উহুদ যুদ্ধে যে সমস্ত হুকুম-আহকাম ও শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে
  • যুদ্ধ শুরু করার পর তা চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক। সুতরাং যে ব্যক্তি যুদ্ধের পোশাক পরিধান করবে এবং মাঠে নেমে যাবে তার জন্য যুদ্ধ থেকে সরে আসা বৈধ নয়।
  • মুসলিম দেশে শত্রু আগমণ করে হামলা করলে মুসলমানদের জন্য নগর ফটকের বাইরে গিয়ে শত্রুকে প্রতিহত করা আবশ্যক নয়।
  • যে সমস্ত শিশু যুদ্ধের ক্ষমতা রাখেনা তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হবেনা।
  • জিহাদের ক্ষেত্রে মহিলাদের দ্বারাও সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
  • যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদলের মধ্যে ঢুকে পড়া জায়েয আছে। যেমনটি করেছিলেন আনাস বিন নযর (রাঃ)।
  • ইমাম যদি আহত হয়ে যান আর তিনি যদি বসে সলাতের ইমামতি করেন, তাহলে পিছনের লোকেরাও বসে সলাত পড়বে।[1]
  • আল্লাহর কাছে শাহাদাতের তামান্না (আশা) করা এবং দু’আ করা দোষের কিছু নয়। যেমন আব্দুল্লাহ্ বিন জাহাশ শাহাদাত কামনা করেছিলেন।
  • কোন মুসলিম যদি আত্মহত্যা করে তাহলে সে জাহান্নামী হবে। কাযমান যখন উহুদ যুদ্ধে আহত হলেন তখন সে জখমের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে আত্ম হত্যা করল। নাবী (সাঃ) তা জানতে পেরে বললেন- সে জাহান্নামী।
  • যুদ্ধক্ষেত্রে যারা শহীদ হবে তাদেরকে গোসল দেয়া হবেনা এবং তাদের জানাযা পড়া হবেনা। যে পোষাকে তারা নিহত হবেন সেই পোষাকেই তাদেরকে দাফন করা হবে। তবে শত্রুরা যদি তার পোশাক ছিনিয়ে নেয় তাহলে অন্য পোষাকে কাফন পরাতে হবে। আর কেউ যদি স্ত্রী সহবাস জনিত কারণে নাপাক থাকে তাহলে গোসল দেয়া হবে। যেমন হানযালা (রাঃ) কে ফিরিস্তারা গোসল দিয়েছিলেন। শহীদদের পরিহিত পোষাকেই দাফন করা মুস্তাহাব না ওয়াজিব? এ ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তবে সঠিক কথা হচ্ছে তা ওয়াজিব।
  • যুদ্ধের শহীদদেরকে যুদ্ধের ময়দানেই দাফন করতে হবে। কেননা উহুদের যে সমস্ত শহীদকে মদ্বীনায় বহন করে নেওয়া হয়েছিল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম তাদেরকে উহুদের মাঠে ফেরত নিয়ে তথায় দাফন করতে আদেশ দিয়েছেন।
  • এক কবরে দুইজন বা তিনজন মৃতকে দাফন করা জায়েয আছে।
  • বিকলাঙ্গ বা অন্য কোন উযর (ওযূহাত) থাকার কারণে যাদের জন্য জিহাদে বের না হওয়ার অনুমতি আছে, ইচ্ছা করলে তারাও জিহাদে বের হতে পারে। যেমন নাবী (সাঃ) একজন লেংড়া সাহাবীকে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন।
  • কোন মুসলিম যদি যুদ্ধের ময়দানে ভুলক্রমে অন্য কোন মুসলিমকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে বাইতুল মাল থেকে দিয়ত পরিশোধ করতে হবে। কেননা রসূল (সাঃ) হুযায়ফা বিন ইয়ামানের পিতার দিয়ত দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হুযায়ফা (রাঃ) তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন।
ইমাম যদি অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে ইমামতি করতে অক্ষম হয়, وأنّ الإمام إذا جرح صلّى بهم قاعداً وصلّوا وراءه قعوداً .[1]

তাহলে অন্যকে তার স্থলাভিষিক্ত করা মুস্তাহাব। কারণ বসে আদায় কারীর নামাযের চেয়ে দাঁড়িয়ে আদায়কারীর সলাত অধিক পরিপূর্ণ।যেসব মুসল্লি দাড়িয়ে সলাত পড়তে সক্ষম, তাদের ইমামের জন্য অসুস্থতা বা অন্য কারণে বসে ইমামতি করা সম্পর্কে

আলেমদের থেকে একাধিক মত পাওয়া যায়।

১) ইমাম যদি অসুস্থতা বা অন্য কারণে দাঁড়িয়ে সলাত পড়তে দাঁড়াতে সক্ষমদের জন্য বসে ইমামতি করে তাহলে তার ইমামতি জায়েয হবে এবং মুক্তদীদের উপর ওয়াজিব হচ্ছে তারাও বসে সলাত পূর্ণ করবে। তাদের দলীল হচ্ছে, নবী সাঃ) বলেন-

وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلَّوْا قُعُودًا أَجْمَعُونَ

ইমাম যদি বসে সলাত পড়ে, তাহলে তোমরা সকলেই বসে সলাত পড়ো। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ৬২৮)। শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উছাইমীন রহঃ) বলেন এখানে আদেশটি ইমামের পিছনে বসে সলাত পড়া ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ করে। এটিই ইমাম আহমাদ বিন হান্বালের মত। তবে তার অন্যমতে বসে পড়া মুস্তাহাব; ওয়াজিব নয়।

২) শাফেঈ ও হানাফী মাজহাবের মতে ইমাম যদি বসে সলাত পড়ে, তাহলে মুসালস্নীদের দাড়ানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বসে সলাত পড়লে তাদের সলাতই হবেনা। তারা নবী সাঃ) এর অসুস্থতার সময়ের ইমামতি করার হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। তাতে এসেছে যে, অতঃপর নবী সাঃ) একদিন কিছুটা সুস্থতা অনুভব করলেন। তাই তিনি দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে যোহরের সলাত পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হলেন। যাদের কাঁধে ভর দিয়েছিলেন তাদের একজন ছিলেন আববাস (রাঃ)। তখন আবু বকর (রাঃ) লোকদেরকে নিয়ে সলাত পড়ছিলেন। আবু বকর তাঁকে দেখে পিছনে চলে আসতে চাইলেন। নবী সাঃ) তাঁর দিকে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন যে, তুমি নিজ স্থানেই থাক। তিনি বললেনঃ আমাকে আবু বকরের পার্শ্বে বসিয়ে দাও। তাঁরা নবী সাঃ) কে আবু বকরের পার্শ্বে বসিয়ে দিলেন। আবু বকর (রাঃ) নবী সাঃ) এর নামাযের অনুসরণ করছিলেন। আর লোকেরা আবু বকরের নামাযের অনুসরণ করে সলাত আদায় করছিল। আর নবী সাঃ) ছিলেন বসা অবস্থায়।


দ্বিতীয় মতের পক্ষের আলেমগণ প্রথম মতের সমর্থকদের দলীলের জবাবে বলেন যে, প্রথমে রাসূল সাঃ) উপবিষ্ট ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে সলাত পড়তে আদেশ করেছিলেন। পড়ে তাঁর শেষ জীবনের আমলের দ্বারা প্রথম আদেশ রহিত হয়ে গেছে। তা থেকে জানা যাচ্ছে যে, রাসূল সাঃ) বসে ইমামতি করছিলেন। ঐ দিকে আবু বকর ও অন্যান্য সাহাবীগণ দাঁড়িয়ে সলাত পড়েছিলেন।

শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আলউছাইমীন রহঃ) বলেনঃ উভয় প্রকার হাদীছের উপর যেহেতু আমল করা সম্ভব, তাই বসে উপবিষ্ট ইমামের পিছনে বসে সলাত পড়ার আদেশ রহিত হয়ে গেছে বলা ঠিক নয়। তিনি উভয় প্রকার হাদীসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, সাহাবীগণের দাঁড়িয়ে সলাত পূর্ণ করার কারণ হলো, তারা প্রথমে আবু বকরের ইমামতিতে দাঁড়িয়েই শুরু করেছিলেন। সুতরাং ইমাম যদি দাঁড়িয়ে শুরু করে অতঃপর অসুস্থতার কারণে বসে পড়তে বাধ্য হয়, তাহলে মুসাললস্নীরা দাঁড়িয়েই তাদের সলাত পূর্ণ করবে।

আর ইমাম যদি প্রথম থেকেই বসে ইমামতি শুরু করে, তাহলে মুক্তাদীগণও বসে পড়বে। এভাবে সমন্বয় করলে উভয় প্রকার হাদীসের উপরই আমল হয়ে যায়। (আল্লাহই অধিক অবগত আছেন)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১ পর্যন্ত, সর্বমোট ১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে