعَنْ أَبي أَيُّوبَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَـحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَّهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ: يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلاَمِ :متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন।
(২১৬২) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি, নিশ্চয় শয়তান এ ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে যে, আরব দ্বীপে নামাযী (মুসলিম)রা তার পূজা করবে। তবে (এ বিষয়ে সুনিশ্চিত) যে, সে তাদের মধ্যে উস্কানি দিয়ে (উত্তেজনা সৃষ্টি ক’রে তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত করতে সফল হবে।)
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ يَئِسَ أَنْ يَّـعْبُدَهُ الْمُصَلُّوْنَ فِـيْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَلَكِنْ فِـي التَّحْرِيشِ بَيْنَهُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন।
(২১৬৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিমের জন্য এ কাজ বৈধ নয় যে, তার কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তিন দিনের ঊর্ধ্বে কথাবার্তা বন্ধ রাখবে এবং সেই অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ يَـحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَّهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلاَثٍ فَمَنْ هَجَرَ فَوْقَ ثَلاَثٍ فَمَاتَ دَخَلَ النَّارَ رواه أَبُو داود بإسناد عَلَى شرط البخاري ومسلم
পরিচ্ছেদঃ তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন।
(২১৬৪) আবূ খিরাশ হাদরাদ ইবনে আবূ হাদরাদ আসলামী, মতান্তরে সুলামী সাহাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, যে ব্যক্তি তার কোন (মুসলিম) ভাইয়ের সঙ্গে বছরব্যাপী বাক্যালাপ বন্ধ করবে, তা হবে তার রক্তপাত ঘটানোর মত।
وَعَنْ أَبِـيْ خِرَاشٍ حَدْرَدِ بْنِ أَبِـيْ حَدْرَدٍ الأسلَمِيِّ وَيُقَالُ : السُّلَمِيّ الصَّحَابِي أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ هَجَرَ أَخَاهُ سَنَةً فَهُوَ كَسَفْكِ دَمِهِ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন।
(২১৬৫) আওফ ইবনে মালিক ইবনে তুফাইল হতে বর্ণিত, আয়েশা (রাঃ)র সামনে ব্যক্ত করা হল যে, আয়েশা (রাঃ) যে (নিজ বাড়ি) বিক্রয় বা দান করেছেন, সে সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ) বলেছেন যে, ’হয় (খালাজান) আয়েশা (অবাধে দান-খয়রাত করা হতে) অবশ্যই বিরত থাকুন, নচেৎ তাঁর উপর (আর্থিক) অবরোধ প্রয়োগ করবই।’ আয়েশা (রাঃ) এই বক্তব্য শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, ’সত্যিই কি সে এ কথা বলেছে?’ লোকেরা বলল, ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ’তাহলে আমি আল্লাহর নামে মানত করলাম যে, এখন থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের সাথে কখনোও কথা বলব না।’ তারপর যখন বাক্যালাপ ত্যাগ দীর্ঘ হয়ে গেল, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর আয়েশার নিকট (এ ব্যাপারে) সুপারিশ করালেন। আয়েশা বললেন, ’আল্লাহর কসম! আমি ইবনে যুবাইরের সম্পর্কে কোন সুপারিশ গ্রহণ করব না, আর আপন মানত ভঙ্গও করব না।’
বস্তুতঃ যখন ব্যাপারটা ইবনে যুবাইরের উপর অতীব দীর্ঘ হয়ে পড়ল, তখন তিনি মিসওয়ার ইবনে মাখরামাহ ও আব্দুর রাহমান ইবনে আসওয়াদ ইবনে আব্দে ইয়াগুস সাহাবীদের সঙ্গে আলোচনা করলেন এবং তাঁদেরকে বললেন, ’আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কসম দিচ্ছি যে, তোমরা (আমার স্নেহময়ী খালা) আয়েশার কাছে আমাকে নিয়ে চল। কেননা, আমার সাথে বাক্যালাপ বন্ধ রাখার মানতে অটল থাকা তাঁর জন্য আদৌ বৈধ নয়।’ সুতরাং মিসওয়ার ও আব্দুর রহমান উভয়ে ইবনে যুবাইর (রাঃ) কে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত ভিতরে প্রবেশ করার জন্য আয়েশার নিকট অনুমতিও চাইলেন এবং বললেন, ’আসসালামু আলাইকি অরাহ্মাতুল্লাহি অবারাকা-তুহ! আমরা কি ভিতরে আসতে পারি?’ আয়েশা (রাঃ) বললেন, ’হ্যাঁ এসো।’ বললেন, ’আমরা সকলেই কি?’ আয়েশা (রাঃ) বললেন, ’হ্যাঁ, সকলেই প্রবেশ কর।’
কিন্তু তিনি জানতেন না যে, ওই দু’জনের সঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ)ও উপস্থিত আছেন। সুতরাং এঁরা যখন ভিতরে ঢুকলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর পর্দার ভিতরে চলে গেলেন এবং (খালা) আয়েশা (রাঃ) কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর শপথ দিতে লাগলেন। এ দিকে পর্দার বাইরে থেকে মিসওয়ার ও আব্দুর রহমান উভয়েই আয়েশাকে কসম দিয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে ও তাঁর ওযর গ্রহণ করতে অনুরোধ করলেন এবং বললেন, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাক্যালাপ বন্ধ রাখতে নিষেধ করেছেন--যে সম্বন্ধে আপনি অবহিত। আর কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী কথাবার্তা বন্ধ রাখে।’
সুতরাং যখন তাঁরা আয়েশা (রাঃ)র সামনে উপদেশ ও সম্পর্ক ছিন্ন করা যে গুনাহ—তা বারবার বলতে লাগলেন, তখন তিনিও উপদেশ আরম্ভ করলেন এবং কাঁদতে লাগলেন। তিনি বলতে লাগলেন, ’আমি তো মানত মেনেছি। আর মানতের ব্যাপারটা বড় শক্ত।’ কিন্তু তাঁরা তাঁকে অব্যাহতভাবে বুঝাতে থাকলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি (আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা) আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের সাথে কথা বললেন এবং স্বীয় মানত ভঙ্গ করার কাফ্ফারা স্বরূপ চল্লিশটি গোলাম মুক্ত করলেন। তারপর থেকে তিনি যখনই উক্ত মানতের কথা স্মরণ করতেন, তখনই এত বেশী কাঁদতেন যে, চোখের পানিতে তাঁর ওড়না ভিজে যেত। (বুখারী ৬০৭৩-৬০৭৫)
وَعَنْ عَوْفِ بنِ مَالِكِ بنِ الطُّفَيْلِ : أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا حُدِّثَتْ أَنَّ عَبدَ اللهِ بنَ الزُّبَيرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ فِي بَيْعٍ أَوْ عَطَاءٍ أَعْطَتْهُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنهَا: وَاللهِ لَتَنْتَهِيَنَّ عَائِشَةَ أَوْ لأَحْجُرَنَّ عَلَيْهَا، قَالَتْ : أََهُوَ قَالَ هَذَا قَالُوا : نَعَمْ قَالَتْ : هُوَ للهِ عَلَيَّ نَذْرٌ أَنْ لاَ أُكَلِّمَ ابْنَ الزُّبَيْرِ أَبَداً فَاسْتَشْفَعَ ابْنُ الزُّبَيْرِ إِلَيْهَا حِيْنَ طَالَتِ الهِجْرَةُ فَقَالَتْ : لاَ وَاللهِ لاَ أُشَفِّعُ فِيهِ أَبداً وَلاَ أَتَحَنَّثُ إِلَى نَذْرِي فَلَمَّا طَالَ ذَلِكَ عَلَى ابْنِ الزُّبَيرِ كَلَّمَ المِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعبدَ الرحْمَانِ ابْنَ الأسْوَدِ بْنِ عَبْدِ يَغُوثَ وقَالَ لَهُمَا : أَنْشُدُكُمَا اللهَ لَمَا أَدْخَلْتُمَانِي عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا فَإِنَّهَا لاَ يَحِلُّ لَهَا أَنْ تَنْذِرَ قَطِيعَتِي فَأَقْبَلَ بِهِ المِسْوَرُ وَعَبدُ الرَّحْمَانِ حَتّٰـى اسْتَأذَنَا عَلَى عَائِشَةَ فَقَالاَ : السَّلاَمُ عَلَيْكِ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ أَنَدْخُلُ ؟ قَالَتْ عَائِشَةَ : ادْخُلُوا قَالُوا : كُلُّنَا ؟ قَالَتْ: نَعَمْ ادْخُلُوا كُلُّكُمْ وَلاَ تَعْلَمُ أَنَّ معَهُمَا ابْنَ الزُّبَيرِ فَلَمَّا دَخَلُوا دَخَلَ ابْنُ الزُّبَيرِ الحِجَابَ فَاعْتَنَقَ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا وَطَفِقَ يُنَاشِدُهَا وَيَبْكِي وَطَفِقَ المِسْوَرُ وَعَبدُ الرَّحْمَانِ يُنَاشِدَانِهَا إِلاَّ كَلَّمَتْهُ وَقَبِلَتْ مِنْهُ وَيَقُولاَنِ : إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهَى عَمَّا قَدْ عَلِمْتِ مِنَ الهِجْرَةِ ؛ وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ فَلَمَّا أَكْثَرُوا عَلَى عَائِشَةَ مِنَ التَّذْكِرَةِ وَالتَّحْرِيجِ طَفِقَتْ تُذَكِّرُهُمَا وَتَبْكِي وَتَقُولُ : إنِّي نَذَرْتُ وَالنَّذْرُ شَدِيدٌ فَلَمْ يَزَالاَ بِهَا حَتّٰـى كَلَّمَتِ ابْنَ الزُّبَيرِ وَأَعْتَقَتْ فِي نَذْرِهَا ذَلِكَ أَرْبَعِينَ رَقَبَةً وَكَانَتْ تَذْكُرُ نَذْرَهَا بَعدَ ذَلِكَ فَتَبْكِي حَتّٰـى تَبِلَّ دُمُوعُهَا خِـمَارَهَا رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَـجْعَلُهَا لِلَّذِيْنَ لَا يُرِيْدُوْنَ عُلُوًا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِيْنَ
অর্থাৎ, এ পরলোকের আবাস; যা আমি নির্ধারিত করি তাদেরই জন্য যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। সাবধানীদের জন্য শুভ পরিণাম। (সূরা ক্বস্বাস ৮৩)
তিনি অন্য জায়গায় বলেন,
وَلا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا
অর্থাৎ, ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না, তুমি তো কখনোই পদভারে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত-প্রমাণ হতে পারবে না। (সূরা ইসরা ৩৭)
তিনি আরো বলেন,
وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِـي الْأَرْضِ مَرَحًا إنَّ اللهَ لاَ يُـحِبُّ كُلَّ مُـخْتَالٍ فَخُوْرٍ
অর্থাৎ, মানুষের জন্য নিজের গাল ফুলায়ো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করো না; কারণ আল্লাহ কোন উদ্ধত, অহংকারীকে ভালবাসেন না। (সূরা লুকমান ১৮)
’গাল ফুলায়ো না’ অর্থাৎ, অহংকারের সাথে চেহারা বিকৃত করো না। মহান আল্লাহ কারূন সম্বন্ধে বলেন,
إنَّ قَارُوْنَ كَانَ مِنْ قَوْمِ مُوسٰى فَبَغٰى عَلَيْهِمْ وَاٰتَيْنَاهُ مِنَ الكُنُوْزِ مَا إنَّ مَفَاتِحَهُ لتَنُوءُ بِالعُصْبَةِ أُولِي القُوَّةِ إِذْ قَالَ لَهُ قَوْمُهُ لَا تَفْرَحْ إنَّ اللهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِيْنَ -إِلٰى قَوْلِه تَعَالٰى فَخَسَفْنَا بِهِ وَبِدَارِهِ الأَرْضَ
অর্থাৎ, কারূন ছিল মূসার সম্প্রদায়ভুক্ত, কিন্তু সে তাদের প্রতি যুলুম করেছিল। আমি তাকে ধনভাণ্ডার দান করেছিলাম যার চাবিগুলি বহন করা একদল বলবান লোকের পক্ষেও কষ্টসাধ্য ছিল। স্মরণ কর, তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে পছন্দ করেন না। আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তার মাধ্যমে পরলোকের কল্যাণ অনুসন্ধান কর। আর তুমি তোমার ইহলোকের অংশ ভুলে যেয়ো না। তুমি (পরের প্রতি) অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না। আল্লাহ অবশ্যই বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালবাসেন না। সে বলল, ’এ সম্পদ আমি আমার জ্ঞানবলে প্রাপ্ত হয়েছি।’ সে কি জানত না আল্লাহ তার পূর্বে বহু মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছেন যারা তার থেকেও শক্তিতে ছিল প্রবল, সম্পদে ছিল প্রাচুর্যশালী? আর অপরাধীদেরকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাও করা হবে না।
কারূন তার সম্প্রদায়ের সম্মুখে জাঁকজমক সহকারে বাহির হল। যারা পার্থিব জীবন কামনা করত তারা বলল, আহা! কারূনকে যা দেওয়া হয়েছে সেরূপ যদি আমাদেরও থাকত; প্রকৃতই সে মহা ভাগ্যবান। আর যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল তারা বলল, ধিক্ তোমাদের! যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে তাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ। আর ধৈর্যশীল ব্যতীত তা অন্য কেউ পায় না। অতঃপর আমি কারূনকে ও তার প্রাসাদকে মাটিতে ধসিয়ে দিলাম। তার স্বপক্ষে এমন কোন দল ছিল না যে আল্লাহর শাস্তির বিরুদ্ধে তাকে সাহায্য করতে পারত এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না। (সূরা ক্বস্বাস ৭৬-৮১)
(২১৬৬) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহঙ্কার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’’ একটি লোক বলল, ’মানুষ তো ভালবাসে যে, তার পোশাক সুন্দর হোক ও তার জুতো সুন্দর হোক, (তাহলে)?’ তিনি বললেন, আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে ভালবাসেন। (সুন্দর পোশাক ও সুন্দর জুতো ব্যবহার অহংকার নয়, বরং) অহংকার হল, সত্য প্রত্যাখ্যান করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لاَ يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ مَنْ كَانَ في قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ كِبْرٍ فَقَالَ رَجُلٌ : إنَّ الرَّجُلَ يُحِبُّ أنْ يَكُونَ ثَوْبُهُ حَسَنًا ونَعْلُهُ حَسَنَةً ؟ قَالَ إنَّ اللهَ جَمِيلٌ يُحِبُّ الجَمَالَ الكِبْرُ : بَطَرُ الْـحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৬৭) সাওবান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির প্রাণ তার দেহত্যাগ করে এবং সে সেই সময় তিনটি জিনিস থেকে মুক্ত থাকে, সে ব্যক্তি বেহেশত প্রবেশ করবে; (আর সে ৩টি জিনিস হল,) অহংকার, ঋণ ও খিয়ানত।
عَنْ ثَوْبَانَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ فَارَقَ الرُّوحُ الْجَسَدَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلَاثٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ الْكِبْرِ وَالدَّيْنِ وَالْغُلُولِ
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৬৮) সালামাহ ইবনে আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট তার বাম হাত দ্বারা খেল। তিনি বললেন, ’’তোমার ডান হাত দ্বারা খাও।’’ সে বলল, ’আমি অপারগ।’ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তুমি (যেন ডান হাতে খেতে) না পারো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা মানতে তাকে অহংকারই বাধা দিয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, ’(তারপর) থেকে সে তার ডান হাত মুখ পর্যন্ত উঠাতে পারেনি।
وَعَن سَلَمَةَ بنِ الْأَكْوَعِ أنّ رَجُلًا أكَلَ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ بِشِمَالِهِ فَقَالَ كُلْ بيَمِينِكَ قَالَ : لاَ أسْتَطِيعُ قَالَ لَا اسْتَطَعْتَ مَا مَنَعَهُ إِلاَّ الكِبْرُ قَالَ : فما رفَعها إِلَى فِيهِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৬৯) হারেসাহ ইবনে অহাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করব না কি? (তারা হল) প্রত্যেক রূঢ় স্বভাব, কঠিন হৃদয় দাম্ভিক ব্যক্তি।
وَعَن حَارِثَةَ بنِ وهْبٍ قَالَ : سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأهْلِ النَّارِ ؟ كُلُّ عُتُلٍّ جَوّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭০) আমর বিন শুআইব, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অহংকারীদেরকে কিয়ামতের দিন মানুষের আকৃতিতেই পিঁপড়ের মত ছোট আকারে জমা করা হবে। তাদেরকে সর্বদিক থেকে লাঞ্ছনা ঘিরে ধরবে। তাদেরকে ’বূলাস’ নামক দোযখের এক কারাগারে রাখা হবে। আগুন তাদেরকে ঘিরে ফেলবে এবং তাদেরকে জাহান্নামীদের রক্ত-পুঁজ পান করানো হবে।
وعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ يُحْشَرُ الْمُتَكَبِّرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْثَالَ الذَّرِّ فِي صُوَرِ النَّاسِ يَعْلُوهُمْ كُلُّ شَيْءٍ مِنْ الصَّغَارِ حَتّٰـى يَدْخُلُوا سِجْنًا فِي جَهَنَّمَ يُقَالُ لَهُ بُولَسُ فَتَعْلُوَهُمْ نَارُ الْأَنْيَارِ يُسْقَوْنَ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ عُصَارَةِ أَهْلِ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭১) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাত এবং জাহান্নাম পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া করল। জাহান্নাম বলল, ’আমার মধ্যে বড় বড় উদ্ধত এবং অহংকারীরা বসবাস করবে।’ আর জান্নাত বলল, ’আমার মধ্যে দুর্বল এবং মিসকীনরা বসবাস করবে।’ অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্যে মীমাংসা করলেন যে, ’হে জান্নাত! তুমি আমার অনুগ্রহ, আমি তোমার দ্বারা যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ করব। এবং হে দোযখ! তুমি আমার শাস্তি, আমি তোমার দ্বারা যাকে ইচ্ছা তাকে শাস্তি দেব। আর তোমাদের দুটোকেই পরিপূর্ণ করা আমার দায়িত্ব।
وَعَن أَبِـيْ سَعِيدٍ الخُدرِي عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ احْتَجَّتِ الجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَت النَّارُ : فِيَّ الْجَبَّارُونَ والمُتَكَبِّرُونَ وَقَالَتِ الجَنَّةُ : فيَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَمَسَاكِينُهُم فَقَضَى اللهُ بَينَهُمَا : إِنَّكِ الجَنَّةُ رَحْمَتِي أرْحَمُ بِكِ مَنْ أشَاءُ وَإنَّكِ النَّارُ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أشَاءُ وَلِكِلَيْكُمَا عَلَيَّ مِلْؤُهَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকিয়ে দেখবেন না, যে অহংকারের সাথে তার লুঙ্গি (প্যান্ট্, পায়জামা মাটিতে) ছেঁচড়াবে।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَنْظُرُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلٰى مَنْ جَرَّ إزَارَهُ بَطَرًا متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭৩) উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তিন প্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের দিকে (অনুগ্রহের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, (১) ব্যভিচারী বৃদ্ধ, (২) মিথ্যাবাদী বাদশাহ এবং (৩) অহংকারী গরীব।
وَعَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَة وَلاَ يُزَكِّيْهِمْ وَلَا يَنْظُرُ إلَيْهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ ألِيْمٌ : شَيْخٌ زَانٍ وَمَلِكٌ كَذَّابٌ وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭৪) সাবেক রাবী থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, সম্মান আমার লুঙ্গি এবং গর্ব আমার চাদর। (অর্থাৎ, খাস আমার গুণ।) সুতরাং যে ব্যক্তি আমার কাছ থেকে এর মধ্য থেকে যে কোন একটি টেনে নিতে চাইবে, আমি তাকে শাস্তি দেব।
وَعَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ الله عَزَّ وَجَلَّ : العِزُّ إِزَارِي وَالكِبرِيَاءُ رِدَائِي فَمَنْ يُنَازِعُنِي فِي وَاحِدٍ مِنهُمَا فَقَد عَذَّبْتُهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭৫) উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা (পূর্ববর্তী উম্মতের) এক ব্যক্তি একজোড়া পোশাক পরে, গর্বভরে, মাথা আঁচড়ে অহংকারের সাথে চলাফেরা করছিল। ইত্যবসরে আল্লাহ তার (পায়ের নীচের মাটিকে) ধসিয়ে দিলেন। সুতরাং সে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত মাটির গভীরে নেমে যেতেই থাকবে।
وَعَنْهُ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمشِي فِي حُلَّةٍ تُعْجِبُهُ نَفْسُهُ مُرَجِّلٌ رَأسَهُ يَخْتَالُ فِي مَشْيَتهِ إِذْ خَسَفَ اللهُ بِهِ فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ فِـي الْأَرْضِ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭৬) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মনে মনে গর্বিত হবে অথবা চলনে অহমিকা প্রকাশ করবে, সে ব্যক্তি যখন আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قال مَنْ تَعَظَّمَ فِي نَفْسِهِ أَوْ اخْتَالَ فِي مِشْيَتِهِ لَقِيَ اللهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭৭) ইয়ায ইবনে হিমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ আমাকে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, তোমরা পরস্পরের প্রতি নম্রতা ও বিনয় ভাব প্রদর্শন কর। যাতে কেউ যেন অন্যের প্রতি অত্যাচার না করতে পারে এবং কেউ কারো সামনে গর্ব প্রকাশ না করে।
بغي শব্দের অর্থঃ সীমালংঘন করা, অত্যাচার করা, বিদ্রোহাচরণ করা ইত্যাদি।
وَعَنْ عِيَاضِ بنِ حِمَارٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ تَعَالَى أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوا حَتّٰـى لاَ يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ وَلاَ يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭৮) মুআবিয়া (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে লোক তার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে থাকুক সে যেন নিজের বাসস্থান দোযখে বানিয়ে নেয়।
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قال مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَّمْثُلَ لَهُ الرِّجَالُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ অহংকার প্রদর্শন ও গর্ববোধ করা অবৈধ
(২১৭৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (গর্বভরে) বলে, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে গেল, সে তাদের মধ্যে সর্বাধিক বেশি ধ্বংসোন্মুখ। (মুসলিম ৬৮৫০)
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ : هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ তিনজনের একজনকে ছেড়ে দু’জনের কানাকানি
কোনস্থানে একত্রে তিনজন থাকলে, একজনকে ছেড়ে তার অনুমতি না নিয়ে দু’জনে কানাকানি করা (বা প্রথম ব্যক্তিকে গোপন ক’রে কোন কথা বলাবলি করা) নিষেধ। তবে প্রয়োজনবশতঃ এমন গোপনভাবে কোন গুপ্ত কথা বলা যে, যাতে তৃতীয়জন যেন তা না শুনতে পায়, তাহলে তা বৈধ। অনুরূপ দু’জনের এমন ভাষায় কথা বলা যা তৃতীয় ব্যক্তি বুঝে না, তাও নিষিদ্ধের পর্যায়ভুক্ত। আল্লাহ বলেছেন,
إنَّمَا النَّجْوٰى مِنَ الشَّيْطَانِ
অর্থাৎ, গোপন পরামর্শ তো শয়তানেরই প্ররোচনা। (সূরা মুজাদিলাহ ১০)
(২১৮০) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন (কোন স্থানে) একত্রে তিনজন থাকবে, তৃতীয়জনকে ছেড়ে যেন দু’জনে কানাকানি না করে। (বুখারী ৬২৮৮, মুসলিম ৫৮২৩)
উক্ত হাদীসটি ইমাম আবূ দাঊদ (স্বীয় গ্রন্থে) বর্ধিত আকারে বর্ণনা করেছেন,
قَالَ أَبُو صَالِحٍ: فَقُلْتُ لِابْنِ عُمَرَ فَأَرْبَعَةٌ، قَالَ: «لَا يَضُرُّكَ»
আবূ স্বালেহ বলেন, আমি ইবনে উমারকে জিজ্ঞাসা করলাম, ’যদি (একত্রে) চারজন হয় (তাহলে দু’জনে কানাকানি করা বৈধ কি না)?’ তিনি উত্তর দিলেন, ’তাতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।’ (আবূ দাঊদ ৪৮৫২, সহীহ ইবনে হিব্বান হা/৫৮৪, আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
ইমাম মালেক (রহঃ) উক্ত হাদীসকে তাঁর ’মুঅত্ত্বা’ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার বলেন, আমি ও ইবনে উমার খালেদ ইবনে উক্ববার বাজারের বাড়ির নিকট অবস্থান করছিলাম। ইত্যবসরে একটি লোক এসে পৌঁছল, যার ইচ্ছা ছিল ইবনে উমারের সাথে কানে কানে কিছু বলবে। আর ইবনে উমারের সাথে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। সুতরাং ইবনে উমার তৃতীয় একজন লোককে ডাকলেন। পরিশেষে আমরা মোট চারজন হয়ে গেলে তিনি আমাকে ও আহূত তৃতীয় ব্যক্তিকে সম্বোধন ক’রে বললেন, ’তোমরা একটু সরে দাঁড়াও। কেননা, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছি যে, (একত্রে তিনজন থাকলে) একজনকে ছেড়ে যেন দু’জনে কানাকানি না করে। (মুঅত্ত্বা ৯৬২)
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا كانُوا ثَلاثَةً فَلاَ يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ الثَّالِثِ متفق عَلَيْهِ
وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ : قَالَ أَبُو صَالِح : قُلْتُ لابنِ عُمرَ : فَأَرْبَعَةً؟ قَالَ : لاَ يَضُرُّكَ
وَرَوَاهُ مَالِكٌ فِي "الموَطأ": عَن عَبدِ اللهِ بنِ دِينَارٍ قَالَ : كُنْتُ أَنَا وابْنُ عُمَرَ عِنْدَ دَارِ خَالِدِ بنُ عُقْبَةَ الَّتي فِي السُّوقِ فَجَاءَ رَجُلٌ يُريدُ أَنْ يُنَاجِيَهُ وَلَيْسَ مَعَ ابْنِ عُمَرَ أَحَدٌ غَيْرِي فَدَعَا ابْنُ عُمَرَ رَجُلاً آخَرَ حَتّٰـى كُنَّا أَرْبَعَةً فَقَالَ لِي وَلِلرَّجُلِ الثَّالِثِ الَّذِي دَعَا : اسْتَأْخِرَا شَيْئاً فَإنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يقُولُ لَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ وَاحِدٍ
পরিচ্ছেদঃ তিনজনের একজনকে ছেড়ে দু’জনের কানাকানি
(২১৮১) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন (একত্রে) তিনজন থাকবে, তখন লোকেদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া অবধি একজনকে ছেড়ে দু’জনে যেন কানাকানি না করে। কারণ, এতে (ত্যক্ত ব্যক্তিকে) মনঃকষ্টে ফেলা হবে।
(কারণ এতে তৃতীয় জনের মনে সন্দেহ আসে এবং ভাবে যে, এ ফিসফিসানি হয়তো তারই বিরুদ্ধে।)
وَعَنِ ابنِ مَسعُودٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا كُنْتُمْ ثَلاَثَةً فَلاَ يَتَنَاجٰى اثْنَانِ دُوْنَ الْآخَرِ حَتّٰـى تَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ مِنْ أَجْلِ أَنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ তর্ক-বিতর্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২১৮২) আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’হেদায়াতপ্রাপ্তির পর যে জাতিই পথভ্রষ্ট হয়েছে সেই জাতির মধ্যেই কলহ-প্রিয়তা প্রক্ষিপ্ত হয়েছে।’’ অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন।
مَا ضَرَبُوْهُ لَكَ إِلاَّ جَدَلاً، بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُوْنَ
অর্থাৎ, তারা তোমার সামনে যে উদাহরণ পেশ করে তা কেবল বিতর্কের জন্যই করে। বস্তুতঃ তারা হল এক বিতর্ককারী সম্প্রদায়।
عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا ضَلَّ قَوْمٌ بَعْدَ هُدًى كَانُوا عَلَيْهِ إِلَّا أُوتُوا الْجَدَلَ ثُمَّ قَرَأَ مَا ضَرَبُوهُ لَكَ إِلَّا جَدَلًا بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ
পরিচ্ছেদঃ তর্ক-বিতর্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২১৮৩) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষ হল কঠিন ঝগড়াটে ও হুজ্জতকারী ব্যক্তি।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَبْغَضَ الرِّجَالِ إِلَى اللهِ الأَلَدُّ الْخَصِمُ
পরিচ্ছেদঃ তর্ক-বিতর্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২১৮৪)আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনেশুনে কোন বাতিল (অন্যায়) বিষয়ে তর্কাতর্কি করে, সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর রোষে থাকে; যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা বর্জন না করে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَمَنْ خَاصَمَ فِى بَاطِلٍ وَهُوَ يَعْلَمُهُ لَمْ يَزَلْ فِى سَخَطِ اللهِ حَتّٰـى يَنْزِعَ عَنْهُ
পরিচ্ছেদঃ তর্ক-বিতর্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২১৮৫) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা উলামাদের মাঝে গর্ব করা, অজ্ঞদের সাথে তর্ক করা এবং (প্রসিদ্ধ) মজলিস লাভ করার উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করো না। যে ব্যক্তি তা করে (তার জন্য) জাহান্নাম, জাহান্নাম।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ وَلاَ لِتُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلاَ تَخَيَّرُوا بِهِ الْمَجَالِسَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَالنَّارُ النَّارُ
পরিচ্ছেদঃ তর্ক-বিতর্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২১৮৬) আবূ উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের পার্শ্বে এক গৃহের জামিন সেই ব্যক্তির জন্য যে সত্যাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও তর্ক বর্জন করে, জান্নাতের মাঝে এক গৃহের জামিন তার জন্য যে উপহাস ছলেও মিথ্যা ত্যাগ করে এবং জান্নাতের সবার উপরে এক গৃহের জামিন তার জন্য যার চরিত্র সুন্দর হয়।
عَنْ أَبِى أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنَا زَعِيمٌ بِبَيْتٍ فِى رَبَضِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ مُحِقًّا وَبِبَيْتٍ فِى وَسَطِ الْجَنَّةِ لِمَنْ تَرَكَ الْكَذِبَ وَإِنْ كَانَ مَازِحًا وَبِبَيْتٍ فِى أَعْلَى الْجَنَّةِ لِمَنْ حَسَّنَ خُلُقَهُ
পরিচ্ছেদঃ তর্ক-বিতর্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২১৮৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কুরআন বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ করা কুফরী।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ الْمِرَاءُ فِى الْقُرْآنِ كُفْرٌ
পরিচ্ছেদঃ তর্ক-বিতর্ক বিষয়ক হাদীসসমূহ
(২১৮৮) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (হুজরার) দরজার নিকট বসে (কুরআনের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে) আলাপ-আলোচনা করছিলাম; ও একটি আয়াত নিয়ে এবং এ একটি আয়াত নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করছিল। এমন সময় আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমত অবস্থায় আমাদের নিকট বের হয়ে এলেন, যেন তাঁর চেহারায় বেদানার দানা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে। (অর্থাৎ রাগে তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেছে।) অতঃপর তিনি বললেন, আরে! তোমরা কি এই করার জন্য প্রেরিত হয়েছ? তোমরা কি এই করতে আদিষ্ট হয়েছ?! তোমরা আমার পরে পুনরায় এমন কুফরী অবস্থায় ফিরে যেয়ো না, যাতে একে অপরকে হত্যা করতে শুরু কর।
عَنْ أَبِـيْ سَعِيدٍ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عَلَى بَابِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ نَتَذَاكَرُ يَنْزِعُ هَذَا بِآيَةٍ ويَنْزِعُ هَذَا بِآيَةٍ فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَأَنَّمَا تَفَقَّأَ فِي وَجْهِهِ حَبُّ الرُّمَّانِ فَقَالَ يَا هَؤُلاءِ أَبِهَذَا بُعِثْتُمْ ؟ أَمْ بِهَذَا أُمِرْتُمْ ؟ لا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
পরিচ্ছেদঃ কারো হিংসা করা হারাম
হিংসা হল, কোন ব্যক্তির কোন নিয়ামত (সম্পদ বা মঙ্গল) তা দ্বীনী হোক অথবা পার্থিব, তার ধ্বংস কামনা করা।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
أَمْ يَـحْسُدُوْنَ النَّاسَ عَلٰى مَا اٰتَاهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ
অর্থাৎ, অথবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন সে জন্য কি তারা তাদের হিংসা করে? (সূরা নিসা ৫৪)
(২১৮৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন মুমিন বান্দার পেটে আল্লাহর রাস্তার ধুলো এবং জাহান্নামের অগ্নিশিখা একত্রে জমা হতে পারে না এবং কোন বান্দার পেটে ঈমান ও হিংসা একত্রে জমা হতে পারে না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يَجْتَمِعَانِ فِي جَوْفِ مُؤْمِنٍ غُبَارٌ فِي سَبِيلِ اللهِ وَفَيْحُ جَهَنَّمَ، وَلَا يَجْتَمِعَانِ فِي عَبْدٍ: الْإِيمَانُ وَالْحَسَدُ
পরিচ্ছেদঃ কারো হিংসা করা হারাম
(২১৯০) যুবাইর বিন আওয়াম (রাঃ) বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের রোগ হিংসা ও বিদ্বেষ তোমাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে। আর বিদ্বেষ হল মুণ্ডনকারী। আমি বলছি না যে, তা কেশ মুণ্ডন করে; বরং দ্বীন মুণ্ডন (ধ্বংস) করে ফেলে। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জান আছে! তোমরা জান্নাত ততক্ষণ প্রবেশ করতে পারবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত না ঈমান এনেছ। আর (পূর্ণ) ঈমানও ততক্ষণ পর্যন্ত আনতে পারবে না; যতক্ষণ না আপোসে সম্প্রীতি কায়েম করেছ। আমি কি তোমাদেরকে এমন কর্মের কথা বাতলে দেব না; যা তোমাদের ঐ সম্প্রীতিকে দৃঢ় করবে? তোমাদের আপোসে সালাম প্রচার কর।
عَنِ الزُّبَيْر بْنَ الْعَوَّامِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ دَبَّ إِلَيْكُمْ دَاءُ الْأُمَمِ قَبْلَكُمْ : الْحَسَدُ وَالْبَغْضَاءُ هِيَ الْـحَالِقَةُ لَا أَقُولُ تَحْلِقُ الشَّعَرَ وَلَكِنْ تَـحْلِقُ الدِّينَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَدْخُلُوا الْـجَنَّةَ حَتّٰـى تُؤْمِنُوا وَلاَ تُؤْمِنُوا حَتّٰـى تَحَابُّوا أَفَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِمَا يُثْبِتُ ذَلِكَ لَكُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَام بَيْنَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ কারো হিংসা করা হারাম
(২১৯১) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তোমাদের প্রয়োজন পূরণে সফলতা অর্জনের জন্য তা গোপন রেখে (আল্লাহর নিকট) সাহায্য প্রার্থনা কর। কারণ, প্রত্যেক নিয়ামতপ্রাপ্ত হিংসিত হয়।
عَنْ مُعَاذِ بن جَبَلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اسْتَعِينُوا عَلَى إِنْجَاحِ الْحَوَائِجِ بِالْكِتْمَانِ، فَإِنَّ كُلَّ ذِي نِعْمَةٍ مَحْسُودٌ
পরিচ্ছেদঃ কারো ব্যঙ্গ-অভিনয় করা
(২১৯২) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা তাঁর নিকট এক মহিলার কথা অভিনয় করে) নকল করলাম। এর ফলে তিনি বললেন, আমাকে যদি এত এত (প্রচুর অর্থ) দেওয়া হয় তবুও আমি কারো নকল করাকে পছন্দ করব না।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ وَحَكَيْتُ لَهُ إِنْسَانًا فَقَالَ مَا أُحِبُّ أَنِّى حَكَيْتُ إِنْسَانًا وَأَنَّ لِى كَذَا وَكَذَا
পরিচ্ছেদঃ হিলা-বাহানা করা
(২১৯৩) জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ইয়াহুদ জাতিকে ধ্বংস করুন। আল্লাহ যখন তাদের উপর চর্বি হারাম করেছিলেন, তখন ওরা তা গলিয়ে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করেছিল।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَاتَلَ اللهُ الْيَهُودَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمَّا حَرَّمَ عَلَيْهِمْ شُحُومَهَا أَجْمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২১৯৪) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের মালিকানায় যদি সোনার একটি উপত্যকাও হয়, তবুও সে অনুরূপ আরো একটির মালিক হওয়ার অভিলাষী থাকবে। পরন্তুএকমাত্র মাটিই আদম সন্তানের চোখ (পেট) পূর্ণ করতে পারে। অবশ্য যে ব্যক্তি তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা গ্রহণ করবেন।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ الله عنهما أَنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ لَوْ أنَّ لابنِ آدَمَ وَادِياً مِنْ ذَهَبٍ أحَبَّ أنْ يكُونَ لَهُ وَادِيانِ وَلَنْ يَمْلأَ فَاهُ إلاَّ التُّرَابُ وَيَتْوبُ اللهُ عَلَى مَنْ تَابَ مُتَّفَقٌ عليه
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২১৯৫) আবূ ওয়াক্বিদ লাইসী কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, আমি মাল অবতীর্ণ করেছি নামায আদায় ও যাকাত প্রদান করার জন্য। আদম সন্তানের (ধন-সম্পদের) যদি একটি উপত্যকা হয়ে যায়, তাহলে সে এটাই চাইবে যে, তার নিকট দু’টি উপত্যকা হোক। আর তার যদি দু’টি উপত্যকা হয়ে যায়, তবে সে এটাই চাইবে যে, তার তিনটি উপত্যকা হোক। মাটি ছাড়া অন্য কিছু আদম সন্তানের পেট ভরতে পারবে না। অতঃপর যে তাওবা করবে, মহান আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।
عَنْ أَبِـيْ وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ قَالَ قال النبي ﷺ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ إِنَّا أَنْزَلْنَا الْمَالَ لِإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَلَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادٍ لَأَحَبَّ أَنْ يَكُونَ إِلَيْهِ ثَانٍ وَلَوْ كَانَ لَهُ وَادِيَانِ لَأَحَبَّ أَنْ يَكُونَ إِلَيْهِمَا ثَالِثٌ، وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ ثُمَّ يَتُوبُ اللهُ عَلَى مَنْ تَابَ
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২১৯৬) কা’ব ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুটি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে কোন ছাগপালে ছেড়ে দিলে তারা ছাগলের যতটা বিনাশ সাধন করে তার চাইতেও ধনলোভ ও খ্যাতিলোভ মানুষের দ্বীনের অধিক বিনাশ সাধন করে।
وَعَن كَعبِ بنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلاَ فِي غَنَمٍ بِأفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ المَرْءِ عَلَى المَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينهِ رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২১৯৭) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুইজন লোভী তৃপ্ত হয় না; জ্ঞানলোভী ও ধনলোভী।
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْهُومَانِ لا يَشْبَعَانِ طَالِبُهُمَا: طَالِبُ عَلِمٍ، وَطَالِبُ الدُّنْيَا
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২১৯৮) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তান বৃদ্ধ হতে থাকে, কিন্তু তার দু’টি জিনিস যুবক হতে থাকে। আর তা হল, মালের প্রতি লোভ ও বয়সের প্রতি লোভ।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ وَتَشِبُّ مِنْهُ اثْنَتَانِ الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ وَالْحِرْصُ عَلَى الْعُمُرِ
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২১৯৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বৃদ্ধের অন্তর দু’টি জিনিসের ব্যাপারে সব সময় যুবকই থাকে; দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা এবং দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَزَالُ قَلْبُ الْكَبِيرِ شَابًّا فِي اثْنَتَيْنِ فِي حُبِّ الدُّنْيَا وَطُولِ الْأَمَلِ
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২২০০) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) লোকেদেরকে তাদের প্রাপ্য দান করতেন। একদা এক ব্যক্তি এলে তাকে এক হাজার দিরহাম দিয়ে বললেন, নাও। আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিকে দীনার ও দিরহাম ধ্বংস করেছে। আর সেই দু’টি তোমাদেরকেও ধ্বংস করবে।
عَنِ عَبْدِ اللهِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُ كَانَ يُعْطِي النَّاسَ عَطَايَاهُمْ، فَجَاءَ رَجُلٌ فَأَعْطَاهُ أَلْفَ دِرْهَمٍ ثُمَّ قَالَ: خُذْهَا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ: إِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الدِّينَارُ وَالدِّرْهَمُ وَهُمَا مُهْلِكَاكُمْ
পরিচ্ছেদঃ লোভ-লালসা
(২২০১) উক্ববাহ ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) উহুদের শহীদদের (কবরস্থানের) দিকে বের হলেন এবং যেন জীবিত ও মৃত ব্যক্তিদেরকে বিদায় জানাবার উদ্দেশ্যে আট বছর পর তাঁদের উপর জানাযা পড়লেন (অর্থাৎ তাঁদের জন্য দু’আ করলেন)। তারপর মিম্বরে চড়ে বললেন, আমি পূর্বে গমনকারী তোমাদের জন্য সুব্যবস্থাপক এবং সাক্ষীও। তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান হওযে (কাউসার)। আমি অবশ্যই ওটাকে আমার এই স্থান থেকে দেখতে পাচ্ছি। শোনো! তোমাদের ব্যাপারে আমার এ আশংকা নেই যে, তোমরা শিরক করবে। তবে তোমাদের জন্য আমার আশংকা এই যে, তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে আপোসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। (রাবী বলেন,) ’এটাই আমার শেষ দৃষ্টি ছিল যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি নিবদ্ধ করেছিলাম (অর্থাৎ, এরপর তিনি দেহত্যাগ করেন)।’ (বুখারী ৪০৪২, মুসলিম ৬১১৭)
অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, কিন্তু তোমাদের জন্য আমার আশংকা এই যে, তোমরা পার্থিব ধন-সম্পদে আপোসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং সে জন্য পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হবে এবং (পরিণামে) তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে; যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে। উক্ববা (রাঃ) বলেন, ’মিম্বরের উপরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এটাই ছিল আমার শেষ দর্শন।’
অপর এক বর্ণনায় আছে, আমি তোমাদের অগ্রদূত এবং তোমাদের জন্য সাক্ষী। আল্লাহর শপথ! আমি এই মুহূর্তে আমার হওয (হওযে কাওসার) দেখছি। আমাকে পৃথিবীর ভাণ্ডারসমূহের চাবিগুচ্ছ প্রদান করা হয়েছে। আর আমি তোমাদের ব্যাপারে এ জন্য শংকিত নই যে, তোমরা আমার (তিরোধানের) পর শিরক করবে; বরং এ আশংকা বোধ করছি যে, তোমরা পার্থিব ধন-সম্পদের ব্যাপারে আপোসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
وَعَنْ عُقْبَةَ بنِ عَامِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ خَرَجَ إِلَى قَتْلَى أُحُدٍ فَصَلَّى عَلَيْهِمْ بَعْدَ ثَمَانِ سِنينَ كَالمُوَدِّعِ لِلأَحْيَاءِ وَالأَمْوَاتِ ثُمَّ طَلَعَ إِلَى المِنْبَرِ، فَقَالَ إنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الحَوْضُ وَإِنِّي لأَنْظُرُ إِلَيْهِ مِنْ مَقَامِي هَذَا أَلاَ وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْكُوا وَلَكِنْ أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوهَا قَالَ : فَكَانَتْ آخِرَ نَظْرَةٍ نَظَرْتُهَا إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ متفق عَلَيْهِ
وفي رواية وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا وَتَقْتَتِلُوا فَتَهْلِكُوا كَمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ قَالَ عُقْبَةُ : فَكَانَ آخِرَ مَا رَأيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَلَى المِنْبَرِ
وفي روايةٍ قَالَ إنِّي فَرَطٌ لَكُمْ وَأَنَا شَهِيدٌ عَلَيْكُمْ وَإِنِّي وَاللهِ لأَنْظُرُ إِلَى حَوْضِي الآنَ، وَإِنِّي أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الأَرْضِ، أَوْ مَفَاتِيحَ الأَرْضِ، وَإِنِّي وَاللهِ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْكُوا بَعْدِي، وَلَكِنْ أَخَافُ عَلَيْكُمْ أَنْ تَنَافَسُوا فِيهَا
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
মহান আল্লাহ বলেন,
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالْجَنْبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا
অর্থাৎ, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। নিশ্চয় আল্লাহ আত্মম্ভরী দাম্ভিককে ভালবাসেন না। (সূরা নিসা ৩৬)
(২২০২) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’এক মহিলাকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে সে মারা গিয়েছিল, পরিণতিতে মহিলা তারই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে আহার ও পানি দিত না এবং তাকে ছেড়েও দিত না যে, সে কীট-পতঙ্গ ধরে খাবে।’’
অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, একটি বিড়ালের কারণে একজন মহিলাকে আযাব দেওয়া হয়েছে; যাকে সে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে মারাও গিয়েছিল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল তখন খেতেও দেয়নি ও পান করতেও দেয়নি। আর তাকে ছেড়েও দেয়নি; যাতে সে নিজে স্থলচর কীটপতঙ্গ (গঙ্গাফড়িং) ধরে খেত।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ عُذِّبَتِ امْرَأَةٌ فِي هِرَّةٍ سَجَنَتْهَا حَتّٰـى مَاتَتْ فَدَخَلَتْ فِيهَا النَّارَ لَا هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَسَقَتْهَا إِذْ حَبَسَتْهَا وَلاَ هِيَ تَرَكَتْهَا تَأكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২০৩) সাহল বিন হানযালিয়্যাহ বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটকে দেখলেন, (ক্ষুধায়) তার পিঠের সাথে পেট লেগে গেছে। তা দেখে তিনি বললেন, তোমরা এই অবলা জন্তুদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। সুতরাং উত্তমভাবে তাতে সওয়ার হও এবং উত্তমভাবে তা খাও (বা তার পিঠ থেকে নেমে যাও)।
عَنْ سَهْلِ ابْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ قَالَ : مَرَّ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِبَعِيرٍ قَدْ لَحِقَ ظَهْرُهُ بِبَطْنِهِ فَقَالَ اتَّقُوا اللهَ فِى هَذِهِ الْبَهَائِمِ الْمُعْجَمَةِ فَارْكَبُوهَا وَكُلُوهَا صَالِحَةً
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২০৪) আব্দুল্লাহ বিন জা’ফর (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি তার উটকে ঠিকমত খেতে দিত না, উপরন্তু কষ্ট দিত। তার পাশ দিয়ে রহমতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পার হতে দেখে উটটি আওয়াজ দিল এবং তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। তিনি উটের মালিককে ডেকে বললেন,
أَفَلاَ تَتَّقِى اللهَ فِى هَذِهِ الْبَهِيمَةِ الَّتِى مَلَّكَكَ اللهُ إِيَّاهَا فَإِنَّهُ شَكَى إِلَىَّ أَنَّكَ تُجِيعُهُ وَتُدْئِبُهُ
তুমি এই জন্তুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর না কেন, আল্লাহ তোমাকে যার মালিক বানিয়েছেন? ও তো আমার কাছে অভিযোগ করছে যে, তুমি ওকে ভুখা রাখ এবং কষ্ট দাও!
-
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২০৫) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি একবার কুরাইশ বংশের কতিপয় নবযুবকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করার সময় লক্ষ্য করলেন যে, তারা একটি পাখীকে বেঁধে (হাতের নিশানা ঠিক করার মানসে তার উপর নির্দয়ভাবে) তীর মারছে। তারা পাখীর মালিকের সাথে এই চুক্তি করেছিল যে, প্রতিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট তীর তার হয়ে যাবে। সুতরাং যখন তারা ইবনে উমার (রাঃ) কে দেখতে পেল, তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গেল। ইবনে উমার (রাঃ) বললেন, এ কাজ কে করেছে? যে এ কাজ করেছে তার উপর আল্লাহর অভিশাপ। নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ব্যক্তির উপর অভিশাপ করেছেন, যে কোন এমন জিনিসকে (তার তীরখেলার) লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে, যার মধ্যে প্রাণ আছে।
وَعَنْ ابن عمر : أَنَّهُ مَرَّ بِفِتْيَانٍ مِنْ قُرَيْشٍ قَدْ نَصَبُوا طَيراً وَهُمْ يَرْمُونَهُ وَقَدْ جَعَلُوا لِصَاحِبِ الطَّيْرِ كُلَّ خَاطِئَةٍ مِنْ نَبْلِهمْ فَلَمَّا رَأَوْا ابْنَ عُمَرَ تَفَرَّقُوا فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ : مَنْ فَعَلَ هَذَا ؟ لَعَنَ اللهُ مَنْ فَعَلَ هَذَا، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَعَنَ مَنِ اتَّخَذَ شَيْئاً فِيهِ الرُّوحُ غَرَضاً متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২০৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীব-জন্তুদের বেঁধে রেখে (তীর বা বন্দুকের নিশানা ঠিক করার ইচ্ছায়) হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ : نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنْ تُصْبَرَ البَهَائِمُ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২০৭) আবূ আলী সুয়াইদ ইবনে মুক্বার্রিন (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি যে, মুক্বাররিনের সাত ছেলের মধ্যে আমি সপ্তম ছিলাম। আমাদের একটি মাত্র দাসী ছিল। তাকে আমাদের ছোট ভাই চড় মেরেছিল। তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তাকে মুক্ত করে দিতে আদেশ করলেন।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমার ভাইদের মধ্যে আমি সপ্তম ছিলাম।
وَعَنْ أَبِـيْ عَليٍّ سُوَيدِ بن مُقَرِّنٍ قَالَ : لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ مِنْ بَنِي مُقَرِّنٍ مَا لَنَا خَادِمٌ إِلاَّ وَاحِدَةٌ لَطَمَهَا أَصْغَرُنَا فَأَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنْ نُعْتِقَهَا رواه مسلم وفي روايةٍ سَابعَ إخْوَةٍ لِي
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২০৮) আবূ মাসঊদ বাদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা আমার একটি গোলামকে চাবুক মারছিলাম। ইত্যবসরে পিছন থেকে এই শব্দ শুনতে পেলাম জেনে রেখো, হে আবূ মাসঊদ! কিন্তু ক্রোধান্বিত অবস্থায় শব্দটা বুঝতে পারলাম না। যখন সেই (শব্দকারী) আমার নিকটবর্তী হল, তখন সহসা দেখলাম যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বলছিলেন, জেনে রেখো আবূ মাসঊদ! ওর উপর তোমার যতটা ক্ষমতা আছে, তোমার উপর আল্লাহ তাআলা আরো বেশি ক্ষমতাবান। তখন আমি বললাম, এরপর থেকে আমি আর কখনো কোন গোলামকে মারধর করব না।
এক বর্ণনায় আছে, তাঁর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ওকে স্বাধীন করে দিলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শোন! তুমি যদি তা না করতে, তাহলে জাহান্নামের আগুন তোমাকে অবশ্যই দগ্ধ অথবা স্পর্শ করত।
وَعَنْ أَبِـيْ مَسعُودٍ البَدْرِيِّ قَالَ: كُنْتُ أَضْرِبُ غُلامَاً لِي بِالسَّوْطِ، فَسَمِعْتُ صَوْتاً مِنْ خَلْفِي اِعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ فَلَمْ أَفْهَمِ الصَّوْتَ مِنَ الغَضَبِ فَلَمَّا دَنَا مِنِّي إِذَا هُوَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَإِذَا هُوَ يَقُوْلُ اِعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ أَنَّ اللهَ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَى هَذَا الغُلامِ فَقُلتُ : لاَ أَضْرِبُ مَمْلُوكاً بَعْدَهُ أَبَداً وَفِي رِوَايَةٍ : فَسَقَطَ السَّوْطُ مِنْ يَدِي مِنْ هَيْبَتِهِ وَفِي رِوَايَةٍ : فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ هُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللهِ تَعَالَى فَقَالَ أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ أَوْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ رواه مسلم بهذه الروايات
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২০৯) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ গোলামকে এমন অপরাধের সাজা দেয়, যা সে করেনি অথবা তাকে চড় মারে, তাহলে তার প্রায়শ্চিত্ত হল, সে তাকে মুক্ত করে দেবে।
وعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ ضَرَبَ غُلاَمَاً لَهُ حَدّاً لَمْ يَأتِهِ أَوْ لَطَمَهُ فَإِنَّ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقَهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১০) হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, সিরিয়ায় এমন কিছু চাষী লোকের নিকট দিয়ে তাঁর যাত্রা হচ্ছিল, যাদেরকে রোদে দাঁড় করিয়ে তাদের মাথার উপর তেল ঢেলে দেওয়া হচ্ছিল। তিনি প্রশ্ন করলেন, ’ব্যাপার কী?’ বলা হল, ’ওদেরকে জমির কর (আদায় না দেওয়ার) জন্য সাজা দেওয়া হচ্ছে।’ অন্য বর্ণনায় আছে যে, ’রাজস্ব (আদায় না করার) কারণে ওদেরকে বন্দী করা হয়েছে।’ হিশাম বললেন, ’আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাআলা সেসব লোকেদেরকে কষ্ট দেবেন, যারা লোকেদেরকে কষ্ট দেয়। অতঃপর হিশাম আমীরের নিকট গিয়ে এ হাদীসটি শুনালেন। তিনি তাদের সম্পর্কে নির্দেশ জারি করলেন এবং তাদেরকে মুক্ত করে দিলেন।
وَعَنْ هِشَامِ بنِ حَكِيمِ بنِ حِزَامٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّه مَرَّ بِالشَّامِ عَلَى أُنَاسٍ مِنَ الأَنْبَاطِ وَقَدْ أُقيِمُوا فِي الشَّمْسِ وَصُبَّ عَلَى رُؤُوسِهِمُ الزَّيْتُ فَقَالَ : مَا هَذَا ؟ قِيلَ : يُعَذَّبُونَ فِي الخَرَاجِ وَفِي رِوَايَةٍ : حُبِسُوا فِي الجِزْيَةِ فَقَالَ هِشَامٌ : أَشهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ يُعَذِّبُ الَّذِينَ يُعَذِّبُونَ النَّاس فِي الدُّنْيَا فَدَخَلَ عَلَى الأَمِيرِ، فَحَدَّثَهُ، فَأَمَرَ بِهِمْ فَخُلُّوا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি গাধা দেখতে পেলেন, যার চেহারা দাগা হয়েছিল। তা দেখে তিনি অত্যধিক অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহর কসম! আমি ওর চেহারা থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী অঙ্গে দাগব। (আগুনের ছ্যাঁকা দিয়ে চিহ্ন দেব।) অতঃপর তিনি নিজ গাধা সম্পর্কে নির্দেশ করলেন এবং তার পাছায় দাগা হল। সুতরাং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি (গাধার) পাছা দেগেছিলেন।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : رَأَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ حِمَاراً مَوْسُومَ الوَجْهِ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ فَقَالَ واللهِ لاَ أَسِمُهُ إِلاَّ أَقْصَى شَيْءٍ مِنَ الوَجْهِ وَأمَرَ بِحِمَارِهِ فَكُوِيَ فِي جَاعِرَتَيْهِ فَهُوَ أَوَّلُ مَنْ كَوَى الجَاعِرَتَيْنِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১২) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট দিয়ে একটি গাধা অতিক্রম করল, যার চেহারা দাগা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, যে এর চেহারা দেগেছে, তার প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত হোক।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারায় মারতে ও দাগতে নিষেধ করেছেন।
وَعَن جَابِرٍ: أَنَّ النَّبيَّ ﷺ مَرَّ عَلَيْهِ حِـمَارٌ قَدْ وُسِمَ فِـي وَجْهِهِ فَقَالَ لَعَنَ اللهُ الَّذِيْ وَسَمَهُ رواه مسلم وفي رواية لِـمُسْلمٍ أَيضاً: نَهَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنِ الضَّرْبِ فِي الوَجْهِ وَعَنِ الوَسْمِ فِي الوَجْهِ
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১৩) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সব চাইতে বড় পাপিষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে কোন মহিলাকে বিবাহ করে, অতঃপর তার নিকট থেকে মজা লুটে নিয়ে তাকে তালাক দেয় এবং তার মোহরও আত্মসাৎ করে। (দ্বিতীয় হল) সেই ব্যক্তি, যে কোন লোককে মজুর খাটায়, অতঃপর তার মজুরী আত্মসাৎ করে এবং (তৃতীয় হল) সেই ব্যক্তি, যে খামোখা পশু হত্যা করে।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ أَعْظَمَ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللهِ رَجُلٌ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا طَلَّقَهَا وَذَهَبَ بِمَهْرِهَا وَرَجُلٌ اسْتَعْمَلَ رَجُلاً فَذَهَبَ بِأُجْرَتِهِ وَآخَرُ يَقْتُلُ دَابَّةً عَبَثًا
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১৪) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অধিকার ছাড়া (অযথা) একটি বা তার বেশী চড়ুই হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সে চড়ুই সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। বলা হল, হে আল্লাহর রসূল! অধিকারটা কী (যে অধিকারে তাকে হত্যা করা বৈধ হবে)? তিনি বললেন, অধিকার হল এই যে, তা যবাই করে তা খাওয়া হবে এবং মাথা কেটে (হত্যা করে) ফেলে দেওয়া হবে না।
وَعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ إِنْسَانٍ يَقْتُلُ عُصْفُوْرًا فَمَا فَوْقهَا بِغَيْر حَقّهَا إِلَّا سَأَلَهُ الله عَزَّ وَجَلَّ عَنْهَا قيل وَمَا حَقّهَا قَالَ يَذْبـَحُهَا وَيَأْكُلُهَا وَلَا يقطع رَأسَهَا ويَطرحها
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১৫) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, একদা আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তিনি নিজ প্রয়োজনে (সরে) গেলে আমরা ’হুম্মারাহ’ (নামক লাল রঙের চড়ুই জাতীয় একটি) পাখী দেখলাম। তার সাথে ছিল তার দুটি ছানা। আমরা সেই ছানা দুটিকে নিয়ে ফেললাম। পাখীটি আমাদের মাথার উপরে ঘুরে-ফিরে উড়তে লাগল। ইতিমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তা দেখে বললেন, কে ওকে ওর ছানা নিয়ে কষ্ট দিয়েছে? ওর ছানা ওকে ফিরিয়ে দাও। একদা তিনি দেখলেন, পিঁপড়ের গর্তসমূহকে আমরা পুড়িয়ে ফেলেছি। তিনি তা দেখে বললেন, কে এই (পিঁপড়েগুলি)কে পুড়িয়ে ফেলেছে?’’ আমরা বললাম, ’আমরাই।’ তিনি বললেন, আগুনের মালিক (আল্লাহ) ছাড়া আগুন দ্বারা শাস্তি দেওয়া আর অন্য কারো জন্য সঙ্গত নয়।
عن عَبْدِ اللهِ بن مسعود قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فِى سَفَرٍ فَانْطَلَقَ لِحَاجَتِهِ فَرَأَيْنَا حُمَّرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا فَجَاءَتِ الْحُمَّرَةُ فَجَعَلَتْ تَفْرُشُ فَجَاءَ النَّبِىُّ ﷺ فَقَالَ مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْهَا وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا فَقَالَ مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ قُلْنَا نَحْنُ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِى أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلاَّ رَبُّ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১৬) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’একদা একটি গাছের নিচে একজন নবীকে পিঁপড়ে কামড়ে দিলে তিনি গর্তসহ পিঁপড়ের দল পুড়িয়ে ফেললেন। আল্লাহ তাঁকে অহী করে বললেন, তোমাকে একটি পিঁপড়ে কামড়ে দিলে তুমি একটি এমন জাতিকে পুড়িয়ে মারলে, যে (আমার) তসবীহ পাঠ করত? তুমি মারলে তো একটিকেই মারলে না কেন, (যে তোমাকে কামড়ে দিয়েছিল)?
