সূরাঃ ৮২/ আল-ইনফিতার | Al-Infitar | ٱلْإِنْفِطَار আয়াতঃ ১৯ মাক্কী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৮২ : ১ اِذَا السَّمَآءُ انۡفَطَرَتۡ ۙ﴿۱﴾

যখন আসমান বিদীর্ণ হবে। আল-বায়ান

যখন আসমান ফেটে যাবে, তাইসিরুল

আকাশ যখন বিদীর্ণ হবে, মুজিবুর রহমান

When the sky breaks apart Sahih International

১. যখন আসমান বিদীর্ণ হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১। আকাশ যখন বিদীর্ণ হবে। [1]

[1] অর্থাৎ, আল্লাহর আদেশ এবং তাঁর ভয়ে (আসমান) ফেটে যাবে এবং ফিরিশতাগণ নিচে অবতরণ করবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ২ وَ اِذَا الۡكَوَاكِبُ انۡتَثَرَتۡ ۙ﴿۲﴾

আর যখন নক্ষত্রগুলো ঝরে পড়বে। আল-বায়ান

যখন তারকাগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে (ঝরে) পড়বে, তাইসিরুল

যখন নক্ষত্রমন্ডলী বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে, মুজিবুর রহমান

And when the stars fall, scattering, Sahih International

২. আর যখন নক্ষত্রমণ্ডলী বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

২। যখন নক্ষত্ররাজি বিক্ষিপ্তভাবে ঝরে পড়বে,

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ৩ وَ اِذَا الۡبِحَارُ فُجِّرَتۡ ﴿ۙ۳﴾

আর যখন সমুদ্রগুলোকে একাকার করা হবে। আল-বায়ান

সমুদ্রকে যখন উত্তাল করে তোলা হবে, তাইসিরুল

যখন সমুদ্র উদ্বেলিত হবে, মুজিবুর রহমান

And when the seas are erupted Sahih International

৩. আর যখন সাগরগুলো বিস্ফোরিত করা হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। যখন সমুদ্রগুলি উদ্বেলিত হবে, [1]

[1] আর সমস্ত সমুদ্রের পানি একটি সমুদ্রে জমা হয়ে যাবে। (অথবা সমস্ত সমুদ্র একটি সমুদ্রে পরিণত হবে। লোনা-মিঠা এক হয়ে যাবে।) তারপর আল্লাহ তাআলা পশ্চিমী হাওয়া প্রেরণ করবেন, যা তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেবে, যার ফলে আকাশ-ছোঁয়া আগুনের শিখা উঠতে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ৪ وَ اِذَا الۡقُبُوۡرُ بُعۡثِرَتۡ ۙ﴿۴﴾

আর যখন কবরগুলো উন্মোচিত হবে। আল-বায়ান

যখন কবরস্থ মানুষদেরকে উঠানো হবে, তাইসিরুল

এবং যখন কাবরসমূহ সমুত্থিত হবে; মুজিবুর রহমান

And when the [contents of] graves are scattered, Sahih International

৪. আর যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে(১),

(১) প্রথম তিনটি আয়াতে কিয়ামতের প্রথম পর্বের উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই আয়াতে দ্বিতীয় পর্বের কথা বলা হয়েছে। কবর খুলে ফেলার মানে হচ্ছে, তা খুলে তা থেকে মানুষকে আবার নতুন করে জীবিত করে উঠানো। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। এবং যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে; [1]

[1] অর্থাৎ, কবর থেকে মৃতরা জীবন্ত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে। بُعثِرَت এর অর্থ হল, উৎপাটিত হবে অথবা তার মাটিকে উলট-পালট করে দেওয়া হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ৫ عَلِمَتۡ نَفۡسٌ مَّا قَدَّمَتۡ وَ اَخَّرَتۡ ؕ﴿۵﴾

তখন প্রত্যেকে জানতে পারবে, সে যা আগে পাঠিয়েছে এবং যা পিছনে রেখে গেছে। আল-বায়ান

তখন প্রত্যেকে জেনে নিবে সে কী আগে পাঠিয়েছিল, আর কী পেছনে ছেড়ে এসেছিল। তাইসিরুল

যখন প্রত্যেকে যা পূর্বে প্রেরণ করেছে এবং পশ্চাতে পরিত্যাগ করেছে তা পরিজ্ঞাত হবে। মুজিবুর রহমান

A soul will [then] know what it has put forth and kept back. Sahih International

৫. তখন প্রত্যেকে জানবে, সে কী আগে পাঠিয়েছে ও কী পিছনে রেখে গিয়েছে।(১)

(১) অর্থাৎ আকাশ বিদীর্ণ হওয়া, নক্ষত্ৰসমূহ ঝরে পড়া, সমুদ্র একাকার হয়ে যাওয়া, কবর থেকে মৃতদের বের হয়ে আসা ইত্যাকার কেয়ামতের ঘটনা যখন ঘটে যাবে, তখন প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে কি অগ্ৰে প্রেরণ করেছে এবং কি পশ্চাতে ছেড়েছে। মূলে বলা হয়েছে, (مَا قَدَّمَتْ وَأَخَّرَتْ) এ শব্দগুলোর কয়েকটি অর্থ হতে পারে এবং সবগুলো অর্থই এখানে প্রযোজ্য। এক. যে ভালো ও মন্দ কাজ করে মানুষ আগে পাঠিয়ে দিয়েছে তাকে مَا قَدَّمَتْ এবং যেগুলো করতে সে বিরত থেকেছে তাকে একে مَا أَخَّرَتْ বলা যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিনে প্রত্যেকেই জেনে নিবে সে সৎ অসৎ কি কর্ম করেছে এবং কি সৎ অসৎ কর্ম করেনি। [তাবারী] দুই. যা কিছু প্ৰথমে করেছে তা مَا قَدَّمَتْ এবং যা কিছু পরে করেছে তা مَا أَخَّرَتْ এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ সম্পাদনের ধারাবাহিকতা ও তারিখ অনুসারে মানুষের প্রত্যেকটি কাজের হিসেব সম্বলিত আমলনামা তার সামনে এসে যাবে। [মুয়াস্‌সার] তিন. যেসব ভালো বা মন্দ কাজ মানুষ তার জীবনে করেছে সেগুলো (مَا قَدَّمَتْ) এর অন্তর্ভুক্ত। এ মানুষের সমাজে এসব কাজের যে প্রভাব ও ফলাফল সে নিজের পেছনে রেখে এসেছে সেগুলো مَا أَخَّرَتْ এর অন্তর্ভুক্ত। কাজটি সৎ হলে তার সওয়াব সে পেতে থাকবে এবং অসৎ হলে তার গোনাহ আমলানামায় লিখিত হতে থাকবে। হাদীসে আছে “যে ব্যক্তি ইসলামে কোন উত্তম সুন্নত ও নিয়ম চালু করে সে তার সওয়াব সবসময় পেতে থাকবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কোন কুপ্ৰথা অথবা পাপ কাজ চালু করে যতদিন মানুষ এই পাপ কাজ করবে ততদিন তার আমলনামায় এর গোনাহ লিখিত হতে থাকবে।” [তিরমিযী: ২৬৭৫, ইবনে মাজহ: ২০৭, মুসনাদে আহমাদঃ ২/৫০৪] [আত-তাফসীরুস সহীহ]

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। তখন প্রত্যেকেই জানতে পারবে সে পূর্বে যা প্রেরণ করেছে এবং পশ্চাতে কি ছেড়ে এসেছে।[1]

[1] অর্থাৎ, যখন এই উল্লিখিত বিষয়গুলি সংঘটিত হবে, তখন মানুষের কৃত আমল প্রকাশ পেয়ে যাবে। যা কিছু সে ভাল-মন্দ আমল করেছে, তা সামনে উপস্থিত পাবে। পশ্চাতে ছাড়া আমল বলতে উদ্দেশ্য হল, নিজের চাল-চলন এবং আমলের ভাল অথবা মন্দ নমুনা (আদর্শ) যা মানুষ দুনিয়ায় ছেড়ে যায় এবং লোকেরা সেই আদর্শের উপর আমল করে। এবার যদি তার আদর্শ ভাল হয় এবং তার মৃত্যুর পরেও লোকেরা তার আদর্শ অনুসারে আমল করে, তাহলে সেই সওয়াবও তার কাছে পৌঁছতে থাকে। আর যদি সে মন্দ আদর্শ ছেড়ে যায় এবং সেই আদর্শ অনুযায়ী লোকেরা আমল করে, তাহলে সেই পাপের ভাগী সেও হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ৬ یٰۤاَیُّهَا الۡاِنۡسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الۡكَرِیۡمِ ۙ﴿۶﴾

হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে ধোঁকা দিয়েছে? আল-বায়ান

হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে? তাইসিরুল

হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রাব্ব (আল্লাহ) হতে প্রতারিত করল? মুজিবুর রহমান

O mankind, what has deceived you concerning your Lord, the Generous, Sahih International

৬. হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান রব সম্পর্কে বিভ্ৰান্ত করল?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহামহিম প্রতিপালক হতে প্রতারিত করল?[1]

[1] অর্থাৎ, কোন্ বস্তু তোমাকে ধোঁকা ও প্রতারণায় ফেলে রেখেছে? যার কারণে তুমি সেই প্রভুকে অস্বীকার করেছ; যিনি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং তোমাকে অস্তিত্ব প্রদান করেছেন, তোমাকে জ্ঞান ও সমঝ-বোঝ দান করেছেন, জীবন-যাপন করার জন্য নানান উপকরণ দিয়েছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ৭ الَّذِیۡ خَلَقَكَ فَسَوّٰىكَ فَعَدَلَكَ ۙ﴿۷﴾

যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন অতঃপর তোমাকে সুসম করেছেন, তারপর তোমাকে সুসমঞ্জস করেছেন। আল-বায়ান

যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন, অতঃপর তোমাকে করেছেন ভারসাম্যপূর্ণ। তাইসিরুল

যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং অতঃপর সুবিন্যস্ত করেছেন, মুজিবুর রহমান

Who created you, proportioned you, and balanced you? Sahih International

৭. যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন(১),

(১) অর্থাৎ মহান আল্লাহ তোমাকে এই পূর্ণাঙ্গ মানবিক আকৃতি দান করেছেন। তোমার সামনে সব রকমের প্রাণী রয়েছে, তাদের মোকাবিলায় তোমার সবচেয়ে সুন্দর শারীরিক কাঠামো এবং শ্রেষ্ঠ ও উন্নত শক্তি একেবারেই সুস্পষ্ট। অন্যত্র বলা হয়েছে, “অবশ্যই আমরা সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে”। [সূরা আত-তীন: ৪] [আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, [1] অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন [2] এবং তারপর সুসমঞ্জস করেছেন। [3]

[1] অর্থাৎ, নিকৃষ্ট বীর্যবিন্দু থেকে, অথচ ইতিপূর্বে তোমার কোন অস্তিত্বই ছিল না।

[2] অর্থাৎ, তোমাকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানবরূপে সৃষ্টি করেছেন। তুমি শ্রবণ করতে, দর্শন করতে এবং জ্ঞান-বুদ্ধি প্রয়োগ করতে পার।

[3] তোমাকে মাঝারি গড়নের, লম্বালম্বি সোজা, সুশ্রী ও সুদর্শনময় বানিয়েছেন। অথবা তোমার দুটি চোখ, দুটি কান, দুটি হাত, দুটি পা (এবং অন্য সকল অঙ্গকে) সুসমঞ্জস যথোপযুক্ত আকৃতি দান করেছেন। যদি তোমার এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সামঞ্জস্যময় না হত, তাহলে তোমার অস্তিত্বে সুশ্রীময়তা প্রকাশ না পেয়ে কুশ্রীময়তা প্রকাশ পেত। এইরূপ সৃষ্টিকেই অন্য স্থানে ‘আহসানে তাক্ববীম’ (সুন্দরতম গঠন) বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। (لَقَدْ خَلَقْنَا الإنْسَانَ فِيْ أَحْسَنِ تَقْوِيْم)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ৮ فِیۡۤ اَیِّ صُوۡرَۃٍ مَّا شَآءَ رَكَّبَكَ ؕ﴿۸﴾

যে আকৃতিতে তিনি চেয়েছেন তোমাকে গঠন করেছেন। আল-বায়ান

তিনি তোমাকে তাঁর ইচ্ছেমত আকৃতিতে গঠন করেছেন। তাইসিরুল

যে আকৃতিতে চেয়েছেন, তিনি তোমাকে গঠন করেছেন। মুজিবুর রহমান

In whatever form He willed has He assembled you. Sahih International

৮. যে আকৃতিতে চেয়েছেন, তিনি তোমাকে গঠন করেছেন।(১)

(১) এখানে মানুষ সৃষ্টির প্রারম্ভিক পর্যায় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আল্লাহ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তদুপরি তোমার সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সুবিন্যস্ত করেছেন। এরপর বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা সব মানুষকে, যাকে যেরূপে ইচ্ছা সে আকার-আকৃতিতে সৃষ্টি করতে পারেন। তিনি কোটি কোটি মানুষের আকার আকৃতি এমনভাবে গঠন করেছেন যে, পরস্পরের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য ও পার্থক্য সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আর তা আল্লাহ তা'আলার এক বড় নিদর্শন। [আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। যে আকৃতিতে চেয়েছেন তিনি তোমাকে গঠন করেছেন। [1]

[1] এর একটা অর্থ এই যে, আল্লাহ ভ্রূণকে যার মত ইচ্ছা তার রূপ ও আকারে সৃষ্টি করেন; তার চেহারা পিতা, মাতা, মামা অথবা চাচাদের মত করেন। দ্বিতীয় অর্থ হল যে, তিনি যার আকার ও আকৃতিতে চান, তার ছাঁচে ঢেলে দেন। এমনকি নিকৃষ্টরূপ জন্তুর আকৃতিতেও পয়দা করতে পারেন। কিন্তু তাঁর অনুগ্রহ, দয়া ও মেহেরবানী এই যে, তিনি তা করেন না; বরং তিনি সুন্দর অবয়ব দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ৯ كَلَّا بَلۡ تُكَذِّبُوۡنَ بِالدِّیۡنِ ۙ﴿۹﴾

কখনো নয়, তোমরা তো প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে থাক। আল-বায়ান

না (তোমাদের এই বিভ্রান্তি মোটেই সঠিক নয়), তোমরা তো (আখেরাতের) শাস্তি ও পুরস্কারকে অস্বীকার করে থাক; তাইসিরুল

না, কখনই না, তোমরাতো শেষ বিচারকে অস্বীকার করে থাকো; মুজিবুর রহমান

No! But you deny the Recompense. Sahih International

৯. কখনো নয়, তোমরা তো প্রতিদান দিবসে মিথ্যারোপ করে থাক(১);

(১) অর্থাৎ যে জিনিসটি তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে, তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে তা হল এই ধারণা যে, দুনিয়ার এই কর্মজগতের পরে আর কোন কর্মফল, প্রতিদান ও বিচারের জগত নেই। এ বিভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন ধারণাই তোমাকে আল্লাহ থেকে গাফেল করে দিয়েছে, মহান আল্লাহ সম্পর্কে বিভ্ৰান্তিতে ফেলেছে। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। না কখনই না, বরং তোমরা শেষ বিচারকে মিথ্যা মনে করে থাক;[1]

[1] এখানে كلا শব্দটি حقًا শব্দের অর্থেও হতে পারে। (অর্থাৎ, সত্যপক্ষে তোমরা শেষ বিচারকে মিথ্যা মনে করে থাক।) এখানে কাফেরদের সেই আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির খন্ডন করা হয়েছে, যা দয়াবান আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের ব্যাপারে ধোঁকায় মগ্ন থাকার ফলে সংঘটিত হয়েছে। অর্থাৎ, এই প্রবৃত্তির প্রতারণায় পড়ার কোন কারণ নেই। বরং আসল কথা হল যে, তোমাদের হৃদয়ে এ কথার প্রত্যয় নেই যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং সেখানে প্রতিদান ও শাস্তি দেওয়া হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১০ وَ اِنَّ عَلَیۡكُمۡ لَحٰفِظِیۡنَ ﴿ۙ۱۰﴾

আর নিশ্চয় তোমাদের উপর সংরক্ষকগণ রয়েছে। আল-বায়ান

অবশ্যই তোমাদের উপর নিযুক্ত আছে তত্ত্বাবধায়কগণ; তাইসিরুল

অবশ্যই রয়েছে তোমাদের উপর সংরক্ষকগণ; মুজিবুর রহমান

And indeed, [appointed] over you are keepers, Sahih International

১০. আর নিশ্চয় নিয়োজিত আছেন তোমাদের উপর সংরক্ষকদল;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। অবশ্যই তোমাদের উপর (নিযুক্ত আছে) সংরক্ষকগণ;

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১১ كِرَامًا كَاتِبِیۡنَ ﴿ۙ۱۱﴾

সম্মানিত লেখকবৃন্দ। আল-বায়ান

সম্মানিত লেখকগণ (যারা লিপিবদ্ধ করছে তোমাদের কার্যকলাপ), তাইসিরুল

সম্মানিত লেখকবর্গ; মুজিবুর রহমান

Noble and recording; Sahih International

১১. সম্মানিত লেখকবৃন্দ;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। সম্মানিত (আমল) লেখকবর্গ (ফিরিশতা);

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১২ یَعۡلَمُوۡنَ مَا تَفۡعَلُوۡنَ ﴿۱۲﴾

তারা জানে, যা তোমরা কর। আল-বায়ান

তারা জানে তোমরা যা কর। তাইসিরুল

তারা অবগত হয় যা তোমরা কর। মুজিবুর রহমান

They know whatever you do. Sahih International

১২. তারা জানে তোমরা যা কর।(১)

(১) অর্থাৎ ফেরেশতারা প্রত্যেক ব্যক্তির প্রত্যেকটি কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। সব জায়গায় সব অবস্থায় সকল ব্যক্তির সাথে তারা এমনভাবে লেগে আছে যে, তারা জানতেই পারছে না যে, কেউ তাদের কাজ পরিদর্শন করছে। কোন ব্যক্তি কোন নিয়তে কি কাজ করেছে তাও তারা জানতে পারে। তাই তাদের তৈরি করা রেকর্ড একটি পুর্ণাঙ্গ রেকর্ড। এই রেকর্ডের বাইরে কোন কথা নেই। এ সম্পর্কেই সূরা কাহাফের ৪৯ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “কিয়ামতের দিন অপরাধীরা অবাক হয়ে দেখবে তাদের সামনে যে আমলনামা পেশ করা হচ্ছে তার মধ্যে তাদের ছোট বড় কোন একটি কাজও অলিখিত থেকে যায়নি। যা কিছু তারা করেছিল সব হুবহু ঠিক তেমনিভাবেই তাদের সামনে আনা হয়েছে।” [করতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। তারা জানে, যা তোমরা করে থাক। [1]

[1] অর্থাৎ, তোমরা তো প্রতিদান ও শাস্তিকে অস্বীকার কর। কিন্তু তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, তোমাদের প্রতিটি কথা ও কর্মকে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। আল্লাহর তরফ হতে তোমাদের জন্য ফিরিশতা প্রহরী হিসাবে নিযুক্ত আছে; যারা তোমাদের প্রতিটি কথাকে জানে, যা তোমরা করছ। এটা হল মানুষের জন্য সতর্কবার্তা যে, প্রত্যেক কর্ম করা ও প্রত্যেক কথা বলার পূর্বে চিন্তা-ভাবনা করে দেখ, এটা ভুল নয় তো। আর এটি হল সেই কথা, যা পূর্বে উল্লেখ হয়েছে, (عَنِ الْيَمِيْنِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيْد، مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلاَّ لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْد) অর্থাৎ, এক ফিরিশতা (মানুষের) ডাইনে ও অন্য এক ফিরিশতা (তার) বামে বসে আছে। সে যে কথাই উচ্চারণ করে, (তাই লিপিবদ্ধ করার জন্য) তার কাছে তৎপর প্রহরী প্রস্তুত রয়েছে। (সূরা ক্বাফ ১৭-১৮ নং) অর্থাৎ, লিখার জন্য বলা হয়, একজন ফিরিশতা নেকী ও অন্য একজন ফিরিশতা বদী লিখে থাকেন। আর হাদীস ও আসার দ্বারা বোঝা যায় যে, দিনে তার জন্য দুই ফিরিশতা এবং রাত্রে দুই ফিরিশতা পৃথক পৃথক নির্দিষ্ট থাকেন। পরবর্তীতে নেকী এবং বদী উভয়ের উল্লেখ করা হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১৩ اِنَّ الۡاَبۡرَارَ لَفِیۡ نَعِیۡمٍ ﴿ۚ۱۳﴾

নিশ্চয় সৎকর্মপরায়ণরা থাকবে সুখ- স্বাচ্ছন্দ্যে। আল-বায়ান

নেককারগণ থাকবে নানান নি‘মাতের মাঝে তাইসিরুল

পুণ্যবানগণতো থাকবে পরম সুখ সম্পদে; মুজিবুর রহমান

Indeed, the righteous will be in pleasure, Sahih International

১৩. পুণ্যবানেরা তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে(১);

(১) পুণ্যবানেরা কি কি নেয়ামতে থাকবে সেটা জানতে হলে আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র একটু দেখতে হবে। অন্যত্র এসেছে, “অবশ্যই পূণ্যবানদের আমলনামা ‘ইল্লিয়ীনে, ‘ইল্লিয়্যীন সম্পর্কে আপনি কী জানেন? ওটা চিহ্নিত ‘আমলনামা। যারা আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত তারা তা দেখে। পূণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বচ্ছন্দ্যে, তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করবে। আপনি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবেন। তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হতে পান করান হবে; ওটার মোহর মিসকের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক। ওটার মিশ্রণ হবে তাসনীমের; তা একটা প্রস্রবণ, যা থেকে সান্নিধ্যপ্রাপ্তারা পান করে। [সূরা আল মুতাফফিফীন; ১৮–২৮]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। পুণ্যবানগণ তো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে;

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১৪ وَ اِنَّ الۡفُجَّارَ لَفِیۡ جَحِیۡمٍ ﴿ۚۖ۱۴﴾

আর নিশ্চয় অন্যায়কারীরা থাকবে প্রজ্জ্বলিত আগুনে। আল-বায়ান

আর পাপীরা থাকবে জাহান্নামে, তাইসিরুল

এবং দুস্কর্মকারীরা থাকবে জাহান্নামে; মুজিবুর রহমান

And indeed, the wicked will be in Hellfire. Sahih International

১৪. আর পাপাচারীরা তো থাকবে জাহান্নামে(১);

(১) পাপাচারীরা কি কঠিন শাস্তিতে থাকবে সেটা জানতেও আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র দেখতে হবে, সেখানে বলা হয়েছে, “কখনো না, পাপাচারীদের আমলনামা তো সিজ্জীনে আছে। সিজীন সম্পর্কে আপনি কী জানেন? ওটা চিহ্নিত ‘আমলনামা। সেদিন দুর্ভোগ হবে অস্বীকারকারীদের, যারা কর্মফল দিনকে অস্বীকার করে, শুধু প্ৰত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারী এটাকে অস্বীকার করে; তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলে, “এটা পূর্ববর্তীদের উপকথা। কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জঙ ধরিয়েছে। না, অবশ্যই সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক হতে অন্তরিত থাকবে; তারপর তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে; তারপর বলা হবে, “এটাই তা যাকে তোমরা অস্বীকার করতে।” [সূরা আল-মুতাফফিফীন: ৭–১৭]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। এবং পাপাচারীরা থাকবে (জাহীম) জাহান্নামে; [1]

[1] যেমন, অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘‘একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’’ (সূরা শূরা ৭ নং আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১৫ یَّصۡلَوۡنَهَا یَوۡمَ الدِّیۡنِ ﴿۱۵﴾

তারা সেখানে প্রবেশ করবে প্রতিদান দিবসে। আল-বায়ান

কর্মফলের দিন তারা তাতে প্রবেশ করবে। তাইসিরুল

তারা কর্মফল দিনে তাতে প্রবিষ্ট হবে; মুজিবুর রহমান

They will [enter to] burn therein on the Day of Recompense, Sahih International

১৫. তারা প্রতিদান দিবসে তাতে দগ্ধ হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। তারা বিচার দিবসে সেখানে প্রবেশ করবে।[1]

[1] অর্থাৎ, যে প্রতিদান ও শাস্তির দিনকে তারা অবিশ্বাস করত, সেই দিনেই নিজ নিজ আমলের প্রতিদান হিসাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১৬ وَ مَا هُمۡ عَنۡهَا بِغَآئِبِیۡنَ ﴿ؕ۱۶﴾

আর তারা সেখান থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারবে না। আল-বায়ান

তারা সেখান থেকে কক্ষনো উধাও হয়ে যেতে পারবে না। তাইসিরুল

তারা ওটা হতে অন্তর্হিত হতে পারবেনা। মুজিবুর রহমান

And never therefrom will they be absent. Sahih International

১৬. আর তারা সেখান থেকে অন্তর্হিত হতে পারবে না।(১)

(১) জাহান্নামীরা কোন সময় জাহান্নাম থেকে পৃথক হবে না, অনুপস্থিত থাকতে পারবে না; মৃত্যুর মাধ্যমেও নয়, বের হওয়ার মাধ্যমেও নয়। সেখানে তাদের জন্যে চিরকালীন আযাবের নির্দেশ আছে। [মুয়াস্‌সার, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। এবং তারা সেখান হতে অন্তর্হিত (বের) হতে পারবে না।[1]

[1] অর্থাৎ, কখনো তা থেকে পৃথক হবে না। বরং তারা তাতে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১৭ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ ﴿ۙ۱۷﴾

আর কিসে তোমাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী? আল-বায়ান

তুমি কি জান কর্মফলের দিনটি কী? তাইসিরুল

কর্মফল দিন কি তা কি তুমি জান? মুজিবুর রহমান

And what can make you know what is the Day of Recompense? Sahih International

১৭. আর কিসে আপনাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। কিসে তোমাকে জানাল, বিচার দিবস কি?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১৮ ثُمَّ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا یَوۡمُ الدِّیۡنِ ﴿ؕ۱۸﴾

তারপর বলছি, কিসে তোমাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী? আল-বায়ান

আবার বলি, তুমি কি জান কর্মফলের দিনটি কী ? তাইসিরুল

আবার বলিঃ কর্মফল দিন কি তা কি তুমি অবগত আছ? মুজিবুর রহমান

Then, what can make you know what is the Day of Recompense? Sahih International

১৮. তারপর বলি, কিসে আপনাকে জানাবে প্রতিদান দিবস কী?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। আবার বলি, কিসে তোমাকে জানাল বিচার দিবস কি? [1]

[1] একই বাক্যের পুনরাবৃত্তি হয়েছে, ঐ দিনের বিশালত্ব ও ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করার জন্য।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮২ : ১৯ یَوۡمَ لَا تَمۡلِكُ نَفۡسٌ لِّنَفۡسٍ شَیۡئًا ؕ وَ الۡاَمۡرُ یَوۡمَئِذٍ لِّلّٰهِ ﴿۱۹﴾

সেদিন কোন মানুষ অন্য মানুষের জন্য কোন কিছুর ক্ষমতা রাখবে না। আর সেদিন সকল বিষয় হবে আল্লাহর কর্তৃত্বে। আল-বায়ান

সেদিন কোন মানুষ অপরের জন্য কিছু করার সামর্থ্য রাখবে না, সেদিন সকল কর্তৃত্ব থাকবে একমাত্র আল্লাহরই (ইখতিয়ারে)। তাইসিরুল

সেদিন একের অপরের জন্য কিছু করার সামর্থ্য থাকবেনা; এবং সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে একমাত্র আল্লাহর। মুজিবুর রহমান

It is the Day when a soul will not possess for another soul [power to do] a thing; and the command, that Day, is [entirely] with Allah. Sahih International

১৯. সেদিন কেউ কারও জন্য কিছু করার মালিক হবে না; আর সেদিন সব বিষয়ের কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর।(১)

(১) অর্থাৎ হাশরের ময়দানে কোন ব্যক্তি নিজ ইচ্ছায় অন্যের কোন উপকার করতে পারবে না এবং কারও কষ্ট লাঘবও করতে পারবে না; অপর ব্যক্তি তার যত প্রিয় ও কাছের মানুষ-ই হোক না কেন। অনুরূপভাবে সুপারিশও কারও নিজ ইচ্ছার উপর হবে না, যে পর্যন্ত আল্লাহ কাউকে কারও জন্যে সুপারিশ করার অনুমতি না দেন। একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই সকল আদেশের মালিক। তিনি স্বীয় কৃপায় কাউকে সুপারিশের অনুমতি দিলে এবং তা কবুল করলে তাও তাঁরই আদেশ হবে। [ইবন কাসীর, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। সেদিন কেউই কারোর জন্য কিছু করবার সামর্থ্য রাখবে না; আর সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব হবে (একমাত্র) আল্লাহর। [1]

[1] অর্থাৎ, দুনিয়াতে তো আল্লাহ তাআলা অস্থায়ীভাবে পরীক্ষা করার জন্য মানুষকে কম-বেশী কিছু পার্থক্যের সাথে অধিকার বা এখতিয়ার দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কিয়ামতের দিন সমস্ত এখতিয়ার পূর্ণরূপে কেবল মাত্র আল্লাহরই হাতে থাকবে। যেমন তিনি বলেন ‘‘আজ রাজত্ব কার? একক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর।’’ (সূরা মু‘মিন ১৬ আয়াত।) বলা বাহুল্য, মহানবী (সাঃ) নিজ ফুফুজান সাফিয়া (রাঃ)  ও স্বীয় কন্যা ফাতেমাকে বলেছিলেন, ‘‘আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোন প্রকার উপকার করতে পারব না।’’ (সহীহ মুসলিম ঈমান অধ্যায়) আর বনী হাশেম ও বনী আব্দুল মুত্তালিবকেও সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘‘তোমরা নিজেরা নিজেদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে কোন প্রকার উপকার করতে পারব না।’’ (মুসলিম ঐ, বুখারী সূরা শুআরার ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন