দেয়ালের কাছাকাছি দাঁড়ানো এবং সামনে সুতরাহ স্থাপন করে সলাতে দাঁড়ানো

তিনি যখন দেয়াল সামনে রেখে সলাত পড়তেন তখন দেয়াল ও তাঁর মাঝখানে এতটুকু জায়গা ফাঁকা রাখতেন যাতে একটি ছাগল চলাচল করতে পারে। দেয়ালের অনেক দূরে দাঁড়াতেন না; বরং তিনি সুতরার নিকটবর্তী হওয়ার আদেশ দিতেন। তিনি যখন কাঠি বা খুঁটি কিংবা গাছ সামনে নিয়ে সলাত পড়তেন তখন তিনি সেগুলো ডানে অথবা বামে রেখে দাঁড়াতেন; সরসূরি সামনে রাখতেন না। সফর অবস্থায় এবং মরুভূমিতে অবস্থানকালে তিনি স্বীয় বর্শা পুঁতে সেই দিকে ফিরে সলাত পড়তেন।

এটিকে তিনি সুতরা বানাতেন। কখনও তিনি স্বীয় বাহনকে সামনে রেখে সলাত পড়তেন। কখনও তিনি হাওদার কাঠকে [1] সোজাভাবে সামনে স্থাপন করে সে দিকে ফিরে সলাত পড়তেন। তিনি একটি তীর বা লাঠি দিয়ে হলেও মুসল্লিকে সুতরা স্থাপন করার আদেশ দিয়েছেন। আর তাও যদি না পাওয়া যায় তাহলে মাটিতে একটি রেখা টেনে রেখাটিকেই সুতরা হিসাবে মনে করে সলাত আদায় করতে বলেছেন। সামনে সুতরা না রেখে যদি সলাত পড়া হয়, তাহলে সহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, মহিলা, গাধা এবং কালো কুকুর সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে সলাত বাতিল হয়ে যায়। এই বর্ণনার বিপরীতে যা বর্ণিত হয়েছে তা সহীহ হলেও সুস্পষ্ট নয়। আর যে সমস্ত সুষ্পষ্ট বর্ণনায় আছে যে মহিলা, গাধা এবং কালো কুকুর বা অন্য যে কোন প্রাণী সামনে দিয়ে অতিক্রম করুক তাতে সলাত বাতিল হবে না, তা সহীহ নয়। নাবী (সাঃ) কখনও সলাত পড়তেন। তখন আয়িশা (রাঃ) তাঁর সামনে কিবলার দিকে ঘুমিয়ে থাকতেন। তবে এই অবস্থা সলাতীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার মত নয়। কেননা সলাতীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা হারাম। কিন্তু সলাতীর সামনে অবস্থান করা (ঘুমিয়ে থাকা) দোষণীয় নয়।

[1]. অশ্বপৃষ্ঠে বসার জন্য অশ্বারোহী যেমন জিন (গদি) স্থাপন করে থাকে তেমনি উটের পিঠে উষ্ট্রারোহীর বসার জন্য যে আসন স্থাপন করা হয় তাকে হাওদাজ বলা হয়। এই হাওদাজের পিছনের দিকে প্রায় এক হাত লম্বা একটি কাঠ স্থাপন করা হয়। এর সাথে আরোহী প্রয়োজনের সময় হেলান দিয়ে থাকে। সফর অবস্থায় সুতরার জন্য কোন কিছু পাওয়া না গেলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাওদাজের এই কাঠটিকেই সুতরাহ হিসেবে ব্যবহার করতেন।
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১ পর্যন্ত, সর্বমোট ১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে