بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
সূরাঃ ৯৬/ আল-আলাক | Al-Alaq | سورة العلق আয়াতঃ ১৯ মাক্কী
৯৬:১ اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ ۚ﴿۱﴾

পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। আল-বায়ান

পাঠ কর তোমার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাইসিরুল

তুমি পাঠ কর তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। মুজিবুর রহমান

Recite in the name of your Lord who created - Sahih International

১. পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন(১)—

(১) শুধু বলা হয়েছে, “সৃষ্টি করেছেন” কাকে সৃষ্টি করেছেন তা বলা হয়নি। এ থেকে আপনা-আপনিই এ অর্থ বের হয়ে আসে, সেই রবের নাম নিয়ে পড় যিনি স্রষ্টা সমগ্র বিশ্ব-জাহানের, সমগ্র সৃষ্টিজগতের। [আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

১। তুমি পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। [1]

[1] এটাই সর্বপ্রথম অহী যা নবী (সাঃ)-এর উপর ঐ সময় অবতীর্ণ হয় যখন তিনি হিরা গুহায় আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ছিলেন। ফিরিশতা (জিবরীল) তাঁর নিকট এসে বললেন, ‘পড়।’ তিনি বললেন, ‘আমি তো পড়তে জানি না।’ ফিরিশতা তাঁকে জড়িয়ে ধরে শক্তভাবে চেপে ধরলেন এবং বললেন, ‘পড়।’ তিনি পুনর্বার একই উত্তর দিলেন। এইভাবে ফিরিশতা তিনবার করলেন। (এ ব্যাপারে বিস্তারিত দেখুনঃ সহীহ বুখারী অহী অধ্যায়, মুসলিম ঈমান অধ্যায় ও অহীর প্রারম্ভিক সূচনার পরিচ্ছেদ।)

 اِقْرَأْ অর্থাৎ, যা আপনার প্রতি অহী করা হয়েছে তা পড়। خَلَق শব্দের অর্থ হল যিনি সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:২ خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ ۚ﴿۲﴾

তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে 'আলাক' থেকে। আল-বায়ান

সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট-বাঁধা রক্তপিন্ড হতে। তাইসিরুল

সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিন্ড হতে। মুজিবুর রহমান

Created man from a clinging substance. Sahih International

২. সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক হতে।(১)

(১) পূর্বের আয়াতে সমগ্র সৃষ্টিজগত সৃষ্টির বর্ণনা ছিল। এ আয়াতে সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে বিশেষ করে মানব সৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, মানুষকে ‘আলাক’ থেকে সৃষ্টি করেছেন। ‘আলাক’ হচ্ছে ‘আলাকাহ’ শব্দের বহুবচন। এর মানে জমাট বাঁধা রক্ত। সাধারণভাবে বিশ্ব-জাহানের সৃষ্টির কথা বলার পর বিশেষ করে মানুষের কথা বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ কেমন হীন অবস্থা থেকে তার সৃষ্টিপর্ব শুরু করে তাকে পূর্ণাংগ মানুষে রূপান্তরিত করেছেন। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিন্ড হতে। [1]

[1] এই আয়াতে সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে বিশেষ করে মানুষের জন্মের কথা উল্লেখ হয়েছে; যাতে মানুষের মর্যাদা স্পষ্ট।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:৩ اِقۡرَاۡ وَ رَبُّکَ الۡاَکۡرَمُ ۙ﴿۳﴾

পড়, আর তোমার রব মহামহিম। আল-বায়ান

পাঠ কর, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল। তাইসিরুল

পাঠ করঃ আর তোমার রাব্ব মহা মহিমান্বিত, মুজিবুর রহমান

Recite, and your Lord is the most Generous - Sahih International

৩. পড়ুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত(১)

(১) এখানে পড়ার আদেশের পুনরুল্লেখ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, প্রথম আদেশটি নিজে পাঠ করার আদেশ, আর দ্বিতীয়টি অন্যকে পাঠ করানো বা অন্যের নিকট প্রচারের নির্দেশ। [ফাতহুল কাদীর] অতঃপর মহান রব আল্লাহর সাথে أَكْرَم বিশেষণ যোগ করার মধ্যে এ ইঙ্গিত রয়েছে যে, মানুষ সৃষ্টি করা এবং তাদের শিক্ষাদান করার নেয়ামতের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিজের কোন স্বার্থ ও লাভ নেই; বরং এগুলো তাঁরই অনুগ্রহ, তাঁরই দান। তিনি সর্বমহান দানশীল ও মহামহিমান্বিত। [আদওয়াউল বায়ান, মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। তুমি পড়। আর তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত। [1]

[1] এ বাক্যটি তাকীদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এ দ্বারা বড় অলঙ্কারপূর্ণ ভঙ্গিমায় নবী (সাঃ) এর ওযরের জওয়াব দেওয়া হয়েছে, যা তিনি ‘আমি পড়তে জানি না’ বলে পেশ করেছিলেন। আল্লাহ বললেন, আল্লাহ মহামহিমান্বিত; তুমি পড়। অর্থাৎ, মানুষের ভুল-ত্রুটি উপেক্ষা করা তাঁর বিশেষ গুণ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:৪ الَّذِیۡ عَلَّمَ بِالۡقَلَمِ ۙ﴿۴﴾

যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। আল-বায়ান

যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলম দিয়ে, তাইসিরুল

যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। মুজিবুর রহমান

Who taught by the pen - Sahih International

৪. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন(১)-

(১) মানব সৃষ্টির কথা বর্ণনার পর এখানে মানুষের শিক্ষার প্রসঙ্গটি উল্লেখিত হয়েছে। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যে, তিনি মানুষকে কলমের মাধ্যমে তথা লেখার শিক্ষা দান করেছেন। তা না হলে মানুষের মধ্যে জ্ঞানের উন্নতি, বংশানুক্রমিক ক্ৰমবিকাশ সম্ভব হত না। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, পূর্ববর্তদের জীবন-কাহিনী, আসমানী-কিতাব সব কিছুই সংরক্ষিত হয়েছে লেখনির মাধ্যমে। কলম না থাকলে, দ্বীন এবং দুনিয়ার কোন কিছুই পূর্ণরূপে গড়ে উঠত না। [ফাতহুল কাদীর] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তা'আলা যখন প্রথম সবকিছু সৃষ্টি করেন, তখন আরশে তার কাছে রক্ষিত কিতাবে একথা লিপিবদ্ধ করেন যে, আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রবল থাকবে।” [বুখারী: ৩১৯৪, ৭৫৫৩, মুসলিম: ২৭৫১] হাদীসে আরও বলা হয়েছে, “আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রথম কলম সৃষ্টি করেন এবং তাকে লেখার নির্দেশ দেন। সেমতে কলম কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, সব লিখে ফেলে।” [মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩১৭]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। [1]

[1] قَلم অর্থ হল কাটা, চাঁছা বা ছিলা। পূর্ব যুগে লোকেরা কেটে বা চেঁছে কলম তৈরী করত। এই জন্য লেখার যন্ত্রকে কলম বলা হয়। কিছু ইলম (জ্ঞান) তো মানুষের স্মৃতিতে থাকে, কিছু আবার জিহবা দ্বারা প্রকাশ করা হয়, আর কিছু ইলম মানুষ কলম দ্বারা কাগজে লিখে হিফাযত করে থাকে। মস্তিষ্ক ও স্মৃতিতে যা থাকে তা মানুষের সাথে চলে যায়। জিহ্বা দ্বারা যা প্রকাশ করা হয়, তাও সংরক্ষিত

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:৫ عَلَّمَ الۡاِنۡسَانَ مَا لَمۡ یَعۡلَمۡ ؕ﴿۵﴾

তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না। আল-বায়ান

শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না, তাইসিরুল

তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতনা। মুজিবুর রহমান

Taught man that which he knew not. Sahih International

৫. শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।(১)

(১) পূর্বের আয়াতে ছিল কলমের সাহায্যে শিক্ষা দানের বর্ণনা। এ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকৃত শিক্ষাদাতা আল্লাহ তা'আলা। মানুষ আসলে ছিল সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন। আল্লাহর কাছ থেকেই সে যা কিছু জ্ঞান লাভ করেছে। [সা’দী] কলমের সাহায্যে যা শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তিনি এমন সব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা মানুষ জানত না। কেউ কেউ বলেন, এখানে মানুষ বলে আদম আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বিভিন্ন বস্তুর নাম ও গুণাগুণ শিক্ষা দিয়েছেন। যেমনটি সূরা আল-বাকারায় বর্ণনা করা হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:৬ کَلَّاۤ اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَیَطۡغٰۤی ۙ﴿۶﴾

কখনো নয়, নিশ্চয় মানুষ সীমালঙ্ঘন করে থাকে। আল-বায়ান

না (এমন আচরণ করা) মোটেই ঠিক নয়, মানুষ অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে, তাইসিরুল

বস্তুতঃ মানুষতো সীমালংঘন করেই থাকে, মুজিবুর রহমান

No! [But] indeed, man transgresses Sahih International

৬. বাস্তবেই(১), মানুষ সীমালঙ্ঘনই করে থাকে,

(১) كلا বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে, حقا বা বাস্তবেই, অবশ্যই হয় এমন। [মুয়াস্‌সার, তাফসীরুল কুরআন লিল উসাইমীন: ১/২৬১]

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। বস্তুত মানুষ তো সীমালংঘন করেই থাকে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:৭ اَنۡ رَّاٰہُ اسۡتَغۡنٰی ﴿ؕ۷﴾

কেননা সে নিজকে মনে করে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আল-বায়ান

কারণ, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে, তাইসিরুল

কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত বা অমুখাপেক্ষী মনে করে। মুজিবুর রহমান

Because he sees himself self-sufficient. Sahih International

৭. কারণ সে নিজকে অমুখাপেক্ষী মনে করে।(১)

(১) অর্থাৎ দুনিয়ায় ধন-দৌলত, সম্মান-প্রতিপত্তি যা কিছু সে চাইতো তার সবই সে লাভ করেছে। এ দৃশ্য দেখে সে কৃতজ্ঞ হবার পরিবর্তে বরং বিদ্রোহের পথ অবলম্বন করেছে এবং সীমালজম্বন করতে শুরু করেছে। [সা'দী] বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, একবার আবু জাহল বলল, যদি মুহাম্মদকে কিবলার দিকে ফিরে সালাত আদায় করতে দেখি তবে আমি অবশ্যই তাকে হত্যা করব। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করতে আসলে আবু জাহল তাকে বলল, তোমাকে কি আমি সালাত আদায় করতে নিষেধ করিনি? তোমাকে কি আমি এটা থেকে নিষেধ করিনি? রাসূল তার কাছ থেকে ফিরে আসলেন, আবু জাহলের সাথে তার বিতণ্ডা হলো, তখন আবু জাহল বলল, আমার চেয়ে বড় সভাসদের অধিকারী কি কেউ আছে? তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন যে, “সে যেন তার সভাসদদের ডাকে, আমরাও অচিরেই যাবানিয়াদের ডাকব”। ইবনে আব্বাস বলেন, আল্লাহর শপথ, যদি সে তার সভাসদদের ডাকত। তবে অবশ্যই তাকে আল্লাহর যাবানিয়া পাকড়াও করত। [বুখারী: ৪৯৫৮, তিরমিযী: ৩৩৪৯, মুসনাদে আহমাদ: ১/২৫৬, ৩২৯, ৩৬৮]

কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, আবু জাহল বলেছিল, মুহাম্মাদ কি তোমাদের সামনে মাটিতে মুখ ঘসে? তাকে বলা হল যে, হ্যাঁ, তখন সে বলল, লাত ও উযযার শপথ! যদি আমি তাকে তা করতে দেখি তবে অবশ্যই আমি তার ঘাড় পা দিয়ে দাবিয়ে দিব, অথবা তার মুখ মাটিতে মিশিয়ে দেব। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসল, তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন। সে তার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তার ধারণা অনুসারে সে তার মাথা গুড়িয়ে দিতে যাচ্ছিল। কিন্তু কাছে যাওয়ার পর সে পিছনের দিকে ফিরে আসতে বাধ্য হলো এবং হাত দিয়ে বাধা দিচ্ছিল। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলল, আমার ও তার মাঝে আগুনের একটি খন্দক দেখতে পেলাম এবং ভীতিপ্রদ ও ডানবিশিষ্টদের দেখতে পেয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যদি সে নিকটবর্তী হতো। তবে ফেরেশতাগণ তাকে টুকরা টুকরা করে ছিড়ে ফেলত। তখন আল্লাহ নাযিল করেন, “কখনও নয়, মানুষ তো সীমালঙ্ঘন করে থাকে, যখন সে নিজেকে অমুখাপেক্ষী দেখতে পায়...” [মুসলিম: ২৭৯৭]

আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারী আবু জাহলকে লক্ষ্য করে বক্তব্য রাখা হলেও ব্যাপক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের একটি নৈতিক দুর্বলতা বিধৃত হয়েছে। মানুষ যতদিন নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অমুখাপেক্ষী মনে না করে, ততদিন সে সীমালঙ্ঘন করে না। কিন্তু যখন সে মনে করতে থাকে যে, সে কারও মুখাপেক্ষী নয়, তখন তার মধ্যে অবাধ্যতা এবং সীমালঙ্ঘন প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। অথচ, আল্লাহ তা'আলাই তাকে সৃষ্টি করেছেন রক্তপিণ্ড থেকে, তাকে তার মায়ের গর্ভে যত্নে রেখেছেন, বেড়ে ওঠার যাবতীয় উপায়-পদ্ধতির ব্যবস্থা করে দেন; তারপরেও যখনই সে নিজেকে ধন-সম্পদ বা ক্ষমতার অধিকারী মনে করা শুরু করে, তখনই সে এমনকি তার রবের সাথেও সীমালজম্বন করে। [আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। কারণ সে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:৮ اِنَّ اِلٰی رَبِّکَ الرُّجۡعٰی ؕ﴿۸﴾

নিশ্চয় তোমার রবের দিকেই প্রত্যাবর্তন। আল-বায়ান

নিঃসন্দেহে (সকলকে) ফিরে যেতে হবে তোমার প্রতিপালকের দিকে। তাইসিরুল

তোমার রবের নিকট প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত। মুজিবুর রহমান

Indeed, to your Lord is the return. Sahih International

৮. নিশ্চয় আপনার রবের কাছেই ফিরে যাওয়া।(১)

(১) অর্থাৎ দুনিয়ায় সে যাই কিছু অর্জন করে থাকুক না কেন এবং তার ভিত্তিতে অহংকার ও বিদ্রোহ করতে থাকুক না কেন, অবশেষে তাকে আপনার রবের কাছেই ফিরে যেতে হবে। সেখানে সে অবাধ্যতার কুপরিণাম তখন স্বচক্ষে দেখে নেবে। [মুয়াস্‌সার, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। সুনিশ্চিতভাবে তোমার প্রতিপালকের দিকেই প্রত্যাবর্তন।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:৯ اَرَءَیۡتَ الَّذِیۡ یَنۡہٰی ۙ﴿۹﴾

তুমি কি তাকে দেখেছ যে নিষেধ করে। আল-বায়ান

তুমি কি তাকে (অর্থাৎ আবূ জাহলকে) দেখেছ যে নিষেধ করে, তাইসিরুল

তুমি কি তাকে দেখেছো যে বাধা দেয় – মুজিবুর রহমান

Have you seen the one who forbids Sahih International

৯. আমাকে জানাও (এবং আশ্চর্য হও) তার সম্পর্কে, যে বাধা দেয়,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। তুমি কি তাকে দেখেছ, যে বারণ করে--

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৬:১০ عَبۡدًا اِذَا صَلّٰی ﴿ؕ۱۰﴾

এক বান্দাকে, যখন সে সালাত আদায় করে? আল-বায়ান

এক বান্দাহকে [অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সা.)-কে] যখন সে নামায আদায় করতে থাকে? তাইসিরুল

এক বান্দাকে যখন সে সালাত আদায় করে? মুজিবুর রহমান

A servant when he prays? Sahih International

১০. এক বান্দাকে(১)—যখন তিনি সালাত আদায় করেন।

(১) বান্দা বলতে এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। [কুরতুবী] এ পদ্ধতিতে কুরআনের কয়েক জায়গায় তার উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন “পবিত্র সেই সত্তা যিনি তার বান্দাকে নিয়ে গিয়েছেন এক রাতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসার দিকে।” [সূরা আল-ইসরা: ১]। আরও এসেছে, “সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার যিনি তাঁর বান্দার ওপর নাযিল করেছেন কিতাব।” [সূরা আল-কাহফ: ১] আরও বলা হয়েছে, “আর আল্লাহর বান্দা যখন তাকে ডাকার জন্য দাঁড়ালো তখন লোকেরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৈরি হলো।” [সূরা আল-জিন্ন: ১৯]

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। এক বান্দা (রসূলুল্লাহ)কে যখন সে নামায আদায় করে? [1]

[1] ব্যাখ্যাতাগণ বলেছেন, বারণকারী বলতে আবু জাহলকে বোঝানো হয়েছে, যে ইসলামের চরম শত্রু ছিল। আর ‘বান্দা’ বলতে নবী (সাঃ)-কে বোঝানো হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০ পর্যন্ত, সর্বমোট ১৯ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 পরের পাতা »