মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এ কিতাব নাযিলকৃত। আল-বায়ান
এ কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে। তাইসিরুল
এই কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ। মুজিবুর রহমান
The revelation of the Book is from Allah, the Exalted in Might, the Wise. Sahih International
২. এ কিতাব মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকে নাযিলকৃত।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২) এ গ্রন্থ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়াননিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনে মুমিনদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। আল-বায়ান
আকাশে এবং যমীনে মু’মিনদের (শিক্ষার) জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে। তাইসিরুল
আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে নিদর্শন রয়েছে মু’মিনদের জন্য। মুজিবুর রহমান
Indeed, within the heavens and earth are signs for the believers. Sahih International
৩. নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনে মুমিনদের জন্য রয়েছে বহু নিদর্শন।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৩) নিশ্চয় আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে বিশ্বাসীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং যে জীব জন্তু ছড়িয়ে রয়েছে তাতে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করে। আল-বায়ান
তোমাদের সৃষ্টিতে, আর প্রাণীকুল ছড়িয়ে দেয়ার মাঝে নিদর্শন আছে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য। তাইসিরুল
তোমাদের সৃষ্টিতে এবং জীবজন্তুর বিস্তারে নিদর্শন রয়েছে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য। মুজিবুর রহমান
And in the creation of yourselves and what He disperses of moving creatures are signs for people who are certain [in faith]. Sahih International
৪. আর তোমাদের সৃষ্টি এবং জীব-জন্তুর বিস্তারে বহু নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করে;
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৪) তোমাদের সৃষ্টিতে এবং জীব-জন্তুর বংশবিস্তারে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে,
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর রাত ও দিনের পরিবর্তনে, আল্লাহ আসমান থেকে যে পানি বর্ষণ করেন তারপর তা দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং বাতাসের পরিবর্তনে সে কওমের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে যারা বোঝে। আল-বায়ান
রাত ও দিনের আবর্তনে, আর আল্লাহ আকাশ থেকে যে বৃষ্টি বর্ষণ করেন তা দিয়ে যমীনকে তার মৃত্যুর পর আবার জীবিত করেন আর বায়ুর পরিবর্তনে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। তাইসিরুল
নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য, রাত ও দিনের পরিবর্তনে, আল্লাহ আকাশ হতে যে বারি বর্ষণ দ্বারা ধরিত্রীকে ওর মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে। মুজিবুর রহমান
And [in] the alternation of night and day and [in] what Allah sends down from the sky of provision and gives life thereby to the earth after its lifelessness and [in His] directing of the winds are signs for a people who reason. Sahih International
৫. আর রাত ও দিনের পরিবর্তন এবং আল্লাহ্ আকাশ হতে যে রিযিক (পানি) বর্ষণ করেন, অতঃপর তিনি তা দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে অনেক নিদর্শন রয়েছে, এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা বোঝে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৫) বহু নিদর্শন রয়েছে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য রাত ও দিনের পরিবর্তনে, যে বৃষ্টি বর্ষণ দ্বারা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর তিনি পুনর্জীবিত করেন তাতে[1] এবং বায়ুর পরিবর্তনে। [2]
[1] আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং মানুষ ও জীব-জন্তুর সৃষ্টিতে, দিবারাত্রির আগমন-প্রত্যাগমনে এবং আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে মৃত ভূমিকে পুনরায় জীবিত করে তোলা ইত্যাদি সহ সারা বিশ্বজাহানে এমন অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে, যা আল্লাহর একত্ব ও তাঁর প্রতিপালকত্বকে প্রমাণ করে।
[2] অর্থাৎ, কখনো হাওয়া উত্তর ও দক্ষিণমুখী হয়, কখনো পূর্ব ও পশ্চিমমুখী, কখনো সমুদ্রের হাওয়া আবার কখনো মরুর লু হাওয়া, কখনো হাওয়া রাতে চলে আবার কখনো দিনে, কোন হাওয়া বৃষ্টিবাহী, কোন হাওয়া ফলপ্রসূ, কোন হাওয়া আত্মার খোরাক (অক্সিজেন)। আবার কোন হাওয়া সব কিছুকে ঝলসে দেয়, কোন হাওয়া শুধু ধুলোবালির ঝড় বয়ে আনে। এত প্রকারের হাওয়াও প্রমাণ করে যে, এই বিশ্বজাহানের কেউ পরিচালক আছেন এবং তিনি একজনই। দু’জন বা তার অধিক নন। সমস্ত এখতিয়ারের মালিক তিনি একাই। এতে তাঁর কোন শরীক নেই। সর্বপ্রকার কর্তৃত্ব কেবল তাঁরই হাতে। অন্য কারো হাতে সামান্য পরিমাণও কিছুর এখতিয়ার নেই। এই অর্থেরই আয়াত হল সূরা বাক্বারার ১৬৪নং আয়াতটি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানএগুলো আল্লাহর আয়াত, আমি তা যথাযথভাবেই তোমার কাছে তিলাওয়াত করছি। অতএব তারা আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে? আল-বায়ান
এগুলো হল আল্লাহর আয়াত যা সত্যতা সহকারে তোমার কাছে তিলাওয়াত করা হচ্ছে। কাজেই তারা আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতের (উপর বিশ্বাস না করলে এর) পর আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে? তাইসিরুল
এগুলি আল্লাহর আয়াত যা আমি তোমার নিকট আবৃত্তি করছি যথাযথভাবে; সুতরাং আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতের পরিবর্তে তারা আর কোন্ বাণীতে বিশ্বাস করবে? মুজিবুর রহমান
These are the verses of Allah which We recite to you in truth. Then in what statement after Allah and His verses will they believe? Sahih International
৬. এগুলো আল্লাহর আয়াত, যা আমরা আপনার কাছে তিলাওয়াত করছি যথাযথভাবে। কাজেই আল্লাহ এবং তাঁর আয়াতের পরে তারা আর কোন বাণীতে ঈমান আনবে?(১)
(১) অর্থাৎ আল্লাহর সত্ত্বা ও তার ইবাদতের ক্ষেত্রে “ওয়াহদানিয়াত” বা একত্বের সপক্ষে স্বয়ং আল্লাহর পেশকৃত এসব যুক্তি-প্রমাণ সামনে আসার পরও যখন এসব লোক ঈমান গ্ৰহণ করছে না। তখন এমন কি জিনিস আর আসতে পারে যার কারণে ঈমানের সম্পদ তাদের ভাগ্যে জুটবে? আল্লাহর কালামই তো সেই চূড়ান্ত বস্তু যার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি এই নিয়ামত লাভ করতে পারে। আর একটি অদেখা সত্য সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টির জন্য সর্বাধিক যুক্তি সঙ্গত যেসব দলীল-প্রমাণ পেশ করা সম্ভব তা এই পবিত্ৰ কালামে পেশ করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ অস্বীকার করতেই বদ্ধপরিকর থাকে তাহলে করতে থাকুক। তার অস্বীকৃতির ফলে প্রকৃত সত্যের কোন পরিবর্তন হবে না [দেখুন: তাবারী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৬) এগুলি আল্লাহর আয়াত, যা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে আবৃত্তি করছি, সুতরাং আল্লাহর আয়াতের পরিবর্তে ওরা আর কোন্ বাণীতে বিশ্বাস করবে? [1]
[1] অর্থাৎ, আল্লাহর নাযিল করা এই কুরআন, যাতে রয়েছে তাঁর একত্ববাদের বহু প্রমাণাদি, যদি তারা এর উপরও ঈমান না আনে, তবে আল্লাহর কথাকে বাদ দিয়ে কার কথার উপর এবং তাঁর নিদর্শনাবলীকে ছেড়ে আর কোন্ এমন নিদর্শন আছে যার উপর তারা ঈমান আনবে? بَعْدَ اللهِ অর্থ, بَعْدَ حَدِيْثِ اللهِ وَبَعْدَ آيَاتِهِ এখানে কুরআনকে হাদীস আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেমন, ﴿اللهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيْثِ﴾ (الزمر: ২৩) আয়াতে এসেছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানদুর্ভোগ প্রত্যেক চরম মিথ্যুক পাপাচারীর জন্য! আল-বায়ান
ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্য তাইসিরুল
দুর্ভোগ প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপীর। মুজিবুর রহমান
Woe to every sinful liar Sahih International
৭. দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর(১),
(১) কোন কোন বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, এই আয়াত নদর ইবনে হারেছ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, কোন কোন বর্ণনা থেকে হারেছ ইবন কালদাহ সম্পর্কে, আবার কোন এক বর্ণনা থেকে আবু জাহল ও তার সঙ্গীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হওয়ার কথা জানা যায়। আয়াতের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করার জন্য প্রকৃতপক্ষে কোন ব্যক্তি বিশেষকে নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন নেই। كل শব্দ ব্যক্ত করছে যে, যে কেউ এসব বিশেষণে বিশেষিত, তার জন্যই দুর্ভোগ- একজন হোক অথবা তিন জন। [কুরতবী, বাগভী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৭) দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী মহাপাপীর, [1]
[1] أَفَّاكٍ অর্থ, كَذَّابٍ (চরম মিথ্যুক) আর أَثِيْمٍ অর্থ, বড় পাপী। وَيْلٌ মানে ধ্বংস অথবা জাহান্নামের একটি উপত্যকার নাম।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানসে শোনে আল্লাহর আয়াতসমূহ যা তার সামনে তিলাওয়াত করা হচ্ছে, তারপর সে ঔদ্ধত্যের সাথে অবিচল থাকে, যেন সে তা শুনতে পায়নি। অতএব তুমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও। আল-বায়ান
যে আল্লাহর আয়াত শোনে যা তার সামনে পাঠ করা হয়, অতঃপর অহমিকার সাথে (কুফুরীর উপর) থাকে যেন সে তা শোনেইনি; কাজেই তাকে ভয়াবহ শাস্তির সংবাদ দাও। তাইসিরুল
যে আল্লাহর আয়াতের আবৃত্তি শোনে, অথচ ঔদ্ধত্যের সাথে অটল থাকে যেন সে তা শোনেনি, তাকে সংবাদ দাও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির। মুজিবুর রহমান
Who hears the verses of Allah recited to him, then persists arrogantly as if he had not heard them. So give him tidings of a painful punishment. Sahih International
৮. সে আল্লাহর আয়াতসমূহ শোনে যা তার কাছে তিলাওয়াত করা হয়, তারপর সে ঔদ্ধত্যের সাথে অটল থাকে যেন সে তা শোনেনি। অতএব, আপনি তাকে সুসংবাদ দিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির;
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৮) যে আল্লাহর আয়াতের আবৃত্তি শোনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে (নিজ মতবাদে) অটল থাকে; যেন সে তা শোনেইনি।[1] সুতরাং ওকে মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ দাও।
[1] অর্থাৎ, কুফরীর উপর অটল থাকে এবং সত্যের মোকাবেলায় নিজেদের জ্ঞানকে বড় মনে করে এবং এই অহংকারের কারণে শোনা সত্ত্বেও তারা এমন ভান করে, যেন শোনেইনি।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর যখন সে আমার আয়াতসমূহের কিছু জানতে পারে, তখন সে এটাকে পরিহাসের পাত্ররূপে গ্রহণ করে। এদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব। আল-বায়ান
আমার আয়াতগুলোর কোন কথা যখন সে অবগত হয় তখন তাকে ঠাট্টা বিদ্রূপের বিষয় বানিয়ে নেয়, তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি। তাইসিরুল
যখন আমার কোন আয়াত সে অবগত হয় তখন সে তা নিয়ে পরিহাস করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। মুজিবুর রহমান
And when he knows anything of Our verses, he takes them in ridicule. Those will have a humiliating punishment. Sahih International
৯. আর যখন সে আমাদের কোন আয়াত অবগত হয়, তখন সে সেটাকে পরিহাসের পাত্র রূপে গ্ৰহণ করে। তাদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৯) যখন আমার কোন আয়াত সে অবগত হয়, তখন তা নিয়ে সে পরিহাস করে।[1] ওদের জন্যই রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
[1] অর্থাৎ, একে তো তারা কুরআনকে মন দিয়ে শোনেই না এবং (শোনার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও) যদি কোন কথা তাদের কানে পড়ে যায় অথবা কোন কথা তাদের জ্ঞানে এসে যায়, তবে সেটাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপের বিষয় বানিয়ে নেয়। আর এটা করে তাদের ছোট জ্ঞান ও অবুঝ হওয়ার কারণে অথবা কুফরী ও অবাধ্যতার উপর অটল থাকার কারণে অথবা অহংকারের কারণে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে অথবা আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে, এসব তাদের কোন কাজে আসবে না। তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব। আল-বায়ান
তাদের আড়ালে আছে জাহান্নাম, তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসবে না। আর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যেগুলোকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে সেগুলোও (কাজে আসবে) না। তাদের জন্য আছে মহা শাস্তি। তাইসিরুল
তাদের পশ্চাতে রয়েছে জাহান্নাম; তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসবেনা, তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে অভিভাবক স্থির করেছে তারাও নয়। তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। মুজিবুর রহমান
Before them is Hell, and what they had earned will not avail them at all nor what they had taken besides Allah as allies. And they will have a great punishment. Sahih International
১০. তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম; তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসবে না, তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে অভিভাবক স্থির করেছে ওরাও নয়। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১০) ওদের পশ্চাতে রয়েছে জাহান্নাম;[1] ওদের কৃতকর্ম ওদের কোন কাজে আসবে না [2] এবং ওরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে অভিভাবক স্থির করেছে, তারাও নয়।[3] আর ওদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।
[1] অর্থাৎ, যারা এই আচরণের মানুষ, তাদের জন্য কিয়ামতে রয়েছে জাহান্নাম।
[2] অর্থাৎ, দুনিয়াতে যে মাল তারা অর্জন করেছে, যে সন্তান-সন্ততি এবং দল-বলের জন্য তারা অহংকার প্রদর্শন করে থাকে, এ সব কিছুই কিয়ামতের দিন তাদের কোনই উপকারে আসবে না।
[3] যাদেরকে দুনিয়াতে নিজেদের আলিয়া, অভিভাবক, বন্ধু, সাহায্যকারী এবং উপাস্য বানিয়ে রেখেছিল, সেদিন তারা তাদের নজরেই পড়বে না। তারা সাহায্য আর কি করবে?
তাফসীরে আহসানুল বায়ানএই (কুরআন) হিদায়াত দানকারী। আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে অতিশয় যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আল-বায়ান
এ (কুরআন) সঠিক পথের দিশারী। যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য আছে কঠোর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তাইসিরুল
কুরআন সৎ পথের দিশারী; যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করে তাদের জন্য রয়েছে অতিশয় যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। মুজিবুর রহমান
This [Qur'an] is guidance. And those who have disbelieved in the verses of their Lord will have a painful punishment of foul nature. Sahih International
১১. এ কুরআন সৎপথের দিশারী; আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করে, তাদের জন্য রয়েছে খুবই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১১) এ (কুরআন)[1] সৎপথের দিশারী। যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জন্য রয়েছে অতিশয় কষ্টদায়ক শাস্তি। [2]
[1] هٰذَا (এ) অর্থাৎ, কুরআন সৎপথের দিশারী। কারণ, এর অবতীর্ণ হওয়ার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে কুফরী ও শিরকের অন্ধকার থেকে বের করে ঈমানের আলোয় নিয়ে আসা। তাই এটা যে পূর্ণ হিদায়াত ও সৎপথের দিশারী গ্রন্থ, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এ থেকে হিদায়াত তো সে-ই পাবে, যে এর জন্য স্বীয় বক্ষকে উন্মুক্ত করে দেবে। অন্যথা সে ব্যক্তি কিভাবে পথ পাবে, যে পথের খোঁজই করে না?
[2] أَلِيْمٌ হল عَذَابٌ এর ‘সিফাত’ (বিশেষণ)। কেউ কেউ একে رِجْزٌ এর সিফাত বলেছেন। رِجْزٌ মানে عَذَابٌ شَدِيْدٌ (কঠিন শাস্তি)।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআল্লাহ, যিনি সমুদ্রকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন যাতে তাঁরই আদেশক্রমে তাতে নৌযানসমূহ চলাচল করতে পারে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করে বেড়াতে পার এবং যাতে তোমরা শোকর আদায় করতে পার। আল-বায়ান
আল্লাহ- যিনি সমুদ্রকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন যাতে তাঁর হুকুমে তোমাদের নৌযানসমূহ তাতে চলাচল করতে পারে, আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং তোমরা (তাঁর) শোকর আদায় কর। তাইসিরুল
আল্লাহই সমুদ্রকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে তাতে নৌযানসমূহ চলাচল করতে পারে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। মুজিবুর রহমান
It is Allah who subjected to you the sea so that ships may sail upon it by His command and that you may seek of His bounty; and perhaps you will be grateful. Sahih International
১২. আল্লাহ, যিনি সাগরকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন, যেন তাঁর আদেশে তাতে নৌযানসমূহ চলাচল করতে পারে। আর যেন তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ করতে পার(১) এবং যেন তোমরা (তাঁর প্রতি) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
(১) পবিত্র কুরআনে ‘অনুগ্রহ তালাশ করা’ এর অর্থ সাধারণত জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা প্রচেষ্টা হয়ে থাকে। এখানে এরূপ অৰ্থ হতে পারে যে, তোমাদেরকে সমুদ্রে জাহাজ চালনার শক্তি দেয়া হয়েছে, যাতে তোমরা ব্যবসা বাণিজ্য করতে পার। এরূপ অৰ্থও সম্ভবপর যে, সমুদ্রে আমি অনেক উপকারী বস্তু সৃষ্টি করে সমুদ্রকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি, যাতে তোমরা সেগুলো খোজ করে উপকৃত হও। [দেখুন: তাবারী, সাদী]
তাফসীরে জাকারিয়া(১২) আল্লাহ তো সাগরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন,[1] যাতে তাঁর আদেশে তাতে জলযানসমূহ চলাচল করতে পারে[2] এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার[3] এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। [4]
[1] অর্থাৎ, তাকে এমন বানিয়ে দিয়েছেন যেন তার উপর দিয়ে তোমরা নৌকা ও জল-জাহাজের মাধ্যমে সফর করতে পার।
[2] অর্থাৎ, সমুদ্রে নৌকা ও জাহাজসমূহের গমনাগমন তোমাদের কৃতিত্ব ও দক্ষতার ফল নয়, বরং এটা চলে আল্লাহর নির্দেশ ও তাঁর ইচ্ছায়। তা নাহলে তিনি ইচ্ছা করলে সমুদ্র-তরঙ্গে এমন উত্তাল অবস্থা সৃষ্টি করে দেবেন যে, কোন নৌকা ও জাহাজ তার পৃষ্ঠে স্থির থাকতে পারবে না। যেমন কখনো কখনো তিনি তাঁর মহাশক্তির (কিঞ্চিৎ) বিকাশ ঘটানোর জন্য এ রকম করে থাকেন। যদি অব্যাহতভাবে তরঙ্গ উত্তাল অবস্থায় থাকে, তবে তোমরা কখনোও সমুদ্রে সফর করার সুযোগই পাবে না।
[3] অর্থাৎ, সমুদ্র-পথে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে, সমুদ্রে ডুব মেরে মুক্তা-প্রবালাদি ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস বের করে এবং সমুদ্রস্থিত প্রাণী (মাছ ইত্যাদি) শিকার করে।
[4] এ সব কিছুই এই জন্য করেছেন যে, যাতে তোমরা এই নিয়ামতসমূহের উপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর, যে নিয়ামতসমূহ সমুদ্রকে তোমাদের আয়ত্তে করে দেওয়ার ফলে অর্জিত হয়।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে যমীনে, তার সবই তিনি তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। চিন্তাশীল কওমের জন্য নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে। আল-বায়ান
আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত রেখেছেন যা আছে আকাশে আর যা আছে যমীনে সেগুলোর সব কিছুকে। এতে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য অবশ্যই অনেক নিদর্শন আছে। তাইসিরুল
তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সব কিছু নিজ অনুগ্রহে। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন। মুজিবুর রহমান
And He has subjected to you whatever is in the heavens and whatever is on the earth - all from Him. Indeed in that are signs for a people who give thought. Sahih International
১৩. আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন আসমানসমূহ ও যমীনের সমস্ত কিছু নিজ অনুগ্রহে, নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শনাবলী রয়েছে, এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৩) তিনি তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত কিছু নিজের পক্ষ হতে,[1] চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে রয়েছে বহু নিদর্শন।
[1] ‘অধীন’ করার অর্থ হল, সেগুলোকে তোমাদের সেবায় নিযুক্ত করে রেখেছেন। তোমাদের জন্য যাবতীয় মঙ্গল ও উপকারিতা এবং তোমাদের জীবন ও জীবিকা সব কিছুই এরই সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, চাঁদ-সূর্য, উজ্জ্বল তারকারাজি, মেঘ-বৃষ্টি এবং হাওয়া ইত্যাদি। আর ‘নিজের পক্ষ হতে’ মানে স্বীয় বিশেষ রহমতে ও অনুগ্রহে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানযারা ঈমান এনেছে তাদেরকে বল, ‘যারা আল্লাহর দিবসসমূহ প্রত্যাশা করে না, এরা যেন তাদের ক্ষমা করে দেয়, যাতে আল্লাহ প্রত্যেক কওমকে তাদের কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দিতে পারেন। আল-বায়ান
মু’মিনদেরকে বল ঐ লোকদেরকে ক্ষমা করতে যারা আল্লাহর ‘আযাবের দিন আসার ব্যাপারে কোন আশংকাবোধ করে না। কেননা আল্লাহই (ভাল বা মন্দ) প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের কৃতকর্ম অনুসারে প্রতিফল দিবেন। তাইসিরুল
মু’মিনদেরকে বলঃ তারা যেন ক্ষমা করে তাদেরকে যারা আল্লাহর দিনগুলির প্রত্যাশা করেনা, এটা এ জন্য যে আল্লাহ প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তার কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দিবেন। মুজিবুর রহমান
Say, [O Muhammad], to those who have believed that they [should] forgive those who expect not the days of Allah so that He may recompense a people for what they used to earn. Sahih International
১৪. যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে বলুন, তারা যেন ক্ষমা করে ওদেরকে, যারা আল্লাহর দিনগুলোর প্রত্যাশা করে না। যাতে আল্লাহ প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দিতে পারেন।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৪) বিশ্বাসীদের বল, তারা যেন ক্ষমা করে ওদেরকে; যারা আল্লাহর দিনগুলির আশা করে না।[1] যাতে আল্লাহ এক সম্প্রদায়কে তার কৃতকর্মের জন্য শাস্তি দেন। [2]
[1] অর্থাৎ, যারা এই ভয় রাখে না যে, আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের সাহায্য করার এবং তাঁর শত্রুদের ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখেন। উদ্দেশ্য হল কাফের ও অবিশ্বাসীরা। أيَّام الله (আল্লাহর দিনগুলি) বলতে ঘটনাঘটন (আযাব-শাস্তি ইত্যাদি) যেমন, {وَذَكِّرْهُمْ بأَيَّامِ اللهِ} (إبراهيم: ৫) আয়াতে রয়েছে। অর্থাৎ, সেই কাফেরদের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন কর, যারা আল্লাহর আযাব এবং তাঁর পাকড়াও থেকে বেপরোয়া। এ নির্দেশ প্রাথমিক পর্যায়ে মুসলিমদেরকে দেওয়া হয়েছিল। পরে যখন তারা মোকাবেলা করার যোগ্য হয়ে গেল, তখন তাদের প্রতি কঠোর হওয়ার এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (জিহাদ) করার নির্দেশ দেওয়া হল।
[2] অর্থাৎ, যখন তোমরা তাদের দেওয়া যাবতীয় কষ্টে ধৈর্য ধারণ করবে এবং তাদের যুলুম-অত্যাচারকে ক্ষমা করবে, তখন এই সমস্ত পাপ তাদের ঘাড়ে থাকবে, যার শাস্তি কিয়ামতের দিন তাদেরকে দেওয়া হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানযে সৎকর্ম করে, সে তার নিজের জন্যই তা করে এবং যে মন্দকর্ম করে তা তার উপর বর্তাবে। তারপর তোমরা তোমাদের রবের প্রতি প্রত্যাবর্তিত হবে। আল-বায়ান
যে লোক ভাল কাজ করবে, সে তার নিজের কল্যাণেই তা করবে আর যে মন্দ কাজ করবে তার কুফল সে-ই ভোগ করবে। অতঃপর তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হবে। তাইসিরুল
যে সৎ কাজ করে সে তার কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেহ মন্দ কাজ করলে ওর প্রতিফল সে’ই ভোগ করবে, অতঃপর তোমরা তোমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। মুজিবুর রহমান
Whoever does a good deed - it is for himself; and whoever does evil - it is against the self. Then to your Lord you will be returned. Sahih International
১৫. যে সৎকাজ করে সে তার কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তা তারই উপর বর্তবে, তারপর তোমাদেরকে তোমাদের রবের দিকেই প্রত্যাবর্তিত করা হবে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৫) যে সৎকাজ করে, সে নিজ কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে ওর প্রতিফল সেই ভোগ করবে।[1] অতঃপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে। [2]
[1] অর্থাৎ, প্রত্যেক দল ও ব্যক্তির কর্ম, ভাল হোক অথবা মন্দ, তার লাভ ও ক্ষতি স্বয়ং কর্তারই; অন্য কারো নয়। এতে সৎকর্মের প্রতি উৎসাহিতও করা হয়েছে এবং অসৎকর্ম থেকে ভীতিপ্রদর্শনও।
[2] তিনি সকলকে তার আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন। ভালো লোককে ভালো এবং মন্দলোককে মন্দ।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওয়াত দান করেছিলাম এবং তাদের রিয্ক প্রদান করেছিলাম উত্তম বস্তু থেকে এবং দিয়েছিলাম তাদেরকে সকল সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব। আল-বায়ান
আমি বানী ইসরাঈলকে কিতাব, রাজত্ব ও নুবুওয়াত দিয়েছিলাম আর তাদেরকে দিয়েছিলাম উত্তম রিযক, আর তাদেরকে বিশ্ববাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। তাইসিরুল
আমিতো বানী ইসরাঈলকে কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবুওয়াত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দিয়েছিলাম এবং দিয়েছিলাম শ্রেষ্ঠত্ব বিশ্বজগতের উপর। মুজিবুর রহমান
And We did certainly give the Children of Israel the Scripture and judgement and prophethood, and We provided them with good things and preferred them over the worlds. Sahih International
১৬. আর অবশ্যই আমরা বনী ইসরাঈলকে কিতাব, কর্তৃত্ব(১) ও নবুওয়াত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে রিযিক প্রদান করেছিলাম উত্তম বস্তু হতে, আর দিয়েছিলাম তাদেরকে সকল সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব।
(১) হুকুম শব্দের কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক-কিতাবের জ্ঞান ও উপলব্ধি এবং দ্বীনের অনুভূতি। দুই-কিতাবের অভিপ্রায় অনুসারে কাজ করার কৌশল। তিন-বিভিন্ন ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যোগ্যতা। চার-ক্ষমতা বা রাজত্ব। [কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৬) আমি তো বনী-ইস্রাঈলকে গ্রন্থ, কর্তৃত্ব[1] ও নবুঅত দান করেছিলাম এবং ওদেরকে উত্তম জীবিকা দিয়েছিলাম[2] এবং বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। [3]
[1] এখানে كتاب (গ্রন্থ) বলতে তাওরাত। আর حُكم (কর্তৃত্ব) থেকে রাজত্ব ও শাসন-ক্ষমতা অথবা বিবেক ও বিচার করার এমন যোগ্যতা, যা বিবাদ মিটানোর এবং মানুষের মাঝে মীমাংসা করার জন্য জরুরী হয়।
[2] সেই সব উত্তম রুযী ও জীবিকা, যা তাদের জন্য হালাল ছিল এবং এগুলোরই মধ্যে ছিল মান্ন্ ও সালওয়ার অবতরণ।
[3] অর্থাৎ, তদানীন্তন বিশ্বে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর আমি তাদেরকে দীনের যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও কেবল পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষবশত তারা মতবিরোধ করেছিল। তারা যে সব বিষয়ে মতবিরোধ করত তোমার রব কিয়ামতের দিনে সে সব বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন। আল-বায়ান
আর দ্বীনের ব্যাপারে তাদেরকে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট নিদর্শন। কিন্তু তাদের কাছে (সত্য মিথ্যা সম্পর্কিত নির্ভুল) জ্ঞান আসার পরও শুধু নিজেদের মধ্যে বাড়াবাড়ির কারণে তারা মতভেদ করেছিল। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, তোমার প্রতিপালক কিয়ামাতের দিন সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। তাইসিরুল
তাদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দান করেছিলাম দীন সম্পর্কে। তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ বিরোধিতা করেছিল, তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত, তোমার রাব্ব কিয়ামাত দিবসে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ের ফায়সালা করে দিবেন। মুজিবুর রহমান
And We gave them clear proofs of the matter [of religion]. And they did not differ except after knowledge had come to them - out of jealous animosity between themselves. Indeed, your Lord will judge between them on the Day of Resurrection concerning that over which they used to differ. Sahih International
১৭. আর আমরা তাদেরকে দ্বীনের যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দান করেছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ মতবিরোধ করেছিল। তারা যে সব বিষয়ে মতবিরোধ করত, নিশ্চয় আপনার রব কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সে সব বিষয়ে ফয়সালা করে দিবেন।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৭) ধর্ম সম্পর্কে ওদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ[1] দান করেছিলাম। জ্ঞান আসার পর ওরা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ মতবিরোধ করেছিল।[2] ওরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত, তোমার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন ওদের মধ্যে সে বিষয়ের ফায়সালা করে দেবেন। [3]
[1] অর্থাৎ, হালাল ও হারাম বিবৃত স্পষ্ট বিধান। অথবা মু’জিযা ও অলৌকিক ঘটনাবলী। কিংবা নবী (সাঃ)-এর আগমনের জ্ঞান। তাঁর নবী হওয়ার প্রমাণাদি এবং নির্দিষ্টভাবে সেই স্থানের জ্ঞান, যেখানে তিনি হিজরত করে যাবেন।
[2] بَغْيًا بَيْنَهُمْ এর অর্থ, আপোসে একে অপরের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষবশতঃ অথবা খ্যাতি ও পদমর্যাদা লাভের জন্য জ্ঞান আসার পর তারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে মতবিরোধ অথবা রসূল (সাঃ)-এর রিসালাতকে অস্বীকার করল।
[3] হকপন্থীদেরকে উত্তম প্রতিদান এবং বাতিলপন্থীদেরকে মন্দ বদলা দিবেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতারপর আমি তোমাকে দীনের এক বিশেষ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং তুমি তার অনুসরণ কর এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল- খুশীর অনুসরণ করো না। আল-বায়ান
অতঃপর (হে নবী সা.!) আমি তোমাকে দ্বীনের (সঠিক) পথের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, কাজেই তুমি তারই অনুসরণ কর, আর যারা (দ্বীনের বিধি-বিধান) জানেনা তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না। তাইসিরুল
এরপর আমি তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দীনের বিশেষ বিধানের উপর। সুতরাং তুমি ওর অনুসরণ কর, অজ্ঞদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করনা। মুজিবুর রহমান
Then We put you, [O Muhammad], on an ordained way concerning the matter [of religion]; so follow it and do not follow the inclinations of those who do not know. Sahih International
১৮. তারপর আমরা আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের উপর; কাজেই আপনি তার অনুসরণ করুন। আর যারা জানে না তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করবেন না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৮) এরপর আমি তোমাকে ধর্মের বিশেষ বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি;[1] সুতরাং তুমি ওর অনুসরণ কর এবং অজ্ঞদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। [2]
[1] شَرِيعَة শরীয়তের আভিধানিক অর্থ হলঃ রাস্তা, ধর্মাদর্শ, বিধান এবং নিয়ম-পদ্ধতি। রাজপথ বা ‘মেনরোড’কেও شَارع ‘শারে’ বলা হয়। কারণ, তা গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেয়। তাই শরীয়ত বলতে এখানে সেই দ্বীনের বিধানকে বুঝানো হয়েছে, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। যাতে মানুষ সে পথে চলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। আয়াতের অর্থ হল, আমি তোমাকে একটি সুস্পষ্ট রাস্তায় বা তরীকায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছি, যা তোমাকে সত্য পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।
[2] যারা আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর শরীয়তের ব্যাপারে অজ্ঞ। এ থেকে উদ্দেশ্য হল, মক্কার কাফের ও তাদের সাথীরা।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতারা আল্লাহর মুকাবিলায় তোমার কোন কাজে আসবে না। আর নিশ্চয় যালিমরা মূলত একে অপরের বন্ধু এবং আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু। আল-বায়ান
আল্লাহ হতে তারা তোমার কোনই উপকার করতে পারবে না। যালিমরা একে অপরের বন্ধু, আর আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু। তাইসিরুল
আল্লাহর মুকাবিলায় তারা তোমার কোন উপকার করতে পারবেনা; যালিমরা একে অপরের বন্ধু; আর আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু। মুজিবুর রহমান
Indeed, they will never avail you against Allah at all. And indeed, the wrongdoers are allies of one another; but Allah is the protector of the righteous. Sahih International
১৯. নিশ্চয় তারা আল্লাহ্র মুকাবেলায় আপনার কোনই কাজে আসবে না; আর নিশ্চয় যালিমরা একে অন্যের বন্ধু; এবং আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৯) আল্লাহর কাছে অবশ্যই ওরা তোমার কোন উপকার করতে পারবে না; নিশ্চয় সীমালংঘনকারীরা একে অপরের বন্ধু। আর আল্লাহ সাবধানীদের বন্ধু।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানএ কুরআন মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত। আল-বায়ান
এ (কুরআন) মানুষের জন্য জ্ঞানের আলো, আর নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পথের দিশারী এবং রহমত স্বরূপ। তাইসিরুল
এই কুরআন মানব জাতির জন্য সুস্পষ্ট দলীল এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রাহমাত। মুজিবুর রহমান
This [Qur'an] is enlightenment for mankind and guidance and mercy for a people who are certain [in faith]. Sahih International
২০. একুরআন মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা এবং হেদায়াত ও রহমত এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২০) এ (কুরআন) মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট দলীল[1] এবং নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা। [2]
[1] অর্থাৎ, সেই দলীল-সমষ্টি যা দ্বীনের বিধি-বিধান সংবলিত এবং যার সাথে মানুষের যাবতীয় চাহিদা ও প্রয়োজনাদি সম্পৃক্ত। (এটি মানুষের জন্য একটি গাইডবুক ও জীবন-সংবিধান।)
[2] অর্থাৎ, ইহকালে সৎপথ দেখায় এবং পরকালে আল্লাহর করুণার অধিকারী বানায়।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান