সহীহ শামায়েলে তিরমিযী ৩৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাচনভঙ্গি (باب كيف كان كلام رسول الله ﷺ)

পরিচ্ছেদঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা ছিল সুস্পষ্ট :

১৬৫. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের ন্যায় চটপটে তথা অস্পষ্টভাবে তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না, বরং তাঁর প্রতিটি কথা ছিল সুস্পষ্ট। আর শ্রোতারা খুব সহজেই তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারত।[1]

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ الْبَصْرِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ الأَسْوَدِ ، عَنِ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ عُرْوَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : " مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْرُدُ سرْدَكُمْ هَذَا ، وَلَكِنَّهُ كَانَ يَتَكَلَّمُ بِكَلامٍ بَيِّنٍ فَصْلٍ ، يَحْفَظُهُ مَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ " .

حدثنا حميد بن مسعدة البصري ، قال : حدثنا حميد بن الأسود ، عن أسامة بن زيد ، عن الزهري ، عن عروة ، عن عائشة ، قالت : " ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسرد سردكم هذا ، ولكنه كان يتكلم بكلام بين فصل ، يحفظه من جلس إليه " .


Aisha radiyallahu anha relates that the speech of Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam was not quick and continuous as that of yours. He spoke clearly, word for word. A person sitting in his company remembered what he said.

The speech of Sayyidina Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam was not of an abridged nature or was it fast, that nothing could be understood. He spoke calmly and clearly, word for word. A person sitting by him remembered what he said.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
৩৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাচনভঙ্গি (باب كيف كان كلام رسول الله ﷺ)

পরিচ্ছেদঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন কথা তিনবার বলতেন:

১৬৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কথা তিনবার বলতেন, যাতে (শ্রোতারা) ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে।[1]

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُثَنَّى ، عَنْ ثُمَامَةَ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , يُعِيدُ الْكَلِمَةَ ثَلاثًا لِتُعْقَلَ عَنْهُ " .

حدثنا محمد بن يحيى ، قال : حدثنا أبو قتيبة سلم بن قتيبة ، عن عبد الله بن المثنى ، عن ثمامة ، عن أنس بن مالك ، قال : " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم , يعيد الكلمة ثلاثا لتعقل عنه " .


Anas ibn Maalik radiyallahu anhu says, “Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam (sometimes) repeated a word (as was necessary) thrice, so that his listeners understood well what he was saying”.

সহজে বোধগম্য নয় এমন বিষয় হলে বা শ্রোতা অধিক থাকলে তিন দিকে ফিরে তিনবার বলতেন। যাতে উপস্থিত সকলে ভালোভাবে বুঝে নিতে পারে। তাছাড়া কোন বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদানের জন্যও কোন কোন কথা তিনবার বলতেন।


If what he was explaining was difficult or it was something that had to be given a thought, or if there were many people, he faced all three sides and repeated it to every side, so that those present understood well what he was said. Repeating a thing thrice was maximum. If saying a thing twice only sufficed, he only said it twice.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
৩৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাচনভঙ্গি (باب كيف كان كلام رسول الله ﷺ)

পরিচ্ছেদঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ) এর বর্ণনা :

১৬৭. হাসান ইবনে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আমার) মামা হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবয়ব ও আখলাক সম্পর্কে সুন্দররুপে বর্ণনা করতেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা আখিরাতে উম্মতের মুক্তির চিন্তায় বিভোর থাকতেন। এ কারণে তাঁর কোন স্বস্তি ছিল না। তিনি অধিকাংশ সময় নীরব থাকতেন। বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। তিনি ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যালাপ করতেন। তাঁর কথা ছিল একটি থেকে অপরটি পৃথক। তাঁর কথাবার্তা অধিক বিস্তারিত ছিল না কিংবা অতি সংক্ষিপ্তও ছিল না। অর্থাৎ তাঁর কথার মর্মার্থ অনুধাবনে কোন প্রকার অসুবিধা হতো না। তাঁর কথায় কঠোরতার ছাপ ছিল না, থাকত না তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব।

আল্লাহর নিয়ামত যত সামান্যই হতো তাকে তিনি অনেক বড় মনে করতেন। এতে তিনি কোন দোষত্রুটি খুঁজতেন না। তিনি অপরিহার্য খাদ্য সামগ্রীর ত্রুটি খতিয়ে দেখতেন না এবং উচ্ছসিত প্রশংসাও করতেন না। পার্থিব কোন বিষয় বা কাজের উপর ক্রোধ প্রকাশ করতেন না এবং তাঁর জন্য আক্ষেপও করতেন না। অবশ্য যখন কেউ দীনি কোন বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করত তখন তাঁর রাগের সীমা থাকত না। এমনকি তখন কেউ তাঁকে বশে রাখতে পারত না। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কারণে ক্রোধাম্বিত হতেন না এবং এজন্য কারো সাহায্য গ্রহণ করতেন না। কোন বিষয়ের প্রতি ইশারা করলে সম্পূর্ণ হাত দ্বারা ইশারা করতেন। তিনি কোন বিস্ময় প্রকাশ করলে হাত উল্টাতেন। যখন কথাবার্তা বলতেন তখন ডান হাতের তালুতে বাম হাতের আঙ্গুলের আভ্যন্তরীণ ভাগ দ্বারা আঘাত করতেন। কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হলে তাঁর দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং অমনোযোগী হতেন। যখন তিনি আনন্দ-উৎফুল্ল হতেন তখন তাঁর চোখের কিনারা নিম্নমুখী করতেন। অধিকাংশ সময় তিনি মুচকি হাসতেন। তখন তাঁর দাঁতগুলো বরফের ন্যায় উজ্জ্বল সাদারূপে শোভা পেত।[1]

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا جُمَيْعُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعِجْلِيُّ ، قَالَ : حدَّثنِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ مِنْ وَلَدِ أَبِي هَالَةَ زَوْجِ خَدِيجَةَ يُكْنَى أَبَا عَبْدِ اللَّهِ ، عَنِ ابْنٍ لأَبِي هَالَةَ ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ ، قَالَ : سَأَلْتُ خَالِي هِنْدُ بْنُ أَبِي هَالَةَ ، وَكَانَ وَصَّافًا ، فَقُلْتُ : صِفْ لِي مَنْطِقَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَاصِلَ الأَحْزَانِ , دَائِمَ الْفِكْرَةِ , لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ ، طَوِيلُ السَّكْتِ ، لا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ ، يَفْتَتِحُ الْكَلامَ , وَيَخْتِمُهُ بِاسْمِ اللَّهِ تَعَالَى ، وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ ، كَلامُهُ فَصْلٌ ، لا فُضُولَ , وَلا تَقْصِيرَ ، لَيْسَ بِالْجَافِي , وَلا الْمُهِينِ ، يُعَظِّمُ النِّعْمَةَ وَإِنْ دَقَّتْ لا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئًا ، غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَذُمُّ ذَوَّاقًا وَلا يَمْدَحُهُ ، وَلا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا ، وَلا مَا كَانَ لَهَا ، فَإِذَا تُعُدِّيَ الْحَقُّ , لَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ , حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ ، وَلا يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ ، وَلا يَنْتَصِرُ لَهَا ، إِذَا أَشَارَ بِكَفِّهِ كُلِّهَا ، وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَبَهَا ، وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا ، وَضَرَبَ بِرَاحَتِهِ الْيُمْنَى بَطْنَ إِبْهَامِهِ الْيُسْرَى ، وَإِذَا غَضِبَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ ، وَإِذَا فَرِحَ غَضَّ طَرْفَهُ ، جُلُّ ضَحِكِهِ التَّبَسُّمُ ، يَفْتَرُّ عَنْ مثل حَبِّ الْغَمَامِ " .

حدثنا سفيان بن وكيع ، قال : حدثنا جميع بن عمر بن عبد الرحمن العجلي ، قال : حدثني رجل من بني تميم من ولد أبي هالة زوج خديجة يكنى أبا عبد الله ، عن ابن لأبي هالة ، عن الحسن بن علي ، قال : سألت خالي هند بن أبي هالة ، وكان وصافا ، فقلت : صف لي منطق رسول الله صلى الله عليه وسلم ، قال : " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم متواصل الأحزان , دائم الفكرة , ليست له راحة ، طويل السكت ، لا يتكلم في غير حاجة ، يفتتح الكلام , ويختمه باسم الله تعالى ، ويتكلم بجوامع الكلم ، كلامه فصل ، لا فضول , ولا تقصير ، ليس بالجافي , ولا المهين ، يعظم النعمة وإن دقت لا يذم منها شيئا ، غير أنه لم يكن يذم ذواقا ولا يمدحه ، ولا تغضبه الدنيا ، ولا ما كان لها ، فإذا تعدي الحق , لم يقم لغضبه شيء , حتى ينتصر له ، ولا يغضب لنفسه ، ولا ينتصر لها ، إذا أشار بكفه كلها ، وإذا تعجب قلبها ، وإذا تحدث اتصل بها ، وضرب براحته اليمنى بطن إبهامه اليسرى ، وإذا غضب أعرض وأشاح ، وإذا فرح غض طرفه ، جل ضحكه التبسم ، يفتر عن مثل حب الغمام " .


Imaam Hasan radiyallahu anhu says, “I asked my (maternal) uncle Hind ibn Abi Haalah, who always described the noble features of Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam to describe to me the manner in which Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam spoke. He replied that Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam was always worried (about the hereafter). And always busy thinking (about the attributes of Allah and the betterment of the Ummah). Because of these things he was never free from thought and never rested (or because of worldly affairs he did not gain rest, but gained rest and contentment from religious well being. It is mentioned in the hadith that the coolness of my eyes is in salaah). He always spoke clearly from beginning to end. (He did not speak in a manner where only half sentences are spoken and the other half remained in the mind
of the speaker, as is prevalent among snobbish high-minded and proud people). He spoke concisely, where the words are less and meaning more. (Mulla Ali Qaari has collected forty such ahaadith in his commentary which are very short. Those who wish may refer to it and memorise it). Every word was clearer than the previous one. There was no nonsensical talk, nor was there half-talks’ where the meaning was not complete and could not be grasped. He was not shorttempered, nor did he disgrace anyone. He always greatly appreciated the blessings of Allah even though it might be very minute, he did not criticize it.

He did not criticize food, nor over-praised it (The reason for not criticizing food is clear, that it is a blessing from Allah. The reason for not praising it is because it might be felt that one is gluttonous. Nevertheless, he praised food if it was to make someone happy, and sometimes praised some special things). He was never angered for anything materialistic. (The reason being that he did not pay much attention, and did not care much about materialistic things).

If someone exceeded the limits in religious matters or against the truth, he became so angry that no one could endure it, nor could anybody stop it till he avenged it. If for some reason he made a gesture or pointed at something, he did it with a full hand. (The ulama say the reason being that it is against humbleness to point with one finger only. Some ulama say it was his noble habit to signal oneness of Allah with one finger, therefore he did not signal anyone in that manner).
When he was surprised by something he turned his hands, and when he spoke sometimes while talking, he moved his hands, he sometimes hit the palm of his right hand with the inside part of his left thumb. When he became angry with someone, he turned his face away from that person, and did not pay attention to that person or he forgave that person. When he was happy due to humility it seemed as if he had closed his eyes. The laugh of Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam was mostly a smile, at that moment his mubarak front teeth glittered like white shining hailstone.

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোন খাদ্যের ত্রুটি ধরতেন না। কারণ, এটা আল্লাহর নিয়ামত। আবার অতিরিক্ত প্রশংসাও করতেন না। তবে কখনো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা বা কারো সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন খাদ্যের সাধারণ প্রশংসাও করেছেন। দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত কোন কিছুই তাঁকে রাগান্বিত করত না।


This hadith is the remaining portion of the seventh hadith mentioned in the first chapter. Every sentence of it should be read carefully and one should try to emulate them as much as possible. Every action of Sayyidina Rasoolullah sallallahu alaihe wasallam is complete in humbleness and etiquette. Sayyidina Hind ibn Abi Haalah radiyallahu anhu is a step brother of Sayyiditina Faatimah radiyallahu anha.


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
৩৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাচনভঙ্গি (باب كيف كان كلام رسول الله ﷺ)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৩ পর্যন্ত, সর্বমোট ৩ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে