بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
১০৪ সূরাঃ আল-হুমাযা | Al-Humaza | سورة الهمزة - আয়াত সংখ্যাঃ ৯ - মাক্কী
১০৪:১ وَیۡلٌ لِّکُلِّ ہُمَزَۃٍ لُّمَزَۃِۣ ۙ﴿۱﴾

দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে সামনে নিন্দাকারী ও পেছনে গীবতকারী। আল-বায়ান

দুর্ভোগ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে (সামনাসামনি) মানুষের নিন্দা করে আর (অসাক্ষাতে) দুর্নাম করে, তাইসিরুল

দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে, মুজিবুর রহমান

১. দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পিছনে ও সামনে লোকের নিন্দা করে(১),

(১) আয়াতে ‘হুমাযাহ’ ও ‘লুমাযাহ’ দু'টি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অধিকাংশ তাফসীরকারের মতে همز এর অর্থ গীবত অর্থাৎ পশ্চাতে পরনিন্দা করা এবং لمز এর অর্থ সামনাসামনি দোষারোপ করা ও মন্দ বলা। এ দুটি কাজই জঘন্য গোনাহ। [আদওয়াউল বায়ান]। তাফসীরকারগণ এ শব্দ দুটির আরও অর্থ বর্ণনা করেছেন। তাদের বর্ণিত তাফসীর অনুসারে উভয় শব্দ মিলে এখানে যে অর্থ দাঁড়ায় তা হচ্ছে: সে কাউকে লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। কারোর প্রতি তাচ্ছিল্য ভরে অংগুলি নির্দেশ করে। চোখের ইশারায় কাউকে ব্যঙ্গ করে কারো বংশের নিন্দা করে। কারো ব্যক্তি সত্তার বিরূপ সমালোচনা করে। কারো মুখের ওপর তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করে। কারো পেছনে তার দোষ বলে বেড়ায়। কোথাও এর কথা ওর কানে লাগিয়ে বন্ধুদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। কোথাও ভাইদের পারস্পরিক ঐক্যে ফাটল ধরায়। কোথাও লোকদের নাম বিকৃত করে খারাপ নামে অভিহিত করে। কোথাও কথার খোঁচায় কাউকে আহত করে এবং কাউকে দোষারোপ করে। এসব তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অথচ এসবই মারাত্মক গোনাহ।

পশ্চাতে পরনিন্দার শাস্তির কথা কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ এরূপ হতে পারে যে, এ গোনাহে মশগুল হওয়ার পথে সামনে কোন বাধা থাকে না। যে এতে মশগুল হয়, সে কেবল এগিয়েই চলে। ফলে গোনাহ বৃহৎ থেকে বৃহত্তর ও অধিকতর হতে থাকে। সম্মুখের নিন্দা এরূপ নয়। এতে প্রতিপক্ষও বাধা দিতে প্ৰস্তুত থাকে। ফলে গোনাহ দীর্ঘ হয় না। এছাড়া কারও পশ্চাতে নিন্দা করা এ কারণেও বড় অন্যায় যে, সং ব্যক্তি জানতেও পারে না যে, তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে। ফলে সে সাফাই পেশ করার সুযোগ পায় না। আবার একদিক দিয়ে لمز তথা সম্মুখের নিন্দা গুরুতর। যার মুখোমুখি নিন্দা করা হয়, তাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হয়। এর কষ্টও বেশি, ফলে শাস্তিও গুরুতর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা, যারা পরোক্ষ নিন্দা করে, বন্ধুদের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে এবং নিরপরাধ লোকদের দোষ খুঁজে ফিরে।” [মুসনাদে আহমাদ: ৪/২২৭] [দেখুন: কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১। দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে। [1]

[1] কিছু উলামা هُمَزَة ও لُمَزَة এর একই অর্থ বলেছেন। আর কিছু সংখ্যক উলামা উভয়ের মাঝে কিছুটা পার্থক্য করে বলেন, هُمَزَة বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যে সামনা-সামনি নিন্দা গায়। আর لُمَزَة বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যে পশ্চাতে গীবত (পরর্চ্চা) করে। আবার কেউ এর বিপরীত অর্থ করেন। অনেকের মতে هَمز চোখ ও হাতের ইশারায় নিন্দা প্রকাশ করা এবং لَمز জিহ্বা দ্বারা পরনিন্দা করাকে বলা হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:২ الَّذِیۡ جَمَعَ مَالًا وَّ عَدَّدَہٗ ۙ﴿۲﴾

যে সম্পদ জমা করে এবং বার বার গণনা করে। আল-বায়ান

যে ধন-সম্পদ জমা করে আর বার বার গণনা করে, তাইসিরুল

যে অর্থ জমায় ও তা গুণে গুণে রাখে। মুজিবুর রহমান

২. যে সম্পদ জমায় ও তা বার বার গণনা করে(১);

(১) অর্থাৎ নিজের অগাধ ধনদৌলতের অহংকারে সে মানুষকে এভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে। যেসব বদভ্যাসের কারণে আয়াতে শাস্তির কথা উচ্চারণ করা হয়েছে, তন্মধ্যে এটি হচ্ছে তৃতীয়। যার মূল কথা হচ্ছে অর্থালিপ্সা। আয়াতে একে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে— অর্থালিপ্সার কারণে সে তা বার বার গণনা করে। গুণে গুণে রাখা বাক্য থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কার্পণ্য ও অর্থ লালসার ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তবে অন্যান্য আয়াত ও হাদীস সাক্ষ্য দেয় যে, অর্থ সঞ্চয় করা সর্বাবস্থায় হারাম ও গোনাহ নয়। তাই এখানেও উদ্দেশ্য সেই সঞ্চয় হবে, যাতে জরুরি হক আদায় করা হয় না, কিংবা গর্ব ও অহমিকা লক্ষ্য হয় কিংবা লালসার কারণে দ্বীনের জরুরি কাজ বিঘ্নিত হয়। [আদওয়াউল বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। যে অর্থ জমায় ও তা গণনা করে রাখে। [1]

[1] এর অর্থ হল যে, সে (মাল) জমা করে ও গুনে গুনে রাখে; গুছিয়ে গুছিয়ে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না। নচেৎ, সাধারণভাবে মাল সঞ্চয় করে রাখা কোন নিন্দনীয় কাজ নয়। নিন্দনীয় তখনই হয় যখন তার যাকাত দেওয়া না হয়, দান-খয়রাত এবং আল্লাহর রাস্তায় খরচ না করা হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:৩ یَحۡسَبُ اَنَّ مَالَہٗۤ اَخۡلَدَہٗ ۚ﴿۳﴾

সে মনে করে তার সম্পদ তাকে চিরজীবি করবে। আল-বায়ান

সে মনে করে যে, তার ধন-সম্পদ চিরকাল তার সাথে থাকবে, তাইসিরুল

সে ধারণা করে যে, তার অর্থ তাকে অমর করে রাখবে। মুজিবুর রহমান

৩. সে ধারণা করে যে, তার অর্থ তাকে অমর করে রাখবে(১);

(১) এর অর্থ হচ্ছে এই যে, সে মনে করে তার অর্থ-সম্পদ তাকে চিরন্তন জীবন দান করবে। অর্থাৎ অর্থ জমা করার এবং তা গুণে রেখে দেবার কাজে সে এত বেশী মশগুল যে নিজের মৃত্যুর কথা তার মনে নেই। তার মনে কখনো এ চিন্তার উদয় হয় না যে, এক সময় তাকে এসব কিছু ছেড়ে দিয়ে খালি হাতে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হবে। তাছাড়া তাকে এ সম্পদের হিসাবও দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন কোন বান্দার দু’পা সামনে অগ্রসর হতে পারবে না যতক্ষণ না তাকে নিম্নোক্ত বিষয় জিজ্ঞাসা করা না হয়, তার জীবনকে কিসে নিঃশেষ করেছে; তার জ্ঞান দ্বারা সে কী করেছে; তার সম্পদ কোত্থেকে আহরণ করেছে ও কিসে ব্যয় করেছে এবং তার শরীর কিসে খাটিয়েছে।” [তিরমিযী: ২৪১৭] [আত-তাফসীরুস সাহীহ]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। সে ধারণা করে যে, তার অর্থ তাকে অমর করে রাখবে। [1]

[1] أخلَدَه শব্দের সবচেয়ে সঠিক অর্থ হল, ‘তাকে সর্বদা জীবিত রাখবে।’ অর্থাৎ, এই মাল যা সে জমা করে রাখছে, তা তার আয়ু বৃদ্ধি করবে এবং তাকে মরতে দেবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:৪ کَلَّا لَیُنۡۢبَذَنَّ فِی الۡحُطَمَۃِ ۫﴿ۖ۴﴾

কখনো নয়, অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা’য়। আল-বায়ান

কক্ষনো না, তাকে অবশ্যই চূর্ণ-বিচূর্ণকারীর মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে, তাইসিরুল

কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায়। মুজিবুর রহমান

৪. কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে(১) হুতামায়(২);

(১) আরবী ভাষায় কোন জিনিসকে তুচ্ছ মনে করে ছুড়ে ফেলে দেয়া অর্থে ‘নবয’ نبذ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। [কুরতুবী, তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর] এ থেকে আপনা আপনি এই ইংগিত সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নিজের ধনশালী হওয়ার কারণে সে দুনিয়ায় নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করে। কিন্তু কিয়ামতের দিন তাকে ঘৃণাভরে জাহান্নামে ছুড়ে দেয়া হবে।


(২) হুতামা শব্দটির মূল হচ্ছে, হাতম। হাতম মানে ভেঙ্গে ফেলা, পিষে ফেলা ও টুকরা করে ফেলা। জাহান্নামকে হাতম নামে অভিহিত করার কারণ হচ্ছে এই যে, তার মধ্যে যা কিছু ফেলে দেয়া হবে তাকে সে নিজের গভীরতা ও আগুনের কারণে ভেঙ্গে গুড়িয়ে রেখে দেবে। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। কখনও না, [1] সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুত্বামায়। [2]

[1] অর্থাৎ, কখনও এমনটি হবে না, যেমন সে ভাবে ও ধারণা করে।

[2] এমন বখীল ব্যক্তিকে ‘হুত্বামাহ’ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এটাও একটি জাহান্নামের নাম। ‘হুত্বামাহ’ অর্থঃ ভেঙ্গে-চুরে ধ্বংস করা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:৫ وَ مَاۤ اَدۡرٰىکَ مَا الۡحُطَمَۃُ ؕ﴿۵﴾

আর কিসে তোমাকে জানাবে হুতামা কি? আল-বায়ান

তুমি কি জান চূর্ণ-বিচূর্ণকারী কী? তাইসিরুল

হুতামা কী, তা কি তুমি জান? মুজিবুর রহমান

৫. আর আপনাকে কিসে জানাবে হুতামা কী?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। কিসে তোমাকে জানাল, হুত্বামা কি? [1]

[1] এই প্রশ্নসূচক বাক্য ‘হুত্বামাহ’ জাহান্নামের ভয়াবহতাকে ব্যক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, সেটা এমন ভয়ংকর আগুন হবে, যার প্রকৃতত্বে তোমার জ্ঞান-বুদ্ধি পৌঁছতে পারে না এবং তোমার সমঝ ও অনুভব তা আয়ত্ত করতে পারে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:৬ نَارُ اللّٰہِ الۡمُوۡقَدَۃُ ۙ﴿۶﴾

আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন। আল-বায়ান

তা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন, তাইসিরুল

ওটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত হুতাশন – মুজিবুর রহমান

৬. এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন(১),

(১) এখানে موقدة অর্থ অত্যন্ত লেলিহান শিখাযুক্ত প্ৰজ্বলিত আগুন। [মুয়াস্‌সার] এখানে এই আগুনকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করার মাধ্যমে কেবলমাত্র এর প্রচণ্ডতা ও ভয়াবহতা প্ৰকাশ পাচ্ছে। [রূহুল মা'আনী, ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। তা হল আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:৭ الَّتِیۡ تَطَّلِعُ عَلَی الۡاَفۡـِٕدَۃِ ؕ﴿۷﴾

যা হৃৎপিন্ড পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আল-বায়ান

যা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তাইসিরুল

যা হৃদয়কে গ্রাস করবে। মুজিবুর রহমান

৭. যা হৃদয়কে গ্ৰাস করবে(১);

(১) ‘তাত্তালিউ’ শব্দটির মূলে হচ্ছে ইত্তিলা। আর ‘ইত্তিলা’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে চড়া, আরোহণ করা ও ওপরে পৌছে যাওয়া। [জালালাইন] “আফইদাহ’’ শব্দটি হচ্ছে বহুবচন। এর একবচন হচ্ছে ‘ফুওয়াদ’। এর মানে হৃদয়। অর্থাৎ জাহান্নামের এই আগুন হৃদয়কে পর্যন্ত গ্ৰাস করবে। হৃদয় পর্যন্ত এই আগুন পৌঁছাবার একটি অর্থ হচ্ছে এই যে, এই আগুন এমন জায়গায় পৌছে যাবে যেখানে মানুষের অসৎচিন্তা, ভুল আকীদা-বিশ্বাস, অপবিত্র ইচ্ছা, বাসনা, প্রবৃত্তি, আবেগ এবং দুষ্ট সংকল্প ও নিয়তের কেন্দ্র। [ফাতহুল কাদীর] এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর এই আগুন দুনিয়ার আগুনের মতো অন্ধ হবে না। সে দোষী ও নির্দোষ সবাইকে জ্বলিয়ে দেবে না। বরং প্রত্যেক অপরাধীর হৃদয় অভ্যন্তরে পৌছে সে তার অপরাধের প্রকৃতি নির্ধারণ করবে এবং প্রত্যেককে তার দোষ ও অপরাধ অনুযায়ী আযাব দেবে। এর তৃতীয় অর্থ হচ্ছে, দুনিয়ার আগুন মানুষের দেহে লাগলে হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছার আগেই মৃত্যু হয়ে যায়। জাহান্নামে মৃত্যু নেই। কাজেই জীবিত অবস্থাতেই হৃদয় পর্যন্ত অগ্নি পৌছবে এবং হৃদয়-দহনের তীব্ৰ কষ্ট জীবদ্দশাতেই মানুষ অনুভব করবে। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। যা হৃদয়কে গ্রাস করবে। [1]

[1] অর্থাৎ, তার উষ্ণতা হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। এমনিতেই পৃথিবীর সাধারণ আগুনের গুণ হল সমস্ত বস্তুকে জ্বালিয়ে ফেলা। কিন্তু পৃথিবীতে এই আগুন হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছনোর পূর্বেই মানুষের মৃত্যু ঘটে যায়। জাহান্নামে তা হবে না; বরং সেই আগুন হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আর মৃত্যুকে আহবান করা সত্ত্বেও মৃত্যু আসবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:৮ اِنَّہَا عَلَیۡہِمۡ مُّؤۡصَدَۃٌ ۙ﴿۸﴾

নিশ্চয় তা তাদেরকে আবদ্ধ করে রাখবে। আল-বায়ান

তা তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করে রাখবে, তাইসিরুল

নিশ্চয়ই ওটা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে, মুজিবুর রহমান

৮. নিশ্চয় এটা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে।(১)

(১) অর্থাৎ অপরাধীদেরকে জাহান্নামের মধ্যে নিক্ষেপ করে ওপর থেকে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। কোন দরজা তো দুরের কথা তার কোন একটি ছিদ্ৰও খোলা থাকবে না। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
১০৪:৯ فِیۡ عَمَدٍ مُّمَدَّدَۃٍ ﴿۹﴾

প্রলম্বিত স্তম্ভসমূহে। আল-বায়ান

(লেলিহান অগ্নিশিখার) উঁচু উঁচু স্তম্ভে। তাইসিরুল

দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে। মুজিবুর রহমান

৯. দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।(১)

(১) ‘ফি আমাদিম মুমাদ্দাদাহ’ এর একাধিক অর্থ হতে পারে। যেমন এর একটি অর্থ হচ্ছে, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দিয়ে তার ওপর উঁচু উঁচু থাম গেড়ে দেয়া হবে। এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, এই অপরাধীরা উঁচু উঁচু থামের গায়ে বাধা থাকবে। এর তৃতীয় অর্থ হল এরূপ স্তম্ভসমূহ বা থাম দিয়ে জাহান্নামীদের শাস্তি প্ৰদান করা হবে। এ-শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কোন কথা আল্লাহ জানাননি। এ মতটি ইমাম তাবারী গ্রহণ করেছেন। [তাবারী, ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে। [1]

[1] مُؤصَدَة অর্থ হল বন্ধ বা পরিবেষ্টিত। অর্থাৎ, জাহান্নামের সকল দরজা ও পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে; যাতে সেখান হতে কেউ বের হতে না পারে। তাদেরকে লোহার পেরেকের সাথে বেঁধে দেওয়া হবে; যা লম্বা লম্বা স্তম্ভের মত হবে। কোন কোন উলামার মতে, عَمَد অর্থ হলঃ বেড়ি বা লৌহবেষ্টনী এবং কারো মতে এর অর্থ হল স্তম্ভ বা থাম। যাতে বেঁধে জাহান্নামীদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান