ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
দল, সংগঠন, ইমারত ও বায়‘আত সম্পর্কে বিশিষ্ট উলামায়ে কেরামের বক্তব্য (১০) আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-গুদাইয়ান ইসলামহাউজ.কম
আল্লামা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-গুদাইয়ান'এর বক্তব্য

এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ইতিপূর্বে এ দেশে (সঊদী আরব) সংগঠন নামে কোনো কিছুই ছিল না। কিন্তু বিভিন্ন দেশ থেকে যখন বিভিন্ন পেশার মানুষ আসা শুরু হলো, তখন তারা নিজ নিজ দেশে বিদ্যমান সংগঠনগুলি এখানে প্রতিষ্ঠা করল। জামা‘আতে ইসলামী, তাবলীগ জামা‘আতসহ অসংখ্য সংগঠন রয়েছে, যারা মানুষদের নিজ সংগঠনে যোগদানের আশা করে। অন্যদিকে, তারা লোকদের অন্য সংগঠনে যোগদানকে হারাম গণ্য করে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকেই নিজ সংগঠনকে হক মনে করে এবং অন্য সংগঠনকে বিভ্রান্ত বলে ধারণা করে। এক্ষণে প্রশ্ন হলো, হক কয়টি? উত্তরে বলব, হক একটি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের বিভক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত সকলেই জাহান্নামে যাবে’। ছাহাবীগণ উক্ত নাজাতপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘যারা আমি ও আমার ছাহাবীরা আজ যে পথে আছি, সে পথে পরিচালিত হবে’।

প্রত্যেকটি সংগঠন স্বতন্ত্রভাবে কর্মপদ্ধতি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে এবং প্রত্যেকটি সংগঠনের একজন করে দলপ্রধান নিযুক্ত হয় আর দলপ্রধান তার কর্মীদের কাছ থেকে বায়‘আত গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, সংগঠনের কর্মীরা কেবলমাত্র নিজেদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। এভাবে প্রত্যেকটি দল প্রতিপক্ষের সাথে শত্রুতা পোষণ করে চলে। এক্ষণে, এ দলাদলিকে আমরা কি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলব? কখনই না, এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। কারণ, দ্বীন একটি, হক একটি এবং আমরা একই নবীর উম্মত। মহান আল্লাহ বলেন,

﴿ كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ﴾ [ال عمران: ١١٠]

‘তোমরাই সর্বোত্তম উম্মত’ (আলে ইমরান ১১০)। উক্ত আয়াতে তিনি বলেননি যে, তোমরা বিভক্ত জাতি; বরং বলেছেন, সর্বোত্তম জাতি।

মূলতঃ এ সংগঠনগুলি এদেশে এসে এখানকার পরিবেশ নষ্ট করেছে। তারা বিশেষভাবে যুবকদেরকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছে। যারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত, তাদেরকে তারা টার্গেট করে না; বরং মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের প্রধান টার্গেট। ইদানীং মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও জামা‘আতে ইসলামী ও তাবলীগ জামা‘আতের লোকেরা তাদের দা‘ওয়াতী কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রশ্ন হল, এমন প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম কি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখানো পথ অনুসরণ করবে নাকি মিসরী ও ভারতীয় ব্যক্তিদ্বয়ের সাথে থাকবে? আমি বলব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখানো পথ অনুসরণ কর, পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে আঁকড়ে ধর এবং কোনো মাসআলায় জটিলতা দেখা দিলে আলেমদেরকে জিজ্ঞেস কর।([1])

শায়খের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুর রাযযাক আল গুদায়য়ান ১৩৪৫ হিজরীতে যুলফী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ শহরে তাওহীদ, নাহু, ফারায়েয প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা লাভের পর রিয়াদে এসে পড়াশুনা শেষ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে রয়েছেন, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম (সঊদী আরবের সাবেক প্রধান মুফতী), শায়খ সঊদ ইবনে রশুদ (রিয়াদ আদালতের বিচারক), শায়খ আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বায প্রমুখ আলেমগণ। তিনি খোবার আদালতের বিচারক হিসাবে নিয়োগ পান। পরে সঊদী আরবের উচ্চ উলামা পরিষদ এবং সরকারী ফৎওয়া বোর্ডের‌ সদস্য নির্বাচিত হন। রেডিও, টেলিভিশন সহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে।
====================================


([1]) ‘ফাতাওয়াল উলামা ফিল জামা‘আত’ ক্যাসেট থেকে সংগৃহীত, মিনহাজুস সুন্নাহ রেকর্ডিং সেন্টার, রিয়াদ।