আমি সম্প্রতি দু’টি বই পড়েছি। দুটিই সে সহজতা ও সরলতা হতে বঞ্চিত যা শরীয়ত আমাদের জন্য চায়।

প্রথমটি হলো ইমাম গাজালীর ‘এহইয়াউ উলুমুদ্দীন’। তিনি এতে এমন কিছু হাদীস জমায়েত করেছেন, যার অধিকাংশই দুর্বল। তিনি সেসব হাদীসের উপর ভিত্তি করে এমন কিছু নিয়ম-নীতি তৈরি করেছেন যেগুলোকে তিনি বান্দাকে তার প্রভুর নিকটতর করার শ্রেষ্ঠ উপায় মনে করেছেন। এ পুস্তককে বুখারী ও মুসলিমের সাথে তুলনা করে আমি স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। প্রথম পুস্তকে বাড়াবাড়ি, কঠোরতা ও কৃত্রিমতা আছে। পক্ষান্তরে বুখারী ও মুসলিমে সরলতা ও মধ্যমপন্থা আছে। এর কারণ সম্ভবত এই যে, বুখারী ও মুসলিম আমাদের জন্য শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য হাদীসই বর্ণনা করেন। এ সকল কিতাবের তুলনা করে আমি নিম্নোক্ত আয়াতের অধিকতর গভীর অর্থ পেয়েছি।

“(হে মুহাম্মদ!) আমি তোমাদের জন্য সহজ পথ ও আমলকে আরো সহজে করে দিব।” (৮৭-সূরা আল আ’লাঃ আয়াত-৮)

দ্বিতীয় বইটি হলো আবু তালিব মক্কীর ‘কূতুল কুলুব’। এতে তিনি পাঠককে এ জীবন পরিত্যাগ করতে, কাজ ত্যাগ করতে, এমনকি হালাল আনন্দ থেকে বিরত থাকতে এবং কঠোর আত্ম-সংযম ও কৃচ্ছতা সাধন করার চেষ্টা করতে উৎসাহ দেন।

আবু হামীদ গাজ্জালী এবং আবু তালিব মক্কী দু’জন লেখকেরই ভালো উদ্দেশ্য ছিল। তবুও সমস্যা এ ছিল যে তাদের হাদীসের জ্ঞান অস্পষ্ট ও দুর্বল ছিল। এ কারণে তাদের চিন্তাধারায় ভুল চুপিসারে ঢুকে গেছে। তাদের ভুল থেকে আমাদের এ শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, পথ প্রদর্শককে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। তার অবশ্যই এমন একটি নির্ভুল মানচিত্র থাকতে হবে, যা কারো গন্তব্যে পৌছার বিভিন্ন পথ প্রদর্শন করে।

وَلَٰكِن كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنتُمْ تَدْرُسُونَ

“বরং তোমরা রাব্বানী (ইলাহের সাধক) হয়ে যাও; যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিচ্ছ এবং যেহেতু তোমরা (কিতাব) অধ্যয়ন করছ।” (৩-সূরা আলে ইমরানঃ আয়াত-৭৯)

(রাব্বানী অর্থ হলো-ইলাহের সাধক বা রবের গুণে গুণান্বিত বা আল্লাহর জ্ঞানে জ্ঞানী এবং সে অনুযায়ী যে ব্যক্তি আমল করে এবং অন্যকে সে জ্ঞান শিক্ষা দেয়।)

দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১ পর্যন্ত, সর্বমোট ১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে