সূরাঃ ৮১/ আত-তাকভীর | At-Takwir | ٱلتَّكْوِير আয়াতঃ ২৯ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়া

সূরা সম্পর্কেঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে কেউ কেয়ামতকে প্রত্যক্ষ দেখতে চায় সে যেন সূরা ‘ইযাস সামছু কুওয়িরাত, ইযাস সামায়ুন ফাতারাত ও ইযাস সামায়ুন সাক্কাত’ পড়ে। [তিরমিযী: ৩৩৩৩, মুসনাদে আহমাদ: ২/২৭, ৩৬, ১০০, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫১৫] এখানে প্রথম ছয়টি আয়াতের ভাষ্য কিয়ামতের প্রথম অংশ অর্থাৎ শিঙ্গায় প্রথমবার যে ফুৎকার দেয়া হবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট। উবাই ইবন কা’ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি নিদর্শন রয়েছে। মানুষ যখন হাটে-বাজারে থাকবে, তখন হঠাৎ সূর্যের আলো চলে যাবে এবং তারকারাজি দেখা যাবে; ফলে তারা আশ্চর্য হবে। তারা তাকিয়ে দেখার সময়েই হঠাৎ করে তারাগুলো খসে পড়বে। এরপর পাহাড়গুলো মাটির উপর পড়বে, নড়া-চড়া করবে এবং পুড়ে যাবে; ফলে বিক্ষিপ্ত ধুলোর মত হয়ে যাবে। তখন মানুষ জিনের কাছে এবং জিন মানুষের কাছে ছুটে আসবে। জন্তু-জানোয়ার-পাখি সব মিশে যাবে এবং একে অপরের সাথে একত্রিত হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর যখন বন্য পশুগুলোকে একত্র করা হবে” [সূরা তাকভীর: ৫] তারপর জিন মানুষদের বলবে, আমরা তোমাদের নিকট সংবাদ নিয়ে আসছি। তারা যখন সাগরের নিকট যাবে তখন দেখবে তাতে আগুন জ্বলছে। এ সময়ে সপ্ত যমীন পর্যন্ত এবং সপ্ত আসমান পর্যন্ত এক ফাটল ধরবে। এরপর এক বায়ু এসে তাদেরকে মৃত্যুবরণ করাবে। [তাবারী]

আহসানুল বায়ান

সূরা আত্-তাকবীর [1]

(মক্কায় অবতীর্ণ)
[1] এই সূরায় বিশেষ করে কিয়ামতের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ব্যাপারে রসূল (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, কিয়ামতের দৃশ্যকে স্বচক্ষে দেখতে চায়, সে যেন ‘ইযাস শামসু কুউভিরাত, ইযাস সামা-উনফাত্বারাত এবং ইযাস সামা-উনশাক্কাত’ সূরাগুলি মনোযোগ সহকারে পাঠ করে।’’ (তিরিমিযী সূরা তাকভীরের তাফসীর পরিচ্ছেদ, মুসনাদে আহ্মাদ ২/২৭,৩৬, ১০০, শায়খ আলবানী (রঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন ৩/১০৮১ নং)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৮১ : ১ اِذَا الشَّمۡسُ كُوِّرَتۡ ۪ۙ﴿۱﴾
اذا الشمس كورت ﴿۱﴾

যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে। আল-বায়ান

যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে তাইসিরুল

সূর্য যখন নিস্প্রভ হবে, মুজিবুর রহমান

When the sun is wrapped up [in darkness] Sahih International

১. সূর্যকে যখন নিষ্প্রোভ করা হবে(১),

(১) আরবী ভাষায় তাকভীর মানে হচ্ছে গুটিয়ে নেয়া। মাথায় পাগড়ী বঁধার জন্য ‘তাকভীরুল ইমামাহ’ বলা হয়ে থাকে। কারণ ইমাম তথা পাগড়ী লম্বা কাপড়ের হয়ে থাকে এবং মাথার চারদিকে তা জড়িয়ে নিতে হয়। এই সাদৃশ্য ও সম্পর্কের কারণে সূর্য থেকে যে আলোক রশ্মি বিছুরিত হয়ে সমগ্র সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে তাকে পাগড়ীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন এই সূর্যকে গুটিয়ে নেয়া হবে। অর্থাৎ তার আলোক বিচ্ছুরণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাছাড়া كُوِّرَتْ এর অপর অর্থ নিক্ষেপ করাও হয়ে থাকে। হাদীসে এসেছে, “চাঁদ ও সূর্যকে কিয়ামতের দিন পেচিয়ে রাখা হবে।” [বুখারী: ৩২০০] [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১। সূর্য যখন লেপটানো (নিষ্প্রভ) হবে, [1]

[1] অর্থাৎ, যেমন, মাথায় পাগড়ী লেপটানো হয় ঠিক তেমনি সূর্যের অস্তিত্বকে লেপটিয়ে ফেলে দেওয়া হবে। যার কারণে তার কিরণ আপনা আপনি শেষ হয়ে যাবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, সূর্য ও চন্দ্রকে কিয়ামত দিবসে গুটিয়ে নেওয়া হবে। (সহীহ বুখারী সৃষ্টির প্রারম্ভ অধ্যায়, সূর্য ও চন্দ্র কক্ষপথে আবর্তনের পরিচ্ছেদ) অন্যান্য বর্ণনা হতে বুঝা যায় যে, সূর্য ও চন্দ্রকে গুটিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। যাতে সেই মুশরিকরা অধিকভাবে লাঞ্ছিত হয় যারা এ সবের উপাসনা করত। (ফতহুল বারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ২ وَ اِذَا النُّجُوۡمُ انۡكَدَرَتۡ ۪ۙ﴿۲﴾
و اذا النجوم انكدرت ﴿۲﴾

আর নক্ষত্ররাজি যখন পতিত হবে। আল-বায়ান

আর তারকাগুলো যখন তাদের উজ্জ্বলতা হারিয়ে খসে পড়বে। তাইসিরুল

যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে, মুজিবুর রহমান

And when the stars fall, dispersing, Sahih International

২. আর যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে(১),

(১) অর্থাৎ যে বাঁধনের কারণে তারা নিজেদের কক্ষপথে ও নিজেদের জায়গায় বাধা আছে তা খুলে যাবে এবং সমস্ত গ্ৰহ-তারকা বিশ্ব-জাহানের চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। এ ছাড়াও তারা শুধু ছড়িয়েই পড়বে না। বরং এই সঙ্গে আলোহীন হয়ে অন্ধকারও হয়ে যাবে। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। যখন নক্ষত্ররাজি দীপ্তিহীন হয়ে পড়বে, [1]

[1] এর দ্বিতীয় অর্থ হল যে, খসে পড়বে; অর্থাৎ, আসমানে তার অস্তিত্ব থাকবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ৩ وَ اِذَا الۡجِبَالُ سُیِّرَتۡ ۪ۙ﴿۳﴾
و اذا الجبال سیرت ﴿۳﴾

আর পর্বতগুলোকে যখন সঞ্চালিত করা হবে। আল-বায়ান

পর্বতগুলোকে যখন চলমান করা হবে, তাইসিরুল

পর্বতসমূহকে যখন চলমান করা হবে, মুজিবুর রহমান

And when the mountains are removed Sahih International

৩. আর পর্বতসমূহকে যখন চলমান করা হবে(১),

(১) পাহাড়সমূহকে কয়েকটি পর্যায়ে চলমান করা হবে। প্রথমে তা বিক্ষিপ্ত বালুরাশির মত হবে, তারপর তা ধূনিত পশমের মত হবে, সবশেষে তা উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণা হয়ে যাবে এবং তার জায়গায় আর অবস্থিত থাকবে না। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। পর্বতসমূহকে যখন চালিত করা হবে, [1]

[1] অর্থাৎ, যমীনকে উপড়ে দেওয়ার পর হাওয়াতে উড়িয়ে দেওয়া হবে। আর সে ধূনিত তুলোর ন্যায় উড়তে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ৪ وَ اِذَا الۡعِشَارُ عُطِّلَتۡ ۪ۙ﴿۴﴾
و اذا العشار عطلت ﴿۴﴾

আর যখন দশমাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীগুলো উপেক্ষিত হবে। আল-বায়ান

যখন দশ মাসের গর্ভবতী উটনিগুলোকে অযত্নে পরিত্যাগ করা হবে, তাইসিরুল

যখন পূর্ণ-গর্ভা উষ্ট্রী উপেক্ষিত হবে, মুজিবুর রহমান

And when full-term she-camels are neglected Sahih International

৪. আর যখন পূর্ণগর্ভা মাদী উট উপেক্ষিত হবে(১),

(১) আরবদেরকে কিয়ামতের ভায়াবহ অবস্থা বুঝাবার জন্য এটি ছিল একটি চমৎকার বর্ণনা পদ্ধতি। কেননা কুরআন আরবদেরই সম্বোধন করা হয়েছে। আরবদের কাছে গর্ভবতী মাদী উট, যার প্রসবের সময় অতি নিকটে, তার চাইতে বেশী মূল্যবান আর কোন সম্পদই ছিল না। এ সময় তার হেফাজত ও দেখাশুনার জন্য সবচেয়ে বেশী যত্ন নেয়া হতো। এই ধরনের উষ্ট্রীদের থেকে লোকদের গাফেল হয়ে যাওয়ার মানে এই দাঁড়ায় যে, তখন নিশ্চয়ই এমন কোন কঠিন বিপদ লোকদের ওপর এসে পড়বে যার ফলে তাদের নিজেদের এই সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ সংরক্ষণের কথা তাদের খেয়ালই থাকবে না। [ইবন কাসীর, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। যখন পূর্ণ-গর্ভা উষ্ট্রী উপেক্ষিতা হবে, [1]

[1] عشار শব্দটি হল عشراء এর বহুবচন। অর্থাৎ, এমন গাভীন উট যার দশ মাস পূর্ণ হয়ে গেছে। এমন উট সে যুগে আরববাসীদের নিকট খুবই প্রিয় এবং মূল্যবান ছিল। যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে তখন এমন ভয়ানক দৃশ্য হবে যে, যদি কারো কাছে এ ধরনের মূল্যবান উটও থাকে তবুও সে তখন তারও পরোয়া করবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ৫ وَ اِذَا الۡوُحُوۡشُ حُشِرَتۡ ۪ۙ﴿۵﴾
و اذا الوحوش حشرت ﴿۵﴾

আর যখন বন্য পশুগুলোকে একত্র করা হবে। আল-বায়ান

যখন বনের জন্তু জানোয়ারকে (বন থেকে গুটিয়ে এনে লোকালয়ে) একত্রিত করা হবে, তাইসিরুল

যখন বন্য পশুগুলি একত্রীকৃত হবে; মুজিবুর রহমান

And when the wild beasts are gathered Sahih International

৫. আর যখন বন্য পশুগুলো একত্র করা হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। যখন বন্য পশুগুলিকে একত্রিত করা হবে, [1]

[1] অর্থাৎ, তাদেরকেও কিয়ামতের দিবসে সমবেত করা হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ৬ وَ اِذَا الۡبِحَارُ سُجِّرَتۡ ۪ۙ﴿۶﴾
و اذا البحار سجرت ﴿۶﴾

আর যখন সমুদ্রগুলোকে অগ্নিউত্তাল করা হবে। আল-বায়ান

যখন সমুদ্রগুলোকে প্রজ্জ্বলিত করে উত্তাল করা হবে। তাইসিরুল

এবং সমুদ্রগুলিকে যখন উদ্বেলিত করা হবে; মুজিবুর রহমান

And when the seas are filled with flame Sahih International

৬. আর যখন সাগরকে অগ্নি-উত্তাল করা হবে(১),

(১) এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে। একটি অর্থ হল অগ্নিসংযোগ করা ও প্রজ্জ্বলিত করা। কেউ কেউ বলেন, সমুদ্রগুলোকে স্ফীত করা হবে। কেউ কেউ এর অর্থ নিয়েছেন, পানি পূর্ণ করা হবে। অন্য কেউ অর্থ নিয়েছেন মিশ্রিত করা অর্থাৎ সমস্ত সমুদ্র এক করে দেয়া হবে, ফলে লবনাক্ত ও সুমিষ্ট পানি একাকার হয়ে যাবে। হাসান ও কাতাদাহ রাহিমাহুমাল্লাহ বলেন, এর অর্থ তার পানিসমূহ নিঃশেষ হয়ে যাবে। ফলে তাতে এক ফোটা পানিও থাকবে না। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। এবং সমুদ্রগুলিকে যখন উদ্বেলিত করা হবে;[1]

[1] অন্য অর্থে, তাতে আল্লাহর আদেশে আগুন জ্বলে উঠবে এবং তার পানি শুকিয়ে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ৭ وَ اِذَا النُّفُوۡسُ زُوِّجَتۡ ۪ۙ﴿۷﴾
و اذا النفوس زوجت ﴿۷﴾

আর যখন আত্মাগুলোকে (সমগোত্রীয়দের সাথে) মিলিয়ে দেয়া হবে। আল-বায়ান

যখন দেহের সঙ্গে আত্মাগুলোকে আবার জুড়ে দেয়া হবে, তাইসিরুল

দেহে যখন আত্মা পুনঃসংযোজিত হবে, মুজিবুর রহমান

And when the souls are paired Sahih International

৭. আর যখন আত্মাগুলোকে সমগোত্রীয়দের সাথে মিলিয়ে দেয়া হবে(১),

(১) এর অর্থ হচ্ছে, যখন মানুষকে জোড়া জোড়া করা হবে। অর্থাৎ মানুষের আমল অনুসারে তাদের শ্রেণীবিভাগ করা হবে। যখন হাশরে সমবেত লোকদেরকে বিভিন্ন দলে দলবদ্ধ করে দেয়া হবে। এই দলবদ্ধকরণ ঈমান ও কর্মের দিক দিয়ে করা হবে। কাফের এক জায়গায় ও মুমিন এক জায়গায়। কাফের এবং মুমিনের মধ্যেও কর্ম এবং অভ্যাসের পার্থক্য থাকে। এদিকে দিয়ে কাফেরদেরও বিভিন্ন প্রকার দল হবে আর মুমিনদেরও বিশ্বাস এবং কর্মের ভিত্তিতে দল হবে। যারা ভাল হোক মন্দ হোক একই প্রকার কর্ম করবে তাদেরকে এক জায়গায় জড়ো করা হবে।

উদাহরণত ইহুদীরা ইহুদীদের সাথে, নাসারারা নাসারাদের সাথে, মুনাফিকরা মুনাফিকদের সাথে এক জায়গায় সমবেত হবে। মূলত হাশরে লোকদের তিনটি প্রধান দল হবে- (১) পূর্ববর্তী সৎকর্মী লোকদের (২) আসহাবুল ইয়ামীনের এবং (৩) আসহাবুশ শিমালের দল। প্রথমোক্ত দুই দল মুক্তি পাবে এবং তৃতীয় দলটি হবে কাফের পাপাচারীদের। তারা মুক্তি পাবে না। [তাবারী, কুরতুবী] এ আয়াতের আরেকটি অর্থও হতে পারে। আর তা হল, “যখন আত্মাকে দেহের সাথে পুনঃমিলিত করা হবে। কেয়ামতের সময়ে সকলকে জীবিত করার জন্য প্রথমে দেহকে পুনরায় সৃষ্টি করা হবে। অতঃপর আত্মাকে দেহের সাথে সংযোজন করা হবে। [কুরতুবী, ইবন কাসীর] এ আয়াত এবং এর পূর্ববর্তী আয়াত থেকে কিয়ামতের দ্বিতীয় অংশের আলোচনা শুরু হচ্ছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। যখন আত্মাসমূহকে (স্ব-স্ব দেহে) পুনঃসংযোজিত করা হবে,[1]

[1] এর কয়েকটি মর্মার্থ বর্ণনা করা হয়েছে। তার মধ্যে সর্বাধিক বেশী যুক্তিযুক্ত অর্থ এই যে, প্রতিটি মানুষকে তার পথ ও মতানুসারীর শ্রেণীভুক্ত করা হবে; অর্থাৎ মু’মিনকে মুমিনের সাথে, পাপীকে পাপী ব্যক্তির সাথে, ইহুদীকে ইহুদীর সাথে এবং খ্রিষ্টানকে খ্রিষ্টানের সাথে মিলানো হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ৮ وَ اِذَا الۡمَوۡءٗدَۃُ سُئِلَتۡ ۪ۙ﴿۸﴾
و اذا الموءٗدۃ سئلت ﴿۸﴾

আর যখন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল-বায়ান

যখন জীবন্ত পুঁতে-ফেলা কন্যা-শিশুকে জিজ্ঞেস করা হবে, তাইসিরুল

যখন জীবন্ত প্রোথিতা কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে – মুজিবুর রহমান

And when the girl [who was] buried alive is asked Sahih International

৮. আর যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে(১) জিজ্ঞেস করা হবে,

(১) الْمَوْءُودَةُ শব্দের অর্থ জীবন্ত প্রোথিত কন্যা। জাহেলিয়াত যুগের কোন কোন আরব গোত্র কন্যা সন্তানকে লজ্জাকর মনে করত এবং জীবন্তই মাটিতে প্রোথিত করে দিত। [ইবন কাসীর, কুরতুবী] পরবর্তীতে ইসলাম এই কুপ্রথার মূলোৎপাটন করে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। যখন জীবন্ত-প্রোথিতা কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে,

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ৯ بِاَیِّ ذَنۡۢبٍ قُتِلَتۡ ۚ﴿۹﴾
بای ذنب قتلت ﴿۹﴾

কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে? আল-বায়ান

কোন্ অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে? তাইসিরুল

কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? মুজিবুর রহমান

For what sin she was killed Sahih International

৯. কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?(১)

(১) কোনো কোনো মুফাস্‌সির বলেন, এই আয়াতের বর্ণনাভঙ্গীতে মারাত্মক ধরনের ক্রোধের প্রকাশ দেখা যায়। যে পিতা বা মাতা তাদের মেয়েকে জীবিত পুঁতে ফেলেছে আল্লাহর কাছে তারা এত বেশী ঘৃণিত হবে যে, তাদেরকে সম্বোধন করে একথা জিজ্ঞেস করা হবে না, তোমরা এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করেছিলে কোন অপরাধে? বরং তাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে ছোট্ট নিরপরাধ মেয়েকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাকে কোন অপরাধে মেরে ফেলা হয়েছিল? [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। কোন্ অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল? [1]

[1] এইরূপে আসলে হত্যাকারীকে ভৎর্সনা করা হবে সেদিন। কেননা, আসল অপরাধী তো সেই; সে কন্যা অপরাধিনী নয় যাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হয়েছিল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১০ وَ اِذَا الصُّحُفُ نُشِرَتۡ ﴿۪ۙ۱۰﴾
و اذا الصحف نشرت ﴿۱۰﴾

আর যখন আমলনামাগুলো প্রকাশ করে দেয়া হবে। আল-বায়ান

যখন ‘আমালনামাগুলো খুলে ধরা হবে, তাইসিরুল

যখন ‘আমলনামা উন্মোচিত হবে, মুজিবুর রহমান

And when the pages are made public Sahih International

১০. আর যখন আমলনামাগুলো উন্মোচিত করা হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। যখন আমলনামাকে উন্মোচিত করা হবে।[1]

[1] মৃত্যুর সময় মানুষের আমলনামা গুটিয়ে দেওয়া হয়। পুনরায় কিয়ামতের দিন হিসাবের জন্য তা খোলা হবে। যা প্রতিটি ব্যক্তি তা প্রত্যক্ষ করবে। বরং প্রত্যেকের হাতে তা ধরিয়ে দেওয়া হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১১ وَ اِذَا السَّمَآءُ كُشِطَتۡ ﴿۪ۙ۱۱﴾
و اذا السمآء كشطت ﴿۱۱﴾

আর যখন আসমানকে আবরণ মুক্ত করা হবে। আল-বায়ান

যখন আসমানের পর্দা সরিয়ে ফেলা হবে। তাইসিরুল

যখন আকাশের আবরণ অপসারিত হবে, মুজিবুর রহমান

And when the sky is stripped away Sahih International

১১. আর যখন আসমানের আবরণ অপসারিত করা হবে(১),

(১) كشطت এর আভিধানিক অর্থ জন্তুর চামড়া খসানো। [কুরতুবী] এর অর্থ অপসারণ করা, সরিয়ে নেয়া। এ হিসেবে আয়াতের অর্থ এই যে, যখন মাথার উপর ছাদের ন্যায় বিস্তৃত এই আকাশকে অপসারিত করা হবে। [মুয়াসসার, সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। যখন আকাশের আবরণকে অপসারিত করা হবে। [1]

[1] অর্থাৎ, আকাশ ভেঙ্গে ফেলা হবে, যেমন ছাদ ভেঙ্গে ফেলা হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১২ وَ اِذَا الۡجَحِیۡمُ سُعِّرَتۡ ﴿۪ۙ۱۲﴾
و اذا الجحیم سعرت ﴿۱۲﴾

আর জাহান্নামকে যখন প্রজ্জ্বলিত করা হবে। আল-বায়ান

যখন জাহান্নামকে উসকে দেয়া হবে, তাইসিরুল

জাহান্নামের আগুন যখন উদ্দীপিত করা হবে, মুজিবুর রহমান

And when Hellfire is set ablaze Sahih International

১২. আর যখন জাহান্নামকে ভীষণভাবে প্ৰজ্বলিত করা হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। জাহান্নামের অগ্নিকে যখন প্রজ্বলিত করা হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১৩ وَ اِذَا الۡجَنَّۃُ اُزۡلِفَتۡ ﴿۪ۙ۱۳﴾
و اذا الجنۃ ازلفت ﴿۱۳﴾

আর জান্নাতকে যখন নিকটবর্তী করা হবে। আল-বায়ান

আর জান্নাতকে নিকটে আনা হবে, তাইসিরুল

এবং জান্নাত যখন নিকটর্বতী করা হবে, মুজিবুর রহমান

And when Paradise is brought near, Sahih International

১৩. আর যখন জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। এবং জান্নাতকে যখন নিকটবর্তী করা হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১৪ عَلِمَتۡ نَفۡسٌ مَّاۤ اَحۡضَرَتۡ ﴿ؕ۱۴﴾
علمت نفس ما احضرت ﴿۱۴﴾

তখন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানতে পারবে সে কী উপস্থিত করেছে! আল-বায়ান

তখন প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে সে কী (সঙ্গে) নিয়ে এসেছে। তাইসিরুল

তখন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানবে সে কি নিয়ে এসেছে। মুজিবুর রহমান

A soul will [then] know what it has brought [with it]. Sahih International

১৪. তখন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানবে সে কি উপস্থিত করেছে।(১)

(১) অর্থাৎ কেয়ামতের উপরোক্ত পরিস্থিতিতে প্ৰত্যেকই জেনে নিবে সে কি নিয়ে এসেছে। অর্থাৎ সৎকর্ম কিংবা অসৎকর্ম সব তার দৃষ্টির সামনে এসে যাবে। [মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। তখন প্রত্যেক ব্যক্তিই জানবে, সে কি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে।[1]

[1] এটা হল জওয়াবী বাক্য। অর্থাৎ, যখন উল্লিখিত বিষয়সমূহ প্রকাশ পাবে। তার মধ্যে ছয়টি বিষয় দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত এবং অন্য ছয়টি আখেরাতের সাথে সম্পৃক্ত। তখন প্রত্যেকের সামনে তার প্রকৃতত্ব এসে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১৫ فَلَاۤ اُقۡسِمُ بِالۡخُنَّسِ ﴿ۙ۱۵﴾
فلا اقسم بالخنس ﴿۱۵﴾

আমি কসম করছি পশ্চাদপসারী নক্ষত্রের। আল-বায়ান

আমি শপথ করছি (গ্রহের) যা পেছনে সরে যায়, তাইসিরুল

কিন্তু না, আমি প্রত্যাবর্তনকারী তারকাপুঞ্জের শপথ করছি! মুজিবুর রহমান

So I swear by the retreating stars - Sahih International

১৫. সুতরাং আমি শপথ করছি পশ্চাদপসরণকারী নক্ষত্রের,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। আমি প্রত্যাবর্তনকারী তারকাপুঞ্জের শপথ করছি;

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১৬ الۡجَوَارِ الۡكُنَّسِ ﴿ۙ۱۶﴾
الجوار الكنس ﴿۱۶﴾

যা চলমান, অদৃশ্য। আল-বায়ান

চলে ও লুকিয়ে যায়, তাইসিরুল

যা গতিশীল ও স্থিতিবান; মুজিবুর রহমান

Those that run [their courses] and disappear - Sahih International

১৬. যা চলমান, অপসৃয়মাণ,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। যা চলমান হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। [1]

[1] الخنس থেকে উদ্দেশ্য নক্ষত্রমালা। এ শব্দটির উৎপত্তি خنس থেকে হয়েছে। যার অর্থ হল পিছন ফিরে চলে যাওয়া। এই নক্ষত্রপুঞ্জ দিনের বেলায় লোকের দৃষ্টি হতে লুকিয়ে যায় এবং নজরে আসে না। আর এই নক্ষত্রগুলি হল শনি, বৃহস্পতি, শুক্র ও বুধগ্রহ। এসব নক্ষত্র বিশেষ করে সূর্যের মুখোমুখী অবস্থিত । কেউ কেউ বলেন, এখানে সমস্ত নক্ষত্রকেই বোঝানো হয়েছে। কেননা, সমস্ত নক্ষত্রই নিজের অদৃশ্য হওয়ার স্থানে অদৃশ্য হয় কিংবা দিনের বেলায় গোপন থাকে। الجوار শব্দের অর্থ হল চলমান। الكنس অর্থ, লুকিয়ে যাওয়া; যেমন, হরিণ নিজের জায়গা ও ঠিকানায় লুকিয়ে যায়। (অনেকে এখান হতে ‘ব্লাক হোল’-এর তথ্য প্রমাণ করে থাকেন।)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১৭ وَ الَّیۡلِ اِذَا عَسۡعَسَ ﴿ۙ۱۷﴾
و الیل اذا عسعس ﴿۱۷﴾

আর কসম রাতের, যখন তা বিদায় নেয়। আল-বায়ান

শপথ রাতের যখন তা বিদায় নেয় তাইসিরুল

শপথ রাতের যখন ওর আবির্ভাব হয়, মুজিবুর রহমান

And by the night as it closes in Sahih International

১৭. শপথ রাতের যখন তা শেষ হয়(১),

(১) عَسْعَسَ শব্দটির দুটি অর্থ হতে পারে। একটি উপরে আছে, তা হচ্ছে বিদায় নেয়া, শেষ হওয়া। অপর অর্থ হল আগমন করা, প্রবেশ করা। তখন আয়াতটির অর্থ হয়, শপথ রাতের, যখন তা আগমন করে। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। শপথ রাত্রির, যখন তার অবসান হয়। [1]

[1] عسعس শব্দটি বিপরীতধর্মী অর্থবোধক শব্দ; এটি আগমন ও অবসান উভয় অর্থে ব্যবহার হয়। তবে এখানে অবসান হওয়ার অর্থেই ব্যবহার হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১৮ وَ الصُّبۡحِ اِذَا تَنَفَّسَ ﴿ۙ۱۸﴾
و الصبح اذا تنفس ﴿۱۸﴾

আর কসম প্রভাতের, যখন তা আগমন করে। আল-বায়ান

আর ঊষার যখন তা নিঃশ্বাস ফেলে অন্ধকারকে বের করে দেয়, তাইসিরুল

আর উষার যখন ওর আবির্ভাব হয়, মুজিবুর রহমান

And by the dawn when it breathes Sahih International

১৮. শপথ প্ৰভাতের যখন তার আবির্ভাব হয়,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। আর ঊষার, যখন তার আবির্ভাব হয়। [1]

[1] অর্থাৎ, যখন সে প্রকাশ পায় ও উদয় হয় অথবা উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ১৯ اِنَّهٗ لَقَوۡلُ رَسُوۡلٍ كَرِیۡمٍ ﴿ۙ۱۹﴾
انهٗ لقول رسول كریم ﴿۱۹﴾

নিশ্চয় এ কুরআন সম্মানিত রাসূলের* আনিত বাণী। আল-বায়ান

এ কুরআন নিশ্চয়ই সম্মানিত রসূলের (অর্থাৎ জিবরাঈলের) আনীত বাণী। তাইসিরুল

নিশ্চয়ই এই কুরআন সম্মানিত বার্তাবহের আনীত বাণী। মুজিবুর রহমান

[That] indeed, the Qur'an is a word [conveyed by] a noble messenger Sahih International

*জিবরীল (আলাইহিস সালাম)।

১৯. নিশ্চয়ই এ কুরআন সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী(১)

(১) এখানে সম্মানিত বাণীবাহক (رَسُولٍ كَرِيمٍ) বলতে অহী আনার কাজে লিপ্ত ফেরেশতা জিবরীল আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। পরবর্তী আয়াতে এ-কথাটি আরো সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে। নবী-রাসূলগণের মতো ফেরেশতাগণের বেলায়ও রাসূল শব্দ ব্যবহৃত হয়। উল্লেখিত সবগুলো বিশেষণ জিবরীল আলাইহিস সালাম এর জন্যে বিনা দ্বিধায় প্রযোজ্য। তিনি যে শক্তিশালী, তা অন্যত্রও বলা হয়েছে, (عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَىٰ) “তাঁকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী” [সূরা আন-নাজম: ৫]। তিনি যে আরাশ ও আকাশবাসী ফেরেশতাগণের মান্যবর তা মিরাজের হাদীস দ্বারা প্ৰমাণিত আছে; তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাথে নিয়ে আকাশে পৌছলে তাঁর আদেশে ফেরেশতারা আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়। তিনি যে أمين তথা বিশ্বাসভাজন তা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না; আল্লাহ্ তা'আলা নিজেই তার আমানত বা বিশ্বস্ততার ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে অহীর আমানত দিয়েছেন। [ইবন কাসীর, কুরতুবী]

আর কুরআনকে “বাণীবাহকের বাণী” বলার অর্থ এই নয় যে, এটি ঐ সং ফেরেশতার নিজের কথা। বরং “বাণীবাহকের বাণী” শব্দ দুটিই একথা প্ৰকাশ করছে যে, এটি সেই সত্তার বাণী যিনি তাকে বাণীবাহক করে পাঠিয়েছেন। সূরা ‘আল হাক্কার ৪০ আয়াতে এভাবে কুরআনকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী বলা হয়েছে। সেখানেও এর অর্থ এই নয় যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজের রচনা। বরং একে “রাসূলে করীমের” বাণী বলে একথা সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি পেশ করছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হিসেবে নয়। উভয় স্থানে বাণীকে ফেরেশতা ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে সম্পর্কিত করার কারণ হচ্ছে এই যে, আল্লাহর বাণী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে বাণীবহনকারী ফেরেশতার মুখ থেকে এবং লোকদের সামনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছিল। [বাদায়িউত তাফসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। নিশ্চয়ই এ (কুরআন) সম্মানিত বার্তাবহ (জিবরীলের) আনীত বাণী, [1]

[1] যেহেতু তিনি আল্লাহর নিকট থেকে তা মহানবী (সাঃ)-এর নিকট আনয়ন করেছেন। এ রসূল (বার্তাবহ) থেকে উদ্দেশ্য হল জিবরীল (আঃ)।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮১ : ২০ ذِیۡ قُوَّۃٍ عِنۡدَ ذِی الۡعَرۡشِ مَكِیۡنٍ ﴿ۙ۲۰﴾
ذی قوۃ عند ذی العرش مكین ﴿۲۰﴾

যে শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাসম্পন্ন। আল-বায়ান

যে শক্তিশালী, ‘আরশের মালিক (আল্লাহ)’র নিকট মর্যাদাশীল। তাইসিরুল

যে সামর্থশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাসম্পন্ন, মুজিবুর রহমান

[Who is] possessed of power and with the Owner of the Throne, secure [in position], Sahih International

২০. যে সামৰ্থ্যশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদা সম্পন্ন,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

২০। যে মহাশক্তিধর,[1] আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাপ্রাপ্ত।

[1] অর্থাৎ, যে কাজের ভার তাঁর উপর অর্পণ করা হয় তা তিনি পূর্ণ শক্তিমত্তার সাথে সম্পাদন করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন