بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
সূরাঃ ৪০/ গাফির (আল মু'মিন) | Ghafir | سورة غافر আয়াতঃ ৮৫ মাক্কী
৪০:১ حٰمٓ ۚ﴿۱﴾

হা-মীম। আল-বায়ান

হা-মীম। তাইসিরুল

হা- মীম। মুজিবুর রহমান

Ha, Meem. Sahih International

১. হা-মীম।(১)

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক জেহাদের রাত্রিকালীন হেফাযতের জন্যে বলেছিলেন, রাত্রিতে তোমরা আক্রান্ত হলে حم لا يُنْصَرَوْنَ পড়ে নিও। অৰ্থাৎ হা-মীম শব্দ দ্বারা দোআ করতে হবে যে, শত্রুরা সফল না হোক। কোন কোন রেওয়ায়েতে حم لا يُنْصَرُ (নুন ব্যতিরেকে) বর্ণিত আছে। এর অর্থ এই যে, তোমরা হা-মীম-বললে শত্রুরা সফল হবে না। এ থেকে জানা গেল যে, হা-মীম শক্ৰ থেকে হেফাযতের দুর্গ। [তিরমিযী ১৬৮২, আবু দাউদ ২৫৭৯]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) হা, মীম।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:২ تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ۙ﴿۲﴾

মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে এই কিতাব নাযিলকৃত। আল-বায়ান

এ কিতাব নাযিল হয়েছে মহা প্রতাপের অধিকারী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে। তাইসিরুল

এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে – মুজিবুর রহমান

The revelation of the Book is from Allah, the Exalted in Might, the Knowing. Sahih International

২. এ কিতাব নাযিল হয়েছে আল্লাহর কাছ থেকে যিনি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) এ গ্রন্থ পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ[1] আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ হয়েছে--[2]

[1] তিনি পরাক্রমশালীঃ তাঁর শক্তি ও প্রতাপের সামনে কেউ লেজ হিলাতে পারে না। তিনি সর্বজ্ঞঃ তাঁর নিকটে অণুপরিমাণ কোন বস্তুও গুপ্ত নয়; যদিও তা অতি মোটা কোন পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।

[2] تَنْزِيْلٌ হল مُنَزِّلٌ এর অর্থে। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে, যাতে মিথ্যার কোন অবকাশ নেই।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:৩ غَافِرِ الذَّنۡۢبِ وَ قَابِلِ التَّوۡبِ شَدِیۡدِ الۡعِقَابِ ۙ ذِی الطَّوۡلِ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ اِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ ﴿۳﴾

তিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবূলকারী, কঠোর আযাবদাতা, অনুগ্রহ বর্ষণকারী। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন। আল-বায়ান

যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবাহ কবূলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা, বড়ই অনুগ্রহশীল, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই, প্রত্যাবর্তন তাঁরই কাছে। তাইসিরুল

যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং তাওবাহ কবূল করেন, যিনি শাস্তি দানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত কোন মা‘বূদ নেই। প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট। মুজিবুর রহমান

The forgiver of sin, acceptor of repentance, severe in punishment, owner of abundance. There is no deity except Him; to Him is the destination. Sahih International

৩. পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তি প্রদানকারী, অনুগ্রহ বৰ্ষনকারী। তিনি ব্যতীত কোন সত্য ইলাহ নেই। ফিরে যাওয়া তারই কাছে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী,[1] কঠোর শাস্তিদাতা,[2] অনুগ্রাহী।[3] তিনি ব্যতীত (সত্যিকার) কোন উপাস্য নেই। প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট।

[1] বিগত পাপসমূহ ক্ষমাকারী এবং ভবিষ্যতে হতে পারে এমন ভুল-ত্রুটির জন্য তওবা কবুলকারী। অথবা তাঁর বন্ধুদের জন্য ক্ষমাকারী এবং মুশরিক ও কাফেররা যদি তওবা করে, তবে তাদের জন্য তা কবুলকারী।

[2] কঠোর শাস্তিদাতা তাদের জন্য, যারা আখেরাতের উপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং আল্লাহর সাথে বিদ্রোহ ও সীমালঙ্ঘনের পথ অবলম্বন করেছে। এটা আল্লাহর এই কথার মতই, ﴿نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ، وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ﴾ ‘‘তুমি আমার বান্দাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু, এবং এটাও যে, আমার শাস্তি কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’’ (সূরা হিজর ৪৯-৫০) কুরআন কারীমে বেশীরভাগ স্থানে এই উভয় গুণ পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে মানুষ ভয় ও আশার মধ্যে থাকে। কেননা, শুধু ভয় মানুষকে আল্লাহর রহমত ও তাঁর ক্ষমা লাভ হতে নিরাশ করে দিতে পারে। আর কেবল আশা মানুষকে পাপকাজে উৎসাহিত করতে পারে।

[3] طَوْلٌ এর অর্থ, সচ্ছলতা, ধনবত্তা। অর্থাৎ, তিনিই সচ্ছলতা ও ধনবত্তা দানকারী। কেউ কেউ বলেছেন, এর অর্থ, পুরস্কার ও অনুগ্রহ। অর্থাৎ, তিনি স্বীয় বান্দাদেরকে পুরস্কৃত ও তাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:৪ مَا یُجَادِلُ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ اِلَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَلَا یَغۡرُرۡکَ تَقَلُّبُہُمۡ فِی الۡبِلَادِ ﴿۴﴾

কাফিররাই কেবল আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়। সুতরাং দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। আল-বায়ান

কাফিররা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঝগড়া করে না। কাজেই দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে। তাইসিরুল

শুধু কাফিরেরাই আল্লাহর নিদর্শন সম্বন্ধে বিতর্ক করে; সুতরাং দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে। মুজিবুর রহমান

No one disputes concerning the signs of Allah except those who disbelieve, so be not deceived by their [uninhibited] movement throughout the land. Sahih International

৪. আল্লাহর আয়াতসমূহে বিতর্ক কেবল তারাই করে যারা কুফরী করেছে; কাজেই দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন আপনাকে ধোকায় না ফেলে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) কেবল অবিশ্বাসীরাই আল্লাহর নিদর্শনসমূহ সম্বন্ধে বিতর্ক করে,[1] সুতরাং দেশে-দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে বিভ্রান্ত না করে।[2]

[1] এই বিতর্ক থেকে অবৈধ ও বাতিল বিতর্ক বুঝানো হয়েছে। যে বিতর্কের উদ্দেশ্য হয় সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করা এবং তা খন্ডন ও ভুল প্রমাণিত করতে চেষ্টা করা। নচেৎ, যে তর্ক-বিতর্কের উদ্দেশ্য হয় সত্য স্পষ্ট করা, বাতিল খন্ডন করা এবং অস্বীকারকারী ও অভিযোগ উপস্থাপনকারীদের সংশয়-সন্দেহ নিরসন করা, সে বিতর্ক নিন্দিত নয়, বরং তা প্রশংসনীয় ও বাঞ্ছনীয় কর্ম। এমন কি উলামাগণকে এর প্রতি তাকীদ করা হয়েছে। ﴿لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلا تَكْتُمُونَهُ﴾ ‘‘তোমরা তা মানুষের নিকট অবশ্যই বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।’’ (সূরা আলে ইমরান ১৮৭ আয়াত) আল্লাহর নাযিল করা কিতাবের দলীলসমূহ ও প্রমাণাদিকে গোপন করা এত বড় অপরাধ যে, তার উপর বিশ্বজাহানের প্রতিটি জিনিস অভিসম্পাত করে। (সূরা বাক্বারাহ ১৫৯ আয়াত) তাদের সাথে সদ্ভাবে বিতর্ক কর। (সূরা নাহল ১২৫ আয়াত)

[2] অর্থাৎ, এই কাফের ও মুশরিকরা যে ব্যবসা-বাণিজ্য করে, তার জন্য যে তারা বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করে প্রচুর লাভ অর্জন করে, কিন্তু এরা নিজেদের কুফরীর কারণে অতি সত্বর আল্লাহর কাছে ধরা খাবে। এদেরকে অবকাশ অবশ্য দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এইভাবে বৃথা ছেড়ে দেওয়া হবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:৫ کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ۪ وَ ہَمَّتۡ کُلُّ اُمَّۃٍۭ بِرَسُوۡلِہِمۡ لِیَاۡخُذُوۡہُ وَ جٰدَلُوۡا بِالۡبَاطِلِ لِیُدۡحِضُوۡا بِہِ الۡحَقَّ فَاَخَذۡتُہُمۡ ۟ فَکَیۡفَ کَانَ عِقَابِ ﴿۵﴾

এদের পূর্বে নূহের কওম এবং তাদের পরে অনেক দলও অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক উম্মতই স্ব স্ব রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং সত্যকে বিদূরীত করার উদ্দেশ্যে তারা অসার বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কেমন ছিল আমার আযাব! আল-বায়ান

এদের পূর্বে নূহের জাতি আর তাদের পরে বহু দল-গোষ্ঠী (রসূলদেরকে) অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক জাতি তাদের রসূলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল তাকে পাকড়াও করার জন্য, আর অসার অস্ত্রের সাহায্যে বিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছিল তা দিয়ে সত্যকে খন্ডন করার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছিলাম। অতঃপর দেখ, কেমন কঠোর ছিল আমার শাস্তি। তাইসিরুল

তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও মিথ্যা আরোপ করেছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রাসূলকে আবদ্ধ করার জন্য অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম এবং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি! মুজিবুর রহমান

The people of Noah denied before them and the [disbelieving] factions after them, and every nation intended [a plot] for their messenger to seize him, and they disputed by [using] falsehood to [attempt to] invalidate thereby the truth. So I seized them, and how [terrible] was My penalty. Sahih International

৫. তাদের আগে নৃহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অনেক দলও মিথ্যারোপ করেছিল। প্রত্যেক উম্মত নিজ নিজ রাসূলকে পাকড়াও করার সংকল্প করেছিল এবং তারা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে। দেয়ার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) এদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও নবীগণকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রসূলকে নিরস্ত করার অভিসন্ধি করেছিল[1] এবং ওরা সত্যকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য অসার যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয়েছিল,[2] ফলে আমি ওদেরকে পাকড়াও করলাম। সুতরাং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি! [3]

[1] যাতে তাঁকে বন্দী অথবা হত্যা করে কিংবা শাস্তি দেয়।

[2] অর্থাৎ, তাদের রসূলদের সাথে তারা ঝগড়া করেছিল। যাতে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, সত্য কথার দোষ বের করা এবং তাকে দুর্বল করে দেওয়া।

[3] সুতরাং আমি বাতিলের ঐ সমর্থকদেরকে আমার আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। অতএব তোমরা দেখে নাও, তাদের উপর আমার আযাব কিভাবে এসেছিল এবং কিভাবে তাদেরকে ভুল অক্ষর মুছার মত নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হল বা উপদেশের প্রতীক বানিয়ে দেওয়া হল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:৬ وَ کَذٰلِکَ حَقَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ عَلَی الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّہُمۡ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۘ﴿ؔ۶﴾

আর এভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে তোমার রবের বাণী সত্যে পরিণত হল যে, নিশ্চয় এরা জাহান্নামী। আল-বায়ান

এভাবে কাফিরদের ব্যাপারে তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য প্রমাণিত হল যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী। তাইসিরুল

এভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে সত্য হল তোমার রবের বাণী - এরা জাহান্নামী। মুজিবুর রহমান

And thus has the word of your Lord come into effect upon those who disbelieved that they are companions of the Fire. Sahih International

৬. আর যারা কুফরী করেছে, এভাবেই তাদের উপর সত্য হল আপনার রবের বাণী যে, এরা জাহান্নামী।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) এভাবে অবিশ্বাসীদের ক্ষেত্রে তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্য হল; নিশ্চয় এরা জাহান্নামী।[1]

