সূরাঃ ৭১/ নূহ | Nuh | نُوح আয়াতঃ ২৮ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়ার শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
আহসানুল বায়ানের শানে নুযূল পাওয়া যায়নি
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৭১ : ১ اِنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِهٖۤ اَنۡ اَنۡذِرۡ قَوۡمَكَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۱﴾
انا ارسلنا نوحا الی قومهٖ ان انذر قومك من قبل ان یاتیهم عذاب الیم ﴿۱﴾

নিশ্চয় আমি নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে (এ কথা বলে), ‘তোমার কওমকে সতর্ক কর, তাদের নিকট যন্ত্রণাদায়ক আযাব আসার পূর্বে’। আল-বায়ান

আমি নূহকে তার জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তুমি তোমার জাতিকে সতর্ক কর তাদের কাছে মর্মান্তিক ‘আযাব আসার পূর্বে। তাইসিরুল

নূহকে আমি প্রেরণ করেছিলাম তার সম্প্রদায়ের প্রতি এই নির্দেশসহঃ তুমি তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর তাদের প্রতি শাস্তি আসার পূর্বে। মুজিবুর রহমান

Indeed, We sent Noah to his people, [saying], "Warn your people before there comes to them a painful punishment." Sahih International

১. নিশ্চয় আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার সম্প্রদায়ের প্রতি এ নির্দেশসহ যে, আপনি আপনার সম্প্রদায়কে সতর্ক করুন তাদের প্রতি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসার আগে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) নিশ্চয় আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট[1] প্রেরণ করেছিলাম (এই নির্দেশ সহ যে,) তুমি তোমার সম্প্রদায়কে সতর্ক কর তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসার পূর্বে। [2]

[1] নূহ (আঃ) একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পয়গম্বর ছিলেন। সহীহ মুসলিম প্রভৃতি হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত শাফাআ’ত সম্পর্কিত হাদীসে এসেছে যে, তিনি হলেন প্রথম রসূল। এও বলা হয় যে, তাঁরই সম্প্রদায় হতে শিরকের উৎপত্তি হয়েছে। এই জন্য মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর সম্প্রদায়ের হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করেন।

[2] অর্থাৎ, কিয়ামতে অথবা দুনিয়াতে আযাব আসার পূর্বে। যেমন, এই সম্প্রদায়ের উপর তুফান এসেছিল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ২ قَالَ یٰقَوۡمِ اِنِّیۡ لَكُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ۙ﴿۲﴾
قال یقوم انی لكم نذیر مبین ﴿۲﴾

সে বলল, ‘হে আমার কওম! নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী- আল-বায়ান

সে বলেছিল, ‘‘হে আমার জাতির লোকেরা! আমি তোমাদের জন্য এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী, তাইসিরুল

সে বলেছিলঃ হে আমার সম্প্রদায়! আমিতো তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী – মুজিবুর রহমান

He said, "O my people, indeed I am to you a clear warner, Sahih International

২. তিনি বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী। [1]

[1] আল্লাহর আযাব সম্বন্ধে, যদি তোমরা ঈমান না আন। সুতরাং আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার উপায় বাতলে দেওয়ার জন্য আমি এসেছি। যা পরের আয়াতে বর্ণিত হচ্ছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ৩ اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ وَ اتَّقُوۡهُ وَ اَطِیۡعُوۡنِ ۙ﴿۳﴾
ان اعبدوا الله و اتقوه و اطیعون ﴿۳﴾

যে, তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর’। আল-বায়ান

এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর, তাঁকেই ভয় কর, আর আমার কথা মান্য কর। তাইসিরুল

এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তাঁকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। মুজিবুর রহমান

[Saying], 'Worship Allah, fear Him and obey me. Sahih International

৩. এ বিষয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর, আর আমার আনুগত্য কর(১);

(১) নূহ আলাইহিস সালাম তার রিসালাতের দায়িত্ব পালনের শুরুতেই তার জাতির সামনে তিনটি বিষয় পেশ করেছিলেন। এক, আল্লাহর দাসত্ব, দুই, তাকওয়া বা আল্লাহভীতি এবং তিন, রাসূলের আনুগত্য। প্রথমেই ছিল আল্লাহর অবাধ্যতা না করার আহবান, কারণ তাঁর অবাধ্য হলে আযাব অনিবাৰ্য। তারপর তাকওয়ার আহবান। যার মাধ্যমে রাসূলকে মেনে নিয়ে একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করার আহবান রয়েছে। তারপর রয়েছে রাসূলের আনুগত্যের আহবান। তিনি যা করতে আদেশ করেন তাই করা যাবে আর যা করতে নিষেধ করেন তা-ই ত্যাগ করতে হবে। [মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) (এই বিষয়ে যে,) তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর[1] ও তাঁকে ভয় কর[2] এবং আমার আনুগত্য কর;[3]

