সূরাঃ ৭৪/ আল-মুদ্দাসসির | Al-Muddathir | ٱلْمُدَّثِّر আয়াতঃ ৫৬ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়া

সূরা সম্পর্কেঃ

সূরা আল-মুদ্দাসসির সম্পূর্ণ প্রাথমিক যুগে অবতীর্ণ সূরাসমূহের অন্যতম। এ কারণেই কেউ কেউ একে সর্বপ্রথম অবতীর্ণ সুরাও বলেছেন। কিন্তু সহীহ বৰ্ণনা অনুযায়ী সর্বপ্রথম সূরা আল-আলাকের প্রাথমিক আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়। [ইবন কাসীর]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৭৪ : ১ یٰۤاَیُّهَا الۡمُدَّثِّرُ ۙ﴿۱﴾

হে বস্ত্রাবৃত! আল-বায়ান

ওহে বস্ত্র আবৃত (ব্যক্তি)! তাইসিরুল

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! মুজিবুর রহমান

O you who covers himself [with a garment], Sahih International

১. হে বস্ত্ৰাচ্ছাদিত!(১)

(১) হাদীসে এসেছে, সর্বপ্রথম হেরা গিরি গুহায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফেরেশতা জিবরীল আগমন করে ইকরা সূরার প্রাথমিক আয়াতসমূহ পাঠ করে শোনান। ফেরেশতার এই অবতরণ ও ওহীর তীব্ৰতা প্রথম পর্যায়ে ছিল। ফলে এর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট গমন করলেন এবং তার কাছে বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর বেশ কিছুদিন পর্যন্ত ওহীর আগমন বন্ধ থাকে। বিরতির এই সময়কালকে “ফাতরাতুল ওহী” বলা হয়। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে এই সময়কালের উল্লেখ করে বলেন, একদিন আমি পথ চলা অবস্থায় হঠাৎ একটি আওয়াজ শুনে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, হেরা গিরিগুহার সেই ফেরেশতা আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে এক জায়গায় একটি ঝুলন্ত চেয়ারে উপবিষ্ট রয়েছেন। তাকে এই আকৃতিতে দেখে আমি প্রথম সাক্ষাতের ন্যায় আবার ভীত ও আতংকিত হয়ে পড়লাম। আমি গৃহে ফিরে এলাম এবং গৃহের লোকজনকে বললাম, আমাকে বস্ত্ৰাবৃত করে দাও। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য আয়াত নাযিল হল। [বুখারী: ৪, মুসলিম: ১৬১]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! [1]

[1] সর্বপ্রথম যে অহী নাযিল হয় তা হল {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} এরপর অহী আসা কিছু দিন বন্ধ থাকে। ফলে নবী (সাঃ) খুবই অস্থির ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। এক দিন আবারও তিনি প্রথমবার হিরা গুহায় অহী নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতাকে আসমান ও যমীনের মধ্যস্থলে একটি কুরসীর উপর বসা অবস্থায় দেখেন। এ থেকে রসূল (সাঃ)-এর মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। তাই তিনি ঘরে গিয়ে ঘরের লোকদেরকে বললেন, ‘‘আমাকে কোন কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কোন চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।’’ ফলে তাঁরা রসূল (সাঃ)-এর শরীরে একটি কাপড় চাপিয়ে দিলেন। ঠিক এই অবস্থাতেই এই অহী অবতীর্ণ হয়। (বুখারী ও মুসলিম, সূরা মুদ্দাসসির ও ঈমান অধ্যায়ঃ) এই দিক দিয়ে এটা দ্বিতীয় অহী এবং অহী আসা বন্ধ থাকার পর এটা হল প্রথম অহী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ২ قُمۡ فَاَنۡذِرۡ ۪ۙ﴿۲﴾

উঠ, অতঃপর সতর্ক কর। আল-বায়ান

ওঠ, সতর্ক কর। তাইসিরুল

উঠ, সতর্ক বাণী প্রচার কর। মুজিবুর রহমান

Arise and warn Sahih International

২. উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন(১),

(১) এখানে সর্বপ্রথম নির্দেশ হচ্ছে, قُمْ অর্থাৎ উঠুন। এর আক্ষরিক অর্থ ‘দাঁড়ান’ও হতে পারে। অর্থাৎ আপনি বস্ত্ৰাচ্ছাদন পরিত্যাগ করে দন্ডায়মান হোন। এখানে কাজের জন্যে প্রস্তুত হওয়ার অর্থ নেয়াও অবান্তর নয়। উদ্দেশ্য এই যে, এখন আপনি সাহস করে জনশুদ্ধির দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হন। أنذر শব্দটি إنذار থেকে উদ্ভুত। অর্থ সতর্ক করা। এখানে মক্কার কাফেরদেরকে সতর্ক করতে বলা হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) উঠ, সতর্ক কর, [1]

[1] অর্থাৎ, মক্কাবাসীদেরকে ভয় দেখাও, যদি তারা ঈমান না আনে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ৩ وَ رَبَّكَ فَكَبِّرۡ ۪﴿ۙ۳﴾

আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। আল-বায়ান

আর তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। তাইসিরুল

এবং তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। মুজিবুর রহমান

And your Lord glorify Sahih International

৩. আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ৪ وَ ثِیَابَكَ فَطَهِّرۡ ۪﴿ۙ۴﴾

আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর। আল-বায়ান

তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ। তাইসিরুল

তোমার পরিচ্ছদ পরিস্কার রাখ। মুজিবুর রহমান

And your clothing purify Sahih International

৪. আর আপনার পরিচ্ছদ পবিত্র করুন(১),

(১) এখানে বর্ণিত ثياب শব্দটি ثوب এর বহুবচন। এর আসল ও আক্ষরিক অর্থ কাপড়। কখনও কখনও অন্তর, মন, চরিত্র ও কর্মকেও বলা হয়। এটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক কথা। এর একটি অর্থ হল, আপনি আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ নাপাক বস্তু থেকে পবিত্ৰ রাখুন। কারণ শরীর ও পোশাক-পরিচ্ছদের পবিত্রতা এবং ‘রূহ’ বা আত্মার পবিত্ৰতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। [সা'দী] একথাটির আরেকটি অর্থ হলো, নিজের পোশাক পরিচ্ছদ নৈতিক দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র রাখুন। নিজেকে পবিত্র রাখুন। অন্য কথায় এর অর্থ হলো নৈতিক দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র থাকা এবং উত্তম নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হওয়া। অর্থাৎ নিজের নৈতিক চরিত্রকে পবিত্র রাখুন এবং সব রকমের দোষ-ত্রুটি থেকে দূরে থাকুন। [কুরতুবী]

সুতরাং নির্দেশের অর্থ হবে এই যে, আপন পোশাক ও দেহকে বাহ্যিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র রাখুন এবং অন্তর ও মনকে ভ্রান্ত বিশ্বাস ও চিন্তাধারা থেকে এবং কুচরিত্র থেকে মুক্ত রাখুন। আল্লাহ তা’আলা পবিত্ৰতা পছন্দ করেন। এক আয়াতে আছে, (إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ) [সূরা আল বাকারাহ: ২২২] তাছাড়া হাদীসে ‘পবিত্রতাকে ঈমানের অর্ধাংশ’ [মুসলিম: ২২৩] বলা হয়েছে। তাই মুসলিমকে সর্বাবস্থায় শরীর, স্থান ও পোশাককে বাহ্যিক নাপাকী থেকে এবং অন্তরকে আভ্যন্তরীণ অশুচি, যেমন লোক-দেখানো, অহংকার ইত্যাদি থেকে পবিত্র রাখার প্রতি সচেষ্ট হতে হবে। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ। [1]

[1] অর্থাৎ, অন্তর ও নিয়তকে পবিত্র রাখার সাথে সাথে কাপড়কেও পবিত্র রাখ। এই নির্দেশ এই জন্য দেওয়া হয় যে, মক্কাবাসীরা পবিত্রতার প্রতি যত্ন নিত না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ৫ وَ الرُّجۡزَ فَاهۡجُرۡ ۪﴿ۙ۵﴾

আর অপবিত্রতা বর্জন কর। আল-বায়ান

(যাবতীয়) অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক। তাইসিরুল

অপবিত্রতা হতে দূরে থাক। মুজিবুর রহমান

And uncleanliness avoid Sahih International

৫. আর শির্ক পরিহার করে চলুন(১),

(১) আয়াতে উল্লেখিত الرجز শব্দের এক অর্থ, শাস্তি। অর্থাৎ শাস্তিযোগ্য কাজ। [ফাতহুল কাদীর] এখানে এর অর্থ হতে পারে, পৌত্তলিকতা ও প্রতিমা পূজা। তাছাড়া সাধারণভাবে সকল গোনাহ ও অপরাধ বোঝানোর জন্যও শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। তাই আয়াতের অর্থ এই যে, প্রতিমা পূজা, শাস্তিযোগ্য কর্মকাণ্ড অথবা গোনাহ পরিত্যাগ করুন। সকল প্রকার ছোট ও বড় অন্যায় ও গুনাহের কাজ পরিত্যাগ করুন। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) অপবিত্রতা বর্জন কর। [1]

[1] অর্থাৎ, মূর্তিপূজা ছেড়ে দাও। এটা আসলে রসূল (সাঃ)-এর মাধ্যমে লোকদেরকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ৬ وَ لَا تَمۡنُنۡ تَسۡتَكۡثِرُ ۪﴿ۙ۶﴾

আর অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না। আল-বায়ান

(কারো প্রতি) অনুগ্রহ করো না অধিক পাওয়ার উদ্দেশে। তাইসিরুল

অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করনা। মুজিবুর রহমান

And do not confer favor to acquire more Sahih International

৬. আর বেশী পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করবেন না।(১)

(১) এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ হলো, আপনি যার প্রতিই ইহসান বা অনুগ্রহ করবেন, নিঃস্বাৰ্থভাবে করবেন। আপনার অনুগ্রহ ও বদ্যান্যতা এবং দানশীলতা ও উত্তম আচরণ হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। ইহসান বা মহানুভবতার বিনিময়ে কোন প্রকার পার্থিব স্বাৰ্থ লাভের বিন্দুমাত্র আকাঙ্খাও করবেন না; বেশি পাওয়ার আশায়ও ইহসান করবেন না। দ্বিতীয় অর্থ হলো, নবুওয়াতের যে দায়িত্ব আপনি পালন করছেন এবং এর বিনিময়ে কোন প্রকার ব্যক্তি স্বাৰ্থ উদ্ধার করবেন না; যদিও অনেক বড় ও মহান একটি কাজ করে চলেছেন। কিন্তু নিজের দৃষ্টিতে নিজের কাজকে বড় কাজ বলে কখনো মনে করবেন না এবং কোন সময় এ চিন্তাও যেন আপনার মনে উদিত না হয় যে, নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে আর এ কাজে প্রাণপণ চেষ্টা-সাধনা করে আপনি আপনার রবের প্রতি কোন অনুগ্রহ করছেন। [দেখুন: কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় অনুগ্রহ করো না। [1]

[1] অর্থাৎ, অপরের প্রতি অনুগ্রহ করে এই আশা করো না যে, বিনিময়ে তার থেকে অধিক পাওয়া যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ৭ وَ لِرَبِّكَ فَاصۡبِرۡ ؕ﴿۷﴾

আর তোমার রবের জন্যই ধৈর্যধারণ কর। আল-বায়ান

তোমার প্রতিপালকের (সন্তুষ্টির) জন্য ধৈর্য ধর। তাইসিরুল

এবং তোমার রবের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধর। মুজিবুর রহমান

But for your Lord be patient. Sahih International

৭. আর আপনার রবের জন্যেই ধৈর্য ধারণ করুন।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণ কর।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ৮ فَاِذَا نُقِرَ فِی النَّاقُوۡرِ ۙ﴿۸﴾

অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আল-বায়ান

যেদিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে, তাইসিরুল

যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে – মুজিবুর রহমান

And when the trumpet is blown, Sahih International

৮. অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে(১),

(১) ناقور শব্দের অর্থ শিংগা এবং نُقِرَ বলে শিংগায় ফুঁ দিয়ে আওয়াজ বের করা বোঝানো হয়েছে। এখানে শিঙ্গার দ্বিতীয় ফুঁ তথা কবর থেকে উঠে হাশরের ময়দানে জড়ো হওয়ার জন্য যে ফুঁক দেয়া হবে তা উদ্দেশ্য। [বাগভী, সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ৯ فَذٰلِكَ یَوۡمَئِذٍ یَّوۡمٌ عَسِیۡرٌ ۙ﴿۹﴾

আর সেদিন হবে কঠিন দিন। আল-বায়ান

সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন দিন, তাইসিরুল

সেদিন হবে এক সংকটের দিন – মুজিবুর রহমান

That Day will be a difficult day Sahih International

৯. সেদিন হবে এক সংকটের দিন-

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) সেদিন হবে এক সংকটের দিন।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১০ عَلَی الۡكٰفِرِیۡنَ غَیۡرُ یَسِیۡرٍ ﴿۱۰﴾

কাফিরদের জন্য সহজ নয়। আল-বায়ান

(যা) কাফিরদের জন্য মোটেই সহজ নয়। তাইসিরুল

যা কাফিরদের জন্য সহজ নয়। মুজিবুর রহমান

For the disbelievers - not easy. Sahih International

১০. যা কাফিরদের জন্য সহজ নয়।(১)

(১) এ বাক্যটি থেকে স্বতঃই প্রতিভাত হয় যে, সেদিনটি ঈমানদারদের জন্য হবে খুবই সহজ এবং এর সবটুকু কঠোরতা সত্যকে অমান্যকারীদের জন্য নির্দিষ্ট হবে। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) যা অবিশ্বাসীদের জন্য সহজ নয়। [1]

[1] অর্থাৎ, কিয়ামতের দিন কাফেরদের উপর ভারী হবে। কেননা, কিয়ামতে সেই কুফরীর ফল তাদেরকে ভোগ করতে হবে, যা তারা দুনিয়াতে করে বেড়াত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১১ ذَرۡنِیۡ وَ مَنۡ خَلَقۡتُ وَحِیۡدًا ﴿ۙ۱۱﴾

আমাকে এবং যাকে আমি সৃষ্টি করেছি তাকে একাকী ছেড়ে দাও। আল-বায়ান

ছেড়ে দাও আমাকে (তার সঙ্গে বুঝাপড়া করার জন্য) যাকে আমি এককভাবে সৃষ্টি করেছি। তাইসিরুল

আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি অসাধারণ করে। মুজিবুর রহমান

Leave Me with the one I created alone Sahih International

১১. ছেড়ে দিন আমাকে ও যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাকী।(১)

(১) একথাটির দু'টি অর্থ হতে পারে এবং দু'টি অর্থই সঠিক। এক. আমি যখন তাকে সৃষ্টি করেছিলাম সে সময় সে কোন প্রকার ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং মর্যাদা ও নেতৃত্বের অধিকারী ছিল না, সে একা ছিল। আমি তাকে সেসব দান করেছি। দুই. একমাত্র আমিই তার সৃষ্টিকর্তা। অন্য যেসব উপাস্যের প্রভুত্ব কায়েম রাখার জন্য সে আপনার দেয়া তাওহীদের দাওয়াতের বিরোধিতায় এত তৎপর, তাদের কেউই তাকে সৃষ্টি করার ব্যাপারে আমার সাথে শরীক ছিল না। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে যাকে আমি একাই সৃষ্টি করেছি। [1]

[1] এ বাক্যে রয়েছে ধমক ও তিরস্কারের স্বর। যাকে আমি একাই মায়ের পেটে সৃষ্টি করেছি, তার কাছে না ছিল মাল-ধন, আর না ছিল সন্তান-সন্ততি, তাকে আর আমাকে একাই ছেড়ে দাও। অর্থাৎ, আমি নিজেই তাকে দেখে নেব। বলা হয় যে, এখানে অলীদ ইবনে মুগীরার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই লোকটি কুফরী ও অবাধ্যতায় সীমা অতিক্রম করেছিল। এই জন্যই তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আল্লাহই অধিক জানেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১২ وَّ جَعَلۡتُ لَهٗ مَالًا مَّمۡدُوۡدًا ﴿ۙ۱۲﴾

আর আমি তাকে দিয়েছি অঢেল সম্পদ, আল-বায়ান

আর তাকে (ওয়ালীদ বিন মুগীরাহকে) দিয়েছি অঢেল ধন-সম্পদ, তাইসিরুল

আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন সম্পদ। মুজিবুর রহমান

And to whom I granted extensive wealth Sahih International

১২. আর আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ(১),

(১) কেয়ামত দিবস সকল কাফেরের জন্যেই কঠিন হবে-একথা বর্ণনা করার পর জনৈক দুষ্টমতি কাফেরের অবস্থা ও তার কঠোর শাস্তি বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, তার নাম ওলীদ ইবনে মুগীরা। তার দশ বারটি পুত্ৰ সন্তান ছিল। তাদের মধ্যে খালেদ ইবনে ওয়ালীদ ইতিহাসে অনেক বেশী প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাকে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্তুতির প্রাচুর্য দান করেছিলেন। [ইবন কাসীর] ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ভাষায়, তার ফসলের ক্ষেত ও বাগ-বাগিচা মক্কা থেকে তায়েফ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এমনকি তার ক্ষেতের ফসল ও বাগানের আমদানী সারা বছর তথা শীত ও গ্ৰীষ্ম সব ঋতুতে অব্যাহত থাকত। তাকে আরবের সরদার গণ্য করা হত। জনসাধারণের মধ্যে তার বিশেষ বিশেষ উপাধি ছিল। সে গর্ব ও অহংকারবশতঃ নিজেকে ওহীদ ইবনুল-ওহীদ অর্থাৎ এককের পুত্র একক বলত। তার দাবী ছিল এই যে, সম্প্রদায়ের মধ্যে সেও তার পিতা মুগীরা অদ্বিতীয়। [কুরতুবী, বাগভী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) আমি তাকে দিয়েছি বিপুল ধন-সম্পদ।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১৩ وَّ بَنِیۡنَ شُهُوۡدًا ﴿ۙ۱۳﴾

আর উপস্থিত অনেক পুত্র। আল-বায়ান

আর অনেক ছেলে যারা সব সময় তার কাছেই থাকে। তাইসিরুল

এবং নিত্য সঙ্গী পুত্রগণ। মুজিবুর রহমান

And children present [with him] Sahih International

১৩. এবং নিত্যসঙ্গী পুত্ৰগণ(১),

(১) এসব পুত্ৰ সন্তানদের জন্য شهود শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক, রুযী রোজগারের জন্য তাদের দৌড় ঝাপ করতে বা সৰ্বক্ষণ ব্যস্ত থাকতে কিংবা বিদেশ যাত্রা করতে হয় না। তাদের বাড়ীতে এত খাদ্য মজুদ আছে যে, তারা সর্বক্ষণ বাপের কাছে উপস্থিত থাকে। বরং তাকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকে। [ইবন কাসীর] দুই, তার সবগুলো সন্তানই নামকরা এবং প্রভাবশালী, তারা বাপের সাথে দরবার ও সভা-সমিতিতে উপস্থিত থাকে। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) এবং নিত্য সঙ্গী পুত্রগণ। [1]

[1] তাকে আল্লাহ অনেকগুলো পুত্র সন্তান দান করেছিলেন। তারা (ছেলেরা) সব সময় তার (পিতার) কাছেই থাকত। ঘরে মাল-ধনের প্রাচুর্য ছিল। এই কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ছেলেদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হত না। কেউ কেউ বলেন, ছেলেদের সংখ্যা ছিল সাত। কেউ বলেন, তারা ছিল ১২ জন। আবার কেউ বলেন, তারা ছিল ১৩ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তাঁরা হলেন খালেদ, হিশাম এবং অলীদ বিন অলীদ (রাঃ)। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১৪ وَّ مَهَّدۡتُّ لَهٗ تَمۡهِیۡدًا ﴿ۙ۱۴﴾

আর তার জন্য (জীবনকে) সুগম স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছি। আল-বায়ান

এবং তার জীবনকে করেছি সচ্ছল ও সুগম। তাইসিরুল

এবং তাকে দিয়েছি স্বচ্ছন্দময় জীবনের প্রচুর উপকরণ। মুজিবুর রহমান

And spread [everything] before him, easing [his life]. Sahih International

১৪. আর তাকে দিয়েছি স্বাচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) অতঃপর তাকে খুব প্রশস্ততা দিয়েছি। [1]

[1] অর্থাৎ, মাল-ধনে, নেতৃত্ব ও সর্দারীতে এবং বয়সে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১৫ ثُمَّ یَطۡمَعُ اَنۡ اَزِیۡدَ ﴿٭ۙ۱۵﴾

এসবের পরেও সে আকাংখা করে যে, আমি আরো বাড়িয়ে দেই। আল-বায়ান

এর পরও সে লোভ করে যে, আমি তাকে আরো দেই। তাইসিরুল

এর পরও সে কামনা করে যে, আমি তাকে আরও অধিক দিই। মুজিবুর রহমান

Then he desires that I should add more. Sahih International

১৫. এর পরও সে কামনা করে যে, আমি তাকে আরও বেশী দেই!(১)

(১) এক. এ কথার একটি অর্থ হলো, এসব সত্বেও তার লালসা ও আকাঙ্খার শেষ নেই। এত কিছু লাভ করার পরও সে সর্বক্ষণ এ চিন্তায় বিভোর যে, দুনিয়ার সব নিয়ামত ও ভোগের উপকরণ সে কিভাবে লাভ করতে পারবে। দুই. হাসান বাসরী ও আরো কয়েকজন মনীষী বর্ণনা করেছেন যে, সে বলত, মুহাম্মাদের একথা যদি সত্য হয়ে থাকে যে, মৃত্যুর পর আরো একটি জীবন আছে এবং সেখানে জান্নাত বলেও কিছু একটা থাকবে তাহলে সে জান্নাত আমার জন্যই তৈরী করা হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) এরপরও সে কামনা করে যে, আমি তাকে আরো অধিক দিই।[1]

[1] অর্থাৎ, কুফরী ও অবাধ্যতা করা সত্ত্বেও সে চায় যে, তাকে আমি আরো অধিক দিই।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১৬ كَلَّا ؕ اِنَّهٗ كَانَ لِاٰیٰتِنَا عَنِیۡدًا ﴿ؕ۱۶﴾

কখনো নয়, নিশ্চয় সে ছিল আমার নিদর্শনাবলীর বিরুদ্ধাচারী। আল-বায়ান

কক্ষনো না, সে ছিল আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধাচারী। তাইসিরুল

না, তা হবেনা, সেতো আমার নিদর্শনসমূহের ঔদ্ধত বিরুদ্ধাচারী। মুজিবুর রহমান

No! Indeed, he has been toward Our verses obstinate. Sahih International

১৬. কখনো নয়, সে তো আমাদের নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচারী।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) কক্ষনই না,[1] সে তো আমার নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচারী।[2]

[1] অর্থাৎ, আমি তাকে বেশী দেব না।

[2] এটা كَلاَّ (না দেওয়া) এর কারণ। عَنِيْدٌ সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, যে জানা সত্ত্বেও সত্যের বিরোধিতা এবং তা প্রত্যাখ্যান করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১৭ سَاُرۡهِقُهٗ صَعُوۡدًا ﴿ؕ۱۷﴾

অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের পিচ্ছিল পাথরে আরোহণ করতে বাধ্য করব। আল-বায়ান

শীঘ্রই আমি তাকে উঠাব শাস্তির পাহাড়ে (অর্থাৎ তাকে দিব বিপদের উপর বিপদ)। তাইসিরুল

আমি অচিরেই তাকে ক্রমবর্ধমান শাস্তি দ্বারা আচ্ছন্ন করব। মুজিবুর রহমান

I will cover him with arduous torment. Sahih International

১৭. অচিরেই আমি তাকে চড়ার(১) শাস্তি দিয়ে কষ্ট-ক্লান্ত করব।

(১) আল্লাহ্ তা'আলা সে পাপিষ্ঠকে কি শাস্তি দিবেন আয়াতে তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, তাকে ক্লান্ত-ক্লিষ্ট করা হবে চড়ার শাস্তি দানের মাধ্যমে। কিন্তু কোথায় চড়ানো হবে? বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, তাকে আগুনের পাহাড়ে চড়তে বাধ্য করা হবে, তারপর সেখান থেকে নীচের দিকে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, তাকে পিচ্ছিল এক পাহাড়ে চড়তে বাধ্য করা হবে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, সে পাহাড়টিতে হাত রাখা মাত্রই তা গলতে আরম্ভ করবে, এভাবে প্রতি পদে পদে পা ডুবে যাবে। মূলত শান্তিবিহীন অতি কষ্টের শাস্তি তাকে দেওয়া হবে। [ইবন কাসীর; কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) আমি অচিরেই তাকে ক্রমবর্ধমান শাস্তি দ্বারা আচ্ছন্ন করব।[1]

[1] অর্থাৎ, এমন আযাবে পতিত করব, যা সহ্য করা খুবই কঠিন হবে। কেউ কেউ বলেন, জাহান্নামে আগুনের পাহাড় হবে, যাতে তাকে চড়ানো হবে। إِرْهَاقٌ এর অর্থ হল, মানুষের উপর কোন ভারী জিনিস চাপিয়ে দেওয়া। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১৮ اِنَّهٗ فَكَّرَ وَ قَدَّرَ ﴿ۙ۱۸﴾

নিশ্চয় সে চিন্তা ভাবনা করল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। আল-বায়ান

সে চিন্তা ভাবনা করল এবং সিদ্ধান্ত নিল, তাইসিরুল

সে চিন্তা করল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। মুজিবুর রহমান

Indeed, he thought and deliberated. Sahih International

১৮. সে তো চিন্তা করল এবং সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করল।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) সে তো চিন্তা করল এবং সিদ্ধান্ত করল। [1]

[1] অর্থাৎ, কুরআন এবং নবী (সাঃ)-এর বার্তা শুনে সে এ ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করল যে, আমি এর উত্তর কি দেব? আর মনে মনে সে উত্তর প্রস্তুত করল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ১৯ فَقُتِلَ كَیۡفَ قَدَّرَ ﴿ۙ۱۹﴾

অতঃপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল? আল-বায়ান

ধ্বংস হোক সে, কীভাবে সে (কুরআনের অলৌকিকতা স্বীকার করার পরও কেবল অহমিকার বশবর্তী হয়ে নবুওয়াতকে অস্বীকার করার) সিদ্ধান্ত নিল! তাইসিরুল

অভিশপ্ত হোক সে! কেমন করে সে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল! মুজিবুর রহমান

So may he be destroyed [for] how he deliberated. Sahih International

১৯. সুতরাং ধ্বংস হোক সে! কেমন করে সে এ সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করল!

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) ধ্বংস হোক সে! কেমন করে সে এই সিদ্ধান্ত করল!

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৪ : ২০ ثُمَّ قُتِلَ كَیۡفَ قَدَّرَ ﴿ۙ۲۰﴾

তারপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল? আল-বায়ান

আবারো ধ্বংস হোক সে, সে সিদ্ধান্ত নিল কীভাবে! তাইসিরুল

আরও অভিশপ্ত হোক সে! কেমন করে সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল! মুজিবুর রহমান

Then may he be destroyed [for] how he deliberated. Sahih International

২০. তারপরও ধ্বংস হোক সে! কেমন করে সে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হল!

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) আবার ধ্বংস হোক সে! কেমন করে সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল! [1]

[1] এই বাক্যগুলো তার প্রতি বদ্দুআ স্বরূপ ব্যবহার করা হয়েছে। ধ্বংস হোক! বিনাশ হোক! এমন কথা সে চিন্তা করেছে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন