পরিচ্ছেদঃ ৫. হাদীসের সনদ বর্ণনা করা দীনের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য বর্ণনা ছাড়া রিওয়ায়াত গ্রহণ করা উচিত নয়; বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রটি তুলে ধরা শুধু জায়িয নয়, বরং ওয়াজিব; ওটা গীবাত নয়- যা শরীআতের দৃষ্টিতে হারাম; ক্ষতিকারক জিনিসগুলো দূর করে শারীআতের বিধানসমূহ নিখুঁত ও ত্রুটিমুক্ত করা অতীব প্রয়োজন।

(.../...) বিশর ইবনুল হাকাম (রহঃ) বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল কাত্তানকে বলতে শুনেছি, তিনি হাকীম ইবনু যুবায়র ও ‘আবদুল আ'লাকে (ইবনু আমির সালাবী) য’ঈফ আল কাত্তানকে বলতে শুনেছি, তিনি হাকীম ইবনু যুবায়র ও আবদুল আ'লাকে (ইবনু আমির সালাবী) য’ঈফ (দুর্বল) বলেছেন এবং ইয়াহইয়া ইবনু মূসা ইবনু দীনারকেও যাঈফ (দুর্বল) বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, তার হাদীস হচ্ছে বাতাসের মত তিনি মূসা ইবনু দিহকান ও ঈসা ইবনু আবূ ঈসা মাদানীকেও য'ঈফ বলেছেন।

ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, আমি হাসান ইবনু ঈসা (রহঃ)-এর কাছে শুনেছি তিনি বলেন, আমাকে ইবনু মুবারক বলেছেন, যখন তুমি জারীরের নিকট যাবে তখন তিন ব্যক্তির হাদীস ছাড়া আর সমস্ত হাদীস লিপিবদ্ধ করে নিও। এ তিন ব্যক্তি হচ্ছেঃ উবাইদাহ ইবনু মু'আত্তিব, আস্সারী ইবনু ইসমাঈল ও মুহাম্মাদ ইবনু সালিম।

ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, রাবীদের দোষ-ত্রুটি ও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ‘আলিমদের যে মতামত আমরা বর্ণনা করেছি তার ফিরিস্তি বেশ দীর্ঘ। এ সম্পর্কে কিছু আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে কিতাবের পরিধি লম্বা হয়ে যাবে। তবে আমরা এখানে যা আলোচনা করেছি তা যে কোন বিচক্ষণ ও হাদীস সম্পৰ্কীয় নীতি-পদ্ধতি ব্যক্তির পক্ষে যথেষ্ট। মুহাদ্দিসগণ রাবী এবং ঘটনা বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে দেয়া অপরিহার্য মনে করেছেন। বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে যখনই তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছে, তখনই তারা তা দীনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে করে বৈধ বলে ফাতাওয়া দিয়েছেন। কেননা, দীনের কোন কথা বর্ণনা করলে তার মাধ্যমে হয় কোন কাজ হালাল অথবা হারাম প্রমাণিত হবে, অথবা তাতে কোন কাজ করার নির্দেশ অথবা নিষেধ থাকবে, অথবা এর মাধ্যমে কোন কাজ করতে উৎসাহিত করা হবে বা কোন কাজ না করার জন্য সাবধান করা হবে।

যা হোক, কোন রাবীর মধ্যে যদি সততা ও বিশ্বস্ততার উপাদান না থাকে, আর অন্য রাবী, তার কাছ থেকে হাদীস বর্ণনার সময় জানা সত্ত্বেও যদি তার সম্পর্কে লোকদের সামনে এ ত্রুটি তুলে না ধরে তবে সে গুনাহগার হবে এবং সাধারণ মুসলিমদের সাথে প্রতারক বলে গণ্য হবে। কেননা, যারা এ সব হাদীস শুনবে, তারা এ সবগুলোর উপর অথবা এর কোন একটির উপর আমল করবে। অথচ এর সবগুলো অথবা অধিকাংশই ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। নির্ভরযোগ্য ও আস্থাশীল বর্ণনাকারীদের বর্ণিত নির্ভুল ও সহীহ হাদীসের এক বিরাট সম্ভার আমাদের সামনে রয়েছে। কাজেই এমন এক ব্যক্তি থেকে হাদীস গ্রহণ করার জন্য ব্যস্ত হওয়ার আদৌ কোন প্রয়োজন নেই যার বর্ণনা নির্ভরযোগ্য নয় এবং সে নিজেও বিশ্বস্ত রাবী নয়।

আমি মনে করি না, যে সব লোক এ ধরনের য'ঈফ হাদীস এবং অখ্যাত সনদ বর্ণনা করে এবং এ সবের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও দুর্বলতা সম্পর্কে অবহিত হওয়া সত্ত্বেও এর গুরুত্ব দিয়ে থাকে, তাদের উদ্দেশ্য হলো নিজেদের সাধারণ মানুষের কাছে বড় বিদ্বান হিসেবে পরিচিত করা এরং এজন্য যে, লোকেরা বলবে, সুবহানাল্লাহ! অমুক ব্যক্তি কত হাদীস সংগ্রহ করেছে, কত হাদীস সংকলন করেছে। ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রে যে এ নীতি অবলম্বন করে এবং এ পথে পা বাড়ায়, হাদীস শাস্ত্রে তার কোন স্থান নেই। বস্তুতঃ এমন ব্যক্তি আলিম (জ্ঞানী) হিসেবে আখ্যায়িত না হয়ে জাহিল (মূর্খ) নামে অভিহিত হওয়ার অধিক যোগ্য।

ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, আমাদের যুগের নিজ থেকে ত্বরিত ঘোষণাদাতা হাদীস বিশারদ হাদীসের সনদ সবল হওয়ার ব্যাপারে অভিমত প্রকাশ করেছেন। তার সে ভ্রান্ত অভিমত লিপিবদ্ধ করা এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি আলোচনা করা থেকে বিরত থাকাই সঠিক মত ও পথ ছিল। কেননা, ভ্রান্ত মতামত নির্মুল করা এবং এর প্রবক্তার নাম মুছে ফেলার জন্যে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নীরব থাকা উত্তম।

এ পদ্ধতি অশিক্ষিত লোকদের এসব ভ্রান্ত মতামত সম্বন্ধে অনবহিত রাখার উত্তম ব্যবস্থা। কিন্তু যখন মূর্খ লোকেদের ভুল মতামতের প্রতি তড়িৎ বিশ্বাস স্থাপন ও উলামায়ে কিরামের নিকট যা অগ্রহণযোগ্য সে সবের প্রতি তাদের আকৃষ্ট হওয়ার অশুভ পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করলাম তখন আমরা এদের ভ্রান্ত মতের উল্লেখ করে তার মূলোৎপাটন করা জরুরী মনে করলাম। ইনশাআল্লাহ, এ কাজ মানুষের জন্যে হবে কল্যাণকর এবং এর পরিণামও হবে শুভ।

তিনি বলেন, যার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আমরা আলোচনা শুরু করেছি এবং যার অগ্রহণযোগ্য রিওয়ায়াত আমরা বাতিল বলে ঘোষণা করেছি, তার অভিমত হচ্ছে, যদি সনদের মধ্যে অমুক অমুকের কাছ থেকে এভাবে উল্লেখ থাকে এবং এ কথা জানা যায় যে, তারা উভয়ই একই যুগের রাবী, একই সময়ে বর্তমান ছিলেন, তাছাড়া হাদীসটি সরাসরি শুনার এবং পরস্পর সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, কিন্তু সে তার উর্ধ্ব রাবীর কাছ থেকে শুনেছে বলে আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারিনি এবং কোন রিওয়ায়াতেও আমরা পাইনি যে, তাদের উভয়ের কখনও সাক্ষাৎ ঘটেছে অথবা সামনাসামনি কথাবর্তা হয়েছে, তাহলে এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির কাছে এভাবে যত হাদীস বর্ণিত হবে, তা দলীল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না- যে পর্যন্ত প্রমাণিত না হবে তারা উভয়ে জীবনে একবার কিংবা একাধিকবার কোথাও একত্রিত অথবা সামনাসামনি হয়েছিল এমন হাদীস পাওয়া যায়, যাতে উল্লেখ রয়েছে যে, জীবনে অন্ততঃ একত্রিত হয়েছে বা একবার তাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। সুতরাং যদি এ বর্ণনাকারী ও গ্রহণকারীর মধ্যে সাক্ষাতের কিংবা সামনাসামনি হওয়ার কথা না জানা যায় এবং কোন হাদীস বর্ণনায় যদি তাদের মধ্যে অন্ততঃ একবার সাক্ষাতের এবং তার থেকে কিছু শুনার প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে ঐ ব্যক্তি হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এ পর্যায়ের হাদীস গ্রহণ করা স্থগিত থাকবে- যে পর্যন্ত এক বা একাধিক হাদীস দ্বারা সাক্ষাৎ ও শুনার প্রমাণ না পাওয়া যায়।

باب فِي أَنَّ الإِسْنَادَ مِنَ الدِّينِ وَأَنَّ الرِّوَايَةَ لَا تَكُونُ إِلَّا عَنْ الثِّقَاتِ وَأَنَّ جَرْحَ الرُّوَاةِ بِمَا هُوَ فِيهِمْ جَائِزٌ بَلْ وَاجِبٌ وَأَنَّهُ لَيْسَ مِنْ الْغِيبَةِ الْمُحَرَّمَةِ بَلْ مِنْ الذَّبِّ عَنْ الشَّرِيعَةِ الْمُكَرَّمَةِ

حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ الْقَطَّانَ، ضَعَّفَ حَكِيمَ بْنَ جُبَيْرٍ وَعَبْدَ الأَعْلَى وَضَعَّفَ يَحْيَى مُوسَى بْنَ دِينَارٍ قَالَ حَدِيثُهُ رِيحٌ ‏.‏ وَضَعَّفَ مُوسَى بْنَ دِهْقَانَ وَعِيسَى بْنَ أَبِي عِيسَى الْمَدَنِيَّ ‏.‏ قَالَ وَسَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عِيسَى، يَقُولُ قَالَ لِيَ ابْنُ الْمُبَارَكِ إِذَا قَدِمْتَ عَلَى جَرِيرٍ فَاكْتُبْ عِلْمَهُ كُلَّهُ إِلاَّ حَدِيثَ ثَلاَثَةٍ لاَ تَكْتُبْ حَدِيثَ عُبَيْدَةَ بْنِ مُعَتِّبٍ وَالسَّرِيِّ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَمُحَمَّدِ بْنِ سَالِمٍ ‏.‏ قَالَ مُسْلِمٌ وَأَشْبَاهُ مَا ذَكَرْنَا مِنْ كَلاَمِ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي مُتَّهَمِي رُوَاةِ الْحَدِيثِ وَإِخْبَارِهِمْ عَنْ مَعَايِبِهِمْ كَثِيرٌ يَطُولُ الْكِتَابُ بِذِكْرِهِ عَلَى اسْتِقْصَائِهِ وَفِيمَا ذَكَرْنَا كِفَايَةٌ لِمَنْ تَفَهَّمَ وَعَقَلَ مَذْهَبَ الْقَوْمِ فِيمَا قَالُوا مِنْ ذَلِكَ وَبَيَّنُوا. وَإِنَّمَا أَلْزَمُوا أَنْفُسَهُمُ الْكَشْفَ عَنْ مَعَايِبِ رُوَاةِ الْحَدِيثِ وَنَاقِلِي الأَخْبَارِ وَأَفْتَوْا بِذَلِكَ حِينَ سُئِلُوا لِمَا فِيهِ مِنْ عَظِيمِ الْخَطَرِ إِذِ الأَخْبَارُ فِي أَمْرِ الدِّينِ إِنَّمَا تَأْتِي بِتَحْلِيلٍ أَوْ تَحْرِيمٍ أَوْ أَمْرٍ أَوْ نَهْىٍ أَوْ تَرْغِيبٍ أَوْ تَرْهِيبٍ فَإِذَا كَانَ الرَّاوِي لَهَا لَيْسَ بِمَعْدِنٍ لِلصِّدْقِ وَالأَمَانَةِ ثُمَّ أَقْدَمَ عَلَى الرِّوَايَةِ عَنْهُ مَنْ قَدْ عَرَفَهُ وَلَمْ يُبَيِّنْ مَا فِيهِ لِغَيْرِهِ مِمَّنْ جَهِلَ مَعْرِفَتَهُ كَانَ آثِمًا بِفِعْلِهِ ذَلِكَ غَاشًّا لِعَوَامِّ الْمُسْلِمِينَ إِذْ لاَ يُؤْمَنُ عَلَى بَعْضِ مَنْ سَمِعَ تِلْكَ الأَخْبَارَ أَنْ يَسْتَعْمِلَهَا أَوْ يَسْتَعْمِلَ بَعْضَهَا وَلَعَلَّهَا أَوْ أَكْثَرَهَا أَكَاذِيبُ لاَ أَصْلَ لَهَا مَعَ أَنَّ الأَخْبَارَ الصِّحَاحَ مِنْ رِوَايَةِ الثِّقَاتِ وَأَهْلِ الْقَنَاعَةِ أَكْثَرُ مِنْ أَنْ يُضْطَرَّ إِلَى نَقْلِ مَنْ لَيْسَ بِثِقَةٍ وَلاَ مَقْنَعٍ. وَلاَ أَحْسِبُ كَثِيرًا مِمَّنْ يُعَرِّجُ مِنَ النَّاسِ عَلَى مَا وَصَفْنَا مِنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ الضِّعَافِ وَالأَسَانِيدِ الْمَجْهُولَةِ وَيَعْتَدُّ بِرِوَايَتِهَا بَعْدَ مَعْرِفَتِهِ بِمَا فِيهَا مِنَ التَّوَهُّنِ وَالضَّعْفِ إِلاَّ أَنَّ الَّذِي يَحْمِلُهُ عَلَى رِوَايَتِهَا وَالاِعْتِدَادِ بِهَا إِرَادَةُ التَّكَثُّرِ بِذَلِكَ عِنْدَ الْعَوَامِّ وَلأَنْ يُقَالَ مَا أَكْثَرَ مَا جَمَعَ فُلاَنٌ مِنَ الْحَدِيثِ وَأَلَّفَ مِنَ الْعَدَدِ.‏ وَمَنْ ذَهَبَ فِي الْعِلْمِ هَذَا الْمَذْهَبَ وَسَلَكَ هَذَا الطَّرِيقَ فَلاَ نَصِيبَ لَهُ فِيهِ وَكَانَ بِأَنْ يُسَمَّى جَاهِلاً أَوْلَى مِنْ أَنْ يُنْسَبَ إِلَى عِلْمٍ ‏.‏ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ مُنْتَحِلِي الْحَدِيثِ مِنْ أَهْلِ عَصْرِنَا فِي تَصْحِيحِ الأَسَانِيدِ وَتَسْقِيمِهَا بِقَوْلٍ لَوْ ضَرَبْنَا عَنْ حِكَايَتِهِ وَذِكْرِ فَسَادِهِ صَفْحًا لَكَانَ رَأْيًا مَتِينًا وَمَذْهَبًا صَحِيحًا. إِذِ الإِعْرَاضُ عَنِ الْقَوْلِ الْمُطَّرَحِ أَحْرَى لإِمَاتَتِهِ وَإِخْمَالِ ذِكْرِ قَائِلِهِ وَأَجْدَرُ أَنْ لاَ يَكُونَ ذَلِكَ تَنْبِيهًا لِلْجُهَّالِ عَلَيْهِ غَيْرَ أَنَّا لَمَّا تَخَوَّفْنَا مِنْ شُرُورِ الْعَوَاقِبِ وَاغْتِرَارِ الْجَهَلَةِ بِمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ وَإِسْرَاعِهِمْ إِلَى اعْتِقَادِ خَطَإِ الْمُخْطِئِينَ وَالأَقْوَالِ السَّاقِطَةِ عِنْدَ الْعُلَمَاءِ رَأَيْنَا الْكَشْفَ عَنْ فَسَادِ قَوْلِهِ وَرَدَّ مَقَالَتِهِ بِقَدْرِ مَا يَلِيقُ بِهَا مِنَ الرَّدِّ أَجْدَى عَلَى الأَنَامِ وَأَحْمَدَ لِلْعَاقِبَةِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ. وَزَعَمَ الْقَائِلُ الَّذِي افْتَتَحْنَا الْكَلاَمَ عَلَى الْحِكَايَةِ عَنْ قَوْلِهِ وَالإِخْبَارِ عَنْ سُوءِ رَوِيَّتِهِ أَنَّ كُلَّ إِسْنَادٍ لِحَدِيثٍ فِيهِ فُلاَنٌ عَنْ فُلاَنٍ وَقَدْ أَحَاطَ الْعِلْمُ بِأَنَّهُمَا قَدْ كَانَا فِي عَصْرٍ وَاحِدٍ وَجَائِزٌ أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثُ الَّذِي رَوَى الرَّاوِي عَمَّنْ رَوَى عَنْهُ قَدْ سَمِعَهُ مِنْهُ وَشَافَهَهُ بِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ نَعْلَمُ لَهُ مِنْهُ سَمَاعًا وَلَمْ نَجِدْ فِي شيء مِنَ الرِّوَايَاتِ أَنَّهُمَا الْتَقَيَا قَطُّ أَوْ تَشَافَهَا بِحَدِيثٍ- أَنَّ الْحُجَّةَ لاَ تَقُومُ عِنْدَهُ بِكُلِّ خَبَرٍ جَاءَ هَذَا الْمَجِيءَ حَتَّى يَكُونَ عِنْدَهُ الْعِلْمُ- بِأَنَّهُمَا قَدِ اجْتَمَعَا مِنْ دَهْرِهِمَا مَرَّةً فَصَاعِدًا أَوْ تَشَافَهَا بِالْحَدِيثِ بَيْنَهُمَا أَوْ يَرِدَ خَبَرٌ فِيهِ بَيَانُ اجْتِمَاعِهِمَا وَتَلاَقِيهِمَا مَرَّةً مِنْ دَهْرِهِمَا فَمَا فَوْقَهَا. فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ عِلْمُ ذَلِكَ وَلَمْ تَأْتِ رِوَايَةٌ صَحِيحَةٌ تُخْبِرُ أَنَّ هَذَا الرَّاوِيَ عَنْ صَاحِبِهِ قَدْ لَقِيَهُ مَرَّةً وَسَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا- لَمْ يَكُنْ فِي نَقْلِهِ الْخَبَرَ عَمَّنْ رَوَى عَنْهُ ذَلِكَ وَالأَمْرُ كَمَا وَصَفْنَا حُجَّةٌ وَكَانَ الْخَبَرُ عِنْدَهُ مَوْقُوفًا حَتَّى يَرِدَ عَلَيْهِ سَمَاعُهُ مِنْهُ لِشَيْءٍ مِنَ الْحَدِيثِ. قَلَّ أَوْ كَثُرَ فِي رِوَايَةٍ مِثْلِ مَا وَرَدَ

Chapter: That Which is Related to the Statements ‘The Chain of Narration is from the Religion’; ‘Transmissions are not Taken Except from Trustworthy Narrators’; and ‘Criticism of the Narrators With What is Permissible Regarding Them, Even Obligatory and That It is not the Prohibited Kind of Backbiting, Rather it is the Defense of the Noble Sharī’ah’


Bishr bin al-Hakam narrated to me, he said, I heard Yahyā bin Sa’īd al-Qattān weaken Hakīm bin Jubayr and Abd al-A’lā; and he weakened Yahyā Mūsā bin Dīnār [there is no ‘bin’ between ‘Yahyā’ and ‘Mūsā’]; [Yahyā] said:
‘His Ḥadīth are Rīh or ‘wind’ [i.e., not established and weak]. [Yahyā] weakened Mūsā bin Dihqān and Īsā bin Abī Īsā al-Madanī. [Muslim] said, ‘I heard al-Hasan bin Īsā saying ‘Ibn al-Mubārak said to me: ‘When you go to Jarīr then write down all of his knowledge except the Ḥadīth of 3 [people] - do not write the Ḥadīth of Ubaydah bin Mu’attib, as-Sarī bin Ismā’īl, or Muhammad bin Sālim’.’

Muslim said: Similar instances to what we mentioned from the words of Ahl ul-Ilm regarding those transmitters who are imputed in Ḥadīth, and reports about their defects, are great in number, it would lengthen this book to mention its investigation, and what we [already] mentioned should be sufficient for whoever reflects upon and understands the way of the people [Muhaddithīn] in terms of what they said and clarified of all of that.


Indeed [the Muhaddithīn] concerned themselves with the unveiling of the defects of transmitters of Ḥadīth and narrators of reports; they delivered verdicts in that at the time they were asked when there was a great danger involved considering that the reports are regarding affairs of the Dīn; whether [the transmissions] present a permission or proscription, a command or prohibition, encouragement or admonition.


If the transmitter for it is not a source of truthfulness or reliability, then those who know [his condition], who risk transmitting on his authority, and not declaring [his condition] to others whom are ignorant of his [state], are sinning through doing that, and deceiving the common Muslims, since he should not feel secure in that some of those who heard these reports will act upon them, or act upon some of them, and perhaps they are lies which have no basis, or a majority of them; this along with the fact that authentic reports from the trustworthy chains and the people who are satisfactory [to the majority of Ahl ul-Ilm] are in too great a number to compel relating from those who are not trustworthy and who are not satisfactory.


I do not think highly of those who would permit from the people what we described of these weak narrations and unknown chains, and who judge by these transmissions after knowing what is in them of those who are imputed and weak unless he, through his conveyance and judgment by them, desires to accumulate [status] through that among the commoners, or that it can be said, ‘How great is the number of Ḥadīth that so-and-so has gathered and compiled!’. Those who held this ideology regarding knowledge and traversed this path have no share in it and that they were designated as being ignorant is more deserving than for them to be attributed to knowledge.

Some pretender to knowledge of Ḥadīth from the people of our time made a statement regarding authentication and weakening of chains; a statement that if we were to disregard relating it and disregard mentioning its evil, truly it would be a strong opinion and sound approach, since turning away from the renounced view and dropping any mention of its speaker are most appropriate for putting it to rest; and better suited so as to not draw the attention of the ignorant to it.

Other than for what we fear from the evil results and dangers of the ignorant in innovated matters and their hastening towards believing in the mistakes of those who err and the rejected statements according to the scholars, we think the unveiling of the evil of his statement and refutation of its speaker with the amount which is deserved from refutation is more beneficial upon the creation and more praiseworthy ultimately, if Allah wills.

The speaker who we introduced by way of speaking on the account of his opinion and the reports of the evil of his thinking, alleged that every chain for Ḥadīth which has in it ‘so-and-so narrated on authority of so-and-so’ [Mu’an’an], and he has knowledge that they were contemporaries, and the probability that the Ḥadīth which the narrator transmitted from whom he transmitted, had heard it from him, and spoke face to face with him; without our knowing [for certain] that the narrator heard from the one who transmitted to him, and without finding in any of the transmissions that they ever met and spoke face to face for the purpose of Ḥadīth- that the proof is not established according to him in any report which comes in this manner until he has knowledge of both transmitters meeting in their era one or more times and speaking face to face for the purpose of narration, or he wants a report in which their meeting is clarified, their having met once in their era, or more than that; then if he does not have knowledge of that and there does not come to him an authentic transmission reporting that this transmitter [who relates] on authority of his companion met him once AND heard from him something- [there] will be no [proof] of his relating the report from whom he transmitted on authority of.

The matter just as we described is a proof [transmitters being contemporaries and the possibility of having met existing] and the report according to him is unresolved until there arrives [the transmitters] hearing from him something from Ḥadīth, a little or a lot, in a transmission [clarifying the ‘hearing’] equal to what he narrated [with Mu’an’an].


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী)
০। মুকাদ্দামাহ (ভূমিকা) (المقدمة)