৭৬:৭ یُوۡفُوۡنَ بِالنَّذۡرِ وَ یَخَافُوۡنَ یَوۡمًا کَانَ شَرُّہٗ مُسۡتَطِیۡرًا ﴿۷﴾

তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যার অকল্যাণ হবে সুবিস্তৃত। আল-বায়ান

যারা মানত পূরণ করে আর সেই দিনকে ভয় করে যার অনিষ্ট হবে সুদূরপ্রসারী। তাইসিরুল

তারা কর্তব্য পালন করে এবং সেদিনের ভয় করে, যেদিন বিপত্তি হবে ব্যাপক। মুজিবুর রহমান

They [are those who] fulfill [their] vows and fear a Day whose evil will be widespread. Sahih International

৭. তারা মানত পূর্ণ করে(১) এবং সে দিনের ভয় করে, যে দিনের অকল্যাণ হবে ব্যাপক।

(১) এতে বিধৃত হয়েছে যে, সৎকর্মশীল বান্দাগণকে এসব নি'আমত কিসের ভিত্তিতে দেয়া হবে। অর্থাৎ তারা আল্লাহর ওয়াস্তে যে কাজের মানত করে, তা পূর্ণ করে। ‘মানত’ বলা হয় নিজের জন্যে এমন কোন কাজ ওয়াজিব করে নেয়া, যা শরীয়তের তরফ থেকে তার দায়িত্বে ওয়াজিব নয়। এরূপ মানত পূর্ণ করা শরীয়তের আইনে ওয়াজিব। [কুরতুবী] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের কেউ যদি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে সে যেন তা পূর্ণ করে, আর কেউ যদি নাফরমানির মানত করে সে যেন নাফরমানি না করে।” [বুখারী: ৬৭০০]

এখানে মানত পূর্ণ করাকে জান্নাতীদের মহান প্রতিদান ও অফুরন্ত নেয়ামত লাভের কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে কাতাদাহ রাহেমাহুল্লাহ বলেন, এখানে نذر শব্দ দ্বারা ‘কর্তব্য’ বোঝানো হয়েছে। তখন অর্থ হবে, তারাই জান্নাতের অধিকারী হবে যারা নিজেদের কর্তব্য যেমন সালাত, সাওম, হজ, উমরা ইত্যাদি যথাযথভাবে পালন করেছে। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) তারা মানত পূর্ণ করে[1] এবং সেদিনের ভয় করে, যেদিনের বিপত্তি হবে ব্যাপক। [2]

[1] অর্থাৎ, কেবলমাত্র এক আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করে। মানত করলেও কেবল আল্লাহর জন্য করে এবং তা পূরণও করে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মানত পূরণ করাও জরুরী। তবে শর্ত হল, তা যেন কোন পাপ কাজের না হয়। কেননা, হাদীসে এসেছে যে, ‘‘যে ব্যক্তি এই মানত করল যে, সে আল্লাহর আনুগত্য করবে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি মানত করল যে, সে আল্লাহর অবাধ্যতা করবে, সে যেন তাঁর অবাধ্যতা না করে।’’

(বুখারীঃ ঈমান অধ্যায়, নেক কর্মে নযর পূরণ করার পরিচ্ছেদ)

[2] অর্থাৎ, সেই দিনকে ভয় করে হারাম কাজ এবং পাপাচারে পতিত হয় না। ‘যেদিনের বিপত্তি হবে ব্যাপক’ এর অর্থ হল, সেই দিনে আল্লাহর পাকড়াও হতে কেবল সেই বাঁচতে পারবে, যাকে আল্লাহ তাঁর রহমত ও ক্ষমার চাদরে ঢেকে নেবেন। অবশিষ্ট সকলেই বিপত্তির আওতাভুক্ত হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান