৫১৫৭

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৫১৫৭-[৩] জাবির (রা.) হতে বর্ণিত। একদিন রসূলুল্লাহ (সা.) একটি কানকাটা মৃত বকরীর বাচ্চার নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে পছন্দ করবে যে, এক দিরহামে বিনিময়ে এটা তার মালিকানাভুক্ত হোক। তাঁরা বললেন, কোন কিছুর বিনিময়ে এটা আমাদের মালিকানাভুক্ত হোক তা আমরা পছন্দ করব না। তখন তিনি বললেন : আল্লাহর শপথ! এটা তোমাদের কাছে যতটুকু নিকৃষ্ট, আল্লাহর কাছে দুনিয়া (এবং তার সম্পদ) এর চেয়েও অধিক নিকৃষ্ট। (মুসলিম)

الفصل الاول

وَعَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِجَدْيٍ أَسَكَّ مَيِّتٍ. قَالَ: «أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هَذَا لَهُ بِدِرْهَمٍ؟» فَقَالُوا: مَا نحبُّ أَنه لنا بشيءقال: «فَوَاللَّهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذَا عَلَيْكُم» . رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (2 / 2957)، (7418) ۔ (صَحِيح)

ব্যাখ্যা : (مَرَّ بِجَدْيٍ أَسَكَّ) ছোট কানওয়ালা ছাগলের বাচ্চা। অন্যান্য রিওয়ায়াতে (السخلة) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। উভয়ের অর্থই ছাগলছানা। (শারুহুন্ নবাবী ১৮শ খণ্ড, ২৯৫৭/২; তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২৩২১) |

(مَا نحبُّ أَنه لنا بشيء)অর্থাৎ কোন বস্তুর বিনিময়েই আমরা তা গ্রহণ করব না সে বস্তু যতই সামান্য হোক না কেন। এ থেকে উদ্দেশ্য হলো তা যদি আমাদেরকে বিনামূল্যেও দেয়া হয় তবুও আমরা গ্রহণ করব না। এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দুনিয়া হতে অনুৎসাহিত ও পরকালের প্রতি উৎসাহিত করা। কেননা দুনিয়ার প্রতি মুহাব্বাতই হল সকল অন্যায় অপরাধমূলক, যেমনটি ইমাম বায়হাকী (রহিমাহুল্লাহ) মুরসাল মূত্রে হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তিই ‘ইবাদাতেরও মূল। কেননা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত ব্যক্তি যদিও দীনের কাজে ব্যস্ত থাকে। তথাপি সেখানে অনেক সময়ই তা দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশেই সম্পাদন করে। এতে তার ভালো কাজও বিফল হয়। এর বিপরীতে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত ব্যক্তিও যদি দুনিয়ার বিষয়ে ব্যস্ত থাকে তথাপি সেখানে তার উদ্দেশ্য থাকে পরকালের কল্যাণ লাভ। এজন্যই কোন আল্লাহ প্রেমী বলেছেন : দুনিয়ার প্রতি আসক্ত ব্যক্তিকে কোন পথপ্রদর্শকই পথ দেখাতে সক্ষম নয়। আর দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত কোন ব্যক্তিকে দুনিয়ার সকল পথভ্রষ্টের প্রচেষ্টাও তাকে পথহারা করতে পারে না। (মিক্বাতুল মাফাতীহ)