যাকাত বিধানের সারসংক্ষেপ যাকাত প্রত্যাখ্যানকারীর হুকুম ইসলামহাউজ.কম
যাকাত প্রত্যাখ্যানকারীর হুকুম

যাকাত ইসলামের একটি ফরয ও রুকন, যথাসম্ভব সম্পদের যাকাত দ্রুত বের করা ওয়াজিব। সকল আলিম একমত যে, যাকাত ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। যদি কেউ জানে যাকাত ফরয, তারপরও যাকাত ফরয হওয়াকে অস্বীকার করে যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকে, সে কাফির ও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত। মুসলিম শাসকের দায়িত্ব কুফরির কারণে তাকে হত্যা করা। আর যদি সে নতুন মুসলিম হয় অথবা ইলম ও ইসলামী জ্ঞানের শহর থেকে দূরে অবস্থান করে, না-জানার কারণে তাকে অবকাশ দিবে, যদি সে মুসলিমদের পাশে থেকে না জানার দাবি করে, তার কথায় কর্ণপাত করা হবে না। কারণ, যাকাত ইসলামের অপরিহার্য বিধান, মুসলিম মাত্র সবাই তা জানে।

অতএব, যদি কেউ যাকাত ত্যাগ করে, শাসক জোরপূর্বক তার থেকে যাকাত আদায় করবে এবং তাকে শাসাবে ও শাস্তি দিবে। শাস্তির একটি উদাহরণ: যাকাত আদায় শেষে শাস্তিস্বরূপ তার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে নিবে, আর অর্ধেক সম্পদ দ্বারা উদ্দেশ্য যে সম্পদের যাকাত দেয় নি তার অর্ধেক। এটিই আলিমদের বিশুদ্ধ মত। উদাহরণত, কারও ওপর স্বর্ণ ও ফসল দু’টি বস্তুর যাকাত ফরয, সে ফসলের যাকাত দিয়েছে স্বর্ণের যাকাত দেয় নি, বরং কৃপণতা করেছে, তার ক্ষেত্রে শুধু স্বর্ণের ওপর শাস্তি হবে, যেমন তার থেকে জোরপূর্বক প্রথম স্বর্ণের যাকাত বের করবে, অতঃপর অবশিষ্ট স্বর্ণের অর্ধেক গ্রহণ করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«... وَمَن منعها فإنا آخِذُوها، وَشَطْرَ مالِهِ (يعني وآخِذوا نصف ماله أيضاً بعد الزكاة)، عَزمَة مِن عَزَمات ربنا تبارك وتعالى (يعني أنَّ هذا أمرٌ أوْجَبَهُ اللهُ تعالى على الحاكم)».

“আর যে যাকাত দিতে অস্বীকার করবে, আমরা সেটি গ্রহণ করব এবং আরও গ্রহণ করব তার সম্পদের অর্ধেক। (অর্থাৎ যাকাত শেষে অবশিষ্ট সম্পদ থেকে অর্ধেক গ্রহণ করব)। এটি আমাদের রবের কড়া নির্দেশ থেকে একটি নির্দেশ। (অর্থাৎ শাসকের ওপর বিধানটি আল্লাহ ওয়াজিব করে দিয়েছেন)”।[1]

>
[1] সহীহুল জামে‘, হাদীস নং ৪২৬৫।