প্রশ্নোত্তরে সহজ তাওহীদ শিক্ষা তাওহীদ সম্পর্কে প্রশ্ন এবং উত্তর আব্দুল আলীম ইবনে কাওসার
২৮: অলী-আওলিয়ারা কি গায়েবের খবর জানেন? তারা কি মৃতকে জীবিত করতে পারেন?

একমাত্র আল্লাহ ছাড়া গায়েবের খবর আর কেউই জানে না। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿وَلَوۡ كُنتُ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ لَٱسۡتَكۡثَرۡتُ مِنَ ٱلۡخَيۡرِ وَمَا مَسَّنِيَ ٱلسُّوٓءُۚ﴾ [الاعراف: ١٨٨]

“আর আমি যদি গায়বের কথা জানতাম, তাহলে বহু কল্যাণ অর্জন করে নিতে পারতাম এবং কোনো অকল্যাণ আমাকে স্পর্শ করতে পারত না” (আ'রাফ ১৮৮)। অনুরূপভাবে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া মৃতকে আর কেউই জীবিত করতে পারে না। আল্লাহ বলেন,

﴿قُلِ ٱللَّهُ يُحۡيِيكُمۡ ثُمَّ يُمِيتُكُمۡ ثُمَّ يَجۡمَعُكُمۡ إِلَىٰ يَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ لَا رَيۡبَ فِيهِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ ٢٦ ﴾ [الجاثية: ٢٦]

“আপনি বলুন, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যে দিনের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বুঝে না” (জাছিয়াহ ২৬)

চার ইমামের সকলেই এ মর্মে একমত পোষণ করেছেন, যে ব্যক্তি দাবি করবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েবের খবর রাখেন অথবা মৃতকে জীবিত করেন, সে মুরতাদ অর্থাৎ ইসলামের গণ্ডির বাইরে। কেননা সে এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌র উপর মিথ্যারোপ করে। কারণ আল্লাহ তাঁর রাসূলকে মানুষ এবং জিন জাতিকে নিম্নোক্ত বাণী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেনঃ

﴿ قُل لَّآ أَقُولُ لَكُمۡ عِندِي خَزَآئِنُ ٱللَّهِ وَلَآ أَعۡلَمُ ٱلۡغَيۡبَ وَلَآ أَقُولُ لَكُمۡ إِنِّي مَلَكٌۖ ﴾ [الانعام: ٥٠]

“আপনি বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহ্‌র ভাণ্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয়ও অবগত নই। আমি এমনও বলি না যে, আমি ফেরেশতা” (আন‘আম ৫০)। ইমাম বুখারী তাঁর স্বীয় সহীহ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অদৃশ্যের চাবি পাঁচটি, যা আল্লাহ ছাড়া কেউই জানেন না:

﴿ إِنَّ ٱللَّهَ عِندَهُۥ عِلۡمُ ٱلسَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ ٱلۡغَيۡثَ وَيَعۡلَمُ مَا فِي ٱلۡأَرۡحَامِۖ وَمَا تَدۡرِي نَفۡسٞ مَّاذَا تَكۡسِبُ غَدٗاۖ وَمَا تَدۡرِي نَفۡسُۢ بِأَيِّ أَرۡضٖ تَمُوتُۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرُۢ ٣٤ ﴾ [لقمان: ٣٤]

“নিশ্চয় আল্লাহ্‌র কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তা তিনি জানেন। কেউ জানে না যে, সে আগামীকাল কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না যে, সে কোন্‌ দেশে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত” (লুক্বমান ৩৪)'।

তবে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অদৃশ্যের খবর ঠিক ততটুকুই জানেন, যতটুকু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে জানান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো এই দাবি করেন নি যে, তিনি তাঁর কোনো সাহাবীকে অথবা তাঁর প্রয়াত কোনো সন্তানকে জীবিত করেছেন। আর যদি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও অলীর দ্বারা এটি সম্ভব না হয়, তাহলে যারা তাঁর থেকে নিম্ন পর্যায়ের, তাদের দ্বারা এগুলি কিভাবে সম্ভব হতে পারে?!