মুত‘আ বিয়ের মধ্যে কোন সাক্ষী ও ঘোষণার দরকার নেই

আত-তুসী আত-তাহযীব (التهذيب) নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন:

“মুত‘আ বিয়ের মধ্যে কোন সাক্ষী রাখার ও ঘোষণা দেয়ার প্রয়োজন নেই।”[1]

আত-তুসী আরও বর্ণনা করেন:

“আবূ জাফর আ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শুধু মিরাস বা উত্তরাধিকারের কারণে বিবাহের মধ্যে দলিল-প্রমাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”[2]

আবূ জাফর আত-তুসী তার আত-তাহযীব (التهذيب) নামক গ্রন্থে আরও বর্ণনা করেন:

“আমি আবূ আবদিল্লাহ আ.কে জিজ্ঞাসা করলাম ঐ পুরুষ ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি কোন নারীকে একটি কাঠির বিনিময়ে বিয়ে করে? জওয়াবে তিনি বললেন: কোন অসুবিধা নেই; কিন্তু যখন সে কাজ শেষ করে অবসর গ্রহণ করবে, তখন সে তার চেহারাকে পরিবর্তন করবে এবং তাকাবে না।”[3]

তিনি আত-তাহযীব (التهذيب) নামক গ্রন্থে আরও বর্ণনা করেন:

হাশেমী বংশের মহিলার সাথে মুত‘আ বিয়েতে কোন সমস্যা নেই।”[4]

আল-কুলাইনী তার ‘আল-কাফী’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন:

“আবূ আবদিল্লাহ আ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক মহিলা ওমরের নিকট আগমন করল, অতঃপর বলল, আমি ব্যভিচার করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন; অতঃপর তিনি (ওমর) তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আমীরুল মুমিনীন আ.কে এই ব্যাপারে সংবাদ দেয়া হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কিভাবে ব্যভিচার (যিনা) করেছ? তখন সে বলল: আমি মরুভূমিতে পথ অতিক্রম করেছি, অতঃপর আমাকে প্রচণ্ড পানির তৃষ্ণায় পেল, আমি এক বেদুইনের নিকট পানি প্রার্থনা করলাম, কিন্তু সে আমাকে পানি পান করাতে অস্বীকার করল যতক্ষণ না আমি তাকে আমার উপর ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ দেই। অতঃপর পিপাসা যখন আমাকে ক্লান্ত করে ফেলল এবং আমি আমার জীবন নিয়ে আশঙ্কাবোধ করলাম, তখন সে আমাকে পানি পান করাল; আর আমিও আমার নিজের উপর তাকে ক্ষমতাবান করে দিলাম। এ কথা শুনে আমীরুল মুমিনীন আ. বললেন: কাবার মালিকের শপথ, এটা তো বিবাহ।”[5]

সুবহানাল্লাহ! প্রবৃত্তি শিয়াদের উপর বিজয় লাভ করেছে; ফলে তারা আমীরুল মুমিনীন আলী ইবন আবি তালিবের সাথে এই ধরনের মিথ্যাসমূহের সম্পর্কযুক্ত করেছে। অথবা তারা বুঝাতে চাচ্ছে যে, অপরাধী যালিম কর্তৃক জোরপূর্বক একজন নারীকে ব্যভিচার করা, তার উপর জবরদস্তি করা এবং মৃত্যু ও পিপাসা দ্বারা তাকে ভীতি প্রদর্শন করা; অতঃপর তার ষড়যন্ত্রের কারণে তার আহ্বানে সাড়া দেয়া এই সব কিছুই শিয়াদের নিকট শরিয়ত সম্মত বিবাহ বলে স্বীকৃত। অথবা এর দ্বারা কি প্রশস্ত দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে না, যা দিয়ে প্রত্যেক অপরাধী ও ইতর শ্রেণীর লোক অনুপ্রবেশ করবে, অতঃপর যে কোন ভদ্র ও সম্মানিত মহিলাকে অপহরণ করবে এবং এই ধরনের যে কোন উপায় অবলম্বন করে তার সাথে যিনা-ব্যভিচার করতে তাকে বাধ্য করবে। অতঃপর শিয়াদের নিকট তা হয়ে যাবে বৈধ বিবাহ। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, ইসলাম এই ধরনের মন্দ কাজ ও অপকর্ম থেকে মুক্ত ও পবিত্র।

অতঃপর শিয়াগণ মুত‘আ বিয়ের বৈধতার ব্যাপারে দলিল পেশ করে আল্লাহ তা‘আলার বাণী দ্বারা:

﴿فَمَا ٱسۡتَمۡتَعۡتُم بِهِۦ مِنۡهُنَّ فَ‍َٔاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةٗ﴾ [سورة النساء: 24]

“তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা সম্ভোগ করেছ, তাদেরকে নির্ধারিত মোহর দিয়ে দাও।”— (সূরা আন-নিসা: ২৪); ইবনু মাসউদের এক কিরাতে রয়েছে:

" فَمَا ٱسۡتَمۡتَعۡتُم بِهِ مِنۡهُنّ إلى أجلٍ"

অর্থাৎ- তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা সম্ভোগ করেছ নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত।

দলিলের জওয়াব:

আয়াতে উল্লেখিত "فاء" টি বাক্যকে পৃথক করার জন্য ব্যবহৃত, বাক্যকে নতুন করে শুরু করার অর্থে নয়। সুতরাং فَمَا ٱسۡتَمۡتَعۡتُم بِهِ مِنۡهُنّ মানে তোমরা বিশুদ্ধ বিবাহের দ্বারা নারীদের সাথে মিলনের মাধ্যমে যে স্বাদ ও উপকার হাসিল করেছে, তার বিনিময় স্বরূপ তাদের প্রতিদান তথা মোহর দিয়ে দাও। আর ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর কিরাতটি একটি বিচ্ছিন্ন কিরাত, যা মূল গ্রন্থসমূহের মধ্যে পাওয়া যায় না; সুতরাং এটাকে কুরআন ও হাদিস বলে প্রমাণ দেয়া যাবে না এবং তার উপর আমল করাও আবশ্যক হবে না।

মুত‘আ বিয়ে অবৈধ ও নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ইজমা সংঘটিত হয়েছে। এ ব্যাপারে শিয়াদের একটা অংশ ব্যতীত শহুরে আলেমদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আর মুত‘আ বিয়ে নিষিদ্ধ (হারাম) হওয়ার উপর দলিল হল আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿ قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ١ ٱلَّذِينَ هُمۡ فِي صَلَاتِهِمۡ خَٰشِعُونَ ٢ وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَنِ ٱللَّغۡوِ مُعۡرِضُونَ ٣ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ ٤ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِفُرُوجِهِمۡ حَٰفِظُونَ ٥ إِلَّا عَلَىٰٓ أَزۡوَٰجِهِمۡ أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُهُمۡ فَإِنَّهُمۡ غَيۡرُ مَلُومِينَ ٦ فَمَنِ ٱبۡتَغَىٰ وَرَآءَ ذَٰلِكَ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡعَادُونَ ٧ ﴾ [سورة المؤمنون: 1-7]

“অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ, যারা বিনয়-নম্র নিজেদের সালাতে, যারা ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকে, যারা যাকাত দানে সক্রিয়, যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভূক্ত দাসীগণ ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না, আর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তার হবে সীমালংঘনকারী।”— (সূরা আল-মুমিনুন: ১-৭)

সুতরাং এই আয়াতসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হল যে, পুরুষ ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রী ও অধিকারভূক্ত দাসীগণ ব্যতীত অন্য কোন নারী বৈধ নয়; অতএব এর বাইরে কোন নারীকে ব্যবহারের পথ খুঁজলে, সে হবে সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত। আর এই কথা সুস্পষ্ট যে, পুরুষ ব্যক্তি মুত‘আ বিয়ের মাধ্যমে যে নারীর কর্তৃত্ব লাভ করবে, সে নারী তার জন্য বিবাহিত নয়। কারণ, মুত‘আ বিয়ের সাক্ষী, তার খরচ বহন করা, উত্তরাধিকার ও তালাকের শর্ত নেই; অনুরূপভাবে তাতে (মুত‘আ বিয়ের মধ্যে) চারটাতে সীমিতকরণ, তাকে বিক্রয়, হেবা ও মুক্তি দেয়ার বৈধতার শর্তও নেই, যেমনিভাবে তা দাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। সুতরাং কিভাবে মুত‘আ বিয়ে হালাল বা বৈধ হবে?

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿فَإِنۡ خِفۡتُمۡ أَلَّا تَعۡدِلُواْ فَوَٰحِدَةً أَوۡ مَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡ﴾ [سورة النساء: 3]

“আর যদি আশঙ্কা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসীকে।”— (সূরা আন-নিসা: ৩)

সুতরাং যে ব্যক্তি অন্যায়ের আশঙ্কা করবে, সে যেন একজন স্ত্রী অথবা তার অধিকারভূক্ত দাসীকে যথেষ্ট মনে করে। সুতরাং কোথায় মুত‘আ বিয়ে? অতএব যদি তা হালাল হত, তবে তিনি (আল্লাহ) তা উল্লেখ করতেন। কারণ, প্রয়োজনের সময় আলোচনা বিলম্বিত করা বৈধ নয়।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿ وَمَن لَّمۡ يَسۡتَطِعۡ مِنكُمۡ طَوۡلًا أَن يَنكِحَ ٱلۡمُحۡصَنَٰتِ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ فَمِن مَّا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُم مِّن فَتَيَٰتِكُمُ ٱلۡمُؤۡمِنَٰتِۚ وَٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِإِيمَٰنِكُمۚ بَعۡضُكُم مِّنۢ بَعۡضٖۚ فَٱنكِحُوهُنَّ بِإِذۡنِ أَهۡلِهِنَّ وَءَاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِ مُحۡصَنَٰتٍ غَيۡرَ مُسَٰفِحَٰتٖ وَلَا مُتَّخِذَٰتِ أَخۡدَانٖۚ فَإِذَآ أُحۡصِنَّ فَإِنۡ أَتَيۡنَ بِفَٰحِشَةٖ فَعَلَيۡهِنَّ نِصۡفُ مَا عَلَى ٱلۡمُحۡصَنَٰتِ مِنَ ٱلۡعَذَابِۚ ذَٰلِكَ لِمَنۡ خَشِيَ ٱلۡعَنَتَ مِنكُمۡۚ وَأَن تَصۡبِرُواْ خَيۡرٞ لَّكُمۡۗ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٢٥ ﴾ [سورة النساء: 25]

“তোমাদের মধ্যে কারও স্বাধীনা ঈমানদার নারী বিয়ে করার সামর্থ্য না থাকলে তোমরা তোমাদের অধিকারভূক্ত ঈমানদার দাসী বিয়ে করবে; আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত। তোমরা একে অপরের সমান; সুতরাং তাদেরকে বিয়ে করবে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে এবং তাদেরকে তাদের মোহর ন্যায়সংগতভাবে দিয়ে দেবে। তারা হবে সচ্চরিত্রা, ব্যভিচারী নয় ও উপপতি গ্রহণকারিণীও নয়। বিবাহিতা হওয়ার পর যদি তারা ব্যভিচার করে, তবে তাদের শাস্তি স্বাধীনা নারীর অর্ধেক; তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারকে ভয় করে, এটা তাদের জন্য; ধৈর্য ধারণ করা তোমাদের জন্য মঙ্গল। আল্লাহ ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।”— (সূরা আন-নিসা: ২৫)

সুতরাং যদি মুত‘আ বিয়ে হালাল হত, তবে তিনি (আল্লাহ) তা উল্লেখ করতেন। বিশেষ করে তিনি উল্লেখ করেছেন ﴾مَنۡ خَشِيَ ٱلۡعَنَتَ﴿ অর্থাৎ- ‘যারা ব্যভিচারকে ভয় করে’। আর (যদি মুত‘আ বিয়ে হালাল হত) তিনি তা উল্লেখ করতেন না। সুতরাং এটাই প্রমাণ হয় যে, নিঃসন্দেহ তা (মুত‘আ বিয়ে) হারাম।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

﴿ وَلۡيَسۡتَعۡفِفِ ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغۡنِيَهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦ﴾ [سورة النور: 33]

“যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।”— (সূরা আন-নূর: ৩৩)

সুতরাং তিনি যার বিয়ের সামর্থ্য নেই, তাকে মুত‘আ বিয়ের মাধ্যমে নারীর উপর কর্তৃত্ব গ্রহণ ও তাকে ভোগ করার নির্দেশ দেননি; যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করেন (সচ্চরিত্রবান অবস্থায় প্রকাশ্য ব্যভিচারের জন্য নয়)। আর আয়াত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, বিয়ের মধ্যে রয়েছে সতীত্ব ও পবিত্রতা; আর মুত‘আ বিয়ের মধ্যে তার কিছুই নেই। সুতরাং তা হারাম (নিষিদ্ধ) হওয়ার ব্যাপারে এ সবই সুস্পষ্ট প্রমাণ।

আর রাফেযীগণ (শিয়াগণ) মুত‘আ বিয়ের বৈধতার ব্যাপারে আমাদের নিকট বিশুদ্ধ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত কিছু সংখ্যক হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করে; তার জওয়াব হল: ঐসব হাদিস মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে; যেমনিভাবে তা সুস্পষ্ট হয়ে যায় অপরাপর হাদিসসমূহ থেকে, যা আমরা অচিরেই উল্লেখ করব। যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন সকল ব্যাখ্যাকার এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইমামগণ। আর এই ব্যাপারে সকলের ইজমা (ঐক্যমত) হয়েছে। সুতরাং তাদের পক্ষে তার (মুত‘আ বিয়ের বৈধতার) ব্যাপারে কোন দলিল নেই।

আর মুত‘আ বিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে আরও দলিল হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:

« يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّى قَدْ كُنْتُ أَذِنْتُ لَكُمْ فِى الاِسْتِمْتَاعِ مِنَ النِّسَاءِ وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ ذَلِكَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْهُنَّ شَىْءٌ فَلْيُخَلِّ سَبِيلَهُ وَلاَ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا ». [ أخرجه مسلم]

“হে লোকসকল! আমি তোমাদেরকে (সাময়িক বিয়ের মাধ্যমে) নারীদের ভোগ করার অনুমতি দিয়েছিলাম; আর আল্লাহ তা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সুতরাং যার নিকট তাদের পক্ষ থেকে কোন বস্তু রয়েছে, সে যেন তার পথ উন্মুক্ত করে দেয়; আর তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তার মধ্য থেকে কিছুই গ্রহণ করো না।”[6]

অনুরূপভাবে ইমাম মুসলিম র. আরও বর্ণনা করেছেন:

«أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُتْعَةِ وَقَالَ: أَلاَ إِنَّهَا حَرَامٌ مِنْ يَوْمِكُمْ هَذَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ كَانَ أَعْطَى شَيْئًا فَلاَ يَأْخُذْهُ ». [ أخرجه مسلم]

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত‘আ বিয়ে থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: সাবধান! নিশ্চয় তা (মুত‘আ বিয়ে) তোমাদের এই দিন থেকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত হারাম (নিষিদ্ধ)। আর যে ব্যক্তি কোন কিছু প্রদান করেছে, সে যেন তা গ্রহণ না করে।”[7]

ইমাম তিরমিযী র. বর্ণনা করেন:

«عن ابن عباس قال : إنما كانت المتعة في أول الإسلام كان الرجل يقدم البلدة ليس له بها معرفة فيتزوج المرأة بقدر ما يرى أنه يقيم فتحفظ له متاعه وتصلح له شيئه حتى إذا نزلت الآية ﴿ إلا على أزواجهم أو ما ملكت أيمانهم ﴾ قال ابن عباس فكل فرج سوى هذين فهو حرام ». [ أخرجه مسلم]

“ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুত‘আ বিয়ে ইসলামের প্রথম দিকে বৈধ ছিল, পুরুষ ব্যক্তি বিভিন্ন শহরে আগমন করত, যা তার নিকট অপরিচিত; অতঃপর সে যেই পরিমাণ সময় সেখানে অবস্থান করত, সেই পরিমাণ সময়ের জন্য কোন নারীকে বিয়ে করত; অতঃপর সে তার মালমাত্তার হেফাজত করত এবং তার জিনিসপত্র তার জন্য ঠিকঠাক করে রাখবে, শেষ পর্যন্ত আয়াত নাযিল হল: ﴾إلا على أزواجهم أو ما ملكت أيمانهم﴿ অর্থাৎ- (যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে) নিজেদের স্ত্রী অথবা অধিকারভূক্ত দাসীগণ ব্যতীত); ইবনু আব্বাস রা. বলেন: এই দুই যৌন অঙ্গ ব্যতীত সকল যৌন অঙ্গই হারাম।”[8]

আল-হাযেমী বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারা তাদের বাড়ি-ঘর ও নিজ দেশে অবস্থানরত অবস্থায় তাদের জন্য কখনও মুত‘আ বিয়ে বৈধ করেন নি; বরং তিনি শুধু বিভিন্ন সময়ে জরুরী প্রয়োজনে তাদের জন্য তা বৈধ করেছেন; শেষ পর্যন্ত তিনি তাদের উপর তা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।

শিয়াদের কিতাবসমূহের মধ্যেও বর্ণিত আছে:

« عن علي عليه السلام قال: حرّم رسول الله صلى الله عليه و سلم يوم خيبر لحوم الحمر الأهلية و نكاح المتعة ». [ التهذيب]

“আলী আ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বরের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাদার গোশত ও মুত‘আ বিয়ে নিষিদ্ধ করেছেন।”[9]

মুত‘আ বিয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার উপর কার্যকরী ও অকাট্য দলিলসমূহ পুরাপুরিভাবে উপস্থাপনের পর আমাদের উচিত যুক্তিভিত্তিক দলিলের গভীরভাবে দৃষ্টি দেওয়া; তবে কিন্তু সে দলিলসমূহ হতে হবে খেয়াল-খুশি থেকে মুক্ত এবং নির্লজ্জতা ও খোঁড়া যুক্তির উর্ধ্বে। আর তা হল, একজন পুরুষের জন্য শুধু চারটি[10] বিবাহ বৈধ রাখা হয়েছে, তার বেশি নয়। অপরদিকে রাফেযী ও শিয়াগণ একজন পুরুষের জন্য এক হাজার অথবা দুই হাজার নারীকে ভোগ করার বৈধতা দিয়েছে, যার আলোচনা পূর্বে হয়েছে। সুতরাং এই পদ্ধতি তার অধিক ছেলে ও মেয়ের বাস্তবতার দিকে নিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিবাহ ও উত্তরাধিকার নীতিমালার মধ্যে ত্রুটি সৃষ্টি করবে। কারণ, সে বিবাহ ও উত্তরাধিকারের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে তখনই জানতে পারবে, যখন সে বংশের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারবে; কিন্তু তাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠবে না। অতএব ধরে নাও যে, যদি কোন ব্যক্তি বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করে এবং প্রত্যেক শহরে গিয়ে সে মুত‘আ বিয়ের মাধ্যমে নারী ভোগ করতে থাকে, এমনকি পরবর্তীতে তার অনেক ছেলে-মেয়ে হয়ে গেল; অতঃপর তার অথবা তার কোন এক ভাই অথবা কন্যার সুযোগ হল ঐ শহরগুলোতে ফিরে যাওয়ার এবং চলাফেরা করার; অতঃপর সে ব্যক্তি সেখানকার কোন নারীকে বিয়ে করল; সুতরাং ঐ নারীদের কেউ তার কন্যা হতে কিসে বাধা দেবে? আর তখন দেখা যাবে যে, তার বিয়ে হয়েছে তার কোন কন্যা অথবা তার ভাইয়ের কন্যা অথবা তার বোনের সাথে।

আশ্চর্যের বিষয় হল, এই সবের পরেও শিয়াগণ মুত‘আ বিয়েকে (বৈধ বলে) আঁকড়ে ধরে রাখে এবং দলিল পেশ করে যে, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানার শুরুর দিকে প্রচলিত ছিল। আর তারা প্রমাণ করে যে, মুত‘আ বিয়ে সংঘটিত হত সাক্ষীর মাধ্যমে এবং তারা এ সম্পর্কে জানতে পারে তাদের কিতাবসমূহের মধ্য থেকে।

আর এই যুগে শিয়াগণ যে মুত‘আ বিয়ের কথা প্রকাশ করে, তাতে তারা সাক্ষীর শর্ত করে না; সুতরাং কিভাবে এই মুত‘আ বিয়ের বিশুদ্ধতার উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানার শুরুর দিকে প্রচলিত মুত‘আ বিয়ের দ্বারা তাদের দলিল পেশ করাটা শুদ্ধ হবে? আর তুমি তাদের বর্ণনাসমূহ নিয়ে ভেবে দেখ। ইমাম জাফর সাদিককে জিজ্ঞাসা করা হল: মুসলিমগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিনা প্রমাণে বিবাহ করত কিনা; জবাবে তিনি বললেন: না।[11] আর তারা এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছে “তারা মুত‘আ বিয়ে করে” (باب المتعة يتزوجون) নামক অধ্যায়ে। বিয়ে দ্বারা তাদের নিকট উদ্দেশ্য হল মুত‘আ বিয়ে। আর লেখক সুস্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এর থেকে স্থায়ী বিবাহকে উদ্দেশ্য করেন নি; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন মুত‘আ বিয়েকে।

>
[1] আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আত-তাহযীব (التهذيب), ২য় খণ্ড, ১৮৮

[2] আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আত-তাহযীব (التهذيب), ২য় খণ্ড, ১৮৬

[3] আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আত-তাহযীব (التهذيب), ২য় খণ্ড, ১৯০

[4] আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবন হাসান আত-তুসী, আত-তাহযীব (التهذيب), ২য় খণ্ড, ১৯৩

[5] ফুরু‘উল কাফী (فروع الكافي), ২য় খণ্ড, বিবাহ অধ্যায় (كتاب النكاح) পৃ. ১৯৮

[6] সহীহ মুসলিম, বিবাহ (نكاح) অধ্যায়, বাব নং- ৩, হাদিস নং- ৩৪৮৮

[7] সহীহ মুসলিম, বিবাহ (نكاح) অধ্যায়, বাব নং- ৩, হাদিস নং- ৩৪৯৬


[8] সুনানুত তিরমিযী, বিবাহ (نكاح) অধ্যায়, বাব নং- ২৯ (باب تحريم نكاح المتعة), হাদিস নং- ১১২২

[9] আত-তাহযীব (التهذيب), ২য় খণ্ড, পৃ. ১৮৬; আল-ইসতিবসার (الاستبصار),৩য় খণ্ড, পৃ. ১৪২

[10] চারটি বিয়ে মানে একজন পুরুষ একসাথে সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী নিয়ে ঘর-সংসার করতে পারবে। তালাক বা মৃত্যু জনিত কারণে শূন্যতার ভিত্তিতে শরিয়ত সম্মতভাবে তার বিয়ের সংখ্যা চারের অধিকও হতে পারে। — অনুবাদক।

[11] আত-তাহযীব (التهذيب), ২য় খণ্ড, পৃ. ১৮৯