কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস পাওয়া গেছে 7 টি

পরিচ্ছেদঃ ৭/৪০. আরাফাত দিবসের রোযা।

২/১৭৩১। ক্বাতাদাহ্ ইবনু নো‘মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আরাফাত দিবসে রোযা রাখলো, তার আগের বছরের ও পরের বছরের গুনাহ মাফ করা হলো।

بَاب صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ غُفِرَ لَهُ سَنَةٌ أَمَامَهُ وَسَنَةٌ بَعْدَهُ


It was narrated that Qatadah bin Nu’man said: “I heard the Messenger of Allah (ﷺ) say: ‘Whoever fasts the Day of ‘Arafah, his sins of the previous and following year will be forgiven.’”


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ শিকারের গোশত মুহরিমের পক্ষে খাওয়া।

৮৪৯. কুতায়বা (রহঃ) ...... আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলেন। এক পর্যায়ে মক্কার কোন এক পথে তিনি তার কিছু সাথীসহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে পড়ে গেলেন। তার সাথীরা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে মুহরিম ছিলেন না। হঠাৎ এক স্থানে তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেলেন। তৎক্ষনাৎ তিনি তার ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে বসলেন এবং সাথীদেরকে তার বেতটি দিতে অনুরোধ জানালেন। কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করলেন। তিনি তার বর্শাটি দিতে বললে তারা তা-ও এগিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালেন। শেষে তিনি নিজেই তা সংগ্রহ করলেন এবং গাধাটির উপর আক্রমণ চালিয়ে সেটিকে হত্যা করলেন। পরে সাহাবীদের কেউ কেউ তো এটির গোশত আহার করলেন। আর কেউ কেউ তা আহার করতে অস্বীকার করলেন। ইতিমধ্যে তারা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মিলিত হলেন। তখন এই সম্পর্কে তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ এটি হল এমন খাবার যা আল্লাহ নিজে তোমাদের আহার করালেন। - ইরওয়া ১০২৮, সহিহ আবু দাউদ ১৬২৩, বুখারি, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ بِبَعْضِ طَرِيقِ مَكَّةَ تَخَلَّفَ مَعَ أَصْحَابٍ لَهُ مُحْرِمِينَ وَهُوَ غَيْرُ مُحْرِمٍ فَرَأَى حِمَارًا وَحْشِيًّا فَاسْتَوَى عَلَى فَرَسِهِ فَسَأَلَ أَصْحَابَهُ أَنْ يُنَاوِلُوهُ سَوْطَهُ فَأَبَوْا فَسَأَلَهُمْ رُمْحَهُ فَأَبَوْا عَلَيْهِ فَأَخَذَهُ ثُمَّ شَدَّ عَلَى الْحِمَارِ فَقَتَلَهُ فَأَكَلَ مِنْهُ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَى بَعْضُهُمْ فَأَدْرَكُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا هِيَ طُعْمَةٌ أَطْعَمَكُمُوهَا اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏


Abu Qatadah narrated that: He was with the Prophet and when he got to one of the roads of Makkah some of the companions were Muhrim and he (Abu Qatadah) was not a Muhrim. So he saw a wild donkey, so he mounted his horse, asked his companions to give him his whip but they refused, so he asked them to give him his spear and they refused. So he (himself) took it and struck the donkey killing it. Some of the Companions of the Prophet ate it and some of them refused. When they caught up to the Prophet they asked him about that and he said: "It is only food which Allah fed you."


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ রক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

২০৪৩. মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া (রহঃ) ..... কাতাদা ইবন নু‘মান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ভালবাসেন তখন তিনি তাকে দুনিয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখেন যেমন তোমরা তোমাদের রোগীকে পানি থেকে বাঁচিয়ে রাখ। সহীহ, মিশকাত, তাহকীক ছানী ৫২৫০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে সুহায়ব ও উম্মূল-মুনযির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীসটি মাহমূদ ইবন লাবীদ (রহঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণিত আছে।

আলী ইবন হুজর (রহঃ) ... মাহমূদ ইবন লাবীদ (রহঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই সূত্রে কাতাদা ইবন নু‘মান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ নেই। কাতাদা ইবন নু‘মান যাফরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বৈপিত্রেয় ভাই। মাহমূদ ইবন লাবীদ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পেয়েছেন এবং তাঁকে দেখেছেন। তিনি তখন ছোট বাচ্চা ছিলেন।

باب ما جاء في الحمية

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا حَمَاهُ الدُّنْيَا كَمَا يَظَلُّ أَحَدُكُمْ يَحْمِي سَقِيمَهُ الْمَاءَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ صُهَيْبٍ وَأُمِّ الْمُنْذِرِ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ الظَّفَرِيُّ هُوَ أَخُو أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ لأُمِّهِ وَمَحْمُودُ بْنُ لَبِيدٍ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَرَآهُ وَهُوَ غُلاَمٌ صَغِيرٌ ‏.‏


Qatadah bin An-Nu'man narrated that the Messenger of Allah (s.a.w) said: "When Allah loves a slave, He prevents him from the world, just as one of you prevents his sick from water."


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ সূরা আন-নিসা

৩০৩৬. হাসান ইবন আহমদ ইবন আবূ শুআয়ব আবূ মুসলিম হাররানী (রহঃ) ..... কাতাদা ইবন নু’মান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমাদের এক পরিবার ছিল এদেরকে বানু উবায়রিক বলা হত। এদের নাম ছিল বিশর, বুশায়র এবং মুবাশশির। বুশায়র ছিল মুনাফিক। সে সাহাবীদের নিন্দা করে কবিতা রচনা করত পরে তা অন্য কোন আরবের প্রতি আরোপ করে বলতঃ অমুকে অমুক কথা বলেছে। সাহাবীরা যখন এই কবিতা শুনতেন তারা বলতেনঃ আল্লাহর কসম, এই খবীছ ছাড়া এই কবিতা অন্য কেউ রচনা করেনি। ইবনুল উবায়রিকই তা রচনা করেছে।

কাতাদা বলেনঃ জাহেলী ও ইসলামী যুগেও এই পরিবারটি ছিল অভাবগ্রস্থ এবং উপবাস তাড়িত। মদীনার লোকদের খাদ্য ছিল খেজুর ও যব। কেউ যদি স্বচ্ছল হত তবে শাম থেকে কোন খাদ্য ব্যবসায়ী ময়দা নিয়ে আসলে তা সে কিনে নিত এবং নিজের ব্যবহারের জন্য তা বিশেষ করে রেখে দিত। আর ঐ খেজুর ও যবই হত পরিবারের অন্যদের খাদ্য।

একবার শাম থেকে ব্যবসায়ী এল। আমার চাচা রিফাআ ইবন যায়দ তার নিকট থেকে এক বোঝা ময়দা কিনেন এবং তা ভাঁড়ার ঘরে রেখে গেল। ঐ কুঠুরীতে অস্ত্রশস্ত্র, বর্ম, তরবারি ইত্যাদিও ছিল। কিন্তু কুঠুরিটির নীচ দিয়ে একদিন চুরি হয়ে গেল। ভাঁড়ারের নীচ দিয়ে সিঁদ কেটে ও অস্ত্রশ্স্ত্র লোপাট হয়ে যায়। সকালে আমার চাচা রিফাআ আমার কাছে এলেন। বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আজ রাতে তো আমাদের উপর জুলম হয়ে গেল। আমাদের ভাঁড়ারের সিঁদ কেটে খাদ্য ও অস্ত্রশস্ত্র সব লোপাট করে ফেলেছে। মহল্লায় বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়েছি এবং (বিভিন্ন জনকে) জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, আজ রাতে বানূ উবায়রিকদের ঘরে বাতি জ্বালাতে দেখেছি। যতটুকু দেখেছি তাতে তোমাদের খাদ্যের সামনেই এদের দেখেছি।

বানূ উবায়রিক বলছে, আল্লাহর কসম, লাবীদ ইবন সাহলই তোমাদের ঐ চোর বলে আমাদের মনে হয়। অথচ আমরা মহল্লাবাসীদের এই বিষয়ে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আর লাবীদ হচ্ছেন আমাদের মাঝে অত্যন্ত নেক এবং আন্তরিকভাবে ইসলামের অধিকারী ব্যক্তি। লাবীদ এই কথা শুনে তলোয়ার কোষ মুক্ত করে এলেন, বললেনঃ আমি চুরি করেছি? আল্লাহর কসম হয়ত এই তরবারীর সঙ্গে তোমাদের মিলন ঘটবে নয়ত তোমরা এই চুরির সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ করবে। লোকজনরা বললঃ ওহে ব্যাটা, সরে দাঁড়াও। তুমি আমাদের ঐ চোর নও। যা হোক, আমরা মহল্লায় আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে নিঃসন্দেহ হলাম যে, এ বানূ উবায়রিকেরই কান্ড। শেষে আমার চাচা আমাকে বললেনঃ হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে বিষয়টা নিয়ে যদি আলোচনা করতে!

কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গেলাম। বললাম, আমাদের মহল্লায় একটা জালিম পরিবার আছে। আমার চাচা রিফাআ ইবন যায়দ-এর ক্ষতি সাধনের ইচ্ছায় তার ভাঁড়ারে সিঁদ কেটে তার অস্ত্রশস্ত্র এবং খাদ্য সবই নিয়ে গেছে। আমাদের অস্ত্রশস্ত্রগুলো ফেরত নিয়ে দিন। আমাদের খাদ্যের দরকার নেই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ বিষয়টি নিয়ে আমি শিগগীরই পরামর্শ করব।

বানূ উবায়রিক যখন এই কথা শুনল তখন তারা উসায়র ইবন উরওয়া নামক তাদের এক ব্যক্তির কাছে এল এবং এই বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করল এই বাড়ির কিছু লোক একত্রিত হয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! কাতাদা ইবন নু’মান ও তার চাচা আমাদের একটি সৎ ও মুসলিম পরিবারের ক্ষতি-সাধনের ইচ্ছায় কোনরূপ সাক্ষী-প্রমাণ ছাড়াই তাদের উপর চুরির অপবাদ দিচ্ছে।

কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম এবং বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললাম। তিনি বললেনঃ এমন একটি পরিবার যাদের ইসলাম ও সততা সম্পর্কে খ্যাতি আছে তাদের তুমি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছায় কোন প্রমাণ ছাড়াই চুরির অপবাদ দিচ্ছে!

আমি ফিরে চলে এলাম। আমি তখন পছন্দ করছিলাম যে, আমার কিছু সম্পদ যদি চলেও যেত তবু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে এই নিয়ে যদি আলাপ না করতাম! আমার চাচা রিফআ আমার কাছে এলেন এবং বললেনঃ হে ভাতিজা! (আমার বিষয়টির) কি করলে?

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা বলেছিলেন তা আমি তাকে জানালাম। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ই একমাত্র সাহায্য-প্রার্থনাস্থল। এরপর আর বেশীক্ষণ না যেতেই কুরআনের এই আয়াত নাযিল হলঃ

إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلاَ تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا

সত্যসহ আপনার কাছে কিতাব নাযিল করেছি যাতে আল্লাহ আপনাকে যা জ্ঞাত করিয়েছেন তদনুসারে আপনি লোকদের মাঝে ফয়সালা প্রদান করেন। খিয়ানতকারীদের (যেমন, বানু উবায়রিকের পক্ষে) তর্ক করবেন না।

কাতাদাকে যা বলেছেন তজ্জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করুন। আল্লাহ্ অবশ্যই অতিশয় ক্ষমাশীল। পরম দয়ালু।

যারা নিজেদের প্রতারিত করে তাদের পক্ষে তর্কবিতর্ক করবেন না। আল্লাহ্ তা’আলা খিয়ানতকারী পাপীকে পছন্দ করেন না।

তারা লোকদের থেকে গোপন করতে চায় কিন্তু আল্লাহ্ থেকে গোপন করে না। অথচ রাত্রে যখন তারা তাঁর নিকট অপছন্দনীয় কথা নিয়ে আলোচনা করে তখনও তো তিনি তাদের সঙ্গেই আছেন ...... আল্লাহর বাণী - ’পরম দয়ালু’ পর্যন্ত।

অর্থাৎ এরা যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তবে তিনি তাদের ক্ষমা করে দিবেন।

কেউ কোন দোষ বা পাপ করে তা কোন নির্দোষ ব্যক্তির উপর আরোপ করে- যেমন লাবীদ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য - সে তো মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।

আপনার প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকত তাদের একদল তো আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে সংকল্প আঁটত। কিন্তু তারা নিজদের ব্যতীত আর কাউকে পথভ্রষ্ট করে না; আপনার কোনই ক্ষতি তারা করতে পারবে না। আল্লাহ্ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আপনার প্রতি রয়েছে আল্লাহর মহা অনুগ্রহ।

তাদের অনেক গোপন সলা-পরামর্শেই কোন কল্যাণ নেই। তবে যে দান- খয়রাত, সৎকার্য ও মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয় তার পরামর্শে কল্যাণ আছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি তালাশে তা করে তাকে দিব মহা পুরস্কার (৪ঃ ১০৫-১১৪)।

কুরআনের আয়াত নাযিল হওয়ার পর রাসূলু্ল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অস্ত্র ফেরত নিয়ে আসা হয় এবং তিনি তা রিফাআকে দিয়ে দেন।

কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমার চাচা ছিলেন একজন বৃদ্ধ লোক। জাহিলী যুগ তিনি অতিবাহিত করেছেন কিংবা তিনি বলেছেনঃ জাহিলী যুগেই তিনি অতিশয় বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। আমার ধারণা ছিল যে, তিনি ইসলামে প্রবিষ্ট ছিলেন। তাঁর কাছে যখন অস্ত্র ফেরত নিয়ে আসলাম তখন তিনি বললেনঃ হে ভ্রাতুষ্পুত্র! এটি আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিলাম। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি সঠিক ভাবেই ইসলামে দাখিল হয়েছেন।

কুরআনের এই আয়াতে নাযিল হওয়ার পর বুশায়র মুশরিকদের সাথে গিয়ে মিশে যায় এবং সুলাফা বিনত সা’দ ইবন সুমাইয়ার কাছে উঠে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা নাযিল করলেনঃ

وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا * إِنَّ اللَّهَ لاَ يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا

কারো নিকট সৎপথ সুস্পষ্ট হওয়ার পরও সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচারণ করে এবং মু’মিনদের পথ ধরে তবে যে দিকে সে ফিরে যায় সে দিকেই তাকে ফিরিয়ে দিব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব। আর তা কতই না মন্দ আবাস!

আল্লাহ্ তাঁর সঙ্গে শরীক করা ক্ষমা করেন না। তাছাড়া যার জন্য ইচ্ছা তিনি তার অন্য সব পাপ ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়। (৪ঃ ১১৫-১১৬)।

বুশায়র সুলাফার এখানে আশ্রয় নিলে হাসসান ইবন ছাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু কবিতা-চরণের মাধ্যমে তাকে আক্রমণ করেন। তখন ঐ মহিলা বুশায়রের মাল-সমান মাথায় তুলে আবতাহে নিয়ে ফেলে দিল। পরে বললঃ হাসসানের কবিতা আমার জন্য হাদিয়া নিয়ে এলে, আমার জন্য ভাল কিছু নিয়ে আসতে পারলে না?

হাদিসটি গারীব। মুহাম্মাদ ইবন সালাম হাররানী ছাড়া আর কেউ এটি মুসনাদ রূপে রিওয়ায়ত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইউনুস ইবন বুকায়র প্রমুখ (রহঃ) এই হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক-আসিম ইবন উমার ইবন কাতাদা (রহঃ) সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এতে তার পিতা উমর এবং তার পিতামহ কাতাদা-এর উল্লেখ নেই। কাতাদা ইবন নু’মান রাদিয়াল্লাহু আনহু হলেন আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মা শরীক ভাই। আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নাম হল সা’দ ইবন মালিক ইবন সিনান।

হাসান, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৩০৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

بَابٌ: وَمِنْ سُورَةِ النِّسَاءِ

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي شُعَيْبٍ أَبُو مُسْلِمٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ قَالَ كَانَ أَهْلُ بَيْتٍ مِنَّا يُقَالُ لَهُمْ بَنُو أُبَيْرِقٍ بِشْرٌ وَبَشِيرٌ وَمُبَشِّرٌ وَكَانَ بَشِيرٌ رَجُلاً مُنَافِقًا يَقُولُ الشِّعْرَ يَهْجُو بِهِ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَنْحَلُهُ بَعْضَ الْعَرَبِ ثُمَّ يَقُولُ قَالَ فُلاَنٌ كَذَا وَكَذَا قَالَ فُلاَنٌ كَذَا وَكَذَا فَإِذَا سَمِعَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ الشِّعْرَ قَالُوا وَاللَّهِ مَا يَقُولُ هَذَا الشِّعْرَ إِلاَّ هَذَا الْخَبِيثُ أَوْ كَمَا قَالَ الرَّجُلُ وَقَالُوا ابْنُ الأُبَيْرِقِ قَالَهَا قَالَ وَكَانَ أَهْلُ بَيْتِ حَاجَةٍ وَفَاقَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَالإِسْلاَمِ وَكَانَ النَّاسُ إِنَّمَا طَعَامُهُمْ بِالْمَدِينَةِ التَّمْرُ وَالشَّعِيرُ وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا كَانَ لَهُ يَسَارٌ فَقَدِمَتْ ضَافِطَةٌ مِنَ الشَّامِ مِنَ الدَّرْمَكِ ابْتَاعَ الرَّجُلُ مِنْهَا فَخَصَّ بِهَا نَفْسَهُ وَأَمَّا الْعِيَالُ فَإِنَّمَا طَعَامُهُمُ التَّمْرُ وَالشَّعِيرُ فَقَدِمَتْ ضَافِطَةٌ مِنَ الشَّامِ فَابْتَاعَ عَمِّي رِفَاعَةُ بْنُ زَيْدٍ حِمْلاً مِنَ الدَّرْمَكِ فَجَعَلَهُ فِي مَشْرَبَةٍ لَهُ وَفِي الْمَشْرَبَةِ سِلاَحٌ وَدِرْعٌ وَسَيْفٌ فَعُدِيَ عَلَيْهِ مِنْ تَحْتِ الْبَيْتِ فَنُقِبَتِ الْمَشْرَبَةُ وَأُخِذَ الطَّعَامُ وَالسِّلاَحُ فَلَمَّا أَصْبَحَ أَتَانِي عَمِّي رِفَاعَةُ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي إِنَّهُ قَدْ عُدِيَ عَلَيْنَا فِي لَيْلَتِنَا هَذِهِ فَنُقِبَتْ مَشْرَبَتُنَا فَذُهِبَ بِطَعَامِنَا وَسِلاَحِنَا ‏.‏ قَالَ فَتَحَسَّسْنَا فِي الدَّارِ وَسَأَلْنَا فَقِيلَ لَنَا قَدْ رَأَيْنَا بَنِي أُبَيْرِقٍ اسْتَوْقَدُوا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَلاَ نُرَى فِيمَا نُرَى إِلاَّ عَلَى بَعْضِ طَعَامِكُمْ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ بَنُو أُبَيْرِقٍ قَالُوا وَنَحْنُ نَسْأَلُ فِي الدَّارِ وَاللَّهِ مَا نُرَى صَاحِبَكُمْ إِلاَّ لَبِيدَ بْنَ سَهْلٍ رَجُلٌ مِنَّا لَهُ صَلاَحٌ وَإِسْلاَمٌ فَلَمَّا سَمِعَ لَبِيدٌ اخْتَرَطَ سَيْفَهُ وَقَالَ أَنَا أَسْرِقُ فَوَاللَّهِ لَيُخَالِطَنَّكُمْ هَذَا السَّيْفُ أَوْ لَتُبَيِّنُنَّ هَذِهِ السَّرِقَةَ ‏.‏ قَالُوا إِلَيْكَ عَنْهَا أَيُّهَا الرَّجُلُ فَمَا أَنْتَ بِصَاحِبِهَا ‏.‏ فَسَأَلْنَا فِي الدَّارِ حَتَّى لَمْ نَشُكَّ أَنَّهُمْ أَصْحَابُهَا فَقَالَ لِي عَمِّي يَا ابْنَ أَخِي لَوْ أَتَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتَ ذَلِكَ لَهُ ‏.‏ قَالَ قَتَادَةُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنَّ أَهْلَ بَيْتٍ مِنَّا أَهْلَ جَفَاءٍ عَمَدُوا إِلَى عَمِّي رِفَاعَةَ بْنِ زَيْدٍ فَنَقَبُوا مَشْرَبَةً لَهُ وَأَخَذُوا سِلاَحَهُ وَطَعَامَهُ فَلْيَرُدُّوا عَلَيْنَا سِلاَحَنَا فَأَمَّا الطَّعَامُ فَلاَ حَاجَةَ لَنَا فِيهِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ سَآمُرُ فِي ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا سَمِعَ بَنُو أُبَيْرِقٍ أَتَوْا رَجُلاً مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ أَسِيرُ بْنُ عُرْوَةَ فَكَلَّمُوهُ فِي ذَلِكَ فَاجْتَمَعَ فِي ذَلِكَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ قَتَادَةَ بْنَ النُّعْمَانِ وَعَمَّهُ عَمَدَا إِلَى أَهْلِ بَيْتٍ مِنَّا أَهْلِ إِسْلاَمٍ وَصَلاَحٍ يَرْمُونَهُمْ بِالسَّرِقَةِ مِنْ غَيْرِ بَيِّنَةٍ وَلاَ ثَبْتٍ ‏.‏ قَالَ قَتَادَةُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمْتُهُ فَقَالَ ‏"‏ عَمَدْتَ إِلَى أَهْلِ بَيْتٍ ذُكِرَ مِنْهُمْ إِسْلاَمٌ وَصَلاَحٌ تَرْمِيهِمْ بِالسَّرِقَةِ عَلَى غَيْرِ ثَبْتٍ وَلاَ بَيِّنَةٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَرَجَعْتُ وَلَوَدِدْتُ أَنِّي خَرَجْتُ مِنْ بَعْضِ مَالِي وَلَمْ أُكَلِّمْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَأَتَانِي عَمِّي رِفَاعَةُ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي مَا صَنَعْتَ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللَّهُ الْمُسْتَعَانُ فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ نَزَلَ الْقُرْآنُ ‏:‏ ‏(‏ إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلاَ تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا ‏)‏ بَنِي أُبَيْرِقٍ ‏:‏ ‏(‏ وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ‏)‏ أَىْ مِمَّا قُلْتَ لِقَتَادَةَ ‏:‏ ‏(‏ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا * وَلاَ تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا * يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلاَ يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ غَفُورًا رَحِيمًا ‏)‏ أَىْ لَوِ اسْتَغْفَرُوا اللَّهَ لَغَفَرَ لَهُمْ ‏:‏ ‏(‏ وَمَنْ يَكْسِبْ إِثْمًا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُ عَلَى نَفْسِهِ ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ إِثْمًا مُبِينًا ‏)‏ قَوْلُهُمْ لِلَبِيدٍ ‏:‏ وَلَوْلاَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ‏)‏ فَلَمَّا نَزَلَ الْقُرْآنُ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالسِّلاَحِ فَرَدَّهُ إِلَى رِفَاعَةَ فَقَالَ قَتَادَةُ لَمَّا أَتَيْتُ عَمِّي بِالسِّلاَحِ وَكَانَ شَيْخًا قَدْ عَسِيَ أَوْ عَشِيَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكُنْتُ أُرَى إِسْلاَمَهُ مَدْخُولاً فَلَمَّا أَتَيْتُهُ بِالسِّلاَحِ قَالَ يَا ابْنَ أَخِي هُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَعَرَفْتُ أَنَّ إِسْلاَمَهُ كَانَ صَحِيحًا فَلَمَّا نَزَلَ الْقُرْآنُ لَحِقَ بَشِيرٌ بِالْمُشْرِكِينَ فَنَزَلَ عَلَى سُلاَفَةَ بِنْتِ سَعْدِ ابْنِ سُمَيَّةَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ‏:‏ ‏(‏ وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا * إِنَّ اللَّهَ لاَ يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا ‏)‏ فَلَمَّا نَزَلَ عَلَى سُلاَفَةَ رَمَاهَا حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ بِأَبْيَاتٍ مِنْ شِعْرِهِ فَأَخَذَتْ رَحْلَهُ فَوَضَعَتْهُ عَلَى رَأْسِهَا ثُمَّ خَرَجَتْ بِهِ فَرَمَتْ بِهِ فِي الأَبْطَحِ ثُمَّ قَالَتْ أَهْدَيْتَ لِي شِعْرَ حَسَّانَ مَا كُنْتَ تَأْتِينِي بِخَيْرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا أَسْنَدَهُ غَيْرَ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيِّ ‏.‏ وَرَوَى يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ مُرْسَلٌ لَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ وَقَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ هُوَ أَخُو أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ لأُمِّهِ وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ اسْمُهُ سَعْدُ بْنُ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ ‏.‏


Narrated Qatadah bin An-Nu'man: "There was a household among us called Banu Ubairiq, among whom was a Bishr, a Bushair, and a Mubashshir. Bushair was a hypocrite who would recite poetry reviling the Companions of the Prophet (ﷺ) then he would attribute it to some of the Arabs. Then he would say: 'So-and-so said this and that [So-and-so said this and that].' So when the Companions of the Prophet (ﷺ) would hear that poetry, they would say: 'By Allah! No one but this filthy person said this poetry - or as the man said - and they would say: 'Ibn Al-Ubairiq said it.'" He said: "They were a poor and needy household during Jahiliyyah and Islam. The only food the people of Al-Madinah had was dates and barely. When a man was able to, he would import flour from Ash-Sham which he bought and kept for himself. As for his dependants, their only food was dates and barely. So an import arrived from Ash-Sham, and my uncle Rifa'ah bin Zaid bought a load of it, which he put in a storage area he had, where he kept his weapons - his shield and his sword. But it was taken from him from under the house. The storage was broken into and and the food and weapons were taken. In the morning, my uncle Rifa'ah came to me and said: 'O my nephew! We were robbed during the night, our storage was broken into, and our food and weapons are gone.'" He said: "They overheard us in the house, and questioned us, and someone said to us, 'We saw Banu Ubairiq cooking during the night, and it looked like they had some of your food.'" He said: "Banu Ubairiq were saying - while we were questioning them amidst their dwellings - 'By Allah! We do not think the one you are looking for is other than Labid bin Sahl, a man among us who is righteous and accepted Islam.' When Labid heard that, he brandished his sword and said: 'I stole? By Allah! You either prove this theft, or I take to you with this sword.' They said: 'Leave us O man! You are not the one who has it.' So we continued questioning in the dwellings until we had no doubt that they had taken it. So my uncle said to me: 'O my nephew! You should go to the Messenger of Allah (ﷺ) and tell him about that.'" Qatadah said: "So I went to the Messenger of Allah (ﷺ) and said: 'A family among us are ill-mannered, and they conspired against my uncle Rifa'ah bin aid. They broken into his storage and took his weapons and his food. We want them to return our weapons, but we have no need for the food.' So the Prophet (ﷺ) said: 'I will decide about that.' So when Banu Ubairiq heard about that, they brought a man from among them named Usair bin 'Urwah to talk to him about that, and some people form their houses gathered and said: 'O Messenger of Allah! Qatadah bin An-Nu'man and his uncle came came to a family among us who are a people of Islam and righteousness, accusing them of stealing without proof or confirmation.'" Qatadah said: "I went to the Messenger of Allah (ﷺ) and spoke to him, and he said: 'You went to a family among them known for their Islam and righteousness, and accused them of stealing without confirmation or proof.'" He said: "So I returned wishing that I had lost some of my wealth, and that the Messenger of Allah (ﷺ) had not been spoke to about that. My uncle Rifa'ah came to me and said: 'O my nephew! What did you do?' So I told him what the Messenger of Allah (ﷺ) said to me, so he said: 'It is from Allah, Whom we seek help.' It was not long before the Qur'an was revealed: 'Surely, We have sent down to you the Book in truth, that you might judge between men by that which Allah has shown you, so be not a pelader for the treacherous.' That is Banu Ubairiq. 'And seek forgiveness from Allah.' [That is] from what you said to Qatadah. 'Certainly Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful. And argue not on behalf of those who deceive themselves. Verily, Allah does not like anyone who is a betrayer, sinner. They may hide from men, but they cannot hide from Allah for He is with them up to His saying: 'Most Merciful.' That is: If you seek Allah's forgiveness then He will forgive you. 'And whoever earns sin, he earns it only against himself...' up to His saying: 'A manifest sin.' Their saying about Labid; 'Had it not been for the grace of Allah and His Mercy upon you...' up to His saying: 'We shall give him a great reward.' (4:105-115)" So when the Qur'an was revealed, the Messenger of Allah (ﷺ) brought the weapon and returned it to Rifa'ah. Qatadah said: "When the weapon was brought to my uncle - and he was an elderly man with bad sight" or "an elderly weak man" - Abu 'Eisa was in doubt - "in Jahiliyyah, and I thought that he merely had entered into Islam (without real sincerity) but when I brought it to him, he said: 'O my nephew! It is for Allah's cause.' So I knew that his Islam was genuine. When the Qur'an was revealed, Bushair went with the idolaters, staying with Sulafah bint Sa'd bin Sumayyah. So Allah, Most High, revealed: Whoever contradicts and opposes the Messenger after the right path has been shown clearly to him, and follows other than the believers' way, We shall keep him in the path he has chosen, and burn him in Hell - what an evil destination. Verily Allah forgives not associating others with Him, but He forgives what is less than that for whomever He wills. And whoever associates others with Allah, then he has indeed strayed away (4:115-116). "When he went to stay with Sulafah, Hassan bin Thabit lampooned her with verses of poetry. So she took his saddle, put it on her head, then she left with it to cast into the valley. Then she said: 'You gave me the poetry of Hassan - you did not bring me any good.'"


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ১. রুগ্ন অবস্থায় সংযত পানাহার

২০৩৬। কাতাদা ইবনুন নুমান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যখন কোন বান্দাহকে ভালবাসেন তাকে দুনিয়া হতে বাঁচিয়ে রাখেন, যেমন তোমাদের কেউ তার রোগীকে পানি হতে বাচিয়ে রাখে।

সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী (৫২৫০)।

আবূ ঈসা বলেন, সুহাইব এবং উন্মুল মুনযির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীসটি মুরসালরূপেও মাহমূদ ইবনু লাবীদের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে। আলী ইবনু হুজর-ইসমাঈল ইবনু জাফর ইবনি কাতাদা হতে, তিনি মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রাঃ) হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (উপরের হাদীসের) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সূত্রে কাতাদার উল্লেখ নেই। আবূ ঈসা বলেন, কাতাদা (রাঃ) আবূ সাঈদ আল-খুদরীর বৈপিত্রেয় ভাই। মাহমুদ ইবনু লাবীদ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তিনি তখন ছোট বালক ছিলেন।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفَرْوِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا حَمَاهُ الدُّنْيَا كَمَا يَظَلُّ أَحَدُكُمْ يَحْمِي سَقِيمَهُ الْمَاءَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ صُهَيْبٍ وَأُمِّ الْمُنْذِرِ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ الظَّفَرِيُّ هُوَ أَخُو أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ لأُمِّهِ وَمَحْمُودُ بْنُ لَبِيدٍ قَدْ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَرَآهُ وَهُوَ غُلاَمٌ صَغِيرٌ ‏.‏


Qatadah bin An-Nu'man narrated that the Messenger of Allah (s.a.w) said: "When Allah loves a slave, He prevents him from the world, just as one of you prevents his sick from water."


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৫. সূরা আন নিসা

৩০৩৬। কাতাদাহ্ ইবনুন নুমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বানু উবাইরিক নামে একটি পরিবার ছিল। ঐ পরিবারে বিশর, বুশাইর ও মুবাশশির নামে তিনজন লোক ছিল। বুশাইর ছিল মুনাফিক। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গী সাথীদের কুৎসা বর্ণনামূলক কবিতা রচনা করত, তারপর অপরাপর আরবদের প্রতি সেগুলো আরোপ করে বলত, অমুকে এরূপ এরূপ কথা বলেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ যখন তা শুনতেন তখন বলতেন, আল্লাহর শপথ। ঐ অপদার্থ (খবীস) লোকটি ব্যতীত আর কেউ এ কবিতা রচনা করেনি বা একই রকম কোন মন্তব্য করতেন। যাই হোক তারা বলতেন, এটা ইবনুল উবাইরকেরই (বুশাইর) কবিতা।

বর্ণনাকারী বলেন, জাহিলী ও ইসলামী উভয় যুগে এ পরিবারটি ছিল অভাবগ্রস্ত ও দুর্ভিক্ষ পীড়িত। মাদীনায় লোকদের প্রধান খাদ্য ছিল খেজুর ও আটা। কেউ সম্পদশালী হলে সিরিয়া হতে কোন খাদ্যদ্রব্যের ব্যবসায়ী সাদা আটা বা ময়দা নিয়ে এলে সে ঐ (ব্যবসায়ী) কাফিলা হতে ময়দা কিনে নিয়ে সঞ্চয় করে রাখত নিজের ব্যবহারের জন্য। অবশিষ্ট পরিবার-পরিজনের জন্য থাকতো খেজুর ও গম।

একবারের ঘটনা, সিরিয়া হতে একটি খাদ্য ব্যবসায়ী কাফিলা এলো। আমার চাচা রিফা'আহ ইবনু যাইদ (তাদের হতে) এক বস্তা ময়দা কিনলেন এবং ভাড়ার ঘরে রেখে দিলেন। একই জায়গায় অস্ত্রশস্ত্র, বর্ম ও তলোয়ারও ছিল। এদিকে ঘরের নিচ দিয়ে তার মাল আসবাব চুরি হয়ে গেল। গোপনে সিদ কেটে উক্ত ঘরে রক্ষিত ময়দা ও অস্ত্রশস্ত্র লাপাত্তা হয়ে গেল।

ভোরবেলা আমার চাচা রিফা'আহ আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, হে ভাতিজা! আমার উপর তো এ রাতে যুলুম হয়ে গেল। আমার ভাড়ারের ঘরে সিদ কেটে খাবার (ময়দা) ও অস্ত্রশস্ত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মহল্লায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখলাম ও জিজ্ঞাসাবাদ করলাম। আমাদের বলা হল, আমরা আজ রাতে বানু উবাইরিকদের ঘরে আলো জ্বালাতে দেখেছি। আমাদের ধারণা মতে তারা তোমাদের খাদ্যাদির তালাশেই আলো জ্বালিয়েছিল।

রিফা'আহ বললেন, আমরা যখন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলাম তখন উবাইরিকের লোকেরা বলল, আল্লাহর শপথ আমরা মনে করি তোমাদের এই চোর লাবীদ ইবনু সাহল ব্যতীত আর কেউ নয়। আমরা আগেই মহল্লাবাসীদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। লাবীদ ছিলেন আমাদেরই মধ্যকার একজন সৎ ও ভালো মুসলিম। লাবীদ এ কথা শুনামাত্র খাপ হতে তলোয়ার বের করে বললেন, আমি চুরি করি? আল্লাহর কসম! হয় আমার এ তলোয়ারের সাথে তোমার সাক্ষাত হবে অথবা তোমরা এ চুরির সাক্ষ্য-প্রমাণ হাযির করবে।

তখন লোকেরা বলল, যাও তুমি আমাদের সামনে থেকে সরে দাড়াও। তুমি এ কাজ করোনি। এরপরও আমরা এ ব্যাপারে মহল্লায় জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হলাম যে, বানু উবাইরিকই এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। অবশেষে আমার চাচা আমাকে বললেন, হে ভাতিজা! তুমি ঘটনার বৃত্তান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জানালে ভালো হত।

কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে বললাম, আমাদের মহল্লায় একটি যালিম পরিবার আছে এবং তারা আমার চাচা রিফা'আহ ইবনু যাইদের ভাণ্ডার কক্ষে সিঁদ কেটে তার অস্ত্রশস্ত্র ও খাদ্যাদি চুরি করে নিয়ে গেছে। আমাদের অস্ত্রশস্ত্র ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করুন, খাদ্যদ্রব্যাদির প্রয়োজন নেই।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি শীঘ্রই এ ব্যাপারে একটা ফাইসালা করে দিচ্ছি। বনু উবাইরিক এ কথা শুনার পর তাদের নিজেদের এক লোকের নিকট এলো, যার নাম ছিল উসাইর ইবনু ‘উরওয়াহ। তারা তার সাথে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করল। এ বাড়ির কিছু লোক একত্র হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কাতাদাহ ইবনুন নুমান ও তার চাচা আমাদের এক সৎ ও মুসলিম পরিবারের পেছনে লেগেছে এবং কোন প্রমাণ ব্যতীতই তারা তাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করছে।

কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে (বিষয়টি নিয়ে) তার সাথে কথা বললাম। তিনি বললেনঃ তুমি এমন এক পরিবারের বিরুদ্ধে বিনা প্রমাণে চুরির অপবাদ দিচ্ছ, যাদের সততা ও ইসলাম সম্পর্কে সুনাম আছে।

কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি ফিরে আসলাম। আমি মনে মনে বললাম, আমার এ সামান্য মাল হাতছাড়া হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এ বিষয়ে আলাপ না করতাম। এরপর আমার চাচা রিফা'আহ আমার নিকট এসে বললেন, হে ভাতিজা! (আমার ব্যাপারে) কি করেছ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যা কিছু বলেছেন, আমি তাকে তা জানালাম।

তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলাই প্রকৃত সাহায্যকারী। এরপর কিছু সময় না যেতেই কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয় (ব্যাখ্যাসহ অনুবাদ) “নিশ্চয়ই আমি এ কিতাব সত্য সহকারে তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, যেন আল্লাহ তা'আলা তোমাকে যা জ্ঞাত করেছেন তদনুসারে লোকদের মধ্যে মীমাংসা করতে পার। তুমি খিয়ানাতকারীদের পক্ষে (যেমন বনু উবাইরিকের সমর্থনে) বিতর্ককারী হয়ো না। আর তুমি আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর (কাতাদাহকে যা বলেছ তার জন্য)। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা বড়ই ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

যারা নিজেদেরকে প্রতারিত করে তুমি তাদের সাহায্য করো না। আল্লাহ তা'আলা খিয়ানাতকারী পাপিষ্ঠদেরকে পছন্দ করেন না। এরা মানুষের হতে লুকাতে পারে, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা হতে গোপন হতে পারে না, কেননা তিনি তাদের সঙ্গেই থাকেন, যখন তারা রাতের বেলা গোপনে গোপনে তার মর্জি বিরুদ্ধ পরামর্শ করে। এদের সমস্ত কাজই আল্লাহ তা'আলা জ্ঞাত।

আহা! তোমরাই এসব অপরাধীর পক্ষ সমর্থনে পার্থিব জীবনে বিতর্ক করছ, কিন্তু কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা'আলার সামনে এদের পক্ষে কে ঝগড়া করবে অথবা কে তাদের উকিল হবে? কেউ কোন পাপকৰ্ম করলে বা নিজের উপর যুলুম করলে তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে সে আল্লাহ তা'আলাকে ক্ষমাকারী ও অনুগ্রহশীল পাবে (অর্থাৎ তারা আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন)। কেউ গুনাহের কাজ করলে সে তা নিজের ক্ষতির জন্যই করে। আল্লাহ তা'আলা সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

কেউ কোন সমস্যা বা পাপকৰ্ম করে তারপর তা কোন নির্দোষ ব্যক্তির প্রতি আরোপ করলে (যেমন লাবীদ প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য) সে তো সাংঘাতিক মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। তোমার প্রতি আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তাদের একটি দল তোমাকে পথভ্রষ্ট করতে চাইত। কিন্তু তারা নিজেদের ব্যতীত অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং তোমার কোন ক্ষতিও করতে পারে না।

আল্লাহ তা'আলা তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমাত অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমাকে এমন জ্ঞান জানিয়ে দিয়েছেন যা তুমি জানতে না। তোমার প্রতি আল্লাহ তা'আলার বিরাট অনুগ্রহ আছে। তাদের বেশির ভাগ গোপন সলা-পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই। অবশ্য কেউ কাউকে দান-খাইরাতের কিংবা কোন ভালো কাজের জন্য অথবা লোকদের মাঝে শান্তি স্থাপনের উপদেশ দিলে তাতে কল্যাণ আছে। আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে কেউ এরূপ করলে তাকে অবশ্যই আমি মহাপুরস্কার দিব।”

(সূরা আন-নিসা ১০৫-১১৪)

কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অপহৃত অস্ত্র ফেরত আনা হল। তিনি তা রিফা'আহ (রাযিঃ)-কে ফিরিয়ে দিলেন। কাতাদাহ (রাযিঃ) বলেন, আমার চাচা ছিলেন বৃদ্ধ। জাহিলিয়াতের যুগে তার রাতকানা রোগ হয়েছিল, অথবা বলেছেন, জাহিলিয়াতের আমলেই বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন (আবূ ঈসার সন্দেহ)। আমার ধারণা ছিল যে, তিনি ইসলামে দাখিল ছিলেন। আমি তার নিকট অস্ত্র ফেরত নিয়ে আসলে তিনি বললেন, হে ভাতিজা এটা আমি আল্লাহ তা'আলার রাস্তায় দান করে দিলাম। এবার আমার প্রত্যয় জন্মালো যে, নিঃসন্দেহে তিনি একজন খাঁটি মুসলিম।

কুরআনের উক্ত আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার পর বুশাইর মুশরিকদের সাথে গিয়ে মিলিত হয় এবং সা'দ ইবনু সুমাইয়্যার কন্যা সুলাফার নিকট অবস্থান গ্রহণ করে। তখন আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করেনঃ

কারো নিকট সৎপথ প্রকাশিত হওয়ার পর সে যদি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথের অনুসরণ করে, তবে যে দিকে সে ফিরে যায় আমরা সেদিকেই তাকে ফিরিয়ে দিব এবং জাহান্নামে তাকে দগ্ধ করব। আর তা কত মন্দ আবাস। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তার সাথে শারীক করাকে ক্ষমা করেন না, তা ব্যতীত সবকিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং কেউ আল্লাহ তা'আলার সাথে শরীক করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়"- (সূরা আন-নিসা ১১৫-১১৬)।

 বুশাইর যখন সুলাফার নিকট আশ্রয় নিল, তখন হাসসান ইবনু সাবিত (রাযিঃ) কিছু কবিতার চরণ দ্বারা সুলাফার নিন্দাবাদ করেন। এতে সুলাফা বুশাইরের মালপত্র নিজ মাথায় তুলে নিয়ে তা আবতাহ নামক স্থানে গিয়ে ফেলে দিল। সে আরো বলল, তুমি আমার জন্য হাসসানের (নিন্দাসূচক) কবিতা উপহার নিয়ে এলে, আমার জন্য উত্তম কিছু নিয়ে আসতে পারলে না|

হাসান।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। মুহাম্মাদ ইবনু সালামাহ আল-হাররানী ব্যতীত আর কেউ এটিকে মুসনাদরূপে রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক-আসিম ইবনু উমার ইবনু কাতাদাহ সূত্রে ইউনুস ইবনু বুকাইর প্রমুখ মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। তাতে তার বাবা-তার দাদা সূত্রের উল্লেখ নেই। কাতাদাহ্ ইবনুন নুমান মাতার দিক হতে আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ)-এর ভাই। আবূ সাঈদ (রাযিঃ)-এর নাম সাদ ইবনু মালিক ইবনু সিনান।

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي شُعَيْبٍ أَبُو مُسْلِمٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ قَالَ كَانَ أَهْلُ بَيْتٍ مِنَّا يُقَالُ لَهُمْ بَنُو أُبَيْرِقٍ بِشْرٌ وَبَشِيرٌ وَمُبَشِّرٌ وَكَانَ بَشِيرٌ رَجُلاً مُنَافِقًا يَقُولُ الشِّعْرَ يَهْجُو بِهِ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَنْحَلُهُ بَعْضَ الْعَرَبِ ثُمَّ يَقُولُ قَالَ فُلاَنٌ كَذَا وَكَذَا قَالَ فُلاَنٌ كَذَا وَكَذَا فَإِذَا سَمِعَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ الشِّعْرَ قَالُوا وَاللَّهِ مَا يَقُولُ هَذَا الشِّعْرَ إِلاَّ هَذَا الْخَبِيثُ أَوْ كَمَا قَالَ الرَّجُلُ وَقَالُوا ابْنُ الأُبَيْرِقِ قَالَهَا قَالَ وَكَانَ أَهْلُ بَيْتِ حَاجَةٍ وَفَاقَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَالإِسْلاَمِ وَكَانَ النَّاسُ إِنَّمَا طَعَامُهُمْ بِالْمَدِينَةِ التَّمْرُ وَالشَّعِيرُ وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا كَانَ لَهُ يَسَارٌ فَقَدِمَتْ ضَافِطَةٌ مِنَ الشَّامِ مِنَ الدَّرْمَكِ ابْتَاعَ الرَّجُلُ مِنْهَا فَخَصَّ بِهَا نَفْسَهُ وَأَمَّا الْعِيَالُ فَإِنَّمَا طَعَامُهُمُ التَّمْرُ وَالشَّعِيرُ فَقَدِمَتْ ضَافِطَةٌ مِنَ الشَّامِ فَابْتَاعَ عَمِّي رِفَاعَةُ بْنُ زَيْدٍ حِمْلاً مِنَ الدَّرْمَكِ فَجَعَلَهُ فِي مَشْرَبَةٍ لَهُ وَفِي الْمَشْرَبَةِ سِلاَحٌ وَدِرْعٌ وَسَيْفٌ فَعُدِيَ عَلَيْهِ مِنْ تَحْتِ الْبَيْتِ فَنُقِبَتِ الْمَشْرَبَةُ وَأُخِذَ الطَّعَامُ وَالسِّلاَحُ فَلَمَّا أَصْبَحَ أَتَانِي عَمِّي رِفَاعَةُ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي إِنَّهُ قَدْ عُدِيَ عَلَيْنَا فِي لَيْلَتِنَا هَذِهِ فَنُقِبَتْ مَشْرَبَتُنَا فَذُهِبَ بِطَعَامِنَا وَسِلاَحِنَا ‏.‏ قَالَ فَتَحَسَّسْنَا فِي الدَّارِ وَسَأَلْنَا فَقِيلَ لَنَا قَدْ رَأَيْنَا بَنِي أُبَيْرِقٍ اسْتَوْقَدُوا فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَلاَ نُرَى فِيمَا نُرَى إِلاَّ عَلَى بَعْضِ طَعَامِكُمْ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ بَنُو أُبَيْرِقٍ قَالُوا وَنَحْنُ نَسْأَلُ فِي الدَّارِ وَاللَّهِ مَا نُرَى صَاحِبَكُمْ إِلاَّ لَبِيدَ بْنَ سَهْلٍ رَجُلٌ مِنَّا لَهُ صَلاَحٌ وَإِسْلاَمٌ فَلَمَّا سَمِعَ لَبِيدٌ اخْتَرَطَ سَيْفَهُ وَقَالَ أَنَا أَسْرِقُ فَوَاللَّهِ لَيُخَالِطَنَّكُمْ هَذَا السَّيْفُ أَوْ لَتُبَيِّنُنَّ هَذِهِ السَّرِقَةَ ‏.‏ قَالُوا إِلَيْكَ عَنْهَا أَيُّهَا الرَّجُلُ فَمَا أَنْتَ بِصَاحِبِهَا ‏.‏ فَسَأَلْنَا فِي الدَّارِ حَتَّى لَمْ نَشُكَّ أَنَّهُمْ أَصْحَابُهَا فَقَالَ لِي عَمِّي يَا ابْنَ أَخِي لَوْ أَتَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتَ ذَلِكَ لَهُ ‏.‏ قَالَ قَتَادَةُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنَّ أَهْلَ بَيْتٍ مِنَّا أَهْلَ جَفَاءٍ عَمَدُوا إِلَى عَمِّي رِفَاعَةَ بْنِ زَيْدٍ فَنَقَبُوا مَشْرَبَةً لَهُ وَأَخَذُوا سِلاَحَهُ وَطَعَامَهُ فَلْيَرُدُّوا عَلَيْنَا سِلاَحَنَا فَأَمَّا الطَّعَامُ فَلاَ حَاجَةَ لَنَا فِيهِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ سَآمُرُ فِي ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا سَمِعَ بَنُو أُبَيْرِقٍ أَتَوْا رَجُلاً مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ أَسِيرُ بْنُ عُرْوَةَ فَكَلَّمُوهُ فِي ذَلِكَ فَاجْتَمَعَ فِي ذَلِكَ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ قَتَادَةَ بْنَ النُّعْمَانِ وَعَمَّهُ عَمَدَا إِلَى أَهْلِ بَيْتٍ مِنَّا أَهْلِ إِسْلاَمٍ وَصَلاَحٍ يَرْمُونَهُمْ بِالسَّرِقَةِ مِنْ غَيْرِ بَيِّنَةٍ وَلاَ ثَبْتٍ ‏.‏ قَالَ قَتَادَةُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمْتُهُ فَقَالَ ‏"‏ عَمَدْتَ إِلَى أَهْلِ بَيْتٍ ذُكِرَ مِنْهُمْ إِسْلاَمٌ وَصَلاَحٌ تَرْمِيهِمْ بِالسَّرِقَةِ عَلَى غَيْرِ ثَبْتٍ وَلاَ بَيِّنَةٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَرَجَعْتُ وَلَوَدِدْتُ أَنِّي خَرَجْتُ مِنْ بَعْضِ مَالِي وَلَمْ أُكَلِّمْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ فَأَتَانِي عَمِّي رِفَاعَةُ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي مَا صَنَعْتَ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اللَّهُ الْمُسْتَعَانُ فَلَمْ يَلْبَثْ أَنْ نَزَلَ الْقُرْآنُ ‏:‏ ‏(‏ إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلاَ تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا ‏)‏ بَنِي أُبَيْرِقٍ ‏:‏ ‏(‏ وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ‏)‏ أَىْ مِمَّا قُلْتَ لِقَتَادَةَ ‏:‏ ‏(‏ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا * وَلاَ تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا * يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلاَ يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ غَفُورًا رَحِيمًا ‏)‏ أَىْ لَوِ اسْتَغْفَرُوا اللَّهَ لَغَفَرَ لَهُمْ ‏:‏ ‏(‏ وَمَنْ يَكْسِبْ إِثْمًا فَإِنَّمَا يَكْسِبُهُ عَلَى نَفْسِهِ ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ إِثْمًا مُبِينًا ‏)‏ قَوْلُهُمْ لِلَبِيدٍ ‏:‏ وَلَوْلاَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏:‏ ‏(‏ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا ‏)‏ فَلَمَّا نَزَلَ الْقُرْآنُ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالسِّلاَحِ فَرَدَّهُ إِلَى رِفَاعَةَ فَقَالَ قَتَادَةُ لَمَّا أَتَيْتُ عَمِّي بِالسِّلاَحِ وَكَانَ شَيْخًا قَدْ عَسِيَ أَوْ عَشِيَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكُنْتُ أُرَى إِسْلاَمَهُ مَدْخُولاً فَلَمَّا أَتَيْتُهُ بِالسِّلاَحِ قَالَ يَا ابْنَ أَخِي هُوَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَعَرَفْتُ أَنَّ إِسْلاَمَهُ كَانَ صَحِيحًا فَلَمَّا نَزَلَ الْقُرْآنُ لَحِقَ بَشِيرٌ بِالْمُشْرِكِينَ فَنَزَلَ عَلَى سُلاَفَةَ بِنْتِ سَعْدِ ابْنِ سُمَيَّةَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ‏:‏ ‏(‏ وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا * إِنَّ اللَّهَ لاَ يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا ‏)‏ فَلَمَّا نَزَلَ عَلَى سُلاَفَةَ رَمَاهَا حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ بِأَبْيَاتٍ مِنْ شِعْرِهِ فَأَخَذَتْ رَحْلَهُ فَوَضَعَتْهُ عَلَى رَأْسِهَا ثُمَّ خَرَجَتْ بِهِ فَرَمَتْ بِهِ فِي الأَبْطَحِ ثُمَّ قَالَتْ أَهْدَيْتَ لِي شِعْرَ حَسَّانَ مَا كُنْتَ تَأْتِينِي بِخَيْرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا أَسْنَدَهُ غَيْرَ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيِّ ‏.‏ وَرَوَى يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ مُرْسَلٌ لَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ وَقَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ هُوَ أَخُو أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ لأُمِّهِ وَأَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ اسْمُهُ سَعْدُ بْنُ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ ‏.‏


Narrated Qatadah bin An-Nu'man: "There was a household among us called Banu Ubairiq, among whom was a Bishr, a Bushair, and a Mubashshir. Bushair was a hypocrite who would recite poetry reviling the Companions of the Prophet (ﷺ) then he would attribute it to some of the Arabs. Then he would say: 'So-and-so said this and that [So-and-so said this and that].' So when the Companions of the Prophet (ﷺ) would hear that poetry, they would say: 'By Allah! No one but this filthy person said this poetry - or as the man said - and they would say: 'Ibn Al-Ubairiq said it.'" He said: "They were a poor and needy household during Jahiliyyah and Islam. The only food the people of Al-Madinah had was dates and barely. When a man was able to, he would import flour from Ash-Sham which he bought and kept for himself. As for his dependants, their only food was dates and barely. So an import arrived from Ash-Sham, and my uncle Rifa'ah bin Zaid bought a load of it, which he put in a storage area he had, where he kept his weapons - his shield and his sword. But it was taken from him from under the house. The storage was broken into and and the food and weapons were taken. In the morning, my uncle Rifa'ah came to me and said: 'O my nephew! We were robbed during the night, our storage was broken into, and our food and weapons are gone.'" He said: "They overheard us in the house, and questioned us, and someone said to us, 'We saw Banu Ubairiq cooking during the night, and it looked like they had some of your food.'" He said: "Banu Ubairiq were saying - while we were questioning them amidst their dwellings - 'By Allah! We do not think the one you are looking for is other than Labid bin Sahl, a man among us who is righteous and accepted Islam.' When Labid heard that, he brandished his sword and said: 'I stole? By Allah! You either prove this theft, or I take to you with this sword.' They said: 'Leave us O man! You are not the one who has it.' So we continued questioning in the dwellings until we had no doubt that they had taken it. So my uncle said to me: 'O my nephew! You should go to the Messenger of Allah (ﷺ) and tell him about that.'" Qatadah said: "So I went to the Messenger of Allah (ﷺ) and said: 'A family among us are ill-mannered, and they conspired against my uncle Rifa'ah bin aid. They broken into his storage and took his weapons and his food. We want them to return our weapons, but we have no need for the food.' So the Prophet (ﷺ) said: 'I will decide about that.' So when Banu Ubairiq heard about that, they brought a man from among them named Usair bin 'Urwah to talk to him about that, and some people form their houses gathered and said: 'O Messenger of Allah! Qatadah bin An-Nu'man and his uncle came came to a family among us who are a people of Islam and righteousness, accusing them of stealing without proof or confirmation.'" Qatadah said: "I went to the Messenger of Allah (ﷺ) and spoke to him, and he said: 'You went to a family among them known for their Islam and righteousness, and accused them of stealing without confirmation or proof.'" He said: "So I returned wishing that I had lost some of my wealth, and that the Messenger of Allah (ﷺ) had not been spoke to about that. My uncle Rifa'ah came to me and said: 'O my nephew! What did you do?' So I told him what the Messenger of Allah (ﷺ) said to me, so he said: 'It is from Allah, Whom we seek help.' It was not long before the Qur'an was revealed: 'Surely, We have sent down to you the Book in truth, that you might judge between men by that which Allah has shown you, so be not a pelader for the treacherous.' That is Banu Ubairiq. 'And seek forgiveness from Allah.' [That is] from what you said to Qatadah. 'Certainly Allah is Oft-Forgiving, Most Merciful. And argue not on behalf of those who deceive themselves. Verily, Allah does not like anyone who is a betrayer, sinner. They may hide from men, but they cannot hide from Allah for He is with them up to His saying: 'Most Merciful.' That is: If you seek Allah's forgiveness then He will forgive you. 'And whoever earns sin, he earns it only against himself...' up to His saying: 'A manifest sin.' Their saying about Labid; 'Had it not been for the grace of Allah and His Mercy upon you...' up to His saying: 'We shall give him a great reward.' (4:105-115)" So when the Qur'an was revealed, the Messenger of Allah (ﷺ) brought the weapon and returned it to Rifa'ah. Qatadah said: "When the weapon was brought to my uncle - and he was an elderly man with bad sight" or "an elderly weak man" - Abu 'Eisa was in doubt - "in Jahiliyyah, and I thought that he merely had entered into Islam (without real sincerity) but when I brought it to him, he said: 'O my nephew! It is for Allah's cause.' So I knew that his Islam was genuine. When the Qur'an was revealed, Bushair went with the idolaters, staying with Sulafah bint Sa'd bin Sumayyah. So Allah, Most High, revealed: Whoever contradicts and opposes the Messenger after the right path has been shown clearly to him, and follows other than the believers' way, We shall keep him in the path he has chosen, and burn him in Hell - what an evil destination. Verily Allah forgives not associating others with Him, but He forgives what is less than that for whomever He wills. And whoever associates others with Allah, then he has indeed strayed away (4:115-116). "When he went to stay with Sulafah, Hassan bin Thabit lampooned her with verses of poetry. So she took his saddle, put it on her head, then she left with it to cast into the valley. Then she said: 'You gave me the poetry of Hassan - you did not bring me any good.'"


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ দুনিয়াদারি ত্যাগ করার মাহাত্ম্য, দুনিয়া কামানো কম করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং দারিদ্রের ফযীলত

(২৯২) কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন আল্লাহ কোন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে দুনিয়াদারী থেকে ঠিক সেইরূপ বাঁচিয়ে নেন; যেরূপ তোমাদের কেউ তার রোগী ব্যক্তিকে পানি থেকে সাবধানে রাখে।

عَن قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا أَحَبَّ اللهُ عَبْدًا حَمَاهُ الدُّنْيَا كَمَا يَظَلُّ أَحَدُكُمْ يَحْمِي سَقِيمَهُ الْمَاءَ


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ কাতাদাহ বিন নু’মান (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
দেখানো হচ্ছেঃ 1 to 7 of 7