ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
সহীহ দুআ ও যিক্‌র তসবীহ ও তহলীল আবদুল হামীদ ফাইযী
তসবীহ ও তহলীল

ইসলামী মূল মন্ত্র কলেমা (لا اله الا الله، محمد رسول الله) “লা ইলা হা ইল্লাল্লা-হু, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।” অর্থ, আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল।

প্রকাশ যে, লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা যিকর করা যায় কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ যােগ করে যিকর করা হয় না। অনুরূপ কেবল ‘আল্লাহু-আল্লাহু’ বলে বা আল-আল, ইল-ইল, হু-হু’ বলে যিকও বিদআত। যিকরের তসবীহ ও তহলীল নিম্নরূপঃ

১।

لا إله إلا الله وحده لا شريك لهله الملك، وله الحمد، وهو على كل شيء قدير

উচ্চারণঃ- “লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

অর্থঃ- আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তার কোন অংশী নেই, তারই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই সমস্ত প্রশংসা এবং তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।

এই দুআটি দিনে যে কোন সময়ে ১০০ বার পাঠ করলে ১০ টি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব হয়, ১০০ টি নেকী লিখা হয়, ১০০ টি গোনাহ মার্জনা করা হয়, সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। (বুখারী ৪/৯৫, মুসলিম ৪/২০৭১)

যে ব্যক্তি এই দুআটি ১০ বার পাঠ করবে, সে ইসমাঈলের বংশধরের ৪টি গোলাম আযাদের সমান সওয়াব অর্জন করবে। (বুখারী ৭/২৬৭, মুসলিম ৪/২০৭১)

২।

سُبْحَانَ اللَّهِ وبِحَمْدِهِ

উচ্চারণঃ- সুবহা-নাল্লা-হি অবিহামদিহ।”

অর্থঃ-আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করি।

দিনের যে কোন সময়ে এই তসবীহটি ১০০ বার পাঠ করলে সমুদ্রের ফেনপূঞ্জ সমান পাপ হলেও তা মাফ হয়ে যাবে। (বুখারী ৭/১৬৮, মুসলিম ৪/২০৭১) সকাল ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে পড়লে কিয়ামতে সবচেয়ে বেশী সওয়াব নিয়ে উপস্থিত হবে। (মুঃ ৪/২০৭১) আর এটি আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। (মুঃ ২৭৩ ১নং)।

৩।

سُبْحَانَ اللهِ العَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ

উচ্চারণঃ-সুবহা-নাল্লা-হিল আযীমি অবিহামদিহ। অর্থ-আমি মহান আল্লাহর সপ্রসংস পবিত্রতা ঘােষণা করি। (তিঃ ৫/৫১১)

৪।

سُبْحَانَ اللَّهِ وبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণঃ-সুবহা-নাল্লা-হি অবিহামদিহী সুবহা-নাল্লা-হিল আযীম।

অর্থঃ- আমি আল্লাহর সপ্রশংস তসবীহ পাঠ করি, মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করি।

এই তসবীহ দু’টি মুখে হাল্কা, কিয়ামতে নেকীর মীযানে (পাল্লায়) ভারী এবং আল্লাহর কাছে প্রিয়। যে কোন সময়ে এটি পাঠ করতে হয়। (বুখারী)

৫।

سبحان الله.الحمدلله.لا اله الا الله.الله أكبر

উচ্চারণঃ- সুবহা-নাল্লা-হ (এটিকে তাসবীহ বলে) আল হামদু লিল্লা-হ, (এটিকে তাহমীদ বলে) লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ, (এটিকে তাহলীল বলে) আল্লা-হু আকবার, (এটিকে তাকবীর বলে)।

অর্থঃ- আল্লাহর পবিত্রতা ঘােষণা করি, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই,আল্লাহ সবচেয়ে মহান। এই কলেমাগুলি বিশ্বের সকল বস্তুর চেয়ে উত্তম ও নবী প্রিয়। (বুঃ ৭/১৬৮, মুঃ ৪/২০৭২) আর আল্লাহর নিকটেও প্রিয়। এগুলি যে কোন সময়ে আগে পিছে করে পড়া যায়। (মুসলিম ৩/১৬৮৫)

সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দুআ ‘আলহামদু লিল্লাহ’ এবং সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যিকর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।' (তিরমিযী ৫/৪৬২)।

একবার তসবীহ পাঠ করলে ১০০০টি নেকী লিখা হয় অথবা ১০০০ টি গোনাহ ঝরে যায়। (মুসলিম ২৬৯৮)।

এই কলেমাগুলি জান্নাতের বৃক্ষহীন বাগানের বৃক্ষচারা। আলহামদু লিল্লাহ' মীযান ভরে দেয় এবং ‘সুবহা-নাল্লা-হি অলহামদু লিল্লা-হ’ আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেয়। (মুসলিম)

৬।

سبحان الله عدد خلقه سبحان الله رضى نفسه سبحان الله وزنة عرشه سبحان الله ومداد كلماته

উচ্চারণঃ- সুবহা-নাল্লা-হি আদাদা খালহি, সুবহা-নাল্লা-হি রিযা নাফসিহ, সুবহানাল্লা-হি যিনাতা আরশিহ, সুবহা-নাল্লা-হিমিদা-দা কালিমা-তিহ।
অর্থঃ- আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি, তার সৃষ্টির সমান সংখ্যক, তার মজী অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজনের সমান, তাঁর বাক্যাবলীর সমান সংখ্যক।। এই তসবীহটি তিন বার পাঠ করলে ফজরের পর থেকে চাশতের সময় পর্যন্ত যিকর করার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। এটি সকালের দিকে বলা ভালো। (মুসলিম ২৭২৬ নং)

الحمد لله عدد ما خلق، الحمد لله ملء ما خلق، الحمد لله عدد ما في السموات وما في الأرض، الحمد لله عدد ما أحصى كتابه، والحمد لله على ملء ما أحصى كتابه، والحمد لله عدد كل شيء، والحمد لله ملء كل شي.
سبحان الله عدد ما خلق، سبحان الله ملء ما خلق، سبحان الله عدد ما في السموات وما في الأرض، سبحان الله عدد ما أحصى كتابه، وسبحان الله على ملء ما أحصى كتابه، وسبحان الله عدد كل شيء، وسبحان الله ملء كل شي.

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লাহি আদাদা মা খালাক, আলহামদু লিল্লাহি মিলআ মা খালাক্ব, আলহামদু লিল্লাহি আদাদা মা ফিস-সামাওয়াতি অমা ফিল আরয্ব, আলহামদু লিল্লাহি আদাদা মা আহসা কিতাবুহ, অলহামদু লিল্লাহি আলা মিলই মা আহসা কিতাবুহ, আলহামদুলিল্লাহি আদাদা কুল্লি শাই’, অলহামদু লিল্লাহি মিলআ কুল্লি শাই'।

সুবহানাল্লাহি আদাদা মা খালাক, সুবহানাল্লাহি মিলআ মা খালাক্ব, সুবহানাল্লাহি আদাদা মা ফিস সামাওয়াতি অমা ফিল আরয্ব, সুবহানাল্লাহি আদাদা মা আহসা কিতাবুহ, অসুবহানাল্লাহি আলা মিলই মা আহসা কিতাবুহ, অসুবহানাল্লাহি আদাদা কুল্লি শাই', অসুবহানাল্লাহি মিলআ কুল্লি শাই।

অর্থঃ আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টির সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সৃষ্টি পরিপূর্ণ, আল্লাহর প্রশংসা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে তার সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তার কিতাব যা গণনা করেছে তার সমান সংখ্যক, আল্লাহর প্রশংসা তার কিতাব যা গণনা করেছে তার পরিপূর্ণ, আল্লাহর প্রশংসা সকল বস্তুর সংখ্যা পরিমাণ এবং আল্লাহর প্রশংসা সকল বস্তু পরিপূর্ণ।

আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার সৃষ্টির সমান সংখ্যক, --তার সৃষ্টি পরিপূর্ণ, ---আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে তার সমান সংখ্যক, ---তাঁর কিতাব। যা গণনা করেছে তার সমান সংখ্যক, ---তার কিতাব যা গণনা করেছে তার পরিপূর্ণ, - --সকল বস্তুর সংখ্যা পরিমাণ এবং ---সকল বস্তু পরিপূর্ণ।

এই যিকর পড়লে রাতদিন যিকর করার সমান সওয়াব লাভ হয়। মহানবী (ﷺ) বলেছেন, “তুমি এই যিকর শিখাে এবং তোমার পরবর্তীকে শিখিয়ে দাও।” (তাবারানী সহীহুল জামে’ ২৬১৫নং)

৮।

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ

উচ্চারণঃ- লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, আল্লাহু আকবার কাবীরা, অলহামদু লিল্লা-হি কাসীরা, সুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল আলামীন, লা হাওলা অলা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হিল আযযিল হাকীম।

অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহর অনেক অনেক প্রশংসা। আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর পবিত্রতা ঘােষণা করছি, পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার (নড়া-সার) শক্তি নেই।

৯।

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণঃ-লা হাউলা অলা কুউওয়াতা ইলা বিল্লাহ।

অর্থ-পূর্বের দুআয় দ্রষ্টব্য।

এটি জান্নাতের একটি ভান্ডার। (বুঃ ১১/২১৩ মুঃ ৪/২০৭৬)