হাজীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে কিংবা অন্য কোন শরঈ উযর থাকলে মিনায় রাত্রি যাপন করা জরুরী নয়ঃ

আব্বাস (রাঃ) হাজীদেরকে পানি পান করানোর জন্য মিনার রাতসমূহ মক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন। উটের রাখালগণ মিনার বাইরে উটের নিকট রাত্রি যাপনের অনুমতি চাইলে তিনি তাদেরকেও অনুমতি দিয়েছেন। তিনি তাদেরকে কুরবানীর দিন এবং বাকী দুই দিনের পাথর এক সাথে দুই দিনের যে কোন এক দিন মারার অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন- আমার ধারণা, নাবী ‡ তাদেরকে দুই দিনের প্রথম দিনে এক সাথে দুই দিনের পাথর মারতে বলেছেন এবং শেষের দিন তথা বিদায়ের দিন মারতে বলেছেন। ইবনে উয়াইনা বলেন- তিনি রাখালদেরকে এক দিন পাথর মারার আরেক দিন না মারার অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং হাজীদের জন্য পানি ব্যবস্থাকারী এবং উটের রাখালদেরকে মিনায় রাত্রি যাপন বর্জন করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু পাথর নিক্ষেপ বর্জন করার অনুমতি দেন নি। বরং তাদের জন্য জায়েয আছে যে, তারা ইচ্ছা করলে রাত্রে পাথর নিক্ষেপ করবে অথবা দুই দিনের পাথর এক সাথে মারবে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন- কেউ যদি তার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে কিংবা অসুস্থ ব্যক্তির সেবায় নিয়োজিত থাকে অথবা নিজে অসুস্থ থাকার কারণে মিনায় রাত্রি যাপন করা অসম্ভব হয়, তাহলে রাখাল ও পানি সরবরাহ কারীদের ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছের উপর ভিত্তি করে উপরোক্ত লোকদের জন্যও মিনায় রাত্রি যাপন করা জরুরী নয়।

নাবী (সাঃ) দুই দিন পাথর মেরে মিনা ছেড়ে চলে আসেন নি; বরং তিন দিন পাথর মারা পূর্ণ করেছেন। মঙ্গলবারের দিন তিনি যোহরের সলাতের পর মুহাস্সাব নামক উপত্যকার দিকে রওয়ানা হলেন। এটি ছিল আবতাহ নামে পরিচিত। এখানেই ছিল বনী কেননার তাঁবু। সেখানে আবু রাফে (রাঃ) তাঁর জন্য তাঁবু প্রস্ত্তত করে রেখেছিলেন। শুধু আল্লাহ্ তা‘আলা প্রদত্ত তাওফীকের কারণেই তিনি এই কাজ করেছিলেন। রসূল (সাঃ) তাঁকে এই মর্মে কোন আদেশ দেন নি। সুতরাং রসূল (সাঃ) সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার সলাত আদায় করলেন। তিনি সেখানে সামান্য সময় শুয়ে থাকলেন। অতঃপর শয়ন থেকে উঠে তিনি মক্কায় গিয়ে রাতের শেষাংশে বিদায়ী তাওয়াফ করলেন।

দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১ পর্যন্ত, সর্বমোট ১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে