কি ভুল পেয়েছেন সেটি জানাতে অনুগ্রহ করে নিচের ফর্মটি পুরন করুন
security code
৪০৮০

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

৪০৮০-[১৭] হিশাম ইবনু যায়দ (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলাম, তখন তিনি পশুর আস্তাবলে ছিলেন। আমি তাঁকে দেখলাম, তিনি ছাগল-বকরীগুলোকে দাগ দিচ্ছেন। (হিশাম বলেন,) আমার ধারণা, আনাস বলেছেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ পশুগুলোর কানের মধ্যেই দাগ দিয়েছেন। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

الْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي مِرْبَدٍ فَرَأَيْتُهُ يَسِمُ شَاءً ، حَسِبْتُهُ قَالَ : فِي آذَانِهَا . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

ব্যাখ্যাঃ হাদীসে উল্লেখিত শব্দ (مِرْبَدٍ) সম্পর্কে ইবনু মালিক বলেনঃ এর অর্থ হলো এমন স্থান যেখানে উট, গরু, ছাগল ইত্যাদি আটকে রাখা হয়। ইমাম ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ (مِرْبَدٍ) হলো এমন স্থান যেখানে উট আটকে রাখা হয়। আর তা মেষপালের খোয়াড়ের মতো। অন্যদিকে (شَاءَ) শব্দটি বকরি, খাশি তথা মাদী ছাগল ও নর ছাগল উভয়কেই বুঝায়। তাই হাদীসে উল্লেখিত শব্দ (شَاءَ) দ্বারা বকরী বা খাশি যে কোনটিই উদ্দেশ্য হতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

হাদীসে (في اذانها) শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারায় দাগ দেননি। বরং কানে দাগ দিয়েছেন। আর এর থেকে এটাও বুঝা যায় যে, কান চেহারার অন্তর্ভুক্ত নয়।

এ হাদীসকেই জামহূর ‘উলামা দলীল হিসেবে গ্রহণ করে বলেছেন যে, চতুষ্পদ জন্তুকে দাগ দেয়া বৈধ। কিন্তু আহনাফগণ এ ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া হতে নিষেধ করার হাদীসকে কেন্দ্র করে। তারা বলেন, এ হাদীসটির হুকুম ব্যাপক। অর্থাৎ কোন প্রাণীকেই আগুন দিয়ে শাস্তি বা কষ্ট দেয়া বৈধ না। অতএব পশুকে দাগ দেয়া যাবে না। আবার তাদের কেউ কেউ দাবী করেছেন যে, আগুন দিয়ে পশুকে দাগ দেয়ার হাদীস মানসুখ হয়েছে। কিন্তু জামহূরগণ চতুষ্পদ জন্তুকে দাগ দেয়া বৈধ বলেছেন এ হাদীসকে খাস হিসেবে ধরে নিয়ে। অর্থাৎ কোন কিছুই আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া বা কষ্ট দেয়া বৈধ না। তবে প্রয়োজনে চতুষ্পদ জন্তুকে লোহা বা এ জাতীয় কিছু দ্বারা দাগ দেয়া বৈধ। والله أعلم (আল্লাহই ভালো জানেন)। (ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫৫৪২)

এ দাগ দেয়া প্রসঙ্গে আরেকটি হাদীস গত হয়েছে। তাতে রয়েছে, মানুষকে দাগ দেয়া হারাম। আর মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীকে দাগ দেয়া বৈধ। তবে চেহারায় দাগ দেয়া বৈধ নয়। আর যাকাত এবং ট্যাক্সের পশুতে মুখে ছাড়া অন্য জায়গায় দাগ দেয়া মুস্তাহাব। যদি দাগ দেয়ার প্রয়োজনই হয় তাহলে মেষপাল বা এ জাতীয় প্রাণীর কানে দাগ দেয়া মুস্তাহাব। পক্ষান্তরে প্রয়োজনে উট, গরু এগুলোর রানের মাঝে দাগ দেয়া মুস্তাহাব। কারণ এটা শক্ত জায়গা। তাতে ব্যথা কম হয়। লোম কম থাকে এবং তাতে দাগও ভালোভাবে দেখা যায়। এসব পশুকে দাগ দেয়ার উপকারিতা হলো একটি পশুকে আরেকটি পশু থেকে যাতে পার্থক্য করা যায়। আর মুস্তাহাব হলো ট্যাক্সের পশুর সাথে ট্যাক্স আর যাকাতের পশুর সাথে যাকাত বা সাদাকা লেখা।

ইমাম শাফি‘ঈ (রহিমাহুল্লাহ) ও তার অনুসারীগণ বলেনঃ মুস্তাহাব হলো যেন মেষপালের দাগ দেয়ার যন্ত্রটি গরুকে দাগ দেয়ার যন্ত্রের থেকে হালকা হয়। আর গরুটি যেন উটের থেকে হালকা হয়। ইমাম নাবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ যাকাত ও ট্যাক্সের পশুকে দাগ দেয়া মুস্তাহাব। এটা আমাদের মত এবং সকল সাহাবী ও জামহূর ‘আলিমদের মত। ইবনু সাববাগ ও অন্যান্যরা এ বিষয়টিকে সাহাবীদের ইজমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। (শারহুন নাবাবী ১৪শ খন্ড, হাঃ ১১১)

খত্ত্বাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ হাদীসই দলীল যে, কান চেহারার অন্তর্ভুক্ত না। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য হাদীসে চেহারায় দাগ দিতে ও তাতে প্রহার করতে নিষেধ করেছেন। (‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৫৬০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ হিশাম ইবনু যায়দ (রহঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২০ঃ শিকার ও যাবাহ প্রসঙ্গে (كتاب الصيد والذبائح)