পরিচ্ছেদঃ ১. হালাল স্পষ্ট, হারামও স্পষ্ট
২৫৬৯. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার মর্যাদা ও দীন রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, সে হারামে লিপ্ত হয়ে পড়বে; এর উপমা সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু (বাদশাহ্র) সংরক্ষিত চারণভুমির আশে পাশে (চরায়), অচিরেই সে সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ, প্রত্যেক বাদশাহ্রই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আর আল্লাহ্র সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি মাংসের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সেটি হল কলব।”[1]
بَاب فِي الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْحَلَالُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُتَشَابِهَاتٌ لَا يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ فَمَنْ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِعِرْضِهِ وَدِينِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى فَيُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلَا وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৫২; মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৯৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৪৩, ৯৪৭ তে।
ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর শারহু সহীহ মুসলিম ৪/১১০ বলেন: “এ হাদীসের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপন্ন হওয়া, এর বহু (ফায়িদাহ) উপকারীতার ব্যাপারে আলিমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন। আর ইসলাম যে সকল মুলবিষয়গুলির উপর কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, সে সকল হাদীসের অন্যতম এটি।
আলিমগণের একটি দল বলেন: এটি ইসলামের এক তৃতীয়াংশ, এটি এবং অপর হাদীস: ‘প্রত্যেকটি কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল’ এবং অপর একটি হাদীস: ‘কোনো ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হলো তার অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন করা।’ (এক তিনটি হাদীস) কে কেন্দ্র করেই ইসলাম আবর্তিত হয়।
আবী দাউদ সিজিসতানী বলেন: (ইসলাম) চারটি হাদীসের উপর ভিত্তিশীল। উল্লিখিত তিনটি এবং চতুর্থ হাদীসটি: ‘তোমাদের কেউ মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।’
আবার বলা হয়: (চতুর্থ) হাদীস: “দুনিয়ার বিষয়ে নিরাসক্ত হও, তবে আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন। আর মানুষের হাতে যা রয়েছে তা থেকে নিরাসক্ত হও, তবে মানুষ তোমাকে ভালবাসবে।’
আলিমগণ বলেন: এর শ্রেষ্ঠ অবস্থানের কারণ এতে তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খবর দিয়েছেন খাবার গ্রহণকারী, পানকারী, পোশাক পরিধানকারী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সংশোধনীর সম্পর্কে। তার উচিত সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করা। কেননা, এটিই তার দীন ও দুনিয়াবী বিষয়ের সুরক্ষার মাধ্যম।...” বাকী আলোচনা দেখুন, ফাতুহল বারী ১/১২৬ ও এর পরবর্তীতে এবং জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম পৃ: ৬৩-৭২।
পরিচ্ছেদঃ ২. যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না, তার প্রতি যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে দেয় তা ছেড়ে দাও
২৫৭০. আবীল হাওরা আস সা’দী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী হাসানইবনুলআমি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন বিষয়টি স্মরণ রেখেছেন? তিনি বললেন, একটি লোক তাঁকে একটি বিষয়ে প্রশ্ন করলো। বিষয়টি কী ছিলো, তা আমি জানি না। তখন তিনি বললেন: “যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে দেয় তা ছেড়ে দাও, যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না, তার প্রতি (ধাবিত হও)।”[1]
باب دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ السَّعْدِيِّ قَالَ قُلْتُ لِلْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ مَا تَحْفَظُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ مَسْأَلَةٍ لَا أَدْرِي مَا هِيَ فَقَالَ دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৬২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৫১২ তে। এটি গত হয়েছে ১৬৩২, ১৬৩৩, ১৬৩৪ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ২. যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে না, তার প্রতি যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে দেয় তা ছেড়ে দাও
২৫৭১. ওয়াবিসা ইবনু মা’বাদ আল আসাদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াবিসাকে বলেন, “তুমি আমাকে পাপ ও পুণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছ?” তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, তখন তিনি তাঁর আঙ্গুলগুলি মুষ্টিবদ্ধ করে তা দ্বারা তার বুকে আঘাত করে বললেন: “হে ওয়াবিসা! তুমি তোমার নাফসকে জিজ্ঞেস কর, তোমার অন্তরকে জিজ্ঞেস কর।”- একথা তিনি তিনবার বললেন। “তোমার নাফস বা মন যে বিষয়ে প্রশান্তি বা নিশ্চিন্ততা লাভ করে, তোমার অন্তর যে বিষয়ের প্রতি প্রশান্ত- নিশ্চিন্ত হয়-তা-ই হলো পূণ্য। আর তোমার মন যে বিষয়ে চিন্তিত হয়, তোমার অন্তরে যা ইতস্ততবোধ বা দ্বিধা সঞ্চার করে-তা-ই হলো পাপ। লোকেরা যদি তোমাকে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তুমি তা গ্রহণ করবে।”[1]
باب دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَرِيبُكَ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ الزُّبَيْرِ أَبِي عَبْدِ السَّلَامِ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مِكْرَزٍ الْفِهْرِيِّ عَنْ وَابِصَةَ بْنِ مَعْبَدٍ الْأَسَدِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِوَابِصَةَ جِئْتَ تَسْأَلُ عَنْ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَجَمَعَ أَصَابِعَهُ فَضَرَبَ بِهَا صَدْرَهُ وَقَالَ اسْتَفْتِ نَفْسَكَ اسْتَفْتِ قَلْبَكَ يَا وَابِصَةُ ثَلَاثًا الْبِرُّ مَا اطْمَأَنَّتْ إِلَيْهِ النَّفْسُ وَاطْمَأَنَّ إِلَيْهِ الْقَلْبُ وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي النَّفْسِ وَتَرَدَّدَ فِي الصَّدْرِ وَإِنْ أَفْتَاكَ النَّاسُ وَأَفْتَوْكَ
আমি এটি তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৮২৪, ৮২৫ তে, এবং এখানে সেই ভূল সংশোধন করেছি যা মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৮৬ তে আমাদের উপর আপতিত হয়েছিল। সেই মহান সত্তারই সকল প্রশংসা যিনি বিভ্রান্ত হন না, ভূলেও যান না।
এর শাহিদের মধ্যে রয়েছে নাওয়াস বিন সাম’আন হতে মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৫৩।
পরিচ্ছেদঃ ৩. জাহিলিয়্যাতের সময় যে সুদ (পাওনা) ছিল সে সম্পর্কে
২৫৭২. আবী হুররা আর রাক্কাশী তার চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, (বিদায় হাজ্জে) ’আইয়্যামুত তাশরীক্ব’ এর মাঝামাঝি সময়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উটের লাগাম ধরে তাঁর নিকট হতে লোকদেরকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। তখন তিনি বলেন: “জেনে রাখ, জাহিলিয়া যুগের সকল সুদ বাতিল ঘোষিত হ’ল। জেনে রাখ, আল্লাহ তা’আলা ফায়সালা করেছেন যে, সর্বপ্রথম যে সূদ বাতিল করা হবে, তা হবে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিবের সূদ। আর তোমাদের মুলধন তোমাদেরই থাকবে, তোমরাও যুলুম করবে না, আর তোমাদের প্রতিও যুলুম করা হবে না।”[1]
باب فِي الرِّبَا الَّذِي كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي حُرَّةَ الرَّقَاشِيِّ عَنْ عَمِّهِ قَالَ كُنْتُ آخِذًا بِزِمَامِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَوْسَطِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ أَذُودُ النَّاسَ عَنْهُ فَقَالَ أَلَا إِنَّ كُلَّ رِبًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ أَلَا وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ قَضَى أَنَّ أَوَّلَ رِبًا يُوضَعُ رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৬৯২, ৬৬৬০ এবং মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৬৯ তে।
এর শাহিদ রয়েছে আমর ইবনুল আহওয়াস হতে ১৫/২৬ নং ১৯০০৯; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০৫৫; আবী দাউদ, বুয়ূ ৩২৩৪; তিরমিযী, তাফসীর ৩০৮৭ তে জাইয়্যেদ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. সুদ দাতা ও গ্রহীতা সম্পর্কে
২৫৭৩. আব্দুল্লাহ (ইবন মাসঊদ) রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর ও সুদ দাতা উভয়কে লা’নত করেছেন।[1]
باب فِي آكِلِ الرِّبَا وَمُؤْكِلِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي قَيْسٍ عَنْ هُزَيْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৯৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৮১, ৫১৪৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. সুদ খাওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী
২৫৭৪. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই এমন এক যুগ আসবে, যখন মানুষ পরোয়া করবে না যে, সে কোথা হতে সম্পদ উপার্জন করল, হালাল উপায়ে, না হারাম উপায়ে।”[1]
باب فِي التَّشْدِيدِ فِي أَكْلِ الرِّبَا
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيَأْتِيَنَّ زَمَانٌ لَا يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ بِحَلَالٍ أَمْ بِحَرَامٍ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৫৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৭২৬ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, বুয়ূ ৫/২৬৪, দালাইলুন নুবুওয়াত ৬/৫৩৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৮/১৭ নং ২০৩২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১২/৩২৭।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কোনো ব্যক্তির নিজের হাতে উপার্জন ও কর্ম করা (এর ফযীলত) সম্পর্কে
২৫৭৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মানুষের জন্য উত্তম খাবার হলো তার নিজের হাতের উপার্জন এবং তার সন্তান তার উত্তম উপার্জনের অন্যতম।” [1]
باب فِي الْكَسْبِ وَعَمَلِ الرَّجُلِ بِيَدِهِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَمَّتِهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَحَقَّ مَا يَأْكُلُ الرَّجُلُ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِهِ وَإِنَّ وَلَدَهُ مِنْ أَطْيَبِ كَسْبِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৫৯, ৪২৬০, ৪২৬০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৯১, ১০৯২, ১০৯৩ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫২৮; নাসাঈ, বুয়ূ বাব (১); ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৩৭, ২২৯০; আহমাদ ৬/৩১-৪২-১২৭-১৯৩-২২০।– ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্ব দারেমী হা/২৫৩৭ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭. ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে
২৫৭৬. রিফাআ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’বাক্বী’-এর দিকে গেলেন। অত:পর তিনি বললেন, “হে ব্যবসায়ীগণ!” তারা সকলেই রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি তাদের ঘাড় ও চোখ তুলে তাকাল। তিনি বললেন, “ব্যবসায়ীদের কিয়ামতের দিন ফাজির-পাপীরূপে উত্থিত করা হবে। তবে সে ব্যতীত, যে আল্লাহকে ভয় করেছে, নেক আমল করেছে এবং সত্য অবলম্বন করেছে।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবী নুয়াইম (তার বর্ণনায়) উবাইদুল্লাহ ইবনু রিফা’আহ’র নাম বলতেন, কিন্তু আসলে তিনি হলেন ইসমাঈল ইবনু উবাইদ ইবনু রিফাআহ।
باب فِي التُّجَّارِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ ابْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْبَقِيعِ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ حَتَّى إِذَا اشْرَأَبُّوا قَالَ التُّجَّارُ يُحْشَرُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلَّا مَنْ اتَّقَى وَبَرَّ وَصَدَقَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد كَانَ أَبُو نُعَيْمٍ يَقُولُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ رِفَاعَةَ وَإِنَّمَا هُوَ إِسْمَعِيلُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯১০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৯৫ তে। ((তিরমিযী, বুয়ূ ১২১০; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৪৬; আহমাদ ৩/৪২৮-৪৪৪; হাকিম ২/৬।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্ব দারেমী হা/২৫৩৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ৫/৪৪ নং ৪৫৩৯, ৪৫৪০, ৪৫৪১, ৪৫৪৩, ৫৪৪২; তাবারী, তাহযীবুল আসার, মুসনাদে আলী নং ৯২, ৯৩, ৯৪, ৯৫; আব্দুর রাযযাক নং ২০৯৯৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৪৮৪৯।
ইবনু আব্বাস হতে তাবারাণী, কাবীর ১২/৬৮ নং ১২৪৯৯; তাবারী, তাহযীবুল আসার, মুসনাদে আলী নং ৯৬; ইবনু হিব্বান, আল মাজরুহীন ২/২২৪-২২৫ যয়ীফ সনদে।
এর শাহিদ রয়েছে মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৩৮৩ ও এর পরেরগুলিতে; শুয়াবুল ঈমান নং ৪৮৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. ন্যায়পরায়ণ ব্যবসায়ী সম্পর্কে
২৫৭৭. আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে।”[1]আমার জানা নাই যে, হাসান আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শুনেছেন কি-না। তিনি আরও বলেন, এ আবী হামযাহ হলেন ইবরাহীমের সঙ্গী, আর তিনি ছিলেন সৌভাগ্যবান ও অন্ধ ব্যক্তি।
باب فِي التَّاجِرِ الصَّدُوقِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الْأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ قَالَ عَبْد اللَّهِ لَا عِلْمَ لِي بِهِ إِنَّ الْحَسَنَ سَمِعَ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ وَقَالَ أَبُو حَمْزَةَ هَذَا هُوَ صَاحِبُ إِبْرَاهِيمَ وَهُوَ مَيْمُونٌ الْأَعْوَرُ
তাখরীজ: তিরমিযী, বুয়ূ ১২০৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২০২৫।
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৩৯; তাবারাণী, আওসাত ৭৩৯০; দারুকুতনী ৩/৭; হাকিম ২/৬। ইবনু আবী হাতিম তার ইলালুল হাদীস নং ১১৫৬ তে বলেন: আমি আমার পিতাকে কাছীর বিন হিশাম, কুলছুম বিন জাওশান... সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আামার পিতা বলেন: এ হাদীস ভিত্তিহীন, কুলছুম হাদীস বর্ণনায় দুর্বল।
আমরা বলছি: বরং এর ভিত্তি রয়েছে। আগের হাদীসটি দেখুন। আর কুলছুম বিন জাওশান সম্পর্কে: আবু হাতিম বলেন: ‘হাদীস বর্ণনায় দুর্বল’। আবূ দাউদ বলেন: ‘মুনকারুল হাদীস’ (হাদীস বর্ণনায় অস্বীকৃত)।
ইবনু হিব্বান তার মাজরুহীন ২/২৩০ বলেন: এ হলো সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত যিনি বিশ্বস্ত রাবী সূত্রে ত্রুটিপূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন এবং বিশ্বস্ত রাবী সূত্রে মিথ্যা হাদীস বর্ণনা করেন।
আর বুখারী তাকে ছিকাহ’ বা বিশ্বস্ত বলেছেন। ইবনু মাঈন বলেন, তার ব্যাপারে কোনো দোষ নেই’, ইবনু হিব্বান তাকে ‘আস সিকাত’ ৭/৩৫৬ তে উল্লেখ করেছেন। ইবনু শাহীন, তারীখ আসমাউস সিকাত নং ১১৮৩ তে বলেন, তাতে কোনো দোষ নেই’। ফলে তিনি হাদীস বর্ণনায় ‘হাসান’ বলে গণ্য হবে, আল্লাহই ভাল জানেন। দেখুন, হাশিয়া ইহইয়াউ উলুমুদ্দীন ২/৬১; মিসবাহুয যুজাজাহ ২/১৫৭-১৫৮।
পরিচ্ছেদঃ ৯. নাসীহত বা কল্যাণ কামনা সম্পর্কে
২৫৭৮. জারীর ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে বায়’আতগ্রহণ করেছি সালাত কায়েম করার, যাকাত দেওয়ার এবং সকল মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার।”[1]
باب فِي النَّصِيحَةِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৫৭; মুসলিম, ঈমান ৫৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫০৩, ৭৫০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৪৫, ৪৫৪৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. ধোঁকা দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা
২৫৭৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার বাজারের স্তূপীকৃত খাদ্যশস্যের পাশ দিয়া যাচ্ছিলেন। ফলে খাদ্য শস্যের চাকচিক্য তাঁর চিত্তাকর্ষণ করল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্তূপের মধ্যে তার হাত ঢুকালেন । এরপর তিনি (তাঁর হাত) দিয়ে এমন কিছু খাদ্যশস্য বের করে আনলেন, যেগুলি (স্তুপের) উপরের অংশে ছিল না। তখন তিনি খাদ্যশস্যের মালিকের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন, অত:পর বললেনঃ “মুসলিমদের মাঝে কোনো ধোকা দেওয়া বা প্রতারণা করা যাবে না। যে ব্যক্তি আমাদেরকে ধোকা দেয় সে আমাদের দলভূক্ত নয়।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الْغِشِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ يَحْيَى بْنُ الْمُتَوَكِّلِ قَالَ أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِطَعَامٍ بِسُوقِ الْمَدِينَةِ فَأَعْجَبَهُ حُسْنُهُ فَأَدْخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ فِي جَوْفِهِ فَأَخْرَجَ شَيْئًا لَيْسَ كَالظَّاهِرِ فَأَفَّفَ بِصَاحِبِ الطَّعَامِ ثُمَّ قَالَ لَا غِشَّ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ مَنْ غَشَّنَا فَلَيْسَ مِنَّا
তাখরীজ: কুদায়ী, মুসনাদুশ শিহাব, নং ৩৫১; মুসলিম, ঈমান ৫৬।
আমরা এটি তাখরীজ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৪২৩ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে সহীহ মুসলিম, ঈমান ১০২ তে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৬৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১. প্রতারণা বা বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে
২৫৮০. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক ওয়াদা ভঙ্গকারীর (বিশ্বাসঘাতকের) জন্য কিয়ামতের দিন একটি করে পতাকা হবে এবং বলা হবে: এ হলো অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা (-এর পতাকা)।[1]
باب فِي الْغَدْرِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ هَذِهِ غَدْرَةُ فُلَانٍ
তাখরীজ: বুখারী, জিযইয়া ৩১৮৬; মুসলিম, জিহাদ ওয়াস সিয়ার ১৭৩৬; আহমাদ১/৪১১, ৪১৭, ৪৪১; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৪২।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১০১,১২১৩, ১২৪৫ তে। আবার, এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে (বুখারী, ৩১৮৬, ৩১৮৭), আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৮২, ৩৫২০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. গুদামজাত বা মজুতদারী করার নিষেধাজ্ঞা
২৫৮১. মামার ইবন আবদুল্লাহ ইবনু নাফিঈ’ আল আদাবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “অপরাধী লোক ব্যতীত কেউ গুদামজাত (মজুতদারী) করে না”- দু’বার (তিনি একথা বলেন)।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الِاحْتِكَارِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعِ بْنِ نَضْلَةَ الْعَدَوِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ مَرَّتَيْنِ
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাত ১৬০৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৩৬ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু সা’দ, তাবাকাত ৪/১/১০৩; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১০৬৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪৪৭; আব্দুর রাযযাক নং ১৪৮৮৯।
পরিচ্ছেদঃ ১২. গুদামজাত বা মজুতদারী করার নিষেধাজ্ঞা
২৫৮২. উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “পণ্য আমদানীকারক ব্যবসায়ী রিযিক প্রাপ্ত এবং মজুতদার অভিশপ্ত।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الِاحْتِكَارِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ سَالِمٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْجَالِبُ مَرْزُوقٌ وَالْمُحْتَكِرُ مَلْعُونٌ
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, তিজারাহ ২১৫৩; বাইহাকী, বুয়ূ ৬/৩০; আব্দ ইবনু হুমাইদ নং ৩৩; উকাইলী, আয যু’আফা ৩/৩৩২; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৮৪৭; হাকিম ২/১১।
সাখাবী মাকসিদুল হাসানাহ নং ৩৬১ তে এটিকে ইবনু মাজাহ, হাকিম, ইসহাক, দারেমী, আব্দ ইবনু হুমাইদ, আবী ইয়া’লা ও উকাইলীর প্রতি সম্বোন্ধিত করেছেন এবং বলেছেন: ‘এর সনদ যয়ীফ’। আরও দেখুন, কাশফুল খফা’ নং ১০৫৮; আশ শাজারাহ নং ৩২০; আসনাল মাতালিব নং ৫৩৭; তালখীসুল হাবীর ৩/১৩; নাসবুর রায়াহ ৪/২৬১।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. মুসলিমদের মধ্যে দ্রব্যমূল্য বেঁধে দেওয়া নিষেধ
২৫৮৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একবার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলো। লোকজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। অতএব আপনি আমাদের জন্য মূল্য বেঁধে দিন। তিনি বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহই হলেন স্রষ্টা (অপর বর্ণনায়: মূল্য নিয়ন্ত্রণকারী), সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী এবং রিযিক দানকারী। আমি আমার রবের সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে চাই যে, যেন আমার বিরুদ্ধে রক্তের ও সম্পদের কোনরূপ অভিযোগ তোমাদের কারো না থাকে।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ أَنْ يُسَعَّرَ فِي الْمُسْلِمِينَ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حُمَيْدٍ وَثَابِتٍ وَقَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ غَلَا السِّعْرُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ غَلَا السِّعْرُ فَسَعِّرْ لَنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْخَالِقُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّازِقُ الْمُسَعِّرُ وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ أَلْقَى رَبِّي وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ يَطْلُبُنِي بِمَظْلَمَةٍ ظَلَمْتُهَا إِيَّاهُ بِدَمٍ وَلَا مَالٍ
তাখরীজ: আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৭৪, ২৮৬১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৩৫ তে। ((তিরমিযী, বুয়ূ ১৩১৪, আবূ দাউদ, তিজারাহ ৩৪৫১, আহমাদ ১২১৮১, ১৩৬৪৩, ইবনু মাজাহ্, তিজারাহ ২২০০। -ফাওয়ায আহমেদের দারিমী’র হা/২৫৩৫ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৪. মহানুভবতা বা উদারতা প্রদর্শন করা প্রসঙ্গে
২৬৮৪. হুযাইফাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির রূহের সাথে ফেরেশতা সাক্ষাৎ করে (রূহ কবয করার সময়) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি কোন নেক কাজ করেছ? লোকটি উত্তর দিল, না। তারা বললো, তুমি ভালভাবে মনে করে দেখ। তখন সে বললো, আমি লোকদেরকে (অর্থকড়ি) ধার দিতাম, আর আমি আমার কর্মচারীদের আদেশ করতাম যে, তারা যেন দরিদ্র-অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং এবং সচ্ছল ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করে দেয়।” তিনি বলেন, “আল্লাহ বললেন, তোমরাও তাঁকে ক্ষমা করে দাও।”[1]
باب فِي السَّمَاحَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ أَنَّ حُذَيْفَةَ حَدَّثَهُمْ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلَقَّتْ الْمَلَائِكَةُ رُوحَ رَجُلٍ مِمَّنْ قَبْلَكُمْ فَقَالُوا عَمِلْتَ مِنْ الْخَيْرِ شَيْئًا فَقَالَ لَا قَالُوا تَذَكَّرْ قَالَ كُنْتُ أُدَايِنُ النَّاسَ فَآمُرُ فِتْيَانِي أَنْ يُنْظِرُوا الْمُعْسِرَ وَيَتَجَاوَزُوا عَنْ الْمُوسِرِ قَالَ قَالَ اللَّهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৭৭, ইসতিক্বরায ২৩৯১, আহাদীসুল আম্বিয়া ৩৪৫১; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৬০,; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/৩৫৬; আহমাদ ৫/৩৯৫; ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪২০; তাবারাণী, কাবীর ১৭/২৩১, ২৩২, নং ৬৪২, ৬৪৩, ৬৪৪।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিত ভাবে বর্ণনা করেছেন। আর আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৪২, ৫০৪৩, ৫০৪৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করার) ইখতিয়ার থাকবে
২৫৮৫. হাকীম ইবনু হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ইখতিয়ার থাকবে (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করা)। যদি তারা সত্য বলে এবং অবস্থা ব্যক্ত করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে আর যদি মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত দূর করে দেয়া হয়।”[1]
باب فِي الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَذَبَا وَكَتَمَا مُحِقَ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৯৭; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯০৪ তে। সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১০৯৬৫।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের (ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা বা বাতিল করার) ইখতিয়ার থাকবে
২৫৮৬. কাতাদাহ হতে তার সনদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
باب فِي الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে মতবিরোধ দেখা দিলে
২৫৮৭. ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে মতবিরোধ হয় এবং বিক্রয়ের মাল তাদের সামনে বিদ্যমান থাকে, আর তাদের মাঝে কোনো সাক্ষী না থাকে, তবে বিক্রেতার কথাই গ্রহণীয় হবে, নতুবা তারা উভয়ে এ লেন-দেন প্রত্যাহার করবে।”[1]
باب إِذَا اخْتَلَفَ الْمُتَبَايِعَانِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْبَيِّعَانِ إِذَا اخْتَلَفَا وَالْبَيْعُ قَائِمٌ بِعَيْنِهِ وَلَيْسَ بَيْنَهُمَا بَيِّنَةٌ فَالْقَوْلُ مَا قَالَ الْبَائِعُ أَوْ يَتَرَادَّانِ الْبَيْعَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৮৪, ৫৪০৫ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫১১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭০; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/৩০২-৩০৩। ফাওয়ায আহমেদের দারিমী’র হা/২৫৪৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৭. কোনো মুসলিম ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করা
২৫৮৮. উকবাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় করা হালাল নয়, যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে।[1]
باب لَا يَبِيعُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِمَاسَةَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَبِيعَ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ حَتَّى يَتْرُكَهُ
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪১৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৬২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. (ক্রয়-বিক্রয়ে) ইখতিয়ার ও মেয়াদ থাকা সম্পর্কে
২৫৮৯. উকবা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গোলাম (ক্রয় করার পর ফেরত দেওয়ার) মেয়াদ হলো তিন দিন।”[1]
باب فِي الْخِيَارِ وَالْعُهْدَةِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ عُهْدَةُ الرَّقِيقِ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ
তাখরীজ: আমরা এটি সম্পর্কে আমাদের পূর্ণ বক্তব্য পেশ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৬০৪ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫০৬-৩৫০৭; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৪৪-২২৪৫; আহমাদ ৪/১৫২; হাকিম ২/২১ (‘চারদিন’ শব্দে); বাইহাকী।--ফাওয়ায আহমেদের দারিমী’র হা/২৫৫১ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৮. (ক্রয়-বিক্রয়ে) ইখতিয়ার ও মেয়াদ থাকা সম্পর্কে
২৫৯০. (অপর সনদে) উকবা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “গোলাম (ক্রয় করার পর ফেরত দেওয়ার) মেয়াদ হলো তিন দিন।” কাতাদা এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, যদি তিন দিনের মধ্যে দাস বা দাসীর মধ্যে কোন দোষ-ক্রটি দেখা যায়, তবে ক্রেতা কোন সাক্ষী পেশ করা ব্যতীত তা মালিকের নিকট ফেরত দিতে পারবে। আর যদি তিন দিনের পর কোন দোষ-ক্রটি প্রকাশ পায়, তখন এর জন্য (তথা এর মধ্যে যে এ দোষত্রুটি ক্রয় করার সময় বিদ্যমান ছিল, তার) সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত একে ফেরত দিতে পারবে না।[1]
باب فِي الْخِيَارِ وَالْعُهْدَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُهْدَةُ الرَّقِيقِ ثَلَاثٌ فَفَسَّرَهُ قَتَادَةُ إِنْ وَجَدَ فِي الثَّلَاثِ عَيْبًا رَدَّهُ بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ وَإِنْ وَجَدَهُ بَعْدَ ثَلَاثٍ لَمْ يَرُدَّهُ إِلَّا بِبَيِّنَةٍ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. (পালানে দুধ) জমা করে রাখা সম্পর্কে
২৫৯১. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যদি কোন ব্যক্তি ওলানে দুধ আটকে রাখা কোন বকরী অথবা, উষ্ট্রী ক্রয় করে, তবে তিনদিন পর্যন্ত তার ইখতিয়ার থাকবে। এরপর সে ব্যক্তি তা ফেরত দিতে চাইলে এক সা’আ পরিমাণ খাদ্য-শস্যসহ তা ফিরিয়ে দিতে পারবে, তবে গম দেবে না।”[1]
باب فِي الْمُحَفَّلَاتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ هُوَ ابْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اشْتَرَى شَاةً مُصَرَّاةً أَوْ لَقْحَةً مُصَرَّاةً فَهُوَ بِالْخِيَارِ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ رَدَّهَا رَدَّ مَعَهَا صَاعًا مِنْ طَعَامٍ لَا سَمْرَاءَ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৫০; মুসলিম, বুয়ূ ১৫২৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৪৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৭০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৫৮, ১০৫৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. ধোঁকা বা প্রতারণাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
২৫৯২. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামধোঁকা বা প্রতারণাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى الْقَطَّانُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ
তাখরীজ: মুসলিম, বুয়ূ ১৫১৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৫১ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১০৯৫২।
পরিচ্ছেদঃ ২১. (ব্যবহারের) উপযোগিতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত ফল ক্রয়-বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
২৫৯৩. আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, (ব্যবহারের) উপযোগিতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত ফল বিক্রয় করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। তিনি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلَاحُهَا نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ
তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ১০; বুখারী, বুয়ূ ২১৯৪; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪১৫, ৫৪৭৬, ৫৬১১, ৫৭৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৮১, ৪৯৮৯, ৪৯৯১ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১১১৫৮।
পরিচ্ছেদঃ ২২. দুর্যোগ বা বিপর্যয় (এর কবলে পড়ে ফল নষ্ট হয়ে যাওয়া) সম্পর্কে
২৫৯৪. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “কোন ব্যক্তি ফলের বাগান বিক্রয় করার পর তার উপর দুর্যোগ আপতিত (হয়ে তা বিনষ্ট) হলে, সে যেন তার ভাই (ক্রেতা) থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। কিরূপে তুমি অন্যায়ভাবে তোমার মুসলিম ভাইয়ের মাল গ্রহণ করবে?”[1]
باب فِي الْجَائِحَةِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ابْتَاعَ ثَمَرَةً فَأَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْهُ شَيْئًا بِمَ تَأْخُذُ مَالَ أَخِيكَ بِغَيْرِ حَقٍّ
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৫৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৩৪, ৫০৩৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. মুহাকালা ও মুযাবানা সম্পর্কে
২৫৯৫. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’মুহাকালা’ ও ’মুযাবানা’[1] থেকে বারণ করেছেন।[2] আব্দুল্লাহ বলেন, মুহাকালাহ হলো (আহরিত শুকনো) গমের বিনিময়ে ক্ষেতের শস্য ক্রয়-বিক্রয় করা। আর তারা বলেন, ইবনুল মুসাইয়্যিবও তা-ই বলতেন।
باب فِي الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْمُحَاقَلَةُ بَيْعُ الزَّرْعِ بِالْبُرِّ وَقَالُوا كَذَلِكَ يَقُولُ ابْنُ الْمُسَيَّبِ
আর মুসলিমে রয়েছে: ‘জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: ‘মুযানাহ’: ফলের বিনিময়ে খেজুর। এবং ‘হুকুল’: চাষের জমির ভাড়া (বর্গা দেওয়া)।’
আর সাহাবীই এ হাদীসের উদ্দেশ্য অধিক অবগত। আল্লাহই ভাল জানেন। দেখুন, বাইহাকীর মা’রিফাহ ৮/৯৩-৯৭।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৮৬; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৯১, ১২৬৯, ১৩১৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. আরইয়া পদ্ধতি (তে বেচাকেনা) সম্পর্কে
২৫৯৬. আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যায়েদ ইবনে সাবিতের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেনাবেচার ’আরিয়া’ পদ্ধতির অধীনে শুকনো খেজুরের সাথে তাজা খেজুরের বিনিময় করার অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু অন্য কিছুর ক্ষেত্রে এই অনুমতি দেননি।[1]
باب فِي الْعَرَايَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِالتَّمْرِ وَالرُّطَبِ وَلَمْ يُرَخِّصْ فِي غَيْرِ ذَلِكَ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৮৮; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০০১, ৫০০৪, ৫০০৫, ৫০০৯ তে। আরও দেখুন, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১১২৬৪, ১১২৬৫, ১১২৬৬।
আরিইয়া: ইবনুল আসীর তার নিহায়াহ ৩/২২৪ এ বলেন: যে জন্য মুযানাবাহ থেকে তিনি নিষেধ করলেন- তা হলো গাছের মাথায় থাকা তাজা খেজুর শুকনো খেজুরের বিনিময়ে বিক্রি করা- আর মুযানাবা’র মধ্যে আরিয়া পদ্ধতিকে তিনি অনুমতি দিলেন। আর তা হলো- যার খেজুর গাছ নেই, খেজুরের প্রয়োজন রয়েছে; আবার পরিবার পরিজনের জন্য শুকনো খেুজর কেনার মতো কোনো মুদ্রা বা অর্থও তার হাতে নেই; আবার তার এমন কোনো খেজুর বাগান নেই যা থেকে তাদের খেতে দিতে পারে; তবে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত শুকনো খেজুর রয়েছে। এমতাবস্থায় সে খেজুরের বাগানের মালিকের নিকট এসে বললো: আনুমানিক এত পরিমাণ শুকনো খেজুরের বিনিময়ে আমার নিকট তোমার একটি কিংবা দু’টি খেজুর গাছ বিক্রি করো। তখন তার অতিরিক্ত খেজুর এ দুটি খেজুর গাছের বদলে প্রদান করা যাতে লোকদের সাথে সেও তাজা খেজুর পেতে পারে। এ পদ্ধতির অনুমতি দেয়া হয়েছে যদি তার পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাক এর বেশি না হয়।”
(( ‘তা হল তাজা ফল অনুমানে বিক্রি করা, যাতে (ক্রেতা) তাজা খেজুর খাওয়ার সুযোগ লাভ করতে পারে। রাবী সুফইয়ান (রহ.) আর একবার এভাবে বর্ণনা করেছেন, অবশ্য তিনি [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আরিয়্যা এর ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন যে, ফলের মালিক অনুমানে তাজা খেজুর বিক্রয় করে, যাতে তারা (ক্রেতাগণ) তাজা খেজুর খেতে পারে।’- বুখারী, হা/২১৯১ হতে।
ইমাম) মালিক (রহ.) বলেন, আরায়্যা এর অর্থ- কোন একজন কর্তৃক কাউকে খেজুর গাছ (তার ফল খাওয়ার জন্য) দান করা। পরে ঐ ব্যক্তির বাগানে প্রবেশের কারণে সে বিরক্তি বোধ করে, ফলে তাকে অনুমতি দেয়া হয় যে, সে শুকনো ফলের বিনিময়ে গাছগুলো (এর ফল) ঐ ব্যক্তির নিকট হতে ক্রয় করে নিবে। মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস [ইমাম শাফিঈ (রহ.)] বলেন, শুকনো খেজুর এর বিক্রি নগদ নগদ এবং মাপের মাধ্যমে হবে, অনুমান করে হবে না। (ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ইমাম শাফিঈ (রহ.) এর মতের সমর্থন পাওয়া যায় সাহাল ইবনু আবূ হাসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর এ কথা থেকে ‘‘সুনির্দিষ্ট মাপের মাধ্যমে’’। নাফি‘ (রহ.)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, মালিক কর্তৃক তার বাগান হতে একটি বা দুটি খেজুর গাছ দান করাকে আরাইয়া বলা হয়। সুফিয়ান ইবনু হুসাইন (রহ.) ইয়াযীদ (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আরাইয়া হলো কিছু সংখ্যক খেজুর গাছ গরীব মিসকীনদের দান করা হত, কিন্তু তারা খেজুর পাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারত না বিধায় তাদের অনুমতি দেয়া হতো যে, তারা যে পরিমাণ খেজুরের ইচ্ছা, তা বিক্রি করে দিবে।
মূসা ইবনু ‘উকবা (রহ.) বলেন, আরাইয়া বলা হয়, বাগানে এসে কতগুলো নির্দিষ্ট গাছের খেজুর (শুকনা খেজুরের বদলে) ক্রয় করে নেয়া।– বুখারী, বাব: আরিয়্যা’র ব্যাখ্যা’সহ হা/২১৯২।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৫. খাদ্যবস্তু ক্রয় করে তা পুরোপুরি হস্তগত করার পূর্বে বিক্রি করার নিষেধাজ্ঞা
২৫৯৭. ইবনে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কোন ব্যক্তি কোনো খাদ্যবস্তু ক্রয় করে তা পুরোপুরি হস্তগত করার পূর্বে যেন বিক্রি না করে।”[1]
باب النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الطَّعَامِ قَبْلَ الْقَبْضِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلَا يَبِعْهُ حَتَّى يَقْبِضَهُ
তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৪২; মুসলিম, বুয়ূ ১৫২৫, ১৫২৬, ১৫২৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৯৮, ৫৮০০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৮১, ৪৯৮৯, ৪৯৯১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. এক ক্রয়-বিক্রয়ে দু’টি শর্ত করার নিষেধাজ্ঞা
২৫৯৮. আবদুল্লাহ্ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই সঙ্গে ঋণ ও বিক্রি থেকে, এক বিক্রিতে দুই ধরণের শর্ত করা থেকে এবং যিমান’ বা লোকসানের দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত মুনাফা গ্রহণ করা থেকে নিষেধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ شَرْطَيْنِ فِي بَيْعٍ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ سَلَفٍ وَبَيْعٍ وَعَنْ شَرْطَيْنِ فِي بَيْعٍ وَعَنْ رِبْحِ مَا لَمْ يُضْمَنْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ১১০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৩২১ তে। ((আহমাদ ২/১৭৪-১৭৫, ১৭৮-১৭৯, ২০৫; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫০৪; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৩৪; নাসাঈ, বুয়ূ নং ৪৬১১, ৪৬১২; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৮৮..।– ফাতহুল মান্নান, হা/২৭২২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/৪৬; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৭৩৬; দারুকুতনী ৩/৭৫। আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/১৮, ৪৫; তালখীসুল হাবীর ৩/১২।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তি সম্পদের অধিকারী কোনো গোলাম ক্রয় করলো
২৫৯৯. আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি গোলাম ক্রয় করে কিন্তু তার মাল ক্রয়ের শর্ত না করে, তাহলে সে কিছুই পাবে না।”[1]
باب فِيمَنْ بَاعَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اشْتَرَى عَبْدًا وَلَمْ يَشْتَرِطْ مَالَهُ فَلَا شَيْءَ لَهُ
তাখরীজ: বুখারী, মাসাকাহ ২৩৭৯; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২৭, ৫৪৬৮, ৫৪৭৯, ৫৫০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯২১, ৪৯২২, ৪৯২৩, ৪৯২৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. মুনাবাযাহ ও মুলামাসাহ পদ্ধতির নিষিদ্ধতা
২৬০০. আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’প্রকার ক্রয়-বিক্রয় এবং দু’ধরনের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে মুলামাসা ও মুনাবাযা[1] করতে নিষেধ করেছেন।[2] আব্দুল্লাহ বলেন, মোনাবাযা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির দিকে এবং অপর ব্যক্তি এই ব্যক্তির দিকে নিজ নিজ কাপড় নিক্ষেপ করবে। তিনি আরও বলেন: এটি জাহিলিয়্যাহ যুগে প্রচলিত ছিল।
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلَامَسَةِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ عَنْ بَيْعِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلَامَسَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْمُنَابَذَةُ يَرْمِي هَذَا إِلَى ذَاكَ وَيَرْمِي ذَاكَ إِلَى ذَا قَالَ كَانَ هَذَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ
আর মোনাবাযা: হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির দিকে এবং অপর ব্যক্তি এই ব্যক্তির দিকে নিজ নিজ কাপড় নিক্ষেপ করবে। এভাবে না দেখেই এবং পরস্পরের সম্মতি ব্যতিরেকেই ক্রয়-বিক্রয় উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান। তবে হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সালাত ৩৬৭; মুসলিম, বুয়ূ ১৫১২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৭৬, ১১১৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৭৬, ৫৪২৭ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৪৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
২৬০১. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় এবং পাথর নিক্ষেপে নির্ধারিত ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, যখন এক টুকরা পাথর নিক্ষেপ করা হবে, তখন ক্রয়-বিক্রয় বাধ্যতামুলক হয়ে যাবে।
باب فِي بَيْعِ الْحَصَاةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ وَعَنْ بَيْعِ الْحَصَاةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ إِذَا رَمَى بِحَصًا وَجَبَ الْبَيْعُ
তাখরীজ: মুসলিম, বুয়ূ ১৫১৩।
এর অংবিশেষ গত হয়েছে ২৫৯৬ (অণুবাদে ২৫৮৯) নং এ গত হয়েছে। ((তিরমিযী, ১২৩০, আবু দাউদ ৩৩৭৬, নাসাঈ ৪৫১৮; ইবনু মাজাহ ২১৯৪-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩০. পশুর বিনিময়ে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা
২৬০২. সামুরা ইবনে জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুর বিনিময়ে পশু ধারে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।এরপর হাসান এ হাদীস ভুলে যান। কিন্তু জা’ফর (তার বর্ণনায়) একথা উল্লেখ করেননি যে, ’এরপর হাসান এ হাদীস ভুলে যান।’[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً ثُمَّ إِنَّ الْحَسَنَ نَسِيَ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَمْ يَقُلْ جَعْفَرٌ ثُمَّ إِنَّ الْحَسَنَ نَسِيَ هَذَا الْحَدِيثَ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১২, ১৯; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/২৯২; কুবরা ৭/২০৫ নং ৬৮৫১; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৭০; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার৪/৬০; তাবারাণী, কাবীর নং ৬৮৪৯; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/২৮৮; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৫৬; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৩৭; খতীব, তারীখ বাগদাদ ২/৩৫৪।
তবে এর অনেকগুলি সূত্র ও শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। দেখুন, আমাদের তাহক্বীক্বৃকত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৫৯৩, ৬৫৯৪, ৬৫৯৫, ৬৫৯৬।
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০২৮ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১১১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. পশু ধার নেওয়ার অনুমতি
২৬০৩. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্ত দাস আবূ রাফে রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট থেকে ধারে একটি উঠতি বয়সের উট কিনেন অতঃপর যাকাতের উট এলো। আবূ রাফে’ বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন সেই লোকের উটটি পরিশোধ করি। তখন আমি বললাম, আমি তো চার বছর বা ততোধিক বয়সের উট ছাড়া আর কোন উট পাচ্ছি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “ওটাই তাকে দাও। কেননা লোকেদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, এটি ঐ লোকদের মতকে শক্তিশালী করে, যারা বলেন, পশুর বদলে পশু প্রদান (জায়েয)।
باب فِي الرُّخْصَةِ فِي اسْتِقْرَاضِ الْحَيَوَانِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مَالِكٍ قِرَاءَةً عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اسْتَسْلَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَكْرًا فَجَاءَتْ إِبِلٌ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ قَالَ أَبُو رَافِعٍ فَأَمَرَنِي أَنْ أَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ فَقُلْتُ لَمْ أَجِدْ فِي الْإِبِلِ إِلَّا جَمَلًا خِيَارًا رَبَاعِيًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطِهِ إِيَّاهُ فَإِنَّ خَيْرَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً قَالَ عَبْد اللَّهِ هَذَا يُقَوِّي قَوْلَ مَنْ يَقُولُ الْحَيَوَانُ بِالْحَيَوَانِ
তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৮৯; মুসলিম, মাসাকাত ১৬০০; আহমাদ ৬/২৯০; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৬; তিরমিযী, বুয়ূ ১৩১৮; নাসাঈ, বুয়ূ ৭.২৯১, কুবরা নং ৬২১০; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২১৮৫; শাফিঈ, আল উম্ম ৩/১১৭; আর রিসালাহ নং ১৬০৬; বাইহাকী, বুয়ূ ৬/২১, আল মারিফাহ ৭/১৯০ নং ১১৫৯৫; ইবনুল কা’নি’, মুজামুস সাহাবাহ নং ৩৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. পণ্য ক্রয়ের উদ্দেশ্যে (আগত ব্যবসায়ীদের সাথে শহরের বাইরে) সাক্ষাত করা নিষেধ
২৬০৪. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা আমদানিকৃত পণ্য (বাহী কাফেলা)-এর সাথে মাঝপথে অগ্রসর হয়ে সাক্ষাৎ কর না। আর কোনো ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাৎ করে তার থেকে কিছু ক্রয় করলে পরে যখন মালের মালিক বিক্রেতা বাজারে এসে পৌছাবে, তখন তার এখতিয়ার থাকবে।”[1] (অর্থাৎ ইচ্ছা করলে এই লেনদেন প্রত্যাখান করতে পারবে।)
باب فِي النَّهْيِ عَنْ تَلَقِّي الْبُيُوعِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَلَقَّوْا الْجَلَبَ مَنْ تَلَقَّاهُ فَاشْتَرَى مِنْهُ شَيْئًا فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِذَا دَخَلَ السُّوقَ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৬২, ২১৪০; মুসলিম, বুয়ূ ১৫১৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৭৩, ৬০৭৮, ৬১৮৭ ও আরও দেখুন, ৫৮৮৪, ৫৮৮৭, ৫৮৭০, ৬০৪৯, ৬০৬৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. মুসলিম ভাইয়ের দামের উপর অপর কেউ যেন দাম না করে
২৬০৫. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “তোমাদের একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর অপরজন ক্রয়-বিক্রয় করবে না আবার তোমরা পণ্যবাহী কাফেলার সাথে মাঝপথে অগ্রসর হয়ে সাক্ষাৎ করবে না, যতক্ষণ মালের মালিক বিক্রেতা বাজারে এসে না পৌছাবে। আর তোমরা ’নাজাশ্’ তথা (খরিদ করার উদ্দেশ্য ব্যতীত ক্ষতিসাধনের জন্য অযথা দরদাম করে) মূল্য বৃদ্ধি করবে না।”[1]
باب لَا يَبِيعُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَبِيعُ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَلَا تَلَقَّوْا السِّلَعَ حَتَّى يُهْبَطَ بِهَا الْأَسْوَاقَ وَلَا تَنَاجَشُوا
তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৯৫; বুখারী, বুয়ূ ২১৩৯; মুসলিম, বুয়ূ ১৪১২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৫৯, ৪৯৬২ ৪৯৬১ তে। আর এটি গত হয়েছে ২২২২ (অনুবাদে ২২১২) নং তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. কুকুরের মুল্য গ্রহণ নিষেধ
২৬০৬. আবূ মাসঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারের বিনিময় এবং গণকের পারিতোষিক (গ্রহণ করা) হতে নিষেধ করেছেন।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, গণকের পারিতোষিক হলো যা তাকে ভাগ্য গণনা করার জন্য প্রদান করা হয়।
باب فِي النَّهْيِ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ قَالَ عَبْد اللَّهِ حُلْوَانُ الْكَاهِنِ مَا يُعْطَى عَلَى كَهَانَتِهِ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২৩৭; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৬৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৫৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. মদ বিক্রয় নিষেধ
২৬০৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সূদ সম্পর্কে সুরা বাকারাহ শেষদিকের আয়াতটি নাযিল হলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে লোকদের সামনে আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করলেন, অত:পর মদ বিষয়ক সকল লেনদেন হারাম ঘোষণা করলেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ الْآيَةُ فِي آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي الرِّبَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَلَاهُنَّ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي الْخَمْرِ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২২৬, সালাত ৪৫৯; মুসলিম, মাসাকাত ১৮৫০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৬৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. মদ বিক্রয় নিষেধ
২৬০৮. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন সুরা বাকারাহ শেষদিকের আয়াতসমূহ নাযিল হলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে লোকদের সামনে আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করলেন, অত:পর মদ বিষয়ক সকল লেনদেন নিষিদ্ধ করলেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَمَّا نَزَلَتْ الْآيَاتُ مِنْ أَوَاخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاقْتَرَأَهُنَّ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ نَهَى عَنْ التِّجَارَةِ فِي الْخَمْرِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. মদ বিক্রয় নিষেধ
২৬০৯. আব্দুর রহমান ইবনু ওয়ালাতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট মৃতজন্তুর চামড়া ব্যবহার করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “চামড়া প্রক্রিয়াজাত করাই হলো এর পবিত্র হয়ে যাওয়া।” আমি তাকে চুক্তিবদ্ধ (কাফির) সম্প্রদায়ের কাছে মদ বিক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি তাকে বললাম, আমরা আঙ্গুর উৎপাদন করি এবং তা থেকে এ মদ তৈরী করে তা চুক্তিবদ্ধ (কাফির) সম্প্রদায়ের নিকট বিক্রয় করি। তখন ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বিদায় হজ্জের সময় ছাকীফ অথবা, দাওস গোত্রের এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক মশক মদ হাদিয়া স্বরুপ নিয়ে আসে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ “হে আবূ অমুক! তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ উহা হারাম করে দিয়েছেন?” সে বলল, আল্লাহর কসম, না। অতঃপর সে এক ব্যক্তি তার গোলামের কাছে ফিরে গিয়ে তাকে বলল, তুমি হাযওয়ারাহ’ (নামক বাজারে) গিয়ে ইহা বিক্রি করে দাও। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে আবূ অমুক! তুমি কি জানো না যে, যিনি ইহা পান করা হারাম করেছেন, তিনি ইহার বিক্রিও হারাম করে দিয়েছেন?” তিনি (রাবী) বলেন, এরপর সে তাকে নির্দেশ দিলে তা ’বাতহা’ উপত্যকায় ঢেলে ফেলা হলো।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ ابْنُ إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ جُلُودِ الْمَيْتَةِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِبَاغُهَا طَهُورُهَا وَسَأَلْتُهُ عَنْ بَيْعِ الْخَمْرِ مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّ لَنَا أَعْنَابًا وَإِنَّا نَتَّخِذُ مِنْهَا هَذِهِ الْخُمُورَ فَنَبِيعُهَا مِنْ أَهْلِ الذِّمَّةِ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَهْدَى رَجُلٌ مِنْ ثَقِيفٍ أَوْ دَوْسٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاوِيَةً مِنْ خَمْرٍ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا عَلِمْتَ يَا أَبَا فُلَانٍ أَنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَهَا قَالَ لَا وَاللَّهِ قَالَ فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَهَا فَالْتَفَتَ إِلَى غُلَامِهِ فَقَالَ اخْرُجْ بِهَا إِلَى الْحَزْوَرَةِ فَبِعْهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَ مَا عَلِمْتَ يَا أَبَا فُلَانٍ أَنَّ الَّذِي حَرَّمَ شُرْبَهَا حَرَّمَ بَيْعَهَا قَالَ فَأَمَرَ بِهَا فَأُفْرِغَتْ فِي الْبَطْحَاءِ
তাখরীজ: মালিক, আশরিবাহ ১২ সহীহ সনদে; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৭৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৬৮, ২৫৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৪২, ৪৯৪৪ তে। আর এটি গত হয়েছে ২০২৮ (অনুবাদে ২০১৮) নং তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. মালিকানা বা অভিভাবকত্ব বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা
২৬১০. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে নির্দেশ হলো, তা বিক্রি করাও যাবে না, দান করাও যাবে না।
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْأَمْرُ عَلَى هَذَا لَا يُبَاعُ وَلَا يُوهَبُ
তাখরীজ: মালিক, আল ইতক ২০; বুখারী, আল ইতক ২৫৩৫; মুসলিম, আল ইতক ১৫০৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৪৮, ৪৯৪৯, ৪৯৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৫৩ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৬/১২১ নং ৫০৫, ১১/৪১৮ নং ১১৬৫৪; আব্দুর রাযযাক ১৬১৩৮; তাবারাণী, আল কাবীর ১২/৪৪৮ নং ১৩৬২৫, ১৩৬২৬; ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৫৭৩, ১৬০৭, ৬/২০৩৭; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/৩৩১-৩৩২; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৪/৯৩; যা সামনে ৩২০০, ৩২০১ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. মনিবের মৃত্যুর পর মুক্ত হবে, এ অঙ্গীকারপ্রাপ্ত দাসের ক্রয় বিক্রয় সম্পর্কে
২৬১১. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে তার গোলাম আযাদ হবে বলে ঘোষণা দিল। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকালেন এবং গোলামটিকে কিনে নিলেন। জাবির বলেন, তিনি প্রথম বছরেই মৃত্যু বরণ করলেন।[1] আব্দুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার মতও কি তাই? তিনি বললেন, লোকেরা একথা বলে থাকেন।
باب فِي بَيْعِ الْمُدَبَّرِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيَّ قَالَ أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنَّا عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ قَالَ فَدَعَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَاعَهُ قَالَ جَابِرٌ وَإِنَّمَا مَاتَ عَامَ أَوَّلَ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৪১; মুসলিম, ঈমান ৯৯৭ (৫৯)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮২৫, ১৯৩২, ১৯৭৭,২১৬৬, ২১৬৭, ২২৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৪২, ৪৯২৯, ৪৯৩০, ৪৯৩১, ৪৯৩২, ৪৯৩৩, ৪৯৩৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. কোনো লোকের যে দাসীর গর্ভে তার সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, এমন দাসীকে বিক্রয় করা সম্পর্কে
২৬১২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কোন ব্যক্তির ঔরসে তার বাঁদীর গর্ভে সন্তান হলে, সে বাঁদী তার (মালিকের) মৃত্যুর পর স্বয়ং দাসত্বমুক্ত হয়ে যাবে।”[1]
باب فِي بَيْعِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَلَدَتْ أَمَةُ الرَّجُلِ مِنْهُ فَهِيَ مُعْتَقَةٌ عَنْ دُبُرٍ مِنْهُ أَوْ بَعْدَهُ
তাখরীজ: দারুকুতনী ৪/১৩১; ইবনু আবী শাইবা ৬/৪৩৬ নং ১৬৩০; আব্দুর রাযযাক নং ১৩২১৯; আহমাদ ১/৩০৩, ৩১৭, ৩২০; ইবনু মাজাহ, আল ইতক ২৫১৫; হাকিম ২/১৯; বাইহাকী, ইতক ১০/৩৪৬।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. মদীনার সা’আ ও মুদ্দ সম্পর্কে
২৬১৩. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের মাপের পাত্রে বরকত দিন এবং তাদের সা’আ ও মুদ্দ-এ বরকত দিন অর্থাৎ মদিনাবাসীদের।”[1]
باب فِي صَاعِ الْمَدِينَةِ وَمُدِّهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَنَفِيُّ الْمَدَنِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مِكْيَالِهِمْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِي صَاعِهِمْ وَمُدِّهِمْ يَعْنِي الْمَدِينَةَ
তাখরীজ: মালিক, জামি’ ১ সহীহ সনদে; বুখারী, বুয়ূ ২১৩০; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৬৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৪৬ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৯৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১/২৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. খাদ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সমান-সমান না হওয়া প্রসঙ্গে
২৬১৪. বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য এক মুদ খেজুর ছিল। এরপর আমি এ থেকে দু’ সা’আ পরিমাণ খেুজর দিয়ে এক সা’আ পরিমাণ এর থেকে উত্তম খেজুর ক্রয় করলাম। এরপর তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলে তিনি বললেন: “হে বিলাল! তুমি এটা কোথায় পেলে?” আমি বললাম, (আমার খেজুর) দু’ সা’আ দিয়ে (এ খেজুর) এক সা’আ কিনেছি। তিনি বললেন: “এটি ফিরিয়ে দাও এবং আমাদের খেজুর আমাদের নিকট ফিরিয়ে নিয়ে আস।”[1]
باب فِي بَيْعِ الطَّعَامِ مِثْلًا بِمِثْلٍ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ بِلَالٍ قَالَ كَانَ عِنْدِي مُدُّ تَمْرٍ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدْتُ أَطْيَبَ مِنْهُ صَاعًا بِصَاعَيْنِ فَاشْتَرَيْتُ مِنْهُ فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ لَكَ هَذَا يَا بِلَالُ قُلْتُ اشْتَرَيْتُ صَاعًا بِصَاعَيْنِ قَالَ رُدَّهُ وَرُدَّ عَلَيْنَا تَمْرَنَا
তাখরীজ: তাহাবী, মা’আনিল আছার ৪/৬৮; তাবারাণী, কাবীর ১/৩৫৯ নং ১০৯৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৫/১৩৪; বাযযার, কাশফুল আসতার ২/১০৮ নং ১৩১৬; হারিছ ইবনু আবী উসামাহ, বুগইয়াতুল বাহিছ নং ৪৪২ মাতরুক ও যয়ীফ সনদে।
তবে এ হাদীসের অনেকগুলি শাহিদ রয়েছে। দেখুন আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৬৩৮, ৬৬৩৯ তে। এছাড়াও, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে এর শাহিদ রয়েছে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলীতে নং ৫৭১০ সেখানে এর শাহিদসমূহও উল্লেখ করেছি। এরপরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. খাদ্য ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সমান-সমান না হওয়া প্রসঙ্গে
২৬১৫. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আবু হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আদী আল আনসারী’র ভাইকে খায়বারে (তহসীলদার) নিযুক্ত করেন। সে জানীব নামক (রাবী মাসলামাহ এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ-উত্তম) খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “খায়বারের সব খেজুর কি এ রকমের?” সে বলল, না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! এরূপ নয়, বরং আমরা দু’ সা’ (সাধারণ খেজুর)- এর পরিবর্তে এ ধরনের এক সা’ খেজুর একত্রে ক্রয় করে থাকি এবং তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এরূপ করবে না। তবে সমপরিমান এর বিনিময়ে অনুরুপ পরিমান করে (বিনিময় করবে) অথবা, এ (মিশ্রিত) খেজুর বিক্রি করে এর মুল্য দিয়ে জানীব খেজুর ক্রয় করবে। আর এটাই হলো নিয়ম।”[1]
باب فِي بَيْعِ الطَّعَامِ مِثْلًا بِمِثْلٍ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ ابْنُ بِلَالٍ عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ سُهَيْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ يُحَدِّثُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ وَأَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ أَخَا بَنِي عَدِيٍّ الْأَنْصَارِيَّ فَاسْتَعْمَلَهُ عَلَى خَيْبَرَ فَقَدِمَ بِتَمْرٍ جَنِيبٍ قَالَ ابْنُ مَسْلَمَةَ يَعْنِي جَيِّدًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكُلُّ تَمْرِ خَيْبَرَ هَكَذَا قَالَ لَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا لَنَشْتَرِي الصَّاعَ بِالصَّاعَيْنِ مِنْ الْجَمْعِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَفْعَلُوا وَلَكِنْ مِثْلًا بِمِثْلٍ أَوْ بِيعُوا هَذَا وَاشْتَرُوا بِثَمَنِهِ مِنْ هَذَا وَكَذَلِكَ الْمِيزَانُ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২০১, ২২০২, ই’তিসাম বিসসুন্নাহ ৩৭৫০, ৩৭৫১; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৯৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০২১ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১২২, মা’আনিল আছার ৪/৬৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৫/১২৭-১২৮; বাইহাকী ৫/২৯১।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. (পণ্যদ্রব্যাদি বা মুদ্রা) বদলকরণে অধিক ও বাড়তি আদান-প্রদানের নিষেধাজ্ঞা
২৬১৬. ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “(সমানে সমানে) স্বর্ণের বদলে স্বর্ণে আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) রৌপ্যের বদলে রৌপ্য আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) গমের বদলে গম আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) যবের বদলে যব আদান-প্রদান করো, (সমানে সমানে) খেজুরের বিনিময়ে খেজুর আদান-প্রদান করো। তবে এদের মাঝে (কোনোটি কম, আবার কোনোটি) বেশি করা যাবে না।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الصَّرْفِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ النَّصْرِيِّ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ هَاءَ وَهَاءَ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ هَاءَ وَهَاءَ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ هَاءَ وَهَاءَ وَلَا فَضْلَ بَيْنَهُمَا
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৩৪, ২১৭০, ২১৭৪; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৮৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪৯, ২০৮, ২০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০১৩, ৫০১৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. (পণ্যদ্রব্যাদি বা মুদ্রা) বদলকরণে অধিক ও বাড়তি আদান-প্রদানের নিষেধাজ্ঞা
২৬১৭. আবী আশ’আস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে এক ব্যক্তি এক পাত্র সোন ও রূপা নিয়ে দাঁড়াল এবং তা আতা’র নিকট বিক্রি করতে লাগল। তখন উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, যবের বিনিময়ে যব এবং লবণের বিনিময়ে লবণ ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। তবে (দু’বস্তুর) পরিমাণ সমান সমান হলে (ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে)। এইসব ক্ষেত্রে কেউ অতিরিক্ত দিলে বা অতিরিক্ত চাইলে তা হবে সূদ।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الصَّرْفِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ قَالَ قَامَ نَاسٌ فِي إِمَارَةِ مُعَاوِيَةَ يَبِيعُونَ آنِيَةَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ إِلَى الْعَطَاءِ فَقَامَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ الذَّهَبِ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرِّ بِالْبُرِّ وَالتَّمْرِ بِالتَّمْرِ وَالشَّعِيرِ بِالشَّعِيرِ وَالْمِلْحِ بِالْمِلْحِ إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ سَوَاءً بِسَوَاءٍ فَمَنْ زَادَ أَوْ ازْدَادَ فَقَدْ أَرْبَى
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাত ১৫৮৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০১৫, ৫০১৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯৪ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৯-৩৩৫০; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৪০; নাসাঈ, ৭/২৭৪-২৭৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৫৪-ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৭৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪২. সুদ হয় কেবল বাকীতে বিক্রির ক্ষেত্রেই
২৬১৮. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে উসামা ইবনু যায়দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কেবল ঋণ বা ধার- কর্য (বাঁকী বিক্রয়)-এর ক্ষেত্রেই ’রিবা’ (সুদ) হয়।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর অর্থ: এক দিরহামের বিনিময়ে (বাকিতে) দু’ই দিরহাম।
باب لَا رِبَا إِلَّا فِي النَّسِيئَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا الرِّبَا فِي الدَّيْنِ قَالَ عَبْد اللَّهِ مَعْنَاهُ دِرْهَمٌ بِدِرْهَمَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৭৮, ২১৭৯ ; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৯৬। ((তিরমিযী, ১২৪১; নাসাঈ ৪৫৬৫, ৪৫৮১; ইবনু মাজাহ ২২৫৭।–অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০২৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৫৫ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৯-৩৩৫০; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৪০; নাসাঈ, ৭/২৭৪-২৭৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৫৪-ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৭৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য পরিশোধ করার ব্যাপারে অনুমতি প্রদান
২৬১৯. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাকীতে উট বিক্রি করতাম। অনেক সময় দীনার বা র্স্বমুদ্রায় তা বিক্রি করে তদস্থলে রৌপ্যমুদ্রা আবার রৌপ্য মুদ্রায় বিক্রি করে তদস্থলে দীনার গ্রহণ করতাম। একবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি একটু শান্তভাবে শুনুন! আমি আপনার নিকট জানতে চাই যে, আমি বাকীতে উট বিক্রি করি। অনেক সময় দীনার বা র্স্বমুদ্রায় তা বিক্রি করে তদস্থলে রৌপ্যমুদ্রা আবার রৌপ্য মুদ্রায় বিক্রি করে তদস্থলে দীনার গ্রহণ করি। তিনি বললেন, “এতে কোন দোষ নেই, তবে শর্ত হলো-সেদিনের বাজার দর অনুসারে লেন-দেন করবে এবং তোমরা দু’জন (ক্রেতা-বিক্রেতা) বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই ব্যাপারটি সম্পন্ন করবে।”[1]
باب الرُّخْصَةِ فِي اقْتِضَاءِ الْوَرِقِ مِنْ الذَّهَبِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كُنْتُ أَبِيعُ الْإِبِلَ بِالْبَقِيعِ فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ وَآخُذُ الدَّرَاهِمَ وَأَبِيعُ بِالدَّرَاهِمِ وَآخُذُ الدَّنَانِيرَ وَرُبَّمَا قَالَ أَقْبِضُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رُوَيْدَكَ أَسْأَلُكَ إِنِّي أَبِيعُ الْإِبِلَ بِالْبَقِيعِ فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ وَآخُذُ الدَّرَاهِمَ وَأَبِيعُ بِالدَّرَاهِمِ وَآخُذُ الدَّنَانِيرَ قَالَ لَا بَأْسَ أَنْ تَأْخُذَ بِسِعْرِ يَوْمِكَ مَا لَمْ تَفْتَرِقَا وَبَيْنَكُمَا شَيْءٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯২০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১২৮ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ, ৩৩৫৪, তিরমিযী, বুয়ূ ১২৪২, নাসায়ী, বুয়ূ, বাব ৫০, ৫২ নং (৪৫৮২, ৪৫৮৩, ৪৫৮৯); ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২৬২ আহমাদ ৪৮৬৮, ৫৫৩০, ৫৭৩৯, ৬২০৩, ৬৩৯১- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী, হা/ ২৫৮১ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. বন্ধক সম্পর্কে
২৬২০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইনতিকাল করেন, তখন তাঁর লৌহবর্মটি এক ইয়াহুদীর নিকট তিরিশ সা’আ যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল।[1]
باب فِي الرَّهْنِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنَّ دِرْعَهُ لَمَرْهُونَةٌ عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ الْيَهُودِ بِثَلَاثِينَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৬১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২১৪; মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৯৫; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/৩০৩; ইবনু মাজাহ, রুহুন ৩৪৩৯ সহীহ সনদে; বাইহাকী রাহন ৬/৩৬।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বুখারী, বুয়ূ ২২০০ ও মুসলিম, মাসাকাত ১৬০৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৩৬ ও ৫৯৩৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. (ফলমুল) অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে
২৬২১. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আসেন তখন মদীনাবাসী ফলে দু’-তিন বছরের মেয়াদে অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ফলের মাপ ও ওজন নির্দিষ্ট করে নিয়ে তোমরা অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় করতে পারো।”[1]
সুফিয়ান সময় হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করতেন, অত:পর আব্দুল্লাহ ইবনু কাছীর একে সন্দেহপূর্ণ করেছেন।
باب فِي السَّلَفِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثِّمَارِ فِي سَنَتَيْنِ وَثَلَاثٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَلِّفُوا فِي الثِّمَارِ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ وَقَدْ كَانَ سُفْيَانُ يَذْكُرُهُ زَمَانًا إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ ثُمَّ شَكَّكَهُ عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ
তাখরীজ: বুখারী, সালাম ২২৪০, ২২৪১; মুসলিম, মাসাকাত ১৬০৪। ((আবূ দাউদ, ইজারাত ৩৪৬৩-অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪০৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯২৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. উত্তমভাবে ঋণ আদায় প্রসঙ্গে
২৬২২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দিরহাম ওজন করে দিলেন এবং তা (দাঁড়ি পাল্লা) ঝুঁকিয়ে কিছু বেশি দিলেন।[1]
باب فِي حُسْنِ الْقَضَاءِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَارِبٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَنَ لَهُمْ دَرَاهِمَ فَأَرْجَحَهَا
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৯৭, সালাত ৪৪২;; মুসলিম, মুসাফিরীন ৭১৫; মাসাকাত ৭১৫ (১১৫, ১১৬); ইমারাহ ৭১৫ (১৮৪, ১৮৫)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৯৩, ১৮৫০, ১৮৯৮, ১৯৭৪, ১৯৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯১১, ৬৫১৭, ৬৫১৮, ৬৫১৯, ৭১৪১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩২২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. ওজনের সময় (কিছু অধিক দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাল্লা) ঝুঁকিয়ে দেওয়া
২৬২৩. সুওয়াইদ ইবনু কাইস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং মাখরামা আবদী বাহরাইন থেকে মক্কায় কিছু কাপড় আমদানী করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়ে হেঁটে আমাদের কাছে এলেন এবং একটি পাজামা ক্রয়ের দর স্থির করলেন, অথবা আমাদের নিকট থেকে একটি পায়জামা ক্রয় করলেন এবং সেখানে একজন ওজনকারী ছিল। সে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ওজন করে দিত। তিনি এ ওজনকারীকে বললেন, “ওযন করো এবং (পাল্লা ঝুঁকিয়ে দাও বা) একটু বেশি দাও।” এরপর যখন তিনি হেঁটে চলে গেলেন, তারা বললেন, ইনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।[1]
باب الرُّجْحَانِ فِي الْوَزْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ جَلَبْتُ أَنَا وَمَخْرَمَةُ الْعَبْدِيُّ بَزًّا مِنْ الْبَحْرَيْنِ إِلَى مَكَّةَ فَأَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي فَسَاوَمَنَا بِسَرَاوِيلَ أَوْ اشْتَرَى مِنَّا سَرَاوِيلَ وَثَمَّ وَزَّانٌ يَزِنُ بِالْأَجْرِ فَقَالَ لِلْوَزَّانِ زِنْ وَأَرْجِحْ فَلَمَّا ذَهَبَ يَمْشِي قَالُوا هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৪৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৪৪৪ তে। ((সুনানে আরবা’আ, আহমাদ, হাকিম, ইবনু হিব্বান।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৮৫ এর টীকা।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. সম্পদশালী ব্যক্তির (ঋণ পরিশোধে) বিলম্ব করা/গড়িমসি করা যুলুম
২৬২৪. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম। যখন তোমাদের কাউকে (তার ঋণ আদায়ের জন্যে) কোন ধনী ব্যক্তির হাওয়ালা করা হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়।”[1]
باب فِي مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيءٍ فَلْيَتْبَعْ
তাখরীজ: মালিক, বুয়ূ ৮৪ সহীহ সনদে; বুখারী, হাওয়ালাহ ২২৮৭; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৬৪। ((তিরমিযী, বুয়ূ ১৩০৮; নাসায়ী, বুয়ূ ৭/৩১৬ নং ৪৬৮৮, ৪৬৯১, আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৪৫, ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪০৩; আহমাদ ৭২৯১, ২৭৭৭৮, ৭৪৮৮, ২৭৩৯২, ৮৬৭৯, ২৭২৩৯, ৯৬৭৬, মুয়াত্তা মালেক ১৩৭৯।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৮৫ এর টীকা।–অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৮৩, ৬২৯৮, ৬৩৪৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৫৩, ৫০৯০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৬২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. অভাবী ব্যক্তিকে (ঋণ আদায়ে) অবকাশ প্রদান প্রসঙ্গে
২৬২৫. কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি মসজিদের ভিতরে ইবনু আবূ হাদরাদ-এর নিকট তাঁর পাওনা ঋণের তাগাদা করলেন। দু’জনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ উচ্চস্বরে কথাবার্তা হলো। এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর হতেই তাদের কথার আওয়ায শুনলেন এবং তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে গেলেন। আর ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে কা’ব! তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির আছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমার পাওনা ঋণ হতে এতটুকু কমিয়ে দাও।” এ বলে তিনি হাতে ইঙ্গিত করে বোঝালেন, অর্থাৎ অর্ধেক পরিমাণ। তখন কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ আমি তাই করলাম। তিনি (ইবনু আবূ হাদরাদকে) বললেনঃ “উঠে গিয়ে বাঁকীটা পরিশোধ করে দাও।”[1]
باب فِي إِنْظَارِ الْمُعْسِرِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ تَقَاضَى ابْنَ أَبِي حَدْرَدٍ دَيْنًا كَانَ لَهُ عَلَيْهِ فِي الْمَسْجِدِ فَارْتَفَعَتْ أَصْوَاتُهُمَا حَتَّى سَمِعَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ إِلَيْهِمَا فَنَادَى يَا كَعْبُ قَالَ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ ضَعْ مِنْ دَيْنِكَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ أَيْ الشَّطْرَ قَالَ قَدْ فَعَلْتُ قَالَ قُمْ فَاقْضِهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৯০; বুখারী, সালাত ৪৫৭, ৪৭১; খুসুমাত ২৪১৮, সুলহ ২৭১০; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৫৮; নাসাঈ, আদাবুল কাযী ৮/২৪০; ইবনু মাজাহ, সাদাকাহ ২৪২৯; তাবারাণী, কাবীর ১৯/৬৭ নং ১২৭; আবূ দাউদ, আকযিয়া ৫৩৯৫; বাইহাকী, সুলহ ৬/৬৩-৬৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২১৫১।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. যে ব্যক্তি অভাবীকে (ঋণ পরিশোধে) অবকাশ প্রদাণ করে, তার (মর্যাদা) সম্পর্কে
২৬২৬. আবীল ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে লোক কোন অভাবগ্রস্ত মানুষকে (ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে) অবকাশ দেয় অথবা মাফ করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর স্বীয় ছায়ার নীচে আশ্রয় প্রদান করবেন সেই দিনে, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তিনি বলেন, এরপর তিনি ঋণপত্রটিতে থুথু নিক্ষেপ করে বললেন, যাও, ওটা তোমার।’ তথা তার ঋণগ্রস্ততার জন্য। আর তিনি উল্লেখ করলেন যে, তিনি ছিলেন অভাবী বা দরিদ্র লোক।[1]
باب فِيمَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ رِبْعِيٍّ عَنْ أَبِي الْيَسَرِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ عَنْهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ قَالَ فَبَزَقَ فِي صَحِيفَتِهِ فَقَالَ اذْهَبْ فَهِيَ لَكَ لِغَرِيمِهِ وَذَكَرَ أَنَّهُ كَانَ مُعْسِرًا
তাখরীজ: মুসলিম, যুহদ ৩০০৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৪৪ তে।
সংযোজনী: ইবনু আবী শাইবা ৬/১১ নং ২২১১, ২২১২, ৭/২৫২ নং ৩০৬৩; আব্দ ইবনু হুমাইদ নং ৩৭৮; দাওলাবী, আল কুন্নী ১/৬২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২১৪২।
আর এর অনেকগুলি শাহিদ রয়েছে, যা আপনি পাবেন আমাদের তাহ্ক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৭৫৩ থেকে ৬৭৬৬ পর্যন্ত।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. যে ব্যক্তি অভাবীকে (ঋণ পরিশোধে) অবকাশ প্রদাণ করে, তার (মর্যাদা) সম্পর্কে
২৬২৭. আবী কাতাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “যে লোক কোনো ঋণগ্রস্থ মানুষকে ঋণ পরিশোধে অবকাশ দেয় অথবা তার ঋণ মওকুফ করে দেয়, কিয়ামতের দিন সেই লোক আরশের ছায়ার নিচে স্থান লাভ করবে।”[1]
باب فِيمَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا
حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الْخَطْمِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ نَفَّسَ عَنْ غَرِيمِهِ أَوْ مَحَا عَنْهُ كَانَ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: আহমাদ ১/৩০০, ৩০৮, ৫/৩০০; ইবনু আবী শাইবা ৭/১২, ২৫০ নং ২২১৬, ৩০৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ৫১. নি:স্ব-দরিদ্র ব্যক্তির নিকট যখন সম্পদ পাওয়া যাবে
২৬২৮. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কেউ তার মাল এমন লোকের কাছে পায়, যে নিঃসম্বল হয়ে গেছে, তবে অন্যের চেয়ে সে-ই এর বেশী হকদার।”[1]
باب فِى الْمُفْلِسِ إِذَا وُجِدَ الْمَتَاعُ عِنْدَهُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا يَحْيَى أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَدْرَكَ مَالَهُ بِعَيْنِهِ عِنْدَ إِنْسَانٍ قَدْ أَفْلَسَ أَوْ عِنْدَ رَجُلٍ قَدْ أَفْلَسَ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ مِنْ غَيْرِهِ
তাখরীজ: বুখারী, ইসতিক্বরায ২৪০২; মুসলিম, মাসাকাত ১৫৫৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৭০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৩৬, ৫০৩৭, ৫০৩৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৬৫, ১০৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. ঋণের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী
২৬২৯. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মুমিনের রূহ তার (ঋণের কারণে) ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, যতক্ষণ তার উপর কোনো ঋণ থাকে।”[1]
باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي الدَّيْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ مَا كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০৬১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৫৮ তে। ((তিরমিযী, জানাইয ১০৭৮, ১০৭৯; ইবনে মাজাহ্, সাদাকাত ২৪১৩; আহমাদ ২/৪৪০-৪৭৫-৫০৮; বাইহাকী; ইবনু হিব্বান; হাকিম ২/২৬-২৭।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/২৫৯১ এর টীকা হতে। –অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫২. ঋণের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী
২৬৩০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত অবস্থায় যার দেহ থেকে তার প্রাণ বের হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে: অহংকার, আত্মসাৎ ও ঋণ থেকে।” [1]
باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي الدَّيْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَارَقَ الرُّوحُ الْجَسَدَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلَاثٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ مِنْ الْكِبْرِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ
তাখরীজ: নাসাঈ, আল কুবরা ৮৭৬৪; আহমাদ ৫/২৭৬, ২৭৭, ২৮১, ২৮২; হাকিম ২/২৬; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/৩৫৫; তিরমিযী, সিয়ার ১৫৭২; ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪১২; আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/৪৯১ ও বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১১/১১৮।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. যে ব্যক্তি ঋণ রেখে মৃত্যু বরণ করে তার উপর (জানাযা) সালাত আদায় প্রসঙ্গে
২৬৩১. আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। জানাযার সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তির লাশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তিনি বলেনঃ “তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযার সালাত আদায় করো। কেননা সে ঋণগ্রস্ত।” আবূ কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তার ঋণের দায়িত্ব আমার উপর রইল। তিনি বললেনঃ “পরিশোধ করার জন্য তো?” তিনি বলেন, পরিশোধ করার জন্য। এরপর তিনি তার উপর জানাযার সালাত আদায করেন।[1]
باب فِي الصَّلَاةِ عَلَى مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ وَأَبُو الْوَلِيدِ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِرَجُلٍ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ فَإِنَّ عَلَيْهِ دَيْنًا قَالَ أَبُو قَتَادَةَ هُوَ عَلَيَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ بِالْوَفَاءِ قَالَ بِالْوَفَاءِ قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০৫৮, ৩০৫৯, ৩০৬০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৫৯, ১১৬০, ১১৬১ তে। ((আহমাদ ৫/৩০১-৩০২; তিরমিযী, জানাইয ১০৬৯ নাসাঈ, জানাইয; ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪০৭...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৫৬ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির উপর সালাত আদায়ের অনুমতি প্রসঙ্গে
২৬৩২. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! দুনিয়াতে আমি প্রত্যেক মু’মিনেরই সকল মানুষের চেয়ে সর্বাধিক ঘনিষ্ঠ। তাই যখন কোন মু’মিন ঋণ কিংবা অসহায় পরিবার-পরিজন রেখে (মারা) যায়, তবে তার জন্য আমার নিকট বলতে হবে (তাহলে আমি তার পক্ষে তা আদায় করে দেবো।) কেননা, আমিই তার অভিভাবক। আর যদি কোনো ব্যক্তি মাল-সম্পদ রেখে যায়, তাহলে তার যে আত্মীয়-স্বজন থাকে তারা তার ওয়ারিস হবে।”[1]
আব্দুল্লাহ বলেন, ضَيَاعاً অর্থ পরিবার পরিজন বা পোষ্য (কিংবা ভরণপোষনের দায়িত্ব); আর فَلأُدْعَ لَهُ অর্থ: ’আমার নিকট চাইলে আমি তার পক্ষ হতে তা আদায় করবো।’
باب فِي الرُّخْصَةِ فِي الصَّلَاةِ عَلَيْهِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا عَلَى الْأَرْضِ مُؤْمِنٌ إِلَّا أَنَا أَوْلَى النَّاسِ بِهِ فَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَلْأُدْعَ لَهُ فَأَنَا مَوْلَاهُ وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ قَالَ عَبْد اللَّهِ ضَيَاعًا يَعْنِي عِيَالًا وَقَالَ فَلْأُدْعَ لَهُ يَعْنِي ادْعُونِي لَهُ أَقْضِ عَنْهُ
তাখরীজ: বুখারী, কিফালাহ ২২৯৮; মুসলিম, ফারাইয ১৬১৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৪৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০৬৩, ৪৮৫৪, ৫০৫৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. ঋণ গ্রহীতা সাহায্যপ্রাপ্ত
২৬৩৩. আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সাথে থাকেন, যদি না সে আল্লাহর অপছন্দনীয় উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করে থাকে।” রাবী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার কোষাধ্যক্ষকে বলতেন, যাও, আমার জন্য ঋণ গ্রহণ করো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তারপর থেকে আল্লাহ আমার সঙ্গে থাকা ছাড়া একটি রাত কাটাতেও আমি অপছন্দ করি।[1]
باب فِي الدَّائِنُ مُعَانٌ
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُفْيَانَ مَوْلَى الْأَسْلَمِيِّينَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الدَّائِنِ حَتَّى يُقْضَى دَيْنُهُ مَا لَمْ يَكُنْ فِيمَا يَكْرَهُ اللَّهُ قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ يَقُولُ لِخَازِنِهِ اذْهَبْ فَخُذْ لِي بِدَيْنٍ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَبِيتَ لَيْلَةً إِلَّا وَاللَّهُ مَعِي بَعْدَمَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, সাদাকাত ২৪০৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৩/২০৪; বুখারী, কাবীর ৩/৪৭৬; তাবারাণী, আওসাত নং ৪৬০; হাকিম ২/২৩; হাকিম বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ যদিও তারা বর্ণনা করেননি।’ যাহাবী তা বজায় রেখেছেন। হাফিজ (ইবনু হাজার) ফাতহুল বারী ৫/৫৪ তে এ হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন: এর সনদ হাসান।’
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে মায়মুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৭০৮৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৪১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. ধার-কর্জ পরিশোধ করতে হবে
২৬৩৪. সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “কোন ব্যক্তি (ধারে) যা গ্রহণ করেছে, তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তার জন্য সে দায়ী থাকবে।”[1]
باب فِي الْعَارِيَّةُ مُؤَدَّاةٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَهُ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৮ নং ২৮৬২; ইবনু আবী শাইবা ৬/১৪৬ নং ৬০৪; আহমাদ ৫/৮. ১২, ১৩; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫৬১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৬৬;
নাসাঈ, আল কুবরা ৫৭৮৩; ইবনু মাজাহ, সাদাকাহ ২৪০০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ১০২৪; হাকিম ২/৪৭; বাইহাকী, আরিয়াহ ৬/৯০; কুদাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ২৮০, ২৮১।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. আমানত আদায় করা এবং খিয়ানত থেকে বেঁচে থাকা
২৬৩৫. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে তোমার নিকট আমানত রেখেছে তুমি তার নিকট সেই আমানত আদায় করে দাও। আর যে তোমার সঙ্গে খিয়ানত করেছে তার সঙ্গে তুমি খিয়ানত করো না।”[1]
باب فِي أَدَاءِ الْأَمَانَةِ وَاجْتِنَابِ الْخِيَانَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ عَنْ شَرِيكٍ وَقَيْسٍ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَدِّ إِلَى مَنْ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৫৩৫; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৬৪; দারুকুতনী, ৩/৩৫; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৩৩৮; তাবারাণী, আওসাত নং ৩৬১৯; তামামু ফাওয়াইদাহ নং ৫৯৩; কুদাঈ, মুসনাদুশ শিহাব নং ৭৪২ হাকিম ২/৪৬; বাইহাকী, দাওয়াত ওয়াত তিবিইয়ান ১০/২৭১; শুয়াবুল ঈমান ৫২৫২; আবূ নুয়াইম, যিকরু তারীখ আসবাহান ১/২৬৯; আরও দেখুন, তারীখুল কাবীর ৪/৩৬০।
আর এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৭৯২ তে। সেখানে আরও একটি শাহিদ হাদীস রয়েছে। ফলে এর দ্বারা হাদীসটি সহীহতে উন্নীত হয়। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. যে ব্যক্তি কোনো কিছু ভেঙ্গে ফেলবে, তার দায়িত্ব এর অনুরূপ প্রদান করা
২৬৩৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন এক সহধর্মিণীর কাছে ছিলেন। তাঁর অপর এক সহধর্মিণী খাদিমের মারফত এক পাত্রে ’ছারীদ’ (এক প্রকার খাবার) পাঠালেন। তিনি (সেই সহধর্মিণী) আঘাত করে পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তা জোড়া লাগিয়ে) ’ছারীদ’ তুলে সেই পাত্রটিতে রাখতে লাগলেন এবং আর তিনি (সাথীদেরকে) বলেন, “তোমরা খাও, তোমাদের মায়ের আত্মমর্যাদায় আঘাত লেগেছে।” যে পর্যন্ত তিনি (তাঁর সহধর্মিণী) একটি ভাল পাত্র না নিয়ে আসলেন, সে পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা করলেন। এরপর তিনি পাত্রটি নিয়ে যার পাত্রটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিলো, তাকে প্রদান করলেন।[1] আব্দুল্লাহ বলেন, আমার মতও তাই।
باب مَنْ كَسَرَ شَيْئًا فَعَلَيْهِ مِثْلُهُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ أَهْدَى بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِ قَصْعَةً فِيهَا ثَرِيدٌ وَهُوَ فِي بَيْتِ بَعْضِ أَزْوَاجِهِ فَضَرَبَتْ الْقَصْعَةَ فَانْكَسَرَتْ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْخُذُ الثَّرِيدَ فَيَرُدُّهُ فِي الصَّحْفَةِ وَهُوَ يَقُولُ كُلُوا غَارَتْ أُمُّكُمْ ثُمَّ انْتَظَرَ حَتَّى جَاءَتْ قَصْعَةٌ صَحِيحَةٌ فَأَخَذَهَا فَأَعْطَاهَا صَاحِبَةَ الْقَصْعَةِ الْمَكْسُورَةِ قَالَ عَبْد اللَّهِ نَقُولُ بِهَذَا
তাখরীজ: বুখারী, মুযালিম ২৪৮১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৩৯, ৩৭৭৪, ৩৮৪৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু সম্পর্কে
২৬৩৭. সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু রবীয়াহ আস সাকাফী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর দু’পুত্র আমর ও আসিম থেকে বর্ণিত যে, সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একটি চামড়ার ব্যাগ পেলেন এবং তা নিয়ে উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট আসলেন। তখন তিনি বললেন, তুমি এক বছর যাবত এটি (লোকদেরকে) অবহিত করতে থাকো। এরপর যদি তা কেউ (তার নিজের বলে) চিনে নেয়, তবে তো হলোই। তা না হলে সেটি তোমার। কিন্তু তা (কার তা) জানা না যাওয়ায় তিনি পরের বছরও তা নিয়ে হাজ্জের সময়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তার নিকট বর্ণনা করলেন। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন: এটি তুমি নিয়ে যাও। কেননা, এর নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি বললেন, আমার এর কোনো প্রয়োজন নেই। তখন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তা নিয়ে বায়তুল মালে জমা দিলেন।[1]
باب فِي اللُّقَطَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ عَمْرٍو وَعَاصِمٍ ابْنَيْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ الثَّقَفِيِّ أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَجَدَ عَيْبَةً فَأَتَى بِهَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَالَ عَرِّفْهَا سَنَةً فَإِنْ عُرِفَتْ فَذَاكَ وَإِلَّا فَهِيَ لَكَ فَلَمْ تُعْرَفْ فَلَقِيَهُ بِهَا فِي الْعَامِ الْمُقْبِلِ فِي الْمَوْسِمِ فَذَكَرَهَا لَهُ فَقَالَ عُمَرُ هِيَ لَكَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَنَا بِذَلِكَ قَالَ لَا حَاجَةَ لِي بِهَا فَقَبَضَهَا عُمَرُ فَجَعَلَهَا فِي بَيْتِ الْمَالِ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১৩৭, ১৩৮; ; মুশকিলিল আছার নং ৪৬৯৫, ৪৬৯৬; নাসাঈ, আল কুবরা ৫৮১৮বাইহাকী, লুকাতাহ ৬/১৮৭।
পরিচ্ছেদঃ ৬০. হজ্জে কোন বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া নিষিদ্ধ
২৬৩৮. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, মক্কা বিজয়ের কালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেনঃ “আল্লাহ তা’আলা মক্কা থেকে হাতী (বাহিনী) কে রোধ করেছেন এবং মক্কাবাসীদের উপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মু’মিনগনকে (যুদ্ধের মাধ্যমে) ক্ষমতাশালী করেছেন। জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারো জন্য মক্কা (নগরীতে লড়াই করা) হালাল করা হয়নি এবং আমার পরও কারো জন্য হালাল হবে না। জেনে রাখ, আমার এই (কথা বলার) মুহূর্তে আবার তা হারাম হয়ে গেছে। সেখানকার কোন কাঁটা ও কোন গাছপালা কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা কোন বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া যাবেনা। তবে ঘোষণা করার জন্য নিতে পারবে।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ لُقَطَةِ الْحَاجِّ
أَخْبَرَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ حَدَّثَنَا حَرْبُ بْنُ شَدَّادٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّهُ عَامَ فُتِحَتْ مَكَّةُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْفِيلَ وَسَلَّطَ عَلَيْهِمْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُؤْمِنِينَ أَلَا وَإِنَّهَا لَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي وَلَا تَحِلُّ لِأَحَدٍ بَعْدِي أَلَا وَإِنَّهَا سَاعَتِي هَذِهِ حَرَامٌ لَا يُخْتَلَى خَلَاهَا وَلَا يُعْضَدُ شَجَرُهَا وَلَا تُلْتَقَطُ سَاقِطَتُهَا إِلَّا لِمُنْشِدٍ
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ১১২; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৫৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৫৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬১. হারানো বস্তু সম্পর্কে
২৬৩৯. জারুদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য।”[1]
باب فِي الضَّالَّةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ عَنْ الْجَارُودِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ২/২৬৫ নং ২১০৯ (সনদ সহীহ), ২১১০, ২১১১, ২১১২, ২১১৩, ২১১৪, ২১১৫, ২১১৬, ২১১৭; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১৬৪; আব্দুর রাযযাক নং ১৮৬০৩; বাইহাকী, লুকাতাহ ৬/১৯১।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১৫৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮৭; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৭০ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৯২৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬১. হারানো বস্তু সম্পর্কে
২৬৪০. জারুদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য। মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য। মুসলিমের হারানো বস্তু জাহান্নামের লেলিহান (অগ্নি) শিখা সমতুল্য। তোমরা এর নিকটবর্তী হবে না।” তখন এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা যে হারানো বস্তু কুড়িয়ে পাই, (তা কী করতে হবে)? তিনি বললেন, “এর ঘোষণা দিতে থাকবে; আর তা গোপন করবে না এবং তা লুকিয়ে রাখবে না। এরপর যদি এর মালিক আসে, তবে তাকে তা অর্পণ করবে। আর তা না হলে তা আল্লাহর মাল, আল্লাহ তা যাকে ইচ্ছা দান করবেন।”[1]
باب فِي الضَّالَّةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْجَذْمِيِّ عَنْ الْجَارُودِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ لَا تَقْرَبَنَّهَا قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ اللُّقَطَةُ نَجِدُهَا قَالَ أَنْشِدْهَا وَلَا تَكْتُمْ وَلَا تُغَيِّبْ فَإِنْ جَاءَ رَبُّهَا فَادْفَعْهَا إِلَيْهِ وَإِلَّا فَمَالُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর নং ২১১৯, ২১২০, ২১২১, ২১২২;
তাখরীজের জন্য দেখুন, আগের টীকাটি এবং মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৯২৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ (মিথ্যা) কসমের মাধ্যমে দখল করে তার সম্পর্কে
২৬৪১. আবূ উমামা আল-হারিসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ “কোন ব্যক্তি অপর মুসলিমের প্রাপ্য স্বত্ব মিথ্যা শপথের মাধ্যমে কর্তন করে নিলে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করে দিবেন এবং জান্নাত হারাম করে দিবেন। উপস্থিত লোকজনের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি তা সামান্য জিনিস হয়। তিনি বললেনঃ “যদি তা পিলু গাছের একটি কর্তিত ডালও হয়।”[1]
باب فِيمَنْ اقْتَطَعَ مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَعْقُوبَ الْكُوفِيُّ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ مَعْبَدِ بْنِ كَعْبٍ السَّلَمِيِّ عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ وَإِنْ قَضِيبٌ مِنْ أَرَاكٍ
তাখরীজ: মুসলিম, ঈমান ১৩৭।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৮৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আবূ আওয়ানাহ ১/৩২; বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ২০০৬১; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৯/৩৯১; ইবনু আবী শাইবা ৭/৩ নং ২১৮৪। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ৫১১৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫০৮৪, ৫০৮৫, ৫০৮৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের সম্পদ (মিথ্যা) কসমের মাধ্যমে দখল করে তার সম্পর্কে
২৬৪২. (অপর সূত্রে) আবূ উমামা আল-হারিসী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]
باب فِيمَنْ اقْتَطَعَ مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَخَاهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ يُحَدِّثُ أَنَّ أَبَا أُمَامَةَ الْحَارِثِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৭/৩ নং ২১৮৪; মুসলিম, ঈমান ১৩৭ (২১৯); ইবনু মাজাহ, আহকাম ২৩২৪; নাসাঈ, আল কুবরা ৫৯৮১;
তাবারানী, কাবীর নং ৭৯৯। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. মিথ্যা কসম সম্পর্কে
২৬৪৩. আবূ যারর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ্তা’আলা কিয়ামত দিবসে তিনপ্রকার লোকের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের তিনি পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব।” আমি বললাম এরা কারা? ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এরা তো হতাশা গ্রস্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ। তিনি এর পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন আমি বললাম, এরা কারা? ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি তার ইযার (লুঙ্গি, পাজামা- প্যান্ট) (গোড়ালীর নীচে) ঝুলিয়ে পরিধান করে; যে অনুগ্রহ করার করার পর খোটা দেয়; আর যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে তার পন্য বিক্রয় করে।”[1]
باب فِي الْيَمِينِ الْكَاذِبَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَحَجَّاجٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُدْرِكٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ يُحَدِّثُ عَنْ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمْ اللَّهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ خَابُوا وَخَسِرُوا فَأَعَادَهَا فَقُلْتُ مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ الْمُسْبِلُ وَالْمَنَّانُ وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ كَاذِبًا
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৪৮, ১৫৮, ১৬২, ১৭৭;ইবনু আবী শাইবা ৭/২২ নং ২২৪৩, ৮/৩৮৯ নং ৪৮৬৫ ও ৯/৯২ নং ৬৬৪২; মুসলিম, ঈমান ১০৬; আবূ দাউদ, লিবাস ৪০৮৭, ৪০৮৮; তিরমিযী, বুয়ূ ১২১১; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/২৪৫; বাইহাকী, বুয়ূ ৫/২৬৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাত ২২০৮ (যয়ীফ সনদে); আবূ আওয়ানাহ ১/৩৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/১৩০; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/৩৭৮-৩৭৯।
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ জমিও (অন্যায়ভাবে) দখল করে
২৬৪৪. সাঈদ ইবনু যায়দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কারো এক বিঘত জমিও জুলুম করে কেড়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেয়া হবে।”[1]
باب مَنْ أَخَذَ شِبْرًا مِنْ الْأَرْضِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَهْلٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ ظَلَمَ مِنْ الْأَرْضِ شِبْرًا فَإِنَّهُ يُطَوَّقُهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ
তাখরীজ: বুখারী, মাযালিম ১১২; মুসলিম, মাসাকাত ১৬১০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৪৯, ৯৫০, ৯৫১, ৯৫২, ৯৫৩, ৯৫৪, ৯৫৫, ৯৫৬, ৯৫৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১৯৪, ৩১৯৫, ৫১৪১, ৬৯৯৩, ৬৯৯৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ৮৩ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. যে ব্যক্তি পতিত জমি আবাদ করবে, তা তারই হবে
২৬৪৫. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “পড়ে থাকা (মালিকানাহীন) জমিকে যদি কোন লোক আবাদ করে তাহলে এতে তার জন্য বিনিময় (সাওয়াব) রয়েছে; আর যে সকল রিযিক সন্ধানী প্রাণী এ জমির ফসল থেকে খাবে, তা ঐ ব্যক্তির জন্য সাদাকারূপে গণ্য হবে।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন: ’আফিয়াহ’ অর্থ: পাখি ও অন্যান্য প্রাণীকুল।
باب مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَهِيَ لَهُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَخْبَرَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيْتَةً فَلَهُ فِيهَا أَجْرٌ وَمَا أَكَلَتْ الْعَافِيَةُ مِنْهَا فَلَهُ فِيهَا صَدَقَةٌ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْعَافِيَةُ الطَّيْرُ وَغَيْرُ ذَلِكَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০৫, ২১৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০২, ৫২০৩, ৫২০৪ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৩৬, ১১৩৭, ১১৩৮ তে। ((প্রথম অংশ বর্ণনা করেছেন: তিরমিযী, আহকাম ১৩৭৮, ১৩৭৯; আবূ দাউদ, খারাজ ওয়াল ইমারাহ ৩০৭৪; আহমাদ ৩/৩০৪, ৩৩৮ ও অন্যান্যরা। আর দ্বিতীয় অংশের শাহিদ বর্ণনা রয়েছে: আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে তিরমিযী, আহকাম ১৩৮২ তে, যেখানে অনাবাদী জমি’র কথা উল্লেখ ছাড়াই জমিতে চাষাবাদের ফসল হতে মানুষ অথবা পশু-পাখি খেয়ে নিলে তা সাদাকা স্বরুপ হবে বলে বর্ণিত হয়েছে। তিরমিযী বলেন: এ বাবে আবূ আইয়ুব, উম্মু মুবাশ্বির ও যাইদ ইবনু খালিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, আর আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. জায়গির সম্পর্কে
২৬৪৬. আবইয়াদ ইবনু হাম্মাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। ’সাদ্দ মা’রিব’ নামক লবণ খনির কিছু জমি জায়গিররূপে দেওয়ার জন্য তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন করলেন। ফলে তিনি তাকে সেটি জায়গিররূপে প্রদান করলেন। অতঃপর আকরা ইবনু হাবিস আত-তামীমী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এসে বলেন, ইয়া নবীয়াল্লাহ! জাহিলী যুগে আমি লবণের খনিটিতে গিয়েছিলাম। ঐ এলাকায় কোন পানি নাই। যে ব্যক্তিই সেখানে যায় সে-ই কিছু লবণ সংগ্রহ করে নেয়। তা প্রবাহিত পানির মতই (স্থায়ী)। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবইয়াদের নিকট লবনের জমির চুক্তি প্রত্যাহার করতে চাইলেন।
তখন আমি বললাম: আমি আপনার সাথে চুক্তি প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত এই শর্তে যে, সেটিকে আপনি আমার পক্ষ থেকে সাদাকা হিসেবে গণ্য করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তা তোমার পক্ষ থেকে সাদাকা হিসাবেই গণ্য হবে। আর তা তো প্রবহমান পানির ন্যায়, যে-ই সেখানে যাবে, সে তা নিতে পারবে।”
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে সেটি ফেরত নেয়ার বিনিময়ে তাকে ’জাউফি মুরাদ’ নামক স্থানের এক খন্ড জমি ও একটি খেজুর বাগান জায়িগিররূপে দান করেন।
অধস্তন রাবী ফারাজ বলেন, সেটা বর্তমানেও সেভাবেই আছে। যে-ই সেখানে যায়, সে তা থেকে সংগ্রহ করে।[1]
باب فِي الْقَطَائِعِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَلْقَمَةَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ السَّبَائِيُّ الْمَأْرِبِيُّ حَدَّثَنِي عَمِّي ثَابِتُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبْيَضَ أَنَّ أَبَاهُ سَعِيدَ بْنَ أَبْيَضَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ اسْتَقْطَعَ الْمِلْحَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي يُقَالُ لَهُ مِلْحُ شَذَّا بِمَأْرِبَ فَأَقْطَعَهُ ثُمَّ إِنَّ الْأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ التَّمِيمِيَّ قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي قَدْ وَرَدْتُ الْمِلْحَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَهُوَ بِأَرْضٍ لَيْسَ بِهَا مَاءٌ وَمَنْ وَرَدَهُ أَخَذَهُ وَهُوَ مِثْلُ مَاءِ الْعِدِّ فَاسْتَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَبْيَضَ فِي قَطِيعَتِهِ فِي الْمِلْحِ فَقُلْتُ قَدْ أَقَلْتُهُ عَلَى أَنْ تَجْعَلَهُ مِنِّي صَدَقَةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ مِنْكَ صَدَقَةٌ وَهُوَ مِثْلُ مَاءِ الْعِدِّ مَنْ وَرَدَهُ أَخَذَهُ قَالَ وَقَطَعَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْضًا وَكَذَا بِالْجَوْفِ جَوْفِ مُرَادٍ مَكَانَهُ حِينَ أَقَالَهُ مِنْهُ قَالَ الْفَرَجُ فَهُوَ عَلَى ذَلِكَ مَنْ وَرَدَهُ أَخَذَهُ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, খারাজ ৩০৬৪, ৩০৬৬; দারুকুতনী ৩/৭৬; ইবনু মাজাহ, রুহন ২৪৭৫; তিরমিযী, আহকাম ১৩৮০; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ২৪৭০; তাবারাণী, কাবীর ১/২৭৮ নং ৮০৮; দারুকুতনী ৪/২২১; বুখারী, কাবীর ২/৫৯; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ ৫৯; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ১২২২২; আবী উবাইদ, কিতাবুল আমওয়াল ৬৮৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৯৯ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৪০, ১১৪২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. জায়গির সম্পর্কে
২৬৪৭. আলকামাহ ইবনু ওয়ায়িল হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক খন্ড জমি জায়গীর হিসেবে দান করেন। তিনি (রাবী) বলেন, তখন তিনি মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে আমার সাথে পাঠান এবং বলেন, “এটি তাকেই দিয়ে দাও।”[1] ইয়াহইয়া বলেন, মুহাম্মদ ইবনু বাশার গুনদার হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
باب فِي الْقَطَائِعِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْطَعَهُ أَرْضًا قَالَ فَأَرْسَلَ مَعِي مُعَاوِيَةَ قَالَ أَعْطِهَا إِيَّاهُ قَالَ يَحْيَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২০৫ তে। এটি মাওয়ারিদ-এর শর্তানুযায়ীও, তবে হাইছামী তাতে এটি বর্ণনা করেননি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. বৃক্ষরোপণের ফযীলত সম্পর্কে
২৬৪৮. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যাইদ ইবনু হারিছাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর স্ত্রী উম্মু মুবাশশির আমার নিকট বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দেয়াল ঘেরা বাগানে প্রবেশ করেন। তিনি বললেনঃ “হে উম্মু মুবাশশির! এই গাছগুলি কে লাগিয়েছে, কোন মুসলিম না কাফের?” আমি বললাম, মুসলিম। তিনি বললেনঃ “যখন কোন মুসলিম কোন গাছ লাগায় আর তা থেকে কোন মানুষ, কিংবা চতুষ্পদ জন্তু অথবা কোন পাখী খায়, তা তার জন্য সদকা হিসাবে গন্য হবে।”[1]
باب فِي فَضْلِ الْغَرْسِ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا أَبُو سُفْيَانَ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ حَدَّثَتْنِي أُمُّ مُبَشِّرٍ امْرَأَةُ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَائِطٍ لِي فَقَالَ يَا أُمَّ مُبَشِّرٍ أَمُسْلِمٌ غَرَسَ هَذَا أَمْ كَافِرٌ قُلْتُ مُسْلِمٌ فَقَالَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا فَيَأْكُلُ مِنْهُ إِنْسَانٌ أَوْ دَابَّةٌ أَوْ طَيْرٌ إِلَّا كَانَتْ لَهُ صَدَقَةٌ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৬২, ৪২০; মুসলিম ১৫৫২, মিশকাত।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২১৩, ২২৪৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৩৬৮, ৩৩৬৯ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ১৩১১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. (পিলু গাছের ডাল ও পাতা লোকদের থেকে) সংরক্ষণ করা সম্পর্কে
২৬৪৯. আবয়ায ইবনু হাম্মাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পিলু বৃক্ষ সংরক্ষণ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেনঃ “পিলু বৃক্ষ সংরক্ষণ করা যাবে না।” তখন তিনি (ইবন হাম্মাল) বলেনঃ আমার বেড়ার মধ্যকার পীলু গাছ? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ পিলু বৃক্ষ সংরক্ষণ করা যাবে না।”[1] রাবী ফারাজ বলেনঃ ইবনু আবইয়াদ ’আমার বেড়ার মধ্যকার’ দ্বারা বুঝিয়েছেন: ঐ শস্য ক্ষেতকে, যার চারদিক থেকে ঘেরা ছিল।
باب فِي الْحِمَى
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمِّي ثَابِتُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ سَعِيدٍ عَنْ جَدِّهِ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ حِمَى الْأَرَاكِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حِمَى فِي الْأَرَاكِ فَقَالَ أَرَاكَةٌ فِي حِظَارِي فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا حِمَى فِي الْأَرَاكِ قَالَ فَرَجٌ يَعْنِي أَبْيَضُ بِحِظَارِي الْأَرْضَ الَّتِي فِيهَا الزَّرْعُ الْمُحَاطُ عَلَيْهَا
তাখরীজ: আবূ দাউদ, খারাজ ৩০৬৬; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ২৪৭২। এটি গত ২৬৪৩ নং হাদীসের অংশবিশেষ। সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. পানি বিক্রয় করা নিষিদ্ধ সম্পর্কে
২৬৫০. আবুল মিনহাল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াস ইবনে আবদ আল-মুযানী-যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তাকে আমি বলতে শুনেছি যে, তিনি (কিছু লোককে পানি বিক্রয় করতে দেখে) বলেন, তোমরা পানি বিক্রয় করো না। কেননা, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পানি বিক্রয় করতে নিষেধ করতে শুনেছি।[1] আমর ইবনু দীনার বলেন, আমি জানি না কোন্ পানি। তিনি বলেন: তিনি বলতেন: আমি জানি না যে তা প্রবহমান পানি, নাকি (কুপের) পানের পানি।
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْمَاءِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ قَالَ سَمِعْتُ إِيَاسَ بْنَ عَبْدٍ الْمُزَنِيَّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَبِيعُوا الْمَاءَ فَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنْ بَيْعِ الْمَاءِ وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ لَا نَدْرِي أَيَّ مَاءٍ قَالَ يَقُولُ لَا أَدْرِي مَاءً جَارِيًا أَوْ الْمَاءَ الْمُسْتَقَى
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৫২ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১১৭ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ৯৩৬ তে। ((আহমাদ ৩/৪১৭, ৪/১৩৮; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪৭৮; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭১; নাসাঈ, বুয়ূ, নং ৪৬৪১; ইবনু মাজাহ ২৪৭৬; হাকিম ২/৬১ ...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৭৬ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭০. যে সকল বিষয় থেকে বারণ করা হালাল নয়
২৬৫১. বুহায়সাহ (রহঃ) তার পিতার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি (তার পিতা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি নিয়ে তাঁর জামার অভ্যন্তরে ঢুকে যান--(বর্ণনাকারী উছমান বলেছেন) এবং তাঁর দেহ মুবারকের সংগে সেঁটে যান। এ সময় তিনি বলেনঃ এমন কোন বস্তু আছে যা দিতে নিষেধ করা যায় না? তিনি বলেনঃ “পানি এবং লবন।” এরপর তিনি বলেনঃ এমন কোন বস্তু আছে যা দিতে নিষেধ করা যায় না? তিনি বলেনঃ “(তা) এই যে, তুমি যত ভাল কাজ করবে, তা তোমার জন্য ততই উত্তম।”
এরপর তিনি বলেনঃ এমন কোন বস্তু আছে যা দিতে নিষেধ করা যায় না? তিনি বলেনঃ “(তা) এই যে, তুমি যত ভাল কাজ করবে, তা তোমার জন্য ততই উত্তম।” (এভাবে বলতে বলতে) তিনি ’লবন ও পানি’র কথায় এসে থামলেন।[1]আব্দুল্লাহ কে বলা হলো, আপনিও কি তাই বলেন? তখন তিনি তার মাথা দ্বারা ইশারা করলেন।
باب فِي الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ عَنْ سَيَّارٍ رَجُلٍ مِنْ فَزَارَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بُهَيْسَةَ عَنْ أَبِيهَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَأْذَنَهُ فَدَخَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَمِيصِهِ وَقَدْ قَالَ عُثْمَانُ فَالْتَزَمَهُ فَقَالَ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ فَقَالَ الْمِلْحُ وَالْمَاءُ قَالَ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ إِنْ تَفْعَلْ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ قَالَ مَا الشَّيْءُ الَّذِي لَا يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ إِنْ تَفْعَلْ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ وَانْتَهَى إِلَى الْمِلْحِ وَالْمَاءِ قِيلَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهِ فَأَوْمَأَ بِرَأْسِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১৭৭ তে। এছাড়াও, ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৯/৫৪;
((আহমাদ ৩/৪৮০, ৪৮১; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪৭৬; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭১;...।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৭৭ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭১. নাবী (ﷺ) খায়বারে যেভাবে (জমি ভাগে) চাষাবাদ করিয়ে নিয়েছিলেন
২৬৫২. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের (বাসীদের) গাছের ফল অথবা ক্ষেতের ফসলের অর্ধেক ভাগে (চাষাবাদের) কাজ করিয়ে নেন।[1]
باب إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَلَ خَيْبَرَ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَلَ خَيْبَرَ بِشَطْرِ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا مِنْ ثَمَرَةٍ أَوْ زَرْعٍ
তাখরীজ: বুখারী, আল হারছু ওয়াল মাযারা’আহ ২৩২৮, ২৩২৯, ২৩৩১; মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৫১; আহমাদ ২/১৭; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪০৮; তিরমিযী, আহকাম ১৩৮৩; ইবনু আবী শাইবা, ৬/৩৪৩-৩৪৪ নং ১২৯০, ১৪/২৮৬ নং ১৮৩৬২; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৬/৪৭৩।
পরিচ্ছেদঃ ৭২. মুখাবারাহ (এক প্রকার ভাগে চাষ বা বর্গাচাষ) সম্পর্কে
২৬৫৩. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বর্গা চাষ হতে নিষেধ করার পূর্বে আমরা দুই কিংবা তিন বছরের জন্য এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ ফসলের ও (এমনকি) খড়ের শর্তে বর্গা চাষ করতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন, “যে ব্যক্তির নিকট জমি রয়েছে, সে যেন নিজে চাষ করে অথবা নিজে চাষ করতে অপছন্দ করলে তা যেন তার ভাইকে দিয়ে দেয়। যদি সে তা তার ভাইকে দিয়ে দিতে অপছন্দ করে, তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الْمُخَابَرَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ كُنَّا نُخَابِرُ قَبْلَ أَنْ يَنْهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْخِبْرِ بَسَنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثٍ عَلَى الثُّلُثِ وَالشَّطْرِ وَشَيْءٍ مِنْ تِبْنٍ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَحْرُثْهَا فَإِنْ كَرِهَ أَنْ يَحْرُثَهَا فَلْيَمْنَحْهَا أَخَاهُ فَإِنْ كَرِهَ أَنْ يَمْنَحَهَا أَخَاهُ فَلْيَدَعْهَا
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, মাযারাআ’হ ২৩৪০; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৩৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৪৪, ১৯৯৬, ২০৩৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৯৫ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ১৩১৮, ১৩১৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. এক তৃতীয়াংশ ও এক চতুর্থাংশ ফসলের ভাগে বর্গাচাষ
২৬৫৪. আবদুল্লাহ ইবনু সায়িব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু মা’কিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ’মুযারিয়া’ (ভাগচাষ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমাকে সাবিত ইবনু দাহহাক আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’মুযারাআ’ (বর্গা বা ভাগে চাষ) করতে নিষেধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الْمُزَارَعَةِ فِي الثُّلُثِ وَالرُّبْعِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَعْقِلٍ عَنْ الْمُزَارَعَةِ فَقَالَ أَخْبَرَنِي ثَابِتُ بْنُ الضَّحَّاكِ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُزَارَعَةِ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهِ قَالَ لَا أَقُولُ بِالْأَوَّلِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৬/৩৪৪-৩৪৫ নং ১২৯৩; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৯; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১০৭; আহমাদ ৪/৩৩; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৮/১৮২; বাইহাকী, মুযারা’আহ ৬/১৩৩।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. দু’বছরের জন্য জমি বিক্রয় করার নিষেধাজ্ঞা
২৬৫৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পতিত জমি দুই বা তিন বছরের জন্য বিক্রি করতে (ভাড়ায় দিতে) নিষেধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ بَيْعِ الْأَرْضِ سِنِينَ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْأَرْضِ الْبَيْضَاءِ سَنَتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৩; মুসলিম, বুয়ূ ১৫৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০৬, ১৮৩৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৯৯২, ৫০০০, ৫১৯২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. সোনা ও রূপা (টাকা) দ্বারা জমি ইজারা বা ভাড়া দেওয়া অনুমতি প্রসঙ্গে
২৫৫৬. সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামানায় নালার নিকটবর্তী কৃষি উপযোগী জমি এবং যেখানে আপনা-আপনি পানি উঠতো, তা বর্গা দিতাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং আমাদের এরূপ অনুমতি কিংবা অবকাশ দেন যে, আমরা যেন সোনা বা রূপার বিনিময়ে জমি বর্গা দেই।[1]
باب فِي الرُّخْصَةِ فِي كِرَاءِ الْأَرْضِ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عِكْرِمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَبِيبَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ كُنَّا نُكْرِي الْأَرْضَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا عَلَى السَّوَاقِي مِنْ الزَّرْعِ وَبِمَا سَعِدَ مِنْ الْمَاءِ مِنْهَا فَنَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ وَأَذِنَ لَنَا أَوْ قَالَ رَخَّصَ لَنَا فِي أَنْ نُكْرِيَهَا بِالذَّهَبِ وَالْوَرِقِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮১১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১১৩৩ তে।((আহমাদ ১/১৭৮, ১৮২; আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৩৯১; নাসাঈ, মুযারা’আহ ৩৮৯৪; বাইহাকী, কুবরা ৬/১৩৩।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৮২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. অনুমানে (ক্রয়-বিক্রয়) সম্পর্কে
২৬৫৭. আব্দুর রহমান ইবন মাসউদ ইবন নিয়ার (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবন আবু হাসমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একবার আমাদের বৈঠকে আসেন এবং হাদীছ বর্ণনা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ তোমরা (যাকাত আদায়কারী) যদি ফসলাদির অনুমান কর তবে সে হারে (যাকাত) গ্রহণ করবে এবং (যাকাত পরিমাণ থেকেও) এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ (যাকাত দাতার জন্য) ছেড়ে দিবে। যদি এক তৃতীয়াংশ না ছাড় তবে এক চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে।”[1]
باب فِي الْخَرْصِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَسْعُودِ بْنِ نِيَارٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ إِلَى مَجْلِسِنَا فَحَدَّثَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا خَرَصْتُمْ فَخُذُوا وَدَعُوا دَعُوا الثُّلُثَ فَإِنْ لَمْ تَدَعُوا الثُّلُثَ فَدَعُوا الرُّبُعَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৮০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭৯৮ তে।((আহমাদ ৩/৪৪৮, ৪/২-৩,৩;; আবূ দাউদ, যাকাত ১৬০৫; তিরমিযী, যাকাত ৬৪৩; নাসাঈ, যাকাত ২৪৯১; বাইহাকী, কুবরা ৪/১২৩; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ২৩১৯, ২৩২০; হাকিম ১/৪০২।–ফাতহুল মান্নান হা/২৭৮৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. দাসীর উপার্জন নিষিদ্ধ
২৬৫৮. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাসীদের (অবৈধ) উপার্জন নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ كَسْبِ الْأَمَةِ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ كَسْبِ الْإِمَاءِ
তাখরীজ: বুখারী, ইজারাহ ২২৮৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫৮, ৫১৫৯ তে। ((আবূ দাউদ, বুয়ূ ৩৪২৫; আহমাদ ২/২৮৭, ৩৮২, ৪৩৭-৪৩৮, ৪৫৪- ফাতহুল মান্নান হা/২৭৮৪ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/১৬৩; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১০/৪৩৩।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. হজ্জাম বা শিঙ্গা লাগানোর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির উপার্জন করার নিষেধাজ্ঞা
২৬৫৯. রাফি ইবনু খাদীজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক ঘৃণ্য, পতিতার উপার্জন ঘৃণ্য, কুকুরের বিক্রি-মূল্য ঘৃণ্য।”[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيثٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ
তাখরীজ: মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৬৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫২, ৫১৫৩ তে। ((আহমাদ ৩/৪৬৪, ৪৬৫, ৪/১৪০, ১৪১; আবু দাউদ, বুয়ূ ৩৪২১; তিরমিযী, বুয়ূ ১২৭৫; নাসাঈ, সাইদ ওয়াল যাবাইহ নং ৪২৯৪…।-ফাতহুল মান্নান, হা/২৭৮৫ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৪/৪২; হাকিম ২/৪২; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ২/২২৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/৫২।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. শিঙ্গা লাগিয়ে উপার্জন করার অনুমতি দান সম্পর্কে
২৬৬০. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ তায়বা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিঙ্গা লাগালেন তখন তিনি তাকে দু’ সা’আ পরিমাণ খাদ্য দিতে আদেশ করলেন।[1]
باب فِي الرُّخْصَةِ فِي كَسْبِ الْحَجَّامِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ وَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১০২; মুসলিম, মাসাকাহ ১৫৭৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৩৫, ৩০৪১, ৩০৪৮, ৩৭০৯, ৩৭১০, ৩৭৫৮, ৩৮৫০, ৪২২৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৫১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. ষাঁড় বা পাঠা কর্তৃক পশুকে পাল দিয়ে এর মুল্য গ্রহণ করা নিষেধ
২৬৬১. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ষাঁড় বা পাঁঠা (কর্তৃক পশুকে) পাল দিয়ে এর মুল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ثَمَنِ عَسْبِ الْفَحْلِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৭১ ও আবী ইয়া’লার মু’জামুশ শুয়ূখ নং ১৯৭ তে।
((নাসাঈ, আল কুবরা, বুয়ূ নং ৪৬৯৮, ৪৬৯৯; ইবনু মাজাহ, তিজারাত নং ২১৬০; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/৫৩।-ফাতহুল মান্নান, হা/২৭৮৭ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা, ৭/১৪৫, ১৪৬।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. ষাঁড় বা পাঠা কর্তৃক পশুকে পাল দিয়ে এর মুল্য গ্রহণ করা নিষেধ
২৬৬২. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ষাঁড় বা পাঠা (কর্তৃক পশুকে) পাল দিয়ে এর মুল্য এবং পতিতার মজুরী গ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
باب فِي النَّهْيِ عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ الْمَهْرِيِّ قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ وَأَجْرِ الْمُومِسَةِ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৩২, ৪১৫; বুখারী, কাবীর তা’লিক হিসেবে ৭/১১৫।
পরিচ্ছেদঃ ৮১. যে ব্যক্তি কোনো ঘরবাড়ি বা ভূসম্পত্তি বিক্রয় করে, কিন্তু তার মুল্য যদি অনুরূপ (বাড়ি বা সম্পত্তি ক্রয় করার)-এর ব্যাপারে ব্যয় না করে
২৬৬৩. সাঈদ ইবনু হুরাইস-যিনি সাহাবা হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন- তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি কোনো ঘরবাড়ি বা ভূসম্পত্তি বিক্রয় করে, তবে তা (মুল্য) যদি অনুরূপ (বাড়ি বা সম্পত্তি ক্রয় করার)-এর ব্যাপারে ব্যয় না করে, তবে তা (তার বাড়ি বিক্রয়) বরকত লাভের যোগ্য হবে না।”[1]
باب فِيمَنْ بَاعَ دَارًا فَلَمْ يَجْعَلْ ثَمَنَهَا فِي مِثْلِهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ هُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عُمَيْرٍ يُحَدِّثُ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ حُرَيْثٍ عَنْ أَخِيهِ سَعِيدِ بْنِ حُرَيْثٍ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ بَاعَ مِنْكُمْ دَارًا أَوْ عَقَارًا قَمِنٌ أَنْ لَا يُبَارَكَ لَهُ إِلَّا أَنْ يَجْعَلَهُ فِي مِثْلِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৪৫৮ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতুত তারীখ ১/২৯৪; তাবারাণী, কাবীর ৬/৬৫ নং ৫৫২৬; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ৭০৯, ৭১০; ইবনুল কানি, মু’জামুস সাহাবাহ তারজমাহ নং ৩০৮।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে কয়েকটি যা এটিকে শক্তিশালী করে। আমরা এগুলি তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৬২৭-৬৬৩২।
পরিচ্ছেদঃ ৮২. কূপের নির্ধারিত স্থানের সীমা সম্পর্কে
২৬৬৪. আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “কোনো ব্যক্তি যখন কোনো কূপ খনন করে, তখন তার গবাদিপশুকে পানি পান করানোর পর বিশ্রাম গ্রহণের জন্য কূপের চারপাশে চল্লিশ হাত জায়গার মধ্যে অন্য কারো জন্য অপর কোনো কুপ খনন করা উচিত নয়।”[1]
باب فِي حَرِيمِ الْبِئْرِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عَرْعَرَةُ بْنُ الْبِرِنْدِ السَّامِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ احْتَفَرَ بِئْرًا فَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَحْفِرَ حَوْلَهُ أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا عَطَنًا لِمَاشِيَتِهِ
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, রুহূন ২৪৮৬।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৭০৫ তে।
আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৪/২৯১-২৯৩; তালখীসুল হাবীর ৩/৬৩; আবী উবাইদ, আল আমওয়াল নং ৭১৮; দারুকুতনী, আল ইলাল ১০/৪৬ নং ১৮৪৮; বাইহাকী ৬/১৫৫; আল মা’রিফাহ ৯/৩১-৩২; হাকিম ৪/৯৭; দারুকুতনী, ৪/২২০।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. শুফ'আ বা অগ্রে ক্রয়াধিকার সম্পর্কে
২৬৬৫. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাদের (ক্রেতা-বিক্রেতার) উভয়ের (বাড়ীতে) যাতায়াতের রাস্তা এক হয়, তাদের মধ্যে শুফ’আ (ক্রয়ে অগ্রাধিকার)-’র ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যদি তার সাথী (প্রতিবেশী) উপস্থিত না থাকে, তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”[1]
باب فِي الشُّفْعَةِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الشُّفْعَةِ إِذَا كَانَ طَرِيقُهُمَا وَاحِدًا قَالَ يُنْظَرُ بِهَا وَإِنْ كَانَ صَاحِبُهَا غَائِبًا
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ১৪৩৯৬; তায়ালিসী ২/২৭৮ নং ১৪০৪; আহমাদ ৩/৩০৩; আবু দাউদ, বুয়ূ ৩৫১৮; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৯/১০১; তিরমিযী, আহকাম ১৩৬৯; ইবনু মাজাহ, শুফ’আহ ২৪৯৪;তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১২০, ১২১; বাইহাকী, শুফ’আহ ৬/১০৬। দেখুন, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ৮/৩১৫; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ৭/৪৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ, ৮/২৪২; ফাতহুল বারী ৪/৪৩৮; বাইহাকী, সুনান ৬/১০৬-১০৮।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. শুফ'আ বা অগ্রে ক্রয়াধিকার সম্পর্কে
২৬৬৬. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক শরীকী মালে ’শুফআ’-এর আদেশ করেছেন যা এখনও বণ্টন করা হয়নি: ঘর-বাড়ি অথবা বাগানের এক অংশীদারের নিজের অংশ অন্য অংশীদারের অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত বিক্রি করা বৈধ নয়। সেই অংশীদারের ইচ্ছা সে নিতেও পারে, নাও নিতে পারে। আর যদি কোন অংশীদার অন্য অংশীদারের অনুমতি না নিয়ে বিক্রি করে দেয়- তবে এক্ষেত্রে সে-ই তার অধিক হকদার।[1] আবূ মুহাম্মদ কে বলা হলো: আপনি কি এমত পোষণ করেন? তিনি বলেন, হাঁ।
باب فِي الشُّفْعَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالشُّفْعَةِ فِي كُلِّ شِرْكٍ لَمْ يُقْسَمْ رَبْعَةٍ أَوْ حَائِطٍ لَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَبِيعَ حَتَّى يُؤْذِنَ شَرِيكَهُ فَإِنْ شَاءَ أَخَذَ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَ فَإِنْ بَاعَ وَلَمْ يُؤْذِنْهُ فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২১৩; মুসলিম, মাসাকাহ ১৬০৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৩৫, ১৮৫১, ২১৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৭৯, ৫১৮৪, ৫১৮৬, ৫১৮৭ তে।