সূরাঃ ২৬/ আশ-শুআ'রা | Ash-Shu'ara | ٱلشُّعَرَاء আয়াতঃ ২২৭ মাক্কী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
২৬ : ১ طٰسٓمّٓ ﴿۱﴾

ত্ব-সীন-মীম। আল-বায়ান

ত্ব-সীন-মীম। তাইসিরুল

তা’ সীন মীম। মুজিবুর রহমান

Ta, Seen, Meem. Sahih International

১. ত্বা-সীন-মীম।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) ত্ব-সীম-মীম।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ২ تِلۡكَ اٰیٰتُ الۡكِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ ﴿۲﴾

এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। আল-বায়ান

এগুলো সুস্পষ্ট (বা সুস্পষ্টকারী) কিতাবের আয়াত। তাইসিরুল

এগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। মুজিবুর রহমান

These are the verses of the clear Book. Sahih International

২. এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) এগুলি সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ৩ لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفۡسَكَ اَلَّا یَكُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۳﴾

তারা মুমিন হবে না বলে হয়ত তুমি আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে। আল-বায়ান

তুমি হয়ত এ দুঃখে তোমার প্রাণনাশ করবে যে, তারা মু’মিন হচ্ছে না। তাইসিরুল

তারা মু’মিন হচ্ছেনা বলে তুমি হয়ত মনকষ্টে আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে। মুজিবুর রহমান

Perhaps, [O Muhammad], you would kill yourself with grief that they will not be believers. Sahih International

৩. তারা মুমিন হচ্ছে না বলে আপনি হয়ত মনোকষ্টে আত্মঘাতী হয়ে পড়বেন।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) ওরা বিশ্বাস করে না বলে তুমি হয়তো মনঃকষ্টে আত্মঘাতী হয়ে পড়বে। [1]

[1] নবী (সাঃ)-এর অন্তরে মানুষের প্রতি যে মমতা এবং তাদের হিদায়াতের জন্য তাঁর অন্তরে যে ব্যাকুলতা অনুভব করতেন তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এখানে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ৪ اِنۡ نَّشَاۡ نُنَزِّلۡ عَلَیۡهِمۡ مِّنَ السَّمَآءِ اٰیَۃً فَظَلَّتۡ اَعۡنَاقُهُمۡ لَهَا خٰضِعِیۡنَ ﴿۴﴾

আমি ইচ্ছা করলে আসমান থেকে তাদের উপর এমন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম ফলে তার প্রতি তাদের ঘাড়গুলো নত হয়ে যেত। আল-বায়ান

আমি ইচ্ছে করলে তাদের কাছে আসমান থেকে এমন নিদর্শন পাঠাতাম যে তার সামনে তাদের মাথা নত হয়ে যেত (অর্থাৎ তারা ঈমান আনতে বাধ্য হত)। তাইসিরুল

আমি ইচ্ছা করলে আকাশ হতে তাদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করতাম, ফলে তাদের গ্রীবা বিনত হয়ে পড়ত ওর প্রতি। মুজিবুর রহমান

If We willed, We could send down to them from the sky a sign for which their necks would remain humbled. Sahih International

৪. আমরা ইচ্ছে করলে আসমান থেকে তাদের কাছে এক নিদর্শন নাযিল করতাম, ফলে সেটার প্রতি তাদের ঘাড় অবনত হয়ে পড়ত।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) আমি ইচ্ছা করলে আকাশ হতে ওদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করতে পারি, ফলে তার প্রতি তাদের ঘাড় নত হয়ে পড়বে।[1]

[1] অর্থাৎ, যাকে মান্য না করে ও যার উপর ঈমান না এনে কোন উপায় থাকবে না। কিন্তু এরূপ করলে বাধ্য করার প্রশ্ন উঠত। যেহেতু আমি মানুষকে ইচ্ছা ও এখতিয়ারের স্বাধীনতা দান করেছি; যাতে তাদের পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। সেই কারণে আমি এ ধরনের নিদর্শন অবতীর্ণ করা হতেও বিরত থেকেছি; যাতে আমার নিয়ম প্রভাবিত না হয়। আর শুধুমাত্র নবী-রসূল প্রেরণ ও কিতাসমূহ অবতীর্ণ করাই যথেষ্ট হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ৫ وَ مَا یَاۡتِیۡهِمۡ مِّنۡ ذِكۡرٍ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ مُحۡدَثٍ اِلَّا كَانُوۡا عَنۡهُ مُعۡرِضِیۡنَ ﴿۵﴾

আর যখনই তাদের কাছে পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে কোন নতুন উপদেশ আসে তখনই তারা তা থেকে বিমুখ হয়। আল-বায়ান

তাদের কাছে যখনই দয়াময় আল্লাহর পক্ষ হতে নতুন কোন নসীহত আসে তখনই তারা তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাইসিরুল

যখনই তাদের কাছে দয়াময়ের নিকট হতে কোন নতুন উপদেশ আসে তখনই তারা তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। মুজিবুর রহমান

And no revelation comes to them anew from the Most Merciful except that they turn away from it. Sahih International

৫. আর যখনই তাদের কাছে দয়াময়ের কাছ থেকে কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) যখনই ওদের নিকট পরম দয়াময়ের কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই ওরা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ৬ فَقَدۡ كَذَّبُوۡا فَسَیَاۡتِیۡهِمۡ اَنۡۢبٰٓؤُا مَا كَانُوۡا بِهٖ یَسۡتَهۡزِءُوۡنَ ﴿۶﴾

অতএব অবশ্যই তারা অস্বীকার করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার সংবাদ অচিরেই তাদের কাছে এসে পড়বে। আল-বায়ান

তারা (আল্লাহর বাণীকে) অস্বীকারই করেছে, শীঘ্রই তাদের কাছে তার সত্য উদঘাটিত হবে যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তাইসিরুল

তারাতো মিথ্যা জেনেছে, সুতরাং তারা যা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করত তার প্রকৃত বার্তা তাদের নিকট শীঘ্রই এসে পড়বে। মুজিবুর রহমান

For they have already denied, but there will come to them the news of that which they used to ridicule. Sahih International

৬. অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তার প্রকৃত বার্তা তাদের কাছে শীঘ্রই এসে পড়বে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) ওরা অবশ্যই মিথ্যাজ্ঞান করেছে। সুতরাং ওরা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার বার্তা শীঘ্রই এসে পড়বে। [1]

[1] অর্থাৎ, মিথ্যাজ্ঞান করার পরিণামস্বরূপ আমার শাস্তি অবশ্যই তাদেরকে পাকড়াও করবে, যাকে তারা অসম্ভব মনে করে ঠাট্টা ও উপহাস করছে। এ শাস্তি পৃথিবীতেও সম্ভব, যেমন বহু জাতি ধ্বংস হয়েছে। অন্যথা আখেরাতে তা থেকে বাঁচার কোন রাস্তা নেই। ঠাট্টা-বিদ্রূপের বার্তা আসার কথা বলা হয়েছে, মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। কারণ প্রথমতঃ ঠাট্টা-বিদ্রূপে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ও মিথ্যা ভাবা দুই শামিল। আর দ্বিতীয়তঃ ঠাট্টা-বিদ্রূপ মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ও মিথ্যাজ্ঞান করার চাইতে বড় অপরাধ। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ৭ اَوَ لَمۡ یَرَوۡا اِلَی الۡاَرۡضِ كَمۡ اَنۡۢبَتۡنَا فِیۡهَا مِنۡ كُلِّ زَوۡجٍ كَرِیۡمٍ ﴿۷﴾

তারা কি যমীনের প্রতি লক্ষ করেনি? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের বহু উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি। আল-বায়ান

তারা কি যমীনের দিকে চেয়ে দেখে না, আমি তাতে সব ধরনের উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ পয়দা করেছি। তাইসিরুল

তারা কি পৃথিবীর দিকে দৃষ্টিপাত করেনা? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের কত উৎকৃষ্ট জিনিস উদগত করেছি। মুজিবুর রহমান

Did they not look at the earth - how much We have produced therein from every noble kind? Sahih International

৭. তারা কি যমীনের দিকে লক্ষ্য করে না? আমরা তাতে প্ৰত্যেক প্রকারের অনেক উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি!(১)

(১) زَوْجٍ এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে যুগল। এ কারণেই পুরুষ ও স্ত্রী, নর ও নারীকে زَوْجٍ বলা হয়। অনেক বৃক্ষের মধ্যেও নর ও নারী থাকে, সেগুলোকে এদিক দিয়ে زَوْجٍ বলা যায়। কোন সময় এ শব্দটি বিশেষ প্রকার ও শ্রেণীর অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এ হিসাবে বৃক্ষের প্রত্যেক প্রকারকে زَوْجٍ যায়। كريم শব্দের অর্থ উৎকৃষ্ট ও পছন্দনীয় বস্তু। [দেখুন: আদওয়াউল বায়ান, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) ওরা কি পৃথিবীর প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি ওতে সর্বপ্রকার উৎকৃষ্ট কত উদ্ভিদ উদ্গত করেছি! [1]

[1] زَوج এর দ্বিতীয় অর্থ এখানে প্রকার বা শ্রেণী করা হয়েছে। অর্থাৎ, নানান প্রকার জিনিস উৎপন্ন করেছি যা উৎকৃষ্ট; অর্থাৎ মানুষের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী। যেমন শস্য, ফলমূল ও জীবজন্তু ইত্যাদি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ৮ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً ؕوَ مَا كَانَ اَكۡثَرُ هُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ﴿۸﴾

নিশ্চয় এতে আছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়। আল-বায়ান

অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে (আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা ক’রে ঈমান আনার জন্য), কিন্তু তাদের অধিকাংশই ঈমান আনে না। তাইসিরুল

নিশ্চয়ই তাতে আছে নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মু’মিন নয়। মুজিবুর রহমান

Indeed in that is a sign, but most of them were not to be believers. Sahih International

৮. নিশ্চয় এতে আছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) নিশ্চয় ওতে আছে নিদর্শন, [1] কিন্তু ওদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়। [2]

[1] অর্থাৎ, যখন মহান আল্লাহ মৃত মাটি হতে এ সমস্ত জিনিস উৎপন্ন করতে পারেন, তখন তিনি কি মানুষকে পুনর্বার সৃষ্টি করতে পারবেন না?

[2] অর্থাৎ, তাঁর এ মহাশক্তি দেখার পরও বেশীর ভাগ লোক আল্লাহ তথা রসূলকে মিথ্যাজ্ঞান করে ঈমান আনে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ৯ وَ اِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الۡعَزِیۡزُ الرَّحِیۡمُ ﴿۹﴾

আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। আল-বায়ান

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক মহা পরাক্রমশালী, অতি দয়ালু। তাইসিরুল

তোমার রাব্ব, তিনিতো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। মুজিবুর রহমান

And indeed, your Lord - He is the Exalted in Might, the Merciful. Sahih International

৯. আর নিশ্চয় আপনার রব, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) এবং নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। [1]

[1] অর্থাৎ, প্রত্যেক বস্তুর উপর তাঁর প্রভুতত্ত্ব ও কর্তৃতত্ত্ব রয়েছে তথা প্রতিশোধ নেওয়ার ব্যাপারে তিনি সর্বতোভাবে সক্ষম; কিন্তু যেহেতু তিনি দয়াবান, সেহেতু তিনি হঠাৎ ধরে বসেন না। বরং পূর্ণ অবকাশ দেন ও তারপর পাকড়াও করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১০ وَ اِذۡ نَادٰی رَبُّكَ مُوۡسٰۤی اَنِ ائۡتِ الۡقَوۡمَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿ۙ۱۰﴾

আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও’। আল-বায়ান

স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও, তাইসিরুল

স্মরণ কর, যখন তোমার রাব্ব মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি যালিম সম্প্রদায়ের নিকট চলে যাও – মুজিবুর রহমান

And [mention] when your Lord called Moses, [saying], "Go to the wrongdoing people - Sahih International

১০. আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব মূসাকে ডেকে বললেন, আপনি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যান,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়ের নিকট যাও; [1]

[1] এটা প্রভুর ঐ সময়কার আহবান যখন মূসা (আঃ) মাদয়্যান হতে নিজ পরিবারসহ ফিরছিলেন। রাস্তায় তাপ গ্রহণের জন্য আগুনের প্রয়োজন বোধ হলে আগুনের খোঁজে তূর পাহাড়ে গিয়ে পৌঁছান। সেখানে এক অদৃশ্য আহবান তাঁকে অভ্যর্থনা জানায় এবং নবুঅত দানে ধন্য করা হয়। আর অত্যাচারীদের প্রতি আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১১ قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَ ؕ اَلَا یَتَّقُوۡنَ ﴿۱۱﴾

‘ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করবে না’? আল-বায়ান

ফেরাউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করে না? তাইসিরুল

ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করেনা? মুজিবুর রহমান

The people of Pharaoh. Will they not fear Allah?" Sahih International

১১. ফিরআউনের সম্প্রদায়ের কাছে; তারা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) ফিরআউনের সম্প্রদায়ের নিকট। ওরা কি ভয় করে না?’

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১২ قَالَ رَبِّ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یُّكَذِّبُوۡنِ ﴿ؕ۱۲﴾

মূসা বলল, ‘হে আমার রব, আমি অবশ্যই আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে অস্বীকার করবে’। আল-বায়ান

সে বলেছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে মিথ্যে মনে ক’রে প্রত্যাখ্যান করবে। তাইসিরুল

তখন সে বলেছিলঃ হে আমার রাব্ব! আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে অস্বীকার করবে। মুজিবুর রহমান

He said, "My Lord, indeed I fear that they will deny me Sahih International

১২. মূসা বলেছিলেন, হে আমার রব! আমি আশংকা করি যে, তারা আমার উপর মিথ্যারোপ করবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) তখন সে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি আশংকা করি যে, ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১৩ وَ یَضِیۡقُ صَدۡرِیۡ وَ لَا یَنۡطَلِقُ لِسَانِیۡ فَاَرۡسِلۡ اِلٰی هٰرُوۡنَ ﴿۱۳﴾

‘আর আমার বক্ষ সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। আমার জিহবা চলছে না। সুতরাং আপনি হারুনের প্রতি ওহী পাঠান’। আল-বায়ান

আর আমার অন্তর সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, আমার জিহ্বা সাবলীলভাবে কথা বলতে পারে না। কাজেই আপনি হারূনের প্রতি রিসালাত দিন। তাইসিরুল

এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হয়ে পড়ছে, আর আমার জিহবাতো সাবলীল নয়, সুতরাং হারুনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠান। মুজিবুর রহমান

And that my breast will tighten and my tongue will not be fluent, so send for Aaron. Sahih International

১৩. এবং আমার বক্ষ সংকুচিত হয়ে পড়ছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নেই। কাজেই হারূনের প্রতিও ওহী পাঠান।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হয়ে পড়ছে,[1] আমার জিহ্বা অচল হয়ে যাচ্ছে।[2] সুতরাং হারূনের প্রতিও (প্রত্যাদেশ) পাঠাও। [3]

[1] এই ভয়ে যে, ওরা বড় উদ্ধত, ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী মনে করবে। এখান হতে বোঝা গেল যে, নবীগণও প্রকৃতিগত ভয়ে ভীত হতে পারেন।

[2] এখানে এই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মূসা (আঃ) বাকপটু ছিলেন না। অথবা এই যে, মুখে আগুনের আঙ্গার ভরে নেওয়ার জন্য তিনি তোতলা হয়ে গিয়েছিলেন; যেমন মুফাসসিরগণ বর্ণনা করে থাকেন।

[3] অর্থাৎ, জিবরীল (আঃ)-কে তার নিকট অহী দিয়ে পাঠান এবং তাকেও অহী ও নবুঅত দিয়ে আমার সহকারী বানান।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১৪ وَ لَهُمۡ عَلَیَّ ذَنۡۢبٌ فَاَخَافُ اَنۡ یَّقۡتُلُوۡنِ ﴿ۚ۱۴﴾

‘আর আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে একটি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে’। আল-বায়ান

তদুপরি আমার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগও তাদের আছে, কাজেই আমার ভয় হচ্ছে তারা আমাকে হত্যা করবে।’ তাইসিরুল

আমার বিরুদ্ধে তাদের এক অভিযোগ রয়েছে, আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। মুজিবুর রহমান

And they have upon me a [claim due to] sin, so I fear that they will kill me." Sahih International

১৪. আর আমার বিরুদ্ধে তো তাদের এক অভিযোগ আছে, সুতরাং আমি আশংকা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) আমার বিরুদ্ধে ওদের এক অভিযোগ আছে, আমি আশংকা করি, ওরা আমাকে হত্যা করবে।’[1]

[1] এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে ঐ হত্যার প্রতি, যা মূসা (আঃ) কর্তৃক অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে গিয়েছিল। যাকে হত্যা করা হয়েছিল সে ছিল কিবতী; ফিরআউনের দলের লোক। সেই কারণে ফিরআউন মূসা (আঃ)-কে তার প্রতিশোধে হত্যা করতে চাচ্ছিল। যার সংবাদ পেয়ে মূসা (আঃ) মিসর ছেড়ে মাদয়্যান চলে যান। যদিও উক্ত ঘটনার পর বেশ কয়েক বছর কেটে গিয়েছিল। তবুও এ আশঙ্কা ছিল যে, ফিরআউন সেই অপরাধে তাঁকে ধরে হত্যার শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে। সেই কারণে এই ভয়ও অযথা ছিল না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১৫ قَالَ كَلَّا ۚ فَاذۡهَبَا بِاٰیٰتِنَاۤ اِنَّا مَعَكُمۡ مُّسۡتَمِعُوۡنَ ﴿۱۵﴾

আল্লাহ বললেন, ‘কখনো নয়। তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনাদিসহ যাও। অবশ্যই আমি আছি তোমাদের সাথে শ্রবণকারী’। আল-বায়ান

আল্লাহ বললেন, ‘কক্ষনো না, তোমরা দু’জনে আমার (দেয়া) নিদর্শন নিয়ে যাও, আমি তোমাদের সঙ্গে থেকে সব কিছু শুনতে থাকব। তাইসিরুল

আল্লাহ বললেনঃ না কখনই নয়, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি শ্রবণকারী। মুজিবুর রহমান

[Allah] said, "No. Go both of you with Our signs; indeed, We are with you, listening. Sahih International

১৫. আল্লাহ বললেন, না, কখনই নয়, অতএব আপনারা উভয়ে আমাদের নিদর্শনসহ যান, আমরাতো আপনাদের সাথেই আছি, শ্রবণকারী।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) আল্লাহ বললেন, ‘না, কিছুতেই পারবে না। অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও;[1] নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সঙ্গে শ্রবণকারী থাকব। [2]

[1] মহান আল্লাহ সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে, তোমরা উভয়ে যাও এবং আমার বাণী পৌঁছে দাও। তোমরা যার আশংকা করছ, তা হতে আমি তোমাদেরকে হিফাযত করব। ‘নিদর্শন’ বলতে ঐসব দলীল-প্রমাণাদি, যার দ্বারা প্রত্যেক নবীকে সমৃদ্ধ করা হয়। বা ঐসব মু’জিযা (অলৌকিক বস্তু) যা মূসা (আঃ)-কে দান করা হয়েছিল; যেমন শুভ্র হাত ও লাঠি ইত্যাদি।

[2] অর্থাৎ, তোমরা যা কিছু বলবে ও সে প্রত্যুত্তরে যা কিছু বলবে, আমি সব শুনব। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি তোমাদেরকে রিসালাতের দায়িতত্ত্ব দেওয়ার পর তোমাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদাসীন হব না। বরং আমার সাহায্য তোমাদের সঙ্গে থাকবে। এখানে ‘সঙ্গ’ বলতে সহায়তা ও সমর্থন বুঝানো হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১৬ فَاۡتِیَا فِرۡعَوۡنَ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلُ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ﴿ۙ۱۶﴾

‘সুতরাং তোমরা উভয়ে ফির‘আউনের কাছে গিয়ে বল, নিশ্চয় আমরা বিশ্বজগতের রবের রাসূল’। আল-বায়ান

কাজেই তোমরা দু’জনে ফেরাউনের কাছে যাও আর গিয়ে বল যে, আমরা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রেরিত রসূল। তাইসিরুল

অতএব তোমরা উভয়ে ফির‘আউনের নিকট যাও এবং বলঃ আমরা জগতসমূহের রবের রাসূল। মুজিবুর রহমান

Go to Pharaoh and say, 'We are the messengers of the Lord of the worlds, Sahih International

১৬. অতএব আপনারা উভয়ে ফিরআউনের কাছে যান এবং বলুন, আমরা তো সৃষ্টিকুলের রব-এর রাসূল,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) অতএব তোমরা ফিরআউনের নিকট যাও এবং বল, আমরা তো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রসূল।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১৭ اَنۡ اَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ﴿ؕ۱۷﴾

‘যাতে তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও’। আল-বায়ান

বানী ইসরাঈলকে আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও।’ তাইসিরুল

আমাদের সাথে যেতে দাও বানী ইসরাঈলকে। মুজিবুর রহমান

[Commanded to say], "Send with us the Children of Israel."'" Sahih International

১৭. যাতে তুমি আমাদেরকে সাথে যেতে দাও বনী ইসরাঈলকে।(১)

(১) বনী ইসরাঈল ছিল শাম দেশের বাসিন্দা। তাদেরকে স্বদেশে যেতে ফিরআউন বাধা দিত। এভাবে চার শত বছর ধরে তারা ফিরআউনের বন্দীশালায় গোলামীর জীবন যাপন করছিল। [দেখুন: বাগভী, কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) সুতরাং আমাদের সঙ্গে বনী-ইস্রাঈলকে যেতে দাও।’ [1]

[1] অর্থাৎ, একটি কথা তুমি এই বল যে, আমি তোমার কাছে নিজের ইচ্ছায় আসিনি; বরং আল্লাহর প্রতিনিধি ও রসূল হিসাবে এসেছি। আর দ্বিতীয় কথা, তুমি (চারশ’ বছর ধরে) বনী-ইস্রাঈলকে দাসত্বের শৃংখলে আবদ্ধ রেখেছ, তাদেরকে মুক্ত ও স্বাধীন করে দাও; আমি তাদেরকে শাম দেশে নিয়ে যাব। যেহেতু এ বিষয়ে আল্লাহ তাদের সঙ্গে ওয়াদা করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১৮ قَالَ اَلَمۡ نُرَبِّكَ فِیۡنَا وَلِیۡدًا وَّ لَبِثۡتَ فِیۡنَا مِنۡ عُمُرِكَ سِنِیۡنَ ﴿ۙ۱۸﴾

ফির‘আউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মাঝে লালন পালন করিনি? আর তুমি তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেছ’। আল-বায়ান

ফেরাউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শিশুকালে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? আর তুমি কি তোমার জীবনের কতকগুলো বছর আমাদের মাঝে কাটাওনি? তাইসিরুল

ফির‘আউন বললঃ আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? এবং তুমিতো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছ। মুজিবুর রহমান

[Pharaoh] said, "Did we not raise you among us as a child, and you remained among us for years of your life? Sahih International

১৮. ফির’আউন বলল, আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? আর তুমি তো তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছ,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) ফিরআউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করিনি[1] এবং তুমি কি তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মধ্যে কাটাও নি?[2]

[1] ফিরআউন মূসার (আঃ)-এর আহবান ও দাবীর কথা চিন্তা-ভাবনা না করে তাকে অপমান ও লজ্জিত করতে শুরু করল; বলল, ‘তুমি কি সেই নও, যে আমার কোলে ও আমার বাড়িতে লালিত-পালিত হয়েছে; যখন আমি বনী-ইস্রাঈলের সন্তানদেরকে হত্যা করছিলাম?’

[2] কেউ কেউ বলেন, মূসা (আঃ) ফিরআউনের রাজ-প্রাসাদে ১৮ বছর, কেউ বলেন ৩০ বছর, আবার কেউ বলেন ৪০ বছর কাটিয়েছেন। অর্থাৎ, এতদিন আমার কাছে কাটানোর পর কয়েক বছর এদিক সেদিকে থেকে এসে নবুঅতের দাবী করতে শুরু করেছ?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ১৯ وَ فَعَلۡتَ فَعۡلَتَكَ الَّتِیۡ فَعَلۡتَ وَ اَنۡتَ مِنَ الۡكٰفِرِیۡنَ ﴿۱۹﴾

‘আর তুমি তোমার কর্ম যা করার তা করেছ এবং তুমি অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত’। আল-বায়ান

তুমি তোমার কর্ম যা করার করেছ (আমাদের একজন লোককে হত্যা ক’রে), তুমি বড় অকৃতজ্ঞ।’ তাইসিরুল

তুমিতো তোমার কাজ যা করার তা করেছ; তুমি অকৃতজ্ঞ। মুজিবুর রহমান

And [then] you did your deed which you did, and you were of the ungrateful." Sahih International

১৯. এবং তুমি তোমার কাজ যা করার তা করেছ; তুমি তো অকৃতজ্ঞ।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) তুমি তো যা অপরাধ করার তা করেছ, আর তুমি হলে অকৃতজ্ঞ।’ [1]

[1] অর্থাৎ, আমার খেয়ে আমার দলের একটি লোককে হত্যা করে আমার অকৃতজ্ঞও হয়েছ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
২৬ : ২০ قَالَ فَعَلۡتُهَاۤ اِذًا وَّ اَنَا مِنَ الضَّآلِّیۡنَ ﴿ؕ۲۰﴾

মূসা বলল, ‘আমি এটি তখন করেছিলাম, যখন আমি ছিলাম বিভ্রান্ত’। আল-বায়ান

মূসা বলল : ‘আমি তো তা করেছিলাম সে সময় যখন আমি ছিলাম (সঠিক পথ সম্পর্কে) অজ্ঞ। তাইসিরুল

মূসা বললঃ আমিতো এটা করেছিলাম তখন যখন আমি অজ্ঞ ছিলাম। মুজিবুর রহমান

[Moses] said, "I did it, then, while I was of those astray. Sahih International

২০. মূসা বললেন, আমি তো এটা করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম বিভ্ৰান্ত।(১)

(১) সারকথা এই যে, এ হত্যাকাণ্ড অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছিল। কাজেই এখানে ضلال শব্দের অর্থ অজ্ঞাত তথা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিবতীর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া। [ফাতহুল কাদীর, কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) মূসা বলল, ‘আমি সে অপরাধ করেছিলাম, যখন আমি বিভ্রান্ত ছিলাম।[1]

[1] অর্থাৎ, এই হত্যা ইচ্ছাকৃত ছিল না। বরং শুধু একটি ঘুসি মারা হয়েছিল, যাতে সে মারা যায়। তাছাড়া এ ঘটনাও ছিল নবুঅতের পূর্বের; যখন আমাকে জ্ঞানের এ আলোক-বর্তিকা দেওয়া হয়নি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন