সূরাঃ ৫২/ আত-তূর | At-Tur | ٱلطُّور আয়াতঃ ৪৯ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়ার শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
আহসানুল বায়ানের শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৫২ : ১ وَ الطُّوۡرِ ۙ﴿۱﴾
و الطور ﴿۱﴾

কসম তূর পর্বতের, আল-বায়ান

শপথ তূর (পর্বত) এর, তাইসিরুল

শপথ তুর পর্বতের, মুজিবুর রহমান

By the mount Sahih International

১. শপথ তূর পর্বতের(১),

(১) বলা হয়ে থাকে যে, সুরিয়ানী ভাষায় طور (তুর) এর অর্থ পাহাড়, যাতে লতাপাতা ও বৃক্ষ উদগত হয়। এখানে তুর বলে মাদইয়ানে অবস্থিত তুরে-সিনীন বোঝানো হয়েছে। এই পাহাড়ের উপর মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা'আলার সাথে বাক্যালাপ করেছিলেন। তুরের কসম খাওয়ার দ্বারা মহান আল্লাহ এ পাহাড়টিকে সম্মানিত করেছেন। [ফাতহুল কাদীর; কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) শপথ ত্বূর (পর্বতের), [1]

[1] طُوْرٌ সেই পাহাড়, যেখানে মূসা (আঃ) মহান আল্লাহর সাথে বাক্যালাপ করেছিলেন। এই পাহাড়টিকে ‘ত্বূরে সাইনা’ও বলা হয়। তার এই বিশেষ মর্যাদার কারণে মহান আল্লাহ তার কসম খেয়েছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ২ وَ كِتٰبٍ مَّسۡطُوۡرٍ ۙ﴿۲﴾
و كتب مسطور ﴿۲﴾

আর কসম কিতাবের যা লিপিবদ্ধ আছে। আল-বায়ান

শপথ কিতাবের যা লিখিত তাইসিরুল

শপথ কিতাবের, যা লিখিত আছে – মুজিবুর রহমান

And [by] a Book inscribed Sahih International

২. শপথ কিতাবের, যা লিখিত আছে(১)

(১) লিখিত কিতাব বলে মানুষের আমলনামা বোঝানো হয়েছে, না হয় কোন কোন তফসীরবিদের মতে পবিত্র কুরআন বোঝানো হয়েছে। আবার কারো কারো মতে এর দ্বারা লাওহে মাহফুজই বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এর দ্বারা সকল আসমানী কিতাবকে বোঝানো হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) শপথ কিতাবের, যা লিখিত আছে, [1]

[1] مَسْطُوْرٍ এর অর্থ হল লিপিবদ্ধ। লিখিত বস্তু। কিন্তু এখানে তা থেকে বিভিন্ন জিনিসকে বুঝানো হয়েছে। যেমন, কুরআন মাজীদ, লাওহে মাহফূয, সমস্ত অবতীর্ণ কিতাব অথবা মানুষের সেই আমলনামা, যা ফিরিশতাগণ লিখে থাকেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ৩ فِیۡ رَقٍّ مَّنۡشُوۡرٍ ۙ﴿۳﴾
فی رق منشور ﴿۳﴾

উন্মুক্ত পাতায়। আল-বায়ান

খোলা পৃষ্ঠায়, তাইসিরুল

উন্মুক্ত পত্রে। মুজিবুর রহমান

In parchment spread open Sahih International

৩. উন্মুক্ত পাতায়(১);

(১) رق শব্দের আসল অর্থ লেখার জন্যে কাগজের স্থলে ব্যবহৃত পাতলা চামড়া। তাই এর অনুবাদ করা হয় পত্র। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) উন্মুক্ত পত্রে, [1]

[1] এটির সম্পর্ক হল مَسْطُوْرٍ এর সাথে। رَقٍّ সেই পাতলা চামড়া, যার উপর লেখা হত। আর مَنْثوُرٍ অর্থ হল مَبْسُوْطٍ তথা উন্মুক্ত বা বিস্তৃত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ৪ وَّ الۡبَیۡتِ الۡمَعۡمُوۡرِ ۙ﴿۴﴾
و البیت المعمور ﴿۴﴾

কসম আবাদ গৃহের,* আল-বায়ান

শপথ বেশি বেশি আবাদকৃত ঘরের, তাইসিরুল

শপথ বায়তুল মা‘মুরের, মুজিবুর রহমান

And [by] the frequented House Sahih International

* আবাদ গৃহ বলতে সপ্তাকাশের বায়তুল মা‘মূরকে বুঝানো হয়েছে। অগণিত ফেরেশতা নিরবচ্ছিন্ন ইবাদাতে যা আবাদ রেখেছে।

৪. শপথ বায়তুল মামুরের(১),

(১) আকাশস্থিত ফেরেশতাদের কাবাকে বায়তুল মামুর বলা হয়। এটা দুনিয়ার কা'বার ঠিক উপরে অবস্থিত। হাদীসে আছে যে, মে'রাজের রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বায়তুল মামুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এতে প্রত্যহ সত্তর হাজার ফেরেশতা ইবাদতের জন্যে প্রবেশ করে। এরপর তাদের পুনরায় এতে প্রবেশ করার পালা আসে না। প্রত্যহ নতুন ফেরেশতাদের নম্বর আসে। [বুখারী: ৩২০৭, মুসলিম: ১৬২] সপ্তম আসমানে বসবাসকারী ফেরেশতাদের কা'বা হচ্ছে বায়তুল মামুর। এ কারণেই মেরাজের রাত্রিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এখানে পৌছে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-কে বায়তুল মামুরের প্রাচীরে হেলান দিয়ে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখতে পান। [বুখারী: ৩২০৭] তিনি ছিলেন দুনিয়ার কা'বার প্রতিষ্ঠাতা। আল্লাহ তা'আলা এর প্রতিদানে আকাশের কা'বার সাথেও তাঁর বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করে দেন। প্রতি আসমানেই ফেরেশতাদের জন্য একটি ইবাদতঘর রয়েছে। প্রথম আসমানের ইবাদতঘরের নাম ‘বাইতুল ইযযত’৷ [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) শপথ বায়তুল মা’মূরের, [1]

[1] ‘বায়তে মা’মূর’ হল সপ্তম আকাশে অবস্থিত সেই ইবাদতখানা, যেখানে ফিরিশতাগণ ইবাদত করেন। এই ইবাদতখানা ফিরিশতাবর্গ দ্বারা এমনভাবে পরিপূর্ণ হয়ে থাকে যে, প্রত্যহ এতে সত্তর হাজার করে ফিরিশতা ইবাদতের জন্য প্রবেশ করেন। যাঁদের কিয়ামত পর্যন্ত পুনরায় প্রবেশের পালা আসবে না। আর এ কথা মি’রাজের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসগুলোতে বলা হয়েছে। কেউ কেউ ‘বায়তে মা’মূর’ বলতে ‘কা’বা-ঘর’ বুঝিয়েছেন। যে ঘর ইবাদতের জন্য আগমনকারী মানুষ দ্বারা সর্বদা পরিপূর্ণ থাকে। ‘মা’মূর’ শব্দটির অর্থই হচ্ছে আবাদ ও পরিপূর্ণ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ৫ وَ السَّقۡفِ الۡمَرۡفُوۡعِ ۙ﴿۵﴾
و السقف المرفوع ﴿۵﴾

আর সমুন্নত আকাশের; আল-বায়ান

শপথ সুউচ্চ ছাদের, তাইসিরুল

শপথ সমুন্নত আকাশের, মুজিবুর রহমান

And [by] the heaven raised high Sahih International

৫. শপথ সমুন্নত ছাদের(১),

(১) সমুন্নত ছাদ বা উঁচু ছাদ অর্থ আসমান, যা পৃথিবীকে একটি গম্বুজের মত আচ্ছাদিত করে আছে বলে মনে হয়। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) শপথ সমুন্নত ছাদের, [1]

[1] এ থেকে আকাশ বুঝানো হয়েছে যা পৃথিবীর জন্য ছাদস্বরূপ। কুরআনের অন্যত্র এটাকে ‘সুরক্ষিত ছাদ’ বলা হয়েছে। {وَجَعَلْنَا السَّمَآءَ سَقْفًا مَّحْفُوْظًا وَهُمْ عَنْ آيَتِهَا مُعْرِصُوْنَ} سورة الأنبياء ৩২ কেউ কেউ এ থেকে আরশ বুঝিয়েছেন। যা সমস্ত সৃষ্টিকুলের জন্য ছাদ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ৬ وَ الۡبَحۡرِ الۡمَسۡجُوۡرِ ۙ﴿۶﴾
و البحر المسجور ﴿۶﴾

কসম তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ সাগরের,* আল-বায়ান

শপথ তরঙ্গায়িত সমুদ্রের, তাইসিরুল

এবং শপথ উদ্বেলিত সমুদ্রের। মুজিবুর রহমান

And [by] the sea filled [with fire], Sahih International

* অন্য তাফসীর মতে-আগুনের সাগর যা দুনিয়াতে হতে পারে, অথবা কিয়ামতে।

৬. শপথ উদ্বেলিত সাগরের(১)—

(১) مَسْجُورٌ শব্দটি سجر থেকে উদ্ভূত। এর কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। কোন কোন মুফাসসির একে ‘আগুনে ভর্তি’ অর্থে গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ অর্থ করেছেন, অগ্নি প্ৰজ্বলিত করা। তখন আয়াতের অর্থ, সমুদ্রের কসম, যাকে অগ্নিতে পরিণত করা হবে। এথেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, কিয়ামতের দিন সকল সমুদ্র অগ্নিতে পরিণত হবে। অন্য এক আয়াতে আছেঃ (وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ) [সূরা আত-তাকভীর: ৬] কেউ কেউ একে শূন্য ও খালি অর্থে গ্রহণ করেন যার পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। বা শপথ খালি সমুদ্রের যা পরিপূর্ণ হবে। কেউ কেউ একে আবদ্ধ বা আটকিয়ে রাখা বা বাধাপ্ৰাপ্ত হওয়ার অর্থে গ্ৰহণ করেন।

তাদের মতে এর অর্থ হচ্ছে, সমুদ্রকে আটকিয়ে বা থামিয়ে রাখা হয়েছে যাতে তার পানি মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে হারিয়ে না যায় এবং স্থলভাগকে প্লাবিত করে না ফেলে এবং পৃথিবীর সব অধিবাসী তাতে ডুবে না মরে। অথবা জলভাগকে স্থলভাগ গ্রাস করতে বাধা দিয়ে রাখা হয়েছে নতুবা তা অনেক আগেই গ্ৰাস করে ফেলত। কেউ কেউ একে মিশ্ৰিত অর্থে গ্রহণ করে থাকেন। অর্থাৎ এর মধ্যে মিঠা ও লবণাক্ত পানি এবং গরম ও ঠান্ডা সব রকম পানি এসে মিশ্রিত হয়। আর কেউ কেউ একে কানায় কানায় ভরা ও তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ অর্থে গ্রহণ করেন। কাতাদাহ্ রাহেমাহুল্লাহ প্রমুখ مَسْجُورٌ এর অর্থ করেছেন পানিতে পরিপূর্ণ। ইবন জারীর রাহেমাহুল্লাহ এই অর্থই পছন্দ করেছেন। [কুরতুবী]।

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) শপথ উদ্বেলিত (প্রজ্বালিত) সমুদ্রের,[1]

[1] مسجور এর অর্থ হল প্রজ্বালিত। কেউ কেউ বলেছেন, এ থেকে সেই পানি বুঝানো হয়েছে, যা আরশের নীচে অবস্থিত এবং যেখান থেকে কিয়ামতের দিন বৃষ্টিপাত হবে। আর এর দ্বারা মৃতদেহ সজীব হয়ে উঠবে। কেউ বলেছেন, এ থেকে সমুদ্র বুঝানো হয়েছে। এগুলোতে কিয়ামতের দিন অগ্নি প্রজ্বলিত হয়ে উঠবে। আল্লাহ বলেন, {وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَت} যখন সমুদ্রসমূহ প্রজ্বালিত হবে। ইমাম শাওকানী (রঃ) শেষোক্ত এই অর্থটিকেই সর্বাধিক সঠিক বলে গণ্য করেছেন। আবার কেউ কেউ مَسْجُوْرٌ এর অর্থ করেছেন, مَمْلُوْءٌ (পরিপূর্ণ)। অর্থাৎ, বর্তমানে সমুদ্রে আগুন নেই বটে, তবে তা পানিতে ভরে আছে। ইমাম ত্বাবারী (রঃ) এই অর্থকেই পছন্দ করেছেন। এর আরো কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। (দেখুন তাফসীর ইবনে কাসীর) (এ ছাড়া সমুদ্রের নিচে লাভা প্রজ্বালিত হয়ে থাকে। এই হিসাবেও সমুদ্র প্রজ্বালিত। -সম্পাদক)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ৭ اِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ ۙ﴿۷﴾
ان عذاب ربك لواقع ﴿۷﴾

নিশ্চয় তোমার রবের আযাব অবশ্যম্ভাবী। আল-বায়ান

তোমার প্রতিপালকের ‘আযাব অবশ্যই সংঘটিত হবে। তাইসিরুল

তোমার রবের শাস্তি অবশ্যম্ভাবী, মুজিবুর রহমান

Indeed, the punishment of your Lord will occur. Sahih International

৭. নিশ্চয় আপনার রবের শাস্তি অবশ্যম্ভাবী,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) তোমার প্রতিপালকের শাস্তি অবশ্যম্ভাবী,

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ৮ مَّا لَهٗ مِنۡ دَافِعٍ ۙ﴿۸﴾
ما لهٗ من دافع ﴿۸﴾

যার কোন প্রতিরোধকারী নেই। আল-বায়ান

তার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। তাইসিরুল

এর নিবারণ করার কেহ নেই। মুজিবুর রহমান

Of it there is no preventer. Sahih International

৮. এটার নিবারণকারী কেউ নেই।(১)

(১) বলা হয়েছে, একে অর্থাৎ আপনার রবের শাস্তিকে কেউ প্রতিরোধ করতে পারবে না। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, একবার উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূরা আত-তূর পাঠ করে যখন এই আয়াতে পৌছেন, তখন একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বিশ দিন পর্যন্ত অসুস্থ থাকেন। তার রোগ নির্ণয় করার ক্ষমতা কারও ছিল না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি এক রাত্রে প্রজাদের অবস্থা দেখার জন্য ছদ্মবেশে বের হন, এমতাবস্থায় এক লোকের বাড়ির পাশে গিয়ে এ আয়াত শুনতে পান। তিনি তৎক্ষণাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক মাসের মত সময় অসুস্থ ছিলেন। কেউ তার রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম ছিল না। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) এর নিবারণকারী কেউ নেই, [1]

[1] এটা হল উল্লিখিত শপথসমূহের জওয়াব। অর্থাৎ, এই সমস্ত জিনিস যা মহান আল্লাহর বিশাল ক্ষমতার নিদর্শন, এ কথা প্রমাণ করে যে, আল্লাহর সেই আযাব অবশ্যই সংঘটিত হবে, যার তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা কেউ রোধ করার কোন ক্ষমতা রাখে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ৯ یَّوۡمَ تَمُوۡرُ السَّمَآءُ مَوۡرًا ۙ﴿۹﴾
یوم تمور السمآء مورا ﴿۹﴾

যেদিন তীব্রভাবে আকাশ প্রকম্পিত হবে, আল-বায়ান

যেদিন আকাশ প্রচন্ডভাবে কাঁপবে, তাইসিরুল

যেদিন আকাশ আন্দোলিত হবে প্রবলভাবে – মুজিবুর রহমান

On the Day the heaven will sway with circular motion Sahih International

৯. যেদিন আসমান আন্দোলিত হবে প্রবলভাবে(১),

(১) আরবী ভাষায় مور  শব্দটি আবর্তিত হওয়া, কেঁপে কেঁপে ওঠা, ঘুরপাক খাওয়া, নড়েচড়ে উঠা এবং বারবার সামনে ও পেছনে চলা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। কিয়ামতের দিন আসমানের যে অবস্থা হবে একথাটির মাধ্যমে তা বর্ণনা করে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে, সেদিন ঊর্ধ্বজগতের সমস্ত ব্যবস্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং কেউ যদি সেদিন আকাশের দিকে তাকায় তবে দেখবে যে, সেই সুশোভিত নকশা বিকৃত হয়ে গিয়েছে যা সবসময় একই রকম দেখা যেতো আর চারদিকে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর; ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) যেদিন আকাশ আন্দোলিত হবে প্রবলভাবে। [1]

[1] مور এর অর্থ হল আন্দোলন ও অস্থিরতা। অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন আকাশের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্যে যে বিশৃঙ্খলতা এবং মহাশূন্যে ভ্রাম্যমান তারকারগুলোর ঝরে ও খসে পড়ার কারণে যে অস্থিরতার সৃষ্টি হবে, সেটাকেই বুঝানো হয়েছে এই শব্দগুলোর মাধ্যমে। আর (যেদিন) হল উল্লিখিত আযাবের ‘যার্‌ফ’ বা ঘটনকাল (ক্রিয়াবিশেষণ)। অর্থাৎ, এই শাস্তি সংঘটিত হবে সেই দিন, যেদিন আকাশ আন্দোলিত হবে এবং পর্বতমালা স্বীয় স্থান ছেড়ে ধূনিত তুলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের ন্যায় এবং ধূলিকণার ন্যায় উড়তে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১০ وَّ تَسِیۡرُ الۡجِبَالُ سَیۡرًا ﴿ؕ۱۰﴾
و تسیر الجبال سیرا ﴿۱۰﴾

আর পর্বতমালা দ্রুত পরিভ্রমণ করবে, আল-বায়ান

আর পর্বত হবে দ্রুত চলমান, তাইসিরুল

এবং পর্বত চলবে দ্রুত। মুজিবুর রহমান

And the mountains will pass on, departing - Sahih International

১০. আর পর্বত পরিভ্রমণ করবে দ্রুত(১);

(১) অর্থাৎ আসমান এমনভাবে শূন্যে উড়তে থাকবে যেন মেঘমালা ভেসে বেড়াচ্ছে। এভাবে পাহাড় নিজ অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) এবং পর্বতসমূহ দ্রুত চলতে থাকবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১১ فَوَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُكَذِّبِیۡنَ ﴿ۙ۱۱﴾
فویل یومئذ للمكذبین ﴿۱۱﴾

অতএব মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস, আল-বায়ান

ধ্বংস সেদিন সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য। তাইসিরুল

দুর্ভোগ সেইদিন মিথ্যাশ্রয়ীদের – মুজিবুর রহমান

Then woe, that Day, to the deniers, Sahih International

১১. অতঃএব দুর্ভোগ সে দিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) দুর্ভোগ সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীদের।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১২ الَّذِیۡنَ هُمۡ فِیۡ خَوۡضٍ یَّلۡعَبُوۡنَ ﴿ۘ۱۲﴾
الذین هم فی خوض یلعبون ﴿۱۲﴾

যারা খেল-তামাশায় মত্ত থাকে। আল-বায়ান

যারা নিরর্থক কথার খেলায় মগ্ন আছে। তাইসিরুল

যারা ক্রীড়াচ্ছলে অসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। মুজিবুর রহমান

Who are in [empty] discourse amusing themselves. Sahih International

১২. যারা খেলার ছলে অসার কাজকর্মে লিপ্ত থাকে।(১)

(১) অর্থাৎ তারা নবীর কাছে কিয়ামত, আখেরাত, জান্নাত ও জাহান্নামের কথা শুনে সেগুলোকে হাসির খোরাক বানাচ্ছে এবং এ বিষয়ে সুস্থ মস্তিষ্কে গভীরভাবে চিন্তা করার পরিবর্তে কেবল বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করছে। আখেরাত নিয়ে তাদের বিতর্কের উদ্দেশ্য এর তাৎপর্য বুঝার প্রচেষ্টা নয়, বরং তা একটি খেলা যা দিয়ে তারা মনোরঞ্জন করে থাকে। কিন্তু এটা তাদের কোন পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে আদৌ কোন উপলব্ধি নেই। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) যারা ক্রীড়াচ্ছলে অসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। [1]

[1] অর্থাৎ, যারা নিজেদের কুফরী ও বাতিল কর্মকান্ডেই মগ্ন এবং সত্যকে মিথ্যাজ্ঞান ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার কাজে ব্যস্ত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১৩ یَوۡمَ یُدَعُّوۡنَ اِلٰی نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا ﴿ؕ۱۳﴾
یوم یدعون الی نار جهنم دعا ﴿۱۳﴾

সেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আল-বায়ান

যেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে তাড়িয়ে নেয়া হবে ধাক্কাতে ধাক্কাতে, তাইসিরুল

যেদিন তাদেরকে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে, মুজিবুর রহমান

The Day they are thrust toward the fire of Hell with a [violent] thrust, [its angels will say], Sahih International

১৩. যেদিন তাদেরকে ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) সেদিন তাদেরকে ধাক্কা মারতে মারতে[1] নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে।

[1] الدَّعَّ এর অর্থ হল অত্যন্ত জোরে ধাক্কা দেওয়া।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১৪ هٰذِهِ النَّارُ الَّتِیۡ كُنۡتُمۡ بِهَا تُكَذِّبُوۡنَ ﴿۱۴﴾
هذه النار التی كنتم بها تكذبون ﴿۱۴﴾

‘এটি সেই জাহান্নাম যা তোমরা অস্বীকার করতে।’ আল-বায়ান

(বলা হবে) এটা হল জাহান্নামের সেই আগুন তোমরা যাকে মিথ্যে জানতে। তাইসিরুল

(বলা হবে) এটাই সেই আগুন যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে। মুজিবুর রহমান

"This is the Fire which you used to deny. Sahih International

১৪. এটাই সে আগুন যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) এটাই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা মনে করতে। [1]

[1] এ কথা জাহান্নামে নিযুক্ত (যাবানিয়া) ফিরিশতা তাদেরকে বলবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১৫ اَفَسِحۡرٌ هٰذَاۤ اَمۡ اَنۡتُمۡ لَا تُبۡصِرُوۡنَ ﴿ۚ۱۵﴾
افسحر هذا ام انتم لا تبصرون ﴿۱۵﴾

‘এটি কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না!’ আল-বায়ান

এটা কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? তাইসিরুল

এটা কি যাদু? না কি তোমরা দেখছনা? মুজিবুর রহমান

Then is this magic, or do you not see? Sahih International

১৫. এটা কি তবে জাদু? না কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না।(১)

(১) অর্থাৎ দুনিয়াতে রাসূল যখন তোমাদেরকে এ জাহান্নামের আযাব সম্পর্কে সাবধান করতেন তখন তোমরা তো বিশ্বাস করতে না, এখন বলো তোমাদের সামনে বিদ্যমান এ জাহান্নাম কি সেই জাদুর খেলা, নাকি এখনো বুঝে উঠতে পারনি, যে জাহান্নামের খবর তোমাদের দেয়া হতো তোমরা সে জাহান্নামের মুখোমুখি হয়েছে? [দেখুন: ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) এটা কি যাদু? [1] নাকি তোমরা চোখে দেখছ না? [2]

[1] যেভাবে, তোমরা দুনিয়াতে নবী ও রসূলদেরকে যাদুকর বলতে। এখন বল, এটাও কি কোন যাদুর কারসাজি?

[2] নাকি পৃথিবীতে যেমন তোমরা সত্যদর্শনে অন্ধ ছিলে, তেমনি এই শাস্তিও তোমরা দেখতে পাও না? এটা কেবল তাদেরকে ভৎর্সনা ও ধমক স্বরূপ বলা হবে। অন্যথা প্রতিটি জিনিস তাদের চোখের সামনে এসে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১৬ اِصۡلَوۡهَا فَاصۡبِرُوۡۤا اَوۡ لَا تَصۡبِرُوۡا ۚ سَوَآءٌ عَلَیۡكُمۡ ؕ اِنَّمَا تُجۡزَوۡنَ مَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۱۶﴾
اصلوها فاصبروا او لا تصبروا سوآء علیكم انما تجزون ما كنتم تعملون ﴿۱۶﴾

তোমরা আগুনে প্রবেশ কর*, তারপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর বা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান; তোমাদেরকে তো কেবল তোমাদের আমলের প্রতিফল দেয়া হচ্ছে। আল-বায়ান

এখন এর ভিতর জ্বলতে থাক, অতঃপর ধৈর্য ধর কিংবা ধৈর্য না ধর, তোমাদের জন্য দুই-ই সমান। তোমাদেরকে সেই প্রতিফলই দেয়া হবে যা তোমরা ‘আমাল করতে। তাইসিরুল

তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ কর অথবা না করা উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হচ্ছে। মুজিবুর রহমান

[Enter to] burn therein; then be patient or impatient - it is all the same for you. You are only being recompensed [for] what you used to do." Sahih International

* অন্য তাফসীর মতে- ‘‘তোমরা এর উত্তাপ ভোগ কর’’।

১৬. তোমরা এতে দগ্ধ হও, অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ করা অথবা ধৈর্য ধারণ না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর অথবা না কর উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেওয়া হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১৭ اِنَّ الۡمُتَّقِیۡنَ فِیۡ جَنّٰتٍ وَّ نَعِیۡمٍ ﴿ۙ۱۷﴾
ان المتقین فی جنت و نعیم ﴿۱۷﴾

নিশ্চয় মুত্তাকীরা (থাকবে) জান্নাতে ও প্রাচুর্যে। আল-বায়ান

মুত্তাক্বীরা থাকবে জান্নাতে আর নি‘মাত সম্ভারের মাঝে, তাইসিরুল

মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও ভোগ করবে বিলাস। মুজিবুর রহমান

Indeed, the righteous will be in gardens and pleasure, Sahih International

১৭. নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতে ও আরাম-আয়েশে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) আল্লাহভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও ভোগ-বিলাসে। [1]

[1] এখানে কাফের ও দুর্ভাগ্যবান লোকদের কথা আলোচনার পর ঈমানদার ও সৌভাগ্যবানদের আলোচনা করা হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১৮ فٰكِهِیۡنَ بِمَاۤ اٰتٰهُمۡ رَبُّهُمۡ ۚ وَ وَقٰهُمۡ رَبُّهُمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ ﴿۱۸﴾
فكهین بما اتهم ربهم و وقهم ربهم عذاب الجحیم ﴿۱۸﴾

তাদের রব তাদেরকে যা দিয়েছেন তা উপভোগ করবে, আর তাদের রব তাদেরকে বাঁচাবেন জ্বলন্ত আগুনের আযাব থেকে। আল-বায়ান

তারা ভোগ করবে তাদের প্রতিপালক যা তাদেরকে দিবেন, আর তাদের প্রতিপালক তাদেরকে জাহান্নামের ‘আযাব থেকে রক্ষা করবেন। তাইসিরুল

তাদের রাব্ব তাদেরকে যা দিবেন তারা তা উপভোগ করবে এবং তিনি তাদেরকে রক্ষা করবেন জাহান্নামের শাস্তি হতে। মুজিবুর রহমান

Enjoying what their Lord has given them, and their Lord protected them from the punishment of Hellfire. Sahih International

১৮. তাদের রব তাদেরকে যা দিয়েছেন তারা তা উপভোগ করবে এবং তাদের রব তাদেরকে রক্ষা করেছেন জলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) তাদের প্রতিপালক তাদেরকে যা দেবেন, তারা তা সানন্দে উপভোগ করবে[1] এবং তিনি তাদেরকে রক্ষা করবেন জাহান্নামের শাস্তি হতে।

[1] অর্থাৎ, জান্নাতের প্রাসাদ, পোশাক-পরিচ্ছদ, পানাহার, বাহন, সুন্দরী রূপসী স্ত্রীগণ (হুরে ঈন) এবং অন্যান্য আরো অনেক নিয়ামত লাভ করে তারা বড়ই আনন্দিত হবে। কারণ, এ নিয়ামতগুলো দুনিয়ার নিয়ামতের তুলনায় বহুগুণ শ্রেয় হবে এবং তা হবে, مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَر এর বাস্তব প্রমাণ। অর্থাৎ, তা হবে অতুলনীয়, বর্ণনাতীত ও কল্পনাতীত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ১৯ كُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا هَنِیۡٓـًٔۢا بِمَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿ۙ۱۹﴾
كلوا و اشربوا هنیٓـٔا بما كنتم تعملون ﴿۱۹﴾

তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর, তোমরা যে আমল করতে তার বিনিময়ে। আল-বায়ান

(তাদেরকে বলা হবে) খাও আর পান কর খুব মজা করে- তোমরা যে ‘আমাল করতে তার প্রতিফল হিসেবে। তাইসিরুল

তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাক। মুজিবুর রহমান

[They will be told], "Eat and drink in satisfaction for what you used to do." Sahih International

১৯. তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাক।(১)

(১) এখানে “তৃপ্তির সাথে” বা মজা করে কথাটি অত্যন্ত ব্যাপক অৰ্থ বহন করে। মানুষ জান্নাত যে লাভ করবে কোন প্রকার কষ্ট বা পরিশ্রম ছাড়াই তা লাভ করবে। বরং তা হুবহু তার আকাংখা ও মনের পছন্দ মত হবে। যত চাইবে এবং যখনই চাইবে সামনে এনে হাজির করা হবে। সে যা কিছু লাভ করবে তা তার অতীত কাজের প্রতিদান হিসেবে এবং নিজের বিগত দিনের উপার্জনের ফল হিসেবে লাভ করবে। [দেখুন: সাদী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাক। [1]

[1] অন্যত্র বলেছেন, (كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ) অর্থাৎ, পানাহার কর তৃপ্তির সাথে, তোমরা অতীত দিনে যা (সৎকর্ম) করেছিলে তার বিনিময়ে। (সূরা হা-ক্কবাহ ২৪ আয়াত) এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অনুকম্পা লাভের জন্য ঈমানের সাথে সৎকর্মও অত্যাবশ্যক।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫২ : ২০ مُتَّكِئِیۡنَ عَلٰی سُرُرٍ مَّصۡفُوۡفَۃٍ ۚ وَ زَوَّجۡنٰهُمۡ بِحُوۡرٍ عِیۡنٍ ﴿۲۰﴾
متكئین علی سرر مصفوفۃ و زوجنهم بحور عین ﴿۲۰﴾

সারিবদ্ধ পালঙ্কে তারা হেলান দিয়ে বসবে; আর আমি তাদেরকে মিলায়ে দেব ডাগরচোখা হূর-এর সাথে। আল-বায়ান

তারা সারিবদ্ধভাবে সাজানো আসনে হেলান দিয়ে বসবে, আর আমি তাদের বিয়ে দিয়ে দেব সুন্দর বড় বড় উজ্জ্বল চক্ষু বিশিষ্টা কুমারীদের সঙ্গে। তাইসিরুল

তারা বসবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে; আমি তাদের মিলন ঘটাব আয়তলোচনা হুরের সঙ্গে। মুজিবুর রহমান

They will be reclining on thrones lined up, and We will marry them to fair women with large, [beautiful] eyes. Sahih International

২০. তারা বসবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে; আর আমরা তাদের মিলন ঘটাব ডাগর চোখবিশিষ্টা হূরের সঙ্গে;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) তারা বসবে সারিবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে;[1] আমি তাদের বিবাহ দেব আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গে।

[1] مَصْفُوْفَةٍ একে অপরের সাথে মিলিত; যেন তা একটিই সারি। আবার কেউ কেউ এর অর্থ এই বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মুখমন্ডল একে অপরের সম্মুখে হবে। যেমন, যুদ্ধের ময়দানে সৈন্যদল পরস্পরের মুখোমুখি হয়। এই অর্থকেই কুরআনের অন্যত্র এই ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। (عَلَى سُرُرٍ مُّتَقَابِلِين) অর্থাৎ, মুখোমুখি হয়ে তারা আসনে আসীন থাকবে। (সূরা সা-ফফাত ৪৪ আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন