ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস পাওয়া গেছে ২৯ টি

পরিচ্ছেদঃ ২: তওবার বিবরণ

১১/২৪। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যদি আদম সন্তানের সোনার একটি উপত্যকা হয়, তবুও সে চাইবে যে, তার কাছে দুটি উপত্যকা হোক। (কবরের) মাটই একমাত্র তার মুখ পূর্ণ করতে পারবে। আর যে তওবা করে, আল্লাহ তওবা গ্রহণ করেন।’’[1]

(2) - باب التوبة

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاس وأنس بن مالك رَضِي االله عنْهُم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قَالَ : » لَوْ أَنَّ لابْنِآدَمَ وَادِياً مِنْ ذَهَبِ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ وادِيانِ ، وَلَنْ يَمْلأَ فَاهُ إِلاَّ التُّرَابُ ، وَيَتُوب اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ « مُتَّفَقٌعَليْهِ

(2) Chapter: Repentance


Ibn 'Abbas and Anas bin Malik (May Allah be pleased with them) reported: Messenger of Allah (ﷺ) said, "If a son of Adam were to own a valley full of gold, he would desire to have two. Nothing can fill his mouth except the earth (of the grave). Allah turns with mercy to him who turns to Him in repentance". [Al-Bukhari and Muslim] Commentary: This Hadith deals with man's greed and his lust for material wealth. Only the person who has a perfect Faith can save himself from it.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৩০: সুপারিশ করা

২/২৫২। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বারীরাহ ও তার স্বামীর (বিচ্ছেদের) ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাকে বললেন, ‘‘তুমি যদি তার কাছে ফিরে যেতে (তাহলে ভাল হত)!’’ সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে আদেশ দিচ্ছেন?’ তিনি বললেন, ‘‘(না।) আমি (কেবলমাত্র) সুপারিশ করছি।’’ সে বলল, ‘(তাহলে) তার আমার কোন প্রয়োজন নেই।’ (বুখারী) [1]

(30) - بَابُ الشَّفَاعَةِ

وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا في قِصَّةِ بَرِيرَةَ وَزَوْجِهَا، قَالَ: قَالَ لَهَا النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ رَاجَعْتِهِ!» قَالَتْ : يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَأمُرُنِي ؟ قَالَ: «إنَّمَا أَشْفَع» قَالَتْ : لاَ حَاجَةَ لِي فِيهِ . رواه البخاري

(30) Chapter: Intercession


Ibn 'Abbas (May Allah bepleased with them), reported in connection with the case of Barirah (May Allah bepleased with her) and her husband: The Prophet (ﷺ) said to her, "It is better for you to go back to your husband." She asked: "O Messenger of Allah, do you order me to do so." He replied, "I only intercede" She then said: "I have no need for him". [Al-Bukhari]. Commentary: Barirah (May Allah bepleased with her) was a slave-girl of `Aishah (May Allah be pleased with her).Barirah was married to a slave named Mughith (May Allah be pleased with him). She was freed by `Aishah (May Allah bepleased with her). Now, Islam has permitted a slave-girl that after being freed, she can break her matrimonial bond if she does not like to live with her husband. Mughith was madly in love with her and he would all the time persuade her not to break their bond of marriage. When the Prophet (PBUH) came to know the condition of Mughith, he interceded for him and asked Barirah to restore her matrimonial connection with her husband. Since this was an advice and recommendation, she did not think it suitable for herself and regretted that she could not accept it. The Hadith evidently shows that Islam accepts legitimate rights of individuals and honours personal freedom, provided they do not exceed the limits of Shari`ah. This freedom cannot be forfeited by suppression or force.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৪৪ : উলামা, বয়স্ক ও সম্মানী ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা করা, তাঁদেরকে অন্যান্যদের উপর প্রাধান্য দেওয়া, তাঁদের উচ্চ আসন দেওয়া এবং তাঁদের মর্যাদা প্রকাশ করার বিবরণ

১০/৩৬১। ইবনু আব্বাস বর্ণনা করেন যে, উয়াইনাহ ইবনু হিস্বন এলেন এবং তাঁর ভাতিজা হুর্র ইবনু কাইসের কাছে অবস্থান করলেন। এই (হুর্র) উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর খেলাফত কালে ঐ লোকগুলির মধ্যে একজন ছিলেন যাদেরকে তিনি তাঁর নিকটে রাখতেন। আর কুরআন-বিশারদগণ বয়স্ক হন অথবা যুবক হন তাঁরা উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর সভাষদ ও পরামর্শদাতা ছিলেন। উয়াইনাহ তাঁর ভাতিজাকে বললেন, ‘হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! এই খলীফার কাছে তোমার বিশেষ সম্মান রয়েছে। তাই তুমি আমার জন্যে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাও।’ ফলে তিনি অনুমতি চাইলেন। সুতরাং উমার তাকে অনুমতি দিলেন।

অতঃপর যখন উয়াইনাহ ভিতরে প্রবেশ করলেন, তখন উমার (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)কে বললেন, ‘হে ইবনু খাত্ত্বাব! আল্লাহর কসম! আপনি আমাদেরকে পর্যাপ্ত দান দেন না এবং আমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করেন না!’ (এ কথা শুনে) উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রেগে গেলেন। এমনকি তাকে মারতে উদ্যত হলেন। তখন হুর্র তাঁকে বললেন, ‘হে আমীরুল মু’মেনীন! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীকে বলেন, ‘‘তুমি ক্ষমাশীলতার পথ অবলম্বন কর। ভাল কাজের আদেশ প্রদান কর এবং মূর্খদিগকে পরিহার করে চল।’’ (সূরা আল আ’রাফ ১৯৮ আয়াত) আর এ এক মূর্খ।’

আল্লাহর কসম! যখন তিনি (হুর্র) এই আয়াত পাঠ করলেন, তখন উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু একটুকুও আগে বাড়লেন না। আর তিনি আল্লাহর কিতাবের কাছে (অর্থাৎ তাঁর নির্দেশ শুনে) থেমে যেতেন। (বুখারী) [1]

(44)- بَابُ تَوْقِيْرِ الْعُلَمَاءِ وَالْكِبَارِ وَأَهْلِ الْفَضْلِوَتَقْدِيْمِهِمْ عَلٰى غَيْرِهِمْ، وَرَفْعِ مَجَالِسِهِمْ، وَإِظْهَارِ مَرْتَبَتِهِمْ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ الله عَنهُمَا، قَالَ : قَدِمَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ، فَنَزَلَ عَلَى ابْنِ أخِيهِ الحُرِّ بنِ قَيسٍ، وَكَانَ مِنَ النَّفَرِ الَّذِينَ يُدْنِيهِمْ عُمَرُ رضي الله عنه، وَكَانَ القُرَّاءُ أصْحَابَ مَجْلِس عُمَرَ رضي الله عنه وَمُشاوَرَتِهِ كُهُولاً كانُوا أَوْ شُبَّاناً، فَقَالَ عُيَيْنَةُ لابْنِ أخيهِ : يَا ابْنَ أخِي، لَكَ وَجْهٌ عِنْدَ هَذَا الأمِيرِ فَاسْتَأذِنْ لِي عَلَيهِ، فاسْتَأذَن فَأذِنَ لَهُ عُمَرُ. فَلَمَّا دَخَلَ قَالَ: هِي يَا ابنَ الخَطَّابِ، فَواللهِ مَا تُعْطِينَا الْجَزْلَ وَلا تَحْكُمُ فِينَا بالعَدْلِ. فَغَضِبَ عُمَرُ رضي الله عنه حَتَّى هَمَّ أنْ يُوقِعَ بِهِ. فَقَالَ لَهُ الحُرُّ : يَا أميرَ المُؤْمِنينَ، إنَّ الله تَعَالَى قَالَ لِنَبيِّهِ صلى الله عليه وسلم: ﴿ خذ العفو وأمر بالعرف وأعرض عن الجاهلين﴾ [الاعراف: ١٩٩] وَإنَّ هَذَا مِنَ الجَاهِلِينَ، واللهِ مَا جَاوَزَهاَ عُمَرُ حِينَ تَلاَهَا، وكَانَ وَقَّافاً عِنْدَ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى . رواه البخاري

(44) Chapter: Revering the Scholars and Elders, Preferring them to others and raising their Status


Ibn Abbas (May Allah be pleased with them) reported: 'Uyainah bin Hisn came to Al-Madinah and stayed with his nephew Al-Hurr bin Qais who was among those who were close to 'Umar (May Allah be pleased with him) and had access to his council. The scholarly persons, whether they were old or young, had the privilege of joining his council and he used to consult them. 'Uyainah said to Al-Hurr: "My dear nephew, you have an access to the Leader of the Believers. Will you obtain permission for me to sit with him?" Al-Hurr asked 'Umar and he accorded permission. When 'Uyainah came into the presence of 'Umar, he addressed him thus: "O son of Al-Khattab, you neither bestow much on us nor deal with us justly." 'Umar (May Allah be pleased with him) got angry and was about to beat him when Al-Hurr said: "O Leader of the Believers, Allah has said to his Prophet (ﷺ): 'Show forgiveness, enjoin what is good, and turn away from the foolish (i.e., don't punish them), [i.e., 'Uyainah] (7:199). This is one of the ignorant ones." By Allah! When al-Hurr recited this, 'Umar became quite motionless in his seat. He always adhered strictly to the Book of Allah. [Al-Bukhari] Commentary: This incident has been cited in this chapter for the reason it tells us that many `Ulama' and Qurra' were members of the special advisory council of `Umar (May Allah be pleased with him). Therefore, men in authority should appoint their advisors from men who are known for their knowledge, intelligence and piety so that they have the benefit of their sincere and sagacious advice regardless of the flimsy and temporary worldly interests. Besides this, the rulers should also be rich in patience and perseverance.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৪৫ : ভাল লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাঁদের সাহচর্য গ্রহণ করা, তাঁদেরকে ভালবাসা, তাঁদেরকে বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া, তাঁদের কাছে দো‘আ চাওয়া এবং বরকতময় স্থানসমূহের দর্শন

৬/৩৬৯। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈলকে বললেন, ‘আপনি যতটা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার চেয়ে বেশী সাক্ষাৎ করতে আপনার বাধা কিসের?’ ফলে এ আয়াত অবতীর্ণ হল, ‘‘(জিবরীল বললেন,) আমরা তোমার প্রতিপালকের আদেশ ব্যাতিরেকে অবতরণ করি না। যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে এবং উভয়ের মধ্যস্থলে রয়েছে সে সকলই তাঁর মালিকানাধীন।’’ (সূরা মারয়্যাম ৬৪ আয়াত, বুখারী) [1]

بَابُ زِيَارَةِ أَهْلِ الْخَيْرِ وَمُجَالَسَتِهِمْ وَصُحْبَتِهِمْ وَمَحَبَّتِهِمْ وَطَلَبِ زِيَارَتِهِمْ وَالدُّعَاءِ مِنْهُمْ وَزِيَارَةِ الْمَوَاضِعِ الْفَاضِلَةِ - (45)

وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ : قَالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم لِجِبرِيلَ: «مَا يَمْنَعُكَ أنْ تَزُورَنَا أكثَرَ مِمَّا تَزُورُنَا ؟»فَنَزَلَتْ : ﴿ ‏وما نتنزل إلا بأمر ربك له ما بين أيدينا وما خلفنا وما بين ذلك﴾ [مريم: ٦٤] رواه البخاري

(45) Chapter: Visiting the Pious Persons, loving them and adoption of their company


Ibn 'Abbas (May Allah be pleased with them) reported: The Prophet (ﷺ) said to Jibril (Gabriel), "What prevents you from visiting us more frequently?" Thereupon was revealed the Ayah: "(The angels say:) 'And we (angels) descend not except by the Command of your Rubb. To Him belongs what is before us and what is behind us, and what is between those two". (19:64) [Al- Bukhari]. Commentary: This Hadith tells us about the Prophet's desire for meeting angel Jibril (Gabriel) to have that knowledge which was revealed to him by means of Wahy (Revelation).It also tells us that angels descend to earth for certain mission by the Command of Allah. They have no say of their own in any matter. It also indicates that it is permissible to enquire about Muslim brothers after a long period of time as this is a sign of true love.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৩. ইসলামে কোন বৈরাগ্য নেই।

১৭২৯. উসমান ইবন আবূ শায়রা ...... ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামে কোন বৈরাগ্য নেই।

باب ‏"‏ لاَ صَرُورَةَ ‏"‏ فِي الإِسْلاَمِ

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي سُلَيْمَانَ بْنَ حَيَّانَ الأَحْمَرَ - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ صَرُورَةَ فِي الإِسْلاَمِ ‏"‏ ‏.‏


Ibn 'Abbãs narrated that, The Messenger of Allah said: "There is no monasticism in Islam".


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৮৬/২০. ব্যভিচারীদের পাপ।

৬৮০৯. ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মু’মিন থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না। মু’মিন থাকা অবস্থায় কোন চোর চুরি করে না। মু’মিন থাকা অবস্থায় কেউ মদ্য পান করে না। মু’মিন থাকা অবস্থায় কেউ হত্যা করে না।

‘ইক্বরিমাহ (রহ.) বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তার থেকে ইমান কিভাবে ছিনিয়ে নেয়া হয়? তিনি বললেনঃ এভাবে। আর অঙ্গুলিগুলো পরস্পর জড়ালেন, এরপর অঙ্গুলিগুলো বের করলেন। যদি সে তওবা করে তবে আগের অবস্থায় এভাবে ফিরে আসে। এ ব’লে অঙ্গুলিগুলো আবার পরস্পর জড়ালেন। [৬৭৮২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৩৪০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৩৫৩)

بَاب إِثْمِ الزُّنَاةِ وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى

مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يَزْنِي الْعَبْدُ حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَشْرَبُ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَقْتُلُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ.
قَالَ عِكْرِمَةُ قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ كَيْفَ يُنْزَعُ الإِيمَانُ مِنْهُ قَالَ هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ أَخْرَجَهَا فَإِنْ تَابَ عَادَ إِلَيْهِ هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ.


Narrated 'Ikrima from Ibn 'Abbas: Allah's Messenger (ﷺ)s said, "When a slave (of Allah) commits illegal sexual intercourse, he is not a believer at the time of committing it; and if he steals, he is not a believer at the time of stealing; and if he drinks an alcoholic drink, when he is not a believer at the time of drinking it; and he is not a believer when he commits a murder," 'Ikrima said: I asked Ibn Abbas, "How is faith taken away from him?" He said, Like this," by clasping his hands and then separating them, and added, "But if he repents, faith returns to him like this, by clasping his hands again.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ১১. মুসলিমের উপর জিযইয়া ধার্য হয় না

৬৩৩। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একই লোকালয়ে (আরবে) দু'টি কিবলার সুযোগ নেই এবং মুসলিমদের ওপর কোন জিযইয়া নেই।

যঈফ, ইরওয়া (১২৪৪), যঈফ (৪৩৭৯)

باب مَا جَاءَ لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ جِزْيَةٌ

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسِ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تَصْلُحُ قِبْلَتَانِ فِي أَرْضٍ وَاحِدَةٍ وَلَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ جِزْيَةٌ ‏"‏ ‏.‏


Ibn Abbas narrated that : the Messenger of Allah said: "Two Qiblahs in one land are of no benefit, and there is no Jizyah upon the Muslims."


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৫. চাঁদ দেখে রোযা আরম্ভ করা এবং চাঁদ দেখে রোযা শেষ করা

৬৮৮। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রামাযানের পূর্বে রোযা রেখ না। তোমরা রামাযানের চাঁদ দেখার পর রোযা রাখা আরম্ভ কর এবং চাঁদ দেখার পর তা ভাঙ্গ। মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না গেলে তবে ত্রিশ দিন পূর্ণকর। — সহীহ আবু দাউদ (২০১৬)

আবু হুরাইরা, আবু বাকরা ও ইবনু উমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা, ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। তার নিকট হতে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الصَّوْمَ لِرُؤْيَةِ الْهِلاَلِ وَالإِفْطَارَ لَهُ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تَصُومُوا قَبْلَ رَمَضَانَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَتْ دُونَهُ غَيَايَةٌ فَأَكْمِلُوا ثَلاَثِينَ يَوْمًا ‏"‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ ‏.‏


Ibn Abbas narrated that : the Messenger of Allah said: "Do not fast before Ramadan. Fast with its sighting, and break fast with its sighting, and if it is obscured from you, then complete thirty days."


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

১৭-[১৬] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আবদুল ক্বায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে পৌঁছলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এরা কোন্ গোত্রের লোক (বা কোন্ প্রতিনিধি দল)? লোকেরা জবাব দিল, এরা রবী‘আহ্ গোত্রের লোক। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, গোত্র বা প্রতিনিধি দলকে মুবারকবাদ! অপমান ও অনুতাপবিহীন অবস্থায় আগত প্রতিনিধি দলকে মুবারকবাদ! প্রতিনিধি দল আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ও আমাদের মধ্যে কাফির যুদ্ধবাজ মুযার বংশ অন্তরায়স্বরূপ থাকায় হারাম মাস ব্যতীত অন্য মাসে আপনার নিকট আসতে পারি না। তাই আপনি হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী এমন কিছু পরিষ্কার নির্দেশ দিন যা আমরা মেনে চলব এবং যাদেরকে দেশে রেখে এসেছি তাদেরকে গিয়ে বলতে পারব। যা দ্বারা আমরা (সহজে) জান্নাতে যেতে পারি। এর সাথে তারা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) পানীয় বস্তু (পান পাত্র) সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলেন।

প্রত্যুত্তরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে চারটি কাজের আদেশ দিলেন আর চারটি কাজ হতে নিষেধ করলেন। (প্রথমে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আদেশ করলেন এবং বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অর্থ কি, তা কি তোমরা জান? তারা জবাবে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রসূল ই অধিক ভালো জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন,
(১) আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রসূল - এ সাক্ষ্য দেয়া।
(২) সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বায়িম করা।
(৩) যাকাত আদায় করা। এবং (৪) রমাযান মাসের সিয়াম পালন করা। এরপর (চারটি কাজ ছাড়াও) গনীমাতের (জিহাদলব্ধ মালের) ‘খুমুস’ এক-পঞ্চমাংশ দেয়ার হুকুম দিলেন।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চারটি (মদের) পানপাত্র ব্যবহার নিষেধ করলেন। এগুলো হলোঃ হানতাম (নিকেল করা সবুজ পাত্র), দুব্বা (কদুর খোল দ্বারা প্রস্তুতকৃত পাত্রবিশেষ), নাকীর (গাছের বা কাঠের পাত্রবিশেষ), মুযাফফাত (তৈলাক্ত পাত্রবিশেষ, এ জাতীয় পাত্রে তৎকালীন সময়ে মদ ব্যবহার করা হত)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বললেন, এ সকল কথা ভালোভাবে স্মরণ রাখবে। যাদের দেশে ছেড়ে এসেছো তাদেরকেও বলবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]

الفصل الاول

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: إِنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ لَمَّا أَتَوُا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنِ الْقَوْمُ؟ أَوْ: مَنِ الْوَفْدُ؟ قَالُوا: رَبِيعَةُ. قَالَ: مَرْحَبًا بِالْقَوْمِ أَوْ: بِالْوَفْدِ غَيْرَ خَزَايَا وَلَا نَدَامَى . قَالُوا: يَا رَسُول الله إِنَّا لَا نستطيع أَن نَأْتِيَكَ إِلَّا فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ وَبَيْنَنَا وَبَيْنَكَ هَذَا الْحَيُّ مِنْ كُفَّارِ مُضَرَ فَمُرْنَا بِأَمْرٍ فصل نخبر بِهِ مَنْ وَرَاءَنَا وَنَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ وَسَأَلُوهُ عَنِ الْأَشْرِبَةِ. فَأَمَرَهُمْ بِأَرْبَعٍ وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: أَمَرَهُمْ بِالْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَحْدَهُ قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْإِيمَانُ بِاللَّهِ وَحْدَهُ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَأَنْ تُعْطُوا مِنَ الْمَغْنَمِ الْخُمُسَ»
وَنَهَاهُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: عَنِ الْحَنْتَمِ وَالدُّبَّاءِ وَالنَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ وَقَالَ: «احْفَظُوهُنَّ وَأَخْبِرُوا بِهِنَّ مَنْ وَرَاءَكُمْ» وَلَفظه للْبُخَارِيّ

Chapter - Section 1


Ibn ‘Abbas said that when the deputation of ‘Abd Qais came to the Prophet, God's messenger asked, “Who are the people?” or, “Who are the deputation?” They replied, “Rabi‘a”, and he said, “Welcome to the people (or deputation), neither ashamed nor regretful.” They said, “Messenger of God, we are able to come to you only in the sacred month, for this tribe of the infidels of Mudar is between us and you; so give us a decisive command which we may tell to those at home and by [obeying] which we may enter paradise;” and they asked him about drinks. He commanded them to observe four things and he forbade them four things. He commanded them to put their faith in God alone saying, “Do you know what faith in God alone is?” They replied, “God and His messenger know best.” He said, “It includes the testimony that there is no god but God and that Muhammad is God’s messenger, the observance of the prayer, the payment of zakat, the fast of Ramadan, and your giving a fifth of the booty.” And he forbade them four things: glazed jars, gourds, hollowed stumps of palm trees, and receptacles smeared with pitch, saying, “Observe them and tell your people at home about them.” (Bukhari and Muslim, but the wording is Bukhari’s).

ব্যাখ্যা : ‘আবদুল ক্বায়স-এর গোত্র থেকে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দু’বার দু’টি প্রতিনিধি দল এসেছিল। ১ম দলটি এসেছিল ৫ম হিজরী সালে অথবা তার কিছু আগে বা পরে। এ দলের সদস্য ছিল ১৩ জন। তাদের মধ্যে আল্ আশাজ্ আল আসরীও ছিলেন। ২য় দলটি এসেছিল মক্কা বিজয়ের পরে। যে সালটি ‘প্রতিনিধি দলের বৎসর’ নামে খ্যাত সেই সালে। এ দলে সদস্য ছিল ৪০ জন। তাদের মধ্যে আল্ জারূদ আল্ ‘আবদীও ছিলেন। তারা এসে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন করে বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের মাঝে ও আপনার মাঝে কাফির মুযার গোত্রের অবস্থান, তাই আমরা হারাম মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে পারি না। এতে বুঝা যায়, তারা রসূলের নিকট আসার পূর্বেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল।

এ হাদীসটি ঐ হাদীসের বিপরীত নয় যাতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আমল তোমাদের কাউকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে না’’। কেননা এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ব্যতীত শুধুমাত্র ‘আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না। এ কথা দ্বারা তাদের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যারা মনে করে ‘আমলই সবকিছু এবং আল্লাহর রহমাত বলতে কিছু নেই। অথচ ‘আমল করতে পারাটাই আল্লাহর রহমাত যা ব্যতীত জান্নাতে প্রবেশ অসম্ভব।

তাঁরা তাঁকে পানীয় সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করে। অর্থাৎ- বিভিন্ন পান পাত্রের মধ্যে কোন ধরনের পান পাত্রের পানীয় বৈধ? আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ প্রদান করেন। এ হাদীসে দু’টি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়ঃ

(১) আদেশ করা হয়েছে একটির, বাকীগুলো এর ব্যাখ্যা, তা হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীঃ তোমরা জান কি, এক আল্লাহর প্রতি ঈমান কাকে বলে? তাহলে এখানে একটি বিষয়ের উল্লেখ করা হলো, তা হলো ঈমান। অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ দিব। তাহলে আর তিনটি কোথায়?

(২) আরকান পাঁচটি উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম বলেছেন তা চারটি।

প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো ঈমান মূলত একটি হলেও তার শাখা অনুপাতে তা চারটি বলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ- চারটি বস্ত্তর সমন্বয়ের নামই ঈমান।

২য় প্রশ্নের উত্তর এই যে, কথা সাহিত্যিকদের সাধারণ নিয়ম এই যে, তারা যখন কোন বিষয় কথা বলে তখন তার মূল বক্তব্যকেই এর মধ্যে গণ্য করা হয়। তা ব্যতীত আর যা কিছু তা ধর্তব্যের মধ্যে আসে না। এখানে শাহাদাতায়নের উল্লেখ মূল উদ্দেশ্য নয়। কেননা প্রশ্নকারী সম্প্রদায় শাহাদাতায়নের প্রতি আগে থেকেই বিশ্বাসী ছিল। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে এমন চারটি বস্ত্তর নির্দেশ দেন যা তাদের জানা ছিল না যে, এগুলো ঈমানের মৌলিক বিষয়। এ কথার সমর্থন মিলে সহীহুল বুখারী ২য় খণ্ডের ৬১২ পৃষ্ঠায় আদব পর্বে বর্ণিত হাদীসে। তাতে উল্লেখ আছে ‘‘আর চারটি বিষয় হলো তোমরা সালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করবে এবং গানীমাতের এক-পঞ্চমাংশ বায়তুল মালে জমা দিবে।’’

এ হাদীসে উল্লিখিত পাত্রসমূহে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাবিয তৈরি করতে নিষেধ করার কারণ এই যে, এই পাত্রসমূহের নাবীযে দ্রুত মাদকতা আসে। ফলে কেউ এ পাত্রে নাবিয তৈরি করার ফলে তার অজান্তেই সে মাদক পান করে ফেলতে পারে। পরবর্তীতে সকল প্রকার পাত্রেই নাবিয তৈরি করার অনুমতি প্রদান সাব্যস্ত আছে। তবে মাদক অবশ্যই বর্জনীয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২১-[২০] আর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর অপর বর্ণনায় আছে, ‘‘আর তার আমাকে মন্দ বলার’’ অর্থ হলো এ কথা বলা যে, আল্লাহর সন্তান আছে, অথচ আমি স্ত্রী ও পুত্র হতে পবিত্র। (বুখারী)[1]

الفصل الاول

وَفِي رِوَايَة عَن ابْنِ عَبَّاسٍ: وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ فَقَوْلُهُ: لِي وَلَدٌ وَسُبْحَانِي أَنْ أَتَّخِذَ صَاحِبَةً أَوْ وَلَدًا

Chapter - Section 1


A version from Ibn ‘Abbas has: “His reviling of me is his statement that I have a son. Far be it from me that I should have a consort or a son.” Bukhari transmitted it.

ব্যাখ্যা : (বলা হয়ে থাকে) আমার সন্তান আছে অথচ আমার সত্তাকে আমি পবিত্র রেখেছি সন্তান ও স্ত্রী গ্রহণ করা থেকে। এ হাদীসের সাথে কিতাবুল ঈমানের সম্পর্ক এই যে, হাশর বা পুনরুত্থান অস্বীকার করা এবং আল্লাহর সন্তান আছে দাবী করা হাদীসে জিবরীলে বর্ণিত ঈমানের বিপরীত। তাই হাদীসটি এ পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - কাবীরাহ্ (কবিরা) গুনাহ ও মুনাফিক্বীর নিদর্শন

৫৪-[৬] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় এটাও আছে, হত্যাকারী যখন অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে, সে সময়ও তার ঈমান থাকে না। ‘ইকরিমাহ্ (রহঃ) বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কিরূপে ঈমান তার থেকে বের করে নেয়া হবে? তিনি বললেন, এভাবে (এ কথা বলে) তিনি তার হাতের অঙ্গুলিসমূহ পরস্পরের ফাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে, পরে তা পৃথক করে নিলেন। অতঃপর সে যদি তওবা্ করে, তাহলে পুনরায় ঈমান তার মধ্যে এভাবে ফিরে আসবে- এ কথা বলে পুনরায় তিনি দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের ফাঁকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। আর আবূ ‘আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন, সে মু’মিন থাকে না। অর্থাৎ- সে প্রকৃত বা পূর্ণ মু’মিন থাকে না কিংবা তার ঈমানের নূর থাকে না। এটা বুখারীর বর্ণনার হুবহু শব্দাবলী।[1]

بَابُ الْكَبَائِرِ وَعَلَامَاتِ النِّفَاقِ- الفصل الأول

وَفِي رِوَايَة ابْن عَبَّاس: «وَلَا يَقْتُلُ حِينَ يَقْتُلُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ» . قَالَ عِكْرِمَةُ: قُلْتُ لِابْنِ عَبَّاسٍ: كَيْفَ يُنْزَعُ الْإِيمَانُ مِنْهُ؟ قَالَ: هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ أَخْرَجَهَا فَإِنْ تَابَ عَادَ إِلَيْهِ هَكَذَا وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: لَا يَكُونُ هَذَا مُؤْمِنًا تَامًّا وَلَا يَكُونُ لَهُ نُورُ الْإِيمَان. هَذَا لفظ البُخَارِيّ

Chapter: Major Sins and the Signs of Hypocrisy - Section 1


The version of Ibn ‘Abbas contains “When one commits murder he is not a believer.” ‘Ikrima said that he asked Ibn 'Abbas how faith could be snatched away from him, and he replied “Thus (interlacing his fingers and then separating them), but if he repents, it will return to him thus,” and he interlaced his fingers. Aba ‘Abdallah said that such a one is not a perfect believer and does not possess the light of faith. This is Bukhari's wording.

ব্যাখ্যা: এ হাদীসের সারসংক্ষেপ এই যে, অন্তরে বিশ্বাস করা মৌখিক স্বীকৃতি প্রদান এবং বিশ্বাস ও স্বীকৃতি অনুপাতে কাজ করার নাম ঈমান। আর এ নূর অর্থ ঈমানের পূর্ণতা আর তা হলো সৎকাজ সম্পাদন করা এবং নিষিদ্ধ কাজ হতে বিরত থাকা। অতএব কোন ব্যক্তি যদি আদিষ্ট কাজে ত্রুটি করে অথবা ব্যভিচার, মদপান ও চুরির মতো গুনাহের কাজে জড়িয়ে পরে তখন তার নূর চলে যায় তার ঈমানের পূর্ণতা দূর হয়ে যায়। ফলে এমন ব্যক্তি পাপ-পঙ্কিলতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সন্দেহ-সংশয়, কুমন্ত্রণা

৭৩-[১১] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমাতে এসে বলল, (হে আল্লাহর নবী!) আমি মনে এমন কুধারণা পাই যা মুখে প্রকাশ অপেক্ষা আগুনে জ্বলে কয়লা হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে, আল্লাহ (তোমার) এ বিষয়কে কল্পনার সীমা পর্যন্তই রেখে দিয়েছেন। (আবূ দাঊদ)[1]

باب الوسوسة - الفصل الأول

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنِّي أُحَدِّثُ نَفْسِي بِالشَّيْءِ لَأَنْ أَكُونَ حُمَمَةً أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ. قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ أَمْرَهُ إِلَى الْوَسْوَسَةِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

Chapter: Evil Promptings - Section 2


Ibn ‘Abbas told how a man came to the Prophet and said, "I have thoughts of such a nature that I would rather be reduced to charcoal than speak about them.” He replied, ‘‘Praise be to God who has reduced [the devil]* to no more than evil prompting!” Abu Dawud transmitted it. * Or [his thoughts].

ব্যাখ্যা: আমার মনে এমন খারাপ বিষয় জাগে যে বিষয়ে কথা বলার চাইতে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়াটা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়। আমার কয়লা হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয় কারণ ঐ উদিত বিষয়টি আল্লাহর সত্তা সম্পর্কিত। যা আল্লাহর জন্য উপযুক্ত নয় এমনকি দুই শায়ত্বন (শয়তান) অন্তরে অনুপ্রবিষ্ট করায় চেষ্টা করে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৩. দ্বিতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান

১০৫-[২৭] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে দু’ রকমের লোক রয়েছে, তাদের জন্য ইসলামে কোন অংশ নেই। তারা হলোঃ (১) মুর্জিয়াহ্ ও (২) ক্বদারিয়্যাহ্। (তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান গরীব)[1]

باب الإيمان بالقدر - الفصل الثاني

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِنْفَانِ مِنْ أُمَّتِي لَيْسَ لَهُمَا فِي الْإِسْلَامِ نَصِيبٌ: الْمُرْجِئَةُ وَالْقَدَرِيَّةُ . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ

Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 2


Ibn ‘Abbas reported that God’s messenger said, “There are two classes among my people who have no portion in Islam, the Murji’a and the Qadariya." Tirmidhi transmitted it and said this is a gharib tradition.

ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা শাহরাস্তানী বলেন, إلْارْجَاءُ-এর দু’টি অর্থ হতে পারে। ১. বিলম্ব করা। যেমনঃ ‘আরবরা বলে থাকে, অবকাশ দাও। ২. আশা দেয়া। এই দুই অর্থই উক্ত হাদীসে উল্লিখিত মুরজিয়াহ্ দলের ওপর নেয়া যেতে পারে। কেননা তারা ‘আমলকে নিয়্যাত থেকে বিলম্বিত করে এবং তারা এ কথা বলে যে, ঈমানের পরে যতই পাপ হোক না কেন তাতে কোন ক্ষতি হবে না। যেমনিভাবে কুফরীর অবস্থায় কোন ভালো কাজ কোনই উপকারে আসবে না।

তিনি আরো বলেন, মুর্জিয়াহ্ চার শ্রেণীরঃ ১. খাওয়ারিজের মুরজিয়াহ্ দল ২. ক্বদারিয়্যাদের মুরজিয়াহ্ দল ৩. জাবরিয়াদের মুরজিয়াহ্ দল ৪. মূল মুরজিয়াহ্ দল।

অতঃপর তিনি মূল মুরজিয়াদের আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে, যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে জানতে চায় সে যেন ‘‘আল মিলাল ওয়া আন্ নিহাল’’ কিতাব দেখেন। আর অত্র হাদীসে মুরজিয়াহ্ দ্বারা জাবরিয়াই উদ্দেশ্য।

‘আল্লামা ‘উবায়দুল্লাহ মুবারকপূরী (রহঃ) বলেছেন, এ তাক্বদীরের বিষয়ের হাদীসগুলো সহীহ, হাসান, য‘ঈফ সবগুলোই প্রমাণ করছে কোন তর্ক ছাড়াই তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনতে হবে, যা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। অতএব, তাক্বদীরকে অস্বীকার করা বা মিথ্যাপ্রতিপন্ন করা কুফরী গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। (আল্লাহই ভালো জানেন)

(والقَدَرية) দু’টোতেই যবর দিয়ে অথবা দালে সাকিন দিয়ে পড়া যায়। যারা বলে থাকে বান্দা নিজেই তার কর্মসমূহের স্রষ্টা এক্ষেত্রে তাক্বদীরের কোন প্রাধান্য নেই। এই নামে প্রসিদ্ধ হয়েছে যারা তাক্বদীরকে স্বীকার করে না তারা এই কারণে যে, তারা তাক্বদীর সম্পর্কে কথা বলে এবং তাক্বদীর অস্বীকার করার দলীল উপস্থাপন করে। তাদের বাড়াবাড়ির কারণেই এ নামে প্রসিদ্ধ হতে তারাই বেশী হকদার।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ ৩. তৃতীয় ‘অনুচ্ছেদ - তাকদীরের প্রতি ঈমান

১২১-[৪৩] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা ‘আরাফার মাঠের সন্নিকটে না‘মান নামে এক জায়গায় আদম (আঃ)-এর মেরুদণ্ড হতে তাঁর সন্তানদের বের করে শপথ গ্রহণ করিয়েছিলেন। তিনি আদম (আঃ)-এর মেরুদণ্ড হতে তাঁর প্রত্যেক সন্তানকে বের করেছিলেন। এ সকলকে পিঁপড়ার মতো আদম (আঃ)-এর সামনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের সম্মুখপানে কথা বলেছিলেন- ‘‘আমি কি তোমাদের ‘প্রভু’ নই? আদম সন্তানরা উত্তর দিয়েছিল, হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি আমাদের ‘প্রতিপালক’। এতে আমরা সাক্ষী থাকলাম যাতে তোমরা কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন এ কথা বলতে না পারো, আমরা জানতাম না কিংবা তোমরা এ কথাও বলতে না পারো, আমাদের পিতৃ-পুরুষগণ আমাদের পূর্বে মুশরিক হয়ে গিয়েছিল। আর আমরা তাদের পরবর্তী বংশধর। তুমি কি বাতিলধর্মীরা (পিতৃ-পুরুষগণ) যা করেছে সে ‘আমলের কারণে আমাদেরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে দিবে’’- (সূরাহ্ আ‘রাফ ১৭২-১৭৩)। (আহমাদ)[1]

باب الإيمان بالقدر - الفصل الثالث

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَخذ الله الْمِيثَاق من ظهر آدم بنعمان يَعْنِي عَرَفَة فَأخْرج من صلبه كل ذُرِّيَّة ذَرَاهَا فَنَثَرَهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَالذَّرِّ ثُمَّ كَلَّمَهُمْ قِبَلًا قَالَ: (أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَذَا غافلين أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِنْ قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِنْ بَعْدِهِمْ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ المبطلون)
رَوَاهُ أَحْمد

Chapter: Belief in the Divine Decree - Section 3


Ibn ‘Abbas reported the Prophet as saying: God made the covenant from Adam’s back in Na‘man, i.e. ‘Arafa, and brought forth from his loins all his offspring whom He created and scattered before Him like small ants. He then spoke to them face to face saying, “Am I not your Lord?’ They replied, “Yes, we testify this.” [It was] lest you should say on the day of resurrection, “We were neglectful of this,” or should say, “Our fathers were polytheists before us and we were an offspring after them. Wilt Thou destroy us for what the workers of vanity did?” * Ahmad transmitted it. * Quran, 7:172-173

ব্যাখ্যা: (فَنَثَرَهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ كَالذَّرِّ) ‘‘অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-এর সন্তানদেরকে তাঁর সামনে পিপিলিকার মতো ছড়িয়ে দিলেন।’’ অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা আদম (আঃ)-এর পিঠ থেকে তার সন্তানদেরকে বের করলেন পিপিলিকার মতো ছোট আকারে এবং তাদেরকে আদম (আঃ)-এর সামনে উপস্থাপন করলেন।

(ثُمَّ كَلَّمَهُمْ قُبُلًا) ‘‘অতঃপর তাদের সাথে কথা বলেছিলেন সামনাসামনি’’। অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা সরাসরি তাদের সামনে উপস্থিত হয়ে কথা বলেছিলেন। এ কথার বিনিময় পর্দার অন্তরাল থেকে ছিল না এবং মালাকের (ফেরেশতার) মাধ্যমেও ছিল না।

(أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ؟) ‘‘আমি কি তোমাদের প্রভু নই?’’

(قَالُوا بَلى) ‘‘তারা বললঃ হ্যাঁ।’’ অর্থাৎ- হ্যাঁ, আপনিই আমাদের প্রভু, আপনি ব্যতীত অন্য কেউ আমাদের প্রভু নন।

প্রকৃতপক্ষে অর্থ হলো, নিজের তাওহীদের স্বীকৃতি দেয়ার পরেও এর মাধ্যমে তারা যেন যুক্তি স্থাপন না করতে পারে, এজন্যই আল্লাহ তা‘আলা ঐ স্বীকারোক্তি নিয়েছিলেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৩৪-[৪] ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: আমি জান্নাতে তাকিয়ে দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই হলো দরিদ্র। আর জাহান্নামে তাকিয়ে দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী সম্প্রদায়। (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ. وَاطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6546) و مسلم (94 / 2737)، (6938) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন

৫২৬৪-[৩৪] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে অভুক্ত ও অভাবী ব্যক্তি তার প্রয়োজনের কথা মানুষের নিকট গোপন করে (সবর করে) তখন আল্লাহর জিম্মায় এ ওয়াদা রয়েছে যে, তিনি বৈধভাবে এক বছরের রিযক তাকে পৌঁছে দেবেন। (হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বীর শুআবুল ঈমান বর্ণনা করেছেন)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَاعَ أَوِ احْتَاجَ فَكَتَمَهُ النَّاسُ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَرْزُقَهُ رِزْقَ سَنَةٍ مِنْ حلالٍ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10054 ، نسخۃ محققۃ : 9581) * فیہ ابو عبد الرحمن السلمی ضعیف جدًا ، ولاعمش مدلس و عنعن ان صح السند الیہ و علل أخری ۔
(ضَعِيف)

ব্যাখ্যা : “যে ব্যক্তি অভুক্ত থাকে এটা প্রকৃত এবং বাস্তব ক্ষুধাকেই বুঝানো হয়েছে। অথবা এমন অভাব যে, কোন বস্তু তার ক্ষুধা, কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন মিটানোর মতো নেই, কিন্তু সে তার ক্ষুধা ও অভাবের কথা কারো কাছে প্রকাশ করে না বরং ধৈর্যধারণ করে থাকে এমন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর হক রয়েছে এক বছর পর্যন্ত তাকে হালাল রিযক দান করেন। এখানে ‘হক’ অর্থ পূর্ণ অঙ্গীকার অথবা তার নিকট আবশ্যক সিদ্ধান্ত। ক্ষুধা হলো ঐ ক্ষুধা যাতে ধৈর্য এবং অল্পে তুষ্টি রয়েছে, আর ‘কিতমান’ হলো নিজের অভাব তথা ক্ষুধাকে গোপন রাখা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)।


হাদিসের মানঃ মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৩-[৬] ইবনু আব্বাস (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আদম সন্তানকে ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ দুটি উপত্যকাও যদি দেয়া হয়, সে তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করবে। মূলত আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কিছুই পরিপূর্ণ করতে পারবে না, আর যে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ্ কুকূল করেন। (বুখারী ও মুসলিম)।

الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى ثَالِثًا وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6436) و مسلم (118 / 1049)، (2418) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসে ধন-সম্পদের দুটি উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি বর্ণনায় স্বর্ণের দুটি উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। অপর বর্ণনায়, স্বর্ণের দুটি উপত্যকার কথা উল্লেখ রয়েছে। (لَابْتَغَى ثَالِثًا) সে তৃতীয় আরেকটির আকাঙ্ক্ষা করবে’ অর্থাৎ আরেকটি বড় এবং বিশাল উপত্যকা সে কামনা করবে। এভাবে তাকে যদি সেটাও দেয়া যায় তাহলে চতুর্থ বা পঞ্চমটির আকাঙ্ক্ষা সে করবে। আর এভাবে তার আশা ও আকাঙ্ক্ষা চলতে থাকবে। সম্পদ দিয়ে তার চোখও আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ হবে না, হবে একমাত্র মাটি দ্বারা। অর্থাৎ কবরের মাটিই কেবল তার অসীম আকাঙ্ক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটাবে। এতে নাবী (সা.)-এর সতর্ক সংকেত যে বখীলের বুখালতিটা হলো লোভের উত্তরাধিকারী এবং তা মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাবের নিগঢ়ে প্রোথিত। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে বলেছেন যা প্রচলিত প্রবাদ ও হাদীসের চেয়ে অধিক স্পষ্ট। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (قُلۡ لَّوۡ اَنۡتُمۡ تَمۡلِکُوۡنَ خَزَآئِنَ رَحۡمَۃِ رَبِّیۡۤ اِذًا لَّاَمۡسَکۡتُمۡ خَشۡیَۃَ الۡاِنۡفَاقِ ؕ وَ کَانَ الۡاِنۡسَانُ قَتُوۡرًا) “বলুন : যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভাণ্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে খরচের ভয়ে তা অবশ্যই ধরে রাখতে, মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ১০০)

মানুষের সম্পদের লোভ এবং দরিদ্রতাভীতি হলো বুখালতি বা কৃপণতার মূল কারণ। এমনকি নিজের ব্যাপারেও সে কৃপণতা করে থাকে। এর দৃষ্টান্ত ঐ পিপাসিত পাখির চেয়েও অধিক যে সাগরের উপরে পিপাসা নিয়ে উড়ে বেড়ায় কিন্তু সাগরের পানি শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে না খেয়ে মারা যায়।
উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা তাওবাহ করবে আল্লাহ তাদের তাওবাহ্ কবুল করবেন। অর্থাৎ যে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসবে এবং তার রহমত কামনা করবে আল্লাহ তাকে তার রহমতের আশ্রয়ে গ্রহণ করবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৯ পৃ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ

৫২৭৬-[৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) পেশাব করার পর মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করতেন। আমি বলতাম : হে আল্লাহর রসূল! পানি তো আপনার কাছেই। তিনি (সা.) বলতেন, আমি কিরূপে জানব যে, (মৃত্যু আসার পূর্বে) আমি সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারব কিনা? (শারহুস্ সুন্নাহ্ ও ইবনু জাওযী-এর কিতাবুল ওয়াফা')

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُهَرِيقُ الْمَاءَ فَيَتَيَمَّمُ بِالتُّرَابِ فَأَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمَاءَ مِنْكَ قَرِيبٌ يَقُولُ: «مَا يُدْرِينِي لَعَلِّي لَا أَبْلُغُهُ» . رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» وَابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كتاب «الْوَفَاء»

اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 232 ح 4031) [و احمد (1 / 288 و ابن المبارک فی الزھد : 292) و الطبرانی فی الکبیر (12 / 238 ح 12987 ، بلون آخر) * ابن لھیعۃ مدلس و عنعن ۔

ব্যাখ্যা : হাদীসের বাক্য : (كَنَ يُهْرِيقُ الْمَاءَ) তিনি পানি ঢালতেন, এটা কিনায়া বা পরোক্ষ কথা; এর অর্থ তিনি পেশাব করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) পানি হাতের নাগালে অথবা নিকটতম কোন স্থানে না পেলে সাথে সাথে আপাতত তায়াম্মুম করে নিতেন; যাতে পরবর্তী পানি পাওয়া বা উযূর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পবিত্র অবস্থায় থাকতে পারেন। মূলত তিনি জীবনের প্রতি এতটুকু নিশ্চয়তা মনে করতেন না যে, আগামী সালাত পর্যন্ত বা পানির নিকট পৌছা পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব। (মিরকাতুল মাফাতীহ; লুম্'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৯০ পৃ.)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা

৫২৯২-[৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী এ ঘোষণা করবেন, ষাট বছর বয়সপ্রাপ্ত লোকেরা কোথায়? এটা বয়সের এমন একটি সীমা, যার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা (কুরআন মাজীদে) বলেছেন : “আমরা কি তোমাদেরকে এমন বয়স দান করিনি যাতে কোন উপদেশ গ্রহণকারী উপদেশ গ্রহণ করতে পারে? অথচ তোমাদের কাছে ভীতি প্রদর্শনকারী এসেছে “এখন তোমরা শাস্তি আস্বাদন করো, তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই”। (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُنَادِي مُنَادٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: أَيْنَ أَبْنَاءُ السِتِّينَ؟ وَهُوَ الْعُمُرُ الَّذِي قَالَ اللَّهُ تَعَالَى [أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تذكَّرَ وجاءكُم النذير] رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10254 ، نسخۃ محققۃ : 9773) * فیہ ابراھیم بن الفضل المخزومی : متروک و ابوبکر بن ابی دارم : کذاب و لکنہ توبع ، انظر المعجم الکبیر للطبرانی (11 / 177 ۔ 178 ح 11415) ۔
(ضَعِيف)

ব্যাখ্যা : (أَيْنَ أَبْنَاءُ السِتِّينَ؟) ষাট বছর বয়সের অধিকারী ব্যক্তিরা কোথায়? আর এই বয়স সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন : (… اَوَ لَمۡ نُعَمِّرۡکُمۡ مَّا یَتَذَکَّرُ فِیۡهِ مَنۡ تَذَکَّرَ ….)“...তোমাদেরকে এই পরিমাণ বয়স দান করেছি যাতে  তোমাদের মধ্যে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে...।” (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩৭)
(..وَ جَآءَکُمُ النَّذِیۡرُ ..)“...আর তোমাদের কাছে এসেছে সতর্ককারী..."- (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩৭)। এখানে সতর্ককারী বলতে বুঝানো হয়েছে- বার্ধক্যের চুলপাকা অথবা আল কুরআন অথবা রসূল অথবা মৃত্যু অথবা উল্লেখিত সবগুলোই উদ্দেশ্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫২৯৫-[১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্য সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হলো ঐ সমস্ত লোক যারা মন্ত্র-তন্ত্র করায় না, অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে না এবং তারা নিজেদের পরওয়ারদিগারের ওপর ভরসা রাখে। (বুখারী ও মুসলিম)

الفصل الاول (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ» مُتَّفق عَلَيْهِ

متفق علیہ ، رواہ البخاری (6472) و مسلم (371 / 218)، (524) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)

ব্যাখ্যা : (سَبْعُونَ أَلْفًا) ৭০ হাজার। আল্লামাহ্ ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যাই উদ্দেশ্য অথবা আধিক্য উদ্দেশ্য। আল্লামাহ্ মুবারকপূরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রথমটি তথা ৭০ হাজার সংখ্যাই এখানে উদ্দেশ্য। তবে তিরমিযীর বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো ৭০ হাজার এবং প্রতিপালকের দুই হাতের চৌল ভর্তি।
(هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ) তারা ঐ সমস্ত লোক যারা ঝাড়ফুঁক করায় না। না কুরআনের আয়াত দ্বারা, না তার নাম ও গুণাবলির দ্বারা।
(وَلَا يَتَطَيَّرُونَ) তারা পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করে না অথবা পাখি বা কোন প্রাণী বা কোন কথাকে শুভ লক্ষণ মনে করে না বরং কোন বিপদ দেখলে এই দু'আ পাঠ করে: (اَللّٰهُمَّ لَاطَيْرُكَ،وَلَا خَيْرُ إِلَّاخَيْرُكَ،وَلَا إلٰهَ غَيْرُكَ اَللّٰهُمَّ لَا يَأْتِيْ بِالْحَسَنَاتِ إِلَّا أَنْتَ وَلَا يَزْهَبُ بِالسِّئَاتِ إلَّا أَنْتَ)

অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার কল্যাণ ছাড়া আর কারো নিকট কল্যাণের আশা করা যায় না, তোমার ফায়সালাই চূড়ান্ত, তুমি ছাড়া আর কেউ গায়িব জানে না। পাখিরা তো তোমারই সৃষ্টি, তারা ভালো-মন্দের ক্ষমতা রাখে না, তুমি ছাড়া কোন সত্য মা'বুদ নেই।

(وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ) তারা যাবতীয় কর্মকাণ্ডে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। নিহায়াহ্ গ্রন্থকার বলেন, এটা ঐ সমস্ত আওলিয়ার বৈশিষ্ট্য যারা দুনিয়ার সামগ্রীর প্রতি খেয়াল রাখেন না। অতএব এটা নির্দিষ্ট শ্রেণির লোকের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে সর্বসাধারণের জন্য ঝাড়ফুক এবং চিকিৎসা গ্রহণ করার অনুমোদন রয়েছে। তদুপরি যারা বিপদে ধৈর্যধারণ করবে এবং দু'আ ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট তার কষ্ট লাঘব কামনা করবে তারা ঐ সমস্ত খাস বান্দা এবং আওলিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/২৪৩৭)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২০ পর্যন্ত, সর্বমোট ২৯ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 পরের পাতা »