৪৬১৪

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪৬১৪-[৯] আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যামানা নিকটবর্তী হলে মু’মিনের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। আর মু’মিনদের স্বপ্ন নুবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। বস্তুতঃ যে জিনিস নুবুওয়াতের অংশ হয়, তা কখনো মিথ্যা হতে পারে না।

মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ আমি এ কথা বলি যে, স্বপ্ন তিন প্রকার হয়ে থাকে। প্রথমতঃ মনের খেয়াল বা কল্পনা। দ্বিতীয়তঃ শয়তানের পক্ষ হতে ভীতি প্রদর্শন। আর তৃতীয়তঃ আল্লাহর পক্ষ হতে সুসংবাদ প্রদান। অতএব কেউ কোন অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা অন্যের নিকট যেন না বলে এবং তখনই উঠে যেন সালাত আদায় করে।

ইবনু সীরীন (রহিমাহুল্লাহ) আরো বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নে (গলদেশে) শৃঙ্খল পরা অবস্থা দেখাকে অপছন্দ করতেন। অবশ্য (পায়ে) শিকল পরা অবস্থায় দেখাকে পছন্দ করতেন। আর বলা হয় যে, শিকল পরার অর্থ হলো, দীনের উপর অবিচল থাকা। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ يَكَدْ يَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَمَا كَانَ مِنَ النُّبُوَّةِ فَإِنَّهُ لَا يَكْذِبُ» . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ: وَأَنَا أَقُولُ: الرُّؤْيَا ثَلَاثٌ: حَدِيثُ النَّفْسِ وَتَخْوِيفُ الشَّيْطَانِ وَبُشْرَى مِنَ اللَّهِ فَمَنْ رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلَا يَقُصَّهُ عَلَى أَحَدٍ وَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ قَالَ: وَكَانَ يُكْرَهُ الْغُلُّ فِي النَّوْمِ وَيُعْجِبُهُمُ الْقَيْدُ وَيُقَال: الْقَيْد ثبات فِي الدّين

ব্যাখ্যাঃ অত্র হাদীসে ‘‘যামানার নিকটবর্তী’’ হওয়ার দ্বারা হাদীস বিশারদদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) ‘‘মায়ালি মুত্ তানযিল’’-এর মাঝে দু’টি কথা উল্লেখ করেছেন : (ক) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাত-দিনের সমান হওয়া উদ্দেশ্য। এ সময় যেহেতু মানুষের মেজাজ সঠিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ থাকে এবং সময়ের স্বপ্নের মাঝে সংমিশ্রণ হয় না। এ সময়ের স্বপ্ন ন্যায়সঙ্গত হয়। এ জন্য স্বপ্ন মিথ্যা হয় না (খ) যামানা নিকটবর্তী হয়েছে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো : সময় শেষ হওয়া যখন কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নিকটবর্তী হবে।

হাফিয ইবনু হাজার ‘আসকালানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ প্রথম মতের উপর মু’মিনদের সীমাবদ্ধতা হওয়া দূরবর্তী বিষয়। কেননা এ সময়ে মানুষের অভ্যাস সঠিক বা ন্যায় ইনসাফের উপর বিশেষত থাকে তা নির্দিষ্ট না। ইবনু বাত্ত্বল দৃঢ়ভাবে প্রথম মতটি সঠিক বলেছেন। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৭০১৭)

ফায়িক গ্রন্থকার, যামানা নিকটবর্তী হওয়ার তিনটি কথা বলেছেন, (এক) শেষ যামানা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া। দীর্ঘ সময়, কম, খাটো হওয়া। (দুই) রাত ও দিনের মাঝের সময় সমান হওয়া। (তিন) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী সময় নিকটবর্তী হবে এমনকি বছর হবে মাসের ন্যায়। আর মাস হবে এক জুমু‘আহ্ হতে আরেক জুমু‘আহ্ (সপ্তাহের) ন্যায়। আর সপ্তাহ হবে দিনের ন্যায়। দিন ঘণ্টার সমান মনে হবে। তারা বলেছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইমাম মাহদীর সময়ের আবির্ভাব হওয়া।

মিরক্বাতুল মাফাতীহ গ্রন্থকারের মতে : এর উদ্দেশ্য হলো দাজ্জাল এবং ইয়া’জূজ ও মা’জূজ-এর আগমনের সময়।

ইমাম কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) المفهم গ্রন্থে বলেছেন, এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অধিক অবগত রয়েছেন। তবে কিছু সময় বাকী থাকবে ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম  (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করার পর। (ফাতহুল বারী ১২শ খন্ড, হাঃ ৭০১৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