[1] এ থেকে উদ্দেশ্য হল এ কথা জানিয়ে দেওয়া যে, যেভাবে বিগত জাতির প্রতি তোমার প্রতিপালকের আযাব সুসাব্যস্ত হয়েছে এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, মক্কার এই কাফেররাও যদি তোমাকে মিথ্যাজ্ঞান করা ও তোমার বিরোধিতা করা থেকে ফিরে না আসে এবং মিথ্যা তর্ক ত্যাগ না করে, তবে এরাও তাদের মত আল্লাহর আযাব দ্বারা পাকড়াও হবে এবং এদের রক্ষাকারী কেউ থাকবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:৭ اَلَّذِیۡنَ یَحۡمِلُوۡنَ الۡعَرۡشَ وَ مَنۡ حَوۡلَہٗ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَ یَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۚ رَبَّنَا وَسِعۡتَ کُلَّ شَیۡءٍ رَّحۡمَۃً وَّ عِلۡمًا فَاغۡفِرۡ لِلَّذِیۡنَ تَابُوۡا وَ اتَّبَعُوۡا سَبِیۡلَکَ وَ قِہِمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ ﴿۷﴾

যারা আরশকে ধারণ করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করে এবং তাঁর প্রতি ঈমান রাখে। আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলে যে, ‘হে আমাদের রব, আপনি রহমত ও জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রয়েছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন’। আল-বায়ান

যারা ‘আরশ বহন করে আছে, আর যারা আছে তার চারপাশে, তারা তাঁর প্রশংসার সাথে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করে আর তাঁর প্রতি ঈমান পোষণ করে আর মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ক’রে বলে- হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তোমার রহমত ও জ্ঞান দিয়ে সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছ, কাজেই যারা তাওবাহ করে ও তোমার পথ অনুসরণ করে তাদেরকে ক্ষমা কর, আর জাহান্নামের ‘আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা কর। তাইসিরুল

যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চতুস্পার্শ্ব ঘিরে আছে তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী, অতএব যারা তাওবাহ করে ও আপনার পথ অবলম্বন করে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। মুজিবুর রহমান

Those [angels] who carry the Throne and those around it exalt [Allah] with praise of their Lord and believe in Him and ask forgiveness for those who have believed, [saying], "Our Lord, You have encompassed all things in mercy and knowledge, so forgive those who have repented and followed Your way and protect them from the punishment of Hellfire. Sahih International

৭. যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারপাশে আছে, তারা তাদের রাবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্ৰশংসার সাথে এবং তার উপর ঈমান রাখে, আর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের রব! আপনি দয়া ও জ্ঞান দ্বারা সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছেন। অতএব যারা তাওবা করে এবং আপনার পথ অবলম্বন করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন। আর জাহান্নামের শাস্তি হতে আপনি তাদের রক্ষা করুন।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চারিপাশ ঘিরে আছে তারা তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা প্রশংসার সাথে ঘোষণা করে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং বিশ্বাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী; অতএব যারা তওবা করে ও তোমার পথ অবলম্বন করে, তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা কর। [1]

[1] এখানে নিকটতম ফিরিশতাদের একটি বিশেষ দল এবং তাঁদের কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই দলটি সেই ফিরিশতাদের, যাঁরা আল্লাহর আরশ তুলে ধরে আছেন এবং তাঁদের, যাঁরা তার চারিপাশে আছেন। এদের একটি কাজ হল, এঁরা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর প্রশংসা করেন। অর্থাৎ, তাঁকে সর্বপ্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত ঘোষণা করেন, তাঁর পরিপূর্ণতা ও গুণাবলীকে তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেন এবং তাঁর সামনে অসহায়তা ও বিনয় (অর্থাৎ ঈমান) প্রকাশ করেন। এঁদের দ্বিতীয় কাজ হল, এঁরা ঈমানদারদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বলা হয় যে, আরশ বহনকারী ফিরিশতার সংখ্যা হল চার। কিন্তু কিয়ামতের দিন তাঁদের সংখ্যা হবে আট। (ইবনে কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:৮ رَبَّنَا وَ اَدۡخِلۡہُمۡ جَنّٰتِ عَدۡنِۣ الَّتِیۡ وَعَدۡتَّہُمۡ وَ مَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَ اَزۡوَاجِہِمۡ وَ ذُرِّیّٰتِہِمۡ ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ۙ﴿۸﴾

‘হে আমাদের রব, আর আপনি তাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন। আর তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নি ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করেছে তাদেরকেও। নিশ্চয় আপনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।’ আল-বায়ান

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদেরকে আর তাদের পিতৃপুরুষ, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানাদির মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকেও চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান যার ওয়া‘দা তুমি তাদেরকে দিয়েছ; তুমি মহা পরাক্রমশালী, মহা বিজ্ঞ। তাইসিরুল

হে আমাদের রাব্ব! আপনি তাদেরকে দাখিল করুন স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের মাতা-পিতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে যারা সৎ কাজ করেছে তাদেরকেও। আপনিতো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। মুজিবুর রহমান

Our Lord, and admit them to gardens of perpetual residence which You have promised them and whoever was righteous among their fathers, their spouses and their offspring. Indeed, it is You who is the Exalted in Might, the Wise. Sahih International

৮. হে আমাদের রবা! আর আপনি তাদেরকে প্রবেশ করান স্থায়ী জান্নাতে যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তাদেরকেও ৷ নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্ৰজ্ঞাময়।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তাদেরকে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ দান কর; যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদেরকে দিয়েছ (এবং তাদের) পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান সন্ততিদের মধ্যে (যারা) সৎকাজ করেছে তাদেরকেও (জান্নাত প্রবেশের অধিকার দাও)।[1] নিশ্চয়ই তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

[1] অর্থাৎ, এদের সকলকে জান্নাতের একই জায়গায় স্থান দাও; যাতে একে অপরকে দেখে তাদের চক্ষু শীতল হয়। এই বিষয়কে অন্যত্র আল্লাহ পাক এইভাবে বর্ণনা করেছেন, وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُمْ بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُمْ مِنْ عَمَلِهِمْ مِنْ شَيْءٍ ‘‘যারা ঈমান আনে আর তাদের সন্তুান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্র হ্রাস করব না।’’ (সূরা ত্বূরঃ ২১) অর্থাৎ, সকলকে জান্নাতে এমনভাবে একত্রিত করে দেবেন যে, নিম্নমানের জান্নাতীকেও উচ্চ মান দান করবেন। এ রকম করবেন না যে, উচ্চ মান কম করে নিম্নমানে নিয়ে আসবেন। বরং নিম্নমানের জান্নাতীকে উচ্চ মান দান করবেন এবং তার আমলের ঘাটতিকেও স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়া দ্বারা পূরণ করে দেবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:৯ وَ قِہِمُ السَّیِّاٰتِ ؕ وَ مَنۡ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوۡمَئِذٍ فَقَدۡ رَحِمۡتَہٗ ؕ وَ ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ﴿۹﴾

‘আর আপনি তাদের অপরাধের আযাব হতে রক্ষা করুন এবং সেদিন আপনি যাকে অপরাধের আযাব থেকে রক্ষা করবেন, অবশ্যই তাকে অনুগ্রহ করবেন। আর এটিই মহাসাফল্য।’ আল-বায়ান

সমস্ত খারাবী থেকে তাদেরকে রক্ষা কর। সেদিন তুমি যাকে সমস্ত খারাবী থেকে রক্ষা করলে, তার উপর তো দয়াই করলে। ওটাই হল বিরাট সাফল্য। তাইসিরুল

এবং আপনি তাদেরকে পাপ হতে রক্ষা করুন, সেই দিন আপনি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবেন তাকেতো অনুগ্রহই করবেন, এটাইতো মহাসাফল্য। মুজিবুর রহমান

And protect them from the evil consequences [of their deeds]. And he whom You protect from evil consequences that Day - You will have given him mercy. And that is the great attainment." Sahih International

৯. আর আপনি তাদেরকে অপরাধের শাস্তি হতে রক্ষা করুন। সেদিন আপনি যাকে (অপরাধের) খারাপ পরিণতি হতে রক্ষা করবেন, তাকে অবশ্যই অনুগ্রহ করবেন; আর এটাই মহাসাফল্য!

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) এবং তুমি তাদেরকে শাস্তি হতে রক্ষা কর।[1] সেদিন তুমি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে তাকে তো দয়াই করবে। আর এটিই তো মহাসাফল্য।’ [2]

[1] سَيِّئات (পাপরাশি) বলতে এখানে তার শাস্তি বুঝানো হয়েছে। অথবা جَزَاء শব্দ ঊহ্য আছে। অর্থাৎ, তাদেরকে পাপরাশির (শাস্তি) থেকে, অর্থাৎ আখেরাতের শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে নাও।

[2] অর্থাৎ, আখেরাতের আযাব থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যাওয়া এবং জান্নাতে প্রবেশ লাভ করাই হল সবচেয়ে বড় সফলতা। কারণ, এর মত আর কোন সফলতা নেই এবং এর তুলনায় আর কোন মুক্তি নেই। এই আয়াতগুলোতে ঈমানদারদের জন্য রয়েছে দু’টি মহা সুসংবাদ। একটি হল, ফিরিশতাগণ তাদের জন্য তাদের অদৃশ্যে দু’আ করেন (যার বড় ফযীলতের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।)। দ্বিতীয়টি হল, ঈমানদারদের পরিবারের লোকেরা জান্নাতে এক সাথে বাস করবে। جَعَلَنَا اللهُ مِنَ الَّذِيْنَ يُلْحِقُهُمُ اللهُ بِآبَائِهِمُ الصَّالِحِيْنَ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৪০:১০ اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُنَادَوۡنَ لَمَقۡتُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ مِنۡ مَّقۡتِکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ اِذۡ تُدۡعَوۡنَ اِلَی الۡاِیۡمَانِ فَتَکۡفُرُوۡنَ ﴿۱۰﴾

নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হবে; ‘তোমাদের নিজদের প্রতি তোমাদের (আজকের) এ অসন্তোষ অপেক্ষা অবশ্যই আল্লাহর অসন্তোষ অধিকতর ছিল, যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহবান করা হয়েছিল তারপর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে’। আল-বায়ান

যারা কুফুরী করেছিল তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে- তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভের চেয়ে (তোমাদের প্রতি) আল্লাহর ক্ষোভ অধিক, (কেননা) তোমাদেরকে যখন ঈমানের দিকে আহবান করা হয়েছিল, তখন তোমরা অস্বীকার করেছিলে। তাইসিরুল

কাফিরদেরকে উচ্চ কন্ঠে বলা হবেঃ তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর অপ্রসন্নতা ছিল অধিক, যখন তোমাদের ঈমানের প্রতি আহবান করা হয়েছিল, আর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে। মুজিবুর রহমান

Indeed, those who disbelieve will be addressed, "The hatred of Allah for you was [even] greater than your hatred of yourselves [this Day in Hell] when you were invited to faith, but you refused." Sahih International

১০. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে তাদেরকে উচ্চ কণ্ঠে বলা হবে, তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের অসন্তোষের চেয়ে আল্লাহ্‌র অসন্তোষ ছিল অধিকতর— যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি ডাকা হয়েছিল কিন্তু তোমরা তার সাথে কুফরী করেছিলে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) অবিশ্বাসীদেরকে উচ্চকণ্ঠে বলা হবে, ‘তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর ক্ষোভ ছিল অধিক; যখন তোমাদেরকে বিশ্বাস স্থাপন করতে বলা হয়েছিল এবং তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে।’ [1]

[1] مَقْتٌ চরম অসন্তুষ্টিকে বলা হয়। কাফেররা যখন নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হতে দেখবে, তখন তারা নিজেদের উপর চরম অসন্তুষ্ট ও ক্ষোভিত হবে। তখন তাদেরকে বলা হবে যে, দুনিয়াতে যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি দাওয়াত দেওয়া হত এবং তোমরা তা অস্বীকার করতে, তখন মহান আল্লাহ এর থেকেও অনেক বেশী তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হতেন, যেমন আজ তোমরা নিজেদের উপর হচ্ছ। আর তোমাদের আজ জাহান্নামে যাওয়াও আল্লাহর সেই অসন্তুষ্টির ফল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১০ পর্যন্ত, সর্বমোট ৮৫ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 3 4 5 6 · · · 8 9 পরের পাতা »