بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৯৫ সূরাঃ আত-তীন | At-Tin | سورة التين - আয়াত সংখ্যাঃ ৮ - মাক্কী
তিলাওয়াত শুনতে এখানে ক্লিক করুন
৯৫:১ وَ التِّیۡنِ وَ الزَّیۡتُوۡنِ ۙ﴿۱﴾

কসম ‘তীন ও যায়তূন’ এর। আল-বায়ান

শপথ তীন ও যায়তূন-এর (যা জন্মে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন এলাকায় যে স্থান বহু পুণ্যময় নবী ও রসূলের স্মৃতিতে ধন্য)। তাইসিরুল

শপথ ‘তীন’ ও যাইতূন’ এর – মুজিবুর রহমান

১. শপথ তীন ও যায়তুন(১)-এর,

(১) এর ব্যাখ্যায় মুফাস্‌সিরগণের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। হাসান বসরী, ইকরামাহ, আতা ইবনে আবী রাবাহ, জাবের ইবনে যায়েদ, মুজাহিদ ও ইবরাহীম নাখায়ী রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন, তীন বা আঞ্জির (গোল হালকা কালচে বর্ণের এক রকম মিষ্টি ফল) বলতে এই সাধারণ তীনকে বুঝানো হয়েছে, যা লোকেরা খায়। আর যায়তুন বলতেও এই যায়তুনই বুঝানো হয়েছে, যা থেকে তেল বের করা হয়। [কুরতুবী, তাবারী] কোন কোন মুফাস্‌সির বলেন তীন ও যায়তুন শব্দের অর্থ এই ফল দুটি উৎপাদনের সমগ্র এলাকা হতে পারে। আর এটি হচ্ছে সিরিয়া ও ফিলিস্তীন এলাকা। কারণ সে যুগের আরবে তীন ও যায়তূন উৎপাদনের জন্য এ দুটি এলাকাই পরিচিত ছিল। ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়েম রাহিমাহুমুল্লাহ এই ব্যাখ্যা অবলম্বন করেছেন। অন্যদিকে ইবনে জারীর প্রথম বক্তব্যটিকে অগ্ৰাধিকার দিলেও একথা মেনে নিয়েছেন যে, তীন ও যায়তুন দ্বারা এই ফল দু'টি উৎপাদনের এলাকা উদ্দেশ্য হতে পারে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১। শপথ তীন ও যাইতূনের। [1]

[1] (‘তীন’ ডুমুরজাতীয় এক প্রকার মিষ্টি ফল; যার গাছ ও ফল ডুমুর গাছ ও ফলের মতই দেখতে। উর্দুতে ‘আনজীর’ তর্জমা দেখে তা আমাদের দেশের ‘পেয়ারা’ ‘আঞ্জীর’ বা ‘আমসপেরা’ মনে করা ভুল। যয়তূনকে ইংরেজীতে ‘অলিভ’ বলা হয়। বাংলাতে এর অনুবাদ ‘জলপাই’ করা হয়ে থাকে।) -সম্পাদক

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৫:২ وَ طُوۡرِ سِیۡنِیۡنَ ۙ﴿۲﴾

কসম ‘সিনাই’ পর্বতের, আল-বায়ান

শপথ সিনাই পর্বতের (যা নবী মূসার স্মৃতি বিজড়িত), তাইসিরুল

শপথ ‘সিনাই’ পর্বতের – মুজিবুর রহমান

২. শপথ তূরে সীনীন(১)-এর,

(১) বলা হয়েছে “তূরে সীনীন” এর অর্থ, সীনীন অঞ্চলের তূর পর্বত। এ পাহাড়ে আল্লাহ তা'আলা মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছিলেন। [মুয়াস্‌সার] এ পাহাড় সীনীন উপত্যকায় অবস্থিত, যার অপর নাম সাইনা। আর সাইনা বা সিনাই মিসর ও ফিলিস্তিন দেশের মধ্যে একটি মরুভূমি। [আত-তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। শপথ ‘সিনাই’ পর্বতের। [1]

[1] এটা হল সেই ‘ত্বূর পাহাড়’ যে স্থানে আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর সাথে কথোপকথন করেছিলেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৫:৩ وَ ہٰذَا الۡبَلَدِ الۡاَمِیۡنِ ۙ﴿۳﴾

কসম এই নিরাপদ নগরীর। আল-বায়ান

আর (ইবরাহীম ও ইসমাঈল কর্তৃক নির্মিত কা‘বার) এই নিরাপদ নগরীর শপথ, তাইসিরুল

এবং শপথ এই নিরাপদ বা শান্তিময় নগরীর – মুজিবুর রহমান

৩. শপথ এই নিরাপদ নগরীর(১)-

(১) এ সূরায় কয়েকটি বস্তুর শপথ করা হয়েছে। (এক) তীন অর্থাৎ আঞ্জির বা ডুমুর এবং যায়তুন। (দুই) সিনাই প্রান্তরস্থ তুর পর্বত। (তিন) নিরাপদ শহর তথা মক্কা মোকাররমা। এই বিশেষ শপথের কারণ এই হতে পারে যে, তুর পর্বত ও মক্কা নগরীর ন্যায় ডুমুর ও যায়তুন বৃক্ষও বিপুল উপকারী বস্তু। অথবা এটাও সম্ভবপর যে, এখানে তীন ও যায়তুন উল্লেখ করে সে স্থানকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে এ বৃক্ষ প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়। আর সে স্থান হচ্ছে সিরিয়া ও ফিলিস্তিন অঞ্চল, যা অগণিত রাসূলগণের আবাসভূমি। বিশেষ করে তা ঈসা আলাইহিস সালামের নবুয়ত-প্ৰাপ্তিস্থান। আর তুর পর্বত মূসা আলাইহিস সালাম-এর আল্লাহর সাথে বাক্যালাপের স্থান। সিনীন অথবা সীনা- তুর পর্বতের অবস্থানস্থলের নাম। পরবর্তীতে উল্লেখ করা নিরাপদ শহর হল পবিত্র মক্কা; যা শেষনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মস্থান ও নবুয়ত প্ৰাপ্তিস্থান। [বাদাইউত তাফসীর, ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। এবং শপথ এই নিরাপদ নগরী (মক্কা)র। [1]

[1] এখানে ‘নিরাপদ নগরী’ বলে মক্কা নগরীকে বোঝানো হয়েছে। যেখানে কোন প্রকার যুদ্ধ বা হত্যাকান্ড বৈধ নয়। এ ছাড়াও যে ব্যক্তি এই শহরে প্রবেশ করে যাবে সেও নিরাপত্তার অধিকারী হবে। কিছু ব্যাখ্যাকারীগণ বলেছেন যে, আসলে এখানে আল্লাহ তিনটি জায়গার কসম খেয়েছেন; যে জায়গাগুলিতে সুখ্যাতিসম্পন্ন, শরীয়তপ্রাপ্ত পয়গম্বর প্রেরণ হয়েছেন। ‘তীন’ ও ‘যায়তুন’ থেকে সেই এলাকা বোঝান হয়েছে যেখানে এসব ফল (অধিকাধিক) উৎপন্ন হয়। আর সেটা হল ‘বাইতুল মাকদিস’ এলাকা। যেখানে ঈসা (আঃ) পয়গম্বর হয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন। ‘ত্বুরে সীনা’ অথবা সিনাই পর্বতে মূসা (আঃ)-কে নবুঅত দান করা হয়েছিল। আর মক্কা নগরীতে নবীকূল শিরোমণি মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে প্রেরণ করা হয়েছিল। (ইবনে কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৫:৪ لَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ فِیۡۤ اَحۡسَنِ تَقۡوِیۡمٍ ۫﴿۴﴾

অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম গঠনে। আল-বায়ান

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি অতি উত্তম আকার আকৃতি দিয়ে, (এবং জ্ঞান ও যোগ্যতা দিয়ে যার সুন্দরতম নমুনা হল নবী রসূলগণ)। তাইসিরুল

আমিতো সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে, মুজিবুর রহমান

৪. অবশ্যই আমরা সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে(১),

(১) তীন ও যায়তুন বা এগুলো উৎপন্ন হওয়ার এলাকা- অর্থাৎ সিরিয়া ও ফিলিস্তান; তূর পর্বত এবং নিরাপদ শহর তথা মক্কার কসম এ কথাটির উপরই করা হয়েছে। বল হয়েছে, মানুষকে সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করা হয়েছে। একথার মানে হচ্ছে এই যে, তাকে এমন উন্নত পৰ্যায়ের দৈহিক সৌষ্ঠব দান করা হয়েছে যা অন্য কোন প্ৰাণীকে দেয়া হয়নি। আয়াতে বর্ণিত تَقْوِيم এর অর্থ কোন কিছুর অবয়ব ও ভিত্তিকে যেরূপ করা উচিৎ, সে-রকমভাবে পরিপূর্ণ আকারে গঠন করা। তা দ্বারা উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে দৈহিক অবয়ব এবং আকার-আকৃতি ও আচার-ব্যবহার ও মানুষ্যত্বের মাধ্যমে অন্যান্য সব প্রাণী অপেক্ষা সুন্দরতম করেছেন। [বাদা’ই’উত তাফসীর, আদওয়াউল বায়ান] আকার আকৃতির বাইরেও আল্লাহ তা'আলা তাকে জ্ঞানী, শক্তিবান, বক্তা, শ্রোতা, স্রষ্টা, কুশলী এবং প্রজ্ঞাবান করেছেন। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। আমি তো সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে। [1]

[1] এটা হল কসমের জওয়াব। আল্লাহ তাআলা প্রতিটি প্রাণীকে সৃষ্টি করেছেন নিচুমুখী করে। কেবলমাত্র মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আলম্বিত দেহ সোজা করে; যে নিজের হাত দিয়ে পানাহার করে। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে যথোপযোগী বানিয়েছেন। তাতে পশুর মত বেমানান ও অসামঞ্জস্য নেই। প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তার মাঝে উচিত ব্যবধানও রেখেছেন। তাতে বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তা-চেতনা, বোঝশক্তি, প্রজ্ঞা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন। যার ফলে মানুষ আসলে তাঁর কুদরতের প্রকাশস্থল এবং তাঁর শক্তিমত্তার প্রতিবিম্ব। কিছু উলামা إن الله خلق آدم على صورته (অর্থাৎ, নিশ্চয় আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।) হাদীসে উক্ত অর্থ গ্রহণ করেছেন।(মুসলিম নেকী ও আত্মীয়তা এবং আদব অধ্যায়)

মানুষের সৃষ্টিতে উক্ত সকল জিনিসের ব্যবস্থা করাটাই হল ‘আহসানি তাকবীম’ (সুন্দরতম গঠন) যা মহান আল্লাহ তিনটি বস্তুর কসম খাওয়ার পর উল্লেখ করেছেন। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৫:৫ ثُمَّ رَدَدۡنٰہُ اَسۡفَلَ سٰفِلِیۡنَ ۙ﴿۵﴾

তারপর আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি হীনদের হীনতম রূপে। আল-বায়ান

আবার উল্টোদিকে তাকে করেছি হীনদের হীনমত (যেমন আল্লাহ বিদ্রোহী কাফির, অত্যাচারী রাজা-বাদশা-শাসক, খুনী, পুতুল পূজারী ইত্যাদি)। তাইসিরুল

অতঃপর আমি তাকে হীনতাগ্রস্তদের হীনতমে পরিণত করি – মুজিবুর রহমান

৫. তারপর আমরা তাকে হীনতাগ্রস্তাদের হীনতমে পরিণত করি—(১)

(১) মুফাস্‌সিরগণ সাধারণত এর দু'টি অর্থ বর্ণনা করেছেন। এক, আমি তাকে যৌবনের পর বার্ধক্যের এমন এক অবস্থার দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি যেখানে সে কিছু চিন্তা করার, বুঝার ও কাজ করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে; ছোট শিশুর মত হয়ে যায়। দুই. আয়াতের দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, আমি তাকে জাহান্নামের সর্বনিম্ন পর্যায়ের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি। সর্বোত্তম কাঠামোয় সৃষ্টি করার পর যখন মানুষ নিজের দৈহিক ও মানসিক শক্তিগুলোকে দুস্কৃতির পথে ব্যবহার করে তখন আল্লাহ তাকে এর উপযুক্ত প্রতিদান হিসেবে জাহান্নামকে তার আবাসস্থল বানিয়ে দেন। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। অতঃপর আমি তাকে হীনতার সবচেয়ে নিম্নস্তরে ফিরিয়ে দিয়েছি।[1]

[1] এখানে মানুষের স্থবিরতা ও অন্তিম আয়ুর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। যে সময়ে যুবক অবস্থা ও শক্তিমত্তার পর বার্ধক্য ও দুর্বলতা এসে পড়ে। আর তখন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি ও বোধশক্তি শিশুদের মত হয়ে যায়। কেউ কেউ এখানে সেই হীনতার অর্থ গ্রহণ করেছেন যাতে মানুষ পতিত হয়ে অতিরিক্ত নীচতা এবং সাপ-বিছা থেকেও বেশী নিকৃষ্ট হয়ে যায়। আবার কেউ বলেন, এ আয়াত দ্বারা সেই লাঞ্ছনাকর আযাবকে বোঝানো হয়েছে যা জাহান্নামে কাফেরদের জন্য অপেক্ষা করছে। অর্থাৎ, মানুষ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য না করে নিজেকে ‘আহ্সানি তাকবীম’-এর উচ্চ মর্যাদা থেকে জাহান্নামের নিম্নদেশে ঠেলে দেয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৫:৬ اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فَلَہُمۡ اَجۡرٌ غَیۡرُ مَمۡنُوۡنٍ ؕ﴿۶﴾

তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। আল-বায়ান

কিন্তু তাদেরকে নয় যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, তাদের জন্য তো আছে অফুরন্ত প্রতিদান। তাইসিরুল

কিন্তু তাদের নয় যারা মু’মিন ও সৎ কর্মপরায়ণ; তাদের জন্যতো আছে নিরবিচ্ছিন্ন পুরস্কার। মুজিবুর রহমান

৬. কিন্তু তাদেরকে নয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; এদের জন্য তো আছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।(১)

(১) এ আয়াতে মুমিন সৎকর্মশীলগণ এর ব্যতিক্রম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব মুফাসসির “আসফালা সাফেলীন” এর অর্থ করেছেন, বার্ধক্যের এমন একটি অবস্থা যখন মানুষ নিজের চেতনা ও স্বাভাবিক জ্ঞান-বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে, তারা এই আয়াতের অর্থ এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, বয়সের এই পর্যায়েও তারা ঐ ধরনের সৎকাজগুলো করেনি বলে তাদের ভালো প্রতিদান দেবার ক্ষেত্রে কোন হেরফের হবে না, কমতি হবে না। বাৰ্ধক্যজনিত বেকারত্ব ও কর্মহ্রাস পাওয়া সত্বেও তাদের আমলানামায় সেসব কর্ম লিখিত হয়, যা তারা শক্তিমান অবস্থায় করত। [তাবারী] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কোন মুসলিম অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা মুসাফির হলে আল্লাহ তা'আলা আমল লেখক ফেরেশতাগণকে আদেশ দেন, সুস্থ অবস্থায় সে যেসব সৎকর্ম করত, সেগুলো তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ করতে থাক।” [বুখারী: ২৯৯৬, মুসনাদে আহমাদ: ২/১৯৪, ৩/২৫৮]

পক্ষান্তরে যেসব মুফাস্‌সির “ফিরিয়ে দেবার” অর্থ ‘জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে নিক্ষেপ করা’ করেছেন তাদের মতে, মহান আল্লাহ তা'আলা মানুষকে সুন্দর গঠনে সৃষ্টি করে তাকে অনেক নেয়ামত দান করেছেন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে দুনিয়ায় খেল-তামাশায় মত্ত হয়ে যায়। এই অকৃতজ্ঞতার শাস্তি হিসেবে তাদেরকে জাহান্নামের হীনতম ও নিম্নতম পর্যয়ে পৌছে দেয়া হবে। কিন্তু যারা মুমিন ও সৎকর্মী, তাদেরকে নিকৃষ্টতম পর্যায়ে পৌছানো হবে না; বরং তারা জান্নাতে এমন পুরস্কার পাবে যার ধারাবাহিকতা কোনদিন শেষ হবে না, যে পুরষ্কারের কোন কমতি হবে না। [বাদা'ই'উত তাফসীর, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। কিন্তু তাদেরকে নয় যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য তো আছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার। [1]

[1] এ আয়াতটি পূর্বের আয়াতের প্রথম অর্থের বিশদ বিবরণ। অর্থাৎ, এ দিয়ে মু’মিনদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে; (তারা অন্তিম বার্ধক্যে পৌঁছলেও তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার)। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় অর্থের দিক দিয়ে এটি পূর্বের বাক্যেরই তাকীদ। অবশ্য এই পরিণাম থেকে মু’মিনদেরকে পৃথক করা হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৫:৭ فَمَا یُکَذِّبُکَ بَعۡدُ بِالدِّیۡنِ ؕ﴿۷﴾

সুতরাং এরপরও কিসে তোমাকে কর্মফল সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে তোলে? আল-বায়ান

(ভাল কাজের পুরস্কার দেয়া আর অন্যায় কাজের শাস্তি দেয়াই ইনসাফপূর্ণ কথা) কাজেই শেষ বিচারের দিনকে অস্বীকার করতে কিসে তোমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে? তাইসিরুল

সুতরাং এরপর কিসে তোমাকে কর্মফল সম্বন্ধে অবিশ্বাসী করে? মুজিবুর রহমান

৭. কাজেই (হে মানুষ!) এরপর কিসে তোমাকে কৰ্মফল দিন সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে?(১)

(১) এতে কেয়ামতে অবিশ্বাসীদেরকে হুশিয়ার করা হয়েছে যে, আল্লাহর কুদরাতের উপরোক্ত দৃশ্য ও পরিবর্তন দেখার পরও তোমাদের জন্যে আখেরাত ও কেয়ামতকে মিথ্যা মনে করার কি অবকাশ থাকতে পারে? তোমাদেরকে আল্লাহ তা'আলা সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, তিনি ইচ্ছা করলে হীনতম ও নিম্নতম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন, তারপরও কেন তোমরা তা অস্বীকার করবে? এর আরেকটি অনুবাদ এও হতে পারে, এসব প্রমাণের পর (হে রাসূল) শাস্তি ও পুরষ্কারের ব্যাপারে কে আপনাকে মিথ্যা বলতে পারে? [কুরতুবী] এই কথাটিকেই কুরআনের অন্যান্য স্থানে এভাবে বলা হয়েছে, “আমি কি অনুগতদেরকে অপরাধীদের মতো করে দেবো? তোমাদের কি হয়ে গেছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছো? [সূরা আল-কলম: ৩৫–৩৬] আরো এসেছে, “দুষ্কৃতকারীরা কি একথা মনে করেছে, আমি তাদেরকে এমন লোকদের মতো করে দেবো যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে? উভয়ের জীবন ও মৃত্যু এক রকম হবে? খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত যা এরা করছে। [সূরা আল-জাসিয়াহ: ২১]

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। সুতরাং এরপর কিসে তোমাকে (হে মানুষ) কর্মফল দিবস সম্বন্ধে অবিশ্বাসী করে? [1]

[1] এ দিয়ে কিয়ামতের অবিশ্বাসীদেরকে হুমকির সাথে হুঁশিয়ার করা হয়েছে যে, আল্লাহ তোমাকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তোমাকে তার বিপরীত হীনতার অতল তলে নিক্ষেপ করতেও সক্ষম। আর তার মানেই হল, তোমাকে পুনর্বার সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে কোন কঠিন কাজ নয়। সুতরাং এরপরেও কি তুমি কিয়ামত ও প্রতিফল দিবসকে অবিশ্বাস করবে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৯৫:৮ اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِاَحۡکَمِ الۡحٰکِمِیۡنَ ﴿۸﴾

আল্লাহ কি বিচারকদের শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? আল-বায়ান

আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম (বিচারক) নন? তাইসিরুল

আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন? মুজিবুর রহমান

৮. আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?(১)

(১) আল্লাহ তা'আলা কি সব বিচারকের মহাবিচারক নন? তিনি কি সকল শাসকবর্গের মধ্যে সর্বোত্তম শাসক নন? এই ন্যায় বিচারের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল প্রত্যেক অপরাধীকে তার শাস্তি ও প্রত্যেক সৎকর্মীকে তার উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা। বিচারকদের শ্রেষ্ঠবিচারক আল্লাহ্ তা'আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে উপনীত করেছেন পরিপূর্ণ ন্যায় ও প্রজ্ঞার সাথে; তবুও কি তিনি মানুষের কৃতকর্মের উপযুক্ত প্রতিদানও দেবেন না? [বাদাইউত তাফসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন? [1]

[1] অর্থাৎ, আল্লাহ কারো প্রতি অবিচার করেন না। আর তাঁর সুবিচারের দাবী এই যে, তিনি কিয়ামত সংঘটিত করবেন এবং যাদের উপর দুনিয়ায় যুলুম করা হয়েছে তাদেরকে পূর্ণ বদলা দিয়ে দেওয়া হবে।

প্রকাশ থাকে যে, এই সূরার শেষে ‘বালা অআনা আলা যা-লিকা মিনাশ শাহিদীন’ বলার হাদীস সহীহ নয়। (তিরমিযী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান