যুব-সমস্যা ও তার শরয়ী সমাধান হস্তমৈথুন আবদুল হামীদ ফাইযী
হস্তমৈথুন

মিলনের স্বাদ উপভোগ করার জন্য কোন উপযুক্ত উপকরণ না পাওয়া গেলে অথবা তা ব্যবহার করার সুযোগ না থাকলে, দুধের সাধ ঘোলে মিটাবার উদ্দেশ্যে প্রায় অধিকাংশ যুবক। নিজের হাতকেই কৃত্রিম বিবি বানিয়ে থাকে। আর এ কাজ যেহেতু নিজের দেহ ও দেহাঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, সেহেতু অনেকেই তা খারাপ বা অশ্লীল ভাবে না, বিধায় হালাল বা বৈধ মনে করে।

পক্ষান্তরে এ কাজও এক প্রকার নৈতিকতা ও রুচি-বিরুদ্ধ গুপ্ত অশ্লীল কাজ; যা ইসলামে অবৈধ। কোন মুসলিম নিজের বিবাহিতা স্ত্রী এবং অধিকারভুক্ত (ক্রীত বা কাফের যুদ্ধবন্দিনী) দাসী ছাড়া অন্য কারো বা কিছুর মাধ্যমে কাম-তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, “বিশ্বাসীরা অবশ্যই সফলকাম হবে---- যারা নিজেদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে। তবে নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসিগণের ক্ষেত্রে অন্যথা কামনা করলে তারা নিন্দনীয় হবে না। আর কেউ এদের ব্যতীত অন্যকে কামনা করলে, তারাই হবে সীমালংঘনকারী।” (সূরা মু'মিনুন ৫-৭, সূরা মাআরিজ ২৯-৩১ আয়াত)

সুতরাং সকল প্রকার যৌনক্রিয়া স্ত্রীর মাঝে সীমাবদ্ধ। স্ত্রী না থাকলে তা হারাম ও অবৈধ। সে ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা মুসলিম যুবকের জন্য অবধার্য। তিনি বলেন, “যাদের বিবাহের সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত তারা যেন সংযম অবলম্বন করে।” (সূরা নুর ৩৩ আয়াত)।

আর মহানবী (সা.) বিবাহে অসমর্থ যুবকদলকে রোযা রাখার মাধ্যমে সংযম অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) পরন্তু হস্তমৈথুন বৈধ হলে নিশ্চয় তার কোন ইঙ্গিত তিনি দিয়ে যেতেন।

‘হ্যান্ড-প্র্যাক্টিস্ বা হাত দ্বারা বীর্যপাত করা এক প্রকার নেশা ও কুঅভ্যাস, যা সত্বর ত্যাগ করে নিজের কাম-শক্তিকে নিয়ন্ত্রিত না করতে পারলে ঐ ক্ষণিকের সুখের বদলায় অপেক্ষা করছে বিরাট লাঞ্ছনা ও স্বাস্থ্যহানির ধংসকারিতা।

যৌবন যুবকের এক অমূল্য সম্পদ। এ সম্পদের অপচয় ঘটালে, অপচয়কারী অবশ্যই একদিন পস্তাবে। উঠতি যৌবনেই যৌন-স্বাদের অপূর্ব তৃপ্তির কথা আবিষ্কৃত হওয়ার সাথে সাথেই যদি তার অপব্যবহার করে, তবে নিশ্চয় সে তার জীবনে অকাল-বার্ধক্য ডেকে আনবে। হাতের কাছে পেয়ে কোন জিনিসই যাচ্ছেতাই করে খেয়ে শেষ করা জ্ঞানীর কাজ নয়। রয়ে-বসে ধৈর্যের সাথে যথাসময়ে খেলে, তবেই তার প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়।

সুতরাং যুবকের উচিত নয়, নিজের হাতে অমুল্য যৌবনকে ধ্বংস করা। এমনিতেই ধনজন-যৌবন জোয়ারের পানি, আজ আছে কাল নেই, জানে সব জ্ঞানী। তার উপর কৃত্রিম মৈথুনের মাধ্যমে বীর্যক্ষয় করে যৌবন ফুরিয়ে যাওয়ার বহু পূর্বেই তা হারিয়ে ফেলা নির্বোধদের কাজ। আজ এসব কথায় হয়তো কেউ কর্ণপাত না করলেও কাল অবশ্যই বুঝতে পারবে, যখন বিবাহের পর বাসর রাতেই ফুলশয্যায় সুসজ্জিতা সুরভিতা দিলরুবা স্ত্রীর পাশে মাথায় হাত রেখে বসে পস্তাতে হবে! যখন ধ্বজভঙ্গ হয়ে পুরুষাঙ্গ শিথিল থাকলে অথবা সঞ্চালন মাত্র দ্রুতপতন ঘটলে ঐ অতিরিক্ত যৌন-পাগলামির জন্য বারবার আক্ষেপ করবে। কিন্তু তখন কি আর আক্ষেপ কাজে দেবে? সময়ে সোনা চেন নাই, খুঁটে বাধ নাই। তখন ‘সোনা ফেলে আঁচলে গিড়ে দিয়ে লাভ কি? হাত দ্বারা কৃত কৃত্রিম মৈথুনের ফলে পুরুষাঙ্গের কোষবৃদ্ধি (হাইড্রোসিল) রোগ হয়। শুক্রক্ষরণ রোগেরও সূত্রপাত হয় এই অতিরিক্ত হস্ত-সঙ্গমের ফলে। এতে বীর্য পাতলা হয়ে যায়। ফলে স্ত্রী-সহবাসের সময় দ্রুত বীর্যস্খলন ঘটে যায়।

হস্তমৈথুনের ফলে কোষ্টবদ্ধতা রোগ সৃষ্টি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অল্প কথায় রাগ ধরে বেশী, ধৈর্যশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে, স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দেয়, দেহ-মন থেকে স্ফুর্তি চলে যায়, মন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়, শারীরিক দুর্বলতা প্রকাশ পায়, সুন্দর স্বাস্থ্য ধ্বংস হয়ে যায়, দৃষ্টিশক্তি লোপ পায়, পিঠ কুঁজিয়ে যায়, পিঠে এক প্রকার ব্যথা অনুভূত হয়। হস্তমৈথুনের ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়, পড়াশোনায় প্রচন্ড প্রভাব ফেলে এই গুপ্ত যৌনাচার। হস্তমৈথুনের ফলে খাদ্য হজমে গোলযোগ দেখা দেয়। কর্তব্যে ক্রটি প্রকাশ পায়, আল্লাহর ইবাদতে ঔদাস্য সৃষ্টি হয়, রোযা নষ্ট হয়ে যায়।

হস্তমৈথুনের ফলে মনের কাছে সব সময় নিজেকে একজন অপরাধী বলে অনুভূত হলে লোক-সমাজেও তার আচরণে সে ভাব ফুটে ওঠে। সর্বদা নির্জনে থাকতে ইচ্ছা হয়।

অনেক সময় এ কু-অভ্যাসের প্রভাব অভ্যাসীর চেহারায় পরিস্ফুট হয়। বলা বাহুল্য, এমন কুপ্রবৃত্তির কাছে পরাজয় স্বীকার করা এবং অতিশয় কামাসক্ত হয়ে পড়া মানুষের বিশেষ করে কোন মুসলিমের উচিত নয়। যথাসম্ভব এমন উত্তেজনা ও কুঅভ্যাসকে দমন করা অবশ্যকর্তব্য। মন্দ-প্রবণ মন ও শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং তাতে জয়লাভ করা মু'মিনের কর্তব্য।

দুর্বল মনের বন্ধু আমার! এমন কু-অভ্যাসের ফাদ থেকে রক্ষা পেতে নিমোক্ত উপদেশমালার অনুসরণ করঃ

১- হস্তমৈথুনে অভ্যাসী যুবক ঈমান ও দ্বীনদারী তথা আল্লাহ-ভীতির ব্যাপারে বড় দুর্বল হয়। তাই তো সে মনের খাহেশ ও চাহিদার কাছে পরাজয় স্বীকার করে। অথচ তার উচিত, ঈমান সবল ও তাজা করা, আল্লাহর ভয় মনে-প্রাণে সর্বদা জীবিত রাখা। এমন হলে নিশ্চয় সে কু-অভ্যাসের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে।

২- এ কাজ তুমি যদি অভ্যাসগতভাবে করে থাক, তাহলে এমনও হতে পারে যে, বিবাহের পর স্ত্রী-মিলনে কোন তৃপ্তি পাবে না। বরং তার চাইতে ঐ কুকাজে তৃপ্তি পাবে অধিক। তখন দুইভাবে বীর্যক্ষয় হবে এবং যার ফলে তুমি নিজের জন্য ধ্বংস ডেকে আনবে। যখন সামান্য যৌন-চিন্তায় অভ্যাসগতভাবে যখন-তখন বীর্য নষ্ট করবে এবং ক্ষণিকের তৃপ্তি লাভের আশায় নিজের হাতে নিজের যৌবন-মধুকে গেলে সত্বর নষ্ট করে ফেলবে। সুতরাং কুঅভ্যাসের আঁধার কারাগার থেকে মুক্তি পেতে তোমার দরকার হল দৃঢ়-সংকল্পের। সুদৃঢ় মনোবল এবং যথােচিত ধৈর্য ছাড়া এমন দলদল থেকে বের হওয়ার কোন অন্য উপায় নেই। অতএব মনকে শক্ত কর এবং কাম অনুভূতির সময় ধৈর্য ধর।

৩- এমন গুপ্ত অভ্যাসের একটি কারণ হল চোখের দর্শন-তৃপ্তি উপভোগ। যে জিনিস। দেখলে যৌন-উত্তেজনা আসে বা বাড়ে, সে জিনিস দেখার ফলে লৈঙ্গিক ভোগের নেশা মাথায় চড়ে বসে। অতএব তুমি কোন বেপর্দা নারীর দিকে সকাম দৃকপাত করো না। অর্ধনগ্ন নারীর প্রতি দৃষ্টি তুলো না। সিনেমা, ভিডিও বা টিভিতেও ফিল্ম দেখা অবশ্যই বন্ধ কর। নোংরা পত্র-পত্রিকায় নগ্ন ও অর্ধনগ্ন রূপসীদের, হিরোইন ও মডেল কন্যাদের ছবি দেখা ত্যাগ কর। নচেৎ কুঁয়োতে বিড়াল রেখে বালতি-বালতি পানি তুলে ফেললেও পানি পাক হবে না। আর তুমিও তোমার ঐ কু-অভ্যাস ছাড়তে পারবে না।

৪- এমন স্থানে বেড়াতে বা অপ্রয়োজনে যেও না, যেখানে অধিকাধিক মহিলা নজরে পড়ে। অতএব মেলা-খেলা, সৌখিন বাজার, পার্ক ও সমুদ্র-সৈকতে বেড়াতে যাবে না। নচেৎ এ অভ্যাস তোমার জন্য ছাড়া দায় হবে।

৫- নারী অথবা যৌবন নিয়ে সর্বপ্রকার কুচিন্তাকে তোমার মন থেকে সমুলে তুলে ফেল।

৬- আর এর পরিবর্তে তুমি তোমার সুচিন্তাকে যত্নের সাথে মনে স্থান দাও মন এমন এক চলন্ত আটা-চাকির মত যে, তা সব সময় ঘুরে কিছু না কিছু পিষতেই থাকে। যে চাকিতে গম দিলে গম পিষে এবং ইট-পাথর দিলে, তাও পিষে। ভালো-মন্দ যাই হোক, মনের চাকিতে কোন না কোন রকমের চিন্তা পিষাই হতেই থাকে। আর এ চাকির কোন বিরতি নেই। অতএব মনকে চিন্তাশূন্য করা অসম্ভব। তাই তাকে পিষার জন্য সুচিন্তা দিতে হবে। আর শয়তান কুচিন্তার ইট-পাথর পিষার জন্য নিয়ে এলেও তোমাকে সজাগ থেকে তোমার আটাচাকি থেকে তাকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে বিদায় করতে হবে। অতঃপর কোন ভালো জিনিস নিয়ে গবেষণা করতে হবে।

৭- মনকে ব্যস্ত রাখার জন্য কোন এক ব্যস্ততাময় কাজ বেছে নাও। কিছু একটা কর। একটা বই পড়। অর্থসহ কুরআন পড়। কুরআন অথবা ইসলামী বক্তৃতার ক্যাসেট শোনা কোন একটা বৈধ খেলা খেল। পরের উপকার কর। ইত্যাদি।

৮- গান শোনা অবশ্যই ত্যাগ কর। গান হল ব্যভিচারের মন্ত্র। অতএব তা তোমাকে ঐ কাজে আরো উদ্বুদ্ধ করবে। মনকে ‘ফ্রি’ করতে গিয়ে আরো ‘জ্যাম’ হয়ে যাবে।

৯- নোংরা পত্র-পত্রিকা, প্রেম-কাহিনীমূলক উপন্যাস, রতিশাস্ত্র খবরদার পড়ো না। ঐ সকল পত্রিকা বা বই-পুস্তকে কিছু ভাষাজ্ঞান বা অন্যান্য সাধারণ জ্ঞান থাকলেও তা হল জুয়া ও মদের মত। যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, “বল, উভয়ের মাঝে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য উপকারও আছে। কিন্তু উভয়ের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক।” (সূরা বংহ্বারাহ ২ ১৯

পক্ষান্তরে উল্লেখিত জ্ঞান অর্জন করার জন্য উপযুক্ত পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তক ভূরিভূরি বিদ্যমান। তা বেছে নিয়ে পড়া।

১০- একাকী থেকো না। বিশেষ করে পুর্বে কোন যৌন-উত্তেজক কিছু নজরে পড়ে থাকলে নির্জনে বসো না। কারণ, শয়তান তোমাকে সেই দেখা জিনিস বারবার মনে করিয়ে দিবে। সুতরাং নেক বন্ধু বা দ্বীনী ভাই-এর নিকটে গিয়ে বসে একাকীত্ব দুর কর এবং সম্ভব হলে রাত্রেও তারই নিকট কবর, পরকাল, মুসলিমদের বর্তমান দুরবস্থা প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করতে করতে ঘুমিয়ে যাও।

১১- হ্যা, তবে একাকীত্ব দূর করতে কোন খারাপ বন্ধুর কাছে বসো না বা রাত্রি যাপন করো । নচেৎ সে বন্ধু তোমার ব্রণ গেলে বিষ-ফেঁড়াতে পরিণত করে দেবে।

১২- সম্ভব হলে সত্বর বিবাহ করে মনের মত সঙ্গিনী নিয়ে এসে জীবন ও যৌবন ঠান্ডা করে ফেল। তখন হালাল উপায়ে যৌনসুখ প্রাণ ভরে লুটতে কোন বাধা থাকবে না।

১৩- বিবাহ করার সামর্থ্য না থাকলে অথবা বিবাহে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকলে পূর্ণ সমর্থ হওয়া পর্যন্ত তোমার যৌবনের গুপ্ত জ্বালাকে প্রশমিত করার জন্য আল্লাহর ওয়াস্তে রোযা পালন কর।

১৪- যে খাদ্য গ্রহণ করলে শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বা শরীরকে গরম করে, সে খাদ্য বর্জন করে বেছে বেছে ঠান্ডা খাদ্য গ্রহণ কর।

১৫- প্রত্যহ স্বাভাবিক ঠান্ডা পানিতে গোসল কর। শরীরকে ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা কর। হ্যা, আর কোন বধু-সরোবরে গোসল করতে যেও না।

১৬- রাত্রে শোবার সময় ওযু করে শোও। ডান কাতে শুয়ে বিভিন্ন দুআ পাঠ কর। যতক্ষণ ঘুম এসেছে ততক্ষণ কুরআন মুখস্থ পড়তে থাক। স্কুল-কলেজে বা মাদ্রাসায় পড়লে মনে মনে পাঠ্যালোচনা কর। আর কোন সময় উবুড় হয়ে শুয়ো না। এতে যৌন-উত্তেজনা বাড়ে। তাছাড়া “এমন ঢঙের শয়নকে আল্লাহ পছন্দ করেন না।” (আহমাদ ২/২৮৭, হাকেম ৪/২৭ ১, সহীহুল জামে ২২৭০ নং)

১৭- এ কুকাজ ও পাপ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ কর। যুবক বন্ধু! এ কাজ এমন যে, তা একবার করে তৃপ্তি পায় না কামুকরা। উত্তেজনা কমলেও তা সাময়িকভাবে কমে। পরক্ষণেই অভ্যাসের নেশা আবার মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সুতরাং ব্যভিচার বা সমকামের ভয় থাকলে এ কাজ করা বৈধ বলে যে ফতোয়া পড়ে বা শুনে থাক, তা গ্রহণ করে ধোকা খেও না। নচেৎ অভ্যাস ধরে গেলে অপ্রয়োজনে করেও দ্বীন ও দুনিয়া বরবাদ করে বসবে।

হ্যাঁ, আর এই সর্বনাশী অভ্যাস থেকে বাঁচার জন্য খবরদার নযর অথবা কসম ব্যবহার করো না। কারণ, তা কিছু দিনের জন্য ফলদায়ক হলেও, হয়তো এমন সময় আসবে যখন কাম-উত্তেজনায় ফেটে পড়ে ন্যর ও কসমের কথা ভুলে বসবে অথবা হাল্কা মনে করবে। আর তাতে ক্ষতি হবে দ্বিগুণ। ন্যর বা কসম ভাঙ্গা যাবে এবং কাফফারা তো লাগবেই। পক্ষান্তরে সবল মনের ভিতর দৃঢ় সংকল্প থাকলে, সেটাই হল সবচাইতে বড় ওষুধ। এ ছাড়া কাম-উত্তেজনা রোধ বা হ্রাস করার জন্য কোন ড্রাগ (ভেষজ পদার্থ) ব্যবহার করো । কেন না, এতে হিতে বিপরীত হয়ে যৌনক্ষমতাই চিরদিনের জন্য ক্ষীণ হয়ে যেতেও পারে। অতএব ধৈর্যের হাতুড়ি দিয়ে কাম’-এর মাথায় ঘা মেরে তা দমিত রাখ। এ ছাড়া বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত আর অন্য কোন উপায় নেই।