রাসূলুল্লাহ (সাঃ)সাহাবায়ে কেরামদেরকে নিয়ে জোহর আসর একসাথে আদায় করেছিলেন। বিদায় হজ্জ সম্পর্কে যাবের (রাঃ) এর হাদিসে এসেছে, ‘নবী (রাঃ) উপত্যকার মধ্যখানে এলেন। তিনি লোকজনকে লক্ষ্য করে খোতবা দিলেন। অতঃপর আজান দেয়া হল, একামত হল, এবং তিনি যোহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর একামত হল এবং তিনি আসরের সালাত আদায় করলেন। এ দু’য়ের মাঝখানে অন্য কোনো সালাত আদায় করলেন না।[1]

জোহর আসর একত্রে পড়ার ক্ষেত্রে কেউ কেউ দশটি শর্ত লাগিয়েছেন। তন্মধ্যে একটি হল ‘হজ্জের ইমামের পেছনে হওয়া’। তবে এসব শর্ত লাগানোর পেছনে শক্ত কোনো দলিল নেই। বরং ইবনে ওমর (রাঃ) হজ্জের ইমামের পিছনে জামাত না পেলেও তিনি জোহর-আসর একসাথে জমা করতেন, এ মর্মে সহিহ বুখারিতে একটি বর্ণনা এসেছে। বর্ণনাটির ভাষ্য হল:

كان ابن عمر رضى الله عنهما إذا فاتته الصلاة مع الإمام جمع بينهما

- ইবনে ওমর (রাঃ) ইমামের সাথে সালাত না পেলেও দুই সালাত একত্রে পড়তেন।[2] প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণনাকারী নাফে’ (রাঃ) ইবনে ওমর (রাঃ) সম্পর্কে বলেন:

أن ابن عمر كان إذا لم يدرك الإمام يوم عرفة جمع بين الظهر والعصر في منزله

- ইবনে ওমর (র) আরাফা দিবসে ইমামের সাথে (সালাত) ধরতে না পারলে, নিজ অবস্থানের জায়গাতেই জোহর-আসর জমা করতেন।[3]

হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ দুই ইমাম, ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম আবু ইউসুফও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আমি এখানে এলাউস্সুনান কিতাব থেকে একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরছি—

محمد قال: أخبرنا أبو حنيفة، عن حماد ، عن ابراهيم، قال: إذا صليت يوم عرفة في رحلك فصل كل واحدة من الصلاتين لوقتها، وترتحل من منزل حتى تفرغ من الصلاة، قال محمد: وبهذا كان يأخذ أبو حنيفة، فأما في قولنا فإنه يصليها في رحله كما يصليها مع الإمام، يجمعهما جميعا بأذان وإقامتين، لأن العصر إنما قدمت للوقوف وكذلك بلغنا عن عائشة أم المؤمنين، وعبد الله بن عمر، وعن عطاء بن إبي رباح ، وعن مجاهد .

অর্থাৎ: (ইমাম) মুহাম্মদ বলেছেন: (ইমাম) আবু হানিফা আমাদেরকে জানিয়েছেন, হাম্মাদ, ও ইব্রাহীম এর সূত্র ধরে, তিনি বলেছেন: আরাফার দিন যদি তুমি নিজের অবস্থানের জায়গায় সালাত আদায় কর তবে দুই সালাতের প্রত্যেকটি যার যার সময়ে আদায় করবে, ও সালাত থেকে ফারেগ হয়ে নিজের অবস্থানের জায়গা থেকে প্রস্থান করবে। (ইমাম) মুহাম্মদ বলেন, (ইমাম) আবু হানিফা এ বর্ণনা অনুযায়ী আমল করেন। পক্ষান্তরে আমাদের কথা এই যে (হাজি) তার উভয় সালাত নিজের অবস্থানের জায়গায় ঠিক একই রূপে আদায় করবে যেভাবে আদায় করে ইমামের পেছনে। উভয় সালাতকে একত্রে জমা করবে, এক আজান ও দুই একামতের সাথে। কেননা সালাতুল আসরকে উকুফের স্বার্থে এগিয়ে আনা হয়েছে। এরূপই আমাদের কাছে পৌঁছেছে আয়েশা, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর, আতা ইবনে আবি রাবাহ ও মুজাহিদ থেকে।[4]

সে হিসেবে হজ্জের ইমামের পিছনে জামাতের সাথে সালাত আদায় সম্ভব হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় জোহর আসর একত্রে পড়া সুন্নত।

ইমামুল হজ্জের শর্ত লাগানোর পেছনে একটি যুক্তি এই দেখানো হয় যে, রাসূল (সাঃ)ছিলেন ইমামুল হজ্জ আর সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পেছনে সালাত আদায় করেছেন। তাই ইমামুল হজ্জের পেছনে জামাতের সাথে সালাত আদায় না করলে জমা করা যাবে না। এই বিষয়টি প্রমাণের ক্ষেত্রে ফেকাহ শাস্ত্রের ‘মাফহুমুল মুখালাফার’ আশ্রয় নেয়া হয়েছে যা হানাফি মাজহাবে দলিল হিসেবে গণ্য নয়।

[1] - أن النبي صلى الله عليه وسلم أتى بطن الوادي فخطب الناس، ثم أذن، ثم أقام فصلى الظهر، ثم أقام فصلى العصر ولم يصل بينهما شيئًا (মুসলিম : হাদিস নং ১২১৮)

[2] - বোখারি : ১৬৬২ নং হাদিসের পূর্বের অংশ

[3] - দেখুন : জাফার আহমদ উসমানী : এলাউস্সুনান, খন্ড :৭ , পৃ:৩০৭৩ , দারুল ফিকর, বইরুত, ২০০১

[4] - দেখুন : জাফার আহমদ উসমানী, প্রাগুক্ত, খন্ড : ৭ , পৃ: ৩০-৭৩
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১ পর্যন্ত, সর্বমোট ১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে