بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
সূরাঃ ২৫/ আল-ফুরকান | Al-Furqan | سورة الفرقان আয়াতঃ ৭৭ মাক্কী
২৫:১ تَبٰرَکَ الَّذِیۡ نَزَّلَ الۡفُرۡقَانَ عَلٰی عَبۡدِہٖ لِیَکُوۡنَ لِلۡعٰلَمِیۡنَ نَذِیۡرَا ۙ﴿۱﴾

তিনি বরকতময় যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন যেন সে জগতবাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারে। আল-বায়ান

মহা কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাহর উপর সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (কিতাব) নাযিল করেছেন যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে। তাইসিরুল

কত মহান তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ‘ফুরকান’ অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্ব জগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে! মুজিবুর রহমান

Blessed is He who sent down the Criterion upon His Servant that he may be to the worlds a warner - Sahih International

১. কত বরকতময় তিনি!(১) যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন, সৃষ্টিজগতের জন্য(২) সতর্ককারী হওয়ার জন্য।

(১) تبارك শব্দটি بركة থেকে উদ্ভূত। এর পূর্ণ অর্থ এক শব্দে তো দূরের কথা এক বাক্যে বর্ণনা করাও কঠিন। এর শব্দমূল রয়েছে ب-ر-ك অক্ষরত্ৰয়। এ থেকে بركة ও بروك দু'টি ধাতু নিষ্পন্ন হয়। তন্মধ্যে প্রথম শব্দ بركة শব্দের মধ্যে রয়েছে কল্যাণ, বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি, বিপুলতা ও প্রাচুর্যের ধারণা। আর بروك এর মধ্যে স্থায়িত্ব, দৃঢ়তা, অটলতা ও অনিবার্যতার ধারণা রয়েছে। তারপর এ ধাতু থেকে যখন تبارك এর ক্রিয়াপদ তৈরী করা হয় তখন تفاعل এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে এর মধ্যে বাড়াবাড়ি, অতিরঞ্জন ও পূর্ণতা প্রকাশের অর্থ শামিল হয়ে যায়। এ অবস্থায় এর অর্থ দাঁড়ায় চরম প্রাচুর্য, বর্ধমান প্রাচুর্য ও চূড়ান্ত পর্যায়ের স্থায়িত্ব। আল্লাহর জন্য تبارك শব্দটি এক অর্থে নয় বরং বহু অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- একঃ মহা অনুগ্রহকারী ও সর্বজ্ঞ, কল্যাণকারী। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেনঃ প্ৰত্যেক কল্যাণ ও বরকত আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে। তিনি নিজের বান্দাকে ফুরকানের মহান নিয়ামত দান করে সারা দুনিয়াকে জানিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছেন। দুইঃ বড়ই মর্যাদাশালী ও সম্মানীয়। কারণ, পৃথিবী ও আকাশে তাঁরই রাজত্ব চলছে। তিনঃ বড়ই পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। কারণ, তাঁর সত্তা সকল প্রকার শির্কের গন্ধমুক্ত। তাঁর সমজাতীয় কেউ নেই। ফলে আল্লাহর সত্তার সার্বভৌমত্ত্বে তাঁর কোন নজির ও সমকক্ষ নেই। তাঁর কোন ধ্বংস ও পরিবর্তন নেই। কাজেই তাঁর স্থলাভিষিক্তের জন্য কোন পুত্রের প্রয়োজন নেই। চারঃ বড়ই উন্নত ও শ্ৰেষ্ঠ। কারণ, সমগ্র রাজত্ব তাঁরই কর্তৃত্বাধীন। তাঁর ক্ষমতায় অংশীদার হবার যোগ্যতা ও মর্যাদা কারো নেই। পাঁচঃ শক্তির পূর্ণতার দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ। কারণ, তিনি বিশ্ব-জাহানের প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টিকারী ও তার ক্ষমতা নির্ধারণকারী। [দেখুন: তাবারী, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]


(২) সারা বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হবার যে কথা এখানে বলা হয়েছে। এ থেকে জানা যায় যে, কুরআনের দাওয়াত ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাত কোন একটি দেশের জন্য নয় বরং সারা দুনিয়ার জন্য এবং কেবলমাত্র নিজেরই যুগের জন্য নয় বরং ভবিষ্যতের সকল যুগের জন্য। এ বিষয়বস্তুটি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিবৃত হয়েছে। যেমন বলা হয়েছেঃ “হে মানুষেরা! আমি তোমাদের সবার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত”। [সূরা আল-আরাফঃ ১৫৮] আরো এসেছে, “আমার কাছে এ কুরআন পাঠানো হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদের এবং যাদের কাছে এটা পৌঁছে যায় তাদের সতর্ক করে দেই।” [সূরা আল-আনআমঃ ৯] আরো বলা হয়েছে, “আমরা আপনাকে সমগ্ৰ মানব জাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী করে পাঠিয়েছি”। [সূরা আস-সাবাঃ ২৮] অন্য আয়াতে এসেছে, “আর আমরা আপনাকে সারা দুনিয়াবাসীর জন্য রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছি”। [সূরা আল-আম্বিয়াঃ ১০৭] এ বিষয়বস্তুটিকে আরো সুস্পষ্টভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে বার বার বর্ণনা করেছেনঃ তিনি বলেছেনঃ “আমাকে লাল-কালো সবার কাছে পাঠানো হয়েছে।” [মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩০১] আরো বলেছেনঃ “প্রথমে একজন নবীকে বিশেষ করে তার নিজেরই জাতির কাছে পাঠানো হতো এবং আমাকে সাধারণভাবে সমগ্র মানব জাতির কাছে পাঠানো হয়েছে।” [বুখারীঃ ৩৩৫, ৪৩৮, মুসলিমঃ ৫২১] তিনি আরো বলেনঃ “আমাকে সমস্ত সৃষ্টির কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আমার আগমনে নবীদের আগমনের ধারাবাহিকতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।” [মুসলিমঃ ৫২৩]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) কত প্রাচুর্যময় তিনি যিনি তাঁর দাসের প্রতি ফুরকান[1] (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে। [2]

[1] ফুরকানের অর্থঃ হক ও বাতিল, তাওহীদ ও শিরক, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্যকারী; যেহেতু কুরআন উক্ত পার্থক্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে, সেহেতু তাকে ‘ফুরকান’ বলা হয়েছে।

[2] এখান হতে বুঝা যায় যে, নবী (সাঃ)-এর নবুঅত বিশ্বব্যাপী ছিল এবং তিনি সকল মানব-দানবের জন্য পথ-প্রর্দশক হিসাবে প্রেরিত হয়েছিলেন। যেমন আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, {قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} অর্থাৎ, বল, হে মানুষ! আমি তোমাদের সকলের জন্য সেই আল্লাহর (প্রেরিত) রসূল। (সূরা আ’রাফ ১৫৮) মহানবী (সাঃ) বলেন, ‘‘আমাকে সাদা-কালো সকলের প্রতি নবী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে।’’ (মুসলিমঃ মাসাজিদ অধ্যায়) ‘‘ পূর্বে নবীকে বিশেষ একটি জাতির নিকট পাঠানো হত। আর আমাকে সকল মানুষের জন্য নবী হিসাবে পাঠানো হয়েছে।’’ (বুখারী, মুসলিম) রিসালাত ও নবুঅত এর পর তাওহীদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখানে আল্লাহর চারটি গুণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:২ ۣالَّذِیۡ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ لَمۡ یَتَّخِذۡ وَلَدًا وَّ لَمۡ یَکُنۡ لَّہٗ شَرِیۡکٌ فِی الۡمُلۡکِ وَ خَلَقَ کُلَّ شَیۡءٍ فَقَدَّرَہٗ تَقۡدِیۡرًا ﴿۲﴾

যার অধিকারে রয়েছে আসমান ও যমীনের মালিকানা; আর তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং সার্বভৌমত্বে তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তা নিপুণভাবে নিরূপণ করেছেন। আল-বায়ান

যিনি যমীন ও আসমানের রাজত্বের মালিক, তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোন অংশীদার নেই, তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, আর সেগুলোকে যথাযথ করেছেন পরিমিত অনুপাতে। তাইসিরুল

যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী; তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি; সার্বভৌমত্বে তাঁর কোন অংশীদার নেই। তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন যথাযথ অনুপাতে। মুজিবুর রহমান

He to whom belongs the dominion of the heavens and the earth and who has not taken a son and has not had a partner in dominion and has created each thing and determined it with [precise] determination. Sahih International

২. যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্বের অধিকারী; তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি; সার্বভৌমত্ত্বে তার কোন শরীক নেই। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তা নির্ধারণ করেছেন যথাযথ অনুপাতে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তাঁরই।[1] তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি;[2] সার্বভৌম ক্ষমতায় তাঁর কোন অংশী নেই।[3] তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে যথোচিত আকৃতি দান করেছেন।[4]

[1] এটি তাঁর প্রথম গুণ। অর্থাৎ সৃষ্টি জগতে একমাত্র আধিপত্য তাঁর, অন্য কারো নয়।

[2] এখানে খ্রিষ্টান ও ইয়াহুদীদের এবং আরবের সেই লোকদের বিশ্বাস খন্ডন করা হয়েছে, যারা ফিরিশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা মনে করত।

[3] এখানে মূর্তিপূজক মুশরিক ও (ভাল-মন্দ, আলো-অন্ধকারের স্রষ্টাস্বরূপ) দুই আল্লাহতে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস খন্ডন করা হয়েছে।

[4] প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা একমাত্র তিনিই এবং তিনি নিজ জ্ঞান ও ইচ্ছানুসারে নিজের সৃষ্টিকে প্রত্যেক সেই জিনিস দান করেছেন যা তার অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথবা প্রত্যেকের জীবিকা ও মৃত্যু আগে থেকেই নির্ধারিত করে রেখেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:৩ وَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اٰلِہَۃً لَّا یَخۡلُقُوۡنَ شَیۡئًا وَّ ہُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ وَ لَا یَمۡلِکُوۡنَ لِاَنۡفُسِہِمۡ ضَرًّا وَّ لَا نَفۡعًا وَّ لَا یَمۡلِکُوۡنَ مَوۡتًا وَّ لَا حَیٰوۃً وَّ لَا نُشُوۡرًا ﴿۳﴾

আর তারা আল্লাহ ছাড়া অনেক ইলাহ গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়েছে; তারা নিজদের কোন কল্যাণ ও অকল্যাণ করার ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থান করতেও সক্ষম হয় না। আল-বায়ান

আর তারা তাঁকে বাদ দিয়ে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে অন্য কিছুকে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্টি হয়েছে। তারা ক্ষমতা রাখে না নিজেদের ক্ষতি বা উপকার করার আর ক্ষমতা রাখে না মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থানের উপর। তাইসিরুল

আর তারা তাঁর পরিবর্তে মা‘বূদ রূপে গ্রহণ করেছে অপরকে যারা কিছুই সৃষ্টি করেনা, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার অথবা উপকার করার ক্ষমতা রাখেনা এবং জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের উপরও কোন ক্ষমতা রাখেনা। মুজিবুর রহমান

But they have taken besides Him gods which create nothing, while they are created, and possess not for themselves any harm or benefit and possess not [power to cause] death or life or resurrection. Sahih International

৩. আর তারা তাঁর পরিবর্তে ইলাহরূপে গ্ৰহণ করেছে অন্যদেরকে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। আর মৃত্যু, জীবন ও উত্থানের উপরও কোন ক্ষমতা রাখে না।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) তবুও কি তারা তাঁর পরিবর্তে উপাস্যরূপে অপরকে গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না; বরং ওরা নিজেরাই সৃষ্ট এবং ওরা নিজেদের ইষ্টানিষ্টেরও মালিক নয় এবং জীবন, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের উপরও কোন ক্ষমতা রাখে না। [1]

[1] কিন্তু অনাচারীরা এমন গুণের অধিকারী প্রতিপালককে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে প্রতিপালক বানিয়ে নিয়েছে, যারা নিজেদের ব্যাপারেও কোন এখতিয়ার ও ক্ষমতার অধিকারী নয়। তাহলে তারা অপরের জন্য কিছু করার এখতিয়ার ও ক্ষমতা কোথায় পাবে? এরপর নবুঅত অস্বীকারকারীদের কিছু সন্দেহ নিরসন করা হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:৪ وَ قَالَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِنۡ ہٰذَاۤ اِلَّاۤ اِفۡکُۨ افۡتَرٰىہُ وَ اَعَانَہٗ عَلَیۡہِ قَوۡمٌ اٰخَرُوۡنَ ۚۛ فَقَدۡ جَآءُوۡ ظُلۡمًا وَّ زُوۡرًا ۚ﴿ۛ۴﴾

কাফিররা বলে ‘এটি তো জঘন্য মিথ্যা যা সে রটনা করেছে আর অন্য এক দল তাকে সাহায্য করেছে।’ এভাবে তারা যুলম ও মিথ্যা নিয়ে এসেছে। আল-বায়ান

কাফিররা বলে- ‘এটা মিথ্যে ছাড়া আর কিছুই নয়, সে তা (অর্থাৎ কুরআন) উদ্ভাবণ করেছে এবং ভিন্ন জাতির লোক এ ব্যাপারে তাকে সাহায্য করেছে।’ আসলে তারা অন্যায় ও মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছে। তাইসিরুল

কাফিরেরা বলেঃ এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছু নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে; অবশ্যই তারা যুল্‌ম ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে। মুজিবুর রহমান

And those who disbelieve say, "This [Qur'an] is not except a falsehood he invented, and another people assisted him in it." But they have committed an injustice and a lie. Sahih International

৪. আর কাফেররা বলে, এটা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়, সে এটা রটনা করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে। সুতরাং অবশ্যই কাফেররা যুলুম ও মিথ্যা নিয়ে এসেছে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) অবিশ্বাসীরা বলে, ‘এ মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়; সে নিজে তা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।’[1] ওরা অবশ্যই সীমালংঘন করে ও মিথ্যা বলে।

[1] মুশরিকরা বলত যে, মুহাম্মাদ এই গ্রন্থ রচনা করতে ইয়াহুদীদের বা ওদের কিছু (শিক্ষিত) দাস (যেমন আবূ ফকীহা ইয়াসির, আদ্দাস ও জাবর ইত্যাদি)র সাহায্য নিয়েছে। যেমন সূরা নাহল ১০৩ নং আয়াতে জরুরী আলোচনা করা হয়েছে। এখানে কুরআন এই অপবাদকে অন্যায় ও মিথ্যা বলে অভিহিত করছে। একজন নিরক্ষর মানুষ অন্যের সাহায্য নিয়ে কেমন করে এত সুন্দর একটি গ্রন্থ রচনা করতে পারে; যা উচ্চাঙ্গের সাহিত্য-সমৃদ্ধ, শব্দালংকার ও ভাব-দ্যোতনায় অতুলনীয়, তথ্য ও তত্ত্বজ্ঞান পরিবেশনে অদ্বিতীয়, মানব জীবনের আদর্শ নিয়ম-নীতির বিস্তারিত আলোচনায় অনুপম, অতীতকালের সংবাদ ও ভবিষ্যতে ঘটিতব্য ঘটনাবলীর সঠিক বর্ণনায় এর সত্যতা সর্বজন-স্বীকৃত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:৫ وَ قَالُوۡۤا اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ اکۡتَتَبَہَا فَہِیَ تُمۡلٰی عَلَیۡہِ بُکۡرَۃً وَّ اَصِیۡلًا ﴿۵﴾

তারা বলে, ‘এটি প্রাচীনকালের উপকথা যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে পাঠ করা হয়। আল-বায়ান

তারা বলে- ‘এগুলো পূর্ব যুগের কাহিনী যা সে [অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.)] লিখিয়ে নিয়েছে আর এগুলোই তার কাছে সকাল-সন্ধ্যা শোনানো হয়।’ তাইসিরুল

এবং তারা বলেঃ এগুলিতো সেকালের উপকথা যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; এগুলি সকাল-সন্ধ্যায় তার নিকট পাঠ করা হয়। মুজিবুর রহমান

And they say, "Legends of the former peoples which he has written down, and they are dictated to him morning and afternoon." Sahih International

৫. তারা আরও বলে, এগুলো তো সে কালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; তারপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে পাঠ করা হয়।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) ওরা বলে, ‘এগুলি তো সে কালের উপকথা; যা সে লিখিয়ে নিয়েছে। অতঃপর এগুলি সকাল-সন্ধ্যা তার নিকট পাঠ করা হয়।’

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:৬ قُلۡ اَنۡزَلَہُ الَّذِیۡ یَعۡلَمُ السِّرَّ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّہٗ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ﴿۶﴾

বল, ‘যিনি আসমান ও যমীনের রহস্য জানেন তিনি এটি নাযিল করেছেন; নিশ্চয় তিনি অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ আল-বায়ান

বল : ‘তা তিনিই নাযিল করেছেন যিনি আসমান-যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় অবগত আছেন। তিনি বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। তাইসিরুল

বলঃ এটা তিনিই অবতীর্ণ করেছেন যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সমুদয় রহস্য অবগত আছেন; তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। মুজিবুর রহমান

Say, [O Muhammad], "It has been revealed by He who knows [every] secret within the heavens and the earth. Indeed, He is ever Forgiving and Merciful." Sahih International

৬. বলুন, এটা তিনিই নাযিল করেছেন যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সমুদয় রহস্য জানেন; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) বল, ‘এ তিনিই অবতীর্ণ করেছেন, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সমুদয় রহস্য অবগত আছেন।[1] নিশ্চয়ই তিনি চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ [2]

[1] এটি তাদের মিথ্যা ও অপবাদ আরোপের জবাবে বলা হচ্ছে যে, কুরআনের প্রতি লক্ষ্য কর, এর মধ্যে কি রয়েছে? কুরআনের কোন কথা অসত্য বা বাস্তববিরোধী কি? নিশ্চয় না। বরং প্রতিটি কথা সঠিক ও সত্য। কারণ এর অবতীর্ণকারী ঐ সত্তা, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেক গুপ্ত বিষয় সম্পর্কে অবহিত।

[2] তিনি চরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়াবান; নচেৎ কুরআন রচনার অপবাদ আরোপ অতি মহাপাপ; যার কারণে শীঘ্রই তারা আল্লাহর আযাবে গ্রেফতার হত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:৭ وَ قَالُوۡا مَالِ ہٰذَا الرَّسُوۡلِ یَاۡکُلُ الطَّعَامَ وَ یَمۡشِیۡ فِی الۡاَسۡوَاقِ ؕ لَوۡ لَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِ مَلَکٌ فَیَکُوۡنَ مَعَہٗ نَذِیۡرًا ۙ﴿۷﴾

আর তারা বলে, ‘এ রাসূলের কী হল, সে আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে; তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠানো হল না কেন, যে তাঁর সাথে সতর্ককারী হত’? আল-বায়ান

তারা বলে- ‘এ কেমন রসূল যে খাবার খায়, আর হাট-বাজারে চলাফেরা করে? তার কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় না কেন যে তার সঙ্গে থাকত সতর্ককারী হয়ে? তাইসিরুল

তারা বলেঃ এ কেমন রাসূল যে আহার করে এবং হাটে বাজারে চলাফিরা করে? তার কাছে কোন মালাক/ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলনা যে তার সাথে থাকত সতর্ককারী রূপে? মুজিবুর রহমান

And they say, "What is this messenger that eats food and walks in the markets? Why was there not sent down to him an angel so he would be with him a warner? Sahih International

৭. আরও তারা বলে, এ কেমন রাসূল যে খাওয়া-দাওয়া করে এবং হাটেবাজারে চলাফেরা করে; তার কাছে কোন ফিরিশতা কেন নাযিল করা হল না, যে তার সঙ্গে থাকত সতর্ককারীরূপে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) ওরা বলে, ‘এ কেমন রসূল, যে আহার করে এবং হাটে বাজারে চলাফেরা করে![1] তার নিকট কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হল না কেন; যে সতর্ককারীরূপে তার সঙ্গে থাকত? [2]

[1] কুরআনের উপর আঘাত হানার পর রাসূলের উপর আঘাত হানা হচ্ছে এবং তা রাসূলের মানুষ হওয়ার জন্য। তাদের ধারণা ছিল মানুষ রিসালাত ও নবুঅতের যোগ্য নয়। সেই জন্য তারা বলত, এ কেমন রাসূল, যে খায়-পান করে, বাজারে আসে-যায়! আমাদেরই মত মানুষ! রসূলের তো মানুষ হওয়ার কথা নয়।

[2] উপরোক্ত আপত্তি হতে এক ধাপ নিচে নেমে বলা হচ্ছে, আর কিছু না হোক, কমসে কম একজন ফিরিশতাই তার সহায়ক ও সত্যায়নকারীরূপে থাকতে পারত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:৮ اَوۡ یُلۡقٰۤی اِلَیۡہِ کَنۡزٌ اَوۡ تَکُوۡنُ لَہٗ جَنَّۃٌ یَّاۡکُلُ مِنۡہَا ؕ وَ قَالَ الظّٰلِمُوۡنَ اِنۡ تَتَّبِعُوۡنَ اِلَّا رَجُلًا مَّسۡحُوۡرًا ﴿۸﴾

অথবা তাকে ধনভান্ডার ঢেলে দেয়া হয় না কেন অথবা তার জন্য একটি বাগান হয় না কেন যা থেকে সে খেতে পারে?’ যালিমরা বলে, ‘তোমরা শুধু এক যাদুগ্রস্ত লোকের অনুসরণ করছ’। আল-বায়ান

কিংবা তাকে ধন-ভান্ডার দেয়া হয় না কেন, অথবা তার জন্য একটা বাগান হয় না কেন যাত্থেকে সে আহার করত?’ যালিমরা বলে- ‘তোমরা তো এক যাদুগ্রস্ত লোকেরই অনুসরণ করছ।’ তাইসিরুল

তাকে ধন ভান্ডার দেয়া হয়নি কেন, অথবা কেন একটি বাগান দেয়া হলনা যা হতে সে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারে? সীমালংঘনকারীরা আরও বলেঃ তোমরাতো এক যাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ। মুজিবুর রহমান

Or [why is not] a treasure presented to him [from heaven], or does he [not] have a garden from which he eats?" And the wrongdoers say, "You follow not but a man affected by magic." Sahih International

৮. অথবা তার কাছে কোন ধনভাণ্ডার এসে পড়ল না কেন অথবা তার একটি বাগান নেই কেন, যা থেকে সে খেতো? আর যালিমরা আরো বলে, তোমরা তো এক জাদুগ্ৰস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) তাকে ধনভান্ডার দেওয়া হয় না কেন[1] অথবা তার একটি বাগান নেই কেন, যা হতে সে আহার সংগ্রহ করতে পারে?’[2] সীমালংঘনকারীরা আরও বলে, ‘তোমরা তো এক যাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।’[3]

[1] যাতে সে জীবিকা-উপার্জনের ব্যাপারে নিশ্চিত থাকত।

[2] যাতে তার অবস্থা আমাদের তুলনায় তো কিছু ভালো হত।

[3] যার জ্ঞান-বুদ্ধি যাদু-প্রভাবিত ও বিকৃত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:৯ اُنۡظُرۡ کَیۡفَ ضَرَبُوۡا لَکَ الۡاَمۡثَالَ فَضَلُّوۡا فَلَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ سَبِیۡلًا ﴿۹﴾

দেখ, তোমার জন্য তারা কেমন উপমা পেশ করে; ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, সুতরাং তারা কোন পথ পেতে সক্ষম হয় না। আল-বায়ান

দেখ, তারা তোমার ব্যাপারে কেমন সব উপমা পেশ করছে! যার ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, অতএব তারা কোন ক্রমেই পথ পাবে না। তাইসিরুল

দেখ, তারা তোমার কি উপমা দেয়। তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা পথ পাবেনা। মুজিবুর রহমান

Look how they strike for you comparisons; but they have strayed, so they cannot [find] a way. Sahih International

৯. দেখুন, তারা আপনার কি উপমা দেয়! ফলে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, সুতরাং তারা পথ পেতে পারে না।(১)

(১) এ আয়াত সংক্রান্ত কিছু আলোচনা সূরা আল-ইসরায় করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) দেখ, ওরা তোমার কি সব উপমা পেশ করে। ফলতঃ ওরা পথভ্রষ্ট। সুতরাং ওরা পথ পাবে না।[1]

[1] অর্থাৎ, হে নবী! ওরা তোমার ব্যাপারে এ রকম কথাবার্তা ও অপবাদ আরোপ করে। কখনো বলে যাদুকর, কখনো বলে যাদুগ্রস্ত বা পাগল, কখনো মিথ্যুক বা কবি। অথচ এ সমস্ত কথাই অসত্য। যার মধ্যে সামান্যতম জ্ঞান ও বিবেক-বুদ্ধি আছে, সেও এ সব মন্তব্যে তাদের মিথ্যাবাদিতার কথা উপলব্ধি করতে পারবে। অতএব তারা এ সকল কথা বলে নিজেরাই হিদায়াতের পথ হতে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা হিদায়াত কিভাবে পেতে পারে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৫:১০ تَبٰرَکَ الَّذِیۡۤ اِنۡ شَآءَ جَعَلَ لَکَ خَیۡرًا مِّنۡ ذٰلِکَ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۙ وَ یَجۡعَلۡ لَّکَ قُصُوۡرًا ﴿۱۰﴾

তিনি বরকতময়, যিনি ইচ্ছা করলে তোমার জন্য করে দিতে পারেন তার চেয়ে উত্তম বস্ত্ত অনেক বাগান, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত হয় এবং তিনি তোমাকে প্রাসাদসমূহ দিতে পারেন। আল-বায়ান

মহা কল্যাণময় তিনি যিনি ইচ্ছে করলে তোমাকে ওগুলোর চেয়েও উৎকৃষ্ট জিনিস দিতে পারেন- বাগ-বাগিচা, যার নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে নির্ঝরিণী, দিতে পারেন তিনি তোমাকে প্রাসাদরাজি। তাইসিরুল

কত মহান তিনি যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে দিতে পারেন এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর বস্তু - উদ্যানসমূহ, যার নিম্নদেশে নদ-নদী প্রবাহিত এবং দিতে পারেন প্রাসাদসমূহ। মুজিবুর রহমান

Blessed is He who, if He willed, could have made for you [something] better than that - gardens beneath which rivers flow - and could make for you palaces. Sahih International

১০. কত বরকতময় তিনি যিনি ইচ্ছে করলে আপনাকে দিতে পারেন এর চেয়ে উৎকৃষ্ট বস্তু—উদ্যানসমূহ যার পাদদেশে নদী-নালা প্রবাহিত এবং তিনি দিতে পারেন আপনাকে প্রাসাদসমূহ!

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) কত প্রাচুর্যময় তিনি, যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে এ অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর বস্তু দান করতে পারেন -- উদ্যানসমূহ; যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত এবং দিতে পারেন প্রাসাদসমূহ। [1]

[1] অর্থাৎ, তোমার নিকট যেসব জিনিসের দাবী এরা করছে, সে সমস্ত পূরণ করে দেওয়া আল্লাহর জন্য কোন সমস্যার কথা নয়। তিনি চাইলে তো তার থেকে উত্তম বাগান ও মহল তোমাকে দান করতে পারেন, যা তাদের কল্পনায় রয়েছে। কিন্তু তাদের দাবী আসলে মিথ্যাজ্ঞান ও শত্রুতার কারণে, হিদায়াত প্রাপ্তি ও পরিত্রাণ লাভের জন্য নয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০ পর্যন্ত, সর্বমোট ৭৭ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 3 4 5 6 7 8 পরের পাতা »