সূরাঃ ৭৯/ আন-নাযি'আত | An-Nazi'at | ٱلنَّازِعَات আয়াতঃ ৪৬ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়ার শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
আহসানুল বায়ানের শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৭৯ : ১ وَ النّٰزِعٰتِ غَرۡقًا ۙ﴿۱﴾
و النزعت غرقا ﴿۱﴾

কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।* আল-বায়ান

শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা (পাপীদের আত্মা) নির্মমভাবে টেনে বের করে, তাইসিরুল

শপথ তাদের যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে, মুজিবুর রহমান

By those [angels] who extract with violence Sahih International

* ১-৫ নং আয়াতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কসম করা হয়েছে।

১. শপথ(১) নির্মমভাবে উৎপাটনকারীদের(২),

(১) এ সূরার শুরুতে কতিপয় গুণ ও অবস্থা বর্ণনা করে তাদের শপথ করা হয়েছে। এ পাঁচটি গুণাবলী কোন কোন সত্তার সাথে জড়িত, একথাও এখানে পরিস্কার করে বলা হয়নি। কিন্তু বিপুল সংখ্যক সাহাবী ও তাবেঈন এবং অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া শপথের জওয়াবও উহ্য রাখা হয়েছে। মূলত কেয়ামত ও হাশর-নশর অবশ্যই হবে এবং সেগুলো নিঃসন্দেহে সত্য, একথার ওপরই এখানে কসম খাওয়া হয়েছে। [কুরতুবী] অথবা কসম ও কসমের কারণ এক হতে পারে, কেননা ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের স্তম্ভসমূহের মধ্যে অন্যতম। [সা'দী]

(২) বলা হয়েছে, যারা নির্মমভাবে টেনে আত্মা উৎপাটন করে। এটা যাদের শপথ করা হয়েছে সে ফেরেশতাগণের প্রথম বিশেষণ। অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ী বলেন, ডুব দিয়ে টানা এবং আস্তে আস্তে বের করে আনা এমন সব ফেরেশতার কাজ যারা মৃত্যুকালে মানুষের শরীরে গভীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তার প্রতিটি শিরা উপশিরা থেকে তার প্রাণ বায়ু টেনে বের করে আনে। এখানে আযাবের, সেসব ফেরেশতা বোঝানো হয়েছে, যারা কাফেরের আত্মা নির্মমভাবে বের করে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১। শপথ তাদের (ফিরিশতাদের); যারা নির্মমভাবে (কাফেরদের প্রাণ) ছিনিয়ে নেয়। [1]

[1] نزع শব্দের অর্থ হল বড় শক্তের সাথে টানা। غرقًا মানে ডুবে। এটি আত্মা হরণকারী ফিরিশতার গুণবিশেষ। ফিরিশতা কাফেরদের আত্মা খুবই কঠিনভাবে শরীরের ভিতর ডুবে বের করে থাকেন। (غرقًا -এর আর এক অর্থঃ নির্মমভাবে।)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ২ وَّ النّٰشِطٰتِ نَشۡطًا ۙ﴿۲﴾
و النشطت نشطا ﴿۲﴾

আর কসম সহজভাবে বন্ধনমুক্তকারীদের। আল-বায়ান

আর যারা (নেককারদের আত্মা) খুবই সহজভাবে বের করে, তাইসিরুল

এবং যারা মৃদুভাবে বন্ধন মুক্ত করে দেয়, মুজিবুর রহমান

And [by] those who remove with ease Sahih International

২. আর মৃদুভাবে বন্ধনমুক্তকারীদের(১)

(১) এটা যাদের শপথ করা হয়েছে সে ফেরেশতাগণের দ্বিতীয় বিশেষণ। বলা হয়েছে যে, যে ফেরেশতা মুমিনের রূহ কবজ করার কাজে নিয়োজিত আছে, সে আনায়াসে রূহ কবজ করে- কঠোরতা করে না। প্রকৃত কারণ এই যে কাফেরের আত্মা বের করার সময় থেকেই বরযাখের আযাব সামনে এসে যায়। এতে তার আত্মা অস্থির হয়ে দেহে আত্মগোপন করতে চায়। ফেরেশতা জোরে-জবরে টানা-হেঁচড়া করে তাকে বের করে। পক্ষান্তরে মুমিনের রূহের সামনে বরযখের সওয়াব নেয়ামত ও সুসংবাদ ভেসে উঠে। ফলে সে দ্রুতবেগে সেদিকে যেতে চায়। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। শপথ তাদের; যারা মৃদুভাবে (মু’মিনদের প্রাণ) বের করে।[1]

[1] نشط শব্দের অর্থ হল গিরা খুলে দেওয়া। অর্থাৎ, ফিরিশতা মু’মিনদের আত্মা খুব সহজ ও মৃদুভাবে বের করে থাকেন; যেমন কোন জিনিসের গিরা খুলে দেওয়া হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ৩ وَّ السّٰبِحٰتِ سَبۡحًا ۙ﴿۳﴾
و السبحت سبحا ﴿۳﴾

আর কসম দ্রুতগতিতে সন্তরণকারীদের। আল-বায়ান

শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটে, তাইসিরুল

এবং যারা তীব্র গতিতে সন্তরণ করে, মুজিবুর রহমান

And [by] those who glide [as if] swimming Sahih International

৩. আর তীব্ৰ গতিতে সন্তরণকারীদের(১),

(১) এটা তাদের তৃতীয় বিশেষণ। سابحات এর আভিধানিক অর্থ সাঁতার কাটা। এই সাঁতারু বিশেষণটিও মৃত্যুর ফেরেশতাগণের সাথে সম্পর্কযুক্ত। মানুষের রূহ কবজ করার পর তারা দ্রুতগতিতে আকাশের দিকে নিয়ে যায়। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। শপথ তাদের; যারা তীব্র গতিতে সন্তরণ করে। [1]

[1] سبح শব্দের অর্থ হল সাঁতার কাটা। ফিরিশতা আত্মা বের করার সময় মানুষের শরীরে প্রবেশ করে এমনভাবে সাঁতার কাটেন যেমন, ডুবুরীরা মণিমুক্তা খোঁজার উদ্দেশ্যে সমুদ্রের গভীরে সাঁতার কেটে থাকে। অথবা অর্থ এটাও হতে পারে যে, আল্লাহর হুকুম নিয়ে ফিরিশতারা খুব শীঘ্রতার সাথে আসমান থেকে যমীনে সাঁতার কেটে অবতরণ করেন। কেননা, দ্রুতগামী ঘোড়াকেও سابح বলা হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ৪ فَالسّٰبِقٰتِ سَبۡقًا ۙ﴿۴﴾
فالسبقت سبقا ﴿۴﴾

আর দ্রুতবেগে অগ্রসরমানদের। আল-বায়ান

আর (আল্লাহর নির্দেশ পালনের জন্য) ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে যায়, তাইসিরুল

এবং যারা দ্রুত বেগে অগ্রসর হয়, মুজিবুর রহমান

And those who race each other in a race Sahih International

৪. আর দ্রুতবেগে অগ্রসরমানদের(১),

(১) এটা তাদের চতুৰ্থ বিশেষণ। উদ্দেশ্য এই যে, যে আত্মা ফেরেশতাগণের হস্তগত হয় তাকে ভাল অথবা মন্দ ঠিকানায় পৌছানোর কাজে তারা দ্রুততায় একে অপরকে ডিঙ্গিয়ে যায়। তারা মুমিনের আত্মাকে জান্নাতের আবহাওয়ায় ও নেয়ামতের জায়গায় এবং কাফেরের আত্মাকে জাহান্নামের আবহাওয়ায় ও আযাবের জায়গায় পৌছিয়ে দেয়। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। অতঃপর (শপথ তাদের;) যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়। [1]

[1] এই ফিরিশতাগণ আল্লাহর প্রত্যাদেশ নিয়ে আম্বিয়াগণ পর্যন্ত দ্রুতগতিতে পৌঁছিয়ে থাকেন। যাতে শয়তানরা তার পাত্তা না পায়। কিংবা মু’মিনদের আত্মা জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অতিশয় দ্রুততা অবলম্বন করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ৫ فَالۡمُدَبِّرٰتِ اَمۡرًا ۘ﴿۵﴾
فالمدبرت امرا ﴿۵﴾

অতঃপর কসম সকল কার্যনির্বাহকারীদের। আল-বায়ান

অতঃপর সব কাজের ব্যবস্থা করে। তাইসিরুল

অতঃপর যারা সকল কর্ম নির্বাহ করে। মুজিবুর রহমান

And those who arrange [each] matter, Sahih International

৫. অতঃপর সব কাজ নির্বাহকারীদের।(১)

(১) পঞ্চম বিশেষণ। অর্থাৎ মৃত্যুর ফেরেশতাদের সর্বশেষ কাজ এই যে, তারা আল্লাহ তা'আলার নির্দেশে দুনিয়ার বিভিন্ন কাজ নির্বাহের ব্যবস্থা করে। [সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। অতঃপর (শপথ তাদের;) যারা সকল কর্ম নির্বাহ করে। [1]

[1] অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যে সব কর্ম তাদেরকে অর্পণ করেন তা তাঁরা নির্বাহ করেন। পক্ষান্তরে আসল কর্মনির্বাহী হলেন আল্লাহ তাআলা। কিন্তু যেহেতু আল্লাহ তাআলা নিজের হিকমত অনুযায়ী ফিরিশতা দ্বারা কাজ নেন, সেহেতু তাঁদেরকেও কর্মনির্বাহী বলা হয়েছে। এই অনুপাতে উপরোক্ত পাঁচটি গুণই হল ফিরিশতাদের। আর ঐ ফিরিশতাদের আল্লাহ কসম খেয়েছেন। আর কসমের জওয়াব এখানে উহ্য আছে; অর্থাৎ, ‘‘নিশ্চয় তোমরা পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে, যা তোমরা করতে।’’ কুরআনে এই পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসের সত্যতা প্রমাণের জন্য কয়েক জায়গায় কসম ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন, সূরা তাগাবুন ৭নং আয়াতেও আল্লাহ তাআলা উল্লিখিত বাক্যের মাধ্যমে কসম খেয়ে এই প্রকৃতত্বকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এই পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবস কখন হবে? তার বর্ণনা আগামী আয়াতসমূহে দেওয়া হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ৬ یَوۡمَ تَرۡجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۙ﴿۶﴾
یوم ترجف الراجفۃ ﴿۶﴾

সেদিন কম্পনকারী* প্রকম্পিত করবে। আল-বায়ান

সেদিন ভূকম্পন প্রকম্পিত করবে, তাইসিরুল

সেদিন প্রথম শিঙ্গাধ্বনি প্রকম্পিত করবে, মুজিবুর রহমান

On the Day the blast [of the Horn] will convulse [creation], Sahih International

*অর্থাৎ প্রথম শিংগাধ্বনি।

৬. সেদিন প্ৰকম্পিতকারী প্ৰকম্পিত করবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। সেদিন প্রকম্পিত করবে (মহাপ্রলয়ের) প্রথম শিংগাধ্বনি। [1]

[1] এটা হল শিংগায় প্রথম ফুৎকার যাকে ধ্বংসের ফুৎকার বলা হয়। যার ফলে সারা বিশ্ব-জাহান প্রকম্পিত হবে এবং প্রতিটি জিনিস ধ্বংস হয়ে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ৭ تَتۡبَعُهَا الرَّادِفَۃُ ؕ﴿۷﴾
تتبعها الرادفۃ ﴿۷﴾

তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী।* আল-বায়ান

তারপর আসবে আরেকটি ভূকম্পন। তাইসিরুল

ওকে অনুসরণ করবে পরবর্তী শিঙ্গাধ্বনি। মুজিবুর রহমান

There will follow it the subsequent [one]. Sahih International

*দ্বিতীয় শিংগাধ্বনি।

৭. তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী(১),

(১) প্রথম প্রকম্পনকারী বলতে এমন প্রকম্পন বুঝানো হয়েছে, যা পৃথিবী ও তার মধ্যকার সমস্ত জিনিস ধ্বংস করে দেবে। আর দ্বিতীয় প্রকম্পন বলতে যে কম্পনে সমস্ত মৃতরা জীবিত হয়ে যমীনের মধ্য থেকে বের হয়ে আসবে তাকে বুঝানো হয়েছে। [মুয়াস্‌সার] অন্যত্র এ অবস্থাটি নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “আর শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে। তখন পৃথিবী ও আকাশসমূহে যা কিছু আছে সব মরে পড়ে যাবে, তবে কেবলমাত্র তারাই জীবিত থাকবে যাদের আল্লাহ (জীবিত রাখতে) চাইবেন। তারপর দ্বিতীয়বার ফুঁক দেয়া হবে। তখন তারা সবাই আবার হঠাৎ উঠে দেখতে থাকবে।” [সূরা আয-যুমার: ৬৮] এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত্রির দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে দাঁড়িয়ে বলতেন, হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর যিকর কর, তোমরা আল্লাহর যিকর কর। ‘রাজেফাহ’ (প্রকম্পণকারী) তো এসেই গেল (প্রায়), তার পিছনে আসবে ‘রাদেফাহ’ (পশ্চাতে আগমনকারী), মৃত্যু তার কাছে যা আছে তা নিয়ে হাজির, মৃত্যু তার কাছে যা আছে তা নিয়ে হাজির।

সাহাবী উবাই ইবনে কা'ব বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশী বেশী সালাত (দরুদ) পাঠ করি। এ সালাত পাঠের পরিমান কেমন হওয়া উচিত? তিনি বললেন, তোমার যা ইচ্ছা। আমি বললাম, (আমার যাবতীয় দোআর) এক চতুর্থাংশ? তিনি বললেন, যা তোমার ইচ্ছা। তবে যদি এর থেকেও বেশী কর তবে সেটা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, অর্ধেকাংশ? তিনি বললেন, যা তোমার ইচ্ছা। তবে যদি এর থেকেও বেশী কর তবে সেটা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, যা তোমার ইচ্ছা। তবে যদি এর থেকেও বেশী কর তবে সেটা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম, তাহলে আমি আপনার জন্য আমার সালাতের সবটুকুই নির্ধারণ করব, (অর্থাৎ আমার যাবতীয় দোআ হবে আপনার উপর সালাত বা দরুদ প্রেরণ) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে তা তোমার যাবতীয় চিন্তা দূর করে দিবে এবং তোমার গোনাহ ক্ষমা করে দিবে।” [তিরমিযী: ২৪৫৭, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫১৩, দ্বিয়া: আল-মুখতারাহ: ৩/৩৮৮, ৩৯০]

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। তার অনুগামী হবে পরবর্তী (পুনরুত্থানের) শিংগাধ্বনি। [1]

[1] এটা হবে শিংগায় দ্বিতীয় ফুৎকার। যার ফলে সমস্ত লোক জীবিত হয়ে কবর থেকে বের হবে। এই দ্বিতীয় ফুৎকারটি প্রথম ফুৎকারের চল্লিশ বছর পর ঘটবে। তাকে رادفة বা পরবর্তী শিংগাধ্বনি এই জন্য বলা হয়েছে যে, এটা প্রথম ফুৎকারের পরে ঘটবে তাই। অর্থাৎ, দ্বিতীয় ফুৎকারটি হল প্রথম ফুৎকারের অনুগামী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ৮ قُلُوۡبٌ یَّوۡمَئِذٍ وَّاجِفَۃٌ ۙ﴿۸﴾
قلوب یومئذ واجفۃ ﴿۸﴾

সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-সন্ত্রস্ত হবে। আল-বায়ান

কত হৃদয় সে দিন ভয়ে ভীত হয়ে পড়বে, তাইসিরুল

কত হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে, মুজিবুর রহমান

Hearts, that Day, will tremble, Sahih International

৮. অনেক হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে(১),

(১) “কতক হৃদয়” বলতে কাফের ও নাফরমানদের বোঝানো হয়েছে। কিয়ামতের দিন তারা ভীত ও আতঙ্কিত হবে। [মুয়াস্‌সার] সৎ মুমিন বান্দাদের ওপর এ ভীতি প্রভাব বিস্তার করবে না। অন্যত্র তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ “সেই চরম ভীতি ও আতংকের দিনে তারা একটুও পেরেশান হবে না এবং ফেরেশতারা এগিয়ে এসে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে। তারা বলতে থাকবে, তোমাদের সাথে এ দিনটিরই ওয়াদা করা হয়েছিল।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৩]

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। কত হৃদয় সেদিন ভীত-সন্ত্রস্ত হবে। [1]

[1] কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং কঠিনতার কারণে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ৯ اَبۡصَارُهَا خَاشِعَۃٌ ۘ﴿۹﴾
ابصارها خاشعۃ ﴿۹﴾

তাদের দৃষ্টিসমূহ নত হবে। আল-বায়ান

তাদের দৃষ্টি নত হবে, তাইসিরুল

তাদের দৃষ্টি ভীতি বিহবলতায় অবনমিত হবে। মুজিবুর রহমান

Their eyes humbled. Sahih International

৯. তাদের দৃষ্টিসমূহ ভীতি-বিহ্বলতায় নত হবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। তাদের দৃষ্টিসমূহ অবনমিত হবে। [1]

[1] অর্থাৎ, ঐ হৃদয়বিশিষ্ট লোকদের দৃষ্টিসমূহ। এমন ভীত-সন্ত্রস্ত লোকদের দৃষ্টিও সেদিন (অপরাধীদের মত) নিচের দিকে ঝুঁকে থাকবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১০ یَقُوۡلُوۡنَ ءَاِنَّا لَمَرۡدُوۡدُوۡنَ فِی الۡحَافِرَۃِ ﴿ؕ۱۰﴾
یقولون ءانا لمردودون فی الحافرۃ ﴿۱۰﴾

তারা বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই, আল-বায়ান

তারা বলে, ‘আমাদেরকে কি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে? তাইসিরুল

তারা বলেঃ আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই – মুজিবুর রহমান

They are [presently] saying, "Will we indeed be returned to [our] former state [of life]? Sahih International

১০. তারা বলে, আমরা কি আগের অবস্থায় ফিরে যাবই—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। তারা (কাফেররা) বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই? [1]

[1] حافرة প্রথম অবস্থাকে বলা হয়। এটা কিয়ামতের দিনকে অস্বীকারকারীদের উক্তি যে, ‘আমাদেরকে কি পুনরায় ঐরূপ জীবিত করা হবে, যেরূপ মৃত্যুর পূর্বে ছিলাম!?’

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১১ ءَ اِذَا كُنَّا عِظَامًا نَّخِرَۃً ﴿ؕ۱۱﴾
ء اذا كنا عظاما نخرۃ ﴿۱۱﴾

যখন আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হাড় হয়ে যাব’? আল-বায়ান

আমরা যখন পচা-গলা হাড় হয়ে যাব (তখনও)?’ তাইসিরুল

গলিত অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও? মুজিবুর রহমান

Even if we should be decayed bones? Sahih International

১১. চূৰ্ণবিচূর্ণ অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। জীর্ণ অস্থিতে পরিণত হওয়ার পরও?’ [1]

[1] এটি কিয়ামতকে অস্বীকার করার আরো অধিক তাকীদ যে, ‘আমরা কেমন করে জীবিত হব? অথচ আমাদের হাড় পচে-গলে জীর্ণ হয়ে যাবে!’

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১২ قَالُوۡا تِلۡكَ اِذًا كَرَّۃٌ خَاسِرَۃٌ ﴿ۘ۱۲﴾
قالوا تلك اذا كرۃ خاسرۃ ﴿۱۲﴾

তারা বলে, ‘তাহলে তা তো এক ক্ষতিকর প্রত্যাবর্তন’। আল-বায়ান

তারা বলে, ‘অবস্থা যদি তাই হয় তাহলে এই ফিরিয়ে আনাটাতো সর্বনাশের ব্যাপার হবে।’ তাইসিরুল

তারা বলেঃ তা’ই যদি হয় তাহলেতো এটা সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন! মুজিবুর রহমান

They say, "That, then, would be a losing return." Sahih International

১২. তারা বলে, তাই যদি হয় তবে তো এটা এক সর্বনাশা প্ৰত্যাবর্তন।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। তারা বলে, ‘তা-ই যদি হয়, তাহলে তো এটা ক্ষতিকর প্রত্যাবর্তন!’ [1]

[1] অর্থাৎ, যদি সত্যিকারে ঐরূপই ঘটে যেমন নাকি মুহাম্মাদ বলে। তাহলে তো দ্বিতীয়বার জীবিত হওয়া আমাদের জন্য বড়ই ক্ষতিকর সাব্যস্ত হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১৩ فَاِنَّمَا هِیَ زَجۡرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ﴿ۙ۱۳﴾
فانما هی زجرۃ واحدۃ ﴿۱۳﴾

আর ওটা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ। আল-বায়ান

ওটা তো কেবল একটা বিকট আওয়াজ, তাইসিরুল

এটাতো এক বিকট শব্দ মাত্র; মুজিবুর রহমান

Indeed, it will be but one shout, Sahih International

১৩. এ তো শুধু এক বিকট আওয়াজ(১),

(১) অর্থাৎ আল্লাহর জন্য এটা কোন কঠিন কাজ নয়। এ কাজটি করতে তাকে কোন বড় রকমের প্রস্তুতি নিতে হবে না। এর জন্য শুধুমাত্র একটি ধমক বা আওয়াজই যথেষ্ট। এরপরই তোমরা সমতল ময়দানে আবির্ভূত হবে। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। এটা তো এক মহাগর্জন মাত্র।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১৪ فَاِذَا هُمۡ بِالسَّاهِرَۃِ ﴿ؕ۱۴﴾
فاذا هم بالساهرۃ ﴿۱۴﴾

তৎক্ষনাৎ তারা ভূ-পৃষ্ঠে উপস্থিত হবে। আল-বায়ান

সহসাই তারা খোলা ময়দানে আবির্ভূত হবে। তাইসিরুল

ফলে তখনই মাইদানে তাদের আবির্ভাব হবে। মুজিবুর রহমান

And suddenly they will be [alert] upon the earth's surface. Sahih International

১৪. তখনই ময়দানে(১) তাদের আবির্ভাব হবে।

(১) আয়াতে বর্ণিত ساهرة শব্দের অর্থ সমতল ময়দান। কেয়ামতে পূনরায় যে ভূপৃষ্ঠ সৃষ্টি করা হবে, তা সমতল হবে। একেই আয়াতে ساهرة বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ জমিনের উপরিভাগও হতে পারে। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। ফলে তখনই ময়দানে তাদের আবির্ভাব হবে।[1]

[1] ساهرة -এর (শাব্দিক অর্থ হলঃ জাগরণভূমি) এখানে এর উদ্দেশ্য হল যমীনের উপরিভাগ; অর্থাৎ, ময়দান। যমীনের উপরিভাগকে ساهرة এই জন্য বলা হয়েছে যে, সমস্ত প্রাণীর শয়ন ও জাগরণ এই যমীনের উপরই হয়ে থাকে। আবার কেউ কেউ বলেন, যেহেতু বৃক্ষহীন  ময়দান  এবং  মরুভূমিতে নানা ভয়ের কারণে মানুষের নিদ্রা উড়ে যায় এবং তারা জেগে থাকে, সেহেতু অনুরূপ ময়দানকে ساهرة বলা হয়। (ফতহুল ক্বাদীর) মোট কথা, এ হল কিয়ামতের দৃশ্য-বিবরণ যে, একটি ফুৎকারের ফলেই সমস্ত মানুষ একটি ময়দানে জমায়েত হয়ে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১৫ هَلۡ اَتٰىكَ حَدِیۡثُ مُوۡسٰی ﴿ۘ۱۵﴾
هل اتىك حدیث موسی ﴿۱۵﴾

মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি? আল-বায়ান

মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি? তাইসিরুল

তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি? মুজিবুর রহমান

Has there reached you the story of Moses? - Sahih International

১৫. আপনার কাছে মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি?(১)

(১) কাফেরদের অবিশ্বাস, হটকারিতা ও শক্রতার ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে মর্মপীড়া অনুভব করতেন, তা দূর করার উদ্দেশ্যে মূসা আলাইহিস সালাম ও ফিরআউনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, শত্রুরা কেবল আপনাকেই কষ্ট দেয়নি, পূর্ববর্তী সকল রাসূলকেও কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু তাদের পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। সুতরাং আপনিও সবর করুন। [দেখুন, কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। (হে মুহাম্মাদ!) তোমার নিকট মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১৬ اِذۡ نَادٰىهُ رَبُّهٗ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًی ﴿ۚ۱۶﴾
اذ نادىه ربهٗ بالواد المقدس طوی ﴿۱۶﴾

যখন তার রব তাকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় ডেকেছিলেন, আল-বায়ান

যখন তার প্রতিপালক তাকে পবিত্র তুয়া প্রান্তরে ডাক দিয়ে বলেছিলেন তাইসিরুল

যখন তার রাব্ব পবিত্র ‘তূওয়া’ প্রান্তরে তাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন – মুজিবুর রহমান

When his Lord called to him in the sacred valley of Tuwa, Sahih International

১৬. যখন তাঁর রব পবিত্র উপত্যকা ‘তুওয়া’য় তাকে ডেকে বলেছিলেন,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। যখন তার প্রতিপালক পবিত্র ত্বুয়া উপত্যকায় তাকে আহবান করে বলেছিলেন, [1]

[1] এটি ঐ সময়কার ঘটনা, যখন মূসা (আঃ) মাদয়ান শহর থেকে ফিরার পথে আগুন খোঁজার জন্য ত্বূর পাহাড়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি গাছের অন্তরাল থেকে আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর সাথে কথোপকথন করেছিলেন। যেমন, তার বিস্তারিত বর্ণনা সূরা ত্বাহার শুরুতে রয়েছে। ‘ত্বুয়া’ ঐ জায়গাকেই বলা হয়। কথোপকথনের উদ্দেশ্য হল, রিসালাত ও নবুঅত দানের মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করা। অর্থাৎ, মূসা (আঃ) আগুন আনার জন্য গেলেন তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে রিসালাত দান করলেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১৭ اِذۡهَبۡ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّهٗ طَغٰی ﴿۫ۖ۱۷﴾
اذهب الی فرعون انهٗ طغی ﴿۱۷﴾

‘ফির‘আউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে’। আল-বায়ান

‘ফেরাউনের কাছে যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে, তাইসিরুল

ফির‘আউনের নিকট যাও, সেতো সীমা লংঘন করেছে, মুজিবুর রহমান

"Go to Pharaoh. Indeed, he has transgressed. Sahih International

১৭. ফির’আউনের কাছে যান, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। ফিরআউনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করেছে। [1]

[1] অর্থাৎ, কুফর, অবাধ্যতা ও অহংকারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১৮ فَقُلۡ هَلۡ لَّكَ اِلٰۤی اَنۡ تَزَكّٰی ﴿ۙ۱۸﴾
فقل هل لك الی ان تزكی ﴿۱۸﴾

অতঃপর বল ‘তোমার কি ইচ্ছা আছে যে, তুমি পবিত্র হবে’? আল-বায়ান

তাকে জিজ্ঞেস কর, ‘তুমি কি পবিত্রতা অবলম্বন করতে ইচ্ছুক? তাইসিরুল

এবং (তাকে) বলঃ তুমি কি শুদ্ধাচারী হতে চাও? মুজিবুর রহমান

And say to him, 'Would you [be willing to] purify yourself Sahih International

১৮. অতঃপর বলুন, তোমার কি আগ্রহ আছে যে, তুমি পবিত্র হও—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। এবং (তাকে) বল, ‘তোমার কি আত্মশুদ্ধির কোন আগ্রহ আছে? [1]

[1] অর্থাৎ, এমন পথ ও তরীকা তুমি কি পছন্দ কর, যাতে তোমার আত্মশুদ্ধি হতে পারে? আর সেটা হল, তুমি মুসলিম এবং (আল্লাহর) অনুগত হয়ে যাও।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ১৯ وَ اَهۡدِیَكَ اِلٰی رَبِّكَ فَتَخۡشٰی ﴿ۚ۱۹﴾
و اهدیك الی ربك فتخشی ﴿۱۹﴾

‘আর আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’ আল-বায়ান

আর আমি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের দিকে পথ দেখাই যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’ তাইসিরুল

আর আমি তোমাকে তোমার রবের পথে পরিচালিত করি যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর। মুজিবুর রহমান

And let me guide you to your Lord so you would fear [Him]?'" Sahih International

১৯. আর আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথপ্রদর্শন করি, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। আর আমি কি তোমাকে তোমার প্রতিপালকের পথ দেখাব, ফলে তুমি তাঁকে ভয় করবে?’ [1]

[1] অর্থাৎ, তাঁর একত্ব এবং ইবাদতের পথ; যার ফলে তুমি তাঁর শাস্তিকে ভয় করবে। এই জন্য যে, আল্লাহর ভয় তারই অন্তরে সৃষ্টি হয়ে থাকে, যে হিদায়াতের পথ অবলম্বন করে চলে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৯ : ২০ فَاَرٰىهُ الۡاٰیَۃَ الۡكُبۡرٰی ﴿۫ۖ۲۰﴾
فارىه الایۃ الكبری ﴿۲۰﴾

অতঃপর মূসা তাকে বিরাট নিদর্শন দেখাল। আল-বায়ান

অতঃপর মূসা তাকে বিরাট নিদর্শন দেখাল। তাইসিরুল

অতঃপর সে তাকে মহা নিদর্শন দেখালো। মুজিবুর রহমান

And he showed him the greatest sign, Sahih International

২০. অতঃপর তিনি তাকে মহানিদর্শন দেখালেন।(১)

(১) বড় নিদর্শন বলতে সবগুলো মুজিযা উদ্দেশ্য হতে পারে। আবার লাঠির অজগর হয়ে যাওয়া এবং হাত শুভ্র হওয়ার কথাও বুঝানো হতে পারে। [কুরতুবী, মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

২০। অতঃপর সে তাকে মহা নিদর্শন দেখাল। [1]

[1] অর্থাৎ, নিজের সত্যতার জন্য সেই সকল প্রমাণ পেশ করলেন, যা তিনি আল্লাহর তরফ হতে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। কেউ কেউ বলেন, ‘মহা নিদর্শন’-এর উদ্দেশ্য হল সেই মু’জিযা (অলৌকিক বস্তু)সমূহ যা মূসা (আঃ)-কে দান করা হয়েছিল। যেমন, হাতের শুভ্রতা এবং লাঠি। আবার কারো কারো মতে উদ্দেশ্য হল, তাঁকে দেওয়া নয়টি নিদর্শন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন