সূরাঃ ৫০/ কাফ | Qaf | ق আয়াতঃ ৪৫ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়া

সূরা সম্পর্কেঃ

সূরা ক্বাফে অধিকাংশ বিষয়বস্তু আখেরাত, কেয়ামত, মৃতদের পুণরুজীবন ও হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। একটি হাদীস থেকে সূরা কাফের গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়। হাদীসে উন্মে হিশাম বিনতে হারেসা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গৃহের সন্নিকটেই আমার গৃহ ছিল। প্রায় দু’বছর পর্যন্ত আমাদের ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রুটি পাকানোর চুল্লিও ছিল অভিন্ন। তিনি প্রতি শুক্রবার জুম্মার খোতবায় সূরা ক্বাফ তেলাওয়াত করতেন। এতেই সূরাটি আমার মুখস্থ হয়ে যায়। [মুসলিম: ৮৭৩] অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই ঈদের সালাতে এই সূরা পাঠ করতেন [মুসলিম: ৮৯১] জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সালাতে অধিকাংশ সময় সূরা ক্বাফ তেলাওয়াত করতেন। (সূরাটি বেশ বড়) কিন্তু এতদসত্বেও সালাত হাল্কা মনে হতো। [মুসনাদে আহমাদ: ১৯৯২৯]

আহসানুল বায়ান

সূরা ক্বা-ফ [1]

(মক্কায় অবতীর্ণ)
[1] নবী করীম (সাঃ) ঈদের নামাযে সূরা ক্বাফ ও সূরা ক্বামার পাঠ করতেন। (মুসলিম) প্রত্যেক জুমআর খুত্ববাতেও তিনি সূরা ক্বাফ পাঠ করতেন। (মুসলিমঃ জুমুআহ অধ্যায়) ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন, দুই ঈদে এবং জুমআতে পড়ার অর্থ হল, তিনি (সাঃ) অধিক সংখ্যায় উপস্থিত মানুষদের সামনে এই সূরা পাঠ করতেন। কারণ, এতে সৃষ্টির সূচনা, (মৃত্যুর পর) পুনরুত্থান, প্রত্যাবর্তন ও দন্ডায়মান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নাম, পুরস্কার ও শাস্তি দান এবং প্রেরণা ও ভীতিপ্রদর্শন ইত্যাদির কথা আলোচিত হয়েছে।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৫০ : ১ قٓ ۟ۚ وَ الۡقُرۡاٰنِ الۡمَجِیۡدِ ۚ﴿۱﴾

কাফ; মর্যাদাপূর্ণ কুরআনের কসম। আল-বায়ান

ক্বাফ, শপথ মাহাত্ম্যপূর্ণ কুরআনের (যে তুমি আল্লাহর রসূল।) তাইসিরুল

কাফ, শপথ কুরআনের (তুমি অবশ্যই সতর্ককারী)। মুজিবুর রহমান

Qaf. By the honored Qur'an... Sahih International

১. ক্বাফ, শপথ সম্মানিত কুরআনের,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) ক্বাফ, শপথ গৌরবান্বিত কুরআনের। [1]

[1] এই কসমের জওয়াব ঊহ্য আছে আর তা হল, لَتُبْعَثُنَّ (তোমরা অবশ্যই কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে)। কেউ কেউ বলেছেন, এর জওয়াব হল পরবর্তী আলোচ্য বিষয়, যাতে নবুঅত ও পুনরুত্থানের কথাকে সুসাব্যস্ত করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ২ بَلۡ عَجِبُوۡۤا اَنۡ جَآءَهُمۡ مُّنۡذِرٌ مِّنۡهُمۡ فَقَالَ الۡكٰفِرُوۡنَ هٰذَا شَیۡءٌ عَجِیۡبٌ ۚ﴿۲﴾

বরং তারা বিস্মিত হয়েছে যে, তাদের মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের কাছে এসেছে। অতঃপর কাফিররা বলল, ‘এতো এক বিস্ময়কর বস্তু’! আল-বায়ান

বরং এ লোকেরা বিস্মিত হচ্ছে যে, তাদের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন সর্তককারী এসেছে। যার কারণে কাফিররা বলে- ‘এতো বড়ই আশ্চর্যজনক ব্যাপার! তাইসিরুল

কিন্তু কাফিরেরা তাদের মধ্য হতে একজন সতর্ককারী আবির্ভূত হতে দেখে বিস্ময় বোধ করে এবং বলেঃ এটাতো এক আশ্চর্য ব্যাপার। মুজিবুর রহমান

But they wonder that there has come to them a warner from among themselves, and the disbelievers say, "This is an amazing thing. Sahih International

২. বরং তারা বিস্ময় বোধ করে যে, তাদের মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের কাছে এসেছেন। আর কাফিররা বলে, এ তো এক আশ্চর্য জিনিস!

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) কিন্তু অবিশ্বাসীরা তাদের মধ্য হতে একজন সতর্ককারী আবির্ভূত হতে দেখে বিস্ময়বোধ করে ও বলে, ‘এটা তো এক আশ্চর্য ব্যাপার। [1]

[1] অথচ এতে আশ্চর্যের কোন কথাই নেই। প্রত্যেক নবী সেই জাতিরই একজন হতেন, যে জাতির কাছে তাঁকে প্রেরণ করা হত। সেই হিসাবেই মক্কার কুরাইশদেরকে সতর্ক করার জন্য তাদেরই মধ্য থেকে এক ব্যক্তি (মুহাম্মাদ (সাঃ))-কে নবুঅতের জন্য নির্বাচন করে নেওয়া হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ৩ ءَاِذَا مِتۡنَا وَ كُنَّا تُرَابًا ۚ ذٰلِكَ رَجۡعٌۢ بَعِیۡدٌ ﴿۳﴾

‘আমরা যখন মারা যাব এবং মাটিতে পরিণত হব তখনো কি (আমরা পুনরুত্থিত হব)? এ ফিরে যাওয়া সুদূরপরাহত’। আল-বায়ান

আমরা যখন মরে যাব আর মাটি হয়ে যাব (তখন আমাদেরকে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে)? এ ফিরে যাওয়াটা তো বহু দূরের ব্যাপার। তাইসিরুল

আমাদের মৃত্যু হলে এবং আমরা মৃত্তিকায় পরিণত হলে আমরা কি পুনরুজ্জীবিত হব? এ প্রত্যাবর্তন সুদূর পরাহত! মুজিবুর রহমান

When we have died and have become dust, [we will return to life]? That is a distant return." Sahih International

৩. আমাদের মৃত্যু হলে এবং আমরা মাটিতে পরিণত হলে আমরা কি পুনরুত্থিত হব? এ ফিরে যাওয়া সুদূরপরাহত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) আমাদের মৃত্যু হলে এবং আমরা মাটিতে পরিণত হলে (আমরা কি পুনরুজ্জীবিত হব?) সে প্রত্যাবর্তন তো সুদূর পরাহত!’ [1]

[1] অথচ বিবেক-বুদ্ধির নিকষে এটাও অসম্ভবের কিছু নয়। পরের আয়াতে এর কিছু বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ৪ قَدۡ عَلِمۡنَا مَا تَنۡقُصُ الۡاَرۡضُ مِنۡهُمۡ ۚ وَ عِنۡدَنَا كِتٰبٌ حَفِیۡظٌ ﴿۴﴾

অবশ্যই আমি জানি মাটি তাদের থেকে যতটুকু ক্ষয় করে। আর আমার কাছে আছে অধিক সংরক্ষণকারী কিতাব। আল-বায়ান

আমি জানি মাটি তাদের কতটুকু ক্ষয় করে আর আমার কাছে আছে এক কিতাব যা (সব কিছুর পূর্ণ বিবরণ) সংরক্ষণ করে। তাইসিরুল

আমিতো জানি, মৃত্তিকা ক্ষয় করে তাদের কতটুকু এবং আমার নিকট আছে রক্ষিত ফলক। মুজিবুর রহমান

We know what the earth diminishes of them, and with Us is a retaining record. Sahih International

৪. অবশ্যই আমরা জানি মাটি ক্ষয় করে তাদের কতটুকু এবং আমাদের কাছে আছে সম্যক সংরক্ষণকারী কিতাব।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) মাটি তাদের কতটুকু ক্ষয় করে, আমি অবশ্যই তা জানি এবং আমার নিকট আছে সংরক্ষিত কিতাব।[1]

[1] অর্থাৎ, মাটি মানুষের গোশত, হাড় ও চুল আদি জীর্ণ করে খেয়ে ফেলে; অর্থাৎ, দেহকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলে। আর এ জ্ঞান কেবল যে আমার কাছে --তা নয়। বরং আমার কাছে লওহে মাহফুযেও লিপিবদ্ধ আছে। তাই ঐ সমস্ত চূর্ণ ও বিক্ষিপ্ত টুকরোগুলো একত্রিত করে পুনরায় তাদেরকে জীবিত করে দেওয়া আমার জন্য কোন কঠিন ব্যাপার নয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ৫ بَلۡ كَذَّبُوۡا بِالۡحَقِّ لَمَّا جَآءَهُمۡ فَهُمۡ فِیۡۤ اَمۡرٍ مَّرِیۡجٍ ﴿۵﴾

বরং তারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, যখনই তাদের কাছে সত্য এসেছে। অতএব তারা সংশয়যুক্ত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে। আল-বায়ান

তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তা অস্বীকার করেছে, কাজেই এখন তারা সংশয়ের মধ্যে পড়ে আছে। তাইসিরুল

বস্তুতঃ তাদের নিকট সত্য আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তারা সংশয়ে দোদুল্যমান। মুজিবুর রহমান

But they denied the truth when it came to them, so they are in a confused condition. Sahih International

৫. বস্তুত তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তাতে মিথ্যারোপ করেছে। অতএব, তারা সংশয়যুক্ত বিষয়ে নিপতিত।(১)

(১) অভিধানে مَرِيجٌ শব্দের অর্থ মিশ্র, যাতে বিভিন্ন প্রকার বস্তুর মিশ্রণ থাকে এবং যার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করা সম্ভব হয় না। এরূপ বস্তু সাধারণত ফাসেদ ও দূষিত হয়ে থাকে। এ কারণেই কারো কারো মতে, এ শব্দের অর্থ ফাসেদ ও দুষ্ট। আবার অনেকেই এর অনুবাদ করেছে মিশ্র ও জটিল। এ সংক্ষিপ্ত বাক্যাংশটিতে একটি অতি বড় বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। এর অর্থ তারা শুধু বিস্ময়ে প্রকাশ করা এবং বিবেকবুদ্ধি বিরোধী ঠাওরানোকেই যথেষ্ট মনে করেনি। বরং যে সময় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সত্যের দাওয়াত পেশ করেছেন সে সময় তারা কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই তাকে নির্জলা মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে। অবশ্যম্ভাবীরূপে তার যে ফল হওয়ার ছিল এবং হয়েছে তা হচ্ছে, এ দাওয়াত এবং এ দাওয়াত পেশকারী রাসূলের ব্যাপারে এরা কখনো স্থির ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেনি।

কখনো তাঁকে কবি বলে, কখনো বলে গণক কিংবা পাগল। কখনো বলে সে যাদুকর আবার কখনো বলে কেউ তাঁর ওপর যাদু করেছে। কখনো বলে নিজের বড়ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সে এ বাণী নিজে বানিয়ে এনেছে আবার কখনো অপবাদ আরোপ করে যে, অন্যকিছু লোক তার পৃষ্ঠপোষকতা করছে। তারাই তাকে এসব কথা বানিয়ে দেয়। এসব পরস্পর বিরোধী কথাই প্রকাশ করে যে, তারা নিজেদের দৃষ্টিভংগী সম্পর্কেই পুরোপুরি দ্বিধান্বিত। যদি তারা তাড়াহুড়া করে একেবারে প্রথমেই নবীকে অস্বীকার না করতো এবং কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করে আগেভাগেই একটি সিদ্ধান্ত দেয়ার পূর্বে ধীরস্থিরভাবে একথা ভেবে দেখতো যে, কে এ দাওয়াত পেশ করছে, কি কথা সে বলছে এবং তার দাওয়াতের সপক্ষে কি দলীল-প্রমাণ পেশ করছে তাহলে তারা কখনো এ দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে পড়তো না। [দেখুন: তবারী, ফাতহুল কাদীর, বাগভী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) বস্তুতঃ তাদের নিকট সত্য আসার পর তারা তা মিথ্যা মনে করেছে। ফলে তারা সংশয়ে দোদুল্যমান।[1]

[1] حَقٌّ (সত্য) বলতে কুরআন, ইসলাম বা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নবুঅতকে বুঝানো হয়েছে। এ সবের অর্থ একই। مَرِيْجٌ শব্দের অর্থ মিশ্রিত, গোলযোগপূর্ণ অথবা সন্দেহজনক অবস্থা। অর্থাৎ, এমন বিষয়, যা তাদের জন্যে সন্দেহজনক হয়ে পড়েছে। যার ফলে তারা চাঞ্চল্যকর অবস্থায় পড়ে গেছে। কখনো তাঁকে যাদুকর বলে, কখনো কবি, আবার কখনো বলে গণক।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ৬ اَفَلَمۡ یَنۡظُرُوۡۤا اِلَی السَّمَآءِ فَوۡقَهُمۡ كَیۡفَ بَنَیۡنٰهَا وَ زَیَّنّٰهَا وَ مَا لَهَا مِنۡ فُرُوۡجٍ ﴿۶﴾

তারা কি তাদের উপরে আসমানের দিকে তাকায় না, কিভাবে আমি তা বানিয়েছি এবং তা সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোন ফাটল নেই। আল-বায়ান

তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আকাশের দিকে তাকায় না, কীভাবে আমি তাকে বানিয়েছি, তাকে সুশোভিত করেছি আর তাতে নেই কোন ফাটল? তাইসিরুল

তারা কি তাদের উর্ধ্বস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেনা যে, আমি কিভাবে ওটা নির্মাণ করেছি এবং ওকে সুশোভিত করেছি এবং ওতে কোন ফাটলও নেই? মুজিবুর রহমান

Have they not looked at the heaven above them - how We structured it and adorned it and [how] it has no rifts? Sahih International

৬. তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আসমানের দিকে তাকিয়ে দেখে না, আমরা কিভাবে তা নির্মাণ করেছি ও তাকে সুশোভিত করেছি এবং তাতে কোন ফাটলও নেই?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) তারা কি তাদের উপরিস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি কিভাবে ওটা নির্মাণ করেছি[1] ও তাকে সুশোভিত করেছি[2] এবং ওতে কোন ফাটলও নেই? [3]

[1] অর্থাৎ, বিনা স্তম্ভে; যার সাহায্যে তা প্রতিষ্ঠিত আছে।

[2] অর্থাৎ, তারকারাজি দ্বারা তাকে সুশোভিত করা হয়েছে।

[3] অনুরূপ তাতে কোন অসামঞ্জস্য ও খুঁত নেই। যেমন, অন্যত্র বলেছেন, ‘‘তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না; আবার তাকিয়ে দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি? অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফিরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।’’ (সূরা মুলক ৩-৪ আয়াত)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ৭ وَ الۡاَرۡضَ مَدَدۡنٰهَا وَ اَلۡقَیۡنَا فِیۡهَا رَوَاسِیَ وَ اَنۡۢبَتۡنَا فِیۡهَا مِنۡ كُلِّ زَوۡجٍۭ بَهِیۡجٍ ۙ﴿۷﴾

আর আমি যমীনকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক প্রকারের সুদৃশ্য উদ্ভিদ উদগত করেছি। আল-বায়ান

আর পৃথিবী- তাকে করেছি বিস্তৃত আর তাতে সংস্থাপিত করেছি পর্বতরাজি আর তাতে উদ্গত করেছি যাবতীয় সুদৃশ্য উদ্ভিদরাজি। তাইসিরুল

আমি বিস্তৃত করেছি ভূমিকে ও তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা এবং ওতে উদ্গত করেছি নয়ন প্রীতিকর সর্বপ্রকার উদ্ভিদ – মুজিবুর রহমান

And the earth - We spread it out and cast therein firmly set mountains and made grow therein [something] of every beautiful kind, Sahih International

৭. আর আমরা বিস্তৃত করেছি যমীনকে এবং তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা। আর তাতে উদগত করেছি নয়ন প্রীতিকর সর্বপ্রকার উদ্ভিদ।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং ওতে উদগত করেছি চোখ-জুড়ানো নানা প্রকার উদ্ভিদ। [1]

[1] কেউ কেউ زوج এর অর্থ করেছেন, জোড়া। অর্থাৎ, সকল প্রকারের উদ্ভিদ ও অন্যান্য জিনিসকে আমি জোড়া জোড়া (নর-নারী) সৃষ্টি করেছি। بَهِيْجٌ এর অর্থ, সুদর্শন, শ্যামল এবং সুন্দর।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ৮ تَبۡصِرَۃً وَّ ذِكۡرٰی لِكُلِّ عَبۡدٍ مُّنِیۡبٍ ﴿۸﴾

আল্লাহ অভিমুখী প্রতিটি বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশ হিসেবে। আল-বায়ান

প্রতিটি (আল্লাহ) অভিমুখী বান্দাহর জন্য চক্ষু উন্মোচনকারী ও উপদেশ হিসেবে। তাইসিরুল

আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ। মুজিবুর রহমান

Giving insight and a reminder for every servant who turns [to Allah]. Sahih International

৮. আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) (আল্লাহ) অভিমুখী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জ্ঞান ও উপদেশ স্বরূপ। [1]

[1] অর্থাৎ, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং অন্যান্য বস্তুর দর্শন ও সেগুলোর (প্রকৃতত্ব) সম্পর্কে জানা হল এমন লোকদের জন্য জ্ঞান, উপদেশ এবং শিক্ষার উপকরণ স্বরূপ, যারা আল্লাহ-অভিমুখী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ৯ وَ نَزَّلۡنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءً مُّبٰرَكًا فَاَنۡۢبَتۡنَا بِهٖ جَنّٰتٍ وَّ حَبَّ الۡحَصِیۡدِ ۙ﴿۹﴾

আর আমি আসমান থেকে বরকতময় পানি নাযিল করেছি। অতঃপর তা দ্বারা আমি উৎপন্ন করি বাগ-বাগিচা ও কর্তনযোগ্য শস্যদানা। আল-বায়ান

আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি আর তা দিয়ে সৃষ্টি করি বাগান আর মাড়াইযোগ্য শস্যদানা, তাইসিরুল

আকাশ হতে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তদ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও উদগত করি শস্য। মুজিবুর রহমান

And We have sent down blessed rain from the sky and made grow thereby gardens and grain from the harvest Sahih International

৯. আর আসমান থেকে আমরা বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি অতঃপর তা দ্বারা আমরা উৎপন্ন করি উদ্যান, কর্তনযোগ্য শস্য দানা,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) আকাশ হতে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তার দ্বারা আমি সৃষ্টি করি বহু বাগান ও পরিপক্ব শস্যরাজি, [1]

[1] পরিপক্ব শস্যরাজি বা কাটা শস্য বলতে সেই ক্ষেতগুলো, যেগুলো থেকে গম, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, ডাল ও ধান ইত্যাদি ফসল হয় এবং তা সুরক্ষিত করে রাখা হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১০ وَ النَّخۡلَ بٰسِقٰتٍ لَّهَا طَلۡعٌ نَّضِیۡدٌ ﴿ۙ۱۰﴾

আর সমুন্নত খেজুরগাছ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর ছড়া, আল-বায়ান

আর উঁচু খেজুর গাছ যাতে আছে খেজুর গুচ্ছ স্তরে স্তরে সাজানো। তাইসিরুল

ও সমুন্নত খেজুর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ খেজুর – মুজিবুর রহমান

And lofty palm trees having fruit arranged in layers - Sahih International

১০. ও সমুন্নত খেজুর গাছ যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেজুর—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) আর উঁচু উঁচু খেজুর বৃক্ষ; যাতে আছে কাঁদি কাঁদি খেজুর --[1]

[1] بَاسِقَاتٌ এর অর্থ طِوَالًا شَاهِقَاتٍ সুউচ্চ। طَلْعٌ বলে সেই জালি খেজুরকে যা প্রাথমিক অবস্থায় (মোচার ভিতরে) থাকে। نَضِيْدٌ এর অর্থ স্তরে স্তরে (বা থোকায় থোকায়) বিন্যস্ত। ‘বহু বাগান’-এর আওতায় খেজুরের গাছও এসে যায়। তবুও তাকে পৃথকভাবে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন। এ থেকে খেজুরের সেই গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে যায়, যা আরববাসীদের কাছে রয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১১ رِّزۡقًا لِّلۡعِبَادِ ۙ وَ اَحۡیَیۡنَا بِهٖ بَلۡدَۃً مَّیۡتًا ؕ كَذٰلِكَ الۡخُرُوۡجُ ﴿۱۱﴾

আমার বান্দাদের জন্য রিয্কস্বরূপ। আর আমি পানি দ্বারা মৃত শহর সঞ্জীবিত করি। এভাবেই উত্থান ঘটবে। আল-বায়ান

বান্দাহদের রিযক হিসেবে। আর আমি পানি দিয়ে জীবন্ত করে তুলি মৃত যমীনকে। এভাবেই বের করা হবে (ক্ববর থেকে মানুষদের)। তাইসিরুল

আমার বান্দাদের জীবিকা স্বরূপ; আর আমি সঞ্জীবিত করি মৃত ভূমিকে; এভাবে পুনরুত্থান ঘটবে। মুজিবুর রহমান

As provision for the servants, and We have given life thereby to a dead land. Thus is the resurrection. Sahih International

১১. বান্দাদের রিযিাকস্বরূপ। আর আমরা বৃষ্টি দিয়ে সঞ্জীবিত করি মৃত শহরকে; এভাবেই উত্থান ঘটবে।(১)

(১) এখানে পুনরুত্থানের পক্ষে যুক্তি পেশ করে বলা হচ্ছে, যে আল্লাহ এ পৃথিবী-গ্ৰহটিকে জীবন্ত সৃষ্টির বসবাসের জন্য উপযুক্ত স্থান বানিয়েছেন, যিনি পৃথিবীর প্রাণহীন মাটিকে আসমানের প্রাণহীণ পানির সাথে মিশিয়ে এত উচ্চ পর্যায়ের উদ্ভিদ জীবন সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি এ উদ্ভিদরাজিকে মানুষ ও জীব-জন্তু সবার জন্য রিযিকের মাধ্যম বানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর সম্পর্কে তোমাদের এ ধারণা যে, মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নন। এটা নিরেট নির্বুদ্ধিতামূলক ধারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। [দেখুন: ফাতহুল কাদীর, আদওয়াউল-বায়ান]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) (আমার) দাসদের জীবিকাস্বরূপ। আর বৃষ্টি দ্বারা আমি সঞ্জীবিত করি মৃত ভূমিকে, এভাবে পুনরুত্থান ঘটবে। [1]

[1] অর্থাৎ, যেভাবে বৃষ্টি দ্বারা আমি মৃত ভূমিকে সজীব ও সবুজ বানিয়ে দিই, অনুরূপ কিয়ামতের দিন আমি মানুষকে কবর থেকে জীবিত করে উঠাব।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১২ كَذَّبَتۡ قَبۡلَهُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّ اَصۡحٰبُ الرَّسِّ وَ ثَمُوۡدُ ﴿ۙ۱۲﴾

তাদের পূর্বে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের সম্প্রদায়, রাস্ এর অধিবাসী ও সামূদ সম্প্রদায়। আল-বায়ান

এদের আগে সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিল নূহের জাতি, রাস্‌স ও সামুদ জাতি, তাইসিরুল

তাদের পূর্বেও সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল নূহের সম্প্রদায়, রা'স ও সামূদ সম্প্রদায় – মুজিবুর রহমান

The people of Noah denied before them, and the companions of the well and Thamud Sahih International

১২. তাদের আগেও মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, রাস্ এর অধিবাসী(১) ও সামূদ সম্প্রদায়,

(১) সূরা আল-ফুরকানের ৩৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় ‘রাস’ এর সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা চলে গেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) তাদের পূর্বেও মিথ্যাজ্ঞান করেছিল নূহ এর সম্প্রদায়, রাস্[1] ও সামূদ সম্প্রদায়,

[1] রাস্ সম্প্রদায়ের নির্দিষ্টীকরণের ব্যাপারে মুফাসসেরদের মাঝে বড়ই মতভেদ রয়েছে। ইমাম ইবনে জারীর ত্বাবারী সেই উক্তিটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, যাতে তাদেরকে ‘আসহাবুল উখদূদ’ (কুন্ডের অধিপতি) বলা হয়েছে; যার আলোচনা সূরা বুরূজে (৪নং আয়াতের টীকায়) করা হয়েছে। (বিস্তারিত জানার জন্য দ্রষ্টব্যঃ তফসীর ইবনে কাসীর ও ফাতহুল ক্বাদীর, সূরা ফুরকান ৩৮নং আয়াতের তফসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১৩ وَ عَادٌ وَّ فِرۡعَوۡنُ وَ اِخۡوَانُ لُوۡطٍ ﴿ۙ۱۳﴾

‘আদ, ফির‘আউন ও লূত সম্প্রদায়। আল-বায়ান

‘আদ, ফেরাউন ও লূত জাতি, তাইসিরুল

আদ, ফির‘আউন ও লূত সম্প্রদায়। মুজিবুর রহমান

And 'Aad and Pharaoh and the brothers of Lot Sahih International

১৩. আর আদ, ফিরআউন ও লুত সম্প্রদায়।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) আ’দ, ফিরআউন ও লূত সম্প্রদায়,

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১৪ وَّ اَصۡحٰبُ الۡاَیۡكَۃِ وَ قَوۡمُ تُبَّعٍ ؕ كُلٌّ كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ وَعِیۡدِ ﴿۱۴﴾

আইকার অধিবাসী ও তুব্বা‘ সম্প্রদায়। সকলেই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। আল-বায়ান

আইকাবাসী ও তুব্বার জাতি। তারা সকলেই রসূলদেরকে মিথ্যা বলে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি অবধারিত হয়েছিল। তাইসিরুল

এবং আইকাহর অধিবাসী ও তুব্বা সম্প্রদায়; তারা সবাই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল। ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি আপতিত হয়েছে। মুজিবুর রহমান

And the companions of the thicket and the people of Tubba'. All denied the messengers, so My threat was justly fulfilled. Sahih International

১৪. আর আইকার অধিবাসী(১) ও তুব্বা সম্প্রদায়(২); তারা সকলেই রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল(৩), ফলে তাদের উপর আমার শাস্তি যথার্থভাবে আপতিত হয়েছে।

(১) অর্থাৎ শু'আইব আলাইহিস সালামের জাতি। [ইবন কাসীর] এদের আলোচনা পূর্বেই সূরা আল-হিজর এর ৭৮ নং আয়াত ও সূরা আশ-শু'আরা এর ১৭৬ নং আয়াতের টিকায় করা হয়েছে। এ ছাড়াও এদের আলোচনা সূরা সাদ এর ১৩ নং আয়াতে এসেছে।

(২) ইয়ামনের সম্রাটদের উপাধি ছিল তোব্বা। [ইবন কাসীর] সূরা আদ-দোখানের ৩৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় এ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে।

(৩) অর্থাৎ তারা সবাই তাদের রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করেছে এবং মৃত্যুর পরে তাদেরকে পুনরায় জীবিত করে উঠানো হবে তাদের দেয়া এ খবরও অস্বীকার করেছে। এখানে বলা হয়েছে যে, ‘তারা সকলেই রাসূলগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল’। যদিও প্রত্যেক জাতি কেবল তাদের কাছে প্রেরিত রাসূলকেই অস্বীকার করেছিল। কিন্তু তারা যেহেতু এমন একটি খবরকে অস্বীকার করছিল যা সমস্ত রাসূল সর্বসম্মতভাবে পেশ করছিলেন। তাই একজন রাসূলকে অস্বীকার করা প্রকৃতপক্ষে সমস্ত রাসূলকেই অস্বীকার করার নামান্তর। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) এবং আয়কার অধিবাসী[1] ও তুব্বা’ সম্প্রদায়,[2] তারা সবাই রসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল,[3] ফলে তাদের উপর আমার শাস্তির প্রতিশ্রুতি সত্য হয়েছে।

[1] আয়কাবাসী সম্পর্কে জানার জন্য দেখুন, সূরা শুআ’রার১৭৬নং আয়াতের টীকা।

[2] তুব্বা’ সম্প্রদায়ের জন্য দেখুন, সূরা দুখানের ৩৭ আয়াতের টীকা।

[3] অর্থাৎ, এদের মধ্যে সকলেই নিজেদের নবীকে মিথ্যাজ্ঞান করেছে। এতে রয়েছে রসূল (সাঃ)-এর জন্য সান্ত্বনা। যেন তাঁকে বলা হচ্ছে যে, তোমাকে তোমার জাতির পক্ষ থেকে যে মিথ্যাবাদী মনে করা হচ্ছে তাতে দুঃখ করো না। কেননা, এটা কোন নতুন কথা নয়। তোমার পূর্বের নবীদের সাথে তাঁদের জাতিরাও এরূপ আচরণই করেছে। অন্য দিকে মক্কাবাসীদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে যে, পূর্বের জাতিরা তাদের নবীদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করার কারণে তাদের পরিণাম কি হয়েছে দেখে নাও? তোমরাও কি এ রকম পরিণাম পছন্দ করবে? যদি এ রকম পরিণাম পছন্দ না কর, তবে মিথ্যাভাবার পথ ত্যাগ কর এবং নবীর উপর ঈমান নিয়ে এসো।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১৫ اَفَعَیِیۡنَا بِالۡخَلۡقِ الۡاَوَّلِ ؕ بَلۡ هُمۡ فِیۡ لَبۡسٍ مِّنۡ خَلۡقٍ جَدِیۡدٍ ﴿۱۵﴾

আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? বরং তারা নতুন সৃষ্টির বিষয়ে সন্দেহে নিপতিত। আল-বায়ান

আমরা কি প্রথমবার সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? বস্তুতঃ তারা নতুন সৃষ্টি বিষয়ে সন্দেহে পড়ে আছে। তাইসিরুল

আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি যে, পুনঃসৃষ্টি বিষয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করছে? মুজিবুর রহমান

Did We fail in the first creation? But they are in confusion over a new creation. Sahih International

১৫. আমরা কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি! বরং নতুন সৃষ্টির বিষয়ে তারা সন্দেহে পতিত।(১)

(১) এটা আখেরাতের সপক্ষে যৌক্তিক প্ৰমাণ। যে ব্যক্তি আল্লাহকে অস্বীকার করে না এবং সুশৃংখল ও সুবিন্যস্ত এ বিশ্ব-জাহানে মানুষের সৃষ্টিকে নিছক একটি আকস্মিক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করার মত নির্বুদ্ধিতা যাকে পেয়ে বসেনি তার পক্ষে একথা স্বীকার না করে উপায় নেই যে, আল্লাহ তা'আলাই আমাদেরকে এবং পুরো এ বিশ্বজাহানকে সৃষ্টি করেছেন। আমরা যে এ দুনিয়ায় জীবিতাবস্থায় বর্তমান এবং দুনিয়া ও আসমানের এসব কাজ-কারবার যে আমাদের চোখের সামনেই চলছে, এটা স্বতই প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ আমাদেরকে এবং এ বিশ্ব-জাহানকে সৃষ্টি করতে অক্ষম ছিলেন না। তা সত্বেও কেউ যদি বলে যে, কিয়ামত সংঘটিত করার পর সেই আল্লাহই আরেকটি জগত সৃষ্টি করতে পারবেন না এবং মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় আমাদের সৃষ্টি করতে পারবেন না তাহলে সে একটি যুক্তি বিরোধী কথাই বলে। আল্লাহ অক্ষম হলে প্রথমবারই তিনি সৃষ্টি করতে অক্ষম থাকতেন। তিনি যখন প্রথাবার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন এবং সেই সৃষ্টিকর্মের বদৌলতেই আমরা অস্তিত্ব লাভ করেছি তখন নিজের সৃষ্ট বস্তুকে ধ্বংস করে তা পুনরায় সৃষ্টি করতে তিনি অপারগ হবেন কেন? এর কি যুক্তিসংগত কারণ থাকতে পারে? [দেখুন: আদওয়াউল-বায়ান, ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি?[1] বরং পুনঃসৃষ্টি বিষয়ে তারা সন্দিহান। [2]

[1] তাই কিয়ামতের দিন পুনরায় জীবিত করা আমার জন্য কঠিন হবে। অর্থাৎ, প্রথমে সৃষ্টি করা যখন আমার জন্য কোন সমস্যাই ছিল না, তখন দ্বিতীয়বার জীবিত করা তো প্রথমবারের তুলনায় আমার পক্ষে আরো সহজ। যেমন, অন্যত্র বলেছেন, {وَهُوَ الَّذِي يَبْدأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ} অর্থাৎ, তিনিই যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি পুনর্বার একে সৃষ্টি করবেন; এ তাঁর জন্য সহজতর। (সূরা রূম ২৭ আয়াত) সূরা ইয়াসীনের ৭৮-৭৯নং আয়াতেও এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। হাদীসে কুদসীতে আছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘আদম সন্তান আমাকে এই বলে কষ্ট দেয় যে, আল্লাহ আমাকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নন; যেভাবে তিনি প্রথমে আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অথচ প্রথমবার সৃষ্টি করা দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করার চাইতে বেশী সহজ নয়।’’ অর্থাৎ, কঠিন হলে প্রথমবার সৃষ্টি করা কঠিন হবে, দ্বিতীয়বার নয়। (বুখারীঃ তাফসীর সূরাতুল ইখলাস)

[2] অর্থাৎ, এরা আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার করে না, বরং প্রকৃত ব্যাপার হল এই যে, তারা কিয়ামত সংঘটন এবং তখনকার পুনর্জীবন সম্পর্কেই সন্দেহে পড়ে আছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১৬ وَ لَقَدۡ خَلَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ وَ نَعۡلَمُ مَا تُوَسۡوِسُ بِهٖ نَفۡسُهٗ ۚۖ وَ نَحۡنُ اَقۡرَبُ اِلَیۡهِ مِنۡ حَبۡلِ الۡوَرِیۡدِ ﴿۱۶﴾

আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার প্রবৃত্তি তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তাও আমি জানি। আর আমি* তার গলার ধমনী হতেও অধিক কাছে। আল-বায়ান

আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি, আর তার প্রবৃত্তি তাকে (নিত্য নতুন) কী কুমন্ত্রণা দেয় তাও আমি জানি। আমি তার গলার শিরা থেকেও নিকটবর্তী। তাইসিরুল

আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার প্রকৃতি তাকে যে কুমন্ত্রনা দেয় তা আমি জানি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমণী অপেক্ষাও নিকটতর। মুজিবুর রহমান

And We have already created man and know what his soul whispers to him, and We are closer to him than [his] jugular vein Sahih International

* ইবনে কাসীর বলেন, এখানে نحن বলে আল্লাহর ফেরেশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে।

১৬. আর অবশ্যই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার প্রবৃত্তি তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় তাও আমরা জানি। আর আমরা তার গ্ৰীবাস্থিত ধমনীর চেয়েও নিকটতর।(১)

(১) এখানে نحن বা ‘আমরা’ বলে ফেরেশতাদেরকে বোঝানো হয়েছে। যাতে পরবর্তী আয়াতের সাথে অর্থের মিল হয়। তখন ঐ সমস্ত ফেরেশতাই উদ্দেশ্য হবে যারা মানুষের প্রাণ হরনের জন্য বান্দার কাছে এসে থাকে। আমার ফেরেশতাগণ তাদের ঘাড়ের শিরার কাছেই অবস্থান করছে। তারা আমার নির্দেশ মোতাবেক যে কোন সময় তাদেরকে পাকড়াও করবে। ফেরেশতাগণ সদাসর্বদা মানুষের সাথে সাথে থাকে। তারা মানুষের প্রাণ সম্বন্ধে এতটুকু ওয়াকিবহাল, যতটুকু খোদ মানুষ তার প্ৰাণ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল নয়। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার মন তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয়, তা আমি জানি।[1] আমি তার ঘাড়ে অবস্থিত ধমনী অপেক্ষাও নিকটতর। [2]

[1] অর্থাৎ, মানুষ যা কিছু গোপন করে এবং অন্তরে লুকিয়ে রাখে, তা সব কিছুই আমি জানি। ‘অসঅসাহ’ (কুমন্ত্রণা) অন্তরে উদীয়মান সেই কল্পনাগুলোকে বলা হয়, যার জ্ঞান ঐ মানুষটি ছাড়া আর কারো থাকে না। কিন্তু আল্লাহ সেই কল্পনাগুলোও জানেন। এই জন্য হাদীসে এসেছে যে, ‘‘মহান আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদীয়মান কুখেয়ালগুলোকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। অর্থাৎ, সেগুলোর উপর কোন ধরপাকড় হবে না, যতক্ষণ না সেগুলো মুখে প্রকাশ অথবা কাজে পরিণত করবে।’’ (বুখারীঃ কিতাবুল ঈমান, মুসলিম)

[2] وَرِيْدٌ (শাহরগ) বলা হয় প্রধান অথবা এমন প্রাণধারক ধমনীকে যা কেটে গেলে মৃত্যু ঘটে যায়। এই ধমনী (কণ্ঠনালীর দুই পাশে দু’টি মোটা আকারের শিরা) মানুষের কাঁধ পর্যন্ত থাকে। আর এই নৈকট্যের অর্থ জ্ঞানের নৈকট্য। অর্থাৎ, জ্ঞানের দিক দিয়ে আমি মানুষের এত নিকটে যে, তার অন্তরের কথাগুলোও জানতে পারি। ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন, نَحْنُ থেকে ফিরিশতাদের বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, আমার ফিরিশতাগণ মানুষের নিজের শাহরগের চেয়েও নিকটে। কারণ, মানুষের ডানে ও বামে দু’জন ফিরিশতা সব সময় বিদ্যমান থাকেন। তাঁরা মানুষের প্রতিটি কথা ও কাজ লিপিবদ্ধ করেন। {يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ} অর্থ হল, يَأْخُذَانِ وَيُثَبِّتَانِ ইমান শাওকানী (রঃ) এর অর্থ করেছেন, আমি মানুষের সমস্ত অবস্থা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। আর এতে সেই ফিরিশতাদের আমি মুখাপেক্ষী নই, যাদেরকে আমি মানুষদের আমল ও কথাগুলো লিপিবদ্ধ করার জন্য নিযুক্ত করেছি। এই ফিরিশতাদেরকে তো আমি কেবল হুজ্জত প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিযুক্ত করেছি। দু’জন ফিরিশতা বলতে, কারো কারো নিকট একজন পুণ্য লিপিবদ্ধকারী এবং অপরজন পাপ লিপিবদ্ধকারী। আবার কারো নিকট রাত ও দিনের ফিরিশতা। রাত ও দিনের জন্য দু’জন করে পৃথক পৃথক ফিরিশতা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১৭ اِذۡ یَتَلَقَّی الۡمُتَلَقِّیٰنِ عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَ عَنِ الشِّمَالِ قَعِیۡدٌ ﴿۱۷﴾

যখন ডানে ও বামে বসা দু’জন লিপিবদ্ধকারী পরস্পর গ্রহণ করবে। আল-বায়ান

(তদুপরি) দু’জন লেখক ডানে ও বামে বসে (মানুষের ‘আমাল) লিখছে। তাইসিরুল

স্মরণ রেখ, দুই মালাক/ফেরেশতা তার ডানে ও বামে বসে তার কাজ লিপিবদ্ধ করে। মুজিবুর রহমান

When the two receivers receive, seated on the right and on the left. Sahih International

১৭. যখন তার ডানে ও বামে বসা দু’জন ফেরেশতা পরস্পর (তার আমল লিখার জন্য) গ্ৰহণ করে(১);

(১) يَتَلَقَّى শব্দের আভিধানিক অর্থ গ্রহণ করা, নেয়া এবং অর্জন করে নেয়া। الْمُتَلَقِّيَانِ বলে দুইজন ফেরেশতা বোঝানো হয়েছে, যারা প্রত্যেক মানুষের সাথে সদাসর্বদা থাকে এবং তার ক্রিয়াকর্ম লিপিবদ্ধ করে। (عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَا) অর্থাৎ তাদের একজন ডান দিকে থাকে এবং সৎকর্ম লিপিবদ্ধ করে। অপরজন বাম দিকে থাকে এবং অসৎকর্ম লিপিবদ্ধ করে। قعيد শব্দটির অর্থ উপবিষ্ট। [বাগভী, কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) যখন দুই সংগ্রাহক (ফিরিশতা তার কর্ম) সংগ্রহ (লিপিবদ্ধ) করে, (যারা তার) ডাইনে ও বামে বসে আছে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১৮ مَا یَلۡفِظُ مِنۡ قَوۡلٍ اِلَّا لَدَیۡهِ رَقِیۡبٌ عَتِیۡدٌ ﴿۱۸﴾

সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী রয়েছে। আল-বায়ান

যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার নিকটে একজন সদা তৎপর প্রহরী আছে। তাইসিরুল

মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। মুজিবুর রহমান

Man does not utter any word except that with him is an observer prepared [to record]. Sahih International

১৮. সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী রয়েছে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। [1]

[1] رَقِيْبٌ এর অর্থ সংরক্ষণকারী, পর্যবেক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক এবং মানুষের কথা ও কাজের জন্য অপেক্ষাকারী। عَتِيْدٌ এর অর্থ তৎপর, সদা-সর্বদা প্রস্তুত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ১৯ وَ جَآءَتۡ سَكۡرَۃُ الۡمَوۡتِ بِالۡحَقِّ ؕ ذٰلِكَ مَا كُنۡتَ مِنۡهُ تَحِیۡدُ ﴿۱۹﴾

আর মৃত্যুর যন্ত্রণা যথাযথই আসবে। যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাইতে। আল-বায়ান

মৃত্যুর যন্ত্রণা প্রকৃতই আসবে যাত্থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য তুমি চেষ্টা করতে। তাইসিরুল

মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই আসবে। এটা হতেই তোমরা অব্যাহিত চেয়ে আসছ। মুজিবুর রহমান

And the intoxication of death will bring the truth; that is what you were trying to avoid. Sahih International

১৯. আর মৃত্যু যন্ত্রণা নিয়ে এসেছে (সে) সত্যই(১); এটা (তা-ই) যা থেকে তুমি পালাতে চাচ্ছিলে।

(১) ওফাতের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে এই অবস্থা দেখা দিলে তিনি হাত ভিজিয়ে মুখমণ্ডলে মালিশ করেছিলেন এবং বলেছিলেনঃ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ আল্লাহ ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই, মৃত্যু যন্ত্রণা বড় সাংঘাতিক। [বুখারী: ৪০৯৪, ৭১৭৫] এখানে সে সত্য বলে আখেরাতের কথা বুঝানো হয়েছে। যে সত্যকে তারা অস্বীকার করত। [জালালাইন|

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) মৃত্যুযন্ত্রণা সত্যই আসবে; [1] এ তো তাই, যা হতে তুমি অব্যাহতি চেয়ে আসছ। [2]

[1] এর দ্বিতীয় অর্থ হল, মৃত্যু-যন্ত্রণা সত্য নিয়ে আসবে। অর্থাৎ, মৃত্যুর সময় সত্য স্পষ্ট এবং সেই সকল প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রকাশ হয়ে যায়, যা কিয়ামত এবং জান্নাত ও জাহান্নামের ব্যাপারে নবীগণ দিয়ে গেছেন।

[2] تَحِيْدُ، تَمِيْلُ عَنْهُ وَتَفِرُّ তুমি এই মৃত্যুকে এড়াতে চাইতে এবং তা থেকে পলায়ন করতে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৫০ : ২০ وَ نُفِخَ فِی الصُّوۡرِ ؕ ذٰلِكَ یَوۡمُ الۡوَعِیۡدِ ﴿۲۰﴾

আর শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে। এটাই হল প্রতিশ্রুত দিন। আল-বায়ান

অতঃপর সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। সেটাই হল শাস্তির দিন (যে সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল)। তাইসিরুল

আর শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, ওটাই সেই ভয় প্রদর্শনের দিন। মুজিবুর রহমান

And the Horn will be blown. That is the Day of [carrying out] the threat. Sahih International

২০. আর শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, ওটাই প্ৰতিশ্রুত দিন।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) আর শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ওটাই শাস্তির প্রতিশ্রুতির দিন।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন