দ্বিতীয় নীতি

যে সকল ইবাদাত শুধুমাত্র মনগড়া মতামত ও খেয়াল-খুশীর ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয় সে সকল ইবাদাত বিদ‘আত হিসেবে গণ্য। যেমন, কোনো এক ‘আলিম বা আবেদ ব্যক্তির কথা কিংবা কোনো দেশের প্রথা অথবা স্বপ্ন কিংবা কাহিনী যদি হয় কোনো ‘আমল বা ইবাদাতের দলীল তাহলে তা হবে বিদ‘আত।

দীনের প্রকৃত নীতি হলো: আল-কুরআন ও সুন্নাহ’র মাধ্যমেই শুধু আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের কাছে জ্ঞান আসে। সুতরাং শরী‘আতের হালাল-হারাম এবং ইবাদাত ও ‘আমল নির্ধারিত হবে এ দু’টি দলীলের ভিত্তিতে। এ দু’টি দলীল ছাড়া অন্য পন্থায় স্থিরীকৃত ‘আমল ও ইবাদাত তাই বিদ‘আত বলে গণ্য হবে। এ জন্যই বিদ‘আতপন্থীগণ তাদের বিদ‘আতগুলোর ক্ষেত্রে শরঈ‘ দলীলের অপব্যাখ্যা করে সংশয় সৃষ্টি করে। এ প্রসঙ্গে ইমাম শাতেবী রহ. বলেন, “সুন্নাতী তরীকার মধ্যে আছে এবং সুন্নাতের অনুসারী বলে দাবীদার যে সকল ব্যক্তি সুন্নাতের বাইরে অবস্থান করছে, তারা নিজ নিজ মাসআলাগুলোতে সুন্নাহ্ দ্বারা দলীল পেশের ভান করেন।’’[1]

উদাহরণ:

১। কাশফ, অন্তর্দৃষ্টি তথা মুরাকাবা-মুশাহাদা, স্বপ্ন ও কারামাতের ওপর ভিত্তি করে শরী‘আতের হালাল হারাম নির্ধারণ করা কিংবা কোনো বিশেষ ‘আমল বা ইবাদাতের প্রচলন করা।[2]

২। শুধুমাত্র ‘আল্লাহ’ কিংবা হু-হু’ অথবা ‘ইল্লাল্লাহ’ এর যিকির উপরোক্ত নীতির আলোকে ইবাদাত বলে গণ্য হবে না। কেননা কুরআন কিংবা হাদীসের কোথাও এরকম যিকির অনুমোদিত হয় নি।[3]৩। মৃত অথবা অনুপস্থিত সৎব্যক্তিবর্গকে আহ্বান করা, তাদের কাছে প্রার্থনা করা ও সাহায্য চাওয়া, অনুরূপভাবে ফিরিশতা ও নবী-রসূলগণের কাছে দো‘আ করাও এ নীতির আলোকে বিদ‘আত বলে সাব্যস্ত হবে। শেষোক্ত এ বিদ‘আতটি মূলতঃ শেষ পর্যন্ত বড় শির্কে পরিণত হয়।

[1] আল-ই‘তেসাম ১/২২০

[2] আল-ই‘তিসাম ১/২১২, ২/১৮১

[3] মাজমু‘ আল-ফাতাওয়া ১০/৩৬৯