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ نَزَلَ نَبِىٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ تَحْتَ شَجَرَةٍ فَلَدَغَتْهُ نَمْلَةٌ فَأَمَرَ بِجِهَازِهِ فَأُخْرِجَ مِنْ تَحْتِهَا ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَأُحْرِقَتْ فَأَوْحَى اللهُ إِلَيْهِ فَهَلاَّ نَمْلَةً وَاحِدَةً
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১৭) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচটি দুষ্ট প্রাণীকে ইহরাম ও হালাল অবস্থায় (অথবা হারাম সীমানার ভিতরে ও তার বাইরে) হত্যা করা হবে; সাপ (বিছা), (পিঠে অথবা বুকে সাদা দাগবিশিষ্ট এক প্রকার) কাক, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর ও চিল।
عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها عَنِ النَّبِىِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ خَمْسٌ فَوَاسِقُ يُقْتَلْنَ فِى الْحِلِّ وَالْحَرَمِ الْحَيَّةُ وَالْغُرَابُ الأَبْقَعُ وَالْفَارَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ وَالْحُدَيَّا
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১৮) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই একটি টিকটিকি মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত সওয়াব; যে ব্যক্তি দ্বিতীয় আঘাতে তা মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত অপেক্ষাকৃত কম সওয়াব; আর যে ব্যক্তি তৃতীয় আঘাতে তা মারবে, তার জন্য রয়েছে এত এত অপেক্ষাকৃত আরো কম সওয়াব।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَتَلَ وَزَغَةً فِى أَوَّلِ ضَرْبَةٍ فَلَهُ كَذَا وَكَذَا حَسَنَةً وَمَنْ قَتَلَهَا فِى الضَّرْبَةِ الثَّانِيَةِ فَلَهُ كَذَا وَكَذَا حَسَنَةً لِدُونِ الأُولَى وَإِنْ قَتَلَهَا فِى الضَّرْبَةِ الثَّالِثَةِ فَلَهُ كَذَا وَكَذَا حَسَنَةً لِدُونِ الثَّانِيَةِ
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২১৯) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সর্ব প্রকার (বিষধর) সর্প হত্যা কর। যে ব্যক্তি কোন (বিষধর) সাপ দেখে এবং তার হামলার ভয়ে তাকে মেরে না ফেলে, সে আমার দলভুক্ত নয়।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اقْتُلُوا الْحَيَّاتِ كُلَّهُنَّ فَمَنْ خَافَ ثَأْرَهُنَّ فَلَيْسَ مِنِّى
পরিচ্ছেদঃ দাস-দাসী, পশু, নিজ স্ত্রী অথবা ছেলেমেয়েকে শরয়ী কারণ ছাড়া আদব দেওয়ার জন্য যতটুকু জরুরী তার থেকে বেশি শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২২২০) হামযা আসলামী কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আগুনের মালিক (আল্লাহ) ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া আর কারো জন্য সঙ্গত নয়।
عن حَمْزَةَ الأَسْلَمِىُّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّهُ لاَ يُعَذِّبُ بِالنَّارِ إِلاَّ رَبُّ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
والَّذِينَ يُؤْذُونَ المُؤْمِنِينَ والْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتاناً وإثْماً مُبِيناً
অর্থাৎ, যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব ৫৮)
(২২২১) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মুসলিম সেই, যার মুখ ও হাত হতে মুসলিমগণ নিরাপদে থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির (দ্বীন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে স্বদেশ ত্যাগকারী) সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিষিদ্ধ কর্মসমূহ ত্যাগ করে।
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمْرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
(২২২২) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে পছন্দ করে যে, তাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হোক এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তার মরণ যেন এমন অবস্থায় হয় যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান রাখে এবং অন্যের প্রতি এমন ব্যবহার দেখায়, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।
وَعَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَحَبَّ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيُدْخَلَ الجَنَّةَ فَلْتَأْتِهِ مَنِيَّتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى إِلَيْهِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
(২২২৩) আবূ বারযাহ আসলামী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে সেই মানুষের দল; যারা মুখে ঈমান এনেছে এবং যাদের হৃদয়ে ঈমান স্থান পায়নি (তারা শোন)! তোমরা মুসলিমদের গীবত করো না এবং তাদের দোষ খুঁজে বেড়ায়ো না। কারণ, যে ব্যক্তি তাদের দোষ খুঁজবে, আল্লাহ তার দোষ ধরবেন। আর আল্লাহ যার দোষ ধরবেন তাকে তার ঘরের ভিতরেও লাঞ্ছিত করবেন।
عَنْ أَبِى بَرْزَةَ الأَسْلَمِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَدْخُلِ الإِيمَانُ قَلْبَهُ لاَ تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِينَ وَلاَ تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ فَإِنَّهُ مَنِ اتَّبَعَ عَوْرَاتِهِمْ يَتَّبِعِ اللهُ عَوْرَتَهُ وَمَنْ يَتَّبِعِ اللهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ فِى بَيْتِهِ
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
(২২২৪) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো জন্য অপরের কোন প্রকার ক্ষতি করা বৈধ নয়। কোন দু’জনের জন্য প্রতিশোধমূলক পরস্পরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাও বৈধ নয়।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لاَ ضَرَرَ وَلاَ ضِرَارَ
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
(২২২৫) হুযাইফাহ বিন আসীদ (বা উসাইদ) (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলিমদেরকে তাদের রাস্তার ব্যাপারে কষ্ট দেবে, সে ব্যক্তির উপর তাদের অভিশাপ অনিবার্য হয়ে যাবে।
عَنْ حُذَيْفَةَ بن أُسَيْدٍ أَنّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ آذَى الْمُسْلِمِينَ فِي طُرُقِهِمْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ لَعْنَتُهُمْ
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
(২২২৬) আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ই’তিকাফে ছিলেন। তিনি শুনলেন লোকেরা জোরেশোরে ক্বিরাআত পড়ছে। সুতরাং তিনি পর্দা সরিয়ে বললেন, শোনো! তোমাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর সাথে মুনাজাত করছ। অতএব তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিয়ো না এবং একে অপরের উপর ক্বিরাআতে (অথবা নামাযে) শব্দ উঁচু করো না।
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ قَالَ : اعْتَكَفَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِى الْمَسْجِدِ فَسَمِعَهُمْ يَجْهَرُونَ بِالْقِرَاءَةِ فَكَشَفَ السِّتْرَ وَقَالَ أَلاَ إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجٍ رَبَّهُ فَلاَ يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا وَلاَ يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِى الْقِرَاءَةِ أَوْ قَالَ فِى الصَّلاَةِ
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
(২২২৭) আবূ যার্র (রাঃ) বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলেন, সবচেয়ে ভালো কাজ কী? উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর রাস্তায় জিহাদ করা। আমি বললাম, কোন্ শ্রেণীর ক্রীতদাস মুক্ত করা সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন, যা মূল্যে সবচেয়ে বেশী এবং তার পরিবারের নিকট উত্তম। আমি বললাম, ’’আমি যদি তা না পারি? তিনি বললেন, তবে কোন কারিগরের সহযোগিতা কর অথবা যে কারিগর নয় তার কাজ করে দাও। আমি বললাম, তাও যদি না পারি? তিনি বললেন, তাহলে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হতে বিরত থাকবে। আর সেটা হবে তোমার পক্ষ থেকে কৃত সদকাহ।
عَنْ أَبِـى ذَرٍّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الإِيمَانُ بِاللهِ وَالْجِهَادُ فِى سَبِيلِهِ قَالَ قُلْتُ أَىُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ قَالَ أَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا وَأَكْثَرُهَا ثَمَنًا قَالَ قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ قَالَ تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لأَخْرَقَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ ضَعُفْتُ عَنْ بَعْضِ الْعَمَلِ قَالَ تَكُفُّ شَرَّكَ عَنِ النَّاسِ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ مِنْكَ عَلَى نَفْسِكَ
পরিচ্ছেদঃ (অন্যায় ভাবে) কাউকে কষ্ট দেওয়া নিষেধ
(২২২৮) খালেদ বিন অলীদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে মানুষকে সবচেয়ে বেশি শাস্তি বা কষ্ট দেয়, কিয়ামতের দিন সে সবচেয়ে বেশি আযাব ভোগ করবে।
عَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيْدٍ قَالَ : قَالَ النَّبِـيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا لِلنَّاسِ فِي الدُّنْيَا
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلا شَفِيعٍ يُطَاعُ غافر
অর্থাৎ, সীমালংঘনকারীদের জন্য অন্তরঙ্গ কোন বন্ধু নেই এবং এমন কোন সুপারিশকারীও নেই যার সুপারিশ গ্রাহ্য করা হবে। (সূরা মু’মিন ১৮)
আল্লাহ আরো বলেন,
وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ
অর্থাৎ, যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা হাজ্জ ৭১)
(২২২৯) আবূ যার্র জুনদুব বিন জুনাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুমহান প্রভু হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি (আল্লাহ) বলেন, হে আমার বান্দারা! আমি অত্যাচারকে আমার নিজের জন্য হারাম করে দিয়েছি এবং আমি তা তোমাদের মাঝেও হারাম করলাম। সুতরাং তোমরাও একে অপরের প্রতি অত্যাচার করো না।
عَنْ أَبِـيْ ذَرٍّ جُندُبِ بنِ جُنَادَةَ عَنِ النَّبيّ ﷺ فِيمَا يَروِيْ عَنِ اللهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أنَّهُ قَالَ يَا عِبَادِيْ إنِّـيْ حَرَّمْتُ الظُلْمَ عَلَى نَفْسِيْ وَجَعَلْتُهُ بيْنَكُمْ مُـحَرَّماً فَلَا تَظَالَمُوا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩০) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’তুমি তোমার অত্যাচারিত ও অত্যাচারী ভাইয়ের সাহায্য কর। বলা হল, (হে আল্লাহর রসূল!) অত্যাচারীকে সাহায্য কীভাবে করব? তিনি বললেন, ’’তাকে অত্যাচার করা হতে বিরত রাখবে; তাহলেই তাকে সাহায্য করা হবে।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَنْصُرُهُ إِذَا كَانَ مَظْلُومًا أَفَرَأَيْتَ إِذَا كَانَ ظَالِمًا كَيْفَ أَنْصُرُهُ ؟ قَالَ تَحْجُزُهُ أَوْ تَمْنَعُهُ مِنْ الظُّلْمِ فَإِنَّ ذَلِكَ نَصْرُهُ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ বাতিলের মাধ্যমে হককে খণ্ডন করে কোন যালেমকে সাহায্য করে, সে ব্যক্তির নিকট থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দায়িত্ব উঠে যায়।
عَنِ ابْنِ عَـبَّـاسٍ قَـالَ قَـالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ أَعَانَ ظَالـِمًا لِيُدْحِضَ بِبَاطِلِهِ حَقّاً فَقَدْ بَرِئَتْ مِـنْـهُ ذِمَّـةُ اللهِ وَذِمَّـةُ رَسُوْلِـهِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩২) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিবাদের সময় অন্যায় দ্বারা অথবা কোন অত্যাচারীকে সাহায্য করে, সে ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর রোষে অবস্থান করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা থেকে বিরত না হয়।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَـالَ قَـالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلّٰـى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ: مَنْ أَعَـانَ عَلَـى خُصُومَةٍ بِظُلْمٍ ( أو يُعِيْنُ عَلٰـى ظُلْمٍ) لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللهِ حَتّٰـى يَنْزِعَ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩৩) একাধিক সাহাবা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শোন! যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধ (অমুসলিমের) প্রতি যুলম করবে অথবা তার অধিকার সম্পূর্ণরূপে আদায় করবে না অথবা তাকে তার সাধ্যের বাইরে কর্মভার চাপিয়ে দেবে অথবা তার সম্মতি বিনা তার নিকট থেকে কিছু গ্রহণ করবে, আমি কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির প্রতিবাদী হব।
عَنْ عِدَّةِ مِّنَ الصَّحَابَةِ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ أَلاَ مَنْ ظَلَمَ مُعَاهِدًا أَوِ انْتَقَصَهُ أَوْ كَلَّفَهُ فَوْقَ طَاقَتِهِ أَوْ أَخَذَ مِنْهُ شَيْئًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ فَأَنَا حَجِيجُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩৪) জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা অত্যাচার করা থেকে বাঁচো, কেননা অত্যাচার কিয়ামতের দিন অন্ধকার স্বরূপ। (অর্থাৎ, অত্যাচারী সেদিন আলো পাবে না)। আর তোমরা কৃপণতা থেকে দূরে থাকো। কেননা, কৃপণতা পূর্ববর্তী লোকেদেরকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতা তাদেরকে নিজেদের রক্তপাত করার এবং হারামকে হালাল জানার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে।
وَعَن جَابِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ اتَّقُوا الظُّلْمَ فَإنَّ الظُّلْمَ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ القِيَامَةِ وَاتَّقُوا الشُّحَّ فَإِنَّ الشُّحَّ أهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَمَلَهُمْ عَلَى أنْ سَفَكُوا دِمَاءهُمْ وَاسْتَحَلُّوا مَحَارِمَهُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক হকদারের হক অবশ্যই আদায় করা হবে। এমন কি শিংবিহীন ছাগলকে শিংযুক্ত ছাগলের নিকট থেকে বদলা দেওয়া হবে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ لَتُؤَدَّنَّ الحُقُوقُ إِلَى أهْلِهَا يَومَ القِيَامَةِ حَتّٰى يُقَادَ للشَّاةِ الجَلْحَاءِ مِنَ الشَّاةِ القَرْنَاءِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩৬)আবূ মূসা (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অত্যাচারীকে অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তিনি তাকে পাকড়াও করেন, তখন তাকে ছাড়েন না। তারপর তিনি এই আয়াত পড়লেন, যার অর্থ, তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও এরূপই হয়ে থাকে। যখন তিনি অত্যাচারী জনপদকে পাকড়াও করে থাকেন। নিশ্চয়ই তাঁর পাকড়াও কঠিন যন্ত্রণাদায়ক।
وَعَنْ أَبِـيْ مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إنَّ الله لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ فَإِذَا أخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ ، ثُمَّ قَرَأَ: وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩৭) মুআয (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে (ইয়ামানের শাসকরূপে) পাঠাবার সময় বলেছিলেন, তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদেরকে ’আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল’ এ কথার সাক্ষ্যদানের প্রতি দাওয়াত দেবে। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে, আল্লাহ তাদের উপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। তারা যদি এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর সাদকাহ (যাকাত) ফরয করেছেন। তাদের মধ্যে যারা সম্পদশালী তাদের থেকে যাকাত উসূল করে যারা দরিদ্র তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তুমি (যাকাত নেওয়ার সময়) তাদের উৎকৃষ্ট মাল নেওয়া থেকে দূরে থাকবে। আর অত্যাচারিতের বদ্দুআ থেকে বাঁচবে। কারণ তার বদ্দুআ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা নেই (অর্থাৎ, শীঘ্র কবুল হয়ে যায়)।
وَعَن مُعَاذٍ قَالَ : بَعَثَنِي رَسُوْلُ الله ﷺ فَقَالَ إنَّكَ تَأتِي قَوْماً مِنْ أهلِ الكِتَابِ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أنْ لا إلَهَ إلاَّ الله وَأنِّي رسولُ الله فَإنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ فَأعْلِمْهُمْ أنَّ اللهَ قَدِ افْتَرضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَواتٍ في كُلِّ يَوْمٍ وَلَيلَةٍ فَإِنْ هُمْ أطَاعُوا لِذَلِكَ فَأعْلِمْهُمْ أنَّ اللهَ قَدِ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤخَذُ مِنْ أغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإنْ هُمْ أطَاعُوا لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ ؛ فإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَها وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩৮) খুযাইমা বিন সাবেত কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা অত্যাচারিত ব্যক্তির দু’আ হতে সাবধান থেকো। কারণ তা মেঘের উপর বহন করা হয় (অর্থাৎ, কবুল করা হয়)। মহান আল্লাহ বলেন, ’আমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমাকে সাহায্য করবই, যদিও কিছু পরে।
عَنْ خُزَيْمَةَ بن ثَابِتٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اتَّقُوا دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا تُـحْمَلُ عَلَى الْغَمَامِ يَقُوْلُ اللهُ جَلَّ جَلَالُهُ : وَعِزَّتِـيْ وَجَلَالِـيْ لَأَنْصُرَنَّكَ وَلَوْ بَعْدَ حِيْنٍ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৩৯) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রতি তার সম্মান বা অন্য কিছুতে কোন যুলুম ও অন্যায় করে থাকে, তাহলে সেদিন আসার পূর্বেই সে যেন আজই তার নিকট হতে (ক্ষমা চাওয়া অথবা প্রতিশোধ দেওয়ার মাধ্যমে) নিজেকে মুক্ত করে নেয়; যেদিন (ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য) না দীনার হবে না দিরহাম। (সেদিন) যালেমের নেক আমল থাকলে তার যুলুম অনুপাতে নেকী তার নিকট থেকে কেটে নিয়ে (মযলুমকে দেওয়া) হবে। পক্ষান্তরে যদি তার নেকী না থাকে (অথবা নিঃশেষ হয়ে যায়) তাহলে তার (মযলুম) প্রতিবাদীর গোনাহ নিয়ে তার ঘাড়ে চাপানো হবে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبيّ ﷺ قَالَ مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلمَةٌ لأَخِيه مِنْ عِرضِهِ أَوْ مِنْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ اليَوْمَ قبْلَ أنْ لَّا يَكُوْنَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ ؛ إنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلمَتِهِ وَإنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيهِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪০) আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা কি জানো, নিঃস্ব কে? তাঁরা বললেন, ’আমাদের মধ্যে নিঃস্ব ঐ ব্যক্তি, যার কাছে কোন দিরহাম এবং কোন আসবাব-পত্র নেই।’ তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে (আসল) নিঃস্ব তো সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাতের (নেকী) নিয়ে হাযির হবে। (কিন্তু এর সাথে সাথে সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে। কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে, কারো (অবৈধরূপে) মাল ভক্ষণ করেছে। কারো রক্তপাত করেছে এবং কাউকে মেরেছে। অতঃপর এ (অত্যাচারিত)কে তার নেকী দেওয়া হবে, এ (অত্যাচারিত)-কে তার নেকী দেওয়া হবে। পরিশেষে যদি তার নেকীরাশি অন্যান্যদের দাবী পূরণ করার পূর্বেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে তাদের পাপরাশি নিয়ে তার উপর নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أنَّ رَسولَ الله ﷺ قَالَ أتدرُونَ مَنِ المُفْلِسُ ؟ قَالُوا : المفْلسُ فِينَا مَنْ لاَ دِرهَمَ لَهُ ولا مَتَاع فَقَالَ إنَّ المُفْلسَ مِنْ أُمَّتي مَنْ يأتي يَومَ القيامَةِ بصَلاَةٍ وَصِيامٍ وزَكاةٍ، ويأتي وقَدْ شَتَمَ هَذَا وقَذَفَ هَذَا، وَأَكَلَ مالَ هَذَا وسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا فيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وهَذَا مِنْ حَسناتهِ فإنْ فَنِيَتْ حَسَناتُه قَبْل أنْ يُقضى مَا عَلَيهِ أُخِذَ منْ خَطَاياهُم فَطُرِحَتْ عَلَيهِ ثُمَّ طُرِحَ في النَّارِ رواه مُسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪১) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মুসলিম সেই, যার জিভ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির (দ্বীনের খাতিরে স্বদেশ ত্যাগকারী) সেই, যে আল্লাহ যে সব কাজ করতে নিষেধ করেছেন, তা ত্যাগ করে।
وَعَن عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ الله عَنهُمَا عَنِ النَّبيّ ﷺ قَالَ المُسْلِمُ منْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪২) ফাযবালাহ বিন উবাইদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায়ী হজ্জে বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে মুমিন কে তা বলে দেব না? (প্রকৃত মুমিন হল সেই), যার (অত্যাচার) থেকে লোকেরা নিজেদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুসলিম হল সেই ব্যক্তি, যার জিব ও হাত হতে লোকেরা শান্তি লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুজাহিদ হল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করতে নিজের মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। আর (প্রকৃত) মুহাজির (হিজরতকারী) হল সেই ব্যক্তি, যে সমস্ত পাপাচরণকে হিজরত (বর্জন) করে।
عن فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَـى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْـفُسِهِمْ وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِـهِ وَيَدِهِ وَالْمُجَاهِـدُ مَنْ جَاهَـدَ نَفْسَهُ فِـيْ طَاعَـةِ اللهِ وَالْـمُهَـاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْـخَطَايَا وَالـذَّنُوْبَ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪৩) ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমরা বিদায়ী হজ্জ্বের ব্যাপারে আলাপণ্ডআলোচনা করেছিলাম। এমতবস্থায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। আর আমরা জানতাম না যে, বিদায়ী হজ্জ কী? পরিশেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর কানা দাজ্জালের কথা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, ’’আল্লাহ যে নবীই পাঠিয়েছেন, তিনি নিজ জাতিকে তার ব্যাপারে ভয় দেখিয়েছেন। নূহ ও তাঁর পরে আগমনকারী নবীগণ তার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করেছেন। যদি সে তোমাদের মধ্যে বের হয়, তবে তার অবস্থা তোমাদের কাছে গোপন থাকবে না।
তোমাদের কাছে এ কথা গোপন নয় যে, তোমাদের প্রভু কানা নয়, আর দাজ্জাল কানা হবে। তার ডান চোখ কানা হবে, তার চোখটি যেন (গুচ্ছ থেকে) ভেসে ওঠা আঙ্গুর। সতর্ক হয়ে যাও, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি তোমাদের রক্ত ও মাল হারাম ক’রে দিয়েছেন; যেমন তোমাদের এদিন হারাম তোমাদের এই শহরে, তোমাদের এই মাসে। শোনো! আমি কি (আল্লাহর পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছি?’’ সাহাবীগণ বললেন, ’হ্যাঁ।’ অতঃপর তিনি তিনবার বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক। (অতঃপর বললেন,) তোমাদের জন্য বিনাশ অথবা আফশোস। দেখো, তোমরা আমার পর এমন কাফের হয়ে যেয়ো না যে, তোমরা এক অপরের গর্দান মারবে।
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عَنهُمَا قَالَ : كُنَّا نَتَحَدَّثُ عَنْ حَجَّةِ الوَدَاعِ والنَّبيُّ ﷺ بَيْنَ أظْهُرِنَا وَلا نَدْرِي مَا حَجَّةُ الوَدَاعِ حَتّٰـى حَمِدَ اللهَ رَسُول الله ﷺ وَأثْنَى عَلَيهِ ثُمَّ ذَكَرَ المَسْيحَ الدَّجَّال فَأطْنَبَ في ذِكْرِهِ وَقَالَ مَا بَعَثَ اللهُ مِنْ نَبيٍّ إلاَّ أنْذَرَهُ أُمَّتَهُ، أنْذَرَهُ نُوحٌ وَالنَّبِيُّونَ مِنْ بَعْدِهِ وَإِنَّهُ إنْ يَخْرُجْ فِيكُمْ فَما خَفِيَ عَليْكُمْ مِنْ شَأنِه فَلَيْسَ يَخْفَى عَليْكُم إنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بأعْوَرَ وإنَّهُ أعْوَرُ عَيْنِ اليُمْنَى كَأنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ ألا إنَّ الله حَرَّمَ عَلَيْكُمْ دِمَاءكُمْ وَأمْوَالَكُمْ كحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا في بَلَدِكُم هَذَا في شَهْرِكُمْ هَذَا ألا هَلْ بَلّغْتُ ؟ قالُوا : نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ ثلاثاً وَيْلَكُمْ أَوْ وَيْحَكُمْ انْظُروا : لا تَرْجعُوا بَعْدِي كُفّاراً يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ رواه البخاري وروى مسلم بعضه
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪৪) আবূ বকরাহ নুফাই ইবনুল হারেস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’নিশ্চয় যামানা (কাল) নিজের ঐ অবস্থায় ফিরে এল যেদিন আল্লাহ তাআলা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। (অর্থাৎ, দুনিয়া সৃষ্টি করার সময় যেরূপ বছর ও মাসগুলো ছিল, এখন পুনর্বার সে পুরাতন অবস্থায় ফিরে এল এবং আরবের মুশরিকরা যে নিজেদের মন মত মাসগুলোকে আগে-পিছে করেছিল তা এখন থেকে শেষ ক’রে দেওয়া হল।) বছরে বারটি মাস; তার মধ্যে চারটি হারাম (সম্মানীয়) মাস।
তিনটি পরস্পরঃ যুল ক্বা’দাহ, যুলহিজ্জাহ ও মুহার্রাম। আর (চতুর্থ হল) মুযার গোত্রের রজব; যা জুমাদা ও শা’বান এর মধ্যে রয়েছে। এটা কোন্ মাস? আমরা বললাম, ’আল্লাহ ও তাঁর রসূল সর্বাধিক জ্ঞাত।’ অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো তার নাম ব্যতীত অন্য নাম বলবেন। তিনি বললেন, ’’এটা যুল-হিজ্জাহ নয় কি?’’ আমরা বললাম, ’অবশ্যই।’ অতঃপর তিনি বললেন, ’’এটা কোন্ শহর?’’ আমরা বললাম, ’আল্লাহ ও তাঁর রসূল সর্বাধিক জ্ঞাত।’
অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো তার নাম ব্যতীত অন্য নাম বলবেন। তিনি বললেন, ’’এ শহর (মক্কা) নয় কি?’’ আমরা বললাম, ’অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ’’আজ কোন্ দিন?’’ আমরা বললাম, ’আল্লাহ ও তাঁর রসূল সর্বাধিক জ্ঞাত।’ অতঃপর তিনি চুপ থাকলেন। আমরা ভাবলাম, তিনি হয়তো এর অন্য নাম বলবেন। অতঃপর তিনি বললেন, ’’এটা কি কুরবানীর দিন নয়?’’ আমরা বললাম, ’অবশ্যই।’ অতঃপর তিনি বললেন, ’’নিশ্চয় তোমাদের রক্ত, তোমাদের মাল এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের (আপসের মধ্যে) এ রকমই হারাম (ও সম্মানীয়) যেমন তোমাদের এ দিনের সম্মান তোমাদের এ শহরে এবং তোমাদের এ মাসে রয়েছে। শীঘ্রই তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে মিলিত হবে।
অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সুতরাং তোমরা আমার পর এমন কাফের হয়ে যেও না যে, তোমরা এক অপরের গর্দান মারবে। শোনো! উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিতকে (এ সব কথা) পৌঁছে দেয়। কারণ, যাকে পৌঁছাবে সে শ্রোতার চেয়ে অধিক স্মৃতিধর হতে পারে।’’ অবশেষে তিনি বললেন, ’’সতর্ক হয়ে যাও! আমি কি পৌঁছে দিলাম?’’ আমরা বললাম, ’হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক।
وَعَنْ أَبِـيْ بَكْرَةَ نُفَيْعِ بنِ الحَارِثِ عَنِ النَّبيّ ﷺ قَالَ إنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرضَ: السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرَاً، مِنْهَا أرْبَعَةٌ حُرُمٌ: ثَلاثٌ مُتَوالِياتٌ: ذُو القَعْدَة، وذُو الحِجَّةِ، وَالمُحَرَّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشعْبَانَ، أيُّ شَهْر هَذَا قُلْنَا : اللهُ وَرَسُوْلُهُ أعْلَمُ فَسَكَتَ حَتّٰـى ظَننَّا أنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ، قَالَ ألَيْسَ ذَا الحِجَّةِ قُلْنَا : بَلَى قَال فَأيُّ بَلَد هَذَا ؟ قُلْنَا : اللهُ ورَسُوْلُهُ أعْلَمُ فَسَكَتَ حَتّٰـى ظَنَنَّا أنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيرِ اسْمِهِ قَالَ ألَيْسَ البَلْدَةَ ؟ قُلْنَا : بَلَى قَالَ فَأيُّ يَوْم هَذَا ؟ قُلْنَا : اللهُ ورَسُوْلُهُ أعْلَمُ فَسَكَتَ حَتّٰـى ظَنَنَّا أنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بغَيرِ اسْمِهِ قَالَ ألَيسَ يَوْمَ النَّحْرِ ؟ قُلْنَا : بَلَى قَالَ فَإنَّ دِمَاءكُمْ وَأمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عليكم حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا في بَلَدِكُمْ هَذَا في شَهْرِكُمْ هَذَا، وَسَتَلْقُونَ رَبَّكُمْ فَيَسْألُكُمْ عَنْ أعْمَالِكُمْ ألا فَلا تَرْجعوا بعدي كُفّاراً يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْض، ألا لَيُبَلِّغ الشَّاهِدُ الغَائِبَ فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يَبْلُغُهُ أنْ يَكُونَ أوْعَى لَهُ مِنْ بَعْض مَنْ سَمِعَهُ ثُمَّ قَالَ إلاَّ هَلْ بَلَّغْتُ ألاَ هَلْ بَلَّغْتُ قُلْنَا : نَعَمْ قَالَ اللَّهُمَّ اشْهَدْ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪৫) আবূ হুমাইদ আব্দুর রহমান ইবনে সা’দ সায়েদী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয্দ গোত্রের ইবনে লুতবিয়্যাহ নামক এক ব্যক্তিকে যাকাত আদায় করার কাজে কর্মচারী নিয়োগ করলেন। সে ব্যক্তি (আদায়কৃত মালসহ) ফিরে এসে বলল, ’এটা আপনাদের (বায়তুল মালের), আর এটা আমাকে উপহার স্বরূপ দেওয়া হয়েছে।’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে উঠে দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্ত্ততি বর্ণনা ক’রে বললেন, ’’অতঃপর বলি যে, আল্লাহ আমাকে যে সকল কর্মের অধিকারী করেছেন তার মধ্য হতে কোনও কর্মের তোমাদের কাউকে কর্মচারী নিয়োগ করলে সে ফিরে এসে বলে কি না, ’এটা আপনাদের, আর এটা উপহার স্বরূপ আমাকে দেওয়া হয়েছে!’
যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে তার বাপণ্ডমায়ের ঘরে বসে থেকে দেখে না কেন, তাকে কোন উপহার দেওয়া হচ্ছে কি না? আল্লাহর কসম; তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোন জিনিস অনধিকার গ্রহণ করবে, সে কিয়ামতের দিন তা নিজ ঘাড়ে বহন করা অবস্থায় আল্লাহ তাআলার সাথে সাক্ষাৎ করবে। অতএব আমি যেন অবশ্যই চিনতে না পারি যে, তোমাদের মধ্য হতে কেউ নিজ ঘাড়ে চিঁহিঁ-রববিশিষ্ট উঁট, অথবা হাম্বা-রববিশিষ্ট গাই, অথবা মে-ঁমেঁ-রববিশিষ্ট ছাগল বহন করা অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছ।
আবূ হুমাইদ (রাঃ) বলেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উভয় হাতকে উপর দিকে এতটা তুললেন যে, তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা দেখা গেল। অতঃপর তিনবার বললেন, ’’হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিলাম?
وَعَنْ أَبِـيْ حُمَيدٍ عَبدِ الرَّحمَانِ بنِ سَعدٍ السَّاعِدِي قَالَ : اِسْتَعْمَلَ النَّبيُّ ﷺ رَجُلاً مِنَ الأزْدِ يُقَالُ لَهُ : ابْنُ اللُّتْبِيَّةِ عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ : هَذَا لَكُمْ وَهَذَا أُهْدِيَ إِلَيَّ فَقَامَ رسولُ الله ﷺ عَلَى المِنْبَرِ فَحَمِدَ الله وَأثْنَى عَلَيهِ ثُمَّ قَالَ أمَّا بَعدُ فَإِنِّي أسْتَعْمِلُ الرَّجُلَ منْكُمْ عَلَى العَمَلِ مِمَّا وَلاَّنِي اللهُ فَيَأتِي فَيَقُوْلُ : هَذَا لَكُمْ وَهَذا هَدِيَّةٌ أُهْدِيتْ إلَيَّ أفَلا جَلَسَ في بيت أبِيهِ أَوْ أُمِّهِ حَتّٰـى تَأتِيَهُ هَدِيَّتُهُ إنْ كَانَ صَادِقاً واللهِ لا يَأخُذُ أحَدٌ مِنْكُمْ شَيئاً بِغَيرِ حَقِّهِ إلاَّ لَقِيَ الله تَعَالَى يَحْمِلُهُ يَوْمَ القِيَامَةِ، فَلا أعْرِفَنَّ أحَداً مِنْكُمْ لَقِيَ اللهَ يَحْمِلُ بَعيراً لَهُ رُغَاءٌ، أَوْ بَقَرَةً لَهَا خُوَارٌ أَوْ شَاةً تَيْعَرُ ثُمَّ رفع يديهِ حَتّٰـى رُؤِيَ بَيَاضُ إبْطَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ ثلاثاً مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪৬) আদী ইবনে আমীরাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমরা তোমাদের মধ্যে যাকে কোন কাজে নিযুক্ত করি, অতঃপর সে আমাদের কাছে ছুঁচ অথবা তার চেয়ে বেশী (কিংবা কম কিছু) লুকিয়ে নেয়, তো এটা খিয়ানত ও চুরি করা হয়। কিয়ামতের দিন সে তা সঙ্গে নিয়ে হাজির হবে।’’ এ কথা শুনে আনসারদের মধ্যে একজন কৃষ্ণকায় মানুষ উঠে দাঁড়ালেন, যেন আমি তাকে (এখন) দেখছি। তিনি বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি (যে কাজের দায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করেছিলেন) তা আমার কাছ থেকে ফিরিয়ে নেন।’ তিনি বললেন, ’’তোমার কি হয়েছে?’’ সে বলল, ’আমি আপনাকে এ রকম কথা বলতে শুনলাম।’ তিনি বললেন, ’’আমি এখনো বলছি যে, যাকে আমরা কোন কাজে নিযুক্ত করি, সে যেন অল্পবেশী (সমস্ত মাল) আমার কাছে নিয়ে আসে। অতঃপর তা হতে তাকে যতটা দেওয়া হবে, তাইই সে গ্রহণ করবে এবং যা হতে তাকে বিরত রাখা হবে, সে তা থেকে বিরত থাকবে।
وَعَن عَدِيّ بنِ عَميْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ مِنْكُمْ عَلَى عَمَل فَكَتَمَنَا مِـخْيَطاً فَمَا فَوْقَهُ كَانَ غُلُولاً يَأتِي بِه يَومَ القِيَامَةِ فَقَامَ إليه رَجُلٌ أسْوَدُ مِنَ الأنْصَارِ كَأنِّـي أنْظُرُ إِلَيْهِ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ اقْبَلْ عَنِّي عَمَلَكَ قَالَ وَمَا لَكَ ؟ قَالَ: سَمِعْتكَ تَقُولُ كَذَا وكَذَا، قَالَ وَأَنَا أقُوْلُه الآنَ : مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَلْيَجِيءْ بِقَلِيلِهِ وَكَثِيرِهِ فَمَا أُوْتِـيَ مِنْهُ أخَذَ وَمَا نُهِيَ عَنْهُ انْتَهَى رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪৭) আবূ উমামাহ ইয়াস ইবনে সা’লাবা হারেসী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (মিথ্যা) কসম খেয়ে কোন মুসলিমের হক মেরে নেবে, তার জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম ওয়াজেব এবং জান্নাত হারাম করে দেবেন।’’ একটি লোক বলল, ’যদি তা নগণ্য জিনিস হয় হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, ’’যদিও তা পিলস্নু গাছের একটি ডালও হয়।
وَعَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ إِيَاسِ بنِ ثَعلَبَةَ الحَارِثِي أَنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ فَقدْ أوْجَبَ اللهُ لَهُ النَّارَ وَحَرَّمَ عَلَيهِ الجَنَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ : وإنْ كَانَ شَيْئاً يَسيراً يَا رَسُول الله ؟ فَقَالَ وإنْ قَضيباً مِنْ أرَاك رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪৮) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামানের জন্য একটি লোক নিযুক্ত ছিল, তাকে কিরকিরাহ (বা কারকারাহ) বলা হত। সে মারা গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামী। অতঃপর (এ কথা শুনে) সাহাবীগণ তাকে দেখতে গেলেন (ব্যাপার কী?) সুতরাং তাঁরা একটি আংরাখা (বুকখোলা লম্বা ও ঢিলা জামা) পেলেন, সেটি সে (গনীমতের মাল থেকে) চুরি ক’রে নিয়েছিল।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ : كَانَ عَلَـى ثَقَلِ النَّبيِّ ﷺ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كِرْكِرَةُ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُول الله ﷺ هُوَ فِـي النَّارِ فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ إِلَيْه فَوَجَدُوا عَبَاءةً قَدْ غَلَّهَا رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৪৯) উমার ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, যখন খাইবারের যুদ্ধ হল, তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কিছু সাহাবী এসে বললেন, অমুক অমুক শহীদ হয়েছে। অতঃপর তাঁরা একটি লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং বললেন, অমুক শহীদ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’কখনোই না। সে (গনীমতের) মাল থেকে একটি চাদর অথবা আংরাখা (বুকখোলা লম্বা ও ঢিলা জামা) চুরি করেছিল, সে জন্য আমি তাকে জাহান্নামে দেখলাম।
وعَن عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ قَالَ : لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيبَر أقْبَلَ نَفَرٌ مِنْ أصْحَابِ النَّبيِّ ﷺ فقَالُوا : فُلاَنٌ شَهِيدٌ وفُلانٌ شَهِيدٌ حَتّٰـى مَرُّوا عَلَى رَجُلٍ فقالوا : فُلانٌ شَهِيدٌ فَقَالَ النَّبيُّ ﷺكَلاَّ، إنِّي رَأيْتُهُ في النَّار في بُرْدَةٍ غَلَّهَا أَوْ عَبَاءة رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৫০) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’’যে ব্যক্তি কারো জমি এক বিঘত পরিমাণ অন্যায়ভাবে দখল ক’রে নেবে, (কিয়ামতের দিন) সাত তবক (স্তর) যমীনকে (বেড়িস্বরূপ) তার গলায় লটকে দেওয়া হবে।’’ (বুখারী ২৪৫৩,৩১৯৫, মুসলিম ৪২২২)
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ الله عَنهَا : أَنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ مَنْ ظَلَمَ قَيدَ شِبْرٍ مِنَ الأرْضِ طُوِّقَهُ مِنْ سَبْعِ أرَضِينَ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৫১) য়্যা’লা বিন মুর্রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি অর্ধহাত পরিমাণও জমি জবর-দখল (আত্মসাৎ) করবে, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ঐ জমির সাত তবক পর্যন্ত খুঁড়তে আদেশ করবেন। অতঃপর তা তার গলায় বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে; যতক্ষণ পর্যন্ত না সমস্ত লোকেদের বিচার-নিষ্পত্তি শেষ হয়েছে (ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ সাত তবক আধ হাত জমি তার গলায় লটকানো থাকবে)!
عَنْ يَعْلَى بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يقولَ أَيُّمَا رَجُلٍ ظَلَمَ شِبْـرًا مِنْ الْأَرْضِ كَلَّفَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَحْفِرَهُ حَتّٰـى يَبْلُغَ آخِرَ سَبْعِ أَرَضِينَ ثُمَّ يُطَوَّقَهُ إِلٰـى يَوْمِ الْقِيَامَةِ حَتّٰـى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৫২) আবূ ক্বাতাদাহ হারেস ইবনে রিবয়ী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাহাবীদের) মাঝে দাঁড়ালেন। অতঃপর তাঁদের জন্য বর্ণনা করলেন যে, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা সর্বোত্তম আমল। এ শুনে একটি লোক দাঁড়িয়ে বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন, যদি আমাকে আল্লাহর পথে হত্যা ক’রে দেওয়া হয়, তবে কি আমার পাপরাশি মোচন করে দেওয়া হবে?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ’’হ্যাঁ। যদি তুমি আল্লাহর পথে ধৈর্যশীল ও নেকীর কামনাকারী হয়ে (শত্রুর দিকে) অগ্রগামী হয়ে এবং পিছপা না হয়ে খুন হও, তাহলে। পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি যেন বললে? সে বলল, আপনি বলুন, যদি আল্লাহর পথে আমাকে হত্যা করা হয়, তবে কি আমার পাপরাশি মোচন ক’রে দেওয়া হবে? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। যদি তুমি আল্লাহর পথে ধৈর্যশীল ও নেকীর কামনাকারী হয়ে (শত্রুর দিকে) অগ্রগামী হয়ে এবং পিছপা না হয়ে (খুন হও, তাহলে)। কিন্তু ঋণ (ক্ষমা হবে না)। কেননা জিবরীল (আঃ) আমাকে এ কথা বললেন।
وَعَنْ أَبِـيْ قَتَادَةَ الحَارِثِ بنِ رِبعِيٍّ عن رَسُول الله ﷺ أَنَّهُ قَامَ فِيهِم، فَذَكَرَ لَهُمْ أنَّ الجِهَادَ في سَبِيلِ الله، وَالإِيمَانَ بالله أفْضَلُ الأعْمَالِ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ : يَا رَسُولَ الله أرَأيْتَ إنْ قُتِلْتُ في سبيلِ الله تُكَفَّرُ عَنّي خَطَايَايَ ؟ فَقَالَ لَهُ رَسُول الله ﷺ نَعَمْ، إنْ قُتِلْتَ فِـيْ سَبِيْلِ اللهِ، وَأنْتَ صَابرٌ مُحْتَسِبٌ، مُقْبِلٌ غَيرُ مُدْبر ثُمَّ قَالَ رَسُول الله ﷺ كَيْفَ قُلْتَ قَالَ : أرَأيْتَ إنْ قُتِلْتُ في سبيلِ الله أتُكَفَّرُ عَنّي خَطَايَايَ ؟ فَقَالَ لَهُ رَسُول الله ﷺ نَعمْ وَأنْتَ صَابرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيرُ مُدْبِرٍ إلاَّ الدَّيْنَ ؛ فإنَّ جِبريلَ قَالَ لي ذلِكَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৫৩) উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহ আনহা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি তো একজন মানুষ। আর তোমরা (বিবাদ করে) ফায়সালার জন্য আমার নিকট আসো। হয়তো তোমাদের কেউ কেউ অন্যের তুলনায় অধিক বাক্পটু। আর আমি তার কথার ভিত্তিতে তার পক্ষে ফায়সালা করি। সুতরাং আমি যদি কাউকে তার (মুসলিম) ভাইয়ের হক তার জন্য ফায়সালা করে দিই, তাহলে আসলে আমি তার জন্য আগুনের টুকরা কেটে দিই।
وَعَن أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ الله عَنهَا : أَنَّ رَسُوْلَ الله ﷺ قَالَ إنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إلَيَّ، وَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أنْ يَكُونَ ألْحَنَ بِحُجّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فأَقْضِيَ لَهُ بِنَحْوِ مَا أسْمعُ فَمَنْ قَضَيتُ لَهُ بِـحَقِّ أخِيْهِ فَإِنَّمَا أقطَعُ لَهُ قِطعةً مِنَ النَّارِ مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৫৪) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’মু’মিন ব্যক্তি তার দ্বীনের প্রশস্ততায় থাকে; যতক্ষণ না সে অবৈধ রক্তপাতে লিপ্ত হয়।’’ (বুখারী ৬৮৬২)
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَنْ يَزَالَ المُؤْمِنُ في فُسْحَةٍ مِنْ دِينهِ مَا لَمْ يُصِبْ دَماً حَرَاماً رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ দুর্নীতি, অন্যায়-অত্যাচার করা হারাম এবং অন্যায়ভাবে নেওয়া জিনিস ফেরৎ দেওয়া জরুরী
(২২৫৫) হামযাহ (রাঃ) এর স্ত্রী খাওলাহ বিনতে আমের আনসারী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, কিছু লোক আল্লাহর মাল নাহক ব্যয়-বন্টন করবে। সুতরাং তাদের জন্য কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন রয়েছে।
وَعَن خَولَةَ بِنتِ عَامِرٍ الأنصَارِيَّة وَهِيَ امرأَةُ حَمْزَةَ رَضِيَ الله عَنهُمَا قَالَتْ : سَمِعتُ رَسُولَ الله ﷺ يقول إنَّ رِجَالاً يَتَخَوَّضُونَ فِي مَالِ الله بغَيرِ حَقٍّ فَلَهُمُ النَّارُ يَومَ القِيَامَةِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ নেক লোক, দুর্বল ও গরীব মানুষদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে ভীতিপ্রদর্শন
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَاناً وَإِثْماً مُبِيْنًا
অর্থাৎ, যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সূরা আহ্যাব ৫৮) তিনি আরো বলেন,
فَأَمَّا الْيَتِيْمَ فَلَا تَقْهَرْ وَأَمَّا السَّائِلَ فَلَا تَنْهَرْ
অর্থাৎ, অতএব তুমি পিতৃহীনের প্রতি কঠোর হয়ো না। এবং ভিক্ষুককে ধমক দিও না। (সূরা যুহা ৯-১০)
(২২৫৬) নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোন বন্ধুর সাথে শত্রুতা করবে, তার বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধের ঘোষণা রইল। (বুখারী ৬৫০২)
" إِنَّ اللهَ قَالَ: مَنْ عَادَى لِيْ وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالحَرْبِ
পরিচ্ছেদঃ নেক লোক, দুর্বল ও গরীব মানুষদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে ভীতিপ্রদর্শন
(২২৫৭) জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায (জামাআতে) পড়ল, সে আল্লাহর জামানতে চলে এল। সুতরাং আল্লাহ যেন অবশ্যই তোমাদের কাছে তার জামানতের কিছু দাবী না করেন। কারণ, যার কাছেই তিনি তাঁর জামানতের কিছু দাবী করবেন, তাকে পাকড়াও করবেন। অতঃপর তিনি তাকে উপুড় ক’রে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (মুসলিম ১৫২৬)
وَعَنْ جُندُبِ بنِ عَبدِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ مَنْ صَلّٰـى صَلَاةَ الصُّبْحِ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ الله فَلَا يَطْلُبَنَّكُمُ اللهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيءٍ فَإنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بشَيءٍ يُدْركْهُ ثُمَّ يَكُبُّهُ عَلَى وَجْهِهِ فِي نَارِ جَهَنَّمَ
পরিচ্ছেদঃ জমি জবর-দখল
(২২৫৮) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (অন্যের) অর্ধহাত পরিমাণও জমি জবরদখল করবে (কিয়ামতের দিন) সে ব্যক্তির ঘাড়ে ঐ জমির (নীচের) সাত (তবক) জমিনকে বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ ظَلَمَ قِيدَ شِبْـرٍ مِنَ الْأَرْضِ طُـوِّقَـهُ مِـنْ سَـبْـعِ أَرَضـِيـنَ
পরিচ্ছেদঃ জমি জবর-দখল
(২২৫৯)য়্যা’লা বিন মুর্রাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি অর্ধহাত পরিমাণও জমি জবর-দখল (আত্মসাৎ) করবে সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ঐ জমির সাত তবক পর্যন্ত খুঁড়তে আদেশ করবেন। অতঃপর তা তার গলায় বেড়িস্বরূপ ঝুলিয়ে দেওয়া হবে; যতক্ষণ পর্যন্ত না সমস্ত লোকেদের বিচার-নিষ্পত্তি শেষ হয়েছে (ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ সাত তবক আধ হাত জমি তার গলায় লটকানো থাকবে)!
عَنْ يَعْلَى بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ أَيُّمَا رَجُلٍ ظَلَمَ شِبْرًا مِنْ الْأَرْضِ كَلَّفَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَحْفِرَهُ حَتّٰـى يَبْلُغَ آخِرَ سَبْعِ أَرَضِينَ ثُمَّ يُطَوَّقَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ حَتّٰـى يُقْضٰى بَيْنَ النَّاسِ
পরিচ্ছেদঃ জমি জবর-দখল
(২২৬০) ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অর্ধহাত পরিমাণও জমি নাহক জবর-দখল (আত্মসাৎ) করবে সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন ঐ জমির সাত তবক পর্যন্ত নিচে ধসিয়ে দেবেন।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ مَنْ أَخَذَ شَـيْـئًـا مِنَ الْأَرْضِ بِـغَـيْرِ حَـقِّـهِ خُسِفَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلٰـى سَبْـعِ أَرَضِينَ
পরিচ্ছেদঃ জমি জবর-দখল
(২২৬১) আলী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর, যে নিজ পিতামাতাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর, যে গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে যবেহ করে, আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর, যে কোন দুষ্কৃতকারী বা বিদআতীকে আশ্রয় দেয় এবং আল্লাহর অভিসম্পাত সেই ব্যক্তির উপর, যে ভূমির (জমি-জায়গার) সীমা-চিহ্ন পরিবর্তন করে।
عَنْ عَلِـيٍ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ لَعَنَ اللهُ مَنْ لَعَنَ وَالِدَهُ وَلَعَنَ اللهُ مَنْ ذَبَحَ لِغَيْرِ اللهِ وَلَعَنَ اللهُ مَنْ آوَى مُـحْدِثًا وَلَعَنَ اللهُ مَنْ غَيَّرَ مَنَارَ الأَرْضِ
পরিচ্ছেদঃ জমি জবর-দখল
(২২৬২) আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি সেই জিনিস দাবী করে, যে জিনিস তার নয়, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয় এবং সে যেন নিজের ঠিকানা দোযখে বানিয়ে নেয়।
عَنْ أَبِى ذَرٍّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ وَمَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا وَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا أَوْفُوا بالْعُقُوْدِ
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ কর। (সূরা মায়েদাহ-৫:১)
তিনি আরো বলেছেন,
وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُوْلاً
অর্থাৎ, আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে (সূরা বানী ঈসরাঈল ৩৪)
(২২৬৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বিন আ’স (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে খাঁটি মুনাফিক্ব গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তির মাঝে তার মধ্য হতে একটি স্বভাব থাকবে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকদের একটি স্বভাব থেকে যাবে। (সে স্বভাবগুলি হল,) ১। তার কাছে আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে। ২। কথা বললে মিথ্যা বলে। ৩। ওয়াদাহ করলে তা ভঙ্গ করে এবং ৪। ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল ভাষা বলে।
وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِّنْهُنَّ كَانَ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتّٰـى يَدَعَها : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَإِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৬৪) ইবনে মাসঊদ, ইবনে উমার ও আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের জন্য একটি করে (বিশেষ) পতাকা নির্দিষ্ট হবে। বলা হবে যে, এটা অমুক ব্যক্তির (বিশ্বাসঘাতকতার) প্রতীক।
وعَنِ ابنِ مَسعودٍ وَابنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ رَضِيَ الله عَنهُم - قَالُوا : قَالَ النَّبِيُّ ﷺلِكُلِّ غادِرٍ لِواءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ : هَذِهِ غَدْرَةُ فُلاَنٍ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৬৫) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিনে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের পাছায় একটা পতাকা থাকবে, যাকে তার বিশ্বাসঘাতকতা অনুপাতে উঁচু করা হবে। জেনে রেখো! রাষ্ট্রনায়ক (বিশ্বাসঘাতক হলে তার) চেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক আর অন্য কেউ হতে পারে না।
وَعَنْ أَبِـيْ سَعِيدٍ الخـُدرِيّ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ عِنْدَ اسْتِهِ يومَ القِيَامَةِ يُرْفَعُ لَهُ بِقَدَرِ غَدْرِهِ أَلاَ وَلاَ غَادِرَ أَعْظَمُ غَدْراً مِنْ أَمِيرِ عَامَّةٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৬৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, তিন প্রকার লোক এমন আছে, কিয়ামতের দিন যাদের প্রতিবাদী স্বয়ং আমি; (১) সে ব্যক্তি, যে আমার নামে অঙ্গীকারাবদ্ধ হল, পরে তা ভঙ্গ করল। (২) সে ব্যক্তি, যে স্বাধীন মানুষকে (প্রতারণা দিয়ে) বিক্রি ক’রে তার মূল্য ভক্ষণ করল। (৩) সে ব্যক্তি, যে কোন মজুরকে খাটিয়ে তার নিকট থেকে পুরাপুরি কাজ নিল, কিন্তু তার মজুরী দিল না।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ الله تَعَالَـى : ثَلاَثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ : رَجُلٌ أَعْطَى بِي ثُمَّ غَدَرَ وَرَجُلٌ بَاعَ حُرَّاً فَأَكَلَ ثَمَنَهُ وَرَجُلٌ اسْتَأجَرَ أَجِيْرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِهِ أَجْرَهُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৬৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোকের এক মজলিসে হাদীস বয়ান করছিলেন, এমন সময় এক বেদুঈন এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, ’কিয়ামত কখন হবে?’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়ান করতেই থাকলেন। অতঃপর বয়ান শেষ করে তিনি বললেন, কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? লোকটি বলল, ’এই যে আমি, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কর। লোকটি বলল, ’আমানত কিভাবে নষ্ট হবে?’ তিনি বললেন, যখন কোন অযোগ্য লোকের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কর।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا ضُيِّعَتْ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرْ السَّاعَة قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرْ السَّاعَةَ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৬৮) আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় খুতবাতে বলতেন, যার আমানতদারী নেই, তার ঈমান নেই। আর যে অঙ্গীকার পালন করে না, তার দ্বীন নেই।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ مَا خَطَبَنَا نَبِيُّ اللهِ ﷺ إِلَّا قَالَ لَا إِيْمَانَ لِمَنْ لَا أَمَانَةَ لَهُ وَلَا دِينَ لِمَنْ لَا عَهْدَ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৬৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির প্রতিবাদী হব; তন্মধ্যে প্রথম হল সেই ব্যক্তি, যে আমার নামে কিছু দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করল অতঃপর তা ভঙ্গ করল। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে তার মূল্য ভক্ষণ করল। আর তৃতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে কোন মজুর খাটিয়ে তার নিকট থেকে পুরোপুরি কাজ নিল অথচ সে তার মজুরী (পূর্ণরূপে) আদায় করল না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ اللهُ : ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ أَعْطَى بِـيْ ثُمَّ غَدَرَ وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهُ وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِ أَجْرَهُ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭০) যায়দ বিন সাবেত (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের মধ্য থেকে সর্বপ্রথম যে জিনিস উঠিয়ে নেওয়া হবে, তা হল আমানত। আর সর্বশেষ যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হল নামায। আর কোন কোন নামাযী আছে, মহান আল্লাহর কাছে যার কোন অংশ নেই।
عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أوَّلُ مَا يُرْفَعُ مِنَ النّاسِ اَلْأمَانَةُ وآخِرُ ما يَبْقٰـى مِنْ دِيْنِهِمُ الصَّلَاةُ ورُبَّ مُصَلٍ لَا خَلاقَ لهُ عِنْدَ اللهِ تَعَالٰـى
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭১) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যার্র গিফারী (রাঃ) কে অসিয়ত করে বলেছিলেন, আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর ভয় রাখবে, খারাপ কিছু করলে ভাল কাজ করবে, কারো নিকট হতে অবশ্যই কিছু চাইবে না; এমনকি সওয়ারীর পিঠে বসে থাকা অবস্থায় তোমার হাত হতে চাবুকটি পড়ে গেলেও, তা কাউকে তুলে দিতে বলবে না। কোন আমানত গ্রহণ করবে না। আর দু’জনের মাঝে মীমাংসাকারী হবে না।
عَنْ أَبِـيْ ذَرٍّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَهُ أُوصِيْكَ بِتَقْوَى اللهِ فِي سِرِّ أَمْرِكَ وَعَلَانِيَتِهِ وَإِذَا أَسَأْتَ فَأَحْسِنْ وَلَا تَسْأَلَنَّ أَحَدًا شَيْئًا وَإِنْ سَقَطَ سَوْطُكَ وَلَا تَقْبِضْ أَمَانَةً وَلَا تَقْضِ بَيْنَ اثْنَيْنِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে তোমার কাছে আমানত রেখেছে, তার আমানত তাকে ফেরৎ দাও এবং যে তোমার খিয়ানত করেছে, তুমি তার খিয়ানত করো না।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلاَ تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭৩) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমার মধ্যে চারটি জিনিস হলে দুনিয়ার আর কিছু না পেলেও তোমার বয়ে যাবে না; ১। আমানত রক্ষা করা, ২। সত্য কথা বলা, ৩। চরিত্র সুন্দর করা এবং ৪। হালাল খাদ্য খাওয়া।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ أَرْبَعٌ إِذَا كُنَّ فِيكَ فَلَا عَلَيْكَ مَا فَاتَكَ مِنْ الدُّنْيَا حِفْظُ أَمَانَةٍ وَصِدْقُ حَدِيثٍ وَحُسْنُ خَلِيقَةٍ وَعِفَّةٌ فِي طُهْرٍ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭৪) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি তোমরা পছন্দ কর যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে ভালবাসুন, তাহলে তিনটি গুণের হিফাযত কর;
১। সত্য কথা বলা,
২। আমানত আদায় করা এবং
৩। প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করা।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ إِنْ كُنْتُمْ تُـحِبُّوْنَ أَنْ يُّـحِبَّكُمُ اللهُ وَ رَسُوْلَهُ فَحَافِظُوْا عَلٰـى ثَلَاثِ خِصَالٍ : صِدْقُ الْـحَدِيْثِ وَأَدَاءُ الْأَمَانَةِ وَ حُسْنُ الْـجَوَارِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭৫) উবাদাহ বিন স্বামেত (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের পক্ষ থেকে আমার জন্য ছয়টি জিনিসের যামিন হয়ে যাও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের যামিন হয়ে যাব; কথা বললে সত্য কথা বল, ওয়াদা করলে পূরণ কর, তোমাদের নিকট আমানত রাখা হলে তা আদায় কর, লজ্জাস্থানের হিফাযত কর, চক্ষু অবনত কর এবং হাতকে সংযত রাখ।
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ اضْمَنُوا لِي سِتًّا مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَضْمَنْ لَكُمْ الْجَنَّةَ : اصْدُقُوا إِذَا حَدَّثْتُمْ وَأَوْفُوا إِذَا وَعَدْتُمْ وَأَدُّوا إِذَا اؤْتُمِنْتُمْ وَاحْفَظُوا فُرُوجَكُمْ وَغُضُّوا أَبْصَارَكُمْ وَكُفُّوا أَيْدِيَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭৬) ইয়ায বিন হিমার মুজাশিয়ী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামবাসী পাঁচ ব্যক্তি; (১) সেই দুর্বল শ্রেণীর ব্যক্তি, যার (পাপ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকার মতো) জ্ঞান নেই। যারা তোমাদের অনুগত, যারা পরিবার চায় না, ধন-সম্পদ ও চায় না। (২) খিয়ানতকারী ব্যক্তি, যে তুচ্ছ কোন জিনিসের লোভে পড়লেই তাতে খিয়ানত করে। (৩) এমন ব্যক্তি, যে সকাল-সন্ধ্যায় তোমার পরিবার ও সম্পদের ব্যাপারে ধোঁকা দেয়। (৪) কৃপণ ব্যক্তি এবং (৫) দুশ্চরিত্র চোয়াড়।
عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ الْمُجَاشِعِىِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ وَأَهْلُ النَّارِ خَمْسَةٌ الضَّعِيفُ الَّذِى لاَ زَبْرَ لَهُ الَّذِينَ هُمْ فِيكُمْ تَبَعًا لاَ يَتْبَعُونَ أَهْلًا وَلاَ مَالًا وَالْخَائِنُ الَّذِى لاَ يَخْفَى لَهُ طَمَعٌ وَإِنْ دَقَّ إِلاَّ خَانَهُ وَرَجُلٌ لاَ يُصْبِحُ وَلاَ يُمْسِى إِلاَّ وَهُوَ يُخَادِعُكَ عَنْ أَهْلِكَ وَمَالِكَ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭৭) আবুদ দারদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে পাঁচটি জিনিস পালন করবে, সে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে। (১) ঠিকমত ওযূ ক’রে, ঠিকমত রুকূ-সিজদা ক’রে যথা সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে যত্নবান হওয়া। (২) রমযানের রোযা পালন করা। (৩) সামর্থ্য থাকলে হজ্জ করা। (৪) খুশী মনে যাকাত দেওয়া। এবং (৫) আমানত আদায় করা।’’ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ’আমানত আদায় করা কী?’ তিনি বললেন, ’’নাপাকীর গোসল করা। আদম সন্তানের উপর আল্লাহর এটি দ্বীন-বিষয়ক বড় আমানত।
عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خَمْسٌ مَنْ جَاءَ بِهِنَّ مَعَ إِيمَانٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ مَنْ حَافَظَ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ عَلَى وُضُوئِهِنَّ وَرُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ وَمَوَاقِيتِهِنَّ وَصَامَ رَمَضَانَ وَحَجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَأَعْطَى الزَّكَاةَ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ وَأَدَّى الأَمَانَةَ قَالُوا يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ وَمَا أَدَاءُ الأَمَانَةِ قَالَ الْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭৮) সা’দ (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন (প্রতারক) আব্দুল্লাহ বিন সা’দ উসমান বিন আফফানের নিকট আত্মগোপন করেছিল। তিনি তাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে দাঁড় করালেন। তিনি বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আব্দুল্লাহর বায়আত গ্রহণ করুন।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে মাথা তুলে তিনবার দেখলেন। তিনি তার বায়আত গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন না। অতঃপর তৃতীয়বারের পরে তিনি তার বায়আত গ্রহণ করলেন। পরবর্তীতে তিনি সাহাবাগণকে বললেন, তোমাদের মধ্যে কি কেউ বুদ্ধিমান লোক ছিল না, আমি যখন তার বায়আত গ্রহণ না করে হাত গুটিয়ে নিচ্ছিলাম, তখন সে তাকে হত্যা ক’রে দিত?’’ তাঁরা বললেন, ’আপনার মনে কী ছিল, তা তো জানতাম না হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার চোখ দ্বারা ইঙ্গিত করলেন না কেন?’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’কোন নবীর জন্য সঙ্গত নয় যে, তাঁর খিয়ানতকারী চোখ হবে।
عَنْ سَعْدٍ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ أَمَّنَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ النَّاسَ إِلاَّ أَرْبَعَةَ نَفَرٍ وَامْرَأَتَيْنِ وَسَمَّاهُمْ وَابْنُ أَبِى سَرْحٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ وَأَمَّا ابْنُ أَبِى سَرْحٍ فَإِنَّهُ اخْتَبَأَ عِنْدَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَلَمَّا دَعَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ النَّاسَ إِلَى الْبَيْعَةِ جَاءَ بِهِ حَتّٰـى أَوْقَفَهُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِىَّ اللهِ بَايِعْ عَبْدَ اللهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْبَى فَبَايَعَهُ بَعْدَ ثَلاَثٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ أَمَا كَانَ فِيكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ يَقُومُ إِلَى هَذَا حَيْثُ رَآنِى كَفَفْتُ يَدِى عَنْ بَيْعَتِهِ فَيَقْتُلُهُ فَقَالُوا مَا نَدْرِى يَا رَسُولَ اللهِ مَا فِى نَفْسِكَ أَلاَ أَوْمَأْتَ إِلَيْنَا بِعَيْنِكَ قَالَ إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِى لِنَبِىٍّ أَنْ تَكُونَ لَهُ خَائِنَةُ الأَعْيُنِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৭৯) আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শন হল, অশ্লীলতা ব্যাপক হবে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হবে, খিয়ানতকারীকে আমানতদার এবং আমানতদারকে খিয়ানতকারী বিবেচনা করা হবে।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ اَلْفُحْشَ وَالتَّفَحُّشَ وَقَطِيْعَةَ الْأَرْحَامِ وَائْتِمَانَ الْـخَائِنِ وَتَـخْوِيْنَ الْأَمِيْن
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৮০) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ অশ্লীলতাকে ঘৃণা করেন। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! ততদিন কিয়ামত কায়েম হবে না, যতদিন না আমানতদারকে খিয়ানতকারী ও খিয়ানতকারীকে আমানতদার বিবেচনা করা হয়েছে, অশ্লীলতা ব্যাপক হয়েছে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হয়েছে এবং প্রতিবেশীর খারাপ ব্যবহার প্রকাশ পেয়েছে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللهَ يُبْغِضُ الْفُحْشَ وَالتَّفَحُّشَ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتّٰـى يُخَوَّنَ الْأَمِينُ وَيُؤْتَمَنَ الْخَائِنُ حَتّٰـى يَظْهَرَ الْفُحْشُ وَالتَّفَحُّشُ وَقَطِيعَةُ الْأَرْحَامِ وَسُوءُ الْـجِوَارِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৮১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! ততদিন কিয়ামত কায়েম হবে না, যতদিন না অশ্লীলতা ও কৃপণতা ব্যাপক হবে, খিয়ানতকারীকে আমানতদার এবং আমানতদারকে খিয়ানতকারী বিবেচনা করা হবে, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন লোক ধ্বংস হয়ে যাবে এবং হীন ও নীচ লোক প্রকাশ (প্রাধান্য ও নেতৃত্ব) পাবে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ وَالَّذِيْ نَفْسُ مُـحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا تَقُوْمُ السَّاعَةُ حَتّٰـى يَظْهَرَ الْفُحْشُ وَالْبُخْلُ، وَيـُخَوَّنُ الأَمِينُ وَيُؤْتَمَنُ الْخَائِنُ، وَيَهْلِكُ الْوُعُولُ وَيَظْهَرُ التُّحُوتُ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৮২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষের নিকট এমন ধোকাব্যঞ্জক যুগ আসবে, যাতে মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদীরূপে এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদীরূপে পরিগণিত করা হবে। যখন খেয়ানতকারীকে আমানতদার মনে করা হবে এবং আমানতদার আমানতে খেয়ানত করবে। যখন জনসাধারণের ব্যাপারে তুচ্ছ লোক মুখ চালাবে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّهَا سَتَأْتِي عَلَى النَّاسِ سِنُونَ خَدَّاعَةٌ يُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ وَيُخَوَّنُ فِيهَا الْأَمِينُ وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ قِيلَ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ قَالَ السَّفِيهُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ
পরিচ্ছেদঃ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার নিষেধাজ্ঞা
(২২৮৩) ইমরান বিন হুস্বাইন (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হল আমার সাহাবীদের যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবেয়ীদের) যুগ। ইমরান বলেন, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর যুগের পর উত্তম যুগ হিসাবে দুই যুগ উল্লেখ করেছেন, না তিন যুগ তা আমার জানা (স্মরণ) নেই।’ ’’অতঃপর তোমাদের পর এমন এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা সাক্ষ্য দেবে অথচ তাদেরকে সাক্ষী মানা হবে না। তারা খেয়ানত করবে এবং তাদের নিকট আমানত রাখা যাবে না। তারা আল্লাহর নামে মানত করবে কিন্তু তা পুরা করবে না। আর তাদের দেহে (ভাল ভাল খাদ্য খেয়ে) স্থূলত্ব প্রকাশ পাবে।
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ إِنَّ خَيْرَكُمْ قَرْنِى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ قَالَ عِمْرَانُ فَلاَ أَدْرِى أَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَعْدَ قَرْنِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً ثُمَّ يَكُونُ بَعْدَهُمْ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلاَ يُسْتَشْهَدُونَ وَيَخُونُونَ وَلاَ يُتَّمَنُونَ وَيَنْذُرُونَ وَلاَ يُوفُونَ وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ
পরিচ্ছেদঃ রাগ ও ক্রোধ
(২২৮৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শক্তিশালী (বা বীর) সে নয় যে কুস্তিতে জয়লাভ করে। বরং প্রকৃত শক্তিশালী (বা বীর) হল সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে সামলে নিতে পারে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَيْسَ الشَّدِيْدُ بِالصُّرَعَةِ إِنَّمَا الشَّدِيْدُ الَّذِىْ يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ
পরিচ্ছেদঃ রাগ ও ক্রোধ
(২২৮৫) মুআয (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন প্রকার ক্রোধ সংবরণ করে, যা সে প্রয়োগ করতে সমর্থ, আল্লাহ তাকে সৃষ্টির মাঝে আহবান করবেন এবং তার ইচ্ছামত (বেহেশ্তের) সুনয়না হুরী গ্রহণ করতে এখতিয়ার দেবেন।
عَنْ مُعَاذٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ - دَعَاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلٰـى رُءُوْسِ الْـخَلاَئِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتّٰـى يُـخَيِّرَهُ اللهُ مِنَ الْـحُورِ مَا شَاءَ
পরিচ্ছেদঃ রাগ ও ক্রোধ
(২২৮৬) সুলাইমান বিন সুরাদ বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বসে ছিলাম। এমন সময় দুই ব্যক্তি গালাগালি করলে ওদের মধ্যে একজনের রাগ চরমে উঠে সে লাল হয়ে গেল। তিনি বললেন, আমি এমন একটি মন্ত্র জানি, তা পাঠ করলে ওর রাগ দুর হয়ে যাবে; আঊযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম। লোকটি বলে উঠল, ’আপনি কি আমাকে পাগল মনে করেন?’ তা শুনে তিনি উক্ত আয়াত পাঠ করেন।
عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ وَرَجُلَانِ يَسْتَبَّانِ فَأَحَدُهُمَا احْمَرَّ وَجْهُهُ وَانْتَفَخَتْ أَوْدَاجُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنِّـيْ لَأَعْلَمُ كَلِمَةً لَوْ قَالَهَا ذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ لَوْ قَالَ أَعُوذُ بِاللهِ مِنْ الشَّيْطَانِ ذَهَبَ عَنْهُ مَا يَجِدُ فَقَالُوا لَهُ إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ تَعَوَّذْ بِاللهِ مِنْ الشَّيْطَانِ فَقَالَ وَهَلْ بِي جُنُونٌ؟ فَتَلَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللهِ إِنَّهُ سَمِيْعٌ عَلِيْمٌ
পরিচ্ছেদঃ রাগ ও ক্রোধ
(২২৮৭) আবূ যার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ রেগে যাবে, তখন সে দাঁড়িয়ে থাকলে যেন বসে যায়। এতে তার রাগ দূরীভূত হলে ভাল, নচেৎ সে যেন শুয়ে যায়।
عَنْ أَبـِىْ ذَرٍّ قَالَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَنَا إِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ قَائِمٌ فَلْيَجْلِسْ فَإِنْ ذَهَبَ عَنْهُ الْغَضَبُ وَإِلاَّ فَلْيَضْطَجِعْ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৮৮) জাবের বিন আব্দুল্লাহ কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আমাকে আল্লাহ নিজের ব্যাপারে ও অপরের ব্যাপারে কঠোর ক’রে পাঠাননি। বরং তিনি আমাকে সরল শিক্ষক ক’রে পাঠিয়েছেন।’’ (মুসলিম ৩৭৬৩)
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ لَمْ يَبْعَثْنِى مُعَنِّتًا وَلاَ مُتَعَنِّتًا وَلَكِنْ بَعَثَنِى مُعَلِّمًا مُيَسِّرًا
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৮৯) আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’(দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে) তোমরা সরলতা ব্যবহার কর, কঠোরতা ব্যবহার করো না, মানুষের মনকে খোশ কর এবং তাদের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করো না।’’ (আহমাদ, বুখারী ৬৯, মুসলিম ৪৬২৬, নাসাঈ, সহীহুল জামে’ ৮০৮৬)
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ يَسِّرُوا وَلَا تُعَسِّرُوا وَبَشِّرُوا وَلَا تُنَفِّرُوا
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯০) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ মূসা (রাঃ) ও মুআয (রাঃ) কে ইয়ামান প্রেরণ করার সময় বলেছিলেন,
يَسِّرَا وَلاَ تُعَسِّرَا وَبَشِّرَا وَلاَ تُنَفِّرَا وَتَطَاوَعَا وَلاَ تَخْتَلِفَا
তোমরা সহজ কর, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, বীতশ্রদ্ধ করো না। পরস্পর মেনে-মানিয়ে চলো, মতবিরোধ করো না।
-
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) [ও আনাস (রাঃ)] বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, এক বৃদ্ধ তার দুই ছেলের কাঁধে ভর করে (মক্কার দিকে) হেঁটে যাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলেন, ওর ব্যাপার কী?’’ বলল, ’পায়ে হেঁটে কা’বা-ঘর যাওয়ার নিয়্যাত করেছে!’ তিনি বললেন, ’’আল্লাহ তাআলার এমন প্রাণকে কষ্ট দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ওহে বৃদ্ধ! তুমি সওয়ার হয়েই মক্কা যাও। কারণ, আল্লাহ তুমি ও তোমার নযরের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ أَدْرَكَ شَيْخًا يَمْشِى بَيْنَ ابْنَيْهِ يَتَوَكَّأُ عَلَيْهِمَا فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ مَا شَأْنُ هَذَا قَالَ ابْنَاهُ يَا رَسُولَ اللهِ كَانَ عَلَيْهِ نَذْرٌ فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ ارْكَبْ أَيُّهَا الشَّيْخُ فَإِنَّ اللهَ غَنِىٌّ عَنْكَ وَعَنْ نَذْرِكَ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯২) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিনে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি আল্লাহর কাছে এই নযর মেনেছি যে, তিনি যদি আপনার হাতে মক্কার বিজয় দান করেন, তাহলে আমি ’বাইতুল মাক্বদিস’ (জেরুজালেমের মসজিদে) দুই রাকআত নামায আদায় করব।’ এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দু’বার বললেন, তুমি এখানেই (কা’বার মসজিদেই) নামায পড়ে নাও।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ : أَنَّ رَجُلاً قَامَ يَوْمَ الْفَتْحِ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّى نَذَرْتُ لِلهِ إِنْ فَتَحَ اللهُ عَلَيْكَ مَكَّةَ أَنْ أُصَلِّىَ فِى بَيْتِ الْمَقْدِسِ رَكْعَتَيْنِ قَالَ صَلِّ هَا هُنَا ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ فَقَالَ صَلِّ هَا هُنَا ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ فَقَالَ شَأْنَكَ إِذًا
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯৩)আয়েশা ও সা’দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, উসমান বিন মাযঊন (রাঃ) আবেগময় ইবাদত শুরু করেছিলেন। সংসার-বিরাগী হয়ে সব ছেড়ে আল্লাহর ইবাদতে মন দিয়েছিলেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন, ’হে উসমান! আমাকে সন্ন্যাসবাদে আদেশ দেওয়া হয়নি। তুমি কি আমার তরীকা থেকে বিমুখ হয়েছ?’ উসমান বললেন, ’না হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, ’আমার তরীকা হল, আমি (রাতে) নামায পড়ি এবং ঘুমাই, (কোনদিন) রোযা রাখি এবং (কোনদিন) রাখি না, বিবাহ করি ও তালাক দিই। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার তরীকা থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়। হে উসমান! নিশ্চয় তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক আছে, তোমার উপর তোমার নিজের হক আছে, তোমার উপর তোমার মেহমানের হক আছে......।’
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ بَعَثَ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ فَجَاءَهُ فَقَالَ يَا عُثْمَانُ إني لم أومر بالرهبانية أَرَغِبْتَ عَنْ سُنَّتِى قَالَ : لاَ وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ وَلَكِنْ سُنَّتَكَ أَطْلُبُ قَالَ فَإِنِّى أَنَامُ وَأُصَلِّى وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأَنْكِحُ النِّسَاءَ فَاتَّقِ اللهَ يَا عُثْمَانُ فَإِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِضَيْفِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَإِنَّ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا فَصُمْ وَأَفْطِرْ وَصَلِّ وَنَمْ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯৪) গুযাইফ বিন হারেস বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ’আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম রাতে নাপাকীর গোসল করতেন, নাকি শেষ রাতে?’ তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, ’কোন রাতে তিনি প্রথম ভাগে গোসল করতেন, আবার কোন কোন রাতে শেষ ভাগে।’ আমি বললাম, ’আল্লাহু আকবার! সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি (দ্বীনের) ব্যাপারে প্রশস্ততা রেখেছেন।’ অতঃপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ’তিনি বিতরের নামায প্রথম রাত্রিতে পড়তেন, নাকি শেষ রাত্রিতে?’ তিনি বললেন, ’কখনো তিনি প্রথম রাত্রিতে বিতর পড়তেন, আবার কখনো শেষ রাত্রিতে।’
আমি বললাম, ’আল্লাহু আকবার! সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি (দ্বীনের) ব্যাপারে প্রশস্ততা রেখেছেন।’ পুনরায় আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ’তিনি (তাহাজ্জুদের নামাযে) সশব্দে ক্বিরাআত পড়তেন, নাকি নিঃশব্দে?’ উত্তরে তিনি বললেন, ’তিনি কখনো সশব্দে পড়তেন, আবার কখনো নিঃশব্দে।’ আমি বললাম, ’আল্লাহু আকবার! সেই আল্লাহর প্রশংসা যিনি (দ্বীনের) ব্যাপারে প্রশস্ততা রেখেছেন।’
عَنْ غُضَيْفِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَرَأَيْتِ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَغْتَسِلُ مِنَ الْجَنَابَةِ فِى أَوَّلِ اللَّيْلِ أَوْ فِى آخِرِهِ قَالَتْ رُبَّمَا اغْتَسَلَ فِى أَوَّلِ اللَّيْلِ وَرُبَّمَا اغْتَسَلَ فِى آخِرِهِ قُلْتُ اللهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِى جَعَلَ فِى الأَمْرِ سَعَةً قُلْتُ أَرَأَيْتِ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُوتِرُ أَوَّلَ اللَّيْلِ أَمْ فِى آخِرِهِ قَالَتْ رُبَّمَا أَوْتَرَ فِى أَوَّلِ اللَّيْلِ وَرُبَّمَا أَوْتَرَ فِى آخِرِهِ قُلْتُ اللهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِى جَعَلَ فِى الأَمْرِ سَعَةً قُلْتُ أَرَأَيْتِ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَجْهَرُ بِالْقُرْآنِ أَمْ يَخْفِتُ بِهِ قَالَتْ رُبَّمَا جَهَرَ بِهِ وَرُبَّمَا خَفَتَ قُلْتُ اللهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِى جَعَلَ فِى الأَمْرِ سَعَةً
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯৫) হুযাইফা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিজেকে লাঞ্ছিত করা কোন মুমিনের উচিত নয়। সাহাবাগণ বললেন, ’নিজেকে লাঞ্ছিত কীভাবে করে হে আল্লাহর রসূল?’ উত্তরে তিনি বললেন, সেই বিপদকে সে বহন করতে চায়, যা বহন করার ক্ষমতা সে রাখে না।
عَنْ حُذَيْفَةَ عَنْ النَّبِـيِّ ﷺ قَالَ لَا يَنْبَغِي لِمُسْلِمٍ أَنْ يُذِلَّ نَفْسَهُ قِيلَ وَكَيْفَ يُذِلُّ نَفْسَهُ (يَا رَسُوْلَ اللهِ) ؟ قَالَ يَتَعَرَّضُ مِنْ الْبَلَاءِ لِمَا لَا يُطِيْقُ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯৬) মিহজান বিন আদরা’ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীন হল, যা (পালন করা) সবচেয়ে সহজ।
عَنْ مِـحْجَنِ بْنِ الْأَدْرَعِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ خَيْـرَ دِينِكُمْ أَيْسَرُهُ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯৭) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। যেহেতু আল্লাহ (সওয়াব দানে) বিরক্তিবোধ করবেন না, যতক্ষণ না তোমরা (আমলে) বিরক্তিবোধ করে বসবে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أيُّها النَّاسُ علَيْكمْ بالْقَصْدِ علَيْكمْ بالْقَصْدِ فَإِنّ اللهَ تَعالٰـى لَا يَمَلُّ حَتّٰـى تَمَلُّوا
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯৮) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (আমলে) অতিরঞ্জন ও অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না। তোমরা সুসংবাদ নাও ও জেনে রাখ যে, তোমাদের মধ্যে কাউকেও তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। লোকেরা বলল, ’আপনিও কি নন? হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, আমিও নই। যদি না আল্লাহ আমাকে তাঁর করুণা ও অনুগ্রহ দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। আর জেনে রেখো, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হল তাই, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে করে যাওয়া হয়; যদিও তা পরিমাণে কম হয়।
عَنْ عَائِشَةَ قالت قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَأَبْشِرُوا فَإِنَّهُ لَنْ يُدْخِلَ الْـجَنَّةَ أَحَدًا عَمَلُهُ قَالُوا وَلاَ أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ وَلاَ أَنَا إِلاَّ أَنْ يَتَغَمَّدَنِـىَ اللهُ مِنْهُ بِرَحْمَةٍ وَاعْلَمُوا أَنَّ أَحَبَّ الْعَمَلِ إِلَـى اللهِ أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২২৯৯) আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, একদা হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে চলতে চলতে সাহাবাগণ জোরেশোরে তকবীর ও তসবীহ পড়ছিলেন। তা শুনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন কর। কেননা, তোমরা কোন বধির ও অনুপস্থিতকে ডাকছ না। তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।
عَنْ أَبِى مُوسَى قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِىِّ ﷺ فِى سَفَرٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُونَ بِالتَّكْبِيرِ فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِنَّكُمْ لَيْسَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا وَهُوَ مَعَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২৩০০) মুত্বার্রিফ বলেন, আমার পিতা বলেছেন, বানী আমেরের প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে আমরা বললাম, ’আপনি আমাদের সাইয়িদ (সর্দার)।’ তা শুনে তিনি বললেন, ’আস-সাইয়িদ (প্রকৃত সর্দার বা প্রভু) হলেন আল্লাহ।’ তাঁরা বললেন, ’তাহলে আপনি মর্যাদায় আমাদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও বদান্য ব্যক্তি।’ তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ তা বল অথবা তার কিছু বল, আর শয়তান যেন তোমাদেরকে (অসঙ্গত কথা বলতে) অবশ্যই ব্যবহার না করে।
عَنْ مُطَرِّفٍ قَالَ قَالَ أَبِى انْطَلَقْتُ فِى وَفْدِ بَنِى عَامِرٍ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقُلْنَا أَنْتَ سَيِّدُنَا فَقَالَ السَّيِّدُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قُلْنَا وَأَفْضَلُنَا فَضْلاً وَأَعْظَمُنَا طَوْلاً فَقَالَ قُولُوا بِقَوْلِكُمْ أَوْ بَعْضِ قَوْلِكُمْ وَلاَ يَسْتَجْرِيَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২৩০১) উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমাকে নিয়ে (আমার তা’যীমে) বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রিস্টানরা ঈসা বিন মারয়্যামকে নিয়ে করেছে। আমি তো আল্লার দাস মাত্র। অতএব তোমরা আমাকে আল্লাহর দাস ও তাঁর রসূলই বলো।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ قَالَ قَالَ النَّبِيُ ﷺ لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُولُوا عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهُ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২৩০২) আলী (রাঃ) বলেন, আমার ব্যাপারে দুই ব্যক্তি ধ্বংস হবে। প্রথম হল, আমার ভক্তিতে সীমা অতিক্রমকারী ভক্ত এবং দ্বিতীয় হল, আমার বিদ্বেষে সীমা অতিক্রমকারী বিদ্বেষী।
-
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২৩০৩) আবূ উমামাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের দুই শ্রেণীর লোক আমার সুপারিশ লাভ করতে পারবে না; বিবেকহীন অত্যাচারী রাষ্ট্রনেতা এবং প্রত্যেক সত্যত্যাগী অতিরঞ্জনকারী।
عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صِنْفَانِ مِنْ أُمَّتِي لَنْ تَنَالَهُمَا شَفَاعَتِي: إِمَامٌ ظَلُومٌ، وَكُلُّ غَالٍ مَارِقٍ
পরিচ্ছেদঃ অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি বিষয়ক কতিপয় হাদীস
(২৩০৪) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার বলেছেন, ’’অতিরঞ্জনকারীরা ধ্বংস হয়েছে।’’ (আহমাদ ৩৬৫৫, মুসলিম ৬৯৫৫, আবূ দাঊদ, সহীহুল জামে’ ৭০৩৯)
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هَلَكَ الْمُتَنَطِّعُونَ قَالَهَا ثَلاَثًا
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
মহান আল্লাহ বলেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ
অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞ লোকদের আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য ক্রয় করে এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। ওদেরই জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (লুক্বমানঃ ৬)
(২৩০৫) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) তিন তিনবার কসম খেয়ে খেয়ে বলেছেন, উক্ত আয়াতে ’অসার বাক্য’ বলতে গান’কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/৪৪১)
-
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩০৬) মুআবিয়া (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাতম করা, মূর্তি বা ছবি, হিংস্র জন্তুর চামড়া, (মহিলার) নগ্নতা ও পর্দাহীনতা, গান, (পুরুষের জন্য) সোনা ও রেশমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهٰـى عَنِ النُّوْحِ وَ التَّصَاوِيْرِ وَ جُلُوْدِ السِّبَاعِ وَ التَّبَرُّجِ وَ الْغِنَاءِ وَ الذَّهَبِ وَ الْـخُزِّ وَ الَـحَرِيْرِ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩০৭) আবূ মালেক আশআরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছেন, অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায় হবে; যারা ব্যভিচার, (পুরুষের জন্য) রেশমবস্ত্র, মদ এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার (হারাম হওয়া সত্ত্বেও) হালাল মনে করবে।
عَنْ أَبِـيْ مَالِكِ الْأَشْعَرِي أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩০৮) আবূ মালেক আশআরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে, তাদের মাথার উপরে বাদ্যযন্ত্র বাজানো হবে এবং নর্তকী নাচবে। আল্লাহ তাদেরকে মাটিতে ধসিয়ে দেবেন এবং বানর ও শূকরে পরিণত করবেন!
عن أَبِـيْ مَالِكِ الْأَشْعَرِيْ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أنه قال لَيَشْرَبَنَّ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا وَيُضْرَبُ عَلَى رُؤُوسِهِمْ بِالمَعَازِفِ وَالْقَيْنَاتِ يَخْسِفُ الله بِهِمُ الأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمْ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩০৯) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অবশ্যই আমার উম্মতের মাঝে (কিছু লোককে) মাটি ধসিয়ে, পাথর বর্ষণ করে এবং আকার বিকৃত করে (ধ্বংস করা) হবে। আর এ শাস্তি তখন আসবে, যখন তারা মদ পান করবে, নর্তকী রাখবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে।
عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَيَكُوْنَنَّ فِـيْ هذِهِ الأُمَّةِ خَسْفٌ وَقَذْفٌ وَمَسْخٌ وَذلِكَ إِذَا شَرِبُوا الْـخُمُوْرَ وَاتَّـخَذُوا الْقَيْنَاتِ وَضَرَبُوا بِالْمَعَازِفِ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩১০) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অবশ্যই আল্লাহ আমার উম্মতের জন্য মদ, জুয়া, ঢোল-তবলা এবং বীণা-জাতীয় বাদ্যযন্ত্রকে হারাম করেছেন।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى أُمَّتِي الْخَمْرَ وَالْمَيْسِرَ وَالْمِزْرَ وَالْكُوبَةَ وَالْقِنِّينَ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩১১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মদের মূল্য হারাম, ব্যভিচারের উপার্জন হারাম, কুকুরের মূল্য হারাম, তবলা হারাম।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بن عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَمَنُ الْخَمْرِ حَرَامٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ حَرَامٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ حَرَامٌ وَالْكُوبَةُ حَرَامٌ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩১২) উম্মে হাবীবাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফিরিশতা সেই কাফেলার সঙ্গী হন না; যে কাফেলায় ঘন্টার শব্দ থাকে।
عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا تَصْحَبُ الْمَلَائِكَةُ رُفْقَةً فِيهَا جَرَسٌ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩১৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ঘন্টা বা ঘুঙুর হল শয়তানের বাঁশি।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ الْجَرَسُ مَزَامِيرُ الشَّيْطَانِ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩১৪) আনাস বিন মালেক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইহ-পরকালে দুটি শব্দ-ধ্বনি অভিশপ্ত; সুখ ও খুশীর সময় বাঁশীর শব্দ এবং মসীবত, শোক ও কষ্টের সময় হা-হুতাশ ধ্বনি।
وعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَوْتَانِ مَلْعُونَانِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ : مِزْمَارٌ عِنْدَ نِعْمَةٍ وَرَنَّةٌ عِنْدَ مُصِيبَةٍ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩১৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ঢোলক হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম, তবলা হারাম এবং বাঁশীও হারাম।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: الدُّفُّ حَرَامٌ وَالْمَعَازِفُ حَرَامٌ وَالْكُوبَةُ حَرَامٌ وَالْمِزْمَارُ حَرَامٌ
পরিচ্ছেদঃ গান-বাজনা ও নাচ
(২৩১৬) হাসান বাসরী (রঃ) বলেন, ঢোলক মুসলিমদের ব্যবহার্য নয়। আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদের সহচরগণ ঢোলক দেখলে ভেঙ্গে ফেলতেন।
عَنِ الْـحَسَنِ قَالَ : لَيْسَ الدُّفُوْفُ مِنْ أَمْرِ الْـمُسْلِمِيْنَ فِيْ شَيْءٍ وَأَصْحَابُ عَبْدِ اللهِ كَانُوا يُشَقِّقُوْنَهَا
পরিচ্ছেদঃ অবৈধ কবিতা
(২৩১৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কবিতা দ্বারা উদর পূর্ণ করার চেয়ে পূঁজ দ্বারা উদর পূর্ণ করা অধিক উত্তম।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ رَجُلٍ قَيْحًا يَرِيهِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا
পরিচ্ছেদঃ অবৈধ কবিতা
(২৩১৮) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আরজ্ নামক স্থানে ছিলাম। এমন সময় একজন কবি দেখা গেল, যে কবিতা আবৃত্তি করছিল। তার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বললেন, শয়তানটাকে ধর। কবিতা দ্বারা উদর পূর্ণ করার চেয়ে পূঁজ দ্বারা উদর পূর্ণ করা অধিক উত্তম।
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ نَسِيرُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ بِالْعَرْجِ إِذْ عَرَضَ شَاعِرٌ يُنْشِدُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خُذُوا الشَّيْطَانَ أَوْ أَمْسِكُوا الشَّيْطَانَ لأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ رَجُلٍ قَيْحًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا
পরিচ্ছেদঃ অবৈধ কবিতা
(২৩১৯) উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে মুসাফির আল্লাহ ও তাঁর যিকর নিয়ে একান্ততা অবলম্বন করে, ফিরিশতা তার সঙ্গী হন। আর যে কাব্য-চিন্তা নিয়ে একান্ততা অবলম্বন করে, শয়তান তার সঙ্গী হয়।
عَن عُقْبَةَ بن عَامِرٍ، يَقُوْلُ: قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَا مِنْ رَاكِبٍ يَخْلُو فِي مَسِيرِهِ بِاللهِ وَذِكْرِهِ إِلَّا رَدِفَهُ مَلَكٌ، وَلَا يَـخْلُوا بِشِعْرٍ وَنَحْوِهِ إِلَّا رَدِفَهُ شَيْطَانٌ
পরিচ্ছেদঃ অবৈধ কবিতা
(২৩২০) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অবশ্যই কিছু কবিতায় হিকমত (জ্ঞান) আছে।
عن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ مِنْ الشِّعْرِ حِكْمَةً
পরিচ্ছেদঃ নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা
(২৩২১)আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অশ্লীলতা বা নির্লজ্জতা যে বিষয়ে থাকে, সে বিষয়কে তা সৌন্দর্যহীন করে ফেলে; পক্ষান্তরে লজ্জাশীলতা যে বিষয়ে থাকে, সে বিষয়কে তা সৌন্দর্যময় ও মনোহর করে তোলে।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا كَانَ الْفُحْشُ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا شَانَهُ وَلَا كَانَ الْحَيَاءُ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا زَانَهُ
পরিচ্ছেদঃ নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা
(২৩২২) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন খোঁটাদানকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল এবং অসভ্য হয় না।
عَن عَبدِ اللهِ قَالَ : قَالَ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم لَيْسَ الْمُؤمن بالطعان وَلَا اللّعان وَلَا الْفَاحِش وَلَا الْبَذِيء
পরিচ্ছেদঃ নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা
(২৩২৩) আবুদ দারদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা অমার্জিত অশ্লীলভাষীকে ঘৃণা করেন।
عَنْ أَبِى الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ يَبْغَضُ الْفَاحِشَ الْبَذِىءَ
পরিচ্ছেদঃ নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতা
(২৩২৪) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্টমানের ব্যক্তি সেই হবে, যাকে মানুষ তার অশ্লীলতা থেকে বাঁচার জন্য বর্জন করে থাকে।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ شَرَّ النَّاسِ مَنْزِلَةً عِنْدَ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ وَدَعَهُ أَوْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ فُحْشِهِ
পরিচ্ছেদঃ গল্প বলা
(২৩২৫) আওফ বিন মালেক আশজায়ী (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তিই গল্প করে; আমীর (নেতা) অথবা আদিষ্ট অথবা অহংকারী ব্যক্তি।
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِىِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ لاَ يَقُصُّ إِلاَّ أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُخْتَالٌ
পরিচ্ছেদঃ গল্প বলা
(২৩২৬) আমর বিন যুরারাহ বলেন, একদা আমি মসজিদে কেচ্ছা বলছিলাম। এমতাবস্থায় আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ আমার নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, হে আমর! নিশ্চয় তুমি ভ্রষ্টতাময় বিদআত রচনা করেছ অথবা তুমি মুহাম্মাদ ও তাঁর সাহাবা অপেক্ষা অধিক সৎপথ প্রাপ্ত। অতঃপর আমি লোকেদেরকে দেখলাম সকলেই আমার নিকট থেকে সরে পড়েছে এবং আমার ঐ স্থানে কেউ অবশিষ্ট নেই।
عَنْ عَمْرِو بن زُرَارَةَ، قَالَ: وَقَفَ عَلَيَّ عَبْدُ اللهِ وَأَنَا أَقُصُّ فِي الْمَسْجِدِ، فَقَالَ: يَا عَمْرُو لَقَدِ ابْتَدَعْتُمْ بِدْعَةَ ضَلالَةٍ أَوَ أَنَّكُمْ لأَهْدَى مِنْ مُحَمَّدٍ ﷺ وَأَصْحَابِهِ، وَلَقَدْ رَأَيْتُهُمْ تَفَرَّقُوا عَنِّي حَتّٰـى رَأَيْتُ مَكَانِي مَا فِيهِ أَحَدٌ
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ খেলাধূলা
(২৩২৭) বুরাইদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পাশা-জাতীয় খেলা খেলল, সে যেন তার হাতকে শুকরের রক্তে রঞ্জিত করল।
عن بُرَيْدَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدَشِيرِ فَكَأَنَّمَا صَبَغَ يَدَهُ فِى لَحْمِ خِنْزِيرٍ وَدَمِهِ
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ খেলাধূলা
(২৩২৮) আবূ মূসা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পাশা-জাতীয় খেলা খেলল, সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করল।
عَنْ أَبِـيْ مُوسَى قال : قال رَسُوْلُ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَعِبَ بِالنَّرْدِ فَقَدْ عَصَى الله وَرَسُولَهُ
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ খেলাধূলা
(২৩২৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে পায়রা উড়িয়ে খেলা করতে দেখে বললেন, শয়তান শয়তানের অনুসরণ করছে।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ رَأَى رَجُلاً يَتْبَعُ حَمَامَةً فَقَالَ شَيْطَانٌ يَتْبَعُ شَيْطَانَةً
পরিচ্ছেদঃ নিষিদ্ধ খেলাধূলা
(২৩৩০) জাবের বিন আব্দুল্লাহ ও জাবের বিন উমাইর (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তাঁদের একজন অপরজনকে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সেই জিনিস (খেলা) যা আল্লাহর স্মরণের পর্যায়ভুক্ত নয়, তা অসার ভ্রান্তি ও বাতিল। অবশ্য চারটি কর্ম এরূপ নয়; হাতের নিশানা ঠিক করার উদ্দেশ্যে তীর খেলা, ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, নিজ স্ত্রীর সাথে প্রেমকেলি করা এবং সাঁতার শিক্ষা করা।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ الله وَ جَابِرِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كُلُّ شَيْءٍ لَيْسَ مِنْ ذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ فَهُوَ لَهُوٌ أَوْ سَهْوٌ إِلا أَرْبَعَ خِصَالٍ : مَشْيُ الرَّجُلِ بَيْنَ الْغَرَضَيْنِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ ومُلاعَبَةُ أَهْلِهِ وَتَعَلُّمُ السِّبَاحَةِ
পরিচ্ছেদঃ কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস
(২৩৩১) আনাস (রাঃ) বলেন, একদা পথ চলতে চলতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর পড়ে থাকতে দেখে বললেন, যদি আমার ভয় না হতো যে, এটি সদকার খেজুর, তাহলে তা আমি খেয়ে নিতাম।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ بِتَمْرَةٍ مَسْقُوطَةٍ فَقَالَ لَوْلَا أَنْ تَكُونَ مِنْ صَدَقَةٍ لَأَكَلْتُهَا
পরিচ্ছেদঃ কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস
(২৩৩২) জারূদ আবদী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিনের হারিয়ে যাওয়া জিনিস দোযখের শিখা স্বরূপ।
عَنِ الْـجَارُوْدِ الْعَبْدِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ قال ضَالَّةُ الْمُؤْمِنِ حَرْقُ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস
(২৩৩৩) যায়দ বিন খালেদ জুহানী (রাঃ) বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হারিয়ে যাওয়া উটের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি বললেন, তোমার সাথে তার সাথ কী? তার সঙ্গে তার পানীয় থাকে, জুতা থাকে। পানির জায়গায় এসে পানি খেয়ে এবং গাছপালা ভক্ষণ (করে বেঁচে থাকতে) পারে। পরিশেষে (খুঁজতে খুঁজতে) তার মালিক এসে তাকে পেয়ে যায়।
عن زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْـجُهَنِىَّ قَالَ: وَسَأَلَهُ عَنْ ضَالَّةِ الْإِبِلِ فَقَالَ مَا لَكَ وَلَهَا دَعْهَا فَإِنَّ مَعَهَا حِذَاءَهَا وَسِقَاءَهَا تَرِدُ الْمَاءَ وَتَأْكُلُ الشَّجَرَ حَتّٰـى يَجِدَهَا رَبُّهَا
পরিচ্ছেদঃ কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস
(২৩৩৪) জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ভ্রষ্ট ছাড়া অন্য কেউ (এলান উদ্দেশ্য বিনা) ভ্রষ্ট পশুকে জায়গা দেয় না।
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَا يَأْوِى الضَّالَّةَ إِلَّا ضَالٌّ
পরিচ্ছেদঃ কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস
(২৩৩৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন, নিশ্চয়ই এই শহরকে আল্লাহ হারাম ঘোষণা করেছেন। এর কোন কাঁটা তোলা যাবে না, কোন শিকার (পশু-পাখী) চকিত করা যাবে না এবং প্রচার উদ্দেশ্যে ছাড়া এর কোন পড়ে থাকা জিনিস কুড়ানো যাবে না।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ إِنَّ هَذَا الْبَلَدَ حَرَّمَهُ اللهُ لَا يُعْضَدُ شَوْكُهُ وَلَا يُنَفَّرُ صَيْدُهُ وَلَا يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهُ إِلَّا مَنْ عَرَّفَهَا
পরিচ্ছেদঃ কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস
(২৩৩৬) আবূ হুরাইরা কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে ফুরাত নদী একটি স্বর্ণভাণ্ডার (সোনার পাহাড়) প্রকাশিত করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হবে সে যেন তা হতে কিছুও গ্রহণ না করে।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ فَمَنْ حَضَرَهُ فَلاَ يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا
পরিচ্ছেদঃ কারো মুখোমুখি প্রশংসা করা মাকরূহ
এরূপ নির্দেশ সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার প্রশংসা শুনে আত্মগর্বে লিপ্ত হবার আশংকা থাকবে। অন্যথা যে তা থেকে নিরাপদ থাকবে তার মুখের সামনে প্রশংসা করা জায়েয।
(২৩৩৭) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির (সামনা-সামনি) অতিরিক্ত প্রশংসা করতে শুনে বললেন, তুমি লোকটার পৃষ্ঠ কর্তন করলে অথবা তাকে ধ্বংস করে দিলে।
وَعَنْ أَبِـيْ مُوسَى الْأَشْعَرِي قَالَ : سَمِعَ النَّبِيُّ ﷺ رَجُلًا يُثْنِي عَلَى رَجُلٍ وَيُطْرِيهِ فِي المِدْحَة فَقَالَ أَهْلَكْتُمْ أَوْ قَطَعْتُمْ ظَهْرَ الرَّجُلِ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ কারো মুখোমুখি প্রশংসা করা মাকরূহ
(২৩৩৮) আবূ বকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তি অন্য একজনের (তার সামনে) ভাল প্রশংসা করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’হায় হায়! তুমি তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে!’ এরূপ বার-বার বলার পর তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যদি কাউকে একান্তই তার সাথীর প্রংশসা করতে হয়, তাহলে সে যেন বলে, ’আমি ওকে এরূপ মনে করি’ যদি জানে যে, সে প্রকৃতই এরূপ— ’এবং আল্লাহ ওর হিসাব গ্রহণকারী। আর আল্লাহর (জ্ঞানের) সামনে কাউকে নিষ্কলুষ ও পবিত্র ঘোষণা করা যায় না।
وَعَنْ أَبِـيْ بَكرَةَ أَنَّ رَجُلًا ذُكِرَ عِندَ النَّبِيِّ ﷺ فَأَثْنَى عَلَيْهِ رَجُلٌ خَيْراً فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺوَيْحَكَ قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ يَقُوْلُهُ مِرَاراً إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحاً لاَ مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ : أَحْسِبُ كَذَا وَكَذَا إِنْ كَانَ يَرَى أنَّهُ كَذَلِكَ وَحَسِيبُهُ اللهُ وَلاَ يُزَكّى عَلَى اللهِ أَحَدٌ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ কারো মুখোমুখি প্রশংসা করা মাকরূহ
(২৩৩৯) মুআবিয়া (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুখোমুখি প্রশংসা করা ও নেওয়া হতে দূরে থাক, কারণ তা যবাই।
وَعَن مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِيَّاكُمْ وَالتَّمَادُحَ فَإِنَّهُ الذَّبْحُ
পরিচ্ছেদঃ কারো মুখোমুখি প্রশংসা করা মাকরূহ
(২৩৪০) হাম্মাম ইবনে হারেস হতে বর্ণিত, তিনি মিক্বদাদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন; এক ব্যক্তি উসমান (রাঃ) এর সামনেই তাঁর প্রশংসা শুরু করলে মিক্বদাদ হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তার মুখে কাঁকর ছিটাতে শুরু করলেন। তখন উসমান তাঁকে বললেন, ’কী ব্যাপার তোমার?’ তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (মুখোমুখি) প্রশংসাকারীদের দেখলে তাদের মুখে ধুলো ছিটিয়ে দিয়ো। (মুসলিম ৭৬৯৮)
وَعَنْ هَمَّامِ بنِ الحَارِثِ عَنِ المِقْدَادِ أَنَّ رَجُلًا جَعَلَ يَمْدَحُ عُثْمانَ فَعَمِدَ المِقْدَادُ فَجَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَجَعَلَ يَحْثُو فِي وَجْهِهِ الحَصْبَاءَ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ : مَا شَأنُكَ ؟ فَقَالَ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا رَأَيْتُمُ المَدَّاحِينَ فَاحْثُوا فِي وُجُوهِهِمُ التُّرَابَ رواه مسلم
যে সব হাদীসে মুখোমুখি প্রশংসার বৈধতা এসেছে তার একটি এই যে, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ) ক বললেন; আমার আশা এই যে, তুমিও তাদের একজন হবে। অর্থাৎ সেই সৌভাগ্যবানদের একজন হবে, যাদেরকে জান্নাতের সমস্ত দ্বার থেকে আহবান জানানো হবে। (বুখারী ১৮৯৭, ৩৬৬৬, মুসলিম ২৪১৮)
এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় হাদীসটি হচ্ছে এই যে, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ) কে বললেন; তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও। অর্থাৎ, ঐসব লোকেদের অন্তর্ভুক্ত নও যারা অহংকারবশতঃ লুঙ্গী-পায়জামা গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে।
যেমন একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমার (রাঃ) কে বললেন, শয়তান তোমাকে যে পথে চলতে দেখে, সে পথ ত্যাগ করে সে অন্য পথ ধরে। (বুখারী ৩২৯৪, ৬৩৫৫)
পরিচ্ছেদঃ চাঁদাবাজি তোলাবাজি
(২৩৪১) রুওয়াইফি’ বিন সাবেত (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই চাঁদাবাজ জাহান্নামে যাবে।
عن رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ صَاحِبُ الْمَكْسِ فِي النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ কাউকে কিছু দান বা অনুগ্রহ করে তা লোকের কাছে প্রকাশ ও প্রচার করা নিষেধ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّها الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالمَنِّ وَالأذَى
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসিগণ! দানের কথা প্রচার করে এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে নষ্ট ক’রে দিও না। (সূরা বাক্বারাহ ২৬৪)
তিনি আরো বলেছেন,
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ لاَ يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنّاً وَلاَ أَذىً
অর্থাৎ, যারা আল্লাহর পথে আপন ধন ব্যয় করে অতঃপর যা ব্যয় করে, তার কথা বলে বেড়ায় না (এবং ঐ দানের বদলে কাউকে) কষ্টও দেয় না, (তাদের পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রতিপালকের নিকট, বস্তুতঃ তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।) (সূরা বাক্বারাহ ২৬২)
(২৩৪২) আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন, এরূপ তিনি তিনবার বললেন। তখন আবূ যার্র বললেন, ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তারা কারা হে আল্লাহর রসূল?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে (পায়ের) গাঁটের নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে, দান করে যে প্রচার করে বেড়ায় এবং মিথ্যা কসম খেয়ে নিজের পণ্যদ্রব্য বিক্রি করে। (মুসলিম ৩০৬)
এর অন্য বর্ণনায় আছে, যে গাঁটের নীচে লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরে।’’ এর অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি তার লুঙ্গি, কাপড় ইত্যাদি অহংকারের সাথে গাঁটের নীচে ঝুলিয়ে পরে। (৩০৭)
وَعَنْ أَبِـيْ ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللهُ يَوْمَ القِيَامَةِ وَلاَ يَنْظُرُ إلَيْهِمْ وَلاَ يُزَكِّيِهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَليمٌ قَالَ : فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلاَثَ مِرَارٍ : قَالَ أَبُو ذَرٍّ : خَابُوا وَخَسِرُوا مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ المُسْبِلُ وَالمَنَّانُ وَالمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالحَلِفِ الكَاذِبِ رواه مسلم
وفي روايةٍ لَهُ المُسْبِلُ إِزَارَهُ يَعْنِي : المُسْبِلَ إِزَارَهُ وَثَوْبَهُ أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ لِلخُيَلاَءِ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারী তথা কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
মহান আল্লাহ বলেছেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوا مِنْ أبْصَارِهِمْ
অর্থাৎ, বিশ্বাসীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে। (সূরা নূর ৩০)
তিনি আরো বলেছেন,
إنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ والْفُؤادَ كُلُّ أُولئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُوْلًا
অর্থাৎ, নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে। (সূরা বনী ইসরাঈল ৩৬)
তিনি অন্যত্র বলেছেন,
يَعْلَمُ خَائِنةَ الأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُوْرُ
অর্থাৎ, চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত। (সূরা মু’মিন ১৯)
তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,
إنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ
অর্থাৎ, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (সূরা ফাজর ১৪)
(২৩৪৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের অংশ লিখে দিয়েছেন; যা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চক্ষুদ্বয়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) দর্শন। কর্ণদ্বয়ের ব্যভিচার (অবৈধ যৌনকথা) শ্রবণ, জিভের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) কথন, হাতের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) ধারণ এবং পায়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ পথে) গমন। আর হৃদয় কামনা ও বাসনা করে এবং জননেন্দ্রিয় তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ كُتِبَ عَلَى ابْن آدَمَ نَصِيبُهُ مِنَ الزِّنَا مُدْرِكُ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ : العَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ وَالأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الاسْتِمَاعُ وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الكَلاَمُ وَاليَدُ زِنَاهَا البَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الخُطَا وَالقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الفَرْجُ أَوْ يُكَذِّبُهُ متفق عَلَيْهِ هَذَا لفظ مسلمٍ ورواية البخاري مختصرَةٌ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারী তথা কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
(২৩৪৪) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক। লোকেরা বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! ওখানে আমাদের বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আমরা (ওখানে) বসে বাক্যালাপ করি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি তোমরা রাস্তায় বসা ছাড়া থাকতে না পার, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর। তারা নিবেদন করল, ’হে আল্লাহর রসূল! রাস্তার হক কী?’ তিনি বললেন, দৃষ্টি অবনত রাখা, (অপরকে) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভাল কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা। (বুখারী ৬২২৯, মুসলিম ৫৬৮৫)
وَعَنْ أَبِـيْ سَعِيدٍ الخُدرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالجُلُوسَ فِي الطُّرُقَاتِ قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ مَا لَنَا مِنْ مَجَالِسِنَا بُدٌّ نَتَحَدَّثُ فِيهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَإذَا أَبَيْتُمْ إِلاَّ المَجْلِسَ فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ قَالُوا : وَمَا حَقُّ الطَّريقِ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ غَضُّ البَصَرِ وَكَفُّ الأَذَى وَرَدُّ السَّلاَمِ وَالأَمرُ بِالمَعْرُوفِ وَالنَّهيُ عَنِ المُنْكَرِ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারী তথা কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
(২৩৪৫) আবূ ত্বালহা যায়েদ ইবনে সাহল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা ঘরের বাইরে অবস্থিত প্রাঙ্গনে বসে কথাবার্তায় রত ছিলাম। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সেখানে) এসে আমাদের নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা রাস্তায় বৈঠক করছ? তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক। আমরা নিবেদন করলাম, ’আমরা তো এখানে এমন উদ্দেশ্যে বসেছি, যাতে (শরীয়তের দৃষ্টিতে) কোন আপত্তি নেই। আমরা এখানে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করা ও কথাবার্তা বলার জন্য বসেছি।’ তিনি বললেন, যদি রাস্তায় বসা ত্যাগ না কর, তাহলে তার হক আদায় কর। আর তা হল, দৃষ্টি সংযত রাখা, সালামের উত্তর দেওয়া এবং সুন্দরভাবে কথাবার্তা বলা।
وَعَنْ أَبي طَلحَة زَيدِ بنِ سَهلٍ قَالَ : كُنَّا قُعُوداً بِالأَفْنِيَةِ نَتَحَدَّثُ فِيهَا فَجَاءَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَامَ عَلَيْنَا فَقَالَ مَا لَكُمْ وَلِمَجَالسِ الصُّعُدَاتِ ؟ اِجْتَنِبُوا مَجَالِسَ الصُّعُدَاتِ فَقُلْنَا : إِنَّمَا قَعَدْنَا لِغَيْرِ مَا بَأسٍ قَعَدْنَا نَتَذَاكَرُ وَنَتَحَدَّثُ قَالَ إِمَّا لاَ فَأَدُّوا حَقَّهَا : غَضُّ البَصَرِ وَرَدُّ السَّلاَمِ وَحُسْنُ الكَلاَمِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারী তথা কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
(২৩৪৬) জারীর বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আচমকা দৃষ্টি সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে আদেশ করলেন, যেন আমি আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিই।
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأَمَرَنِى أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِى رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারী তথা কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
(২৩৪৭) বুরাইদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে বলেছেন, হে আলী! একবার নজর পড়ে গেলে আর দ্বিতীয়বার তাকিয়ে দেখো না। প্রথমবারের (অনিচ্ছাকৃত) নজর তোমার জন্য বৈধ। কিন্তু দ্বিতীয়বারের নজর বৈধ নয়।
عَنِ بُرَيْدَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لِعَلِىٍّ يَا عَلِىُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারী তথা কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
(২৩৪৮) আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’কোন পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে যেন না তাকায়। কোন নারী অন্য নারীর গুপ্তস্থানের দিকে যেন না তাকায়। কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সঙ্গে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে। (অনুরূপভাবে) কোন নারী, অন্য নারীর সাথে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে।
وَعَنْ أَبِـيْ سَعِيدٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلاَ المَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ المَرْأَةِ وَلاَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، وَلاَ تُفْضِي المَرْأةُ إِلَى المَرْأَةِ فِي الثَّوْبِ الواحِدِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূল (ﷺ) কর্তৃক নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্কীকরণ
মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَلْيَحْذَرِ الَّذِيْنَ يُـخَالِفُوْنَ عَنْ أمْرِهِ أنْ تُصِيْبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيْبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ
অর্থাৎ, সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে। (সূরা নূর ৬৩)
তিনি আরো বলেন,
وَيُـحَذِّرُكُمُ اللهُ نَفْسَهُ
অর্থাৎ, আল্লাহ তাঁর নিজের সম্বন্ধে তোমাদেরকে সাবধান করছেন। (সূরা আলে ইমরান ৩০)
অন্যত্র তিনি বলেছেন,
إنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيْدٌ
অর্থাৎ, নিশ্চয় তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও বড়ই কঠিন। (সূরা বুরূজ ১২)
তিনি অন্য জায়গায় বলেন,
وَكَذٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ القُرَى وَهِـيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ
অর্থাৎ, এরূপই তাঁর পাকড়াও; যখন তিনি কোন অত্যাচারী জনপদের অধিবাসীদেরকে পাকড়াও করেন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যাতনাদায়ক কঠিন। (সূরা হুদ ১০২)
(২৩৪৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় মহান আল্লাহর ঈর্ষা আছে এবং আল্লাহর ঈর্ষা জাগে, যখন মানুষ আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত কোন কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ تَعَالَى يَغَارُ وَغَيْرَة اللهِ أَنْ يَأْتِيَ المَرْءُ مَا حَرَّمَ اللهُ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূল (ﷺ) কর্তৃক নিষিদ্ধ কর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্কীকরণ
(২৩৫০) সাওবান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি নিঃসন্দেহে আমার উম্মতের কয়েক দল লোককে চিনি যারা কিয়ামতের দিন তিহামা (মক্কা ও ইয়ামানের মধ্যবর্তী এক বিশাল লম্বা শ্রেণীবদ্ধ) পর্বতমালার সমপরিমাণ বিশুদ্ধ নেকী নিয়ে উপস্থিত হবে; কিন্তু আল্লাহ তাদের সে সমস্ত নেকীকে উড়ন্ত ধূলিকণাতে পরিণত করে দেবেন। সাওবান (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সে লোকেরা কেমন হবে তা আমাদের জন্য খুলে বলুন ও তাদের হুলিয়া বর্ণনা করুন, যাতে আমরা আমাদের অজান্তে তাদের দলভুক্ত না হয়ে পড়ি।’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শোন! তারা তোমাদেরই ভাই এবং তোমাদেরই সম্প্রদায়ভুক্ত হবে। তোমরা যেমন রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত কর তেমনি তারাও করবে। কিন্তু যখনই তারা আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকবে, তখনই তা অমান্য ও লংঘন করবে।
عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لأُلْفِيَّنَ أَقْوَامًا مِنْ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتٍ أَمْثَالِ جِبَالِ تِهَامَةَ فَيَجْعَلُهَا اللهُ هَبَاءً مَنْثُورًا، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ صِفْهُمْ لَنَا لِكَيْ لا نَكُونُ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لا نَعْلَمُ فَقَالَ أَمَا إِنَّهُمْ مِنْ إِخْوَانِكُمْ وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللهِ انْتَهَكُوهَا
পরিচ্ছেদঃ পাপকে তুচ্ছ ভাবা
(২৩৫১) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে আয়েশা! তুমি ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র তুচ্ছ পাপ হতেও সাবধান থেকো। কারণ আল্লাহর পক্ষ হতে তাও (লিপিবদ্ধ করার জন্য ফিরিশতা) নিযুক্ত আছেন।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَا عَائِشَةَ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّ لَهَا مِنْ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ طَالِبًا
পরিচ্ছেদঃ পাপকে তুচ্ছ ভাবা
(২৩৫২) সাহল বিন সা’দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ছোট ছোট তুচ্ছ পাপ থেকেও দূরে থেকো। কেননা, ছোট ও তুচ্ছ গোনাহসমূহের উপমা হল এরূপ, যেরূপ একদল লোক (সফরে গিয়ে) এক উপত্যকার মাঝে (বিশ্রাম নিতে) নামল। অতঃপর এ একটা কাঠ, ও একটা কাঠ এনে জমা করল। এভাবে অবশেষে তারা এত কাঠ জমা করল, যদ্দ্বারা তারা তাদের রুটি পাকিয়ে নিতে পারল। আর ছোট ছোট তুচ্ছ পাপের পাপীকে যখন ধরা হবে তখন তা তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে।
عَنْ سَهْلِ بن سَعْدٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ، فَإِنَّمَا مَثَلُ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ كَمَثَلِ قَوْمٍ نَزَلُوا بَطْنَ وَادٍ فَجَاءَ ذَا بِعُودٍ وَجَاءَ ذَا بِعُودٍ حَتّٰـى حَمَلُوا مَا أَنْضَجُوا بِهِ خُبْزَهُمْ، وَإِنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَتَى يَأْخُذْ بِهَا صَاحِبُهَا تُهْلِكْهُ
পরিচ্ছেদঃ পাপকে তুচ্ছ ভাবা
(২৩৫৩) আনাস (রাঃ) বলেন, তোমরা এমন কতকগুলো কাজ করছ যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল হতেও তুচ্ছ। কিন্তু আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ঐ কাজগুলোকেই আমরা সর্বনাশী কার্যসমূহের শ্রেণীভুক্ত মনে করতাম।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ إِنَّكُمْ لَتَعْمَلُونَ أَعْمَالًا هِيَ أَدَقُّ فِي أَعْيُنِكُمْ مِنْ الشَّعَرِ إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ الْمُوبِقَاتِ
পরিচ্ছেদঃ পাপকে তুচ্ছ ভাবা
(২৩৫৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আমার প্রত্যেক উম্মতের পাপ মাফ করে দেওয়া হবে, তবে যে প্রকাশ্যে পাপ করে (অথবা পাপ করে বলে বেড়ায়) তার পাপ মাফ করা হবে না। আর পাপ প্রকাশ করার এক ধরন এও যে, একজন লোক রাত্রে কোন পাপ করে ফেলে, অতঃপর আল্লাহ তা গোপন করে নেন। (অর্থাৎ, কেউ তা জানতে পারে না।) কিন্তু সকাল বেলায় উঠে সে লোকের কাছে বলে বেড়ায়, ’হে অমুক! গত রাতে আমি এই এই কাজ করেছি।’ রাতের বেলায় আল্লাহ তার পাপকে গোপন রেখে দেন; কিন্তু সে সকাল বেলায় আল্লাহর সে গোপনীয়তাকে নিজে নিজেই ফাঁস করে ফেলে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كُلُّ أُمَّتِي مُعَافًى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ وَإِنَّ مِنْ الْمُجَاهَرَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلًا ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللهُ عَلَيْهِ فَيَقُولَ يَا فُلَانُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللهِ عَنْهُ
পরিচ্ছেদঃ জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ড
(২৩৫৫) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই বাণী মনে রেখেছি যে, সাবালক হবার পর ইয়াতীম বলা যাবে না এবং কোন দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাক্ বন্ধ (কথা বন্ধ) রাখা যাবে না।
ইমাম খাত্তাবী (রঃ) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, জাহেলিয়াতের যুগে বাক্ বন্ধ রাখা এক প্রকার ইবাদত ছিল। সুতরাং ইসলাম তা করতে নিষেধ করেছে এবং তার পরিবর্তে আল্লাহর যিকর ও উত্তম কথাবার্তা বলার নির্দেশ দিয়েছে।
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ : حَفِظْتُ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ لاَ يُتْمَ بَعْدَ احْتِلَامٍ وَلاَ صُمَاتَ يَومٍ إِلَى اللَّيْلِ رواه أَبُو داود بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ড
(২৩৫৬) ক্বায়স ইবনে আবূ হাযেম (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) আহমাস গোত্রের যয়নাব নামক এক মহিলার নিকট এসে দেখলেন যে, সে কথা বলে না। তিনি বললেন, ’ওর কী হয়েছে যে, কথা বলে না?’ তারা বলল, ’ও নীরব থেকে হজ্জ করার সংকল্প করেছে।’ তিনি বললেন, ’কথা বল। কারণ, এ (নীরবতা) বৈধ নয়। এ হল জাহেলী যুগের কাজ।’ সুতরাং সে কথা বলতে লাগল।
وَعَنْ قَيسِ بنِ أَبِـيْ حَازِمٍ قَالَ : دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيق عَلَى امْرأَةٍ مِنْ أَحْمَسَ يُقَالُ لَهَا : زَيْنَبُ فَرَآهَا لاَ تَتَكَلَّمُ فَقَالَ : مَا لَهَا لاَ تَتَكَلَّمُ ؟ فَقَالُوا : حَجَّتْ مُصْمِتَةً فَقَالَ لَهَا : تَكَلَّمِي فَإِنَّ هَذَا لاَ يَحِلُّ هَذَا مِنْ عَمَلِ الجَاهِليَّةِ فَتَكَلَّمَتْ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ড
(২৩৫৭) আবূ মালেক আশআরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার উম্মতের মাঝে চারটি কাজ হল জাহেলিয়াতের প্রথা, যা তারা ত্যাগ করবে না; বংশ নিয়ে গর্ব করা, (কারো) বংশ-সূত্রে খোঁটা দেওয়া, তারা (ও নক্ষত্রের) মাধ্যমে বৃষ্টির আশা করা এবং (মুর্দার জন্য) মাতম করা।
عن أبي مَالِكٍ الأَشْعَرِىَّ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ أَرْبَعٌ فِى أُمَّتِى مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ لاَ يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَخْرُ فِى الأَحْسَابِ وَالطَّعْنُ فِى الأَنْسَابِ وَالاِسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُومِ وَالنِّيَاحَةُ
পরিচ্ছেদঃ জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ড
(২৩৫৮) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, বানুল মুস্তালিক যুদ্ধের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনো মুরাইসী’ ঝর্ণার নিকট অবস্থান করছিলেন, এমন সময় কতকগুলো লোক পানি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সেখানে আগমন করে। আগমনকারীদের মধ্যে উমার (রাঃ) এর একজন শ্রমিক ছিল, যার নাম ছিল জাহজাহ গিফারী। ঝর্ণার নিকট আরো একজন ছিল, যার নাম ছিল সিনান বিন অবার জুহানী। কোন কারণে এই দু’জনের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হতে হতে শেষ পর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও মল্লযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এক পর্যায়ে জুহানী চিৎকার শুরু করে দেয়, ’হে আনসার দল! (আমাকে সাহায্যের জন্য দ্রুত এগিয়ে এস।)’ অপর পক্ষে জাহজাহ আহবান করতে থাকে, ’হে মুহাজির দল! (আমাকে সাহায্য করার জন্য তোমরা শীঘ্র এগিয়ে এস।)’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, ’’আমি তোমাদের মধ্যে বর্তমান আছি অথচ তোমরা অজ্ঞতার যুগের আচরণ করছ? তোমরা এসব পরিহার করে চল, এ সব হচ্ছে দুর্গন্ধযুক্ত।
عن جَابِر بْن عَبْدِ اللهِ يَقُوْلُ كُنَّا مَعَ النَّبِىِّ ﷺ فِى غَزَاةٍ فَكَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ الأَنْصَارِىُّ يَا لَلأَنْصَارِ وَقَالَ الْمُهَاجِرِىُّ يَا لَلْمُهَاجِرِينَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا بَالُ دَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ كَسَعَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ دَعُوهَا فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ
পরিচ্ছেদঃ জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ড
(২৩৫৯) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সব মানুষের চাইতে বেশী ঘৃণিত; যে ব্যক্তি (মক্কা-মদীনার) হারাম সীমানার ভিতরে সীমালংঘন করে পাপ কার্য (ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি) করে, যে ব্যক্তি ইসলামে থেকে জাহেলী যুগের কৃষ্টি-তরীকা অনুসন্ধান করে এবং যে ব্যক্তি নাহক কোন মুসলিমকে খুন করার চেষ্টা করে।
عَن ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ أَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى اللهِ ثَلَاثَةٌ مُلْحِدٌ فِي الْحَرَمِ وَمُبْتَغٍ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَمُطَّلِبُ دَمِ امْرِئٍ بِغَيْرِ حَقٍّ لِيُهَرِيقَ دَمَهُ
পরিচ্ছেদঃ জাহেলী যুগের কর্মকাণ্ড
(২৩৬০) উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) বলেন, ’ইসলামকে এক খি এক খি করে (ধীরে ধীরে) নষ্ট ক’রে ফেলে, যে ব্যক্তি ইসলামে লালিত-পালিত হয়, আর জাহেলিয়াতকে চেনে না। অথবা ’ইসলাম-রশির খি একটা একটা ক’রে নষ্ট হয়ে যাবে, যদি ইসলামে এমন ব্যক্তি লালিত-পালিত হয়, যে জাহেলিয়াতকে চেনে না।
قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ : إنَّمَا تُنْقَضُ عُرَى الْإِسْلَامِ عُرْوَةً عُرْوَةً إذَا نَشَأَ فِي الْإِسْلَامِ مَنْ لَمْ يَعْرِفْ الْجَاهِلِيَّةَ
পরিচ্ছেদঃ দু’মুখোপনার নিন্দাবাদ
মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَسْتَخْفُوْنَ مِنَ النَّاسِ وَلاَ يَسْتَخْفُوْنَ مِنَ اللهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إذْ يُبَيِّتُوْنَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ القَوْلِ وكَانَ اللهُ بِمَا يَعْمَلُوْنَ مُـحِيْطًا
অর্থাৎ,এরা মানুষকে লজ্জা করে (মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করে), কিন্তু আল্লাহকে লজ্জা করে না (তাঁর দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করতে পারে না) অথচ তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন, যখন রাত্রে তারা তাঁর (আল্লাহর) অপছন্দনীয় কথা নিয়ে পরামর্শ করে। আর তারা যা করে তা সর্বতোভাবে আল্লাহর জ্ঞানায়ত্তে। (সূরা নিসা ১০৮)
(২৩৬১)আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মানবমণ্ডলীকে বিভিন্ন (পদার্থের) খনির ন্যায় পাবে। জাহেলী (অন্ধযুগে) যারা উত্তম ছিল, তারা ইসলামে (দীক্ষেত হবার পরও) উত্তম থাকবে; যখন তারা দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করবে। তোমরা শাসন-ক্ষমতাও কর্তৃত্বভার গ্রহণের ব্যাপারে সে সমস্ত লোককে সর্বাধিক উত্তম পাবে, যারা ঐ সবপদগুলিকে সবচেয়ে বেশী ঘৃণা বোধ করবে। আর সর্বাধিক নিকৃষ্ট পাবে দু’মুখো লোককে, যে এদের নিকট এক মুখ নিয়ে আসে আর ওদের কাছে আর এক মুখ নিয়ে আসে।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَجِدُوْنَ النَّاسَ مَعَادِنَ : خِيَارُهُم فِي الْـجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْإسْلاَمِ إِذَا فَقُهُوا وَتَجِدُونَ خِيَارَ النَّاسِ فِي هَذَا الشَّأنِ أَشَدَّهُمْ كَرَاهِيَةً لَهُ وَتَجِدُونَ شَرَّ النَّاسِ ذَا الْوَجْهَينِ الَّذِيْ يَأتِيْ هَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلاَءِ بِوَجْهٍ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ দু’মুখোপনার নিন্দাবাদ
(২৩৬২) উক্ত বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দু’মুখো লোক কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম মানুষদের অন্যতম।
وَعَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ إنّ مِنْ شَرِّ النّاسِ عِنْدَ الله يَوْمَ القيَامَةِ ذا الْوَجْهَيْنِ
পরিচ্ছেদঃ দু’মুখোপনার নিন্দাবাদ
(২৩৬৩) মুহাম্মাদ ইবনে যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, কতিপয় লোক তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) এর নিকট নিবেদন করল যে, ’আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাদেরকে ঐ সব কথা বলি, যার বিপরীত বলি তাদের নিকট থেকে বাইরে আসার পর। (সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কী?)’ তিনি উত্তর দিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা ’মুনাফিক্বী’ আচরণ বলে গণ্য করতাম।
وَعَنْ مُـحَمَّدِ بنِ زَيدٍ : أَنَّ نَاساً قَالُوا لِجَدِّهِ عَبدِ اللهِ بنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : إنَّا نَدْخُلُ عَلَى سَلاَطِيننَا فَنَقُولُ لَهُمْ بِخِلاَفِ مَا نَتَكَلَّمُ إِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِمْ قَالَ : كُنَّا نَعُدُّ هَذَا نِفَاقاً عَلَى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ দু’মুখোপনার নিন্দাবাদ
(২৩৬৪) আম্মার বিন ইয়াসির (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুনিয়াতে যে ব্যক্তির দু’টি মুখ হবে (দু’মুখে কথা বলবে) কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তির আগুনের দু’টি জিভ হবে।
وعَنْ عَمَّارٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ كَانَ لَهُ وَجْهَانِ فِى الدُّنْيَا كَانَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَانِ مِنْ نَارٍ
পরিচ্ছেদঃ দু’মুখোপনার নিন্দাবাদ
(২৩৬৫) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিকের উদাহরণ যেমন দুই ছাগপালের মাঝে যাতায়াতকারী বিপথগামী ছাগ। যা এ পালে একবার আসে আবার ও পালে একবার যায়। স্থির করতে পারে না যে সে কোন পালের অনুসরণ করবে।
وعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّمَا مَثَلُ الْمُنَافِقِ مَثَلُ الشَّاةِ الْعَائِرَةِ بَيْنَ الْغَنَمَيْنِ تَعِيرُ إِلَى هَذِهِ مَرَّةً وَإِلَى هَذِهِ مَرَّةً لَا تَدْرِي أَيَّهُمَا تَتْبَعُ
পরিচ্ছেদঃ অপ্রয়োজনে মুসলিমদের প্রতি কুধারণা করা নিষেধ
মহান আল্লাহ বলেছেন,
يَا أيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيراً مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ
অর্থাৎ, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বহুবিধ ধারণা হতে দূরে থাক; কারণ কোন কোন ধারণা পাপ। (সূরা হুজুরাত-৪৯:১২)
(২৩৬৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কুধারণা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখ। কারণ কুধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ অপ্রয়োজনে মুসলিমদের প্রতি কুধারণা করা নিষেধ
(২৩৬৭) একদা রাত্রিকালে সফিয়্যাহ (রাঃ) ই’তিকাফরত স্বামী মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মসজিদে দেখা করার জন্য এলেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর তিনি বাসায় ফিরতে গেলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে পৌঁছে দিতে তাঁর সাথে বের হলেন। পথে আনসারদের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের দেখা হলে তারা শীঘ্র চলতে লাগগল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওহে! কে তোমরা? শোন। আমার সাথে এ মহিলা হল (আমারই স্ত্রী) সফিয়া বিন্তে হুয়াই। তারা বলল, ’আল্লাহর পানাহ! সুবহানাল্লাহ! আপনার ব্যাপারেও কি আমরা কোন সন্দেহ করতে পারি?’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বলছি না যে, তোমরা কোন কুধারণা করে বসবে। কিন্তু আমি জানি যে, শয়তান আদম সন্তানের রক্তশিরায় প্রবাহিত হয়। আর আমার ভয় হয় যে, সে তোমাদের মনে কোন কুধারণা প্রক্ষিপ্ত করে দেবে।
عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ حُيَىٍّ قَالَتْ كَانَ النَّبِىُّ ﷺ مُعْتَكِفًا فَأَتَيْتُهُ أَزُورُهُ لَيْلًا فَحَدَّثْتُهُ ثُمَّ قُمْتُ لأَنْقَلِبَ فَقَامَ مَعِىَ لِيَقْلِبَنِىْ وَكَانَ مَسْكَنُهَا فِى دَارِ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ فَمَرَّ رَجُلاَنِ مِنَ الأَنْصَارِ فَلَمَّا رَأَيَا النَّبِىَّ ﷺ أَسْرَعَا فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ فَقَالاَ سُبْحَانَ اللهِ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِى مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ وَإِنِّى خَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِى قُلُوبِكُمَا شَرًّا أَوْ قَالَ شَيْئًا
পরিচ্ছেদঃ সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক
(২৩৬৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যার কাছে মঙ্গল আশা করা যায় এবং অমঙ্গলের ব্যাপারে নিরাপদ থাকা যায়। আর তোমাদের মধ্যে সবার চেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যার কাছে মঙ্গল আশা করা যায় না এবং অমঙ্গলের ব্যাপারে নিরাপদ থাকা যায় না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ خَيْرُكُمْ مَنْ يُرْجَى خَيْرُهُ وَيُؤْمَنُ شَرُّهُ وَشَرُّكُمْ مَنْ لَا يُرْجَى خَيْرُهُ وَلَا يُؤْمَنُ شَرُّهُ
পরিচ্ছেদঃ সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক
(২৩৬৯) আমর বিন আবাসাহ সুলামী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূর্য উপরে উঠলেই কেবল শয়তান ও সবচেয়ে বেশি অবাধ্য আদম-সন্তান ছাড়া আল্লাহ আযযা অজাল্লার সৃষ্টির কোন কিছুই তাঁর তাসবীহ ও তাহমীদ পাঠ করতে অবশিষ্ট থাকে না। বর্ণনাকারী জিজ্ঞাসা করলেন, ’অবাধ্য আদম-সন্তান কারা?’ উত্তরে তিনি বললেন, আল্লাহ আযযা অজাল্লার সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি।
عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبسَةَ السُّلَمِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَنَّهُ قَالَ : مَا تَسْتَقِلُّ الشَّمْسُ فَيَبْقَى شَيْءٌ مِنْ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ سَبَّحَ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَحَمِدَهُ إِلاَّ مَا كَانَ مِنَ الشَّيَطِان وَأَعْتَى بَنِي آدَمَ فَسَأَلْتُ عَنْ أَعْتَى بَنِي آدَمَ فَقَالَ :’’شِرَارُ الْخَلْقِ أَوْ قَالَ : شِرَارُ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
পরিচ্ছেদঃ সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক
(২৩৭০) একদা আলী ও আম্মার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাদেরকে দু’জন সবচেয়ে বড় হতভাগ্য লোকের কথা বলব না? সামূদ জাতির লালচে লোকটি, যে উটনী হত্যা করেছে। আর হে আলী! যে তোমাকে এই (মাথার সিঁথি)তে মারবে এবং (তার রক্তে তোমার) এই (দাড়ি) ভিজে যাবে।
عَنْ عَلِيٍّ وَعَمَّارٍ قَالَا قَالَ لَـهُمَا النَّبِيُّ ﷺ أَلَا أُحَدِّثُكُمَ بِأَشْقَى النَّاسِ رَجُلَيْنِ أُحَيْمِرُ ثَمُودَ الَّذِي عَقَرَ النَّاقَةَ، وَالَّذِي يَضْرِبُكَ يَا عَلِيُّ عَلَى هَذِهِ يَعْنِي قَرْنَهُ حَتّٰـى تُبَلَّ مِنْهُ هَذِهِ يَعْنِي لِحْيَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক
(২৩৭১) ফাতিমা যাহরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতের সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক তারা, যারা নিয়ামতে লালিত হয়েছে, যারা নানা রঙের খাদ্য ভক্ষণ করে, নানা রঙের বস্ত্র পরিধান করে এবং কথায় আলস্যভাব ও কায়দা প্রকাশ করে।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, তারা নানা রঙের সওয়ারীতে চড়ে।
عَنْ فَاطِمَةَ الزُّهْرَاءَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ شِرَارِ أُمَّتِيَ الَّذِيْنَ غُذُوْا بِالنَّعِيْمِ الَّذِيْنَ يَطْلُبُوْنَ أَلْوَانَ الطَّعَامِ وَ أَلْوَانَ الثِّيَابِ يَتَشَدَّقُوْنَ بِالْكَلَامِ
পরিচ্ছেদঃ অপ্রয়োজনে প্রশ্ন করা
(২৩৭২) সা’দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী হল সেই ব্যক্তি, যে এমন কোন জিনিসের ব্যাপারে প্রশ্ন করল, যা হারাম ছিল না। অতঃপর তার প্রশ্ন করার ফলে তা হারাম ক’রে দেওয়া হল।
عن سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَعْظَمَ الْمُسْلِمِينَ فِى الْمُسْلِمِينَ جُرْمًا مَنْ سَأَلَ عَنْ شَىْءٍ لَمْ يُحَرَّمْ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَحُرِّمَ عَلَيْهِمْ مِنْ أَجْلِ مَسْأَلَتِهِ
পরিচ্ছেদঃ অপ্রয়োজনে প্রশ্ন করা
(২৩৭৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে ছেড়ে দেওয়া পর্যন্ত (কিছু না বলা পর্যন্ত) তোমরা আমাকে (কিছু প্রশ্ন না করে) ছেড়ে দাও। যেহেতু তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি বেশী বেশী প্রশ্ন করার জন্য এবং তাদের আম্বিয়াদের সাথে মতবিরোধ করার জন্য ধ্বংস হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তোমাদেরকে কোন কিছুর আদেশ করলে তা যথাসাধ্য পালন কর। আর কোন কিছু হতে নিষেধ করলে তা বর্জন কর।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ ذَرُونِى مَا تَرَكْتُكُمْ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَىْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَىْءٍ فَدَعُوهُ
পরিচ্ছেদঃ অপ্রয়োজনে প্রশ্ন করা
(২৩৭৪) আবূ সা’লাবাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ কিছু আমলকে ফরয বলে বিধান দিয়েছেন; সুতরাং তোমরা তা (পালন না করে) বিনষ্ট করো না, কিছু সীমারেখা নির্ধারিত করেছেন; সুতরাং তোমরা তা লংঘন করো না, তিনি অনেক কিছুকে হারাম (নিষিদ্ধ) ঘোষণা করেছেন; সুতরাং তোমরা তা লংঘন (ও অমান্য) করো না এবং তিনি তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে ও না ভুলে গিয়ে অনেক কিছুর ব্যাপারে নীরব আছেন; সুতরাং তোমরা সে সব নিয়ে প্রশ্ন (বা খোঁজাখুঁজি) করো না।
عَنْ أَبِـيْ ثَعْلَبَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ فَرَضَ فَرَائِضَ فَلا تُضَيِّعُوهَا، وَنَهَى عَنْ أَشْيَاءَ فَلا تَنْتَهِكُوهَا، وَحَدَّ حُدُودًا فَلا تَعْتَدُوهَا، وَغَفَلَ عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ غَيْرِ نِسْيَانٍ فَلا تَبْحَثُوا عَنْهَا
পরিচ্ছেদঃ মুশরিকদের সাথে সহাবস্থান
(২৩৭৫) জারীর বিন আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মুশরিকদের সাথে তাদের দেশে বাস করবে, তার নিকট থেকে (আল্লাহর) দায়িত্ব উঠে যাবে।
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْبَجَلِيِّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ أَقَامَ مَعَ الْمُشْرِكِينَ فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ
পরিচ্ছেদঃ মুশরিকদের সাথে সহাবস্থান
(২৩৭৬) সামুরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করো না এবং তাদের সাথে সহাবস্থান করো না। সুতরাং যে তাদের সাথে বসবাস করবে অথবা সহাবস্থান করবে, সে তাদেরই মতো।
عَنْ سَمُرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: ’’لَا تُسَاكِنُوْا الْـمُشْرِكِيْنَ وَلَا تُـَجامِعُوْهُمْ فَمَن ساكَنَهُمْ أَوْ جَامَعَهُمْ فَهُوَ مِثْلُهُمْ
পরিচ্ছেদঃ মুশরিকদের সাথে সহাবস্থান
(২৩৭৭) বাহয বিন হাকীম, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুশরিকের ইসলাম আনার পর আল্লাহ তার আমল ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে মুশরিকদেরকে বর্জন করে মুসলিমদের মাঝে (হিজরত করে) গেছে।
عنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيْمٍ عَنْ أَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ يَقْبَلُ الله تَعَالى مِنْ مُشْرِكٍ أَشْرَكَ بَعْدَ مَا أَسْلَمَ عَمَلاً حَتّٰـى يُفَارِقَ الْمُشْرِكِيْنَ إِلَى المُسْلِمِيْنَ
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৭৮) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করে, অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম।
عَنْ سَعْدِ بنِ أَبِـيْ وَقَّاصٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ فَالجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৭৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পিতাকে অস্বীকার করো না। কারণ, নিজ পিতা অস্বীকার করা হল কুফরী।
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لاَ تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ أَبِيهِ فَهُوَ كُفْرٌ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৮০) ইয়াযীদ ইবনে শারীক ইবনে ত্বারেক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী (রাঃ) কে মিম্বরের উপর খুতবা দিতে দেখেছি এবং তাকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, ’আল্লাহর কসম! আল্লাহর কিতাব ব্যতীত আমাদের কাছে আর কোন কিতাব নেই যা আমরা পাঠ করতে পারি। তবে এ লিপিখানা আছে।’ এরপর তা তিনি খুলে দিলেন। দেখা গেল তাতে (রক্তপণে প্রদেয়) উটের বয়স ও বিভিন্ন যখমের দণ্ডবিধি লিপিবদ্ধ আছে। তাতে আরো লিপিবদ্ধ আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আইর থেকে সওর পর্যন্ত মদীনার হারাম-সীমা। এখানে যে ব্যক্তি (ধর্মীয় বিষয়ে) অভিনব কিছু (বিদআত) রচনা করবে বা বিদআতীকে আশ্রয় দেবে, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাদল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করবেন না।
সমস্ত মুসলিমদের প্রতিশ্রুতি ও নিরাপত্তাদানের মর্যাদা এক। তাদের কোন নিম্নশ্রেণীর মুসলিম (কাউকে আশ্রয় প্রদানের) কাজ করতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি মুসলিমের ঐ কাজকে বানচাল করে, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবূল করবেন না। আর যে ব্যক্তি প্রকৃত বাপ ছাড়া অন্যকে বাপ বলে দাবী করে বা প্রকৃত মনিব ছাড়া অন্য মনিবের সাথে সম্বন্ধ জুড়ে, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সমস্ত মানুষের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত গ্রহণ করবেন না।
وَعَنْ يَزِيْدَ بْنِ شَرِيْكِ بْنِ طَارِقٍ قَالَ : رَأَيتُ عَلِيّاً عَلَى المِنْبَرِ يَخْطُبُ فَسَمِعْتُهُ يقُوْلُ : لاَ وَاللهِ مَا عِنْدَنَا مِنْ كِتَابٍ نَقْرؤُهُ إِلاَّ كِتَابَ اللهِ وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ، فَنَشَرَهَا فَإِذَا فِيهَا أَسْنَانُ الإِبِلِ وَأَشْيَاءُ مِنَ الجَرَاحَاتِ وَفِيهَا : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ المَدينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثاً أَوْ آوَى مُحْدِثاً فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَومَ القِيَامَةِ صَرْفاً وَلاَ عَدْلاً ذِمَّةُ المُسْلِمينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِماً فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَومَ القِيَامَةِ صَرْفاً وَلاَ عَدْلاً وَمَنِ ادَّعَى إِلَى غَيرِ أَبِيهِ أَوِ انْتَمَى إِلَى غَيرِ مَوَاليهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعيْنَ ؛ لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَومَ الْقِيَامَةِ صَرْفاً وَلاَ عَدْلاً متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৮১) আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন যে, যে কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে অন্যকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে কুফরী করে। যে ব্যক্তি এমন কিছু দাবী করে, যা তার নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর সে যেন নিজস্ব বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি কাউকে ’কাফের’ বলে ডাকে বা ’আল্লাহর দুশমন’ বলে, অথচ বাস্তবে যদি সে তা না হয়, তাহলে তার (বক্তার) উপর তা বর্তায়।
وَعَنْ أَبِـيْ ذَرٍّ أنَّه سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ لَيْسَ مِنْ رَجُلٍ ادَّعَى لِغَيرِ أَبِيهِ وَهُوَ يَعْلَمُهُ إِلاَّ كَفَرَ وَمَنِ ادَّعَى مَا لَيْسَ لَهُ فَلَيْسَ مِنَّا وَلَيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ دَعَا رَجُلاً بِالْكُفْرِ أَوْ قَالَ : عَدُوَّ اللهِ وَلَيْسَ كَذَلِكَ إِلاَّ حَارَ عَلَيْهِ متفق عَلَيْهِ وهذا لفظ رواية مسلم
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৮২) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পরের বাপকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে ব্যক্তি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধি ৭০ (অথবা ৫০০) বছরের দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْروٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ قَدْرِ سَبْعِينَ عَامًا أَوْ مَسِيرَةِ سَبْعِينَ عَامًا وَفِيْ رِوَايَةٍ مِنْ مَسِيْرَةِ خمس مائة عام
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৮৩) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি পরের বাপকে নিজের বাপ বলে দাবী করে অথবা তার (স্বাধীনকারী) প্রভু ছাড়া অন্য প্রভুর প্রতি সম্বন্ধ জুড়ে, সে ব্যক্তির উপর কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর অবিরাম অভিশাপ।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنِ ادَّعَى إِلٰى غَيْرِ أَبِيهِ أَوِ انْتَمَى إِلٰى غَيْرِ مَوَالِيْهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ الْمُتَتَابِعَةُ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৮৪) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অজ্ঞাত বংশের সম্বন্ধ দাবী করা অথবা ছোট বা নীচু হলে তা অস্বীকার করা মানুষের জন্য কুফরী।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْروٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُفْرٌ بِامْرِىءٍ ادِّعَاءُ نَسَبٍ لاَ يُعْرَفُ أَوْ جَحْدُهُ وَإِنْ دَقَّ
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৮৫) ওয়াসিলাহ বিন আসকা’ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সবচেয়ে বড় মিথ্যারোপের অন্যতম হল সেই ব্যক্তির কাজ, যে পরের বাপকে নিজ বাপ বলে দাবি করে অথবা তার চক্ষুকে তা দেখায় যা সে (বাস্তবে) দেখেনি। (অর্থাৎ, স্বপ্ন দেখার মিথ্যা দাবি করে।) অথবা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেননি, তা তাঁর প্রতি মিথ্যাভাবে আরোপ করে।
وَعَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ أَعْظَمِ الْفِرَى أَنْ يَدَّعِيَ الرَّجُلُ إِلٰى غَيْرِ أَبِيْهِ أَوْ يُرِيَ عَيْنَهُ مَا لَمْ تَرَ أَوْ يَقُوْلُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ مَا لَمْ يَقُلْ
পরিচ্ছেদঃ নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবী করা বা নিজ মনিব ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবী করা হারাম
(২৩৮৬)আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় মিথ্যা অপবাদদাতা সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি (ব্যঙ্গ-কাব্যে) কোন ব্যক্তির দোষ বর্ণনা করতে গিয়ে তার গোটা গোত্রের দোষ বর্ণনা করে এবং সেই ব্যক্তি, যে নিজের পিতা অস্বীকার ক’রে মাকে ব্যভিচারিণী বানায়!
عَن عَائِشَةَ قَالَت : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ أعْظَمَ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ فِرْيَةً لَرَجُلٌ هاجَى رَجُلاً فَهَجا القَبِيْلَةَ بِأَسْرِها ورَجُلٌ انْتَفَى مِنْ أبِيْهِ وزَنَّى أُمَّهُ
পরিচ্ছেদঃ নোংরাভোজী পশুকে সওয়ারী বানানো মকরূহ
যে হালাল পশু (উট, গরু ইত্যাদি) সাধারণতঃ মানুষের পায়খানা খায়, তার উপর সওয়ার হওয়া মকরূহ। এরূপ নোংরাভোজী উট যদি ঘাস খেতে লাগে (এবং নোংরা ভক্ষণ করা ত্যাগ করে) তাহলে তার মাংস পবিত্র হবে বিধায় মকরূহ থাকবে না।
(২৩৮৭)ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নোংরাভোজী উটনীর উপর চড়তে বারণ করেছেন। (আবূ দাঊদ ২৫৬০, বিশুদ্ধসূত্রে)
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : نَهٰى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنِ الْـجَلاَّلَةِ فِي الْإبِلِ أَنْ يُّرْكَبَ عَلَيْهَا
পরিচ্ছেদঃ মহামারী-পীড়িত গ্রাম-শহরে প্রবেশ ও সেখান থেকে অন্যত্র পলায়ন করা নিষেধ
মহান আল্লাহ বলেছেন,
أَيْنَمَا تَكُوْنُوا يُدْرِكْكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِيْ بُرُوْجٍ مُشَيَّدَةٍ
অর্থাৎ, তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই; যদিও তোমরা সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান কর। (সূরা নিসা ৭৮) তিনি অন্যত্র বলেছেন,
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيَكُمْ إِلٰى التَّهْلُكَةِ
অর্থাৎ, তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না। (সূরা বাক্বারাহ ১৯৫)
(২৩৮৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সিরিয়ার দিকে যাত্রা করলেন। অতঃপর যখন তিনি ’সার্গ্’ (সউদিয়া ও সিরিয়ার সীমান্ত) এলাকায় গেলেন, তখন তাঁর সাথে সৈন্যবাহিনীর প্রধানগণ - আবূ উবাইদাহ ইবনুল জার্রাহ ও তাঁর সাথীগণ - সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা তাঁকে জানান যে, সিরিয়া এলাকায় (প্লেগ) মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন উমার আমাকে বললেন, ’আমার কাছে প্রাথমিক পর্যায়ে যাঁরা হিজরত করেছিলেন সেই মুহাজিরদেরকে ডেকে আনো।’ আমি তাঁদেরকে ডেকে আনলাম। উমার (রাঃ) তাঁদেরকে শাম দেশে প্রাদুর্ভূত মহামারীর কথা জানিয়ে তাঁদের কাছে সুপরামর্শ চাইলেন। তখন তাঁদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হল। কেউ বললেন, ’আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে বের হয়েছেন। তাই তা থেকে ফিরে যাওয়াকে আমরা পছন্দ করি না।’ আবার কেউ কেউ বললেন, ’আপনার সাথে রয়েছেন অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ। কাজেই আমাদের কাছে ভাল মনে হয় না যে, আপনি তাঁদেরকে এই মহামারীর মধ্যে ঠেলে দেবেন।’
উমার (রাঃ) বললেন, ’তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও।’ তারপর তিনি বললেন, ’আমার নিকট আনসারদেরকে ডেকে আনো।’ সুতরাং আমি তাঁদেরকে ডেকে আনলাম এবং তিনি তাঁদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। কিন্তু তাঁরাও মুহাজিরদের পথ অবলম্বন করলেন এবং তাঁদের মতই তাঁরাও মতভেদ করলেন। সুতরাং উমার (রাঃ) বললেন, ’তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও।’ তারপর আমাকে বললেন, ’এখানে যে সকল বয়োজ্যেষ্ঠ কুরাইশী আছেন, যাঁরা মক্কা বিজয়ের বছর হিজরত করেছিলেন তাঁদেরকে ডেকে আনো।’ আমি তাঁদেরকে ডেকে আনলাম। তখন তাঁরা পরস্পরে কোন মতবিরোধ করলেন না। তাঁরা বললেন, ’আমাদের রায় হল, আপনি লোকজনকে নিয়ে ফিরে যান এবং তাদেরকে এই মহামারীর কবলে ঠেলে দেবেন না।’ তখন উমার (রাঃ) লোকজনের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, ’আমি ভোরে সওয়ারীর পিঠে (ফিরে যাওয়ার জন্য) আরোহণ করব। অতএব তোমরাও তাই কর।’
আবু উবাইদাহ ইবনুল জার্রাহ (রাঃ) বললেন, ’আপনি কি আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীর থেকে পলায়ন করার জন্য ফিরে যাচ্ছেন?’ উমার (রাঃ) বললেন, ’হে আবূ উবাইদাহ! যদি তুমি ছাড়া অন্য কেউ কথাটি বলত।’ আসলে উমার তাঁর বিরোধিতা করতে অপছন্দ করতেন। বললেন, ’হ্যাঁ। আমরা আল্লাহর তাকদীর থেকে আল্লাহর তকদীরের দিকেই ফিরে যাচ্ছি। তুমি বল তো, তুমি কিছু উঁটকে যদি এমন কোন উপত্যকায় দিয়ে এস, যেখানে আছে দু’টি প্রান্ত। তার মধ্যে একটি হল সবুজ-শ্যামল, আর অন্যটি হল বৃক্ষহীন। এবার ব্যাপারটি কি এমন নয় যে, যদি তুমি সবুজ প্রান্তে চরাও, তাহলে তা আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরাবে। আর যদি তুমি বৃক্ষহীন প্রান্তে চরাও তাহলেও তা আল্লাহর তাকদীর অনুযায়ীই চরাবে?’
বর্ণনাকারী (ইবনে আব্বাস (রাঃ)) বলেন, এমন সময় আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) এলেন। তিনি এতক্ষণ যাবৎ তাঁর কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, ’এ ব্যাপারে আমার নিকট একটি তথ্য আছে, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ’’তোমরা যখন কোন এলাকায় (প্লেগের) প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে যেয়ো না। আর যদি এলাকায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেমে আসে আর তোমরা সেখানে থাক, তাহলে পলায়ন ক’রে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।’’ সুতরাং (এ হাদীস শুনে) উমার (রাঃ) আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং (মদীনা) ফিরে গেলেন।
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ عُمَرَ بنَ الْـخَطَّابِ خَرَجَ إلٰى الشَّامِ حَتّٰـى إِذَا كَانَ بِسَرْغَ لَقِيَهُ أُمَرَاءُ الأَجْنَادِ ـ أَبُو عُبَيْدَةَ بنُ الْـجَرَّاحِ وَأَصْحَابُهُ ـ فَأَخْبَرُوهُ أَنَّ الْوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ قَالَ ابنُ عَبَّاسٍ : فَقَالَ لِي عُمَرُ : ادْعُ لِي الْمُهَاجِرِيْنَ الأَوَّلِينَ فَدَعَوْتُهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ الْوَبَاءَ قَدْ وَقَعَ بِالشَّامِ فَاخْتَلَفُوا فَقَالَ بَعْضُهُمْ : خَرَجْتَ لأَمْرٍ وَلاَ نَرَى أَنْ تَرْجِعَ عَنْهُ وَقَالَ بَعضُهُم : مَعَكَ بَقِيَّةُ النَّاسِ وَأَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَلاَ نَرَى أَنْ تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الوَبَاءِ فَقَالَ: ارْتَفِعُوا عَنِّي ثُمَّ قَالَ : ادْعُ لِي الأَنْصَارَ فَدَعَوْتُهُمْ فَاسْتَشَارَهُمْ فَسَلَكُوا سَبيلَ المُهَاجِرينَ وَاخْتَلَفُوا كَاخْتِلاَفِهِمْ فَقَالَ : ارْتَفِعُوا عَنِّي ثُمَّ قَالَ : ادْعُ لِي مَنْ كَانَ هَاهُنَا مِنْ مَشْيَخَةِ قُريشٍ مِنْ مُهَاجِرَةِ الفَتْحِ فَدَعَوْتُهُمْ فَلَمْ يَخْتَلِفْ عَلَيْهِ مِنْهُمْ رَجُلاَنِ فَقَالُوا : نَرَى أَنْ تَرْجِعَ بِالنَّاسِ وَلاَ تُقْدِمَهُمْ عَلَى هَذَا الوَبَاءِ فَنَادَى عُمَرُ فِي النَّاسِ : إِنِّي مُصْبِحٌ عَلَى ظَهْرٍ فَأَصْبِحُوا عَليْهِ فَقَالَ أَبُو عُبَيدَةَ بنِ الجَرَّاحِ أَفِرَاراً مِنْ قَدَرِ اللهِ ؟ فَقَالَ عُمَرُ لَوْ غَيْرُكَ قَالَهَا يَا أَبَا عُبَيدَةَ – وَكَانَ عُمَرُ يَكْرَهُ خِلاَفَهُ – نَعَمْ نَفِرُّ مِنْ قَدَرِ اللهِ إِلَى قَدَرِ اللهِ أَرَأيْتَ لَو كَانَ لَكَ إِبِلٌ فَهَبَطَتْ وَادِياً لَهُ عُدْوَتَانِ إِحْدَاهُمَا خَصْبَةٌ وَالأُخْرَى جَدْبَةٌ، أَلَيسَ إِنْ رَعَيْتَ الخَصْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللهِ وَإِنْ رَعَيْتَ الجَدْبَةَ رَعَيْتَهَا بِقَدَرِ اللهِ ؟ قَالَ : فَجَاءَ عَبدُ الرَّحمانِ بنُ عَوفٍ وَكَانَ مُتَغَيِّباً فِي بَعْضِ حَاجَتِهِ فَقَالَ : إِنَّ عِنْدِي مِنْ هَذَا عِلْماً سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلاَ تَقْدِمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلاَ تَخْرُجُوا فِرَاراً مِنْهُ فَحَمِدَ اللهَ تَعَالَى عُمَرُ وَانصَرَفَ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ মহামারী-পীড়িত গ্রাম-শহরে প্রবেশ ও সেখান থেকে অন্যত্র পলায়ন করা নিষেধ
(২৩৮৯) উসামা ইবনে যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা কোন ভূখণ্ডে প্লেগ মহামারী ছড়িয়ে পড়তে শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে এমন ভূখণ্ডে তোমরা যদি থাক, তাহলে সেখান থেকে বের হয়ো না।
وَعَنْ أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا سَمِعْتُمُ الطَّاعُونَ بِأَرْضٍ فَلاَ تَدْخُلُوهَا وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأنْتُمْ فِيهَا فَلاَ تَخْرُجُوا مِنْهَا متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ সাদৃশ্য অবলম্বন করে পরানুগামিতা
(২৩৯০) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন, ’তোমরা পরানুগামী (ইয়েস-ম্যান) হয়ো না।’ লোকেরা বলল, ’পরানুগামিতা কী?’ তিনি বললেন, ’এই বলা যে, আমি লোকেদের অনুগামী। তারা সৎ হলে, আমিও সৎ আর তারা পথভ্রষ্ট হলে আমিও পথভ্রষ্ট। বরং প্রত্যেকের মনকে প্রস্তুত রাখা উচিত যে, লোকে কাফের হলে, সে কাফের হবে না।’ (ত্বাবারানী ৮৬৭৮)
قَالَ عَبْدُ اللهِ لَا يَكُوْنُ أَحَدُكُمْ إِمَّعَةً قَالُوا: وَمَا الْإِمَّعَةُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمٰنِ؟ قَالَ يَقُوْلُ: إِنَّمَا أَنَا مَعَ النَّاسِ إِنِ اهْتَدَوْا اهْتَدَيْتُ وَإنْ ضَلُّوا ضَلَلْتُ أَلَا لَيُوَطِّنُ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ عَلٰى إِنْ كَفَرَ النَّاسُ أَنْ لَّا يَكْفُرَ
পরিচ্ছেদঃ যে কোন প্রাণী এমনকি পিঁপড়েকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২৩৯১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন এবং কুরাইশ বংশীয় দুই ব্যক্তির নাম নিয়ে আদেশ দিলেন যে, ’তোমরা যদি অমুক ও অমুককে পাও, তাহলে তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিও।’ অতঃপর যখন যাত্রা শুরু করলাম, তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে অমুক অমুক লোককে আগুন দিয়ে জ্বালাতে বলেছিলাম। কিন্তু আগুন দিয়ে জ্বালানোর শাস্তি কেবল আল্লাহই দেন। বিধায় তোমরা যদি তাদেরকে পাও, তাহলে তাদেরকে হত্যা করে দিও।
عَنْ أَبِيْ هُرَيرَةَ قَالَ : بَعَثَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِيْ بَعْثٍ فَقَالَ إِنْ وَجَدْتُمْ فُلاَنًا وَفُلانًا لِرَجُلَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ سَمَّاهُمَا فَأَحْرِقُوْهُمَا بِالنَّارِ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ حِيْنَ أَرَدْنَا الْـخرُوْجَ إنِّيْ كُنْتُ أَمَرْتُكُمْ أَنْ تُحْرِقُوا فُلانًا وَفُلانًا وَإِنَّ النَّارَ لاَ يُعَذِّبُ بِهَا إِلاَّ الله فَإِنْ وَجَدْتُمُوهُمَا فَاقْتُلُوْهُمَا رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ যে কোন প্রাণী এমনকি পিঁপড়েকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শাস্তি দেওয়া নিষেধ
(২৩৯২) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পেশাব-পায়খানা করতে চলে গেলেন। অতঃপর আমরা একটি লাল রঙের (হুম্মারাহ) পাখী দেখলাম। পাখীটির সাথে তার দুটো বাচ্চা আছে। আমরা তার বাচ্চাগুলোকে ধরে নিলাম। পাখীটি এসে (আমাদে)র আশে-পাশে ঘুরতে লাগল। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এলেন এবং বললেন, এই পাখীটিকে ওর বাচ্চাদের জন্য কে কষ্টে ফেলেছে? ওকে ওর বাচ্চা ফিরিয়ে দাও। তারপর তিনি পিঁপড়ের একটি গর্ত দেখতে পেলেন, যেটাকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। তা দেখে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ গর্তটি কে জ্বালাল?’’ আমরা জবাব দিলাম যে, ’আমরা (জ্বালিয়েছি)।’ তিনি বললেন, ’’আগুনের মালিক (আল্লাহ) ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়া আর কারো জন্য সঙ্গত নয়।
وَعَنِ ابْنِ مَسعُوْدٍ قَالَ : كُنَّا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فِيْ سَفَرٍ فَانْطَلَقَ لِـحَاجَتِهِ فَرَأيْنَا حُمَّرَةً مَعَهَا فَرْخَانِ فَأَخَذْنَا فَرْخَيْهَا فَجَاءَتِ الحُمَّرَةُ فَجَعَلَتْ تَعْرِشُ، فَجَاءَ النَّبيُّ ﷺ فَقَالَ مَنْ فَجَعَ هَذِهِ بِوَلَدِهَا ؟ رُدُّوا وَلَدَهَا إِلَيْها وَرَأَى قَرْيَةَ نَمْلٍ قَدْ حَرَّقْنَاهَا فَقَالَ مَنْ حَرَّقَ هَذِهِ؟ قُلْنَا : نَحْنُ، قَالَ إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي أَنْ يُعَذِّبَ بِالنَّارِ إِلاَّ رَبُّ النَّارِ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح