১১৭৫

পরিচ্ছেদঃ ৬. স্ত্রীর সহিত মিলিত হইবে না বলিয়া শপথ করিলে তাহার কি হুকুম

রেওয়ায়ত ১৯. মালিক (রহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, মারওয়ান ইবন হাকাম (রহঃ) ফয়সালা দিতেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, তবে চার মাস অতিবাহিত হইলে উহা এক তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। ইদ্দতের ভিতর স্ত্রীর দিকে রুজু করার ইখতিয়ার স্বামীর থাকিবে।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ ইবন শিহাব (যুহরী)-এর অভিমতও অনুরূপ ছিল।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ স্ত্রীর সহিত কোন লোক ঈলা করিলে তাহাকে বাধ্য করা হইবে। চার মাস অতিবাহিত হইলে সে স্ত্রীকে তালাক দিবে। অতঃপর সে রুজু করিবে, তবে সে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত মিলিত না হইলে এবং এইরূপে ইদ্দত খতম হইয়া গেলে সে আর রুজু করিতে পারবে না। হ্যাঁ, যদি তাহার কোন ওযর থাকে, (যেমন) বন্দী থাকা, রোগ বা অনুরূপ অন্য কোন ওযর, তবে (মৌখিকভাবে) তাহার রুজু গ্রহণযোগ্য হইবে। আর যদি ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর সে পুনরায় সেই স্ত্রীকে বিবাহ করে তবে যদি সে স্ত্রীর সহিত মিলিত না হয় এবং সেই অবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয় তবে তাহাকে বাধ্য করা হইবে। সে স্ত্রীর দিকে প্রত্যাবর্তন না করিলে প্রথম ঈলা-র দ্বারা স্ত্রীর উপর তালাক প্রযোজ্য হইবে। চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর আর স্ত্রীর দিকে রুজু করার ক্ষমতাও তাহার থাকিবে না। কারণ সে বিবাহ করিয়াছে এবং সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে তালাক দিয়াছে, এইরূপ অবস্থাতে ইদ্দতও নাই এবং রুজুর অধিকারও থাকিবে না।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করিয়াছে, চার মাসের পর সে ব্যক্তিকে বাধ্য করা হইবে। সে তালাক প্রদান করিবে অতঃপর রুজু করিবে, কিন্তু (রুজু করার পর) স্ত্রীর সহিত সঙ্গম না করিলে এবং (এইভাবে) ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে চারমাস অতিবাহিত হইলে তবে তাহাকে বাধ্য করা হইবে না এবং তালাক প্রযোজ্য হইবে না। আর যদি ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে স্ত্রীর সহিত মিলিত হয় তবে সে সেই স্ত্রীর (দিকে রুজু করার) অধিক হকদার হইবে। আর যদি মিলিত হওয়ার পূর্বে ইদ্দত শেষ হইয়া যায় তবে সেই স্ত্রীকে রাখার কোন ইখতিয়ার তাহার নাই।

মালিক (রহঃ) বলেন, ইহাই উত্তম, যাহা আমি এই বিষয়ে শুনিয়াছি।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি স্ত্রীর সহিত ঈলা করে, অতঃপর স্ত্রীকে তালাক প্রদান করে, তারপর তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে চারমাস অতিবাহিত হয়, মালিক (রহঃ) বলেনঃ তখন যদি সে ঈলার উপর স্থির থাকে এবং প্রত্যাবর্তন না করে তবে ইহা দুই তালাক বলিয়া গণ্য হইবে। আর যদি চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে তালাকের ইদ্দত খতম হইয়া যায়, তবে ঈলা তালাক বলিয়া গণ্য হইবে না। কারণ, যে চারমাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাহাকে বাধ্য করা হইত সেই চারমাস (সময়) অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। এমতাবস্থায় সে আর তাহার স্ত্রী রহিল না।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি একদিন অথবা একমাস স্ত্রীর সহিত বসবাস করিবে না বলিয়া হলফ করিল, অতঃপর চার মাসের অধিক সময় এইভাবে অতিবাহিত হইল, তবে ইহা ঈলা বলিয়া গণ্য হইবে না। কারণ, চার মাসের অধিক সময় স্ত্রীর সহিত সহবাস করিবে না বলিয়া হলফ করাকে ঈলা গণ্য করা হয়। আর যে ব্যক্তি চারমাস অথবা উহা হইতে কম সময়ের জন্য হলফ করে আমি উহাকে ঈলা বলিয়া মনে করি না। কারণ, সে সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, স্বামীকে বাধ্য করার নিয়ম রহিয়াছে তাহা অতিক্রম করার পূর্বে সে তাহার শপথ হইতে বাহির হইয়া আসিবে তখন তাহাকে আর বাধ্য করা যাইবে না।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ বাচ্চার দুধ না ছাড়ান পর্যন্ত স্ত্রীর সহিত সঙ্গম করিবে না বলিয়া হলফ করিলে উহা ‘ঈলা বলিয়া গণ্য হইবে না।

মালিক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আলী ইবন আবী তালীব (রাঃ)-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি ইহা ঈলা নহে বলিয়া মত প্রকাশ করিয়াছেন।

بَاب الْإِيلَاءِ

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ كَانَ يَقْضِي فِي الرَّجُلِ إِذَا آلَى مِنْ امْرَأَتِهِ أَنَّهَا إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ وَلَهُ عَلَيْهَا الرَّجْعَةُ مَا دَامَتْ فِي عِدَّتِهَا قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ كَانَ رَأْيُ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ فَيُطَلِّقُ عِنْدَ انْقِضَاءِ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ ثُمَّ يُرَاجِعُ امْرَأَتَهُ أَنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا فَلَا سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَلَا رَجْعَةَ لَهُ عَلَيْهَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَهُ عُذْرٌ مِنْ مَرَضٍ أَوْ سِجْنٍ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنْ الْعُذْرِ فَإِنَّ ارْتِجَاعَهُ إِيَّاهَا ثَابِتٌ عَلَيْهَا فَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا ثُمَّ تَزَوَّجَهَا بَعْدَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ إِنْ لَمْ يُصِبْهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وُقِفَ أَيْضًا فَإِنْ لَمْ يَفِئْ دَخَلَ عَلَيْهِ الطَّلَاقُ بِالْإِيلَاءِ الْأَوَّلِ إِذَا مَضَتْ الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ عَلَيْهَا رَجْعَةٌ لِأَنَّهُ نَكَحَهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَلَا عِدَّةَ لَهُ عَلَيْهَا وَلَا رَجْعَةَ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ فَيُوقَفُ بَعْدَ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَيُطَلِّقُ ثُمَّ يَرْتَجِعُ وَلَا يَمَسُّهَا فَتَنْقَضِي أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا إِنَّهُ لَا يُوقَفُ وَلَا يَقَعُ عَلَيْهِ طَلَاقٌ وَإِنَّهُ إِنْ أَصَابَهَا قَبْلَ أَنْ تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا كَانَ أَحَقَّ بِهَا وَإِنْ مَضَتْ عِدَّتُهَا قَبْلَ أَنْ يُصِيبَهَا فَلَا سَبِيلَ لَهُ إِلَيْهَا وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُولِي مِنْ امْرَأَتِهِ ثُمَّ يُطَلِّقُهَا فَتَنْقَضِي الْأَرْبَعَةُ الْأَشْهُرِ قَبْلَ انْقِضَاءِ عِدَّةِ الطَّلَاقِ قَالَ هُمَا تَطْلِيقَتَانِ إِنْ هُوَ وُقِفَ وَلَمْ يَفِئْ وَإِنْ مَضَتْ عِدَّةُ الطَّلَاقِ قَبْلَ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَلَيْسَ الْإِيلَاءُ بِطَلَاقٍ وَذَلِكَ أَنَّ الْأَرْبَعَةَ الْأَشْهُرِ الَّتِي كَانَتْ تُوقَفُ بَعْدَهَا مَضَتْ وَلَيْسَتْ لَهُ يَوْمَئِذٍ بِامْرَأَةٍ قَالَ مَالِك وَمَنْ حَلَفَ أَنْ لَا يَطَأَ امْرَأَتَهُ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى يَنْقَضِيَ أَكْثَرُ مِنْ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَلَا يَكُونُ ذَلِكَ إِيلَاءً وَإِنَّمَا يُوقَفُ فِي الْإِيلَاءِ مَنْ حَلَفَ عَلَى أَكْثَرَ مِنْ الْأَرْبَعَةِ الْأَشْهُرِ فَأَمَّا مَنْ حَلَفَ أَنْ لَا يَطَأَ امْرَأَتَهُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ أَوْ أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ فَلَا أَرَى عَلَيْهِ إِيلَاءً لِأَنَّهُ إِذَا دَخَلَ الْأَجَلُ الَّذِي يُوقَفُ عِنْدَهُ خَرَجَ مِنْ يَمِينِهِ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ وَقْفٌ قَالَ مَالِك مَنْ حَلَفَ لِامْرَأَتِهِ أَنْ لَا يَطَأَهَا حَتَّى تَفْطِمَ وَلَدَهَا فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَكُونُ إِيلَاءً وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَلَمْ يَرَهُ إِيلَاءً

وحدثني عن مالك أنه بلغه أن مروان بن الحكم كان يقضي في الرجل إذا آلى من امرأته أنها إذا مضت الأربعة الأشهر فهي تطليقة وله عليها الرجعة ما دامت في عدتها قال مالك وعلى ذلك كان رأي ابن شهاب قال مالك في الرجل يولي من امرأته فيوقف فيطلق عند انقضاء الأربعة الأشهر ثم يراجع امرأته أنه إن لم يصبها حتى تنقضي عدتها فلا سبيل له إليها ولا رجعة له عليها إلا أن يكون له عذر من مرض أو سجن أو ما أشبه ذلك من العذر فإن ارتجاعه إياها ثابت عليها فإن مضت عدتها ثم تزوجها بعد ذلك فإنه إن لم يصبها حتى تنقضي الأربعة الأشهر وقف أيضا فإن لم يفئ دخل عليه الطلاق بالإيلاء الأول إذا مضت الأربعة الأشهر ولم يكن له عليها رجعة لأنه نكحها ثم طلقها قبل أن يمسها فلا عدة له عليها ولا رجعة قال مالك في الرجل يولي من امرأته فيوقف بعد الأربعة الأشهر فيطلق ثم يرتجع ولا يمسها فتنقضي أربعة أشهر قبل أن تنقضي عدتها إنه لا يوقف ولا يقع عليه طلاق وإنه إن أصابها قبل أن تنقضي عدتها كان أحق بها وإن مضت عدتها قبل أن يصيبها فلا سبيل له إليها وهذا أحسن ما سمعت في ذلك قال مالك في الرجل يولي من امرأته ثم يطلقها فتنقضي الأربعة الأشهر قبل انقضاء عدة الطلاق قال هما تطليقتان إن هو وقف ولم يفئ وإن مضت عدة الطلاق قبل الأربعة الأشهر فليس الإيلاء بطلاق وذلك أن الأربعة الأشهر التي كانت توقف بعدها مضت وليست له يومئذ بامرأة قال مالك ومن حلف أن لا يطأ امرأته يوما أو شهرا ثم مكث حتى ينقضي أكثر من الأربعة الأشهر فلا يكون ذلك إيلاء وإنما يوقف في الإيلاء من حلف على أكثر من الأربعة الأشهر فأما من حلف أن لا يطأ امرأته أربعة أشهر أو أدنى من ذلك فلا أرى عليه إيلاء لأنه إذا دخل الأجل الذي يوقف عنده خرج من يمينه ولم يكن عليه وقف قال مالك من حلف لامرأته أن لا يطأها حتى تفطم ولدها فإن ذلك لا يكون إيلاء وقد بلغني أن علي بن أبي طالب سئل عن ذلك فلم يره إيلاء


Yahya related to me from Malik that he had heard that Marwan ibn al-Hakam decided about a man who had made a vow to abstain from intercourse with his wife, that when four months had passed, it was a divorce and he could return to her as long as she was in her idda.

Malik added, "That was also the opinion of Ibn Shihab."

Malik said that if a man made a vow to abstain from intercourse with his wife and at the end of four months he declared his intent to continue to abstain, he was divorced. He could go back to his wife, but if he did not have intercourse with her before the end of her idda, he had no access to her and he could not go back to her unless he had an excuse - illness, imprisonment, or a similar excuse. His return to her maintained her as his wife. If her idda passed and then he married her after that and did not have intercourse with her until four months had passed and he declared his intent to continue to abstain, divorce was applied to him by the first vow. If four months passed, and he had not returned to her, he had no idda against her nor access because he had married her and then divorced her before touching her.

Malik said that a man who made a vow to abstain from intercourse with his wife and continued to abstain after four months and so divorced her, but then returned and did not touch her and four months were completed before her idda was completed, did not have to declare his intent and divorce did not befall him. If he had intercourse with her before the end of her idda, he was entitled to her. If her idda passed before he had intercourse with her, he had no access to her. This is what Malik preferred of what he had heard on the subject.

Malik said that if a man made a vow to abstain from intercourse with his wife and then divorced her, and the four months of the vow were completed before completion of the idda of the divorce, it counted as two pronouncements of divorce. If he declared his intention to continue to abstain and the idda of the divorce finished before the four months the vow of abstention was not a divorce. That was because the four months had passed and she was not his on that day.

Malik said, "If someone makes a vow not to have intercourse with his wife for a day or a month and then waits until more than four months have passed, it is not ila. Ila only applies to someone who vows more than four months. As for the one who vows not to have intercourse with his wife for four months or less than that, I do not think that it is ila because when the term enters into it at which it stops, he comes out of his oath and he does not have to declare his intention."

Malik said, "If someone vows to his wife not to have intercourse with her until her child has been weaned, that is not ila. I have heard that Ali ibn Abi Talib was asked about that and he did not think that it was ila."


হাদিসের মানঃ তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মুয়াত্তা মালিক
২৯. তালাক অধ্যায় (كتاب الطلاق)