পরিচ্ছেদঃ যার উপর দন্ডবিধি আরোপিত হয় না।
১৪২৮. মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া কুতা’ঈ (রহঃ) ...... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির উপর থেকে দন্ডবিধি রহিত করে দেওয়া হয়েছে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, শিশু যতক্ষন না সাবালক হয়, বেহুশ ব্যক্তি যতক্ষণ না তার হুশ ফিরে এসেছে। - ইবনু মাজাহ ২০৪১, ২০৪২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর বরাতে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। কেউ কেউعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَشِبَّ এর স্থলেعَنِ الْغُلاَمِ حَتَّى يَحْتَلِمَ উল্লেখ করেছেন। হাসান (রহঃ) সরাসরি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। এই হাদীসটি আতা ইবনু সাঈব-আবূ যাবয়ান-আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে। আ’মাশ-আবূ যাবয়াম-ইবনু আব্বাস-আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে মাওকুফরূপে এটি বর্ণিত হয়েছে। এই সূত্রে এটিকে মারফু’ করা হয়নি।
এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাসান (রহঃ) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর সময়কাল পেয়েছেন কিন্তু তিনি তাঁর কাছ থেকে কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবূ যাবয়ান (রহঃ) এর নাম হল হুসায়ন ইবনু জুন্দুব।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ لاَ يَجِبُ عَلَيْهِ الْحَدُّ .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْقُطَعِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَشِبَّ وَعَنِ الْمَعْتُوهِ حَتَّى يَعْقِلَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَذَكَرَ بَعْضُهُمْ " وَعَنِ الْغُلاَمِ حَتَّى يَحْتَلِمَ " . وَلاَ نَعْرِفُ لِلْحَسَنِ سَمَاعًا عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَرَوَاهُ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عَلِيٍّ مَوْقُوفًا وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى قَدْ كَانَ الْحَسَنُ فِي زَمَانِ عَلِيٍّ وَقَدْ أَدْرَكَهُ وَلَكِنَّا لاَ نَعْرِفُ لَهُ سَمَاعًا مِنْهُ وَأَبُو ظَبْيَانَ اسْمُهُ حُصَيْنُ بْنُ جُنْدَبٍ .
Narrated 'Ali:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "The pen has been lifted from three; for the sleeping person until he awakens, for the boy until he becomes a young man and for the mentally insane until he regains sanity."
পরিচ্ছেদঃ হদ প্রতিহত করা প্রসঙ্গে।
১৪২৯. আবদুর রহমান ইবনু আসওয়াদ ও আবূ আমর বাসরী (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যথা সম্ভব মুসলিমদের থেকে হদ প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। সম্ভব হলে, কোন উপায় থাকলে তাকে তার পথে ছেড়ে দিও। কারণ, ইমাম বা কর্তৃপক্ষের শাস্তি প্রদান করে ভুল করা অপেক্ষা ক্ষমা করে ভুল করা শ্রেয়। - মিশকাত ৩৫৭০, ইরওয়া ২৩৫৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي دَرْءِ الْحُدُودِ .
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زِيَادٍ الدِّمَشْقِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ادْرَءُوا الْحُدُودَ عَنِ الْمُسْلِمِينَ مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنْ كَانَ لَهُ مَخْرَجٌ فَخَلُّوا سَبِيلَهُ فَإِنَّ الإِمَامَ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعَفْوِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يُخْطِئَ فِي الْعُقُوبَةِ " .
Narrated 'Aishah:
that the Messenger of Allah (ﷺ): "Avert the legal penalties from the Muslims as much as possible, if he has a way out then leave him to his way, for if the Imam makes a mistake in forgiving it would be better than making mistake in punishment."
পরিচ্ছেদঃ হদ প্রতিহত করা প্রসঙ্গে।
১৪৩০. হাসনাদ (রহঃ) ...... ইয়াযীদ ইবনু যিয়াদ (রহঃ) থেকে মুহাম্মদ ইবনু রাবিআ এর অনুরূপ (১৪২৯ নং) হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু তিনি তা মারফুরূপে বর্ণনা করেননি। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৪ এর শেষাংশ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মুহাম্মদ ইবনু রাবীআ-ইয়াযীদ ইবনু যিয়াদ আদ-দিমাশকী-যুহরী-উরওয়া-আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা -নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্র ব্যতিরেকে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত এই হাদীসটি (১৪২৯ নং) মারফু’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। ওয়াকী (রহঃ) ও ইয়াযীদ ইবনু যিয়াদ (রহঃ)-এর বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন তবে তিনি এটিকে মারফু’ হিসাবে রিওয়ায়াত করেননি। ওয়াকি (রহঃ) এর রিওয়ায়াতটই অধিকতর সহীহ। একাধিক সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। তারাও এরূপ কথা বলেছেন। ইয়াযীদ ইবনু দিয়াদ দিমাশকী হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ। আর ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ কুফী হলেন এই ইয়াযীদের তুলনায় অধিকতর আস্থাশীল ও অগ্রগণ্য।
باب مَا جَاءَ فِي دَرْءِ الْحُدُودِ .
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ، نَحْوَ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ رَبِيعَةَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ الدِّمَشْقِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَاهُ وَكِيعٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَرِوَايَةُ وَكِيعٍ أَصَحُّ . وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ هَذَا عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمْ قَالُوا مِثْلَ ذَلِكَ . وَيَزِيدُ بْنُ زِيَادٍ الدِّمَشْقِيُّ ضَعِيفٌ فِي الْحَدِيثِ وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْكُوفِيُّ أَثْبَتُ مِنْ هَذَا وَأَقْدَمُ .
(Another chain) which is similar to the narration of Muhammad bin Rabi'ah but he did not narrate it in Marfu' form.
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে।
১৪৩১। কুতায়বা (রহঃ) .... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মুসলিম থেকে দুনিয়ার কোন একটি পেরশোনী দুর করবে আল্লাহ তা’আলা তার আখিরাতের একটি পেরশোনী দুর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের একটি দোষ গোপন রাখবে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া ও আখিরাতের তার দোষ ঢেকে রাখবেন। আল্লাহ ততক্ষণ কোন বান্দার সাহায্যে থাকবেন যতক্ষণ সে তার এক ভাইয়ের সাহায্যে ব্যস্ত থাকে।
সহীহ ইবনু মাজাহ ২২৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে উকবা ইবনু আমির ও ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর এই হাদীসটিকে একাধিক রাবী আ’মাশ-আবূ সালিহ-আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ আওয়ানা (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতের (১৪৩১ নং) অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। আসবাত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ও আমাশ (রহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আবূ সালিহ (রহঃ)-এর সূত্রেও আমার কাছে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
উবায়দ ইবনু আসবাত ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আমাশ (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي السَّتْرِ عَلَى الْمُسْلِمِ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الآخِرَةِ وَمَنْ سَتَرَ عَلَى مُسْلِمٍ سَتَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ هَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ رِوَايَةِ أَبِي عَوَانَةَ .
وَرَوَى أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ حُدِّثْتُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَكَأَنَّ هَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عُبَيْدُ بْنُ أَسْبَاطِ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنِ الأَعْمَشِ بِهَذَا الْحَدِيثِ .
Narrated Abu Hurairah:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Whoever relieves a Muslim of a burden from the burdens of the world, Allah will relieve him of a burden from the burdens of the Hereafter. And whoever covers (the faults of) a Muslim, Allah will cover (his faults) for him in the world and the Hereafter. And Allah is engaged in helping the worshipper as long as the worshipper is engaged in helping his brother."
Asbat bin Muhammad reported it from Al-A'mash who said:
"It has been narrated to me from Abu Salih, from Abu Hurairah, from the Prophet (ﷺ)," and it is similar. [It is as if this is more correct than the first narration.] (Another chain) for this Hadith.
পরিচ্ছেদঃ মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখা প্রসঙ্গে।
১৪৩২। কুতায়বা (রহঃ) ... সালিম তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না, তাকে ধ্বংসের জন্য সমর্পণ করবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজনে ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে ব্যস্ত থাকেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দুঃখ দুর করে দেয়, আল্লাহ তা’আলা তার কিয়ামতের দিনের কষ্ট দুর করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ গোপন রাখে আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন। সহীহ, সহীহাহ ৫০৪, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীস হাসান-সহীহ, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসাবে গারীব।
باب مَا جَاءَ فِي السَّتْرِ عَلَى الْمُسْلِمِ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لاَ يَظْلِمُهُ وَلاَ يُسْلِمُهُ وَمَنْ كَانَ فِي حَاجَةِ أَخِيهِ كَانَ اللَّهُ فِي حَاجَتِهِ وَمَنْ فَرَّجَ عَنْ مُسْلِمٍ كُرْبَةً فَرَّجَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ.
Narrated Ibn 'Umar:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "The Muslim is the brother of the Muslim, he doesn't oppress him and doesn't put him into ruin, and whoever is concerned for the needs of his brother, Allah is concerned for his needs, and whoever relieves a Muslim of a burden, Allah will relieve him of a burden from the burdens of the Day of Judgement and whoever covers (the faults of) a Muslim, Allah will cover (his faults) on the Day of Judgement."
পরিচ্ছেদঃ হদের ক্ষেত্রে বারবার বুঝানো।
১৪৩৩। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইয ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু কে বলেছিলেন, তোমার বিষয়ে আমার কাছে যে খবর পৌছেছে তা কি সত্য? মাইয বললেন, আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কি খবর এসেছে? তিনি বললেন, আমার কাছে সংবাদ এসেছে যে, তুমি অমুক কবীলার এক দাসীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছ? মাইয বললেন, হ্যাঁ। তারপর মাইয় চারবার শাহাদত সহ অপরাধের স্বীকৃতি দেন। অনন্তর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে মাইযকে ’রজম’ করা হয়। সহীহ, ইরওয়া ৭/৩৫৫, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সাইব ইবনু ইয়াযীদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। শু’বা (রহঃ) এই হাদীসটিকে সিমান ইবনু হারব-সাঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ) সূত্রে মূরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ করেননি।
باب مَا جَاءَ فِي التَّلْقِينِ فِي الْحَدِّ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ " أَحَقٌّ مَا بَلَغَنِي عَنْكَ " . قَالَ وَمَا بَلَغَكَ عَنِّي قَالَ " بَلَغَنِي أَنَّكَ وَقَعْتَ عَلَى جَارِيَةِ آلِ فُلاَنٍ " . قَالَ نَعَمْ . فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
Narrated Ibn 'Abbas:
That the Prophet (ﷺ) said to Ma'iz bin Malik: "Is what has reached me about you true?" He said: "What has reached you about me?" He said: "It has reached me that you had relations with the slave-maid of the family of so-and-so" He said: "Yes." So he testified four times, and he gave the order that he be stoned.
পরিচ্ছেদঃ অপরাধ স্বীকারকারী যদি তার স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে তবে তার উপর হদ প্রয়োগ না করা।
১৪৩৪। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাইয আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন এবং বললেন যে, তিনি যিনা করে ফেলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনিও ঐ দিকে গিয়ে বললেন যে, তিনি যিনা করে ফেলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তিনিও সেই দিকে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ তো যিনা করে বসেছে। চতুর্থবারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন। অনন্তর তাকে ’’হাররা’’-এর দিকে বের করে নিয়ে যাওয়া হল এবং পাথর ছুড়ে রজম করা (শুরু) হল। পাথরের আঘাত যখন তাকে স্পর্শ করল তিনি দৌড়ে পালাতে শুরু করলেন। এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে তিনি দৌড়ে যাচ্ছিলেন। ঐ ব্যক্তির হাতে ছিল একটি উটের চোয়াল। তা দিয়ে সে তাকে আঘাত করে এবং অজানা লোকেরাও তাকে আঘাত করেন। শেষে তিনি মারা যান। পরে লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এই কথার আলোচনা করেন যে, পাথরের আঘাত ও মৃত্যুর স্পর্শ পেয়ে মাইয পালাতে গিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে তোমরা কেন ছেড়ে দিলে না? হাসান সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৫৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান। এটি আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি আবূ সালামা-জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي دَرْءِ الْحَدِّ عَنِ الْمُعْتَرِفِ إِذَا رَجَعَ .
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ مَاعِزٌ الأَسْلَمِيُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّهُ قَدْ زَنَى . فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ جَاءَ مِنْ شِقِّهِ الآخَرِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ زَنَى . فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ جَاءَ مِنْ شِقِّهِ الآخَرِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ زَنَى . فَأَمَرَ بِهِ فِي الرَّابِعَةِ فَأُخْرِجَ إِلَى الْحَرَّةِ فَرُجِمَ بِالْحِجَارَةِ فَلَمَّا وَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ فَرَّ يَشْتَدُّ حَتَّى مَرَّ بِرَجُلٍ مَعَهُ لَحْىُ جَمَلٍ فَضَرَبَهُ بِهِ وَضَرَبَهُ النَّاسُ حَتَّى مَاتَ فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ فَرَّ حِينَ وَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ وَمَسَّ الْمَوْتِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلاَّ تَرَكْتُمُوهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَرُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا .
Narrated Abu Hurairah:
"Ma'iz Al-Aslamu came to the Messenger of Allah (ﷺ) and said that he had committed adultery, so he (ﷺ) turned away from him. Then he approached from his other side and said: '[O Messenger of Allah!] I have committed adultery.' So he turned away from him. The he came from his other side and said: 'O Messenger of Allah! I have committed adultery.' So he gave the order (for stoning) upon the fourth time. He was taken to Al-Harrah and stoned with rocks, he ran swiftly until he passed a man with a camel whip who beat him with it, and the people beat him until he died. They mentioned to the Messenger of Allah (ﷺ), that he ran upon feeling the rocks at the time of death. So the Messenger of Allah (ﷺ) said: 'Why didn't you leave him?'"
পরিচ্ছেদঃ অপরাধ স্বীকারকারী যদি তার স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে তবে তার উপর হদ প্রয়োগ না করা।
১৪৩৫। হাসান ইবনু আলী খাললাল (রহঃ) ... জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে যিনায় পতিত হওয়ার স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। পুনরায় সে তার নিজের অপরাধের স্বীকৃতি প্রকাশ করে। কিন্তু তিনি (এই বারও) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এমনকি এই লোকটি শেষে নিজের বিষয়ে চারবার শাহাদাত সহ স্বীকৃতি প্রকাশ করে। অনন্তর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার মাঝে কি পাগলামী আছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ। শেষে তিনি নির্দেশ দিলেন এবং এ প্রেক্ষিতে ঈদগাহে তাকে ’’রজম’’ করা হয়। তাকে যখন পাথরের আঘাত স্পর্শ করতে লাগল তখন তিনি পালাইতে চাইলেন। কিন্তু তিনি ধরা পড়লেন এবং ’’রজম’’ প্রয়োগে মারা যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে সপ্রশংস ও ভাল আলোচনা করেন। কিন্তু নিজে তার সালাতুল জানাযা আদায় করেননি। সহীহ, ইরওয়া ৭/৩৫৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪২৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদনুসারে কতক আলিমের আমল রয়েছে যে, যিনার স্বীকৃতি দানকারী যদি চারবার শাহাদাত সহ স্বীয় অপরাধ স্বীকার করে তবে তার উপর হদ প্রয়োগ করা হবে। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, যদি একবারও কেউ স্বীয় অপরাধ স্বীকার করে নেয় তার উপর হদ প্রয়োগ করা যাবে। এ হল ইমাম মালিক ইবনু আনাস ও শাফিঈ (রহঃ)-এর অভিমত। এই বক্তব্য প্রদানকারীর দলিল হল আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে দুই ব্যক্তি অভিযোগ নিয়ে হাযির হয়। তাদের একজন বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার ছেলে এই ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করে বসেছে। ... দীর্ঘ এই হাদীসে আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’হে উনায়স, ভোরেই এই ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যাও। সে যদি যিনার কথা স্বীকার করে তবে তাদের দুজনকে ’’রজম’’ বিধান করবে। এই হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি যে, যদি সে চারবার স্বীকার করে তবে ...।
باب مَا جَاءَ فِي دَرْءِ الْحَدِّ عَنِ الْمُعْتَرِفِ إِذَا رَجَعَ .
حَدَّثَنَا بِذَلِكَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَسْلَمَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَرَفَ بِالزِّنَا فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ اعْتَرَفَ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حَتَّى شَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَبِكَ جُنُونٌ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَحْصَنْتَ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا أَذْلَقَتْهُ الْحِجَارَةُ فَرَّ فَأُدْرِكَ فَرُجِمَ حَتَّى مَاتَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَيْرًا وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْمُعْتَرِفَ بِالزِّنَا إِذَا أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ أُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ مَرَّةً أُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَحُجَّةُ مَنْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنِي زَنَى بِامْرَأَةِ هَذَا الْحَدِيثَ بِطُولِهِ وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اغْدُ يَا أُنَيْسُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا " . وَلَمْ يَقُلْ فَإِنِ اعْتَرَفَتْ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ .
Narrated Jabir bin 'Abdullah:
"A man from the tribe of Aslam came to the Prophet (ﷺ) and confessed adultery. He turned away from him, the he confessed (again). Then he turned away from him (again) until he had testified against himself four times. So the Prophet (ﷺ) said: "Are you insane?" He said:"No" He said: "Are you married?" He said: "Yes". So he gave the order and he was stoned at the Musalla. He ran when he was stuck by the stones, and he was caught and stoned until he died. So the Messenger of Allah (ﷺ) spoke well of him but he did not perform the (funeral) Salat for him.
পরিচ্ছেদঃ হদের ব্যাপারে সুপারিশ করা ঠিক নয়।
১৪৩৬। কুতায়বা (রহঃ) ... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, মাখযুমী গোত্রের যে মহিলাটি চুরি করেছিল তার বিষয়টি কুরায়শদের খুবই উদ্বিগ্ন করে তোলে। তারা নিজেদের মধ্যে বলল, এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কথা বলবার মত কে আছে? কেউ কেউ বলল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একান্ত প্রিয় পাত্র উসামা ইবনু যায়দ ব্যতীত আর কেউ সাহস পাবে না। তারপর উসামা এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কথা বললেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি আমার কাছে আল্লাহ নির্ধরিত হদসমূহের অন্যতম হদ সম্পর্কে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং খুতবা দিয়ে বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা এই জন্যই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল যে, তাদের মধ্যে প্রতিপত্তিশালী ভদ্র ঘরের কেউ যদি চুরি করত তবে তারা তাকে ছেড়ে দিত আর দুর্বল কোন ব্যক্তি চুরি করলে তার উপর হদ প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম, মুহাম্মদের মেয়ে ফাতিমাও যদি চুরি করত তবুও আমি অবশ্যই তার হাত কাটতাম। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৪৭, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে মাসঊদ ইবনুল আজমা ইনি বর্ণনান্তরে ইবনুল আ’জাম বলে কথিত-ইবনু উমার ও জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ أَنْ يُشْفَعَ فِي الْحُدُودِ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ قُرَيْشًا، أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا مَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ " . ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ فَقَالَ " إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ مَسْعُودِ ابْنِ الْعَجْمَاءِ وَيُقَالُ مَسْعُودُ بْنُ الأَعْجَمِ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Narrated 'Aishah:
"The Quraish were troubled by the affair of a woman from the tribe of Makhzum who stole. So they said: 'Who will speak about her to the Messenger of Allah (ﷺ)?' They said: 'Who can do it other than Usamah bin Zaid, the one dear to the Messenger of Allah?' So Usamah spoke with him, the Messenger of Allah (ﷺ) said: 'Do you intercede about a penalty from Allah's penalties?' Then he stood up and adressed the people saying: 'Those before you were only destroyed because they used to leave a noble person if he stole. And if a weak person stole they would establish the penalty upon him. And by Allah! If Fatimah bint Muhammad stole, then I would cut off her hand."
পরিচ্ছেদঃ ‘রজম’-এর প্রমাণ।
১৪৩৭। আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) ... উমার ইবনু খাত্তব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’রজম’-এর বিধান দিয়েছেন, আবূ বকরও ’রজম’-এর বিধান দিয়েছেন আর আমিও ’রজম’-এর বিধান দিয়েছি। আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্তকরণ যদি আমি হারাম মনে না করতাম তবে অবশ্যই আমি এই বিধানটি আল্লাহর কিতাবে লিখে দিতাম। কারণ আমি আশংকা করি (ভবিষ্যতে) একদল লোক হয়ত এমন আসবে তারা যখন ’’রজম’’-এর বিধান আল্লাহর কিতাবে পাবে না তখন তা অস্বীকার করে বসবে।
সহীহ, তা’লীক আলা ইবনু মাজাহ, ইরওয়া ৮/৫০৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক সূত্রে এটি উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সূত্রে বর্ণিত আছে।
باب مَا جَاءَ فِي تَحْقِيقِ الرَّجْمِ .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ رَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمَ أَبُو بَكْرٍ وَرَجَمْتُ وَلَوْلاَ أَنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَزِيدَ فِي كِتَابِ اللَّهِ لَكَتَبْتُهُ فِي الْمُصْحَفِ فَإِنِّي قَدْ خَشِيتُ أَنْ تَجِيءَ أَقْوَامٌ فَلاَ يَجِدُونَهُ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَيَكْفُرُونَ بِهِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَرُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عُمَرَ .
'Umar bin Al-Khattab said:
"The Messenger of Allah (ﷺ) stoned, Abu Bakr stoned, and I stoned. If I didn't dislike that I add to the Book of Allah. I would have written it in the Mushaf, for I fear that there will come a people and they will not find it in the Book of Allah, so they will disbelieve in it."
পরিচ্ছেদঃ ‘রজম’-এর প্রমাণ।
১৪৩৮। সালামা ইবনু শাবীব, ইসহাক ইবনু মানসুর, হাসান ইবনু আলী আল খাল্লাল প্রমুখ (রহঃ) ... উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই সত্যসহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রেরণ করেছেন। তাঁর উপর নাযিল করেছেন কিতাব। তাঁর উপর তিনি যা নাযিল করেছেন তাতে ’রজম’-এর বিধান সম্বলিত আয়াত ছিল। [অনন্তর তার তিলাওয়াত বা পাঠ রহিত (মানসুখ) হয়ে যায়] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও রজম এর বিধান দিয়েছেন। তাঁর তিরোধানের পর আমরাও রজম করেছি। আমার আশংকা হয় যে, দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ হয়ত বলবে, আমরা তো আল্লাহর কিতাবে ’’রজম’’-এর কথা পাই না। ফলে তারা আল্লাহর নাযিলকৃত ফরয ও অবশ্য করণীয় বিধান পরিত্যাগের কারণে গুমরাহ ও পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। সাবধান, কোন ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে তার উপর ’রজম’’ শাস্তি প্রয়োগ করা হল প্রতিষ্ঠিত বিধান যদি সে বিবাহিত হয় এবং সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায় বা তার গর্ভসুস্পষ্ট হয়ে উঠে বা সে যদি অপরাধ স্বীকার করে নেয়।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৫৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي تَحْقِيقِ الرَّجْمِ .
حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ فَكَانَ فِيمَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ فَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا بَعْدَهُ وَإِنِّي خَائِفٌ أَنْ يَطُولَ بِالنَّاسِ زَمَانٌ فَيَقُولَ قَائِلٌ لاَ نَجِدُ الرَّجْمَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ أَلاَ وَإِنَّ الرَّجْمَ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أَحْصَنَ وَقَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ حَبَلٌ أَوِ اعْتِرَافٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَرُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ.
'Umar bin Al-Khattab said:
"Verily Allah sent Muhammad (ﷺ) with the truth, and he revealed the Book to him. Among what was revealed to him was the Ayah of stoning. So the Messenger of Allah (ﷺ) stoned, and we stoned after him. I fear that time will pass over the people such that someone will say 'We do not see stoning in the Book of Allah.' They will be misguided by leaving an obligation which Allah revealed. Indeed stoning is the retribution for the adulterer if he was married and the evidence has been established, or due to pregnancy, or confession."
পরিচ্ছেদঃ বিবাহিত ব্যক্তির উপর ‘রজম’ প্রয়োগ।
১৪৩৯। নাসর ইবনু আলী প্রমুখ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও শিবল রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলেন। এমন সময় তাঁর নিকট দুই ব্যক্তি বিবাদ করতে করতে এল। একজন তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব দিয়ে ফায়সালা করে দিবেন। তার চাইতে অধিকতর বোধসম্পন্ন তার সঙ্গীটি বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি অবশ্যই আল্লাহর কিতাব অনুসারে আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিবেন। আর আমাকে কথা বলতে অনুমতি দিন। আমার ছেলে এই ব্যক্তির কাছে মজদুর হিসাবে ছিল। অনন্তর সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করে বসেছে। লোকেরা আমাকে অবহিত করল যে, আমার পুত্রের উপর ’রজম’ প্রযোজ্য। ফলে আমি এর বদলে একশত বকরী ও একজন খাদিম ফিদয়া রূপে দিয়ে দেই। পরে আলেমদের মত কিছু লোকের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তারা মত দিলেন, আমার ছেলের উপর প্রযোজ্য হল এক শত কোড়া এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দন্ড। আর রজম হল এই ব্যক্তির স্ত্রীর উপর।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই তোমাদের মাঝে আমি আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দিব। একশত ছাগল ও খাদিম তোমাদের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হবে। তোমার পুত্রের উপর শাস্তি হল, এক শত কোড়া ও এক বছরের জন্য নির্বাসন দন্ড। হে উনায়স, তুমি ভোরে এর স্ত্রীর কাছে যাবে। যদি সে তার অপরাধ স্বীকার করে তবে তাকে ’রজম’ দন্ড দেবে। পরে তিনি ভোরে ঐ মহিলাটির কাছে গেলে সে অপরাধ স্বীকার করে। ফলে তিনি তাকে ’রজম’ করেন।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৪৯, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইসহাক ইবনু মূসা আল-আনসারী (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে মালিক (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ মর্মে (১৪৩৯ নং) হাদীস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আবূ বকর, উবাদা ইবনুস সামিত, আবূ হুরায়রা, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু সামুরা, হাযযাল, বুরায়দা, সালামা ইবনুল মুহাববাক, আবূ বারযা ও ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
মালিক ইবনু আনাস, মা’মার (রহঃ) প্রমুখ যুহরী থেকে উবায়দুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ-আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিত রাদিয়াল্লাহু আনহুম সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উক্ত সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বললেনঃ দাসী যদি যিনা করে তবে তাকে দুররা মার। চতুর্থ বারও যদি সে যিনায় লিপ্ত হয় তবে একটি দড়ির বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রি করে দিবে।
সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না (রহঃ) অনুরূপভাবে এটিকে যুহরী সূত্রে উবায়দুল্লাহর মাধ্যমে আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও শিবল রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেন; তারা বললেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। ইবনু উয়াইনা দুটি হাদীসকেই আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও শিবল রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইবনু উয়াইনা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াতে ওয়াহম বা বিভ্রান্তি ঘটেছে। এ বিভ্রান্তি সয়ং সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না (রহঃ) থেকে ঘটেছে। তিনি একটি রিওয়ায়াতকে আর একটি রিওয়ায়াতের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছেন।
সাহীহ হল যুবায়দী, ইউনুস ইবনু উবায়দ ও যুহরী ভ্রাতুষ্পুত্র-যুহরী সূত্রে উবায়দুল্লাহর মাধ্যমে আবূ হুরায়রা ও যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এর সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি দাসী যিনা করে (অপর সূত্র) এবং যুহরী-উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি শিবল ইবনু খালিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যদি দাসী যিনা করে...। হাদীস বিশারদগণের মতে এটি সহীহ।
শিবল ইবনু খালিদ (রহঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষাৎ পান নাই। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। এটি সহীহ। ইবনু উয়ায়নার রিওয়ায়াতটি ’মাহফুজ’ নয়। তার থেকে এও বর্ণিত আছে যে, তিনি নামোল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন শিবল ইবনু হামিদ, অথচ তা হল ভুল। আসলে তিনি শিবল ইবনু খালিদ এবং তাকে শিবল ইবনু খুলায়দও বলা হয়।
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجْمِ عَلَى الثَّيِّبِ .
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، سَمِعَهُ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، وَشِبْلٍ، أَنَّهُمْ كَانُوا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ رَجُلاَنِ يَخْتَصِمَانِ فَقَامَ إِلَيْهِ أَحَدُهُمَا وَقَالَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمَّا قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ . فَقَالَ خَصْمُهُ وَكَانَ أَفْقَهَ مِنْهُ أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي فَأَتَكَلَّمَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا فَزَنَا بِامْرَأَتِهِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَفَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَخَادِمٍ ثُمَّ لَقِيتُ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فَزَعَمُوا أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ وَإِنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ الْمِائَةُ شَاةٍ وَالْخَادِمُ رَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَاغْدُ يَا أُنَيْسُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا " . فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا .
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ بِمَعْنَاهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَهَزَّالٍ وَبُرَيْدَةَ وَسَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ وَأَبِي بَرْزَةَ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا رَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَمَعْمَرٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
وَرَوَوْا بِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِذَا زَنَتِ الأَمَةُ فَاجْلِدُوهَا فَإِنْ زَنَتْ فِي الرَّابِعَةِ فَبِيعُوهَا وَلَوْ بِضَفِيرٍ " . وَرَوَى سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَشِبْلٍ قَالُوا كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . هَكَذَا رَوَى ابْنُ عُيَيْنَةَ الْحَدِيثَيْنِ جَمِيعًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَشِبْلٍ وَحَدِيثُ ابْنِ عُيَيْنَةَ وَهَمٌ وَهِمَ فِيهِ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ أَدْخَلَ حَدِيثًا فِي حَدِيثٍ . وَالصَّحِيحُ مَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الزُّبَيْدِيُّ وَيُونُسُ بْنُ يَزِيدَ وَابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا زَنَتِ الأَمَةُ فَاجْلِدُوهَا " . وَالزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ شِبْلِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ الأَوْسِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا زَنَتِ الأَمَةُ " . وَهَذَا الصَّحِيحُ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ . - وَشِبْلُ بْنُ خَالِدٍ لَمْ يُدْرِكِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا رَوَى شِبْلٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ الأَوْسِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهَذَا الصَّحِيحُ وَحَدِيثُ ابْنِ عُيَيْنَةَ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ شِبْلُ بْنُ حَامِدٍ وَهُوَ خَطَأٌ إِنَّمَا هُوَ شِبْلُ بْنُ خَالِدٍ وَيُقَالُ أَيْضًا شِبْلُ بْنُ خُلَيْدٍ .
Narrated 'Ubaidullah bin 'Abdullah bin 'Uthbah:
That he heard from Abu Hurairah, Zaid bin Khalid, and Shibl, that they were with the Prophet (ﷺ) and two men came to him disputing. So one of them stood before him and said: "I ask you by Allah, O Messenger of Allah! Only that you would judge between us by the book of Allah." So his disputant said - and he was more eloquent that him: "I agree of O Messenger of Allah! Judge between us by the Book of Allah, and allow me to speak. My son was a servant for this man and he committed adultery with his wife. So they told me that my son was to be stoned. I paid him one hundred female sheep and a female slave. Then I met some people from the people of knowledge and they said that my son was to be lashed one hundred times, and to be banished for a year and that stoning is only for this man's wife." So the Prophet (ﷺ) said: "By the One in Whose Hand is my soul! I will judge between you two by the Book of Allah. The one hundred female sheep and the female slave should be returned to you. For your son is one hundred lashes and banishment for a year. O Unais! Go to this Man's wife, and if she confesses then stone her." He went to her and she confessed, so he stoned her.
পরিচ্ছেদঃ বিবাহিত ব্যক্তির উপর ‘রজম’ প্রয়োগ।
১৪৪০। কুতায়বা (রহঃ) ... উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার নিকট থেকে এ বিধান গ্রহণ কর; আল্লাহ তা’আলা এদের (ব্যভিচারীদের) জন্য একটি পথ বাতলে দিয়েছেন। বিবাহিত ব্যক্তি যদি বিবাহিতার সাথে তা করে তবে দন্ড হল একশ বেত্রাঘাত, এরপর প্রস্তরাঘাতে হত্যা আর অবিবাহিত ব্যক্তি যদি অবিবাহিত ব্যক্তির সাথে তা করে তবে একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৫০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলী ইবনু আবূ তালিব, উবাই ইবনু কা’ব, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম সহ সাহাবীদের মধ্যে কতক আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা বললেন, বিবাহিতদেরকে দুররা মারা হবে এবং রজমও করা হবে। এ-ই কতক আলিমের মাযহাব। আর ইমাম ইসহাক (রহঃ)-ও-এরও অভিমত।
আবূ বকর, উমার প্রমুখ রাদিয়াল্লাহু আনহুম সহ সাহাবীদের মধ্যে কতক আলিমের অভিমত হল অবিবাহিতদের কেবল রজম করা হবে, দুররা মারা হবে না। মাইয ও অন্যান্যদের ঘটনার প্রসঙ্গে একাধিক রিওয়ায়াতেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে যে, তিনি ’রজম’-এর নির্দেশ দিয়েছেন। রজম-এর পূর্বে দুররা মারার নির্দেশ দেননি। কতক আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। এ হল ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ ও আহমাদ (রহঃ)-এর অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجْمِ عَلَى الثَّيِّبِ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُذُوا عَنِّي فَقَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً الثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ ثُمَّ الرَّجْمُ وَالْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْىُ سَنَةٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَغَيْرُهُمْ قَالُوا الثَّيِّبُ تُجْلَدُ وَتُرْجَمُ . وَإِلَى هَذَا ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَغَيْرُهُمَا الثَّيِّبُ إِنَّمَا عَلَيْهِ الرَّجْمُ وَلاَ يُجْلَدُ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ هَذَا فِي غَيْرِ حَدِيثٍ فِي قِصَّةِ مَاعِزٍ وَغَيْرِهِ أَنَّهُ أَمَرَ بِالرَّجْمِ وَلَمْ يَأْمُرْ أَنْ يُجْلَدَ قَبْلَ أَنْ يُرْجَمَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ .
Narrated 'Ubadah bin As-Samit:
"The Messenger of Allah (ﷺ) said: 'Take from me. For Allah has a way made for them : For the married person who commits adultery with a married person is one hundred lashes, then stoning. And for the virgin who commits adultery with a virgin is one hundred lashes and banishment for a year."
পরিচ্ছেদঃ গর্ভবতী মহিলার সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত ‘রাজম’ বিরম্ব করা।
১৪৪১। হাসান ইবনু আলী (রহঃ) ... ইমরান ইবনু হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, জুহায়না কবীলার জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যিনার কথা স্বীকার করল এবং বলল, আমি গর্ভবতী। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ মেয়েটির অভিভাবককে ডাকলেন এবং তাকে বললেন, তার সাথে ভাল ব্যবহার করবে এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আমাকে তা অবহিত করবে। সে তাই করল, তখন তিনি মেয়েটির কাপড়-চোপড় ভাল করে শরীরে বাধতে বললেন এবং ’রজম’-এর নির্দেশ দিলেন। তখন তাকে রজম করা হল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালাতুল জানাযা আদায় করলেন। তখন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একে রজম করলেন আবার তার সালাতুল জানাযাও আদায় করলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই মেয়েটি এমন তওবা করেছে যে, মদীনার সত্তর জনের মাঝেও যদি তা বণ্টন করে দেওয়া হয় তবু তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজের জান দিয়ে দিল, এর চেয়েও উত্তম কিছু তুমি পেয়েছ? ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ।
باب تَرَبُّصِ الرَّجْمِ بِالْحُبْلَى حَتَّى تَضَعَ .
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنْ جُهَيْنَةَ اعْتَرَفَتْ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالزِّنَا فَقَالَتْ إِنِّي حُبْلَى . فَدَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلِيَّهَا فَقَالَ " أَحْسِنْ إِلَيْهَا فَإِذَا وَضَعَتْ حَمْلَهَا فَأَخْبِرْنِي " . فَفَعَلَ فَأَمَرَ بِهَا فَشُدَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَ بِرَجْمِهَا فَرُجِمَتْ ثُمَّ صَلَّى عَلَيْهَا فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَجَمْتَهَا ثُمَّ تُصَلِّي عَلَيْهَا . فَقَالَ " لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ شَيْئًا أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Narrated 'Imran bin Husain:
"A woman from Juhainah confessed before the Prophet (ﷺ) that she had committed adultery, and she said: 'I am pregnant.' So the Prophet (ﷺ) called for her guardian and said: 'Be good to her and if she gives birth to her child then tell me.' So he did so, and then he (ﷺ) gave the order that her clothes be bound tightly around her. Then he ordered her to be stoned and she was stoned. Then he performed (funeral) Salat for her. So 'Umar bin Al-Khattab said to him: 'O Messenger of Allah! You stoned her then you prayed for her?!' He said: 'She has repented a repentance that, if distributed among seventy of the people of Al-Madinah, it would have sufficed them. Have you ever seen something more virtuous than her sacrificing herself for the saek of Allah?'"
পরিচ্ছেদঃ কিতাবীদের রজম প্রসঙ্গে।
১৪৪২। ইসহাক ইবনু মূসা আনসারী (রহঃ) ... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়াহুদী পুরুষ ও স্ত্রী লোকের উপর ’রজম’ কায়েম করেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৪৭৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদীসটিতে ঘটনার আরো বিবরণ রয়েছে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي رَجْمِ أَهْلِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجَمَ يَهُودِيًّا وَيَهُودِيَّةً . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Narrated Ibn 'Umar:
That the Messenger of Allah (ﷺ) stoned a Jew and Jewess.
পরিচ্ছেদঃ কিতাবীদের রজম প্রসঙ্গে।
১৪৪৩। হান্নাদ (রহঃ) ... জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদী পুরুষ ও ইয়াহুদী স্ত্রী লোককে রজম দন্ড দিয়েছেন।
সহীহ পূর্বোক্ত হাদীসের সহায়তায়। তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াতের মধ্যে এই হাদীসটি হাসান-গারীব। অধিকাংশ আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তারা বললেন, কিতাবীরা যদি তাদের বিবাদ মুসলিম বিচারকদের নিকট উত্থাপন করে তবে বিচারকগণ কুরআন সুন্নাহ ও মুসলিমদের বিধান অনুসারেই তাদেরও ফায়সালা দিবেন। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, যিনার ক্ষেত্রে তাদের উপর হদ প্রয়োগ করা হবে না। প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي رَجْمِ أَهْلِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجَمَ يَهُودِيًّا وَيَهُودِيَّةً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَالْبَرَاءِ وَجَابِرٍ وَابْنِ أَبِي أَوْفَى وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا إِذَا اخْتَصَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ وَتَرَافَعُوا إِلَى حُكَّامِ الْمُسْلِمِينَ حَكَمُوا بَيْنَهُمْ بِالْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَبِأَحْكَامِ الْمُسْلِمِينَ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ يُقَامُ عَلَيْهِمُ الْحَدُّ فِي الزِّنَا . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
Narrated Jabir bin Samurah:
That the Prophet (ﷺ) stoned a Jew and a Jewess.
পরিচ্ছেদঃ নির্বাসন দন্ড প্রসঙ্গে।
১৪৪৪। আবূ কুরায়ব ও ইয়াহইয়া ইবনু আকছাম (রহঃ) ... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন; আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুও দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন; উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুও দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন। সহীহ ইরওয়া ২৩৪৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ, উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি গারীব। একাধিক রাবী এটিকে আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস (রহঃ) সূত্রে মারফু’ রূপে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ এই হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস-উবায়দুল্লাহ-নাফি’-ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েচেন।
আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু ইদরীস (রহঃ) সূত্রে তা রিওয়ায়াত করেছেন। ইবনু ইদরীস (রহঃ) এর বরাত ছাড়াও উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত আছে্ মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) ও নাফি’-ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে এইরূপ বর্ণনা করেছেন যে, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুররাঘাত ও নির্বাসন দন্ড দিয়েছেন, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুও দুররাঘত ও নির্বাসন দন্ড প্রদানকরেছেন। এই সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উল্লেখ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও নির্বাসন দন্ড দানের সহীহ রিওয়ায়াত বিদ্যমান। আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ ও উবাদা ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্ত মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বকর, উমার, আলী, উবাই ইবনু কা’ব, আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ, আবূ যার প্রমুখ সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। একাধিক তাবিঈ ফকীহ থেকে তদ্রুপ অভিমত বর্ণিত আছে। এ হল সুফইয়ান ছাওরী, মালিক ইবনু আনাস, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِي النَّفْىِ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَيَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ضَرَبَ وَغَرَّبَ وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ ضَرَبَ وَغَرَّبَ وَأَنَّ عُمَرَ ضَرَبَ وَغَرَّبَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ فَرَفَعُوهُ .
وَرَوَى بَعْضُهُمْ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، ضَرَبَ وَغَرَّبَ وَأَنَّ عُمَرَ ضَرَبَ وَغَرَّبَ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ . وَهَكَذَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ رِوَايَةِ ابْنِ إِدْرِيسَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ نَحْوَ هَذَا . وَهَكَذَا رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ضَرَبَ وَغَرَّبَ وَأَنَّ عُمَرَ ضَرَبَ وَغَرَّبَ . وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَقَدْ صَحَّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّفْىُ رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَةَ وَزَيْدُ بْنُ خَالِدٍ وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ وَغَيْرُهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعَلِيٌّ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ وَأَبُو ذَرٍّ وَغَيْرُهُمْ وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
Narrated Ibn 'Umar:
That the Messenger of Allah (ﷺ) lashed and banished, Abu Bakr lashed and banished, and 'Umar lashed and banished.
Some of them reported this Hadith from 'Ubaidullah, from Nafi', from Ibn 'Umar:
that Aby Bakr lashed and banished, and that 'Umar lashed and banished.
পরিচ্ছেদঃ দাসীদের উপর হদ প্রয়োগ।
১৪৪৫। কুতায়বা (রহঃ) ... উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে এই বিষয়ে বায়য়াত কর যে, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। চুরি করবে না। ব্যভিচার করবে না। তিনি সম্পূর্ণ আয়াতটি [সূরা মুমতাহিনা ৬০: ১২] তিলাওয়াত করেন। তোমাদের মধ্যে যে এই বায়আত পূরণ করবে তার প্রতিদান আল্লাহর যিম্মায়। আর কেউ যদি এইগুলির কোন কিছুতে লিপ্ত হয়ে পড়ে আর এ জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া হয় তবে তা হবে তার জন্য কাফফারা স্বরূপ। আর কেউ যদি এগুলির কোন একটিতে লিপ্ত হয় আর আল্লাহ তার এ অপরাধ ঢেকে রাখেন তবে তা আল্লাহর উপর ন্যাস্ত। ইচ্ছা করলে তিনি আযাব দিবেন আর ইচ্ছা করলে তিনি মাফ করে দিবেন। সহীহ ইরওয়া ২৩৩৪, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ ও খুযায়মা ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা ইবনুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, ’হদ প্রয়োগ অপরাধীর জন্য কাফফারা স্বরূপ’ এতদবিষয়ে এই হাদীসটি অপেক্ষা উত্তম কোন কিছু আমি শুনিনি। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, কেউ যদি কোন গোনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে আর আল্লাহ তা’আলা তা গোপন রাখেন তবে তার জন্য নিজেও তা গোপন রাখা এবং প্রভুর কাছে তওবা করতে থাকাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আবূ বকর ও উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এইরূপ বর্ণিত আছে যে, তারা এক ব্যক্তিকে নিজের অপরাধ গোপন রাখতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
باب مَا جَاءَ فِي إِقَامَةِ الْحَدِّ عَلَى الإِمَاءِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسٍ فَقَالَ " تُبَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا وَلاَ تَسْرِقُوا وَلاَ تَزْنُوا قَرَأَ عَلَيْهِمُ الآيَةَ فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ عَلَيْهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَخُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لَمْ أَسْمَعْ فِي هَذَا الْبَابِ أَنَّ الْحُدُودَ تَكُونُ كَفَّارَةً لأَهْلِهَا شَيْئًا أَحْسَنَ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَأُحِبُّ لِمَنْ أَصَابَ ذَنْبًا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ أَنْ يَسْتُرَ عَلَى نَفْسِهِ وَيَتُوبَ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَبِّهِ . وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ أَنَّهُمَا أَمَرَا رَجُلاً أَنْ يَسْتُرَ عَلَى نَفْسِهِ .
Narrated 'Ubadah bin As-Samit:
"We were with the Prophet (ﷺ) [in a gathering] and he said: 'Pledge to me that you will not associate [anything as] partners with Allah, and that you will not steal nor commit adultery.' He recited to them the Ayah. (And he said:)'Whoever among you dies, then this reward is with Allah, and whoever among you does some of this and then he is punished, it is atonement for him. And whoever does some of this and Allah covers it for him, then it is up to Allah; if He wills, He will punish them, and if He wills, He will forgive him.'"
পরিচ্ছেদঃ দাসীদের উপর হদ প্রয়োগ।
১৪৪৬। আবূ সাঈদ আশাজ্জ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারো দাসী যদি যিনা করে তবে আল্লাহর কিতাব অনুসারে তাকে তিনবার (পর্যন্ত) দুররা মারবে। এরপরও যদি সে এতে পুনরায় লিপ্ত হয় তবে চুলের একটি দড়ির বিনিময়ে হলেও তাকে বিক্রি করে দিবে।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৬৫, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আবূ হুরায়রা, যায়দ ইবনু খালিদ এবং শিবল-আবদুল্লাহ ইবনু মালিক আওসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক সূত্রে এটি তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তাঁদের মত হল যে, শাসক নয় বরং মালিকই তার দাস-দাসীর উপর হদ প্রয়োগ করবে। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, শাসন কর্তৃপক্ষের নিকট তা পেশ করতে হবে। কেউ নিজে হদ কায়েম করতে পারবে না। প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِي إِقَامَةِ الْحَدِّ عَلَى الإِمَاءِ
حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا زَنَتْ أَمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيَجْلِدْهَا ثَلاَثًا بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنْ عَادَتْ فَلْيَبِعْهَا وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعَرٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَشِبْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ الأَوْسِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ رَأَوْا أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلُ الْحَدَّ عَلَى مَمْلُوكِهِ دُونَ السُّلْطَانِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُرْفَعُ إِلَى السُّلْطَانِ وَلاَ يُقِيمُ الْحَدَّ هُوَ بِنَفْسِهِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .
Narrated Abu Hurairah:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "If one of your slave girl commits illegal sexual intercourse, then whip her three times according to the Book of Allah, and if she does it again then sell her, even if it is for a rope made of hair."
পরিচ্ছেদঃ দাসীদের উপর হদ প্রয়োগ।
১৪৪৭। হাসান ইবন আলী খাল্লাল (রহঃ) ... আবূ আবদুর রহমান সুলামী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এক ভাষণে বলেছিলেন, হে লোক সকল, তোমরা তোমাদের বিবাহিত ও অবিবাহিত দাস-দাসীদের উপর হদ প্রয়োগ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি দাসী যিনা করে বসে। তখন তিনি তাকে দুররা মারতে আমাকে নির্দেশ দেন। আমি তার কাছে এসে দেখি যে, নব প্রসূতি। সুতরাং আমার আশংকা হল যে, যদি তাকে দুররা মারি তবে হয়ত তাকে হত্যা করে ফেলব। অথবা বলেছেন যে, সে মারা যাবে। অনন্তর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তুমি ভাল করেছ।
সহীহ, ইরওয়া ৭/৩৬০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী সুদ্দীর নাম হল ইসমাঈল ইবনু আবদুর রাহমান। তিনি একজন তাবিঈ্ আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে তিনি হাদীস শুনেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي إِقَامَةِ الْحَدِّ عَلَى الإِمَاءِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، قَالَ خَطَبَ عَلِيٌّ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَقِيمُوا الْحُدُودَ عَلَى أَرِقَّائِكُمْ مَنْ أَحْصَنَ مِنْهُمْ وَمَنْ لَمْ يُحْصِنْ وَإِنَّ أَمَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَنَتْ فَأَمَرَنِي أَنْ أَجْلِدَهَا فَإِذَا هِيَ حَدِيثَةُ عَهْدٍ بِنِفَاسٍ فَخَشِيتُ إِنْ أَنَا جَلَدْتُهَا أَنْ أَقْتُلَهَا - أَوْ قَالَ تَمُوتَ - فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " أَحْسَنْتَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالسُّدِّيُّ اسْمُهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَهُوَ مِنَ التَّابِعِينَ قَدْ سَمِعَ مِنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَرَأَى حُسَيْنَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضى الله عنه .
Narrated Abu 'Abdur-Rahman As-Sulami:
"Ali gave a Khutbah, and said: 'O people, establish the penalties upon your slaves, those married from them and those unmarried. A slave girl of the Prophet (ﷺ) committed illegal sexual intercourse so he ordered me to whip her. I went to her and she was just experiencing her post-natal bleeding, so I feared that if I were to whip her I would kill her' - or he said: 'She would die' - 'so I went to the Messenger of Allah (ﷺ) and I told that to him. So he said: 'You did well.'"
পরিচ্ছেদঃ নেশাগ্রস্তর হদ।
১৪৪৮। সুফইয়ান ইবনু ওয়াকী’ (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় জুতা দিয়ে চল্লিশ আঘাতের দ্বারা হদ কায়েম করেন। রাবী মিসআর (রহঃ) বলেন, আমার ধারণায় বিষয়টি ছিল মদ্যপান সম্পর্কে। সনদ দুর্বল। তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আলী, আবদুর রহমান ইবনু আযহাব, আবূ হুরায়রা, সাইব, ইবনু আব্বাস ও উকবা ইবনু হারিছ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ সাঈদ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবূ সিদ্দীক বাজী (রহঃ) এর নাম হল বাকর ইবনু আমর। মতান্তরে বাকর ইবনু কায়স।
باب مَا جَاءَ فِي حَدِّ السَّكْرَانِ
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَرَبَ الْحَدَّ بِنَعْلَيْنِ أَرْبَعِينَ . قَالَ مِسْعَرٌ أَظُنُّهُ فِي الْخَمْرِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَالسَّائِبِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعُقْبَةَ بْنِ الْحَارِثِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَأَبُو الصِّدِّيقِ النَّاجِيُّ اسْمُهُ بَكْرُ بْنُ عَمْرٍو وَيُقَالُ بَكْرُ بْنُ قَيْسٍ .
Narrated Abu Sa'eed Al-Khudri:
That the Messenger of Allah (ﷺ) implemented the penalty by beating forty times, with two shoes - Mis'ar (one of the narrators) said: "It think it was for wine."
পরিচ্ছেদঃ নেশাগ্রস্তর হদ।
১৪৪৯। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ব্যক্তিকে আনা হল। সে মদ পান করেছিল। তখন তিনি তাকে দুইট খেজুর ডাল দিয়ে প্রায় চল্লিম ঘা মারেন। পরবর্তীতে আবূ বকরও তা করেন। উমার যখন খলীফা হলেন তখন তিনি এ বিষয়ে লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সর্বনিম্ন হদ হল আশি ঘা দুররা মারা। তখন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এ সংখ্যক হদ কার্যকরী করেন।
সহীহ, ইরওয়া ২৩৭৭, মুসলিম, বুখারী সংক্ষিপ্তভাবে, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের আমল এতদনুসারে রয়েছে যে, নেশাগ্রস্তদের হদ হল আশি দুররা।
باب مَا جَاءَ فِي حَدِّ السَّكْرَانِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَضَرَبَهُ بِجَرِيدَتَيْنِ نَحْوَ الأَرْبَعِينَ وَفَعَلَهُ أَبُو بَكْرٍ فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ اسْتَشَارَ النَّاسَ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ كَأَخَفِّ الْحُدُودِ ثَمَانِينَ . فَأَمَرَ بِهِ عُمَرُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ حَدَّ السَّكْرَانِ ثَمَانُونَ .
Narrated Anas:
That a man who had drunk wine was brought to the Prophet (ﷺ), so he beat him about forty times with two stalks of a palm tree. So Abu Bakr did similarly, and by the time 'Umar became Khalifah he sought council from the people. And 'Abdur-Rahman bin 'Awf said: 'I see that the lightest penalty is eighty lashes,' so 'Umar ordered that.
পরিচ্ছেদঃ যে মদ পান করবে তাকে দুররা মারবে। চতুর্থবারেও যদি এতে পুনর্লিপ্ত হয় তবে হত্যা করবে।
১৪৫০। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে মদ পান করে তাকে দুররা মার। চতুর্থবারেও যদি সে এতে লিপ্ত হয় তাকে কতল কর। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৭২, ২৫৭৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, শারীদ, শুরাহবীল ইবনু আওস, জারীর, আবূর রামাদ বালাবী ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মুআবিয়া বর্ণিত এই হাদীসটি এরূপভাবে সাওরী (রহঃ) আসিম থেকে, আবূ সালিহ থেকে, মুআবিয়া সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনু জুরায়জ ও মা’মার-সুহায়ল ইবনু আবূ সালিহ-তার পিতা (আবূ সালিহ) থেকে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে।
মুহাম্মদ বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি এই বিষয়ে আবূ সালিহ থেকে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত অপেক্ষা আবূ সালিহ থেকে মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ। এই বিধানটি ছিল ইসলামের প্রথম যুগের। পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে যায়। এইরূপভাবে মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক-মুহাম্মদ ইবনু মুনকাদির থেকে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদ পান করে তাকে দুররা মার। সে যদি চতুর্থবারেও আবার এতে লিপ্ত হয়, তবে তাকে কতল করে দাও। রাবী বলেনঃ পরবর্তীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হল, যে চতুর্থবারেও মদ পান করেছিল। তখনও তিনি তাকে বেত্র দন্ড দেন। তাকে হত্যা করেননি।
যুহরী (রহঃ) এই হাদীসটিকে কাবীসা ইবনু যুআয়ব সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ সুতরাং কতলের বিধান রহিত হয়ে গেছে। আর তা ছিল একটি অনুমতি (অবকাশ) মাত্র। সাধারণভাবে আলিমগণের আমল এতদনুসারে রয়েছ। অতীত ও বর্তমানে কোন আলিমেরই এই বিষয়ে মতবিরোধের কোন কথা আমরা জানি না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু সূত্রে বর্ণিত নিম্নলিখিত হাদীসটি এই মতটিকে আরো শক্তিশালী করে। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি এই কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নাই আর আমি আল্লাহর রাসূল তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া সেই ব্যক্তির খুন হালাল নয়; হত্যার বদলে হত্যা, বিবাহিত ব্যভিচারী ও নিজের দ্বীন পরিত্যাগকারী।
باب مَا جَاءَ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ وَمَنْ عَادَ فِي الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فِي الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَالشَّرِيدِ وَشُرَحْبِيلَ بْنِ أَوْسٍ وَجَرِيرٍ وَأَبِي الرَّمَدِ الْبَلَوِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مُعَاوِيَةَ هَكَذَا رَوَى الثَّوْرِيُّ أَيْضًا عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَى ابْنُ جُرَيْجٍ وَمَعْمَرٌ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ حَدِيثُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا فِي أَوَّلِ الأَمْرِ ثُمَّ نُسِخَ بَعْدُ هَكَذَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فِي الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ ثُمَّ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ فِي الرَّابِعَةِ فَضَرَبَهُ وَلَمْ يَقْتُلْهُ . وَكَذَلِكَ رَوَى الزُّهْرِيُّ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا . قَالَ فَرُفِعَ الْقَتْلُ وَكَانَتْ رُخْصَةً . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمُ اخْتِلاَفًا فِي ذَلِكَ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ وَمِمَّا يُقَوِّي هَذَا مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَوْجُهٍ كَثِيرَةٍ أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ النَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالثَّيِّبُ الزَّانِي وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ " .
Narrated Mu'awiyah:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Whoever drinks wine, then lash him. If he returns to it, then on the fourth time kill him."
পরিচ্ছেদঃ কি পরিমাণ চুরিতে চুরের হাত কাটা যাবে
১৪৫১। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক চতুর্থাংশ দ্বীনার বা ততোধিক পরিমাণ চুরিতে হাত কাটার নির্দেশ দিতেন। সহীহ, ইরওয়া ২৪০২, মুসলিম, বুখারী অনুরূপ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক সূত্রে এই হাদীসটি আমরা (রহঃ)-এর বরাতে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে মারফু’ রূপে বর্ণিত আছে। কেউ কেউ এটিকে আমরা সূত্রে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে মাওকূফ’ রূপেও বর্ণনা করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي كَمْ تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَتْهُ عَمْرَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْطَعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ مَرْفُوعًا وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ مَوْقُوفًا .
Narrated 'Aishah:
That the Prophet (ﷺ) used to cut the hand for a fourth of a Dinar and beyond that.
পরিচ্ছেদঃ কি পরিমাণ চুরিতে চুরের হাত কাটা যাবে
১৪৫২। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একটি ঢাল চুরিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত কাটার নির্দেশ দেন যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৮৪, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সা’দ আবদুল্লাহ ইবনু আমর, ইবনু আব্বাস, আবূ হুরায়রা ও উম্মী আয়মান রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে কতক আলিমের আমল এতদনুসারে রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন আবূ বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুও। তিনি পাঁচ দিরহাম চুরির ক্ষেত্রেও হাত কেটেছেন। উসমান ও আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা দ্বীনারের এক চতুর্থাংশ পরিমাণ চুরিতেও হাত কেটেছেন। আবূ হুরায়রা ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তারা বলেন, পাঁচ দিরহাম চুরিতে হাত কাটা হবে।
কতক তাবিঈ ফকীহর আমল এতদনুসারে রয়েছে। এ হল মালিক ইবন আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। তাঁরা এক দ্বীনারের চতুর্থাংশ বা ততোধিক পরিমাণ চুরিতে হাত কাটার মত পোষণ করেন।
ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক দ্বীনার বা দশ দিরহাম পরিমাণ ছাড়া হাত কাটা যাবে না। এই হাদীসটি মুরসাল। কাসিম ইবনু আবরদুর রহমান (রহঃ) এটিকে ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ কাসিম সরাসরি ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কিছুই শুনেন নি। কতক আলিমের আমল এতদনুসারে রয়েছে। এ হল ইমাম সুফইয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত তাঁরা বলেন, দশ দিরহাম-এর কম চুরিতে হাত কাটা যাবে না।
باب مَا جَاءَ فِي كَمْ تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَطَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مِجَنٍّ قِيمَتُهُ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَيْمَنَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ قَطَعَ فِي خَمْسَةِ دَرَاهِمَ . وَرُوِيَ عَنْ عُثْمَانَ وَعَلِيٍّ أَنَّهُمَا قَطَعَا فِي رُبْعِ دِينَارٍ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ أَنَّهُمَا قَالاَ تُقْطَعُ الْيَدُ فِي خَمْسَةِ دَرَاهِمَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ رَأَوُا الْقَطْعَ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ لاَ قَطْعَ إِلاَّ فِي دِينَارٍ أَوْ عَشَرَةِ دَرَاهِمَ . وَهُوَ حَدِيثٌ مُرْسَلٌ رَوَاهُ الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَالْقَاسِمُ لَمْ يَسْمَعْ مِنِ ابْنِ مَسْعُودٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ قَالُوا لاَ قَطْعَ فِي أَقَلَّ مِنْ عَشَرَةِ دَرَاهِمَ . وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ لاَ قَطْعَ فِي أَقَلَّ مِنْ عَشَرَةِ دَرَاهِمَ . وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ .
Narrated Ibn 'Umar:
"The Messenger of Allah (ﷺ) cut the hand for a shield worth three Dirham."
পরিচ্ছেদঃ চোরের হাত লটকে দেওয়া প্রসঙ্গে।
১৪৫৩। কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু মুহায়রীয (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি ফুযালা উবায়দকে চোরের গলায় (কর্তিত) হাত লটকে দেওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, এটি কি সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক চোরকে নিয়ে আসা হল। তখন তার হাত কাটা হল। এরপর সেটি তার গলায় লটকে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তখন তার গলায় হাতটি লটকে দেওয়া হল।
যঈফ, ইবনু মাজাহ ২৫৮৭, মিশকাত, তাহকীক ছানী ৩৬০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীস হাসান-গারীব। উমার ইবনু আলী মুকাদ্দামী-হাজ্জাজ ইবনু আরতাত সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আবদুর রহমান ইবনু মুহায়রীয হলেন আবদুল্লাহ ইবনু মুহায়রীয শামী-এর ভাই।
باب مَا جَاءَ فِي تَعْلِيقِ يَدِ السَّارِقِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَيْرِيزٍ، قَالَ سَأَلْتُ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ عَنْ تَعْلِيقِ الْيَدِ، فِي عُنُقِ السَّارِقِ أَمِنَ السُّنَّةِ هُوَ قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَارِقٍ فَقُطِعَتْ يَدُهُ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَعُلِّقَتْ فِي عُنُقِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيِّ عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ . وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَيْرِيزٍ هُوَ أَخُو عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَيْرِيزٍ شَامِيٌّ .
'Abdur-Rahman bin Muhariz said:
"I asked Fadalah bin 'Ubaid about hanging the hand around the neck of the thief: 'Is this from the Sunnah?' He said: 'A man came to the Messenger of Allah (ﷺ) with a thief so his hand was cut off, and then he ordered that it be hung around his neck.'"
পরিচ্ছেদঃ খিয়ানতকারী ছিনতাইকারী ও লুন্ঠনকারী প্রসঙ্গে।
১৪৫৪। আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, খিয়ানতকারী, লুন্ঠনকারী এবং ছিনতাইকারীর উপর হাত কর্তন প্রযোজ্য নয়। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৮৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। মুগীরা ইবনু মুসলিম (রহঃ) এটিকে আবূয যুবায়র-জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইবনু জুরায়জ (রহঃ) এর অনুরূপ (১৪৫৪ নং) রিওয়ায়াত করেছেন। মুগীরা ইবনু মুসলিম (রহঃ) হলেন, বাসরী, আবদুল আযীয কাসমালী (রহঃ) এর ভাই। আলী ইবনু মাদীনী (রহঃ) এইরূপই বলেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الْخَائِنِ وَالْمُخْتَلِسِ وَالْمُنْتَهِبِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ عَلَى خَائِنٍ وَلاَ مُنْتَهِبٍ وَلاَ مُخْتَلِسٍ قَطْعٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَدْ رَوَاهُ مُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ . وَمُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ هُوَ بَصْرِيٌّ أَخُو عَبْدِ الْعَزِيزِ الْقَسْمَلِيِّ كَذَا قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ .
Narrated Jabir :
That the Prophet (ﷺ) said: "There is no cutting of the hand for the traitor, or the embezzler, nor the plunderer."
পরিচ্ছেদঃ ফল ও থোড় এর ক্ষেত্রে হাত কাটা প্রযোজ্য নয়।
১৪৫৫। কুতায়বা (রহঃ) ... রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ফল ও থোড়ের ক্ষেত্রে হাত কাটা নেই। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৯৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৪৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
কতক রাবী ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান-তার চাচা ওয়াসি’ ইবনু হাব্বান-রাফি’-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে লায়স ইবনু সা’দ (রহঃ) এর অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) প্রমুখ এই হাদীসটিকে ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ-মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু হাব্বান-রাফি’ ইবনু খাদীজা (রাঃ)-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে তারা ওয়াসি’ ইবনু হাব্বান (রহঃ) এর উল্লেখ করেননি।
باب مَا جَاءَ لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، أَنَّ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ عَمِّهِ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ رِوَايَةِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ . وَرَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ .
Narrated Rafi' bin Khadij:
That he heard the Messenger of Allah (ﷺ) say: "There is no cutting of the hand for fruits or palm marrow."
পরিচ্ছেদঃ যুদ্ধে থাকাবস্থায় হাত কাটা যাবে না।
১৪৫৬। কুতায়বা (রহঃ) ... বুসর ইবনু আরতাত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যুদ্ধে থাকাবস্থায় হাত কাটা যাবে না। সহীহ, মিশকাত ৩৬০১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবনু লাহীয়া ছাড়া অন্যান্য রাবীও এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। বুসর ইবনু আরতাত রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বর্ণনান্তরে বুসর ইবনু আবূ আরতাত রূপেও উল্লেখ হয়েছে। আওযাঈ (রহঃ) সহ কতক আলিমের আমল এতদনুসারে রয়েছে। তারা যুদ্ধে থাকাবস্থায় শত্রুর উপস্থিতে হদ প্রয়োগ করার মত দেন না। কারণ, এতে আশংকা আছে যে, যার উপর হদ প্রয়োগ করা হল সে হয়ত শত্রুর দলে ভিড়ে যাবে। ইমাম বা ইসলামি প্রশাসক যুদ্ধাঞ্চল থেকে বের হয়ে যখন ইসলামী এলাকায় ফিরে আসবেন তখন তিনি অপরাধীর উপর হদ প্রয়োগ করবেন। আওযাঈ (রহঃ) এইরূপ কথা ব্যাখ্যা করেছেন।
باب مَا جَاءَ أَنْ لاَ تُقْطَعَ الأَيْدِي فِي الْغَزْوِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ الْمِصْرِيِّ، عَنْ شُيَيْمِ بْنِ بَيْتَانَ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ بُسْرِ بْنِ أَرْطَاةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُقْطَعُ الأَيْدِي فِي الْغَزْوِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى غَيْرُ ابْنِ لَهِيعَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ هَذَا . وَيُقَالُ بُسْرُ بْنُ أَبِي أَرْطَاةَ أَيْضًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الأَوْزَاعِيُّ لاَ يَرَوْنَ أَنْ يُقَامَ الْحَدُّ فِي الْغَزْوِ بِحَضْرَةِ الْعَدُوِّ مَخَافَةَ أَنْ يَلْحَقَ مَنْ يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ بِالْعَدُوِّ فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ مِنْ أَرْضِ الْحَرْبِ وَرَجَعَ إِلَى دَارِ الإِسْلاَمِ أَقَامَ الْحَدَّ عَلَى مَنْ أَصَابَهُ . كَذَلِكَ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ .
Narrated Busr Bin Artah:
That the Prophet (ﷺ) said: "The hands are not cut in the battles."
পরিচ্ছেদঃ কেউ যদি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সঙ্গত হয়।
১৪৫৭। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... হাবীব ইবনু গালিব (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, নু’মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এমন এক ব্যক্তিকে পেশ করা হল, যে তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে উপগত হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি এই বিষযে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিচারের মত বিচার করব। যদি তার স্ত্রী এই দাসীটিকে তার জন্য হালাল করে দিয়ে থাকে তবে তাকে একশত বেত্র দন্ড দিব। আর যদি হালাল করে না দিয়ে থাকে তকে তাকে ’রজম’ দন্ড দিব। যঈফ, ইবনু মাজাহ ২৫৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَقَعُ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، وَأَيُّوبَ بْنِ مِسْكِينٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، قَالَ رُفِعَ إِلَى النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَجُلٌ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ فَقَالَ لأَقْضِيَنَّ فِيهَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَئِنْ كَانَتْ أَحَلَّتْهَا لَهُ لأَجْلِدَنَّهُ مِائَةً وَإِنْ لَمْ تَكُنْ أَحَلَّتْهَا لَهُ رَجَمْتُهُ .
Habib bin Salim said:
"A man was brought to An-Nu'man bin Bashir who had relations with the slave girl of his wife. He said: 'I give you judgement about her case according to the judgement of the Messenger of Allah (ﷺ): If she made her lawful for him, then I will lash him one hundred times, and if she did not make her lawful, then I will stone him."
পরিচ্ছেদঃ কেউ যদি তার স্ত্রীর দাসীর সাথে সঙ্গত হয়।
১৪৫৮। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... নু’মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। যঈফ, দেখুন পূর্বের হাদিস, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে সালমান ইবনুল মুহাববাক থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। নু’মান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াতটিতে ইযতিরাব বিদ্যমান। মুহাম্মদ আল বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, কাতাদা এই হাদীসটিকে হাবীব ইবনু সালিম (রহঃ) থেকে শুনেন নি। আসলে এটিকে তিনি খালিদ ইবনু উরফুতা (রহঃ) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর দাসীর সাথে উপগত হয় তার দন্ড সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। আলী ও ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ কতক সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তার উপর রজম দন্ড প্রয়োগ করা হবে। ইবনু মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তার উপর কোন নির্ধারিত হদ নেই। তবে তাকে (বিচারকের বিবেচনা মতে) শাস্তি দেওয়া হবে। আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) নু’মান ইবনু বাশীর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস অনুসারে মত অবলম্বন করেছেন।
باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَقَعُ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ النُّعْمَانِ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ لَمْ يَسْمَعْ قَتَادَةُ مِنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ هَذَا الْحَدِيثَ إِنَّمَا رَوَاهُ عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ . وَيُرْوَى عَنْ قَتَادَةَ أَنَّهُ قَالَ كَتَبَ بِهِ إِلَىَّ حَبِيبُ بْنُ سَالِمٍ . وَأَبُو بِشْرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ هَذَا أَيْضًا إِنَّمَا رَوَاهُ عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الرَّجُلِ يَقَعُ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ فَرُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عَلِيٌّ وَابْنُ عُمَرَ أَنَّ عَلَيْهِ الرَّجْمَ . وَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لَيْسَ عَلَيْهِ حَدٌّ وَلَكِنْ يُعَزَّرُ . وَذَهَبَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ إِلَى مَا رَوَى النُّعْمَانُ بْنُ بَشِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
(Another chain) from An-Nu'man bin Bashir with similar.
পরিচ্ছেদঃ কোন মহিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হলে।
১৪৫৯। আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ... আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর, তার পিতা ওয়াইল ইবনু হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এক মহিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ’হদ’ রহিত করে দিয়েছিলেন। আর যে পুরুষ তাকে ভোগ করেছির তার উপর হদ প্রয়োগ করেছিলেন। ঐ মহিলার জন্য কোন রূপ ’মহর’ নির্ধারণ করেছেন বলে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি।
যঈফ, মিশকাত ৩৫৭১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি গারীব। এর সনদ মুত্তাসিল নয়। একাধিক সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত আছে। মুহাম্মদ আল-বুখারী (রহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর তাঁর পিতা ওয়াইল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কিছু শোনেন নি এবং তাকে দেখেন নি। বলা হয়, পিতার মৃত্যুর মাস কয়েক পরে তার জন্ম হয়। এই হাদীস অনুসারে সাহাবীদের মধ্যে আলিমগণের এবং অন্যান্য আলিমগণের মিল রয়েছে যে, যাকে বাধ্য করা হয়, তার উপর হদ নেই।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَرْأَةِ إِذَا اسْتُكْرِهَتْ عَلَى الزِّنَا
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا مُعَمَّرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّقِّيُّ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ اسْتُكْرِهَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَرَأَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحَدَّ وَأَقَامَهُ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّهُ جَعَلَ لَهَا مَهْرًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ وَلاَ أَدْرَكَهُ يُقَالُ إِنَّهُ وُلِدَ بَعْدَ مَوْتِ أَبِيهِ بِأَشْهُرٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنْ لَيْسَ عَلَى الْمُسْتَكْرَهَةِ حَدٌّ .
Narrated 'Abdul-Jabbar bin Wa'il bin Hujr:
That his father said: "A woman was forced to commit illegal sexual relations during the time of the Messenger of Allah (ﷺ). The Messenger of Allah (ﷺ) did not enforce the legal punishment upon her, but he enforced it upon the one who had done it to her." And the narrator did not mention him assigning a dowry to her.
পরিচ্ছেদঃ কোন মহিলাকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হলে।
১৪৬০। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ... আলকামা ইবনু ওয়াইল কিন্দী তার পিতা ওয়াইল কিন্দী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে জনৈক মহিলা সালাতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল। পথে তাকে এক ব্যক্তি স্বীয় কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলে এবং তার প্রয়োজন পূরণ করে। মহিলাটি চিৎকার করলে লোকটি চলে যায়। এই সময় মহিলাটির পাশ দিয়ে আরেক ব্যক্তি যাচ্ছিল। মহিলাটি বলতে লাগল এই পুরুষটই তার সাথে এমন এমন করেছে। তখন একদল মুহাজির সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। মহিলাটি বলল, এই লোকটই আমার সঙ্গে এমন এমন করেছে। তখন তারা এই লোকটিকে নিয়ে এলে মহিলাটি বলল, এ-ই সেই লোক। তখন তারা এই লোকটিকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। তিনি তাকে ’রজম’ এর নির্দেশ দিলেন। এই সময় যে লোকটি প্রকৃত পক্ষে উপগত হয়েছিল সেই লোকটি উঠে দাঁড়াল। বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আসলে আমি অপরাধী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাটিকে বললেন, যাও, আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিয়েছেন। ধৃত পুরুষটি সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন। আর প্রকৃত পক্ষে যে লোকটি উপগত হয়েছিল তাকে রজম-এর নির্দেশ দিলেন এবং বললেন, সে এমন তওবা করেছে যে, সমগ্র মদীনাবাসী যদি তা করে তবে তাদের তওবাও কবুল হয়ে যাবে।
হাসান, তাকে রজম করা বাক্য ব্যাতীত। সঠিক বক্তব্য হল তাকে রজম করা হয় নাই। মিশকাত ৩৫৭২, সহীহাহ ৯০০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। আলকামা ইবনু ওয়াইল ইবনু হুজর তাঁর পিতা ওয়াইল ইবনু হুজর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি আবদুল জাব্বার থেকে বড়। আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়াইল তার পিতা ওয়াইল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে কিছু শোনেন নি।
باب مَا جَاءَ فِي الْمَرْأَةِ إِذَا اسْتُكْرِهَتْ عَلَى الزِّنَا
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ الْكِنْدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، خَرَجَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تُرِيدُ الصَّلاَةَ فَتَلَقَّاهَا رَجُلٌ فَتَجَلَّلَهَا فَقَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا فَصَاحَتْ فَانْطَلَقَ وَمَرَّ عَلَيْهَا رَجُلٌ فَقَالَتْ إِنَّ ذَاكَ الرَّجُلَ فَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا . وَمَرَّتْ بِعِصَابَةٍ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ فَقَالَتْ إِنَّ ذَاكَ الرَّجُلَ فَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا . فَانْطَلَقُوا فَأَخَذُوا الرَّجُلَ الَّذِي ظَنَّتْ أَنَّهُ وَقَعَ عَلَيْهَا وَأَتَوْهَا فَقَالَتْ نَعَمْ هُوَ هَذَا . فَأَتَوْا بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَمَرَ بِهِ لِيُرْجَمَ قَامَ صَاحِبُهَا الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا صَاحِبُهَا . فَقَالَ لَهَا " اذْهَبِي فَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكِ " . وَقَالَ لِلرَّجُلِ قَوْلاً حَسَنًا وَقَالَ لِلرَّجُلِ الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهَا " ارْجُمُوهُ " . وَقَالَ " لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا أَهْلُ الْمَدِينَةِ لَقُبِلَ مِنْهُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ . وَعَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ سَمِعَ مِنْ أَبِيهِ وَهُوَ أَكْبَرُ مِنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ وَعَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ .
Narrated 'Alqamah bin Wa'il Al-Kindi:
From his father: "A women went out during the time of the Prophet (ﷺ) to go to Salat, but she was caught by a man and he had relations with her, so she screamed and he left. Then a man came across her and she said: 'That man has done this and that to me', then she came across a group of Emigrants (Muhajirin) and she said: 'That man did this and that to me.' They went to get the man she thought had relations with her, and they brought him to her. She said: 'Yes, that's him.' So they brought him to the Messenger of Allah (ﷺ), and when he ordered that he be stoned, the man who had relations with her, said: 'O Messenger of Allah, I am the one who had relations with her.' So he said to her: 'Go, for Allah has forgiven you.' Then he said some nice words to the man (who was brought). And he said to the man who had relations with her: 'Stone him.' Then he said: 'He has repented a repentance that, if the inhabitants of Al-Madinah had repented with, it would have been accepted from them.'"
পরিচ্ছেদঃ পশুর সাথে সঙ্গত হলে।
১৪৬১। মুহাম্মদ ইবনু আমর সাওওয়াক (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পশুর সাথে উপগত হতে যদি কাউকে পাও তবে তাকে কতল করে দাও এবং পশুটিকেও। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলা হল পশুটির ব্যাপার কি? তিনি বললেন, এই বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কিছু শুনিনি। তবে আমার মনে হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাংস খাওয়া এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়া পছন্দ করেননি। কারণ, এর সাথে এ অশ্লীল কাজ করা হয়েছে। হাসান, ইবনু মাজাহ ২৫৬৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এ হাদীসটি আমর ইবনু আবূ আমর ব্যতীত ইকরিমার সনদে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আর কেউ বর্ণনা করেছেন তা আমরা অবহিত নই।
সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পশুর সহিত উপগত হয় তার উপর কোন হদ নেই্।
এই হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আবদুর রহমান ইবনু মাহদীর মাধ্যমে সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
এটি প্রথমোক্ত রিওয়ায়াতের (১৪৬০ নং) তুলনায় অধিকতর সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يَقَعُ عَلَى الْبَهِيمَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو السَّوَّاقُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ وَقَعَ عَلَى بَهِيمَةٍ فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوا الْبَهِيمَةَ " . فَقِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا شَأْنُ الْبَهِيمَةِ قَالَ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَيْئًا وَلَكِنْ أُرَى رَسُولَ اللَّهِ كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْ لَحْمِهَا أَوْ يُنْتَفَعَ بِهَا وَقَدْ عُمِلَ بِهَا ذَلِكَ الْعَمَلُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
وَقَدْ رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ مَنْ أَتَى بَهِيمَةً فَلاَ حَدَّ عَلَيْهِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .
Narrated Ibn 'Abbas:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Whomever you see having relations with an animal then kill him and kill animal." So it was said to Ibn 'Abbas: "What is the case of the animal?" He said: "I did not hear anything from the Messenger of Allah (ﷺ) about this, but I see that the Messenger of Allah (ﷺ) disliked eating its meat or using it, due to the fact that such a (heinous) thing has been done with that animal."
Sufyan Ath-Thawri reported from 'Asim, from Abu Razin, from Ibn 'Abbas who said:
"Whoever has relations with beast, then there is no legal punishment for him."
পরিচ্ছেদঃ সমকামীর হদ।
১৪৬২। মুহাম্মদ ইবনু আমর সাওওয়াক (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লুত সম্প্রদায়ের কর্ম করতে তোমরা যাকে পাবে তাকে কতল কর এবং যার সাথে ঐ কর্ম করা হয়েছে তাকেও। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩৫৬১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে জাবির ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। কেবল উক্ত সূত্রেই আমরা ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রহঃ) এই হাদীসটিকে আমর ইবনু আবূ আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে আছে ঐ ব্যক্তির উপর লানত, যে লুত সম্প্রদায়ের কর্ম করে। এতে ’কতল’-এর কথাটির উল্লেখ নেই। এতে আরো উল্লেখ আছে যে, ঐ ব্যক্তির উপরও লানত, যে পশুর সাথে সঙ্গত হয়।
এই হাদীসটি আসিম ইবনু উমার (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’কর্তা এবং যার সাথে করা হয়েছে উভয়কেই কতল কর’’। এই হাদীসটির সনদ বিতর্কিত। সুহায়ল ইবনু আবূ সালিহ (রহঃ) থেকে এটিকে আসিম ইবনু উমার উমারী ছাড়ার কেউ রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমরা জানি না। আর আসিম ইবনু উমার স্মরণ শক্তির দিক দিয়ে হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ।
লাওয়াতাতের হদ সম্পর্কে আলিমগণের মতানৈক্য রয়েছে। কারো কারো মত হল বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত উভয় অবস্থায় এর উপর ’রজম’ প্রযোজ্য এ হল ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। হাসান বাসরী, ইবরাহীম নাঈখ, আতা ইবনু আবূ রাবাহ (রহঃ) সহ ফকীহ তাবিয়ী ও অন্যান্য আলিমগণ বলেন, লাওয়াতাতের হদ হল যিনার অনুরূপ। এ হল সুফইয়ান ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِي حَدِّ اللُّوطِيِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو السَّوَّاقُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا يُعْرَفُ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَرَوَى مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو فَقَالَ " مَلْعُونٌ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ " . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْقَتْلَ وَذَكَرَ فِيهِ مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى بَهِيمَةً . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ فِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ وَلاَ نَعْرِفُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ غَيْرَ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ الْعُمَرِيِّ . وَعَاصِمُ بْنُ عُمَرَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي حَدِّ اللُّوطِيِّ فَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنَّ عَلَيْهِ الرَّجْمَ أَحْصَنَ أَوْ لَمْ يُحْصِنْ وَهَذَا قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ مِنْهُمُ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ وَعَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَغَيْرُهُمْ قَالُوا حَدُّ اللُّوطِيِّ حَدُّ الزَّانِي وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .
Narrated Ibn 'Abbas:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Whomever you find doing the actions of the people of Lut then kill the one doing it, and the one it is done to."
পরিচ্ছেদঃ সমকামীর হদ।
১৪৬৩। আহমাদ ইবনু মানি (রহঃ) .... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশী আশংকা যে ব্যাপারটির করি সেটি হল লুত সম্প্রদায়ের কর্ম। হাসান, ইবনু মাজাহ ২৫৬৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি হাসান-গারীব, এই হাদীসটি উক্ত সনদে আমাদের জানা মতে শুধু আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আকীল ইবনু আবূ তালিব সূত্রে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।
باب مَا جَاءَ فِي حَدِّ اللُّوطِيِّ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَكِّيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ جَابِرٍ .
Narrated Jabir:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "What I fear most from my Ummah is the behavior of the people of Lut."
পরিচ্ছেদঃ মুরতাদ সম্পর্কে।
১৪৬৪। আহমাদ ইবনু আবদা যাব্বী (রহঃ) ... ইকরিমা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু কতকগুলি লোককে ইসলাম ত্যাগ করার কারণ আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এই সংবাদ পৌছলে তিনি বলেন, আমি হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর অনুসরণে এদের হত্যা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তার দ্বীন (ইসলাম) পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করবে। আমি তাদের পুড়িয়ে মারতাম না। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর আযাব (আগুন) দিয়ে শাস্তি দিবে না। অনন্তর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এই খবর গেলে তিনি বললেন, ইবনু আব্বাস সত্যই বলেছেন।
সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৩৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
মুরতাদ পুরুষের ব্যাপারে আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। কিন্তু কোন মহিলা যদি ইসলাম ত্যাগ করে তবে তার শাস্তি সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। একদল আলিম বলেন, তাকেও হত্যা করা হবে। এ হল ইমাম আওযাঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত। অপর একদল আলিম বলেন, তাকে বন্দী করে রাখা হবে, হত্যা করা হবে না। এ হল ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, প্রমুখ আলিম ও কুফাবাসী ফকীহগণের অভিমত।
باب مَا جَاءَ فِي الْمُرْتَدِّ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ عَلِيًّا، حَرَّقَ قَوْمًا ارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلاَمِ، فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَوْ كُنْتُ أَنَا لَقَتَلْتُهُمْ، لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ " . وَلَمْ أَكُنْ لأُحَرِّقَهُمْ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ " . فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا فَقَالَ صَدَقَ ابْنُ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْمُرْتَدِّ . وَاخْتَلَفُوا فِي الْمَرْأَةِ إِذَا ارْتَدَّتْ عَنِ الإِسْلاَمِ فَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ تُقْتَلُ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ تُحْبَسُ وَلاَ تُقْتَلُ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَغَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ .
Narrated 'Ikrimah:
That 'Ali burnt some people who apostasized from Islam. This news reached Ibn 'Abbas, so he said: "If it were me I would have killed them according to the statement of Messenger of Allah (ﷺ). The Messenger of Allah (ﷺ) said: 'Whoever changes his religion then kill him.' And I would not have burned them because the Messenger of Allah (ﷺ) said: 'Do not punish with the punishment of Allah.' So this reached 'Ali, and he said: "Ibn 'Abbas has told the truth."
পরিচ্ছেদঃ অস্ত্র উত্তোলনকারী প্রসঙ্গে।
১৪৬৫। আবূ কুরায়ব ও আবূ সাইব (রহঃ) ... আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের উপর অস্ত্র উত্তোলন করবে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৭৫, ২৫৭৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৫৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই বিষয়ে ইবনু উমার, ইবনু যুবায়র, আবূ হুরায়রা, সালামা ইবনু আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ شَهَرَ السِّلاَحَ
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَبُو السَّائِبِ، سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاَحَ فَلَيْسَ مِنَّا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ الزُّبَيْرِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي مُوسَى حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
Narrated Abu Musa:
That the Prophet (ﷺ) said: "Whoever carries weapons against us, he is not from us."
পরিচ্ছেদঃ যাদুকরের দন্ড প্রসঙ্গে।
১৪৬৬। আহমাদ ইবনু মানী’ (রহঃ) ... জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাদুকরের দন্ড হল তলওয়ার দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া।
যঈফ, যঈফা ১৪৪৬, মিশকাত, তাহকীক ছানী ৩৫৫১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৬০ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই সূত্র ছাড়া হাদীসটি মারফু’ রূপে আছে বলে আমরা জানি না। স্মরণশক্তির দিক থেকে ইবনু মুসলিম আবদী বাসারী (রহঃ) হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে যঈফ্। ইসমাঈল ইবনু মুসলিম আবদী বাসরী সম্পর্কে ওয়াকী’ (রহঃ) বলেছেন যে, তিনি নির্ভরযোগ্য আস্থাভাজন রাবী, তিনিও হাসান (রহঃ) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। জুনদুব (রহঃ) থেকে মাওকূফ রূপে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি সহীহ। এতদনুসারে কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমের আমল রয়েছে। এ হল ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, যাদু যদি কূফরীর পর্যায়ের হয় তকে যাদুকরকে হত্যা করা হবে। আর যদি তা কূফরী আমলের কম পর্যায়ের হয় তবে তার উপর কতল প্রযোজ্য হবে বলে তিনি মনে করেন না।
باب مَا جَاءَ فِي حَدِّ السَّاحِرِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جُنْدَبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حَدُّ السَّاحِرِ ضَرْبَةٌ بِالسَّيْفِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْمَكِّيُّ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْعَبْدِيُّ الْبَصْرِيُّ قَالَ وَكِيعٌ هُوَ ثِقَةٌ . وَيُرْوَى عَنِ الْحَسَنِ أَيْضًا وَالصَّحِيحُ عَنْ جُنْدَبٍ مَوْقُوفٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ إِنَّمَا يُقْتَلُ السَّاحِرُ إِذَا كَانَ يَعْمَلُ فِي سِحْرِهِ مَا يَبْلُغُ بِهِ الْكُفْرَ فَإِذَا عَمِلَ عَمَلاً دُونَ الْكُفْرِ فَلَمْ نَرَ عَلَيْهِ قَتْلاً .
Narrated Jundab:
That he heard the Messenger of Allah (ﷺ) saying: "The punishment of the Sahir is a strike of the sword."
পরিচ্ছেদঃ গনীমতের মালে খিয়ানতকারীর সঙ্গে কী করা হবে?
১৪৬৭। মুহাম্মদ ইবনু আমর (রহঃ) ... উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর পথে গনীমত সম্পদ কাউকে খিয়ানত করতে দেখতে পেলে তোমরা তার মাল-সামান জ্বালিয়ে দেবে। সালিহ বলেন, আমি মাসলামার কাছে গেলাম। তার সঙ্গে সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ)-ও ছিলেন। তখন এক ব্যক্তিকে পাওয়া গেল, যে গনীমত সম্পদে খিয়ানত করেছিল। সালিম তখন এই হাদীসটি রিওয়ায়াত করেন। এতদনুসারে তার মাল-সামান জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তার মাল-সামানে একটি কুরআন পাওয়া গেলে সালিম বললেন, এটি বিক্রি করে দাও এবং এর মূল্য সাদকা করে দাও।
যঈফ, যঈফ আবু দাউদ ৪৬৮, মিশকাত, তাহকীক ছানী ৩৬৩৩, তাহকীকল মুখতারাহ ১৯১, ১৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৬১ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। এতদনুসারে কতক আলিমের আমল রয়েছে। এ হল আওযাঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। মুহাম্মদ বুখারী (রহঃ)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, এটি সালিহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু যাইদা বর্ণনা করেছেন। ইনি হলেন আবূ ওয়াকীদ লায়ছী - ইনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে মুনকার বা আস্থাযোগ্য রাবীদের বিপরীত রিওয়ায়াত করে থাকেন। মুহাম্মদ বুখারী (রহঃ) আরো বলেন, গনীমত সম্পদে খিয়ানত সম্পর্কে একাধিক হাদীস বর্ণিত আছে। কিন্তু সেগুলিতে মাল-সামান জ্বালিয়ে দেওয়ার উল্লেখ নাই। এই হাদীসটি গারীব।
باب مَا جَاءَ فِي الْغَالِّ مَا يُصْنَعُ بِهِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو السَّوَّاقُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ غَلَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَاحْرِقُوا مَتَاعَهُ " . قَالَ صَالِحٌ فَدَخَلْتُ عَلَى مَسْلَمَةَ وَمَعَهُ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فَوَجَدَ رَجُلاً قَدْ غَلَّ فَحَدَّثَ سَالِمٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَأَمَرَ بِهِ فَأُحْرِقَ مَتَاعُهُ فَوُجِدَ فِي مَتَاعِهِ مُصْحَفٌ فَقَالَ سَالِمٌ بِعْ هَذَا وَتَصَدَّقْ بِثَمَنِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ إِنَّمَا رَوَى هَذَا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ وَهُوَ أَبُو وَاقِدٍ اللَّيْثِيُّ وَهُوَ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ قَالَ مُحَمَّدٌ وَقَدْ رُوِيَ فِي غَيْرِ حَدِيثٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْغَالِّ فَلَمْ يَأْمُرْ فِيهِ بِحَرْقِ مَتَاعِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
Narrated Umar:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Whomever you find stealing from the spoils of war while in the path of Allah, then burn his belongings." Salih (one of the narrators) said: "I entered upon Maslamah and with him was Salim bin 'Abdullah. There was a man there who had stolen from the spoils of war, so Salim narrated this Hadith. So he ordered accordingly, and his belongings were burnt. There was a Mushaf in his belongings, so Salim said: 'Sell this and give its proceeds as charity.'"
পরিচ্ছেদঃ কেউ যদি অপর কাউকে বলে হে মুখাননাছ।
১৪৬৮। মুহাম্মদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি অন্য কাউকে বলে, হে ইয়াহূদী, তবে তাকে বিশ ঘা বেত্রদন্ড দিবে। যদি বলে হে মুখাননাছ, তবে তাকেও বিশ ঘা বেত্রদন্ড দিবে। আর কেউ যদি মাহরাম মহিলার সাথে উপগত হয় তবে তাকে কতল করবে।
যঈফ, মিশকাত, তাহকীক ছানী ৩৬৩২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৬২ [আল মাদানী প্রকাশনী]
এই হাদীসটি এই সূত্র ছাড়া আমরা অহিত নই। রাবী ইবরাহীম ইবনু ইসমাঈলকে হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ বলা হয়। আমাদের উলামাদের আমল এ হাদীস অনুসারে রয়েছে। তারা বলেন, জেনে শুনে যে ব্যক্তি ’মাহরাম’ মহিলার সাথে উপগত হয় তার শাস্তি হল কতল। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন, যে ব্যক্তি তার মাকে বিবাহ করে তাকে কতল করা হবে। ইমাম ইসহাক (রহঃ) বলেন, কেউ যদি কোন মাহরামের সাথে উপগত হয় তবে তাকে হত্যা করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্যান্য সূত্রেও এ বিষয় বর্ণিত আছে। বারা ইবনু আযিব ও কুররা ইবনু ইয়াস মুযানীও এ বিষয়ে রিওয়ায়াত করেছেন যে, এক ব্যক্তি তার সৎমাকে বিয়ে করেছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কতলের নির্দেশ দেন।
باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يَقُولُ لآخَرَ يَا مُخَنَّثُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ يَا يَهُودِيُّ فَاضْرِبُوهُ عِشْرِينَ وَإِذَا قَالَ يَا مُخَنَّثُ فَاضْرِبُوهُ عِشْرِينَ وَمَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَصْحَابِنَا قَالُوا مَنْ أَتَى ذَاتَ مَحْرَمٍ وَهُوَ يَعْلَمُ فَعَلَيْهِ الْقَتْلُ . وَقَالَ أَحْمَدُ مَنْ تَزَوَّجَ أُمَّهُ قُتِلَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ مَنْ وَقَعَ عَلَى ذَاتِ مَحْرَمٍ قُتِلَ . - وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ رَوَاهُ الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ وَقُرَّةُ بْنُ إِيَاسٍ الْمُزَنِيُّ أَنَّ رَجُلاً تَزَوَّجَ امْرَأَةَ أَبِيهِ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَتْلِهِ .
Narrated Ibn 'Abbas:
That the Prophet (ﷺ) said: "If a man says to another man: 'O you Jew' then beat him twenty times. If he says: 'O you effeminate' then beat him twenty times. And whoever has relations with someone that is a Mahram then kill him."
পরিচ্ছেদঃ তা‘যীর।
১৪৬৯। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ বুরদা ইবনু নিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত কোন হদ ছাড়া কাউকে দশ ঘা এর ঊর্ধ্বে বেত্রদন্ড প্রদান করা যাবে না। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৬০১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৬৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]
ইবনু লাহীআ এই হাদীসটিকে বুকায়র (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে তিনি ভুল করেছেন। তিনি তার রিওয়ায়াতে আবদুর রহমান ইবনু জাবির ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তা ভুল। লাইছ ইবনু সা’দ (রহঃ) এর সনদটি শুদ্ধ। সেটি হল আবদুর রহমান ইবনু জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আবূ বুরদা ইবনু নিয়ার সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। এই হাদীসটি হারীব। বুকায়র ইবনু আশাজ্জ (রহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। তা’যীর সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। তা’যীর বিষয়ে বর্ণিত রিওয়ায়াত সমূহের মধ্যে এ হাদীসটি উত্তম।
باب مَا جَاءَ فِي التَّعْزِيرِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُجْلَدُ فَوْقَ عَشْرِ جَلَدَاتٍ إِلاَّ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي التَّعْزِيرِ وَأَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي التَّعْزِيرِ هَذَا الْحَدِيثُ . قَالَ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ بُكَيْرٍ فَأَخْطَأَ فِيهِ وَقَالَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ خَطَأٌ وَالصَّحِيحُ حَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ إِنَّمَا هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
Narrated Abu Burdah bun Niyar:
That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "No one is to be lashed more than ten lashes except for a legal punishment among Allah's punishments."