[1] এবং তোমরা শিরক ত্যাগ কর। কেবলমাত্র এক আল্লাহরই ইবাদত কর।

[2] আল্লাহর অবাধ্যতা করা হতে দূরে থাক। কারণ এই অবাধ্যতার জন্য তোমরা আল্লাহর শাস্তিযোগ্য বিবেচিত হতে পার।

[3] অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে যে কথার আদেশ করব, তাতে তোমরা আমার আনুগত্য কর। কেননা, আমি আল্লাহর পক্ষ হতে রসূল ও তাঁর বার্তাবাহক হয়ে তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ৪ یَغۡفِرۡ لَكُمۡ مِّنۡ ذُنُوۡبِكُمۡ وَ یُؤَخِّرۡكُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اِنَّ اَجَلَ اللّٰهِ اِذَا جَآءَ لَا یُؤَخَّرُ ۘ لَوۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۴﴾
یغفر لكم من ذنوبكم و یؤخركم الی اجل مسمی ان اجل الله اذا جآء لا یؤخر لو كنتم تعلمون ﴿۴﴾

‘তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেবেন; আল্লাহর নির্ধারিত সময় আসলে কিছুতেই তা বিলম্বিত করা হয় না, যদি তোমরা জানতে’! আল-বায়ান

তাহলে তিনি তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেবেন। আল্লাহ কর্তৃক নিদিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আর তা বিলম্বিত হবে না। তোমরা যদি জানতে!’ তাইসিরুল

তিনি তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে অবকাশ দিবেন এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত; নিশ্চয়ই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত কাল উপস্থিত হলে উহা বিলম্বিত হয়না; যদি তোমরা এটা জানতে। মুজিবুর রহমান

Allah will forgive you of your sins and delay you for a specified term. Indeed, the time [set by] Allah, when it comes, will not be delayed, if you only knew.' " Sahih International

৪. তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন(১) এবং তোমাদেরকে অবকাশ দেবেন। এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।(২) নিশ্চয় আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হলে তা বিলম্বিত করা হয় না; যদি তোমরা এটা জানতে!

(১) من অব্যয়টি প্রায়শঃ কতক অর্থ জ্ঞাপন করার জন্যে ব্যবহৃত হয়। এই অর্থে আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, ঈমান আনলে তোমাদের কতক গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এর অর্থ আল্লাহ তা'আলার হক সম্পর্কিত গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। কেননা বান্দার হক মাফ হওয়ার জন্যে ঈমান আনার পরও একটি শর্ত আছে। তা এই যে হকটি আদায়যোগ্য হলে তা আদায় করতে হবে; যেমন আর্থিক দায় দেনা এবং আদায় যোগ্য না হলে তা মাফ নিতে হবে যেমন মুখে কিংবা হাতে কাউকে কষ্ট দেয়া। কোন কোন তফসীরবিদ বলেনঃ আয়াতে من অব্যয়টি বর্ণনাসূচক। উদ্দেশ্য এই যে, ঈমান আনলে তোমাদের সব গোনাহ মাফ হয়ে যাবে। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর]

(২) উদ্দেশ্য এই যে তোমরা ঈমান আনলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। বয়সের নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে তোমাদেরকে কোন আযাবে ধ্বংস করবেন না। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) (তাহলে) তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে অবকাশ দেবেন এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত।[1] নিশ্চয়ই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত কাল উপস্থিত হলে, তা বিলম্বিত হয় না।[2] যদি তোমরা এটা জানতে!’ [3]

[1] এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, তোমাদের মৃত্যুর যে সময়কাল নির্ধারণ করা আছে, ঈমান আনা অবস্থায় সেটাকে বাড়িয়ে দিয়ে বেঁচে থাকার আরো অবকাশ দেবেন এবং সেই আযাবকে তোমাদের উপর হতে দূর করে দেবেন, ঈমান না আনার ফলে যার আসাটা তোমাদের উপর অবধারিত ছিল। এই আয়াতকে দলীল বানিয়ে বলা হয় যে, আল্লাহর আনুগত্য, নেকীর কাজ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায়ে সত্যিকারে আয়ু বৃদ্ধি হয়। হাদীস শরীফেও এসেছে যে, صِلَةُ الرِّحِمِ تَزِيْدُ فِي العُمُرِ অর্থাৎ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় আয়ু বৃদ্ধি করে। (ইবনে কাসীর) কেউ কেউ বলেন, অবকাশ দেওয়ার মানে, বরকত দেওয়া। ঈমান আনলে আয়ুতে বরকত হবে। আর ঈমান না আনলে এই বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

[2] বরং অবশ্যই তা সংঘটিত হয়ে থাকে। তাই তোমাদের জন্য এটাই মঙ্গল যে, তোমরা সত্বর ঈমান ও আনুগত্যের পথ অবলম্বন করে নাও। দেরী করলে আল্লাহর প্রতিশ্রুত আযাবে পতিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

[3] অর্থাৎ, যদি তোমাদের জ্ঞান থাকত, তাহলে তোমরা তা সত্বর অবলম্বন করতে, যার আমি তোমাদেরকে নির্দেশ করছি। অথবা যদি তোমরা এই কথা জানতে যে, আল্লাহর আযাব যখন এসে পড়ে, তখন তা রদ্দ হয় না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ৫ قَالَ رَبِّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُ قَوۡمِیۡ لَیۡلًا وَّ نَهَارًا ۙ﴿۵﴾
قال رب انی دعوت قومی لیلا و نهارا ﴿۵﴾

সে বলল, ‘হে আমার রব! আমি তো আমার কওমকে রাত-দিন আহবান করেছি। আল-বায়ান

সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার জাতিকে রাত-দিন ডেকেছি, তাইসিরুল

সে বলেছিলঃ হে আমার রাব্ব! আমিতো আমার সম্প্রদায়কে দিন-রাত আহবান করছি। মুজিবুর রহমান

He said, "My Lord, indeed I invited my people [to truth] night and day. Sahih International

৫. তিনি বললেন, হে আমার রব! আমি তো আমার সম্প্রদায়কে দিনরাত ডেকেছি,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয় আমি আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি আহবান করেছি। [1]

[1] অর্থাৎ, তোমার নির্দেশ পালনে কোন প্রকার অবহেলা না করে দিন-রাত আমি তোমার বার্তা স্বীয় সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ৬ فَلَمۡ یَزِدۡهُمۡ دُعَآءِیۡۤ اِلَّا فِرَارًا ﴿۶﴾
فلم یزدهم دعآءی الا فرارا ﴿۶﴾

‘অতঃপর আমার আহবান কেবল তাদের পলায়নই বাড়িয়ে দিয়েছে’। আল-বায়ান

কিন্তু আমার ডাক কেবল তাদের পলায়নী মনোবৃত্তিকেই বাড়িয়ে দিয়েছে, তাইসিরুল

কিন্তু আমার আহবান তাদের পলায়ন প্রবণতাই বৃদ্ধি করছে। মুজিবুর রহমান

But my invitation increased them not except in flight. Sahih International

৬. কিন্তু আমার ডাক তাদের পলায়ন প্রবণতাই বৃদ্ধি করেছে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) কিন্তু আমার আহবান তাদের পলায়ন-প্রবণতাই বৃদ্ধি করেছে।[1]

[1] অর্থাৎ, আমার আহবানের ফলে এরা ঈমান হতে আরো দূরে সরে গেল। যখন কোন জাতি ভ্রষ্টতার শেষ সীমায় পৌঁছে যায়, তখন তাদের অবস্থা এইরূপই হয়। তাদেরকে যতই আল্লাহর প্রতি আহবান করা হয়, তারা ততই দূরে সরে যায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ৭ وَ اِنِّیۡ كُلَّمَا دَعَوۡتُهُمۡ لِتَغۡفِرَ لَهُمۡ جَعَلُوۡۤا اَصَابِعَهُمۡ فِیۡۤ اٰذَانِهِمۡ وَ اسۡتَغۡشَوۡا ثِیَابَهُمۡ وَ اَصَرُّوۡا وَ اسۡتَكۡبَرُوا اسۡتِكۡبَارًا ۚ﴿۷﴾
و انی كلما دعوتهم لتغفر لهم جعلوا اصابعهم فی اذانهم و استغشوا ثیابهم و اصروا و استكبروا استكبارا ﴿۷﴾

‘আর যখনই আমি তাদেরকে আহবান করেছি ‘যেন আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন’, তারা নিজদের কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়েছে, নিজদেরকে পোশাকে আবৃত করেছে, (অবাধ্যতায়) অনড় থেকেছে এবং দম্ভভরে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে’। আল-বায়ান

আমি যখনই তাদেরকে ডাকি যেন তুমি তাদেরকে ক্ষমা করে দাও, তখনই তারা তাদের কানে আঙ্গল ডুকিয়ে দিয়েছে, কাপড়ে মুখ ঢেকে নিয়েছে, জিদ করেছে আর খুব বেশি অহঙ্কার করেছে। তাইসিরুল

আমি যখন তাদের আহবান করি যাতে তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর, তারা কানে অংগুলি দেয়, নিজেদেরকে বস্ত্রাবৃত করে ও জিদ করতে থাকে এবং অতিশয় ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। মুজিবুর রহমান

And indeed, every time I invited them that You may forgive them, they put their fingers in their ears, covered themselves with their garments, persisted, and were arrogant with [great] arrogance. Sahih International

৭. আমি যখনই তাদেরকে ডাকি যাতে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করেন, তারা নিজেদের কানে আঙ্গুল দিয়েছে, কাপড় দ্বারা ঢেকে দিয়েছে নিজেদেরকে(১) এবং জেদ করতে থেকেছে, আর খুবই ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে।

(১) মুখ ঢাকার একটি কারণ হতে পারে, তারা নূহ আলাইহিস সালামের বক্তব্য শোনা তো দূরের কথা তার চেহারা দেখাও পছন্দ করতো না। [মুয়াস্‌সার] আরেকটি কারণ হতে পারে, তারা তার সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় মুখ ঢেকে চলে যেতো যাতে তিনি তাদের চিনে কথা বলার কোন সুযোগ আদৌ না পান। [ইবন কাসীর] মক্কার কাফেররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যে ধরনের আচরণ করছিলো সেটিও ছিল অনুরূপ একটি আচরণ। পবিত্র কুরআনের অন্যত্র তাদের এ আচরণের উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে “দেখ, এসব লোক তাদের বক্ষ ঘুরিয়ে নেয় যাতে তারা রাসূলের চোখের আড়ালে থাকতে পারে। সাবধান! যখন এরা কাপড় দ্বারা নিজেদেরকে ঢেকে আড়াল করে তখন আল্লাহ তাদের প্রকাশ্য বিষয়গুলোও জানেন এবং গোপন বিষয়গুলোও জানেন। তিনি তো মনের মধ্যকার গোপন কথাও জানেন।” [সূরা হূদ: ৫]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) আমি যখনই তাদেরকে আহবান করি, যাতে তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর,[1] তখনই তারা কানে আঙ্গুল দেয়,[2] নিজেদেরকে কাপড় দিয়ে ঢেকে নেয়[3] ও জিদ করতে থাকে[4] এবং অতিশয় ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। [5]

[1] অর্থাৎ, ঈমান এবং আনুগত্যের প্রতি আহবান করি, যা ক্ষমা লাভের কারণ।

[2] যাতে আমার আওয়াজ শুনতে না পায়।

[3] যাতে আমার চেহারা দেখতে না পায়। অথবা নিজেদের মাথার উপর কাপড় রেখে নেয়, যাতে আমার কথা-বার্তা শুনতে না পায়। এটা হল তাদের পক্ষ থেকে কঠোর শত্রুতা এবং ওয়ায-নসীহতের প্রতি অমনোযোগিতার বহিঃপ্রকাশ। কেউ কেউ বলেন, নিজেদেরকে কাপড়ে ঢেকে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, যাতে পয়গম্বর তাদেরকে চিনতে না পারেন এবং তাদেরকে তাঁর দাওয়াত কবুল করতে বাধ্য না করেন।

[4] অর্থাৎ, কুফরীতে অবিচল থাকে। তা হতে ফিরে আসে না এবং তওবা করে না।

[5] সত্যকে গ্রহণ করার এবং নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে তারা চরম অহংকার প্রদর্শন করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ৮ ثُمَّ اِنِّیۡ دَعَوۡتُهُمۡ جِهَارًا ۙ﴿۸﴾
ثم انی دعوتهم جهارا ﴿۸﴾

‘তারপর আমি তাদেরকে প্রকাশ্যে আহবান করেছি’। আল-বায়ান

অতঃপর তাদেরকে আমি উচ্চৈঃস্বরে ডেকেছি, তাইসিরুল

অতঃপর আমি তাদের আহবান করেছি প্রকাশ্যে। মুজিবুর রহমান

Then I invited them publicly. Sahih International

৮. তারপর আমি তাদেরকে ডেকেছি প্ৰকাশ্যে

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) অতঃপর নিশ্চয় আমি তাদেরকে আহবান করেছি প্রকাশ্যে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ৯ ثُمَّ اِنِّیۡۤ اَعۡلَنۡتُ لَهُمۡ وَ اَسۡرَرۡتُ لَهُمۡ اِسۡرَارًا ۙ﴿۹﴾
ثم انی اعلنت لهم و اسررت لهم اسرارا ﴿۹﴾

অতঃপর তাদেরকে আমি প্রকাশ্যে এবং অতি গোপনেও আহবান করেছি। আল-বায়ান

এর পর আমি প্রকাশ্যভাবেও তাদের কাছে প্রচার করেছি, আর গোপনে গোপনেও তাদেরকে বুঝিয়েছি। তাইসিরুল

পরে আমি সোচ্চার প্রচার করেছি ও উপদেশ দিয়েছি গোপনে। মুজিবুর রহমান

Then I announced to them and [also] confided to them secretly Sahih International

৯. পরে আমি তাদের জন্য উচ্চস্বরে প্রচার করেছি ও উপদেশ দিয়েছি অতি গোপনে৷

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) পরে নিশ্চয় আমি তাদেরকে উচ্চ স্বরে (উপদেশ দিয়েছি) এবং গোপনে।[1]

[1] অর্থাৎ, বিভিন্নভাবে ও নানান পদ্ধতিতে আমি তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি। কোন কোন আলেম বলেন, জনসমাবেশে ও তাদের মজলিসগুলোতে তাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি এবং এককভাবে ঘরে ঘরে গিয়েও তোমার বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১০ فَقُلۡتُ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّكُمۡ ؕ اِنَّهٗ كَانَ غَفَّارًا ﴿ۙ۱۰﴾
فقلت استغفروا ربكم انهٗ كان غفارا ﴿۱۰﴾

আর বলেছি, ‘তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল’। আল-বায়ান

আমি বলেছি- ‘তোমরা তোমাদের রব্বের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি বড়ই ক্ষমাশীল। তাইসিরুল

বলেছিঃ তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনিতো মহা ক্ষমাশীল। মুজিবুর রহমান

And said, 'Ask forgiveness of your Lord. Indeed, He is ever a Perpetual Forgiver. Sahih International

১০. অতঃপর বলেছি, তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তিনি মহাক্ষমাশীল,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) সুতরাং বলেছি, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, [1] নিশ্চয় তিনি মহা ক্ষমাশীল। [2]

[1] অর্থাৎ, ঈমান এবং আনুগত্যের পথ অবলম্বন কর এবং তোমাদের প্রভুর কাছে নিজেদের বিগত পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে নাও।

[2] তিনি তাদের জন্য বড়ই দয়াবান এবং মহা ক্ষমাশীল যারা তওবা করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১১ یُّرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡكُمۡ مِّدۡرَارًا ﴿ۙ۱۱﴾
یرسل السمآء علیكم مدرارا ﴿۱۱﴾

‘তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, আল-বায়ান

(তোমরা তা করলে) তিনি অজস্র ধারায় তোমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তাইসিরুল

তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাবেন। মুজিবুর রহমান

He will send [rain from] the sky upon you in [continuing] showers Sahih International

১১. তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন। [1]

[1] এই আয়াতের কারণে কোন কোন আলেম ইস্তিসক্বার নামাযে সূরা নূহ পাঠ করাকে মুস্তাহাব মনে করেন। বর্ণিত আছে যে, উমার (রাঃ)ও একদা ইস্তিসক্বার নামাযের জন্য মিম্বরে আরোহণ করে কেবলমাত্র ইস্তিগফারের আয়াতগুলি (যাতে এই আয়াতও ছিল) পড়ে মিম্বর হতে নেমে গেলেন এবং বললেন, বৃষ্টির সেই পথসমূহ থেকে বৃষ্টি কামনা করেছি, যা আসমানে রয়েছে এবং যেগুলো হতে বৃষ্টি যমীনে বর্ষিত হয়। (ইবনে কাসীর) হাসান বাসরী (রঃ) এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, তাঁর কাছে এসে কেউ অনাবৃষ্টির অভিযোগ জানালে, তিনি তাকে ইস্তিগফার করার কথা শিক্ষা দিতেন। আর একজন তাঁর কাছে দরিদ্রতার অভিযোগ জানালে, তাকেও তিনি এই (ইস্তিগফার করার) কথাই বাতলে দিলেন। অন্য একজন তার বাগান শুকিয়ে যাওয়ার অভিযোগ জানালে, তাকেও তিনি ইস্তিগফার করতে বললেন। এক ব্যক্তি বলল যে, আমার সন্তান হয় না, তাকেও তিনি ইস্তিগফার করতে বললেন। যখন কেউ তাঁকে প্রশ্ন করল যে, আপনি সবাইকে কেবল ইস্তিগফারই করতে কেন বললেন? তখন তিনি এই আয়াতই তেলাঅত করে বললেন, ‘আমি নিজের পক্ষ থেকে এ কথা বলিনি, বরং উল্লিখিত সমস্ত ব্যাপারে এই ব্যবস্থাপত্র মহান আল্লাহই দিয়েছেন।’ (আইসারুত তাফাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১২ وَّ یُمۡدِدۡكُمۡ بِاَمۡوَالٍ وَّ بَنِیۡنَ وَ یَجۡعَلۡ لَّكُمۡ جَنّٰتٍ وَّ یَجۡعَلۡ لَّكُمۡ اَنۡهٰرًا ﴿ؕ۱۲﴾
و یمددكم باموال و بنین و یجعل لكم جنت و یجعل لكم انهرا ﴿۱۲﴾

‘আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান- সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা’। আল-বায়ান

তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তানাদি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন। তাইসিরুল

তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা। মুজিবুর রহমান

And give you increase in wealth and children and provide for you gardens and provide for you rivers. Sahih International

১২. এবং তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।(১)

(১) এ কথাটি পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে যে, আল্লাহদ্রোহিতার আচরণ মানুষের জীবনকে শুধু আখেরাতেই নয় দুনিয়াতেও সংকীর্ণ করে দেয়। অপর পক্ষে কোন জাতি যদি অবাধ্যতার বদলে ঈমান, তাকওয়া এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার পথ অনুসরণ করে তাহলে তা শুধু আখেরাতের জন্যই কল্যাণকর হয় না, দুনিয়াতেও তার ওপর আল্লাহর অশেষ নিয়ামত বর্ষিত হতে থাকে। অন্যত্র বলা হয়েছে, “আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার দুনিয়ার জীবন হবে সংকীর্ণ। আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ করে উঠাবো।” [সূরা ত্বা-হাঃ ১২৪] আরও বলা হয়েছে, “আহলে কিতাব যদি তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত তাওরাত, ইঞ্জীল ও অন্যান্য আসমানী কিতাবের বিধানাবলী মেনে চলতো তাহলে তাদের জন্য ওপর থেকেও রিযিক বর্ষিত হতো এবং নীচ থেকেও ফুটে বের হতো।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ৬৬]

আরও বলা হয়েছেঃ “জনপদসমূহের অধিবাসীরা যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়ার নীতি অনুসরণ করতো তাহলে আমি তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতের দরজাসমূহ খুলে দিতাম।” [সূরা আল-আরাফ: ৯৬] অনুরূপভাবে হূদ আলাইহিস সালাম তার কওমের লোকদের বললেন, “হে আমার কওমের লোকেরা, তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তার দিকে ফিরে যাও। তিনি তোমাদের ওপর আসমান থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি ও ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দেবেন।” [সূরা হূদ: ৫২]

খোদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিয়ে মক্কার লোকদের সম্বোধন করে সেখানে আরও বলা হয়েছে “আর তোমরা যদি তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার দিকে ফিরে আস তাহলে তিনি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন।” [সূরা হূদ: ৩] এ থেকে আলেমগণ বলেন যে, গোনাহ থেকে তাওবাহ ও ইস্তেগফার করলে আল্লাহ্ তা'আলা যথাস্থানে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, দুর্ভিক্ষ হতে দেন না এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত হয়। বিভিন্ন হাদীস থেকে এর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। সালফে সালেহীনও বৃষ্টির জন্য সালাতের সময় এ পদ্ধতির প্রতি জোর দিতেন। কুরআন মজীদের এ নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতে গিয়ে একবার দুর্ভিক্ষের সময় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বৃষ্টির জন্য দো'আ করতে বের হলেন এবং শুধু ইসতিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করেই শেষ করলেন।

সবাই বললো, “হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি তো আদৌ দোআ করলেন না। তিনি বললেন, আমি আসমানের ঐ সব দরজায় করাঘাত করেছি যেখানে থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়। একথা বলেই তিনি সূরা নূহের এ আয়াতগুলো তাদের পাঠ করে শুনালেন। অনুরূপ একবার এক ব্যক্তি হাসান বাসরীর মজলিসে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করলে তিনি বললেন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। অপর এক ব্যক্তি দারিদ্রের অভিযোগ করলো। তৃতীয় এক ব্যক্তি বললো, আমার কোন ছেলেমেয়ে নেই। চতুর্থ এক ব্যক্তি বললো, আমার ফসলের মাঠে ফলন খুব কম হচ্ছে। তিনি সবাইকে একই জবাব দিলেন। অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। লোকেরা বললো, কি ব্যাপার যে, আপনি প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের একই প্রতিকার বলে দিচ্ছেন? তখন তিনি সূরা নূহের এ আয়াতগুলো পাঠ করে শুনালেন। [দেখুন: ইবন কাসীর; কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) তিনি তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন বহু বাগান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা। [1]

[1] অর্থাৎ, ঈমান ও আনুগত্যের কারণে তোমরা শুধু আখেরাতের নিয়ামতই পাবে না, বরং পার্থিব জীবনেও আল্লাহ মাল-ধন এবং সন্তান-সন্ততি দান করবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১৩ مَا لَكُمۡ لَا تَرۡجُوۡنَ لِلّٰهِ وَقَارًا ﴿ۚ۱۳﴾
ما لكم لا ترجون لله وقارا ﴿۱۳﴾

‘তোমাদের কী হল, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের পরোয়া করছ না’? আল-বায়ান

‘তোমাদের হল কী যে, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে অস্বীকার করছ? তাইসিরুল

তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে চাচ্ছনা? মুজিবুর রহমান

What is [the matter] with you that you do not attribute to Allah [due] grandeur Sahih International

১৩. তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের পরওয়া করছ না!(১)

(১) অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর মর্যাদা ও সম্মানে পরোয়া করছি না, তবুও তাকে তোমরা এতটুকু ভয়ও করো না যে, এ জন্য তিনি তোমাদের শাস্তি দিবেন। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর প্রভাব-প্রতিপত্তিকে ভয় কর না? [1]

[1] وَقَار শব্দটি توقير থেকে গঠিত। অর্থ হল শ্রেষ্ঠত্ব, বড়ত্ব, প্রতিপত্তি। আর رجاء এর অর্থ এখানে خوف (ভয়)। অর্থাৎ, যেভাবে তাঁর বড়ত্বের দাবী তোমরা সেভাবে তাঁকে ভয় করো না কেন? এবং তাঁকে এক মনে করে তাঁর আনুগত্য কর না কেন?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১৪ وَ قَدۡ خَلَقَكُمۡ اَطۡوَارًا ﴿۱۴﴾
و قد خلقكم اطوارا ﴿۱۴﴾

‘অথচ তিনি তোমাদেরকে নানা স্তরে সৃষ্টি করেছেন’। আল-বায়ান

অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন নানান স্তর অতিক্রম করিয়ে। তাইসিরুল

অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে। মুজিবুর রহমান

While He has created you in stages? Sahih International

১৪. অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পৰ্যায়ক্রমে(১),

(১) অর্থাৎ সৃষ্টিকর্মের বিভিন্ন পর্যায় ও স্তর অতিক্রম করে তোমাদের বর্তমান অবস্থায় পৌছানো হয়েছে। প্রথমে বীর্য আকারে, মাতৃগর্ভে, দুগ্ধপানরত অবস্থায়, অবশেষে তোমরা যৌবন ও প্রৌঢ়ত্যে উপনীত হয়েছ। এসব পর্যায় প্রতিটিই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। যিনি এগুলো সৃষ্টি করেন, তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। আর তিনিই মৃত্যুর পর তাদেরকে পুনরুত্থিত করতে সক্ষম। [সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে। [1]

[1] অর্থাৎ, প্রথমে বীর্য থেকে। তারপর সেটাকে রক্তপিন্ডে পরিণত করে। অতঃপর সেটাকে গোশতপিন্ডে রূপান্তরিত করে। এর পর হাড় বানিয়ে তার উপর গোশত চড়িয়ে পরিপূর্ণ আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়। এর বিস্তারিত আলোচনা সূরা হাজ্জ ৫নং, সূরা মু’মিনুন১৪নং এবং সূরা মু’মিন ৬৭নং আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১৫ اَلَمۡ تَرَوۡا كَیۡفَ خَلَقَ اللّٰهُ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ طِبَاقًا ﴿ۙ۱۵﴾
الم تروا كیف خلق الله سبع سموت طباقا ﴿۱۵﴾

‘তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, কীভাবে আল্লাহ স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন’? আল-বায়ান

তোমরা কি দেখ না, কীভাবে আল্লাহ সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন একের উপরে আরেকটিকে (স্থাপন করে)? তাইসিরুল

তোমরা কি লক্ষ্য করনা আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে? মুজিবুর রহমান

Do you not consider how Allah has created seven heavens in layers Sahih International

১৫. তোমরা কি লক্ষ্য করনি আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান স্তরে স্তরে বিন্যস্ত করে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) তোমরা লক্ষ্য করনি, আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে বিন্যস্ত সপ্ত আকাশকে? [1]

[1] যা প্রমাণ করে যে, তিনি মহাশক্তির অধিকারী ও সুদক্ষ কারিগর। আর এ কথাও প্রমাণ করে যে, তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১৬ وَّ جَعَلَ الۡقَمَرَ فِیۡهِنَّ نُوۡرًا وَّ جَعَلَ الشَّمۡسَ سِرَاجًا ﴿۱۶﴾
و جعل القمر فیهن نورا و جعل الشمس سراجا ﴿۱۶﴾

আর এগুলোর মধ্যে চাঁদকে সৃষ্টি করেছেন আলো আর সূর্যকে সৃষ্টি করেছেন প্রদীপরূপে’। আল-বায়ান

আর তাদের মাঝে চাঁদকে বানিয়েছেন আলো এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ। তাইসিরুল

এবং সেখানে চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোক রূপে ও সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপ রূপে; মুজিবুর রহমান

And made the moon therein a [reflected] light and made the sun a burning lamp? Sahih International

১৬. আর সেখানে চাঁদকে স্থাপন করেছেন আলোকরূপে ও সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) এবং সেখানে চন্দ্রকে স্থাপন করেছেন আলোরূপে[1] ও সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে। [2]

[1] যা পৃথিবীকে আলোকিত করে এবং তা হল তার মাথার মুকুট স্বরূপ।

[2] যাতে তার আলোতে মানুষ উপার্জনের জন্য পরিশ্রম করতে পারে; যা মানুষের জন্য অপরিহার্য ব্যাপার।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১৭ وَ اللّٰهُ اَنۡۢبَتَكُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ نَبَاتًا ﴿ۙ۱۷﴾
و الله انبتكم من الارض نباتا ﴿۱۷﴾

‘আর আল্লাহ তোমাদেরকে উদগত করেছেন মাটি থেকে’। আল-বায়ান

আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি থেকে উদগত করেন (এবং ক্রমশঃ বাড়িয়ে তোলেন যেমন বাড়িয়ে তোলেন বৃক্ষকে) তাইসিরুল

তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা হতে। মুজিবুর রহমান

And Allah has caused you to grow from the earth a [progressive] growth. Sahih International

১৭. তিনি তোমাদেরকে উদ্ভূত করেছেন মাটি হতে(১)

(১) অর্থাৎ মাটিতে উদ্ভিদ উৎপন্ন হওয়ার মত তোমাদেরকে মাটির উপাদান থেকে উৎপন্ন ও উদ্ভূত করেছেন। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) তিনি তোমাদেরকে মাটি হতে উদ্ভূত করেছেন। [1]

[1] অর্থাৎ, তোমাদের পিতা আদম (আঃ)-কে মাটি হতে সৃষ্টি করে তাতে আল্লাহ রূহ ফুঁকেছেন। আর যদি মনে করা হয় যে, এতে সমস্ত মানুষকে সম্বোধন করা হয়েছে, তাহলে তার অর্থ হবে, তোমরা যে বীর্য থেকে জন্ম লাভ করেছ, সেটা সেই খোরাক থেকেই তৈরী, যা যমীন থেকে উৎপন্ন হয়। এই দিক দিয়ে সবারই যা থেকে জন্ম তার মূল ও আসল উপাদান হল যমীন বা মাটি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১৮ ثُمَّ یُعِیۡدُكُمۡ فِیۡهَا وَ یُخۡرِجُكُمۡ اِخۡرَاجًا ﴿۱۸﴾
ثم یعیدكم فیها و یخرجكم اخراجا ﴿۱۸﴾

‘তারপর তিনি তোমাদেরকে তাতে ফিরিয়ে নেবেন এবং নিশ্চিতভাবে তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন’। আল-বায়ান

অতঃপর এই মাটিতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনবেন এবং তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন। তাইসিরুল

অতঃপর তাতে তিনি তোমাদের প্রত্যাবৃত্ত করবেন ও পরে পুনরুত্থিত করবেন। মুজিবুর রহমান

Then He will return you into it and extract you [another] extraction. Sahih International

১৮. তারপর তাতে তিনি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেবেন এবং পরে নিশ্চিতভাবে বের করে নিবেন,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) অতঃপর তাতে তিনি তোমাদেরকে প্রত্যাবৃত্ত করবেন ও পরে পুনরুত্থিত করবেন। [1]

[1] অর্থাৎ, মরার পর এই মাটিতেই দাফন হতে হবে এবং কিয়ামতের দিন এই মাটি থেকেই পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করে বের করা হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ১৯ وَ اللّٰهُ جَعَلَ لَكُمُ الۡاَرۡضَ بِسَاطًا ﴿ۙ۱۹﴾
و الله جعل لكم الارض بساطا ﴿۱۹﴾

‘আর আল্লাহ পৃথিবীকে তোমাদের জন্য বিস্তৃত করেছেন, আল-বায়ান

আল্লাহ তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন সম্প্রসারিত, তাইসিরুল

এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য ভূমিকে করেছেন বিস্তৃত – মুজিবুর রহমান

And Allah has made for you the earth an expanse Sahih International

১৯. আর আল্লাহ তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন বিস্তৃত—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) আর আল্লাহ তোমাদের জন্য ভূমিকে বিস্তৃত করেছেন --[1]

[1] অর্থাৎ, এটাকে বিছানার মত বিছিয়ে দিয়েছেন। তোমরা এর উপর ঐভাবেই চলাফেরা করে থাক, যেভাবে তোমরা নিজেদের ঘরে বিছানার উপর চলাফেরা ও উঠা-বসা কর।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭১ : ২০ لِّتَسۡلُكُوۡا مِنۡهَا سُبُلًا فِجَاجًا ﴿۲۰﴾
لتسلكوا منها سبلا فجاجا ﴿۲۰﴾

যেন তোমরা সেখানে প্রশস্ত পথে চলতে পার’। আল-বায়ান

যাতে তোমরা তার প্রশস্ত পথ-ঘাট দিয়ে চলাচল করতে পার।’ তাইসিরুল

যাতে তোমরা চলাফিরা করতে পার প্রশস্ত পথে। মুজিবুর রহমান

That you may follow therein roads of passage.' " Sahih International

২০. যাতে তোমরা সেখানে চলাফেরা করতে পার প্রশস্ত পথে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) যাতে তোমরা চলাফেরা করতে পার প্রশস্ত পথে।’ [1]

[1] سُبُلٌ হল سَبِيْلٌ এর বহুবচন (পথ)। আর فِجَاجٌ হল فَجٌّ এর বহুবচন (প্রশস্ত)। অর্থাৎ, এই যমীনে মহান আল্লাহ বড় বড় প্রশস্ত রাস্তা বানিয়ে দিয়েছেন। যাতে মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, এক শহর থেকে অন্য শহরে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। তাছাড়া এই রাস্তা মানুষের ব্যবস্যা-বাণিজ্য এবং সভ্যতা-সংস্কৃতির সামাজিক জীবনে অতি প্রয়োজনীয় জিনিস। যার সুব্যবস্থা করে আল্লাহ মানুষের উপর বিরাট অনুগ্রহ করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন