আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস পাওয়া গেছে টি

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৮৯-[৩৫] আবু উমামাহ্ (রাঃ) নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আমার বন্ধুদের মধ্যে সে মু’মিনই আমার নিকট ঈর্ষার পাত্র, যে ইহকাল ঝামেলামুক্ত, সালাতের ব্যাপারে আন্তরিক, আল্লাহর ‘ইবাদত ভালোভাবে আদায় করে এবং গোপনীয় অবস্থায় আল্লাহর আনুগত্যে থাকে। মানুষের কাছে অপরিচিত- তার প্রতি অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করা হয় না, তার রিযক প্রয়োজন পরিমাণ হয় এবং তাতেই সে তুষ্ট থাকে। এ কথাগুলো বলে নবী (সা.) নিজের হাতের অঙ্গুলির মধ্যে চুটকি মেরে বললেন: এ অবস্থায় হঠাৎ একদিন তাকে মৃত্যু গ্রাস করে। তার জন্য ক্রন্দনকারিণীও কম হয় এবং মীরাসের সম্পদও স্বল্প ছেড়ে যায়। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَغْبَطُ أَوْلِيَائِي عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ خَفِيفُ الْحَاذِ ذُو حَظٍّ مِنَ الصَّلَاةِ أَحْسَنَ عِبَادَةَ رَبِّهِ وَأَطَاعَهُ فِي السِّرِّ وَكَانَ غَامِضًا فِي النَّاسِ لَا يُشَارُ إِلَيْهِ بِالْأَصَابِعِ وَكَانَ رِزْقُهُ كَفَافًا فَصَبَرَ عَلَى ذَلِكَ» ثُمَّ نَقَدَ بِيَدِهِ فَقَالَ: «عُجِّلَتْ مَنِيَّتُهُ قَلَّتْ بَوَاكِيهِ قَلَّ تُراثُه» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

اسنادہ ضعیف ، رواہ احمد (5 / 252 ح 22520) و الترمذی (2347) [و ابن ماجہ (4117) بسند آخر فیہ صدقۃ بن عبداللہ و ایوب بن سلیمان ضعیفان)] * علی بن یزید : ضعیف جدًا و عبید اللہ بن زحر : ضعیف ، و للحدیث طرق کلھا ضعیفۃ کما حققتہ فی تخریج مسند الحمیدی (911) و النھایۃ (30) ۔
(ضَعِيفٌ)

ব্যাখ্যা : (أَغْبَطُ أَوْلِيَائِي عِنْدِي لَمُؤْمِنٌ) আমার নিকটে অধিক ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য ও আমার সাহায্যকারী যার প্রতি ঈর্ষা করা যায় এবং যার অবস্থায় কামনা করা যায় সে এমন মু'মিন যার মধ্যে। পরবর্তীতে বর্ণিত গুণাবলি রয়েছে। অর্থাৎ অত্র হাদীসে বর্ণিত গুণাবলিসম্পন্ন মু'মিন ব্যক্তিই আমার নিকট অধিক প্রিয়।। 

(عُجِّلَتْ مَنِيَّتُهُ) তার মৃত্যু দ্রুত সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ হাদীসে বর্ণিত গুণাবলি যার মধ্যে আছে সে তার সুন্দর অবস্থার জন্য নিজেই তাজ্জব বনে যাবে। আর তার মৃত্যু হবে সহজে। দুনিয়ার সাথে তার সম্পর্কের বেরিয়ে যাবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ উমামাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯০-[৩৬] উক্ত রাবী [আবূ উমামাহ্ (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : আমার রব্ মক্কার বাতহা’ (প্রশস্ত উপত্যকা) আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত করে দেয়ার বিষয় আমার নিকট পেশ করলেন, তখন আমি বললাম : না, হে আমার প্রভু! বরং আমি একদিন পরিতৃপ্ত এবং আরেক দিন ক্ষুধার্ত থাকতে চাই। অতএব আমি যখন অভুক্ত থাকব তখন তোমার কাছে সকাতরে বিনয় প্রকাশ করব এবং তোমাকে স্মরণ করব। আর যখন পরিতৃপ্ত হব তখন তোমার গুণকীর্তন করব এবং তোমার শোকর আদায় করব। (আহমাদ ও তিরমিযী) 

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَرَضَ عَلَيَّ رَبِّي لِيَجْعَلَ لِي يطحاء مَكَّة ذَهَبا فَقلت: لَا يارب وَلَكِنْ أَشْبَعُ يَوْمًا وَأَجُوعُ يَوْمًا فَإِذَا جُعْتُ تَضَرَّعْتُ إِلَيْكَ وَذَكَرْتُكَ وَإِذَا شَبِعَتُ حَمِدْتُكَ وَشَكَرْتُكَ . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ احمد (5 / 254 ح 22543) و الترمذی (2347) * علی بن یزید ضعیف جدًا و عبید اللہ بن زحر ضعیف ، انظر الحدیث السابق (5189) ۔
(ضَعِيف)

ব্যাখ্যা : (فَإِذَا جُعْتُ تَضَرَّعْتُ إِلَيْكَ وَذَكَرْتُكَ وَإِذَا شَبِعَتُ حَمِدْتُكَ وَشَكَرْتُكَ) উক্ত হাদীসাংশের ব্যাখ্যায় ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : এখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) ধৈর্য এবং কৃতজ্ঞতার মাঝে সমন্বয় সাধন করেছেন। কারণ এ দুটি হলো একজন মুমিনের পরিপূর্ণ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ উমামাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫২০২-[৪৮] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদিন সুফফার অধিবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক লোক এক দীনার রেখে মৃত্যুবরণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: এটা একটি পোড়া দাগ। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুদিন পর আরেক লোক দু'টি দীনার রেখে মৃত্যুবরণ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এই বললেন: এ যেন দুটি পোড়া দাগ। (আহমাদ ও বায়হাকী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الصُّفَّةِ تُوُفِّيَ وَتَرَكَ دِينَارًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيَّةٌ» قَالَ: ثُمَّ تُوُفِّيَ آخَرُ فَتَرَكَ دِينَارَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيَّتَانِ» رَوَاهُ أَحْمَدُ والبيهقيُّ فِي «شعب الإِيمان»

صحیح ، رواہ احمد (5 / 253 ح 22533) و البیھقی فی شعب الایمان (6963) * و للحدیث شواھد صحیحۃ عند احمد (5 / 253 ، 258) و ابن حبان (الموارد : 2481 سندہ حسن ) وغیرھما وھوبھا صحیح ۔
(صَحِيح)

ব্যাখ্যা : আহলে সুফফা হলো কতিপয় গরীব মুহাজির সাহাবী যাদের কোন বাড়ী-ঘর ছিল না। তারা মসজিদে নববীর বারান্দায় থাকত। 

‘আল্লামাহ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, দু’জন সুফফার অধিবাসীর ওপর এরূপ শাস্তির কারণ বা ইল্লত জানিয়ে দেয়াই এখানে উদ্দেশ্যে কারণ তারা ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ফকীর। কেউ কিছু দিলে খেতেন অন্যথায় উপোস থাকতেন অথচ মৃত্যুর সময় দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) রেখে গেলেন তাহলে তাদের দুনিয়াবিমুখ ও দরিদ্রতার দাবীটি ছিল মিথ্যা। তাই বলে অর্থ সম্পদের অধিকারী হওয়া নিন্দনীয় নয়। সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই সম্পদশালী ছিলেন। যেমন- আবু বাকর, ‘উসমান, আবদুর রহমান ইবনু আওফ, ত্বলহাহ্ ইবনু উবায়দুল্লাহ (রাঃ) প্রমুখ, এরা কেউই সম্পদশালী হয়ে ফিতনায় পড়েননি। সম্পদশালী হওয়া যুহদ ফি দুনিয়া’র পরিপন্থী নয়, বরং এটা মুবাহ বা বৈধ। কেউ এটা পরিহার করে চলতে পারলে সেটা হবে তার জন্য উত্তম। আরবীতে (كَيَّةٌ) বিভিন্নভাবে পড়ার রীতি রয়েছে, শব্দের অর্থ আগুনে কোন কিছুকে তাপ দিয়ে তা দ্বারা দাগ বা সেক দেয়া। যেমন আল্লাহ বলেন, 

یَّوۡمَ یُحۡمٰی عَلَیۡهَا فِیۡ نَارِ جَهَنَّمَ فَتُکۡوٰی بِهَا جِبَاهُهُمۡ

“সেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে ঐ (স্বর্ণ-চাদি)-গুলো উত্তপ্ত করা হবে, অতঃপর সেগুলো দিয়ে তাদের ললাট, পার্শ্বদেশ এবং পৃষ্ঠদেশসমূহে দাগ দেয়া হবে।” (সূরাহ্ আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৩৫) 

কেউ কেউ এভাবেও ব্যাখ্যা করেছেন যে, তারা যেহেতু ফকীরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের লোকেরা সদাক্বাহ্ দিত, তারা তো চরম অভাবী ও ক্ষুধার্ত ছিলেন, তারা প্রকারান্তে সওয়ালকারীর মতই ছিলেন, চাই তা কথায় হোক বা বাস্তব অবস্থার কারণে হোক। অথচ যার কাছে একদিনের খাদ্য রয়েছে তার জন্য সওয়াল করা হারাম। 

অতএব তাদের নিকট দীনার থাকার কারণে অন্যের নিকট চাওয়া হারাম হওয়া সত্ত্বেও পরোক্ষভাবে চাওয়ার জন্য তাদের ঐ মুদ্রা হবে তাদের শরীরের দাগ বা সেক। (মিরকাতুল মাফাতীহ ৩৯৭, শাহু বুলুগুল মারাম দারস্ নং ২৩১, শামিলাহ্ : ১৪৫০)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ উমামাহ্ (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - হিসাব-নিকাশ, প্রতিশোধ গ্রহণ ও মীযানের বর্ণনা

৫৫৫৬-[৮] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, আমার প্রভু আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তাদের ওপর ‘আযাবও হবে না। আবার উক্ত প্রত্যেক হাজারের সাথে সত্তর হাজার এবং আমার প্রভুর তিন অঞ্জলি ভর্তি লোকও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (باب الحساب و القصاص و المیزان)

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «وَعَدَنِي رَبِّي أَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلَا عَذَابَ مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفًا وَثَلَاثُ حَثَيَاتٍ مِنْ حَثَيَاتِ رَبِّي» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (5 / 268 ح 22659) و الترمذی (2437 وقال : حسن غریب) و ابن ماجہ (4286) ۔
(صَحِيح)

ব্যাখ্যা: (لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ) অর্থ হিসাব-নিকাশে তাদেরকে খুঁটিনাটি প্রশ্ন করা হবে না। (وَلَا عَذَابَ) এর অর্থ দু'টি হতে পারে। (এক) তাদেরকে প্রথমে শাস্তি দেয়া হবে না। (দুই) তারা যে শাস্তির জন্য ধার্য হয়েছে সে শাস্তি হবে না।
(سَبْعُونَ أَلْفًا) কারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এর দ্বারা দু'টি উদ্দেশ্য হতে পারে। হয়তবা নির্দিষ্ট সংখ্যা অথবা অধিক পরিমাণে বুঝানো। (حَشَيَات) শব্দকে (رَنِّيْ) এর সাথে (إضَافَة) করাতে আধিক্য বেশি বুঝানো হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)।

(ثَلَاثُ حَثَيَاتٍ) حاء(ياء) বর্ণে যবর সহকারে যা (حَثْيَة) এর বহুবচন। মানুষ তার দুই হাত দ্বারা পরিমাপ ছাড়া বিনা হিসাবে দান করলে তাকে (الْحَثْيَة) অথবা (الْحَثْوَة) বলে।
ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) আবূ উমামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: অবশ্যই আল্লাহ আমাকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, আমার উম্মত থেকে সত্তর হাজার বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ইয়াযীদ ইবনু আখনাস বলেন, আল্লাহর কসম! আপনার সে উম্মাতের দৃষ্টান্ত যেমন মাছির মাঝে লালচে সুন্দর মাছির মতো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার সাথে সত্তর হাজারের ওয়াদা করেছেন। আবার প্রত্যেক হাজারের সাথে সত্তর হাজার এবং আমার জন্য আরো তিন অঞ্জলি বেশি করেছেন। (তুহফাতুল আহওয়ালী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা, ২৪৩৭)


দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৪ পর্যন্ত, সর্বমোট ৪ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে