ইয়ামামার যুদ্ধে বহু হাফিযে কুরআন শহীদ হন। উমর তখন আবু বকরকে অনুরোধ করেন কুরআন পুস্তক আকারে লিপিবদ্ধ করার জন্য। তখনও কুরআন লিখিত অবস্থায় ছিল চামড়ায়, পাথরের টুকরায়, কাগজে। কিন্তু একত্রিত অবস্থায় ছিল না। প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে আবু বকর কুরআনকে মাসহাফ আকারে লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন।

আবু বকরের সময়ে রোম ও শাম আক্রমণ করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী মুসলমানরা বিজয়ী হয়।

উম্মাহর স্বার্থে, ইবাদতের অংশ হিসাবেই এসব জিহাদ করা হয়েছিল-দ্বীন বাঁচানো ও প্রতিষ্ঠার জন্য, জুলুম থেকে মুক্তির জন্য।

দু’বছরের কিছু বেশী সময় আবু বকর খলিফা ছিলেন। তাঁর জীবন ও কর্ম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণেই ছিল। সুন্নাহর অনুসরণে তিনি একনিষ্ঠ ছিলেন। কোনো বিলাসিতা, অপচয়, অবসর তাঁর জীবনে ছিল না। জিহাদ ও দাওয়া-এভাবেই তাঁর জীবন কেটেছে।

তিনি অল্পসংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন, কারণ এ ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সাবধানী ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত একই বয়সে, একই দিনে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পূর্বে তিনি ওমরকে খলিফা নিযুক্ত করেন। উমর তাঁর জানাযার সালাত পড়ান।

তাঁর জীবনের ঘটনাগুলো আমরা যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি, তবে অসাধারণ এক চরিত্র আমরা দেখতে পাব যা ছিল কোমলতা ও কঠোরতার এক অপূর্ব সমন্বয়। তাঁর এই চরিত্রই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর এই দ্বীনকে এক দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। কুরআন কিভাবে বুঝতে হবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিভাবে অনুসরণ করতে হবে? সে বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে আদর্শ হয়ে আছেন।

দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১ পর্যন্ত, সর্বমোট ১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে