শারহুল আক্বীদা আত্-ত্বহাবীয়া ৫২. যা সংঘটিত হবে বলে আল্লাহ লাওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন তা যদি সকল সৃষ্টি একত্রিত হয়েও রোধ করতে চায় তারা সেটা করতে সক্ষম হবে না। পক্ষান্তরে, তাতে যে বিষয় সংঘটিত হবার কথা তিনি লিখেননি, সমস্ত সৃষ্টি একত্রিত হয়েও তা ঘটাতে পারবে না ...... ইমাম ইবনে আবীল ইয আল-হানাফী (রহিমাহুল্লাহ)
যা সংঘটিত হবে বলে আল্লাহ লাওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন তা যদি সকল সৃষ্টি একত্রিত হয়েও রোধ করতে চায় তারা সেটা করতে সক্ষম হবে না। পক্ষান্তরে, তাতে যে বিষয় সংঘটিত হবার কথা তিনি লিখেননি, সমস্ত সৃষ্টি একত্রিত হয়েও তা ঘটাতে পারবে না। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যা ঘটবে তা লিপিবদ্ধ হয়ে কলমের কালি শুকিয়ে গেছে।

ইমাম ত্বহাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন,

فَلَوِ اجْتَمَعَ الْخَلْقُ كُلُّهُمْ عَلَى شَيْءٍ كَتَبَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ أَنَّهُ كَائِنٌ، لِيَجْعَلُوهُ غَيْرَ كَائِنٍ -لَمْ يَقْدِرُوا عَلَيْهِ, وَلَوِ اجْتَمَعُوا كُلُّهُمْ عَلَى شَيْءٍ لَمْ يَكْتُبْهُ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ، لِيَجْعَلُوهُ كَائِنًا- لَمْ يَقْدِرُوا عَلَيْهِ. جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

যা সংঘটিত হবে বলে আল্লাহ লাওহে মাহফুযে লিখে রেখেছেন তা যদি সকল সৃষ্টি একত্রিত হয়েও রোধ করতে চায় তারা সেটা করতে সক্ষম হবে না। পক্ষান্তরে, তাতে যে বিষয় সংঘটিত হবার কথা তিনি লিখেননি, সমস্ত সৃষ্টি একত্রিত হয়েও তা ঘটাতে পারবে না। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যা ঘটবে তা লিপিবদ্ধ হয়ে কলমের কালি শুকিয়ে গেছে।

........................................................

ব্যাখ্যা: জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, সুরাকা বিন মালেক বিন জু’শুম আগমন করে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের দ্বীনের বিষয়গুলো এভাবে বর্ণনা করুন যে, মনে করবেন আমাদেরকে কেবল এ মাত্র সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা আজ কীসের জন্য আমল করবো? ঐ বিষয়ের জন্য যা লিখার পর কলমের কালি শুকিয়ে গেছে এবং তাকদীর নির্ধারণ হয়ে গেছে? নাকি আমরা ঐ বিষয়ের জন্য আমল করছি, যা ভবিষ্যতে নির্ধারণ করা হবে? জবাবে তিনি বললেন, না। বরং তোমরা ঐ বিষয়ের জন্য আমল করছো, যা লিখার পর কলমের কালি শুকিয়ে গেছে এবং তাকদীর নির্ধারণ হয়ে গেছে।[1]

আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি রসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে বসাছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন,

يا غلام ألا أعلمك كلمات احفظ الله يحفظك، احفظ الله تجده تجاهك، إذا سألت فاسأل الله، وإذا استعنت فاستعن بالله وَاعْلَمْ أَنَّ الأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَىْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلاَّ بِشَىْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ وَلَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَىْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلاَّ بِشَىْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ رفعت الأقلام، وجفت الصحف

‘‘আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখবো। তুমি আল্লাহর হকসমূহের সংরক্ষণ করো। তাহলে আল্লাহ তোমাকে হেফাযত করবেন। তুমি আল্লাহর অধিকার সমূহের হেফাযত করো। তাহলে তুমি আল্লাহকে সামনে পাবে। যখন কিছু চাইবে তখন কেবল আল্লাহর কাছেই চাইবে। আর যখন সাহায্য চাইবে তখন কেবল আল্লাহর কাছেই চাইবে। জেনে রাখ! দুনিয়ার সব মানুষ মিলেও যদি তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তাথাপি তারা শুধু তোমার ততটুকু উপকারই করতে পারবে, যা আল্লাহ তোমার জন্য লিখে দিয়েছেন। আর যদি তারা মিলিত হয়ে তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়, তথাপি তারা শুধু সেই পরিমাণ ক্ষতিই করতে পারবে, যা আল্লাহ তা‘আলা তোমার উপর লিখে দিয়েছেন। যা কিছু লিখার ছিল তা লিখার পর কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এবং পুস্তকে লিখার পর কালি শুকিয়ে গেছে’’।[2] ইমাম তিরমিযী হাদীছটি বর্ণনা করার পর হাসান ছহীহ বলেছেন।

তিরমিযী ব্যতীত অন্যান্য কিতাবে হাদীছটি এভাবে এসেছে, তুমি আল্লাহর হকসমূহের হেফাযত করো, তাহলে আল্লাহকে সামনে পাবে। স্বাচ্ছন্দের সময় তুমি আল্লাহকে চিনবে, তাহলে আল্লাহ তোমাকে কষ্টের সময় চিনবেন। তুমি এ কথা বিশ্বাস করবে যে, ‘তোমার জীবনে যা ঘটেনি তা ঘটারই ছিল না। আর যা ঘটেছে তা তোমার জীবনে ঘটারই ছিল। জেনে রাখো! সবরের সাথেই বিজয়। আপদ-বিপদের পরেই মুক্তি এবং দুঃখের পরই সুখ’’।উপরোক্ত হাদীছগুলো এবং অন্যান্য হাদীছের মধ্যে কলমকে বহুবচন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বুঝা গেল লাওহে মাহফুয যে কলম দিয়ে লিখা হয়েছে সেই প্রথম কলমটি ব্যতীত তাকদীর সমূহ লিখার আরো অনেক কলম রয়েছে।

[1]. ছহীহ: শাইখ আলবানী রাহিমাহুল্লাহুর তাহকীকসহ শরহুল আকীদাহ আত্ তাহাবীয়া, টিকা নং- ২৪০।

[2]. মুসনাদে আহমাদ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন। দেখুন: শাইখের তাহকীকসহ মিশকাত, হাদীছ নং- ৫৩০২।