ভুল রিপোর্ট করতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
লা-তাহযান [হতাশ হবেন না] লা-তাহযান - অনুচ্ছেদ সূচি ড. আয়িদ আল করনী
৩২৬. আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا

ভাবাৰ্থঃ “প্ৰভু হিসেবে আল্লাহর প্রতি, ধর্ম হিসেবে ইসলামের প্রতি এবং নবী হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আমি সন্তুষ্ট।” এ কথার প্রতি ঈমান (বিশ্বাস) রাখার পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই আল্লাহর তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তাকদীরে বিশ্বাসের ব্যাপারে যখন আপনার পছন্দ-অপছন্দ থাকে তখন আপনার বিশ্বাস (ঈমান) সঠিক নয়।

তাকদীরে বাছ-বিচার থাকার অর্থ হলো শুধুমাত্র আপনার ইচ্ছার সাথে মানানসই তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট ও পরিতৃপ্ত থাকা এবং একই সময়ে আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যে তাকদীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা ও এর প্রতি রোষ (রাগ) পোষণ করা।

কিছু কিছু লোক তাদের প্রভুর প্রতি তখন খুশি হতো যখন নাকি সবকিছু সহজ থাকত কিন্তু যখন সবকিছু কঠিন হতো তখন তারা তার তাকদীরে রুষ্ট থাকত।

এদের সম্বন্ধে আল্লাহ বলেছেন- “যদি তার কোন কল্যাণ হয় তবে সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, কিন্তু যদি তার কোন বিপদ হয় তবে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় (অর্থাৎ পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় তথা ইসলাম গ্রহণ করার পর পুনরায় কাফের হয়ে যায়)। সে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টাই হারায়।” (২২-সূরা আল হাজ্জঃ আয়াত-১১)

কিছু কিছু মরুবাসী আরব প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করত এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে (অর্থাৎ কুরআনের দ্বারা) তারা যখন স্বচ্ছলতা ও উপকার পেত তখন তারা বলত, “এটা উত্তম ধর্ম।” তখন তারা হুকুম মানত ও ধর্মীয় কর্তব্য পালন করত।

কিন্তু যখন তারা বিপরীত অবস্থা অবলোকন করত, উদাহরণস্বরূপ- খরা ও দারিদ্র, তখন তারা হতাশায় তাদের ধর্মকে পরিত্যাগ করে মুখ ফিরিয়ে নিত। এভাবে যে ব্যক্তি ইসলাম চর্চা করে সে সর্বদাই তার ইচ্ছা পূরণার্থে স্বাচ্ছদ্য ও স্বস্তিই আশা করে।

আল্লাহর ইবাদত করার জন্য এবং ইসলামের পতাকা বহন করার জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে, কিন্তু সে এ সম্মানে সন্তুষ্ট নয়, সে চিরস্থায়ী শাস্তির যোগ্য।

“তাদেরকে ঐ ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শোনাও যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ (নিদর্শনাবলী) দিয়েছিলাম, কিন্তু সে সেগুলোকে থেকে দূরে সরে যায় (ওগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করে), তাই শয়তান তার পিছু নেয়, ফলে সে বিপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।” (৭-সূরা আল আ’রাফঃ আয়াত-১৭৫)

আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্তরা যে জীবন বিধান অনুসরণ করেছেন সে উচ্চতর জীবন বিধান অনুসারে যারা জীবন যাপন করতে চান তারাই অল্পে তুষ্টির পথ অনুসরণ করেন।

হুনাইনের যুদ্ধের পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গনীমতের মাল বণ্টন করলেন। বিভিন্ন গোত্রপতি ও বিলম্বে বা দেরীতে ইসলাম গ্রহণকারী আরবদেরকে তিনি গনীমতের মাল বণ্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের তুষ্টি ও ঈমানের প্রতি আশ্বস্ত হয়ে তাদেরকে গনীমতের মাল দিলেন না। সম্ভবত তাদের কেউ কেউ এ বণ্টন থেকে তাদের বাদ পড়ার কারণ পুরাপুরি বুঝতে পারেনি, তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বাদ দেয়ার কারণ তাদের নিকট ব্যাখ্যা করার প্রতি তার ভালোবাসার কথা জানালেন এবং এও জানালেন যে, ইসলামের নিকটবর্তী করার জন্যই শুধুমাত্র তিনি অন্যদেরকে (গনীমতের সব মাল) দিয়েছেন, তাদের ঈমানের দুর্বলতার কারণেই একাজ করা হয়েছে, তাদের ঈমানকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন ছিল। তিনি আনসারদেরকে বললেনঃ

“যখন নাকি লোকেরা উট ও ভেড়া নিয়ে চলে যাচ্ছে তখন তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে যাচ্ছ এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট নও। আনসারগণ আমার অন্তর্বাসের (গেঞ্জি ইত্যাদির) মতো আর অন্যরা আমার বহির্বাসের (কোর্তা ইত্যাদির) মতো (অর্থাৎ মর্যাদাসম্পন্ন)।

আল্লাহ যেন আনসারদেরকে, আনসারদের সন্তানদেরকে এবং আনসারদের বংশধরদেরকে করুণা করেন। সব মানুষ যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলে তবে আনসারগণ অন্য উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে ভ্রমণ করবে আর আমিও আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথ দিয়ে চলব।

তখন তারা সন্তুষ্ট হলো, তাদের উপর আনন্দ ও প্রশান্তি নেমে আসল। অধিকন্তু আল্লাহ ও তার রাসূল তাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে গেলেন। যারা সত্যিকার অর্থে আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় তারা এমনকি গোটা দুনিয়ার বিনিময়েও এ সন্তুষ্টিকে বিক্রি (বিলীন) করে দিবে না। আল্লাহর সন্তুষ্টির পুরস্কারের সাথে কোন কিছুরই তুলনা হয় না।

এক মরুবাসী আরব আল্লাহর রাসূলের উপস্থিতিতে ইসলাম গ্রহণ করলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিছু টাকা-পয়সা দিলেন। আরব্য লোকটি তখন বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার আনুগত্য করার বায়াত (অঙ্গীকার) আমি এর জন্য করিনি।” নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে কেন তুমি আমাকে অনুসরণ করার বাইয়াত করেছ?” তিনি উত্তর দিলেন, “আমি আপনার বাইয়াত এজন্য করেছি যাতে একটি তীর (তার গলা দেখিয়ে বলল) আমার এখান দিয়ে ঢুকে (এবার তার ঘাড়ের পিছন দিক দেখিয়ে বলল) এখান দিয়ে বের হয়ে যায়।” আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তুমি যদি আল্লাহর নিকট সৎ থাক তবে আল্লাহ ও (তার অঙ্গীকারের ব্যাপারে) তোমার সাথে সৎ থাকবেন।” লোকটি একটি যুদ্ধে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং একটি তীর তাকে ঠিক সেভাবেই আঘাত করেছিল যেভাবে তিনি আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন।

আরেকবার আল্লাহ্‌র রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সম্পদ বিতরণ করেছিলেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে দুর্বল ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দিলেন; কিন্তু, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে যাদের তরবারি রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, দ্বীন রক্ষার্থে যারা তাদের দেহ ও সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দিলেন না।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে বললেন-

“আল্লাহ যাদের অন্তরে লোভ ও উদ্বিগ্নতা দিয়েছেন আমি তাদেরকে দেই আর অন্যান্যদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান ও কল্যাণ দেয়ার কারণেই আমি তাদেরকে দিই না। তাদের একজন হলেন আমর ইবনে তাগলাব।”

আমর (রাঃ) বললেন, “এ সব (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) এমন কথা-যেগুলোর বিনিময়ে আমি গোটা দুনিয়াটাকেও কিনব না।” এ হলো পরম সন্তুষ্টি ও মহান আল্লাহর নিকট যা আছে তার চরম অন্বেষণ। তাদের কারো নিকটে গোটা দুনিয়ার মূল্যও আল্লাহর রাসূলের হাসির সমান ছিল না।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অঙ্গীকার ছিল, আল্লাহর পুরস্কার, তার সন্তুষ্টি ও জান্নাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে অট্টালিকা, পদমর্যাদা ও জমিজমার অঙ্গীকার দেননি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বলতেন, “যে ব্যক্তি অমুক অমুক কাজ করবে তার পুরস্কার হবে জান্নাত।” আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কাউকে বলতেন, “যে ব্যক্তি অমুক অমুক কাজ করবে সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে।” পার্থিব তুচ্ছ মুদ্রা দ্বারা সাহাবীদের বিশাল ত্যাগ ও প্রচেষ্টার প্রতিদান দিতে পারা যায় না। পরকালে তাদেরকে ন্যায্য প্রতিদান দিতে পারা যাবে।

ইমাম তিরমিয়ী (রহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাঃ) মক্কায় হজ্জ করতে যাওয়ার জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুমতি নিতে গেলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, لا تنسنا من دعائك يا اخى অর্থাৎ “হে আমার ভাই। তোমার প্রার্থনায় আমাদেরকে ভুলে যেও না।”

এ অনুরোধের বক্তা বা কথক ছিলেন হেদায়েতের বার্তাবাহক, যিনি নিষ্পাপ ছিলেন এবং যিনি ইচ্ছানুসারে কথা বলতেন না বরং অহী অনুসারে কথা বলতেন। উমর (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অমূল্য ও হৃদয়ের কাজিত বাণী সম্বন্ধে বলেছেন, “গোটা দুনিয়ার বিনিময়েও আমি একথাগুলো বিক্রি করব না।”

কল্পনা করুন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে বলেছেন, “হে আমার ভাই! তোমার দোয়ায় আমাদেরকে ভুলনা যেন। তখন আপনার কেমন লাগবে?

আল্লাহর নিকট নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সন্তুষ্টির ও আনন্দের মাত্রার স্তর বর্ণনা করা আমাদের সাধ্যাতীত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বচ্ছলতার সময় ও দারিদ্রতার সময়, সুস্থতার সময় ও অসুস্থতার সময় এবং সুখে ও দুঃখে বা দুঃসময়ে ও সুসময়ে তার প্রতিপালকের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতীম হওয়ার তিক্ততা ও দুঃখ ভোগ করেছেন। তার জীবনে মাঝে মাঝে তিনি খাওয়ার জন্য একটি নিম্নমানের খেজুরও সংগ্রহ করতে পারতেন না। ক্ষুধার যন্ত্রণা নিবারণ করতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেটে পাথর বাঁধতেন। এক ইহুদীর কাছে থেকে গম ঋণ করার জন্য তাকে তার নিকট তার বর্মকে বন্ধক (জামানত) হিসেবে রাখতে হয়েছিল। তার বিছানা ছিল খড়কুটার যাতে তার পার্শ্বদেশে দাগ বসে যেত ও ব্যথা করত। মাঝে মাঝে খাবার যোগাড় করতে তিনটি গোটা দিন (বা পুরা তিন দিন) কেটে গেছে। এতসব দুঃখ-কষ্ট ও সংকট সত্ত্বেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমগ্র বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।

“তিনি কতইনা মহান যিনি ইচ্ছা করলেই তোমার জন্য সৃষ্টি করে দিতে পারেন এর চেয়ে উত্তম জান্নাত (উদ্যান) সমূহ যাদের নিম্ন (পাদ) দেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে নদী-নালা, আরো তিনি (ইচ্ছা করলেই) তোমার জন্য সৃষ্টি করে দিতে পারেন অট্টালিকাসমূহ।” (২৫-সূরা আল ফুরকানঃ আয়াত-১০)

তার দ্বীন প্রচার অভিযানের প্রাথমিক বছরগুলোতে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়েও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। গোটা দুনিয়া তাদের জনসংখ্যা নিয়ে, তাদের সম্পদ নিয়ে ও তাদের ক্ষমতা নিয়ে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় তার চাচা আবু তালিব ও তার স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) উভয়েই ইন্তেকাল করেছেন। কুরাইশরা তাকে ও তার অনুসারীদেরকে সব রকমের শাস্তি দিয়েছিল। মিথ্যুক, জাদুকর, গণক, পাগল ও কবি হওয়ার অভিযোগ দিয়ে তার জাতি তাকে অপবাদ দিয়েছিল। তার জন্মভূমি মক্কা- যেখানে তিনি শিশু হিসেবে (শিশুকালে) খেলা-ধুলা করেছেন ও বড় হয়েছেন সেখান থেকে তাকে যেদিন তাড়িয়ে দেয়া হয়! সেদিনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। মক্কার দিকে ফিরে তার নয়নযুগল আঁখিজলে টসটসে হয়ে গিয়েছিল আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন-

انك أحب بلاد الله إلى ولولا أن اهلك أخرجوني منك ما خرجت

“আল্লাহর জমিনের মধ্যে তুমিই আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়, তোমার অধিবাসীরা যদি তোমার কাছ থেকে আমাকে তাড়িয়ে না দিত তবে আমি (তোমাকে) ছেড়ে যেতাম না।”

যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মহান বাণী পৌছানোর জন্য তায়েফে গমন করলেন আর তাকে স্বাগতম জানানোর পরিবর্তে বরং তাকে পাথর নিক্ষেপ করে সংবর্ধনা জানানো হয়েছিল। ফলে তার পা দিয়ে রক্ত ঝরেছিল তখনও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রভুর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের যুদ্ধে আহত হয়েছিলেন, তাঁর এক চাচা নিহত হয়েছিলেন, তাঁর বহু সাহাবীদেরকে জবাই করা হয়েছিল তবুও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের পরক্ষণেই বলেছিলেন-

صفوا ورائى لاثنى على ربى

“তোমরা আমার পিছনে কাতার বেঁধে দাঁড়াও, যাতে আমি আমার প্রভুর প্রশংসা করতে পারি।”

সংক্ষেপে, তার জীবনের প্রতিটি মুহুর্তেই তিনি তার প্রভুর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন- যার পুরস্কার নিম্নোক্ত আয়াতে উল্লেখ করা হযেছে-

وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَىٰ

“আর নিশ্চয় শীঘ্রই আপনার প্রভু আপনাকে (এমন জিনিস) দান করবেন যার ফলে আপনি সন্তুষ্ট (আনন্দিত) হয়ে যাবেন।” (৯৩-সূরা আদ দোহা আয়াত-৫)