৫২৮৬

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৮৬-[৩] ’উবায়দ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সা.) দু’ লোকের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন। তাদের একজন আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে গেল। অতঃপর দ্বিতীয়জন তার এক সপ্তাহ অথবা এর কাছাকাছি সময়ে (আপন বাড়ি ঘরে) মারা গেল। লোকেরা এ ব্যক্তির জানাযাহ্ আদায় করে অবসর হলে নাবী (সা.) প্রশ্ন করলেন: তোমরা (এ মৃত ব্যক্তির জানাযায়) কি দুআ পাঠ করেছ? তারা বলল, আমরা আল্লাহর নিকট এ দু’আ করেছি তিনি যেন তাকে ক্ষমা করে দেন, তার প্রতি দয়া করেন এবং তাকে তার (শহীদ) বন্ধুর সাথে মিলিত করেন। তখন নাবী (সা.) বললেন: এ ব্যক্তির সালাত এবং অন্যান্য ভালো ’আমল কোথায় গেল যা সে তার (শহীদ) ভাইয়ের মৃত্যুর পরে (এক সপ্তাহ জীবিত থাকাকালীন সময়ে) আদায় করেছিল? অথবা তিনি বলেছেন : শহীদ ভাইয়ের সিয়ামের পরে এ ব্যক্তি যে কয়দিন আপন সিয়াম রেখেছিল? বস্তুত (জান্নাতে) তাদের উভয়ের মর্যাদার ব্যবধান আসমান ও জমিনের মধ্যকার দূরত্বের সমপরিমাণ। (আবু দাউদ
ও নাসায়ী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَن عبيد بن خَالِد أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقُتِلَ أَحَدُهُمَا ثُمَّ مَاتَ الْآخَرُ بَعْدَهُ بِجُمُعَةٍ أَوْ نَحْوِهَا فَصَلَّوْا عَلَيْهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا قُلْتُمْ؟» قَالُوا: دَعَوْنَا اللَّهَ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَيَرْحَمَهُ وَيُلْحِقَهُ بِصَاحِبِهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَيْنَ صَلَاتُهُ بَعْدَ صَلَاتِهِ وَعَمَلُهُ بَعْدَ عَمَلِهِ؟» أَوْ قَالَ: «صِيَامُهُ بَعْدَ صِيَامِهِ لِمَا بَيْنَهُمَا أَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ حسن ، رواہ ابوداؤد (2524) و النسائی (4 / 74 ح 1987) ۔ (صَحِيح)

ব্যাখ্যা : (أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ) নাবী (সা.) তার সাহাবীদের থেকে দু'জন সাহাবীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেন। তারা দুনিয়াতে পরস্পর বন্ধুত্বের জীবনযাপন করছিল। কিন্তু তাদের একজন আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধে শহীদ হয়ে গেল। এর কিছু দিন পর (সপ্তাহ, মাস অথবা বছর) দ্বিতীয় বন্ধুও মারা গেল। তার কাফন দাফন শেষে নাবী (সা.) সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন। তার সম্পর্কে তোমরা কি বলছ? তারা বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করুন এবং তার পূর্বের বন্ধুর সাথে পরকালে জান্নাত নসীব করুন।

ইবনু মাজার হাদীসে এসেছে, আবূ ত্বলহাহ্ স্বপ্নে দেখলেন ২য় বন্ধু প্রথম বন্ধুর পূর্বেই জান্নাতে প্রবেশ করেছে। এতে তিনি আশ্চর্য হন এবং অন্যান্য সাহাবীদেরকে বললে তারাও আশ্চর্য হয়। তখন নাবী (সা.) এ খবর শুনে বলেন, তোমরা তার ব্যাপারে আশ্চর্য হচ্ছে: তার অতিরিক্ত, সালাত, সিয়ামরত সাওয়াবগুলো কোথায় যাবে? তাদের দু'জনের মধ্যে আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক দিয়ে পার্থক্য হচ্ছে আসমান ও জমিনের পার্থক্যের ন্যায়। মিরকাত ভাষ্যকার বলেন, “এর কারণ হলো ২য় বন্ধুও আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত ছিল। তাই তিনি শহীদের মর্যাদা হুকুমগতভাবে পেয়ে গেছেন। সেই সাথে আরো অতিরিক্ত সলাত, সিয়াম ও ‘আমালযুক্ত হয়েছে তা না হলে আল্লাহর রাস্তায় শহীদের চেয়ে অধিক সাওয়াবের কাজ আর নেই।”(মিরক্বাতুল মাফাতীহ)